(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: -)
الدر المنضود في الصلاة والسلام على صاحب المقام المحمود   (ابن حجر الهيتمي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الدر المنضود في الصلاة والسلام على صاحب المقام المحمود

المؤلف: أحمد بن محمد بن علي بن حجر الهيتمي السعدي الأنصاري، شهاب الدين شيخ الإسلام، أبو العباس (ت 974هـ)

عني به: بوجمعة عبد القادر مكري ومحمد شادي مصطفى عربش

الناشر: دار المنهاج - جدة

الطبعة: الأولى - 1426 هـ

عدد الصفحات: 304

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মাকামে মাহমুদের অধিকারীর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠের সুবিন্যস্ত মুক্তামালা   (ইবনে হাজার আল-হাইতামি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: মাকামে মাহমুদের অধিকারীর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠের সুবিন্যস্ত মুক্তামালা

লেখক: আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন হাজার আল-হাইতামি আল-সাআদি আল-আনসারি, শিহাবুদ্দিন শাইখুল ইসলাম, আবুল আব্বাস (মৃত্যু ৯৭৪ হিজরি)

সম্পাদনায়: বুজুমআ আব্দুল কাদির মাকরি এবং মুহাম্মাদ শাদি মুস্তফা আরবাশ

প্রকাশক: দারুল মিনহাজ - জেদ্দা

সংস্করণ: প্রথম - ১৪২৬ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৪

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: -)
ـ[الدر المنضود في الصلاة والسلام على صاحب المقام المحمود]ـ

المؤلف: أحمد بن محمد بن علي بن حجر الهيتمي السعدي الأنصاري، شهاب الدين شيخ الإسلام، أبو العباس (المتوفى: 974هـ)

عني به: بوجمعة عبد القادر مكري ومحمد شادي مصطفى عربش

الناشر: دار المنهاج - جدة

الطبعة: الأولى - 1426 هـ

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[মাকামে মাহমুদের অধিকারীর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠের সুবিন্যস্ত মুক্তামালা]

লেখক: আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলি বিন হাজার আল-হাইতামি আস-সাদি আল-আনসারি, শিহাবুদ্দিন শাইখুল ইসলাম, আবুল আব্বাস (মৃত্যু: ৯৭৪ হিজরি)

তত্ত্বাবধানে: বুজুমআ আব্দুল কাদির মাকরি এবং মুহাম্মাদ শাদি মুস্তফা আরবাশ

প্রকাশক: দারুল মিনহাজ - জেদ্দা

সংস্করণ: প্রথম - ১৪২৬ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌‌‌بين يدي‌‌ الكتاب

 

(أ)

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رافع درجات المخبتين، ومجيب دعاء المضطرين، ومفرّج الكرب عن المهمومين، وجاعل الصّلاة على الشّفيع سببا للغفران، وبابا لتفريج الأحزان، وحرزا من وساوس الشّيطان.

فصلوات الله تترى، وسلامه يتوالى على من خصّه الله تعالى بالرّتب العليّة، والمقامات السّنيّة، وشرّفه بالمقام المحمود والحوض المورود، وحلّاه من الأخلاق بأجمل البرود، وعلى آله الأطهار الأبرار، وصحابته الغر الميامين الأخيار، والتّابعين لهم بإحسان.

أمّا بعد:

فإنّ الصّلاة على الحبيب الشّفيع ترياق للقلوب، وماحية للذنوب، ومرقاة إلى كلّ أمر محبوب، بها يحلّق الموفّق في أجواء العلياء، ويتدرّج في سلّم الارتقاء، حتى يبلغ مراتب الأولياء.

كيف لا؟! وقد صلى عليه خالقه والملائكة الكرام، وأمرنا بذلك تنويها بعظم المقام، ثم فصّلت السّنّة الغرّاء مزايا الصّلاة والسّلام، على من بعثه الله تعالى رحمة للأنام، فاغترف الموفّقون من هذا المنهل الرّويّ، وبلغ بها المقرّبون الشّأو القصيّ، وهرولت بالمحبين نجب الأشواق، إلى تلك الآفاق، فتذوقوا من أسرار الصّلاة والسّلام، المشفوعة بالمحبة والإعظام، فأنار الله تعالى بواطنهم، وصفّى قلوبهم، وحلّقت أرواحهم في رياض الذّكر فرتعوا، واعتصموا بالله ففازوا وربحوا، فتلك تجارة لن تبور.

 

(ب)

هذا، وقد تفنن أعلام الإسلام قديما وحديثا في الإشادة بفضلها، والترغيب في الإكثار منها، وتبيان أسرارها وعوائدها، فمن بين مقلّ ومكثر، وباسط ومختصر،
‌‌‌বইয়ের পরিচি‌তি

 

(ক)

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিনীতদের মর্যাদা সমুন্নতকারী, বিপদগ্রস্তদের দোয়া কবুলকারী এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্তদের কষ্ট দূরকারী; আর যিনি সুপারিশকারীর ওপর দরুদ পাঠকে ক্ষমা লাভের মাধ্যম, দুঃখ-বেদনা লাঘবের দুয়ার এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সুরক্ষাকবচ বানিয়েছেন।

সুতরাং আল্লাহর রহমত ও তাঁর অবিরাম শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাঁকে আল্লাহ তাআলা সুউচ্চ মর্যাদা ও মহান মকামে ভূষিত করেছেন; যাঁকে তিনি মকামে মাহমুদ ও হাউজে কাওসার দ্বারা সম্মানিত করেছেন এবং যাঁকে চরিত্রের সর্বোত্তম ভূষণে সজ্জিত করেছেন; আরও বর্ষিত হোক তাঁর পবিত্র ও পুণ্যবান পরিবার-পরিজন, তাঁর মর্যাদাবান ও মনোনীত শ্রেষ্ঠ সাহাবীগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই প্রিয় সুপারিশকারীর ওপর দরুদ পাঠ হলো অন্তরের মহৌষধ, পাপ মোচনকারী এবং প্রতিটি কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে আরোহণের সিঁড়ি। এর মাধ্যমে সৌভাগ্যবান ব্যক্তি উচ্চাকাশের দিগন্তে উড্ডয়ন করেন এবং উন্নতির সোপানে ধাপে ধাপে আরোহণ করেন, এমনকি তিনি আউলিয়াদের স্তরে উপনীত হন।

কেনই বা হবে না?! অথচ তাঁর সৃষ্টিকর্তা এবং সম্মানিত ফেরেশতারা তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করেছেন এবং তাঁর মহান মর্যাদাকে সুউচ্চ করার লক্ষ্যে আমাদেরকেও সেই নির্দেশ দিয়েছেন। অতঃপর উজ্জ্বল সুন্নাহ সেই মহান সত্তার ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করার মাহাত্ম্য বিস্তারিত বর্ণনা করেছে, যাঁকে আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছেন। ফলে সৌভাগ্যবান ব্যক্তিরা এই সুমিষ্ট ঝরনাধারা থেকে অঞ্জলি ভরে পান করেছেন এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্যভাজনরা দূরতম লক্ষ্যে পৌঁছেছেন। আর আবেগের ক্ষিপ্র গতিতে আশেকদের আরোহীগুলো সেই দিগন্তের পানে ছুটে চলেছে, ফলে তারা মহব্বত ও সম্মানের সাথে দরুদ ও সালামের রহস্য আস্বাদন করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাদের অন্তরসমূহকে আলোকিত করেছেন, তাদের হৃদয়কে পরিচ্ছন্ন করেছেন এবং যিকিরের উদ্যানে তাদের রুহগুলো বিচরণ করেছে। তারা আল্লাহকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরেছে, ফলে তারা সফল ও লাভবান হয়েছে; আর তা এমন এক ব্যবসা যা কখনো লোকসানের সম্মুখীন হবে না।

 

(খ)

বস্তুত, ইসলামের প্রাচীন ও আধুনিক বরেণ্য মনিষীবৃন্দ দরুদ পাঠের ফজিলত কীর্তন করতে, এর আধিক্যের প্রতি উৎসাহিত করতে এবং এর রহস্য ও উপকারিতা ব্যাখ্যা করতে অত্যন্ত নিপুণতা প্রদর্শন করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ সংক্ষেপে আবার কেউ বিস্তারিতভাবে, কেউ বিশদভাবে আবার কেউ সারসংক্ষেপে তা আলোকপাত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ৬)
والكلّ يستقون من سنّة المصطفى، ويروون في فضلها أحا‌‌ديث من لا ينطق عن الهوى صلى الله عليه وسلم، وآثار سلفنا الصالحين أولي القرون الخيّرة.

وكان ممن أدلى بدلوه في هذا الشّان، وألّف في فضلها وفوائدها علّامة عصره، وفقيه مصره، ومحدث قطره، الشيخ أحمد بن ح‌‌جر الهيتمي، صاحب التاليف النافعة، والمباحث الهامّة، المبرز في علمي الرواية والدّراية، فكان كتابه واسطة العقد بين المؤلفات، لما حوى من عيون الفوائد وغرر التنبيهات، وهو وإن كان خميص المباني فإنه بطين المعاني، جمع بين التحقيق وحسن السبك، وتطابق الاسم والمسمّى، فكان درّا منضودا، وأسلوبا متميزا، وسفرا حافلا بكلّ معنى بديع، ولا غرو فمحبّره من فحول المؤلفين، والأساتذة المتفقهين.

 

(ج)

ولا مراء أنّ نشر هذا الكتاب وأترابه في هذا العصر المتخم بالملاهي والمغريات، من أهم المطلوبات، فقد أصبحت الأرواح مثقلة بالنزوع إلى الملذّات والشّهوات، والأنفس موثقة بأغلال العصيان، والقلوب نافرة عن طاعة الدّيان، فكان الناس بحاجة إلى التذكير بفضل الصّلاة والسّلام على البشير النذير، فإنها دواء القلوب القاسية، وصقل للأرواح النّائية عن رياض الذّكر.

 

(د)

ولما كان لهذا الكتاب المبارك خصائصه وصداه في عالم المعرفة.. احتضنته دار المنهاج خدمة للإسلام وأهله، وأعادت طباعته في ثوب قشيب، وتحقيق مفيد، معتمدة في ذلك على أصول صحيحة، ونسخ عديدة؛ ليخرج الكتاب مبرّأ من وصمة التصحيف، وعيب التحريف، ويعانق حسن المظهر جمال المحتوى، إضافة إلى تعليقات نافعة، وإيضاحات يتطلبها السّياق في بعض المواطن.

والله وليّ التّوفيق

الناشر
সবাই মুস্তফার সুন্নাহ থেকে সিক্ত হন এবং এর ফযিলত সম্পর্কে তাঁর হাদীসসমূহ বর্ণনা করেন যিনি খেয়াল-খুশি থেকে কথা বলেন না (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন), আর বর্ণনা করেন আমাদের নেককার সালাফদের আছার যারা ছিল শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের অধিকারী।

এই ক্ষেত্রে যারা নিজেদের অবদান রেখেছেন এবং এর ফযিলত ও উপকারিতা সম্পর্কে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন নিজ সময়ের আল্লামা, নিজ ভূখণ্ডের ফকিহ এবং নিজ অঞ্চলের মুহাদ্দিস, শেখ আহমদ ইবনে হাজর আল-হাইতামি। তিনি ছিলেন বহু উপকারী গ্রন্থ ও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার রচয়িতা এবং রিওয়ায়াত ও দিরায়াত শাস্ত্রে পারদর্শী। ফলে তাঁর এই কিতাবটি বিভিন্ন রচনার মধ্যে মধ্যমণির সমতুল্য হয়ে উঠেছে, কারণ এতে সংগৃহীত হয়েছে সারগর্ভ উপকারিতা ও শ্রেষ্ঠ সতর্কবার্তাসমূহ। কিতাবটির অবয়ব সংক্ষিপ্ত হলেও এর অর্থ অত্যন্ত গভীর; এটি সূক্ষ্ম গবেষণা ও চমৎকার শৈলীর এক অপূর্ব সমন্বয়, যেখানে নাম ও বিষয়বস্তুর পূর্ণ মিল রয়েছে। এটি যেন সুসজ্জিত এক মুক্তোমালা, এক স্বতন্ত্র শৈলী এবং প্রতিটি চমৎকার অর্থে ভরপুর এক গ্রন্থ। আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ এর লেখক হলেন বড় মাপের গ্রন্থকার এবং গভীর প্রজ্ঞাসম্পন্ন ফকিহ উস্তাদদের একজন।

 

(গ)

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আমোদ-প্রমোদ ও প্রলোভনে আকীর্ণ বর্তমান এই যুগে এই কিতাব ও এর সমজাতীয় গ্রন্থগুলোর প্রকাশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চাহিদার অন্তর্ভুক্ত। কেননা বর্তমানে আত্মাগুলো ভোগবিলাস ও প্রবৃত্তির আকাঙ্ক্ষায় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে, নফস অবাধ্যতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়েছে এবং অন্তরসমূহ বিচার দিবসের মালিকের আনুগত্য থেকে বিমুখ হয়েছে। তাই মানুষের জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী নবীর প্রতি দরুদ ও সালামের ফযিলত স্মরণ করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন ছিল। কারণ এটি হলো কঠোর হৃদয়ের মহৌষধ এবং যিকিরের কানন থেকে দূরে সরে যাওয়া আত্মার পরিচ্ছন্নতার হাতিয়ার।

 

(ঘ)

যেহেতু এই বরকতময় কিতাবটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও জ্ঞানজগতে এর প্রভাব রয়েছে, তাই দারুল মিনহাজ ইসলাম ও মুসলিমদের সেবায় একে গ্রহণ করেছে। তারা সঠিক মূলপাঠ ও একাধিক পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে কিতাবটিকে নতুন সাজে ও উপকারী গবেষণাসহ পুনরায় মুদ্রণ করেছে; যেন কিতাবটি ভুল পাঠ ও বিকৃতির কলঙ্ক থেকে মুক্ত হয়ে আত্মপ্রকাশ করে এবং এর বাহ্যিক সৌন্দর্য যেন বিষয়বস্তুর মাধুর্যের সাথে মিতালি করে। সাথে যুক্ত করা হয়েছে উপকারী টীকা এবং নির্দিষ্ট স্থানে প্রসঙ্গ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা।

আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।

প্রকাশক
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌ترجمة الإمام الفقيه أحمد ابن حجر الهيتمي المكي «1»

 

‌‌اسمه ونسبه:

هو الشيخ العلامة الفقيه الإمام أحمد بن محمد بن محمد بن علي بن حجر السّلمنتي، الهيتمي، الأزهري، الوائلي، السعدي، المكي، الأنصاري، الشافعي.

