(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: -)
سبل السلام من صحيح سيرة خير الأنام عليه الصلاة والسلام القسم: السيرة النبوية
الكتاب: سُبُل السَّلام مِن صَحيح سيرة خَير الأنَامِ عَليه الصَّلاة وَالسَّلام
المؤلف: صالح بن طه عبد الواحد
راجعهُ وقدَّم لهُ: فضيلة الشيخ سليم بن عيد الهلالي، فضيلة الشيخ مشهور بن حسن آل سلمان
الناشر: مكتبة الغرباء، الدار الأثرية
الطبعة: الثانية، 1428 هـ
عدد الصفحات: 577
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 14 رمضان 1434
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানবের বিশুদ্ধ জীবনী থেকে শান্তির পথসমূহ (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) বিভাগ: সিরাতুন্নবী
বই: সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানবের বিশুদ্ধ জীবনী থেকে শান্তির পথসমূহ (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)
লেখক: সালেহ ইবনে ত্বহা আব্দুল ওয়াহিদ
পর্যবেক্ষণ ও ভূমিকা: শ্রদ্ধেয় শায়খ সেলিম বিন ঈদ আল-হিলালি, শ্রদ্ধেয় শায়খ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান
প্রকাশক: মাকতাবাতুল গুরাবা, আদ-দারুল আসারিয়্যাহ
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৮ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৭৭
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৪ রমজান ১৪৩৪
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: -)
سُبُل السَّلام مِن صَحيح سيرة خَير الأنَامِ عليه الصلاة والسلام
أعَدّهُ
أبوُ إسلام
صَالح بن طه عَبد الوَاحِد
أعزه الله بالإسلام
إمام وخطيب مسجد إبراهيم الحاج حسن
الأردن - عمان
راجعهُ وقدَّم لهُ
فضيلة الشيخ: سليم بن عيد الهلالي، حفظه الله
فضيلة الشيخ: مشهور بن حسن آل سلمان، حفظه الله
مكتبة الغرباء - الدار الأثرية
সর্বোত্তম সৃষ্টির সহীহ সীরাত থেকে শান্তির পথসমূহ, তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক
সংকলন করেছেন
আবু ইসলাম
সালেহ বিন ত্বহা আব্দুল ওয়াহিদ
আল্লাহ তাঁকে ইসলামের মাধ্যমে সম্মানিত করুন
ইবরাহিম আল-হাজ হাসান মসজিদের ইমাম ও খতীব
জর্ডান - আম্মান
এটি পর্যালোচনা ও ভূমিকা প্রদান করেছেন
ফযীলাতুশ শায়খ: সালীম বিন ঈদ আল-হিলালী, আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন
ফযীলাতুশ শায়খ: মাশহূর বিন হাসান আল সালমান, আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন
মাকতাবাতুল গুরবা - আদ-দারুল আছারিইয়াহ
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ২)
{بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ}
{পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।}
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
سُبُل السَّلام مِن صَحيح سيرة خَير الأنَامِ عَليه الصَّلاة وَالسَّلام
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তার বিশুদ্ধ সীরাত হতে সংকলিত শান্তির পথসমূহ, তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম।
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
جميع الحقوق محفوظة
الطّبعة الثانِيَة
ربيع الأول 1428 هـ
مكتبة الغرباء
الأردن - عمان - هاتف: 4789399
الدار الأثرية
عمان - الأردن - تلفاكس 65658045/ 00962
خلوي: 795943456/ 00962 - 925595 - الرمز البريدي: 11190
الرمز الإلكتروني: alatharya1423@yahoo.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
দ্বিতীয় সংস্করণ
রবিউল আউয়াল ১৪২৮ হিজরী
মাকতাবাতুল গুরাবা
জর্ডান - আম্মান - টেলিফোন: ৪৭৮৯৩৯৯
আদ-দারুল আসারিয়্যাহ
আম্মান - জর্ডান - টেলিফ্যাক্স ৬৫৬৫৮০৪৫/ ০০৯৬২
মোবাইল: ৭৯৫৯৪৩৪৫৬/ ০০৯৬২ - ৯২৫৫৯৫ - পোস্টাল কোড: ১১১৯০
ইমেইল: alatharya1423@yahoo.com
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
{بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ}
الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده، وآله وصحبه وجنده.
أما بعد: فإن السيرة النبوية تسجيل صادق لحياة سيد البشر، ورسول رب العباد: محمد صلى الله عليه وسلم، حيث اختاره الله للرسالة الإلهية الخاتمة الخالدة، ليضع بين يدي البشرية مفاتح سعادتها، ويضع أقدامها على مراقي العز، فمن أخذ ذلك بقوة، كان ممن قال الله فيهم: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} [آل عمران: 110]، وممن وصفهم المولى سبحانه وتعالى بقوله: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} [البقرة:143].
ولذلك؛ فإن الله جل جلاله جعل مناط القدوة ومحل الأُسوة محمداً رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا} [الأحزاب: 21].
وجعل معيار التقوى اتباع رسول الله صلى الله عليه وسلم: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} [آل عمران: 31].
ولن تبلغ الأمة كمالها ولن يتم للعبد تمام التأسي وحقيقة الاتباع، إلا بمعرفة سيرة خير البرية وسيد البشرية، ودراستها، بتمحيص وتوثيق، ليصفو للمتبع الثابت الصحيح المقبول من سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم.
وممن ساهم في هذا الجانب وقام مقاماً محموداً أخبرنا في الله الشيخ
{পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।}
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও তাঁর বাহিনীর ওপর।
অতঃপর: নিশ্চয়ই সীরাতে নববী হলো মানবজাতির শ্রেষ্ঠ এবং বান্দাদের রবের রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের এক সত্যনিষ্ঠ বিবরণী; যেহেতু আল্লাহ তাঁকে চূড়ান্ত ও শাশ্বত ঐশী রিসালাতের জন্য মনোনীত করেছেন, যাতে তিনি মানবতার সম্মুখে তাদের সৌভাগ্যের চাবিকাঠি উপস্থাপন করেন এবং তাদের পা-কে সম্মানের উচ্চশিখরে স্থাপন করেন। সুতরাং যে ব্যক্তি একে দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করেছে, সে ঐ সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত, যাদেরকে মানুষের (কল্যাণের) জন্য বের করা হয়েছে; তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনো" [আল ইমরান: ১১০]। এবং ঐ সকল লোকদের অন্তর্ভুক্ত যাদের মহান প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন: "আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছি যাতে তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হও এবং রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন" [আল-বাকারা: ১৪৩]।
আর এ কারণেই আল্লাহ জাল্লা জালালুহু আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আদর্শের মানদণ্ড ও অনুকরণের স্থল হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তার জন্য যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে" [আল-আহযাব: ২১]।
এবং তাকওয়ার মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণকে: "বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন" [আল ইমরান: ৩১]।
আর এই উম্মাহ ততক্ষণ পর্যন্ত তার পূর্ণতায় পৌঁছাবে না এবং একজন বান্দার পক্ষে অনুকরণের পূর্ণতা ও অনুসরণের হাকীকত ততক্ষণ অর্জিত হবে না, যতক্ষণ না সে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ও মানবজাতির সরদারের সীরাত সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করবে এবং তা বিচার-বিশ্লেষণ ও প্রামাণিকতার সাথে অধ্যয়ন করবে, যাতে অনুসরণকারীর কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত হতে সুদৃঢ়, সহীহ ও গ্রহণযোগ্য অংশটুকু স্বচ্ছ হয়ে ওঠে।
আর যারা এই ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন এবং প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের মধ্যে আল্লাহর জন্য আমাদের শাইখ...
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
أبو إسلام صالح طه -وفقه الله- حيث ألقى سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم في خطب ماتعة في مسجد إبراهيم الحاج حسن، فجاءت مترابطة متراصة آخذ بعضها برقاب بعض؛ لتكون في نهاية المطاف هذا الكتاب الحافل في سيرة خير الأنام محمَّد صلى الله عليه وسلم.
وقد مررت بها ووقفت عليها؛ فوجدتها جديرة بالنشر، ليعم بها النفع. سائلاً المولى عز وجل أن يجعل جميع أعمالنا خالصة لوجهه الكريم؛ إنه ولي ذلك والقادر عليه.
وكتبه
حامداً ومصلياً ومسلماً
أبو أسامة سليم بن عيد الهلالي
أصيل يوم الخميس لثلاث عشرة ليلة
بقيت من جمادى الآخرة في عمان البلقاء
عاصمة جند الأردن من بلاد الشام المحروسة
আবু ইসলাম সালেহ ত্বহা -আল্লাহ তাকে তাওফিক দিন- ইবরাহিম আল-হাজ হাসান মসজিদে অত্যন্ত চমৎকার খুতবাগুলোতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত আলোচনা করেছেন। সেই খুতবাগুলো অত্যন্ত সুসংবদ্ধ ও সুবিন্যস্তভাবে একের পর এক উপস্থাপিত হয়েছে; যা শেষ পর্যন্ত সৃষ্টির সেরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাতের ওপর এই তথ্যবহুল কিতাবের রূপ নিয়েছে।
আমি এটি পাঠ করেছি এবং গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি; ফলে একে প্রকাশের উপযোগী মনে করেছি যাতে এর মাধ্যমে উপকারিতা ব্যাপক হয়। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদের সকল কাজকে একমাত্র তাঁর মহান চেহারার জন্য নিবেদিত হিসেবে কবুল করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
এটি লিখেছেন
আল্লাহর প্রশংসা এবং দরুদ ও সালাম পেশ করে
আবু উসামাহ সেলিম বিন ঈদ আল-হিলালী
জুমাদাল আখিরাহ মাসের তেরো দিন অবশিষ্ট থাকাবস্থায় বৃহস্পতিবার অপরাহ্নে
বালকা অঞ্চলের আম্মানে
সুরক্ষিত শাম ভূখণ্ডের অন্তর্গত জর্ডান বাহিনীর রাজধানী থেকে।
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
{بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (1)}
إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فهو المهتد، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلَاّ الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، أما بعد:
فهذه مجموعة من الخطب المنبربة ألقاها أخبرنا الشيخ أبو إسلام صالح بن طه عبد الواحد -حفظه الله ونفع به- وهي في "السيرة النبوية".
وتمتاز هذه الخطب بالاعتماد على الأحداث الصحيحة منها، وتحقيق ذلك في السيرة خاصة يحتاج إلى جهد جهيد، وتعب في البحث والتنقيب، و "أي خير في حديث اختلط صحيحه بواهيه، وأنتَ لا تفليه، ولا تبحث عن ناقليه".
ومن ميزات الكتاب: التحليل الجيّد للحَدَث الذي يتكلم عنه، وذكر العظات والعبر والفوائد منه، والتركيز منها على ما يخص حال الأمة الآن.
