(খণ্ড: ১)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: -)
منار القاري شرح مختصر صحيح البخاري القسم: شروح الحديث
الكتاب: منار القاري شرح مختصر صحيح البخاري
المؤلف: حمزة محمد قاسم
راجعه: الشيخ عبد القادر الأرناؤوط [ت 1425 هـ]
عني بتصحيحه ونشره: بشير محمد عيون [ت 1431 هـ]
الناشر: مكتبة دار البيان، دمشق - الجمهورية العربية السورية، مكتبة المؤيد، الطائف - المملكة العربية السعودية
عام النشر: 1410 هـ - 1990 م
عدد الأجزاء: 5
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী বিভাগ: হাদীসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
লেখক: হামযাহ মুহাম্মদ কাসিম
নিরীক্ষণ করেছেন: শাইখ আব্দুল কাদির আল-আরনাউত [মৃত্যু ১৪২৫ হিজরি]
সম্পাদনা ও প্রকাশনায়: বাশীর মুহাম্মদ উয়ুন [মৃত্যু ১৪৩১ হিজরি]
প্রকাশক: মাকতাবাতু দারিল বায়ান, দামেস্ক - সিরীয় আরব প্রজাতন্ত্র, মাকতাবাতুল মুআইয়াদ, তায়েফ - সৌদি আরব রাজ্য
প্রকাশকাল: ১৪১০ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৫
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١)
منار القاري
شرح مختصر
صحيح البخاري
تأليف حمزة محمد قاسم
راجعه الشيخ عبد القادر الأرناؤوط
عني بتصحيحه ونشره بشير محمد عيون
الجزء الأول
مكتبة دار البيان
ص. ب 2854 - هاتف 229045
دمشق - الجمهورية العربية السورية
مكتبة المؤيد
ص. ب 10 - هاتف 7321851
الطائف - المملكة العربية السعودية
মানারুল ক্বারী
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ
সহীহ আল-বুখারী
রচনা: হামযাহ মুহাম্মদ কাসিম
পর্যালোচনা: শাইখ আব্দুল ক্বাদির আল-আরনাউত
সম্পাদনা ও প্রকাশনার তত্ত্বাবধানে: বশীর মুহাম্মদ উইয়ুন
প্রথম খণ্ড
মাকতাবাতু দারিল বায়ান
পোস্ট বক্স ২৮৫৪ - ফোন ২২৯০৪৫
দামেস্ক - সিরীয় আরব প্রজাতন্ত্র
মাকতাবাতুল মুয়ায়্যাদ
পোস্ট বক্স ১০ - ফোন ৭৩২১৮৫১
তায়েফ - সৌদি আরব সাম্রাজ্য
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢)
حقوق الطبع محفوظة للمؤلف
بيروت
1410 هـ - 1990 م
গ্রন্থস্বত্ব লেখকের সংরক্ষিত
বৈরুত
১৪১০ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٣)
تقديم الكتابلصاحب الفضيلة خادم السنة النبوية الشيخ عبد القادر الأرناؤوطبسم الله الرحمن الرحيم
إنَّ الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله، فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
أما بعد: فإن هذا الكتاب العظيم الذي جمعه أمير المؤمنين في الحديث، الِإمام أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، المتوفى سنة (256) هـ حيث قوّى عزمه على ذلك أستاذُه أمير المؤمنين في الحديث والفقه الِإمام أبو يعقوب إسحاق بن إبراهيم الحنظلي المروزي المعروف بابن راهويه المتوفى سنة (238) هـ حيث قال الِإمام البخاري: كنا عند إسحاق بن راهويه، فقال: لو جمعتم كتاباً مختصراً لصحيح سنة رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، قال: فوقع ذلك في قلبي، فأخذتُ في جمع الجامع الصحيح، فجمعه وسمَّاه (الجامع الصحيح المسند من حديث رسول الله صلى الله علمه وآله وسلم وسننه وأيامه) والتزم أن لا يورد فيه إلا حديثاً صحيحاً، وقصد من جمعه لهذا الجامع الذبَّ عن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم والدفاع عنه، والرد على الجهمية والمعطلة وبعض الطرق المنحرفة. ولما انتهى من جمعه عرضه على شيخه الِإمام
কিতাব পরিচিতিসম্মানিত ব্যক্তিত্ব, নববী সুন্নাহর খাদেম শায়খ আবদুল কাদির আল-আরনাউতের পক্ষ থেকেপরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
অতঃপর: নিশ্চয়ই এই মহান কিতাবটি, যা সংকলন করেছেন হাদিস শাস্ত্রে আমিরুল মুমিনিন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (মৃত্যু ২৫৬ হিজরি)। এ ব্যাপারে তাঁর সংকল্পকে দৃঢ় করেছিলেন হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর উস্তাদ আমিরুল মুমিনিন ইমাম আবু ইয়াকুব ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-হানজালি আল-মারওয়াজি, যিনি ইবনে রাহওয়াইহ নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৩৮ হিজরি)। ইমাম বুখারি বলেন: আমরা ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ-এর নিকট ছিলাম, তখন তিনি বললেন: তোমরা যদি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সহিহ সুন্নাহর উপর একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব সংকলন করতে! ইমাম বুখারি বলেন: বিষয়টি আমার অন্তরে গেঁথে গেল, ফলে আমি 'আল-জামে আস-সহিহ' সংকলনে প্রবৃত্ত হলাম। অতঃপর তিনি এটি সংকলন করেন এবং এর নামকরণ করেন 'আল-জামে আস-সহিহ আল-মুসনাদ মিন হাদিসি রাসুলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি'। তিনি এতে কেবল সহিহ হাদিস বর্ণনা করার প্রতিশ্রুতি দেন। এই জামে সংকলনের মাধ্যমে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের মর্যাদা রক্ষা করা, তাঁর পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করা এবং জাহমিয়া, মুয়াত্তিলা ও কিছু বিচ্যুত মতাদর্শের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া। যখন তিনি এটি সংকলন শেষ করলেন, তখন তা তাঁর উস্তাদ ইমামের নিকট পেশ করলেন।
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٤)
أحمد بن حنبل ويحيى بن معين وعلى بن المديني وغيرهم، فاستحسنوه وشهدوا له بالصحة. وقد اتفق العلماء على أن هذا الجامع أصح كتاب في حديث رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم.
وقد اعتنى بهذا الجامع الصحيح كثير من أهل العلم من المتقدمين ومن المتأخرين: فشرحه علماء كثيرون، واختصره أئمة آخرون، لا مجال لذكر أسمائهم لكثرتها.
ولقد سمت هِمَّة الأستاذ الجليل فضيلة الشيخ حمزة محمد قاسم فاختصر الجامع الصحيح اختصاراً وسطاً، ثم قرَّر بعد اختصاره أن يشرحه شرحاً مبسطاً يستفيد منه طلاب العلم، فقام بذلك حق قيام، جزاه الله تعالى خيراً، وسمى شرحه هذا (منار القاري في شرح مختصر البخاري) واعتمد في شرحه على الأئمة المتقدمين الذين شرحوه من الفقهاء والمحدثين.
وإن الأخ في الله الشارح لهذا الجامع الصحيح حفظه الله. درس على أفاضل من علماء المدينة وتخرج من القسم العالي (1) من مدرسة العلوم الشرعية بالمدينة المنورة، ولقد أتى في شرحه لكتابه هذا بما قاله العلماء في المذاهب الأربعة وسواها، وذكر ما قاله الجمهور من الفقهاء ومن خالفهم في ذلك.
وفي شرحه لأحاديث العقائد ذكر توحيد الربوبية والأسماء والصفات، وتوحيد الِإلهية والعبادة، دون تشبيه أو تمثيل أو تعطيل، بأسلوب سهل، على عقيدة السلف الصالح، وأهل السنة والجماعة التي تلقوها عن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وأصحابه والتابعين لهم بإحسان، وهي العقيدة
--------------------------------------------
আহমদ বিন হাম্বল, ইয়াহইয়া বিন মাইন, আলী বিন আল-মাদিনী এবং অন্যান্যরা এটি পছন্দ করেছেন এবং এর বিশুদ্ধতার সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর উলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, এই জামে' (সংকলনটি) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের ক্ষেত্রে সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব।
পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী আলেমদের অনেকেই এই জামে' সহীহ-এর প্রতি যত্নবান হয়েছেন: অনেক আলেম এর ব্যাখ্যা লিখেছেন এবং অন্যান্য ইমামগণ এর সংক্ষিপ্ত রূপ তৈরি করেছেন, যা আধিক্যের কারণে এখানে তাদের নাম উল্লেখ করার সুযোগ নেই।
মহান উস্তাদ ফযীলাতুশ শায়খ হামযাহ মুহাম্মাদ কাসিমের হিম্মত বা সংকল্প উচ্চকিত হয়েছে, ফলে তিনি জামে' সহীহ-কে মধ্যম পন্থায় সংক্ষেপ করেছেন। অতঃপর সংক্ষেপ করার পর তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে এটি সহজভাবে ব্যাখ্যা করবেন যেন ইলম অন্বেষণকারীরা তা থেকে উপকৃত হতে পারে। তিনি যথাযথভাবে তা সম্পাদন করেছেন, আল্লাহ তাআলা তাকে উত্তম প্রতিদান দিন। তিনি তার এই ব্যাখ্যার নাম দিয়েছেন (মানারুল কারী ফি শারহি মুখতাসারি বুখারী) এবং তিনি তার এই ব্যাখ্যায় ঐ সকল পূর্ববর্তী ফকীহ ও মুহাদ্দিস ইমামদের ওপর নির্ভর করেছেন যারা এটি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এই জামে' সহীহ-এর ব্যাখ্যাকার আমাদের ভাই—আল্লাহ তাকে হেফাযত করুন—মদিনার শ্রেষ্ঠ আলেমদের নিকট পড়াশোনা করেছেন এবং মদিনা মুনাওয়ারার মাদরাসাতুল উলুম আশ-শারইয়্যাহ-এর উচ্চতর বিভাগ (১) থেকে শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন। তিনি তার এই কিতাবের ব্যাখ্যায় চার মাযহাব এবং অন্যান্য আলেমদের মতামত নিয়ে এসেছেন এবং ফকীহদের জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ যা বলেছেন এবং যারা তাদের বিরোধিতা করেছেন তা উল্লেখ করেছেন।
আকীদা বিষয়ক হাদিসগুলোর ব্যাখ্যায় তিনি তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ, আসমা ওয়াস-সিফাত (নাম ও গুণাবলী) এবং তাওহীদে ইলাহিয়্যাহ ও ইবাদত বর্ণনা করেছেন—কোনো প্রকার সাদৃশ্য দান, উদাহরণ দান বা অস্বীকার করা ছাড়াই, অত্যন্ত সহজ পদ্ধতিতে, সালাফে সালেহীন এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদার ওপর ভিত্তি করে, যা তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেঈনদের নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। আর এটিই সেই আকিদা—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٥)
السليمة، والطريقة المستقيمة التي ينبغي على كل مسلم أن يسلك سبيلها، وأن يسير على نهجها. وقد بحث حفظه الله تعالى في القضاء والقدر بحثاً جيداً على طريقة أهل السنة والجماعة، وأقوال الأئمة المجتهدين، والعلماء المحققين.
وبين بوضوح كل ما يتعلق بالعقائد، والأحكام، والمعاملات، والحدود، والأخلاق، وعرَّف السنة والبدعة، وسنة رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، وسنة الخلفاء الراشدين، وما استقر عليه عمل الصحابة، وقد توسَّع في المعاملات، والطب، والأدب، والرقاق، والاعتصام بالكتاب والسنة، فنقل أشياء جديدة عرفت في عصرنا الحاضر، في المواضيع الاجتماعية والأمور الطبية التي يستفيد منها طلاب العلم والشباب المثقف في هذا العصر.
وقد ختم شرحه هذا بآخر حديث ختم به الِإمام البخاري رحمه الله صحيحه هذا، وهو حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: "كلمتان حبيبتان إلى الرحمن، خفيفتان على اللسان، ثقيلتان في الميزان، سبحان الله وبحمده، سبحان الله العظيم".
فكان ختاماً حسناً، وشرحاً واضحاً يستفيد منه العام والخاص، فجزاه الله تعالى خيراً.
إن الشارح حفظه الله جاء إلى دمشق الشام ليقوم بطبع هذا الكتاب وتفضل علي وزارني في داري جزاه الله تعالى خيراً. وأطلعنى على عمله المبارك، فقدَّمه إليّ، وطلب مني أن أقرأ كتابه هذا، وأن أراجعه وأنظر في أحاديثه وشرحه، وأن أبدي ملاحظاتي عليه، فاستجبت لذلك على ضعفي، وقرأته من ألفه إلى يائه، ومن أوله إلى آخره، فوجدته كتاباً جيداً نافعاً إن شاء الله لطلاب العلمٍ والقراء الذين يطلعون عليه، وقد رتبه ترتيباً حسناً، ونظمه تنظيماً دقيقاً، وشرحه شرحاً جيداً لا لبس فيه ولا غموض.
সঠিক ও সরল পথ যা প্রত্যেক মুসলিমের অবলম্বন করা এবং যার ওপর চলা উচিত। তিনি (আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন) আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত, মুজতাহিদ ইমামগণ এবং গবেষক আলেমদের তরীকা অনুযায়ী তাকদিরের (কাজা ও কদর) বিষয়ে অত্যন্ত সুন্দরভাবে আলোচনা করেছেন।
তিনি আকিদা, আহকাম, মুয়ামালাত, হুদুদ এবং আখলাক সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সুন্নাহ ও বিদআতের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ, খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কিরামের আমল যে বিষয়ের ওপর স্থির হয়েছে তা উল্লেখ করেছেন। তিনি লেনদেন, চিকিৎসা, আদব, রিকাক এবং কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি বর্তমান যুগে আলোচিত নতুন কিছু সামাজিক ও চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ও উদ্ধৃত করেছেন, যা থেকে এই যুগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষিত তরুণরা উপকৃত হতে পারবে।
তিনি তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সেই হাদিসের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন যা দিয়ে ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর সহীহ গ্রন্থটি সমাপ্ত করেছিলেন। সেটি হলো আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "দুটি বাক্য যা দয়াময় রহমানের নিকট অত্যন্ত প্রিয়, জিহ্বায় উচ্চারণ করা খুবই সহজ এবং মিজানের পাল্লায় অত্যন্ত ভারী; তা হলো: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম।"
এটি ছিল একটি সুন্দর সমাপ্তি এবং একটি স্বচ্ছ ব্যাখ্যা, যা থেকে সাধারণ ও বিশিষ্ট সকল শ্রেণীর মানুষ উপকৃত হতে পারবে। আল্লাহ তাআলা তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
ব্যাখ্যাকার (আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন) সিরিয়ার দামেস্কে এই কিতাবটি ছাপানোর উদ্দেশ্যে এসেছিলেন এবং অনুগ্রহ করে আমার গৃহে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন। তিনি আমাকে তাঁর এই বরকতময় কাজ সম্পর্কে অবহিত করেছেন এবং এটি আমার কাছে পেশ করেছেন। তিনি আমাকে তাঁর এই কিতাবটি পাঠ করতে, এর পর্যালোচনা করতে, এর হাদিস ও ব্যাখ্যাগুলো দেখতে এবং এর ওপর আমার মতামত জানাতে অনুরোধ করেছিলেন। আমি আমার দুর্বলতা সত্ত্বেও তাঁর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছি এবং কিতাবটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আদ্যোপান্ত পাঠ করেছি। আমি এটিকে একটি চমৎকার ও উপকারী গ্রন্থ হিসেবে পেয়েছি—ইনশাআল্লাহ এটি তালিবে ইলম ও পাঠকদের জন্য খুবই ফলপ্রসূ হবে। তিনি একে অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত করেছেন এবং এর ব্যাখ্যা এমন চমৎকারভাবে করেছেন যেখানে কোনো অস্পষ্টতা বা জটিলতা নেই।
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٦)
فوضعت عليه بعض الملاحظات، وعلقت بعض التعليقات على الأحاديث النبوية، وربما أبدلت حديثاً بحديث، أو ذكرته بلفظه جاء في المصادر التي نقل عنها، وَرَجعت في ترجيح أقوال العلماء إلى قول أهل السنة والجماعة، وأهل العلم بالسنة من المحققين والمدققين من المتقدمين والمتأخرين، هذا وقد أضاف حفظه الله بعمله هذا إلى المكتبة الِإسلامية كتاباً حافلاً بالخير والبركة جعله الله تعالى في صحيفة أعماله، وصحيفة من شارك فيه، يوم لا ينفع مال ولا بنون إلا من أتى الله بقلب سليم، ونسأل الله تعالى أن يثبتنا على الاعتقاد الصحيح، والسبيل المستقيم، وأن يوفقنا لاتباع سنة رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وطريقته وهديه، وأن يجعل عملنا هذا خالصاً لوجهه الكريم وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
دمشق 17 ربيع الأول 1409 هـ
الموافق 27 تشرين الأول 1988 م
خادم السنة النبوية
عبد القادر الأرناؤوط
আমি এর ওপর কিছু টীকা প্রদান করেছি এবং নববী হাদিসগুলোর ওপর কিছু ব্যাখ্যা সংযোজন করেছি; কখনো কখনো আমি একটি হাদিসের পরিবর্তে অন্য হাদিস প্রতিস্থাপন করেছি, অথবা হাদিসটি যে উৎস থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে তাতে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সে শব্দেই তা উল্লেখ করেছি। আলেমদের মতামতের মধ্যে কোনোটিকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আমি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী যুগের মুহাক্কিক ও মুদাক্কিক সুন্নাহর বিদগ্ধ আলেমদের মতের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছি। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাকে হেফাজত করুন, তিনি ইসলামি পাঠাগারে কল্যাণ ও বরকতে ভরপুর একটি কিতাব যুক্ত করেছেন। আল্লাহ তাআলা এই কাজটিকে তার আমলনামায় এবং যারা এতে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের আমলনামায় সেই দিন যুক্ত করুন, যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যে আল্লাহর কাছে সুস্থ ও পরিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে। আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সঠিক আকিদা ও সরল পথের ওপর অবিচল রাখেন এবং আমাদের আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ, তাঁর তরীকা ও হেদায়েতের অনুসরণের তাওফিক দান করেন; আর আমাদের এই আমলকে যেন কেবল তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
দামেস্ক ১৭ই রবিউল আউয়াল ১৪০৯ হিজরি
২৭শে অক্টোবর ১৯৮৮ ঈসায়ী মোতাবেক
সুন্নাহর খাদেম
আব্দুল কাদির আল-আরনাউত
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٧)
كلمة شكر وتقدير …بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله على نعمه العظام، وآلائه الجسام؛ والحمد لله الذي وفقني لخدمة سنة المصطفى خير الأنام، والصلاة والسلام على خاتم أنبيائه ورسله، سيدنا محمد بن عبد الله، وعلى آله وصحبه البررة الكرام، ما توالت الأيام وتتابعت السنون والأعوام.
