(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: -)
حياة محمد صلى الله عليه وآله وسلم القسم: السيرة النبوية
الكتاب: حياة محمد صلى الله عليه وآله وسلم
المؤلف: محمد حسين هيكل (ت 1376هـ)
الناشر: -
الطبعة: -
عدد الصفحات: 398
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের জীবন বিভাগ: সীরাতুন্নবী
গ্রন্থ: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের জীবন
লেখক: মুহাম্মাদ হুসাইন হাইকাল (মৃ. ১৩৭৬ হিজরি)
প্রকাশক: -
সংস্করণ: -
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণ কপির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: -)
يقول الدكتور / عبد الرحمن صالح المحمود (*)
أما الكتابات المعاصرة في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم فينبغي أن نعلم أن هذه الكتابات قسمان: منها قسم تأثر فيه أصحابه بدراسات المستشرقين والمبشرين. وينبغي أن أشير في هذه المناسبة إلى أن المستشرقين والمبشرين ألفوا كتباً كثيرة عن النبي صلى الله عليه وسلم، وكثير من هذه الكتب وبعضها قد ترجم إلى العربية، وكثير منها مملوء حقداً وبغضاً وسباً وشتماً لرسول الله صلى الله عليه وسلم ولأصحابه، فينبغي أن نحذر من هذه الدراسات الاستشراقية، وتبعهم على ذلك بعض أذنابهم ممن ينسبون إلى المسلمين، وكان من الدراسات التي تأثرت بهم ما كتبه طه حسين في كتابه (على هامش السيرة) ، فهذا الكتاب مملوء بالخرافات، ولا ينبغي أن يعتمد عليه أبداً. وكذلك أيضاً هناك كتب أخرى وإن كانت أقل خطورة من هذا الكتاب إلا أنها تأثرت بتلك الدراسات الاستشراقية وبالغزو الاستعماري. ومنها ما كتبه محمد حسين هيكل في كتابه (حياة محمد) ، أو في كتابه الآخر (في منزل الوحي) ، فالكتابان وإن كانا جميلين بديعين إلا أنه قلد فيهما مناهج المستشرقين والمبشرين، فمثلاً: أراد أن يجعل من النبي صلى الله عليه وسلم وكأنه واحداً من البشر العاديين، ومن ثم سمى كتابه (حياة محمد) ، يعني: يريد ألا يجعل هناك معجزة إلا القرآن، فيبعد عن سيرة النبي صلى الله عليه وسلم ما يسميه هؤلاء مخالفاً للعقل من المعجزات ومن المغيبات، ويريد أن يعرض سيرة النبي صلى الله عليه وسلم عرضاً كما يقول: ليتناسق مع مقتضيات الحياة ومع بذل الأسباب البشرية، فجاء عرضه في سيرته بعيداً عن تلك القضايا المهمة في حياة النبي صلى الله عليه وسلم والتي هي من معجزاته ودلائل نبوته عليه الصلاة والسلام. ومثله ما كتبه العقاد في كتابه (عبقرية محمد) ، وعنوانه يدل على مقصده منه! فمحمد رسول الله صلى الله عليه وسلم، ورسول الله صلى الله عليه وسلم لا يُقاس بغيره من العظماء، وإنما يجب أن تختص دراسته بكونه نبياً ورسولاً من عند الله تبارك وتعالى. ثم إنه بدأت دراسات جادة وجيدة لسيرة النبي صلى الله عليه وسلم ولنقد كتب السيرة، ومن تلك الدراسات الجيدة ما كتبه عدد من الباحثين في جامعة أم القرى وفي الجامعة الإسلامية، فإن هؤلاء كتبوا عدة رسائل درسوا فيها بعض المسائل المتعلقة بسيرة النبي صلى الله عليه وسلم دارسة حديثية نقدية ممتازة، فمثلاً: درسوا بيعة العقبة وأحداثها، ودرسوا هجرة النبي صلى الله عليه وسلم وأحداثها، ودرسوا غزوة بدر، ومن هذه الدراسات ما يتعلق بغزوة بني المصطلق، وما يتعلق منها بصلح الحديبية، وما يتعلق منها بغزوة تبوك، وقد طبعت أكثر هذه الدراسات، وهي دراسات مهمة جداً. وكان للشيخ محمد أمين المصري رحمه الله تعالى فضل في ذلك بعد الله تعالى؛ فإنه أول من اقترح هذه الدراسات، وأشرف على عدد من هذه البحوث، وتوفي رحمه الله تعالى منذ زمن، ثم تابع الإشراف على هذه الرسائل الأستاذ الشيخ الدكتور أكرم العمري، وهو موجود الآن في المدينة، وقد حرص الدكتور أكرم العمري على متابعة سيرة النبي صلى الله عليه وسلم وعلى متابعة هذه الرسائل لإخراج سيرة جيدة متكاملة مبنية على الدراسة الحديثية المؤصلة. ومن الدراسات التي اهتمت بالسيرة النبوية ما كتبه الأستاذ محمد سرور زين العابدين (دراسات في السيرة النبوية) ، فإن هذا الكتاب قد طبع، ودرس فيه كثيراً من مناهج السيرة النبوية، ونقد نقداً ممتازاً كثيراً من مناهج المستشرقين وأذنابهم من المستغربين، ودراسته هذه مطبوعة. ومنها أيضاً ما كتبه أكرم العمري الذي أشرت إليه قبل قليل؛ فإنه له دراسات ممتازة جداً، حول سيرة النبي صلى الله عليه وسلم، ومن تلك الدراسات الممتازة له ما كتبه بعنوان: (المجتمع المدني في عهد النبوة) ، وهو جزءان: جزء يتعلق بخصائص هذا العهد وتنظيماته الأولى، والجزء الثاني يتعلق بالجهاد ضد المشركين، وقد طبعت هذين الجزأين الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، وفيه دراسة ممتازة جداً وتأصيل جيد لدراسة سيرة النبي عليه الصلاة والسلام. وهناك دراسات كثيرة ومتعددة اختلفت مناهجها وسبلها، وتعدادها يطول بنا
--------------------------------------------
ড. আবদুর রহমান সালেহ আল-মাহমুদ বলেন:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত বা জীবনী বিষয়ে সমসাময়িক রচনাবলি সম্পর্কে আমাদের জানা উচিত যে, এই লেখাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত: একদল লেখক এমন রয়েছেন যারা প্রাচ্যবিদ (ওরিয়েন্টালিস্ট) এবং মিশনারিদের গবেষণার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। এই প্রসঙ্গে আমার উল্লেখ করা উচিত যে, প্রাচ্যবিদ এবং মিশনারিরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্পর্কে অসংখ্য বই রচনা করেছেন। এর মধ্যে অনেক বই আবার আরবিতে অনূদিত হয়েছে। এগুলোর অধিকাংশই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের প্রতি চরম ঘৃণা, বিদ্বেষ এবং গালিগালাজে পূর্ণ। সুতরাং এই প্রাচ্যবিদদের গবেষণার ব্যাপারে আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত। মুসলমানদের মধ্যে যারা তাদের লেজুড়বৃত্তি করে, তারা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে লেখা গ্রন্থগুলোর মধ্যে একটি হলো ত্বহা হোসেনের ‘আলা হামিশিস সীরাহ’ (সীরাতের প্রান্তিকে) নামক বইটি। এই বইটি রূপকথা ও অসংলগ্নতায় ভরপুর এবং এর ওপর কখনোই নির্ভর করা উচিত নয়। একইভাবে আরও কিছু বই রয়েছে, যেগুলোর ভয়াবহতা এই বইটির চেয়ে কম হলেও সেগুলো প্রাচ্যবিদদের গবেষণা এবং ঔপনিবেশিক আগ্রাসনের দ্বারা প্রভাবিত। এর মধ্যে রয়েছে মুহাম্মদ হুসাইন হাইকাল-এর ‘হায়াতে মুহাম্মদ’ (মুহাম্মদের জীবন) এবং তাঁর অন্য একটি বই ‘ফি মানজিলিল ওয়াহি’ (ওহীর অবতরণস্থলে)। এই বই দুটি অত্যন্ত চমৎকার ও শৈল্পিক ভাষায় রচিত হলেও লেখক এতে প্রাচ্যবিদ ও মিশনারিদের কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ: তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একজন সাধারণ মানুষের মতো উপস্থাপন করতে চেয়েছেন, আর এই কারণেই তিনি তাঁর বইটির নাম রেখেছেন ‘হায়াতে মুহাম্মদ’। অর্থাৎ, তিনি কুরআন ছাড়া অন্য কোনো মুজিজাকে স্বীকার করতে চান না। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত থেকে তিনি সেই সব মুজিজা এবং গায়েবি বিষয়গুলোকে বাদ দিয়েছেন যেগুলোকে এই লেখকরা ‘বিবেক-বুদ্ধি পরিপন্থী’ বলে অভিহিত করেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাতকে এমনভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন, যা তাঁর ভাষায়: জীবনের বাস্তব চাহিদা এবং মানবিক কার্যকারণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। ফলে তাঁর সীরাত উপস্থাপনাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো থেকে দূরে সরে গেছে, যেগুলো ছিল তাঁর মুজিজা এবং নবুওয়াতের প্রমাণস্বরূপ। একই ধরনের কাজ করেছেন আব্বাস মাহমুদ আল-আক্কাদ তাঁর ‘আবকারিয়্যাতু মুহাম্মদ’ (মুহাম্মদের প্রতিভা) নামক গ্রন্থে। এই বইয়ের শিরোনামই তাঁর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দেয়! কারণ মুহাম্মদ হলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অন্য কোনো মহামানবের সাথে তুলনা করা চলে না। বরং তাঁর জীবনী আলোচনার ভিত্তি হতে হবে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা’আলার পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন নবী ও রাসূল হিসেবে। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত এবং সীরাতগ্রন্থগুলোর পর্যালোচনার বিষয়ে বেশ কিছু ঐকান্তিক ও উন্নত মানের গবেষণা শুরু হয়। এই ধরনের ভালো গবেষণার মধ্যে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় এবং মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের কাজ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁরা বেশ কিছু অভিসন্দর্ভ রচনা করেছেন যেখানে তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় অত্যন্ত চমৎকারভাবে হাদিসতাত্ত্বিক ও সমালোচনামূলক পদ্ধতিতে আলোচনা করেছেন। উদাহরণস্বরূপ: তাঁরা বায়আতে আকাবা ও এর ঘটনাবলি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিজরত ও এর ঘটনাবলি এবং বদরের যুদ্ধ নিয়ে গবেষণা করেছেন। এ ধরনের গবেষণার মধ্যে আরও রয়েছে বনু আল-মুস্তালিকের যুদ্ধ, হুদায়বিয়ার সন্ধি এবং তাবুক যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি। এই গবেষণাপত্রগুলোর অধিকাংশ ইতঃমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে এবং এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আল্লাহর রহমতের পর শেখ মুহাম্মদ আমিন আল-মিসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর এই ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রয়েছে; কারণ তিনিই প্রথম এই ধরনের গবেষণার প্রস্তাব দেন এবং অনেকগুলো গবেষণার তত্ত্বাবধান করেন। তিনি বেশ আগে ইন্তেকাল করেছেন। এরপর এই গবেষণাপত্রগুলোর তত্ত্বাবধান চালিয়ে যান প্রফেসর ড. আকরাম দিয়া আল-উমারি, যিনি বর্তমানে মদিনায় অবস্থান করছেন। ড. আকরাম উমারি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত অনুসরণ এবং এই গবেষণাপত্রগুলোর মাধ্যমে একটি মানসম্মত, পূর্ণাঙ্গ এবং বিশুদ্ধ হাদিসতাত্ত্বিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত সীরাত সংকলনের নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। সীরাতে নববীর ওপর গুরুত্বারোপকারী অন্যান্য গবেষণার মধ্যে অধ্যাপক মুহাম্মদ সুরুর জয়নাল আবেদিনের ‘দিরাসাত ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ’ (সীরাতে নববীর ওপর গবেষণা) অন্যতম। এই বইটি প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে তিনি সীরাত রচনার বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং প্রাচ্যবিদ ও তাদের অনুসারী পাশ্চাত্যে মোহাবিষ্ট ব্যক্তিদের রচনার চমৎকার সমালোচনা করেছেন। তাঁর এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও পূর্বে উল্লিখিত আকরাম উমারির বেশ কিছু চমৎকার গবেষণা রয়েছে সীরাতে নববীর ওপর। তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ হলো ‘আল-মুজতামাউল মাদানি ফি আহদিন নুবুওয়াহ’ (নবুওয়াতের যুগে মদিনার সমাজ)। এটি দুই খণ্ডে বিভক্ত: প্রথম খণ্ডটি সেই যুগের বৈশিষ্ট্য এবং প্রাথমিক শাসনব্যবস্থা সম্পর্কিত, আর দ্বিতীয় খণ্ডটি মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ সম্পর্কিত। এই দুই খণ্ড মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত অধ্যয়নের জন্য অত্যন্ত চমৎকার পর্যালোচনা এবং শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও আরও অনেক গবেষণা রয়েছে যেগুলোর পদ্ধতি ও ধারা ভিন্ন ভিন্ন, সেগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা অনেক দীর্ঘ হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
تعريف بالكتاببقلم المغفور له الأستاذ الأكبر الشيخ محمد مصطفى المراغي منذ وجد الإنسان على الأرض وهو مشوق إلى تعرّف ما في الكون المحيط به من سنن وخصائص، وكلما أمعن في المعرفة ظهرت له عظمة الكون أكثر من ذي قبل، وظهر ضعفه وتضاءل غروره. ونبيّ الإسلام صلوات الله عليه شبيه بالوجود. فقد جدّ العلماء منذ أشرقت الأرض بنوره يتلمسون نواحي العظمة الإنسانية فيه، ويتلمسون مظاهر أسماء الله جلّت قدرته في عقله وخلقه وعلمه. ومع أنهم استطاعوا الوصول إلى الشيء من المعرفة، فقد فاتهم حتى الآن كمال المعرفة؛ وأمامهم جهاد طويل، وبعد شاسع، وطريق لا نهاية له.
والنبوّة هبة الله لا تنال بالكسب؛ لكن حكمة الله وعلمه قاضيان بأن تمنح للمستعد لها والقادر على حملها. الله أعلم حيث يجعل رسالته. ومحمد صلى الله عليه وسلم أعدّ لأن يحمل الرسالة للعالم أجمعه، أحمره وأسوده، إنسه وجنه، وأعدّ لأن يحمل رسالة أكمل دين، ولأن يختم به الأنبياء والرسل، وليكون شمس الهداية وحده إلى أن تنفطر السماء وتنكدر النجوم، وتبدّل الأرض غير الأرض والسموات.
عصمة الأنبياء في التبليغ وأداء أمانة الوحي قضية فرغ العلماء منها، فليس للأنبياء فضل الاختيار في التبليغ وأداء الأمانة بعد طبعهم بخاتم النبوّة واختيارهم لها. وهذا التبليغ نتيجة حتمية للنبوّة لا مردّ لها. غير أن الوحي لا يلازم الأنبياء في كل عمل يصدر عنهم وفي كل قول يبدر منهم، فهم عرضة للخطأ، يمتازون عن سائر البشر بأن الله لا يقرّهم على الخطأ بعد صدوره، ويعاتبهم عليه أحيانا.
أمر محمد صلى الله عليه وسلم بأن يبلغ عن ربه، ولم تبين له الطرق التي يتبعها في التبليغ وفي حماية الدعوة، وترك له أن يتصرف بعقله وعمله وفطنته، كما يتصرف غيره من العلماء والعقلاء. وجاء الوحي مفصلا قاطعا في كل ما يخص ذات الإله ووحدته وصفاته وكيفية عبادته؛ ولم يكن كذلك فيما يخص النظم الاجتماعية للأسرة والقرية والمدينة والدولة منفردة ومرتبطة بغيرها من الدول. فهناك مجال واسع للبحث عن عظمة النبي صلى الله عليه وسلم قبل الوحي، وهناك مدى فسيح للبحث عن تلك العظمة بعد الوحي. فقد صار مبلغا عن ربه داعيا إليه، حاميا لتلك الدعوة ولحرّية الداعين، مدافعا عنهم؛ وأصبح حاكم الأمة الإسلامية وقائد حربها ومفتيها وقاضيها ومنظّم جميع الصّلات والروابط فيها، وبينها وبين غيرها من الأمم. وقد أقام العدل في ذلك كله، وألّف بين
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
গ্রন্থ পরিচিতিমরহুম উস্তাযুল আকবার শায়খ মুহাম্মদ মুস্তফা আল-মারাগী কর্তৃক লিখিত। পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্বের সূচনালগ্ন থেকেই সে তার চারপাশের মহাবিশ্বের নিয়মাবলী এবং বৈশিষ্ট্যসমূহ জানার জন্য আগ্রহী। সে যতই জ্ঞানে গভীরভাবে নিমগ্ন হয়েছে, ততই তার কাছে মহাবিশ্বের বিশালতা আগের চেয়ে বেশি উন্মোচিত হয়েছে এবং তার নিজের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে ও তার অহংকার হ্রাস পেয়েছে। ইসলামের নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) অস্তিত্বের মতোই। যখন থেকে পৃথিবী তাঁর নূরে আলোকিত হয়েছে, তখন থেকেই আলেমগণ তাঁর মাঝে মানবিক শ্রেষ্ঠত্বের দিকগুলো এবং তাঁর বুদ্ধি, চরিত্র ও জ্ঞানের মাঝে আল্লাহর—যাঁর কুদরত মহান—নামসমূহের বহিঃপ্রকাশগুলো অন্বেষণ করার চেষ্টা করেছেন। যদিও তাঁরা জ্ঞানের কিছু অংশে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন, তবুও পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান লাভ এখন পর্যন্ত তাঁদের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে; তাঁদের সামনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম, বিশাল দূরত্ব এবং এক অন্তহীন পথ।
নবুওয়াত হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ দান, যা পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জন করা যায় না; তবে আল্লাহর হিকমত ও জ্ঞান এই ফয়সালাই দেয় যে, এটি তাকেই প্রদান করা হবে যিনি এর জন্য প্রস্তুত এবং এটি বহনে সক্ষম। আল্লাহই ভালো জানেন কোথায় তিনি তাঁর রিসালাত অর্পণ করবেন। মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রস্তুত করা হয়েছিল সমগ্র বিশ্বের জন্য—লাল ও কালো নির্বিশেষে সকল মানুষ ও জিনের জন্য—রিসালাতের বোঝা বহন করতে। তাঁকে প্রস্তুত করা হয়েছিল পূর্ণাঙ্গ দ্বীনের বার্তা বহন করার জন্য এবং তাঁর মাধ্যমে নবী ও রাসূলদের সিলসিলা সমাপ্ত করার জন্য, যাতে আকাশ বিদীর্ণ হওয়া, নক্ষত্ররাজি নিষ্প্রভ হওয়া এবং এই পৃথিবী ও আকাশসমূহ অন্য কিছুতে পরিবর্তিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনিই হন একমাত্র হেদায়েতের সূর্য।
ওহীর আমানত পৌঁছে দেওয়া এবং তাবলীগের ক্ষেত্রে নবীদের নিষ্পাপতা (ইসমা) এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আলেমগণ সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। নবুওয়াতের মোহর দ্বারা ভূষিত হওয়া এবং এই কাজের জন্য মনোনীত হওয়ার পর তাবলীগ ও আমানত আদায়ের ক্ষেত্রে নবীদের নিজেদের কোনো ব্যক্তিগত পছন্দের সুযোগ থাকে না। এই তাবলীগ হলো নবুওয়াতের এক অনিবার্য ফলাফল যা রদ করার অবকাশ নেই। তবে ওহী নবীদের প্রতিটি কাজ বা প্রতিটি কথায় সবসময় সঙ্গী হিসেবে থাকে না; ফলে তাঁরা ভুলের ঊর্ধ্বে নন। তবে অন্য সকল মানুষের থেকে তাঁদের স্বাতন্ত্র্য এই যে, আল্লাহ তাঁদের কোনো ভুলের ওপর বহাল রাখেন না এবং মাঝে মাঝে সেই ভুলের জন্য তাঁদের তিরস্কার করেন।
মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর রবের পক্ষ থেকে তাবলীগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাবলীগ ও দাওয়াতের সুরক্ষায় কী পন্থা অবলম্বন করা হবে তা তাঁকে বিস্তারিতভাবে বলে দেওয়া হয়নি; বরং অন্যান্য আলেম ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের মতো তাঁর ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল যেন তিনি তাঁর বুদ্ধি, কর্ম ও প্রজ্ঞা দ্বারা তা পরিচালনা করেন। আল্লাহর সত্তা, তাঁর একত্ববাদ, তাঁর গুণাবলি এবং তাঁর ইবাদতের পদ্ধতির ক্ষেত্রে ওহী বিস্তারিত ও অকাট্যভাবে অবতীর্ণ হয়েছে; কিন্তু পরিবার, গ্রাম, শহর এবং রাষ্ট্রের সামাজিক ব্যবস্থা—তা একক হোক বা অন্য রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কযুক্ত হোক—সেক্ষেত্রে ওহী তেমন বিস্তারিতভাবে আসেনি। ফলে ওহী অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মহানুভবতা নিয়ে গবেষণার যেমন প্রশস্ত ক্ষেত্র রয়েছে, ওহী পরবর্তী সময়ের মহানুভবতা নিয়েও গবেষণার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। তিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে একজন তাবলীগকারী ও তাঁর দিকে আহ্বানকারীতে পরিণত হয়েছিলেন, সেই দাওয়াত ও দাওয়াতদানকারীদের স্বাধীনতার রক্ষক এবং তাঁদের প্রতিরক্ষাকারী হয়েছিলেন। তিনি ইসলামী উম্মাহর শাসক, যুদ্ধের সেনাপতি, মুফতি, বিচারক এবং উম্মাহর অভ্যন্তরীণ ও অন্যান্য জাতির সাথে যাবতীয় সম্পর্ক ও যোগসূত্র স্থাপনকারীতে পরিণত হয়েছিলেন। তিনি এই সবকিছুর মাঝে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং মানুষের মাঝে ঐক্য গড়ে তুলেছিলেন...
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
أمم وطوائف ما كان العقل يسيغ إمكان التأليف بينها؛ وظهرت الحكمة والرصانة وبعد النظر وكمال الفطنة وسرعة الخاطر وقوّة الحزم في كل ما صدر عنه من قول أو فعل، وتفجّرت منه ينابيع العلم والمعرفة، وينابيع البلاغة التي يطأطئ البلغاء رؤوسهم أمامها إجلالا وهيبة؛ وفارق الدنيا وهو راض عن عمله مرضيّ من الله ومن المسلمين.
وكل هذه النواحي تستحق الدرس والتمحيص، وليس في مقدور شخص واحد أن يفيها حقها، بل ليس في مكنة شحص واحد أن يوفي على الغاية في ناحية من هذه النواحي.
وسيرة محمد صلوات الله عليه وعلى آله، كسائر العظماء، أضيف إليها ما ليس منها، إما عن حب وهوى وحسن قصد، وإما عن سوء قصد وحقد. غير أنها تمتاز عن سائر العظماء جميعهم بأن منها شيئا كثيرا ضمه الوحي الإلهي وضمن حفظه القرآن المطهر، وشيئا كثيرا روي على لسان الحفاظ الثقات من المحدّثين، وعلى هذه الأسس الصحيحة يجب أن تبنى السيرة، وأن يستنبط العلماء منها حكمها وأسرارها ودقائقها، وأن تحلل التحليل العلمي النزيه، ملاحظا في ذلك ظروف الوسط وحال البيئة ونواحيها المختلفة من عقائد ونظم وعادات.
وقد أخرج الدكتور هيكل للناس كتابه «حياة محمد» في سيرة محمد صلى الله عليه وسلم، ويسرّ لي أن أطّلع على جزء منه قبل إتمام طبعه. والدكتور هيكل معروف لقراء اللغة العربية، غنيّ باثاره فيها عن التعريف. وقد درس القانون واطلع على المنطق والفلسفة، ومكّنته ظروفه وطبيعة عمله من الاتصال بالثقافة القديمة والثقافة الحديثة وأوفى منهما على حظ عظيم، وناظر وجادل وهجم ودافع في المعتقدات والآراء وقواعد الاجتماع وفي السياسة وغيرها، فنضج عقله وكمل علمه وأتّسع اطلاعه وامتدّ أفقه، فأصبح يدافع عن آرائه بمنطق قويّ وحجج باهرة وأسلوب أختص به لا تخفي نسبته إليه. بهذه الثقافة وهذه القوّة نسج الدكتور كتابه وقال في مقدّمته: «لست مع ذلك أحسب أني أوفيت على الغاية من البحث في حياة محمد؛ بل لعلي أكون أدنى إلى الحق إذا ذكرت أني بدأت هذا البحث في العربية على الطريقة الحديثة. وقد تأخذ القارئ الدهشة إذا ذكرت ما بين دعوة محمد والطريقة العلمية الحديثة من شبه قوىّ. فهذه الطريقة العلمية تقتضيك إذا أردت بحثا أن تمحو من نفسك كل رأي وكل عقيدة سابقة في هذا البحث، وأن تبدأ بالملاحظة والتجربة، ثم بالموازنة والترتيب، ثم بالاستنباط القائم على هذه المقدمات العلمية. فإذا وصلت إلى نتيجة من ذلك كله كانت نتيجة علمية خاضعة بطبيعة الحال للبحث والتمحيص، ولكنها تظل علمية ما لم يثبت البحث العلمي تسرب الخطأ إلى ناحية من نواحيها.
وهذه الطريقة العلمية هي أسمى ما وصلت إليه الإنسانية في سبيل تحرير الفكر، وها هي ذي مع ذلك طريقة محمد وأساس دعوته» .
أمّا أن هذه الطريقة طريقة القرآن فذلك حق لا ريب فيه؛ فقد جعل العقل حكما والبرهان أساس العلم، وعاب التقليد وذم المقلّدين، وأنّب من يتبع الظن وقال: «إن الظّنّ لا يغني من الحقّ شيئا» وعاب تقديس ما عليه الآباء، وفرض الدعوة بالحكمة لمن يفقهها. ولم تكن معجزة محمد صلى الله عليه وسلم القاهرة إلا في القرآن، وهي معجزة عقلية. وما أبدع قول البوصيري:
لم يمتحنّا بما تعيا العقول به
… حرصا علينا، فلم نرتب ولم نهم
وأما أن هذه الطريقة حديثة فهذا ما يعتذر عنه. وقد ساير الدكتور غيره من العلماء في هذا. لأنها طريقة القرآن كما اعترف هو، ولأنها طريقة علماء سلف المسلمين. أنظر كتب الكلام تراهم يقررون أن أوّل واجب على المكلف معرفة الله، فيقول آخرون: لا، إن أوّل واجب هو الشك. ثم إنه لا طريق للمعرفة إلا
এমন সব জাতি ও গোষ্ঠী যাদের মধ্যে ঐক্য স্থাপন করা বুদ্ধিগ্রাহ্য ছিল না; এবং তাঁর থেকে নির্গত প্রতিটি কথা ও কাজে হিকমত, গাম্ভীর্য, দূরদৃষ্টি, পূর্ণ বুদ্ধিমত্তা, উপস্থিত বুদ্ধি এবং দৃঢ় সংকল্পের প্রকাশ ঘটেছে। তাঁর থেকে ইলম ও মারেফতের ঝরনাধারা এবং এমন অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রস্রবণ প্রবাহিত হয়েছে যার সামনে অলঙ্কারবিদগণ শ্রদ্ধা ও সম্মানে মাথা নত করেন। তিনি আপন কর্মে সন্তুষ্ট এবং আল্লাহর নিকট ও মুসলমানদের নিকট সন্তোষভাজন হয়ে ইহধাম ত্যাগ করেছেন।
এই সকল দিকই অধ্যয়ন ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের দাবি রাখে। কোনো একজন ব্যক্তির পক্ষে এর যথাযোগ্য হক আদায় করা সম্ভব নয়, বরং কোনো একজনের পক্ষে এর একটি দিকের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছানোও সম্ভব নয়।
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সীরাত, অন্যান্য মহামানবদের ন্যায়, তাতে এমন কিছু বিষয় যুক্ত করা হয়েছে যা সীরাতের অংশ নয়; চাই তা মহব্বত ও আবেগ এবং সৎ উদ্দেশ্যে হোক কিংবা অসৎ উদ্দেশ্য ও বিদ্বেষপ্রসূত হোক। তবে অন্যান্য সকল মহামানবদের থেকে তাঁর অনন্য বৈশিষ্ট্য এই যে, এর বিরাট এক অংশ খোদায়ী ওহী এবং পবিত্র কুরআনের সংরক্ষণে সংকলিত হয়েছে এবং এর একটি বড় অংশ মুহাদ্দিসগণের মধ্য হতে নির্ভরযোগ্য হাফেজদের মুখে বর্ণিত হয়েছে। এই সঠিক ভিত্তিগুলোর উপরেই সীরাত রচিত হওয়া উচিত এবং আলেমগণের উচিত এ থেকে হিকমত, রহস্য ও সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ উদ্ভাবন করা এবং পরিবেশের পরিস্থিতি, পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং বিশ্বাস, প্রথা ও অভ্যাসের বিভিন্ন দিক লক্ষ্য রেখে এর নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করা।
ডক্টর হাইকাল মানুষের জন্য মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত বিষয়ক তাঁর গ্রন্থ «হায়াতে মুহাম্মাদ» প্রকাশ করেছেন। মুদ্রণ শেষ হওয়ার আগে এর একটি অংশ দেখার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। ডক্টর হাইকাল আরবি ভাষার পাঠকদের নিকট সুপরিচিত এবং তাঁর রচনার মাধ্যমেই তিনি পরিচয়ের মুখাপেক্ষীহীন। তিনি আইন শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন এবং যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনে পাণ্ডিত্য অর্জন করেছেন। তাঁর পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও কাজের ধরন তাঁকে প্রাচীন ও আধুনিক সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে এবং তিনি উভয় ক্ষেত্রেই মহান এক অংশ অর্জন করেছেন। তিনি বিশ্বাস, মতবাদ, সামাজিক নিয়ম-কানুন, রাজনীতি এবং অন্যান্য বিষয়ে বিতর্ক ও যুক্তিযুদ্ধ করেছেন এবং আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা করেছেন। ফলে তাঁর বিবেক পরিপক্ব হয়েছে, জ্ঞান পূর্ণতা পেয়েছে, অধ্যয়নের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে এবং তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির দিগন্ত প্রসারিত হয়েছে। অতঃপর তিনি তাঁর মতবাদসমূহকে শক্তিশালী যুক্তি, উজ্জ্বল প্রমাণ এবং এমন এক অনন্য শৈলী দ্বারা রক্ষা করতে শুরু করেছেন যা কেবল তাঁর সাথেই বিশেষিত। এই সংস্কৃতি এবং এই শক্তি নিয়ে ডক্টর তাঁর কিতাবটি রচনা করেছেন এবং এর ভূমিকায় বলেছেন: «এতদসত্ত্বেও আমি মনে করি না যে আমি মুহাম্মাদের জীবনের গবেষণার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছি; বরং সত্যের অধিক নিকটবর্তী হবে যদি আমি বলি যে, আমি আধুনিক পদ্ধতিতে আরবি ভাষায় এই গবেষণার সূচনা করেছি। যখন আমি মুহাম্মাদের দাওয়াত এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মধ্যে যে শক্তিশালী সাদৃশ্য রয়েছে তা উল্লেখ করব, তখন পাঠক হয়তো বিস্ময়াভিভূত হতে পারেন। এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি আপনার নিকট দাবি করে যে, আপনি যখন কোনো গবেষণা করতে চাইবেন তখন আপনার মন থেকে ওই গবেষণা বিষয়ক সকল পূর্ববর্তী ধারণা ও বিশ্বাস মুছে ফেলবেন এবং পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু করবেন, এরপর তুলনা ও বিন্যাস করবেন এবং অতঃপর এই বৈজ্ঞানিক উপাত্তগুলোর ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। আপনি যখন এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন, তখন তা স্বাভাবিকভাবেই একটি বৈজ্ঞানিক ফলাফল হিসেবে গণ্য হবে যা গবেষণা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের অধীন, তবে যতক্ষণ পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এর কোনো দিকে ভুল প্রমাণিত না হয় ততক্ষণ এটি বৈজ্ঞানিক হিসেবেই গণ্য হবে।
আর এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিটি হলো চিন্তার স্বাধীনতার পথে মানবতার পৌঁছানো সর্বোচ্চ স্তর, অথচ এটিই মুহাম্মাদের পদ্ধতি এবং তাঁর দাওয়াতের ভিত্তি»।
এই পদ্ধতিটি কুরআনের পদ্ধতি হওয়ার বিষয়টি অনস্বীকার্য সত্য; কারণ কুরআন বিবেককে বিচারক এবং প্রমাণকে জ্ঞানের ভিত্তি বানিয়েছে, অন্ধ অনুকরণকে ত্রুটিযুক্ত করেছে ও অন্ধ অনুসারীদের নিন্দা করেছে এবং যারা নিছক ধারণার অনুসরণ করে তাদের তিরস্কার করে বলেছে: «নিশ্চয়ই সত্যের বিপরীতে ধারণার কোনো মূল্য নেই»। কুরআন পূর্বপুরুষদের রীতিনীতিকে পবিত্র জ্ঞান করার সমালোচনা করেছে এবং যারা হিকমত অনুধাবন করতে পারে তাদের জন্য হিকমতের মাধ্যমে দাওয়াত প্রদানকে আবশ্যক করেছে। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অপরাজেয় মোজেজা কেবল কুরআনই ছিল, যা একটি বুদ্ধিভিত্তিক মোজেজা। বুসিরী কতই না চমৎকার বলেছেন:
তিনি আমাদের এমন কিছু দিয়ে পরীক্ষা করেননি যা বুঝতে বিবেক অক্ষম হয়ে পড়ে
... আমাদের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগের কারণে, ফলে আমরা কোনো সন্দেহ বা বিভ্রান্তিতে পড়িনি।
আর এই পদ্ধতিটি যে আধুনিক, এই নামকরণের বিষয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে। ডক্টর এক্ষেত্রে অন্যান্য আলেমদের অনুসরণ করেছেন। কারণ এটি কুরআনেরই পদ্ধতি যেমনটি তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন, এবং এটিই মুসলিম পূর্বসূরি (সালাফ) আলেমদের পদ্ধতি। আপনি ইলমে কালামের গ্রন্থগুলো দেখুন, আপনি দেখতে পাবেন যে তারা সাব্যস্ত করছেন মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তির ওপর প্রথম ওয়াজিব হলো আল্লাহকে চেনা। অন্য একদল বলেন: না, বরং প্রথম ওয়াজিব হলো সন্দেহ করা (গবেষণার নিমিত্তে)। অতঃপর জ্ঞানের জন্য কোনো পথ নেই কেবল...
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
البرهان. وهو وإن كان نوعا من أنواع القياس إلا أنه يجب أن تكون مقدّماته قطيعة حسية، أو منتهية إلى الحس، أو مدركة بالبداهة، أو معتمدة على التجربة الكاملة أو الاستقراء التام، على ما هو معروف في المنطق. وكل خطأ يتسرّب إلى إحدى المقدّمات أو إلى شكل التأليف مفسد للبرهان.
وقد جرى الإمام الغزالي على الطريقة نفسها. وقد قرّر في أحد كتبه أنه جدد نفسه من جميع الآراء ثم فكر وقدّر، ورتب وأزن، وقرّب وباعد، وعرض الأدلة وهذبها وحللها؛ ثم اهتدى بعد ذلك كله إلى أن الإسلام حق، وإلى ما اهتدى إليه من الآراء. وقد فعل هذا ليجافي التقليد، وليكون إيمانه إيمان المستيقن المعتمد على الدليل والبرهان، ذلك الإيمان الذي لا يختلف المسلمون في صحته ونجاة صاحبه.
وأنت واجد في كتب الكلام في مواضيع كثيرة حكاية تجريد النفس عما ألفته من العقائد، ثم البحث والنظر. فطريق التجريد طريق قديم، وطريق التجربة والاستقراء طريق قديم، والتجربة والاستقراء التام وليدا الملاحظة، فليس هناك جديد عندنا، ولكن هذه الطريقة القديمة بعد أن نسيت في التطبيق العلمي والعملي في الشرق، وبعد أن نشأ التقليد وأهدر العقل، وبعد أن أبرزها الغربيون في ثوب ناضج وأفادوا منها في العلم والعمل، رجعنا نأخذها عنهم ونراها طريقة في العلم جديدة.
هذا القانون العلمي في البحث معروف قديما وحديثا. والمعرفة سهلة ولكن العمل عسير. ولا يتفاوت الناس كثيرا في معرفة القانون، ولكنهم يتفاوتون جدّ التفاوت في تطبيق القانون.
تجريد النفس والملاحظة والتجربة والموازنة والاستنباط كلمات سهلة؛ لكن الإنسان الرازح تحت أحمال الوراثة في دمه وعقله، وأحمال البيئة في البيت والقرية والمدينة والدولة والمدرسة، وأحمال المعتقدات والمزاج والصحة والمرض والشهوات، كيف يسهل عليه تطبيق القانون؟ هذا هو موضع الداء قديما وحديثا وهو سبب تعدّد المذاهب والآراء وسبب تبدلها وتنقلها من قطر إلى قطر، ومن أمة إلى أمة. والفلسفة والآداب تبدّل ثيابها على تعاقب الأجيال كما تبدّل النساء أزياءها، وقلّ أن تجد فيها شيئا يصونه حرز أو بقية حصن؛ بل سرى التبدّل إلى قواعد العلم التي لم تكن طوال الأجيال الماضية موضعا للشك. ونظرية النسبية اضطرب لها العلماء وسرعان ما قام من يهدمها. والآراء في الأمراض وأسبابها وطرق علاجها وفي التغذية لا تزال مطيعة للتبدّل والتحول. وهكذا إذا أمعنّا النظر لا نجد أمانا لما أنتجه العقل وحده إلا ما كان البرهان بشروطه متوافرا فيه.
ولكن ما نسبة هذه الأشياء التي يتوافر فيها البرهان إلى غيرها مما تمليه الظنون وتسطره الأوهام وتمجه الأذهان المريضة، وتفرضه السياسة؛ ويبدعه العلماء الذين يجدون كل اللذة في مخالفة غيرهم وإحداث هذه المذاهب والآراء! ولعل هذه الحيرة ستخفف غلواء العلماء المعتزين بالعقل وحده، وتلويهم يوما من الأيام إلى الدخول في حمى الحق وحصن اليقين؛ وهو الوحي الصادق، وهو القرآن الكريم والسنة الصحيحة المطهرة.
نعود بعد هذا إلى الدكتور هيكل وكتابه.
يقول بعض علماء الكلام أن الاطلاع على علم تشريح الأفلاك وعلم تشريح الإنسان يدل أوضح الدلالة على شمول العلم الإلهي لدقائق الوجود. وأنا أقرّر أيضا أن العلم والكشف عن سنن الوجود وعجائبه سيكون نصير الدين، وسيقرّب إلى العقل الإنساني طريق فهم ما كان غامضا مبهما، وما كان فوق طاقة العقل إدراكه من قبل، مصداقا لقوله تعالى: (سَنُرِيهِمْ آياتِنا فِي الْآفاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ، أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُ عَلى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ) .
