(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: -)
حاشية السندي على سنن ابن ماجه   (محمد بن عبد الهادي السندي)

القسم: شروح الحديث


الكتاب: حاشية السندي على سنن ابن ماجه = كفاية الحاجة في شرح سنن ابن ماجه

المؤلف: محمد بن عبد الهادي التتوي، أبو الحسن، نور الدين السندي (ت 1138هـ)

الناشر: دار الجيل - بيروت، بدون طبعة

(نفس صفحات دار الفكر، الطبعة - الثانية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুনান ইবনে মাজাহর ওপর সিন্ধির হাশিয়া   (মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল হাদি সিন্ধি)

বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: সুনান ইবনে মাজাহর ওপর সিন্ধির হাশিয়া = কিফায়াতুল হাজাহ ফি শারহি সুনানি ইবনে মাজাহ

লেখক: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল হাদি তাত্তাউয়ী, আবুল হাসান, নুরুদ্দীন সিন্ধি (মৃত্যু ১১৩৮ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল জীল - বৈরুত, সংস্করণ উল্লেখ নেই

(দারুল ফিকর-এর দ্বিতীয় সংস্করণের অনুরূপ পৃষ্ঠা সংখ্যা)

[গ্রন্থের নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির অনুরূপ করা হয়েছে]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: -)
ـ[حاشية السندي على سنن ابن ماجه = كفاية الحاجة في شرح سنن ابن ماجه]ـ

المؤلف: محمد بن عبد الهادي التتوي، أبو الحسن، نور الدين السندي (المتوفى: 1138هـ)

الناشر: دار الجيل - بيروت، بدون طبعة

(نفس صفحات دار الفكر، الطبعة - الثانية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
—[সুনান ইবনে মাজাহর উপর হাশিয়া আস-সিন্দী = সুনান ইবনে মাজাহর ব্যাখ্যায় কিফায়াতুল হাজাহ]—

লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুল হাদী আত-তাত্তাউয়ী, আবুল হাসান, নূরুদ্দীন আস-সিন্দী (মৃত্যু: ১১৩৮ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল জীল - বৈরুত, সংস্করণবিহীন

(দারুল ফিকর-এর দ্বিতীয় সংস্করণের সমপৃষ্ঠা বিশিষ্ট)

[কিতাবটির সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[كِتَاب الْمُقَدِّمَةِ] [‌‌بَاب اتِّبَاعِ سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم]

بسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ كِتَاب الْمُقَدِّمَةِ بَاب اتِّبَاعِ سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

1 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ «قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا أَمَرْتُكُمْ بِهِ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَيْتُكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا»

ــ

قَوْلُهُ: (بَابُ اتِّبَاعِ سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْأَرْبَعَةُ الْمَذْكُورَةُ فِي كُتُبِ الْأُصُولِ وَهِيَ الْكِتَابُ) يَحْتَمِلُ أَنَّهُ أَرَادَ بِالسُّنَّةِ مَا هُوَ أَحَدُ الْأَدِلَّةِ وَالسُّنَّةُ وَإِجْمَاعُ الْأُمَّةِ وَالْقِيَاسُ وَالسُّنَّةُ بِهَذَا الْمَعْنَى تَشْمَلُ قَوْلَهُ صلى الله عليه وسلم الْأَدِلَّةُ الَّتِي تَثْبُتُ بِهَا الْأَحْكَامُ الشَّرْعِيَّةُ وَيَجِبُ عَلَى النَّاسِ اتِّبَاعُهَا وَاتِّبَاعُ السُّنَّةِ بِهَذَا الْمَعْنَى هُوَ الْأَخْذُ بِمُقْتَضَاهَا فِي تَمَامِ الْأَحْكَامِ الدِّينِيَّةِ مِنَ الْإِبَاحَةِ وَالْوُجُوبِ وَالْحُرْمَةِ وَالنَّدْبِ وَالْكَرَاهَةِ، وَيَحْتَمِلُ أَنَّهُ أَرَادَ بِالسُّنَّةِ الطَّرِيقَةَ الْمَسْلُوكَةَ لَهُ صلى الله عليه وسلم أَوْ بِالسُّنَّةِ، وَاتِّبَاعُ السُّنَّةِ بِهَذَا الْمَعْنَى هُوَ الْأَخْذُ بِهَا، وَالسُّنَّةُ بِالْمَعْنَى الْأَوَّلِ مِنْ أَقْسَامِ الدَّلِيلِ وَبِالْمَعْنَى الثَّانِي هُوَ الْمَدْلُولُ، وَأَحَادِيثُ الْبَابِ تُنَاسِبُ الْمَعْنَيَيْنِ فِي الْجُمْلَةِ وَبَعْضُهَا أَنْسَبُ بِالْمَعْنَى الْأَخِيرِ كَالْحَدِيثِ الْآخَرِ فَإِنَّ قَوْلَهُ صلى الله عليه وسلم هَذَا سَبِيلُ اللَّهِ أَرْفَقُ بِتَمَامِ الدِّينِ الْمَتِينِ، وَيُؤَيِّدُهُ أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم تَلَا قَوْلَهُ سُبْحَانَهُ جَلَّ شَأْنُهُ: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا} [الأنعام: 153] الْآيَةَ وَعَلَى الْمَعْنَيَيْنِ فَقَدْ أَحْسَنَ الْمُصَنِّفُ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى وَأَجَادَ حَيْثُ بَدَأَ هَذَا الْكِتَابَ الْمَوْضُوعَ لِتَحْقِيقِ السُّنَنِ السُّنِّيَّةِ بِهَذَا الْبَابِ فَإِنَّ الْأَخْذَ بِهَا مَدَارُهُ عَلَى وُجُوبِ اتِّبَاعِ السُّنَّةِ السُّنِّيَّةِ سَوَاءٌ كَانَ الْمُرَادُ بِالسُّنَّةِ مَا هُوَ أَحَدُ الْأَدِلَّةِ الْأَرْبَعَةِ أَوْ تَمَامُ الدِّينْ أَمَّا عَلَى الْأَوَّلِ فَظَاهِرٌ وَأَمَّا عَلَى الثَّانِي فَلِأَنَّ الدِّينَ سَوَاءٌ كَانَ ثَابِتًا بِالْكِتَابِ أَوْ بِالسُّنَّةِ يَحْتَاجُ طَالِبُهُ إِلَى السُّنَّةِ فَإِنَّ الْكِتَابَ بَيَانُهُ بِالسُّنَّةِ لِقَوْلِهِ: {لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} [النحل: 44] وَلَيْسَ لِأَحَدٍ أَنْ يَسْتَبِدَّ بِالْكِتَابِ عَنْهَا، وَلِذَلِكَ تَرَاهُ - صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - يَقُولُ: «لَا أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ مُتَّكِئًا عَلَى أَرِيكَتِهِ يَأْتِيهِ الْأَمْرُ مِنْ أَمْرِي مِمَّا أَمَرْتُ بِهِ أَوْ نَهَيْتُ
[ভূমিকা অধ্যায়] [‌‌আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণের পরিচ্ছেদ]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। ভূমিকা অধ্যায়। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণের পরিচ্ছেদ।

১ - আবু বকর ইবনে আবি শায়বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, শারিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমি তোমাদের যা আদেশ করি তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করি তা থেকে বিরত থাকো।’

—

তাঁর বাণী: (আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণের পরিচ্ছেদ)। সম্ভাবনা রয়েছে যে, তিনি সুন্নাহ দ্বারা উসুল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে বর্ণিত চারটি দলিলের অন্যতম একটিকে বুঝিয়েছেন, আর তা হলো কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, উম্মতের ইজমা এবং কিয়াস। এই অর্থে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই সকল বাণী যা দ্বারা শরীয়তের বিধানাবলি সাব্যস্ত হয় এবং যা অনুসরণ করা মানুষের জন্য ওয়াজিব। এই অর্থে সুন্নাহ অনুসরণ করা হলো বৈধতা, আবশ্যকতা, হারাম, মুস্তাহাব এবং মাকরূহ—সব ধরনের দ্বীনি বিধানের ক্ষেত্রে সুন্নাহর দাবি অনুযায়ী আমল করা। আবার সম্ভাবনা রয়েছে যে, তিনি সুন্নাহ দ্বারা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুসৃত পথ বা তরীকাকে বুঝিয়েছেন। এই অর্থে সুন্নাহ অনুসরণ করা হলো তা আঁকড়ে ধরা। প্রথম অর্থে সুন্নাহ হলো দলিলের প্রকারসমূহের একটি, আর দ্বিতীয় অর্থে সুন্নাহ হলো যা দলিল দ্বারা প্রমাণিত। এই পরিচ্ছেদের হাদিসগুলো সামগ্রিকভাবে উভয় অর্থের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে কিছু হাদিস শেষোক্ত অর্থের সাথে বেশি মানানসই। যেমন অন্য একটি হাদিসে এসেছে যে, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: ‘এটি আল্লাহর পথ’, যা পূর্ণাঙ্গ ও সুদৃঢ় দ্বীনের সাথে অধিক সামঞ্জস্যশীল। এর সমর্থনে এটিও রয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মহান আল্লাহর এই বাণী তেলাওয়াত করেছিলেন: {আর এটিই আমার সরল পথ} [আল-আনআম: ১৫৩]। উভয় অর্থেই গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহু তা'আলা) অত্যন্ত চমৎকার করেছেন যে, তিনি এই কিতাবটি—যা উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন সুন্নাহসমূহ প্রমাণের জন্য সংকলিত—এই পরিচ্ছেদ দ্বারা শুরু করেছেন। কারণ সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার মূল ভিত্তি হলো সুন্নাহ অনুসরণের আবশ্যকতা, চাই সুন্নাহ দ্বারা উদ্দেশ্য চার দলিলের অন্যতম দলিল হোক কিংবা পূর্ণাঙ্গ দ্বীন হোক। প্রথম অর্থের ক্ষেত্রে বিষয়টি স্পষ্ট। আর দ্বিতীয় অর্থের ক্ষেত্রে কারণ হলো, দ্বীন চাই কুরআন দ্বারা সাব্যস্ত হোক বা সুন্নাহ দ্বারা, তার অন্বেষণকারীর জন্য সুন্নাহর প্রয়োজন। কেননা কুরআনের ব্যাখ্যা সুন্নাহর মাধ্যমেই হয়; আল্লাহর বাণীর কারণে: {যাতে আপনি মানুষের জন্য তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে} [আন-নাহল: ৪৪]। আর সুন্নাহ ব্যতীত শুধু কুরআনের ওপর নির্ভর করার অধিকার কারও নেই। এজন্যই আপনি তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে শুনবেন: ‘আমি যেন তোমাদের কাউকে এমন না দেখি যে, সে তার গদিতে হেলান দিয়ে বসে আছে এবং তার কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশ আসল যা আমি আদেশ করেছি কিংবা নিষেধ করেছি...’
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
عَنْهُ فَيَقُولُ: لَا نَدْرِي مَا وَجَدْنَا فِي كِتَابِ اللَّهِ اتَّبَعْنَاهُ وَيَقُولُ: أَلَا إِنِّي أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهَ مَعَهُ أَلَا يُوشِكُ رَجُلٌ يَسْتَنِدُ عَلَى أَرِيكَتِهِ يَقُولُ: عَلَيْكُمْ بِهَذَا الْقُرْآنِ فَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَلَالٍ فَأَحِلُّوهُ وَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَرَامٍ فَحَرِّمُوهُ» قَالَ الْفَاضِلُ الطِّيبِيُّ فِي شَرْحِ الْحَدِيثِ السَّابِقِ: وَفِي هَذَا الْحَدِيثِ تَوْبِيخٌ وَتَقْرِيعٌ نَشَأَ مِنْ تَعْظِيمِ عَظِيمٍ عَلَى تَرْكِ السُّنَّةِ وَالْعَمَلِ بِالْحَدِيثِ اسْتِغْنَاءً عَنْهَا بِالْكِتَابِ هَذَا مَعَ الْكِتَابِ فَكَيْفَ بِمَنْ رَجَّحَ الرَّأْيَ عَلَى الْحَدِيثِ وَإِذَا سَمِعَ حَدِيثًا مِنَ الْأَحَادِيثِ الصَّحِيحَةِ قَالَ: لَا عَلَيَّ بِأَنْ أَعْمَلَ بِهَا فَإِنَّ لِي مَذْهَبًا أَتَّبِعُهُ انْتَهَى.

وَأَنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ مِثْلَ هَذَا السِّبَابِ الْمُكَنَّى عَنْهُ لِلْأَغْبِيَاءِ وَالْجَهَلَةِ الَّذِينَ لَا يَصْلُحُونَ لِلِاجْتِهَادِ أَصْلًا وَقَطْعًا فَهَذَانِ الْحَدِيثَانِ لَيْسَا فِي ذَمِّ الْمُجْتَهِدِ الَّذِي يَرُدُّ الْحَدِيثَ إِذَا صَحَّ عِنْدَهُ وَحَاشَا أَنْ يَكُونَ مُجْتَهِدٌ كَذَلِكَ بَلْ فِي ذَمِّ الْمُقَلِّدِ إِذَا خَالَفَ قَوْلُ إِمَامِهِ الْحَدِيثَ فَيَرُدُّهُ وَيَعْتَذِرُ لِإِمَامِهِ بِأَنَّهُ قَدِ اسْتَغْنَى بِالْكِتَابِ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ وَبِهَذَا ظَهَرَ أَنَّ اتِّبَاعَ السُّنَّةِ يَعُمُّ تَمَامَ الْأُمَّةِ وَلَا يَخْتَصُّ بِالْمُجْتَهِدِ عَنِ الْمُقَلِّدِ وَاللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ.

