(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: -)
الأحاديث والآثار الواردة في نكاح المتعة دراية ورواية القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الأحاديث والآثار الواردة في نكاح المتعة دراية ورواية
رسالة: ماجستير، جامعة الكويت - كلية الدراسات العليا - برنامج الحديث الشريف وعلومه
إعداد: فهد عبد الله علي الختلان
إشراف: عبد المحسن بن زبن المطيري
العام الجامعي: 2018 م
عدد الصفحات: 93
[كتاب إلكتروني بترقيم الشاملة]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 محرم 1444
মুতা বিবাহের (نكاح المتعة) ক্ষেত্রে বর্ণিত হাদিস ও আসার (آثار) সমূহ: মতনতাত্ত্বিক (دراية) ও সনদতাত্ত্বিক (رواية) বিশ্লেষণ বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: মুতা বিবাহের (نكاح المتعة) ক্ষেত্রে বর্ণিত হাদিস ও আসার (آثار) সমূহ: মতনতাত্ত্বিক (دراية) ও সনদতাত্ত্বিক (رواية) বিশ্লেষণ
থিসিস: মাস্টার্স, কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয় - উচ্চতর শিক্ষা অনুষদ - হাদিস শরিফ ও এর বিজ্ঞান বিভাগ
প্রস্তুতকারী: ফাহাদ আবদুল্লাহ আলী আল-খাতলান
তত্ত্বাবধায়ক: আব্দুল মুহসিন বিন জুবন আল-মুতাইরি
শিক্ষাবর্ষ: ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৩
[শামিলা নম্বর অনুযায়ী ই-বুক]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ মহরম ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ১)
جامعة الكويت
الأحاديث والآثار الواردة في نكاح المتعة دراية ورواية
المقدمة من الطالب:
فهد عبد الله علي الختلان
أطروحة مقدمة لكلية الدراسات العليا لاستيفاء جزء من متطلبات درجة الماجستير في:
برنامج الحديث الشريف وعلومه
بإشراف
الدكتور/ عبد المحسن بن زبن المطيري
الكويت - فبراير/ 2018
কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়
নিকাহ আল-মুতা' (মুতা বিবাহ) সংক্রান্ত বর্ণিত হাদিস ও আসার (آثار): বর্ণনা (رواية) ও বিশ্লেষণ (دراية) ভিত্তিক পর্যালোচনা
ছাত্রের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত:
ফাহাদ আব্দুল্লাহ আলী আল-খাতলান
স্নাতকোত্তর ডিগ্রির প্রয়োজনীয় শর্তাবলি আংশিক পূরণের লক্ষ্যে পোস্টগ্র্যাজুয়েট অনুষদে উপস্থাপিত একটি গবেষণাপত্র:
হাদিস শরিফ ও হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث) বিভাগ
তত্ত্বাবধানে:
ডক্টর আব্দুল মুহসিন বিন জাবান আল-মুতাইরি
কুয়েত - ফেব্রুয়ারি/ ২০১৮
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ২)
جامعة الكويت - كلية الدراسات العليا
يشهد الموقعون أدناه بأنهم قد راجعوا وأجازوا لكلية الدراسات العليا أطروحة الماجستير وعنوانها: الأحاديث والآثار الواردة في نكاح المتعة دراية ورواية في علوم الحديث الشريف المقدمة من الطالب: فهد عبد الله علي الختلان، لاستيفاء جزء من متطلبات التخرج لدرجة الماجستير في برنامج الحديث الشريف وعلومه.
أ. د حاكم عبيسان المطيري - أستاذ
… (رئيس اللجنة)
د. عبد المحسن بن زبن المطيري - أستاذ مساعد (المشرف)
أ. د مبارك سيف الهاجري - استاذ
… (مناقشاً)
কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয় - স্নাতকোত্তর শিক্ষা অনুষদ
নিম্নস্বাক্ষরকারীগণ এই মর্মে প্রত্যায়ন করছেন যে, তাঁরা স্নাতকোত্তর শিক্ষা অনুষদের জন্য নিম্নোক্ত শিরোনামের মাস্টার্স থিসিসটি পর্যালোচনা ও অনুমোদন করেছেন: "হাদিস শরিফ বিজ্ঞানের আলোকে নিকাহুল মুতয়াহ সংক্রান্ত হাদিস ও আসার (آثار) সমূহের বিশ্লেষণ (دراية) এবং বর্ণনা (رواية)"। এটি ছাত্র ফাহাদ আব্দুল্লাহ আলী আল-খাতলান কর্তৃক হাদিস শরিফ ও এর ইলমসমূহ (علوم) প্রোগ্রামে মাস্টার্স ডিগ্রির স্নাতক প্রয়োজনীয়তা পূরণের অংশ হিসেবে পেশ করা হয়েছে।
অধ্যাপক ড. হাকীম উবাইসান আল-মুতাইরী - অধ্যাপক
… (কমিটির সভাপতি)
ড. আব্দুল মুহসিন বিন জাবান আল-মুতাইরী - সহকারী অধ্যাপক (তত্ত্বাবধায়ক)
অধ্যাপক ড. মুবারক সাইফ আল-হাজরী - অধ্যাপক
… (পরীক্ষক)
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ৩)
الملخصإن الهدف من هذا العمل والجهد هو لحماية دين الإسلام، من التغيير والتحريف ومن الطاعنين في الدين، لأن مما لا شك فيه أن لكل صاحب دعوة مؤيدين ومخالفين، ولذلك قمتُ بجمع الآثار والأحاديث التي تتعلق بنكاح المتعة - الزواج المؤقت - فدرستها رواية ودراية مبيناً الحكم الراجح، ذاكراً أهم المفاسد والآثار المترتبة على إباحة نكاح المتعة، وقد تم تقسيم البحث إلى ثلاثة فصول،
الفصل الأول: حكم المتعة في الشرع، وفيه ثلاثة مباحث:
أ) تاريخ إباحة المتعة وتحريمها في السنة النبوية،
ب) الأحاديث والآثار الواردة في تحريم المتعة مع بيان درجتها من حيث القبول والرد،
ج) حكم المتعة عند فقهاء السنة.
وأما الفصل الثاني: حكم نكاح المتعة عند الشيعة، وفيه ثلاثة مباحث:
أ) ذكر الأحاديث التي استدلوا لإباحة نكاح المتعة مع بيان درجتها من حيث القبول والرد، وفيه مطلبان:
الأول: مناقشة الأدلة دراية ورواية
والثاني: شبهات تثار حول إباحة نكاح المتعة والجواب عنها،
ب) ذكر أحاديث تحرم نكاح المتعة من كتب ومصادر الشيعة،
ج) نصوص علماء الشيعة الذين حرموا نكاح المتعة.
وأما الفصل الثالث: المفاسد والآثار المترتبة على إباحة نكاح المتعة، وفيه ثلاثة مباحث:
أ) الآثار الاجتماعية،
ب) الآثار النفسية،
ج) الآثار الصحية.
ولم أجد كتاباً أؤلف في نفس هذا الموضوع فيما وقفت عليه بحيث أنه جمع بين علم الرواية والدراية بذكر الأحاديث والآثار ثم ما يترتب على إباحة ذلك من مفاسد وأضرار على الأفراد والمجتمعات.
সারসংক্ষেপএই কাজ ও প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য হলো ইসলাম ধর্মকে বিকৃতি, পরিবর্তন এবং ধর্মবিদ্বেষীদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা; কেননা এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রতিটি আদর্শেরই যেমন সমর্থক থাকে, তেমনি থাকে বিরোধী পক্ষও। এই উদ্দেশ্যেই আমি নিকাহ আল-মুতাআ (সাময়িক বিবাহ) সংক্রান্ত হাদিস ও আছার (أثر) সমূহ সংগ্রহ করেছি। অতঃপর আমি সেগুলোকে বর্ণনা (رواية) ও বিশ্লেষণ (دراية) উভয় পদ্ধতিতে অধ্যয়ন করে এর প্রাধান্যপ্রাপ্ত (الراجح) বিধান স্পষ্ট করেছি এবং নিকাহ আল-মুতাআ বৈধ করার ফলে সৃষ্ট প্রধান অপকারিতা ও প্রভাবসমূহ উল্লেখ করেছি। গবেষণাটি তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত করা হয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: শরিয়তে মুতাআ বিবাহের বিধান, এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
ক) সুন্নাহ-তে মুতাআ বিবাহ বৈধ হওয়া ও নিষিদ্ধকরণের ইতিহাস,
খ) মুতাআ নিষিদ্ধকরণ প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদিস ও আছার (أثر) সমূহের উল্লেখ, সাথে গ্রহণযোগ্যতা (قبول) ও বর্জনযোগ্যতার (رد) বিচারে সেগুলোর স্তর (درجة) বর্ণনা,
গ) সুন্নি ফকীহগণের নিকট মুতাআ বিবাহের বিধান।
দ্বিতীয় অধ্যায়: শিয়াদের নিকট নিকাহ আল-মুতাআর বিধান, এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
ক) নিকাহ আল-মুতাআ বৈধ করার পক্ষে তারা যে সকল হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করে সেগুলোর উল্লেখ এবং গ্রহণযোগ্যতা (قبول) ও বর্জনযোগ্যতার (رد) বিচারে সেগুলোর স্তর (درجة) বর্ণনা। এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথমত: দলিলসমূহের বিশ্লেষণ (دراية) ও বর্ণনা (رواية) ভিত্তিক পর্যালোচনা
দ্বিতীয়ত: নিকাহ আল-মুতাআ বৈধ হওয়া নিয়ে উত্থাপিত সংশয় (شبهات) সমূহ এবং সেগুলোর উত্তর,
খ) শিয়াদের কিতাব ও উৎসসমূহ থেকে নিকাহ আল-মুতাআ নিষিদ্ধকারী হাদিসসমূহের উল্লেখ,
গ) শিয়া আলেমদের বক্তব্য যারা নিকাহ আল-মুতাআ নিষিদ্ধ করেছেন।
তৃতীয় অধ্যায়: নিকাহ আল-মুতাআ বৈধ করার ফলে সৃষ্ট অপকারিতা ও প্রভাবসমূহ, এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
ক) সামাজিক প্রভাব,
খ) মানসিক প্রভাব,
গ) স্বাস্থ্যগত প্রভাব।
আমার জানামতে একই বিষয়ের ওপর এমন কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি যা বর্ণনা (رواية) ও বিশ্লেষণ (دراية) উভয় শাস্ত্রের সমন্বয়ে হাদিস ও আছার (أثر) সমূহকে একত্রিত করেছে এবং সাথে সাথে ব্যক্তি ও সমাজের ওপর এর বৈধতার ফলে সৃষ্ট অপকারিতা ও ক্ষতিকর প্রভাবগুলো আলোচনা করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ৪)
شكر وتقديرالحمد لله حمداً كثيراً طيباً مباركاً فيه، نشكره سبحانه على نعمه الظاهرة والباطنة، وعلى توفيقه وتيسيره لي، في كتابة الأطروحة التي بعنوان: (الأحاديث والآثار الواردة في نكاح المتعة دراية ورواية) وهذا شرف عظيم امتن الله به عليّ لما كان في أثناء الدراسة والكتابة من الفوائد العلمية في شتى العلوم الشرعية واللغوية التي استفدتها؛ فاللهم لك الحمد والشكر، وأتقدم بالشكر إلى والدتي وقد توفيت - رحمها الله تعالى - على حرصها وعنايتها لي، وإلى زملائي وأصدقائي الذين شاركوا في اختيار موضوعي، وإلى كلية الدراسات العليا ومدير برنامج ماجستير علوم الحديث الشريف جزاهم الله خيرا، وإلى أستاذي فضيلة الدكتور/ عبد المحسن زبن المطيري على توجيهه وحرصه وسعة صدره وتنبيهه لي أثناء كتابة الأطروحة وإرشاده لي إلى الصواب، وكذلك أشكر أصحاب الفضيلة الأساتذة المشاركين في مناقشة الأطروحة فجزاهم الله خير الجزاء ونفع الله بهم، ولا أنسى باقي مشايخنا ومعلمينا على نفعهم وتوجيههم، والحمد لله رب العالمين.
কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপনসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, অগণিত, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা। তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল নিয়ামতের জন্য আমরা মহান পবিত্র আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিশেষত আমার এই গবেষণাপত্রটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে তাঁর তাওফিক ও সহজীকরণের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, যার শিরোনাম হলো: (নিকাহুল মুত'আ প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদিস ও বর্ণনাগুলো (آثار) এর মতনগত (دراية) ও সনদগত (رواية) বিশ্লেষণ)। এটি একটি মহান সম্মান যা আল্লাহ আমাকে দান করেছেন, কারণ এই অধ্যয়ন ও লেখালেখির সময় আমি বিভিন্ন শরয়ি ও ভাষাগত শাস্ত্র থেকে অনেক জ্ঞানগত উপকার লাভ করেছি। হে আল্লাহ, সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আপনারই। আমি আমার মরহুমা মাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—আমার প্রতি তাঁর গভীর মমতা ও যত্নের জন্য। কৃতজ্ঞতা জানাই আমার সহপাঠী ও বন্ধুদের প্রতি যারা আমার গবেষণার বিষয়টি নির্বাচনে সহযোগিতা করেছেন। আরও কৃতজ্ঞতা জানাই উচ্চশিক্ষা অনুষদ এবং মাস্টার্স ইন উলুমুল হাদিস আল-শরিফ প্রোগ্রামের পরিচালককে, আল্লাহ তাঁদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ডক্টর আবদুল মুহসিন জাবান আল-মুতাইরি-র প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা তাঁর সঠিক নির্দেশনা, আন্তরিকতা, ধৈর্য এবং এই গবেষণাপত্রটি প্রস্তুতকালে আমাকে ভুল শুধরে দিয়ে সঠিক পথের দিশা দেখানোর জন্য। সেই সাথে আমি সেই সকল সম্মানিত শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানাই যারা এই গবেষণাপত্রটির মূল্যায়নে অংশগ্রহণ করেছেন, আল্লাহ তাঁদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁদের মাধ্যমে উম্মাহর উপকার করুন। আমি আমাদের অন্যান্য মাশায়েখ ও শিক্ষকদের অবদান এবং নির্দেশনার কথা ভুলব না। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
أما بعد ..
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: آية 102]
{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا
… وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ
… عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: آية 1]
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: الآيتان 70 - 71]
فإن خير الحديث كتاب الله وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
ثم أما بعد: -
فإن مما لا شك أن لكل صاحب دعوة مؤيدين ومخالفين فمنهم من يؤمن بالكتاب المنزل فيقول آمنا به كل من عند ربنا، فهو يؤمن بالمحكم والمتشابه والناسخ والمنسوخ، ومنهم من يتبع ما تشابه منه من الأدلة والنصوص ابتغاء الفتنة وابتغاء تأويله على غير الحقيقة كما قال سبحانه وتعالى {هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ} [آل عمران: آية 7].
