(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: -)
عوالي الحارث   (الحارث بن أبي أسامة)

القسم: كتب السنة


الكتاب: عوالي الحارث بن أبي أسامة

المؤلف: أبو محمد الحارث بن محمد بن داهر التميمي البغدادي الخصيب المعروف بابن أبي أسامة (ت 282هـ)

تحقيق: أبو عبد الله عبد العزيز بن عبد الله الهليل

الطبعة: الأولى، 1411 هـ

عدد الصفحات: 62

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আওয়ালী আল-হারিস   (আল-হারিস ইবনে আবি উসামা)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: আওয়ালী আল-হারিস ইবনে আবি উসামা

লেখক: আবু মুহাম্মদ আল-হারিস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে দাহির আত-তামিমি আল-বাগদাদি আল-খাসিব, যিনি ইবনে আবি উসামা নামে পরিচিত (মৃত্যু: ২৮২ হিজরি)

তাহকিক: আবু আব্দুল্লাহ আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হুলাইল

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১১ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৩)
أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْعَالِمُ الْحَافِظُ بَقِيَّةُ السَّلَفِ نَجْمُ الدِّينِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الْمَقْدِسِيُّ أَحْسَنَ اللَّهُ تَوْفِيقَهُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَهُوَ يَسْمَعُ لِسِتٍّ خَلَوْنَ مِنْ شَعْبَانَ مِنْ سَنَةِ أَرْبَعَ عَشْرَةَ وَسِتِّ مِئَةٍ فَأَقَرَّ بِهِ قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكَ الشَّيْخُ الصَّالِحُ أَبُو سَعِيدٍ الْخَلِيلُ بْنُ أَبِي الرَّجَا بْنِ أَبِي الْفَتْحِ الرَّارَانِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ فِي يَوْمِ الْأَرْبَعَاءِ السَّادِسَ عَشَرَ مِنْ شَعْبَانَ مِنْ سَنَةِ أَرْبَعٍ وَتِسْعِينَ وَخَمْسِ مِئَةٍ فَأَقَرَّ بِهِ قَيلَ لَهُ: أَخْبَرَكَ أَبُو عَلِيٍّ - فِي آخَرِينَ - الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الْمُقْرِئُ الْحَدَّادُ. فَأَقَرَّ بِهِ قَالَ: أَنَا أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ الْحَافِظُ. قَالَ: نَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ خَلَّادٍ، ⦗ص: 14⦘

 

1 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي أُسَامَةَ، نَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أنا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَقَطَ عَنْ فَرَسِهِ، فَجُحِشَ شِقُّهُ - أَوْ فَخِذُهُ -، وَآلَى مِنْ نِسَائِهِ شَهْرًا، فَجَلَسَ فِي مَشْرُبَةٍ لَهُ - دَرَجُهَا مِنْ جُذُوعٍ - فَأَتَاهُ أَصْحَابُهُ يَعُودُونَهُ قَالَ: فَصَلَّى بِهِمْ جَالِسًا وَهُمْ قِيَامٌ، فَلَمَّا سَلَّمَ قَالَ: «إِنَّمَا‌‌ جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا، وَإِنْ صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا، وَإِنْ صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا» ، وَنَزَلَ لِتِسْعٍ وَعِشْرِينَ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ آلَيْتَ شَهْرًا؟ قَالَ: «إِنَّ الشَّهْرَ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ»
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ইমাম, আলিম, হাফিয, সালাফদের উত্তরসূরি নাজমুদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে আবি বকর আল-মাকদিসি—আল্লাহ তাকে উত্তম তাওফিক দান করুন—তার নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং তিনি তা শ্রবণ করছিলেন ৬ই শাবান ৬১৪ হিজরি সনে, অতঃপর তিনি তা স্বীকার করেছেন। আমি তাকে বললাম: আপনাকে কি নেককার শাইখ আবু সাঈদ আল-খালিল ইবনে আবিুর রাজা ইবনে আবিল ফাতহ আর-ররানি সংবাদ দিয়েছেন, যখন আপনি তা শ্রবণ করছিলেন বুধবার ১৬ই শাবান ৫৯৪ হিজরি সনে? অতঃপর তিনি তা স্বীকার করেছেন। তাকে বলা হয়েছে: আপনাকে কি আবু আলি—অন্যান্যদের সাথে—আল-হাসান ইবনে আহমদ ইবনে আল-হাসান আল-মুকরি আল-হাদ্দাদ সংবাদ দিয়েছেন? অতঃপর তিনি তা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুয়াইম আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে ইসহাক আল-হাফিয। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমদ ইবনে ইউসুফ ইবনে খাল্লাদ, ⦗পৃষ্ঠা: ১৪⦘

 