سمي ب (ابن حجر) لأن جده كان ملازما للصمت.

والسّلمنتي: نسبة إلى (سلمنت) من بلاد حرام، من أقاليم مصر الشرقية؛ حيث كانت أسرته بها قبل انتقالها إلى محلة أبي الهيتم.

والهيتمي- بالتاء المثناة الفوقية-: نسبة إلى محلة أبي الهيتم «2» ، قرية من أعمال مصر الغربية.

والأزهري: نسبة للأزهر.

وابن حجر- رحمه الله من بني سعد من الأنصار الذين هاجروا إلى مصر أيام الفتوحات، وهم من بطون قبيلة وائلة.

--------------------------------------------

(1) مصادر الترجمة: «النور السافر» (ص 390) ، «الأعلام» (1/ 234) ، «شذرات الذهب» (10/ 541) ، «معجم المؤلفين» (2/ 293) ، مقدمة «الفتاوى الفقهية» لابن حجر بقلم بعض تلامذته، «ابن حجر المكي وجهوده في الكتابة التاريخية» د. لمياء شافعي ط (1418 هـ) عن مكتبة ومطبعة الغد، «الإمام ابن حجر الهيتمي وأثره في الفقه الشافعي» ، أمجد رشيد محمد علي، رسالة ماجستير بالجامعة الأردنية (1420 هـ) .

(2) وفي «التاج» أنها مغيّرة من أبي الهيثم، وتجمع على (الهياتم) ، وهي مجموعة قرى.
ইমাম ফকিহ আহমাদ ইবনে হাজার আল-হাইতামি আল-মাক্কির জীবনী «১»

 

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন শায়খ, আল্লামা, ফকিহ, ইমাম আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আস-সালমানতি, আল-হাইতামি, আল-আযহারি, আল-ওয়ায়িলি, আস-সাদি, আল-মাক্কি, আল-আনসারি, আশ-শাফিয়ি।

তাঁকে 'ইবনে হাজার' (পাথরের পুত্র) বলা হতো কারণ তাঁর দাদা সর্বদা নীরবতা পালন করতেন (পাথরের মতো স্থির থাকতেন)।

আস-সালমানতি: এটি মিশরের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশসমূহের অন্তর্গত হারাম অঞ্চলের 'সালমানত' নামক স্থানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত; তাঁর পরিবার মাহাল্লাতে আবি আল-হাইতামে স্থানান্তরিত হওয়ার আগে সেখানে বসবাস করত।

আল-হাইতামি—ওপরের দুই নুকতা বিশিষ্ট 'তা' বর্ণ সহকারে—: এটি মিশরের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোর অন্তর্গত একটি গ্রাম 'মাহাল্লাতে আবি আল-হাইতাম' «২» এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত।

আল-আযহারি: আল-আযহারের সাথে সম্বন্ধযুক্ত।

ইবনে হাজার—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—আনসারদের বনু সাদ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা ইসলামের বিজয়াভিযানের যুগে মিশরে হিজরত করেছিলেন; তাঁরা ওয়ায়িলা গোত্রের একটি শাখা।

--------------------------------------------

(১) জীবনীর উৎসসমূহ: «আন্-নূরুস সাফির» (পৃ. ৩৯০), «আল-আ'লাম» (১/ ২৩৪), «শাযারাতুয যাহাব» (১০/ ৫৪১), «মুজামুল মুআল্লিফীন» (২/ ২৯৩), ইবনে হাজারের কয়েকজন ছাত্রের লেখনীতে তাঁর «আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যাহ» গ্রন্থের ভূমিকা, ড. লামিয়া শাফিয়ি রচিত «ইবনে হাজার আল-মাক্কি এবং ঐতিহাসিক লেখনীতে তাঁর অবদান» সংস্করণ (১৪১৮ হি.), মাকতাবা ওয়া মাতবাআতুল গাদ থেকে প্রকাশিত, আমজাদ রশিদ মুহাম্মাদ আলী রচিত «ইমাম ইবনে হাজার আল-হাইতামি এবং শাফিয়ি ফিকহে তাঁর প্রভাব», জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স থিসিস (১৪২০ হি.)।

(২) এবং «আত-তাজ» গ্রন্থে এসেছে যে, এটি মূলত 'আবি আল-হাইসাম' থেকে পরিবর্তিত হয়েছে, এর বহুবচন হলো 'আল-হায়াতিম', যা কতগুলো গ্রামের সমষ্টি।
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌مولده ونشأته:

ولد بمحلة أبي الهيتم في رجب أواخر سنة (909 هـ) ، ومات أبوه وهو صغير، فكفله جده لأبيه- الذي عمّر أكثر من مئة وعشرين عاما- ثم مات الجد، فكفله شيخا أبيه الإمامان: الشمس الشناوي، والشمس محمد السروي ابن أبي الحمائل.

ثم إن الشناوي تولى رعايته ونقله إلى مقام السيد البدوي بطنطا، حيث تلقى مبادىء العلوم هناك.

 

‌‌طلبه للعلم:

في سنة (924 هـ) نقله الشمس الشناوي إلى الجامع الأزهر، فبدأ بقراءة الحديث، والنحو، والمعاني والبيان، والأصلين، والمنطق، والفرائض والحساب، والطب.

قال ابن حجر- رحمه الله بعد ذكره تحصيل هذه العلوم: (حتى أجاز لي أكابر أساتذتي بإقراء تلك العلوم وإفادتها، وبالتصدر لتحرير المشكل منها، بالتقرير والكتابة وإشادتها، ثم بالإفتاء والتدريس، على مذهب الإمام المطّلبيّ الشافعي ابن إدريس، ثم بالتصنيف والتأليف، فكتبت من المتون والشروح ما يغني روايته عن الإطناب في مدحه، والإعلام بشرحه، كل ذلك وسني دون العشرين) اهـ «1»

 

‌‌شيوخه:

أخذ الإمام ابن حجر عن جمع من كبار علماء عصره، ولقي عددا من كبار المعمّرين والمسندين من العلماء، وصنف في أخذه عنهم وتراجمهم «ثبتا» ضمّنه أخبارهم، وأسانيده الشهيرة إلى أمات كتب العلم، ونحن ذاكرون هنا أبرزهم وأجلهم بحسب ترتيب وفياتهم:

--------------------------------------------

(1) «ثبت ابن حجر» (ق 21/ أ- ب) .
তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা:

তিনি ৯০৯ হিজরি সনের রজব মাসের শেষের দিকে আবু হাইতাম মহল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই তাঁর পিতা মারা যান, ফলে তাঁর দাদা—যিনি একশ বিশ বছরেরও বেশি সময় বেঁচে ছিলেন—তাঁকে লালন-পালনের দায়িত্ব নেন। পরে তাঁর দাদাও মারা গেলে, তাঁর পিতার দুই শাইখ ইমাম শামস আশ-শিনাওয়ি এবং ইমাম শামস মুহাম্মদ আস-সারওয়ি ইবনু আবিল হামায়িল তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এরপর শিনাওয়ি তাঁর দেখাশোনার দায়িত্ব নেন এবং তাঁকে তানতার সায়্যিদ বাদাওয়ির মাকামে স্থানান্তরিত করেন, সেখানে তিনি ইলমের প্রাথমিক বিষয়গুলো অর্জন করেন।

 

তাঁর জ্ঞান অন্বেষণ:

৯২৪ হিজরিতে শামস আশ-শিনাওয়ি তাঁকে জামে আল-আজহারে নিয়ে যান। সেখানে তিনি হাদিস, নাহু (ব্যাকরণ), মাআনি ও বায়ান (অলংকারশাস্ত্র), আসলান (উসূলে দীন ও উসূলে ফিকহ), মানতিক (যুক্তিবিদ্যা), ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), হিসাব (গণিত) এবং তিব (চিকিৎসাবিজ্ঞান) অধ্যয়ন শুরু করেন।

ইবনু হাজার—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—এই সকল শাস্ত্র অর্জনের কথা উল্লেখ করার পর বলেন: (পরবর্তীতে আমার বড় বড় উস্তাদগণ আমাকে এই শাস্ত্রগুলো পড়ানোর, শিক্ষা দেওয়ার এবং কঠিন বিষয়গুলো লেখনী ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান ও প্রচার করার অনুমতি প্রদান করেন। এরপর ইমাম মুত্তালিবি শাফেয়ি ইবনু ইদরীসের মাযহাব অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান ও পাঠদানের অনুমতি দেন। এরপর গ্রন্থ রচনার অনুমতি দেন; ফলে আমি এমন সব মূল পাঠ ও ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছি যার বর্ণনা ও অস্তিত্বই তার উচ্চ প্রসংশার জন্য যথেষ্ট, এই সবকিছুই তখন সম্পন্ন হয়েছিল যখন আমার বয়স বিশ বছরেরও কম ছিল।) সমাপ্ত। «১»

 

তাঁর শিক্ষকগণ:

ইমাম ইবনু হাজার তাঁর সমসাময়িক একদল প্রবীণ আলেম থেকে ইলম অর্জন করেছেন। তিনি দীর্ঘায়ুপ্রাপ্ত এবং উচ্চ সনদধারী বহু আলেমের সাক্ষাত পেয়েছেন। তিনি যাঁদের কাছে ইলম অর্জন করেছেন তাঁদের জীবনী নিয়ে একটি 'ছাবাত' (সনদগ্রন্থ) রচনা করেছেন, যেখানে তাঁদের ঘটনাবলী এবং ইলমের মূল কিতাবসমূহের দিকে তাঁর প্রসিদ্ধ সনদসমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আমরা এখানে তাঁদের মৃত্যুসন অনুযায়ী তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বিশিষ্ট ও মর্যাদাশীল ব্যক্তিদের কথা উল্লেখ করছি:

--------------------------------------------

(১) «ছাবাতু ইবনি হাজার» (পত্র ২১/ ক-খ)।
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ৯)
1- شيخ الإسلام زكريا الأنصاري (826- 926 هـ) «1» ، أشهر فقهاء مصر في عصره، وإليه انتهت مشيخة الشيوخ، وكان هو الملجأ لكل المعضلات، له مصنفات عديدة اشتهرت بالبركة، مات رحمه الله عن مئة عام.

أخذ عن الحافظ ابن حجر العسقلاني، والبلقيني، والشهاب الغزي، والمراغي، والنويري، وطبقتهم.

أخذ عنه ابن حجر رحمه الله حديث الأولية، وكان معظّما له جدا، وكثيرا ما يحيل على مصنفاته، قال ابن حجر: (ما اجتمعت به قط.. إلا قال:

أسأل الله أن يفقهك في الدين) ، وأطنب في الثناء عليه في «ثبته» جدا، وقال في حقه: (أجلّ من وقع عليه بصري من العلماء العاملين، والأئمة الوارثين، وأعلى من عنه رويت ودريت من الفقهاء الحكماء المسندين … ) إلخ.

2- الإمام زين الدين عبد الحق بن محمد السنباطي (842- 931 هـ) «2» ، أحد صفوة العلماء الأعلام، وكان مولده بسنباط، ووفاته بمكة.

أخذ عن البدر العيني، والجلال البلقيني، وابن الهمام، والولي السنباطي، وأجاز له الحافظ العسقلاني.

درس عليه ابن حجر بعض الكتب الستة في جمع كثير، وأجازه بباقيها.

3- الشمس ابن أبي الحمائل (ت 932 هـ) «3» واسمه: محمد السروي.

أخذ عن الشرف المناوي يحيى بن محمد (ت 871 هـ)

وبه تخرج الشمس الشناوي، ووالد ابن حجر الشيخ محمد بن علي بن حجر.

4- الشهاب الصائغ، أحمد بن الصائغ الحنفي (ت 934 هـ) «4» . كان علامة في المعقول والمنقول.

--------------------------------------------

(1) «الشذرات» (10/ 187) ، «النور السافر» (ص 172) ، «الأعلام» (3/ 46) .

(2) «النور السافر» (ص 213) ، «الشذرات» (10/ 248) .

(3) «الشذرات» (10/ 259) .

(4) «الشذرات» (10/ 280) .
১- শায়খুল ইসলাম যাকারিয়া আল-আনসারী (৮২৬- ৯২৬ হিজরী), তাঁর যুগের মিশরের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ফকীহ ছিলেন এবং তাঁর মাধ্যমেই প্রধান শায়খ হওয়ার পদমর্যাদা সমাপ্ত হয়েছিল। তিনি সকল জটিল বিষয়ের আশ্রয়স্থল ছিলেন। তাঁর বহু গ্রন্থ রয়েছে যা বরকতের জন্য সুপরিচিত। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি একশত বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

তিনি হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানী, আল-বুলকিনী, আশ-শিহাব আল-গাযযী, আল-মারাগী, আন-নওয়াইরী এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন।

ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর নিকট থেকে ‘হাদিসে আউয়ালিয়াহ’ গ্রহণ করেছেন এবং তিনি তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করতেন এবং প্রায়শই তাঁর কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি দিতেন। ইবনে হাজার বলেন: (আমি যখনই তাঁর সাথে দেখা করেছি.. তখনই তিনি বলেছেন:

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তোমাকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করেন), এবং তিনি তাঁর ‘সাবাত’ (শিক্ষক ও সনদনামা) গ্রন্থে তাঁর অত্যন্ত প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: (আমলকারী আলেম ও উত্তরাধিকারী ইমামদের মধ্যে যাঁদের ওপর আমার দৃষ্টি পড়েছে, তাঁদের মাঝে তিনি মহানতম; আর প্রজ্ঞাবান ফকীহ ও সনদধারী আলেমদের মাঝে যাঁর থেকে আমি বর্ণনা করেছি ও জেনেছি, তাঁদের মধ্যে তিনি সর্বোচ্চ পর্যায়ের … ) ইত্যাদি।

২- ইমাম যায়নুদ্দীন আবদুল হক বিন মুহাম্মদ আস-সুনবাতী (৮৪২- ৯৩১ হিজরী), প্রখ্যাত আলেমদের মধ্যে অন্যতম সেরা ব্যক্তিত্ব। তাঁর জন্ম সুনবাতে এবং মৃত্যু মক্কায়।

তিনি বদরুল আইনী, জালাল আল-বুলকিনী, ইবনুল হুমাম, আল-ওয়ালী আস-সুনবাতী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং হাফেজ আল-আসকালানী তাঁকে অনুমতি (ইজাযাহ) প্রদান করেছিলেন।

ইবনে হাজার বিশাল জনসমাবেশে তাঁর নিকট কুতুবে সিত্তাহর কিছু অংশ পাঠ করেন এবং বাকি অংশগুলোর জন্য তিনি তাঁকে অনুমতি দেন।

৩- আশ-শামস ইবনে আবিল হামায়িল (মৃত্যু ৯৩২ হিজরী), তাঁর নাম: মুহাম্মদ আস-সারওয়ী।

তিনি শরফ আল-মুনাভী ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ (মৃত্যু ৮৭১ হিজরী) থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন।

তাঁর নিকট থেকেই আশ-শামস আশ-শিননাবী এবং ইবনে হাজারের পিতা শায়খ মুহাম্মদ বিন আলী বিন হাজার শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

৪- আশ-শিহাব আস-সায়েগ, আহমাদ বিন আস-সায়েগ আল-হানাফী (মৃত্যু ৯৩৪ হিজরী)। তিনি যুক্তিনির্ভর (মাকুল) এবং ঐতিহ্যনির্ভর (মানকুল) উভয় বিদ্যায় অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) ‘শাযারাত’ (১০/ ১৮৭), ‘আন-নূরুস সাফির’ (পৃষ্ঠা ১৭২), ‘আল-আ’লাম’ (৩/ ৪৬)।

(২) ‘আন-নূরুস সাফির’ (পৃষ্ঠা ২১৩), ‘শাযারাত’ (১০/ ২৪৮)।

(৩) ‘শাযারাত’ (১০/ ২৫৯)।

(৪) ‘শাযারাত’ (১০/ ২৮০)।
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ১০)
أخذ عن أمين الدين الأقصرائي، والتقي الشّمنّي، والكافيجي. وكان مبرّزا في الطب.

