(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
ما شاع ولم يثبت في السيرة النبوية القسم: السيرة النبوية
الكتاب: ما شاع ولم يثبت في السيرة النبوية
المؤلف: د محمد بن عبد الله العوشن
الناشر: دَارُ طَيبة
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 14 رمضان 1434
সীরাতুন নবী (সা.)-এর যে বিষয়গুলো প্রচলিত কিন্তু প্রমাণিত নয় বিভাগ: সীরাতুন নবী (সা.)
কিতাব: সীরাতুন নবী (সা.)-এর যে বিষয়গুলো প্রচলিত কিন্তু প্রমাণিত নয়
লেখক: ড. মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আওশান
প্রকাশক: দারু তয়্যেবা
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৪ রমজান ১৪৩৪
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
ما شاع ولم يثبت في السيرة النبوية
تَألِيفُ
محمَّد بن عَبد الله العوشن
دَارُ طَيبة
সীরাতুন্নববীতে প্রচলিত কিন্তু অপ্রমাণিত বিষয়সমূহ
রচনায়
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আউশান
দারু তাইয়িবাহ
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
المقَدِّمَةالحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله
وبعد، فهذا بعض (ما شاع ولم يثبت في السيرة النبوية) على صاحبها أفضل الصلاة والسلام، ولم أتقصّد ذكر جميع المرويات الضعيفة فيها، فهي كثيرة جدًا، لكني اقتصرت على أشهر المرويات، التي يكثر ورودها في كتب السيرة والمغازي.
والهدف من ذلك تنقية السيرة من هذه الأخبار التي لم تثبت، وكما عمل المحدّثون على تنقية الحديث النبوي، ونخله؛ لتمييز صحيحه من سقيمه، كذلك فإنّ من الواجب عمل ذلك في هذه السيرة العطرة، وما أجمل ما قاله الإِمام عبد الله بن المبارك رحمه الله: "في صحيح الحديث غُنية عن سقيمه" فكذلك في صحيح السيرة ما يغني عن سقيمها.
ومما ينبغي أنّ يُعلم أن الشهرة والتداول للقصة، أو الرواية ليس دليلًا على ثبوتها، "فلا تلازم بين الشهرة والصحة (1) "."ولا يعني ذلك نفي وقوع الأمر تاريخيًا، بل عدم ثبوته فقط" (2)، ومن المعروف أن أكثر مرويات السيرة من طريق الإِمام محمَّد بن إسحاق رحمه الله إمام أهل السيرة والمغازي، ومَنْ بعده ناقل عنه في الغالب (3)، وابن إسحاق تكلّم فيه علماء الجرح والتعديل، وفي حفظه، وضبطه، وبيّنوا أنه حسن الحديث خاصة في السيرة، ما لم يُعنعن، لأنه قد عُرف بالتدليس، قال الإِمام البيهقي رحمه الله: "الحفّاظ يتوقّون ما ينفرد به ابن إسحاق" (4).
--------------------------------------------
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রাসূলের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর, এটি সীরাতুন নবী (যার ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর অন্তর্ভুক্ত এমন কিছু বর্ণনা যা (প্রচলিত কিন্তু প্রমাণিত নয়)। আমি এতে সমস্ত দুর্বল বর্ণনাগুলো উল্লেখ করার সংকল্প করিনি, কারণ সেগুলো সংখ্যায় অনেক বেশি। বরং আমি কেবল সেই প্রসিদ্ধ বর্ণনাগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি, যেগুলোর উল্লেখ সীরাত ও মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে অধিক পরিমাণে পাওয়া যায়।
এর উদ্দেশ্য হলো সীরাতকে এমন সব খবর থেকে পরিচ্ছন্ন করা যা প্রমাণিত নয়। মুহাদ্দিসগণ যেভাবে নবীজির হাদিসসমূহকে পরিশুদ্ধ করেছেন এবং সহীহ ও যয়ীফের মাঝে পার্থক্য করার জন্য চালুনির মতো ছেঁকেছেন; তেমনিভাবে এই সুগন্ধিময় সীরাতের ক্ষেত্রেও তা করা একান্ত কর্তব্য। ইমাম আবদুল্লাহ বিন মুবারক (রহিমাহুল্লাহ) কতই না চমৎকার বলেছেন: "সহীহ হাদিস যয়ীফ হাদিসের মুখাপেক্ষিতা দূর করে দেয়"। তেমনিভাবে সহীহ সীরাতও যয়ীফ সীরাতের প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়।
আরও জানা উচিত যে, কোনো গল্প বা বর্ণনার প্রসিদ্ধি এবং লোকমুখে চর্চা হওয়া তার প্রমাণের দলিল নয়। "প্রসিদ্ধি ও বিশুদ্ধতার মধ্যে কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই (১)।" "এবং এর অর্থ এই নয় যে ঘটনাটি ঐতিহাসিকভাবে ঘটা অস্বীকার করা হচ্ছে, বরং এটি কেবল প্রমাণিত না হওয়াকেই বুঝায়" (২)। এটি সর্বজনবিদিত যে সীরাতের অধিকাংশ বর্ণনা ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক (রহিমাহুল্লাহ)-এর সূত্রে বর্ণিত, যিনি সীরাত ও মাগাযী শাস্ত্রের ইমাম ছিলেন এবং তাঁর পরবর্তীগণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁর কাছ থেকেই বর্ণনা গ্রহণ করেছেন (৩)। জরাহ ও তা'দীল (বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন) বিশেষজ্ঞ উলামায়ে কেরাম ইবনে ইসহাক সম্পর্কে এবং তাঁর মুখস্থ শক্তি ও নির্ভুলতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁরা বর্ণনা করেছেন যে তিনি বিশেষ করে সীরাত শাস্ত্রের ক্ষেত্রে 'হাসান' স্তরের হাদিস বর্ণনাকারী, যতক্ষণ না তিনি 'আনাআনা' (عنعنة) করেন। কারণ তিনি 'তাদলীস' (تدليس) করার জন্য পরিচিত ছিলেন। ইমাম বায়হাকী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "হাফেজগণ (হাদিস বিশারদগণ) ইবনে ইসহাকের একক বর্ণনাগুলো থেকে সতর্কতা অবলম্বন করেন" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
قال الإِمام الذهبي رحمه الله: "الذي استقر عليه الأمر أن ابن إسحاق صالح الحديث، وأنه في المغازي أقوى منه في الأحكام (5) ".
وأكثر هذه المرويات قد أشار أهل العلم رحمهم الله إلى ضعفها، وعدم ثبوتها، ومن أجل من نقدها، وبيّن حالها: مؤرخ الإِسلام الإِمام الحافظ أبو عبد الله الذهبي رحمه الله خاصة في كتابيه العظيمين: (تاريخ الإِسلام) و (سير أعلام النبلاء)، ثم تبعه على ذلك: تلميذه الإِمام الحافظ إسماعيل ابن كثير رحمه الله في تاريخه المشهور: (البداية والنهاية) في القسم الخاصّ بالسيرة، وهو من أطول المصنّفات في السيرة النبوية، وأكثرها فائدة. وكذا الإِمام الحافظ أحمد بن حجر العسقلاني رحمه الله خاصة في كتابه العُجاب: (فتح الباري) وكتابه: (الإصابة).
ومن المعاصرين: الشيخ الإِمام الألباني، خاصة في سلسلتيه النافعتين: الصحيحة، والضعيفة، وكتابه: (إرواء الغليل) وكتابه في الردّ على البوطي ومنهم الدكتور الفاضل: أكرم العمري، خاصة في كتابه: (السيرة النبوية الصحيحة). والشيخ محمَّد رزق بن طرهوني، في كتابه: (السيرة الذهبية).
وقد حرصت عند تضعيف إحدى الروايات أن أُبيّن ما يغني عنها مما صحّ. وأنا راجع عن كل رواية تبيّن ثبوتها، فالحكمة ضالة المؤمن، والحقّ أحقّ أن يُتّبع والتزمت -غالبًا- أن أُصلي على النبي صلى الله عليه وسلم عند ذكره، وأنّ أترضّى عن الصحابة رضي الله عنهم، وأترحّم على أهل العلم رحمهم الله، مستحضرًا المقولة اللطيفة التي قالها أبو محمَّد التميمي رحمه الله: "ما لكم تأخذون العلم عنّا وتستفيدونه منّا ثم لا تترحمون علينا؟ (6) ".
والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات.
محمد بن عبد الله العوشن
الرياض في 1/ 7/ 1428 هـ
ص. ب 25663
الرياض 11476
mo_aloshan@yahoo.com
--------------------------------------------
ইমাম আয-যাহাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যে বিষয়টি স্থির হয়েছে তা হলো, ইবনে ইসহাক হাদিসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য, এবং তিনি আহকামের (বিধান) তুলনায় মাগাজির (যুদ্ধাভিযান) ক্ষেত্রে অধিক শক্তিশালী (৫)।"
আর এই বর্ণনাগুলোর অধিকাংশের ক্ষেত্রেই বিদ্বানগণ (রাহিমাহুল্লাহ) সেগুলোর দুর্বলতা এবং অপ্রমাণিত হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। যারা এগুলোর সমালোচনা করেছেন এবং এগুলোর অবস্থা বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য হলেন: ইসলামের ইতিহাসবিদ ইমাম হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আয-যাহাবি (রাহিমাহুল্লাহ), বিশেষ করে তাঁর মহান গ্রন্থদ্বয়: (তারিখুল ইসলাম) ও (সিয়ারু আলামিন নুবালা)-তে। অতঃপর তাঁর অনুসরণ করেছেন তাঁর ছাত্র ইমাম হাফেজ ইসমাইল ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর প্রসিদ্ধ ইতিহাস গ্রন্থ: (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া)-এর সিরাত সংক্রান্ত অংশে, যা নবীজির সিরাতের ওপর রচিত দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে উপকারী সংকলনগুলোর একটি। অনুরূপভাবে ইমাম হাফেজ আহমদ বিন হাজার আল-আসকালানি (রাহিমাহুল্লাহ), বিশেষ করে তাঁর বিস্ময়কর গ্রন্থ: (ফাতহুল বারি) ও তাঁর গ্রন্থ: (আল-ইসাবাহ)-তে।
সমসাময়িকদের মধ্যে রয়েছেন: ইমাম শায়খ আল-আলবানি, বিশেষ করে তাঁর উপকারী দুটি ধারাবাহিক গ্রন্থ: আস-সাহীহাহ এবং আদ-দাঈফাহ-তে, এবং তাঁর গ্রন্থ: (ইরওয়াউল গালিল) ও আল-বুতীর খণ্ডনে রচিত তাঁর গ্রন্থে। তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন সম্মানিত ডক্টর: আকরাম আল-উমারি, বিশেষ করে তাঁর গ্রন্থ: (আস-সিরাতুন নববীয়্যাহ আস-সহীহাহ)-তে। এবং শায়খ মুহাম্মদ রিজক বিন তারহুনি, তাঁর গ্রন্থ: (আস-সিরাতুয যাহাবিয়্যাহ)-তে।
কোনো বর্ণনাকে দুর্বল বলার সময় আমি তার পরিবর্তে সহীহ যা আছে তা বর্ণনা করার চেষ্টা করেছি। আর কোনো বর্ণনা প্রমাণিত হওয়া স্পষ্ট হলে আমি তা থেকে ফিরে আসতে প্রস্তুত, কেননা প্রজ্ঞা মুমিনের হারানো সম্পদ, আর সত্যই অনুসরণের অধিক যোগ্য। আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নাম উল্লেখ করার সময় দরুদ পাঠ করা, সাহাবায়ে কিরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর জন্য সন্তুষ্টির দুআ করা এবং বিদ্বানগণের (রাহিমাহুল্লাহ) জন্য রহমতের দুআ করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি; আবু মুহাম্মদ আত-তামিমি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সেই সূক্ষ্ম উক্তিটি স্মরণ করে, যা তিনি বলেছিলেন: "তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আমাদের থেকে ইলম গ্রহণ করো এবং আমাদের থেকে উপকৃত হও, অথচ আমাদের জন্য রহমতের দুআ করো না? (৬)"।
আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে নেক কাজসমূহ পূর্ণতা পায়।
মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আওশান
রিয়াদ, ১/ ৭/ ১৪২৮ হিজরি
ডাক বাক্স ২৫৬৬৩
রিয়াদ ১১৪৭৬
mo_aloshan@yahoo.com
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
تحديد ميلاده (*) الشريف صلى الله عليه وسلم -
المشهور عند الجمهور أنه صلى الله عليه وسلم وُلد عام الفيل. فقيل: بعده بشهر، وقيل: بأربعين يومًا، وقيل: بخمسين، قال السهيلي (1) وابن كثير (2): وهو أشهر. وقيل: إنه ولد بعد عام الفيل بعشر سنين، وقيل: ثلاث وعشرين سنة، وقيل: ثلاثين.
قال الذهبي: "وقال أبو أحمد الحاكم: وُلد بعد الفيل بثلاثين يومًا، قاله بعضهم. قال: وقيل بعده بأربعين يومًا. قلت (الذهبي): لا أُبعد أنّ الغلط وقع من هنا على من قال ثلاثين عامًا أو أربعين عامًا، فكأنه أراد أن يقول: يومًا فقال: عامًا" (3). ومما يؤكد أنه ولد عام الفيل ما رواه ابن إسحاق قال: حدثني المطلب بن عبد الله بن قيس بن مخرمة عن أبيه عن جده قيس بن مخرمه قال: "وُلدتُ أنا ورسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفيل، فنحن لِدَتان (4) " قال الذهبي في (تاريخ الإِسلام): إسناده حسن (5).
وروى ابن سعد عن يّحي بن معين قال: أخبرنا حجاج بن محمَّد قال: أخبرنا يونس بن أبي إسحاق [عن أبيه] (**) عن سعيد بن جبير عن ابن عباس قال: "ولد
--------------------------------------------
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানিত জন্মকাল (*) নির্ধারণ -
জমহুর বা অধিকাংশ আলিমের নিকট প্রসিদ্ধ এই যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্তিবর্ষে জন্মগ্রহণ করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন: হস্তিবর্ষের এক মাস পরে, কেউ বলেছেন: চল্লিশ দিন পরে, আবার কেউ বলেছেন: পঞ্চাশ দিন পরে; আস-সুহায়লি (১) ও ইবনে কাসির (২) বলেন: এটিই সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। আবার বলা হয়েছে: তিনি হস্তিবর্ষের দশ বছর পরে জন্মগ্রহণ করেছেন; কেউ বলেছেন: তেইশ বছর পরে, আবার কেউ বলেছেন: ত্রিশ বছর পরে।
আয-যাহাবি বলেন: "আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেছেন: তিনি হস্তিবর্ষের ত্রিশ দিন পরে জন্মগ্রহণ করেছেন, যা কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: আবার কেউ বলেছেন এর চল্লিশ দিন পরে। আমি (যাহাবি) বলি: যারা ত্রিশ বছর বা চল্লিশ বছর বলেছেন, তাদের ক্ষেত্রে ভুলটি সম্ভবত এখান থেকেই ঘটেছে; যেন বর্ণনাকারী 'দিন' বলতে চেয়েছিলেন কিন্তু ভুলবশত 'বছর' বলে ফেলেছেন।" (৩)। তিনি যে হস্তিবর্ষেই জন্মগ্রহণ করেছেন তার একটি শক্তিশালী প্রমাণ হলো ইবনে ইসহাক যা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমার নিকট মুত্তালিব ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কায়স ইবনে মাখরামাহ তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা কায়স ইবনে মাখরামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি এবং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্তিবর্ষে জন্মগ্রহণ করেছি, তাই আমরা সমবয়সী (৪)।" আয-যাহাবি 'তারিখুল ইসলাম'-এ বলেন: এর সনদ হাসান (৫)।
ইবনে সাদ ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাজ্জাজ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইউনুস ইবনে আবি ইসহাক [তার পিতা থেকে] (**) সাঈদ ইবনে জুবায়েরের সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الفيل، يعني عام الفيل (6) " وساقه الذهبي بسنده في: (تاريخ الإِسلام) وقال: صحيح (7).
