(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: -)
قانون التأويل القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: قَانون التَّأويْل
المؤلف: القاضي محمد بن عبد الله أبو بكر بن العربي المعافري الاشبيلي المالكي (ت 543هـ)
دراسة وتحقيق: محمّد السّليماني
الناشر: دار القبلة للثقافة الإسلاميَّة، جَدّة، مؤسَسَة عُلوم القرآن، بيروت
الطبعة: الأولى، 1406 هـ - 1986 م
عدد الصفحات: 680
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 11 رمضان 1434
কানুন আত-তাবিল বিভাগ: কুরআনের জ্ঞানসমূহ এবং তাফসিরের মূলনীতি
গ্রন্থ: কানুন আত-তাবিল
লেখক: আল-কাজি মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আবু বকর বিন আল-আরাবি আল-মাআফিরি আল-ইশবিলি আল-মালিকি (মৃত্যু ৫৪৩ হি.)
গবেষণা ও সম্পাদনা: মুহাম্মদ আস-সুলাইমানি
প্রকাশক: দারুল কিবলাহ লিস-সাকাফাহ আল-ইসলামিয়্যাহ, জেদ্দা, মুয়াসসাসাতু উলুমিল কুরআন, বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬ হি. - ১৯৮৬ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৮০
[গ্রন্থের সংখ্যাবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১১ রমজান ১৪৩৪
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: -)
قَانون التَّأويْل
للإمَام القَاضِي أبي بَكر محمَّد بن عَبْد اللهِ بن العَرَبي المعَافِري الإشبيلي
(المتوفى سنة 543)
دراسة وتحقيق
محمّد السّليماني
دار القبلة للثقافة الإسلاميَّة
جَدّة
مؤسَسَة عُلوم القرآن
بيروت
কানুন আত-তাবিল (ব্যাখ্যা প্রদানের নীতিমালা)
ইমাম কাজি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আল-আরাবি আল-মাআফিরি আল-ইশবিলি প্রণীত
(মৃত্যু ৫৪৩ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা
মুহাম্মদ আল-সুলাইমানি
দার আল-কিবলা লি আল-সাকাফাহ আল-ইসলামিয়্যাহ
জেদ্দা
মুয়াসসাসাত উলুম আল-কুরআন
বৈরুত
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
{هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ (7)} [آل عمران: 7].
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
{তিনিই আপনার প্রতি এই কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যার কিছু আয়াত ‘মুহকাম’ (সুস্পষ্ট), সেগুলো কিতাবের মূল; আর অন্যগুলো ‘মুতাশাবিহ’ (অস্পষ্ট বা রূপক)। অতঃপর যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি ও এর ব্যাখ্যার অন্বেষণে যা মুতাশাবিহ তার অনুসরণ করে। অথচ আল্লাহ ছাড়া এর (প্রকৃত) ব্যাখ্যা কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলে, ‘আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি, সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে’। আর কেবল বুদ্ধিমানরাই উপদেশ গ্রহণ করে (৭)} [আল ইমরান: ৭]।
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৩)
قانون التأويل
ব্যাখ্যার নীতিমালা
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৪)
حقوق الطبع محفوظة
الطبعة الأولى
1406 هـ - 1986 م
دار القبلة للثقافة الإسلامية
المملكة العربية السعودية - جَدّة - ص ب: 10933 - ت: 6710000 - تلكس: 21443
مؤسَسَة عُلوم القُرآن
سورَيا - دمَشق - شَارع مسلم البَارُودي - بناء خولي وصَلَاحي - ص ب 4620 - ت 225877 - بَيروت - ص ب 5281/ 13
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ
দারুল কিবলা লিদ-দাকাফাতিল ইসলামিয়্যাহ
সৌদি আরব রাজ্য - জেদ্দা - পোস্ট বক্স: ১০৯৩৩ - টেলিফোন: ৬৭১০০০০ - টেলেক্স: ২১৪৪৩
মুয়াসসাসাতু উলুমিল কুরআন
সিরিয়া - দামেস্ক - মুসলিম আল-বারুদি সড়ক - খাউলি ও সালাহি ভবন - পোস্ট বক্স: ৪৬২০ - টেলিফোন: ২২৫৮৭৭ - বৈরুত - পোস্ট বক্স: ১৩/৫২৮১
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৫)
الإهدَاء
إلى والدي الكريم فضيلة الشيخ الحسين السليماني أهدي هذه الثمرة.
ابنكم محمد
উৎসর্গ
আমার সম্মানিত পিতা ফযীলাতুশ শাইখ আল-হুসাইন আস-সুলাইমানীর প্রতি আমি এই গবেষণালব্ধ ফলটি উৎসর্গ করছি।
আপনার পুত্র মুহাম্মদ
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدّمة فضيلة الأستاذ الدكتور سليمان دنياالحمد لله رب العالمين حمد الشاكرين، أحمده على عظيم نعمائه، وجميل بلائه، وأستكفيه نوائب الزمان ونوازل الحدثان، وأرغب إليه في التوفيق والعصمة، وأبرأ إليه من الحول والقوة، واخلص القول بأن لا إله إلَاّ الله شهادة الموحد المستبصر، غير المتوقف المتحير، وأشهد أن سيدنا ومولانا محمداً عبده الأمين على وحيه، ورسوله الصادع بأمره ونهيه، المؤيد بِجَوَامِع الكَلِم، المبين للناس ما نزل إليهم بلسان عربي مبين، فيه واضح يعرفه السامعون، وغامض لا يعقله إلا العالمون، وصل اللهم على سيدنا وحبيبنا محمد وعلى آله المتبعين لسنته، وأصحابه المبينين لشريعته، وسلم تسليماً كثيراً.
أما بعد:
فإن هذا الكتاب القيم باكورة عمل جليل يقوم به ابني وتلميذي الأستاذ محمد السليماني، لِإحياء تراث أكبر فقيه ومتكلم عرفته الأندلس، ومن المعلوم أن كنوز التراث الِإسلامي قد طمرتها حوادث الدهر وصروف الأيام وعوادي الزمن، فهي اليوم من مودعات خزائن الكتب العامة والخاصة في الشرق والغرب، وأصبحت في جملة الدفائن، اللهم إلا كتباً يسيرة حققت تحقيقاً علمياً جيداً، هي جلّ ما أخرج إلينا من رشح ذلك المعين المتدفق، وما أقلَّه ثَمَداً لا يقطع غُلَّة صادٍ، ولا يعيد بِلَّة منطِق.
বিশিষ্ট অধ্যাপক ডক্টর সুলাইমান দুনিয়ার ভূমিকাসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যা কৃতজ্ঞদের প্রশংসার মতো; আমি তাঁর বিশাল নিআমতসমূহ এবং তাঁর সুন্দর পরীক্ষার জন্য তাঁর প্রশংসা করছি; এবং আমি তাঁর কাছে যামানার বিপদ-আপদ এবং সময়ের দুর্যোগসমূহ থেকে রক্ষা চাইছি; আমি তাঁর কাছে তাওফীক এবং পাপ থেকে সুরক্ষা কামনা করি; এবং আমি নিজের ক্ষমতা ও শক্তি থেকে বিমুখ হয়ে কেবল তাঁরই মুখাপেক্ষী হচ্ছি। আমি একনিষ্ঠভাবে বলছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই—এই সাক্ষ্য একজন অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন একত্ববাদীর, কোনো দ্বিধাগ্রস্ত বা বিভ্রান্ত ব্যক্তির নয়। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মদ (সা.) তাঁর ওহীর ওপর আমানতদার বান্দা এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রচারকারী রাসূল; যিনি সংক্ষেপ অথচ গভীর অর্থবহ বাণীর মাধ্যমে সাহায্যপ্রাপ্ত এবং যিনি মানুষের কাছে তাদের প্রতি নাযিলকৃত বিষয়গুলো সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় বর্ণনা করেছেন। তাতে এমন স্পষ্ট বিষয় রয়েছে যা শ্রোতারা বুঝতে পারে এবং এমন গূঢ় রহস্য রয়েছে যা কেবল আলেমরাই অনুধাবন করতে পারে। হে আল্লাহ! আমাদের নেতা ও প্রিয় মুহাম্মদ (সা.), তাঁর সুন্নাহর অনুসারী পরিবারবর্গ এবং তাঁর শরীয়ত বর্ণনাকারী সাহাবীদের ওপর রহমত ও প্রচুর শান্তি বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই এই মূল্যবান বইটি আমার পুত্র ও ছাত্র অধ্যাপক মুহাম্মদ আল-সুলাইমানীর পক্ষ থেকে শুরু হওয়া একটি মহান কর্মের প্রাথমিক ফসল, যা আন্দালুসের দেখা সর্বশ্রেষ্ঠ ফকীহ এবং মুতাকাল্লিমের ঐতিহ্যকে পুনর্জীবিত করার জন্য নিবেদিত। এটা সবারই জানা যে, ইসলামী ঐতিহ্যের অমূল্য ভাণ্ডারসমূহ কালের পরিক্রমা, সময়ের পরিবর্তন এবং যুগের প্রতিকূলতায় চাপা পড়ে গিয়েছে। ফলে বর্তমানে সেগুলো পূর্ব ও পশ্চিমের সরকারি ও বেসরকারি কুতুবখানাগুলোতে আমানত হিসেবে রক্ষিত এবং লুকানো সম্পদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছে। তবে হাতেগোনা অল্প কিছু বই ছাড়া যা মানসম্মত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সম্পাদিত হয়েছে; আর এই প্রবাহিত ঝরনাধারা থেকে যা আমাদের কাছে পৌঁছেছে তা মূলত এর অতি সামান্য অংশই। সেই স্বল্পতা এতোই বেশি যে, তা না কোনো তৃষ্ণার্তের পিপাসা মেটাতে পারে, না কোনো ভাষাকে সজীবতা দান করতে পারে।
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৮)
وإننا اليوم بحاجة ماسّة إلى إحياء ما درس من معالم ثقافتنا، وتبيان ما طمس من آثارها. والكشف عن منابع الحق فيها، نستخرج منها ذكريات العزة، وصفحات المجد، وآيات الفخار.
وقد كان لتلميذي محمد -وهو الخبير بنوادر الكتب والمخطوطات- في تَخَيُّر هذا الكتاب الذي أقدم على نشره وتحقيقه، منهج معين وقصد مرسوم، ولم يكن اختياراً جاء عفو الخاطر أو ولّدته اللّمحة الخاطفة. وإنما كان اختياراً أنتجته الأناة والتروي، وأملته مصلحة الأمة، وفرضته اعتبارات الصحوة الِإسلامية المباركة.
وقد قدم لنا الأستاذ محمد بمقدمة لقانون التأويل فيها من صدق العرض واستواء القصد وبلوغ الهدف ما يكشف عن حقيقة الكتاب وضرورته للمكتبة الِإسلامية، وأشهد لهذه المقدمة بأنها استقصت من أخبار ابن العربي كثيراً، وتلك يد لمحمد على التراث الِإسلامي، وهي أخرى على التاريخ، ولو قد يسّر الله لكل عالم من علماء أمتنا الِإسلامية باحثاً ذا جلد وصبر ومعرفة وأمانة في الاطلاع ودقة في التحري كما يسر الله لابن العربي، لما أضلت الأمة الإِسلامية مسجد علمائها ومفكريها، فجزاه الله عن العلم كل خير.
وكتاب "قانون التأويل" هو للقاضي أبي بكر بن العربي، ويعد هذا الإِمام في طليعة العلماء الذين أخذوا من كل فن بسهم وافر، ولم يقف بنفسه عند حد المعرفة والتعليم، بل اقتحم ميدان التأليف الموفّق، فكان من نخبة الكتّاب المجيدين، بل من أغزرهم مادة، وأطولهم باعاً، وأمضاهم سليقة، وأحضرهم بياناً، متبحر في الفقه وأصوله، بصير بعلم الكلام، خبير بمشكلاته، متصرف في دقائقه.
