(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: -)
حدائق الأنوار ومطالع الأسرار في سيرة النبي المختار   (بحرق اليمني)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: حدائق الأنوار ومطالع الأسرار في سيرة النبي المختار

المؤلف: محمد بن عمر «بَحْرَق» الحضرمي الشافعي (869 - 930 هـ)

اعتنى به: محمد غسان نصوح عزقول

الناشر: دار المنهاج - جدة

الطبعة: الثانية، 1424 هـ - 2003 م

عدد الصفحات: 591

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হাদায়েকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফি সিরাতিন নাবিয়্যিল মুখতার (মনোনীত নবীর জীবনীতে নূরের বাগান ও রহস্যের উদয়স্থল)   (বাহরাক আল-ইয়ামানি)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী


গ্রন্থ: হাদায়েকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফি সিরাতিন নাবিয়্যিল মুখতার

লেখক: মুহাম্মদ বিন উমর «বাহরাক» আল-হাদরামি আশ-শাফেয়ি (৮৬৯ - ৯৩০ হি.)

সম্পাদনায়: মুহাম্মদ গাসসান নাসুহ আজকুল

প্রকাশক: দারুল মিনহাজ - জেদ্দা

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৪ হি. - ২০০৩ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৯১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌كلمة لابد منها

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الّذي أكرم هذه الأمّة بالخيريّة، فكانت خير أمّة أخرجت للنّاس. والصّلاة والسّلام على سيّد الجنّ والنّاس؛ سيّدنا محمّد، وعلى آله وأصحابه المطهّرين عن الأدناس. وبعد:

فإنّنا- وبين كتابنا هذا- هناك الكثير من الأمور الّتي قابلتنا، والشّؤون والشّجون الّتي اعترضتنا، والّتي تحتّم علينا لزاما التّوضيح والتّبيان.

فبعد أن فرغنا من تحقيق هذا الكتاب المبارك، الّذي نقدّمه للقارئ الكريم، والّذي أخذ من الوقت والجهد ما الله به عليم، وأصبح في مراحله النّهائية- البروفة الأخيرة- فوجئنا وعند مراجعتنا لبعض الأحداث الواردة فيه، على كتاب آخر مطبوع تحت اسم «حدائق الأنوار» لابن الدّيبع، حقّقه الشّيخ عبد الله الأنصاريّ- على الجميع رحمة الله- فلاحظنا بعض التّشابه في الكتابة بين الكتابين لنفس الحادثة، فظنّنا أنّه من باب سقوط الحافر على الحافر، فأخذنا جزيئة أخرى من الكتاب، فوجدنا أنّ النّصّ هو هو.

عندها كان لا بدّ لنا من زيادة الاهتمام والبحث في الموضوع، فعدنا إلى أوّل الكتاب، فوجدنا أنّ الكتاب هو نفس الكتاب، والفرق فقط هو في اسم المؤلّف، والّذي حقّقه الشّيخ الأنصاريّ- رحمه الله تعالى- معتمدا نسخة خطيّة من مجموع به عدّة كتب أكثرها لابن الدّيبع، وأنّ هذا الكتاب قد نسب في المخطوط المذكور لابن الدّبيع.

مع العلم بأنّ الشّيخ الأنصاريّ- رحمه الله تعالى- عندما ترجم لابن الدّبيع واستعرض مؤلّفاته ذكر أنّه لم يجد ممّن ترجم له ذكر كتاب سيرته هذا، وعلّل ذلك بأنّ مترجميه قد أغفلوا هذا الكتاب، أو لم يشتهر أمره. وأضاف قائلا: (ونرجو من الله أن يوفّقنا لجمع معلومات تفيدنا أكثر في توثيق هذه السّيرة وصلتها بابن الدّيبع في المستقبل، ممّا سيجتمع إلينا من آراء القرّاء الكرام الّتي نأمل أن يوافونا بها، وبما سنتوصّل إليه في المستقبل إن شاء الله) .

بل إنّ المخطوط الّذي اعتمده الأنصاريّ- رحمه الله قد اعتراه نقص في بعض الأسطر في بداية الكتاب، والمذكور فيها- أي: في المخطوطين المعتمدين لدينا- اسم الكتاب وأنّه مهدى لأحد ملوك الهند. وقد صرّح- رحمه الله بذلك- مشيرا إلى مواضع النّقص- قائلا: (فالبياض في الموضع الأوّل أخفى عنّا معرفة الملك الّذي قدّم إليه- المؤلّف- هذا الكتاب ووسمه باسمه
একটি অপরিহার্য কথা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এই উম্মতকে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দান করেছেন, ফলে এটি মানবজাতির কল্যাণে আবির্ভূত শ্রেষ্ঠ উম্মতে পরিণত হয়েছে। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক জিন ও ইনসানের সরদার, আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল প্রকার পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র সাহাবীগণের প্রতি। অতঃপর:

আমাদের এই কিতাবটি সম্পাদনার কাজ চলাকালীন এমন অনেক বিষয় আমাদের সামনে এসেছে এবং এমন অনেক ঘটনা ও পরিস্থিতির আমরা সম্মুখীন হয়েছি, যা আমাদের জন্য বিষয়টি পরিষ্কার ও ব্যাখ্যা করা অপরিহার্য করে তুলেছে।

আমরা যখন এই বরকতময় কিতাবটির সম্পাদনার (তাহকীক) কাজ শেষ করলাম, যা আমরা সম্মানিত পাঠকদের খেদমতে পেশ করছি এবং যার পেছনে যে পরিমাণ সময় ও শ্রম ব্যয় হয়েছে তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন—যখন এটি তার চূড়ান্ত পর্যায়ে (শেষ প্রুফ দেখার সময়) পৌঁছাল, তখন এতে বর্ণিত কিছু ঘটনা পর্যালোচনাকালে ইবনুল দাইবা রচিত 'হাদায়িকুল আনোয়ার' নামে মুদ্রিত অপর একটি কিতাব দেখে আমরা বিস্মিত হলাম, যা শেখ আবদুল্লাহ আল-আনসারী (আল্লাহ সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সম্পাদনা করেছেন। আমরা লক্ষ্য করলাম যে, একই ঘটনার বর্ণনায় উভয় কিতাবের লেখার মধ্যে কিছু সাদৃশ্য রয়েছে। প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম এটি হয়তো কোনো কাকতালীয় মিল, কিন্তু যখন আমরা কিতাবটির অন্য একটি অংশ মিলিয়ে দেখলাম, তখন দেখতে পেলাম যে মূল পাঠ্য হুবহু এক।

তখন আমাদের জন্য এ বিষয়ে অধিকতর গুরুত্ব প্রদান ও অনুসন্ধান করা আবশ্যক হয়ে পড়ল। আমরা কিতাবটির শুরুতে ফিরে গেলাম এবং দেখতে পেলাম যে কিতাবটি আসলে একই কিতাব, পার্থক্য শুধু লেখকের নামে। শেখ আনসারী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) একটি পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে এটি সম্পাদনা করেছেন যা একাধিক কিতাবের একটি সংকলন ছিল এবং যার অধিকাংশ কিতাবই ছিল ইবনুল দাইবা-র। উক্ত পাণ্ডুলিপিতে এই কিতাবটিও ইবনুল দাইবা-র রচনা হিসেবে উল্লেখ ছিল।

উল্লেখ্য যে, শেখ আনসারী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) যখন ইবনুল দাইবা-র জীবনী লিখেছেন এবং তাঁর রচনাবলি পর্যালোচনা করেছেন, তখন তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইবনুল দাইবা-র জীবনীকারদের মধ্যে কাউকে তিনি এই সীরাত গ্রন্থটির কথা উল্লেখ করতে দেখেননি। তিনি এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, হয়তো জীবনীকারগণ এই কিতাবটি সম্পর্কে এড়িয়ে গেছেন অথবা এর বিষয়টি তেমন প্রসিদ্ধি লাভ করেনি। তিনি আরও বলেছেন: (আমরা আল্লাহর কাছে আশা রাখি যে, তিনি ভবিষ্যতে এই সীরাতের প্রামাণিকতা এবং ইবনুল দাইবা-র সাথে এর সম্পর্কের বিষয়ে আমাদের আরও তথ্য সংগ্রহ করার তাওফীক দেবেন, যা সম্মানিত পাঠকদের মতামতের মাধ্যমে আমাদের কাছে সংগৃহীত হবে এবং ভবিষ্যতে ইনশাআল্লাহ আমরা যা জানতে পারব তার মাধ্যমেও তা সমৃদ্ধ হবে)।

প্রকৃতপক্ষে, আনসারী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) যে পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছিলেন, তার শুরুর দিকের কিছু লাইনে অসম্পূর্ণতা ছিল। অথচ আমাদের কাছে থাকা দুটি পাণ্ডুলিপিতে যেখানে কিতাবটির নাম এবং এটি ভারতের জনৈক বাদশাহর প্রতি উৎসর্গ করার বিষয়টি স্পষ্ট উল্লেখ আছে। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) অসম্পূর্ণ জায়গাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে এটি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন এবং বলেছেন: (প্রথম স্থানের শূন্যতা আমাদের কাছে সেই বাদশাহর পরিচয় অস্পষ্ট করে দিয়েছে, যাঁর কাছে লেখক এই কিতাবটি পেশ করেছিলেন এবং তাঁর নামে নামকরণ করেছিলেন...)
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ৬)
ورسمه برسمه، والبياض في الموضع الثّاني حجب عنّا معرفة اسم الكتاب على وجه التّحقيق والتّأكيد) .

ومع هذا كلّه نرى أنّ الأنصاريّ- رحمه الله قد ذكر أثناء وصفه للمخطوط الّذي اعتمده- والّذي هو ضمن مجموع لكتب أخرى لابن الدّيبع- فقال: (عنوان الكتاب معلّق بخطّ الثّلث الجميل. وأرجّح أنّ هذه العنونة مستحدثة، يعود تاريخ كتابتها إلى زمن متأخّر عن زمن نسخها) .

ولعلّ التّشابه في بعض الأمور قد أوصل الأنصاريّ- رحمه الله إلى ما وصل إليه.

وكم كنّا نأمل أن يكون الشّيخ الأنصاريّ بين ظهرانينا ليطّلع على ما توصّلنا إليه من معلومات كانت ستثلج صدره وتقرّبها عينه. عليه رحمة الله «1» .

يحسن بنا أن نشير هنا إلى أنّنا قد أطلعنا الأستاذ المحقق عبد الله بن محمّد الحبشي على ما توصّلنا إليه، فتكرّم بكتابة تمهيد لهذا الكتاب المبارك، ساهم في تبيان الحقيقة وإزالة اللّبس. فجزاه الله عنّا خيرا، ووفّقه وسدّد خطاه.

وإنّني وكلّي فرح وسرور بهذا الاكتشاف الّذي أعاد الحقوق لأهلها، وأوضح أمرا في غاية الأهمّيّة حول نسبة هذا الكتاب، أتوجّه إلى الله تعالى أن يكلّل أعمالنا ومساعينا وجميع أمورنا بالتّوفيق «2» .

ويحسن بي أيضا أن أجري في هذه العجالة مقارنة بين طبعة الأنصاريّ- رحمه الله تعالى- وبين طبعتنا هذه؛ ذاكرا مميّزاتها:

1- اعتمد الأنصاريّ على مخطوط واحد فقط، فقال: (تعرّض المجموع لعمل الأرضة، فأحدثت فيه ثقوبا اخترقت المجموع من الغلاف إلى الغلاف، وأحدثت فيه ضررا بالغا، وأتت على بعض الكلمات فاقتطعتها) . وقد بذل- رحمه الله جهدا كبيرا بإثبات النّقص الّذي أصاب المخطوط، معارضا الكتاب على أصوله الّتي نهل المؤلّف منها، مجتهدا بتصويب التّصحيف وإصلاح الخلل، وبما أنّه اعتمد على نسخة ناقصة وسقيمة فلم تأت تصويباته كاملة في معظم المواطن. بينما اعتمدنا نحن على مخطوطين كاملين ليس بهما أيّ نقص أو خرم، فجاء الكتاب أكثر ضبطا وأقرب إلى الصّواب.

--------------------------------------------

(1) كانت وفاة الشّيخ عبد الله إبراهيم الأنصاريّ نهاية سنة 1410 هـ رحمه الله تعالى.

(2) كذلك- وقبل طبع هذا الكتاب المبارك- فإنّنا قد اكتشفنا ما يزيل أيّ شكّ ربّما يطرأ- مع ما توفّر من الأدلّة السّابقة- فقد عثرنا على كتاب «مولد النّبيّ صلى الله عليه وسلم» للعلّامة (بحرق) محفوظا في مكتبة الأسد الوطنيّة بدمشق؛ من خلال ثلاث نسخ خطيّة، ذوات الأرقام: (8571) ، (10799) ، (11372) ؛ وبعد اطلاعنا عليها وجدنا تطابقا في بداية «المولد» مع فصل (خطبة في التّعريف بمولده الشّريف) من هذا الكتاب، ص 53 وهذا التّطابق كلمة بكلمة وحرف بحرف؛ ممّا يؤكد دون أدنى شكّ أنّ هذا الكتاب للعلّامة (بحرق) - رحمه الله تعالى- ولله الحمد على ما أنعم وألهم. اه الناشر.
এবং তাঁর চিত্রণের মাধ্যমে, আর দ্বিতীয় স্থানের শূন্যতা আমাদের থেকে বইটির নাম নিশ্চিত ও সুদৃঢ়ভাবে জানার বিষয়টিকে আড়াল করে দিয়েছে।

এতসব সত্ত্বেও আমরা দেখি যে, আনসারী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তিনি যে পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন—যা ইবনে আদ-দাইবা-র অন্যান্য বইয়ের একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত ছিল—তার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন: (বইটির শিরোনাম সুন্দর সুলুস লিপিতে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। আমি মনে করি যে, এই শিরোনামটি পরবর্তীকালে সংযোজিত হয়েছে, এর লিখনের সময়কাল পাণ্ডুলিপিটি নকল করার অনেক পরের সময়ের।)

সম্ভবত কিছু বিষয়ের সাদৃশ্যই আনসারীকে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে।

আমরা কতই না আশা করেছিলাম যে, শেখ আনসারী যদি আমাদের মধ্যে জীবিত থাকতেন তবে আমরা যেসব তথ্য পেয়েছি তা তিনি দেখতে পারতেন, যা তাঁর অন্তরকে শীতল করত এবং তাঁর চোখকে জুড়াত। তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক «১» ।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আমরা আমাদের প্রাপ্ত তথ্যের ব্যাপারে গবেষক উস্তাদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-হাবাশীকে অবগত করেছি। তিনি অনুগ্রহ করে এই বরকতময় বইটির জন্য একটি ভূমিকা লিখে দিয়েছেন, যা সত্য প্রকাশে এবং অস্পষ্টতা দূর করতে সহায়তা করেছে। আল্লাহ তাঁকে আমাদের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁকে তাওফিক দান করুন এবং তাঁর পদক্ষেপসমূহকে সুদৃঢ় করুন।

এই আবিষ্কারে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও প্রফুল্ল, যা প্রকৃত হকদারদের কাছে তাঁদের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে এবং এই বইটির সম্পর্কের বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সকল কাজ, প্রচেষ্টা এবং যাবতীয় বিষয়কে সফলতায় ভূষিত করেন «২» ।

এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে আনসারীর (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সংস্করণ এবং আমাদের এই সংস্করণের মধ্যে একটি তুলনামূলক আলোচনা করা এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি:

১- আনসারী মাত্র একটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন। তিনি বলেছেন: (সংকলনটি উইপোকার আক্রমণের শিকার হয়েছিল, যা মলাট থেকে মলাট পর্যন্ত ছিদ্র করে ফেলেছিল এবং এতে মারাত্মক ক্ষতি সাধন করেছিল। কিছু শব্দ খেয়ে ফেলায় সেগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল)। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) পাণ্ডুলিপিটিতে বিদ্যমান ঘাটতিগুলো পূরণ করার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন। লেখক যে মূল উৎসগুলো থেকে তথ্য নিয়েছেন সেগুলোর সাথে মিলিয়ে তিনি ভুল সংশোধন এবং ত্রুটি সংস্কারের চেষ্টা করেছেন। যেহেতু তিনি একটি অসম্পূর্ণ এবং ত্রুটিপূর্ণ পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছিলেন, তাই অধিকাংশ স্থানে তাঁর সংশোধনীগুলো পূর্ণাঙ্গ হতে পারেনি। পক্ষান্তরে, আমরা দুটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি যাতে কোনো ঘাটতি বা ত্রুটি নেই। ফলে বইটি অনেক বেশি নির্ভুল এবং সঠিক হওয়ার অধিক কাছাকাছি হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) শেখ আব্দুল্লাহ ইব্রাহিম আনসারীর মৃত্যু হয়েছে ১৪১০ হিজরীর শেষ দিকে। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

(২) একইভাবে—এই বরকতময় বইটি ছাপানোর আগে—আমরা এমন কিছু আবিষ্কার করেছি যা পূর্ববর্তী প্রমাণাদির পাশাপাশি অবশিষ্ট যে কোনো সন্দেহকেও দূর করে দেবে। আমরা দামেস্কের আসাদ ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আল্লামা (বাহরাক)-এর «মাওলিদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম» বইটি তিনটি পাণ্ডুলিপির মাধ্যমে খুঁজে পেয়েছি, যেগুলোর নম্বর হলো: (৮৫৭১), (১০৭৯৯), (১১৩৭২)। সেগুলো পর্যালোচনার পর আমরা দেখতে পাই যে, ‘মাওলিদ’-এর শুরুর অংশটি এই বইয়ের ৫৩ পৃষ্ঠার (খুতবা ফিত-তারিফি বিমাওলিদিহিশ শরিফ) পরিচ্ছেদের সাথে হুবহু মিলে যায়। এই মিল শব্দে শব্দে এবং অক্ষরে অক্ষরে; যা কোনো প্রকার সন্দেহ ছাড়াই নিশ্চিত করে যে, এই বইটি আল্লামা বাহরাকের (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)। আল্লাহ যা নেয়ামত ও ইলহাম দান করেছেন তার জন্য সমস্ত প্রশংসা তাঁরই। ইতি- প্রকাশক।
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ৭)
2- أحال- رحمه الله نصوص الكتاب على أصولها ما استطاع، وخرّج معظم الأحاديث فيه، وقام بإتمام الأخبار الّتي اختصرها المؤلّف، ذاكرا ذلك في الهامش، ممّا زاد في حجم الكتاب كثيرا- حتّى وصل إلى ثلاث مجلدات. بينما قمنا بإحالة نصوص الكتاب على مصادرها الأصليّة، وتخريج الأحاديث كلّها، وذلك بشكل مفيد ومختصر، فجاءت طبعتنا في مجلد واحد. وقد استفدنا من بعض تعليقاته فأثبتناها بالهامش وميّزناها ب (أنصاريّ) .

3- ربّما وجدنا تناقضا لم يجمع عليه أهل السّير أثناء معارضة الكتاب على مصادره، فلم يعلّق- رحمه الله عليها بشيء. بينما وجدنا من الأمانة العلميّة أن نشير إلى ذلك بالهامش.

4- مرّ معنا- في أثناء الكتاب- بعض الرّوايات الواهية السّاقطة سندا ومتنا وعقلا ونقلا- كقصّة زواج النّبيّ صلى الله عليه وسلم بزينب بنت جحش- والّتي وقعت في بعض كتب القصص والتّفسير والسّير، وقد تذرّع بها أعداء الإسلام في التّهجّم على الإسلام ونبيّه، ونسج المستشرقون والمبشّرون من هذه الرّواية وغيرها أثوابا من الكذب والخيال معتمدين بذلك على هذه الرّوايات المختلقة المدسوسة- عند أئمّة النّقد وعلماء الرواية- فلم يشر الأنصاريّ- رحمه الله إلى ذلك مطلقا. فقمنا بالرّد على هؤلاء في الأماكن الّتي تتطلّب منّا ذلك.

5- أجهد الأنصاريّ- رحمه الله نفسه في صنع فهارس للكتاب- بلغت مجلّدا كاملا!! - ممّا زاد في حجمه وثمنه، ونرى أنّ مثل هذه الكتب لا تحتاج إلى هذه الفهارس الكثيرة. وقد أشار إلى ذلك العلامة المحقق (عبد الفتاح أبو غدة) - رحمه الله تعالى- حول عدم جدوى هذه الفهارس مقارنة بالوقت الذي تستهلكه «1» .

