0/0
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: -)
جامع الورع وقامع البدع   (أبو بكر الدشتي)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: جامع الورع وقامع البدع

المؤلف: أبو بكر أحمد بن محمد بن أبي القاسم محمد بن محمود الدشتي الحنبلي (ت 713 هـ)

المحقق: أبو المنذر المنياوي

عدد الصفحات: 268

[الكتاب غير مطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 ربيع الأول 1442

জামিউল ওয়ারা ওয়া কামিউল বিদা   (আবু বকর আদ-দাশতী)

বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডন


গ্রন্থ: জামিউল ওয়ারা ওয়া কামিউল বিদা

গ্রন্থকার: আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবিল কাসিম মুহাম্মাদ বিন মাহমুদ আদ-দাশতী আল-হাম্বলী (মৃত্যু ৭১৩ হি.)

সম্পাদক: আবু আল-মুনজির আল-মিনয়াওয়ী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬৮

[বইটি অপ্রকাশিত]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ১)
كتاب جامع الورع وقامع البدع

تصنيف الإمام الحافظ المصنف ناصر الإسلام والسنة

أبي بكر أحمد بن محمد بن أبي القاسم محمد

ابن محمود الدشتي الحنبلي

رحمه الله تعالى

آمين

ت 713 هـ

 

مخطوط يطبع لأول مرة

حققه وعلق عليه

أبو المنذر مَحْمُود بن مُحمَّدِ بن مُصْطَفَى المِنِياوِي

عفا الله تعالى عنه وعن والديه
কিতাব জামিউল ওয়ারা ওয়া কামিউল বিদা

ইমাম, হাফিজ, গ্রন্থকার, ইসলাম ও সুন্নাহর সাহায্যকারী

আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবি আল-কাসিম মুহাম্মাদ

ইবনে মাহমুদ আদ-দাশতী আল-হাম্বলী

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন

আমিন

মৃত্যু: ৭১৩ হিজরি

 

পাণ্ডুলিপিটি প্রথমবারের মতো মুদ্রিত

সম্পাদনা ও টীকা প্রদান করেছেন

আবুল মুনজির মাহমুদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুস্তফা আল-মিনিয়াউই

আল্লাহ তাআলা তাঁকে এবং তাঁর পিতামাতাকে ক্ষমা করুন
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}.

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً}.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً}.

أما بعد، ..

فهذا جهد المقل في تحقيق مخطوط " كتاب جامع الورع وقامع البدع" وقد وجدت منه نسخة خطية على الشبكة وبحثت جهدي فلم أقف عليها مطبوعة، ورغبني عنوانها في إخراجها إلى حيز النور، والعمل على تحقيقها، وخاصة وأن مؤلفها سلفي العقيدة، ولم أقف له على أي عمل مطبوع يعرف الناس به، فاستعنت بالله لإخراجها، فالله المستعان.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।

হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক সত্তা থেকে, এবং তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার জোড়া, আর তাদের উভয়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু নর ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে কিছু চাও এবং রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়তা ছিন্ন করা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।

হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহাসাফল্য অর্জন করল।

অতঃপর, ..

এটি "কিতাবু জামিউল ওয়ারা’ ওয়া কামিউল বিদা’" নামক পাণ্ডুলিপিটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে একজন স্বল্পপুঁজির অধিকারীর ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। আমি ইন্টারনেটে এর একটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি খুঁজে পেয়েছি এবং আমার সাধ্যমতো অনুসন্ধান করেছি, কিন্তু এর কোনো মুদ্রিত সংস্করণ আমার নজরে পড়েনি। এর শিরোনামটি আমাকে এটি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে এবং এর ওপর সম্পাদনামূলক কাজ করতে উৎসাহিত করেছে, বিশেষ করে যেহেতু এর লেখক সালাফি আকিদাপন্থী এবং আমি তাঁর এমন কোনো মুদ্রিত কাজ খুঁজে পাইনি যার মাধ্যমে মানুষ তাঁকে চিনতে পারে। তাই এটি প্রকাশের জন্য আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি, আর আল্লাহই সর্বোত্তম সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌عملي في المخطوط:

1 - قام بعض الإخوة بنسخ المخطوط، وقمت بتصحيحه حسب الطاقة، وبعد استشارة بعض إخواني من طلاب العلم الذين لهم دراية أكثر مني بخطوط المخطوطات ونسخها، فجزاهم الله خير الجزاء، وأوفاه، إلا أن بعض الكلمات أو العبارات لم أهتد لوجهها، فأثبتها كما هي، وقد أشير في الحاشية، إلى الوجه الذي يستقر عندي أنه الأقرب للصواب.

2 - إثبات ما وجدته من زيادات وحواشي على هامش المخطوط، إلا أنه هناك بعض الحواشي لم أتمكن من قراءتها إما لبتر كلامها بنقصان التصوير، أو لسوء الخط، فلم أثبتها، وقد اجتهد وأنقل من كتب الغريب أقرب التعاريف للمعنى المضمن في الحاشية.

3 - شرح غريب بعض الألفاظ بالرجوع إلى كتب المعاجم، والغريب.

4 - ترجمت لمعظم الأعلام الوارد أسمائهم في الرسالة الذين ليس لهم شهرة كبيرة.

5 - التعريف ببعض الكتب التي ينقل عنها المؤلف.

6 - كتابة الآيات القرآنية الواردة في الرسالة مشكولة وكتابة اسم السورة ورقم الآية عقبها.

7 - تخريج الأحاديث الواردة في الرسالة مع الحكم على أسانيدها ما أمكنني ذلك.

8 - كنت بدأت المخطوط بتخريج الآثار من أقوال الصحابة والتابعين ومن دونهم حتى أرهقني ذلك؛ لكثرتها فقلت أكتفي في أقوال التابعين ومن دونهم بالعزو فقط ولا أشتغل بتحقيق أسانيدها؛ لأنها لا يترتب عليها عمل ولا أحكام، وقد أحكم على ما يكون الحكم فيها ظاهرا منها.

9 - قد أزيد في المتن زيادات ولا أنبه عليها لاقتضاء السياق لها، وإنما أميزها عن أصل المخطوط بوضعها بين معكوفتين [].

10 - أكثر المؤلف من قول الشعر، وكان لا يقطع الأبيات، فاستعنت بالله أولا ثم بأهل الخبرة في تقطيع الأبيات وتصحيحها ما أمكن ذلك، ونظرا لسوء الخط وعدم وضوح بعض الكلمات فإنني أرسم غالبها كما جاءت في الأصل.

11 - قدمت له مبينا بيانات المخطوط، وتوثيق نسبته للمؤلف، وترجمت للمؤلف
পাণ্ডুলিপিতে আমার সম্পাদিত কাজ:

১ - কতিপয় ভাই পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করেছেন এবং আমি সাধ্যানুযায়ী তা সংশোধন করেছি। এই কাজে আমি পাণ্ডুলিপির লিপি ও অনুলিপি সম্পর্কে আমার চেয়ে অধিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কতিপয় তালিবে ইলম ভাইয়ের পরামর্শ গ্রহণ করেছি; আল্লাহ তাদের উত্তম ও পরিপূর্ণ প্রতিদান দান করুন। তবে কিছু শব্দ বা বাক্য বিন্যাসের সঠিক পাঠ উদ্ধার করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি, বিধায় সেগুলো মূল পাণ্ডুলিপির অনুরূপ রেখেছি। এক্ষেত্রে টীকায় আমি সেই পাঠের কথা উল্লেখ করেছি যা আমার কাছে সঠিক হওয়ার অধিক নিকটবর্তী বলে মনে হয়েছে।

২ - পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকা বা হাশিয়ায় যা কিছু অতিরিক্ত অংশ পেয়েছি তা সংযোজন করেছি। তবে কিছু টীকা পাঠ করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি—হয়তো পাণ্ডুলিপির অনুলিপি অসম্পূর্ণ থাকার কারণে কথাগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, অথবা হস্তাক্ষর অস্পষ্ট হওয়ার কারণে। ফলে সেগুলো আমি অন্তর্ভুক্ত করিনি। তবে আমি চেষ্টা করেছি এবং 'গারিব' (দুর্লভ শব্দাবলি) বিষয়ক গ্রন্থগুলো থেকে সেই টীকায় নিহিত অর্থের সাথে সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংজ্ঞাটি উদ্ধৃত করেছি।

৩ - অভিধান এবং 'গারিব' বিষয়ক গ্রন্থসমূহের সহায়তায় কিছু কঠিন শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।

৪ - এই পুস্তিকায় উল্লিখিত অধিকাংশ ব্যক্তির সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রদান করা হয়েছে, বিশেষ করে যারা খুব বেশি প্রসিদ্ধ নন।

৫ - লেখক যেসব গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, সেগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটির পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।

৬ - পুস্তিকায় বর্ণিত কুরআনের আয়াতগুলো হরকতসহ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং আয়াতের পরপরই সূরার নাম ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।

৭ - পুস্তিকায় বর্ণিত হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ (তাখরিজ) করা হয়েছে এবং সাধ্যানুযায়ী সেগুলোর সনদের নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

৮ - পাণ্ডুলিপির শুরুতে আমি সাহাবী, তাবিঈ এবং পরবর্তী স্তরের মনিষীদের বর্ণিত আসার (উক্তি) সমূহের উৎস নির্দেশ করা শুরু করেছিলাম। কিন্তু সেগুলোর সংখ্যা অত্যধিক হওয়ায় আমি সিদ্ধান্ত নিই যে, তাবিঈ ও পরবর্তী স্তরের মনিষীদের উক্তির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মূল উৎসের উল্লেখ করাই যথেষ্ট এবং সেগুলোর সনদের তাহকিক বা সত্যতা যাচাইয়ের কাজে লিপ্ত হব না। কারণ এগুলোর ওপর কোনো আমল বা শারয়ি বিধান নির্ভর করে না। তবে যেসব বর্ণনার হুকুম সুস্পষ্ট, সেগুলোর বিষয়ে মন্তব্য করা হয়েছে।

৯ - প্রসঙ্গের প্রয়োজনে আমি মূল পাঠে (মতন) কিছু শব্দ বৃদ্ধি করেছি যা আলাদাভাবে সতর্ক করিনি, তবে সেগুলোকে মূল পাণ্ডুলিপি থেকে পৃথক করার জন্য তৃতীয় বন্ধনীর [] মধ্যে রেখেছি।

১০ - লেখক প্রচুর পরিমাণে কবিতা ব্যবহার করেছেন এবং তিনি চরণে চরণে পঙক্তি বিন্যাস করেননি। তাই আমি সর্বাগ্রে আল্লাহর সাহায্য নিয়েছি এবং পরে এ বিষয়ে অভিজ্ঞদের সহযোগিতায় পঙক্তি বিন্যাস ও সাধ্যানুযায়ী সংশোধনের চেষ্টা করেছি। তবে হস্তাক্ষর খারাপ হওয়া এবং কিছু শব্দ অস্পষ্ট থাকার কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমি মূল পাণ্ডুলিপিতে যেভাবে আছে সেভাবেই লিখেছি।

১১ - গ্রন্থটির শুরুতে আমি একটি ভূমিকা দিয়েছি, যেখানে পাণ্ডুলিপির তথ্যসমূহ এবং লেখকের প্রতি এই গ্রন্থের সম্বন্ধের প্রামাণিকতা তুলে ধরেছি এবং লেখকের জীবনী উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌بيانات المخطوط:

اسم المؤلف: شهاب الدين أبو بكر أحمد بن محمد بن أبي القاسم بن بَدْران الأنمي الْكرْدِي محمد بن محمود الدَّشْتي الحنبلي.

عدد أوراق المخطوط 126 لوحة في كل لوحة وجهان اللوحة الأولي وهي طرة المخطوط بها اسم المخطوط واسم المؤلف، واللوحة الأخيرة وجهان الوجه الثاني به خاتمة المخطوط، وبها 15 سطر، وعدد الأسطر غير منتظم بالمخطوط فبعض اللوحات يكون بكل وجه فيها 15 سطر، والبعض 16 سطر، وقد تص إلى 20 سطر في بعض اللوح.

وأما بالنسبة لعدد الأسطر في كل وجه فهو غير منتظم فيتراوح بين 8: 13 كلمة تقريبا.

 

صورة الوجه الثاني من الورقة الأولى:

 

صورة الوجه الأول من الورقة الثانية:

 

صورة الوجه الثاني من الورقة الأخيرة:
পাণ্ডুলিপির বিবরণ:

লেখকের নাম: শিহাবউদ্দীন আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবুল কাসেম বিন বাদরান আল-আনামি আল-কুর্দি মুহাম্মদ বিন মাহমুদ আদ-দাশতি আল-হানবালি।

পাণ্ডুলিপির পত্র সংখ্যা ১২৬টি, যার প্রতিটি পত্রে দুটি করে পার্শ্ব রয়েছে। প্রথম পত্রটি হলো পাণ্ডুলিপির শিরোনাম পত্র, যাতে পাণ্ডুলিপির নাম এবং লেখকের নাম রয়েছে। শেষ পত্রটিরও দুটি পার্শ্ব রয়েছে, যার দ্বিতীয় পার্শ্বে পাণ্ডুলিপির উপসংহার রয়েছে এবং এতে ১৫টি সারি বিদ্যমান। পাণ্ডুলিপিতে সারির সংখ্যা অনিয়মিত; কোনো কোনো পত্রের প্রতি পার্শ্বে ১৫টি সারি রয়েছে, আবার কোনোটিতে ১৬টি সারি, এমনকি কিছু পত্রে ২০টি সারি পর্যন্ত রয়েছে।

আর প্রতি পার্শ্বের শব্দের সংখ্যার ক্ষেত্রে তা অনিয়মিত, যা মোটামুটি ৮ থেকে ১৩টি শব্দের মধ্যে হয়ে থাকে।

 

প্রথম পত্রের দ্বিতীয় পার্শ্বের চিত্র:

 

দ্বিতীয় পত্রের প্রথম পার্শ্বের চিত্র:

 

শেষ পত্রের দ্বিতীয় পার্শ্বের চিত্র:
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌تحقيق نسبة المخطوط للمؤلف:

والرسالة منسوبة لأبي بكر بن أبي القاسم الدشتي كما هو مدون على طرتها بخط واضح لا طمس فيه، وكما جاء في صدرها حيث جاء فيها: (قال الشيخ الإمام العالم الحافظ المفتي ناصر الإسلام والسنة أحمد بن محمد بن محمد بن محمود الدشتي … ). ولم أقف على من نسبها له ممن ترجم له.
লেখকের প্রতি পাণ্ডুলিপিটির সম্বন্ধ যাচাইকরণ:

এই পুস্তিকাটি আবু বকর বিন আবিল কাসিম আদ-দাশতির প্রতি সম্বন্ধযুক্ত, যেমনটি এর শিরোনামের পাতায় স্পষ্ট এবং কোনো প্রকার অস্পষ্টতাহীন হস্তাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে। এছাড়া এর প্রারম্ভিক অংশেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে: (শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, হাফেজ, মুফতি, ইসলাম ও সুন্নাহর সাহায্যকারী আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মাহমুদ আদ-দাশতি বলেছেন ...)। তবে যারা তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি এই রচনাটিকে তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌ترجمة المصنف (1):

‌‌اسمه، ولقبه، وكنيته، ونسبه:

شهاب الدين أبو بكر أحمد بن محمد بن أبي القاسم بن بَدْران(2) الأنمي الْكرْدِي محمد بن محمود الدَّشْتي(3) الحنبلي.

 

‌‌ولادته:

ولد بحلب سنة أربع وثلاثين وست مائة.

 

‌‌أقوال العلماء فيه:

قال الذهبي: "نسخ الأجزاء وحفظ أصولا وأبياتا وكان مليح الخط عنده فضيلة تفرد به بأشياء وحدث بدمشق وبمصر".

قال الذهبي: "تفرّد بأشياء عالية".

قال الصفدي: " وتفرّد وروى الكثير، حدّث بمصر بمسند الطيالسي، ورُتّب مسمِعاً بالدار الأشرفية، ومعلِّماً بمكتب الطواشي ظهير الدين، وأكثر الطلبة عنه، وخَرَّجَ له علم الدين البِرزالي مشيخةً، وكان في الرِّواية يتعزز، ويتحلّى بالطلب وتمزّز، ويطلب نسخَ عدة أجزاء لنفسه من السامع، ويرى أن ذلك له كالقامع. ولم يزل إلى أن انقلب دست الدَّشْتي، وحار فيما نزل به الطبيب والمفتي".

قال العلائي: " وقد تفرد بكثير من مسموعاته، وكان عسرا في الرواية، وربما أخذ عليها أجرا".

 

‌‌شيوخه:

كان عمه أبو محمد محمود بن أبي القاسم الدشتي المتوفى سنة 660 هـ يعتني به، ويسمعه الكثير، فقد سمع بإفادة عمه كثيرا بدمشق ، وحلب ، وحران:

فسمع بإفادة عمه بحلب من: عبد الله بن راوحة وابن العميرة ونفيس النحوي ويوسف بن خليل.

وبحران من: المجد ابن تيمية وعيسى الخياط وأحمد بن سلامة النجار وعبد الرزاق ابن أبي الوفا.

وبحماه من: شيخ الشيوخ النصاري والنفيس محمد بن الحسين بن رواحة.

وبدمشق من: الحافظ الضياء ومكي بن المسلم وابن سلمة وابن الصلاح وعبد الرحمن بن الحافظ وعبد الله بن أبي عمر وعبد الحق بن خلف والبلداني.

سمع على أبي الحجاج يوسف ين خليل مسند أبي داود الطيالسي وكتاب تاريخ أصبهان لأبي نعيم.

--------------------------------------------

(1) ترجمته في: توضيح المشتبه لابن ناصر الدين (1/ 124)، المعجم المختص بالمحدثين للذهبي (ص: 36)، أعيان العصر وأعوان النصر للصفدي (1/ 350)، ذيل التقييد في رواة السنن والأسانيد للفاسي (1/ 393)، الدرر الكامنة في أعيان المائة الثامنة لابن حجر (1/ 346)، المنهل الصافي والمستوفى بعد الوافي لأبي المحاسن (2/ 157)، شذرات الذهب في أخبار من ذهب لابن العماد (8/ 59)، إثارة الفوائد (2/ 683) للعلائي.

(2) ووقع على غلاف المخطوطة ابن بشران.

(3) نسبة إلى دشتى قرية من قرى أصبهان.

‌গ্রন্থকারের জীবনী (১):

‌‌তাঁর নাম, উপাধি, কুনিয়াত ও বংশপরিচয়:

শিহাবুদ্দীন আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবিল কাসিম ইবনে বদরান(২) আল-আনমি আল-কুরদি মুহাম্মাদ ইবনে মাহমুদ আদ-দাশতি(৩) আল-হাম্বলি।

 

‌‌জন্ম:

তিনি ৬৩৪ হিজরি সনে আলেপ্পো (হালাব) শহরে জন্মগ্রহণ করেন।

 

‌‌তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের মন্তব্য:

আয-যাহাবি বলেন: "তিনি বহু পাণ্ডুলিপি অনুলিপি করেছেন এবং মূল উৎস ও কবিতা মুখস্থ করেছেন। তাঁর হস্তাক্ষর অত্যন্ত সুন্দর ছিল এবং তাঁর মাঝে পাণ্ডিত্য বিদ্যমান ছিল। তিনি কিছু বিরল বর্ণনায় অনন্য ছিলেন এবং দামেস্ক ও মিশরে হাদীস বর্ণনা করেছেন।"

আয-যাহাবি আরও বলেন: "তিনি উচ্চমানের অনেক বিরল বর্ণনায় অনন্য ছিলেন।"

আস-সাফাদি বলেন: "তিনি বর্ণনায় অনন্য ছিলেন এবং প্রচুর বর্ণনা করেছেন। মিশরে তিনি মুসনাদে তায়ালিসি বর্ণনা করেছেন। তিনি দারুল আশরাফিয়াতে হাদীস শ্রবণকারী (মুসমি') হিসেবে এবং তওয়াশি যহীরুদ্দীন মক্তবে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। বহু ছাত্র তাঁর কাছ থেকে হাদীস গ্রহণ করেছেন এবং ইলমুদ্দীন আল-বিরযালি তাঁর জন্য একটি 'মাশয়াখাহ' (শিক্ষকদের তালিকা) সংকলন করেছেন। হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি আত্মমর্যাদাশীল ছিলেন এবং ইলমের অন্বেষণে বিভোর থাকতেন। তিনি হাদীস শ্রবণকারীর কাছ থেকে নিজের জন্য বেশ কিছু খণ্ডের অনুলিপি দাবি করতেন এবং মনে করতেন এটি তাকে নিয়ন্ত্রণকারী। তিনি এভাবেই চলতে থাকেন যতক্ষণ না বার্ধক্য তাঁকে গ্রাস করে এবং চিকিৎসক ও মুফতিগণ তাঁর অবস্থা দেখে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন।"

আল-আলাই বলেন: "তিনি তাঁর অনেক শ্রুত হাদীস বর্ণনায় একক ছিলেন, তবে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করতেন এবং সম্ভবত এর জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করতেন।"

 

‌‌তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:

তাঁর চাচা আবু মুহাম্মাদ মাহমুদ ইবনে আবিল কাসিম আদ-দাশতি (মৃত্যু: ৬৬০ হিজরি) তাঁর প্রতি বিশেষ যত্ন নিতেন এবং তাঁকে প্রচুর হাদীস শ্রবণ করাতেন। তিনি তাঁর চাচার তত্ত্বাবধানে দামেস্ক, আলেপ্পো এবং হাররানে প্রচুর হাদীস শুনেছেন:

আলেপ্পোতে চাচার নির্দেশে যাদের নিকট হাদীস শুনেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা, ইবনুল আমিরাহ, নাফিস আন-নাহবি এবং ইউসুফ ইবনে খলিল।

হাররানে: আল-মাজদ ইবনে তাইমিয়া, ঈসা আল-খাইয়্যাত, আহমদ ইবনে সালামাহ আন-নাজ্জার এবং আবদুর রাজ্জাক ইবনে আবিল ওয়াফা।

হামাতে: শাইখুশ শুয়ূখ আন-নাসারি এবং নাফিস মুহাম্মাদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে রাওয়াহা।

দামেস্কে: হাফিজ আদ-দিয়া, মক্কি ইবনুল মুসলিম, ইবনে সালামাহ, ইবনুস সালাহ, আবদুর রহমান ইবনুল হাফিজ, আবদুল্লাহ ইবনে আবি উমর, আবদুল হক ইবনে খালাফ এবং আল-বালদানি।

তিনি আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে খলিলের নিকট মুসনাদে আবু দাউদ আত-তায়ালিসি এবং আবু নুয়াইমের তারীখে আসবাহান কিতাবটি শ্রবণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন: ইবনে নাসিরুদ্দীনের তাওদীহুল মুশতাবীহ (১/১২৪), আয-যাহাবির আল-মু'জামুল মুখতাস বিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ৩৬), আস-সাফাদির আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর (১/৩৫০), আল-ফাসির যাইলুত তাকয়ীদ ফি রুওয়াতিল সুনান ওয়াল আসানিদ (১/৩৯৩), ইবনে হাজারের আদ-দুরারুল কামিনাহ ফি আইয়ানিল মিআতিল সামিনাহ (১/৩৪৬), আবুুল মাহাসিনের আল-মানহালুস সাফি ওয়াল মুস্তাওফা বা'দাল ওয়াফি (২/১৫৭), ইবনুল ইমাদের শাযারাতুয যাহাব ফি আখবারি মান যাহাব (৮/৫৯), আল-আলাইয়ের ইশারাতুল ফাওয়াইদ (২/৬৮৩)।

(২) পাণ্ডুলিপির মলাটে 'ইবনে বিশরান' লিখিত হয়েছে।

(৩) আদ-দাশতি শব্দটি আসফাহানের অন্যতম গ্রাম 'দাশত' এর দিকে সম্বন্ধিত।

(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ৭)
قال الذهبي: " حدثنا عن ابن رواحة، وابن يعيش، وابن قميرة، والضّياء، وصفيّة القرشية، وعدة. وله مشيخة بانتقاء البرزالي".

وسمع أيضا من القاضي شهاب الدين ابراهيم بن عبد الله بن عبد المنعم بن أبي الدم وسيف الدين أحمد بن المجد عيسى بن الموفق في آخرين.

ومن شيوخه ابن المقير حيث قال هنا: ((وأخبرنا الشيخ الزاهد أبو الحسن علي بن المقير البغدادي بقراءتي عليه بمكة تجاه الكعبة شرفها الله تعالى في ذي الحجة سنة أربع وثلاثين وستمائة(1))).

 

‌‌تلامذته:

أخذ عنه الخباز ، والمزي ، وأبو حيان ، والبرزالي ، والعلائي ، والسبكي أكثرنا عنه على عسارة فيه وشكوى فقر، قرر مسمعا بدار الحديث ومؤدبا للأيتام.

قال ابن حجر: "قلت حَدثنَا عَنهُ ابْن أبي الْمجد بِالْإِجَازَةِ وَحده قَرَأت عَلَيْهِ تَارِيخ أَصْبَهَان لأبي نعيم بإجازته مِنْهُ وَأَشْيَاء كَثِيرَة".

ومن تلامذته أيضا شمس الدين الذهبي.

قال الذهبي في " معجم شيوخه الكبير" (1/ 102): "سمعت منه أجزاء".

 

‌‌أعماله:

لم أقف على شيء مطبوع للمؤلف رحمه الله، وله: "ترجمة مجد الدين ابن تيمية" توجد منها نسخة خطية بالمكتبة المركزية، بمكة المكرمة، برقم الحفظ: 691/ 14، برقم تسلسلي: 69988.

ونسخة أخرى بمكتبه المصغرات الفيلمية بقسم المخطوطات بالجامعة الإسلامية، بالمدينة المنورة، برقم الحفظ: 4575/ 14.