وقد كَبُرَ ابن العربي في عيني، ووقع في نفسي موقعاً جليلاً، منذ أن قرأت كتابه النفيس "العواصم من القواصم" الذي رد فيه على الفلاسفة وغلاة الصوفية والجهلة من المؤرخين، فكان لكتابه هذا المزية الظاهرة والغرة
আজ আমরা আমাদের সংস্কৃতির যে নিদর্শনগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে তা পুনরুজ্জীবিত করার এবং তার যে চিহ্নগুলো মুছে গেছে তা স্পষ্ট করার তীব্র প্রয়োজন বোধ করছি। এর সত্যের উৎসগুলো উন্মোচন করে আমরা সেখান থেকে সম্মানের স্মৃতি, গৌরবের অধ্যায় এবং গর্বের নিদর্শনসমূহ আহরণ করতে চাই।
আমার ছাত্র মুহাম্মাদ—যিনি বিরল কিতাব ও পাণ্ডুলিপি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ—এই কিতাবটি প্রকাশ ও সম্পাদনার (তাহকিক) জন্য নির্বাচনে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও সুপরিকল্পিত উদ্দেশ্য অনুসরণ করেছেন। এটি কোনো আকস্মিক নির্বাচন ছিল না বা কোনো ক্ষণস্থায়ী চিন্তার ফসল ছিল না। বরং এটি এমন এক নির্বাচন যা ধীরস্থির চিন্তা ও গভীর ভাবনার ফল, যা উম্মাহর স্বার্থের প্রয়োজনে এবং বরকতময় ইসলামী জাগরণের প্রেক্ষাপটে অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল।
উস্তাদ মুহাম্মাদ ‘কানুনুত তাবিল’ গ্রন্থের জন্য এমন একটি ভূমিকা পেশ করেছেন, যার উপস্থাপনার সততা, লক্ষ্যের স্থৈর্য এবং উদ্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর সক্ষমতা কিতাবটির প্রকৃত রূপ ও ইসলামী পাঠাগারের জন্য এর প্রয়োজনীয়তাকে উন্মোচিত করে। আমি এই ভূমিকার ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এটি ইবনুল আরাবির জীবন ও কর্মের অনেক তথ্য নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করেছে। এটি ইসলামী ঐতিহ্যের প্রতি মুহাম্মাদের একটি বড় অবদান এবং ইতিহাসের প্রতিও এটি তাঁর অন্য এক অনুগ্রহ। আল্লাহ যদি আমাদের ইসলামী উম্মাহর প্রত্যেক আলেমের জন্য ইবনুল আরাবির মতো এমন ধৈর্যশীল, সহিষ্ণু, জ্ঞানী, তথ্য অনুসন্ধানে আমানতদার এবং সত্য উদঘাটনে সূক্ষ্মদর্শী গবেষক সহজ করে দিতেন, তবে এই উম্মাহ তাদের আলেম ও চিন্তাবিদদের প্রদর্শিত পথ হারাত না। আল্লাহ তাকে ইলমের খেদমতের বিনিময়ে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
‘কানুনুত তাবিল’ কিতাবটি কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবির। এই ইমাম সেই সকল আলেমদের প্রথম সারিতে গণ্য হন, যারা প্রতিটি শাস্ত্রে প্রভূত জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি নিজেকে কেবল শিক্ষা ও জ্ঞানার্জনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং সফল গ্রন্থ রচনার ময়দানেও বলিষ্ঠ পদচারণা করেছেন। তিনি একাধারে শ্রেষ্ঠ লেখক, বিপুল তথ্যভাণ্ডারের অধিকারী, সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী, প্রখর মেধার অধিকারী এবং প্রাঞ্জল বর্ণনাকারী ছিলেন। তিনি ফিকহ ও উসুলুল ফিকহে বুৎপত্তি সম্পন্ন এবং ইলমে কালাম ও এর জটিল ও সূক্ষ্ম বিষয়সমূহে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন।
ইবনুল আরাবি আমার দৃষ্টিতে অনেক বড় হয়ে উঠেছেন এবং আমার হৃদয়ে এক সুমহান মর্যাদা লাভ করেছেন, যখন থেকে আমি তাঁর মূল্যবান কিতাব ‘আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম’ পাঠ করেছি। এতে তিনি দার্শনিক, চরমপন্থী সুফি এবং মূর্খ ঐতিহাসিকদের উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন। তাঁর এই কিতাবটির এক সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য ও অনন্য মর্যাদা রয়েছে...
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৯)
الواضحة في الفكر الإِسلامي، ولو كان لي من الأمر شيء لأمرت أن يطبع هذا الكتاب ويوزع مجاناً ليكون في يد كل مسلم يحب الله ورسوله.
ومن حِكَمِ الله سبحانه وتعالى أن وهب لسلفنا رضي الله عنهم بعامة وابن العربي بخاصة قدرة نفسية عجيبة يجعلون بها العلم خفيفاً محمله، لا يعيا به معانيه ومزاوله، بل يتنقل بين فنونه في شوق ولهفة لا نجدها حين نزاول تصانيفنا الحديثة، وكتاب "قانون التأويل" من جملة هذه الكتابات اللطيفة التي تمتاز بالعلم الغزير، والبيان الأصيل، الذي يشوق القلوب، ويستولي على الأفئدة، ويملأ النفوس بالِإعجاب. فقد لجأ هذا الِإمام العظيم إلى إقامة ميزان عدل صحيح كما عرفه من دينه الحنيف، خدمة للعلم وطلابه، يتحصنون به -إذا ما حصلوه على وجهه- عن الخطأ في الفهم، كلما خاضوا في تفسير النصوص الشرعية، أو تعاطوا تأويلها.
ولا شك أن طالب العلم إذا أغفل مثل هذه الموازين الحقة، والقوانين المضبوطة، لم يكد يسلم من هجنة التقصير وسوء التأويل.
وهذا الكتاب قد يعتقد القارئ الكريم في أول الأمر وبادىء الظن أنه يكفي ويغني. حتى إذا نظر فيه الناظر، وجد الأمر على خلاف ما حسبه، والحق أن هذا الكتاب عبارة عن قوانين منهجية تفتح للقارىء الطريق ليسلكه، وتضع له القاعدة ليبني عليها، وتستحثه لإعمال النظر، والمبالغة في الفحص، والِإغراق في البحث، والِإمعان في التنقيب، وحقيق بمن يقرأ "قانون التأويل" أن يعود إلى كتب ابن العربي بعامة فيستنبئها التفصيل والشرح.
وفي الختام أقول:
طلب مني ابني محمد أن أكتب له هذه الكلمة، وقد تضاءلت القوة، أو زالت، وحل محلّها الضعف والعجز، وتلاشى الأمل، وحل محلّه الشعور بدنو الأجل وقرب الرحيل. والله يشهد -ولا أظن مؤمناً يُشْهِدُ الله على أمر هو كاذب فيه- أنني أترقب الموت في كل لحظة، وأرجو لقاءه في كل حين،
ইসলামী চিন্তাধারায় যা সুস্পষ্ট; আর আমার যদি কোনো ক্ষমতা থাকত, তবে আমি এই বইটি ছাপানোর এবং বিনামূল্যে বিতরণ করার আদেশ দিতাম, যাতে এটি এমন প্রত্যেক মুসলিমের হাতে থাকে যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রজ্ঞাসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো যে, তিনি আমাদের সালাফদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সাধারণভাবে এবং ইবনুল আরাবিকে বিশেষভাবে এক অদ্ভুত মানসিক শক্তি দান করেছেন, যার মাধ্যমে তাঁরা জ্ঞান অর্জন ও বহনের বিষয়টিকে সহজসাধ্য করে তুলেছেন। এর অর্থ ও অনুশীলনকারী এতে ক্লান্ত হয় না, বরং সে এর বিভিন্ন শাখার মাঝে এমন এক আগ্রহ ও ব্যাকুলতার সাথে বিচরণ করে যা আমরা আমাদের আধুনিক রচনাশৈলীর ক্ষেত্রে পাই না। আর "কানুনুত তাবিল" গ্রন্থটি সেই সূক্ষ্ম রচনাসমগ্রের অন্তর্ভুক্ত যা বিপুল জ্ঞান এবং মৌলিক প্রাঞ্জলতায় অনন্য; যা অন্তরসমূহকে উদ্দীপ্ত করে, হৃদয়কে জয় করে এবং মনকে মুগ্ধতায় ভরিয়ে দেয়। এই মহান ইমাম জ্ঞান ও জ্ঞানান্বেষীদের সেবায় একটি সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত মানদণ্ড স্থাপনের পথ বেছে নিয়েছেন, যেমনটি তিনি তাঁর সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন থেকে জেনেছেন। এর মাধ্যমে—যদি তারা এটি যথাযথভাবে অর্জন করে—তবে তারা অনুধাবনের ভুলভ্রান্তি থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারবে, যখনই তারা শরয়ি নসসমূহ (মূল পাঠ) ব্যাখ্যা করতে যাবে অথবা এর মর্ম উদ্ধারে ব্যাপৃত হবে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, একজন তালিবে ইলম (জ্ঞানান্বেষী) যদি এই ধরনের সত্য মানদণ্ড এবং সুসংহত নিয়মাবলি উপেক্ষা করে, তবে সে ত্রুটির গ্লানি এবং অপব্যাখ্যা থেকে খুব কমই রেহাই পাবে।
এই বইটির ব্যাপারে সম্মানিত পাঠক হয়তো প্রথম দৃষ্টিতে এবং প্রাথমিক ধারণায় মনে করতে পারেন যে এটিই যথেষ্ট ও স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু যখন কোনো পর্যবেক্ষক এতে দৃষ্টিপাত করেন, তখন তিনি বিষয়টিকে তাঁর ধারণার বিপরীত পান। প্রকৃতপক্ষে এই বইটি হলো কিছু পদ্ধতিগত নিয়মের সমষ্টি যা পাঠকের সামনে চলার পথ উন্মুক্ত করে দেয়, তার জন্য ভিত্তি স্থাপন করে দেয় যার ওপর সে ইমারত গড়তে পারে, এবং তাকে গভীর চিন্তা, সূক্ষ্ম পরীক্ষা, গবেষণায় নিমগ্ন হওয়া এবং নিবিড় অনুসন্ধানের জন্য উৎসাহিত করে। আর যে ব্যক্তি "কানুনুত তাবিল" পাঠ করবে, তার জন্য উচিত হবে সাধারণভাবে ইবনুল আরাবির অন্যান্য কিতাবসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তন করা, যাতে সে সেখান থেকে বিস্তারিত বিবরণ ও ব্যাখ্যা লাভ করতে পারে।
পরিশেষে আমি বলছি:
আমার ছেলে মুহাম্মদ আমাকে তার জন্য এই ভূমিকাটি লিখতে অনুরোধ করেছে; অথচ বর্তমানে আমার শক্তি হ্রাস পেয়েছে বা ফুরিয়ে গেছে, আর তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে দুর্বলতা ও অক্ষমতা। আশা বিলীন হয়ে গেছে এবং তার স্থলে মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার ও বিদায়বেলার অনুভূতি দানা বেঁধেছে। আল্লাহ সাক্ষী—আর আমি মনে করি না কোনো মুমিন এমন কোনো বিষয়ে আল্লাহকে সাক্ষী রাখবে যাতে সে মিথ্যাবাদী—যে আমি প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর প্রতীক্ষা করছি এবং সর্বক্ষণ তাঁর সাথে সাক্ষাতের আশা রাখছি।
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১০)
لأدفن بجوار نبيه سيدنا وشفيعنا محمد صلى الله عليه وآله وسلم.
إنني إن نظرت إلى ما مضى من عمري، وجدتُني قد غرقت في خضم الحياة، ولم أتنبه لِإدراك حقيقة المصير الذي أنا صائر إليه، فلم أعد نفسي له، ولم آخذ له أهبته.
وإن نظرت إلى حاضري، وجدتُني أعجز من أن أنهض بعبء الحاضر، فضلاً عن أن أتدارك معه تقصير الماضي.
اللهم إني أضرع إليك ضراعة من برىء إليك من كل حول وقوة، وأستهديك في زمان قد ضاعت فيه معالم الهدى، وعمي على الناس طريقهم في غمرة الضلالة.
اللهم ثبت قدمي حيث تزلُّ الأقدام، وأنر بصيرتي حيث تعمى البصائر.
اللهم أنت ربي وأنا عبدك، لا أستشفع إليك إلا بك، ولا أخاف أحداً غيرك، ولا أرضى ربّاً سواك، فاغفر لي.
اللهم تقبل عملي، واغفر زلتي، غير خال من عفوك، ولا محروم من إكرامك.
إلهي: لقد دنا الأجل، وحقك إني ما أخاف لقاءك، بل أكاد أتعجله شوقاً إليك.
اللهم شكراً شكراً: لقد كشفت لي عن حقيقة الدنيا، فرأيتها مشغلة الغافل، وسلوة الجاهل: الغافل عن مصيره، الجاهل بحقيقة نفسه، فاللهم زدني بها تبصرة، وعنها انصرافاً.
أنت أنت الله. هذا الكون العظيم، الذي عَلِمْنَا منه ما علمنا، وجهلنا منه ما جهلنا، صنعك، عرفناك به، فكيف يا إلهي يعرف هذا الكون من يجهلك؟ إنه يكاد ينطق بأن له إلهاً خلقه، ويصيح بالجاحدين والمنكرين أن تدبروا واعتبروا، فإن البعرة تدلّ على البعير، وأثر الأقدام يدل على المسير،
যেন আমি তাঁর নবী, আমাদের নেতা ও আমাদের সুপারিশকারী মুহাম্মদ (তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর পাশে সমাহিত হতে পারি।
আমি যদি আমার জীবনের অতিবাহিত সময়ের দিকে তাকাই, তবে দেখতে পাই যে আমি জীবনের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হয়ে আছি। আমি সেই পরিণতির প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করার বিষয়ে সচেতন হইনি যেদিকে আমি ধাবিত হচ্ছি। তাই আমি নিজেকে তার জন্য প্রস্তুত করিনি এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করিনি।
আর আমি যদি আমার বর্তমানের দিকে তাকাই, তবে আমি নিজেকে বর্তমানের বোঝা বহনেও অক্ষম দেখতে পাই, আর অতীতের ত্রুটিবিচ্যুতি সংশোধন করা তো দূরের কথা।
হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এমন ব্যক্তির ন্যায় আকুতি জানাচ্ছি, যে যাবতীয় উপায় ও শক্তি থেকে নিজেকে মুক্ত করে আপনার মুখাপেক্ষী হয়েছে। আমি এমন এক যুগে আপনার নিকট হিদায়াত কামনা করছি, যেখানে হিদায়াতের চিহ্নসমূহ বিলীন হয়ে গেছে এবং বিভ্রান্তির আচ্ছন্নতায় মানুষের নিকট তাদের পথ অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে।
হে আল্লাহ! যেখানে পাগুলো পিছলে যায়, সেখানে আমার পা স্থির রাখুন। আর যেখানে অন্তর্দৃষ্টিগুলো অন্ধ হয়ে যায়, সেখানে আমার অন্তর্দৃষ্টিকে আলোকিত করুন।
হে আল্লাহ! আপনিই আমার প্রতিপালক আর আমি আপনার বান্দা। আমি আপনার কাছে আপনি ছাড়া অন্য কারো সুপারিশ পেশ করি না। আমি আপনি ব্যতীত অন্য কাউকেই ভয় করি না এবং আপনি ছাড়া অন্য কোনো প্রতিপালকে সন্তুষ্ট নই। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।
হে আল্লাহ! আপনি আমার আমল কবুল করুন এবং আমার ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন। আমি যেন আপনার ক্ষমা হতে বঞ্চিত না হই এবং আপনার অনুগ্রহ হতে মাহরূম না হই।
হে আমার ইলাহ! মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে। আপনার শপথ! আমি আপনার সাথে সাক্ষাতকে ভয় পাই না, বরং আপনার প্রতি ব্যাকুলতায় আমি প্রায় তার জন্য তাড়াহুড়ো করছি।
হে আল্লাহ! শুকরিয়া, অসংখ্য শুকরিয়া! আপনি আমার নিকট দুনিয়ার হাকিকত উন্মোচন করেছেন। ফলে আমি একে গাফেল ব্যক্তির ব্যস্ততা এবং মূর্খ ব্যক্তির সান্ত্বনার বস্তু হিসেবে দেখেছি; যে ব্যক্তি তার পরিণাম সম্পর্কে উদাসীন এবং নিজের সত্তার হাকিকত সম্পর্কে অজ্ঞ। হে আল্লাহ! দুনিয়া সম্পর্কে আমার দূরদর্শিতা বৃদ্ধি করুন এবং এটি থেকে আমার বিমুখতা বাড়িয়ে দিন।
আপনিই, আপনিই আল্লাহ। এই মহান মহাবিশ্ব—যা থেকে আমরা যতটুকু জেনেছি ততটুকুই জেনেছি, আর যা আমাদের নিকট অজানা তা অজানাই রয়ে গেছে—তা আপনারই সৃষ্টি। আমরা এর মাধ্যমেই আপনাকে চিনেছি। হে আমার ইলাহ! যে ব্যক্তি আপনাকে জানে না, সে কীভাবে এই মহাবিশ্বকে জানবে? এটি যেন ঘোষণা করছে যে একে সৃষ্টি করার জন্য একজন ইলাহ রয়েছেন। এটি অস্বীকারকারী ও প্রত্যাখ্যানকারীদের উচ্চস্বরে ডাক দিয়ে বলছে যে, তোমরা চিন্তা করো ও শিক্ষা গ্রহণ করো; কারণ উটের বিষ্ঠা যেমন উটের অস্তিত্বের প্রমাণ দেয় এবং পদচিহ্ন যেমন চলার পথের প্রমাণ দেয়।
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১১)
فسماء ذات أبراج، وأرض ذات فجاج، حَوَتَا من المخلوقات ما يدهش العقول ويحير الألباب، ألا تدل على اللطيف الخبير؟.
