(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: -)
جامع الورع وقامع البدع القسم: الفرق والردود
الكتاب: جامع الورع وقامع البدع
المؤلف: أبو بكر أحمد بن محمد بن أبي القاسم محمد بن محمود الدشتي الحنبلي (ت 713 هـ)
المحقق: أبو المنذر المنياوي
عدد الصفحات: 268
[الكتاب غير مطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 ربيع الأول 1442
জামিউল ওয়ারা ওয়া কামিউল বিদা বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডন
গ্রন্থ: জামিউল ওয়ারা ওয়া কামিউল বিদা
গ্রন্থকার: আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবিল কাসিম মুহাম্মাদ বিন মাহমুদ আদ-দাশতী আল-হাম্বলী (মৃত্যু ৭১৩ হি.)
সম্পাদক: আবু আল-মুনজির আল-মিনয়াওয়ী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬৮
[বইটি অপ্রকাশিত]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ১)
كتاب جامع الورع وقامع البدع
تصنيف الإمام الحافظ المصنف ناصر الإسلام والسنة
أبي بكر أحمد بن محمد بن أبي القاسم محمد
ابن محمود الدشتي الحنبلي
رحمه الله تعالى
آمين
ت 713 هـ
مخطوط يطبع لأول مرة
حققه وعلق عليه
أبو المنذر مَحْمُود بن مُحمَّدِ بن مُصْطَفَى المِنِياوِي
عفا الله تعالى عنه وعن والديه
কিতাব জামিউল ওয়ারা ওয়া কামিউল বিদা
ইমাম, হাফিজ, গ্রন্থকার, ইসলাম ও সুন্নাহর সাহায্যকারী
আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবি আল-কাসিম মুহাম্মাদ
ইবনে মাহমুদ আদ-দাশতী আল-হাম্বলী
আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন
আমিন
মৃত্যু: ৭১৩ হিজরি
পাণ্ডুলিপিটি প্রথমবারের মতো মুদ্রিত
সম্পাদনা ও টীকা প্রদান করেছেন
আবুল মুনজির মাহমুদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুস্তফা আল-মিনিয়াউই
আল্লাহ তাআলা তাঁকে এবং তাঁর পিতামাতাকে ক্ষমা করুন
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}.
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً}.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً}.
أما بعد، ..
فهذا جهد المقل في تحقيق مخطوط " كتاب جامع الورع وقامع البدع" وقد وجدت منه نسخة خطية على الشبكة وبحثت جهدي فلم أقف عليها مطبوعة، ورغبني عنوانها في إخراجها إلى حيز النور، والعمل على تحقيقها، وخاصة وأن مؤلفها سلفي العقيدة، ولم أقف له على أي عمل مطبوع يعرف الناس به، فاستعنت بالله لإخراجها، فالله المستعان.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।
হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক সত্তা থেকে, এবং তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার জোড়া, আর তাদের উভয়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু নর ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে কিছু চাও এবং রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়তা ছিন্ন করা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহাসাফল্য অর্জন করল।
অতঃপর, ..
এটি "কিতাবু জামিউল ওয়ারা’ ওয়া কামিউল বিদা’" নামক পাণ্ডুলিপিটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে একজন স্বল্পপুঁজির অধিকারীর ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। আমি ইন্টারনেটে এর একটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি খুঁজে পেয়েছি এবং আমার সাধ্যমতো অনুসন্ধান করেছি, কিন্তু এর কোনো মুদ্রিত সংস্করণ আমার নজরে পড়েনি। এর শিরোনামটি আমাকে এটি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে এবং এর ওপর সম্পাদনামূলক কাজ করতে উৎসাহিত করেছে, বিশেষ করে যেহেতু এর লেখক সালাফি আকিদাপন্থী এবং আমি তাঁর এমন কোনো মুদ্রিত কাজ খুঁজে পাইনি যার মাধ্যমে মানুষ তাঁকে চিনতে পারে। তাই এটি প্রকাশের জন্য আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি, আর আল্লাহই সর্বোত্তম সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৩)
عملي في المخطوط:1 - قام بعض الإخوة بنسخ المخطوط، وقمت بتصحيحه حسب الطاقة، وبعد استشارة بعض إخواني من طلاب العلم الذين لهم دراية أكثر مني بخطوط المخطوطات ونسخها، فجزاهم الله خير الجزاء، وأوفاه، إلا أن بعض الكلمات أو العبارات لم أهتد لوجهها، فأثبتها كما هي، وقد أشير في الحاشية، إلى الوجه الذي يستقر عندي أنه الأقرب للصواب.
2 - إثبات ما وجدته من زيادات وحواشي على هامش المخطوط، إلا أنه هناك بعض الحواشي لم أتمكن من قراءتها إما لبتر كلامها بنقصان التصوير، أو لسوء الخط، فلم أثبتها، وقد اجتهد وأنقل من كتب الغريب أقرب التعاريف للمعنى المضمن في الحاشية.
3 - شرح غريب بعض الألفاظ بالرجوع إلى كتب المعاجم، والغريب.
4 - ترجمت لمعظم الأعلام الوارد أسمائهم في الرسالة الذين ليس لهم شهرة كبيرة.
5 - التعريف ببعض الكتب التي ينقل عنها المؤلف.
6 - كتابة الآيات القرآنية الواردة في الرسالة مشكولة وكتابة اسم السورة ورقم الآية عقبها.
7 - تخريج الأحاديث الواردة في الرسالة مع الحكم على أسانيدها ما أمكنني ذلك.
8 - كنت بدأت المخطوط بتخريج الآثار من أقوال الصحابة والتابعين ومن دونهم حتى أرهقني ذلك؛ لكثرتها فقلت أكتفي في أقوال التابعين ومن دونهم بالعزو فقط ولا أشتغل بتحقيق أسانيدها؛ لأنها لا يترتب عليها عمل ولا أحكام، وقد أحكم على ما يكون الحكم فيها ظاهرا منها.
9 - قد أزيد في المتن زيادات ولا أنبه عليها لاقتضاء السياق لها، وإنما أميزها عن أصل المخطوط بوضعها بين معكوفتين [].
10 - أكثر المؤلف من قول الشعر، وكان لا يقطع الأبيات، فاستعنت بالله أولا ثم بأهل الخبرة في تقطيع الأبيات وتصحيحها ما أمكن ذلك، ونظرا لسوء الخط وعدم وضوح بعض الكلمات فإنني أرسم غالبها كما جاءت في الأصل.
11 - قدمت له مبينا بيانات المخطوط، وتوثيق نسبته للمؤلف، وترجمت للمؤلف
পাণ্ডুলিপিতে আমার সম্পাদিত কাজ:১ - কতিপয় ভাই পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করেছেন এবং আমি সাধ্যানুযায়ী তা সংশোধন করেছি। এই কাজে আমি পাণ্ডুলিপির লিপি ও অনুলিপি সম্পর্কে আমার চেয়ে অধিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কতিপয় তালিবে ইলম ভাইয়ের পরামর্শ গ্রহণ করেছি; আল্লাহ তাদের উত্তম ও পরিপূর্ণ প্রতিদান দান করুন। তবে কিছু শব্দ বা বাক্য বিন্যাসের সঠিক পাঠ উদ্ধার করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি, বিধায় সেগুলো মূল পাণ্ডুলিপির অনুরূপ রেখেছি। এক্ষেত্রে টীকায় আমি সেই পাঠের কথা উল্লেখ করেছি যা আমার কাছে সঠিক হওয়ার অধিক নিকটবর্তী বলে মনে হয়েছে।
২ - পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকা বা হাশিয়ায় যা কিছু অতিরিক্ত অংশ পেয়েছি তা সংযোজন করেছি। তবে কিছু টীকা পাঠ করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি—হয়তো পাণ্ডুলিপির অনুলিপি অসম্পূর্ণ থাকার কারণে কথাগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, অথবা হস্তাক্ষর অস্পষ্ট হওয়ার কারণে। ফলে সেগুলো আমি অন্তর্ভুক্ত করিনি। তবে আমি চেষ্টা করেছি এবং 'গারিব' (দুর্লভ শব্দাবলি) বিষয়ক গ্রন্থগুলো থেকে সেই টীকায় নিহিত অর্থের সাথে সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংজ্ঞাটি উদ্ধৃত করেছি।
৩ - অভিধান এবং 'গারিব' বিষয়ক গ্রন্থসমূহের সহায়তায় কিছু কঠিন শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।
৪ - এই পুস্তিকায় উল্লিখিত অধিকাংশ ব্যক্তির সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রদান করা হয়েছে, বিশেষ করে যারা খুব বেশি প্রসিদ্ধ নন।
৫ - লেখক যেসব গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, সেগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটির পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।
৬ - পুস্তিকায় বর্ণিত কুরআনের আয়াতগুলো হরকতসহ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং আয়াতের পরপরই সূরার নাম ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।
৭ - পুস্তিকায় বর্ণিত হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ (তাখরিজ) করা হয়েছে এবং সাধ্যানুযায়ী সেগুলোর সনদের নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
৮ - পাণ্ডুলিপির শুরুতে আমি সাহাবী, তাবিঈ এবং পরবর্তী স্তরের মনিষীদের বর্ণিত আসার (উক্তি) সমূহের উৎস নির্দেশ করা শুরু করেছিলাম। কিন্তু সেগুলোর সংখ্যা অত্যধিক হওয়ায় আমি সিদ্ধান্ত নিই যে, তাবিঈ ও পরবর্তী স্তরের মনিষীদের উক্তির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মূল উৎসের উল্লেখ করাই যথেষ্ট এবং সেগুলোর সনদের তাহকিক বা সত্যতা যাচাইয়ের কাজে লিপ্ত হব না। কারণ এগুলোর ওপর কোনো আমল বা শারয়ি বিধান নির্ভর করে না। তবে যেসব বর্ণনার হুকুম সুস্পষ্ট, সেগুলোর বিষয়ে মন্তব্য করা হয়েছে।
৯ - প্রসঙ্গের প্রয়োজনে আমি মূল পাঠে (মতন) কিছু শব্দ বৃদ্ধি করেছি যা আলাদাভাবে সতর্ক করিনি, তবে সেগুলোকে মূল পাণ্ডুলিপি থেকে পৃথক করার জন্য তৃতীয় বন্ধনীর [] মধ্যে রেখেছি।
১০ - লেখক প্রচুর পরিমাণে কবিতা ব্যবহার করেছেন এবং তিনি চরণে চরণে পঙক্তি বিন্যাস করেননি। তাই আমি সর্বাগ্রে আল্লাহর সাহায্য নিয়েছি এবং পরে এ বিষয়ে অভিজ্ঞদের সহযোগিতায় পঙক্তি বিন্যাস ও সাধ্যানুযায়ী সংশোধনের চেষ্টা করেছি। তবে হস্তাক্ষর খারাপ হওয়া এবং কিছু শব্দ অস্পষ্ট থাকার কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমি মূল পাণ্ডুলিপিতে যেভাবে আছে সেভাবেই লিখেছি।
১১ - গ্রন্থটির শুরুতে আমি একটি ভূমিকা দিয়েছি, যেখানে পাণ্ডুলিপির তথ্যসমূহ এবং লেখকের প্রতি এই গ্রন্থের সম্বন্ধের প্রামাণিকতা তুলে ধরেছি এবং লেখকের জীবনী উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৪)
بيانات المخطوط:اسم المؤلف: شهاب الدين أبو بكر أحمد بن محمد بن أبي القاسم بن بَدْران الأنمي الْكرْدِي محمد بن محمود الدَّشْتي الحنبلي.
عدد أوراق المخطوط 126 لوحة في كل لوحة وجهان اللوحة الأولي وهي طرة المخطوط بها اسم المخطوط واسم المؤلف، واللوحة الأخيرة وجهان الوجه الثاني به خاتمة المخطوط، وبها 15 سطر، وعدد الأسطر غير منتظم بالمخطوط فبعض اللوحات يكون بكل وجه فيها 15 سطر، والبعض 16 سطر، وقد تص إلى 20 سطر في بعض اللوح.
وأما بالنسبة لعدد الأسطر في كل وجه فهو غير منتظم فيتراوح بين 8: 13 كلمة تقريبا.
