(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: -)
عقد الدرر في أخبار المنتظر   (يوسف بن يحيى السلمي)

القسم: العقيدة


الكتاب: عقد الدرر في أخبار المنتظر وهو المهدي عليه السلام

المؤلف: يوسف بن يحيى بن علي بن عبد العزيز المقدسي السلمي الشافعي (ت بعد 658هـ)

حققه وراجع نصوصه وعلق عليه وخرج أحاديثه: الشيخ مهيب بن صالح بن عبد الرحمن البوريني

الناشر: مكتبة المنار، الزرقاء - الأردن

الطبعة: الثانية، 1410 هـ - 1989 م

عدد الصفحات: 414

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আকদুদ দুরার ফি আখবারিল মুনতাজার   (ইউসুফ বিন ইয়াহইয়া আস-সুলামী)

বিভাগ: আকীদা


কিতাব: আকদুদ দুরার ফি আখবারিল মুনতাজার, আর তিনি হলেন মাহদী আলাইহিস সালাম

লেখক: ইউসুফ বিন ইয়াহইয়া বিন আলী বিন আব্দুল আযীয আল-মাকদিসী আস-সুলামী আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৬৫৮ হিজরীর পর)

পাণ্ডুলিপি যাচাই, পাঠ্য পর্যালোচনা, টীকা প্রদান ও হাদীস বিশ্লেষণ করেছেন: শায়খ মুহীব বিন সালেহ বিন আব্দুর রহমান আল-বুরিনী

প্রকাশক: মাকতাবাতুল মানার, যারকা - জর্ডান

সংস্করণ: দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪১০ হিজরী - ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১৪

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: -)
عقد الدرر في أخبار المنتظر

 

يوسف بن يحيى بن علي المقدسي الشافعي السلمي
প্রতীক্ষিতের সংবাদ বর্ণনায় মুক্তার মালা

 

ইউসুফ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আলী আল-মাকদিসি আশ-শাফিয়ি আস-সুলামি
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৫৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

وبه التوفيق والإعانة

الحمد لله الواحد العلي، الواجد الغني، الطاهر عن كل عيب، الظاهر له كل غيب، الذي صفت بدائع آلائه وراقت، وضفت سوابغ نعمائه وفاقت، حمداً يوافي نعمه العظام التي لا تحصى كثرتها عدداً، ويكافئ مننه الجسام التي لو كان البحر لها مداداً لم تنفذ ولو جيء بمثله مداداً.

والصلاة والسلام الأتمان على نبيه المنقذ من الضلالة، المستقل بأعباء الرسالة، المبعوث من أكرم الأعراق وأحسنها، المنعوت بمكارم الأخلاق وأحسنها، وعلى آله الأخبار المنتخبين، وعلى أَصحابه الأخيار المنتجين، وعلى أزواجه الطاهرات أمهات المؤمنين، وعلى النبيين وآلهم أجمعين، وعلى كل عبد صالح إلى يوم الدين، آمين آمين آمين.

ما بعد؛ فإنه جرت مذاكرة بحضرة بعض الإخوان، في أنه قد قل الموالي من الناس وكثر الخوان، وارتفعت الأسعار وقلت البركات، وتوالت الأكدار وكثرت الآفات، وتقطبت وجوه الآمال وقد كانت مستنيرة مستبشرة، واكفهرت تغور الأيام وطال ما كانت ضاحكة مسفرة، وتكدرت
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌ভূমিকা

এবং তাঁরই নিকট সাহায্য ও তাওফীক প্রার্থনা করছি

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি একক, সুউচ্চ, অভাবমুক্ত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ, যিনি সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র, যাঁর নিকট সকল অদৃশ্যই দৃশ্যমান; যাঁর অনুপম নিআমতসমূহ স্বচ্ছ ও মনোরম এবং যাঁর পূর্ণ নিআমতসমূহ প্রশস্ত ও সর্বশ্রেষ্ঠ। এমন এক প্রশংসা যা তাঁর মহান নিআমতসমূহের সমতুল্য, যার প্রাচুর্য গণনা করে শেষ করা যায় না; এবং যা তাঁর সেই বিশাল অনুগ্রহরাজি পরিশোধ করতে সক্ষম, যার জন্য যদি সমুদ্র কালি হতো তবে তা শেষ হতো না, যদিও তার সমপরিমাণ কালি আরও নিয়ে আসা হতো।

এবং পূর্ণতম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর নবীর ওপর, যিনি পথভ্রষ্টতা থেকে উদ্ধারকারী, রিসালাতের গুরুভার বহনে অবিচল, সর্বোত্তম ও সুন্দরতম বংশধারা থেকে প্রেরিত, এবং সর্বোত্তম ও শ্রেষ্ঠতম চারিত্রিক গুণাবলীতে গুণান্বিত। আরও বর্ষিত হোক তাঁর নির্বাচিত নেককার বংশধরদের ওপর, তাঁর পুণ্যবান ও সফলকাম সাহাবীদের ওপর, তাঁর পবিত্র স্ত্রীগণ তথা মুমিনদের জননীদের ওপর, সমস্ত নবী ও তাঁদের পরিবারবর্গের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক নেককার বান্দার ওপর। আমীন, আমীন, আমীন।

অতপর; কিছু ভাইদের উপস্থিতিতে এই বিষয়ে আলোচনা হচ্ছিল যে, মানুষের মাঝে হিতাকাঙ্ক্ষীর সংখ্যা কমে গেছে এবং বিশ্বাসঘাতকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ও বরকত হ্রাস পেয়েছে, দুঃখ-দুর্দশা ক্রমাগত আসছে ও আপদ-বিপদ বৃদ্ধি পেয়েছে, আশার মুখগুলো বিষণ্ণ হয়ে পড়েছে অথচ আগে সেগুলো উজ্জ্বল ও প্রফুল্ল ছিল, দিনগুলোর গতিপ্রকৃতি অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে অথচ দীর্ঘকাল সেগুলো ছিল হাস্যোজ্জ্বল ও প্রদীপ্ত, এবং কলুষিত হয়ে পড়েছে।
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৫৮)
مشارع الآلاء وقد كانت صافية، وتقلصت سوابغ النعماء بعد ما كانت صافية، وتظاهر بالمنكرات الفاجر والبر، وظهر الفساد في البر والبحر، وفقد من يقصد إليه في الحوائج إذا جلت، وعدم من يعول عليه في الجوانح إذا حلت، وقل من يعود به كل هارب وراهب، وعز من يلوذ به كل طالب وراغب، وكثرت الشحناء بين الأقارب والأجانب، ودارت رحى الحرب الزبون من كل جانب، وعمت الأنام الحيرة والذلة عموم المطر، وأحاط بهم الرعب والخذلان إحاطة الهالة بالقمر، وعم عدوان المارقين وانتشر شرهم، وعيل صبر المتقين وعال ضرهم، وتقطعت السبل وانسدت المسالك، وترادفت الفتن وكثرت المهالك، فجمحت النفوس إلى كشف هذه الغمة عن الأمة، وجنحت القلوب إلى شغب صدع هذه الصدمة وقلنا: وكيف السبيل إلى الخلاص، ولات حين مناص.

فزعم بعضهم أن نار الحرب لا تزداد إلا تضرماً واستعاراً، ولا يزداد الأمر إلا شدة ولا الدنيا إلا إدباراً، وأصر على عدم مفارقة هذا المعنى، وتشبت بأذيال الأحاديث
নেয়ামতের ঝরনাধারাগুলো যা একদা স্বচ্ছ ছিল তা এখন বিলীন হয়ে গেছে, এবং অফুরন্ত অনুগ্রহরাজি যা একসময় নির্মল ছিল তা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। পাপাচারী ও পুণ্যবান উভয়েই প্রকাশ্যে পাপাচারে লিপ্ত হয়েছে এবং স্থলে ও জলে বিপর্যয় প্রকাশ পেয়েছে। বড় কোনো প্রয়োজন দেখা দিলে যার শরণাপন্ন হওয়া যেত তাকে হারিয়ে ফেলা হয়েছে এবং বিপদ আপতিত হলে যার ওপর ভরসা করা যেত তার অভাব দেখা দিয়েছে। পলাতক ও ভীতসন্ত্রস্ত ব্যক্তি যার আশ্রয় গ্রহণ করত এমন লোক অতি সামান্য হয়ে গেছে এবং কোনো অন্বেষণকারী বা অভিলাষী ব্যক্তি যার কাছে আশ্রয় নিত তাকে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। আত্মীয় ও অনাত্মীয়দের মাঝে শত্রুতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সর্বদিক থেকে ভয়াবহ যুদ্ধের যাঁতাকল সচল হয়েছে। বৃষ্টির ন্যায় সাধারণ মানুষের মাঝে কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা ও লাঞ্ছনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং চাঁদের চারপাশের জ্যোতির্বলয়ের ন্যায় ভয় ও অপমান তাদেরকে পরিবেষ্টন করে ফেলেছে। সীমালঙ্ঘনকারীদের অবাধ্যতা সাধারণ রূপ নিয়েছে এবং তাদের অনিষ্ট ছড়িয়ে পড়েছে; পরহেজগারদের ধৈর্য ফুরিয়ে গেছে এবং তাদের কষ্ট বহুগুণ বেড়ে গেছে। পথঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং পথসমূহ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে; একের পর এক ফিতনা দেখা দিচ্ছে এবং ধ্বংসের কারণসমূহ বৃদ্ধি পেয়েছে। তখন এই উম্মাহর ওপর থেকে এই দুর্যোগের ঘনঘটা দূর করার জন্য প্রাণগুলো ব্যাকুল হয়ে উঠল এবং অন্তরসমূহ এই বিপর্যয়ের ফাটল মেরামতের দিকে ধাবিত হলো। আমরা বললাম: 'মুক্তির উপায় কী, অথচ এখন তো পলায়নের কোনো সময় নেই।'