বুরহান বা অকাট্য প্রমাণ। যদিও এটি এক প্রকার কিয়াস বা যৌক্তিক অনুমান, তবে এর প্রাঙ্গণ বা ভূমিকাগুলো অবশ্যই ইন্দ্রিয়লব্ধ নিশ্চিত জ্ঞান হতে হবে, অথবা ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞানের সমাপ্তিতে পৌঁছাতে হবে, অথবা স্বতঃসিদ্ধভাবে অনুধাবনযোগ্য হতে হবে, অথবা পূর্ণ অভিজ্ঞতা কিংবা পূর্ণ আরোহী পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল হতে হবে, যেমনটি যুক্তিবিদ্যায় সুপরিচিত। আর ভূমিকার কোনো একটিতে বা বিন্যাসের পদ্ধতিতে কোনো ভুল প্রবেশ করলে তা বুরহান বা অকাট্য প্রমাণকে নষ্ট করে দেয়।
ইমাম গাজালি এই একই পথ অনুসরণ করেছেন। তিনি তাঁর একটি গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি নিজেকে সমস্ত মতামত থেকে মুক্ত করেছেন, অতঃপর চিন্তা ও বিচার করেছেন, বিন্যস্ত ও ওজন করেছেন, নিকটবর্তী ও দূরবর্তী করেছেন এবং প্রমাণাদি উপস্থাপন করে সেগুলো সংশোধন ও বিশ্লেষণ করেছেন। এরপর এই সবকিছুর পর তিনি হেদায়েত বা দিকনির্দেশনা লাভ করেছেন যে ইসলামই সত্য এবং তিনি সেই সব মতে পৌঁছেছেন যেগুলোতে তিনি হেদায়েত লাভ করেছেন। তিনি এটি করেছেন অন্ধ অনুকরণ বা তাকলিদ থেকে দূরে থাকার জন্য, এবং যাতে তাঁর ঈমান হয় এমন এক নিশ্চিত বিশ্বাসীর ঈমান যা দলীল ও অকাট্য প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল—এমন ঈমান যার বিশুদ্ধতা এবং এর অধিকারীর মুক্তির ব্যাপারে মুসলিমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।
আপনি ইলমে কালামের কিতাবসমূহে অনেক বিষয়ে নিজেকে অভ্যস্ত আকিদাহ বা বিশ্বাসসমূহ থেকে মুক্ত করার কাহিনী পাবেন, এরপর অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার কথা পাবেন। সুতরাং পূর্বসংস্কার থেকে মুক্ত হওয়ার পথটি একটি প্রাচীন পথ এবং অভিজ্ঞতা ও আরোহী পদ্ধতির পথটিও একটি প্রাচীন পথ। অভিজ্ঞতা ও পূর্ণ আরোহী পদ্ধতি হলো পর্যবেক্ষণের ফসল। ফলে আমাদের কাছে নতুন কিছু নেই; কিন্তু এই প্রাচীন পদ্ধতিটি প্রাচ্যে বৈজ্ঞানিক ও ব্যবহারিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিস্মৃত হওয়ার পর, এবং তাকলিদ বা অন্ধ অনুকরণ জন্ম নেওয়ার ও বিবেক-বুদ্ধিকে অবমূল্যায়ন করার পর এবং পশ্চিমাদের পক্ষ থেকে একে একটি পরিপক্ক রূপে উপস্থাপন করার ও বিজ্ঞান ও কর্মক্ষেত্রে তা থেকে উপকৃত হওয়ার পর, আমরা পুনরায় এটি তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করতে ফিরে এসেছি এবং একে বিজ্ঞানের একটি নতুন পদ্ধতি হিসেবে দেখছি।
গবেষণার এই বৈজ্ঞানিক নিয়মটি প্রাচীন ও আধুনিক উভয়কালেই সুপরিচিত। জ্ঞান অর্জন সহজ কিন্তু তদানুযায়ী আমল বা কাজ করা কঠিন। নিয়মটি জানার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই, কিন্তু নিয়মটি প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে তারা চরমভাবে পার্থক্যমণ্ডিত হয়।
নিজেকে মুক্ত করা, পর্যবেক্ষণ, অভিজ্ঞতা, তুলনা এবং উদ্ভাবন—এগুলো সহজ শব্দ; কিন্তু যে মানুষটি তার রক্ত ও মগজে বংশগতির বোঝা, ঘর, গ্রাম, শহর, রাষ্ট্র ও বিদ্যালয়ের পরিবেশের বোঝা এবং বিশ্বাস, মেজাজ, স্বাস্থ্য, অসুস্থতা ও প্রবৃত্তির বোঝার নিচে পিষ্ট হচ্ছে, তার পক্ষে এই নিয়ম প্রয়োগ করা কীভাবে সহজ হবে? এটিই হলো প্রাচীন ও আধুনিক কালের ব্যাধির মূল জায়গা এবং এটিই মাযহাব ও মতামতের বহুত্ব এবং এক দেশ থেকে অন্য দেশে, এক জাতি থেকে অন্য জাতিতে সেগুলোর পরিবর্তন ও স্থানান্তরের কারণ। দর্শন ও সাহিত্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাদের পোশাক বদলায় যেমন মহিলারা তাদের সাজসজ্জা বদলায়, আর সেখানে আপনি এমন কিছু খুব কমই পাবেন যা কোনো সুরক্ষায় বা দুর্গের অবশিষ্ট অংশে সংরক্ষিত থাকে; বরং এই পরিবর্তন বিজ্ঞানের সেই নিয়মগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে যা বিগত প্রজন্মগুলোতে সন্দেহের ঊর্ধ্বে ছিল। আপেক্ষিকতা তত্ত্ব বিজ্ঞানীদের বিচলিত করে দিয়েছে এবং শীঘ্রই এমন কেউ দাঁড়িয়েছে যে একে ভেঙে দিয়েছে। রোগ, এর কারণ, চিকিৎসা পদ্ধতি এবং পুষ্টি সম্পর্কিত মতামতগুলো এখনও পরিবর্তন ও রূপান্তরের অনুগত। এভাবে আমরা যদি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি তবে নিছক বিবেক-বুদ্ধি যা উৎপন্ন করে তাতে কোনো নিরাপত্তা খুঁজে পাই না, কেবল সেই ক্ষেত্রে যেখানে তার শর্তাবলীসহ বুরহান বা অকাট্য প্রমাণ বিদ্যমান রয়েছে।
কিন্তু যে বিষয়গুলোতে বুরহান বা অকাট্য প্রমাণ বিদ্যমান, সেগুলোর সাথে সেই সব বিষয়ের অনুপাত কী যা ধারণা প্রসূত, যা কল্পনাপ্রসূত বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করে, অসুস্থ মস্তিষ্ক যা বর্জন করে এবং রাজনীতি যা চাপিয়ে দেয়; আর সেই সব বিজ্ঞানীরা যা উদ্ভাবন করে যারা অন্যদের বিরোধিতা করায় এবং এই সব মাযহাব ও মতামত সৃষ্টিতে চরম আনন্দ পায়! সম্ভবত এই বিভ্রান্তি কেবল বিবেকের ওপর গর্বকারী বিজ্ঞানীদের বাড়াবাড়িকে কমিয়ে দেবে এবং কোনো একদিন তাদের সত্যের আশ্রয়স্থলে ও নিশ্চিত বিশ্বাসের দুর্গে প্রবেশের দিকে ফিরিয়ে আনবে; আর তা হলো সত্য ওহি, অর্থাৎ পবিত্র কুরআন ও সহিহ পবিত্র সুন্নাহ।
এরপর আমরা ডক্টর হাইকাল ও তাঁর বইয়ের আলোচনায় ফিরে আসি।
ইলমে কালামের কোনো কোনো আলেম বলেন যে, জ্যোতিষ্কসমূহের গঠনতত্ত্ব এবং মানুষের শারীরতত্ত্বের জ্ঞান অস্তিত্বের সূক্ষ্ম বিষয়সমূহে মহান আল্লাহর জ্ঞানের ব্যাপকতার ওপর স্পষ্টতম প্রমাণ বহন করে। আমি আরও জোরালোভাবে বলছি যে, মহাবিশ্বের নিয়মাবলী ও এর বিস্ময়কর বিষয়সমূহ সম্পর্কে জ্ঞান ও আবিষ্কার হবে দ্বীনের সহায়ক, এবং মানুষের বিবেকের কাছে সেই সব বিষয় বোঝার পথকে সহজ করে দেবে যা আগে অস্পষ্ট ও দুর্বোধ্য ছিল এবং যা উপলব্ধি করা আগে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক সামর্থ্যের বাইরে ছিল। এটি মহান আল্লাহর বাণীর সত্যতা হিসেবেই প্রকাশিত হবে: "আমি অচিরেই তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলি দেখাব দিগন্তসমূহে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে, যতক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে তা সত্য। আপনার প্রতিপালক কি যথেষ্ট নন যে, তিনি সর্ববিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী?"
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
والكهرباء وما نشأ عنها من المخترعات قرّبت إلى العقل فهم إمكان تحول المادة إلى قوّة وتحوّل القوّة إلى مادة. وعلم استحضار الأرواح فسر للناس شيئا كثيرا مما كانوا فيه يختلفون، وأعان على فهم تجرد الروح وإمكان انفصالها وفهم ما تستطيعه من السرعة في طيّ الأبعاد، وقد انتفع الدكتور هيكل بشيء من هذا في تقريب قصة الإسراء فأتى بشيء طريف.
ويطول بي القول إذا أنا عرضت لما في كتاب الدكتور هيكل من حسنات، وحسبي أن أنبه إلى تلك الحسنات إجمالا، وسيدرك الناس جماله بأنفسهم ويستمتعون بلذة نتاج الفكر تهدية الأسانيد الصحيحة، ويهديه المنطق الدقيق وتسعده الفطرة الصادقة، وسيرون أن الدكتور كان مخلصا الإخلاص كله للحقيقة، عامر القلب بما في الوحي المحمدي من هدى ونور، وبما في سيرة النبي صلى الله عليه وسلم من جمال وجلال وعظمة وعبرة، مطمئنّا كل الاطمئنان إلى أن هذا الدين المحمدي سينقذ البشر مما هم فيه من الحيرة، وينشلهم من ظلمة المادّة ويبصّرهم بنور الإيمان، ويوجههم إلى النور الإلهي، فيدركون به سعة رحمته التي وسعت كل شيء، وعظمة مجده الذي تسبّح به السموات والأرض وكل شيء فيهما، وعزّته التي تتضاءل أمامها الموجودات. ألا تراه يقول: «وأذهب أبعد مما تقدّم فأقول: إن هذا البحث جدير بأن يهدي الإنسانية طريقها إلى الحضارة الجديدة التي نلتمسها. وإذا كانت نصرانية الغرب تستكبر أن تجد النور الجديد في الاسلام ورسوله وتلتمس هذا النور في «ثيوز وفية» الهند وفي مختلف مذاهب الشرق الأقصى، فإن رجال هذا الشرق من المسلمين واليهود والنصارى خليقون بأن يقوموا بهذه البحوث الجليلة بالنزاهة والإنصاف اللذين يكفلان وحدهما الوصول إلى الحق.
«فالتفكير الإسلامي على أنه تفكير علمي على الطريقة الحديثة في صلة الإنسان بالحياة المحيطة به، هو من هذه الناحية واقعي بحت، ينقل تفكيرا ذاتيّا حين يتصل الأمر بصلات الإنسان بالكون وخالق الكون» .
فيقول: «لكن طلائع القضاء على الوثنية التي تتحكم في عالمنا الحاضر وتوجه الحضارة الحاكمة فيه تبدو واضحة لكل من يتتبع سير العالم وأحداثه. فلعل هذه الطلائع تتواتر وتقوى دلالتها إذا انجلت أمام العالم تلك المسائل الروحية بالتخصص لدراسة حياة محمد وتعاليمه وعصره، والثورة الروحية التي انتشرت في العالم كأثر من آثاره» .
وهذا الاطمئنان يؤيده الواقع؛ فإن ما يرى الآن من عناية الغرب ببحث آثار الشرق، ومن عناية علمائه بدراسة الإسلام من نواحيه المختلفة ودراسة تاريخه وأممه قديما وحديثا، ومن إنصاف بعضهم للنبي صلى الله عليه وسلم، وما أيدته التجارب من أن الحق لا محالة غالب؛ كل ذلك يرشدنا إلى أن الإسلام سينشر لواءه على العالم وسيكون أشد الناس عداوة له اليوم هم أشد الناس غيرة عليه ودفاعا عنه، وسيكون هؤلاء الغرباء عنه هم أنصاره وأهله، وكما نصره أول أمره الغرباء عن البيئة التي نشأ فيها، فسينصره آخر الأمر الغرباء عن لغته ووطنه. وقد بدأ غريبا وسيعود غريبا كما بدأ، فطوبى للغرباء! وإذا كان النبي صلى الله عليه وسلم خاتم الأنبياء وليس للعالم بعده هاد مرشد، وكان دينه أكمل دين بنص الوحي القاطع، فلا يمكن أن يقف أمره على ما هو عليه الآن، ولا بد أن يمحو نوره نور غيره كما تمحو الشمس أضواء غيرها من الكواكب.
وقد وفّق الدكتور في تنسيق الحوادث وربط بعضها ببعض، فجاء كتابه عقدا منضدا وسلسلة متينة محكمة الحلقات. وقد أبدع في بيان الأسباب والأغراض والحكم بيانا قويّا واضحا يجعل القارئ مطمئن النفس رضيّ
বিদ্যুৎ এবং এ থেকে উদ্ভূত বিভিন্ন আবিষ্কার বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে পদার্থের শক্তিতে রূপান্তর এবং শক্তির পদার্থে রূপান্তরের সম্ভাবনা বুঝার পথকে সুগম করেছে। প্রেততত্ত্ব বা রূহ হাজির করার বিদ্যা মানুষের কাছে এমন অনেক কিছু ব্যাখ্যা করেছে যা নিয়ে তারা মতবিরোধ করত, এবং রূহের বিমূর্ততা, দেহ থেকে এর বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা এবং দূরবর্তী পথ দ্রুত অতিক্রম করার ক্ষেত্রে এর সক্ষমতা বুঝতে সাহায্য করেছে। ডক্টর হাইকাল ইসরার ঘটনাটি সহজবোধ্য করার ক্ষেত্রে এ থেকে কিছুটা উপকৃত হয়েছেন এবং একটি চমৎকার বিষয় উপস্থাপন করেছেন।
ডক্টর হাইকালের বইয়ের গুণাবলী বর্ণনা করতে গেলে আমার কথা দীর্ঘ হয়ে যাবে, আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে আমি সামগ্রিকভাবে সেই গুণাবলীর প্রতি ইঙ্গিত করি। মানুষ নিজেই এর সৌন্দর্য উপলব্ধি করবে এবং সঠিক দলিলাদির উপস্থাপনা ও সূক্ষ্ম যুক্তিনির্ভর সেই চিন্তার ফসল আস্বাদন করবে। তারা দেখতে পাবে যে, ডক্টর সত্যের প্রতি সম্পূর্ণ নিষ্ঠাবান ছিলেন এবং মুহাম্মাদী ওহীর হিদায়াত ও নূর দ্বারা এবং নবী (সা.)-এর সীরাতের সৌন্দর্য, গাম্ভীর্য, মহত্ব ও শিক্ষা দ্বারা তাঁর অন্তর ছিল পরিপূর্ণ। তিনি এ বিষয়ে পূর্ণ আশ্বস্ত ছিলেন যে, এই মুহাম্মাদী দীন মানবজাতিকে তাদের বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করবে, জড়বাদের অন্ধকার থেকে তাদের উদ্ধার করবে এবং ঈমানের আলোয় তাদের পথ দেখাবে। তিনি তাদের ঐশ্বরিক নূরের দিকে পরিচালিত করবেন, যার মাধ্যমে তারা আল্লাহর সেই প্রশস্ত রহমত অনুভব করবে যা প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে, এবং তাঁর সেই মহিমান্বিত শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করবে যার তাসবীহ পাঠ করে আসমান ও জমিন এবং এর মধ্যস্থিত সবকিছু, আর তাঁর সেই পরাক্রমের সামনে সৃষ্টিজগত নতিস্বীকার করে। আপনি কি দেখছেন না তিনি বলছেন: «আমি পূর্বোক্ত কথার চেয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে বলতে চাই: এই গবেষণাটি মানবজাতিকে সেই নতুন সভ্যতার পথ দেখানোর যোগ্য যা আমরা খুঁজছি। পশ্চিমের খ্রিস্টান সমাজ যদি ইসলাম ও তার রাসূলের মধ্যে নতুন নূরের সন্ধান পেতে অহংকার বোধ করে এবং এই নূর ভারতের 'থিওসফি' ও সুদূর প্রাচ্যের বিভিন্ন মতবাদে খুঁজতে থাকে, তবে এই প্রাচ্যের মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের উচিত হবে পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে এই মহান গবেষণাগুলো পরিচালনা করা, যা সত্যে পৌঁছানোর একমাত্র নিশ্চয়তা দেয়।
«ইসলামী চিন্তা হলো চারপাশের জীবনের সাথে মানুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আধুনিক পদ্ধতির একটি বৈজ্ঞানিক চিন্তা; এই দৃষ্টিকোণ থেকে তা সম্পূর্ণ বাস্তবমুখী এবং যখন মহাবিশ্ব ও মহাবিশ্বের স্রষ্টার সাথে মানুষের সম্পর্কের বিষয় আসে, তখন তা একটি ব্যক্তিনিষ্ঠ চিন্তাধারায় রূপান্তরিত হয়»।
তিনি বলেন: «তবে আমাদের বর্তমান বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণকারী এবং বর্তমান সভ্যতাকে পরিচালিতকারী মূর্তিপূজা বা পৌত্তলিকতা ধ্বংসের অগ্রদূতরা তাদের জন্য স্পষ্ট যারা বিশ্বের গতিধারা ও ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণ করেন। সম্ভবত এই অগ্রদূতদের আগমন পর্যায়ক্রমিক হবে এবং তাদের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে যদি বিশ্ববাসীর সামনে মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবন, তাঁর শিক্ষা, তাঁর যুগ এবং তাঁর প্রভাবে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়া আধ্যাত্মিক বিপ্লব নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে সেই আধ্যাত্মিক বিষয়গুলো উন্মোচিত হয়»।
বাস্তবতা এই আশ্বস্ততাকে সমর্থন করে; প্রাচ্যের নিদর্শনাদি গবেষণায় বর্তমান পশ্চিমের আগ্রহ, তাদের পণ্ডিতদের দ্বারা ইসলামের বিভিন্ন দিক ও এর ইতিহাস ও প্রাচীন-আধুনিক জাতিসমূহ নিয়ে অধ্যয়ন, নবী (সা.)-এর প্রতি তাদের কারো কারো ন্যায়পরায়ণতা এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে প্রমাণিত যে সত্যই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়; এ সবই আমাদের এই পথনির্দেশ দেয় যে, ইসলাম অচিরেই বিশ্বে তার বিজয় নিশান ওড়াবে। আজ যারা এর ঘোর শত্রু, তারাই হবে এর প্রতি সবচেয়ে বেশি ইর্ষান্বিত ও একনিষ্ঠ রক্ষক। যারা আজ এর কাছে অপরিচিত, তারাই হবে এর সাহায্যকারী ও অনুসারী। ইসলামের সূচনালগ্নে যেমন সেই পরিবেশের অপরিচিত আগন্তুকরা একে সাহায্য করেছিল, তেমনি শেষ সময়েও এর ভাষা ও ভূখণ্ডের বাইরের অপরিচিতরাই একে সাহায্য করবে। ইসলামের সূচনা হয়েছিল অপরিচিত অবস্থায় এবং তা আবার অপরিচিত অবস্থায় ফিরে যাবে যেমনটি শুরু হয়েছিল। সুতরাং এই অপরিচিতদের জন্য সুসংবাদ! যেহেতু নবী (সা.) শেষ নবী এবং তাঁর পর বিশ্ববাসীর জন্য আর কোনো পথপ্রদর্শক নেই, আর তাঁর দীন অকাট্য ওহীর ভাষ্য অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ দীন, তাই বর্তমান পরিস্থিতির ওপর এটি থেমে থাকতে পারে না। সূর্যের আলো যেমন অন্যান্য নক্ষত্রের আলোকে ম্লান করে দেয়, তেমনি এর নূর অবশ্যই অন্য সব নূরকে বিলীন করে দেবে।
ডক্টর ঘটনাবলির সমন্বয় ও একটির সাথে অন্যটির যোগসূত্র স্থাপনে সফল হয়েছেন, ফলে তাঁর বইটি একটি সুবিন্যস্ত হার এবং মজবুত ও সুশৃঙ্খল শৃঙ্খলে পরিণত হয়েছে। তিনি কারণ, উদ্দেশ্য ও হিকমত বর্ণনায় অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রাঞ্জল উপস্থাপনা দেখিয়েছেন যা পাঠককে আশ্বস্ত ও সন্তুষ্ট করে।
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
القلب يستمتع بما يقرأ ويثلج صدره ببرد اليقين، فيملك عليه أمره، ويجبره على متابعة القراءة حتى يوفي على آخر ما بيده من البحث.
وفي الكتاب بحوث قيمة ليست من السيرة، ولكنها اتصلت بها بسبب الإسهاب في بيان أغراضها.
وأختم كلمتي هذه بقول سيد الخلق صلوات الله عليه وعلى آله الأطهار ومن اتبعه: «أعوذ بنور وجهك الذي أشرقت له الظلمات، وصلح عليه أمر الدنيا والآخرة، من أن تنزل عليّ غضبك، أو تحلّ بي سخطك.
لك العتبى حتى ترضى ولا حول ولا قوّة إلا بالله» .
15 من فبراير سنة 1935 محمد مصطفى المراغي
অন্তর যা পাঠ করে তাতে আনন্দিত হয় এবং ইয়াকিনের শীতলতায় তার বক্ষ প্রশান্ত হয়; ফলে এটি তার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং তাকে পাঠ অব্যাহত রাখতে বাধ্য করে, যতক্ষণ না সে তার হাতে থাকা গবেষণার শেষ প্রান্তে উপনীত হয়।
এই কিতাবে এমন কিছু মূল্যবান গবেষণা রয়েছে যা সরাসরি সীরাতের অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে সীরাতের উদ্দেশ্যসমূহ বিস্তারিত বর্ণনার খাতিরে সেগুলো এর সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছে।
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তার (তাঁর ওপর এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ ও অনুসারীদের ওপর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক) বাণীর মাধ্যমে আমি আমার এই বক্তব্যের সমাপ্তি টানছি: "আমি আপনার চেহারার সেই নূরের আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যার দ্বারা অন্ধকারসমূহ উদ্ভাসিত হয়েছে এবং যার বদৌলতে দুনিয়া ও আখেরাতের বিষয়াদি সংশোধিত হয়েছে—আপনার গজব আমার ওপর নাজিল হওয়া থেকে কিংবা আপনার অসন্তুষ্টি আমার ওপর আপতিত হওয়া থেকে।
আপনার সন্তুষ্টি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমি আপনার নিকট ক্ষমাপ্রার্থী। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।"
১৫ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৫ সাল। মুহাম্মদ মুস্তফা আল-মারগি।
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعالَمِينَ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ مالِكِ يَوْمِ الدِّينِ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ اهْدِنَا الصِّراطَ الْمُسْتَقِيمَ صِراطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। বিচার দিবসের মালিক। আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই নিকট সাহায্য চাই। আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন। তাদের পথ, যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন; তাদের পথ নয় যারা ক্রোধের শিকার এবং যারা পথভ্রষ্ট।
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
تقديم الكتاب
محمد عليه الصلاة والسلامبهذا الاسم الكريم تنطق ملايين الشفاه، وله تهتز ملايين القلوب كل يوم مرّات. وهذه الشفاه والقلوب به تنطق وله تهتزّ منذ أربعمائة وألف سنة إلا خمسين. وبهذا الاسم الكريم ستنطق ملايين الشفاه وتهتزّ ملايين القلوب إلى يوم الدين. فإذا كان الفجر من كل يوم وتبيّن الخيط الأبيض من الخيط الأسود، أهاب المؤذّن بالناس أن الصلاة خير من النوم، ودعاهم إلى السجود لله والصلاة على رسوله، فاستجاب له الألوف والملايين في مختلف أنحاء المعمورة يحيون بالصلاة رحمة الله وفضله متجلّيين في مطلع كل نهار. وإذا كانت الظهيرة وزالت الشمس أهاب المؤذّن بالناس لصلاة الظهر، ثم لصلاة العصر فالمغرب فالعشاء. وفي كل واحدة من هذه الصلوات يذكر المسلمون محمدا عبد الله ونبيّه ورسوله في ضراعة وخشية وإنابة، وهم فيما بين الصلوات الخمس ما يكادون يسمعون اسمه حتى تجف قلوبهم بذكر الله وبذكر مصطفاه. كذلك كانوا وكذلك سيكونون حتى يظهر الله الدين القيم ويتم نعمته على الناس أجمعين.
الإمبراطورية الإسلامية الأولىولم يك محمد في حاجة إلى زمان طويل ليظهر دينه وينتشر في الخافقين لواؤه، فقد أكمل الله للمسلمين دينهم قبيل وفاته، ويومئذ وضع هو خطّة انتشار الدين فبعث إلى كسرى وإلى هرقل وإلى غيرهما من الملوك والأمراء كي يسلموا، ولم تمض خمسون ومائة سنة من بعد ذلك حتى كان علم الإسلام خفاقا من الأندلس في غرب أوروبا إلى الهند وإلى التركستان وإلى الصين في شرق آسيا، وبذلك وصلت الشام والعراق وأفغانستان، وقد أسلمت كلها، ما بين بلاد العرب ومملكة ابن السماء، كما وصلت مصر وبرقة وتونس والجزائر ومرّاكش ما بين أوروبا وإفريقيّة ومبعث محمد عليه السلام. ومن يؤمئذ إلى يومنا هذا بقي علم الإسلام مرفوفا على هذه الربوع جميعا، خلا الأندلس التي أغارت النصرانية عليها فعذّبت أهلها وأذاقتهم ألوانا من الشدّة والبأس. ولم يطق أهلها صبرا على الحياة، فعاد منهم من عاد إلى إفريقيّة، وردّ الهول والفزع من أرتدّ منهم عن دينه ودين أبيه إلى دين العتاة والمعذّبين.
على أن ما خسره الإسلام في الأندلس من غرب أوروبا كان له عنه العوض حين فتح العثمانيون
গ্রন্থ পরিচিতি মুহাম্মদ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামএই সম্মানীত নামে প্রতিদিন লক্ষ কোটি ঠোঁট কথা বলে এবং প্রতিদিন বহুবার লক্ষ কোটি হৃদয় এই নামের জন্য স্পন্দিত হয়। আজ থেকে এক হাজার চারশত বছর পূর্ণ হতে পঞ্চাশ বছর বাকি থাকার সময় থেকেই এই ঠোঁটগুলো এই নাম উচ্চারণ করছে এবং এই হৃদয়গুলো স্পন্দিত হচ্ছে। আর কিয়ামত পর্যন্ত এই সম্মানীত নামে লক্ষ কোটি ঠোঁট কথা বলবে এবং লক্ষ কোটি হৃদয় স্পন্দিত হবে। যখন প্রতিদিনের ফজর উপস্থিত হয় এবং কালো সুতা থেকে সাদা সুতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তখন মুয়াজ্জিন মানুষকে এই বলে আহ্বান জানান যে, ঘুমের চেয়ে নামাজ উত্তম; তিনি তাদেরকে আল্লাহর প্রতি সিজদা করতে এবং তাঁর রাসূলের ওপর দরুদ পাঠ করতে ডাকেন। ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার ও লক্ষ কোটি মানুষ তাঁর ডাকে সাড়া দেয়। তারা প্রতিটি দিনের শুরুতে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহকে পুনরুজ্জীবিত করে, যা প্রতিটি দিনের সূচনালগ্নে প্রকাশিত হয়। যখন দুপুর হয় এবং সূর্য হেলে পড়ে, তখন মুয়াজ্জিন মানুষকে জোহরের নামাজের জন্য আহ্বান জানান, এরপর আসর, তারপর মাগরিব ও এশার জন্য। এই প্রতিটি নামাজে মুসলিমগণ অত্যন্ত বিনীতভাবে, আল্লাহভীতি ও একাগ্রতার সাথে আল্লাহর বান্দা, তাঁর নবী ও তাঁর রাসূল মুহাম্মদকে স্মরণ করে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে তারা যখনই তাঁর নাম শোনে, আল্লাহর স্মরণে এবং তাঁর মনোনীত রাসূলের স্মরণে তাদের অন্তর স্পন্দিত হতে থাকে। তারা এভাবেই ছিল এবং এভাবেই থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহ এই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনকে বিজয়ী করেন এবং সমস্ত মানুষের ওপর তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করেন।
প্রথম ইসলামি সাম্রাজ্যনিজের দ্বীনকে প্রকাশ করতে এবং পূর্ব ও পশ্চিমে তাঁর বিজয় নিশান উড্ডীন করতে মুহাম্মদের দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়নি। তাঁর ইন্তেকালের কিছুকাল পূর্বেই আল্লাহ মুসলিমদের জন্য তাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিয়েছিলেন। সেই দিনই তিনি দ্বীন প্রচারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন এবং কিসরা, হেরাক্লিয়াস ও অন্যান্য রাজা-বাদশাহ ও আমিরদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে দূত প্রেরণ করেছিলেন যাতে তারা ইসলাম গ্রহণ করে। এরপর দেড়শ বছর পার হতে না হতেই ইসলামের পতাকা ইউরোপের পশ্চিমে আন্দালুস থেকে শুরু করে এশিয়ার পূর্বে ভারত, তুর্কিস্তান ও চীন পর্যন্ত পতপত করে উড়তে থাকে। এর মাধ্যমে সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তান—যেগুলো সম্পূর্ণ ইসলাম গ্রহণ করেছিল—আরব ভূখণ্ড ও চীন সাম্রাজ্যের মধ্যবর্তী সংযোগস্থলে পরিণত হয়। তেমনিভাবে মিশর, বারকা, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া ও মরক্কো ইউরোপ, আফ্রিকা এবং মুহাম্মদ আলাইহিস সালামের নবুয়তের উৎপত্তিস্থলের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত এই সকল জনপদে ইসলামের পতাকা উড্ডীন রয়েছে; কেবল আন্দালুস ব্যতীত, যেখানে খ্রিষ্টানরা আক্রমণ চালিয়েছিল এবং সেখানকার অধিবাসীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে তাদেরকে চরম কঠোরতা ও কষ্টের স্বাদ আস্বাদন করিয়েছিল। সেখানকার অধিবাসীরা সেই জীবন সহ্য করতে পারেনি; তাদের মধ্যে যারা পেরেছিল তারা আফ্রিকায় ফিরে গিয়েছিল, আর যারা নিজেদের এবং পূর্বপুরুষদের ধর্ম ত্যাগ করে উৎপীড়ক ও নির্যাতনকারীদের ধর্মে ফিরে গিয়েছিল, তারা তা আতঙ্ক ও বিভীষিকার মুখেই করেছিল।
তবে পশ্চিম ইউরোপের আন্দালুসে ইসলাম যা হারিয়েছিল, উসমানীয়দের বিজয়ের সময় তার ক্ষতিপূরণ হয়েছিল...
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
القسطنطينية ومكنّوا لدين محمد فيها. هنالك امتدّت كلمته إلى البلقان كلها، وانبلج نوره في روسيا وفي بولونيا، وخفقت أعلامه على أضعاف ما كانت تخفق عليه من أرض إسبانيا. ومن يوم انتشر الإسلام في صولته الأولى إلى يومنا لم يتغلّب عليه من الأديان متغلّب، وإن تغلّب على أممه من شدائد الظلم وألوان التحكم ما جعلها أشدّ بالله إيمانا، ولحكمه إسلاما، وفي رحمته وفي غفرانه أملا ورجاء.
الإسلام والمسيحيةهذه القوّة التي انتشر الإسلام بها سرعان ما وقفته وجها لوجه أمام المسيحية وقفة نضال مستميت. لقد تغلّب محمد على الوثنية، ومحا من بلاد العرب، كما محا خلفاؤه الأوّلون من بلاد الفرس والأفغان وطائفة كبيرة من بلاد الهند، أثرها. ولقد تغلّب خلفاء محمد على المسيحية في الحيرة واليمن والشام ومصر إلى مهد المسيحية مدينة قسطنطين. أفقدر على المسيحية ما قدّر على الوثنية من اضمحلال وهي دين كتاب من الأديان التي أشاد بها محمد ونزل الوحي بنبوّة صاحبها؟ وهل قدّر لهؤلاء العرب، عرب البادية الزاحفين من شبه الجزيرة الصحراوية القاحلة، أن يضعوا أيديهم على حدائق الأندلس وبزنطية وسائر البلاد المسيحية؟ الموت ولا هذا! واستمر القتال بين أتباع عيسى وأتباع محمد قرونا متتالية. ولم يقف القتال عند حرب الأسنّة والمدافع، بل تعدّاها إلى ميادين الجدل والنضال الكلامي، جاء المقاتلون فيها بأسماء محمد وعيسى، وجعل كل فريق يلتمس الوسيلة لتأليب السواد واستثارة حماسة الجماهير وتعصّبها.
المسلمون وعيسىعلى أن الإسلام حال بين المسلمين وبين الحط من مقام عيسى، أنه عبد الله آتاه الكتاب وجعله نبيا، وجعله مباركا أينما كان، وأوصاه بالصلاة والزكاة ما دام حيّا، وبرّا بوالدته ولم يجعله جبارا شقيّا فسلام عليه يوم ولد ويوم يموت ويوم يبعث حيّا. أمّا المسيحيون فقد جعل الكثيرون منهم يعرّضون بمحمد وينعتونه بأوصاف يبرأ منها المهذّب من الرجال، شفاء لما في نفوسهم من غلّ، واستفزازا وحفزا لشهوات الناس الدنيا. وعلى رغم ما يقال من أن الحروب الصليبية وضعت أوزارها منذ مئات السنين ظلّ تعصّب الكنيسة المسيحية على محمد على أشدّه إلى عصور قريبة. ولعله كذلك ما يزال إن لم يك أشدّ، وإن كان خفيا يعمل في ظلمات التبشير بالدون من الوسائل. ولم يقف الأمر عند الكنيسة بل تعدّاها إلى كتّاب وفلاسفة في أوروبا وفي أمريكا لم تك تصلهم بالكنيسة صلة تذكر.
المسيحيون المتعصبون ومحمدولقد يعجب الإنسان أن يظل تعصب المسيحية على الإسلام بهذه الشدة في عصر يزعمون أنه عصر النور والعلم، وأنه لذلك عصر التسامح وسعة الأفق. ويزداد الإنسان عجبا إذ يذكر المسلمين الأوّلين وكيف كان اغتباطهم بانتصار المسيحية على المجوسية عظيما حين ظفرت جيوش هرقل بأعلام فارس وكسرت عسكر كسرى. فقد كانت فارس صاحبة النفوذ في جنوب شبه جزيرة العرب منذ أخرج كسرى الأحباش من اليمن.