ويزين ذلك كله: جودة حفظ أخينا الشيخ أبي إسلام للأحداث، والتمكن منها، وسرد الأحاديث الطويلة جداً من ذاكرته، مع حُسن إلقاء على وجهٍ مؤثّرٍ.
فازدان الموضوع والأُسلوب، والاختيار والتحليل ولا شك أن السيرة النبوية هي التطبيقات العملية لما يحب الله ويرضى، وتجسيد للمعاني والأحكام والأخلاق في الواقع العملي، ليتحقق مقام العبوديّة، وما أحوج
{পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (১)}
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন সে-ই সঠিক পথপ্রাপ্ত, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। অতঃপর:
এটি মিম্বরে প্রদত্ত খুতবাসমূহের একটি সংকলন যা আমাদের শায়খ আবু ইসলাম সালেহ বিন তাহা আব্দুল ওয়াহিদ -আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন এবং তাঁর দ্বারা উপকৃত করুন- প্রদান করেছেন; আর এটি "সীরাতুন নবী" (নবীর জীবনী) বিষয়ক।
এই খুতবাগুলোর বিশেষত্ব হলো এতে কেবল বিশুদ্ধ ঘটনাবলির ওপর নির্ভর করা হয়েছে। বিশেষ করে সীরাতের ক্ষেত্রে এটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন পরিশ্রম এবং ব্যাপক অনুসন্ধান ও গবেষণার দাবি রাখে। কারণ, "এমন হাদীসে কী কল্যাণ আছে যাতে বিশুদ্ধ ও দুর্বল উভয়ই মিশ্রিত রয়েছে, অথচ আপনি তা যাচাই করছেন না এবং এর বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে অনুসন্ধান করছেন না?"
বইটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো: আলোচিত ঘটনার চমৎকার বিশ্লেষণ, তা থেকে উপদেশ, শিক্ষা ও কল্যাণসমূহ উল্লেখ করা এবং উম্মাহর বর্তমান অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করা।
আর এই সবকিছুকে আরও অলঙ্কৃত করেছে আমাদের ভাই শায়খ আবু ইসলামের চমৎকার স্মৃতিশক্তি ও ঘটনাবলির ওপর পূর্ণ দখল এবং তাঁর স্মৃতি থেকে অত্যন্ত দীর্ঘ হাদীসসমূহ বর্ণনা করার সক্ষমতা, সাথে সাথে হৃদয়স্পর্শী উপস্থাপনা।
ফলে বিষয়বস্তু, শৈলী, চয়ন ও বিশ্লেষণ অত্যন্ত সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সীরাতুন নবী হলো সেই সব বিষয়ের ব্যবহারিক প্রয়োগ যা আল্লাহ পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। এটি বাস্তব জীবনে আদর্শ, বিধান ও আখলাকের মূর্ত রূপ, যাতে দাসত্বের মাকাম অর্জিত হয়। আর আমাদের কতই না প্রয়োজন...
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
الناس هذه الأيام لأمثال هذه الخطب، ولئن فات كثير من القراء استماع هذه الخطب فإنها جُمعت -ولله الحمد- بين دفَّتي هذا الكتاب، ليعمّ به النَّفع، وما ذلك على الله بعزيز.
وكتب
أبو عبيدة مشهور بن حسن آل سلمان
বর্তমান যুগে মানুষের এই জাতীয় খুতবাগুলোর প্রয়োজন রয়েছে; আর যদিও অনেক পাঠকের এই খুতবাগুলো শোনার সুযোগ ঘটেনি, তবুও আল্লাহর প্রশংসায় এগুলো এই গ্রন্থের দুই মলাটের মাঝে সংকলন করা হয়েছে, যাতে এর দ্বারা উপকার ব্যাপক হয়; আর আল্লাহর জন্য এটি মোটেই কঠিন কাজ নয়।
লিখেছেন
আবু উবাইদাহ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المؤلفإن الحمدَ لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} {آل عمران: 102]، {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء:1]، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} [الأحزاب: 70 - 71].
أما بعد:
فإنَّ أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمَّد صلى الله عليه وسلم، وشرَّ الأمور محدثاتها، وكل محدثةٍ بدعة، وكل بدعةٍ ضلالة، وكل ضلالةٍ في النار (1).
عباد الله!
قال تعالى: {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ (128)} [التوبة: 128].
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
লেখকের ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না (১০২)} [আল-ইমরান: ১০২], {হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই রব্বকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একজন ব্যক্তি থেকে এবং তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে। আর তাদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার দাবি করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার (বন্ধন ছিন্ন করা থেকে) বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন (১)} [আন-নিসা: ১], {হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করে (৭১)} [আল-আহজাব: ৭০-৭১]।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হচ্ছে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হচ্ছে দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণতি জাহান্নাম (১)।
আল্লাহর বান্দাগণ!
আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে একজন রাসূল এসেছেন। তোমাদের যা কষ্ট দেয় তা তাঁর কাছে অতিশয় পীড়াদায়ক। তিনি তোমাদের কল্যাণকামী, মুমিনদের প্রতি তিনি অতিশয় দয়ালু ও পরম করুণাময় (১২৮)} [আত-তাওবাহ: ১২৮]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
وقال تعالى: {هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ (33)} [التوبة: 33].
وقال تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا (21)} [الأحزاب: 21].
وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أنا دعوة أبي إبراهيم وبشرى عيسى ورأت أمي أنه يخرج منها نور أضاءت منه قصور الشام" (1).
ودعوة إبراهيم عليه السلام هي قوله: {رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (129)} [البقرة: 129].
وبشرى عيسى: كما أشار إليه قوله عز وجل حاكياً عن المسيح عليه السلام: {وَإِذْ قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ فَلَمَّا جَاءَهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ قَالُوا هَذَا سِحْرٌ مُبِينٌ (6)} [الصف: 6].
وقوله: "ورأت أمي كأنه خرج منها نور أضاءت منه قصور الشام" قال ابن رجب: خروج هذا النور عند وضعه إشارة إلى ما يجيء به من النور الذي اهتدى به أهل الأرض، وزال به ظلمة الشرك منها، كما قال تعالى: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيرًا مِمَّا كُنْتُمْ
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: "তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর রসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।" [আত-তাওবাহ: ৩৩]।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: "তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।" [আল-আহযাব: ২১]।
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি আমার পিতা ইবরাহীমের দুআ এবং ঈসার সুসংবাদ; আর আমার মাতা দেখেছিলেন যে, তাঁর থেকে একটি নূর নির্গত হয়েছে যার দ্বারা শামের প্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে গিয়েছিল" (১)।
ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর দুআ হলো তাঁর এই উক্তি: "হে আমাদের পালনকর্তা! আপনি তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে একজন রসূল প্রেরণ করুন, যিনি তাদের কাছে আপনার আয়াতসমূহ পাঠ করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" [আল-বাকারাহ: ১২৯]।
আর ঈসার সুসংবাদ হলো: মহান আল্লাহ মাসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে যা নির্দেশ করেছেন: "স্মরণ করো, যখন মরিয়ম-পুত্র ঈসা বলেছিল: হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রসূল, আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং এমন একজন রসূলের সুসংবাদদাতা যিনি আমার পরে আসবেন, যাঁর নাম আহমদ। অতঃপর যখন তিনি স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তাদের কাছে আসলেন, তখন তারা বলল: এটি তো স্পষ্ট যাদু।" [আস-সাফ: ৬]।
আর তাঁর উক্তি: "আমার মাতা দেখেছিলেন যেন তাঁর থেকে একটি নূর নির্গত হয়েছে যার দ্বারা শামের প্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়েছে" - এ প্রসঙ্গে ইবনে রজব বলেন: তাঁর জন্মের সময় এই নূর নির্গত হওয়া সেই নূরের প্রতি ইঙ্গিত যা নিয়ে তিনি আগমন করেছেন, যার মাধ্যমে পৃথিবীবাসী হিদায়াত লাভ করেছে এবং শিরকের অন্ধকার দূরীভূত হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "হে আহলে কিতাবগণ! তোমাদের কাছে আমাদের রসূল এসেছেন, যিনি তোমরা যা গোপন করতে তার অনেক কিছু তোমাদের কাছে স্পষ্ট করছেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ (15) يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (16)} [المائدة: 15 - 16].
وقال ابن كثير: وتخصيص الشام بظهور نوره إشارة إلى استقرار دينه وثبوته ببلاد الشام ولهذا تكون الشام في آخر الزمان معقلاً للإسلام وأهله، وبها ينزل عيسى ابن مريم بدمشق بالمنارة الشرقية البيضاء منها ولهذا جاء في الصحيحين: "لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق لا يضرهم من خذلهم حتى يأتي أمر الله وهم كذلك"، وفي صحيح البخاري: "وهم في الشام" (1).
عباد الله! وهذه الفرقة الناجية المنصورة هي التي عرفت ربّها فعبدته ولم تُشرك به شيئاً استجابةً لقوله تعالى: {وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا} وعرفت رسولها فاتبعته وتأست به ولم تبتدع في دين الله استجابة لقوله تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا (21)} [الأحزاب: 21].
وعرفت أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فسلكت منهجهم وسبيلهم استجابة لقوله تعالى: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ}.
ولقوله صلى الله عليه وسلم: "وستفترق أمتي على ثلاثٍ وسبعين فرقة كلهم في النار إلا
--------------------------------------------
...তোমরা কিতাবের যা গোপন করতে এবং অনেক কিছু তিনি ক্ষমা করে দেন। অবশ্যই তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে এক নূর ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে। (১৫) এর মাধ্যমে আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে তাদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং নিজ অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদের সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন। (১৬)} [আল-মায়িদাহ: ১৫ - ১৬]।
ইবনে কাসীর বলেন: তাঁর নূরের প্রকাশের জন্য শাম (সিরিয়া অঞ্চল)-কে নির্দিষ্ট করা মূলত সেখানে তাঁর দ্বীন সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া এবং স্থায়িত্ব লাভের ইঙ্গিত। একারণেই শেষ জামানায় শাম হবে ইসলাম ও মুসলিমদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। সেখানে দামেস্কের সাদা পূর্ব মিনারে ঈসা ইবনে মারইয়াম অবতরণ করবেন। এ কারণেই সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ এসেছে: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চায় তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ (কিয়ামত) উপস্থিত হয় এবং তারা সেই অবস্থাতেই থাকবে।" আর সহীহ বুখারীতে রয়েছে: "তারা শামে অবস্থান করবে" (১)।
হে আল্লাহর বান্দারা! এই নাজাতপ্রাপ্ত ও সাহায্যপ্রাপ্ত দল তারাই যারা তাদের রবকে চিনেছে, অতঃপর তাঁর ইবাদত করেছে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করেনি, মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি সাড়া দিয়ে: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না}। এবং তারা তাদের রাসূলকে চিনেছে, অতঃপর তাঁর অনুসরণ করেছে ও তাঁকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং আল্লাহর দ্বীনে কোনো নতুন বিষয় (বিদআত) উদ্ভাবন করেনি, মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি সাড়া দিয়ে: {অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তার জন্য যে আল্লাহ ও পরকাল আশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে (২১)} [আল-আহযাব: ২১]।
এবং তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের চিনেছে এবং তাঁদের মানহাজ ও পথ অনুসরণ করেছে, মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি সাড়া দিয়ে: {মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হয়েছে।}
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর কারণে: "শীঘ্রই আমার উম্মত তেহাত্তরটি দলে বিভক্ত হবে, যার সবকটিই জাহান্নামে যাবে, কেবল একটি ব্যতীত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
واحدة" قيل: وما هي يا رسول الله؟! قال: "هي التي تكون على ما أنا عليه اليوم وأصحابي".