১ - আল-হারিস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি উসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমাইদ আত-তবিল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আনাস ইবনে মালিক থেকে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ঘোড়া থেকে পড়ে গেলেন, ফলে তার শরীরের এক পাশ—অথবা তার উরু—আহত হলো। তিনি তার স্ত্রীদের থেকে এক মাসের জন্য ইলা (পৃথক থাকার শপথ) করলেন এবং তার একটি উঁচু কামরায় অবস্থান নিলেন—যার সিঁড়িগুলো ছিল খেজুর গাছের গুঁড়ির তৈরি—অতঃপর তার সাহাবীগণ তাকে দেখতে আসলেন। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি তাদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করলেন এবং তারা দাঁড়িয়ে ছিলেন। যখন তিনি সালাম ফিরালেন, তখন বললেন: «নিশ্চয়ই ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে তাকে অনুসরণ করার জন্য; সুতরাং তিনি যখন তাকবির বলবেন, তোমরাও তাকবির বলবে; যখন তিনি রুকু করবেন, তোমরাও রুকু করবে; যখন তিনি সাজদাহ করবেন, তোমরাও সাজদাহ করবে; আর যদি তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন তবে তোমরা দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করো, আর যদি তিনি বসে সালাত আদায় করেন তবে তোমরা বসে সালাত আদায় করো», এবং তিনি উনত্রিশতম দিনে নেমে আসলেন। তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি তো এক মাসের ইলা করেছিলেন? তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই মাস উনত্রিশ দিনেও হয়»।
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৬)
2 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نا يَزِيدُ، أنا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: ‌‌«أَوْلَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى زَيْنَبَ فَأَشْبَعَ الْمُسْلِمِينَ خُبْزًا وَلَحْمًا ثُمَّ خَرَجَ فَصَنَعَ كَمَا كَانَ يَصْنَعُ إِذَا تَزَوَّجَ فَأَتَى بُيُوتَ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ سَلَّمَ عَلَيْهِنَّ وَسَلَّمْنَ عَلَيْهِ وَدَعَوْنَ، ثُمَّ رَجَعَ إِلَيَّ وَأَنَا مَعَهُ فَإِذَا هُوَ بِرَجُلَيْنِ قَدْ جَرَى بَيْنَهُمَا الْحَدِيثُ فِي نَاحِيَةِ الْبَيْتِ، فَرَجَعَ فَلَمَّا رَأَى الرَّجُلَانِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَدْ رَجَعَ وَثَبَا فَزِعَيْنِ فَخَرَجَا، فَلَا أَدْرِي أَنَا أَخْبَرْتُهُ أَوْ مَنْ أَخْبَرَهُ فَرَجَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم»
২ - আল-হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুমাইদ আত-তবিল আমাদের নিকট আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যয়নাব (রা.)-এর বিয়েতে ওলীমার আয়োজন করলেন এবং মুসলিমদের তৃপ্তিসহকারে রুটি ও গোশত খাওয়ালেন। অতঃপর তিনি বের হলেন এবং ইতিপূর্বে বিয়ের পর তিনি যা করতেন তা-ই করলেন; অর্থাৎ তিনি উম্মাহাতুল মু'মিনীনগণের (মুমিনদের জননীগণ) ঘরে ঘরে গেলেন, তাদের সালাম দিলেন এবং তাঁরাও তাঁকে সালাম দিলেন ও তাঁর জন্য দোয়া করলেন। এরপর তিনি ফিরে আসলেন এবং আমি তাঁর সাথে ছিলাম। এমতাবস্থায় তিনি দু’জন লোককে দেখতে পেলেন যারা ঘরের এক কোণে কথোপকথনে মগ্ন ছিল। ফলে তিনি ফিরে গেলেন। যখন লোক দু’টি দেখতে পেল যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে গেছেন, তখন তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে দ্রুত বেরিয়ে গেল। আমি জানি না আমি তাঁকে এ খবর দিয়েছিলাম নাকি অন্য কেউ সংবাদ দিয়েছিল, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে আসলেন।»
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৭)
3 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ السَّهْمِيُّ، نا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ‌‌ يُحِبُّ أَنْ يَلِيَهُ الْمُهَاجِرُونَ وَالْأَنْصَارُ لِيَحْفَظُوا عَنْهُ»
৩ - আমাদের নিকট আল-হারিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে বকর আস-সাহমী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হুমাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন এমন যে, তিনি পছন্দ করতেন যেন মুহাজির ও আনসারগণ তাঁর নিকটবর্তী থাকে, যাতে তারা তাঁর নিকট থেকে (দ্বীন) সংরক্ষণ করতে পারে।
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৮)
4 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ السَّهْمِيُّ، نا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ {لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ} [آل عمران: 92] أَوْ {مَنْ ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا} [البقرة: 245] قَالَ أَبُو طَلْحَةَ - وَكَانَ لهُ حَائِطٌ لَهُ فَضْلٌ - فَقَالَ: "‌‌ يَا رَسُولَ اللَّهِ إن حَائِطِي لِلَّهِ وَلَوِ اسْتَطَعْتُ أَنْ أُسِرَّهُ لَمْ أُعْلِنْهُ قَالَ: اجْعَلْهُ فِي قَرَابَتِكَ أَوْ أَقْرِبَائِكَ "
৪ - আল-হারিস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে বাকর আস-সাহমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস (রা.) থেকে, তিনি বলেন: যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো {তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় করো} [আলে ইমরান: ৯২] অথবা {কে আছে যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করবে} [আল-বাকারা: ২৪৫], তখন আবু তালহা (রা.)—তার একটি চমৎকার বাগান ছিল—বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল, নিশ্চয়ই আমার বাগানটি আল্লাহর জন্য; আর আমি যদি এটি গোপন রাখতে সক্ষম হতাম তবে তা প্রকাশ করতাম না। তিনি বললেন: এটি তোমার নিকটাত্মীয়দের অথবা আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে দিয়ে দাও।”