درس عليه ابن حجر رحمه الله علم الطب.

5- الشمس الدّلجي، محمد بن محمد بن محمد بن أحمد الدّلجي، العثماني، الشافعي، (860- 947 هـ) «1» المولود بدلجة، قرية بصعيد مصر غربي النيل.

أخذ بالقاهرة والشام عن جمع؛ منهم: البرهان البقاعي، والقطب الخيضري، وابن رزيق، والسّخاوي. وله شرح على «الشفا» .

أخذ عنه ابن حجر رحمه الله علم المعاني والبيان، وكذلك الأصلين والمنطق.

6- الشمس الضيروطي، محمد بن شعبان بن أبي بكر بن خلف الدمياطي، المشهور بابن عروس المصري، (870- 949 هـ) «2» .

أخذ عن الكمال ابن أبي شريف، والنور المحلّي. وقد درّس بمقام الإمام الشافعي، وله شرح على «المنهاج» للنووي، وغيره.

أخذ عنه ابن حجر رحمه الله علم النحو.

7- أحمد بن عبد الحق السنباطي، الشافعي، المصري (ت 950 هـ) «3» ، أخذ عن والده وتفقه به، ووعظ بالمسجد الحرام لمّا حجّ مع أبيه.

أخذ عنه ابن حجر رحمه الله الأصلين أيضا.

8- أبو الحسن البكري، محمد بن محمد بن عبد الرحمن البكري، الصديقي، الشافعي (ت 952 هـ) «4» .

--------------------------------------------

(1) «الشذرات» (10/ 386) ، «الأعلام» (7/ 56) ، «معجم المؤلفين» (3/ 670) .

(2) «معجم المؤلفين» (3/ 344) ، «هدية العارفين» (2/ 237) .

(3) «الشذرات» (10/ 402) .

(4) «الشذرات» (10/ 419) ، «معجم المؤلفين» (3/ 650) .
তিনি আমিনুদ্দিন আল-আকসারায়ি, তাকিউশ শামান্নি এবং আল-কাফিয়াজি থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি চিকিৎসাবিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন।

ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর নিকট চিকিৎসাবিদ্যা অধ্যয়ন করেছেন।

৫- আশ-শামস আদ-দালজি, মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ আদ-দালজি, আল-উসমানি, আশ-শাফিয়ি, (৮৬০- ৯৪৭ হিজরি) «১» তিনি মিসরের সাঈদ অঞ্চলের নীল নদের পশ্চিমে অবস্থিত দালজা নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি কায়রো এবং শামে একদল আলিমের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আল-বুরহান আল-বিকায়ি, আল-কুতুব আল-খাইদারি, ইবনে রুজাইক এবং আস-সাখাভি। 'আশ-শিফা' গ্রন্থের ওপর তাঁর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে।

ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর নিকট থেকে ইলমুল মাআনি ও বায়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র), সেইসাথে উসুলদ্বয় এবং মানতিক (যুক্তিবিদ্যা) শিক্ষা করেছেন।

৬- আশ-শামস আদ-দাইরুতি, মুহাম্মদ বিন শাবান বিন আবি বকর বিন খালাফ আদ-দামইয়াতি, যিনি ইবনে আরুস আল-মিসরি নামে প্রসিদ্ধ, (৮৭০- ৯৪৯ হিজরি) «২» ।

তিনি আল-কামাল ইবনে আবি শারিফ এবং আন-নূর আল-মহাল্লির নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি ইমাম শাফিয়ির মাকামে অধ্যাপনা করেছেন এবং নববির 'আল-মিনহাজ' ও অন্যান্য গ্রন্থের ওপর তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে।

ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর নিকট থেকে নাহু (ব্যাকরণ) বিদ্যা শিক্ষা করেছেন।

৭- আহমাদ বিন আব্দুল হক আস-সিনবাতি, আশ-শাফিয়ি, আল-মিসরি (মৃত্যু ৯৫০ হিজরি) «৩», তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে ফিকহশাস্ত্রে বুৎপত্তি লাভ করেছেন। তিনি যখন তাঁর পিতার সাথে হজ পালন করেন, তখন মসজিদে হারামে ওয়ায-নসিহত প্রদান করেন।

ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর নিকট থেকেও উসুলদ্বয় শিক্ষা করেছেন।

৮- আবুল হাসান আল-বাকরি, মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-বাকরি, আস-সিদ্দিকি, আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু ৯৫২ হিজরি) «৪» ।

--------------------------------------------

(১) «আশ-শাযারাত» (১০/ ৩৮৬), «আল-আ'লাম» (৭/ ৫৬), «মু'জামুল মুআল্লিফিন» (৩/ ৬৭০)।

(২) «মু'জামুল মুআল্লিফিন» (৩/ ৩৪৪), «হিদায়াতুল আরিফিন» (২/ ২৩৭)।

(৩) «আশ-শাযারাত» (১০/ ৪০২)।

(৪) «আশ-শাযারাত» (১০/ ৪১৯), «মু'জামুল মুআল্লিফিন» (৩/ ৬৫০)।
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ১১)
أخذ عنه ابن حجر رحمه الله عدة علوم، وقرأ بمعيته «صحيح مسلم» على شيخ الإسلام زكريا الأنصاري، وحجّا معا، وجاورا سنة (934 هـ) ، له شرح على «المنهاج» ، وعلى «العباب» في الفقه.

9- الشمس الحطابي، محمد بن محمد بن عبد الرحمن الحطاب، الرعيني، الأندلسي، (ت 954 هـ) «1» .

أخذ عن السخاوي، وعبد الحق، والنويري، وغيرهم.

أخذ عنه ابن حجر رحمه الله علم النحو والصرف.

10- الشهاب الرملي، أحمد بن أحمد بن حمزة الرملي، المصري، الشافعي (957 هـ) «2» ، من أجل تلامذة شيخ الإسلام زكريا، وصار بعد وفاة شيخه إمام علماء مصر.

قرأ عليه ابن حجر رحمه الله قبل العشرين.

كما أن ابن حجر أخذ عن يوسف الأرميوني، المتوفى سنة (958 هـ) .

والناصر اللقاني، المتوفى (958 هـ) ، الفقيه المالكي المعروف.

وناصر الدين الطبلاوي، محمد بن سالم الأزهري، المتوفى (966 هـ) .

بل إن بعض شيوخه مات بعده؛ كالعلامة الإمام محمد بن عبد الله الشنشوري الفرضي، المتوفى سنة (983 هـ) .

وعدد بعض الباحثين شيوخ ابن حجر فأوصلهم إلى (31) شيخا، ذكرنا أبرزهم وأجلهم «3» .

--------------------------------------------

(1) «الأعلام» (7/ 58) .

(2) «الشذرات» (10/ 454) .

(3) ومن أراد المزيد.. فعليه بكتاب: «ابن حجر الهيتمي وجهوده في الكتابة التاريخية» .
ইবনু হাজার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর নিকট থেকে বিভিন্ন জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তাঁর সঙ্গে একত্রে শাইখুল ইসলাম জাকারিয়া আল-আনসারীর কাছে ‘সহিহ মুসলিম’ পাঠ করেছেন। তাঁরা একত্রে হজ্জ পালন করেন এবং ৯৩৪ হিজরি সনে একত্রে মক্কায় অবস্থান (জিওয়ার) করেন। ফিকহ শাস্ত্রের ‘আল-মিনহাজ’ এবং ‘আল-উবাব’-এর ওপর তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে।

৯- আশ-শামস আল-হাত্তাবি, মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান আল-হাত্তাব, আর-রুয়াইনী, আল-আন্দালুসী, (মৃত্যু ৯৫৪ হিজরি) «১»।

তিনি আস-সাখাভী, আবদুল হক, আন-নুওয়াইরী এবং অন্যদের নিকট থেকে জ্ঞান লাভ করেন।

ইবনু হাজার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর নিকট থেকে নাহু ও সরফ শাস্ত্র শিক্ষা করেছেন।

১০- আশ-শিহাব আর-রামলি, আহমাদ বিন আহমাদ বিন হামজাহ আর-রামলি, আল-মিসরী, আশ-শাফিয়ী (৯৫৭ হিজরি) «২»। তিনি শাইখুল ইসলাম জাকারিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছাত্র ছিলেন এবং তাঁর শাইখের মৃত্যুর পর মিসরের আলেমদের প্রধান ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।

ইবনু হাজার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বিশ বছর বয়সের পূর্বেই তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেন।

অনুরূপভাবে ইবনু হাজার ইউসুফ আল-আরমিয়ুনি (মৃত্যু ৯৫৮ হিজরি) থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।

এবং আন-নাসির আল-লাক্কানি (মৃত্যু ৯৫৮ হিজরি), যিনি প্রসিদ্ধ মালিকি ফকিহ।

এবং নাসিরুদ্দিন আত-তাবলাভি, মুহাম্মাদ বিন সালিম আল-আজহারি (মৃত্যু ৯৬৬ হিজরি)।

এমনকি তাঁর কোনো কোনো শাইখ তাঁর পরবর্তী সময়ে মৃত্যুবরণ করেছেন; যেমন আল্লামা ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আশ-শানশুরি আল-ফারজি (মৃত্যু ৯৮৩ হিজরি)।

কোনো কোনো গবেষক ইবনু হাজারের শাইখদের সংখ্যা গণনা করে তাঁদের ৩১ জন পর্যন্ত পৌঁছেছেন, আমরা তাঁদের মধ্যে প্রধান ও মহান ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করেছি «৩»।

--------------------------------------------

(১) «আল-আলাম» (৭/ ৫৮)।

(২) «আশ-শাযারাত» (১০/ ৪৫৪)।

(৩) আর যারা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান, তাদের ‘ইবনু হাজার আল-হাইতামি ওয়া জুহুদিহু ফিল কিতাবাতিত তারিখিয়্যাহ’ নামক গ্রন্থটি দেখা উচিত।
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌مقاساته في الطلب وخروجه إلى مكة:

كان ابن حجر رحمه الله يتردد على مكة المكرمة، وقد جاور بها في بعض السنين.

وأول زيارة سنة (934 هـ) مع شيخه البكري.

ثم مرة ثانية سنة (938 هـ) .

ثم في سنة (940 هـ) قرر الرحلة إلى مكة والإقامة بها، وكان سبب خروجه من مصر ما حصل من سرقة بعض كتبه من قبل بعض الحسّاد، وهو كتابه «بشرى الكريم» الذي شرح به العباب شرحا عظيما، ولم يزل متأثرا بذلك الحادث، حتى إنه كان كثير الدعاء بالعفو عن ذلك الفاعل، ويقول:

سامحه الله وعفا عنه.

وقال ذاكرا مجاهداته والشدائد التي عاناها: (قاسيت في الجامع الأزهر من الجوع ما لا تحتمله الجبلة البشرية لولا معونة الله وتوفيقه، بحيث إني جلست فيه نحو أربع سنين ما ذقت اللحم إلا في ليلة، دعينا لأكل فإذا هو لحم يوقد عليه، فانتظرناه إلى أن ابهارّ الليل، ثم جيء به، فإذا هو يابس كما هو نيء، فلم أستطع منه لقمة.

وقاسيت أيضا من الإيذاء من بعض أهل الدروس التي كنا نحضرها ما هو أشد من ذلك الجوع، إلى أن رأيت شيخنا ابن أبي الحمائل قائما بين يدي سيدي أحمد البدوي، فجيء باثنين كانا أكثر إيذاء لي، فضربهما بين يديه فمزقا كل ممزق) «1» .

كل هذه الأسباب كانت حاملة له على مغادرة مصر والإقامة بمكة، فسكنها لمدة (34) سنة، حتى توفي بها، وكان منزله بالحريرة قريبا من سوق الليل، كما كانت له خلوة برباط الأشرف قايتباي بقرب المسجد الحرام.