وهذا يكاد يكون مجمعًا عليه عند أهل العلم. قال خليفة بن خياط في تاريخه: "والمجمع عليه عام الفيل" (8). وقال ابن القيم في (الزاد): "لا خلاف أنه ولد بجوف مكة وأن مولده عام الفيل" (9).
وصحّ عن عائشة رضي الله عنها أنها قالت: "لقد رأيت قائد الفيل وسائسه بمكة أعمييْن مقعديْن يستطعمان الناس" (10).
أما الشهر فالجمهور أيضًا على أنه في ربيع الأول، وقيل: في رمضان. قال ابن كثير: "نقله ابن عبد البر عن الزبير بن بكار، وهو قول غريب جدًا" (11).
أما اليوم فقد ثبت في الحديث عن أبي قتادة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل عن صوم يوم الاثنين فقال: "ذلك يوم وُلدت فيه ويوم بُعثت أو أنزل عليّ فيه" (12).
أما تاريخ ذلك اليوم، فقال ابن كثير: "قيل لليلتين خلتا منه (ربيع الأول) قاله ابن عبد البر في الاستيعاب، ورواه الواقدي: عن أبي معشر نجيح بن عبد الرحمن المدني وقيل: لثمان خلون منه حكاه الحميدي عن ابن حزم ورواه مالك وعُقيل ويونس بن يزيد وغيرهم عن الزهري عن محمَّد بن جبير بن مطعم، ونقل ابن عبد البر عن أصحاب التاريخ أنهم صححوه، وقطع به الحافظ
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাতির দিনে, অর্থাৎ হাতির বছরে (৬) জন্মগ্রহণ করেন। আয-যাহাবি তাঁর সনদের মাধ্যমে এটি 'তারিখুল ইসলাম'-এ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি সহিহ (৭)।
এটি আলেমদের নিকট প্রায় সর্বসম্মত বিষয়। খলিফা ইবনে খাইয়াত তাঁর ইতিহাসে বলেছেন: "সর্বসম্মত মত হলো হাতির বছর" (৮)। ইবনুল কায়্যিম 'যাদ' গ্রন্থে বলেছেন: "এতে কোনো মতভেদ নেই যে তিনি মক্কার অভ্যন্তরে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং তাঁর জন্ম হাতির বছরে" (৯)।
আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আমি মক্কায় হাতির চালক ও তার দেখাশোনাকারীকে অন্ধ ও পঙ্গু অবস্থায় মানুষের কাছে খাবার ভিক্ষা করতে দেখেছি" (১০)।
মাসের ব্যাপারে জুমহুর (অধিকাংশ) আলেমও একমত যে তা রবিউল আউয়াল মাসে, তবে বলা হয়েছে: রমজান মাসে। ইবনে কাসির বলেছেন: "ইবনে আব্দুল বার এটি যুবাইর ইবনে বাক্কার থেকে বর্ণনা করেছেন, যা অত্যন্ত বিরল একটি মত" (১১)।
দিনের ব্যাপারে আবু কাতাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন: "এটি সেই দিন যে দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং যে দিনে আমাকে (নবী হিসেবে) পাঠানো হয়েছে অথবা আমার ওপর (কুরআন) অবতীর্ণ করা হয়েছে" (১২)।
সেই দিনের তারিখের ব্যাপারে ইবনে কাসির বলেছেন: "বলা হয়েছে যে, (রবিউল আউয়াল) মাসের দুই রাত অতিবাহিত হওয়ার পর; এটি ইবনে আব্দুল বার 'আল-ইস্তিআব'-এ উল্লেখ করেছেন এবং ওয়াকিদি এটি আবু মা'শার নাজিহ ইবনে আব্দুর রহমান আল-মাদানি থেকে বর্ণনা করেছেন। আবার বলা হয়েছে: আট দিন অতিবাহিত হওয়ার পর; এটি আল-হুমাইদি ইবনে হাজম থেকে বর্ণনা করেছেন এবং মালিক, উকাইল, ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ ও অন্যান্যরা ইমাম যুহরি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জুবাইর ইবনে মুতয়িম থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আব্দুল বার ঐতিহাসিকদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে তারা একে সহিহ বলেছেন এবং হাফেজ এটি নিশ্চিত করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الكبير محمَّد بن موسى الخوارزمي، ورجحه الحافظ أبو الخطاب بن دحية في كتابه (التنوير في مولد البشير النذير) وقيل: لعشر خلون منه، ورواه ابن عساكر عن أبي جعفر الباقر، ورواه مجالد عن الشعبي. وقيل: لثنتي عشرة خلت منه نصّ عليه ابن إسحاق، ورواه أبي شيبة في مصنفه عن عفان عن سعيد بن مينا عن جابر وابن عباس أنهما قالا: "ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفيل يوم الاثنين الثاني عشر من شهر ربيع الأول وفيه بُعث وفيه عُرج به إلى السماء وفيه هاجر وفيه مات" وهذا هو المشهور عند الجمهور والله أعلم. وقيل: لسبعة عشر خلت منه، كما نقله ابن دحية عن بعض الشيعة. وقيل: لثمان بقين منه نقله ابن دحية من خط الوزير أبي رافع بن الحافظ أبي محمَّد بن حزم عن أبيه، والصحيح عن ابن حزم الأول أنه لثمان مضين منه كما نقله الحُميدي، وهو أثبت (13) ".
فهذه ستة أقوال ذكرها ابن كثير ولا يستند أي قول منها لحديث صحيح، وحديث جابر وابن عباس في تحديده بالثاني عشر لو صحّ لكان فيصلًا في النزاع لكنه ضعيف. قال ابن كثير: "فيه انقطاع" (14). وبما أنه لم يثبت تحديد تاريخ المولد فلا بأس من الاستئناس بأقوال أهل الفلك، فقد ذهب غير واحد منهم إلى تحديده باليوم التاسع أو ليلة التاسع من ربيع الأول. مثل: الأستاذ محمود باشا الفلكي (ت 1302 هـ) (15) كما في هامش (الكامل في التاريخ) (16) لابن الأثير. والأستاذ محمَّد سليمان المنصور فوري.
--------------------------------------------
মহান মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি; এবং হাফেজ আবু আল-খাত্তাব ইবনে দিহইয়াহ তাঁর 'আত-তানভীর ফি মাওলিদিল বাশির আন-নাজির' গ্রন্থে একে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আর বলা হয়েছে: মাসের দশ তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পর; এটি ইবনে আসাকির আবু জাফর আল-বাকির থেকে বর্ণনা করেছেন এবং মুজালিদ আশ-শাবি থেকে বর্ণনা করেছেন। আরও বলা হয়েছে: মাসের বারো তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পর; ইবনে ইসহাক এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে আবি শাইবাহ তাঁর 'মুসান্নাফ' গ্রন্থে আফফান থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে মিনা থেকে, তিনি জাবির ও ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতির বছর রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখ সোমবার জন্মগ্রহণ করেন, এই দিনেই তিনি নবুওয়াতপ্রাপ্ত হন, এই দিনেই তাঁকে আকাশে মিরাজে নিয়ে যাওয়া হয়, এই দিনেই তিনি হিজরত করেন এবং এই দিনেই তিনি ইন্তেকাল করেন।" জমহুর বা সংখ্যাধিক্য আলেমদের নিকট এটিই প্রসিদ্ধ, আর আল্লাহই ভালো জানেন। এবং বলা হয়েছে: মাসের সতের তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পর, যেমনটি ইবনে দিহইয়াহ কতিপয় শিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন। আবার বলা হয়েছে: মাসের আট দিন অবশিষ্ট থাকতে; এটি ইবনে দিহইয়াহ উজির আবু রাফি ইবনে হাফেজ আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজমের হাতের লেখা থেকে তাঁর বাবার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তবে ইবনে হাজমের নিকট প্রথম মতটিই সঠিক যে, এটি ছিল আট দিন অতিবাহিত হওয়ার পর, যেমনটি হুমাইদি বর্ণনা করেছেন এবং এটিই অধিকতর প্রমাণিত (১৩)।
এই হলো ইবনে কাসির বর্ণিত ছয়টি বক্তব্য, যার কোনটিই কোনো সহিহ হাদিসের ওপর নির্ভরশীল নয়। আর বারো তারিখ নির্ধারণে জাবির ও ইবনে আব্বাসের হাদিসটি যদি সহিহ হতো তবে তা বিরোধ নিষ্পত্তিতে চূড়ান্ত ফয়সালা হতো, কিন্তু এটি দুর্বল। ইবনে কাসির বলেন: "এতে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে" (১৪)। যেহেতু জন্মের নির্দিষ্ট তারিখ প্রমাণিত নয়, তাই জ্যোতির্বিদদের বক্তব্যের সাহায্য নিতে কোনো অসুবিধা নেই। তাঁদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি একে রবিউল আউয়াল মাসের নয় তারিখ বা নয় তারিখের রাত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। যেমন: উস্তাদ মাহমুদ পাশা আল-ফালাকি (মৃত্যু ১৩০২ হিজরি) (১৫), যেমনটি ইবনে আল-আসিরের (আল-কামিল ফিত তারিখ) (১৬)-এর টীকায় রয়েছে; এবং উস্তাদ মুহাম্মদ সুলাইমান আল-মানসুরপুরী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
كما نقل ذلك صاحب (الرحيق المختوم) (17). قال الفلكي الأستاذ عبد الله بن إبراهيم بن محمَّد السليم في كتابه: (تقويم الأزمان) في تحقيق مولد النبي صلى الله عليه وسلم ما نصه "لقد جاء في كتب التاريخ والسيرة أن النبي صلى الله عليه وسلم ولد يوم الاثنين لعشر خلون من ربيع الأول وقيل لثمان خلون منه وقيل لثنتي عشرة منه وأخذ بذلك جمهور العلماء. وقد ثبت بما لا يّحتمل الشك من النقل الصحيح أن ولادته صلى الله عليه وسلم كانت في20 نيسان إبريل سنة 571 هـ عام الفيل
… كما ثبت من طريق النقل الصحيح أنه وفاته صلى الله عليه وسلم كانت في 13 ربيع الأول سنة 11 من الهجرة وأنه يوافق 8 حزيران سنة 632. وما دامت هذه التواريخ ثابتة ومعروفة فبالإمكان معرفة يوم ولادته ويوم وفاته صلى الله عليه وسلم بالدقة، وكذلك مقدار عمره. وبتحويل السنين الرومية إلى أيام فإنها تكون 22330 وبتحويل هذه الأيام إلى سنين قمرية كل سنة 11/ 20 (354) فإنه يكون عمره صلى الله عليه وسلم 63 سنة وحوالي 3 أيام ويتفق هذا مع قول الجمهور على أن مبدأ التاريخ الهجري 16 تموز حسب الرؤية، وبالحساب 15 تموز يتفق مع 1/ 1/1 هـ مع اليوم الأول من شهر محرم أول سنة أُرِّخ فيها التاريخ الهجري وعلى هذا فتكون ولادته صلى الله عليه وسلم يوم الاثنين الموافق 9 ربيع الأول سنة 53 قبل الهجرة، ويوافق 20 نيسان إبريل سنة 571 هـ نقلًا وحسابًا" (18).
قال الشيخ محمَّد بن عثيمين رحمه الله: "وقد حقق بعض الفلكيين المتأخرين ذلك (أي مولده صلى الله عليه وسلم) فكان اليوم التاسع لا في اليوم الثاني عشر" (19).
لقد أخبر صلى الله عليه وسلم أنه ولد يوم الاثنين - كما سبق - مع أنه لم يُسأل عن ذلك، وإنما سئل عن صوم يوم الاثنين فأخبر أنه ولد في ذلك اليوم، فصار لصوم الاثنين ثلاث خصال: أنه يوم تُعرض فيه الأعمال على الله - وكَذلك يوم
--------------------------------------------
যেমনটি (আর-রাহীকুল মাখতূম) (১৭) এর রচয়িতা বর্ণনা করেছেন। জ্যোতির্বিজ্ঞানী উস্তাদ আবদুল্লাহ বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আস-সুলাইম তাঁর (তাকবীমুল আযমান) গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম তারিখ যাচাই করতে গিয়ে যা বলেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ: "ইতিহাস ও সীরাত গ্রন্থে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রবিউল আউয়াল মাসের দশম তারিখ সোমবার জন্মগ্রহণ করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে অষ্টম তারিখে এবং আরও বলা হয় দ্বাদশ তারিখে, আর জমহুর ওলামায়ে কেরাম এটিই গ্রহণ করেছেন। বিশুদ্ধ বর্ণনার মাধ্যমে যা সন্দেহের অবকাশ নেই এমনভাবে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম হস্তিবর্ষের ৫৭১ খ্রিস্টাব্দের ২০শে এপ্রিল হয়েছিল
… যেমনটি বিশুদ্ধ বর্ণনার সূত্রে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু হিজরি ১১ সনের ১৩ই রবিউল আউয়াল তারিখে ছিল এবং তা ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের ৮ই জুনের সাথে মিলে যায়। যেহেতু এই তারিখগুলো সাব্যস্ত এবং সুপরিচিত, তাই তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম ও মৃত্যুর দিন এবং সেইসাথে তাঁর বয়সের পরিমাণ সুনির্দিষ্টভাবে জানা সম্ভব। রোমান বছরগুলোকে দিনে রূপান্তর করলে তা হয় ২২৩৩০ দিন। আর এই দিনগুলোকে চান্দ্র বছরে রূপান্তর করলে (প্রতি বছর ৩৫৪ দিন ১১/২০ অংশ হিসেবে) তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স হয় ৬৩ বছর এবং প্রায় ৩ দিন। এটি জমহুর বা অধিকাংশের মতের সাথে মিলে যায় যে, হিজরি বর্ষের শুরু দর্শনের ভিত্তিতে ১৬ই জুলাই এবং গণনার ভিত্তিতে ১৫ই জুলাই, যা হিজরি সনের প্রথম বছরের মহরম মাসের প্রথম দিনের সাথে অর্থাৎ ১/১/১ হিজরির সাথে মিলে যায়। আর এই ভিত্তিতে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম হিজরতপূর্ব ৫৩ সনের ৯ই রবিউল আউয়াল সোমবার ছিল, যা বর্ণনা এবং গণনা অনুযায়ী ৫৭১ খ্রিস্টাব্দের ২০শে এপ্রিলের সাথে মিলে যায়" (১৮)।
শাইখ মুহাম্মাদ বিন উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "পরবর্তী সময়ের কোনো কোনো জ্যোতির্বিজ্ঞানী এটি (অর্থাৎ তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম) যাচাই করেছেন এবং তা দ্বাদশ তারিখ নয় বরং নবম তারিখ ছিল" (১৯)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি সোমবার জন্মগ্রহণ করেছেন - যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে - যদিও তাঁকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়নি। বরং তাঁকে সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি জানিয়েছিলেন যে তিনি সেই দিনে জন্মগ্রহণ করেছেন। ফলে সোমবারের রোজার তিনটি বৈশিষ্ট্য সাব্যস্ত হলো: এটি এমন একটি দিন যেদিন আল্লাহর কাছে আমলসমূহ পেশ করা হয় - এবং একইভাবে এটি এমন দিন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الخميس -، وأنه يوم وُلد فيه الرسول صلى الله عليه وسلم ويوم أُنزل عليه فيه. لكنه صلى الله عليه وسلم لم يذكر تاريخ مولده، ولم يسأله صحابته رضي الله عنهم عن ذلك - وهم أحرص الناس على الخير- لأنه لا يترتب على ذلك شيء، ولو كان هناك من خير في معرفة ميلاده الشريف صلى الله عليه وسلم لما كان له أن يكتمه -وحاشاه- عن أمته.