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৯)
5 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَبْلًا مَمْدُودًا عَلَى سَارِيَتَيْنِ مِنْ سَوَارِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ: «مَا هَذَا الْحَبْلُ؟» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ فُلَانَةُ تُصَلِّي مَا عَقَلَتْ فَإِذَا غُلِبَتْ أَخَذَتْ بِهِ، قَالَ: ‌‌«فَلْتَفْعَلْ مَا عَقَلَتْ فَإِذَا غُلِبَتْ فَلْتَقُمْ»
৫ - হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন বাকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদের খুঁটিসমূহের মধ্য হতে দুটি খুঁটির মাঝে একটি রশি প্রসারিত অবস্থায় দেখলেন। তিনি বললেন: «এই রশিটি কী?» তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! অমুক নারী যতক্ষণ সজ্ঞান থাকেন ততক্ষণ সালাত আদায় করেন, আর যখন তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন তখন এটি ধরে রাখেন। তিনি বললেন: «সে যেন ততক্ষণই সালাত আদায় করে যতক্ষণ তার হুঁশ থাকে, আর যখন সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন যেন সে দাঁড়িয়ে যায় (সালাত ছেড়ে দেয়)»
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৯)
6 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، نا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ بِالْبَقِيعِ فَنَادَى رَجُلٌ: يَا أَبَا الْقَاسِمِ فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم. قَالَ: لَمْ أَعْنِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا دَعَوْتُ فُلَانًا. قَالَ: ‌‌«تَسَمَّوْا بِاسْمِي وَلَا تَكَنَّوْا بِكُنْيَتِي»
৬ - আল-হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাকী‘তে ছিলেন। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি ডাক দিল: হে আবুল কাসিম! তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার দিকে ফিরে তাকালেন। সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনাকে উদ্দেশ্য করিনি, আমি তো কেবল অমুক ব্যক্তিকে ডেকেছি। তিনি বললেন: «তোমরা আমার নামে নামকরণ করো, কিন্তু আমার উপনামে (কুনিয়াত) উপনাম গ্রহণ করো না»
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ২০)
7 - وَعَنْ أَنَسٍ، قَالَ: أَقْبَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِوَجْهِهِ قَبْلَ أَنْ يُكَبِّرَ فَدَخَلَ فِي الصَّلَاةِ فَقَالَ: ‌‌«أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ وَتَرَاصُّوا، فَإِنِّي أَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِي»
৭ - আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকবীর প্রদানের পূর্বে তাঁর চেহারা মুবারক দিয়ে আমাদের দিকে অভিমুখী হলেন, অতঃপর সালাতে প্রবেশ করে বললেন: «তোমরা তোমাদের কাতারগুলো সোজা করো এবং নিবিড়ভাবে দাঁড়াও, কারণ নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে আমার পিঠের পিছন দিক থেকে দেখতে পাই»
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ২১)
8 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، نا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَعَنِ الدَّجَّالِ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي»‌‌ أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَفِتْنَةِ الدَّجَّالِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ "
৮ - আমাদের নিকট হারিস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন বকর বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হুমায়দ বর্ণনা করেছেন আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যে, তাঁকে কবরের আজাব এবং দাজ্জাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: «হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি» আপনার নিকট অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, দাজ্জালের ফিতনা এবং কবরের আজাব হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। "
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ২২)
9 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، نا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ أَبُو وَهْبٍ - وَلَا أَحْسَبُهُ إِلَّا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: ‌‌«انْصُرْ أَخَاكَ ظَالِمًا أَوْ مَظْلُومًا» . قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ نَصَرْتُهُ مَظْلُومًا فَكَيْفَ أَنْصُرُهُ ظَالِمًا؟ قَالَ: «تَمْنَعُهُ مِنَ الظُّلْمِ فَذَاكَ نَصْرُكَ إِيَّاهُ»
৯ - আল-হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমায়দ আমাদের নিকট আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ওয়াহব বলেছেন—আর আমি মনে করি না যে এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে হতে পারে—যে তিনি বলেছেন: «তুমি তোমার ভাইকে সাহায্য করো, সে জালেম হোক বা মজলুম।’ জিজ্ঞেস করা হলো: ‘হে আল্লাহর রাসূল! মজলুম অবস্থায় তো তাকে সাহায্য করলাম, কিন্তু জালেম অবস্থায় তাকে কীভাবে সাহায্য করব?’ তিনি বললেন: ‘তুমি তাকে বিরত রাখবে জুলুম থেকে, আর এটাই তাকে তোমার সাহায্য করা।’