فالنجاة يا عباد الله في توحيد الله في العبادة وتوحيد رسوله صلى الله عليه وسلم في الاتباع
وتوحيد الصحابة رضي الله عنهم في المنهج والفهم.
عباد الله! وانطلاقاً من قوله تعالى على لسان هود صلى الله عليه وسلم: {وَأَنَا لَكُمْ نَاصِحٌ أَمِينٌ (68)} [الأعراف:68].
وقوله صلى الله عليه وسلم: "الدين النصيحة"، قلنا لمن؟ قال: "لله ولكتابه ولرسوله ولأئمة المسلمين وعامتهم" (1).
وقوله صلى الله عليه وسلم: "الدال على الخير كفاعله" (2).
منذ عشرين عاماً أو يزيد وأنا في مسجد إبراهيم الحاج حسن (عمان/الأردن) أركّز في خطب الجمعة على العقيدة الصحيحة وسيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم وسيرة الصحابة الكرام رضي الله عنهم.
ففي العقيدة ألقيتُ مجموعة من خطب الجمعة بعنوان "العقيدة أولاً لو كانوا يعلمون" وقد خرجت بفضل الله وكرمه إلى الوجود كتاباً في أربعة مجلدات.
ثم بعدها ألقيت مجموعة من الخطب بعنوان "ثمرات الإيمان" وخرجت إلى الوجود في مجلدٍ واحدٍ بعنوان "أحسن البيان من مواقف أهل الإيمان".
--------------------------------------------
...একটিই।" জিজ্ঞেস করা হলো: "হে আল্লাহর রাসূল! সেটি কোনটি?" তিনি বললেন: "সেটি হলো তা-ই, যার ওপর আজ আমি এবং আমার সাহাবীগণ রয়েছি।"
হে আল্লাহর বান্দাগণ! সুতরাং মুক্তি নিহিত রয়েছে ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর তাওহীদ (একত্ববাদ) এবং অনুসরণের ক্ষেত্রে তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তাওহীদের (একনিষ্ঠ অনুসরণ) মাঝে
এবং মানহাজ (পদ্ধতি) ও উপলব্ধির ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কিরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর অনুসরণে ঐক্যের মাঝে।
হে আল্লাহর বান্দাগণ! হূদ (আলাইহিস সালাম)-এর জবানিতে বর্ণিত মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে: {আর আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত উপদেশদাতা (৬৮)} [আল-আরাফ: ৬৮]।
এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "দীন হলো নসীহত (কল্যাণকামিতা)"। আমরা জিজ্ঞেস করলাম: "কার জন্য?" তিনি বললেন: "আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য এবং মুসলিমদের ইমাম ও সাধারণ জনগণের জন্য" (১)।
এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "সৎ কাজের পথপ্রদর্শক ব্যক্তি সেই কাজ সম্পাদনকারীর সমান সওয়াব লাভ করবে" (২)।
বিগত বিশ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে আমি আম্মান, জর্ডানের ইব্রাহিম আল-হাজ হাসান মসজিদে জুমার খুতবাগুলোতে সঠিক আকীদা, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সীরাত এবং সম্মানিত সাহাবায়ে কিরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সীরাতের ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছি।
আকীদার বিষয়ে আমি "আকীদা সবার আগে, যদি তারা জানত" শিরোনামে জুমার খুতবার একটি ধারাবাহিক প্রদান করেছি, যা আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ায় চার খণ্ডে একটি গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
এরপর আমি "ঈমানের ফলসমূহ" শিরোনামে একগুচ্ছ খুতবা প্রদান করি, যা "আহসানুল বায়ান মিন মাওয়াকিফি আহলিল ঈমান" (ঈমানদারদের অবস্থান থেকে সর্বোত্তম বর্ণনা) শিরোনামে এক খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ثم ألقيت بعدها مجموعة من الخطب بعنوان "الدعاء النافع" وهي تحت الطبع يسر الله خروجها في مجلدٍ واحدٍ أيضاً.
ثم انتقلت من العقيدة إلى سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم: فألقيت مجموعة من الخطب في سيرة النبي صلى الله عليه وسلم وستخرج قريباً بإذن الله تعالى إلى الوجود مجلداً واحداً بعنوان "سبل السلام من صحيح سيرة خير الأنام عليه الصلاة والسلام"
وهي كتابنا هذا الذي بين أيديكم.
ثم انتقلت من سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى سيرة أصحابه الكرام رضي الله عنهم الذين اختارهم الله لصحبة نبيه ولنصر دينه ونحن ما زلنا بصدد الحديث عنها.
والله أسال أن يتقبل عملي خالصاً لوجهه وأن ينفعني به يوم القيامة {يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ (88) إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ (89)}.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
وكتب
أبو إسلام صالح بن طه عبد الواحد
إمام وخطيب مسجد إبراهيم الحاج حسن
عمان- الأردن
23 من شهر شعبان لعام 1424 من الهجرة
الموافق 19 تشرين أول لعام 2003 ميلادي
এরপর আমি "উপকারী দোয়া" শিরোনামে একগুচ্ছ খুতবা প্রদান করেছি, যা বর্তমানে মুদ্রণাধীন; আল্লাহ যেন এটিও এক খণ্ডে প্রকাশের পথ সুগম করে দেন।
অতঃপর আমি আক্বীদা থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাতের দিকে মনোনিবেশ করি। সুতরাং আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত বিষয়ে একগুচ্ছ খুতবা প্রদান করেছি, যা আল্লাহর ইচ্ছায় অচিরেই "সুুবুলুস সালাম মিন সহীহি সীরাতি খাইরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম" শিরোনামে এক খণ্ডে প্রকাশিত হবে।
আর এটিই হলো আমাদের সেই কিতাব যা এখন আপনাদের হাতে রয়েছে।
এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত থেকে তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সীরতের দিকে মনোনিবেশ করি, যাঁদেরকে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর সাহচর্য ও তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করার জন্য মনোনীত করেছেন; আর আমরা এখনও তাঁদের সম্পর্কে আলোচনার ধারাবাহিকতায় রয়েছি।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই কাজকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং কিয়ামতের দিন এর দ্বারা আমাকে উপকৃত করেন— "যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না; কেবল সেই ব্যক্তিই মুক্তি পাবে যে আল্লাহর নিকট পরিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে।"
আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
লিখেছেন—
আবু ইসলাম সালিহ ইবনে ত্বহা আব্দুল ওয়াহিদ
ইমাম ও খতিব, ইবরাহিম আল-হাজ্জ হাসান মসজিদ
আম্মান, জর্ডান
২৩শে শাবান, ১৪২৪ হিজরি
১৯শে অক্টোবর, ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক।
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: -)
سبل السلام من صحيح سيرة خير الأنام عليه الصلاة والسلام القسم: السيرة النبوية
الكتاب: سُبُل السَّلام مِن صَحيح سيرة خَير الأنَامِ عَليه الصَّلاة وَالسَّلام
المؤلف: صالح بن طه عبد الواحد
راجعهُ وقدَّم لهُ: فضيلة الشيخ سليم بن عيد الهلالي، فضيلة الشيخ مشهور بن حسن آل سلمان
الناشر: مكتبة الغرباء، الدار الأثرية
الطبعة: الثانية، 1428 هـ
عدد الصفحات: 577
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 14 رمضان 1434
শান্তির পথসমূহ: সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানবের বিশুদ্ধ সীরাত থেকে, তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বিভাগ: সীরাতুন নবী
বই: শান্তির পথসমূহ: সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানবের বিশুদ্ধ সীরাত থেকে, তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক
লেখক: সালেহ বিন ত্বহা আব্দুল ওয়াহিদ
পর্যালোচনা ও ভূমিকা: ফযীলাতুশ শাইখ সালীম বিন ঈদ আল-হিলালী, ফযীলাতুশ শাইখ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান
প্রকাশক: মাকতাবাতুল গুরবা, আদ-দারুল আসারিয়্যাহ
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৮ হিজরী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৭৭
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৪ রমজান ১৪৩৪
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
{بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ}
الخطبة الأولى: ثمار دراسة السيرة النبويةإن الحمدَ لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} [آل عمران: 102] {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء: 1] {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} [الأحزاب: 70 - 71].
أما بعد:
فإنَّ أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمَّد صلى الله عليه وسلم، وشرَّ الأمور محدثاتها، وكل محدثةٍ بدعة، وكل بدعةٍ ضلالة، وكل ضلالةٍ في النار. أيها الإخوة عباد الله! موعدنا في هذا اليوم -إن شاء الله تعالى- مع سلسلة جديدة من المواعظ بعنوان:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
প্রথম খুতবা: সীরাতে নববী অধ্যয়নের সুফলনিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। [আলে ইমরান: ১০২] হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট সাহায্য চাও এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষণকারী। [নিসা: ১] হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে। [আহযাব: ৭০ - ৭১]।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠ বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হচ্ছে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম। হে আল্লাহর বান্দা ভাইয়েরা! আজ আমাদের আলোচনার বিষয় -ইনশাআল্লাহ তাআলা- একটি নতুন নসিহতমালা যার শিরোনাম:
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
محمد رسول الله والذين معهوقفات تربوية مع سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأصحابه الكرام رضي الله عنهم فيها دروس وعظات وعبر.
عباد الله! وهذا العنوان أخذناه من كتاب ربنا من قوله تعالى: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنْهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا (29)} [الفتح: 29].
عباد الله! وهذه الآية الكريمة هي الآية الأخيرة من (سورة الفتح) التي قال الله فيها لرسوله صلى الله عليه وسلم: {إِنَّا فَتَحنَا لَكَ فَتحًا مُّبِينًا (1)} وهذا اليوم الذي نبدأ فيه هذه السلسلة من المواعظ: هو اليوم الأول من السنة الهجرية لعام ألفٍ وأربع مئة وثلاثة وعشرين (1423هـ)، وهذا يوم يذكرنا بهجرة النبي صلى الله عليه وسلم من مكة إلى المدينة ليقيم دولة الإِسلام في المدينة، والتي فتح من خلالها قلوب العباد والبلاد؛ فبهذه المناسبة -نسأل الله تبارك وتعالى فهو الجدير بالإجابة- أن يجعل هذه السلسلة من المواعظ سبباً لهجرة المسلمين إلى ربهم ليعبدوه وحده، ولا يشركوا به شيئاً، وإلى سنة رسولهم ليتبعوه وحده ويبتعدوا عن البدع والخرافات، وأن يعودوا إلى منهج الصحابة رضي الله عنهم وأن يتركوا السبل القصيرة التي على كل سبيل منها شيطان يدعُ الناس إليه، وأن يكون ذلك سبباً للفتح المبين ولنصر المسلمين على أعداء الدين إنه ولي ذلك والقادر عليه.
মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছেনআল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের জীবনী থেকে কিছু শিক্ষামূলক আলোচনা, যাতে রয়েছে অনেক শিক্ষা, উপদেশ ও ইবরত।
হে আল্লাহর বান্দারা! আমরা এই শিরোনামটি আমাদের রবের কিতাব থেকে এবং মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে গ্রহণ করেছি: "মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে সহানুভূতিশীল। তুমি তাদের রুকু ও সিজদাহরত অবস্থায় দেখবে; তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে। তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন বিদ্যমান। তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত এরূপ এবং ইঞ্জিলে তাদের দৃষ্টান্ত হলো একটি চারাগাছের মতো, যা থেকে অঙ্কুর বের হয়, অতঃপর তা শক্তিশালী হয়, এরপর তা পুষ্ট হয় এবং নিজ কাণ্ডের ওপর সোজা হয়ে উঠে দাঁড়ায়, যা চাষিকে আনন্দিত করে, যাতে তিনি তাদের মাধ্যমে কাফিরদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা করেছেন।" [সূরা আল-ফাতহ: ২৯]
হে আল্লাহর বান্দারা! এই সম্মানিত আয়াতটি হলো সূরা আল-ফাতহ-এর শেষ আয়াত, যে সূরায় আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি আপনার জন্য এক সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি।" আর আজ যে দিনে আমরা এই নসিহতের ধারাবাহিকতা শুরু করছি, তা হলো হিজরী চৌদ্দশত তেইশ (১৪২৩) সনের প্রথম দিন। এই দিনটি আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যাতে তিনি মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন, যার মাধ্যমে তিনি মানুষের অন্তর ও ভূখণ্ডসমূহ জয় করেছিলেন। এই উপলক্ষে আমরা বরকতময় ও মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি—আর তিনিই প্রার্থনায় সাড়া দেওয়ার যোগ্য—তিনি যেন এই নসিহতের ধারাবাহিকতাকে মুসলমানদের তাদের রবের দিকে হিজরত করার কারণ বানিয়ে দেন, যাতে তারা কেবল তাঁরই ইবাদত করে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে। আর তারা যেন তাদের রাসূলের সুন্নাহর দিকে ফিরে যায় যাতে কেবল তাঁরই অনুসরণ করে এবং বিদআত ও কুসংস্কার থেকে দূরে থাকে। আর তারা যেন সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের মানহাজ বা আদর্শের দিকে ফিরে আসে এবং সেই সব সংকীর্ণ পথগুলো ছেড়ে দেয় যার প্রতিটি পথে একটি শয়তান দাঁড়িয়ে মানুষকে তার দিকে ডাকছে। আর এটি যেন সুস্পষ্ট বিজয় এবং দ্বীনের শত্রুদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের বিজয়ের কারণ হয়। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
عباد الله! في هذه الآية الكريمة: {مُّحَمَّدٌ رَّسُولُ اَللهِ وَاَلَّذِينَ مَعَهُ} يثني ربنا جل وعلا على رسوله صلى الله عليه وسلم وعلى الصحابة الكرام، ففي قوله تعالى: {مُّحَمَّدٌ رَّسُولُ اَللهِ}: يخبرنا ربنا جل وعلا عن محمَّد صلى الله عليه وسلم أنه رسوله حقاً بلا شك ولا ريب، وهو خاتم الرسل والأنبياء فلا نبي بعده ولا رسول بعده.
وفي قوله تعالى: {وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ} ثناء من الله تعالى على صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم في تعاملهم مع الكفار بالشدة، ومع المؤمنين بالرحمة والعطف، فالكافر الذي هو عدو لله ولرسوله صلى الله عليه وسلم يُعَامَلُ بشدةٍ وغلظةٍ، والمؤمن الذي رضي بالله رباً وبالإِسلام ديناً وبمحمد صلى الله عليه وسلم نبياً ورسولاً يُعَامَلُ بالعطف والرحمة والمحبة والحنان.
كيف لا، والله عز وجل يقول: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ}.
عباد الله! الإخوة رابطة قوية، تربط المؤمنين بعضهم ببعض.
ويبين صلى الله عليه وسلم شدة هذه الرابطة.
فيقول صلى الله عليه وسلم: "المؤمن للمؤمن كالبنيان يشد بعضه بعضاً" وشبك بين أصابعه (1).
ويقول صلى الله عليه وسلم: "مثل المؤمنين في توادهم وتراحمهم وتعاطفهم كمثل الجسد إذا اشتكى منه عضو، تداعى له سائر الجسد بالسهر والحمى" (2).
فإذا نظرنا يا عباد الله! إلى أحوال المسلمين الآن، فإنه ينطبق علينا العكس تماماً إلا من رحم ربي، رحماء مع الكفار أشداء فيما بيننا و"إنا لله وإنا إليه راجعون".
--------------------------------------------
হে আল্লাহর বান্দাগণ! এই পবিত্র আয়াতে: {মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং যারা তাঁর সাথে আছে} আমাদের রব জাল্লা ওয়া আলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সম্মানিত সাহাবায়ে কেরামের প্রশংসা করেছেন। আল্লাহ তাআলার বাণী: {মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল}-এ আমাদের রব জাল্লা ওয়া আলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আমাদের জানাচ্ছেন যে, তিনি নিঃসন্দেহে তাঁর প্রকৃত রাসূল। তিনি হলেন সর্বশেষ নবী ও রাসূল, তাই তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই এবং তাঁর পরে আর কোনো রাসূল নেই।
আর আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং যারা তাঁর সাথে আছে তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে দয়ালু}-এ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবায়ে কেরামের প্রশংসা করা হয়েছে যে, তাঁরা কাফিরদের সাথে কঠোর আচরণ করতেন এবং মুমিনদের সাথে দয়া ও সহমর্মিতার আচরণ করতেন। সুতরাং যে কাফির আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শত্রু, তার সাথে কঠোরতা ও রুক্ষতার সাথে আচরণ করা হবে; আর যে মুমিন আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নবী ও রাসূল হিসেবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট হয়েছে, তার সাথে সহমর্মিতা, দয়া, ভালোবাসা ও স্নেহের সাথে আচরণ করা হবে।
কেনই বা হবে না, অথচ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলছেন: {নিশ্চয়ই মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই}।
হে আল্লাহর বান্দাগণ! ভ্রাতৃত্ব একটি শক্তিশালী বন্ধন, যা মুমিনদের একে অপরের সাথে যুক্ত করে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বন্ধনের দৃঢ়তা বর্ণনা করেছেন।
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: "এক মুমিন অপর মুমিনের জন্য ইমারত স্বরূপ, যার এক অংশ অন্য অংশকে সুদৃঢ় করে" এবং তিনি তাঁর হাতের আঙ্গুলগুলো একটির ভেতর আরেকটি প্রবেশ করালেন (১)।
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন: "মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতার উদাহরণ একটি দেহের মতো; যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গ ব্যথিত হয়, তখন পুরো দেহ অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তার সাথে শরিক হয়" (২)।
হে আল্লাহর বান্দাগণ! আমরা যদি এখন মুসলমানদের অবস্থার দিকে তাকাই, তবে আমার রবের রহমতপ্রাপ্তরা ব্যতীত আমাদের ক্ষেত্রে এর ঠিক উল্টোটিই পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমরা কাফিরদের প্রতি দয়ালু এবং নিজেদের মধ্যে কঠোর। "নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
عباد الله! وفي قوله تعالى: {تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا}.
بعد أن بين الله تبارك وتعالى كيف يتعامل الصحابة مع الخلق، يخبرنا عنهم كيف يتعاملون مع الخالق؛ فهم يتقربون إلى الله عز وجل بالأعمال الصالحة تراهم {رُكَّعًا سُجَّدًا} وفي موضع آخر {يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَقِيَامًا}.
ماذا يريدون بهذه العبادة؟ {يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا} يريدون بعبادتهم وجه الله، يريدون بعبادتهم رضا الله والجنة، إيمان صادق، أعمال صالحة، إخلاص لله عز وجل. فظهر ذلك على وجوههم قال تعالى: {سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ} انظر إلى رجل في صلاة الفجر بات لله ساجداً وقائماً ترى النور يعلو وجهه، وانظر إلى رجل ترك الصلاة وأكل الربا وبات على معصية الله ترى على وجهه السواد والغبرة، ثم يخبر ربنا جل وعلا أن مثل الصحابة هذا موجود في التوراة قبل تحريفها {ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ} انظر إلى النبات كيف يبدأ صغيراً ثم يكبر، ثم يخرج شطأه -أي فراخه- ثم يثمر ويعجب الزراع حينذاك.
فالصحابة بدأوا قلة ثم كثروا ثم قامت لهم قائمة، ثم كانت لهم دولة فغاظوا بذلك الكفار وفتحوا الدنيا من مشرقها إلى مغربها. ولذلك وعدهم الله تعالى بالمغفرة والأجر العظيم.
فقال تعالى: {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنْهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا (29)}.