قَوْلُهُ: (مَا أَمَرْتُكُمْ بِهِ فَخُذُوهُ إِلَى آخِرِهِ) هَذَا الْحَدِيثُ كَالتَّفْسِيرِ لِقَوْلِهِ تَعَالَى {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7] وَمَا فِي الْمَوْضِعَيْنِ شَرْطِيَّةٌ كَمَا ذَكَرَ السُّيُوطِيُّ هَذَا الِاحْتِمَالَ لِأَنَّ الشَّرْطِيَّةَ أَظْهَرُ مَعْنًى وَفِي الْمَوْصُولَةِ يَلْزَمُ وُقُوعُ الْجُمْلَةِ الْإِنْشَائِيَّةِ خَبَرًا وَهُوَ مِمَّا اخْتَلَفُوا فِيهِ وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ عَلَى أَنَّهُ لَا يَصِحُّ إِلَّا بِتَأْوِيلٍ بِخِلَافِ الشَّرْطِيَّةِ فَإِنَّ الْمُحَقِّقِينَ عَلَى أَنَّ خَبَرَهَا جُمْلَةُ الشَّرْطِ لَا الْجَزَاءِ ثُمَّ قَوْلُهُ: مَا أَمَرْتُكُمْ بِهِ يَعُمُّ أَمْرَ الْإِيجَابِ وَالنَّدْبِ وَقَوْلُهُ: فَخُذُوهُ أَيْ تَمَسَّكُوا بِهِ لِمُطْلَقِ الطَّلَبِ الشَّامِلِ لِلْوُجُوبِ وَالنَّدْبِ فَيَنْطَبِقُ عَلَى الْقِسْمَيْنِ وَقِيلَ: هَذَا مَخْصُوصٌ بِأَمْرِ الْوُجُوبِ وَكَذَلِكَ قَوْلُهُ: وَمَا نَهَيْتُكُمْ عَنْهُ يَعُمُّ نَهْيَ تَحْرِيمٍ وَتَنْزِيهٍ وَكَذَا الطَّلَبُ فِي قَوْلِهِ: فَانْتَهُوا يَعُمُّ الْقِسْمَيْنِ وَيَحْتَمِلُ الْخُصُوصَ بِنَهْيِ التَّحْرِيمِ، وَالْخِطَابُ وَإِنْ كَانَ لِلْحَاضِرِينَ وَضْعًا لَكِنَّ الْحُكْمَ يَعُمُّ الْمُغَيَّبِينِ اتِّفَاقًا وَفِي شُمُولِ الْخِطَابِ لَهُمْ قَوْلَانِ وَعَلَى التَّقْدِيرِ فَإِطْلَاقُهُ يَشْمَلُ الْمُجْتَهِدَ وَالْمُقَلِّدَ.
তাঁর পক্ষ থেকে এবং সে বলবে: "আমরা জানি না, আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি আমরা কেবল তারই অনুসরণ করেছি।" তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বলেন: "সাবধান! আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ কিছু (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে। সাবধান! শীঘ্রই এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটবে যে তার আরামদায়ক আসনে হেলান দিয়ে বসে বলবে: 'তোমরা এই কুরআনকে আঁকড়ে ধরো, এতে যা হালাল পাবে তাকেই হালাল জ্ঞান করো আর যা হারাম পাবে তাকেই হারাম জ্ঞান করো'।" ফাযিল আল-তিবী পূর্বোক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "এই হাদিসে এমন কঠোর তিরস্কার ও ভর্ৎসনা রয়েছে যা সুন্নাহ বর্জন করা এবং আল্লাহর কিতাবের দোহাই দিয়ে হাদিস অনুযায়ী আমল করা থেকে বিমুখ থাকার ধৃষ্টতার কারণে সৃষ্টি হয়েছে। এটি তো কিতাবের (কুরআনের) সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তাহলে সেই ব্যক্তির অবস্থা কেমন হবে যে হাদিসের ওপর নিজের রায় বা মতামতকে প্রাধান্য দেয় এবং যখনই কোনো সহিহ হাদিস শ্রবণ করে তখন বলে: 'এটি আমল করা আমার জন্য জরুরি নয়, কারণ আমার একটি নির্দিষ্ট মাযহাব আছে যা আমি অনুসরণ করি'।" সমাপ্ত।

আপনি জানেন যে, এই ধরণের পরোক্ষ ভর্ৎসনা মূলত সেই সকল নির্বোধ ও মূর্খদের জন্য যারা ইজতিহাদ করার বিন্দুমাত্র যোগ্যতা রাখে না। সুতরাং এই হাদিস দুটি এমন কোনো মুজতাহিদের নিন্দায় নয় যিনি সহিহ হাদিস পাওয়ার পর তা প্রত্যাখ্যান করেন—মুজতাহিদ এমনটি করবেন তা তো কল্পনাতীত। বরং এটি সেই মুকাল্লিদের নিন্দায়, যখন তার ইমামের কথা হাদিসের পরিপন্থী হয়, তখন সে হাদিসকে প্রত্যাখ্যান করে এবং নিজ ইমামের পক্ষে এই ওজর পেশ করে যে, ইমাম এই হাদিসের পরিবর্তে কিতাব (কুরআন) দ্বারাই প্রয়োজন মিটিয়েছেন। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, সুন্নাহর অনুসরণ উম্মতের সকলের জন্য ব্যাপক, এটি কেবল মুজতাহিদের জন্য নির্দিষ্ট নয় বরং মুকাল্লিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞাত।

তাঁর বাণী: (আমি তোমাদের যা আদেশ করি তা গ্রহণ করো... শেষ পর্যন্ত); এই হাদিসটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ব্যাখ্যার ন্যায়: "রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।" [সূরা আল-হাশর: ৭]। উভয় স্থানে "মা" (যা) অব্যয়টি শর্তবাচক (শারতিয়্যাহ), যেমনটি ইমাম সুয়ূতী এই সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। কারণ শর্তবাচক হওয়া অর্থগতভাবে অধিকতর স্পষ্ট। আর যদি একে সম্বন্ধবাচক (মাওসূলাহ) ধরা হয়, তবে অনুজ্ঞাসূচক বাক্যটিকে সংবাদ (খবর) হিসেবে গণ্য করতে হয়, যা নিয়ে আলিমদের মাঝে দ্বিমত রয়েছে। তাঁদের অনেকের মতে এটি ব্যাখ্যা (তাবিল) ব্যতীত শুদ্ধ নয়। পক্ষান্তরে শর্তবাচকের ক্ষেত্রে গবেষক আলিমগণ একমত যে, এর খবর হলো শর্তের বাক্যটি, প্রতিদান (জাযা) নয়। অতঃপর তাঁর বাণী: "আমি তোমাদের যা আদেশ করি" এটি ওয়াজিব এবং মুস্তাহাব উভয় ধরণের আদেশকেই অন্তর্ভুক্ত করে। এবং তাঁর বাণী: "তা গ্রহণ করো" অর্থাৎ তা আঁকড়ে ধরো; এটি নিঃশর্ত তলব বা চাওয়ার অর্থে যা ওয়াজিব ও মুস্তাহাব উভয়কেই শামিল করে, ফলে এটি উভয় প্রকারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কেউ কেউ বলেছেন: এটি কেবল ওয়াজিবের নির্দেশের সাথে নির্দিষ্ট। একইভাবে তাঁর বাণী: "আর যা থেকে আমি তোমাদের নিষেধ করি" এটি হারামি এবং তানযীহি উভয় প্রকারের নিষেধকে অন্তর্ভুক্ত করে। অনুরূপভাবে তাঁর বাণী: "তা থেকে বিরত থাকো"-এর নির্দেশটিও উভয় প্রকারকে শামিল করে, তবে হারাম সংক্রান্ত নিষেধের সাথে নির্দিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও রাখে। যদিও বাহ্যিকভাবে এই সম্বোধন উপস্থিতদের প্রতি, কিন্তু সর্বসম্মতভাবে এই বিধান অনুপস্থিতদের জন্যও ব্যাপক। তবে সম্বোধনটি তাদের জন্য সরাসরি প্রযোজ্য কি না সে বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। যেকোনো অবস্থাতেই, এই নির্দেশের ব্যাপকতা মুজতাহিদ এবং মুকাল্লিদ উভয়কেই শামিল করে।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
2 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ قَالَ أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ «قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَرُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِسُؤَالِهِمْ وَاخْتِلَافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ فَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَيْءٍ فَخُذُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَانْتَهُوا»

ــ

قَوْلُهُ: (ذَرُونِي) أَيِ اتْرُكُونِي مِنَ السُّؤَالِ عَنِ الْقُيُودِ فِي الْمُطْلَقَاتِ قَوْلُهُ: (مَا تَرَكْتُكُمْ)
২ - মুহাম্মাদ ইবনুস সাব্বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, জারীর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি যতক্ষণ তোমাদের ছেড়ে রাখি, ততক্ষণ তোমরাও আমাকে ছেড়ে দাও। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা ধ্বংস হয়েছে তাদের অধিক প্রশ্ন করা এবং তাদের নবীদের সাথে মতবিরোধ করার কারণে। সুতরাং আমি যখন তোমাদের কোনো বিষয়ে নির্দেশ দেই, তখন তোমরা সাধ্যানুযায়ী তা পালন করো; আর যখন আমি তোমাদের কোনো বিষয় থেকে নিষেধ করি, তখন তা থেকে বিরত থাকো।"

—

তাঁর বাণী: (আমাকে ছেড়ে দাও) অর্থাৎ সাধারণ ও নিঃশর্ত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা বা শর্তারোপের ব্যাপারে প্রশ্ন করা থেকে আমাকে বিরত রাখো। তাঁর বাণী: (যতক্ষণ আমি তোমাদের ছেড়ে রাখি)।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
مَا مَصْدَرِيَّةٌ ظَرْفِيَّةٌ أَيْ مُدَّةَ مَا تَرَكْتُكُمْ عَنِ التَّكْلِيفِ بِالْقُيُودِ فِيهَا وَلَيْسَ الْمُرَادُ لَا تَطْلُبُوا مِنِّي الْعِلْمَ مَا دَامَ إِلَّا أَنْ أُبَيِّنَ لَكُمْ بِنَفْسِي وَيَدُلُّ عَلَى مَا ذَكَرْنَا وُرُودُهُ لِمَنْ قَالَ: هَلِ الْحَجُّ كُلَّ عَامٍ فَإِذَا أَمَرْتُكُمْ إِلَى آخِرِهِ يُرِيدُ أَنَّ الْأَمْرَ الْمُطْلَقَ لَا يَقْتَضِي دَوَامَ الْفِعْلِ وَإِنَّمَا يَقْتَضِي حُسْنَ الْمَأْمُورِ بِهِ وَأَنَّهُ طَاعَةٌ مَطْلُوبَةٌ فَيَنْبَغِي أَنْ يَأْتِيَ كُلُّ إِنْسَانٍ مِنْهُ قَدْرَ طَاقَتِهِ وَأَمَّا النَّهْيُ فَيَقْتَضِي دَوَامَ التَّرْكِ.

এখানে 'মা' হলো মাছদারিয়্যা যারফিয়্যা (কালবাচক ক্রিয়ামূলীয় অব্যয়), অর্থাৎ যতক্ষণ আমি তোমাদের বিধি-নিষেধের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত রেখেছি। এর উদ্দেশ্য এমন নয় যে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি নিজে থেকে তোমাদের নিকট কোনো কিছু স্পষ্ট না করি, ততক্ষণ তোমরা আমার কাছে জ্ঞান অন্বেষণ করো না। আমরা যা উল্লেখ করেছি, তার প্রমাণ হলো সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে এর অবতারণা, যে জিজ্ঞাসা করেছিল: 'হজ কি প্রতি বছর করতে হবে?' অতঃপর 'যখন আমি তোমাদের আদেশ করি...' শেষ পর্যন্ত। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, নিঃশর্ত আদেশ (আমর মুতলাক) কোনো কাজ স্থায়ীভাবে বা বারবার করার দাবি রাখে না; বরং এটি কেবল আদিষ্ট বিষয়টির উত্তম হওয়া এবং সেটি একটি কাম্য আনুগত্য হওয়ার দাবি রাখে। অতএব প্রত্যেক মানুষের উচিত তার সাধ্যমতো তা পালন করা। আর নিষেধের (নাহি) বিষয়টি হলো, তা স্থায়ীভাবে বর্জন করার দাবি রাখে।

(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
3 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ وَوَكِيعٌ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ «قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ أَطَاعَنِي فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ عَصَى اللَّهَ»

ــ

قَوْلُهُ: (مَنْ أَطَاعَنِي) يُرِيدُ أَنَّهُ مُبَلِّغٌ عَنِ اللَّهِ فَمَنْ أَطَاعَهُ فِيمَا بَلَّغَ فَقَدْ أَطَاعَ الْآمِرَ الْحَقِيقِيَّ وَمِثْلُهُ الْمَعْصِيَةُ وَهَذَا مَضْمُونُ قَوْلِهِ تَعَالَى {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا} [النساء: 80] لَكِنَّ سَوْقَ الْآيَةِ فِي نَسَقِ الْمَعْصِيَةِ لِإِفَادَةِ أَنَّهُ لَيْسَ عَلَى الرَّسُولِ وَبَالُ مَعْصِيَتِهِ إِذْ لَيْسَ عَلَيْهِ إِلَّا الْبَلَاغُ لَا الْحِفْظُ فَوَبَالُ الْمَعْصِيَةِ عَلَى ذَلِكَ الْعَاصِي.
৩ - আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে আবু শায়বাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু মুয়াবিয়া ও ওয়াকি' আমাশ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল এবং যে ব্যক্তি আমার অবাধ্যতা করল, সে মূলত আল্লাহরই অবাধ্যতা করল।»

—

তাঁর বাণী: (যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল) এর দ্বারা তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে বাণী পৌঁছে দানকারী। সুতরাং তিনি যা পৌঁছে দিয়েছেন সে বিষয়ে যারা তাঁর আনুগত্য করল, তারা মূলত প্রকৃত আদেশদাতারই আনুগত্য করল। অবাধ্যতার বিষয়টিও তদ্রূপ। আর এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মর্মার্থ: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল; আর যে মুখ ফিরিয়ে নিল, আমি আপনাকে তাদের উপর রক্ষক হিসেবে পাঠাইনি} [আন-নিসা: ৮০]। তবে অবাধ্যতার ধারায় আয়াতের অবতারণা এই সংবাদ প্রদানের জন্য যে, রাসূলের উপর সেই অবাধ্যতার কোনো দায়ভার নেই; কেননা তাঁর উপর কেবল পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব অর্পিত, হিফাযত বা সংরক্ষণের নয়। সুতরাং অবাধ্যতার অশুভ পরিণাম সেই অবাধ্য ব্যক্তির উপরেই বর্তাবে।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
4 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ عَنْ ابْنِ الْمُبَارَكِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ قَالَ كَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا لَمْ يَعْدُهُ وَلَمْ يُقَصِّرْ دُونَهُ

ــ

قَوْلُهُ: (لَمْ يَعْدُهُ) بِسُكُونِ الْعَيْنِ أَيْ لَمْ يَتَجَاوَزْ بِالزِّيَادَةِ عَلَى قَدْرِ الْوَارِدِ فِي الْحَدِيثِ وَالْإِفْرَاطِ فِيهِ وَلَمْ يُقَصِّرْ فِي التَّقْصِيرِ دُونَهُ قَدَّرَ اللَّهُ قَبْلَ الْوُصُولِ إِلَيْهِ بِأَنْ لَا يَعْمَلَ بِذَلِكَ الْحَدِيثِ أَصْلًا أَوْ يَأْتِيَ بِأَقَلَّ مِنَ الْقَدْرِ الْوَارِدِ وَالْحَاصِلُ أَنَّهُ كَانَ وَاقِفًا عِنْدَ الْحَدِّ الْوَارِدِ فِي الْحَدِيثِ وَلَمْ يَأْتِ بِإِفْرَاطٍ فِيهِ وَلَا تَفْرِيطٍ.