--------------------------------------------

(1) مقدمة «الفتاوى الفقهية» (1/ 5) .
ইলম অন্বেষণে তাঁর কষ্ট এবং মক্কার উদ্দেশ্যে তাঁর যাত্রা:

ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) মক্কা মুকাররমায় বারবার যাতায়াত করতেন এবং কয়েক বছর সেখানে অবস্থান করেছিলেন।

তাঁর প্রথম সফর ছিল ৯৩৪ হিজরি সনে তাঁর শায়খ আল-বাকরির সাথে।

এরপর দ্বিতীয়বার ৯৩৮ হিজরি সনে।

অতঃপর ৯৪০ হিজরি সনে তিনি মক্কায় সফর ও সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর মিশর ত্যাগের কারণ ছিল কতিপয় হিংসুক ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁর কিছু কিতাব চুরি হওয়া। সেটি ছিল তাঁর কিতাব ‘বুশরাল কারিম’, যার মাধ্যমে তিনি ‘আল-উবাব’-এর এক বিশাল ব্যাখ্যা লিখেছিলেন। তিনি এই ঘটনার দ্বারা সর্বদা ব্যথিত থাকতেন, এমনকি তিনি সেই অপরাধীর ক্ষমার জন্য প্রচুর দোয়া করতেন এবং বলতেন:

আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন এবং মার্জনা করুন।

তিনি তাঁর সাধনা ও ভোগ করা কষ্টগুলোর কথা উল্লেখ করে বলেন: (আমি জামে আল-আজহারে ক্ষুধার এমন তীব্র কষ্ট সহ্য করেছি যা আল্লাহর সাহায্য ও তাওফিক না থাকলে মানব প্রকৃতির পক্ষে সহ্য করা সম্ভব ছিল না। আমি সেখানে প্রায় চার বছর এমনভাবে কাটিয়েছি যে, মাত্র এক রাত ছাড়া কখনো গোশত আস্বাদন করিনি। আমাদের এক রাতে খাওয়ার দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল, সেখানে গোশত রান্না করা হচ্ছিল। আমরা গভীর রাত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম, এরপর যখন তা আনা হলো, দেখা গেল সেটি কাঁচা অবস্থার মতোই শক্ত রয়ে গেছে। ফলে আমি তার এক লোকমাও খেতে পারিনি।

আমি পাঠচক্রের কিছু লোকের পক্ষ থেকে এমন কষ্ট ও লাঞ্ছনাও ভোগ করেছি যা সেই ক্ষুধার চেয়েও কঠিন ছিল। অবশেষে আমি আমাদের শায়খ ইবনে আবি আল-হামাইলকে সাইয়্যিদি আহমাদ আল-বাদাভীর সামনে দণ্ডায়মান অবস্থায় দেখলাম। তখন সেই দুই ব্যক্তিকে আনা হলো যারা আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিত। তিনি তাদের তাঁর সামনে প্রহার করলেন এবং তারা পুরোপুরি ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গেল) «১»।

এই সকল কারণ তাঁকে মিশর ত্যাগ করতে এবং মক্কায় বসবাস করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তিনি সেখানে ৩৪ বছর অবস্থান করেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর ঘর ছিল হারীরা এলাকায় সুকুল লাইলের নিকটে। এছাড়া মসজিদুল হারামের কাছে রিবাত আল-আশরাফ কাইতবায়-তে তাঁর একটি নির্জন ইবাদতখানা ছিল।

--------------------------------------------

(১) আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যাহ-এর ভূমিকা (১/৫)।
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌زملاؤه وأقرانه:

كان لابن حجر رحمه الله أقران وزملاء كثر، منهم:

1- شمس الدين، محمد بن أحمد الرملي، (919- 1004 هـ) ، وقد شارك ابن حجر رحمه الله في الأخذ عن والده الشهاب الرملي المتقدم ذكره، وشاركه في القراءة والحضور على شيخ الإسلام زكريا الأنصاري في «صحيح البخاري» .

وكانا كفرسي رهان، وجرت بينهما خلافات فقهية، ومسائل علمية، وخلافهما من الخلاف المعتبر عند متأخري فقهاء الشافعية، وألفت الرسائل والكتب في ذكر الخلاف بينهما في مسائل الفقه «1» .

2- العلامة المحدث بدر الدين الغزي، الشافعي (ت 984 هـ) ، لقيه بمصر، وقرأ بمعيته بعض «صحيح البخاري» على شيخ الإسلام زكريا الأنصاري، ثم اجتمع به في مكة سنة (952 هـ) .

3- العلامة عبد العزيز بن علي الزمزمي، الشافعي، المكي (ت 976 هـ) ، كان من أعز أصحابه بعد سكناه أم القرى، وكان يسير معه للقاء الشيوخ والأعيان، وقد أصهر ابنه الشيخ محمد بن عبد العزيز عند مترجمنا ابن حجر رحمه الله وأعقب مفتي مكة العلامة عبد العزيز الثاني بن محمد الزمزمي، وقد أدرك جده، وأخذ عنه.

--------------------------------------------

(1) فمن ذلك: منظومة «كشف الغطاء واللبس عن اختلاف ابن حجر والشمس» للفقيه مصطفى بن إبراهيم بن حسن العلواني، الشافعي (ت 1193 هـ) ، منه نسخة بخزانة الرباط العامة (1902 د) . «إثمد العينين في بيان اختلاف الشيخين» للشيخ الفقيه علي بن أحمد باصبرين، الدوعني، الحضرمي، ثم الحجازي (ت 1305 هـ) . «فتح العلي في الخلاف بين ابن حجر والرملي» للسيد الفقيه عمر بن حامد بن عمر بافرج، العلوي، الحسيني، التريمي، الحضرمي (1252- 1274 هـ) منه نسخة بتريم (3033) .
‌‌তাঁর সহকর্মী ও সমসাময়িকগণ:

ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বহু সমসাময়িক এবং সহকর্মী ছিলেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

১- শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আর-রামলি (৯১৯-১০০৪ হিজরি)। তিনি তাঁর পিতা শিহাব আর-রামলি—যাঁর কথা আগে উল্লেখ করা হয়েছে—তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সাথে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং শাইখুল ইসলাম জাকারিয়া আল-আনসারীর কাছে ‘সহিহ আল-বুখারি’ পাঠ ও শ্রবণে তাঁর সঙ্গী ছিলেন।

তাঁরা দুজনে ছিলেন প্রতিযোগিতায় লিপ্ত দুই ঘোড়ার মতো। তাঁদের মধ্যে ফিকহশাস্ত্রীয় ও ইলমি বিভিন্ন বিষয়ে মতভেদ ছিল। শাফিয়ি মাজহাবের পরবর্তী যুগের ফকিহদের কাছে তাঁদের এই মতভেদগুলো গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত। ফিকহি মাসয়ালাসমূহের ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যকার এই মতভেদগুলো নিয়ে স্বতন্ত্র রিসালা এবং গ্রন্থাদি সংকলিত হয়েছে (১)।

২- আল্লামা মুহাদ্দিস বদরুদ্দিন আল-গাজ্জি শাফিয়ি (মৃত্যু ৯৮৪ হিজরি)। তিনি মিশরে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং শাইখুল ইসলাম জাকারিয়া আল-আনসারীর কাছে তাঁর সঙ্গে একত্রে ‘সহিহ আল-বুখারি’-এর কিছু অংশ পাঠ করেন। পরবর্তীতে ৯৫২ হিজরিতে মক্কায় পুনরায় তাঁদের সাক্ষাৎ হয়।

৩- আল্লামা আব্দুল আজিজ ইবনে আলী আল-জামজামি শাফিয়ি মক্কি (মৃত্যু ৯৭৬ হিজরি)। তিনি মক্কায় (উম্মুল কুরা) বসবাসের পর ইবনে হাজারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন ছিলেন। শাইখ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাতের সময় তিনি তাঁর সফরসঙ্গী হতেন। তাঁর ছেলে শেখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আমাদের জীবনীকার ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পরিবারের সাথে বৈবাহিক আত্মীয়তায় আবদ্ধ হন এবং তাঁর থেকে মক্কার মুফতি আল্লামা দ্বিতীয় আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ আল-জামজামির জন্ম হয়, যিনি তাঁর দাদাকে পেয়েছিলেন এবং তাঁর কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) এ জাতীয় গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: ফকিহ মোস্তফা ইবনে ইব্রাহিম ইবনে হাসান আল-আলওয়ানি শাফিয়ি (মৃত্যু ১১৯৩ হিজরি) রচিত কাব্যগ্রন্থ ‘কাশফুল গিতা ওয়াল লুবস আন ইখতিলাফি ইবনে হাজার ওয়াশ শামস’। এর একটি পাণ্ডুলিপি রাবাত সাধারণ লাইব্রেরিতে (১৯০২ দ) সংরক্ষিত আছে। শাইখ ফকিহ আলী ইবনে আহমদ বা-সাবরিন দাওয়ানি হাদরামি হিজাজি (মৃত্যু ১৩০৫ হিজরি) রচিত ‘ইসমাদুল আইনাইন ফি বয়ানি ইখতিলাফিশ শাইখাইন’। এবং সাইয়্যেদ ফকিহ ওমর ইবনে হামিদ ইবনে ওমর বা-ফারাজ আলাওয়ি হুসাইনি তারীমি হাদরামি (১২৫২-১২৭৪ হিজরি) রচিত ‘ফাতহুল আলি ফিল খিলাফি বাইনা ইবনে হাজার ওয়ার রামলি’। এর একটি পাণ্ডুলিপি তারীমে (৩০৩৩) সংরক্ষিত আছে।
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌تلامذته:

بعد استقرار الإمام الهيتمي رحمه الله بمكة.. شاع حديثه، وانتشر ذكره في الآفاق، فقصده طلاب العلم من كل فج، وتخرج به أكابر الفقهاء في القرن العاشر الهجري، فمن أعلام تلامذته وكبارهم:

1- الفقيه الإمام الشيخ عبد الرحمن بن عمر بن أحمد العمودي، (ت 967 هـ) ، من أهل قيدون بحضرموت «1» .

قال في حقه العلامة عبد القادر الفاكهي- تلميذه-: (أخذ عنه أخذ رواية، أخذ شيخ عن شيخ، كما قيل في أخذ أحمد عن الشافعي) اهـ

2- العلامة المتفنن الشيخ عبد القادر بن أحمد بن علي الفاكهي، المكي، الشافعي (920- 982 هـ) ، له مؤلفات كثيرة، أخذ عن ابن حجر رحمه الله ولازمه طويلا، وصنف رسالة سماها: «فضائل ابن حجر الهيتمي» «2» .

3- العلامة الشيخ عبد الرؤوف بن يحيى بن عبد الرؤوف الزمزمي الواعظ (930- 984 هـ) ، من أكبر تلامذة ابن حجر، أخذ عنه فأكثر، درس على يديه عدة فنون، وهو الذي جمع فتاوى شيخه الكبرى، وشرح «مختصر الإيضاح» له، وغير ذلك، ويخطىء بعض الناس فيظنه محمد عبد الرؤوف المناوي!! «3»

4- محدث الهند الإمام العلامة محمد طاهر الفتّني، الهندي، الحنفي «4» ، (913- 986 هـ) ، له «مجمع بحار الأنوار في غرائب التنزيل ولطائف الأخبار» مطبوع، أخذ عن ابن حجر الهيتمي، وأبي الحسن البكري.

--------------------------------------------

(1) «النور السافر» (ص 358) ، «الشذرات» (10/ 509) .

(2) «النور السافر» (ص 464) ، «الشذرات» (10/ 582) .

(3) ترجمه الشلي في «السنا الباهر» (خ 738) .

(4) «النور السافر» (ص 475) ، «الشذرات» (10/ 601) .
তাঁর ছাত্রগণ:

ইমাম হাইতামী (রাহিমাহুল্লাহ) মক্কায় স্থায়ী হওয়ার পর তাঁর আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁর খ্যাতি দিগন্তে বিস্তৃত হয়। ফলে জ্ঞানের সন্ধানী শিক্ষার্থীরা দূর-দূরান্ত থেকে তাঁর কাছে আসতে শুরু করেন এবং হিজরি দশম শতাব্দীর প্রথিতযশা ফকিহগণ তাঁর নিকট শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর বিশিষ্ট ও বড় ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন:

১- ফকিহ ইমাম শাইখ আব্দুর রহমান ইবনে ওমর ইবনে আহমদ আল-আমূদী (মৃত্যু ৯৬৭ হি.), হাদরামাউতের কায়দুন অধিবাসী «১»।

তাঁর ব্যাপারে তাঁর ছাত্র আল্লামা আব্দুল কাদির আল-ফাকিহী বলেন: (তিনি তাঁর থেকে বর্ণনার মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, যা ছিল একজন শাইখের কাছ থেকে অন্য একজন শাইখের শিক্ষা গ্রহণের মতো; যেমনটি ইমাম আহমাদ কর্তৃক ইমাম শাফিয়ী থেকে জ্ঞান অর্জনের বিষয়ে বলা হয়ে থাকে) সমাপ্ত।

২- বহু বিদ্যায় পারদর্শী আল্লামা শাইখ আব্দুল কাদির ইবনে আহমদ ইবনে আলী আল-ফাকিহী আল-মাক্কী আশ-শাফিয়ী (৯২০-৯৮২ হি.)। তাঁর বহু গ্রন্থ রয়েছে। তিনি ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেন এবং দীর্ঘকাল তাঁর সান্নিধ্যে থাকেন। তিনি ‘ফাদায়েলু ইবনে হাজার আল-হাইতামী’ নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন «২»।

৩- আল্লামা শাইখ আব্দুর রউফ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুর রউফ আজ-জামজামী আল-ওয়াইয (৯৩০-৯৮৪ হি.)। তিনি ইবনে হাজারের অন্যতম বড় ছাত্র। তিনি তাঁর থেকে প্রচুর পরিমাণে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তাঁর নিকট বিভিন্ন বিষয়ে পাঠ গ্রহণ করেছেন। তিনিই তাঁর শাইখের ‘ফাতাওয়া আল-কুবরা’ সংকলন করেছেন এবং তাঁর ‘মুখতাসারুল ঈদাহ’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন। কিছু মানুষ ভুলবশত তাঁকে মুহাম্মদ আব্দুর রউফ আল-মুনাউয়ি মনে করেন!! «৩»

৪- ভারতের মুহাদ্দিস ইমাম আল্লামা মুহাম্মদ তাহের আল-ফাত্তানি আল-হিন্দি আল-হানাফি «৪» (৯১৩-৯৮৬ হি.)। তাঁর রচিত ‘মাজমাউ বিহারিল আনোয়ার ফি গারায়িবিত তানজিল ওয়া লাতায়িফিল আখবার’ গ্রন্থটি মুদ্রিত হয়েছে। তিনি ইবনে হাজার আল-হাইতামী এবং আবুল হাসান আল-বাকরির নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ‘আন-নূরুস সাফির’ (পৃ. ৩৫৮), ‘আশ-শাযারাত’ (১০/ ৫০৯)।

(২) ‘আন-নূরুস সাফির’ (পৃ. ৪৬৪), ‘আশ-শাযারাত’ (১০/ ৫৮২)।

(৩) আশ-শিল্লি ‘আস-সানাল বাহির’ (খ ৭৩৮) গ্রন্থে তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন।

(৪) ‘আন-নূরুস সাফির’ (পৃ. ৪৭৫), ‘আশ-শাযারাত’ (১০/ ৬০১)।
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
5- السيد الشريف الإمام العلامة الفقيه شيخ بن عبد الله بن شيخ العيدروس، (الأوسط) مصنف «العقد النبوي» ، (919- 990 هـ) ، أخذ عن أبيه وشيوخ تريم، وجاور بمكة ثلاث سنين، من (941) إلى (944 هـ) ملازما لطلب العلم والعبادة، فأخذ عن الشيخ ابن حجر وعبد الله باقشير وآل الفاكهي وغيرهم، وله من ابن حجر إجازة فاخرة «1» .