হে আল্লাহর বান্দারা! আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে: "তুমি তাদেরকে রুকু ও সিজদারত অবস্থায় দেখবে, তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অনুসন্ধান করছে।"
আল্লাহ বরকতময় ও সুউচ্চ সাহাবাগণ সৃষ্টির সাথে কেমন আচরণ করতেন তা বর্ণনা করার পর, এখন তিনি আমাদের সংবাদ দিচ্ছেন যে তারা স্রষ্টার সাথে কেমন আচরণ করতেন; তারা নেক আমলের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেন, তুমি তাদেরকে দেখতে পাবে "রুকু ও সিজদারত অবস্থায়" এবং অন্য স্থানে বলা হয়েছে "তারা তাদের রবের উদ্দেশ্যে সিজদারত ও দণ্ডায়মান অবস্থায় রাত অতিবাহিত করে।"
এই ইবাদতের মাধ্যমে তারা কী চায়? "তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অনুসন্ধান করে।" তারা তাদের ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর চেহারা কামনা করে, তারা তাদের ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত চায়; সত্য ঈমান, নেক আমল এবং মহান আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা। ফলে তা তাদের চেহারায় ফুটে উঠেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "সিজদার চিহ্নের কারণে তাদের চেহারায় তাদের নিদর্শন বিদ্যমান।" ফজর সালাতে আসা এমন একজন ব্যক্তির দিকে তাকাও যে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদাবনত ও দণ্ডায়মান হয়ে রাত কাটিয়েছে, তুমি তার চেহারায় জ্যোতি দেখতে পাবে। আর এমন একজন ব্যক্তির দিকে তাকাও যে সালাত বর্জন করেছে, সুদ খেয়েছে এবং আল্লাহর অবাধ্যতায় রাত কাটিয়েছে, তার চেহারায় তুমি কালিমা ও ধূলিমলিনতা দেখতে পাবে। অতঃপর আমাদের মহান রব সংবাদ দিচ্ছেন যে, সাহাবীদের এই দৃষ্টান্ত তাওরাত বিকৃত হওয়ার পূর্বেই তাতে বিদ্যমান ছিল: "তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত এটাই। আর ইনজিলে তাদের দৃষ্টান্ত হলো একটি চারাগাছের মতো, যা থেকে অঙ্কুর বের হয়, অতঃপর তা একে শক্তিশালী করে, ফলে তা পুষ্ট হয় এবং নিজ কাণ্ডের ওপর সোজা হয়ে উঠে দাঁড়ায়।" উদ্ভিদের দিকে তাকাও কীভাবে তা ছোট হিসেবে শুরু হয়, তারপর বড় হয়, এরপর তার চারা বের হয়, অতঃপর তা ফল দেয় এবং তখন তা কৃষকদের অভিভূত করে।
সাহাবাগণ অল্প সংখ্যায় শুরু করেছিলেন, তারপর তারা সংখ্যায় বৃদ্ধি পেলেন এবং তাদের ভিত্তি সুদৃঢ় হলো। অতঃপর তাদের একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলো, যার মাধ্যমে তারা কাফেরদের ক্ষুব্ধ করলেন এবং পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত জয় করলেন। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ক্ষমা ও মহা পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন: "তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা ও মহা পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন (২৯)।"
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
عباد الله! وهذا سؤال:
ما هي الفائدة من دراسة سيرة النبي صلى الله عليه وسلم، وسيرة أصحابه الكرام رضي الله عنهم؟
عباد الله! الفوائد من دراسة السيرة النبوية وسيرة الصحابة رضي الله عنهم كثيرة وكثيرة جداً، ومنها:
الفائدة الأولى: معرفة أسباب نزول كثير من الآيات القرآنية والأحاديث النبوية، وهذا مما يعين على فهمهما والاستنباط منهما أو معايشة أحداثهما. فمثلاً: قوله تعالى: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ وَاللَّهُ رَءُوفٌ بِالْعِبَادِ (207)} قالوا: نزلت في صهيب الرومي رضي الله عنه عندما أراد أن يهاجر من مكة إلى المدينة، فأتبعه نفر من قريش فقالوا له: أتيتنا صعلوكاً حقيراً فكثر مالك عندنا، فبلغت ما بلغت، ثم تنطلق بنفسك ومالك؟! والله لا يكون ذلك، فنزل عن راحلته وانتثل ما في كنانته ثم قال: يا معشر قريش لقد علمتم أني من أرماكم رجالاً، وأيم الله لا تصلون إلي حتى أرمي بكل سهم معي في كنانتي، ثم أضربكم بسيفي ما بقي من يدي منه شيء فافعلوا ما شئتم، فإن شئتم دللتكم على مالي وخليتم سبيلي قالوا: نعم، ففعل.
فلما قدم على النبي صلى الله عليه وسلم قال "ربح البيع أبا يحيى، ربح البيع"، ونزل قوله تعالى: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ وَاللَّهُ رَءُوفٌ بِالْعِبَادِ (207)} (1).
--------------------------------------------
হে আল্লাহর বান্দাগণ! আর এটি একটি প্রশ্ন:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের জীবনী অধ্যয়নের উপকারিতা কী?
হে আল্লাহর বান্দাগণ! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত এবং সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের জীবনী অধ্যয়নের উপকারিতা অনেক এবং অনেক বেশি, যার মধ্যে অন্যতম হলো:
প্রথম উপকারিতা: কুরআনের অনেক আয়াত এবং নববী হাদীসসমূহ নাযিল হওয়ার কারণগুলো জানা। আর এটি সেই আয়াত ও হাদীসগুলো বুঝতে, সেগুলো থেকে বিধান আহরণ করতে বা সেগুলোর ঘটনাবলির প্রেক্ষাপট অনুধাবন করতে সাহায্য করে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর মানুষের মধ্যে এমনও কেউ আছে, যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নিজেকে বিলিয়ে দেয়। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। (২০৭)} তাঁরা (সালাফগণ) বলেন: এটি সুহাইব আর-রুমী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ব্যাপারে নাযিল হয়েছে, যখন তিনি মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করার ইচ্ছা করেন। তখন কুরাইশদের একদল লোক তাঁর পিছু নেয় এবং তাঁকে বলে: তুমি আমাদের কাছে এসেছিলে একজন নিঃস্ব ও তুচ্ছ ব্যক্তি হিসেবে, এরপর আমাদের এখানে তোমার সম্পদ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তুমি এই অবস্থানে পৌঁছেছ। এখন তুমি তোমার জান ও মাল নিয়ে চলে যাবে?! আল্লাহর কসম, তা হতে পারে না। তখন তিনি তাঁর সওয়ারি থেকে নামলেন এবং তাঁর তূণীর থেকে তীরগুলো বের করলেন। এরপর বললেন: হে কুরাইশ দল! তোমরা ভালো করেই জানো যে, আমি তোমাদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ তীরন্দাজ। আল্লাহর কসম! আমার তূণীরের শেষ তীরটি নিক্ষেপ না করা পর্যন্ত তোমরা আমার কাছে পৌঁছাতে পারবে না। এরপর আমি আমার তলোয়ার দিয়ে তোমাদের আঘাত করতে থাকব যতক্ষণ আমার হাতে এর কিছু অবশিষ্ট থাকে। এখন তোমরা যা ইচ্ছা করো। তবে তোমরা যদি চাও, আমি তোমাদের আমার সম্পদের ঠিকানা বলে দেব আর তোমরা আমার পথ ছেড়ে দেবে। তারা বলল: হ্যাঁ, তখন তিনি তা-ই করলেন।
যখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছালেন, তখন তিনি বললেন: "হে আবু ইয়াহইয়া! তোমার ব্যবসা লাভজনক হয়েছে, তোমার ব্যবসা লাভজনক হয়েছে।" আর মহান আল্লাহর এই বাণী নাযিল হলো: {আর মানুষের মধ্যে এমনও কেউ আছে, যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নিজেকে বিলিয়ে দেয়। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। (২০৭)} (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
وأما الأكثرون فحملوا ذلك على أنها نزلت في كل مجاهد في سبيل الله كما قال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُمْ بِهِ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (111)} [التوبة: 111]
الفائدة الثانية: معرفة الطريق الذي يوصل إلى رضا الله والجنة ويتمثل فيما يلي:
أولاً: في عبادة الله وحده والابتعاد عن الشرك.
ثانياً: في اتباع النبي وحده والابتعاد عن البدع والخرافات.
ثالثاً: في سلوك منهج الصحابة الكرام والابتعاد عن سبل الشيطان.
عباد اللهَ! والصحابة رضي الله عنهم ضربوا لنا مثلاً أعلى في عبادتهم لله، وفي اتباعهم للنبي صلى الله عليه وسلم، وقد جاءت أدلة في الكتاب والسنة تأمر المسلمين أن يسلكوا منهج الصحابة؛ لأنهم قوم رضي الله عنهم ورضوا عنه، قال تعالى: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ} [التوبة: 100]، وقال تعالى: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا (115)} [النساء: 115].
ويقول صلى الله عليه وسلم:"وستفترق أمتي على ثلاث وسبعين ملة، كلهم في النار، إلا ملة واحدة" قالوا: ومن هي يا رسول الله؟ قال: "ما أنا عليه وأصحابي" (1).
--------------------------------------------
আর অধিকাংশ আলেম বিষয়টিকে এভাবে গ্রহণ করেছেন যে, এটি আল্লাহর পথে জিহাদকারী প্রত্যেকের ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে। তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, ফলে তারা মারে ও মরে। তাওরাত, ইনজিল ও কুরআনে এ বিষয়ে তাঁর সত্য প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আর আল্লাহর চেয়ে অধিক প্রতিশ্রুতি পূরণকারী আর কে আছে? সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে যে সওদা করেছ, সেই সওদার জন্য আনন্দিত হও। আর এটাই হলো মহাসাফল্য। (১১১)} [আত-তাওবাহ: ১১১]
দ্বিতীয় উপকারিতা: আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাতে পৌঁছার পথ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, যা নিম্নলিখিত বিষয়াবলির মাঝে নিহিত:
প্রথমত: একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং শিরক থেকে দূরে থাকা।
দ্বিতীয়ত: একমাত্র নবীর অনুসরণ করা এবং বিদআত ও কুসংস্কার থেকে দূরে থাকা।
তৃতীয়ত: সম্মানিত সাহাবীগণের মানহাজ বা পথ অনুসরণ করা এবং শয়তানের পথসমূহ থেকে দূরে থাকা।
আল্লাহর বান্দাগণ! সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) আল্লাহর ইবাদতে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণে আমাদের জন্য এক সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কিতাব ও সুন্নাহতে এমন অনেক দলিল এসেছে যা মুসলিমদের সাহাবীগণের মানহাজ অনুসরণের নির্দেশ দেয়; কারণ তাঁরা এমন এক সম্প্রদায় যাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন} [আত-তাওবাহ: ১০০]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {কারো কাছে হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর সে যদি রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে সে যেদিকে ফিরতে চায় আমরা তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেব এবং তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব। আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য! (১১৫)} [আন-নিসা: ১১৫]।
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: "অচিরেই আমার উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে, তাদের সবাই জাহান্নামে যাবে একটি দল ছাড়া।" তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: "আমি এবং আমার সাহাবীগণ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
ويقول صلى الله عليه وسلم: " .. وإنه من يعش منكم فسيرى اختلافاً كثيراً فعليكم بسنتي -أي طريقتي- وسنة الخلفاء الراشدين المهديين عضوا عليها بالنواجذ" (1).
عباد الله! فعندما ندرس سيرة النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه يتبين لنا الطريق الذي يوصل إلى رضا الله والجنة.
الفائدة الثالثة: يعرف المسلمون من أين ينطلقون وكيف يبدؤون.
فالرسول صلى الله عليه وسلم بُعث في الناس وهم في ضلال مبين يعبدون الأصنام ويأكلون الميتة، ويأتون الفواحش، ويقطعون الأرحام، والقوي يأكل الضعيف، ويشربون الخمر. من أين بدأ النبي صلى الله عليه وسلم دعوته لهذا المجتمع الذي يتقلب في الضلال المبين؟ هل بدأ بالمواجهة المسلحة فأعلنها حرباً وتدميراً وإرهاباً للكفار في مكة؟
الجواب: لا.
