(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: -)
دراسة في السيرة القسم: السيرة النبوية
الكتاب: دراسة في السيرة
المؤلف: عماد الدين خليل
الناشر: دار النفائس - بيروت
الطبعة: الثانية - 1425 هـ
عدد الصفحات: 336
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সীরাত বিষয়ক একটি গবেষণা বিভাগ: সীরাতুন্নবী
গ্রন্থ: সীরাত বিষয়ক একটি গবেষণা
লেখক: ইমাদ উদ্দিন খলীল
প্রকাশক: দারুন নাফাইস - বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয় - ১৪২৫ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৩৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةهذا كتاب دراسي (أكاديمي) أريد منه بالدرجة الأولى عرض وتحليل الهيكل الأساسي المتفق عليه لأحداث سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم، وتوزيع مساحات البحث بشكل متكافىء على كافة جوانب الموضوع.. وهذا الكتاب يجيء ثمرة طبيعية لتدريس هذه المادة في كلية الآداب ما يزيد على الست سنوات، الأمر الذي أتاح لي احتكاكا عمليا مباشرا بالموضوع، ودفعني للبحث عن أشد الصور المنهجية ملائمة لتوصيل المادة للطالب الجامعي، وتمكينه من الإحاطة بوحداتها الأساسية إحاطة علمية مركزة ومتوازنة، ترفض الجنوح صوب الخيال القصصي الإسرائيلي، والتهويل الأسطوري، أو التطرف- في الوقت ذاته- صوب النظرة المادية التي تقتل في السيرة روحها وتطمس على شخصيتها.
كما أن هذه الدراسة تسعى لتجاوز منطق الدفاع- قدر الإمكان- لكي تجعل الحقائق المجردة نفسها تشكل في ذهن الدارس النسق الحقيقي للسيرة، وتدفع كل ما علق بها في الماضي والحاضر من تهاويل وإضافات ومفتريات ما كان لها أن تصمد أمام (الواقعة) التاريخية نفسها، وليس غير الواقعة التاريخية حكما وقاضيا.
ومن ثم كان الرجوع إلى طبقة المصادر الأساسية في الموضوع (وبخاصة سيرة ابن هشام وطبقات ابن سعد وتاريخ الطبري ومغازي الواقدي وأنساب البلاذري وصحيح البخاري
… ) ، والتعامل المباشر معها. وتجاوز (التضخّم) الذي عانته المصادر المتأخرة، و (الارتجال) الذي مارسته المراجع الحديثة، أمران لازمان لبناء صورة أقرب إلى الواقع التاريخي قدر المستطاع «1» .
--------------------------------------------
ভূমিকাএটি একটি পাঠ্যবই (একাডেমিক), যার মাধ্যমে আমি প্রধানত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিরাতের ঘটনাবলির স্বীকৃত মৌলিক কাঠামোর উপস্থাপন ও বিশ্লেষণ করতে চেয়েছি এবং বিষয়ের সমস্ত দিকগুলোতে গবেষণার পরিধি সমানভাবে বণ্টন করতে চেয়েছি। এই বইটি কলা অনুষদে ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে এই বিষয়টি পড়ানোর এক স্বাভাবিক পরিণতি, যা আমাকে এই বিষয়ের সাথে সরাসরি ব্যবহারিক সম্পৃক্ততার সুযোগ করে দিয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর কাছে পাঠ্য বিষয়টি পৌঁছে দেওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত পদ্ধতিগত রূপটি অনুসন্ধান করতে আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে। এর উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীকে সিরাতের মৌলিক এককগুলো সম্পর্কে একটি নিবিড় ও ভারসাম্যপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ধারণা অর্জনে সক্ষম করে তোলা, যা ইসরায়েলি কাল্পনিক কাহিনী ও পৌরাণিক অতিরঞ্জনের দিকে ঝুঁকে পড়াকে প্রত্যাখ্যান করে, আবার একই সাথে সেই বস্তুিবাদী দৃষ্টিভঙ্গির চরমপন্থাকেও বর্জন করে যা সিরাতের প্রাণশক্তিকে নিঃশেষ করে দেয় এবং এর বৈশিষ্ট্যকে বিলীন করে দেয়।
তেমনি এই গবেষণা যথাসম্ভব আত্মরক্ষামূলক যুক্তি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছে, যাতে করে নির্ভেজাল সত্যগুলোই শিক্ষার্থীর মনে সিরাতের প্রকৃত কাঠামো তৈরি করে। এটি সেই সব অতিরঞ্জন, সংযোজন ও অপবাদকে দূর করে দেয় যা অতীত ও বর্তমানে এর সাথে যুক্ত হয়েছে এবং যা ঐতিহাসিক 'বাস্তবতা'র সামনে টিকে থাকার সক্ষমতা রাখে না; আর ঐতিহাসিক বাস্তবতা ছাড়া অন্য কোনো কিছু এখানে চূড়ান্ত বিচারক নয়।
ফলে এই বিষয়ের মৌলিক উৎসগুলোর স্তরে প্রত্যাবর্তন করা (বিশেষ করে সীরাতে ইবনে হিশাম, তাবাকাতে ইবনে সাদ, তারিখে তবারি, মাগাযিয়ে ওয়াকিদি, আনসাবে বালাজুরি ও সহিহ বুখারি
… ) এবং সেগুলোর সাথে সরাসরি কাজ করা; আর পরবর্তী সময়ের উৎসগুলোতে যে 'অতিরঞ্জন' ঘটেছে এবং আধুনিক গ্রন্থগুলোতে যে 'মনগড়া ব্যাখ্যা' দেওয়া হয়েছে তা পরিহার করা—এই দুটি বিষয় যথাসম্ভব ঐতিহাসিক বাস্তবতার নিকটবর্তী একটি চিত্র নির্মাণের জন্য অপরিহার্য «১»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
إن سيرة رسولنا صلى الله عليه وسلم تجربة غنية بأحداثها، زاخرة بدلالاتها، متنوعة بمعطياتها، وما كان لباحث يسعى إلى إيفائها حقها من البحث والتحليل إلا أن يوسع نطاق رؤياه ويصبّ اهتماماته على هذه الجوانب جميعا؛ حركية وسياسية وعسكرية وشخصية وفقهية وروحية وواقعية وغيبية وعقيدية وحضارية.
ولم أشأ- من أجل تركيز الصورة وتحديد أبعادها بدقة- أن التزم الخط الزمني لأحداث السيرة، ذلك الخط الذي وقع في أسره معظم الباحثين، فضاعت في مجراه حقائق، وطمست دلالات وقيم، ما كان لها أن تضيع أو تنطمس لو قسمت وقائع السيرة إلى وحدات متجانسة خصص لكل وحدة منها مساحة مناسبة في البحث، استقصيت فيها سائر جوانبها ونسقت جلّ وقائعها، وحللت معظم دلالاتها وقيمها.
ومعروف أن التزام المجرى الزمني يدفع الباحث إلى أن يحشر في النقطة الواحدة، أو المقطع الواحد، مجموعة أحداث ووقائق متنافرة متقاطعة غير متجانسة، ويلجئه أحيانا أخرى إلى تقطيع الواقعة الواحدة إلى أجزاء متناثرة لا يضمها إطار واحد ولا يوحدها تجانس نوعي، وهذا- بطبيعة الحال- نتيجة محتمة للسعي وراء منطق التقسيم الرياضي الصارم للأيام والسنين، وهو الأسلوب الذي اعتمده مؤرخونا القدماء وعرفوه باسم (الحوليات) ، حيث لم يكن علم التاريخ ولا مناهج البحث فيه قد استكملت أسبابها بعد.
من أجل ذلك جاء هذا البحث يعرض أحداث السيرة كوحدات محددة الأبعاد، وبخاصة في عصرها المدني حيث تكثر الروايات وتتكاثف الأخبار وتزدحم التفاصيل.. تناولت فيها على التوالي: محمد بين الميلاد والنبوة، الدعوة في عصرها المكي، تحليل للهجرة، دولة الإسلام في المدينة، الصراع مع الوثنية، العلاقات بين الإسلام والجبهة البيزنطية- النصرانية، الصراع مع اليهود، ثم حركة النفاق في العصر المدني. وبقدر ما رأيت في بعض الروايات والأخبار قوة وأهمية، فوقفت عندها طويلا محللا مستنتجا، رابطا إياها في نسقها النوعي من الوقائع، بقدر ما لمست في روايات وأخبار أخرى ضعفا وانعدام أهمية فأغفلتها إغفالا تاما، أو مررت بها مرورا سريعا معتمدا في ذلك على المقياس الصارم وهو قبول كل ما لا يتعارض مع آيات القرآن الكريم ومعطيات السنن الصحيحة، ورفض ما عدا ذلك أو- على الأقل- عدم التسليم المطلق به.
আমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত বা জীবনী এমন এক অভিজ্ঞতা যা এর ঘটনাবলীতে সমৃদ্ধ, এর তাৎপর্যে পরিপূর্ণ এবং এর তথ্য-উপাত্তে বৈচিত্র্যময়। কোনো গবেষক যদি একে বিশ্লেষণ ও গবেষণার মাধ্যমে এর প্রকৃত হক আদায় করতে চান, তবে তাকে অবশ্যই তার দৃষ্টিভঙ্গির পরিধি বিস্তৃত করতে হবে এবং এই সকল দিকের ওপর গভীর মনোযোগ দিতে হবে; যা গতিশীল, রাজনৈতিক, সামরিক, ব্যক্তিগত, ফিকহী, আধ্যাত্মিক, বাস্তববাদী, গায়বী (অদৃশ্য), আকীদাগত এবং সভ্যতাগত বিষয়াদিকে অন্তর্ভুক্ত করে।
ছবিটিকে ঘনীভূত করতে এবং এর মাত্রাগুলো সূক্ষ্মভাবে নির্ধারণ করার লক্ষ্যে আমি সীরাতের ঘটনাবলীর কালানুক্রমিক ধারা অনুসরণ করতে চাইনি—যেই ধারার জালে অধিকাংশ গবেষকই বন্দি হয়ে পড়েছেন। ফলে এর প্রবাহে অনেক সত্য হারিয়ে গেছে এবং অনেক তাৎপর্য ও মূল্যবোধ ম্লান হয়ে গেছে। যদি সীরাতের ঘটনাবলীকে সমজাতীয় এককে বিভক্ত করা হতো এবং প্রতিটি এককের জন্য গবেষণায় উপযুক্ত স্থান বরাদ্দ করা হতো, তবে এই সত্যগুলো হারিয়ে যেত না বা ম্লান হতো না; যেখানে আমি এর সকল দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করেছি, এর অধিকাংশ ঘটনাকে বিন্যস্ত করেছি এবং এর অধিকাংশ তাৎপর্য ও মূল্যবোধ বিশ্লেষণ করেছি।
এটি সুপরিচিত যে, কালানুক্রমিক ধারা অনুসরণ গবেষককে একটি নির্দিষ্ট বিন্দু বা অংশে অনেকগুলো অসংলগ্ন, পরস্পরবিরোধী ও অসমজাতীয় ঘটনাকে একত্রে জড়ো করতে বাধ্য করে। আবার কখনো এটি একটি একক বাস্তব ঘটনাকে এমন বিক্ষিপ্ত অংশে বিভক্ত করতে বাধ্য করে যা কোনো একক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হয় না বা কোনো গুণগত সাজুয্য তাকে ঐক্যবদ্ধ করে না। স্বাভাবিকভাবেই এটি দিন ও বছরের কঠোর গাণিতিক বিভাজনের যুক্তির পেছনে ছুটে চলার এক অনিবার্য পরিণতি। আমাদের প্রাচীন ঐতিহাসিকগণ এই পদ্ধতিটিই গ্রহণ করেছিলেন এবং এটি 'হাওলিয়াত' (বর্ষপঞ্জি) নামে পরিচিত ছিল, কারণ তখন ইতিহাস বিজ্ঞান বা এর গবেষণার পদ্ধতিসমূহ তখনও পূর্ণতা লাভ করেনি।
একারণেই এই গবেষণাটি সীরাতের ঘটনাবলীকে সুনির্দিষ্ট মাত্রার একক হিসেবে উপস্থাপন করে, বিশেষ করে মাদানি যুগে যেখানে বর্ণনা প্রচুর, সংবাদ ঘনীভূত এবং খুঁটিনাটি বিষয়ের ভিড় বেশি। আমি এতে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করেছি: জন্ম ও নবুওয়াতের মধ্যবর্তী সময়ে মুহাম্মদ, মক্কী যুগের দাওয়াত, হিজরতের বিশ্লেষণ, মদীনায় ইসলামি রাষ্ট্র, মূর্তিপূজকদের সাথে সংঘাত, ইসলাম ও বাইজান্টাইন-খ্রিস্টীয় ফ্রন্টের মধ্যকার সম্পর্ক, ইহুদীদের সাথে সংঘাত এবং পরবর্তীতে মাদানি যুগের মুনাফিকী তৎপরতা। যেসব বর্ণনা ও সংবাদে আমি শক্তি ও গুরুত্ব দেখেছি, সেখানে আমি দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করে সেগুলো বিশ্লেষণ করেছি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি এবং সেগুলোকে তাদের গুণগত প্রাসঙ্গিকতায় বিন্যস্ত করেছি। অন্যদিকে যেসব বর্ণনা ও সংবাদে আমি দুর্বলতা ও গুরুত্বহীনতা অনুভব করেছি, সেগুলোকে আমি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছি অথবা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে অতিক্রম করেছি। এক্ষেত্রে আমি একটি কঠোর মানদণ্ডের ওপর নির্ভর করেছি, আর তা হলো—যা পবিত্র কুরআনের আয়াত এবং সহীহ সুন্নাহর তথ্যের সাথে সাংঘর্ষিক নয় তা গ্রহণ করা, আর তা ব্যতীত অন্য সবকিছু বর্জন করা অথবা অন্ততপক্ষে সেগুলোর প্রতি নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ না করা।
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
إن اعتماد بعض المؤرخين المحدثين على عدد من مصادر المتأخرين (كالحلبي وأبي الفدا والمقريزي وابن الأثير.. إلخ) كمصادر محورية، وتغافلهم عن واحد أو أكثر من المصادر الأساسية الواردة، آنفا، جعلهم يتركون ثغرات عميقة في صلب أبحاثهم، كما دفعهم إلى سرد الكثير من الإضافات (المتأخرة) التي لا تعرفها المصادر الأولى، ومن ثم تضخيم وقائع السيرة إلى أضعاف حجمها الحقيقي على حساب الوقائع نفسها. لذا كان لا بد- مرة أخرى- من عرض كافة الروايات على معطيات القرآن والسنة والمصادر الأولى- على ما في الأخيرة من إضافات وثغرات- وعلى مقولات العقل الخالص، ثم على الأرضية التاريخية التي تحركت فوقها الأحداث، ونمت، واكتسبت ملامحها النهائية. وكل ما لا ينسجم مع هذا أو مع ذاك كان له أن يلغى من حساب المؤرخ الجاد، أو ينسحب- على الأقل- إلى الخط الثاني من روايات السيرة ووقائعها الغنية المتشابكة.
إن النبي العربي- يقول الدكتور جواد علي «1» - هو «محمد بن عبد الله بن عبد المطلب. وهو عبد الله ورسوله، ونبي وبشر مثل سائر البشر إلا في النبوة ونزول الوحي عليه. فقد ورد في القرآن الكريم: قُلْ إِنَّما أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحى إِلَيَّ أَنَّما إِلهُكُمْ إِلهٌ واحِدٌ «2» . وعلى هذه الآية وبوحيها يجب السير في تدوين السيرة النبوية وتاريخها، ولو سار المؤرخ بموجبها وبموجب وحي آيات القرآن الآخرى، لجنب نفسه الوقوع في المزالق والماخذ، وجعل السيرة النبوية، سيرة حية: سيرة نبي مرسل بالمعنى الإسلامي الصحيح الذي نجد روحه في الآية المذكورة. ولو جنب أصحاب السير المتأخرون سيرهم القصص الإسرائيلي الذي أدخل على السيرة وعلى الإسلام، والذي لا يتفق مع هذه الآية ومع أحكام القرآن، لأراحوا السيرة وجنّبوا الناس الأخذ بهذا القصص الذي بنى عليه بعض المستشرقين أحكاما وآراء أساءت كثيرا إلى الإسلام، وأرادوا بها التشكيك بصاحب الرسالة والمسلمين» «3» .
--------------------------------------------
কিছু আধুনিক ঐতিহাসিকের পরবর্তী সময়ের বেশ কিছু উৎসের (যেমন হালাবি, আবুল ফিদা, মাকরিজি, ইবনুল আসির ইত্যাদি) ওপর কেন্দ্রীয় উৎস হিসেবে নির্ভর করা এবং পূর্বে উল্লিখিত এক বা একাধিক মৌলিক উৎসের ব্যাপারে তাঁদের উদাসীনতা তাঁদের গবেষণার মূলে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। পাশাপাশি এটি তাঁদের এমন অনেক (পরবর্তীকালীন) সংযোজন বর্ণনা করতে প্ররোচিত করেছে যা প্রাথমিক উৎসসমূহে নেই, ফলে সীরাতের ঘটনাবলিকে তার প্রকৃত আকারের চেয়ে বহুগুণ বড় করে তুলে ধরা হয়েছে, যা প্রকৃত তথ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। তাই পুনরায় সমস্ত বর্ণনাকে কুরআন, সুন্নাহ এবং প্রাথমিক উৎসসমূহের উপাত্তের আলোকে—শেষোক্ত উৎসগুলোতে কিছু সংযোজন ও ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও—এবং বিশুদ্ধ যুক্তির নিরিখে, অতঃপর যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ঘটনাবলি সংঘটিত ও বিকশিত হয়ে চূড়ান্ত রূপ লাভ করেছে, তার ভিত্তিতে যাচাই করা অপরিহার্য। যা কিছু এর সাথে সংগতিপূর্ণ নয়, একজন নিষ্ঠাবান ঐতিহাসিকের নিকট তা বর্জনীয় অথবা অন্ততপক্ষে সীরাতের সমৃদ্ধ ও জটিল বর্ণনাসমূহ থেকে দ্বিতীয় স্তরে সরিয়ে রাখা উচিত।
ড. জাওয়াদ আলী বলেন: "আরব নবী হলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব। তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, এবং নবুওয়াত ও ওহী অবতীর্ণ হওয়া ব্যতীত তিনি অন্য সব মানুষের মতোই একজন মানুষ। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে: বলুন, আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ, আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয় যে, তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ। এই আয়াতের মর্ম ও অনুপ্রেরণায় সীরাতে নববী ও এর ইতিহাস সংকলন করা উচিত। কোনো ঐতিহাসিক যদি এই আয়াত এবং কুরআনের অন্যান্য আয়াতের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী চলতেন, তবে তিনি ভুলভ্রান্তি ও বিচ্যুতি থেকে বেঁচে যেতেন এবং সীরাতে নববীকে একটি জীবন্ত সীরাতে পরিণত করতেন: যা হবে এমন এক প্রেরিত নবীর জীবনী যার সঠিক ইসলামী তাৎপর্য আমরা উল্লিখিত আয়াতের মধ্যে খুঁজে পাই। যদি পরবর্তীকালের সীরাত রচয়িতাগণ তাঁদের সীরাত গ্রন্থসমূহকে ইসরাঈলী বর্ণনা থেকে মুক্ত রাখতেন, যা সীরাত ও ইসলামের মধ্যে অনুপ্রবেশ করেছে এবং এই আয়াত ও কুরআনের বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক, তবে তাঁরা সীরাতকে নির্ভেজাল রাখতেন এবং মানুষকে সেই সব কাহিনী গ্রহণ করা থেকে রক্ষা করতেন যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে কিছু প্রাচ্যবিদ এমন কিছু সিদ্ধান্ত ও অভিমত প্রদান করেছেন যা ইসলামের চরম অবমাননা করেছে এবং যার মাধ্যমে তারা রাসূল ও মুসলিমদের প্রতি সংশয় সৃষ্টি করতে চেয়েছে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ويؤكد المؤرخ المذكور أن «في أغلب الروايات التي يتصل سندها بكعب الأحبار أو محمد بن كعب القرظي أو النعمان السبائي، وهم من مسلمة يهود، أو غيرهم من مسلمة أهل الكتاب طابع القصص الإسرائيلي، وفي أغلبه دسّ على الرسول وعلى الإسلام، كما في قصة الغرانيق وفي أمور أخرى
… ويظهر من دراسة هذا النوع من القصص أن أصحابه كانوا يريدون من روايته ونشره وإدخاله بين المسلمين أمرا، وأن قلوبهم لم تكن مسلمة كألسنتهم، وأنهم كذبوا على التوراة والإنجيل أحيانا وذلك على سبيل التودد إلى المسلمين والتقرب إليهم على ما يبدو» .. ويمضي إلى القول بأن مما يلاحظ «أن معظم هذا القصص المتقدم هو ما يرد في الكتب المتأخرة، أما الكتب الواصلة إلينا من أول عهد المسلمين بالتدوين، فقد كانت تتحاشاه في الغالب، ولا تميل إليه ولا إلى الخوارق والمعاجز، وهو قصص مخالف لما جاء في القرآن الكريم عن الرسول ولحديث الرسول، ولروح الإسلام، ولهذا وجب أن يكون اعتماد المؤرخ على هذا الموارد المتقدمة المحترمة في نظر النقاد أمثال: كتب الصحاح في الحديث وسيرة ابن هشام وطبقات ابن سعد وتاريخ الطبري. وسندنا الأول بالطبع ومرشدنا قبل كل هذه هو القرآن» «1» .
وعلى المستوى الحربي يقول محمود شيت خطاب، بصدد المنهج الذي اعتمده في كتابه عن (الرسول القائد) : «وقد أغفلت ذكر الحوادث التي لا يمكن أن تحدث في الحرب فعلا، تلك الحوادث التي يرددها بعض المؤرخين ليثبتوا للناس أن انتصار الرسول صلى الله عليه وسلم كان بالخوارق غير الاعتيادية بالدرجة الأولى، لا بتطبيق مبادىء الحرب. ومن الغريب أنهم يعتبرون ذلك من مظاهر الإيمان برسالة النبي.. لقد كان محمد واقعيا بعيدا عن الخيال، وكان إذا أراد شيئا هيّأ له أسبابه.. وقد عمل بكل مبادىء الحرب المعروفة، إضافة إلى مزاياه الشخصية الآخرى في القيادة، لهذا انتصر على أعدائه، ولو أغفل شيئا من الحذر والحيطة والاستعداد لتبدّل الحال غير الحال» «2» .