6- الإمام شهاب الدين أحمد بن قاسم العبّادي، المصري، الشافعي، الأصولي، المتكلم، (ت 994 هـ) ، له حواش على تحفة شيخه ابن حجر، اعترض فيها على مواضع منها، وله حاشية على «الورقات» تسمى: «الآيات البينات» ، وغير ذلك «2» .

7- السيد الشريف العلامة القاضي عبد الرحمن ابن الشيخ شهاب الدين الأكبر العلوي، الحسيني، التريمي (945- 1014 هـ) ، أخذ عن شيوخ عصره، وجاور بمكة مدة، وأخذ بها عن الشيخ ابن حجر الهيتمي «3» .

 

‌‌مؤلفاته:

عدها بعض الباحثين فبلغت (117) مؤلفا في شتى فنون العلم؛ من حديث، وفقه، وسيرة، وتراجم، ونحو، وأدب، وأخلاق، وعقيدة، وغير ذلك.

إلا أن أبرز الفنون التي اشتهر بها- رحمه الله هو علم الفقه، وله في ذلك اليد الطولى، وما «تحفته» التي عليها المدار والاعتماد في الإفتاء عند الشافعية.. إلا أصدق دليل على ذلك.

ومن مؤلفاته رحمه الله:

1- «الفتح المبين بشرح الأربعين» ، يعني: «الأربعين النووية» ، طبع

--------------------------------------------

(1) ترجمته عند ابنه في «النور السافر» (ص 488) ، و «شذرات الذهب» (10/ 620) .

(2) «الشذرات» (10/ 636) .

(3) «المشرع الروي» (2/ 127) .
৫- আস-সাইয়িদ আশ-শরিফ আল-ইমাম আল-আল্লামাহ আল-ফকিহ শায়খ বিন আব্দুল্লাহ বিন শায়খ আল-আইদারুস, (আল-আওসাত) ‘আল-ইকদুন নববী’ গ্রন্থের রচয়িতা, (৯১৯-৯৯০ হি.), তিনি তাঁর পিতা ও তারিমের শায়খগণের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি ৯৪১ থেকে ৯৪৪ হিজরি পর্যন্ত তিন বছর মক্কায় অবস্থান করে ইলম অর্জন ও ইবাদতে নিমগ্ন ছিলেন। সেখানে তিনি শায়খ ইবনে হাজার, আব্দুল্লাহ বা-কাশির, আল-ফাকিহি পরিবার ও অন্যদের নিকট ইলম হাসিল করেন। ইবনে হাজারের পক্ষ থেকে তাঁর একটি উচ্চমর্যাদাপূর্ণ ইজাজত (অনুমতিপত্র) রয়েছে।

৬- ইমাম শিহাবুদ্দিন আহমাদ বিন কাসিম আল-আব্বাদি, আল-মিসরি (মিসরীয়), আশ-শাফিয়ি, উসুলিবিদ, মুতাকাল্লিম, (মৃত ৯৯৪ হি.), তাঁর উস্তাদ ইবনে হাজারের ‘তুহফাহ’ গ্রন্থের ওপর তাঁর টীকা রয়েছে, যেখানে তিনি বেশ কিছু বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এছাড়াও ‘আল-ওয়ারাকাত’ এর ওপর তাঁর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে যার নাম ‘আল-আয়াতুল বাইয়্যিনাত’, এবং আরও অন্যান্য রচনা রয়েছে।

৭- আস-সাইয়িদ আশ-শরিফ আল-আল্লামাহ আল-কাদি আব্দুর রহমান ইবনুশ শায়খ শিহাবুদ্দিন আল-আকবার আল-আলাওয়ি, আল-হুসাইনি, আত-তারিমি (৯৪৫-১০১৪ হি.), তিনি তাঁর যুগের বিশিষ্ট শায়খদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি মক্কায় কিছুকাল অবস্থান করেন এবং সেখানে শায়খ ইবনে হাজার আল-হাইতামির নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন।

 

‌‌তাঁর রচনাবলী:

গবেষকগণ তাঁর রচনাবলী গণনা করেছেন যা হাদীস, ফিকহ, সিরাত, জীবনীগ্রন্থ, নাহু (ব্যাকরণ), আদব (সাহিত্য), আখলাক (চরিত্র গঠন), আকিদাহসহ বিভিন্ন বিষয়ে ১১৭টিতে পৌঁছেছে।

তবে তিনি যে বিষয়ের জন্য সর্বাধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন—তা হলো ফিকহ শাস্ত্র। এই শাস্ত্রে তাঁর অসামান্য পাণ্ডিত্য ছিল। শাফিয়ি মাযহাবের ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে যার ওপর মূল নির্ভরতা ও আবর্তন, সেই ‘তুহফাহ’ গ্রন্থটিই এর সপক্ষে সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

তাঁর রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন):

১- ‘আল-ফাতহুল মুবিন বি শারহিল আরবাঈন’, অর্থাৎ: ‘আরবাঈন আন-নববী’র ব্যাখ্যাগ্রন্থ, এটি মুদ্রিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী তাঁর পুত্র কর্তৃক ‘আন-নূরুস সাফির’ (পৃ. ৪৮৮) এবং ‘শাযারাতুয যাহাব’ (১০/৬২০) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

(২) ‘আশ-শাযারাত’ (১০/৬৩৬)।

(৩) ‘আল-মাশরা’ আল-রাবী’ (২/১২৭)।
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
بمصر سنة (1307 هـ) ، وعليه حاشية للشيخ حسن المدابغي المصري، وهو شرح مفيد ونافع.

2- «الفتاوى الحديثية» ، طبع عدة مرات، وفيها فوائد عزيزة المنال، وليست خاصة بعلم الحديث، بل اشتملت على عدة فنون.

3- «فتح الإله بشرح المشكاه» مخطوط، صنفه سنة (954 هـ) بعد إلحاح وطلب من بعض علماء الهند، وهو شرح على «مشكاة المصابيح» في الحديث.

4- «الفتاوى الفقهية الكبرى» ، جمعها بعض كبار تلامذته- وهو عبد الرؤوف الواعظ الزمزمي- طبعت بمصر قديما، وهي في (4) مجلدات، وبهامشه فتاوى الشهاب الرملي.

5- «تحفة المحتاج بشرح المنهاج» ، صنفه ابن حجر رحمه الله في ستة أشهر فقط، وهو كتاب مهم ومحقق في فقه السادة الشافعية، وعليه مدار الفتوى في حضرموت خصوصا وبعض بلدان المسلمين، وقد وضعت عليها الحواشي العديدة، واعتنى بها علماء الشافعية من شتى البلدان، واختصرها البعض، وحشّى عليها البعض «1» .

--------------------------------------------

(1) فمن ذلك: - حاشية لابن حجر نفسه تسمّى: «طرفة الفقير بتحفة القدير» ، ذكرها صاحب «النور السافر» وغيره. - «حاشية» للفقيه أحمد بن قاسم العبّادي (ت 994 هـ) تلميذه، وهي مطبوعة بهامش «التحفة» . - «حاشية» لحفيده رضي الدين بن عبد الرحمن بن حجر، ردّ بها اعتراضات العبّادي. - «حاشية» للسيد عمر بن عبد الرحيم البصري الحسيني المكي الشافعي، وهو من تلامذة ابن حجر، وحاشيته هذه طبعت مستقلة بهامش التحفة في (4) مجلدات كبيرة بمصر. - «حاشية» العلامة عبد الله سعيد باقشير المكي، (ت 1076 هـ) ، وهي في ربع العبادات فقط. -
মিশরে (১৩০৭ হিজরি) সনে [মুদ্রিত], এর ওপর শেখ হাসান আল-মাদাবিগি আল-মিসরীর একটি টীকা (হাশিয়া) রয়েছে, যা একটি দরকারী ও উপকারী ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

২- «আল-ফাতাওয়াল হাদিসিয়্যাহ», এটি কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে, এতে রয়েছে বহু দুর্লভ জ্ঞানগর্ভ আলোচনা। এটি কেবল হাদিস শাস্ত্রের জন্য নির্দিষ্ট নয়, বরং এতে বিভিন্ন শাস্ত্রের সমাবেশ ঘটেছে।

৩- «ফাতহুল ইলাহ বি-শারহিল মিশকাত» এটি একটি পাণ্ডুলিপি। ভারতের কিছু আলেমদের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধের প্রেক্ষিতে তিনি (৯৫৪ হিজরি) সনে এটি রচনা করেন। এটি হাদিস শাস্ত্রের «মিশকাতুল মাসাবিহ»-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

৪- «আল-ফাতাওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-কুবরা», এটি তাঁর উচ্চপদস্থ ছাত্রদের একজন—আব্দুর রউফ আল-ওয়ায়েজ আল-যামযামী—সংগ্রহ করেছেন। এটি প্রাচীনকালে মিশরে ৪ খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে এবং এর পার্শ্বটীকায় শিহাবুর রামলীর ফতোয়া রয়েছে।

৫- «তুহফাতুল মুহতাজ বি-শারহিল মিনহাজ», ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) এটি মাত্র ছয় মাসে রচনা করেছেন। এটি শাফেয়ী মাজহাবের ফকিহগণের নিকট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাহকিকনির্ভর কিতাব। বিশেষ করে হাজরামাউত এবং মুসলিম বিশ্বের কিছু দেশে ফতোয়ার প্রধান ভিত্তি এই কিতাবটির ওপরই। এর ওপর অসংখ্য টীকা (হাশিয়া) লেখা হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের শাফেয়ী আলেমগণ এর প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন। কেউ এটি সংক্ষেপ করেছেন, আবার কেউ এর ওপর টীকা লিখেছেন «১»।

--------------------------------------------

(১) এর মধ্যে রয়েছে: - খোদ ইবনে হাজরের নিজস্ব একটি টীকা যার নাম: «তুহফাতুল ফাকির বি-তুহফাতিল কাদির», «আন-নূরুস সাফির»-এর রচয়িতা ও অন্যান্যরা এর কথা উল্লেখ করেছেন। - তাঁর ছাত্র ফকিহ আহমদ বিন কাসিম আল-আব্বাদীর (মৃত্যু ৯৯৪ হিজরি) একটি «টীকা», যা «তুহফা»-এর পার্শ্বটীকায় মুদ্রিত। - তাঁর পৌত্র রাদিউদ্দিন বিন আব্দুর রহমান বিন হাজরের একটি «টীকা», যার মাধ্যমে তিনি আব্বাদীর আপত্তিগুলোর জবাব দিয়েছেন। - সাইয়্যেদ উমর বিন আব্দুর রহিম আল-বাসরী আল-হুসাইনী আল-মাক্কী আশ-শাফেয়ীর একটি «টীকা», যিনি ইবনে হাজরের ছাত্রদের অন্যতম ছিলেন; তাঁর এই টীকাটি মিশরে ৪টি বিশাল খণ্ডে তুহফার পার্শ্বটীকায় স্বতন্ত্রভাবে মুদ্রিত হয়েছে। - আল্লামা আবদুল্লাহ সাঈদ বাকাসীর আল-মাক্কীর (মৃত্যু ১০৭৬ হিজরি) একটি «টীকা», যা কেবল ইবাদত পর্বের এক-চতুর্থাংশের ওপর। -
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
6- «المنهج القويم بشرح مسائل التعليم» ، وهو شرح ل «المقدمة الحضرمية» ، صنفه ابن حجر رحمه الله سنة (944 هـ) بطلب من الفقيه عبد الرحمن العمودي، وقد انتفع به طلاب العلم أيما انتفاع، حتى إن بعض تلامذة ابن حجر يقول فيه «1» : (قلّ أن ترى طالبا ليس عنده منه نسخة) اهـ

وقد اهتم أهل العلم والفقهاء بهذا الشرح، فوضعت عليه الحواشي والتعليقات الكثيرة «2» .

--------------------------------------------

- «حاشية» العلامة عبد الحميد الشرواني الداغستاني الشافعي، وهي شاملة لحواشي من تقدمه، طبعت بمصر في (10) مجلدات، ومعها «حاشية» ابن قاسم. - حواش ونكت على «التحفة» للعلامة الإمام مفتي حضرموت الأكبر الشيخ: عبد الله بن عمر بامخرمة الهجراني السيباني الشافعي ثم العدني، (ت 972 هـ) ، ذكرها معظم من ترجم له؛ كصاحب «النور السافر» وابن العماد في «الشذرات» . - «الإتحاف» مختصر «التحفة» للفقيه العلامة علي بن محمد بن مطير الحكمي اليمني الشافعي، (ت 1041 هـ) ، وهو ممن أدرك ابن حجر وأخذ عنه إجازة. - حاشية العلامة السيّد عبد الرحمن بن عبيد الله السقاف (ت 1375 هـ) ضبط فيها المهمل، وقيّد فيها الشرائد، وزينها بالفوائد والإيرادات والفرائد. وقد أوصل بعض الباحثين الأعمال التي وضعت على «تحفة المحتاج» إلى (27) عملا بين حاشية وتعليق وغير ذلك كما جاء في كتاب «الإمام ابن حجر الهيتمي وأثره في الفقه الشافعي» .

(1) وهو: باعمرو السيفي في «نفائس الدرر» (ق 3/ ب) . من «ابن حجر وجهوده» (ص/ 185) .