তাদের কেউ কেউ দাবি করল যে, যুদ্ধের আগুন কেবল উত্তরোত্তর বৃদ্ধিই পাবে, পরিস্থিতি কেবল আরও ভয়াবহ হবে এবং দুনিয়া কেবল আরও বিমুখ হবে। তারা এই ধারণার ওপর অটল থাকল এবং হাদীসসমূহের বাহ্যিক অর্থের ওপর নির্ভর করল।
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৫৯)
الواردة في هذا المعنى، فقالت له: نحن نسلم صحة هذه الأحاديث ونتلقاها بالسمع والطاعة، لكن ليس فيها ما يدل على استمرار هذا الأمر إلى أن تقوم الساعة، ولعل زواله يكون عند خروج الإمام المهدي، واضمحلاله منوط بظهور سره المخفي، فقد بشرت بظهوره أحاديث جمة، ودونتها في كتبهم علماء هذه الأمة، وإن الله تعالى يبعث من يمهد لولايته تمهيداً يتهدم له شوامخ الأطواد، ويجمع على موالاته الحاضر والباد، فيملك الأرض حزناً وسهلاً، ويملأها قسطاً وعدلاً، وتكشف له كنوزها عن الغظا، فيوقع فيها الفناء بالعطا، ويسلط جوده على الموجود، ويبطل الوزن والعدد في الموزون والمعدود، إلى أن يبلغ من نصر الإيمان وأهله قاصية البغية، ويلوي على أصابعه من قهر الطغيان وحزبه ناصية المنية، ويهزء الدين الحنيف علفيه طرباً، ويخمد نار الشرك نار الشرك ويولي حزبه هرباً.

به لمحاسن الشرع انتظام … به لمفاسد الشرك انصرام

ومنه لمن يحالفه احترام … ومنه لمن يخالفه اخترام
এই অর্থে বর্ণিত বিষয়সমূহ সম্পর্কে তিনি তাকে বললেন: আমরা এই হাদিসগুলোর বিশুদ্ধতা স্বীকার করি এবং এগুলো শোনা ও আনুগত্যের সাথে গ্রহণ করি, তবে সেগুলোর মধ্যে এমন কিছু নেই যা কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে। আর সম্ভবত এর অবসান ঘটবে ইমাম মাহদীর আগমনের সময়, এবং এর বিলুপ্তি তার লুকায়িত রহস্য প্রকাশের সাথে সংশ্লিষ্ট। কেননা তাঁর আগমনের সুসংবাদ নিয়ে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে এবং এই উম্মতের আলিমগণ তাঁদের কিতাবসমূহে সেগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা এমন একজনকে প্রেরণ করবেন যিনি তাঁর শাসনের জন্য এমনভাবে পথ প্রশস্ত করবেন যার ফলে সুউচ্চ পাহাড়সমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে এবং তিনি তাঁর আনুগত্যের ওপর নগরবাসী ও মরুবাসী সকলকে ঐক্যবদ্ধ করবেন। অতঃপর তিনি বন্ধুর ভূমি ও সমতল ভূমি—পুরো পৃথিবীর মালিক হবেন এবং একে ন্যায়পরায়ণতা ও ইনসাফ দ্বারা পরিপূর্ণ করবেন। পৃথিবীর লুকায়িত ধনভাণ্ডারসমূহ তাঁর নিকট উন্মোচিত হবে, অতঃপর তিনি অকাতরে দান করার মাধ্যমে সেগুলো নিঃশেষ করবেন। তিনি বিদ্যমান সবকিছুর ওপর তাঁর বদান্যতাকে প্রবল করবেন এবং পরিমাপযোগ্য ও গণনাযোগ্য বস্তুর ক্ষেত্রে ওজন ও সংখ্যার প্রয়োজনীয়তা বাতিল করবেন। এমনকি তিনি ঈমান ও ঈমানদারদের সাহায্য করার ক্ষেত্রে চরম লক্ষ্যে উপনীত হবেন এবং স্বৈরাচার ও তার দলের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে স্বীয় আঙ্গুলসমূহে মৃত্যুর অগ্রভাগ পেঁচিয়ে ধরবেন। এতে একনিষ্ঠ দ্বীন আনন্দে প্রফুল্লিত হবে এবং শিরকের আগুন নির্বাপিত হবে এবং শিরককারী দল পলায়ন করবে।

তাঁর মাধ্যমে শরীয়তের সৌন্দর্যসমূহের সুশৃঙ্খল বিন্যাস ঘটে … তাঁর মাধ্যমে শিরকের অনিষ্টসমূহের অবসান ঘটে

তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর মিত্রদের জন্য রয়েছে সম্মান … এবং তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর বিরোধীদের জন্য রয়েছে বিনাশ।
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৬০)
تحلى من أياديه النوادي … ويجلي من محاسنه الظلام

فما لسناء غرته القضاء … ولا لبناء عزته انهدام

عليه مجدداً في كل يوم … من الله التحية والسلام

ولعل ظهوره في هذه السنين قد يقع، فكل أمر إذا ضاق اتسع.

فقال: إن من الناس من ينكر هذا كله بالكلية، ومنهم من يزعم أن لا مهدي إلا عيسى ابن مريم الطاهرة الزكية.

فقلت له: أما من ينكر هذا كله بالكلية فلا التفات إليه، إذ لا يعلم له في ذلك مستند يرجع إليه.

وأما من زعم أن لا مهدي إلا عيسى ابن مريم، وأصر على صحة هذا الحديث وصمم، فربما أوقعه في ذلك الحمية والإلتباس، وكثرة تداول هذا الحديث على السنة الناس.

وكيف يرتقي إلى درجة الصحيح وهو حديث منكر، أم كيف يحتج بمثله من أمعن النظر في إسناده وأفكر.

فقد صرح بكونه منكراً أبو عبد الرحمن النسائي، وإنه لجدير بذلك إذ مداره على محمد بن خالد الجندي.
তাঁর হস্তসমূহ দ্বারা মজলিসসমূহ সুশোভিত হয় … এবং তাঁর সৌন্দর্যরাজি অন্ধকার দূরীভূত করে।

তাঁর ললাটের দীপ্তির কোনো অবসান নেই … এবং তাঁর সম্মানের প্রাসাদের কোনো ধ্বংস নেই।

তাঁর ওপর প্রতিদিন নবায়িতভাবে … আল্লাহর পক্ষ থেকে অভিবাদন ও শান্তি বর্ষিত হোক।

সম্ভবত এই বছরগুলোতে তাঁর আবির্ভাব ঘটবে, কারণ প্রতিটি বিষয় যখন সংকীর্ণ হয় তখন তা প্রশস্ত হয়।

তিনি বললেন: মানুষের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা এর সবকিছুই সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে, আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করে যে, পবিত্রা ও শুদ্ধা মারইয়াম তনয় ঈসা ব্যতীত অন্য কোনো মাহদী নেই।

আমি তাঁকে বললাম: যে ব্যক্তি এর সবকিছুই সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে, তার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই; কেননা এ বিষয়ে তার কোনো নির্ভরযোগ্য দলিলাদি জানা নেই যার ওপর ভিত্তি করা যায়।

আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে, ঈসা ইবনে মারইয়াম ব্যতীত কোনো মাহদী নেই, এবং এই হাদিসটির বিশুদ্ধতার ওপর অটল ও দৃঢ় থাকে, সম্ভবত গোঁড়ামি, সংশয় এবং মানুষের মুখে এই হাদিসটির ব্যাপক প্রচার তাকে এই ধারণায় নিপতিত করেছে।

অথচ এটি একটি 'মুনকার' (অস্বীকৃত) হাদিস হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে তা 'সহীহ' (বিশুদ্ধ) স্তরে উন্নীত হতে পারে? অথবা যে ব্যক্তি এর সনদ নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা ও পর্যবেক্ষণ করেছে, সে কীভাবে এরূপ হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করতে পারে?

