0/0
(খণ্ড: ১) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: -)
تاريخ الطبري = تاريخ الرسل والملوك، وصلة تاريخ الطبري   (ابن جرير الطبري)

القسم: التاريخ


الكتاب: تاريخ الطبري = تاريخ الرسل والملوك

المؤلف: أبو جعفر، محمد بن جرير الطبري (224 - 310 هـ)

ويليه بالجزء 11: «صلة تاريخ الطبري» لعريب بن سعد القرطبي [ت 369 هـ]

ويليه: «تكملة تاريخ الطبري» لمحمد بن عبد الملك الهمذاني [ت 521 هـ]

ويليه: «المنتخب من كتاب ذيل المذيل من تاريخ الصحابة والتابعين لمحمد بن جرير الطبري» لأحد العلماء

المحقق: محمد أبو الفضل إبراهيم [ت 1401 هـ]

الناشر: دار المعارف بمصر

الطبعة: الثانية 1387 هـ - 1967 م

عدد الأجزاء: 11

وصَوّرتْها: دار التراث بيروت وغيرها كثير

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তাবারি'র ইতিহাস = রাসুল ও রাজাদের ইতিহাস, এবং তাবারি'র ইতিহাসের সংযোজন   (ইবনে জারির আল-তাবারি)

বিভাগ: ইতিহাস


গ্রন্থ: তাবারি'র ইতিহাস = রাসুল ও রাজাদের ইতিহাস

লেখক: আবু জাফর، মুহাম্মাদ ইবনে জারির আল-তাবারি (২২৪ - ৩১০ হিজরী)

এর পরে, ১১তম খণ্ডে: «তাবারি'র ইতিহাসের সংযোজন» আরিব ইবনে সা'দ আল-কুরতুবী রচিত [মৃত্যু ৩৬৯ হিজরী]

এর পরে: «তাবারি'র ইতিহাসের পরিপূরক» মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল মালিক আল-হামাদানী রচিত [মৃত্যু ৫২১ হিজরী]

এর পরে: «মুহাম্মাদ ইবনে জারির আল-তাবারি রচিত সাহাবা ও তাবেঈনদের ইতিহাস সংক্রান্ত 'যাইল আল-মুযাইয়াল' (ذيل المذيل) নামক গ্রন্থ থেকে নির্বাচিত অংশ» একজন পণ্ডিত কর্তৃক

সম্পাদক: মুহাম্মাদ আবুল ফাদল ইবরাহিম [মৃত্যু ১৪০১ হিজরী]

প্রকাশক: দারুল মাআরিফ, মিশর

সংস্করণ: দ্বিতীয় ১৩৮৭ হিজরী - ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১১

এবং এটি প্রতিলিপি করেছে: দারুত তুরাস, বৈরুত এবং আরও অনেক প্রকাশক

[বইয়ের পৃষ্ঠাঙ্ক মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الجزء الأول

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الأول قبل كل أول، والآخر بعد كل آخر، والدائم بلا زوال، والقائم على كل شيء بغير انتقال، والخالق خلقه من غير اصل ولا مثال، فهو الفرد الواحد من غير عدد، وهو الباقي بعد كل أحد، إلى غير نهاية ولا أمد له الكبرياء والعظمه، والبهاء والعزه، والسلطان والقدرة، تعالى عن أن يكون له شريك في سلطانه او في وحدانيته نديد، أو في تدبيره معين أو ظهير، أو أن يكون له ولد، أو صاحبه او كفء أحد، لا تحيط به الأوهام، ولا تحويه الأقطار، ولا تُدْرِكُهُ الْأَبْصارُ، وهو يدرك الأبصار، وهو اللطيف الخبير.

أحمده على آلائه، وأشكره على نعمائه، حمد من أفرده بالحمد، وشكر من رجا بالشكر منه المزيد، وأستهديه من القول والعمل لما يقربني منه ويرضيه، وأومن به إيمان مخلص له التوحيد، ومفرد له التمجيد.

وَأَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده النجيب، ورسوله الأمين، اصطفاه لرسالته، وابتعثه بوحيه، داعيا خلقه إلى عبادته، فصدع بأمره، وجاهد في سبيله، ونصح لأمته، وعبده حتى أتاه اليقين من عنده، غير مقصر في بلاغ، ولا وان في جهاد، صلى الله عليه أفضل صلاة وأزكاها، وسلم
প্রথম খণ্ড

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রতিটি প্রথমের পূর্বে প্রথম, এবং প্রতিটি শেষের পরে শেষ, যিনি অবিনশ্বরভাবে চিরস্থায়ী, এবং যিনি কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সবকিছুর উপর প্রতিষ্ঠিত, এবং যিনি তাঁর সৃষ্টিকে কোনো আদি উৎস বা পূর্ব দৃষ্টান্ত ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন। তিনিই একক ও অদ্বিতীয়, কোনো সংখ্যা ব্যতিরেকে; এবং তিনিই সকলের পরে অবশিষ্ট থাকবেন, কোনো শেষ বা সীমা ব্যতিরেকে। তাঁরই জন্য রয়েছে শ্রেষ্ঠত্ব ও মহিমা, জ্যোতি ও সম্মান, সার্বভৌমত্ব ও ক্ষমতা। তিনি অনেক ঊর্ধ্বে যে, তাঁর সার্বভৌমত্বে কোনো শরীক থাকবে বা তাঁর একত্বে কোনো সমকক্ষ থাকবে, অথবা তাঁর ব্যবস্থাপনায় কোনো সাহায্যকারী বা সমর্থক থাকবে, অথবা তাঁর কোনো সন্তান, স্ত্রী বা সমকক্ষ কেউ থাকবে। ধারণাসমূহ তাঁকে পরিবেষ্টন করতে পারে না, এবং দিকসমূহ তাঁকে ধারণ করতে পারে না; চোখ তাঁকে দেখতে পায় না, অথচ তিনিই দৃষ্টিসমূহকে দেখতে পান। আর তিনিই সূক্ষ্মদর্শী, সর্বজ্ঞ।

আমি তাঁর অনুগ্রহসমূহের জন্য তাঁর প্রশংসা করি এবং তাঁর নেয়ামতসমূহের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করি—এমন প্রশংসা যেমনটি কেবল তাঁরই জন্য এককভাবে নিবেদিত, এবং এমন শুকরিয়া যেমনটি করে সেই ব্যক্তি যে শুকরিয়ার মাধ্যমে তাঁর থেকে আরও বেশি আশা করে। আমি তাঁর কাছে কথা ও কাজের ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শন চাই, যা আমাকে তাঁর নিকটবর্তী করবে এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করবে। আর আমি তাঁর প্রতি এমন একনিষ্ঠ বিশ্বাস স্থাপন করি, যা তাঁর একত্ববাদকে বিশুদ্ধ করে এবং তাঁর মহিমাকে এককভাবে নিবেদন করে।

আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই; তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর মনোনীত বান্দা ও তাঁর বিশ্বস্ত রাসূল, যাকে তিনি তাঁর রিসালাতের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাঁর ওহী দ্বারা প্রেরণ করেছেন, তাঁর সৃষ্টিকে তাঁর ইবাদতের দিকে আহ্বানকারী হিসেবে। অতঃপর তিনি তাঁর (আল্লাহর) আদেশ সুস্পষ্টভাবে প্রচার করেছেন, তাঁর পথে জিহাদ করেছেন এবং তাঁর উম্মাহকে উপদেশ দিয়েছেন। আর তিনি তাঁর ইবাদত করেছেন যতক্ষণ না তাঁর নিকট থেকে তাঁর কাছে সুনিশ্চিত জ্ঞান (মৃত্যু) আসে—প্রচারণার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি করেননি এবং জিহাদে দুর্বল হননি। আল্লাহ তাঁর উপর শ্রেষ্ঠ ও পবিত্রতম সালাত বর্ষণ করুন এবং শান্তি
(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ৪)
أما بعد، فإن الله جل جلاله، وتقدست أسماؤه، خلق خلقه من غير ضرورة كانت به إلى خلقهم، وأنشأهم من غير حاجة كانت به إلى إنشائهم، بل خلق من خصه منهم بامره ونهيه، وامتحنه بعبادته، ليعبدوه فيجود عليهم بنعمه، وليحمدوه على نعمه فيزيدهم من فضله ومننه، ويسبغ عليهم فضله وطوله، كما قال عز وجل: «وَما خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ مَا أُرِيدُ مِنْهُمْ مِنْ رِزْقٍ وَما أُرِيدُ أَنْ يُطْعِمُونِ إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ» .

فلم يزده خلقه إياهم- إذ خلقهم- في سلطانه على ما لم يزل قبل خلقه إياهم مثقال ذرة، ولا هو إن أفناهم واعدمهم ينقصه افناؤه إياهم ميزان شعره، لأنه لا تغيره الأحوال، ولا يدخله الملال، ولا ينقص سلطانه الأيام والليال، لأنه خالق الدهور والأزمان، فعم جميعهم في العاجل فضله وجوده، وشملهم كرمه وطوله، فجعل لهم أسماعا وأبصارا وأفئدة، وخصهم بعقول يصلون بها الى التمييز بين الحق والباطل، ويعرفون بها المنافع والمضار، وجعل لهم الأرض بساطا ليسلكوا منها سبلا فجاجا، والسماء سقفا محفوظا، وبناء مسموكا، وأنزل لهم منها الغيث بالإدرار، والأرزاق بالمقدار، واجرى لهم فيها قمر الليل وشمس النهار يتعاقبان بمصالحهم دائبين، فجعل لهم الليل لباسا، والنهار معاشا، وخالف- منًّا مِنْه عليهم وتطولا- بين قمر الليل وشمس النهار، فمحا آية الليل وجعل آية النهار مبصرة، كما قال جل جلاله وتقدست أسماؤه: «وَجَعَلْنَا اللَّيْلَ وَالنَّهارَ آيَتَيْنِ فَمَحَوْنا آيَةَ اللَّيْلِ وَجَعَلْنا آيَةَ النَّهارِ مُبْصِرَةً لِتَبْتَغُوا فَضْلًا

অতঃপর, নিশ্চয়ই আল্লাহ, যাঁর মহিমা মহান এবং যাঁর নামসমূহ পবিত্র, তিনি তাঁর সৃষ্টিকে সৃষ্টি করেছেন তাদের সৃষ্টির প্রতি তাঁর কোনো প্রয়োজন ব্যতিরেকে, এবং তাদেরকে অস্তিত্বে এনেছেন তাদের অস্তিত্বে আনার প্রতি তাঁর কোনো চাহিদা ব্যতিরেকে। বরং তিনি তাদের মধ্যে যাদেরকে তাঁর আদেশ ও নিষেধ দ্বারা বিশেষিত করেছেন এবং ইবাদতের মাধ্যমে পরীক্ষা করেছেন, তা এই জন্য যে, তারা যেন তাঁর ইবাদত করে এবং তিনি তাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ বর্ষণ করেন, আর তারা যেন তাঁর অনুগ্রহের জন্য তাঁর প্রশংসা করে যাতে তিনি তাদের প্রতি তাঁর করুণা ও উদারতা বৃদ্ধি করেন, এবং তাদের উপর তাঁর অনুগ্রহ ও দান পূর্ণভাবে ঢেলে দেন। যেমনটি মহান ও প্রতাপশালী সত্তা বলেছেন: «আমি জিন ও মানবকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের কাছে কোনো রিযিক চাই না এবং আমি চাই না যে তারা আমাকে আহার করাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ, তিনিই রিযিকদাতা, মহা শক্তিধর, পরাক্রমশালী।»

সুতরাং, যখন তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন, তখন তাদের সৃষ্টি তাঁর রাজত্বে এক কণা পরিমাণও বৃদ্ধি করেনি, যা তাদের সৃষ্টির পূর্বে ছিল না। আর যদি তিনি তাদের ধ্বংস করে দেন এবং অস্তিত্বহীন করে দেন, তবে তাদের বিনাশ তাঁর রাজত্বকে এক চুল পরিমাণও কমাবে না। কারণ কোনো অবস্থা তাঁকে পরিবর্তন করতে পারে না, এবং ক্লান্তি তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না। দিন ও রাত্রি তাঁর রাজত্বকে কমাতে পারে না, কারণ তিনি যুগ ও সময়ের স্রষ্টা। অতঃপর তিনি তাদের সকলের উপর ইহকালে তাঁর অনুগ্রহ ও উদারতা পরিব্যাপ্ত করেছেন, এবং তাঁর মহানুভবতা ও দান তাদের সকলকে আবৃত করেছে। অতএব তিনি তাদের জন্য শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি এবং হৃদয় ও উপলব্ধি শক্তি তৈরি করেছেন, এবং তাদেরকে এমন বুদ্ধি দ্বারা বিশেষিত করেছেন যার মাধ্যমে তারা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে এবং উপকারী ও ক্ষতিকর বিষয়সমূহ চিনতে পারে। এবং তাদের জন্য পৃথিবীকে বিছানা স্বরূপ বানিয়েছেন যাতে তারা এর উপর দিয়ে প্রশস্ত পথসমূহে চলাচল করতে পারে, আর আকাশকে এক সুরক্ষিত ছাদ এবং সুউচ্চ কাঠামো রূপে। তাদের জন্য আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন এবং পরিমিত জীবিকা নাযিল করেছেন। তাদের জন্য এতে রাতের চাঁদ ও দিনের সূর্যকে চলমান রেখেছেন, যা তাদের কল্যাণে অবিরামভাবে পর্যায়ক্রমে আসে। অতঃপর তিনি তাদের জন্য রাতকে আবরণ এবং দিনকে জীবিকা অর্জনের সময় বানিয়েছেন। তাদের প্রতি তাঁর করুণা ও উদারতার নিদর্শনস্বরূপ তিনি রাতের চাঁদ ও দিনের সূর্যের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি রাতের নিদর্শন (আলো) মুছে দিয়েছেন এবং দিনের নিদর্শনকে উজ্জ্বল করেছেন, যেমনটি তাঁর মহিমা মহান ও তাঁর নামসমূহ পবিত্র সত্তা বলেছেন: «এবং আমরা রাত ও দিনকে দুটি নিদর্শন বানিয়েছি। অতঃপর আমরা রাতের নিদর্শনকে নিষ্প্রভ করেছি এবং দিনের নিদর্শনকে উজ্জ্বল করেছি যাতে তোমরা অনুগ্রহ অন্বেষণ করতে পারো।»

(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ৫)
مِنْ رَبِّكُمْ وَلِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسابَ وَكُلَّ شَيْءٍ فَصَّلْناهُ تَفْصِيلًا» .