(2) فمن ذلك: «حاشية الجرهزي» للعلامة الفقيه عبد الله بن سليمان الجرهزي اليمني (ت 1201 هـ) ، طبعت لأول مرة في دار المنهاج بجدة سنة (1424 هـ- 2004 م) . - تقريرات للعلامة الفقيه المفتي الشيخ سالم بن عبد الرحمن بن محمد باصهي الشبامي الحضرمي، المتوفى سنة (1035 هـ) ، أو (1065 هـ) ، صاحب «الفتاوى» . - «الحواشي المدنية الكبرى» للعلامة الفقيه محمد بن سليمان الكردي المدني الشافعي (ت 1194 أو 1203 هـ) ، طبعت بهامش حاشية الترمسي الآتية. - «الحواشي المدنية الصغرى» وهي المطبوع استقلالا مع الشرح المذكور، وتعرف ب «حاشية الكردي» ، طبعت أول مرة سنة (1284 هـ) ، ومعها تعليقات من «الكبرى» ، -
৬- ‘আল-মানহাজুল কাওয়িম বিশারহি মাসাইলিত তালীম’, এটি ‘আল-মুকাদ্দিমাতুল হাদরামিয়্যাহ’-এর একটি শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ)। ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) ৯৪৪ হিজরি সনে ফকিহ আবদুর রহমান আল-আমুদির অনুরোধে এটি রচনা করেন। ইলম অন্বেষণকারী ছাত্ররা এর দ্বারা অত্যন্ত উপকৃত হয়েছেন, এমনকি ইবনে হাজারের জনৈক ছাত্র এর সম্পর্কে বলেছেন (১): ‘খুব কম ছাত্রই দেখা যায় যার কাছে এর একটি পাণ্ডুলিপি নেই।’

উলামায়ে কেরাম ও ফকিহগণ এই শারহটির প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, ফলে এর ওপর অনেক হাশিয়া (টীকা) ও তালীকাত (মন্তব্য) লেখা হয়েছে (২)।

--------------------------------------------

- আল্লামা আবদুল হামিদ আশ-শারওয়ানি আদ-দাগিস্তানি আশ-শাফিয়ি-এর ‘হাশিয়া’, যা তার পূর্ববর্তীদের হাশিয়াগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে; এটি মিশরে ১০ খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে এবং এর সাথে ইবনে কাসিমের ‘হাশিয়া’ও রয়েছে। - হাদরামাউতের প্রধান মুফতি আল্লামা ইমাম শায়খ আবদুল্লাহ বিন উমর বা-মাখরামা আল-হাজরানি আস-সাইবানি আশ-শাফিয়ি আল-আদানি (মৃত্যু ৯৭২ হি.) কর্তৃক ‘আত-তুহফাহ’-এর ওপর হাশিয়া ও নুকাত। যারা তার জীবনী লিখেছেন তাদের অধিকাংশই এটি উল্লেখ করেছেন; যেমন ‘আন-নূরুস সাফির’-এর লেখক এবং ‘আশ-শাযারাত’-এ ইবনুল ইমাদ। - ফকিহ আল্লামা আলি বিন মুহাম্মদ বিন মুতাইর আল-হাকামি আল-ইয়ামানি আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু ১০৪১ হি.) কর্তৃক ‘আত-তুহফাহ’-এর সংক্ষিপ্তসার ‘আল-ইতহাফ’। তিনি ইবনে হাজারের সমসাময়িক ছিলেন এবং তার কাছ থেকে ইজাজত লাভ করেছিলেন। - আল্লামা আস-সাইয়িদ আবদুর রহমান বিন উবাইদুল্লাহ আস-সাক্কাফ (মৃত্যু ১৩৭৫ হি.)-এর হাশিয়া, যাতে তিনি অস্পষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্ট করেছেন, বিরল মাসআলাগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন এবং একে বিভিন্ন ফায়েদা ও সূক্ষ্ম আলোচনার মাধ্যমে সুসজ্জিত করেছেন। কতিপয় গবেষক ‘তুহফাতুল মুহতাজ’-এর ওপর লিখিত কাজগুলোকে হাশিয়া, তালীক ও অন্যান্যসহ ২৭টি পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন, যেমনটি ‘আল-ইমাম ইবনে হাজার আল-হাইতামি ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিশ শাফিয়ি’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।

(১) তিনি হলেন: ‘নাফায়িসুদ দুরার’ (পৃ. ৩/খ) গ্রন্থে বর্ণিত বা-আমর আল-সাইফি। ‘ইবনে হাজার ওয়া জুহুদুহু’ (পৃ. ১৮৫) থেকে সংগৃহীত।

(২) এর মধ্যে রয়েছে: আল্লামা ফকিহ আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-জুরহাযি আল-ইয়ামানি (মৃত্যু ১২০১ হি.) রচিত ‘হাশিয়াতুল জুরহাযি’, যা ১৪২৪ হিজরি (২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে) জেদ্দার দারুল মিনহাজ থেকে প্রথমবারের মতো মুদ্রিত হয়েছে। - ‘আল-ফাতাওয়া’-এর লেখক আল্লামা ফকিহ মুফতি শায়খ সালিম বিন আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বা-সাহয়ি আশ-শিবামি আল-হাদরামি (মৃত্যু ১০৩৫ হি. বা ১০৬৫ হি.)-এর তাকরীরাত। - আল্লামা ফকিহ মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-কুর্দি আল-মাদানি আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু ১১৯৪ বা ১২০৩ হি.)-এর ‘আল-হাওয়াশিল মাদানিইয়াতুল কুবরা’, যা সামনে উল্লিখিত আত-তিরমাসির হাশিয়ার পার্শ্বটীকায় মুদ্রিত হয়েছে। - ‘আল-হাওয়াশিল মাদানিইয়াতুস সুগরা’, যা উক্ত শারহটির সাথে স্বতন্ত্রভাবে মুদ্রিত এবং এটি ‘হাশিয়াতুল কুর্দি’ নামে পরিচিত। এটি প্রথমবার ১২৮৪ হিজরিতে মুদ্রিত হয় এবং এর সাথে ‘কুবরা’ থেকে সংগৃহীত কিছু তালীকাতও রয়েছে। -
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
7- «المنح المكية في شرح الهمزية» شرح فيه همزية الإمام البوصيري رحمه الله تعالى (ت 695 هـ) ، وقد عنيت دار المنهاج بطباعته بحلّة جديدة بتحقيق علمي مميز.

8- «الدر المنضود في الصلاة والسلام على صاحب المقام المحمود» وهو هذا الكتاب الذي أكرمنا الله تعالى بخدمته.

هذا ذكر لبعض مصنفات ابن حجر رحمه الله، أما بقية كتب ابن حجر الفقهية؛ «كالإيعاب» ، و «الإمداد» ، و «فتح الجواد» ، و «شرح الإيضاح» ، وبقية الكتب الآخرى؛ ك «الصواعق» ، و «الزواجر» ، و «كف الرعاع» ، و «الإعلام بقواطع الإسلام» ، وغيرها.. فالكلام عنها يطول، ومن أراد التوسع ومعرفة هذه الكتب ووصفها وما يتعلق بها.. فعليه بالبحث الموسع عن ابن حجر المذكور ضمن مصادر الترجمة.

ونكتفي أن نشير هنا إلى كتابه الفريد الجامع المسمّى «أسنى المطالب في صلة الأقارب» ، وهو كتاب كبير، حوى نفائس الفوائد، وهام في بابه، وقد طبع مؤخرا «1» .

--------------------------------------------

- ثم أخرى سنة (1288 هـ) بالأميرية ببولاق. - «حاشية الترمسي» ، وهي المسماة: «موهبة ذي الفضل» للعلامة الفقيه محمد محفوظ بن عبد الله الترمسي الجاوي ثم المكي الشافعي، (ت 1338 هـ) ، طبعت حاشيته بمصر بالمطبعة العامرة الشرقية، سنة (1326 هـ) في (4) مجلدات ضخمة. - «المسلك القويم على حل ألفاظ المنهج القويم» للعلامة الفقيه الشيخ محمد صالح بن محمد بافضل المكي الشافعي، (ت 1333 هـ) ، تقع في (4) أجزاء، طبع منها المجلد الأول في (479) صفحة بالمطبعة الأميرية بمكة سنة (1326 هـ) . - «تقريرات على المنهج القويم» للعلامة الفقيه أحمد نحراوي الجاوي، (ت 1291 هـ) ، طبعت بهامش «المسلك» السابق الذكر.

(1) وقد اختصره العالم الفقيه المفتي الشيخ عبد الله بن سعد بن سمير الحضرمي، (ت 1262 هـ) ، وذلك بأمر من السيد الإمام أحمد بن عمر بن سميط الحسيني الشبامي (ت 1257 هـ) ، واسم هذا المختصر «كافي الطالب من أسنى المطالب» ، منه نسخة-
৭- «আল-মিনাহুল মাক্কিয়্যাহ ফি শারহিল হামজিয়্যাহ» এতে তিনি ইমাম বুসিরী (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) (মৃত্যু ৬৯৫ হি.)-এর হামজিয়্যাহর ব্যাখ্যা করেছেন। দারুল মিনহাজ একটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক সম্পাদনার মাধ্যমে একে নতুন আঙ্গিকে মুদ্রণের দায়িত্ব নিয়েছে।

৮- «আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ» এটিই সেই কিতাব যার খেদমত করার তৌফিক আল্লাহ তায়ালা আমাদের দান করেছেন।

এটি ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিছু রচনার উল্লেখ। আর ইবনে হাজারের অবশিষ্ট ফিকহী গ্রন্থসমূহ; যেমন: «আল-ই’আব», «আল-ইমদাদ», «ফাতহুল জাওয়াদ», «শারহুল ইদাহ» এবং অন্যান্য গ্রন্থসমূহ; যেমন: «আস-সাওয়ায়িক», «আয-যাওয়াজির», «কাফফুর রুআ’», «আল-ই’লাম বি কাওয়াতিয়িল ইসলাম» ইত্যাদি.. এ সম্পর্কে আলোচনা দীর্ঘ হবে। আর যারা বিস্তারিত জানতে চান এবং এই গ্রন্থগুলো সম্পর্কে বর্ণনা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি জানতে আগ্রহী.. তবে তিনি যেন জীবনীগ্রন্থসমূহের উৎসের মধ্যে বর্ণিত ইবনে হাজার সম্পর্কিত বিস্তৃত অনুসন্ধান দেখে নেন।

আমরা এখানে তার অনন্য ও সংকলিত গ্রন্থ «আসনী আল-মাতালিব ফি সিলাতিল আকারিব»-এর দিকে ইঙ্গিত করেই ক্ষান্ত হচ্ছি। এটি একটি বৃহৎ গ্রন্থ, যা অমূল্য জ্ঞানগর্ভ তথ্যে সমৃদ্ধ এবং এই অধ্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সম্প্রতি মুদ্রিত হয়েছে «১»।

--------------------------------------------

- অতঃপর ১২৮৮ হিজরি সনে বুলাকের আল-আমিরিয়্যাহ ছাপাখানায় অন্য একটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়। - «হাশিয়াতুত তিরমাসি», যা মূলত «মাওহিবাতু যিল ফাদল» নামে পরিচিত, এটি আল্লামা ফকিহ মুহাম্মাদ মাহফুজ বিন আব্দুল্লাহ আত-তিরমাসি আল-জাভি অতঃপর আল-মাক্কি আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু ১৩৩৮ হি.)-এর রচনা। তার এই হাশিয়া (টীকা) মিশরের আল-মাতবাআতুল আমিরিয়্যাহ আশ-শারকিয়্যাহ-তে ১৩২৬ হিজরি সনে ৪টি বিশাল খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে। - আল্লামা ফকিহ শেখ মুহাম্মাদ সালিহ বিন মুহাম্মাদ বাফাদল আল-মাক্কি আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু ১৩৩৩ হি.) রচিত «আল-মাসলাকুল কাওয়িম আলা হাল্লি আলফাযিল মানহাজিল কাওয়িম»। এটি ৪ খণ্ডে সমাপ্ত, যার প্রথম খণ্ডটি ৪৭৯ পৃষ্ঠায় মক্কার আল-মাতবাআতুল আমিরিয়্যাহ-তে ১৩২৬ হিজরি সনে মুদ্রিত হয়েছে। - আল্লামা ফকিহ আহমাদ নাহরাভি আল-জাভি (মৃত্যু ১২৯১ হি.) রচিত «তাকরিরাত আলাল মানহাজিল কাওয়িম», যা পূর্বোক্ত «আল-মাসলাক»-এর পার্শ্বটীকা হিসেবে মুদ্রিত হয়েছে।

(১) আলেম ফকিহ মুফতি শেখ আব্দুল্লাহ বিন সাদ বিন সুমাইর আল-হাদরামি (মৃত্যু ১২৬২ হি.) এটি সংক্ষেপ করেছেন। এটি সাইয়্যেদ ইমাম আহমাদ বিন উমর বিন সুমাইত আল-হুসাইনি আশ-শিবামি (মৃত্যু ১২৫৭ হি.)-এর নির্দেশে করা হয়েছে। এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটির নাম হলো «কাফি আত-তালিব মিন আসনী আল-মাতালিব», এর একটি পাণ্ডুলিপি-
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌وفاته:

ولمّا كبرت سنه رحمه الله.. ابتدأ به مرض ألجأه إلى ترك التدريس لمدة نيف وعشرين يوما، وكتب وصيته في الحادي والعشرين من رجب (974 هـ) ، وفي ضحوة الإثنين (23) من الشهر المذكور لبى نداء ربه راضيا مرضيا.

وصلي عليه تحت باب الكعبة الشريفة، ودفن في المعلاة بقرب من موضع صلب ابن الزبير رضي الله عنهما، في التربة المعروفة بتربة الطبريين.

ورثاه الشعراء، وبكى عليه الناس زمنا، وكان لموته رنة حزن وأسف عمت بلاد الحرمين واليمن ونواحيها.

رحمه الله رحمة الأبرار، وأسكنه جنات تجري من تحتها الأنهار.

وهذه أبيات أوردها العلامة العيدروس في «النور السافر» لصاحبه الفقيه أحمد باجابر، يمدح بها ابن حجر قال فيها [من الكامل] :

قد قيل من حجر أصمّ تفجرت … للخلق بالنص الجلي أنهار

وتفجرت يا معشر العلماء من … حجر العلوم فبحرها زخار

أكرم به قطبا محيطا بالعلا … ورحاؤه حقا عليه تدار «1»

--------------------------------------------

- بالأحقاف رقمها (2602) .