وبعد. يسرني في هذه اللحظة المباركة التي أقدم فيها كتابي هذا إلى القراء، أن أوجه خالص شكري وتقديري وامتناني إلى صاحب الفضيلة المحدث الكبير، والعالم السلفي الجليل، الشيخ عبد القادر الأرناؤوط على تفضله مشكوراً بمراجعة أحاديث هذا الكتاب سنداً ومتناً، وتدقيق معانيها وفقهها وأحكامها وتذييل حواشيه بإرشاداته القيمة وتعليقاته العلمية المفيدة وآرائه الصائبة، فأفاض عليه من غزارة علمه، وسعة اطلاعه، ما هو جدير بفضيلته وأهل له، وكل تعليق ختم بـ (ع) فهو لفضيلته.
جزاه الله عن الحديث وأهله خير الجزاء، ونفع به الِإسلام والمسلمين.
ويطيب لي في هذه المناسبة السعيدة، أن أنوه بالجهود الكبيرة التي بذلها الأستاذ الجليل السيد بشير محمد عيون صاحب دار البيان في خدمة هذا الكتاب، حيث قام بإعداده وطبعه وإخراجه، وأشرف عليه في جميع مراحله، وعني كل العناية بتحقيق نصوصه وتدقيق ألفاظه وكلماته، وراجعه مرات ومرات، فله مني وللأستاذ الفاضل السيد حسن السماحي الذي قام بتصحيحه
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর সুমহান নেয়ামতসমূহ ও বিশাল অনুগ্রহসমূহের ওপর; এবং সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে সর্বোত্তম সৃষ্টি মুস্তফার সুন্নাহর খিদমত করার তাওফীক দান করেছেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সর্বশেষ নবী ও রাসূল আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পুণ্যবান ও সম্মানিত পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর, যতদিন দিনসমূহ আবর্তিত হবে এবং বছর ও কালসমূহ অতিবাহিত হতে থাকবে।
অতঃপর, এই বরকতময় মুহূর্তে যখন আমি আমার এই গ্রন্থটি পাঠকদের সামনে পেশ করছি, তখন মহান মুহাদ্দিস ও প্রথিতযশা সালাফী আলেম শায়খ আব্দুল কাদির আল-আরনাউত-এর প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পেরে আনন্দিত বোধ করছি। তিনি সদয় হয়ে এই গ্রন্থের হাদিসসমূহের সনদ ও মতন পর্যালোচনা করেছেন, এগুলোর অর্থ, ফিকহ ও বিধানসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করেছেন এবং তাঁর মূল্যবান দিকনির্দেশনা, উপকারী জ্ঞানগর্ভ মন্তব্য ও সঠিক মতামতের মাধ্যমে এর টীকাসমূহকে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি তাঁর অগাধ ইলম ও গভীর পাণ্ডিত্য থেকে এতে এমন কিছু ঢেলে দিয়েছেন যা তাঁর মর্যাদার উপযুক্ত ও যোগ্য। আর যে সকল মন্তব্য (ع) দিয়ে শেষ হয়েছে, সেগুলো তাঁরই।
আল্লাহ তাআলা তাঁকে হাদিস ও হাদিস বিশারদদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করুন।
এই আনন্দঘন মুহূর্তে আমি দারুল বয়ান-এর স্বত্বাধিকারী শ্রদ্ধেয় উস্তাদ জনাব বশীর মুহাম্মাদ উয়ুন-এর বিশাল প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করতে চাই, যা তিনি এই গ্রন্থের খিদমতে ব্যয় করেছেন। তিনি এর প্রস্তুতি, মুদ্রণ ও প্রকাশনার কাজ সম্পন্ন করেছেন এবং এর সকল পর্যায়ে তদারকি করেছেন। তিনি গ্রন্থটির মূল পাঠের তাহকীক এবং এর শব্দ ও বাক্যসমূহ যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত যত্ন নিয়েছেন এবং তা বারবার পর্যালোচনা করেছেন। তাই তাঁর প্রতি এবং শ্রদ্ধেয় উস্তাদ জনাব হাসান আস-সামাহী—যিনি এটি সংশোধন করেছেন—তাঁর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা রইল।
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٨)
وترقيمه جزيل الشكر وعاطر الثناء، وعميق التقدير، وأتمنى لهؤلاء السادة الأفاضل كل نجاح وتوفيق فيما يبذلونه من نشاط واسع في خدمة الكتب الدينية وإحياء التراث الإسلامي، وعلى الأخص ما يتعلق منه بالحديث النبوي الشريف والسنة المحمدية المطهرة وعقيدة السلف الصالح.
سدد الله خطاهم ووفقهم لما يحبه ويرضاه، وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، والحمد لله رب العالمين.
دمشق 12 ربيع الأول سنة 1409 هـ
المؤلف
حمزة محمّد قاسم
এবং এর সংখ্যায়ন; আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, সুগন্ধি প্রশংসা ও গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। আমি এই ফাযেল সজ্জনদের সেই মহান প্রচেষ্টায় সর্বাঙ্গীন সাফল্য ও কল্যাণ কামনা করি, যা তারা ধর্মীয় গ্রন্থসমূহের সেবা এবং ইসলামি ঐতিহ্য পুনর্জীবনে, বিশেষত হাদিসে নববী, পবিত্র সুন্নাহে মুহাম্মাদিয়া এবং সালাফে সালেহীনের আকিদা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরিচালনা করছেন।
আল্লাহ তাদের পদক্ষেপসমূহকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং তাদের সেই কাজের তাওফিক দিন যা তিনি পছন্দ করেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
দামেস্ক, ১২ রবিউল আউয়াল, ১৪০৯ হিজরি
লেখক
হামজা মুহাম্মাদ কাসেম
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الكتابالحمد لله، أحمده وأستعينه، وأستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا. من يهده الله فلا مضلَّ له، ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأنَّ محمداً عبده ورسوله. أرسله الله بالهدى ودين الحق على فترةٍ من الرسل، وقلةٍ من العلم، وضلالةٍ من الناس.
وصلّى الله على سيدنا محمدٍ الذى أرسله الله إلى الثقلين بشيراً ونذيراً، وداعياً إلى الله بإذنه وسراجاً منيراً، وعلى آله وصحبه وسلَّم تسليماً كثيراً.
وبعد فإنّ أصدقَ الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم، وأشرف العلوم علم السنة المحمدية، ودراسة أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم رواية ودراية، فقهاً وأحكاماً، فالكتاب والسنّة توأمان. وقد كان جبريل ينزل بالسنّة كما ينزل بالقرآن. فهي وحي إلهي منزل، وهي المرجع الأول في تفسير القرآن الكريم، والمصدر الثاني من مصادر التشريع الإسلامي.
ولذلك كان لعلم الحديث مكانته السامية، وكان لأهل الحديث مكانتهم المرموقة بين العلماء. ويكفيهم شرفاً أن النبي صلى الله عليه وسلم نوَّه بشأنهم، ودعا لهم بالوجاهة بين الناس، فقال صلى الله عليه وسلم كما في حديث زيد بن ثابت رضي الله عنه: "نَضَّرَ اللهُ امرءاً سَمِعَ مِنَّا حديثاً فَحَفِظَهُ حتَّى يُبلغَه، فرُبَّ حامِل فَقهٍ إلى مَنْ هُوَ أفْقَهُ مِنْه، وَرُب حَامِل فِقْهٍ لَيْسَ بِفَقِيْهٍ" أخرجه أبو داود والنسائي والترمذي وقال حديث حسن.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
গ্রন্থের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমি তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট হিদায়াত কামনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ এমন এক সময়ে প্রেরণ করেছেন যখন রাসূলগণের আগমন দীর্ঘকাল বন্ধ ছিল, ইলমের স্বল্পতা দেখা দিয়েছিল এবং মানুষ ভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ছিল।
আল্লাহর রহমত ও প্রচুর শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদের ওপর, যাকে আল্লাহ মানব ও জিন জাতির নিকট সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও প্রদীপ্ত প্রদীপ হিসেবে প্রেরণ করেছেন, আর তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপরও প্রচুর সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর, নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী হলো আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথনির্দেশ। আর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান হলো মুহাম্মাদী সুন্নাহর জ্ঞান এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসসমূহের বর্ণনা ও অর্থগত পঠন-পাঠন এবং এর ফিকহ ও বিধানাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান। কেননা কিতাব ও সুন্নাহ হলো যমজ স্বরূপ। জিবরাঈল আলাইহিস সালাম যেভাবে কুরআন নিয়ে অবতীর্ণ হতেন, সেভাবে সুন্নাহ নিয়েও অবতীর্ণ হতেন। সুতরাং তা হলো অবতীর্ণ ঐশী ওহী এবং তা পবিত্র কুরআনের তাফসীরের ক্ষেত্রে প্রথম নির্ভরযোগ্য উৎস ও ইসলামী শরীয়তের উৎসসমূহের মধ্যে দ্বিতীয় উৎস।
এ কারণেই হাদীস শাস্ত্রের রয়েছে এক সুউচ্চ মর্যাদা এবং ওলামাদের মাঝে হাদীস বিশারদদের রয়েছে এক অনন্য অবস্থান। তাদের সম্মানের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছেন এবং মানুষের মাঝে তাদের সজীবতা ও মর্যাদার জন্য দুআ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণিত হাদীসে যেমনটি বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখুন, যে আমাদের থেকে কোনো হাদীস শুনেছে, অতঃপর তা মুখস্থ রেখেছে যতক্ষণ না সে তা অন্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। কেননা অনেক ফিকহ (জ্ঞানের কথা) বহনকারী এমন ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়ে অধিক সমঝদার, আবার অনেক ফিকহ বহনকারী নিজে ফকীহ নয়।" এটি আবু দাউদ, নাসাঈ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে হাসান হাদীস বলেছেন।
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٠)
وقد استجاب الله تعالى دعوة نبيه صلى الله عليه وسلم لأهل الحديث كما قال سفيان بن عيينة رحمه الله: فما من أحد يطلب حديثاً إلا وفي وجهِه نضرةٌ. والمراد أنه لا يوجد أحد من طلاب الحديث إلاّ وقد منحه الله تعالى نشاطاً وقوةً في جسمه، وصفاءً في لونه، وبهجةً في صورته ووجاهةً بين الناس. وإنما دعا له النبي صلى الله عليه وسلم بهذه الدعوة المباركة، لأنه سعى في تجديد سنة المصطفى، فكان جزاؤه من جنس عمله، أفاده القسطلاني.
قال بعض السلف: ويرجى لأهل الحديث أن يفوزوا بنضرة النعيم في الدار الآخرة. ولا عجب فأهل الحديثِ هم خلفاء النبي صلى الله عليه وسلم على سنته.
وقد كانت أمنية عمري أن يمنَّ الله عليَّ بخدمة "صحيح البخاري" وما زال هذا الحُلُم يراود مخيلتي سنين طوالاً، حتى وافتني الفرصة، وتحقق الأمل، فوفّقني الله تعالى إلى تأليف هذا المختصر الذي لخصته من صحيح البخاري، ووضعت عليه شرحاً وسطاً يقع في خمس مجلدات أو في خمسة أجزاء، تحرّيت فيه أن يكون محقِّقاً للغرض، مشتملاً على ما لا بدَّ منه، من ترجمة بعض الرواة، وشرح معنى الحديث، وبيان فقهه وأحكامه، وتخريجه (1)، ومطابقته للترجمة.
وحرصت أن يكون - قدر الإمكان - بأسلوب سهل، وعبارة واضحةٍ، قريبةٍ من القراء، وفي متناول مداركهم. وبذلت جهدي في تحْقيقه معتمداً على أوثق المصادر الإسلاميّة. فإنْ أصبت فبفضل من الله (وما توفيقي إلا بالله) وإنْ أخطأت فالمؤلفون عُرْضة للزلل، ومن ألَّف فقد استُهدِف.
وسميته "منار القاري شرح مختصر البخاري" أسأل اللهَ ربَّ العرش العظيم، أن يجعله خالصاً لوجهه الكريم، ويمنحه القبول، وينفع به القرّاء.