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট ও আমাদের আমলসমূহের পঙ্কিলতা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
অতঃপর...
{হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: আয়াত ১০২]
{হে মানবজাতি, তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের দু’জন থেকে বহু পুরুষ
… ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ
… তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: আয়াত ১]
{হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল।} [আল-আহজাব: আয়াত ৭০ - ৭১]
নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই হলো বিদআত (بدعة), আর প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতা হলো জাহান্নামে।
অতঃপর:
নিঃসন্দেহে প্রতিটি দাওয়াতের আহ্বায়কের যেমন সমর্থক থাকে তেমনি বিরোধীও থাকে। তাদের মধ্যে কেউ নাজিলকৃত কিতাবের প্রতি ঈমান আনে এবং বলে—আমরা এর প্রতি ঈমান আনলাম, এ সবই আমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে। ফলে সে সুস্পষ্ট (محكم), অস্পষ্ট (متشابه), রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিতকৃত (منسوخ) বিষয়ের প্রতি ঈমান রাখে। আবার তাদের মধ্যে কেউ ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে এর অস্পষ্ট (متشابه) দলিল ও বক্তব্যসমূহের অনুসরণ করে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাজিল করেছেন, যার কিছু আয়াত সুস্পষ্ট (محكمات), সেগুলো কিতাবের মূল ভিত্তি, আর অন্যগুলো অস্পষ্ট (متشابهات)। সুতরাং যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে এর অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়গুলোর অনুসরণ করে। অথচ আল্লাহ ছাড়া কেউ এর প্রকৃত ব্যাখ্যা জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর তারা বলে—আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি, এ সবই আমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে। আর বিবেকবানরা ছাড়া কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না।} [আলে ইমরান: আয়াত ৭]।
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ৬)
وقال عليه الصلاة والسلام لما سئل عن هذه الآية: «إذا رأيتتم الذين يتبعون ما تشابه منه فأولئك الذين سماهم الله فاحذروهم»
(1).
وإذا تأملنا حال الناس اليوم فقد كثر الكلام حول موضوع نكاح المتعة من حيث الجواز وعدمه، وذلك يرجع إلى سبب تعارض الأدلة والنصوص التي تبيح نكاح المتعة وتحرمه.
--------------------------------------------
এবং তিনি (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) যখন এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন, তখন বলেছিলেন: «যখন তোমরা তাদের দেখবে যারা এর রূপক (متشابه) বিষয়গুলোর অনুসরণ করে, তবে তারাই সেই লোক যাদের নাম আল্লাহ উল্লেখ করেছেন; সুতরাং তোমরা তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকো»
(1).
আমরা যদি বর্তমান কালের মানুষের অবস্থার দিকে লক্ষ করি, তবে দেখব যে নিকাহ আল-মুতআ (সাময়িক বিবাহ) জায়েজ হওয়া বা না হওয়া প্রসঙ্গে অনেক আলোচনা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এটি মূলত সেই সকল প্রমাণাদি (أدلة) ও ভাষ্যসমূহের (نصوص) মধ্যকার বৈপরীত্য (تعارض) জনিত কারণে সৃষ্টি হয়েছে, যা মুতআ বিবাহকে বৈধ করে এবং যা একে নিষিদ্ধ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ৭)
سبب اختياري للموضوع:لمّا أشيع وكثر الحديث عن إباحة نكاح المتعة (الزواج المؤقت) في بعض المجتمعات المسلمة، حتى وصل الأمر أن يكون هناك تنظم وترتيب من خلال نشر صور نساء يرغبن في نكاح المتعة بعقد مهر إلى أجل مسمى، شدَّني هذا الموضوع حتى أني لم أجد كتاباً أو مؤلفاً فيما وقفت عليه جمع بين علم الرواية والدراية في حكم نكاح المتعة مع ذكر المفاسد والآثار المترتبة على إباحته.
ونظراً لكون تخصصي في قسم الحديث، فقد اخترت أن يكون موضوع رسالتي الماجستير جمع المرويات من الأخبار والآثار المتعلقة بنكاح المتعة وتحقيقها مع فقه السنن والآثار مع ذكر أدلة الشيعة المجيزين لها ومناقشتها ونقل أقوال أهل العلم في ذلك.
و
أهمية البحث تتضح فيما يلي:
أنه يعالج مشكلة اجتماعية خطيرة زلت فيها قدم بعض المتفقهين، حيث أنهم أباحوا ما حرم الله تعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم من نكاح المتعة، فسلكوا فيها غير مسلك أهل التحقيق.
ومن أهمية هذا الموضوع أيضاً، أنه دفاع عن دين الإسلام المنزل من لدن حكيم حميد لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، فلا يليق نسبة إباحة نكاح المتعة إلى الشريعة بعدما نسخ الأمر في زمن النبي صلى الله عليه وسلم والله تعالى يقول: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} [المائدة: 3].
3 - وأيضا فإن هذا الموضوع عندما يتبين للقارئ الحكم الصحيح الراجح من نكاح المتعة، ينشأ عنده علماً يقيناً أن ليس في دين الله تناقض ولا تعارض.
4 - ومن أهمية هذا الموضوع تقدير موقف الصحابة رضي الله عنهم وبيان فضلهم والدفاع عنهم وعدم الطعن في بعض الصحابة الذين أثنى عليهم القرآن وعدلهم الرحمن ورضي الله عنهم أجمعين.
বিষয়টি নির্বাচনের কারণ:যখন কিছু মুসলিম সমাজে মুত'আ বিবাহ (نكاح المتعة) বা সাময়িক বিবাহের বৈধতা সম্পর্কে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ল এবং এর ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেল, এমনকি বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছালো যে, নির্দিষ্ট মেয়াদে মহরের বিনিময়ে মুত'আ বিবাহ (نكاح المتعة) করতে ইচ্ছুক নারীদের ছবি প্রকাশের মাধ্যমে একটি সাংগঠনিক রূপ ও শৃঙ্খলা প্রদান করা হলো; তখন এই বিষয়টি আমাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করল। কারণ আমি এমন কোনো কিতাব বা রচনা খুঁজে পাইনি যেখানে মুত'আ বিবাহ (نكاح المتعة) এর বিধান সম্পর্কে বর্ণনা শাস্ত্র (علم الرواية) এবং অনুধাবন শাস্ত্রের (علم الدراية) সমন্বয় করা হয়েছে এবং সেই সঙ্গে এর বৈধতার ফলে উদ্ভূত নানাবিধ ফাসাদ বা অনিষ্ট ও প্রভাবসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে।
যেহেতু আমার বিশেষায়ন হাদিস বিভাগে, তাই আমি আমার মাস্টার্স থিসিসের বিষয় হিসেবে মুত'আ বিবাহ (نكاح المتعة) সম্পর্কিত বর্ণনা (مرويات), সংবাদ (أخبار) এবং আছার (آثار) সমূহ সংগ্রহ ও সেগুলোর তাহকিক (تحقيق) তথা গবেষণালব্ধ বিশ্লেষণকে নির্বাচন করেছি। এর সাথে সুন্নাহ ও আছারের (آثار) সঠিক সমঝ (فقه) এবং যারা একে বৈধ বলেন সেই শিয়াদের দলিলসমূহ উল্লেখপূর্বক সেগুলোর পর্যালোচনা ও এ বিষয়ে আলেমদের বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করাকে যুক্ত করেছি।
এবং
গবেষণার গুরুত্ব নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়:
এটি এমন একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যার সমাধান পেশ করে যেখানে কতিপয় ফকিহ বা আইনজ্ঞের পদস্খলন ঘটেছে। কেননা তারা মুত'আ বিবাহ (نكاح المتعة) এর মতো এমন বিষয়কে বৈধ করেছেন যা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল (সা.) হারাম করেছেন। ফলে তারা এ ক্ষেত্রে গবেষক আলেমদের (أهل التحقيق) পথ পরিহার করেছেন।
এই বিষয়ের আরেকটি গুরুত্ব হলো, এটি মহাপ্রজ্ঞাময় ও চিরপ্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ইসলাম ধর্মের একটি প্রতিরক্ষা, যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা বা বাতিল আসতে পারে না। সুতরাং নবী (সা.)-এর যুগে বিষয়টি রহিত (نسخ) হওয়ার পর মুত'আ বিবাহ (نكاح المتعة) এর বৈধতাকে শরীয়তের দিকে নিসবত করা সমীচীন নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।" [সুরা আল-মায়িদা: ৩]।
3 - এছাড়াও, যখন এই বিষয়ের মাধ্যমে পাঠকের কাছে মুত'আ বিবাহ (نكاح المتعة) এর সঠিক ও অগ্রগণ্য (الراجح) বিধানটি স্পষ্ট হবে, তখন তার মধ্যে এই সুনিশ্চিত জ্ঞান সৃষ্টি হবে যে, আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে কোনো স্ববিরোধিতা বা বৈপরীত্য (تعارض) নেই।
4 - এই বিষয়ের অন্যতম গুরুত্ব হলো সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর অবস্থানের যথাযথ মূল্যায়ন করা, তাঁদের মর্যাদা বর্ণনা করা ও তাঁদের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করা এবং সেই সকল সাহাবীর প্রতি কোনো প্রকার কটাক্ষ না করা যাঁদের প্রশংসা পবিত্র কুরআনে করা হয়েছে, যাঁদের ন্যায়নিষ্ঠতা (عدل) স্বয়ং রহমান তথা আল্লাহ সাব্যস্ত করেছেন এবং যাঁদের সকলের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ৮)
5 - ومن أهمية هذا الموضوع الرد على بعض من يطعن في الصحابة رضي الله عنهم وذلك لاختلافهم في تحريم نكاح المتعة.
والله من وراء القصد، فهو حسبي وبه أستعين.
৫ - এই বিষয়ের গুরুত্বের অন্যতম একটি দিক হলো ঐ সকল ব্যক্তিদের খণ্ডন করা যারা সাহাবিগণ (الصحابة) রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর সমালোচনা করে; আর তা হলো নিকাহুল মুতআ হারাম হওয়ার বিষয়ে তাঁদের মতপার্থক্যের কারণে।
আল্লাহই সকল উদ্দেশ্যের মূল লক্ষ্য, তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং আমি তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ৯)
و
منهجي في البحث:1 - التزمت بالرجوع إلى الكتب الستة مع موطأ الإمام مالك ومسند الإمام أحمد وسنن الدارمي، واقتصرت عليها بذكر الأحاديث المرفوعة إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقط، وأما الآثار المروية عن الصحابة رضي الله عنهم أو التابعين فإني أذكر فيما وقفت عليه من بعض كتب المصنفات والسنن وموطأ الإمام مالك رحمه الله تعالى.
2 - قمت بتخريج الأحاديث المرفوعة إلى النبي صلى الله عليه وسلم من الكتب الستة ثم الحكم عليها ما عدا الصحيحين، أما الآثار المروية عن الصحابة والتابعين فإني اكتفيت بذكر صاحب الأثر مع مصدره.
3 - اعتمدت على شروح الأحاديث غالباً من كتاب فتح الباري في شرح صحيح البخاري، وشرح مسلم للإمام النووي رحمهما الله تعالى.
4 - التزمت بالرجوع إلى الكتب المتعلقة بالأحاديث المعتمدة للشيعة مثل كتاب الكافي للكليني والاستبصار وتهذيب الأحكام للطوسي وكتاب وسائل الشيعة للحرالعاملي في الغالب وغيرها أيضا من الكتب التي تخص الشيعة.
5 - والتزمت أيضاً أن لا أنسب شيئا إلى الشيعة أو لأهل السنة إلا إذا وجدته صادق النسبة إليهم، محاولاً كشف الحقائق في هذا الموضوع دون تعصب لرأي معين أو تقليد بعيد عن الحق.
6 - وأخيراً قمت بترجمة بعض الأعلام الذين وقفت عليهم مما تدعو حاجة البحث لمعرفتها، مثل ترجمة بعض علماء الشيعة ومؤلفيهم، أما الترجمة لكل عالم فهذا قد يشغل القارئ عن الموضوع الأساسي فمكانها كتب التاريخ والتراجم.
আমার গবেষণা পদ্ধতি:১ - আমি কুতুবুস সিত্তাহর পাশাপাশি ইমাম মালিকের মুয়াত্তা, ইমাম আহমদের মুসনাদ এবং সুনানে দারেমির উদ্ধৃতি দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি এবং আমি কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি মারফু (مرفوعة) হাদিসগুলো উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি। আর সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) বা তাবিঈদের থেকে বর্ণিত আসার (آثار)-এর ক্ষেত্রে আমি মুসান্নাফ গ্রন্থাবলী, সুনান এবং ইমাম মালিকের মুয়াত্তা থেকে যা অবগত হয়েছি তা উল্লেখ করেছি।
২ - আমি কুতুবুস সিত্তাহ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি মারফু (مرفوعة) হাদিসগুলোর তাখরিজ (تخريج) করেছি এবং এরপর সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) ব্যতীত বাকিগুলোর ওপর হুকুম (الحكم) প্রদান করেছি। আর সাহাবী ও তাবিঈদের থেকে বর্ণিত আসার (آثار)-এর ক্ষেত্রে আমি উক্ত আসার-এর বর্ণনাকারী ও তার উৎসের উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি।
৩ - হাদিসের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আমি অধিকাংশ সময় ফাতহুল বারী শারহু সহীহিল বুখারী এবং ইমাম নববী (রহ.)-এর শারহু মুসলিম-এর ওপর নির্ভর করেছি।
৪ - আমি শিয়াদের নির্ভরযোগ্য হাদিস বিষয়ক গ্রন্থসমূহ যেমন—কুলাইনীর আল-কাফী, তূসীর আল-ইসতিবসার ও তাহযীবুল আহকাম এবং হুররে আমেলীর ওয়াসাইলুশ শিয়া কিতাবসহ শিয়াদের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি প্রদানের ব্যাপারে সচেষ্ট থেকেছি।
৫ - আমি এ বিষয়েও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি যে, কোনো বিষয়কে শিয়া বা আহলুস সুন্নাহর দিকে ততক্ষণ পর্যন্ত নিসবত করব না যতক্ষণ না আমি তাদের প্রতি এর নিসবত সঠিক হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হব। আমি এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট মতের প্রতি গোঁড়ামি বা সত্য থেকে বিচ্যুত অন্ধ অনুসরণ (تقليد) ছাড়াই প্রকৃত তথ্য উন্মোচনের চেষ্টা করেছি।
৬ - পরিশেষে, আমি এমন কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের জীবনী (ترجمة) প্রদান করেছি যাদের সম্পর্কে জানা গবেষণার প্রয়োজনে জরুরি ছিল; যেমন—শিয়াদের কিছু আলেম ও তাদের গ্রন্থকারদের জীবনী। তবে প্রত্যেক আলেমের জীবনী (ترجمة) প্রদান করা পাঠককে মূল বিষয় থেকে বিচ্যুত করতে পারে, তাই সেগুলোর প্রকৃত স্থান হলো ইতিহাস ও জীবনী বিষয়ক (تراجم) গ্রন্থসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ১০)
وقد جاءت
خطة البحث على النحو التالي:
قمت بتقسيم الرسالة إلى مقدمة وتمهيد وثلاثة فصول وخاتمة وفهارس علمية:
فالتمهيد شرحت فيه عنوان الرسالة ثم قسمته إلى المباحث التالية:
المبحث الأول: تعريف نكاح المتعة لغة واصطلاحاً.