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ২৩)
10 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ السَّهْمِيُّ، نا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: رَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَزْوَةِ تَبُوكَ فَلَمَّا دَنَوْنَا مِنَ الْمَدِينَةِ قَالَ: «إِنَّ»‌‌ بِالْمَدِينَةِ لَأَقْوَامًا مَا قَطَعْتُمْ مِنْ وَادٍ وَلَا سِرْتُمْ مَسِيرًا إِلَّا كَانُوا مَعَكُمْ فِيهِ ". قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ بِالْمَدِينَةِ؟ قَالَ: «نَعَمْ خَلَّفَهُمُ الْعُذْرُ»
১০ - হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন বাকর আস-সাহমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুক যুদ্ধ হতে ফিরে এলেন। যখন আমরা মদিনার নিকটবর্তী হলাম, তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই»‌‌ মদিনায় এমন কিছু লোক রয়েছে, তোমরা যে উপত্যকাই অতিক্রম করেছ এবং যে পথেই চলেছ, তারা তোমাদের সাথেই ছিল। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, মদিনায় অবস্থান করেও? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, ওজর (অপারগতা) তাদের আটকে রেখেছিল»।
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ২৪)
11 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، نا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ: مَا حَكَّ فِي صَدْرِي شَيْءٌ مُنْذُ أَسْلَمْتُ إِلَّا أَنِّي قَرَأْتُ آيَةً وَقَرَأَهَا غَيْرِي غَيْرَ الَّذِي قَرَأْتُ قُلْتُ: أَقْرَأَنِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَقَالَ صَاحِبِي: أَقْرَأَنِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: فَأَتَيْنَاهُ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَقْرَأْتَنِي آيَةَ كَذَا قَالَ: «نَعَمْ» ، وَقَالَ صَاحِبِي: أَقْرَأْتَنِي كَذَا وَكَذَا؟ فَقَالَ: " نَعَمْ أَتَانِي جِبْرِيلُ وَمِيكَائِيلُ فَجَلَسَ جِبْرِيلُ عَنْ يَمِينِي وَجَلَسَ مِيكَائِيلُ عَنْ يَسَارِي، فَقَالَ:‌‌ اقْرَأِ الْقُرْآنَ عَلَى حَرْفٍ فَقَالَ مِيكَائِيلُ: اسْتَزِدْهُ فَقَالَ: اقْرَأِ الْقُرْآنَ عَلَى حَرْفَيْنِ فَقَالَ مِيكَائِيلُ: اسْتَزِدْهُ حَتَّى بَلَغَ سَبْعَةَ أَحْرُفٍ فَكُلٌّ شَافٍ كَافٍ "
১১ - হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, উবাই ইবনে কাব (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে আমার মনে কোনো বিষয়ে কোনো সংশয় জাগেনি, কেবল এই একটি বিষয় ছাড়া যে, আমি একটি আয়াত একভাবে পাঠ করেছিলাম আর অন্য এক ব্যক্তি তা আমার পঠিত পদ্ধতি ছাড়া ভিন্নভাবে পাঠ করল। আমি বললাম: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে এটি এভাবে পড়িয়েছেন। আমার সাথী বলল: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে এটি এভাবে পড়িয়েছেন। তিনি বলেন: এরপর আমরা তাঁর নিকট আসলাম। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে অমুক আয়াতটি এভাবে পড়িয়েছেন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ"। আমার সাথী বলল: আপনি কি আমাকে অমুক অমুক ভাবে পড়িয়েছেন? তখন তিনি বললেন: "হ্যাঁ। আমার নিকট জিবরাঈল ও মিকাঈল আসলেন। জিবরাঈল আমার ডান পাশে বসলেন এবং মিকাঈল আমার বাম পাশে বসলেন। তখন তিনি বললেন: 'আপনি কুরআন এক পদ্ধতিতে পাঠ করুন।' মিকাঈল বললেন: 'তাঁর নিকট আরও বৃদ্ধির আবেদন করুন।' তখন তিনি বললেন: 'আপনি কুরআন দুই পদ্ধতিতে পাঠ করুন।' মিকাঈল বললেন: 'তাঁর নিকট আরও বৃদ্ধির আবেদন করুন।' এভাবে সাত পদ্ধতি পর্যন্ত পৌঁছাল। এর প্রত্যেকটিই নিরাময়কারী ও যথেষ্ট।"
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ২৫)
12 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، نا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ فَرَأَيْتُ قَصْرًا مِنْ ذَهَبٍ، فَقُلْتُ: لِمَنْ هَذَا الْقَصْرُ؟ فَقَالُوا: لِشَابٍّ مِنْ قُرَيْشٍ فَظَنَنْتُ أَنِّي أَنَا هُوَ فَقُلْتُ: مَنْ هُوَ؟ فَقَالُوا: عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ "
১২ - হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবন বাকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস (রা.) থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "‌‌আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম এবং স্বর্ণের একটি প্রাসাদ দেখলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম: এই প্রাসাদটি কার? তারা বলল: কুরাইশ বংশীয় এক যুবকের। আমি ধারণা করলাম যে আমিই সেই ব্যক্তি। অতঃপর আমি জিজ্ঞেস করলাম: সে কে? তারা বলল: উমর ইবনুল খাত্তাব।"
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ২৫)
13 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، نا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَدَاةٍ بَارِدَةٍ وَالْمُهَاجِرُونَ وَالْأَنْصَارُ يَحْفِرُونَ الْخَنْدَقَ بِأَيْدِيهِمْ، فَقَالَ: «اللَّهُمَّ إِنَّ الْخَيْرَ خَيْرُ الْآخِرَةِ فَاغْفِرْ لِلْأَنْصَارِ ⦗ص: 26⦘ وَالْمُهَاجِرَةِ» فَأَجَابُوهُ:

[البحر الرجز]

 

نَحْنُ الَّذِينَ بَايَعُوا مُحَمَّدَا … عَلَى الْجِهَادِ مَا بَقِينَا أَبَدَا
১৩ - আল-হারিস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে বকর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুমায়দ আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক কনকনে শীতের সকালে বের হলেন, তখন মুহাজির ও আনসারগণ নিজ হাতে খন্দক (পরিখা) খনন করছিলেন। তখন তিনি বললেন: «হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই প্রকৃত কল্যাণ হলো আখিরাতের কল্যাণ, সুতরাং আপনি আনসার ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ ও মুহাজিরদের ক্ষমা করুন।’ অতঃপর তারা তাঁকে উত্তরে বললেন:

[রাজায ছন্দ]

 

আমরাই সেই দল যারা মুহাম্মাদের নিকট বায়আত গ্রহণ করেছি … জিহাদের ওপর, যতদিন আমরা বেঁচে থাকব চিরকাল।
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ২৬)
14 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، نا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: كَانَ رَجُلٌ أَسْوَدُ يُقَالُ لَهُ: أَنْجَشَةُ وَكَانَ يَسُوقُ بِأُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ وَنِسَائِهِمْ فَاشْتَدَّ سِيَاقُهُ، فَنَادَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«كَذَلِكَ سَوْقُكَ بِالْقَوَارِيرِ؟»
১৪ - আল-হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমায়দ আমাদের নিকট আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনজাশাহ নামক এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি উম্মুল মুমিনীন এবং তাঁদের সাথে থাকা মহিলাদের (বাহন) হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি যখন উটগুলো দ্রুত গতিতে চালনা করতে শুরু করলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ডেকে বললেন: “কাঁচের পাত্রগুলোর সাথে তোমার চালনা কি এরূপ?”
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ২৭)
15 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، نا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: أَخَذَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ بِيَدِي - مَقْدِمَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ - فَقَالَتْ: «يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا أَنَسٌ غُلَامٌ كَيِّسٌ‌‌ يَخْدُمُكَ فَخَدَمْتُهُ تِسْعَ حِجَجٍ فَمَا قَالَ لِشَيْءٍ قَطُّ صَنَعْتُ أَسَأْتَ، وَلَا بِئْسَ مَا صَنَعْتَ، وَلَا مَسِسْتُ شَيْئًا قَطُّ خَزًّا وَلَا حَرِيرًا أَلْيَنَ مِنْ كَفِّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَلَا شَمِمْتُ رَائِحَةً قَطُّ مِسْكًا وَلَا عَنْبَرًا أَطْيَبَ مِنْ رَائِحَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم»
১৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হারিস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে বকর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুমাইদ, আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উম্মু সুলাইম আমার হাত ধরলেন—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মদিনায় আগমনের সময়—এবং বললেন: «হে আল্লাহর রাসূল! এই যে আনাস, একজন বুদ্ধিমান কিশোর সে আপনার খেদমত করবে। অতঃপর আমি নয় বছর তাঁর খেদমত করেছি। আমি যা কিছু করেছি সে বিষয়ে তিনি কখনো বলেননি যে, "তুমি মন্দ করেছ", অথবা "তুমি যা করেছ তা কতই না খারাপ"। আর আমি কখনো কোনো পশমি কাপড় বা রেশম স্পর্শ করিনি যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতের তালুর চেয়ে অধিক নরম ছিল। এবং আমি কখনো কোনো কস্তুরি বা আম্বর শুকিনি যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুগন্ধির চেয়ে অধিক সুঘ্রাণযুক্ত ছিল।»
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ২৮)
16 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، نا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: كَانَتْ نَاقَةٌ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تُسَمَّى الْعَضْبَاءُ وَكَانَتْ لَا تُسْبَقُ فَجَاءَ أَعْرَابِيٌّ عَلَى قُعُودٍ فَسَبَقَهَا فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ فَلَمَّا رَأَى مَا فِي وُجُوهِهِمْ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ سُبِقَتِ الْعَضْبَاءُ فَقَالَ: «إِنَّ»‌‌ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ لَا يَرْفَعَ مِنَ الدُّنْيَا شَيْئًا إِلَّا وَضَعَهُ "
১৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হারিস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে বকর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুমাইদ, আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'আল-আদবা' নামক একটি উটনী ছিল এবং সেটিকে কেউ দৌড়ে পেছনে ফেলতে পারত না। এমতাবস্থায় একজন বেদুইন তার একটি সওয়ারি উটের ওপর চড়ে আসলেন এবং সেটিকে পেছনে ফেলে দিলেন। বিষয়টি মুসলমানদের নিকট অত্যন্ত কষ্টদায়ক মনে হলো। অতঃপর যখন তিনি তাদের চেহারায় সেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রত্যক্ষ করলেন, তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আদবা তো পেছনে পড়ে গেল। তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর জন্য এটি অবধারিত যে, তিনি দুনিয়ার কোনো কিছুকে যখনই সুউচ্চ করেন, তখনই তাকে অবনমিত করেন। "