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা আহলে হাদিসের জন্য তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুআ কবুল করেছেন, যেমন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: হাদিস অন্বেষণকারী এমন কেউ নেই যার চেহারায় উজ্জ্বলতা নেই। এর উদ্দেশ্য হলো, হাদিসের ছাত্রদের মধ্যে এমন কাউকেই পাওয়া যাবে না যাকে আল্লাহ তাআলা তার শরীরে প্রাণবন্ততা ও শক্তি, গাত্রবর্ণে শুভ্রতা, অবয়বে লাবণ্য এবং মানুষের মধ্যে সম্মান দান করেননি। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের জন্য এই বরকতময় দুআ করেছেন কারণ তারা মুস্তাফার সুন্নাতকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন; তাই তাদের প্রতিদান তাদের কর্মের অনুরূপ হয়েছে। আল্লামা কাসতালানি এটি উল্লেখ করেছেন।
জনৈক সালাফ বলেছেন: আহলে হাদিসের জন্য পরকালে নাঈমের (জান্নাতের) সজীবতা লাভের আশা করা যায়। আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ আহলে হাদিসই হলো তাঁর সুন্নাহর ক্ষেত্রে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্থলাভিষিক্ত।
আমার জীবনের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল যে আল্লাহ যেন আমাকে "সহিহ বুখারি"-র খিদমত করার তাওফিক দান করেন। এই স্বপ্ন দীর্ঘ বছর ধরে আমার কল্পনায় ছিল, পরিশেষে সুযোগ এলো এবং আশা পূরণ হলো। আল্লাহ তাআলা আমাকে এই সংক্ষিপ্তসারটি রচনার তাওফিক দিলেন যা আমি সহিহ বুখারি থেকে সংক্ষেপিত করেছি। আমি এর ওপর একটি মধ্যম মানের ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছি যা পাঁচ খণ্ড বা পাঁচটি অংশে বিভক্ত। এতে আমি উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, যা অপরিহার্য বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করেছে, যেমন কিছু রাবির জীবনী, হাদিসের অর্থের ব্যাখ্যা, এর ফিকহ ও বিধানের বর্ণনা, এর তাখরিজ (১) এবং শিরোনামের সাথে হাদিসের সামঞ্জস্য।
আমি যথাসম্ভব সহজ শৈলী ও স্পষ্ট ভাষায় এটি লিখতে সচেষ্ট হয়েছি, যা পাঠকদের নিকটবর্তী এবং তাদের বোধগম্য হয়। আমি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ইসলামি উৎসসমূহের ওপর নির্ভর করে এর তাহকিকের ক্ষেত্রে আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি। যদি আমি সঠিক হয়ে থাকি তবে তা আল্লাহর অনুগ্রহে (আর আমার তাওফিক তো কেবল আল্লাহর মাধ্যমেই), আর যদি আমি ভুল করে থাকি তবে লেখকরা তো পদস্খলনের শিকার হতেই পারেন; আর যে ব্যক্তিই কিছু রচনা করে সে সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু হয়।
আমি এর নামকরণ করেছি "মানারুল কারি শরহু মুখতাসারিল বুখারি"। আমি মহান আরশের রব আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন একে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন, একে গ্রহণযোগ্যতা দান করেন এবং এর মাধ্যমে পাঠকদের উপকৃত করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١١)
وإنّي لأطمع أن يشملني قوله صلى الله عليه وسلم "إذا مات ابن آدم انقطع عمله إلاّ من ثلاث، صدقة جارية، أو علم ينتفع به، أو ولد صالح يدعو له" اللهم أصلح لنا ديننا الذي هو عصمة أمرنا، وَأَصْلح لنا دنيانا التي فيها معاشنا، وأصْلح لنا آخرتنا التي إليها معادنا، واجعل الحياة زيادة لنا في كل خير، واجعل الموت راحة لنا من كل شر. (رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا) (رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ) اللَّهم إني أسألك أن تمنّ علينا وعلى والدينا وأوْلادنا وآل بيتنا ومشايخنا وأقاربنا وأصدقائنا، وعلى جميع المؤمنين والمؤمنات بعفوك وغفرانك، ورحمتك ورضوانك. (رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ) وصلّى الله على سيدنا محمدٍ وعلى آله وصحبه أجمعين والحمد لله رب العالمين.
حمزة محمّد قاسم
আর আমি আশা পোষণ করি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী যেন আমাকেও অন্তর্ভুক্ত করে: "যখন আদম সন্তান মৃত্যুবরণ করে, তখন তিনটি বিষয় ব্যতীত তার আমল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়; সদকায়ে জারিয়া, অথবা এমন ইলম যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, অথবা এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।" হে আল্লাহ, আপনি আমাদের দ্বীনকে সংশোধন করে দিন যা আমাদের সকল বিষয়ের রক্ষাকবচ, আমাদের দুনিয়াকে সংশোধন করে দিন যাতে আমাদের জীবনোপকরণ রয়েছে এবং আমাদের আখিরাতকে সংশোধন করে দিন যেখানে আমাদের ফিরে যেতে হবে। আমাদের জীবনকে প্রত্যেক কল্যাণের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির মাধ্যম বানিয়ে দিন এবং আমাদের মৃত্যুকে প্রত্যেক অনিষ্ট থেকে আরামের উপায় বানিয়ে দিন। (হে আমাদের রব, আমরা যদি বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি, তবে আপনি আমাদের পাকড়াও করবেন না।) (হে আমাদের রব, হিসাব কায়েম হওয়ার দিনে আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং মুমিনদের ক্ষমা করে দিন।) হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি যেন আপনি আমাদের প্রতি, আমাদের পিতা-মাতার প্রতি, আমাদের সন্তানদের প্রতি, আমাদের পরিবারবর্গের প্রতি, আমাদের উস্তাদদের প্রতি, আমাদের নিকটাত্মীয়দের প্রতি, আমাদের বন্ধুদের প্রতি এবং সকল মুমিন নর-নারীর প্রতি আপনার ক্ষমা, মার্জনা, রহমত ও সন্তুষ্টির মাধ্যমে অনুগ্রহ করেন। (হে আমাদের রব, আপনি আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।) আর আল্লাহ সালাত বর্ষণ করুন আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য।
হামযা মুহাম্মদ কাসেম
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٢)
"
لمحات عن البُخاري وكتابه الجامع الصحيح"
"
الإمام البخاري: ترجمته، حياته، مؤلفاته"
عصر البخاري:ظهر البخاري في القرن الثالث الهجري الذي ازدهرت فيه العلوم الإِسلامية، وأصبح لها مراكز متعددة بالمدينة ومكة (1) والبصرة والكوفة وبغداد عاصمة الخلافة ومركز العلوم والحضارة، في ذلك العصر الذي نمت فيه المذاهب الفقهية وتطورت علوم القرآن من تفسير وغيره، وأُلفت الكتب المتعددة في السيرة والتاريخ والطبقات، ووضعت علوم العربية لخدمة القرآن الكريم.
أما علوم الحديث: فقد بلغت في هذا العصر قِمَّة مجدها، وظهر فيه أعلام السنة وكبار المحدثين، منهم أحمد بن حنبل وعلي بن المديني ومُسْلم بن الحجاج والترمذي وابن ماجة وأبو داود، كل هؤلاء ظهروا في هذا العصر الذهبي للعلوم الإِسلامية وألفوا المسانيد والمجاميع وتركوا تراثاً إسلامياً ضخماً في الحديث وعلومه.
ولم يكن هذا العصر عصر بداية الحديث وتدوينه وإنما كان عصر تطوره وازدهاره، أما بداية تدوينه فقد كانت في القرن الثاني الهجري، عندما أمر عمر بن عبد العزيز بجمع الحديث خشية ضياعه، وكتب إلى واليه أبي بكر ابن محمد بن عمرو بن حزم كتاباً يأمره فيه أن ينظر ما كان من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم وسنته فيكتبه خوفاً من أن يندرس هذا العلم بذهاب العلماء (2) فكان
--------------------------------------------
আল-বুখারি এবং তাঁর কিতাব আল-জামি আস-সহিহ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোকপাতইমাম বুখারি: তাঁর পরিচিতি, জীবন ও রচনাবলিবুখারির যুগ:ইমাম বুখারি হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে আবির্ভূত হন, যখন ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞান সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছেছিল। মদিনা, মক্কা, বসরা, কুফা এবং খেলাফতের রাজধানী ও জ্ঞান-সভ্যতার কেন্দ্র বাগদাদে এর একাধিক কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। এটি ছিল সেই যুগ যখন ফিকহি মাযহাবগুলো বিকাশ লাভ করেছিল এবং তাফসিরসহ কুরআনের বিভিন্ন জ্ঞানশালা উন্নত হয়েছিল। সিরাত, ইতিহাস ও জীবনী (তবকাত) বিষয়ক বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছিল এবং পবিত্র কুরআনের সেবায় আরবি ভাষার বিভিন্ন শাখা সংস্কার ও সংকলিত হয়েছিল।
আর হাদিস শাস্ত্রের ক্ষেত্রে: এই যুগে তা এর গৌরবের চরম শিখরে আরোহণ করেছিল। এ সময় সুন্নাহর দিকপাল এবং বড় বড় মুহাদ্দিসগণ আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আহমদ ইবনে হাম্বল, আলি ইবনুল মাদিনি, মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ এবং আবু দাউদ। তাঁরা সকলেই ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের এই স্বর্ণযুগে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং তাঁরা মাসানিদ ও হাদিস সংকলনসমূহ রচনা করে হাদিস ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞানশাখায় এক বিশাল ইসলামি ঐতিহ্য রেখে গেছেন।
আর এই যুগটি হাদিসের সূচনা ও সংকলনের যুগ ছিল না, বরং এটি ছিল এর ক্রমবিকাশ ও পূর্ণতার যুগ। এর লিপিবদ্ধকরণের সূচনা হয়েছিল দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীতে, যখন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ হাদিস হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তা সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর গভর্নর আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাজমের কাছে এই মর্মে একটি পত্র লিখেছিলেন যেন তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস ও সুন্নাহর অনুসন্ধান করেন এবং তা লিপিবদ্ধ করেন, এই ভয়ে যে আলেমদের চলে যাওয়ার মাধ্যমে যেন এই জ্ঞান বিলুপ্ত হয়ে না যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
أوَّل من استجاب لهذه الدعوة إمام المحدثين في ذلك العصر محمد بن مسلم بن شهاب الزُّهري، فكتب فرائد في علم الحديث، حتى عدّه بعضهم واضع مصطلح الحديث. وكان أوَّل من جمع الأحاديث والآثار.
ثم اقتفى المحدثون أثره ونهجوا نهجه، واقتصروا في أوَّلِ الأمرِ على مجرد تدوين الحديث وجمعه، ثم خطوا خطوة جديدة انتقلوا فيها من مرحلة التدوين إلى مرحلة التنسيق والترتيب الفقهي، فوزعوا الأحاديث على أبواب الفقه الإسلامي، فهذا كتاب الصلاة وأبوابها، وهذا كتاب الزكاة وأبوابها، وهذا كتاب الصوم وأبوابه، وهكذا إلى آخره.
وكان من الروّاد الأوائِل في تنسيق الأحاديث وترتيبها ابن جريج ومالك وعبد الله بن المبارك وعبد الرزّاق (1)، ثم جاء من بعدهم النسائي وابن ماجة وغيرهم، وفي مقدمتهم الإمامان الجليلان محمد بن إسماعيل البخاري ومسلم ابن الحجاج القشيري.
البخاري، نسبه، ولادته، نشأته:البخاري هو حجة الإسلام وقدوة الأَنام وأمير المحدثين الأَعلام، أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن المغيرة بن "بَرْدِزْبَة" (2) الجعفي، أَسلم جدّه المغيرة على يد ابن اليمان الجعفي والي بخارى، ولذلك نسب إليه. وكان والده إسماعيل من ثقات المحدثين، كما ترجم له ابن حبان، وذكر عنه البخاري أنه سمع من مالك، وصحب ابن المبارك، وكان محدِّثاً ورعاً صالحاً تقياً. ولد البخاري عند صلاة الجمعة من اليوم الثالث عشر من شوال سنة 194 هـ ببلدة بخارى من أسرة كريمة، وأراد الله أن ينشأ يتيماً في حجر أمّه، وكانت صالحة فأَنفقت
--------------------------------------------
সেই যুগে এই আহ্বানে সর্বপ্রথম সাড়া দেন মুহাদ্দিসগণের ইমাম মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন শিহাব আয-যুহরি। তিনি ইলমে হাদিসের অনন্য রত্নগুলো লিপিবদ্ধ করেন, এমনকি কেউ কেউ তাঁকে হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষার উদ্ভাবক হিসেবে গণ্য করেন। তিনিই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি হাদিস ও আসার সংকলন করেন।
এরপর মুহাদ্দিসগণ তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেন এবং তাঁর পথ অবলম্বন করেন। প্রথম দিকে তাঁরা কেবল হাদিস লিখে রাখা এবং তা সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। এরপর তাঁরা নতুন একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, যেখানে তাঁরা কেবল লিপিবদ্ধকরণের পর্যায় থেকে বিন্যাস ও ফিকহি ক্রমানুসারে সাজানোর পর্যায়ে উন্নীত হন। ফলে তাঁরা হাদিসগুলোকে ইসলামি ফিকহের বিভিন্ন অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেন। যেমন: এটি সালাতের কিতাব ও তার অধ্যায়সমূহ, এটি জাকাতের কিতাব ও তার অধ্যায়সমূহ, এটি সিয়ামের কিতাব ও তার অধ্যায়সমূহ—এভাবে শেষ পর্যন্ত।
হাদিস বিন্যাস ও ক্রমানুসারে সাজানোর ক্ষেত্রে প্রথম সারির অগ্রদূতদের মধ্যে ছিলেন ইবনে জুরাইজ, মালিক, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক এবং আবদুর রাজ্জাক (১)। এরপর তাঁদের পরে আসেন নাসায়ি, ইবনে মাজাহ ও অন্যান্যগণ। আর তাঁদের অগ্রভাগে ছিলেন দুই মহান ইমাম—মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি এবং মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশাইরি।
আল-বুখারি: তাঁর বংশপরিচয়, জন্ম ও বেড়ে ওঠা:বুখারি হলেন হুজ্জাতুল ইসলাম, মানবজাতির আদর্শ এবং প্রথিতযশা মুহাদ্দিসগণের আমির, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন আল-মুগিরা বিন "বারদিযবাহ" (২) আল-জু'ফি। তাঁর দাদা আল-মুগিরা বুখারার গভর্নর ইবনুল ইয়ামান আল-জু'ফির হাতে ইসলাম কবুল করেন, সেই কারণে তাঁর দিকেই তাঁকে নিসবত করা হয়। তাঁর পিতা ইসমাইল নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিসদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যেমনটি ইবনে হিব্বান তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন। ইমাম বুখারি তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইমাম মালিকের নিকট হাদিস শুনেছেন এবং ইবনুল মুবারকের সান্নিধ্য লাভ করেছেন। তিনি ছিলেন একজন মুহাদ্দিস, পরহেজগার, নেককার ও মুত্তাকি ব্যক্তি। বুখারি ১৯৪ হিজরির ১৩ই শাওয়াল শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বুখারা শহরে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি তাঁর মায়ের কোলে এতিম হিসেবে বেড়ে ওঠেন। তাঁর মা ছিলেন একজন নেককার নারী, যিনি ব্যয় করেছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٤)
عليه من مال أبيه، وأحسنت تربيته فنشأ نشأة علمية صالحة، ولاحظته العناية الإِلهية منذ صغر سنه، فقد روي أنّه ذهبت عيناه في صغره، فأخذت أمُّه تضرع إلى الله تعالى، وتبتهل إليه حتى استجاب دعاءها وردّ إليه بصره، وأسلمته أمه إلى الكتاب، فحفظ فيه القرآن الكريم، وظهرت عليه آثار النجابة، ورزقه الله تعالى قلباً واعياً، وحافظة قوية، وألهمه حفظ الحديث، فأخذ منه بحظٍ وافر وهو لم يبلغ العاشرة من عمره، وتردد على علماء بلده، وما إنْ بلغ السادسة عشرة حتى حفظ عدداً كبيراً من كتب الأئمة وكيع وابن المبارك وغيرهم من أعلام عصره.
رحلاته العلمية: كان البخاري واسع الطموح قوي الرغبة في طلب العلم، أفنى عمره كله في رحلته الطويلة بين العواصم الإسلامية للالتقاء بالمحدثين والسماع منهم، فبدأ رحلته بالحج برفقة أمّه وأخيه أحمد الذي كان أكبر منه سنّاً، وأقام بمكة زمناً، ثم طاف على معظم مراكز الحديث في العالم الإِسلامي وسمع من مشايخه في خراسان والحجاز ومصر والشام، ودخل المدينة المنوّرة، وصنَّف في روضتها الغراء كتابه "التاريخ الكبير" وقال رحمه الله: قلّ اسم في التاريخ إلاّ وله عندي قصة. ودخل بغداد ثماني مرات، وكان يجتمع فيها كل مرة بالِإمام أحمد، فيحثه على الإقامة فيها.
كثرة شيوخه: لا شك أن هذه الرحلة الطويلة كانت سبباً في كثرة مشايخ البخاري وكلهم من أعلام المحدثين ذوي الثقة والعدالة. قال رحمه الله تعالى: "كتبت عن ألف وثمانيْن نفساً، ليس منهم إلاّ صاحب حديث. وكان بعض مشايخه رحمه الله من التابعين، وبعضهم من أتباع التابعين، وهم الطبقة الوسطى من مشايخه.