المبحث الثاني: ألفاظ المتعة في الشرع.
المبحث الثالث: حقيقة نكاح المتعة وشروطه عند الشيعة
المبحث الرابع: في أهداف الإسلام من تشريع الزواج.
أما الفصل الأول: حكم المتعة في الشرع وقسمته إلى ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: تاريخ إباحة المتعة وتحريمها في السنة النبوية.
المبحث الثاني: الأحاديث والآثار الواردة في تحريم نكاح المتعة.
المبحث الثالث: حكم المتعة عند فقهاء السنة.
وأما الفصل الثاني: حكم نكاح المتعة عند الشيعة، وقسمته إلى ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: ذكر الأحاديث التي استدلوا بها لإباحة نكاح المتعة وفيه مطلبان:
الأول: مناقشة الأدلة دراية ورواية.
الثاني: الجواب عن شبهات أحاديث متعة الحج.
المبحث الثاني: ذكر الأحاديث التي تحرم نكاح المتعة من كتب الشيعة ومصادرهم.
المبحث الثالث: نصوص علماء الشيعة الذين حرموا نكاح المتعة
وأما الفصل الثالث: المفاسد والآثار المترتبة على إباحة نكاح المتعة وقسمته إلى ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: الآثار الاجتماعية.
গবেষণার রূপরেখা
(خطة البحث) নিম্নরূপ বর্ণিত হয়েছে:
আমি গবেষণা প্রবন্ধটিকে একটি ভূমিকা (مقدمة), একটি উপক্রমণিকা (تمهيد), তিনটি অধ্যায় (فصول), একটি উপসংহার (خاتمة) এবং বৈজ্ঞানিক নির্ঘণ্টের (فهارس علمية) মাধ্যমে বিন্যস্ত করেছি:
উপক্রমণিকায় (التمهيد) আমি গবেষণা প্রবন্ধের শিরোনাম ব্যাখ্যা করেছি এবং এরপর সেটিকে নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহে (المباحث) বিভক্ত করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মুত’আ বিবাহের (نكاح المتعة) শাব্দিক (لغة) ও পারিভাষিক (اصطلاحاً) সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শরিয়তে (الشرع) মুত’আ সংক্রান্ত শব্দাবলি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শিয়াদের নিকট মুত’আ বিবাহের (نكاح المتعة) স্বরূপ এবং এর শর্তাবলি।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বিবাহ বিধিবদ্ধ (تشريع) করার ক্ষেত্রে ইসলামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ।
আর প্রথম অধ্যায় (الفصل الأول): শরিয়তে মুত’আর বিধান (حكم) এবং একে আমি তিনটি পরিচ্ছেদে (مباحث) বিভক্ত করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর আলোকে মুত’আ বৈধকরণ (إباحة) এবং নিষিদ্ধকরণের (تحريم) ইতিহাস।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুত’আ বিবাহ নিষিদ্ধকরণ প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদিসসমূহ ও আসার (الآثار)।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নি ফকিহদের নিকট মুত’আর বিধান (حكم)।
আর দ্বিতীয় অধ্যায় (الفصل الثاني): শিয়াদের নিকট মুত’আ বিবাহের বিধান (حكم), এবং আমি একে তিনটি পরিচ্ছেদে (مباحث) বিভক্ত করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মুত’আ বিবাহ বৈধ করার (إباحة) স্বপক্ষে তারা যে সকল হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন সেগুলোর উল্লেখ এবং এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ (مطلبان) রয়েছে:
প্রথম: রিওয়ায়াত (رواية) ও দিরায়াত (دراية) উভয় দিক থেকে দলিলসমূহের পর্যালোচনা।
দ্বিতীয়: হজ্জের তামাত্তু (متعة الحج) সংক্রান্ত হাদিসগুলোর সংশয়ের (شبهات) উত্তর।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শিয়াদের কিতাব ও উৎসসমূহ (مصادر) থেকে মুত’আ বিবাহ নিষিদ্ধকারী হাদিসসমূহের উল্লেখ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শিয়া আলেমদের এমন সব বক্তব্য (نصوص) যারা মুত’আ বিবাহ নিষিদ্ধ করেছেন।
আর তৃতীয় অধ্যায় (الفصل الثالث): মুত’আ বিবাহ বৈধকরণের (إباحة) ফলে সৃষ্ট অপকারিতা (المفاسد) ও এর প্রভাবসমূহ এবং আমি একে তিনটি পরিচ্ছেদে (مباحث) বিভক্ত করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সামাজিক প্রভাব।
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الثاني: الآثار النفسية.
المبحث الثالث: الآثار الصحية.
والجديد في هذه الرسالة، أني جمعت فيها بين علم الرواية وعلم الدراية في حكم نكاح المتعة، بالإضافة إلى ذكر دراسات وأبحاث أكاديمية ميدانية بعمل مقابلات شخصية لمن يجيز ويفعل نكاح المتعة نساء ورجالاً وعلى ما يترتب من ذلك من آثار ومفاسد.
وفي أثناء كتابة بحثي، فقد واجهت مشكلة عدم توفر جميع الكتب والمصادر الشيعية بمكان قريب.
وأحمد الله تبارك وتعالى على ما منَّه علينا من نعم ظاهرة وباطنة وأشكره جل وعز على توفيقه وإعانته، وفي الختام لهذه المقدمة فإني أتقدم بالشكر والثناء لمشرف الرسالة فضيلة الدكتور عبد المحسن بن زين المطيري - حفظه الله تعالى- على ما قدم لي من النصائح بالتوجيهات حول خطة الرسالة وأيضا فضيلة الدكتور عثمان بن محمد الخميس - حفظه الله تعالى - على ما أبدى لي من ذكر بعض الموضوعات والمباحث حول كتابة رسالتي، ولا أنس فضل الباحثين والعاملين في مبرة الآل والأصحاب بعد فضل الله تعالى على مساعدتي في توفير بعض الكتب والمصادر والمراجع للمذهب الشيعي والقيام بتصويرها وتوفيرها وكل ذلك بتقدير وتسخير من الله تعالى والحمد لله رب العالمين.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: স্বাস্থ্যগত প্রভাবসমূহ।
এই অভিসন্দর্ভের বিশেষত্ব হলো, এতে আমি 'মুত’আ' বিবাহের বিধান নির্ধারণে বর্ণনা শাস্ত্র (علم الرواية) এবং উপলব্ধি শাস্ত্রের (علم الدراية) মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছি। এর পাশাপাশি, যারা মুত’আ বিবাহকে বৈধ মনে করেন এবং এতে লিপ্ত হন—এমন নারী ও পুরুষদের ওপর ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে পরিচালিত প্রাতিষ্ঠানিক ও সরেজমিন গবেষণাসমূহ এবং এর ফলে উদ্ভূত নানাবিধ প্রভাব ও অপকারিতার কথা উল্লেখ করেছি।
গবেষণাটি রচনার সময় আমি নিকটবর্তী কোনো স্থানে শিয়াদের সকল গ্রন্থ ও মূল উৎস না পাওয়ার সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি।
আমি মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার প্রশংসা করছি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহের জন্য এবং তাঁর তাওফিক ও সাহায্যের জন্য শোকর গুজার করছি। এই ভূমিকার শেষে আমি অভিসন্দর্ভের তত্ত্বাবধায়ক শ্রদ্ধেয় ড. আব্দুল মুহসিন বিন যায়িন আল-মুতাইরী —আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন— এর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জ্ঞাপন করছি, তিনি এই অভিসন্দর্ভের পরিকল্পনা সংক্রান্ত বিষয়ে আমাকে প্রয়োজনীয় নসীহত ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। সেই সাথে শ্রদ্ধেয় ড. উসমান বিন মুহাম্মদ আল-খামিস —আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন— এর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, তিনি আমার অভিসন্দর্ভ রচনায় কিছু বিষয় ও পরিচ্ছেদ সম্পর্কে আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন। আমি 'মাব্বারাত আল-আল ওয়াল আসহাব'-এর গবেষক ও কর্মীদের অবদানের কথা ভুলে যাব না, যারা মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে আমাকে শিয়া মাযহাবের কিছু কিতাব, মূল উৎস ও রেফারেন্স সংগ্রহ এবং সেগুলো অনুলিপি ও সরবরাহ করে সাহায্য করেছেন। এ সবই মহান আল্লাহর নির্ধারণ ও অনুগ্রহে সম্ভব হয়েছে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর।
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ১২)
التمهيدويشتمل على أربعة مباحث:
المبحث الأول
تعريف نكاح المتعة
المبحث الثاني
ألفاظ المتعة في الشرع
المبحث الثالث
حقيقة نكاح المتعة وشروطه عند الشيعة
المبحث الرابع
أهداف الإسلام من تشريع الزواج
প্রারম্ভিকাএটি চারটি পরিচ্ছেদের সমন্বয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ
নিকাহ মুত'আ-এর সংজ্ঞা
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
শরিয়তে মুত'আ-এর শব্দাবলি
তৃতীয় পরিচ্ছেদ
শিয়াদের নিকট নিকাহ মুত'আ-এর স্বরূপ ও এর শর্তাবলি
চতুর্থ পরিচ্ছেদ
বিবাহের বিধান প্রবর্তনে ইসলামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ১৩)
شرح عنوان الرسالة[الأحاديث والآثار الواردة في نكاح المتعة رواية ودراية]1 - الأحاديث: جمع حديث، وهو لغة: ضد القديم
واصطلاحاً: ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم قولاً أو فعلاً أو تقريراً أو صفة حتى الحركات والسكنات في اليقظة والمنام فهو أعم من السنة
(1).
2 - الآثار: جمع أثر، لغة: البقية.
اصطلاحاً: الأحاديث مرفوعة كانت أو موقوفة
(2).
3 - النكاح: في اللغة: مصدر نكح يقال نكح ينكح الرجل والمرأة نكاحاً: من باب ضرب، قال ابن فارس وغيره: يطلق على الوطء وعلى العقد بدون الوطء ويقال: نُكحت المرأة: تزوجت.
وفي الاصطلاح: اختلف الفقهاء في تعريف النكاح.
فقال الحنفية: النكاح عقد يفيد ملك المتعة بالأنثى قصداً، أي يفيد حل استمتاع الرجل من امرأة لم يمنع نكاحها مانع شرعي
(3).
وقال المالكية: النكاح عقد لحل تمتع بأنثى غير محرم ومجوسية وأما كتابية بصيغة
(4).
--------------------------------------------
অভিসন্দর্ভের শিরোনামের ব্যাখ্যা[নিকাহ আল-মুতআ (نكاح المتعة) সংক্রান্ত বর্ণিত হাদিস ও আসারসমূহ (الآثار): বর্ণনা (رواية) ও গবেষণা (دراية) ভিত্তিক পর্যালোচনা]1 - হাদিসসমূহ: হাদিস-এর বহুবচন, আর আভিধানিকভাবে এটি: প্রাচীন বা পুরাতনের বিপরীত।
পারিভাষিক অর্থে: যা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে—চাই তা কথা, কাজ, মৌনসম্মতি (تقرير) অথবা গুণাবলি হোক, এমনকি জাগ্রত বা নিদ্রাবস্থায় তাঁর নড়াচড়া ও স্থিরতাও এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এটি সুন্নাহ অপেক্ষা অধিক ব্যাপক
(1)।
2 - আসারসমূহ (الآثار): আসার (أثر)-এর বহুবচন, আভিধানিকভাবে এর অর্থ: অবশিষ্টাংশ।
পারিভাষিক অর্থে: হাদিসসমূহ, চাই তা মারফু (مرفوع) হোক কিংবা মাওকুফ (موقوف) হোক
(2)।
3 - নিকাহ (نكاح): আভিধানিকভাবে: ‘নাকাহা’ (نكح) ক্রিয়ামূলের উৎস; বলা হয়ে থাকে ‘নাকাহা ইয়ানকিহুর রাজুলু ওয়াল মারআতু নিকাহান’—এটি ‘বাব-ই-দারাবা’ (باب ضرب) থেকে এসেছে। ইবনে ফারিস ও অন্যান্যরা বলেন: এটি সহবাস এবং সহবাস ব্যতিরেকে কেবল চুক্তির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। আর বলা হয়: ‘নুকিহাতিল মারআতু’, অর্থাৎ নারীটি বিবাহিত হয়েছে।
এবং পারিভাষিক অর্থে: ফকিহগণ নিকাহ-এর সংজ্ঞায় মতভেদ করেছেন।
হানাফিগণ বলেন: নিকাহ হলো এমন একটি চুক্তি যা উদ্দেশ্যমূলকভাবে নারীর মাধ্যমে সম্ভোগের মালিকানা প্রদান করে। অর্থাৎ, এটি এমন একজন নারীর সাথে পুরুষের উপভোগের বৈধতা দান করে, যার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে কোনো শরিয়তসম্মত বাধা নেই
(3)।
মালিকিগণ বলেন: নিকাহ হলো এমন এক চুক্তি যা মাহরাম (محرم) নয় এবং অগ্নিপূজক নয় এমন নারীর সাথে উপভোগকে বৈধ করে; তবে কিতাবি নারীর ক্ষেত্রে তা নির্দিষ্ট সিগার (بصيغة) মাধ্যমে সম্পন্ন হয়
(4)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وقال الشافعية: النكاح عقد يتضمن إباحة وطء بلفظ إنكاح أو تزويج أو ترجمته
(1).
وقال الحنابلة: النكاح عقد التزويج، أي عقد يعتبر فيه لفظ نكاح أو تزويج أو ترجمته
(2).
4 - الرواية: لغة: الحمل والنقل أو الإسقاء والإرواء بالماء، وفي مصطلح المحدثين: هي نقل الحديث وإسناده إلى من عُزِيَ أي نسب إليه بصيغة من صيغ الأداء، كحدثنا وأخبرنا وسمعت وعن ونحوهما
(3).
5 - الدراية: لغة دراية مفرد: مصدر: درى علم ومعرفة الشيئ مع اجتهاد وحيله: له دراية بفنون القول: على وعي بها»
(4).
اصطلاحاً: علم يُبحث فيه عن أحوال الراوي والمروي من حيث القبول والرد
(5).