هل بدأ بدخول البرلمانات النيابية والوصول إلى المناصب العليا في البلاد لتوصيل الإِسلام لهم؟
الجواب: لا.
هل بدأ صلى الله عليه وسلم برفع راية الجهاد أولاً لتحرير الأرض من يد الفرس والروم؟
الجواب: لا.
هل بدأ بثورة إصلاحية لتصحيح الأوضاع الاقتصادية والاجتماعية؟
الجواب: لا.
ولكنه صلى الله عليه وسلم بدأ بدعوة الناس أولاً إلى عقيدة التوحيد؛ إلى "لا إله إلا الله"؛ وهذه هي دعوة الأنبياء كلهم قبله.
--------------------------------------------
এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: "...নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে যারা আমার পর জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। অতএব তোমরা আমার সুন্নাত (অর্থাৎ আমার পথ) এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাত আঁকড়ে ধরো; তা দাঁত দিয়ে শক্তভাবে কামড়ে ধরো।" (১)।
হে আল্লাহর বান্দারা! যখন আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীদের জীবনী অধ্যয়ন করি, তখন আমাদের কাছে সেই পথ স্পষ্ট হয়ে ওঠে যা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।
তৃতীয় উপকারিতা: মুসলিমরা জানতে পারে তারা কোথা থেকে যাত্রা শুরু করবে এবং কীভাবে শুরু করবে।
কেননা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন এক সময়ে মানুষের মাঝে প্রেরিত হয়েছিলেন যখন তারা সুস্পষ্ট গোমরাহীর মধ্যে নিমজ্জিত ছিল। তারা মূর্তিপূজা করত, মৃত প্রাণী ভক্ষণ করত, অশ্লীল কাজে লিপ্ত হতো, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করত, শক্তিশালীরা দুর্বলদের গ্রাস করত এবং তারা মদ পান করত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই সুস্পষ্ট গোমরাহীর মধ্যে হাবুডুবু খাওয়া সমাজের নিকট তাঁর দাওয়াত কোথা থেকে শুরু করেছিলেন? তিনি কি সশস্ত্র মোকাবিলার মাধ্যমে শুরু করেছিলেন এবং মক্কার কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ধ্বংস ও ভীতিকর পরিস্থিতি ঘোষণা করেছিলেন?
উত্তর: না।
তিনি কি পার্লামেন্ট বা সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রবেশের মাধ্যমে এবং দেশের উচ্চপদমর্যাদা লাভের মাধ্যমে তাদের নিকট ইসলাম পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছিলেন?
উত্তর: না।
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি পারস্য ও রোমের হাত থেকে ভূমি উদ্ধারের জন্য প্রথমেই জিহাদের ঝান্ডা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু করেছিলেন?
উত্তর: না।
তিনি কি অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সংশোধনের জন্য কোনো সংস্কারমূলক বিপ্লবের মাধ্যমে শুরু করেছিলেন?
উত্তর: না।
বরং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রথমে মানুষকে তাওহীদের আকিদার দিকে অর্থাৎ "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"-এর দিকে দাওয়াতের মাধ্যমে শুরু করেছিলেন; আর এটিই ছিল তাঁর পূর্ববর্তী সকল নবীদের দাওয়াত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
كلُّ نبيٍّ قال لقومه: {اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} [الأعراف: 65]، وقال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ (25)} [الأنبياء: 25]، وقال تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36].
أمة الإِسلام! انظروا معي إلى الساحة الإِسلامية في هذه الأيام:
فريق من المسلمين ظنوا أن المواجهة المسلحة مع الباطل هي الطريق الصحيح؛ فبدأوا بالقتل والاغتيالات والتفجيرات للمسلم وغير المسلم، ومنهم من كَفَّرَ أباه وأمه، واستحل دمه، ومع ذلك فقد وصلوا إلى طريق مسدود وضاعت الثمار والجهود.
وفريق آخر ظنَّ أن الطريق الوحيد لقيام الدولة الإِسلامية هو الدخول في البرلمانات ومجالس الأمة، والوصول إلى المناصب العالية في الدولة ومن خلالها يخدمون الإِسلام، ومنهم مَنْ وصل إلى هذه المناصب وما وجدنا أنهم قدموا خدمة للإسلام والمسلمين، إلا أنهم قدموا خدمة لحزبهم؛ من جمع الأموال والوصول إلى المناصب.
فما هو الطريق؟
الطريق هو طريق النبي صلى الله عليه وسلم؛ دعوةُ الناس إلى العقيدة الصحيحة فكم من المسلمين يشرك بالله؟ وكم من المسلمين يطوف بالقبور؟ وكم من المسلمين يدعو غير الله؟ وكم من المسلمين يذبح لغير الله؟ فلا بد أن نبدأ بدعوة الناس إلى العقيدة الصحيحة أولاً.
فإن عادت الأمة إلى ربها وإلى سنة نبيها وإلى منهج الصحابة رضي الله عنهم فهم بذلك قد غيروا من أنفسهم، ومن سنن الله تبارك وتعالى-
প্রত্যেক নবী তাঁর জাতিকে বলেছিলেন: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই} [আল-আরাফ: ৬৫], মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আমি তোমার পূর্বে এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করিনি যার নিকট এই ওহী পাঠাইনি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই; অতএব তোমরা আমারই ইবাদত করো। (২৫)} [আল-আম্বিয়া: ২৫], এবং মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আমি প্রত্যেক জাতির নিকট একজন রাসূল প্রেরণ করেছি (এই নির্দেশ দিয়ে) যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো} [আন-নাহল: ৩৬]।
হে মুসলিম উম্মাহ! বর্তমান সময়ে আমার সাথে ইসলামী অঙ্গনের দিকে দৃষ্টিপাত করুন:
মুসলিমদের একটি দল ধারণা করেছে যে, বাতিলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র মোকাবেলা করাই সঠিক পথ; ফলে তারা মুসলিম ও অমুসলিমদের হত্যা, গুপ্তহত্যা এবং বোমা হামলা শুরু করেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজের পিতা-মাতাকেও কাফের সাব্যস্ত করেছে এবং তাদের রক্ত হালাল মনে করেছে। তা সত্ত্বেও তারা এক রুদ্ধদ্বার পথে পৌঁছেছে এবং তাদের সমস্ত ফল ও প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
আর অন্য একটি দল ধারণা করেছে যে, ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের একমাত্র পথ হলো সংসদ ও জাতীয় পরিষদে অংশগ্রহণ করা এবং রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ পদে আসীন হওয়া, যার মাধ্যমে তারা ইসলামের খিদমত করবে। তাদের মধ্যে অনেকে এই সকল পদে পৌঁছেছে বটে, কিন্তু আমরা দেখিনি যে তারা ইসলাম ও মুসলিমদের কোনো সেবা করেছে; বরং তারা কেবল তাদের দলের জন্য সম্পদ সংগ্রহ এবং পদাধিকার লাভের সেবা করেছে।
তাহলে পথ কোনটি?
সঠিক পথ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথ; আর তা হলো মানুষকে সঠিক আকিদার দিকে আহ্বান করা। কত মুসলিম আল্লাহর সাথে শিরক করছে? কত মুসলিম কবরের চারদিকে তাওয়াফ করছে? কত মুসলিম আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকছে? কত মুসলিম আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে পশু জবাই করছে? অতএব, আমাদের অবশ্যই প্রথমে মানুষকে সঠিক আকিদার দিকে আহ্বান করার মাধ্যমে শুরু করতে হবে।
কেননা উম্মাহ যদি তাদের রবের দিকে, তাদের নবীর সুন্নাতের দিকে এবং সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের মানহাজের দিকে ফিরে আসে, তবে এর মাধ্যমে তারা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করল। আর মহান আল্লাহ তাআলার সুন্নাত (নিয়ম) হলো—
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
التي لا تتبدل ولا تتغير {إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ}.
عباد الله! لا بد أن يبدأ التغير منا، كما أخبر النبي صلى الله عليه وسلم فقال: "إذا تبايعتم بالعينة"، -وهو نوع من أنواع الربا- "وأخذتم أذناب البقر، ورضيتم بالزرع، وتركتم الجهاد في سبيل الله سلط الله عليكم ذلاً، لا ينزعه حتى ترجعوا إلى دينكم" (1).
وقال تعالى: {إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ} [محمد:7]، وقال تعالى: {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا} [النور: 55].
الفائدة الرابعة: معرفة أسباب النصر وأسباب الهزيمة
إذا درسنا السيرة النبوية، وسيرة أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم عرفنا أسباب النصر، وأسباب الهزيمة.
فمن أسباب النصر:
- الثقة بالله عز وجل.
- التوكل عليه وحده.
- التضرع إليه.
- الأخذ بالأسباب الموصلة إلى النصر مع عدم الثقة بالأسباب.
- الإيمان بأن النصر من عند الله.
--------------------------------------------
যা কখনো পরিবর্তন বা রূপান্তরিত হয় না {নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থার পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা তাদের নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করে}।
হে আল্লাহর বান্দাগণ! আমাদের মধ্য থেকেই পরিবর্তনের সূচনা হওয়া আবশ্যক, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: "যখন তোমরা 'ঈনাহ' (এক প্রকার সুদ) পদ্ধতিতে বেচাকেনা করবে, গরুর লেজ ধরবে, কৃষিকাজ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ পরিত্যাগ করবে, তখন আল্লাহ তোমাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেবেন; তিনি তা ততক্ষণ অপসারিত করবেন না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের দ্বীনের দিকে ফিরে আসো" (১)।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন} [মুহাম্মাদ: ৭], এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে খেলাফত দান করবেন, যেমন তিনি দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে। আর তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন যা তিনি তাদের জন্য মনোনীত করেছেন, এবং তাদের ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে নিরাপত্তা দান করবেন। তারা কেবল আমারই ইবাদত করবে এবং আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না} [আন-নূর: ৫৫]।
চতুর্থ ফায়দা: বিজয়ের কারণসমূহ এবং পরাজয়ের কারণসমূহ জানা
যদি আমরা সীরাতে নববী এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবাগণের জীবনী অধ্যয়ন করি, তবে আমরা বিজয়ের কারণসমূহ এবং পরাজয়ের কারণসমূহ জানতে পারব।
বিজয়ের কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- মহান আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা।
- একমাত্র তাঁর ওপরই তাওয়াক্কুল (ভরসা) করা।
- তাঁর নিকট রোনাজারি ও প্রার্থনা করা।
- বিজয়ের পথে সহায়ক উপকরণসমূহ গ্রহণ করা, তবে কেবল উপকরণের ওপরই নির্ভরশীল না হওয়া।
- এই বিশ্বাস রাখা যে, বিজয় কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وبالمثال يتضح المقال: في غزوة بدر يقول الله عز وجل: {إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ (9) وَمَا جَعَلَهُ اللَّهُ إِلَّا بُشْرَى وَلِتَطْمَئِنَّ بِهِ قُلُوبُكُمْ وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ (10)} [الأنفال: 9 - 10].