(1) «النور السافر» (ص 396) .
তাঁর মৃত্যু:

যখন তাঁর বয়স বৃদ্ধি পেল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন), তখন তিনি এমন এক রোগে আক্রান্ত হলেন যা তাঁকে বিশ দিনেরও বেশি সময় ধরে অধ্যাপনা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করল। তিনি ৯৭৪ হিজরি সনের একুশে রজব তাঁর অসিয়তনামা লিখলেন। এবং উল্লিখিত মাসের তেইশ তারিখ সোমবার পূর্বাহ্নে তিনি সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন চিত্তে তাঁর রবের ডাকে সাড়া দিলেন।

এবং কাবার সম্মানিত দরজার নিচে তাঁর জানাজার সালাত আদায় করা হয়। এবং জান্নাতুল মুয়াল্লায় ইবনে যুবায়ের (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে শূলে চড়ানোর স্থানের নিকটে তাবারী বংশীয়দের জন্য পরিচিত কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

কবিরা তাঁর জন্য শোকগাথা রচনা করেন এবং মানুষ দীর্ঘদিন তাঁর জন্য রোদন করে। তাঁর মৃত্যুতে শোক ও আক্ষেপের এক করুণ সুর ধ্বনিত হয়েছিল, যা দুই পবিত্র ভূমি (হারামাইন), ইয়ামান এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছিল।

আল্লাহ তাঁর ওপর নেককারদের মতো রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে এমন জান্নাতে স্থান দিন যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত।

এগুলো হলো এমন কিছু পঙক্তি যা আল্লামা আইদারুস তাঁর 'আন-নুর আস-সাফির' গ্রন্থে ফকিহ আহমদ বাজাবেরের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন, যাতে তিনি ইবনে হাজার (রহ.)-এর প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন [কামিল ছন্দে]:

বলা হয়ে থাকে যে, একটি নিরেট পাথর হতে সৃষ্টিজগতের জন্য … সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে নহরসমূহ প্রবাহিত হয়েছে।

আর হে আলেম সমাজ! জ্ঞানের পাথর (ইবনে হাজার) হতে বিচ্ছুরিত হয়েছে … এক উত্তাল সমুদ্র।

তিনি কতই না শ্রেষ্ঠ এক মেরু পুরুষ যিনি উচ্চতাকে পরিবেষ্টন করে আছেন … এবং সত্যই জ্ঞানের যাতা তাঁকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। «১»

--------------------------------------------

- আল-আহকাফ-এ, এর নম্বর (২৬০২)।

(১) 'আন-নুর আস-সাফির' (পৃ. ৩৯৬)।
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌وصف النسخ الخطّيّة

اعتمدنا في إخراج هذا الكتاب المبارك على ثلاث نسخ خطّيّة:

الأولى: نسخة مكتبة باريس الوطنية (فايدا) ، ذات الرقم (1153/ 1) ، وهي نسخة كاملة ضمن مجموع.

عدد أوراقها (89) ورقة، متوسط عدد أسطرها (21) سطرا، متوسط عدد كلمات السطر الواحد (12) كلمة، خطها نسخي معتاد، يعود تاريخ نسخها إلى القرن العاشر. ورمزنا لها ب (أ) .

الثانية: نسخة المكتبة الرفاعية المحفوظة في المكتبة الوقفية الإسلامية بحلب، والتي آلت إلى مكتبة الأسد الوطنية بدمشق برقم (17520) ، وهي نسخة كاملة.

عدد أوراقها (55) ورقة، متوسط عدد أسطرها (35) سطرا، متوسط عدد كلمات السطر الواحد (12) كلمة، خطها نسخي مستعجل، وعليها تملكات، وناسخها السيد محمد إدريس الأنبابي المصعدي رحمه الله تعالى.

في آخرها إجازة بخط المؤلف رحمه الله تعالى لمالكها العلامة محمود بن محمد بن حسن البابي الحلبي المعروف بابن البيلوني. ورمزنا لها ب (ب) .

الثالثة: نسخة مكتبة الملك عبد العزيز بالمدينة المنورة، ذات الرقم (188) ، وهي نسخة كاملة.

عدد أوراقها (117) ورقة، متوسط عدد أسطرها (19) سطرا، متوسط عدد كلمات السطر الواحد (10) كلمات، خطها نسخي معتاد، وعليها تملكات. ورمزنا لها ب (ج) .
পাণ্ডুলিপিসমূহের বিবরণ

এই বরকতময় কিতাবটি সম্পাদনায় আমরা তিনটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি:

প্রথম: প্যারিস ন্যাশনাল লাইব্রেরির (ভাজদা) পাণ্ডুলিপি, যার নম্বর (১১৫৩/ ১), এটি একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি।

এর পৃষ্ঠা সংখ্যা (৮৯), প্রতি পৃষ্ঠায় গড় লাইন সংখ্যা (২১), প্রতি লাইনে গড় শব্দ সংখ্যা (১২), এর লিপি সাধারণ নাসখ পদ্ধতি, এর অনুলিপি দশম শতাব্দীর। একে আমরা (আলিফ) সংকেত দিয়ে চিহ্নিত করেছি।

দ্বিতীয়: আলেপ্পোর ইসলামি ওয়াকফ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রিফাইয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি, যা বর্তমানে দামেস্কের আল-আসাদ ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে ১৭৫২০ নম্বরে সংরক্ষিত আছে; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি।

এর পৃষ্ঠা সংখ্যা (৫৫), প্রতি পৃষ্ঠায় গড় লাইন সংখ্যা (৩৫), প্রতি লাইনে গড় শব্দ সংখ্যা (১২), এর লিপি দ্রুতলিপিতে লেখা নাসখ পদ্ধতি, এতে মালিকানা স্বত্বের চিহ্ন রয়েছে এবং এর অনুলিপিকারক হলেন আস-সাইয়্যিদ মুহাম্মদ ইদরীস আল-আনবাবী আল-মুসআদী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন)।

এর শেষে গ্রন্থকারের (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) নিজ হাতের লেখা একটি ইজাজত বা অনুমতিপত্র রয়েছে, যা এর মালিক আল্লামা মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন হাসান আল-বাবী আল-হালাবী—যিনি ইবনুল বায়লুনী নামে পরিচিত—তার উদ্দেশ্যে লিখিত। একে আমরা (বা) সংকেত দিয়ে চিহ্নিত করেছি।

তৃতীয়: মদিনা মুনাওয়ারার কিং আব্দুল আজিজ লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি, যার নম্বর (১৮৮), এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি।

এর পৃষ্ঠা সংখ্যা (১১৭), প্রতি পৃষ্ঠায় গড় লাইন সংখ্যা (১৯), প্রতি লাইনে গড় শব্দ সংখ্যা (১০), এর লিপি সাধারণ নাসখ পদ্ধতি এবং এতে মালিকানা স্বত্বের চিহ্ন রয়েছে। একে আমরা (জীম) সংকেত দিয়ে চিহ্নিত করেছি।
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌منهج العمل في الكتاب

- عارضنا الكتاب على ثلاث نسخ خطّيّة.

- ضبطنا النصّ ضبطا نسأل الله تعالى فيه السداد والتوفيق، وأن يكون على النحو الذي أراده المؤلف رحمه الله تعالى.

- رصّعنا الكتاب بعلامات الترقيم المناسبة وفق المنهج المعتمد في الدار.

- خرّجنا أحاديث الكتاب وآثاره بحسب الوسع.

- أحلنا النصوص إلى مظانها التي ذكرها المصنف ما أمكننا.

- أضفنا ما كان مناسبا من العبارة لتقويم المعنى، وجعلناه بين معقوفين [] .

- شرحنا بعض الكلمات الغامضة.

- صنعنا فهارس للكتاب على النحو التالي:

فهرس الأحاديث والآثار.

فهرس تفصيلي للموضوعات.
কিতাবটির সম্পাদনা পদ্ধতি

- আমরা কিতাবটিকে তিনটি পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়েছি।

- আমরা পাঠ্যটিকে এমন সূক্ষ্মভাবে বিন্যস্ত করেছি যার জন্য মহান আল্লাহর কাছে সঠিকতা ও তাওফিক প্রার্থনা করি, এবং কামনা করি যেন এটি লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) যেভাবে চেয়েছিলেন ঠিক সেভাবেই হয়।

- আমরা প্রকাশনীতে অনুসৃত পদ্ধতি অনুযায়ী কিতাবটিকে উপযুক্ত বিরামচিহ্ন দ্বারা সজ্জিত করেছি।

- আমরা যথাসাধ্য কিতাবের হাদিস ও আছারসমূহের তাখরিজ করেছি।

- আমরা পাঠ্যগুলোকে সাধ্যমতো লেখকের উল্লিখিত মূল উৎসগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখেছি।

- অর্থ সুসংহত করার জন্য আমরা যথাযথ শব্দ বা বাক্য যোগ করেছি এবং সেগুলোকে চতুষ্কোণ বন্ধনীতে [] রেখেছি।

- আমরা কিছু অস্পষ্ট শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।

- আমরা কিতাবটির জন্য নিম্নরূপ সূচিপত্র তৈরি করেছি:

হাদিস ও আছারের সূচিপত্র।

বিষয়বস্তুর বিস্তারিত সূচিপত্র।
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌خاتمة

الحمد لله الذي بحمده والصلاة على نبيه تبتدأ الأمور وتختتم، الذي أسبغ علينا جلائل النعم، والصلاة والسلام على صاحب الفضل الأعم، والنور الأتم، المبعوث رحمة لسائر الأمم، وعلى آله ذوي الفضائل والشيم، وأصحابه أولي المحاسن والكرم.

وأخيرا: هذا كتاب «الدر المنضود في الصلاة والسلام على صاحب المقام المحمود» نقدمه بهذا التحقيق العلمي الدقيق، والشكل الفني الأنيق لكل طالب علم وكل محب لرسول الله صلى الله عليه وسلم، راجين من الله القبول.

وكتابنا هذا قد جمع من الفوائد نفائسها، ومن المسائل شواردها، ومن المواعظ مؤثّرها، ومن الأقوال أزكاها، ومن الأحوال أصفاها؛ فجاء درّة برّاقة في سلك درر مؤلفات العلامة ابن حجر رحمه الله تعالى.

وقد عشنا مع هذا الكتاب في رحلة التحقيق والتدقيق، والبحث والتعليق حقبة من الزمن نتقلب في رياض الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم، ونتفيأ في ضلال الرحمة والسكينة، ونعبق من روح فوائده العطرة، ونجني من لذيذ ثماره الدانية.

وفي الختام: نتوجه إلى المولى سبحانه أن يتقبل منا، وأن يحققنا بالمحبة الصادقة لهذا الحبيب صلى الله عليه وسلم، والحمد لله رب العالمين.
উপসংহার

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর প্রশংসার মাধ্যমে এবং যাঁর নবীর ওপর দরূদ পাঠের মাধ্যমে সকল বিষয় শুরু ও সমাপ্ত হয়; যিনি আমাদের ওপর মহান নিআমতসমূহ বর্ষণ করেছেন। আর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বাধিক ব্যাপক ফযীলতের অধিকারী, পূর্ণতম নূর এবং সকল জাতির জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত রাসূলের প্রতি এবং তাঁর মহৎ গুণাবলি ও চরিত্রের অধিকারী পরিবারবর্গ এবং মহানুভব ও দয়ালু সাহাবীগণের ওপর।

পরিশেষে: ‘আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ’ নামক এই কিতাবটি আমরা এই সূক্ষ্ম ইলমী তাহকীক এবং শৈল্পিক অবয়বে প্রত্যেক জ্ঞানপিপাসু ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রত্যেক প্রেমিকের খেদমতে পেশ করছি, আল্লাহর নিকট কবুলিয়তের আশা রেখে।

আমাদের এই কিতাবটি মূল্যবান সব ফায়দাহ, দুর্লভ মাসআলাসমূহ, প্রভাবশালী নসীহতসমূহ, পবিত্রতম উক্তি এবং স্বচ্ছতম অবস্থাসমূহকে একত্রিত করেছে; ফলে এটি আল্লামা ইবনে হাজার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর রচনাসমগ্রের মুক্তামালায় একটি উজ্জ্বল মুক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

আমরা এই কিতাবটির তাহকীক, যাচাই-বাছাই, গবেষণা ও টীকা লিখনের সফরে এক দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছি, যেখানে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠের উদ্যানে বিচরণ করেছি, রহমত ও প্রশান্তির ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছি, এর সুগন্ধিযুক্ত ফায়দাহসমূহের ঘ্রাণ নিয়েছি এবং এর নিকটবর্তী সুস্বাদু ফলসমূহ আহরণ করেছি।

পরিশেষে: আমরা মহান রবের নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করেন এবং এই প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আমাদের সত্যকার ভালোবাসা নসীব করেন। আর সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌صور المخطوطات المستعان بها
ব্যবহৃত পাণ্ডুলিপিসমূহের চিত্রসমূহ
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
راموز ورقة العنوان للنسخة (أ)

راموز الورقة الأولى للنسخة (أ)
কপি (ক)-এর শিরোনাম পত্রের প্রতীক

কপি (ক)-এর প্রথম পত্রের প্রতীক
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
راموز الورقة قبل الأخيرة للنسخة (أ)

راموز الورقة الأخيرة للنسخة (أ)
পাণ্ডুলিপি (ক)-এর শেষ পাতার পূর্ববর্তী পাতার প্রতীক

পাণ্ডুলিপি (ক)-এর শেষ পাতার প্রতীক
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
راموز ورقة العنوان للنسخة (ب)

راموز الورقة الأولى للنسخة (ب)
পাণ্ডুলিপি (খ) এর শিরোনাম পৃষ্ঠার সংকেত

পাণ্ডুলিপি (খ) এর প্রথম পৃষ্ঠার সংকেত
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
راموز الورقة الأخيرة للنسخة (ب)

راموز ورقة العنوان للنسخة (ج)
অনুলিপি (ব)-এর শেষ পত্রের সংকেত

অনুলিপি (জ)-এর শিরোনাম পত্রের সংকেত
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
راموز الورقة الأولى للنسخة (ج)

راموز الورقة الأخيرة للنسخة (ج)
(জ) পাণ্ডুলিপির প্রথম পত্রের সংকেত

(জ) পাণ্ডুলিপির শেষ পত্রের সংকেত
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
الدّرّ المنضود في الصّلاة والسّلام على صاحب المقام المحمود للإمام العلّامة الفقيه المحقّق شهاب الدّين أحمد بن محمّد بن عليّ بن حجر الهيتميّ الشّافعيّ رحمه الله تعالى (909- 974 هـ)
মাকামে মাহমুদের অধিকারীর ওপর সালাত ও সালাম পাঠ বিষয়ক সুবিন্যস্ত মুক্তামালা। ইমাম, আল্লামা, ফকিহ, মুহাক্কিক শিহাবুদ্দিন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আল-হাইতামী আশ-শাফিঈ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) (৯০৯- ৯৭৪ হিজরি)।
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌[خطبة الكتاب]

الحمد لله الذي اختصّ نبيّنا محمدا صلى الله عليه وسلم بما امتاز به على سائر الأنبياء والمرسلين، والملائكة المقرّبين، وأوجب على الكافّة توقيره وتعظيمه والقيام بحقوقه سرّا وعلنا؛ ليكونوا من المهتدين.

وأشهد ألاإله إلا الله وحده لا شريك له شهادة أنتظم بها في سلك الأئمة الوارثين.

وأشهد أن سيدنا محمدا عبده ورسوله، الّذي شرّفه الله تعالى بصلاته وسلامه عليه في الملأ الأعلى من ملائكته، وبأمره بذلك لعباده المؤمنين.