وَهَذَا الْحَدِيثُ مِمَّا تَفَرَّدَ بِهِ الْمُصَنِّفُ وَاللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ بِشِدَّةِ اتِّبَاعِهِ الْحَدِيثَ مَعْرُوفًا وَرَوَى التِّرْمِذِيُّ «أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الشَّامِ سَأَلَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ عَنِ التَّمَتُّعِ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَقَالَ: حَلَالٌ فَقَالَ الشَّامِيُّ: إِنَّ أَبَاكَ قَدْ نَهَى عَنْهَا فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ كَانْ أَبِي نَهَى عَنْهَا وَصَنَعَهَا رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - أَمْرُ أَبِي يُتَّبَعُ أَمْ أَمْرُ رَسُولِ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - فَقَالَ الرَّجُلُ: بَلْ أَمْرُ رَسُولِ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ
৪ - মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন নুমাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যাকারিয়া বিন আদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন সুকাহ থেকে, তিনি আবু জাফর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে উমর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো হাদিস শুনতেন, তখন তিনি তা অতিক্রম করতেন না এবং তার চেয়ে কমও করতেন না।

—

তাঁর বক্তব্য: (লাম ইয়া'দুহু) ‘আইন’ বর্ণটি সাকিন সহকারে, অর্থাৎ হাদিসে বর্ণিত বিষয়ের ওপর অতিরিক্ত কিছু বাড়িয়ে তিনি তা অতিক্রম করতেন না এবং তাতে বাড়াবাড়ি করতেন না। আর তিনি তার চেয়ে কম করার ক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা বা কমতি করতেন না; আল্লাহ [কর্তৃক নির্দেশিত] সেই স্তরে পৌঁছার পূর্বেই কোনো আমল বন্ধ করে দেওয়া বা বর্ণিত পরিমাণের চেয়ে কম আমল করা—এমনটি তিনি করতেন না। সারকথা হলো, তিনি হাদিসে বর্ণিত সীমানায় অবিচল থাকতেন এবং তাতে কোনো অতিরঞ্জন (ইফরাত) বা অবহেলা (তাফরিত) করতেন না।

আর এই হাদিসটি এমন যা কেবল গ্রন্থকারই (ইমাম ইবনে মাজাহ) এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ। ইবনে উমর হাদিসের কঠোর অনুসরণের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। ইমাম তিরমিজি বর্ণনা করেছেন যে, সিরিয়ার এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ বিন উমরকে হজের সাথে উমরার তামাত্তু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "এটি হালাল।" তখন শামী ব্যক্তিটি বলল: "আপনার পিতা তো এটি নিষেধ করেছিলেন।" তখন আবদুল্লাহ বললেন: "তোমার কি মনে হয়, যদি আমার পিতা তা নিষেধ করে থাকেন আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা সম্পাদন করে থাকেন, তবে কি আমার পিতার নির্দেশ অনুসরণ করা হবে নাকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ?" তখন লোকটি বলল: "বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু [আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ]..."
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - فَقَالَ: لَقَدْ صَنَعَهَا رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ» - قَالَ التِّرْمِذِيُّ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ فَانْظُرْ إِلَى ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما أَنَّهُ كَيْفَ خَالَفَ أَبَاهُ مَعَ عِلْمِهِ بِأَنَّ أَبَاهُ قَدْ بَلَغَهُ الْحَدِيثُ وَأَنَّهُ لَا يُخَالِفُهُ إِلَّا بِدَلِيلٍ هُوَ أَقْوَى مِنْهُ عِنْدَهُ وَمَعَ ذَلِكَ أَفْتَى بِخِلَافِ قَوْلِ أَبِيهِ وَقَالَ: إِنَّ قَوْلَ أَبِيهِ لَا يَلِيقُ أَنْ يُؤْخَذَ بِهِ وَقَدْ عَمِلَ بِمِثْلِ هَذَا سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حِينَ بَلَغَهُ حَدِيثُ عَائِشَةَ فِي الطِّيبِ قُبَيْلَ الْإِحْرَامِ وَقَبْلَ الْإِفَاضَةِ تَرَكَ قَوْلَ أَبِيهِ وَجَدِّهِ وَقَالَ سُنَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحَقُّ أَنْ تُتَّبَعَ وَغَالِبُ أَهْلِ الزَّمَانِ عَلَى خِلَافَاتِهِمْ إِذَا جَاءَهُمْ حَدِيثٌ يُخَالِفُ قَوْلَ إِمَامِهِمْ يَقُولُونَ: لَعَلَّ هَذَا الْحَدِيثَ قَدْ بَلَغَ الْإِمَامَ وَخَالَفَهُ بِمَا هُوَ أَقْوَى عِنْدَهُ مِنْهُ وَرَوَى ابْنُ عُمَرَ حَدِيثَ «لَا تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللَّهِ مَسَاجِدَ اللَّهِ» فَقَالَ لَهُ بَعْضُ أَوْلَادِهِ نَحْنُ نَمْنَعُ، فَسَبَّهُ سَبًّا مَا سُمِعَ سَبٌّ مِثْلُهُ قَطُّ وَقَطَعَ الْكَلَامَ مَعَهُ إِلَى الْمَوْتِ وَلَهُ - رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ - فِي مُرَاعَاةِ دَقَائِقِ السُّنَنْ أَحْوَالٌ مُدَوَّنَةٌ فِي كُتُبِ الْحَدِيثِ مَشْهُورَةٌ بَيْنَ أَهْلِهِ ذَكَرَ شَيْئًا مِنْهَا السُّيُوطِيُّ فِي حَاشِيَةِ الْكِتَابِ.
(আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) - তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটি করেছেন।" তিরমিযী বলেছেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। অতএব ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর দিকে লক্ষ্য করুন যে, তিনি কীভাবে তাঁর পিতার বিরোধিতা করলেন, যদিও তিনি জানতেন যে তাঁর পিতার নিকট হাদীসটি পৌঁছেছে এবং তাঁর পিতা তাঁর কাছে আরও শক্তিশালী কোনো দলীল থাকা ছাড়া এর বিরোধিতা করতেন না। তা সত্ত্বেও তিনি তাঁর পিতার মতের বিপরীতে ফতোয়া দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, তাঁর পিতার মতটি গ্রহণ করা সঙ্গত নয়। সালেম ইবনে আবদুল্লাহও অনুরূপ আমল করেছিলেন যখন ইহরামের প্রাক্কালে এবং তাওয়াফে ইফাদার পূর্বে সুগন্ধি ব্যবহার সম্পর্কে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদীস তাঁর কাছে পৌঁছাল; তিনি তাঁর পিতা ও পিতামহের মত পরিত্যাগ করেন এবং বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করাই অধিকতর হক। আর বর্তমান যুগের অধিকাংশ লোক তাদের মতভেদের ক্ষেত্রে যখনই এমন কোনো হাদীস আসে যা তাদের ইমামের মতের বিপরীত হয়, তখন তারা বলে: "হয়তো এই হাদীসটি ইমামের নিকট পৌঁছেছিল এবং তিনি এর চেয়ে শক্তিশালী কোনো প্রমাণের ভিত্তিতে এর বিরোধিতা করেছেন।" ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এই হাদীসটি বর্ণনা করেন: "তোমরা আল্লাহর দাসীদের আল্লাহর মসজিদে আসতে বাধা দিও না।" তখন তাঁর এক সন্তান তাঁকে বলল, "আমরা অবশ্যই বাধা দেব।" তখন তিনি তাকে এমন কঠোরভাবে তিরস্কার করলেন যা কখনো শোনা যায়নি এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিলেন। সুন্নাহর সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ পালনের ক্ষেত্রে তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এমন অনেক অবস্থা হাদীসের কিতাবসমূহে সংকলিত আছে যা সংশ্লিষ্ট মহলে সুবিদিত; সুয়ূতী এই কিতাবের টীকায় তার কিছু অংশ উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
5 - حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ الدِّمَشْقِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ سُمَيْعٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْأَفْطَسُ عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجُرَشِيِّ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ «خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ نَذْكُرُ الْفَقْرَ وَنَتَخَوَّفُهُ فَقَالَ أَلْفَقْرَ تَخَافُونَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتُصَبَّنَّ عَلَيْكُمْ الدُّنْيَا صَبًّا حَتَّى لَا يُزِيغَ قَلْبَ أَحَدِكُمْ إِزَاغَةً إِلَّا هِيهْ وَايْمُ اللَّهِ لَقَدْ تَرَكْتُكُمْ عَلَى مِثْلِ الْبَيْضَاءِ لَيْلُهَا وَنَهَارُهَا سَوَاءٌ» قَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ صَدَقَ وَاللَّهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَرَكَنَا وَاللَّهِ عَلَى مِثْلِ الْبَيْضَاءِ لَيْلُهَا وَنَهَارُهَا سَوَاءٌ

ــ

قَوْلُهُ: (وَنَتَخَوَّفُهُ) أَيْ نُظْهِرُ الْخَوْفَ مِنْ لُحُوقِهِ بِنَا آلْفَقْرَ بِمَدِّ الْهَمْزَةِ عَلَى الِاسْتِفْهَامِ وَهُوَ مَفْعُولٌ مُقَدَّمٌ لِتُصِيبَّنَّ عَلَى بِنَاءِ الْمَفْعُولِ وَالنُّونِ الثَّقِيلَةِ قَوْلُهُ: (لَا يُزِيغُ) مِنَ الْإِزَاغَةِ بِمَعْنَى الْإِمَالَةِ عَنِ الْحَقِّ قَوْلُهُ: (قَلْبَ أَحَدِكُمْ) بِالنَّصْبِ مَفْعُولٌ بِهِ (إِلَّا هِيَهْ) هِيَ ضَمِيرُ الدُّنْيَا وَالْهَاءُ فِي آخِرِهِ لِلسَّكْتِ وَهُوَ فَاعِلُ يُزِيغُ قَوْلُهُ: (لَقَدْ تَرَكْتُكُمْ) أَيْ مَا فَارَقْتُكُمْ بِالْمَوْتِ فَصِيغَةُ الْمَاضِي بِمَعْنَى الِاسْتِقْبَالِ أَوْ قَدِ اجْتَهَدْتُ فِي إِصْلَاحِ حَالِكُمْ حَتَّى صِرْتُمْ عَلَى هَذَا الْحَالِ تَرَكْتُكُمْ عَلَيْهَا وَاشْتَغَلْتُ عَنْهَا بِأُمُورٍ أُخَرَ كَالْعِبَادَةِ فَصِيغَةُ الْمَاضِي عَلَى مَعْنَاهَا قَوْلُهُ: (عَلَى مِثْلِ الْبَيْضَاءِ) ظَاهِرُ السَّوْقِ أَنَّ هَذَا بَيَانٌ لِحَالِ الْقُلُوبِ لَا لِحَالَةِ الْمِلَّةِ وَالْمَعْنَى عَلَى قُلُوبٍ هِيَ مِثْلُ الْأَرْضِ الْبَيْضَاءِ لَيْلًا وَنَهَارًا وَيَحْتَمِلُ أَنْ يَكُونَ لَفْظُ الْمِثْلِ مُقْحَمًا وَالْمَعْنَى عَلَى قُلُوبٍ بَيْضَاءَ نَقِيَّةٍ عَنِ الْمَيْلِ إِلَى الْبَاطِلِ لَا يُمِيلُهَا عَنِ الْإِقْبَالِ عَنِ اللَّهِ تَعَالَى السَّرَّاءُ وَالضَّرَّاءُ فَلْيُفْهَمْ ثُمَّ الْحَدِيثُ مِمَّا انْفَرَدَ بِهِ الْمُصَنِّفُ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى.
৫ - হিশাম ইবনে আম্মার আদ-দিমাশকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সুমাই থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে সুলাইমান আল-আফতাস থেকে, তিনি ওয়ালিদ ইবনে আবদুর রহমান আল-জুরাশি থেকে, তিনি জুবায়ের ইবনে নুফায়ের থেকে, তিনি আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন যখন আমরা দারিদ্র্য নিয়ে আলোচনা করছিলাম এবং তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছিলাম। তখন তিনি বললেন, "তোমরা কি দারিদ্র্যকে ভয় পাচ্ছ? সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই তোমাদের উপর দুনিয়াকে প্রচুর পরিমাণে ঢেলে দেওয়া হবে, এমনকি তোমাদের কারো অন্তরকে এই দুনিয়া ছাড়া অন্য কিছুই সত্যচ্যুত করবে না। আল্লাহর কসম, আমি তোমাদেরকে এক শুভ্র উজ্জ্বল অবস্থার উপর রেখে যাচ্ছি, যার রাত এবং দিন সমান।" আবু দারদা (রা.) বলেন, "আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য বলেছেন; আল্লাহর কসম, তিনি আমাদের এমন এক শুভ্র উজ্জ্বল অবস্থার উপর রেখে গেছেন যার রাত এবং দিন সমান।"

—

তাঁর উক্তি: (আমরা তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছিলাম) অর্থাৎ আমাদের নিকট তা পৌঁছানোর ভয় প্রকাশ করছিলাম। 'আল-ফাকরা' শব্দটি হামজা দীর্ঘ করে প্রশ্নবোধক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা পরবর্তী ক্রিয়াপদের কর্ম হিসেবে আগে এসেছে। ক্রিয়াপদটি কর্মবাচ্যে এবং তাকিদযুক্ত 'নুন' সহযোগে গঠিত। তাঁর উক্তি: (সত্যচ্যুত করবে না) এটি ইযাগাহ শব্দ থেকে নির্গত, যার অর্থ সত্য থেকে বিচ্যুত করা। তাঁর উক্তি: (তোমাদের কারো অন্তরকে) এটি জবরযুক্ত হয়ে কর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। (তবে এটি অর্থাৎ দুনিয়া ব্যতীত) এখানে 'হিয়া' হলো দুনিয়ার দিকে নির্দেশকারী সর্বনাম এবং শেষের 'হা' বর্ণটি বিরতির জন্য; এটি 'ইউযিগু' ক্রিয়ার কর্তা। তাঁর উক্তি: (আমি তোমাদের রেখে যাচ্ছি) অর্থাৎ মৃত্যুর মাধ্যমে আমি তোমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হইনি, এখানে অতীতকালটি ভবিষ্যৎ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অথবা এর অর্থ হলো—আমি তোমাদের অবস্থা সংশোধনের জন্য এতোটাই পরিশ্রম করেছি যে তোমরা এই অবস্থায় উপনীত হয়েছ, অতঃপর আমি তোমাদের সেই অবস্থায় রেখে অন্যান্য কাজে (যেমন ইবাদতে) মশগুল হয়েছি। এক্ষেত্রে অতীতকাল তার নিজস্ব অর্থেই রয়েছে। তাঁর উক্তি: (শুভ্র উজ্জ্বল সদৃশ বিষয়ের উপর) বর্ণনার প্রেক্ষাপট থেকে বোঝা যায় এটি অন্তরের অবস্থার বর্ণনা, ধর্মের অবস্থার নয়। এর অর্থ হলো—এমন সব অন্তরের উপর (রেখে গিয়েছি) যা দিন ও রাতের শুভ্র ভূমির মতো। এটিও সম্ভব যে 'সদৃশ' শব্দটি অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে এবং এর অর্থ হলো—বাতিলের দিকে ঝোঁকা থেকে পবিত্র এমন শুভ্র অন্তরের উপর (রেখে গিয়েছি), যাকে সুখ বা দুঃখ কোনোটিই আল্লাহ তাআলার দিক থেকে বিচ্যুত করতে পারে না। বিষয়টি এভাবেই বোঝা উচিত। পরিশেষে, এই হাদীসটি গ্রন্থকার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
6 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ «قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي مَنْصُورِينَ لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ»