--------------------------------------------
শাফেয়ীগণ বলেছেন: নিকাহ হলো এমন একটি চুক্তি যা 'ইনকাহ' বা 'তাযউইজ' শব্দ অথবা এর অনুবাদের মাধ্যমে সহবাসের বৈধতাকে অন্তর্ভুক্ত করে
(১)।
হাম্বলীগণ বলেছেন: নিকাহ হলো বিবাহের চুক্তি, অর্থাৎ এমন একটি চুক্তি যেখানে 'নিকাহ' বা 'তাযউইজ' শব্দ অথবা এর অনুবাদকে গণ্য করা হয়
(২)।
৪ - রিওয়ায়াত বা বর্ণনা (الرواية): আভিধানিক অর্থ: বহন করা ও স্থানান্তর করা অথবা পানি পান করানো এবং তৃপ্ত করা। আর মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায়: এটি হলো হাদিস বর্ণনা করা এবং যাঁর দিকে এটি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে তাঁর নিকট সনদ (إسناد) পৌঁছানো; যা বর্ণনা প্রদানের পদ্ধতির (صيغ الأداء) কোনো একটির মাধ্যমে সম্পাদিত হয়, যেমন: 'হাদ্দাসানা', 'আখবারানা', 'সামিতু', 'আন' এবং এই জাতীয় শব্দাবলি
(৩)।
৫ - দিরায়াত বা অনুধাবন (الدراية): আভিধানিক অর্থে ‘দিরায়াত’ একবচন, এটি একটি মূলশব্দ: পরিশ্রম ও কৌশলের মাধ্যমে কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান ও অবগতি লাভ করা। যেমন বলা হয়: ‘কথার শিল্পে তাঁর দিরায়াত (ব্যুৎপত্তি) আছে’ অর্থাৎ সে বিষয়ে তিনি সচেতন
(৪)।
পরিভাষায়: এটি এমন এক ইলম যাতে বর্ণনাকারী (الراوي) এবং যা বর্ণিত হয়েছে (المروي) তার অবস্থা সম্পর্কে গ্রহণ ও বর্জনের (القبول والرد) দিক থেকে আলোচনা করা হয়
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المبحث الأولتعريف نكاح المتعةتعريف نكاح المتعة لغة واصطلاحاً
أ - نكاح المتعة لغة:قال ابن فارس: الميم والتاء والعين أصل صحيح يدل على منفعة وامتداد مدة في خير. منه اسمتعت بالشيء، والمتعة والمتاع: المنفعة في قوله تعالى {بُيُوتًا غَيْرَ مَسْكُونَةٍ فِيهَا مَتَاعٌ لَكُمْ} [النور: آية 29] ومُتِّعت المُطلقة بالشيء لأنها تنتفع به، ويقال أمْتعْتُ بمالي، بمعنى تَمَتَّعت، قال:
خليطين من شَعبين حتَّى تجاوزا
… قديماً وكان للتفرق أَمْتَعَا
وراه الأصمعي: «بالتَّفرق». يقول: لم تكن مُتعةُ أحدهما لصاحبه إلا الفراق ويقولون: لئن اشتريت هذا الغلام لتَمْتَعَنَّ منه بغلام صالح. ويقولون: حبلٌ ماتعٌ: جَيِّد، ومعناه أنَّ المُدَّة تمتد به. ويقولون: مَتعَ النهارُ: طال. ومتع النباتُ مُتُوعًا.
وذهب أهل التحقيق إلى أن الأصل في الباب التَّلَذُّذ. ومَتَعَ النهار لأنه يُتَمَتَعُ بضيائه، ومَتِّعَ الترابُ مشبه بتمتُعُ النهار. والمتاع بالانتفاع بما فيه لذَّةٌ عاجلة. وذهب آخرون إلى أن الأصل الامتداد والارتفاع والمتاع انتفاع مُمْتَدُ الوقت. وشراب ماتع: أحمر، أي به يُتَمتَّع لجودته
(1).
وقال الأزهري: المُتع جمع متعة. قال الليث ومنهم من يقول مِتعة، وجمعها مِتع. وروى عمرو عن أبيه أنه قال المتعة: الزاد القليل، وجمعها مُتع.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদনিকাহুল মুতআর সংজ্ঞানিকাহুল মুতআর শাব্দিক (لغة) ও পারিভাষিক (اصطلاحاً) সংজ্ঞা
ক - শাব্দিক (لغة) অর্থে নিকাহুল মুতআ:ইবনে ফারিস বলেন: মিম (م), তা (ت) এবং আইন (ع) হলো একটি বিশুদ্ধ (صحيح) মূলবর্ণ যা মূলত উপকার লাভ এবং কল্যাণের ক্ষেত্রে সময়ের ব্যাপ্তিকে নির্দেশ করে। এ থেকেই ‘ইস্তামতা’তু বিশ-শাই’ (আমি বস্তুটির দ্বারা উপকৃত হয়েছি) কথাটি এসেছে। আর ‘আল-মুতআ’ এবং ‘আল-মাতা’ অর্থ হলো উপকারিতা; যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {এমন গৃহসমূহ যাতে কেউ বাস করে না, যাতে তোমাদের জন্য উপকার রয়েছে} [আন-নূর: ২৯]। তালাকপ্রাপ্তা নারীকে যে অর্থ বা সামগ্রী প্রদান করা হয় তাকে ‘মুতআ’ বলা হয় কারণ সে তা দ্বারা উপকৃত হয়। বলা হয়ে থাকে ‘আমতা’তু বি-মালি’ যার অর্থ হলো ‘তামাত্তাউতু’ (আমি আমার সম্পদ দ্বারা উপকৃত হয়েছি)। কবি বলেন:
দুই গোত্রের দুই বন্ধু, তারা এমনভাবে মিশে ছিল যতক্ষণ না তারা পরস্পরকে ছাড়িয়ে গেল
… সুদূর অতীতকাল থেকেই বিচ্ছেদ ছিল তাদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী।
আসমাঈ এটি ‘বিত-তাফাররুক’ (বিচ্ছেদের মাধ্যমে) শব্দে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: তাদের একজনের নিকট অপরজনের প্রাপ্তি বা উপভোগ বিচ্ছেদ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। আরবরা বলে থাকে: যদি তুমি এই গোলামটি ক্রয় করো তবে অবশ্যই এর বিনিময়ে একজন নেককার গোলামের মাধ্যমে উপকৃত হবে। তারা আরও বলে থাকে: ‘হাবলুন মাতিউন’ অর্থাৎ উৎকৃষ্ট দড়ি; এর অর্থ হলো এর স্থায়িত্ব দীর্ঘ হবে। তারা বলে: ‘মাতাআন নাহারু’ অর্থাৎ দিন দীর্ঘ হলো। ‘মাতাআন নাবাতু মুতুআন’ (উদ্ভিদ দীর্ঘ হলো)।
গবেষকগণ মনে করেন যে, এই অধ্যায়ের মূল অর্থ হলো আনন্দ বা তৃপ্তি লাভ করা। দিনকে ‘মাতাআ’ বলা হয় কারণ এর আলো থেকে ফায়দা হাসিল করা হয় এবং মাটি বা ধূলিকণাকে ‘মাত্তিআ’ বলা হয় দিনের উপভোগের সাথে সাদৃশ্য রেখে। আর ‘মাতা’ হলো এমন কোনো বিষয় দ্বারা উপকৃত হওয়া যাতে তাৎক্ষণিক তৃপ্তি বিদ্যমান। অন্যরা মনে করেন যে, এর মূল অর্থ হলো বিস্তৃতি ও উচ্চতা; আর ‘মাতা’ হলো দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রাপ্ত উপকার। ‘শারাবুন মাতিউন’ অর্থ লাল পানীয়, অর্থাৎ এর গুণগত মানের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তা দ্বারা আনন্দ লাভ করা হয়।
(১)আযহারী বলেন: ‘আল-মুতআ’ শব্দটি ‘মুতআহ’ এর বহুবচন। লাইস বলেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে ‘মিতআহ’ বলেন, যার বহুবচন হলো ‘মিতআ’। আমর তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: মুতআ হলো সামান্য পাথেয়, আর এর বহুবচন হলো ‘মুতআ’।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ১৬)
قلت: وكذلك قول الله تعالى عز وجل الرشاد {وَقَالَ الَّذِي آمَنَ يَاقَوْمِ اتَّبِعُونِ أَهْدِكُمْ سَبِيلَ الرَّشَادِ (38) يَاقَوْمِ إِنَّمَا هَذِهِ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَإِنَّ الْآخِرَةَ هِيَ دَارُ الْقَرَارِ} [غافر: 38 - 39]، أي: بلغة يتبلغ به لا بقاء له.
قال: ليس من أحد يفارق صاحبه إلا أمتعه بشيء يذكره به، وكان ما أمتعا كل واحد من هذين صاحبه أن فارقه.
وقول الله جل وعز {فَاسْتَمْتَعْتُمْ بِخَلَاقِكُمْ} [التوبة: 69]، قال الفراء: استمتعوا يقول: رضوا بنصيبهم من الدنيا من أنصابهم في الآخرة، وفعلتم أنتم كما فعلوا ونحو ذلك قال الزجاج. وقال غيرهما: معناه: استمتعوا بنصيبهم من الآخرة في الدنيا، وأنشد المازني هذا البيت:
ومنا غداة الروع فتيان نجدة
… إذا أمتعت بعد الأكف الأشاجع
(1)
ب - نكاح المتعة اصطلاحاً عند فقهاء السنة:قال القرطبي - رحمه الله تعالى- عن نكاح المتعة هو «أن يتزوج الرجل المرأة بشاهدين، وإذن الولي، إلى أجل مسمى، وعلى أن لا ميراث بينهما، ويعطيها ما أتفقا عليه، فإذا انقضت المدة فليس له عليها سبيل، ويتبرئ رحمها، فإن لم تحمل حلت لغيره
(2).
وذكرت الموسوعة الفقهية الكويتية تعريف المتعة اصطلاحًا: هو العقد على امرأة إلى مدة معلومة أو مجهولة
(3).
--------------------------------------------
আমি বললাম: অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী সঠিক পথ (الرشاد) প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং যে ব্যক্তি ঈমান এনেছিল সে বলল, হে আমার কওম! তোমরা আমার অনুসরণ করো, আমি তোমাদের সঠিক পথের (الرشاد) দিশা দেব। (৩৮) হে আমার কওম! এই পার্থিব জীবন তো কেবল সাময়িক ভোগ (متاع) মাত্র এবং আখিরাত হলো চিরস্থায়ী আবাস।} [গাফির: ৩৮-৩৯], অর্থাৎ: এমন জীবনোপকরণ যার মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছানো যায় কিন্তু এর কোনো স্থায়িত্ব নেই।
তিনি বললেন: এমন কেউ নেই যে তার সঙ্গীকে ছেড়ে যায় অথচ তাকে এমন কিছু দিয়ে তুষ্ট করে না যা দিয়ে সে তাকে স্মরণ রাখে। আর এই দুই সঙ্গীর একে অপরকে তুষ্ট করার বিষয়টি ছিল তাদের বিচ্ছেদকাল।
এবং মহান আল্লাহর বাণী {তোমরা তোমাদের অংশের দ্বারা উপকৃত হয়েছ (استمتعتم)} [আত-তাওবাহ: ৬৯] প্রসঙ্গে আল-ফাররা বলেন: ‘তারা উপকৃত হয়েছে’ অর্থ হলো: তারা আখিরাতে তাদের প্রাপ্য অংশের পরিবর্তে দুনিয়ার অংশে সন্তুষ্ট হয়েছে। তোমরাও ঠিক তেমনি করেছ যেমন তারা করেছিল। আল-যাজ্জাজও অনুরূপ কথা বলেছেন। অন্যরা বলেছেন: এর অর্থ হলো তারা আখিরাতের অংশের বিনিময়ে দুনিয়াতে সুখ ভোগ করেছে। আল-মাযিনী নিম্নোক্ত কবিতাটি পাঠ করেছেন:
যুদ্ধের ভয়াবহ ভোরে আমাদের মাঝে এমন এক সাহসী যুবদল রয়েছে... যখন হাতের তালুর পরে আঙুলের হাড়গুলো তুষ্ট হয় (أمتعت)
(১)
খ - সুন্নী ফকীহদের (فقهاء) নিকট পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحاً) নিকাহ আল-মুতআ (نكاح المتعة):ইমাম কুরতুবী (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) নিকাহ আল-মুতআ (نكاح المتعة) সম্পর্কে বলেছেন, এটি হলো— "কোনো পুরুষ কর্তৃক দুইজন সাক্ষী ও অভিভাবকের অনুমতিসহ একটি নির্দিষ্ট সময়ের (أجل مسمى) জন্য কোনো নারীকে বিবাহ করা, এই শর্তে যে তাদের মাঝে কোনো উত্তরাধিকার থাকবে না এবং পুরুষটি নারীকে তাদের উভয়ের নির্ধারিত বিনিময় প্রদান করবে। যখন সময় অক্রন্ত হবে, তখন নারীর ওপর পুরুষের কোনো অধিকার থাকবে না এবং নারী তার গর্ভাশয় (পূর্ববর্তী সম্পর্ক থেকে) মুক্ত কি না তা নিশ্চিত করবে। যদি সে গর্ভবতী না হয়, তবে সে অন্যের জন্য বৈধ হবে"
(২)।
কুয়েতি ফিকহ বিশ্বকোষে মুতআর পারিভাষিক (اصطلاحاً) সংজ্ঞা এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে: এটি হলো কোনো নারীর সাথে একটি নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সম্পাদিত চুক্তি
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المبحث الثانياستعمالات لفظ المتعة في الشرعذكر الكاتب البلخي الخوارزمي معنى المتعة عند الفقهاء على ثلاثة أوجه:
أحدها: أن يتزوج الرجل امرأة بمهر يسير إلى أجل معلوم على أن ينفسخ النكاح عند انقضائه بغير طلاق، وذلك عند الشيعة جائز.
الوجه الثاني: كسوة المطلقة إذا طلقت ولم يدخل عليها.
والوجه الثالث: متعة الحج وهي أن يتمتع إذا قضى طوافه ويحل له ما كان حرم عليه
(1).
والمتعة اسم من التمتع، ومنه متعة الحج، ومتعة الطلاق، ونكاح المتعة.
وفي الاصطلاح يطلق التمتع على معنيين:
أولاً: بمعنى متعة النكاح وهو العقد على امرأة إلى مدة معلومة أو مجهولة. وهو باطل بلا خلاف بين الأئمة، لأنه لا يراد به مقاصد النكاح.
وثانياً: بمعنى المتعة بالعمرة إلى الحج، وهو عند الحنفية أن يعمل أفعال العمرة أو أكثرها في أشهر الحج وأن يحج من عامه ذلك من غير أن يُلمّ بأهله إلماماً صحيحا والإلمام الصحيح النزول في وطنه من غير بقاء صفة الإحرام - ويحرم للحج من الحرم
(2).