ونحن نلتقي بهذا التحذير من تضخيم السيرة، وبخاصة فيما قبل البعثة، بحشد من القصص والإسرائيليات والخوارق، في كتاب محمد عزة دروزة القيّم
--------------------------------------------
উল্লিখিত ঐতিহাসিক জোর দিয়ে বলেন যে, «অধিকাংশ বর্ণনা যার সনদ (সূত্র) কাব আল-আহবার বা মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাজি অথবা নুমান আস-সাবায়ি - যারা ইহুদি থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন - কিংবা আহলে কিতাবের অন্যান্য ইসলাম গ্রহণকারীদের সাথে যুক্ত, সেগুলোতে ইসরাঈলি গল্পের ছাপ রয়েছে। এর অধিকাংশই রাসূল (সা.) ও ইসলামের ওপর মিথ্যারোপ করা হয়েছে, যেমন গোরানিক (শয়তানি বাণীর কাহিনী) গল্প এবং অন্যান্য বিষয়ে
… এই ধরণের গল্পগুলো অধ্যয়ন করলে দেখা যায় যে, এগুলোর বর্ণনাকারীরা তা বর্ণনা, প্রচার এবং মুসলমানদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করানোর মাধ্যমে কোনো উদ্দেশ্য হাসিল করতে চেয়েছিল। তাদের অন্তর তাদের জিহ্বার মতো মুসলমান ছিল না। তারা মাঝে মাঝে তাওরাত ও ইঞ্জিলের ওপরও মিথ্যা আরোপ করত, যা দৃশ্যত মুসলমানদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন ও তাদের নিকটবর্তী হওয়ার লক্ষ্যেই ছিল» .. তিনি আরও বলেন যে, লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো «উল্লিখিত অধিকাংশ গল্পই পরবর্তীকালের বইগুলোতে পাওয়া যায়। তবে মুসলিমদের সংকলন যুগের শুরুর দিকে আমাদের কাছে পৌঁছানো বইগুলো সাধারণত এগুলো এড়িয়ে চলত এবং এগুলোর প্রতি বা অলৌকিক ও অলৌকিক ঘটনার প্রতি কোনো আগ্রহ দেখাত না। এই গল্পগুলো রাসূল (সা.) সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে যা এসেছে এবং রাসূলের হাদিস ও ইসলামের চেতনার বিরোধী। এই কারণে ঐতিহাসিকদের উচিত সমালোচকদের দৃষ্টিতে নির্ভরযোগ্য সেই পূর্ববর্তী উৎসগুলোর ওপর নির্ভর করা, যেমন: হাদিসের বিশুদ্ধ (সিহাহ) গ্রন্থসমূহ, ইবনে হিশামের সিরাত, ইবনে সা'দের তাবাকাত এবং তাবারির ইতিহাস। আর এই সব কিছুর আগে আমাদের প্রথম ভিত্তি এবং পথপ্রদর্শক অবশ্যই কুরআন» «১» ।
যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে মাহমুদ শীত খাত্তাব তার (আর-রাসূল আল-কায়েদ) বইটিতে অনুসৃত পদ্ধতি সম্পর্কে বলেন: «আমি এমন সব ঘটনার উল্লেখ বাদ দিয়েছি যা বাস্তবে যুদ্ধে ঘটা সম্ভব নয়; যেসব ঘটনা কিছু ঐতিহাসিক বারবার উল্লেখ করেন মানুষকে এটা প্রমাণ করার জন্য যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বিজয় মূলত অস্বাভাবিক অলৌকিকতার মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছিল, যুদ্ধের মূলনীতি প্রয়োগের মাধ্যমে নয়। আশ্চর্যজনক হলো যে, তারা বিষয়টিকে নবীর রিসালাতের প্রতি ঈমানের বহিঃপ্রকাশ বলে গণ্য করেন.. অথচ মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন কল্পনামুক্ত একজন বাস্তববাদী মানুষ। যখনই তিনি কিছু করতে চাইতেন, তার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও উপায় প্রস্তুত করতেন.. তিনি যুদ্ধের সমস্ত সুপরিচিত মূলনীতি অনুসরণ করে কাজ করেছেন, সেইসাথে নেতৃত্বে তাঁর অন্যান্য ব্যক্তিগত গুণাবলী তো ছিলই। এই কারণেই তিনি তাঁর শত্রুদের ওপর বিজয়ী হয়েছিলেন। যদি তিনি সতর্কতা, সাবধানতা ও প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সামান্য অবহেলা করতেন, তবে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হতে পারত» «২» ।
সিরাত বা জীবনীকে অতিরঞ্জিত করার ব্যাপারে—বিশেষ করে নবুওয়াত প্রাপ্তির আগের সময়টিকে কেন্দ্র করে অনেক কিচ্ছা-কাহিনী, ইসরাঈলি বর্ণনা এবং অলৌকিক ঘটনার সমাবেশ ঘটিয়ে—এই একই সতর্কবাণী আমরা মুহাম্মদ ইজ্জাহ দারওয়াজার মূল্যবান বইতেও দেখতে পাই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
(عصر الرسول) فهو يقول: «من العجيب أن يكون في القرآن آيات كثيرة فيها الكفاية لرسم صورة صادقة لشخصية النبي صلى الله عليه وسلم، وفيها قرائن وإشارات ودلالات عديدة تساعد على التعرف على نشأته وسيرته قبل البعثة، ثم يعمد بعض المسلمين بل بعض علمائهم إلى تجاوز ذلك إلى ما لا تساعد عليه نصوص القرآن، بل ما تتناقض معه. فإذا كنت ممن تسنى لهم أن يستمعوا قصة من هذه القصص التي تتلى في حفلات المولد، فقد سمعت ولا ريب نماذج من الغلوّ الذي يكاد يجعل للنبي صلى الله عليه وسلم شخصية لاهوتية أو في نطاق اللاهوتية. ولقد وقع غير واحد من كتاب السيرة والشمائل وشراحها في هذا الغلوّ (وبخاصة ما يتعلق بالميلاد) دون أن يكون لذلك أصل من قرآن أو سند من حديث صحيح أو دعامة من منطق معقول. ويبدو أن غلاة المسلمين لم يكتفوا بالوقوف عند الإنسان الكامل في النبي صلى الله عليه وسلم الذي يتجلى بالتميز في عظم الخلق وصفاء النفس وكبر القلب وقوة الإيمان، والمهمة العظمى التي اضطلع بها، ورأوا أنه لا بد أن يكون من لوازم نبوته واصطفائه أن تكون ثمة مقدمات وبشائر» «1» .
لكن أيا من المؤرخين السابقين، أو غيرهم من المؤرخين الجادّين، لم يقل إن الضرورة المنهجية الملحّة لرفض الإسرائيليات والقصص والخوارق تدعونا أن نقطع السيرة عن أية صلة لها بعالم الغيب (الميتافيزيقا) - كما يرغب دعاة التفسير المادي للتاريخ أن يكون- لأن معنى هذا بوضوح نكران لنبوة الرسول صلى الله عليه وسلم واتصاله عن طريق الوحي غير المرئي- بعالم (الغيب) في السماء، كما أنهم لم يقولوا- ولا أي من المؤرخين الجادين- أن رفض القصص والخوارق يدعونا بالضرورة إلى رفض الاعتقاد بأن الله سبحانه طمس على أعين المشركين الذين حاصروا دار الرسول صلى الله عليه وسلم، قبل هجرته، سعيا وراء قتله، أو أنه صدّهم عن إلقاء القبض عليه وهو مختبىء وصاحبه في الغار، أو أنه أنزل ملائكته من السماء لتنصر القلة المؤمنة على الكثرة الكافرة في معركة بدر، ومعارك أخرى تلتها..
إن كثيرا من وقائع السيرة، وأخبارها أوضح من أن تتكلف فيها الشروح والتفاسير والتعليقات، ومن ثم فهي لن تحتاج إلا إلى قدر معقول من تنسيق المادة الأولية وترتيبها، قائم على منهج علمي في الانتقاء والاستبعاد، ليس كذلك
--------------------------------------------
(রাসূলের যুগ) তিনি বলেন: "এটি আশ্চর্যজনক যে কুরআনে এমন অনেক আয়াত রয়েছে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যক্তিত্বের একটি সত্য চিত্র অঙ্কনের জন্য যথেষ্ট এবং এতে এমন অনেক প্রমাণ, ইঙ্গিত ও নির্দেশনা রয়েছে যা নবুওয়াত-পূর্ব তাঁর বেড়ে ওঠা ও সীরাত সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। অথচ কিছু মুসলিম, এমনকি তাঁদের কোনো কোনো আলেমও এটি অতিক্রম করে এমন কিছুর দিকে ধাবিত হন যা কুরআনের ভাষ্য সমর্থন করে না, বরং তার সাথে সাংঘর্ষিক। আপনি যদি সেই ব্যক্তিদের একজন হন যাদের মীলাদ মাহফিলগুলোতে পঠিত এই গল্পগুলোর কোনো একটি শোনার সুযোগ হয়েছে, তবে আপনি নিঃসন্দেহে এমন অতিশয়োক্তির (ঘুলুউ) নমুনা শুনেছেন যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য প্রায় একটি ঈশ্বরতত্ত্বীয় বা ঈশ্বরতত্ত্বের পরিমণ্ডলের কোনো সত্তা তৈরি করে ফেলে। সীরাত ও শামায়েল লেখক এবং তাঁদের ব্যাখ্যাকারীদের মধ্যে অনেকেই এই অতিশয়োক্তিতে পতিত হয়েছেন (বিশেষ করে জন্ম সংক্রান্ত বিষয়ে), যার পেছনে কুরআনের কোনো ভিত্তি, সহীহ হাদীসের কোনো সনদ বা যুক্তিসঙ্গত কোনো ভিত্তি নেই। মনে হয় যে, অতিশয়োক্তি করা মুসলিমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই পূর্ণমানবীয় (ইনসানে কামিল) সত্তায় তুষ্ট থাকেননি যা তাঁর মহান চরিত্র, আত্মার পবিত্রতা, হৃদয়ের বিশালতা, ঈমানের দৃঢ়তা এবং তিনি যে মহান দায়িত্ব পালন করেছেন তার মাধ্যমে প্রতিভাত হয়। বরং তাঁরা মনে করেছেন যে, তাঁর নবুওয়াত ও বিশেষ মনোনয়নের অনিবার্য দাবি হলো সেখানে কিছু অলৌকিক ভূমিকা ও শুভ সংবাদ থাকতে হবে।" [১]।
তবে পূর্ববর্তী কোনো ঐতিহাসিক বা অন্যান্য সিরিয়াস ঐতিহাসিকদের কেউই একথা বলেননি যে, ইসরাঈলী বর্ণনা, কিচ্ছা-কাহিনী এবং অলৌকিকতা বর্জনের যে জরুরি পদ্ধতিগত আবশ্যকতা রয়েছে, তা আমাদের সীরাতকে অদৃশ্যের জগতের (মেটাফিজিক্স) সাথে যেকোনো সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানায়—যেমনটি ইতিহাসের বস্তুবাদী ব্যাখ্যার প্রবক্তারা চেয়ে থাকেন। কারণ এর স্পষ্ট অর্থ হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াত এবং অদৃশ্য ওহীর মাধ্যমে আসমানের অদৃশ্যের জগতের সাথে তাঁর সম্পর্ককে অস্বীকার করা। তেমনিভাবে তাঁরা—বা কোনো সিরিয়াস ঐতিহাসিক—একথাও বলেননি যে, কিচ্ছা-কাহিনী ও অলৌকিকতা প্রত্যাখ্যান আমাদের জন্য এই বিশ্বাস বর্জন করাকে আবশ্যক করে যে—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সেই মুশরিকদের দৃষ্টি আচ্ছন্ন করে দিয়েছিলেন যারা হিজরতের পূর্বে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘর ঘেরাও করেছিল তাঁকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে; অথবা তিনি তাঁদেরকে তাঁকে গ্রেফতার করা থেকে বিরত রেখেছিলেন যখন তিনি ও তাঁর সাথী গুহায় আত্মগোপন করেছিলেন; অথবা তিনি বদরের যুদ্ধে এবং পরবর্তী অন্যান্য যুদ্ধে কাফেরদের বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে মুষ্টিমেয় মুমিনদের সাহায্য করার জন্য আসমান থেকে ফেরেশতা অবতীর্ণ করেছিলেন।
সীরাতের অনেক ঘটনা ও বিবরণ এতটাই স্পষ্ট যে সেগুলোর জন্য কৃত্রিম ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ বা মন্তব্যের প্রয়োজন নেই। ফলে সেগুলোর জন্য কেবল প্রাথমিক উপাদানের একটি পরিমিত মাত্রার সমন্বয় ও বিন্যাস প্রয়োজন, যা নির্বাচন ও বর্জনের একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে হবে, বিষয়টা এমন নয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الذي اعتمده كثير من الباحثين المحدثين، وبخاصة طبقة المستشرقين الأولين التي حكّمت الظن وانساقت وراء الهوى، وهي تنتقي وتستبعد، أو تحلل وتستنتج وفق منهج بحث لا تقرّه بداهات العلم.
وهنا أحب أن أقف بعض الوقت لأعرض بإيجاز لهذه المسألة المنهجية، التي سوف لن أعود إليها مرة أخرى إلا لماما، خوف أن تندّ بي عن المنهج الموضوعي في دراسة السيرة من مصادرها (الأساسية) وبيئتها (الواقعية) بعيدا عن الرؤى والإسقاطات المعاصرة، شخصية ومذهبية، مما يتطلب بحثا آخر يضم مطولات من الردود والإثباتات والتحليل والمناقشات أحسب أنها تتم فعلا وأنها في طريقها إلى الظهور «1» .
يقول الدكتور جواد علي «.. أخذ على بعض المستشرقين تسرعهم في إصدار الأحكام في تاريخ الإسلام، وتأثرهم بعواطفهم لأخذهم بالخبر الضعيف في بعض الأحيان، وحكمهم بموجبه، ولإصدارهم أحكاما بنيت على الألفاظ المشتركة أو التشابه، مع قولهم بوجوب استعمال النقد، وباحتراسهم في الأمور ووجوب التأكد من معرفة الآخذ قبل الحكم عليه.. وآية ذلك أن معظم المستشرقين النصارى هم من طبقة رجال الدين أو من المتخرجين من كليات (اللاهوت) وأنهم إن تطرقوا إلى الموضوعات الحسّاسة من الإسلام حاولوا جهد إمكانهم ردّها إلى أصل نصراني. وطائفة المستشرقين من يهود وخاصة بعد تأسيس (إسرائيل) وتحكم الصهيونية في غالبيتهم، يجهدون أنفسهم لردّ كل ما هو إسلامي وعربي لأصل يهودي، وكلتا الطائفتين في هذا الباب تبع لسلطان العواطف والأهواء» «2» .
ويمضي الدكتور جواد علي إلى القول بأن كثيرا من المستشرقين «غالوا في كتاباتهم في السيرة النبوية، وأجهدوا أنفسهم في إثارة الشكوك في السيرة. وقد أثاروا الشك حتى في اسم الرسول صلى الله عليه وسلم، ولو تمكنوا لأثاروا الشك حتى في وجود النبي. وطريقة مثل هذه دفعتهم إلى الاستعانة بالشاذ والغريب فقدموه على المعروف المشهور. استعانوا بالشاذ ولو كان متأخرا، أو كان من النوع الذي
--------------------------------------------
যা অনেক আধুনিক গবেষক গ্রহণ করেছেন, বিশেষ করে প্রথম প্রজন্মের প্রাচ্যবিদরা, যারা ধারণাকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং প্রবৃত্তির অনুগামী হয়েছেন। তারা এমন একটি গবেষণা পদ্ধতির আলোকে তথ্য নির্বাচন ও বর্জন করেন, অথবা বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, যা বিজ্ঞানের স্বতঃসিদ্ধ বিষয়সমূহ স্বীকার করে না।
এখানে আমি কিছুক্ষণ থেমে এই পদ্ধতিগত বিষয়টি সংক্ষেপে উপস্থাপন করতে চাই, যার পুনরাবৃত্তি আমি ভবিষ্যতে খুব সামান্যই করব। এটি করছি এই ভয়ে যে, পাছে আমি সীরাত অধ্যয়নের বিষয়ভিত্তিক পদ্ধতি থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ি—যা এর (মৌলিক) উৎস এবং (বাস্তব) পরিবেশ থেকে গ্রহণ করা উচিত, সমসাময়িক ব্যক্তিগত ও মতাদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অভিক্ষেপ থেকে দূরে থেকে। কারণ এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ প্রতিত্তর, প্রমাণ, বিশ্লেষণ ও আলোচনার সমন্বয়ে গঠিত অন্য একটি গবেষণার, যা আমার ধারণা মতে বর্তমানে সম্পন্ন হচ্ছে এবং প্রকাশের পথে রয়েছে (১)।
ডক্টর জাওয়াদ আলী বলেন, “...কিছু প্রাচ্যবিদের সমালোচনা করা হয়েছে ইসলামের ইতিহাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদানে তাদের তড়িঘড়ি করার কারণে এবং আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার কারণে। তারা কখনো দুর্বল বর্ণনা গ্রহণ করেন এবং তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। আবার কখনো দ্ব্যর্থবোধক শব্দ বা সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে এমন সব সিদ্ধান্ত প্রদান করেন, যা তাদের সমালোচনামূলক পদ্ধতি ব্যবহারের দাবি এবং বিষয়ে সতর্ক থাকা ও বিচার করার আগে উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার দাবির পরিপন্থী। এর প্রমাণ হলো, অধিকাংশ খ্রিস্টান প্রাচ্যবিদ ধর্মযাজক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত অথবা (ধর্মতত্ত্ব) কলেজ থেকে স্নাতক। তারা যখন ইসলামের কোনো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন, তখন তারা সাধ্যমতো সেটিকে খ্রিস্টীয় উৎসে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। আর ইহুদি প্রাচ্যবিদদের গোষ্ঠী, বিশেষ করে (ইসরায়েল) প্রতিষ্ঠার পর এবং তাদের অধিকাংশের ওপর জায়নবাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর, তারা প্রতিটি ইসলামি ও আরবি বিষয়কে ইহুদি উৎসে ফিরিয়ে নিতে আপ্রাণ চেষ্টা করে। এই ক্ষেত্রে উভয় গোষ্ঠীই আবেগ ও প্রবৃত্তির বশবর্তী।” (২)।
ডক্টর জাওয়াদ আলী আরও বলেন যে, অনেক প্রাচ্যবিদ “নবীজির সীরাত বিষয়ক লেখনিতে বাড়াবাড়ি করেছেন এবং সীরাতের বিষয়ে সন্দেহ জাগিয়ে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। এমনকি তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম নিয়েও সন্দেহ সৃষ্টি করেছেন; যদি সম্ভব হতো তবে তারা নবীর অস্তিত্ব নিয়েই সন্দেহ জাগাতেন। এই ধরণের পদ্ধতি তাদেরকে বিরল ও অদ্ভুত বর্ণনার আশ্রয় নিতে প্ররোচিত করেছে, ফলে তারা সেগুলোকে সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ বর্ণনার ওপর প্রাধান্য দিয়েছে। তারা বিরল বর্ণনার সহায়তা নিয়েছে, যদিও তা পরবর্তী সময়ের হোক অথবা এমন ধরণের হোক যা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
استغربه النقدة وأشاروا إلى نشوزه، تعمدوا ذلك لأن هذا الشاذ هو الأداة الوحيدة في إثارة الشك. ومهما قالوا في نسبة التاريخ الصحيح في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم فإن سيرة الرسول هي أوضح وأطول سيرة نعرفها بين سير جميع الرسل والأنبياء..
والذين يؤاخذون المستشرقين على سلوكهم هذا المسلك من النقد يؤاخذون كذلك من يحاول من المسلمين كتابة التاريخ متأثرا بعاطفته وهواه. فهم لا يريدون توجيه اللوم إلى المستشرقين وحدهم لتأثرهم بعاطفتهم ثم يتركون من يركب هذا المركب من الشرقيين دون لوم ولا تعنيف» «1» .
فالمنهج العلمي هو المنهج العلمي، والخروج عنه خروج عن العلم الصحيح سواء مارسه رجل في أقصى الغرب أم في أقصى الشرق، وسواء كان وراءه إنسان يتعبد في كنيسة أم يصلّي في مسجد.. والرسول صلى الله عليه وسلم نفسه يقول (من كذب عليّ متعمدا فليتبوأ مقعده من النار) .. ولم يحدد صلى الله عليه وسلم هوية الكاذبين وانتما آتهم الدينية والجغرافية.
ويحدثنا الدكتور (صالح أحمد العلي) كيف أن بداية الحركة الاستشراقية في مواقفها الظنية والعاطفية من حياة الرسول صلى الله عليه وسلم، كانت قد جانفت العلم كثيرا، ثم بدأت تعتدل شيئا فشيئا، «لقد تناول المستشرقون الغربيون حياة الرسول صلى الله عليه وسلم فيما تناولوا من الأبحاث عن التاريخ الإسلامي. ولا شك أن التعصب والتحامل كانا يطغيان على كتابات المستشرقين القدامى نظرا لتأثرهم بروح التعصب الديني الذي كان مسيطرا ومتبلورا بتأثير الحروب الصليبية، ونظرا لضعف معرفتهم باللغة العربية، وقلة المصادر المتوفرة لديهم. غير أنه لم يخل الغرب منذ أوائل العصور الحديثة من مفكرين معتدلين امتدحوا الإسلام «2» ولكن منذ القرن التاسع عشر بدأ الاهتمام بدراسة المخطوطات العربية وطبعها، وأخذ المستشرقون يدرسون تاريخ الشرق لذاته متّبعين الطريقة العلمية التي كانت قد قطعت شوطا كبيرا من التقدم في الغرب. ومع أن فريقا منهم لم يتقن كل ذلك، إلا أن عددا غير قليل كان يتميّز بسعة الاطلاع، وبعد النظر، وعمق التفكير، مما ساعدهم على إنتاج مباحث تستثير التفكير والتقدير، رغم أنه لا يمكن القول بأن أحكامهم نهائية» «3» .
--------------------------------------------
সমালোচকগণ একে অদ্ভুত হিসেবে গণ্য করেছেন এবং এর অসংলগ্নতার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন; তারা ইচ্ছা করেই এটি করেছেন কারণ এই অস্বাভাবিক বিষয়টিই সন্দেহ সৃষ্টির একমাত্র হাতিয়ার। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের সঠিক ইতিহাসের প্রামাণিকতা সম্পর্কে তারা যাই বলুক না কেন, রাসূলের সীরাত হলো আমাদের জানা সকল রাসূল ও নবীর জীবনীর মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট এবং দীর্ঘতম জীবনী...
যারা প্রাচ্যবিদদের সমালোচনার এই পথ অনুসরণের জন্য অভিযুক্ত করেন, তারা তেমনিভাবে সেইসব মুসলিমকেও অভিযুক্ত করেন যারা আবেগ ও খেয়াল-খুশি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ইতিহাস লেখার চেষ্টা করেন। তারা কেবল প্রাচ্যবিদদেরই তাদের আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার জন্য নিন্দা করতে চান না, বরং প্রাচ্যবাসীদের মধ্যে যারা এই পথে চলেছেন তাদেরও নিন্দা ও তিরস্কার ছাড়া ছেড়ে দিতে রাজি নন। «১»
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিই হলো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, আর তা থেকে বিচ্যুত হওয়া মানেই সঠিক বিজ্ঞান থেকে বিচ্যুত হওয়া; চাই তা সুদূর পশ্চিমের কোনো ব্যক্তি চর্চা করুক বা সুদূর প্রাচ্যের কেউ, এবং এর পেছনে গির্জায় উপাসনা করা কোনো ব্যক্তি থাকুক বা মসজিদে সালাত আদায়কারী কোনো ব্যক্তি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়"... আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিথ্যাবাদীদের পরিচয় এবং তাদের ধর্মীয় বা ভৌগোলিক সম্পৃক্ততা নির্দিষ্ট করে দেননি।
ডক্টর সালেহ আহমাদ আল-আলি আমাদের জানান যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন সম্পর্কে প্রাচ্যবাদী আন্দোলনের সূচনাপর্বের ধারণামূলক ও আবেগপ্রসূত অবস্থানগুলো বিজ্ঞান থেকে অনেক দূরে ছিল, এরপর তা ধীরে ধীরে ভারসাম্যপূর্ণ হতে শুরু করে। "পাশ্চাত্য প্রাচ্যবিদরা ইসলামি ইতিহাস নিয়ে গবেষণার অংশ হিসেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন নিয়ে আলোচনা করেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রাচীন প্রাচ্যবিদদের লেখায় গোঁড়ামি ও পক্ষপাতদুষ্টতা প্রবল ছিল, যার কারণ ছিল ক্রুসেডের প্রভাবে আধিপত্য বিস্তারকারী ধর্মীয় গোঁড়ামির মানসিকতা এবং আরবি ভাষায় তাদের দুর্বল জ্ঞান ও পর্যাপ্ত উৎসের অভাব। তবে আধুনিক যুগের শুরু থেকেই পাশ্চাত্যে এমন কিছু মধ্যপন্থী চিন্তাবিদ ছিলেন যারা ইসলামের প্রশংসা করেছেন। «২» কিন্তু উনবিংশ শতাব্দী থেকে আরবি পাণ্ডুলিপি অধ্যয়ন ও মুদ্রণের প্রতি আগ্রহ শুরু হয় এবং প্রাচ্যবিদরা প্রাচ্যের ইতিহাসকে নিজস্ব গুরুত্বের সাথে অধ্যয়ন করতে শুরু করেন সেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে যা পাশ্চাত্যে অনেক উন্নতি লাভ করেছিল। যদিও তাদের মধ্যে একটি দল এসব বিষয়ে পারদর্শী ছিল না, তবে তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যাপক অধ্যয়ন, দূরদর্শিতা এবং চিন্তার গভীরতা দ্বারা স্বতন্ত্র ছিল, যা তাদের এমন সব গবেষণা তৈরিতে সাহায্য করেছে যা চিন্তা ও প্রশংসার উদ্রেক করে, যদিও এটা বলা সম্ভব নয় যে তাদের সিদ্ধান্তগুলোই চূড়ান্ত।" «৩»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ويعود جواد علي ليبين لنا كيف أن (كايتاني) وهو من كبار المستشرقين الأوائل الذين كتبوا عن حياة الرسول صلى الله عليه وسلم، كان يعتمد منهجا (معكوسا) في البحث يذكرنا بكثير من المختصين الجدد في حقل التاريخ الإسلامي، والذين يعملون وفق منهج خاطىء من أساسه إذ أنهم يبيّتون فكرة مسبقة ثم يجيئون إلى وقائع التاريخ لكي يستلّوا منها ما يؤيد فكرتهم ويستبعدوا ما دون ذلك. فلقد كان كايتاني «ذا رأي وفكرة، وضع رأيه وكوّنه في السيرة قبل الشروع في تدوينها، فلما شرع بها استعان بكل خبر من الأخبار ظفر به، ضعيفها وقويها، وتمسّك بها كلها، ولا سيما ما يلائم رأيه، لم يبال بالخبر الضعيف، بل قواه وسنده وعدّه حجة، وبنى حكمه عليه. ومن يدري؟ فلعله كان يعلم بسلاسل الكذب المشهورة والمعروفة عند العلماء، ولكنه عفا عنها وغضّ نظره عن أقوال أولئك العلماء فيها، لأنه صاحب فكرة يريد إثباتها بأية طريقة كانت، وكيف يتمكن من إثباتها وإظهارها وتدوينها إن ترك تلك الروايات وعالجها معالجة نقد وجرح وتعديل على أساليب البحث الحديث؟» «1» .