ــ

قَوْلُهُ: (لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ) الطَّائِفَةُ الْجَمَاعَةُ مِنَ النَّاسِ وَالتَّنْكِيرُ لِلتَّقْلِيلِ أَوِ التَّعْظِيمِ لِعِظَمِ قَدْرِهِمْ وَوُفُورِ فَضْلِهِمْ وَيَحْتَمِلُ التَّكْثِيرُ أَيْضًا فَإِنَّهُمْ وَإِنْ قَلُّوا فَهُمُ الْكَثِيرُونَ فَإِنَّ الْوَاحِدَ لَا يُسَاوِيهِ الْأَلْفُ بَلْ هُمُ النَّاسُ كُلُّهُمْ قَوْلُهُ: (مَنْصُورِينَ) أَيْ بِالْحُجَجِ وَالْبَرَاهِينْ أَوْ بِالسُّيُوفِ وَالْأَسِنَّةِ فَعَلَى الْأَوَّلِ هُمْ أَهْلُ الْعِلْمِ وَعَلَى الثَّانِي الْغُزَاةُ وَإِلَى الْأَوَّلِ مَالَ الْمُصَنِّفُ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ فِي هَذَا الْبَابِ فَإِنَّهُ الْمَنْقُولُ عَنْ كَثِيرٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلَ فِي هَذِهِ الطَّائِفَةِ إِنْ لَمْ يَكُونُوا هُمْ أَهْلُ الْحَدِيثِ فَلَا أَدْرِي مَنْ هُمْ أَخْرَجَهُ الْحَاكِمُ فِي عُلُومِ الْحَدِيثِ قَالَ عِيَاضٌ: وَإِنَّمَا أَرَادَ أَهْلَ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ وَمَنْ يَعْتَقِدُ مَذْهَبَ أَهْلِ الْحَدِيثِ وَقَالَ الْبُخَارِيُّ فِي صَحِيحِهِ: هُمْ أَهْلُ الْعِلْمِ قَالَ السُّيُوطِيُّ بَعْدَ نَقْلِهِ أَيِ الْمُجْتَهِدُونَ لِأَنَّ الْمُقَلِّدَ لَا يُسَمَّى عَالِمًا وَاسْتَدَلَّ بِهِ عَلَى اسْتِمْرَارِ الِاجْتِهَادِ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ أَوْ مَجِيءِ أَشْرَاطِهَا الْكُبْرَى انْتَهَى.

قُلْتُ: كَأَنَّ السُّيُوطِيَّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى قَصَدَ بِذَلِكَ التَّنْبِيهَ عَلَى صِحَّةِ دَعْوَاهُ فَإِنَّهُ رحمه الله كَانَ يَدَّعِي الِاجْتِهَادَ الْمُطْلَقَ وَأَهْلُ عَصْرِهِ أَنْكَرُوا لَكِنَّ كَثِيرًا مِمَّنْ جَاءَ بَعْدَهُ سَلَّمَ لَهُ بِذَلِكَ قَالَ النَّوَوِيُّ: يَحْتَمِلُ أَنْ تَكُونَ هَذِهِ الطَّائِفَةُ مُفَرَّقَةً فِي أَنْوَاعِ الْمُؤْمِنِينَ مِمَّنْ يَقُومُ لِلَّهِ مِنَ الْمُجَاهِدِينَ وَفَقِيهٍ وَمُحَدِّثٍ وَزَاهِدٍ وَآمِرٍ بِالْمَعْرُوفِ وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنْ أَنْوَاعِ الْخَيْرِ وَلَا يَجِبُ اجْتِمَاعُهُمْ فِي مَكَانٍ وَاحِدٍ بَلْ يَجُوزُ أَنْ يَكُونُوا مُفْتَرِقِينَ فِي أَقْطَارِ الْأَرْضِ قَوْلُهُ: (مَنْ خَذَلَهُمْ) أَيْ لَمْ يُعَاوِنْهُمْ وَلَمْ يَنْصُرْهُمْ مِنَ الْخَلْقِ فَإِنَّهُمْ مَنْصُورُونَ بِاللَّهِ لِمَا فِيهِمْ مِنَ الْخَيْرِ {إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَالَّذِينَ هُمْ مُحْسِنُونَ} [النحل: 128] أَيْ فَلَا يَضُرُّهُمْ عَدَمُ نَصْرِ الْغَيْرِ قَوْلُهُ: (حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ) أَيْ سَاعَةُ مَوْتِ الْمُؤْمِنِينَ بِمَجِيءِ الرِّيحِ الَّتِي تَقْبِضُ رُوحَ كُلِّ مُؤْمِنٍ وَهِيَ السَّاعَةُ فِي حَقِّ الْمُؤْمِنِينَ وَإِلَّا فَالسَّاعَةُ لَا تَقُومُ إِلَّا عَلَى شِرَارِ خَلْقِ اللَّهِ.
৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন বাশশার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন জাফর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শুবা, মুআবিয়া ইবন কুররাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সাহায্যপ্রাপ্ত থাকবে, যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চায় তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না কিয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত।"»

—

তাঁর উক্তি: (সর্বদা একটি দল থাকবে) "তায়েফাহ" বলতে মানুষের একটি দলকে বোঝায়। এখানে শব্দটিকে অনির্দিষ্ট রাখা হয়েছে সংখ্যায় অল্প বুঝাতে অথবা তাদের সুউচ্চ মর্যাদা ও বিপুল শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তাদের মহত্ত্ব প্রকাশ করতে। এটি সংখ্যায় আধিক্যের সম্ভাবনাও রাখে; কারণ তারা সংখ্যায় কম হলেও প্রকৃতপক্ষে তারাই অনেক বেশি। কেননা একজন ব্যক্তি এক হাজারের সমান নয়, বরং তারাই যেন সমগ্র মানবজাতি। তাঁর উক্তি: (সাহায্যপ্রাপ্ত থাকবে) অর্থাৎ দলীল ও প্রমাণের মাধ্যমে অথবা তরবারি ও বর্শার মাধ্যমে। প্রথম অর্থ অনুযায়ী তারা হলো ইলম অন্বেষী আলেম সমাজ, আর দ্বিতীয় অর্থ অনুযায়ী তারা হলো মুজাহিদ বাহিনী। গ্রন্থকার প্রথম অর্থের দিকেই ঝুঁকেছেন, তাই তিনি এই অধ্যায়ে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। কারণ এটিই অনেক আলেম থেকে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল এই দল সম্পর্কে বলেন: যদি তারা আহলে হাদীস না হয়, তবে আমি জানি না তারা কারা। এটি হাকীম 'উলুমুল হাদীস' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। কাযী ইয়ায বলেন: তিনি এর দ্বারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত এবং যারা আহলে হাদীসের মানহাজ বা মতবাদে বিশ্বাসী তাদের বুঝিয়েছেন। ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে বলেছেন: তারা হলো আহলে ইলম বা আলেম সমাজ। ইমাম সূয়ূতী এটি উদ্ধৃত করার পর বলেছেন: অর্থাৎ মুজতাহিদগণ; কারণ মুকাল্লিদকে আলেম বলা হয় না। তিনি এর মাধ্যমে কিয়ামত কায়েম হওয়া বা কিয়ামতের বড় আলামতগুলো আসা পর্যন্ত ইজতিহাদ অব্যাহত থাকার পক্ষে দলীল পেশ করেছেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

আমি বলি: ইমাম সূয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) এর মাধ্যমে সম্ভবত নিজের দাবির সত্যতার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। কারণ তিনি (রহিমাহুল্লাহ) 'ইজতিহাদে মুতলাক' বা নিরঙ্কুশ ইজতিহাদের দাবি করেছিলেন এবং তাঁর সমসাময়িকরা তা অস্বীকার করেছিলেন, তবে তাঁর পরবর্তী অনেকে তাঁর এই দাবি মেনে নিয়েছেন। ইমাম নববী বলেন: সম্ভবত এই দলটি বিভিন্ন প্রকার মুমিনদের মধ্যে ছড়িয়ে থাকবে; যেমন আল্লাহর জন্য দণ্ডায়মান মুজাহিদ, ফকীহ, মুহাদ্দিস, যাহেদ (দুনিয়াবিমুখ), সৎকাজের আদেশ দানকারী এবং অন্যান্য কল্যাণকর কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে। তাদের সবাইকে এক স্থানে সমবেত থাকা জরুরি নয়, বরং তারা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকতে পারে। তাঁর উক্তি: (যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চায়) অর্থাৎ মাখলুক বা সৃষ্টির মধ্য থেকে যারা তাদের সহযোগিতা করবে না এবং তাদের সাহায্য করবে না। কারণ তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত, যেহেতু তাদের মধ্যে কল্যাণ রয়েছে। {নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সাথে আছেন যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মশীল} [সূরা আন-নাহল: ১২৮]। অর্থাৎ অন্যের সাহায্য না পাওয়া তাদের কোনো ক্ষতি করবে না। তাঁর উক্তি: (কিয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত) অর্থাৎ সেই বায়ু প্রবাহের মাধ্যমে মুমিনদের মৃত্যুর সময় পর্যন্ত যা প্রত্যেক মুমিনের রূহ কবজ করবে। আর মুমিনদের জন্য সেটিই কিয়ামত। নতুবা প্রকৃত কিয়ামত তো কেবল আল্লাহর সৃষ্টির সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোকদের ওপর কায়েম হবে।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
7 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْد اللَّهِ قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَلْقَمَةَ نَصْرُ بْنُ عَلْقَمَةَ عَنْ عُمَيْرِ بْنِ الْأَسْوَدِ وَكَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ الْحَضْرَمِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي قَوَّامَةً عَلَى أَمْرِ اللَّهِ لَا يَضُرُّهَا مَنْ خَالَفَهَا»

ــ

قَوْلُهُ: (قَوَّامَةً عَلَى أَمْرِ اللَّهِ) أَيْ بِأَمْرِهِ أَيْ بِشَرِيعَتِهِ وَدِينِهِ وَتَرْوِيجِ سُنَّةِ نَبِيِّهِ أَوْ بِالْجِهَادِ مَعَ الْكُفَّارِ.
৭ - আবু আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হিশাম ইবনে আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াহইয়া ইবনে হামযা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু আলকামা নাসর ইবনে আলকামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি উমাইর ইবনে আসওয়াদ ও কাসীর ইবনে মুররা আল-হাদরামী থেকে, আর তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা আল্লাহর আদেশের ওপর অবিচল থাকবে, যারা তাদের বিরোধিতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।"

—

তাঁর বাণী: (আল্লাহর আদেশের ওপর অবিচল) অর্থাৎ তাঁর আদেশের ওপর, তথা তাঁর শরীয়ত ও তাঁর দ্বীনের ওপর এবং তাঁর নবীর সুন্নাহর প্রচার-প্রসারে, অথবা কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
8 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْد اللَّهِ قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا الْجَرَّاحُ بْنُ مَلِيحٍ حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ زُرْعَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عِنَبَةَ الْخَوْلَانِيَّ وَكَانَ قَدْ صَلَّى الْقِبْلَتَيْنِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ «سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لَا يَزَالُ اللَّهُ يَغْرِسُ فِي هَذَا الدِّينِ غَرْسًا يَسْتَعْمِلُهُمْ فِي طَاعَتِهِ»

ــ

قَوْلُهُ: (حَدَّثَنَا زُرْعَةُ) قَالَ السُّيُوطِيُّ هُوَ خَوْلَانِيٌّ شَامِيٌّ
৮ - আবু আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হিশাম ইবনে আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-জাররাহ ইবনে মালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বকর ইবনে জুরআহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আবু ইনাবাহ আল-খাওলানিকে বলতে শুনেছি—আর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে উভয় কিবলার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছিলেন—তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, "আল্লাহ সর্বদা এই দ্বীনের মধ্যে এমন চারা রোপণ করতে থাকবেন যাদেরকে তিনি তাঁর আনুগত্যের কাজে নিয়োজিত করবেন।"

--

তাঁর উক্তি: (জুরআহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন) সুয়ূতী বলেন, তিনি সিরীয় অঞ্চলের খাওলানি গোত্রের লোক।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
لَيْسَ لَهُ عِنْدَ الْمُصَنِّفِ سِوَى هَذَا الْحَدِيثِ وَلَيْسَ لَهُ عِنْدَ بَقِيَّةِ السِّتَّةِ شَيْءٌ سَمِعْتُ أَبَا عِنَبَةَ بِكَسْرِ الْعَيْنِ الْمُهْمَلَةِ وَفَتْحِ النُّونِ ثُمَّ مُوَحَّدَةٍ اسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ وَقِيلَ: عُمَارَةُ وَأَنْكَرَ قَوْمٌ صُحْبَتَهُ وَعَدُّوهُ فِي كِبَارِ التَّابِعِينَ وَقَالَ الْبَغَوِيُّ فِي مُعْجَمِهِ: كَانَ مِنْ أَصْحَابِ مُعَاذٍ أَسْلَمَ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَيٌّ قَوْلُهُ: (يَغْرِسُ) كَـ يَضْرِبُ أَوْ مِنْ أَغَرَسَ يُقَالُ: غَرَسَ الشَّجَرَ وَأَغْرَسَهُ إِذَا أَثْبَتَهُ فِي الْأَرْضِ وَالْمُرَادُ يُوجَدُ فِي أَهْلِ هَذِهِ الدِّينِ وَلِذَا يُسْتَعْمَلُ أَهْلُ الدِّينِ فِي طَاعَتِهِ وَلَعَلَّ هَذَا هُوَ الْمُجَدِّدُ لِلدِّينِ عَلَى رَأْسِ كُلِّ مِائَةِ سَنَةٍ وَيَحْتَمِلُ أَنَّهُ أَعَمُّ فَيَشْمَلُ كُلَّ مَنْ يَدْعُو النَّاسَ إِلَى إِقَامَةِ دِينِ اللَّهِ وَطَاعَتِهِ وَسُنَّةِ نَبِيِّهِ - صَلَوَاتُ اللَّهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ - وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَغَرْسًا بِمَعْنَى مَغْرُوسًا