والذين يحتفلون بميلاده في الثاني عشر من ربيع الأول من كل عام، إنما يحتفلون بيوم وفاته صلى الله عليه وسلم فالمشهور أنه مات في الثاني عشر من ربيع الأول عام إحدى عشرة كما ذكر ذلك الحافظ ابن حجر (20)، وغيره.
تذييل: لايخفى على المنصف بدعية الاحتفال بالمولد، ولو سلّمنا بحسن النية لبعض من يفعله، فإنه قد افتقد الشرط الآخر لقبول الأعمال، وهو المتابعة. أما ما يحصل في بعض هذه الموالد من منكرات وفجور، فانظر نموذجًا منه، ذكره المقريزي (845 هـ) في: (درر العقود الفريدة) فقال في ترجمة إسماعيل بن يوسف الإنبابي (2/ 501): " .. وصار يعمل المولد النبوي كل سنة .. فأذكر أنه عمل المولد على عادته في شهر ربيع الأول من سنة تسع وتسعين وسبعمائة، فهرع الناس لحضور المجتمع، حتى غصّ الفضاء بكثرة العالم، وتنوعوا تلك الليلة في الفسق، لكثرة اختلاط النسوان والمردان بأهل الخلاعة، فتواتر الخبر أنه وُجد في صبيحة تلك الليلة من جرار الخمر التي شُربت بالليل فوق الخمسين، فارغة ملقاة حول الزاوية في المزارع، وافتضت تلك الليلة عدة أبكار، وأُوقدت شموع بمال كبير، فبعث الله يوم الأحد، بكرة صباح ليلة المولد المذكور قاصفًا من الريح كدّرت على من كان هناك، وسفت في وجوههم التراب، واقتلعت الخيام .. "
--------------------------------------------
বৃহস্পতিবার—এবং এটি সেই দিন যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং যাতে তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হয়েছিল। কিন্তু তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্মের নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করেননি এবং তাঁর সাহাবীগণও (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)—যাঁরা কল্যাণের প্রতি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন—তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেননি। কারণ এর ওপর কোনো কিছু (শরয়ী বিধান) নির্ভর করে না। আর যদি তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানিত জন্ম তারিখ জানার মধ্যে কোনো কল্যাণ থাকত, তবে তিনি তা তাঁর উম্মত থেকে কখনো গোপন করতেন না—তা থেকে তিনি পবিত্র।
আর যারা প্রতি বছর রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখে তাঁর জন্মোৎসব পালন করে, তারা মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুদিবসই পালন করে। কারণ প্রসিদ্ধ মত হলো তিনি এগারো হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখে মৃত্যুবরণ করেছেন, যেমনটি হাফেজ ইবনে হাজার (২০) এবং অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন।
পরিশিষ্ট: ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির কাছে জন্মোৎসব (মিলাদ) পালনের বিদআত হওয়ার বিষয়টি অস্পষ্ট নয়। এমনকি যারা এটি পালন করে তাদের কারো কারো নিয়তের বিশুদ্ধতাকে যদি আমরা মেনেও নিই, তবুও আমল কবুল হওয়ার অপর শর্তটি তারা হারিয়েছে, আর তা হলো (সুন্নতের) অনুসরণ। আর এই সব মিলাদ মাহফিলের কোনো কোনোটিতে যে সকল গর্হিত কাজ ও পাপাচার সংঘটিত হয়, তার একটি নমুনা দেখুন যা আল-মাকরিজি (৮৪৫ হি.) তাঁর 'দুরারুল উকুদ আল-ফারিদাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি ইসমাইল ইবনে ইউসুফ আল-ইনবাবীর জীবনীতে (২/৫০১) বলেছেন: "...সে প্রতি বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মোৎসব পালন করতে শুরু করল... এরপর আমি স্মরণ করছি যে, সে তার অভ্যাস অনুযায়ী সাতশত নিরানব্বই হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করল। মানুষ সেই সমাবেশে উপস্থিত হতে দলে দলে ছুটে আসতে লাগল, এমনকি সেই বিশাল জনসমাগমে পুরো ময়দান সংকীর্ণ হয়ে পড়ল। সেই রাতে তারা বিভিন্ন ধরনের পাপাচারে লিপ্ত হলো, কারণ সেখানে লম্পটদের সাথে নারী ও কিশোরদের ব্যাপক সংমিশ্রণ ঘটেছিল। ধারাবাহিকভাবে এই সংবাদ পৌঁছাল যে, সেই রাতের পরদিন সকালে মদের পঞ্চাশটিরও বেশি কলস পাওয়া গিয়েছিল যা রাতে পান করা হয়েছিল এবং সেগুলো খালি অবস্থায় খানকার চারপাশের আবাদি জমিতে পড়ে ছিল। সেই রাতে বেশ কয়েকজন কুমারীর সতীত্ব হরণ করা হয়েছিল এবং প্রচুর অর্থ ব্যয়ে মোমবাতি জ্বালানো হয়েছিল। ফলে আল্লাহ তাআলা রবিবার দিন, উল্লিখিত মিলাদের রাতের পর ভোরে, একটি প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া পাঠালেন যা সেখানে উপস্থিতদের ওপর বিপর্যয় নিয়ে এল, তাদের মুখে ধুলোবালি নিক্ষেপ করল এবং তাবুগুলো উপড়ে ফেলল..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
جلوسة صلى الله عليه وسلم وهو صغير على فراس جدّهروى ابن إسحاق قال: حدثني العباس بن عبد الله بن معبد عن بعض أهله قال: "كان يوضع لعبد المطلب جّد رسول الله صلى الله عليه وسلم فراش في ظل الكعبة، فكان لا يجلس عليه أحد من بنيه إجلالًا له، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يأتي ويجلس عليه، فيذهب أعمامه يؤخرونه، فيقول جده عبد المطلب: دعوا ابني فيمسح على ظهره ويقول: إن لبنيّ هذا لشأنًا (1) ".
والعباس بن عبد الله بن معبد بن العباس بن عبد المطلب ثقة من السادسة كما في (التقريب) وهو يروي الخبر عن بعض أهله ولا يمكن أن يكون هؤلاء -فضلًا عن جهالتهم- من الصحابة، فالسند فيه انقطاع. ومن طريق ابن إسحاق ذكرها البيهقي في (الدلائل) (2).
ورواه ابن سعد في (الطبقات) (3) بنحوه عن شيخه الواقدي، وهو متروك. وقال الذهبي في السيرة من (تاريخ الإِسلام) (4): "وقال عبد الله بن شبيب وهو ضعيف ثنا أحمد بن محمَّد الأزرقي سمعت ابن عباس يقول: سمعت أبى يقول .. وذكر القصة". وابن شبيب قال عنه الذهبي: إخباري علامة لكنه واه (5).
وذكرها ابن كثير (6) عن ابن إسحاق، وسكت عنها.
--------------------------------------------
ছোটবেলায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাঁর দাদার বিছানায় বসাইবনে ইসহাক বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আব্বাস ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মা’বাদ তাঁর পরিবারের জনৈক সদস্যের সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাদা আব্দুল মুত্তালিবের জন্য কাবার ছায়ায় একটি বিছানা পাতা হতো। তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে তাঁর সন্তানদের কেউ সেখানে বসতেন না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসতেন এবং তাতে বসতেন, তখন তাঁর চাচারা তাঁকে সরিয়ে দিতে যেতেন। তখন তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিব বলতেন: ‘আমার এই ছেলেকে ছেড়ে দাও’। এরপর তিনি তাঁর পিঠে হাত বুলিয়ে দিতেন এবং বলতেন: ‘নিশ্চয়ই আমার এই ছেলের একটি মহান মর্যাদা রয়েছে (১)’।"
আর আব্বাস ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মা’বাদ ইবনে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব হলেন ষষ্ঠ স্তরের একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী, যেমনটি ‘আত-তাকরীব’ গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে। তিনি তাঁর পরিবারের জনৈক ব্যক্তির সূত্রে খবরটি বর্ণনা করছেন, আর তারা—তাদের পরিচয় অজ্ঞাত হওয়া ছাড়াও—সাহাবী হওয়া সম্ভব নয়। ফলে এই সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। ইবনে ইসহাকের সূত্র থেকে বায়হাকী তাঁর ‘আদ-দালাইল’ (২) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
এবং ইবনে সাদ তাঁর ‘আত-তাবাকাত’ (৩) গ্রন্থে তাঁর শিক্ষক ওয়াকিদীর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, যিনি পরিত্যাজ্য। আর যাহাবী ‘তারিখুল ইসলাম’ এর সীরাত অংশে (৪) বলেন: "আব্দুল্লাহ ইবনে শাবীব বলেন—আর তিনি দুর্বল—আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-আযরাকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছি: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি... এবং তিনি ঘটনাটি উল্লেখ করেন।" ইবনে শাবীব সম্পর্কে যাহাবী বলেন: তিনি একজন বড় ইতিহাসবেত্তা ছিলেন কিন্তু তিনি অত্যন্ত দুর্বল (৫)।
ইবনে কাসীর (৬) ইবনে ইসহাকের সূত্রে এটি উল্লেখ করেছেন এবং এ বিষয়ে নিরবতা অবলম্বন করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الاستسقاء به صلى الله عليه وسلم وهو غلامروى ابن سعد في (الطبقات) (1) قال: أخبرنا هشام بن محمَّد بن السائب الكلبي قال: حدثني الوليد بن عبد الله بن جميع الزهري عن ابنٍ لعبد الرحمن بن موهب بن رباح الأشعري حليف بني زهرة عن أبيه قال: حدثني مخرمه بن نوفل الزهري قال: سمعتُ أمي رُقيقة بنت أبى صيفي بن هاشم بن عبد مناف تُحدّث وكانت لِدَة عبد المطلب قالت: تتابعت على قريش سنون ذهبن بالأموال وأشفين على الأنفس، قالت: فسمعت قائلًا يقول في المنام: يا معشر قريش، إن هذا النبي المبعوث منكم، وهذا إبان خروجه وبه يأتيكم الحيا والخصب فانظروا رجلًا من أوسطكم نسبًا طوالًا عظامًا أبيض مقرون الحاجبين أهدب الأشفار جعدًا سهل الخدّين رقيق العرنين، فليخرج هو وجميع ولده، وليخرج منكم من كل بطن رجل، فتطهروا وتطيبوا ثم استلموا الركن، ثم ارقوا رأس أبي قبيس، ثم يتقدم هذا الرجل فيستقي وتؤمنون فإنكم ستسقون. فأصبحتْ فقصّتْ رؤياها عليهم، فنظروا فوجدوا هذه الصفة صفة عبد المطلب، فاجتمعوا إليه، وخرج من كل بطن منهم رجل، ففعلوا ما أمرتهم به، ثم عَلَوْا على أبي قبيس ومعهم النبي صلى الله عليه وسلم، وهو غلام، فتقدم عبد المطلب وقال: لا هُمّ هؤلاء عبيدك وبنو عبيدك وإماؤك وبنات إمائك، وقد نزل بنا ما ترى، وتتابعت علينا هذه السنون فذهبت بالظلف والخف، وأشفت على الأنفس، فأذهبْ عنا الجدب وأتنا بالحيا والخصب، فما برحوا حتى سالت الأودية، وبرسول الله صلى الله عليه وسلم سُقوا، فقالت رقيقة بنت أبي صيفي بن هشام بن عبد مناف:
بشيبة الحمد أسقى الله بلدتنا
… وقد فقدنا الحيا وأجلوّذ (2) المطر
فجاد بالماء جَوْنيّ له سبل
… دان فعاشت به الأنعام والشجر
مبارك الأمر يُستسقى الغمام به
… وخير من بُشّرت يومًا به مضر
--------------------------------------------
বালক অবস্থায় তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা করাইবনে সাদ ‘আত-তবকাত’-এ (১) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সায়িব আল-কালবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জামী’ আয-যুহরী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে মাওহাব ইবনে রাবাহ আল-আশআরীর (যিনি বনু যুহরার মিত্র ছিলেন) এক ছেলের সূত্রে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাখরামাহ ইবনে নাওফাল আয-যুহরী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার মা রুকাইকা বিনতে আবী সায়ফী ইবনে হাশিম ইবনে আব্দ মানাফকে বর্ণনা করতে শুনেছি—যিনি আব্দুল মুত্তালিবের সমবয়সী ছিলেন—তিনি বলেন: কুরাইশদের ওপর একের পর এক অনাবৃষ্টির বছর আসতে থাকে যা সম্পদ ধ্বংস করে দেয় এবং জীবনকে সংকটাপন্ন করে তোলে। তিনি বলেন: তখন আমি স্বপ্নে একজন ঘোষককে বলতে শুনলাম: হে কুরাইশ সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্য থেকেই এই নবী প্রেরিত হবেন, আর এটাই তাঁর আত্মপ্রকাশের সময়। তাঁর মাধ্যমেই তোমাদের নিকট সচ্ছলতা ও উর্বরতা আসবে। অতএব তোমরা এমন একজন ব্যক্তিকে খুঁজে বের করো যে তোমাদের মধ্যে বংশমর্যাদায় শ্রেষ্ঠ, দীর্ঘদেহী, সুঠাম গড়নের, ফর্সা, জোড়া ভ্রু বিশিষ্ট, দীর্ঘ পলকযুক্ত, কোঁকড়া চুলওয়ালা, কোমল গাল ও চিকন নাক বিশিষ্ট। সে যেন তার সকল সন্তানসহ বের হয় এবং তোমাদের প্রত্যেক গোত্র থেকে যেন একজন করে লোক বের হয়। এরপর তোমরা পবিত্রতা অর্জন করো, সুগন্ধি মাখো, তারপর রুকন (হাজরে আসওয়াদ) স্পর্শ করো এবং আবু কুবাইস পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করো। এরপর এই ব্যক্তি সামনে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টির প্রার্থনা করবে আর তোমরা আমীন বলবে, তবেই তোমাদের বৃষ্টি দান করা হবে। পরদিন সকালে তিনি তাদের কাছে নিজের স্বপ্নের কথা বর্ণনা করলেন। তারা লক্ষ্য করে দেখল যে, এই গুণাবলি আব্দুল মুত্তালিবের গুণের সাথে মিলে যায়। ফলে তারা তাঁর কাছে সমবেত হলো এবং তাদের প্রতিটি গোত্র থেকে একজন করে লোক বের হলো। রুকাইকা তাদের যা নির্দেশ দিয়েছিলেন তারা সেভাবেই কাজ করল। এরপর তারা আবু কুবাইস পাহাড়ে আরোহণ করল এবং তাদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও ছিলেন, তখন তিনি এক বালক। এরপর আব্দুল মুত্তালিব সামনে অগ্রসর হয়ে বললেন: হে আল্লাহ, এরা আপনার বান্দা, আপনার বান্দাদের সন্তান এবং আপনার বাঁদি ও আপনার বাঁদিদের কন্যা। আমাদের ওপর যা আপতিত হয়েছে তা আপনি দেখছেন। আমাদের ওপর একের পর এক এই অনাবৃষ্টির বছরগুলো বয়ে যাচ্ছে যা গবাদি পশুদের ধ্বংস করে দিয়েছে এবং জীবনকে সংকটাপন্ন করে তুলেছে। অতএব আমাদের থেকে এই দুর্ভিক্ষ দূর করে দিন এবং আমাদের জন্য সচ্ছলতা ও উর্বরতা নিয়ে আসুন। তারা সেখান থেকে সরে যাওয়ার আগেই উপত্যকাগুলো প্লাবিত হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসিলায় তাদের বৃষ্টি দান করা হলো। তখন রুকাইকা বিনতে আবী সায়ফী ইবনে হাশিম ইবনে আব্দ মানাফ বললেন:
শায়বাতুল হামদ (আব্দুল মুত্তালিব)-এর উসিলায় আল্লাহ আমাদের জনপদে বৃষ্টি দান করেছেন,
... যখন আমরা বৃষ্টি হারিয়ে ফেলেছিলাম এবং বৃষ্টিপাত বন্ধ হওয়া দীর্ঘায়িত হয়েছিল।
অতঃপর প্রচুর পানি বর্ষিত হলো এমন এক ঘন কালো মেঘ থেকে যার ধারাগুলো ছিল
... ভূমির নিকটবর্তী, যার মাধ্যমে গবাদি পশু ও গাছপালা সজীব হয়ে উঠল।
তিনি অত্যন্ত বরকতময়, যাঁর উসিলায় মেঘের কাছে বৃষ্টি প্রার্থনা করা হয়,
... আর তিনি মুদার গোত্রের জন্য সুসংবাদপ্রাপ্তদের মধ্যে সর্বোত্তম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
منًّا منَّ الله بالميمون طائر
… ما في الأنام له عدل ولا خطر ا. هـ
وهشام الكلبي متروك. ورواه البيهقي في (الدلائل): (3) من طريقين في الأول
منهما عبد الغزيز بن عمران وهو متروك أيضًا، والآخر عن زحر بن حصن عن
جده حميد بن منهب، وهما مجهولان كما قال الذهبي (4). والحديث ذكره
الهيثمي، وقال: رواه الطبرني في الكبير وفيه زحر بن حصن قال الذهبي لا
يُعرف (5). ورقيقه ترجم لها الحافظ في (الإصابة) (6) فقال: ذكرها الطبراني
والمستغفري في الصحابة، وقال أبو عمر: وما أُراها أدركت. وعمدة من
ذكرها ما أخرجوه من طريق حميد بن منهب عن عروة بن نصر (*) عن مخرمة
بن نوفل عن أمه رقيقة .. قال أبو موسى (7) -بعد إيراده-: هذا حديث حسن. وما
نسبه إلى أبي عمر ابن عبد البر من قوله: وما أُراها أدركت، فليس في المطبوع
من (الاستيعاب) (8) هذه العبارة.