ইমাম আবু আব্দুর রহমান আন-নাসায়ী একে 'মুনকার' হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন; আর এটিই সমীচীন, কারণ এই হাদিসটির মূল ভিত্তি হলেন মুহাম্মদ বিন খালিদ আল-জুন্দি।
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৬১)
وفي كتاب العلل المتناهية للإمام أبي الفرج بن الجوزي، ما نقله في توهين هذا الحديث من كلام الحافظ أبي كبر البيهقي، قال: فرجع الحديث إلى الجندي وهو مجهول، عن أبان بن أبي عياش وهو متروك
এবং ইমাম আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযীর 'আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ' গ্রন্থে, হাফিজ আবু বকর আল-বাইহাকীর বক্তব্য থেকে এই হাদিসটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: হাদিসটির সূত্র আল-জুন্দীর দিকে ফিরে যায় এবং তিনি অজ্ঞাত (মাজহুল), তিনি আবান ইবনে আবি আইয়াশ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বর্জনীয় (মাতরুক)।
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৬২)
غير مقبول، عن الحسن عن النبي صلى الله عليه وسلم وهو منقطع غير موصول.

وحكى البيهقي عن شيخه الحاكم النيسابوري، وناهيك به معرفة بعلم الحديث وعلى أحوال رواته مطلع، أنه قال: الجندي مجهول وابن أبي عياش متروك وهذا الحدث بهذا الإسناد منقطع.

وقد نقل علماء الحديث في حق الإمام المهدي من الأحاديث ما لا يحصى كثرة، وكلها معرضة بذكره ومصرحة، وفي ذلك أدل دليلي على ترجيحها على هذا الحديث المنكر عند من كان له بهذا الفن خبرة وبعضها لبعض مصححة.

وقد ذكر الإمام الحافظ أبو عبد الله الحاكم في كتابه المستدرك على الصحيحين من ذلك ما فيه غنية، ونبه على ترجيح رواته الجم الغفير من كان له في ذلك بغية.

ولما انتهى في كتابه إلى ذكر هذه الرواية، بين حالها لمن له فهم ودراية، فقال
অগ্রহণযোগ্য, হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন; আর এটি একটি বিচ্ছিন্ন বর্ণনা, যা অবিচ্ছিন্ন নয়।

বায়হাকী তাঁর উস্তাদ হাকিম আন-নিশাপুরী থেকে বর্ণনা করেছেন—আর হাদীস শাস্ত্রে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানই যথেষ্ট—যে তিনি বলেছেন: আল-জুন্দী অজ্ঞাত এবং ইবনে আবি আইয়াশ পরিত্যক্ত, আর এই সনদসহ এই বর্ণনাটি বিচ্ছিন্ন।

হাদীস বিশারদগণ ইমাম মাহদী সম্পর্কে অগণিত হাদীস উদ্ধৃত করেছেন, যার সবগুলোতে তাঁর কথা ইঙ্গিতে বা স্পষ্টভাবে উল্লিখিত হয়েছে। এই বিষয়ে যার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার নিকট এই বর্জিত হাদীসটির তুলনায় ওই হাদীসগুলোকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে এটিই সুষ্পষ্ট দলিল, এবং সেগুলোর একটি অপরটিকে শক্তিশালী করে।

হাফেজ আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম তাঁর ‘আল-মুস্তাদরাক আলাস-সহীহাইন’ গ্রন্থে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত বর্ণনা উল্লেখ করেছেন এবং যারা এ বিষয়ে অন্বেষণকারী তাদের জন্য এর বিপুল সংখ্যক বর্ণনাকারীর শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি নির্দেশ করেছেন।

যখন তিনি তাঁর গ্রন্থে এই বর্ণনাটি উল্লেখ করার পর্যায়ে পৌঁছালেন, তখন সমঝদার ও জ্ঞানীদের জন্য এর অবস্থা বর্ণনা করলেন এবং বললেন:
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৬৩)
قد ذكرت ما انتهى إلي من علم هذا الحديث تعجباً لا محتجاً به، وهذا غاية التوهين.

ثم قال: فإن أولى من هذا الحديث حديث سفيان الثوري وشعبة وزائدة وغيرهم من أئمة المسلمين، عن عاصم بن بهدلة، عن زر بن حبيش، عن ابن مسعود، عن النبي الصادق الأمين، أنه قال: " لا تذهب الأيام والليالي حتى يملك رجل من أهل بيتي، يواطئ اسمه اسمي، واسم أبيه اسم أبي ". وهذا تصريح باسمه وتعيين.

وقد قال بعض العلماء الأماثل: إن معنى قوله يواطئ يشبه ويماثل.

فقد اتضح لمن أنصف لمن أنصف من جملة هذا الكلام، أن المهدي من ولد الزهراء فاطمة لا ابن مريم عليه السلام.

على أنا نقول: ولئن سلمنا صحة هذا الحديث فإنه يحمل على تأويل، إذ لا نجد لإلغاء ما يعارضه من الأحاديث الصحيحة سبيل، ولعل تأويله كتأويل: لا صلاة لجار المسجد إلا في المسجد
এই হাদিসের জ্ঞান সম্পর্কে যা কিছু আমার নিকট পৌঁছেছে, তা আমি কেবল বিস্ময়বশত উল্লেখ করেছি, একে দলিল হিসেবে গ্রহণের জন্য নয়; আর এটি দুর্বলতার চূড়ান্ত পর্যায়।

অতঃপর তিনি বলেন: মুসলিমদের ইমামগণের মধ্যে সুফিয়ান সাওরী, শু'বাহ, যায়িদাহ এবং অন্যদের বর্ণিত হাদিসটি এই হাদিসের চেয়ে অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য; যা আসিম ইবনে বাহদালাহ থেকে, তিনি যির ইবনে হুবাইশ থেকে এবং তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত নবী বলেছেন: "দিন ও রাত অতিবাহিত হবে না যতক্ষণ না আমার পরিবারবর্গের অন্তর্ভুক্ত এমন এক ব্যক্তি রাজত্বের অধিকারী হবেন, যাঁর নাম হবে আমার নামের অনুরূপ এবং যাঁর পিতার নাম হবে আমার পিতার নামের অনুরূপ।" আর এটি তাঁর নাম ও পরিচয়ের স্পষ্ট বর্ণনা।

জনৈক শ্রেষ্ঠ আলেম বলেছেন: তাঁর বাণীতে 'অনুরূপ হওয়া' (ইউওয়াত্বিউ) শব্দের অর্থ হলো সদৃশ হওয়া বা সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া।

সুতরাং এই সামগ্রিক আলোচনার মাধ্যমে যে কেউ ন্যায়বিচার করবেন তাঁর নিকট এটি স্পষ্ট হয়ে গেল যে, মাহদী হলেন জাহরা ফাতেমার বংশধর থেকে, মারইয়ামের পুত্র (আলাইহিস সালাম) নন।

অধিকন্তু আমরা বলি: যদি আমরা এই হাদিসের বিশুদ্ধতা মেনেও নেই, তবে একে ব্যাখ্যার ওপর প্রয়োগ করা হবে; কেননা এর বিরোধী অন্যান্য সহীহ হাদিসগুলোকে বর্জন করার কোনো পথ আমরা খুঁজে পাই না। সম্ভবত এর ব্যাখ্যা হবে সেই ব্যাখ্যার ন্যায়: "মসজিদের প্রতিবেশীর সালাত মসজিদ ব্যতীত (পূর্ণাঙ্গ) হয় না।"
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৬৪)
إذ ألفاظ الحديثين يقرب بعضها من بعض ولا يبعد، وفي الحديث من هذا النوع كثير، وليس ذلك بمحمول على نفي المنفي بل على الترجيح والتوفير، أو لعل له تأويلاً غير ذلك، فوجوه العلم متسعة المسلك.