ومن المستشرقين أنفسهم من دفعهم جدّهم وموضوعيتهم- وهم ليسوا بالقليل- إلى نقد وتفنيد الأخطاء المنهجية التي مارسها رفاقهم في دراسة التاريخ عامة وحياة الرسول صلى الله عليه وسلم خاصة، وإلى تعرية الدوافع التي تكمن وراء موقفهم هذا، سواء كانت محتشدة في الوعي أو منسربة في اللاشعور.. «لقد رأى (دينيه) أنه من المتعذر، إن لم يكن من المستحيل، أن يتجرد المستشرقون عن عواطفهم وبيئتهم ونزعاتهم المختلفة، وأنهم لذلك قد بلغ تحريفهم لسيرة النبي والصحابة مبلغا يغشي على صورتها الحقيقية من شدة التحريف فيها، ورغم ما يزعمون من اتباعهم لأساليب النقد البريئة ولقوانين البحث العلمي الجاد فإنا نلمس من خلال كتاباتهم محمدا يتحدث بلهجة ألمانية، إذا كان المؤلف ألمانيا، وبلهجة إيطالية إذا كان الكاتب إيطاليا، وهكذا تتغير صورة محمد بتغير جنسية الكاتب. وإذا بحثنا في هذه السير عن الصورة الصحيحة فإنا لا نكاد نجد لها من أثر. إن المستشرقين يقدمون لنا صورا خيالية هي أبعد ما تكون عن الحقيقة! إنها أبعد عن الحقيقة من أشخاص القصص التاريخية التي يؤلفها أمثال (وولتر سكوت) و (إسكندر ديماس)
--------------------------------------------
জাওয়াদ আলী আমাদের নিকট পুনরায় বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনচরিত রচনাকারী প্রারম্ভিক যুগের অন্যতম প্রধান প্রাচ্যবিদ কাইতানি (Caetani) গবেষণার ক্ষেত্রে এক 'উল্টো' পদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন, যা আমাদের ইসলামী ইতিহাসের ক্ষেত্রে বর্তমান যুগের অনেক বিশেষজ্ঞের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তারা মূলত এমন একটি পদ্ধতি অনুসরণ করে কাজ করেন যা গোড়াতেই ভুল; কেননা তারা আগে থেকেই একটি বদ্ধমূল ধারণা পোষণ করেন এবং এরপর ঐতিহাসিক ঘটনাবলির দ্বারস্থ হন যেন সেখান থেকে কেবল তাদের ধারণার সপক্ষে থাকা তথ্যগুলোই বের করে নিতে পারেন এবং এর বাইরের সবকিছু বর্জন করেন। বস্তুত কাইতানি ছিলেন এক নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি ও ধারণার অধিকারী। তিনি সীরাত গ্রন্থ সংকলন শুরুর আগেই নিজের মতামত ও ধারণা তৈরি করে নিয়েছিলেন। ফলে যখন তিনি কাজ শুরু করলেন, তখন তিনি হাতের নাগালে পাওয়া সমস্ত তথ্যের সাহায্য নিলেন—তা দুর্বল হোক কিংবা শক্তিশালী—এবং সেগুলোর সবটুকুই আঁকড়ে ধরলেন, বিশেষ করে যা তার মতামতের অনুকূলে ছিল। তিনি বর্ণনার দুর্বলতার কোনো পরোয়া করেননি, বরং সেটিকে শক্তিশালী করেছেন, সেটির সমর্থন জুগিয়েছেন এবং একে প্রমাণ হিসেবে গণ্য করে তার ওপর নিজের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করেছেন। কে জানে? সম্ভবত তিনি উলামাদের নিকট সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ মিথ্যা বর্ণনার পরম্পরাগুলো সম্পর্কে জানতেন, কিন্তু তিনি সেগুলো উপেক্ষা করেছেন এবং সে বিষয়ে উলামাদের বক্তব্যের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করেননি। কারণ তিনি ছিলেন এক নির্দিষ্ট ধারণার বশবর্তী, যা তিনি যেকোনো উপায়ে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন। আর যদি তিনি ওইসব বর্ণনা বর্জন করতেন এবং আধুনিক গবেষণা পদ্ধতি অনুযায়ী সেগুলোর 'জারহ ও তাদীল' (সমালোচনা ও যাচাই-বাছাই) করতেন, তবে তিনি কীভাবে নিজের ধারণাকে প্রমাণ, প্রকাশ ও লিপিবদ্ধ করতে সক্ষম হতেন?» «১»।
প্রাচ্যবিদদের মধ্যেই এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন—যাদের সংখ্যা মোটেও কম নয়—যাদের একনিষ্ঠতা ও বস্তুনিষ্ঠতা তাদেরকে সাধারণ ইতিহাস চর্চা এবং বিশেষ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনচরিত পর্যালোচনায় তাদের সহকর্মীদের অনুসৃত পদ্ধতিগত ভুলগুলো সমালোচনা ও খণ্ডন করতে এবং এই অবস্থানের পেছনে লুকায়িত উদ্দেশ্যগুলোকে উন্মোচিত করতে অনুপ্রাণিত করেছে, হোক তা সজ্ঞানে কিংবা অবচেতন মনে প্রবাহিত কোনো বিষয়। «'দিনিয়ে' (Dinet) মনে করতেন যে, প্রাচ্যবিদদের পক্ষে তাদের আবেগ, পরিবেশ ও বিভিন্ন ঝোঁক থেকে মুক্ত হওয়া অত্যন্ত কঠিন, যদি না অসম্ভব হয়। একারণে নবীজি ও সাহাবীগণের জীবনীর ক্ষেত্রে তাদের বিকৃতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা এর প্রকৃত স্বরূপকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। নিরপেক্ষ সমালোচনা ও ঐকান্তিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার নিয়মাবলী অনুসরণের দাবি সত্ত্বেও আমরা তাদের রচনার মধ্যে এমন এক মুহাম্মদকে খুঁজে পাই, যিনি জার্মান লেখকের লেখনীতে জার্মান ঢঙে কথা বলেন এবং ইতালীয় লেখকের লেখনীতে ইতালীয় ঢঙে। এভাবেই লেখকের জাতীয়তা পরিবর্তনের সাথে সাথে মুহাম্মদের চিত্রটিও বদলে যায়। আমরা যদি এই সীরাতগ্রন্থগুলোতে প্রকৃত সত্যের সন্ধান করি, তবে তার সামান্যতম চিহ্নও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। প্রাচ্যবিদরা আমাদের সামনে এমন কিছু কাল্পনিক চিত্র উপস্থাপন করেন যা সত্য থেকে যোজন যোজন দূরে! এগুলো ওয়াল্টার স্কট ও আলেকজান্ডার ডুমাসের মতো লেখকদের রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাসের চরিত্রগুলোর চেয়েও বাস্তবতা থেকে অনেক বেশি দূরে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وذلك أن هؤلاء يصورون أشخاصا من أبناء قومهم، فليس عليهم إلا أن يحسبوا حساب اختلاف الأزمنة، أما المستشرقون فلم يمكنهم أن يلبسوا الصورة الحقيقية لأشخاص السيرة، فصوروهم حسب منطقهم الغربي وخيالهم العصري. وأن الدكتور (سنوك هيرغرنجة) ليقول بحق في نهاية نقده لكتاب المستشرق غريم (إننا نرى أن الأستاذ غريم لو اقتصر على درس السيرة النبوية القديمة وبحثها بعمق لكان أفضل، وأن الثمار التي كان يمكن أن يجنيها من مثل هذا الدرس لهي أجدر ببلوغ الغاية التي توخّاها، ولكنه ظن أن هذا عمل ليست له أهمية كبيرة، وأراد أن يطرف الناس بنبأ جديد ففشل في وضع السير النبوية) ..» «1» .
وفي ختام كتاب (آتيين دينيه) القيم (الشرق كما يراه الغرب) ترد بعض الآراء حول (المنهج) حيث يقول «لقد أصاب الدكتور سنوك هيرغرنجة بقوله «إن سيرة محمد الحديثة تدل على أن البحوث التاريخية مقضي عليها بالعقم إذا سخرت لآية نظرية أو رأي سابق» . هذه حقيقة يجمل بمستشرقي العصر جميعا أن يضعوها نصب أعينهم، فإنها تشفيهم من داء الأحكام السابقة التي تكلفهم من الجهود ما يجاوز حدّ الطاقة فيصلون إلى نتائج لا شك خاطئة «2» . فقد يحتاجون في تأييد رأي من الآراء إلى هدم بعض الأخبار، وليس هذا بالأمر الهين، ثم إلى بناء أخبار تقوم مقام ما هدموا، وهذا أمر لا ريب مستحيل. إن العالم في القرن العشرين يحتاج إلى معرفة كثير من العوامل الجوهرية كالزمن والبيئة والإقليم والعادات والحاجات والمطامح والميول.. إلخ لا سيما إدراك تلك القوى الباطنة التي لا تقع تحت مقاييس المعقول والتي يعمل بتأثيرها الأفراد والجماعات» . ثم ما يلبث دينيه أن يضرب (مثلا عكسيا) فيقول: «ما رأي الأوروبيين في عالم من أقصى الصين يتناول المتناقضات التي تكثر عن مؤرخي الفرنسيين ويمحصها بمنطقها الشرقي البعيد، ثم يهدم قصة (الكاردينال ريشيليو) كما نعرفها، ليعيد لنا ريشيليو آخر له عقلية كاهن من كهنة بكين وسماته وطباعه!؟ إن مستشرقي العصر الحاضر قد انتهوا إلى مثل هذه النتيجة فيما يتعلق برسمهم الحديث في سيرة
--------------------------------------------
আর এর কারণ হলো, তারা তাদের নিজ জাতির ব্যক্তিদের চিত্রিত করে থাকে, ফলে তাদের কেবল সময়ের পার্থক্যের বিষয়টি বিবেচনা করতে হয়। পক্ষান্তরে, প্রাচ্যবিদরা সীরাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রকৃত রূপ ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়নি, বরং তারা তাদের পশ্চিমা যুক্তি ও আধুনিক কল্পনার নিরিখে তাদের চিত্রিত করেছে। ডক্টর (স্নুক হুরগ্রোনিয়ে) প্রাচ্যবিদ গ্রিমের বইয়ের সমালোচনার শেষে যথার্থই বলেছেন যে, ‘আমরা মনে করি, অধ্যাপক গ্রিম যদি প্রাচীন সীরাত গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতেন এবং তা গভীরভাবে অনুসন্ধান করতেন, তবে সেটি অধিকতর উত্তম হতো। এ ধরনের গবেষণা থেকে তিনি যে ফল লাভ করতে পারতেন, তা তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য ছিল অধিক যোগ্য। কিন্তু তিনি মনে করেছেন যে, এই কাজের তেমন বড় কোনো গুরুত্ব নেই এবং তিনি মানুষকে নতুন কোনো তথ্য দিয়ে চমকে দিতে চেয়েছিলেন; ফলে সীরাত রচনার ক্ষেত্রে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।’ ..» «১» .
এতিয়েন দিনিয়ের মূল্যবান গ্রন্থ ‘প্রাচ্য যেমনটি দেখেছে পাশ্চাত্য’-এর শেষে ‘পদ্ধতি’ সম্পর্কে কিছু মতামত এসেছে, যেখানে তিনি বলেন: ‘ডক্টর স্নুক হুরগ্রোনিয়ে এ কথা বলে সঠিক কাজ করেছেন যে, মুহাম্মাদের আধুনিক জীবনীগুলো প্রমাণ করে যে, ঐতিহাসিক গবেষণা যদি কোনো নির্দিষ্ট তত্ত্ব বা পূর্ব-ধারণার অনুগত হয়, তবে তা নিস্ফলা হতে বাধ্য।’ এটি এমন এক সত্য যা বর্তমান যুগের সকল প্রাচ্যবিদেরই চোখের সামনে রাখা উচিত। কারণ এটি তাদের পূর্ব-ধারণার ব্যাধি থেকে মুক্তি দেবে, যা তাদের সাধ্যাতীত প্রচেষ্টায় লিপ্ত করে এবং শেষ পর্যন্ত তারা নিশ্চিতভাবে ভুল ফলাফলে গিয়ে পৌঁছায় «২» । কেননা, কোনো একটি মতকে সমর্থন করতে গিয়ে তাদের হয়তো কোনো কোনো বর্ণনা বর্জন করার প্রয়োজন পড়ে, যা মোটেও সহজ কাজ নয়। এরপর যা তারা বর্জন করেছে তার স্থলাভিষিক্ত করার জন্য নতুন বর্ণনা তৈরির প্রয়োজন হয়, যা নিঃসন্দেহে অসম্ভব। বিংশ শতাব্দীর বিশ্বে সময়, পরিবেশ, ভৌগোলিক অঞ্চল, রীতিনীতি, প্রয়োজনীয়তা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ঝোঁক ইত্যাদি অনেক মৌলিক উপাদান জানার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে সেই সব অন্তর্নিহিত শক্তি উপলব্ধি করা প্রয়োজন যা যুক্তির মানদণ্ডে ধরা দেয় না, কিন্তু যার প্রভাবে ব্যক্তি ও গোষ্ঠী পরিচালিত হয়।’ এরপর দিনিয়ে একটি ‘বিপরীত উদাহরণ’ টেনে বলেন: ‘ইউরোপীয়দের মতামত কী হবে যদি সুদূর চীনের কোনো পণ্ডিত ফরাসি ঐতিহাসিকদের বর্ণিত বৈপরীত্যগুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং তা তার প্রাচ্যদেশীয় যুক্তি দিয়ে বিচার করেন, এরপর আমাদের পরিচিত (কার্ডিনাল রিশেলিউ)-এর জীবনকাহিনী ভেঙে চুরমার করে দিয়ে আমাদের সামনে এমন এক রিশেলিউকে উপস্থাপন করেন যার মানসিকতা বেইজিংয়ের কোনো পুরোহিতের মতো এবং যার বৈশিষ্ট্য ও স্বভাবও তাদেরই মতো!? বর্তমান যুগের প্রাচ্যবিদরা সীরাত রচনার আধুনিক শৈলীর ক্ষেত্রে ঠিক এ ধরনের একটি ফলাফলই বের করেছেন...’
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الرسول صلى الله عليه وسلم ويخيل إلينا أننا نسمع محمدا يتحدث في مؤلفاتهم إما باللهجة الألمانية أو البريطانية أو الفرنسية ولا نتمثله قط- بهذه العقلية والطباع التي ألصقت به- يحدّث عربا باللغة العربية» ، وينتهي المستشرق الفرنسي- الذي أعلن إسلامه- إلى القول «إن صورة نبيّنا الجليلة التي خلفها المنقول الإسلامي تبدو أجلّ وأسمى إذا قيست بهذه الصور المصطنعة الضئيلة التي صيغت في ظلال المكاتب بجهد جهيد» «1» .
ويحدثنا المستشرق البريطاني المعاصر (مونتكمري وات) في كتابه (محمد في مكة) كيف «إن عزيمة محمد في تحمّل الاضطهاد من أجل عقيدته، والخلق السامي للرجال الذين آمنوا به، وكان لهم بمثابة القائد، وأخيرا عظمة عمله في منجزاته الأخيرة، كل ذلك يشهد باستقامته التي لا تتزعزع؛ فاتهام محمد بأنه دجّال Imposteur يثير من المشاكل أكثر مما يحلّ، ومع ذلك فليس هناك شخصية كبيرة في التاريخ حطّ من قدرها في الغرب كمحمد. فقد أظهر الكتاب الغربيون ميلهم لتصديق أسوأ الأمور عن محمد. وكلما ظهر أي تفسر نقدي لواقعة من الوقائع ممكنا قبلوه» . ثم يقدم (وات) قاعدة منهجية تكاد تكون بديهة من بداهات المنهج الأساسية، إلا أنها في موقف الغربيين إزاء شخصية محمد تضيع ويوقف العمل بها.. «فإذا أردنا أن نصحح الأغلاط المكتسبة من الماضي بصدده، فيجب علينا في كل حالة من الحالات، لا يقوم الدليل القاطع على ضدّها، أن نتمسك بصلابة بصدقه، ويجب علينا ألا ننسى أيضا أن الدليل القاطع يتطلب لقبوله أكثر من كونه ممكنا، وأنه في مثل هذا الموضوع يصعب الحصول عليه» «2» .
وفي مكان آخر يضرب (وات) بالمستشرق الفرنسي (لامانس) مثلا على الانحرافات المنهجية التي يمارسها كثير من المستشرقين، وبخاصة ذلك (الخطأ) الذي سبق أن ذكرناه والذي يقوم على جعل الوقائع التاريخية مجالا انتقائيا للتدليل على فكرة مسبقة أو اتجاه محدّد سلفا. إن لامانس «للأسف!! يتجاوز الأدلة كثيرا في ناحية أخرى، إذ أن طريقته العابثة (!!) في المعالجة ليست طريقة علمية (!!) ، فهو يرفض هذا الرأي ويقبل الآخر حسب أفكاره الخاصة ومعتقداته، دون أن يعبأ بالموضوعية. ففي عبارة (الأحابيش وعبيد أهل مكة) نجد أن (الواو)
--------------------------------------------
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আমাদের কাছে এমন মনে হয় যে আমরা তাঁদের রচনাগুলোতে মুহাম্মদকে হয় জার্মান অথবা ব্রিটিশ অথবা ফরাসি ভঙ্গিতে কথা বলতে শুনছি, এবং আমরা তাঁকে কখনোই—তাঁর সাথে সেঁটে দেওয়া এই মানসিকতা ও স্বভাবের সাথে—আরবি ভাষায় আরবদের সাথে কথা বলতে কল্পনা করি না। ইসলাম গ্রহণকারী ফরাসি প্রাচ্যবিদ পরিশেষে বলেন যে, "ইসলামি ঐতিহ্যের রেখে যাওয়া আমাদের নবীর মহান প্রতিচ্ছবি অনেক বেশি উজ্জ্বল ও মহিমান্বিত মনে হয় যদি তাকে তুলনা করা হয় লাইব্রেরির ছায়ায় কঠোর শ্রমে তৈরি করা এই কৃত্রিম ও তুচ্ছ ছবিগুলোর সাথে।" «১»।
সমসাময়িক ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ (মন্টগোমারি ওয়াট) তাঁর (মুহাম্মদ ইন মক্কা) গ্রন্থে আমাদের বর্ণনা করেন কীভাবে "মুহাম্মদের নিজের আকিদার জন্য নির্যাতন সহ্য করার দৃঢ় সংকল্প, তাঁর ওপর ঈমান আনয়নকারী পুরুষদের উন্নত চরিত্র—যাদের কাছে তিনি ছিলেন নেতার মতো, এবং সবশেষে তাঁর চূড়ান্ত অর্জনগুলোর বিশালতা; এ সবই তাঁর অবিচল নিষ্ঠার সাক্ষ্য দেয়। মুহাম্মদকে একজন প্রতারক (Imposteur) হিসেবে অভিযুক্ত করা সমাধানের চেয়ে নতুন সমস্যারই বেশি জন্ম দেয়। তবুও ইতিহাসে মুহাম্মদের মতো এমন কোনো মহান ব্যক্তিত্ব নেই যাকে পশ্চিমে এতটা তুচ্ছ করা হয়েছে। পশ্চিমা লেখকরা মুহাম্মদ সম্পর্কে নিকৃষ্টতম বিষয়গুলো বিশ্বাস করার প্রবণতা দেখিয়েছেন। যখনই কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার কোনো নেতিবাচক ব্যাখ্যা সম্ভব হয়েছে, তারা সেটিই গ্রহণ করেছে।" এরপর (ওয়াট) একটি পদ্ধতিগত নীতিমালা প্রদান করেন যা প্রায় একটি মৌলিক স্বতঃসিদ্ধের মতো, তবে মুহাম্মদের ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে পশ্চিমাদের অবস্থানে এটি হারিয়ে যায় এবং এর কার্যকারিতা বন্ধ করে দেওয়া হয়... "যদি আমরা তাঁর সম্পর্কে অতীত থেকে প্রাপ্ত ভুলগুলো সংশোধন করতে চাই, তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে, যেখানে এর বিপরীতে কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই, আমাদের দৃঢ়ভাবে তাঁর সত্যবাদিতাকে আঁকড়ে ধরতে হবে। আমাদের আরও ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, অকাট্য প্রমাণ গ্রহণের জন্য তা কেবল 'সম্ভব' হওয়ার চেয়ে বেশি কিছু হওয়া প্রয়োজন, আর এই জাতীয় বিষয়ে এমন প্রমাণ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।" «২»।
অন্যত্র (ওয়াট) ফরাসি প্রাচ্যবিদ (ল্যামেন্স)-কে সেই পদ্ধতিগত বিচ্যুতির উদাহরণ হিসেবে পেশ করেন যা অনেক প্রাচ্যবিদ চর্চা করেন, বিশেষ করে সেই (ভুল) যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি—যা ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোকে কোনো পূর্বনির্ধারিত ধারণা বা নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণের জন্য একটি বাছাইকৃত ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ল্যামেন্স "দুর্ভাগ্যবশত!! অন্য ক্ষেত্রে প্রমাণকে অনেক ছাড়িয়ে যান, কারণ গবেষণায় তাঁর চপল (!!) ধরন কোনো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি (!!) নয়। তিনি বস্তুনিষ্ঠতার তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়ালখুশি এবং বিশ্বাস অনুযায়ী একটি মত প্রত্যাখ্যান করেন ও অন্যটি গ্রহণ করেন। যেমন 'আহাবিশ ও মক্কাবাসীদের দাস' বাক্যাংশে আমরা দেখতে পাই যে (ওয়াও)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تفسيرية تشير إلى أن الأحابيش من ضمن العبيد، بينما نجد في عبارة (الأحابيش ومن أطاعهم- أي القرشيين- من قبائل كنانة وأهل تهامة) أن (الواو) تدل على تمييز تام. ولكن لماذا يفعل لامانس ذلك؟ يبدو أنه يؤكد تحقيق النظرية التي يحاول التدليل عليها» «1» .
ونحن نستطيع أن نحصل على عشرات، بل مئات، من هذا (الانتقاء الكيفي) أو التفسير (الاختياري) للنصوص التاريخية في كثير من كتب المستشرقين وبخاصة أجيالهم الأولى. فبروكلمان- على سبيل المثال- لا يشير إلى دور اليهود في تأليب الأحزاب على المدينة، ولا إلى نقض بني قريظة عهدها مع الرسول صلى الله عليه وسلم في أشد ساعات محنته، ولكنه يقول «ثم هاجم المسلمون بني قريظة الذين كان سلوكهم غامضا على كل حال» «2» . ويتغاضى (إسرائيل ولفنسون) عن حادثة نعيم ابن مسعود في معركة الخندق كسبب في انعدام الثقة بين المشركين واليهود «3» ، ولعله يريد أن يوحي بذلك أن اليهود لا يمكن أن يخدعوا!!