 

‌‌وفاته:

مات في عاشر جمادى الآخرة سنة ثلاث عشرة وسبعمائة بدمشق وله ثمانون سنة غير أشهر.

--------------------------------------------

(1) كذا بالأصل، وهو خطأ ظاهر؛ لأن المؤلف ولد في هذه السنة، ولعله قرأ عليه قرب وفاته سنة إحدى، أو اثنتين وأربعين فكان ابن سبع، أو ثمان سنين في هذا الوقت. وسوف يأتي في ترجمة ابن المقير أنه ولد سنة خمس وأربعين وخمس مائة. حدث ببغداد، ثم قدم دمشق في سنة اثنتين وثلاثين، فحدث وأقام بها نحوا من سنتين، ثم حج، وحدث بخيبر، وبالحرم، وجاور، ثم سار إلى مصر، وروى بها الكثير. مات سنة ثلاث وأربعين وست مائة.

আয-যাহাবী বলেন: "তিনি ইবন রেওয়াহাহ, ইবন ইয়াঈশ, ইবন কুমাইরাহ, আয-যিয়া, সাফিয়্যাহ আল-কুরাশিয়্যাহ এবং আরও অনেকের থেকে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। আল-বিরযালীর চয়নকৃত তাঁর একটি 'মাশয়াখা' (শিক্ষক তালিকা) রয়েছে।"

তিনি কাজী শিহাবুদ্দীন ইবরাহীম ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবদুল মুনইম ইবন আবিল দাম এবং সাইফুদ্দীন আহমদ ইবন আল-মাজদ ঈসা ইবন আল-মুওয়াফফাক সহ আরও অনেকের নিকট (হাদীস) শ্রবণ করেছেন।

তাঁর শিক্ষকদের অন্যতম হলেন ইবনুল মুকাইয়্যার; যেখানে তিনি এখানে বলেছেন: ((যাহিদ শায়খ আবুল হাসান আলী ইবনুল মুকাইয়্যার আল-বাগদাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। এটি ছিল মক্কায় কা'বা শরীফের—আল্লাহ তাআলা একে সম্মানিত করুন—সম্মুখে ৬৩৪ হিজরীর যিলহজ মাসে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে(১)))।

 

‌‌তাঁর ছাত্রবৃন্দ:

আল-খাব্বায, আল-মিযযী, আবু হাইয়ান, আল-বিরযালী, আল-আলাই এবং আস-সুবকী তাঁর থেকে ইলম অর্জন করেছেন। তাঁর কঠিন জীবনযাপন ও দারিদ্র্যের অভিযোগ সত্ত্বেও আমরা তাঁর থেকে প্রচুর গ্রহণ করেছি। তিনি দারুল হাদীসে পাঠকারী এবং ইয়াতীমদের শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।

ইবন হাজার বলেন: "আমি বলছি, ইবন আবিল মাজদ কেবল ইজাযতের মাধ্যমে আমাদের কাছে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আমি তাঁর নিকট আবু নুআইমের 'তারীখে আসবাহান' তাঁর ইজাযতসূত্রে পাঠ করেছি, এছাড়াও আরও অনেক কিছু পড়েছি।"

তাঁর ছাত্রদের মধ্যে শামসুদ্দীন আয-যাহাবীও ছিলেন।

আয-যাহাবী তাঁর 'মুজামু শুয়ূখিহিল কাবীর'-এ (১/ ১০২) বলেন: "আমি তাঁর নিকট থেকে বেশ কিছু জুয (হাদীস সংকলন) শুনেছি।"

 

‌‌তাঁর কর্মাবলী:

লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) কোনো মুদ্রিত কাজ আমার নজরে আসেনি। তবে তাঁর রচিত: "তারজামা মাজদুদ্দীন ইবন তাইমিয়্যাহ" (মাজদুদ্দীন ইবন তাইমিয়্যার জীবনী) গ্রন্থটির একটি পাণ্ডুলিপি মক্কা মুকাররমার কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে, যার হিফয নম্বর: ৬৯১/ ১৪ এবং ক্রমিক নম্বর: ৬৯৯৮৮।

মদীনা মুনাওয়ারার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি বিভাগের ফিল্মি মাইক্রোফিল্ম লাইব্রেরিতে এর আরেকটি অনুলিপি রয়েছে, যার হিফয নম্বর: ৪৫৭৫/ ১৪।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

তিনি ৭১৩ হিজরীর ১০ই জুমাদাল আখিরায় দামেস্কে ইন্তেকাল করেন। সে সময় তাঁর বয়স হয়েছিল কয়েকমাস কম আশি বছর।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে এমনই রয়েছে, তবে এটি একটি স্পষ্ট ভুল; কারণ লেখক এই বছরই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সম্ভবত তিনি ইবনুল মুকাইয়্যারের মৃত্যুর নিকটবর্তী সময়ে অর্থাৎ ৬৪১ বা ৬৪২ হিজরীতে তাঁর নিকট পাঠ করেছিলেন, সে সময় লেখকের বয়স ছিল সাত বা আট বছর। ইবনুল মুকাইয়্যারের জীবনীতে সামনে আসবে যে, তিনি ৫৪৫ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাগদাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন, এরপর ৬৩২ হিজরীতে দামেস্কে আসেন এবং সেখানে হাদীস বর্ণনা করে প্রায় দুই বছর অবস্থান করেন। অতঃপর হজ্জ পালন করেন এবং খায়বার ও হারামাইন শরীফাইনে হাদীস বর্ণনা করেন ও সেখানে অবস্থান করেন। এরপর তিনি মিশরে গমন করেন এবং সেখানে প্রচুর বর্ণনা করেন। তিনি ৬৪৩ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ৮)
بسم الله الرحمن الرحيم

وبه نستعين

 

قال الشيخ الإمام العالم الحافظ المفتي ناصر الإسلام والسنة أحمد بن محمد بن محمد بن محمود الدشتي جامع الورعين وقامع المبتدعين قال: أن سائلا سألني بعد أن كتب صورة المسائل: ما قول السادة العلماء وفقهم الله تعالى في قوم يجتمعون في مسجد أو غيره ويسمعون الدفوف والشبابات(1) والغناء بالألحان المطربة ويتواجدون ويرقصون ويزعمون هذا جائز ومن المندوبات، فأنكر عليهم قوم آخرون، وقالوا: هذا ما ينبغي لكم ولا يحسن بكم، وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "شر الأمور محدثاتها "(2) وأن هذا من المحدثات ومن البدع والضلال وأن المساجد ما بنيت لهذا(3) وهذا تضييع الأوقات ولم يكن هذا من فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا من فعل أصحابه رضوان الله عليهم ولا هو مما يتقرب به أحد إلى الله تعالى ولا طريق أحد من الصالحين فالأولى بالعبد غير ذلك من الحذر والجدّ في التعبد وما أُجمع على استحبابه.

فقالوا لمن أنكر عليهم: قد ورثنا ذلك عن أبائنا الأوّلين ومشايخنا المحققين العادلين وأباحه لنا الإمامين العالمين: مالك بن أنس، ومحمد بن إدريس الشافعي رحمة الله عليهم، ونحن لسادتنا من التابعين وفيما نحن عليه غير مبتدعين.

--------------------------------------------

(1) والشبابة هي: القصبةُ الَّتِي يزمرُ بها الرَّاعي.

(2) صحيح - جزء من حديث رواه البخاري في "صحيحه" من حديث عبد الله رضي الله عنه (9/ 92) (7277)، ورواه مسلم في "صحيحه" من حديث جابر رضي الله عنه (2/ 592) (867).

(3) وهذا أولى بالمنع من إنشاد الضالة فقد روى مسلم في "صحيحه" (1/ 397) (568) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من سمع رجلا ينشد ضالة في المسجد فليقل لا ردها الله عليك فإن المساجد لم تبن لهذا».
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

 

শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলিম, হাফিজ, মুফতি, ইসলাম ও সুন্নাহর সাহায্যকারী, পরহেযগারদের মিলনস্থল এবং বিদআতপন্থীদের দমনকারী আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ আদ-দাশতী বলেছেন: জনৈক প্রশ্নকারী মাসআলাটির বিবরণ লিখে আমার কাছে জানতে চেয়েছেন: আল্লাহ তাআলা উলামায়ে কিরামকে তাওফিক দান করুন—সেই কওমের ব্যাপারে আপনাদের বক্তব্য কী, যারা মসজিদে বা অন্য কোথাও একত্রিত হয় এবং দফ, বাঁশি(১) ও সুর করে চিত্তাকর্ষক গান শোনে, কৃত্রিম ভাবাবেগ প্রকাশ করে এবং নাচানাচি করে; আর তারা দাবি করে যে এটি জায়েয এবং পছন্দনীয় (মানদুব) আমলগুলোর অন্তর্ভুক্ত। তখন অন্য একদল লোক তাদের এই কাজের প্রতিবাদ করল এবং বলল: ‘এটি তোমাদের জন্য সমীচীন নয় এবং তোমাদের জন্য শোভনও নয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ।"(২) এটি নবউদ্ভাবিত বিষয়, বিদআত ও গোমরাহীর অন্তর্ভুক্ত। আর মসজিদগুলো এসব কাজের জন্য নির্মিত হয়নি(৩)। এটি সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাজ ছিল না, সাহাবায়ে কিরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমদেরও কাজ ছিল না। এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের কোনো মাধ্যম নয় এবং কোনো সৎকর্মশীল ব্যক্তির পথও নয়। বরং বান্দার উচিত এসব বর্জন করে সতর্ক হওয়া এবং ইবাদত ও যে বিষয়গুলোর মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে, সেগুলোতে মনোনিবেশ করা।’

তখন তারা প্রতিবাদকারীদের বলল: ‘আমরা এটি আমাদের পূর্বপুরুষ এবং ন্যায়পরায়ণ মুহাক্কিক মাশায়েখদের থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি। দুই বিজ্ঞ ইমাম—মালিক ইবনে আনাস এবং মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিঈ রাহিমাহুমাল্লাহ আমাদের জন্য এটি বৈধ করেছেন। আমরা আমাদের মহান পূর্বসূরিদের অনুসারী এবং আমরা যা করছি তাতে আমরা বিদআতি নই।’

--------------------------------------------

(১) শাব্বাবাহ হলো: সেই বাঁশি যা রাখালরা বাজিয়ে থাকে।

(২) সহিহ - এটি একটি হাদিসের অংশ যা ইমাম বুখারি তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে (৯/৯২) (৭২৭৭) এবং ইমাম মুসলিম তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে (২/৫৯২) (৮৬৭) বর্ণনা করেছেন।

(৩) এটি মসজিদে হারানো জিনিসের ঘোষণা দেওয়ার চেয়েও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার যোগ্য। ইমাম মুসলিম তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে (১/৩৯৭) (৫৬৮) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি মসজিদে কাউকে কোনো হারানো মালের ঘোষণা দিতে শুনবে, সে যেন বলে: 'আল্লাহ যেন তোমাকে তা ফিরিয়ে না দেন'; কারণ মসজিদসমূহ এই উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়নি।"
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ৯)
فلا شك ولا ريب أن القوم بلغهم عن أقوام من أهل البدع والضلال قبلهم أنهم كانوا يفعلون أفعالهم القبيحة الشنعاء فاستمروا على ذلك [ق 1 / ب] واعتقدوا ما اعتقد الآباء ونشأوا على ذلك وكذلك أبناء الأبناء وهلم جرا فهلك الآباء والأبناء ووقعوا في الضلالة والعماء فإذا أنكر عليهم أحد، وقال: أرجعوا عن الضلالة الظلماء إلى ما كان عيه السلف الصالح من الصحابة والتابعين ومن بعدهم من العلماء فإن العلماء المحققين، والزهاد الصّادقون، والأولياء الكاشفون(1)، والفقهاء العارفون كانوا على غير ما أنتم عليه من الطريق العوجاء فإن لم تصدقوا فسألوا أهل العلم الذين هم ورثة الأنبياء.

--------------------------------------------

(1) الكشف الذي يحصل للمرء أنواع، فمنه النفساني وهو مشترك بين المسلم والكافر، ومنه الرحماني وهو الذي يكون عن طريق الوحي والشرع، ومنه الشيطاني وهو ما يحصل عن طريق الجن. والمؤلف هنا يشير إلى الكشف الرحماني الذي يحدث لأولياء الله تعالى الذين يقيمون الشرع ويعظمونه، والكشف الرحماني مثل كشف أبي بكر لما قال لعائشة رضي الله عنهما إن امرأته حامل بأنثى، وكشف عمر رضي الله عنه لما قال يا سارية الجبل - أي إلزم الجبل - وأضعاف هذا من كشف أولياء الرحمن.
এতে কোনো সন্দেহ বা সংশয় নেই যে, এই সম্প্রদায় তাদের পূর্ববর্তী বিদআত ও পথভ্রষ্ট অনুসারীদের সম্পর্কে অবগত হয়েছিল যে তারা অত্যন্ত কদর্য ও জঘন্য কাজ করত। ফলে তারা সেগুলোর ওপরই অবিচল থাকে [পত্র ১ / খ] এবং তাদের পিতৃপুরুষদের বিশ্বাসকেই নিজেদের আকিদা হিসেবে গ্রহণ করে। তারা এভাবেই বেড়ে ওঠে এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মগুলোও একইভাবে এই ধারা অব্যাহত রাখে। পরিশেষে পিতা ও পুত্র উভয় পক্ষই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং বিভ্রান্তি ও অজ্ঞানতার অন্ধকারে নিপতিত হয়। এমতাবস্থায় যদি কেউ তাদের এই কাজের প্রতিবাদ জানিয়ে বলে: "তোমরা এই নিবিড় অন্ধকারাচ্ছন্ন পথভ্রষ্টতা পরিত্যাগ করে সাহাবী, তাবিঈন এবং তাঁদের পরবর্তী উলামায়ে কেরামের ন্যায় সলফে সালেহীনগণ যে পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন সেই পথে প্রত্যাবর্তন করো। কেননা মুহাক্কিক আলেমগণ, সত্যনিষ্ঠ সাধকগণ, আধ্যাত্মিক রহস্য উন্মোচনকারী আউলিয়াগণ(১) এবং তত্ত্বজ্ঞানী ফকীহগণ তোমাদের এই বক্র পথ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথের অনুসারী ছিলেন। যদি তোমরা বিশ্বাস না করো, তবে ওই সকল জ্ঞানীদের নিকট জিজ্ঞাসা করো যারা নবীগণের উত্তরাধিকারী।"

--------------------------------------------

(১) মানুষের নিকট প্রকাশিত 'কাশফ' (আধ্যাত্মিক উন্মোচন) কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে: তন্মধ্যে একটি হলো মনস্তাত্ত্বিক (নাফসানি), যা মুসলিম ও অমুসলিম নির্বিশেষে যে কারও হতে পারে। দ্বিতীয়টি হলো ঐশ্বরিক (রাহমানি), যা ওহী ও শরীয়তের অনুসরণের মাধ্যমে অর্জিত হয়। আর তৃতীয়টি হলো শয়তানি, যা জিনের প্রভাবে সংঘটিত হয়। লেখক এখানে সেই ঐশ্বরিক কাশফের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যা আল্লাহর ওই সকল ওলিদের মাধ্যমে প্রকাশিত হয় যারা শরীয়ত প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেন। এই ঐশ্বরিক কাশফের উদাহরণ হলো যেমন হযরত আবু বকর (রা.) হযরত আয়েশা (রা.)-কে বলেছিলেন যে তাঁর স্ত্রী এক কন্যা সন্তান প্রসব করতে যাচ্ছেন। কিংবা হযরত উমর (রা.)-এর সেই ঘটনা যখন তিনি বলেছিলেন: "হে সারিয়া! পাহাড় ধরো"—অর্থাৎ পাহাড়ের দিকটি সুরক্ষিত করো। দয়াময় আল্লাহর ওলিদের পক্ষ থেকে এ জাতীয় অসংখ্য কাশফের দৃষ্টান্ত বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ১০)
قالوا: إنا وجدنا آبائنا على هذا الفعل وغدا عليه مشايخنا الكبراء فلا نترك ما كانوا عليه ولا نرجع إلى قول العلماء مضاهاة لمن قال ذلك من المشركين السفهاء ممن دعاهم الأنبياء صلوات الله وسلامه عليهم إلى يوم الجزاء وإذا أخذ أحدهم من السنة الزهراء إما ببيان حديث، أو بتقليد العلماء قالوا له: أترغب عما كان عليه مشايخنا القدماء مضاهاة لقول أبي جهل وعبد الله بن أمية لأبي طالب حين دعاه النبي عليه السلام إلى دين الأنبياء وخلع ما كان عيه من قبله من الآباء فتمسك بما كان عليه ورغب عما دعاه إليه خاتم الأنبياء مع إقراره أن الحق ما دعاه إليه ومات على ما كان عليه من الضلالة والعماء(1) فخسر الدنيا والآخرة، وندم حين لم ينفعه الندم ولا الدعاء حين ذل به القدم إلا أن يكون قبل ما دعاه إليه سيد الأمم وأشرف العرب والعجم صلى الله عليه وسلم وشرف وكرم وكذلك ليندمن [ق 2 /أ] من دعي إلى الحق الذي كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم وصحابته رضوان الله عليهم فترك الانقياد إليه وتمسك بما كان عليه الآباء من القدماء وليعض أنامله على تفريطه فيما مضى.

--------------------------------------------

(1) يشير إلى ما رواه البخاري في "صحيحه" (5/ 52) (3884)، ومسلم في "صحيحه" (1/ 54) (24) من طريق لزهري، عن ابن المسيب، عن أبيه، أن أبا طالب لما حضرته الوفاة، دخل عليه النبي صلى الله عليه وسلم وعنده أبو جهل، فقال: «أي عم، قل لا إله إلا الله، كلمة أحاج لك بها عند الله» فقال أبو جهل وعبد الله بن أبي أمية: يا أبا طالب، ترغب عن ملة عبد المطلب، فلم يزالا يكلمانه، حتى قال آخر شيء كلمهم به: على ملة عبد المطلب، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «لأستغفرن لك، ما لم أنه عنه» فنزلت: {مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ} [التوبة: 113]. ونزلت: {إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ} [القصص: 56].
তারা বলে: "আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এই কর্মের ওপর পেয়েছি এবং আমাদের বড় বড় মাশায়েখগণ এর ওপরই অতিবাহিত হয়েছেন। সুতরাং তারা যে পথের ওপর ছিলেন আমরা তা ত্যাগ করব না এবং আলিমদের কথার দিকে ফিরে যাব না।" এটি সেই নির্বোধ মুশরিকদের সাদৃশ্য অবলম্বন মাত্র, যাদেরকে নবীগণ (প্রতিদান দিবস পর্যন্ত তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) সত্যের দিকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। আর যখন তাদের কেউ উজ্জ্বল সুন্নাহ থেকে কোনো বিষয়ের অনুসরণ করে—চাই তা কোনো হাদিসের বর্ণনার মাধ্যমে হোক কিংবা আলিমদের অনুকরণের মাধ্যমে—তখন তারা তাকে বলে: "তুমি কি আমাদের প্রাচীন মাশায়েখদের পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ?" তাদের এই উক্তিটি আবু জাহল ও আবদুল্লাহ বিন উমাইয়ার সেই কথার অনুরূপ, যা তারা আবু তালিবকে বলেছিল যখন নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) তাকে নবীদের দ্বীনের দিকে এবং তার পূর্বপুরুষদের আচরিত প্রথা বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। অতঃপর সে তার পূর্বপুরুষদের পন্থার ওপরই অবিচল রইল এবং শেষ নবী তাকে যে সত্যের দিকে আহ্বান জানিয়েছিলেন তা থেকে বিমুখ হলো; যদিও সে মনে মনে স্বীকার করত যে, তিনি তাকে যে সত্যের দিকে ডাকছেন তা-ই সঠিক। সে পথভ্রষ্টতা ও অন্ধত্বের ওপরই মৃত্যুবরণ করল(১)। ফলে সে ইহকাল ও পরকাল হারাল এবং এমন এক সময়ে অনুতপ্ত হলো যখন অনুশোচনা কিংবা প্রার্থনা কোনো কাজে আসে না এবং যখন পা পিছলে লাঞ্ছনা অবধারিত হয়ে পড়েছিল। কেবল যদি সে উম্মতকুলের সরদার, আরব ও অনারবের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিত্ব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত করুন এবং তাঁকে সম্মানিত ও মর্যাদাবান করুন) তাকে যে পথের দিকে ডেকেছিলেন তা গ্রহণ করে নিত। অনুরূপভাবে সেই ব্যক্তিও [পৃষ্ঠা ২/ক] অবশ্যই লজ্জিত হবে যাকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) অনুসৃত সত্যের দিকে আহ্বান জানানো হয়েছিল, অথচ সে তার আনুগত্য পরিহার করে প্রাচীন পিতৃপুরুষদের প্রথার ওপর অবিচল রইল। সে তার অতীত অবহেলার জন্য আক্ষেপে নিজের আঙুল কামড়াতে থাকবে।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে (৫/৫২) (৩৮৮৪) এবং মুসলিম তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে (১/৫৪) (২৪) যুহরির সূত্রে, তিনি ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু তালিবের যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কাছে প্রবেশ করলেন। তার কাছে তখন আবু জাহল ও আবদুল্লাহ বিন আবি উমাইয়া ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "হে চাচা! আপনি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) বলুন, এমন এক কালিমা যার মাধ্যমে আমি আল্লাহর কাছে আপনার জন্য সুপারিশ করতে পারব।" তখন আবু জাহল ও আবদুল্লাহ বিন আবি উমাইয়া বলল: "হে আবু তালিব! আপনি কি আব্দুল মুত্তালিবের ধর্ম থেকে বিমুখ হচ্ছেন?" তারা দুজনে অনবরত তার সাথে কথা বলতে থাকল, শেষ পর্যন্ত সে (আবু তালিব) তাদের সাথে যে শেষ কথাটি বলল তা হলো: "আব্দুল মুত্তালিবের ধর্মের ওপরই (অটল রইলাম)।" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "আমি আপনার জন্য অবশ্যই ক্ষমা প্রার্থনা করব যতক্ষণ না আমাকে তা থেকে নিষেধ করা হয়।" তখন এই আয়াত নাজিল হয়: {নবী ও মুমিনদের জন্য সংগত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যদিও তারা নিকটাত্মীয় হয়, তাদের কাছে এ কথা স্পষ্ট হওয়ার পর যে তারা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী} [আত-তওবা: ১১৩]। এবং এই আয়াত নাজিল হয়: {নিশ্চয় আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হেদায়েত দিতে পারবেন না} [আল-কাসাস: ৫৬]।
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ১১)
فنسأل الله رب الأرض والسماء أن يميتنا على الدين المرتضى وأن يصرف عنا سوء القضاء ويستعملنا فيما يحب ويرضى وأن يبصر من كان منا على ضلالة بالهدى ويجنبه طريق الردى، وما ذكرت هذا الكلام إلا لعل معتبر يعتبر فيرجع عما يعتقده ويفعله متابعة منه لأهل الباطل والضلالة؛ لئلا يحشر يوم القيامة معهم ويلحقه من الخزي والندامة مثل ما يلحقهم ثم يتبرؤن منه فما تنفعه متابعتهم.

و ..(1) إنما أذكر ما جاء في النهي عن الرقص والسماع بالكتاب والسنة والإجماع ورد استدلالهم في نصر الابتداع، واذكر من أخلاق نبينا المصطفى عليه السلام وما جاء عن الصحابة والتابعين رضوان الله عليهم أجمعين ومن بعدهم في تبديل أشياء كثيرة من دين الإسلام وفي تغيير ما كانوا يعهدونه في عهد رسول الله عليه السلام والخلفاء الراشدون، وأذكر من أخلاق الصحابة ومن أخلاق من بعدهم من الأولياء والصالحين من العلماء والمشايخ والفقهاء وصفاتهم وكلامهم وسيرهم وآدابهم وحفظ أوقاتهم نصيحة مني إذا كانت نصيحة المؤمن واجبة على المؤمن كما قال النبي عليه السلام: "إنما الدين النصيحة" يكررها ثلاثا(2) وأؤدي الأمانة التي أخذها الله تعالى [ق 2 / ب] عز وجل على العلماء بقوله تعالى: {لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ} [آل عمران: 187].

--------------------------------------------

(1) كلمة من حرفين لم أتبينها، وهي غير مؤثرة في السياق.