قال الشيخ الإمام الحافظ العلامة شهاب الدين أبو محمد عبد الرحمن بن إسماعيل بن إبراهيم الشافعي، رضي الله عنه: ولقوله صلى الله عليه وسلم: " لا مهدي إلا عيسى ابن مريم " وجه آخر من التأويل، وهو أن يكون على حذف مضاف، أي إلا مهدي عيسى. أي الذي يجيء في زمن عيسى عليه السلام، فهو احتراز ممن يسمى بالمهدي قبل ذلك من المملوك وغيرهم، أو يكون التقدي: إلا زمن عيسى. أي: الذي يجيء في ذلك الزمن، لا في غيره. والله أعلم.

فلما تبين للخصم ترجيح هذا الدليل، وانقطع القال والقيل، سألني حينئذ الولد الأنجب ناصر الدين أبو عبد الله محمد بن الشيخ الإمام العالم مجد الدين يوسف الأكمل الأمجد، أن أجمع ما بلغني من الأحاديث الواردة في هذا الباب لتكون تذكرة لأولي الألباب، فاستمنحت منه الإغفاء مراراً فلم يمنح، والتمست منه أن يجنح إلى الإقالة فلم يجنح، وحثني على جمعه وتأليفه، وحرضني على تنضيده
যেহেতু উভয় হাদিসের শব্দসমূহ একে অপরের নিকটবর্তী এবং তা অসম্ভব নয়; আর এই ধরণের অনেক হাদিস রয়েছে। এটি কোনো বিষয়কে অস্বীকার করার ওপর নয় বরং প্রাধান্য প্রদান এবং বর্ণনার আধিক্যের ওপর সংস্থাপিত, অথবা সম্ভবত এর অন্য কোনো ব্যাখ্যা রয়েছে; কেননা ইলমের পথসমূহ অত্যন্ত প্রশস্ত।

শাইখ ইমাম হাফিজ আল্লামা শিহাবুদ্দিন আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম আশ-শাফেয়ি (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "ঈসা ইবনে মারইয়াম ব্যতীত কোনো মাহদি নেই"—এর ব্যাখ্যার আরেকটি দিক রয়েছে। আর তা হলো এখানে একটি সম্বন্ধিত পদ উহ্য রয়েছে, অর্থাৎ "ঈসার মাহদি ব্যতীত"। অর্থাৎ যিনি ঈসা আলাইহিস সালামের যুগে আগমন করবেন। এটি মূলত তাদের থেকে সতর্ক করার জন্য যারা এর পূর্বে শাসকগোষ্ঠী বা অন্যদের মধ্য থেকে মাহদি নামে অভিহিত হয়েছিল। অথবা এর প্রচ্ছন্ন রূপ হবে: "ঈসার যুগ ব্যতীত"। অর্থাৎ: যিনি সেই যুগে আগমন করবেন, অন্য কোনো সময়ে নয়। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

যখন প্রতিপক্ষের নিকট এই দলিলের শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্ট হলো এবং যাবতীয় তর্ক-বিতর্ক বন্ধ হলো, তখন সুযোগ্য সন্তান নাসিরুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন শাইখ ইমাম আলিম মাজদুদ্দিন ইউসুফ আল-আকমাল আল-আমজাদ আমার কাছে আবেদন করলেন যে, আমি যেন এই বিষয়ে আমার কাছে পৌঁছানো হাদিসসমূহ সংগ্রহ করি যাতে তা জ্ঞানীদের জন্য স্মারক হিসেবে গণ্য হয়। আমি বারবার তার কাছে অব্যাহতি চাইলেও তিনি তা মঞ্জুর করেননি এবং আমি এ থেকে নিষ্কৃতি চাইলেও তিনি তাতে সম্মত হননি। বরং তিনি আমাকে তা সংগ্রহ ও সংকলন করতে উৎসাহিত করেন এবং তা সুবিন্যস্ত করার জন্য তাগিদ দেন।
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৬৫)
وتصنيفه، وشاركني في جمع الكتب لجمعه، وساعدني على ترصيعه ووضعه، وبذل جهده في جمع الكتب، وسهل علي بذلك ما صعب.

فاستخرت الله تعالى وجمعت ما تيسر وحضر، من الأحاديث الواردة في حق الإمام المهدي المنتظر، منبئة باسمه وكنيته وحليته وسيرته مبينة أن عيسى ابن مريم عليه السلام يصلي خلفه ويتابعه ونزل في نصرته، مفصحة بما خصه الله تعالى من أنواع الكرامة والفضل، موضحة لما يمحو الله تعالى به من الظلم والجور، ويظهر به من البركة والعدل، مما نقلت الأمة بروايتهم المسندة، وأودعته الأئمة في كتبهم المعتمدة، محذوفة أسانيد أحاديثه وإن كانت قد قررت وقبلت، معزية متونها في الغالب إلى كل أصل خرجت منه ونقلت، وذلك مع عدم العجز عن الوصول إلى الرواية في هذه الأصول، لكن طلباً للإيجاز والتخفيف، وعدولاً عن طريق التثقيل والتكليف.

وسميته: عقد الدرر في أخبار المنتظر.

وجعلته مشتملاً على اثني عشر باباً، مستعيناً بمن أحاط بكل شيء علماً وأحصى كل شيء كتاباً، وإليه سبحانه الرغبة في تتميم ما سنح، وإصلاح ما فسد وتقبل ما صلح، والهداية إلى سواء السبيل، فهو حسبنا ونعم الوكيل.

 

الباب الأول: في بيان أنه من ذرية رسول الله صلى الله عليه وسلم وعترته.

الباب الثاني: في اسمه وخلقه وكنيته.

الباب الثالث: في عدله وحليته.

البال الرابع: فيما يظهر من الفتن الدالة على ولايته، وفيه أربعة فصول.
এবং এর সংকলন। তিনি এর সংকলনের জন্য কিতাবসমূহ সংগ্রহে আমার সাথে অংশগ্রহণ করেছেন এবং এটি সুবিন্যস্ত ও বিন্যাসে আমাকে সহায়তা করেছেন। কিতাবসমূহ সংগ্রহে তিনি নিজের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন এবং এর মাধ্যমে আমার জন্য কঠিন বিষয়গুলোকে সহজ করে দিয়েছেন।

অতঃপর আমি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি এবং ইমাম মাহদী আল-মুনতাযারের ব্যাপারে বর্ণিত হাদিসগুলোর মধ্য থেকে যা কিছু সহজলভ্য ও উপস্থিত হয়েছে তা সংকলন করেছি। যা তাঁর নাম, উপনাম, শারীরিক গঠন ও জীবনচরিত সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করে; যা বর্ণনা করে যে, ঈসা ইবনে মারিয়াম আলাইহিস সালাম তাঁর পেছনে সালাত আদায় করবেন, তাঁর অনুসরণ করবেন এবং তাঁর সাহায্যে অবতীর্ণ হবেন; যা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে মহান আল্লাহ তাঁকে যে সকল বিশেষ বিশেষ কারামত ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন; যা প্রকাশ করে মহান আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে যে সকল জুলুম ও অন্যায় দূরীভূত করবেন এবং যে বরকত ও ইনসাফ প্রকাশ করবেন। এ সকল বিষয় উম্মত তাদের মুসনাদ বর্ণনার মাধ্যমে বর্ণনা করেছে এবং ইমামগণ তাঁদের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ করেছেন। আমি হাদিসগুলোর সনদ বাদ দিয়েছি যদিও তা প্রমাণিত ও গ্রহণযোগ্য, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর মূল পাঠগুলো যে সকল উৎস থেকে গৃহীত ও উদ্ধৃত করা হয়েছে সেগুলোর দিকে নিসবত করেছি। এ সকল মূল উৎসের বর্ণনা পর্যন্ত পৌঁছাতে অক্ষম হওয়ার কারণে এমনটি করিনি, বরং সংক্ষেপণ ও সহজীকরণের উদ্দেশ্যে এবং দীর্ঘসূত্রিতা ও কষ্টসাধ্য পথ পরিহার করার জন্যই এমনটি করেছি।

আমি এর নামকরণ করেছি: 'আকদুদ দুরার ফি আখবারিল মুনতাযার'।

আমি একে বারোটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি, এমন সত্তার সাহায্য প্রার্থনা করে যাঁর জ্ঞান সবকিছুকে বেষ্টন করে আছে এবং যিনি সবকিছু কিতাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। তাঁর কাছেই যা কিছু করার ইচ্ছা হয়েছে তা পূর্ণ করার, যা কিছু ত্রুটিপূর্ণ তা সংশোধন করার এবং যা কিছু সঠিক তা কবুল করার প্রার্থনা জানাই; আর প্রার্থনা করি সঠিক পথের হিদায়াতের। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

 

প্রথম অধ্যায়: তিনি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বংশধর ও তাঁর পরিবারভুক্ত হবেন তার বর্ণনায়।

দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁর নাম, স্বভাব-চরিত্র ও উপনামের বর্ণনায়।

তৃতীয় অধ্যায়: তাঁর ইনসাফ ও শারীরিক গঠনের বর্ণনায়।

চতুর্থ অধ্যায়: তাঁর কর্তৃত্বের নির্দেশক যে সকল বিপর্যয় প্রকাশ পাবে সে প্রসঙ্গে, এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৬৬)
الباب الخامس: في أن الله تعالى يبعث من يوطئ له قبل إمارته.