وأورد الذهبي في: السيرة من (تاريخ الإِسلام) (9) استسقاء أبي طالب به فقال:
"وقال إبراهيم بن محمَّد الشافعي، عن أبيه عن أبان بن الوليد عن أبان بن
ثعلب حدثني جلهمة بن عرفطة قال: "إني لباقاع من نمرة إذ أقبلت عير من
--------------------------------------------
আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহান অনুগ্রহ এবং এক বরকতময় ভাগ্য
… সৃষ্টির মাঝে তাঁর কোনো সমকক্ষ বা প্রতিরূপ নেই। (সমাপ্ত)
আর হিশাম আল-কালবি পরিত্যক্ত (মাতরুক)। বায়হাকী এটি 'আদ-দালায়েল'-এ (৩) দুটি সূত্রে বর্ণনা করেছেন: প্রথমটিতে আব্দুল আজিজ ইবন ইমরান রয়েছেন, তিনিও পরিত্যক্ত। আর দ্বিতীয়টি জুহর ইবন হুসাইন থেকে, তিনি তার দাদা হুমাইদ ইবন মানহাব থেকে বর্ণনা করেছেন; যাহাবী যেমনটি বলেছেন (৪), তারা দুজনেই অপরিচিত (মাজহুল)। আর হাদিসটি হাইসামি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তাবারানি এটি 'আল-কাবীর'-এ বর্ণনা করেছেন এবং এতে জুহর ইবন হুসাইন রয়েছেন, যার সম্পর্কে যাহাবী বলেছেন যে তিনি পরিচিত নন (৫)। আর রুকাইকাহ (রা.)-এর জীবনী হাফিজ (ইবন হাজার) 'আল-ইসাবাহ' (৬)-তে উল্লেখ করে বলেছেন: তাবারানি এবং মুস্তাগফিরি তাকে সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন। আর আবু উমর (ইবন আব্দুল বার) বলেছেন: আমি মনে করি না যে তিনি (নবীজির যুগ) পেয়েছেন। আর যারা তাকে উল্লেখ করেছেন তাদের মূল ভিত্তি হলো যা তারা হুমাইদ ইবন মানহাবের সূত্রে উরওয়াহ ইবন নাসর (*) থেকে, তিনি মাখরামাহ ইবন নাওফাল থেকে এবং তিনি তার মা রুকাইকাহ থেকে বর্ণনা করেছেন... আবু মুসা (৭) এটি উদ্ধৃত করার পর বলেছেন: এটি একটি হাসান হাদিস। আর আবু উমর ইবন আব্দুল বার-এর দিকে যা নিসবত করা হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি মনে করি না যে তিনি (নবীজির যুগ) পেয়েছেন," তা 'আল-ইস্তিআব' (৮)-এর মুদ্রিত কপিতে বিদ্যমান নেই।
আর যাহাবী 'তারিখুল ইসলাম'-এর সিরাত অংশে (৯) আবু তালিবের তাঁকে (রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে) দিয়ে বৃষ্টি প্রার্থনার ঘটনা উল্লেখ করে বলেছেন:
"ইব্রাহিম ইবন মুহাম্মদ আশ-শাফিয়ি তার পিতা থেকে, তিনি আবান ইবনুল ওয়ালিদ থেকে, তিনি আবান ইবন সালাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জুলহামাহ ইবন আরাফাতাহ আমাকে বলেছেন: আমি নামিরাহ-র এক সমতল প্রান্তরে ছিলাম, তখন একটি কাফেলা আসল..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أعلى نجد، فلما حاذت الكعبة إذا غلام قد رمى بنفسه عن عجز بعير .. " إلى أن قال جلهمة: "فهويت رحلي نحو تهامة
… حتى انتهيت إلى المسجد الحرام، وإذا قريش عزين، قد ارتفعت لهم ضوضاء يستسقون، فقائل منهم يقول: اعتمدوا اللات والعزى، وقائل يقول: اعتمدوا مناة الثالثة الأخرى. وقال شيخ وسيم قسيم حسن الوجه جيد الرأي: أنى تؤفكون وفيكم باقية إبراهيم عليه السلام وسلالة إسماعيل؟ قالوا له: كأنك عنيت أبا طالب؟ قال: إيهًا. فقاموا بأجمعهم وقمت معهم فدققنا عليه بابه .. . فقالوا: يا أبا طالب قحط الوادي وأجدب العباد فهلم فاستسق، فقال: رويدكم زوال الشمس وهبوب الريح، فلما زاغت الشمس أو كادت، خرج أبو طالب معه غلام كأنه دجن تجلت عنه سحابة قتماء، وحوله أُغيلمة، فأخذه أبو طالب فألصق ظهره بالكعبة، ولاذ بأضبعه الغلام، وبَصْبصتْ الأغيلمة حوله، وما في السماء قزعة، فأقبل السحاب من ها هنا وها هنا واغدودق وانفجر له الوادي، وأخصب النادي والبادي، وفي ذلك يقول أبو طالب:
وميزان عدل لا يخيس شعيرة
… ربيع (10) اليتامي عصمة للأرامل
تطيف به الهلاّك من آل هاشم
… فهم عنده في نعمه وفواضل
وأبيض يستسقى الغمام بوجهه
… ووزان صدق وزنه غيرعائل (11)
وأبان بن الوليد إن كان المعيطي فهو مجهول كما في: (اللسان) (12) وإلّا فلم
أعرفه، وجلهمة لم أجد له ترجمة حسب بحثي.
--------------------------------------------
নজদের উঁচু ভূমি, অতঃপর যখন সে কাবার সমান্তরালে পৌঁছালো, তখন হঠাৎ এক বালক উটের পশ্চাৎদেশ থেকে নিজেকে ছুড়ে দিল..." যতক্ষণ না জুলহুমাহ বললেন: "আমি আমার উট নিয়ে তিহামার দিকে দ্রুত এগিয়ে চললাম
… এমনকি আমি মসজিদুল হারামে গিয়ে পৌঁছালাম। সেখানে কুরাইশদের দলবদ্ধ অবস্থায় দেখলাম, তাদের শোরগোল বেড়ে গিয়েছিল, তারা বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করছিল। তাদের মধ্যে কেউ বলছিল: লাত ও উজ্জার ওপর ভরসা করো; আর কেউ বলছিল: মানাত নামক অন্য তৃতীয়টির ওপর ভরসা করো। তখন একজন সুশ্রী, সুদর্শন, সুন্দর চেহারার এবং বিচক্ষণ মতামতের অধিকারী বৃদ্ধ বললেন: তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছো, অথচ তোমাদের মাঝে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের অবশিষ্টাংশ এবং ইসমাইলের বংশধর বর্তমান? তারা তাকে বলল: আপনি কি আবু তালিবের কথা বোঝাচ্ছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। ফলে তারা সবাই উঠে দাঁড়াল এবং আমিও তাদের সাথে দাঁড়ালাম, এরপর আমরা তার দরজায় কড়া নাড়লাম...। তারা বলল: হে আবু তালিব, উপত্যকায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে এবং বান্দারা অনাবৃষ্টিতে কষ্ট পাচ্ছে, তাই আসুন এবং বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করুন। তিনি বললেন: সূর্য ঢলে পড়া এবং বাতাস প্রবাহিত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করো। যখন সূর্য ঢলে পড়ল বা ঢলে পড়ার উপক্রম হলো, তখন আবু তালিব বেরিয়ে এলেন, তাঁর সাথে ছিল এক বালক, যে যেন কালো মেঘের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসা আলো। তাঁর চারপাশে আরও কিছু কিশোর ছিল। আবু তালিব তাকে ধরে তার পিঠ কাবার সাথে লাগিয়ে দিলেন। বালকটি তার আঙুল দিয়ে (আকাশের দিকে) ইশারা করল এবং কিশোররা তার চারপাশে বিনয় প্রকাশ করল। অথচ তখন আকাশে মেঘের লেশমাত্র ছিল না। এরপর এদিক-ওদিক থেকে মেঘ আসতে শুরু করল এবং প্রচুর বৃষ্টি বর্ষিত হলো, ফলে উপত্যকা প্লাবিত হলো এবং জনপদ ও মরুভূমি শস্যশ্যামল হয়ে উঠল। এই প্রসঙ্গে আবু তালিব বলেছিলেন:
আর তিনি এক ন্যায়ের মানদণ্ড, যা তিল পরিমাণও কম করে না
… এতিমদের বসন্ত (১০) এবং বিধবাদের আশ্রয়স্থল।
বনী হাশিমের নিঃস্ব ব্যক্তিরা তাকে ঘিরে থাকে
… তারা তাঁর কাছে নিয়ামত ও অনুগ্রহের মাঝে থাকে।
তিনি সেই শ্বেতশুভ্র ব্যক্তি, যাঁর চেহারার উসিলায় মেঘের কাছে বৃষ্টির প্রার্থনা করা হয়
… তিনি সত্যের এমন এক ওজনকারী, যাঁর ওজন কখনও পক্ষপাতদুষ্ট হয় না (১১)
আর আবান বিন ওয়ালিদ যদি মুআইতি হয়ে থাকেন, তবে তিনি অপরিচিত (মাজহুল), যেমনটি 'আল-লিসান' (১২) গ্রন্থে রয়েছে। অন্যথায় আমি তাকে চিনি না। আর জুলহুমাহর ব্যাপারে আমার অনুসন্ধান অনুযায়ী কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وقول أبي طالب: وأبيض يستسقى الغمام ..
ضمن قصيدة طويلة له تزيد على الثمانين بيتًا قالها بعد بعثة الرسول صلى الله عليه وسلم.
قال ابن إسحاق: "فلما خشي أبو طالب دهماء العرب أن يركبوه مع قومه، قال قصيدته التي تعوذ فيها بحرم مكة وبمكانه منها، وتودد في أشراف قومه، وهو على ذلك يخبرهم وغيرهم في ذلك من شعره أنه غير مُسْلم رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا تاركه لشيء أبدًا حتى يهلك دونه، فقال:
… وذكر القصيدة. قال ابن هشام: هذا ما صحّ لي من هذه القصيدة، وبعض أهل العلم بالشعر ينكر أكثرها" (13).
قال ابن كثير بعد أن أورد القصيدة: "هذه قصيدة عظيمة بليغة جدًا لا يستطيع يقولها إلا من نسبت إليه وهي أفحل من المعلقات السبع، وأبلغ في تأدية المعنى فيها جميعًا" (14).
قال الإِمام البخاري رحمه الله في كتابة الاستسقاء من صحيحه: "باب سؤال الناس الإِمام الاستسقاء إذا قحطوا": حدثنا عمرو بن علي .. قال: (ابن دينار) سمعت ابن عمر يتمثل بشعر أبي طالب:
وأبيض يُستسقى الُغمام بوجهه
… ثمال اليتامى عصمة للأرامل
وقال عمر بن حمزة: حدثنا سالم عن أبيه "ربما ذكرت قول المشاعر وأنا أنظر إلى وجه النبي صلى الله عليه وسلم يستسقي فما ينزل حتى يّجيش كل ميزاب":
وأبيض يُستسقى الغمام بوجهه
… ثمال اليتامى عصمة للأرامل
وهو قول أبى طالب. قال الحافظ ابن حجر رحمه الله بعد ذكره مناسبة الأحاديث لترجمة الباب: وأوضح من ذلك ما أخرجه البيهقي في (الدلائل) (15) من رواية
--------------------------------------------
আবু তালিবের উক্তি: "এবং তিনি শ্বেতবর্ণের, যাঁর চেহারার উসিলায় মেঘের কাছে বৃষ্টির প্রার্থনা করা হয়..."