تلامذته: أخذ عن البخاري وسمع منه خلق كثيرٌ حتى قال الفربري: سمع
তার পিতার সম্পদ থেকে তার লালন-পালনের ব্যয়ভার নির্বাহ হতো এবং তার মাতা অত্যন্ত উত্তমরূপে তার প্রতিপালন করেন, ফলে তিনি এক পুণ্যময় ইলমি পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। শৈশব থেকেই তার ওপর মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ দৃষ্টিগোচর হয়; বর্ণিত আছে যে, ছোটবেলায় তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। অতঃপর তার মাতা আল্লাহ তাআলার কাছে রোনাজারি ও আকুতি-মিনতি শুরু করেন, অবশেষে আল্লাহ তার দুআ কবুল করেন এবং তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন। তার মা তাকে মক্তবে পাঠান, সেখানে তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ করেন এবং তার মাঝে মেধা ও শ্রেষ্ঠত্বের লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে। আল্লাহ তাআলা তাকে একটি সচেতন হৃদয় ও প্রখর স্মৃতিশক্তি দান করেন এবং তাকে হাদিস মুখস্থ করার অনুপ্রেরণা দেন। ফলে তিনি দশ বছর বয়স হওয়ার আগেই হাদিসের বিশাল একটি অংশ অর্জন করে ফেলেন। তিনি নিজ শহরের আলেমদের নিকট যাতায়াত করতে থাকেন এবং মাত্র ষোলো বছর বয়সেই সমকালীন শ্রেষ্ঠ ইমামগণ যেমন ওয়াকি, ইবনুল মুবারক এবং অন্যদের বিপুল সংখ্যক কিতাব মুখস্থ করে ফেলেন।
তাঁর ইলমি সফরসমূহ: ইমাম বুখারি ছিলেন উচ্চাভিলাষী এবং ইলম অন্বেষণে প্রবল আগ্রহী। তিনি তার সমগ্র জীবন হাদিস বিশারদদের সাথে সাক্ষাৎ এবং তাদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণের উদ্দেশ্যে ইসলামী জনপদসমূহের বড় বড় শহরগুলোতে দীর্ঘ সফরে ব্যয় করেন। তিনি তার মা এবং বড় ভাই আহমদের সাথে হজের উদ্দেশ্যে সফরের মাধ্যমে তার ইলমি যাত্রা শুরু করেন। তিনি মক্কায় কিছুকাল অবস্থান করেন, অতঃপর ইসলামী বিশ্বের অধিকাংশ হাদিস কেন্দ্রে ভ্রমণ করেন এবং খোরাসান, হিজাজ, মিশর ও সিরিয়ার শাইখদের নিকট থেকে শ্রবণ করেন। তিনি মদিনা মুনাওয়ারায় প্রবেশ করেন এবং তার উজ্জ্বল রওজায় বসে তার বিখ্যাত গ্রন্থ "আত-তারিখুল কবির" রচনা করেন। তিনি (রহ.) বলতেন: ইতিহাসে এমন কোনো নাম নেই বললেই চলে যার সম্পর্কে আমার কাছে কোনো তথ্য বা ঘটনা নেই। তিনি বাগদাদে আটবার প্রবেশ করেন এবং প্রতিবারই সেখানে ইমাম আহমদের সাথে সাক্ষাৎ করতেন, আর ইমাম আহমদ তাকে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য উৎসাহিত করতেন।
শাইখদের আধিক্য: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই দীর্ঘ সফর বুখারির শাইখদের আধিক্যের কারণ ছিল এবং তারা সকলেই ছিলেন নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ হাদিস বিশারদ। তিনি (রহ.) বলেন: "আমি এক হাজার আশিজন ব্যক্তির নিকট থেকে হাদিস লিখেছি, যাদের প্রত্যেকেই ছিলেন হাদিস বিশারদ।" তাঁর শাইখদের কেউ কেউ ছিলেন তাবেঈ এবং কেউ কেউ ছিলেন তাবে-তাবেঈ, আর তারা ছিলেন তাঁর শাইখদের মধ্যম স্তরের অন্তর্ভুক্ত।
তাঁর ছাত্রবৃন্দ: অসংখ্য মানুষ বুখারির নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং শ্রবণ করেছেন, এমনকি ফারাবরি বলেন: শ্রবণ করেছেন...
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
منه كتاب البخاري سبعون ألف رجل، وكان من أعْلام تلاميذه الترمذي
والنَسائي ومسلمٌ وابن خزيمةِ وأبو زُرعة.
سعة حفظه: كان رحمه الله في الحفظ نادرة زمانه، وأعجوبة دهره، ولم يكن له نظير في عصره، بل كان آية من آيات الله في أرضه، رُوِى عنه أنه كان ينظر في الكتاب فيحفظه من نظرة واحدة، قال رحمه الله تعالى: أحفظ مائة ألف حديث صحيح ومائَتَيْ أَلفِ حديثٍ غير صحيح، وروى أبو العباس البغدادي "أن البخاري لما قدم بغداد اجتمع به محدثوها وأَرادوا امتحان حفظه، فعمدوا إلى مائة حديث قلبوا متونها وأسانيدَها، وجعلوا إسناد هذا لهذا ودفعوا لكل رجل عشرة أحاديث، وأمروهم أن يلقوا ذلك إلى البخاري، فلما انعقد المجلس من كبار علماء العراق وخراسان، قام إليه رجل فسأله عن حديث منها، فقال البخاري: لا أعرفه، فما زال يلقى إليه واحداً واحداً (1)، والبخاري يقول: لا أَعرفه، ثم قام إليه ثان وثالث ورابع حتى فرغوا كلهم، فالتفت إلى الأَول فقال: أمَّا حديثك الأول فقلت: كذا، وصوابه كذا، وحديثك الثاني كذا، وصوابه كذا، حتى أَتى على تمام العشرة فرد كل متنٍ إلى إسْنَادِهِ، وفَعَل بالآخرين مثل ذلك، قال الحافظ: فما العجب من رده الخطأ إلى الصواب فإنّه كان حافظاً، بل العجب من حفظه للخطأ على ترتيب ما ألقوه.
ثناء أهل العلم عليه: لقد أجمع علماء الإِسلام على أن البخاري قد فاز بقَصَب السبق، وتفوّق على غيره في علم الحديث حتى أصبح يلقَّب بأمير المؤمنين في الحديث، وشهد له بذلك أهل العلم في جميع العصور قديماً وحديثاً، فقال الإمام أحمد رحمه الله: ما أخرَجَت خراسان مثل محمد بن إسماعيل، رواه الخطيب بإسناد صحيح.
--------------------------------------------
তাঁর নিকট থেকে সত্তর হাজার ব্যক্তি বুখারি গ্রন্থটি শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর প্রখ্যাত শিষ্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন তিরমিজি
নাসায়ি, মুসলিম, ইবনে খুজাইমাহ এবং আবু জুরআহ।
তাঁর মুখস্থশক্তির প্রশস্ততা: তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) মুখস্থশক্তির ক্ষেত্রে নিজ যুগের অনন্য এবং সময়ের এক বিস্ময় ছিলেন। তাঁর যুগে তাঁর কোনো সমকক্ষ ছিল না, বরং তিনি যমিনে আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম এক নিদর্শন ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছে যে, তিনি কোনো কিতাবের দিকে একবার দৃষ্টিপাত করলেই এক নজরে তা মুখস্থ করে ফেলতেন। তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: "আমি এক লক্ষ সহিহ হাদিস এবং দুই লক্ষ অ-সহিহ হাদিস মুখস্থ জানি।" আবু আব্বাস আল-বাগদাদি বর্ণনা করেন যে, "ইমাম বুখারি যখন বাগদাদে আগমন করলেন, তখন সেখানকার মুহাদ্দিসগণ একত্রিত হলেন এবং তাঁরা তাঁর মুখস্থশক্তি পরীক্ষা করার ইচ্ছা করলেন। তাঁরা একশত হাদিস নিলেন এবং সেগুলোর মূলপাঠ (মতন) ও বর্ণনাসূত্রসমূহ (সনদ) ওলটপালট করে দিলেন। তাঁরা এক হাদিসের সনদ অন্য হাদিসের সাথে যুক্ত করে দিলেন এবং দশজন ব্যক্তির প্রত্যেককে দশটি করে হাদিস প্রদান করলেন। তাঁরা তাঁদের নির্দেশ দিলেন যেন তাঁরা সেগুলো বুখারির নিকট পেশ করেন। যখন ইরাক ও খুরাসানের বিজ্ঞ আলেমদের মজলিস অনুষ্ঠিত হলো, তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে তাঁকে ওই হাদিসগুলোর একটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। বুখারি বললেন: 'আমি এটি জানি না।' এভাবে সে একে একে (১) তাঁর নিকট হাদিস পেশ করতে থাকল আর বুখারি বলতে থাকলেন: 'আমি এটি জানি না।' অতঃপর দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ ব্যক্তি দাঁড়ালেন এবং এভাবে তাঁরা সবাই শেষ করলেন। এরপর তিনি প্রথম ব্যক্তির দিকে ফিরে বললেন: 'তোমার প্রথম হাদিসটি তুমি এভাবে বলেছিলে, যার সঠিক রূপ হলো এই। তোমার দ্বিতীয় হাদিসটি ছিল এই রকম, আর সঠিকটি হলো এই।' এভাবে তিনি দশটি হাদিসই সম্পন্ন করলেন এবং প্রতিটি মূলপাঠকে তার সঠিক বর্ণনাসূত্রে ফিরিয়ে দিলেন। অবশিষ্টদের সাথেও তিনি অনুরূপ করলেন।" হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: "ভুল থেকে সঠিকের দিকে ফিরিয়ে আনার মধ্যে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ তিনি একজন হাফেজ (হাদিস বিশারদ) ছিলেন; বরং আশ্চর্যের বিষয় হলো যেভাবে তাঁরা হাদিসগুলো উপস্থাপন করেছিলেন, সেই ভুল বিন্যাসটিই হুবহু তাঁর মুখস্থ রাখা।"
তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা: ইসলামের আলেমগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, ইমাম বুখারি শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েছেন এবং হাদিসশাস্ত্রে অন্যদের অতিক্রম করে গেছেন, এমনকি তিনি 'হাদিসশাস্ত্রে আমিরুল মুমিনিন' উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। সর্বযুগের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমগণ তাঁর সম্পর্কে এই সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: "খুরাসান মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের মতো কাউকে তৈরি করেনি।" খতিব এটি সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٦)
واعترف له بالفضل جميع أئِمة عصره، فقال الدارمي: لقد رأيت العلماء بالحرمين والحجاز والشام والعراق فما رأيت فيهم أَجمع من محمد بن إسماعيل.
وقال قتيْبة بن سعيد: جالست الفقهاء والزهاد والعباد، فما رأَيت منذ عقلْت مثل محمد بن إسماعيل، وهو في زمانه كعمر في الصحابة.
وأما مكانته في الحديث وعلو منزلته بين المحدثين، فقد قال عنه الحافظ ابن كثير: البخاري إمام المحدثين في زمانه، والمقتدى به في أَوانه، والمقدم على سائِر أقْرانه.
وقال السبكي: البخاري إمام المسلمين وقدوة المؤْمنين، وشيخ الموحدين، والمعوَّل عليه في حديث سيد المرسلين، وكتب إليه أهْل بغداد شعراً قالوا فيه:
المُسْلِمُونَ بِخَيْرٍ مَا بَقِيْتَ لَهُمْ
… وَلَيْسَ بَعْدَكَ خَيْرٌ حِيْنَ تُفْتَقَدُ
وقال فيه أبو مصعب: لو أدركتَ مالكاً ونظرت إلى وجهه ووجه محمد بن إسماعيل لقلت كلاهما واحدٌ. وهكذا اشتهر البخاري، وأصبح حديث الدنيا، وتطلعت إليه الأنظار، وأجع العلماء على محبته وتقديره، واشتاقت إلى رؤيته القلوب، وشخصت الأبصار حتى قال أبو سهيل: أكثر من ثلاثين عالماً من علماء مصر يقولون: حاجتنا في الدنيا النظر إلى وجه محمد بن إسماعيل.
وقال يحيى بن جعفر: لو قَدِرْتُ أن أزيد من عمري في عمر محمد بن إسماعيل لفعلت، فإن موتي يكون موت رجل واحد، وموت محمد بن إسماعيل فيه ذهاب العلم.
صفات البخاري وشمائله: كان البخاري رحمه الله ربعة القوام، عظيم الحياء والشجاعة والورع والزهد، كثير الجود وتلاوة القرآن، أنفق المال الذي ورثه عن والده على طلبة العلم، وكان شغوفاً بتلاوة القرآن يختم في رمضان في كل
তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার স্বীকৃতি তাঁর সমসাময়িক সকল ইমামই দিয়েছেন। আদ-দারিমী বলেন: আমি হারামাঈন, হিজাজ, সিরিয়া ও ইরাকের আলেমদের দেখেছি, কিন্তু আমি তাদের মধ্যে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের চেয়ে অধিক পূর্ণাঙ্গ ও সংকলনকারী কাউকে দেখিনি।
কুতায়বা ইবনে সাঈদ বলেন: আমি ফকীহ, যাহিদ ও ইবাদতগুজারদের সাথে বসেছি, কিন্তু যখন থেকে আমার বুঝ-জ্ঞান হয়েছে, আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের মতো কাউকে দেখিনি। তাঁর যুগে তিনি সাহাবীদের মধ্যে উমরের মতো ছিলেন।
হাদীস শাস্ত্রে তাঁর অবস্থান ও মুহাদ্দিসদের মাঝে তাঁর উচ্চমর্যাদা সম্পর্কে হাফেজ ইবনে কাসীর বলেন: বুখারী তাঁর সময়ের মুহাদ্দিসদের ইমাম, তাঁর যুগের অনুসরণীয় আদর্শ এবং তাঁর সকল সমসাময়িকদের মধ্যে অগ্রগণ্য।
আস-সুবকী বলেন: বুখারী মুসলমানদের ইমাম, মুমিনদের আদর্শ, একত্ববাদীদের শায়খ এবং রাসুলগণের সরদারের হাদীসের ক্ষেত্রে নির্ভরস্থল। বাগদাদের অধিবাসীরা তাঁর কাছে কবিতা লিখে পাঠিয়েছিলেন যাতে তারা বলেছিলেন:
আপনি যতদিন তাদের মাঝে অবশিষ্ট থাকবেন, মুসলিমরা কল্যাণের উপর থাকবে
… আর যখন আপনাকে হারিয়ে ফেলা হবে তখন আপনার পরে আর কোনো কল্যাণ অবশিষ্ট থাকবে না।
আবু মুসআব তাঁর সম্পর্কে বলেন: তুমি যদি ইমাম মালিককে পেতে এবং তাঁর চেহারার দিকে ও মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের চেহারার দিকে তাকাতে, তবে অবশ্যই বলতে যে তারা উভয়েই অভিন্ন। এভাবেই ইমাম বুখারী প্রসিদ্ধি লাভ করেন এবং দুনিয়াজুড়ে তাঁর আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। সকলের দৃষ্টি তাঁর দিকে নিবদ্ধ হয়, আলেমগণ তাঁকে ভালোবাসতে ও সম্মান জানাতে একমত হন, অন্তরসমূহ তাঁকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে এবং চোখগুলো অপলক তাকিয়ে রয়; এমনকি আবু সুহাইল বলেন: মিশরের ত্রিশজনেরও বেশি আলেম বলেছেন: দুনিয়াতে আমাদের একমাত্র প্রয়োজন হলো মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের চেহারার দিকে তাকানো।
ইয়াহইয়া ইবনে জাফর বলেন: আমি যদি আমার হায়াত থেকে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের হায়াতে কিছুটা বাড়িয়ে দিতে পারতাম, তবে আমি অবশ্যই তা করতাম। কারণ আমার মৃত্যু হবে একজন ব্যক্তির মৃত্যু, কিন্তু মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের মৃত্যুর অর্থ হলো ইলমের বিলুপ্তি।
বুখারীর গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য: ইমাম বুখারী (রহ.) মাঝারি গড়নের অধিকারী ছিলেন। তিনি অত্যন্ত লজ্জাশীল, সাহসী, পরহেজগার ও দুনিয়াবিমুখ ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত দানশীল এবং প্রচুর কুরআন তিলাওয়াতকারী। তিনি তাঁর পিতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য ব্যয় করেছিলেন। তিনি কুরআন তিলাওয়াতে অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন, রমজান মাসে তিনি প্রতি পূর্ণ খতম করতেন...