ثالثاً: متعة الطلاق، قال الشربيني الخطيب: مال يجب على الزوج دفعه لامرأته المفارقة في الحياة بطلاق وما في معناه بشروط
(3).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثاني)শরয়ি পরিভাষায় মুতআ (المتعة) শব্দের ব্যবহারলেখক আল-বালখি আল-খাওয়ারিজমি ফকিহগণের (الفقهاء) নিকট মুতআ (المتعة) শব্দের অর্থ তিনটি দিক থেকে উল্লেখ করেছেন:
প্রথমত: কোনো ব্যক্তি কর্তৃক একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য অল্প মোহরের বিনিময়ে কোনো নারীকে বিবাহ করা, এই শর্তে যে, মেয়াদ শেষ হলে তালাক (طلاق) ছাড়াই বিবাহটি ছিন্ন হয়ে যাবে; শিয়াদের মতে এটি বৈধ (جائز)।
দ্বিতীয় দিক: তালাকপ্রাপ্তা (المطلقة) নারীকে প্রদানকৃত বস্ত্র, যখন তাকে সহবাসের পূর্বে তালাক দেওয়া হয়।
তৃতীয় দিক: হজের মুতআ (متعة الحج); আর তা হলো হাজি যখন তার তাওয়াফ সম্পন্ন করার পর তামাত্তু (يتمتع) করে এবং তার ওপর যা হারাম ছিল তা তার জন্য হালাল (يحل) হয়ে যায়
(1)।
মুতআ (المتعة) শব্দটি তামাত্তু (التمتع) থেকে গৃহীত একটি বিশেষ্য, আর তা থেকে হজের মুতআ (متعة الحج), তালাকের মুতআ (متعة الطلاق) এবং মুতআ বিবাহ (نكاح المتعة) শব্দগুলো এসেছে।
পারিভাষিক অর্থে তামাত্তু (التمتع) শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:
প্রথমত: বিবাহের মুতআ (متعة النكاح) অর্থে; আর তা হলো একটি নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য কোনো নারীর সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়া। এটি ইমামগণের মধ্যে কোনো মতভেদ ছাড়াই বাতিল (باطل), কারণ এর মাধ্যমে বিবাহের উদ্দেশ্যসমূহ অর্জিত হয় না।
দ্বিতীয়ত: হজের সাথে উমরার মুতআ (المتعة) পালন করা; হানাফিদের মতে এটি হলো হজের মাসসমূহে উমরার কার্যাবলি বা এর অধিকাংশ সম্পাদন করা এবং সেই বছরই হজ করা, যদি সে তার পরিবারের নিকট সঠিক পন্থায় ফিরে না যায়। আর সঠিক পন্থায় ফিরে যাওয়া (الإلمام الصحيح) বলতে ইহরামের (الإحرام) অবস্থা অবশিষ্ট না রেখে নিজ জন্মভূমিতে অবস্থান করাকে বোঝায়—এবং হারাম শরিফ থেকে হজের ইহরাম (يحرم) বাঁধা
(2)।
তৃতীয়ত: তালাকের মুতআ (متعة الطلاق); শারবিনি আল-খাতিব বলেন: এটি এমন সম্পদ যা নির্দিষ্ট কিছু শর্তসাপেক্ষে তালাক (طلاق) বা সমজাতীয় কারণে জীবদ্দশায় বিচ্ছেদ হওয়া স্ত্রীর জন্য প্রদান করা স্বামীর ওপর আবশ্যক (يجب) হয়ে থাকে
(3)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المبحث الثالثحقيقة نكاح المتعة وشروطه عند الشيعةحقيقة زواج المتعة:
هذا النكاح هو: عقد زواج بين الرجل والمرأة، بمهر معين، يذكر في متن العقد، إلى أجل معين، وبحلول الأجل، أو بهبة الزوج المدَّة لها؛ تنحل عقدة النكاح بلا حاجة إلى طلاق.
فتقول المرأة: «زوجتك، أو أنكحتك أو متعتك نفسي بمهر قدره كذا لمدة شهر أو سنة أو أقل أو أكثر».
فيقول لها الرجل: «قبلت».
فتثبت الزوجية إلى انتهاء المدة التي حددت، أو إلى أن يهبها باقي المدة.
وبعد انتهاء المدة تعتدُّ ـ كالأمة ـ بحيضتين، وقيل: بواحدة، إن كانت ممن تحيض، وبخمسة وأربعين يومًا إن كانت لا تحيض، وهي في سن من تحيض، وعدة الحامل والمتوفى عنها زوجها كعدة الدائمة.
ولابد أن تتوفَّر في هذا النكاح جميع الشرائط الشرعية من البلوغ، والعقل، والاختيار
… إلخ، مع عدم وجود مانع شرعي من: نسب، أو سبب، أو رضاع، أو إحصان، أو عدة لآخر، أو كونها أخت زوجة، أو نحو ذلك.
هذا بالإضافة إلى توفُّر سائر شرائط النكاح الدائم، حسبما هو مقرَّر في الكتب الفقهية.
وولد المتعة يلحق بأبيه، ويرثه كسائر أولاده، وتشمله جميع العمومات الشرعية الواردة في الآباء والأمهات، والإخوة والأخوات، والعمات، والخالات
… إلخ
(1).
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদশিয়াদের নিকট মুতআ বিবাহের বাস্তবতা ও এর শর্তাবলিমুতআ বিবাহের বাস্তবতা:
এই বিবাহ হলো: একজন পুরুষ ও একজন নারীর মধ্যে সম্পাদিত একটি বিবাহের চুক্তি, যা চুক্তির মূল পাঠে উল্লিখিত একটি নির্দিষ্ট মোহরানা এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের বিনিময়ে সম্পন্ন হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার মাধ্যমে অথবা স্বামী স্ত্রীকে অবশিষ্ট সময়কাল দান করার মাধ্যমে তালাকের প্রয়োজন ছাড়াই বিবাহের বন্ধন ছিন্ন হয়ে যায়।
অতঃপর নারী বলে: «আমি আপনার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলাম, অথবা আপনাকে বিয়ে করলাম অথবা এত পরিমাণ মোহরানায় এক মাস বা এক বছর কিংবা এর চেয়ে কম বা বেশি সময়ের জন্য নিজেকে আপনার নিকট মুতআ হিসেবে সোপর্দ করলাম।»
তখন পুরুষটি তাকে বলে: «আমি কবুল করলাম।»
ফলে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত অথবা স্বামী স্ত্রীকে অবশিষ্ট সময়কাল দান করা পর্যন্ত দাম্পত্য সম্পর্ক সাব্যস্ত হয়।
মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি—দাসীর ন্যায়—দুই মাসিক পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবেন; বলা হয়ে থাকে: এক মাসিক, যদি তিনি ঋতুবতী হন। আর যদি ঋতুবতী না হন অথচ তিনি ঋতুবতী হওয়ার বয়সে উপনীত হন, তবে পঁয়তাল্লিশ দিন ইদ্দত পালন করবেন। গর্ভবতী নারী এবং যার স্বামী মারা গেছেন তাদের ইদ্দত সাধারণ স্থায়ী বিবাহের ইদ্দতের মতোই।
এই বিবাহের ক্ষেত্রে অবশ্যই সকল শরয়ি শর্তাবলি যেমন—সাবালকতা, সুস্থ মস্তিষ্ক, স্বেচ্ছাধীন হওয়া ইত্যাদি বিদ্যমান থাকতে হবে। সাথে সাথে কোনো শরয়ি প্রতিবন্ধক থাকতে পারবে না, যেমন: বংশীয় সম্পর্ক, বৈবাহিক সম্পর্ক, দুগ্ধপান, সতীত্ব বা বিবাহিত হওয়া, অন্য কারো জন্য ইদ্দত পালন করা অথবা স্ত্রীর বোন হওয়া কিংবা এই জাতীয় অন্য কিছু।
এর পাশাপাশি ফিকহশাস্ত্রীয় কিতাবসমূহে যেভাবে নির্ধারিত হয়েছে, সে অনুযায়ী স্থায়ী বিবাহের অন্যান্য সকল শর্তাবলিও বিদ্যমান থাকতে হবে।
মুতআ বিবাহের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া সন্তান তার পিতার বংশধরের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং অন্যান্য সন্তানদের ন্যায় উত্তরাধিকার লাভ করবে। পিতা-মাতা, ভাই-বোন, ফুফু, খালা প্রমুখের বিষয়ে বর্ণিত সকল সাধারণ শরয়ি বিধান তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال علي بن بابويه القمي
(1): نكاع المتعة نكاح بغير شهود ولا ميراث، وهي أن تُسأل المرأة: فارغة هي أم مشغولة بزوج أو بعدة أو بحمل؟ فإذا كانت خالية من ذلك، قال لها: تمتعيني نفسك على كتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وآله نكاحا غير سفاح، كذا وكذا بكذا وكذا، وتبين المهر والأجل على أن لا ترثيني ولا أرثك، وعلى أن الماء أضعه حيث أشاء، وعلى أن الأجل إذا انقضى كان عليك عدة خمسة وأربعين يوماً. فإذا أنعمت قلت لها: قد متعتني نفسك وتعيد جميع الشروط عليها، لأن القول الأول، وكل شرط قبل النكاح فاسد، وإنما ينعقد الأمر بالقول الثاني، فإذا قالت في الثاني: نعم، دفع إليها المهر أو ما حضر منه، وكان ما يبقى دين عليك، وقد حل لك حينئذ وطؤها
(2).
وقال أبو صلاح الحلبي
(3): وأما نكاح المتعة، فمن شرط صحته أمران: تعيين الأجر والأجل، فإن ذكر الأجر ولم يذكر الأجل كان دواماً، وإن ذكر الأجل دون الأجر فسد العقد.
وصفته أن يقول مريده لمن يريد التمتع بها وتصح ولايتها في نفسها والعقد عليها ببلوغها وكمال عقلها وخلوها من زوج وعدة وحمل: أريد أن تمتعيني نفسك على كتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وآله كذا وكذا يوماً أو شهراً أو سنة بكذا وكذا درهماً أو ديناراً أو بما يتعين مما له قيمة على لا ترثيني ولا أرثك، وأن أضع الماء حيث شئت ولا سكن لك ولا نفقة، وعليك إذا انقضت المدة العدة، فإذا رضيت قال لها: متعيني نفسك على كتاب الله تعالى وسنة نبيه صلى الله عليه وآله كذا وكذا بكذا وكذا على الشروط المذكورة، فإذا أنهى قوله، فلتقل: قد قبلت ورضيت، والأولى أن تقول هي: قد متعتك نفسي كذا وكذا بكذا وكذا، وتذكر الشروط فيقبل منها.
فإذا انعقد هذا النكاح فعلى المتمتع تسليم جميع الأجر، ويجوز تأخير بعضه برضاها
--------------------------------------------
আলী ইবনে বাবওয়াইহ আল-কুম্মী
(১) বলেন: মুতআ বিবাহ (نكاح المتعة) হলো এমন এক বিবাহ যাতে কোনো সাক্ষী ও উত্তরাধিকার থাকে না। এর নিয়ম হলো নারীকে জিজ্ঞেস করা হবে: সে কি বিবাহমুক্ত, নাকি স্বামী অথবা ইদ্দত (عدة) কিংবা গর্ভধারণের কারণে অন্য কারো সাথে আবদ্ধ? যদি সে এই সকল কিছু থেকে মুক্ত থাকে, তবে পুরুষ তাকে বলবে: "আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ অনুযায়ী তুমি তোমার নিজেকে আমার সাথে মুতআ চুক্তিতে আবদ্ধ করো, যা ব্যভিচার (سفاح) নয়; অমুক অমুক শর্তে এবং এতো এতোর বিনিময়ে।" এখানে মোহরানা ও সময়সীমা (الأجل) স্পষ্ট করতে হবে এবং এই শর্ত থাকতে হবে যে, "তুমি আমার উত্তরাধিকার পাবে না এবং আমিও তোমার উত্তরাধিকার পাব না, আর বীর্য আমি যেখানে ইচ্ছা সেখানে রাখব, আর সময়সীমা অতিক্রান্ত হলে তোমার জন্য পয়তাল্লিশ দিনের ইদ্দত (عدة) পালন করা আবশ্যক হবে।" সে যখন এতে সম্মত হবে, তখন তুমি তাকে বলবে: "তুমি তোমার নিজেকে আমার সাথে মুতআ চুক্তিতে আবদ্ধ করেছো" এবং তার সামনে সকল শর্ত পুনরায় উল্লেখ করবে। কেননা প্রথম বক্তব্য এবং বিবাহের পূর্বের সকল শর্ত বাতিল (فاسد); মূলত দ্বিতীয় বক্তব্যের মাধ্যমেই বিষয়টি সম্পন্ন (ينعقد) হয়। সে যদি দ্বিতীয়বার "হ্যাঁ" বলে, তবে তাকে মোহরানা বা যা উপস্থিত আছে তা প্রদান করবে এবং যা অবশিষ্ট থাকবে তা তোমার নিকট ঋণ হিসেবে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় তার সাথে সহবাস করা তোমার জন্য বৈধ হবে
(২)。
আবু সালাহ আল-হালাবি
(৩) বলেন: মুতআ বিবাহের (نكاح المتعة) ক্ষেত্রে এর শুদ্ধতার জন্য দুটি বিষয় শর্ত: পারিশ্রমিক (الأجر) ও সময়সীমা (الأجل) নির্ধারণ করা। যদি পারিশ্রমিকের কথা উল্লেখ করা হয় কিন্তু সময়সীমার কথা উল্লেখ না করা হয়, তবে তা স্থায়ী (دوام) হিসেবে গণ্য হবে; আর যদি পারিশ্রমিক ছাড়াই শুধু সময়সীমার কথা উল্লেখ করা হয়, তবে চুক্তি (عقد) বাতিল (فسد) হয়ে যাবে।
এর পদ্ধতি হলো: যে ব্যক্তি মুতআ করতে ইচ্ছুক, সে এমন নারীকে বলবে— যার নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং নিজের বিবাহের চুক্তি (عقد) করার অধিকার আছে তার সাবালিকা হওয়া, পূর্ণ জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া এবং স্বামী, ইদ্দত (عدة) ও গর্ভ থেকে মুক্ত হওয়ার কারণে— "আমি চাই আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ অনুযায়ী এতো এতো দিন বা মাস বা বছরের জন্য এতো এতো দিরহাম বা দীনার অথবা মূল্যবান নির্ধারিত কোনো কিছুর বিনিময়ে তুমি তোমার নিজেকে আমার সাথে মুতআ চুক্তিতে আবদ্ধ করো; এই শর্তে যে তুমি আমার উত্তরাধিকার পাবে না এবং আমিও তোমার উত্তরাধিকার পাব না, আর আমি যেখানে ইচ্ছা বীর্য রাখব এবং তোমার জন্য কোনো আবাসন বা খোরপোশ থাকবে না, আর মেয়াদ শেষ হলে তোমার উপর ইদ্দত (عدة) পালন করা আবশ্যক হবে।" সে যখন এতে সন্তুষ্ট হবে, তখন পুরুষ তাকে বলবে: "আল্লাহ তাআলার কিতাব ও তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ অনুযায়ী উল্লেখিত শর্তাবলীতে এতো এতোর বিনিময়ে তোমার নিজেকে আমার সাথে মুতআ চুক্তিতে আবদ্ধ করো।" সে যখন তার কথা শেষ করবে, তখন নারী বলবে: "আমি কবুল করলাম এবং সন্তুষ্ট হলাম।" তবে উত্তম হলো নারী নিজে বলবে: "আমি এতো এতোর বিনিময়ে এতো সময়ের জন্য নিজেকে তোমার সাথে মুতআ চুক্তিতে আবদ্ধ করলাম" এবং শর্তগুলো উল্লেখ করবে, অতঃপর পুরুষ তা গ্রহণ করবে।
এই বিবাহ সম্পন্ন (انعقد) হলে মুতআকারীর জন্য সমস্ত পারিশ্রমিক (الأجر) বুঝিয়ে দেওয়া আবশ্যক, তবে নারীর সম্মতিতে এর কিছু অংশ বিলম্বিত করা জায়েজ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقد استحق بعضها ولا سكنى لها ولا عليها، ولا انفاق ولا توارث بينهما وإن شرط ذلك، ولا يقع بها إيلاء ولا طلاق ولا يصح بينهما لعان، ويصح الظهار فإذا انقضت المدة حرمت عليه، وله أن يستأنف عقداً ثانياً، وعليها العدة.