গ্রন্থকারের নিকট এই হাদিসটি ছাড়া তাঁর আর কোনো হাদিস নেই এবং বাকি ছয়টি কিতাবেও তাঁর কোনো বর্ণনা নেই। আমি আবু ইনাবাহ (আইন বর্ণে কাসরা, নূন বর্ণে ফাতহা এবং এরপর এক নুক্তাবিশিষ্ট ‘বা’ যোগে) থেকে শুনেছি। তাঁর নাম আব্দুল্লাহ, কারো মতে উমারাহ। একদল আলেম তাঁর সাহাবী হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এবং তাঁকে প্রবীণ তাবেঈদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ইমাম বাগাভী তাঁর ‘মু’জাম’ গ্রন্থে বলেন: তিনি মুআযের সাথীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবিত থাকাকালীন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর কথা: (রোপণ করা) শব্দটি ‘ইয়াযরিবু’ ওজনে অথবা ‘আঘরাসা’ থেকে এসেছে। বলা হয়: তিনি বৃক্ষ রোপণ করেছেন, যখন তিনি তা মাটিতে স্থির করেছেন। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এই দ্বীনের অনুসারীদের মধ্যে কাউকে সৃষ্টি করা, আর এই উদ্দেশ্যেই তিনি দ্বীনদারদের তাঁর আনুগত্যে নিয়োজিত করেন। সম্ভবত এটি প্রতি শতবর্ষের শুরুতে দ্বীনের সেই সংস্কারক (মুজাদ্দিদ)। এটিও সম্ভব যে বিষয়টি ব্যাপক অর্থবোধক, যা এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে শামিল করে যারা মানুষকে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা, তাঁর আনুগত্য এবং তাঁর নবীর সুন্নাহর দিকে আহ্বান করেন—যাঁর প্রতি এবং যাঁর পরিবার ও সাহাবীদের প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আর ‘গারসান’ শব্দটি ‘মাগরূসান’ (রোপিত) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
9 - حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ نَافِعٍ حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ «قَامَ مُعَاوِيَةُ خَطِيبًا فَقَالَ أَيْنَ عُلَمَاؤُكُمْ أَيْنَ عُلَمَاؤُكُمْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلَّا وَطَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرُونَ عَلَى النَّاسِ لَا يُبَالُونَ مَنْ خَذَلَهُمْ وَلَا مَنْ نَصَرَهُمْ»

ــ

قَوْلُهُ: (أَيْنَ عُلَمَاؤُكُمْ؟) أَيْ لِيُصَدِّقُونِي فِيمَا أَقُولُ قَوْلُهُ: (ظَاهِرُونَ) غَالِبُونَ.
৯ - ইয়াকুব বিন হুমাইদ বিন কাসিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-কাসিম বিন নাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হাজ্জাজ বিন আরতাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন শুয়াইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «মুআবিয়া খুতবা দেওয়ার জন্য দাঁড়ালেন এবং বললেন, তোমাদের আলেমগণ কোথায়? তোমাদের আলেমগণ কোথায়? আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, কিয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না আমার উম্মতের একটি দল মানুষের ওপর বিজয়ী থাকবে; যারা তাদের পরিত্যাগ করেছে কিংবা যারা তাদের সাহায্য করেছে—তাদের তারা পরোয়া করবে না।»

—

তাঁর বাণী: (তোমাদের আলেমগণ কোথায়?) অর্থাৎ তারা যেন আমি যা বলছি সে বিষয়ে আমাকে সত্যায়ন করে। তাঁর বাণী: (বিজয়ী) অর্থাৎ প্রবল বা বিজয়ী।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
10 - حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ بَشِيرٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ الرَّحَبِيِّ عَنْ ثَوْبَانَ «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي عَلَى الْحَقِّ مَنْصُورِينَ لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَالَفَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ عز وجل»
১০ - হিশাম ইবনে আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে শুআইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে বাশির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ্ থেকে, আবু কিলাবাহ্ থেকে, আবু আসমা আর-রাহাবী থেকে, সাওবান থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে; যারা তাদের বিরোধিতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নির্দেশ আসে।”
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
11 - حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ قَالَ سَمِعْتُ مُجَالِدًا يَذْكُرُ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ «كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَخَطَّ خَطًّا وَخَطَّ خَطَّيْنِ عَنْ يَمِينِهِ وَخَطَّ خَطَّيْنِ عَنْ يَسَارِهِ ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ فِي الْخَطِّ الْأَوْسَطِ فَقَالَ هَذَا سَبِيلُ اللَّهِ ثُمَّ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ} [الأنعام: 153] »

ــ

قَوْلُهُ: (هَذَا سَبِيلُ اللَّهِ) أَيْ مِثْلُ سَبِيلِهِ الْمُوَصِّلَةِ إِلَيْهِ الْمُقَرِّبَةِ السَّالِكِ فِيهَا الْمُرَادُ بِهَا الدِّينُ الْقَوِيمُ وَالصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ وَبِتِلَاوَةِ الْآيَةِ بَيَّنَ لَهُمْ أَنَّ بَاقِيَ الْخُطُوطِ مَثَلٌ لِلسَّبِيلِ الْمُعَوِّقَةِ عَنْهُ وَالْمَطْلُوبُ بِالتَّمْثِيلِ تَوْضِيحُ حَالِ الدِّينِ وَحَالِ السَّالِكِ فِيهِ وَأَنَّهُ لَا يَنْبَغِي لَهُ أَدْنَى مَيْلٍ عَنْهُ فَإِنَّهُ بِأَدْنَى مَيْلٍ يَقَعُ فِي سَبِيلِ الضَّلَالِ لِقُرْبِهَا وَاشْتِبَاهِهَا وَاللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ.
১১ - আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু খালিদ আল-আহমার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুজালিদকে শা'বী থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন তিনি একটি রেখা টানলেন এবং তাঁর ডান দিকে দুটি রেখা ও বাম দিকে দুটি রেখা টানলেন। অতঃপর তিনি মাঝখানের রেখাটির ওপর তাঁর হাত রাখলেন এবং বললেন, 'এটি আল্লাহর পথ।' এরপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: {আর নিশ্চয় এটি আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে।} [আল-আনআম: ১৫৩]»

--

তাঁর উক্তি: (এটি আল্লাহর পথ) অর্থাৎ তাঁর নিকট পৌঁছে দেওয়ার এবং নৈকট্য লাভের পথের ন্যায় যাতে পথচারী বিচরণ করে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন এবং সরল পথ। আর আয়াতটি তিলাওয়াতের মাধ্যমে তিনি তাদের সামনে স্পষ্ট করেছেন যে, অবশিষ্ট রেখাগুলো হলো আল্লাহর পথ থেকে বিমুখকারী বা বাধা প্রদানকারী পথসমূহের উদাহরণ। এই উপমার উদ্দেশ্য হলো দ্বীনের অবস্থা এবং এতে বিচরণকারীর অবস্থা পরিষ্কার করা, এবং এটি যে তার জন্য দ্বীন থেকে সামান্যতম বিচ্যুত হওয়া সমীচীন নয়। কারণ সামান্যতম বিচ্যুতির কারণেই সে পথভ্রষ্টতার পথে নিপতিত হবে, যেহেতু সেগুলো অত্যন্ত নিকটবর্তী এবং সংশয়পূর্ণ। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌[بَاب تَعْظِيمِ حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالتَّغْلِيظِ عَلَى مَنْ عَارَضَهُ]

12 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ جَابِرٍ عَنْ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ الْكِنْدِيِّ «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ يُوشِكُ الرَّجُلُ مُتَّكِئًا عَلَى أَرِيكَتِهِ يُحَدَّثُ بِحَدِيثٍ مِنْ حَدِيثِي فَيَقُولُ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ كِتَابُ اللَّهِ عز وجل مَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَلَالٍ اسْتَحْلَلْنَاهُ وَمَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَرَامٍ حَرَّمْنَاهُ أَلَّا وَإِنَّ مَا حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِثْلُ مَا حَرَّمَ اللَّهُ»

ــ

قَوْلُهُ: (يُوشِكُ الرَّجُلُ) هُوَ مُضَارِعُ أَوْشَكَ قَالَ ابْنُ مَالِكٍ هُوَ أَحَدُ أَفْعَالِ الْمُقَارَبَةِ وَيَقْتَضِي اسْمًا مَرْفُوعًا وَخَبَرًا يَكُونُ فِعْلًا مُضَارِعًا مَقْرُونًا بِأَنَّ وَلَا أَعْلَمُ تَجَرُّدَهُ مِنْ أَنَّ إِلَّا فِي هَذَا الْحَدِيثِ وَفِي بَعْضِ الْأَشْعَارِ

قَالَ السُّيُوطِيُّ قُلْتُ: قَدْ رَوَاهُ الْحَاكِمُ بِلَفْظِ يُوشِكُ أَنْ يَقْعُدَ الرَّجُلُ عَلَى أَرِيكَتِهِ يُحَدَّثُ إِلَخْ أَرَادَ السُّيُوطِيُّ أَنَّ لَفْظَ الْحَدِيثِ قَدْ غَيَّرَهُ الرُّوَاةُ وَإِلَّا فَأَنْ مَوْجُودَةٌ فِيهِ فِي الْأَصْلِ كَمَا فِي رِوَايَةِ الْحَاكِمِ مُتَّكِئًا عَلَى أَرِيكَتِهِ أَيْ جَالِسًا عَلَى سَرِيرِهِ الْمُزَيَّنِ وَالظَّاهِرُ أَنَّهُ حَالٌ مِنْ ضَمِيرِ يُحَدَّثُ الرَّاجِعِ إِلَى الرَّجُلِ وَهُوَ عَلَى بِنَاءِ الْمَفْعُولِ وَجَعْلُهُ حَالًا مِنَ الرَّجُلِ بَعِيدٌ مَعْنًى وَهَذَا بَيَانٌ لِبَلَادَتِهِ وَسُوءِ فَهْمِهِ أَيْ حَمَاقَتِهِ وَسُوءِ أَدَبِهِ كَمَا هُوَ دَأْبُ الْمُتَنَعِّمِينَ الْمَغْرُورِينَ بِالْمَالِ وَالْجَاهِ

وَقَالَ الْخَطَّابِيُّ أَرَادَ بِهِ أَصْحَابَ التَّرَفُّهِ وَالدَّعَةِ الَّذِينَ لَزِمُوا الْبُيُوتَ وَلَمْ يَطْلُبُوا الْحَدِيثَ بِالْأَسْفَارِ مِنْ أَهْلِهِ فَيَقُولُ أَيْ فِي رَدِّ ذَلِكَ الْحَدِيثِ حَيْثُ لَا يُوَافِقُ هَوَاهُ أَوْ مَذْهَبَ إِمَامِهِ الَّذِي قَلَّدَهُ قَوْلُهُ: (اسْتَحْلَلْنَاهُ) اتَّخَذْنَاهُ حَلَالًا أَيْ وَهَذَا الْحَدِيثُ زَائِدٌ عَلَى مَا فِي الْقُرْآنِ فَلَا نَأْخُذُ بِهِ قَوْلُهُ: (أَلَا وَإِنَّ مَا حَرَّمَ إِلَخْ) أَلَا حَرْفُ تَنْبِيهٍ وَإِنَّ مَا حَرَّمَ عَطْفٌ عَلَى مُقَدَّرٍ أَيْ أَلَا إِنَّ مَا فِي الْقُرْآنِ حَقٌّ وَإِنَّ مَا حَرَّمَ إِلَخْ مِثْلُ مَا حَرَّمَ اللَّهُ أَيْ عَطْفٌ فِي الْقُرْآنِ وَإِلَّا فَمَا حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هُوَ عَيْنُ مَا حَرَّمَ اللَّهُ فَإِنَّ التَّحْرِيمَ يُضَافُ إِلَى الرَّسُولِ بِاعْتِبَارِ التَّبْلِيغِ وَإِلَّا هُوَ فِي الْحَقِيقَةِ لِلَّهِ وَالْمُرَادُ أَنَّهُ مِثْلُهُ فِي وُجُوبِ الطَّاعَةِ وَلُزُومِ الْعَمَلِ بِهِ قَالَ الْخَطَّابِيُّ يُحَذِّرُ بِذَلِكَ مُخَالَفَةَ السُّنَنِ الَّتِي سَنَّهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِمَّا لَيْسَ لَهُ فِي الْقُرْآنِ ذِكْرٌ عَلَى مَا ذَهَبَ إِلَيْهِ الْخَوَارِجُ وَالرَّوَافِضُ فَإِنَّهُمْ تَعَلَّقُوا بِظَاهِرِ الْقُرْآنِ وَتَرَكُوا الَّتِي قَدْ ضُمِّنَتْ بَيَانَ الْكِتَابِ فَتَحَيَّرُوا وَضَلُّوا قَالَ وَفِي الْحَدِيثِ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّهُ لَا حَاجَةَ بِالْحَدِيثِ أَنْ يُعْرَضَ عَلَى الْكِتَابِ وَأَنَّهُ مَهْمَا ثَبَتَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ حُجَّةً بِنَفْسِهِ

قُلْتُ: كَأَنَّهُ أَرَادَ بِهِ الْعَرْضَ لِقَصْدِ رَدِّ الْحَدِيثِ بِمُجَرَّدِ
[রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের সম্মান প্রদর্শন এবং যে ব্যক্তি এর বিরোধিতা করে তার প্রতি কঠোরতা অবলম্বন অধ্যায়]

১২ - আবু বকর ইবনে আবী শায়বা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যায়েদ ইবনুল হুবাব মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ থেকে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি হাসসান ইবনে জাবির থেকে, তিনি মিকদাম ইবনে মা'দিকারিব আল-কিনদী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “শীঘ্রই এমন সময় আসবে যখন কোনো ব্যক্তি তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে, তার নিকট আমার হাদীসসমূহের মধ্য হতে কোনো হাদীস বর্ণনা করা হবে, তখন সে বলবে: আমাদের ও তোমাদের মাঝে মহান প্রতাপশালী আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট। আমরা তাতে যা হালাল পাবো সেটুকুই হালাল হিসেবে গ্রহণ করবো এবং তাতে যা হারাম পাবো সেটুকুই হারাম হিসেবে গ্রহণ করবো। সাবধান! নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা হারাম করেছেন তা আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ের মতোই।”

--

তাঁর বাণী: (শীঘ্রই কোনো ব্যক্তি) এটি ‘আওশাকা’ ক্রিয়ার মুজারি বা বর্তমানকাল। ইবনে মালিক বলেন, এটি নৈকট্যবাচক ক্রিয়াসমূহের একটি। এটি একটি মারফু (পেশযুক্ত) ইসিম এবং খবর হিসেবে এমন একটি মুজারি ক্রিয়া দাবি করে যা ‘আন’ যুক্ত হবে। এই হাদীস এবং কিছু কবিতা ব্যতিত অন্য কোথাও আমি এটিকে ‘আন’ মুক্ত হতে দেখিনি।

সুয়ূতী বলেন, আমি বলছি: আল-হাকিম এটি ‘শীঘ্রই কোনো ব্যক্তি তার সুসজ্জিত আসনে বসবে...’ শব্দে বর্ণনা করেছেন। সুয়ূতী এর মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছেন যে, হাদীসের শব্দসমূহ বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে, নতুবা মূলে ‘আন’ বিদ্যমান ছিল যেমনটি আল-হাকিমের বর্ণনায় রয়েছে। (তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে) অর্থাৎ তার সুশোভিত পালঙ্কে বা আসনে উপবিষ্ট হয়ে। বাহ্যত এটি ‘ইউহাদ্দাসু’ ক্রিয়ার সর্বনাম থেকে হাল বা অবস্থা হিসেবে এসেছে, যা ঐ ব্যক্তির দিকে ফিরছে। এটি মাজহুল বা কর্মবাচ্যের গঠন। একে ‘ব্যক্তি’ শব্দ থেকে হাল হিসেবে ধরা অর্থগতভাবে দূরবর্তী। এটি তার জড়তা, বোধশক্তির স্বল্পতা অর্থাৎ তার মূর্খতা ও শিষ্টাচারহীনতার বর্ণনা, যেমনটি সম্পদ ও পদের অহংকারে মত্ত বিলাসপ্রিয়দের স্বভাব হয়ে থাকে।