صورة الوجه الثاني من الورقة الأولى:
صورة الوجه الأول من الورقة الثانية:
صورة الوجه الثاني من الورقة الأخيرة:
পাণ্ডুলিপির বিবরণ:লেখকের নাম: শিহাবউদ্দীন আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবুল কাসেম বিন বাদরান আল-আনামি আল-কুর্দি মুহাম্মদ বিন মাহমুদ আদ-দাশতি আল-হানবালি।
পাণ্ডুলিপির পত্র সংখ্যা ১২৬টি, যার প্রতিটি পত্রে দুটি করে পার্শ্ব রয়েছে। প্রথম পত্রটি হলো পাণ্ডুলিপির শিরোনাম পত্র, যাতে পাণ্ডুলিপির নাম এবং লেখকের নাম রয়েছে। শেষ পত্রটিরও দুটি পার্শ্ব রয়েছে, যার দ্বিতীয় পার্শ্বে পাণ্ডুলিপির উপসংহার রয়েছে এবং এতে ১৫টি সারি বিদ্যমান। পাণ্ডুলিপিতে সারির সংখ্যা অনিয়মিত; কোনো কোনো পত্রের প্রতি পার্শ্বে ১৫টি সারি রয়েছে, আবার কোনোটিতে ১৬টি সারি, এমনকি কিছু পত্রে ২০টি সারি পর্যন্ত রয়েছে।
আর প্রতি পার্শ্বের শব্দের সংখ্যার ক্ষেত্রে তা অনিয়মিত, যা মোটামুটি ৮ থেকে ১৩টি শব্দের মধ্যে হয়ে থাকে।
প্রথম পত্রের দ্বিতীয় পার্শ্বের চিত্র:
দ্বিতীয় পত্রের প্রথম পার্শ্বের চিত্র:
শেষ পত্রের দ্বিতীয় পার্শ্বের চিত্র:
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৫)
تحقيق نسبة المخطوط للمؤلف:والرسالة منسوبة لأبي بكر بن أبي القاسم الدشتي كما هو مدون على طرتها بخط واضح لا طمس فيه، وكما جاء في صدرها حيث جاء فيها: (قال الشيخ الإمام العالم الحافظ المفتي ناصر الإسلام والسنة أحمد بن محمد بن محمد بن محمود الدشتي
… ). ولم أقف على من نسبها له ممن ترجم له.
লেখকের প্রতি পাণ্ডুলিপিটির সম্বন্ধ যাচাইকরণ:এই পুস্তিকাটি আবু বকর বিন আবিল কাসিম আদ-দাশতির প্রতি সম্বন্ধযুক্ত, যেমনটি এর শিরোনামের পাতায় স্পষ্ট এবং কোনো প্রকার অস্পষ্টতাহীন হস্তাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে। এছাড়া এর প্রারম্ভিক অংশেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে: (শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, হাফেজ, মুফতি, ইসলাম ও সুন্নাহর সাহায্যকারী আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মাহমুদ আদ-দাশতি বলেছেন
...)। তবে যারা তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি এই রচনাটিকে তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৬)
ترجمة المصنف (1):
اسمه، ولقبه، وكنيته، ونسبه:شهاب الدين أبو بكر أحمد بن محمد بن أبي القاسم بن بَدْران
(2) الأنمي الْكرْدِي محمد بن محمود الدَّشْتي
(3) الحنبلي.
ولادته:ولد بحلب سنة أربع وثلاثين وست مائة.
أقوال العلماء فيه:قال الذهبي: "نسخ الأجزاء وحفظ أصولا وأبياتا وكان مليح الخط عنده فضيلة تفرد به بأشياء وحدث بدمشق وبمصر".
قال الذهبي: "تفرّد بأشياء عالية".
قال الصفدي: " وتفرّد وروى الكثير، حدّث بمصر بمسند الطيالسي، ورُتّب مسمِعاً بالدار الأشرفية، ومعلِّماً بمكتب الطواشي ظهير الدين، وأكثر الطلبة عنه، وخَرَّجَ له علم الدين البِرزالي مشيخةً، وكان في الرِّواية يتعزز، ويتحلّى بالطلب وتمزّز، ويطلب نسخَ عدة أجزاء لنفسه من السامع، ويرى أن ذلك له كالقامع. ولم يزل إلى أن انقلب دست الدَّشْتي، وحار فيما نزل به الطبيب والمفتي".
قال العلائي: " وقد تفرد بكثير من مسموعاته، وكان عسرا في الرواية، وربما أخذ عليها أجرا".
شيوخه:كان عمه أبو محمد محمود بن أبي القاسم الدشتي المتوفى سنة 660 هـ يعتني به، ويسمعه الكثير، فقد سمع بإفادة عمه كثيرا بدمشق ، وحلب ، وحران:
فسمع بإفادة عمه بحلب من: عبد الله بن راوحة وابن العميرة ونفيس النحوي ويوسف بن خليل.
وبحران من: المجد ابن تيمية وعيسى الخياط وأحمد بن سلامة النجار وعبد الرزاق ابن أبي الوفا.
وبحماه من: شيخ الشيوخ النصاري والنفيس محمد بن الحسين بن رواحة.
وبدمشق من: الحافظ الضياء ومكي بن المسلم وابن سلمة وابن الصلاح وعبد الرحمن بن الحافظ وعبد الله بن أبي عمر وعبد الحق بن خلف والبلداني.
سمع على أبي الحجاج يوسف ين خليل مسند أبي داود الطيالسي وكتاب تاريخ أصبهان لأبي نعيم.
--------------------------------------------
গ্রন্থকারের জীবনী (১):
তাঁর নাম, উপাধি, কুনিয়াত ও বংশপরিচয়:শিহাবুদ্দীন আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবিল কাসিম ইবনে বদরান
(২) আল-আনমি আল-কুরদি মুহাম্মাদ ইবনে মাহমুদ আদ-দাশতি
(৩) আল-হাম্বলি।
জন্ম:তিনি ৬৩৪ হিজরি সনে আলেপ্পো (হালাব) শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের মন্তব্য:আয-যাহাবি বলেন: "তিনি বহু পাণ্ডুলিপি অনুলিপি করেছেন এবং মূল উৎস ও কবিতা মুখস্থ করেছেন। তাঁর হস্তাক্ষর অত্যন্ত সুন্দর ছিল এবং তাঁর মাঝে পাণ্ডিত্য বিদ্যমান ছিল। তিনি কিছু বিরল বর্ণনায় অনন্য ছিলেন এবং দামেস্ক ও মিশরে হাদীস বর্ণনা করেছেন।"
আয-যাহাবি আরও বলেন: "তিনি উচ্চমানের অনেক বিরল বর্ণনায় অনন্য ছিলেন।"
আস-সাফাদি বলেন: "তিনি বর্ণনায় অনন্য ছিলেন এবং প্রচুর বর্ণনা করেছেন। মিশরে তিনি মুসনাদে তায়ালিসি বর্ণনা করেছেন। তিনি দারুল আশরাফিয়াতে হাদীস শ্রবণকারী (মুসমি') হিসেবে এবং তওয়াশি যহীরুদ্দীন মক্তবে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। বহু ছাত্র তাঁর কাছ থেকে হাদীস গ্রহণ করেছেন এবং ইলমুদ্দীন আল-বিরযালি তাঁর জন্য একটি 'মাশয়াখাহ' (শিক্ষকদের তালিকা) সংকলন করেছেন। হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি আত্মমর্যাদাশীল ছিলেন এবং ইলমের অন্বেষণে বিভোর থাকতেন। তিনি হাদীস শ্রবণকারীর কাছ থেকে নিজের জন্য বেশ কিছু খণ্ডের অনুলিপি দাবি করতেন এবং মনে করতেন এটি তাকে নিয়ন্ত্রণকারী। তিনি এভাবেই চলতে থাকেন যতক্ষণ না বার্ধক্য তাঁকে গ্রাস করে এবং চিকিৎসক ও মুফতিগণ তাঁর অবস্থা দেখে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন।"
আল-আলাই বলেন: "তিনি তাঁর অনেক শ্রুত হাদীস বর্ণনায় একক ছিলেন, তবে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করতেন এবং সম্ভবত এর জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করতেন।"
তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:তাঁর চাচা আবু মুহাম্মাদ মাহমুদ ইবনে আবিল কাসিম আদ-দাশতি (মৃত্যু: ৬৬০ হিজরি) তাঁর প্রতি বিশেষ যত্ন নিতেন এবং তাঁকে প্রচুর হাদীস শ্রবণ করাতেন। তিনি তাঁর চাচার তত্ত্বাবধানে দামেস্ক, আলেপ্পো এবং হাররানে প্রচুর হাদীস শুনেছেন:
আলেপ্পোতে চাচার নির্দেশে যাদের নিকট হাদীস শুনেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা, ইবনুল আমিরাহ, নাফিস আন-নাহবি এবং ইউসুফ ইবনে খলিল।
হাররানে: আল-মাজদ ইবনে তাইমিয়া, ঈসা আল-খাইয়্যাত, আহমদ ইবনে সালামাহ আন-নাজ্জার এবং আবদুর রাজ্জাক ইবনে আবিল ওয়াফা।
হামাতে: শাইখুশ শুয়ূখ আন-নাসারি এবং নাফিস মুহাম্মাদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে রাওয়াহা।
দামেস্কে: হাফিজ আদ-দিয়া, মক্কি ইবনুল মুসলিম, ইবনে সালামাহ, ইবনুস সালাহ, আবদুর রহমান ইবনুল হাফিজ, আবদুল্লাহ ইবনে আবি উমর, আবদুল হক ইবনে খালাফ এবং আল-বালদানি।
তিনি আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে খলিলের নিকট মুসনাদে আবু দাউদ আত-তায়ালিসি এবং আবু নুয়াইমের তারীখে আসবাহান কিতাবটি শ্রবণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৭)
قال الذهبي: " حدثنا عن ابن رواحة، وابن يعيش، وابن قميرة، والضّياء، وصفيّة القرشية، وعدة. وله مشيخة بانتقاء البرزالي".
وسمع أيضا من القاضي شهاب الدين ابراهيم بن عبد الله بن عبد المنعم بن أبي الدم وسيف الدين أحمد بن المجد عيسى بن الموفق في آخرين.
ومن شيوخه ابن المقير حيث قال هنا: ((وأخبرنا الشيخ الزاهد أبو الحسن علي بن المقير البغدادي بقراءتي عليه بمكة تجاه الكعبة شرفها الله تعالى في ذي الحجة سنة أربع وثلاثين وستمائة
(1))).
تلامذته:أخذ عنه الخباز ، والمزي ، وأبو حيان ، والبرزالي ، والعلائي ، والسبكي أكثرنا عنه على عسارة فيه وشكوى فقر، قرر مسمعا بدار الحديث ومؤدبا للأيتام.
قال ابن حجر: "قلت حَدثنَا عَنهُ ابْن أبي الْمجد بِالْإِجَازَةِ وَحده قَرَأت عَلَيْهِ تَارِيخ أَصْبَهَان لأبي نعيم بإجازته مِنْهُ وَأَشْيَاء كَثِيرَة".
ومن تلامذته أيضا شمس الدين الذهبي.
قال الذهبي في " معجم شيوخه الكبير" (1/ 102): "سمعت منه أجزاء".
أعماله:لم أقف على شيء مطبوع للمؤلف رحمه الله، وله: "ترجمة مجد الدين ابن تيمية" توجد منها نسخة خطية بالمكتبة المركزية، بمكة المكرمة، برقم الحفظ: 691/ 14، برقم تسلسلي: 69988.
ونسخة أخرى بمكتبه المصغرات الفيلمية بقسم المخطوطات بالجامعة الإسلامية، بالمدينة المنورة، برقم الحفظ: 4575/ 14.
وفاته:مات في عاشر جمادى الآخرة سنة ثلاث عشرة وسبعمائة بدمشق وله ثمانون سنة غير أشهر.