--------------------------------------------

(1) قال العلّامة المحقّق (عبد الفتّاح أبو غدّة) - رحمه الله تعالى- في كتابه «الانتقاء فى فضل الأئمّة الثّلاثة الفقهاء» ، ص 352؛ تحت عنوان (حول صنع الفهارس للكتب المطبوعة وذهاب الوقت الثمين بها) : جرت العادة في الأيّام الأخيرة أن يصنع للكتاب الكبير أو النّفيس الخطير فهارس عامّة، حتّى يسهل الاتصال بمعلوماته دون عناء طويل وتردّد كثير بين صفحاته للوصول إلى طلبة الباحث، وفي ذلك

نفع مشهود وضبط تامّ لأطراف المعلومات فتصاب لراغبها بأقصر الطّرق وأقل الوقت. ولكن هذا العمل فيه بذل جهد كبير، وتحمّل مشقّات كثيرة؛ فقد صار نوعا من أنواع التأليف، والإتقان فيه صعب وعر، ويحتاج إلى حبس النّفس عليه مدّة طويلة، ولذا يتردّد طالب العلم بين الإقدام عليه لتقريبه المطلوب بيسر وسهولة، والإحجام عنه لما يأكل من الذّهن والزّمن في معاناة ضبط الأسماء وتمييزها، وتصنيفها وعدم تعدّدها أو تداخلها سهوا وخطأ. وقد تردّدت كثيرا في صنع فهارس هذا الكتاب نظرا لما يذهب من الوقت في تأليف فهارسه وضبطها وإتقانها..، فقد أخذ منّي صنع هذه الفهارس وضبطها، ومقابلتها بالكتاب أكثر من ثلاثة أشهر مع بعض أعمال صغرى خفيفة، فتمنّيت لو كنت صرفت ذلك الزّمن في خدمة كتاب آخر، ولكن ما كلّ الأماني ترتضى! قال الأخ الفاضل الأستاذ المحقّق محمود الطّناحي، في كتابه النّفيس «مدخل إلى تاريخ نشر التراث» في ص 74، بعد أن أشار إلى فضل الأستاذ الشيخ محمّد محيي الدّين عبد الحميد- رحمه الله تعالى- فيما نشره وحقّقه من الكتب، وبعد ذكره ما انتقد على الشّيخ في إغفاله صنع الفهارس لكتبه النّضرة الميسّرة،
2- তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—সাধ্যানুযায়ী কিতাবের পাঠসমূহকে সেগুলোর মূল উৎসের দিকে নির্দেশ করেছেন, এর অধিকাংশ হাদিসের তাখরিজ করেছেন এবং লেখক যে সংবাদগুলো সংক্ষেপ করেছিলেন সেগুলো পূর্ণ করেছেন। তিনি হাশিয়া বা টীকায় তা উল্লেখ করেছেন, যার ফলে কিতাবের কলেবর অনেক বৃদ্ধি পেয়েছিল—এমনকি তা তিন খণ্ডে পৌঁছেছিল। পক্ষান্তরে আমরা কিতাবের পাঠগুলোকে সেগুলোর আদি উৎসের দিকে নির্দেশ করেছি এবং সকল হাদিসের তাখরিজ অত্যন্ত উপকারী ও সংক্ষিপ্ত আকারে সম্পন্ন করেছি; ফলে আমাদের সংস্করণটি এক খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। আমরা তাঁর কিছু টীকা থেকে উপকৃত হয়েছি এবং সেগুলো টীকায় যুক্ত করে (আনসারি) লিখে আলাদা করে দিয়েছি।

3- কিতাবটিকে তার মূল উৎসগুলোর সাথে মেলানোর সময় আমরা হয়তো এমন কিছু বৈপরীত্য পেয়েছি যা সিরাত বিশেষজ্ঞদের সর্বসম্মত বিষয় নয়, কিন্তু তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে আমরা একে গবেষণামূলক আমানতদারিতা মনে করেছি যে, টীকায় সেদিকে ইঙ্গিত করা প্রয়োজন।

4- কিতাবের মধ্যে আমাদের সামনে এমন কিছু বর্ণনা এসেছে যা সনদ, মতন, যুক্তি ও বর্ণনার নিরিখে অত্যন্ত দুর্বল ও বাতিল—যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যয়নব বিনতে জাহাশের বিয়ের কাহিনী—যা কিছু গল্পের বই, তাফসির ও সিরাত গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। ইসলামের শত্রুরা একে ইসলাম ও তাঁর নবীর ওপর আক্রমণের অজুহাত হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং প্রাচ্যবিদ ও ধর্মপ্রচারকরা এই বর্ণনা ও অন্যান্য বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে মিথ্যা ও কল্পনার জাল বুনেছে, অথচ জেরা-তাদিলের ইমাম ও বর্ণনা শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট এগুলো বানোয়াট ও প্রক্ষিপ্ত। আনসারি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র ইঙ্গিত করেননি। তাই আমরা যেখানে প্রয়োজন মনে করেছি সেখানে তাদের সমুচিত জবাব দিয়েছি।

5- আনসারি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—এই কিতাবের নির্ঘণ্ট (সূচিপত্র) তৈরিতে নিজেকে অনেক পরিশ্রান্ত করেছেন—যা পূর্ণ এক খণ্ডে পৌঁছেছে!!—যার ফলে কিতাবের কলেবর ও মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা মনে করি এই জাতীয় কিতাবের জন্য এত অধিক নির্ঘণ্টের প্রয়োজন নেই। আল্লামা মুহাক্কিক (আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ)—আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহম করুন—ব্যয়িত সময়ের তুলনায় এই নির্ঘণ্টগুলোর অসারতা সম্পর্কে ইঙ্গিত করেছেন। «১»

--------------------------------------------

(১) আল্লামা মুহাক্কিক (আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ)—আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহম করুন—তাঁর ‘আল-ইনতিকা ফি ফাদলিল আইম্মাতিল সালাসাহ আল-ফুকাহা’ কিতাবে (পৃ. ৩৫২), ‘মুদ্রিত কিতাবের নির্ঘণ্ট তৈরি এবং তাতে মূল্যবান সময় ব্যয় হওয়া প্রসঙ্গে’ শিরোনামের অধীনে বলেছেন: সাম্প্রতিককালে এটি রীতিতে পরিণত হয়েছে যে, বড় কিতাব বা গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবান কিতাবের জন্য সাধারণ নির্ঘণ্ট তৈরি করা হয়, যাতে গবেষকের কাম্য বিষয়ে পৌঁছাতে পৃষ্ঠাগুলোর মধ্যে দীর্ঘ পরিশ্রম ও অধিক ছোটাছুটি ছাড়াই তথ্যগুলো পাওয়া সহজ হয়। এর মধ্যে

প্রকাশ্য উপকারিতা রয়েছে এবং তথ্যের শাখা-প্রশাখাগুলো পূর্ণরূপে আয়ত্ত করা যায়, ফলে সন্ধানী ব্যক্তি সংক্ষিপ্ততম পথে ও স্বল্পতম সময়ে তা লাভ করতে পারেন। কিন্তু এই কাজে প্রচুর শ্রম ও অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়; এটি এক প্রকার স্বতন্ত্র রচনায় পরিণত হয়েছে। এতে নিখুঁত হওয়া অত্যন্ত দুরুহ বিষয় এবং এর পেছনে দীর্ঘ সময় নিজেকে নিবিষ্ট রাখার প্রয়োজন হয়। এ কারণেই ইলমে দ্বীনের তলেবুল ইলমগণ এর প্রতি অগ্রসর হওয়া (সহজে কাম্য বিষয় লাভের জন্য) এবং এর থেকে বিরত থাকার (মেধা ও সময়ের অপচয় রোধে) মাঝে দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন। এই কিতাবের নির্ঘণ্ট তৈরি, বিন্যাস ও নিখুঁত করার পেছনে যে সময় ব্যয় হবে তা বিবেচনা করে আমি নিজেও অনেক দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম...। এই নির্ঘণ্ট তৈরি, বিন্যাস ও কিতাবের সাথে মিলিয়ে দেখা আমার তিন মাসেরও বেশি সময় নিয়েছে (সাথে ছোটখাটো কিছু হালকা কাজও ছিল)। তখন আমার মনে হয়েছিল যদি আমি এই সময়টুকু অন্য কোনো কিতাবের খেদমতে ব্যয় করতাম! কিন্তু সব ইচ্ছা তো আর পূরণ হয় না! শ্রদ্ধেয় ভাই উস্তাদ মুহাক্কিক মাহমুদ আত-তানাহি তাঁর মূল্যবান কিতাব ‘মাদখাল ইলা তারিখি নাশরিত তুরাস’-এর ৭৪ পৃষ্ঠায় উস্তাদ শেখ মুহাম্মদ মুহিউদ্দিন আব্দুল হামিদ—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—এর প্রকাশিত ও তাহকিককৃত কিতাবসমূহের অবদানের প্রশংসা করার পর এবং শেখের কিতাবসমূহে নির্ঘণ্ট না রাখার যে সমালোচনা করা হয়েছে তা উল্লেখ করার পর বলেছেন...
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ৮)
فلم نعمد في عملنا هذا إلى صناعة الفهارس، سيّما وأنّنا فصلنا بين مواضيع الكتاب المتتابعة ووضعناها على هامش الكتاب. ولم ندخلها في نصّ المؤلّف- كما يفعل بعض المحقّقين- كيلا يتوهّم القارئ الكريم أنّها من صنع المؤلّف، وأيضا من باب التّأدّب مع الأئمّة السّابقين بالمحافظة على مصنّفاتهم. وبالتالي أصبح تناول الكتاب سهلا وممتعا.

6- ألحقنا بالكتاب ثبتا ضمّنّاه أهمّ أحداث السّيرة النّبويّة العطرة والتشريعات ونحو ذلك، وأحلناها إلى مكان وجودها في صفحات الكتاب. أمّا الحدث الّذي لم يرد بعده رقم يشير إلى مكان وجوده داخل الكتاب؛ فليعلم أنّ المؤلّف- رحمه الله لم يذكره. وإنّما ذكرناه إتماما للفائدة والنّفع. كما ألحقنا به أيضا بعض المصوّرات والمخطّطات الملوّنة الّتي تعين على فهم بعض أحداث السّيرة النّبويّة الشّريفة.

وفي الختام: نسأل الله أن يجعل نيّاتنا ومقاصدنا له وحده سبحانه، خالصة لوجهه الكريم.

وأن يعمّ النّفع بهذا الكتاب الأمّة المحمّديّة في مشارق الأرض ومغاربها، وأن يجزي القائمين على هذا العمل، وكلّ من شارك أو ساعد في إخراج هذا الكتاب خير الجزاء، إنّه سميع مجيب. وصلى الله على سيّدنا محمّد وعلى آله وصحبه وسلّم. وآخر دعوانا أن الحمد لله ربّ العالمين.

الناشر

--------------------------------------------

وحدّثني الأستاذ فؤاد سيّد؛ عالم المخطوطات بدار الكتب المصريّة رحمه الله تعالى قال: سألت ذات يوم الشّيخ محيي الدّين عبد الحميد: لماذا لا تهتمّ بفهرسة ما تنشر يا مولانا؟! فأجاب: أمن أجل خمسة عشر مستشرقا أضيّع وقتا هو أولى بأن يصرف إلى تحقيق كتاب جديد؟!! وقد صدق الشيخ فإنّها تذهب بالوقت الثّمين، ولا يشعر به القارئ. ا. هـ.
আমরা আমাদের এই কাজে সূচিপত্র তৈরিতে মনোনিবেশ করিনি, বিশেষ করে যেহেতু আমরা বইটির ধারাবাহিক বিষয়বস্তুগুলোকে পৃথক করেছি এবং সেগুলো বইয়ের পার্শ্বটীকায় স্থাপন করেছি। আমরা সেগুলোকে লেখকের মূল পাঠ্যের অন্তর্ভুক্ত করিনি—যেমনটি অনেক গবেষক করে থাকেন—যাতে সম্মানীত পাঠক বিভ্রান্ত না হন যে এগুলো লেখকের রচনা, এবং পূর্ববর্তী ইমামদের প্রতি শিষ্টাচার প্রদর্শনের অংশ হিসেবে তাঁদের মূল রচনাকে সংরক্ষিত রাখাও আমাদের উদ্দেশ্য। এর ফলে বইটি পাঠ করা সহজ এবং আনন্দদায়ক হয়েছে।

৬- আমরা বইটির সাথে একটি তালিকা সংযুক্ত করেছি যাতে সুগন্ধিময় সীরাতে নববীর গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসমূহ, শরয়ি বিধানাবলি এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং বইয়ের পাতায় সেগুলোর অবস্থান নির্দেশ করা হয়েছে। তবে যে ঘটনার পর বইয়ের ভেতরে সেটির অবস্থান নির্দেশকারী কোনো সংখ্যা নেই, বুঝতে হবে যে লেখক—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—তা উল্লেখ করেননি। আমরা কেবল উপকার ও ফায়দা পূর্ণ করার লক্ষ্যেই তা উল্লেখ করেছি। এছাড়া আমরা এর সাথে কিছু রঙিন চিত্র ও নকশাও যুক্ত করেছি যা সীরাতে নববীর কিছু ঘটনা বুঝতে সাহায্য করবে।

পরিশেষে: আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের নিয়ত ও উদ্দেশ্যকে একমাত্র তাঁরই জন্য এবং তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন।

এবং এই বইটির মাধ্যমে যেন পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত উম্মতে মুহাম্মদী উপকৃত হয়। আর যারা এই কাজে নিয়োজিত ছিলেন এবং যারা এই বইটি প্রকাশে অংশগ্রহণ বা সহায়তা করেছেন, আল্লাহ যেন তাদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও কবুলকারী। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

প্রকাশক

--------------------------------------------

মিশরের দারুল কুতুবের পাণ্ডুলিপি বিশেষজ্ঞ উস্তাদ ফুয়াদ সাইয়িদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) আমাকে বলেছেন: একদিন আমি শায়খ মুহিউদ্দিন আব্দুল হামিদকে জিজ্ঞেস করলাম, "হে মাওলানা, আপনি যা প্রকাশ করেন তার সূচিপত্র তৈরিতে কেন গুরুত্ব দেন না?" তিনি উত্তর দিলেন, "পনেরোজন প্রাচ্যবিদের জন্য আমি কি এমন সময় নষ্ট করব যা একটি নতুন বই সম্পাদনার কাজে ব্যয় করা বেশি উত্তম?" শায়খ সত্যই বলেছেন, কারণ এটি মূল্যবান সময় নষ্ট করে যা পাঠক অনুভব করতে পারে না। (সমাপ্ত)
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌تمهيد

بقلم: عبد الله بن محمّد الحبشى* بسم الله الرّحمن الرّحيم الحمد لله ربّ العالمين، وصلّى الله على سيّدنا محمّد وآله وصحبه وسلّم. أمّا بعد:

فأطلعني الأستاذ- الناشر لهذا الكتاب المبارك- على مخطوطتين من هذا الكتاب القيّم.

كلاهما تحمل اسم العلّامة المتبحّر الكبير (محمّد بن عمر بحرق الحضرميّ) المتوفّى سنة 930 هـ.

وفي كلتيهما ما لا يدع مجالا للشّكّ في نسبة الكتاب للمذكور.

ويصدق القول في ذلك الإهداء الّذي صدّر المؤلّف مقدّمته به، وهو إلى سلطان الهند العالم (شمس الدّين مظفّر بن محمود شاه) ؛ ممّا يعطي دليلا آخر إلى نسبة الكتاب إلى (بحرق) ، حيث إنّ المذكور دخل الهند واستوطن بها، وكان ممّا أتحف به هذا الملك كتابنا هذا، لشغف المذكور بالعلم وأهله وتقريب العلماء.

وقد أشار إلى صلة المؤلّف بالمذكور صاحب «النّور السّافر» ؛ فقال: (ولمّا عزم إلى الهند، ووفد على السّلطان مظفّر، فقرّبه السّلطان وعظّمه؛ ولمّا خبر علمه وفضله زاد في تعظيمه وتبجيله، وأنزله المنزلة الّتي تليق به) «1» .

ويزيدنا إيضاحا حول هذا الموضوع العلّامة (عبد الحيّ اللكنوي) ، صاحب كتاب «نزهة الخواطر» ؛ يقول في أثناء كلامه حول دخول العلّامة (بحرق) الهند: (ووفد على سلطانها (مظفّر بن محمود بيكره) - بايقرا-، فعظّمه وقام به، وقدّمه ووسّع عليه، والتفت إليه وأدناه منه، وأخذ عنه؛ فاشتهر بجاهه، وصنّف له «تبصرة الحضرة الشّاهيّة الأحمديّة بسيرة الحضرة النّبويّة الأحمديّة» «2» .

فدلّنا جميع هذا.. على صحّة نسبة الكتاب إلى علّامتنا (بحرق) . وبدليل أنّ جميع

--------------------------------------------

* باحث يمني، يعمل حاليا في (المجمّع الثقافي) بأبو ظبي.

(1) تاريخ النّور السّافر عن أخبار القرن العاشر، ص 136.

(2) نزهة الخواطر، ج 4/ 306.
‌ভূমিকা

লেখনীতে: আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-হাবশি* পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাথী-সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:

এই বরকতময় কিতাবের প্রকাশক উস্তাদ মহোদয় আমাকে এই মূল্যবান কিতাবের দুইটি পাণ্ডুলিপি দেখিয়েছেন।

উভয়টিতেই মহান অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী আল্লামা (মুহাম্মাদ বিন উমর বাহরাক আল-হাদরামি)-এর নাম রয়েছে, যিনি ৯৩০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন।

আর এই উভয় পাণ্ডুলিপিতে এমন কিছু বিদ্যমান রয়েছে যা উক্ত ব্যক্তির প্রতি কিতাবটির সম্বন্ধের ব্যাপারে সন্দেহের কোনো অবকাশ রাখে না।

সেই উৎসর্গপত্রের বক্তব্যটি এক্ষেত্রে সঠিক প্রমাণিত হয়, যার মাধ্যমে লেখক তাঁর ভূমিকার সূচনা করেছেন, আর তা হলো ভারতের বিদগ্ধ সুলতান (শামসুদ্দীন মুজাফফর বিন মাহমুদ শাহ)-এর প্রতি; যা (বাহরাক)-এর প্রতি কিতাবটির সম্বন্ধের ক্ষেত্রে অন্য একটি প্রমাণ প্রদান করে। কারণ উক্ত ব্যক্তি ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং সেখানে বসতি স্থাপন করেছিলেন। আর তিনি এই বাদশাহকে যা উপহার দিয়েছিলেন তার মধ্যে আমাদের এই কিতাবটিও ছিল, কারণ উক্ত সুলতান জ্ঞান ও জ্ঞানীদের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন এবং উলামায়ে কেরামকে নিজের সান্নিধ্যে রাখতেন।

‘আন-নূরুস সাফির’ গ্রন্থের লেখক উক্ত সুলতানের সাথে লেখকের সম্পর্কের দিকে ইঙ্গিত করেছেন; তিনি বলেছেন: (যখন তিনি ভারতের সংকল্প করলেন এবং সুলতান মুজাফফরের নিকট পৌঁছালেন, তখন সুলতান তাঁকে নিকটবর্তী করলেন ও তাঁকে সম্মানিত করলেন; আর যখন তিনি তাঁর জ্ঞান ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অবগত হলেন, তখন তাঁর সম্মান ও শ্রদ্ধা আরও বাড়িয়ে দিলেন এবং তাঁকে তাঁর যোগ্য মর্যাদায় আসীন করলেন) «১»।

‘নুযহাতুল খাওয়াতির’ গ্রন্থের লেখক আল্লামা (আব্দুল হাই আল-লাখনভী) আমাদের নিকট এই বিষয়ে আরও স্পষ্টতা বৃদ্ধি করেন; তিনি আল্লামা (বাহরাক)-এর ভারতে প্রবেশের বিষয়ে আলোচনার সময় বলেন: (এবং তিনি ভারতের সুলতান (মুজাফফর বিন মাহমুদ বেগরা) -বাইকারা- এর নিকট উপস্থিত হলেন, অতঃপর তিনি তাঁকে সম্মানিত করলেন ও তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, তাঁকে অগ্রাধিকার দিলেন ও তাঁর সুযোগ-সুবিধা প্রশস্ত করলেন, তাঁর প্রতি মনোনিবেশ করলেন ও তাঁকে নিজের নিকটবর্তী করলেন এবং তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করলেন; ফলে তিনি সুলতানের প্রভাবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন এবং তিনি তাঁর জন্য «তাবসিরাতুল হাদরাতিল শাহিয়্যাহ আল-আহমাদিয়্যাহ বি-সিরাতিল হাদরাতিল নাবাবিয়্যাহ আল-আহমাদিয়্যাহ» গ্রন্থটি রচনা করেন) «২»।

এই সব কিছুই আমাদের আল্লামা (বাহরাক)-এর প্রতি কিতাবটির সম্বন্ধের সঠিকতার প্রমাণ দেয়। আর এর প্রমাণ এই যে, সমস্ত...

--------------------------------------------

* ইয়েমেনি গবেষক, বর্তমানে আবুধাবির (সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স)-এ কর্মরত।

(১) তারিখুন নূরিস সাফির আন আখবারিল কারনিল আশির, পৃষ্ঠা ১৩৬।

(২) নুযহাতুল খাওয়াতির, খণ্ড ৪/৩০৬।
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ১০)
المخطوطات الموجودة تحمل اسم العلّامة (بحرق) .

ولكن يشكّك على ذلك التّواتر، ويجعل هناك في نفس الباحث بعض السّؤال أنّ النّسخة المطبوعة من هذا الكتاب تحمل اسم العلّامة المحدّث (أبي محمّد عبد الرّحمن بن عليّ ابن الدّيبع الزّبيديّ) المتوفّى سنة 944 هـ. وقد قام بنشرها في سنة 1403 هـ العلّامة الفاضل (عبد الله بن إبراهيم الأنصاريّ) ، وقد بذل في تحقيقها جهدا يشكر عليه؛ إلّا أنّه لم يرجع في تحقيق المخطوطة إلّا إلى نسخة واحدة، وأوحى كلامه في المقدّمة إلى الشّكّ في نسبة الكتاب إلى (ابن الدّيبع) المذكور فقال: (ولم أجد أحدا ممّن ترجمه قد ذكر كتاب سيرته «حدائق الأنوار ومطالع الأسرار» ، ولعلّ هذا الكتاب قد غفل عن ذكره مترجموه، أو لم يشتهر أمره) .