(2) صحيح - أخرجه أبو داود في "سننه" (4/ 286) (4944)، وأحمد في "مسنده" (28/ 141) (16942)، (28/ 145: 148) (16945: 16947) بالتكرير ثلاثا، واصله في صحيح مسلم (1/ 74) (55) بدون تكرير - كلهم - من طريق سهيل، عن عطاء بن يزيد، عن تميم الداري رضي الله عنه مرفوعا به.
সুতরাং আমরা পৃথিবী ও আকাশের অধিপতি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের তাঁর মনোনীত দ্বীনের ওপর মৃত্যু দান করেন, আমাদের থেকে মন্দ ফয়সালাসমূহ দূর করে দেন এবং তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক কাজে আমাদের নিয়োজিত করেন। আর আমাদের মধ্যে যারা ভ্রষ্টতার ওপর রয়েছে, তাদের যেন তিনি হিদায়াতের মাধ্যমে সত্যের দিশা দান করেন এবং ধ্বংসের পথ থেকে দূরে রাখেন। আমি এই কথাগুলো কেবল এ জন্যই উল্লেখ করেছি যেন কোনো উপদেশ গ্রহণকারী শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে এবং বাতিল ও বিভ্রান্তদের অন্ধ অনুসরণে সে যা বিশ্বাস ও আমল করে আসছিল, তা থেকে ফিরে আসে; যাতে কিয়ামতের দিন তাদের সাথে তার হাশর না হয় এবং তাদের ন্যায় লাঞ্ছনা ও অনুশোচনা তাকেও স্পর্শ না করে। কারণ, তখন তারা তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করবে এবং তাদের এই অনুসরণ তার কোনো উপকারে আসবে না।

এবং ..(১) আমি কেবল নাচ ও বাদ্যসহকারে গান (সামা') নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে কিতাবুল্লাহ, সুন্নাহ ও ইজমার দালিলিক প্রমাণসমূহ এবং বিদআতের সমর্থনে তাদের উপস্থাপিত যুক্তিসমূহের খণ্ডন উল্লেখ করব। সেইসাথে আমি আমাদের নবী মুস্তফা (আলাইহিস সালাম)-এর মহান চরিত্র এবং সাহাবী, তাবিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) ও তাঁদের পরবর্তীগণের বর্ণনা থেকে ইসলামের অনেক বিষয়ে বিকৃতি এবং রাসূলুল্লাহ (আলাইহিস সালাম) ও খুলাফায়ে রাশিদীনের যুগে প্রচলিত আদর্শের পরিবর্তনের বিষয়গুলো আলোচনা করব। এছাড়াও আমি সাহাবায়ে কিরাম এবং তাঁদের পরবর্তী আউলিয়া, নেককার আলিম, মাশায়েখ ও ফকীহগণের চরিত্র, গুণাবলি, বাণী, সীরাত, আদব ও তাঁদের সময়ানুবর্তিতার কথা উল্লেখ করব। এটি আমার পক্ষ থেকে একটি নসীহত বা সদুপদেশ, যেহেতু এক মুমিনের ওপর অন্য মুমিনের কল্যাণকামিতা ওয়াজিব; যেমনটি নবী (আলাইহিস সালাম) তিনবার পুনরাবৃত্তি করে বলেছেন: "দ্বীন হলো নসীহত (কল্যাণকামিতা)"।(২) আর আমি সেই আমানত আদায় করছি যা আল্লাহ তা'আলা [পৃষ্ঠা ২/খ] আলিমদের নিকট থেকে এই বলে গ্রহণ করেছেন: "অবশ্যই তোমরা তা মানুষের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না।" [সূরা আলে ইমরান: ১৮৭]।

--------------------------------------------

(১) দুই অক্ষরের একটি শব্দ যা স্পষ্ট বোঝা যায়নি, তবে এটি প্রসঙ্গের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।

(২) সহীহ - আবু দাউদ তাঁর "সুনান"-এ (৪/ ২৮৬) (৪৯৪৪), এবং আহমাদ তাঁর "মুসনাদ"-এ (২৮/ ১৪১) (১৬৯৪২), (২৮/ ১৪৫: ১৪৮) (১৬৯৪৫: ১৬৯৪৭) তিনবার পুনরাবৃত্তিসহ বর্ণনা করেছেন। এর মূল বর্ণনাটি সহীহ মুসলিমে (১/ ৭৪) (৫৫) পুনরাবৃত্তি ছাড়া বর্ণিত হয়েছে। তাঁরা সকলে সুহাইল-এর সূত্রে আতা ইবনে ইয়াযীদ থেকে, তিনি তামীম আদ-দারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌فأبدا أولا وأقول:

الحمد لله الذي بصرنا بالحق وحبّبنا لإتباع القرآن، وما نزل معه من الحكمة والبيان وبغض إلينا قوما ينتمون إلى مذهب الشيطان في استماع الأغاني وصحبة المردان، وبغضّ إلينا أقرانهم أهل الأداء المقاييس(1) المعاندين لأهل الإيمان، ونحمد الله الذي بالقدم توحّد وبالعلم والقدرة تفرد، وبكتابه المنزل على نبيه المرسل تعبد، وجعله منار دينه وسراج توحيده وضياء برهانه أسفر به قناع الزور ودرس به معالم الفجور وأبطل به لهو الحديث، وخَسأ به من كان في الحق يعيث، أنفذ به من أحب من ملابسة الشبهة إلى الصراط المستقيم وجعل سبيلهم الأثر والاتباع؛ لينجيهم من أهوال اليوم العقيم وحماهم من الإحداث والابتداع ليكرمهم بالنعيم المقيم وكره إليهم اللهو والبطالة وأنقذهم من السخافة والجهالة وأكمل عليهم المنّة وأجزل عليهم النعيم بإتباعهم الكتاب والسنة.

...........(2) الذي نصب أعلام الرشاد وسلب التوفيق من أهل العناد، وصلى الله على أفضل العباد الهادي من أتبعه إلى سبيل الرشاد والمتبع أمر ربه عز وجل بحسن الانقياد صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وتابعيه إلى يوم التناد صلاة دائمة بلا فناء ولا نفاذ.

أما بعد ..

--------------------------------------------

(1) هذه الكلمة بالأصل لم أستطع قراءتها.

(2) كلمتان غير واضحتين بالأصل، والأقرب أنهما: " وأحمد الله".
অতএব, আমি প্রথমে শুরু করছি এবং বলছি:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের সত্যের অন্তর্দৃষ্টি দান করেছেন এবং কুরআন ও তার সাথে অবতীর্ণ হিকমত (প্রজ্ঞা) ও বয়ান (বর্ণনা)-এর অনুসরণের প্রতি আমাদের অনুরাগী করেছেন; এবং আমাদের নিকট সেই সম্প্রদায়কে ঘৃণিত করেছেন যারা গান শোনা এবং কিশোরদের সান্নিধ্য লাভের ক্ষেত্রে শয়তানের মতাদর্শের অনুসারী, আর আমাদের নিকট ঘৃণিত করেছেন তাদের সমগোত্রীয় সেই ‘আহলুল আদা আল-মাকায়িস’ (পরিমাপ ভিত্তিক সুরকারী)(১)-দেরও যারা ঈমানদারদের বিরুদ্ধাচরণকারী। আমরা প্রশংসা করি সেই আল্লাহর, যিনি অনাদিত্বে এক এবং জ্ঞান ও কুদরত (ক্ষমতা)-এ অদ্বিতীয়; এবং যিনি তাঁর প্রেরিত নবীর ওপর অবতীর্ণ কিতাবের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত সাব্যস্ত করেছেন। তিনি একে তাঁর দ্বীনের আলোকবর্তিকা, তাঁর তাওহীদের প্রদীপ এবং তাঁর প্রমাণের জ্যোতি বানিয়েছেন; যার মাধ্যমে তিনি মিথ্যার আবরণ উন্মোচন করেছেন এবং পাপাচারের চিহ্নসমূহ মিটিয়ে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি অসার কথপোকথনকে বাতিল করেছেন এবং সত্যের পথে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের লাঞ্ছিত করেছেন। তিনি যাকে ভালোবেসেছেন তাকে সন্দেহের সংশয় থেকে মুক্ত করে এর মাধ্যমে সরল পথে পরিচালিত করেছেন এবং তাদের পথ করেছেন ‘আসার’ (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) ও অনুকরণের পথ; যেন তিনি তাদের কঠিন দিবসের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করেন। তিনি তাদের নব-উদ্ভাবন ও বিদআত থেকে হিফাযত করেছেন যাতে তাদের চিরস্থায়ী নেয়ামত দিয়ে সম্মানিত করেন। তিনি তাঁদের নিকট খেল-তামাশা ও অকর্মণ্যতাকে অপ্রিয় করেছেন এবং নির্বুদ্ধিতা ও মূর্খতা থেকে উদ্ধার করেছেন; আর কিতাব ও সুন্নাহর অনুসরণের বদৌলতে তাঁদের ওপর স্বীয় অনুগ্রহ পূর্ণ করেছেন ও নেয়ামতকে সমৃদ্ধ করেছেন।

...........(২) যিনি হিদায়াতের নিশানসমূহ উড্ডীন করেছেন এবং হঠকারীদের থেকে তাওফিক ছিনিয়ে নিয়েছেন। আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক সর্বোত্তম বান্দার ওপর, যিনি তাঁর অনুসারীদের হিদায়াতের পথের দিশা দানকারী এবং যিনি তাঁর পরাক্রমশালী মহান রবের আদেশকে সর্বোত্তম আনুগত্যের সাথে পালনকারী। আল্লাহ দরুদ বর্ষণ করুন তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ ও কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁদের অনুসারীদের ওপর—এমন এক চিরস্থায়ী দরুদ যার কোনো বিনাশ বা শেষ নেই।

অতঃপর..

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে এই শব্দটি আমি পড়তে সক্ষম হইনি।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে শব্দ দুটি অস্পষ্ট, তবে নিকটতম পাঠ হলো: "এবং আমি আল্লাহর প্রশংসা করি"।
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ১৩)
فإنه لما كانت الهدايا تزرع الحب(1) وتضعفه وتولد الولاء [ق 3 /أ] وتُسعّفُه أحببت أن اذكر في كتابي هذا عن الأئمة السالفين وما نقلوا من الأخبار والآثار في ذم الغناء والرقص وصحبة أحداث المرد والنساء والإنكار على فاعليه؛ لينتفعوا به ويقصروا عن غيهم في الغناء واللعب موعظة ونصيحة وهدية مني إليهم من غَرَّ بهم ولم أجد هدية أنفس من الذكرى التي تنفع المؤمنين، والنصيحة التي قال رسول الله عليه السلام أنها الدين ألا وها أنا آتيكم بالهدايا السنية فاقبلوها ولا تردوها وقربوها ولا تبعدوها.

وأقول:

الناس يهدون على قدرهم … وإنما أهدي على قدري(2)

يهدون ما يفنى وأهدي الذي … بقى مد الأيام من صدري

وقد سألت الله مستنصرا … فإنه القادر في نصري

وها أنا أشرع فيما أرى … مستعصما بالله في أمري

ومما حَذاني- أي: ساقني - على ذلك أيضا إحياء الشريعة وإظهار كلمة الحق واقتفاء آثار رسول الله عليه السلام ومن سلف بعده من الأئمة لئلا يعدل بهم إلى مهوى وبدعة؛ لأن هذه الطائفة الضالة غلت في حب الرقص واستماع الغناء وصحبة أحداث المرد والنساء حتى اعتقدوا ذلك ديانًة وأن الرحمة تنزل عليهم عند اللعب، والملائكة تحفّ بهم حال الطرب، وكل هذا من المحدثات ومن البدع والضلالة، ومن الأمور العظام، المنكرات التي يجب على فاعلها التوبة إلى الله عز وجل،

--------------------------------------------

(1) يشير إلى ما رواه البخاري في "الأدب المفرد" (1/ 208) (594)، وأبو يعلى في "مسنده" (11/ 9) (6148)، والدولابي في "الكنى" (2/ 466) (842) ن تمام في "فوائده" (2/ 220) (1577)، والبيهقي في "الكبرى" (6/ 280)، وغيرهم من طريق ضمام بن إسماعيل، عن موسى بن وردان المصري عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «تهادوا تحابوا» وإسناده محتمل للتحسين وخاصة وأن له شواهد تقوى معناه.

(2) وهذا ثناء منه رحمه الله على نفسه ..
যেহেতু উপহারসমূহ ভালোবাসার চারা রোপণ করে(১) এবং তা শক্তিশালী ও আনুগত্য তৈরি করে [পত্র ৩/ক] এবং তাকে পুষ্ট করে, তাই আমি আমার এই গ্রন্থে পূর্বসূরি ইমামদের সম্পর্কে এবং গান ও নৃত্যের নিন্দা, শ্মশ্রুহীন যুবক ও নারীদের সাহচর্য এবং এসব কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের ওপর আপত্তি জ্ঞাপন সম্পর্কে তাঁদের বর্ণিত সংবাদ ও বর্ণনাগুলো উল্লেখ করা পছন্দ করেছি; যাতে তারা এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে এবং যারা প্রতারিত হয়েছে তাদের প্রতি আমার পক্ষ থেকে উপদেশ, নসিহত ও উপহার স্বরূপ তারা যেন গান ও খেলাধুলার বিভ্রান্তি থেকে বিরত থাকে। আর আমি মুমিনদের উপকারে আসে এমন উপদেশের চেয়ে এবং রাসুলুল্লাহ (আলাইহিস সালাম) যে নসিহতকে 'দ্বীন' বলেছেন তার চেয়ে মূল্যবান কোনো উপহার খুঁজে পাইনি। জেনে রাখুন, আমি আপনাদের নিকট মহান উপহারসমূহ নিয়ে এসেছি, সুতরাং তা গ্রহণ করুন, ফিরিয়ে দেবেন না এবং একে কাছে টেনে নিন, দূরে সরিয়ে দেবেন না।

আর আমি বলছি:

মানুষ তাদের মর্যাদা অনুযায়ী উপহার দেয় … আর আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী উপহার দিচ্ছি(২)

তারা উপহার দেয় এমন কিছু যা নশ্বর, আর আমি দিচ্ছি যা … আমার অন্তস্থল থেকে কালান্তরের তরে অবশিষ্ট রবে

আমি আল্লাহর নিকট সাহায্য চেয়ে প্রার্থনা করেছি … কেননা তিনি আমাকে সাহায্য করতে সক্ষম

আর এই যে আমি যা সমীচীন মনে করছি তা শুরু করছি … আমার সকল কাজে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে

আর যা আমাকে এই কাজে উদ্বুদ্ধ করেছে—অর্থাৎ পরিচালিত করেছে—তাহলো শরীয়তকে পুনরুজ্জীবিত করা, সত্যের বাণী প্রকাশ করা এবং রাসুলুল্লাহ (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর পরবর্তী ইমামগণের পদাঙ্ক অনুসরণ করা, যাতে কেউ প্রবৃত্তি বা বিদআতের গহ্বরে পতিত না হয়; কারণ এই পথভ্রষ্ট দলটি নৃত্য ও গান শ্রবণ এবং শ্মশ্রুহীন যুবক ও নারীদের সাহচর্যে এতটাই বাড়াবাড়ি করেছে যে, তারা একে ধর্মীয় অনুশাসন মনে করে নিয়েছে এবং বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে, আমোদ-প্রমোদের সময় তাদের ওপর রহমত নাযিল হয় এবং চিত্তবিনোদনের সময় ফেরেশতারা তাদের ঘিরে রাখে। এসবই নবউদ্ভাবিত বিষয়, বিদআত ও গোমরাহি এবং এমন সব গুরুতর গর্হিত কাজ যার কর্তার ওপর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার নিকট তওবা করা ওয়াজিব।

--------------------------------------------

(১) এটি সেই হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করছে যা ইমাম বুখারি 'আল-আদাবুল মুফরাদ' (১/২০৮) (৫৯৪), আবু ইয়ালা তাঁর 'মুসনাদ' (১১/৯) (৬১৪৮), আদ-দুলাবি 'আল-কুনা' (২/৪৬৬) (৮৪২), তাম্মাম তাঁর 'ফাওয়াইদ' (২/২২০) (১৫৭৭), বায়হাকি 'আল-কুবরা' (৬/২৮০) গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা দিমাম ইবনে ইসমাইল-এর সূত্রে মুসা ইবনে ওয়ারদান আল-মিসরি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «তোমরা একে অপরকে উপহার দাও, তবে তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টি হবে»। এর সনদটি হাসান বা গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, বিশেষ করে এর এমন অনেক সমর্থক বর্ণনা (শাওয়াহিদ) রয়েছে যা এর অর্থকে শক্তিশালী করে।

(২) এটি লেখক (রহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক নিজের প্রশংসা বিশেষ...
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ১৪)
ألا وهذه الطائفة من الذين أخبرنا الله عز وجل بحالهم في قوله تعالى [ق 3 / ب]: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ قَالُوا إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ (11) أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ وَلَكِنْ لَا يَشْعُرُونَ} [البقرة: 11، 12]؛ لأنهم محجوبون عن طريق الإنابة والهداية، {وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاسُ قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاءُ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاءُ وَلَكِنْ لَا يَعْلَمُونَ} [البقرة: 13] ألا وهذه الصفات كلها موجودة في هذه الطائفة أصلحها الله عز وجل وقرأت كتاب أن في بعض كتب الله القديمة: (ابن آدم خلقتك فلا تلعب)(1) ألا وهذا لعب ولهو وإن لم يكن حراما، وقيل في قوله تعالى: {وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَنْثُورًا} [الفرقان: 23] فإن جاءوا بأعمال ظنوها حسنات فإذا هي سيئات ألا وكذا فعلت هذه الطائفة ولقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم وصحابته رضوان الله عليهم يكرهون زيادة أشياء من أنواع أفعال الخير لم يكونوا يستعملونها وينهون الناس عن فعلها فكيف بزيادة اللهو واللعب والبدع والحوادث التي هي شر الأمور، وروي أن الأمام أحمد بن الحسين بن محمد الرازي(2)

--------------------------------------------

(1) لم أقف عليه، وقال تقي الدين ابن تيمية في "مجموع الفتاوى" (8/ 52): (حديث إسرائيلي)، وقال الشيخ العثيمين في "فتاوى الشيخ الصادرة من مركز الدعوة بعنيزة" (3/ 63): هذا الحديث غير صحيح.

(2) هو الإمام المحدث الحافظ الواعظ، أبو حاتم؛ أحمد بن الحسن بن محمد، الرازي البزاز أبوهن الملقب بخاموش. له رحلة ومعرفة وشهرة. من علماء السنة، وكان شيخ أهل الري في زمانه.

 

روي عن: أَبِي عبد الله الحسين بْن عليّ القطّان، وأحمد بن محمد بن إبراهيم المَرْوَزِيّ الفقيه، والحسين بن محمد المهلبي، والحافظ ابن مَنْدَهْ، وخلْق. روى عنه أبو منصور حجر بن المظفّر، وأبو بكر عبد الله بن الحسين التُّوَبيّ.

وحكاية شيخ الإسلام معه مشهورة لما قبض عليه بعض الجفاة، وحمله إلى أبي حاتم، وقال: إن هذا ذكر له مذهبا ما سمعت به، قال: هو حنبلي. فقال: دعه ويلك! من لم يكن حنبليا، فليس بمسلم. وترجمته في "تاريخ الإسلام" (9/ 484)، و "سير أعلام النبلاء" (13/ 251)
সাবধান! এই দলটি তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের অবস্থা সম্পর্কে মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণীতে সংবাদ দিয়েছেন [পৃষ্ঠা ৩ / খ]: {আর যখন তাদেরকে বলা হয়, "তোমরা জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করো না", তারা বলে, "আমরা তো কেবল সংশোধনকারী।" জেনে রেখো, তারাই মূলত ফাসাদ সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা অনুভব করে না} [আল-বাকারা: ১১, ১২]; কারণ তারা তওবা ও হেদায়েতের পথ থেকে অন্তরিত বা বঞ্চিত। {আর যখন তাদেরকে বলা হয়, "লোকেরা যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আনো", তারা বলে, "নির্বোধরা যেভাবে ঈমান এনেছে আমরাও কি সেভাবে ঈমান আনব?" জেনে রেখো, তারাই মূলত নির্বোধ, কিন্তু তারা তা জানে না} [আল-বাকারা: ১৩]। সাবধান! এই সকল বৈশিষ্ট্যই এই দলটির মাঝে বিদ্যমান, আল্লাহ তাদেরকে সংশোধন করুন। আমি একটি কিতাবে পড়েছি যে, আল্লাহর কতিপয় প্রাচীন কিতাবে রয়েছে: (হে আদম সন্তান! আমি তোমাকে ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি, অতএব তুমি খেলাধুলায় মেতে থেকো না)(১)। মনে রেখো, এটি হলো খেলাধুলা ও অনর্থক কাজ, যদিও তা সরাসরি হারাম না হয়। মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বলা হয়েছে: {আর আমি তাদের কৃতকর্মের দিকে অগ্রসর হব, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করব} [আল-ফুরকান: ২৩]। তারা এমন সব আমল নিয়ে উপস্থিত হবে যেগুলোকে তারা নেক আমল মনে করত, অথচ সেগুলো হবে গুনাহ বা পাপ। সাবধান! এই দলটি ঠিক এমনই করেছে। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এমন সব নেক আমলের নতুন পদ্ধতি বৃদ্ধি করাকেও অপছন্দ করতেন যা তাঁরা নিজেরা চর্চা করেননি এবং তাঁরা মানুষকে তা করতে নিষেধ করতেন। তাহলে অনর্থক কাজ, খেলাধুলা, বিদআত এবং নব-উদ্ভাবিত বিষয়াবলি বৃদ্ধি করার অবস্থা কী হতে পারে, যা নিকৃষ্টতম বিষয়? বর্ণিত আছে যে, ইমাম আহমদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আর-রাজি(২)

--------------------------------------------

(১) আমি এর কোনো উৎস খুঁজে পাইনি। তাকীউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ "মাজমুউল ফাতাওয়া" (৮/৫২) গ্রন্থে বলেছেন: (এটি একটি ইসরাঈলি বর্ণনা)। এবং শায়খ উসাইমীন "ফাতাওয়াশ শায়খ আস-সাদিরা মিন মারকাযিদ দাওয়াহ বি-উনাইযাহ" (৩/৬৩) গ্রন্থে বলেছেন: এই বর্ণনাটি সহীহ নয়।

(২) তিনি হলেন ইমাম, মুহাদ্দিস, হাফিয ও ওয়ায়েজ, আবু হাতিম আহমদ ইবনে আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আর-রাজি আল-বাযযায আবুহান, যার উপাধি ছিল খামুশ। ইলম অন্বেষণে তাঁর ভ্রমণ, গভীর জ্ঞান ও ব্যাপক খ্যাতি ছিল। তিনি সুন্নাহর আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাঁর সমকালে রায় (শহর)-এর আলেমদের প্রধান শায়খ ছিলেন।

 

তিনি বর্ণনা করেছেন: আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আলী আল-কাত্তান, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-মারওয়াযী আল-ফকিহ, আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আল-মুহাল্লাবী, হাফিয ইবনে মানদাহ এবং আরও অনেকের থেকে। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবু মনসুর হুজর ইবনে আল-মুযাফফর এবং আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হুসাইন আত-তুবী।

তাঁর সাথে শাইখুল ইসলামের একটি কাহিনী প্রসিদ্ধ আছে, যখন জনৈক রূঢ় ব্যক্তি তাঁকে পাকড়াও করে আবু হাতিমের কাছে নিয়ে গিয়েছিল এবং বলেছিল: এই ব্যক্তি এমন এক মাযহাবের কথা উল্লেখ করেছে যা আমি কখনো শুনিনি। তিনি বললেন: সে হাম্বলী। তখন তিনি বললেন: ওকে ছেড়ে দাও, তোমার ধ্বংস হোক! যে ব্যক্তি হাম্বলী নয়, সে তো মুসলিমই নয়। তাঁর জীবনী "তারিখুল ইসলাম" (৯/৪৮৪) এবং "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৩/২৫১) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ১৫)
رحمه الله تعالى قال: كلّما أحدث بعد نزول هذه الآية يعني بعد قوله تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي} [المائدة: 3] فهو فضل وزيادة وبدعة، قال أبو محمد الدشتي(1) رضي الله عنه وقد قال رسول الله عليه السلام: "كل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار"(2)

--------------------------------------------

(1) هو عم المؤلف، وكان له اهتمام خاص بابن أخيه. وهو محمود بن أبي القاسم إسفنديار بن بدران بن أيان، الزاهد،

العالم، أبو محمد الآنمي الدشتي الإربلي. سمع الكثير من جعفر الهمداني، وأبي الحسن ابن المقير، وأبي القاسم ابن رواحة، والضياء المقدسي، وابن خليل، وابن يعيش، وطبقتهم، وعني بالحديث، ونسخ الأجزاء، وخطه رديء، معروف. وكان قانعا، متعففا، صبورا على الفقر. وكان أمارا بالمعروف نهاء عن المنكر، داعية إلى السنة مجانبا للبدعة، يبالغ في الرد على نفاة الصفات الخبرية. وينال منهم سبا وتبديعا، وهم يرمونه بالتجسيم. وكان بريئا من ذلك رحمه الله،

توفي سنة 665 هـ وله تعاليق وتواليف منها: كتاب إثبات الحد، وكتاب في طرق حديث الأطيط، وكتاب في النهي عن الرقص والسماع، وجزء في الأمر بإخفاء الذكر، وترجمته في " النجوم الزاهرة (7/ 323)، التوضيح لابن ناصر (1/ 124)، حاشية الذيل على طبقات الحنابلة (4/ 90)، تاريخ الإسلام (15/ 121) وغيرها.

(2) هذا طرف من حديث جابر بنحوه في خطبة الحاجة الذي ورد عن النبي صلى الله عليه وسلم من طريق جعفر بن محمد عن أبيه عن جابر به.

وقد رواه عن جعفر بهذا الإسناد كل من عبد الوهاب بن عبد الحميد وسليمان بن بلال ويحيى بن سليم ومصعب بن سلامة ووهيب ويحيى بن سعيد وأبو موسى إسحاق بن موسى دون ذكر زيادة: (وكل ضلالة في النار).

ورواه عنه سفيان، وهو الثوري - كما جاء مصرحا به في رواية ابن بطة في الإبانة - بذكر الزيادة، ولكنه اختلف عليه فيها فرواها عن سفيان ابن المبارك ووكيع.

فأما ابن المبارك فزاد (وكل ضلالة في النار) عند النسائي، ابن خزيمة، والبيهقي، وابن بطة في الإبانة، وغيرهم.

وأما وكيع فاختلفت الرواية عنه فروى عنه عن سفيان أبو بكر ابن أبي شيبة، وعثمان وسالم بن جنادة:

فأما أبي بكر بن أبي شيبة فاختلف عليه فيها فرواه عنه مسلم في صحيحه بدون ذكر الزيادة، ورواها عنه أبو نعيم في المستخرج من طريق الفريابي، وعبيد بن غنام عنه بذكر الزيادة.

وأما عثمان وسالم بن جنادة فرواها عنه بذكر الزيادة عند أبي نعيم في المستخرج.

والخلاصة أن سفيان ذكر هذه الزيادة مع ثبوت الخلاف عنه فيها فرواها عنه ابن المبارك بلا اختلاف، ورواها عنه وكيع مع الاختلاف فمرة يذكرها، وأخرى لا.