--------------------------------------------
আয-যাহাবী বলেন: "তিনি ইবন রেওয়াহাহ, ইবন ইয়াঈশ, ইবন কুমাইরাহ, আয-যিয়া, সাফিয়্যাহ আল-কুরাশিয়্যাহ এবং আরও অনেকের থেকে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। আল-বিরযালীর চয়নকৃত তাঁর একটি 'মাশয়াখা' (শিক্ষক তালিকা) রয়েছে।"
তিনি কাজী শিহাবুদ্দীন ইবরাহীম ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবদুল মুনইম ইবন আবিল দাম এবং সাইফুদ্দীন আহমদ ইবন আল-মাজদ ঈসা ইবন আল-মুওয়াফফাক সহ আরও অনেকের নিকট (হাদীস) শ্রবণ করেছেন।
তাঁর শিক্ষকদের অন্যতম হলেন ইবনুল মুকাইয়্যার; যেখানে তিনি এখানে বলেছেন: ((যাহিদ শায়খ আবুল হাসান আলী ইবনুল মুকাইয়্যার আল-বাগদাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। এটি ছিল মক্কায় কা'বা শরীফের—আল্লাহ তাআলা একে সম্মানিত করুন—সম্মুখে ৬৩৪ হিজরীর যিলহজ মাসে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে
(১)))।
তাঁর ছাত্রবৃন্দ:আল-খাব্বায, আল-মিযযী, আবু হাইয়ান, আল-বিরযালী, আল-আলাই এবং আস-সুবকী তাঁর থেকে ইলম অর্জন করেছেন। তাঁর কঠিন জীবনযাপন ও দারিদ্র্যের অভিযোগ সত্ত্বেও আমরা তাঁর থেকে প্রচুর গ্রহণ করেছি। তিনি দারুল হাদীসে পাঠকারী এবং ইয়াতীমদের শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।
ইবন হাজার বলেন: "আমি বলছি, ইবন আবিল মাজদ কেবল ইজাযতের মাধ্যমে আমাদের কাছে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আমি তাঁর নিকট আবু নুআইমের 'তারীখে আসবাহান' তাঁর ইজাযতসূত্রে পাঠ করেছি, এছাড়াও আরও অনেক কিছু পড়েছি।"
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে শামসুদ্দীন আয-যাহাবীও ছিলেন।
আয-যাহাবী তাঁর 'মুজামু শুয়ূখিহিল কাবীর'-এ (১/ ১০২) বলেন: "আমি তাঁর নিকট থেকে বেশ কিছু জুয (হাদীস সংকলন) শুনেছি।"
তাঁর কর্মাবলী:লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) কোনো মুদ্রিত কাজ আমার নজরে আসেনি। তবে তাঁর রচিত: "তারজামা মাজদুদ্দীন ইবন তাইমিয়্যাহ" (মাজদুদ্দীন ইবন তাইমিয়্যার জীবনী) গ্রন্থটির একটি পাণ্ডুলিপি মক্কা মুকাররমার কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে, যার হিফয নম্বর: ৬৯১/ ১৪ এবং ক্রমিক নম্বর: ৬৯৯৮৮।
মদীনা মুনাওয়ারার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি বিভাগের ফিল্মি মাইক্রোফিল্ম লাইব্রেরিতে এর আরেকটি অনুলিপি রয়েছে, যার হিফয নম্বর: ৪৫৭৫/ ১৪।
তাঁর মৃত্যু:তিনি ৭১৩ হিজরীর ১০ই জুমাদাল আখিরায় দামেস্কে ইন্তেকাল করেন। সে সময় তাঁর বয়স হয়েছিল কয়েকমাস কম আশি বছর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৮)
بسم الله الرحمن الرحيم
وبه نستعين
قال الشيخ الإمام العالم الحافظ المفتي ناصر الإسلام والسنة أحمد بن محمد بن محمد بن محمود الدشتي جامع الورعين وقامع المبتدعين قال: أن سائلا سألني بعد أن كتب صورة المسائل: ما قول السادة العلماء وفقهم الله تعالى في قوم يجتمعون في مسجد أو غيره ويسمعون الدفوف والشبابات
(1) والغناء بالألحان المطربة ويتواجدون ويرقصون ويزعمون هذا جائز ومن المندوبات، فأنكر عليهم قوم آخرون، وقالوا: هذا ما ينبغي لكم ولا يحسن بكم، وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "شر الأمور محدثاتها "
(2) وأن هذا من المحدثات ومن البدع والضلال وأن المساجد ما بنيت لهذا
(3) وهذا تضييع الأوقات ولم يكن هذا من فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا من فعل أصحابه رضوان الله عليهم ولا هو مما يتقرب به أحد إلى الله تعالى ولا طريق أحد من الصالحين فالأولى بالعبد غير ذلك من الحذر والجدّ في التعبد وما أُجمع على استحبابه.
فقالوا لمن أنكر عليهم: قد ورثنا ذلك عن أبائنا الأوّلين ومشايخنا المحققين العادلين وأباحه لنا الإمامين العالمين: مالك بن أنس، ومحمد بن إدريس الشافعي رحمة الله عليهم، ونحن لسادتنا من التابعين وفيما نحن عليه غير مبتدعين.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলিম, হাফিজ, মুফতি, ইসলাম ও সুন্নাহর সাহায্যকারী, পরহেযগারদের মিলনস্থল এবং বিদআতপন্থীদের দমনকারী আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ আদ-দাশতী বলেছেন: জনৈক প্রশ্নকারী মাসআলাটির বিবরণ লিখে আমার কাছে জানতে চেয়েছেন: আল্লাহ তাআলা উলামায়ে কিরামকে তাওফিক দান করুন—সেই কওমের ব্যাপারে আপনাদের বক্তব্য কী, যারা মসজিদে বা অন্য কোথাও একত্রিত হয় এবং দফ, বাঁশি
(১) ও সুর করে চিত্তাকর্ষক গান শোনে, কৃত্রিম ভাবাবেগ প্রকাশ করে এবং নাচানাচি করে; আর তারা দাবি করে যে এটি জায়েয এবং পছন্দনীয় (মানদুব) আমলগুলোর অন্তর্ভুক্ত। তখন অন্য একদল লোক তাদের এই কাজের প্রতিবাদ করল এবং বলল: ‘এটি তোমাদের জন্য সমীচীন নয় এবং তোমাদের জন্য শোভনও নয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ।"
(২) এটি নবউদ্ভাবিত বিষয়, বিদআত ও গোমরাহীর অন্তর্ভুক্ত। আর মসজিদগুলো এসব কাজের জন্য নির্মিত হয়নি
(৩)। এটি সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাজ ছিল না, সাহাবায়ে কিরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমদেরও কাজ ছিল না। এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের কোনো মাধ্যম নয় এবং কোনো সৎকর্মশীল ব্যক্তির পথও নয়। বরং বান্দার উচিত এসব বর্জন করে সতর্ক হওয়া এবং ইবাদত ও যে বিষয়গুলোর মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে, সেগুলোতে মনোনিবেশ করা।’
তখন তারা প্রতিবাদকারীদের বলল: ‘আমরা এটি আমাদের পূর্বপুরুষ এবং ন্যায়পরায়ণ মুহাক্কিক মাশায়েখদের থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি। দুই বিজ্ঞ ইমাম—মালিক ইবনে আনাস এবং মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিঈ রাহিমাহুমাল্লাহ আমাদের জন্য এটি বৈধ করেছেন। আমরা আমাদের মহান পূর্বসূরিদের অনুসারী এবং আমরা যা করছি তাতে আমরা বিদআতি নই।’
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৯)
فلا شك ولا ريب أن القوم بلغهم عن أقوام من أهل البدع والضلال قبلهم أنهم كانوا يفعلون أفعالهم القبيحة الشنعاء فاستمروا على ذلك [ق 1 / ب] واعتقدوا ما اعتقد الآباء ونشأوا على ذلك وكذلك أبناء الأبناء وهلم جرا فهلك الآباء والأبناء ووقعوا في الضلالة والعماء فإذا أنكر عليهم أحد، وقال: أرجعوا عن الضلالة الظلماء إلى ما كان عيه السلف الصالح من الصحابة والتابعين ومن بعدهم من العلماء فإن العلماء المحققين، والزهاد الصّادقون، والأولياء الكاشفون
(1)، والفقهاء العارفون كانوا على غير ما أنتم عليه من الطريق العوجاء فإن لم تصدقوا فسألوا أهل العلم الذين هم ورثة الأنبياء.
--------------------------------------------
এতে কোনো সন্দেহ বা সংশয় নেই যে, এই সম্প্রদায় তাদের পূর্ববর্তী বিদআত ও পথভ্রষ্ট অনুসারীদের সম্পর্কে অবগত হয়েছিল যে তারা অত্যন্ত কদর্য ও জঘন্য কাজ করত। ফলে তারা সেগুলোর ওপরই অবিচল থাকে [পত্র ১ / খ] এবং তাদের পিতৃপুরুষদের বিশ্বাসকেই নিজেদের আকিদা হিসেবে গ্রহণ করে। তারা এভাবেই বেড়ে ওঠে এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মগুলোও একইভাবে এই ধারা অব্যাহত রাখে। পরিশেষে পিতা ও পুত্র উভয় পক্ষই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং বিভ্রান্তি ও অজ্ঞানতার অন্ধকারে নিপতিত হয়। এমতাবস্থায় যদি কেউ তাদের এই কাজের প্রতিবাদ জানিয়ে বলে: "তোমরা এই নিবিড় অন্ধকারাচ্ছন্ন পথভ্রষ্টতা পরিত্যাগ করে সাহাবী, তাবিঈন এবং তাঁদের পরবর্তী উলামায়ে কেরামের ন্যায় সলফে সালেহীনগণ যে পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন সেই পথে প্রত্যাবর্তন করো। কেননা মুহাক্কিক আলেমগণ, সত্যনিষ্ঠ সাধকগণ, আধ্যাত্মিক রহস্য উন্মোচনকারী আউলিয়াগণ
(১) এবং তত্ত্বজ্ঞানী ফকীহগণ তোমাদের এই বক্র পথ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথের অনুসারী ছিলেন। যদি তোমরা বিশ্বাস না করো, তবে ওই সকল জ্ঞানীদের নিকট জিজ্ঞাসা করো যারা নবীগণের উত্তরাধিকারী।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ১০)
قالوا: إنا وجدنا آبائنا على هذا الفعل وغدا عليه مشايخنا الكبراء فلا نترك ما كانوا عليه ولا نرجع إلى قول العلماء مضاهاة لمن قال ذلك من المشركين السفهاء ممن دعاهم الأنبياء صلوات الله وسلامه عليهم إلى يوم الجزاء وإذا أخذ أحدهم من السنة الزهراء إما ببيان حديث، أو بتقليد العلماء قالوا له: أترغب عما كان عليه مشايخنا القدماء مضاهاة لقول أبي جهل وعبد الله بن أمية لأبي طالب حين دعاه النبي عليه السلام إلى دين الأنبياء وخلع ما كان عيه من قبله من الآباء فتمسك بما كان عليه ورغب عما دعاه إليه خاتم الأنبياء مع إقراره أن الحق ما دعاه إليه ومات على ما كان عليه من الضلالة والعماء
(1) فخسر الدنيا والآخرة، وندم حين لم ينفعه الندم ولا الدعاء حين ذل به القدم إلا أن يكون قبل ما دعاه إليه سيد الأمم وأشرف العرب والعجم صلى الله عليه وسلم وشرف وكرم وكذلك ليندمن [ق 2 /أ] من دعي إلى الحق الذي كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم وصحابته رضوان الله عليهم فترك الانقياد إليه وتمسك بما كان عليه الآباء من القدماء وليعض أنامله على تفريطه فيما مضى.
--------------------------------------------
তারা বলে: "আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এই কর্মের ওপর পেয়েছি এবং আমাদের বড় বড় মাশায়েখগণ এর ওপরই অতিবাহিত হয়েছেন। সুতরাং তারা যে পথের ওপর ছিলেন আমরা তা ত্যাগ করব না এবং আলিমদের কথার দিকে ফিরে যাব না।" এটি সেই নির্বোধ মুশরিকদের সাদৃশ্য অবলম্বন মাত্র, যাদেরকে নবীগণ (প্রতিদান দিবস পর্যন্ত তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) সত্যের দিকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। আর যখন তাদের কেউ উজ্জ্বল সুন্নাহ থেকে কোনো বিষয়ের অনুসরণ করে—চাই তা কোনো হাদিসের বর্ণনার মাধ্যমে হোক কিংবা আলিমদের অনুকরণের মাধ্যমে—তখন তারা তাকে বলে: "তুমি কি আমাদের প্রাচীন মাশায়েখদের পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ?" তাদের এই উক্তিটি আবু জাহল ও আবদুল্লাহ বিন উমাইয়ার সেই কথার অনুরূপ, যা তারা আবু তালিবকে বলেছিল যখন নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) তাকে নবীদের দ্বীনের দিকে এবং তার পূর্বপুরুষদের আচরিত প্রথা বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। অতঃপর সে তার পূর্বপুরুষদের পন্থার ওপরই অবিচল রইল এবং শেষ নবী তাকে যে সত্যের দিকে আহ্বান জানিয়েছিলেন তা থেকে বিমুখ হলো; যদিও সে মনে মনে স্বীকার করত যে, তিনি তাকে যে সত্যের দিকে ডাকছেন তা-ই সঠিক। সে পথভ্রষ্টতা ও অন্ধত্বের ওপরই মৃত্যুবরণ করল
(১)। ফলে সে ইহকাল ও পরকাল হারাল এবং এমন এক সময়ে অনুতপ্ত হলো যখন অনুশোচনা কিংবা প্রার্থনা কোনো কাজে আসে না এবং যখন পা পিছলে লাঞ্ছনা অবধারিত হয়ে পড়েছিল। কেবল যদি সে উম্মতকুলের সরদার, আরব ও অনারবের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিত্ব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত করুন এবং তাঁকে সম্মানিত ও মর্যাদাবান করুন) তাকে যে পথের দিকে ডেকেছিলেন তা গ্রহণ করে নিত। অনুরূপভাবে সেই ব্যক্তিও [পৃষ্ঠা ২/ক] অবশ্যই লজ্জিত হবে যাকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) অনুসৃত সত্যের দিকে আহ্বান জানানো হয়েছিল, অথচ সে তার আনুগত্য পরিহার করে প্রাচীন পিতৃপুরুষদের প্রথার ওপর অবিচল রইল। সে তার অতীত অবহেলার জন্য আক্ষেপে নিজের আঙুল কামড়াতে থাকবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ১১)
فنسأل الله رب الأرض والسماء أن يميتنا على الدين المرتضى وأن يصرف عنا سوء القضاء ويستعملنا فيما يحب ويرضى وأن يبصر من كان منا على ضلالة بالهدى ويجنبه طريق الردى، وما ذكرت هذا الكلام إلا لعل معتبر يعتبر فيرجع عما يعتقده ويفعله متابعة منه لأهل الباطل والضلالة؛ لئلا يحشر يوم القيامة معهم ويلحقه من الخزي والندامة مثل ما يلحقهم ثم يتبرؤن منه فما تنفعه متابعتهم.