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ২৯)
17 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، نا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الصَّلَاةِ فَجَاءَ رَجُلٌ بَعْدَمَا قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَسْرَعَ الْمَشْيَ فَانْتَهَى إِلَى الْقَوْمِ وَقَدِ انْبَهَرَ أَوْ حَفَزَهُ النَّفَسُ فَقَالَ حِينَ انْتَهَى إِلَى الْقَوْمِ: الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ فَلَمَّا قَضَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الصَّلَاةَ قَالَ: «مَنِ الْمُتَكَلِّمُ أَوِ الْقَائِلُ؟» فَسَكَتَ الْقَوْمُ فَقَالَ مِثْلَهَا فَقَالَ: «مَنْ هُوَ؟ فَإِنَّهُ لَمْ يَقُلْ بَأْسًا أَوْ قَالَ خَيْرًا» ، فَقَالَ الرَّجُلُ: جِئْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَسْرَعْتُ الْمَشْيَ فَانْتَهَيْتُ إِلَى الصَّفِّ وَقَدِ انْبَهَرْتُ أَوْ خَفَزَنِي النَّفَسُ فَقُلْتُ الَّذِي قُلْتُ فَقَالَ: «لَقَدْ رَأَيْتُ اثْنَا عَشَرَ مَلَكًا يَبْتَدِرُونَهَا أَيُّهُمْ يَرْفَعُهَا» ، ثُمَّ قَالَ: ‌‌«إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَلْيَمْشِ عَلَى هَيْئَتِهِ فَلْيُصَلِّ مَا أَدْرَكَ وَيَقْضِي مَا سَبَقَهُ»
১৭ - আল-হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস (রা.) থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাতের জন্য দাঁড়ালেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে যাওয়ার পর এক ব্যক্তি আসলেন এবং দ্রুত গতিতে হেঁটে আসলেন। তিনি লোকজনের নিকট পৌঁছালেন এমতাবস্থায় যে তিনি হাঁপাচ্ছিলেন বা তাঁর শ্বাস দ্রুত উঠানামা করছিল। লোকজনের নিকট পৌঁছে তিনি বললেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য—অগণিত, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা। অতঃপর যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত শেষ করলেন, তিনি বললেন: «কথাটি কে বলেছে বা কে উচ্চারণ করেছে?» লোকগণ চুপ থাকলেন। তিনি পুনরায় একই কথা বললেন এবং বললেন: «সে কে? কারণ সে মন্দ কিছু বলেনি» অথবা তিনি বললেন «সে ভালো কথা বলেছে»। তখন সেই ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আসলাম এবং দ্রুত হেঁটে আসলাম, আর যখন কাতারে পৌঁছালাম তখন আমি হাঁপাচ্ছিলাম বা আমার শ্বাস দ্রুত উঠানামা করছিল, তাই আমি কথাটি বলেছি। তখন তিনি বললেন: «আমি বারোজন ফেরেশতাকে দেখেছি যারা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করছিল যে, তাদের মধ্যে কে এটি উপরে উঠিয়ে নিয়ে যাবে।» অতঃপর তিনি বললেন: «যখন তোমাদের কেউ সালাতের জন্য আসবে, সে যেন তার স্বাভাবিক গাম্ভীর্যের সাথে হেঁটে আসে; অতঃপর সালাতের যতটুকু সে পায় তা যেন আদায় করে এবং যা তার থেকে আগে চলে গেছে (ছুটে গেছে) তা যেন পূর্ণ করে নেয়।»
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ৩০)
18 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، نا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ الرُّبَيِّعَ عَمَّتَهُ كَسَرَتْ ثَنِيَّةَ جَارِيَةٍ فَطَلَبُوا إِلَيْهَا الْعَفْوَ فَأَبَوْا وَالْأَرْشَ فَأَبَوْا فَأَتَوْا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَبَوْا إِلَّا الْقِصَاصَ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْقِصَاصِ فَقَالَ أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ: أَتُكْسَرُ ثَنِيَّةُ الرَّبِيعِ لَا وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَا تُكْسَرُ ثَنِيَّتُهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا أَنَسُ‌‌ كِتَابُ اللَّهِ الْقِصَاصُ» . فَرَضِيَ الْقَوْمُ فَعَفَوْا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ مَنْ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لَأَبَرَّهُ»
১৮ - আল-হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস (রা.) থেকে যে, তাঁর ফুফু আর-রুবাইয়ি' এক কিশোরীর সামনের দাঁত ভেঙে ফেলেন। অতঃপর তারা (আক্রান্ত পক্ষের কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করল কিন্তু তারা অস্বীকার করল এবং তারা ক্ষতিপূরণ পেশ করল কিন্তু তারা তাতেও অস্বীকার করল। অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হলো, তারা কিসাস (সমপ্রতিশোধ) গ্রহণ করা ছাড়া অন্য কিছুতে অস্বীকৃতি জানাল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসাসের নির্দেশ দিলেন। তখন আনাস ইবনে নাদর (রা.) বললেন: আর-রুবাইয়ি'র সামনের দাঁত কি ভেঙে ফেলা হবে? না, সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তার সামনের দাঁত ভাঙা হবে না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «হে আনাস!‌‌ আল্লাহর কিতাবের বিধান হলো কিসাস।’ অতঃপর সেই কওম সন্তুষ্ট হলো এবং ক্ষমা করে দিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি রয়েছে যে, যদি সে আল্লাহর নামে কসম করে বসে, তবে তিনি (আল্লাহ) তা অবশ্যই পূর্ণ করেন।’