খাত্তাবী বলেন, এর দ্বারা তিনি ঐসব বিলাসপ্রিয় ও আরামপ্রিয়দের বুঝিয়েছেন যারা ঘরে বসে থাকে এবং হাদীস বিশারদদের কাছে গিয়ে দেশ-বিদেশে ভ্রমণের মাধ্যমে হাদীস অন্বেষণ করে না। অতঃপর সে বলবে—অর্থাৎ সেই হাদীসটি প্রত্যাখ্যান করে বলবে যখন সেটি তার কুপ্রবৃত্তি বা তার অনুসরিত ইমামের মাযহাবের সাথে মিলবে না। তাঁর বাণী: (আমরা তা হালাল হিসেবে গ্রহণ করবো) অর্থাৎ আমরা সেটিকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করবো। এর অর্থ হলো—এই হাদীসটি কুরআনে যা আছে তার অতিরিক্ত, তাই আমরা এটি গ্রহণ করবো না। তাঁর বাণী: (সাবধান! নিশ্চয়ই যা হারাম করেছেন...) ‘আলা’ সতর্কতামূলক অব্যয়। আর ‘নিশ্চয়ই যা হারাম করেছেন’ অংশটি একটি উহ্য বিষয়ের উপর সংযোজিত হয়েছে। অর্থাৎ সাবধান! নিশ্চয়ই কুরআনে যা আছে তা সত্য এবং নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ যা হারাম করেছেন তা আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ের ন্যায়। অর্থাৎ কুরআনের বিধানের সমতুল্য। অন্যথায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা হারাম করেছেন তা মূলত আল্লাহরই হারামকৃত বিষয়। কেননা রাসূলের দিকে হারাম করার সম্বন্ধ করা হয় প্রচারের দিক থেকে, নতুবা প্রকৃতপক্ষে তা আল্লাহরই পক্ষ থেকে। এর উদ্দেশ্য হলো—আনুগত্য করা এবং সে অনুযায়ী আমল করার অপরিহার্যতার ক্ষেত্রে তা কুরআনের মতোই। খাত্তাবী বলেন, এর মাধ্যমে তিনি ঐসব সুন্নাহর বিরোধিতা করা থেকে সতর্ক করেছেন যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবর্তন করেছেন এবং যার উল্লেখ কুরআনে নেই; যেমনটি খারেজী ও রাফেযীরা মনে করে থাকে। কেননা তারা কুরআনের বাহ্যিক অর্থের সাথে লেগে থাকে এবং সেই সুন্নাহ বর্জন করে যা কিতাবের ব্যাখ্যা হিসেবে নিহিত রয়েছে, ফলে তারা বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, এই হাদীসে এই দলিল রয়েছে যে, হাদীসকে কুরআনের নিকট পেশ করার প্রয়োজন নেই; বরং যখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো কিছু সাব্যস্ত হবে, তা নিজেই একটি অকাট্য দলিল।

আমি বলছি: মনে হচ্ছে তিনি এর দ্বারা হাদীসকে নিছক প্রত্যাখ্যান করার উদ্দেশ্যে পেশ করাকে বুঝিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
أَنَّهُ ذُكِرَ فِيهِ مَا لَيْسَ فِي الْكِتَابِ وَإِلَّا فَالْعَرْضُ لِقَصْدِ الْفَهْمِ وَالْجَمْعِ وَالتَّثَبُّتِ لَازِمٌ ثُمَّ قَالَ: وَحَدِيثُ «إِذَا جَاءَكُمْ حَدِيثٌ فَاعْرِضُوهُ عَلَى الْقُرْآنِ كِتَابِ اللَّهِ فَإِنْ وَافَقَهُ فَخُذُوهُ» حَدِيثٌ بَاطِلٌ لَا أَصْلَ لَهُ وَرُوِيَ عَنْ يَحْيَى بْنِ مَعِينٍ أَنَّهُ قَالَ: هَذَا حَدِيثٌ وَضَعَهُ الزَّنَادِقَةُ.
এতে এমন বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে যা কিতাবে নেই; অন্যথায় অনুধাবন, সংকলন ও যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে তুলনা করা অপরিহার্য। অতঃপর তিনি বলেন: “যখন তোমাদের নিকট কোনো হাদিস বর্ণিত হয়, তখন তা আল্লাহর কিতাব কুরআনের ওপর পেশ করো; যদি তা কুরআনের অনুকূলে হয় তবে তা গ্রহণ করো”—এই হাদিসটি বাতিল এবং এর কোনো ভিত্তি নেই। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: এটি এমন একটি হাদিস যা জিন্দিকরা জাল করেছে।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
13 - حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ فِي بَيْتِهِ أَنَا سَأَلْتُهُ عَنْ سَالِمٍ أَبِي النَّضْرِ ثُمَّ مَرَّ فِي الْحَدِيثِ قَالَ أَوْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ عَنْ أَبِيهِ «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ مُتَّكِئًا عَلَى أَرِيكَتِهِ يَأْتِيهِ الْأَمْرُ مِمَّا أَمَرْتُ بِهِ أَوْ نَهَيْتُ عَنْهُ فَيَقُولُ لَا أَدْرِي مَا وَجَدْنَا فِي كِتَابِ اللَّهِ اتَّبَعْنَاهُ»

ــ

قَوْلُهُ: (لَا أُلْفِيَنَّ) صِيغَةُ الْمُتَكَلِّمِ الْمُؤَكَّدَةُ بِالنُّونِ الثَّقِيلَةِ مِنْ أَلْفَيْتُ الشَّيْءَ وَجَدْتُهُ ظَاهِرُهُ نَهْيُ النَّبِيِّ - صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - نَفْسَهُ عَنْ أَنْ يَجِدَهُمْ عَلَى هَذِهِ الْحَالَةِ وَالْمُرَادُ نَهْيُهُمْ عَنْ أَنْ يَكُونُوا عَلَى هَذِهِ الْحَالَةِ فَإِنَّهُمْ إِذَا كَانُوا عَلَيْهَا يَجِدُهُمْ - صَلَوَاتُ اللَّهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ - عَلَيْهَا وَقَوْلُهُ: يَأْتِيهِ الْأَمْرُ الْجُمْلَةُ حَالٌ وَالْأَمْرُ بِمَعْنَى الشَّأْنِ فَيَعُمُّ الْأَمْرَ وَالنَّهْيَ فَوَافَقَ الْبَيَانَ بِقَوْلِهِ: مِمَّا أَمَرْتُ بِهِ أَوْ نَهَيْتُ عَنْهُ فَيَقُولُ إِعْرَاضًا عَنْهُ: لَا أَدْرِي هَذَا الْأَمْرَ مَا وَجَدْنَا مَا مَوْصُولَةٌ مُبْتَدَأٌ خَبَرُهُ اتَّبَعْنَاهُ أَيْ وَلَيْسَ هَذَا مِنْهُ فَلَا نَتَّبِعُهُ وَيَحْتَمِلُ أَنْ تَكُونَ مَا نَافِيَةٌ وَالْجُمْلَةُ كَالتَّأْكِيدِ لِقَوْلِهِ: لَا أَدْرِي وَجُمْلَةُ اتَّبَعْنَاهُ حَالٌ أَيْ وَقَدِ اتَّبَعْنَا كِتَابَ اللَّهِ فَلَا نَتْبَعُ غَيْرَهُ قُلْتُ: وَقَوْلُ بَعْضِ أَهْلِ الْأُصُولِ لَا يَجُوزُ الزِّيَادَةُ عَلَى الْكِتَابِ بِخَبَرٍ فِي الصُّورَةِ أَشْبَهُ شَيْءٍ بِهَذَا الْمَنْهِيِّ عَنْهُ وَإِنْ كَانَ مَعْنَاهُ لَا يَجُوزُ تَقْيِيدُ إِطْلَاقِ الْكِتَابِ بِخَبَرِ الْآحَادِ فَالِاحْتِرَازُ عَنْ إِطْلَاقِ ذَلِكَ اللَّفْظِ أَحْسَنُ وَأَوْلَى.
১৩ - আমাদের কাছে নাসর ইবনে আলী আল-জাহদামি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সুফিয়ান ইবনে উয়ায়না তাঁর ঘরে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আমি তাঁকে সালিম আবু আন-নাদর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এরপর তিনি হাদিসে উল্লেখ করেছেন অথবা জায়েদ ইবনে আসলাম উবাইদুল্লাহ ইবনে আবু রাফি' থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় এমন না পাই যে, তার কাছে আমার নির্দেশিত কোনো আদেশ বা নিষিদ্ধ কোনো নিষেধ পৌঁছাল আর সে বলল, 'আমি জানি না; আমরা আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি শুধু তারই অনুসরণ করেছি'।"

—

তাঁর বাণী: (লা উলফিয়ান্না) এটি উত্তম পুরুষ বা বক্তার ক্রিয়া রূপ, যা 'নুন সাকিলা' যোগে দৃঢ়তা প্রদান করা হয়েছে। এটি 'আলফায়তুশ শাই'আ' থেকে এসেছে যার অর্থ আমি তা খুঁজে পেয়েছি বা পেয়েছি। এর বাহ্যিক অর্থ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেকে তাদের এই অবস্থায় পাওয়া থেকে নিষেধ করছেন। আর এর প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো তাদেরকে এই অবস্থায় থাকা থেকে নিষেধ করা; কেননা তারা যদি এই অবস্থায় থাকে তবে তিনি (সালাওয়াতুল্লাহি ওয়া সালামুহু আলাইহি) তাদের সেভাবেই পাবেন। এবং তাঁর বাণী: 'ইয়াতীহিল আমরু' (তার কাছে নির্দেশ পৌঁছে), এই বাক্যটি অবস্থা (হাল) হিসেবে এসেছে। এখানে 'আমর' অর্থ হলো বিষয় বা কাজ, যা আদেশ ও নিষেধ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। তাই এটি তাঁর পরবর্তী বক্তব্য 'আমি যা আদেশ করেছি বা যা নিষেধ করেছি'—এর ব্যাখ্যার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়েছে। অতঃপর সে বিমুখতা প্রকাশ করে বলে: 'আমি এই বিষয়টি জানি না'। 'মা ওয়াজাদনা' (আমরা যা পেয়েছি), এখানে 'মা' হলো সংযোগমূলক অব্যয় (মাউসুলা), যা মুবতাদা (উদ্দেশ্য) এবং এর খবর (বিধেয়) হলো 'ইত্তাবায়নাউ' (আমরা অনুসরণ করেছি)। অর্থাৎ—'এটি তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই আমরা এটি অনুসরণ করি না।' এটিও হতে পারে যে 'মা' শব্দটি না-বোধক (নাফিয়া) এবং বাক্যটি তার কথা 'আমি জানি না'-এর তাকিদ বা জোর হিসেবে এসেছে। এমতাবস্থায় 'ইত্তাবায়নাউ' বাক্যটি অবস্থা (হাল) হবে, অর্থাৎ—'আমরা আল্লাহর কিতাব অনুসরণ করেছি, তাই আমরা অন্য কিছুর অনুসরণ করি না'। আমি বলি: উসুলবিদদের কারো কারো কথা যে—'খবর (হাদিস) দ্বারা কিতাবুল্লাহর ওপর কোনো কিছু বৃদ্ধি করা জায়েজ নেই'—এটি বাহ্যিকভাবে সেই নিষিদ্ধ আচরণের সাথে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। যদিও এর অর্থ হলো—'খবরে ওয়াহেদ দ্বারা কিতাবুল্লাহর সাধারণ হুকুমকে সীমাবদ্ধ করা জায়েজ নেই', তবুও ওই জাতীয় শব্দের সাধারণ প্রয়োগ থেকে বেঁচে থাকা উত্তম ও অধিকতর বাঞ্ছনীয়।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
14 - حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعُثْمَانِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عَائِشَةَ «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ»

ــ

قَوْلُهُ: (مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا) أَيْ فِي شَأْنِنَا فَالْأَمْرُ وَاحِدُ الْأُمُورِ أَوْ فِيمَا أَمَرْنَا بِهِ فَالْأَمْرُ وَاحِدُ الْأَوَامِرِ أُطْلِقَ عَلَى الْمَأْمُورِيَّةِ وَالْمُرَادُ عَلَى الْوَجْهَيْنِ الدِّينُ الْقَيِّمُ الْمَعْنَى عَلَى مَا ذَكَرَهُ الْقَاضِي فِي شَرْحِ الْمَصَابِيحِ مَنْ أَحْدَثَ فِي الْإِسْلَامِ رَأْيًا لَمْ يَكُنْ لَهُ مِنَ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ سَنَدٌ ظَاهِرٌ أَوْ خَفِيٌّ مَلْفُوظٌ أَوْ مُسْتَنْبَطٌ فَهُوَ رَدٌّ عَلَيْهِ أَيْ مَرْدُودٌ وَالْمُرَادُ أَنَّ ذَلِكَ الْأَمْرَ وَاجِبُ الرَّدِّ يَجِبُ عَلَى النَّاسِ رَدُّهُ وَلَا يَجُوزُ لِأَحَدٍ اتِّبَاعُهُ وَالتَّقْلِيدُ
১৪ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মারওয়ান মুহাম্মদ ইবন উসমান আল-উসমানি, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবন সাদ ইবন ইবরাহিম ইবন আবদুর রহমান ইবন আউফ, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি কাসিম ইবন মুহাম্মদ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের ব্যাপারে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।"

--

তাঁর বাণী: (যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের ব্যাপারে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল) অর্থাৎ আমাদের বিষয়ের মধ্যে; এখানে 'আমর' শব্দটি 'উমুর' (বিষয়াবলি) এর একবচন। অথবা আমরা যা আদেশ করেছি তার মধ্যে; এখানে 'আমর' শব্দটি 'আওয়ামির' (আদেশসমূহ) এর একবচন, যা আদিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে। উভয় অর্থেই উদ্দেশ্য হলো সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন। 'শারহুল মাসাবিহ'-এ আল-কাজি যা উল্লেখ করেছেন সেই অনুযায়ী অর্থ হলো: যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে এমন কোনো মত উদ্ভাবন করল যার জন্য কিতাব ও সুন্নাহ থেকে কোনো প্রকাশ্য বা গোপন দলিল নেই—চাই তা শব্দগত হোক বা গবেষণালব্ধ (ইস্তিমবাত)—তা তার ওপর 'রাদ্দ' তথা প্রত্যাখ্যাত হবে। এর উদ্দেশ্য হলো, সেই বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করা ওয়াজিব বা আবশ্যক; মানুষের জন্য তা প্রত্যাখ্যান করা আবশ্যক এবং কারো জন্য তা অনুসরণ করা বা এর তাকলিদ করা বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
فِيهِ وَقِيلَ: يَحْتَمِلُ أَنَّ ضَمِيرَ فَهُوَ رَدٌّ لِمَنْ أَيْ فَذَاكَ الشَّخْصُ مَرْدُودٌ مَطْرُودٌ.
এ বিষয়ে বলা হয়েছে: এ সম্ভাবনা রয়েছে যে, ‘ফাহুয়া’ (অতঃপর সে) এর সর্বনামটি ‘মান’ (যে ব্যক্তি) এর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী; অর্থাৎ সেই ব্যক্তিটি প্রত্যাখ্যাত ও বিতাড়িত।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
15 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحِ بْنِ الْمُهَاجِرِ الْمِصْرِيُّ أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ حَدَّثَهُ «أَنَّ رَجُلًا مِنْ الْأَنْصَارِ خَاصَمَ الزُّبَيْرَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شِرَاجِ الْحَرَّةِ الَّتِي يَسْقُونَ بِهَا النَّخْلَ فَقَالَ الْأَنْصَارِيُّ سَرِّحْ الْمَاءَ يَمُرُّ فَأَبَى عَلَيْهِ فَاخْتَصَمَا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْقِ يَا زُبَيْرُ ثُمَّ أَرْسِلْ الْمَاءَ إِلَى جَارِكَ فَغَضِبَ الْأَنْصَارِيُّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ كَانَ ابْنَ عَمَّتِكَ فَتَلَوَّنَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ يَا زُبَيْرُ اسْقِ ثُمَّ احْبِسْ الْمَاءَ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى الْجَدْرِ قَالَ فَقَالَ الزُّبَيْرُ وَاللَّهِ إِنِّي لَأَحْسِبُ هَذِهِ الْآيَةَ نَزَلَتْ فِي ذَلِكَ {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء: 65] »