قلوب طاهرة من الشرك يطلبون المدد من الله عز وجل وحده.
عباد الله! كم من المسلمين الآن إذا اشتدت بهم الأمور يطلب المدد من أصحاب القبور؟ وهذه العقيدة فاسدةٌ عند أهل الضلَاّل يقولون: إذا اشتدت الأمور فعليكم بأصحاب القبور -أي: استغيثوا بأصحاب القبور-، أما الصحابة رضي الله عنهم فإنهم طلبوا المدد من الله يوم بدر. ولذلك امتن الله تبارك وتعالى على المؤمنين بهذا النصر في يوم بدر، فقال تعالى في موضع آخر: {وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ بِبَدْرٍ وَأَنْتُمْ أَذِلَّةٌ فَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ (123)} [آل عمران: 123].
عباد الله! وفي يوم الأحزاب
يقول الله عز وجل {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَاءَتْكُمْ جُنُودٌ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًا وَجُنُودًا لَمْ تَرَوْهَا وَكَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرًا (9) إِذْ جَاءُوكُمْ مِنْ فَوْقِكُمْ وَمِنْ أَسْفَلَ مِنْكُمْ وَإِذْ زَاغَتِ الْأَبْصَارُ وَبَلَغَتِ الْقُلُوبُ الْحَنَاجِرَ وَتَظُنُّونَ بِاللَّهِ الظُّنُونَا (10) هُنَالِكَ ابْتُلِيَ الْمُؤْمِنُونَ وَزُلْزِلُوا زِلْزَالًا شَدِيدًا (11) وَإِذْ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ مَا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ إِلَّا غُرُورًا (12)} [الأحزاب: 9 - 12].
عباد الله! انظروا إلى الصحابة ماذا قالوا:
উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট হয়: বদরের যুদ্ধে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: "স্মরণ করো, যখন তোমরা তোমাদের রবের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছিলে, তখন তিনি তোমাদের প্রার্থনা কবুল করলেন এবং বললেন, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের এক হাজার ফেরেশতা দিয়ে সাহায্য করব, যারা একের পর এক আসবে’। আল্লাহ তো শুধু সুসংবাদ হিসেবে এটি করেছিলেন যেন এর মাধ্যমে তোমাদের অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়। আর সাহায্য কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" [আনফাল: ৯-১০]।
শিরকমুক্ত পবিত্র হৃদয়সমূহ কেবল আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করে।
আল্লাহর বান্দাগণ! বর্তমান সময়ের কত মুসলিম আছে যারা বিপদগ্রস্ত হলে কবরবাসীদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে? আর পথভ্রষ্টদের নিকট এটি একটি ভ্রান্ত আকিদা; তারা বলে: ‘যখন বিষয়গুলো কঠিন হয়ে যায়, তখন তোমরা কবরবাসীদের শরণাপন্ন হও’—অর্থাৎ কবরবাসীদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো—অথচ সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বদরের দিন আল্লাহর কাছেই সাহায্য চেয়েছিলেন। একারণেই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা মুমিনদের প্রতি বদরের দিনের এই বিজয়ের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন। তিনি অন্য এক স্থানে ইরশাদ করেছেন: "আর অবশ্যই আল্লাহ বদরের যুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করেছিলেন যখন তোমরা ছিলে হীনবল। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।" [আল ইমরান: ১২৩]।
আল্লাহর বান্দাগণ! আর আহযাব (খন্দক) যুদ্ধের দিন...
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: "হে মুমিনগণ, তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিয়ামতের কথা স্মরণ করো; যখন তোমাদের নিকট সৈন্যবাহিনী এসেছিল, তখন আমি তাদের বিরুদ্ধে এক ঝঞ্ঝাবায়ু এবং এমন এক সৈন্যবাহিনী পাঠিয়েছিলাম যা তোমরা দেখতে পাওনি। আর তোমরা যা করছিলে আল্লাহ তা দেখছিলেন। যখন তারা তোমাদের উপর দিক ও নিচের দিক থেকে তোমাদের আক্রমণ করতে এসেছিল, আর যখন চোখগুলো স্থির হয়ে গিয়েছিল এবং প্রাণ কণ্ঠাগত হয়েছিল, আর তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানাবিধ ধারণা পোষণ করছিলে। সেখানে মুমিনদের পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং তারা ভীষণভাবে প্রকম্পিত হয়েছিল। আর যখন মুনাফিকরা এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি ছিল তারা বলছিল, 'আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়'।" [আহযাব: ৯-১২]।
আল্লাহর বান্দাগণ! লক্ষ্য করুন সাহাবীগণ কী বলেছিলেন:
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
يقول الله عز وجل: {وَلَمَّا رَأَى الْمُؤْمِنُونَ الْأَحْزَابَ قَالُوا هَذَا مَا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَصَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَمَا زَادَهُمْ إِلَّا إِيمَانًا وَتَسْلِيمًا (22) مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلًا (23)} إلى أن قال رب العزة: {وَرَدَّ اللَّهُ الَّذِينَ كَفَرُوا بِغَيْظِهِمْ لَمْ يَنَالُوا خَيْرًا وَكَفَى اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ الْقِتَالَ وَكَانَ اللَّهُ قَوِيًّا عَزِيزًا (25)} [الأحزاب: 23 - 25].
عباد الله! ومن أسباب الهزيمة:
- حب الدنيا.
- مخالفة الأوامر الشرعية.
ويظهر ذلك يوم أحد، فقد بدأت المعركة بنصر كبير للمسلمين، وخالف الرماة أمر رسول الله ونزلوا من على الجبل فتحول النصر إلى هزيمة فلما تعجب الصحابة لما أصابهم أنزل الله تبارك وتعالى: {أَوَلَمَّا أَصَابَتْكُمْ مُصِيبَةٌ قَدْ أَصَبْتُمْ مِثْلَيْهَا قُلْتُمْ أَنَّى هَذَا قُلْ هُوَ مِنْ عِنْدِ أَنْفُسِكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (165)} [آل عمران: 165].
أنتم السبب، الله أكبر، مخالفة واحدة كان ما كان من تحويل النصر إلى هزيمة؟! نعم، فكيف بنا يا أمة الإِسلام؟ وقد فسدت العقيدة، وترك الكثيرون الصلاة، وأكلنا الربا، وتبرجت النساء، وتركنا صلاة الجماعة، إلا من رحم ربي.
عباد الله! وفي يوم حنين، التفتوا إلى الكثرة، وأعجبتهم كثرتهم؛ فكانت الهزيمة في بداية المعركة ولكن الله سلَّم.
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {যখন মুমিনগণ সম্মিলিত শত্রুবাহিনীকে দেখল, তারা বলল, “এটিই তো তা যার প্রতিশ্রুতি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের দিয়েছিলেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্য বলেছেন।” আর এটি তাদের কেবল ঈমান ও আত্মসমর্পণই বৃদ্ধি করল। মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে। তাদের কেউ কেউ নিজের দায়িত্ব পূর্ণ করেছে (শহীদ হয়েছে), আবার কেউ কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে। তারা তাদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন করেনি।} মহান রব্বুল ইজ্জত আরও বলেন: {আল্লাহ কাফেরদেরকে তাদের ক্ষোভসহ ফিরিয়ে দিলেন, তারা কোনো কল্যাণ লাভ করতে পারেনি। যুদ্ধে মুমিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট ছিলেন। আল্লাহ মহাশক্তিমান, মহাপরাক্রমশালী।} [আল-আহযাব: ২২-২৫]।
আল্লাহর বান্দাগণ! পরাজয়ের অন্যতম কারণসমূহ হলো:
- দুনিয়ার প্রতি আসক্তি।
- শরীয়তের নির্দেশনাসমূহ অমান্য করা।
ওহুদ যুদ্ধের দিন এটি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছিল; যুদ্ধটি মুসলিমদের এক বিশাল বিজয়ের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল, কিন্তু তীরন্দাজগণ যখন রাসূলুল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে পাহাড় থেকে নিচে নেমে এলেন, তখন সেই বিজয় পরাজয়ে রূপান্তরিত হলো। এরপর সাহাবীগণ যখন তাদের ওপর আপতিত বিপদে বিস্মিত হলেন, তখন বরকতময় ও মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {যখন তোমাদের ওপর একটি বিপদ এল, অথচ তোমরা তো এর দ্বিগুণ আঘাত (শত্রুদের) দিয়েছিলে, তখন তোমরা বললে, “এটি কোত্থেকে এল?” আপনি বলুন, “এটি তোমাদের নিজেদের পক্ষ থেকেই।” নিশ্চয়ই আল্লাহ সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।} [আল ইমরান: ১৬৫]।
তোমরাই এর কারণ! আল্লাহু আকবার! মাত্র একটি নির্দেশ অমান্য করার কারণে বিজয় পরাজয়ে রূপ নিল?! হ্যাঁ, তাহলে হে উম্মতে ইসলামিয়া, আমাদের অবস্থা কী হবে? অথচ বর্তমানে আকিদা বা বিশ্বাস কলুষিত হয়েছে, অনেকে সালাত ত্যাগ করেছে, আমরা সুদ খাচ্ছি, নারীরা বেপর্দা হয়ে চলাফেরা করছে এবং আমরা জামাতে সালাত আদায় করা ছেড়ে দিয়েছি—তবে আমার রব যাদের ওপর রহম করেছেন তারা ব্যতীত।
আল্লাহর বান্দাগণ! হুনায়নের যুদ্ধের দিন তারা নিজেদের সংখ্যাধিক্যের ওপর নজর দিয়েছিল এবং তাদের এই সংখ্যাধিক্য তাদের মনে অহমিকা এনে দিয়েছিল; ফলে যুদ্ধের শুরুতে তারা পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছিল, কিন্তু আল্লাহ তাদের রক্ষা করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ولذلك قال الله عز وجل: {لَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ فِي مَوَاطِنَ كَثِيرَةٍ وَيَوْمَ حُنَيْنٍ إِذْ أَعْجَبَتْكُمْ كَثْرَتُكُمْ فَلَمْ تُغْنِ عَنْكُمْ شَيْئًا وَضَاقَتْ عَلَيْكُمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ ثُمَّ وَلَّيْتُمْ مُدْبِرِينَ (25) ثُمَّ أَنْزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَى رَسُولِهِ وَعَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَأَنْزَلَ جُنُودًا لَمْ تَرَوْهَا وَعَذَّبَ الَّذِينَ كَفَرُوا وَذَلِكَ جَزَاءُ الْكَافِرِينَ (26) ثُمَّ يَتُوبُ اللَّهُ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ عَلَى مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ (27)} [التوبة: 25 - 27].
الفائدة الخامسة: دراسة سيرة النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه الكرام؛ زادٌ نافع لكل مسلم.