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
يوم ختمةً قال محمد ابن أبي حاتم.
وفاة البخاري: عاد البخاري أخيراً إلى مسقط رأسه (بخارى) وتلقَّاه أهلها بالحفاوة والتقدير. إلاّ أنَّ أميرها خالد بن أحمد الذهلي سأله أن يحضر إلى منزله ليحدِّث أولاده بالجامع الصحيح، فامتنع، وقال كلمته المشهورة: لا أذل العلم ولا أحمله إلى أبواب السلاطين، فإن كانتْ له حاجة فليحضر إلى مجلسي. فغضب عليه الوالي، ونفاه عن بخارى. فدعا عليه بقوله: اللهم أرهم ما قصدوني به في أنفسهم وأولادهم وأهاليهم، فلم يأت شهر على ذلك الوالي حتى عُزِّرَ به، وأركب على أتان ونودي عليه في أسواق بخارى. أما البخاري فإنه سار إلى سمرقند بدعوة من أهلها، فوقعت بسببه فتنة، فتوقف بقرية خَرْتَنْك، على ثلاثة فراسخ من سمرقند، ومرض هناك ووافاه أجله المحتوم، ليلة عيد الفطر سنة ست وخمسين ومائتين من الهجرة النبوية.
مؤلفات البخاري كثيرة منها:
1 - الجامع الصحيح أو صحيح البخاري.
2 - الأدب المفرد.
3 - القراءة خلف الإِمام.
4 - التاريخ الكبير.
5 - التاريخ الأوسط.
6 - التاريخ الصغير.
7 - خلق أفعال العباد.
8 - أسامي الصحابة.
9 - كتاب الضعفاء.
قال القسطلاني: وسارت مؤلفات البخاري مسير الشمس، ودارت
খতমের দিনে মুহাম্মদ ইবনে আবি হাতিম বলেছিলেন।
বুখারীর মৃত্যু: পরিশেষে বুখারী তাঁর জন্মভূমি বুখারায় ফিরে আসেন এবং সেখানকার অধিবাসীগণ তাঁকে অত্যন্ত উষ্ণ অভ্যর্থনা ও সম্মানের সাথে গ্রহণ করেন। তবে বুখারার আমির খালিদ ইবনে আহমাদ আল-জুহলি তাঁকে তাঁর বাসভবনে আসার অনুরোধ করেন যাতে তিনি তাঁর সন্তানদের জামে সহীহ পড়ে শোনান। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তিটি বলেন: আমি ইলমকে অপদস্থ করব না এবং একে সুলতানদের দরজায় বয়ে নিয়ে যাব না; যদি তাঁর কোনো প্রয়োজন থাকে তবে তিনি যেন আমার মজলিসে উপস্থিত হন। এতে ওয়ালি (শাসক) তাঁর ওপর ক্রোধান্বিত হলেন এবং তাঁকে বুখারা থেকে নির্বাসিত করলেন। তখন তিনি তাঁর বিরুদ্ধে এই বলে দোয়া করলেন: হে আল্লাহ! তারা আমার প্রতি যে রূপ মন্দ ইচ্ছা পোষণ করেছে, তা আপনি তাদের নিজেদের মধ্যে, তাদের সন্তানদের মধ্যে এবং তাদের পরিবারবর্গের মধ্যে দেখিয়ে দিন। এক মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বেই সেই শাসক লাঞ্ছিত হলেন, তাঁকে একটি গাধীর ওপর আরোহণ করিয়ে বুখারার বাজারে বাজারে ঘোরানো হলো। পক্ষান্তরে বুখারী সমরকন্দবাসীদের আমন্ত্রণে সেদিকে রওয়ানা হলেন, কিন্তু সেখানে তাঁকে কেন্দ্র করে একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলো। ফলে তিনি সমরকন্দ থেকে তিন ফারসাখ দূরে খারতাঙ্ক নামক গ্রামে অবস্থান নিলেন। সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হিজরী ২৫৬ সালের ঈদুল ফিতরের রাতে তাঁর অমোঘ মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়।
বুখারীর রচনাবলী অনেক, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - আল-জামেউস সহীহ বা সহীহুল বুখারী।
২ - আল-আদাবুল মুফরাদ।
৩ - আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম।
৪ - আত-তারীখুল কাবীর।
৫ - আত-তারীখুল আওসাত।
৬ - আত-তারীখুল সাগীর।
৭ - খালকু আফআলিল ইবাদ।
৮ - আসামী আস-সাহাবাহ।
৯ - কিতাবুয যুআফা।
কাসতালানী বলেছেন: বুখারীর রচনাবলী সূর্যের গতির ন্যায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এবং আবর্তিত হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٨)
الدنيا، فما جحد فضلها إلاّ الذي يتخبطه الشيطان من المس.
الجامع الصحيح - أو صحيح البخاري:
صحته: لا شك أن هذا الجامع الصحيح المشهور بصحيح البخاري هو أجل كتب الإِسلام بعد كتاب الله شاناً وأعلاها منزلة، وأصح كتب الحديث على الإطلاق، وهو الكتاب الذي خلّد اسم البخاري، ودخل به التاريخ من أوسع أَبوابه، وأصبح ذكره على كل لسان على مر العصور والأَزمان، لأنه خطا في كتابه هذا خطوةً عظيمة وانفرد بميزة لم يشاركه فيها غيره، حيث اقتصر فيه على أصح الصحيح من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، واشترط في الأحاديث التي أخرجها شرطاً لم يشترطه سواه، وقد كان المحدثون قبله لا يعنون إلا بجمع ما وصل إليهم من الحديث، تاركين البحث عن رواته إلى القرّاء، فلما ظهر البخاري أراد أن يجرِّد الصحيح من الأحاديث في كتاب على حدة، ليريح الطالب من عناء البحث، فأَلَّف كتابه هذا الذي اقتصر فيه على الحديث الصحيح، الذي ينطبق عليه شرطه هو دون سواه، قال ابن الصلاح: أوَّلُ من صنف الصحيح أبو عبد الله محمد بن إسماعيل الجعفي مولاهم، وتلاه أبو الحسين مسلم بن الحجاج النيسابوري
… ثم إِن كتاب البخاري أصح الكتابين وأكثرها فوائد.
فصحيح البخاري أصح من صحيح مسلم، لأن شرط البخاري أَقْوى، فقد اشترط فيما يخرجه من الأحاديث " اللقيا " بين الراوي ومن روى عنه، بينما لم يشترط مسلم سوى " المعاصرة بينهما "، ولهذا قال العسقلاني: أما رجحان البخاري من حيث الاتصال فلاشتراطه أن يكون الراوي قد ثبت له لقاء من روى عنه، واكتفى مسلم بمطلق المعاصرة. أهـ. ولهذا أجمعوا على أنه أصح الكتب بعد كتاب الله تعالى.
দুনিয়া, তাই এর শ্রেষ্ঠত্বকে কেবল সেই ব্যক্তিই অস্বীকার করে যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা মোহগ্রস্ত করেছে।
আল-জামেউস সহীহ - বা সহীহ বুখারী:
এর নির্ভরযোগ্যতা: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সহীহ বুখারী নামে প্রসিদ্ধ এই জামেউস সহীহ গ্রন্থটি আল্লাহর কিতাবের পর মর্যাদার দিক থেকে ইসলামের শ্রেষ্ঠতম গ্রন্থ এবং এর স্থান সর্বোচ্চ। এটি সর্বসম্মতভাবে হাদিসের বিশুদ্ধতম কিতাব। এটি সেই কিতাব যা বুখারীর নামকে অমর করে রেখেছে এবং এর মাধ্যমেই তিনি ইতিহাসের প্রশস্ততম দ্বারে প্রবেশ করেছেন। যুগ যুগ ধরে তাঁর আলোচনা সবার মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে, কারণ তিনি এই কিতাবের মাধ্যমে এক মহান পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং এমন এক বৈশিষ্ট্যে অনন্যতা অর্জন করেছেন যাতে অন্য কেউ তাঁর অংশীদার হতে পারেনি। তিনি এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসসমূহের মধ্যে কেবল বিশুদ্ধতম হাদিসগুলোই অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে এমন শর্তারোপ করেছেন যা অন্য কেউ করেননি। তাঁর পূর্ববর্তী মুহাদ্দিসগণ কেবল তাঁদের কাছে পৌঁছানো হাদিসগুলো সংকলন করার প্রতি মনোযোগ দিতেন এবং বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাইয়ের ভার পাঠকদের ওপর ছেড়ে দিতেন। অতঃপর যখন বুখারীর আবির্ভাব ঘটল, তখন তিনি চাইলেন একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে কেবল সহীহ হাদিসগুলোকে আলাদা করতে, যাতে জ্ঞানপিপাসুরা যাচাই-বাছাইয়ের পরিশ্রম থেকে মুক্তি পায়। ফলে তিনি এই কিতাবটি রচনা করেন যাতে তিনি কেবল সেই সহীহ হাদিসগুলোই সীমাবদ্ধ রেখেছেন যা একান্তভাবে তাঁর দেওয়া শর্তের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। ইবনে সালাহ বলেন: সহীহ হাদিস প্রথম সংকলন করেছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-জুফী (তাঁদের মুক্তদাস), অতঃপর তাঁর অনুসরণ করেছেন আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আন-নিশাপুরী
… এরপর বুখারীর কিতাবটি এই দুই কিতাবের মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ এবং অনেক বেশি উপকারী।
সুতরাং সহীহ বুখারী সহীহ মুসলিমের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ, কারণ বুখারীর শর্ত অধিক কঠোর। তিনি তাঁর সংকলিত হাদিসের ক্ষেত্রে বর্ণনাকারী ও যাঁর থেকে বর্ণনা করা হচ্ছে তাঁদের মধ্যে "সাক্ষাৎ" হওয়াকে শর্ত করেছেন, অথচ ইমাম মুসলিম কেবল তাঁদের মধ্যে "সমসাময়িকতা" থাকাকেই যথেষ্ট মনে করেছেন। এ কারণেই আসকালানী বলেন: সনদের ধারাবাহিকতার দিক থেকে বুখারীর শ্রেষ্ঠত্ব এই জন্য যে, তিনি শর্ত করেছেন বর্ণনাকারীর সাথে তাঁর উস্তাদের সাক্ষাৎ প্রমাণিত হতে হবে, আর মুসলিম কেবল সাধারণ সমসাময়িকতাতেই সন্তুষ্ট থেকেছেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। এই কারণেই আলিমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, এটি আল্লাহ তাআলার কিতাবের পর বিশুদ্ধতম গ্রন্থ।
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٩)
قال البخاري رحمه الله تعالى: سمعت شيخي إسحاق بن راهويه يقول: لو جمعتم كتاباً مختصراً في الصحيح من سنّة رسول الله صلى الله عليه وسلم، فوقع ذلك في نفسي أو في قلبي، فأخذت في جمع "الجامع الصحيح" ورأيت النبي صلى الله عليه وسلم في المنام، وكأني واقف بين يديه وبيدي مروحة أذب عنه، فسألت بعض المعبّرين فقال: أنت تذب عنه الكذب (1)، فهو الذي حملني على إخراج الجامع الصحيح.
وقد تحرى في صحته ما أمكنه التحري وبذل في ذلك أقصى الجهد ومكث فيه سنوات طويلة، قال رحمه الله: " صنفت الجامع في ست عشرة سنة، وجعلته حجةً فيما بيني وبين الله، ما أدخلت فيه حديثاً حتى استخرت الله تعالى، وصليت ركعتين وتيقنت صحته. وأكد ابن الصلاح أن الأحاديث التي انفرد بها البخاري ومسلم أحاديث مقطوع بصحتها، تفيد (2) العلم اليقينى لتلقي الأمة كلَّ واحد من كتابيهما بالقبول، ويقول الأستاذ أحمد محمد شاكر " الحق (3) الذي لا مرية فيه عند أهْل العلم بالحديث من المحققين، أن أحاديث الصحيحين صحيحة كلها، ليس في واحد منها مطعن أو ضعْف "، أهـ.
ولقد كان من العوامل التي ساعدت البخاري على أن يكون الرائد الأَوَّلَ في تجريد الأحاديث الصحيحة كما قال أحمد أمين في ضحى الإِسلام: أنه رزق خصلتين بارزتين مكَّنتاه من غرضه:
--------------------------------------------
ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেন: আমি আমার শাইখ ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহকে বলতে শুনেছি: "যদি তোমরা আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সহীহ সুন্নাহর উপর একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব সংকলন করতে!" এই বিষয়টি আমার মনে বা আমার অন্তরে গেঁথে যায়, অতঃপর আমি 'আল-জামি আস-সহীহ' সংকলনের কাজ শুরু করি। আমি স্বপ্নে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখলাম, যেন আমি তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছি এবং আমার হাতে একটি পাখা যা দিয়ে আমি তাঁকে (অনিষ্ট থেকে) রক্ষা করছি। আমি একজন স্বপ্ন বিশারদকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "আপনি তাঁর ওপর আরোপিত মিথ্যা দূর করবেন (১)"। এটিই আমাকে 'জামি আস-সহীহ' প্রকাশ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
তিনি এর বিশুদ্ধতা যাচাইয়ে সাধ্যমতো সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছেন এবং এতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করে দীর্ঘ বছর এতে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আমি ষোলো বছর ধরে এই 'জামি' সংকলন করেছি এবং এটিকে আমার ও আল্লাহর মাঝে দলিল হিসেবে নির্ধারণ করেছি। আমি এতে কোনো হাদীস অন্তর্ভুক্ত করিনি যতক্ষণ না আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করেছি এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করে এর বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছি।" ইবনে আস-সালাহ নিশ্চিত করেছেন যে, যেসকল হাদীস বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন তা অকাট্যভাবে সহীহ এবং তা নিশ্চিত জ্ঞান (২) প্রদান করে, কারণ উম্মাহ তাঁদের উভয় কিতাবকেই কবুল করে নিয়েছে। উস্তাদ আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির বলেন: "মুহাক্কিক হাদীস বিশারদদের নিকট যে ধ্রুব সত্যে (৩) কোনো সংশয় নেই তা হলো—সহীহাইন-এর সকল হাদীস সহীহ, এগুলোর কোনো একটিতেও কোনো ত্রুটি বা দুর্বলতা নেই।" সমাপ্ত।
আহমাদ আমীন 'দুহাল ইসলাম' গ্রন্থে যেমনটি বলেছেন, ইমাম বুখারীকে বিশুদ্ধ হাদীসগুলো পৃথক করার ক্ষেত্রে প্রথম অগ্রগামী হতে যে বিষয়গুলো সাহায্য করেছিল তা হলো: তাঁকে দুটি বিশেষ গুণ দান করা হয়েছিল যা তাঁকে তাঁর উদ্দেশ্য হাসিলে সক্ষম করেছিল:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
الأولى: حافظة قويّة لاقطة خاصةً (1) فيما يتعلق بالحديث، فقد بالغ الرواة في كثرة ما كان يحفظه عن ظهر قلبه من أَحاديث بسندها، فروي عنه أنه كان يحفظ في صباه سبعين ألف حديث وأكثر، ولا يجيء بحديث عن الصحابة والتابعين إلا ويعرف مولد أكثرهم ووفاتهم ومساكنهم وأوصافهم، ومهما كانت هذه الأخبار التي رويت عنه فإنها تدلنا على قدرته في الحفظ، وكان يستعين على حفظه بالتقييد، فقد رووا عنه أنه كان يقول ما تركت حديثاً في البصرة إلا كتبته.
الثانية: مهارة فائِقة في تعرف الرجال ونقدهم، وقد وضع في ذلك كتابه " التاريخ " لتمييز الرجال، ورووا عنه أنه قال: قَلَّ اسْمٌ قي التاريخ إلا وله عندي قصة.