ــ

قَوْلُهُ: (فِي شِرَاجِ الْحَرَّةِ) بِكَسْرِ الشِّينِ الْمُعْجَمَةِ آخِرُهُ جِيمٌ جَمْعُ شَرْجَةٍ بِفَتْحٍ فَسُكُونٍ وَهِيَ مَسَايِلُ الْمَاءِ بِالْحَرَّةِ بِفَتْحٍ فَتَشْدِيدٍ وَهِيَ أَرْضٌ ذَاتُ حِجَارَةٍ سُودٍ قَوْلُهُ: (سَرِّحِ الْمَاءَ) مِنَ التَّسْرِيحِ أَيْ أَرْسِلْ اسْقِ يَحْتَمِلُ قَطْعَ الْهَمْزَةِ وَوَصْلَهَا وَقَوْلُهُ: أَنْ كَانَ بِفَتْحِ الْهَمْزَةِ حَرْفٌ مَصْدَرِيٌّ أَوْ مُخَفَّفُ أَنَّ وَاللَّامُ مُقَدَّرَةٌ أَيْ حَكَمْتَ بِذَلِكَ لِكَوْنِهِ ابْنَ عَمَّتِكَ وَرُوِيَ بِكَسْرِ الْهَمْزَةِ عَلَى أَنَّهُ مُخَفَّفُ إِنَّ وَالْجُمْلَةُ اسْتِئْنَافِيَّةٌ فِي مَوْضِعِ التَّعْلِيلِ قَوْلُهُ: (فَتَلَوَّنَ) أَيْ تَغَيَّرَ وَظَهَرَ فِيهِ آثَارُ الْغَضَبِ إِلَى الْجَدْرِ بِفَتْحِ الْجِيمِ وَكَسْرِهَا وَسُكُونِ الدَّالِ الْمُهْمَلَةِ وَهُوَ الْجِدَارُ قِيلَ: الْمُرَادُ بِهِ مَا رُفِعَ حَوْلَ الْمَزْرَعَةِ كَالْجِدَارِ وَقِيلَ: أُصُولُ الشَّجَرِ، أَمَرَهُ صلى الله عليه وسلم أَوَّلًا بِالْمُسَامَحَةِ وَالْإِيثَارِ بِأَنْ يَسْقِيَ شَيْئًا يَسِيرًا ثُمَّ يُرْسِلَهُ إِلَى جَارِهِ فَلَمَّا قَال الْأَنْصَارِيُّ مَا قَالَ وَجَهِلَ مَوْضِعَ حَقِّهِ أَمَرَهُ بِأَنْ يَأْخُذَ تَمَامَ حَقِّهِ وَيَسْتَوْفِيَهُ فَإِنَّهُ أَصْلَحُ لَهُ وَفِي الزَّجْرِ أَبْلَغُ وَقَوْلُ الْأَنْصَارِيِّ مَا قَالَ وَقَعَ مِنْهُ فِي شِدَّةِ الْغَضَبِ بِلَا اخْتِيَارٍ مِنْهُ إِنْ كَانَ مُسْلِمًا وَيَحْتَمِلُ أَنَّهُ كَانَ مُنَافِقًا وَقِيلَ لَهُ: أَنْصَارِيُّ لِاتِّحَادِ الْقَبِيلَةِ وَقَدْ جَاءَ فِي النَّسَائِيِّ أَنَّهُ حَضَرَ بَدْرًا.
১৫ - মুহাম্মদ বিন রুমহ বিন মুহাজির আল-মিসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, লায়স বিন সাদ ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ বিন যুবাইর থেকে, আর আবদুল্লাহ বিন যুবাইর (রা.) তাকে বর্ণনা করেছেন যে, এক আনসারি ব্যক্তি হাররাহ নামক স্থানের পানির নালা নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যুবাইর (রা.)-এর সাথে বিবাদে লিপ্ত হলেন, যা দিয়ে তারা খেজুর বাগানে পানি সেচ দিতেন। তখন আনসারি লোকটি বলল, "পানি ছেড়ে দাও যাতে তা প্রবাহিত হতে পারে," কিন্তু যুবাইর (রা.) তা করতে অস্বীকার করলেন। ফলে তারা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে বিচার নিয়ে আসলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, "হে যুবাইর! তুমি পানি সেচ দাও, তারপর তোমার প্রতিবেশীর জন্য পানি ছেড়ে দাও।" এতে আনসারি লোকটি রাগান্বিত হয়ে বলল, "হে আল্লাহর রাসুল! তিনি আপনার ফুফাতো ভাই বলে কি এমন ফয়সালা দিলেন?" এতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পবিত্র চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তারপর তিনি বললেন, "হে যুবাইর! তুমি পানি সেচ দাও, এরপর পানি আটকে রাখো যতক্ষণ না তা দেয়াল (সীমানা) পর্যন্ত ফিরে আসে।" যুবাইর (রা.) বলেন, আল্লাহর কসম! আমার ধারণা এই আয়াতটি সেই প্রেক্ষাপটেই নাজিল হয়েছে: {কিন্তু না, আপনার রবের কসম! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়, এরপর আপনার দেওয়া ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।} [আন-নিসা: ৬৫]

--

তাঁর উক্তি: (হাররার নালাসমূহ) 'শীন' বর্ণে জের এবং শেষে 'জীম' যোগে 'শিরাজ' শব্দটি 'শারজাহ' শব্দের বহুবচন। আর এগুলো হলো হাররাহ অঞ্চলের পানির পথ বা নালা। 'হাররাহ' বলতে কালো পাথর বিশিষ্ট ভূমিকে বোঝানো হয়। তাঁর উক্তি: (পানি ছেড়ে দাও) এর অর্থ হলো পানি প্রবাহিত করা বা পাঠানো। 'ইস্কি' (সেচ দাও) শব্দের হামজাটি 'কাত' (বিচ্ছিন্ন) বা 'ওয়াসল' (সংযুক্ত) উভয়ই পড়ার সম্ভাবনা রাখে। তাঁর উক্তি: (যেহেতু তিনি) এটি একটি কারণ দর্শানো অব্যয়; অর্থাৎ আপনি এমন ফয়সালা দিলেন কারণ তিনি আপনার ফুফাতো ভাই। এটি ভিন্ন পাঠভেদে ভিন্ন অর্থও প্রদান করে যা কারণ দর্শানোর স্থলে নতুন বাক্য হিসেবে গণ্য হয়। তাঁর উক্তি: (বিবর্ণ হয়ে গেল) অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে গেল এবং তাতে রাগের চিহ্ন প্রকাশ পেল। 'আল-জদর' শব্দটি জীম বর্ণে জবর বা জের এবং দাল বর্ণে সুকুন যোগে 'জিদার' বা দেয়াল অর্থে ব্যবহৃত হয়। বলা হয়েছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ক্ষেতের চারপাশে উঁচু করা দেয়ালের মতো আইল, আবার কেউ বলেছেন এর দ্বারা বৃক্ষের গোড়া বোঝানো হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথমে তাকে মহানুভবতা ও ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে তিনি সামান্য পানি সেচ দিয়ে তা প্রতিবেশীর জন্য ছেড়ে দেন। কিন্তু যখন আনসারি লোকটি সেই রূঢ় কথা বলল এবং ন্যায়ের সীমা লঙ্ঘন করল, তখন তিনি যুবাইর (রা.)-কে তার পূর্ণ হক বুঝে নেওয়ার এবং তা পুরোপুরি পূর্ণ করার নির্দেশ দিলেন। কারণ এটিই তার জন্য অধিক সংশোধনমূলক এবং ধমক হিসেবে অধিক কার্যকর ছিল। আর আনসারি লোকটি যা বলেছিল, যদি সে মুসলিম হয়ে থাকে তবে তা প্রচণ্ড রাগের বশবর্তী হয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে তার মুখ থেকে বের হয়েছিল। আবার এমন সম্ভাবনাও আছে যে সে একজন মুনাফিক ছিল। তাকে আনসারি বলা হয়েছে একই গোত্রভুক্ত হওয়ার কারণে। তবে নাসাঈর বর্ণনায় এসেছে যে, সে বদর যুদ্ধে উপস্থিত ছিল।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
16 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى النَّيْسَابُورِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللَّهِ أَنْ يُصَلِّينَ فِي الْمَسْجِدِ» فَقَالَ ابْنٌ لَهُ إِنَّا لَنَمْنَعُهُنَّ فَغَضِبَ غَضَبًا شَدِيدًا وَقَالَ أُحَدِّثُكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَقُولُ إِنَّا لَنَمْنَعُهُنَّ

ــ

قَوْلُهُ: (إِمَاءَ اللَّهِ) أَيِ النِّسَاءَ قَوْلُهُ: (ابْنٌ لَهُ) اسْمُهُ بِلَالٌ فَغَضِبَ غَضَبًا شَدِيدًا قَدْ جَاءَ أَنَّهُ سَبَّهُ سَبًّا وَقَطَعَ الْكَلَامَ مَعَهُ إِلَى أَنْ مَاتَ.
১৬ - মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আন-নায়সাবূরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি সালেম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, «আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা আল্লাহর দাসীদের মসজিদে সালাত আদায় করতে বাধা দিও না।» তখন তাঁর এক পুত্র বলল, "আমরা অবশ্যই তাদের বাধা দেব।" এতে তিনি অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন এবং বললেন, "আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস শুনাচ্ছি, আর তুমি বলছ যে আমরা অবশ্যই তাদের বাধা দেব!"

ــ

তাঁর উক্তি: (আল্লাহর দাসীরা) অর্থাৎ নারীগণ। তাঁর উক্তি: (তাঁর এক পুত্র) তার নাম বিলাল। তিনি অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন; বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাকে কঠোরভাবে তিরস্কার করেছিলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
17 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ ثَابِتٍ الْجَحْدَرِيُّ وَأَبُو عَمْرٍو حَفْصُ بْنُ عُمَرَ قَالَا حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ «أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا إِلَى جَنْبِهِ ابْنُ أَخٍ لَهُ فَخَذَفَ فَنَهَاهُ وَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْهَا فَقَالَ إِنَّهَا لَا تَصِيدُ صَيْدًا وَلَا تَنْكِي عَدُوًّا وَإِنَّهَا تَكْسِرُ السِّنَّ وَتَفْقَأُ الْعَيْنَ» قَالَ فَعَادَ ابْنُ أَخِيهِ فَخَذَفَ فَقَالَ أُحَدِّثُكَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْهَا ثُمَّ عُدْتَ تَخْذِفُ لَا أُكَلِّمُكَ أَبَدًا

ــ

قَوْلُهُ: (فَخَذَفَ) مِنَ الْخَذْفِ بِمُعْجَمَتَيْنِ وَفَاءٍ وَهُوَ فِي الْحَصَاةِ وَالنَّوَاةِ يَأْخُذُهَا بَيْنَ
১৭ - আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন সাবিত আল-জাহদারি এবং আবু আমর হাফস বিন উমর। তাঁরা উভয়েই বলেন, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহহাব আস-সাকাফি। তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবায়ের থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ বিন মুগাফফাল থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁর পাশে তাঁর এক ভাতিজা বসা ছিল, যে ছোট পাথর (আঙুলের সাহায্যে) ছুঁড়ছিল। তিনি তাকে তা করতে নিষেধ করলেন এবং বললেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন যে, এটি কোনো শিকার ধরে না এবং শত্রুকে ঘায়েল করে না; বরং এটি দাঁত ভেঙে ফেলে এবং চোখ উপড়ে ফেলে।" বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তাঁর ভাতিজা পুনরায় পাথর ছুঁড়ল। তখন তিনি বললেন, "আমি তোমাকে বলছি যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি করতে নিষেধ করেছেন, অথচ তুমি পুনরায় তা করছ! আমি তোমার সাথে আর কখনোই কথা বলব না।"