وليصلوا بذلك إلى العلم بأوقات فروضهم التي فرضها عليهم في ساعات الليل والنهار والشهور والسنين، من الصلوات والزكوات والحج والصيام وغير ذلك من فروضهم، وحين حل ديونهم وحقوقهم، كما قال عز وجل: «يَسْئَلُونَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ قُلْ هِيَ مَواقِيتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجِّ» ، وقال: «هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِياءً وَالْقَمَرَ نُوراً وَقَدَّرَهُ مَنازِلَ لِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسابَ مَا خَلَقَ اللَّهُ ذلِكَ إِلَّا بِالْحَقِّ يُفَصِّلُ الْآياتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ إِنَّ فِي اخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهارِ وَما خَلَقَ اللَّهُ فِي السَّماواتِ وَالْأَرْضِ لَآياتٍ لِقَوْمٍ يَتَّقُونَ» .

إنعاما منه بكل ذلك على خلقه، وتفضلا منه به عليهم وتطولا، فشَكَره على نعمه التي أنعمها عليهم من خلقه خَلْق عظيم، فزاد كثيرا منهم من آلائه وأياديه، على ما ابتدأهم به من فضله وطوله، كما وعدهم جل جلاله بقوله: «وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ وَلَئِنْ كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذابِي لَشَدِيدٌ» ، وجمع لهم الى الزيادة التي زادهم في عاجل دنياهم، الفوز بالنعيم المقيم، والخلود في جنات النعيم، في آجل آخرتهم وأخر لكثير منهم الزيادة التي وعدهم فمدهم الى حين مصيرهم اليه ووقت قدومهم عليه، توفيرا منه كرامته عليهم يوم تبلى السرائر وكفر نعمه خلق منهم عظيم، فجحدوا آلاءه وعبدوا سواه، فسلب كثيرا منهم ما ابتدأهم به من الفضل والإحسان، وأحل
তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে, এবং যেন তোমরা বছরগুলোর সংখ্যা ও হিসাব জানতে পারো। আর আমি প্রতিটি বিষয় বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি।

আর এর মাধ্যমে তারা যেন তাদের উপর নির্ধারিত ফরয (আবশ্যিক বিধান) সমূহের সময় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারে, যা রাত-দিনের প্রহর, মাস ও বছরসমূহে তাদের উপর ফরয করা হয়েছে—যেমন সালাত (নামাজ), যাকাত, হজ, সিয়াম (রোজা) এবং তাদের অন্যান্য ফরয সমূহ, আর তাদের ঋণ ও প্রাপ্য পরিশোধের সময়কাল সম্পর্কেও। যেমন মহামহিম সত্তা বলেছেন: "তারা আপনাকে নতুন চাঁদসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, এগুলি মানুষের ও হজের জন্য সময়-নির্ধারক।" এবং তিনি আরও বলেছেন: "তিনিই সূর্যকে তেজস্বী আলো এবং চন্দ্রকে জ্যোতির্ময় আলো বানিয়েছেন, আর তার জন্য মঞ্জিলসমূহ (অবস্থানস্থল) নির্ধারণ করেছেন, যেন তোমরা বছরগুলোর সংখ্যা ও হিসাব জানতে পারো। আল্লাহ তা সত্য সহকারে ব্যতীত সৃষ্টি করেননি। তিনি নিদর্শনাবলী বিশদভাবে বর্ণনা করেন জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য। নিশ্চয়ই রাত ও দিনের আবর্তনে এবং আকাশ ও পৃথিবীতে আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তাতে মুত্তাকি (খোদাভীরু) সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে।"

এই সবকিছুই তাঁর সৃষ্টির প্রতি তাঁর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ, তাদের প্রতি তাঁর দয়া ও প্রলম্বিত অবদান। ফলে তাঁর সৃষ্টির এক বিশাল অংশ তাঁর দেওয়া নেয়ামতসমূহের (অনুগ্রহসমূহের) জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। আর তিনি তাদের অনেকের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ ও দান বৃদ্ধি করেছেন, যা তিনি তাদের প্রতি তাঁর ফজল (فضل) ও প্রাচুর্য দ্বারা প্রথমত দান করেছিলেন তার থেকেও বেশি। যেমন তাঁর মহিমান্বিত সত্তা তাদের ওয়াদা (প্রতিশ্রুতি) দিয়ে বলেছেন: "আর স্মরণ করো, যখন তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করলেন, 'যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তাহলে আমি তোমাদেরকে অবশ্যই বাড়িয়ে দেবো; আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, তাহলে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর'।" এবং তিনি তাদের দুনিয়ার তাৎক্ষণিক জীবনে যে বৃদ্ধি দান করেছেন, তার সাথে পরকালের চিরস্থায়ী সুখের বিজয় এবং নেয়ামতের (সুখের) জান্নাতসমূহে (উদ্যানসমূহে) অনন্তকালের স্থিতি তাদের জন্য একত্রিত করেছেন। আর তাদের অনেকের জন্য তিনি প্রতিশ্রুত বৃদ্ধিকে বিলম্বিত করেছেন, তাদের তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন ও তাঁর কাছে পৌঁছানোর সময় পর্যন্ত তা প্রলম্বিত করেছেন, গোপন বিষয় উন্মোচিত হওয়ার দিনে তাদের প্রতি তাঁর সম্মান পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু তাঁর সৃষ্টির এক বিশাল অংশ তাঁর নেয়ামতসমূহের (অনুগ্রহসমূহের) প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে, ফলে তারা তাঁর অনুগ্রহ অস্বীকার করেছে এবং তাঁর ব্যতীত অন্যদের ইবাদত করেছে। তাই তিনি তাদের অনেকের কাছ থেকে সে ফজল (فضل) ও ইহসান (কল্যাণ) ছিনিয়ে নিয়েছেন যা তিনি প্রথমে তাদের প্রতি দান করেছিলেন, এবং তাদের উপর অবতীর্ণ করেছেন...
(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ৬)
بهم النقمة المهلكة في العاجل، وذخر لهم العقوبة المخزية في الآجل، ومتع كثيرا منهم بنعمه ايام حياتهم استدراجا منه لهم، وتوقيرا منه عليهم أوزارهم، ليستحقوا من عقوبته في الآجل ما قد أعد لهم.

نعوذ بالله من عمل يقرب من سخطه، ونسأله التوفيق لما يدني من رضاه ومحبته.

قال أبو جعفر: وأنا ذاكر في كتابي هذا من ملوك كل زمان، من لدن ابتدأ ربنا جل جلاله خلق خلقه إلى حال فنائهم، من انتهى إلينا خبره ممن ابتدأه الله تعالى بآلائه ونعمه فشكر نعمه، من رسول له مرسل، أو ملك مسلط، أو خليفة مستخلف، فزاده إلى ما ابتدأه به من نعمه في العاجل نعما، وإلى ما تفضل به عليه فضلا، ومن أخر ذلك له منهم، وجعله له عنده ذخرا ومن كفر منهم نعمه فسلبه ما ابتدأه به من نعمه، وعجل له نقمه ومن كفر منهم نعمه فمتعه بما أنعم به عليه إلى حين وفاته وهلاكه، مقرونا ذكر كل من أنا ذاكره منهم في كتابي هذا بذكر زمانه، وجمل ما كان من حوادث الأمور في عصره وأيامه، إذ كان الاستقصاء في ذلك يقصر عنه العمر، وتطول به الكتب، مع ذكري مع ذلك مبلغ مدة أكله، وحين أجله، بعد تقديمي أمام ذلك ما تقديمه بنا أولى، والابتداء به قبله أحجى، من البيان عن الزمان: ما هو؟ وكم قدر جميعه، وابتداء أوله، وانتهاء آخره؟ وهل كان قبل خلق الله تعالى إياه شيء غيره؟ وهل هو فان؟ وهل بعد فنائه شيء غير وجه المسبح الخلاق، تعالى ذكره؟

وما الذي كان قبل خلق الله إياه؟ وما هو كائن بعد فنائه وانقضائه؟ وكيف

তাদের উপর ইহকালে ধ্বংসাত্মক প্রতিশোধ নেমে এসেছে এবং পরকালের জন্য তাদের জন্য অপমানজনক শাস্তি সঞ্চিত রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেককে তিনি তাদের জীবনকালে তাঁর অনুগ্রহে ভোগ করতে দিয়েছেন, যা ছিল তাদের পক্ষ থেকে একটি ধীরে ধীরে প্রলুব্ধকরণ (ইস্তিদরাজ) এবং তাদের পাপভারকে বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে, যাতে তারা পরকালে তাঁর প্রস্তুতকৃত শাস্তির যোগ্য হয়।

আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই এমন কাজ থেকে যা তাঁর অসন্তুষ্টির নিকটবর্তী করে এবং আমরা তাঁর কাছে এমন কাজের জন্য তৌফিক (সফলতা) প্রার্থনা করি যা তাঁর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসার দিকে ধাবিত করে।

আবু জাফর বলেছেন: আমি আমার এই কিতাবে প্রত্যেক কালের সেইসব বাদশাহদের কথা উল্লেখ করব, যখন থেকে আমাদের মহিমান্বিত প্রতিপালক তাঁর সৃষ্টি তৈরি করা শুরু করেছেন তাদের বিলীন হওয়া পর্যন্ত, যাদের সংবাদ আমাদের কাছে পৌঁছেছে— যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা তাঁর অনুগ্রহ ও নেয়ামত দিয়ে শুরু করেছিলেন এবং তারা সেই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করেছে, যেমন প্রেরিত রাসূল, বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত বাদশাহ, অথবা খলিফা হিসেবে নিযুক্ত ব্যক্তি; এবং যাদেরকে তিনি ইহকালে তাঁর প্রদত্ত প্রাথমিক অনুগ্রহের উপর আরও অনুগ্রহ বৃদ্ধি করেছেন এবং তাঁর প্রদত্ত দানের উপর আরও দান বাড়িয়েছেন; এবং তাদের মধ্যে যারা [শুকরিয়া আদায় করেছে] এবং যাদের জন্য তিনি তা (পুরস্কার) বিলম্বিত করেছেন এবং নিজের কাছে সঞ্চিত রেখেছেন। আর তাদের মধ্যে যারা তাঁর নেয়ামত অস্বীকার করেছে, তিনি তাদের থেকে সেই নেয়ামত ছিনিয়ে নিয়েছেন যা দিয়ে তিনি তাদের শুরু করেছিলেন এবং তাদের জন্য অবিলম্বে প্রতিশোধ ত্বরান্বিত করেছেন। আর তাদের মধ্যে যারা তাঁর নেয়ামত অস্বীকার করেছে, তিনি তাদেরকে মৃত্যুর সময় ও ধ্বংস পর্যন্ত তাঁর প্রদত্ত নেয়ামত ভোগ করতে দিয়েছেন। আমার এই কিতাবে আমি যাদের কথা উল্লেখ করব, তাদের প্রত্যেকের উল্লেখ তাদের সময়ের বর্ণনা এবং তাদের যুগে ও তাদের দিনে ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনার সংক্ষিপ্তসার সহ সংযুক্ত থাকবে, কারণ এর বিস্তারিত অনুসন্ধান করতে গেলে আয়ু কম পড়ে যাবে এবং কিতাব দীর্ঘ হয়ে যাবে। এর সাথে আমি তাদের শাসনের সময়কাল এবং তাদের মৃত্যুর সময়ও উল্লেখ করব। তবে তার আগে এমন কিছু উপস্থাপন করব যা উপস্থাপন করা আমাদের জন্য অধিক যুক্তিযুক্ত এবং তার পূর্বে শুরু করা অধিক উপযোগী; তা হলো সময়ের বর্ণনা: সময় কী? এর মোট পরিমাণ কত? এর শুরু কখন এবং শেষ কখন? আল্লাহ তায়ালা এটিকে সৃষ্টি করার আগে কি অন্য কিছু ছিল? এটি কি বিলীন হবে? এবং এর বিলীন হওয়ার পর কি সর্বাবস্থায় প্রশংসিত, স্রষ্টা সত্তা (আল্লাহ), মহিমান্বিত তাঁর স্মরণ, ছাড়া আর কিছু থাকবে?