قلت: والرّجوع في تحقيق كتاب مثل هذا إلى مخطوطة واحدة لا يخلو من بعض المجازفة، إضافة على ذلك سقم النّسخة الّتي رجع إليها علّامتنا (الأنصاريّ) رحمه الله وكما أشار إلى ذلك هو بنفسه.

ولكن تبقى أمامنا الحقيقة الماثلة، وهي أنّ جميع المخطوطات المتوفّرة لدينا الآن تجمع على نسبة الكتاب إلى العلّامة (بحرق) ، باستثناء تلك النّسخة السّقيمة الّتي رجع إليها (الأنصاريّ) ، والّتي تشير إلى نسبة تأليفها إلى (ابن الدّيبع) .

ولا يخلو الأمر من أنّ هناك يدا عابثة أو تعمّدا أدخل تلك النّسبة إلى المخطوطة المذكورة، حيث إنّ هناك أسطر بقيت فارغة، ترك فيها ناسخها عنوان الكتاب واسم المهدى إليه الكتاب المذكور؛ وهو سلطان الهند، الّذي اتّصل به العلّامة (بحرق) واجتمع به، ولا يعرف لابن الدّيبع رحلة إلى الهند، بل بقي أثر من اسم المهدى إليه في الأبيات الّتي أوردها المؤلّف في مدح السّلطان المذكور، وهي قوله:

فأحمد أسمى من بنى اسما وكنية … وفعلا ووصفا ملكه من أساسه

شهاب فخذ من علمه واقتباسه … سنا النّور واخش النّار في وقت باسه

إلى قوله:

فلا زال محمودا حميدا مظفّرا … شهابا على أعدائه كأناسه

وأيضا بقيّة من اسم الكتاب، حيث جاء في طبعة (الأنصاريّ) قوله: (فوسمت باسمه هذا الكتاب الكريم، ورسمته برسمه … فسمّيته تبصرة- (في مطبوعة الأنصاريّ بصيرة.. خطأ) - الحضرة، ثمّ تأتي نقط في المطبوعة هي موضع السّقط المتعمّد من قبل النّاسخ أو غيره.
বিদ্যমান পাণ্ডুলিপিগুলো আল্লামা (বাহরাক)-এর নাম বহন করছে।

তবে এই বহুসূত্রতা (তাওয়াতুর) সম্পর্কে সংশয় রয়েছে এবং তা একজন গবেষকের মনে কিছু প্রশ্ন জন্ম দেয়; কারণ এই বইটির মুদ্রিত কপির ওপর আল্লামা মুহাদ্দিস (আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন আলী ইবনে আদ-দাইবা আজ-জাবিদি)-এর নাম রয়েছে, যিনি ৯৪৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। আর ১৪০৩ হিজরিতে এটি প্রকাশ করেছেন শ্রদ্ধেয় আল্লামা (আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আনসারি)। তিনি এর সম্পাদনার (তাহকিক) ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় পরিশ্রম করেছেন; কিন্তু তিনি পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার ক্ষেত্রে মাত্র একটি কপির ওপর নির্ভর করেছেন। এবং তাঁর ভূমিকার বক্তব্য উল্লিখিত (ইবনে আদ-দাইবা)-এর দিকে বইটির সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার বিষয়ে সন্দেহের ইঙ্গিত দেয়, তিনি বলেছেন: (যাঁরা তাঁর জীবনী লিখেছেন, তাঁদের কাউকেই আমি তাঁর সিরাত বিষয়ক গ্রন্থ "হাদাইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার"-এর উল্লেখ করতে দেখিনি। সম্ভবত জীবনীকাররা এর কথা উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন, অথবা এটি প্রসিদ্ধি লাভ করেনি।)

আমি বলব: এ ধরনের একটি কিতাব সম্পাদনার ক্ষেত্রে কেবল একটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করা কিছুটা ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়। উপরন্তু, আমাদের আল্লামা (আনসারি) রাহিমাহুল্লাহ যে কপির ওপর নির্ভর করেছেন তাতে ত্রুটি ছিল, যেমনটি তিনি নিজেই ইঙ্গিত করেছেন।

কিন্তু আমাদের সামনে আসল সত্যটি বিদ্যমান, আর তা হলো—বর্তমানে আমাদের কাছে উপলব্ধ সমস্ত পাণ্ডুলিপি আল্লামা (বাহরাক)-এর দিকেই বইটির সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করে। কেবল সেই ত্রুটিপূর্ণ কপিটি ছাড়া, যেটির ওপর (আনসারি) নির্ভর করেছেন এবং যা বইটির রচয়িতা হিসেবে (ইবনে আদ-দাইবা)-এর দিকে ইঙ্গিত দেয়।

বিষয়টি এমন হওয়া অসম্ভব নয় যে, কোনো বিকৃতকারী হাত বা ইচ্ছাকৃত কোনো প্রচেষ্টা উল্লিখিত পাণ্ডুলিপিতে ওই সম্বন্ধটি প্রবেশ করিয়েছে। কারণ সেখানে কিছু ছত্র ফাঁকা রয়ে গেছে, যেখানে লিপিকার বইটির শিরোনাম এবং যাঁর নামে বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে তাঁর নাম ছেড়ে দিয়েছেন; আর তিনি হলেন ভারতের সুলতান, যাঁর সাথে আল্লামা (বাহরাক) যোগাযোগ করেছিলেন এবং সাক্ষাৎ করেছিলেন। অথচ ইবনে আদ-দাইবার ভারত সফরের কোনো তথ্য জানা নেই। বরং যাঁর নামে উৎসর্গ করা হয়েছে তাঁর নামের কিছু অংশ সেই পংক্তিগুলোতে অবশিষ্ট রয়েছে যা লেখক উল্লিখিত সুলতানের প্রশংসায় বর্ণনা করেছেন, আর তা হলো:

অতএব আহমদ নাম ও উপনামের দিক থেকে সুউচ্চ … এবং কর্ম ও গুণের দিক থেকেও তাঁর রাজত্বের ভিত্তি সুদৃঢ়।

তিনি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, অতএব তাঁর জ্ঞান ও আহরণ থেকে গ্রহণ করো … আলোর দ্যুতি এবং তাঁর বীরত্বের সময়ে অগ্নিভয় করো।

তাঁর এই কথা পর্যন্ত:

তিনি যেন সর্বদা প্রশংসিত, গুণান্বিত ও বিজয়ী থাকেন … তাঁর শত্রুদের ওপর এমন এক জ্বলন্ত উল্কা হয়ে যেমনটি তিনি তাঁর প্রজাদের জন্য।

এছাড়াও বইটির নামের অবশিষ্টাংশ রয়েছে, যেমনটি (আনসারি) সংস্করণে এসেছে: (আমি তাঁর নামানুসারে এই সম্মানিত কিতাবটিকে চিহ্নিত করেছি এবং তাঁর নির্দেশে এটি অঙ্কন করেছি … অতঃপর আমি এর নাম দিয়েছি তাবসিরাহ- (আনসারির মুদ্রিত কপিতে বাসিরাহ আছে.. যা ভুল) -তুল হাদরা। এরপর মুদ্রিত কপিতে কিছু ডট বা বিন্দু এসেছে, যা লিপিকার বা অন্য কারও পক্ষ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া স্থানের চিহ্ন।
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ১১)
وإذا كان طرأ التشكيك- عند من يرى هذا- في- نسبة الكتاب إلى (بحرق) ، فإنّ العنوان كذلك يختلف عمّا أورده العلّامة (العيدروس) في «النّور السّافر» ، حيث ذكر أنّ عنوانه هو كتاب «تبصرة الحضرة الشّاهيّة الأحمديّة بسيرة الحضرة النّبويّة الأحمديّة» «1» .

وأيّد هذا المؤلّف نفسه، حيث نصّ صراحة على هذا العنوان في مقدّمة كتابه فقال:

(فوسمت باسمه هذا الكتاب الكريم، ورسمته برسمه، وإنّه بسم الله الرّحمن الرّحيم؛ فسمّيته: «تبصرة الحضرة الأحمديّة الشّاهيّة بسيرة الحضرة الأحمديّة النّبويّة» .

ولكنّ المخطوطات الّتي بأيدينا تحمل عنوانا مغايرا للعنوان الّذي ارتضاه المؤلّف، بما فيها تلك المخطوطات الّتي نصّ فيها المؤلّف على عنوانه الأوّل. وهذا يدخل أيضا في باب الاستفهام حول العنوان والمؤلّف، ولكن يقع لبعض المؤلّفين أن يغيّروا في أسماء كتبهم، بل وفي المؤلّفات نفسها؛ إمّا بالزّيادة أو النّقصان، ولا يستبعد أن العلّامة (بحرق) رحمه الله لمّا كتب كتابه أوّل مرّة وأهداه إلى السّلطان السّابق ذكره جعله يحمل اسمه، لشرف هذا السّلطان وورعه، حيث عرف عند من ترجم له بالصّلاح وكثرة العبادة، ولكن رأى بعد ذلك تكريما للمقام الشّريف أن يحمل عنوانا آخر يتناسب مع عظيم الموضوع، ومع أذواق طلبة العلم، فأسماه: «حدائق الأنوار ومطالع الأسرار في سيرة النّبيّ المختار صلى الله عليه وسلم» .

وهو الاسم الّذي تحمله طبعتنا هذه وطبعة الشّيخ (الأنصاريّ) رحمه الله

وهذا ما أردنا التّنبيه عليه، وفوق كلّ ذي علم عليم …

عبد الله بن محمّد الحبشى

أبو ظبي-

في 25/ 7/ 1418 هـ 25/ 11/ 1997 م

--------------------------------------------

(1) تاريخ النّور السّافر عن أخبار القرن العاشر، ص 136.
আর যদি এই গ্রন্থটি (বাহরাক)-এর প্রতি সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে—যারা এমনটি মনে করেন তাদের নিকট—সংশয় দেখা দিয়ে থাকে, তবে এর শিরোনামটিও আল্লামা (আইদারুস) কর্তৃক ‘আন-নূর আস-সাফির’ গ্রন্থে বর্ণিত শিরোনাম থেকে ভিন্নতর। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এর শিরোনাম হলো ‘তাবসিরাতুল হাদরাতিল শাহিয়্যাহ আল-আহমাদিয়্যাহ বি-সিরাতিল হাদরাতিন নববিয়্যাহ আল-আহমাদিয়্যাহ’ গ্রন্থ «১»।

স্বয়ং লেখক নিজেও এটি সমর্থন করেছেন, যেহেতু তিনি তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় স্পষ্টভাবে এই শিরোনামটি উল্লেখ করে বলেছেন:

(অতঃপর আমি এই মহিমান্বিত গ্রন্থটিকে তাঁর নামে নামাঙ্কিত করেছি এবং তাঁরই স্মারক হিসেবে এটি লিপিবদ্ধ করেছি, আর এটি শুরু করছি পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে; আমি এর নামকরণ করেছি: ‘তাবসিরাতুল হাদরাতিল আহমাদিয়্যাহ আশ-শাহিয়্যাহ বি-সিরাতিল হাদরাতিল আহমাদিয়্যাহ আন-নববিয়্যাহ’।)

কিন্তু আমাদের হাতে থাকা পাণ্ডুলিপিগুলো লেখকের পছন্দকৃত শিরোনাম থেকে ভিন্ন একটি শিরোনাম বহন করছে, এমনকি সেই পাণ্ডুলিপিগুলোও যাতে লেখক তাঁর প্রথম শিরোনামটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এটিও শিরোনাম ও লেখক সম্পর্কিত জিজ্ঞাসার অন্তর্ভুক্ত। তবে অনেক লেখকের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে থাকে যে, তারা তাঁদের গ্রন্থের নাম পরিবর্তন করেন, এমনকি মূল রচনায়ও পরিবর্ধন বা পরিমার্জন করেন। এটি অসম্ভব নয় যে, আল্লামা (বাহরাক) রহমাতুল্লাহি আলাইহি যখন প্রথমবার তাঁর গ্রন্থটি লিখেছিলেন এবং পূর্বে উল্লিখিত সুলতানকে উপহার দিয়েছিলেন, তখন তিনি সুলতানের সম্মান ও পরহেযগারির কারণে এটিকে তাঁর নামে নামাঙ্কিত করেছিলেন; কেননা সেই সুলতানের জীবনীকারদের নিকট তিনি সততা ও অধিক ইবাদতের জন্য পরিচিত ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে মহান এই বিষয়ের গুরুত্ব এবং জ্ঞানান্বেষীদের রুচির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই উচ্চমর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে তিনি গ্রন্থটির অন্য একটি শিরোনাম রাখা সমীচীন মনে করেন, আর তা হলো: ‘হাদাইকুল আনোয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফি সিরাতিল নাবিয়্যিল মুখতার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’।

এটিই সেই নাম যা আমাদের এই সংস্করণ এবং শায়খ (আনসারী) রহমাতুল্লাহি আলাইহি-র সংস্করণে স্থান পেয়েছে।

এ বিষয়টিই আমরা দৃষ্টিগোচর করতে চেয়েছিলাম, আর প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরেই রয়েছেন সর্বজ্ঞানী আল্লাহ …

আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-হাবশী

আবুধাবি—

২৫/ ০৭/ ১৪১৮ হিজরী, ২৫/ ১১/ ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ।

--------------------------------------------

(১) তারিখুন নূর আস-সাফির আন আখবারিল কারনিল আশির, পৃ. ১৩৬।
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدّمة التحقيق

إنّ الحمد لله نحمده، ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيّئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلّ له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلّا الله وحده لا شريك له. وأشهد أنّ محمّدا عبده ورسوله:

يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ [سورة آل عمران 3/ 102] .

يا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ واحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْها زَوْجَها وَبَثَّ مِنْهُما رِجالًا كَثِيراً وَنِساءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسائَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحامَ إِنَّ اللَّهَ كانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً [سورة النّساء 4/ 1] .

يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فازَ فَوْزاً عَظِيماً (71) إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمانَةَ عَلَى السَّماواتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبالِ فَأَبَيْنَ أَنْ يَحْمِلْنَها وَأَشْفَقْنَ مِنْها وَحَمَلَهَا الْإِنْسانُ إِنَّهُ كانَ ظَلُوماً جَهُولًا (72) [سورة الأحزاب 33/ 71- 71] .

أمّا بعد:

فإنّ خير ما يتدارسه النّاشئة وطلّاب العلم، ويعنى به الباحثون والمؤلّفون دراسة السّيرة النّبويّة، إذ هي خير وسيلة للتّعلّم والتّهذيب والتّأديب، وفيها ما يرجوه المؤمن من دين ودنيا، وعلم وعمل، وآداب وأخلاق، ورحمة وعدل، وجهاد واستشهاد في سبيل الله، ثمّ نشر العقيدة والشّريعة، والقيم الإنسانيّة النّبيلة.

إنّ السّيرة النّبويّة نور ساطع وهّاج، أفضى إلى ظلمات الجهل والوثنيّة، فانجابت كما ينجاب الغمام، وهدى من الله أرسله إلى الإنسانيّة الضّالّة، فانتشلها من ضياع، وانتاشها من هلاك، وأنقذها ممّا كانت تتخبّط فيه من دياجير الظّلام، وعقابيل الضّلال.

وإذا كانت السّيرة في اللّغة بمعنى: الطّريقة والسّنّة، فإنّها يراد بها التّعرّف على حياة الرّسول صلى الله عليه وسلم قرّة العين وريحانة القلب؛ منذ ظهور الإرهاصات الّتي مهّدت لرسالته، وما سبق مولده من ظواهر وأحداث تلقي أضواء رحمانيّة على طريقة الدّعوة المحمّديّة، ثمّ مولده صلى الله عليه وسلم،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌সম্পাদনার ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল:

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না [সূরা আল ইমরান ৩/১০২]।

হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড় সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের দু’জন থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়স্বজনদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন [সূরা আন-নিসা ৪/১]।

তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহাসাফল্য লাভ করে (৭১)। নিশ্চয়ই আমি আসমানসমূহ, জমিন ও পাহাড়-পর্বতের ওপর আমানত পেশ করেছিলাম, কিন্তু তারা তা বহন করতে অস্বীকার করল এবং এতে ভীত হলো, আর মানুষ তা বহন করল। নিশ্চয়ই সে অত্যন্ত জালিম ও অতিশয় জাহেল (৭২) [সূরা আল-আহযাব ৩৩/৭১-৭২]।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই নতুন প্রজন্ম ও ইলম অন্বেষণকারীদের পঠন-পাঠন এবং গবেষক ও লেখকদের আলোচনার জন্য সর্বোত্তম বিষয় হলো সীরাত-উন-নবী (নবীর জীবনী) অধ্যয়ন করা। কারণ এটি শিক্ষা, চারিত্রিক সংশোধন ও শিষ্টাচার অর্জনের সর্বোত্তম মাধ্যম। এতে একজন মুমিন তার দ্বীন ও দুনিয়া, ইলম ও আমল, আদব ও আখলাক, দয়া ও ন্যায়বিচার এবং আল্লাহর পথে জিহাদ ও শাহাদাত সম্পর্কে যা কিছু প্রত্যাশা করে তা বিদ্যমান রয়েছে। এরপর আকিদা, শরিয়ত এবং উচ্চতর মানবিক মূল্যবোধের প্রচার ও প্রসারও এর অন্তর্ভুক্ত।

নিশ্চয়ই সীরাত-উন-নবী এক উজ্জ্বল ও প্রদীপ্ত আলো, যা অজ্ঞতা ও মূর্তিপূজার অন্ধকারের ওপর নিপতিত হয়ে তাকে মেঘের মতো দূরীভূত করে দিয়েছিল। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত এক হিদায়াত যা তিনি পথভ্রষ্ট মানবতার নিকট পাঠিয়েছেন, অতঃপর তিনি তাদেরকে বিভ্রান্তি ও ধ্বংসের হাত থেকে উদ্ধার করেছেন এবং তারা যে ঘোর অন্ধকার ও গোমরাহীর অশুভ পরিণতির মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছিল তা থেকে তাদের রক্ষা করেছেন।

আভিধানিক অর্থে 'সীরাত' বলতে যদি রীতি ও পদ্ধতি বুঝায়, তবে এর দ্বারা নয়নমণি ও হৃদয়ের প্রশান্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করা উদ্দেশ্য; তাঁর রিসালাতের পথ প্রশস্তকারী নবুয়ত-পূর্ব নিদর্শনসমূহ প্রকাশ পাওয়ার সময় থেকে শুরু করে তাঁর জন্মের পূর্ববর্তী সেই সকল অলৌকিক ঘটনা ও ঘটনাবলি যা মুহাম্মাদী দাওয়াতের পদ্ধতির ওপর খোদায়ী আলোকপাত করে, অতঃপর তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্ম থেকে...
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ১৪)
ونشأته حتّى مبعثه، وما جاء بعد ذلك من دعوة النّاس إلى الدّين القيّم، وما لقي صلى الله عليه وسلم في سبيل نشر هذا الدّين من عنت ومعارضة، وما جرى بينه عليه الصلاة والسلام وبين من عارضوه من صراع بالبيان والسّنان، وذكر من استجاب له، حتّى علت راية الحقّ، وأضاءت شعلة الإيمان.

 

‌‌تاريخ التّأليف في السّيرة وأشهر كتبها:

إنّ أوّل ما يلفت الانتباه في سير الأنبياء أنّ السّيرة النّبويّة أصحّ سيرة لتاريخ نبيّ مرسل، ولم نعرف على مدى التّاريخ البشريّ كلّه أمّة من أمم الرّسل عليهم الصّلاة والسّلام، سعدت بمثل ما جاء في القرآن الكريم عن الرّسالة والرّسول، ولا حظيت بمثل تلك المجموعة الثّمينة من الأحاديث النّبويّة، ذلك السّجل الخالد، بل كانت هناك حلقات مفقودة في حياة رسلها، لا يمكن البحث عنها، والاهتداء إليها.

أمّا خاتم الرّسل محمّد صلى الله عليه وسلم فهو الرّسول الّذي نعرف عنه كلّ دقيق وجليل، ونعرف عنه من دقائق الأخلاق والصّفات، والميول والرّغبات، والقول والعمل، ما لا نعرفه عن غيره من النّبيّين عليهم الصّلاة والسّلام.

ومن رحمة الله تعالى أن كانت هذه الأمّة تملك قوّة الذّاكرة، وسرعة الحفظ والاستظهار، ممّا يسّر لها الجمع والاستحضار، ولا عجب في ذلك فقد بهرهم الوحي بقوّة بيانه، وأخذ عليهم مشاعرهم بسطوة سلطانه، واستأثر بكريم مواهبهم في لفظه ومعناه، فكان الحفظ في الصّدور، والتّدوين في السّطور، وكانت الصّبغة الّتي شاء الله أن تكون.

لقد اهتمّ المسلمون الأوائل اهتماما كبيرا بأحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم وسننه الفعليّة والقوليّة، قبل أن تدوّن الأحاديث تدوينا عامّا في آخر القرن الأوّل الهجري- ولم يكن قد دوّن في تاريخ العرب أو السّيرة شيء إلى أن مضت أيّام الخلفاء الرّاشدين- فكتب الخليفة عمر بن عبد العزيز إلى عامله على المدينة أبي بكر بن محمّد بن حزم- وهو من كبار المحدّثين- طالبا منه أن يدوّن أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم في كتاب وزّعه على البلاد الإسلاميّة.