--

তাঁর উক্তি: (সে পাথর ছুঁড়ল) এটি 'খাজফ' থেকে উদ্ভূত, যা দুটি নুক্তাযুক্ত বর্ণ (খা এবং যাল) এবং একটি 'ফা' সহযোগে গঠিত। এটি কঙ্কড় বা খেজুরের আঁটি ছুঁড়ে মারার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যা সে গ্রহণ করে দুই...
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
السَّبَّابَتَيْنِ وَيَرْمِي بِهَا قَوْلُهُ: (نَهَى عَنْهَا) أَيْ عَنْ هَذِهِ الْفِعْلَةِ قَوْلُهُ: (وَقَالَ إِنَّهَا لَا تَصِيدُ إِلَخْ) أَيْ إِنَّهَا ضَرَرٌ وَلَا نَفْعَ فِيهَا وَلَا تَنْكِي مِنْ نَكَيْتُ الْعَدُوَّ أَنَكِي نِكَايَةً إِذَا كَثُرَتْ فِيهِمُ الْجِرَاحُ وَالْقَتْلُ فَنُهُوا لِذَلِكَ وَقَدْ يُهْمَزُ لُغَةً فَيُقَالُ: نَكَأَ كَمَنَعَ وَتَفْقَأُ بِهَمْزَةٍ فِي آخِرِهِ أَيْ تَشُقُّ.
উভয় তর্জনী এবং তা দ্বারা নিক্ষেপ করা। তাঁর উক্তি: (তিনি তা থেকে নিষেধ করেছেন) অর্থাৎ এই কর্মটি হতে। তাঁর উক্তি: (এবং তিনি বলেছেন যে, নিশ্চয়ই এটি শিকার করে না ইত্যাদি) অর্থাৎ এটি ক্ষতিকর এবং এতে কোনো কল্যাণ নেই। আর এটি শত্রু নিধন করে না; এটি 'নাকাইতুল আদুউয়া আনকি নিকায়াতান' (আমি শত্রুকে পরাস্ত করেছি) থেকে উদ্ভূত, যা তখন ব্যবহৃত হয় যখন শত্রুদের মাঝে প্রচুর জখম ও হত্যা সংঘটিত হয়। এ কারণেই এ বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে। ভাষাগতভাবে এটি হামযাহ সহযোগে 'নাকাআ'ও (যেমন 'মানাআ' শব্দের ওজনে) বলা হয়। আর 'তাফকাউ' শব্দটির শেষে হামযাহ রয়েছে, যার অর্থ হলো বিদীর্ণ করা।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
18 - حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ حَدَّثَنِي بُرْدُ بْنُ سِنَانٍ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ قَبِيصَةَ عَنْ أَبِيهِ «أَنَّ عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ الْأَنْصَارِيَّ النَّقِيبَ صَاحِبَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَزَا مَعَ مُعَاوِيَةَ أَرْضَ الرُّومِ فَنَظَرَ إِلَى النَّاسِ وَهُمْ يَتَبَايَعُونَ كِسَرَ الذَّهَبِ بِالدَّنَانِيرِ وَكِسَرَ الْفِضَّةِ بِالدَّرَاهِمِ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ تَأْكُلُونَ الرِّبَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لَا تَبْتَاعُوا الذَّهَبَ بِالذَّهَبِ إِلَّا مِثْلًا بِمِثْلٍ لَا زِيَادَةَ بَيْنَهُمَا وَلَا نَظِرَةً» فَقَالَ لَهُ مُعَاوِيَةُ يَا أَبَا الْوَلِيدِ لَا أَرَى الرِّبَا فِي هَذَا إِلَّا مَا كَانَ مِنْ نَظِرَةٍ فَقَالَ عُبَادَةُ أُحَدِّثُكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَتُحَدِّثُنِي عَنْ رَأْيِكَ لَئِنْ أَخْرَجَنِي اللَّهُ لَا أُسَاكِنُكَ بِأَرْضٍ لَكَ عَلَيَّ فِيهَا إِمْرَةٌ فَلَمَّا قَفَلَ لَحِقَ بِالْمَدِينَةِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ مَا أَقْدَمَكَ يَا أَبَا الْوَلِيدِ فَقَصَّ عَلَيْهِ الْقِصَّةَ وَمَا قَالَ مِنْ مُسَاكَنَتِهِ فَقَالَ ارْجِعْ يَا أَبَا الْوَلِيدِ إِلَى أَرْضِكَ فَقَبَحَ اللَّهُ أَرْضًا لَسْتَ فِيهَا وَأَمْثَالُكَ وَكَتَبَ إِلَى مُعَاوِيَةَ لَا إِمْرَةَ لَكَ عَلَيْهِ وَاحْمِلْ النَّاسَ عَلَى مَا قَالَ فَإِنَّهُ هُوَ الْأَمْرُ

ــ

قَوْلُهُ: (النَّقِيبُ) أَيْ نَقِيبُ الْأَنْصَارِ لَيْلَةَ الْعَقَبَةِ قَوْلُهُ: (كِسَرَ الذَّهَبِ) بِكَسْرِ الْكَافِ كَالْقِطْعَةِ لَفْظًا وَمَعْنًى وَجَمْعُهَا كِسَرٌ كَقِطَعٍ وَالْمُرَادُ أَنَّهُمْ يَتَبَايَعُونَهَا عَدَدًا قَوْلُهُ: (وَلَا نَظِرَةً) بِفَتْحٍ فَكَسْرٍ أَيِ انْتِظَارٌ وَلَا تَأْخِيرٌ مِنْ أَحَدِ الطَّرَفَيْنِ فِي هَذَا، أَيْ فِيمَا ذَكَرْتُ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ إِلَّا مَا كَانَ أَيِ النَّسِيئَةَ يُرِيدُ لَا أَرَى الرِّبَا فِيهَا إِلَّا النَّسِيئَةَ قَوْلُهُ: (إِمْرَةَ) بِكَسْرِ الْهَمْزَةِ أَيْ حُكُومَةَ وِلَايَةٍ قَوْلُهُ (فَقَبَّحَ) بِالتَّخْفِيفِ فِي الْقَامُوسِ، قَبَّحَهُ اللَّهُ: نَحَّاهُ مِنَ الْخَيْرِ فَهُوَ مَقْبُوحٌ قَوْلُهُ: (وَأَمْثَالُكَ) بِالرَّفْعِ عَطْفٌ عَلَى اسْمِ لَيْسَ وَالنَّصْبُ عَلَى الْمَعِيَّةِ بَعِيدٌ مَعْنًى قَوْلُهُ: (هُوَ الْأَمْرُ) أَيِ اعْتَقَدُوا فِيهِ.
১৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে আম্মার, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে হামজাহ থেকে, তিনি বুরদ ইবনে সিনান থেকে, তিনি ইসহাক ইবনে কাবিসাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবী এবং আনসারদের নকীব উবাদাহ ইবনে সামিত আল-আনসারী মুআবিয়ার সাথে রোম ভূখণ্ডে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তখন তিনি দেখলেন যে, লোকেরা স্বর্ণের টুকরো দিনারের বিনিময়ে এবং রূপার টুকরো দিরহামের বিনিময়ে কেনাবেচা করছে। তখন তিনি বললেন, ওহে লোকসকল! তোমরা সুদ খাচ্ছ। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: তোমরা স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ কেনাবেচা করো না সমপরিমাণ ছাড়া, তাদের মাঝে কোনো কম-বেশি হবে না এবং কোনো বিলম্বও হবে না।» তখন মুআবিয়া তাকে বললেন, হে আবু আল-ওয়ালিদ, আমি এতে বিলম্ব ব্যতীত কোনো সুদ দেখি না। তখন উবাদাহ বললেন, আমি আপনার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস বর্ণনা করছি আর আপনি আমাকে আপনার ব্যক্তিগত মত শুনাচ্ছেন! আল্লাহ যদি আমাকে এখান থেকে বের করে নিয়ে যান, তবে আমি এমন কোনো জমিনে আপনার সাথে বসবাস করব না যেখানে আপনার আমার ওপর কোনো কর্তৃত্ব থাকে। অতঃপর যখন তিনি যুদ্ধ থেকে ফিরে এলেন, তখন মদীনার দিকে চলে গেলেন। উমর ইবনুল খাত্তাব তাকে বললেন, হে আবু আল-ওয়ালিদ, আপনি কেন চলে এলেন? তখন তিনি তার নিকট ঘটনাটি এবং একত্রে বসবাস না করার বিষয়ে যা বলেছিলেন তা বর্ণনা করলেন। উমর বললেন, হে আবু আল-ওয়ালিদ, আপনি আপনার এলাকায় ফিরে যান। আল্লাহ সেই জমিনকে মন্দ করুন যেখানে আপনার এবং আপনার মতো লোকদের উপস্থিতি নেই। আর তিনি মুআবিয়ার নিকট লিখে পাঠালেন যে, তার ওপর তোমার কোনো কর্তৃত্ব নেই, এবং লোকেদেরকে তা মানতে বাধ্য করো যা সে বলেছে, কেননা এটিই সঠিক বিষয়।

—

তাঁর উক্তি: (আন-নকীব) অর্থাৎ আকাবার রাতে আনসারদের প্রতিনিধি বা নেতা। তাঁর উক্তি: (কিসার আয-যাহাব) কাফ বর্ণে কাসরা (যের) সহকারে, এর অর্থ টুকরো। এর বহুবচন হলো কিসার। উদ্দেশ্য হলো তারা তা সংখ্যা হিসেবে কেনাবেচা করত। তাঁর উক্তি: (ওয়া লা নাযিরাহ) যবর ও যের যোগে, অর্থাৎ অপেক্ষা করা বা কোনো এক পক্ষের পক্ষ থেকে বিলম্ব না হওয়া। অর্থাৎ আমি স্বর্ণ ও রূপার বিষয়ে যা উল্লেখ করেছি তাতে বাকিতে লেনদেন ছাড়া অন্য কোনো সুদ দেখি না—এটাই তিনি বোঝাতে চেয়েছেন। তাঁর উক্তি: (ইমরাহ) হামজা বর্ণে কাসরা (যের) সহকারে, অর্থাৎ শাসন ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব। তাঁর উক্তি: (ফাকাব্বাহা) আল-কামুস অভিধান অনুযায়ী এটি হালকা উচ্চারণে, যার অর্থ: আল্লাহ তাকে কল্যাণ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন, ফলে সে বঞ্চিত। তাঁর উক্তি: (ওয়া আমছালুকা) পেশ যোগে, এটি ‘লাইসা’-এর বিশেষ্যের ওপর অন্বয় বা আতফ হয়েছে, আর মাঈয়্যাহ হিসেবে যবর হওয়া অর্থের দিক থেকে দূরবর্তী। তাঁর উক্তি: (হুয়া আল-আমর) অর্থাৎ এটিই সেই বিষয় যা বিশ্বাস করতে হবে।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
19 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ الْخَلَّادِ الْبَاهِلِيُّ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ ابْنِ عَجْلَانَ أَنْبَأَنَا عَوْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ إِذَا حَدَّثْتُكُمْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَظُنُّوا بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِي هُوَ أَهْنَاهُ وَأَهْدَاهُ وَأَتْقَاهُ

ــ

قَوْلُهُ: الَّذِي هُوَ أَهْنَاهُ أَيِ الَّذِي هُوَ أَوْفَقُ بِهِ مِنْ غَيْرِهِ وَأَهْدَى وَأَلْيَقُ بِكَمَالِ هُدَاهُ وَأَتْقَاهُ أَيْ وَأَنْسَبُ بِكَمَالِ تَقْوَاهُ وَهُوَ أَنَّ قَوْلَهُ صَوَابٌ وَنُصْحٌ وَاجِبُ الْعَمَلِ بِهِ لِكَوْنِهِ جَاءَ بِهِ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ تَعَالَى وَبَلَّغَهُ النَّاسَ بِلَا زِيَادَةٍ وَنُقْصَانٍ، وَأَهْنَأُ فِي الْأَصْلِ بِالْهَمْزَةِ اسْمُ تَفْضِيلٍ مِنْ هَنَأَ الطَّعَامَ
১৯ - আবু বকর ইবনুল খাল্লাদ আল-বাহিলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট ইবনে আজলান থেকে বর্ণনা করেছেন, আওন ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে। তিনি বলেন, যখন আমি তোমাদের কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করি, তখন তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে এমন ধারণা পোষণ করো যা তাঁর জন্য সবচেয়ে বেশি স্বস্তিদায়ক ও উপযুক্ত, সবচেয়ে বেশি হেদায়াতপূর্ণ এবং সবচেয়ে বেশি তাকওয়াসম্পন্ন।

—

তাঁর উক্তি: "যা তাঁর জন্য সবচেয়ে বেশি স্বস্তিদায়ক ও উপযুক্ত" অর্থাৎ যা অন্যদের তুলনায় তাঁর সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। "সবচেয়ে বেশি হেদায়াতপূর্ণ" অর্থাৎ যা তাঁর হেদায়াতের পূর্ণতার জন্য অধিক উপযুক্ত। "সবচেয়ে বেশি তাকওয়াসম্পন্ন" অর্থাৎ যা তাঁর তাকওয়ার পূর্ণতার সাথে অধিক মানানসই। আর তা হলো এই যে, তাঁর কথা সঠিক এবং কল্যাণকামী উপদেশ, যার ওপর আমল করা আবশ্যক; কারণ তিনি তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ে এসেছেন এবং মানুষের নিকট কোনো প্রকার হ্রাস-বৃদ্ধি ছাড়াই তা পৌঁছে দিয়েছেন। আর "আহনাউ" শব্দটি মূলত হামযাহ যোগে একটি অতিশয়বাচক বিশেষ্য (ইসমে তাফযীল), যা খাদ্য তৃপ্তিদায়ক হওয়া থেকে উদ্ভূত।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
بِالْهَمْزَةِ إِذَا سَاغَ أَوْ جَاءَ بِلَا تَعَبٍ وَلَمْ يَعْقُبْهُ بَلَاءٌ لَكِنْ قُلِبَتْ هَمْزَتُهُ أَلِفًا لِلِازْدِوَاجِ وَالْمُشَاكَلَةِ وَأَتْقَى اسْمُ تَفْضِيلٍ مِنَ الِاتِّقَاءِ عَلَى الشُّذُوذِ لِأَنَّ الْقِيَاسَ بِنَاءُ اسْمِ التَّفْضِيلِ مِنَ الثُّلَاثِيِّ الْمُجَرَّدِ وَهُوَ مَبْنِيٌّ عَلَى تَوَهُّمِ أَنَّ التَّاءَ حَرْفٌ أَصْلِيٌّ وَمِثْلُهُ يُمْكِنُ مِنَ الْمَكَارِهِ مَعَ كَثْرَتِهِ الْمِيمُ زَائِدَةٌ وَهَذَا الْمَتْنُ مِمَّا انْفَرَدَ بِهِ الْمُصَنِّفُ.
হামযা যোগে, যখন তা সহজসাধ্য হয় অথবা কোনো ক্লান্তি ছাড়াই অর্জিত হয় এবং যার পরক্ষণে কোনো বিপদ আসে না। তবে শব্দযুগলের সামঞ্জস্য (ইযদিওয়াজ) এবং বাহ্যিক মিল (মুশাকালাহ) রক্ষার খাতিরে এর হামযাটিকে আলিফে রূপান্তরিত করা হয়েছে। আর ‘আতক্বা’ শব্দটি ‘আল-ইত্তিাক্বা’ থেকে গৃহীত একটি ইসমে তাফযীল (শ্রেষ্ঠত্ববাচক বিশেষ্য) যা নিয়মের ব্যতিক্রম (শায); কেননা ব্যাকরণিক নিয়ম অনুযায়ী ইসমে তাফযীল কেবল সুলাসী মুজাররাদ (তিন অক্ষরবিশিষ্ট মৌলিক রূপ) থেকেই গঠিত হয়ে থাকে। আর এটি এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে গঠিত যে, ‘তা’ বর্ণটি একটি মূল অক্ষর। এর অনুরূপ উদাহরণ ‘মাকারুহ’ শব্দে সম্ভব যেখানে এর আধিক্য সত্ত্বেও ‘মীম’ বর্ণটি অতিরিক্ত। আর এই মূল পাঠটি (মাতন) সেই সব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা গ্রন্থকার এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
20 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ إِذَا حَدَّثْتُكُمْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا فَظُنُّوا بِهِ الَّذِي هُوَ أَهْنَاهُ وَأَهْدَاهُ وَأَتْقَاهُ
২০ - মুহাম্মদ ইবনে বাশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বাহ থেকে, তিনি আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি আবুল বাখতারী থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী থেকে, তিনি আলী ইবনে আবু তালিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) হতে কোনো হাদিস বর্ণনা করি, তখন তোমরা সেটির এমন অর্থ ও উদ্দেশ্য গ্রহণ করবে যা হবে সবচেয়ে প্রীতিকর, সবচেয়ে হেদায়েতপূর্ণ এবং সবচেয়ে তাকওয়াপূর্ণ।