আল্লাহ এটিকে সৃষ্টি করার পূর্বে কী ছিল? এবং এর বিলীন ও সমাপ্তির পর কী থাকবে? এবং কীভাবে

(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ৭)
كان ابتداء خلق الله تعالى إياه؟ وكيف يكون فناؤه؟ والدلالة على أن لا قديم إلا الله الواحد القهار، الذي له ملك السموات والأرض وما بينهما وما تحت الثرى بوجيز من الدلالة غير طويل، إذ لم نقصد بكتابنا هذا قصد الاحتجاج لذلك، بل لما ذكرنا من تاريخ الملوك الماضين وجمل من أخبارهم، وأزمان الرسل والأنبياء ومقادير أعمارهم، وأيام الخلفاء السالفين وبعض سيرهم، ومبالغ ولاياتهم، والكائن الذي كان من الأحداث في أعصارهم ثم أنا متبع آخر ذلك كله- إن شاء الله وأيد منه بعون وقوة- ذكر صحابه نبينا محمد ص وأسمائهم وكناهم ومبالغ أنسابهم ومبالغ أعمارهم، ووقت وفاة كل إنسان منهم، والموضع الذي كانت به وفاته ثم متبعهم ذكر من كان بعدهم من التابعين لهم بإحسان، على نحو ما شرطنا من ذكرهم ثم ملحق بهم ذكر من كان بعدهم من الخلف لهم كذلك، وزائد في أمورهم للإبانة عمن حمدت منهم روايته، وتقبلت أخباره، ومن رفضت منهم روايته ونبذت أخباره، ومن وهن منهم نقله، وضعف خبره وما السبب الذي من أجله نبذ من نبذ منهم خبره، والعلة التي من أجلها وهن من وهن منهم نقله.

وإلى الله عز وجل أنا راغب في العون على ما أقصده وأنويه، والتوفيق لما ألتمسه وأبغيه، فإنه ولي الحول والقوة، وصلى الله على محمد نبيه وآله وسلم تسليما.

وليعلم الناظر في كتابنا هذا أن اعتمادي في كل ما أحضرت ذكره فيه مما شرطت أني راسمه فيه، إنما هو على ما رويت من الأخبار التي أنا ذاكرها فيه، والآثار التي أنا مسندها إلى رواتها فيه، دون ما أدرك بحجج العقول، واستنبط

তার সৃষ্টি আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক কীভাবে শুরু হয়েছিল? এবং কীভাবে তার অবসান হবে? এবং এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত, দীর্ঘ নয় এমন প্রমাণ পেশ করা যে, এক ও পরাক্রমশালী আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো অনাদি সত্তা নেই, যাঁর আকাশসমূহ ও পৃথিবীর এবং এ দুইয়ের মধ্যবর্তী স্থানের ও ভূগর্ভের নিচের সমস্ত রাজত্ব। কেননা এই গ্রন্থে আমাদের উদ্দেশ্য তা প্রমাণের জন্য যুক্তি পেশ করা নয়, বরং আমাদের উদ্দেশ্য হলো বিগত বাদশাহদের ইতিহাস ও তাদের কিছু সংবাদ, রাসূল ও নবীদের যুগ এবং তাদের বয়সকাল, পূর্ববর্তী খলিফাদের দিনকাল ও তাদের কিছু জীবনচরিত, তাদের শাসনকালের পরিমাণ এবং তাদের যুগে সংঘটিত ঘটনাবলী উল্লেখ করা। অতঃপর আমি এ সবকিছুর শেষে অনুসরণ করব - যদি আল্লাহ চান এবং তাঁর পক্ষ থেকে সাহায্য ও শক্তি দিয়ে সমর্থন করেন - আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবাগণের উল্লেখ করে তাদের নাম, উপাধি, বংশপরিচয়, তাদের বয়স, তাদের প্রত্যেকের মৃত্যুর সময় এবং স্থান। অতঃপর তাদের অনুসরণে তাদের পরে যারা তাবেয়ী (অনুগামী) ছিলেন, তাদের উল্লেখ করব, যেভাবে আমরা তাদের উল্লেখের শর্ত দিয়েছি। অতঃপর তাদের সাথে সংযুক্ত করব তাদের পরে যারা তাদের উত্তরসূরি (খালাফ) ছিলেন, তাদের উল্লেখও। এবং তাদের বিষয়ে আরও বিস্তারিত যোগ করব যাতে স্পষ্ট হয়, কাদের বর্ণনা প্রশংসিত হয়েছে এবং তাদের সংবাদ গৃহীত হয়েছে, এবং কাদের বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে ও তাদের সংবাদ বর্জন করা হয়েছে, এবং কাদের বর্ণনা দুর্বল ছিল ও তাদের সংবাদ দুর্বল ছিল। এবং কী কারণে কারো সংবাদ বর্জন করা হয়েছে, এবং কী কারণে কারো বর্ণনা দুর্বল হয়েছে।

এবং মহিমান্বিত আল্লাহর কাছেই আমি আমার উদ্দেশ্য ও সংকল্পের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করি, এবং যা আমি অন্বেষণ করি ও কামনা করি তার জন্য তৌফিক (সফলতা) চাই। নিশ্চয় তিনিই সকল ক্ষমতা ও শক্তির উৎস। এবং আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের উপর পূর্ণ শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন।

আর আমাদের এই গ্রন্থ পাঠকারী যেন জেনে রাখেন যে, এতে যা কিছু আমি উল্লেখ করেছি এবং যা এতে চিত্রিত করার শর্ত দিয়েছি, তা সবই আমি যে সংবাদগুলো বর্ণনা করেছি এবং যে নিদর্শনগুলো তাদের বর্ণনাকারীদের সূত্রে উল্লেখ করেছি, তার উপর নির্ভরশীল। বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তি দ্বারা যা উপলব্ধি করা হয়েছে বা যা নিষ্কাশন করা হয়েছে, তার উপর নয়।

(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ৮)
بفكر النفوس، إلا اليسير القليل منه، إذ كان العلم بما كان من أخبار الماضين، وما هو كائن من أنباء الحادثين، غير واصل إلى من لم يشاهدهم ولم يدرك زمانهم، إلا بأخبار المخبرين، ونقل الناقلين، دون الاستخراج بالعقول، والاستنباط بفكر النفوس فما يكن في كتابي هذا من خبر ذكرناه عن بعض الماضين مما يستنكره قارئه، أو يستشنعه سامعه، من أجل أنه لم يعرف له وجها في الصحة، ولا معنى في الحقيقة، فليعلم انه لم يؤت في ذلك من قبلنا، وإنما أتى من قبل بعض ناقليه إلينا، وإنا إنما أدينا ذلك على نحو ما أدي إلينا

আত্মার মনন (চিন্তা) ব্যতীত, তবে এর সামান্য অংশই। কারণ, অতীতের সংবাদাবলী থেকে যা কিছু ঘটেছে এবং বর্তমান ঘটনাবলী থেকে যা কিছু ঘটছে, সেই জ্ঞান তাদের কাছে পৌঁছে না যারা সেগুলোকে প্রত্যক্ষ করেনি এবং তাদের যুগ উপলব্ধি করতে পারেনি, কেবল সংবাদদাতাদের সংবাদ এবং বর্ণনাকারীদের বর্ণনার মাধ্যমেই তা পৌঁছে; বুদ্ধির মাধ্যমে তথ্য নিষ্কাশন এবং আত্মার মনন দ্বারা অনুমান ব্যতিরেকে। অতএব, আমার এই গ্রন্থে অতীতের কিছু ব্যক্তি সম্পর্কে আমরা যে সংবাদ উল্লেখ করেছি, যদি এর পাঠক তা আপত্তিজনক মনে করে অথবা এর শ্রোতা তা জঘন্য জ্ঞান করে – কারণ সে এর সত্যতার কোনো ভিত্তি কিংবা বাস্তবতার কোনো অর্থ খুঁজে পায়নি – তাহলে সে যেন অবগত হয় যে, তা আমাদের পক্ষ থেকে আসেনি। বরং তা এসেছে আমাদের কাছে এর কিছু বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে। আর আমরা তা কেবল সেভাবেই পরিবেশন করেছি যেভাবে তা আমাদের কাছে পরিবেশিত হয়েছে।

(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌القول في الزمان ما هو

قال ابو جعفر: فالزمان هو ساعات الليل والنهار، وقد يقال ذلك للطويل من المدة والقصير منها، والعرب تقول: أتيتك زمان الحجاج أمير، وزمن الحجاج أمير- تعني به: إذ الحجاج أمير وتقول: اتيتك زمان الصرام وزمن الصرام- تعني به وقت الصرام ويقولون أيضا: أتيتك أزمان الحجاج أمير، فيجمعون الزمان، يريدون بذلك أن يجعلوا كل وقت من أوقات إمارته زمانا من الأزمنة، كما قال الراجز:

جاء الشتاء وقميصي أخلاق … شراذم يضحك منه التواق

فجعل القميص أخلاقا، يريد بذلك وصف كل قطعة منه بالإخلاق، كما يقولون: أرض سباسب، ونحو ذلك.

ومن قولهم للزمان: زمن قول أعشى بني قيس بن ثعلبة:

وكنت امرا زمنا بالعراق … عفيف المناخ طويل التغن

يريد بقوله: زمنا زمانا، فالزمان اسم لما ذكرت من ساعات الليل والنهار على ما قد بينت ووصفت
সময় কী সে বিষয়ে আলোচনা

আবু জাফর বলেছেন: সময় হলো রাত ও দিনের ঘণ্টাগুলো, এবং এটি দীর্ঘ ও স্বল্প উভয় সময়কাল বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। আরবরা বলে: 'আমি তোমার কাছে এলাম যখন হাজ্জাজ আমির ছিল' এবং 'যখন হাজ্জাজ আমির ছিল' — এর অর্থ হলো: যখন হাজ্জাজ আমির ছিল। তারা আরও বলে: 'আমি তোমার কাছে এলাম ফসল কাটার সময়' এবং 'ফসল কাটার সময়' — এর অর্থ হলো: ফসল কাটার সময়। তারা আরও বলে: 'আমি তোমার কাছে এলাম হাজ্জাজের আমিরের সময়কালগুলোতে', এভাবে তারা সময়কে বহুবচনে ব্যবহার করে, এর দ্বারা তারা বোঝাতে চায় যে তার রাজত্বের প্রতিটি মুহূর্তই এক একটি সময়। যেমনটি রাজিজ কবি বলেছেন:

শীত এলো আর আমার জামা জীর্ণ … টুকরো টুকরো, যা দেখে উপহাসকারীরা হাসে।

এখানে সে জামাটিকে 'জীর্ণ' রূপে বর্ণনা করেছে, এর দ্বারা সে জামার প্রতিটি অংশকে জীর্ণ হিসাবে বর্ণনা করতে চেয়েছে, যেমন তারা বলে: 'বিস্তৃত উন্মুক্ত ভূমি' এবং এ জাতীয়।

তাদের সময়কে 'যামান' বলার উদাহরণ হলো, বানু কায়েস ইবনে সা'লাবার আ'শার উক্তি:

আমি ইরাকে দীর্ঘকাল ছিলাম … পবিত্র ছিল আমার আশ্রয়স্থল, আর দীর্ঘ ছিল আমার গান।

তার এই 'যামান' শব্দের অর্থ 'সময়কাল'। সুতরাং, আমি যা বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করেছি, সেই রাত ও দিনের ঘণ্টাগুলোর নামই হলো সময়।
(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌القول في كم قدر جميع الزمان من ابتدائه إلى انتهائه وأوله إلى آخره

اختلف السلف قبلنا من أهل العلم في ذلك، فقال بعضهم: قدر جميع ذلك سبعة آلاف سنة.

ذكر من قَالَ ذَلِكَ:

حَدَّثَنَا ابْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ وَاضِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَعْقُوبَ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قال: الدنيا جمعة من جمع الآخرة، سبعة آلاف سنه، فقد مضى سته آلاف سنه ومائتا سَنَةٍ، وَلَيَأْتِيَنَّ عَلَيْهَا مِئُونَ مِنْ سِنِينَ، لَيْسَ عَلَيْهَا مُوَحِّدٌ.

وَقَالَ آخَرُونَ: قَدْرُ جَمِيعِ ذَلِكَ سِتَّةُ آلافِ سَنَةٍ.

ذِكْرُ مَنْ قَالَ ذَلِكَ:

حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، قَالَ: قَالَ كَعْبٌ: الدُّنْيَا سِتَّةُ آلافِ سَنَةٍ.