ثم إن كسرى وجّه جيوشه- سنة 614 ميلادية- تحت إمرة قائد من قوّاده يدعي شهر براز «1» لغزو الروم، فظهر عليهم حين التقى بهم بأذرعات وبصرى، أدنى الشام إلى أرض العرب، فقتلهم وخرب مدائنهم وقطع
--------------------------------------------
কনস্টান্টিনোপল এবং সেখানে মুহাম্মাদ (সা.)-এর দ্বীনকে তারা শক্তিশালী করেছেন। সেখান থেকেই তাঁর দাওয়াত সমগ্র বলকান অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, তাঁর নূর রাশিয়া ও পোল্যান্ডে উদ্ভাসিত হয় এবং স্পেনের যে পরিমাণ ভূখণ্ডে ইসলামের পতাকা উড়ছিল, তখন তার চেয়ে বহুগুণ বেশি জমিনে তা আন্দোলিত হতে থাকে। ইসলাম তার প্রথম বিজয়াভিযান নিয়ে ছড়িয়ে পড়ার দিন থেকে আজ পর্যন্ত কোনো ধর্মই তার ওপর বিজয়ী হতে পারেনি। যদিও মুসলিম উম্মাহর ওপর চরম জুলুম-নিপীড়ন এবং নানা ধরনের কর্তৃত্বের পাহাড় চেপে বসেছে, কিন্তু তা তাদেরকে আল্লাহর প্রতি আরও বেশি ঈমানদার, তাঁর বিধানের প্রতি আরও বেশি অনুগত এবং তাঁর রহমত ও ক্ষমার প্রতি আরও বেশি আশাবাদী করে তুলেছে।
ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মএই শক্তি, যার মাধ্যমে ইসলাম বিস্তৃত হয়েছিল, অচিরেই তা একে খ্রিষ্টধর্মের মুখোমুখি এক মরণপণ লড়াইয়ে দাঁড় করিয়ে দেয়। মুহাম্মাদ (সা.) পৌত্তলিকতাকে পরাস্ত করেছিলেন এবং আরব ভূখণ্ড থেকে তার চিহ্ন মুছে দিয়েছিলেন; যেমনটা তাঁর প্রথম দিকের খলিফাগণ পারস্য, আফগান এবং ভারতের একটি বড় অংশ থেকে এর চিহ্ন বিলুপ্ত করেছিলেন। মুহাম্মাদ (সা.)-এর খলিফাগণ হীরা, ইয়েমেন, শাম এবং মিশর থেকে শুরু করে খ্রিষ্টধর্মের সূতিকাগার কনস্টান্টিনোপল পর্যন্ত খ্রিষ্টধর্মের ওপর বিজয়ী হয়েছিলেন। তবে পৌত্তলিকতার ভাগ্যে যে বিলুপ্তি ও পতন নির্ধারিত হয়েছিল, খ্রিষ্টধর্মের ভাগ্যেও কি তা-ই নির্ধারিত ছিল? অথচ এটি একটি আসমানী কিতাবধারী ধর্ম যার প্রশংসা মুহাম্মাদ (সা.) করেছেন এবং যার প্রবর্তকের নবুওয়াতের সপক্ষে ওহী নাযিল হয়েছে। আর এই মরুবাসী আরবদের ভাগ্যে কি এটা নির্ধারিত ছিল—যারা কি না শুষ্ক ও অনুর্বর মরু উপদ্বীপ থেকে ধেয়ে এসেছিল—যে তারা আন্দালুসিয়া, বাইজান্টাইন এবং অন্যান্য খ্রিষ্টান জনপদের উদ্যানসমূহের ওপর নিজেদের হাত রাখবে (দখল নেবে)? মৃত্যুও এর চেয়ে শ্রেয়! এভাবেই ঈসার অনুসারী এবং মুহাম্মাদের অনুসারীদের মধ্যে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লড়াই চলতে থাকে। এই লড়াই কেবল তলোয়ার আর কামানের যুদ্ধেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা বিতর্ক ও কালামশাস্ত্রীয় যুদ্ধের ময়দান পর্যন্ত গড়িয়েছে; যেখানে যোদ্ধারা মুহাম্মাদ ও ঈসার নাম নিয়ে আবির্ভূত হতেন এবং প্রতিটি দল জনমত গঠন ও জনসাধারণের আবেগ ও গোঁড়ামিকে উসকে দেওয়ার পথ খুঁজতেন।
মুসলিমগণ ও ঈসা (আ.)তবে ইসলাম মুসলিমদের ঈসা (আ.)-এর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে বাধা দিয়েছে। তিনি আল্লাহর বান্দা, আল্লাহ তাঁকে কিতাব দিয়েছেন এবং তাঁকে নবী বানিয়েছেন। তিনি যেখানেই থাকুন আল্লাহ তাঁকে বরকতময় করেছেন এবং যতদিন জীবিত থাকবেন তাকে নামায ও যাকাতের নির্দেশ দিয়েছেন, আর তাঁকে তাঁর মায়ের প্রতি অনুগত করেছেন এবং তাঁকে অহংকারী ও দুর্ভাগা করেননি। সুতরাং শান্তি তাঁর ওপর যে দিন তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন, যে দিন তিনি মৃত্যুবরণ করবেন এবং যে দিন তিনি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবেন। পক্ষান্তরে, অনেক খ্রিষ্টান মুহাম্মাদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি শুরু করে এবং তাঁকে এমন সব বিশেষণে বিশেষায়িত করে যা একজন মার্জিত মানুষ থেকে বহু দূরে; কেবল তাদের মনের বিদ্বেষ প্রশমিত করার জন্য এবং মানুষের হীন প্রবৃত্তিগুলোকে উত্তেজিত ও প্ররোচিত করার জন্য। যদিও বলা হয় যে ক্রুসেড যুদ্ধ শত শত বছর আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে, তবুও মুহাম্মাদ (সা.)-এর বিরুদ্ধে খ্রিষ্টান গির্জার গোঁড়ামি নিকট অতীত পর্যন্ত অত্যন্ত প্রবল ছিল। সম্ভবত এটি এখনও তেমনই আছে—যদি আরও বেশি না হয়ে থাকে—যদিও তা এখন মিশনারি প্রচারণার অন্ধকারে নেতিবাচক উপায়ে কাজ করে যাচ্ছে। বিষয়টি কেবল গির্জার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং ইউরোপ ও আমেরিকার এমন সব লেখক ও দার্শনিকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে যাদের সাথে গির্জার উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পর্ক ছিল না।
গোঁড়া খ্রিষ্টানগণ ও মুহাম্মাদ (সা.)মানুষ এটা দেখে আশ্চর্য হয় যে, খ্রিষ্টধর্মের ইসলাম-বিদ্বেষ এমন এক যুগেও কেন এত তীব্র হয়ে আছে যাকে তারা আলোকায়ন ও বিজ্ঞানের যুগ বলে দাবি করে এবং যে কারণে একে সহনশীলতা ও উদারতার যুগ বলা হয়। মানুষ আরও বেশি বিস্মিত হয় যখন সে আদি মুসলিমদের কথা স্মরণ করে; যখন হিরাক্লিয়াসের সেনাবাহিনী পারস্যের পতাকাসমূহকে পরাস্ত করল এবং কিসরার বাহিনীকে চূর্ণ করল, তখন খ্রিষ্টধর্মের এই বিজয়ে মুসলিমদের আনন্দ কতই না বিশাল ছিল। কিসরা যখন ইয়েমেন থেকে হাবশীদের বিতাড়িত করলেন, তখন থেকেই আরব উপদ্বীপের দক্ষিণে পারস্যের প্রভাব বিদ্যমান ছিল।
এরপর কিসরা তাঁর একজন সেনাপতি—যার নাম শাহরবারাজ—তার অধীনে ৬১৪ খ্রিস্টাব্দে রোম অভিযানের জন্য সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন। যখন আজরিয়াত ও বুসরায় তাদের সাথে লড়াই হয়—যা আরব ভূখণ্ডের নিকটবর্তী শামের এলাকা—তখন তিনি তাদের ওপর বিজয়ী হন। তিনি তাদের হত্যা করেন, তাদের শহরগুলো ধ্বংস করেন এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
زيتونهم. وكان العرب، ولا سيما أهل مكة، يتتبعون أخبار هذه الحرب بتلهف وشغف؛ فقد كانت القوّتان المتناحرتان أكبر ما تعرف أمم الأرض يومئذ، وكانت بلاد العرب تجاورهما، وتخضع بعض أجزائها لفارس وتتاخم الروم بعض أجزائها الآخرى. وشمت كفار مكة بالمسيحيين وفرحوا لهزيمتهم؛ لأنهم أهل كتاب كالمسلمين، وحاولوا أن يلصقوا بدينهم عار أندحارهم. أمّا المسلمون فشقّ عليهم أمر الروم لأنهم أهل كتاب مثلهم، فكان محمد وأصحابه يكرهون أن يظهر المجوس عليهم. وأدّى هذا الخلاف بين مسلمي مكة وكفّارها إلى تنادر الفريقين وإلى تهكم الكفار بالمسلمين، حتى أبدى أحدهم من السرور أمام أبي بكر ما غاظه ودفعه إلى أن يقول: لا تعجل بالمسرّة، فسيأخذ الروم بثأرهم. وأبو بكر معروف بالهدوء ووداعة النفس. فلما سمع الكافر قوله أجابه متهكما: كذبت. فغضب أبو بكر وقال: كذبت أنت يا عدوّ الله! وهذا رهان عشرة جمال على أن تغلب الروم المجوس قبل عام. وعرف محمد أمر هذا الرهان فنصح إلى أبي بكر أن يزيد في الرهان وأن يطيل المدة. فزاد أبو بكر في الرهان إلى مائة بعير إن هزمت الفرس قبل تسع سنين. وانتصر هرقل سنة 625 وهزم فارس واسترد منها الشام واستعاد الصليب الأعظم وكسب أبو بكر رهانه. وفي النبوءة بهذا النصر نزل قوله تعالى في صدر سورة الروم: (الم. غُلِبَتِ الرُّومُ. فِي أَدْنَى الْأَرْضِ وَهُمْ مِنْ بَعْدِ غَلَبِهِمْ سَيَغْلِبُونَ. فِي بِضْعِ سِنِينَ لِلَّهِ الْأَمْرُ مِنْ قَبْلُ وَمِنْ بَعْدُ وَيَوْمَئِذٍ يَفْرَحُ الْمُؤْمِنُونَ. بِنَصْرِ اللَّهِ يَنْصُرُ مَنْ يَشاءُ وَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ.
وَعْدَ اللَّهِ لا يُخْلِفُ اللَّهُ وَعْدَهُ وَلكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ) .
المبادئ الأولية في الدينينكان اغتباط المسلمين يومئذ بانتصار هرقل والنصارى عظيما، وظلّت صلة الإخاء بين الذين اتبعوا محمّدا والذين آمنوا بعيسى عظيمة طوال حياة النبيّ وإن تكرر بين الفريقين ما كان من مجادلة، على خلاف ما كان بين المسلمين واليهود من تهادن أوّل الأمر ثم عداوة استمرّت وكان لها من الآثار والنتائج الدامية ما أجلى اليهود عن شبه جزيرة العرب جمعاء. ومصداق ذلك قوله تعالى: (لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَداوَةً لِلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا وَلَتَجِدَنَّ أَقْرَبَهُمْ مَوَدَّةً لِلَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ قالُوا إِنَّا نَصارى ذلِكَ بِأَنَّ مِنْهُمْ قِسِّيسِينَ وَرُهْباناً وَأَنَّهُمْ لا يَسْتَكْبِرُونَ) «1» .
ثم إنك لترى الدينين يصوّران الحياة والخلق صورة تكاد تكون واحدة. وهما في تصوير الإنسانية ومبدأ خلقها سواء: خلق الله آدم وحوّاء وأسكنهما الجنة وأوحى إليهما ألّا يسمعا إلى نزع الشيطان فيأكلا من الشجرة فيخرجهما من الجنة. والشيطان عدوّهما الذي أبى أن يسجد لآدم فيما أوحاه الله لمحمد، والذي أبى أن يقدّس كلمة الله، على رواية كتب النصارى المقدّسة، ووسوس الشيطان لحوّاء وزيّن لها، فزيّنت لآدم فأكلا من شجرة الخلد فبدت لهما سوآتهما، فاستغفرا ربهما فبعثهما على الأرض بعض ذرّيتهم لبعض عدوّ، يغريهم الشيطان فيضلّ قوم ويقاوم الهلاك آخرون. ولتقوى الإنسانية على حرب الغواية بعث الله نوحا وإبراهيم وموسى وعيسى والنبيين، وبعث مع كل رسول كتابا بلسان قومه مصدّقا لما بين يديه ليبيّن لهم. وكما يقوم في صف الشيطان أنصاره من أرواح الشر، تقوم الملائكة تسبّح بحمد ربها وتقدّس له. وهؤلاء وأولئك يتنازعون أسباب الحياة والكون جميعا حتى يوم البعث، يوم تجزى كلّ نفس بما كسبت ولا يسأل حميم حميما.
وإنك لتجد في القرآن من ذكر عيسى ومريم وإكرام الله لهما وتقديمه إياهما ما تشعر معه حق الشعور بهذا
--------------------------------------------
তাদের জলপাই বাগানসমূহ। আরবরা, বিশেষ করে মক্কাবাসীরা, এই যুদ্ধের সংবাদ অত্যন্ত ব্যকুলতা ও আগ্রহের সাথে অনুসরণ করত; কারণ তৎকালীন সময়ে পৃথিবীর জাতিসমূহের মধ্যে এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিই ছিল সর্ববৃহৎ। আরব ভূখণ্ড ছিল তাদের প্রতিবেশী এবং এর কিছু অংশ পারস্যের অধীনস্থ ছিল, আর অন্য কিছু অংশ ছিল রোমের সীমান্তবর্তী। মক্কার কাফিররা খ্রিস্টানদের বিপর্যয়ে আনন্দিত হলো এবং তাদের পরাজয়ে উল্লসিত হলো; কারণ তারা মুসলমানদের মতো আহলে কিতাব ছিল। তারা কাফিরদের পরাজয়ের কলঙ্ককে তাদের ধর্মের সাথে লেপন করার চেষ্টা করল। অন্যদিকে, রোমানদের বিষয়টি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক ছিল কারণ তারা তাদের মতোই আহলে কিতাব ছিল। মুহাম্মদ ও তাঁর সাহাবীগণ অপছন্দ করতেন যে অগ্নিউপাসকরা তাদের ওপর বিজয়ী হোক। মক্কার মুসলিম ও কাফিরদের মধ্যকার এই মতবিরোধ উভয় দলের মধ্যে বিদ্রূপের জন্ম দিল এবং কাফিররা মুসলমানদের উপহাস করতে শুরু করল। এমনকি তাদের একজন আবু বকরের সামনে এমন আনন্দ প্রকাশ করল যা তাকে ক্ষুব্ধ করল এবং তাকে এই কথা বলতে বাধ্য করল: "আনন্দে তাড়াহুড়ো করো না, কারণ শীঘ্রই রোমানরা তাদের প্রতিশোধ গ্রহণ করবে।" আবু বকর তাঁর শান্ত ও নম্র স্বভাবের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। যখন সেই কাফির তাঁর কথা শুনল, সে বিদ্রূপের স্বরে উত্তর দিল: "তুমি মিথ্যা বলছ।" আবু বকর রাগান্বিত হয়ে বললেন: "হে আল্লাহর শত্রু, বরং তুমিই মিথ্যা বলছ! এক বছরের মধ্যে রোমানরা অগ্নিউপাসকদের ওপর বিজয়ী হবে—এই মর্মে দশটি উটের বাজি রইল।" মুহাম্মদ এই বাজির কথা জানতে পেরে আবু বকরকে বাজির পরিমাণ বাড়াতে এবং সময়ের মেয়াদ দীর্ঘ করতে পরামর্শ দিলেন। ফলে আবু বকর বাজির পরিমাণ বাড়িয়ে একশ উট নির্ধারণ করলেন এই শর্তে যে, যদি নয় বছরের মধ্যে পারস্য পরাজিত হয়। অতঃপর ৬২৫ খ্রিস্টাব্দে হিরাক্লিয়াস জয়লাভ করলেন, পারস্যকে পরাজিত করলেন, তাদের কাছ থেকে সিরিয়া পুনরুদ্ধার করলেন এবং 'মহা ক্রুশ' ফিরিয়ে আনলেন। এর মাধ্যমে আবু বকর তাঁর বাজিতে জিতে গেলেন। এই বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী সম্পর্কে সূরা আর-রূমের শুরুতে আল্লাহর বাণী নাযিল হয়েছিল: (আলিফ-লাম-মীম। রোমানরা পরাজিত হয়েছে। নিকটবর্তী ভূখণ্ডে, এবং তারা তাদের পরাজয়ের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে। কয়েক বছরের মধ্যেই। পূর্বের ও পরের সকল ফয়সালা আল্লাহরই। আর সেদিন মুমিনগণ আল্লাহর সাহায্যে আনন্দিত হবে। আল্লাহর সাহায্যে; তিনি যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। এটি আল্লাহর ওয়াদা, আল্লাহ তাঁর ওয়াদার খেলাফ করেন না, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।)
ওয়াদা আল্লাহর, আল্লাহ তাঁর ওয়াদার বিপরীত করেন না, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।
দুই ধর্মের প্রাথমিক মূলনীতিসমূহহিরাক্লিয়াস ও খ্রিস্টানদের বিজয়ে সেদিন মুসলমানদের আনন্দ ছিল অপরিসীম। যারা মুহাম্মদের অনুসরণ করেছিল এবং যারা ঈসার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, তাদের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক নবীজির সারাজীবনে অত্যন্ত সুদৃঢ় ছিল, যদিও উভয় দলের মধ্যে মাঝেমধ্যে বিতর্ক বা বাকবিতণ্ডা হতো। এটি মুসলমানদের সাথে ইহুদিদের সম্পর্কের বিপরীত ছিল, যেখানে শুরুতে সন্ধি থাকলেও পরে শত্রুতা স্থায়ী রূপ নেয় এবং যার রক্তক্ষয়ী ফলাফল ও প্রভাবের কারণে ইহুদিদের সমগ্র আরব উপদ্বীপ থেকে বহিষ্কৃত হতে হয়। এর সত্যতার প্রমাণ আল্লাহর এই বাণীতে পাওয়া যায়: (তুমি মানুষের মধ্যে মুমিনদের প্রতি শত্রুতা প্রদর্শনে ইহুদি ও মুশরিকদের সবচেয়ে কঠোর পাবে। আর মুমিনদের প্রতি বন্ধুত্বের বিচারে তাদের সবচেয়ে নিকটবর্তী পাবে যারা বলে, ‘আমরা নাসারা’। এটি এ কারণে যে, তাদের মধ্যে অনেক আলেম ও দরবেশ রয়েছে এবং তারা অহংকার করে না।) «১» ।
অতঃপর আপনি দেখতে পাবেন যে, উভয় ধর্মই জীবন ও সৃষ্টিকে প্রায় অভিন্নরূপে চিত্রিত করে। মানবতা ও সৃষ্টির সূচনার বর্ণনায় তারা এক: আল্লাহ আদম ও হাওয়াকে সৃষ্টি করলেন এবং তাঁদের জান্নাতে বসবাস করতে দিলেন এবং তাঁদের প্রতি ওহী পাঠালেন যেন তাঁরা শয়তানের প্ররোচনায় কান না দেন এবং সেই বৃক্ষ থেকে ভক্ষণ না করেন, নতুবা তিনি তাঁদের জান্নাত থেকে বের করে দেবেন। শয়তান তাদের শত্রু, যে আদমের প্রতি সেজদা করতে অস্বীকার করেছিল—যেমনটি আল্লাহ মুহাম্মদের প্রতি ওহী করেছেন। আর খ্রিস্টানদের পবিত্র কিতাবসমূহের বর্ণনা অনুযায়ী, সে আল্লাহর বাক্যকে পবিত্র জ্ঞান করতে অস্বীকার করেছিল। শয়তান হাওয়ার মনে কুমন্ত্রণা দিল এবং তার সামনে একে সুশোভিত করল, অতঃপর হাওয়া আদমের সামনে তা সুশোভিত করলেন এবং তাঁরা অমরত্বের বৃক্ষ থেকে ভক্ষণ করলেন। ফলে তাঁদের লজ্জাস্থানসমূহ তাঁদের কাছে প্রকাশিত হয়ে পড়ল। অতঃপর তাঁরা তাঁদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। তখন আল্লাহ তাঁদের পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিলেন, যেখানে তাঁদের বংশধরদের একদল অন্যদলের শত্রু হবে। শয়তান তাদের প্রলুব্ধ করবে, ফলে একদল পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদল ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। মানবতাকে এই বিভ্রান্তির যুদ্ধের বিরুদ্ধে শক্তিশালী করতে আল্লাহ নূহ, ইব্রাহিম, মুসা, ঈসা ও অন্যান্য নবীদের পাঠালেন। তিনি প্রতিটি রাসূলের সাথে তাঁদের কওমের ভাষায় কিতাব পাঠালেন, যা তাঁদের পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী হিসেবে তাঁদের জন্য বিষয়াদি স্পষ্ট করে দেয়। আর যেভাবে শয়তানের পক্ষে মন্দ আত্মাদের মধ্য থেকে তার সহযোগীরা দাঁড়িয়ে থাকে, তেমনিভাবে ফেরেশতারাও তাঁদের রবের প্রশংসায় তাসবীহ পাঠ ও পবিত্রতা বর্ণনা করতে দাঁড়িয়ে থাকেন। এই উভয় পক্ষ জীবন ও জগতের যাবতীয় বিষয়ে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত বিবাদে লিপ্ত থাকবে; যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার অর্জিত কর্মের প্রতিদান দেওয়া হবে এবং সেদিন কোনো বন্ধু অন্য বন্ধুর উপকারে আসবে না।
আর আপনি কুরআনে ঈসা ও মারয়ামের এমন আলোচনা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি এমন সম্মান দেখতে পাবেন যা দিয়ে আপনি প্রকৃত অর্থেই তা অনুভব করতে পারবেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الإخاء، وما يجعلك تسائل: ما بال المسلمين والنصارى إذا ظلوا على القرون خصوما متقاتلين؟ والجواب عن سؤالك أنّ بين الإسلام والنصرانية خلافا على مسائل أساسية كانت موضع جدل شديد في عهد النبيّ، وأن لم يتعدّ الأمر الجدل إلى العداوة والبغضاء. فالنصرانية لا تقرّ بنبوّة محمد كما يقرّ الاسلام بنبوّة عيسى، والنصرانية تقول بالتثليث، والإسلام ينكر كل ما سوى التوحيد أشد الإنكار. والنصارى يؤلهون عيسى ويتلمّسون الدليل على ألوهيته في أنّه تكلّم في المهد وأوتي من المعجزات ما لم يؤته غيره مما هو عمل الخالق جلّ شأنه. وهم كانوا أيّام الإسلام الأولى يحاجون المسلمين في ذلك بالقرآن ويقولون: أو ليس يقرّ القرآن الذي نزل على محمد رأينا حين يقول: (إِذْ قالَتِ الْمَلائِكَةُ يا مَرْيَمُ إِنَّ اللَّهَ يُبَشِّرُكِ بِكَلِمَةٍ مِنْهُ اسْمُهُ الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ وَجِيهاً فِي الدُّنْيا وَالْآخِرَةِ وَمِنَ الْمُقَرَّبِينَ. وَيُكَلِّمُ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ وَكَهْلًا وَمِنَ الصَّالِحِينَ. قالَتْ رَبِّ أَنَّى يَكُونُ لِي وَلَدٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ قالَ كَذلِكِ اللَّهُ يَخْلُقُ ما يَشاءُ إِذا قَضى أَمْراً فَإِنَّما يَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ. وَيُعَلِّمُهُ الْكِتابَ وَالْحِكْمَةَ وَالتَّوْراةَ وَالْإِنْجِيلَ. وَرَسُولًا إِلى بَنِي إِسْرائِيلَ أَنِّي قَدْ جِئْتُكُمْ بِآيَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ أَنِّي أَخْلُقُ لَكُمْ مِنَ الطِّينِ كَهَيْئَةِ الطَّيْرِ فَأَنْفُخُ فِيهِ فَيَكُونُ طَيْراً بِإِذْنِ اللَّهِ، وَأُبْرِئُ الْأَكْمَهَ وَالْأَبْرَصَ وَأُحْيِ الْمَوْتى بِإِذْنِ اللَّهِ، وَأُنَبِّئُكُمْ بِما تَأْكُلُونَ وَما تَدَّخِرُونَ فِي بُيُوتِكُمْ إِنَّ فِي ذلِكَ لَآيَةً لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ) «1» .
فالقرآن قد ذكر إذا أنّه يحيي الموتى ويبرئ الأكمه والأبرص، ويخلق من الطين طيرا، ويخبر بالغيب، وكل هذه خصائص إلهيّة. هذا رأي نصارى عهد النبي الذين كانوا يحاجونه ويجادلونه ويذهبون إلى عيسى إله مع الله. ولقد ذهبت طائفة منهم إلى تأليه مريم أن ألقى الله إليها بكلمته. وكان أصحاب هذا الرأي من نصارى ذلك العهد يعتبرون مريم ثالث الثلاثة. الآب والإبن والروح القدس. ولم يكن أصحاب هذا القول بألوهية عيسى وأمه إلا طائفة من طوائف النصرانية الكثيرة المتفرّقة يومئذ شيعا وأحزابا.
مجادلة النصارى للنبيكان نصارى شبه الجزيرة يجادلون محمدا على اختلاف نحلهم على أساس مذاهبهم. فكانوا يقولون إن المسيح هو الله، ويقولون هو ولد الله، ويقولون هو ثالث ثلاثة، وكان القائلون بألوهيته يحتجون بما سبق بيانه. ويحتج القائلون بأنه ولد الله بأنّه لم يكن له أب يعلم، وأنّه تكلّم في المهد صبيا مما لم يقع لأحد من بني آدم. ويحتج القائلون بأنه ثالث ثلاثة بأن الله يقول أمرنا وخلقنا وقضينا، ولو كان واحدا لقال أمرت وخلقت وقضيت. وكان محمد يستمع لهم جميعا ويجادلهم بالتي هي أحسن. وهو لم يكن في جدالهم يشتدّ في جدال المشركين وعبّاد الأصنام، بل كان يحاجّهم بالوحي من طريق المنطق ومن كتبهم وما جاء فيها. فالله تعالى يقول: (لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قالُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ قُلْ فَمَنْ يَمْلِكُ مِنَ اللَّهِ شَيْئاً إِنْ أَرادَ أَنْ يُهْلِكَ الْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَأُمَّهُ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ جَمِيعاً. وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّماواتِ وَالْأَرْضِ وَما بَيْنَهُما يَخْلُقُ ما يَشاءُ وَاللَّهُ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. وَقالَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصارى نَحْنُ أَبْناءُ اللَّهِ وَأَحِبَّاؤُهُ قُلْ فَلِمَ يُعَذِّبُكُمْ بِذُنُوبِكُمْ بَلْ أَنْتُمْ بَشَرٌ مِمَّنْ خَلَقَ يَغْفِرُ لِمَنْ يَشاءُ وَيُعَذِّبُ مَنْ يَشاءُ) «2» وقال تعالى: (لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قالُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ وَقالَ الْمَسِيحُ يا بَنِي إِسْرائِيلَ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْواهُ النَّارُ وَما لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصارٍ.
لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قالُوا إِنَّ اللَّهَ ثالِثُ ثَلاثَةٍ وَما مِنْ إِلهٍ إِلَّا إِلهٌ واحِدٌ وَإِنْ لَمْ يَنْتَهُوا عَمَّا يَقُولُونَ لَيَمَسَّنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ عَذابٌ أَلِيمٌ) «3» وقال جل شأنه: (وَإِذْ قالَ اللَّهُ يا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ أَأَنْتَ قُلْتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُونِي وَأُمِّي إِلهَيْنِ مِنْ
--------------------------------------------
ভ্রাতৃত্ব, যা আপনাকে প্রশ্ন করতে প্ররোচিত করে: মুসলমান ও খ্রিস্টানদের কী হয়েছিল যে তারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে একে অপরের সাথে যুদ্ধরত শত্রু হয়ে রইল? আপনার প্রশ্নের উত্তর হলো, ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মধ্যে মৌলিক কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে যা নবীর যুগে তীব্র বিতর্কের বিষয় ছিল, যদিও তখন বিষয়টি বিতর্ক ছাড়িয়ে শত্রুতা ও বিদ্বেষ পর্যন্ত পৌঁছায়নি। কেননা খ্রিস্টধর্ম মুহাম্মদের নবুওয়াত স্বীকার করে না, যেমনটি ইসলাম ঈসার নবুওয়াত স্বীকার করে। খ্রিস্টধর্ম ত্রিত্ববাদে বিশ্বাস করে, আর ইসলাম তাওহীদ বা একত্ববাদ ব্যতীত অন্য সব কিছুকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে। আর খ্রিস্টানরা ঈসাকে উপাস্য সাব্যস্ত করে এবং তাঁর উপাস্য হওয়ার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে যে তিনি দোলনায় কথা বলেছেন এবং তাঁকে এমন সব মুজিজা দেওয়া হয়েছে যা অন্য কাউকে দেওয়া হয়নি, যা মূলত মহান স্রষ্টারই কাজ। ইসলামের প্রাথমিক যুগে তারা কুরআনের মাধ্যমেই মুসলমানদের সাথে বিতর্ক করত এবং বলত: মুহাম্মদের ওপর অবতীর্ণ কুরআন কি আমাদের মতবাদকেই সমর্থন করছে না যখন তা বলছে: (যখন ফেরেশতারা বলেছিল: হে মারইয়াম! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে একটি কালিমার সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম হলো মসীহ ঈসা ইবনে মারইয়াম, যিনি দুনিয়া ও আখিরাতে মর্যাদাবান এবং সান্নিধ্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত। আর তিনি দোলনায় থাকা অবস্থায় এবং পরিণত বয়সে মানুষের সাথে কথা বলবেন এবং তিনি পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। তিনি বললেন: হে আমার রব! আমার সন্তান হবে কীভাবে যখন কোনো পুরুষ আমাকে স্পর্শ করেনি? তিনি বললেন: এভাবেই আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। যখন তিনি কোনো কাজ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন শুধু বলেন: 'হও', অমনি তা হয়ে যায়। আর তিনি তাকে কিতাব, হিকমত, তাওরাত ও ইঞ্জিল শিক্ষা দেবেন। আর বনী ইসরাঈলের জন্য তাকে রাসূল হিসেবে পাঠাবেন যে, 'আমি তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে নিদর্শন নিয়ে এসেছি। আমি তোমাদের জন্য কাদা দিয়ে পাখির মতো আকৃতি তৈরি করব, তারপর তাতে ফুঁ দেব, ফলে আল্লাহর নির্দেশে তা পাখি হয়ে যাবে। আর আমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করব এবং আল্লাহর নির্দেশে মৃতকে জীবিত করব। আর আমি তোমাদেরকে বলে দেব তোমরা যা খাও এবং যা তোমাদের ঘরে জমা করে রাখ। নিশ্চয়ই এতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে যদি তোমরা মুমিন হও।') «১» ।
সুতরাং কুরআন উল্লেখ করেছে যে তিনি মৃতকে জীবিত করেন, জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করেন, কাদা দিয়ে পাখি সৃষ্টি করেন এবং অদৃশ্যের সংবাদ দেন; আর এই সবই হলো ঐশ্বরিক বৈশিষ্ট্য। এটি ছিল নবীর যুগের খ্রিস্টানদের অভিমত যারা তাঁর সাথে এ নিয়ে তর্ক ও বিতর্ক করত এবং আল্লাহর সাথে ঈসাকে উপাস্য হিসেবে সাব্যস্ত করত। তাদের মধ্যে একটি দল মারইয়ামকেও উপাস্য সাব্যস্ত করার পথে গিয়েছিল যেহেতু আল্লাহ তাঁর নিকট কালিমা পাঠিয়েছেন। সে যুগের খ্রিস্টানদের মধ্যে এই মতের অনুসারীরা মারইয়ামকে ত্রিত্ববাদের তৃতীয় সত্তা মনে করত: পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মা। ঈসা এবং তাঁর মায়ের উপাস্য হওয়ার এই মতবাদে বিশ্বাসীরা তৎকালীন খ্রিস্টানদের অনেকগুলো বিচ্ছিন্ন দল ও উপদলের মধ্যে একটি দল মাত্র ছিল।
নবীর সাথে খ্রিস্টানদের বিতর্কআরব উপদ্বীপের খ্রিস্টানরা তাদের বিভিন্ন মতবাদের ভিত্তিতে মুহাম্মদের সাথে বিতর্ক করত। তারা বলত যে মসীহ-ই হলেন আল্লাহ, আবার বলত তিনি আল্লাহর পুত্র, আবার বলত তিনি তিনের তৃতীয় (ত্রিত্ববাদ)। যারা তাঁর উপাস্য হওয়ার দাবি করত তারা ইতিপূর্বে বর্ণিত দলিলগুলো পেশ করত। আর যারা তাঁকে আল্লাহর পুত্র বলত তারা এই যুক্তি দিত যে, তাঁর কোনো জানা পিতা ছিল না এবং তিনি দোলনায় থাকা অবস্থায় শিশুর মতো কথা বলেছিলেন যা আদম সন্তানদের আর কারো ক্ষেত্রে ঘটেনি। আর যারা তাঁকে তিনের তৃতীয় বলত তারা যুক্তি দিত যে আল্লাহ বলেন: 'আমরা আদেশ করেছি', 'আমরা সৃষ্টি করেছি' এবং 'আমরা ফয়সালা করেছি', অথচ তিনি যদি একজনই হতেন তবে বলতেন 'আমি আদেশ করেছি', 'আমি সৃষ্টি করেছি' এবং 'আমি ফয়সালা করেছি'। মুহাম্মদ তাদের সকলের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন এবং উত্তম পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক করতেন। তাদের সাথে বিতর্কের ক্ষেত্রে তিনি মুশরিক ও মূর্তিপূজারিদের মতো কঠোর হতেন না, বরং তিনি যুক্তি ও তাদের কিতাব এবং তাতে যা এসেছে তার মাধ্যমে ওহী দ্বারা তাদের মোকাবিলা করতেন। মহান আল্লাহ বলেন: (নিশ্চয়ই তারা কাফির যারা বলে যে, মারইয়াম পুত্র মসীহ-ই আল্লাহ। আপনি বলুন: যদি আল্লাহ মারইয়াম পুত্র মসীহ, তাঁর মাতা এবং জমিনে যারা আছে তাদের সকলকে ধ্বংস করতে চান, তবে আল্লাহর বিরুদ্ধে কারো কি কিছু করার শক্তি আছে? আসমানসমূহ, জমিন এবং এই উভয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে সবকিছুর রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। আর ইহুদি ও খ্রিস্টানরা বলে: আমরা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়জন। আপনি বলুন: তবে কেন তিনি তোমাদের পাপের জন্য তোমাদের শাস্তি দেন? বরং তোমরা তাঁর সৃষ্ট মানুষের অন্তর্ভুক্ত। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন।) «২» এবং মহান আল্লাহ বলেন: (নিশ্চয়ই তারা কাফির যারা বলে যে, মারইয়াম পুত্র মসীহ-ই আল্লাহ; অথচ মসীহ বলেছিল: হে বনী ইসরাঈল! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, যিনি আমার রব এবং তোমাদেরও রব। নিশ্চয়ই যে আল্লাহর সাথে শরিক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেন এবং তার আবাসস্থল হয় জাহান্নাম। আর জালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।
নিশ্চয়ই তারা কাফির যারা বলে যে, আল্লাহ তিনের তৃতীয়; অথচ এক ইলাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই। তারা যা বলছে তা থেকে যদি বিরত না হয়, তবে তাদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তাদের ওপর অবশ্যই যন্ত্রণাদায়ক আজাব আপতিত হবে।) «৩» এবং মহান আল্লাহ বলেন: (আর যখন আল্লাহ বলবেন: হে ঈসা ইবনে মারইয়াম! তুমি কি মানুষকে বলেছিলে যে, তোমরা আল্লাহকে ছাড়া আমাকে ও আমার মাতাকে দুই উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করো?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
دُونِ اللَّهِ قالَ سُبْحانَكَ ما يَكُونُ لِي أَنْ أَقُولَ ما لَيْسَ لِي بِحَقٍّ إِنْ كُنْتُ قُلْتُهُ فَقَدْ عَلِمْتَهُ تَعْلَمُ ما فِي نَفْسِي وَلا أَعْلَمُ ما فِي نَفْسِكَ إِنَّكَ أَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ. ما قُلْتُ لَهُمْ إِلَّا ما أَمَرْتَنِي بِهِ أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيداً ما دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ وَأَنْتَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ. إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ) «1» .
تقول المسيحيّة بالتثليث وبأن عيسى ابن الله، والإسلام ينكر إنكارا صريحا باتّا أن يكون لله ولد. (قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ. اللَّهُ الصَّمَدُ. لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ. وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُواً أَحَدٌ) «2» . (ما كانَ لِلَّهِ أَنْ يَتَّخِذَ مِنْ وَلَدٍ سُبْحانَهُ) «3» . (إِنَّ مَثَلَ عِيسى عِنْدَ اللَّهِ كَمَثَلِ آدَمَ خَلَقَهُ مِنْ تُرابٍ ثُمَّ قالَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ) «4» .
والإسلام دين توحيد في أشدّ معاني التوحيد صفاء وقوة، وفي أشد معاني التوحيد بساطة ووضوحا. وكل ما يمكن أن يلقي ظلا على فكرة التوحيد أو صورته ينكره الإسلام ويراه كفرا. (إِنَّ اللَّهَ لا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ ما دُونَ ذلِكَ لِمَنْ يَشاءُ)
«5» .
فمهما يكن للصورة المسيحية في التثليث من صلة تاريخية ببعض الأديان القديمة فهي ليست من الحق عند محمد في شيء. إنما الحق هو الله وحده، لا شريك له، لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفوا أحد. فلا عجب إذا أن تكون بين محمد ونصارى عهده تلك المجادلة بالتي هي أحسن، وأن يؤيد الوحي محمدا بما تلوت من الآيات.
مسألة صلب المسيحومسألة أخرى يختلف فيها الإسلام والنصرانية، وكانت مثار جدل بينهما في عهد النبيّ: تلك مسألة صلب عيسى ليفتدي بدمه خطايا الخلق. فالقرآن صريح في نفي أن اليهود قتلوا المسيح أو صلبوه، إذ يقول:
(وَقَوْلِهِمْ إِنَّا قَتَلْنَا الْمَسِيحَ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ رَسُولَ اللَّهِ وَما قَتَلُوهُ وَما صَلَبُوهُ وَلكِنْ شُبِّهَ لَهُمْ وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُوا فِيهِ لَفِي شَكٍّ مِنْهُ ما لَهُمْ بِهِ مِنْ عِلْمٍ إِلَّا اتِّباعَ الظَّنِّ وَما قَتَلُوهُ يَقِيناً. بَلْ رَفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ وَكانَ اللَّهُ عَزِيزاً حَكِيماً) «6» .
ولئن كانت فكرة افتداء المسيح بدمه خطايا إخوته من بني آدم جميلة لا ريب ويستحق ما كتب فيها دراسة من نواحيه الشعرية والخلقية والنفسية، لقد كان المبدأ الذي قرّره الإسلام من أنه لا تزر وازرة وزر أخرى، وأنّ كل أمرئ يوم القيامة مجزىّ بأعماله إن خيرا فخير وإن شرّا فشرّ، يجعل التقريب المنطقيّ بين العقيدتين غير ممكن، ويجعل منطق الإسلام من الدقة بحيث لا تجدي معه محاولات التوفيق، مع التناقض الواضح بين فكرة الافتداء وفكرة الجزاء الذاتي. (لا يَجْزِي والِدٌ عَنْ وَلَدِهِ وَلا مَوْلُودٌ هُوَ جازٍ عَنْ والِدِهِ شَيْئاً) «7» .
الروم والمسلمونهل فكر أحد من نصارى يومئذ في هذا الدين الجديد وفي إمكان التوفيق بين فكرة التوحيد فيه وبين ما جاء به عيسى؟ نعم، وآمن به منهم كثيرون. ولكن الروم الذين اغتبط المسلمون بنصرهم واعتبروه نصرا للأديان الكتابية؛ لم يكلف سادتهم أنفسهم مؤونة البحث في الدين الجديد، ولم يلبثوا أن نظروا إلى الأمر من ناحيته السياسية، وفكروا فيما يصيب ملكهم إذا تمّ للدين الجديد الغلب. لذلك بدؤا يأتمرون به وبأهله،
--------------------------------------------
আল্লাহ ছাড়া অন্যকে (উপাস্য রূপে গ্রহণ করেছিলে)? তিনি বলবেন, ‘আপনি পবিত্র! আমার জন্য শোভা পায় না এমন কথা বলা যা বলার অধিকার আমার নেই। যদি আমি তা বলতাম তবে আপনি তা অবশ্যই জানতেন। আপনি আমার অন্তরের বিষয় জানেন, কিন্তু আমি আপনার অন্তরের বিষয় জানি না। নিশ্চয়ই আপনি অদৃশ্য বিষয়ে পরিজ্ঞাত। আমি তাদের কেবল তাই বলেছি যা আপনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন—অর্থাৎ তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, যিনি আমার রব এবং তোমাদের রব। আর যতদিন আমি তাদের মাঝে ছিলাম ততদিন আমি তাদের ওপর সাক্ষী ছিলাম। যখন আপনি আমাকে তুলে নিলেন, তখন আপনিই তাদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। আর আপনি সর্ববিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী। আপনি যদি তাদের শাস্তি দেন, তবে তারা আপনারই বান্দা; আর যদি তাদের ক্ষমা করেন, তবে নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (১)
খ্রিস্টধর্ম ত্রিত্ববাদ এবং ঈসা আল্লাহর পুত্র হওয়ার কথা বলে, আর ইসলাম স্পষ্টভাবে ও চূড়ান্তভাবে আল্লাহর কোনো সন্তান থাকাকে অস্বীকার করে। (বলুন: তিনিই আল্লাহ, এক ও অদ্বিতীয়। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং জন্মও নেননি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই)। (২)। (সন্তান গ্রহণ করা আল্লাহর কাজ নয়, তিনি পবিত্র)। (৩)। (নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে ঈসার উদাহরণ আদমের মতো; তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে বললেন, ‘হও’, ফলে সে হয়ে গেল)। (৪)।
ইসলাম হলো তাওহীদের ধর্ম, তাওহীদের অত্যন্ত নির্মল ও শক্তিশালী অর্থের দিক থেকে, এবং তাওহীদের অত্যন্ত সহজ ও স্পষ্ট অর্থের দিক থেকে। তাওহীদের ধারণা বা রূপের ওপর ছায়া ফেলতে পারে এমন প্রতিটি বিষয়কেই ইসলাম অস্বীকার করে এবং তাকে কুফর হিসেবে গণ্য করে। (নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না এবং এর বাইরে যা কিছু আছে তা যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন)
(৫)।
খ্রিস্টীয় ত্রিত্ববাদের রূপের সাথে প্রাচীন কোনো ধর্মের ঐতিহাসিক সম্পর্ক যাই থাকুক না কেন, মুহাম্মদের নিকট তা সত্যের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং সত্য কেবল আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়, যাঁর কোনো অংশীদার নেই, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং জন্মও নেননি আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। সুতরাং আশ্চর্যের কিছু নেই যে মুহাম্মদ এবং তাঁর যুগের খ্রিস্টানদের মধ্যে সেই বিতর্ক অত্যন্ত সুন্দর পন্থায় হয়েছিল এবং ওহী মুহাম্মদকে সেই আয়াতগুলো দিয়ে সমর্থন জুগিয়েছে যা আমি তেলাওয়াত করলাম।
মসীহকে ক্রুশবিদ্ধ করার বিষয়আরেকটি বিষয় যেখানে ইসলাম ও খ্রিস্টধর্ম ভিন্নমত পোষণ করে এবং যা নবীজির যুগে তাদের মধ্যে বিতর্কের বিষয় ছিল: তা হলো ঈসাকে ক্রুশবিদ্ধ করার বিষয়, যাতে তিনি তাঁর রক্তের বিনিময়ে সৃষ্টির পাপমোচন করেন। কুরআন স্পষ্টভাবে ইহুদিদের দ্বারা মসীহকে হত্যা করা বা ক্রুশবিদ্ধ করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে, যেহেতু আল্লাহ বলেন:
(আর তাদের এ কথার কারণে যে, ‘আমরা আল্লাহর রাসূল মারইয়াম-পুত্র ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি’, অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি এবং ক্রুশবিদ্ধও করেনি, বরং তাদের জন্য সদৃশ করা হয়েছিল। আর নিশ্চয়ই যারা এ বিষয়ে মতভেদ করেছে তারা এ নিয়ে সন্দেহে রয়েছে; এ বিষয়ে ধারণার অনুসরণ ছাড়া তাদের কোনো জ্ঞান নেই। আর এটি নিশ্চিত যে তারা তাকে হত্যা করেনি। বরং আল্লাহ তাকে তাঁর নিজের দিকে উঠিয়ে নিয়েছেন এবং আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়)। (৬)।
আদমের সন্তানদের পাপমোচনের জন্য মসীহের নিজ রক্ত বিসর্জন দেওয়ার ধারণাটি নিঃসন্দেহে সুন্দর এবং এ বিষয়ে যা লেখা হয়েছে তা কাব্যিক, নৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে অধ্যয়নের যোগ্য হতে পারে, তবে ইসলাম যে মূলনীতি নির্ধারণ করেছে যে, কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না এবং কিয়ামতের দিন প্রত্যেকে তার কর্ম অনুযায়ী প্রতিফল পাবে—যদি ভালো হয় তবে ভালো এবং যদি মন্দ হয় তবে মন্দ—তা এই দুই বিশ্বাসের মধ্যে যৌক্তিক সমন্বয়কে অসম্ভব করে তোলে। ইসলামের যুক্তি এতটাই নিঁখুত যে সেখানে সমন্বয়ের চেষ্টা ফলপ্রসূ হয় না, কারণ পাপমোচনের ধারণা এবং ব্যক্তিগত কর্মফলের ধারণার মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য রয়েছে। (কোনো পিতা তার সন্তানের পক্ষ থেকে বিনিময় দেবে না এবং কোনো সন্তানও তার পিতার পক্ষ থেকে কোনো কিছুর বিনিময়কারী হবে না)। (৭)।
রোমান ও মুসলিমগণতৎকালীন খ্রিস্টানদের মধ্যে কেউ কি এই নতুন ধর্ম এবং এর তাওহীদের ধারণার সাথে ঈসা যা নিয়ে এসেছিলেন তার সমন্বয়ের কথা ভেবেছিলেন? হ্যাঁ, এবং তাদের মধ্যে অনেকে এর ওপর ঈমান এনেছিলেন। কিন্তু রোমানরা, যাদের বিজয়ে মুসলমানরা আনন্দিত হয়েছিল এবং যাকে কিতাবধারী ধর্মগুলোর বিজয় হিসেবে গণ্য করেছিল; তাদের নেতৃবৃন্দ এই নতুন ধর্ম সম্পর্কে অনুসন্ধানের কষ্টটুকুও স্বীকার করেননি। তারা খুব দ্রুতই বিষয়টিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে শুরু করেন এবং এই নতুন ধর্ম যদি বিজয়ী হয় তবে তাদের রাজত্বের কী দশা হবে তা নিয়ে ভাবতে থাকেন। এ কারণে তারা এই ধর্ম ও এর অনুসারীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে শুরু করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
حتى أرسلوا جيشا عرموما عدّته مائة ألف في رواية، ومائتا ألف في رواية أخرى، مما أدّى إلى غزوة تبوك. وقد انسحب فيها الروم أمام المسلمين الذين خرجوا ومحمد على رأسهم لدفع عدوان لم يكن له ما يسوّغه.