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ৩১)
19 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، نا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ فَإِذَا أَنَا بِنَهَرٍ يَجْرِي - حَافَتَيْهِ خِيَامُ اللُّؤْلُؤِ - فَضَرَبْتُ بِيَدِي إِلَى مَا يَجْرِي عَلَيْهِ فَإِذَا بِمِسْكٍ أَذْفَرَ فَقُلْتُ: يَا جِبْرِيلُ مَا هَذَا؟ قَالَ: هَذَا الْكَوْثَرُ الَّذِي أَعْطَاكَ اللَّهُ أَوْ قَالَ: رَبُّكَ عز وجل "
১৯ - আল-হারিস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "‌‌ আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম এবং হঠাৎ একটি প্রবাহিত নদী দেখতে পেলাম—যার দুই তীরে ছিল মুক্তার তাবু—অতঃপর আমি আমার হাত দিয়ে তার প্রবাহস্থলের ওপর আঘাত করলাম, অমনি তা তীব্র সুগন্ধি মিশক হিসেবে প্রতীয়মান হলো। আমি বললাম: হে জিবরীল, এটি কী? তিনি বললেন: এটি সেই কাওসার যা আল্লাহ আপনাকে দান করেছেন, অথবা তিনি বললেন: আপনার প্রতিপালক (মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত) আপনাকে দান করেছেন।"
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ৩১)
20 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، نا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 32⦘ قَالَ لِرَجُلٍ مِنْ بَنِي النَّجَّارِ: «أَسْلِمْ» ، قَالَ: أَجِدُنِي كَارِهًا قَالَ: ‌‌«أَسْلِمْ وَإِنْ كُنْتَ كَارِهًا»
২০ - আল-হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন বাকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস (রা.) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘ যে, তিনি বনু নাজ্জারের এক ব্যক্তিকে বললেন: "ইসলাম গ্রহণ করো।" সে বলল: "আমি নিজেকে অনিচ্ছুক পাচ্ছি।" তিনি বললেন: "ইসলাম গ্রহণ করো, যদিও তুমি অনিচ্ছুক হও।"
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ৩২)
21 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، نا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَرَضَتْ عَلَيْهِ امْرَأَةٌ فِي الطَّرِيقِ - وَمَعَهُ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِهِ فَقَالَتْ -: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي إِلَيْكَ حَاجَةً فَقَالَ: «يَا أُمَّ فُلَانٍ‌‌ اجْلِسِي فِي أَيِّ نَوَاحِي السِّكَكِ شِئْتِ أَجْلِسْ إِلَيْكِ» ، فَفَعَلَتْ فَجَلَسَ إِلَيْهَا حَتَّى قَضَى حَاجَتَهَا
২১ - আল-হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে বাকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস (রা.) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন যে, পথিমধ্যে এক নারী তাঁর সামনে উপস্থিত হলেন—সে সময় তাঁর সাথে তাঁর একদল সাহাবী ছিলেন—অতঃপর নারীটি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট আমার একটি প্রয়োজন আছে।" তিনি বললেন: "হে অমুকের মা! রাস্তার যে কোনো পাশে তুমি বসতে চাও বসো, আমি তোমার নিকট বসবো।" অতঃপর সে তা-ই করল এবং তিনিও তার নিকট বসলেন যতক্ষণ না তিনি তার প্রয়োজন পূরণ করলেন।
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ৩৩)
22 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ يَعْنِي ابْنَ عُبَادَةَ، نا ابْنُ أَبِي الْخَلَّالِ الْعَتَكِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: «رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم»‌‌ يَأْكُلُ بَيْنَ يَدَيْهِ مَرَقَةٌ فِيهَا دُبَّا فَجَعَلَ يَتَتَبَّعُهُ يَأْكُلُهُ "
২২ - আল-হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, রাওহ অর্থাৎ ইবনে উবাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবিল খাল্লাল আল-আতাকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিককে বলতে শুনেছি: "আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি" তিনি আহার করছিলেন, তাঁর সামনে ঝোল ছিল যাতে কদু ছিল, অতঃপর তিনি তা খুঁজে খুঁজে খেতে লাগলেন।
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ৩৩)
23 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، عَنْ أَبَانَ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: إِنَّ أَبَا عَيَّاشٍ الزُّرَقِيَّ قَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْحَنَّانُ بَدِيعُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ قَالَ: فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَقَدْ»‌‌ سَأَلَ اللَّهَ بِاسْمِهِ الَّذِي إِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ وَإِذَا سُئِلَ بِهِ أَعْطَى "