أما عدد أحاديث صحيح البخاري: فقد ذكر ابن الصلاح (2) أنها سبعة آلاف ومائتان وخمسة وسبعون حديثاً بالأحاديث المكررة (3)، وقيل إنها بإسقاط المكرر أربعة آلاف حديث وتبعه النووي في مختصره
… وقال القاري (4): الذي حققه الحافظ في شرح البخاري، أن جملة أحاديثه مع التعاليق والمتابعات والشواهد والمكررات تسعة آلاف وإثنان وثمانون حديثاً، وبإسقاط المكرر تبلغ أَحاديثه المرفوعة إلى النبي صلى الله عليه وسلم أَلفين وستمائة وثلاثاً وعشرين، وتبلغ ثلاثيات البخاري وهي أعلى الأسانيد مع المكرر اثنين وعشرين حديثاً، وبإسقاط المكرر ستة عشر حديثاً.
--------------------------------------------
প্রথমত: বিশেষভাবে হাদীস সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি প্রখর ও তীক্ষ্ণ মুখস্থশক্তি (১)। বর্ণনাকারীরা তাঁর মুখস্থ থাকা সনদসহ অসংখ্য হাদীস সম্পর্কে প্রচুর বর্ণনা দিয়েছেন; তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর শৈশবে সত্তর হাজার বা তারও বেশি হাদীস মুখস্থ করেছিলেন। তিনি সাহাবী বা তাবিঈদের থেকে কোনো হাদীস উল্লেখ করতেন না, যদি না তাঁদের অধিকাংশের জন্ম, মৃত্যু, বাসস্থান ও গুণাবলি সম্পর্কে জানতেন। তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত এই সংবাদগুলো যাই হোক না কেন, তা আমাদের তাঁর মুখস্থ করার অসাধারণ ক্ষমতার প্রমাণ দেয়। তিনি লিখে রাখার মাধ্যমে মুখস্থ করায় সহায়তা নিতেন। তাঁর থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলতেন, "আমি বসরায় এমন কোনো হাদীস ছাড়িনি যা আমি লিখে রাখিনি।"
দ্বিতীয়ত: বর্ণনাকারীদের পরিচিতি ও তাঁদের পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এক অনন্য দক্ষতা। এ বিষয়ে বর্ণনাকারীদের পৃথক করার জন্য তিনি তাঁর "আত-তারীখ" গ্রন্থটি রচনা করেন। তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে তিনি বলতেন: "ইতিহাসে এমন নাম খুব কমই আছে যার সম্পর্কে আমার কাছে কোনো না কোনো ঘটনা নেই।"
সহীহ বুখারীর হাদীস সংখ্যার বিষয়ে: ইবনুস সালাহ (২) উল্লেখ করেছেন যে, পুনরাবৃত্তিসহ এর হাদীস সংখ্যা সাত হাজার দুইশত পঁচাত্তরটি (৩)। আর বলা হয়েছে যে, পুনরাবৃত্তি বাদ দিলে হাদীস সংখ্যা চার হাজার এবং ইমাম নববী তাঁর সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে একেই অনুসরণ করেছেন
… আল-কারী (৪) বলেন: হাফেজ (ইবনে হাজার) বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থে যা যাচাই করেছেন তা হলো—তালীক, মুতাবা’ত, শাওয়াহিদ এবং পুনরাবৃত্তিসহ মোট হাদীস সংখ্যা নয় হাজার বিরাশিটি। আর পুনরাবৃত্তি বাদ দিলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত (মারফূ’) হাদীসের সংখ্যা দুই হাজার ছয়শত তেইশটি। বুখারীর 'সুলাসিয়াত' (তিন স্তরের সনদ), যা সর্বোচ্চ সনদ হিসেবে গণ্য, তার সংখ্যা পুনরাবৃত্তিসহ বাইশটি এবং পুনরাবৃত্তি বাদ দিলে ষোলোটি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢١)
أما ثناء الناس عليه: فقد أَجمع علماء الإِسلام على تلقي هذا الكتاب الصحيح بالقبول، لأنه الكتاب المبارك الذي جمع بين دُفتَيْهِ السنّة الصحيحة، ولا شك أن صاحبه رحمه الله تعالى عندما أسماه " الجامع المسند الصحيح " قد عنى بالفعل أن يكون هذا الكتاب مطابقاً لعنوانه، فنفَّذ ما وصفه به بكل دقة وعناية، والتزام، ولهذا حظي الكتاب بما لم يحظ به غيره، من تقدير علماء الإسلام وإعجابهم به شرقاً وغرباً، فأثنوا عليه بالغ الثناء، ووصفوه بما يليق به، فقال الذهبي في تاريخ الِإسلام: أما جامع البخاري الصحيح فأجل كتب الإسلام، وأفضلها بعد كتاب الله وهو أعلى في وقتنا هذا إسناداً للناس.
وقال شيخ الإِسلام ابن تيميّة: ليس تحت أديم السماء كتاب أصح من البخاري ومسلم بعد القرآن (1).
وشارك الشعراء في الثناء على هذا الكتاب العظيم، والتغني بمدحه فقال العجلى:
كأنَّ البخاري في جمعه
… تلقى من المصطفى ما كتبْ
فلله خاطره ما وعَى
… وساق فرائده وانتخبْ
وقال الجرجاني في وصفه:
أسانيدُ مثلُ نجوم السماء
… أمَامَ متونٍ كمثل الشُّهُبْ
به قام ميزانُ دينِ النبي
… ودانَ له العُجْمُ بعد العربْ
وخير طريق إلى المصطفى
… ونور مبين لكشف الريبْ
صحيح البخاري لو أنصفوه
… لما خط إلاّ بماء الذهبْ (2)
نفعنا الله به ووفقنا للعمل بما فيه والله أعلم.
--------------------------------------------
মানুষের প্রশংসার ব্যাপারে: ইসলামের আলেমগণ এই সহীহ কিতাবটিকে কবুল করার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। কারণ এটি সেই বরকতময় কিতাব যা দুই মলাটের মাঝে সহীহ সুন্নাহকে একত্রিত করেছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এর লেখক (রহিমাহুল্লাহ) যখন এর নাম "আল-জামি' আল-মুসনাদ আস-সহীহ" রেখেছিলেন, তখন তিনি প্রকৃতপক্ষে চেয়েছিলেন যে এই কিতাবটি যেন তার শিরোনামের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। তাই তিনি যা বর্ণনা করেছেন তা অত্যন্ত সূক্ষ্মতা, যত্ন এবং নিষ্ঠার সাথে বাস্তবায়ন করেছেন। এই কারণেই এই কিতাবটি এমন মর্যাদা লাভ করেছে যা অন্য কোনো কিতাব পায়নি—পূর্ব ও পশ্চিমের ইসলামের আলেমদের মূল্যায়ন ও প্রশংসা। তারা এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং এর যোগ্য গুণাবলি দিয়ে একে বিশেষিত করেছেন। ইমাম যাহাবী তাঁর 'তারীখুল ইসলাম' গ্রন্থে বলেছেন: বুখারীর জামে' সহীহ কিতাবটি ইসলামের শ্রেষ্ঠতম কিতাব এবং আল্লাহর কিতাবের পর এটিই সর্বোত্তম। বর্তমানে মানুষের কাছে এটিই উচ্চতর সনদসম্পন্ন কিতাব।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: আসমানের নিচে কুরআনের পর বুখারী ও মুসলিমের চেয়ে বিশুদ্ধ কোনো কিতাব নেই (১)।
এই মহান কিতাবের প্রশংসায় কবিরাও অংশ নিয়েছেন এবং এর গুণগান গেয়েছেন। আল-আজলি বলেছেন:
মনে হয় যেন বুখারী তাঁর সংকলনে
… যা লিখেছেন তা সরাসরি মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছ থেকেই লাভ করেছেন।
আল্লাহর জন্য উৎসর্গিত হোক তাঁর সেই চিন্তা যা তিনি ধারণ করেছেন
… এবং তাঁর সংগৃহীত সেই মুক্তোসমূহ যা তিনি নির্বাচন করেছেন।
আল-জোরজানী এর বর্ণনায় বলেছেন:
এর সনদগুলো আকাশের নক্ষত্ররাজির মতো
… আর মূল পাঠগুলো উজ্জ্বল উল্কার মতো।
এর মাধ্যমেই নবীর দ্বীনের মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে
… এবং আরবরা তো বটেই, অনারবরাও এর প্রতি অনুগত হয়েছে।
এটি মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছানোর সর্বোত্তম পথ
… এবং সন্দেহ দূর করার জন্য এক সুস্পষ্ট নূর।
সহীহ বুখারীর প্রতি যদি ইনসাফ করা হতো
… তবে এটি কেবল স্বর্ণের জল দিয়েই লেখা হতো (২)।
আল্লাহ আমাদের এর দ্বারা উপকৃত করুন এবং এর মধ্যস্থিত বিষয়ের ওপর আমল করার তৌফিক দান করুন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
قال البخاري:
بسم الله الرحمن الرحيم
1 - " باب كيف كان بدءُ الوحي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم - " (1)
ــ
(بسم الله الرحمن الرحيم)
1 - " باب كيف كان بدءُ الوحي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم "
أقول وبالله التوفيق: جرت عادة المصنِّفين على إطلاق لفظ الباب على مجموعة من المسائل العلمية المشتركة في حكم واحد، وعلى هذا جرى البخاري حيث ذكر في هذا الباب الأحاديث المتعلقة بالوحي، وكيف بدأ وتدرج من مرحلة إلى أخرى، ومن رؤيا منامية إلى وحي صريح. كما ذكر فيه الأحاديث المتعلقة بالوحي المحمدي وتقرير صحته وثبوته وصدقه. ولا شك في أن تصدير البخاري. كتابه بباب بدء الوحى أمر في غاية المناسبة، والإِبداع والتوثيق العلمي. فإنّ فيه إشارة صريحة إلى أن ما بين دفتيه من أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم هو وحى إلهي، وكذلك السنة الصحيحة كلها. قال يحيى بن كثير: كان جبريل ينزل بالسنَّة كما ينزل بالقرآن، أخرجه الدارمي، وقال عز وجل: (وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى (3) إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى)، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: " ألا إني أوتيت الكتاب ومثله ". أما الوحي فله معنيان معنى لغوي ومعنى شرعي وإنْ شئتَ قلت: له في اللغة معان عديدة، وله شرعاً معنى واحد. فالوحي لغة يأتي لعدة معان وهي:
(أ) الإشارة الحسية باليد والعين وغيرهما، كما قال الشاعر:
--------------------------------------------
ইমাম বুখারী বলেছেন:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
১ - "অধ্যায়: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ওহী বা প্রত্যাদেশ শুরু হওয়ার সূচনা কেমন ছিল - " (১)
––
(পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে)
১ - "অধ্যায়: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ওহী বা প্রত্যাদেশ শুরু হওয়ার সূচনা কেমন ছিল"
আমি বলছি, আর আল্লাহর তাওফীকেই আমি সফল হই: গ্রন্থকারদের একটি প্রচলিত রীতি হলো একগুচ্ছ ইলমী মাসআলা যা এক হুকুমের অন্তর্ভুক্ত, তাকে 'বাব' বা 'অধ্যায়' নামে নামকরণ করা। আর ইমাম বুখারীও এই পথ অনুসরণ করেছেন, যেখানে তিনি এই অধ্যায়ে ওহী সংক্রান্ত হাদীসসমূহ উল্লেখ করেছেন; কীভাবে ওহী শুরু হয়েছিল এবং এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে অগ্রসর হয়েছিল—যা স্বপ্নের মাধ্যমে দেখা ওহী থেকে শুরু করে সুস্পষ্ট ওহী পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তেমনিভাবে তিনি এতে মুহাম্মাদী ওহী সংক্রান্ত হাদীসসমূহ এবং এর বিশুদ্ধতা, সাব্যস্ততা ও সত্যতা বর্ণনার হাদীসগুলো উল্লেখ করেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইমাম বুখারী তাঁর কিতাবকে ওহী শুরুর অধ্যায় দিয়ে প্রারম্ভ করা অত্যন্ত উপযুক্ত, সৃজনশীল এবং বৈজ্ঞানিকভাবে সুদৃঢ় একটি বিষয়। কেননা এতে এক স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে, তাঁর এই কিতাবের দুই মলাটের মাঝে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যেসব হাদীস রয়েছে তা মূলত ঐশী ওহী, আর অনুরূপভাবে সমস্ত সহীহ সুন্নাহও ওহী। ইয়াহইয়া ইবনে কাসীর বলেন: জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) যেভাবে কুরআন নিয়ে অবতীর্ণ হতেন, ঠিক সেভাবেই সুন্নাহ নিয়ে অবতীর্ণ হতেন। এটি ইমাম দারেমী বর্ণনা করেছেন। আর মহান আল্লাহ বলেন: (আর তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কোনো কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়)। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জেনে রাখো, আমাকে কিতাব (কুরআন) এবং তার সাথে তার অনুরূপ কিছু (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে"। ওহীর দু’টি অর্থ রয়েছে: আভিধানিক অর্থ এবং শরীয়তসম্মত অর্থ। আপনি চাইলে বলতে পারেন: আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর বহু অর্থ রয়েছে, আর শরীয়তের পরিভাষায় এর অর্থ একটিই। আভিধানিকভাবে ওহী কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়, সেগুলো হলো:
(ক) হাত, চোখ বা অন্য কোনো অঙ্গের মাধ্যমে বাহ্যিক সংকেত প্রদান করা; যেমন কবি বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
نظرت إليْها نظرةً فَتَحَيَّرَتْ
… دَقَائِق فِكْري فِى بَدِيْع صِفَاتِهَا
فَأوحَى إِلَيْهَا الطرفُ أنَّي أحبّهَا
… فأثَّر ذَاكَ الوَحيُ في وَجنَاتِهَا
ومنه قوله تعالى: (فَخَرَجَ عَلَى قَوْمِهِ مِنَ الْمِحْرَابِ فَأَوْحَى إِلَيْهِمْ أَنْ سَبِّحُوا بُكْرَةً وَعَشِيًّا).
(ب): الكتابة كقول لبيد (1):
فمدافعُ الرَّيَّان عُرِّي رَسْمُها
… خَلَقاً كما ضَمِنَ الوُحِيَّ سِلَامُها
(فالْوُحِىُّ جمع وَحْيٍ وهو الكتابة)، وإنما سميت الإِشارة والكتابة وحياً لدلالتهما على المعنى بسرعة لا يدانيهما فيها غيرهما. والعرب تسمي السرعة وحياً، فيقولون: تَوَحَّى الرجل إذا جاء بسرعة، فهما يرجعان إلى أصل واحد وهو السرعة.
(جـ) الإِلهام القلبي وهو ما يلقيه الله في قلب الإنْسان من علم، أو أمر، أو نهي. كما قال تعالى: (وَأَوْحَيْنَا إِلَى أُمِّ مُوسَى أَنْ أَرْضِعِيهِ فَإِذَا خِفْتِ عَلَيْهِ فَأَلْقِيهِ فِي الْيَمِّ وَلَا تَخَافِي وَلَا تَحْزَنِي إِنَّا رَادُّوهُ إِلَيْكِ وَجَاعِلُوهُ مِنَ الْمُرْسَلِينَ).
(د) التسخير الغريزى للحيوان (2) كقوله تعالى: (وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ (68) ثُمَّ كُلِي مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ): أي أنَّ الله سخرها عن طريق الغريزة أنْ تصنع هذه الأشياء
العجيبة.