و ..
(1) إنما أذكر ما جاء في النهي عن الرقص والسماع بالكتاب والسنة والإجماع ورد استدلالهم في نصر الابتداع، واذكر من أخلاق نبينا المصطفى عليه السلام وما جاء عن الصحابة والتابعين رضوان الله عليهم أجمعين ومن بعدهم في تبديل أشياء كثيرة من دين الإسلام وفي تغيير ما كانوا يعهدونه في عهد رسول الله عليه السلام والخلفاء الراشدون، وأذكر من أخلاق الصحابة ومن أخلاق من بعدهم من الأولياء والصالحين من العلماء والمشايخ والفقهاء وصفاتهم وكلامهم وسيرهم وآدابهم وحفظ أوقاتهم نصيحة مني إذا كانت نصيحة المؤمن واجبة على المؤمن كما قال النبي عليه السلام: "إنما الدين النصيحة" يكررها ثلاثا
(2) وأؤدي الأمانة التي أخذها الله تعالى [ق 2 / ب] عز وجل على العلماء بقوله تعالى: {لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ} [آل عمران: 187].
--------------------------------------------
সুতরাং আমরা পৃথিবী ও আকাশের অধিপতি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের তাঁর মনোনীত দ্বীনের ওপর মৃত্যু দান করেন, আমাদের থেকে মন্দ ফয়সালাসমূহ দূর করে দেন এবং তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক কাজে আমাদের নিয়োজিত করেন। আর আমাদের মধ্যে যারা ভ্রষ্টতার ওপর রয়েছে, তাদের যেন তিনি হিদায়াতের মাধ্যমে সত্যের দিশা দান করেন এবং ধ্বংসের পথ থেকে দূরে রাখেন। আমি এই কথাগুলো কেবল এ জন্যই উল্লেখ করেছি যেন কোনো উপদেশ গ্রহণকারী শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে এবং বাতিল ও বিভ্রান্তদের অন্ধ অনুসরণে সে যা বিশ্বাস ও আমল করে আসছিল, তা থেকে ফিরে আসে; যাতে কিয়ামতের দিন তাদের সাথে তার হাশর না হয় এবং তাদের ন্যায় লাঞ্ছনা ও অনুশোচনা তাকেও স্পর্শ না করে। কারণ, তখন তারা তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করবে এবং তাদের এই অনুসরণ তার কোনো উপকারে আসবে না।
এবং ..
(১) আমি কেবল নাচ ও বাদ্যসহকারে গান (সামা') নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে কিতাবুল্লাহ, সুন্নাহ ও ইজমার দালিলিক প্রমাণসমূহ এবং বিদআতের সমর্থনে তাদের উপস্থাপিত যুক্তিসমূহের খণ্ডন উল্লেখ করব। সেইসাথে আমি আমাদের নবী মুস্তফা (আলাইহিস সালাম)-এর মহান চরিত্র এবং সাহাবী, তাবিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) ও তাঁদের পরবর্তীগণের বর্ণনা থেকে ইসলামের অনেক বিষয়ে বিকৃতি এবং রাসূলুল্লাহ (আলাইহিস সালাম) ও খুলাফায়ে রাশিদীনের যুগে প্রচলিত আদর্শের পরিবর্তনের বিষয়গুলো আলোচনা করব। এছাড়াও আমি সাহাবায়ে কিরাম এবং তাঁদের পরবর্তী আউলিয়া, নেককার আলিম, মাশায়েখ ও ফকীহগণের চরিত্র, গুণাবলি, বাণী, সীরাত, আদব ও তাঁদের সময়ানুবর্তিতার কথা উল্লেখ করব। এটি আমার পক্ষ থেকে একটি নসীহত বা সদুপদেশ, যেহেতু এক মুমিনের ওপর অন্য মুমিনের কল্যাণকামিতা ওয়াজিব; যেমনটি নবী (আলাইহিস সালাম) তিনবার পুনরাবৃত্তি করে বলেছেন: "দ্বীন হলো নসীহত (কল্যাণকামিতা)"।
(২) আর আমি সেই আমানত আদায় করছি যা আল্লাহ তা'আলা [পৃষ্ঠা ২/খ] আলিমদের নিকট থেকে এই বলে গ্রহণ করেছেন: "অবশ্যই তোমরা তা মানুষের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না।" [সূরা আলে ইমরান: ১৮৭]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ১২)
فأبدا أولا وأقول:الحمد لله الذي بصرنا بالحق وحبّبنا لإتباع القرآن، وما نزل معه من الحكمة والبيان وبغض إلينا قوما ينتمون إلى مذهب الشيطان في استماع الأغاني وصحبة المردان، وبغضّ إلينا أقرانهم أهل الأداء المقاييس
(1) المعاندين لأهل الإيمان، ونحمد الله الذي بالقدم توحّد وبالعلم والقدرة تفرد، وبكتابه المنزل على نبيه المرسل تعبد، وجعله منار دينه وسراج توحيده وضياء برهانه أسفر به قناع الزور ودرس به معالم الفجور وأبطل به لهو الحديث، وخَسأ به من كان في الحق يعيث، أنفذ به من أحب من ملابسة الشبهة إلى الصراط المستقيم وجعل سبيلهم الأثر والاتباع؛ لينجيهم من أهوال اليوم العقيم وحماهم من الإحداث والابتداع ليكرمهم بالنعيم المقيم وكره إليهم اللهو والبطالة وأنقذهم من السخافة والجهالة وأكمل عليهم المنّة وأجزل عليهم النعيم بإتباعهم الكتاب والسنة.
...........
(2) الذي نصب أعلام الرشاد وسلب التوفيق من أهل العناد، وصلى الله على أفضل العباد الهادي من أتبعه إلى سبيل الرشاد والمتبع أمر ربه عز وجل بحسن الانقياد صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وتابعيه إلى يوم التناد صلاة دائمة بلا فناء ولا نفاذ.
أما بعد ..
--------------------------------------------
অতএব, আমি প্রথমে শুরু করছি এবং বলছি:সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের সত্যের অন্তর্দৃষ্টি দান করেছেন এবং কুরআন ও তার সাথে অবতীর্ণ হিকমত (প্রজ্ঞা) ও বয়ান (বর্ণনা)-এর অনুসরণের প্রতি আমাদের অনুরাগী করেছেন; এবং আমাদের নিকট সেই সম্প্রদায়কে ঘৃণিত করেছেন যারা গান শোনা এবং কিশোরদের সান্নিধ্য লাভের ক্ষেত্রে শয়তানের মতাদর্শের অনুসারী, আর আমাদের নিকট ঘৃণিত করেছেন তাদের সমগোত্রীয় সেই ‘আহলুল আদা আল-মাকায়িস’ (পরিমাপ ভিত্তিক সুরকারী)
(১)-দেরও যারা ঈমানদারদের বিরুদ্ধাচরণকারী। আমরা প্রশংসা করি সেই আল্লাহর, যিনি অনাদিত্বে এক এবং জ্ঞান ও কুদরত (ক্ষমতা)-এ অদ্বিতীয়; এবং যিনি তাঁর প্রেরিত নবীর ওপর অবতীর্ণ কিতাবের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত সাব্যস্ত করেছেন। তিনি একে তাঁর দ্বীনের আলোকবর্তিকা, তাঁর তাওহীদের প্রদীপ এবং তাঁর প্রমাণের জ্যোতি বানিয়েছেন; যার মাধ্যমে তিনি মিথ্যার আবরণ উন্মোচন করেছেন এবং পাপাচারের চিহ্নসমূহ মিটিয়ে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি অসার কথপোকথনকে বাতিল করেছেন এবং সত্যের পথে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের লাঞ্ছিত করেছেন। তিনি যাকে ভালোবেসেছেন তাকে সন্দেহের সংশয় থেকে মুক্ত করে এর মাধ্যমে সরল পথে পরিচালিত করেছেন এবং তাদের পথ করেছেন ‘আসার’ (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) ও অনুকরণের পথ; যেন তিনি তাদের কঠিন দিবসের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করেন। তিনি তাদের নব-উদ্ভাবন ও বিদআত থেকে হিফাযত করেছেন যাতে তাদের চিরস্থায়ী নেয়ামত দিয়ে সম্মানিত করেন। তিনি তাঁদের নিকট খেল-তামাশা ও অকর্মণ্যতাকে অপ্রিয় করেছেন এবং নির্বুদ্ধিতা ও মূর্খতা থেকে উদ্ধার করেছেন; আর কিতাব ও সুন্নাহর অনুসরণের বদৌলতে তাঁদের ওপর স্বীয় অনুগ্রহ পূর্ণ করেছেন ও নেয়ামতকে সমৃদ্ধ করেছেন।
...........
(২) যিনি হিদায়াতের নিশানসমূহ উড্ডীন করেছেন এবং হঠকারীদের থেকে তাওফিক ছিনিয়ে নিয়েছেন। আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক সর্বোত্তম বান্দার ওপর, যিনি তাঁর অনুসারীদের হিদায়াতের পথের দিশা দানকারী এবং যিনি তাঁর পরাক্রমশালী মহান রবের আদেশকে সর্বোত্তম আনুগত্যের সাথে পালনকারী। আল্লাহ দরুদ বর্ষণ করুন তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ ও কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁদের অনুসারীদের ওপর—এমন এক চিরস্থায়ী দরুদ যার কোনো বিনাশ বা শেষ নেই।
অতঃপর..
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فإنه لما كانت الهدايا تزرع الحب
(1) وتضعفه وتولد الولاء [ق 3 /أ] وتُسعّفُه أحببت أن اذكر في كتابي هذا عن الأئمة السالفين وما نقلوا من الأخبار والآثار في ذم الغناء والرقص وصحبة أحداث المرد والنساء والإنكار على فاعليه؛ لينتفعوا به ويقصروا عن غيهم في الغناء واللعب موعظة ونصيحة وهدية مني إليهم من غَرَّ بهم ولم أجد هدية أنفس من الذكرى التي تنفع المؤمنين، والنصيحة التي قال رسول الله عليه السلام أنها الدين ألا وها أنا آتيكم بالهدايا السنية فاقبلوها ولا تردوها وقربوها ولا تبعدوها.