২৩ - আল-হারিস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবন আমির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবান ইবন আবী আইয়্যাশ থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু আইয়্যাশ আয-যুরাকী বলেছিলেন: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি এই উসিলায় যে, সকল প্রশংসা আপনারই, আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আপনি অতি দয়ালু, আসমানসমূহ ও জমিনের অভিনব স্রষ্টা, মহিমা ও সম্মানের অধিকারী। তিনি (আনাস) বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «নিশ্চয়ই সে»‌‌ আল্লাহর নিকট তাঁর সেই নামের মাধ্যমে প্রার্থনা করেছে, যা দ্বারা তাঁকে ডাকা হলে তিনি সাড়া দেন এবং যা দ্বারা তাঁর নিকট চাওয়া হলে তিনি দান করেন।
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ৩৪)
24 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نا عَبْدُ الْوَهَّابِ يَعْنِي ابْنَ عَطَاءٍ، نا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ: ‌‌«مَنْ لَقِيَ اللَّهَ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ»
২৪ - আমাদের নিকট আল-হারিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল ওয়াহহাব অর্থাৎ ইবনে আতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুলাইমান আত-তাইমি বর্ণনা করেছেন, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুআয ইবনে জাবাল (রা.)-কে বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে»
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ৩৫)
25 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نا يَعْلَى بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الْحَكَمِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم»‌‌ مِنْ أَخَفِّ النَّاسِ صَلَاةً فِي تَمَامٍ "
২৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হারিস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়ালা ইবনে আব্বাদ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল হাকাম, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন» পূর্ণাঙ্গতা বজায় রেখে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত সালাত আদায়কারী।
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ৩৬)
26 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نَا يَعْلَى بْنُ عَبَّادٍ ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الْحَكَمِ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«يَقْطَعُ الصَّلَاةَ الْكَلْبُ وَالْحِمَارُ وَالْمَرْأَةُ»
২৬ - আমাদের নিকট আল-হারিস বর্ণনা করেছেন, ইয়ালা ইবনে আব্বাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল হাকাম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আনাস (রা.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «কুকুর, গাধা এবং নারী সালাতকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়»
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ৩৬)
27 - وَبِإِسْنَادِهِ عَنْ أَنَسٍ، «أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ قَرَّبَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَتِفًا»‌‌ فَأَكَلَ مِنْهُ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ "
27 - এবং তাঁর সনদে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, উম্মে সালামাহ (রা.) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট কাঁধের গোশত পেশ করলেন, অতঃপর তিনি তা থেকে আহার করলেন এবং (নতুন করে) অজু করলেন না।
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
28 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نا يَعْلَى، نا شَيْخٌ، لَنَا يُقَالُ لَهُ: عَبْدُ الْحَكَمِ قَالَ: نا أَنَسٌ أَنَّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«عَلَيْكُمْ بِرَكْعَتِي الْفَجْرِ فَإِنَّ فِيهِمَا الرَّغَائِبَ»
২৮ - আমাদের নিকট আল-হারিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়ালা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমাদের একজন শায়খ বর্ণনা করেছেন যাঁকে আব্দুল হাকাম বলা হয়, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আনাস বর্ণনা করেছেন যে, নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা ফজরের দুই রাকাতের (সুন্নত) ব্যাপারে যত্নবান হও, কারণ এর মধ্যেই রয়েছে কাঙ্ক্ষিত কল্যাণসমূহ।”
(খণ্ড: ১) আওয়ালিল হারিস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
29 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ، نا يَعْلَى، نا عَبْدُ الْحَكَمِ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«مَنْ لَمْ يَرْحَمْ صَغِيرَنَا وَيُوَقِّرْ كَبِيرِنَا فَلَيْسَ مِنَّا»
২৯ - আমাদের নিকট হারিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়ালা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল হাকাম বর্ণনা করেছেন, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের প্রতি দয়া করে না এবং আমাদের বড়দের সম্মান প্রদর্শন করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়»