وقد قام المحدّثون بعدها بجمع أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم في كتب لا تلتزم منهجا معيّنا في التّرتيب والتّصنيف، ولم تخل كتبهم من ذكر ما يتعلّق بسيرة النّبيّ صلى الله عليه وسلم وحياته ومغازيه ومناقبه وما إلى ذلك. وقد استمرّ هذا المنهج حتّى بعد انفصال السّيرة عن الأحاديث في التّأليف.

ثمّ صنّفت في السّيرة النّبويّة مصنّفات خاصّة بها. وقد كان في مقدّمة المؤلّفين في السّيرة أربعة:

1- عروة بن الزّبير (المتوفّى سنة 93 هـ) ، وكان فقيها، محدّثا، عالما بالحديث، معروفا
এবং তাঁর লালন-পালন থেকে নবুওয়াত প্রাপ্তি পর্যন্ত, আর এরপর মানুষকে শাশ্বত দ্বীনের প্রতি দাওয়াত দেওয়ার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে, এবং এই দ্বীন প্রচারের পথে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে কষ্ট ও বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছেন, আর তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) এবং তাঁর বিরোধীদের মাঝে কথা ও তরবারির মাধ্যমে যে সংগ্রাম হয়েছে, আর যারা তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন তাঁদের আলোচনা, যতক্ষণ না সত্যের পতাকা সমুন্নত হয়েছে এবং ঈমানের আলো উদ্ভাসিত হয়েছে।

 

‌‌সীরাত রচনার ইতিহাস এবং এর প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহ:

নবীদের জীবনীর ক্ষেত্রে প্রথম যে বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তা হলো, সীরাতে নববী হলো একজন প্রেরিত নবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বিশুদ্ধ জীবনী। মানব ইতিহাসের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় আমরা রাসুলদের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) এমন কোনো উম্মতের কথা জানি না, যারা রিসালাত ও রাসুল সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে যা এসেছে তার মতো সৌভাগ্য লাভ করেছে, কিংবা রাসুলুল্লাহর হাদিসের সেই অমূল্য ভাণ্ডার ও শাশ্বত দলিলের মতো কিছু পেয়েছে। বরং অন্যান্য রাসুলদের জীবনে এমন কিছু হারানো অধ্যায় ছিল, যা অনুসন্ধান করা বা খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।

পক্ষান্তরে শেষ রাসুল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন এমন একজন রাসুল, যাঁর সম্পর্কে আমরা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এবং মহান—সব বিষয়ই জানি। তাঁর উন্নত চরিত্র ও গুণাবলী, ঝোঁক ও আকাঙ্ক্ষা এবং কথা ও কাজ সম্পর্কে আমরা এমন সূক্ষ্ম বিষয়গুলো জানি, যা অন্য কোনো নবীর (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) ক্ষেত্রে জানি না।

আর এটি মহান আল্লাহর অনুগ্রহ যে, এই উম্মত প্রখর স্মৃতিশক্তি এবং দ্রুত মুখস্থ ও আত্মস্থ করার ক্ষমতার অধিকারী ছিল, যা তাদের জন্য (হাদিস ও সীরাত) সংগ্রহ ও উপস্থিত করা সহজ করে দিয়েছিল। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ ওহী তার বর্ণনার সাবলীলতা দিয়ে তাদের অভিভূত করেছিল এবং এর প্রভাব ও কর্তৃত্ব দিয়ে তাদের অনুভূতিকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল। এর শব্দ ও অর্থের মাধ্যমে ওহী তাদের মেধার শ্রেষ্ঠ অংশটুকু কেড়ে নিয়েছিল। ফলে তা অন্তরে সংরক্ষিত হলো এবং পাতায় পাতায় লিপিবদ্ধ হলো; আর এভাবেই সেই রঞ্জনে রঞ্জিত হলো যা আল্লাহ চেয়েছিলেন।

প্রথম যুগের মুসলিমগণ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস এবং তাঁর কর্মগত ও কথাগত সুন্নাহর প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছিলেন, প্রথম হিজরি শতকের শেষে হাদিসসমূহ সামগ্রিকভাবে লিপিবদ্ধ হওয়ার পূর্বেই। আরবদের ইতিহাস বা সীরাত বিষয়ে খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কাল অতিক্রান্ত হওয়া পর্যন্ত তেমন কিছু লেখা হয়নি। অতঃপর খলিফা ওমর ইবনে আবদুল আজিজ মদিনার গভর্নর আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাযমকে—যিনি ছিলেন অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস—এই মর্মে পত্র লিখলেন যে, তিনি যেন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসসমূহ একটি কিতাবে সংকলন করেন, যা তিনি মুসলিম দেশগুলোতে বিতরণ করবেন।

এরপর মুহাদ্দিসগণ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসসমূহ এমন সব কিতাবে সংগ্রহ করেন, যা বিন্যাস ও শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করত না। তাঁদের কিতাবসমূহ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাত, তাঁর জীবন, যুদ্ধাভিযান, মর্যাদা এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়ের আলোচনা থেকে মুক্ত ছিল না। সীরাত শাস্ত্র হাদিস থেকে পৃথক হয়ে স্বতন্ত্রভাবে রচিত হওয়ার পরেও এই পদ্ধতি অব্যাহত ছিল।

এরপর সীরাতে নববীর উপর বিশেষ গ্রন্থসমূহ রচিত হয়। সীরাত রচনার ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য লেখক ছিলেন চারজন:

1- উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের (মৃত্যু: ৯৩ হিজরি), তিনি ছিলেন একজন ফকিহ, মুহাদ্দিস এবং হাদিস শাস্ত্রে অভিজ্ঞ ও সুপরিচিত।
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ১৫)
بتدوينه العلم والحديث، أسلم قديما، وشهد الغزوات والمشاهد كلّها. ولم يصل كتابه إلينا.

2- أبان بن عثمان بن عفّان (المتوفّى سنة 105 هـ) ، كان فقيها، محدّثا. وقد كتب ما سمع من أخبار السّيرة في مصنّف لم يصل إلينا.

3- وهب بن منبّه (المتوفّى سنة 114 هـ) ، كان مؤرّخا، وكانت له معرفة بأخبار الأوائل، وأحوال الأمم السّابقة. وقد أكثر من الرّواية عن الإسرائيليات.

4- شرحبيل بن سعد الخطمي المدني (المتوفّى سنة 123 هـ) ، كان عالما بالمغازي والبدريّين.

ويعدّ هؤلاء الأربعة الطّبقة الأولى الّتي صنّفت في السّيرة النّبويّة.

ثمّ جاء بعد هؤلاء طبقة أخرى، عاشت في العصر الأموي، اشتهر منها في كتابة السّيرة النّبويّة ثلاثة:

1- عاصم بن عمر بن قتادة (المتوفّى سنة 120 هـ) ، وهو راوية للعلم، عالم بالمغازي والسّيرة، وقد أمره الخليفة عمر بن عبد العزيز أن يجلس في مسجد دمشق فيحدّث النّاس بالمغازي ومناقب الصّحابة، ففعل. وقد اعتمد ابن إسحاق والواقدي على مصنّفاته، وجعلوها من مراجعهم المهمّة.

2- محمّد بن شهاب الزّهريّ (المتوفّى سنة 124 هـ) ، عالم محدّث، وهو أوّل من دوّن الحديث، وقيل: إنّ سيرته أوّل سيرة صنّفت في الإسلام، وهي من أوثق السّير وأفضلها، وقد اعتمد ابن إسحاق عليها في سيرته.

3- عبد الله بن أبي بكر بن حزم الأنصاريّ (المتوفّى سنة 125 هـ) ، وقد كان عالما، محدّثا، ثبتا، وكان من أهل العلم والبصر، وقد نقلت عنه روايات كثيرة، اعتمدها ابن إسحاق وابن سعد والطّبريّ في كتبهم.

ثمّ جاء بعد هؤلاء طبقة أخرى، عاشت في العصر العبّاسيّ الأوّل، وكان من أشهرهم أربعة:

1- موسى بن عقبة (المتوفّى سنة 141 هـ) ، كان عالما بالسّيرة النّبويّة، وقد صنّف كتابا في المغازي، اعتمد عليه ابن سعد والطّبريّ في كتبهم. ولم يصل كتابه إلينا.

2- محمّد بن إسحاق المطلبي (المتوفّى سنة 151 هـ) ، وهو من أصل فارسيّ، صنّف كتابه «المغازي» بناء على طلب الخليفة المنصور، جمع فيه تاريخ الخليقة من آدم عليه السلام إلى
জ্ঞান ও হাদিস সংকলনের মাধ্যমে, তিনি প্রাচীনকালেই ইসলাম গ্রহণ করেন এবং সকল যুদ্ধ ও অভিযানে অংশ নেন। তাঁর কিতাবটি আমাদের পর্যন্ত পৌঁছায়নি।

২- আবান ইবনে উসমান ইবনে আফফান (মৃত্যু ১০৫ হিজরি), তিনি ছিলেন একজন ফকিহ ও মুহাদ্দিস। সীরাতের সংবাদ থেকে তিনি যা শুনেছিলেন তা একটি সংকলনে লিখেছিলেন, যা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছায়নি।

৩- ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ (মৃত্যু ১১৪ হিজরি), তিনি ছিলেন একজন ঐতিহাসিক, এবং প্রাচীনদের সংবাদ ও পূর্ববর্তী জাতিসমূহের অবস্থা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ছিল। তিনি ইসরাইলি বর্ণনা থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন।

৪- শুরাহবিল ইবনে সাদ আল-খাতমি আল-মাদানি (মৃত্যু ১২৩ হিজরি), তিনি মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) এবং বদরি সাহাবীদের সম্পর্কে অভিজ্ঞ আলেম ছিলেন।

এই চারজনকে প্রথম স্তর হিসেবে গণ্য করা হয় যারা নবীজীর সীরাত বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন।

এরপর তাদের পরে অন্য এক স্তরের আগমন ঘটে, যারা উমাইয়া যুগে বসবাস করতেন। সীরাত রচনার ক্ষেত্রে তাদের মধ্য থেকে তিনজন প্রসিদ্ধি লাভ করেন:

১- আসেম ইবনে উমর ইবনে কাতাদাহ (মৃত্যু ১২০ হিজরি), তিনি ছিলেন ইলমের একজন বর্ণনাকারী এবং মাগাজি ও সীরাত শাস্ত্রের পণ্ডিত। খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ তাঁকে দামেস্কের মসজিদে বসে মানুষকে মাগাজি ও সাহাবীদের মর্যাদা সম্পর্কে বর্ণনা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তিনি তাই করেছিলেন। ইবনে ইসহাক এবং ওয়াকিদি তাঁর সংকলনসমূহের ওপর নির্ভর করেছেন এবং সেগুলোকে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

২- মুহাম্মদ ইবনে শিহাব আজ-জুহরি (মৃত্যু ১২৪ হিজরি), একজন মুহাদ্দিস ও আলেম। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি হাদিস সংকলন করেছিলেন। বলা হয়: তাঁর সীরাত গ্রন্থটিই ইসলামে রচিত প্রথম সীরাত গ্রন্থ, এবং এটি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও উত্তম সীরাতগুলোর অন্তর্ভুক্ত। ইবনে ইসহাক তাঁর সীরাত গ্রন্থে এর ওপর নির্ভর করেছেন।

৩- আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে হাজম আল-আনসারি (মৃত্যু ১২৫ হিজরি), তিনি ছিলেন একজন আলেম, মুহাদ্দিস ও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। তিনি ইলম ও প্রজ্ঞার অধিকারী ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে প্রচুর বর্ণনা উদ্ধৃত হয়েছে, যা ইবনে ইসহাক, ইবনে সাদ এবং তবারি তাঁদের গ্রন্থসমূহে গ্রহণ করেছেন।

এরপর তাদের পরে অন্য এক স্তরের আগমন ঘটে, যারা প্রথম আব্বাসীয় যুগে বসবাস করতেন। তাদের মধ্যে চারজন সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ছিলেন:

১- মুসা ইবনে উকবা (মৃত্যু ১৪১ হিজরি), তিনি নবীজীর সীরাত বিষয়ে অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি মাগাজি বিষয়ে একটি কিতাব রচনা করেছিলেন, যার ওপর ইবনে সাদ ও তবারি তাঁদের গ্রন্থসমূহে নির্ভর করেছেন। তাঁর কিতাবটি আমাদের পর্যন্ত পৌঁছায়নি।

২- মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-মুত্তালিবি (মৃত্যু ১৫১ হিজরি), তিনি পারস্য বংশোদ্ভূত ছিলেন। খলিফা মনসুরের অনুরোধে তিনি তাঁর «আল-মাগাজি» গ্রন্থটি রচনা করেন। এতে তিনি আদম (আলাইহিস সালাম) থেকে শুরু করে সৃষ্টির ইতিহাস সংগ্রহ করেছেন...
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ১৬)
زمنه، وقد أطال فيه فلم يرضه المنصور وأمره باختصاره فاختصره. وهو أوّل كتاب وصل إلينا.

3- معمر بن راشد (المتوفّى سنة 150 هـ) ، فقيه، حافظ، متقن. صنّف كتابا في المغازي لم يصل إلينا، ما خلا نقولا أوردها الواقديّ وابن سعد في كتبهم.

4- محمّد بن عمر الواقديّ (المتوفّى سنة 207 هـ) ، وقد كان عالما بالمغازي واختلاف النّاس وأحاديثهم. صنّف كتاب «المغازي» ، ونهج فيه منهجا تاريخيا علميّا جغرافيا. وقد كان هذا الكتاب الأساس الّذي بنى عليه المؤلّفون في السّيرة كتبهم.

ثمّ جاء بعدهم طبقة أخرى، من أشهرهم:

1- أبو محمّد عبد الملك بن هشام (المتوفّى سنة 218 هـ) ، كان مؤرّخا، عالما بالسّير والأنساب واللّغة وأخبار العرب، روى لنا سيرة ابن إسحاق بعد أن هذّبها، وحذف منها الكثير ممّا ليس فيه صلة بسيرته صلى الله عليه وسلم، فجاء على نحو مخالف تماما لما وضعه ابن إسحاق، لكن دون أن يغيّر منه كلمة واحدة. ولهذا فقد نسي ابن إسحاق، وذكر ابن هشام. ولم يعد الكتاب مقرونا إلّا باسم ابن هشام.

ثمّ جاء بعد هؤلاء الأعلام علماء كثيرون صنّفوا في السّيرة، منهم من أطال، ومنهم من اقتصر، ومنهم من اعتنى بذكر الأسانيد، ومنهم من حذفها.

ومن أشهر هذه المصنّفات:

1- عيون الأثر في فنون المغازي والشّمائل والسّير، لابن سيّد النّاس الأندلسيّ، (المتوفّى سنة 734 هـ) .

2- جوامع السّيرة، لابن حزم الأندلسي، (المتوفّى سنة 456 هـ) .

3- المواهب اللّدنيّة. للقسطلّانيّ، (المتوفّى سنة 923 هـ) .

4- سبل الهدى والرّشاد في سيرة خير العباد، للصالحي، (المتوفى سنة 942 هـ) .

5- إنسان العيون في سيرة الأمين المأمون، المعروف بالسيرة الحلبية، للحلبي، (المتوفّى سنة 1044 هـ) .

ومن بين هؤلاء الأئمة الأعلام- صاحب هذا الكتاب الّذي بين أيدينا- محمّد بن عمر بن مبارك (بحرق) الحضرمي. حيث نهج في تأليف هذا الكتاب نهج من سبقه من علماء السّير، فصنّفه في وقت كثر فيه التّأليف في السّيرة. وكانت مؤلّفات المحدّثين في السّيرة تحظى بالقبول والتّقدير، لأنّها من أفضل الكتب صحّة، وأروعها تأليفا، وأصدقها لهجة، على حين كانت
তাঁর সমকালীন, তিনি এটি দীর্ঘায়িত করেছিলেন কিন্তু আল-মানসুর তাতে সন্তুষ্ট হননি এবং তাকে এটি সংক্ষেপ করার নির্দেশ দেন, ফলে তিনি তা সংক্ষেপ করেন। এটিই আমাদের কাছে পৌঁছানো প্রথম কিতাব।

৩- মা'মার বিন রাশিদ (মৃত্যু ১৫০ হিজরী), তিনি ছিলেন একজন ফকিহ, হাফেজ ও সূক্ষ্মদর্শী আলেম। তিনি মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) বিষয়ে একটি কিতাব সংকলন করেছিলেন যা আমাদের কাছে পৌঁছায়নি, তবে আল-ওয়াকিদি এবং ইবনে সাদ তাদের কিতাবসমূহে যে উদ্ধৃতিগুলো উল্লেখ করেছেন তা ব্যতীত।

৪- মুহাম্মাদ বিন উমর আল-ওয়াকিদি (মৃত্যু ২০৭ হিজরী), তিনি মাগাজি, মানুষের মতভেদ এবং তাদের হাদিসসমূহ সম্পর্কে বিজ্ঞ ছিলেন। তিনি 'আল-মাগাজি' কিতাবটি সংকলন করেন এবং এতে একটি ঐতিহাসিক, বৈজ্ঞানিক ও ভৌগোলিক পদ্ধতি অনুসরণ করেন। এই কিতাবটিই ছিল সেই ভিত্তি যার ওপর পরবর্তী সিরাত লেখকরা তাদের কিতাবসমূহ রচনা করেছেন।

এরপর তাদের পরে অন্য এক প্রজন্মের আলেমদের আগমন ঘটে, যাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হলেন:

১- আবু মুহাম্মাদ আব্দুল মালিক ইবনে হিশাম (মৃত্যু ২১৮ হিজরী), তিনি ছিলেন একজন ঐতিহাসিক এবং সিরাত, বংশলতিকা, ভাষা ও আরবদের ইতিহাস সম্পর্কে বিজ্ঞ। তিনি ইবনে ইসহাকের সিরাতকে পরিমার্জন করার পর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন এবং সেখান থেকে এমন অনেক কিছু বাদ দিয়েছেন যার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিরাতের কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে এটি ইবনে ইসহাকের সংকলিত রূপ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন বিন্যাসে আত্মপ্রকাশ করে, তবে তিনি এর একটি শব্দও পরিবর্তন করেননি। এই কারণে ইবনে ইসহাকের নাম অনুক্ত হয়ে পড়ে এবং ইবনে হিশামের নামই স্মরণ করা হয়। এখন কিতাবটি ইবনে হিশামের নাম ছাড়া আর কারো সাথে যুক্ত হয় না।

এই সকল মহান মনীষীদের পরে আরও অনেক আলেম আগমন করেন যারা সিরাত বিষয়ে কিতাব সংকলন করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ দীর্ঘ বর্ণনা দিয়েছেন, কেউ সংক্ষেপ করেছেন, কেউ সনদ বা সূত্র উল্লেখ করার প্রতি যত্নবান ছিলেন, আবার কেউ তা বাদ দিয়েছেন।

এই সংকলনগুলোর মধ্যে প্রসিদ্ধ হলো:

১- উইউনুল আসার ফি ফুনুনিল মাগাজি ওয়াশ শামায়িল ওয়াস সিয়ার, লেখক: ইবনে সাইয়্যিদুন নাস আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৭৩৪ হিজরী)।

২- জাওয়ামিউস সিরাহ, লেখক: ইবনে হাজম আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৪৫৬ হিজরী)।

৩- আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ, লেখক: আল-কাসতালানি (মৃত্যু ৯২৩ হিজরী)।

৪- সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফি সিরাতি খাইরিল ইবাদ, লেখক: আস-সালিহি (মৃত্যু ৯৪২ হিজরী)।

৫- ইনসানুল উইউন ফি সিরাতিল আমিনিল মামুন, যা সিরাতে হালাবিয়্যাহ নামে পরিচিত, লেখক: আল-হালাবি (মৃত্যু ১০৪৪ হিজরী)।

এই সকল মহান ইমামদের মধ্যে একজন হলেন—আমাদের সম্মুখস্থ এই কিতাবটির লেখক—মুহাম্মাদ বিন উমর বিন মুবারক (বাহরাক) আল-হাদরামি। তিনি এই কিতাবটি রচনার ক্ষেত্রে তাঁর পূর্বসূরি সিরাত বিশেষজ্ঞদের পথ অনুসরণ করেছেন। তিনি এটি এমন এক সময়ে সংকলন করেছেন যখন সিরাত বিষয়ক রচনার প্রাচুর্য ছিল। মুহাদ্দিসগণের রচিত সিরাত গ্রন্থগুলো গ্রহণযোগ্যতা ও বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছিল, কারণ সেগুলো বিশুদ্ধতার দিক থেকে ছিল শ্রেষ্ঠ, বিন্যাসে চমৎকার এবং বর্ণনায় অত্যন্ত সত্যনিষ্ঠ, যেখানে...
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ১৭)
مؤلّفات المؤرّخين وأصحاب المغازي والملاحم لا تصل إلى تلك الرّفعة الّتي حظيت بها كتب المحدّثين؛ ذلك لأنّ المحدّثين كانوا لا ينقلون في كتبهم إلّا عن الثّقات، ويطرحون ما لم يصحّ عندهم من الرّوايات، ويذكرون الأحاديث الصّحيحة، ويبتعدون عن تدوين الأحاديث الضّعيفة، ويهجرون الرّوايات الموضوعة والمنحولة.

لقد كان المؤلّف- رحمه الله تعالى- أحد أولئك المحدّثين، حيث نهج في كتابه هذا منهجهم، فانتقى الأحاديث الصّحيحة، والأخبار الثّابتة، واختار موضوعاته من أمّهات كتب السّيرة النّبويّة الّتي قرأها وتعلّمها. ولا عجب في ذلك، فهو ممّن عرف بطول اليد في علم الحديث وفنونه.