وسفيان لم ينفرد بذكر هذه الزيادة فقد تابعه محمد بن منصور الزعفراني عن جعفر به بذكر الزيادة عند ابن بطة في الإبانة (2/ 85) حديث رقم (1491) ومحمد بن منصور هذا قال عنه ابن بطة: وكان ثقة.

وعليه فلا وجه لرد هذه الزيادة وإعلالها بالشذوذ؛ لعدم انفراد سفيان بها، فقد تابعه الزعفراني عند ابن بطة كما سبق بيانه، ويؤيد ثبوت هذه الزيادة وخطأ الحكم عليها بالشذوذ أمران:

الأول: أم هذه الزيادة بيانية غير مخالفة فالبدع محصورة في المحرم، والمكروه كراهة تحريمية، وهو مما يستوجب النار فلا يكون على هذا المعنى خروج البدع المكروهة تنزيهاً من البدع مخالفة بل تكون زيادة بيانية مقبولة.

الثاني: أن هذه الزيادة قد وردت من وجوه أخرى، وإن كانت بعضها لا يخلو من مقال إلا أنها بمجموعها تصلح للاحتجاج، وتدل على حفظ سفيان لهذه الزيادة، وهي:

1 - ما رواه ابن عساكر في تاريخه، أنبأنا أبو القاسم علي بن أحمد بن محمد بن بيان أنا أبو الفرج الحسين بن علي بن عبيد الله الطناجيري سنة سبع وثلاثين وأربعمائة أنا أبو حفص عمر بن أحمد بن شاهين نا عبيد الله بن عثمان العثماني نا عبد الأعلى بن حماد النرسينا عثمان بن عمرنا عكرمة نا عوف نا عبد الرحمن قال دخلت مسجد دمشق فإذا رجل من أصحاب النبي يحدثهم قال: قال رسول الله: " إياكم والبدع فإن كل بدعة ضلالة وكل ضلالة تصير إلى النار ". وهذا إسناد حسن فليس من رواته متهم إلا أنني لم أميز عكرمة، وأظنه عكرمة بن عمار العجلي. وقال عنه ابن حجر: صدوق يهم.

2 - ما رواه الطبراني من طريق عيسى بن ميمون عن محمد بن كعب القرظي عن بن عباس وعن القاسم بن محمد عن عائشة قالا ثم دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم المسجد فإذا أصوات كدوي النحل قراءة القرآن فقال: "إن الإسلام يشيع ثم تكون له فترة فمن كانت فترته إلى غلو وبدعة فأولئك أهل النار " وهذا إسناد ضعيف فيه عيسى بن ميمون قال عنه في التقريب: ضعيف، والحديث ضعفه الألباني في ضعيف الجامع.

3 - ما رواه أبو حاتم الخزاعي في جزئه، والدارقطني في الأفراد والقزويني في أخبار قزوين عن أبي أمامة رضي الله عنه مرفوعاً: " أصحاب البدع كلاب النار".والحديث ضعفه الألباني في ضعيف الجامع.

4 - وردت هذه الزيادة من قول عمر رضي الله عنه عند ابن وضاح بسند حسن.

5 - ووردت أيضاً من قول ابن مسعود بإسنادين فيهما مقال، الأول: عند الطبراني بسنده عن عبد الله قال: "إنما هما اثنتان الهدي والكلام وأصدق الحديث كلام الله وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها وكل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار"، وفيه إبراهيم الهجري، قال عنه الذهبي في الكاشف: ضعيف، وقال عنه ابن حجر في التقريب: لين الحديث.

ورواه المروزي في السنة من طريق عبد الله بن مردا عن ابن مسعود قال: " كل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار"، وفيه عنعنة الأعمش، وهو مدلس، وأيضاً عبد الله بن مرداس مجهول الحال، وقد ذكره ابن حبان في الثقات.
রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: এই আয়াতটি নাযিল হওয়ার পর অর্থাৎ মহান আল্লাহর এই বাণী: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম} [আল-মায়িদাহ: ৩] এর পর যা কিছু নতুন উদ্ভাবিত হয়েছে, তা অনর্থক, বাহুল্য এবং বিদআত। আবু মুহাম্মদ আদ-দাশতী(১) রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাম বলেছেন: "প্রত্যেক বিদআত হলো ভ্রান্তি, আর প্রত্যেক ভ্রান্তি হলো জাহান্নামে।"(২)

--------------------------------------------

(১) তিনি লেখকের চাচা এবং তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রের প্রতি তাঁর বিশেষ যত্ন ছিল। তিনি হলেন মাহমুদ ইবনে আবিল কাসিম ইসফান্দিয়ার ইবনে বদরান ইবনে আয়ান, একজন যাহিদ, আলিম, আবু মুহাম্মদ আল-আনমি আদ-দাশতী আল-ইরবিলি। তিনি জাফর আল-হামদানি, আবুল হাসান ইবনুল মুকাইয়ার, আবুল কাসিম ইবনে রাওয়াহা, আদ-দিয়া আল-মাকদিসি, ইবনে খলিল, ইবনে ইয়াইশ এবং তাঁদের সমসাময়িকদের থেকে অনেক হাদীস শুনেছেন। তিনি হাদীসের প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি অনুলিপি করতেন, তবে তাঁর হস্তাক্ষর ছিল সাধারণ ও পরিচিত। তিনি অল্পে তুষ্ট, পরহেযগার এবং দারিদ্র্যে ধৈর্যশীল ছিলেন। তিনি সৎকাজের আদেশ দিতেন, অসৎকাজে নিষেধ করতেন, সুন্নাহর দিকে আহ্বানকারী ছিলেন এবং বিদআত থেকে দূরে থাকতেন। তিনি সংবাদমূলক গুণাবলী (সিফাত আল-খাবারিয়্যাহ) অস্বীকারকারীদের খণ্ডন করতে কঠোরতা অবলম্বন করতেন। তাদের পক্ষ থেকে তিনি গালমন্দ ও বিদআতী আখ্যায় ভূষিত হতেন এবং তারা তাঁর ওপর আল্লাহর সাদৃশ্য আরোপের (তাজসিম) অপবাদ দিত। অথচ তিনি এসকল বিষয় থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিলেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

তিনি ৬৬৫ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বেশ কিছু টীকা ও রচনা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: 'কিতাব ইসবাতুল হাদ্দ', 'তুরুকু হাদীসিল আতীত' (আতীত হাদীসের সূত্রসমূহ) সংক্রান্ত গ্রন্থ, নৃত্য ও গান নিষিদ্ধকরণ সম্পর্কিত গ্রন্থ, এবং যিকর গোপন করার নির্দেশ সংক্রান্ত একটি রিসালাহ। তাঁর জীবনী পাওয়া যাবে: 'আন-নুজুম আয-যাহিরা' (৭/৩২৩), ইবনে নাসিরের 'আত-তাওদিহ' (১/১২৪), 'হাশিয়াতুয যায়লি আলা তাবাকাতিল হানাবিলা' (৪/৯০), 'তারীখুল ইসলাম' (১৫/১২১) এবং অন্যান্য গ্রন্থে।

(২) এটি জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত 'খুতবাতুল হাজাহ'-এর হাদীসের একটি অংশ, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে জাফর ইবনে মুহাম্মদ তাঁর পিতা এবং তাঁর পিতা জাবির (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

জাফরের থেকে এই সনদে আব্দুল ওয়াহাব ইবনে আব্দুল হামিদ, সুলাইমান ইবনে বিলাল, ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইম, মুসআব ইবনে সালামাহ, ওয়ুহাইব, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ এবং আবু মুসা ইসহাক ইবনে মুসা বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁরা "এবং প্রত্যেক ভ্রান্তিই জাহান্নামে" কথাটি উল্লেখ করেননি।

সুফিয়ান আস-সাওরী জাফরের থেকে এই বর্ধিত অংশটিসহ বর্ণনা করেছেন—যেমনটি ইবনে বাত্তাহ-এর আল-ইবানাহ গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে—তবে সুফিয়ান থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে মতভেদ ঘটেছে; সুফিয়ান থেকে ইবনুল মুবারক ও ওয়াকী' এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনুল মুবারক আন-নাসায়ী, ইবনে খুযাইমাহ, আল-বাইহাকী, ইবনে বাত্তাহ ও অন্যদের বর্ণনায় "এবং প্রত্যেক ভ্রান্তিই জাহান্নামে" অংশটি বৃদ্ধি করেছেন।

অন্যদিকে ওয়াকী' থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখা যায়; ওয়াকী' থেকে সুফিয়ানের সূত্রে আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ, উসমান এবং সালিম ইবনে জুনাবাহ এটি বর্ণনা করেছেন:

আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রেও ভিন্নতা রয়েছে; মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি ওই বর্ধিত অংশ ছাড়াই বর্ণনা করেছেন, কিন্তু আবু নুয়াইম আল-মুস্তাখরাজ গ্রন্থে আল-ফারইয়াবি ও উবাইদ ইবনে গান্নামের সূত্রে এই বর্ধিত অংশসহ বর্ণনা করেছেন।

উসমান ও সালিম ইবনে জুনাবাহ আবু নুয়াইম-এর আল-মুস্তাখরাজ-এ বর্ধিত অংশসহ এটি বর্ণনা করেছেন।

সারকথা হলো, সুফিয়ান এই বর্ধিত অংশটি উল্লেখ করেছেন যদিও তাঁর থেকে বর্ণনায় দ্বিমত রয়েছে; ইবনুল মুবারক তাঁর থেকে কোনো দ্বিমত ছাড়াই এটি বর্ণনা করেছেন, তবে ওয়াকী'র বর্ণনায় মতভেদ দেখা যায়; তিনি কখনও এটি উল্লেখ করেছেন আবার কখনও করেননি।

সুফিয়ান একা এই অংশটি বর্ণনা করেননি, বরং মুহাম্মদ ইবনে মনসুর আয-যাফরানী জাফরের সূত্রে ইবনে বাত্তাহ-এর আল-ইবানাহ (২/৮৫, হাদীস নং ১৪৯১) গ্রন্থে এই বর্ধিত অংশসহ বর্ণনা করেছেন। ইবনে বাত্তাহ এই মুহাম্মদ ইবনে মনসুর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) ছিলেন।

সুতরাং, এই বর্ধিত অংশটি প্রত্যাখ্যান করার বা একে 'শায' (বিচ্ছিন্ন) হিসেবে গণ্য করার কোনো অবকাশ নেই, কারণ সুফিয়ান এটি বর্ণনায় একা ছিলেন না। ইতিপূর্বে বর্ণিত আয-যাফরানীও ইবনে বাত্তাহ-এর বর্ণনায় তাঁকে অনুসরণ করেছেন। এই বর্ধিত অংশটি সাব্যস্ত হওয়ার সপক্ষে এবং একে 'শায' বলা ভুল হওয়ার পেছনে দুটি কারণ রয়েছে:

প্রথমত: এই বর্ধিত অংশটি পূর্বের কথার ব্যাখ্যাস্বরূপ, কোনো বিরোধী বিষয় নয়। কেননা বিদআত হারাম অথবা মাকরূহে তাহরীমীর মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ। এই অর্থে মাকরূহে তানযীহী বিদআত এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে না, বরং এটি একটি গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যামূলক বর্ণনা।

দ্বিতীয়ত: এই বর্ধিত অংশটি অন্যান্য সূত্র থেকেও বর্ণিত হয়েছে, যদিও সেগুলোর কোনো কোনোটি নিয়ে কথা আছে, তবে সব মিলিয়ে তা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য এবং এটি সুফিয়ানের সংরক্ষণের দৃঢ়তা প্রমাণ করে। সেগুলো হলো:

১ - ইবনে আসাকির তাঁর ইতিহাসে বর্ণনা করেছেন, আবু কাসিম আলী ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বায়ান আমাদের জানিয়েছেন যে, আবু ফরাজ আল-হুসাইন ইবনে আলী ইবনে উবাইদুল্লাহ আত-তানাজিরি আমাদের জানিয়েছেন ৪৩৭ হিজরীতে, আবু হাফস উমর ইবনে আহমদ ইবনে শাহীন আমাদের জানিয়েছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে উসমান আল-উসমানী থেকে, তিনি আব্দুল আলা ইবনে হাম্মাদ আন-নারসি থেকে, তিনি উসমান ইবনে উমর থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি আউফ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি দামেস্কের মসজিদে প্রবেশ করলাম এবং সেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক সাহাবীকে লোকদের কাছে হাদীস বর্ণনা করতে দেখলাম। তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা বিদআত থেকে বেঁচে থাকো, কারণ প্রত্যেক বিদআত হলো ভ্রান্তি এবং প্রত্যেক ভ্রান্তি জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়।" এটি একটি হাসান (উত্তম) সনদ, এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে কেউ অভিযুক্ত নন, তবে আমি ইকরিমাহকে নির্দিষ্ট করতে পারিনি, সম্ভবত তিনি ইকরিমাহ ইবনে আম্মার আল-ইজলি। তাঁর সম্পর্কে ইবনে হাজার বলেছেন: 'সত্যবাদী তবে ভুল করেন'।

২ - তাবারানী ঈসা ইবনে মাইমুন-এর সূত্রে মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাজী থেকে ইবনে আব্বাস ও আল-কাসিম ইবনে মুহাম্মদের সূত্রে আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: অতপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং মৌমাছির গুঞ্জনের মতো কুরআন তিলাওয়াতের শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি বললেন: "ইসলাম প্রসারিত হবে, তারপর একটি স্থবিরতার সময় আসবে। যার স্থবিরতা সীমা লঙ্ঘন ও বিদআতের দিকে হবে, তারা জাহান্নামী।" এটি একটি যঈফ (দুর্বল) সনদ, কারণ ঈসা ইবনে মাইমুন সম্পর্কে আত-তাকরীব-এ বলা হয়েছে: তিনি যঈফ। আলবানী একে যঈফ আল-জামি গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন।

৩ - আবু হাতিম আল-খুযাঈ তাঁর গ্রন্থে, দারাকুতনী আল-আফরাদ-এ এবং কাযওয়ীনী আখবারু কাযওয়ীন-এ আবু উমামা (রা.) থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "বিদআতীরা জাহান্নামের কুকুর।" আলবানী এই হাদীসটিকেও যঈফ আল-জামি গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন।

৪ - ইবনে ওয়াদদাহ-এর বর্ণনায় উমর (রা.)-এর উক্তি হিসেবে এই বর্ধিত অংশটি হাসান সনদে বর্ণিত হয়েছে।

৫ - ইবনে মাসউদের উক্তি হিসেবেও দুটি সূত্রে এটি বর্ণিত হয়েছে যেগুলোতে আপত্তি রয়েছে। প্রথমটি: তাবারানীর বর্ণনায় তাঁর সনদে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "পথনির্দেশনা এবং কথা—এই দুটিই প্রধান। আল্লাহর কথাই শ্রেষ্ঠ কথা এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখানো পথই সর্বোত্তম পথ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রত্যেক নতুন বিষয়ই বিদআত, আর প্রত্যেক বিদআত হলো ভ্রান্তি এবং প্রত্যেক ভ্রান্তিই জাহান্নামে।" এই সনদে ইব্রাহিম আল-হিজরী রয়েছেন, যাহাবী তাকে 'কাশেফ' গ্রন্থে দুর্বল এবং ইবনে হাজার 'তাকরীব' গ্রন্থে 'লাইয়্যিনুল হাদীস' (হাদীস বর্ণনায় শিথিল) বলেছেন।

আল-মারওয়াযী 'সুন্নাহ' গ্রন্থে আব্দুল্লাহ ইবনে মিরদাস-এর সূত্রে ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে: "প্রত্যেক নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রত্যেক বিদআত হলো ভ্রান্তি এবং প্রত্যেক ভ্রান্তিই জাহান্নামে।" এই সনদে আমাশ-এর 'আন'আনা' (কর্তৃক বর্ণনার ধরণ) রয়েছে এবং তিনি 'মুদাল্লিস' ছিলেন। এছাড়াও আব্দুল্লাহ ইবনে মিরদাস অজ্ঞাত পরিচয় (মাজহুলুল হাল), যদিও ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্যদের (সিকাহ) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقال ابن عمر رضي الله عنهما: "كل بدعة ضلالة وإن رآها الناس حسنة "(1)، وقال الإمام أحمد بن حنبل رضي الله عنه: "أصول السنة عندنا التمسك بما كان عليه أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم والاقتداء بهم [ق 4 /أ] وترك البدع وكل بدعة ضلالة وترك المراء والجدال والخصومات في الدين وترك كلما أحدثه المحدثون والسنة عندنا أثر رسول الله عليه السلام والسنة تفسر القرآن وهي دلائل القرآن وليست السنة قياس ولا تضرب بها الأمثال ولا تدرك بالعقول والأهواء، إنما هي الإتباع وترك الهوى"(2). وقال الجنيد(3) رضي الله عنه(4):

--------------------------------------------

(1) إسناده صحيح - أخرجه المروزي في "السنة" (ص/29) (82)، وابن بطة في "الإبانة" (1/ 339) (205)، واللالكائي في "اعتقاد أهل السنة" (1/ 104) (126)، والبيهقي في "المدخل" (ص/180) (191)، وغيرهم من طريق هشام بن الغاز عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما به، ورواته ثقات، والأثر صحيح.

(2) رواه اللالكائي في "اعتقاد أهل السنة" (1/ 175) (317)، وأبو يعلى في "طبقات الحنابلة" (1/ 241)، وغيرهما من طريق عثمان بن أحمد بن عبد الله بن بريد الدقيقي عن أبي محمد الحسن بن عبد الوهاب أبي العنبر عن أبي جعفر محمد بن سليمان - ووقع عند أبي يعلى: سليمان بن محمد - المنقري عن عبدوس بن مالك العطار قال: سمعت أبا عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل يقول: فذكره مطولا به.

(3) هو الجنيد بن محمد بن الجنيد أبو القاسم الخزاز ويقال القواريري، أصله من نهاوند إلا أن مولده ومنشأه ببغداد، وسمع بها الحديث، ولقي العلماء، ودرس الفقه على أبي ثور، وصحب جماعة من الصالحين، واشتهر منهم بصحبة الحارث المحاسبي، وسري السقطي. ثم اشتغل بالعبادة ولازمها حتى علت سنه، وصار شيخ وقته، وفريد عصره في علم الأحوال والكلام على لسان الصوفية، وطريقة الوعظ. وله أخبار مشهورة، توفي سنة سبع وتسعين ومائتين، له رسائل منها ما كتبه إلى بعض إخوانه، ومنها ما هو في التوحيد والألوهية، والغناء، ومسائل أخرى. وترجمته في: سير أعلام النبلاء (14/ 66) (34)، طبقات الشافعية (2/ 260) (60)، تاريخ الإسلام (6/ 924) (146)، الأعلام للزركلي (2/ 141)، وغيرها.

(4) قال النووي في " الأذكار" (ص: 118): "يُستحبّ الترضّي والترحّم على الصحابة والتابعين فمن بعدهم من العلماء والعبَّاد وسائر الأخيار، فيقال: رضي الله عنه، أو رحمه الله، ونحو ذلك … " ..
وقال ابن عمر رضي الله عنهما: "كل بدعة ضلالة وإن رآها الناس حسنة "(১)، وقال الإمام أحمد بن حنبل رضي الله عنه: "أصول السنة عندنا التمسك بما كان عليه أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم والاقتداء بهم [পৃ ৪/ক] وترك البدع وكل بدعة ضلالة وترك المراء والجدال والخصومات في الدين وترك كلما أحدثه المحدثون والسنة عندنا أثر رسول الله عليه السلام والسنة تفسر القرآن وهي دلائل القرآن وليست السنة قياس ولا تضرب بها الأمثال ولا تدرك بالعقول والأهواء، إنما هي الإتباع وترك الهوى"(২)। وقال الجنيد(৩) رضي الله عنه(৪):

--------------------------------------------

(১) এর সনদ সহীহ - আল-মারওয়াযী তাঁর 'আস-সুন্নাহ' (পৃ./২৯) (৮২) গ্রন্থে, ইবনে বাত্তাহ 'আল-ইবানাহ' (১/ ৩৩৯) (২০৫) গ্রন্থে, আল-লালাকায়ী 'ইতিরাদ আহলিস সুন্নাহ' (১/ ১০৪) (১২৬) গ্রন্থে, আল-বাইহাকী 'আল-মাদখাল' (পৃ./১৮০) (১৯১) গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা হিশাম বিন আল-গায সূত্রে নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য এবং বর্ণনাটি (আসার) সহীহ।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন আল-লালাকায়ী 'ইতিরাদ আহলিস সুন্নাহ' (১/ ১৭৫) (৩১৭) গ্রন্থে, আবু ইয়া'লা 'তাবাকাতুল হানাবিলাহ' (১/ ২৪১) গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা উসমান বিন আহমাদ বিন আবদুল্লাহ বিন বারীদ আদ-দাকীকী সূত্রে আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আবদুল ওয়াহহাব আবু আল-আনবার থেকে, তিনি আবু জাফর মুহাম্মদ বিন সুলাইমান—আবু ইয়া'লার নিকট সুলাইমান বিন মুহাম্মদ এসেছে—আল-মানকারী থেকে, তিনি আবদুস বিন মালিক আল-আত্তার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি (আবদুস) বলেন: আমি আবু আবদুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বলকে বলতে শুনেছি, অতঃপর তিনি বিস্তারিতভাবে এটি উল্লেখ করেন।

(৩) তিনি হলেন জুনাইদ বিন মুহাম্মদ বিন জুনাইদ আবু আল-কাসিম আল-খায্যায, তাকে আল-কাওয়ারীরীও বলা হয়। তাঁর পৈত্রিক নিবাস নেহাওয়ান্দ হলেও তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাগদাদে। সেখানেই তিনি হাদীস শ্রবণ করেছেন এবং আলেমদের সান্নিধ্য লাভ করেছেন। তিনি আবু সাউরের নিকট ফিকহ অধ্যয়ন করেন এবং একদল নেককার লোকের সাহচর্য লাভ করেন, যাদের মধ্যে হারিস আল-মুহাসিবী এবং সাররী আস-সাকাতীর সাহচর্যের জন্য তিনি সমধিক পরিচিত। অতঃপর তিনি ইবাদত-বন্দেগীতে মগ্ন হন এবং আমৃত্যু তাতে অবিচল থাকেন। তিনি তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ শায়খ এবং আধ্যাত্মিক অবস্থা ও সূফী পরিভাষার ইলম এবং ওয়াজ-নসিহতের ক্ষেত্রে অদ্বিতীয় ব্যক্তিতে পরিণত হন। তাঁর সম্পর্কে অনেক প্রসিদ্ধ বিবরণ রয়েছে। তিনি ২৯৭ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বেশ কিছু পত্রাবলি রয়েছে, যার মধ্যে কিছু তিনি তাঁর ভাইদের নিকট লিখেছিলেন এবং কিছু তাওহীদ, উলুহিয়্যাত, আধ্যাত্মিক অবস্থা ও অন্যান্য মাসআলা সম্পর্কিত। তাঁর জীবনী পাওয়া যাবে: সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৪/ ৬৬) (৩৪), তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ (২/ ২৬০) (৬০), তারিখুল ইসলাম (৬/ ৯২৪) (১৪৬), আলাম লিয যিরিকলী (২/ ১৪১) প্রভৃতি গ্রন্থে।

(৪) ইমাম নববী 'আল-আযকার' (পৃ: ১১৮) গ্রন্থে বলেন: "সাহাবী, তাবিঈ এবং তাঁদের পরবর্তী আলেম, আবিদ ও অন্যান্য নেককারদের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও রহমত (রাহিমাহুল্লাহ) কামনা করা মুস্তাহাব। সুতরাং বলা হবে: রাদিয়াল্লাহু আনহু অথবা রাহিমাহুল্লাহ এবং অনুরূপ শব্দসমূহ…" ..
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ১৭)
الطرق كلها مسدودة على الخلق إلا على من اقتفى أثر رسول الله عليه السلام ولزم طريقته، فإن أبواب الخيرات كلها مفتوحة عليه، وقال أبو علي بن الحسن بن علي الجرجاني رحمة الله عليه: أصح الطرق وأعمرها وأبعدها من الشبهات إتباع السنة قولاً وفعلاً وعزمًا وعقدًا؛ لأن الله عز وجل يقول: {وَإِنْ تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا} [النور: 54]، فقيل له: كيف الطريق لاتباع السنة؟ قال: بمجانبة البدع وإتباع ما اجتمع عليه الصدر الأول من علماء الإسلام والتباعد من مجالسة الكلام وأهله، ولزوم طريقة الاقتداء بذلك إبراهيم عليه السلام بقوله تعالى: {ثُمَّ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ أَنِ اتَّبِعْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا} [النحل: 123] ألا فقد روى ابن مسعود رضي الله عنه قال: "إِنَّكُمْ سَتُحْدِثُونَ وَيُحْدَثُ عَلَيْكُمْ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ مُحْدَثًا فَعَلَيْكُمْ بِالْأَمْرِ الْأَوَّلِ"(1).

--------------------------------------------

(1) حسن لغيره - أخرجه المروزي في "السنة" (ص/29) (80) من طريق عيسى بن يونس، وابن بطة في "الإبانة" (1/ 329)) (180) من طريق جرير، كلاهما عن الأعمش عن جامع بن شداد عن أبي الشعثاء سليم بن أسود عن ابن مسعود بنحوه، وهذا إسناد صحيح رواته ثقات، إلا أن الأعمش مدلس وقد عنعنه.

ورواه النسائي في "جزئه" (ص/59) (21) من طريق أبي معاوية، وابن بطة في "الإبانة" (1/ 330) (183) من طريق أبي عوانة - كلاهما - عن الأعمش عن جامع بن شداد عن الأسود بن هلال عن ابن مسعود بنحوه، وهذا إسناد صحيح رواته ثقات، إلا أن الأعمش قد عنعنه.

ورواه عن الأعمش حفص بن غياث عند الدارمي في "سننه" (1/ 270) (174)، ولكنه أرسله فقال: عن ابن مسعود بنحوه، قال حفص: "كنت أسند عن حبيب، عن أبي عبد الرحمن، ثم دخلني منه شك ".