من يومئذ وقف المسلمون والنصارى موقف خصومة سياسية حالف النصر فيها المسلمين قرونا متتالية امتدّت إمبراطوريتهم في أثنائها إلى الأندلس غربا وإلى الهند والصين شرقا. وآمنت أكثر أجزاء هذه الإمبراطورية بالدين الجديد واستقرّت فيها لغته العربية. فلما آن لدورة التاريخ أن تدور، طرد النصارى المسلمين من الأندلس، وحاربوهم الحروب الصليبية، وأخذوا يطعنون في دينهم ونبيهم طعنا كله فحش وكذب وافتراء؛ ونسوا في فحشهم ما بلّغ محمد عليه السلام في أحاديثه، وما بلّغ القرآن في الوحي الذي نزل عليه، من رفع مقام عيسى عليه السلام إلى المستوى الذي رفعه الله إليه.
كتّاب المسيحية ومحمدجاء في موسوعة لآروس الفرنسيّة خلال العرض لآراء كتّاب المسيحية إلى النصف الأول من القرن التاسع عشر ممن نالوا من محمد شرّ نيل ما يأتي: «بقي محمد مع ذلك ساحرا ممعنا في فساد الخلق، لصّ نياق، كردينالا لم ينجح في الوصول الى كرسي البابوية، فاخترع دينا جديدا لينتقم من زملائه. واستولى القصص الخيالي والخليع على سيرته. وسيرة باهورميه (محمد) تكاد تقيم أدبا من هذا النوع. وقصة محمد التي نشرها رينا وفرانسيسك ميشيل سنة 1831 تصوّر لنا الفكرة التي كانت لدى أهل العصور الوسطى عنه. وفي القرن السابع عشر نظر بيل في تاريخ أبي القرآن نظرة تاريخية. مع ذلك ظلّت مقرّرات ظالمة ثابتة في نفسه عنه. على أنه يعترف مع ذلك بأن النظام الخلقي والاجتماعي الذي أقامه لا يختلف عن النظام المسيحي لولا القصاص وتعدّد الزوجات» .
وإن واحدا من المستشرقين الذين عرضوا لحياة محمد بشيء من الإنصاف ذلك هو الكاتب الفرنسي إميل درمنجم- ليذكر بعض هذا الذي كتب إخوانه في الدين فيقول «1» : «لمّا نشبت الحرب بين الإسلام والمسيحية اتّسعت هوّة الخلف وسوء الفهم بطبيعة الحال وازدادت حدّة. ويجب أن يعترف الإنسان بأن الغربيين كانوا السابقين إلى أشدّ الخلاف. فمن البزنطيين من أوقروا الإسلام احتقارا من غير أن يكلّفوا أنفسهم- فيما خلا جان داماسيين- مؤونة دراسته. ولم يحارب الكتّاب والنظامون مسلمي الأندلس إلا بأسخف المثالب. فقد زعموا أن محمدا لص نياق، وزعموه متهالكا على اللهو، وزعموه ساحرا، رئيس عصابة من قطّاع الطرق، بل زعموه قسّا رومانيّا مغيطا محنقا أن لم ينتخب لكرسي البابوية.. وحسبه بعضهم إلها زائفا يقرّب له عباده الضحايا البشرية. وإن چبيردنوچن نفسه، وهو رجل جدّ، ليذكر أن محمدا مات في نوبة سكربيّن؛ وأن جسده وجد ملقى على كوم من الرّوث وقد أكلت منه الخنازير، وذلك ليفسر السبب الذي من أجله حرّم لحم ذلك الحيوان. وذهبت الأغنيات إلى حدّ أن جعلت محمدا صنما من ذهب وجعلت المساجد الإسلامية برابيّ ملأى بالتماثيل والصور!! وقد تحدث واضع أغنية أنطاكية حديث من رأى صنم «ماحوم» مصنوعا من ذهب ومن فضة خالصين وقد جلس فوق فيل على مقعد من الفسيفساء. أمّا أغنية رولان التي تصوّر فرسان شارلمان يحطّمون الأوثان الإسلامية فتزعم أن مسلمي الأندلس يعبدون ثالوثا مكوّنا من ترفاجان وماهوم وأبلون.
وتحسب «قصة محمد» أن الإسلام يبيح للمرأة تعدّد الأزواج!
--------------------------------------------
এমনকি তারা এক বিশাল বাহিনী প্রেরণ করেছিল যার সংখ্যা এক বর্ণনামতে এক লক্ষ এবং অন্য বর্ণনামতে দুই লক্ষ ছিল, যা তাবুক যুদ্ধের দিকে পরিচালিত করে। এতে রোমানরা মুসলিমদের সামনে থেকে পিছু হটেছিল, যারা মুহাম্মাদ (সা.)-এর নেতৃত্বে এমন এক আগ্রাসন প্রতিহত করতে বের হয়েছিলেন যার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি ছিল না।
সেই দিন থেকে মুসলিম ও খ্রিস্টানরা রাজনৈতিক শত্রুতার অবস্থানে দাঁড়িয়ে যায়, যাতে টানা কয়েক শতাব্দী ধরে মুসলিমরা বিজয়ী হতে থাকে এবং তাদের সাম্রাজ্য পশ্চিমে আন্দালুস (স্পেন) থেকে পূর্বে ভারত ও চীন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এই সাম্রাজ্যের অধিকাংশ অঞ্চল নতুন দ্বীন গ্রহণ করে এবং সেখানে আরবি ভাষা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর যখন ইতিহাসের চাকা ঘুরে যাওয়ার সময় হলো, তখন খ্রিস্টানরা মুসলিমদের আন্দালুস থেকে বিতাড়িত করল এবং তাদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড যুদ্ধ পরিচালনা করল। তারা মুসলিমদের ধর্ম ও নবীর বিরুদ্ধে চরম অশ্লীলতা, মিথ্যা ও অপবাদে পরিপূর্ণ কুৎসা রটাতে শুরু করল। তারা তাদের এই অশ্লীল আচরণের সময় ভুলে গেল যে, মুহাম্মাদ (আলাইহিস সালাম) তাঁর হাদিসে এবং কুরআন তাঁর ওপর অবতীর্ণ ওহিতে ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর মর্যাদা ঠিক সেই স্তরে উন্নীত করেছেন যেখানে আল্লাহ তাঁকে উন্নীত করেছেন।
খ্রিস্টান লেখকগণ এবং মুহাম্মাদফরাসি লারুস বিশ্বকোষে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ পর্যন্ত খ্রিস্টান লেখকদের মতামতের বর্ণনায় যারা মুহাম্মাদ (সা.)-কে অত্যন্ত জঘন্যভাবে আক্রমণ করেছে, তাদের সম্পর্কে নিম্নোক্ত তথ্য এসেছে: "মুহাম্মাদ তবুও একজন জাদুকর ও চরম চারিত্রিক বিচ্যুতিতে নিমগ্ধ ব্যক্তি, উট চোর এবং একজন কার্ডিনাল হিসেবে রয়ে গেছেন যিনি পোপের আসনে বসতে ব্যর্থ হয়ে সহকর্মীদের ওপর প্রতিশোধ নিতে এক নতুন ধর্ম উদ্ভাবন করেছিলেন। তাঁর জীবনীতে কাল্পনিক ও অশ্লীল গল্পগুলো প্রাধান্য পেয়েছিল। মাহোম (মুহাম্মাদ)-এর জীবনী ছিল অনেকটা এই ধরনের সাহিত্যের মতো। ১৮৩১ সালে রিনা ও ফ্রান্সিস মিশেল কর্তৃক প্রকাশিত মুহাম্মাদের কাহিনী মধ্যযুগের মানুষের মনে তাঁর সম্পর্কে যে ধারণা ছিল তা চিত্রিত করে। সপ্তদশ শতাব্দীতে বেল কুরআনের প্রবর্তকের ইতিহাসকে ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে দেখেছিলেন। তা সত্ত্বেও তাঁর মনে মুহাম্মাদ সম্পর্কে কিছু অন্যায় ও বদ্ধমূল ধারণা থেকে গিয়েছিল। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, শাস্তি ও বহুবিবাহ ছাড়া মুহাম্মাদের প্রতিষ্ঠিত নৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা খ্রিস্টীয় ব্যবস্থার চেয়ে ভিন্ন নয়।"
প্রাচ্যবিদদের মধ্যে যারা মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবনকে কিছুটা নিরপেক্ষতার সাথে উপস্থাপন করেছেন, তাদের একজন হলেন ফরাসি লেখক এমিল ডারমেনগেম। তিনি তাঁর স্বধর্মী ভাইদের লেখা কিছু কথা উল্লেখ করে বলেন «১» : "যখন ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলো, তখন স্বাভাবিকভাবেই মতবিরোধ ও ভুল বোঝাবুঝির ব্যবধান আরও বৃদ্ধি পেল এবং তীব্রতর হলো। মানুষকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, পশ্চিমারাই চরম বিরোধিতার ক্ষেত্রে অগ্রগামী ছিল। বাইজেন্টাইনদের মধ্যে কেউ কেউ ইসলামকে তুচ্ছজ্ঞান করে অবজ্ঞার চোখে দেখত এবং জন ডামাসিন ব্যতীত আর কেউ এটি অধ্যয়নের কষ্টটুকুও করেনি। লেখক ও ইতিহাস রচয়িতারা আন্দালুসের মুসলিমদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত অবাস্তব ও কুরুচিপূর্ণ অপবাদ ছাড়া আর কিছুই দেয়নি। তারা দাবি করেছিল যে, মুহাম্মাদ একজন উট চোর, তিনি আমোদ-প্রমোদে লিপ্ত থাকতেন, তিনি একজন জাদুকর, এক ডাকাত দলের সর্দার, এমনকি তারা তাঁকে এমন এক ক্রুদ্ধ রোমান যাজক হিসেবে দাবি করেছে যে পোপ নির্বাচিত হতে না পেরে ক্ষুব্ধ ছিল। তাদের কেউ কেউ তাঁকে একজন মিথ্যা উপাস্য মনে করত যার কাছে তাঁর অনুসারীরা মানব বলি দিত। এমনকি জিবের ডি নোজেন-এর মতো একজন গম্ভীর ব্যক্তিও উল্লেখ করেছেন যে, মুহাম্মাদ মদ্যপ অবস্থায় উন্মত্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন; এবং তাঁর শরীরকে আবর্জনার স্তূপে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল যেখানে শুকররা তাঁকে ভক্ষণ করেছিল—শুকরের মাংস হারাম করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি এই বানোয়াট গল্পটি বলেন। গানগুলো তো মুহাম্মাদকে একটি স্বর্ণমূর্তি হিসেবে উপস্থাপন করার এবং মসজিদগুলোকে মূর্তি ও ছবিতে পরিপূর্ণ মন্দির হিসেবে দেখানোর পর্যায়ে চলে গিয়েছিল! আন্তাকিয়ার গানের রচয়িতা এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যেন তিনি 'মাহোম'-এর সোনা ও খাঁটি রুপার তৈরি মূর্তি একটি হাতির পিঠে মোজাইক করা আসনে বসে থাকতে দেখেছেন। আর রোল্যান্ডের গান, যা শার্লমেনের বীর যোদ্ধাদের ইসলামী মূর্তিগুলো চূর্ণ করার দৃশ্য ফুটিয়ে তোলে, সেখানে দাবি করা হয় যে আন্দালুসের মুসলিমরা তেরফাগান, মাহোম ও অ্যাপোলোন নিয়ে গঠিত ত্রিত্ববাদে বিশ্বাস করে।
আর «মুহাম্মাদের কাহিনী» মনে করে যে ইসলাম নারীর জন্য বহুবিবাহ (একাধিক স্বামী গ্রহণ) বৈধ করেছে!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
«وقد ظلت حياة الأحقاد والخرافات قوية متشبثة بالحياة. فمنذ رودلف دلوهيم إلى وقتنا الحاضر قام نيكولا دكيز، وقيقس، ومراتشي، وهوتنجر وببيلياندر، وبريدو وغيرهم، فوصفوا محمدا بأنه دجّال، والإسلام بأنه مجموعة الهرطقات كلها وأنه من عمل الشيطان، والمسلمون بأنهم وحوش، والقرآن بأنه نسيج من السخافات، وقد كانوا يعتذرون عن الحديث الجد في أمر هذا مبلغ سخافته. مع ذلك فإن بيير المحترم (قنرابل) مؤلف أول رسالة غريبة ضد الإسلام قد ترجم القرآن في القرن الثاني عشر إلى اللاتينية. وفي القرن الرابع عشر كان بيير باسكال من الذين توسّعوا في الدراسات الإسلامية. وقد وصف إنّوسان الثامن محمدا يوما بأنه عدوّ المسيح. أما القرون الوسطى فلم تكن تحسب محمدا إلا هرطيقا. وكان لريمون ليون في القرن الثامن عشر، ولغليوم بستل في القرن السادس عشر، ولرولان وجانييه في القرن الثامن عشر، وللقسيس دبرجلي ولرينان في القرن التاسع عشر آراء وأحكام مختلفة. على أن الكونت بولنفلييه وشول وكوسّان دبرسفال ودوزي وسبرنجر وبارتلمي سانتيلير ودكاستري وكارليل وغيرهم يظهرون على وجه الإجمال إنصافا للإسلام ونبيه، ويشيدون في بعض الأحيان بهما. مع ذلك فإن بهما. مع ذلك فإن دروتي يتحدث في سنة 1876 عن محمد قائلا: «هذا الأعرابي المنافق القذر» ، كما طعن عليه فوستر من قبل ذلك سنة 1822. وما يزال للإسلام حتى اليوم محاربون متحمسون» .
أرأيت الحضيض الذي هوت إليه هذه الطائفة من كتّاب الغرب؟ أرأيت إصرارهم، مع توالي القرون، على الضلال وعلى إثارة العداوة والبغضاء بين أبناء الإنسانية؟! ومن هؤلاء من جاؤا في العصور التي يسمونها عصور العلم والبحث والتفكير الحر وتقرير الإخاء بين الإنسان والإنسان. قد يخفف من أثر هذا الضلال قيام أولئك المنصفين إلى حدّ ما، ممن أشار إليهم درمنجم، ومنهم من يقرّ بصدق إيمان محمد بالرسالة التي عهد الله إليه تبليغها من طريق الوحي، ومنهم من يشيد بعظمة محمد الروحية وبسموّ خلقه ورفعة نفسه وجمّ فضائله، ومن يصوّر ذلك في أقوى أسلوب وأتمه روعة. وإن بقي الغرب مع ذلك ينال من الإسلام ونبيه أشدّ النيل، ثمّ تبلغ منه الجرأة حتى يبث المبشرين في أنحاء البلاد الإسلامية يذيعون مثالبهم الوضيعة، ويحاولون صرف المسلمين عن دينهم إلى المسيحية.
سبب الخصومة بين الإسلام والمسيحيةيجب لذلك أن نبحث عن السبب الذي ترجع إليه هذه الخصومة الهوجاء وهذه الحرب العنيفة التي تثيرها المسيحية على الإسلام. وعندنا أن جهل الغرب بحقيقة الإسلام وبسيرة النبي في مقدّمة ما يدعو إلى هذه الخصومة. والجهل ولا ريب من أعقد أسباب الجمود والتعصب وأشدّها استعصاء. ولقد تراكم هذا الجهل على مرّ القرون وقامت له في نفوس الأجيال تماثيل وأوثان يحتاج تحطيمها إلى قوة روحية كبرى كقوّة الإسلام أول ظهوره، على أنّا نحسب أن ثمة سببا غير الجهل هو الذي دفع أهل الغرب إلى هذا التعصب وإلى إثارة الحرب الضروس الشعواء التي أثاروها ويثيروها على الإسلام وعلى المسلمين آنا بعد آن. وليس ينصرف ذهننا إلى ما قد يدور بالخاطر من صروف السياسة وحب الظّفر بالشعوب لاستغلالها: فتلك في اعتقادنا نتيجة لا سبب لهذا التعصب المستعصي حتى على العلم وعلى بحوثه. أما السبب في رأينا فيرجع إلى أن المسيحية، وما تدعو إليه من الزهد في الحياة واعتزال العالم ومن العفو والمغفرة ومن المعاني النفسانية السامية، ليست مما يلائم طبيعة الغرب الذي عاش ألوف السنين على دين تعدّد الآلهة، والذي يدعوه مركزه الجغرافي إلى حياة الكفاح لمغالبة الزمهرير والضنك وسوء الحال. فإذا قضت الظروف التاريخية عليه بأن يدين بالمسيحية فلا مفرّ له من أن يسبغ عليها
বিদ্বেষ ও কুসংস্কারের ধারাটি জীবনের সাথে অত্যন্ত শক্তিশালী ও অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে রয়েছে। রুডলফ ডেলোহাইম থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত নিকোলাস ডি কিউসা, কুইকাস, মারাচ্চি, হটিংগার, বিবলিয়ান্ডার, প্রিডো এবং অন্যরা মুহাম্মদকে একজন প্রতারক হিসেবে এবং ইসলামকে সকল ধর্মদ্রোহিতার সমষ্টি ও শয়তানের কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা মুসলমানদের পশুর সাথে এবং কুরআনকে আজেবাজে কথার বুনন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা এই অসার বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। তা সত্ত্বেও, ইসলামের বিরুদ্ধে প্রথম অদ্ভুত প্রবন্ধের লেখক শ্রদ্ধেয় পিয়েরে দ্বাদশ শতাব্দীতে কুরআন ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করেন। চতুর্দশ শতাব্দীতে পিয়েরে প্যাসকাল সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা ইসলামি গবেষণাকে প্রসারিত করেছিলেন। একদা পোপ ইনোসেন্ট অষ্টম মুহাম্মদকে খ্রীষ্টশত্রু হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। আর মধ্যযুগ মুহাম্মদকে স্রেফ একজন ধর্মদ্রোহী হিসেবেই গণ্য করত। অষ্টাদশ শতাব্দীতে রেমন্ড লাল, ষোড়শ শতাব্দীতে গুইলাম পোস্টেল, অষ্টাদশ শতাব্দীতে রোল্যান্ড ও গ্যানিয়ের, এবং উনবিংশ শতাব্দীতে যাজক ডি ব্রোগলি ও রেনানের বিভিন্ন মত ও রায় ছিল। তবে কাউন্ট বুলেনভিলিয়ার্স, শোল, কসিন ডি পার্সিভাল, ডোজি, স্প্রেঞ্জার, বার্থেলেমি সেন্ট-হিলায়ার, ডি ক্যাসট্রি, কার্লাইল এবং অন্যরা সামগ্রিকভাবে ইসলাম ও এর নবীর প্রতি ইনসাফ প্রদর্শন করেছেন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁদের প্রশংসাও করেছেন। তা সত্ত্বেও, ১৮৭৬ সালে ডাউটি মুহাম্মদ সম্পর্কে বলতে গিয়ে লিখেছেন: «এই নোংরা মুনাফিক বেদুইন», যেমনটি তার আগে ১৮২২ সালে ফস্টার তাঁর সমালোচনা করেছিলেন। আজও ইসলামের বিরুদ্ধে কট্টর যোদ্ধারা বিদ্যমান রয়েছে।
আপনি কি পাশ্চাত্য লেখকদের এই গোষ্ঠীর সেই চরম অবনতি লক্ষ্য করেছেন? আপনি কি দেখেছেন যে, শতাব্দীর পর শতাব্দী অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও তারা পথভ্রষ্টতায় অটল এবং মানবতার সন্তানদের মধ্যে শত্রুতা ও ঘৃণা উসকে দিতে বদ্ধপরিকর?! তাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যারা সেই যুগে আবির্ভূত হয়েছেন যাকে তারা বিজ্ঞান, গবেষণা, মুক্তচিন্তা এবং মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের যুগ বলে অভিহিত করে। ডারমেনজেম যাদের কথা উল্লেখ করেছেন, সেই সব ন্যায়পনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ভূমিকার কারণে এই পথভ্রষ্টতার প্রভাব কিছুটা লাঘব হতে পারে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ওহীর মাধ্যমে আল্লাহ যে রিসালাত প্রচারের দায়িত্ব মুহাম্মদকে দিয়েছিলেন, তার প্রতি তাঁর ঈমানের সত্যতাকে স্বীকার করেন। আবার কেউ কেউ মুহাম্মদের আধ্যাত্মিক মহত্ত্ব, তাঁর চরিত্রের উচ্চতা, তাঁর আত্মার শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাঁর সুমহান গুণাবলির প্রশংসা করেন এবং অত্যন্ত শক্তিশালী ও চমৎকার শৈলীর মাধ্যমে তা তুলে ধরেন। তা সত্ত্বেও পাশ্চাত্য যদি ইসলাম ও এর নবীর অবমাননা অব্যাহত রাখে এবং তাদের ধৃষ্টতা এই পর্যায়ে পৌঁছে যে, তারা মুসলিম দেশগুলোর আনাচে-কানাচে মিশনারিদের পাঠায় যাতে তারা তাদের হীন অপবাদগুলো প্রচার করতে পারে এবং মুসলমানদের তাদের ধর্ম থেকে খ্রীষ্টধর্মের দিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
ইসলাম ও খ্রীষ্টধর্মের মধ্যে বিরোধের কারণতাই আমাদের সেই কারণটি অনুসন্ধান করা প্রয়োজন যার ফলে এই উন্মত্ত শত্রুতা এবং খ্রীষ্টধর্ম ইসলামের বিরুদ্ধে যে তীব্র যুদ্ধ শুরু করেছে তার সূত্রপাত হয়েছে। আমাদের মতে, ইসলামের প্রকৃত রূপ এবং নবীর জীবনী সম্পর্কে পাশ্চাত্যের অজ্ঞতাই এই বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ। নিঃসন্দেহে অজ্ঞতা হলো গোঁড়ামি ও ধর্মান্ধতার সবচেয়ে জটিল ও অনড় কারণগুলোর একটি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই অজ্ঞতা পুঞ্জীভূত হয়েছে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের মনে এমন সব মূর্তি ও প্রতিমা তৈরি করেছে যা ভাঙার জন্য ইসলামের আবির্ভাবের সময়ের ন্যায় একটি বৃহৎ আধ্যাত্মিক শক্তির প্রয়োজন। তবে আমরা মনে করি যে, অজ্ঞতা ছাড়াও অন্য একটি কারণ রয়েছে যা পাশ্চাত্যের মানুষকে এই ধর্মান্ধতার দিকে এবং ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে সময় সময় সেই বিধ্বংসী ও ভয়াবহ যুদ্ধ উসকে দিতে প্ররোচিত করেছে। আমাদের চিন্তা সেই রাজনৈতিক পরিবর্তন বা দেশ জয়ের আকাঙ্ক্ষার দিকে যাচ্ছে না যা জাতিগুলোকে শোষণ করার জন্য করা হয়; কারণ আমাদের বিশ্বাস মতে, বিজ্ঞান ও গবেষণার কাছেও যা হার মানে না—সেই অনড় ধর্মান্ধতার কারণ এটি নয়, বরং এটি তার একটি ফলাফল। আমাদের মতে আসল কারণটি হলো এই যে, খ্রীষ্টধর্ম এবং এটি যে বৈরাগ্য, জগত-ত্যাগ, ক্ষমা ও মার্জনা এবং সুউচ্চ মানসিক চেতনার আহ্বান জানায়, তা পাশ্চাত্যের প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ তারা হাজার হাজার বছর ধরে বহু-ঈশ্বরবাদী ধর্মের ওপর জীবন অতিবাহিত করেছে এবং তাদের ভৌগোলিক অবস্থান তাদের হাড়কাঁপানো শীত, দারিদ্র্য ও দুর্দশার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জীবনের দিকে আহ্বান জানায়। এমতাবস্থায় যখন ঐতিহাসিক পরিস্থিতি তাদেরকে খ্রীষ্টধর্ম গ্রহণে বাধ্য করল, তখন তারা এটিকে নিজেদের রঙে রাঙিয়ে নিতে বাধ্য হলো।
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
ثوب الكفاح، وأن يخرجها بذلك عن طبيعتها السمحة الجميلة، وأن يفسد فيها هذا التناسق الروحي الذي يجعل منها حلقة في سلسلة الوحدة التي أتمها الإسلام: هذه الوحدة التي تؤاخي بين الروح والجسد، وتزاوج بين العاطفة والعقل، وتسلك الفرد والإنسانية جميعا في نظام الكون على أنهما بعض منه متّسق وإياه في لا نهاية الزمان والمكان. هذا في رأينا هو مرجع السبب في تعصّب الغرب في موقفه من الإسلام موقفا تجافت الحبشة المسيحية عنه حين احتمى المسلمون بها أوّل ما دعا النبي إلى دين الله.
وإلى هذا السبب في رأيي، يرجع إغراق الغربيين وغلوّهم في التدين وفي الإلحاد جميعا، إغراق تعصب وكفاح لا يعرف الهوادة ولا يعرف التسامح. وإذا كان التاريخ قد عرف منهم قدّيسين احتذوا في حياتهم مثال التاريخ قد عرف كذلك أن حياة أمم الغرب كانت دائما حياة نضال وكفاح وحروب دامية باسم السياسة أو باسم الدين، وعرف أن بابوات الكنيسة وأرباب السلطة الزمنية كانوا في نزاع دائم يغالب بعضهم بعضا، فيتغلّب هذا يوما ويتغلّب ذاك يوما آخر. ولمّا كان الفوز في القرن التاسع عشر قد تم للسلطة الزمنية، حاولت هذه السلطة أن تقضي على الحياة الروحية باسم العلم، وأن تزعم أن العلم سيحل من الحياة الإنسانية محل الإيمان من الحياة الروحية. وها هي ذي عرفت اليوم، بعد جهاد طويل، سوء رأيها، وأن ما قصدت إليه مستحيل تحقيقه. والصيحة تعلو اليوم من جوانب الغرب المختلفة يريد أهله حياة روحيّة أضاعوها، فهم يتلمّسوها في الثيوزوفيّة وغير الثيوزوفية «1» ولو أن المسيحية كانت تلائم غرائز الكفاح التي تنشأ بحكم الطبيعة كجزء من حياة أهل الغرب، لرأيتهم، وقد شعروا بعجز الفكرة الماديّة عن أن تلهمهم المدد الروحّي، يعودون إلى الدين المسيحي الجميل دين عيسى بن مريم، إن لم يهدهم الله إلى الإسلام، ولما كانوا في حاجة إلى هذه الهجرة إلى الهند وإلى غيرها يستمدّون منها حياة روحية يشعر الإنسان بالحاجة إليها حاجته إلى التنفّس لأنها بعض طبعه، بل لأنها بعض نفسه وكيانه.
الاستعمار والدعوة ضد الإسلاموقد عاون الاستعمار الغربي اهله على الاستمرار في الحملة التي أثاروها على الإسلام وعلى محمد، ودعاهم ليقولوا ما قال أهل مكة حين أرادوا أن يحملوا النصرانية عار هزيمة هرقل والروم أمام فارس، فقد قالوا ولا يزال الكثيرون منهم يقولون إن الإسلام هو السبب في انحطاط الشعوب الآخذة به وفي خضوعهم لغيرهم.
وهذه فرية يكفي لإدحاضها أن يذكر قائلها أن الشعوب الإسلامية ظلّت صاحبة الحضارة الغالبة وصاحبة السيادة على العالم المعروف كله قرونا متوالية، وأنها كانت محطّ رجال العلم والعلماء، وموئل الحرية التي لم يعرفها الغرب إلا من أمد قريب. فإذا أمكن أن ينسب انحطاط طائفة من الشعوب إلى الدين الذي تؤمن به فلا يكون هذا الإسلام، وهو الذي حفز بدو شبه جزيرة العرب وأثارهم ومكّن لهم من حكم العالم.
--------------------------------------------
সংগ্রামের পোশাক পরানো, এবং এর মাধ্যমে ইসলামকে তার সাবলীল ও সুন্দর স্বভাব থেকে বিচ্যুত করা, এবং এর সেই আধ্যাত্মিক সুসমন্বয়কে কলুষিত করা, যা একে সেই ঐক্যের শৃঙ্খলের একটি কড়িতে পরিণত করে যা ইসলাম পূর্ণতা দান করেছে: এই ঐক্য যা আত্মা ও দেহের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে, আবেগ ও বিবেকের মিলন ঘটায় এবং ব্যক্তি ও সামগ্রিক মানবতাকে মহাবিশ্বের ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করে—এই বিবেচনায় যে তারা মহাবিশ্বেরই একটি সুসংহত অংশ এবং মহাকাশ ও সময়ের অসীমতায় এর সাথে একীভূত। আমাদের মতে, ইসলামের প্রতি পশ্চিমের অবস্থানগত গোঁড়ামির মূল কারণ এটিই; অথচ যখন মুসলমানরা প্রথম আল্লাহর দ্বীনের দিকে দাওয়াত দেওয়ার সময় হিজরত করেছিলেন, তখন খ্রিস্টান আবিসিনিয়া তাদের প্রতি এমন বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ করেনি যখন তারা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল।
আমার মতে, এই একই কারণে পশ্চিমাদের ধর্মপরায়ণতা এবং নাস্তিকতা—উভয় ক্ষেত্রেই চরমপন্থা ও বাড়াবাড়ি পরিলক্ষিত হয়; এটি এমন এক গোঁড়ামি ও সংগ্রামের বাড়াবাড়ি যা না চেনে কোনো শিথিলতা, না জানে কোনো সহনশীলতা। ইতিহাস যদি তাদের মধ্যে এমন কিছু সন্তের কথা জেনে থাকে যারা তাদের জীবনে ধর্মের আদর্শ অনুসরণ করেছেন, তবে ইতিহাস এটিও জানে যে পশ্চিমা জাতিগুলোর জীবন সর্বদা রাজনীতি বা ধর্মের নামে পরিচালিত সংগ্রাম, লড়াই এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের জীবন ছিল। ইতিহাস আরও জানে যে গির্জার পোপগণ এবং জাগতিক ক্ষমতার অধিকারীরা সর্বদা পরস্পরের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিলেন, যেখানে একদিন একজন বিজয়ী হতেন তো অন্যদিন অন্যজন। যখন উনবিংশ শতাব্দীতে জাগতিক ক্ষমতার জয় হলো, তখন এই ক্ষমতা বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে আধ্যাত্মিক জীবনকে বিনাশ করার চেষ্টা করল এবং দাবি করল যে বিজ্ঞান মানবজীবনে ঈমানের আধ্যাত্মিক স্থানের স্থলাভিষিক্ত হবে। আজ দীর্ঘ সংগ্রামের পর তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে এবং অনুধাবন করেছে যে তাদের উদ্দেশ্য পূরণ হওয়া অসম্ভব। আজ পশ্চিমের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই হাহাকার শোনা যাচ্ছে যে, তাদের অধিবাসীরা সেই আধ্যাত্মিক জীবন ফিরে পেতে চায় যা তারা হারিয়েছে; তাই তারা থিওসফি (Theosophy) এবং অন্যান্য মতবাদের মধ্যে তা খুঁজে ফিরছে। যদি খ্রিস্টধর্ম তাদের সেই সংগ্রামী প্রবৃত্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো যা তাদের স্বভাবজাত অংশ হিসেবে গড়ে উঠেছে, তবে তারা যখন অনুভব করল যে জড়বাদী চিন্তাধারা তাদের আধ্যাত্মিক খোরাক দিতে অক্ষম, তখন তারা সুন্দর খ্রিস্টধর্ম তথা ঈসা ইবনে মারিয়ামের ধর্মের দিকেই ফিরে যেত—যদি না আল্লাহ তাদের ইসলামের প্রতি হিদায়াত দিতেন। সেক্ষেত্রে ভারত বা অন্য কোথাও হিজরত করার প্রয়োজন তাদের হতো না, যেখান থেকে তারা সেই আধ্যাত্মিক জীবন আহরণ করতে চায় যার প্রয়োজনীয়তা মানুষ ঠিক তেমনি অনুভব করে যেমনটি সে শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে; কারণ এটি কেবল মানুষের স্বভাবেরই অংশ নয়, বরং তার আত্মা ও অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
উপনিবেশবাদ এবং ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারপশ্চিমী উপনিবেশবাদ তাদের জনগণকে ইসলাম ও মুহাম্মাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রচারণাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সহায়তা করেছে। এটি তাদের সেই কথা বলতে প্ররোচিত করেছে যা মক্কাবাসীরা বলেছিল যখন তারা পারস্যের কাছে হেরাক্লিয়াস ও রোমানদের পরাজয়ের গ্লানিকে খ্রিস্টধর্মের ওপর চাপাতে চেয়েছিল। তারা বলেছিল এবং তাদের মধ্যে অনেকেই আজও বলে চলেছে যে, ইসলামই হচ্ছে সেই জাতিগুলোর অধঃপতনের কারণ যারা এটি গ্রহণ করেছে এবং অন্যদের কাছে তাদের পরাধীনতার মূল কারণ।
এটি এমন একটি অপবাদ যা খণ্ডন করার জন্য কেবল এতটুকু মনে করিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট যে, মুসলিম জাতিগুলো দীর্ঘ শতাব্দী ধরে বিজয়ী সভ্যতার অধিকারী ছিল এবং পরিচিত পুরো বিশ্বের ওপর তাদের সার্বভৌমত্ব বজায় ছিল। তারা ছিল জ্ঞান ও বিজ্ঞানীদের কেন্দ্রবিন্দু এবং সেই স্বাধীনতার আশ্রয়স্থল যা পশ্চিম কেবল নিকট অতীতে চিনতে পেরেছে। যদি কোনো জাতির অধঃপতনকে তাদের বিশ্বাসের ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হয়, তবে সেটি ইসলাম হতে পারে না। কারণ এই ইসলামই আরব উপদ্বীপের বেদুইনদের উদ্বুদ্ধ করেছিল, তাদের জাগিয়ে তুলেছিল এবং বিশ্ব শাসনের সামর্থ্য দান করেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
الإسلام وما صارت إليه الشعوب الإسلاميةعلى أنّ لهؤلاء الذين يحمّلون الإسلام وزر انحطاط الشعوب الإسلامية من العذر أن أضيف إلى دين الله شيء كثير لا يرضاه الله ورسوله، واعتبر من صلب الدين ورمي من ينكره بالزندقة. وندع الدّين جانبا ونقف عند سيرة صاحبه عليه السلام. فقد أضافت أكثر كتب السيرة إلى حياة النبي ما لا يصدقه العقل ولا حاجة إليه في ثبوت الرسالة، وما أضيف من ذلك قد اعتمد عليه المستشرقون واعتمد عليه الطاعنون على الإسلام ونبيّه وعلى الأمم الإسلامية واتخذوه تكأتهم في مطاعنهم المثيرة لنفس كل منصف. اعتمدوا عليه وعلى ما ابتدعوه من عندهم وما زعموا أنهم يكتبونه على الطريقة العلمية الحديثة، هذه الطريقة التي تعرض الحوادث والناس والأبطال فتصدر بعد ذلك حكمها عادلا إن هي رأت لإصدار حكم محلا. فإذا أنت وقفت عندما كتبه هؤلاء رأيته تمليه شهوة الجدل والتجريح، مصوغا في عبارة لا تخلو من براعة تستهوي إخوانهم في العقيدة إلى الظن بأن البحث العلمي المجرّد النزّاع إلى الحقيقة وحدها يريد أن يستشفّها من وراء كل الحجب، هو الذي وجّه هؤلاء المتعصّبين من الكتّاب والمؤرخين. على أن السكينة التي ينزلها الله على نفوس الراضين من الناس، كتّابا وعلماء، قد أدّت باخرين من أحرار الفكر ومن المسيحيين ليكونوا أدنى إلى العدل وأحرص على النّصفة.
الجمود والاجتهاد عند المسلمينولقد قام بعض علماء المسلمين في ظروف مختلفة فحاولوا إدحاض مزاعم أولئك المتعصبين من أبناء الغرب. واسم الشيخ محمد عبده هو أنصح الأسماء في هذا الصدد. لكنهم لم يسلكوا الطريقة العلمية التي زعم أولئك الكتّاب والمؤرخون الأوروبيون أنهم يسلكونها لتكون لحجتهم قوّتها في وجه خصومهم. ثم إن هؤلاء العلماء المسلمين، والشيخ محمد عبده في مقدمتهم، قد اتهموا بالإلحاد والكفر والزندقة، فأضعف ذلك من حجتهم أمام خصوم الإسلام. ولقد كان اتّهامهم هذا عميق الأثر في نفوس شباب المسلمين المتعلمين.