ودرمنغم يشير هو الآخر، وبوضوح أشد، إلى الأزمة المنهجية التي تعرّض معظم البحاث الغربيين عن حياة الرسول صلى الله عليه وسلم لأخطاء لن يغفرها العلم، وكيف أنها في العقود الأخيرة- بدأت تخف تدريجيا. إن سيرته- يقول درمنغم- «تحاط في زماننا بكثير من التحفظات، ولا ريب في مجاوزة النقد للحد أحيانا على وجوه مختلفة مع الأسف، ولكن من المؤكد أنه لا يحدث اليوم عن حياة محمد بتعابير ووجهات نظر كالتي جاءت في كتب التراجم الأخيرة التي ظهرت في المكتبة الفرنسية منذ خمسين سنة ككتاب واشنطن أرفنج» ، ويمضي درمنغم إلى القول بأنه «جد في البحث العلمي بعض العلماء في القرن التاسع عشر ومنهم كوسان دوبرسفال وموير وفيسل ومرغليوث ونولدكه وشپرنجر وهورغرنجه ودوزي، ثم تناوله- أي النبي صلى الله عليه وسلم مؤخرا كايتاني ولا مانس وماسنيون ومونته وكازانوفا وبيل وهوار وهوداس وأرنولد ومارسيه وغريم وغولدسيهر وغودفروا ومونبيه وغيرهم.
ومن المؤسف حقا أن غالى بعض هؤلاء المتخصصين في النقد أحيانا، فلم تزل كتبهم عامل هدم على الخصوص.. ومن المحزن ألا تزال النتائج التي انتهى إليها
--------------------------------------------
ব্যাখ্যাটি ইঙ্গিত করে যে আহাবিশরা ক্রীতদাসদের অন্তর্ভুক্ত ছিল, পক্ষান্তরে আমরা (আহাবিশ এবং যারা তাদের আনুগত্য করেছিল—অর্থাৎ কুরাইশদের—কিনানা ও তিহামার গোত্রসমূহ থেকে) এই বাক্যাংশে দেখি যে (ওয়াও) অব্যয়টি একটি পূর্ণ পার্থক্য নির্দেশ করে। কিন্তু ল্যামেন্স কেন এমনটি করেন? মনে হয় তিনি সেই তত্ত্বটিই প্রতিষ্ঠা করার ওপর জোর দিচ্ছেন যা তিনি প্রমাণের চেষ্টা করছেন।
আমরা অনেক প্রাচ্যবিদের বইয়ে, বিশেষ করে তাদের প্রথম প্রজন্মের লেখায়, ঐতিহাসিক পাঠ্যসমূহের এই ধরনের ‘সুবিধাবাদী নির্বাচন’ বা ‘পছন্দসই ব্যাখ্যার’ কয়েক ডজন, এমনকি শত শত উদাহরণ খুঁজে পেতে পারি। উদাহরণস্বরূপ, ব্রোকলম্যান মদিনার বিরুদ্ধে সম্মিলিত বাহিনীকে (আহযাব) উসকে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইহুদিদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন না, এমনকি বিপদের চরম মুহূর্তে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বনু কুরাইযার চুক্তি ভঙ্গের বিষয়টিও এড়িয়ে যান; বরং তিনি বলেন, “অতঃপর মুসলিমরা বনু কুরাইযার ওপর আক্রমণ করে, যাদের আচরণ সবদিক থেকেই অস্পষ্ট ছিল।” (ইসরায়েল উলফেনসন) খন্দকের যুদ্ধে মুশরিক ও ইহুদিদের মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টির কারণ হিসেবে নুয়াইম ইবনে মাসউদের ঘটনাটি এড়িয়ে গেছেন; সম্ভবত তিনি এর মাধ্যমে এটি বোঝাতে চেয়েছেন যে ইহুদিদেরকে ধোঁকা দেওয়া অসম্ভব!!
ডারমেনঘেমও অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সেই পদ্ধতিগত সংকটের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যার কারণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনী নিয়ে অধিকাংশ পাশ্চাত্য গবেষক এমন সব ভুলের শিকার হয়েছেন যা বিজ্ঞান কখনো ক্ষমা করবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, কীভাবে সাম্প্রতিক দশকগুলোতে এই ভুলগুলো ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। ডারমেনঘেম বলেন, তাঁর জীবনী—অর্থাৎ নবীজির জীবনী—“বর্তমানে অনেক সতর্কতার সাথে পর্যালোচনা করা হয়। নিঃসন্দেহে কখনো কখনো সমালোচনার সীমা বিভিন্নভাবে ছাড়িয়ে গেছে যা দুঃখজনক, কিন্তু এটি নিশ্চিত যে, বর্তমানে মুহাম্মাদের জীবনী সম্পর্কে এমন সব শব্দ বা দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহৃত হয় না যা গত পঞ্চাশ বছর ধরে ফরাসি লাইব্রেরিগুলোতে প্রকাশিত জীবনী গ্রন্থগুলোতে দেখা যেত, যেমন ওয়াশিংটন আরভিং-এর বই।” ডারমেনঘেম আরও বলেন যে, “ঊনবিংশ শতাব্দীতে কিছু বিদ্বান বৈজ্ঞানিক গবেষণায় গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন কাজিন ডি পারসেভাল, মুইর, ওয়েইল, মারগোলিউথ, নোলডেক, স্প্রেঙ্গার, হুরগ্রোনিয়ে এবং ডোজি। পরবর্তীতে তাঁর সম্পর্কে—অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে—সাম্প্রতিক সময়ে কৈতানি, ল্যামেন্স, মাসিনিয়ন, মন্টেইট, ক্যাসানোভা, বেল, হুয়ার, হুডাস, আর্নল্ড, মার্সেই, গ্রিম, গোল্ডজিহার, গডফ্রয়, মনবে এবং অন্যান্যরা আলোচনা করেছেন।
এটি সত্যিই পরিতাপের বিষয় যে, এই বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ কখনো কখনো সমালোচনার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করেছেন, ফলে তাদের বইগুলো বিশেষভাবে ধ্বংসাত্মক উপাদানে পরিণত হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে তাদের প্রাপ্ত ফলাফলগুলো এখনও...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المستشرقون سلبية ناقصة، ولن تقوم سيرة على النفي، وليس من مقاصد كتابي أن يقوم على سلسلة من المجادلات المتناقضة
… ومن دواعي الأسف أن كان الأب لامانس، الذي هو من أفضل المستشرقين المعاصرين، ومن أشدهم تعصبا، وأنه شوّه كتبه الرائعة الدقيقة وأفسدها بكرهه للإسلام ونبي الإسلام فعند هذا العالم اليسوعي أن الحديث إذا وافق القرآن كان منقولا عن القرآن، فلا أدري كيف يمكن تأليف التاريخ إذا اقتضى تطابق الدليلين تهادمهما بحكم الضرورة، بدلا أن يؤيد أحدهما الآخر؟» «1» .
وهذا يقودنا إلى موقف بعض المستشرقين من القرآن، كمصدر أساسي من مصادر السيرة، ذلك أن اعتماد القرآن في هذا المجال يمكن أن يعتبر سلاحا ذا حدين، اعتمد جانبه الإيجابي مؤرخون كجواد علي وصالح أحمد العلي ومحمد عزة دروزة، واعتمد الجانب السلبي مستشرقون كوات وشپرنجر، وولفنسون، وغيرهم، وذلك بنفي الكثير من أحداث السيرة، ما دامت لم ترد في القرآن الكريم؛ وكأن القرآن كتاب تاريخي خاص بتفاصيل حياة محمد صلى الله عليه وسلم!! وهذا مكنهم من عملية انتقاء مغرضة ذات طابع سلبي معاكس، وهي التشكيك ورفض كل رواية لا ترد مؤيداتها في القرآن، إذا كان في هذه الرواية تمجيد للنبي صلى الله عليه وسلم، أو إذا كان في نفيها تأكيد لأحدى وجهات النظر الاستشراقية.
فمثلا نجد Sprenger يرى أن اسم النبي ورد في أربع سور من القرآن هي آل عمران والأحزاب ومحمد والفتح، وكلها سور مدنية، ومن ثم فإن لفظة (محمد) لم تكن اسم علم للرسول قبل الهجرة، وإنما اتخذه بتأثير قراءته للإنجيل واتصاله بالنصارى «2» !! وإذا كان النبي صلى الله عليه وسلم قد التقط اسم (محمد) من خلال قراآته لنبوآت الإنجيل فأين ذهب إذن (محمد) الحقيقي الذي بشر به العهدان القديم والجديد؟
وهنالك مثل آخر، إن إسرائيل ولفنسون يشير، بصدد مهاجمة يهود بني النضير، إلى أن مؤرخي العرب يذكرون سببا آخر لإعلان الحرب على هذه الطائفة اليهودية ذلك هو محاولتهم اغتيال الرسول صلى الله عليه وسلم «لكن المستشرقين- يقول ولفنسون ينكرون صحة هذه الرواية ويستدلون على كذبها بعدم وجود ذكر لها في سورة
--------------------------------------------
প্রাচ্যবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক ও অসম্পূর্ণ, আর কোনো সীরাত বা জীবনী নেতিকরণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠতে পারে না। আমার বইয়ের উদ্দেশ্য এটি নয় যে, এটি পরস্পরবিরোধী তর্কের একটি ধারার ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে
… অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, ফাদার ল্যামেন্স, যিনি সমকালীন শ্রেষ্ঠ প্রাচ্যবিদদের একজন এবং একই সাথে চরম সাম্প্রদায়িক ও গোঁড়া, তিনি ইসলাম ও ইসলামের নবীর প্রতি তাঁর বিদ্বেষের মাধ্যমে তাঁর চমৎকার ও সূক্ষ্ম গ্রন্থগুলোকে বিকৃত ও কলঙ্কিত করেছেন। এই জেসুইট পণ্ডিতের মতে, যদি কোনো হাদিস কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে তা কুরআন থেকেই গৃহীত হয়েছে। আমি জানি না ইতিহাস কীভাবে সংকলিত হওয়া সম্ভব যদি দুটি প্রমাণের সামঞ্জস্য থাকার কারণে অনিবার্যভাবে একে অপরকে খণ্ডন করে, অথচ একটির অন্যটিকে সমর্থন করার কথা ছিল? «১»।
এটি আমাদের সীরাতের অন্যতম মৌলিক উৎস হিসেবে কুরআনের প্রতি কিছু প্রাচ্যবিদের অবস্থানের দিকে নিয়ে যায়। সীরাতের ক্ষেত্রে কুরআনের ওপর নির্ভর করাকে একটি দুধারী তলোয়ার হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। জাওয়াদ আলী, সালিহ আহমাদ আল-আলি এবং মুহাম্মদ ইজ্জাত দারওয়াজার মতো ঐতিহাসিকগণ এর ইতিবাচক দিকটি গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে ওয়াট, স্প্রেঙ্গার, উলফেনসন এবং অন্যান্য প্রাচ্যবিদগণ এর নেতিবাচক দিকটি গ্রহণ করেছেন, আর তা হলো সীরাতের অনেক ঘটনাকে অস্বীকার করা যেহেতু সেগুলো পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়নি; যেন কুরআন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবনের খুঁটিনাটি বিস্তারিত আলোচনার জন্য রচিত কোনো ইতিহাস গ্রন্থ!! এটি তাদের একটি উদ্দেশ্যমূলক ও নেতিবাচক বাছাই প্রক্রিয়ার সুযোগ করে দিয়েছে, আর তা হলো—প্রতিটি বর্ণনার সত্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা এবং তা প্রত্যাখ্যান করা যদি কুরআনে তার সপক্ষে কোনো সমর্থন না থাকে, বিশেষ করে যদি সেই বর্ণনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহিমা প্রকাশ পায় অথবা যদি সেই বর্ণনা অস্বীকার করার মাধ্যমে কোনো প্রাচ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
উদাহরণস্বরূপ, আমরা দেখি স্প্রেঙ্গার (Sprenger) মনে করেন যে, নবীর নাম কুরআনের চারটি সূরায় এসেছে, সেগুলো হলো—আলে ইমরান, আল-আহজাব, মুহাম্মদ এবং আল-ফাতহ; আর এই সবগুলোই মাদানি সূরা। ফলে তাঁর মতে, হিজরতের আগে 'মুহাম্মদ' শব্দটি রাসূলের নামবাচক বিশেষ্য ছিল না, বরং তিনি ইঞ্জিল পাঠের প্রভাব এবং খ্রিস্টানদের সাথে মেলামেশার ফলে এটি গ্রহণ করেছিলেন «২»!! এখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি ইঞ্জিলের ভবিষ্যদ্বাণী পাঠের মাধ্যমে 'মুহাম্মদ' নামটি গ্রহণ করে থাকেন, তবে সেই প্রকৃত 'মুহাম্মদ' কোথায় গেলেন যাঁর সুসংবাদ ওল্ড টেস্টামেন্ট ও নিউ টেস্টামেন্টে দেওয়া হয়েছে?
আরেকটি উদাহরণ হলো, ইসরায়েল উলফেনসন বনু নাজির ইহুদিদের ওপর আক্রমণের প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন যে, আরব ঐতিহাসিকগণ এই ইহুদি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার একটি ভিন্ন কারণ উল্লেখ করেন, আর তা হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে হত্যার ষড়যন্ত্র। কিন্তু উলফেনসন বলেন—প্রাচ্যবিদগণ এই বর্ণনার সত্যতা অস্বীকার করেন এবং এর মিথ্যা হওয়ার প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন যে সূরাটিতে এর কোনো উল্লেখ নেই
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الحشر التي نزلت بعد إجلاء بني النضير.. والذي يظهر لكل ذي عينين (!!) أن بني النضير لم يكونوا ينوون الغدر بالنبي واغتياله على مثل هذه الصورة لأنهم كانوا يخشون عاقبة فعلتهم هذه من أنصاره «1» ولو أنهم كانوا ينوون اغتياله غدرا لما كانت هناك ضرورة لإلقاء الصخرة عليه من فوق الحائط، كان في استطاعتهم أن يفاجئوه وهو يحادثهم إذ لم يكن معه غير قليل من أصحابه «2» » ، ويبدو أن ولفنسون يغافل هنا مسألة التركيب النفسي (لليهودي) وتجنّبه المعروف لأيّة مجابهة حقيقية!!
إننا في مجال الانتقاء والتفسير والنفي الاعتباطي هذا، نرجع- مرة أخرى- إلى عبارة (وات) الذكية والتي قالها في هذا الصدد، لكنه لم يلتزم العمل بها دائما!! .. «.. إذا أردنا أن نصحّح الأغلاط المكتسبة من الماضي بصدد محمد، فيجب علينا في كل حالة من الحالات لا يقوم الدليل القاطع على ضدها أن نتمسك بصلابة بصدقه، ويجب ألا ننسى أيضا أن الدليل القاطع يتطلب لقبوله أكثر من كونه ممكنا، وإنه في مثل هذا الموضوع يصعب الحصول عليه» «3» .
وفضلا عن هذا، نجد أن الطابع العلماني، الوضعي، للمناهج الغربية في تعاملها مع تاريخنا، أوقع عددا من المستشرقين في خطأ آخر مفاده أن الرسول صلى الله عليه وسلم لم يكن يخطو خطوة واحدة وهو يعلم مسبقا ما الذي يليها!! أي إن نشاطه كانت توحي به الظروف (الراهنة) ومتطلباتها ولوازمها. وأبرز مثل في هذا المجال ما ذكره (فلهاوزن) وعدد من رفاقه حول قومية الحركة الإسلامية في عصرها المكي، وأنها لم تنتقل إلى المرحلة العالمية- في العصر المدني- إلا بعد أن أتاحت لها (الظروف) ذلك، ولم يكن الرسول صلى الله عليه وسلم ليفكر بذلك من قبل، وما قالوه حول اعتماد الرسول صلى الله عليه وسلم أسلوب (اللاعنف) في العصر المكي وتحوله إلى القوة بعد أن شكل دولة في المدينة وتجمع حوله المقاتلون «لقد كان في وسع محمد- يقول فلها وزن- من طريق عقيدة تتجاوز دائرة معتنقيها الدائرة التي ترسمها رابطة الدم، أن يحطم رابطة الدم هذه لأنها لم تكن بريئة من العصبية وضيقها، ولا كانت ذات صبغة خارجية عارضة، هذا هو الذي جعلها لا تتسع لقبول عنصر غريب عنها، ولكن محمدا لم يرد ذلك. ومن الجائز أيضا أنه لم يكن يستطيع أن
--------------------------------------------
আল-হাশর যা বনু নাযিরের বহিষ্কারের পর অবতীর্ণ হয়েছিল.. এবং যা যে কোনো চক্ষুষ্মান ব্যক্তির কাছে স্পষ্ট (!!) তা হলো, বনু নাযির নবীকে এ পদ্ধতিতে প্রতারণা ও হত্যার পরিকল্পনা করেনি কারণ তারা তাঁর সমর্থকদের পক্ষ থেকে এ ধরনের কাজের পরিণতির ভয় পাচ্ছিল «১»। আর তারা যদি তাঁকে প্রতারণার মাধ্যমে হত্যার পরিকল্পনা করত, তবে দেয়ালের ওপর থেকে তাঁর ওপর পাথর নিক্ষেপ করার কোনো প্রয়োজন ছিল না, তারা তাঁকে আকস্মিকভাবে আক্রমণ করতে পারত যখন তিনি তাদের সাথে কথা বলছিলেন, কারণ তখন তাঁর সাথে তাঁর অল্প কয়েকজন সঙ্গী ছাড়া আর কেউ ছিল না «২»। মনে হচ্ছে ওলফেনসন এখানে (ইহুদিদের) মনস্তাত্ত্বিক কাঠামোর বিষয়টি এবং যেকোনো প্রকৃত সংঘাতের প্রতি তাদের সুপরিচিত অনীহা উপেক্ষা করছেন!!
এই নির্বাচন, ব্যাখ্যা এবং খেয়ালখুশি মতো অস্বীকারের ক্ষেত্রে আমরা আবারও (ওয়াট)-এর সেই বুদ্ধিদীপ্ত উক্তিতে ফিরে যাই যা তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছিলেন, যদিও তিনি সর্বদা তা বাস্তবায়নে অটল ছিলেন না!! .. “..যদি আমরা মুহাম্মাদ সম্পর্কে অতীত থেকে প্রাপ্ত ভুলগুলো সংশোধন করতে চাই, তবে আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে যেখানে বিপরীতে কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই, সেখানে তাঁর সত্যবাদিতাকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে। আমাদের এটাও ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, অকাট্য প্রমাণ কেবল 'সম্ভব' হওয়ার চেয়েও বেশি কিছু দাবি করে, এবং এই জাতীয় বিষয়ে তা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন” «৩»।
এর পাশাপাশি আমরা দেখতে পাই যে, আমাদের ইতিহাসের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে পশ্চিমা পদ্ধতিগুলোর ধর্মনিরপেক্ষ এবং প্রত্যক্ষবাদী চরিত্র অনেক প্রাচ্যবিদকে অন্য এক ভুলের মধ্যে নিপতিত করেছে। যার সারকথা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা আগে থেকে না জেনে কোনো কদম বাড়াতেন না!! অর্থাৎ তাঁর কার্যাবলী তৎকালীন পরিস্থিতি ও তার চাহিদা এবং প্রয়োজনীয়তা দ্বারা প্রভাবিত ছিল। এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো যা (ফেলহাউজেন) এবং তাঁর কয়েকজন সঙ্গী মক্কী যুগের ইসলামী আন্দোলনের জাতীয়তাবাদী চরিত্র সম্পর্কে এবং মাদানী যুগে বৈশ্বিক পর্যায়ে যাওয়ার আগে (পরিস্থিতি) অনুকূলে না আসা পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিয়ে ভাবেননি বলে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক মক্কী যুগে (অহিংস) পদ্ধতি অবলম্বন এবং মদীনায় রাষ্ট্র গঠন ও তাঁর চারপাশে যোদ্ধারা সমবেত হওয়ার পর শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়া সম্পর্কে তারা যা বলেছে— “মুহাম্মাদের পক্ষে সম্ভব ছিল—ফেলহাউজেন বলেন—এমন এক আকিদার মাধ্যমে যা অনুসারীদের পরিধি রক্ত সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়, সেই রক্ত সম্পর্কের বন্ধন চূর্ণ করা, কারণ তা গোত্রবাদ ও তার সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত ছিল না এবং তা কোনো বাহ্যিক আকস্মিক বিষয়ও ছিল না; একারণেই এটি কোনো বিজাতীয় উপাদান গ্রহণ করার মতো প্রশস্ত ছিল না, কিন্তু মুহাম্মাদ তা চাননি। এটাও সম্ভব যে তিনি তা করতে পারতেন না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
يتصور إمكان رابطة دينية في حدود غير حدود رابطة الدم» «1» .
وفي مكان آخر يقول «وليس ثمّ ما يدعو الإنسان لأن يعيب عليه- أي محمد- أنه حقق إنشاء مملكة الله في الأرض على الأساس الطبيعي الذي وجده أمامه، فهو وإن كانت الضرورات العملية، في كثير من الأحيان، قد اضطرته أو هي انحرفت به إلى استعمال وسائل غير مقدّسة، من غير أن يسند ذلك إلا إلى الله، فلا يسوغ للمؤرخ من أجل ذلك أن يعتبره منافقا» «2» .
ويرفض (سير توماس أرنولد) في كتابه (الدعوة إلى الإسلام) هذه الرؤية الخاطئة فيقول «من الغريب أن ينكر بعض المؤرخين أن الإسلام قد قصد به مؤسسه في بادىء الأمر أن يكون دينا عالميا برغم هذه الآيات البيّنات «3» .. ومن بينهم السير وليم موير إذ يقول (إن فكرة عالمية الرسالة قد جاءت فيما بعد، وأن هذه الفكرة، على الرغم من كثرة الآيات والأحاديث التي تؤيدها، لم يفكر فيها محمد نفسه، وعلى فرض أنه فكر فيها، فقد كانت الفكرة غامضة، فإن عالمه الذي كان يفكر فيه إنما كان بلاد العرب، كما أن هذا الدين الجديد لم يهيّأ إلا لها. وأن محمدا لم يوجه دعوته، منذ بعث إلى أن مات، إلا للعرب دون غيرهم) . وهكذا نرى أن نواة عالمية الإسلام قد غرست، ولكنها إذا كانت قد اختمرت ونمت بعد ذلك فإنما يرجع هذا إلى الظروف والأحوال أكثر منه إلى الخطط والمناهج» «4» .
وفي مكان آخر يقول أرنولد «لم تكن رسالة الإسلام مقصورة على بلاد العرب بل إن للعالم أجمع نصيبا فيها، ولم يكن هناك غير إله واحد، كذلك لا يكون هناك غير دين واحد يدعى إليه الناس كافة» «5» .