 

والأعمش لم ينفرد به فقد روى وكيع في "الزهد" (ص/591) (316)، وابن بطة في "الإبانة" (1/ 330) (182) من طريق سفيان الثوري عن حبيب بن أبي ثابت عن عمارة بن عمير عن ابن مسعود بنحوه، ورواته ثقات إلا أن حبيبا مدلس، والإسناد منقطع بين عمارة وابن مسعود، والأثر يتقوى من هذا الطريق وطريق الأعمش.
সৃষ্টির জন্য সকল পথ রুদ্ধ, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে এবং তাঁর তরীকাকে আঁকড়ে ধরেছে; তবেই তার জন্য কল্যাণের সকল দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যায়। আবু আলী বিন হাসান বিন আলী আল-জুরজানী রহিমাহুল্লাহ বলেন: সর্বাধিক বিশুদ্ধ, সমৃদ্ধ এবং সংশয়মুক্ত পথ হলো কথা, কাজ, সংকল্প এবং বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সুন্নাহর অনুসরণ করা; কারণ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বলেন: {আর তোমরা যদি তাঁর আনুগত্য করো, তবেই তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে} [আন-নূর: ৫৪]। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: সুন্নাহ অনুসরণের পথ কী? তিনি বললেন: বিদআত বর্জন করা, ইসলামের প্রথম যুগের উলামায়ে কিরাম যে বিষয়ে একমত হয়েছিলেন তার অনুসরণ করা, ইলমে কালাম ও তার ধারকদের মজলিস থেকে দূরে থাকা এবং ইবরাহীম আলাইহিস সালামের অনুসরণের নীতিকে আঁকড়ে ধরা; মহান আল্লাহর এই বাণীর আলোকে: {অতঃপর আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠালাম যে, আপনি একনিষ্ঠ হয়ে ইবরাহীমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ করুন} [আন-নাহল: ১২৩]। জেনে রাখুন, ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই তোমরা নতুন নতুন বিষয়ের উদ্ভব ঘটাবে এবং তোমাদের জন্য নতুন নতুন বিষয়ের উদ্ভব ঘটানো হবে; সুতরাং যখন তোমরা কোনো নবউদ্ভাবিত বিষয় দেখবে, তখন তোমাদের জন্য আদি বিষয়ের (সুন্নাহর) ওপর অবিচল থাকা আবশ্যক"(১)।

--------------------------------------------

(১) হাসান লি-গাইরিহি - আল-মারওয়াযী এটি তাঁর "আস-সুন্নাহ" গ্রন্থে (পৃ. ২৯) (৮০) ঈসা ইবনে ইউনুসের সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে বাত্তাহ তাঁর "আল-ইবানাহ" গ্রন্থে (১/ ৩২৯) (১৮০) জারীরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ে আ'মাশ থেকে, তিনি জামে' বিন শাদ্দাদ থেকে, তিনি আবুশ শা'সা সুলাইম বিন আসওয়াদ থেকে এবং তিনি ইবনে মাসউদ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এই সনদটি সহীহ এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে আ'মাশ মুদাল্লিস এবং তিনি এখানে 'আন' যোগে বর্ণনা করেছেন।

আন-নাসায়ী এটি তাঁর "জুয" গ্রন্থে (পৃ. ৫৯) (২১) আবু মুআবিয়ার সূত্রে এবং ইবনে বাত্তাহ তাঁর "আল-ইবানাহ" গ্রন্থে (১/ ৩৩০) (১৮৩) আবু আওয়ানার সূত্রে বর্ণনা করেছেন—তাঁরা উভয়েই আ'মাশ থেকে, তিনি জামে' বিন শাদ্দাদ থেকে, তিনি আসওয়াদ বিন হিলাল থেকে এবং তিনি ইবনে মাসউদ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এই সনদটি সহীহ এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে আ'মাশ এখানে 'আন' যোগে বর্ণনা করেছেন।

আ'মাশ থেকে এটি হাফস বিন গিয়াস বর্ণনা করেছেন, যা আদ-দারেমী তাঁর "সুনান" গ্রন্থে (১/ ২৭০) (১৭৪) উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি তা মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন: ইবনে মাসউদ থেকে অনুরূপ বর্ণিত। হাফস বলেন: "আমি হাবীব থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান থেকে সনদসহ বর্ণনা করতাম, কিন্তু পরে এ নিয়ে আমার মনে সংশয় সৃষ্টি হয়"।

 

আ'মাশ এ বর্ণনায় একক নন; বরং ওয়াকী' তাঁর "আয-যুহদ" গ্রন্থে (পৃ. ৫৯১) (৩১৬) এবং ইবনে বাত্তাহ তাঁর "আল-ইবানাহ" গ্রন্থে (১/ ৩৩০) (১৮২) সুফিয়ান আস-সাওরীর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি হাবীব বিন আবি সাবিত থেকে, তিনি উমারাহ বিন উমায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে মাসউদ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে হাবীব মুদাল্লিস এবং উমারাহ ও ইবনে মাসউদের মাঝে সনদটি বিচ্ছিন্ন। তবে এই সূত্র এবং আ'মাশের সূত্রের মাধ্যমে এই আসার (বর্ণনা)টি শক্তিশালী হয়।
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ১৮)
وروى الإمام علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال: "لا خير في عبادة ليس فيها تفقه، ولا خير في تفقه ليس فيه تفهم، ولا خير في قراءة ليس فيها تدبر"(1)

--------------------------------------------

(1) حسن لغيره موقوفا، منكر مرفوعا - أخرجه أبو داود في "الزهد" (ص/115) (104)، والآجري في "أخلاق العلماء" (ص/72)، وابن بشران في "أماليه" (ص/383) (882)، وأبو نعيم في "الحلية" (1/ 77)، والخطيب في"الفقيه والمتفقه" (2/ 339) من طريق زياد بن خيثمة عن أبي إسحاق عن عاصم بن ضمرة عن علي مطولا بنحوه، وهذا إسناد ضعيف فيه أبو إسحاق السبيعي، مدلس، وقد عنعنه، وهو أيضا اختلط، وقد ذكر الشيخ حسين أسد أن زيادا متأخر السماع من أبي إسحاق.

ورواه أيضا الخطيب في "الفقيه والمتفقه" (2/ 338) من طريق الصباح بن يحيى المزني ، عن أبي إسحاق ، عن الحارث ، عن علي مطولا بنحوه، والأقرب ندي أن الحارث هو بن عبدالله الأعور، وقال عنه في "التقريب": "في حديثه ضعف، كذبه الشعبي في رأيه" كما أن فيه عنعنة أبي إسحاق.

ورواه: زهير في "العلم" (ص/33) (143) والدارمي في "سننه" (1/ 338 - 339) (305، 306)، وابن الضريس في "فضائل القرآن" (ص/94) (69)، وابن بطة في "الإبانة" (2/ 753) (1050)، من طريق ليث بن أبي سليم عن يحيى بن عباد عن علي مطولا بنحوه، وفيه ليث وهو صدوق اختلط جدا ولم يتميز حديثه فترك، كما أن الإسناد منقطع بين يحيى وعلي، والأثر يتقوى من الطريقين السابقين.

تنبيه:

ورد الأثر مرفوعا عند ابن عبد البر في "جامع بيان العلم" (2/ 811) (1510)، وغيره من طريق عقبة بن نافع، عن إسحاق بن أسيد، عن أبي مالك، وأبي إسحاق، عن علي بن أبي طالب مرفوعا مطولا بنحوه وقال ابن عبد البر: " " لا يأتي هذا الحديث مرفوعا إلا من هذا الوجه، وأكثرهم يوقفونه على علي رضي الله عنه"، وقال الشيخ الألباني في "الضعيفة" (734) بعد أن حكم عليه بالنكارة وحكي كلام ابن عبدالبر السابق: (وهو الأشبه - أي الحكم عليه بالوقف - فإن هذا الإسناد المرفوع فيه علتان: الأولى: إسحق بن أسيد وهو أبو محمد المروزي نزيل مصر، قال الحافظ: " فيه ضعف ". والأخرى: عقبة بن نافع فإنه مجهول، أورده ابن أبي حاتم (3/ 1 / 317) برواية ابن وهب فقط عنه ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا).
ইমাম আলি ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "ঐ ইবাদতে কোনো কল্যাণ নেই যাতে দ্বীনি বোধ (তাফাক্কুহ) নেই, ঐ বোধে কোনো কল্যাণ নেই যাতে সঠিক উপলব্ধি (তাফাহহুম) নেই এবং ঐ তিলাওয়াতে কোনো কল্যাণ নেই যাতে গভীর চিন্তা-গবেষণা (তাদাব্বুর) নেই।"(১)

--------------------------------------------

(১) এটি মওকুফ (সাহাবীর বক্তব্য) হিসেবে 'হাসান লি-গাইরিহি', কিন্তু মারফু (রাসূলুল্লাহর বক্তব্য) হিসেবে 'মুনকার'। ইমাম আবু দাউদ 'আয-যুহদ' (পৃ. ১১৫, নং ১০৪), আল-আজুররি 'আখলাকুল উলামা' (পৃ. ৭২), ইবনে বুশরান তাঁর 'আমালি' (পৃ. ৩৮৩, নং ৮৮২), আবু নুআইম 'আল-হিলয়াহ' (১/ ৭৭) এবং আল-খাতিব 'আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাককিহ' (২/ ৩৩৯) গ্রন্থে যিয়াদ বিন খাইসামা-এর সূত্রে আবু ইসহাক থেকে, তিনি আসিম বিন দামরাহ থেকে এবং তিনি আলি থেকে দীর্ঘ বর্ণনায় অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এটি একটি দুর্বল সনদ, কারণ এতে আবু ইসহাক আস-সাবিঈ রয়েছেন, যিনি একজন 'মুদাল্লিস' এবং এখানে 'আন' (عنعنة) শব্দে বর্ণনা করেছেন। অধিকন্তু তিনি বার্ধক্যে স্মৃতিভ্রষ্ট (ইখতিলাত) হয়েছিলেন। শাইখ হুসাইন আসাদ উল্লেখ করেছেন যে, আবু ইসহাক থেকে যিয়াদের শ্রবণ পরবর্তী সময়ের।

আল-খাতিব 'আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাককিহ' (২/ ৩৩৮) গ্রন্থে আস-সাব্বাহ বিন ইয়াহইয়া আল-মুযানি-এর সূত্রে আবু ইসহাক থেকে, তিনি আল-হারিস থেকে এবং তিনি আলি থেকে অনুরূপ দীর্ঘ বর্ণনা করেছেন। আমার নিকট অধিকতর সঠিক যে, আল-হারিস হলেন আল-হারিস বিন আবদুল্লাহ আল-আওয়ার। 'আত-তাক্বরিব' গ্রন্থে তার সম্পর্কে বলা হয়েছে: "তার হাদিসে দুর্বলতা আছে, আশ-শা'বি তাকে তার মতামতের ক্ষেত্রে মিথ্যুক বলেছেন।" এছাড়া এতে আবু ইসহাকের 'আন'আনা' বিদ্যমান।

এটি বর্ণনা করেছেন: যুহাইর 'আল-ইলম' (পৃ. ৩৩, নং ১৪৩), আদ-দারিমি তাঁর 'সুনান' (১/ ৩৩৮-৩৩৯, নং ৩০৫, ৩০৬), ইবনে আদ-দুরাইস 'ফাদায়িলুল কুরআন' (পৃ. ৯৪, নং ৬৯) এবং ইবনে বাত্তাহ 'আল-ইবানাহ' (২/ ৭৫৩, নং ১০৫০) গ্রন্থে লাইস বিন আবি সুলাইম-এর সূত্রে ইয়াহইয়া বিন আব্বাদ থেকে এবং তিনি আলি থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এতে লাইস রয়েছেন, যিনি সত্যবাদী (সাদুক) হলেও ভীষণভাবে স্মৃতিভ্রষ্ট (ইখতিলাত) হয়েছিলেন এবং তার হাদিস পৃথক করা সম্ভব না হওয়ায় তা বর্জন করা হয়েছে। এছাড়া ইয়াহইয়া ও আলির মাঝে সনদটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি)। তবে পূর্ববর্তী দুটি সূত্রের মাধ্যমে এই বর্ণনাটি শক্তিশালী হয়।

সতর্কতা:

ইবনে আবদিল বার 'জামি' বায়ানি ইলমি' (২/ ৮১১, নং ১৫১০) ও অন্যান্য গ্রন্থে উকবাহ বিন নাফি'-এর সূত্রে ইসহাক বিন আসাইদ থেকে, তিনি আবু মালিক ও আবু ইসহাক থেকে এবং তারা আলি ইবনে আবি তালিব থেকে মারফু হিসেবে অনুরূপ দীর্ঘ বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবদিল বার বলেন: "এই হাদিসটি এই সূত্র ছাড়া মারফু হিসেবে পাওয়া যায় না, আর অধিকাংশ বর্ণনাকারী একে আলি (রা.)-এর নিজস্ব উক্তি (মওকুফ) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।" শাইখ আলবানি 'আদ-দঈফাহ' (৭৩৪) গ্রন্থে একে মুনকার ঘোষণা করার পর ইবনে আবদিল বারের উপরোক্ত বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন: "(মওকুফ হওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত) - কারণ এই মারফু সনদে দুটি ত্রুটি রয়েছে: প্রথমত: ইসহাক বিন আসাইদ, যিনি আবু মুহাম্মদ আল-মারওয়াযি, মিশরের বাসিন্দা; হাফেজ ইবনে হাজার তার সম্পর্কে বলেছেন: 'তার মধ্যে দুর্বলতা আছে'। দ্বিতীয়ত: উকবাহ বিন নাফি', তিনি একজন অজ্ঞাত (মাজহুল) ব্যক্তি; ইবনে আবি হাতিম (৩/ ১/ ৩১৭) কেবল ইবনে ওয়াহাব তার থেকে বর্ণনা করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তার কোনো প্রশংসা বা সমালোচনা উল্লেখ করেননি।"
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ১৯)
ألا من لم يعرف العلم لم ينفعه كثرة العمل؛ لأن العمل بلا علم يضرّ ولا ينفع وإفساد العامل بلا علم أكثر من إصلاحه كما صح وثبت أن رسول الله عليه السلام قال" (عمل قليل في سنَّتي خير من عمل كثير [ق 4 / ب] في بدعة)(1)،

--------------------------------------------

(1) ضعيف -

ورد مرفوعا عن الحسن من عدة طرق ومنها:

ما أخرجه المروزي في "السنة" (ص/30) (88)، وابن بطة في الإبانة" (1/ 357) (244) من طريق عوف عن الحسن مرفوعا به، وهذا إسناد مرسل ضعيف.

وما رواه ابن حرب في "البر والصلة" (ص/170) (332) عن الفضل بن موسى، والقضاعي في "مسند الشهاب" (2/ 239) (1270) عن أبي الأشعث - كلاهما - عن حزم بن أبي حزم القطعي عن الحسن مرفوعا به، وحزم قال عنه ابن حجر: "صدوق يهم"، والإسناد مرسل.

وما رواه ابن بطة في "الإبانة" (1/ 315) (151) عن الحسن مرفوعا به، وفيه موسى بن سهل الوشاء ضعيف.

وما رواه معمر في "جامعه" (11/ 29) (20568) من طريق زيد عن الحسن مرفوعا به، وقال الشيخ الألباني في "الضعيفة" (7/ 249): (وزيد هذا لم أعرفه، ويحتمل أنه الذي روى عنه حماد بن زيد، قال الحافظ: "مقبول").

وما رواه العدني في "الإيمان" (1/ 116) (50) من طريق سفيان عن عمرو بن عبيد عن الحسن مرفوعا به، وعمرو بن عبيد المعتزلي المشهور متهم.

ورواه البيهقي في "الشعب" (12/ 80) (9078) من قول الحسن، وقال محقق الشعب: "فيه من لم أجد ترجمه". وعليه فالأثر لا يصح مرفوعا ولا مقطوعا.

وورد الحديث مرفوعا من حديث أبي هريرة رضي الله عنه.

قال الشيخ الألباني رحمه الله في "الضعيفة" (7/ 248): (أخرجه الرافعي في "تاريخه" (1/ 257) من طريق يحيى بن عبيد الله بن موهب عن أبيه عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: … فذكره. قلت: وهذا إسناد ضعيف جداً؛ آفته يحيى هذا؛ قال الحافظ في "التقريب": "متروك، وأفحش الحاكم فرماه بالوضع". وأبوه قريب منه، فقد قال فيه الإمام أحمد: "أحاديثه مناكير، لا يعرف").

ومن حديث ابن مسعود.

قال الشيخ الألباني في "الضعيفة" رفعه الديلمي (2/ 289) من طريق علي بن محمد المنجوري، عن أبان بن يزيد، عن قتادة، عن ابن مسعود رفعه.

والمنجوري هذا؛ ضعفه الدارقطني. وقال الخليلي في "الإرشاد": "ثقة يخالف في بعض حديثه" وفيه أيضا انقطاع بين قتادة وابن مسعود.
জেনে রাখা প্রয়োজন, যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করেনি, প্রচুর আমল তাকে কোনো উপকার দেবে না; কারণ জ্ঞানহীন আমল ক্ষতিরই কারণ হয়, কোনো উপকার বয়ে আনে না; আর জ্ঞানহীন আমলকারীর সংস্কার অপেক্ষা বিচ্যুতিই বেশি হয়ে থাকে। যেমনটি প্রমাণিত ও সাব্যস্ত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: "আমার সুন্নাত অনুযায়ী অল্প আমল করা বিদআতের মধ্যে অনেক আমল করার চেয়ে উত্তম" [ফলক ৪ / খ](১)।

--------------------------------------------

(১) যঈফ বা দুর্বল -

এটি হাসান (বসরি) থেকে মারফূ হিসেবে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

মারওয়াযী তার 'আস-সুন্নাহ' (পৃ. ৩০) (৮৮) গ্রন্থে এবং ইবনে বাত্তাহ তার 'আল-ইবানাহ' (১/ ৩৫৭) (২৪৪) গ্রন্থে আউফ-এর সূত্রে হাসান থেকে মারফূ হিসেবে এটি উদ্ধৃত করেছেন। আর এই সনদটি মুরসাল ও যঈফ।

এবং ইবনে হারব তার 'আল-বিরর ওয়াস-সিলাহ' (পৃ. ১৭০) (৩৩২) গ্রন্থে ফাদল বিন মূসা থেকে, এবং কুযায়ী তার 'মুসনাদুশ শিহাব' (২/ ২৩৯) (১২৭০) গ্রন্থে আবুল আশআস থেকে বর্ণনা করেছেন—উভয়েই হাযম বিন আবি হাযম আল-কাতয়ী-এর সূত্রে হাসান থেকে মারফূ হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। হাযম সম্পর্কে ইবনে হাজার বলেছেন: "তিনি সত্যবাদী তবে মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত হন", আর সনদটি মুরসাল।

ইবনে বাত্তাহ 'আল-ইবানাহ' (১/ ৩১৫) (১৫১) গ্রন্থে হাসান থেকে মারফূ হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু এর সনদে মূসা বিন সাহল আল-ওয়াশশা রয়েছেন যিনি একজন দুর্বল বর্ণনাকারী।

মা'মার তার 'জামে' (১১/ ২৯) (২০৫৬৮) গ্রন্থে যায়েদের সূত্রে হাসান থেকে মারফূ হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। শায়খ আলবানী 'আদ-দঈফাহ' (৭/ ২৪৯) গ্রন্থে বলেছেন: (এই যায়েদকে আমি চিনি না, হতে পারে তিনি সেই ব্যক্তি যার থেকে হাম্মাদ বিন যায়েদ বর্ণনা করেছেন, হাফেয ইবনে হাজার বলেছেন: "তিনি মাকবুল বা গ্রহণযোগ্য")।

আদানী তার 'আল-ঈমান' (১/ ১১৬) (৫০) গ্রন্থে সুফিয়ানের সূত্রে আমর বিন উবাইদ থেকে তিনি হাসান থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আমর বিন উবাইদ প্রসিদ্ধ মুতাযিলী এবং তিনি মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত।

বায়হাকী তার 'শুআবুল ঈমান' (১২/ ৮০) (৯০৭৮) গ্রন্থে এটি হাসানের নিজস্ব উক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শুআব-এর মুহাক্কিক বলেছেন: "সনদে এমন ব্যক্তি রয়েছে যার জীবনী আমি খুঁজে পাইনি।" অতএব, এই বর্ণনাটি মারফূ (রাসূলের উক্তি) বা মাকতু (তাবেয়ীর উক্তি) কোনোভাবেই বিশুদ্ধ নয়।

আর হাদীসটি আবু হুরায়রা (রা.)-এর সূত্রেও মারফূ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

শায়খ আলবানী (রহ.) 'আদ-দঈফাহ' (৭/ ২৪৮) গ্রন্থে বলেছেন: (রাফেয়ী তার 'তারীখ' (১/ ২৫৭) গ্রন্থে ইয়াহইয়া বিন উবাইদুল্লাহ বিন মাওহাব-এর সূত্রে তার পিতা থেকে তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ... অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেন। আমি বলছি: এটি অত্যন্ত দুর্বল সনদ; এর মূল সমস্যা হলো এই ইয়াহইয়া; হাফেয ইবনে হাজার 'আত-তাক্বরীব' গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি মাতরুক বা পরিত্যক্ত, আর হাকিম তাকে জালকারী হিসেবে অভিযুক্ত করার ক্ষেত্রে কঠোরতা করেছেন।" তার পিতাও তার কাছাকাছি পর্যায়ের; ইমাম আহমাদ তার সম্পর্কে বলেছেন: "তার বর্ণিত হাদীসগুলো মুনকার বা প্রত্যাখ্যাত, তাকে চেনা যায় না")।

এবং ইবনে মাসউদ (রা.)-এর হাদীস থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে।

শায়খ আলবানী 'আদ-দঈফাহ' গ্রন্থে বলেছেন: দাইলামী (২/ ২৮৯) এটি আলী বিন মুহাম্মাদ আল-মানজুরী-এর সূত্রে আবান বিন ইয়াযীদ থেকে তিনি কাতাদাহ থেকে তিনি ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আর এই মানজুরী-কে দারাকুতনী দুর্বল বলেছেন। আল-খলীলী 'আল-ইরশাদ' গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি বিশ্বস্ত হলেও তার কিছু হাদীসে ভুল বা বৈপরীত্য দেখা যায়।" এছাড়াও এতে কাতাদাহ এবং ইবনে মাসউদের মধ্যে সূত্রের বিচ্ছিন্নতা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ২০)
العمل المشار إليه عمل عبادة، وذكر وطاعة كالقليل منه في صورته وعدده إذا عمل في ظل الاقتداء برسول الله عليه السلام ومتابعة سنته كثير بل خير من عمل كثير في معناه ببركة قدوته صلى الله عليه وسلم، فأما السنة فقد قال الأزهري(1): هي الطريقة، ومنه قوله عز وجل: {قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِكُمْ سُنَنٌ} [آل عمران: 137] أي أهل سنن وطرائق. قال ابن عرفة(2): المعنى أن السنة مضت فيهم بالعقوبة حين عاندوا الأنبياء صلوات الله وسلامه عليهم أجمعين. قلت: والسنة في كلام العرب الطريقة والصورة.

قال الشاعر:

نريك سنته وجه لا خفاء به

أي صورة وجه.

--------------------------------------------

(1) هو: محمد بن احمد بن الأزهر بن طلحة بن نوح بن الأزهر بن نوح بن حاتم الأزهري الهروي، الشافعي (أبو منصور) أديب، لغوي.

ولد في هراة بخراسان سنة 282 هـ، وعني بالفقه أولا، ثم غلب عليه علم العربية، فرحل في طلبه وقصد القبائل وتوسع في أخبارهم، وتوفي في بهراة في ربيع الآخر سنة 370 هـ. من تصانيفه الكثيرة: تهذيب اللغة في اكثر من عشر مجلدات، التقريب في التفسير، الزاهر في غرائب الالفاظ، علل القراءات، وكتاب في اخبار يزيد بن معاوية. وترجمته في: طبقات الشافعية الكبرى (3/ 63) (108)، تاريخ الإسلام (8/ 325) (375)، الأعلام للزركلي (5/ 113)، ومعجم المؤلفين (8/ 230).