شعر هؤلاء الشبان بأن الزندقة تقابل حكم العقل ونظام المنطق في نظر جماعة من علماء المسلمين، وأن الإلحاد عندهم قرين الاجتهاد، كما أن الإيمان قرين الجمود.. لذلك جزعت نفوسهم وانصرفوا يقرؤن كتب الغرب يتلمّسون فيها الحقيقة، اقتناعا منهم بأنهم لن يجدوها في كتب المسلمين. وهم لم يفكروا في كتب المسيحية والتاريخ المسيحي بطبيعة الحال؛ إنما فزعوا إلى كتب الفلسفة يتلمّسون في أسلوبها العلمي ريّ ما في نفوسهم من ظمأ محرق للحق، وفي منطقها ضياء للجذوة المقدّسة الكمينة في النفس الإنسانية، ووسيلة إلى الاتصال بالكون وحقيقته العليا. وهم واجدون في كتب الغرب، سواء منها كتب الفلسفة وكتب الأدب الفلسفي وكتب الأدب نفسه، الشيء الكثير مما يغزي الإنسان بالأخذ به، لروعة أسلوبها ودقة منطقها وما يظهر فيها من صدق القصد وخالص التوجه إلى المعرفة ابتغاء الحق. لذلك انصرفت نفوسهم عن التفكير في الأديان كلها وفي الرسالة الإسلامية وصاحبها، حرصا منهم على ألا تثور بينهم وبين الجمود حرب لا ثقة لهم بالانتضار فيها، ولأنهم لم يدركوا ضرورة الاتصال الروحي بين الإنسان وعوالم الكون اتصالا يرتفع به الإنسان إلى أرقى مراتب الكمال وتتضاعف به قوته المعنوية.
انصرف هؤلاء الشبان عن التفكير في الأديان كلها وفي الرسالة الإسلامية وصاحبها. وزادهم انصرافا ما رأوا العلم الواقعيّ والفلسفة الواقعية (الوضعية) يقررانه من أن المسائل الدينية لا تخضع للمنطق ولا تدخل في حيز التفكير العلمي، وأن ما يتصل بها من صور التفكير التجريديّ (الميتافيزيقي) ليس هو أيضا من الطريقة العلمية في شيء. ثم إنهم رأوا الفصل بين الكنيسة والدولة واضحا صريحا في البلاد الغربية، ورأوا البلاد التي
ইসলাম ও মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর বর্তমান অবস্থাযারা মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর অধঃপতনের দায় ইসলামের ওপর চাপান, তাদের অজুহাত দেওয়ার একটি বড় কারণ হলো—আল্লাহর দ্বীনের সাথে এমন অনেক কিছু যুক্ত করা হয়েছে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল পছন্দ করেন না; অথচ সেগুলোকে দ্বীনের মূল অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং যারা তা অস্বীকার করে তাদের ওপর জিন্দিক হওয়ার অপবাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা দ্বীনকে একপাশে রেখে এর প্রবর্তকের (সা.) সীরাত বা জীবনচরিতের দিকে দৃষ্টিপাত করি। সীরাতের অধিকাংশ কিতাব নবীর জীবনে এমন সব বিষয় যুক্ত করেছে যা বিবেক গ্রহণ করে না এবং রিসালাত প্রমাণের জন্যও সেসবের কোনো প্রয়োজন নেই। আর যা কিছু সংযোজিত হয়েছে, প্রাচ্যবিদরা এবং ইসলাম, এর নবী ও মুসলিম উম্মাহর নিন্দুকেরা সেগুলোর ওপরই নির্ভর করেছে। তারা নিরপেক্ষ যে কোনো মানুষের মনে ক্ষোভ সৃষ্টিকারী তাদের আক্রমণগুলোর ভিত্তি হিসেবে এসব বিষয়কেই বেছে নিয়েছে। তারা এগুলোর ওপর এবং নিজেদের উদ্ভাবিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে দাবি করেছে যে, তারা আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে লিখছে; এমন এক পদ্ধতি যা ঘটনা, মানুষ ও বীরদের উপস্থাপনের পর ন্যায্য রায় প্রদান করে—যদি কোনো রায় দেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু আপনি যখন তাদের লেখনিগুলো পর্যবেক্ষণ করবেন, তখন দেখবেন সেগুলো বিতর্ক ও কুৎসা রটানোর লালসা দ্বারা প্ররোচিত এবং এমন সব বাক্যে গাঁথা যা চাতুর্যপূর্ণ। এই চাতুর্য তাদের সমমনাদের মনে এই ধারণা তৈরি করে যে, সকল পর্দার অন্তরালে সত্যকে উদ্ঘাটন করতে চাওয়া কেবল একটি নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক গবেষণাই এই গোঁড়া লেখক ও ঐতিহাসিকদের পরিচালিত করেছে। তবে আল্লাহ লেখক ও আলিমদের মধ্যে যাদের অন্তরে প্রশান্তি নাজিল করেন, তাদের কারণে মুক্তমনা ও খ্রিস্টানদের মধ্যকার অনেকেই ন্যায়ের অধিকতর নিকটবর্তী হয়েছেন এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হয়েছেন।
মুসলিমদের মধ্যে স্থবিরতা ও ইজতিহাদবিভিন্ন পরিস্থিতিতে কিছু মুসলিম আলিম পশ্চিমের সেই গোঁড়া ব্যক্তিদের দাবি খণ্ডন করতে সচেষ্ট হয়েছেন। এক্ষেত্রে শায়খ মুহাম্মদ আবদাহ-এর নাম সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল। কিন্তু তারা সেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেননি যা ইউরোপীয় লেখক ও ঐতিহাসিকরা অনুসরণ করার দাবি করতেন, যাতে প্রতিপক্ষের সামনে তাদের যুক্তি শক্তিশালী হয়। তদুপরি, এই মুসলিম আলিমগণ এবং তাদের অগ্রভাগে থাকা শায়খ মুহাম্মদ আবদাহ-এর বিরুদ্ধে নাস্তিক্যবাদ, কুফর ও জিন্দিক হওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছিল, যা ইসলামের শত্রুদের সামনে তাদের যুক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছিল। আর শিক্ষিত মুসলিম তরুণদের মনে এই অভিযোগগুলোর গভীর প্রভাব পড়েছিল।
এই তরুণরা অনুভব করেছিলেন যে, একদল মুসলিম আলিমের দৃষ্টিতে জিন্দিক হওয়া মানেই হলো বিবেকের বিচার ও যুক্তির নিয়ম মেনে চলা, আর তাদের কাছে নাস্তিক্যবাদ হলো ইজতিহাদের সঙ্গী, যেমন ঈমান হলো স্থবিরতার সঙ্গী। এই কারণে তাদের মন বিচলিত হয়ে পড়ে এবং তারা সত্যের সন্ধানে পশ্চিমের বইপুস্তক পড়ার দিকে ঝুঁকে পড়ে। তারা বিশ্বাস করতে শুরু করে যে, মুসলিমদের বইপত্রের মধ্যে তারা সত্যের দেখা পাবে না। তারা স্বাভাবিকভাবেই খ্রিস্টধর্মের বই বা খ্রিস্টীয় ইতিহাস নিয়ে ভাবেনি; বরং তারা দর্শনের বইয়ের দিকে ধাবিত হয়েছে যেন তার বৈজ্ঞানিক শৈলীর মধ্যে সত্যের প্রতি তাদের অন্তরের দহনকারী তৃষ্ণার নিবারণ খুঁজে পায়, এবং তার যুক্তির মধ্যে মানবাত্মায় লুকিয়ে থাকা পবিত্র স্ফুলিঙ্গের আলো ও মহাবিশ্ব ও তার পরম সত্যের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যম খুঁজে পায়। তারা পশ্চিমের কিতাবসমূহে—সেগুলো দর্শনের বই হোক বা দার্শনিক সাহিত্যের বই হোক কিংবা খোদ সাহিত্যের বই হোক—এমন অনেক কিছু পায় যা মানুষকে তা গ্রহণ করতে প্রলুব্ধ করে। এর কারণ হলো সেগুলোর চমৎকার শৈলী, সূক্ষ্ম যুক্তি এবং তাতে ফুটে ওঠা সততা ও সত্য অন্বেষণের পথে বিশুদ্ধ জ্ঞান অন্বেষার প্রবণতা। এভাবেই তাদের মন সকল ধর্ম এবং ইসলামি রিসালাত ও এর প্রবর্তকের চিন্তা থেকে বিমুখ হয়ে যায়। তারা ভয় পেয়েছিল যে, স্থবিরতার সাথে তাদের এমন এক যুদ্ধ শুরু হবে যাতে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে তাদের কোনো আত্মবিশ্বাস নেই। কারণ তারা মানুষ ও মহাবিশ্বের জগতসমূহের মধ্যে সেই আধ্যাত্মিক সংযোগের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পারেনি, যা মানুষকে পূর্ণতার সর্বোচ্চ শিখরে উন্নীত করে এবং তার নৈতিক শক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
এই তরুণরা সকল ধর্ম এবং ইসলামি রিসালাত ও তার প্রবর্তকের চিন্তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। তাদের এই বিমুখতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল বাস্তববাদী বিজ্ঞান ও বাস্তববাদী (পজিটিভিস্ট) দর্শন। কারণ এগুলো এই সিদ্ধান্ত দিয়েছিল যে, ধর্মীয় বিষয়সমূহ যুক্তির অধীন নয় এবং তা বৈজ্ঞানিক চিন্তার আওতাভুক্ত নয়। আর ধর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট বিমূর্ত (মেটাফিজিক্যাল) চিন্তাধারাও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত নয়। এরপর তারা পশ্চিমা দেশগুলোতে গির্জা ও রাষ্ট্রের মধ্যকার পৃথকীকরণ স্পষ্টভাবে দেখতে পায় এবং তারা এমন সব দেশ দেখে যা...
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
تقرّر دساتيرها أن ملكها هو حامي البروتستنتية أو الكثلكة، أو تقرّر أن دين الدولة الرسمي المسيحية، لا تقصد من ذلك إلى أكثر من مظاهر الأعياد والمواسم وما يتصل بها؛ فازدادوا انخراطا في هذا التفكير العلمي وحرصا على الأخذ منه ومما يتصل به من فلسفة وأدب وفن بأوفر نصيب. فلما آن لهم أن ينتقلوا من الدرس إلى الحيّاة العملية، شغلتهم هذه الحياة عن التفكير في المسائل التي انصرفوا من قبل عن التفكير فيها، وظل اتجاههم الفكري في تياره الأول، ينظر إلى الجمود العقلي مشفقا مزدريا، وينهل من ورد التفكير الغربي والفلسفة الغربية، فيجد فيهما لذّة ويزداد بهما إعجابا وعلى ما نهل صدر شبابه منهما حرصا.
وليس ريب في أن الشرق اليوم في حاجة أشد الحاجة إلى النّهل من ورد الغرب في التفكير وفي الأدب والفن. فقد قطع ما بين حاضر الشرق الإسلامي وماضيه قرون من الجمود والتعصّب غشّت على تفكيره السليم القديم بطبقة كثيفة من الجهل وسوء الظن بكل جديد. فلا مفرّ لمن يريد أن يصهر هذه الطبقة من الاستعانة بأحدث صور التفكير في العالم، ليستطيع من هذه السبيل أن يصل بين الحاضر الحيّ وثروة الماضي وتراثه العظيم.
جهود التجديد الإسلاميومن الحق علينا للغرب أن نقول: إن ما يقوم به علماؤه اليوم من بحوث نفيسة في تاريخ الدراسات الإسلامية والدراسات الشرقية، قد مهد لأبناء الإسلام وأبناء الشرق أن يتزيّدوا من هذه البحوث في تلك الدراسات وأن يكونوا أكبر رجاء في الاهتداء إلى الحق، فهم أقرب بطبعهم إلى حسن إدراك الروح الإسلامي والروح الشرقيّ. وما دام التوجيه الجديد قد بدأ في الغرب، فواجب عليهم أن يتابعوه وأن يصححوا أغلاطه وأن يبثوا فيه الروح الصحيح الذي يعيده إلى الحياة ويصله بالحاضر، لا على أنه مجرّد دراسة وبحث، بل على أنه ميراث روحي وعقلي يجب أن يتمثّله الوارثون، وأن يضيفوا إليه، وأن يزيدوا سنا ضيائه بما يزيد الحقيقة الكامنة فيه ضياء ونورا.
المبشرون والجامدونوقد توفّر منهم كثيرون على هذه البحوث يقومون اليوم بها على الطريقة العلمية الصحيحة؛ والمستشرقون أنفسهم يقدرون لهم ذلك ويشيدون بفضلهم فيه.
وبينما يقوم هذا التعاون العلمي الجدير بأن يؤتي خير الثمرات، إذا بنشاط رجال الكنيسة المسيحية لا يفتر في الطعن على الإسلام وعلى محمد طعنا لا يقلّ عما تلوت منه فيما سبقت الإشارة إليه. والاستعمار الغربي يؤيد بقوّته أصحاب هذه المطاعن باسم حرية الرأي، مع أن أصحاب هذه المطاعن قد أجلوا عن بلادهم وحيل بينهم وبين ما يسمونه تثبيت الإيمان في نفوس إخوانهم في الدين. وهذا الاستعمار يؤيّد كذلك دعاة الجمود من المسلمين. وكذلك تضافر عمل الاستعمار على تأييد ما دسّ على الإسلام منه، وعلى سيرة الرسول من خرافات لا يسيغها العقل ولا يقبلها الذوق، وعلى تأييد الطاعنين على الإسلام وعلى محمد بما دسّ على الإسلام وعلى سيرة الرسول.
كيف فكرت في وضع هذا الكتابأتاحت لي ظروف حياتي العملية أن أرى ذلك كله في مختلف بلاد الشرق الإسلامي، بل في البلاد الإسلامية كلها، وأن أتبين ما يقصد إليه من القضاء على الروح المعنوية في هذه البلاد بالقضاء على حرية الرأي
তাদের সংবিধানগুলোতে নির্ধারিত রয়েছে যে, তাদের রাজা প্রোটেস্ট্যান্টবাদ বা ক্যাথলিকবাদের রক্ষক, অথবা সেখানে নির্ধারিত আছে যে খ্রিষ্টধর্মই রাষ্ট্রের রাষ্ট্রধর্ম; এর দ্বারা তারা উৎসব-অনুষ্ঠান এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির নিছক বাহ্যিক রূপ ছাড়া আর কিছু বোঝাতে চায় না। ফলে তারা এই বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারায় আরও বেশি নিমগ্ন হয়েছে এবং দর্শন, সাহিত্য ও শিল্পের যে অংশ এর সাথে সংশ্লিষ্ট, তা থেকে পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এরপর যখন তাদের জ্ঞানচর্চা থেকে ব্যবহারিক জীবনে পদার্পণের সময় এল, তখন এই জীবন তাদের সেইসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করা থেকে বিমুখ করে দিল যা নিয়ে তারা আগে চিন্তা করা ছেড়ে দিয়েছিল। তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ঝোঁক প্রথম স্রোতেই রয়ে গেল, যা বৌদ্ধিক স্থবিরতাকে করুণা ও অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখে এবং পাশ্চাত্য চিন্তা ও পাশ্চাত্য দর্শনের প্রস্রবণ থেকে পান করে। তারা এতে আনন্দ খুঁজে পায় এবং এর প্রতি মুগ্ধতা বাড়তে থাকে, আর যৌবনের প্রারম্ভে তারা এই দুই ক্ষেত্র থেকে যা পান করেছিল তার প্রতি তাদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পায়।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রাচ্য আজ চিন্তা, সাহিত্য ও শিল্পের ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের প্রস্রবণ থেকে পান করার জন্য অত্যন্ত মুখাপেক্ষী। কারণ, ইসলামি প্রাচ্যের বর্তমান ও অতীতের মাঝখানে কয়েক শতাব্দীর স্থবিরতা ও গোঁড়ামি বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিয়েছে, যা তার প্রাচীন সুস্থ চিন্তাধারার ওপর মূর্খতা ও নতুনের প্রতি কুধারণার একটি ঘন আস্তরণ লেপে দিয়েছে। সুতরাং যারা এই আস্তরণটি গলিয়ে ফেলতে চায়, তাদের জন্য বিশ্বের আধুনিকতম চিন্তাধারার সাহায্য নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই, যাতে তারা এই উপায়ে জীবন্ত বর্তমান এবং অতীতের সম্পদ ও তার মহান ঐতিহ্যের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করতে পারে।
ইসলামি পুনর্জাগরণের প্রচেষ্টাপাশ্চাত্যের প্রতি সত্যের খাতিরে আমাদের বলা উচিত যে: বর্তমানে তাদের পণ্ডিতগণ ইসলামি শিক্ষা ও প্রাচ্যবিদ্যার ইতিহাসে যে মূল্যবান গবেষণা পরিচালনা করছেন, তা ইসলামের সন্তানদের ও প্রাচ্যের সন্তানদের জন্য এসব শিক্ষায় এই গবেষণাগুলোকে আরও বাড়িয়ে দেওয়ার এবং সত্যের দিশা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় আশার পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে। তারা প্রকৃতিগতভাবেই ইসলামি রুহ এবং প্রাচ্যের রুহ অনুধাবনে অধিক নিকটবর্তী। যেহেতু নতুন এই দিকনির্দেশনাটি পাশ্চাত্যে শুরু হয়েছে, তাই তাদের (মুসলমানদের) দায়িত্ব হলো এর অনুসরণ করা, এর ভুলগুলো সংশোধন করা এবং এতে সঠিক রুহ ফুঁকে দেওয়া যা একে পুনরায় জীবিত করবে এবং বর্তমানের সাথে যুক্ত করবে। এটি কেবল নিছক অধ্যয়ন ও গবেষণা হিসেবে নয়, বরং একটি আধ্যাত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তরাধিকার হিসেবে, যা উত্তরাধিকারীদের ধারণ করতে হবে, তাতে নতুন কিছু যোগ করতে হবে এবং এর ভেতরে নিহিত সত্যের জ্যোতি ও আলো আরও বৃদ্ধি করতে হবে।
ধর্মপ্রচারক ও স্থবিররাতাদের মধ্যে অনেকে এসব গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেছেন এবং আজ তা সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন করছেন; এমনকি প্রাচ্যবিদরা নিজেরাও তাদের এই কাজের মূল্যায়ন করেন এবং এক্ষেত্রে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রশংসা করেন।
যখন এই বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা সর্বোত্তম ফল দেওয়ার যোগ্য হয়ে উঠছে, তখনই দেখা যাচ্ছে খ্রিষ্টীয় চার্চের লোকদের তৎপরতা ইসলাম ও মুহাম্মাদের নিন্দা করার ক্ষেত্রে মোটেও শিথিল হচ্ছে না; এই নিন্দা পূর্বে উল্লিখিত নিন্দার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। আর পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদ বাকস্বাধীনতার নামে এই নিন্দুকদের তাদের শক্তি দিয়ে সমর্থন করছে, অথচ এই নিন্দুকদের তাদের নিজেদের দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তাদের ধর্মের ভাইদের অন্তরে বিশ্বাস দৃঢ় করার তথাকথিত কাজ থেকে তাদের বিরত রাখা হয়েছে। এই সাম্রাজ্যবাদ একইভাবে মুসলমানদের মধ্য থেকে যারা স্থবিরতার আহ্বান জানায় তাদেরকেও সমর্থন করে। এভাবেই সাম্রাজ্যবাদের তৎপরতা ইসলামের মধ্যে যা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং রাসুলের জীবনী সম্পর্কে যেসব অলীক কিচ্ছা-কাহিনী বুদ্ধি ও রুচি গ্রহণ করে না, সেগুলোকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে একত্রিত হয়েছে। তারা ইসলামের ওপর যা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং রাসুলের জীবনীর ওপর যা আরোপ করা হয়েছে, তার মাধ্যমে ইসলাম ও মুহাম্মাদের নিন্দুকদেরও সমর্থন জোগাচ্ছে।
এই গ্রন্থটি রচনার কথা আমি কীভাবে ভাবলামআমার ব্যবহারিক জীবনের পরিস্থিতির কারণে ইসলামি প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে, বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বে এই সব কিছু দেখার সুযোগ হয়েছে। এবং আমি বুঝতে পেরেছি যে, এর মাধ্যমে বাকস্বাধীনতা হরণের দ্বারা এই দেশগুলোর নৈতিক মনোবল ধ্বংস করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وحرية البحث ابتغاء الحقيقة. وقد شعرت بأن عليّ واجبا أقوم به في هذا الموضوع لإفساد الغاية التي ترمي هذه الخطة إليها، والتي تضر الإنسانية كلها ولا يقف ضررها عند الإسلام والشرق. وأيّ أذى يصيب الإنسانية أكبر من العقم والجمود يصيبان نصفها الأكبر والأعرق في الحضارة على حقب التاريخ! ولذلك فكرت في هذا وأطلت التفكير، وهداني تفكيري آخر الأمر إلى دراسة حياة محمد صاحب الرسالة الإسلامية وهدف مطاعن المسيحية من ناحية، وجمود الجامدين من المسلمين من الناحية الآخرى، على أن تكون دراسة علمية على الطريقة الغربية الحديثة، خالصة لوجه الحق، ولوجه الحق وحده.
بدأت أراجع تاريخ محمد، وأعيد النظر في سيرة ابن هشام وطبقات ابن سعد ومغازي الواقدي، وعدت إلى كتاب سيد أمير على (روح الإسلام) ، ثم حرصت على أن أقرأ ما كتب بعض المستشرقين، فقرأت كتاب درمنجم وكتاب وشنطن إرفنج، ثم انتهزت فرصة وجودي بالأقصر في شتاء سنة 1932 وبدأت أكتب. ولقد تردّدت يومئذ في أن أجعل البحث الذي أطالع قرّائي به من وضعي أتى خيفة ما قد يقوم به أنصار الجمود والمؤمنون بالخرافات من ضجة تفسد عليّ ما أريد. لكن ما لقيت من إقبال وتشجيع من طائفة شيوخ المعاهد، وما أبدى لي بعضهم من ملاحظات تدلّ على العناية بالبحث الذي أقوم به، جعلني أفكر تفكيرا جدّيا في إنفاذ ما اعتزمت من كتابة حياة محمد على الطريقة العلمية الصحيحة كتابة مفصّلة، ودعاني إلى التفكير في أمثل الوسائل لتمحيص السيرة تمحيصا علميّا جهد ما أستطيع.
القرآن أصدق مرجعولقد تبّينت أن أصدق مرجع للسيرة إنما هو القرآن الكريم فإن فيه إشارة إلى كل حادث من حياة النبيّ العربي يتخذها الباحث منارا يهتدي به في بحثه، ويمحص على ضيائه ما ورد في كتب السنّة وما جاء في كتب السيرة المختلفة. وأردت جاهدا أن أقف على ما ورد في القرآن متصلا بحياة النبي، فإذا معونة صادقة في هذا الباب يقدّمها إليّ الأستاذ أحمد لطفي السيّد الموظف بدار الكتب المصرية، هي مجموعة وافية مبوّبة لآيات القرآن المتصلة بحياة من أوحى الكتاب الكريم إليه. وأخذت أدقق في هذه الآيات، فرأيت أن لا بدّ من الوقوف على أسباب نزولها وأوقات هذا النزول ومناسباته. وأعترف بأني، على ما بذلت في ذلك من جهد، لم أوفق لكل ما أردت منه. فكتب التفسير تشير أحيانا إليه وتهمل هذه الإشارة في أكثر الأحايين. ثم إن كتاب «أسباب النزول» للواحدي، وكتاب «الناسخ والمنسوخ» لإبن سلامة، إنما تناولا هذا الموضوع الجليل الجدير بكل تدقيق واستيفاء تناولا موجزا. على أنني وقفت فيهما وفيما رجعت إليه من كتب التفسير على مسائل عدّة استطعت أن أمحص بها ما ورد في كتب السيرة، ووجدت فيهما وفي كتب التفسير نفسها أشياء جديرة بمراجعة العلماء المتبحّرين في علوم الكتاب والسنّة وتحقيقهم إياها من جديد تحقيقا دقيقا.
المشورة الصادقةولما تقدم بي البحث بعض الشيء ألفيت المشورة الصادقة تصل إليّ من كل صوب، ومن ناحية الشيوخ أكثر من كل ناحية أخرى بطبيعة الحال. وكانت المعونة الكبرى معونة دار الكتب ورجالها الذين أمدّوني من ألوان المعونة بما لا يفي الشكر بحسن تقديره. ويكفي أن أذكر أن الأستاذ عبد الرحيم محمود المصحح بالقسم الأدبي بدار الكتب كان يكفيني مؤونة الذهاب إلى الدار في كثير من الأحيان ويستعير لي ما أريد استعارته من الكتب مشمولا بعطف مدير الدار وكبار القائمين بالأمر فيها، وأن أذكر أني في كل مرة ذهبت إلى الدار كنت أجد أجمل العون في البحث عما أريد البحث فيه من موظّفي الدار كبارا وصغارا، من عرفت منهم ومن لم أعرف.
সত্য অন্বেষণের জন্য গবেষণার স্বাধীনতা। আমি অনুভব করেছি যে, এই বিষয়ের ওপর আমার একটি দায়িত্ব পালনের রয়েছে, যাতে সেই উদ্দেশ্যকে নস্যাৎ করা যায় যা এই পরিকল্পনার লক্ষ্য, যা সমগ্র মানবতার ক্ষতি করে এবং যার ক্ষতি কেবল ইসলাম ও প্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইতিহাসের দীর্ঘ পরিক্রমায় মানবতার জন্য এর চেয়ে বড় আর কী ক্ষতি হতে পারে যে, এর অর্ধেকেরও বেশি এবং সভ্যতায় প্রাচীনতম অংশটি বন্ধ্যাত্ব ও স্থবিরতার শিকার হবে! তাই আমি এ নিয়ে চিন্তা করেছি এবং দীর্ঘকাল চিন্তা করেছি। অবশেষে আমার চিন্তা আমাকে একদিকে ইসলামের বাণীর অধিকারী মুহাম্মাদের জীবন এবং খ্রিস্টধর্মীয় সমালোচনার লক্ষ্যবস্তুসমূহ অধ্যয়ন করার দিকে, এবং অন্যদিকে মুসলমানদের মধ্যে যারা স্থবির তাদের স্থবিরতা নিয়ে গবেষণার দিকে ধাবিত করেছে; যেন এই অধ্যয়নটি আধুনিক পাশ্চাত্য পদ্ধতিতে একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়, যা হবে কেবল সত্যের খাতিরে এবং একমাত্র সত্যের খাতিরেই।
আমি মুহাম্মাদের ইতিহাস পর্যালোচনা শুরু করলাম এবং ইবনে হিশামের সিরাত, ইবনে সা’দের তাবাকাত ও ওয়াকিদির মাগাযি পুনরায় পাঠ করলাম। আমি সৈয়দ আমীর আলীর গ্রন্থ (দ্য স্পিরিট অফ ইসলাম) এর দিকেও ফিরে তাকালাম। এরপর কিছু প্রাচ্যবিদের লেখা পড়ার ব্যাপারেও আমি সচেষ্ট হলাম; ফলে ডারমেনগেম ও ওয়াশিংটন আরভিং-এর বই পাঠ করলাম। এরপর ১৯৩২ সালের শীতকালে লাক্সরে অবস্থানকালে আমি সেই সুযোগটি কাজে লাগালাম এবং লেখা শুরু করলাম। সেদিন পাঠকদের সামনে পেশ করার জন্য এই গবেষণাটি আমার নিজের নামে করতে আমি কিছুটা দ্বিধাবোধ করেছিলাম; কারণ স্থবিরতার সমর্থক এবং কুসংস্কারে বিশ্বাসীরা হয়তো এমন কোনো শোরগোল সৃষ্টি করবে যা আমার অভীষ্ট লক্ষ্যকে ব্যাহত করতে পারে। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একদল শায়খদের পক্ষ থেকে আমি যে আগ্রহ ও উৎসাহ পেয়েছি এবং তাদের কেউ কেউ যে মতামত প্রকাশ করেছেন, যা আমার এই গবেষণার প্রতি তাদের বিশেষ গুরুত্বের পরিচায়ক ছিল, তা আমাকে মুহাম্মাদের জীবন সম্পর্কে সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে একটি বিস্তারিত গ্রন্থ রচনার সংকল্প বাস্তবায়নের কথা গুরুত্বের সাথে ভাবতে বাধ্য করেছে। এটি আমাকে আমার সাধ্যমতো সিরাতকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে যাচাই-বাছাই করার সর্বাপেক্ষা উত্তম উপায়সমূহ নিয়ে চিন্তা করার জন্য উৎসাহিত করেছে।
কুরআনই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎসআমি এটা স্পষ্টভাবে অনুধাবন করেছি যে, সিরাতের জন্য সবচেয়ে সত্যনিষ্ঠ উৎস হলো আল-কুরআনুল কারীম। কেননা এতে আরবীয় নবীর জীবনের প্রতিটি ঘটনার ইঙ্গিত রয়েছে, যা একজন গবেষক তার গবেষণায় পথনির্দেশক হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন এবং এর আলোকেই তিনি সুন্নাহর কিতাবসমূহ ও বিভিন্ন সিরাত গ্রন্থে বর্ণিত বিষয়গুলোকে যাচাই করতে পারেন। আমি সাধ্যমতো কুরআনে বর্ণিত নবীর জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম। ঠিক সেই সময়ে আমি এই ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত আন্তরিক সহায়তা লাভ করি, যা আমাকে প্রদান করেছিলেন মিসরীয় গ্রন্থাগারের কর্মকর্তা উস্তাদ আহমদ লুতফি আস-সাইয়্যিদ। সেটি ছিল কুরআন কারীম যার ওপর অবতীর্ণ হয়েছে, তাঁর জীবনের সাথে সম্পর্কিত আয়াতসমূহের একটি পূর্ণাঙ্গ ও শ্রেণীবদ্ধ সংকলন। আমি এই আয়াতগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করলাম এবং দেখলাম যে, এগুলোর অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট, সময় ও প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কে অবহিত হওয়া একান্ত প্রয়োজন। আমি স্বীকার করছি যে, এ ব্যাপারে আমি যথেষ্ট পরিশ্রম করা সত্ত্বেও যা করতে চেয়েছিলাম তার সবটুকুতে সফল হতে পারিনি। কেননা তাফসির গ্রন্থসমূহ মাঝে মাঝে এই দিকে ইঙ্গিত প্রদান করে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা এড়িয়ে যায়। এছাড়া ওয়াহিদির ‘আসবাবুন নুযূল’ এবং ইবনে সালামার ‘আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ’ গ্রন্থ দুটি এই মহান বিষয়টিকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে স্পর্শ করেছে, অথচ বিষয়টি সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ও পূর্ণাঙ্গ আলোচনার দাবি রাখে। তবে এই দুটি গ্রন্থ এবং আমি যেসব তাফসির গ্রন্থের সাহায্য নিয়েছি, সেখানে এমন কিছু বিষয়ের সন্ধান পেয়েছি যার মাধ্যমে আমি সিরাত গ্রন্থসমূহে বর্ণিত তথ্যাবলি যাচাই করতে সক্ষম হয়েছি। আমি এই গ্রন্থগুলোতে এবং খোদ তাফসির গ্রন্থসমূহের মধ্যেই এমন কিছু বিষয় খুঁজে পেয়েছি, যা কুরআন ও সুন্নাহর গভীর জ্ঞানের অধিকারী আলেমদের দ্বারা নতুন করে সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা ও নতুন করে তাহকিক করার দাবি রাখে।
আন্তরিক পরামর্শযখন আমার গবেষণা কিছুটা অগ্রসর হলো, তখন আমি চারদিক থেকে আন্তরিক পরামর্শ পেতে লাগলাম, আর স্বাভাবিকভাবেই শায়খদের পক্ষ থেকে পরামর্শের পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সহায়তা ছিল জাতীয় গ্রন্থাগারের এবং এর কর্মকর্তাদের, যারা আমাকে যে ধরনের সহায়তা দিয়েছেন তার যথাযথ মূল্যায়ন কেবল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সম্ভব নয়। আমি শুধু উস্তাদ আবদুর রাহীম মাহমুদের কথা উল্লেখ করতে পারি, যিনি গ্রন্থাগারের সাহিত্য বিভাগের প্রুফরিডার ছিলেন; তিনি অনেক সময় আমাকে লাইব্রেরিতে যাওয়ার কষ্ট থেকে রেহাই দিতেন এবং লাইব্রেরির পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সৌজন্যে আমার প্রয়োজনীয় বইগুলো ধার নিয়ে আসতেন। এছাড়া আমি যখনই সেই গ্রন্থাগারে গিয়েছি, আমি যা নিয়ে গবেষণা করতে চেয়েছি তাতে সেখানকার বড়-ছোট সকল স্তরের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অপূর্ব সহায়তা পেয়েছি—যাদের আমি চিনতাম তাদের কাছ থেকেও এবং যাদের আমি চিনতাম না তাদের কাছ থেকেও।
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ثم إنه كانت تستغلق عليّ بعض المسائل أحيانا فأفضي إلى من آنس فيه المعرفة من أصدقائي بما استغلق عليّ فأجد في كثير من الأحيان خير العون. وجدت ذلك غير مرّة عند الأستاذ الأكبر الشيخ محمد مصطفى المراغي، ووجدته عند صديقي الضليع جعفر (باشا) وهو الذي أعارني عدّة كتب كصحيح مسلم وتواريخ مكة، ودلنيّ على غير مسألة من المسائل وهداني إلى موضعها، وقد أعارني صديقي الأستاذ مكرم عبيد (باشا) كتاب المستشرق السير وليم موير «حياة محمد» وكتاب الأب لامنس «الإسلام» . هذا إلى ما وجدت من عون في مؤلّفات المعاصرين القيامة ككتاب «فجر الإسلام» للأستاذ أحمد أمين، و «قصص الأنبياء» للأستاذ عبد الوهاب النّجار، و «في الأدب الجاهلي» للدكتور طه حسين، و «اليهود في بلاد العرب» لإسرائيل ولفنسن، وغير هذه من كتب المعاصرين كثير ذكرته في بيان المراجع القديمة والحديثة التي استعنت بها على وضع هذا الكتاب.
ولقد كنت كلما أزددت توسعا في البحث أرى مسائل تنجم أمامي وتستدعي التفكير ومزيدا من البحث لحلها. وكما عاونتني كتب السيرة وكتب التفسير في الاهتداء إلى غاية من تفكيري أطمئن اليها، عاونتني كذلك كتب المستشرقين في الاهتداء إلى غاية أطمئن إليها. على أنني رأيتني مضطرّا في كل المواقف لأقصر بحثي في حدود حياة محمد نفسه ما لم أضطرّ إلى تناول مسائل أخرى متصلة بهذا البحث اضطرارا. ولو أنني أردت أن أبحث كل ما اتصل بهذه الحياة الفيّاضة العظيمة، لاحتاج الأمر إلى وضع مجلّدات عدّة في حجم هذا الكتاب.
ويحسن أن أذكر أن كوسّان دبرسفال وضع ثلاثة مجلّدات بعنوان «رسالة في تاريخ العرب» ، جعل المجلّدين الأوّلين منها في تاريخ قبائل العرب وحياتها، وجعل الثالث عن محمد وخليفتيه الأوّلين أبي بكر وعمر. وطبقات ابن سعد تقع في مجلّدات كثيرة يتناول جزؤها الأوّل حياة محمد، وسائر أجزائها حياة أصحابه. ولم يكن غرضي أوّل ما بدأت البحث ليتجاوز حياة محمد. فلم أرد في أثنائه أن أتركه يتشعّب فيحول ذلك بيني وبين الغاية التي إليها قصدت.
في حدود السيرة لا أتعداهاوشيء آخر كان يمسكني في حدود هذه الحياة؛ ذلك روعة جلالها وباهر ضيائها جلالا وضياء يتوارى دونهما كل ما سواهما. فما كان أعظم أبا بكر! وما كان أعظم عمر إذ كان كل منهما في خلافته علما يحجب سواه! وما أشدّ ما كان للسابقين الأوّلين إلى صحبة محمد من عظمة ثبتت على الأجيال وهي بعد مما تفاخر به الأجيال.
لكن هؤلاء جميعا كانوا يستظلّون أثناء حياة النبي بجلال عظمته وبستضيئون بباهر لألائه. فليس من اليسير على من يبحث في سيرة الرسول أن يدعها لشيء سواها. وهو أشد شعورا بذلك إذا تناول البحث على الطريقة العلمية الحديثة على نحو ما حاولت أن أفعل، هذه الطريقة التي تجلو عظمة محمد على نحو يبهر العقل والقلب والعاطفة جميعا، ويغرس فيها من الإجلال للعظمة والإيمان بقوتها ما لا يختلف فيه المسلم وغير المسلم.