(هـ) الوسوسة الشيطانية، ومنه قوله تعالى: (وَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوحُونَ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ). وإنما سمي " الإلهام " و " التسخير الغرْيزي " و " الوسوسة الشيطانية " وحياً، لأنّها إعلام في خفاء، والعرب تسمي الإعلام الخفي
--------------------------------------------
আমি তার দিকে একপলক তাকালাম, তাতে তার চমৎকার গুণাবলীর বর্ণনায় আমার সূক্ষ্ম চিন্তাগুলো বিমূঢ় হয়ে গেল
… অতঃপর চোখের পলক তাকে ইশারা করল যে আমি তাকে ভালোবাসি
… ফলে সেই ইশারার প্রভাব তার গণ্ডদেশে ফুটে উঠল।
আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর তিনি মেহরাব থেকে তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং তাদেরকে ইশারা করলেন যেন তারা সকাল-সন্ধ্যা তসবিহ পাঠ করে)।
(খ): লিখনী, যেমন লবিদের উক্তি:
রাইয়ানের জলধারাগুলোর চিহ্নসমূহ মুছে গেছে, তা এখন জীর্ণ
… ঠিক যেমন পাথরগুলো তার অন্তর্ভুক্ত লেখাসমূহকে ধারণ করে আছে
('আল-উহিয়্যু' হলো 'ওয়াহি'র বহুবচন, আর তা হলো লিখনী)। ইশারা এবং লিখনীকে 'ওয়াহি' বলা হয়েছে এ কারণে যে, তা দ্রুততার সাথে অর্থ প্রকাশ করে, যে দ্রুততায় অন্য কিছু পৌঁছাতে পারে না। আর আরবরা দ্রুততাকে 'ওয়াহি' বলে অভিহিত করে। তারা বলে: লোকটি 'তাওয়াহ্হা' করেছে যখন সে দ্রুততার সাথে আসে। সুতরাং এ দুটি শব্দ একই মূল উৎসের দিকে ফিরে যায়, আর তা হলো দ্রুততা।
(গ) হৃদয়ের ইলহাম (অনুপ্রেরণা): আর তা হলো যা আল্লাহ মানুষের হৃদয়ে কোনো জ্ঞান, আদেশ বা নিষেধ হিসেবে ঢেলে দেন। যেমন মহান আল্লাহ বলেন: (আর আমরা মুসার জননীকে ইলহাম করলাম যে, তাকে দুধ পান করাও। যখন তুমি তার ব্যাপারে আশঙ্কা করবে, তখন তাকে দরিয়ায় নিক্ষেপ করো এবং ভয় পেয়ো না ও দুশ্চিন্তা করো না। নিশ্চয় আমরা তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত করব)।
(ঘ) প্রাণীর স্বভাবজাত প্রবৃত্তিগত পরিচালনা: যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (আর আপনার রব মৌমাছিকে ইলহাম করলেন যে, পাহাড়সমূহে, বৃক্ষসমূহে এবং তারা যে মাচা তৈরি করে তাতে ঘর বানাও (৬৮) অতঃপর সকল প্রকার ফল থেকে আহার করো): অর্থাৎ, আল্লাহ তাকে স্বভাবজাত প্রবৃত্তির মাধ্যমে এই বিস্ময়কর কাজগুলো করার জন্য অনুগত করেছেন।
(ঙ) শয়তানি কুমন্ত্রণা: আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: (আর নিশ্চয় শয়তানরা তাদের বন্ধুদের নিকট কুমন্ত্রণা পাঠায়)। মূলত 'ইলহাম', 'প্রবৃত্তিগত পরিচালনা' এবং 'শয়তানি কুমন্ত্রণা'কে 'ওয়াহি' বলা হয়েছে এ কারণে যে, এগুলো হলো অত্যন্ত সংগোপনে কোনো সংবাদ পৌঁছানো। আর আরবরা গোপন সংবাদ আদান-প্রদানকে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
وَحْياً، قال الكسائي: تقول وحيت إليه إذا كلمته بكلام تخفيه عن غيره. أما الوحي شرعاً: فهو إعلام الله تعالى لنبيٍّ من أنبِيَائه بالشريعَة الْمنْزَلَةِ عليه، وما يتعلق بها من أخبار وأحكام سواءً كان هذا الإِعلام الإِلهي مَناماً أو إلهاماً أو كلاماً بواسطة أو بغير واسطةٍ. وِإنما سمي إعلام الله لأنْبِيَائِهِ وحياً لأمرين:
أولاً: لأنه يأتي غالباً إِلى الأنبياءِ في سرِّية وخفاءٍ، وأصل الوحي في اللغة " الإِعلام الخفي ".
ثانياً: أنه غالباً مما يتم في سرعةٍ شديدةٍ حتى أنَّ القسطلاني قال: والتلقي من الملك، وفهم النبي صلى الله عليه وسلم ما أُلقي إليه كأنه في لحظة واحدة، بل أقرب من لمح البصر، ولذلك سمي وحْياً لأن الوحي في اللغة الإِسْراع. والحاصل أنه سُمِّيَ وحياً لما يتصف به غالباً من الخفاءِ والسرعة، حتى قال بعضهم: الوحي شرعاً هو إلقاء الله تعالى الكلام أو المعنى في نفس النبي بخفاء وسرعة.
ولكن هذا التعريف في الحقيقة، لا ينطبق على الوحي في كل الأَحوال، فليس كل وحي يأتي إلى النبي صلى الله عليه وسلم في سرعة وخفاء، فقد يأتي أحياناً عَلانيةً، ويلقاه جبريل أمام أصحابه، فيرونه ويشاهدونه، ويسأل النبيَّ صلى الله عليه وسلم ويجيبه صلى الله عليه وسلم وهو بين أظهرهم، وَيقولُ لهم النبي صلى الله عليه وسلم: " هذا جبريل أتاكم يعلمكم أمر دينكم ". وقد تطول مدة نزول الوحي، ويستغرق فترة من الزمن، كما دلت عليه الأحاديث الصحيحة، فالسرية والسرعة ليست صفة لازمة للوحي، ولا حالة مطرِّدَة فيه، وإنما هي حالة أغلبية والله أعلم.
أنواع الوحي: قال ابن القيم: وكمل الله له صلى الله عليه وسلم من مراتب الوحي مراتب عديدة.
'অহি'; আল-কিসায়ী বলেন: আপনি বলবেন 'আমি তার কাছে অহি করেছি' যখন আপনি তার সাথে এমনভাবে কথা বলেন যা অন্যদের থেকে গোপন রাখা হয়। আর শরিয়তের পরিভাষায় অহি হলো: আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর কোনো নবীকে তাঁর ওপর অবতীর্ণ শরিয়ত এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সংবাদ ও বিধানসমূহ অবহিত করা; এই ঐশী সংবাদ প্রদান ঘুমের ঘোরে হোক বা ইলহামের মাধ্যমে হোক অথবা কোনো মাধ্যমের সাহায্যে বা মাধ্যম ছাড়া কথা বলার মাধ্যমে হোক। আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নবীদেরকে এই সংবাদ দানকে 'অহি' নাম দেওয়ার দুটি কারণ রয়েছে:
প্রথমত: কারণ এটি নবীদের কাছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গোপনে ও নিভৃতে আসে। আর আভিধানিক ভাষায় অহির মূল অর্থ হলো "গোপন সংবাদ প্রদান"।
দ্বিতীয়ত: এটি অধিকাংশ সময় অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সম্পন্ন হয়। এমনকি আল-কাসতালানি বলেন: ফেরেশতার কাছ থেকে গ্রহণ করা এবং যা পেশ করা হয়েছে তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুধাবন করা যেন এক মুহূর্তের ব্যাপার, বরং চোখের পলকের চেয়েও দ্রুত। এজন্যই একে অহি বলা হয়, কারণ আভিধানিক অর্থে অহির মানে হলো দ্রুততা। সারকথা হলো, একে অহি বলা হয় কারণ এতে অধিকাংশ সময় গোপনীয়তা এবং দ্রুততার বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে। এমনকি কেউ কেউ বলেছেন: শরিয়তের পরিভাষায় অহি হলো আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নবীর অন্তরে অত্যন্ত গোপনে ও দ্রুততার সাথে কোনো কথা বা মর্মবাণী ঢেলে দেওয়া।
তবে প্রকৃতপক্ষে এই সংজ্ঞাটি সকল ক্ষেত্রে অহির ওপর প্রযোজ্য নয়। কেননা সকল অহি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে দ্রুততা ও গোপনীয়তার সাথে আসে না। কখনো কখনো এটি প্রকাশ্যেও আসে এবং জিবরাঈল সাহাবীদের সামনে নবীর সাথে সাক্ষাৎ করেন, তখন তারা তাকে সরাসরি দেখতে পান। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মাঝে উপস্থিত থাকা অবস্থাতেই তার উত্তর দেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বলেন: "ইনি জিবরাঈল, তিনি তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীনের বিষয়গুলো শেখাতে এসেছেন।" আবার কখনো কখনো অহি অবতীর্ণ হওয়ার সময় দীর্ঘ হতে পারে এবং বেশ কিছু সময় অতিবাহিত করতে পারে, যেমনটি সহিহ হাদিসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত। সুতরাং গোপনীয়তা ও দ্রুততা অহির কোনো অপরিহার্য গুণ নয় এবং এটি কোনো ধরাবাঁধা নিয়মও নয়; বরং এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
অহির প্রকারভেদ: ইবনুল কায়্যিম বলেন: আল্লাহ তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য অহির অনেকগুলো স্তর পূর্ণতা দান করেছেন।
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
أحدهما: الرؤيا الصادقة، وكانت مبدء وحيه (1)، كان لا يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح.
الثانية: ما كان يلقيه الملك في روعه وقلبه (2) من غير أن يراه، كما قال صلى الله عليه وسلم: " إنّ روح القدس نفث في روعي أنه لن تموت نفس حتى تستكمل رزقها فاتقوا الله وأجملوا في الطلب، ولا يحملنكم استبطاء الرزق على أن تطلبوه بمعصية الله، فإن ما عند الله لا ينال إلاّ بطاعته ".
الثالثة: أنه صلى الله عليه وسلم كان يتمثل له الملك رجلاً فيخاطبه حتى يعي ما يقول، وفي هذه المرتبة كان يراه الصحابة أحياناً.
الرابعة: أنه كان يأتيه في مثل صلصلة الجرس، وكان أشده، عليه فيلتبس به الملك حتى أن جبينه ليتفصد عرقاً في اليوم الشديد البرد. وحتى إن راحلته لتبرك به إِلى الأرض إذا كان راكبها، ولقد جاءه الوحي مرّة كذلك وفخذه على فخذ زيد بن ثابت، فثقلت عليها حتى كادت ترضها.
الخامسة: أن يرى الملك في صورته (3) التي خُلق عليها فيوحى إليه ما شاء الله أن يوحيه، وهذا وقع له مرتين، كما ذكر الله ذلك في سورة النجم.
السادسة: ما أوحاه الله إليه وهو فوق السموات ليلة المعراج. من فرض الصلاة وغيرها.
--------------------------------------------
প্রথমটি: সত্য স্বপ্ন, যা ছিল তাঁর ওহীর সূচনা (১), তিনি এমন কোনো স্বপ্ন দেখতেন না যা সুবহে সাদিকের আলোর ন্যায় প্রকাশ পেত না।
দ্বিতীয়টি: ফেরেশতা যা তাঁর অন্তঃকরণে এবং হৃদয়ে ফুঁকে দিতেন (২) তাঁকে না দেখেই, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই রুহুল কুদুস (জিবরাঈল) আমার হৃদয়ে এই কথা ফুঁকে দিয়েছেন যে, কোনো প্রাণই তার নির্ধারিত রিজিক পূর্ণ না করা পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না; সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং উত্তম পন্থায় রিজিক অন্বেষণ করো। রিজিক আসতে দেরি হওয়া যেন তোমাদের আল্লাহর অবাধ্যতার মাধ্যমে তা অন্বেষণ করতে প্ররোচিত না করে, কেননা আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তা কেবল তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমেই লাভ করা যায়।"
তৃতীয়টি: ফেরেশতা তাঁর সামনে মানুষের রূপ ধারণ করে উপস্থিত হতেন এবং তাঁর সাথে কথা বলতেন যতক্ষণ না তিনি যা বলতেন তা আত্মস্থ করতেন। এই অবস্থায় সাহাবীগণও মাঝেমধ্যে তাঁকে দেখতে পেতেন।
চতুর্থটি: তাঁর নিকট ওহী ঘণ্টার শব্দের ন্যায় আসত এবং এটিই ছিল তাঁর ওপর সবচাইতে কঠিন। ফেরেশতা তাঁর সাথে নিবিড়ভাবে মিশে যেতেন, এমনকি প্রচণ্ড শীতের দিনেও তাঁর ললাট হতে ঘাম ঝরে পড়ত। এমনকি তিনি যদি সওয়ারিতে আরোহিত থাকতেন, তবে ওহীর ভারে সওয়ারিটি মাটিতে বসে পড়ত। একবার ওহী এমন অবস্থায় নাজিল হয়েছিল যখন তাঁর উরু ছিল যায়েদ ইবনে সাবিতের উরুর ওপর, তখন তা যায়েদের উরুর ওপর এতই ভারী হয়েছিল যে মনে হচ্ছিল তা চূর্ণ হয়ে যাবে।
পঞ্চমটি: ফেরেশতাকে তাঁর সেই আসল আকৃতিতে দেখা (৩) যাতে তাঁকে সৃষ্টি করা হয়েছে, অতঃপর আল্লাহ যা ইচ্ছা তা ওহী করতেন। এটি তাঁর সাথে দুই বার ঘটেছিল, যেমনটি আল্লাহ সূরা আন-নাজমে উল্লেখ করেছেন।
ষষ্ঠটি: আল্লাহ আসমানসমূহের উপরে মিরাজের রাতে যা ওহী করেছিলেন, যেমন সালাত ফরজ করা এবং অন্যান্য বিষয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
السابعة: كلام الله له، منه وإليه بلا واسطة ملك، كما كلم الله تعالى موسى بن عمران، وكلَّم أيضاً نبينا صلى الله عليه وسلم ليلة المعراج، قال ابن القيم: وقد زاد بعضهم مرتبة ثامنة وهي تكليم الله له كفاحاً، " مباشرة دون حجاب " وهذا على مذهب من يقول: إنه صلى الله عليه وسلم رأَى ربه (1) تبارك وتعالى، وهي مسألة خلافية بين السلف والخلف، وقد بدأ الخلاف في هذه المسألة منذ عهد الصحابة رضي الله عنهم، فعائِشةُ وجماعة من الصحابة يقولون: لم ير النبي صلى الله عليه وسلم ربه، وابنُ عباس ومن وافقه يقولون: رأى صلى الله عليه وسلم ربه، ليلة المعراج، وروى الخلال في " كتاب السنة " عن المروزي أنه قال: قلت لأحمد: يقولون إنَّ عائشة قالت: " من زعم أنّ محمداً رأى ربَّه فقد أعظم على الله الفرية " فبأي معنى تدفع قولها قال بقول النبي صلى الله عليه وسلم: رأيت ربي (2)، وقال ابن كثير: وصرح بعضهم بالرؤية بالعين، واختاره ابن جرير وبالغ فيه (3) وقال النووي في شرح مسلم: الراجح عند أكثر العلماء أن رسول الله صلى الله عليه وسلم رأى ربه بعيني رأسه (4)، لحديث ابن عباس وغيره، حيث قال " أتعجبون أن تكون الخلة لإبراهيم، والكلام لموسى، والرؤية لمحمّدٍ صلى الله عليه وسلم وإثبات هذا لا يأخذونه إِلا بالسماع من رسول الله صلى الله عليه وسلم (5).