فإن جاءت بولد وكان قد وطئها في الفرج لزمه الاعتراف به، وإن عزل لحق بنسبه، وإن أنكره على كل حال فهو أعلم بنفسه.
ولا يجوز التمتع بالبكر إلا بإذن أبيها، ويجوز بالثيب من غير إذنه، ويجوز الجمع في هذا النكاح بين أكثر من أربع، ولا يلزم بينهن العدل في المبيت، ويجوز التمتع باليهودية والنصرانية دون من عداهما من ضروب الكفار
(1).
--------------------------------------------
এবং স্বামী সময়ের কিছু অংশের অধিকারী হয়; স্ত্রীর জন্য কোনো আবাসন (سكنى) নেই এবং তার ওপরও কোনো আবাসন বর্তায় না। তাদের উভয়ের মাঝে কোনো ভরণপোষণ (انفاق) বা উত্তরাধিকার (توارث) বলবৎ হবে না, যদিও তা শর্ত করা হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে কোনো ঈলা (إيلاء) বা তালাক (طلاق) কার্যকর হয় না এবং তাদের উভয়ের মাঝে লিআন (لعان) শুদ্ধ (يصح) নয়। তবে জিহার (ظهار) শুদ্ধ (يصح) হয়; অতঃপর যখন নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তখন স্ত্রী তার জন্য হারাম (حرمت) হয়ে যায়। স্বামীর জন্য পুনরায় দ্বিতীয়বার চুক্তি (عقد) করার সুযোগ থাকে এবং স্ত্রীর ওপর ইদ্দত (العدة) পালন করা আবশ্যক।
যদি সে সন্তান প্রসব করে এবং স্বামী তার সাথে লজ্জাস্থানে সহবাস (وطئ) করে থাকে, তবে তাকে স্বীকৃতি প্রদান করা তার জন্য আবশ্যক। আর যদি স্বামী আজল (عزل) করে থাকে, তবুও সন্তানটি তার বংশপরিচয়ের (نسب) অন্তর্ভুক্ত হবে। আর স্বামী যদি যেকোনো অবস্থায় তা অস্বীকার করে, তবে সে নিজের সম্পর্কে অধিক অবগত।
পিতার অনুমতি ব্যতীত কুমারী (بكر) কন্যার সাথে মুত’আ (التمتع) করা বৈধ (يجوز) নয়, তবে অকুমারী (ثيب) নারীর ক্ষেত্রে পিতার অনুমতি ছাড়াই তা বৈধ (يجوز)। এই বিবাহ (نكاح) বা চুক্তিতে চারের অধিক নারী রাখা বৈধ এবং তাদের মাঝে রাত যাপনের ক্ষেত্রে সমতা (العدل) রক্ষা করা আবশ্যক নয়। ইহুদি ও খ্রিস্টান নারীদের সাথে মুত’আ (التمتع) করা বৈধ, তবে তারা ব্যতীত অন্যান্য প্রকার কাফেরদের (الكفار) সাথে তা বৈধ নয়
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ২১)
المبحث الرابعمقاصد الإسلام من تشريع الزواجإن النكاح في الشريعة الإسلامية له مقاصد ومحاسن عظيمة، كما نص بذلك القرآن الكريم، منها:
(1 - المودة والرحمة والسكن، قال تعالى: {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً} [الروم: آية 21] وقال تعالى: {هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِيَسْكُنَ إِلَيْهَا فَلَمَّا تَغَشَّاهَا حَمَلَتْ حَمْلًا خَفِيفًا فَمَرَّتْ بِهِ فَلَمَّا أَثْقَلَتْ دَعَوَا اللَّهَ رَبَّهُمَا لَئِنْ آتَيْتَنَا صَالِحًا لَنَكُونَنَّ مِنَ الشَّاكِرِينَ} [الأعراف: آية 189]، فدلت هذه الآيات إلى أهم أهداف ومقاصد تشريع الزواج في الإسلام، منها تكوين الأسرة الصالحة التي تشكل النواة الأولى للمجتمع الإسلامي، بخصائصه الذاتية من العفة والطهر وهذا هو السر في حرص الإسلام كله على صيانة الأسرة المسلمة بسياج منيع وذلك لتحقيق الأهداف والمقاصد التي من أجلها شرعت أحكامها، وبذلك يمكن القول بأن الزوجة الدائمة هي التي جرت سنة الله تعالى بجعلها سكناً للرجل وقد أشار القرآن الكريم إلى أن هذا السكن والاطمئنان النفسي والقلبي في ظل الزوجية الصحيحة الدائمة، تلك سنة الله تعالى في خلقه، ولعل جعل (السكن) و (المودة) و (الرحمة) مطلب يؤول إلى تلك الثمرة الصالحة التي تتطلع إليها النفس البشرية بحكم طبيعتها وفطرتها، وبهذا يعلم أن الهدف والمقصد الأساسي من الزواج لا يقتصر بقصد قضاء الشهوة، بل قصد أن يكون من تكوين الأسرة التي شرع أحكامها التفصيلية - القرآن الكريم - من الخطبة، فالزواج فالطلاق إذا لم يتفق الزوجان ولم يكن بوسعهما أن يقيما حدود الله، ثم أحكام الرضاعة والنفقة وكل ذلك تحقيقا للتكافل الاجتماعي)
(1).
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদবিবাহ প্রবর্তনে ইসলামের উদ্দেশ্যসমূহনিশ্চয়ই ইসলামি শরিয়তে বিবাহের মহান উদ্দেশ্য ও কল্যাণ নিহিত রয়েছে, যেমনটি পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে কয়েকটি হলো:
(১ - ভালোবাসা, দয়া এবং প্রশান্তি, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি পাও এবং তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন} [সূরা আর-রুম: আয়াত ২১] এবং আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন: {তিনিই সে সত্তা যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে এবং তার থেকে তার জোড়া তৈরি করেছেন যেন সে তার নিকট প্রশান্তি পায়। অতঃপর যখন সে তাকে আবৃত করল, তখন সে এক হালকা গর্ভ ধারণ করল এবং তা নিয়ে চলাফেরা করতে লাগল। তারপর যখন সে ভারি হয়ে গেল, তখন তারা উভয়ে তাদের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট দোয়া করল— যদি আপনি আমাদের এক নেক সন্তান দান করেন তবে অবশ্যই আমরা কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব} [সূরা আল-আরাফ: আয়াত ১৮৯]। এই আয়াতগুলো ইসলামে বিবাহ প্রবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহের প্রতি নির্দেশ করে। এর মধ্যে রয়েছে একটি সৎ ও নেককার পরিবার গঠন, যা ইসলামি সমাজের প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং যা পবিত্রতা ও চারিত্রিক শুদ্ধতার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত। মূলত এটাই হলো মুসলিম পরিবারকে একটি সুদৃঢ় বেষ্টনী দ্বারা রক্ষা করার ব্যাপারে ইসলামের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার রহস্য, যাতে সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো অর্জিত হয় যার জন্য এর বিধানসমূহ বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী বলা যায় যে, স্থায়ী স্ত্রী হলেন তিনি, যাকে পুরুষের জন্য প্রশান্তির মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ করা আল্লাহ তাআলার একটি সুন্নাত বা রীতি। পবিত্র কুরআন ইঙ্গিত প্রদান করেছে যে, এই প্রশান্তি এবং মানসিক ও আত্মিক স্থিরতা অর্জিত হয় সহিহ (صحيح) ও স্থায়ী বৈবাহিক সম্পর্কের ছায়াতলে। সৃষ্টিজগতে এটিই আল্লাহ তাআলার সুন্নাত। সম্ভবত ‘প্রশান্তি’, ‘ভালোবাসা’ ও ‘দয়া’কে কাম্য বিষয় হিসেবে নির্ধারণ করার উদ্দেশ্য হলো সেই সৎ ফলাফল অর্জন করা, যার প্রতি মানবাত্মা তার স্বভাবজাত প্রবৃত্তি ও ফিতরাতের কারণে আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। এর মাধ্যমে জানা গেল যে, বিবাহের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কেবল কামভাব চরিতার্থ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর উদ্দেশ্য হলো এমন একটি পরিবার গঠন করা যার বিস্তারিত বিধানসমূহ—যেমন বাগদান, বিবাহ এবং স্বামী-স্ত্রী যদি একমতে পৌঁছাতে না পারে ও আল্লাহর বিধান অনুযায়ী চলতে সক্ষম না হয় তবে তালাক, অতঃপর দুগ্ধদান ও ভরণপোষণের বিধান—পবিত্র কুরআন বিধিবদ্ধ করেছে। আর এই সবকিছুর উদ্দেশ্য হলো সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা।)
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ২২)
2 - الذرية: قال تعالى: {وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَجَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ بَنِينَ وَحَفَدَةً} [النحل: آية 72]
قال ابن كثير - رحمه الله تعالى - في تفسيره: يذكر تعالى نعمه على عبيده بأن جعل لهم من أنفسهم أزواجا وجعل لهم من أزواجكم من جنسهم وشكلهم وزيهم، ولو جعل الأزواج من نوع آخر لما حصل ائتلاف ومودة ورحمة، ولكن من رحمته خلق من بني آدم ذكوراً وإناثاً، وجعل الإناث أزواجا للذكور.
ثم ذكر تعالى أنه جعل من الأزواج البنين والحفدة، وهم أولاد البنين. قال ابن عباس، وعكرمة، والحسن، والضحاك، وابن زيد.
قال شعبة، عن أبي بشر، عن أبي سعيد بن جبير، عن ابن عباس: (بنين وحفدة) هم الولد وولد الولد
(1).
وعلى هذا إذا كان الاستمتاع مجرداً عن الإنجاب، فإنه يفوت مقصد من مقاصد أصل تشريع النكاح، وفي هذا يعلم تحريم أن تبتغى المرأة من أجل مجرد الاستمتاع بها، وسفح الماء في رحمها، كما هو الحال في نكاح المتعة.
3 - أنه طاعة الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، فقد شرع الله الزواج وجعله شعيرة من شعائر دينه الحنيف الذي ارتضاه لعباده، فقال سبحانه: {فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ذَلِكَ أَدْنَى أَلَّا تَعُولُوا} [النساء: 3]، وقال عليه الصلاة والسلام: «يا معشر الشباب من استطاع منكم الباءة فليتزوج، فإنه أغض للبصر وأحصن للفرج .. »
(2).
4 - حفظ النسل وتكثير الأمة بالتناسل ليكثر عباد الله تعالى، واتباع نبيه صلى الله عليه وسلم فتتحقق المباهاة وتعمر به الحياة كما قال عليه الصلاة والسلام «تزوجوا
--------------------------------------------
২ - বংশধর: আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে জোড়া (স্ত্রী) সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের স্ত্রীদের থেকে তোমাদের জন্য পুত্র ও পৌত্রাদি দান করেছেন} [আন-নাহল: আয়াত ৭২]
ইবনে কাসির —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন— তাঁর তাফসিরে বলেন: আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর অনুগ্রহসমূহ বর্ণনা করছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের জন্য জোড়া (স্ত্রী) সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের স্ত্রীদের তাদেরই স্বজাতি, আকৃতি ও বেশভূষাসম্পন্ন করেছেন। যদি স্ত্রীদের অন্য কোনো প্রজাতির করা হতো, তবে তাদের মধ্যে হৃদ্যতা, ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি হতো না। কিন্তু তাঁর দয়ার কারণে তিনি বনি আদম থেকে পুরুষ ও নারী সৃষ্টি করেছেন এবং নারীদের পুরুষদের জন্য জোড়া হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
অতঃপর আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি স্ত্রীদের থেকে পুত্র ও 'হাফাদা' (পৌত্রাদি) দান করেছেন, আর তারা হলো পুত্রসন্তানদের সন্তান। এ কথা বলেছেন ইবনে আব্বাস, ইকরিমা, হাসান, দাহহাক এবং ইবনে যায়েদ।
শু'বাহ আবু বিশর থেকে, তিনি আবু সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: (বনীনা ও হাফাদা) হলো সন্তান এবং সন্তানের সন্তান
(১)।
এই ভিত্তিতে, যদি যৌন উপভোগ সন্তান জন্মদান থেকে বিচ্যুত হয়, তবে তা বিবাহের মূল শরয়ি লক্ষ্যের একটিকে নষ্ট করে। আর এ থেকে জানা যায় যে, কেবল যৌন উপভোগ এবং তার জরায়ুতে বীর্যপাত করার উদ্দেশ্যে কোনো নারীকে অন্বেষণ করা হারাম, যেমনটি মুতআ বিবাহের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
৩ - এটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য, কেননা আল্লাহ বিবাহকে বিধিবদ্ধ করেছেন এবং একে তাঁর সেই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনের অন্যতম নিদর্শন বানিয়েছেন যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য পছন্দ করেছেন। মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: {তোমরা নারীদের মধ্য থেকে যাদের তোমাদের ভালো লাগে তাদের বিবাহ করো—দুই, তিন কিংবা চার। আর যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে সুবিচার করতে পারবে না, তবে একজনকে অথবা তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়েছে তাদের বিবাহ করো। এটিই তোমাদের জন্য অবিচার না করার নিকটতর উপায়} [আন-নিসা: ৩]। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «হে যুবক সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে সে যেন বিবাহ করে, কারণ এটি দৃষ্টিকে অধিক অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে অধিক সুরক্ষিত রাখে...»