এটি তাঁর আশিটিরও অধিক পঙ্ক্তি বিশিষ্ট একটি দীর্ঘ কাসিদার অংশ, যা তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত লাভের পর বলেছিলেন।
ইবনে ইসহাক বলেন: "যখন আবু তালিব আরবের সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে এই আশঙ্কা করলেন যে তারা তাঁর ও তাঁর কওমের ওপর চড়াও হবে, তখন তিনি তাঁর সেই কাসিদাটি রচনা করলেন যাতে তিনি মক্কার পবিত্র হারাম এবং সেখানে তাঁর অবস্থানের উসিলায় আশ্রয় প্রার্থনা করেন এবং তাঁর কওমের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি হৃদ্যতা প্রকাশ করেন। তদুপরি তিনি তাঁর সেই কবিতার মাধ্যমে তাদের ও অন্যদের এই সংবাদ দিচ্ছিলেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাদের হাতে সোপর্দ করবেন না এবং তাঁর জন্য জীবন উৎসর্গ করা পর্যন্ত কখনোই তাঁকে কোনো কিছুর জন্য ত্যাগ করবেন না। অতঃপর তিনি বললেন:
... এবং তিনি কাসিদাটি উল্লেখ করলেন। ইবনে হিশাম বলেন: এই কাসিদা থেকে যা আমার কাছে বিশুদ্ধ বলে প্রমাণিত হয়েছে তা হলো এটি, তবে কাব্যবিশারদদের কেউ কেউ এর অধিকাংশকেই অস্বীকার করেন" (১৩)।
ইবনে কাসির কাসিদাটি উল্লেখ করার পর বলেন: "এটি একটি অত্যন্ত মহান ও প্রাঞ্জল কাসিদা, যার প্রতি এটি সম্বন্ধ করা হয়েছে তিনি ব্যতীত অন্য কেউ এটি বলতে সক্ষম নন। এটি 'সাবআ মুআল্লাকাত' (সাতটি ঝুলন্ত কবিতা) অপেক্ষাও অধিক শক্তিশালী এবং সেগুলোর সবকটি অপেক্ষা অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে অধিকতর ফলপ্রসূ" (১৪)।
ইমাম বুখারি রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর সহিহ গ্রন্থের বৃষ্টির প্রার্থনার অধ্যায়ে (কিতাবুল ইসতিসকা) বলেছেন: "পরিচ্ছেদ: অনাবৃষ্টি দেখা দিলে জনগণের ইমামের নিকট বৃষ্টির প্রার্থনার আবেদন করা।" আমাদের নিকট আমর ইবনে আলী বর্ণনা করেছেন... তিনি বলেন: (ইবনে দিনার বলেছেন) আমি ইবনে উমরকে আবু তালিবের কবিতার পঙ্ক্তি আবৃত্তি করতে শুনেছি:
"এবং তিনি শ্বেতবর্ণের, যাঁর চেহারার উসিলায় মেঘের কাছে বৃষ্টির প্রার্থনা করা হয়
... তিনি ইয়াতিমদের আশ্রয়দাতা এবং বিধবাদের রক্ষক।"
উমর ইবনে হামজা বলেন: সালেম তাঁর পিতা থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, "মাঝে মাঝে আমি কবির উক্তির কথা স্মরণ করতাম আর আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকতাম যখন তিনি বৃষ্টির প্রার্থনা করতেন; অতঃপর তিনি (মিম্বর থেকে) নামার আগেই প্রতিটি নালা প্লাবিত হয়ে যেত":
"এবং তিনি শ্বেতবর্ণের, যাঁর চেহারার উসিলায় মেঘের কাছে বৃষ্টির প্রার্থনা করা হয়
... তিনি ইয়াতিমদের আশ্রয়দাতা এবং বিধবাদের রক্ষক।"
এটি আবু তালিবের উক্তি। হাফিজ ইবনে হাজার রহমতুল্লাহি আলাইহি হাদিসসমূহের সাথে অধ্যায়ের শিরোনামের সামঞ্জস্য উল্লেখ করার পর বলেন: এর চাইতেও অধিক স্পষ্ট হলো যা বায়হাকি তাঁর (দালাইল) গ্রন্থে (১৫) বর্ণনা করেছেন... এর সূত্রে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
مسلم الملائي (16) عن أنس قال: "جاء رجل أعرابي إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله، أتيناك وما لنا بعير يئط ولا صبي يغط. ثم أنشده شعرًا يقول فيه:
وليس لنا إلا إليك فرارنا
… وأين فرار الناس إلا الرسل
فقام يجر رداءه حتى صعد المنبر فقال: "اللهم أسقنا" الحديث، وفيه: "ثم قال صلى الله عليه وسلم: لو كان أبو طالب حيًّا لقرّت عيناه، من ينشدنا قوله؟ " فقام عليَّ فقال: يا رسول الله، كأنك أردت قوله: "وأبيض يستسقى الغمام بوجهه" الأبيات .. وإسناد حديث أنس وإن كان فيه ضعف لكنه يصلح للمتابعة" (17).
--------------------------------------------
মুসলিম আল-মুলায়ী (১৬) আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল! আমরা আপনার নিকট এসেছি এমন অবস্থায় যে, আমাদের কোনো উট নেই যা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে এবং কোনো শিশু নেই যে তৃপ্তিতে ঘুমাচ্ছে।' অতঃপর তিনি তাঁকে একটি কবিতা শোনালেন যাতে তিনি বলছিলেন:
আপনার নিকট আশ্রয় গ্রহণ করা ব্যতীত আমাদের আর কোনো উপায় নেই
… আর রাসুলগণ ব্যতীত মানুষের আশ্রয়ের স্থানই বা কোথায়?
অতঃপর তিনি নিজের চাদর টেনে টেনে উঠে মিম্বারে আরোহণ করলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দান করুন" - হাদিসটি। এতে আরও রয়েছে: "অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যদি আবু তালিব জীবিত থাকতেন তবে তাঁর চক্ষু শীতল হতো; কে আমাদের তাঁর কবিতাটি শোনাবে?" তখন আলী দাঁড়িয়ে বললেন: 'হে আল্লাহর রাসুল! সম্ভবত আপনি তাঁর এই উক্তিটি বুঝিয়েছেন: "তিনি শ্বেতশুভ্র বর্ণের, যাঁর চেহারার অসিলায় মেঘমালার নিকট বৃষ্টি প্রার্থনা করা হয়" - কবিতাটি। আর আনাসের হাদিসের সনদটি যদিও দুর্বল, তবে তা সমর্থক বর্ণনা (মুতাবায়াত) হিসেবে উপযুক্ত" (১৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
اشتراكه صلى الله عليه وسلم في حرب الفِجَارقال ابن إسحاق: "هاجت حرب الفجار ورسول الله صلى الله عليه وسلم ابن عشرين سنة" قال ابن هشام: فلما بلغ رسول الله صلى الله عليه وسلم أربع عشرة سنة أو خمس عشرة سنة هاجت حرب الفجار بين قريش ومن معها من كنانة، وبين قيس عيلان
… وشهد رسول الله صلى الله عليه وسلم بعض أيامهم، أخرجه أعمامه معهم، وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "كنت أُنَبِّل على أعمامي. أي أرد عنهم نبل عدوهم إذا رموهم بها (1) ".
وابن إسحاق ذكر القصة بدون إسناد. وذكرها الذهبي عنه كما في السيرة من (تاريخ الإِسلام) (2) وابن كثير كما في (البداية والنهاية) (3).
ورواه ابن سعد عن الواقدي وفيه: "قال رسول الله صلى الله عليه وسلم -وذكر الفجار- فقال: قد حضرته مع عمومتي ورميت فيه بأسهم، وما أحبُّ أني لم أكن فعلت (4) " والواقدي متروك.
وسكت عنها الشيخ الألباني-رحمه الله في تعليقه على (فقه السيرة (5)) للغزالي-رحمه الله لكنه لم يدرجها في (صحيح السيرة النبوية). ولم يذكرها الشيخ محمَّد بن رزق الطرهوني -حفظه الله تعالى- في (صحيح السيرة (6)) فدلّ على عدم صحتها عندهما. وقال الدكتور أكرم العمري -حفظه الله تعالى-: ولم يثبت أن رسول الله صلى الله عليه وسلم شهدها (7).
--------------------------------------------
ফিজার যুদ্ধে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অংশগ্রহণইবনে ইসহাক বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন বিশ বছর বয়সের যুবক, তখন ফিজার যুদ্ধ সংঘটিত হয়।" ইবনে হিশাম বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চৌদ্দ বা পনের বছরে পদার্পণ করেন, তখন কুরাইশ ও তাদের মিত্র কিনানা এবং কায়েস আইলানের মধ্যে ফিজার যুদ্ধ শুরু হয়
… রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের যুদ্ধের কিছু দিনে উপস্থিত ছিলেন, তাঁর চাচারা তাঁকে সাথে নিয়ে বের হতেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: "আমি আমার চাচাদের তীর সংগ্রহ করে দিতাম। অর্থাৎ শত্রুরা যখন তাঁদের দিকে তীর ছুঁড়ত, তখন আমি সেগুলো কুড়িয়ে তাঁদের কাছে ফিরিয়ে দিতাম (১)।"
ইবনে ইসহাক ঘটনাটি কোনো সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেছেন। আয-যাহাবী তাঁর থেকে এটি উল্লেখ করেছেন যেমনটি 'তারীখুল ইসলাম' (২)-এর সীরাত অংশে রয়েছে এবং ইবনে কাসীর যেমনটি 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' (৩)-তে বর্ণনা করেছেন।
ইবনে সাদ এটি ওয়াকিদী থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)—ফিজার যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে—বলেন: আমি আমার চাচাদের সাথে সেখানে উপস্থিত ছিলাম এবং তাতে তীর নিক্ষেপ করেছিলাম; আমি চাই না যে আমি তা না করতাম (৪)।" আর ওয়াকিদী হলেন পরিত্যক্ত (মাতরূক)।
শাইখ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) গাযালীর (রাহিমাহুল্লাহ) 'ফিকহুস সীরাহ' (৫)-এর ওপর তাঁর টীকায় এ সম্পর্কে নীরব থেকেছেন, তবে তিনি এটি 'সহীহুস সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ' গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেননি। শাইখ মুহাম্মাদ বিন রিযক আল-তারহুনী (হাফিজাহুল্লাহ) এটি 'সহীহুস সীরাহ' (৬)-তে উল্লেখ করেননি, যা তাঁদের উভয়ের নিকট এর অশুদ্ধতার প্রমাণ দেয়। ডক্টর আকরাম আল-উমারী (হাফিজাহুল্লাহ) বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এতে উপস্থিত ছিলেন বলে প্রমাণিত হয়নি (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
مما سبق يتبين أنه لم يثبت اشتراكه صلى الله عليه وسلم في حرب الفجار. فلعّل الله تعالى عصمه من المشاركة في هذه الحرب التي وقعت في الأشهر الحرم والله أعلم.
فائدة: قال السُّهيلي: "الفِجَار بكسر الفاء بمعني المفاجرة، كالقتال
والمقاتلة، وذلك أنه كان قتالًا في الشهر الحرام ففجروا فيه جميعًا فسمي
الفجار. وكانت للعرب فجارات أربع آخرها فجار البرّاض المذكور في
السيرة (8) ".
--------------------------------------------
পূর্বালোচিত বিষয়সমূহ থেকে স্পষ্ট হয় যে, ফিজারের যুদ্ধে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অংশগ্রহণ প্রমাণিত নয়। সম্ভবত আল্লাহ তাআলা তাঁকে এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা থেকে রক্ষা করেছেন, যা নিষিদ্ধ মাসগুলোতে সংঘটিত হয়েছিল। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
ফায়দা: সুহাইলি বলেন: "ফিজার শব্দটি 'ফা' বর্ণে কাসরা (জের) যোগে মুফাজারা-এর অর্থে ব্যবহৃত, যেমন কিতাল ও মুকাতালা। আর তা এই কারণে যে, এটি ছিল হারাম মাসে একটি লড়াই, যাতে তারা সকলে পাপাচার করেছিল, তাই এর নাম রাখা হয়েছে ফিজার। আরবদের মধ্যে চারটি ফিজার যুদ্ধ হয়েছিল, যার সর্বশেষটি ছিল বাররাযের ফিজার যা সীরাতে (৮) বর্ণিত হয়েছে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
عمر خديجة رضي الله عنها عند زواجه صلى الله عليه وسلم بها.
المشهور في كتب السيرة أن عمرها رضي الله عنها لما تزوجها رسول الله صلى الله عليه وسلم كان أربعين سنة، وأنها لما توفيت كانت بنت خمس وستين.
روى ذلك ابن سعد في (الطبقات) عن الواقدي وفيه: "وتزوجها رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو ابن خمس وعشرين سنة، وخديجة يومئذ بنت أربعين سنة" (1) والواقدي متروك. بل قد رُوي خلاف ذلك، فقد روى الحاكم بسنده عن ابن إسحاق: "وكان لها يوم تزوجها ثمان وعشرون سنة (2) " لكن ابن إسحاق لم يسند الخبر ثم ساق الحاكم بسنده عن هشام بن عروة قال: "توفيت خديجة بنت خويلد رضي الله عنها وهي ابنة خمس وستين سنة". قال الحاكم: "هذا قول شاذ، فإن الذي عندي أنها لم تبلغ ستين سنة (3) ".
وقال البيهقي في (الدلائل): "قال أبو عبد الله (الحاكم) قرأت بخط أبي بكر بن أبي خيثمة، قال: حدثنا مصعب بن عبد الله الزبيري قال: .. ثم بلغت خديجة خمسًا وستين سنة، ويقال خمسين سنة. وهو أصح (4) ".
قال ابن كثير: " .. وهكذا نقل البيهقي عن الحاكم أنه كان عمر رسول الله صلى الله عليه وسلم حين تزوج خديجة خمسًا وعشرين سنة، وكان عمرها إذ ذاك خمسًا وثلاثين، وقيل خمسًا وعشرين سنة (5) ".
--------------------------------------------
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বিবাহের সময় খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার বয়স.
সিরাত গ্রন্থসমূহে প্রসিদ্ধ তথ্য এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকে বিবাহ করেন, তখন তাঁর (খাদিজা রা.) বয়স ছিল চল্লিশ বছর এবং যখন তিনি ইন্তেকাল করেন তখন তাঁর বয়স হয়েছিল পঁয়ষট্টি বছর।
ইবনে সাদ ‘আত-তাবাকাত’ গ্রন্থে ওয়াকিদি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছে: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিবাহ করেন যখন তাঁর বয়স ছিল পঁচিশ বছর এবং সেদিন খাদিজার বয়স ছিল চল্লিশ বছর।” (১) তবে ওয়াকিদি একজন পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী। বরং এর বিপরীতও বর্ণিত হয়েছে। যেমন হাকিম তাঁর সনদসহ ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন: “তাঁকে বিবাহের দিন তাঁর বয়স ছিল আটাশ বছর।” (২) কিন্তু ইবনে ইসহাক খবরটির সনদ উল্লেখ করেননি। এরপর হাকিম তাঁর সনদসহ হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ রাদিয়াল্লাহু আনহা পঁয়ষট্টি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।” হাকিম বলেন: “এটি একটি শায (বিচ্ছিন্ন) মত; কেননা আমার নিকট নির্ভরযোগ্য তথ্য হলো, তিনি ষাট বছর বয়সে পৌঁছাননি।” (৩)
বায়হাকি ‘আদ-দালাইল’ গ্রন্থে বলেন: “আবু আব্দুল্লাহ (হাকিম) বলেছেন, আমি আবু বকর ইবনে আবি খাইসামার নিজ হাতের লেখায় পড়েছি যে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুসআব ইবনে আব্দুল্লাহ আজ-যুবাইরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ...অতঃপর খাদিজা পঁয়ষট্টি বছর বয়সে পৌঁছেছিলেন। আবার বলা হয় পঞ্চাশ বছর। আর এটিই অধিকতর সঠিক।” (৪)
ইবনে কাসীর বলেন: “...অনুরূপভাবে বায়হাকি হাকিম থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, খাদিজাকে বিবাহের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স ছিল পঁচিশ বছর এবং তখন খাদিজার বয়স ছিল পঁয়ত্রিশ বছর। আবার বলা হয়েছে পঁচিশ বছর।” (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال رحمه الله عند الحديث عن زوجاته صلى الله عليه وسلم: " .. وعن حكيم بن حزام قال: كان عمرها أربعين سنة. وعن ابن عباس: كان عمرها ثمانيًا وعشرين سنة. رواهما ابن عساكر (6) ".
قال الدكتور أكرم العمري: "وقد أنجبت خديجة رضي الله عنه من رسول الله صلى الله عليه وسلم ذَكريْن وأربع إناث مما يرجِّح رواية ابن إسحاق (أي أنها في الثامنة والعشرين)، فالغالب أن المرأة تبلغ سنّ اليأس من الإنجاب قبل الخمسين". (7)
فائدة: قال الزبير بن بكار (ت 256 هـ): "هند بنت أبي عبيدة بن عبد الله بن زمعة حملت بموسى بن عبد الله بن حسن بن حسن بعد ستين سنة، وسمعت علماءنا يقولون: لا تحمل امرأة بعد ستين سنة إلا من قريش، ولا بعد خمسين إلا عربية" (8).