فالدعاة إلى الله عز وجل يتعلمون كيف يدعون الناس إلى عبادة الله؟
والقائد يتعلم من سيرة النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه كيف تكون القيادة؟
والجندي يتعلم من سيرة النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه كيف تكون الجندية؟
والمربي يتعلم من سيرة النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه كيف تكون التربية؟
فالرسول صلى الله عليه وسلم وأصحابه الكرام ضربوا لنا مثلاً أعلى في ذلك، ولذلك أمرنا الله عز وجل أن نتأسى برسول الله صلى الله عليه وسلم في كل شيء، فقال تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا (21)} [الأحزاب: 21].
وأمرنا الله عز وجل أن نطيعه في كل أمر، قال تعالى: {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَاحْذَرُوا} [المائدة: 92]، وقال تعالى: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} [النساء: 80]، وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ} [النساء: 59].
আর সেই কারণেই আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী বলেছেন: {অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে অনেক ক্ষেত্রে সাহায্য করেছেন এবং হুনায়নের দিনেও; যখন তোমাদের সংখ্যাধিক্য তোমাদেরকে উৎফুল্ল করেছিল, কিন্তু তা তোমাদের কোনো কাজে আসেনি এবং জমিন তার প্রশস্ততা সত্ত্বেও তোমাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল, তারপর তোমরা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করেছিলে। (২৫) এরপর আল্লাহ তাঁর রাসূলের ওপর এবং মুমিনদের ওপর তাঁর পক্ষ থেকে প্রশান্তি নাজিল করলেন এবং এমন সেনাবাহিনী পাঠালেন যাদের তোমরা দেখতে পাওনি এবং কাফেরদের শাস্তি দিলেন; আর এটাই হলো কাফেরদের প্রতিফল। (২৬) এরপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাওবা করার তাওফিক দান করবেন; আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (২৭)} [আত-তাওবাহ: ২৫ - ২৭]।
পঞ্চম উপকারিতা: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণের সীরাত (জীবনী) অধ্যয়ন করা; যা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য এক উপকারী পাথেয়।
ফলে মহান আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীরা শিখতে পারেন যে, তারা কীভাবে মানুষকে আল্লাহর ইবাদতের দিকে ডাকবেন?
নেতৃবৃন্দ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণের সীরাত থেকে শিখতে পারেন যে, নেতৃত্ব কেমন হতে হয়?
সৈনিকগণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণের সীরাত থেকে শিখতে পারেন যে, সৈনিকত্ব কেমন হতে হয়?
শিক্ষক ও লালনকারীরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণের সীরাত থেকে শিখতে পারেন যে, তারবিয়াত বা সঠিক গঠন প্রক্রিয়া কেমন হতে হয়?
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ আমাদের জন্য এ ক্ষেত্রে এক সর্বোচ্চ আদর্শ স্থাপন করেছেন। আর এই কারণেই আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা প্রতিটি বিষয়ে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুসরণ করি। মহান আল্লাহ বলেন: {অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তার জন্য যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে। (২১)} [আল-আহযাব: ২১]।
আর আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী আমাদের প্রতিটি বিষয়ে তাঁর আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো আর সতর্ক থাকো।} [আল-মায়িদাহ: ৯২]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল।} [আন-নিসা: ৮০]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং আনুগত্য করো রাসূলের আর তোমাদের মধ্য হতে উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের)।} [আন-নিসা: ৫৯]।
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وأخبرنا ربنا -جل وعلا- أن في طاعة النبي صلى الله عليه وسلم الهداية إلى كل خير فقال تعالى: {وَإِنْ تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا} [النور: 54].
وحذر ربنا -جل وعلا- المؤمنين من مخالفة أمره فقال تعالى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ (63)} [النور: 63].
وأثنى الله عز وجل على صحابة رسوله صلى الله عليه وسلم وعلى من تبعهم بإحسان قال تعالى: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ} [التوبة: 100].
الفائدة السادسة: أن نتعلم من السيرة أخلاق النبي صلى الله عليه وسلم فالله عز وجل وصفه فقال: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ (4)} [القلم: 4].
فماذا كان خلقه صلى الله عليه وسلم؟
سئلت عائشة رضي الله عنها عن خلق رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت: "كان خلقه القرآن" (1).
الفائدة السابعة: نتعلم من السيرة المعجزات التي أيد الله بها نبيه محمداً صلى الله عليه وسلم.
فمثلاً عندما طلب الكفار آية على صدقة أنه رسول أشار بيده إلى القمر فانشق نصفين، قال تعالى: {اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ (1)} [القمر: 1]، ومع ذلك ما زاد الكفار إلا طغياناً كبيراً.
وقد وضع النبي صلى الله عليه وسلم يده في الإناء ففاض الماء من بين أصابعه إلى غير ذلك من المعجزات التي نتكلم عنها في وقتها سائلين المولى في علاه أن ينفعنا بدراسة هذه السيرة للنبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه الكرام وهذه المواعظ تنقسم إلى قسمين:
القسم الأول: دراسة سيرة النبي صلى الله عليه وسلم وهذا الذي نبدأ به من الجمعة
--------------------------------------------
এবং আমাদের প্রতিপালক —যিনি অতি মহান ও উচ্চমর্যাদাবান— আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্যের মধ্যেই রয়েছে প্রতিটি কল্যাণের হিদায়াত বা পথনির্দেশ। তাই মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করো, তবেই তোমরা হিদায়াত প্রাপ্ত হবে।" [আন-নূর: ৫৪]।
এবং আমাদের প্রতিপালক —যিনি অতি মহান ও উচ্চমর্যাদাবান— মুমিনদেরকে তাঁর (রাসূলের) নির্দেশের বিরোধিতা করা থেকে সতর্ক করেছেন। মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতএব যারা তাঁর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে।" [আন-নূর: ৬৩]।
আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীবৃন্দ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁদের প্রশংসা করেছেন। মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে।" [আত-তাওবাহ: ১০০]।
ষষ্ঠ উপকারিতা: আমরা সীরাত থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চরিত্র সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করব। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর প্রশংসা করে বলেছেন: "আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।" [আল-কালাম: ৪]।
তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চরিত্র কেমন ছিল?
আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "কুরআনই ছিল তাঁর চরিত্র।" (১)।
সপ্তম উপকারিতা: আমরা সীরাত থেকে সেই মুজিযাসমূহ সম্পর্কে জানব যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সাহায্য করেছেন।
উদাহরণস্বরূপ, কাফিররা যখন তাঁর নবী হওয়ার সত্যতার স্বপক্ষে কোনো নিদর্শন দাবি করল, তখন তিনি নিজের হাত দিয়ে চাঁদের দিকে ইশারা করলেন এবং তা দুই খণ্ড হয়ে গেল। মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চাঁদ বিদীর্ণ হয়েছে।" [আল-কামার: ১]। এতদসত্ত্বেও কাফিরদের অবাধ্যতা কেবল বৃদ্ধিই পেয়েছিল।
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পানির পাত্রে তাঁর হাত রেখেছিলেন, তখন তাঁর আঙুলগুলোর মাঝখান থেকে পানি উপচে পড়েছিল। এ জাতীয় আরও অনেক মুজিযা রয়েছে যা নিয়ে আমরা যথাসময়ে আলোচনা করব। আমরা সুউচ্চ মহান প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সম্মানিত সাহাবীদের এই সীরাত অধ্যয়নের মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করেন। আর এই নসিহতগুলো দুই ভাগে বিভক্ত:
প্রথম অংশ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাত বা জীবনী আলোচনা। আর এটি আমরা আগামী জুমা থেকে শুরু করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
القادمة -إن شاء الله تعالى-.
والقسم الثاني (1): دراسة سيرة الصحابة ونبدأ بها -إن شاء الله تعالى- إذا انتهينا من الكلام عن سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم.
اللهم رد المسلمين إلى دينهم رداً جميلاً.
--------------------------------------------
আগামী পর্বে -ইনশাআল্লাহ তাআলা-।
এবং দ্বিতীয় অংশ (১): সাহাবীগণের সীরাত অধ্যয়ন; আমরা তা শুরু করব -ইনশাআল্লাহ তাআলা- যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত নিয়ে আলোচনা সমাপ্ত করব।
হে আল্লাহ! আপনি মুসলিমদেরকে তাদের দ্বীনের পথে সুন্দরভাবে ফিরিয়ে দিন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুবুলুস সালাম মিন সহীহ সীরাতি খয়িরিল আনাম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الخطبة الثانية: صفات النبي صلى الله عليه وسلم ونسبهأيها الإخوة عباد الله! يقول الله عز وجل: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ} [الفتح: 29].
عباد الله! موعدنا في هذا اليوم -إن شاء الله تعالى- مع لقاء جديد من سيرة المصطفى صلى الله عليه وسلم
وحديثنا في هذا اللقاء سيكون حول العناصر التالية:
العنصر الأول: رسولنا صلى الله عليه وسلم أحب إلينا من كل شيء.
العنصر الثاني: رسولنا صلى الله عليه وسلم أشرف الناس نسباً.
العنصر الثالث: رسولنا صلى الله عليه وسلم أحسن الناس خُلُقاً وخَلْقاً.
العنصر الرابع: أسمائه صلى الله عليه وسلم كما جاءت في الكتاب والسنة.
العنصر الأول: رسولنا صلى الله عليه وسلم أحب إلينا من حل شيء.
لأنه قال: "لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحبَّ إليه من والده وولده والناس أجمعين" (1).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় খুতবা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট্য ও বংশপরিচয়হে ভাইয়েরা, আল্লাহর বান্দারা! আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: "মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; এবং যারা তাঁর সাথে রয়েছে তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে দয়াশীল। আপনি তাঁদেরকে রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় দেখবেন, তাঁরা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করেন। তাঁদের চিহ্ন তাঁদের মুখমণ্ডলে সিজদার প্রভাবে বিদ্যমান।" [আল-ফাতহ: ২৯]
আল্লাহর বান্দারা! আজ আমাদের নির্ধারিত বিষয়—ইনশাআল্লাহ তাআলা—হলো মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত বা জীবনী থেকে একটি নতুন আলোচনা।
এই আলোচনায় আমাদের কথাবার্তা হবে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ নিয়ে:
প্রথম বিষয়: আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে সবকিছুর চেয়ে বেশি প্রিয়।
দ্বিতীয় বিষয়: আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বংশমর্যাদার দিক থেকে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত।
তৃতীয় বিষয়: আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চরিত্র ও অবয়বের দিক থেকে মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম।
চতুর্থ বিষয়: কিতাব ও সুন্নাহয় বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামসমূহ।
প্রথম বিষয়: আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে সবকিছুর চেয়ে বেশি প্রিয়।
কারণ তিনি বলেছেন: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, তার সন্তান এবং সমস্ত মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় হই।" (১)
--------------------------------------------