عناصر الوحي: لا شك أنّ الوحي يتألف من عنصرين هما: كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم فالسنة توأم القرآن، والمصدر الثاني للتشريع الإسلامي، وهي وحي إلهي من أنكرها فقد أنكر نبوة محمد صلى الله عليه وسلم وكفر بشهادة أن محمداً رسول الله؛ لأنها لا تتحقق إلا بتصديق الرسول صلى الله عليه وسلم فيما جاء به، والعمل
--------------------------------------------
সপ্তম: কোনো ফেরেশতার মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর সাথে কথোপকথন, যেমন মহান আল্লাহ মূসা ইবনে ইমরানের সাথে কথা বলেছিলেন এবং মিরাজের রাতে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথেও কথা বলেছিলেন। ইবনুল কায়্যিম বলেন: কেউ কেউ অষ্টম একটি স্তর যোগ করেছেন, যা হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর সাথে সরাসরি (মুখোমুখি) কথা বলা, "পর্দা ছাড়াই সরাসরি"। এটি তাদের মাযহাব অনুযায়ী যারা বলেন যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বরকতময় ও সুউচ্চ রবকে দেখেছেন। এটি সালাফ এবং খালাফদের মধ্যে একটি মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়। এই বিষয়ে মতভেদ সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর যুগ থেকেই শুরু হয়েছে। আয়েশা এবং সাহাবীদের একটি দল বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবকে দেখেননি। ইবনে আব্বাস এবং তাঁর সাথে যারা একমত হয়েছেন তারা বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিরাজের রাতে তাঁর রবকে দেখেছেন। আল-খলাল 'কিতাবুস সুন্নাহ'-তে আল-মারওয়াযী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি আহমাদকে বললাম: তারা বলে যে আয়েশা বলেছেন: "যে ব্যক্তি দাবি করে যে মুহাম্মদ তাঁর রবকে দেখেছেন, সে আল্লাহর ওপর এক মহা অপবাদ আরোপ করল।" আপনি কোন যুক্তিতে তাঁর বক্তব্য খণ্ডন করেন? তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর মাধ্যমে: "আমি আমার রবকে দেখেছি"। ইবনে কাসীর বলেন: তাঁদের কেউ কেউ চাক্ষুষ দর্শনের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে জারীর একে পছন্দ করেছেন ও এ ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন। ইমাম নববী শরহে মুসলিমে বলেন: অধিকাংশ আলেমদের নিকট অধিকতর সঠিক মত হলো এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিজ চোখে তাঁর রবকে দেখেছেন, ইবনে আব্বাস ও অন্যদের বর্ণিত হাদিসের কারণে, যেখানে তিনি বলেছেন: "তোমরা কি এতে আশ্চর্য হচ্ছ যে, ইবরাহীমের জন্য রয়েছে বন্ধুত্ব, মূসার জন্য কথোপকথন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য রয়েছে দর্শন?" আর এই বিষয়টি সাব্যস্ত করার ভিত্তি কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শ্রবণের মাধ্যমেই লাভ করা সম্ভব।
ওহীর উপাদানসমূহ: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ওহী দুটি উপাদান নিয়ে গঠিত, সেগুলো হলো: আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ। সুতরাং সুন্নাহ হলো কুরআনের যমজ এবং ইসলামি শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস। এটি একটি ঐশী ওহী; যে ব্যক্তি একে অস্বীকার করল, সে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতকে অস্বীকার করল এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল—এই সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে কুফরি করল; কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তাতে তাঁকে বিশ্বাস করা এবং আমল করার মাধ্যমেই কেবল এই সাক্ষ্য পূর্ণতা পায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
بسنته، ومن لم يعمل بالسنة لم يعمل بالقرآن؛ لأنه خالف قوله عز وجل (وَمَا آَتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا). ولا تتحقق طاعة الله إلّا بطاعة نبيه صلى الله عليه وسلم؛ لقوله عز وجل (مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ) وقوله صلى الله عليه وسلم: " من أطاعنى فقد أطاع الله، ومن عصاني فقد عصى الله " أخرجه البخاري. وقال يحيى بن كثير: كان جبريل ينزل بالسنة كما ينزل بالقرآن. وفي الحديث عن المقدام بن معدي كرب قال: قال النبي: صلى الله عليه وسلم " ألا إني أُوتيت الكتاب ومثله " إلى أن قال صلى الله عليه وسلم: " وإنّ ما حرم رسول الله كما حرم الله " أخرجه أبو داود. وقال طاووس رحمه الله تعالى: وقيل: لم يسن رسول الله صلى الله عليه وسلم شيئاً قط إلا بوحي، فمن الوحي ما يتلى، ومنه ما يكون وحياً إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فيسن به (1).
من هو أول الأنبياء ومن أول الرسل؟
لا خلاف بين أهل العلم في نبوة آدم عليه الصلاة والسلام، فقد اتفقوا على أَنه نبي، وأنه أوّل الأنبياء، لثبوت ذلك بالأحاديث الصحيحة، قال الأستاذ الصابوني (2) وقد ورد في السنة الصحيحة ما يدل على نبوته صراحة وذلك في حديثين:
الأول: عن أبي سعيد الخدرى رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: " أنا سيد ولد آدم يوم القيامة ولا فخر، وبيدى لواء الحمد ولا فخر، وما من نبي يومئذ آدم فمن سواه إلا تحت لوائي، وأنا أول من تنشقّ عنه الأرض ولا فخر "، رواه الترمذي.
الثاني: عن أبي ذر الغفاري رضي الله عنه أنه قال: قلت يا رسول الله
--------------------------------------------
তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমে। আর যে ব্যক্তি সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করল না, সে কুরআন অনুযায়ীও আমল করল না; কারণ সে মহান আল্লাহর এই বাণীর বিরোধিতা করল: (রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে তোমরা বিরত থাকো)। আর আল্লাহর আনুগত্য তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনুগত্য ব্যতিরেকে অর্জিত হয় না; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: (যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল)। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে আমার আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল; আর যে আমার অবাধ্য হলো, সে আল্লাহরই অবাধ্য হলো।" ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন। এবং ইয়াহইয়া বিন কাসীর বলেছেন: জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) যেভাবে কুরআন নিয়ে অবতীর্ণ হতেন, সেভাবেই সুন্নাহ নিয়ে অবতীর্ণ হতেন। এবং মিকদাম ইবনে মাদিকারিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "জেনে রেখো, আমাকে কিতাব এবং তার অনুরূপ (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে।" এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল যা হারাম করেছেন, তা তেমনই যেমন আল্লাহ হারাম করেছেন।" আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন। এবং তাউস (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আরও বলা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওহী ব্যতিরেকে কখনোই কোনো বিধান প্রবর্তন করেননি। সুতরাং ওহীর এক প্রকার হলো যা তিলাওয়াত করা হয়, আর অপর প্রকার হলো যা আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট ওহী হিসেবে প্রেরিত হয় এবং তিনি সে অনুযায়ী বিধান প্রবর্তন করেন (১)।
প্রথম নবী কে এবং প্রথম রাসূল কে?
আদম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর নবুওয়াতের বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। তাঁরা এ ব্যাপারে একমত যে তিনি একজন নবী এবং তিনি প্রথম নবী; কেননা সহীহ হাদিস দ্বারা এটি প্রমাণিত। উস্তাদ আস-সাবুনী (২) বলেন: সহীহ সুন্নাহয় এমন বর্ণনা এসেছে যা স্পষ্টভাবে তাঁর নবুওয়াতের ওপর প্রমাণ পেশ করে এবং তা হলো দুটি হাদিসে:
প্রথমটি: আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি কিয়ামতের দিন আদম সন্তানদের সরদার হব এবং এতে কোনো অহংকার নেই। আমার হাতে প্রশংসার ঝান্ডা থাকবে এবং এতে কোনো অহংকার নেই। কিয়ামতের দিন আদম এবং অন্য যত নবীই হোক না কেন, সকলে আমার ঝান্ডার নিচে থাকবেন। আর আমিই প্রথম ব্যক্তি যার কবর উন্মোচিত হবে এবং এতে কোনো অহংকার নেই।" তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন।
দ্বিতীয়টি: আবু যর আল-গিফারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
أي الأنبياء كان أول؟ قال: آدم، قلنا: يا رسول الله ونبي كان؟ قال: نعم، نبي يكلَّم، قلت: يا رسول الله كم المرسلون؟ قال: ثلاثمائة وبضعة عشر جَمَّاً غفيراً .. رواه أحمد. قال: ولهذه الأدلة نرى علماء المسلمين متفقين على نبوته، لم يخالف في ذلك أحد، والله تعالى أعلم " قال " وأما رسالته فالأمر فيها مختلَفٌ فيه، فيرى بعض العلماء أنه رسول، وأنه أرسل إلى ذُرِّيته، ويرى الآخرون أنه لم يكن رسولاً، وإنَّما كان نبيّاً، ويستدل هؤلاء بحديث الشفاعة الوارد في صحيح مسلم أن الناس يذهبون إلى نوح يقولون له أنت أوّل رسل الله إِلى الأرض، فلو كان آدم رسولاً لما ساغ هذا القول.
والرأي الأرْجح أنه من الرسل. ومن أقوى الأدلة على رسالته قوله تعالى (إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى آَدَمَ وَنُوحًا وَآَلَ إِبْرَاهِيمَ وَآَلَ عِمْرَانَ عَلَى الْعَالَمِينَ) فقد روي عن الحسن وابن عباس رضي الله عنهما تفسير الإِصطفاء في الآية بالاختيار للرسالة، كما أخرجه ابن عساكر وابن جرير (1)، وهذا يدل على أن آدم أوّل الرسل، قالوا: إنما لم يذكر اسمه مع الرسل في قوله تعالى: (إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِهِ) إلخ لأن الوحىَ الذي أنزل عليه كان غالباً حول الأمور الكونية (2)، لا التشريعية والله أعلم.
…--------------------------------------------
কোন নবী প্রথম ছিলেন? তিনি বললেন: আদম। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, তিনি কি নবী ছিলেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এমন নবী যাঁর সাথে কথা বলা হয়েছে। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, রাসূলগণের সংখ্যা কত? তিনি বললেন: তিনশত দশের অধিক, এক বিশাল বাহিনী। আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি (লেখক) বলেন: এই সকল দলিলের ভিত্তিতে আমরা দেখতে পাই যে মুসলিম আলেমগণ তাঁর নবুওয়াতের বিষয়ে একমত, এতে কেউ দ্বিমত পোষণ করেননি, আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ। তিনি বলেন: "আর তাঁর রিসালাতের ব্যাপারে বিষয়টি মতভেদপূর্ণ। কিছু আলেম মনে করেন যে তিনি একজন রাসূল ছিলেন এবং তাঁকে তাঁর সন্তানদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। অন্যেরা মনে করেন যে তিনি রাসূল ছিলেন না, বরং কেবল একজন নবী ছিলেন। তাঁরা সহীহ মুসলিম-এ বর্ণিত শাফায়াতের হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেন যে, মানুষ নূহ-এর কাছে গিয়ে বলবে, 'আপনি যমিনে আল্লাহর প্রথম রাসূল'। সুতরাং আদম যদি রাসূল হতেন, তবে এই কথাটি সংগত হতো না।"
এবং অধিকতর অগ্রগণ্য মত হলো যে তিনি রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর রিসালাতের স্বপক্ষে শক্তিশালী দলিলের মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয়ই আল্লাহ আদম, নূহ, ইবরাহীমের পরিবার ও ইমরানের পরিবারকে বিশ্বজগতের উপর মনোনীত করেছেন)। হাসান এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা এই আয়াতের 'মনোনয়ন'-এর ব্যাখ্যায় রিসালাতের জন্য নির্বাচন করা বুঝিয়েছেন, যেমনটি ইবনে আসাকির ও ইবনে জারীর বর্ণনা করেছেন (১)। এটি প্রমাণ করে যে আদম প্রথম রাসূল ছিলেন। তাঁরা বলেন: মহান আল্লাহর এই বাণীতে রাসূলগণের সাথে তাঁর নাম উল্লেখ না করার কারণ— (নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠিয়েছি যেমন পাঠিয়েছিলাম নূহ এবং তাঁর পরবর্তী নবীগণের প্রতি...) ইত্যাদি— হলো তাঁর প্রতি অবতীর্ণ ওহী অধিকাংশ ক্ষেত্রে জাগতিক বিষয়াবলি সম্পর্কিত ছিল, শরয়ী বিধান সম্পর্কিত ছিল না; আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মানারুল কারী শারহু মুখতাসার সহীহুল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
1 - عَنْ عائِشَةَ رضي الله عنها:
أنَّ الْحَارِثَ بْنَ هِشَام سأل رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ! كَيْفَ يَأتِيكَ الْوَحْيُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: "أحْيَاناً يَأتِيني مِثْلَ صَلْصَلَةِ
ــ
1 - الحديث: أخرجه الشيخان
راوية الحديث: هي أم المؤمنين السيدة عائشة رضي الله عنها، عقد عليها النبي صلى الله عليه وسلم بمكة قبل هجرته، وعمرها ست سنوات، ودخل عليها بالمدينة في شوّال من السنة الثانية وعمرها تسع سنوات.
ولها مناقب عظيمة، فمن مناقبها أنها حبيبة المصطفى صلى الله عليه وسلم، وأن الوحي كان ينزل عليه في فراشها، ونزلت براءتها من السماء، وتوفي النبي صلى الله عليه وسلم في حجرها، ودفن في حجرتها، وكانت من الستة المكثرين من رواية الحديث، وهم أبو هريرة وعائشة وابن عباس وعبد الله بن عمرو بن العاص وجابر بن عبد الله وأنس بن مالك رضي الله عنهم. روت عن النبي صلى الله عليه وسلم ألفاً ومائتين وعشرة أحاديث في حين أنها لم تتجاوز الثامنة عشرة عند وفاته صلى الله عليه وسلم. وكانت مرجعاً للناس في الفقه والفتيا والكتاب والسنة، كما كانت موضعٍ تقدير الخلفاء، توفيت في رمضان سنة خمس وخمسين للهجرة مخلّفة بعدها تراثاً إسلامياً ضخماً يُعَدُّ مصدراً من مصادر التشريع الإِسلامي.
معنى الحديث: تُحدثنا السيدة عائشة رضي الله عنها " أن الحارث بن هشام " ابن المغيرة الخزومي شقيق أبي جهل، أسلم رضي الله عنه يوم الفتح، وأصبح من فضلاء الصحابة، خلّف اثنين وثلاثين ولداً منهم عبد الرحمن بن الحارث، أحد الفقهاء السبعة، وحضر اليرموك واستشهد فيها. " سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: يا رسول الله! كيف يأتيك الوحي؟ " أي أن الحارث ابن هشام رضي الله عنه سأل النبي صلى الله عليه وسلم هذا السؤال ليتعرّف على كيفية
১ - আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত:
হারিস ইবনে হিশাম আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনার নিকট ওহী কীভাবে আসে? তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "কখনো কখনো তা আমার নিকট ঘণ্টার ঝনঝনানির মতো আসে..."
--
১ - হাদীসটি শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন।
হাদীস বর্ণনাকারী: তিনি হলেন উম্মুল মুমিনীন সায়্যিদা আয়েশা (রা.), হিজরতের পূর্বে মক্কায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, তখন তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর। দ্বিতীয় হিজরী সালের শাওয়াল মাসে মদীনায় তাঁর বাসর সম্পন্ন হয়, তখন তাঁর বয়স ছিল নয় বছর।
তাঁর সুমহান মর্যাদা রয়েছে। তাঁর মর্যাদার অন্যতম হলো তিনি মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রিয়তমা ছিলেন, তাঁর বিছানায় থাকা অবস্থায় ওহী নাযিল হতো, আকাশ থেকে তাঁর পবিত্রতার ঘোষণা অবতীর্ণ হয়েছে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কোলেই ইন্তেকাল করেছেন এবং তাঁর কক্ষেই সমাহিত হয়েছেন। তিনি সেই ছয়জন সাহাবীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা অধিক পরিমাণে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা হলেন আবু হুরায়রা, আয়েশা, ইবনে আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ এবং আনাস ইবনে মালিক (রা.)। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে দুই হাজার দুইশত দশটি হাদীস বর্ণনা করেছেন, অথচ তাঁর (নবীজির) ইন্তেকালের সময় আয়েশা (রা.)-এর বয়স আঠারো বছরের বেশি ছিল না। ফিকহ, ফাতাওয়া, কুরআন ও সুন্নাহর বিষয়ে তিনি মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল ছিলেন এবং খলিফাদের নিকট অত্যন্ত সম্মানীয় ছিলেন। তিনি হিজরী পঞ্চান্ন সনের রমজান মাসে ইন্তেকাল করেন এবং একটি বিশাল ইসলামী ঐতিহ্য রেখে যান যা ইসলামী শরীয়তের অন্যতম উৎস হিসেবে বিবেচিত।
হাদীসের মর্মার্থ: সায়্যিদা আয়েশা (রা.) আমাদের জানাচ্ছেন যে, "হারিস ইবনে হিশাম" ইবনে মুগীরা আল-মাখযূমী, যিনি আবু জাহেলের ভাই ছিলেন, তিনি মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম গ্রহণ করেন এবং শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি বত্রিশজন সন্তান রেখে যান, যাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সাত ফকীহর একজন আব্দুর রহমান ইবনে হারিস। তিনি ইয়ারমুকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং সেখানে শাহাদাত বরণ করেন। "তিনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনার নিকট ওহী কীভাবে আসে?" অর্থাৎ হারিস ইবনে হিশাম (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এই প্রশ্নটি করেছিলেন ওহী আসার পদ্ধতি সম্পর্কে জানার জন্য।