--------------------------------------------
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রীদের সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: "...হাকীম ইবন হিযাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর। আর ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত: তাঁর বয়স ছিল আটাশ বছর। ইবন আসাকির উভয়টি বর্ণনা করেছেন (৬)।"
ডক্টর আকরাম আল-উমারী বলেন: "খাদীজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ঔরসে দুই পুত্র এবং চার কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছেন, যা ইবন ইসহাকের বর্ণনাকে (অর্থাৎ তাঁর বয়স আটাশ বছর হওয়াকে) অধিক যুক্তিযুক্ত প্রমাণ করে। কেননা সাধারণত মহিলারা পঞ্চাশ বছর বয়সের আগেই সন্তান জন্মদানের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।" (৭)
জ্ঞাতব্য: যুবাইর ইবন বাক্কার (মৃত্যু ২৫৬ হি.) বলেন: "হিন্দ বিনতে আবি উবাইদাহ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন জামআ ষাট বছর বয়সের পর মূসা ইবন আব্দুল্লাহ ইবন হাসান ইবন হাসানের গর্ভধারণ করেছিলেন। আমি আমাদের আলিমদের বলতে শুনেছি: কুরাইশ বংশীয় মহিলা ব্যতীত অন্য কেউ ষাট বছরের পর গর্ভধারণ করে না, আর আরব মহিলা ব্যতীত অন্য কেউ পঞ্চাশ বছরের পর গর্ভধারণ করে না" (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
انتظاره صلى الله عليه وسلم لرجل ثلاثة أيامومما اشتهر في السيرة ما رواه أبو داود عن عبد الله بن أبي الحمساء رضي الله عنه قال: "بايعت (*) النبي صلى الله عليه وسلم ببيع قبل أن يبعث وبقيتْ له بقية فوعدته أن آتيه بها في مكانه، فنسيت ثم ذكرت بعد ثلاث، فجئت فإذا هو في مكانه، فقال: يا فتى لقد شققت علي، أنا ههنا منذ ثلاث أنتظرك". وقد رواه أبو داود من طريق إبراهيم بن طهمان عن بُديل عن عبد الكريم عن [بن] عبد الله بن شقيق عن أبيه عن عبد الله بن الحمساء. والخلاف هل هو عبد الكريم عن عبد الله أو عبد الكريم بن عبد الله؟ قال أبو داود: قال محمَّد بن يحي (الذهلي شيخ أبي داود في هذا الحديث) هذا عندنا عبد الكريم بن عبد الله بن شقيق. قال أبو داود: هكذا بلغني عن علي بن عبد الله (1). أهـ
قال الحافظ في (التقريب): عبد الكريم بن عبد الله بن شقيق العقيلي البصري: مجهول (2).
وقال في ترجمة ابن أبي الحمساء في (التهذيب): "له حديث واحد مختلف في إسناده، رواه أبو داود" (3).
وذكر الإِمام الذهبي رحمه الله القصة في السيرة من (تاريخ الإِسلام) وعزاها لأبي داود (4).
وقال العراقي في (تخريج الإحياء): رواه أبو داود واختلف في إسناده، وقال ابن مهدي: ما أظن إبراهيم بن طهمان إلا أخطأ (5). أهـ.
--------------------------------------------
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক এক ব্যক্তির জন্য তিন দিন অপেক্ষা করাসীরাতের কিতাবসমূহে প্রসিদ্ধ ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি হলো যা আবু দাউদ আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আল-হামসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়ত প্রাপ্তির আগে তাঁর সাথে একটি কেনাবেচা (*) করেছিলাম। তাঁর কিছু পাওনা বাকি ছিল, তাই আমি তাঁকে ওয়াদা দিয়েছিলাম যে নির্দিষ্ট স্থানে তা নিয়ে তাঁর কাছে আসব। এরপর আমি ভুলে গেলাম এবং তিন দিন পর আমার মনে পড়ল। আমি যখন সেখানে আসলাম, দেখলাম তিনি তাঁর সেই স্থানেই অবস্থান করছেন। তিনি বললেন: 'হে যুবক, তুমি আমাকে বেশ কষ্টে ফেলেছ, আমি এখানে তিন দিন ধরে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি'।" আবু দাউদ এটি ইব্রাহিম ইবনে তাহমান-এর সূত্রে বুদাইল থেকে, তিনি আব্দুল কারীম থেকে, তিনি [ইবনে] আব্দুল্লাহ ইবনে শাকিক থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হামসা থেকে বর্ণনা করেছেন। আর মতভেদটি হলো, তিনি কি আব্দুল কারীম, যিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করছেন, নাকি আব্দুল কারীম ইবনে আব্দুল্লাহ? আবু দাউদ বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া (এই হাদিসে আবু দাউদের উস্তাদ আল-জুহলি) বলেছেন—আমাদের নিকট ইনি হলেন আব্দুল কারীম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে শাকিক। আবু দাউদ বলেন: আলী ইবনে আব্দুল্লাহ (১) থেকে আমার নিকট এভাবেই পৌঁছেছে। সমাপ্ত।
হাফেজ (ইবনে হাজার) 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে বলেছেন: আব্দুল কারীম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে শাকিক আল-উকাইলি আল-বাসরি: মাজহুল (অপরিচিত) (২)।
আর তিনি (হাফেজ) 'আত-তাহজীব' গ্রন্থে ইবনে আবি আল-হামসার জীবনীতে বলেছেন: "তাঁর বর্ণিত একটিমাত্র হাদিস রয়েছে যার সনদে মতভেদ আছে, যা আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন" (৩)।
ইমাম যাহাবী রাহিমাহুল্লাহ তাঁর 'তারিখুল ইসলাম' গ্রন্থের সীরাত অংশে এই ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন এবং এটিকে আবু দাউদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন (৪)।
আল-ইরাকি 'তাখরিজুল ইহয়া' গ্রন্থে বলেছেন: এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে মতভেদ রয়েছে। ইবনে মাহদী বলেছেন: আমার ধারণা ইব্রাহিম ইবনে তাহমান এখানে ভুল করেছেন (৫)। সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
إعالته صلى الله عليه وسلم لعلي رضي الله عنهقال ابن إسحاق: وحدثني عبد الله بن أبي نجيح عن مجاهد بن جبر قال: "كان من نعمة الله على علي بن أبي طالب، ومما صنع الله له، وأراده به من الخير أن قريشًا أصابتها أزمة شديدة، وكان أبو طالب ذا عيال كثيرة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم للعباس عمه - وكان من أيسر بني هاشم -: يا عباس إن أخاك أبا طالب كثير العيال، وقد أصاب الناس ما ترى من هذه الأزمة، انطلق بنا إليه فلنخفف عنه من عياله .. " وفيه: "أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أخذ عليًا فضمه إليه، وأخذ العباس جعفرًا فضمه إليه (1) .. ".
ورواه الحاكم من طريق ابن إسحاق، وسكت عنه، وحذفه الذهبي من التلخيص (2).
وفي الإسناد علتان الإرسال، وعنعنة ابن أبي نجيح فهو مدلِّس.
ويبعد أن يكون سيد قريش وكبيرها -في حينه- أبو طالب عاجزًا عن إعالة أبنائه، وهم أربعة فقط: علي وجعفر وعقيل وطالب. ولا نعلم عن البنات. وإذا كان علي وجعفر صغيرين، فإن الآخران قادران على التكسب، فقد ذكر المؤرخون أن جعفرًا كان أكبر من علي بعشر سنين، وعقيل أكبر من جعفر بعشر سنين، وطالب أكبر من عقيل بعشر سنين (3).
والقول بأن عليًا رضي الله عنه بادر إلى الإِسلام لكونه كان في حجر النبي صلى الله عليه وسلم، لا يلزم منه تصحيح هذه القصة، كما أن جعفرًا رضي الله عنه كان من السابقين، ومن المهاجرين إلى الحبشة، ولم يتوقف إسلامه على إسلام العباس رضي الله عنه الذي تأخر إلى ما بعد الهجرة بسنوات.
--------------------------------------------
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভরণপোষণের দায়িত্ব গ্রহণইবনে ইসহাক বলেন: আমার কাছে আবদুল্লাহ ইবনে আবি নাজিহ মুজাহিদ ইবনে জাবর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আলী ইবনে আবি তালিবের ওপর আল্লাহর এক নেয়ামত ছিল এবং আল্লাহ তাঁর জন্য যা করেছিলেন ও তাঁর মাধ্যমে যে কল্যাণের ইচ্ছা করেছিলেন তা হলো—কুরাইশদের ওপর একটি তীব্র সংকট আপতিত হয়েছিল। আবু তালিবের পরিবার ছিল অনেক বড়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচা আব্বাসকে—যিনি বনী হাশেমের মধ্যে সবচেয়ে স্বচ্ছল ছিলেন—বললেন: 'হে আব্বাস, আপনার ভাই আবু তালিবের পরিবার অনেক বড়, আর আপনি মানুষের ওপর এই যে সংকট দেখছেন তা আপতিত হয়েছে। চলুন আমরা তাঁর কাছে যাই যাতে তাঁর পরিবারের ভার কিছুটা লাঘব করতে পারি..।'" এর মধ্যে রয়েছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলীকে গ্রহণ করে নিজের সাথে রাখলেন এবং আব্বাস জাফরকে গ্রহণ করে নিজের সাথে রাখলেন (১)..।"
হাকেম এটি ইবনে ইসহাকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং এ বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করেছেন। আর যাহাবি 'তালখিস' থেকে এটি বাদ দিয়েছেন (২)।
এই সনদে দুটি ত্রুটি রয়েছে: বর্ণনাক্রম বিচ্ছিন্ন হওয়া (ইরসাল) এবং ইবনে আবি নাজিহর 'আনআনা' (অর্থাৎ অস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা), কারণ তিনি একজন মুদাল্লিস বর্ণনাকারী।
কুরাইশদের তৎকালীন নেতা ও প্রধান আবু তালিব তাঁর সন্তানদের ভরণপোষণ করতে অক্ষম ছিলেন—এমনটি হওয়া সুদূরপরাহত। তাঁর সন্তান ছিল মাত্র চারজন: আলী, জাফর, আকিল এবং তালিব। কন্যাদের সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। যদি আলী এবং জাফর ছোট হয়েও থাকেন, তবে অন্য দুজন উপার্জন করতে সক্ষম ছিলেন। ঐতিহাসিকরা উল্লেখ করেছেন যে, জাফর আলীর চেয়ে দশ বছরের বড় ছিলেন, আকিল জাফরের চেয়ে দশ বছরের বড় ছিলেন এবং তালিব আকিলের চেয়ে দশ বছরের বড় ছিলেন (৩)।
আর এই দাবি করা যে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসলাম গ্রহণে অগ্রণী হয়েছিলেন কারণ তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তত্ত্বাবধানে ছিলেন, তা থেকে এই কাহিনী সহিহ হওয়া আবশ্যক হয় না। ঠিক তেমনিভাবে জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন ইসলামে অগ্রগামীদের একজন এবং হাবশায় হিজরতকারীদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর ইসলাম গ্রহণ আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইসলাম গ্রহণের ওপর নির্ভরশীল ছিল না, যা হিজরতের কয়েক বছর পর পর্যন্ত বিলম্বিত হয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
فائدة: روى ابن عبد البر بسنده عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: "كان عليّ أول من آمن بالله من الناس بعد خديجة" ثم قال: هذا إسناد لا مطعن فيه لأحد؛ لصحته وثقة نقلته (4) ". وقال الذهبي: "وثبت عن ابن عباس قال: أول من أسلم علي (5) ".
وأخرى: وقال ابن عبد البر: "وقال أحمد بن حنبل وإسماعيل بن إسحاق القاضي لم يُرْوَ في فضائل أحد من الصحابة بالأسانيد الحسان ما روي في فضائل علي بن أبي طالب. وكذا قال النسائي (6) ".
قال ابن حجر معللًا ذلك بقوله: "وقال غيره (يعني أحمد بن حنبل): وكان سبب ذلك بغض بني أمية له، فكان كل من كان عنده علم من شيء من مناقبه من الصحابة يثبته .. (7) ".
قال ابن تيمية: "وأحمد بن حنبل لم يقل: إنه صحَّ لعلي من الفضائل مالم يصحّ لغيره، بل أحمد أجلّ من أن يقول مثل هذا الكذب، بل نُقل عنه أنه قال: "روي له ما لم يروَ لغيره" مع أن في نقل هذا عن أحمد كلامًا ليس هذا موضعه (8) ".
--------------------------------------------
বিশেষ জ্ঞাতব্য: ইবনে আব্দুল বার তাঁর নিজস্ব সনদে ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মানুষের মধ্যে খাদিজার পর আলীই সর্বপ্রথম আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছেন।" এরপর তিনি বলেন: "এটি এমন একটি সনদ যাতে কারো কোনো আপত্তির অবকাশ নেই; এর বিশুদ্ধতা এবং এর বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতার কারণে (৪)।" আর যাহাবী বলেন: "ইবনে আব্বাস থেকে এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী হলেন আলী (৫)।"
অন্যটি: ইবনে আব্দুল বার বলেন: "আহমদ ইবনে হাম্বল এবং ইসমাঈল ইবনে ইসহাক আল-কাযী বলেছেন, হাসান সনদে সাহাবীদের মধ্যে অন্য কারো জন্য এত পরিমাণ ফযীলত বা মর্যাদা বর্ণিত হয়নি, যতটা আলী বিন আবি তালিবের ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম নাসায়ীও অনুরূপ কথা বলেছেন (৬)।"
ইবনে হাজার এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন: "অন্যরা (অর্থাৎ আহমদ ইবনে হাম্বল) বলেছেন: এর কারণ ছিল বনু উমাইয়্যাদের তাঁর প্রতি বিদ্বেষ, যার ফলে সাহাবীদের মধ্যে যাঁর কাছেই তাঁর মর্যাদার কোনো বিষয় জানা ছিল, তিনি তা দৃঢ়ভাবে বর্ণনা করতেন... (৭)।"
ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "আহমদ ইবনে হাম্বল এটি বলেননি যে, আলীর ক্ষেত্রে এমন সব ফযীলত বিশুদ্ধভাবে সাব্যস্ত হয়েছে যা অন্যদের ক্ষেত্রে হয়নি। বরং আহমদ এ ধরণের মিথ্যা কথা বলার চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে। বরং তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: 'তাঁর ব্যাপারে এমন কিছু বর্ণিত হয়েছে যা অন্যদের ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়নি।' যদিও আহমদের পক্ষ থেকে এটি বর্ণনার ব্যাপারেও কিছু কথা রয়েছে, যার আলোচনার স্থান এটি নয় (৮)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
قصة سبي زيد بن حارثة رضي الله عنه -
روى ابن سعد في (الطبقات) بسنده عن هشام بن محمَّد بن السائب الكلبي عن أبيه
… قال: "كان حارثة بن شراحيل تزوج امرأة في طي من نبهان فأولدها جبلة وأسماء وزيدًا
… " وذكر القصة في وقوع زيد في السبي بعد أن أغارت عليهم خيل من تهامة من بني فزارة، ثم بيعه في سوق عكاظ، ورؤية النبي صلى الله عليه وسلم له قبل أن يُبعث، ثم شراء خديجة رضي الله عنها له، ومصيره إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وفيه قدوم حارثة وبعض عشيرته لطلبه ثم تخيير النبي صلى الله عليه وسلم له .. إلى آخر القصة (1)، قال الحافظ في (التهذيب) بعد أن عزاه إلى تمّام في فوائده: "حديث منكر جدًا، وقد أورده الحافظ أبو عبد الله بن مندة في معرفة الصحابة في ترجمته، وقال: إنه لا يُروى إلا بهذا الإسناد. ثم رأيته في المستدرك للحاكم (2) لكنه لم يصرّح بتصحيحه (3) ". وإسناد ابن سعد في شيخه هشام وأبوه، وهما متروكان.