ولم يقف أرنولد وحده؛ بمواجهة هذا الخطأ الواضح إنما هناك كولدزيهر «6»
--------------------------------------------
রক্তের সম্পর্কের সীমানার বাইরে একটি ধর্মীয় সম্পর্কের সম্ভাবনা কল্পনা করা যায়। (১)।
অন্যত্র তিনি বলেন: "মানুষের জন্য তাঁকে—অর্থাৎ মুহাম্মদকে—দোষারোপ করার মতো কিছু নেই যে, তিনি তাঁর সামনে বিদ্যমান স্বাভাবিক ভিত্তির ওপর পৃথিবীতে আল্লাহর রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যদিও ব্যবহারিক প্রয়োজনীয়তা অনেক সময় তাঁকে অপবিত্র উপায় অবলম্বন করতে বাধ্য করেছিল অথবা তাঁকে সেদিকে বিচ্যুত করেছিল, এবং তিনি তা আল্লাহর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করতেন, তবুও কোনো ঐতিহাসিকের পক্ষে এ কারণে তাঁকে মুনাফিক হিসেবে বিবেচনা করা সংগত নয়।" (২)।
স্যার থমাস আর্নল্ড তাঁর 'আদ-দাওয়াতু ইলাল ইসলাম' (দ্য প্রিচিং অব ইসলাম) গ্রন্থে এই ভুল দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাখ্যান করে বলেন: "এটি বিস্ময়কর যে, কিছু ঐতিহাসিক এই উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ (৩) থাকা সত্ত্বেও অস্বীকার করেন যে, ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা শুরু থেকেই এটিকে একটি বিশ্বজনীন ধর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তাদের মধ্যে স্যার উইলিয়াম মুইরও রয়েছেন, তিনি বলেন: (বার্তার বিশ্বজনীনতার ধারণাটি পরে এসেছে; যদিও এই ধারণার সমর্থনে অসংখ্য আয়াত ও হাদিস রয়েছে, কিন্তু স্বয়ং মুহাম্মদ এটি নিয়ে ভাবেননি। আর যদি ধরে নেওয়া হয় যে তিনি ভেবেছিলেন, তবে সেই ধারণা ছিল অস্পষ্ট। কারণ তিনি যে জগত নিয়ে ভাবতেন তা ছিল আরব দেশ, আর এই নতুন ধর্ম কেবল তাদের জন্যই প্রস্তুত করা হয়েছিল। মুহাম্মদ তাঁর নবুয়ত প্রাপ্তি থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আরব ছাড়া অন্য কারো কাছে তাঁর দাওয়াত পৌঁছাননি)। এভাবে আমরা দেখতে পাই যে ইসলামের বিশ্বজনীনতার বীজ বপন করা হয়েছিল, তবে তা যদি পরবর্তীতে পরিপক্ক হয়ে বিকশিত হয়ে থাকে, তবে তা পরিকল্পনা বা পদ্ধতির চেয়ে বরং পরিস্থিতি ও অবস্থার কারণেই বেশি হয়েছে।" (৪)।
অন্যত্র আর্নল্ড বলেন: "ইসলামের বার্তা কেবল আরব দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সমগ্র বিশ্বের এতে অংশ ছিল। যেহেতু উপাস্য মাত্র একজন, তাই ধর্মও কেবল একটিই হতে পারে যার দিকে সমস্ত মানুষকে আহ্বান জানানো হবে।" (৫)।
এই স্পষ্ট ভুলের মোকাবিলায় আর্নল্ড একাই ছিলেন না, বরং গোল্ডজিহারও (৬) সেখানে ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ونولدكه «1» وسخاو «2» الذي يؤكد «أن الرسالة الإلهية ليست مقصورة على العرب، بل إن إرادة الله تشمل جميع المخلوقات، ومعنى ذلك خضوع الإنسانية كلها خضوعا مطلقا. وقد كان لمحمد بوصفه رسولا من الله، حق المطالبة بهذه الطاعة، وقد كان عليه أن يطالب بها، وهذا ما ظهر من أول الأمر جزء لا ينفصل من جملة ما أراد تحقيقه من مبادىء
… » «3» .
ويرفض أرنولد الخطأ الآخر الذي يرى أن محمدا قد تحوّل إلى القوة بمجرد أن واتته الظروف، وهو رأي قد صرّح به- نقلا عن فلهاوزن- بعض الباحثين ولاسيما ميور عندما تحدث عن مذبحة بني قريظة فقال «إن الدعائم التي سار عليها محمد قدما كانت سياسية محضة، إذ أنه لم يكن قد أقر حتى ذلك الحين طريقة إكراه الناس على اعتناق الإسلام أو معاقبتهم على رفضه..» «4» .. إذ يقول أرنولد «إنما المهم أن نتبين كيف أن محمدا، عندما رأى أنه على رأس جماعة مسلّحة من أتباعه لم يتحوّل دفعه واحدة، كما قد يريدنا البعض على الاعتقاد، من داعية مسالم إلى متعصّب يحمل سيفه بيده ويفرض دينه على كل من استطاع، وقد أكّد الكتّاب الأوروبيون على ذلك مرارا» «5» .
إلا أن أرنولد لم ينج من الوقوع في الخطأ نفسه عند ما يقول «كانت رغبة محمد ترمي إلى تأسيس دين جديد، وقد نجح في هذا السبيل، ولكنه في الوقت نفسه أقام نظاما سياسيا له صفة جديدة متميزة تميزا تاما. وكانت رغبته بادىء الأمر مقصورة على توجيه بني وطنه إلى الاعتقاد بوحدانية الله» «6» .
غير أن أسوأ نموذج يمكن أن نجده لهذه الانحراف المنهجي، حول مسألة تأثر الرسول صلى الله عليه وسلم بالظروف الراهنة، وتحركه وفق مستلزماتها، ما ذكره بندلي جوزي، أحد رواد التفسير المادّي للتاريخ الإسلامي، في كتابه (من تاريخ الحركات الفكرية في الإسلام) حيث يقول «إن سياسة النبي مع المكيين قد تغيّرت كثيرا في المدينة تحت تأثير عوامل جديدة ولأسباب عديدة أوجدتها الظروف وأدى إليها الاختيار وحب النبي لوطنه الأصلي وأهله وذويه إلى غير ذلك من
--------------------------------------------
নোলডেকে এবং সাখাউ, যারা এটি নিশ্চিত করেন যে, «ঐশ্বরিক বার্তা কেবল আরবদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আল্লাহর ইচ্ছা সমস্ত সৃষ্টিকে অন্তর্ভুক্ত করে, আর এর অর্থ হলো সমগ্র মানবতার পরম আনুগত্য। আল্লাহর রাসূল হিসেবে মুহাম্মাদ (সা.)-এর এই আনুগত্য দাবি করার অধিকার ছিল এবং এটি দাবি করা তাঁর কর্তব্য ছিল। এটিই শুরু থেকে তাঁর অর্জিতব্য নীতিমালার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে
… »।
আর্নল্ড সেই অন্য ভুলটিকেও প্রত্যাখ্যান করেন যা মনে করে যে, মুহাম্মাদ (সা.) পরিস্থিতি অনুকূলে আসা মাত্রই শক্তির পথে ধাবিত হয়েছিলেন। এটি এমন একটি মত যা ওয়েলহাউজেন থেকে উদ্ধৃত করে কিছু গবেষক প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে মিউর, যখন তিনি বনু কুরাইজার ঘটনা নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তিনি বলেছিলেন, «মুহাম্মাদ যে ভিত্তিগুলোর ওপর অগ্রসর হচ্ছিলেন তা ছিল পুরোপুরি রাজনৈতিক; কারণ তিনি তখনও পর্যন্ত মানুষকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করার বা এটি প্রত্যাখ্যান করার কারণে তাদের শাস্তি দেওয়ার পদ্ধতি অনুমোদন করেননি...»। আর্নল্ড বলেন, «সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি দেখা যে, মুহাম্মাদ (সা.) যখন নিজেকে তাঁর অনুসারীদের একটি সশস্ত্র দলের নেতৃত্বে দেখতে পান, তখন কেউ কেউ আমাদের যা বিশ্বাস করাতে চান তার মতো তিনি হুট করেই একজন শান্তিপূর্ণ প্রচারক থেকে একজন ধর্মান্ধ ব্যক্তিতে পরিণত হননি, যিনি হাতে তলোয়ার নিয়ে যাকে পারতেন তার ওপর নিজের ধর্ম চাপিয়ে দিতেন। ইউরোপীয় লেখকরা বারবার এটি জোর দিয়ে বলেছেন»।
তবে আর্নল্ড নিজেও সেই একই ভুলের শিকার হওয়া থেকে রেহাই পাননি যখন তিনি বলেন, «মুহাম্মাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি নতুন ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা এবং তিনি এই পথে সফল হয়েছিলেন। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যার একটি সম্পূর্ণ নতুন ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল। শুরুতে তাঁর আকাঙ্ক্ষা কেবল তাঁর স্বদেশীদের আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসের দিকে পরিচালিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল»।
তবে রাসূল (সা.)-এর সমসাময়িক পরিস্থিতির দ্বারা প্রভাবিত হওয়া এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ সংক্রান্ত এই পদ্ধতিগত বিচ্যুতির সবচেয়ে নিকৃষ্ট উদাহরণ যা আমরা পেতে পারি, তা হলো বন্দালি জাওজি কর্তৃক উল্লিখিত বিষয়। তিনি ইসলামি ইতিহাসের বস্তুবাদী ব্যাখ্যার অন্যতম পথিকৃৎ, তাঁর ‘ইসলামে বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের ইতিহাস থেকে’ গ্রন্থে তিনি বলেন: «মক্কাবাসীদের প্রতি নবীর নীতি মদীনায় নতুন উপাদান এবং পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন কারণের প্রভাবে অনেক পরিবর্তিত হয়েছিল। এছাড়া নবীর পছন্দ, নিজ জন্মভূমি ও আত্মীয়-স্বজনের প্রতি ভালোবাসা এবং আরও অনেক বিষয় এর পেছনে কাজ করেছিল...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الانفعالات النفسية والعوامل السياسية التي ظهرت بعد موقعتي بدر وأحد وحصار المدينة، وكان من نتائجها أن النبي أخذ يلطّف من سياسته نحو إخوانه المكيين، كما أن أصحاب السلطة في مكة رأوا- بعد ما أصابهم في موقعة بدر، وبعد ما لحق بتجارهم من الخسائر- أن يتساهلوا في أمور كثيرة مع النبي على شروط تضمن لهم بقاء الكعبة والحج وعكاظ على ما كانت عليه قبل الإسلام، وأن يشملهم بالعفو- إلا بعض أشخاص- ويشركهم في عمله الجديد الذي أخذوا يتوقعون منه خيرا لأنفسهم. وربما كان من شروط التفاهم «1» أن يبقى النبي في المدينة وألايتعرض في كلامه لأمورهم المالية، فكانت الحديبية، وسياسة (تأليف القلوب) أو بعبارة أخرى سياسة التسامح والتساهل المتبادل) Compromis (فصار الناس (يدخلون في دين الله أفواجا) لا عن اعتقاد بصحة الدين الجديد الذي لم يكونوا يعرفون عنه إلا الشيء القليل، بل عن رغبة في التقرب من أصحاب السلطة الجدد، وحفظا لمراكزهم القديمة وثروتهم المجموعة في أجيال. يخيل لي- يقول جوزي- إن من جملة الشروط التي اتفق عليها الطرفان في الحديبية أو في زمان ومكان آخرين، أن يكفّ النبي عن الطعن في الملأ المكي، وأن لا يحرّض صعاليك العاصمة الحجازية وأرقاءها عليه، وهذا- على ما يظهر لي- أحد أهم أسباب خلو السور المدنية، ولاسيما تلك التي نزلت في الدور الأخير، من العبارات القارصة والطعن في سكان مكة «2» . وهناك سبب آخر لا يقل خطورة عن الذي ذكرناه الآن، وهو أن حالة النبي الاجتماعية في المدينة تغيرت- كما هو معلوم- تغيرا ظاهرا أدى إلى تغيير نفسيته. فكان من نتائج هذا التغيير ومن الأسباب التي ذكرنا بعضها وغيرها مما لم نذكر (؟) أن بعض إصلاحات النبي الاجتماعية والدينية جاءت مبتورة، وفيها شيء مما يدعوه الأوروبيون:
التساهل» «3» .
ويمضي بندلي جوزي إلى القول بأن «الدور المكي كان دور تمهيد
--------------------------------------------
বদর ও উহুদ যুদ্ধ এবং মদীনা অবরোধের পরবর্তী মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা ও রাজনৈতিক প্রভাবকসমূহ, যার ফলশ্রুতিতে নবী তাঁর মক্কাবাসী ভাইদের প্রতি তাঁর নীতিকে নমনীয় করতে শুরু করেন। তেমনি মক্কার ক্ষমতাসীনরা—বদর যুদ্ধে যা তাঁদের ওপর আপতিত হয়েছিল এবং তাঁদের বণিকদের যে ক্ষতি সাধিত হয়েছিল তার প্রেক্ষিতে—বিবেচনা করলেন যে, নবীর সাথে অনেক বিষয়ে ছাড় দেওয়া প্রয়োজন, এমন কিছু শর্তে যা তাদের জন্য কাবার অস্তিত্ব, হজ এবং উকাজ মেলা প্রাক-ইসলামী যুগের মতো বজায় থাকার নিশ্চয়তা দেয়; এবং তিনি যেন তাদের ক্ষমা করেন—কয়েকজন ব্যক্তি বাদে—এবং তাঁদের তাঁর নতুন কর্মতৎপরতায় অংশীদার করেন, যা থেকে তাঁরা নিজেদের কল্যাণের প্রত্যাশা করতে শুরু করেছিলেন। সম্ভবত সমঝোতার শর্তাবলীর মাঝে একটি ছিল «১» যে, নবী মদীনায় অবস্থান করবেন এবং তাঁর বক্তব্যে তাঁদের আর্থিক বিষয়াদি নিয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করবেন না। ফলে হুদায়বিয়া এবং ‘অন্তর জয় করার’ (তালিফে কুলুব) নীতি অথবা অন্য কথায় পারস্পরিক সহনশীলতা ও সমঝোতার নীতি (আপস) গৃহীত হলো। ফলে মানুষ ‘দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে শুরু করল’। এটি এই নতুন দ্বীনের সত্যতার প্রতি বিশ্বাসের কারণে হয়নি, যে দ্বীন সম্পর্কে তারা খুব সামান্যই জানত; বরং তা ছিল নতুন ক্ষমতাসীনদের নিকটবর্তী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের পুরনো মর্যাদা ও বংশপরম্পরায় অর্জিত সম্পদ রক্ষার উদ্দেশ্যে। জোজি বলেন—আমার কাছে মনে হয়—হুদায়বিয়ায় অথবা অন্য কোনো সময় ও স্থানে উভয় পক্ষের মধ্যে একমত হওয়া শর্তগুলোর মধ্যে ছিল যে, নবী মক্কার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকবেন এবং হিজাজের রাজধানীর নিঃস্ব ও দাসদের তাদের বিরুদ্ধে উসকে দেবেন না। আর এটিই—আমার কাছে যেমনটি প্রতীয়মান হয়—মাদানী সূরাগুলোতে, বিশেষ করে শেষের দিকে অবতীর্ণ সূরাগুলোতে, মক্কাবাসীদের প্রতি কঠোর বাক্য ও সমালোচনার অনুপস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ «২»। এখানে আরও একটি কারণ রয়েছে যা আগে যা উল্লেখ করেছি তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, তা হলো মদীনায় নবীর সামাজিক অবস্থান—যেমনটি সবার জানা—প্রকাশ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছিল, যা তাঁর মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। এই পরিবর্তনের ফলে এবং উল্লিখিত ও অনুক্ত আরও কিছু কারণে নবীর সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কারগুলোর কিছু অংশ অসম্পূর্ণ অবস্থায় এসেছিল, এবং তাতে এমন কিছু ছিল যাকে ইউরোপীয়রা ‘শিথিলতা’ বা ‘সমঝোতা’ বলে অভিহিত করে «৩»।
বান্দালি জোজি আরও বলেন যে, "মক্কী যুগ ছিল প্রস্তুতির সময়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
واستعداد، دور بثّ دعوة جديدة بين طبقات الأمة، دور حرب ونزاع كلامي بين رجل ثابت في مبادئه، مخلص في عمله، وبين طبقة من الناس شعرت بالخطر على ثروتها وزعامتها في البلاد، فهبّت تقاوم ذلك الرجل وتناوئه، دور جهود وأحلام لو تحققت كلها لقلبت البلاد رأسا على عقب. ما أجمل هذا الدور وما أعظمه وما أحلى تلك الأحلام والمساعي التي بذلت في تحقيقها!! وأما الدور الثاني فكان دور عمل وتنظيم، ودور حروب وافتتاحات، ودور سياسة ومكاشفات أدّت إلى تساهل من الطرفين. ومعنى التساهل في مثل هذه الثورات الاجتماعية هو التنازل عن بعض مطالب أو مبادىء، أو التلطّف في الطلب، والرجوع عن بعض الأفكار، أو وضعها في قالب يرضاه الفريقان. وهذا ما كان من أمر النبي العربي، ورئيس جمهورية مكة (أبو سفيان) الخبير المحنك الذي كان يتكلم بلسان الملأ المكي، هذا يعترف بسيادة النبي الروحية والعالمية، ويهجر الأوثان، ويؤدي الزكاة ويقيم الصلاة، وذاك يتعهد أن تبقى مكة مركز البلاد العربية الديني وأن يجعل لأعيان مكة وقادة أفكارها حظا في إدارة المملكة أو الجمهورية الروحية الجديدة، وأن يتركهم وشأنهم يتاجرون ويعيشون كما يشاؤون. أما الفريق الثالث (أي الفقراء) ، وهو الطرف الذي استعرّت الحرب لأجله، وظهرت الدعوة لتحسين أحواله، فقد أرضوه في بادىء الأمر بشيء من الصدقات والزكاة ثم نسوه أو تناسوه بعد وفاة النبي وخلفائه الأولين، فرجع إلى حالته الأولى بل إلى ما هو أسوأ منها» «1» .
إن فهم السيرة لا يمكن أن يتم إلا وفق نظرة شمولية تدرس حركة الإسلام كخطوات في برنامج شامل مرسوم في علم الله، ومحدّد في قرآنه، وأن الرسول صلى الله عليه وسلم لم يكن سوى منفّذ لهذا البرنامج بأسلوب يعتمد على قدراته وأخلاقيته وذكائه وإمكاناته الفذة في التخطيط والتنفيذ.. ورغم أن القرآن الكريم نزل منجّما، وراحت آياته تنزل على مكث لكي تلامس الأحداث وتعلق عليها (بعد وقوعها) إلا أنه بمجموعه كمبدأ (أيديولوجية) لا يخرج عن نطاق كونه برنامجا إلهيا شاملا ترتبط ممارساته الجزئية بكليّات شاملة محددة سلفا في علم الله. ومن ثم فإن (الظروف الراهنة) ليست هي الحتمية المؤقتة التي تحدد مسار الإسلام وخطى
--------------------------------------------
...এবং প্রস্তুতি, উম্মাহর বিভিন্ন স্তরের মধ্যে নতুন একটি দাওয়াত প্রচারের পর্যায়, নিজ নীতিতে অটল ও কাজে একনিষ্ঠ একজন ব্যক্তি এবং এমন একদল মানুষের মধ্যে যুদ্ধ ও বাকবিতণ্ডার পর্যায় যারা দেশের ওপর তাদের সম্পদ ও নেতৃত্বের প্রতি বিপদ অনুভব করেছিল। তাই তারা সেই ব্যক্তির মোকাবিলা ও বিরোধিতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে। এটি ছিল এমন কিছু প্রচেষ্টা ও স্বপ্নের পর্যায়, যা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে দেশকে আমূল বদলে দিত। এই পর্যায়টি কতই না সুন্দর এবং কতই না মহান! আর সেই স্বপ্ন ও প্রচেষ্টাগুলো কতই না চমৎকার ছিল যা এগুলো অর্জনের জন্য ব্যয় করা হয়েছিল!! আর দ্বিতীয় পর্যায়টি ছিল কাজ ও সংগঠনের পর্যায়, যুদ্ধ ও বিজয়ের পর্যায় এবং রাজনীতি ও এমন কিছু বিষয় প্রকাশের পর্যায় যা উভয় পক্ষের মধ্যে শিথিলতার পথ তৈরি করেছিল। আর এই ধরনের সামাজিক বিপ্লবে শিথিলতার অর্থ হলো কিছু দাবি বা নীতি ত্যাগ করা, অথবা দাবির ক্ষেত্রে নমনীয় হওয়া এবং কিছু ধারণা থেকে ফিরে আসা, অথবা সেগুলোকে এমন একটি ছাঁচে ফেলা যা উভয় পক্ষ পছন্দ করে। আর এটাই ছিল সেই আরব নবী এবং মক্কার প্রজাতন্ত্রের সভাপতি (আবু সুফিয়ান)—যিনি ছিলেন এক অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ ব্যক্তি এবং মক্কার নেতৃবৃন্দের মুখপাত্র হিসেবে কথা বলতেন—তাদের মধ্যকার বিষয়। এই ব্যক্তি নবীর আধ্যাত্মিক ও বিশ্বজনীন সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করে নেন, মূর্তিপূজা বর্জন করেন, জাকাত প্রদান করেন ও নামাজ কায়েম করেন; আর ওই ব্যক্তি (নবী) প্রতিশ্রুতি দেন যে মক্কা আরব ভূখণ্ডের ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে বহাল থাকবে এবং মক্কার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও চিন্তাশীল নেতাদের এই নতুন আধ্যাত্মিক রাজ্য বা প্রজাতন্ত্রের প্রশাসনে একটি অংশ থাকবে এবং তাদেরকে তাদের ইচ্ছামতো ব্যবসা-বাণিজ্য ও জীবনযাপনের সুযোগ দেওয়া হবে। আর তৃতীয় পক্ষ (অর্থাৎ দরিদ্ররা), যাদের জন্য এই যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছিল এবং যাদের অবস্থার উন্নতির জন্য এই দাওয়াতের আবির্ভাব ঘটেছিল, তাদেরকে শুরুর দিকে কিছু সদকা ও জাকাত দিয়ে সন্তুষ্ট করা হয়েছিল, কিন্তু নবী এবং তাঁর প্রথম খলিফাদের ইন্তেকালের পর তাদেরকে ভুলে যাওয়া হয় বা বিস্মৃতির অন্তরালে ঠেলে দেওয়া হয়। ফলে তারা তাদের পূর্বের অবস্থায়, বরং তার চেয়েও খারাপ অবস্থায় ফিরে যায়» «১» ।
সিরাহ বা নবীর জীবনীর উপলব্ধি কেবল এমন একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমেই সম্ভব যা ইসলামের তৎপরতাকে আল্লাহর জ্ঞানে অঙ্কিত এবং তাঁর কুরআনে নির্ধারিত একটি ব্যাপক কর্মসূচির পদক্ষেপ হিসেবে অধ্যয়ন করে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অনন্য পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন ক্ষমতা, নৈতিকতা, বুদ্ধিমত্তা এবং প্রতিভার ওপর ভিত্তি করে কেবল এই কর্মসূচির বাস্তবায়নকারী ছিলেন। যদিও কুরআন কারিম ধাপে ধাপে অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াতগুলো নির্দিষ্ট বিরতিতে নাজিল হয়েছে যাতে তা সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহকে স্পর্শ করতে পারে এবং সেগুলোর ওপর (ঘটে যাওয়ার পর) মন্তব্য করতে পারে, তবুও একটি আদর্শ (মতাদর্শ) হিসেবে এর সামগ্রিকতা আল্লাহর জ্ঞানে পূর্বনির্ধারিত সামগ্রিক মূলনীতিসমূহের সাথে এর আংশিক প্রয়োগগুলোকে সংযুক্ত করার একটি ব্যাপক খোদায়ী কর্মসূচির বাইরে নয়। সুতরাং (তৎকালীন পরিস্থিতি) কোনো সাময়িক অনিবার্যতা নয় যা ইসলামের গতিপথ ও পদক্ষেপ নির্ধারণ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
رسوله إنما هناك (الهدف) الذي يفرض أحيانا (وقفة) ضد الأعراف والظروف و (تمردا) عليها و (انقلابا) شاملا على مواضعاتها، وهذا ما يبدو واضحا منذ أول لحظة، في الشعار الحاسم الذي طرحه الرسول صلى الله عليه وسلم بوجه الجاهلية (لا إله إلا الله!!) ، فأي ظرف راهن، موقوت، أوحى بهذا الشعار الانقلابي الشامل الذي جاء يدمر على الوجود الجاهلي جلّ قيمه وأهدافه ومعالمه ومفاهيمه وعاداته وتقاليده؟!