وأنت إذا طرحت جانبا أولئك المتعصّبين الحمقى الذين جعلوا النيل من محمد دأبهم كالمبشرين وأشباههم، فإنك واجد هذا الإجلال للعظمة والإيمان بقوتها في كتب العلماء المستشرقين واضحين جليين. عقد كارليل في كتابه «الأبطال» فصلا عن محمد صوّر فيه الجذوة الإلهية المقدّسة التي أوحت إلى محمد ما أوحت فصوّر العظمة في جلال قوّتها. وموير، وإرفنج، وسبرنجر، وفيل، وغيرهم من المستشرقين والعلماء قد صوّر كل واحد منهم عظمة محمد تصويرا قويا وإن وقف هذا أو ذاك منهم عند مسائل اعتبرها ماخذ على صاحب الرسالة الإسلامية، لغير شيء إلا أنه لم يمتحنها ولم يمحصها التمحيص العلميّ الدقيق، ولأنه اعتمد فيها على ما
এরপর মাঝে মাঝে কিছু বিষয় আমার কাছে দুর্বোধ্য হয়ে উঠত, তখন আমি আমার বন্ধুদের মধ্যে যাদের মাঝে পাণ্ডিত্য অনুভব করতাম, তাদের কাছে আমার সেই দুর্বোধ্য বিষয়গুলো উপস্থাপন করতাম। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই আমি সর্বোত্তম সহায়তা পেতাম। উস্তাযুল আকবার শেখ মুহাম্মদ মুস্তাফা আল-মারাগীর কাছে আমি একাধিকবার এমন সহায়তা পেয়েছি। এছাড়া আমার বিজ্ঞ বন্ধু জাফর (পাশা)-র নিকট থেকেও তা পেয়েছি; তিনিই আমাকে সহীহ মুসলিম এবং মক্কার ইতিহাসের মতো বেশ কিছু বই ধার দিয়েছিলেন। তিনি আমাকে বেশ কিছু বিষয়ের সমাধান দিয়েছিলেন এবং সেগুলোর উৎসের সন্ধান দিয়েছিলেন। আমার বন্ধু উস্তায মাকরাম উবাইদ (পাশা) আমাকে প্রাচ্যবিদ স্যার উইলিয়াম মুইরের 'লাইফ অফ মুহাম্মদ' (মুহাম্মদের জীবন) এবং ফাদার ল্যামেন্সের 'ইসলাম' বই দুটি ধার দিয়েছিলেন। এর পাশাপাশি সমসাময়িক লেখকদের গুরুত্বপূর্ণ রচনা থেকেও আমি সাহায্য পেয়েছি, যেমন উস্তায আহমদ আমিনের 'ফজরুল ইসলাম', উস্তায আবদুল ওয়াহহাব আন-নাজ্জারের 'কাসাসুল আম্বিয়া', ডক্টর তাহা হোসেনের 'ফি আল-আদাব আল-জাহিলি', ইসরায়েল উলফেনসনের 'আল-ইয়াহুদ ফি বিলাদিল আরব' এবং সমসাময়িকদের আরও অনেক বই, যা আমি এই গ্রন্থটি রচনার ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে প্রাচীন ও আধুনিক উৎসসমূহের বর্ণনায় উল্লেখ করেছি।
গবেষণায় আমি যতই অগ্রসর হচ্ছিলাম, ততই নতুন নতুন বিষয় আমার সামনে ভেসে উঠছিল, যা সমাধানের জন্য চিন্তা ও অধিকতর গবেষণার প্রয়োজন ছিল। সীরাত ও তাফসীরের গ্রন্থগুলো আমাকে যেমন একটি সন্তোষজনক চিন্তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে, তেমনি প্রাচ্যবিদদের বইগুলোও আমাকে এমন এক গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে যেখানে আমি প্রশান্তি পাই। তবে আমি প্রতিটি ক্ষেত্রে আমার গবেষণাকে কেবল মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি, যতক্ষণ না এই গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে একান্ত বাধ্য হয়েছি। আমি যদি এই প্রাচুর্যময় ও মহান জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাইতাম, তবে এই বইয়ের আকারের আরও কয়েক খণ্ড গ্রন্থের প্রয়োজন হতো।
এখানে উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক হবে যে, কোসিন ডি পারসেভাল 'এসে অন দ্য হিস্ট্রি অফ দ্য এরাবস' (আরবদের ইতিহাসের ওপর প্রবন্ধ) শিরোনামে তিন খণ্ডে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। এর প্রথম দুই খণ্ড তিনি আরব গোত্রসমূহের ইতিহাস ও জীবনচর্চার জন্য নির্ধারণ করেছেন এবং তৃতীয় খণ্ডটি মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর প্রথম দুই খলিফা আবু বকর ও উমরের জন্য উৎসর্গ করেছেন। ইবনে সা'দের 'তাবাকাত'ও অনেক খণ্ডে সমাপ্ত, যার প্রথম খণ্ডে মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন এবং অবশিষ্ট খণ্ডগুলোতে তাঁর সাহাবীদের জীবন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। গবেষণার শুরুতে আমার উদ্দেশ্য মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের বাইরে যাওয়া ছিল না। তাই গবেষণার মাঝে আমি বিষয়টিকে ডালপালা বিস্তার করতে দিতে চাইনি, পাছে তা আমার মূল লক্ষ্য অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
সীরাতের সীমানার ভেতরেই, আমি তা অতিক্রম করি নাঅন্য আরেকটি বিষয়ও আমাকে এই মহৎ জীবনের গণ্ডির ভেতরে আটকে রেখেছিল; আর তা হলো এর গাম্ভীর্যের মহিমা ও এর উজ্জ্বল জ্যোতি—এমন এক মহিমা ও জ্যোতি যার সামনে অন্য সবকিছুই ম্লান হয়ে যায়। আবু বকর কতই না মহান ছিলেন! উমর কতই না মহান ছিলেন, যখন তাদের খিলাফতকালে প্রত্যেকেই একেকজন দিকপাল ছিলেন যারা অন্য সবাইকে ছাড়িয়ে যেতেন! মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহচর্য লাভে ধন্য প্রথম অগ্রবর্তীদের মর্যাদা কতই না সুমহান, যা যুগের পর যুগ অটল রয়েছে এবং যা নিয়ে পরবর্তী প্রজন্মগুলো গর্ববোধ করে।
কিন্তু নবিজির জীবদ্দশায় এই সকলেই তাঁর মহত্ত্বের গাম্ভীর্যের ছায়াতলে অবস্থান করতেন এবং তাঁর চোখ ধাঁধানো দ্যুতি থেকে আলো গ্রহণ করতেন। তাই রাসুলের সীরাত নিয়ে যিনি গবেষণা করেন, তাঁর পক্ষে সীরাত ছেড়ে অন্য কোনো বিষয়ের দিকে মনোনিবেশ করা সহজ নয়। বিশেষ করে যখন আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গবেষণাকে এগিয়ে নেওয়া হয়, ঠিক যেভাবে আমি করার চেষ্টা করেছি, তখন এর অনুভূতি আরও প্রখর হয়ে ওঠে। এই পদ্ধতিটি মুহাম্মদ (সা.)-এর মহত্ত্বকে এমনভাবে ফুটিয়ে তোলে যা বুদ্ধি, হৃদয় ও আবেগ—সবকিছুকে অভিভূত করে দেয় এবং এর মাঝে সেই মহান ব্যক্তিত্বের প্রতি এমন শ্রদ্ধা ও তাঁর শক্তির প্রতি এমন বিশ্বাস গেঁথে দেয় যে ক্ষেত্রে মুসলিম ও অমুসলিমের মাঝে কোনো পার্থক্য থাকে না।
আপনি যদি সেইসব মূর্খ ও গোঁড়া ব্যক্তিদের কথা বাদ দেন যারা মিশনারি ও তাদের সমমনাদের মতো মুহাম্মদ (সা.)-কে কলঙ্কিত করাকেই নিজেদের পেশা বানিয়ে নিয়েছে, তবে আপনি প্রাচ্যবিদ পণ্ডিতদের বইগুলোতে এই মহত্ত্বের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও তাঁর শক্তির প্রতি অটল বিশ্বাসের স্পষ্ট প্রতিফলন খুঁজে পাবেন। কার্লাইল তাঁর 'হিরোস' (বীরগণ) গ্রন্থে মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর একটি অধ্যায় রচনা করেছেন, যেখানে তিনি সেই পবিত্র ঐশী স্ফুলিঙ্গকে চিত্রিত করেছেন যা মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর ওহী হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছিল; তিনি সেই মহত্ত্বকে এর পূর্ণ শক্তিতে ফুটিয়ে তুলেছেন। এছাড়া মুইর, আরভিং, স্প্রেঙ্গার, ওয়েইল এবং অন্যান্য প্রাচ্যবিদ ও পণ্ডিতদের প্রত্যেকেই মুহাম্মদ (সা.)-এর মহত্ত্বকে অত্যন্ত জোরালোভাবে চিত্রিত করেছেন। যদিও তাঁদের কেউ কেউ এমন কিছু বিষয়ে থমকে গেছেন যেগুলোকে তাঁরা ইসলামের বাণীর বাহকের (মুহাম্মদ সা.) জন্য ত্রুটি বলে গণ্য করেছেন; এর পেছনে একমাত্র কারণ ছিল এই যে, তাঁরা সেই বিষয়গুলোকে সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেননি এবং তাঁরা এক্ষেত্রে এমন সব তথ্যের ওপর নির্ভর করেছেন যা...
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ورد في بعض كتب السيرة أو كتب التفسير من الروايات المضطربة، متناسيا أن أوّل كتب السيرة إنما كتب بعد قرنين من عصر محمد دسّت أثناءهما في سيرته وفي تعاليمه إسرائيليات كثيرة، ووضعت أثناءهما ألوف الأحاديث المكذوبة. ومع أن المستشرقين يقرّرون هذه الحقيقة، تراهم لا يأبون مع ذلك تناسيها ليقرّروا أمورا يعتبرونها صحيحة مع أن أقل التمحيص ينفها. من ذلك مسألة الغرانيق، ومسألة زيد وزينب، ومسألة أزواج النبيّ، مما أتيح لي امتحانه وتمحيصه في هذا الكتاب.
الكتاب بداءة البحثلست مع ذلك أحسبني أوفيت على الغاية من البحث في حياة محمد. بل لعلي أكون أدنى إلى الحق إذا ذكرت أني بدأت هذا البحث في العربية على الطريقة العلمية الحديثة، وأن ما بذلت في هذه السبيل من مجهود لا يخرج هذا الكتاب عن أنه بداءة البحث من ناحية علمية إسلامية في هذا الموضوع الجليل. وإذا كان جماعة من العلماء والمؤرخين قد انقطعوا لبحث عصر من العصور، كما انقطع أولار في فرنسا لبحث عصر الثورة الفرنسية، وكما انقطع غيره من العلماء لبحث عصر أو عصور معيّنة من التاريخ في مختلف الأمم، فحياة محمد جديرة بأن ينقطع لبحثها على طريقة علمية جامعية أكثر من أستاذ يتخصص فيها ويتوافر عليها. وليس يساورني شك في أن الانقطاع والبحث العلميّ، في هذه الفترة القصيرة من حياة بلاد العرب واتصالها بحياة الأمم المختلفة في ذلك العصر، تؤتي نتائجه العالم كله، لا الإسلام والمسلمين وحدهم، خير الثمرات. فهي تجلو أمام العلم كثيرا من المسائل النفسية والروحية فضلا عما تفيض عليه من ضياء في نواحي الحياة الاجتماعية والخلقية والتشريعية لا يزال العلم يتردد أمامها متأثرا بهذا النزاع الديني بين الإسلام والنصرانية، وبهذه المحاولات العقيمة التي يقصد منها إلى «تغريب» الشرقيين أو تنصير المسلمين، مما ثبت على الأجيال إخفاقه واستحالته وسوء أثره في علاقات أجزاء الإنسانية بعضها ببعض.
وأذهب إلى أبعد مما تقدّم فأقول: إن هذا البحث جدير بأن يهدي الإنسانية طريقها إلى الحضارة الجديدة التي تتلمّسها. وإذا كانت نصرانية الغرب تستكبر أن تجد النور الجديد في الإسلام ورسوله وتشيم هذا النور في ثيوزوفية الهند وفي مختلف مذاهب الشرق الأقصى فإن رجال هذا الشرق من المسلمين واليهود والنصارى جميعا خليقون أن يقوموا بهذه البحوث الجليلة بالنزاهة والإنصاف اللذين يكفلان وحدهما الوصول إلى الحق.
فالتفكير الإسلامي- على أنه تفكير علمي الأساس على الطريقة الحديثة في صلة الإنسان بالحياة المحيطة به، وهو من هذه الناحية واقعي بحت- ينقلب تفكيرا ذاتيا حين يتصل الأمر بعلاقة الإنسان بالكون وخالق الكون، ويبدع لذلك في النواحي النفسية والنواحي الروحية آثارا يقف العلم بوسائله حائرا أمامها، لا يستطيع أن يثبتها ولا أن ينفيها، وهو لا يعتبرها حقائق علمية. ثم هي تظل مع ذلك قوام سعادة الإنسان في الحياة ومقوّمة سلوكه فيها. فما الحياة؟ وما صلة الإنسان بهذا الكون؟ وما حرصه على الحياة؟ وما هي العقائد المشتركة التي تبعث في الجماعات القوّة المعنوية التي تضمحل بضعف هذه العقائد المشتركة؟ وما الوجود؟ وما وحدة الوجود؟ وما مكان الإنسان من الوجود ووحدته؟ هذه مسائل خضعت للمنطق التجريدي ووجدت منه أدبا مترامي الأطراف. لكنك تجد حلّها في حياة محمد وتعليمه أدنى لتبلغ الناس سعادتهم من هذا المنطق التجريديّ الذي أفني فيه المسلمون قرونا منذ العهد العباسي، وأقنى فيه الغربيون ثلاثة قرون منذ القرن السادس عشر إلى القرن التاسع عشر مما انتهى بالغرب إلى العلم الحديث على نحو ما انتهى بالمسلمين فيما مضى، ثم وقف العلم في الماضي كما أنه مهدّد اليوم بالوقوف دون إسعاد الإنسانية. ولا سبيل إلى درك هذه السعادة إلا العود إلى
সিরাত বা তাফসিরের কিছু কিতাবে এমন কিছু বিক্ষিপ্ত ও অসংলগ্ন বর্ণনা এসেছে, যেখানে এই বিষয়টি বিস্মৃত হওয়া হয়েছে যে, সিরাতের প্রথম কিতাবসমূহ মুহাম্মাদ-এর যুগের দুই শতাব্দী পর সংকলিত হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে তাঁর সিরাত ও শিক্ষাগুলোর মধ্যে বহু ইসরাইলি উপকথা অনুপ্রবেশ করানো হয়েছে এবং হাজার হাজার মিথ্যা হাদিস রচিত হয়েছে। প্রাচ্যবিদগণ এই সত্যটি স্বীকার করলেও, দেখা যায় তারা অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টিকে অবজ্ঞা করে এমন কিছু বিষয়কে সঠিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন যা কিঞ্চিৎ যাচাই-বাছাই করলেই নাকচ হয়ে যায়। এর মধ্যে রয়েছে শয়তানি পঙ্ক্তির (গারানিক) ঘটনা, যাইদ ও যায়নাব সংক্রান্ত ঘটনা এবং নবীর স্ত্রীদের বিষয়াবলি—যা আমি এই কিতাবে পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের সুযোগ পেয়েছি।
কিতাবটি গবেষণার প্রারম্ভ মাত্রএতদসত্ত্বেও আমি মনে করি না যে, মুহাম্মাদ-এর জীবন সম্পর্কিত গবেষণাকে আমি চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে পেরেছি। বরং আমি যদি বলি যে, আমি এই গবেষণাটি আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আরবি ভাষায় শুরু করেছি মাত্র, তবে তা সত্যের অধিক নিকটবর্তী হবে। এই পথে আমি যে শ্রম ব্যয় করেছি, তার ফলে এই কিতাবটি কেবল এই মহান বিষয়ে একটি ইসলামি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রারম্ভিক প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য হতে পারে। ফ্রান্সের ওলার যেমন ফরাসি বিপ্লবের যুগ নিয়ে গবেষণায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন কিংবা অন্য পণ্ডিতগণ বিভিন্ন জাতির ইতিহাসের নির্দিষ্ট যুগ নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত হয়েছিলেন, মুহাম্মাদ-এর জীবনও তেমনি একাধিক অধ্যাপকের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিশেষায়িত ও একনিষ্ঠ গবেষণার দাবি রাখে। আমি এ ব্যাপারে নিঃসংশয় যে, আরবের ইতিহাসের এই সংক্ষিপ্ত সময়কাল এবং সেই যুগের বিভিন্ন জাতির জীবনের সাথে এর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে একনিষ্ঠ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেবল ইসলাম ও মুসলিমদের জন্যই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের জন্য সর্বোত্তম ফলাফল বয়ে আনবে। এটি বিজ্ঞানের সামনে বহু মনস্তাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক জিজ্ঞাসার সমাধান তুলে ধরবে। পাশাপাশি সামাজিক, নৈতিক ও আইনগত দিকগুলোতে এমন আলো বিচ্ছুরিত করবে যার সামনে আধুনিক বিজ্ঞান আজও দোদুল্যমান। বিজ্ঞান আজও ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মধ্যকার ধর্মীয় সংঘাত এবং প্রাচ্যবাসীদের 'পাশ্চাত্যায়ন' বা মুসলিমদের 'খ্রিস্টানিকরণ'-এর মতো নিষ্ফল প্রচেষ্টার দ্বারা প্রভাবিত। অথচ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রমাণিত হয়েছে যে, এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ ও অসম্ভব এবং মানবজাতির পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর প্রভাব অত্যন্ত নেতিবাচক।
আমি পূর্বোক্ত আলোচনার চেয়েও আরও এক ধাপ এগিয়ে বলতে চাই: এই গবেষণা মানবজাতিকে সেই নতুন সভ্যতার দিকে পথপ্রদর্শনের যোগ্যতা রাখে যার সন্ধান সে করে ফিরছে। যদি পাশ্চাত্যের খ্রিস্টজগত ইসলাম ও তার রাসুলের মধ্যে নতুন আলোর সন্ধান পেতে অহংকারবোধ করে এবং ভারতের থিওসোফি বা দূরপ্রাচ্যের বিভিন্ন মতবাদের মধ্যে সেই আলোর তালাশ করে, তবে এই প্রাচ্যের মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের উচিত হবে পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও ইনসাফের সাথে এই মহান গবেষণাগুলোতে ব্রতী হওয়া, যা সত্যে পৌঁছানোর একমাত্র নিশ্চয়তা দেয়।
ইসলামি চিন্তাধারা—যেহেতু এটি মানুষের সাথে তার পারিপার্শ্বিক জীবনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আধুনিক পদ্ধতির ন্যায় একটি বৈজ্ঞানিক ভিত্তিনির্ভর চিন্তাধারা এবং এই দিক থেকে এটি পুরোপুরি বাস্তববাদী—কিন্তু যখন মহাবিশ্ব ও মহাবিশ্বের স্রষ্টার সাথে মানুষের সম্পর্কের প্রশ্ন আসে, তখন এটি আত্মগত চিন্তাধারায় রূপান্তরিত হয়। তখন এটি মনস্তাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক দিক থেকে এমন সব নিদর্শন সৃষ্টি করে যার সামনে আধুনিক বিজ্ঞান তার যান্ত্রিক উপায়-উপকরণ নিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে; বিজ্ঞান এগুলোকে প্রমাণও করতে পারে না, আবার অস্বীকারও করতে পারে না, আর এগুলোকে সে বৈজ্ঞানিক সত্য বলেও গণ্য করে না। অথচ এগুলোই জীবনে মানুষের সুখের ভিত্তি এবং তার আচরণের নিয়ন্ত্রক হয়ে থাকে। জীবন কী? এই মহাবিশ্বের সাথে মানুষের সম্পর্ক কী? জীবনের প্রতি তার এই ব্যাকুলতা কেন? সেই সাধারণ বিশ্বাসগুলো কী যা জনসমষ্টির মধ্যে এমন এক নৈতিক শক্তি সঞ্চার করে যা ওই বিশ্বাসগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে বিলুপ্ত হয়ে যায়? অস্তিত্ব কী? অস্তিত্বের একত্ব কী? অস্তিত্ব ও তার একত্বের মাঝে মানুষের স্থান কোথায়? এই প্রশ্নগুলো বিমূর্ত যুক্তিবিদ্যার অধীন এবং এর থেকে এক সুবিশাল সাহিত্যের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আপনি মুহাম্মাদ-এর জীবন ও শিক্ষার মাঝে এগুলোর এমন সমাধান খুঁজে পাবেন যা মানুষকে সুখের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ওই বিমূর্ত যুক্তিবিদ্যার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। যে যুক্তিবিদ্যায় মুসলিমরা আব্বাসীয় যুগ থেকে শতাব্দীর পর শতাব্দী পার করে দিয়েছে এবং পশ্চিমারা ষোড়শ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত তিনশ বছর ব্যয় করেছে, যার পরিণতিতে পশ্চিমারা আধুনিক বিজ্ঞানে পৌঁছেছে যেমনটি অতীতে মুসলিমরা পৌঁছেছিল। অতঃপর বিজ্ঞান অতীতে যেমন থমকে গিয়েছিল, আজও তেমনি তা মানবজাতিকে সুখী করার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই সুখ লাভের আর কোনো পথ নেই, কেবল...
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
حسن إدراك هذه الصلة الذاتية بالوجود وخالق الوجود في وحدته التي لا تتغيّر سننها ولا يعتبر للزمان أو المكان فيها إلا وجود نسبي لحياتنا القصيرة. وحياة محمد هي لا ريب خير مثل لدراسة هذه الصلة الذاتية دراسة علمية لمن أراد، ودراسة عملية لمن تؤهله مواهبه أن يحاول هذا الاتصال في مراتب أوّلية لبعد ما بينه وبين الصلة الإلهية التي أفاء الله على رسوله. وأكبر ظني أن هاتين الدراستين خليقتان، يوم يتاح لهما التوفيق، أن تنقذا عالمنا الحاضر من وثنية تورّط فيها على اختلاف عقائده الدينية أو العلمية؛ وثنيّة جعلت المال وحده معبودا، وسخّرت كل ما في الوجود من علم وفن وخلق ومواهب لعبادته والتسبيح بحمده. قد يكون هذا التوفيق ما يزال بعيدا.
لكن طلائع القضاء على هذه الوثنية التي تتحكم في عالمنا الحاضر، وتوجه الحضارة الحاكمة فيه، واضحة لكل من تتبّع سيرة العالم وأحداثه. فلعل هذه الطلائع تتواتر وتقوى دلالتها إذا انجلت أمام العلم تلك المسائل الروحية بالتخصص لدراسة حياة محمد النبي وتعاليمه وعصره والثورة الروحية التي انتشرت في العالم أثرا من آثاره. وإذا أتاحت الدراسة العلمية والدراسة الذاتية لقوى الإنسانية الكمينة مزيدا من اتصال بني الإنسان بحقيقة الكون العليا، كان ذلك الحجر الأوّل في أساس الحضارة الجديدة.
وهذا الكتاب ليس إلا محاولة بدائية في هذه السبيل كما قدّمت. وبحسبي أن يقنع هذا الكتاب الناس بما فيه، وأن يقنع العلماء والباحثين بضرورة الانقطاع والتخصص لبلوغ الغاية من بحث موضوعه. ولو أنه أثمر أيّا من هذين الأثرين أو كليهما، لكان ذلك أكبر جزاء أرجو عن المجهود الذي بذلت فيه. والله يجزي المحسنين.
محمد حسين هيكل
অস্তিত্ব এবং অস্তিত্বের স্রষ্টার সাথে এই আত্মিক সম্পর্কের যথাযথ উপলব্ধি নিহিত রয়েছে তাঁর সেই একত্বে, যাঁর বিধিবদ্ধ নিয়মসমূহ অপরিবর্তনীয় এবং যেখানে সময় বা স্থান আমাদের ক্ষণস্থায়ী জীবনের একটি আপেক্ষিক অনুষঙ্গ ছাড়া আর কিছুই নয়। আর মুহাম্মাদের জীবন নিঃসন্দেহে এই আত্মিক সম্পর্কটি বৈজ্ঞানিকভাবে অধ্যয়ন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য এবং যাদের প্রতিভা তাদের এই সংযোগটিকে প্রাথমিক স্তরে অনুভব করার যোগ্যতা দান করে তাদের জন্য এক বাস্তবসম্মত অনুশীলনের সর্বোত্তম আদর্শ; যদিও একজন সাধারণ মানুষের সামর্থ্য এবং মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলকে যে ঐশী নিআমত ও বিশেষ সম্পর্ক দান করেছেন, তার মধ্যে বিস্তর ব্যবধান অনস্বীকার্য। আমার প্রবল ধারণা এই যে, এই দুই ধরণের অধ্যয়ন যেদিন সফল হওয়ার সুযোগ পাবে, সেদিন তা আমাদের বর্তমান বিশ্বকে এমন এক মূর্তিপূজা থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হবে যার মধ্যে সে তার ধর্মীয় বা বৈজ্ঞানিক বিশ্বাসের ভিন্নতা সত্ত্বেও নিপতিত হয়েছে; এমন এক মূর্তিপূজা যা কেবল অর্থ-সম্পদকেই একমাত্র উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে এবং অস্তিত্বের সবকিছু—বিজ্ঞান, শিল্পকলা, নৈতিকতা ও প্রতিভাকে—তার আরাধনা ও স্তুতিগানের জন্য নিয়োজিত করেছে। হয়তো এই সাফল্য অর্জন এখনও সুদূরপরাহত।
কিন্তু আমাদের বর্তমান বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণকারী এবং এর প্রভাবশালী সভ্যতাকে দিকনির্দেশনা প্রদানকারী এই মূর্তিপূজা নির্মূলের অগ্রিম সংকেতসমূহ বিশ্বের ইতিহাস ও ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণকারী প্রত্যেকের কাছেই স্পষ্ট। সম্ভবত এই সংকেতগুলো ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের প্রমাণাদি আরও শক্তিশালী হবে যদি বিজ্ঞানের সামনে নবী মুহাম্মাদের জীবন, তাঁর শিক্ষা, তাঁর যুগ এবং তাঁর প্রভাবে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়া আধ্যাত্মিক বিপ্লবের বিশেষায়িত অধ্যয়নের মাধ্যমে সেই আধ্যাত্মিক বিষয়গুলো উন্মোচিত হয়। আর যদি বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক অধ্যয়ন মানবজাতির সুপ্ত শক্তিগুলোকে মহাবিশ্বের পরম সত্যের সাথে আরও নিবিড়ভাবে সংযুক্ত করার সুযোগ করে দেয়, তবে সেটিই হবে নতুন সভ্যতার ভিত্তিমূলের প্রথম প্রস্তর।
আর এই গ্রন্থটি এই পথে কেবল একটি প্রাথমিক প্রচেষ্টা মাত্র, যেমনটি আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি। আমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট হবে যদি এই গ্রন্থ সাধারণ মানুষকে এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে আশ্বস্ত করতে পারে এবং এর আলোচ্য বিষয়ের মূল লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য নিবিষ্টতা ও বিশেষায়িত গবেষণার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের উদ্বুদ্ধ করতে পারে। যদি এটি এই দুটি প্রভাবের যেকোনো একটি বা উভয়টি অর্জন করতে পারে, তবে আমি এতে যে শ্রম ব্যয় করেছি তার জন্য এটিই হবে আমার বড় পাওয়া। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকেন।
মুহাম্মাদ হুসাইন হাইকাল
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
تقديم الطبعة الثانيةنفذت طبعة هذا الكتاب الأولى بأسرع من كل ما قدّر لها. فقد صدر منها عشرة آلاف نسخة نفد ثلثها بالاشتراك في الكتاب أثناء طبعه، ونفد سائرها خلال ثلاثة أشهر من صدوره. ولقد دل الإقبال على اقتناء هذا الكتاب على عناية القرّاء بالبحث الذي يحتويه. لذلك لم يكن بد من التفكير في إعادة طبعه، وفي إعادة النظر فيه.
وموضوع الكتاب هو السبب الأوّل في الإقبال عليه لا ريب. ولعل الطريقة التي عولج بها كانت ذات أثر في الإقبال عليه كذلك. وأيّا كان السبب فقد سألت نفسي حين فكّرت في أمر الطبعة الثانية: أفأعيدها صورة من الطبعة الأولى لا أزيد فيها ولا أنقص منها، أم أرجع إليها بالتنقيح والزيادة والتصحيح فيما تتّضح لي ضرورة تصحيحه أو تنقيحه أو الزيادة عليه؟ ولقد أشار عليّ بعض من أقدر مشورتهم أن أجعل الثانية صورة من الطبعة الأولى كيما تتحقق المساواة بين الذين يقتنون أيّا من الطبعتين، ولكي يتسع لي زمن المراجعة والتنقيح فيما بعد هذه الطبعة الثانية. وكدت آخذ بهذا الرأي. ولو أنني فعلت لكانت هذه الطبعة في أيدي القرّاء منذ أشهر. غير أني تردّدت في الأخذ بهذه المشورة، ثم انتهيت إلى ضرورة التنقيح والزيادة لاعتبارات شتّى. وكان أوّل هذه الاعتبارات بعض ملاحظات تفضّل الأستاذ الأكبر الشيخ محمد مصطفى المراغي بإبدائها لي حين أطلعته على ما تم طبعه من الكتاب قبل ظهور طبعته الأولى فتفضّل بوضع التعريف الذي صدّرت به. فلما ظهر الكتاب تفضّل بعض الكتاب والعلماء بالتنويه به في الصحف والمجلات وعن طريق الإذاعة، وأبدوا ما عنّ لهم من الملاحظات عليه. وقد أبديت هذه الملاحظات جميعا بعد الثناء الجم على مجهود بذلته لست أحسبه جديرا بكل هذا التقدير، وأبديت حرصا على ألّا تشوب كتابا عن النبيّ العربي هنة من الهنات ما دام مؤلفه قد وفّق في وضعه توفيقا أرضاهم ونال تقديرهم. لذلك لم يكن بدّ من أن أعير هذه الملاحظات ما هي جديرة به من عظيم العناية.
ولعل هذا الرضا والتقدير هما اللذان جعلا طائفة من هذه الملاحظات ترد على مسائل كمالية لا تتصل بجوهر الكتاب ولا بما ورد من الروايات فيه. فمنها ما يرجو أصحابه إيضاح بعض أمور رأوها في حاجة إلى الإيضاح. ومنها ما يرمي إلى مزيد من التدقيق في استعمال حروف الجرّ، أو إلى اقتراح بعض ألفاظ بدل أخرى يعتقد الذين اقترحوها أنها أدق تعبيرا عن المعنى المقصود. على أن طائفة من الملاحظات انصبّت على بعض
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাএই বইটির প্রথম সংস্করণ প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি দ্রুতগতিতে শেষ হয়ে গেছে। এর দশ হাজার কপি প্রকাশিত হয়েছিল, যার এক-তৃতীয়াংশ মুদ্রণ চলাকালেই গ্রাহক সংগ্রহের মাধ্যমে শেষ হয়ে যায় এবং অবশিষ্ট কপিগুলো প্রকাশের তিন মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। এই বইটি সংগ্রহের প্রতি যে আগ্রহ দেখা গেছে, তা এতে বিদ্যমান গবেষণার প্রতি পাঠকদের বিশেষ মনোযোগের বহিঃপ্রকাশ। তাই এটি পুনর্মুদ্রণ এবং এতে পুনর্বিবেচনা করার চিন্তা করা ছাড়া উপায় ছিল না।
নিঃসন্দেহে বইটির বিষয়বস্তুই ছিল এই আগ্রহের প্রধান কারণ। সম্ভবত যেভাবে বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে, তারও একটি প্রভাব ছিল এই আগ্রহের পেছনে। কারণ যাই হোক না কেন, দ্বিতীয় সংস্করণের কথা চিন্তা করার সময় আমি নিজেকে প্রশ্ন করেছিলাম: আমি কি একে প্রথম সংস্করণের হুবহু প্রতিচ্ছবি হিসেবে প্রকাশ করব—যাতে কোনো কিছু বাড়ানো বা কমানো হবে না, নাকি আমি এতে পরিমার্জন, সংযোজন এবং সংশোধন নিয়ে ফিরে আসব, যেখানে আমার কাছে সংশোধন, পরিমার্জন বা সংযোজনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হবে? যাদের পরামর্শকে আমি অত্যন্ত গুরুত্ব দিই, তাদের মধ্যে কেউ কেউ আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যেন আমি দ্বিতীয় সংস্করণটিকে প্রথম সংস্করণের হুবহু প্রতিলিপি করি, যাতে উভয় সংস্করণের ক্রেতাদের মধ্যে সমতা বজায় থাকে এবং আমার জন্য এই দ্বিতীয় সংস্করণের পরে পর্যালোচনার ও পরিমার্জনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। আমি প্রায় এই মতটি গ্রহণ করেই ফেলেছিলাম। যদি আমি তা করতাম, তবে এই সংস্করণটি কয়েক মাস আগেই পাঠকদের হাতে পৌঁছে যেত। তবে আমি এই পরামর্শ গ্রহণে দ্বিধাবোধ করি এবং পরিশেষে বিভিন্ন কারণে পরিমার্জন ও সংযোজনের প্রয়োজনীয়তার সিদ্ধান্তে উপনীত হই। এই কারণগুলোর মধ্যে প্রথমটি ছিল উস্তাদুল আকবার শায়খ মুহাম্মদ মুস্তফা আল-মারাগী কর্তৃক প্রদত্ত কিছু পর্যবেক্ষণ, যা তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন যখন আমি প্রথম সংস্করণ প্রকাশের আগে বইটির মুদ্রিত অংশ তাকে দেখিয়েছিলাম; এরপর তিনি অনুগ্রহপূর্বক সেই পরিচয়মূলক বর্ণনাটি লিখে দিয়েছিলেন যা আমি বইটির শুরুতে যুক্ত করেছি। যখন বইটি প্রকাশিত হলো, তখন কিছু লেখক ও আলিম সংবাদপত্র, সাময়িকী এবং বেতারের মাধ্যমে এর প্রশংসা করেন এবং এতে তাদের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণের কথা ব্যক্ত করেন। আমার প্রচেষ্টার প্রতি প্রচুর প্রশংসার পরেই এই সকল পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছিল—যদিও আমি নিজেকে এই প্রশংসার যোগ্য মনে করি না। তারা এই বিষয়ে সজাগ ছিলেন যেন আরব নবীকে নিয়ে লেখা কোনো বইতে সামান্যতম কোনো ত্রুটি না থাকে, যেহেতু এর লেখক এটি রচনায় এমন সাফল্য পেয়েছেন যা তাদের সন্তুষ্ট করেছে এবং তাদের শ্রদ্ধা অর্জন করেছে। তাই এই পর্যবেক্ষণগুলোর প্রতি যথাযথ ও সুগভীর গুরুত্ব প্রদান করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না।
সম্ভবত এই সন্তুষ্টি ও প্রশংসাই একদল মানুষের এই ধরণের পর্যবেক্ষণের কারণ ছিল, যা মূলত গৌণ বিষয় সংক্রান্ত এবং বইটির মূল সারবত্তা বা এতে বর্ণিত বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। এর মধ্যে কিছু ছিল এমন যেখানে মন্তব্যকারীগণ কিছু বিষয় স্পষ্ট করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন যা তাদের কাছে স্পষ্টীকরণের প্রয়োজন মনে হয়েছে। আবার কিছু ছিল অব্যয় পদের ব্যবহারে অধিকতর সূক্ষ্মতা আনয়ন অথবা এমন কিছু শব্দের পরিবর্তে অন্য শব্দের প্রস্তাব, যারা প্রস্তাব করেছেন তাদের মতে যা উদ্দিষ্ট অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে অধিকতর নির্ভুল। তবে পর্যবেক্ষণের একটি অংশ নিবদ্ধ ছিল কিছু
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
مباحث الكتاب فدفعتني إلى مزيد من التفكير والمراجعة. ولشدّ ما أحرص على أن تكون هذه الطبعة الثانية أدنى إلى إرضاء هؤلاء العلماء جميعا، وإن كنت لا أرى في البحث كله، كما ذكرت في تقديم الكتاب، إلا أنه بداءة بحث في موضوعه باللغة العربية وضع على الطريقة العلمية الحديثة.
ومما أدىّ بي كذلك إلى تناول الطبعة الأولى بالتنقيح والزيادة، أنني عدت إلى تلاوة الكتاب بعدها. بعد أن وقفت على ما أبدي عليه من ملاحظات لم يغب أكثرها عني أثناء وضع الكتاب، فاقتنعت بضرورة الإفاضة في تمحيص بعض ما وردت الملاحظات عليه لإقناع أصحاب هذه الملاحظات بوجهة نظري وصواب حجتي.
وقد هدتني مراجعاتي التي قمت بها لهذه الغاية إلى مواضع للتأمل جديرة بأن يتناولها كل كاتب سيرة النبي العربي. ولئن اغتبطت لأنني تناولت في الطبعة الأولى كل ما أشارت الملاحظات إليه، لأنا اليوم أشد اغتباطا بأن أفيض في المباحث إفاضة أعتبرها ضرورية في هذه الدراسة التمهيدية لحياة أعظم إنسان عرفه التاريخ، خاتم الأنبياء والمرسلين عليه الصلاة والسلام.
وقد حاولت في هذا التقديم لطبعة الكتاب الثانية تمحيص طائفة من الملاحظات التي أبديت على طريقة البحث في الطبعة الأولى. وأضفت في آخر الكتاب فصلين تناولت فيهما أمورا مررت بموضوعها لماما في خاتمة الطبعة الأولى، كما أني نقحت وأضفت في تضاعيف الكتاب ما رأيت تنقيحه أو إضافته بعد الذي هدتني إليه مراجعاتي وتأمّلاتي، إتماما للبحث وإجابة لأصحاب الملاحظات عن ملاحظاتهم.
أنصار المستشرقين والرد عليهموفي مقدّمة ما أتناوله بالتفنيد رسالة وردت إليّ من كاتب مصري ذكر أنها ترجمة عربية لمقال بعث به إلى مجلة المستشرقين الألمانية نقدا لهذا الكتاب. ولم أنشر هذه الرسالة في الصحف العربية لأن بها مطاعن لا سند لها؛ ولذلك تركت لصاحبها أن يتحمل تبعة نشرها إن شاء. ولم أر أن أذكر اسمه في هذا التقديم اقتناعا مني بأنه سيعدل عن نسبتها إليه بعد أن يقرأ تفنيدها. وخلاصة هذه الرسالة أن البحث الذي قمت به في «حياة محمد» ليس بحثا علميّا بالمعنى الحديث؛ لأنني اعتمدت فيه على المصادر العربية وحدها، ولم أرجع إلى مباحث المستشرقين الألمان من أمثال «فيل» و «جولدزهر» و «نولدكي» وغيرهم ولم آخذ بنتائج هذه البحوث، ولأني اعتبرت القرآن وثيقة تاريخية لا محل لريبة فيها، مع أن مباحث هؤلاء المستشرقين تدل على أنه حرّف وبدّل بعد وفاة النبي وفي الصدر الأول للإسلام، واسم النبي بعض ما بدّل فيه؛ فقد كان اسمه «قثم» أو «قثامة» ثم أبدل من بعد وصار «محمدا» ليتسنّى وضع الآية: «ومبشّرا برسول يأتي من بعدي اسمه أحمد» إشارة إلى ما جاء في الإنجيل عن النبي الذي يجيء بعد عيسى. ويضيف الكاتب إلى أقواله هذه أن بحوث المستشرقين دلّت كذلك على أن النبي كان يصاب بالصّرع، وأن ما كان يسميه الوحي ينزل عليه إنما كان أثرا لنوبات الصرع كانت تعتريه، وأن أعراض الصرع كانت تبدو على محمد فكان يغيب عن صوابه، ويسيل منه العرق، وتعتريه التشنجات، وتخرج من فيه الرغوة، فإذا أفاق من نوبته ذكر أنه إليه وتلا على المؤمنين به ما يزعم أنه من وحي ربه.