فجاء الكتاب جليل النّفع، عظيم الفائدة، عزير المعلومات، واضح الأسلوب، جزل العبارة.

 

‌‌نسخ الكتاب:

اعتمدت في تحقيق هذا الكتاب على نسختين خطّيتين:

الأولى: نسخة (دار الكتب المصريّة) ، برقم (1261) ؛ وهي من كتب المرحوم (جعفر أفندي بناسكجي) ، الّذي آل الكتاب إليه من مكتبة المرحوم المبرور (موسى بن السيد جعفر مبرك) طاب ثراه، تقع في ستّ وثلاثين ومئة ورقة، في كلّ ورقة ثلاثة وعشرون سطرا، خطّها نسخيّ متقدّم، ليس عليها ما يشير إلى اسم ناسخها،

الثّانية: نسخة مكتبة الأحقاف بتريم. عدد أوراقها سبع ومئة ورقة، ومتوسّط عدد أسطرها خمسة وعشرون سطرا، خطّها بين الثّلث والنّسخ المعتاد. ذات الرّقم (3010) . لم أجد ما يشير إلى اسم ناسخها، كان الفراغ من نسخها يوم الأربعاء سادس عشر ذي القعدة سنة إحدى وأربعين ومئتين وألف للهجرة.

 

‌‌منهج التّحقيق:

1- بعد نسخ المخطوط المعتمد أصلا، قابلته على النّسخة الآخرى، فما كان بين النّسختين أدنى خلاف؛ أثبتّ ما في المخطوط المعتمد أصلا؛ إلا أن يكون خطأ ظاهرا أو زيادات لم ترد في الأصل، فأثبتّ ما في النّسخة الآخرى.

2- أضفت ما كان مناسبا من العبارة ليستقيم المعنى، وميزته ب [] ، وهذه الزّيادة اعتمدتّها لدى رجوعي إلى الأصول الّتي نهل المؤلّف منها.

3- ضبطت النّصّ ضبطا أسأل الله العليّ العظيم أن يكون صحيحا، قريبا إلى الصّواب، كما أراده المؤلّف- رحمه الله.
ঐতিহাসিক এবং মাগাযী ও মালাহিম (যুদ্ধবিগ্রহ) লেখকদের রচনাবলী সেই উচ্চমর্যাদায় পৌঁছাতে পারে না যা মুহাদ্দিসগণের কিতাবসমূহ লাভ করেছে। এর কারণ হলো, মুহাদ্দিসগণ তাঁদের কিতাবসমূহে কেবল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমেই উদ্ধৃতি প্রদান করতেন এবং তাঁদের নিকট যা অশুদ্ধ সাব্যস্ত হতো সেই বর্ণনাগুলো বর্জন করতেন। তাঁরা কেবল সহীহ হাদীসসমূহ উল্লেখ করতেন, যয়ীফ হাদীস লিপিবদ্ধ করা থেকে দূরে থাকতেন এবং বানোয়াট ও জাল বর্ণনাগুলো পরিহার করতেন।

লেখক—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—ছিলেন সেই মুহাদ্দিসগণেরই একজন, যিনি তাঁর এই কিতাবে তাঁদেরই পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। ফলে তিনি সহীহ হাদীস ও নির্ভরযোগ্য সংবাদসমূহ নির্বাচন করেছেন এবং সীরাতে নববীর মূল কিতাবসমূহ—যা তিনি পাঠ করেছিলেন ও শিক্ষা করেছিলেন—থেকে তাঁর আলোচনার বিষয়বস্তু চয়ন করেছেন। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ তিনি হাদীস শাস্ত্র ও এর বিভিন্ন শাখায় তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য সুপরিচিত ছিলেন।

ফলে কিতাবটি অত্যন্ত উপকারী, মহান ফায়দাজনক, তথ্যে সমৃদ্ধ, সুস্পষ্ট শৈলী এবং সাবলীল ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ হয়েছে।

 

‌‌কিতাবের পাণ্ডুলিপিসমূহ:

এই কিতাবটির সম্পাদনায় আমি দুটি হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি:

প্রথমটি: ‘দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ’ এর পাণ্ডুলিপি, নম্বর (১২৬১); এটি মরহুম (জাফর আফন্দি বানাসকাজী)-এর সংগৃহীত কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা তাঁর নিকট মরহুম (মুসা বিন আস-সাইয়্যিদ জাফর মুবারাক)-এর কুতুবখানা থেকে এসেছিল—আল্লাহ তাঁর মাটি (কবর) শান্তিময় করুন। এটি একশত ছত্রিশটি পত্রে বিন্যস্ত, প্রতি পৃষ্ঠায় তেইশটি করে লাইন রয়েছে। এর লিপি প্রাচীন নাসখ পদ্ধতির, তবে এতে লিপিকারের নামের কোনো উল্লেখ নেই।

দ্বিতীয়টি: তারিমের ‘আল-আহকাফ’ লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি। এর পত্র সংখ্যা একশত সাতটি এবং প্রতি পৃষ্ঠায় গড় লাইন সংখ্যা পঁচিশটি। এর লিপি তুলুস এবং সাধারণ নাসখ লিপির মধ্যবর্তী। এর নম্বর (৩০১০)। আমি এতে লিপিকারের নামের কোনো উল্লেখ পাইনি। এর অনুলিপি সম্পন্ন হয়েছিল ১২৪১ হিজরী সনের ১৬ই জিলকদ, বুধবার।

 

‌‌সম্পাদনা পদ্ধতি:

১- মূল ভিত্তি হিসেবে গৃহীত পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করার পর আমি অন্য পাণ্ডুলিপিটির সাথে তা মিলিয়ে দেখেছি। যদি দুই পাণ্ডুলিপির মধ্যে সামান্যতম পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে, তবে আমি মূল পাণ্ডুলিপিতে যা আছে তা-ই বহাল রেখেছি; তবে যদি তা স্পষ্ট ভুল হয় অথবা এমন কোনো অতিরিক্ত অংশ থাকে যা মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই, সেক্ষেত্রে আমি দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি থেকে তা গ্রহণ করেছি।

২- অর্থের সঠিকতা ও সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য আমি প্রয়োজন অনুযায়ী শব্দ বা বাক্য যোগ করেছি এবং সেগুলোকে [ ] চিহ্নের মাধ্যমে চিহ্নিত করেছি। এই অতিরিক্ত অংশগুলো যোগ করার ক্ষেত্রে আমি সেই মূল উৎসগুলোর সাহায্য নিয়েছি যেখান থেকে লেখক তথ্য গ্রহণ করেছিলেন।

৩- আমি পাঠ্যটির বিন্যাস ও হরকত এমনভাবে নির্ধারণ করেছি যা সঠিক এবং নির্ভুলতার নিকটবর্তী হবে বলে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, যেমনটি লেখক—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—চেয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ১৮)
4- أثبتّ أرقام صفحات المخطوط المعتمد عند بداية كلّ صفحة، ورمزت لها ب [ق … ] .

5- خرّجت الآيات الكريمة بذكر اسم السّورة، وترتيبها في القرآن، ورقم الآية.

6- عزوت الأحاديث النّبوية الشّريفة إلى مظانّها من كتب السّنّة المطهّرة.

7- أحلت الموضوعات الرّئيسة إلى مصادرها.

8- وضّحت ما كان مغلقا ومبهما بالشّرح والتّبيان.

9- عنونت فقر الكتاب بعنوانات مناسبة، ووضعتهما على هامش الكتاب، وذلك للفصل بين موضوعات الكتاب المتتابعة، بطريقة تجعله سهلا متناولا في هذا العصر.

10- ربّما أجد تناقضا أو مخالفة لم يجمع عليها علماء السّير أثناء مقابلة المصادر الّتي أخذ عنها المؤلّف مع مصادر السّيرة الآخرى، لذلك وجدت من الواجب والأمانة أن أنبّه على ذلك وأشير إليه في الحاشية، رامزا له ب (قلت) .

11- تعرّضت أثناء الكتاب للرّدّ على بعض المستشرقين وأبواقهم المقلّدين لهم، وذلك في المواضع الّتي تحتاج لذلك.

يحسن بي أن أشير إلى أنني عدت إلى معظم كتب المغازي والسّير الّتي كتبت قديما وحديثا لمعارضتها بهذا الكتاب.

وإنّي أجد من البرّ والوفاء أن أتوقّف عند أهمّ كتابين كانا لي عونا، فقد استفدت منهما وأفدت.

أوّلهما: السّيرة النّبويّة في ضوء القرآن والسّنّة. للدّكتور محمّد بن محمّد أبو شهبة- رحمه الله تعالى- الّذي اعتمد على ذكر الآيات المتعلّقة بحوادث السّيرة ووقائعها. وبذكر الأحاديث الصّحيحة، وترك الأحاديث الموضوعة أو الإسرائيليات المكذوبة. واعتمد أيضا على كتب التّاريخ والسّير قديمها وحديثها، بعد الفحص والتّمحيص والتّحقيق، والموازنة بين الرّوايات، والأخذ بما يصلح للاحتجاج منها، والرّد على أوهام المؤرّخين الّذين بالغوا في مخالفة المحدّثين، وخاصّة إذا عارضت روايتهم ما هو أصحّ منها كرواية صاحبي الصّحيحين. ثمّ تصدّى- رحمه الله تعالى- لأولئك الّذين يحاولون أن يتألكوا بالباطل من المبشّرين والمستشرقين الّذين لا يجدون ثغرة ينفثون منها أحقادهم وسمومهم إلّا نفذوا منها، فكان لهم بالمرصاد.

وكذلك فقد تصدّى للكتّاب المسلمين الّذين تأثّروا بالمستشرقين، وراحوا يلوكون أقوالهم دون تثبّت ومعرفة. فجزاه الله عنّا وعن المسلمين كلّ خير.
৪- প্রতিটি পৃষ্ঠার শুরুতে আমি নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা নম্বরগুলো সাব্যস্ত করেছি এবং সেগুলোকে [পা … ] দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

৫- আমি পবিত্র আয়াতসমূহের তাখরিজ করেছি সূরার নাম, কুরআনে এর ক্রম এবং আয়াত নম্বর উল্লেখ করার মাধ্যমে।

৬- আমি সম্মানিত নববী হাদিসসমূহকে পবিত্র সুন্নাহর গ্রন্থসমূহের মূল উৎসস্থলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি।

৭- আমি প্রধান বিষয়বস্তুগুলোকে সেগুলোর মূল উৎসের দিকে নির্দেশ করেছি।

৮- যা কিছু জটিল ও অস্পষ্ট ছিল, তা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছি।

৯- আমি বইটির অনুচ্ছেদগুলোকে উপযুক্ত শিরোনাম দিয়েছি এবং সেগুলো বইয়ের পার্শ্বটীকায় রেখেছি, যাতে বইটির ধারাবাহিক বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা যায় এবং বর্তমান যুগে তা সহজবোধ্য ও সহজলভ্য হয়।

১০- লেখক যেসব উৎস থেকে তথ্য নিয়েছেন, সেগুলোর সাথে সিরাতের অন্যান্য উৎসের তুলনা করার সময় সম্ভবত আমি এমন কোনো বৈপরীত্য বা ভিন্নমত পেয়েছি যে বিষয়ে সিরাত বিশেষজ্ঞগণ একমত নন। তাই আমি বিষয়টিকে সর্তক করা এবং টীকায় তার দিকে ইঙ্গিত করাকে দায়িত্ব ও আমানতদারি মনে করেছি, এবং সেখানে (আমি বলছি) শব্দ দ্বারা সংকেত দিয়েছি।

১১- বইটির কাজ চলাকালীন আমি প্রয়োজনভেদে কিছু প্রাচ্যবিদ এবং তাদের অনুসারী অন্ধ অনুকরণকারীদের জবাব প্রদান করেছি।

এটি উল্লেখ করা সমীচীন হবে যে, আমি এই বইটির সাথে তুলনা করার জন্য প্রাচীন ও আধুনিক কালে রচিত মাগাজি ও সিরাতের অধিকাংশ গ্রন্থের সাহায্য নিয়েছি।

আর আমি কৃতজ্ঞতা ও বিশ্বস্ততার দাবি মনে করি সেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ কিতাবের কথা উল্লেখ করা, যা আমার জন্য সহায়ক ছিল; আমি সেগুলো থেকে উপকৃত হয়েছি এবং অন্যদেরও উপকৃত করেছি।

প্রথমটি হলো: আস-সিরাতুন নববিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ। এটি ড. মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আবু শাহবাহ-এর (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) রচনা, যিনি সিরাতের ঘটনাবলি ও বিষয়গুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহ উল্লেখ করার ওপর নির্ভর করেছেন। তিনি সহিহ হাদিসসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং জাল হাদিস বা মিথ্যা ইসরাইলি বর্ণনাগুলো বর্জন করেছেন। তিনি ইতিহাস ও সিরাতের প্রাচীন ও আধুনিক গ্রন্থাবলির ওপরও নির্ভর করেছেন—গবেষণা, যাচাই-বাছাই, তাহকিক এবং বর্ণনাগুলোর মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনার পর। সেখান থেকে তিনি দলিলের যোগ্য বর্ণনাগুলো গ্রহণ করেছেন এবং সেসব ঐতিহাসিকদের বিভ্রান্তি খণ্ডন করেছেন যারা মুহাদ্দিসদের বিরোধিতায় বাড়াবাড়ি করেছেন, বিশেষ করে যখন তাদের বর্ণনা বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনার মতো অধিকতর বিশুদ্ধ বর্ণনার পরিপন্থী হয়েছে। এরপর তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—সেসব মিশনারি ও প্রাচ্যবিদদের মোকাবিলা করেছেন যারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে কুৎসা রটানোর চেষ্টা করে, যারা তাদের বিদ্বেষ ও বিষ ছড়ানোর জন্য কোনো ছিদ্র পেলেই সেখান দিয়ে প্রবেশ করে; তিনি তাদের জন্য অতন্দ্র প্রহরীর মতো ছিলেন।

একইভাবে তিনি সেসব মুসলিম লেখকেরও মোকাবিলা করেছেন যারা প্রাচ্যবিদদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ও জ্ঞান ছাড়াই তাদের কথাগুলো আওড়াতে থাকে। আল্লাহ তাআলা আমাদের পক্ষ থেকে এবং মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ১৯)
ثانيهما: الجامع في السّيرة النّبويّة. تأليف الأخت سميرة الزّايد. فقد كان هذا الكتاب- الّذي يقع في ستّة مجلدات من القطع الكبير- عملا فريدا من نوعه، وينمّ عن جلالة هذا العمل ومدى أهميّته، الجهد الكبير الّذي بذل في سبيل إنجازه. أمّا ثمرة هذا الجهد المبارك فتتجلّى في فائدتين لا تقلّ إحداهما عن الآخرى قيمة وأهمّيّة:

الأولى: الإحاطة بمعظم أحداث السّيرة النّبويّة، وتسجيلها في كتاب جامع، يطلّ القارىء من خلاله على حياة الرّسول صلى الله عليه وسلم عامّة، بكلّ جوانبها ومراحلها، وسائر ما فيها وما يتّصل بها.

الثّانية: ربط سائر مرويات السّيرة النّبويّة بمصادرها الأصليّة المتنوّعة. مع بيان أماكن كلّ منها من تلك المصادر على اختلافها.

وهذا الكتاب، من خلال هاتين الفائدتين؛ يعدّ أوّل جهد من نوعه في نطاق الكتابات الحديثة في السّيرة النّبويّة. أرفع للأخت سميرة الشّكر الوفير لجهدها المبارك هذا الّذي قلّما يستطيع أن ينهض به فرد واحد.

وإنّي أجد من البرّ والوفاء أيضا- وتحقيقا لقوله صلى الله عليه وسلم: «من لم يشكر النّاس لم يشكر الله» - أن أقدّم جزيل الشّكر والامتنان لمشايخنا وأساتذتنا وإخواننا من طلبة العلم؛ الّذين أسهموا بمجهود مشكور وعمل مذكور في مراجعة وتدقيق وتصحيح نصّ هذا الكتاب المبارك، وكذلك لما أسدوه من ملاحظات وإيضاحات لحواشى الكتاب؛ ممّا أغنى الكتاب وجعله من الكتب المخدومة بحقّ. ونحن لا نزكّي عملنا هذا؛ وإنّما هو من باب التّحدّث بنعمة الله، ولسوف يلمس القارىء الكريم ذلك عند تصفّحه لهذا الكتاب.

نسأل الله أن يقبل ما بذلوه وعملوه، وأن يجزيهم عنّا خير الجزاء.

وإليك أيّها القارئ الغالي أقدم سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم مبسّطة، مبوّبة، مرتّبة. بذلت فيها طوقي واستنفدت طاقتي، فإن أصبت فمن الله تعالى، وإن قصّرت عن بلوغ الهدف فمن نفسي، وحسبي بذل الجهد وحسن النّيّة.

أسأل الله العليّ القدير أن ينفع بهذا الكتاب الأمّة المحمّديّة، وأن يكرمهم باتباع سيرة الرّسول وسنّته وأقواله وأفعاله وأحواله صلى الله عليه وسلم، إنّه على ما يشاء قدير.

وآخر دعوانا أن الحمد لله ربّ العالمين.

وكتبه

محمّد غسّان نصوح عزقول
দ্বিতীয়ত: আল-জামে ফিস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ (নবীজীর জীবনচরিতের সংকলন)। এটি বোন সামিরা আয-যায়েদের রচনা। এই বইটি—যা বড় আকারের ছয় খণ্ডে বিন্যস্ত—তার ধরনের এক অনন্য কাজ। এর মাহাত্ম্য এবং গুরুত্ব তা সম্পন্ন করার পেছনে ব্যয়িত বিশাল প্রচেষ্টার মাধ্যমেই প্রকাশ পায়। আর এই বরকতময় প্রচেষ্টার ফল দুটি উপকারে পরিস্ফুট হয়েছে, যার একটি অন্যটির চেয়ে গুরুত্ব ও মূল্যে কোনো অংশে কম নয়:

প্রথমত: সীরাতুন নববীর অধিকাংশ ঘটনাবলি পরিবেষ্টন করা এবং সেগুলোকে একটি সংকলিত গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করা, যার মাধ্যমে পাঠক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামগ্রিক জীবন, এর সমস্ত দিক ও পর্যায় এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয়ের ওপর আলোকপাত করতে পারেন।

দ্বিতীয়ত: সীরাতুন নববীর সকল বর্ণনাকে তাদের বিভিন্ন মূল উৎসের সাথে সম্পৃক্ত করা এবং ভিন্ন ভিন্ন উৎসগুলোতে সেগুলোর অবস্থানের বর্ণনা প্রদান করা।

এই বইটিকে তার এই দুটি উপকারের মাধ্যমে সীরাতুন নববীর আধুনিক রচনাবলির ক্ষেত্রে স্বজাতীয় প্রথম প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য করা হয়। আমি বোন সামিরাকে তাঁর এই বরকতময় প্রচেষ্টার জন্য অশেষ ধন্যবাদ জানাই, যা একক কোনো ব্যক্তির পক্ষে সম্পন্ন করা খুব কমই সম্ভব হয়।

আমি সৌজন্য ও কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না" এর বাস্তবায়নে—আমাদের শায়খগণ, উস্তাদগণ এবং ইলম অন্বেষী ভাইদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি; যারা এই বরকতময় বইটির পাঠ পরিমার্জন, নিরীক্ষণ ও সংশোধনে প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা ও উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন। সেই সাথে বইটির টীকাসমূহে তাঁরা যে পর্যবেক্ষণ ও ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, যা বইটিকে সমৃদ্ধ করেছে এবং এটিকে যথাযথভাবে পরিচর্যাকৃত গ্রন্থাবলিতে রূপান্তর করেছে। আমরা আমাদের এই কাজের আত্মপ্রশংসা করছি না; বরং এটি আল্লাহর নেয়ামত বর্ণনার একটি অংশ মাত্র, এবং সম্মানিত পাঠক যখন এই বইটি উল্টেপাল্টে দেখবেন, তখন তিনি তা নিজেই অনুভব করবেন।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁদের ব্যয়িত শ্রম ও কাজ কবুল করেন এবং আমাদের পক্ষ থেকে তাঁদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন।

হে প্রিয় পাঠক, আপনার সামনে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতকে সহজবোধ্য, অধ্যায়ভিত্তিক এবং সুবিন্যস্ত আকারে পেশ করছি। এতে আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বাত্মক চেষ্টা ও শক্তি ব্যয় করেছি। যদি আমি সঠিক হয়ে থাকি তবে তা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে, আর যদি লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হই তবে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে। প্রচেষ্টা চালানো এবং নিয়তের সততাই আমার জন্য যথেষ্ট।

আমি মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই বইয়ের মাধ্যমে উম্মতে মুহাম্মদীকে উপকৃত করেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত, সুন্নাহ, কথা, কাজ ও অবস্থা অনুসরণ করার মাধ্যমে তাঁদের সম্মানিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি যা চান তা করতে সক্ষম।

আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

এটি লিখেছেন

মুহাম্মদ গাসসান নাসুহ আযকুল
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌نبذة يسيرة عن حياة الامام بحرق رحمه الله تعالى

 

‌‌اسمه:

هو الشّيخ العلّامة المحدّث، الإمام البارع، اللّغويّ النّحويّ الأديب؛ القاضي: جمال الدّين محمّد بن عمر بن مبارك بن عبد الله بن عليّ. الحميريّ، الحضرميّ، الشّافعي. الشّهير ب (بحرق) .