إن توماس أرنولد يشير إلى ذلك بوضوح عندما يقول «لا يعزب عن البال كيف ظهر جليا أن الإسلام حركة حديثة العهد في بلاد العرب الوثنية، وكيف كانت تتعارض والمثل العليا في هذين المجتمعين تعارضا تاما. ذلك أن دخول الإسلام في المجتمع العربي لم يدل على مجرد القضاء على قليل من عادات بربرية وحشية فحسب وإنما كان انقلابا كاملا لمثل الحياة التي كانت من قبل
…والواقع أن المبادىء الأساسية في دعوة محمد كانت تعارض كثيرا ما كان ينظر إليه العرب نظرة ملؤها التقدير والإجلال حتى ذلك الحين، كما أنها كانت تعلّم حديثي العهد بالإسلام أن يعدوا من الفضائل صفات كانوا قبل إسلامهم ينظرون إليها نظرة الاحتقار» «1» .
إن القرآن الكريم كان قضية فوقية جاءت آياته لتقود الإنسان في كل زمان ومكان إلى عصر جديد، ولم يكن (ينفعل) انفعالا مؤقتا بالوضع السائد، سلبا وإيجابا، كما يتصور معظم المستشرقين مسيحيين وماركسيين، وإنما كان ينظر نظرة شمولية بعيدة كل البعد عن ردّ الفعل المباشر، وهذا هو الذي يفسر لنا الكثير من الأخطاء التي مارستها مناهج البحث الغربية.
ونحن لا نطلب من الغربيين هنا أن يؤمنوا أن القرآن منزل من السماء وأن محمدا رسول.. وإنما نطلب أن يكونوا أكثر تجرّدا وموضوعية فينظروا إلى سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم كوحدة عضوية متكاملة، وإلى القرآن الكريم كبرنامج Ideology مترابط، تعلو معطياته على الظروف الموقوتة زمانا ومكانا، رغم ملامساتها اليومية المباشرة للوقائع الزمانية والمكانية، ولكنها الملامسة التي تنبثق عنها قيم ودلالات
--------------------------------------------
তাঁর রাসুল; মূলত সেখানে রয়েছে সেই (লক্ষ্য), যা কখনও কখনও প্রথা ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে একটি (অবস্থান), সেগুলোর বিরুদ্ধে (বিদ্রোহ) এবং সেগুলোর রীতিনীতির ওপর এক (সর্বাত্মক বিপ্লব) আরোপ করে। আর এটিই প্রথম মুহূর্ত থেকে সেই চূড়ান্ত স্লোগানে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাহেলিয়াতের সামনে উপস্থাপন করেছিলেন (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই!!)। তবে বর্তমানের কোন সাময়িক পরিস্থিতি এই সর্বাত্মক বৈপ্লবিক স্লোগানটিকে অনুপ্রাণিত করেছিল, যা জাহেলি অস্তিত্বের অধিকাংশ মূল্যবোধ, লক্ষ্য, বৈশিষ্ট্য, ধারণা, অভ্যাস ও ঐতিহ্যকে ধ্বংস করতে এসেছিল?
টমাস আর্নল্ড স্পষ্টভাবে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যখন তিনি বলেন: "এটি ভুলে যাওয়ার মতো নয় যে কীভাবে এটি সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছিল যে ইসলাম পৌত্তলিক আরব দেশে একটি নবজাত আন্দোলন ছিল এবং কীভাবে তা এই দুই সমাজের আদর্শের সাথে সম্পূর্ণ দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছিল। কেননা আরব সমাজে ইসলামের প্রবেশ কেবল কিছু বর্বর ও পাশবিক অভ্যাস দূর করারই প্রমাণ দেয় না, বরং এটি ছিল পূর্ববর্তী জীবনব্যবস্থার এক পূর্ণাঙ্গ বিপ্লব
…প্রকৃতপক্ষে মুহাম্মাদ-এর দাওয়াতের মৌলিক নীতিগুলো এমন অনেক বিষয়ের বিরোধিতা করেছিল যেগুলোকে আরবরা ততক্ষণ পর্যন্ত অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সম্মানের চোখে দেখত। তেমনিভাবে এটি নব্য মুসলিমদের এমন কিছু গুণাবলিকে মহৎ গুণ হিসেবে গণ্য করতে শিখিয়েছিল, যেগুলোকে তারা ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তুচ্ছজ্ঞান করত" (১)।
নিশ্চয়ই কুরআনুল কারীম ছিল একটি উচ্চতর আদর্শিক বিষয়, যার আয়াতসমূহ সকল সময়ের ও সকল স্থানের মানুষকে একটি নতুন যুগের দিকে পরিচালিত করতে অবতীর্ণ হয়েছিল। এটি প্রচলিত পরিস্থিতির দ্বারা (ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে) কোনো সাময়িক আবেগপ্রসূত প্রতিক্রিয়া ছিল না, যেমনটি অধিকাংশ খ্রিস্টান ও মার্ক্সবাদী প্রাচ্যবিদরা ধারণা করেন; বরং এটি ছিল এক সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি যা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া থেকে বহু দূরে। আর এটিই আমাদের সামনে পশ্চিমা গবেষণা পদ্ধতিগুলোর বহু ভুল ব্যাখ্যা করে দেয়।
আমরা এখানে পশ্চিমাদের কাছে এটি দাবি করি না যে তারা বিশ্বাস করুক কুরআন আসমান থেকে অবতীর্ণ এবং মুহাম্মাদ একজন রাসুল... বরং আমরা দাবি করি তারা যেন আরও নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ হয় এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সিরাতকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও অবিচ্ছেদ্য সত্তা হিসেবে এবং কুরআনুল কারীমকে একটি সুসংবদ্ধ কর্মসূচি (মতাদর্শ) হিসেবে দেখে, যার উপাত্তগুলো স্থান ও কালের সাময়িক পরিস্থিতির ঊর্ধ্বে থাকে—যদিও কাল ও স্থানের ঘটনাবলির সাথে এর সরাসরি দৈনিক সংযোগ বিদ্যমান, কিন্তু এটি এমন এক সংযোগ যা থেকে মূল্যবোধ ও তাৎপর্য উৎসারিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ذات طابع شمولي ما كان للمستشرقين أن يغافلوا عن أبعادها!!
وكما كشف المستشرقون، بتعمقهم ونفاذهم وإحاطتهم، النقاب عن الكثير من الجوانب المضطربة الغامضة في تاريخنا الإسلامي عامة، بما فيه سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم، إلا أنهم- بأخطائهم المنهجية آنفة الذكر- طرحوا الكثير من النتائج والمعطيات الموضوعية الخاطئة، وهذا أمر طبيعي، فالخطأ لا ينتج إلّا الخطأ، والبعد عن الموضوعية، لا يقود إلا إلى نتائج لا تحمل من روح العلم والجدية إلا قليلا.
وليس هنا مجال عرض هذه المعطيات والنتائج، ومناقشتها، فلهذا مجال آخر كما سبق وأن ذكرنا
… إلّا أننا نطرح فيما يلي نماذج محدودة فحسب من حصاد ضخم يمكن أن يجنيه كل دارس بتأن ورويّة، لما كتبوه عن حياة الرسول صلى الله عليه وسلم وهو حصاد يحمل في ثناياه عناصر تناقضه واضطرابه وخروجه عن البحث المنهجي الدقيق.
يقول بروكلمان: «في هذه الأثناء كان مسلمو مكة، على ما تقول الروايات، يعانون أزمة جديدة. ذلك أن حديث محمد عن إسرائه العجيب، برفقة جبريل إلى بيت المقدس، ومن ثم إلى السماء، كان قد أوقع موجة من الشك في نفوس بعض المؤمنين، ولكن أبا بكر ضرب بإيمانه الراسخ مثلا طيبا لهؤلاء المتشككين فزايلتهم الريب والظنون. ومن الجائز أن تكون هذه الرحلة السماوية التي كثيرا ما أشير إليها بعد في الأساطير الغريبة التي خلفتها لنا الكتب الإسلامية جميعها، أقدم من ذلك عهدا، ولعلها ترجع إلى الأيام الأولى للبعثة النبوية. وأمثال هذه الرؤى في أثناء تهجّد العرّاف معروفة ثابتة لدى بعض الشعوب البدائية» «1» .
«وقد حالت الظروف بين الرسول وبين الشروع في شن حملة نظامية مباشرة على المشركين. فقد كانت فكرة الشرف العربية القديمة تمسك المهاجرين عن محاربة إخوانهم من قريش في حين كان المدنيون غير شديدي الميل إلى تعكير صفو السلم مع جيرانهم الأقوياء.. حتى إذا كان شهر رجب الحرام وجه جماعة من الغزاة بأوامر سرّية، فوفقت إلى مباغتة قافلة بالعروض، كانت حاميتها
--------------------------------------------
এটি একটি ব্যাপক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বিষয় ছিল যার দিকগুলো উপেক্ষা করা প্রাচ্যবিদদের পক্ষে সম্ভব ছিল না!!
প্রাচ্যবিদগণ তাদের গভীরতা, অন্তর্দৃষ্টি এবং ব্যাপক পরিব্যাপ্তির মাধ্যমে আমাদের সামগ্রিক ইসলামি ইতিহাসের অনেক অশান্ত ও অস্পষ্ট দিক যেমন উন্মোচন করেছেন—যার মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাতও অন্তর্ভুক্ত—তেমনি তারা তাদের পূর্বে উল্লিখিত পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে অনেক ভুল বস্তুনিষ্ঠ ফলাফল এবং তথ্য উপস্থাপন করেছেন। এটিই স্বাভাবিক, কারণ ভুল থেকে কেবল ভুলই জন্ম নেয়; আর বস্তুনিষ্ঠতা থেকে বিচ্যুতি এমন ফলাফলের দিকেই নিয়ে যায় যাতে জ্ঞান ও গুরুত্বের ছাপ খুব সামান্যই থাকে।
এই উপাত্ত ও ফলাফলগুলো উপস্থাপন এবং পর্যালোচনার স্থান এটি নয়, এর জন্য অন্য ক্ষেত্র রয়েছে যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে
… তবে প্রাচ্যবিদরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন সম্পর্কে যা লিখেছেন, তা থেকে যে কোনো গবেষক ধৈর্য ও গভীর চিন্তার মাধ্যমে যে বিশাল ফসল সংগ্রহ করতে পারেন, আমরা এখানে তার সামান্য কিছু নমুনা তুলে ধরছি। এটি এমন এক ফসল যা নিজের ভেতরেই স্ববিরোধিতা, অস্থিরতা এবং নিখুঁত পদ্ধতিগত গবেষণা থেকে বিচ্যুতি বহন করে।
ব্রোকলম্যান বলেন: "ইতিমধ্যে মক্কার মুসলমানরা বর্ণনা অনুযায়ী এক নতুন সংকটের সম্মুখীন হয়েছিল। কারণ জিবরাঈল আলাইহিস সালাম-এর সাথে বায়তুল মাকদিসে এবং সেখান থেকে আসমানে মুহাম্মাদের অলৌকিক ইসরা (নৈশভ্রমণ) সংক্রান্ত আলোচনা কিছু মুমিনের মনে সন্দেহের ঢেউ জাগিয়েছিল। কিন্তু আবু বকর তাঁর দৃঢ় ঈমানের মাধ্যমে এই সংশয়বাদীদের জন্য এক চমৎকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, ফলে তাদের সন্দেহ ও সংশয় দূরীভূত হয়েছিল। এটি সম্ভব যে, এই আসমানি সফর—পরবর্তীতে সকল ইসলামি কিতাবে আমাদের জন্য রেখে যাওয়া বিচিত্র উপকথাগুলোতে যা বারবার উল্লেখ করা হয়েছে—তা সম্ভবত আরও আগের ঘটনা এবং সম্ভবত এটি নবুওয়াতের প্রাথমিক দিনগুলোর দিকে ফিরে যায়। গণকদের তাহাজ্জুদ বা ধ্যানের সময় এই ধরনের দর্শন কিছু আদিম জাতির মধ্যে পরিচিত ও প্রমাণিত।" (১)।
"পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুশরিকদের বিরুদ্ধে সরাসরি নিয়মতান্ত্রিক অভিযান শুরুর মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রাচীন আরবের আত্মসম্মানবোধ মুহাজিরদের তাদের কুরাইশ ভাইদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা থেকে বিরত রেখেছিল, অন্যদিকে মদিনাবাসীরা তাদের শক্তিশালী প্রতিবেশীদের সাথে শান্তির পরিবেশ নষ্ট করতে খুব একটা ইচ্ছুক ছিল না। পরিশেষে যখন পবিত্র রজব মাস এলো, তখন তিনি গোপন নির্দেশে একটি বাহিনীকে প্রেরণ করলেন, যারা পণ্যবাহী একটি কাফেলার ওপর অতর্কিত আক্রমণ করতে সফল হয়, যার রক্ষী বাহিনী ছিল..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
العسكرية تتقدمها مطمئنة إلى حرمة الشهر، فأصابت غنائم عظيمة عادت بها إلى المدينة. ولكن هذا النقض للقانون الخلقي القبلي لم يلبث أن أثار عاصفة من الاستنكار في المدينة نفسها، فما كان من محمد إلا أن أنكر صنيع أتباعه، الذي تم وفقا لرغباته بلا خلاف، وعزاه إلى سوء فهم لأوامره. ولم يجرؤ على إعلان شرعية الحرب ضد المشركين، وتوزيع الغنائم حتى في الشهر الحرام، إلا في آيات متأخرة، بعد أن كانت الغنائم العظيمة قد أثارت مطامعه إثارة كافية» «1» .
«وتأثرت اتجاهات النبي الدينية، في الأيام الأولى من إقامته في المدينة، بالصلة التي كانت بينه وبين اليهود، وأغلب الظن أنه كان يرجو، عقب وصوله إلى المدينة، أن يدخل اليهود في دينه، وهكذا حاول أن يكسبهم عن طريق تكييف شعائر الإسلام بحيث تتفق وشعائرهم في بعض المناحي.. ولم يطل العهد بمحمد حتى شجر النزاع بينه وبين أحبار اليهود، فالواقع أنهم على الرغم مما تم لهم من علم هزيل في تلك البقعة النائية، كانوا يفوقون النبي الأمي في المعلومات الوضعية وفي حدة الإدراك. فالفجوات المختلفة التي تكشف عنها علمه بالعهد القديم والتي كان قد تركها عارية في السور المكية، لم يعد من الممكن أن تظل خافية عليهم. ولكن إشارتهم الساخرة إلى هذه الفجوات كانت أعجز من أن تزعزع إيمانه بصحّة ما يوحى إليه» «2» .
«وكان على محمد أن يعوّض خسارة (أحد) التي أصابت مجده العسكري، من طريق آخر، ففكر في القضاء على اليهود، فهاجم بني النضير لسبب واه» «3» .
«وفي سنة 628 (7 هـ) حاول النبي أن يعوض فشله الظاهري في الحديبية فقاد المسلمين في حملة على المستعمرة اليهودية الغنية في خيبر» «4» .
--------------------------------------------
সামরিক বাহিনীটি মাসের পবিত্রতার ব্যাপারে আশ্বস্ত হয়ে অগ্রসর হয়েছিল, ফলে তারা প্রচুর গনীমত অর্জন করে যা নিয়ে তারা মদিনায় ফিরে আসে। কিন্তু গোত্রীয় নৈতিক আইনের এই লঙ্ঘন মদিনায় শীঘ্রই নিন্দার ঝড় তোলে। ফলে মুহাম্মাদ তাঁর অনুসারীদের এই কাজকে অস্বীকার করেন—যা প্রকৃতপক্ষে কোনো সন্দেহ ছাড়াই তাঁর ইচ্ছানুসারেই ঘটেছিল—এবং একে তাঁর আদেশের ভুল বুঝাবুঝি হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বৈধতা ঘোষণা করার এবং এমনকি নিষিদ্ধ মাসেও গনীমত বণ্টন করার সাহস করেননি যতক্ষণ না পরবর্তীকালের আয়াতসমূহ নাযিল হয়েছিল, যখন প্রচুর গনীমত তাঁর আকাঙ্ক্ষাকে যথেষ্ট পরিমাণে উদ্দীপ্ত করেছিল। «১»
«মদিনায় বসবাসের প্রথম দিনগুলোতে নবীর ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি ইহুদিদের সাথে তাঁর সম্পর্কের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। অধিকাংশের ধারণা এই যে, মদিনায় পৌঁছানোর পর তিনি আশা করেছিলেন ইহুদিরা তাঁর ধর্মে প্রবেশ করবে। এভাবে তিনি ইসলামের আচার-অনুষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে খাপ খাইয়ে নিতে চেয়েছিলেন যাতে তা কিছু ক্ষেত্রে তাদের আচারের সাথে মিলে যায় এবং এর মাধ্যমে তাদের জয় করা যায়... তবে মুহাম্মাদ ও ইহুদি পণ্ডিতদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিতে বেশি সময় লাগেনি। বাস্তবতা হলো, সেই প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাদের সামান্য জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও, তারা জাগতিক তথ্যের ক্ষেত্রে এবং উপলব্ধির তীক্ষ্ণতায় উম্মী (নিরক্ষর) নবীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিল। ওল্ড টেস্টামেন্ট (পুরাতন নিয়ম) সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের যে বিভিন্ন ফাঁকফোকর মক্কী সূরাগুলোতে উন্মুক্ত থেকে গিয়েছিল, সেগুলো তাদের কাছে আর গোপন থাকা সম্ভব ছিল না। তবে এই ফাঁকফোকরগুলোর প্রতি তাদের বিদ্রূপাত্মক ইঙ্গিতগুলো তাঁর কাছে যা ওহী আসত, তার সত্যতার প্রতি তাঁর বিশ্বাসকে টলিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছিল» «২»
«মুহাম্মাদকে উহুদ যুদ্ধের পরাজয় কাতিয়ে উঠতে হয়েছিল যা তাঁর সামরিক মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। তিনি অন্য পথে এর ক্ষতিপূরণ করতে চাইলেন এবং ইহুদিদের নির্মূল করার কথা ভাবলেন। ফলে তিনি এক তুচ্ছ কারণে বনু নাযির আক্রমণ করলেন» «৩»
«৬২৮ সালে (৭ হিজরি) নবী হুদাইবিয়ায় তাঁর দৃশ্যমান ব্যর্থতার ক্ষতিপূরণ করার চেষ্টা করেন এবং মুসলিমদের নিয়ে খায়বরের সমৃদ্ধ ইহুদি জনপদে এক অভিযানে নেতৃত্ব দেন» «৪»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
دوزي: «كان محمد يشاطر بني جلدته نظرتهم (القائمة على الاحتقار) إلى اليمنيين والزراع حتى ليؤثر عنه أنه سمع رجلا ينشد بيتا يشير فيه إلى أنه حميري وليس أسلافه من ربيعة ولا مضر، فقال له ما معناه: أفّ لك، إن هذا نسب يبعدك عن الله ورسوله. ويقال أيضا أنه رأى محراثا في بيت رجل من أهل المدينة، فذكر له أنه ما دخل دار قوم إلا دخلها الذل. إلا أنه لما يئس من حمل أهل جنسه من التجار والبدو على اعتناق مبادئه، ولما رأى أنه مهدد في حياته منذ أن مات عمه وحاميه أبو طالب، فقد اضطر لتناسي هذه النظرة وقبول كل مساعدة من أي جانب صدرت عنه. فرحب بوفود عرب المدينة الذين عطفوا عليه وأكرموه لما أنزل به المكيون من الاضطهاد والتنكيل» «1» .
«وطال أمد النضال بينهم وبين مشركي مكة حتى استغرق ثماني سنوات نشرت خلالها جيوش المسلمين الرعب في شتى بقاع شبه الجزيرة مما حمل كثيرا من القبائل على اعتناق الدين الجديد
… وانتهى الأمر أخيرا بفتح مكة، الذي يصوّر الذروة التي آلت إليها قوة محمد. ففي هذا اليوم تطلّع أهل المدينة للأخذ بثأرهم من هؤلاء التجار المتكبرين الساخرين بهم.. غير أن أحلامهم تلاشت إذ أمر الرسول قواده باصطناع الرأفة البالغة، وساعده المكيون- صامتين- في تحطيم أصنامهم المنصوبة في الكعبة.. تعبدها شتى القبائل التي اعترفت بمحمد رسولا لله، والغيظ يملأ قلبها، وكتمت في نفسها الانتقام إلى يوم تسنح لها فيه الفرصة من هؤلاء الأجلاف: يهود المدينة (!!) الذين دنسوا الشرف بغزوهم لبلدهم.
وبعد أن تم فتح مكة رأت القبائل الباقية على شركها عدم جدوى المقاومة واعتنقت الإسلام، تحت عامل الخوف من حرب مهلكة، إذ كان قواد محمد يدعون للدين حاملين القرآن في يد والسيف في أخرى» «2» .
فلهاوزن: «ولم يبق الإسلام على تسامحه- بعد بدر- بل شرع في الأخذ بسياسة الإرهاب في داخل المدينة، وكانت إثارة مشكلة المنافقين علامة على ذلك التحول.. أما اليهود فقد حاول أن يظهرهم بمظهر المعتدين الناكثين للعهد. وفي غضون سنوات قليلة أخرج كل الجماعات اليهودية، أو قضى عليها في الواحات المحيطة بالمدينة حيث كانوا يكوّنون جماعات متماسكة كالقبائل العربية، وقد
--------------------------------------------
ডুজি: «মুহাম্মাদ তাঁর সমজাতীয় লোকদের ইয়েমেনি এবং কৃষকদের প্রতি যে (অবজ্ঞাপূর্ণ) দৃষ্টিভঙ্গি ছিল তার অংশীদার ছিলেন, এমনকি তাঁর থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি একজন লোককে একটি কাব্য পঙক্তি আবৃত্তি করতে শুনেছিলেন যেখানে সে ইঙ্গিত করেছিল যে সে হিময়ারী গোত্রের এবং তার পূর্বপুরুষরা রবীআ বা মুদার গোত্রের নয়, তখন তিনি তাকে এমন কিছু বলেছিলেন যার অর্থ ছিল: তোমার জন্য আক্ষেপ, এটি এমন এক বংশ পরিচয় যা তোমাকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আরও বলা হয় যে, তিনি মদীনার এক লোকের বাড়িতে একটি লাঙল দেখেছিলেন, তখন তিনি তাকে উল্লেখ করেছিলেন যে, এটি যখনই কোনো জাতির ঘরে প্রবেশ করেছে তখনই সেখানে লাঞ্ছনা প্রবেশ করেছে। তবে যখন তিনি তাঁর স্বজাতীয় ব্যবসায়ী ও বেদুঈনদের তাঁর আদর্শ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে ব্যর্থ হলেন, এবং যখন তিনি দেখলেন যে তাঁর চাচা ও অভিভাবক আবু তালিবের মৃত্যুর পর থেকে তাঁর জীবন হুমকির মুখে, তখন তিনি এই দৃষ্টিভঙ্গি ভুলে যেতে এবং যেকোনো পক্ষ থেকে আসা সব ধরনের সাহায্য গ্রহণ করতে বাধ্য হলেন। ফলে তিনি মদীনার আরবদের প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান যারা তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন এবং মক্কাবাসীদের দ্বারা তিনি যে নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তার কারণে তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করেছিলেন» «১» ।
«এবং তাদের ও মক্কার মুশরিকদের মধ্যে সংগ্রামের মেয়াদ দীর্ঘায়িত হয়েছিল এমনকি এটি আট বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল, যে সময়কালে মুসলিম বাহিনী উপদ্বীপের বিভিন্ন অঞ্চলে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল যা অনেক গোত্রকে নতুন ধর্ম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছিল
… অবশেষে মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটে, যা মুহাম্মাদের ক্ষমতার চূড়ান্ত শিখরকে চিত্রিত করে। এই দিনে মদীনার অধিবাসীরা সেই অহংকারী ও উপহাসকারী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তাদের প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতীক্ষায় ছিল.. কিন্তু তাদের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায় যখন রাসূল তাঁর সেনাপতিদের চরম দয়ার্দ্রতা প্রদর্শনের নির্দেশ দেন, এবং মক্কাবাসীরা—নীরবে—কাবায় স্থাপিত তাদের মূর্তিগুলো ভাঙতে তাঁকে সাহায্য করে.. যা সেই সমস্ত বিভিন্ন গোত্র পূজা করত যারা মুহাম্মাদকে আল্লাহর রাসূল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল, অথচ তাদের অন্তর ক্রোধে পূর্ণ ছিল এবং তারা নিজেদের মনে এই রূঢ় ব্যক্তিদের থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার কথা গোপন রেখেছিল যতক্ষণ না সুযোগ আসে: মদীনার ইহুদিরা (!!) যারা তাদের দেশ আক্রমণের মাধ্যমে মর্যাদা কলঙ্কিত করেছিল।
আর মক্কা বিজয় সম্পন্ন হওয়ার পর অবশিষ্ট মুশরিক গোত্রগুলো প্রতিরোধের অসারতা বুঝতে পারে এবং একটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের ভয়ে ইসলাম গ্রহণ করে, কারণ মুহাম্মাদের সেনাপতিরা এক হাতে কুরআন এবং অন্য হাতে তলোয়ার নিয়ে ধর্মের দিকে আহ্বান জানাচ্ছিলেন» «২» ।
ওয়েলহাউসেন: «বদরের পর ইসলাম তার সহনশীলতা বজায় রাখেনি- বরং মদীনার অভ্যন্তরে সন্ত্রাসের নীতি গ্রহণ করতে শুরু করে এবং মুনাফিকদের সমস্যার উত্থান ছিল সেই পরিবর্তনের লক্ষণ.. আর ইহুদিদের ক্ষেত্রে তিনি তাদের এমনভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছিলেন যেন তারা আক্রমণকারী ও চুক্তি ভঙ্গকারী। কয়েক বছরের মধ্যে তিনি মদীনার চারপাশের মরূদ্যানগুলো থেকে সমস্ত ইহুদি সম্প্রদায়কে বের করে দেন অথবা তাদের নির্মূল করেন যেখানে তারা আরব গোত্রগুলোর মতো সুসংবদ্ধ সম্প্রদায় হিসেবে বাস করত, এবং
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
التمس لذلك أسبابا واهية
… » «1» .