سبحانك، سبحانك، أنت الحق وكل ما عداك باطل، أنت الباقي وكل ما عداك زائل، أنت القوي المتين بيدك الأمر كله، اللهم لا تعاملنا بما نحن أهله، وعاملنا بما أنت أهله من الصفح والإِحسان.
اللهم إني أبرأ إليك من كل حول وقوة، وأستعينك وأستهديك، وأعوذ برضاك من غضبك، فاغفر لي وارحمني وتب عليّ إنك أنت التواب الرحيم.
اللهم إني قد رضيت بك رباً، وبسيدنا محمد صلى الله عليه وسلم نبياً ورسولاً، وبكتابك هادياً وإماماً، وبسنة رسولك إيضاحاً وتبياناً.
اللهم إني قد رضيت بذلك كلّ الرضى، ما أحسب أن الدنيا كلها تعدله.
اللهم اجعلنا وذريتنا وجميع المؤمنين بك وبرسولك موضع رضاك وعطفك وإحسانك وفضلك. إنك أكرم مسؤول، وخير مأمول، وصلّ اللهم على سيدنا محمد النبي الأمي وعلى آله الأطهار، وصحابته الأخيار، والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.
مكة المكرمة
في 14 رمضان 1405 هـ
سليمان دنيا
اللائذ بكنف القوي الذي لا يقهر
সুতরাং নক্ষত্ররাজিশোভিত আকাশ এবং প্রশস্ত পথবিশিষ্ট পৃথিবী, এ দুটি এমন সব সৃষ্টিকে ধারণ করে আছে যা জ্ঞানকে স্তম্ভিত করে এবং বুদ্ধিকে বিভ্রান্ত করে, তা কি সেই সূক্ষ্মদর্শী ও সর্বজ্ঞ সত্তার পরিচয় দেয় না?
আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি, আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি; আপনিই সত্য এবং আপনি ব্যতীত অন্য সবকিছুই অসার, আপনিই অবিনশ্বর এবং আপনি ব্যতীত অন্য সবকিছু নশ্বর। আপনিই প্রবল প্রতাপশালী ও অত্যন্ত সুদৃঢ়; আপনার হাতেই সকল বিষয় নিহিত। হে আল্লাহ! আমাদের সাথে আমাদের আমল অনুযায়ী আচরণ করবেন না, বরং আপনার শান অনুযায়ী আমাদের সাথে ক্ষমা ও অনুগ্রহের আচরণ করুন।
হে আল্লাহ! আমি নিজের যাবতীয় শক্তি ও সামর্থ্য থেকে বিমুখ হয়ে কেবল আপনারই মুখাপেক্ষী হচ্ছি। আমি আপনার নিকট সাহায্য চাইছি ও হিদায়াত প্রার্থনা করছি। আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আমি আপনার অসন্তুষ্টি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। অতএব আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন এবং আমার তওবা কবুল করুন; নিশ্চয়ই আপনি তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু।
হে আল্লাহ! আমি আপনাকে রব হিসেবে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-কে নবী ও রাসূল হিসেবে, আপনার কিতাবকে পথপ্রদর্শক ও আদর্শ হিসেবে এবং আপনার রাসূলের সুন্নাহকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা হিসেবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট হয়েছি।
হে আল্লাহ! আমি এতে পূর্ণমাত্রায় সন্তুষ্ট হয়েছি; আমি মনে করি না যে সমগ্র পৃথিবী এর সমতুল্য হতে পারে।
হে আল্লাহ! আমাদের, আমাদের বংশধরদের এবং আপনার ও আপনার রাসূলের প্রতি বিশ্বাসী সকল মুমিনকে আপনার সন্তুষ্টি, মমতা, ইহসান ও অনুগ্রহের ছায়াতলে স্থান দিন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রেষ্ঠ আবেদন গ্রহণকারী এবং সর্বোত্তম আশার স্থল। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের নেতা উম্মী নবী মুহাম্মদ (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর ওপর এবং তাঁর পবিত্র বংশধর, তাঁর সম্মানিত সাহাবীবৃন্দ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
মক্কা মুকাররমা
১৪ রমজান ১৪০৫ হিজরি
সুলাইমান দুনিয়া
সেই প্রবল শক্তিধরের আশ্রয়প্রার্থী যাঁকে কেউ পরাজিত করতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مقدمة فضيلة الشيخ العلامة سيد سابقالغاية من خلق الناس هي عبادة الله سبحانه: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ}، ولن تتم هذه العبادة إلا بالعلم الذي تستنير به السبل وتتضح معالم الحق.
وأرقى أنواع العلوم وأزكاها العلم بالكتاب والسنة، ولا يضل من تمسك بهما، يستوي في ذلك نص واضح الدلالة، أو اجتهاد في نص صادر عن أهل الاجتهاد.
وعماد المجتهدين قوله سبحانه: {وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ}.
وأولوا الأمر هنا هم العلماء الذين بذلوا غاية جهدهم، فدرسوا وفهموا وحفظوا وقارنوا ورجحوا، وميزوا الصحيح من الضعيف وعرفوا كيف تستنبط الأحكام من مصادرها، حتى صاروا بجهودهم يأخذون ما شاؤوا لما شاؤوا من أحكام، وهدفهم الوصول إلى الحق. وقد أكد الِإمام البخاري في صحيحه أن المراد بالطائفة الظاهرة على الحق هم أهل العلم
… ، وهم المنتصرون على من خالفهم وأهل العلم أقوياء بعلمهم وعملهم، ويراد بهم هنا المفسرون والمحدثون والفقهاء والخبراء بشؤون الحرب، من المسلمين، والآمرون بالمعروف والناهون عن المنكر.
والِإمام أبو بكر محمد بن عبد الله بن العربي، أحد هؤلاء العلماء، وهو
ফযীলাতুশ শায়খ আল্লামা সাইয়্যেদ সাবিকের ভূমিকামানুষ সৃষ্টির মূল লক্ষ্য হলো মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ইবাদত করা: "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি", আর ইলম বা জ্ঞান ছাড়া এই ইবাদত কক্ষনোই পূর্ণ হবে না, যার মাধ্যমে পথসমূহ আলোকিত হয় এবং সত্যের নিদর্শনাবলী সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সবচেয়ে উচ্চতর ও পবিত্রতম জ্ঞান হলো আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহর জ্ঞান। যে ব্যক্তি এই দুটিকে আঁকড়ে ধরবে সে কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না। এক্ষেত্রে সুষ্পষ্ট অর্থবোধক বর্ণনা এবং মুজতাহিদগণের পক্ষ থেকে কোনো দলীলের ভিত্তিতে করা ইজতিহাদ—উভয়ই সমানভাবে প্রযোজ্য।
আর মুজতাহিদগণের প্রধান ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর এই বাণী: "যদি তারা তা রাসূলের কাছে এবং তাদের উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীল আলেমদের) কাছে ফিরিয়ে দিত, তবে তাদের মধ্যে যারা তা উদঘাটন (ইস্তিমবাত) করতে সক্ষম তারা তা অবশ্যই জানতে পারত।"
এখানে 'উলুল আমর' বলতে সেইসব আলেমদের বোঝানো হয়েছে যারা তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। ফলে তারা শাস্ত্রীয় অধ্যয়ন করেছেন, অনুধাবন করেছেন, হিফজ করেছেন, তুলনা করেছেন এবং প্রাধান্য (তারজীহ) নির্ণয় করেছেন। তারা সহীহ থেকে যয়ীফকে পৃথক করেছেন এবং জেনেছেন কীভাবে এর উৎসসমূহ থেকে শরীয়তের বিধানগুলো উদঘাটন করতে হয়। এমনকি তারা তাদের নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে যে কোনো বিষয়ের বিধানের জন্য যা প্রয়োজন তা লাভে সক্ষম হয়েছেন এবং তাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল সত্যে উপনীত হওয়া। ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি নিশ্চিত করেছেন যে, হকের ওপর বিজয়ী দল বলতে মূলত আলেম সমাজকেই বোঝানো হয়েছে
… , এবং যারা তাদের বিরোধিতা করে তাদের ওপর তারাই জয়লাভকারী। আলেমগণ তাদের ইলম ও আমলের মাধ্যমে অত্যন্ত শক্তিশালী। এখানে তাদের দ্বারা মুসলিমদের মধ্যকার মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকীহ, সমরবিদ এবং সৎকাজের আদেশদাতা ও অসৎকাজে নিষেধকারীদের বোঝানো হয়েছে।
আর ইমাম আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-আরাবী হলেন সেইসব মহান আলেমদেরই একজন, এবং তিনি—
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
من القمم الشامخة، وبصماته واضحة في علوم الدين والدنيا، فقد صنف في الحديث والفقه والأصول والتفسير والأدب والتاريخ، كان أبوه من علماء الوزراء، تخرج بالِإمام الغزالي، وانتفع به كثيراً، وكان يعرف قدره، فهو الذي أطلق عليه عالم العلماء، كما أشار إلى ذلك في كتابه (قانون التأويل).
ويكفي ابن العربي فخراً أنه أستاذ القاضي عياض، وأبو بكر بن خير.
والقاضي عياض شيخ الإِسلام، حامل لواء العلوم الشرعية بيقظة وفهم، أبدع في كتابه (الشِّفَا في التعريف بحقوق المصطفى) إبداعاً فاق كل حدّ، وكتابه (مشارق الأنوار) الذي يقول عنه مؤلف (شجرة النور الزكية) "لو كتب بالذهب، ووزن بالجواهر لكان قليلاً".
أما أبو بكر محمد بن خير: فهو العلامة المحدَّث التقيّ الثقة المأمون، قال ابن العماد في شذرات الذهب عندما ترجم لابن العربي: "رحل إلى الشام وبغداد والحجاز ثم عاد إلى بغداد، ثم ذهب إلى مصر والإسكندرية، ثم عاد إلى الأندلس بعلم كثير".
وأضاف: "وابن العربي مفرط في الذكاء، عالم ناقد متبحر، قادر على نشر سائر علومه، مع الأدب وحسن المعاشرة، ولين الجانب".
وقال السيوطي في طبقات الحفاظ: "برع في الأدب، وكان ثاقب الذهن، كريم الشمائل، كما كان شديداً في الحق، ينتصر للمظلوم، وقد بلغ رتبة الاجتهاد".
أجل: والواصلون درجة الاجتهاد قِلَّة، وأقل منهم من أعد نفسه بحيث لو كان وحده لاستغنى به الناس عن غيره.
وابن العربي واحد من هؤلاء الكبار، تبحّر في المذهب المالكي حتى صار فيه علماً، وبه تبحر في سائر العلوم، فوعى الأصول، وأحكم الفروع وحفظ قضايا الصحابة والتابعين، مع دقة النظر في تخريج المسائل.