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَهْلِ بْنِ عَسْكَرٍ، قال: حدثنا اسمعيل بن عبد الكريم، قال: حدثني عبد الصمد بن معقل، أنه سمع وهبا يقول: قد خلا من الدنيا خمسه آلاف سنه وستمائه سنه، وانى لأَعْرِفُ كُلَّ زَمَانٍ مِنْهَا، مَا كَانَ فِيهِ من الملوك والأنبياء قلت لِوَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ: كَمِ الدُّنْيَا؟ قَالَ: سِتَّةُ آلاف سنه
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এবং প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সময়কালের মোট পরিমাণ কত সে প্রসঙ্গে আলোচনা

আমাদের পূর্ববর্তী জ্ঞানীজন (সালাফ) এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন: এর মোট পরিমাণ সাত হাজার বছর।

যারা এ কথা বলেছেন তাদের বিবরণ:

ইবনু হুমাইদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনু ওয়াদিহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াকুব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনু জুবাইর থেকে, তিনি ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: দুনিয়া আখিরাতের সপ্তাহগুলোর একটি সপ্তাহ, (মোট) সাত হাজার বছর। এর মধ্যে ছয় হাজার দুইশ বছর অতিবাহিত হয়েছে এবং এর উপর আরো শত শত বছর আসবে, যখন কোনো একত্ববাদী থাকবে না।

এবং অন্যান্যরা বলেছেন: এর মোট পরিমাণ ছয় হাজার বছর।

যারা এ কথা বলেছেন তাদের বিবরণ:

আবু হিশাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মু'আবিয়া ইবনু হিশাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান থেকে, তিনি আল-আ'মাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি বলেছেন: কা'ব বলেছেন: দুনিয়া ছয় হাজার বছর।

মুহাম্মাদ ইবনু সাহল ইবনু আসকার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইসমাঈল ইবনু আবদিল কারীম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবদুস সামাদ ইবনু মা'কিল আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ওয়াহবকে বলতে শুনেছেন: দুনিয়ার পাঁচ হাজার ছয়শ বছর অতিবাহিত হয়েছে এবং আমি এর প্রত্যেক সময়কালকে জানি, তাতে কোন রাজা ও নবী ছিলেন। আমি ওয়াহব ইবনু মুনাব্বিহকে জিজ্ঞেস করলাম: দুনিয়ার (মোট বয়স) কত? তিনি বললেন: ছয় হাজার বছর।
(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ১১)
قال أبو جعفر: والصواب من القول في ذَلِكَ مَا دَلَّ عَلَى صِحَّتِهِ الْخَبَرُ الْوَارِدُ عن رسول الله ص، وَذَلِكَ مَا حَدَّثَنَا بِهِ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ وَعَلِيُّ بْنُ سَهْلٍ، قَالا: حَدَّثَنَا مُؤَمَّلٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: [سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ص يَقُولُ: أَجَلُكُمْ فِي أَجَلِ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، مِنْ صَلاةِ الْعَصْرِ إِلَى مَغْرِبِ الشَّمْسِ] .

حَدَّثَنَا ابْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَلَمَةُ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عمر، قال: [سمعت النبي ص يَقُولُ: أَلا إِنَّمَا أَجَلُكُمْ فِي أَجَلِ مَنْ خَلا مِنَ الأُمَمِ، كَمَا بَيْنَ صَلاةِ الْعَصْرِ إِلَى مَغْرِبِ الشَّمْسِ] .

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَمَّارُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ابْنُ أُخْتِ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، أَبُو الْيَقْظَانِ، عَنْ لَيْثِ بْنِ أَبِي سُلَيْمٍ، عَنْ مُغِيرَةَ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: [قَالَ رَسُولُ الله ص: مَا بَقِيَ لأُمَّتِي مِنَ الدُّنْيَا إِلا كَمِقْدَارِ الشَّمْسِ إِذَا صُلِّيَتِ الْعَصْرُ] .

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، قَالَ: سَمِعْتُ سَلَمَةَ بْنَ كُهَيْلٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: [كُنَّا جُلُوسًا عند النبي ص وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ عَلَى قُعَيْقِعَانَ بَعْدَ الْعَصْرِ، فَقَالَ:

مَا أَعْمَارُكُمْ فِي أَعْمَارِ مَنْ مَضَى إِلا كَمَا بَقِيَ مِنْ هَذَا النَّهَارِ فِيمَا مَضَى مِنْهُ] .

حَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى- قال ابن بشار: حدثنى خلف ابن مُوسَى، وَقَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى: حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ مُوسَى- قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ص خَطَبَ أَصْحَابَهُ يَوْمًا- وَقَدْ كَادَتِ الشَّمْسُ أَنْ تَغِيبَ، وَلَمْ يَبْقَ مِنْهَا إِلا شِقٌّ يَسِيرٌ-[فقال: والذى

আবু জাফর (রহ.) বললেন: এই বিষয়ে সঠিক কথা হলো সেটাই, যার বিশুদ্ধতা রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। আর এটা হলো সেই হাদিস যা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে বাশশার এবং আলী ইবনে সাহল। তারা উভয়েই বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুআম্মাল। তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, আবদুল্লাহ ইবনে দীনার থেকে, তিনি ইবনে উমার থেকে। ইবনে উমার বলেছেন: [আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: তোমাদের আয়ুষ্কাল পূর্ববর্তী উম্মতদের আয়ুষ্কালের তুলনায় আসরের সালাত (নামাজ) থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মতো।]

আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে হুমাইদ। তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সালামাহ। তিনি বলেছেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, নাফি' থেকে, তিনি ইবনে উমার থেকে। ইবনে উমার বলেছেন: [আমি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি: শোনো! তোমাদের আয়ুষ্কাল পূর্ববর্তী জাতিসমূহের আয়ুষ্কালের তুলনায় আসরের সালাত (নামাজ) থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মতো মাত্র।]

আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনে আরাফাহ। তিনি বলেছেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আম্মার ইবনে মুহাম্মদ, যিনি সুফিয়ান সাওরি-এর বোনের পুত্র, আবু আল-ইয়াকজান, লাইথ ইবনে আবি সুলাইম থেকে, তিনি মুগিরাহ ইবনে হাকিম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমার থেকে। ইবনে উমার বলেছেন: [রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আসরের সালাত (নামাজ) আদায় করার পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত যতটুকু সময় থাকে, আমার উম্মতের জন্য দুনিয়াতে তার চেয়ে বেশি কিছু অবশিষ্ট নেই।]

আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আওফ। তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম। তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শারিক। তিনি বলেছেন: আমি সালামাহ ইবনে কুহাইলের কাছে শুনেছি, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে উমার থেকে। ইবনে উমার বলেছেন: [আমরা নবী (সা.)-এর কাছে বসে ছিলাম, আর আসরের পর কা'ইকি'আন পর্বতের উপর সূর্য তখনও উঁচু ছিল। তখন তিনি বললেন:

তোমাদের আয়ুষ্কাল পূর্ববর্তীদের আয়ুষ্কালের তুলনায় এই দিনের যতটুকু অতিবাহিত হয়েছে তার তুলনায় অবশিষ্ট অংশের মতো মাত্র।]

আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে বাশশার ও মুহাম্মদ ইবনে আল-মুসান্না। ইবনে বাশশার বলেছেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন খালাফ ইবনে মুসা। আর ইবনে আল-মুসান্না বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন খালাফ ইবনে মুসা। তিনি বলেছেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) একদিন তাঁর সাহাবীদের উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন— সূর্য প্রায় ডুবে যাচ্ছিল এবং তার সামান্য অংশই অবশিষ্ট ছিল— [তখন তিনি বললেন: যাঁর কসম,
(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ১২)
نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ مَا بَقِيَ مِنْ دُنْيَاكُمْ فِيمَا مَضَى مِنْهَا إِلا كَمَا بَقِيَ مِنْ يَوْمِكُمْ هَذَا فِيمَا مَضَى مِنْهُ، وَمَا تَرَوْنَ مِنَ الشَّمْسِ إِلا الْيَسِيرَ] .

حَدَّثَنَا ابْنُ وَكِيعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قال: [قال النبي ص عِنْدَ غُرُوبِ الشَّمْسِ: إِنَّمَا مَثَلُ مَا بَقِيَ مِنَ الدُّنْيَا فِيمَا مَضَى مِنْهَا كَبَقِيَّةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِيمَا مَضَى مِنْهُ] .

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ وَأَبُو هِشَامٍ الرِّفَاعِيُّ، قَالا: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: [قَالَ رسول الله ص: بعثت انا وَالسَّاعَةَ كَهَاتَيْنِ- وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى] .

حَدَّثَنَا أَبُو كريب، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ ابى هريرة، عن النبي بِنَحْوِهِ.

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ وَأَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي خَالِدٍ الْوَالِبِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: [قَالَ رسول الله ص: بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةَ كَهَاتَيْنِ] .

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَثَّامُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي خَالِدٍ الْوَالِبِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، [قَالَ: كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى إِصْبَعَيْ رَسُولِ الله ص- وَأَشَارَ بِالْمُسَبِّحَةِ وَالَّتِي تَلِيهَا- وَهُوَ يَقُولُ:

بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةَ كَهَذِهِ مِنْ هَذِهِ] .

حَدَّثَنَا ابْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ وَاضِحٍ، قَالَ: حدثنا فطر، عَنْ أَبِي خَالِدٍ الْوَالِبِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سمره، قال: [قال رسول الله ص: بُعِثْتُ مِنَ السَّاعَةِ كَهَاتَيْنِ]- وَجَمَعَ بَيْنَ إِصْبَعَيْهِ السبابة والوسطى
যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, তোমাদের দুনিয়ার যা অতীত হয়েছে তার তুলনায় যা অবশিষ্ট আছে, তা তোমাদের এই দিনের যা অতীত হয়েছে তার তুলনায় যা অবশিষ্ট আছে, ঠিক তার মতোই। আর তোমরা সূর্য থেকে যা দেখছো তা অতি সামান্যই]।

আমাদেরকে ইবনু ওয়াকী’ বলেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদেরকে ইবনু উয়াইনাহ বলেছেন, আলী ইবনু যায়দ থেকে, তিনি আবু নাদরাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে, তিনি বলেছেন: [নবী (সা.) সূর্যাস্তের সময় বলেছেন: দুনিয়ার যা অতীত হয়েছে তার তুলনায় যা অবশিষ্ট আছে, তার দৃষ্টান্ত হলো তোমাদের এই দিনের যা অতীত হয়েছে তার তুলনায় যা অবশিষ্ট আছে, ঠিক তার মতোই]।

আমাদেরকে হান্নাদ ইবনুস সারী ও আবু হিশাম আর-রিফায়ী বলেছেন, তারা দুজন বলেছেন: আমাদেরকে আবু বকর ইবনু আইয়াশ বলেছেন, আবু হুসাইন থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি বলেছেন: [রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি এবং কিয়ামত এই দুটির মতো প্রেরিত হয়েছি – আর তিনি শাহাদাত আঙুল ও মধ্যমা দ্বারা ইশারা করেছেন]।

আমাদেরকে আবু কুরাইব বলেছেন, আমাদেরকে ইয়াহইয়া ইবনু আদম বলেছেন, আবু বকর থেকে, তিনি আবু হুসাইন থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, নবী (সা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা।

আমাদেরকে হান্নাদ বলেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদেরকে আবুল আহওয়াস ও আবু মু'আবিয়াহ বলেছেন, আল-আ'মাশ থেকে, তিনি আবু খালিদ আল-ওয়ালিবি থেকে, তিনি জাবির ইবনু সামুরাহ থেকে, তিনি বলেছেন: [রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি এবং কিয়ামত এই দুটির মতো প্রেরিত হয়েছি]।

আমাদেরকে আবু কুরাইব বলেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদেরকে 'আছছাম ইবনু আলী বলেছেন, আল-আ'মাশ থেকে, তিনি আবু খালিদ আল-ওয়ালিবি থেকে, তিনি জাবির ইবনু সামুরাহ থেকে, [তিনি বলেছেন: আমি যেন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দুটি আঙুলের দিকে তাকাচ্ছি – আর তিনি শাহাদাত আঙুল ও তার পার্শ্ববর্তী আঙুল দ্বারা ইশারা করেছেন – আর তিনি বলছিলেন:

আমি এবং কিয়ামত এইটির সাথে এইটির মতো (ঘনিষ্ঠভাবে) প্রেরিত হয়েছি]।

আমাদেরকে ইবনু হুমাইদ বলেছেন, তিনি বলেছেন: আমাকে ইয়াহইয়া ইবনু ওয়াদিহ বলেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদেরকে ফিতর বলেছেন, আবু খালিদ আল-ওয়ালিবি থেকে, তিনি জাবির ইবনু সামুরাহ থেকে, তিনি বলেছেন: [রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি কিয়ামতের সাথে এই দুটির মতো প্রেরিত হয়েছি] – আর তিনি তাঁর শাহাদাত আঙুল ও মধ্যমা একত্রিত করেছেন।
(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ১৩)
حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: سَمِعْتُ قَتَادَةَ يُحَدِّثُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ: [قال رسول الله ص: بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةَ كَهَاتَيْنِ] قَالَ شُعْبَةُ:

سَمِعْتُ قَتَادَةَ يَقُولُ فِي قَصَصِهِ: كَفَضْلِ إِحْدَاهُمَا عَلَى الأُخْرَى، قَالَ: لا أَدْرِي أَذَكَرَهُ عَنْ أَنَسٍ أَوْ قَالَهُ قَتَادَةُ.

حَدَّثَنَا خَلادُ بْنُ أَسْلَمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، قَالَ:

حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مالك، قال: [قال رسول الله ص: بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةَ كَهَاتَيْنِ] .

حَدَّثَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النبي ص مِثْلَهُ، وَزَادَ فِي حَدِيثِهِ:

وَأَشَارَ بِالْوُسْطَى وَالسَّبَّابَةِ.

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُوَيْدٍ، عَنِ الأوزاعي، قال: حدثنا اسمعيل بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَدِمَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ عَلَى الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ، فَقَالَ له الوليد: ماذا سمعت رسول الله ص يَذْكُرُ بِهِ السَّاعَةَ؟ قَالَ: [سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ص يَقُولُ:

أَنْتُمْ وَالسَّاعَةَ كَهَاتَيْنِ،] وَأَشَارَ بِإِصْبَعَيْهِ.

حَدَّثَنِي الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِي، قَالَ: حدثنا الأوزاعي، قال: حدثنى اسمعيل بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَدِمَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ عَلَى الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ، فَقَالَ لَهُ الْوَلِيدُ: مَاذَا سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ص يَذْكُرُ بِهِ السَّاعَةَ؟ [قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ص يقول: أنتم والساعة كتين] .

حَدَّثَنِي ابْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْبَرْقِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي سَلَمَةَ،
ইবনুল মুছান্না আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনু জা'ফর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি কাতাদাহকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আনাস ইবনু মালিক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: [রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি এবং কেয়ামত এই দু'টির (মত) প্রেরিত হয়েছি] শু'বা বলেন:

আমি কাতাদাহকে তার বর্ণনাসমূহে বলতে শুনেছি: যেমন একটির চেয়ে অন্যটির সামান্য ব্যবধান। তিনি বলেন: আমি জানি না, তিনি কি এটি আনাস থেকে উল্লেখ করেছেন, নাকি কাতাদাহ নিজেই তা বলেছেন।

খাল্লাদ ইবনু আসলাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আন-নাদর ইবনু শুমাইল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

শু'বা আমাদের কাছে কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনাস ইবনু মালিক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: [রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি এবং কেয়ামত এই দু'টির (মত) প্রেরিত হয়েছি]।

মুজাহিদ ইবনু মূসা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযীদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বা আমাদের কাছে কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস ইবনু মালিক থেকে, তিনি নাবী (সা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তার হাদীছে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন:

এবং তিনি মধ্যমা ও শাহাদাত অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল হাকাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আইয়ুব ইবনু সুওয়াইদ আওযা'ঈ থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাঈল ইবনু উবাইদুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনাস ইবনু মালিক আল-ওয়ালীদ ইবনু আবদিল মালিকের কাছে এসেছিলেন, তখন আল-ওয়ালীদ তাকে বললেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) কেয়ামত সম্পর্কে কী উল্লেখ করতে শুনেছেন? তিনি বললেন: [আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি:

তোমরা এবং কেয়ামত এই দু'টির (মত)], এবং তিনি তার দু'টি আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করেছেন।

আব্বাস ইবনু আল-ওয়ালীদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আওযা'ঈ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাঈল ইবনু উবাইদুল্লাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনাস ইবনু মালিক আল-ওয়ালীদ ইবনু আবদিল মালিকের কাছে এসেছিলেন, তখন আল-ওয়ালীদ তাকে বললেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে কেয়ামত সম্পর্কে কী উল্লেখ করতে শুনেছেন? [তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি: তোমরা এবং কেয়ামত এই দু'টির (মত)]।

ইবনু আবদির রহীম আল-বার্কী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনু আবী সালামাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন,
(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ১৪)
عن الأوزاعي، قال: حدثنى اسمعيل بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَدِمَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ عَلَى الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ، فَذَكَرَ مِثْلَهُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَعْبَدٌ، حَدَّثَ أَنَسٌ، [عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ص أَنَّهُ قَالَ: بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةَ كَهَاتَيْنِ،] وَقَالَ بِإِصْبَعَيْهِ: هَكَذَا.

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى قَالَ: حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: [قَالَ رَسُولُ الله ص:

بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةَ كَهَاتَيْنِ:] السَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى قَالَ أَبُو مُوسَى: وَأَشَارَ وَهْبٌ بِالسَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زِيَادٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، قَالَ:

حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ وَقَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: [قَالَ رسول الله ص: بعثت انا وَالسَّاعَةَ كَهَاتَيْنِ،] وَقَرَنَ بَيْنَ إِصْبَعَيْهِ.

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَزِيعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الفضيل بن سليمان، حَدَّثَنَا أَبُو حَازِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ سعد، قال: [رايت رسول الله ص قَالَ بِإِصْبَعَيْهِ هَكَذَا، الْوُسْطَى وَالَّتِي تَلِي الإِبْهَامَ: بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةَ كَهَاتَيْنِ] .

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الأَدَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو ضَمْرَةَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ [سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ ان رسول الله ص قَالَ: بُعِثْتُ وَالسَّاعَةَ كَهَاتَيْنِ- وَضَمَّ بَيْنَ إِصْبَعَيْهِ الْوُسْطَى، وَالَّتِي تَلِي الإِبْهَامَ- وَقَالَ: مَا مَثَلِي وَمَثَلُ السَّاعَةِ إِلا كَفَرَسَيْ رِهَانٍ، ثُمَّ قَالَ: مَا مَثَلِي وَمَثَلُ السَّاعَةِ إِلا كَمَثَلِ رَجُلٍ بَعَثَهُ قَوْمٌ طَلِيعَةً، فَلَمَّا خَشِيَ أَنْ يُسْبَقُ أَلاحَ بِثَوْبِهِ: أُتِيتُمْ، أُتِيتُمْ، أَنَا ذَاكَ أَنَا ذَاكَ] .

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: [قَالَ رَسُولُ الله ص:

بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةَ كَهَاتَيْنِ،] وَجَمَعَ بَيْنَ إِصْبَعَيْهِ
আল-আওযাঈ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাকে ইসমাঈল ইবন উবাইদুল্লাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনাস ইবন মালিক ওয়ালীদ ইবন আব্দুল মালিকের নিকট এসেছিলেন, অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করলেন। আমাকে মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ'লা হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-মু'তামির ইবন সুলাইমান আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁর পিতা থেকে, তিনি বলেন: মা'বাদ আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, আনাস হাদীস বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে, তিনি বলেছেন: "আমি ও কিয়ামত এই দুটির (আঙ্গুলের) মত প্রেরিত হয়েছি।" এবং তিনি তাঁর দু'আঙ্গুল দিয়ে এভাবে ইশারা করলেন।

আমাদের কাছে ইবনুল মুসান্না হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াহব ইবন জারীর আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বা আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবুল তাইয়াহ থেকে, তিনি আনাস থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"আমি ও কিয়ামত এই দুটির (আঙ্গুলের) মত প্রেরিত হয়েছি:" তর্জনী ও মধ্যমা। আবু মূসা বলেন: ওয়াহব তর্জনী ও মধ্যমা দ্বারা ইশারা করেছিলেন। আমাকে আব্দুল্লাহ ইবন আবী যিয়াদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াহব ইবন জারীর আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

শু'বা আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবুল তাইয়াহ ও কাতাদা থেকে, তারা আনাস থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি ও কিয়ামত এই দুটির (আঙ্গুলের) মত প্রেরিত হয়েছি," এবং তিনি তাঁর দু'আঙ্গুলকে একত্রিত করলেন।

আমাকে মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বাযী' হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-ফুদাইল ইবন সুলাইমান আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু হাযিম আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাহল ইবন সা'দ আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে, তিনি তাঁর দু'আঙ্গুল দিয়ে এভাবে বললেন, মধ্যমা এবং যে আঙ্গুলটি বৃদ্ধাঙ্গুলির পাশে থাকে (তর্জনী): "আমি ও কিয়ামত এই দুটির (আঙ্গুলের) মত প্রেরিত হয়েছি।"

আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবন ইয়াযীদ আল-আদামী হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু যামরাহ আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু হাযিম থেকে, সাহল ইবন সা'দ আস-সা'ইদী থেকে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি ও কিয়ামত এই দুটির (আঙ্গুলের) মত প্রেরিত হয়েছি –" এবং তিনি তাঁর দু'আঙ্গুল – মধ্যমা এবং যে আঙ্গুলটি বৃদ্ধাঙ্গুলির পাশে থাকে – একত্রিত করলেন – এবং বললেন: "আমার ও কিয়ামতের উপমা হলো যেন দুটি দৌড়ের ঘোড়া (যারা একসাথে রেসে থাকে)।" অতঃপর তিনি বললেন: "আমার ও কিয়ামতের উপমা হলো এমন এক ব্যক্তির উপমা, যাকে একদল লোক অগ্রদূত (পর্যবেক্ষক) হিসেবে পাঠালো। যখন সে (শত্রুদের দ্বারা) আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করলো, তখন সে তার কাপড় দুলিয়ে (ইশারা করে) বললো: তোমাদের কাছে এসে গেছে! তোমাদের কাছে এসে গেছে! আমিই সেই, আমিই সেই।"

আমাদের কাছে আবু কুরাইব হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালিদ আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন জা'ফর থেকে, আবু হাযিম থেকে, সাহল ইবন সা'দ থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"আমি ও কিয়ামত এই দুটির (আঙ্গুলের) মত প্রেরিত হয়েছি," এবং তিনি তাঁর দু'আঙ্গুল একত্রিত করলেন।
(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ১৫)
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلالٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: [قَالَ رسول الله ص: بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةَ هَكَذَا،] وَقَرَنَ بَيْنَ إِصْبَعَيْهِ: الْوُسْطَى وَالَّتِي تَلِي الإِبْهَامَ.

حَدَّثَنِي ابْنُ عَبْدِ الرحيم البرقي، عن سهل بن سعد، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: [قَالَ رَسُولُ الله ص: بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةَ كَهَاتَيْنِ،] وَجَمَعَ بَيْنَ إِصْبَعَيْهِ.

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ الْمُهَاجِرِ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: [سَمِعْتُ رسول الله ص يَقُولُ: بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةَ جَمِيعًا، إِنْ كَادَتْ لِتَسْبِقَنِي] .

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ هَيَّاجٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُبَيْدَةُ بْنُ الأَسْوَدِ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ شداد الفهري، [عن النبي ص أَنَّهُ قَالَ: بُعِثْتُ فِي نَفْسِ السَّاعَةِ، سَبَقْتُهَا كَمَا سَبَقَتْ هَذِهِ هَذِهِ،] لإِصْبَعَيْهِ السَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى، وَوَصَفَ لَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، وَجَمَعَهُمَا.

حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَبِيبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ، قَالَ:

حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ أَبِي جبيرة، قال: [قال رسول الله ص: بُعِثْتُ مَعَ السَّاعَةِ كَهَاتَيْنِ، - وَأَشَارَ بِإِصْبَعَيْهِ الْوُسْطَى وَالسَّبَّابَةِ- كَفَضْلِ هَذِهِ عَلَى هَذِهِ] .

حَدَّثَنَا تَمِيمُ بْنُ الْمُنْتَصِرِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا يَزِيدُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ شُبَيْلِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِي جُبَيْرَةَ، عَنْ أَشْيَاخٍ مِنَ الأَنْصَارِ، قَالُوا:

আবূ কুরাইব আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: খালিদ আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান ইবনু বিলাল আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবূ হাযিম আমাকে শুনিয়েছেন, সাহল ইবনু সা’দ থেকে, তিনি বলেন: [রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: “আমাকে ও কিয়ামতের সময়কে এভাবে পাঠানো হয়েছে,”] এবং তিনি তাঁর দুই আঙুল—মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুলির পাশের (তর্জনী) আঙুলকে একত্রিত করলেন।

ইবনু আবদির রহীম আল-বারকী আমাকে শুনিয়েছেন, সাহল ইবনু সা’দ থেকে, তিনি বলেন: ইবনু আবী মারইয়াম আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনু জা’ফর আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবূ হাযিম আমাকে শুনিয়েছেন, সাহল ইবনু সা’দ থেকে, তিনি বলেন: [রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: “আমাকে ও কিয়ামতের সময়কে এই দুইটির মতো করে (কাছাকাছি) পাঠানো হয়েছে,”] এবং তিনি তাঁর দুই আঙুলকে একত্রিত করলেন।

আবূ কুরাইব আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবূ নু'আইম আমাদের শুনিয়েছেন, বাশীর ইবনুল মুহাজির থেকে, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদা আমাকে শুনিয়েছেন, তাঁর পিতা থেকে, তিনি বলেন: [আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি: “আমাকে ও কিয়ামতের সময়কে একসাথে প্রেরণ করা হয়েছে। কিয়ামত যেন প্রায় আমাকে অতিক্রম করে যাচ্ছিল।”]

মুহাম্মাদ ইবনু উমার ইবনু হাইয়াজ আমাকে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনু আবদির রহমান আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: উবাইদা ইবনুল আসওয়াদ আমাকে শুনিয়েছেন, মুজালিদ থেকে, কাইস ইবনু আবী হাযিম থেকে, মুসতাওরিদ ইবনু শাদ্দাদ আল-ফিহরী থেকে, [নবী (সাঃ) থেকে যে, তিনি বলেছেন: “আমাকে কিয়ামতের সাথে সাথেই প্রেরণ করা হয়েছে। আমি কিয়ামতকে ততটুকু অতিক্রম করেছি, যতটুকু একটি আঙুল অন্যটিকে অতিক্রম করে,”] তাঁর দুই আঙুল—তর্জনী ও মধ্যমা দ্বারা (ইঙ্গিত করে)। আর আবূ আবদুল্লাহ আমাদের জন্য বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (সেই দুই আঙুলকে) একত্রিত করেছিলেন।

আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু হাবীব আমাকে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবূ নাসর আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন:

মাস'ঊদী আমাদের শুনিয়েছেন, ইসমাঈল ইবনু আবী খালিদ থেকে, শা'বী থেকে, আবূ জুবাইরাহ থেকে, তিনি বলেন: [রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: “আমাকে কিয়ামতের সাথে এই দুইটির মতো করে (কাছাকাছি) প্রেরণ করা হয়েছে,” - এবং তিনি তাঁর দুই আঙুল—মধ্যমা ও তর্জনী দিয়ে ইঙ্গিত করলেন - “যেমন এইটির উপর এইটির সামান্য শ্রেষ্ঠত্ব (দৈর্ঘ্যের পার্থক্য)।”]

তামীম ইবনুল মুনতাসির আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াযীদ আমাদের খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসমাঈল আমাদের খবর দিয়েছেন, শুবাইর ইবনু আউফ থেকে, আবূ জুবাইরাহ থেকে, আনসারদের কয়েকজন বৃদ্ধের সূত্রে, তাঁরা বলেন:

(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ১৬)
[سمعنا رسول الله ص يَقُولُ: جِئْتُ أَنَا وَالسَّاعَةَ هَكَذَا]- قَالَ الطَّبَرِيُّ: وَأَرَانَا تَمِيمٌ، وَضَمَّ السَّبَّابَةَ وَالْوُسْطَى وَقَالَ لَنَا: أَشَارَ يَزِيدُ بِإِصْبَعَيْهِ السَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى وَضَمَّهُمَا-[وَقَالَ: سَبَقْتُهَا كَمَا سَبَقَتْ هَذِهِ هَذِهِ فِي نَفْسِ من الساعة، او في نَفْسَ السَّاعَةِ] .

فمعلوم إذ كان اليوم أوله طلوع الفجر وآخره غروب الشمس، وكان صحيحا عن نبينا ص، ما رويناه عنه قبل، أنه قال بعد ما صلى العصر: ما بقي من الدنيا فِيمَا مَضَى مِنْهَا إِلا كَمَا بَقِيَ مِنْ يومكم هذا فيما مضى منه.

وأنه قال لأصحابه: بعثت أنا والساعة كهاتين- وجمع بين السبابة والوسطى- سبقتها بقدر هذه من هذه، يعني الوسطى من السبابة وكان قدر ما بين اوسط اوقات صلاه العصر- وذلك إذا صار ظل كل شيء مثليه- على التحري إنما يكون قدر نصف سبع اليوم، يزيد قليلا أو ينقص قليلا، وكذلك فضل ما بين الوسطى والسبابة، إنما يكون نحوا من ذلك وقريبا منه.

وكان صحيحا مع ذلك عن رسول الله ص ما حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَهْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَمِّي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ:

حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا ثعلبه الخشني صاحب النبي ص يقول: [ان رسول الله ص قَالَ: لَنْ يُعْجِزَ اللَّهُ هَذِهِ الأُمَّةَ مِنْ نصف يوم،] وكان معنى قول النبي ذلك أن لن يعجز الله هذه الأمة من نصف يوم الذي مقداره ألف سنة- كان بينا أن أولى القولين- اللذين ذكرت في مبلغ قدر مدة جميع الزمان، اللذين أحدهما عن ابن عباس، والآخر منهما عن كعب- بالصواب، وأشبههما بما دلت عليه الأخبار الوارده عن رسول الله ص قول ابن عباس، الذي روينا عنه أنه قال: الدنيا جمعة من جمع الآخرة سبعة آلاف سنه
আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: ‘আমি ও কিয়ামত এভাবেই এসেছি।’ তাবারী বলেছেন: এবং তামীম আমাদের দেখিয়েছেন, তিনি শাহাদাত আঙুল (তর্জনী) ও মধ্যমা (মাঝের আঙুল) মিলিয়েছেন এবং আমাদের বলেছেন: ইয়াযীদ তাঁর তর্জনী ও মধ্যমা দিয়ে ইশারা করেছেন এবং সে দুটিকে একত্রিত করেছেন। এবং তিনি (রাসূল) বলেছেন: ‘আমি এটিকে (কিয়ামতকে) এমনভাবে অতিক্রম করেছি, যেমন এটি (তর্জনী) এটিকে (মধ্যমাকে) কিয়ামতের সময়ের নিজস্বতায় অতিক্রম করেছে।’

সুতরাং এটি জানা কথা যে, দিনের শুরু হলো ফজর উদয় এবং শেষ হলো সূর্যাস্ত। আর আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা আমরা পূর্বে বর্ণনা করেছি, তা সহীহ (প্রমাণিত)। তিনি আসরের সালাত আদায় করার পর বলেছিলেন: 'দুনিয়ার যা অতিবাহিত হয়েছে তার তুলনায় যা বাকি আছে, তা তোমাদের এই দিনের যা অতিবাহিত হয়েছে তার তুলনায় যা বাকি আছে তার মতোই।'

এবং তিনি তার সাহাবীদেরকে বলেছেন: 'আমি ও কিয়ামত এই দুটির (আঙুলের) মতো প্রেরিত হয়েছি' – এবং তিনি শাহাদাত আঙুল (তর্জনী) ও মধ্যমা (মাঝের আঙুল) একত্র করলেন। তিনি (রাসূল) এটিকে (কিয়ামতকে) এতটুকু পরিমাণ দ্বারা অতিক্রম করেছেন, যতটুকু এই (আঙুল) থেকে এই (আঙুল) এর মধ্যে রয়েছে, অর্থাৎ তর্জনী থেকে মধ্যমার মধ্যকার ব্যবধানের মতো। আর আসরের সালাতের মধ্যবর্তী সময়কালের পরিমাণ – আর তা হলো যখন প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার দ্বিগুণ হয়ে যায় – অনুসন্ধানের মাধ্যমে তা দিনের এক-সপ্তমাংশের অর্ধেকের সমান হয়, কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে। এবং তেমনিভাবে মধ্যমা ও তর্জনীর মধ্যকার ব্যবধান, তা প্রায় এর কাছাকাছি বা সমপরিমাণ হয়।

এবং এর সাথে সাথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা আমাকে আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন, তা সহীহ (প্রমাণিত)। তিনি বলেছেন: 'আমার চাচা আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:'

মুআবিয়া ইবনে সালেহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে জুবাইর ইবনে নুফাইর থেকে, তিনি তার পিতা জুবাইর ইবনে নুফাইর থেকে, যে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবী আবু সা'লাবা আল-খুশানীকে বলতে শুনেছেন: ‘নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ এই উম্মতকে অর্ধ দিবস (কাল) থেকে বঞ্চিত করবেন না।’

আর নবীর এই কথার অর্থ হলো, আল্লাহ এই উম্মতকে সেই অর্ধ দিবসকাল থেকে বঞ্চিত করবেন না, যে অর্ধ দিবসের পরিমাণ হলো এক হাজার বছর। এটি স্পষ্ট যে, আমি সকল কালের মোট পরিমাণের যে দুটি উক্তি উল্লেখ করেছি – যার একটি ইবনে আব্বাস থেকে এবং অন্যটি কা'ব থেকে – সেগুলোর মধ্যে যেটি সঠিক, এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত খবর দ্বারা যা নির্দেশিত, তার সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ হলো ইবনে আব্বাসের উক্তি। আমরা তার থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি বলেছেন: 'দুনিয়া হলো আখেরাতের সপ্তদিবসের এক দিবস, যা সাত হাজার বছর।'
(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ১৭)
وإذ كان ذلك كذلك، وكان الخبر عن رسول الله ص صحيحا أنه أخبر عن الباقي من ذلك في حياته انه نصف يوم، وذلك خمسمائة عام، إذ كان ذلك نصف يوم من الأيام التي قدر اليوم الواحد منها ألف عام- كان معلوما أن الماضي من الدنيا الى وقت قول النبي ص ما رويناه عن أبي ثعلبة الخشني عنه، كان قدر سته آلاف سنه وخمسمائة سنة، أو نحوا من ذلك وقريبا منه والله أعلم.

فهذا الذي قلنا- في قدر مدة أزمان الدنيا، من مبدأ أولها إلى منتهى آخرها- من أثبت ما قيل في ذلك عندنا من القول، للشواهد الدالة التي بيناها على صحة ذلك.

وقد روي عن رسول الله ص خبر يدل على صحة قول من قال: إن الدنيا كلها ستة آلاف سنة، لو كان صحيحا سنده لم نعد القول به إلى غيره، وذلك ما حَدَّثَنِي بِهِ مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ الْقَزَّازُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ ابن عبد الوارث، حدثنا زبان، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هريرة، ان [رسول الله ص قَالَ: الْحُقْبُ ثَمَانُونَ عَامًا، الْيَوْمُ مِنْهَا سُدُسُ الدُّنْيَا] .

فبين في هذا الخبر أن الدنيا كلها ستة آلاف سنة، وذلك أن اليوم الذي هو من أيام الآخرة إذا كان مقداره ألف سنة من سني الدنيا، وكان اليوم الواحد من ذلك سدس الدنيا، كان معلوما بذلك أن جميعها ستة أيام من أيام الآخرة، وذلك ستة آلاف سنة.

وقد زعم اليهود أن جميع ما ثبت عندهم- على ما في التوراة مما هو فيها من لدن خلق الله آدم إلى وقت الهجرة، وذلك في التوراة التي هي في ايديهم اليوم- اربعه آلاف سنه وستمائه سنة واثنتان وأربعون سنة، وقد ذكروا تفصيل ذلك بولادة رجل رجل، ونبي نبي، وموته من عهد آدم إلى هجرة نبينا محمد ص

এবং যখন এমনটিই ছিল, এবং রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পক্ষ থেকে বর্ণিত সংবাদটি সহীহ ছিল যে তিনি তাঁর জীবদ্দশায় অবশিষ্ট (সময়) সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন যে তা অর্ধদিন—এবং তা ছিল পাঁচশত বছর, যেহেতু সেই দিনগুলোর একটি অর্ধদিন যার প্রতিটি দিনের পরিমাণ এক হাজার বছর—তখন জানা ছিল যে, দুনিয়ার অতীত কাল নবী (সা)-এর সেই উক্তি পর্যন্ত, যা আমরা আবু সা'লাবা আল-খুশানি থেকে তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছি, তা ছয় হাজার পাঁচশত বছর পরিমাণ ছিল, অথবা তার কাছাকাছি ও তার নিকটবর্তী। আর আল্লাহই সমধিক জ্ঞাত।

সুতরাং দুনিয়ার সময়কাল সম্পর্কে—এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত—আমরা যা বলেছি, তা আমাদের নিকট এ বিষয়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উক্তিগুলোর একটি, কারণ এর সত্যতা প্রমাণের জন্য আমরা যে নির্দেশক প্রমাণাদি ব্যাখ্যা করেছি।

রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে এমন একটি সংবাদ বর্ণিত হয়েছে যা ঐ ব্যক্তির উক্তির সত্যতা প্রমাণ করে যে বলেছে: "নিশ্চয় দুনিয়ার পুরোটা ছয় হাজার বছর।" যদি এর সনদ সহীহ হতো, তবে আমরা এর উক্তি ছাড়া অন্য কিছু বলতাম না। এবং এটি সেই হাদিস যা আমাকে মুহাম্মদ ইবনে সিনান আল-কাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুস সামাদ ইবনে আবদিল ওয়ারিস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাব্বান, আসিমের সূত্রে, আবু সালিহের সূত্রে, আবু হুরায়রা (রা) থেকে যে [রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: "এক 'হুক্বব' আশি বছর, তার একটি দিন দুনিয়ার ষষ্ঠাংশ।"]

সুতরাং এই সংবাদে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সমগ্র দুনিয়া ছয় হাজার বছর। এবং তা এই কারণে যে, যে দিনটি আখিরাতের দিনগুলোর একটি, যদি তার পরিমাণ দুনিয়ার বছরগুলোর মধ্যে এক হাজার বছর হয়, এবং সেই দিনগুলোর একটি দিন দুনিয়ার ষষ্ঠাংশ হয়, তবে এর দ্বারা জানা যায় যে, তার সমগ্রটি আখিরাতের ছয়টি দিন, এবং তা ছয় হাজার বছর।

ইহুদিরা দাবি করেছে যে, তাদের নিকট যা কিছু প্রমাণিত আছে—তাওরাতে যা আছে সে অনুযায়ী, আল্লাহ তা'আলা আদম (আ) কে সৃষ্টি করার সময় থেকে হিজরতের সময় পর্যন্ত, এবং এটি সেই তাওরাতে যা আজ তাদের হাতে আছে—তা চার হাজার ছয়শত বিয়াল্লিশ বছর। এবং তারা এর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে আদম (আ)-এর যুগ থেকে আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা)-এর হিজরত পর্যন্ত প্রত্যেক ব্যক্তি ও নবীর জন্ম ও মৃত্যু উল্লেখ করে।

(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ১৮)
وسأذكر تفصيلهم ذلك إن شاء الله، وتفصيل غيرهم ممن فصله من علماء أهل الكتب وغيرهم من أهل العلم بالسير وأخبار الناس إذا انتهيت إليه إن شاء الله.