مركوليوث: «عاش محمد هذه السنين الست، بعد هجرته إلى المدينة على التلصص والسلب والنهب، ولكن نهب أهل مكة قد يبرّره طرده من بلده ومسقط رأسه وضياع أملاكه وكذلك بالنسبة إلى القبائل اليهودية في المدينة. فقد كان هناك على أي حال سبب ما- حقيقيا كان أم مصطنعا- يدعو إلى انتقامه منهم، إلا أن خيبر التي تبعد عن المدينة كل هذا البعد لم يرتكب أهلها في حقه ولا في حق أتباعه خطأ يعتبر تعديا منهم جميعا، لأن قتل أحدهم رسول محمد لا يصح أن يكون ذريعة للانتقام.. وهذا يبين لنا ذلك التطور العظيم الذي طرأ على سياسة محمد، ففي أيامه الأولى في المدينة أعلن معاملة اليهود كمعاملة المسلمين، لكنه الآن (بعد سنة 6 هـ) أصبح يخالف تماما موقفه ذاك. فقد أصبح مجرد القول بأن جماعة ما غير مسلمة يعتبر كافيا لشن الغارة عليها
… وهذا يفسر لنا تلك الشهوة التي سيطرت على نفس محمد، والتي دفعته إلى شن غارات متتابعة، كما سيطرت على نفس الإسكندر من قبل ونابليون من بعد
… إن استيلاء محمد على خيبر يبين لنا إلى أي حد قد أصبح الإسلام خطرا على العالم» «2» .
نولدكه: «لو أن القبائل العربية استطاعت أن تعقد بينها محالفات حربية دقيقة ضد محمد للدفاع عن طقوسهم وشعائرهم الدينية، والذود عن استقلالهم، لأصبح جهاد محمد ضدهم غير مجد، إلا أن عجز العربي عن أن يجمع شتات القبائل المتفرقة قد سمح له أن يخضعهم لدينه، القبيلة تلو الآخرى، وأن ينتصر عليهم بكل وسيلة، فتارة بالقوة والقهر، وتارة بالمحالفات الودية والوسائل السلمية» «3» .
«كان النبي لا يتحرج في اختيار الوسائل التي تضمن له النجاح والظفر في الوقت الذي كان خياليا، ولم يكن له سلطان على خياله وعواطفه» «4» .
بندلي جوزي «5» : «لا شك أن النبي العربي لم يقصد بأقواله وأفعاله في مكة
--------------------------------------------
তিনি এর জন্য দুর্বল অজুহাত খুঁজছিলেন
… » «১»।
মারগোলিউথ: «মুহাম্মাদ তাঁর মদিনায় হিজরতের পরবর্তী এই ছয়টি বছর চৌর্যবৃত্তি, লুণ্ঠন ও দস্যুবৃত্তির ওপর ভর করে অতিবাহিত করেছেন। তবে মক্কাবাসীদের লুণ্ঠন করার পেছনে নিজের শহর ও জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত হওয়া এবং সম্পদ হারানোর যুক্তিতে হয়তো বৈধতা দেওয়া যেতে পারে; একইভাবে মদিনার ইহুদি গোত্রগুলোর ক্ষেত্রেও। কারণ সেখানে যেকোনোভাবেই হোক—তা বাস্তব হোক বা কৃত্রিম—তাদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার কোনো না কোনো কারণ বিদ্যমান ছিল। কিন্তু মদিনা থেকে এতো দূরে অবস্থিত খায়বারের অধিবাসীরা তাঁর বা তাঁর অনুসারীদের প্রতি এমন কোনো অন্যায় করেনি যা তাদের সবার পক্ষ থেকে সীমালঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে; কেননা তাদের একজনের হাতে মুহাম্মাদের দূতের নিহত হওয়া প্রতিশোধ গ্রহণের অজুহাত হতে পারে না। এটি আমাদের কাছে মুহাম্মাদের রাজনীতিতে ঘটে যাওয়া সেই বিশাল পরিবর্তনের দিকটি উন্মোচন করে। মদিনায় তাঁর শুরুর দিনগুলোতে তিনি ইহুদিদের সাথে মুসলমানদের মতো আচরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন (৬ হিজরির পর) তিনি সেই অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীতে চলে এসেছেন। এখন কেবল কোনো একটি গোষ্ঠী অমুসলিম—এটুকু বলাই তাদের ওপর আক্রমণ চালানোর জন্য যথেষ্ট বলে গণ্য হতে লাগল
… এটি আমাদের কাছে মুহাম্মাদের মনের সেই লালসার ব্যাখ্যা দেয় যা তাঁকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল এবং যা তাঁকে একের পর এক আক্রমণ চালাতে প্ররোচিত করেছিল, যেমনটি ইতিপূর্বে আলেকজান্ডার এবং পরবর্তীতে নেপোলিয়নের মনে আধিপত্য বিস্তার করেছিল
… খায়বারের ওপর মুহাম্মাদের বিজয় আমাদের দেখায় যে ইসলাম বিশ্বের জন্য কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে» «২»।
নোলডেকে: «আরব গোত্রগুলো যদি তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি ও অনুশাসন রক্ষা এবং তাদের স্বাধীনতা সংরক্ষণের জন্য মুহাম্মাদের বিরুদ্ধে সুসংহত সামরিক জোট গঠন করতে পারত, তবে তাদের বিরুদ্ধে মুহাম্মাদের জিহাদ নিষ্ফল হয়ে যেত। কিন্তু বিক্ষিপ্ত গোত্রগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে আরবদের অক্ষমতা তাঁকে সুযোগ করে দিয়েছে যেন তিনি একে একে তাদের তাঁর ধর্মের অনুগত করতে পারেন। তিনি সব উপায়ে তাদের ওপর বিজয়ী হয়েছেন—কখনও শক্তি ও জবরদস্তির মাধ্যমে, আবার কখনও বন্ধুত্বপূর্ণ জোট ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে» «৩»।
«নবী এমন সব উপায় বেছে নিতে কোনো দ্বিধাবোধ করতেন না যা তাঁর সাফল্য ও বিজয় নিশ্চিত করত। সেই সময়ে তিনি ছিলেন কল্পনাপ্রবণ এবং নিজের কল্পনা ও আবেগের ওপর তাঁর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না» «৪»।
বানদালি জাওজি «৫»: «এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আরব নবী মক্কায় তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে উদ্দেশ্য করেননি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
والمدينة إلى أن يستأصل أسباب الشر الاجتماعي، ويقتل جميع جراثيمه، كما يحاول أن يفعل اليوم جماعة الاشتراكيين على اختلاف أسمائهم ونزعاتهم، بل كانت غايته الكبرى أن يخفف من وطأة تلك الأمراض على بعض طبقات الناس ممن خلقوا بعد قسمة الأرزاق أو وقعوا في الفقر والرق لأسباب لم يقو على مقاومتها، وإلا فلو أراد أن يقتل جراثيم الأمراض الاجتماعية كلها لكان لجأ بعد أن أصبح صاحب الأمر والنهي في جزيرة العرب، إلى وسائل غير تلك التي ذكرناها. وما مثل النبي من هذا الوجه إلا كمثل سائر الأنبياء الذين سبقوه، ولا سيما أنبياء بني إسرائيل، أي أنه فضّل استعمال الوسائل الأدبية- إلا فيما ندر من الظروف- على غيرها من الطرق التي لجأ إليها بعصرنا بعض مصلحي وسياسيي أوروبا كلينين وموسوليني وغيرهما.. وعليه يمكننا أن نقول إن محمدا أجاد في وصف الأمراض الاجتماعية العربية وتعدادها أكثر منه في علاجها واستئصال جراثيمها..» «1» .
مونتكمري وات: «إن زيارة محمد لحراء، وهو جبل قريب من مكة، بصحبة عائلته أو بدونها، ليست مستحيلة، ويمكن أن يكون ذلك للفرار من أتون المدينة خلال فصل الصيف للذين لا يستطيعون التوجه إلى الطائف، ويمكن للتأثير اليهودي- المسيحي ولا سيما مثل الرهبان، أو تجربة شخصية لمحمد، أن يكون قد أثار فيه الحاجة للخلوة والرغبة فيها» «2» .
«تعتبر كلمة ناموس عادة مشتقة من كلمة Nomos اليونانية، وهي تعني إذن (الشريعة) أو (الكتب المقدسة) ، وهذا يتفق تماما مع ذكر موسى. وقد أبدى ورقة ملاحظة، بعد أن أخذ محمد يتلقى الوحي، وهي تعني أن ما نزل على محمد مماثل لكتب اليهود والمسيحيين المقدسة. كما أن محمدا سمع ما يوهمه بأنه مؤسس أمة ومشرع لها. وإذا كان محمد، كما يبدو، مترددا بطبعه، فإن هذا التشجيع بإقامة بناء ضخم على تجاربه يرتدي أكبر أهمية لتطوره الداخلي.. وقد تأثرت التعاليم الإسلامية اللاحقة كثيرا بأفكار ورقة» «3» .
وفي مكان آخر من كتاب وات نقرأ هذه العبارات «ادعى كايتاني أن سكان المدينة رضوا بمحمد ككاهن أعلى فقط لأنهم كانوا بحاجة إلى الاستقرار الداخلي
--------------------------------------------
এবং মদিনার অবস্থা এই ছিল যে, তিনি সামাজিক মন্দের কারণগুলো সমূলে উৎপাটন করতে এবং এর সকল জীবাণু ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন, যেমনটি বর্তমানে বিভিন্ন নাম ও মতাদর্শের সমাজতান্ত্রিক গোষ্ঠীগুলো করার চেষ্টা করে। বরং তাঁর মহান লক্ষ্য ছিল মানুষের সেই বিশেষ শ্রেণীর ওপর এসব ব্যাধির প্রকোপ লাঘব করা, যারা রিযিক বণ্টনের পর বঞ্চিত রয়ে গেছে অথবা এমন সব কারণে দারিদ্র্য ও দাসত্বের জালে আবদ্ধ হয়েছে যা প্রতিহত করার সামর্থ্য তাদের ছিল না। অন্যথায়, তিনি যদি সকল সামাজিক ব্যাধির জীবাণু ধ্বংস করতে চাইতেন, তবে আরব উপদ্বীপে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার পর তিনি আমরা যা উল্লেখ করেছি তা ব্যতীত অন্য কোনো উপায় অবলম্বন করতেন। এই দিক থেকে নবীর দৃষ্টান্ত তাঁর পূর্ববর্তী অন্যান্য নবীদের মতোই, বিশেষ করে বনী ইসরায়েলের নবীদের মতো। অর্থাৎ, তিনি—অত্যন্ত বিরল পরিস্থিতি ব্যতিরেকে—নৈতিক ও চারিত্রিক পন্থার ব্যবহারকেই সেই সব পদ্ধতির ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন যা আমাদের যুগের ইউরোপীয় কিছু সংস্কারক ও রাজনীতিবিদ যেমন লেনিন, মুসোলিনি প্রমুখ গ্রহণ করেছিলেন। এর ওপর ভিত্তি করে আমরা বলতে পারি যে, মুহাম্মদ আরবীয় সামাজিক ব্যাধিগুলোর বর্ণনা ও বিশদ আলোচনায় যতটা পারদর্শিতা দেখিয়েছেন, সেগুলোর প্রতিকার ও জীবাণু নির্মূলে ততটা দেখাননি...।» «১»।
মন্টগোমারি ওয়াট: «পরিবারসহ বা পরিবার ব্যতিরেকে মক্কার নিকটবর্তী হেরা পর্বতে মুহাম্মদের গমন অসম্ভব কিছু নয়। গ্রীষ্মকালে মক্কার প্রচণ্ড উত্তাপ থেকে বাঁচার জন্য যারা তায়েফে যেতে পারত না, তাদের জন্য এটি একটি আশ্রয় হতে পারে। সম্ভবত ইহুদি-খ্রিস্টান প্রভাব, বিশেষ করে সন্ন্যাসীদের জীবনধারা অথবা মুহাম্মদের ব্যক্তিগত কোনো অভিজ্ঞতা তাঁর মধ্যে নির্জনবাসের প্রয়োজনীয়তা ও আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছিল» «২»।
«'নামুস' শব্দটি সাধারণত গ্রিক শব্দ 'নমোস' (Nomos) থেকে উদ্ভূত বলে মনে করা হয়, যার অর্থ হলো 'শরীয়ত' বা 'পবিত্র ধর্মগ্রন্থ'। এটি মুসার বর্ণনার সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। মুহাম্মদ ওহী লাভ শুরু করার পর ওয়ারাকা ইবনে নাওফাল একটি মন্তব্য করেছিলেন, যার সারমর্ম হলো—মুহাম্মদের ওপর যা অবতীর্ণ হচ্ছে তা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের পবিত্র গ্রন্থসমূহের সদৃশ। তদুপরি মুহাম্মদ এমন কিছু শুনেছিলেন যা তাঁকে এই প্রতীতি দিয়েছিল যে তিনি একটি জাতির প্রতিষ্ঠাতা এবং তাদের জন্য আইনপ্রণেতা। মুহাম্মদ যদি স্বভাবগতভাবে দ্বিধাগ্রস্তও থেকে থাকেন, তবে তাঁর অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে একটি বিশাল ইমারত গড়ার এই উৎসাহ তাঁর অভ্যন্তরীণ বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে... পরবর্তী ইসলামি শিক্ষাগুলো ওয়ারাকার চিন্তাধারা দ্বারা বহুলাংশে প্রভাবিত হয়েছে» «৩»।
ওয়াটের বইয়ের অন্য এক স্থানে আমরা এই বাক্যগুলো দেখতে পাই: «কাইতানি দাবি করেছেন যে, মদিনাবাসীরা মুহাম্মদকে প্রধান ধর্মীয় নেতা হিসেবে কেবল এই কারণেই মেনে নিয়েছিল যে তারা অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা অর্জনে মরিয়া ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
في المدينة، وليس لأنهم يقبلون تعاليم القرآن بأكملها. وبعضهم كانوا مسلمين حقا.. ومن الممكن أيضا أن يكون محمد، نوعا ما، حاملا للأفكار اليهودية المسيحية في القرآن، بألفاظ عربية جاهلية، ولهذا أساء فهمها- كما يقول كايتاني ولكن المدنيين الذين كانوا يدافعون عن محمد كانوا يفهمون مبادىء الإسلام الأساسية ويؤمنون بها. فالله خالق الكون وسيّد العالم، وهو الحكم في اليوم الأخير، ومحمد حامل رسالة الله إلى العرب. وكان المسلمون يقيمون مجتمعا جديدا في المدينة، وكان هذا المجتمع يتطلب أساسا فكريا واضحا ومحددا. ومن الممكن أن يكون القليل من المسلمين في المدينة يدفعه حماس ديني قوي ولكنهم كانوا جميعا مؤمنين بالروابط الدينية ليشاركوا في بناء مجتمع يقوم على هذه الروابط بدلا من روابط النسب» «1» .
ويحضرنا، ونحن نعرض لتناقض المستشرقين في مسألة الأخذ عن الصحف القديمة، قول جواد علي بهذا الصدد «لا أهمية ولا معنى لقول شپرنكر أن محمدا قرأ وأخذ من مصدر آخر هو (صحف إبراهيم) المذكورة في القرآن الكريم. وقد ردّ على هذا الرأي نولدكه بقوله (لو فرضنا أن محمدا أخذ من هذه الصحف ونسبه لنفسه وادعاه على أنه وحي أوحى الله به إليه، لو فرضنا ذلك، فإن من غير المعقول عندئذ ذكر محمد لتلك الصحف في القرآن، لأن ذكرها فيه معناه إرشاد الناس إلى المورد الذي أخذ منه واتهام نفسه، ولهذا لا يعقل الأخذ بكلام شپرنكر) » «2» .
ونمضي مع وات لنراه يقول في مكان آخر «لم يكن الإسلام.. حركة رجال من طبقة مستضعفة من حثالة الناس أو من طفيليين صعاليك حطوا رحالهم في مكة، ولم يستمد الإسلام قوته من رجال الدرجة السفلى من السلم الاجتماعي، بل من أولئك الذين كانوا في الوسط وأدركوا الفرق بينهم وبين أصحاب الامتيازات في الذروة، فأخذوا يقنعون أنفسهم بأنهم أقل امتيازا منهم، فنشأ صراع ليس بين الملاكين والمعوزين، بل بين الملاكين والذين هم أقل منهم» «3» .
--------------------------------------------
মদিনায়, এবং তারা কুরআনের সমস্ত শিক্ষাকে গ্রহণ করেছিল বলে নয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রকৃত অর্থেই মুসলিম ছিলেন... এটাও সম্ভব যে মুহাম্মদ এক অর্থে কুরআনে ইহুদি-খ্রিস্টীয় ধারণাকে জাহেলি আরবি শব্দের মাধ্যমে বহন করেছেন, আর এ কারণেই তিনি তা ভুল বুঝেছিলেন- যেমনটি কাইতানি বলেন। কিন্তু মদিনার যে লোকেরা মুহাম্মদকে সমর্থন দিচ্ছিলেন, তারা ইসলামের মৌলিক নীতিগুলো বুঝতেন এবং তাতে বিশ্বাস করতেন। কারণ আল্লাহ মহাবিশ্বের স্রষ্টা ও জগতের অধিপতি, এবং তিনিই শেষ দিবসের বিচারক; আর মুহাম্মদ আরবদের কাছে আল্লাহর বার্তার বাহক। মুসলমানরা মদিনায় একটি নতুন সমাজ গঠন করছিলেন এবং এই সমাজের জন্য একটি পরিষ্কার ও সুনির্দিষ্ট বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তির প্রয়োজন ছিল। এটা সম্ভব যে মদিনার অল্প কিছু মুসলমান শক্তিশালী ধর্মীয় উদ্দীপনার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিলেন, তবে তারা সবাই ধর্মীয় বন্ধনের প্রতি বিশ্বাসী ছিলেন যাতে বংশীয় সম্পর্কের পরিবর্তে এই বন্ধনের ওপর ভিত্তি করে একটি সমাজ বিনির্মাণে অংশ নিতে পারেন। «১»
প্রাচীন কিতাবসমূহ থেকে তথ্য গ্রহণের বিষয়ে প্রাচ্যবিদদের স্ববিরোধিতা তুলে ধরার সময় এ প্রসঙ্গে জাওয়াদ আলীর উক্তিটি আমাদের সামনে আসে: «স্প্রেঙ্গারের এই কথার কোনো গুরুত্ব বা অর্থ নেই যে, মুহাম্মদ অন্য কোনো উৎস থেকে পড়েছেন এবং গ্রহণ করেছেন, যা হলো পবিত্র কুরআনে বর্ণিত (ইব্রাহিমের সহীফা)। নোলডেক এই মতের উত্তর দিয়ে বলেছেন, (যদি আমরা ধরেও নিই যে মুহাম্মদ এই সহীফাগুলো থেকে কিছু গ্রহণ করেছিলেন এবং সেগুলোকে নিজের বলে চালিয়ে দিয়েছেন ও দাবি করেছেন যে এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি অবতীর্ণ ওহী; আমরা যদি তা ধরেও নিই, তবে মুহাম্মদের পক্ষে কুরআনে সেই সহীফাগুলোর কথা উল্লেখ করা অসম্ভব। কারণ সেখানে সেগুলোর কথা উল্লেখ করার অর্থ হলো মানুষকে সেই উৎসের দিকে পথ দেখানো যেখান থেকে তিনি তা গ্রহণ করেছেন এবং নিজেকে অভিযুক্ত করা। এই কারণে স্প্রেঙ্গারের কথা গ্রহণ করা যুক্তিযুক্ত নয়)» «২»
আমরা ওয়াটের সাথে এগিয়ে গেলে দেখি তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন: «ইসলাম... সমাজের নিচু স্তরের আবর্জনা সদৃশ মানুষ বা মক্কায় আশ্রয় নেওয়া পরজীবী ভবঘুরেদের কোনো আন্দোলন ছিল না। ইসলাম সামাজিক কাঠামোর একদম নিচু স্তরের মানুষের কাছ থেকে তার শক্তি সঞ্চয় করেনি; বরং তাদের কাছ থেকে করেছে যারা মধ্যম সারিতে ছিল এবং শিখরে থাকা বিশেষ অধিকারপ্রাপ্তদের সাথে নিজেদের পার্থক্য বুঝতে পেরেছিল। তারা নিজেদের এটা বুঝিয়েছিল যে তারা তাদের চেয়ে কম সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন। ফলে এক সংঘাতের সৃষ্টি হলো, যা মালিক ও নিঃস্বদের মধ্যে ছিল না, বরং ছিল মালিক এবং তাদের চেয়ে যারা কিছুটা কম বিত্তবান ছিল তাদের মধ্যে» «৩»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
«كان الأشخاص الذين اتصل بهم محمد (في الطائف) ، وهم عبد ياليل وإخوته، ينتمون لقبيلة عمرو بن عمير المنتمية للأحلاف، فكانوا بذلك أنصار قريش، وربما راود محمدا الأمل باستمالتهم إليه بالتلويح لهم بتحريرهم من سيطرة مخزوم المالية» «1» .
ونتوقف عن سرد هذه (النماذج) للأخطاء (الموضوعية) التي قادت إليها الثغرات العديدة في (مناهج) البحث الاستشراقية لسيرة الرسول صلى الله عليه وسلم، فهي كثيرة لا يحصيها عدّ.. وننتقل- من ثمّ- لكي نعرض لهذه السيرة نفسها، وفق (منهج) أقرب ما يكون (لروح) هذه السيرة و (بنيتها) و (معطياتها) و (أرضيتها التاريخية) و (مصادرها الأساسية) .
أستميح القارىء عذرا إن قصّرت أو أخطأت، وأنتظر الفرصة التي يتيحها لي لتلافي التقصير وتسديد الخطأ.. فكل بنى آدم خطّاء، وخير الخطائين التوابون.. وصدق رسول الله.