لم أكن لأعنى بهذه الرسالة ولا بتفنيد ما فيها لولا أن كاتبها مصري مسلم ولو أنه كان مستشرقا أو مبشرا لتركته ملقى حبله على غاربه، يقول ما تمليه عليه أهواؤه وما تنضح به شهواته. وحسبي ما ذكرت في تقديم الكتاب وفي تضاعيفه إدحاضا لأقوال هؤلاء وأولئك. لكن كاتب هذه الرسالة إنما هو مثل لطائفة من شباننا ورجالنا المسلمين الذين يتلقّون كل ما يقوله المستشرقون بقبول حسن، ويعتبرونه العلم الصحيح المعبّر عن
বইটির আলোচ্য বিষয়সমূহ আমাকে আরও অধিক চিন্তা ও পর্যালোচনার দিকে ধাবিত করেছে। আমার প্রবল আকাঙ্ক্ষা ছিল যে, এই দ্বিতীয় সংস্করণটি যেন সেই সকল আলেমদের সন্তুষ্টির আরও নিকটবর্তী হয়, যদিও আমি পুরো গবেষণাকে—যেমনটি আমি বইটির ভূমিকায় উল্লেখ করেছি—আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রচিত এই বিষয়ের ওপর আরবি ভাষায় একটি প্রাথমিক গবেষণা ছাড়া আর কিছু মনে করি না।
প্রথম সংস্করণটিতে সংশোধন ও পরিমার্জন করার পেছনে আরেকটি কারণ হলো, আমি পরবর্তীতে বইটি পুনরায় পাঠ করেছি। বইটির ওপর যে সকল মন্তব্য করা হয়েছিল সেগুলো দেখার পর—যার অধিকাংশই গ্রন্থ রচনার সময় আমার দৃষ্টির অগোচরে ছিল না—আমি কিছু বিষয়ের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলাম, যাতে ওই সকল মন্তব্যকারীদের নিকট আমার দৃষ্টিভঙ্গি ও যুক্তির যথার্থতা প্রমাণ করতে পারি।
এই উদ্দেশ্যে আমি যে পর্যালোচনাগুলো করেছি, তা আমাকে এমন কিছু ভাবনার জায়গার সন্ধান দিয়েছে যা প্রতিটি মহান আরব নবীর জীবনী লেখকের জন্য গ্রহণ করা সমীচীন। প্রথম সংস্করণে আমি সেই সকল মন্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করায় যদি আনন্দিত হয়ে থাকি, তবে আজ আমি এই প্রারম্ভিক গবেষণায় সেই বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করতে পেরে আরও বেশি আনন্দিত, যা ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম মানুষ, সর্বশেষ নবী ও রাসূল (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর জীবন আলোচনার জন্য অপরিহার্য মনে করি।
বইটির দ্বিতীয় সংস্করণের এই ভূমিকায় আমি প্রথম সংস্করণের গবেষণা পদ্ধতির ওপর উত্থাপিত একগুচ্ছ মন্তব্যের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি। বইটির শেষে আমি দুটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছি, যেখানে আমি এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি যা প্রথম সংস্করণের উপসংহারে সংক্ষেপে উল্লেখ করেছিলাম। এছাড়াও আমি পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বইটির বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন করেছি এবং নতুন কিছু বিষয় যোগ করেছি, যাতে গবেষণাটি পূর্ণতা পায় এবং মন্তব্যকারীদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হয়।
প্রাচ্যবিদদের সমর্থক ও তাদের খণ্ডনআমি যে বিষয়গুলো খণ্ডন করতে যাচ্ছি তার মধ্যে প্রথমেই রয়েছে জনৈক মিশরীয় লেখকের কাছ থেকে আসা একটি পত্র, যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে এটি একটি প্রবন্ধের আরবি অনুবাদ যা তিনি এই বইটির সমালোচনা করে একটি জার্মান প্রাচ্যবিদ সাময়িকীতে পাঠিয়েছিলেন। আমি এই পত্রটি আরবি পত্রিকায় প্রকাশ করিনি কারণ এতে ভিত্তিহীন কিছু অপবাদ ছিল; তাই আমি এটি প্রকাশের দায়িত্ব লেখকের ইচ্ছার ওপরই ছেড়ে দিয়েছি। আমি এই ভূমিকায় তার নাম উল্লেখ করা সমীচীন মনে করিনি কারণ আমার বিশ্বাস, এর খণ্ডন পড়ার পর তিনি এটি নিজের বলে স্বীকার করা থেকে বিরত থাকবেন। এই পত্রের সারকথা হলো, 'হায়াতে মুহাম্মাদ' (মুহাম্মাদ সা.-এর জীবন) গ্রন্থে আমি যে গবেষণাটি করেছি তা আধুনিক অর্থে কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা নয়; কারণ আমি এতে কেবল আরবি উৎসগুলোর ওপর নির্ভর করেছি এবং 'ওয়েল', 'গোল্ডজিহার', 'নোলডেক' এবং তাদের মতো জার্মান প্রাচ্যবিদদের গবেষণার দিকে ফিরে তাকাইনি এবং তাদের গবেষণালব্ধ ফলাফল গ্রহণ করিনি। তাছাড়া আমি কুরআনকে এমন একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে গণ্য করেছি যার সত্যতায় কোনো সন্দেহ নেই, অথচ ওই সকল প্রাচ্যবিদদের গবেষণা নির্দেশ করে যে, নবীর মৃত্যুর পর এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগে এটি পরিবর্তন ও পরিমার্জন করা হয়েছিল। এমনকি নবীর নামও সেই পরিবর্তনের অন্তর্ভুক্ত; তাঁর নাম ছিল 'কুসাম' বা 'কুসামাহ', যা পরবর্তীতে পরিবর্তন করে 'মুহাম্মাদ' করা হয়েছে যাতে 'আমার পরে একজন রাসূল আসবেন যার নাম হবে আহমদ'—কুরআনের এই আয়াতটি ইঞ্জিলে বর্ণিত ঈসা আ.-এর পরবর্তী নবী আসার সংবাদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যায়। লেখক আরও দাবি করেন যে, প্রাচ্যবিদদের গবেষণায় দেখা গেছে যে নবী মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং তিনি যাকে ওহি বলে অভিহিত করতেন তা মূলত সেই মৃগী রোগের প্রভাব। মুহাম্মাদের ওপর যখন মৃগী রোগের উপসর্গ দেখা দিত, তখন তিনি কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলতেন, তাঁর শরীর থেকে ঘাম ঝরত, তাঁর শরীরে খিঁচুনি হতো এবং তাঁর মুখ দিয়ে ফেনা বের হতো; এরপর যখন তিনি সুস্থ হতেন তখন দাবি করতেন যে তাঁর নিকট ওহি এসেছে এবং মুমিনদের নিকট তা পাঠ করতেন যা তিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে ওহি বলে দাবি করতেন।
আমি এই পত্রের প্রতি বা এতে যা আছে তার খণ্ডন করার ব্যাপারে ভ্রুক্ষেপ করতাম না যদি এর লেখক একজন মিশরীয় মুসলিম না হতেন। তিনি যদি কোনো প্রাচ্যবিদ বা মিশনারি হতেন তবে আমি তাকে তার অবস্থার ওপর ছেড়ে দিতাম, সে তার খেয়ালখুশি এবং প্রবৃত্তির তাড়নায় যা ইচ্ছা বলত। তাদের সেই সকল বক্তব্যের অসারতা প্রমাণ করার জন্য এই বইয়ের ভূমিকায় এবং এর বিভিন্ন স্থানে যা লিখেছি তাই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু এই পত্রের লেখক মূলত আমাদের সেই সকল মুসলিম যুবক ও পুরুষদের একটি দলভুক্ত, যারা প্রাচ্যবিদদের প্রতিটি কথাকে সাদরে গ্রহণ করে এবং সেটিকে সঠিক জ্ঞান হিসেবে বিবেচনা করে যা...
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الحقيقة الخالصة- وإلى هؤلاء أوجّه القول هنا لأحذّرهم ما يقع المستشرقون فيه من خطأ. وبعض هؤلاء المستشرقين مخلص في بحثه على رغم خطئه. لكن الخطأ يتسرّب إلى بحثه لعدم دقته في إدراك أسرار اللغة العربية تارة، ولما يشوب نفوس طائفة من هؤلاء العلماء من الحرص على هدم مقرّرات دين من الأديان، أو على هدم مقرّرات الأديان جميعا، تارة أخرى. وهذا وذاك إسراف كان يجمل بالعلماء أن يجتنبوه. ولقد رأينا مسيحيين دفعهم هذا الإسراف إلى إنكار عيسى وجد على التاريخ، ورأينا آخرين تخطوا حدود الإسراف فكتبوا عن جنون عيسى. وإنما دعا إلى هذه النزعة في أوروبا ما بين الكنيسة والدولة من نزاع أدّى برجال العلم وبرجال الدين، كلّ من ناحيته، إلى الحرص على الغلب لاقتناص السلطان والحكم. أما والإسلام. بريء من هذا النزاع فليتّق الباحثون من أبنائه سلطان هذه الشهوة التي يخضع لها رجال الغرب، والتي تفسد على العلماء بحوثهم أكثر الأمر، ويجب عليهم لذلك أن يأخذوا حذرهم حين يطّلعون على ما يصدر عن الغرب من مباحث دينية، وأن يمحصوا كل ما يصوّره العلماء على أنه حق. فالكثير منه يتأثر بمقدار غير قليل بهذا الماضي الذي جعل الخصومة متصلة بين رجال الدين ورجال العلم قرونا متوالية.
الاعتماد على كتاب السيرة من المسلمينوما ورد في رسالة هذا المصري المسلم مما لخصته هنا بالغ الدلالة على وجوب هذا الحذر. فأوّل ما يأخذه عليّ أنني اعتمدت على المراجع العربية والإسلامية واتخذتها أساسا لبحثي. ولست أنكر ذلك. على أنني قد رجعت إلى كتب المستشرقين ممن ذكرت في سجل المراجع، لكن المصادر العربية كانت دائما الأساس الأوّل لهذا البحث الذي قمت به. وهذه المصادر العربية كانت الأساس الأوّل كذلك لمباحث المستشرقين جميعا. وهذا طبيعيّ؛ فهذه المصادر، وفي مقدّمتها القرآن، هي أوّل من تحدّث عن حياة النبي العربي. فلا جرم أن تكون العمدة والأساس لكل من يريد أن يكتب سيرته بأسلوب العصر وطريقته. و «نولدكي» و «حولدزهر» و «فيل» و «سپرنجر» و «موير» وغيرهم من المستشرقين قد جعلوها عمدتهم في بحثهم كما جعلتها عمدتي في بحثي. وقد أبحث لنفسي في تمحيصها ونقدها ما أباحوه لأنفسهم من حرية، كما أنني لم أغفل بعض ما اعتمدوا عليه من كتب المسيحيين الأقدمين وإن أملاها التعصب الديني للمسيحية ولم يملها النقد العلمي بحال، فإذا لامني لائم لأنني لم أتقيد بالنتائج التي وصل المستشرقين إليها؛ أو لأنني أبحث لنفسي مخالفتهم ونقدهم، فتلك دعوة إلى الجمود العلمي لا تقل رجعية ولا تأخرا عن أية دعوة إلى الجمود في الميادين العقلية والروحية جميعا. وما أحسب أحدا من المستشرقين أنفسهم يوافق على هذه الدعوة إلى الجمود العلمي، ولو أن أحدهم أقرّها لجاز إقرار الدعوة إلى الجمود الديني. وهذا وذاك مالا أرضاه لنفسي ولا أرضاه لأحد ممن يريدون الاشتغال بالبحوث التاريخية على وجه علمي صحيح. إنما أعمل وأطالب غيري أن يعمل على تمحيص ما يقع عليه من مباحث غيره فإن اقتنع بها عن بينة وبعد أن يقوم لديه الدليل القاطع عليها فذاك، وإلا فليعمل من ناحيته للوصول إلى الحقيقة حتى يقتنع بأنه وصل إليها. هذا ما أدعو إليه شبابنا ورجالنا المعجبين ببحوث المستشرقين، وهذا ما فعلت؛ ولي أجر المصيب على ما أصبت فيه، ولي عذر الباحث عن الحقيقة مع صدق القصد في توخّي السبيل إليها إن أخطأني التوفيق في شيء منه.
المستشرقون والمقررات الدينيةومن الأدلة على تأثر بعض المستشرقين بحرصهم على هدم المقررات الدينية وإسرافهم في ذلك ما ذهب إليه كاتب الرسالة المصري المسلم من أن مباحث هؤلاء المستشرقين تدل على أن القرآن ليس وثيقة تاريخية لا محل
বিশুদ্ধ সত্য—আমি এখানে তাঁদের উদ্দেশে কথাগুলো বলছি যাতে তাঁদের সতর্ক করতে পারি যে ভুলগুলোর মধ্যে প্রাচ্যবিদরা পতিত হন। এই প্রাচ্যবিদদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁদের গবেষণায় আন্তরিক হওয়া সত্ত্বেও ভুল করেন। কিন্তু কখনও আরবি ভাষার রহস্য অনুধাবনে সূক্ষ্মতার অভাবের কারণে, আবার কখনও এই পণ্ডিতদের একটি গোষ্ঠীর মনের মধ্যে কোনো এক ধর্মের প্রতিষ্ঠিত নীতিমালা অথবা সব ধর্মের প্রতিষ্ঠিত নীতিমালা ধ্বংস করার তীব্র আকাঙ্ক্ষার কারণে তাঁদের গবেষণায় ভুল ঢুকে পড়ে। এটি ও সেটি এমন এক বাড়াবাড়ি যা পরিহার করা পণ্ডিতদের জন্য শোভনীয় ছিল। আমরা দেখেছি খ্রিষ্টানদের মধ্যে এমনও কেউ আছেন যাঁদের এই বাড়াবাড়ি ঈসা (আ.)-এর ঐতিহাসিক অস্তিত্ব অস্বীকার করতে প্ররোচিত করেছে, আবার অন্যদের দেখেছি যারা বাড়াবাড়ির সীমা অতিক্রম করে ঈসা (আ.)-এর মানসিক ভারসাম্যহীনতা নিয়ে লিখেছে। ইউরোপে গির্জা ও রাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বন্দ্বই এই প্রবণতাকে উসকে দিয়েছিল, যা বিজ্ঞানী ও ধর্মতাত্ত্বিক উভয় পক্ষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ক্ষমতা ও শাসন দখলের নেশায় মত্ত করেছিল। কিন্তু ইসলাম যেহেতু এই দ্বন্দ্ব থেকে মুক্ত, তাই এই জাতির গবেষকদের উচিত সেই কুপ্রবৃত্তির প্রভাব থেকে বেঁচে থাকা যার সামনে পাশ্চাত্যের পণ্ডিতরা নতি স্বীকার করেছেন এবং যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পণ্ডিতদের গবেষণাকে কলুষিত করে। তাই তাঁদের উচিত পাশ্চাত্যের ধর্মীয় গবেষণাসমূহ পড়ার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা এবং সত্য হিসেবে চিত্রিত সবকিছুকে যাচাই-বাছাই করা। কারণ এর অনেক কিছুই সেই অতীত দ্বারা বহুলাংশে প্রভাবিত, যা কয়েক শতাব্দী ধরে ধর্মতাত্ত্বিক ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন শত্রুতা বজায় রেখেছে।
মুসলিম সিরাতকারকদের ওপর নির্ভরতাএই মিসরীয় মুসলিমের চিঠিতে যা এসেছে এবং আমি এখানে যা সারসংক্ষেপ করেছি, তা এই সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোরালো প্রমাণ বহন করে। আমার বিরুদ্ধে তাঁর প্রথম অভিযোগ হলো—আমি আরবি ও ইসলামি উৎসসমূহের ওপর নির্ভর করেছি এবং সেগুলোকে আমার গবেষণার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি। আমি তা অস্বীকার করি না। যদিও আমি সেই প্রাচ্যবিদদের বইপত্রও দেখেছি যাদের নাম আমি উৎস তালিকায় উল্লেখ করেছি, কিন্তু আমার এই গবেষণার প্রধান ভিত্তি সর্বদা আরবি উৎসগুলোই ছিল। আর এই আরবি উৎসগুলোই সকল প্রাচ্যবিদের গবেষণারও মূল ভিত্তি ছিল। এটিই স্বাভাবিক; কারণ এই উৎসগুলো, যার শীর্ষে রয়েছে কুরআন, সর্বপ্রথম আরব নবীর জীবন সম্পর্কে আলোচনা করেছে। সুতরাং যারা বর্তমান যুগের শৈলী ও পদ্ধতিতে তাঁর সিরাত লিখতে চায়, তাদের জন্য এগুলোর ওপর নির্ভর করা ও এগুলোকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা অনিবার্য। 'নোলডেক', 'গোল্ডজিহার', 'ওয়েইল', 'স্প্রেঙ্গার', 'মুইর' এবং অন্যান্য প্রাচ্যবিদরা তাঁদের গবেষণায় এগুলোকে মূল অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যেমনটি আমি আমার গবেষণায় করেছি। আমি এগুলো যাচাই-বাছাই ও সমালোচনার ক্ষেত্রে নিজের জন্য সেই স্বাধীনতা প্রয়োগ করতে পারি যা তাঁরা নিজেদের জন্য বৈধ মনে করেছেন। পাশাপাশি, আমি প্রাচীন খ্রিষ্টানদের লিখিত এমন কিছু বইও অবজ্ঞা করিনি যেগুলোর ওপর তাঁরা নির্ভর করেছেন, যদিও সেগুলো কোনোভাবেই বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনার মাধ্যমে নয় বরং খ্রিষ্টধর্মের প্রতি অন্ধ ধর্মীয় গোঁড়ামির বশবর্তী হয়ে লেখা হয়েছে। সুতরাং কেউ যদি আমাকে এই জন্য দোষারোপ করে যে আমি প্রাচ্যবিদদের প্রাপ্ত ফলাফলের অনুগত থাকিনি, কিংবা আমি নিজের মতো করে তাঁদের বিরোধিতা বা সমালোচনা করছি, তবে তা হবে একটি বৈজ্ঞানিক জড়তার ডাক, যা বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক সব ক্ষেত্রে যেকোনো জড়তার আহ্বানের চেয়ে কম প্রতিক্রিয়াশীল বা পশ্চাৎপদ নয়। আমার মনে হয় না প্রাচ্যবিদদের কেউই এই বৈজ্ঞানিক জড়তার আহ্বানের সঙ্গে একমত হবেন। যদি তাঁদের কেউ এটি সমর্থন করেন, তবে ধর্মীয় জড়তার আহ্বানকেও সমর্থন করা জায়েজ হয়ে যাবে। আর এটি এমন বিষয় যা আমি নিজের জন্য যেমন পছন্দ করি না, তেমনি তাঁদের জন্যও পছন্দ করি না যারা সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ঐতিহাসিক গবেষণা পরিচালনা করতে চান। আমি কেবল এটুকুই করি এবং অন্যদেরও একাজটি করতে বলি যে, অন্যের গবেষণার প্রাপ্ত বিষয়গুলো যেন যাচাই-বাছাই করা হয়। যদি কেউ অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে সে বিষয়ে আশ্বস্ত হয় তবে তা ভালো, নতুবা তাকে সত্যে পৌঁছানোর জন্য নিজস্ব প্রচেষ্টা চালাতে হবে যতক্ষণ না সে আশ্বস্ত হয় যে সে সত্যে পৌঁছেছে। প্রাচ্যবিদদের গবেষণায় মুগ্ধ আমাদের যুবক ও গবেষকদের প্রতি আমার আহ্বান এটাই, আর আমি নিজেও তা-ই করেছি; আমার সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য আমি সঠিক পথের অনুসারীর সওয়াব পাব, আর আমার উদ্দেশ্য যদি সৎ থাকে তবে সত্য অন্বেষণের পথে কোনো ভুল হলে গবেষক হিসেবে আমি মার্জনার আশা রাখি।
প্রাচ্যবিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠিত নীতিমালাকিছু কিছু প্রাচ্যবিদ যে ধর্মীয় নীতিমালা ধ্বংস করার আকাঙ্ক্ষা দ্বারা প্রভাবিত এবং এ ক্ষেত্রে যে তাঁরা বাড়াবাড়ি করেছেন, তার অন্যতম প্রমাণ হলো সেই মিসরীয় মুসলিম পত্রলেখকের বক্তব্য—যাতে বলা হয়েছে যে এই প্রাচ্যবিদদের গবেষণাসমূহ ইঙ্গিত দেয় যে কুরআন কোনো ঐতিহাসিক দলিল নয় যার কোনো স্থান...
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
لريبة فيها، وأنه حرّف بعد وفاة النبي وفي صدر الإسلام، وأضيفت إليه أثناء ذلك آيات لأغراض دينية أو سياسية. ولست أناقش صاحب الرسالة من ناحية إسلامية فأحاجّه، وهو مسلم، بما يقرره الإسلام من أن القرآن كتاب الله لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، فهو يذهب مذهب المستشرقين من أن القرآن كتاب وضعه محمد، عن إيمان منه بأن هذا الكتاب وحي الله في رأي طائفة من هؤلاء المستشرقين، وحرصا منه على إثبات رسالته بما يذكر من أن هذا القرآن وحي الله إليه في رأي الآخرين. فلأخاطبه إذا بلغته على أنه من أحرار الفكر الذين لا يريدون أن يتقيدوا إلا بما يثبته العلم إثباتا يقينيّا.
فرية تحريف القرآنهو يعتمد على المستشرقين وما يقولونه. ومن المستشرقين طائفة تزعم بالفعل في أمر القرآن ما نقله عنهم.
لكن زعمهم هذا يدلّ على أنهم إنما تدفعهم إليه أغراض يبرأ منها العلم ولا تخفى على أحد. وحسبك دليلا على ذلك قولهم: إن عبارة «ومبشرا برسول يأتي من بعدي اسمه أحمد» ، التي وردت في الآية السادسة من سورة الصف، إنما أضيفت بعد وفاة النبي لالتماس الدليل على نبوّة محمد ورسالته من الكتب المقدّسة السابقة للقرآن. فلو أن الذين قالوا هذا القول من المستشرقين كانوا يخلصون للعلم حقّا لما لجأوا إلى مثل هذا التدليل القائم عندهم على أن التوراة والإنجيل كتابان مقدّسان بالفعل. فلو أنهم كانوا يريدون العلم للعلم لسوّوا بين القرآن والكتب المقدّسة التي سبقته؛ فإمّا اعتبروه مقدّسا مثلها، فذكره الكتب المقدّسة التي عرفها الناس قبله طبيعي لا محل لرفضه. وإمّا اعتبروا هذه الكتب كما اعتبروا القرآن وقالوا في شأنها ما قالوه في شأنه، وقرّروا أن أصحابها وضعوها لأغراض دينية أو سياسية خاصة. ولو أنهم قالوا مثل هذا القول لقضى المنطق بفساد ما ذهبوا إليه من تحريف القرآن لأغراض سياسية أو دينية، فما كان للمسلمين أن يلتمسوا الحجة من هذه الكتب بعد أن اطمأن ملكهم ودانت لهم الإمبراطورية المسيحية كما دان لهم غيرها من أمم الأرض، وبعد أن دخل المسيحيون في الإسلام أفواجا بل أمما كاملة. هذا هو المنطق الذي يقتضيه البحث العلمي النزيه. أمّا اعتبار التوراة والإنجيل مقدّسين، ونفي هذه الصفة عن القرآن فأمر لا يسوّغه العلم. وأمّا القول بتحريفه التماسا للحجة من التوراة والإنجيل فهراء لا يقره التاريخ ولا يرضاه المنطق.
والذين زعموا هذا الزعم الفاسد من المستشرقين هم قلة بين أشدّ المستشرقين تعصّبا. أما كثرتهم فيقرون بأن القرآن الذي نتلوه اليوم هو بعينه القرآن الذي تلاه محمد على المسلمين أثناء حياته، لم يحرّف ولم يبدّل.
وهم يحرصون على أن يذكروا هذا وإن أضافوا إليه من عبارات النقد للنظام الذي جمع القرآن به ولترتيب السور فيه ما لا يدخل تمحيصه في نطاق هذا البحث. وقد تناول المشتغلون بعلوم القرآن من المسلمين أوجه النقد هذه ودفعوها. أما ما نحن الآن في صدده فحسبنا فيه أن نقتطف بعض ما ذكره المستشرقين عنه، لعله يقنع المصري المسلم الذي نناقش هاهنا رسالته، ولعله يقنع الدين يفكرون على شاكلته.
موير ينكر هذه الفريةوما أورده المستشرقون من ذلك كثير، نختار منه بعض ما كتبه السير وليم موير في كتابه «حياة محمد» . ليرى هؤلاء الذين أسرفوا على التاريخ وعلى أنفسهم شدّة ما أسرفوا حين اطمأنوا إلى ما قيل عن تحريف القرآن وتبديله. وموير مسيحي شديد الحرص على مسيحيته والدعوة إليها، شديد الحرص لذلك على ألا يدع موضعا لنقد نبي الإسلام وكتابه دون الوقوف عنده ومحاولة دعمه.
يقول سيروليم موير، عند كلامه عن القرآن ودقة وصوله إلينا، ما ترجمته: «كان الوحي المقدس أساس
এতে সন্দেহ রয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে যে, নবী (সা.)-এর মৃত্যুর পর ইসলামের প্রাথমিক যুগে এটি বিকৃত করা হয়েছিল এবং সেই সময় ধর্মীয় বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এতে নতুন আয়াত যোগ করা হয়েছিল। আমি এই পত্রের লেখকের সঙ্গে ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে বিতর্ক করতে চাই না—যদিও তিনি একজন মুসলিম—কারণ ইসলাম যা সুনিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছে তা হলো, কুরআন আল্লাহর কিতাব, যাতে অগ্র-পশ্চাৎ কোনো দিক থেকেই বাতিল প্রবেশ করতে পারে না। বরং তিনি প্রাচ্যবিদদের সেই মতাদর্শ অনুসরণ করছেন যে, কুরআন মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক রচিত একটি কিতাব; এদের একদলের মতে তিনি নিজের বিশ্বাসের জায়গা থেকে মনে করতেন যে এই কিতাব আল্লাহর ওহি, আবার অন্যদলের মতে তিনি তাঁর রিসালাত প্রমাণের আগ্রহ থেকে এই কুরআনকে আল্লাহর ওহি হিসেবে চালিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। তাই আমি তাঁর সাথে সেভাবেই কথা বলব—যদি তা তাঁর কাছে পৌঁছায়—যেন তিনি একজন মুক্তমনা চিন্তাবিদ, যিনি কেবল অকাট্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে চান।
কুরআন বিকৃতির অপবাদতিনি প্রাচ্যবিদদের ওপর এবং তারা যা বলে তার ওপর নির্ভর করেন। আর প্রাচ্যবিদদের মধ্যে এমন এক দল রয়েছে যারা কুরআনের বিষয়ে প্রকৃতপক্ষে তেমনই দাবি করে, যা তিনি তাদের থেকে উদ্ধৃত করেছেন।
কিন্তু তাদের এই দাবি প্রমাণ করে যে, তারা এমন সব উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে যা বিজ্ঞানসম্মত নয় এবং যা কারো কাছে গোপনও নয়। এর সপক্ষে একটি প্রমাণই আপনার জন্য যথেষ্ট যে, তারা বলে: সূরা আস-সাফ-এর ষষ্ঠ আয়াতে বর্ণিত «এবং আমার পরে একজন রাসূলের সুসংবাদদাতা যার নাম হবে আহমদ» বাক্যটি মূলত নবী (সা.)-এর মৃত্যুর পর কুরআন পূর্ববর্তী পবিত্র কিতাবসমূহ থেকে মুহাম্মদের নবুওয়াত ও রিসালাতের প্রমাণ সন্ধানের উদ্দেশ্যে যোগ করা হয়েছে। যদি এই কথা বলা প্রাচ্যবিদরা বিজ্ঞানের প্রতি প্রকৃত অর্থেই নিষ্ঠাবান হতেন, তবে তারা এমন প্রমাণের আশ্রয় নিতেন না যা তাদের কাছে তাওরাত ও ইঞ্জিলকে প্রকৃতপক্ষে পবিত্র কিতাব হিসেবে গণ্য করার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তারা যদি জ্ঞানের জন্য জ্ঞান চাইতেন, তবে কুরআন ও পূর্ববর্তী পবিত্র কিতাবসমূহের মাঝে সমতা বজায় রাখতেন। হয় তারা পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর মতো এটিকেও পবিত্র মনে করতেন—সেক্ষেত্রে মানুষের কাছে পরিচিত পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের উল্লেখ করা স্বাভাবিক বিষয় হতো এবং তা প্রত্যাখ্যানের কোনো অবকাশ থাকত না। অথবা তারা এই কিতাবগুলোকেও কুরআনের মতোই গণ্য করতেন এবং এগুলোর ক্ষেত্রেও তাই বলতেন যা কুরআনের ক্ষেত্রে বলেছেন—অর্থাৎ এর রচয়িতারা বিশেষ ধর্মীয় বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তা রচনা করেছেন। তারা যদি এমনটি বলতেন, তবে যুক্তিই তাদের সেই দাবিকে অসার প্রমাণ করত যা তারা রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে কুরআন বিকৃতির বিষয়ে ব্যক্ত করেছেন। কারণ মুসলমানদের সাম্রাজ্য সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এবং খ্রিস্টান সাম্রাজ্যসহ বিশ্বের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী তাদের অনুগত হওয়ার পর, আর দলে দলে এমনকি গোটা জাতিগতভাবে খ্রিস্টানদের ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার পর, মুসলমানদের আর এই কিতাবগুলো থেকে প্রমাণ খোঁজার কোনো প্রয়োজন ছিল না। নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক গবেষণার দাবিও এটাই। কিন্তু তাওরাত ও ইঞ্জিলকে পবিত্র মনে করা এবং কুরআনের ক্ষেত্রে সেই বৈশিষ্ট্য অস্বীকার করা এমন এক বিষয় যা বিজ্ঞানসম্মত নয়। আর তাওরাত ও ইঞ্জিল থেকে দলিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কুরআন বিকৃতির দাবি করা এমন একটি অসার কথা যা ইতিহাস সমর্থন করে না এবং যুক্তিও গ্রহণ করে না।
প্রাচ্যবিদদের মধ্যে যারা এই ভ্রান্ত দাবি করেছেন তারা চরম কট্টরপন্থীদের মধ্যে সংখ্যালঘু মাত্র। তবে তাদের অধিকাংশ বড় দলই স্বীকার করেন যে, আমরা আজ যে কুরআন তিলাওয়াত করছি, এটি হুবহু সেই কুরআন যা মুহাম্মদ (সা.) তাঁর জীবদ্দশায় মুসলমানদের সামনে পাঠ করেছিলেন; এতে কোনো বিকৃতি বা পরিবর্তন ঘটেনি।
যদিও তারা কুরআনের সংকলন পদ্ধতি এবং সূরার বিন্যাস নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য যোগ করেন, যা এই আলোচনার পরিধির অন্তর্ভুক্ত নয়, তবুও তারা উপরোক্ত বিষয়টি স্বীকার করার ব্যাপারে সচেষ্ট। ইসলামি জ্ঞানবিজ্ঞানে নিয়োজিত মুসলিম পণ্ডিতগণ এসকল সমালোচনার উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন। তবে আমরা এখন যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি, তার জন্য প্রাচ্যবিদদের দেওয়া কিছু মন্তব্য উদ্ধৃত করাই যথেষ্ট। সম্ভবত এটি সেই মিশরীয় মুসলিমকে সন্তুষ্ট করবে যার পত্র নিয়ে আমরা এখানে আলোচনা করছি এবং সম্ভবত তাদেরও সন্তুষ্ট করবে যারা তাঁর মতো চিন্তা করেন।
মুইর কর্তৃক এই অপবাদ প্রত্যাখ্যানপ্রাচ্যবিদরা এ বিষয়ে অনেক কিছু বর্ণনা করেছেন, আমরা তার মধ্য থেকে স্যার উইলিয়াম মুইর তাঁর ‘লাইফ অফ মাহোমেত’ (Life of Mahomet) গ্রন্থে যা লিখেছেন তা থেকে কিছু অংশ নির্বাচন করছি। যাতে তারা দেখতে পায় যে, যারা ইতিহাস ও নিজেদের ওপর জুলুম করেছেন, তারা কুরআন বিকৃতি ও পরিবর্তনের দাবিকে ধ্রুব সত্য মনে করে কত বড় বাড়াবাড়ি করেছেন। মুইর একজন খ্রিস্টান এবং তিনি তাঁর খ্রিস্টধর্ম ও এর প্রচারের ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ ছিলেন। তাই ইসলামের নবী ও তাঁর কিতাবকে সমালোচনা করার কোনো সুযোগই তিনি হাতছাড়া করতে চাইতেন না এবং সর্বদা তা প্রমাণের চেষ্টা করতেন।
স্যার উইলিয়াম মুইর কুরআন এবং আমাদের কাছে এর নির্ভুলভাবে পৌঁছানোর বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, যার অনুবাদ হলো: “পবিত্র ওহি ছিল মূল ভিত্তি...”
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أركان الإسلام فكانت تلاوة ما تيسر منه جزآ جوهريّا من الصلوات اليومية عامة أو خاصة، وكان القيام بهذه التلاوة فرضا وسنة يجزي من يؤديهما جزاء دينيا صالحا. ذلك كان جماع الرأي في السّنة الأولى، وهو ما يستفاد كذلك من الوحي نفسه. لذلك وعت القرآن ذاكرة كثرة المسلمين الأولين إن لم يكونوا جميعا. وكان مبلغ ما يستطيع أحدهم تلاوته بعض المميزات الجوهرية في العهد الأول للإمبراطورية الإسلامية. وقد يسّرت عادات العرب هذا العمل؛ فقد كانوا ذوي ولع بالشعر عظيم. ولما كانت الوسائل لتحرير ما يفيض عن شعرائهم في غير متناول اليد، فقد اعتأدوا أن ينقشوا هذه القصائد كما كانوا ينقشون ما يتعلق بأنسابهم وقبائلهم على صفحات قلوبهم. بذلك نمت ملكة الذاكرة غاية النمو، ثم تناولت القرآن بكل ما أدّت إليه يقظة الروح إذ ذاك من حرص وإقبال. ولقد بلغ بعض أصحاب النبيّ من قوة الذاكرة ودقتها ومن التعلق بحفظ القرآن واستذكاره حدّا استطاعوا معه أن يعيدوا بدقة يقينية كل ما عرف منه إلى يوم كانوا يتلونه.
تحرير القرآن في عهد النبيعلى الرغم من هذه القوة التي امتازت بها الذاكرة العربية فقد كنا في حل من ألّا نولي ثقتنا مجموعة ذلك كل مصدرها. لكن لدينا من الأسباب ما يحملنا على الاعتقاد أن أصحاب النبي دوّنوا أثناء حياته نسخا شتى لأجزاء مختلفة من القرآن، وأن هذه النسخ سجّلت القرآن، سجلته كله تقريبا. فقد كانت الكتابة معروفة على وجه عام بمكة قبل نبوّة محمد بزمن غير قليل. وكان النبي قد استعمل على تحرير الكتب والرسائل أكثر من واحد من أصحابه بالمدينة. وقد فكّ إسار الفقراء من أسرى بدر مقابل قيامهم بتعليم أنصار المدينة الكتابة. ومع أن أهل المدينة لم يكونوا مثقفين ثقافة أهل مكة، فقد عرفت مقدرة الكثيرين منهم على الكتابة قبل الإسلام. ومن اليسير مع ثبوت هذه للقدرة على الكتابة، أن نستنبط غير مخطئين أن الآيات التي وعتها الذاكرة بدقة قد سجلتها الكتابة بمثل هذه الدقة.
«ثم إنا نعرف أن محمدا كان يبعث إلى القبائل التي تدخل في الإسلام واحدا أو أكثر من أصحابه لتعليمهم القرآن وتفقيههم في الدين، وكثيرا ما نقرأ أن هؤلاء المبعوثين كانوا يحملون معهم أوامر مكتوبة في شأن الدين. ولقد كانوا يحملون ما نزل به الوحي بطبيعة الحال، وخاصة ما اتصل منه بشائر الإسلام وقواعده، وما يتلى منه أثناء العبادة. والقرآن نفسه ينص على وجوده مكتوبا. وتنص كتب السيرة، حين تذكر إسلام عمر، على وجود نسخة من السورة المتمة للعشرين (سورة طه) في حيازة أخته وأسرتها.
وكان إسلام عمر قبل الهجرة بثلاث سنوات أو أربع. فإذا كان الوحي يدوّن ويتبادل في العصر الأول، حين كان المسلمون قليلين وحين كانوا يسامون العذاب، فمن المقطوع به أن النسخ المكتوبة كثر عددها وتداولها حين بلغ النبي أوج السلطة وحين صار كتابه قانون العرب جميعا.
الرجوع إلى النبي عند الخلاف«كذلك كان شأن القرآن أثناء حياة النبيّ، وكذلك كان شأنه إلى عام بعد وفاته: بقي مسطورا في قلوب الذين آمنوا به مسجّلة أجزاؤه المختلفة في نسخ كانت تزداد كل يوم عددا. وكان لزاما أن يتطابق هذان المصدران تمام التطابق. فقد كان القرآن منظورا إليه، حتى في حياة النبي، برهبة اليقين بأنه كلام الله ذاته لذلك كان كل خلاف على نصه يرجع فيه إلى النبيّ نفسه كي يزيله. ولدينا أمثلة من ذلك؛ إذ رجع إلى النبي عمرو بن مسعود وأبي بن كعب. فلما قبض النبي كان يرجع عند الخلاف إلى النصوص المكتوبة، وإلى ذاكرة أصحاب النبي الأقربين وكتّاب وحيه.
ইসলামের স্তম্ভসমূহ হলো প্রাত্যহিক সাধারণ বা বিশেষ সালাতসমূহের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কুরআনের সহজসাধ্য অংশ তিলাওয়াত করা। এই তিলাওয়াত সম্পাদন করা ছিল ফরজ ও সুন্নাত, যা পালনকারীকে উত্তম ধর্মীয় প্রতিদান এনে দেয়। প্রথম বছরে এটিই ছিল মতামতের সারকথা এবং ওহী থেকেও এটিই প্রতীয়মান হয়। এ কারণে প্রথম যুগের অধিকাংশ মুসলমান, যদি সবাই না-ও হয়, কুরআনকে স্মরণে রেখেছিলেন। তারা যতটুকু তিলাওয়াত করতে পারতেন, তা ছিল ইসলামি সাম্রাজ্যের প্রথম যুগের কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য। আরবদের অভ্যাস এই কাজটিকে সহজ করে দিয়েছিল; কারণ তারা কবিতার প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিল। যখন তাদের কবিদের কবিতা লিখে রাখার মাধ্যমসমূহ সহজলভ্য ছিল না, তখন তারা এই কবিতাগুলো তাদের হৃদয়ের পাতায় খোদাই করে নিত, যেভাবে তারা তাদের বংশপরম্পরা ও গোত্র সম্পর্কিত বিষয়গুলো খোদাই করত। এর মাধ্যমে তাদের স্মরণশক্তি চরমভাবে বিকশিত হয়েছিল। অতঃপর তারা কুরআনকে সেই সময়ের আধ্যাত্মিক জাগরণের ফলে সৃষ্ট গভীর আগ্রহ ও একনিষ্ঠতার সাথে গ্রহণ করল। নাবী-এর কিছু সাহাবীর স্মরণশক্তি ও এর নির্ভুলতা এবং কুরআন মুখস্থ ও চর্চার প্রতি অনুরাগ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তারা যে দিন তিলাওয়াত করতেন সেই দিন পর্যন্ত যা কিছু জানা ছিল তার সবটুকুই নিশ্চিত নির্ভুলতার সাথে পুনরাবৃত্তি করতে পারতেন।
নাবীর যুগে কুরআন লিখনআরবদের স্মরণশক্তির এই বিশেষ শক্তি থাকা সত্ত্বেও, আমাদের জন্য এটি সম্ভব ছিল না যে আমরা কেবল এই একটি উৎসের ওপরই পূর্ণ আস্থা রাখব। তবে আমাদের কাছে এমন অনেক কারণ রয়েছে যা আমাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করে যে, নাবী-এর জীবনকালেই তাঁর সাহাবীগণ কুরআনের বিভিন্ন অংশের বহু অনুলিপি লিখে রেখেছিলেন এবং এই অনুলিপিগুলো কুরআনকে প্রায় পূর্ণাঙ্গভাবে নথিভুক্ত করেছিল। মুহাম্মাদ-এর নবুওয়াতের বেশ আগে থেকেই মক্কায় লিখন পদ্ধতি সাধারণভাবে পরিচিত ছিল। নাবী মদীনায় তাঁর একাধিক সাহাবীকে কিতাব ও পত্রসমূহ লেখার কাজে নিযুক্ত করেছিলেন। বদরের বন্দীদের মধ্যে যারা দরিদ্র ছিল, তাদের মদীনার আনসারদের লিখন পদ্ধতি শেখানোর বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। যদিও মদীনার অধিবাসীগণ মক্কাবাসীদের মতো অতটা সংস্কৃতিমনা ছিলেন না, তবুও ইসলাম-পূর্ব কাল থেকেই তাদের অনেকের লেখার সক্ষমতা জানা ছিল। লেখার এই সক্ষমতা প্রমাণিত হওয়ার পর এটি নির্ভুলভাবে অনুমান করা সহজ যে, যে আয়াতগুলো স্মরণশক্তিতে নির্ভুলভাবে সংরক্ষিত ছিল, সেগুলো লেখার মাধ্যমেও একইভাবে নির্ভুলভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল।
“অতঃপর আমরা জানি যে, মুহাম্মাদ যারা ইসলামে প্রবেশ করত সেই গোত্রগুলোর কাছে তাঁর একজন বা একাধিক সাহাবীকে কুরআন শেখাতে এবং দ্বীনের জ্ঞান দান করতে পাঠাতেন। আমরা প্রায়ই পড়ি যে, এই প্রতিনিধিদের কাছে দ্বীনি বিষয়ে লিখিত নির্দেশাবলি থাকত। স্বাভাবিকভাবেই তারা ওহীর বিষয়বস্তু সাথে বহন করতেন, বিশেষ করে যা ইসলামের সুসংবাদ ও নিয়ম-নীতির সাথে সম্পর্কিত ছিল এবং যা ইবাদতের সময় তিলাওয়াত করা হতো। কুরআন নিজেই এটি লিখিত অবস্থায় থাকার বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়। সিরাত গ্রন্থসমূহে উমরের ইসলাম গ্রহণের বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর বোন ও তাঁর পরিবারের কাছে বিশতম সূরাটির (সূরা ত্বা-হা) একটি অনুলিপি ছিল।
উমরের ইসলাম গ্রহণ ছিল হিজরতের তিন বা চার বছর আগে। সুতরাং যদি ওহী প্রথম যুগেই লিপিবদ্ধ করা হতো এবং বিনিময় করা হতো—যখন মুসলমানরা সংখ্যায় অল্প ছিল এবং নির্যাতনের শিকার হতো—তবে এটি নিশ্চিত যে, যখন নাবী ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছালেন এবং তাঁর কিতাব সমগ্র আরবদের আইনে পরিণত হলো, তখন লিখিত অনুলিপির সংখ্যা ও এর প্রচার-প্রসার বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
মতপার্থক্যের সময় নাবীর নিকট প্রত্যাবর্তন“নাবী-এর জীবনকালে কুরআনের অবস্থা এমনই ছিল, এবং তাঁর ইন্তেকালের এক বছর পর পর্যন্তও তা এমনই ছিল: এটি তাদের হৃদয়ে লিপিবদ্ধ ছিল যারা এর প্রতি ঈমান এনেছিল এবং এর বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন অনুলিপিতে নথিভুক্ত ছিল যার সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এটি আবশ্যক ছিল যে এই দুটি উৎস একে অপরের সাথে হুবহু মিলে যাবে। কারণ কুরআনকে এমনকি নাবী-এর জীবনকালেও আল্লাহর বাণী হিসেবে নিশ্চিত সম্ভ্রমের সাথে দেখা হতো। তাই এর পাঠ নিয়ে কোনো মতপার্থক্য দেখা দিলে তা নিরসনের জন্য স্বয়ং নাবী-এর কাছেই ফিরে যাওয়া হতো। আমাদের কাছে এর উদাহরণ রয়েছে; যেমন আমর ইবনে মাসউদ এবং উবাই ইবনে কাব নাবী-এর কাছে ফিরে গিয়েছিলেন। অতঃপর যখন নাবী ইন্তেকাল করলেন, তখন কোনো মতভেদ দেখা দিলে লিখিত পাণ্ডুলিপি এবং নাবী-এর নিকটতম সাহাবী ও ওহী লেখকদের স্মরণশক্তির সাহায্য নেওয়া হতো।
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
«فلمّا فرغ من أمر مسيلمة، في حروب الردّة، كانت مذبحة اليمامة قد أتت على كثير من المسلمين ومن بينهم عدد كبير من خير حفّاظ القرآن، هنالك ساورت عمر المخاوف في أمر الكتاب ونصوصه وما ربما يعلق بها من ريبة إذا أصاب المقدور من اختزنوه في ذاكرتهم فماتوا جميعا. إذ ذاك توجه إلى الخليفة أبي بكر بقوله:
«أخشى أن يستحرّ القتل كرّة أخرى بين حفّاظ القرآن في غير اليمامة من المغازي وأن يضيع لذلك كثير منه.