الباب السادس: فيما يظهر له من الكرامات في أيام خلافته.

الباب السابع: في شرفه وعظيم منزلته.

الباب الثامن: في كرمه وفتوته.

الباب التاسع: في فتوحاته وسيرته، وفيه ثلاثة فصول.

الباب العاشر: في أن عيسى ابن مريم عليه السلام يصلي خلفه ويبايعه وينزل في نصرته.

الباب الحادي عشر: في اختلاف الروايات في مدة إقامته.

الباب الثاني عشر: فيما يجري من الفتن في أيامه وبعد انقضاء مدته، وفيه مقدمة وثمانية فصول وخاتمة.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহ তাঁর শাসনভার গ্রহণের পূর্বে এমন একজনকে প্রেরণ করবেন যিনি তাঁর জন্য পথ সুগম করবেন।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর খিলাফতকালে তাঁর মাধ্যমে প্রকাশিত অলৌকিক কারামতসমূহ প্রসঙ্গে।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাঁর মর্যাদা ও সুউচ্চ অবস্থান প্রসঙ্গে।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: তাঁর দানশীলতা ও বীরত্ব প্রসঙ্গে।

নবম পরিচ্ছেদ: তাঁর বিজয়সমূহ ও জীবনী প্রসঙ্গে, এবং এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

দশম পরিচ্ছেদ: ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম তাঁর পেছনে সালাত আদায় করবেন, তাঁর আনুগত্যের বায়আত গ্রহণ করবেন এবং তাঁর সাহায্যের জন্য অবতরণ করবেন।

একাদশ পরিচ্ছেদ: তাঁর অবস্থানের সময়সীমা নিয়ে বর্ণনাসমূহের মতভেদ প্রসঙ্গে।

দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: তাঁর যুগে এবং তাঁর শাসনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সংঘটিতব্য ফিতনাসমূহ প্রসঙ্গে; এতে একটি ভূমিকা, আটটি অনুচ্ছেদ এবং একটি উপসংহার রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৬৭)
‌‌الباب الأول في بيان أنه من ذرية رسول الله صلى الله عليه وسلم وعترته
প্রথম অধ্যায়: তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বংশধর ও পরিজনভুক্ত হওয়ার বর্ণনায়
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৬৯)
عن أم سلمة، رضي الله عنها، قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم، يقول: " المهدي من عترتي، من ولد فاطمة " رضي الله عنها.

أخرجه الإمام داود سليمان بن الأشعث السجستاني، في سننه، والإمام أبو عبد الرحمن النسائي، في سننه، والإمام الحافظ أبو
উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "মাহদী আমার বংশের অন্তর্ভুক্ত, ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-র সন্তানদের মধ্য থেকে।"

ইমাম দাঊদ সুলায়মান ইবনুল আশআস আস-সিজিস্তানি তাঁর সুনানে এটি বর্ণনা করেছেন, এবং ইমাম আবু আবদুর রহমান আন-নাসায়ী তাঁর সুনানে, এবং ইমাম হাফিয আবু...
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৭০)
بكر البيهقي، والإمام أبو عمرو الداني، رضي الله عنهم.

وعن أبي سعيد الخدري، رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " لا تقوم الساعة حتى تملأ الأرض ظلماً وعدواناً، ثم يخرج من عترتي، أو من أهل بيتي، من يملأها قسطاً وعدلاً، كما ملئت ظلماً وعدواناً ".

أخرجه الإمام أحمد بن حنبل، في مسنده.

وعن أبي سعيد الخدري، رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " تملأ الأرضُ ظلماً وجوراً، فيقومُ رجلٌ من عترتي، فيملأُها قسطاً وعدلاً، يملك سبعاً أو تسعاً ".

أخرجه الحافظ أبو نعيم، في صفة المهدي هكذا.
বকর আল-বায়হাকী এবং ইমাম আবু আমর আদ-দানী, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

আবু সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "পৃথিবী যুলুম ও সীমালঙ্ঘনে পরিপূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। অতঃপর আমার বংশধর থেকে—অথবা বলেছেন আমার আহলে বায়ত থেকে—এমন এক ব্যক্তি আত্মপ্রকাশ করবেন, যিনি পৃথিবীকে ন্যায় ও ইনসাফ দ্বারা পূর্ণ করে দেবেন, ঠিক যেমন তা যুলুম ও সীমালঙ্ঘনে পরিপূর্ণ হয়েছিল।"

ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল এটি তাঁর মুসনাদে সংকলন করেছেন।

আবু সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "পৃথিবী যুলুম ও অবিচারে ভরে যাবে, তখন আমার বংশধরদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি দণ্ডায়মান হবেন এবং পৃথিবীকে ন্যায় ও ইনসাফে পূর্ণ করে দেবেন; তিনি সাত অথবা নয় বছর শাসন করবেন।"

হাফেজ আবু নুআইম 'সিফাতুল মাহদী' গ্রন্থে এটি এভাবেই বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৭১)
وأخرجه الحافظ أبو بكر البيهقي، وقال: " من عترتي، يملك تسعاً أو سبعاً، فيملأُها قسطاً وعدلاً ".

وعن أبي سلمة بن عبد الرحمن بن عوف، عن أبيه رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " ليبعثن الله من عترتي رجلاً أفرق الثنايا أجلى الجبهة، يملأ الأرض عدلاً، ويفيض المال فيضاً ".

أخرجه الحافظ أبو نعيم، في عواليه، وفي صفة المهدي.

وعن عائشة رضي الله عنها، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " هو رجلٌ من عترتي، يقاتلُ على سنتي كما قاتلتُ أنا على الوحي ".
হাফেজ আবু বকর আল-বায়হাকী এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "সে আমার বংশধরদের অন্তর্ভুক্ত, সে নয় বা সাত বছর রাজত্ব করবে এবং পৃথিবীকে ন্যায় ও ইনসাফে পরিপূর্ণ করে দেবে।"

আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ তাঁর পিতা (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ অবশ্যই আমার বংশধরদের মধ্য থেকে এমন একজন ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন যার সামনের দাঁতগুলোর মাঝে ফাঁক থাকবে এবং ললাট হবে উজ্জ্বল ও প্রশস্ত; সে পৃথিবীকে ন্যায়বিচারে পরিপূর্ণ করবে এবং অঢেল সম্পদ বিলিয়ে দেবে।"

হাফেজ আবু নুআইম এটি তাঁর 'আওয়ালী' এবং 'সিফাতুল মাহদী' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সে আমার বংশধরদের অন্তর্ভুক্ত একজন ব্যক্তি, সে আমার সুন্নতের ওপর ভিত্তি করে লড়াই করবে যেমন আমি ওহীর ওপর ভিত্তি করে লড়াই করেছি।"
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৭২)
أخرجه الإمام أبو عبد الله نعيم بن حماد.
এটি ইমাম আবু আবদুল্লাহ নুয়াইম ইবন হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৭৩)
وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " يصيب الناس بلاءً شديدٌ حتى لا يجد الرجل ملجأً، فيبعث الله من عترتي أهل بيتي رجلاً، يملأ الأرض قسطاً وعدلاً، كما ملئت جوراً وظلماً، يحبه ساكن السماء وساكن الأرض، وترسل السماء قطرها، وتخرج الأرض نباتها لا تمسك منه شيئاً، يعيش في ذلك سبع سنين ".

أخرجه الإمام أبو عمرو الداني، في سننه.