তিনি ছিলেন আকাশচুম্বী শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্ত এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের পার্থিব ও ধর্মীয় উভয় শাখায় তাঁর স্বাক্ষর অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি হাদিস, ফিকহ, উসুল, তাফসীর, সাহিত্য ও ইতিহাস বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর পিতা ছিলেন উজির পর্যায়ের আলেমদের একজন। তিনি ইমাম গাজালীর নিকট শিক্ষা সমাপন করেন এবং তাঁর সান্নিধ্যে থেকে অনেক উপকৃত হন। ইমাম গাজালী তাঁর যোগ্যতার কদর জানতেন; তিনিই তাঁকে ‘আলেমদের আলেম’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন, যেমনটি তিনি তাঁর ‘কানুনুত তাবিল’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
ইবনে আরাবির গৌরবের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, তিনি ছিলেন কাজী আয়াজ এবং আবু বকর বিন খায়েরের শিক্ষক।
আর কাজী আয়াজ ছিলেন শাইখুল ইসলাম এবং অতন্দ্র সতর্কতা ও গভীর প্রজ্ঞার সাথে শরয়ী জ্ঞানের ঝাণ্ডাবাহী। তিনি তাঁর ‘আশ-শিফা ফি তারিফি হুকুকিল মুস্তাফা’ গ্রন্থে এমন মুন্সিয়ানা প্রদর্শন করেছেন যা সকল সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আর তাঁর ‘মাশারিকুল আনোয়ার’ গ্রন্থটি সম্পর্কে ‘শাজারাতুন নূরুজ জাকিয়্যাহ’ গ্রন্থের লেখক বলেন: “যদি এটি স্বর্ণাক্ষরে লেখা হতো এবং জহরতের ওজনে মাপা হতো, তবুও তা কম মনে হতো।”
আর আবু বকর মুহাম্মদ বিন খায়ের ছিলেন প্রখ্যাত আল্লামা, মুহাদ্দিস, মুত্তাকী এবং নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিত্ব। ইবনুল ইমাদ ‘শাযারাতুয যাহাব’ গ্রন্থে ইবনে আরাবির জীবনী আলোচনায় বলেন: “তিনি সিরিয়া, বাগদাদ ও হিজাজে সফর করেন, তারপর বাগদাদে ফিরে আসেন। এরপর তিনি মিসর ও আলেকজান্দ্রিয়া যান এবং সবশেষে বিপুল জ্ঞান ভাণ্ডার নিয়ে আন্দালুসে প্রত্যাবর্তন করেন।”
তিনি আরও যোগ করেন: “ইবনে আরাবি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, সূক্ষ্মদর্শী এবং অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী আলেম। তিনি তাঁর অর্জিত সকল জ্ঞান প্রচার ও প্রসারে সক্ষম ছিলেন, একইসাথে তিনি ছিলেন মার্জিত রুচিসম্পন্ন, অমায়িক এবং অত্যন্ত নম্র স্বভাবের অধিকারী।”
সুয়ূতী ‘তাবাকাতুল হুফফায’ গ্রন্থে বলেন: “তিনি সাহিত্যে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন, ছিলেন তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী ও অত্যন্ত সচ্চরিত্রবান। তেমনি তিনি সত্যের প্রশ্নে ছিলেন আপসহীন এবং মজলুমের সহায়। তিনি ইজতিহাদের স্তরে উন্নীত হয়েছিলেন।”
হ্যাঁ, ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছানো ব্যক্তিরা সংখ্যায় অতি নগণ্য। আর তাঁদের চেয়েও বিরল সেই সব ব্যক্তি যাঁরা নিজেকে এমন উচ্চতায় তৈরি করেছেন যে, তাঁরা একাকী থাকলেও মানুষ তাঁদের জ্ঞানের প্রাচুর্যের কারণে অন্য সবার থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে যেত।
ইবনে আরাবি ছিলেন সেই মহান মনীষীদেরই একজন। তিনি মালিকি মাজহাবে এমন গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন যে তিনি তাতে এক অনন্য প্রতীকে পরিণত হন। এর মাধ্যমেই তিনি অন্যান্য সকল শাস্ত্রে বুৎপত্তি লাভ করেন; তিনি মূলনীতিসমূহ হৃদয়ঙ্গম করেছিলেন, শাখা-প্রশাখাগুলো সুসংহত করেছিলেন এবং সাহাবী ও তাবেয়ীদের ফয়সালাসমূহ মুখস্থ রেখেছিলেন। সেই সাথে মাসআলা উদ্ভাবনে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গভীর।
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وقد اجتهد في نشر المذهب، وقرّبه إلى الناس تخريجاً واستدلالاً واستنباطاً.
وكأنَّي به قد وضع نصب عينيه جواب الِإمام أحمد رحمه الله حيث سئل يكفي الرجل مائة ألف حديث حتى يفتي؟ قال: لا. ولما قيل له خمسمائة ألف حديث؟ قال: أرجو.
أدرك ابن العربي في حياته المبكرة أن العلم أساس الدين، وأن الدين يؤسس علي العقيدة والفقه، وعاش لذلك يفتي، وينشر علمه بين الناس أربعين عاماً.
وقد دفعه إلى ذلك، ما يتميز به من ذكاء القلب، وصدق الرأي والتمكن من الجواب، والثقة بالنفس، وكثرة الفضل.
من بديع ما قال:
ما من رجل يطلب الحديث، إلا كان على وجهه نضرة، لقول النبي صلى الله عليه وسلم: "نَضَّرَ الله امْرَأً سَمِعَ مَقَالَتِي فَوَعَاهَا فَأدَّاهَا كَمَا سَمِعَهَا" ودعاء الرسول مستجاب.
من مؤلفاته: "الإِنصاف في مسائل الخلاف" عشرون جزءاً، و"عارضة الأحوذي شرح جامع الترمذي"، ومعنى العارضة: القدرة على الكلام، والأحوذي: الجاد في الأمور المنتصر، الذي لا يفوته مطلب، وهكذا كان ابن العربي، وله كتاب "العواصم من القواصم" الذي سد فراغاً كبيراً في المكتبة الِإسلامية، ومن أهم ما أنتج كتابه "أحكام القرآن"، والِإمام القرطبي نفسه مع إمامته يرجع إليه ويعتمد عليه، ولو لم يكن لابن العربي من جهد ومن ثمار إلَاّ تأليف كتاب تفسير القرآن الذي بلغ ثمانين مجلداً لكفاه فخراً، ولكن للأسف لم يُعْثَر له على أثر.
ومن أهم مؤلفاته "قانون التأويل" وهو يتناول القواعد المنهجية لطلاب العلوم الشرعية، وكان هذا الكتاب دفيناً في خزائن المخطوطات حتى قيض
তিনি মাযহাব প্রচারে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং তাখরীজ (উদ্ধৃতি), ইস্তিদলাল (দলিল প্রদান) ও ইস্তিনবাত (বিধান আহরণ)-এর মাধ্যমে একে মানুষের নিকট সহজবোধ্য করেছেন।
মনে হয় তিনি ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর সেই উত্তরকে নিজের চোখের সামনে রেখেছিলেন, যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: একজন মানুষের ফতোয়া প্রদানের জন্য কি এক লক্ষ হাদিসই যথেষ্ট? তিনি বলেছিলেন: না। যখন তাঁকে বলা হলো: পাঁচ লক্ষ হাদিস? তিনি বললেন: আমি আশা করি।
ইবনুল আরাবী তাঁর জীবনের শুরুর দিকেই উপলব্ধি করেছিলেন যে, জ্ঞানই হলো দ্বীনের মূল ভিত্তি এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয় আকিদাহ ও ফিকহের ওপর। আর এ উদ্দেশ্যেই তিনি চল্লিশ বছর যাবত ফতোয়া প্রদান এবং মানুষের মাঝে নিজের জ্ঞান প্রচার করে জীবন অতিবাহিত করেছেন।
তাঁর প্রখর বুদ্ধি, সঠিক মতামত প্রদান, উত্তর প্রদানে পারদর্শিতা, আত্মবিশ্বাস এবং সুমহান মর্যাদাই তাঁকে এই কাজে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
তাঁর চমৎকার উক্তিগুলোর মধ্যে একটি হলো:
যে ব্যক্তিই হাদিস অন্বেষণ করে, তার চেহারায় অবশ্যই সজীবতা ও উজ্জ্বলতা থাকে। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে উজ্জ্বল ও সজীব রাখুন, যে আমার কথা শুনেছে, তা স্মরণ রেখেছে এবং যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই তা পৌঁছে দিয়েছে।" আর রাসুলের দোয়া কবুল করা হয়।
তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: বিশ খণ্ডের "আল-ইনসাফ ফি মাসাইলিল খিলাফ", এবং "আরিজাতুল আহওয়াজি শারহু জামিয়িত তিরমিজি"। "আরিজাহ" অর্থ হলো কথা বলার সক্ষমতা, আর "আহওয়াজি" হলো সেই ব্যক্তি যে সকল কাজে অত্যন্ত সচেষ্ট ও বিজয়ী এবং যার কোনো লক্ষ্যই হাতছাড়া হয় না। আর ইবনুল আরাবী এমনই ছিলেন। তাঁর "আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম" নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে যা ইসলামি লাইব্রেরির এক বিশাল শূন্যতা পূরণ করেছে। তাঁর রচিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হলো "আহকামুল কুরআন"। স্বয়ং ইমাম কুরতুবী তাঁর সুমহান জ্ঞানগরিমা সত্ত্বেও এই কিতাবের প্রতি প্রত্যাবর্তন করতেন এবং এর ওপর নির্ভর করতেন। ইবনুল আরাবীর প্রচেষ্টা ও ফলশ্রুতি হিসেবে যদি আশি খণ্ডের সেই কুরআন তাফসির গ্রন্থটি ছাড়া আর কিছুই না থাকত, তবে এটিই তাঁর গর্বের জন্য যথেষ্ট হতো। কিন্তু পরিতাপের বিষয় যে, এর কোনো পাণ্ডুলিপি বা অস্তিত্ব এখন আর পাওয়া যায় না।
তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থ হলো "কানুনুত তাবীল", যা শরয়ি বিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্য পদ্ধতিগত নিয়মাবলি নিয়ে রচিত। এই বইটি পাণ্ডুলিপি আকারে গ্রন্থাগারগুলোতে লুক্কায়িত ছিল, যতক্ষণ না নির্ধারিত...
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الله له ابننا الأستاذ الشيخ محمد السليماني فبعث الله هذا الكتاب على يديه، فتقدم به إلى جامعة أم القرى فحققه، وعلّق عليه وأضاف إليه إضافات، تظهر غامضه، وتجلِّي دقائقه، وخرج أحاديثه وقارن بين الروايات، فجاء الكتاب درّة فريدة، فجزاه الله عن دينه خير الجزاء، ونفع به الإِسلام والمسلمين.
سيد سابق
مكة المكرمة: 28/ 8/ 1405 هـ.
انظر:
1 - تذكرة الحفاظ 4/ 1294.
2 - فتح الباري 13/ 293.
3 - طبقات الحفاظ 468.
4 - شذرات الذهب 4/ 141.
5 - الأعلام 1/ 230.
6 - شجرة النور الذكية 136، 140، 152.
আল্লাহ আমাদের পুত্রতুল্য উস্তাদ শেখ মুহাম্মদ আস-সুলাইমানিকে কবুল করেছেন এবং আল্লাহ তাঁর হাত দিয়েই এই কিতাবটি প্রকাশ করেছেন। তিনি এটি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশ করেন, অতঃপর এর তাহকিক (সম্পাদনা) করেন, এর ওপর টীকা প্রদান করেন এবং এতে এমন কিছু সংযোজন করেন যা এর অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করে এবং এর সূক্ষ্ম বিষয়গুলোকে উন্মোচিত করে। তিনি এর হাদিসগুলোর তাখরিজ করেছেন এবং বর্ণনাগুলোর মধ্যে তুলনা করেছেন। ফলে কিতাবটি একটি অনন্য মুক্তায় পরিণত হয়েছে। আল্লাহ তাঁকে তাঁর দ্বীনের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং এর মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করুন।
সাইয়্যিদ সাবিক
মক্কা আল-মুকাররামা: ২৮/ ৮/ ১৪০৫ হিজরি।
দেখুন:
১ - তাজকিরাতুল হুফফাজ ৪/ ১২৯৪।
২ - ফাতহুল বারি ১৩/ ২৯৩।
৩ - তাবাকাতুল হুফফাজ ৪৬৮।
৪ - শাজারাতুজ জাহাব ৪/ ১৪১।
৫ - আল-আ’লাম ১/ ২৩০।
৬ - শাজারাতুন নূর আজ-জাকিয়্যাহ ১৩৬, ১৪০, ১৫২।
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المحققالحمد لله المقدسة أسماؤه، السابغة آلاؤه، الواسعة رحمته، المنجِّية مغفرته. وصلّى الله على سيّدنا محمد النبي الأمِّيِّ الذي بلّغ الرسالة وأدى الأمانة، وترك في الناس ما لو تمسكوا به لم يضلوا بعده: كتاب الله، منه آيات محكمات هن أم الكتاب، وأُخر متشابهات، فأما الذين في قلوبهم زيغ فيتبعون ما تشابه منه ابتغاء الفتنة وابتغاء تأويله، وما يعلم تأويله إلَاّ الله، والراسخون في العلم يقولون آمنا به، كل من عند ربنا، وما يَذَّكَّرُ إلَاّ أولو الألباب.
أما بعد:
يعتبر أبو بكر بن العربي من أعلام العلماء الذين تعددت مواهبهم، وتنوعت شخصيتهم، على نسق يكاد يكون متّسقاً.
فهو الفقيه البصير الذي جانب التقليد والتزمّت والعكوف على ترديد كلمات بأعيانها.
وهو المحدَّث المستنير يُعْمِلُ عقلَهُ وفكره فيما يقرأ أو يسمع، ويغوص على المعاني الدِّقَاق المُسْتَكِنَّةِ في أطواء النص الحديثيّ.
وهو المفسِّر المقتدر الذي أعدّ العدّة لعمله في التفسير، من تضلُّع من لغة العرب وأشعارها وروائع نثرها الذي يمتاز بإيجاز اللفظ وثراء المعنى.