وأما اليونانية من النصارى فإنها تزعم أن الذي ادعته اليهود من ذلك باطل، وأن الصحيح من القول في قدر مدة أيام الدنيا- من لدن خلق الله آدم إلى وقت هجره نبينا محمد ص على سياق ما عندهم في التوراة التي هي في ايديهم- خمسه آلاف سنه وتسعمائة سنة واثنتان وتسعون سنة وأشهر وذكروا تفصيل ما ادعوه من ذلك بولادة نبي نبي، وملك ملك، ووفاته من عهد آدم إلى وقت هجره رسول الله ص، وزعموا أن اليهود إنما نقصوا ما نقصوا من عدد سني ما بين تاريخهم وتاريخ النصارى دفعا منهم لنبوه عيسى بن مريم ع إذ كانت صفته ووقت مبعثه مثبتة في التوراة وقالوا: لم يأت الوقت الذي وقت لنا في التوراة أن الذي صفته صفة عيسى يكون فيه، وهم ينتظرون- بزعمهم- خروجه ووقته.

واحسب أن الذي ينتظرونه ويدعون أن صفته في التوراة مثبتة، هو الدجال الذي وصفه رسول الله ص لأمته، وذكر لهم أن عامة أتباعه اليهود، فإن كان ذلك هو عبد الله بن صياد، فهو من نسل اليهود.

وأما المجوس فإنهم يزعمون أن قدر مدة الزمان من لدن ملك جيومرت إلى وقت هجرة نبينا ص ثلاثة آلاف سنة ومائة سنة وتسع وثلاثون سنة، وهم لا يذكرون مع ذلك نسبا يعرف فوق جيومرت، ويزعمون أنه آدم أبو البشر، ص وعلى جميع أنبياء الله ورسله.

ثم أهل الأخبار بعد في أمره مختلفون، فمن قائل منهم فيه مثل قول المجوس، ومن قائل منهم إنه تسمى بآدم بعد أن ملك الأقاليم السبعة، وأنه إنما هو جامر بن يافث ابن نوح، كان بنوح ع برا ولخدمته ملازما، وعليه حدبا شفيقا، فدعا الله له ولذريته نوح- لذلك من بره به وخدمته له- بطول العمر، والتمكين في

ইনশাআল্লাহ, আমি তাদের বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করব, এবং অন্যান্যদের বিস্তারিত বিবরণ, যারা আহলে কিতাব (ধর্মগ্রন্থ অনুসারী) পণ্ডিত এবং সিরাত (জীবনী) ও মানুষের ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞানী তাদের মধ্য থেকে এর বিশদ ব্যাখ্যা করেছেন – যখন আমি তাতে পৌঁছব, ইনশাআল্লাহ।

তবে নাসারার (খ্রিস্টান) গ্রিক অংশ দাবি করে যে, ইহুদিদের উক্ত দাবি বাতিল। এবং এই দুনিয়ার দিনগুলোর সময়কাল সম্পর্কে সঠিক উক্তি হলো—আল্লাহ তায়ালা আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করার সময় থেকে আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর হিজরতের সময় পর্যন্ত, তাদের হাতে থাকা তাওরাত (তাওরাহ) অনুযায়ী—পাঁচ হাজার নয়শো বিরানব্বই বছর ও কয়েক মাস। এবং তারা আদম (আ.)-এর যুগ থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হিজরতের সময় পর্যন্ত নবীর জন্ম, বাদশার রাজত্ব এবং তাদের মৃত্যু দিয়ে তাদের দাবি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছে। এবং তারা দাবি করে যে, ইহুদিরা তাদের ও নাসারার (খ্রিস্টান) ইতিহাসের মধ্যবর্তী বছরের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে, কেবল ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.)-এর নবুওয়াত অস্বীকার করার জন্য, কারণ তাঁর গুণাবলী ও তাঁর আবির্ভাবের সময় তাওরাতে (তাওরাহ) উল্লেখ ছিল। এবং তারা বলেছে: তাওরাতে আমাদের জন্য যে সময় নির্ধারিত ছিল যে, ঈসা (আ.)-এর গুণের অধিকারী ব্যক্তি আগমন করবেন, সে সময় এখনও আসেনি। এবং তারা – তাদের দাবি অনুযায়ী – তার আগমন ও সময়ের জন্য অপেক্ষা করছে।

এবং আমি মনে করি যে, তারা যার জন্য অপেক্ষা করছে এবং দাবি করছে যে, তাওরাতে তার গুণাবলী উল্লেখ আছে, সে হলো দাজ্জাল (মিথ্যা মসীহ), যার বর্ণনা রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর উম্মতকে দিয়েছেন এবং তাদের জানিয়েছেন যে, তার অধিকাংশ অনুসারী হবে ইহুদি। অতএব, যদি সে আবদুল্লাহ ইবনে সাইয়াদ হয়, তবে সে ইহুদিদের বংশধর।

আর মাজুসরা (অগ্নি উপাসক) দাবি করে যে, কায়ুমার্স (প্রথম মানব/বাদশাহ) এর রাজত্বকাল থেকে আমাদের নবী (সা.)-এর হিজরতের সময় পর্যন্ত সময়ের দৈর্ঘ্য তিন হাজার একশো ঊনচল্লিশ বছর। এবং তারা এর সাথে কায়ুমার্স-এর উপরে পরিচিত কোনো বংশধারা উল্লেখ করে না। এবং তারা দাবি করে যে, সে-ই আদম (আ.), মানবজাতির পিতা। আল্লাহ তায়ালা সকল নবী ও রাসূলের উপর শান্তি বর্ষণ করুন।

এরপর ইতিহাসবেত্তারা (আহলুল আখবার) তার ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাদের কেউ কেউ তার সম্পর্কে মাজুসদের মতো কথা বলেন, এবং কেউ কেউ বলেন যে, সে সাতটি অঞ্চল শাসন করার পর আদম (আ.) নামে পরিচিত হয়েছিল। এবং সে মূলত নূহ (আ.)-এর পুত্র ইয়াফাস-এর পুত্র জামির ছিল। সে নূহ (আ.)-এর প্রতি সদাচারী ও তার সেবায় লেগে থাকত এবং তার প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ও দয়ালু ছিল। তাই নূহ (আ.) তার প্রতি এই সদাচার ও সেবার কারণে তার ও তার বংশধরদের জন্য দীর্ঘ জীবন এবং ক্ষমতা লাভের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করেছিলেন।

(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ১৯)
البلاد، والنصر على من ناوأه وإياهم، واتصال الملك له ولذريته، ودوامه له ولهم، فاستجيب له فيه، فأعطى جيومرت ذلك وولده، فهو ابو الفراس، ولم يزل الملك فيه وفي ولده إلى أن زال عنهم بدخول المسلمين مدائن كسرى، وغلبة أهل الإسلام إياهم على ملكهم.

ومن قائل غير ذلك، وسنذكر إن شاء الله ما انتهى إلينا من القول فيه إذا انتهينا إلى ذكرنا تاريخ الملوك ومبالغ أعمارهم، وأنسابهم وأسباب ملكهم

দেশের উপর বিজয়, তার ও তাদের বিরোধিতাকারীদের উপর বিজয়, এবং তার ও তার বংশধরদের জন্য রাজত্বের ধারাবাহিকতা ও স্থায়িত্বের জন্য তার প্রার্থনা গৃহীত হয়েছিল। তাই গায়োমার্ট এবং তার পুত্রকে তা প্রদান করা হয়েছিল। তিনিই ছিলেন আবুল ফারাস। মুসলিমরা কিসরার শহরসমূহে প্রবেশ করা এবং ইসলামের অনুসারীদের দ্বারা তাদের রাজত্বের উপর আধিপত্য বিস্তার লাভ করা পর্যন্ত রাজত্ব তার ও তার বংশধরদের মধ্যে বজায় ছিল।

এবং অন্যরা ভিন্ন কথা বলেন। আল্লাহর ইচ্ছায়, যখন আমরা রাজাদের ইতিহাস, তাদের আয়ুষ্কাল, তাদের বংশধারা এবং তাদের রাজত্বের কারণসমূহ উল্লেখ করার পর্যায়ে পৌঁছাবো, তখন আমরা সে সম্পর্কে আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে তা বর্ণনা করব।

(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌القول في الدلالة على حدوث الأوقات والأزمان والليل والنهار

قد قلنا قبل إن الزمان إنما هو اسم لساعات الليل والنهار، وساعات الليل والنهار إنما هي مقادير من جري الشمس والقمر في الفلك، كما قال الله عز وجل:

«وَآيَةٌ لَهُمُ اللَّيْلُ نَسْلَخُ مِنْهُ النَّهارَ فَإِذا هُمْ مُظْلِمُونَ وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَها ذلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ وَالْقَمَرَ قَدَّرْناهُ مَنازِلَ حَتَّى عادَ كَالْعُرْجُونِ الْقَدِيمِ لَا الشَّمْسُ يَنْبَغِي لَها أَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلَا اللَّيْلُ سابِقُ النَّهارِ وَكُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ» .

فإذا كان الزمان ما ذكرنا من ساعات الليل والنهار، وكانت ساعات الليل والنهار إنما هي قطع الشمس والقمر درجات الفلك، كان بيقين معلوما أن الزمان محدث والليل والنهار محدثان، وان محدث ذلك الله الذي تفرد بإحداث جميع خلقه، كما قال: «وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ» .

ومن جهل حدوث ذلك من خلق الله فإنه لن يجهل اختلاف أحوال الليل والنهار، بأن أحدهما يرد على الخلق- وهو الليل- بسواد وظلمة، وأن الآخر منهما يرد عليهم بنور وضياء، ونسخ لسواد الليل وظلمته، وهو النهار.

فإذا كان ذلك كذلك، وكان من المحال اجتماعهما مع اختلاف أحوالهما في وقت واحد في جزء واحد- كان معلوما يقينا أنه لا بد من أن يكون أحدهما كان قبل الآخر منهما، وأيهما كان منهما قبل صاحبه فإن الآخر منهما كان
সময়, কাল, রাত্রি ও দিবসের নবসৃষ্টতার প্রমাণ প্রসঙ্গে আলোচনা

আমরা পূর্বে বলেছি যে, সময় বলতে মূলত রাত ও দিনের প্রহরসমূহকে বোঝায়, এবং রাত ও দিনের প্রহরসমূহ হলো কক্ষপথে সূর্য ও চন্দ্রের গতির পরিমাপ। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:

«আর তাদের জন্য একটি নিদর্শন হলো রাত, আমরা তা থেকে দিনকে অপসারিত করি, তখন তারা অন্ধকারে ডুবে যায়। আর সূর্য তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে ছুটে চলে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ সত্তার নিরূপণ। আর চন্দ্রের জন্য আমরা মনযিল (দশা) নির্ধারণ করেছি, অবশেষে তা শুষ্ক, পুরাতন খেজুর শাখার ন্যায় হয়ে যায়। সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চন্দ্রকে অতিক্রম করা, আর রাতের পক্ষেও দিনের আগে যাওয়া সম্ভব নয়। আর প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করছে (সাঁতার কাটছে)»।

সুতরাং, যদি সময় বলতে আমরা যা উল্লেখ করেছি – অর্থাৎ রাত ও দিনের প্রহরসমূহকে বোঝায় – এবং রাত ও দিনের প্রহরসমূহ যদি কক্ষপথের ডিগ্রি (স্তর) অতিক্রমকারী সূর্য ও চন্দ্রের গতিপথই হয়, তবে নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, সময়ও নবসৃষ্ট (মুহদাস) এবং রাত ও দিনও নবসৃষ্ট (মুহদাসান)। আর এই সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা (মুহদিস) হলেন সেই আল্লাহ, যিনি তাঁর সমস্ত সৃষ্টিকে এককভাবে সৃষ্টি করেছেন। যেমন তিনি বলেছেন: «আর তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে; প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করছে (সাঁতার কাটছে)»।

আর আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে এর (সময়, রাত্রি ও দিবসের) নবসৃষ্টতা সম্পর্কে যে অজ্ঞ, সে রাত ও দিনের অবস্থার পার্থক্য সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে অজ্ঞ নয়। কারণ তাদের একটি – অর্থাৎ রাত – সৃষ্টির উপর অন্ধকার ও তিমিরাচ্ছন্নতা নিয়ে আসে, আর তাদের অন্যটি – অর্থাৎ দিন – তাদের উপর আলো ও ঔজ্জ্বল্য নিয়ে আসে, যা রাতের অন্ধকার ও তিমিরাচ্ছন্নতাকে বিলীন করে দেয়।

অতএব, যদি তা এমনই হয়, এবং তাদের উভয়কে একই সময়ে, একই অংশে তাদের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থা সহকারে একত্রিত করা অসম্ভব হয় – তবে নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, তাদের মধ্যে একটির অবশ্যই অন্যটির পূর্বে অস্তিত্ব ছিল। আর তাদের মধ্যে যেটিই তার সঙ্গীর পূর্বে অস্তিত্বশীল ছিল, তবে তাদের অন্যটি ছিল
(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ২১)
لا شك بعده، وذلك إبانة ودليل على حدوثهما، وأنهما خلقان لخالقهما.