 

‌‌مولده:

ولد- رحمه الله تعالى- في ليلة النّصف من شعبان، سنة تسع وستّين وثمان مئة بحضر موت.

 

‌‌نشأته وطلبه العلم:

نشأ- رحمه الله تعالى- على أحسن الأوصاف والنّعوت بحضر موت؛ المشهود لها بوفرة العلماء ورسوخهم في كثير من فنون العلم، فحفظ القرآن العظيم و «الجزريّة» ومعظم «الحاوي الصّغير» و «الشّاطبيّة» ومنظومة «البرماوي» الأصوليّة و «ألفيّة ابن مالك» النّحويّة. وأخذ عن الفقيه الشّيخ الجليل محمّد بن أحمد باجرفيل الفقه.

رحل إلى (الشحر) ، فأخذ عن العلّامة الشّهير عبد الله بن عبد الرّحمن بافضل وقرأ عليه في الفقه وأصوله.

ثمّ إلى بندر (عدن) ، فأخذ عن عبد الله بن أحمد بامخرمة الّذي لازمه ملازمة تامّة حتّى تخرّج به، وقرأ عليه الفقه وأصوله والعربيّة، حتّى كان جلّ انتفاعه به، وقرأ عليه «ألفيّة ابن مالك» وجميع «سيرة ابن هشام» وجملة صالحة من «الحاوي الصّغير» في الفقه، وسمع عليه جملة من علوم شتّى. وأخذ عن الشّيخ محمّد بن أحمد بافضل، فقرأ عليه أيضا الفقه وأصوله.

ثمّ ارتحل إلى (زبيد) وأخذ عن علمائها. فأخذ علم الحديث عن المحدّث الشّيخ
ইমাম বাহরাক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর জীবনী সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা

 

‌‌তাঁর নাম:

তিনি হলেন শায়খ, আল্লামা, মুহাদ্দিস, বিজ্ঞ ইমাম, ভাষাবিদ, ব্যাকরণবিদ ও সাহিত্যিক; বিচারপতি: জামালুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে মুবারক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আলী আল-হিময়ারী আল-হাদরামী আশ-শাফিয়ী। তিনি (বাহরাক) নামে প্রসিদ্ধ।

 

‌‌তাঁর জন্ম:

তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—হাদরামাউতে ৮৬৯ হিজরী সনের শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাতে জন্মগ্রহণ করেন।

 

‌‌তাঁর বেড়ে ওঠা এবং জ্ঞানার্জন:

তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—হাদরামাউতে সর্বোত্তম গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্যের সাথে বেড়ে ওঠেন; যে স্থানটি অনেক শাস্ত্রের বিদ্যাবত্তায় আলেমদের প্রাচুর্য ও তাদের দৃঢ়তার জন্য প্রসিদ্ধ। তিনি মহান কুরআন, ‘আল-জাযারিইয়াহ’, ‘আল-হাভি আস-সগির’-এর অধিকাংশ অংশ, ‘আশ-শাতবিইয়াহ’, আল-বারমাভির উসুল শাস্ত্রীয় কাব্যগ্রন্থ এবং ইবনে মালিকের ব্যাকরণ গ্রন্থ ‘আলফিয়্যাহ’ মুখস্থ করেন। তিনি বরেণ্য ফকিহ শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ বাজরাফিলের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন।

তিনি (আশ-শিহর) শহরে সফর করেন এবং সেখানে প্রসিদ্ধ আল্লামা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান বা-ফাদল-এর নিকট শিক্ষা লাভ করেন এবং তাঁর কাছে ফিকহ ও উসুলুল ফিকহ পাঠ করেন।

অতঃপর তিনি (আদন) বন্দরে গমন করেন এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ বা-মাখরামাহ-এর নিকট থেকে জ্ঞানার্জন করেন, যাঁর একনিষ্ঠ সান্নিধ্যে তিনি শিক্ষা সমাপ্ত করা পর্যন্ত অবস্থান করেন। তিনি তাঁর কাছে ফিকহ, উসুল এবং আরবি ভাষা পাঠ করেন, এমনকি তাঁর মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক উপকৃত হয়েছিলেন। তিনি তাঁর কাছে ‘আলফিয়্যাহ ইবনে মালিক’, পূর্ণাঙ্গ ‘সিরাতে ইবনে হিশাম’ এবং ফিকহ শাস্ত্রের ‘আল-হাভি আস-সগির’-এর উল্লেখযোগ্য অংশ পাঠ করেন এবং তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন শাস্ত্রের বহু বিষয় শ্রবণ করেন। তিনি শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ বা-ফাদল-এর নিকট থেকেও ফিকহ ও উসুল পাঠ করেন।

অতঃপর তিনি (যাবিদ) শহরে সফর করেন এবং সেখানকার আলেমদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি মুহাদ্দিস শায়খের নিকট থেকে হাদিস শাস্ত্রের ইলম গ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ২২)
زين الدّين محمّد بن عبد اللّطيف الشرجي، وعلم الأصول عن الفقيه جمال الدّين محمّد بن أبي بكر الصّائغ، وأخذ عنه التّفسير والحديث والنّحو، وقرأ عليه «شرح البهجة الورديّة» لأبي زرعة. وأخذ أيضا عن السّيّد الشّريف الحسين بن عبد الرّحمن الأهدل. وصحب الشّيخ أبا بكر العيدروس، وأخذ عنه، وانتفع به، وعادت عليه بركته.

ثمّ رحل إلى (الحرمين) سنة أربع وتسعين وثمان مئة، وأدّى النّسكين العظيمين، واجتمع بالحافظ السّخاويّ، وسمع منه، وأخذ عنه علم الحديث والمصطلح.

 

‌‌مكانته وحياته:

كان- رحمه الله تعالى- ثقة، صالحا، حافظا للأحاديث والآثار، رجّاعا إلى الحقّ، محبّا لأهل العلم، محسنا إلى طلبته، غاية في الكرم، مؤثرا.

تولّى القضاء (بالشحر) ، فكان قاضيا عادلا تحمد أحكامه. ثمّ عزل نفسه، وقصد (عدن) فحصل له قبول وجاه عند أميرها مرجان العامريّ.

ولمّا توفّي الأمير مرجان سنة سبع وعشرين وتسع مئة قصد (الهند) ، فوفد على سلطانها مظفّر شاه أحمد بن محمود بايقرا (الكجراتي) . فقرّبه السّلطان وأكرمه وعظّمه، وقام به وقدّمه، ووسّع عليه والتفت إليه، وأدناه منه وأخذ عنه، فاشتهر بجاهه. وصنّف للسّلطان كتابنا هذا: «تبصرة الحضرة الشّاهيّة الأحمديّة بسيرة الحضرة النّبويّة الأحمديّة» .

قال السّخاويّ في «الضّوء اللّامع» : وصاهر صاحبنا- أي: بحرق- حمزة النّاشريّ على ابنته وأولدها، وتولّع النّظم أيضا ومدح- السّلطان- عامر بن عبد الوهّاب حين شرع في بناء مدارس (زبيد) والنّظر فيها، فكان من أولها فيما أنشدنيه حين لقيته (بمكّة) ، وأخذ عنّي، وكان قدومه لها ليلة الصّعود، فحجّ حجّة الإسلام وأقام قليلا، ثمّ رجع- كان الله له-.

فمّما قال- مادحا السّلطان عامر بن عبد الوهّاب-:

أبى الله إلّا أن تحوز المفاخرا … فسمّاك من بين البريّة عامرا

عمرت رسوم الدّين بعد دروسها … وأحييت آثار الإله الدّواثرا

فأنت صلاح الدّين لا شكّ هذه … شواهده تبدو عليك ظواهرا

قال- أي: السّخاويّ- وكذا أنشدني ممّا امتدح به المشار إليه بيتا هو عشر كلمات:

يا ربّ كن أبدا معينا ناصرا … شمس الملوك صلاح دينك عامرا

وضمّنه في أربعة أبيات يستخرج منها الضّمير من العشر فقال:
জয়নুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আব্দুল লতিফ আল-শারজি এবং ফকীহ জামালুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আবু বকর আল-সায়িগের নিকট থেকে তিনি উসুল শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেন। তাঁর কাছ থেকে তিনি তাফসির, হাদিস ও নাহু (ব্যাকরণ) শিক্ষা করেন এবং তাঁর নিকট আবু জুরআর লেখা ‘শারহুল বাহজাতুল ওয়ারদিয়্যাহ’ পাঠ করেন। তিনি সাইয়্যেদ শরীফ আল-হুসাইন বিন আব্দুর রহমান আল-আহদালের নিকট থেকেও জ্ঞান লাভ করেন। তিনি শায়খ আবু বকর আল-আইদারুসের সাহচর্য লাভ করেন, তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং তাঁর দ্বারা উপকৃত হন; তাঁর বরকত তাঁর ওপর বর্ষিত হয়েছিল।

অতঃপর তিনি আটশ চুরানব্বই হিজরিতে হারামাইনের (মক্কা ও মদিনা) উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং মহান হজ ও ওমরাহ পালন করেন। সেখানে তিনি হাফেজ সাখাবীর সাথে সাক্ষাৎ করেন, তাঁর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন এবং হাদিস ও পরিভাষা (মুসতালাহ) শাস্ত্র গ্রহণ করেন।

 

‌‌তাঁর মর্যাদা ও জীবন:

তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—ছিলেন নির্ভরযোগ্য, নেককার এবং হাদিস ও আসার (সাহাবীদের বাণী) সংরক্ষণকারী, সর্বদা হকের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী, আহলে ইলম বা জ্ঞানীদের প্রতি ভালোবাসা পোষণকারী এবং ছাত্রদের প্রতি অনুগ্রহকারী। তিনি ছিলেন চরম দানশীল ও পরোপকারী।

তিনি শিহরে বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন একজন ন্যায়বিচারক যার ফয়সালাসমূহ প্রশংসিত হতো। এরপর তিনি নিজেই পদত্যাগ করেন এবং আদেনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে সেখানকার আমির মুরজান আল-আমিরীর নিকট তিনি গ্রহণযোগ্যতা ও বিশেষ মর্যাদা লাভ করেন।

যখন আমির মুরজান নয়শ সাতাশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তিনি ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি সেখানকার সুলতান মোজাফফর শাহ আহমদ বিন মাহমুদ বাইকারা আল-গুজরাটির দরবারে উপস্থিত হন। সুলতান তাঁকে তাঁর সান্নিধ্যে টেনে নেন, তাঁকে সম্মানিত ও মহিমান্বিত করেন, তাঁর দেখাশোনার দায়িত্ব নেন, তাঁকে অগ্রাধিকার দেন এবং তাঁর জন্য প্রশস্ততা দান করেন। সুলতান তাঁর প্রতি বিশেষভাবে মনোযোগী হন, তাঁকে কাছে টেনে নেন এবং তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন; ফলে সুলতানের সান্নিধ্যের কারণে তিনি সুপরিচিত হয়ে ওঠেন। তিনি সুলতানের জন্যই আমাদের এই কিতাবটি রচনা করেন: ‘তাবসিরাতুল হাদরাতিল শাহিয়্যাহ আল-আহমাদিয়্যাহ বি-সিরাতিল হাদরাতিল নাবাবিয়্যাহ আল-আহমাদিয়্যাহ’।

সাখাবী ‘আদ-দাওউল লামি’ গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের সাথী—অর্থাৎ বাহরাক—হামজা আল-নাশিরীর কন্যাকে বিবাহ করেন এবং তাঁর ঔরসে তাঁর সন্তান জন্মগ্রহণ করে। তিনি ছন্দবদ্ধ রচনার প্রতিও অনুরাগী ছিলেন। সুলতান আমির বিন আব্দুল ওয়াহহাব যখন জাবিদে মাদ্রাসা নির্মাণ ও তার তদারকি শুরু করেন, তখন তিনি তাঁর প্রশংসা করেন। তাঁর কবিতাগুলোর মধ্যে প্রথমটি ছিল যা তিনি মক্কায় আমার সাথে সাক্ষাতের সময় আমাকে শুনিয়েছিলেন এবং আমার কাছ থেকে জ্ঞান গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর আগমন ছিল আরোহণের রাতে। তিনি হজ্জতুল ইসলাম পালন করেন এবং অল্পকাল অবস্থান করেন, অতঃপর ফিরে যান—আল্লাহ তাঁর সহায় হোন।

সুলতান আমির বিন আব্দুল ওয়াহহাবের প্রশংসা করে তিনি যা বলেছিলেন তার মধ্যে রয়েছে:

আল্লাহ চান যে আপনিই সমস্ত গৌরবের অধিকারী হবেন … তাই তিনি সৃষ্টির মাঝে আপনার নাম রেখেছেন ‘আমির’।

আপনি দ্বীনের নিদর্শনসমূহ মিটে যাওয়ার পর তা আবাদ করেছেন … এবং আল্লাহর জীর্ণ চিহ্নসমূহকে পুনর্জীবিত করেছেন।

নিঃসন্দেহে আপনিই সালাহুদ্দীন (দ্বীনের সংস্কারক), এটার … প্রমাণসমূহ আপনার মাঝে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।

সাখাবী বলেন—তিনি আমাকে তাঁর প্রশংসা করা কবিতা থেকে এমন একটি পঙক্তি শুনিয়েছিলেন যা দশটি শব্দের সমষ্টি:

হে আমার রব, সর্বদা সাহায্যকারী ও সহায়ক হোন … রাজাদের সূর্য, আপনার দ্বীনের সংস্কারক আমিরের জন্য।

অতঃপর তিনি এটিকে চারটি পঙক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করেন যা থেকে দশটির সেই সর্বনামগুলো বের করা যায়; তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ২৩)
أيّدت دينك يا ربّ العلا أبدا … بناصر لملوك الأرض قد ضهدا

أعني به عامرا شمس الملوك فكن … نصيره أبدا في كلّ ما قصدا

وناصرا ومعينا فهو شمس ضحى … أخفى نجوم ملوك الأرض منذ بدا

سمّيته عامرا لمّا أردت به … صلاح دينك إرغاما لمن جحدا

انتهى كلام السّخاويّ «1» .

قال عنه العيدروس في «النّور السّافر» : (ما رأيت أحدا من علماء (حضر موت) أحسن ولا أوجز عبارة منه، وله نظم حسن، وهو أحد من جمع بين ديباجتي النّظم والنّثر، فنثره منثور الرّياض جاد بها السّحائب، ونظمه منظوم العقود زانتها النّحور والتّرائب) «2» .

وهو الّذي يقول هذه الأبيات مجيبا لبعض الفضلاء الممتحنين له من أهل زمانه:

يا من أجاد غداة أنشد مقولا … وأفاد من إحسانه وتفضّلا

إن كنت ممتحني بذاك فإنّني … لست الهيوبة حيثما قيل انزلا

وإذا تبادرت الجياد بحلبة … يوم النّزال رأيت طرفي أوّلا

قسما بايات البديع وما حوى … من صنعتيه موشّحا ومسلسلا

لو كنت مفتخرا بنظم قصيدة … لبنيت في هام المجرّة منزلا

من كلّ قافية يروق سماعها … ويعيد سحبان الفصاحة باقلا

وترى لبيدكم بليدا قلبه … حصرا وينقلب الفرزدق أخطلا

وعلى جرير نجرّ مطرف تيهنا … ومهلهلا نبديه نسج مهلهلا

ولئن تنبّى ابن الحسين فإنّني … سأكون في تلك الصّناعة مرسلا

أظننت أنّ الشّعر يصعب صوغه … عندي وقد أضحى لديّ مذلّلا

أبدي العجائب إن برزت مفاخرا … أو مادحا للقوم أو متغزّلا

لكنّني رجل أصون بضاعتي … عمّن يساوم بخسها متبذّلا

وأرى من الجرم العظيم خريدة … حسناء تهدى للّئيم وتجتلى

ما كنت أحسب عقربا تحتكّ بال … أفعى ولا جذعا يزاحم بزّلا

وأنا الغريب وأنت ذاك وبيننا … رحم يحقّ لمثلها أن توصلا

ولقد أجاد فيها كلّ الإجادة- ولله درّه- ولا يبعد أنّ براعته في الشّعر لمعنى إرثي من إمامه

--------------------------------------------

(1) الضوء اللّامع، ج 8/ 2253 ز 0- 254.

(2) تاريخ النّور السّافر عن أخبار القرن العاشر، ص 133.
হে সুউচ্চ মর্যাদার প্রতিপালক! আপনি সর্বদা আপনার দ্বীনকে শক্তিশালী করেছেন … এমন এক সাহায্যকারীর মাধ্যমে, যিনি পৃথিবীর রাজাদের অবদমিত করেছেন।

আমি এর দ্বারা ‘আমের’কে বোঝাচ্ছি, যিনি রাজাদের সূর্য, সুতরাং আপনি হোন … তাঁর চিরন্তন সাহায্যকারী, তিনি যা কিছু সংকল্প করেন তাতে।

আপনি সাহায্যকারী ও সহায় হোন, কারণ তিনি পূর্বাহ্ণের সূর্যের মতো … যা উদিত হওয়ার পর থেকে পৃথিবীর রাজাদের ন্যায় নক্ষত্রপুঞ্জকে ম্লান করে দিয়েছে।

আপনি যখন তাঁর মাধ্যমে আপনার দ্বীনের সংস্কার করতে চাইলেন, তখন অস্বীকারকারীদের লাঞ্ছিত করার জন্য … তাঁর নাম রেখেছেন ‘আমের’ (আবাদকারী)।

সাখাভীর বক্তব্য এখানে সমাপ্ত হলো «১»।

আইদারুস তাঁর ‘আন-নূরুস সাফির’ গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: (আমি হাযরামাউতের আলিমদের মধ্যে তাঁর চেয়ে সুন্দর ও সংক্ষিপ্ত ভাষায় পারদর্শী কাউকে দেখিনি। তাঁর কাব্য প্রতিভা অত্যন্ত চমৎকার। তিনি গদ্য ও পদ্য উভয় শৈলীর সমন্বয়কারীদের একজন। তাঁর গদ্য যেন উদ্যানের বিকীর্ণ পুষ্পরাজি যার ওপর মেঘমালা বারিধারা বর্ষণ করেছে, আর তাঁর পদ্য যেন মুক্তার গাঁথা মালা যা গ্রীবাদেশ ও বক্ষকে শোভিত করে) «২»।

তিনিই এই পঙক্তিগুলো বলেছিলেন তাঁর সমসাময়িক কিছু গুণী ব্যক্তির উত্তরে যারা তাঁকে পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন:

হে সেই ব্যক্তি! যে ভোরে পংক্তি পাঠ করে চমৎকারিত্ব দেখিয়েছে … এবং আপন অনুগ্রহ ও মেহেরবানি দ্বারা উপকৃত করেছে।

তুমি যদি এর দ্বারা আমাকে পরীক্ষা করতে চাও, তবে জেনে রেখো … যেখানেই আমাকে নামতে বলা হোক না কেন, আমি মোটেই ভীতু নই।

প্রতিযোগিতার ময়দানে যখন দ্রুতগামী ঘোড়াগুলো একে অপরের আগে যাওয়ার চেষ্টা করে … যুদ্ধের দিনে, তখন তুমি আমার ঘোড়াকেই সবার আগে দেখতে পাবে।

চমৎকার বাচনভঙ্গির নিদর্শনাবলির শপথ এবং এতে যা কিছু আছে … কারুকার্যময় ও ধারাবাহিক অলংকার শৈলীর শপথ।

আমি যদি কবিতা রচনা নিয়ে অহংকার করতাম … তবে ছায়াপথের উচ্চতায় নিজের ঘর নির্মাণ করতাম।

এমন সব অন্ত্যমিল দিয়ে, যা শ্রবণকারীকে বিমোহিত করে … এবং বাগ্মী সুহবানকেও বাকহীন বাকিলের মতো নির্বাক করে দেয়।

তুমি তোমাদের লাবীদকে দেখবে তার অন্তর স্থবির হয়ে গেছে … আর ফারাযদাকও আখতালে (বাকরুদ্ধ) পরিণত হয়েছে।

জারীরের ওপর দিয়ে আমরা আমাদের আভিজাত্যের আঁচল টেনে নিয়ে যাই … আর মুহালহিল-কে আমরা জীর্ণ বুনন হিসেবে প্রকাশ করি।

যদি ইবনে হুসাইন (মুতানাব্বি) নিজেকে নবি বলে দাবি করে থাকেন … তবে আমি এই শিল্পে একজন রাসুল (প্রেরিত পুরুষ) হব।

তুমি কি ভেবেছ যে কবিতা রচনা করা আমার জন্য কঠিন … অথচ তা তো আমার কাছে একান্ত বশীভূত হয়ে গেছে।

আমি যখন গর্ব করতে, প্রশংসা করতে কিংবা প্রেমগাথা গাইতে অবতীর্ণ হই … তখন বিস্ময়কর সব রহস্য প্রকাশ করি।

কিন্তু আমি এমন এক ব্যক্তি যে তার সম্পদকে রক্ষা করে … এমন লোকের কাছ থেকে, যে তুচ্ছ মূল্যে এর অবমূল্যায়ন করতে চায়।

আমি একে এক গুরুতর অপরাধ মনে করি যে, কোনো রূপসী কুমারীকে … কোনো নীচ ব্যক্তির নিকট উপহার হিসেবে পাঠানো হবে এবং সে তাকে কাছে পাবে।

আমি কখনো কল্পনা করিনি যে কোনো বিচ্ছু সাপের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হবে … কিংবা কোনো কচি উট বয়স্ক উটের সাথে ভিড় জমাবে।

আমি একজন আগন্তুক আর তুমি স্থানীয়, তবুও আমাদের মাঝে … এমন আত্মীয়তা রয়েছে যা বজায় রাখা একান্ত আবশ্যক।

তিনি এতে পূর্ণ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন—আল্লাহ তাঁর কল্যাণ করুন—এবং এটি অসম্ভব নয় যে তাঁর কাব্যিক দক্ষতা তাঁর ইমামের নিকট থেকে প্রাপ্ত এক উত্তরাধিকার।

--------------------------------------------

(১) আদ-দউউল লামি‘, খণ্ড ৮/ ২৫৩-২৫৪।

(২) তারিখুন নূরিস সাফির আন আখবারিল কারনিল আশির, পৃষ্ঠা ১৩৩।
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ২৪)
الشّافعي رضي الله عنه. انتهى كلام العيدروس «1» .