وهو الأديب الذي يغوص على المعنى، ويفتنّ في التعبير عنه، واستخراج العبرة من مطاويه.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্পাদকের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর নামসমূহ পবিত্র, যাঁর অনুগ্রহসমূহ অবারিত, যাঁর রহমত সুপ্রশস্ত এবং যাঁর ক্ষমা মুক্তিদাতা। এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা উম্মী নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন এবং আমানত আদায় করেছেন, এবং মানুষের মধ্যে এমন কিছু রেখে গেছেন যা আঁকড়ে ধরলে তাঁর পরে তারা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব; এর মধ্যে কিছু আয়াত আছে মুহকাম (সুস্পষ্ট), যা কিতাবের মূল ভিত্তি, আর অন্যগুলো মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট বা রূপক)। অতঃপর যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে মুতাশাবিহ আয়াতগুলোর অনুসরণ করে। অথচ আল্লাহ ছাড়া এর প্রকৃত ব্যাখ্যা কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলে: ‘আমরা এর ওপর ঈমান এনেছি, এ সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে’। আর বুদ্ধিমানরা ছাড়া কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না।
অতঃপর:
আবু বকর ইবনুল আরাবীকে এমন এক প্রথিতযশা আলেম হিসেবে গণ্য করা হয় যাঁর প্রতিভা ছিল বহুমুখী এবং ব্যক্তিত্ব ছিল বৈচিত্র্যময়, যা ছিল এক সুসংগত ধারায় বিন্যস্ত।
তিনি ছিলেন একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ফকিহ, যিনি অন্ধ অনুকরণ, সংকীর্ণমনা গোঁড়ামি এবং কেবল সুনির্দিষ্ট কিছু শব্দাবলির পুনরাবৃত্তিতে মগ্ন থাকাকে পরিহার করেছিলেন।
তিনি ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান মুহাদ্দিস, যিনি যা পাঠ করতেন বা শ্রবণ করতেন তাতে স্বীয় বুদ্ধি ও চিন্তাশক্তি প্রয়োগ করতেন এবং হাদিসের পাঠের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সূক্ষ্ম ও গূঢ় অর্থসমূহ উদ্ধারে সচেষ্ট হতেন।
তিনি ছিলেন একজন দক্ষ মুফাসসির, যিনি তাফসির কর্মের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন—যেমন আরবি ভাষা, কবিতা এবং সাহিত্যের চমৎকার গদ্যশৈলীতে পাণ্ডিত্য অর্জন করা, যা সংক্ষেপণ এবং অর্থগত গভীরতার জন্য প্রসিদ্ধ।
তিনি ছিলেন এমন এক সাহিত্যিক যিনি অর্থের গভীরে ডুব দিতেন, তা প্রকাশে অনন্য শৈলী প্রদর্শন করতেন এবং তার ভাঁজ থেকে শিক্ষা ও উপদেশসমূহ নিষ্কাশন করতেন।
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وهو المؤرخ الذي يقارن بين الروايات، وَيمِيزُ حقَّهَا من باطلها، ولا يكتفي بإيرادها كما هو شأن الكثيرين.
وهو المثقف الواسعُ الثقافة الذي لا يَقْصرُ نَفْسَهُ على فن أو فنون معدودة، وإنما يطوف بأرجائها، ويقطِفُ من ثمارها، ما طاب له التَّطْواف والقِطاف.
وهو المتكلم الذي درس عيون كتب الكلام، ونظر فيها نظراتٍ فاحصةً مستقلةً، لا يعنيها إلَاّ كشف الحق، ودحضُ الباطل الذي ران على كثيرٍ من أبحاث السابقين، واختيارُ الرأي الناضج الذي لا يتعارض مع حقائق الِإسلام.
ولست أقول ذلك مسلماً له جميع آرائه ومعتقداته، فهو مجتهد مكثر، ومن شأن الِإكثار أن يكون فيه عِثَار، ولكنه العِثَارُ الذي لا يكبُّهُ في الخطأ على وجهه، بل يقوم من عثرته سليماً معافىً، غير متجانف لخطأٍ، وإنما يشدُّ أزْرَهُ ويقوي صُلْبَهُ حبُّه للحق وبغضه للزيف والباطل.
وغنيٌّ عن البيان أن المكثرين من التأليف تقع في مؤلفاتهم الهنات والهنات.
وقد تعلقت ببعض تلك الهنات، وكشفت عن منبع الحق، فيها بأسلوب لا يديل من جلالة صاحبها، وقديماً قيل: "العظيم من عدت سقطاته" فلا بد والحالة هذه من هنة تغتفر، ومن تقصير يحتمل.
ومن عجيب الأمر أن ابن العربي هذا، لم يظفر بعناية الباحثين المحدثين، ولم يقم على نشر تراثه طائفة من ذوي الأقدار والأفهام الذين يحسنون قراءة نصوصه، ويدركون مرمى إشاراته، فكان انتفاع الناس بتراثه المطبوع انتفاعاً قاصراً، لما امتلأ به من غلط وتصحيف وتحريف ومسخ.
وقد اطلعت -بفضل الله- على جلّ ما وصلنا من كتبه المخطوطة، وبعد طول تردّد وعمق تفكير، واستشارة كثير من أساتذتي العارفين الخلصاء
তিনি এমন একজন ঐতিহাসিক যিনি বর্ণনাগুলোর মধ্যে তুলনা করেন এবং তাদের মধ্য থেকে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণ করেন; অনেকের মতো কেবল বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেই তিনি ক্ষান্ত হন না।
তিনি এমন এক ব্যাপক সংস্কৃতির অধিকারী বিদগ্ধজন, যিনি নিজেকে কেবল একটি বা নির্দিষ্ট কয়েকটি শাস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন না, বরং তিনি এর প্রতিটি প্রান্ত পরিভ্রমণ করেন এবং সেখান থেকে ফল আহরণ করেন—যে পর্যন্ত তাঁর এই পরিভ্রমণ ও আহরণ প্রীতিকর হয়।
তিনি এমন এক ইলমুল কালামবিদ, যিনি কালাম শাস্ত্রের মূল কিতাবগুলো অধ্যয়ন করেছেন এবং সেগুলোতে গভীর ও স্বাধীন দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ চালিয়েছেন; যার একমাত্র উদ্দেশ্য সত্যকে উন্মোচন করা এবং সেই মিথ্যাকে অপনোদন করা যা পূর্ববর্তীদের অনেক গবেষণাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল, আর এমন এক পরিপক্ক মতামত গ্রহণ করা যা ইসলামের প্রকৃত সত্যের সাথে সাংঘর্ষিক নয়।
আমি এ কথা বলছি না যে তাঁর সকল মতামত ও বিশ্বাস আমি নির্দ্বিধায় গ্রহণ করে নিয়েছি; কেননা তিনি একজন বিপুল কর্মসম্পাদনকারী মুজতাহিদ। আর প্রাচুর্যের ধর্মই হলো তাতে কিছু পদস্খলন থাকা। তবে এটি এমন পদস্খলন নয় যা তাঁকে ভুলের গহ্বরে মুখ থুবড়ে ফেলে দেয়; বরং তিনি তাঁর বিচ্যুতি থেকে সুস্থ ও নিরাপদে উঠে দাঁড়ান, ভুলের প্রতি কোনো ঝোঁক না রেখে। প্রকৃতপক্ষে সত্যের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং মিথ্যার প্রতি তাঁর ঘৃণা তাঁকে শক্তি ও দৃঢ়তা প্রদান করে।
এটি বলাই বাহুল্য যে, যারা প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেন, তাঁদের রচনায় কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকেই যায়।
আমি এই সকল কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতির প্রতি দৃষ্টিপাত করেছি এবং তাতে সত্যের উৎসকে এমন এক পদ্ধতিতে উন্মোচন করেছি যা লেখকের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে না। প্রাচীনকালে বলা হতো: "মহান তো সেই ব্যক্তিই যার ভুলগুলো গণনা করা যায়।" সুতরাং এমতাবস্থায় কিছু মার্জনীয় ত্রুটি এবং সহনীয় বিচ্যুতি থাকা স্বাভাবিক।
এটি আশ্চর্যের বিষয় যে, এই ইবনুল আরাবি আধুনিক গবেষকদের যথাযথ মনোযোগ লাভ করতে পারেননি। এমন কোনো প্রাজ্ঞ ও বিচক্ষণ দল তাঁর ঐতিহ্য প্রসারে এগিয়ে আসেননি যারা তাঁর পাঠসমূহ সঠিকভাবে পড়তে পারতেন এবং তাঁর ইশারা-ইঙ্গিতের লক্ষ্য বুঝতে পারতেন। ফলে তাঁর মুদ্রিত ঐতিহ্য থেকে মানুষের উপকার গ্রহণ ছিল অত্যন্ত সীমিত, কারণ তা ভুলভ্রান্তি, শব্দের বিকৃতি, পরিবর্তন এবং বিকৃতি দ্বারা পূর্ণ ছিল।
আল্লাহর অনুগ্রহে আমি তাঁর পাণ্ডুলিপি আকারে আমাদের কাছে পৌঁছানো অধিকাংশ কিতাব প্রত্যক্ষ করেছি। দীর্ঘ দ্বিধাদ্বন্দ্ব, গভীর চিন্তা-ভাবনা এবং আমার অনেক বিজ্ঞ ও একনিষ্ঠ উস্তাদগণের সাথে পরামর্শের পর-
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الأمناء على العلم والدين، وجدت في نفسي رغبة في تحقيق كتاب "قانون التأويل" بغية إخراجه للباحثين، والكشف عن شخصية أبي بكر بن العربي الكلامية التي ينبغي إبرازها والِإحاطة بها.
كما أن ثمة عوامل كثيرة شجعتني أن أمضي قُدُماً في هذا العمل بعد أن كدت أحجم عما انتويت، خشية المزالق والعثرات التي لا أبرىء نفسي -مهما حذرت- أن أقع فيها، ومن هذه العوامل:
أولاً: أن ابن العربي يعتبر من أكبر علماء العقيدة بالأندلس، والدليل على صحة هذا الحكم، أن كتبه في هذا المجال، ظلت نافقة عند العلماء على اختلاف الأجيال والأعصار إلى يوم الناس هذا.
ثانياً: أنه من الأوائل الذين تكلموا في علم الكلام على الطريقة الأشعرية، فنشر تراثه الكلامي، ودراسةُ أفكاره وآرائه، بما يفيد الباحثين جديداً في معرفة التطور الفكري بالأندلس.
ثالثاً: أنه أسهم إسهاماً فعالاً في نقد آراء غلاة المتصوفة والباطنية، بأسلوب علميّ سديد، دلّ به على سَعَةِ علمه، وحصافة رأيه، ودقّة نظره، وعمق فكره.
إضافة إلى أن كتابه "قانون التأويل" هذا، يعتبر من الكتب النفيسة اللطيفة التي تمتاز بغزارة المادّة، وسداد المنهج، وحسن المنحى، وجزالة الأسلوب. فباستطاعة الباحث أن يدرك فوائدَهُ في يسر لا يَشُوبُهُ عسر، إذ بذل فيه مؤلفه -رحمة الله عليه- أقصى جُهْدَهُ من أجل تقريبه إلى الأفهام، فجاء -ولله الحمد- كما أراد، حَسَنَ الديباجة، مُحْكَمَ الوضع، متناسقَ التبويب، مُطَّرِدَ الفصول، لا انقطاع في سلسلة أغراضه، ولا تباين في لُحْمَةِ معانيه.
وقد جعلت هذه الدراسة في مقدمة وقسمين:
أما المقدمة، فقد تناولت فيها الأسباب التي حملتني على اختيار هذا الموضوع والخطة التي سرت عليها.
জ্ঞান ও দ্বীনের আমানতদারগণ, আমি গবেষকদের সামনে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে এবং আবু বকর ইবনুল আরাবীর ধর্মতাত্ত্বিক ব্যক্তিত্ব উন্মোচনের লক্ষ্যে "কানুনুত তাবীল" গ্রন্থটি সম্পাদনার (তাহকীক) আকাঙ্ক্ষা নিজের মধ্যে অনুভব করেছি, যে ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলা এবং পূর্ণাঙ্গরূপে জানা আবশ্যক।
এছাড়াও এমন অনেক বিষয় ছিল যা আমাকে এই কাজে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছে, যদিও আমি যা করার সংকল্প করেছিলাম তা থেকে পিছিয়ে আসার উপক্রম হয়েছিল। কারণ আমি পদস্খলন এবং ত্রুটির আশঙ্কা করছিলাম, যা থেকে আমি নিজেকে মুক্ত মনে করি না—যতই আমি সতর্ক থাকি না কেন। সেই বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:
প্রথমত: ইবনুল আরাবী আন্দালুসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আকিদাহ শাস্ত্রীয় পণ্ডিত হিসেবে বিবেচিত। এই সিদ্ধান্তের সত্যতার প্রমাণ হলো, এই ক্ষেত্রে রচিত তাঁর গ্রন্থগুলো বর্তমান সময় পর্যন্ত যুগ-যুগান্তরের আলেমদের নিকট সমাদৃত হয়ে আসছে।
দ্বিতীয়ত: তিনি আশআরি পদ্ধতিতে ইলমুল কালাম নিয়ে আলোচনাকারী অগ্রজদের অন্তর্ভুক্ত। তাই তাঁর কালামশাস্ত্রীয় ঐতিহ্য প্রচার করা এবং তাঁর চিন্তা ও মতামতগুলো নিয়ে গবেষণা করা আন্দালুসের বুদ্ধিবৃত্তিক বিবর্তন সম্পর্কে গবেষকদের নতুন তথ্য দিয়ে উপকৃত করবে।
তৃতীয়ত: তিনি চরমপন্থী সুফি ও বাতেনিপন্থীদের মতবাদের খণ্ডনে বৈজ্ঞানিক ও সঠিক পদ্ধতিতে কার্যকর অবদান রেখেছেন, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর জ্ঞানের প্রশস্ততা, মতামতের দৃঢ়তা, সূক্ষ্ম দৃষ্টি এবং চিন্তার গভীরতার প্রমাণ দিয়েছেন।
এর সাথে যুক্ত হয়েছে যে, তাঁর এই "কানুনুত তাবীল" গ্রন্থটি অত্যন্ত মূল্যবান ও চমৎকার গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা প্রচুর তথ্যসম্ভার, সঠিক পদ্ধতি, সুন্দর দৃষ্টিভঙ্গি এবং শক্তিশালী রচনাশৈলী দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। একজন গবেষক কোনো প্রকার জটিলতা ছাড়াই সহজে এর উপকারিতাগুলো উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন। কেননা এর লেখক—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন—এটি মানুষের বোধগম্য করার জন্য তাঁর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। ফলে আল্লাহর প্রশংসায় এটি তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী সুন্দর ভূমিকার অধিকারী, সুসংহত বিন্যাস সম্পন্ন, সুশৃঙ্খল পরিচ্ছেদ এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ অধ্যায় বিশিষ্ট হয়েছে; যেখানে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ধারায় কোনো বিচ্ছিন্নতা নেই এবং এর অর্থের বুননেও কোনো বৈপরীত্য নেই।
আমি এই গবেষণাকে একটি ভূমিকা এবং দুটি অংশে বিভক্ত করেছি:
ভূমিকার ক্ষেত্রে, আমি সেই কারণগুলো আলোচনা করেছি যা আমাকে এই বিষয়টি বেছে নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে এবং যে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী আমি অগ্রসর হয়েছি।
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২০)
فأما القسم الأول: فيقع في خمسة فصول، تكلمت في الفصل الأول عن الحياة الفكرية في الأندلس، فبينت مراحلَ التطور الكلاميّ والفقهيّ والفلسفي، وما كانت عليه من أوضاع، وأهملت الكلام عن الناحية الاقتصادية والسياسية لعدم أهميتها في مثل دراستنا هذه.