صلّى الله وسلّم عليه وعلى آله وأصحابه وتابعيهم بإحسان إلى يوم الدين، صلاة وسلاما دائمين بدوام ربّ العالمين.

أمّا بعد: فإن خدمة الجناب المحمّديّ من آكد الواجبات، وأهمّ المطلوبات، وأشرف الوسائل، وأفضل الشمائل؛ فلذلك أردت أن أنتظم في سلك من فاز بهذا الفخر الأعظم، وسلك سنن هذا الصراط الأقوم، بجمع كتاب في فضائل الصلاة والسلام عليه؛ ليكون وسيلة لي أقدّمها بين يديه، رجاء أن يقابلها بباهر جوده، وأن يثيب عليها بالتأهيل لاستجلاء ماثره وشهوده، وأن يلحظها منه بعين القبول، وأن يبلّغني بسببها أعظم المأمول، حتى تصير كفاية لي في المهمّات، وعدّة أتحصّن بها من جميع المحن والنائبات، وقربة أكتسب بها مواهبه السنية، وسوابغ نعمه العليّة.

فقصدت إلى ذلك على غاية من الإيجاز، حتى إنها بالنسبة إلى غيرها تكاد
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌[গ্রন্থের ভূমিকা]

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের নবী মুহাম্মদকে (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) এমন সব বৈশিষ্ট্য দ্বারা বিশিষ্ট করেছেন যার মাধ্যমে তিনি সকল নবী ও রাসূল এবং নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন; এবং তিনি সকলের ওপর তাঁর সম্মান, মর্যাদা রক্ষা এবং প্রকাশ্যে ও গোপনে তাঁর অধিকারসমূহ আদায় করাকে আবশ্যক করেছেন, যাতে তারা হিদায়েতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এমন এক সাক্ষ্য যার মাধ্যমে আমি উত্তরাধিকারী ইমামগণের সারিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারি।

এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাকে আল্লাহ তাআলা তাঁর ফেরেশতাদের উচ্চ সভায় তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণের মাধ্যমে এবং তাঁর মুমিন বান্দাদেরকে সেই আদেশ প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন।

আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন; এমন রহমত ও শান্তি যা রাব্বুল আলামীনের স্থায়িত্বের সাথে চিরস্থায়ী।

অতঃপর: নিশ্চয়ই মুহাম্মদী দরবারের খেদমত করা অন্যতম সুনিশ্চিত কর্তব্য, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাম্য বিষয়, সর্বোত্তম মাধ্যম এবং শ্রেষ্ঠতম বৈশিষ্ট্য। এই কারণেই আমি সেই মহান গৌরবে সৌভাগ্যবানদের এবং এই সুদৃঢ় সরল পথের অনুসারীদের সারিতে নিজেকে যুক্ত করতে চেয়েছি—তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি পাঠ করার ফজিলত সম্পর্কে একটি গ্রন্থ সংকলন করার মাধ্যমে; যেন তা আমার জন্য একটি মাধ্যম হতে পারে যা আমি তাঁর সমীপে পেশ করব। এই আশায় যে, তিনি একে তাঁর উজ্জ্বল মহানুভবতার দ্বারা গ্রহণ করবেন, এবং এর বিনিময়ে আমাকে তাঁর মহান কীর্তি ও উপস্থিতি প্রত্যক্ষ করার যোগ্যতা প্রদানের মাধ্যমে পুরস্কৃত করবেন, এবং একে কবুলিয়াতের নজরে দেখবেন এবং এর অসীলায় আমাকে আমার সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষায় পৌঁছে দেবেন। যাতে এটি আমার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে যথেষ্ট হয়ে যায় এবং এমন এক সরঞ্জামে পরিণত হয় যার মাধ্যমে আমি সকল পরীক্ষা ও বিপদ-আপদ থেকে সুরক্ষা পেতে পারি, এবং এমন এক নৈকট্যের মাধ্যম হয় যার দ্বারা আমি তাঁর মহান দানসমূহ এবং তাঁর সুউচ্চ পরিপূর্ণ নেয়ামতসমূহ লাভ করতে পারি।

তাই আমি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করার সংকল্প করেছি, এমনকি অন্যগুলোর তুলনায় এটি প্রায়...
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
أن تعدّ من الألغاز، لمّا أنّ همم أبناء الزمان آلت إلى الدّعة والرفاهية، ومالت عن المعالي الباقية، إلى الأعراض الفانية، فلا ترى منهم من أحاط ببعض كتب هذا المقصد الأسنى إلا الشاذّ النادر، الذي خلّصه الله تعالى من الحظوظ والعنا؛ لاشتمالها على بعض البسط وزيادة التأصيل والتفريع، ككتاب الحافظ «1» المسمى ب «القول البديع» ، هذا مع أنه أحسنها جمعا، وأحكمها وضعا، وأحقّها بالتقديم، وأولاها بالإحاطة، بما فيه من التحقيق والتقسيم.

فمن ثمّ أدرجات مقاصده في كتابي هذا، مع زيادات عليه، إليها يفتقر العاملون، وعليها يعوّل المحققون، وتحقيق لما أهمله، وتقييد لما أرسله، وإيضاح لما أغفله، بتحرير بديع، وأسلوب منيع «2» ، سائلا من ذي الجلال والإكرام بجاه من جعلت هذا خدمة لجنابه الرفيع: أن يتقبله مني بفضله، ويجعله متكفّلا لي بجميع ما أؤمّله من جوده الوسيع؛ إنه بكل خير كفيل، وهو حسبي ونعم الوكيل.

وسميته:

«الدر المنضود في الصلاة والسلام على صاحب المقام المحمود» وقد رتّبته على مقدّمة، وفصول، وخاتمة.

--------------------------------------------

(1) يعني: الإمام الحافظ محمد بن عبد الرحمن بن محمد شمس الدين السخاوي رحمه الله تعالى، المتوفى سنة (902 هـ) .

(2) في هامش (ج) : (تحرير الكتاب: تقويمه، وبديع: غير مسبوق بمثله، الأسلوب: الطريق، المنيع: العزيز) .
এ বিষয়গুলো যেন এক একটি ধাঁধাঁ হিসেবে গণ্য হতে থাকে, যেহেতু বর্তমান সময়ের মানুষের সংকল্পসমূহ অলসতা ও বিলাসিতার দিকে ধাবিত হয়েছে এবং তারা অবিনশ্বর উচ্চ লক্ষ্যসমূহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নশ্বর পার্থিব বিষয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। ফলে এই মহান উদ্দেশ্য নিয়ে রচিত গ্রন্থগুলোর কিঞ্চিৎ অংশও আত্মস্থ করেছে এমন কাউকে আপনি খুব কমই দেখবেন—সেই বিরল ব্যতিক্রম ব্যক্তি ছাড়া যাকে মহান আল্লাহ পার্থিব স্বার্থ ও ক্লেশ থেকে নিষ্কৃতি দিয়েছেন। কারণ এই গ্রন্থগুলোতে রয়েছে দীর্ঘ আলোচনা এবং অধিকতর মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখার সমাবেশ, যেমন হাফেজের (১) 'আল-কওলুল বাদি' নামক কিতাবটি। অথচ এটি সংকলনের দিক থেকে শ্রেষ্ঠতম, বিন্যাসের দিক থেকে সুদৃঢ়তম এবং অগ্রগণ্য হওয়ার অধিক যোগ্য; এর মধ্যকার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ও শ্রেণিবিন্যাসের কারণে এটি সম্যক আয়ত্ত করার জন্য সর্বাধিক উপযোগী।

অতঃপর আমি সেই গ্রন্থের মূল বিষয়বস্তুগুলোকে আমার এই কিতাবে সন্নিবেশিত করেছি এবং এর সাথে এমন কিছু বিষয় যোগ করেছি যা আমলকারীদের জন্য অপরিহার্য এবং গবেষকদের জন্য নির্ভরযোগ্য। তদুপরি তিনি যা সংক্ষেপে ছেড়ে দিয়েছেন তার বিস্তারিত বিশ্লেষণ, যা অসংলগ্ন রেখেছেন তার সুসংবদ্ধকরণ এবং যা এড়িয়ে গেছেন তার স্পষ্টীকরণ করেছি এক অপূর্ব সম্পাদনা ও সুদৃঢ় শৈলীতে (২)। আমি মহান প্রতাপ ও সম্মানের অধিকারীর নিকট প্রার্থনা করছি—যাঁর সুউচ্চ মর্যাদার সম্মানে আমি এই খিদমত নিবেদন করেছি তাঁর অসিলায়—যেন তিনি স্বীয় অনুগ্রহে আমার এই কাজ কবুল করেন এবং তাঁর প্রশস্ত বদান্যতায় আমার সকল আশা পূর্ণ করেন। নিশ্চয়ই তিনি সকল কল্যাণের যিম্মাদার, এবং তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট ও উত্তম কর্মবিধায়ক।

আমি এর নামকরণ করেছি:

‘আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ’ এবং আমি একে একটি ভূমিকা, কয়েকটি পরিচ্ছেদ ও একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: ইমাম হাফেজ মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ শামসুদ্দিন আস-সাখাভী রহমাতুল্লাহি তায়ালা, যিনি ৯০২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেছেন।

(২) (জীম) পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকা বা হাশিয়ায় রয়েছে: (গ্রন্থের তাহরির: একে সংশোধন ও সুসংহত করা; বাদি: যার পূর্বে কোনো দৃষ্টান্ত নেই; উসলুব: পথ বা পদ্ধতি; মানি: দুর্লভ বা সুদৃঢ়)।
(খণ্ড: ১) আদ-দুররুল মানদুদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌مقدّمة في الكلام على قوله تعالى:

إِنَّ اللَّهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيماً في هذه الآية فوائد:

‌‌[فوائد هذه الآية:]

 

‌‌[الفائدة] الأولى:

أنها مدنية، ووجه مناسبتها لما قبلها: أنها كالتعليل له، لاشتماله على أمر أصحابه خصوصا «1» ، وأمّته عموما بتعظيم حرمته، ولزوم الأدب معه ظاهرا وباطنا، وبالانقياد له، وبالنهي عن فعل ما يخلّ بتعظيمه واحترامه إلى قيام الساعة.

فكأنّ قائلا يقول: ما سبب هذا التشريف العظيم الذي لم يعهد له نظير؟

فقيل له: سبب ذلك ما تفضّل الله تعالى به عليه بقوله: إِنَّ اللَّهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيماً إعلاما منه تعالى لعباده؛ حتى يتمّ انقيادهم لما أمروا به ونهوا عنه؛ بذكره لهذه المنزلة الرفيعة لنبيّه محمد صلى الله عليه وسلم عنده، من أنه يصلّي عليه هو وملائكته، ثم أمرنا معشر المؤمنين بالصلاة عليه والتسليم، ليجتمع الثناء عليه من أهل العالمين العلويّ والسفليّ.

وفي «الكشاف» : (روي: أنها لمّا نزلت.. قال أبو بكر: ما خصّك الله تعالى يا رسول الله بشرف.. إلا وقد أشركنا فيه، فنزل: هُوَ الَّذِي يُصَلِّي عَلَيْكُمْ وَمَلائِكَتُهُ) «2» ، قال الحافظ السخاوي: (لم أقف على أصله إلى الآن) «3» .

--------------------------------------------

(1) في هامش (ج) : (خصوصا: ضد عموما؛ أي: تعينا) .

(2) الكشاف (3/ 555) .

(3) القول البديع (ص 85) .
‌‌আল্লাহ তাআলার বাণী প্রসঙ্গে আলোচনার ভূমিকা:

নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন। হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি রহমত প্রার্থনা করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো। এই আয়াতের মধ্যে বেশ কিছু ফায়দা বা শিক্ষা রয়েছে:

‌‌[এই আয়াতের ফায়দাসমূহ:]

 

‌‌প্রথম [ফায়দা]:

এটি মাদানি (মদিনায় অবতীর্ণ); পূর্ববর্তী আয়াতের সাথে এর সামঞ্জস্যের দিক হলো: এটি যেন পূর্বের আয়াতের কারণস্বরূপ। কারণ এতে বিশেষভাবে তাঁর সাহাবীদের প্রতি এবং সাধারণভাবে তাঁর সমগ্র উম্মতের প্রতি নির্দেশ রয়েছে তাঁর সম্মানকে মহিমান্বিত করার, প্রকাশ্য ও গোপনে তাঁর সাথে শিষ্টাচার বজায় রাখার, তাঁর আনুগত্য করার এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর মর্যাদা ও সম্মানের পরিপন্থী যে কোনো কাজ থেকে বিরত থাকার।

যেন কোনো প্রশ্নকারী বলছেন: এই সুমহান সম্মানের কারণ কী যার কোনো নজির আগে দেখা যায়নি?

তার উত্তরে বলা হয়েছে: এর কারণ হলো সেই অনুগ্রহ যা আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি এই বাণীর মাধ্যমে প্রদান করেছেন: "নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন। হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি রহমত প্রার্থনা করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো।" এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের প্রতি এক ঘোষণা; যাতে তারা যা আদেশ করা হয়েছে এবং যা নিষেধ করা হয়েছে সে ব্যাপারে পূর্ণ অনুগত হয়। আর তা হয়েছে তাঁর নিকট তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই সুউচ্চ মর্যাদার বর্ণনার মাধ্যমে যে, আল্লাহ নিজে এবং তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন। অতঃপর তিনি আমাদের মুমিন সমাজকে তাঁর প্রতি সালাত ও সালাম পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগত—উভয় জগতের অধিবাসীদের পক্ষ থেকে তাঁর প্রশংসা একত্রিত হয়।

‘আল-কাশশাফ’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: (বর্ণিত আছে যে, যখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো... তখন আবু বকর (রা.) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তাআলা আপনাকে এমন কোনো বিশেষ সম্মান দান করেননি যাতে আমাদের অংশীদার করেননি। তখন অবতীর্ণ হলো: "তিনিই তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণও।") হাফিজ সাখাভি বলেন: (আমি এখন পর্যন্ত এর মূল সূত্রের সন্ধান পাইনি।)

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপি ‘জিম’-এর হাশিয়া বা পার্শ্বটীকায় রয়েছে: (বিশেষভাবে: এটি সাধারণভাবে এর বিপরীত; অর্থাৎ নির্দিষ্টভাবে)।

(২) আল-কাশশাফ (৩/৫৫৫)।

(৩) আল-কাওলুল বাদি' (পৃষ্ঠা ৮৫)।