عماد الدين خليل
--------------------------------------------
«মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তায়েফে যাদের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন—অর্থাৎ আবদ ইয়ালিল এবং তাঁর ভাইয়েরা—তাঁরা আহলাফভুক্ত আমর ইবনে উমাইর গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ফলে তাঁরা ছিলেন কুরাইশদের মিত্র। সম্ভবত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদেরকে মাখজুম গোত্রের আর্থিক নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করার প্রলোভন দেখিয়ে নিজের দিকে আকৃষ্ট করার আশা করেছিলেন» «১»।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সীরাত নিয়ে প্রাচ্যবিদদের গবেষণা পদ্ধতির নানাবিধ ত্রুটি থেকে উদ্ভূত এই 'বস্তুনিষ্ঠ' ভুলগুলোর উদাহরণ বর্ণনা করা আমরা এখানেই স্থগিত করছি। কেননা এগুলো সংখ্যায় এতই অধিক যে তা গণনা করা সম্ভব নয়। অতঃপর আমরা এই সীরাতকে এমন একটি 'পদ্ধতি' অনুযায়ী উপস্থাপন করতে অগ্রসর হচ্ছি, যা এই সীরাতের 'প্রাণসত্তা', এর 'কাঠামো', এর 'উপাদানসমূহ', এর 'ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট' এবং এর 'মৌলিক উৎসসমূহের' সর্বাধিক নিকটবর্তী।
যদি কোনো ত্রুটি বা ভুল হয়ে থাকে তবে আমি পাঠকের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি সেই সুযোগের অপেক্ষায় রইলাম যা আমাকে আমার ত্রুটি কাটিয়ে উঠতে এবং ভুল সংশোধন করতে সহায়তা করবে। কেননা প্রত্যেক আদম সন্তানই ভুলকারী, আর ভুলকারীদের মধ্যে তারাই শ্রেষ্ঠ যারা তওবা করে। আল্লাহর রাসূল সত্য বলেছেন।
ইমাদ উদ্দিন খলিল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الفصل الأول محمد صلى الله عليه وسلم بين الميلاد والنبوّة
[1]ولد محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم يوم الاثنين الثاني عشر من ربيع الأول عام الفيل (حوالي سنة 570- 571 م) لأبوين عريقين في نسبهما ينتمي أحدهما، وهو عبد الله، إلى عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصي بن كلاب بن مرة بن كعب وتنتمي الآخرى، وهي آمنة، إلى وهب بن عبد مناف بن زهرة بن كلاب بن مرة بن كعب حيث تلتقي مع نسب زوجها عبد الله «1» . وكان منبت محمد صلى الله عليه وسلم في أسرة لها شأنها بعض ما أعد الله لرسالته من نجاح. فالمجتمع العربي الأول كان يقوم على العصبيات القبلية الحادة، العصبيات التي تفنى القبيلة كلها دفاعا عن كرامتها الخاصة وكرامة من يمت إليها «2» . وقد توفي أبوه، وهو في بطن أمه، خلال عودته من تجاره له إلى الشام، ونظرا إلى ما نعرفه من وجود الأوبئة في يثرب، ولا سيما وباء الملاريا (حمى يثرب) فلا يستبعد أن يكون هذا المرض هو السبب في وفاة عبد الله في المدينة ودفنه هناك «3» .
وما أن رأت عينا محمد صلى الله عليه وسلم النور حتى أرسلت أمه إلى جده عبد المطلب «إنه قد ولد لك غلام فأته فانظر إليه» ، فجاءه وحمله إلى الكعبة حيث راح يدعو
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও নবুওয়াতের মধ্যবর্তী সময়
[১]মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সা.) হস্তীবাহিনীর বছর (প্রায় ৫৭০-৫৭১ খ্রিষ্টাব্দ) রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ সোমবার এক সম্ভ্রান্ত বংশীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ ছিলেন আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আব্দ মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কাব-এর বংশধর। তাঁর মাতা আমিনা ছিলেন ওয়াহাব ইবনে আব্দ মানাফ ইবনে যুহরাহ ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কাব-এর বংশধর। এখানে আমিনা তাঁর স্বামী আব্দুল্লাহর বংশপরম্পরার সাথে মিলিত হয়েছেন [১]। মুহাম্মদ (সা.)-এর এমন এক প্রভাবশালী পরিবারে বেড়ে ওঠা তাঁর রিসালাতের সাফল্যের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত প্রস্তুতির অংশ ছিল। তৎকালীন আরব সমাজ চরম গোত্রীয় পক্ষপাতের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল; এমন পক্ষপাত যাতে একটি গোত্র তার নিজস্ব মর্যাদা এবং তার সাথে সংশ্লিষ্টদের সম্মান রক্ষার্থে বিলীন হয়ে যেতেও প্রস্তুত থাকত [২]। তিনি যখন তাঁর মায়ের গর্ভে ছিলেন, তখনই তাঁর পিতা সিরিয়া থেকে বাণিজ্যিক সফর শেষে ফেরার পথে ইন্তেকাল করেন। ইয়াসরিবে মহামারির প্রাদুর্ভাব, বিশেষ করে ম্যালেরিয়া (ইয়াসরিবের জ্বর) সম্পর্কে আমাদের যে জ্ঞান রয়েছে, তাতে এটি অসম্ভব নয় যে এই ব্যাধিই আব্দুল্লাহর মদিনায় মৃত্যু এবং সেখানে সমাহিত হওয়ার কারণ ছিল [৩]। মুহাম্মদ (সা.) যখন পৃথিবীর আলো দেখলেন, তখন তাঁর মা তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিবের কাছে এই বলে সংবাদ পাঠালেন যে, 'আপনার একটি নাতি হয়েছে, তাকে এসে দেখে যান'। সংবাদ পেয়ে তিনি আসলেন এবং তাঁকে কাবার কাছে নিয়ে গেলেন এবং সেখানে তিনি দোয়া করতে লাগলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الله ويشكر له ما أعطاه، ثم أعاده إلى أمه ريثما يلقى مرضعة له، ووقع اختياره على امرأة من بني سعد بن بكر يقال لها حليمة بنت أبي ذؤيب «1» استصحبته معها إلى مضارب بني سعد حيث ظل محمد صلى الله عليه وسلم يشب وينمو، يشرب من لبن مرضعته ويتنفس من هواء الصحراء الطلق ويزداد قوة وصحة وعافية، ولم يبلغ السنتين من عمره، حيث فطمته حليمة، حتى حملته وزوجها إلى أمه في مكة، وهما أحرص ما يكونان على مكثه فيهم لما كانوا يرون من بركته، فكلمات حليمة أمه وقالت لها «لو تركت ابنك عندي حتى يغلظ، فإني أخاف عليه وباء مكة» ، ولم تزل بها حتى أجابتها إلى طلبها «2» .
وهناك، بعد أشهر من عودته إلى مضارب بني سعد، وقعت حادثة شق الصدر وعاد أخوه من الرضاعة يوما، وهو يلهث، فقال لأمه وأبيه، وهما يرعيان أغناما لهما خلف دورهم: ذاك أخي القرشي قد أخذه رجلان عليهما ثياب بيضاء فاضجعاه وشقّا بطنه، فهما يسوطانه «3» ، فخرجت حليمة وزوجها نحوه فوجداه قائما منتقع الوجه فسألاه: ما لك يا بني؟ قال: جاءني رجلان عليهما ثياب بيض فاضجعاني وشقا بطني فالتمسا فيه شيئا لا أدري ما هو.. وسرعان ما عادت به حليمة وزوجها إلى خبائهما «4» . وظن الأب أن الغلام قد أصيب وطلب من زوجته أن تعيده إلى أهله قبل أن يستفحل به ذلك ويظهر، فحملته مرضعته وقدمت به إلى أمه فأعلمتها أنه قد بلغ، وأنها قد قضت الذي عليها، فأخذته أمه حيث ظلت ترعاه في حماية وإشراف من جده عبد المطلب. وعندما بلغ السادسة من عمره توفيت أمه بالأبواء، وهي في طريق عودتها إلى مكة في أعقاب زيارة لأهلها من
--------------------------------------------
আল্লাহ এবং তিনি যা দান করেছেন তার জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করেন। অতঃপর তিনি তাঁকে তাঁর মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন যতক্ষণ না তাঁর জন্য কোনো স্তন্যদাত্রী পাওয়া যায়। বনী সাদ বিন বকর গোত্রের হালিমা বিনতে আবি জুওয়াইব নামক এক মহিলার ওপর তাঁর নির্বাচন স্থির হয়। তিনি তাঁকে নিজের সাথে বনী সাদের বসতিতে নিয়ে যান, যেখানে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বেড়ে উঠতে থাকেন। তিনি তাঁর স্তন্যদাত্রীর দুধ পান করতেন এবং মরুভূমির উন্মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতেন এবং তাঁর শক্তি, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাঁর বয়স দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই হালিমা তাঁর দুধ ছাড়ান এবং তিনি ও তাঁর স্বামী তাঁকে মক্কায় তাঁর মায়ের কাছে নিয়ে যান। তাঁরা তাঁকে নিজেদের কাছে রেখে দেওয়ার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন, কারণ তাঁরা তাঁর বরকত প্রত্যক্ষ করেছিলেন। হালিমা তাঁর মায়ের সাথে কথা বললেন এবং তাঁকে বললেন, "আপনি যদি আপনার পুত্রকে আমার কাছে রেখে দিতেন যতক্ষণ না সে হৃষ্টপুষ্ট হয়, কারণ আমি তার ব্যাপারে মক্কার মহামারীর ভয় করছি।" তিনি এভাবে অনুরোধ করতে থাকলেন যতক্ষণ না মা তাঁর অনুরোধে সাড়া দিলেন।
সেখানে, বনী সাদের বসতিতে ফিরে আসার কয়েক মাস পর, বক্ষ বিদারণের ঘটনাটি ঘটে। একদিন তাঁর দুধ-ভাই হাঁপাতে হাঁপাতে ফিরে এল এবং তার বাবা-মাকে বলল, যারা তাদের ঘরের পেছনে বকরী চরাচ্ছিল: "ঐ যে আমার কুরাইশ ভাই, তাকে সাদা পোশাক পরা দুজন লোক ধরে নিয়ে গেছে, তাকে শুইয়ে তার পেট চিরে ফেলেছে এবং তারা সেখানে কিছু একটা নাড়াচাড়া করছে।" হালিমা ও তাঁর স্বামী তাঁর দিকে দৌড়ে গেলেন এবং তাঁকে বিবর্ণ মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেন। তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: "বৎস, তোমার কী হয়েছে?" তিনি বললেন: "সাদা পোশাক পরা দুজন লোক আমার কাছে এসেছিল, তারা আমাকে শুইয়ে দিয়ে আমার পেট চিরে ফেলে এবং সেখানে কিছু একটা খুঁজছিল যা আমি জানি না।" দ্রুত হালিমা ও তাঁর স্বামী তাঁকে নিয়ে তাঁদের তাঁবুতে ফিরে এলেন। পালক পিতা ধারণা করলেন যে বালকটি হয়তো কোনো অশুভ কিছুর শিকার হয়েছে, তাই তিনি তাঁর স্ত্রীকে বললেন তাঁকে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে, যেন বিষয়টি আরও জটিল হওয়ার আগে প্রকাশ পায়। অতঃপর তাঁর স্তন্যদাত্রী তাঁকে নিয়ে তাঁর মায়ের কাছে আসলেন এবং তাঁকে জানালেন যে সে বড় হয়েছে এবং তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর মা তাঁকে গ্রহণ করলেন এবং তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিবের সুরক্ষা ও তত্ত্বাবধানে তাঁকে লালন-পালন করতে থাকলেন। যখন তাঁর বয়স ছয় বছর হলো, তখন তাঁর মা আবওয়া নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন। তিনি তখন তাঁর আত্মীয়দের সাথে দেখা করে মক্কায় ফিরছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
بني عديّ بن النجار قصدت بها أن تزيره إياهم، فتولى أمره جده عبد المطلب الذي كان يقعده إلى جواره في مجلسه في ظل الكعبة، ويقول لبنيه إذا ما أرادوا إبعاده عنه «دعوا ابني، فو الله إن له لشأنا» ثم يمسح ظهره بيده ويسرّه ما يراه يصنع «1» .
لم تطل رعاية الجد وعطفه الذي عوّض حفيده حدب الأب وحنان الأم، إذ ما لبث أن توفي، ومحمد لم يجاوز الثامنة من عمره فتولى أمره عمه أبو طالب، لأنه وعبد الله والد الرسول صلى الله عليه وسلم كانا لأم واحدة «2» ، ولم يكن أبو طالب بالرجل الموفور المال، وكان يعيل عددا من الأبناء الأمر الذي اضطر محمدا صلى الله عليه وسلم أن يعينه في كسب قوته حسب طاقته، فكان يرعى له الأغنام وعندما قرر عمه الخروج في تجارة إلى الشام- وكان قد بلغ آنذاك التاسعة من عمره- رجاه أن يصحبه معه، فرق له أبو طالب وقال «والله لآخرجن به معي، ولا يفارقني ولا أفارقه أبدا» «3» .
لدى وصول المركب مدينة بصرى الواقعة على طريق التجارة إلى الشام، وهي أبعد مكان رآه الرسول صلى الله عليه وسلم في حياته وأقصى موقع زاره في بلاد الشام «4» نلتقي برواية طرحها عدد من مؤرخي السيرة القدماء دون نقد ولا تمحيص، تقول إنهم لما نزلوا قريبا من بصرى دعاهم إلى الطعام راهب يدعى (بحيرى) منقطع إلى صومعته يدرس فيها التوراة والإنجيل ويعبد الله.. فلما حضروا جميعا راح بحيرى يركز أنظاره على الصبيّ ويلحظه لحظا شديدا وينظر إلى أشياء من جسده كأنه كان يبحث ويمعن النظر في الصفات والملامح التي تحدثت عنها التوراة والإنجيل في النبي الذي حان موعد ظهوره. حتى إذا فرغ القوم من طعامهم وتفرقوا قام إليه بحيرى وقال له: يا غلام، أسألك بحق اللّات والعزّى إلّا ما أخبرتني عما أسألك عنه. فأجابه محمد: لا تسألني باللات والعزّى فو الله ما أبغضت شيئا قط بغضهما. قال بحيرى: فبالله إلا ما أخبرتني عما أسألك عنه.
قال محمد: سلني ما بدا لك، فجعل بحيرى يسأله عن أشياء من حاله في نومه
--------------------------------------------
বনু আদী ইবনে আন-নাজ্জার; তিনি চেয়েছিলেন তাকে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করাতে। এরপর তার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তার দাদা আবদুল মুত্তালিব। তিনি তাকে কাবার ছায়ায় তার মজলিসে নিজের পাশে বসাতেন। তার ছেলেরা যখন তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দিতে চাইত, তখন তিনি বলতেন, “আমার এই ছেলেকে ছেড়ে দাও। আল্লাহর শপথ! তার এক মহিমান্বিত ভবিষ্যৎ রয়েছে।” এরপর তিনি নিজের হাত দিয়ে তার পিঠ মুছে দিতেন এবং বালকটি যা করত তা দেখে তিনি আনন্দিত হতেন।
দাদার এই লালন-পালন ও মমতা, যা তার পৌত্রকে পিতার স্নেহ ও মাতার মমতার অভাব ভুলিয়ে দিয়েছিল, তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অল্পকাল পরেই তিনি ইন্তেকাল করেন, তখন মুহাম্মাদের বয়স আট বছর পার হয়নি। এরপর তার চাচা আবু তালিব তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, কারণ তিনি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিতা আবদুল্লাহ একই মায়ের সন্তান ছিলেন। আবু তালিব খুব বেশি সম্পদশালী ব্যক্তি ছিলেন না এবং তার অনেকগুলো সন্তান ছিল। এই পরিস্থিতি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বাধ্য করল নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা অর্জনে তাকে সাহায্য করতে। তাই তিনি তার হয়ে মেষ চরাতেন। যখন তার চাচা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে সিরিয়া যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন—তখন তার বয়স ছিল নয় বছর—তিনি তার সাথে যাওয়ার জন্য তাকে অনুরোধ করলেন। এতে আবু তালিবের মনে মায়ার সঞ্চার হলো এবং তিনি বললেন, “আল্লাহর শপথ! আমি তাকে অবশ্যই আমার সাথে নিয়ে যাব। সেও আমাকে ছেড়ে থাকবে না, আর আমিও তাকে কখনো ছাড়ব না।”
কাফেলা যখন সিরিয়ার বাণিজ্য পথে অবস্থিত বুসরা শহরে পৌঁছাল—যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে দেখা সবচেয়ে দূরবর্তী স্থান এবং সিরিয়া ভূখণ্ডে তার ভ্রমণ করা সর্বশেষ সীমানা—তখন আমরা এমন একটি বর্ণনার সম্মুখীন হই যা প্রাচীন সীরাত লেখকদের অনেকে কোনো সমালোচনা বা যাচাই-বাছাই ছাড়াই উপস্থাপন করেছেন। বর্ণনাটি হলো, তারা যখন বুসরার কাছে অবতরণ করলেন, তখন বাহিরা নামক একজন পাদ্রি তাদের খাবারের দাওয়াত দিলেন। তিনি তার নির্জন গির্জায় তাওরাত ও ইঞ্জিল অধ্যয়ন করতেন এবং আল্লাহর ইবাদত করতেন। যখন তারা সবাই উপস্থিত হলেন, বাহিরা বালকটির ওপর তার দৃষ্টি নিবদ্ধ করলেন এবং তাকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলেন। তিনি তার শরীরের বিভিন্ন অংশের দিকে তাকাচ্ছিলেন যেন তিনি সেই বৈশিষ্ট্য ও লক্ষণগুলো অনুসন্ধান করছেন এবং গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, যে সম্পর্কে তাওরাত ও ইঞ্জিলে সেই নবীর ব্যাপারে বলা হয়েছে যার আগমনের সময় ঘনিয়ে এসেছিল। অবশেষে যখন লোকজন খাবার শেষ করে চলে গেল, বাহিরা তার কাছে গিয়ে বললেন: “হে বালক! আমি তোমাকে লাত ও উজ্জার দোহাই দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আমি তোমাকে যা জিজ্ঞাসা করব তার উত্তর দাও।” মুহাম্মাদ উত্তর দিলেন: “আমাকে লাত ও উজ্জার দোহাই দিয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করবেন না। আল্লাহর শপথ! আমি অন্য কোনো কিছুর প্রতি ততটা ঘৃণা পোষণ করি না যতটা এই দুইটির প্রতি করি।” বাহিরা বললেন: “তাহলে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, আমি তোমাকে যা জিজ্ঞাসা করছি তার উত্তর দাও।”
মুহাম্মাদ বললেন: “আপনার মনে যা আসে আমাকে জিজ্ঞাসা করুন।” এরপর বাহিরা তাকে তার ঘুমের অবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাহ ফিস সীরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وهيئته وأموره، فجعل محمد يخبره فيوافق ذلك ما عند بحيرى من صفاته.. فلما فرغ أقبل على عمه أبي طالب فقال له: ما هذا الغلام منك؟ قال: ابن أخي..
قال: ما فعل أبوه؟ قال: مات وأمه حبلى به. قال بحيرى صدقت، فارجع بابن أخيك إلى بلده، واحذر عليه يهود فو الله لئن رأوه وعرفوا منه ما عرفت ليبغنّه شرا فإنه كائن لابن أخيك شأن عظيم «1» .
كان محمد صلى الله عليه وسلم قد قام منذ صباه- لمساعدة عمه الفقير كثير العيال- برعي الأغنام لأهله وأهل مكة، كما قام بأعمال أخرى.. ولكن الرعي وهذه المساعدات لم تفده وقد بلغ هذا العمر، ولهذا كان أبو طالب يفكر في رزق يسوقه الله إليه يكون فيه أمن وطمأنينة له وكان ذلك عن طريق البيع والشراء والتجارة على عادة أغلب أهل مكة في ذلك العهد، وقد تكسّب محمد بالاشتغال بالبيع والشراء مستقلا بأعماله أحيانا ومشتركا مع غيره أحيانا أخرى.. وقد تاجر بشراء البزّ وبيعه يشتريه من سوق حباشة، على طريق اليمن، وهي سوق مشهورة لبيع هذه البضاعة، ويبيعه في مكة.. وقد عرف الرسول صلى الله عليه وسلم بالأمانة والصدق في المعاملة، ولكنه لم يكسب من عمله في البيع والشراء مالا يذكر ولا ثروة تساعده وتساعد عمه أبا طالب في تمشية أموره.. لذا عرض عليه عمه أن يسهم في تجارة خديجة علها تدر عليه ربحا «2» . وورد في بعض كتب السير «3» أن محمدا قام لخديجة بسفرة أو سفرتين أو أربع سفرات إلى اليمن، إلى سوق حباشة أو إلى جرش، وذلك قبل قيامه بسفرته المشهورة إلى بصرى.. وأن خديجة دفعت له بعيرا عن كل سفرة قام بها إلى اليمن وأربع بكرات عن سفرته إلى بلاد الشام «4» .
--------------------------------------------
এবং তাঁর গঠন ও সামগ্রিক বিষয়াদি সম্পর্কে। তখন মুহাম্মদ তাঁকে সব জানাতে লাগলেন, যা বাহীরার নিকট থাকা তাঁর গুণাবলির বর্ণনার সাথে হুবহু মিলে যাচ্ছিল। যখন তিনি শেষ করলেন, বাহীরা তাঁর চাচা আবু তালিবের দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করলেন: "এই বালকটি আপনার কে হয়?" তিনি বললেন: "আমার ভ্রাতুষ্পুত্র।"
তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তাঁর পিতা কী করেছেন?" তিনি বললেন: "তিনি মারা গেছেন যখন তাঁর মা গর্ভবতী ছিলেন।" বাহীরা বললেন: "আপনি সত্য বলেছেন। আপনার ভ্রাতুষ্পুত্রকে নিয়ে তাঁর দেশে ফিরে যান এবং ইহুদিদের থেকে তাঁকে সাবধানে রাখুন। আল্লাহর কসম! তারা যদি তাঁকে দেখতে পায় এবং আমি যা চিনেছি তা চিনতে পারে, তবে তারা অবশ্যই তাঁর অনিষ্ট সাধনের চেষ্টা করবে। নিশ্চয়ই আপনার এই ভ্রাতুষ্পুত্রের এক মহান ভবিষ্যৎ রয়েছে।" (১)।
মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর শৈশব থেকেই—তাঁর দরিদ্র ও বহু সন্তানধারী চাচাকে সাহায্য করার জন্য—নিজের পরিবার ও মক্কাবাসীদের ছাগল চরাতেন, পাশাপাশি অন্যান্য কাজও করতেন। কিন্তু পশুপালন এবং এই সাহায্যগুলো এই বয়সে এসে তাঁর জন্য যথেষ্ট ছিল না। তাই আবু তালিব এমন এক জীবিকার কথা ভাবছিলেন যা আল্লাহ তাঁর দিকে পরিচালিত করবেন এবং যাতে তাঁর জন্য নিরাপত্তা ও প্রশান্তি থাকবে। সেই যুগের মক্কাবাসীদের অধিকাংশের রীতি অনুযায়ী তা ছিল ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসার মাধ্যমে। মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনও স্বাধীনভাবে আবার কখনও অন্যদের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ক্রয়-বিক্রয়ে লিপ্ত হয়ে উপার্জন করতেন। তিনি ইয়েমেনের পথে অবস্থিত হুবাইশা বাজার থেকে কাপড় ক্রয় ও বিক্রয়ের ব্যবসা করতেন, যা এই পণ্য বিক্রির জন্য একটি বিখ্যাত বাজার ছিল এবং তিনি তা মক্কায় বিক্রি করতেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লেনদেনের ক্ষেত্রে আমানতদারি ও সত্যবাদিতার জন্য পরিচিত ছিলেন, কিন্তু ক্রয়-বিক্রয়ের এই কাজ থেকে তিনি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বা সম্পদ অর্জন করতে পারেননি যা তাঁকে এবং তাঁর চাচা আবু তালিবকে সাংসারিক বিষয়াদি পরিচালনায় বড় কোনো সহায়তা করতে পারে। তাই তাঁর চাচা তাঁকে খাদিজার ব্যবসায় অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দিলেন, যাতে সম্ভবত তাঁর কিছু মুনাফা অর্জিত হয় (২)। কিছু সীরাত গ্রন্থে (৩) বর্ণিত হয়েছে যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খাদিজার হয়ে ইয়েমেনের হুবাইশা বাজার বা জারাশ অভিমুখে এক, দুই বা চারবার সফর করেছিলেন, যা ছিল তাঁর বসরায় বিখ্যাত সফরের পূর্বের ঘটনা। খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাঁকে ইয়েমেনে প্রতিটি সফরের বিনিময়ে একটি করে উট এবং সিরিয়া (শাম) সফরের বিনিময়ে চারটি তরুণী উষ্ট্রী প্রদান করেছিলেন (৪)।
--------------------------------------------