وتكلمت في الفصل الثاني عن سيرة ابن العربي، فدرست نَشْأتَهُ وبدءَ عنايته بطلب العلم، ورحلتَهُ العلميةَ ونوعيةَ دراسته، وصلاتِهِ الشخصيةَ وأثرَهَا في تكوينه الفكري، ونشاطَهُ العلمي، ومناصبَهُ في القضاء والدولة.
وَعُنِيتُ في الفصل الثالث باستقصاء آثار ابنِ العربي المطبوعة والمخطوطة، وتكلمت عنها بإيجاز.
واقتصرت في الفصل الرابع على ذكر أهم شيوخه الذين أثروا في تكوين شخصيته العلمية، كما صنعت معجماً لتلاميذه، ومعجماً لما رواه عن شيوخه، وختمت هذا الفصل بذكر وفاته وأولاده.
وأما الفصل الخامس فكان موضوعه كتاب "قانون التأويل" نفسه، حيث درست أهم المسائل العقدية التي وردت به، لِإيماني بان مثل هذه الدراسة سوف توضح قيمة الكتاب، وتيسِّر لطلبة العلم الإِفادة منه إن شاء الله تعالى.
وأما القسم الثاني فأخلصته لتحقيق نص "قانون التأويل" وصدرته بمدخل للكتاب ذكرت فيه توثيق نسبته لمؤلفه، وبواعث تأليفه، وتحليل مختصر لمضمونه، ومصادره، ووصف مجمل للنسخ الخطية المعتمدة في التحقيق. ثم المنهج الذي اتبعته في التحقيق والتعليق.
هذا مجمل ما انتهيت إليه في هذه الدراسة، وأرجو أن أكون قد وفِّقت إلى ما ابتغيت، وتهديت إلى ما قصدت من إخراج هذا السفر القيم على النحو الذي يعمّ النفع به، وتلحقني به دعوة صالحة، ولا أماري أن بين هذا العمل وما ينبغي له بوناً بعيداً، ولكن هذا ما اتسع له الوقت وأعان عليه
প্রথম অংশটি পাঁচটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত; প্রথম পরিচ্ছেদে আমি আন্দালুসের বুদ্ধিবৃত্তিক জীবন নিয়ে আলোচনা করেছি। এতে আমি ইলমে কালাম, ফিকহ ও দর্শনের বিবর্তনের পর্যায়সমূহ এবং তৎকালীন পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়েছি। তবে এই ধরনের গবেষণায় অপ্রাসঙ্গিক হওয়ায় আমি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিকগুলো আলোচনা থেকে বাদ দিয়েছি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে আমি ইবনে আল-আরাবীর জীবনী নিয়ে আলোচনা করেছি। এতে আমি তাঁর শৈশব, জ্ঞান অন্বেষণে তাঁর শুরুর দিক, তাঁর ইলমি সফর ও পড়াশোনার ধরন, তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও বুদ্ধিবৃত্তিক গঠনে এর প্রভাব, তাঁর ইলমি তৎপরতা এবং বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তাঁর পদমর্যাদা নিয়ে গবেষণা করেছি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদে আমি ইবনে আল-আরাবীর মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি আকারে থাকা রচনাবলি অনুসন্ধানের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছি এবং সংক্ষেপে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি।
চতুর্থ পরিচ্ছেদে আমি কেবল তাঁর সেইসব প্রধান শিক্ষকদের বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থেকেছি যাঁরা তাঁর ইলমি ব্যক্তিত্ব গঠনে প্রভাব ফেলেছেন। পাশাপাশি আমি তাঁর ছাত্রদের একটি নির্ঘণ্ট এবং শিক্ষকদের নিকট থেকে তাঁর বর্ণিত বিষয়াবলির একটি তালিকা প্রস্তুত করেছি। পরিচ্ছেদটি আমি তাঁর মৃত্যু ও সন্তানদের বর্ণনার মাধ্যমে শেষ করেছি।
পঞ্চম পরিচ্ছেদের আলোচ্য বিষয় ছিল স্বয়ং 'কানুনুত তাবীল' গ্রন্থটি। এতে আমি বইটিতে উল্লিখিত গুরুত্বপূর্ণ আকীদা-সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ নিয়ে গবেষণা করেছি। কারণ আমি বিশ্বাস করি যে, এই ধরনের গবেষণা বইটির গুরুত্ব ফুটিয়ে তুলবে এবং ইনশাআল্লাহ ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য তা থেকে উপকৃত হওয়া সহজতর করবে।
দ্বিতীয় অংশটি আমি 'কানুনুত তাবীল' এর মূল পাঠ (নস) সম্পাদনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি। এর শুরুতে আমি একটি ভূমিকা যুক্ত করেছি যাতে লেখকের নিকট বইটির সম্পৃক্ততার প্রামাণিকতা, এটি রচনার কারণসমূহ, এর বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ, উৎসসমূহ এবং সম্পাদনায় ব্যবহৃত পাণ্ডুলিপিসমূহের সামগ্রিক বর্ণনা উল্লেখ করেছি। এরপর সম্পাদনা ও টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তা বর্ণনা করেছি।
এই গবেষণায় আমি যে সারসংক্ষেপে উপনীত হয়েছি তা হলো এটি। আমি আশা করি, আমি যা চেয়েছি তাতে সফল হয়েছি এবং এই মূল্যবান গ্রন্থটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করার যে উদ্দেশ্য আমার ছিল তাতে সঠিক পথ পেয়েছি—যাতে এর উপকারিতা ব্যাপক হয় এবং এর মাধ্যমে আমি নেক দুআ লাভ করতে পারি। আমি এটি অস্বীকার করি না যে, এই কাজটির যে মান হওয়া উচিত ছিল এবং বাস্তবে যা হয়েছে তার মধ্যে অনেক ব্যবধান রয়েছে; তবে সময় ও সামর্থ্য অনুযায়ী এটুকু করা সম্ভব হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২১)
الجهد، وأرجو أن تكون الطبعة القادمة -إن قدّر ذلك- أوفى وأتم، وأقرب ما ينبغي في مثل هذا الصنيع.
ولا يسعني في ختام هذه الكلمة إلَاّ أن أذكر باعتزاز كبير أستاذي الجليل الدكتور سليمان دنيا -المشرف على هذا البحث والذي قوّم الكثير من أوده، وأتحفه بكلمة شائقة مؤثرة، أدرجتها في صدر هذا السفر، فشكراً له على عطفه ولطفه، وجزاه الله عني خير الجزاء.
وأتوجه بالشكر الجزيل والثناء الحسن للأساتذة الأجلاء:
شيخي العلامة السيد سابق الذي تفضل بالِإشراف على هذه الرسالة حتى اكتملت، بعد أن تعذّر على أستاذي الدكتور سليمان دنيا الِإشراف من أجل مرضه -شفاه الله تعالى-.
والمحدث الناقد السيد أحمد صقر الذي كان يفيض علي من كنوز معلوماته، ومن نوادر كتبه ومخطوطاته، مما فتح لي آفاق البحث، وارتاد بي منازل العلم والتحقيق.
وصاحبنا إسحاق إدريس سكوته كان الله له.
والدكتور الشريف منصور العبدلي الذي أفادني كثيراً بملاحظاته وتوجيهاته القيمة.
والدكتور الداعية الإِسلامي عبد السلام الهراس الذي أعارني نسخة "القانون" التي تقدم بها الأخ الأستاذ المصطفى بن عبد الله صغيري لنيل دبلوم الدراسات العليا بدار الحديث الحسنية بالمغرب.
ومعالي الدكتور مولاي أحمد العراقي الذي يسّر لي دخول المغرب الشقيق، والاستفادة من مكاتبه الخاصة والعامة.
ومعالي الدكتور محمد عبده يماني والأخ الأستاذ محمد أديب كاتبة
প্রচেষ্টা, আর আমি আশা করি যে আগামী সংস্করণটি -যদি তা নির্ধারিত হয়- আরও পরিপূর্ণ ও ত্রুটিমুক্ত এবং এ জাতীয় কর্মের ক্ষেত্রে যতটুকু হওয়া প্রয়োজন তার আরও নিকটতর হবে।
এই বক্তব্যের শেষে আমার পরম শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ডক্টর সুলাইমান দুনিয়াকে অত্যন্ত গর্বের সাথে স্মরণ না করে পারছি না - যিনি এই গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন এবং এর অনেক জটিলতা নিরসন করে দিয়েছেন। তিনি একে একটি চমৎকার ও প্রভাবশালী ভূমিকা দ্বারা অলঙ্কৃত করেছেন, যা আমি এই গ্রন্থের শুরুতে সংযুক্ত করেছি। তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ এবং আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
আমি নিম্নে উল্লিখিত শ্রদ্ধেয় উস্তাদগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও উত্তম প্রশংসা জ্ঞাপন করছি:
আমার শাইখ আল্লামা সাইয়্যেদ সাবিক, যিনি অনুগ্রহপূর্বক এই গবেষণাপত্রটি সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত এর তত্ত্বাবধান করেছেন, যখন আমার উস্তাদ ডক্টর সুলাইমান দুনিয়া তাঁর অসুস্থতার কারণে -আল্লাহ তাআলা তাঁকে সুস্থতা দান করুন- তত্ত্বাবধান করতে অসমর্থ হয়েছিলেন।
মুহাদ্দিস ও সমালোচক সাইয়্যেদ আহমদ সাকর, যিনি তাঁর তথ্যের ভাণ্ডার এবং দুর্লভ গ্রন্থ ও পাণ্ডুলিপি থেকে আমাকে অকাতরে জ্ঞান বিলিয়ে দিতেন, যা আমার গবেষণার দিগন্ত উন্মোচিত করেছে এবং আমাকে ইলম ও তাহক্বীকের (গবেষণার) সোপানে নিয়ে গেছে।
আমাদের বন্ধু ইসহাক ইদ্রিস সাকুতাহ, আল্লাহ তাঁর সহায় হোন।
ডক্টর আশ-শরিফ মনসুর আল-আবদালি, যিনি তাঁর মূল্যবান পর্যবেক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দ্বারা আমাকে প্রভূত উপকৃত করেছেন।
ডক্টর ও ইসলামি দাঈ আবদুস সালাম আল-হাররাস, যিনি আমাকে "আল-কানুন" গ্রন্থের সেই পাণ্ডুলিপিটি ধার দিয়েছিলেন যা ভাই উস্তাদ আল-মুস্তফা বিন আব্দুল্লাহ সাগিরি মরক্কোর 'দারুল হাদিস আল-হাসানিয়্যাহ' থেকে উচ্চতর ডিপ্লোমা অর্জনের জন্য পেশ করেছিলেন।
মহামান্য ডক্টর মৌলে আহমদ আল-ইরাকি, যিনি আমার জন্য ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ মরক্কোতে প্রবেশ এবং সেখানকার ব্যক্তিগত ও সাধারণ পাঠাগারগুলো থেকে উপকৃত হওয়া সহজ করে দিয়েছেন।
মহামান্য ডক্টর মুহাম্মদ আবদু ইয়ামানি এবং ভাই উস্তাদ মুহাম্মদ আদিব কাতিবাহ।
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২২)
اللذان ساهما في إحياء هذا الأثر النفيس، غير ضنينين عليه بما يكفل له دقّة التحقيق وأناقة الإِخراج.
وأخيراً أتقدم بأعمق الشكر وفائق الاحترام إلى أمناء مكتبات مكة المكرمة واسطنبول ومدريد والمغرب وإلى جميع الإِخوة والزملاء، وأخص منهم الأخ الكريم مولود التايهي، والله أسأل أن يجعل كلّ ما نأتيه ونقصده وننتحيه لوجهه خالصاً، وإلى رضاه عز وجل مؤدياً، ولثوابه مقتضياً، وللزلفى عنده مواجباً، بمنه وفضله ورحمته، وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.
محمد السليماني
مكة المكرمة في 26 رمضان 1405 هـ.
যাঁরা এই মূল্যবান পাণ্ডুলিপিটি পুনরুজ্জীবিত করতে অবদান রেখেছেন এবং এর নিখুঁত সম্পাদনা ও মার্জিত প্রকাশ নিশ্চিত করতে কোনো কার্পণ্য করেননি।
পরিশেষে আমি মক্কা মুকাররমা, ইস্তাম্বুল, মাদ্রিদ ও মরক্কোর গ্রন্থাগারিকদের প্রতি এবং সকল ভাই ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা নিবেদন করছি, এবং বিশেষভাবে শ্রদ্ধেয় ভাই মওলুদ আল-তায়িহির নাম উল্লেখ করছি। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি আমাদের প্রতিটি কাজ, উদ্দেশ্য ও প্রয়াসকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করুন, যা তাঁর মহান সন্তুষ্টির দিকে নিয়ে যাবে, তাঁর প্রতিদান লাভের কারণ হবে এবং তাঁর অনুগ্রহ, বদান্যতা ও করুণায় তাঁর সান্নিধ্য লাভের ওসিলা হবে। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
মুহাম্মদ আল-সুলাইমানি
মক্কা মুকাররমা, ২৬ রমজান ১৪০৫ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الرموز
م: ن: المصدر نفسه.
ت: توفي أو المتوفى.
ص: صفحة.
ط: طبع أو طبعة.