(২)।
৪ - বংশধারা রক্ষা করা এবং বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে উম্মতের সংখ্যা বৃদ্ধি করা যাতে আল্লাহ তাআলার ইবাদতকারী বান্দাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করা; ফলে কিয়ামতের দিন নবীজির গর্ব করার বিষয়টি বাস্তবায়িত হয় এবং এর মাধ্যমে পৃথিবী আবাদ হয়, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা বিবাহ করো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الودود الولود فإني مكاثر بكم الأمم»
(1).
5 - بناء الأسرة المسلمة وإيجاد المجتمع الصالح.
6 - تطهير المجتمع من الأمراض الجنسية والآفات الخلقية.
7 - طلب الثواب من الله تعالى كما قال عليه الصلاة والسلام «وفي بضع أحدكم صدقة»(2).
--------------------------------------------
অত্যধিক প্রেমময়ী ও অধিক সন্তান প্রসবকারিনী (নারীকে বিবাহ করো), কেননা আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য দিয়ে (অন্যান্য) উম্মতদের ওপর সংখ্যাধিক্য অর্জন করব"
(১).
৫ - মুসলিম পরিবার গঠন এবং একটি সৎ সমাজ বিনির্মাণ।
৬ - যৌনব্যাধি এবং চারিত্রিক অবক্ষয় থেকে সমাজকে পবিত্র করা।
৭ - মহান আল্লাহর নিকট সওয়াব প্রত্যাশা করা, যেমনটি তিনি (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: "তোমাদের প্রত্যেকের দাম্পত্য মিলনেও সদকা রয়েছে"(২).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الفصل الأولحكم المتعة في الشرعيشتمل على ثلاثة مباحث:
المبحث الأول
تاريخ إباحة نكاح المتعة وتحريمها في السنة النبوية
المبحث الثاني
الأحاديث والآثار الواردة في تحريم نكاح المتعة
مع بيان درجتها من حيث القبول والرد
المبحث الثالث
حكم المتعة عند فقهاء السنة
প্রথম পরিচ্ছেদশরিয়তে মুতআ বিবাহের বিধানএটি তিনটি অনুচ্ছেদের সমন্বয়ে গঠিত:
প্রথম অনুচ্ছেদ
সুন্নাহ-এ-নববীতে মুতআ বিবাহের বৈধতা ও নিষিদ্ধকরণের ইতিহাস
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মুতআ বিবাহ নিষিদ্ধকরণ সম্পর্কে বর্ণিত হাদিস ও আছারসমূহ
গ্রহণযোগ্যতা (مقبول) এবং বর্জনযোগ্যতা (مردود) এর বিচারে সেগুলোর মান (درجة) বর্ণনাসহ
তৃতীয় অনুচ্ছেদ
আহলুস সুন্নাহর ফকিহদের নিকট মুতআ বিবাহের বিধান
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المبحث الأولتاريخ إباحة نكاح المتعة وتحريمها في السنة النبوية[إن فقهاء السنة لا ينكرون أن المتعة رخص فيها في بعض المناسبات الضرورية في عصر الرسول صلى الله عليه وسلم، فالمتتبع لأحاديث إباحة المتعة في أول الأمر يرى أن تلك الإباحة لم تكن حال القرار في الوطن والدار، بل إنما أحلت في الغزو البعيد والسفر الطويل؛ إذ يشتد الشبق، ويقل الصبر، وتخشى الفتنة، وضعف العفة، فكان من الحكمة أن يكون فطمهم عن الفاحشة تدريجيًّا كما حُرمت الخمر كذلك.
(فنكاح المتعة أبيح يوم أبيح للضرورة في حال السفر والغزو والبعد عن الوطن والزوجة؛ كرامة لأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وهم الجيل المثالي الذي أرخص نفسه وماله في سبيل الله متحملًا أغلى التضحيات وأفدح المشاق، ولما زالت أسباب الإباحة وفطمت النفوس بالتدريج عن مألوفاتها المعتادة في تلك المرحلة الانتقالية من الجاهلية إلى الإسلام، وأخذ المجتمع الإسلامي سبيله إلى الاستقرار، واتجه التشريع إلى إحكام الصيغة النهائية للأحكام الأساسية، أذن الله لنبيه بتحريم المتعة ونسخها إلى أبد الآبدين]
(1).
وقد نقل الإمام النووي في شرحه لـ «صحيح مسلم» عن القاضي عياض حيث قال: «روى أحاديث المتعة جماعة من الصحابة
… وليس في هذه الأحاديث كلها أنها كانت في الحضر، وإنما كانت في أسفارهم في الغزو، عند ضرورتهم، وعدم النساء، مع أن بلادهم كانت حارَّة، وصبرهم عنهن قليل. وقد ذكر في حديث ابن عمر أنها كانت رخصة في أوَّل الإسلام لمن اضطر إليها كالميتة ونحوها
… »
(2).
وأخرج ابن عبد البر من حديث سهل بن سعد بلفظ: إنَّما رخص رسول الله صلى الله
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদসুন্নাহর আলোকে মুতআ বিবাহের বৈধতা এবং তা নিষিদ্ধকরণের ইতিহাস[সুন্নি ফকিহগণ এটি অস্বীকার করেন না যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে কিছু জরুরি প্রয়োজনে মুতআ বিবাহের বিশেষ অনুমতি (رخصة) দেওয়া হয়েছিল। সুতরাং ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে মুতআ বৈধ হওয়ার হাদিসসমূহ যারা পর্যালোচনা করেন তারা দেখতে পান যে, এই বৈধতা নিজ আবাসে অবস্থানকালীন সময়ের জন্য ছিল না, বরং তা কেবল দূরবর্তী যুদ্ধ এবং দীর্ঘ সফরের সময় বৈধ করা হয়েছিল; যখন কামভাব প্রবল হতো, ধৈর্য ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ত এবং ফিতনা ও চারিত্রিক স্খলনের আশঙ্কা দেখা দিত। তাই প্রজ্ঞার দাবি ছিল যে, তাদেরকে অশ্লীলতা থেকে ক্রমান্বয়ে মুক্ত করা হবে, যেভাবে মদকেও ক্রমান্বয়ে হারাম করা হয়েছিল।
(সুতরাং মুতআ বিবাহ যখন বৈধ করা হয়েছিল তখন তা সফর, যুদ্ধ এবং স্বদেশ ও স্ত্রী থেকে দূরে থাকাকালীন বিশেষ প্রয়োজনে বৈধ করা হয়েছিল; এটি ছিল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবিদের প্রতি বিশেষ সম্মানস্বরূপ, যারা ছিলেন এক আদর্শ প্রজন্ম, যারা আল্লাহর পথে নিজেদের জীবন ও সম্পদ বিলিয়ে দিয়ে সর্বোচ্চ ত্যাগ ও চরম কষ্ট স্বীকার করেছিলেন। অতঃপর যখন এই বৈধতার কারণসমূহ দূরীভূত হলো এবং জাহেলিয়াত থেকে ইসলামে উত্তরণের সেই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে মানুষের প্রবৃত্তি তাদের চিরাচরিত অভ্যাসগুলো থেকে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে উঠল, আর ইসলামি সমাজ স্থিতিশীলতার পথে যাত্রা করল এবং শরিয়তের বিধানসমূহ চূড়ান্ত রূপ ধারণ করার দিকে ধাবিত হলো, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে মুতআ বিবাহ হারাম করার এবং তা কিয়ামত পর্যন্ত চিরস্থায়ীভাবে রহিত (نسخ) করার অনুমতি দিলেন।)]
(১)।
ইমাম নববী তাঁর 'সহিহ মুসলিম'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে কাজি আয়াজ থেকে বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি বলেন: «সাহাবিদের একটি দল মুতআর হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন... এবং এই হাদিসগুলোর কোনোটিতেই এমন নেই যে, তা স্বদেশে থাকা অবস্থায় বৈধ ছিল। বরং এগুলো ছিল তাদের সফরের সময় যুদ্ধের ময়দানে, যখন তারা নিরুপায় ছিলেন এবং সাথে স্ত্রীগণ ছিলেন না; অধিকন্তু তাদের দেশ ছিল উষ্ণ এবং নারীদের ব্যাপারে তাদের ধৈর্য ছিল কম। ইবনে উমরের হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে এটি কেবল অনন্যোপায় ব্যক্তির জন্য বিশেষ অনুমতি (رخصة) ছিল, যেমন মৃত পশু (ভক্ষণ করা) এবং এই জাতীয় পরিস্থিতির মতো...»
(২)।
ইবনে আব্দুল বার সাহল বিন সাদ-এর হাদিস হতে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল বিশেষ অনুমতি (رخص) দিয়েছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ২৬)
عليه وسلم في المتعة لعزبة كانت بالناس شديدة، ثم نهى عنها، فلما فتحت خيبر وسع عليهم من المال ومن السبي؛ فناسب النهي عن المتعة؛ لارتفاع سبب الإباحة، وكان ذلك من تمام شكر نعمة الله على التوسعة بعد الضيق، وكانت الإباحة إنما تقع في المغازي التي تكون في المسافة التي إليها بعد ومشقَّة، وخيبر بخلاف ذلك؛ لأنها بالقرب من المدينة، فوقع النهي عن المتعة فيها؛ إشارةً إلى ذلك من غير تقديم إذن فيها، ثم لما عادوا إلى سفرة بعيدة المدة؛ وهي غزاة الفتح، وشقت عليهم العزوبة؛ أذن لهم في المتعة لكن مقيدًا بثلاثة أيام فقط؛ دفعًا للحاجة، ثم نهاهم بعد انقضائها عنها. اهـ
(1).
وبه يندفع ما ذكره ابن القيِّم في تقرير أن الظرف في حديث علي رضي الله عنه بقوله: عام خيبر، يعود على تحريم الحمر الإنسية؛ بأنه لم يكن الصحابة فيها يستمتعون باليهوديات ولا استأذنوا رسول الله صلى الله عليه وسلم
(2)، وبتحريم المتعة قال جمهور الصحابة، وأجمع عليه فقهاء الأمصار بعد الخلاف، ولم ينقل الخلاف المحقق فيه إلا عن الإمامية
(3)، وهي فرقة من فرق الشيعة
(4).
أما عن تاريخ تحريم متعة النساء: فقد اختلف الفقهاء في تاريخ تحريمها؛ فقد روي عن علي رضي الله عنه: أنها حرمت يوم خيبر
(5). والحازمي يروي أنها حرمت في حجة الوداع
(6)، وفي الصحيح
(7): أنها حُرمت يوم فتح مكة. والظاهر أن التحريم كان مرتين: كانت حلالًا قبل خيبر، ثم حرمت يوم خيبر، ثم أبيحت أثناء فتح مكة ثلاثة أيام، ثم حرمت بعد ذلك على التأبيد؛ فقد أخرج مسلم، عن الربيع بن سبرة الجهني، أن
--------------------------------------------
(রাসূলুল্লাহ্ ﷺ) মানুষের মধ্যে অত্যন্ত তীব্র একাকীত্ব বা অকৃতদার অবস্থা বিরাজ করার কারণে মুতআ বিবাহের অনুমতি দিয়েছিলেন, এরপর তিনি তা থেকে নিষেধ করেন। অতঃপর যখন খায়বার বিজিত হলো এবং তাদের নিকট ধন-সম্পদ ও যুদ্ধবন্দীদের প্রাচুর্য দেখা দিল, তখন মুতআ নিষিদ্ধ করার সাথে তা সঙ্গতিপূর্ণ হলো; কারণ বৈধতার কারণটি দূরীভূত হয়েছিল। এটি ছিল সংকীর্ণতার পর সচ্ছলতা দানের জন্য আল্লাহর নিয়ামতের পূর্ণাঙ্গ কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ। মুতআ-র বৈধতা সাধারণত এমন সব যুদ্ধে দেওয়া হতো যেগুলোর দূরত্ব অনেক বেশি এবং কষ্টসাধ্য ছিল; কিন্তু খায়বার ছিল এর বিপরীত, কারণ তা মদীনার নিকটবর্তী ছিল। তাই এতে পূর্বেই অনুমতির অবকাশ না রেখে মুতআ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এরপর যখন তারা দীর্ঘ সময়ের সফরে বের হলেন—যা ছিল মক্কা বিজয়ের যুদ্ধ—এবং তাদের জন্য অকৃতদার থাকা কষ্টকর হয়ে দাঁড়াল, তখন প্রয়োজনের তাগিদে কেবল তিন দিনের জন্য তাদের মুতআ করার অনুমতি প্রদান করেন। অতঃপর সেই সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর পুনরায় তা থেকে তাদের নিষেধ করেন। সমাপ্ত।
(১)এর মাধ্যমে ইবনুল কাইয়্যিম বর্ণিত সেই যুক্তিটি খণ্ডিত হয় যেখানে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, আলী (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত 'খায়বারের বছর' সময়কালটি মূলত গৃহপালিত গাধা হারামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; কেননা সাহাবীগণ সেখানে ইহুদী নারীদের সাথে মুতআ করেননি এবং তারা রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর কাছে অনুমতিও চাননি।
(২) অধিকাংশ সাহাবীর মত অনুযায়ী মুতআ হারাম। আর পরবর্তী মতভেদের পর বিভিন্ন অঞ্চলের ফকীহগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এ বিষয়ে সুনিশ্চিত কোনো মতভেদ কেবল ইমামিয়া
(৩) ছাড়া আর কারও থেকে বর্ণিত হয়নি, যারা শিয়াদের একটি দল।
(৪)মহিলাদের মুতআ নিষিদ্ধ হওয়ার তারিখ সম্পর্কে: ফকীহগণ এটি নিষিদ্ধ হওয়ার তারিখ নিয়ে মতভেদ করেছেন। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি খায়বারের দিন হারাম করা হয়েছে।
(৫) আল-হাযিমি বর্ণনা করেছেন যে, এটি বিদায় হজ্জের সময় হারাম করা হয়েছে।
(৬) আর সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি মক্কা বিজয়ের দিন হারাম করা হয়েছে।
(৭) বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে, এই নিষেধাজ্ঞা দুইবার হয়েছিল: খায়বারের আগে তা হালাল ছিল, এরপর খায়বারের দিন হারাম করা হয়। অতঃপর মক্কা বিজয়ের সময় তিন দিনের জন্য তা বৈধ করা হয় এবং এরপর চিরস্থায়ীভাবে তা নিষিদ্ধ করা হয়। মুসলিম বর্ণনা করেছেন রাবি বিন সাবরা আল-জুহানি থেকে যে,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أباه حدَّثه أنه كان مع رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفتح، فقال: «يا أيها الناس قد كنت أذنت لكم في الاستمتاع من النساء، وإن الله قد حرم ذلك إلى يوم القيامة، فمن كان عنده منهن شيئًا فليخل سبيلها، ولا تأخذوا مما آتيتموهن شيئًا»
(1). وأخرج ابن ماجه بإسناد صحيح عن ابن عمر أنه قال: لما ولي عمر بن الخطاب خطب الناس فقال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم أذن لنا في المتعة ثلاثًا، ثم حرمها، والله لا أعلم أحدًا يتمتع وهو محصن إلا رجمته بالحجارة، إلا أن يأتيني بأربعة يشهدون أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أحلها بعد إذ حرمها
(2).