وأقول:
الناس يهدون على قدرهم
… وإنما أهدي على قدري
(2)يهدون ما يفنى وأهدي الذي
… بقى مد الأيام من صدري
وقد سألت الله مستنصرا
… فإنه القادر في نصري
وها أنا أشرع فيما أرى
… مستعصما بالله في أمري
ومما حَذاني- أي: ساقني - على ذلك أيضا إحياء الشريعة وإظهار كلمة الحق واقتفاء آثار رسول الله عليه السلام ومن سلف بعده من الأئمة لئلا يعدل بهم إلى مهوى وبدعة؛ لأن هذه الطائفة الضالة غلت في حب الرقص واستماع الغناء وصحبة أحداث المرد والنساء حتى اعتقدوا ذلك ديانًة وأن الرحمة تنزل عليهم عند اللعب، والملائكة تحفّ بهم حال الطرب، وكل هذا من المحدثات ومن البدع والضلالة، ومن الأمور العظام، المنكرات التي يجب على فاعلها التوبة إلى الله عز وجل،
--------------------------------------------
যেহেতু উপহারসমূহ ভালোবাসার চারা রোপণ করে
(১) এবং তা শক্তিশালী ও আনুগত্য তৈরি করে [পত্র ৩/ক] এবং তাকে পুষ্ট করে, তাই আমি আমার এই গ্রন্থে পূর্বসূরি ইমামদের সম্পর্কে এবং গান ও নৃত্যের নিন্দা, শ্মশ্রুহীন যুবক ও নারীদের সাহচর্য এবং এসব কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের ওপর আপত্তি জ্ঞাপন সম্পর্কে তাঁদের বর্ণিত সংবাদ ও বর্ণনাগুলো উল্লেখ করা পছন্দ করেছি; যাতে তারা এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে এবং যারা প্রতারিত হয়েছে তাদের প্রতি আমার পক্ষ থেকে উপদেশ, নসিহত ও উপহার স্বরূপ তারা যেন গান ও খেলাধুলার বিভ্রান্তি থেকে বিরত থাকে। আর আমি মুমিনদের উপকারে আসে এমন উপদেশের চেয়ে এবং রাসুলুল্লাহ (আলাইহিস সালাম) যে নসিহতকে 'দ্বীন' বলেছেন তার চেয়ে মূল্যবান কোনো উপহার খুঁজে পাইনি। জেনে রাখুন, আমি আপনাদের নিকট মহান উপহারসমূহ নিয়ে এসেছি, সুতরাং তা গ্রহণ করুন, ফিরিয়ে দেবেন না এবং একে কাছে টেনে নিন, দূরে সরিয়ে দেবেন না।
আর আমি বলছি:
মানুষ তাদের মর্যাদা অনুযায়ী উপহার দেয়
… আর আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী উপহার দিচ্ছি
(২)তারা উপহার দেয় এমন কিছু যা নশ্বর, আর আমি দিচ্ছি যা
… আমার অন্তস্থল থেকে কালান্তরের তরে অবশিষ্ট রবে
আমি আল্লাহর নিকট সাহায্য চেয়ে প্রার্থনা করেছি
… কেননা তিনি আমাকে সাহায্য করতে সক্ষম
আর এই যে আমি যা সমীচীন মনে করছি তা শুরু করছি
… আমার সকল কাজে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে
আর যা আমাকে এই কাজে উদ্বুদ্ধ করেছে—অর্থাৎ পরিচালিত করেছে—তাহলো শরীয়তকে পুনরুজ্জীবিত করা, সত্যের বাণী প্রকাশ করা এবং রাসুলুল্লাহ (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর পরবর্তী ইমামগণের পদাঙ্ক অনুসরণ করা, যাতে কেউ প্রবৃত্তি বা বিদআতের গহ্বরে পতিত না হয়; কারণ এই পথভ্রষ্ট দলটি নৃত্য ও গান শ্রবণ এবং শ্মশ্রুহীন যুবক ও নারীদের সাহচর্যে এতটাই বাড়াবাড়ি করেছে যে, তারা একে ধর্মীয় অনুশাসন মনে করে নিয়েছে এবং বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে, আমোদ-প্রমোদের সময় তাদের ওপর রহমত নাযিল হয় এবং চিত্তবিনোদনের সময় ফেরেশতারা তাদের ঘিরে রাখে। এসবই নবউদ্ভাবিত বিষয়, বিদআত ও গোমরাহি এবং এমন সব গুরুতর গর্হিত কাজ যার কর্তার ওপর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার নিকট তওবা করা ওয়াজিব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ألا وهذه الطائفة من الذين أخبرنا الله عز وجل بحالهم في قوله تعالى [ق 3 / ب]: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ قَالُوا إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ (11) أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ وَلَكِنْ لَا يَشْعُرُونَ} [البقرة: 11، 12]؛ لأنهم محجوبون عن طريق الإنابة والهداية، {وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاسُ قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاءُ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاءُ وَلَكِنْ لَا يَعْلَمُونَ} [البقرة: 13] ألا وهذه الصفات كلها موجودة في هذه الطائفة أصلحها الله عز وجل وقرأت كتاب أن في بعض كتب الله القديمة: (ابن آدم خلقتك فلا تلعب)
(1) ألا وهذا لعب ولهو وإن لم يكن حراما، وقيل في قوله تعالى: {وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَنْثُورًا} [الفرقان: 23] فإن جاءوا بأعمال ظنوها حسنات فإذا هي سيئات ألا وكذا فعلت هذه الطائفة ولقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم وصحابته رضوان الله عليهم يكرهون زيادة أشياء من أنواع أفعال الخير لم يكونوا يستعملونها وينهون الناس عن فعلها فكيف بزيادة اللهو واللعب والبدع والحوادث التي هي شر الأمور، وروي أن الأمام أحمد بن الحسين بن محمد الرازي
(2)--------------------------------------------
সাবধান! এই দলটি তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের অবস্থা সম্পর্কে মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণীতে সংবাদ দিয়েছেন [পৃষ্ঠা ৩ / খ]: {আর যখন তাদেরকে বলা হয়, "তোমরা জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করো না", তারা বলে, "আমরা তো কেবল সংশোধনকারী।" জেনে রেখো, তারাই মূলত ফাসাদ সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা অনুভব করে না} [আল-বাকারা: ১১, ১২]; কারণ তারা তওবা ও হেদায়েতের পথ থেকে অন্তরিত বা বঞ্চিত। {আর যখন তাদেরকে বলা হয়, "লোকেরা যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আনো", তারা বলে, "নির্বোধরা যেভাবে ঈমান এনেছে আমরাও কি সেভাবে ঈমান আনব?" জেনে রেখো, তারাই মূলত নির্বোধ, কিন্তু তারা তা জানে না} [আল-বাকারা: ১৩]। সাবধান! এই সকল বৈশিষ্ট্যই এই দলটির মাঝে বিদ্যমান, আল্লাহ তাদেরকে সংশোধন করুন। আমি একটি কিতাবে পড়েছি যে, আল্লাহর কতিপয় প্রাচীন কিতাবে রয়েছে: (হে আদম সন্তান! আমি তোমাকে ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি, অতএব তুমি খেলাধুলায় মেতে থেকো না)
(১)। মনে রেখো, এটি হলো খেলাধুলা ও অনর্থক কাজ, যদিও তা সরাসরি হারাম না হয়। মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বলা হয়েছে: {আর আমি তাদের কৃতকর্মের দিকে অগ্রসর হব, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করব} [আল-ফুরকান: ২৩]। তারা এমন সব আমল নিয়ে উপস্থিত হবে যেগুলোকে তারা নেক আমল মনে করত, অথচ সেগুলো হবে গুনাহ বা পাপ। সাবধান! এই দলটি ঠিক এমনই করেছে। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এমন সব নেক আমলের নতুন পদ্ধতি বৃদ্ধি করাকেও অপছন্দ করতেন যা তাঁরা নিজেরা চর্চা করেননি এবং তাঁরা মানুষকে তা করতে নিষেধ করতেন। তাহলে অনর্থক কাজ, খেলাধুলা, বিদআত এবং নব-উদ্ভাবিত বিষয়াবলি বৃদ্ধি করার অবস্থা কী হতে পারে, যা নিকৃষ্টতম বিষয়? বর্ণিত আছে যে, ইমাম আহমদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আর-রাজি
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
رحمه الله تعالى قال: كلّما أحدث بعد نزول هذه الآية يعني بعد قوله تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي} [المائدة: 3] فهو فضل وزيادة وبدعة، قال أبو محمد الدشتي
(1) رضي الله عنه وقد قال رسول الله عليه السلام: "كل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار"
(2)--------------------------------------------
রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: এই আয়াতটি নাযিল হওয়ার পর অর্থাৎ মহান আল্লাহর এই বাণী: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম} [আল-মায়িদাহ: ৩] এর পর যা কিছু নতুন উদ্ভাবিত হয়েছে, তা অনর্থক, বাহুল্য এবং বিদআত। আবু মুহাম্মদ আদ-দাশতী
(১) রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাম বলেছেন: "প্রত্যেক বিদআত হলো ভ্রান্তি, আর প্রত্যেক ভ্রান্তি হলো জাহান্নামে।"
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وقال ابن عمر رضي الله عنهما: "كل بدعة ضلالة وإن رآها الناس حسنة "
(1)، وقال الإمام أحمد بن حنبل رضي الله عنه: "أصول السنة عندنا التمسك بما كان عليه أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم والاقتداء بهم [ق 4 /أ] وترك البدع وكل بدعة ضلالة وترك المراء والجدال والخصومات في الدين وترك كلما أحدثه المحدثون والسنة عندنا أثر رسول الله عليه السلام والسنة تفسر القرآن وهي دلائل القرآن وليست السنة قياس ولا تضرب بها الأمثال ولا تدرك بالعقول والأهواء، إنما هي الإتباع وترك الهوى"
(2). وقال الجنيد
(3) رضي الله عنه
(4):
--------------------------------------------
وقال ابن عمر رضي الله عنهما: "كل بدعة ضلالة وإن رآها الناس حسنة "
(১)، وقال الإمام أحمد بن حنبل رضي الله عنه: "أصول السنة عندنا التمسك بما كان عليه أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم والاقتداء بهم [পৃ ৪/ক] وترك البدع وكل بدعة ضلالة وترك المراء والجدال والخصومات في الدين وترك كلما أحدثه المحدثون والسنة عندنا أثر رسول الله عليه السلام والسنة تفسر القرآن وهي دلائل القرآن وليست السنة قياس ولا تضرب بها الأمثال ولا تدرك بالعقول والأهواء، إنما هي الإتباع وترك الهوى"
(২)। وقال الجنيد
(৩) رضي الله عنه
(৪):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الطرق كلها مسدودة على الخلق إلا على من اقتفى أثر رسول الله عليه السلام ولزم طريقته، فإن أبواب الخيرات كلها مفتوحة عليه، وقال أبو علي بن الحسن بن علي الجرجاني رحمة الله عليه: أصح الطرق وأعمرها وأبعدها من الشبهات إتباع السنة قولاً وفعلاً وعزمًا وعقدًا؛ لأن الله عز وجل يقول: {وَإِنْ تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا} [النور: 54]، فقيل له: كيف الطريق لاتباع السنة؟ قال: بمجانبة البدع وإتباع ما اجتمع عليه الصدر الأول من علماء الإسلام والتباعد من مجالسة الكلام وأهله، ولزوم طريقة الاقتداء بذلك إبراهيم عليه السلام بقوله تعالى: {ثُمَّ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ أَنِ اتَّبِعْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا} [النحل: 123] ألا فقد روى ابن مسعود رضي الله عنه قال: "إِنَّكُمْ سَتُحْدِثُونَ وَيُحْدَثُ عَلَيْكُمْ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ مُحْدَثًا فَعَلَيْكُمْ بِالْأَمْرِ الْأَوَّلِ"
(1).
--------------------------------------------
সৃষ্টির জন্য সকল পথ রুদ্ধ, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে এবং তাঁর তরীকাকে আঁকড়ে ধরেছে; তবেই তার জন্য কল্যাণের সকল দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যায়। আবু আলী বিন হাসান বিন আলী আল-জুরজানী রহিমাহুল্লাহ বলেন: সর্বাধিক বিশুদ্ধ, সমৃদ্ধ এবং সংশয়মুক্ত পথ হলো কথা, কাজ, সংকল্প এবং বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সুন্নাহর অনুসরণ করা; কারণ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বলেন: {আর তোমরা যদি তাঁর আনুগত্য করো, তবেই তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে} [আন-নূর: ৫৪]। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: সুন্নাহ অনুসরণের পথ কী? তিনি বললেন: বিদআত বর্জন করা, ইসলামের প্রথম যুগের উলামায়ে কিরাম যে বিষয়ে একমত হয়েছিলেন তার অনুসরণ করা, ইলমে কালাম ও তার ধারকদের মজলিস থেকে দূরে থাকা এবং ইবরাহীম আলাইহিস সালামের অনুসরণের নীতিকে আঁকড়ে ধরা; মহান আল্লাহর এই বাণীর আলোকে: {অতঃপর আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠালাম যে, আপনি একনিষ্ঠ হয়ে ইবরাহীমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ করুন} [আন-নাহল: ১২৩]। জেনে রাখুন, ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই তোমরা নতুন নতুন বিষয়ের উদ্ভব ঘটাবে এবং তোমাদের জন্য নতুন নতুন বিষয়ের উদ্ভব ঘটানো হবে; সুতরাং যখন তোমরা কোনো নবউদ্ভাবিত বিষয় দেখবে, তখন তোমাদের জন্য আদি বিষয়ের (সুন্নাহর) ওপর অবিচল থাকা আবশ্যক"
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وروى الإمام علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال: "لا خير في عبادة ليس فيها تفقه، ولا خير في تفقه ليس فيه تفهم، ولا خير في قراءة ليس فيها تدبر"
(1)--------------------------------------------
ইমাম আলি ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "ঐ ইবাদতে কোনো কল্যাণ নেই যাতে দ্বীনি বোধ (তাফাক্কুহ) নেই, ঐ বোধে কোনো কল্যাণ নেই যাতে সঠিক উপলব্ধি (তাফাহহুম) নেই এবং ঐ তিলাওয়াতে কোনো কল্যাণ নেই যাতে গভীর চিন্তা-গবেষণা (তাদাব্বুর) নেই।"
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ألا من لم يعرف العلم لم ينفعه كثرة العمل؛ لأن العمل بلا علم يضرّ ولا ينفع وإفساد العامل بلا علم أكثر من إصلاحه كما صح وثبت أن رسول الله عليه السلام قال" (عمل قليل في سنَّتي خير من عمل كثير [ق 4 / ب] في بدعة)
(1)،
--------------------------------------------
জেনে রাখা প্রয়োজন, যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করেনি, প্রচুর আমল তাকে কোনো উপকার দেবে না; কারণ জ্ঞানহীন আমল ক্ষতিরই কারণ হয়, কোনো উপকার বয়ে আনে না; আর জ্ঞানহীন আমলকারীর সংস্কার অপেক্ষা বিচ্যুতিই বেশি হয়ে থাকে। যেমনটি প্রমাণিত ও সাব্যস্ত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: "আমার সুন্নাত অনুযায়ী অল্প আমল করা বিদআতের মধ্যে অনেক আমল করার চেয়ে উত্তম" [ফলক ৪ / খ]
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২০)
العمل المشار إليه عمل عبادة، وذكر وطاعة كالقليل منه في صورته وعدده إذا عمل في ظل الاقتداء برسول الله عليه السلام ومتابعة سنته كثير بل خير من عمل كثير في معناه ببركة قدوته صلى الله عليه وسلم، فأما السنة فقد قال الأزهري
(1): هي الطريقة، ومنه قوله عز وجل: {قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِكُمْ سُنَنٌ} [آل عمران: 137] أي أهل سنن وطرائق. قال ابن عرفة
(2): المعنى أن السنة مضت فيهم بالعقوبة حين عاندوا الأنبياء صلوات الله وسلامه عليهم أجمعين. قلت: والسنة في كلام العرب الطريقة والصورة.