সংকেতসমূহ
উ. উ.: একই উৎস।
মৃ.: মৃত্যু বা মৃত।
পৃ.: পৃষ্ঠা।
স.: সংস্করণ বা মুদ্রণ।
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
القسم الأول
(الدّراسَة)
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الفصل الأولالحياة الفِكريّة في الأندَلس
প্রথম পরিচ্ছেদআন্দালুসে বুদ্ধিবৃত্তিক জীবন
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الفصل الأول الحياة الفكرية في الأندلس
1 - مدخل:مضى النصف الأول من القرن الخامس الهجري موسوماً في تاريخ المغرب الِإسلامي بسمة التصدع والتداعي والانحراف عن جادة الطريق، إذ ضعف ملك بني عباد وأفل نجمهم، ومال عزّ ملوك الطوائف وتهاوت كواكب سعدهم، وتقوّض سرادق مجدهم، فأقروا بالذلّ، واعترفوا بالضيم وانقادوا للهوان، فلم يعد الِإيمان يحرك أفئدتهم، ولا الإِسلام يرسم منهج حياتهم، فعميت عليهم وجوه الرشد، واستبهمت معالم القصد فتهاووا في شعاب الباطل، وهاموا في أودية الضلال، وتساقطت الثغور الإِسلامية نهباً بين أيدي المغيرين من أعداء الله ورسوله، فأظلمت الأجواء، وانطمست المسالك وتلاشت الآمال ووهنت العزائم واستحكم اليأس والفتور، وأخلد الناس إلى العجز ورضوا بالحرمان، وتحت ظل هذا الجو القاتم لمحت بارقة من صحراء المغرب الأقصى، أحيت الآمال وبعثت الهمم؛ قوة فتية أربأت بنفسها عن مواطن الذل، وتجافت عن مطارح الهوان، وصانت كرامتها عن معرة الامتهان، يلين الحديد ولا تلين وتخبو النار ولا تنطفىء حرارة تلك النظرات المتقدة بين أطباق اللثام (1)، أولئك هم المرابطون الذين رفع الله
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: আন্দালুসের বুদ্ধিবৃত্তিক জীবন
১ - ভূমিকা:ইসলামী মাগরিবের ইতিহাসে হিজরি পঞ্চম শতাব্দীর প্রথমার্ধ ফাটল, পতন এবং সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতির চিহ্ন নিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। কেননা বনু আব্বাদের শাসন দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং তাদের নক্ষত্র অস্তমিত হয়েছিল। তৈফা রাজাদের প্রতাপ ও মর্যাদা নিম্নগামী হয়েছিল, তাদের সৌভাগ্যের নক্ষত্ররাজি ধসে পড়েছিল এবং তাদের গৌরবের তাবু উপড়ে গিয়েছিল। ফলে তারা লাঞ্ছনাকে মেনে নিয়েছিল, জুলুমকে স্বীকার করে নিয়েছিল এবং অপমানের কাছে নতি স্বীকার করেছিল। ফলে ঈমান আর তাদের অন্তরকে আন্দোলিত করত না এবং ইসলাম তাদের জীবনপদ্ধতি নির্ধারণ করত না। সুপথের দিকগুলো তাদের কাছে অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল এবং লক্ষ্যের চিহ্নসমূহ অস্পষ্ট হয়ে পড়েছিল। ফলে তারা বাতিলের গিরিপথে পতিত হয়েছিল এবং পথভ্রষ্টতার উপত্যকায় লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়িয়েছিল। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শত্রুদের মধ্য থেকে আক্রমণকারীদের হাতে ইসলামী সীমান্তগুলো লুণ্ঠিত সম্পদে পরিণত হয়েছিল। ফলে পরিবেশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল, পথসমূহ মুছে গিয়েছিল, আশা-আকাঙ্ক্ষা বিলীন হয়ে গিয়েছিল, সংকল্প দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং হতাশা ও স্থবিরতা জেঁকে বসেছিল। মানুষ অক্ষমতার কাছে নতি স্বীকার করেছিল এবং বঞ্চনায় সন্তুষ্ট হয়েছিল। এই অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশের ছায়াতলে মাগরিবুল আকসার মরুভূমি থেকে একটি আলোকচ্ছটা দেখা দিল, যা আশা জাগিয়ে তুলল এবং সংকল্পকে পুনরুজ্জীবিত করল। এটি ছিল এক তরুণ শক্তি, যা নিজেকে লাঞ্ছনার স্থান থেকে ঊর্ধ্বে রেখেছিল, অবমাননার ক্ষেত্রগুলো থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল এবং তুচ্ছতাচ্ছিল্যের কলঙ্ক থেকে নিজের মর্যাদা রক্ষা করেছিল। লোহা নরম হলেও তারা নরম হয় না, আগুন নিভে গেলেও নেকাবের ভাঁজগুলোর আড়াল থেকে বিচ্ছুরিত সেই প্রদীপ্ত দৃষ্টির তেজ নির্বাপিত হয় না (১)। এরাই হলেন সেই মুরাবিতুন, যাদের আল্লাহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
بهم عاثر الآمال، وأحيا بهم ميت الأماني، فانبعثوا ينشئون عاصمة المغرب الجديدة: مراكش ويمدّون رواق سلطانها على طول العدوة الِإفريقية ببلاد المغرب، ثم يرمون بحبل النجاة إلى العدوة الأندلسية في يوم الزلافة العظيم (1)، لتقوم الشوكة، وتحيا الدولة، تحت إمْرة أمير المسلمين يوسف بن تاشفين (2)، (ت: 500).
وهكذا انكشف ضباب اليأس، ونسج صبح الرجاء ظلمات القنوط، فانطلقت هذه الحركة المباركة تقوِّم المعوج، وترشد الناس إلى سواء السبيل، وتنقذ الإِسلام من الخطر الذي داهمه في بلاد الأندلس، فكانت سلطة قوية عادلة ذات إيمان راسخ، وفهم للدين واضح لا تخالطه شبهة ولا تلابسه غمة.
ومن المعلوم لدى المطلع على التاريخ السياسي للمغرب الِإسلامي أن عدة من الدول التي قامت به نهضت على أساس إصلاح ديني زرع علماء الدين بذوره وتولد في أذهانهم محتواه ومنهجه، ثم سعوا في تحقيق السلطة التي تنفذه وتجعله حياة للناس، والدولة المرابطية التي عاشت فيما بين سنة: 448 وسنة: 541 هي واحدة من الدول التي يصدق عليها ذلك القول (3).
--------------------------------------------
তাদের মাধ্যমে ব্যর্থ আশাসমূহ পুনরুজ্জীবিত হয়েছে এবং মৃত আকাঙ্ক্ষাসমূহ প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ফলে তারা মাগরিবের (মরক্কো) নতুন রাজধানী মারাক্কেশ প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করেন এবং মাগরিব ভূখণ্ডের আফ্রিকান উপকূলে তাদের সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটান। অতঃপর তারা আল-জালাকার মহান দিনে (১) আন্দালুসিয়া উপকূলের দিকে নাজাতের রশি নিক্ষেপ করেন, যাতে সেখানে শক্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আমিরুল মুসলিমিন ইউসুফ বিন তাশফিন (২) (মৃত্যু: ৫০০ হিজরি)-এর নেতৃত্বে রাষ্ট্রের পুনর্জাগরণ ঘটে।
এভাবেই হতাশার কুয়াশা দূরীভূত হলো এবং আশার প্রভাত নৈরাশ্যের অন্ধকারকে মিটিয়ে দিল। ফলে এই বরকতময় আন্দোলন বক্রতাকে সংশোধন করতে এবং মানুষকে সরল পথের দিশা দিতে অগ্রসর হলো। আর আন্দালুসিয়া ভূখণ্ডে ইসলাম যে বিপদের সম্মুখীন হয়েছিল তা থেকে একে রক্ষা করল। এটি ছিল একটি শক্তিশালী ও ন্যায়পরায়ণ শাসনব্যবস্থা, যার ভিত্তি ছিল সুদৃঢ় ঈমান এবং দ্বীনের এমন এক স্বচ্ছ বুঝ, যেখানে কোনো সংশয়ের অবকাশ ছিল না এবং যা কোনো অস্পষ্টতায় আচ্ছন্ন ছিল না।
ইসলামি মাগরিবের রাজনৈতিক ইতিহাসের পাঠকদের কাছে এটি সুবিদিত যে, সেখানে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রগুলোর বেশ কয়েকটি ধর্মীয় সংস্কারের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছিল, যার বীজ বপন করেছিলেন দ্বীনি ওলামায়ে কেরাম এবং তাদের মস্তিস্কেই এর বিষয়বস্তু ও কর্মপদ্ধতি জন্ম নিয়েছিল। অতঃপর তারা এমন এক শাসনক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করেন যা সেই সংস্কারকে বাস্তবায়ন করবে এবং মানুষের জীবনে তা কার্যকর করবে। আর মুরাবিতুন রাষ্ট্র, যা ৪৪৮ থেকে ৫৪১ হিজরির মধ্যবর্তী সময়ে বিদ্যমান ছিল, তা এমন এক রাষ্ট্র যার ক্ষেত্রে এই বক্তব্যটি প্রযোজ্য (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
لقد كانت هذه الدولة نتيجة لتخطيط محكم قام به علماء الإِسلام المغاربة مبتدئاً بعلامة القيروان أبي عمران الفاسي (1) حين أعلن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر في أعماق فاس، ثم الاتصال والتأثير في الأمير يحيى بن إبراهيم الكدالي (ت: 430) (2).
وقد كان هذا الأمير متشوقاً لنفس الأمر، فتكافت الأيدي، وبدأت الدعوة، فكانت الدولة.
ومن خصائص هذه الدولة الفتية أنهم أقاموا نظاماً اقتصادياً منبثقاً من صميم التعاليم الِإسلامية، وكانت العدالة الاقتصادية من أهم الأمور التي يطلبها المسلمون، إذ أنهم لقوا في عهد بني عباد وغيره من ملوك الطوائف عنتاً شاقاً، وتحملوا منهم رهقاً شديداً، فقد أثقلت الضرائب والمكوس كاهلهم، وصودرت منهم الأموال والأملاك لتصرف في أمور الترف واللهو، وجاء المرابطون فرفعوا هذا الظلم، والتزموا بالنظام الضريبي للفقه الإِسلامي مثل الزكاة والأعشار وأخماس الغنائم (3).
وينبغي التنبيه على أن يوسف بن تاشفين قد اشْتد إيثاره لأهل الفقه
--------------------------------------------
এই রাষ্ট্রটি ছিল মাগরিবের ইসলামি আলেমদের একটি সুনিপুণ পরিকল্পনার ফসল, যার সূচনা করেছিলেন কায়রোয়ানের প্রখ্যাত আলেম আবু ইমরান আল-ফাসি (১), যখন তিনি ফাস নগরীর গহীনে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ঘোষণা দেন; অতঃপর আমির ইয়াহইয়া ইবনে ইবরাহিম আল-কুদালি (মৃত্যু: ৪৩০) (২)-এর সাথে যোগাযোগ ও তাঁর ওপর প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে এটি পূর্ণতা পায়।
এই আমির নিজেও একই বিষয়ের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। ফলে পারস্পরিক সহযোগিতার হাত প্রসারিত হয়, দাওয়াহর কাজ শুরু হয় এবং এভাবেই এই রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
এই নবীন রাষ্ট্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল যে, তারা ইসলামি শিক্ষার মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ছিল মুসলমানদের অন্যতম প্রধান দাবি, কারণ বনু আব্বাদ এবং অন্যান্য তৈফা রাজন্যবর্গের শাসনামলে তারা চরম দুর্ভোগ ও কষ্টের শিকার হয়েছিল। কর ও অবৈধ শুল্কের ভারে তাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল এবং বিলাসিতা ও আমোদ-প্রমোদে ব্যয়ের জন্য তাদের ধন-সম্পদ ও ভূসম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হতো। আল-মুরাবিতুনরা এসে এই জুলুমের অবসান ঘটান এবং ইসলামি ফিকহ নির্দেশিত কর ব্যবস্থা যেমন জাকাত, উশর এবং গনিমতের পঞ্চমাংশ আদায়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকেন (৩)।
এটি উল্লেখ করা আবশ্যক যে, ইউসুফ ইবনে তাশফিন ফিকহশাস্ত্রবিদদের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ও তাঁদের অগ্রাধিকার প্রদানকারী ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
والدين حتى كان لا يقطع أمراً في جميع مملكته دون مشاورة الفقهاء (1) الذين أخلصوا لهذه الدولة فارتادوا لها نواحي الظفر، وتوخوا لها وجوه النجاح وبذلوا أقصى مجهودهم من أجل استقرارها، واستقصوا في سبيل ذلك الذرائع، واستنفذوا الوسائل، وركبوا كل صعب وذلول، ولا شك أن إقامة دولة إسلامية قوية على إثر إمارات ضعيفة أمر صعب، شديد المطلب، وعر الملتمس، عزيز المنال، ولكن بالإِخلاص والتفاني في حب الله ورسوله، وبالرغبة الصادقة في إعلاء كلمة الله عز وجل تلين أعطاف الأمور، وتعن الرقاب، وتسهل الصعاب.