والقول بأن الإباحة والتحريم وقعا في حجَّة الوداع؛ ينفيه ابن قيم الجوزية الحنبلي في كتابه «زاد المعاد» إذ قال: «
… وهو وَهم من بعض الرواة، سافر فيه وهمه من فتح مكة إلى حجة الوداع
… وسفر الوهم كثيرًا ما يعرض للحُفَّاظ فمن دونهم، والصحيح: أن المتعة إنَّما حرمت عام الفتح
… »
(3).
والقرطبي يروي نسخ المتعة عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه؛ فقد قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن المتعة، قال: وإنما كانت لمن لم يجد، فلما نزل النكاح والطلاق والعدة والميراث بين الزوج والمرأة نسخت. وروي عن علي رضي الله عنه أيضًا أنه قال: نسخ صوم رمضان كل صوم، ونسخت الزكاة كل صدقة، ونسخ الطلاقُ والعدة والميراث المتعةَ، ونسخت الأضحية كل ذبح. وعن ابن مسعود قال: المتعة منسوخة، نسخها الطلاق والعدة والميراث
(4).
فالنسخ ورد على المتعة مرتين؛ فقد أبيحت ثم حُرمت، ثم أبيحت، ثم حرمت تحريمًا مؤبدًا. قال الشافعي: لا أعلم شيئًا حُرِّم ثم أبيح ثم حرم إلا المتعة
(5).
وذكر البغوي وهو من أئمة الشافعية قال: الربيع بن سليمان: سمعت الشافعي رضي
--------------------------------------------
তাঁর পিতা তাঁকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মক্কা বিজয়ের বছর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলেন। তখন তিনি (রাসূল) বললেন: «হে লোকসকল, আমি তোমাদের নারীদের সাথে মুতআ (সাময়িক বিবাহ) করার অনুমতি দিয়েছিলাম, কিন্তু নিশ্চয়ই আল্লাহ কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তা হারাম করেছেন। সুতরাং তোমাদের নিকট যদি তাদের কেউ থাকে, তবে তাকে ছেড়ে দাও এবং তোমরা তাদের যা প্রদান করেছ তা থেকে কিছুই গ্রহণ করো না»
(১)। আর ইবনে মাজাহ একটি বিশুদ্ধ (صحيح) সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব যখন খলিফা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তিনি লোকজনের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তিনবার মুতআ করার অনুমতি দিয়েছিলেন, অতঃপর তিনি তা হারাম করেন। আল্লাহর কসম, আমি যদি জানতে পারি যে কোনো বিবাহিত ব্যক্তি মুতআ করছে, তবে আমি তাকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করব, যতক্ষণ না সে আমার কাছে চারজন সাক্ষী নিয়ে আসে যারা সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা হারাম করার পর পুনরায় হালাল করেছেন
(২)।
আর এই অভিমত যে, বৈধতা ও অবৈধতা বিদায় হজের সময় ঘটেছিল; একে ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ আল-হাম্বলি তাঁর «যাদুল মাআদ» কিতাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন: « ... এটি কোনো কোনো বর্ণনাকারীর একটি ভ্রম (وهم), তার কল্পনা মক্কা বিজয় থেকে বিদায় হজ পর্যন্ত ধাবিত হয়েছে ... আর হাফেজ (সংরক্ষণকারী) ও তাদের নিম্নস্তরের বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে কল্পনার এই বিচরণ প্রায়ই ঘটে থাকে। বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো: মুতআ কেবল মক্কা বিজয়ের বছরই হারাম করা হয়েছিল ... »
(৩)।
আর আল-কুরতুবি আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে মুতআ রহিত হওয়ার (نسخ) বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন; তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুতআ থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন: এটি কেবল তাদের জন্য ছিল যারা (বিয়ে করার) সামর্থ্য রাখত না। অতঃপর যখন বিয়ে, তালাক, ইদ্দত ও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার মিরাসের বিধান অবতীর্ণ হলো, তখন তা মুতআকে রহিত (نسخت) করে দিল। আলী (রা.) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: রমজানের রোজা অন্য সব রোজাকে রহিত করেছে, জাকাত সব দান-সদকাকে রহিত করেছে, এবং তালাক, ইদ্দত ও মিরাস মুতআকে রহিত (نسخ) করেছে, আর কোরবানি সব জবেহকে রহিত করেছে। ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুতআ রহিত (منسوخة), তালাক, ইদ্দত ও মিরাস একে রহিত করেছে
(৪)।
সুতরাং মুতআ-র ক্ষেত্রে রহিতকরণ (النسخ) দুইবার ঘটেছে; প্রথমে তা বৈধ করা হয়েছিল তারপর হারাম করা হয়, পুনরায় তা বৈধ করা হয়েছিল তারপর চিরতরে হারাম করে দেওয়া হয়। ইমাম শাফেয়ি বলেছেন: মুতআ ছাড়া এমন কোনো বিষয় আমার জানা নেই যা হারাম করার পর বৈধ করা হয়েছে এবং পুনরায় হারাম করা হয়েছে
(৫)।
বগভি, যিনি শাফেয়ি মাযহাবের অন্যতম ইমাম, উল্লেখ করেছেন যে, রাবি ইবনে সুলাইমান বলেছেন: আমি শাফেয়িকে (রা.) বলতে শুনেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الله عنه يقول: لا أعلم في الإسلام شيئاً أحل ثم حرم ثم أحل ثم حرم غير المتعة
(1).
قال النووي في «شرح صحيح مسلم»: (والصواب المختار: أن التحريم والإباحة كانا مرتين، فكانت حلالًا قبل خيبر، ثم حرمت يوم خيبر، ثم أبيحت يوم فتح مكة، وهو يوم أوطاس لاتصالهما، ثم حرِّمت يومئذ بعد ثلاثة أيام تحريمًا مؤبدًا إلى يوم القيامة، واستمرَّ التحريم، ولا يجوز أن يقال: إن الإباحة مختصة بما قبل خيبر، والتحريم يوم خيبر للتأبيد، وأن الذي كان يوم الفتح مجرد توكيد للتحريم، من غير تقدم إباحة يوم الفتح لأن الروايات التي ذكرها مسلم في الإباحة يوم الفتح صريحة؛ فلا يجوز إسقاطها، ولا مانع يمنع تكرير الإباحة، والله أعلم)
(2).
قال ابن العربي المالكي: وأما متعة النساء فهي من غرائب الشريعة؛ لأنها أبيحت في صدر الإسلام، ثم حرمت يوم خيبر، ثم أبيحت في غزوة أوطاس، ثم حرمت بعد ذلك. واستقر الأمر على التحريم، وليس لها أخت في الشريعة إلا مسألة القبلة، فإن النسخ طرأ عليها مرتين، ثم استقرت بعد ذلك. اهـ
(3).
ويعني بمسألة القبلة: أنها كانت إلى الكعبة الشريفة أولًا، ثم حولت إلى بيت المقدس، ثم أعيدت إلى الكعبة، واستقرت عليها
(4).
والصحيح: أن الذي جرى في حجة الوداع مجرد النهي عنها يومئذ؛ لاجتماع الناس، وليبلغ الشاهد الغائب، ولتمام الدين، وتُقرَّر الشريعة وبين الحلال والحرام يومئذ، وبتَّ في تحريم المتعة حينئذ بقوله: «إلى يوم القيامة»
(5).
وقول الإمام النووي فيما سبق: (لا مانع يمنع من تكرير الإباحة)؛ معزَّز بما نقله عن المازري من قوله: (واختلفت الرواية في «صحيح مسلم» في النهي عن المتعة؛ ففيه: أنه صلى الله عليه وسلم نهى عنها يوم خيبر، وفيه: أنه نهى عنها يوم فتح مكة، فإن
--------------------------------------------
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন তিনি বলেন: "আমি ইসলামে মুতআ (সাময়িক বিবাহ) ব্যতীত এমন আর কিছু জানি না যা হালাল করার পর হারাম করা হয়েছে, পুনরায় হালাল করার পর আবার হারাম করা হয়েছে।"
(১).
ইমাম নববী 'শারহ সহিহ মুসলিম'-এ বলেন: (সঠিক ও মনোনীত মত হলো: হারাম এবং বৈধকরণ দুইবার সংঘটিত হয়েছে। এটি খায়বারের পূর্বে হালাল ছিল, অতঃপর খায়বারের দিন হারাম করা হয়। পুনরায় মক্কা বিজয়ের দিন এটি বৈধ করা হয়—যা মূলত আওতাসের দিন ছিল কারণ দিবস দুটি ছিল পরস্পর সংলগ্ন—অতঃপর ঐ দিন তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর কিয়ামত পর্যন্ত চিরস্থায়ীভাবে হারাম (تحريمًا مؤبدًا) করে দেওয়া হয়। এই নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকে এবং এ কথা বলা বৈধ নয় যে, বৈধতা কেবল খায়বারের পূর্ব পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল এবং খায়বারের দিনের হারাম করার বিষয়টি ছিল চিরস্থায়ীত্বের জন্য, আর মক্কা বিজয়ের দিনে যা ঘটেছিল তা ছিল কেবল সেই হারামেরই পুনঃসমর্থন—মক্কা বিজয়ের দিনে নতুন করে বৈধতা প্রদান ছাড়াই। কারণ মক্কা বিজয়ের দিনে বৈধতা প্রদানের ব্যাপারে ইমাম মুসলিম যে বর্ণনাগুলো (الروايات) উল্লেখ করেছেন তা অত্যন্ত স্পষ্ট; সুতরাং সেগুলোকে অগ্রাহ্য করা সম্ভব নয়। আর বৈধকরণের পুনরাবৃত্তি ঘটার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। আল্লাহই ভালো জানেন)
(২).
ইবনুল আরাবি আল-মালিকি বলেন: আর নারীর সাথে মুতআ বিবাহের বিষয়টি শরীয়তের এক বিস্ময়কর বিষয়; কারণ ইসলামের প্রারম্ভে এটি বৈধ ছিল, অতঃপর খায়বারের দিন হারাম করা হয়, পুনরায় আওতাসের যুদ্ধে এটি বৈধ করা হয় এবং পরবর্তীতে আবারও হারাম করা হয়। শেষ পর্যন্ত হারামের বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। শরীয়তে কিবলার মাসআলা ছাড়া এর অনুরূপ আর কোনো উদাহরণ নেই; কেননা কিবলার ক্ষেত্রেও রহিতকরণ (النسخ) দুইবার ঘটেছিল এবং এরপর তা স্থিতিশীল হয়েছিল। সমাপ্ত।
(৩).
আর কিবলার মাসআলা দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে: প্রথমে তা কাবার দিকে ছিল, অতঃপর বায়তুল মাকদিসের দিকে পরিবর্তন করা হয়, পুনরায় আবার কাবার দিকে ফিরিয়ে আনা হয় এবং এর ওপরই তা স্থিতিশীল থাকে
(৪).
এবং সঠিক (الصحيح) মত হলো: বিদায় হজের সময় যা ঘটেছিল তা ছিল ঐ দিনে মানুষের সমাবেশের কারণে কেবল একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করা; যাতে উপস্থিত ব্যক্তি অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট তা পৌঁছে দিতে পারে, দ্বীন পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে, শরীয়তকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে এবং ঐ দিন হালাল ও হারামের পার্থক্য বর্ণনা করতে। তখন তিনি 'কিয়ামত পর্যন্ত' বলার মাধ্যমে মুতআ হারাম করার বিষয়টি চূড়ান্ত করেন
(৫).
ইতিপূর্বে ইমাম নববীর যে বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'বৈধকরণের পুনরাবৃত্তি ঘটার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই'; তা আল-মাযারি থেকে বর্ণিত নিম্নোক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে সমর্থিত: ('সহিহ মুসলিম'-এ মুতআ নিষিদ্ধকরণের ব্যাপারে বর্ণিত বর্ণনায় (الرواية) ভিন্নতা রয়েছে; এতে এসেছে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের দিন এটি নিষেধ করেছেন এবং এতে এও রয়েছে যে, তিনি মক্কা বিজয়ের দিন তা নিষেধ করেছেন, সুতরাং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল আহাদীছু ওয়াল আছারুল ওয়ারিদাতু ফী নিকাহিল মুতআতি দিরায়াতান ওয়া রিওয়ায়াতান
(পৃষ্ঠা: ২৯)
تعلق بهذا الحديث من أجاز نكاح المتعة، وزعم أن الأحاديث تعارضت، وأن هذا الاختلاف قادح فيها؛ قلنا: هذا الزعم خطأ، وليس هذا تناقضًا؛ لأنه يصح أن ينهى عنه في زمن، (ثم ينهى عنه في زمن آخر توكيدًا)، أو ليشتهر النهي ويسمعه من لم يكن سمعه أولًا، فسمع بعض الرواة النهي في زمن، وسمعه آخرون في زمن آخر، فنقل كل منهم ما سمعه، وأضافه إلى زمان سماعه) اهـ كلام المازري
(1).
--------------------------------------------
যারা মুতআ বিবাহ বৈধ করেছেন তারা এই হাদিসের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছেন (অর্থাৎ এটি দিয়ে দলিল পেশ করেছেন) এবং দাবি করেছেন যে হাদিসসমূহ পরস্পর বিরোধী (تعارض) হয়ে পড়েছে এবং এই ভিন্নতা হাদিসের গ্রহণযোগ্যতাকে ত্রুটিযুক্তকারী (قادح); আমরা বলি: এই দাবিটি ভুল এবং এটি কোনো বৈপরীত্য নয়; কারণ এটি সম্ভব যে এক সময়ে তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, (অতঃপর তাকিদ বা গুরুত্বারোপ করার জন্য অন্য সময়ে পুনরায় তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে), অথবা যাতে নিষেধাজ্ঞাটি প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং যারা ইতিপূর্বে তা শ্রবণ করেনি তারা যেন শুনতে পায়। ফলে কিছু বর্ণনাকারী (رواة) এক সময়ে নিষেধাজ্ঞাটি শুনেছেন এবং অন্যগণ তা অন্য সময়ে শুনেছেন, অতঃপর তাদের প্রত্যেকে যা শুনেছেন তা-ই বর্ণনা করেছেন এবং তা শ্রবণের সময়ের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। — ইমাম মাযিরীর বক্তব্য সমাপ্ত।
(1)--------------------------------------------