وذكر قصته ابن إسحاق في السيرة دون إسناد (4). وأخرجه ابن عبد البر في (الاستيعاب (5)) من طريق أبي إسحاق السبيعي قال: قيل لجبلة بن حارثة أنت أكبر أم زيد؟ قال: زيد خير مني وأنا وُلدت قبله. ثم ذكر قصة وقوع زيد في الأسر مختصرةً، وليس فيها قدوم أبيه وعشيرته وما بعدها. قال أبو عمر بن عبد البر قبل ذكره للقصة: "وبعضهم يُدخل بين أبي إسحاق وجبلة بن حارثة فروة بن نوفل". وقال الحافظ ابن حجر رحمه الله في (التهذيب) في ترجمة
--------------------------------------------
যায়েদ ইবনে হারিসাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বন্দি হওয়ার কাহিনী-
ইবনে সাদ (আত-তবাকাত) গ্রন্থে হিশাম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুস সাইব আল-কালবি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন যে... তিনি বলেন: "হারিসাহ ইবনে শুরাহীল নাবহানের তাইয়্যি গোত্রের এক মহিলাকে বিবাহ করেন এবং তাঁর গর্ভে জাবালাহ, আসমা ও যায়েদ জন্মগ্রহণ করে..." আর তিনি যায়েদের বন্দি হওয়ার কাহিনী উল্লেখ করেছেন যে, বনু ফাযারার তিহামা অঞ্চলের একদল অশ্বারোহী বাহিনী তাদের ওপর আক্রমণ করার পর যায়েদ বন্দি হন, এরপর উকাযের বাজারে তাঁকে বিক্রি করা হয় এবং নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে দেখেন, এরপর খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাঁকে ক্রয় করেন এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছান। এতে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, হারিসাহ এবং তাঁর বংশের কিছু লোক তাঁকে নিতে আসেন, অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে নির্বাচনের সুযোগ দেন... কাহিনীর শেষ পর্যন্ত (১)। হাফিয (আত-তাহযীব) গ্রন্থে তাম্মাম-এর (আল-ফাওয়াইদ) থেকে উদ্ধৃত করার পর বলেন: "এটি অত্যন্ত মুনকার (পরিত্যক্ত) হাদিস। হাফিয আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মানদাহ (মা'রিফাতুস সাহাবা) গ্রন্থে যায়েদের জীবনীতে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি কেবল এই সনদেই বর্ণিত হয়েছে। এরপর আমি এটি হাকিমের আল-মুস্তাদরাক (২) গ্রন্থে দেখেছি, কিন্তু তিনি এর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি (৩)।" আর ইবনে সাদের সনদে তাঁর উস্তাদ হিশাম এবং তাঁর পিতা রয়েছেন, যাঁরা উভয়েই হাদিস শাস্ত্রে পরিত্যক্ত (মাতরূক)।
ইবনে ইসহাক সনদ ছাড়াই (আস-সিরাহ) গ্রন্থে তাঁর কাহিনী বর্ণনা করেছেন (৪)। আর ইবনে আব্দুল বার (আল-ইস্তিআব (৫)) গ্রন্থে আবু ইসহাক আস-সাবিঈ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাবালাহ ইবনে হারিসাহকে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি বড় নাকি যায়েদ? তিনি বললেন: যায়েদ আমার চেয়ে উত্তম, তবে আমার জন্ম তাঁর আগে। এরপর তিনি যায়েদের বন্দি হওয়ার কাহিনী সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন, তবে এতে তাঁর পিতার ও তাঁর বংশের লোকদের আসা এবং তৎপরবর্তী ঘটনাবলি নেই। আবু উমর ইবনে আব্দুল বার কাহিনীটি উল্লেখ করার পূর্বে বলেন: "কেউ কেউ আবু ইসহাক এবং জাবালাহ ইবনে হারিসাহর মাঝে ফারওয়াহ ইবনে নাওফালকে উল্লেখ করেছেন।" আর হাফিয ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) (আত-তাহযীব) গ্রন্থে জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে বলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
جبلة "الصحيح عن أبي إسحاق عن فروة عنه (6) " ا. هـ أما كونه كان يسمى زيد بن محمَّد، فهذا رواه البخاري في صحيحه باب {ادْعُوهُمْ لآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللهِ} من كتاب التفسير، عن ابن عمر رضي الله عنه أن زيد بن حارثة مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم ما كنا ندعوه إلا زيد بن محمَّد، حتى نزل القرآن: {ادْعُوهُمْ لآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللهِ} (7) ورواه مسلم في "فضائل الصحابة" باب فضائل زيد (8).
وروى الترمذي بسنده عن أبي عمرو الشيباني قال: أخبرني جبلة بن حارثة أخو زيد قال: قدمتُ على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت له يا رسول الله: أبعث معي أخي زيدًا. قال: "هو ذا فإن انطلق معك لم أمنعه" قال زيد: يا رسول الله، والله لا أختار عليك أحدًا، قال: "فرأيتُ رأي أخي أفضل من رأيي" ثم قال الترمذي: هذا حديث حسن غريب، لا نعرفه إلا من حديث ابن الرومي عن علي بن مسهر (9) أهـ. وأورده الألباني في "صحيح الترمذي (10)).
وأخرجه الحاكم وقال: صحيح الإسناد ولم يخرجاه، ووافقه الذهبي (11).
--------------------------------------------
জাবাল্লাহ "আবু ইসহাক থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত, তিনি ফারওয়াহ থেকে, তিনি তার থেকে (৬)" সমাপ্ত। আর তাকে (যাইদকে) যে 'যাইদ বিন মুহাম্মাদ' নামে ডাকা হতো, ইমাম বুখারী তার সহীহ গ্রন্থে তাফসীর অধ্যায়ের {তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাকো, আল্লাহর নিকট এটাই অধিক ন্যায়সঙ্গত} পরিচ্ছেদে ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুক্তদাস যাইদ বিন হারিসাহকে আমরা 'যাইদ বিন মুহাম্মাদ' ছাড়া অন্য কিছু বলে ডাকতাম না, যতক্ষণ না কুরআনের এই আয়াত নাযিল হয়: {তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাকো, আল্লাহর নিকট এটাই অধিক ন্যায়সঙ্গত} (৭)। আর ইমাম মুসলিম এটি "ফাদায়িলুস সাহাবা" (সাহাবীদের মর্যাদা) অধ্যায়ের 'যাইদের মর্যাদা' পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন (৮)।
ইমাম তিরমিযী তার সনদে আবু আমর আশ-শায়বানী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যাইদের ভাই জাবাল্লাহ বিন হারিসাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার ভাই যাইদকে আমার সাথে পাঠিয়ে দিন। তিনি বললেন: "সে তো এখানেই আছে, সে যদি তোমার সাথে যেতে চায় তবে আমি তাকে বাধা দেব না।" যাইদ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ, আমি আপনার ওপর কাউকেই প্রাধান্য দেব না। তিনি (জাবাল্লাহ) বললেন: "তখন আমি আমার ভাইয়ের সিদ্ধান্তকে আমার সিদ্ধান্তের চেয়ে উত্তম মনে করলাম।" এরপর তিরমিযী বলেন: এই হাদীসটি হাসান গরীব, এটি ইবনুর রূমীর সূত্রে আলী বিন মুসহির থেকে বর্ণিত হাদীস ছাড়া আমরা চিনি না (৯) সমাপ্ত। আলবানী একে "সহীহ তিরমিযী" (১০)-তে উল্লেখ করেছেন।
হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এর সনদ সহীহ, তবে তারা দুইজন (বুখারী ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি। আর যাহাবী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন (১১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
محاولة التردي من شواهق الجبالروى الإِمام البخاري رحمه الله في كتاب التعبير من صحيحه (باب أول ما بُدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا الصالحة) ثم ذكر بسنده عن عائشة رضي الله عنها كيف نزل الوحي على رسول الله صلى الله عليه وسلم أول مرة. وفي آخر الحديث: "وفتر الوحي فترة حتى حزن النبي صلى الله عليه وسلم فيما بلغنا حزنًا غدا منه مرارًا كي يتردى من رؤوس شواهق الجبال، فكلما أوفى بذروة جبل لكي يلقي منه نفسه تبدّى له جبريل فقال: يا محمَّد إنك رسول الله حقًا، فيسكن لذلك جأشه وتقرّ نفسه فيرجع، فإذا طالت عليه فترة الوحي غدا لمثل ذلك، فإذا أوفى بذروة جبل تبدى له جبريل فقال له مثل ذلك" (1).
قال الحافظ رحمه الله في (الفتح): "وقوله هنا (فترة حتى حزن النبي صلى الله عليه وسلم فيما بلغنا) هذا وما بعده من زيادة مَعْمَر على رواية عقيل ويونس، وصنيع المؤلف يوهم أنه داخل في رواية عُقيل .. والذي عندي أن هذه الزيادة خاصة برواية مَعْمَر، فقد أخرج طريق عُقيل أبو نُعيم في مستخرجه .. بدونها، وأخرجه مقرونًا هنا برواية معمر وبيّن أن اللفظ لمعمر، وكذلك صرّح الإسماعيلي أن الزيادة في رواية معمر، وأخرجه أحمد ومسلم والإسماعيلي وغيرهم وأبو نعيم أيضًا، من طريق جمعٍ من أصحاب الليث عن الليث بدونها. ثم إن القائل: "فيما بلغنا" هو الزهري
… وهو من بلاغاته وليس موصولًا. وقال الكرماني: هذا هو الظاهر، ويحتمل أن يكون بلغه بالإسناد المذكور، ووقع عند ابن مردويه في التفسير من طريق محمَّد بن كثيرعن مَعْمر بإسقاط قوله "فيما بلغنا" ولفظه: "فترة حزن النبي صلى الله عليه وسلم منها حزنا غدا منه" إلى آخره فصار كله مدرجًا على رواية الزهري وعن عروة عن عائشة، والأول هو المعتمد" (2).
--------------------------------------------
পাহাড়ের সুউচ্চ চূড়া থেকে নিচে পড়ার চেষ্টাইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ তাঁর সহীহ গ্রন্থের কিতাবুত তাবীর-এ (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ওহী সূচনার প্রথম বিষয় ছিল নেক স্বপ্ন—শীর্ষক অধ্যায়) বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর সনদে আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, কীভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর প্রথমবার ওহী অবতীর্ণ হয়েছিল। হাদীসের শেষাংশে আছে: "অতঃপর ওহী আসা বন্ধ হয়ে গেল কিছুদিনের জন্য, এমনকি আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে সে অনুযায়ী—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতই চিন্তিত হলেন যে, তিনি পাহাড়ের সুউচ্চ চূড়া থেকে নিচে পড়ার জন্য বারবার বের হতেন। যখনই তিনি কোনো পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছাতেন নিজেকে সেখান থেকে ফেলে দেওয়ার জন্য, তখনই জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর সামনে প্রকাশিত হতেন এবং বলতেন: হে মুহাম্মদ, নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর সত্য রাসূল। এতে তাঁর অস্থিরতা শান্ত হতো এবং তাঁর মন স্থির হতো, ফলে তিনি ফিরে আসতেন। যখনই ওহী বন্ধ থাকার সময় দীর্ঘ হতো, তিনি আবারো এমনটি করতে বের হতেন। আর যখনই পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছাতেন, জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর সামনে প্রকাশিত হয়ে পুনরায় একই কথা বলতেন।" (১)।
হাফিজ রাহিমাহুল্লাহ (ফাতহুল বারী) গ্রন্থে বলেছেন: "এখানে তাঁর উক্তি (ওহী বন্ধ থাকল যার ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চিন্তিত হলেন, যা আমাদের কাছে পৌঁছেছে)—এটি এবং পরবর্তী অংশটুকু উকা ইল ও ইউনুসের বর্ণনার বিপরীতে মা'মারের অতিরিক্ত অংশ। গ্রন্থকারের উপস্থাপনা থেকে ধারণা হতে পারে যে এটি উকা ইলের বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত... কিন্তু আমার মতে, এই অতিরিক্ত অংশটি কেবল মা'মারের বর্ণনার জন্য নির্দিষ্ট। কেননা আবু নুআইম তাঁর মুসতাখরাজ গ্রন্থে উকা ইলের সূত্রে এটি ছাড়াই বর্ণনা করেছেন। আর তিনি এখানে মা'মারের বর্ণনার সাথে এটি যুক্ত করে উল্লেখ করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে শব্দগুলো মা'মারের। একইভাবে ইসমাঈলীও স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, এই অতিরিক্ত অংশটুকু মা'মারের বর্ণনায় রয়েছে। আর আহমাদ, মুসলিম, ইসমাঈলী ও অন্যান্যরা এবং আবু নুআইমও লাইসের একদল ছাত্রের মাধ্যমে লাইস থেকে এটি ছাড়াই বর্ণনা করেছেন। অতঃপর 'আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে' কথাটি যিনি বলেছেন, তিনি হলেন যুহরী
… এবং এটি তাঁর একটি বালাঘাত (সনদহীন বর্ণনা), এটি মুত্তাসিল (অবিচ্ছিন্ন) সনদ নয়। কিরমানী বলেছেন: এটিই বাহ্যত প্রতীয়মান হয়, তবে সম্ভাবনা আছে যে উল্লিখিত সনদে এটি তাঁর কাছে পৌঁছেছে। ইবনে মারদুওয়াইহের তাফসীরে মুহাম্মদ ইবনে কাসীরের সূত্রে মা'মার থেকে 'আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে' উক্তিটি বাদ দিয়ে বর্ণিত হয়েছে এবং শব্দগুলো হলো: 'কিছুকাল ওহী বন্ধ থাকল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে ব্যথিত হলেন যার ফলে তিনি বের হতেন' শেষ পর্যন্ত। ফলে পুরো বিষয়টি যুহরী, উরওয়াহ ও আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা-র বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে, তবে প্রথম মতটিই নির্ভরযোগ্য।" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وكذا ذكر الشيخ الألباني رحمه الله لهذه الزيادة العلّتّان السابقتان:
الأولى: تفرّد معمر بها دون يونس وعُقيل، فهي شاذة.
الأخرى: أنها مرسلة معضلة، فإن القائل: "فيما بلغنا" إنما هو الزهري كما
هو ظاهر من السياق
… (3)
--------------------------------------------
একইভাবে শাইখ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) এই অতিরিক্ত অংশের জন্য পূর্বোক্ত দুটি ত্রুটি উল্লেখ করেছেন:
প্রথমটি: ইউনুস এবং উকাইলের বিপরীতে মা'মার এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তাই এটি শায (বিচ্ছিন্ন)।
অন্যটি: এটি মুরসাল ও মু'দাল, কারণ "আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে" এই উক্তিটি মূলত যুহরীর, যেমনটি
প্রসঙ্গ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়
… (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ومما شاع ولم يثبتما رواه ابن إسحاق قال: "حدثني إسماعيل بن أبي حكيم مولى آل الزبير أنه حُدِّث عن خديجة رضي الله عنها أنها قالت لرسول الله صلى الله عليه وسلم: أي ابن عم، أتستطيع أن تخبرني بصاحبك هذا الذى يأتيك إذا جاءك؟ قال: نعم. قالت: فإذا جاءك فأخبرني به، فجاءه جبريل عليه السلام كما كان يصنع، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لخديجة: يا خديجة، هذا جبريل قد جاءني، قالت: قم يا ابن عم فاجلس على فخذي اليسرى. قال: فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فجلس عليها: قالت: هل تراه؟ قال: نعم: قالت: فتحول فاجلس على فخذي اليمنى، قالت: فتحول رسول الله صلى الله عليه وسلم فجلس على فخذها اليمنى، فقالت: هل تراه؟ قال: نعم. قالت: فتحول فاجلس في حجري، قالت فتحوّل رسول الله صلى الله عليه وسلم فجلس في حجرها، قالت: هل تراه؟ قال: نعم: قال: فتحسّرتْ وألقت خمارها، ورسول الله صلى الله عليه وسلم جالس في حجرها، ثم قالت له: هل تراه؟ قال: لا، فقالت: يا ابن عم، أثبت وأبشر، فوالله إنه لملَك وما هذا بشيطان.