وقد ذكر له كرامات ومرائي صالحات لا نطيل بذكرها.

وله مقاطيع شعريّة حسنة، منها:

أنا في سلوة على كلّ حال … إن أباني الحبيب أو إن أتاني

أغنم الوصل إن دنا في أمان … وإذا ما نأى أعش بالأماني

وله قصيدة عظيمة سمّاها: «العروة الوثيقة في الجمع بين الشّريعة والحقيقة» ، أجاد فيها إلى الغاية، وشرحها شرحا سمّاه: «الحديقة الأنيقة» .

لقد كان- رحمه الله تعالى- العالم الّذي يمشي تحت علم فتياه العلماء الأعلام وحملة الأقلام، وتخضع لفصاحته وبلاغته صيارفة النّثر والنّظام. شيخ اللّغة والنّحو والإعراب، وعمدة الفقهاء في نصوص الشّافعي والأصحاب.

 

‌‌مصنّفاته:

صنّف- رحمه الله تعالى- مصنّفات عديدة في الأصول والفروع والحديث والسّيرة والعقيدة والنّحو وفي أهل الأحوال. وقد تلقّاها النّاس بالقبول نذكر منها:

1- حدائق الأنوار ومطالع الأسرار في سيرة النّبيّ المختار، المسمّى ب «تبصرة الحضرة الشّاهيّة الأحمديّة بسيرة الحضرة النّبوية الأحمديّة» . وهو كتابنا هذا، الّذي نتشرّف بإخراجه إلى الإخوة القرّاء الكرام.

2- أرجوزة في علم الحساب.

3- أرجوزة في علم الطّبّ، وشرحها شرحا مفيدا.

4- الأسرار النّبويّة في اختصار الأذكار النّوويّة. (مطبوع) .

5- البهجة في تقويم اللهجة.

6- ترتيب السّلوك إلى ملك الملوك.

7- تحفة الأحباب في شرح «ملحة الأعراب» ، للحريري. (مطبوع) .

8- الحديقة الأنيقة في شرح العروة الوثيقة. (مطبوع) .

9- الحسام المسلول على منتقصي أصحاب الرّسول صلى الله عليه وسلم. (مطبوع) .

--------------------------------------------

(1) تاريخ النّور السّافر عن أخبار القرن العاشر، ص 133- 134.
শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। আইদারুসের বক্তব্য এখানেই শেষ হলো «১»।

তাঁর অনেক কারামত (অলৌকিক ঘটনা) এবং নেক স্বপ্ন বর্ণিত হয়েছে, যা দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে আমরা উল্লেখ করছি না।

তাঁর চমৎকার কিছু কাব্যখণ্ড রয়েছে, তার মধ্যে কয়েকটি হলো:

আমি প্রতিটি অবস্থাতেই শান্তিতে আছি … প্রিয়জন আমাকে বর্জন করুক কিংবা আমার কাছে আসুক

যদি তিনি নিরাপদে কাছে আসেন তবে মিলনের সুযোগ লুফে নিই … আর যদি দূরে চলে যান তবে আশায় বুক বেঁধে বেঁচে থাকি

তাঁর একটি মহান কসিদা (কবিতা) রয়েছে যার নাম দিয়েছেন: «আল-উরওয়াতুল ওয়াসিকা ফি আল-জাময়ি বাইনাশ শারিয়াতি ওয়াল হাকিকা» (শরিয়ত ও হাকিকতের সমন্বয়ে সুদৃঢ় রজ্জু), যাতে তিনি চরম নৈপুণ্য দেখিয়েছেন এবং তিনি নিজেই এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন যার নাম দিয়েছেন: «আল-হাদিকাতুল আনিকা» (চমৎকার বাগান)।

তিনি ছিলেন—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—এমন এক আলেম যার ফতোয়ার পতাকাতলে বড় বড় আলেম ও বিদগ্ধ লেখকগণ চলতেন, এবং যার বাগ্মিতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের সামনে গদ্য ও পদ্যের পারদর্শীরা মাথা নত করত। তিনি ছিলেন ভাষা, নাহু (ব্যাকরণ) এবং ইরাবের শায়খ, এবং শাফেয়ী মাযহাবের মূল পাঠ ও আসহাবদের মতামতের ক্ষেত্রে ফকিহদের প্রধান অবলম্বন।

 

‌‌তাঁর রচনাবলি:

তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—উসুল, ফুরু (শাখা মাসআলা), হাদিস, সিরাত, আকাইদ, নাহু এবং আধ্যাত্মিক সাধকদের অবস্থা সম্পর্কে অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন। মানুষ এগুলোকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে গ্রহণ করেছে, তার মধ্য থেকে কিছু আমরা উল্লেখ করছি:

১- হাদায়েকুল আনোয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফি সিরাতিল নবীয়্যিল মুখতার, যার নাম রাখা হয়েছে «তাবসিরাতুল হাদরাতিশ শাহিয়্যাতিল আহমাদিয়্যা বি সিরাতিল হাদরাতিল নবউইয়্যাতিল আহমাদিয়্যা»। এটিই আমাদের এই কিতাব, যা সম্মানিত পাঠকদের কাছে উপস্থাপন করতে পেরে আমরা ধন্য মনে করছি।

২- আরজুজা ফি ইলমিল হিসাব (পাটিগণিত বিষয়ক কাব্যগ্রন্থ)।

৩- আরজুজা ফি ইলমিত তিব্ব (চিকিৎসা বিজ্ঞান বিষয়ক কাব্যগ্রন্থ), এবং তিনি এর একটি অত্যন্ত উপকারী ব্যাখ্যাও লিখেছেন।

৪- আল-আসরারুন নবউইয়্যা ফি ইখতিসারিল আজকারিন নবউইয়্যা। (মুদ্রিত)।

৫- আল-বাহজাহ ফি তাকউয়িমিল লাহজাহ।

৬- তারতিবুস সুলুক ইলা মালিকিল মুলুক।

৭- তুহফাতুল আহবাব ফি শারহি «মিলহাতুল ইরাব», যা হারিরি রচিত। (মুদ্রিত)।

৮- আল-হাদিকাতুল আনিকা ফি শারহিল উরওয়াতুল ওয়াসিকা। (মুদ্রিত)।

৯- আল-হুসামুল মাসলুল আলা মুনতাকিসি আসহাবির রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। (মুদ্রিত)।

--------------------------------------------

(১) তারিখুন নুরিস সাফির আন আখবারিল কারিনিত তাসির, পৃষ্ঠা ১৩৩-১৩৪।
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ২৫)
10- حلية البنات والبنين فيما يحتاج إليه من أمر الدّين. (مطبوع) .

11- الحواشي المفيدة على أبيات اليافعي في العقيدة. وذكر في كتابه «ترتيب السّلوك» أنّ له على أبيات الشّيخ عبد الله بن أسعد اليافعي ثلاثة شروح، بسيط ووسيط ووجيز.

12- ذخيرة الإخوان، (المختصر من كتاب الاستغناء بالقرآن) . (مخطوط) .

13- رسالة في علم الميقات.

14- رسالة في الفلك.

15- شرح الجزريّة.

16- شرح على منظومة الشّيخ أبي الجبيش الأندلسي في العروض.

17- شرحان على لامية ابن مالك في التّصريف، مختصر وكبير.

18- عقد الدّرر في الإيمان بالقضاء والقدر. (مخطوط) .

19- العقد الثّمين في إبطال القول بالتّقبيح والتّحسين. (مخطوط) .

20- فتح الأقفال شرح أبنية الأفعال.

21- فتح الرّؤوف في معاني الحروف.

22- مختصر الخلاصة لابن مالك، في عدّة أهل بدر وشرحه.

23- مختصر نهاية النّاشري في علم القراآت.

24- متعة الأسماع بأحكام السّماع، (المختصر من كتاب الإمتاع) .

25- مختصر التّرغيب والتّرهيب، للمنذريّ. (مخطوط) .

26- مختصر شرح لامية العجم، للصّفدي. (مخطوط) .

27- مختصر المقاصد الحسنة، للسّخاويّ.

28- مواهب القدّوس في مناقب العيدروس.

29- النّبذة المختصرة في معرفة الخصال المكفّرة للذّنوب المقدّمة والمؤخّرة.

30- النّبذة المنتخبة من كتاب الأوائل، للعسكريّ.

لعلّ هذه المصنّفات هي الأشهر.

وبالجملة: فجميع مؤلّفاته رائقة حسنة، محرّرة منقّبة مستحسنة، ولهذا تداولها أبناء
১০- দীন বা ধর্মীয় বিষয়ে যা কিছু প্রয়োজন সে সম্পর্কে কন্যা ও সন্তানদের অলঙ্কার। (মুদ্রিত)।

১১- আকিদা বিষয়ক আল-ইয়াফেয়ীর কাব্যসংকলনের উপর উপকারী টীকা। তিনি তাঁর 'তারতীবুস সুলুক' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, শায়খ আব্দুল্লাহ বিন আস'আদ আল-ইয়াফেয়ীর কাব্যসংকলনের উপর তাঁর তিনটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে: বিস্তৃত, মধ্যম ও সংক্ষিপ্ত।

১২- যাখীরাতুল ইখওয়ান (আল-ইস্তিগনা বিল কুরআন গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার)। (পাণ্ডুলিপি)।

১৩- ইলমে মীকাত বা সময়নির্ধারণ বিদ্যা বিষয়ক রিসালা।

১৪- জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক রিসালা।

১৫- শরহে জাজারিয়াহ।

১৬- ছন্দশাস্ত্র বা ইলমে আরুজ বিষয়ে শায়খ আবু আল-জুবাইশ আল-আন্দালুসীর কাব্যগ্রন্থের ব্যাখ্যা।

১৭- ইলমে তাসরীফ বা শব্দরূপান্তর বিদ্যা বিষয়ে ইবনে মালিকের লামিয়াহর উপর দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ: সংক্ষিপ্ত ও বৃহৎ।

১৮- উকূদুদ দুরার ফি আল-ঈমান বিল কাযা ওয়াল কাদার (তাকদীরের প্রতি ঈমান প্রসঙ্গে মুক্তার হার)। (পাণ্ডুলিপি)।

১৯- আল-ইকদুস সামীন ফি ইবতালিল ক্বাউলি বিত-তাকবীহি ওয়াত-তাহসীন (বিবেচনাপ্রসূত ভালো-মন্দ নির্ণয় সম্পর্কিত মতবাদ খণ্ডন বিষয়ে মূল্যবান হার)। (পাণ্ডুলিপি)।

২০- ফাতহুল আকফাল শারহু আবনিয়াতিল আফআল।

২১- ফাতহুর রউফ ফি মাআনিল হুরুফ (হরফ বা অব্যয়ের অর্থ সংক্রান্ত)।

২২- ইবনে মালিকের আল-খুলাসাতুল আলফিয়ার সংক্ষিপ্ত রূপ (বদর যুদ্ধের সাহাবীদের সংখ্যা অনুযায়ী লিখিত) এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

২৩- কেরাআত শাস্ত্র বিষয়ে আন-নাশীরীর 'নিহায়াহ' গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার।

২৪- মুতআতুল আসমা বি-আহকামিস সামা (আল-ইমতা গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার)।

২৫- আল-মুনযিরীর তারগীব ওয়াত তারহীবের সংক্ষিপ্তসার। (পাণ্ডুলিপি)।

২৬- সাফাদীর লামিয়াতুল আজাম এর ব্যাখ্যার সংক্ষিপ্তসার। (পাণ্ডুলিপি)।

২৭- সাখাভীর আল-মাকাসিদুল হাসানাহর সংক্ষিপ্তসার।

২৮- মাওয়াহিবুল কুদ্দুস ফি মানাকিবিল আইদারুস।

২৯- পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গুনাহের কাফফারা বা মোচনকারী আমলসমূহ চেনার সংক্ষিপ্ত রূপরেখা।

৩০- আসকারীর 'কিতাবুল আওয়ায়েল' থেকে নির্বাচিত সারাংশ।

সম্ভবত এই গ্রন্থগুলোই সবচেয়ে প্রসিদ্ধ।

সারকথা: তাঁর সকল রচনাবলী অত্যন্ত চমৎকার ও উত্তম, সুসংহত, সুবিন্যস্ত ও প্রশংসিত; এ কারণেই পরবর্তী প্রজন্মের আলিমগণ এগুলো...
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ২৬)
الزّمان، وتناقلها المشاة والرّكبان، وعقدت عليها الخناصر، وانعطفت عليها الأواصر.

 

‌‌وفاته:

قال العيدروس في «النّور السافر» «1» : حكي أنّه مات بالسّمّ، وسبب ذلك أنّه حظي عند السّلطان إلى الغاية، فحسده الوزراء على ذلك، فوقع منهم ما أوجب له الشّهادة، وناهيك بها من سعادة.

ومن أحسن ما قيل فيه هذا البيت لبعضهم يمدحه:

لأيّ المعاني زيدت القاف في اسمكم … وما غيّرت شيئا إذا هي تذكر

لأنّك بحر العلم والبحر شأنه … إذا زيد فيه الشّيء لا يتغيّر

ومثله قول الآخر فيه أيضا:

فأنت بحر وقاف ما له طرف … محمّد إسمك المعروف موصوفا

سميّ خير الأنام الطّهر من مضر … يهناك يهناك هذا الفخر تشريفا

عاش- رحمه الله تعالى- إحدى وستّين سنة، وانتقل إلى جوار ربّه ليلة العشرين من شعبان سنة ثلاثين وتسع مئة (بكجرات) ، فشيّعه خلق كثير، ودفن في مدينة (أحمد آباد) .

تغمّده الله بالرّحمة والرّضوان، وأسكنه فسيح الجنان.

--------------------------------------------

(1) تاريخ النّور السّافر عن أخبار القرن العاشر، ص 140.
কাল পরিক্রমায় এটি পদচারী ও সওয়ারীদের মাধ্যমে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল, যা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা হয়েছিল এবং এর ওপর দৃঢ় বন্ধন স্থাপিত হয়েছিল।

 

‌‌তার মৃত্যু:

আইদারুস ‘আন-নূর আস-সাফির’ (১) গ্রন্থে বলেন: বর্ণিত আছে যে, তিনি বিষপ্রয়োগে মৃত্যুবরণ করেছেন। এর কারণ ছিল এই যে, তিনি সুলতানের নিকট অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিলেন। ফলে উজিররা তাকে নিয়ে ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েন এবং তাদের পক্ষ থেকে এমন কিছু সংঘটিত হয় যা তার শাহাদাতকে নিশ্চিত করে। আর শাহাদাতের মতো পরম সৌভাগ্যই তো তার জন্য যথেষ্ট।

তার প্রশংসায় কেউ কেউ যে সর্বোত্তম পংক্তিগুলো বলেছেন, তার মধ্যে এই পংক্তিটি অন্যতম:

কোন অর্থের জন্য আপনার নামের শেষে ‘ক্বাফ’ যুক্ত করা হয়েছে … অথচ যখন এটি উচ্চারিত হয়, তখন তা কোনো পরিবর্তনই করে না।

কারণ আপনি ইলমের সমুদ্র, আর সমুদ্রের বৈশিষ্ট্যই হলো … যখন এতে কিছু বৃদ্ধি করা হয়, তখন তা পরিবর্তিত হয় না।

তার সম্পর্কে অন্যের উক্তিও অনুরূপ:

আপনি এমন এক ক্বাফ ও সমুদ্র যার কোনো কিনারা নেই … মুহাম্মদ আপনার সুবিদিত নাম যা গুণান্বিত।

আপনি মুদার বংশের পবিত্র ও সৃষ্টির সেরা মানবের নামধারী … আপনাকে মোবারকবাদ, সম্মানের এই শ্রেষ্ঠত্ব আপনার জন্যই সার্থক।

তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—একষট্টি বছর বেঁচে ছিলেন এবং ৯৩০ হিজরি সালের ২০শে শাবান রাতে (গুজরাটে) তাঁর রবের সান্নিধ্যে চলে যান। এক বিশাল জনতা তাঁর জানাজায় শরিক হয় এবং তাকে (আহমদাবাদ) শহরে দাফন করা হয়।

আল্লাহ তাকে রহমত ও সন্তুষ্টির চাদরে আবৃত করুন এবং তাকে প্রশস্ত জান্নাতে স্থান দান করুন।

--------------------------------------------

(১) তারিকুন নূর আস-সাফির আন আখবারিল কারনিল আশির, পৃষ্ঠা ১৪০।
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ২৭)
ترجمة السّلطان مظفّر بن محمود بايقرا الكجراتي

المهدى إليه هذا الكتاب هو السّلطان الفاضل العادل المحدّث الفقيه مظفّر بن محمود بن محمّد بن أحمد بن محمّد بن المظفّر الكجراتي، أبو النّصر شمس الدّين مظفّر شاه. صاحب الرّئاستين «1» .

ولد في العشرين من شوّال سنة خمس وسبعين وثمان مئة في (كجرات) من بلاد الهند.

ونشأ في مهد السّلطنة، ورضع من لبان العلم وترعرع. وقرأ على مجد الدّين الإيجي العلّامة، وأخذ الحديث عنه. وعن الشّيخ المحدّث جمال الدّين محمّد بن عمر بن مبارك الحميريّ الحضرميّ الشهير ب (بحرق) ، وتدرّب في الفنون الحربيّة، حتّى فاق أسلافه في العلم والأدب، وفي كثير من الفعال الحميدة.

قام بالملك بعد والده في شهر رمضان سنة سبع عشرة وتسع مئة.

كان غاية في التّقوى والعزيمة، والعدل والسّخاء، والنّجدة والجهاد، والعفو والتّسامح عن النّاس؛ ولذلك لقّبوه بالسّلطان الحليم.

وكان جيّد القريحة، سليم الطّبع، حسن المحاضرة، خطّاطا جيّد الخطّ، كان يكتب النّسخ والثّلث والرّقاع بكمال الجودة، وكان يكتب القرآن الحكيم بيده ثمّ يبعث به إلى الحرمين الشّريفين، وحفظ القرآن في أيّام الشّباب.

وكان يقتفي آثار السّنّة السّنيّة في كلّ قول وفعل، ويعمل بنصوص الأحاديث النّبويّة، وكثيرا ما يذكر الموت ويبكي، ويكرم العلماء ويبالغ في تعظيمهم.

ولم يزل يحافظ على الوضوء ويصلّي بالجماعة ويصوم رمضان، ولم يقرب الخمر قطّ، ولم يقع في عرض أحد، وكان يعفو ويسامح عن الخطّائين، ويجتنب الإسراف والتّبذير، وبذل الأموال الطّائلة على غير أهلها.

وكان كثير التفحّص عن أخبار النّاس، عظيم التحسّس عن أخبار الممالك، وربّما يغيّر زيّه ولباسه ويخرج من قصره آناء اللّيل والنّهار، ويطّلع على الأخبار ويستكشف الأسرار.