والرأي عندي أن تسارع فتأمر بجمع القرآن» . وأقرّ أبو بكر هذا الرأي، وأفضى برغبته في إنفاذه إلى زيد بن ثابت كبير كتّاب النبي وقال: «إنك رجل شابّ عاقل ولا نتّهمك. كنت تكتب الوحي لرسول الله صلى الله عليه وسلم، فتتّبع القرآن فاجمعه» . وإذ كان هذا العمل حدثا غير متوقع فقد اضطرب زيد بادئ الرأي، وخامره الريب في صلاحية الإقدام عليه، بل في مشروعيته. فلم يقم به محمد نفسه ولم يأمر أحدا بالقيام به. على أنه انتهى إلى النزول على ما أبدى أبو بكر وعمر من رغبة ملحّة. وجهد في جمع السور وأجزائها من كل جانب، وحتى لقد جمع ما كان منها على ورق الشجر وعلى الحجر الأبيض وفي صدور الرجال. ويضيف بعضهم أنه جمع كذلك منها ما كان على الورق وعلى الجلد وعلى عظام الكتف والضلع من الإبل والماعز. وظفرت جهود زيد المتصلة خلال سنتين أو ثلاث بجمع هذه المادة كلها وترتيبها على النحو الذي هي عليه اليوم، وعلى النحو الذي كان زيد يتلو عليه القرآن في حضرة محمد فيما يقولون. فلما كملت النسخة الأولى عهد بها عمر إلى صيانة حفصة ابنته وزوج النبي. وظل هذا الكتاب الذي جمعه زيد قائما طيلة خلافة عمر على أنه النص الصادق الصحيح.
«على أن الخلاف لم يلبث أن بدأ في طريقة التلاوة، ناشئا إما عن الخلاف السابق لنسخة زيد، وإما عن تحريف تسرّب إلى النسخ التي نقلت عن نسخته. وفزع العالم الإسلامي لذلك أيّما فزع. فالوحي الذي نزل من السماء «واحد» فأين الآن وحدته؟ ولقد حارب حذيفة في إرمينية وفي أذربيجان ولاحظ اختلاف القرآن عند السوريين عنه عند أهل العراق، فجزع لتعدّد ذلك ولمبلغ ما بينه من خلاف، إذ ذاك فزع إلى عثمان كما يتدخل «ليقف الناس حتى لا يختلفوا على كتابهم كما اختلف اليهود والنصارى» . واقتنع الخليفة.
وليدفع الضرّ لجأكرّة أخرى إلى زيد بن ثابت وعزّوة بثلاثة من قريش. وجيء بالنسخة الأولى من حيازة حفصة، وعرضت القراآت المختلفة من أنحاء الإمبراطورية، وروجعت كلها بأتم عناية للمرة الأخيرة. ولقد كان زيد إذا اختلف مع زملائه القرشيين رجح صوت هؤلاء أن كان التنزيل بلسان قريش، وإن قيل إن الوحي على سبع لهجات مختلفة من لهجات العرب. وأرسلت نسخ من هذا المصحف بعد تمام جمعه إلى جميع الأمصار في الإمبراطورية، وجمع ما بها من سائر النسخ بأمر الخليفة وأحرق. وردّت النسخة الأولى إلى حيازة حفصة.
«ووصل إلينا مصحف عثمان. وقد بلغت العناية بالمحافظة عليه أنّا لا نكاد نجد- بل لا نجد- أي خلاف بين النسخ التي لا عداد لها، والمنتشرة في أنحاء العالم الإسلامي الفسيحة. ومع ما أدى إليه مقتل عثمان نفسه بعد ربع قرن من وفاة محمد، من قيام شيع مغضبة ثائرة زعزعت ولا تزال تزعزع وحدة العالم الإسلامي، فإن قرآنا واحدا قد ظل دائما قرآنها جميعا. وهذا الإسلام منها جميعا لكتاب واحد على اختلاف العصور حجة قاطعة، على أن ما أمامنا اليوم إنما هو النص الذي جمع بأمر الخليفة السيء الحظ. والأرجح أن العالم كله ليس فيه كتاب غير القرآن ظل ثلاثة عشر قرنا كاملا بنصّ هذا مبلغ صفائه ودقّته. والقراآت المختلفة قليلة إلى حدّ يثير الدهشة. وهذا الاختلاف محصور أكثر أمره في نطق الحروف المتحركة أو في مواضع الوقف، وهذه مسائل أبدعت في تاريخ متأخر، فلا مساس لها بمصحف عثمان.
যখন রিদ্দার যুদ্ধে মুসায়লিমার বিষয়ের মীমাংসা হলো, তখন ইয়ামামার যুদ্ধে বহু মুসলিম শহীদ হলেন, যাদের মধ্যে অনেক শ্রেষ্ঠ কুরআন হাফেজ ছিলেন। তখন কুরআনের পাঠ ও এর লিপির বিশুদ্ধতা নিয়ে ওমরের মনে শঙ্কা জাগল যে, যারা এটি হৃদয়ে ধারণ করে রেখেছেন তাদের মৃত্যু হলে পাছে কোনো সন্দেহের উদ্রেক হয়। তখন তিনি খলিফা আবু বকরের নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন:
আমি আশঙ্কা করছি যে, ইয়ামামা ছাড়া অন্যান্য যুদ্ধক্ষেত্রগুলোতেও কুরআন হাফেজদের শাহাদাত বরণ অব্যাহত থাকবে এবং এর ফলে কুরআনের অনেক অংশ হারিয়ে যেতে পারে।
আমার অভিমত এই যে, আপনি দ্রুত কুরআন সংকলনের নির্দেশ প্রদান করুন। আবু বকর এই অভিমত গ্রহণ করলেন এবং এটি বাস্তবায়নের ইচ্ছা প্রকাশ করে নবীর প্রধান ওহী লেখক জায়েদ বিন সাবিতের নিকট ব্যক্ত করলেন। তিনি বললেন: ‘তুমি একজন বুদ্ধিমান যুবক এবং তোমার ব্যাপারে আমাদের কোনো সংশয় নেই। তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওহী লিখতে, সুতরাং তুমি কুরআনের অনুসন্ধান করো এবং তা সংকলন করো।’ যেহেতু এই কাজটি ছিল একটি অভূতপূর্ব ঘটনা, তাই জায়েদ প্রথমদিকে কিছুটা দ্বিধান্বিত হলেন এবং এই পদক্ষেপের বৈধতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে তার মনে সংশয় দেখা দিল। কারণ স্বয়ং মুহাম্মদ এটি করেননি এবং কাউকে করার নির্দেশও দেননি। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি আবু বকর ও ওমরের প্রবল আগ্রহের নিকট নতি স্বীকার করলেন। তিনি চারপাশ থেকে সূরার অংশবিশেষ সংগ্রহের প্রচেষ্টায় আত্মনিয়োগ করলেন, এমনকি তিনি গাছের পাতা, সাদা পাথর এবং মানুষের অন্তর থেকেও তা সংগ্রহ করলেন। কেউ কেউ যোগ করেন যে, তিনি চামড়া, উটের ও ছাগলের কাঁধের হাড় ও পাঁজরের হাড়ে লিখিত অংশগুলোও সংগ্রহ করেছিলেন। জায়েদের দুই বা তিন বছরের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় এই সমস্ত উপাদান সংগ্রহ এবং বর্তমানে আমরা যেভাবে দেখি সেই বিন্যাস অনুযায়ী সাজাতে তিনি সফল হলেন; যেমনটি বলা হয়ে থাকে যে, জায়েদ মুহাম্মদের উপস্থিতিতে যেভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতেন সেই পদ্ধতি অনুযায়ী তিনি এটি করেছিলেন। যখন প্রথম অনুলিপিটি সম্পন্ন হলো, ওমর তা সংরক্ষণের দায়িত্ব তাঁর কন্যা ও নবীর স্ত্রী হাফসার নিকট অর্পণ করলেন। জায়েদ কর্তৃক সংকলিত এই গ্রন্থটি ওমরের সমগ্র খিলাফতকাল জুড়ে প্রামাণিক পাঠ হিসেবে বিদ্যমান ছিল।
তবে শীঘ্রই তিলাওয়াতের পদ্ধতি নিয়ে মতভেদ শুরু হলো, যা হয় জায়েদের সংকলনের পূর্ববর্তী বৈচিত্র্য থেকে উদ্ভূত হয়েছিল, অথবা জায়েদের কপি থেকে অনুলিপি করার সময় কোনো বিচ্যুতি প্রবেশ করেছিল। এতে মুসলিম বিশ্ব অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। আকাশ থেকে অবতীর্ণ ওহী তো ‘এক’, তবে এখন এর ঐক্য কোথায়? হুজায়ফা আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানে যুদ্ধ পরিচালনার সময় লক্ষ্য করলেন যে, সিরীয়দের কুরআন পাঠ ইরাকিদের পাঠ থেকে ভিন্ন। এই বৈচিত্র্য এবং পার্থক্যের পরিমাণ দেখে তিনি ভীত হয়ে পড়লেন। তখন তিনি উসমানের কাছে ছুটে গেলেন যাতে তিনি হস্তক্ষেপ করেন এবং ‘মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেন যাতে তারা তাদের কিতাব নিয়ে ইহুদি ও নাসারাদের মতো মতভেদে লিপ্ত না হয়’। খলিফা এই প্রস্তাবে সম্মত হলেন।
বিপদ এড়াতে তিনি পুনরায় জায়েদ বিন সাবিতের শরণাপন্ন হলেন এবং কুরাইশ বংশীয় তিনজনকে তাঁর সহযোগী হিসেবে নিযুক্ত করলেন। হাফসার কাছে সংরক্ষিত মূল কপিটি নিয়ে আসা হলো এবং সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাঠভেদগুলো পেশ করা হলো এবং শেষবারের মতো অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সেগুলো পর্যালোচনা করা হলো। যখনই জায়েদ তাঁর কুরাইশী সাথীদের সাথে কোনো বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতেন, তখন কুরাইশদের মতকেই প্রাধান্য দেওয়া হতো, যেহেতু কুরআন কুরাইশদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে; যদিও বলা হয়ে থাকে যে ওহী আরবদের সাতটি ভিন্ন উপভাষায় অবতীর্ণ হয়েছিল। এই মুসহাফ সংকলন সমাপ্ত হওয়ার পর এর অনুলিপিগুলো সাম্রাজ্যের সমস্ত প্রধান শহরগুলোতে পাঠানো হলো এবং খলিফার নির্দেশে অন্যান্য সমস্ত অনুলিপি সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলা হলো। আর মূল কপিটি হাফসার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হলো।
উসমানের সেই মুসহাফ আমাদের কাছে পৌঁছেছে। এটি সংরক্ষণের ব্যাপারে এতই সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে যে, আমরা মুসলিম বিশ্বের বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য কপির মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পাই না—বলতে গেলে কোনো পার্থক্যই নেই। মুহাম্মদের ওফাতের ২৫ বছর পর খলিফা উসমানের শাহাদাতের ফলে উদ্ভূত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অস্থিরতা মুসলিম বিশ্বের ঐক্যকে নাড়া দিলেও, একটিমাত্র কুরআন সর্বদা তাদের সবার অভিন্ন ধর্মগ্রন্থ হিসেবে বিদ্যমান ছিল। যুগ যুগ ধরে একটিমাত্র কিতাবের প্রতি এই সর্বজনীন আনুগত্য একটি অকাট্য দলিল যে, আজ আমাদের সামনে যা আছে তা সেই টেক্সট যা খলিফার আদেশে সংকলিত হয়েছিল। সম্ভবত সারা বিশ্বে কুরআন ছাড়া এমন কোনো গ্রন্থ নেই যা তেরো শতাব্দী ধরে তার মূল পাঠে এমন বিশুদ্ধতা ও নির্ভুলতা বজায় রেখেছে। বিভিন্ন কিরাতের পার্থক্য এতটাই সামান্য যে তা বিস্ময় জাগায়। এই পার্থক্য মূলত স্বরবর্ণের উচ্চারণ অথবা থামা বা ওয়াকফের স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা পরবর্তীকালে উদ্ভাবিত হয়েছে এবং উসমানের মুসহাফের মূল পাঠের সাথে এর কোনো বিরোধ নেই।
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وحدة الإسلام في عهد عثمان«والآن، وقد تبين أن القرآن الذي نتلو هو نص مصحف عثمان لم يتغير، فعلينا أن نبحث: أهذا النص هو صورة مضبوطة لما جمع زيد بعد الاتفاق على إزالة ما كان في التلاوة من أوجه خلاف قليلة العدد قليلة الخطر؟ وكل ما لدينا مقنع تمام الإقناع بأن الأمر كذلك. فليس في الأنباء القديمة أو الجديرة بالتصديق ما يلقي على عثمان أية شبهة بأنه قصد إلى تحريف القرآن لتأييد أغراضه. صحيح أن الشيعة أدّعوا من بعد أنه أغفل بعض آيات تزكي عليّا. لكن العقل لا يسوغ هذا الزعم، فلم يكن قد نجم أي خلاف بين الأمريين والعلويين حين أقرّ مصحف عثمان، بل كانت وحدة الإسلام قائمة حينذاك لا يهدّدها شيء. ثم إن عليّا لم يكن قد صوّر مطالبه في صورتها الكاملة؛ فلم يكن غرض من الأغراض إذا ليدفع عثمان إلى ارتكاب إثم ينظر إليه المسلمون بعين المقت غاية المقت. ولقد كان عدد كبير ممن وعت قلوبهم القرآن كما سمعوه حين تلاه النبي أحياء حين جمع عثمان المصحف. فلو أن آيات تزكي عليّا كانت قد نزلت لوجدت نصوصها بين يدي أنصاره الكثيرين. وهذان السببان كانا كفيلين بالقضاء على كل محاولة لإغفال هذه الآيات. يضاف إلى ذلك أن شيعة علي استقلّوا بأمرهم بعد وفاة عثمان وبايعوا عليّا بالخلافة. أفيقبل العقل أنهم، وقد وصلوا إلى السلطة، يرضون عن قرآن مبتور، ومبتور قصدا للقضاء على أغراض زعيمهم!؟ مع ذلك ظلّوا يتلون القرآن الذي يتلوه خصومهم، ولم يثيروا أي ظل من الاعتراض عليه؟ بل إن عليّا أمر بأن تنشر نسخ كثيرة منه، ويقال إنه كتب بخط يده عددا منها. صحيح إن الثائرين قد جعلوا من أسباب انتقاضهم أن عثمان جمع القرآن وأمر بإهلاك ما سوى مصحفه من المصاحف. واعتراضهم إنما ينصب على إجراآت عثمان لذاتها ويعتبرونها محرّمة لا تجوز، لكن لم يشر أحد فيما وراء ذلك إلى تحريف في المصحف أو إبدال؛ فمثل هذا الزعم كان ظاهر الفساد يومئذ؛ وإنما أبدعه الشيعة من بعد لأغراضهم.
دقة مصحف عثمان وكمالهنستطيع أن نستنبط إذا مطمئنين أنّ مصحف عثمان كان وما زال صورة مضبوطة لما جمعه زيد بن ثابت، مع مزيد في التوفيق بين الروايات السابقة له وبين لهجة قريش، ثم استبعاد سائر القراآت التي كانت منتشرة في أنحاء المملكة. مع ذلك لا تزال أهمّ مسألة قائمة أمامنا، هذه المسألة هي: هل كان ما جمعه زيد صورة صادقة كاملة لما أوحي إلى محمد؟ والاعتبارات الآتية تبعث اليقين بأنه كان مجموعة صادقة بلغت من حيث إنها كاملة كل ما يمكن بلوغه يومئذ:
«أوّلا- تمّ الجمع الأول برعاية أبي بكر. وكان أبو بكر تابعا صادق الإخلاص لمحمد كما كان مؤمنا كامل الإيمان بالمصدر القدسي للقرآن؛ وكان اتصاله الحميم بالنبي خلال السنوات العشرين الأخيرة من حياته، ومظهره الخلافة مظهر البساطة والحكمة والتنزه عن المطامع، بحيث لا تدع موضعا لأي فرض آخر. وكان إيمانه بأن ما يوحى إلى صاحبه إنما يوحى إليه من الله ذاته، مما يجعل أول أغراضه أن يكفل جمع هذا الوحي كله مطهرا كاملا. ومثل هذا القول يصدق علي عمر، وقد تمّ الجمع في خلافته. وهذا القول يصدق كذلك على المسلمين يومئذ جميعا، لا تفاوت لديهم فيه بين الكاتبين الذين عاونوا على هذا الجمع وبين المؤمن الرقيق الحال الذي يحمل إلى زيد ما عنده من الوحي المكتوب على العظام أو على أوراق الشجر؛ فقد كانوا جميعا تتساوى رغبتهم الصادقة في استظهار العبارات والألفاظ التي تلاها عليهم نبيهم على أنها رسالة من عند الله. وقد كان الحرص على الدقة قائما بشعور الناس جميعا؛ لأنه لم ينغرس في نفوسهم شيء ما أنغرس
উসমানের যুগে ইসলামের ঐক্য«এখন, যেহেতু এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে যে আমরা যে কুরআন তিলাওয়াত করি তা উসমানের সংকলিত মুসহাফের অবিকৃত পাঠ, তাই আমাদের অনুসন্ধান করা প্রয়োজন: এই পাঠটি কি জায়েদ (রা.) কর্তৃক সেই সংকলনের একটি নির্ভুল রূপ, যা তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্বল্পসংখ্যক এবং কম গুরুত্বপূর্ণ মতভেদগুলো নিরসনের বিষয়ে ঐকমত্যের পর সম্পন্ন হয়েছিল? আমাদের কাছে যা কিছু তথ্য রয়েছে তা পুরোপুরি নিশ্চিত করে যে বিষয়টি এমনই ছিল। প্রাচীন বা নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদে উসমান (রা.)-এর প্রতি এমন কোনো সন্দেহ আরোপ করার কিছু নেই যে তিনি নিজের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কুরআনের বিকৃতি ঘটাতে চেয়েছিলেন। এটি সত্য যে শিয়ারা পরবর্তীতে দাবি করেছে যে তিনি আলীর (রা.) প্রশংসাসূচক কিছু আয়াত বাদ দিয়েছেন। কিন্তু যুক্তি এই দাবি সমর্থন করে না, কারণ উসমানের মুসহাফ যখন অনুমোদিত হয় তখন উমাইয়া ও আলবীয়দের (আলীর অনুসারী) মধ্যে কোনো বিরোধের সৃষ্টি হয়নি; বরং তখন ইসলামের ঐক্য অটুট ছিল যা কোনো কিছুর দ্বারাই হুমকির সম্মুখীন ছিল না। অধিকন্তু, আলী (রা.) তখনও তাঁর দাবিসমূহ পূর্ণাঙ্গরূপে পেশ করেননি; ফলে উসমান (রা.)-কে এমন এক পাপে প্ররোচিত করার মতো কোনো উদ্দেশ্য ছিল না যা মুসলিমরা চরম ঘৃণার চোখে দেখত। উসমান (রা.) যখন মুসহাফ সংকলন করেন, তখন এমন বহু লোক জীবিত ছিলেন যারা নবী (সা.)-এর নিকট থেকে তিলাওয়াত শোনার পর তা হৃদয়ে ধারণ করেছিলেন। আলীর (রা.) প্রশংসাসূচক কোনো আয়াত যদি নাযিল হতো, তবে তাঁর বহু অনুসারীর কাছেই সেই পাঠগুলো সংরক্ষিত থাকত। এই আয়াতগুলো বাদ দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা নস্যাৎ করার জন্য এই দুটি কারণই যথেষ্ট ছিল। এর সাথে আরও যোগ করা যায় যে, আলীর শিয়ারা (অনুসারীরা) উসমানের শাহাদাতের পর স্বাধীনভাবে নিজেদের কর্মপন্থা নির্ধারণ করেন এবং আলীর হাতে খিলাফতের বায়আত গ্রহণ করেন। যুক্তি কি এটি গ্রহণ করে যে, তারা ক্ষমতায় আসার পর এমন এক অপূর্ণাঙ্গ কুরআনের প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে যা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের নেতার উদ্দেশ্য নস্যাৎ করার জন্য বিকৃত করা হয়েছিল? তা সত্ত্বেও তারা সেই কুরআনই তিলাওয়াত করে আসছিলেন যা তাঁদের বিরোধীরা তিলাওয়াত করত এবং এর বিরুদ্ধে তারা কোনো প্রকার আপত্তির লেশমাত্র তোলেননি। বরং আলী (রা.) নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন এর বহু পাণ্ডুলিপি ছড়িয়ে দেওয়া হয়, এমনকি বলা হয় যে তিনি নিজ হাতে এর বেশ কিছু কপি লিখেছিলেন। এটি সত্য যে, বিদ্রোহীরা তাদের বিদ্রোহের অন্যতম কারণ হিসেবে উসমানের কুরআন সংকলন এবং তাঁর মুসহাফ ব্যতীত অন্য সব কপি ধ্বংস করার নির্দেশকে দায়ী করেছিল। তাদের আপত্তি ছিল মূলত উসমানের কর্মপদ্ধতির ওপর এবং তারা সেটিকে নিষিদ্ধ ও অবৈধ মনে করত; কিন্তু এর বাইরে কেউ মুসহাফে কোনো বিকৃতি বা পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করেনি। কারণ এই ধরনের দাবি তখনকার দিনে স্পষ্টতই ভিত্তিহীন প্রমাণিত হতো; বরং শিয়ারা পরবর্তীতে নিজেদের স্বার্থে এটি উদ্ভাবন করেছে।
উসমানের মুসহাফের নির্ভুলতা ও পূর্ণাঙ্গতাআমরা তাই নিশ্চিন্তে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে, উসমানের মুসহাফ জায়েদ ইবনে সাবিত কর্তৃক সংকলিত পাঠের একটি সুনির্দিষ্ট রূপ ছিল এবং আছে, যেখানে পূর্ববর্তী বর্ণনাগুলোর মধ্যে অধিকতর সমন্বয় সাধন এবং কুরাইশদের উপভাষাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল, আর সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা অন্যান্য কিরাতসমূহ (পাঠরীতি) বর্জন করা হয়েছিল। তবুও আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকে যায়, তা হলো: জায়েদ যা সংকলন করেছিলেন তা কি মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ ওহীর একটি সত্য ও পূর্ণাঙ্গ রূপ ছিল? নিম্নোক্ত বিবেচনাগুলো এই বিষয়ে নিশ্চিত করে যে এটি একটি সত্য সংকলন ছিল যা পূর্ণাঙ্গতার দিক থেকে তৎকালীন সময়ের সর্বোচ্চ সম্ভাব্য পর্যায়ে পৌঁছেছিল:
«প্রথমত- প্রথম সংকলনটি সম্পন্ন হয়েছিল আবু বকর (রা.)-এর তত্ত্বাবধানে। আবু বকর (রা.) ছিলেন মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি একনিষ্ঠ অনুরাগী এবং কুরআনের ঐশ্বরিক উৎসের প্রতি পূর্ণ ঈমানদার; নবীর জীবনের শেষ বিশ বছর তাঁর সাথে আবু বকরের নিবিড় সম্পর্ক এবং খিলাফতের দায়িত্ব পালনে তাঁর সরলতা, প্রজ্ঞা ও নির্লোভ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অন্য কোনো ধারণার অবকাশ রাখে না। তাঁর এই বিশ্বাস ছিল যে তাঁর সঙ্গীর ওপর যা ওহী নাযিল হচ্ছে তা খোদ আল্লাহর পক্ষ থেকেই নাযিল হচ্ছে, যা ওহীর এই সমগ্র অংশকে সম্পূর্ণ পবিত্র ও পূর্ণাঙ্গ রূপে সংরক্ষিত করাকে তাঁর প্রধান উদ্দেশ্যে পরিণত করেছিল। এই কথা উমর (রা.)-এর ক্ষেত্রেও সত্য, এবং তাঁর খিলাফতেই এই সংকলন সম্পন্ন হয়েছিল। এই কথা তৎকালীন সকল মুসলিমদের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য; যারা এই সংকলন কাজে সহযোগিতা করেছিলেন সেই কাতিবগণ (লেখক) এবং হাড় বা গাছের পাতায় লিখিত ওহী জায়েদের কাছে নিয়ে আসা সাধারণ মুমিনদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো পার্থক্য ছিল না। কারণ আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত বার্তা হিসেবে তাদের নবী তাদের সামনে যে বাক্য ও শব্দগুলো পাঠ করতেন, তা অবিকল সংরক্ষণের বিষয়ে তাদের সবার মধ্যেই একনিষ্ঠ ও সমপর্যায়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল। নির্ভুলতা বজায় রাখার এই সতর্কতা প্রতিটি মানুষের চেতনায় জাগ্রত ছিল; কারণ তাদের অন্তরে অন্য কোনো কিছুর চেয়ে এই বোধটিই সবচেয়ে গভীরভাবে প্রোথিত ছিল।
(খণ্ড: ১)
হায়াতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
هذا التقديس المرهب لما يعتقدونه كلمة الله. وفي القرآن نذر للذين يفترون على الله الكذب أو يخفون شيئا من وحيه. ولسنا نستطيع أن نصدّق أن يجرؤ المسلمون الأوّلون، في حماستهم الأولى لدينهم وتقديسهم إياه، على التفكير في أمر ذلك مبلغة من مجافاة الإيمان.
«ثانيا- تمّ الجمع خلال سنتين أو ثلاث سنين بعد وفاة محمد؛ وقد رأينا طائفة من أتباعه يحفظون الوحي كله عن ظهر قلب، وأن كل واحد من المسلمين كان يحفظ طائفة منه، وأن جماعة من القراء كانت تعيّنهم الدولة وتبعث بهم إلى أنحاء المملكة الإسلامية لإقامة الشعائر ولتفقيه الناس في الدين. من هؤلاء جميعا تكوّنت حلقة اتّصال بين ما تلا محمد من الوحي يوم تلاه وبين ما جمعه زيد. فالمسلمون لم يكونوا صادقي القصد في جمع القرآن كله في مصحف واحد فحسب، بل كانت لديهم كذلك كل الوسائل التي تكفل تحقيق هذا الغرض، وتكفل تحقيق ما اجتمع في الكتاب الذي وضع بين أيديهم بعد جمعه من دقّة وكمال.
«ثالثا- ولدينا ضمان أوفى للدقة والكمال. ذلك ما كان موجودا منذ حياة محمد من أجزاء القرآن المكتوبة، والتي كثر لا شك عدد نسخها قبل جمع القرآن. وأكثر الأمر أن هذه النسخ كانت موجودة في حيازة جميع الذين يستطيعون القراءة. أما ونحن نعرف أن ما جمعه زيد قد تداوله الناس وتلوه بعد جمعه مباشرة.
فمن المعقول أن نستنبط أنه تناول ما احتوته هذه الأجزاء المكتوبة جميعا واتفق معها؛ لذلك حلّ محلّها بإقرارهم جميعا. فلم يتصل بنا أن الجامعين أغفلوا أجزاء أو آيات أو ألفاظا، أو أن شيئا مما كان موجودا من هذه اختلف عما حواه المصحف الذي جمع. ولو أن شيئا من ذلك كان، للوحظ بلا ريب ولدوّن في هذه المساند القديمة التي احتوت أدقّ أعمال محمد وأقواله، والتي لم تغافل منها حتى ما كان قليل الخطر.
«رابعا- محتويات القرآن ونظامه تنطق في قوة بدقة جمعه؛ فقد ضمّت الأجزاء المختلفة بعضها إلى بعض ببساطة تامة لا تعمّل ولا فنّ فيها. وهذا الجمع لا أثر فيه ليد تحاول المهارة أو التنسيق. وهو يشهد بإيمان الجامع وإخلاصه لما يجمع، فهو لم يجرؤ على أكثر من تناول هذه الآيات المقدسة ووضع بعضها إلى جانب بعض.
«والنتيجة التي نستطيع الاطمئنان إلى ذكرها هي أن مصحف زيد وعثمان لم يكن دقيقا فحسب، بل كان، كما تدلّ الوقائع عليه، كاملا، وأن جامعيه لم يتعمدوا إغفال أيّ من الوحي. ونستطيع كذلك أن نؤكد، استنادا إلى أقوى الأدلّة، أن كل آية من القرآن دقيقة في ضبطها كما تلاها محمد» .
أطلنا في اقتطاف عبارات «سيروليم موير» كما وردت في مقدمة كتابه «حياة محمد» «1» . على أن ما اقتطفناه يغنينا عن ذكر ما كتبه «الأب لامنس» و «هون هامر» ومن يرون هذا الرأي من المستشرقين. هؤلاء جميعا يقطعون بدقة القرآن الذي نتلوه اليوم، وبأنه يحتوي كل ما تلاه محمد على أنه الوحي الذي تلقاه من ربه صادقا كاملا. فإذا ذهبت بعد ذلك قلة من المستشرقين غير مذهبهم وزعموا القرآن حرّف، غير آبهين لهذه الأدلة العقلية التي ساقها «موير» وكثرة المستشرقين، والتي أخذوها عن التاريخ الإسلامي والعلماء المسلمين كان ذلك تجنيا على الإسلام لم يمله غير الحقد على الإسلام وعلى صاحب الرسالة الإسلامية. ومهما يبلغ المتجنون من البراعة في صياغة تجنّيهم فلن يستطيعوا أن يخلعوا عليه ثوب البحث العلمي النزيه، ولن يستطيعوا
--------------------------------------------
আল্লাহর বাণীর প্রতি তাদের এই সুগভীর ও ভীতিমিশ্রিত শ্রদ্ধা। কুরআনে তাদের জন্য সতর্কবার্তা রয়েছে যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ করে অথবা তাঁর ওহীর কোনো কিছু গোপন করে। আমরা বিশ্বাস করতে পারি না যে, প্রাথমিক যুগের মুসলমানগণ তাদের ধর্মের প্রতি প্রারম্ভিক আবেগ ও শ্রদ্ধাবোধ থাকা সত্ত্বেও এমন কোনো বিষয়ে চিন্তা করার সাহস করবেন যা ঈমান থেকে এত দূরে।
«দ্বিতীয়ত- মুহাম্মাদ-এর ইন্তেকালের দুই বা তিন বছরের মধ্যে কুরআন সংকলন সম্পন্ন হয়েছিল; আমরা দেখেছি যে তাঁর অনুসারীদের একটি দল সম্পূর্ণ ওহী মুখস্থ রাখতেন এবং প্রত্যেক মুসলিমই এর কিছু অংশ মুখস্থ রাখতেন। ক্বারীগণের একটি দল রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত হতেন এবং তাঁদেরকে ইসলামী সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হতো ইবাদত পরিচালনার জন্য এবং মানুষকে দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য। এই সবার মাধ্যমেই মুহাম্মাদ যখন ওহী তিলাওয়াত করতেন সেই সময়ের সাথে যায়েদের সংকলনের সময়ের মধ্যে একটি যোগসূত্র তৈরি হয়েছিল। মুসলমানগণ কেবল একটি পাণ্ডুলিপিতে সম্পূর্ণ কুরআন সংকলনের ক্ষেত্রে নিয়তের দিক থেকে সত্যনিষ্ঠই ছিলেন না, বরং তাদের নিকট এমন সব উপায়-উপকরণও ছিল যা এই উদ্দেশ্য অর্জনের নিশ্চয়তা দেয় এবং সংকলনের পর তাদের সামনে যে কিতাবটি রাখা হয়েছিল তার নির্ভুলতা ও পূর্ণতা নিশ্চিত করে।
«তৃতীয়ত- আমাদের কাছে নির্ভুলতা ও পূর্ণতার জন্য আরও বলিষ্ঠ গ্যারান্টি রয়েছে। তা হলো মুহাম্মাদ-এর জীবদ্দশা থেকেই কুরআনের লিখিত অংশসমূহ বিদ্যমান থাকা, যার কপির সংখ্যা কুরআন সংকলনের পূর্বেই নিঃসন্দেহে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই কপিগুলো যারা পড়তে জানতেন তাদের সবার কাছেই ছিল। আর আমরা জানি যে যায়েদ যা সংকলন করেছিলেন তা সংকলনের পরপরই মানুষের হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তারা তা তিলাওয়াত করেছিল।
সুতরাং এটি যৌক্তিক যে, তিনি (যায়েদ) এই সমস্ত লিখিত অংশে যা ছিল তা গ্রহণ করেছিলেন এবং তার সংকলন এগুলোর সাথে সংগতিপূর্ণ হয়েছিল; এজন্যই সবার সম্মতিক্রমে এটি পূর্বের খণ্ডগুলোর স্থলাভিষিক্ত হয়। আমাদের কাছে এমন কোনো তথ্য পৌঁছায়নি যে, সংকলকগণ কোনো অংশ, আয়াত বা শব্দ বাদ দিয়েছেন, অথবা যা আগে বিদ্যমান ছিল তার সাথে সংকলিত মাসহাফের কোনো অমিল ছিল। যদি সেরকম কিছু হতো, তবে তা নিঃসন্দেহে লক্ষ্য করা হতো এবং সেই প্রাচীন মুসনাদগুলোতে লিপিবদ্ধ হতো যাতে মুহাম্মাদ-এর সূক্ষ্মতম কাজ ও কথা সংরক্ষিত আছে এবং যাতে এমনকি সামান্য গুরুত্বের বিষয়গুলোও এড়িয়ে যাওয়া হয়নি।
«চতুর্থত- কুরআনের বিষয়বস্তু এবং এর বিন্যাস অত্যন্ত জোরালোভাবে এর সংকলনের নির্ভুলতার সাক্ষ্য দেয়; এর বিভিন্ন অংশগুলো একে অপরের সাথে অত্যন্ত সহজভাবে যুক্ত করা হয়েছে যাতে কোনো কৃত্রিমতা বা কারুকার্য নেই। এই সংকলনের কোথাও এমন কোনো চিহ্ন নেই যা নির্দেশ করে যে কোনো হাত এখানে দক্ষতা বা বিন্যাস প্রদর্শনের চেষ্টা করেছে। এটি সংকলকের ঈমান এবং তিনি যা সংকলন করছেন তার প্রতি তাঁর একনিষ্ঠতার সাক্ষ্য দেয়; কেননা এই পবিত্র আয়াতগুলো গ্রহণ করা এবং একটির পাশে অন্যটি রাখা ছাড়া তিনি আর কিছু করার সাহস করেননি।
«আমরা নিশ্চিন্তে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি তা হলো— যায়েদ ও উসমানের মাসহাফ কেবল নির্ভুলই ছিল না, বরং ঘটনাবলী যেমন প্রমাণ করে, এটি ছিল পূর্ণাঙ্গ; এবং সংকলকগণ ইচ্ছাকৃতভাবে ওহীর কোনো অংশ বাদ দেননি। আমরা একইভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রমাণের ভিত্তিতে এটি নিশ্চিত করতে পারি যে, কুরআনের প্রতিটি আয়াত এর শব্দশৈলীতে ঠিক তেমনই নির্ভুল যেমনটি মুহাম্মাদ তিলাওয়াত করেছিলেন।»।
আমরা ‘স্যার উইলিয়াম ম্যুর’-এর তাঁর ‘লাইফ অফ মুহাম্মাদ’ গ্রন্থের ভূমিকায় বর্ণিত বক্তব্য উদ্ধৃত করতে দীর্ঘ সময় নিয়েছি। তবে আমরা যা উদ্ধৃত করেছি তা আমাদের ‘ফাদার ল্যামেন্স’ এবং ‘ভন হ্যামার’ ও সেই সব প্রাচ্যবিদদের কথা উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্ত করেছে যারা এই একই মত পোষণ করেন। তাঁরা সবাই আজ আমরা যে কুরআন তিলাওয়াত করি তার নির্ভুলতার ব্যাপারে এবং এতে মুহাম্মাদ তাঁর রবের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ওহী হিসেবে যা তিলাওয়াত করেছিলেন তার সবই সত্য ও পূর্ণাঙ্গভাবে বিদ্যমান থাকার ব্যাপারে একমত। এরপরও যদি গুটিকতক প্রাচ্যবিদ তাদের ভিন্ন মত পোষণ করেন এবং দাবি করেন যে কুরআন বিকৃত হয়েছে—ম্যুর এবং অধিকাংশ প্রাচ্যবিদের উপস্থাপিত এই সব যৌক্তিক প্রমাণকে তোয়াক্কা না করে, যা তাঁরা ইসলামী ইতিহাস এবং মুসলিম আলেমদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন—তবে তা হবে ইসলামের প্রতি এমন এক অপবাদ যা ইসলাম এবং ইসলামের রাসূলের প্রতি বিদ্বেষ ছাড়া আর কিছুই নয়। এই অপবাদকারীরা তাদের অপবাদ সাজাতে যত নিপুণতাই অর্জন করুক না কেন, তারা কখনোই একে নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক গবেষণার রূপ দিতে পারবে না এবং তারা সক্ষম হবে না
--------------------------------------------