(2) هو محمد بن محمد بن محمد بن عرفة الورغمي التونسي يكنى أبا عبد الله، الفقيه المالكي- إمام تونس وعالمها، وخطيبها في عصره كان متبحرا في الفقه والأصول وفي الكلام والنحو والتفسير والحديث والعربية والنحو والمعاني والبيان والفرائض والحساب والقراءات تولى إمامة جامع الزيتونة وكان الخطيب فيه، ثم عين للفتيا فيه. ومن أهم مصنفاته: المبسوط، المختصر الكبير، الحدود في التعريفات الفقهية، الطرق الواضحة في عمل الناصحة، المختصر الشامل، مختصر فرائض الحوفي، مختصر في المنطق تفسير القرآن، وغيرها، ولد في تونس سنة 716 هـ، وتوفي أيضاً بها سنة 803 هـ، وترجمته في: الديباج المذهب (ص/ 337)، شجرة النور الزكية (ص/ 227)، الضوء اللامع (9/ 240)، الأعلام (7/ 272).
উল্লিখিত কাজটি একটি ইবাদত, জিকর এবং আনুগত্যের কাজ। বাহ্যিক রূপ এবং সংখ্যার দিক থেকে তা অল্প হলেও, যদি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ এবং তাঁর সুন্নাহর আনুগত্যের ছায়াতলে সম্পাদিত হয়, তবে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের বরকতে সমজাতীয় অনেক কাজের চেয়েও অধিক, বরং উত্তম। আর সুন্নাহ প্রসঙ্গে আল-আযহারী(১) বলেন: এটি হলো পদ্ধতি বা পথ। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্বে বহু নিয়ম-পদ্ধতি গত হয়েছে} [আল-ইমরান: ১৩৭], অর্থাৎ নিয়ম ও পথের অনুসারী জাতিসমূহ গত হয়েছে। ইবনে আরাফাহ(২) বলেন: এর অর্থ হলো, যখন তারা আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামগণের বিরুদ্ধাচরণ করেছিল, তখন তাদের ওপর শাস্তির বিধান কার্যকর হয়েছিল। আমি বলি: আরবদের পরিভাষায় সুন্নাহ অর্থ হলো পথ এবং অবয়ব।

কবি বলেন:

আমি তোমাকে তাঁর চেহারার অবয়ব দেখাব যাতে কোনো অস্পষ্টতা নেই

অর্থাৎ চেহারার অবয়ব।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-আযহার বিন তালহা বিন নূহ বিন আল-আযহার বিন নূহ বিন হাতেম আল-আযহারী আল-হারাউয়ি, আশ-শাফিয়ি (আবু মানসুর); তিনি একজন সাহিত্যিক ও ভাষাবিদ ছিলেন।

তিনি ২৮২ হিজরি সনে খুরাসানের হারাত অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। শুরুতে তিনি ফিকহ শাস্ত্রের প্রতি মনোনিবেশ করেন, পরবর্তীতে ভাষাবিজ্ঞান তাঁর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে। তিনি এই ইলমের সন্ধানে বিভিন্ন গোত্রে ভ্রমণ করেন এবং তাদের ইতিহাস ও সংবাদ সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি ৩৭০ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসে হারাত অঞ্চলে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বহু রচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: দশ খণ্ডেরও অধিক বিস্তৃত 'তহজীবুল লুগাহ', 'আত-তাকরীব ফিত তাফসির', 'আয-যাহির ফি গরাইবিল আলফাজ', 'ইলালুল কিরাআত' এবং ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়া সংক্রান্ত একটি ইতিহাস গ্রন্থ। তাঁর জীবনী পাওয়া যাবে: 'তাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাহ আল-কুবরা' (৩/৬৩) (১০৮), 'তারিখুল ইসলাম' (৮/৩২৫) (৩৭৫), যিরিকলির 'আল-আ'লাম' (৫/১১৩) এবং 'মু'জামুল মুয়াল্লিফিন' (৮/২৩০) গ্রন্থে।

(২) তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আরাফাহ আল-ওয়ারগামি আত-তিউনিসি, তাঁর উপনাম আবু আবদুল্লাহ। তিনি ছিলেন একজন মালিকি ফকিহ—তিউনিসিয়ার ইমাম ও প্রখ্যাত আলিম এবং স্বীয় যুগের খতিব। তিনি ফিকহ, উসুল, কালাম, নাহু, তাফসির, হাদিস, আরবি সাহিত্য, বালাগাত (মানি ও বয়ান), ফরায়েজ, গণিত এবং কিরাআত শাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। তিনি জামে আজ-জাইতুনার ইমামতি ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে সেখানে ফতোয়া প্রদানের জন্য নিযুক্ত হন। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: আল-মাবসুত, আল-মুখতাসার আল-কাবির, আল-হুদুদ ফি তারিফাতিল ফিকহিয়্যাহ, আত-তুরুক আল-ওয়াদিহা ফি আমালিন নাসিহা, আল-মুখতাসার আশ-শামিল, মুখতাসার ফরায়েজিল হাউফি, যুক্তিশাস্ত্রের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ, কুরআনের তাফসির ইত্যাদি। তিনি ৭১৬ হিজরি সনে তিউনিসিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই ৮০৩ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। তাঁর জীবনী পাওয়া যাবে: আদ-দিবাজুল মাজহাব (পৃ. ৩৩৭), শাজারাতুন নূর আজ-জাকিয়্যাহ (পৃ. ২২৭), আদ-দাওউল লামি (৯/২৪০) এবং আল-আ'লাম (৭/২৭২) গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ২১)
وقال العلماء: السنة ما رسم ليقتدى به، فأما المعنى فهو العمل القليل في ذاته بالإضافة إلى ما هو أكثر منه إذا عمل في سنة الدين والإسلام على طريقة متابعة المصطفى عليه السلام وصورة ما رسمه خير الأنام فهو خير من عمل كثير صورته وعدد في بدعة بمخالفة سنته، فهو نعم الأنام وسنته عليه السلام نوعان أحدهما في الباطن وهو الإخلاص لله عز وجل كما قال النبي عليه السلام: (يا معاذ إذا خلص يكفيك قليل من العمل)(1) الثاني في الظاهر وهو جريان العمل في العلم بمتابعة سنته عليه السلام ومتابعة الأمر كما قال عليه السلام: (قليل العمل مع العلم كثير وكثير العمل مع الجهل قليل)(2).

--------------------------------------------

(1) ضعيف - أخرجه ابن أبي حاتم في "تفسيره" (4/ 1099) (6162)، والحاكم في "المستدرك" (4/ 341) (7844)، وأبو نعيم في "الحلية" (1/ 244)، والبيهقي في "شعب الإيمان" (9/ 174 - 175) (6443، 6444)، والأصبهاني في "الترغيب والترهيب" (1/ 113) (99) كلهم من طريق عبدالله بن وهب عن يحيى بن أيوب عن عبيدالله بن زحر عن خالد بن أبي عمران - ووقع عن الحاكم والبيهقي في طريق الوليد بن عمران، ولم أعرفه، ولعله خطأ من بعض النساخ - عن عمرو بن مرة عن معاذ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال له حين بعثه إلى اليمن: «أخلص دينك يكفك القليل من العمل»، وإسناده ضعيف فيه ابن زحر مختلف فيه، وهو أقرب إلى الضعف، وعمرو بن مرة اختلف في تعيينه هل هو الكوفي من صغار التابعين، أم هو الجهني الصحابي، قال البيهقي في "الشعب": (وعمرو بن مرة هذا هو الجهمي، كذا قال شيخنا أبو عبد الله: إنما أراد عمرو بن مرة الذي له صحبة)، وقال في موضع آخر: (هذا هو الكوفي الذي ليست له صحبة، ولا أدرك معاذا فيكون الحديث مرسلا)، ولم يتبين لي تعيينه فيتوقف فيه.

(2) ضعيف جدا - أخرجه القضاعي في "مسند الشهاب" (2/ 121) (1015) من طريق أبي علي، صالح بن إبراهيم بن رشدين إجازة، أبنا أحمد بن عبد الله الصفار، ثنا الحسن بن سعيد بن مرزوق، ثنا يحيى بن صالح، ثنا أبو مهدي، عن أبي الزاهرية، عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه مرفوعا مطولا به. وفيه أبو مهدي وهو سعيد بن سنان قال عنه في "التقريب": "متروك رماه الدارقطني وغيره بالوضع" .. ورواه القضاعي عقبه من طريق بقية عن حدير مولى السمط بن ثابت عن أبي الزاهرية مطولا به ولم يذكر ابن مسعود، وحدير مولى السمط ذكره ابن أبي حاتم، والبخاري، ولم يذكرا فيه حرجا ولا تعديلا، فهو مجهول، كما أن الحديث مرسل.

ورواه ابن عبد البر في "جامع بيان العلم" (1/ 202) (214) من طريق مؤمل بن عبد الرحمن الثقفي، عن عباد بن عبد الصمد، عن أنس بن مالك رضي الله عنه مرفوعا مطولا بنحوه، وقال ابن حبان: " عباد بن عبد الصمد، عن أنس نسخة أكثرها موضوعة".

আলেমগণ বলেন: সুন্নাহ হলো এমন কিছু যা অনুসরণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মর্মার্থ হলো, দ্বীন ও ইসলামের সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব তথা মুস্তাফা (সা.)-এর অনুসরণের পদ্ধতিতে সেই কার্যাবলীর রূপ যা তিনি এঁকে দিয়েছেন—এমন অল্প আমলও সত্তাগতভাবে তার চেয়ে বেশি আমলের তুলনায় উত্তম, যদি সেই অধিক আমলটি তাঁর সুন্নাহর বিপরীতে বিদআতের আদলে ও সংখ্যায় সম্পাদিত হয়। তিনি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব। তাঁর (সা.) সুন্নাহ দুই প্রকার। প্রথমটি অভ্যন্তরীণ, আর তা হলো মহান আল্লাহর জন্য ইখলাস (নিষ্ঠা), যেমনটি নবী (সা.) বলেছেন: (হে মুয়াজ! তোমার আমল খাঁটি করো, তবেই অল্প আমল তোমার জন্য যথেষ্ট হবে)(১)। দ্বিতীয়টি বাহ্যিক, যা হলো তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ এবং তাঁর আদেশের অনুবর্তিতার মাধ্যমে ইলম (জ্ঞান)-এর প্রয়োগে আমল পরিচালনা করা। যেমনটি তিনি (সা.) বলেছেন: (ইলমসহ অল্প আমলও অনেক বেশি, আর অজ্ঞতার সাথে অধিক আমলও অতি সামান্য)(২)।

--------------------------------------------

(১) যয়ীফ (দুর্বল) - ইবন আবি হাতিম তাঁর "তাফসির" (৪/১০৯৯) (৬১৬২), হাকিম "আল-মুস্তাদরাক" (৪/৩৪১) (৭৮৪৪), আবু নুআইম "আল-হিলয়াহ" (১/২৪৪), বায়হাকী "শুয়াবুল ঈমান" (৯/১৭৪ - ১৭৫) (৬৪৪৩, ৬৪৪৪), এবং আসবাহানি "আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব" (১/১১৩) (৯৯) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের সকলে আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে যাহর থেকে, তিনি খালিদ ইবনে আবি ইমরান থেকে বর্ণনা করেছেন। হাকিম ও বায়হাকীর বর্ণনায় ওয়ালিদ ইবনে ইমরানের সূত্রে এসেছে, যাকে আমি চিনি না; সম্ভবত এটি কোনো পাণ্ডুলিপিকারের ভুল। তিনি আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি মুয়াজ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে ইয়েমেনে পাঠানোর সময় বলেছিলেন: «তোমার দ্বীনকে খাঁটি করো, অল্প আমলই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে»। এর সনদটি দুর্বল, এতে ইবনে যাহর রয়েছেন যার ব্যাপারে মতভেদ আছে এবং তিনি দুর্বলতার নিকটবর্তী। আমর ইবনে মুররার পরিচয় নির্ধারণে মতভেদ রয়েছে—তিনি কি কুফার ছোট তাবেয়ীদের একজন, নাকি সাহাবী জোহানি? বায়হাকী "আশ-শুয়াব" গ্রন্থে বলেছেন: (এই আমর ইবনে মুররাহ হলেন আল-জাহমি, আমার শায়খ আবু আবদুল্লাহ এমনই বলেছেন: তিনি মূলত সেই আমর ইবনে মুররাহকে বুঝিয়েছেন যিনি সাহাবী)। অন্য স্থানে তিনি বলেছেন: (তিনি হলেন কুফী ব্যক্তি যিনি সাহাবী নন এবং মুয়াজ (রা.)-এর সাক্ষাৎ পাননি, সুতরাং হাদীসটি মুরসাল হবে)। আমার কাছে তাঁর পরিচয় স্পষ্ট হয়নি, তাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হলো।

(২) অত্যন্ত দুর্বল - কুজাই "মুসনাদুশ শিহাব" (২/১২১) (১০১৫) গ্রন্থে আবু আলী সালিহ ইবনে ইবরাহিম ইবনে রুশদীনের ইজাযত সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ আস-সাফফার থেকে, তিনি হাসান ইবনে সাঈদ ইবনে মারজুক থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সালিহ থেকে, তিনি আবু মাহদী থেকে, তিনি আবুয যাহিরিয়্যাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে মারফু ও দীর্ঘ পরিসরে এটি বর্ণনা করেছেন। এতে আবু মাহদী রয়েছেন যিনি হলেন সাঈদ ইবনে সিনান, "আত-তাকরীব" গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে: "পরিত্যক্ত (মাতরুক), দারাকুতনী ও অন্যরা তাঁর বিরুদ্ধে হাদীস জাল করার অভিযোগ এনেছেন।"... কুজাই এর পরে এটি বাকিয়্যাহ-এর সূত্রে হুদাইর মাওলা আস-সিমত ইবনে সাবিত থেকে, তিনি আবুয যাহিরিয়্যাহ থেকে দীর্ঘ বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সেখানে ইবনে মাসউদের কথা উল্লেখ করেননি। হুদাইর মাওলা আস-সিমতের কথা ইবনে আবি হাতিম ও বুখারী উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তাঁরা তাঁর প্রশংসা বা সমালোচনা (জারহ বা তাদীল) কিছুই করেননি, তাই তিনি মাজহুল (অপরিচিত)। তাছাড়া হাদীসটি মুরসাল।

ইবনুল বার "জামি'উ বায়ানিল ইলম" (১/২০২) (২১৪) গ্রন্থে মুয়াম্মাল ইবনে আবদুর রহমান আস-সাকাফীর সূত্রে, তিনি আব্বাদ ইবনে আস-সামাদ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে মারফু ও দীর্ঘ পরিসরে এর সমার্থক বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান বলেছেন: "আব্বাদ ইবনে আস-সামাদ থেকে আনাস (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত পাণ্ডুলিপিটির অধিকাংশ হাদীস জাল।"
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ২২)
وروي أن رجلاً قام بعد صلاة العصر يتنفل في مسجد المدينة، فقال له سعيد بن المسيب رحمة الله عليه: لا تصل. فقال الرجل: أيعاقبني الله على الصلاة؟ فقال له سعيد: بل يعاقبك أو يعاتبك على مخالفة السنة في الصلاة(1)، فصار قليل العمل بمتابعة السنة خيرًا من كثيره بقبول [ق 5 /أ] الله عز وجل له، وتضعيف أجره وهو خير من الكثير في بدعة رادّة إياه وذهاب أجره كما قال النبي عليه السلام: "كل ما ليس عليه أمرنا فهو ردّ"(2). أي على عامله لمكان بدعته، وكما قال عليه السلام في صفة الخوارج: (سيكون(3) أقوام يحقر أحدكم صلاته مع صلاتهم، وصيامه مع صيامهم، وقراءته مع قراءتهم، يمرقون من الدين مروق السهم من الرمية)(4) وفيه: (يقرؤن القرآن لا تبلغ قراءتهم آذانهم) - أي لا ترفع في خزائن القبول، بل تردّ عليهم لمكان بدعتهم في شريعة الرسول صلى الله عليه وسلم.

وفائدة الحديث الحثّ على متابعة السنة في صالح الأعمال؛ ليعلو قدرها، ويكثر خيرها، وتجنّب البدعة والاختراع في سائر الأحوال لثنّها(5) وسوء عاقبتها والله أعلم. وكما قال ضرار بن عمرو(6) رضي الله عنه: (إن قومًا تركوا العلم ومجالسة أهل العلم واتخذوا محاريب فصلّوا وصاموا حتى يبس جلدهم على عظمه، ثم خالفوا السنة

--------------------------------------------

(1) حسن - أخرجه الخطيب في "الفقيه والمتفقه" (1/ 381) من طريق عطاف بن خالد ، عن عبد الرحمن بن حرملة ، أن سعيد بن المسيب بنحوه، وإسناده حسن.

ورواه عبد الرزاق في "مصنفه" (3/ 52) (4755)، والدارمي في "مسنده" (1/ 404) (450)، والبيهقي في "سننه" (2/ 654) من طريق أبي رباح، عن ابن المسيب بنحوه، ،وأبو رباح هو عبدالله بن رباح ثقة.

(2) روى البخاري في "صحيحه" (3/ 184) (2697)، ومسلم في "صحيحه" (3/ 1343) (1718) من طريق إبراهيم بن سعد، عن أبيه، عن القاسم بن محمد، عن عائشة رضي الله عنها، قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس فيه، فهو رد».

(3) وفي الحاشية: "أي يخرجون".

(4) رواه البخاري في "صحيحه" (4/ 200) (3610)، ومسلم في "صحيحه" (2/ 744) (1064) من طريق الزهري عن أبي سلمة عن أبي سعيد بنحوه مطولا.

(5) كذا بالأصل.

(6) هذا الأثر نسب لابن سيرين كما سيأتي إسناده.
এবং বর্ণিত আছে যে, জনৈক ব্যক্তি আসরের নামাজের পর মদিনার মসজিদে নফল নামাজ আদায় করার জন্য দাঁড়ালেন। তখন সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাকে বললেন: নামাজ পড়ো না। লোকটি বলল: আল্লাহ কি আমাকে নামাজ পড়ার কারণে শাস্তি দেবেন? সাঈদ তাকে বললেন: বরং তিনি তোমাকে নামাজের ক্ষেত্রে সুন্নাহর বিরোধিতা করার কারণে শাস্তি দেবেন বা তিরস্কার করবেন(১)। ফলে সুন্নাহর অনুসরণের মাধ্যমে অল্প আমল করা, মহান আল্লাহর নিকট তা কবুল হওয়া [পত্র ৫ /ক] এবং সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সেই অধিক আমলের চেয়ে উত্তম যা এমন বিদআতের অন্তর্ভুক্ত যা আমলটিকেই প্রত্যাখ্যান করে দেয় এবং সওয়াব নষ্ট করে দেয়। যেমন নবী (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "যে আমল আমাদের নির্দেশ মোতাবেক নয়, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য"(২)। অর্থাৎ বিদআতের কারণে এটি তার কর্তার ওপর ফিরিয়ে দেওয়া হবে। যেমন তিনি (আলাইহিস সালাম) খারেজিদের বর্ণনায় বলেছেন: (অদূর ভবিষ্যতে(৩) এমন কওম বা সম্প্রদায়ের আবির্ভাব হবে যাদের নামাজের তুলনায় তোমরা তোমাদের নামাজকে তুচ্ছ জ্ঞান করবে, তাদের রোজার তুলনায় তোমাদের রোজাকে এবং তাদের কিরাআতের তুলনায় তোমাদের কিরাআতকে তুচ্ছ জ্ঞান করবে। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনভাবে তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়)(৪)। এতে আরও রয়েছে: (তারা কুরআন পড়বে কিন্তু তাদের সেই পড়া তাদের কান পর্যন্ত পৌঁছাবে না) - অর্থাৎ তা কবুলিয়াতের ভাণ্ডারে উন্নীত হবে না, বরং রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শরিয়তে তাদের বিদআতের কারণে তা তাদের ওপর ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

এই হাদিসের শিক্ষা হলো সৎকাজে সুন্নাহর অনুসরণে উৎসাহিত করা; যাতে আমলের মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং এর কল্যাণ বৃদ্ধি পায়। এবং সর্বাবস্থায় বিদআত ও নতুন কিছু উদ্ভাবন থেকে দূরে থাকা কারণ এর মন্দ পরিণতি রয়েছে, আল্লাহই ভালো জানেন। আর যেমনটি দিরার ইবনে আমর(৬) (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: (নিশ্চয়ই একদল লোক জ্ঞান অর্জন এবং আলেমদের সান্নিধ্য ত্যাগ করল এবং মেহরাবসমূহ আঁকড়ে ধরল (অর্থাৎ ইবাদতে মগ্ন হলো), এরপর তারা নামাজ পড়ল এবং রোজা রাখল এমনকি তাদের চামড়া হাড়ের সাথে লেগে শুকিয়ে গেল, অতঃপর তারা সুন্নাহর বিরোধিতা করল

--------------------------------------------

(১) হাসান - খতিব এটি 'আল-ফাকিহ ওয়াল মুতাফাককিহ' (১/ ৩৮১) গ্রন্থে আততাফ ইবনে খালিদ, তিনি আবদুর রহমান ইবনে হারমালা থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িব থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; এর সনদ হাসান।

আবদুর রাজ্জাক তাঁর 'মুসান্নাফ' (৩/ ৫২) (৪৭৫৫), দারেমি তাঁর 'মুসনাদ' (১/ ৪০৪) (৪৫০) এবং বায়হাকি তাঁর 'সুনান' (২/ ৬৫৪) গ্রন্থে আবু রাবাহ সূত্রে ইবনুল মুসাইয়িব থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবু রাবাহ হলেন আবদুল্লাহ ইবনে রাবাহ, যিনি একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী।

(২) বুখারি তাঁর 'সহিহ' (৩/ ১৮৪) (২৬৯৭) এবং মুসলিম তাঁর 'সহিহ' (৩/ ১৩৪৩) (১৭১৮) গ্রন্থে ইব্রাহিম ইবনে সাদ, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি কাসিম ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে আমাদের এই দ্বীনের ব্যাপারে এমন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য।"

(৩) পার্শ্বটীকায় রয়েছে: "অর্থাৎ তারা বেরিয়ে যাবে"।

(৪) বুখারি তাঁর 'সহিহ' (৪/ ২০০) (৩৬১০) এবং মুসলিম তাঁর 'সহিহ' (২/ ৭৪৪) (১০৬৪) গ্রন্থে যুহরি থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে অনুরূপ বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।

(৫) মূলে এভাবেই আছে।

(৬) এই বর্ণনাটি ইবনে সিরিনের দিকেও সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে যেমন এর সনদ সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ২৩)
فهلكوا ألا والذي لا إله غيره ما عمل عامل قطّ على جهل إلا كان ما يفسده أكثر مما يصلح)(1)، فقد روي عن رسول الله عليه السلام أنه قال: "من أم قوما بغير علم كان ما يفسده أكثر مما يصلح"(2). ولقد أحسن القائل:

عبادة عابدٍ في غير علم … كبنيان القصور على التراب

العمل بلا علم يكون له دليل … كقرطاس تراه بلا كتاب

ومن يكثر دعاه بغير زهد … كرمي النبل في جوف الطناب(3)

ومن طلب العلوم بغير فهم … كمن رام التعلّق بالسحاب

ومن طلب التعبد منه جهلاً … فلا طمع له في الاقترابُ

قال بعض الحكماء: وكيف يكون متقياً من لا يدري ما يُتقى. وروي أنّ سليمان بن عبد الله [ق 5 / ب] الملك رحمه الله مشى إلى طاووس اليماني رضي الله عنه يسأله أن يدعو له دعوة، فلما دخل على طاووس لم يقم له ولا عني به ولا هاله أمره، فلما انصرف قيل لطاووس رضي الله عنه: مشى إليك أمير المؤمنين فلم تقم ولا تلو عليه،

قال: أردت أن يعلم أنّ لله عز وجل رجالاً يزهدون فيما أوتي من حطام الدنيا، وليس مطلوبهم إلا لله عز وجل، فلا يرجون سواه، ولا يخافون إلا إيّاه(4).

ألا فهذه سيرة المشايخ والفقراء من العلماء والعباد وبضدّ ذلك سيرة المنافقين والمرائين المعاندين الآكلين الدنيا بالدين، وقيل: من استغنى بالله أحوج الله الناس إليه. وقرأت في كتاب

--------------------------------------------

(1) إسناده ضعيف - أخرجه الأصبهاني في "الترغيب والترهيب" (3/ 98) (2151) من طريق الحسن بن الصباح، حدثنا عبدالرحمن المحاربي، عن بكر بن خنيس، عن ضرار بن عمرو، عن ابن سيرين به، وفيه بكر بن خنيس قال عنه الذهبي في "الكاشف": "واه"، وقال ابن حجر في "التقريب": "صدوق له أغلاط"، وضرار بن عمرو قال البخاري: فيه نظر، وقال ابن عدي: منكر الحديث، وقال الدارقطني: ذاهب الحديث.

(2) لم أقف عليه بهذا اللفظ.

(3) قال العدوي: الطِّناب: السير الذي يُربط في رأس وتر القوس.

(4) ذكره مختصرا ابن خلكان في وفيات الأعيان (2/ 424) بدون إسناد. وروى أبو نعيم في "الحلية" (4/ 16) عن أبي حامد بن جبلة، ثنا محمد بن إسحاق، ثنا عمر بن شبة، ثنا أبو عاصم، قال: زعم لي سفيان قال: جاء ابن لسليمان بن عبد الملك فجلس إلى جنب طاوس فلم يلتفت إليه فقيل له: جلس إليك ابن أمير المؤمنين فلم تلتفت إليه، قال: «أردت أن يعلم أن لله عبادا يزهدون فيما في يديه» وإسناده ضعيف فيه أبو حامد بن جبلة مجهول.
ফলে তারা ধ্বংস হয়ে গেল। সাবধান! সেই সত্তার কসম যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, কোনো আমলকারী যখনই অজ্ঞতা নিয়ে আমল করে, সে সংশোধনের চেয়ে বিপর্যয়ই বেশি সৃষ্টি করে(১)। রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি জ্ঞান ছাড়াই কোনো সম্প্রদায়ের ইমামতি করে, সে সংশোধনের চেয়ে নষ্টই বেশি করে"(২)। জনৈক কবি কতই না চমৎকার বলেছেন:

জ্ঞানহীন ইবাদতকারীর ইবাদত … মাটির ওপর প্রাসাদ নির্মাণের মতো

জ্ঞানহীন আমলের কোনো দিশা থাকে না … যেন এক কিতাবহীন শূন্য পাতা

আর যে ব্যক্তি বৈরাগ্যহীন অধিক দোয়া করে … সে ধনুকের রশির ওপর তীর ছোড়ার মতো(৩)

আর যে সঠিক বুঝ ছাড়াই জ্ঞান অন্বেষণ করে … সে মেঘমালাকে আঁকড়ে ধরার বৃথা চেষ্টা করার মতো

যে ব্যক্তি অজ্ঞতা বশত ইবাদত করতে চায় … আল্লাহর নৈকট্য লাভে তার কোনো আশা নেই

জনৈক বিজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন: সেই ব্যক্তি কীভাবে মুত্তাকী হবে, যে জানেই না যে কী থেকে বেঁচে থাকতে হবে। বর্ণিত আছে যে, বাদশাহ সুলাইমান বিন আবদুল্লাহ [পৃষ্ঠা ৫ / খ] (রহিমাহুল্লাহ) তাউস আল-ইয়ামানি (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে গিয়ে তাঁর কাছে দোয়ার আরজি জানালেন। যখন তিনি তাউসের কাছে প্রবেশ করলেন, তাউস তাঁর সম্মানে দাঁড়ালেন না, তাঁর প্রতি ভ্রূক্ষেপ করলেন না এবং তাঁর প্রতাপে প্রভাবিতও হলেন না। যখন তিনি চলে গেলেন, তখন তাউস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলা হলো: আমিরুল মুমিনীন আপনার কাছে এলেন অথচ আপনি দাঁড়ালেন না এবং তাঁর প্রতি লক্ষ্যও করলেন না!