قال الشاعر:
نريك سنته وجه لا خفاء به
أي صورة وجه.
--------------------------------------------
উল্লিখিত কাজটি একটি ইবাদত, জিকর এবং আনুগত্যের কাজ। বাহ্যিক রূপ এবং সংখ্যার দিক থেকে তা অল্প হলেও, যদি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ এবং তাঁর সুন্নাহর আনুগত্যের ছায়াতলে সম্পাদিত হয়, তবে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের বরকতে সমজাতীয় অনেক কাজের চেয়েও অধিক, বরং উত্তম। আর সুন্নাহ প্রসঙ্গে আল-আযহারী
(১) বলেন: এটি হলো পদ্ধতি বা পথ। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্বে বহু নিয়ম-পদ্ধতি গত হয়েছে} [আল-ইমরান: ১৩৭], অর্থাৎ নিয়ম ও পথের অনুসারী জাতিসমূহ গত হয়েছে। ইবনে আরাফাহ
(২) বলেন: এর অর্থ হলো, যখন তারা আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামগণের বিরুদ্ধাচরণ করেছিল, তখন তাদের ওপর শাস্তির বিধান কার্যকর হয়েছিল। আমি বলি: আরবদের পরিভাষায় সুন্নাহ অর্থ হলো পথ এবং অবয়ব।
কবি বলেন:
আমি তোমাকে তাঁর চেহারার অবয়ব দেখাব যাতে কোনো অস্পষ্টতা নেই
অর্থাৎ চেহারার অবয়ব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقال العلماء: السنة ما رسم ليقتدى به، فأما المعنى فهو العمل القليل في ذاته بالإضافة إلى ما هو أكثر منه إذا عمل في سنة الدين والإسلام على طريقة متابعة المصطفى عليه السلام وصورة ما رسمه خير الأنام فهو خير من عمل كثير صورته وعدد في بدعة بمخالفة سنته، فهو نعم الأنام وسنته عليه السلام نوعان أحدهما في الباطن وهو الإخلاص لله عز وجل كما قال النبي عليه السلام: (يا معاذ إذا خلص يكفيك قليل من العمل)
(1) الثاني في الظاهر وهو جريان العمل في العلم بمتابعة سنته عليه السلام ومتابعة الأمر كما قال عليه السلام: (قليل العمل مع العلم كثير وكثير العمل مع الجهل قليل)
(2).
--------------------------------------------
আলেমগণ বলেন: সুন্নাহ হলো এমন কিছু যা অনুসরণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মর্মার্থ হলো, দ্বীন ও ইসলামের সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব তথা মুস্তাফা (সা.)-এর অনুসরণের পদ্ধতিতে সেই কার্যাবলীর রূপ যা তিনি এঁকে দিয়েছেন—এমন অল্প আমলও সত্তাগতভাবে তার চেয়ে বেশি আমলের তুলনায় উত্তম, যদি সেই অধিক আমলটি তাঁর সুন্নাহর বিপরীতে বিদআতের আদলে ও সংখ্যায় সম্পাদিত হয়। তিনি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব। তাঁর (সা.) সুন্নাহ দুই প্রকার। প্রথমটি অভ্যন্তরীণ, আর তা হলো মহান আল্লাহর জন্য ইখলাস (নিষ্ঠা), যেমনটি নবী (সা.) বলেছেন: (হে মুয়াজ! তোমার আমল খাঁটি করো, তবেই অল্প আমল তোমার জন্য যথেষ্ট হবে)(১)। দ্বিতীয়টি বাহ্যিক, যা হলো তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ এবং তাঁর আদেশের অনুবর্তিতার মাধ্যমে ইলম (জ্ঞান)-এর প্রয়োগে আমল পরিচালনা করা। যেমনটি তিনি (সা.) বলেছেন: (ইলমসহ অল্প আমলও অনেক বেশি, আর অজ্ঞতার সাথে অধিক আমলও অতি সামান্য)(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২২)
وروي أن رجلاً قام بعد صلاة العصر يتنفل في مسجد المدينة، فقال له سعيد بن المسيب رحمة الله عليه: لا تصل. فقال الرجل: أيعاقبني الله على الصلاة؟ فقال له سعيد: بل يعاقبك أو يعاتبك على مخالفة السنة في الصلاة
(1)، فصار قليل العمل بمتابعة السنة خيرًا من كثيره بقبول [ق 5 /أ] الله عز وجل له، وتضعيف أجره وهو خير من الكثير في بدعة رادّة إياه وذهاب أجره كما قال النبي عليه السلام: "كل ما ليس عليه أمرنا فهو ردّ"
(2). أي على عامله لمكان بدعته، وكما قال عليه السلام في صفة الخوارج: (سيكون
(3) أقوام يحقر أحدكم صلاته مع صلاتهم، وصيامه مع صيامهم، وقراءته مع قراءتهم، يمرقون من الدين مروق السهم من الرمية)
(4) وفيه: (يقرؤن القرآن لا تبلغ قراءتهم آذانهم) - أي لا ترفع في خزائن القبول، بل تردّ عليهم لمكان بدعتهم في شريعة الرسول صلى الله عليه وسلم.
وفائدة الحديث الحثّ على متابعة السنة في صالح الأعمال؛ ليعلو قدرها، ويكثر خيرها، وتجنّب البدعة والاختراع في سائر الأحوال لثنّها
(5) وسوء عاقبتها والله أعلم. وكما قال ضرار بن عمرو
(6) رضي الله عنه: (إن قومًا تركوا العلم ومجالسة أهل العلم واتخذوا محاريب فصلّوا وصاموا حتى يبس جلدهم على عظمه، ثم خالفوا السنة
--------------------------------------------
এবং বর্ণিত আছে যে, জনৈক ব্যক্তি আসরের নামাজের পর মদিনার মসজিদে নফল নামাজ আদায় করার জন্য দাঁড়ালেন। তখন সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাকে বললেন: নামাজ পড়ো না। লোকটি বলল: আল্লাহ কি আমাকে নামাজ পড়ার কারণে শাস্তি দেবেন? সাঈদ তাকে বললেন: বরং তিনি তোমাকে নামাজের ক্ষেত্রে সুন্নাহর বিরোধিতা করার কারণে শাস্তি দেবেন বা তিরস্কার করবেন
(১)। ফলে সুন্নাহর অনুসরণের মাধ্যমে অল্প আমল করা, মহান আল্লাহর নিকট তা কবুল হওয়া [পত্র ৫ /ক] এবং সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সেই অধিক আমলের চেয়ে উত্তম যা এমন বিদআতের অন্তর্ভুক্ত যা আমলটিকেই প্রত্যাখ্যান করে দেয় এবং সওয়াব নষ্ট করে দেয়। যেমন নবী (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "যে আমল আমাদের নির্দেশ মোতাবেক নয়, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য"
(২)। অর্থাৎ বিদআতের কারণে এটি তার কর্তার ওপর ফিরিয়ে দেওয়া হবে। যেমন তিনি (আলাইহিস সালাম) খারেজিদের বর্ণনায় বলেছেন: (অদূর ভবিষ্যতে
(৩) এমন কওম বা সম্প্রদায়ের আবির্ভাব হবে যাদের নামাজের তুলনায় তোমরা তোমাদের নামাজকে তুচ্ছ জ্ঞান করবে, তাদের রোজার তুলনায় তোমাদের রোজাকে এবং তাদের কিরাআতের তুলনায় তোমাদের কিরাআতকে তুচ্ছ জ্ঞান করবে। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনভাবে তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়)
(৪)। এতে আরও রয়েছে: (তারা কুরআন পড়বে কিন্তু তাদের সেই পড়া তাদের কান পর্যন্ত পৌঁছাবে না) - অর্থাৎ তা কবুলিয়াতের ভাণ্ডারে উন্নীত হবে না, বরং রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শরিয়তে তাদের বিদআতের কারণে তা তাদের ওপর ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
এই হাদিসের শিক্ষা হলো সৎকাজে সুন্নাহর অনুসরণে উৎসাহিত করা; যাতে আমলের মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং এর কল্যাণ বৃদ্ধি পায়। এবং সর্বাবস্থায় বিদআত ও নতুন কিছু উদ্ভাবন থেকে দূরে থাকা কারণ এর মন্দ পরিণতি রয়েছে, আল্লাহই ভালো জানেন। আর যেমনটি দিরার ইবনে আমর
(৬) (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: (নিশ্চয়ই একদল লোক জ্ঞান অর্জন এবং আলেমদের সান্নিধ্য ত্যাগ করল এবং মেহরাবসমূহ আঁকড়ে ধরল (অর্থাৎ ইবাদতে মগ্ন হলো), এরপর তারা নামাজ পড়ল এবং রোজা রাখল এমনকি তাদের চামড়া হাড়ের সাথে লেগে শুকিয়ে গেল, অতঃপর তারা সুন্নাহর বিরোধিতা করল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فهلكوا ألا والذي لا إله غيره ما عمل عامل قطّ على جهل إلا كان ما يفسده أكثر مما يصلح)
(1)، فقد روي عن رسول الله عليه السلام أنه قال: "من أم قوما بغير علم كان ما يفسده أكثر مما يصلح"
(2). ولقد أحسن القائل:
عبادة عابدٍ في غير علم
… كبنيان القصور على التراب
العمل بلا علم يكون له دليل
… كقرطاس تراه بلا كتاب
ومن يكثر دعاه بغير زهد
… كرمي النبل في جوف الطناب
(3)ومن طلب العلوم بغير فهم
… كمن رام التعلّق بالسحاب
ومن طلب التعبد منه جهلاً
… فلا طمع له في الاقترابُ
قال بعض الحكماء: وكيف يكون متقياً من لا يدري ما يُتقى. وروي أنّ سليمان بن عبد الله [ق 5 / ب] الملك رحمه الله مشى إلى طاووس اليماني رضي الله عنه يسأله أن يدعو له دعوة، فلما دخل على طاووس لم يقم له ولا عني به ولا هاله أمره، فلما انصرف قيل لطاووس رضي الله عنه: مشى إليك أمير المؤمنين فلم تقم ولا تلو عليه،
قال: أردت أن يعلم أنّ لله عز وجل رجالاً يزهدون فيما أوتي من حطام الدنيا، وليس مطلوبهم إلا لله عز وجل، فلا يرجون سواه، ولا يخافون إلا إيّاه
(4).