وعن حذيفة رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " يلتفتُ المهديُّ، وقد نزل عيسى ابن مريم، كأنما يقطر من شعره الماء، فيقول المهدي: تقدم صل بالناس. فيقول عيسى: أما أقيمت الصلاة لك. فيصلي خلف رجل من ولدي "
আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "মানুষ এক কঠিন বিপদের সম্মুখীন হবে, এমনকি কোনো ব্যক্তি আশ্রয় পাওয়ার মতো কোনো জায়গা খুঁজে পাবে না। তখন আল্লাহ আমার বংশধর তথা আমার আহলে বাইত থেকে এমন একজন ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন, যিনি পৃথিবীকে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার দ্বারা পূর্ণ করবেন, যেমনটি তা অন্যায় ও জুলুমে পরিপূর্ণ ছিল। আকাশের অধিবাসী এবং পৃথিবীর অধিবাসীগণ তাকে ভালোবাসবেন। আকাশ তার বৃষ্টি বর্ষণ করবে এবং পৃথিবী তার উদ্ভিদ উৎপন্ন করবে, কোনো কিছুই সে আটকে রাখবে না। তিনি সেই অবস্থায় সাত বছর অবস্থান করবেন।"

ইমাম আবু আমর আদ-দানী তাঁর সুনানে এটি বর্ণনা করেছেন।

হুযাইফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "মাহদী লক্ষ্য করবেন যে, মারইয়াম পুত্র ঈসা অবতরণ করেছেন, যেন তাঁর চুল থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। তখন মাহদী বলবেন: সামনে এগিয়ে যান এবং মানুষের সালাতে ইমামতি করুন। তখন ঈসা বলবেন: সালাত তো আপনার জন্যই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অতঃপর তিনি আমার বংশধরদের মধ্যে একজনের পেছনে সালাত আদায় করবেন।"
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৭৪)
وذكر باقي الحديث.

أخرجه الحافظ أبو القاسم سليمان بن أحمد الطبراني، في معجمه، وأخرجه الحافظ أبو نعيم، في مناقب المهدي.
এবং তিনি হাদীসের অবশিষ্টাংশ উল্লেখ করেছেন।

হাফেজ আবুল কাসিম সুলাইমান ইবন আহমদ আত-তাবারানি এটি তাঁর মু'জামে বর্ণনা করেছেন এবং হাফেজ আবু নুআইম এটি মানাকিবে মাহদিতে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৭৫)
وعن حذيفة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " لا تقوم الساعة حتى يخرج المهدي من ولدي، ولا يخرج المهدي حتى يخرج ستون كذاباً كلهم يقول: أنا نبي ".

وعن أمير المؤمنين علي عليه السلام، عن النبي صلى الله عليه وسلم: قال: " لو لم يبق من الدهر إلا يومٌ لبعث الله رجلاً من أهل بيتي، يملأها عدلاً كما ملئت جوراً ".

أخرجه الإمام أبو داود سليمان بن الأشعث السجستاني، في سننه.

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " لو لم يبق من الدنيا إلا ليلة لملك فيها رجل من أهل بيتين ".

أخرجه الحافظ أبو نعيم في صفة المهدي.

وعن قيس بن جابر الصدفي، عن أبيه، عن جده، أن
হুজাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না আমার বংশধর থেকে মাহদী আবির্ভূত হয়। আর মাহদী ততক্ষণ পর্যন্ত আবির্ভূত হবে না যতক্ষণ না ষাটজন মিথ্যাবাদী আবির্ভূত হয়, যাদের প্রত্যেকেই দাবি করবে: আমি নবী।"

আমীরুল মুমিনীন আলী (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে তিনি বলেন: "যদি যুগের কেবল একদিনও অবশিষ্ট থাকে, তবে আল্লাহ অবশ্যই আমার আহলে বাইত থেকে এমন এক ব্যক্তিকে পাঠাবেন, যে পৃথিবীকে ন্যায়বিচারে পূর্ণ করে দেবে যেমনভাবে তা জুলুমে পরিপূর্ণ ছিল।"

ইমাম আবু দাউদ সুলাইমান বিন আশ'আস আস-সিজিস্তানি এটি তাঁর সুনান গ্রন্থে সংকলন করেছেন।

আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যদি দুনিয়ার কেবল এক রাতও অবশিষ্ট থাকে, তবে তাতে আমার আহলে বাইত থেকে এক ব্যক্তি অবশ্যই রাজত্ব করবেন।"

হাফিজ আবু নুআইম এটি সিফাতুল মাহদী গ্রন্থে সংকলন করেছেন।

কাইস বিন জাবির আস-সাদাফি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে,
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৭৬)
رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " سيكون بعدي خلفاءُ، ومن بعد الخفاء أمراء، ومن بعد الأمراء ملوك جبابرة، ثم يخرج المهدي من أهل بيتي يملأ الأرض عدلاً كما ملئت جوراً، ثم يؤمر القحطاني فوالذي بعثني بالحق ما هو دونه ".

رواه الحافظ أبو نعيم، في فوائده، وأخرجه الطبراني، في معجمه.

وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " لتملأن الأرض عدواناً ثم ليخرجن رجل من أهل بيتي يملأها قسطاً وعدلاً، كما ملئت ظلماً وعدواناً ".

أخرجه الحافظ أبو نعيم، في صفة المهدي.
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার পরে খলিফাগণ হবেন, খলিফাদের পরে আমীরগণ এবং আমীরদের পরে স্বৈরাচারী রাজাগণ হবেন। অতঃপর আমার আহলে বায়ত থেকে মাহদী আবির্ভূত হবেন, তিনি পৃথিবীকে ন্যায়বিচারে পূর্ণ করে দেবেন যেভাবে তা অবিচারে পূর্ণ হয়েছিল। এরপর কাহতানীকে শাসক নিযুক্ত করা হবে; অতএব সেই সত্তার শপথ যিনি আমাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তিনি তাঁর (মাহদীর) চেয়ে কোনো অংশে কম নন।"

হাফেজ আবু নুআইম তাঁর 'ফাওয়াইদ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাবারানী তাঁর 'মু'জাম' গ্রন্থে এটি সংকলন করেছেন।

আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই পৃথিবী শত্রুতা ও অত্যাচারে ভরে যাবে, এরপর আমার আহলে বায়ত থেকে এক ব্যক্তি আবির্ভূত হবেন, তিনি পৃথিবীকে ইনসাফ ও ন্যায়বিচারে পূর্ণ করে দেবেন যেভাবে তা জুলুম ও শত্রুতায় পূর্ণ হয়েছিল।"

হাফেজ আবু নুআইম এটি 'সিফাতুল মাহদী' গ্রন্থে সংকলন করেছেন।
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৭৭)
وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " لا تقوم الساعة حتى يملك رجل من أهل بيتين يفتح القسطنطينية وجبل الديلم ".

أخرجه الحافظ أبو نعيم.

وعن عبد الله بن عباس، رضي الله عنهما، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " ملك الأرض أربعة: مؤمنان وكافران، فالمؤمنان ذو القرنين وسليمان، والكافران نمرود وبخت نصر، وسيملكها خامس من أهل بيتي ".

أخرجه أبو الفرج ابن الجوزي،
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না আমার পরিবারবর্গের একজন ব্যক্তি শাসনভার গ্রহণ করবে, যে কনস্টান্টিনোপল এবং দায়লাম পর্বত জয় করবে।"

হাফেজ আবু নুআইম এটি বর্ণনা করেছেন।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "পৃথিবীর রাজত্ব করেছেন চারজন: দুইজন মুমিন এবং দুইজন কাফির। মুমিন দুইজন হলেন যুল-কারনাইন এবং সুলাইমান, আর কাফির দুইজন হলো নমরূদ এবং বুখত নাসার। আর শীঘ্রই আমার পরিবারবর্গের পঞ্চম একজন এর রাজত্ব লাভ করবে।"

আবু আল-ফারাজ ইবনুল জাওযী এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৭৮)
في تاريخه.

وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال وهو قاعد في أصل منبر النبي صلى الله عليه وسلم وله حنين، قلت: ما يبكيك؟ قال: تذكرت النبي صلى الله عليه وسلم ومقعده على هذا المنبر، وقوله: " إن من أهل بيتي فتى يلي الأرض وقد ملئت ظلماً وجوراً، فيملأها قسطاً وعدلاً، يعيش هكذا " وأومأ بيده سبعاً أو تسعاً.

أخرجه الإمام أبو عمرو عثمان بن سعيد المقري في سننه.

وعن أبي سعيد الخدري، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " يخرج
তাঁর ইতিহাসে।

আবু সাঈদ খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—সে সময় তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মিম্বরের পাদদেশে উপবিষ্ট ছিলেন এবং তাঁর থেকে কান্নার শব্দ আসছিল—আমি জিজ্ঞেস করলাম, "আপনাকে কিসে কাঁদাচ্ছে?" তিনি বললেন, "আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং এই মিম্বরে তাঁর বসার স্থানটির কথা স্মরণ করলাম, আর তাঁর এই বাণীর কথা: 'নিশ্চয়ই আমার পরিবারবর্গের মধ্য থেকে এক যুবক আসবে যে পৃথিবীর শাসনভার পরিচালনা করবে, যখন তা জুলুম ও অত্যাচারে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে; অতঃপর সে পৃথিবীকে ন্যায় ও ইনসাফ দ্বারা পূর্ণ করে দেবে। সে এভাবে জীবনযাপন করবে'—এই বলে তিনি হাত দিয়ে সাত বা নয় (বছরের) ইঙ্গিত করলেন।"

ইমাম আবু আমর উসমান ইবনে সাঈদ আল-মুকরী তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

আবু সাঈদ খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আবির্ভূত হবে...
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৭৯)
رجلٌ من أهل بيتي، ويعمل بسنتي، وينزل الله له البركة من السماء، وتخرج له الأرض بركتها، وتملأ به عدلاً، كما ملئت ظلماً وجوراً، ويعمل على هذا الأمة سبع سنين، وينزل بيت المقدس ".