তিনি বললেন: আমি চেয়েছি তাকে এটা জানাতে যে, মহান আল্লাহর এমন কিছু বান্দা রয়েছেন যারা দুনিয়ার নশ্বর সম্পদের প্রতি অনাসক্ত। তাদের একমাত্র লক্ষ্য কেবল মহান আল্লাহ। তারা তিনি ব্যতীত অন্য কারো কাছে আশা করে না এবং তিনি ছাড়া কাউকে ভয় পায় না(৪)।

জেনে রেখো, এটিই হলো উলামা ও ইবাদতগুজারদের মধ্য থেকে সত্যিকারের মাশায়েখ ও ফকীরদের জীবনধারা। আর এর বিপরীতে হলো মুনাফিক, রিয়াকারী ও সত্যবিমুখদের পথ, যারা দ্বীনের বিনিময়ে দুনিয়া ভোগ করে। প্রবাদ আছে: যে ব্যক্তি আল্লাহর মাধ্যমে অমুখাপেক্ষী হয়েছে, আল্লাহ মানুষকে তার মুখাপেক্ষী করে দিয়েছেন। আমি একটি কিতাবে পড়েছি

--------------------------------------------

(১) এর সনদ দুর্বল - আল-আসবাহানী তাঁর 'আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব' (৩/ ৯৮) (২১৫১) গ্রন্থে আল-হাসান বিন আস-সাব্বাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান আল-মুহারিবী থেকে, তিনি বকর বিন খুনাইস থেকে, তিনি দিরার বিন আমর থেকে, তিনি ইবনে সিরীন থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এতে বকর বিন খুনাইস রয়েছেন, যার সম্পর্কে আয-যাহাবী 'আল-কাশিফ' গ্রন্থে বলেছেন: "ওয়াহি" (দুর্বল)। আর ইবনে হাজার 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে বলেছেন: "সদুক (সত্যবাদী) তবে তাঁর ভুলভ্রান্তি হয়"। দিরার বিন আমর সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেছেন: "তাঁকে নিয়ে সংশয় আছে", ইবনে আদি বলেছেন: "তিনি মুনকারুল হাদিস", এবং দারাকুতনী বলেছেন: "যাহিবুল হাদিস" (পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী)।

(২) আমি এই শব্দে হাদিসটি কোথাও পাইনি।

(৩) আল-আদাবী বলেছেন: 'তিনা’ব' হলো সেই চামড়ার ফিতা যা ধনুকের ছিলার মাথায় বাঁধা হয়।

(৪) ইবনে খাল্লিকান 'ওয়াফায়াতুল আইয়ান' (২/ ৪২৪) গ্রন্থে সনদ ছাড়াই সংক্ষেপে এটি উল্লেখ করেছেন। আর আবু নুআইম 'আল-হিলয়াহ' (৪/ ১৬) গ্রন্থে আবু হামিদ বিন জাবালাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি উমর বিন শাব্বাহ থেকে, তিনি আবু আসিম থেকে, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমার কাছে দাবি করেছেন যে, তিনি বলেছেন: সুলাইমান বিন আব্দুল মালিকের এক পুত্র তাউসের কাছে এসে তাঁর পাশে বসলেন, কিন্তু তিনি তাঁর দিকে ফিরেও তাকালেন না। তাঁকে বলা হলো: আমিরুল মুমিনীনের পুত্র আপনার পাশে বসলেন অথচ আপনি তাঁর দিকে ফিরেও তাকালেন না। তিনি বললেন: "আমি চেয়েছি সে জানুক যে আল্লাহর এমন কিছু বান্দা রয়েছে যারা তাঁর হাতের সম্পদের প্রতি অনাসক্ত।" এর সনদ দুর্বল, কারণ এতে আবু হামিদ বিন জাবালাহ নামক একজন অপরিচিত (মাজহুল) বর্ণনাকারী রয়েছেন।
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ২৪)
أن رجلاً جاء إلى عمر بن الخطاب رضي الله عنه فقال: يا أمير المؤمنين إني أحبك وأريد أصحبك. فقال: "بشرط إن رأيتني قد ملت قوّمني فبقي عنده ثلاثة أيام، ولم يقل له شيئًا، فقال له عمر بن الخطاب رضي الله عنه: يا أخي لك عند ثلاثة أيام لم تأمرني بأمر وعمر يعلم أنه لا يمضي عليه يوم إلا أخطأ فيه، فاذهب عنّي لا تغويني(1) " فرضي الله عن أمير المؤمنين عمر فإنه قد بين في هذا معنى الأخوة والصحبة ألا فبهدى رسول الله عليه السلام وصحابته رضوان الله عليهم أجمعين فاهتدوا وبهم فاقتدوا بسنتهم فاكتفوا ولآثارهم فاقتفوا إن أردتم أن تربحوا ولا تخسروا وتجبروا ولا تكسروا. وأقول شعرا:

من كان يرغب في النجاة فماله … غير اتباع الهاشمي محمدًا

ذاك السبيل المستقيم وغيره … سبل الضلالة والغواية والردى

فاتبع كتاب الله والسنن التي … صحّت، فذلك الهدي طول المدى

ودع [ق 6 /أ] الجدال بكم وكيف فأنه … باب يردّ ذوي البصيرة أرمدا

فالدين ما قال النبي وصحبه … فإذا اقتديت بهم فنعم المقتدى

لا تتّبع في الدين كلّ مذبذب … حيران لا يدري الصحاب من العدا

قد خالف المختار في مسنونه … وصحابه فعدى الهدى، ثم اعتدا

--------------------------------------------

(1) لم أقف عليه.
এক ব্যক্তি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট এসে বললেন: "হে আমীরুল মুমিনীন! আমি আপনাকে ভালোবাসি এবং আপনার সান্নিধ্যে থাকতে চাই।" তিনি বললেন: "এই শর্তে যে, যদি আপনি আমাকে সত্যপথ থেকে বিচ্যুত হতে দেখেন তবে আমাকে সংশোধন করে দেবেন।" এরপর সেই ব্যক্তি তাঁর নিকট তিন দিন অবস্থান করলেন এবং তাঁকে কিছুই বললেন না। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে বললেন: "হে আমার ভাই! তিন দিন যাবৎ আপনি আমার সাথে আছেন অথচ আমাকে (সংশোধনের) কোনো নির্দেশ দিলেন না? অথচ উমর জানেন যে, এমন কোনো দিন অতিবাহিত হয় না যাতে তিনি কোনো ভুল করেন না। সুতরাং আপনি আমার নিকট থেকে চলে যান, আমাকে বিভ্রান্ত করবেন না(১)।" আমীরুল মুমিনীন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন, কেননা তিনি এর মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের প্রকৃত অর্থ পরিস্ফুট করেছেন। সাবধান! তোমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) প্রদর্শিত পথেই হিদায়াত অন্বেষণ করো, তাঁদেরই অনুসরণ করো, তাঁদের সুন্নাহতেই তুষ্ট থাকো এবং তাঁদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করো—যদি তোমরা লাভবান হতে চাও ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে না চাও, এবং নিজেদের সংশোধন করতে চাও ও ভেঙে পড়তে না চাও। আর আমি কবিতার ছন্দে বলছি:

যে ব্যক্তি মুক্তি কামনা করে, তার জন্য কোনো উপায় নেই … হাশেমী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণ ব্যতীত

উহাই সরল পথ এবং উহা ব্যতীত অন্য সব পথ … ভ্রষ্টতা, বিভ্রান্তি ও ধ্বংসের পথ

অতএব আল্লাহর কিতাব ও সেই সকল সুন্নাহ অনুসরণ করো যা … বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত, সেটিই হলো চিরন্তন হিদায়াত

আর বর্জন করো [পত্র ৬/ক] 'কতটুকু' ও 'কীভাবে' সংক্রান্ত বিতর্ক, কেননা এটি … এমন এক দ্বার যা প্রজ্ঞাবানদের দৃষ্টিকে অন্ধ করে দেয়

নবী ও তাঁর সাহাবীগণ যা বলেছেন তা-ই হলো দ্বীন … সুতরাং যদি তুমি তাঁদের আদর্শ গ্রহণ করো তবে সেটিই হবে সর্বোত্তম আদর্শ

দ্বীনের বিষয়ে এমন প্রত্যেক দোদুল্যমান ব্যক্তিকে অনুসরণ করো না … যে কিংকর্তব্যবিমূঢ় এবং বন্ধু ও শত্রুর মাঝে পার্থক্য করতে জানে না

সে তো সুন্নাহর বিষয়ে মনোনীত নবী ও তাঁর সাহাবীগণের … বিরুদ্ধাচরণ করেছে; ফলে সে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং সীমালঙ্ঘন করেছে।

--------------------------------------------

(১) আমি এর উৎস খুঁজে পাইনি।
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌ذكر أخلاق نبينا عليه السلام:

كان نبيّنا عليه السلام أشع الناس وأنجد الناس وأجود الناس، قال الإمام علي بن أبي طالب رضي الله عنه: "كنا إذا احمرّ البأس ولقي الْقَوْمُ الْقَوْمَ اتّقينا برسول الله عليه السلام"(1)، وكان صلى الله عليه وسلم أسخى الناس ما سُئل شيئاً قطّ فقال: لا، وكان عليه السلام أحلم الناس، وكان أشد حياء من العذارى في خدورهن لا يثبت بصره في وجه أحدٍ(2)، وكان عليه السلام لا ينتقم لنفسه ولا يغضب لها إلا أن تنتهك محارم الله عز وجل، فيكون له منتقم، وكان عليه السلام إذا غضب في الله لم يقم لغضبه أحدًا، القريب والبعيد والقويّ والضعيف والدنيّ والشريف عنده في الحقّ سواء وما عاب طعامًا قطّ إن اشتهاه أكله وإلاّ تركه، وكان عليه السلام لا يأكل متكئًا ولا على خوان(3) ولا يمتنع من مباح(4)

--------------------------------------------

(1) صحيح - أخرجه النسائي في "الكبرى" (8/ 34) (8585)، وابن الجعد في "مسنده" (ص/372) (2561)، وأحمد في "مسنده" (2/ 307) (1042)، والحارث في "مسنده" (2/ 874) (938)، والبزار في "مسنده" (2/ 299) (723)، وأبو يعلى في "مسنده" (1/ 258) (302)، والحاكم في "المستدرك" (2/ 155) (2633) كلهم من طريق زهير بن معاوية، والحارث، وإسرائيل عن أبي إسحاق عن حارثة بن مضرب عن علي مطولا بنحوه، وأبو إسحاق هو السبيعي اختلط وسماع ثلاثتهم منه بعد الاختلاط إلا أن رواية ابن ابنه إسرائيل عنه في الصحيحين، وللحديث شاهد من حديث البراء في "صحيح مسلم (3/ 1401) (1776) مطولا بنحوه.

(2) ذكره القاضي عياض في "الشفاء" (1/ 119) بدون إسناد فقال: "وروي عنه أنه كان من حيائه لا يثبت بصره في وجه أحد"، ولم أقف عليه مسندا.

(3) بكسر أوله وضمه وتخفيف الواو هو المائدة المعدة للأكل، وتكون من خشب وتكون تحته قوائم من كل جانب والأكل عليه من دأب المترفين لئلا يفتقر إلى التطأطؤ والانحناء.

(4) ذكره الطبري في "خلاصة سيرة سيد البشر" (ص/95)، وليس مقصوده العموم الذي في العبارة فقد ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم ترك أكل الضب، وترك التجفف من الماء بعد الاغتسال، ومقصود عبارته ما ذكره عقبه من قوله: " إن وجد تمرًا أكله، وإن وجد خبزًا أكله … " ..
‌‌আমাদের নবীর (আলাইহিস সালাম) চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা:

আমাদের নবী (আলাইহিস সালাম) ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বাপেক্ষা সাহসী, সর্বাধিক নির্ভীক এবং সবচেয়ে বেশি দানশীল। ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "যখন যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পেত এবং একদল অন্যদলের মুখোমুখি হতো, তখন আমরা রাসূলুল্লাহ (আলাইহিস সালাম)-এর মাধ্যমে আত্মরক্ষা করতাম।"(১) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক উদার; তাঁর কাছে কখনো কিছু চাওয়া হলে তিনি কখনো 'না' বলেননি। তিনি (আলাইহিস সালাম) ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সহনশীল এবং অন্দরের পর্দানশীন কুমারী নারীর চেয়েও অধিক লাজুক; তিনি কারো চেহারার দিকে একনজরে তাকিয়ে থাকতেন না।(২) তিনি (আলাইহিস সালাম) নিজের জন্য কারো থেকে প্রতিশোধ নিতেন না এবং ব্যক্তিগত কারণে রাগান্বিত হতেন না; তবে আল্লাহর অলঙ্ঘনীয় বিধানসমূহ লঙ্ঘিত হলে তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন। তিনি (আলাইহিস সালাম) যখন আল্লাহর দ্বীনের খাতিরে রাগান্বিত হতেন, তখন কেউই তাঁর ক্রোধের সামনে দাঁড়াতে পারত না। সত্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিকটাত্মীয় ও অনাত্মীয়, শক্তিশালী ও দুর্বল এবং সাধারণ ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি তাঁর কাছে সমান ছিল। তিনি কখনো কোনো খাবারের দোষ ধরতেন না; যদি তাঁর রুচি হতো তবে খেতেন, নতুবা রেখে দিতেন। তিনি (আলাইহিস সালাম) হেলান দিয়ে কিংবা উঁচু দস্তরখানের (খাওয়ান) ওপর রেখে খাবার খেতেন না(৩) এবং বৈধ কোনো কিছু থেকে নিজেকে বিরত রাখতেন না।(৪)

--------------------------------------------

(১) সহীহ - নাসাঈ 'আল-কুবরা' গ্রন্থে (৮/৩৪) (৮৫৮৫), ইবনুল জা'দ তাঁর 'মুসনাদ' গ্রন্থে (পৃ/৩৭২) (২৫৬১), আহমাদ তাঁর 'মুসনাদ' গ্রন্থে (২/৩০৭) (১০৪২), হারিস তাঁর 'মুসনাদ' গ্রন্থে (২/৮৭৪) (৯৩৮), বাজ্জার তাঁর 'মুসনাদ' গ্রন্থে (২/২৯৯) (৭২৩), আবু ইয়া'লা তাঁর 'মুসনাদ' গ্রন্থে (১/২৫৮) (৩০২) এবং হাকেম তাঁর 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে (২/১৫৫) (২৬৩৩) বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সবাই জুহাইর ইবনে মুয়াবিয়া, হারিস এবং ইসরাঈলের মাধ্যমে আবু ইসহাক থেকে, তিনি হারিসা ইবনে মুদাররিব থেকে এবং তিনি আলী থেকে দীর্ঘাকারে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবু ইসহাক হলেন সাবীয়ী, তাঁর স্মৃতিভ্রম (ইখতিলাত) ঘটেছিল এবং উল্লিখিত তিন ব্যক্তি তাঁর কাছ থেকে স্মৃতিভ্রমের পর হাদিস শুনেছেন; তবে তাঁর নাতি ইসরাঈলের বর্ণনা সহীহাইন-এ গৃহীত হয়েছে। এছাড়া সহীহ মুসলিমে (৩/১৪০১) (১৭৭৬) বারা-এর বর্ণনায় এ হাদিসের সমার্থবোধক দীর্ঘ শাহিদ (সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা) রয়েছে।

(২) কাযী ইয়ায এটি তাঁর 'আশ-শিফা' গ্রন্থে (১/১১৯) কোনো সনদ উল্লেখ ছাড়াই বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, লজ্জাশীলতার কারণে তিনি কারো চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকতেন না।" আমি এর কোনো মুসনাদ (সনদযুক্ত) বর্ণনা পাইনি।

(৩) শব্দটির শুরুতে কাসরা (ই-কার) বা যম্মাহ (উ-কার) এবং ওয়াও বর্ণে তাশদীদ ছাড়া উচ্চারিত হয়। এটি হলো খাবার খাওয়ার জন্য প্রস্তুতকৃত টেবিল সদৃশ পাত্র, যা কাঠের তৈরি হয় এবং এর চারদিকে পায়া থাকে। বিলাসীদের অভ্যাস হলো এর ওপর রেখে খাবার খাওয়া যাতে খাওয়ার সময় বেশি ঝুঁকে পড়ার প্রয়োজন না হয়।

(৪) তবারী তাঁর 'খুলাসাতু সিরাতি সাইয়িদুল বাশার' গ্রন্থে (পৃ/৯৫) এটি উল্লেখ করেছেন। এর দ্বারা বাক্যের আক্ষরিক সাধারণ অর্থ উদ্দেশ্য নয়, কারণ এটি প্রমাণিত যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গুইসাপের মাংস এবং গোসলের পর শরীর থেকে পানি মুছে ফেলা পরিহার করেছিলেন। তাঁর এই উক্তির উদ্দেশ্য হলো যা তিনি পরবর্তীতে উল্লেখ করেছেন: "যদি তিনি খেজুর পেতেন তবে তা খেতেন, আর যদি রুটি পেতেন তবে তাও খেতেন..."।
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ২৬)
إن وجد تمرًا أكله وإن وجد خبزًا أكله، وإن وجد شواء أكله، وإن وجد خبز بر أكله، وإن وجد خبز شعير أكله، وإن وجد لبنًا اكتفى به(1)، أكل البطيخ بالرطب، وكان عليه السلام يحبّ الحلوى والعسل، وقال أبو هريرة رضي الله عنه خرج رسول الله عليه السلام من الدنيا ولم يشبع من خبز الشعير(2)، وكان يأتي على آل محمد صلى الله عليه وسلم الشهر والشهران لا يوقد في بيت من بيوته نار، وكان له تسعة أبيات، وكان قوتهم التمر والماء، وكان عليه السلام يقبل الهديّة ويكافئ عليها ولا يأكل الصدقة [ق 6 / ب] ولا يتأنّق في مأكل ولا ملبس يأكل ما وجد، ويلبس ما وجد، ويخصف النعل ويرقع الثوب، ويخدم في مهنة أهله، ويعود المرضى، وكان صلى الله عليه وسلم أشدّ الناس تواضعًا يجيب من دعاه من غنيّ أو فقير أو دنيّ أو شريف، يحبّ المساكين ويشهد جنائزهم، ويعود مرضاهم لا يحقّر فقيرًا لفقره، ولا بهاء(3) مَلِكًا لِمُلْكِهِ، ولا يتواضع لغنيّ لأجل غناه وكان عليه السلام يركب البعير، والفرس، والحمار، والبغل، ويردف خلفه عبده أو غيره ولا يدع أحدًا يمشي خلفه.

--------------------------------------------

(1) قال ابن حزم في " جوامع السيرة" (ص: 34): "وإن وجد لبنا دون خبز اكتفى به"، وقد روى الترمذي في "سننه" (5/ 506) (3455)، وأحمد في "مسنده" (3/ 439) (1978)، وغيرهما من طريق إسماعيل بن إبراهيم قال: حدثنا علي بن زيد، عن عمر بن أبي حرملة، عن ابن عباس، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " من أطعمه الله الطعام فليقل: اللهم بارك لنا فيه وأطعمنا خيرا منه، ومن سقاه الله لبنا فليقل: اللهم بارك لنا فيه وزدنا منه ". وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ليس شيء يجزي مكان الطعام والشراب غير اللبن» وإسناده ضعيف فيه علي بن زيد ابن جدعان: ضعيف، وعمر بن أبي حرملة مجهول، ورواه ابن ماجه في "سننه" (2/ 1103) (3322) من طريق إسماعيل بن عياش قال: حدثنا ابن جريج، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، عن ابن عباس بنحوه، وهذا سند يصلح للمتابعات، والحديث حسن من مجموع الطريقين.

(2) رواه البخاري في "صحيحه" (7/ 75) (5414)، ومسلم في "صحيحه" (7/ 75) (2976) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه به.

(3) كذا بالأصل، وعليه تحشية: "البهاء: الأنس"، وفي وقفت على هذه العبارة في غير موضع من كتب السيرة بلفظ: "ولا يهاب ملكا لملكه".
যদি তিনি খেজুর পেতেন তবে তা আহার করতেন, আর যদি রুটি পেতেন তবে তা আহার করতেন। যদি ভুনা গোশত পেতেন তবে তা আহার করতেন, আর যদি গমের রুটি পেতেন তবে তা আহার করতেন। যদি যবের রুটি পেতেন তবে তা আহার করতেন, আর যদি কেবল দুধ পেতেন তবে তাতেই সন্তুষ্ট থাকতেন(১)। তিনি তাজা খেজুরের সাথে তরমুজ আহার করতেন। রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাম মিষ্টি ও মধু পছন্দ করতেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাম এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন অথচ তিনি কখনো পেট ভরে যবের রুটি আহার করেননি(২)। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারের ওপর দিয়ে এক মাস, দুই মাস অতিবাহিত হয়ে যেত অথচ তাঁদের কোনো ঘরে আগুন জ্বলত না। তাঁদের ঘর ছিল নয়টি এবং তাঁদের প্রধান খাদ্য ছিল খেজুর ও পানি। তিনি আলাইহিস সালাম উপহার গ্রহণ করতেন এবং তার প্রতিদান দিতেন, কিন্তু সদকা আহার করতেন না। [পৃষ্ঠা ৬ / খ] তিনি পানাহারে বা পোশাকে জাঁকজমক করতেন না; যা পেতেন তা-ই আহার করতেন এবং যা পেতেন তা-ই পরিধান করতেন। তিনি নিজের জুতো সেলাই করতেন এবং কাপড়ে তালি দিতেন। নিজ পরিবারের কাজে সহযোগিতা করতেন এবং রোগীদের দেখতে যেতেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক বিনয়ী; ধনী-দরিদ্র বা সাধারণ-অভিজাত নির্বিশেষে যে কেউ দাওয়াত দিলে তিনি তা কবুল করতেন। তিনি মিসকিনদের ভালোবাসতেন, তাদের জানাজায় শরিক হতেন এবং তাদের রোগীদের দেখতে যেতেন। তিনি কোনো দরিদ্রকে তার দারিদ্র্যের কারণে তুচ্ছজ্ঞান করতেন না এবং কোনো রাজাকে তার রাজত্বের কারণে ভয় পেতেন না(৩)। তিনি কোনো ধনাঢ্য ব্যক্তির সামনে তার ধনের কারণে বিনয় প্রকাশ করতেন না। তিনি আলাইহিস সালাম উট, ঘোড়া, গাধা ও খচ্চরের পিঠে আরোহণ করতেন এবং নিজের পেছনে তাঁর ভৃত্য বা অন্য কাউকে বসিয়ে নিতেন। তিনি তাঁর পেছনে কাউকে হেঁটে চলতে দিতেন না।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজম ‘জাওয়ামি’উস সিরাহ’ (পৃ. ৩৪) গ্রন্থে বলেন: "যদি তিনি রুটি ছাড়া কেবল দুধ পেতেন তবে তাতেই সন্তুষ্ট থাকতেন"। তিরমিজি তাঁর ‘সুনান’ (৫/৫০৬, ৩৪৫৫) গ্রন্থে, আহমদ তাঁর ‘মুসনাদ’ (৩/৪৩৯, ১৯৭৮) গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা ইসমাইল বিন ইব্রাহিমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি আলী বিন যায়েদ থেকে, তিনি ওমর বিন আবি হারমালা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ যাকে আহার করান তার বলা উচিত: হে আল্লাহ, এতে আমাদের বরকত দিন এবং এর চেয়ে উত্তম আহার দান করুন। আর আল্লাহ যাকে দুধ পান করান তার বলা উচিত: হে আল্লাহ, এতে আমাদের বরকত দিন এবং এর পরিমাণ বাড়িয়ে দিন।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "দুধ ছাড়া এমন কিছু নেই যা খাদ্য ও পানীয় উভয়ের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে।" এর সনদটি দুর্বল; এতে আলী বিন যায়েদ ইবনে জুদআন রয়েছেন যিনি দুর্বল এবং ওমর বিন আবি হারমালা অজ্ঞাত। ইবনে মাজাহ তাঁর ‘সুনান’ (২/১১০৩, ৩৩২২) গ্রন্থে ইসমাইল বিন আইয়াশ-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এই সনদটি সমর্থক বর্ণনার জন্য উপযুক্ত এবং দুই সূত্রের সমষ্টিগত বিচারে হাদিসটি হাসান (গৃহীত)।

(২) ইমাম বুখারী তাঁর ‘সহিহ’ (৭/৭৫, ৫৪১৪) গ্রন্থে এবং ইমাম মুসলিম তাঁর ‘সহিহ’ (৭/৭৫, ২৯৭৬) গ্রন্থে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে এবং এর পার্শ্বটীকায় বলা হয়েছে: "আল-বাহা: অন্তরঙ্গতা"। তবে আমি সীরাতের অন্যান্য কিতাবের একাধিক স্থানে এই বাক্যটি "তিনি কোনো রাজাকে তার রাজত্বের কারণে ভয় পেতেন না" শব্দে পেয়েছি।
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ২৭)
ويقول: خلوا ظهري للملائكة، ويلبس الصوف وينتعل المخصوف، وكان أحب اللباس إليه الحبرة وهي من برود اليمن فيها حمرة وبياض، وخاتمه من فضة وفصه منه، يلبسه في خنصره الأيمن وربما لبسه في الأيسر يعصب على بطنه الحجر من الجوع، وقد آتاه الله مفاتيح خزائن الأرض كلها، فأبى أن يأخذها واختار الآخرة عليها، وكان عليه السلام يكثر الذكر، ويقل اللغو، ويطيل الصلاة، ويقصر الخطبة، أكثر الناس تبسمًا، وأحسنهم بشرًا، ومع ذلك أنه متواصل الأحزان(1)،

--------------------------------------------

(1) ضعيف – روى الترمذي في "الشمائل" (ص/134) (215)، والزبير بن بكار في "الأخبار الموفقيات" (ص/134) (215)، وابن أبي الدنيا في "الهم والحزن" (ص/27) (1)، ومحمد بن هارون في "صفة النبي" (ص/9)، والطبراني في "الكبير" (22/ 155) (414)، والآجري في "الشريعة" (3/ 1508) (1022)، والبيهقي في "الشعب" (3/ 24) (1362)، وغيرهم من طريق جميع بن عمر عن أبي عبد الله يزيد بن عمر عن ابن لأبي هالة – وسماه محمد بن هارون: عمر، وهو والد يزيد – عن الحسن بن علي عن هند بن ابي هالة مطولا به، وإسناده ضعيف فيه جميع بن عمر ضعيف رافضي، وأبو عبد الله وشيخه مجهولان، ورواه ابن شاذان في "مشيخته" (ص/45) (61)، والبيهقي في "الدلائل" (1/ 285) من طريق أبي محمد الحسن بن محمد بن يحيى بن الحسن بن جعفر بن عبيد الله بن الحسين بن علي بن الحسين بن علي بن أبي طالب العقيقي عن إسماعيل بن محمد بن إسحاق بن جعفر بن محمد بن علي بن الحسين بن علي بن أبي طالب، أبي محمد عن علي بن جعفر بن محمد، عن أخيه موسى بن جعفر، عن جعفر بن محمد، عن أبيه محمد بن علي، عن علي بن الحسين، قال: قال الحسن بن علي: سألت خالي هند بن أبي هالة فذكره مطولا به، وإسناده ضعيف جدا فيه أبو محمد الحسن بن محمد متهم.