--------------------------------------------

(1) أي: رئاسة السّيف والقلم.
সুলতান মুজাফফর ইবনে মাহমুদ বায়কারা আল-গুজরাতি-এর জীবনী

এই গ্রন্থটি যাঁর প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে, তিনি হলেন বিদ্যান, ন্যায়পরায়ণ সুলতান, মুহাদ্দিস ও ফকিহ মুজাফফর ইবনে মাহমুদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-মুজাফফর আল-গুজরাতি, আবু আন-নাসর শামস উদ্দীন মুজাফফর শাহ। তিনি ছিলেন উভয় নেতৃত্বের (তলোয়ার ও কলমের) অধিকারী «১»।

তিনি ৮৭৫ হিজরি সালের ২০শে শাওয়াল হিন্দুস্তানের (গুজরাটে) জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি রাজকীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠেন এবং ইলমের সুধা পান করে লালিত-পালিত হন। তিনি আল্লামা মাজদ উদ্দীন আল-ইজি-র নিকট পড়াশোনা করেন এবং তাঁর থেকে হাদিস গ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি 'বাহরাক' নামে পরিচিত প্রখ্যাত মুহাদ্দিস শায়খ জামাল উদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে মুবারক আল-হিময়ারি আল-হাদরামি-র নিকট থেকেও ইলম অর্জন করেন। তিনি সমরকলায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং জ্ঞান, সাহিত্য ও বহু প্রশংসনীয় গুণাবলিতে তাঁর পূর্বসূরিদের ছাড়িয়ে যান।

তিনি ৯১৭ হিজরি সালের রমজান মাসে তাঁর পিতার পর রাজসিংহাসনে আরোহণ করেন।

তিনি তাকওয়া, দৃঢ়তা, ন্যায়বিচার, দানশীলতা, সাহসিকতা, জিহাদ এবং মানুষের প্রতি ক্ষমা ও সহনশীলতার চরম শিখরে ছিলেন; এ কারণেই লোকেরা তাঁকে 'সুলতান আল-হালিম' (সহনশীল সুলতান) উপাধিতে ভূষিত করেছিল।

তিনি ছিলেন প্রখর মেধাবী, উত্তম স্বভাবের অধিকারী এবং সুন্দর বক্তা। তিনি ছিলেন একজন দক্ষ ক্যালিগ্রাফার; অত্যন্ত নিপুণভাবে নাসখ, সুলুস ও রিকা লিপিতে লিখতেন। তিনি নিজ হাতে পবিত্র কুরআন মজীদ লিপিবদ্ধ করতেন এবং তা হারামাইন শরীফাইনে পাঠাতেন। তিনি যৌবনেই কুরআন হিফজ করেছিলেন।

তিনি তাঁর প্রতিটি কথা ও কাজে সুন্নাতে সুন্নিয়া-র অনুসরণ করতেন এবং নববী হাদিসের নস বা সরাসরি বক্তব্য অনুযায়ী আমল করতেন। তিনি প্রায়শই মৃত্যুকে স্মরণ করতেন ও কাঁদতেন। তিনি উলামায়ে কেরামকে সম্মান করতেন এবং তাঁদের মর্যাদাদানে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন।

তিনি সর্বদা ওজু অবস্থায় থাকতেন, জামাতের সাথে সালাত আদায় করতেন এবং রমজানের রোজা পালন করতেন। তিনি কখনো মদ্যপান করেননি এবং কখনো কারো মান-সম্মানহানি করেননি। তিনি অপরাধীদের ক্ষমা ও মার্জনা করতেন। তিনি অপব্যয়, অপচয় এবং অযোগ্যদের পেছনে অঢেল সম্পদ ব্যয় করা থেকে বিরত থাকতেন।

তিনি জনগণের অবস্থা সম্পর্কে অনেক খোঁজখবর নিতেন এবং রাজ্যের সংবাদ সম্পর্কে অত্যন্ত সজাগ ছিলেন। মাঝেমধ্যে তিনি নিজের পোশাক ও বেশভূষা পরিবর্তন করে দিন-রাতের যেকোনো সময়ে প্রাসাদ থেকে বের হতেন, খবরাখবর সংগ্রহ করতেন এবং গোপন রহস্য উদ্ঘাটন করতেন।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: তলোয়ার ও কলমের নেতৃত্ব।
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ২৮)
وله من الأخبار والنّوادر ما لا يسمع بمثله في العدل وإنصاف المظلومين، ممّا يذكّرنا بسير الأوائل من الخلفاء الرّاشدين ومن بعدهم.

قال اللكنوي في «نزهة الخواطر» ، أثناء ترجمته لهذا السّلطان العادل:

قال الآصفي: وفي سنة إحدى وثلاثين وتسع مئة خرج السّلطان إلى مصلّى العيد للاستسقاء، وتصدّق وتفقّد ذوي الحاجة على طبقاتهم، وسألهم الدّعاء، ثمّ تقدّم للصّلاة، وكان آخر ما دعا به- كما يقال-: (اللهمّ إنّي عبدك ولا أملك لنفسي شيئا، فإن تك ذنوبي حبست القطر عن خلقك فها ناصيتي بيدك! فأغثنا يا أرحم الرّاحمين) ، قال هذا ووضع جبهته على الأرض، واستمرّ ساجدا يكرّر قوله: (يا أرحم الرّاحمين) ، فما رفع رأسه إلّا وهاجت ريح ونشأت بحرية ببرق ورعد ومطر؛ ثمّ سجد لله شكرا، ورجع من صلاته بدعاء الخلق له وهو يتصدّق وينفح بالمال يمينا وشمالا.

وبعد الاستسقاء بقليل اعتراه الكسل، ثمّ ضعف المعدة، ومنه شكا ضعف الجسد، وفي خلال ذلك عقد مجلسا حفلا بسادة الأمّة ومشايخ الدّين، واجتمع بهم، وتذاكروا فيما يصلح بلاغا للآخرة، إلى أن تسلسل الحديث في رحمة الله سبحانه وما اقتضاه منّه وإحسانه، فأخذ يشرح ما منّ الله عليه من حسنة ونعمة، ويعترف بعجز شكرها، إلى أن قال: (وما من حديث رويته عن أستاذي المسند العالي مجد الدين بروايته له عن مشايخه إلّا وأحفظه وأسنده، وأعرف لراويه نسبته وثقته، وأوائل حاله إلى وفاته. وما من آية إلّا ومنّ الله عليّ بحفظها وفهم تأويلها وأسباب نزولها وعلم قراءتها. وأمّا الفقه فأستحضر منه ما أرجو به مفهوم: «من يرد الله به خيرا يفقّهه في الدّين» . ولي مدّة أشهر أصرف وقتي باستعمال ما عليه الزّهّاد، وأشتغل بما سنّه المشايخ لتزكية الأنفاس عملا بما قيل:

«من تشبّه بقوم فهو منهم» ؛ وها أنا أطمع في شمول بركاتهم متعلّلا بعسى ولعلّ، وكنت شرعت بقراءة «معالم التّنزيل» ، وقد قاربت إتمامه، إلّا أني أرجو أن أختمه في الجنّة إن شاء الله تعالى، فلا تنسوني من صالح دعائكم، فإنّي أجد أعضائي فقدت قواها، وليس إلّا رحمة الله سبحانه دواها) .

فدعا له الحاضرون بالبركة في العمر.

قال: وفي سنة اثنتين وثلاثين وتسع مئة على خروجه من (جانپانير) ظهرت منه مخائل المستودع بفراق الأبد لها ولأهلها، وأكثر من أعمال البرّ فيها.
তাঁর এমন সব সংবাদ ও বিরল ঘটনাবলী বর্ণিত আছে যা ন্যায়বিচার ও মজলুমদের প্রতি ইনসাফের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন, যা আমাদেরকে পূর্বসূরী খুলাফায়ে রাশিদিন এবং তাঁদের পরবর্তীদের জীবনীর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

আল-লাখনভী তাঁর ‘নুজহাতুল খাওয়াতির’ গ্রন্থে এই ন্যায়পরায়ণ সুলতানের জীবনী আলোচনার সময় বলেন:

আল-আসিফী বলেন: ৯৩১ হিজরি সালে সুলতান বৃষ্টির প্রার্থনার জন্য ঈদের ময়দানে বের হলেন এবং সাদাকাহ করলেন ও বিভিন্ন স্তরের অভাবী মানুষের খোঁজখবর নিলেন এবং তাঁদের কাছে দুয়া চাইলেন। অতঃপর তিনি সালাতের জন্য এগিয়ে গেলেন। তাঁর দুয়ার শেষ কথা ছিল—যেমনটি বলা হয়ে থাকে: (হে আল্লাহ! আমি আপনার বান্দা এবং আমি নিজের জন্য কোনো কিছুর মালিক নই। যদি আমার পাপরাশি আপনার সৃষ্টির ওপর বৃষ্টি বর্ষণকে আটকে দিয়ে থাকে, তবে এই তো আমার কপাল আপনার হাতে! হে আরহামুর রাহিমিন, আমাদের উদ্ধার করুন)। তিনি এ কথা বললেন এবং তাঁর কপাল জমিনে রাখলেন। তিনি সিজদাবনত অবস্থায় একনাগাড়ে ‘হে আরহামুর রাহিমিন’ বলতে থাকলেন। তিনি মাথা তোলার আগেই বায়ু প্রবাহিত হলো এবং বিদ্যুৎ ও বজ্রসহ সমুদ্রের দিক থেকে মেঘপুঞ্জ উদিত হয়ে বৃষ্টি শুরু হলো। অতঃপর তিনি আল্লাহর শুকরিয়া জানিয়ে সিজদা করলেন এবং ডানে-বামে অকাতরে অর্থ বিলিয়ে দিয়ে ও সৃষ্টির কল্যাণ কামনায় দুয়া নিয়ে সালাত থেকে ফিরলেন।

বৃষ্টির প্রার্থনার অল্প সময় পরেই তিনি শারীরিক ক্লান্তি এবং পাকস্থলীর দুর্বলতায় আক্রান্ত হন। এর ফলে তিনি শরীরের দুর্বলতার অভিযোগ করেন। এরই মধ্যে তিনি উম্মতের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এবং দ্বীনের মাশায়েখদের নিয়ে একটি বড় মজলিসের আয়োজন করেন এবং তাঁদের সাথে একত্রিত হন। তাঁরা আখেরাতের পাথেয় হিসেবে যা কল্যাণকর তা নিয়ে আলোচনা করেন। এক পর্যায়ে আলোচনা মহান আল্লাহর রহমত এবং তাঁর করুণা ও অনুগ্রহের দাবি পর্যন্ত পৌঁছাল। অতঃপর তিনি তাঁর ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হওয়া কল্যাণ ও নেয়ামতসমূহ ব্যাখ্যা করতে শুরু করলেন এবং এর শুকরিয়া আদায়ে নিজের অক্ষমতা স্বীকার করলেন। পরিশেষে তিনি বললেন: (আমার উস্তাদ উচ্চ পর্যায়ের মুসনিদ মাজদুদ্দীন থেকে তাঁর মাশায়েখদের মাধ্যমে বর্ণিত এমন কোনো হাদিস নেই যা আমি মুখস্থ করিনি এবং সেটির সনদ জানি না, এমনকি সেটির বর্ণনাকারীর বংশপরিচয়, নির্ভরযোগ্যতা এবং জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অবস্থা সম্পর্কেও আমি জানি না। কুরআনের এমন কোনো আয়াত নেই যা আল্লাহ আমাকে মুখস্থ রাখার এবং সেটির ব্যাখ্যা, শানে নুযূল ও কিরাত সম্পর্কে জানার তাওফিক দান করেননি। আর ফিকহ শাস্ত্রের যতটুকু আমার স্মরণে আছে, তাতে আমি আশা করি যে ‘আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন’—এই হাদিসের মর্মার্থ আমার মাঝে রয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে আমি আমার সময় ব্যয় করছি যাছেদদের পদাঙ্ক অনুসরণে এবং মাশায়েখদের প্রবর্তিত পন্থায় আত্মশুদ্ধির কাজে নিয়োজিত আছি, যেমনটি বলা হয়ে থাকে:

“যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।” আর এখন আমি তাদের বরকত লাভের আশা পোষণ করছি। আমি ‘মাআলিমুত তানজিল’ পাঠ শুরু করেছিলাম এবং তা সমাপ্তির পথে ছিল। তবে আমি আশা করি যে, ইনশাআল্লাহ জান্নাতেই আমি এর সমাপ্তি করব। তাই আপনারা আপনাদের নেক দুয়ায় আমাকে ভুলবেন না। কেননা আমি অনুভব করছি যে আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শক্তি হারিয়ে ফেলেছে এবং আল্লাহর রহমত ছাড়া আর কোনো ঔষধ নেই)।

উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ তাঁর দীর্ঘায়ুর জন্য দুয়া করলেন।

তিনি বলেন: ৯৩২ হিজরি সালে চাঁপানের থেকে বের হওয়ার সময় তাঁর মধ্যে সেই নগরী ও তার অধিবাসীদের কাছ থেকে চিরবিদায় নেওয়ার লক্ষণসমূহ প্রকাশ পাচ্ছিল। তিনি সেখানে প্রচুর নেক আমল করেন।
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ২৯)
وفي طريقه إلى (أحمد آباد) ، ولمّا نزل بها كان يكثر من التردّد إلى المزارات المتبرّكة، ويكثر من الخير بها، وكان له حسن الظّنّ بالعلّامة (خرم خان) ، فقال له يوما: نظرت فيما أوثر به أولي الاستحقاق من الإنفاق فإذا أنا بين إفراط في صرف بيت المال وتفريط في منع أهله، فلم أدر إذا سئلت عنهما بما أجيب.

وفي آخر أيّامه- وكان يوم الجمعة- قام إلى المحل واضطجع إلى أن زالت الشّمس، فاستدعى بالماء وتوضّأ وصلّى ركعتي الوضوء، وقام من مصلّاه إلى بيت الحرم، واجتمعت النّسوة عليه آيسات باكيات يندبن أنفسهن حزنا على فراق لا اجتماع بعده، فأمرهنّ بالصّبر المؤذن بالأجر، وفرّق عليهنّ مالا، ثمّ ودّعهن واستودعهن الله سبحانه، وخرج وجلس ساعة، ثمّ استدنى منه راجه محمّد حسين المخاطب بأشجع الملك وقال له: قد رفع الله قدرك بالعلم وله وهي آخر خدمتك لي، أريدك تحضر وفاتي وتقرأ عليّ سورة يس، وتغسلني بيدك وتسامحني فيه، فامتن بما أهّله به وفدّاه ودعا له، ثمّ وقد سمع أذانا قال: أهو في الوقت؟ فأجاب أسد الملك: هذا أذان الاستدعاء لاستعداد صلاة الجمعة ويكون في العادة قبل الوقت، فقال: أمّا صلاة الظّهر فأصليها عندكم، وأمّا صلاة العصر فعند ربّي في الجنّة إن شاء الله تعالى، ثمّ أذن للحاضرين في صلاة الجمعة واستدعى مصلّاه وصلّى، ودعا الله سبحانه بوجه مقبل عليه وقلب منيب إليه، دعاء من هو مفارق للقصر مشرف على القبر، ثمّ كان آخر دعائه: رَبِّ قَدْ آتَيْتَنِي مِنَ الْمُلْكِ وَعَلَّمْتَنِي مِنْ تَأْوِيلِ الْأَحادِيثِ فاطِرَ السَّماواتِ وَالْأَرْضِ أَنْتَ وَلِيِّي فِي الدُّنْيا وَالْآخِرَةِ تَوَفَّنِي مُسْلِماً وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ وقام من مصلّاه وهو يقول: أستودعك الله- واضطجع على سريره وهو مجتمع الحواس، ووجهه يلتفت إلى القبلة، وقال: (لا إله إلّا الله محمّد رسول الله) ، وفاضت نفسه والخطيب على المنبر يدعو له؛ وفي ذلك عبرة لمن ألقى السّمع وهو شهيد.

وكان ذلك في ثاني جمادى الأولى سنة اثنتين وثلاثين وتسع مئة وحمل تابوته إلى (سركيج) ودفن عند والده. طيّب الله ثراه. «1»

--------------------------------------------

(1) نزهة الخواطر وبهجة المسامع والنّواظر، ج 4/ 355. ملخّصا.
(আহমেদাবাদ) যাওয়ার পথে এবং সেখানে অবস্থানকালে তিনি বরকতময় মাজারগুলোতে বারবার যাতায়াত করতেন এবং সেখানে অধিক হারে জনকল্যাণমূলক কাজ করতেন। আল্লামা (খুররম খান)-এর প্রতি তাঁর সুধারণা ছিল। একদিন তিনি তাকে বললেন: "আমি যাদের প্রাপ্য তাদের ব্যয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করেছি, কিন্তু আমি বায়তুল মাল থেকে ব্যয়ের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি এবং এর হকদারদের বঞ্চিত করার ক্ষেত্রে অবহেলার মাঝামাঝি অবস্থায় আছি। আমি জানি না যে, এ দুটি বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হলে আমি কী উত্তর দেব।"

তাঁর শেষ দিনগুলোতে—আর সেটি ছিল জুমুআর দিন—তিনি নির্দিষ্ট স্থানে গেলেন এবং সূর্য ঢলে পড়া পর্যন্ত শুয়ে থাকলেন। এরপর তিনি পানি আনালেন এবং ওযু করে দুই রাকাত ওযুর সালাত আদায় করলেন। তিনি জায়নামাজ থেকে উঠে অন্দরমহলে গেলেন। মহিলারা নিরাশ হয়ে কাঁদতে কাঁদতে তাঁর কাছে সমবেত হলো এবং এমন বিচ্ছেদের শোকে বিলাপ করতে লাগল যার পর আর কোনো সাক্ষাৎ নেই। তিনি তাদের ধৈর্যের নির্দেশ দিলেন যা সওয়াবের বার্তাবাহক, এবং তাদের মধ্যে সম্পদ বণ্টন করলেন। এরপর তাদের থেকে বিদায় নিলেন এবং তাদের মহান আল্লাহর কাছে সঁপে দিলেন। তিনি বাইরে বের হলেন এবং কিছুক্ষণ বসলেন। তারপর তিনি আশজাউল মুলক উপাধিধারী রাজা মুহাম্মদ হুসাইনকে নিজের কাছে ডাকলেন এবং তাকে বললেন: "আল্লাহ ইলমের মাধ্যমে তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন এবং এটাই আমার প্রতি তোমার শেষ খেদমত। আমি চাই তুমি আমার মৃত্যুর সময় উপস্থিত থাকো, আমার নিকট সূরা ইয়াসিন পাঠ করো, তোমার নিজ হাতে আমাকে গোসল দাও এবং এ বিষয়ে আমাকে ক্ষমা করো।" রাজা এই মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার কারণে নিজেকে ধন্য মনে করলেন, তাঁর জন্য আত্মোৎসর্গের সংকল্প করলেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করলেন। তারপর যখন তিনি আযান শুনলেন তখন জিজ্ঞেস করলেন: "ওয়াক্ত কি হয়েছে?" আসাদুল মুলক উত্তর দিলেন: "এটি জুমুআর সালাতের প্রস্তুতির জন্য আহ্বানকারী আযান যা সাধারণত সময়ের আগে দেওয়া হয়।" তিনি বললেন: "যোহরের সালাত তো আমি তোমাদের কাছেই আদায় করব, কিন্তু আসরের সালাত ইনশাআল্লাহ জান্নাতে আমার রবের কাছে আদায় করব।" অতঃপর তিনি উপস্থিতদের জুমুআর সালাতের অনুমতি দিলেন এবং নিজের জায়নামাজটি চেয়ে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি একাগ্রচিত্তে এবং আল্লাহর অভিমুখী হয়ে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন; যা প্রাসাদ ত্যাগকারী ও কবরের সম্মুখীন ব্যক্তির দোয়ার মতো ছিল। তাঁর শেষ দোয়া ছিল: "হে আমার রব! আপনি আমাকে রাজত্ব দান করেছেন এবং আমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিয়েছেন। হে আসমান ও জমিনের স্রষ্টা! আপনিই দুনিয়া ও আখিরাতে আমার অভিভাবক। আপনি আমাকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দান করুন এবং নেককারদের অন্তর্ভুক্ত করুন।" তিনি জায়নামাজ থেকে উঠলেন এবং বলছিলেন: "আমি তোমাদের আল্লাহর কাছে সঁপে দিচ্ছি।" এরপর তিনি পূর্ণ সজাগ অবস্থায় তাঁর বিছানায় শুয়ে পড়লেন এবং তাঁর চেহারা কিবলার দিকে ফেরানো ছিল। তিনি বললেন: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ"। তাঁর প্রাণবায়ু বের হয়ে গেল যখন খতিব মিম্বরে দাঁড়িয়ে তাঁর জন্য দোয়া করছিলেন। এটি তার জন্য শিক্ষণীয় যে মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং উপস্থিত থাকে।

এটি ছিল নয়শ বত্রিশ হিজরি সনের দোসরা জমাদিউল আউয়াল। তাঁর কফিন (সারখেজ)-এ নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাঁর পিতার কবরের পাশে দাফন করা হয়। আল্লাহ তাঁর কবরকে সুবাসিত করুন।

--------------------------------------------

(১) নুজহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি' ওয়ান নাওয়াযির, ৪র্থ খণ্ড/ ৩৫৫। সংক্ষিপ্ত।
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ৩১)
صورة عن المخطوطات المستعان بها في تحقيق هذا الكتاب
এই গ্রন্থটি সম্পাদনায় (তাহকিক) ব্যবহৃত পাণ্ডুলিপিসমূহের আলোকচিত্র
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ৩৩)
راموز ورقة العنوان لمخطوط (دار الكتب المصريّة)
মিশরীয় জাতীয় গ্রন্থাগারের (দার আল-কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ) পাণ্ডুলিপির শিরোনাম পাতার সংকেত।
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ৩৪)
راموز الورقة الأولى لمخطوط (دار الكتب المصريّة)

راموز الورقة الأخيرة لمخطوط (دار الكتب المصريّة)
দারুল কুতুব আল-মিসরিয়া পাণ্ডুলিপির প্রথম পত্রের প্রতীক

দারুল কুতুব আল-মিসরিয়া পাণ্ডুলিপির শেষ পত্রের প্রতীক
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ৩৫)
راموز الورقة الأولى لمخطوط (مكتبة الأحقاف بتريم)

راموز الورقة الأخيرة لمخطوط (مكتبة الأحقاف بتريم)
পাণ্ডুলিপির প্রথম পত্রের সংকেত (আহকাফ লাইব্রেরি, তারিম)

পাণ্ডুলিপির শেষ পত্রের সংকেত (আহকাফ লাইব্রেরি, তারিম)
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ৩৬)
راموز ورقة العنوان لمخطوط (الأنصاريّ)
(আল-আনসারী) পাণ্ডুলিপির শিরোনাম পাতার পরিচিতি সংকেত।
(খণ্ড: ১) হাদা-ইকুল আনওয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফী সীরাতিন নাবীয়্যিল মুখতার (পৃষ্ঠা: ৩৭)
راموز الورقة الأولى لمخطوط (الأنصاريّ)
আনসারী পাণ্ডুলিপির প্রথম পত্রের সংকেত