أخرجه الإمام أبو عمرو الداني، في سننه.

وأخرجه الحافظ أبو نعيم، في صفة المهدي.

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " لو لم يبق من الدنيا إلا ليلة لملك فيها رجل من أهل بيتي ".

أخرجه الإمام أبو عمرو المقري، في سننه.

وعن علي عليه السلام، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " لو لم يبق من الدنيا إلا يوم لبعث الله فيه رجلاً من أهل بيتي، يملأها عدلاً كما ملئت جوراً ".

أخرجه الحافظ أبو بكر أحمد بن الحسين البيهقي.
"আমার পরিবারভুক্ত এক ব্যক্তি, যে আমার সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করবে। আল্লাহ তার জন্য আকাশ থেকে বরকত নাযিল করবেন এবং যমিন তার বরকত বের করে দিবে। তার মাধ্যমে পৃথিবী ন্যায়বিচারে পূর্ণ হয়ে যাবে, যেমন তা ইতিপূর্বে অন্যায় ও অবিচারে পরিপূর্ণ ছিল। সে এই উম্মতের ওপর সাত বছর শাসন পরিচালনা করবে এবং বায়তুল মাকদিসে অবতরণ করবে।"

ইমাম আবু আমর আদ-দানি তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং হাফেজ আবু নুআইম 'সিফাতুল মাহদি' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যদি দুনিয়ার আয়ু আর মাত্র এক রাতও বাকি থাকে, তবুও আল্লাহ আমার পরিবারভুক্ত এক ব্যক্তিকে রাজত্ব প্রদান করবেন।"

ইমাম আবু আমর আল-মুকরি তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

আলী (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যদি দুনিয়ার আয়ু আর মাত্র একদিনও বাকি থাকে, তবে অবশ্যই আল্লাহ আমার পরিবারভুক্ত এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন, যে পৃথিবীকে ন্যায়বিচারে পূর্ণ করে দিবে যেমন তা ইতিপূর্বে অবিচারে পরিপূর্ণ ছিল।"

হাফেজ আবু বকর আহমাদ ইবনুল হুসাইন আল-বাইহাকি এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৮০)
وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: " المهديُ منا أهل البيت ".

أخرجه أبو نعيم، في صفة المهدي.

وعن سعيد بن المسيب، رضي الله عنه قال: كنت عند أم سلمة رضي الله عنها فتذاكرنا المهدي، فقالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم، يقول: " المهدي من ولد فاطمة ".

أخرجه الحافظ أبو عبد الله محمد بن يزيد بن ماجة القزويني، في سننه.

ورواه الإمام أبو عمرو المقري، في سننه.

وعن علي بن الحسين عن أبيه عليهما السلام أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لفاطمة عليها السلام: " المهدي من ولدك ".

أخرجه الحافظ أبو نعيم، في صفة المهدي.

وعن قتادة، قال: قلت لسعيد بن المسيب: المهدي حق؟ قال: حق.

قلت: ممن؟ قال: من كنانة.

قلت: ثم ممن؟ قال: من قريش. قدم أحدهما على الآخر.

قلت: ثم ممن؟ قال: من بني هاشم.

قلت: ثم ممن؟ قال: من ولد فاطمة.

أخرجه الإمام أبو عمرو عثمان بن سيعد المقري، في سننه،
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) হতে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: "মাহদি আমাদের অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ আহলে বাইতের সদস্য।"

আবু নুয়াইম এটি 'সিফাতুল মাহদি' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি উম্মে সালামাহ (রা.)-এর নিকট ছিলাম এবং আমরা মাহদি সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তখন তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "মাহদি ফাতেমার বংশধরদের অন্তর্ভুক্ত।"

হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মাজাহ আল-কাযউইনি এটি তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

এবং ইমাম আবু আমর আল-মুকরি এটি তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

আলি ইবনুল হুসাইন তাঁর পিতা (আ.) হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) ফাতেমা (আ.)-কে বলেছিলেন: "মাহদি তোমার সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত হবে।"

হাফিজ আবু নুয়াইম এটি 'সিফাতুল মাহদি' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

কাতাদাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবকে জিজ্ঞাসা করলাম: মাহদি কি সত্য? তিনি বললেন: হ্যাঁ, সত্য।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম: তিনি কাদের মধ্য হতে হবেন? তিনি বললেন: কিনানা গোত্র হতে।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম: তারপর কাদের থেকে? তিনি বললেন: কুরাইশ হতে। (বর্ণনাকারী) একটিকে অন্যটির আগে উল্লেখ করেছেন।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম: তারপর কাদের থেকে? তিনি বললেন: বনু হাশেম হতে।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম: তারপর কাদের থেকে? তিনি বললেন: ফাতেমার সন্তানদের মধ্য হতে।

ইমাম আবু আমর উসমান ইবনে সাঈদ আল-মুকরি এটি তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৮১)
وعن أم سلمة زوج النبي صلى الله عليه وسلم قال: ذكرت عند رسول الله صلى الله عليه وسلم المهدي، فقال: نعم، هو حق، وهو من ولد فاطمة، أو قال: من بني فاطمة، رضي الله عنها.

أخرجه الإمام أبو الحسين أحمد بن جعفر. المعروف بابن المنادي في كتاب الملاحم.

وعن قتادة قال: قلت لسعيد بن المسيب: أحق المهدي.؟ قال: نعم، هو حق.

قلت: ممن هو؟ قال: من قريش.

قلت: من أي قريش.

قال: من بني هاشم.

قلت: من أي بني هاشم؟ قال: من ولد عبد المطلب.

قلت: من أي ولد عبد المطلب؟ قال: من أولاد فاطمة.

قلت: من أي ولد فاطمة.؟ قال: حسبك الآن.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট মাহদীর কথা আলোচনা করা হলো, তখন তিনি বললেন: হ্যাঁ, তিনি সত্য, এবং তিনি ফাতিমার বংশধরদের অন্তর্ভুক্ত, অথবা তিনি বলেছিলেন: ফাতিমার সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত।

এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আবুল হুসাইন আহমাদ বিন জাফর, যিনি ইবনুল মুনাদী নামে পরিচিত, তার 'কিতাবুল মালাহিম' গ্রন্থে।

কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিবকে বললাম: মাহদী কি সত্য? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তিনি সত্য।

আমি বললাম: তিনি কাদের অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন: কুরাইশদের।

আমি বললাম: কুরাইশদের কোন শাখা থেকে?

তিনি বললেন: বনী হাশেম থেকে।

আমি বললাম: বনী হাশেমের কোন শাখা থেকে? তিনি বললেন: আব্দুল মুত্তালিবের বংশধর থেকে।

আমি বললাম: আব্দুল মুত্তালিবের কোন বংশধর থেকে? তিনি বললেন: ফাতিমার সন্তানদের মধ্য থেকে।

আমি বললাম: ফাতিমার কোন সন্তানদের মধ্য থেকে? তিনি বললেন: আপাতত তোমার জন্য এতোটুকুই যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৮২)
أخرجه الإمام أبو الحسين أحمد بن جعفر بن المنادي.

وأخرجه الإمام أبو عبد الله نعيم بن حماد.

وعن الأعمش عن أبي وائل، قال: نظر علي إلى الحسن عليهما السلام، فقال: إن ابني هذا سيد، كما سماه رسول الله صلى الله عليه وسلم سيخرج من صلبه رجل باسم نبيكم، يملأ الأرض عدلاً كما ملئت ظلماً وجوراً.

وعن أبي إسحاق قال: قال علي عليه السلام، ونظر إلى ابنه الحسن، فقال: إن ابني هذا سيد، كما سماه رسول الله صلى الله عليه وسلم وسيخرج من صلبه رجل يسمى باسم نبيكم، يشبهه في الخُلُق ولا يشبهه في الخَلْقِ يملأ الأرض عدلاً.

أخرجه الإمام أبو داود، في سننه.