وقال ابن القيم في "المدارج" (1/ 502): "وأما حديث هند بن أبي هالة في صفة النبي صلى الله عليه وسلم إنه كان متواصل الأحزان فحديث لا يثبت، وفي إسناده من لا يعرف. وكيف يكون متواصل الأحزان، وقد صانه الله عن الحزن على الدنيا وأسبابها، ونهاه عن الحزن على الكفار، وغفر له ما تقدم من ذنبه وما تأخر؟ فمن أين يأتيه الحزن؟ بل كان دائم البشر، ضحوك السن، كما في صفته " الضحوك القتال " صلوات الله وسلامه عليه".

 

وعلى فرض ثبوته فيحمل على الحزن على أمور الآخرة دون أمور الدنيا، قال ملا القاري في "جمع الوسائل" (2/ 16): "قال شارح يمكن التوفيق بوجه آخر، وهو أنه متواصل الأحزان باطنا بسبب أمور الآخرة، وكان أكثر تبسما ظاهرا مع الناس تآلفا بهم وحاصله أن تواصل الأحزان لا ينافي كثرة تبسمه لأن الحزن من الكيفيات النفسانية) وقال تقي الدين ابن تيمية في " مجموع الفتاوى" (16/ 221): "أما الحزن فليس المراد به الحزن الذي هو الألم على فوت مطلوب أو حصول مكروه فإن ذلك منهي عنه ولم يكن من حاله وإنما أراد به الاهتمام والتيقظ لما يستقبله من الأمور".
এবং তিনি বলতেন: "আমার পশ্চাৎভাগ ফেরেশতাদের জন্য খালি রাখো।" তিনি পশমি বস্ত্র পরিধান করতেন এবং তালি লাগানো জুতো পরতেন। তাঁর নিকট সবচেয়ে প্রিয় পোশাক ছিল 'হিবারাহ' (ইয়েমেনি চাদর), যা ছিল লাল ও সাদা বর্ণের রেখা সংবলিত ইয়েমেনি চাদর। তাঁর আংটি ছিল রূপার এবং এর উপরিভাগও (পাথর) ছিল রূপার তৈরি; তিনি এটি তাঁর ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে পরিধান করতেন এবং কখনো কখনো বাম হাতেও পরতেন। ক্ষুধার তাড়নায় তিনি পেটে পাথর বাঁধতেন, অথচ আল্লাহ তাআলা তাঁকে পৃথিবীর সকল ধনভাণ্ডারের চাবিকাঠি প্রদান করেছিলেন; কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন এবং দুনিয়ার পরিবর্তে পরকালকে বেছে নেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অধিক জিকির করতেন, অনর্থক কথা কম বলতেন, নামাজ দীর্ঘায়িত করতেন এবং খুতবা সংক্ষিপ্ত করতেন। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাস্যোজ্জ্বল ও প্রসন্ন হৃদয়ের অধিকারী; তা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন নিরন্তর চিন্তামগ্ন(১)।

--------------------------------------------

(১) দুর্বল — এটি বর্ণনা করেছেন তিরমিযী ‘শামাইল’ গ্রন্থে (পৃ./১৩৪) (২১৫), যুবাইর ইবন বাক্কার ‘আল-আখবার আল-মুয়াফফাকিয়াত’ গ্রন্থে (পৃ./১৩৪) (২১৫), ইবন আবিদ দুনিয়া ‘আল-হাম্মু ওয়াল হুজন’ গ্রন্থে (পৃ./২৭) (১), মুহাম্মাদ ইবন হারুন ‘সিফাতুন নবী’ গ্রন্থে (পৃ./৯), তাবারানি ‘আল-কাবীর’ গ্রন্থে (২২/ ১৫৫) (৪১৪), আজুররি ‘আশ-শারীআহ’ গ্রন্থে (৩/ ১৫০৮) (১০২২), বাইহাকি ‘আশ-শুআব’ গ্রন্থে (৩/ ২৪) (১৩৬২) এবং অন্যান্যরা। তাঁরা সকলে জামি ইবন উমর এর সূত্রে আবু আব্দুল্লাহ ইয়াযিদ ইবন উমর থেকে, তিনি আবু হালাহর এক পুত্রের থেকে — এবং মুহাম্মাদ ইবন হারুন তার নাম উমর বলেছেন, যিনি ইয়াযিদের পিতা — তিনি হাসান ইবন আলী থেকে এবং তিনি হিন্দ ইবন আবি হালাহ থেকে দীর্ঘভাবে বর্ণনা করেছেন। এর সানাদটি দুর্বল, কেননা এতে জামি ইবন উমর রয়েছেন যিনি একজন দুর্বল রাফেজি বর্ণনাকারী। এছাড়া আবু আব্দুল্লাহ এবং তাঁর শায়খ (শিক্ষক) উভয়েই অজ্ঞাত (মাজহুল)। ইবন শাযান তাঁর ‘মাশইয়াখাহ’ গ্রন্থে (পৃ./৪৫) (৬১) এবং বাইহাকি ‘আদ-দালাইল’ গ্রন্থে (১/ ২৮৫) এটি বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ হাসান ইবন মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া... আল-আকিকি এর সূত্রে ইসমাইল ইবন মুহাম্মাদ... এর মাধ্যমে আলী ইবন জাফর থেকে, তিনি তাঁর ভাই মুসা ইবন জাফর থেকে, তিনি জাফর ইবন মুহাম্মাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা মুহাম্মাদ ইবন আলী থেকে, তিনি আলী ইবনুল হুসাইন থেকে। তিনি বলেন: হাসান ইবন আলী বলেছেন: "আমি আমার মামা হিন্দ ইবন আবি হালাহকে (নবীর গুণাবলি সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করলাম..." (দীর্ঘ বর্ণনা)। এই সানাদটিও অত্যন্ত দুর্বল, কারণ এতে আবু মুহাম্মাদ হাসান ইবন মুহাম্মাদ নামক এক বর্ণনাকারী রয়েছেন যিনি অভিযুক্ত (মুত্তাহাম)।

ইবনুল কাইয়্যিম ‘আল-মাদারিজ’ গ্রন্থে (১/ ৫০২) বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে হিন্দ ইবন আবি হালাহর হাদিসে যে বলা হয়েছে তিনি ‘নিরন্তর চিন্তামগ্ন থাকতেন’, তা প্রমাণিত কোনো হাদিস নয়। এর সানাদে এমন বর্ণনাকারী রয়েছেন যিনি অপরিচিত। আর তিনি কেনই বা নিরন্তর চিন্তামগ্ন থাকবেন, যেখানে আল্লাহ তাআলা তাঁকে দুনিয়া ও এর উপকরণের জন্য দুঃখ করা থেকে রক্ষা করেছেন এবং কাফেরদের জন্য দুঃখ করতে নিষেধ করেছেন? তদুপরি তাঁর পূর্বাপর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। তাহলে দুঃখ কোত্থেকে আসবে? বরং তিনি ছিলেন সদা প্রসন্ন এবং হাস্যোজ্জ্বল চেহারার অধিকারী, যেমনটি তাঁর সিফাতে (গুণে) বর্ণিত হয়েছে: ‘হাস্যোজ্জ্বল ও বীর যোদ্ধা’, তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।"

 

যদি এই বর্ণনাটিকে সঠিক ধরে নেওয়া হয়, তবে এর অর্থ হবে দুনিয়াবি বিষয়ের পরিবর্তে আখেরাতের বিষয়াদি নিয়ে চিন্তিত থাকা। মোল্লা আলী কারী ‘জামউল ওয়াসাইল’ গ্রন্থে (২/ ১৬) বলেন: "ব্যাখ্যাকারগণ বলেছেন যে, অন্যভাবে এর সমন্বয় করা সম্ভব; আর তা হলো তিনি অন্তরে আখেরাতের বিষয়ের কারণে সর্বদা চিন্তামগ্ন থাকতেন, কিন্তু মানুষের প্রতি মমতা ও হৃদ্যতার খাতিরে বাহ্যিকভাবে অধিক হাস্যোজ্জ্বল থাকতেন। সারকথা হলো, নিরন্তর চিন্তা তাঁর অধিক হাসির পরিপন্থী নয়, কারণ চিন্তা হলো একটি মানসিক অবস্থা।" তাকিউদ্দিন ইবনে তাইমিয়াহ ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ গ্রন্থে (১৬/ ২২১) বলেন: "আর এখানে চিন্তা (হুজুন) বলতে সেই দুঃখ বোঝানো হয়নি যা কোনো উদ্দেশ্য বিফল হওয়া বা কোনো কষ্টদায়ক বিষয় ঘটার ফলে তৈরি হয়; কারণ এমন দুঃখ থেকে নিষেধ করা হয়েছে এবং এটি তাঁর হাল বা অবস্থা ছিল না। বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আগত বিষয়াবলির ব্যাপারে তাঁর গুরুত্ব প্রদান ও সতর্কতা।"
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ২৮)
دائم الفكر، رقيق القلب، سريع الدمعة(1)، وكان عليه السلام يحبّ الطيب ويكره الروائح الكريهة يتألف أهل الشرف، ويكرم أهل الفضل، ولا يطوي بِشْرَه عن أحدٍ ولا يجفوا عليه، يرى اللعب المباح ولا ينكره، ويمزح ولا يقول لاحقًا، ويقبل معذرة المعتذر إليه له عبيد وإماء لا يرتفع عليهم في مأكل ولا ملبس لا يمضي له وقت إلا في عمل لله عز وجل، وفيما لا بدّ له ولأهله منه ورعى عليه السلام الغنم، وقال: ما من نبي إلا وقد رعاها، وسئلت أم المؤمنين [ق 7 /أ] عائشة رضي الله عنها عن خلق رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت: "كان خلقه القرآن يغضب لغضبه، ويرضى لرضاه"(2).

--------------------------------------------

(1) قال ابن القيم في "زاد المعاد" (1/ 183): "وأما بكاؤه صلى الله عليه وسلم فكان من جنس ضحكه لم يكن بشهيق ورفع صوت كما لم يكن ضحكه بقهقهة ولكان كانت تدمع عيناه حتى تهملا ويسمع لصدره أزيز وكان بكاؤه تارة رحمة للميت وتارة خوفا على أمته وشفقه عليها وتارة من خشية الله وتارة عند سماع القرآن وهو بكاء اشتياق ومحبة وإجلال مصاحب للخوف والخشية ولما مات ابنه إبراهيم دمعت عيناه وبكى رحمه له … وبكى لما شاهد إحدى بناته ونفسها تفيض وبكى لما قرأ عليه ابن مسعود سورة النساء وانتهى فيها إلى قوله تعالى {فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلَاءِ شَهِيدًا} [النساء: 41] وبكى لما مات عثمان بن مظعون وبكى لما كسفت الشمس وصلى صلاة الكسوف وجعل يبكي في صلاته وجعل ينفخ ويقول رب ألم تعدني ألا تعذبهم وأنا فيهم وهم يستغفرون ونحن نستغفرك وبكى لما جلس على قبر إحدى بناته وكان يبكي أحيانا في صلاة الليل ".

(2) إسناده ضعيف بهذا التمام – أخرجه الطبراني في "الأوسط" (1/ 30) (72) من طريق أحمد بن إبراهيم قال: نا سليمان بن عبد الرحمن قال: نا الحسن بن يحيى الخشني قال: نا زيد بن واقد، عن بسر بن عبيد الله، عن أبي إدريس الخولاني، . عن أبي الدرداء قال: سألت عائشة عن خلق، رسول الله صلى الله عليه وسلم، فذكرته، وهذا إسناد ضعيف فيه لحسن بن يحيى صدوق كثير الغلط، والحديث بدون الزيادة الأخيرة أخرجه مسلم في صحيحه" (1/ 512) (746) من حديث عائشة مطولا بنحوه.
সর্বদা চিন্তাশীল, কোমল হৃদয়ের অধিকারী এবং দ্রুত অশ্রুপাতকারী(১) ছিলেন। তিনি (সা.) সুগন্ধি পছন্দ করতেন এবং দুর্গন্ধ অপছন্দ করতেন। তিনি উচ্চবংশীয় ও অভিজাতদের সাথে হৃদ্যতা বজায় রাখতেন এবং গুণী ব্যক্তিদের সম্মান করতেন। তিনি কারও কাছ থেকে নিজের হাস্যোজ্জ্বল চেহারা ফিরিয়ে নিতেন না এবং কারও প্রতি রুক্ষ আচরণ করতেন না। তিনি বৈধ খেলাধুলা বা আমোদ-প্রমোদ প্রত্যক্ষ করতেন এবং তা নিষেধ করতেন না। তিনি কৌতুক করতেন কিন্তু সত্য বৈ কিছু বলতেন না। কেউ ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি তার ওজর বা ওজুহাত কবুল করতেন। তাঁর দাস ও দাসী ছিল, কিন্তু আহার ও পোশাকের ক্ষেত্রে তিনি তাদের ওপর নিজেকে বড় মনে করতেন না। মহান আল্লাহর ইবাদত এবং নিজের ও পরিবারের জন্য যা একান্ত অপরিহার্য, তা ব্যতীত তাঁর কোনো সময় অতিবাহিত হতো না। তিনি (সা.) বকরী চরাতেন এবং বলতেন: "এমন কোনো নবী নেই যিনি বকরী চরাননি।" উম্মুল মুমিনীন [পৃষ্ঠা ৭/ক] আয়েশা (রা.)-কে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "পবিত্র কুরআনই ছিল তাঁর চরিত্র; কুরআন যা দেখে ক্রুদ্ধ হতো তিনিও তাতে ক্রুদ্ধ হতেন এবং কুরআন যা দেখে সন্তুষ্ট হতো তিনিও তাতে সন্তুষ্ট হতেন"(২)।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল কাইয়্যিম "যাদ আল-মাআদ" (১/১৮৩) গ্রন্থে বলেন: "আর তাঁর (সা.) ক্রন্দন ছিল তাঁর হাসির ধরনেরই; তাতে দীর্ঘশ্বাস বা উচ্চ শব্দ ছিল না, যেমন তাঁর হাসি অট্টহাসি ছিল না। বরং তাঁর চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হতো এবং গড়িয়ে পড়ত, আর তাঁর বক্ষ থেকে উনুনের গুঞ্জনের মতো ধ্বনি শোনা যেত। তাঁর ক্রন্দন কখনো ছিল মৃতের প্রতি দয়ার কারণে, কখনো তাঁর উম্মতের প্রতি ভয় ও মমতার কারণে, কখনো আল্লাহর ভয়ে, আবার কখনো কুরআন শোনার সময়। আর তা ছিল ভয় ও ভীতির সাথে মিশ্রিত আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার ক্রন্দন। যখন তাঁর পুত্র ইবরাহীম ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর প্রতি দয়াপরবশ হয়ে তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরেছিল এবং তিনি কেঁদেছিলেন... তিনি কেঁদেছিলেন যখন তাঁর এক কন্যাকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখেছিলেন। তিনি কেঁদেছিলেন যখন ইবনে মাসউদ তাঁর সামনে সূরা আন-নিসা পাঠ করেন এবং যখন এই আয়াতে পৌঁছান: {অতঃপর তখন কী অবস্থা হবে, যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব?} [আন-নিসা: ৪১]। তিনি কেঁদেছিলেন যখন উসমান ইবনে মাজউন মারা যান। সূর্যগ্রহণের সময় তিনি কেঁদেছিলেন এবং সূর্যগ্রহণের সালাত আদায় করেছিলেন। তিনি সালাতের মধ্যে কাঁদছিলেন এবং দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছিলেন আর বলছিলেন: হে প্রতিপালক! আপনি কি আমাকে প্রতিশ্রুতি দেননি যে, আমি তাদের মাঝে থাকা অবস্থায় আপনি তাদের শাস্তি দেবেন না এবং তারা ক্ষমা প্রার্থনা করা অবস্থায়ও আপনি তাদের শাস্তি দেবেন না? আর আমরা আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। তিনি তাঁর এক কন্যার কবরের পাশে বসে কেঁদেছিলেন এবং মাঝেমধ্যে রাতের সালাতেও কাঁদতেন।"

(২) এই পূর্ণাঙ্গ পাঠসহ এর সনদটি দুর্বল – তাবারানী এটি "আল-আওসাত" (১/৩০) (৭২) গ্রন্থে আহমদ ইবনে ইব্রাহিমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে সুলাইমান ইবনে আবদুর রহমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাসান ইবনে ইয়াহইয়া আল-খুশানি বর্ণনা করেছেন, তিনি যায়িদ ইবনে ওয়াকিদ থেকে, তিনি বুসর ইবনে উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি আবু ইদ্রিস আল-খাওলানি থেকে, তিনি আবুদ্দারদা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি আয়েশাকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম... অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেন। এটি একটি দুর্বল সনদ, কারণ এতে হাসান ইবনে ইয়াহইয়া রয়েছেন যিনি সত্যবাদী হলেও প্রচুর ভুল করতেন। তবে শেষাংশের অতিরিক্ত বর্ণনাটুকু ব্যতীত হাদিসটি ইমাম মুসলিম তাঁর "সহীহ" (১/৫১২) (৭৪৬) গ্রন্থে আয়েশা থেকে বিস্তারিতভাবে অনুরূপ অর্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) জামেউল ওয়ারা ওয়াকামিইল বিদা (পৃষ্ঠা: ২৯)
وصح وثبت عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: "ما مسست حريرًا ولا ديباجًا ألين من كفّ رسول الله عليه السلام، ولقد خدمت رسول الله عشر سنين فما قال لي عن شيءٍ فعلته لم فعلت كذا وكذا"(1). وكذا قد جمع الله عز وجل له كما قال الأخلاق ومحاسن الأفعال، وآتاه علم الأولين والآخرين وما فيه النجاة والفوز وهو أمّي لا يقرأ ولا يكتب ولا معلّم له من البشر نشأ في بلاد الجهل والصحاري آتاه الله ما لم يؤت أحدًا من العالمين، واختاره على الأولين والآخرين، فصلوات الله عليه وعلى جميع إخوانه من النبيّين والمرسلين وعلى آله وأصحابه الطيّبين الطاهرين صلاة دائمة إلى يوم الدين، ألا إن رسول الله صلى الله عليه وسلم هو الميزان الأكبر، عليه تعرض الأشياء على خُلقه وسيرته وهديه، فما وافق فهو الحق وما خالف فهو الباطل، ألا فمتى وجدتم من علمائكم وعبادكم وغيرهم من المشايخ والفقراء من تشبه بأخلاق نبيكم صلى الله عليه وسلم وصحابته رضوان الله عليهم وسيرتهم فيما يقولون ويفعلون لله عز وجل في مواعظهم وفي محاسنهم، فاعلموا أنه متبع صادق وإلا فمبتدع منافق مخالف البُعد عنهم والحذار الحذار منهم، وأقول شعراً:

اسلك طريق الصالحين [ومَنْ هُمُ] … مِنْ سادة العلماء والأخيار

واجهد لهم في الاتباع مجانبًا … مهما حييت مسالك الأغيار

وكن الحريص [ق 7 / ب] على سلوك طريقهم … وعلى مسير القوم بالسيار

كن ذاكرًا أعمالهم ومذكرًا … ومبكرًا فيهن بالإبكار

وإذا رأيت مخالفًا لطريقهم … فانكر عليه بمعظم الإنكار

وكن المحذر من قبيح فعاله … للمؤمنين النفع بالتذكار

واهجر لكل مذبذبٍ في بدعة … بمحبة الإبداع في الإسكار

--------------------------------------------

(1) صحيح - أخرجه الترمذي في "سننه" (3/ 436) (2015)، وقال: "حسن صحيح"، وأحمد في مسنده" (2/ 310) (13797)، وابن عساكر في "معجمه" (1/ 463) (557)، وغيرهم من طرق عن ثابت عن أنس بنحوه، وكلا طرفيه في الصحيح من حديث أنس.
আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে সহীহ ও সাব্যস্ত সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাতের তালুর চেয়ে অধিক কোমল কোনো রেশম বা দিবায স্পর্শ করিনি। আর আমি দশ বছর আল্লাহর রাসূলের খিদমত করেছি, কিন্তু তিনি কখনো আমার কোনো কাজের বিষয়ে বলেননি যে, তুমি কেন এমন করলে?"(১)। তেমনিভাবে মহান আল্লাহ তাঁর জন্য—যেমনটি বলা হয়েছে—উত্তম চরিত্র ও সুন্দর কার্যাবলিকে একত্রিত করে দিয়েছেন। তিনি তাঁকে পূর্বাপর সকলের জ্ঞান দান করেছেন এবং এমন জ্ঞান দিয়েছেন যাতে মুক্তি ও সফলতা নিহিত। অথচ তিনি ছিলেন উম্মী (নিরক্ষর), যিনি পাঠ করতেন না, লিখতেন না এবং মানুষের মধ্যে তাঁর কোনো শিক্ষক ছিল না; তিনি বড় হয়েছেন অজ্ঞতা ও মরুভূমির জনপদে। আল্লাহ তাঁকে এমন কিছু দান করেছেন যা বিশ্বজগতের আর কাউকেও দান করেননি এবং তাঁকে পূর্বাপর সবার উপর মনোনীত করেছেন। অতএব, আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক তাঁর উপর এবং তাঁর সকল ভাই নবী ও রাসূলগণের উপর, আর তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর—কিয়ামত পর্যন্ত সর্বদা এই সালাত অব্যাহত থাকুক। জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ মানদণ্ড। তাঁর চরিত্র, সীরাত ও হেদায়েতের আলোকেই সকল বিষয়কে যাচাই করা হবে। যা এর সাথে মিলবে তা-ই সত্য, আর যা এর পরিপন্থী তা-ই বাতিল। সাবধান! তোমাদের আলিম, ইবাদতকারী, মাশায়েখ এবং ফকীরদের মধ্যে যখনই এমন কাউকে দেখবে যিনি তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) চরিত্র ও সীরাতের অনুকরণ করেন—তাঁদের কথা ও কাজে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে, তাঁদের নসিহত ও উত্তম আচরণে—তবে জেনে রেখো যে তিনি একজন সত্যনিষ্ঠ অনুসারী। অন্যথায়, তিনি একজন বিভ্রান্ত বিদআতি ও বিরুদ্ধাচরণকারী; তাদের থেকে দূরে থাকো এবং তাদের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকো। আর আমি কাব্যিক ভাষায় বলছি:

সৎকর্মপরায়ণদের পথ ধরো [আর তাঁরা হলেন] … আলিমদের নেতৃবৃন্দ ও শ্রেষ্ঠজনদের মধ্য হতে

যতদিন বেঁচে থাকো অন্যদের পথ এড়িয়ে … তাঁদের অনুসরণে কঠোর পরিশ্রম করো

তাঁদের পথে চলতে বিশেষ যত্নবান হও [পত্র ৭ / খ] … এবং কাফেলার সাথে পথচলায় অবিচল থাকো

তাঁদের কর্মসমূহ স্মরণ করো এবং অন্যকেও স্মরণ করাও … এবং তাতে অগ্রণী হয়ে তৎপর হও

যদি তাঁদের পথের কোনো বিরোধীকে দেখতে পাও … তবে তাকে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করো

মুমিনদের উপকারের তরে নসিহতের মাধ্যমে … তার মন্দ কাজগুলো সম্পর্কে সতর্ককারী হও

আর বিদআতের নেশায় মত্ত … প্রতিটি দোদুল্যমান ব্যক্তিকে ত্যাগ করো

--------------------------------------------

(১) সহীহ - এটি তিরমিযী তাঁর "সুনান" গ্রন্থে (৩/ ৪৩৬) (২০১৫) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "হাসান সহীহ", এবং আহমাদ তাঁর "মুসনাদ" (২/ ৩১০) (১৩৭৯৭) গ্রন্থে, এবং ইবনে আসাকির তাঁর "মুজাম" (১/ ৪৬৩) (৫৫৭) গ্রন্থে; এবং আরও অনেকে সাবিত থেকে আনাস (রা.)-এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর হাদিসটির উভয় অংশই আনাস (রা.)-এর সূত্রে সহীহ গ্রন্থে বিদ্যমান।