ألا فهذه سيرة المشايخ والفقراء من العلماء والعباد وبضدّ ذلك سيرة المنافقين والمرائين المعاندين الآكلين الدنيا بالدين، وقيل: من استغنى بالله أحوج الله الناس إليه. وقرأت في كتاب
--------------------------------------------
ফলে তারা ধ্বংস হয়ে গেল। সাবধান! সেই সত্তার কসম যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, কোনো আমলকারী যখনই অজ্ঞতা নিয়ে আমল করে, সে সংশোধনের চেয়ে বিপর্যয়ই বেশি সৃষ্টি করে
(১)। রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি জ্ঞান ছাড়াই কোনো সম্প্রদায়ের ইমামতি করে, সে সংশোধনের চেয়ে নষ্টই বেশি করে"
(২)। জনৈক কবি কতই না চমৎকার বলেছেন:
জ্ঞানহীন ইবাদতকারীর ইবাদত
… মাটির ওপর প্রাসাদ নির্মাণের মতো
জ্ঞানহীন আমলের কোনো দিশা থাকে না
… যেন এক কিতাবহীন শূন্য পাতা
আর যে ব্যক্তি বৈরাগ্যহীন অধিক দোয়া করে
… সে ধনুকের রশির ওপর তীর ছোড়ার মতো
(৩)আর যে সঠিক বুঝ ছাড়াই জ্ঞান অন্বেষণ করে
… সে মেঘমালাকে আঁকড়ে ধরার বৃথা চেষ্টা করার মতো
যে ব্যক্তি অজ্ঞতা বশত ইবাদত করতে চায়
… আল্লাহর নৈকট্য লাভে তার কোনো আশা নেই
জনৈক বিজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন: সেই ব্যক্তি কীভাবে মুত্তাকী হবে, যে জানেই না যে কী থেকে বেঁচে থাকতে হবে। বর্ণিত আছে যে, বাদশাহ সুলাইমান বিন আবদুল্লাহ [পৃষ্ঠা ৫ / খ] (রহিমাহুল্লাহ) তাউস আল-ইয়ামানি (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে গিয়ে তাঁর কাছে দোয়ার আরজি জানালেন। যখন তিনি তাউসের কাছে প্রবেশ করলেন, তাউস তাঁর সম্মানে দাঁড়ালেন না, তাঁর প্রতি ভ্রূক্ষেপ করলেন না এবং তাঁর প্রতাপে প্রভাবিতও হলেন না। যখন তিনি চলে গেলেন, তখন তাউস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলা হলো: আমিরুল মুমিনীন আপনার কাছে এলেন অথচ আপনি দাঁড়ালেন না এবং তাঁর প্রতি লক্ষ্যও করলেন না!
তিনি বললেন: আমি চেয়েছি তাকে এটা জানাতে যে, মহান আল্লাহর এমন কিছু বান্দা রয়েছেন যারা দুনিয়ার নশ্বর সম্পদের প্রতি অনাসক্ত। তাদের একমাত্র লক্ষ্য কেবল মহান আল্লাহ। তারা তিনি ব্যতীত অন্য কারো কাছে আশা করে না এবং তিনি ছাড়া কাউকে ভয় পায় না
(৪)।
জেনে রেখো, এটিই হলো উলামা ও ইবাদতগুজারদের মধ্য থেকে সত্যিকারের মাশায়েখ ও ফকীরদের জীবনধারা। আর এর বিপরীতে হলো মুনাফিক, রিয়াকারী ও সত্যবিমুখদের পথ, যারা দ্বীনের বিনিময়ে দুনিয়া ভোগ করে। প্রবাদ আছে: যে ব্যক্তি আল্লাহর মাধ্যমে অমুখাপেক্ষী হয়েছে, আল্লাহ মানুষকে তার মুখাপেক্ষী করে দিয়েছেন। আমি একটি কিতাবে পড়েছি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أن رجلاً جاء إلى عمر بن الخطاب رضي الله عنه فقال: يا أمير المؤمنين إني أحبك وأريد أصحبك. فقال: "بشرط إن رأيتني قد ملت قوّمني فبقي عنده ثلاثة أيام، ولم يقل له شيئًا، فقال له عمر بن الخطاب رضي الله عنه: يا أخي لك عند ثلاثة أيام لم تأمرني بأمر وعمر يعلم أنه لا يمضي عليه يوم إلا أخطأ فيه، فاذهب عنّي لا تغويني
(1) " فرضي الله عن أمير المؤمنين عمر فإنه قد بين في هذا معنى الأخوة والصحبة ألا فبهدى رسول الله عليه السلام وصحابته رضوان الله عليهم أجمعين فاهتدوا وبهم فاقتدوا بسنتهم فاكتفوا ولآثارهم فاقتفوا إن أردتم أن تربحوا ولا تخسروا وتجبروا ولا تكسروا. وأقول شعرا:
من كان يرغب في النجاة فماله
… غير اتباع الهاشمي محمدًا
ذاك السبيل المستقيم وغيره
… سبل الضلالة والغواية والردى
فاتبع كتاب الله والسنن التي
… صحّت، فذلك الهدي طول المدى
ودع [ق 6 /أ] الجدال بكم وكيف فأنه
… باب يردّ ذوي البصيرة أرمدا
فالدين ما قال النبي وصحبه
… فإذا اقتديت بهم فنعم المقتدى
لا تتّبع في الدين كلّ مذبذب
… حيران لا يدري الصحاب من العدا
قد خالف المختار في مسنونه
… وصحابه فعدى الهدى، ثم اعتدا
--------------------------------------------
এক ব্যক্তি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট এসে বললেন: "হে আমীরুল মুমিনীন! আমি আপনাকে ভালোবাসি এবং আপনার সান্নিধ্যে থাকতে চাই।" তিনি বললেন: "এই শর্তে যে, যদি আপনি আমাকে সত্যপথ থেকে বিচ্যুত হতে দেখেন তবে আমাকে সংশোধন করে দেবেন।" এরপর সেই ব্যক্তি তাঁর নিকট তিন দিন অবস্থান করলেন এবং তাঁকে কিছুই বললেন না। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে বললেন: "হে আমার ভাই! তিন দিন যাবৎ আপনি আমার সাথে আছেন অথচ আমাকে (সংশোধনের) কোনো নির্দেশ দিলেন না? অথচ উমর জানেন যে, এমন কোনো দিন অতিবাহিত হয় না যাতে তিনি কোনো ভুল করেন না। সুতরাং আপনি আমার নিকট থেকে চলে যান, আমাকে বিভ্রান্ত করবেন না
(১)।" আমীরুল মুমিনীন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন, কেননা তিনি এর মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের প্রকৃত অর্থ পরিস্ফুট করেছেন। সাবধান! তোমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) প্রদর্শিত পথেই হিদায়াত অন্বেষণ করো, তাঁদেরই অনুসরণ করো, তাঁদের সুন্নাহতেই তুষ্ট থাকো এবং তাঁদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করো—যদি তোমরা লাভবান হতে চাও ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে না চাও, এবং নিজেদের সংশোধন করতে চাও ও ভেঙে পড়তে না চাও। আর আমি কবিতার ছন্দে বলছি:
যে ব্যক্তি মুক্তি কামনা করে, তার জন্য কোনো উপায় নেই
… হাশেমী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণ ব্যতীত
উহাই সরল পথ এবং উহা ব্যতীত অন্য সব পথ
… ভ্রষ্টতা, বিভ্রান্তি ও ধ্বংসের পথ
অতএব আল্লাহর কিতাব ও সেই সকল সুন্নাহ অনুসরণ করো যা
… বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত, সেটিই হলো চিরন্তন হিদায়াত
আর বর্জন করো [পত্র ৬/ক] 'কতটুকু' ও 'কীভাবে' সংক্রান্ত বিতর্ক, কেননা এটি
… এমন এক দ্বার যা প্রজ্ঞাবানদের দৃষ্টিকে অন্ধ করে দেয়
নবী ও তাঁর সাহাবীগণ যা বলেছেন তা-ই হলো দ্বীন
… সুতরাং যদি তুমি তাঁদের আদর্শ গ্রহণ করো তবে সেটিই হবে সর্বোত্তম আদর্শ
দ্বীনের বিষয়ে এমন প্রত্যেক দোদুল্যমান ব্যক্তিকে অনুসরণ করো না
… যে কিংকর্তব্যবিমূঢ় এবং বন্ধু ও শত্রুর মাঝে পার্থক্য করতে জানে না
সে তো সুন্নাহর বিষয়ে মনোনীত নবী ও তাঁর সাহাবীগণের
… বিরুদ্ধাচরণ করেছে; ফলে সে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং সীমালঙ্ঘন করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ذكر أخلاق نبينا عليه السلام:كان نبيّنا عليه السلام أشع الناس وأنجد الناس وأجود الناس، قال الإمام علي بن أبي طالب رضي الله عنه: "كنا إذا احمرّ البأس ولقي الْقَوْمُ الْقَوْمَ اتّقينا برسول الله عليه السلام"
(1)، وكان صلى الله عليه وسلم أسخى الناس ما سُئل شيئاً قطّ فقال: لا، وكان عليه السلام أحلم الناس، وكان أشد حياء من العذارى في خدورهن لا يثبت بصره في وجه أحدٍ
(2)، وكان عليه السلام لا ينتقم لنفسه ولا يغضب لها إلا أن تنتهك محارم الله عز وجل، فيكون له منتقم، وكان عليه السلام إذا غضب في الله لم يقم لغضبه أحدًا، القريب والبعيد والقويّ والضعيف والدنيّ والشريف عنده في الحقّ سواء وما عاب طعامًا قطّ إن اشتهاه أكله وإلاّ تركه، وكان عليه السلام لا يأكل متكئًا ولا على خوان
(3) ولا يمتنع من مباح
(4)--------------------------------------------
আমাদের নবীর (আলাইহিস সালাম) চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা:আমাদের নবী (আলাইহিস সালাম) ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বাপেক্ষা সাহসী, সর্বাধিক নির্ভীক এবং সবচেয়ে বেশি দানশীল। ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "যখন যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পেত এবং একদল অন্যদলের মুখোমুখি হতো, তখন আমরা রাসূলুল্লাহ (আলাইহিস সালাম)-এর মাধ্যমে আত্মরক্ষা করতাম।"
(১) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক উদার; তাঁর কাছে কখনো কিছু চাওয়া হলে তিনি কখনো 'না' বলেননি। তিনি (আলাইহিস সালাম) ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সহনশীল এবং অন্দরের পর্দানশীন কুমারী নারীর চেয়েও অধিক লাজুক; তিনি কারো চেহারার দিকে একনজরে তাকিয়ে থাকতেন না।
(২) তিনি (আলাইহিস সালাম) নিজের জন্য কারো থেকে প্রতিশোধ নিতেন না এবং ব্যক্তিগত কারণে রাগান্বিত হতেন না; তবে আল্লাহর অলঙ্ঘনীয় বিধানসমূহ লঙ্ঘিত হলে তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন। তিনি (আলাইহিস সালাম) যখন আল্লাহর দ্বীনের খাতিরে রাগান্বিত হতেন, তখন কেউই তাঁর ক্রোধের সামনে দাঁড়াতে পারত না। সত্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিকটাত্মীয় ও অনাত্মীয়, শক্তিশালী ও দুর্বল এবং সাধারণ ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি তাঁর কাছে সমান ছিল। তিনি কখনো কোনো খাবারের দোষ ধরতেন না; যদি তাঁর রুচি হতো তবে খেতেন, নতুবা রেখে দিতেন। তিনি (আলাইহিস সালাম) হেলান দিয়ে কিংবা উঁচু দস্তরখানের (খাওয়ান) ওপর রেখে খাবার খেতেন না
(৩) এবং বৈধ কোনো কিছু থেকে নিজেকে বিরত রাখতেন না।
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
إن وجد تمرًا أكله وإن وجد خبزًا أكله، وإن وجد شواء أكله، وإن وجد خبز بر أكله، وإن وجد خبز شعير أكله، وإن وجد لبنًا اكتفى به
(1)، أكل البطيخ بالرطب، وكان عليه السلام يحبّ الحلوى والعسل، وقال أبو هريرة رضي الله عنه خرج رسول الله عليه السلام من الدنيا ولم يشبع من خبز الشعير
(2)، وكان يأتي على آل محمد صلى الله عليه وسلم الشهر والشهران لا يوقد في بيت من بيوته نار، وكان له تسعة أبيات، وكان قوتهم التمر والماء، وكان عليه السلام يقبل الهديّة ويكافئ عليها ولا يأكل الصدقة [ق 6 / ب] ولا يتأنّق في مأكل ولا ملبس يأكل ما وجد، ويلبس ما وجد، ويخصف النعل ويرقع الثوب، ويخدم في مهنة أهله، ويعود المرضى، وكان صلى الله عليه وسلم أشدّ الناس تواضعًا يجيب من دعاه من غنيّ أو فقير أو دنيّ أو شريف، يحبّ المساكين ويشهد جنائزهم، ويعود مرضاهم لا يحقّر فقيرًا لفقره، ولا بهاء
(3) مَلِكًا لِمُلْكِهِ، ولا يتواضع لغنيّ لأجل غناه وكان عليه السلام يركب البعير، والفرس، والحمار، والبغل، ويردف خلفه عبده أو غيره ولا يدع أحدًا يمشي خلفه.