2 - المذاهب الفقهية السنية:يبدو -والله أعلم- أن أول المذاهب الفقهية دخولاً إلى الأندلس والمغرب هو مذهب الِإمام الأوزاعي (ت: 157)، وهو ما أشار إليه الحميدي في "جذوة المقتبس" (2) وأكده المِقَّري التلمساني بقوله: "واعلم أن أهل الأندلس كانوا في القديم على مذهب الأوزاعي وأهل الشام منذ أول الفتح
… " (3) قلت: وهذا لا يمنع من وجود مذهب أبي حنيفة النعمان (ت: 150) فقد صرح بذلك الفقيه العظيم والمؤرخ الثبت القاضي عياض اليَحْصُبِيّ (ت: 544) الذي قال: "وأما إفريقية (أي تونس) وما وراءها (أي الجزائر والمغرب والأندلس) فقد كان الغالب عليها في القديم مذهب الكوفيين إلى أن دخل علي بن زياد (ت: 183) وابن الأشرس (ت: 170) والبهلول بن راشد (ت: 183) وبعدهم أسد بن الفرات (ت: 213) وغيرهم بمذهب مالك
… " (4) قلت: ويبدو أن الغلبة كانت في النهاية لمذهب
--------------------------------------------
...এবং দ্বীন, এমনকি তিনি তাঁর সমগ্র সাম্রাজ্যের কোনো বিষয়েই ফকীহগণের (১) পরামর্শ ব্যতীত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন না, যারা এই রাষ্ট্রের প্রতি একনিষ্ঠ ছিলেন। তাঁরা এর বিজয়ের পথসমূহ অন্বেষণ করেছেন, সাফল্যের পাথেয় তালাশ করেছেন এবং এর স্থিতিশীলতার জন্য তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। এই লক্ষ্যে তাঁরা সকল মাধ্যম অনুসন্ধান করেছেন, উপায়সমূহ নিঃশেষ করেছেন এবং প্রতিটি কঠিন ও সহজ পথ পাড়ি দিয়েছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, দুর্বল ইমারতসমূহের অবশিষ্টাংশের ওপর একটি শক্তিশালী ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত কঠিন কাজ, যার দাবি অত্যন্ত কঠোর, পথ অত্যন্ত দুর্গম এবং অর্জন করা অত্যন্ত দুষ্কর। কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসায় একনিষ্ঠতা ও আত্মনিয়োগ এবং মহান আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার সত্য ইচ্ছার মাধ্যমে কঠিন বিষয়গুলো সহজ হয়ে যায়, ঘাড়গুলো নমিত হয় এবং বিপদগুলো সহজসাধ্য হয়।
২ - সুন্নি ফিকহী মাযহাবসমূহ:আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়—আল্লাহই ভালো জানেন—আন্দালুস ও মরক্কোতে প্রবেশকারী প্রথম ফিকহী মাযহাব হলো ইমাম আওযায়ী (মৃত্যু: ১৫৭ হি.)-এর মাযহাব। আল-হুমায়দী তাঁর 'জাযওয়াতুল মুকতাবিস' (২) গ্রন্থে এ দিকেই ইঙ্গিত করেছেন এবং আল-মাক্কারি আত-তিলিমসানি তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করেছেন: "জেনে রেখো যে, আন্দালুস ও সিরিয়াবাসী প্রাচীনকাল থেকেই বিজয়ের সূচনালগ্ন থেকে আওযায়ী মাযহাবের ওপর ছিল..." (৩)। আমি বলি: এটি ইমাম আবু হানিফা নুমান (মৃত্যু: ১৫০ হি.)-এর মাযহাবের অস্তিত্বকে নাকচ করে না। মহান ফকীহ এবং নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক কাযী আয়ায আল-ইয়াহসুবি (মৃত্যু: ৫৪৪ হি.) এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "আর আফ্রিকা (অর্থাৎ তিউনিসিয়া) এবং এর পরবর্তী অঞ্চলগুলোর (অর্থাৎ আলজেরিয়া, মরক্কো ও আন্দালুস) ওপর প্রাচীনকালে কুফাবাসীদের মাযহাবেরই প্রাধান্য ছিল, যতক্ষণ না আলী ইবনে যিয়াদ (মৃত্যু: ১৮৩ হি.), ইবনে আশরাস (মৃত্যু: ১৭০ হি.), বাহলুল ইবনে রাশিদ (মৃত্যু: ১৮৩ হি.) এবং তাঁদের পর আসাদ ইবনুল ফুরাত (মৃত্যু: ২১৩ হি.) ও অন্যান্যরা মালিকি মাযহাব নিয়ে প্রবেশ করেন..." (৪)। আমি বলি: এটি প্রতীয়মান হয় যে, শেষ পর্যন্ত প্রাধান্য লাভ করেছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
مالك، يقول القاضي عياض في هذا الصدد: "ولم يزل (المذهب المالكي) يفشو إلى أن جاء سحنون (ت: 240) فغلب في أيامه، وفضّ حلق المخالفين، واستقر المذهب بعده في أصحابه فشاع في تلك الأقطار إلى وقتنا هذا" (1).
قلت: إن هذا الانفراد لمذهب مالك في الفقه جعل الناس يؤثرونه ويتشبثون به، وتكونت له في نفوسهم منزلة جعلتهم يطرحون كل المذاهب الأخرى سواه، وقد يعمدون إلى مضايقة من يعتنقها، وفي هذا يقول المقدسي: "أما في الأندلس فمذهب مالك وقراءة نافع وهم يقولون لا نعرف إلَاّ كتاب الله وموطأ مالك، فإن ظهروا على حنفيّ أو شافعيّ نفوه
… " (2) وربما ضاق التمسك بالمذهب المالكي إلى حد الأخذ برواية من رواياته والاكتفاء بها دون غيرها، وهو ما ذكره أحمد بابا التنبكتي نقلاً عن أبي موسى بن الِإمام (ت: 749) من أن أهل الأندلس في قرطبة شرطوا أن لا يخرج القاضي عن قول ابن القاسم (ت: 191) ما وجدوه، احتياطاً ورغبة في صحة الطريق الموصل لمذهب مالك (3). ويبدو أن التمسك بمذهب مالك بلغ درجة استحال معها في بعض الأحيان إلى نوع من التعصب الممقوت، وهو ما صوّره ابن حزم الظاهري في قوله: "قد وصل أهل الأندلس في تقليد مالك حتى يعرضوا كلامه تعالى وكلام رسوله على مذاهب إمامهم، فإن وافقاه قبلوهما وإلّا طرحوهما، وأخذوا بقول صاحبهم، مع أنه غير معصوم، ولا نعلم بعد الكفر بالله معصية أعظم من هذا" (4).
--------------------------------------------
মালিক, কাজী আইয়াজ এই প্রসঙ্গে বলেন: "সাহনুন (মৃ. ২৪০ হিজরী) আসার পূর্ব পর্যন্ত (মালিকি মাযহাব) ছড়িয়ে পড়ছিল, অতঃপর তাঁর সময়ে তা প্রবল হয়ে ওঠে এবং তিনি বিরোধীদের মজলিসসমূহ ছিন্নভিন্ন করে দেন। তাঁর পর তাঁর অনুসারীদের মাঝে মাযহাবটি স্থিতিশীল হয় এবং আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত ঐ সকল অঞ্চলে এটি ছড়িয়ে পড়ে।" (১)।
আমি বলি: ফিকহ শাস্ত্রে মালিকি মাযহাবের এই একক আধিপত্য মানুষকে এটি গ্রহণ করতে এবং এতে আঁকড়ে থাকতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তাদের মনে এই মাযহাবের এমন মর্যাদা তৈরি হয়েছিল যা তাদের অন্য সব মাযহাব বর্জন করতে বাধ্য করেছিল। এমনকি তারা অন্য মাযহাব অনুসারীদের কষ্ট দেওয়ারও সংকল্প করত। এই বিষয়ে আল-মাকদিসি বলেন: "আন্দালুসে মালিকি মাযহাব এবং নাফির কেরাআতই প্রচলিত। তারা বলে, আমরা আল্লাহর কিতাব ও ইমাম মালিকের মুওয়াত্তা ছাড়া আর কিছুই জানি না। ফলে তারা যদি কোনো হানাফি বা শাফিয়ি মতাদর্শীকে দেখতে পেত, তবে তাকে নির্বাসিত করত..." (২) মালিকি মাযহাব আঁকড়ে ধরার বিষয়টি কখনও কখনও এতটাই সংকুচিত হয়ে পড়ত যে, এর কোনো একটি বর্ণনাকেই গ্রহণ করা হতো এবং অন্যগুলোর পরিবর্তে সেটিকেই যথেষ্ট মনে করা হতো। এটিই আহমদ বাবা আত-তিনবুকতি বর্ণনা করেছেন আবু মুসা বিন আল-ইমাম (মৃ. ৭৪৯ হিজরী) থেকে উদ্ধৃত করে যে, কর্ডোভার আন্দালুসীয়রা শর্তারোপ করেছিল যে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইবনুল কাসিমের (মৃ. ১৯১ হিজরী) উক্তি পাওয়া যাবে, ততক্ষণ বিচারক তা থেকে বিচ্যুত হবেন না। এটি তারা সতর্কতা হিসেবে এবং মালিকি মাযহাব পর্যন্ত পৌঁছানোর নির্ভুল পথের আকাঙ্ক্ষায় করত (৩)। মনে হয় যে মালিকি মাযহাব আঁকড়ে ধরা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, কখনও কখনও তা এক প্রকার ঘৃণ্য গোঁড়ামিতে রূপ নিত। ইবনে হাজম আজ-জাহেরি তাঁর বক্তব্যে এই চিত্রটিই অঙ্কন করেছেন: "আন্দালুসীয়রা ইমাম মালিকের তাকলিদে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তারা মহান আল্লাহর কালাম এবং তাঁর রাসূলের বাণীকে তাদের ইমামের মাযহাবের সামনে পেশ করে। যদি তা মাযহাবের সাথে মিলে যায় তবে তারা তা গ্রহণ করে, অন্যথায় বর্জন করে এবং তাদের নেতার কথা গ্রহণ করে; অথচ তিনি মাসুম (নিষ্পাপ) নন। আল্লাহর সাথে কুফরি করার পর এর চেয়ে বড় কোনো গুনাহ আছে বলে আমাদের জানা নেই" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কানুনুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
قلت: صدق ابن حزم الأندلسي فإن العصمة لرسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد صرح كل إمام من أئمة المذاهب بأنه "إذا صحّ الحديث فهو مذهبي" (1) وقالوا أيضاً: "إذا قلت قولًا فاعرضوه على كتاب الله وسنة رسوله فإن وافقهما فاقبلوه، وما خالفهما فردوه واضربوا بقولي عرض الحائط" (2).
ويا ليت مالكية الأندلس والمغرب الِإسلامي اقتصروا على كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم متمثلة في الموطأ، ولكنهم منذ أواسط القرن الثالث إلى عصر أبي بكر بن العربي بعدوا عن المعاني الشافعية المتمثلة في الكتاب والسنة، وتركوا حتى أقوال إمامهم في المدونة وعوّضوها بالمختصرات وبكتب الفروع الأخرى، مع أن المدونة مفهومة بنفسها لا تحتاج إلى شرح في غالب مواضعها. وهكذا نرى فقهاء المالكية يذهبون من الأسهل إلى الصعب، ومن المبسط إلى المعقد، ظنّاً منهم أنهم يختصرون الفقه، ويوفرون الوقت على طلاب العلم، مع أنه العكس من ذلك، فقد زادوا الفقه تعقيداً على تعقيد، وأبعدوه عن منبعه الصافي الأصيل بسبب هاته المختصرات المجحفة (3)، وعن هذه الاختصارات يقول ابن خلدون: "وهو فساد في التعليم، وفيه إخلال بالتحصيل، ثم فيه -مع ذلك- شغل كبير عن التعلم، بتتبع ألفاظ الاختصار العويصة للفهم، بتزاحم المعاني عليها، وصعوبة استخراج المسائل من بينها
… فينقطع في فهمها حظ صالح من الوقت، فقصدوا إلى
--------------------------------------------
আমি বলি: ইবনে হাজম আল-আন্দালুসি সত্য বলেছেন, কেননা নিষ্পাপতা (ইসমা) একমাত্র আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য। মাযহাবের ইমামগণের প্রত্যেকেই স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, "যখন কোনো হাদীস সহীহ প্রমাণিত হবে, তখন সেটিই আমার মাযহাব" (১)। তাঁরা আরও বলেছেন: "আমি যদি কোনো কথা বলি, তবে তা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর সামনে পেশ করো। যদি তা এই দুটির সাথে মিলে যায় তবে তা গ্রহণ করো, আর যদি এই দুটির পরিপন্থী হয় তবে তা প্রত্যাখ্যান করো এবং আমার কথাকে দেয়ালে ছুঁড়ে মারো" (২)।
আফসোস! আন্দালুস ও ইসলামী মাগরিবের মালিকীগণ যদি আল্লাহর কিতাব এবং মুয়াত্তায় বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর ওপর সীমাবদ্ধ থাকতেন। কিন্তু তারা তৃতীয় শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে আবু বকর ইবনুল আরাবীর যুগ পর্যন্ত কিতাব ও সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত সুস্পষ্ট ও পর্যাপ্ত অর্থসমূহ থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। এমনকি তারা 'আল-মুদাওওয়ানা' গ্রন্থে বর্ণিত তাদের ইমামের বক্তব্যসমূহ ত্যাগ করে সেগুলোর পরিবর্তে বিভিন্ন সংক্ষিপ্ত সার (মুখতাসারাত) ও ফروعী কিতাবাদি গ্রহণ করেছেন। অথচ 'আল-মুদাওওয়ানা' গ্রন্থটি স্বয়ং বোধগম্য এবং এর অধিকাংশ স্থান ব্যাখ্যার প্রয়োজন রাখে না। এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, মালিকী ফকীহগণ সহজ থেকে কঠিনের দিকে এবং সরল থেকে জটিলের দিকে ধাবিত হয়েছেন। তারা মনে করেছিলেন যে, তারা ফিকহকে সংক্ষিপ্ত করছেন এবং শিক্ষার্থীদের সময় বাঁচাচ্ছেন; অথচ বিষয়টি ছিল এর সম্পূর্ণ উল্টো। এই ক্ষতিকর সংক্ষিপ্ত সারগুলোর কারণে তারা ফিকহকে ক্রমেই আরও জটিল করে তুলেছেন এবং একে এর স্বচ্ছ ও মূল উৎস থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন (৩)। এই সংক্ষিপ্তকরণ সম্পর্কে ইবনে খালদুন বলেন: "এটি শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি বিপর্যয় এবং জ্ঞান অর্জনে ত্রুটি সৃষ্টিকারী। তদুপরি, এতে বুঝার জন্য অত্যন্ত দুরূহ সংক্ষিপ্ত শব্দাবলির অনুসরণ করতে গিয়ে মূল শিক্ষা থেকে বিচ্যুত হতে হয়, কারণ এতে প্রচুর অর্থের সমাগম ঘটে এবং মাসয়ালাসমূহ উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে... ফলে এগুলো বুঝতেই সময়ের একটি বড় অংশ ব্যয় হয়ে যায়। তাই তারা সংকল্প করেছিলেন..."
--------------------------------------------