والإمام أبو عيسى الترمذي، في جامعه.

والإمام أبو عبد الرحمن النسائي في سننه.

وعن حذيفة رضي الله عنه قال: خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم بما هو كائن، ثم قال: " لو لم يبق من الدنيا إلا يوم واحد لطول الله عز وجل ذلك اليوم، حتى يبعث في رجلاً من ولدي اسمه اسمي ".

فقام سلمان الفارسي رضي
ইমাম আবুল হোসেন আহমদ বিন জাফর বিন আল-মুনাদি এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং ইমাম আবু আব্দুল্লাহ নুআইম বিন হাম্মাদ এটি বর্ণনা করেছেন।

আমাশ থেকে এবং তিনি আবু ওয়ায়িল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলী (আলাইহিস সালাম) হাসানের দিকে তাকালেন এবং বললেন: আমার এই পুত্র একজন সাইয়্যিদ (নেতা), যেমনটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে নামকরণ করেছেন। অচিরেই তার বংশধর থেকে এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটবে যার নাম হবে তোমাদের নবীর নামে, তিনি পৃথিবীকে ন্যায়বিচারে পূর্ণ করে দেবেন যেমনিভাবে তা জুলুম ও অত্যাচারে পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।

আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলী (আলাইহিস সালাম) তাঁর পুত্র হাসানের দিকে তাকিয়ে বললেন: আমার এই পুত্র একজন সাইয়্যিদ (নেতা), যেমনটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে নামকরণ করেছেন। শীঘ্রই তার বংশধর থেকে এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটবে যার নাম তোমাদের নবীর নামে রাখা হবে, তিনি চরিত্রে তাঁর সদৃশ হবেন কিন্তু শারীরিক গঠনে তাঁর সদৃশ হবেন না; তিনি পৃথিবীকে ন্যায়বিচারে পূর্ণ করে দেবেন।

ইমাম আবু দাউদ এটি তাঁর সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

এবং ইমাম আবু ঈসা আত-তিরমিযী তাঁর জামি’ গ্রন্থে।

এবং ইমাম আবু আব্দুর রহমান আন-নাসায়ী তাঁর সুনান গ্রন্থে।

হুযায়ফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং ভবিষ্যতে যা কিছু ঘটবে তা আমাদের নিকট উল্লেখ করলেন, অতঃপর তিনি বললেন: "যদি দুনিয়ার স্থায়িত্বের মাত্র একদিনও অবশিষ্ট থাকে, তবে মহান আল্লাহ সেই দিনটিকে দীর্ঘায়িত করবেন, যতক্ষণ না তিনি আমার সন্তানদের মধ্য থেকে এমন এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন যার নাম হবে আমার নামের অনুরূপ।"

তখন সালমান আল-ফারসী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) দণ্ডায়মান হলেন।
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৮৩)
الله عنه فقال: يا رسول الله، من أي ولدك؟ قال: " هو من ولدي هذا "، وضرب بيده على الحسين عليه السلام.

أخرجه الحافظ أبو نعيم، في صفة المهدي.

وعن أمير المؤمنين علي بن أبي طالب عليه السلام، قال: قلت يا رسول الله أمنا المهدي، ومن غيرنا؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " بل منا، يختم الله به الدين، كما فتحه بنا "، وذكر باقي الحديث.

أخرجه جماعة من الحفاظ في كتبهم، منهم أبو القاسم الطبراني، وأبو نعيم الأصبهاني، وعبد الرحمن بن أبي حاتم، وأبو عبد الله نعيم بن حماد، وغيرهم.

وعن أبي أيوب الأنصاري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لفاطمة: " نبيناً خير الأنبياء وهو أبوك، وشهيدنا خير الشهداء وهو علم أبيك حمزة، ومنا من له جناحان يطير بهما في الجنة حيث شاء وهو ابن عم أبيك
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, তিনি আপনার কোন সন্তানের অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন: "তিনি আমার এই সন্তানের অন্তর্ভুক্ত", এবং তিনি তাঁর হাত আল-হুসাইন আলাইহিস সালাম-এর ওপর রাখলেন।

হাফেজ আবু নুআইম এটি 'সিফাতুল মাহদি' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, মাহদি কি আমাদের থেকে, নাকি আমাদের ছাড়া অন্য কেউ? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "বরং তিনি আমাদের থেকেই, আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে এই দ্বীনকে সমাপ্ত করবেন, যেভাবে তিনি আমাদের মাধ্যমে এর সূচনা করেছিলেন", এবং তিনি হাদিসের অবশিষ্টাংশ উল্লেখ করলেন।

একদল হাফেজ তাঁদের কিতাবসমূহে এটি বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু আল-কাসিম আত-তাবারানি, আবু নুআইম আল-আসফাহানি, আবদুর রহমান ইবনে আবি হাতিম, আবু আবদুল্লাহ নুআইম ইবনে হাম্মাদ এবং অন্যান্যরা।

আবু আইয়ুব আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফাতিমাকে বললেন: "আমাদের নবী নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তিনি তোমার পিতা; আমাদের শহীদ শহীদদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তিনি তোমার পিতার চাচা হামজা; আর আমাদের মধ্য থেকে এমন একজন রয়েছেন যাঁর দু’টি ডানা রয়েছে যা দিয়ে তিনি জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা উড়ে বেড়ান এবং তিনি তোমার পিতার চাচাতো ভাই..."
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৮৪)
جعفر، ومنا سبطان هذه الأمة الحسن والحسين، وهما ابناك، ومنا المهدي ".

أخرجه الحافظ أبو القاسم الطبراني في معجمه الصغير.

وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " منا الذي يصلي عيسى ابن مريم خلفه ".

أخرجه الحافظ أبو نعيم، في مناقب المهدي.

وعن سالم الأشل، قال سمعت أبا جعفر محمد بن علي الباقر عليهما السلام، يقول: نظر موسى عليه السلام في السفر إلى ما يغطي قائم آل محمد، صلى الله عليه وسلم فقال موسى: رب اجعلني قائم آل محمد. فقيل له: إن ذلك من ذرية أحمد.

فنظر في السفر الثاني فوجد فيه مثل ذلك، فقال مثل ذلك فقيل له مثل ذلك.

ثم نظر في السفر الثالث، فرأى مثله، فقال له مثله.
জাফর, এবং আমাদের মধ্য থেকেই এই উম্মতের দুই নাতি হাসান ও হুসাইন, আর তারা তোমারই দুই সন্তান, এবং আমাদের মধ্য থেকেই মাহদী।"

হাফেজ আবুল কাসিম আত-তাবারানি এটি তার 'আল-মু'জাম আস-সাগীর'-এ উদ্ধৃত করেছেন।

আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমাদের মধ্য থেকেই সেই ব্যক্তি হবেন, যার পিছনে ঈসা ইবনে মারিয়াম সালাত আদায় করবেন।"

হাফেজ আবু নুআইম এটি 'মানাকিবাল মাহদী'-তে উদ্ধৃত করেছেন।

সালিম আল-আশাল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলী আল-বাকির (আলাইহিমাস সালাম)-কে বলতে শুনেছি: মূসা (আলাইহিস সালাম) কিতাবের এক পত্রে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বংশধরদের কায়েম (মাহদী) সম্পর্কে যা কিছু প্রকাশিত হবে তা লক্ষ্য করলেন। তখন মূসা বললেন: হে আমার রব, আমাকে মুহাম্মাদের বংশধরদের সেই কায়েম বানিয়ে দিন। তখন তাকে বলা হলো: নিশ্চয়ই তিনি আহমাদ (মুহাম্মাদ)-এর বংশধরদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।

অতঃপর তিনি দ্বিতীয় পত্রে লক্ষ্য করলেন এবং সেখানেও অনুরূপ বিষয় পেলেন। তিনি আবারও একই প্রার্থনা করলেন এবং তাকে আবারও একই কথা বলা হলো।

এরপর তিনি তৃতীয় পত্রে লক্ষ্য করলেন এবং তাতেও একইরূপ দেখলেন, অতঃপর তাকে অনুরূপ উত্তর দেওয়া হলো।
(খণ্ড: ১) আকদুদ দুরার ফী আখবারিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ৮৫)
وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: المهدي منا، يدفعها إلى عيسى ابن مريم عليه السلام.

أخرجه الإمام أبو عبد الله نعيم بن حماد.
এবং ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: মাহদী আমাদের মধ্য থেকে হবেন, তিনি তা মারয়াম তনয় ঈসা (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর নিকট অর্পণ করবেন।

ইমাম আবু আবদুল্লাহ নুয়াইম বিন হাম্মাদ এটি বর্ণনা করেছেন।