--------------------------------------------
যদি তিনি খেজুর পেতেন তবে তা আহার করতেন, আর যদি রুটি পেতেন তবে তা আহার করতেন। যদি ভুনা গোশত পেতেন তবে তা আহার করতেন, আর যদি গমের রুটি পেতেন তবে তা আহার করতেন। যদি যবের রুটি পেতেন তবে তা আহার করতেন, আর যদি কেবল দুধ পেতেন তবে তাতেই সন্তুষ্ট থাকতেন
(১)। তিনি তাজা খেজুরের সাথে তরমুজ আহার করতেন। রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাম মিষ্টি ও মধু পছন্দ করতেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাম এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন অথচ তিনি কখনো পেট ভরে যবের রুটি আহার করেননি
(২)। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারের ওপর দিয়ে এক মাস, দুই মাস অতিবাহিত হয়ে যেত অথচ তাঁদের কোনো ঘরে আগুন জ্বলত না। তাঁদের ঘর ছিল নয়টি এবং তাঁদের প্রধান খাদ্য ছিল খেজুর ও পানি। তিনি আলাইহিস সালাম উপহার গ্রহণ করতেন এবং তার প্রতিদান দিতেন, কিন্তু সদকা আহার করতেন না। [পৃষ্ঠা ৬ / খ] তিনি পানাহারে বা পোশাকে জাঁকজমক করতেন না; যা পেতেন তা-ই আহার করতেন এবং যা পেতেন তা-ই পরিধান করতেন। তিনি নিজের জুতো সেলাই করতেন এবং কাপড়ে তালি দিতেন। নিজ পরিবারের কাজে সহযোগিতা করতেন এবং রোগীদের দেখতে যেতেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক বিনয়ী; ধনী-দরিদ্র বা সাধারণ-অভিজাত নির্বিশেষে যে কেউ দাওয়াত দিলে তিনি তা কবুল করতেন। তিনি মিসকিনদের ভালোবাসতেন, তাদের জানাজায় শরিক হতেন এবং তাদের রোগীদের দেখতে যেতেন। তিনি কোনো দরিদ্রকে তার দারিদ্র্যের কারণে তুচ্ছজ্ঞান করতেন না এবং কোনো রাজাকে তার রাজত্বের কারণে ভয় পেতেন না
(৩)। তিনি কোনো ধনাঢ্য ব্যক্তির সামনে তার ধনের কারণে বিনয় প্রকাশ করতেন না। তিনি আলাইহিস সালাম উট, ঘোড়া, গাধা ও খচ্চরের পিঠে আরোহণ করতেন এবং নিজের পেছনে তাঁর ভৃত্য বা অন্য কাউকে বসিয়ে নিতেন। তিনি তাঁর পেছনে কাউকে হেঁটে চলতে দিতেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ويقول: خلوا ظهري للملائكة، ويلبس الصوف وينتعل المخصوف، وكان أحب اللباس إليه الحبرة وهي من برود اليمن فيها حمرة وبياض، وخاتمه من فضة وفصه منه، يلبسه في خنصره الأيمن وربما لبسه في الأيسر يعصب على بطنه الحجر من الجوع، وقد آتاه الله مفاتيح خزائن الأرض كلها، فأبى أن يأخذها واختار الآخرة عليها، وكان عليه السلام يكثر الذكر، ويقل اللغو، ويطيل الصلاة، ويقصر الخطبة، أكثر الناس تبسمًا، وأحسنهم بشرًا، ومع ذلك أنه متواصل الأحزان
(1)،
--------------------------------------------
এবং তিনি বলতেন: "আমার পশ্চাৎভাগ ফেরেশতাদের জন্য খালি রাখো।" তিনি পশমি বস্ত্র পরিধান করতেন এবং তালি লাগানো জুতো পরতেন। তাঁর নিকট সবচেয়ে প্রিয় পোশাক ছিল 'হিবারাহ' (ইয়েমেনি চাদর), যা ছিল লাল ও সাদা বর্ণের রেখা সংবলিত ইয়েমেনি চাদর। তাঁর আংটি ছিল রূপার এবং এর উপরিভাগও (পাথর) ছিল রূপার তৈরি; তিনি এটি তাঁর ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে পরিধান করতেন এবং কখনো কখনো বাম হাতেও পরতেন। ক্ষুধার তাড়নায় তিনি পেটে পাথর বাঁধতেন, অথচ আল্লাহ তাআলা তাঁকে পৃথিবীর সকল ধনভাণ্ডারের চাবিকাঠি প্রদান করেছিলেন; কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন এবং দুনিয়ার পরিবর্তে পরকালকে বেছে নেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অধিক জিকির করতেন, অনর্থক কথা কম বলতেন, নামাজ দীর্ঘায়িত করতেন এবং খুতবা সংক্ষিপ্ত করতেন। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাস্যোজ্জ্বল ও প্রসন্ন হৃদয়ের অধিকারী; তা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন নিরন্তর চিন্তামগ্ন
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
دائم الفكر، رقيق القلب، سريع الدمعة
(1)، وكان عليه السلام يحبّ الطيب ويكره الروائح الكريهة يتألف أهل الشرف، ويكرم أهل الفضل، ولا يطوي بِشْرَه عن أحدٍ ولا يجفوا عليه، يرى اللعب المباح ولا ينكره، ويمزح ولا يقول لاحقًا، ويقبل معذرة المعتذر إليه له عبيد وإماء لا يرتفع عليهم في مأكل ولا ملبس لا يمضي له وقت إلا في عمل لله عز وجل، وفيما لا بدّ له ولأهله منه ورعى عليه السلام الغنم، وقال: ما من نبي إلا وقد رعاها، وسئلت أم المؤمنين [ق 7 /أ] عائشة رضي الله عنها عن خلق رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت: "كان خلقه القرآن يغضب لغضبه، ويرضى لرضاه"
(2).
--------------------------------------------
সর্বদা চিন্তাশীল, কোমল হৃদয়ের অধিকারী এবং দ্রুত অশ্রুপাতকারী
(১) ছিলেন। তিনি (সা.) সুগন্ধি পছন্দ করতেন এবং দুর্গন্ধ অপছন্দ করতেন। তিনি উচ্চবংশীয় ও অভিজাতদের সাথে হৃদ্যতা বজায় রাখতেন এবং গুণী ব্যক্তিদের সম্মান করতেন। তিনি কারও কাছ থেকে নিজের হাস্যোজ্জ্বল চেহারা ফিরিয়ে নিতেন না এবং কারও প্রতি রুক্ষ আচরণ করতেন না। তিনি বৈধ খেলাধুলা বা আমোদ-প্রমোদ প্রত্যক্ষ করতেন এবং তা নিষেধ করতেন না। তিনি কৌতুক করতেন কিন্তু সত্য বৈ কিছু বলতেন না। কেউ ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি তার ওজর বা ওজুহাত কবুল করতেন। তাঁর দাস ও দাসী ছিল, কিন্তু আহার ও পোশাকের ক্ষেত্রে তিনি তাদের ওপর নিজেকে বড় মনে করতেন না। মহান আল্লাহর ইবাদত এবং নিজের ও পরিবারের জন্য যা একান্ত অপরিহার্য, তা ব্যতীত তাঁর কোনো সময় অতিবাহিত হতো না। তিনি (সা.) বকরী চরাতেন এবং বলতেন: "এমন কোনো নবী নেই যিনি বকরী চরাননি।" উম্মুল মুমিনীন [পৃষ্ঠা ৭/ক] আয়েশা (রা.)-কে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "পবিত্র কুরআনই ছিল তাঁর চরিত্র; কুরআন যা দেখে ক্রুদ্ধ হতো তিনিও তাতে ক্রুদ্ধ হতেন এবং কুরআন যা দেখে সন্তুষ্ট হতো তিনিও তাতে সন্তুষ্ট হতেন"
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وصح وثبت عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: "ما مسست حريرًا ولا ديباجًا ألين من كفّ رسول الله عليه السلام، ولقد خدمت رسول الله عشر سنين فما قال لي عن شيءٍ فعلته لم فعلت كذا وكذا"
(1). وكذا قد جمع الله عز وجل له كما قال الأخلاق ومحاسن الأفعال، وآتاه علم الأولين والآخرين وما فيه النجاة والفوز وهو أمّي لا يقرأ ولا يكتب ولا معلّم له من البشر نشأ في بلاد الجهل والصحاري آتاه الله ما لم يؤت أحدًا من العالمين، واختاره على الأولين والآخرين، فصلوات الله عليه وعلى جميع إخوانه من النبيّين والمرسلين وعلى آله وأصحابه الطيّبين الطاهرين صلاة دائمة إلى يوم الدين، ألا إن رسول الله صلى الله عليه وسلم هو الميزان الأكبر، عليه تعرض الأشياء على خُلقه وسيرته وهديه، فما وافق فهو الحق وما خالف فهو الباطل، ألا فمتى وجدتم من علمائكم وعبادكم وغيرهم من المشايخ والفقراء من تشبه بأخلاق نبيكم صلى الله عليه وسلم وصحابته رضوان الله عليهم وسيرتهم فيما يقولون ويفعلون لله عز وجل في مواعظهم وفي محاسنهم، فاعلموا أنه متبع صادق وإلا فمبتدع منافق مخالف البُعد عنهم والحذار الحذار منهم، وأقول شعراً:
اسلك طريق الصالحين [ومَنْ هُمُ]
… مِنْ سادة العلماء والأخيار
واجهد لهم في الاتباع مجانبًا
… مهما حييت مسالك الأغيار
وكن الحريص [ق 7 / ب] على سلوك طريقهم
… وعلى مسير القوم بالسيار
كن ذاكرًا أعمالهم ومذكرًا
… ومبكرًا فيهن بالإبكار
وإذا رأيت مخالفًا لطريقهم
… فانكر عليه بمعظم الإنكار
وكن المحذر من قبيح فعاله
… للمؤمنين النفع بالتذكار
واهجر لكل مذبذبٍ في بدعة
… بمحبة الإبداع في الإسكار
--------------------------------------------
আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে সহীহ ও সাব্যস্ত সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাতের তালুর চেয়ে অধিক কোমল কোনো রেশম বা দিবায স্পর্শ করিনি। আর আমি দশ বছর আল্লাহর রাসূলের খিদমত করেছি, কিন্তু তিনি কখনো আমার কোনো কাজের বিষয়ে বলেননি যে, তুমি কেন এমন করলে?"
(১)। তেমনিভাবে মহান আল্লাহ তাঁর জন্য—যেমনটি বলা হয়েছে—উত্তম চরিত্র ও সুন্দর কার্যাবলিকে একত্রিত করে দিয়েছেন। তিনি তাঁকে পূর্বাপর সকলের জ্ঞান দান করেছেন এবং এমন জ্ঞান দিয়েছেন যাতে মুক্তি ও সফলতা নিহিত। অথচ তিনি ছিলেন উম্মী (নিরক্ষর), যিনি পাঠ করতেন না, লিখতেন না এবং মানুষের মধ্যে তাঁর কোনো শিক্ষক ছিল না; তিনি বড় হয়েছেন অজ্ঞতা ও মরুভূমির জনপদে। আল্লাহ তাঁকে এমন কিছু দান করেছেন যা বিশ্বজগতের আর কাউকেও দান করেননি এবং তাঁকে পূর্বাপর সবার উপর মনোনীত করেছেন। অতএব, আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক তাঁর উপর এবং তাঁর সকল ভাই নবী ও রাসূলগণের উপর, আর তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর—কিয়ামত পর্যন্ত সর্বদা এই সালাত অব্যাহত থাকুক। জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ মানদণ্ড। তাঁর চরিত্র, সীরাত ও হেদায়েতের আলোকেই সকল বিষয়কে যাচাই করা হবে। যা এর সাথে মিলবে তা-ই সত্য, আর যা এর পরিপন্থী তা-ই বাতিল। সাবধান! তোমাদের আলিম, ইবাদতকারী, মাশায়েখ এবং ফকীরদের মধ্যে যখনই এমন কাউকে দেখবে যিনি তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) চরিত্র ও সীরাতের অনুকরণ করেন—তাঁদের কথা ও কাজে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে, তাঁদের নসিহত ও উত্তম আচরণে—তবে জেনে রেখো যে তিনি একজন সত্যনিষ্ঠ অনুসারী। অন্যথায়, তিনি একজন বিভ্রান্ত বিদআতি ও বিরুদ্ধাচরণকারী; তাদের থেকে দূরে থাকো এবং তাদের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকো। আর আমি কাব্যিক ভাষায় বলছি:
সৎকর্মপরায়ণদের পথ ধরো [আর তাঁরা হলেন]
… আলিমদের নেতৃবৃন্দ ও শ্রেষ্ঠজনদের মধ্য হতে
যতদিন বেঁচে থাকো অন্যদের পথ এড়িয়ে
… তাঁদের অনুসরণে কঠোর পরিশ্রম করো
তাঁদের পথে চলতে বিশেষ যত্নবান হও [পত্র ৭ / খ]
… এবং কাফেলার সাথে পথচলায় অবিচল থাকো
তাঁদের কর্মসমূহ স্মরণ করো এবং অন্যকেও স্মরণ করাও
… এবং তাতে অগ্রণী হয়ে তৎপর হও
যদি তাঁদের পথের কোনো বিরোধীকে দেখতে পাও
… তবে তাকে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করো
মুমিনদের উপকারের তরে নসিহতের মাধ্যমে
… তার মন্দ কাজগুলো সম্পর্কে সতর্ককারী হও
আর বিদআতের নেশায় মত্ত
… প্রতিটি দোদুল্যমান ব্যক্তিকে ত্যাগ করো
--------------------------------------------