قال ابن إسحاق: وقد حدثت عبد الله بن حسن هذا الحديث، فقال: قد سمعت أمي فاطمة بنت حسين تُحدِّث بهذا الحديث عن خديجة إلا أني سمعتها تقول: أدخلتْ رسول الله صلى الله عليه وسلم بينها وبين درعها، فذهب عند ذلك جبريل، فقالت لرسول الله صلى الله عليه وسلم: إن هذا لملك وما هو بشيطان" (1).
وأسناد ابن إسحاق الأول معضل، فإسماعيل بن أبي حكيم لا يُعرف له سماع عن أحد من الصحابة، وخديجة رضي الله عنه كانت وفاتها قبل الهجرة. وكذا إسناده الآخر فإن فاطمة بنت الحسين روايتها عن جدتها فاطمة بنت النبي صلى الله عليه وسلم مرسلة، فكيف عن خديجة؟
ومن طريق ابن إسحاق أخرجه البيهقي في (الدلائل (2)).
--------------------------------------------
প্রচলিত কিন্তু অপ্রমাণিত বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্তইবনে ইসহাক যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "ইসমাঈল বিন আবি হাকিম—যিনি আলে যুবাইরের আযাদকৃত দাস—আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, খাদিজাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছিলেন: হে আমার চাচার ছেলে, আপনার কাছে যে সাথী আসেন, তিনি যখন আসবেন তখন কি আপনি আমাকে তাঁর সম্পর্কে জানাতে পারবেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে যখন তিনি আসবেন আমাকে জানাবেন। অতঃপর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর কাছে আসলেন যেমনটি তিনি সচরাচর আসতেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খাদিজাহকে বললেন: হে খাদিজাহ, এই তো জিবরাঈল আমার কাছে এসেছেন। তিনি বললেন: হে আমার চাচার ছেলে, উঠুন এবং আমার বাম ঊরুর ওপর বসুন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উঠলেন এবং তাঁর ওপর বসলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কি তাকে দেখতে পাচ্ছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে ঘুরে গিয়ে আমার ডান ঊরুর ওপর বসুন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুরে গিয়ে তাঁর ডান ঊরুর ওপর বসলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কি তাকে দেখতে পাচ্ছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে ঘুরে এসে আমার কোলে বসুন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুরে গিয়ে তাঁর কোলে বসলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কি তাকে দেখতে পাচ্ছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি (খাদিজাহ) স্বীয় পর্দা উন্মোচন করলেন এবং তাঁর ওড়না সরিয়ে ফেললেন, এমতাবস্থায় আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কোলেই বসে ছিলেন। এরপর তিনি তাঁকে বললেন: আপনি কি তাকে দেখতে পাচ্ছেন? তিনি বললেন: না। তখন তিনি বললেন: হে আমার চাচার ছেলে, স্থির থাকুন এবং সুসংবাদ গ্রহণ করুন; আল্লাহর কসম, তিনি অবশ্যই একজন ফিরিশতা, তিনি কোনো শয়তান নন।"
ইবনে ইসহাক বলেন: আমি আবদুল্লাহ বিন হাসানকে এই হাদীসটি শুনিয়েছি। তিনি বললেন: আমি আমার মা ফাতিমাহ বিনতে হুসাইনকে খাদিজাহ থেকে এই হাদীসটি বর্ণনা করতে শুনেছি, তবে আমি তাঁকে বলতে শুনেছি যে: তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর নিজের এবং তাঁর কামিজের (বস্ত্রের) ভেতরে প্রবেশ করিয়েছিলেন, তখন জিবরাঈল চলে গেলেন। এরপর তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেন: নিশ্চয়ই তিনি একজন ফিরিশতা এবং তিনি কোনো শয়তান নন (১)।
ইবনে ইসহাকের প্রথম সনদটি ‘মুদাল’ (সূত্রবিচ্ছিন্ন)। কারণ, ইসমাঈল বিন আবি হাকিম কোনো সাহাবী থেকে হাদীস শুনেছেন বলে জানা যায় না, আর খাদিজাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ইন্তেকাল হয়েছিল হিজরতের পূর্বে। অনুরূপভাবে তাঁর অন্য সনদটিও এমন; কারণ ফাতিমাহ বিনতে হুসাইনের তাঁর দাদী আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কন্যা ফাতিমাহ থেকে বর্ণনাটিই ‘মুরসাল’ (বিচ্ছিন্ন), তাহলে খাদিজাহ থেকে কীভাবে হবে?
ইবনে ইসহাকের সূত্র ধরে বায়হাকী এটি (দালাইল (২)) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ثم طبع المجلد الثالث عشر من (الضعيفة) وقد ذُكر فيه هذه القصة، وتعقب الشيخ الألباني الهيثمي رحمه الله في قوله: -بعد أن عزاه للطبراني-: "إسناده حسن" (3). بقوله: "هو كذلك لولا ما يأتي .. " وذكر علتين:
1 - ضعف يحيى بن سليمان بن نضلة المديني.
2 - مخالفته لمن هو أوثق منه (4).
فائدة: وقد أخرج مسلم عن عائشة رضي الله عنه قوله صلى الله عليه وسلم عن جبريل: " .. ولم يكن يدخل عليكِ وقد وضعتِ ثيابك .. (5) ".
فائدة: وروى البخاري في صحيحة قوله صلى الله عليه وسلم لأم سلمة رضي الله عنها: "يا أم سلمة لاتؤذيني في عائشة، فإنه والله ما نزل عليّ الوحي وأنا في لحاف امرأة منكن غيرها (6) ".
--------------------------------------------
অতঃপর (সিলসিলাতুদ) যয়ীফাহ-এর ত্রয়োদশ খণ্ড মুদ্রিত হয়েছে এবং তাতে এই কাহিনীটি উল্লেখ করা হয়েছে। শেখ আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) আল-হাইসামি (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি —যিনি তাবারানির উদ্ধৃতি দেওয়ার পর বলেছিলেন: "এর সনদ হাসান" (৩)— এর সমালোচনা করে বলেছেন: "যদি পরবর্তী বিষয়গুলো না থাকত তবে তা তেমনই হতো..." এবং তিনি দুটি ত্রুটি উল্লেখ করেছেন:
১ - ইয়াহইয়া বিন সুলাইমান বিন নাদলাহ আল-মাদীনির দুর্বলতা।
২ - তার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সাথে তার বিরোধিতা (৪)।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ইমাম মুসলিম আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে জিবরীল (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী বর্ণনা করেছেন: "...আর যখন তুমি তোমার পোশাক খুলেছিলে, তখন তিনি তোমার কাছে প্রবেশ করেননি (৫)..."।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে উম্মে সালামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে উদ্দেশ্য করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী বর্ণনা করেছেন: "হে উম্মে সালামাহ! আয়িশার ব্যাপারে আমাকে কষ্ট দিও না। আল্লাহর শপথ! তোমাদের মধ্য থেকে একমাত্র তাঁর লেপের নিচে থাকা অবস্থাতেই আমার নিকট ওহী অবতীর্ণ হয়েছে (৬)"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
تحديد الدعوة السرية بثلاث سنينقال ابن إسحاق رحمه الله: "
… وكان بين ما أخفى رسول الله صلى الله عليه وسلم أمره، واستتر به إلى أن أمره الله تعالى بإظهار دينة ثلاث سنين - فيما بلغني - من مبعثه
… (1) " هكذا ذكره دون إسناد.
وروى هذا التحديد أيضًا ابن سعد، قال أخبرنا محمَّد بن عمر
… عن عبد الرحمن بن القاسم عن أبيه قال: "
… فكان (رسول الله صلى الله عليه وسلم) يدعو من أول ما نزلت عليه النبوة ثلاث سنين مستخفيًا إلى أن أُمر بظهور الدعاء (2) "
ومحمد بن عمر هو الواقدي، وهو متروك، والقاسم تابعي.
وروى البلاذُري عن عائشة رضي الله عنه قالت: "دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم سرًا أربع سنين (3) ".
ولا ريب أن الدعوة كانت سرية في بداية الأمر، لكن تحديدها بثلاث سنوات أو أربع، لم يثبت، وبالتالي فإن بناء أحكام شرعية عليها بهذا التحديد، لا دليل عليه - والله أعلم -.
--------------------------------------------
গোপন দাওয়াতের সময়সীমা তিন বছর নির্ধারণইবনে ইসহাক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "
… রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তি থেকে শুরু করে তাঁর দাওয়াতের বিষয়টি গোপন রাখা এবং আত্মগোপন করে থাকা থেকে শুরু করে আল্লাহ তাআলা তাঁর দ্বীনকে প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া পর্যন্ত—আমার কাছে যা পৌঁছেছে সে অনুযায়ী—তিন বছর সময় অতিবাহিত হয়েছিল
… (১) " তিনি এটি এভাবেই কোনো সনদ (বর্ণনাসূত্র) ছাড়াই উল্লেখ করেছেন।
ইবনে সাদও এই সময়সীমা বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
… আব্দুর রহমান ইবনে কাসিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: "
… তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়াত অবতীর্ণ হওয়ার শুরু থেকে তিন বছর গোপনভাবে দাওয়াত দিচ্ছিলেন, যতক্ষণ না প্রকাশ্যে দাওয়াত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় (২) "
আর মুহাম্মাদ ইবনে উমর হলেন আল-ওয়াকিদি, এবং তিনি মাতরুক (পরিত্যক্ত), আর কাসিম হলেন একজন তাবিঈ।
আল-বালাযুরি আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চার বছর গোপনভাবে দাওয়াত দিয়েছেন (৩)।"
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, দাওয়াত কার্যক্রম শুরুর দিকে গোপন ছিল, কিন্তু একে তিন বা চার বছর হিসেবে নির্দিষ্ট করা প্রমাণিত নয়। ফলস্বরূপ, এই নির্দিষ্ট সময়সীমার ওপর ভিত্তি করে কোনো শরয়ী বিধান প্রণয়ন করার কোনো দলিল নেই—আল্লাহই ভালো জানেন—।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা শাআ ওয়া লাম ইয়াসবুত ফিস সিরাতিল নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
لو وضعوا الشمس في يميني والقمر في يساريقال ابن إسحاق-رحمه الله: "وحدثنى يعقوب بن عتبة بن المغيرة بن الأخنس أنه حُدِّث: أن قريشًا حين قالوا لأبي طالب هذه المقالة (1)، بعث إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال له: يا ابن أخي، إن قومك قد جاؤوني فقالوا لي: كذا وكذا، للذي كانوا قالوا له، فأبق عليّ وعلى نفسك، ولا تحملنى من الأمر مالا أطيق. فظن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قد بدا لعمه فيه أنه خاذله ومسلمه، وأنه قد ضعف عن نصرته والقيام معه. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يا عمّ، والله لو وضعوا الشمس في يمينى والقمر في يساري على أن أترك هذا الأمر حتى يظهره الله، أو أهلك فيه ما تركته. قال: ثم استعبر رسول الله صلى الله عليه وسلم فبكى ثم قام، فلما ولى ناداه أبو طالب، فقال: أقبل يابن أخي، قال: فأقبل عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: اذهب يا بن أخي، فقل ما أحببت، فوالله لا أسلمك لشيء أبدًا (2) ".
قال الشيخ الألباني رحمه الله "وهذا إسناد ضعيف معضل، يعقوب بن عتبة هذا من ثقات أتباع التابعين، مات سنة ثمان وعشرين ومائة، وقد وجدتُ للحديث طريقًا أخرى بسند حسن، لكن بلفظ:
"ما أنا بأقدر على أن أدع لكم ذلك، على أن تشعلوا لي منها شعلة، يعنى الشمس (3) " وأحال الشيخ الألباني رحمه الله على: (الصحيحة) في التخريج، وقال هناك في تخريج هذا الحديث الأخير: "رواه أبو جعفر البختري
… وابن عساكر من طريق أبي يعلي وغيره كلاهما عن يونس بن بُكير، أخبرنا طلحة بن يحي عن موسى بن طلحة قال: حدثنى عقيل بن أبي طالب قال: "جاءت
--------------------------------------------
যদি তারা আমার ডান হাতে সূর্য এবং বাম হাতে চাঁদ এনে দেয়ইবনে ইসহাক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "ইয়াকুব ইবনে উতবা ইবনে মুগিরা ইবনে আল-আখনাস আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তাকে জানানো হয়েছে: যখন কুরাইশরা আবু তালিবকে এই কথাগুলো (১) বলল, তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে লোক পাঠালেন এবং তাকে বললেন: হে ভাতিজা, তোমার কওম আমার কাছে এসেছিল এবং তারা আমাকে এই এই কথা বলেছে, যা তারা ইতোপূর্বে তাকে বলেছিল। সুতরাং আমার প্রতি এবং তোমার নিজের প্রতি দয়া করো, আর আমার ওপর এমন বিষয়ের ভার দিও না যা বহন করার ক্ষমতা আমার নেই। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ধারণা করলেন যে, তার চাচার কাছে এমন মনে হয়েছে যে তিনি তাকে ত্যাগ করবেন ও সপে দেবেন এবং তিনি তাকে সাহায্য করতে ও তার পাশে দাঁড়াতে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: হে চাচা, আল্লাহর কসম, যদি তারা আমার ডান হাতে সূর্য এবং বাম হাতে চাঁদ এনে দেয় যাতে আমি এই কাজ (দ্বীন প্রচার) পরিত্যাগ করি—যতক্ষণ না আল্লাহ একে বিজয়ী করেন অথবা আমি এর পথে ধ্বংস হয়ে যাই—তবুও আমি তা পরিত্যাগ করব না। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অশ্রুসিক্ত হলেন এবং কাঁদলেন, অতঃপর উঠে দাঁড়ালেন। যখন তিনি ফিরে যাচ্ছিলেন, আবু তালিব তাকে ডাকলেন এবং বললেন: হে ভাতিজা, এগিয়ে এসো। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার দিকে এগিয়ে এলেন। তখন তিনি বললেন: যাও ভাতিজা, তুমি যা পছন্দ করো তা-ই বলো, আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে কখনোই কোনো কিছুর বিনিময়ে তাদের হাতে সপে দেব না (২)।"
শেখ আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এটি একটি দুর্বল ও মুদাল (সূত্রবিচ্ছিন্ন) সনদ। এই ইয়াকুব ইবনে উতবা নির্ভরযোগ্য তাবি-তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি ১২৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তবে আমি এই হাদীসের অন্য একটি হাসান সনদ পেয়েছি, কিন্তু তার শব্দ বিন্যাস নিম্নরূপ:
"সূর্য থেকে একটি শিখা জ্বালিয়ে আনা যেমন তোমাদের জন্য অসম্ভব, তেমনি আমার পক্ষেও এই কাজ ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয় (৩)।" আর শেখ আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) এটি 'আস-সহিহাহ' গ্রন্থের তাখরিজে উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে এই শেষোক্ত হাদীসের তাখরিজে বলেছেন: "এটি বর্ণনা করেছেন আবু জাফর আল-বাখতারি … এবং ইবনে আসাকির, আবু ইয়ালা ও অন্যদের সূত্রে, তারা উভয়েই ইউনুস ইবনে বুকাইর থেকে, তিনি ত্বলহা ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি মুসা ইবনে ত্বলহা থেকে, তিনি বলেন: উকাইল ইবনে আবি তালিব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে: তিনি এসেছেন
--------------------------------------------