ومن الدلالة أيضا على حدوث الأيام والليالي أنه لا يوم إلا وهو بعد يوم كان قبله، وقبل يوم كائن بعده، فمعلوم أن ما لم يكن ثم كان، أنه محدث مخلوق، وأن له خالقا ومحدثا.

واخرى، أن الأيام والليالي معدودة، وما عد من الأشياء فغير خارج من أحد العددين: شفع أو وتر، فإن يكن شفعا فإن أولها اثنان، وذلك تصحيح القول بأن لها ابتداء وأولا، وإن كان وترا فإن أولها واحد، وذلك دليل على أن لها ابتداء وأولا، وما كان له ابتداء فإنه لا بد له من مبتدئ، هو خالقه

এতে আর কোনো সন্দেহ নেই, এবং এটি তাদের (দিন ও রাতের) সৃষ্টি হওয়ার একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ ও দলিল, এবং তারা উভয়েই তাদের সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি।

দিন ও রাতের সৃষ্টি হওয়ার আরেকটি প্রমাণ হলো, এমন কোনো দিন নেই যা তার পূর্ববর্তী দিনের পরে আসেনি এবং তার পরবর্তী দিনের পূর্বে আসেনি। সুতরাং এটি সুবিদিত যে যা কিছু অস্তিত্বহীন ছিল এবং পরে অস্তিত্ব লাভ করেছে, তা প্রবর্তিত ও সৃষ্ট, এবং তার একজন সৃষ্টিকর্তা ও প্রবর্তক আছেন।

আরেকটি বিষয় হলো, দিন ও রাত গণনযোগ্য। আর যা কিছু গণনা করা হয়, তা দুটি সংখ্যার যেকোনো একটির বাইরে নয়: জোড় অথবা বিজোড়। যদি এটি জোড় হয়, তবে এর প্রথমটি হলো দুই, এবং এটি এই বক্তব্যকে সমর্থন করে যে এর একটি সূচনা ও আদি আছে। আর যদি এটি বিজোড় হয়, তবে এর প্রথমটি হলো এক, এবং এটি প্রমাণ যে এর একটি সূচনা ও আদি আছে। আর যার একটি সূচনা আছে, তার জন্য একজন প্রবর্তক অনিবার্য, তিনিই এর সৃষ্টিকর্তা।

(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ২২)
القول في هل كان الله عز وجل خلق قبل خلقه الزمان والليل والنهار شيئا غير ذلك من الخلق قد قلنا قبل: إن الزمان إنما هو ساعات الليل والنهار، وإن الساعات إنما هي قطع الشمس والقمر درجات الفلك.

فإذا كان ذلك كذلك، وكان صحيحا عن رسول الله ص ما حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي سَعْدٍ الْبَقَّالِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ- قَالَ هناد: وقرات سائر الحديث على ابى بكر- ان اليهود أتت النبي ص فَسَأَلَتْهُ عَنْ خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ فَقَالَ: خَلَقَ اللَّهُ الأَرْضَ يَوْمَ الأَحَدِ وَالاثْنَيْنِ، وَخَلَقَ الْجِبَالَ يَوْمَ الثُّلاثَاءِ وَمَا فِيهِنَّ مِنْ مَنَافِعَ، وَخَلَقَ يوم الأربعاء الشجر والماء والمدائن والعمران والخراب، فهذه اربعه، ثم قال: «قُلْ أَإِنَّكُمْ لَتَكْفُرُونَ بِالَّذِي خَلَقَ الْأَرْضَ فِي يَوْمَيْنِ وَتَجْعَلُونَ لَهُ أَنْداداً ذلِكَ رَبُّ الْعالَمِينَ وَجَعَلَ فِيها رَواسِيَ مِنْ فَوْقِها وَبارَكَ فِيها وَقَدَّرَ فِيها أَقْواتَها فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ سَواءً لِلسَّائِلِينَ» ، لِمَنْ سَأَلَ قَالَ: وَخَلَقَ يَوْمَ الْخَمِيسِ السَّمَاءَ، وَخَلَقَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ النُّجُومَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالْمَلائِكَةَ، إِلَى ثَلاثِ سَاعَاتٍ بَقِيَتْ مِنْهُ، فَخَلَقَ فِي أَوَّلِ سَاعَةٍ مِنْ هَذِهِ الثَّلاثِ السَّاعَاتِ الآجَالَ مَنْ يَحْيَا وَمَنْ يَمُوتُ، وَفِي الثَّانِيَةِ أَلْقَى الآفَةَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ مِمَّا يَنْتَفِعُ بِهِ النَّاسُ، وَفِي الثَّالِثَةِ آدَمَ وَأَسْكَنَهُ الْجَنَّةَ، وَأَمَرَ إِبْلِيسَ بِالسُّجُودِ لَهُ

আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টি, সময়, রাত ও দিনের পূর্বে অন্য কিছু সৃষ্টি করেছিলেন কি না—এই বিষয়ে আলোচনা। আমরা পূর্বে বলেছি যে, সময় হলো রাত ও দিনের ঘণ্টাগুলি মাত্র, এবং ঘণ্টাগুলি হলো সূর্য ও চন্দ্রের জ্যোতিষ্কমণ্ডলীর ঘূর্ণনপথের অংশবিশেষ।

সুতরাং, যদি তা এমনই হয় এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি সহীহ প্রমাণিত হয়, যা হান্নাদ ইবনে আস-সারী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে আইয়াশ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু সা'দ আল-বাক্কাল থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন—(হান্নাদ বলেন: আমি আবু বকরের কাছে বাকি হাদীসটি পাঠ করেছিলাম)— যে, ইহুদিরা নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে আসমান ও জমিন সৃষ্টির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলো। তখন তিনি বললেন: আল্লাহ জমিন সৃষ্টি করেছেন রবিবারে ও সোমবারে। মঙ্গলবার দিন পাহাড়সমূহ সৃষ্টি করেছেন, আর সেগুলোর মধ্যে যে সকল উপকারিতা রয়েছে (তাও সৃষ্টি করেছেন)। এবং বুধবার দিন গাছপালা, পানি, শহর, জনবসতি ও বিরান ভূমি সৃষ্টি করেছেন। এই হলো চারটি (দিন)। তারপর তিনি (এই আয়াতটি পাঠ করে) বললেন: "বলো, তোমরা কি তাঁকে অস্বীকার করো যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দু'দিনে? আর তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ তৈরি করো? তিনিই তো বিশ্বজগতের প্রতিপালক। তিনি তাতে তার উপরিভাগে পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে বরকত দিয়েছেন এবং তাতে তার খাদ্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করেছেন চার দিনে, যা জিজ্ঞাসাকারীদের জন্য যথেষ্ট।" (এই চার দিন) যারা জানতে চেয়েছিল, তাদের জন্য। তিনি বললেন: এবং বৃহস্পতিবার দিন আসমান সৃষ্টি করেছেন। এবং শুক্রবার দিন নক্ষত্রসমূহ, সূর্য, চন্দ্র ও ফেরেশতাদের সৃষ্টি করেছেন, এর (দিনের) অবশিষ্ট তিন ঘণ্টা পর্যন্ত। অতঃপর এই তিন ঘণ্টার প্রথম ঘণ্টায় তিনি তাদের আয়ুষ্কাল সৃষ্টি করেছেন যারা জীবিত থাকবে ও যারা মৃত্যুবরণ করবে। এবং দ্বিতীয় ঘণ্টায় তিনি মানুষের উপকারী সবকিছুর উপর বিপদাপদ নির্ধারণ করেছেন। এবং তৃতীয় ঘণ্টায় আদমকে সৃষ্টি করেছেন, তাঁকে জান্নাতে বসবাস করিয়েছেন এবং ইবলিসকে তাঁর প্রতি সিজদা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ২৩)
وَأَخْرَجَهُ مِنْهَا فِي آخِرِ سَاعَةٍ ثُمَّ قَالَتِ الْيَهُودُ: ثُمَّ مَاذَا يَا مُحَمَّدُ؟ قَالَ: ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ، قَالُوا: قَدْ أَصَبْتَ لَوْ اتممت: قالوا: ثم استراح، فغضب النبي ص غضبا شديدا، فنزل: «وَلَقَدْ خَلَقْنَا السَّماواتِ وَالْأَرْضَ وَما بَيْنَهُما فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَما مَسَّنا مِنْ لُغُوبٍ فَاصْبِرْ عَلى مَا يَقُولُونَ» .

حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ بِشْرِ بْنِ مَعْرُوفٍ وَالْحُسَيْنُ بن علي الصدائي، قالا: حدثنا حجاج، قال: قال ابن جريج: أخبرني إسماعيل بن أمية، عن أيوب بن خالد، عن عبد الله بن رافع مولى أم سلمة، عن أبي هريرة قال: [أخذ رسول الله ص بِيَدِي فَقَالَ: خَلَقَ اللَّهُ التُّرْبَةَ يَوْمَ السَّبْتِ، وَخَلَقَ فِيهَا الْجِبَالَ يَوْمَ الأَحَدِ، وَخَلَقَ الشَّجَرَ يَوْمَ الاثْنَيْنِ، وَخَلَقَ الْمَكْرُوهَ يَوْمَ الثُّلاثَاءِ، وَخَلَقَ النُّورَ يَوْمَ الأَرْبِعَاءِ، وَبَثَّ فِيهَا الدَّوَابَّ يَوْمَ الْخَمِيسِ، وَخَلَقَ آدَمَ بَعْدَ الْعَصْرِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ، آخِرَ خَلْقٍ خُلِقَ، فِي آخِرِ سَاعَةٍ مِنْ سَاعَاتِ الْجُمُعَةِ، فِيمَا بَيْنَ الْعَصْرِ إِلَى اللَّيْلِ] .

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بزيع، قال: حدثنا الفضيل بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، قَالَ:

أَخْبَرَنِي ابْنُ سَلامٍ وَأَبُو هُرَيْرَةَ، فذكرا عن النبي ص السَّاعَةَ الَّتِي فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ، وَذَكَرَا أَنَّهُ قَالَهَا، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلامٍ: أَنَا أَعْلَمُ أَيَّ سَاعَةٍ هِيَ، بَدَأَ اللَّهُ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ يَوْمَ الأَحَدِ، وَفَرَغَ فِي آخِرِ سَاعَةٍ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ، فَهِيَ فِي آخِرِ سَاعَةٍ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ.

حَدَّثَنِي الْمُثَنَّى، قال: حدثنا الحجاج، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ عكرمه: [ان اليهود قالوا للنبي ص: ما يوم الأحد؟ فقال رسول

এবং তাকে শেষ মুহূর্তে সেখান থেকে বের করে দিলেন। অতঃপর ইহুদিরা বলল: অতঃপর কী, হে মুহাম্মদ? তিনি বললেন: অতঃপর (আল্লাহ) আরশের উপর উঠলেন। তারা বলল: আপনি সঠিক বলেছেন, যদি আপনি পূর্ণ করতেন: তারা বলল: অতঃপর তিনি বিশ্রাম নিলেন। ফলে নবী ﷺ অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন। অতঃপর অবতীর্ণ হলো: "আর অবশ্যই আমি আসমানসমূহ ও জমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সব কিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছি এবং আমাকে কোনো ক্লান্তি স্পর্শ করেনি। সুতরাং তারা যা বলে, সে ব্যাপারে আপনি ধৈর্য ধারণ করুন।"

আমাকে কাসিম ইবনে বিশর ইবনে মা'রুফ এবং হোসাইন ইবনে আলী আস-সাদ্দাঈ বর্ণনা করেছেন। তারা বলেন: আমাদেরকে হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ইবনে জুরাইজ বলেছেন: আমাকে ইসমাঈল ইবনে উমাইয়াহ খবর দিয়েছেন, আইয়ুব ইবনে খালিদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে রাফি' উম্মে সালামাহর গোলাম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে। তিনি বলেন: [রাসূলুল্লাহ ﷺ আমার হাত ধরে বললেন: আল্লাহ মাটি সৃষ্টি করেছেন শনিবার। এতে পাহাড় সৃষ্টি করেছেন রবিবার। গাছপালা সৃষ্টি করেছেন সোমবার। অপছন্দনীয় জিনিস সৃষ্টি করেছেন মঙ্গলবার। নূর (আলো) সৃষ্টি করেছেন বুধবার। এতে চতুষ্পদ প্রাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন বৃহস্পতিবার। আর আদমকে সৃষ্টি করেছেন শুক্রবার আসরের পর, যা ছিল সৃষ্টিকুলের মধ্যে সর্বশেষ সৃষ্টি, জুমার দিনের শেষ মুহূর্তে, আসর থেকে রাত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে।]

আমাদেরকে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বাযী' বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদেরকে ফুযাইল ইবনে সুলাইমান বর্ণনা করেছেন। আমাকে মুহাম্মদ ইবনে যায়েদ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাকে আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আওফ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:

আমাকে ইবনে সালাম এবং আবু হুরায়রা খবর দিয়েছেন। তারা নবী ﷺ থেকে জুমার দিনের সেই মুহূর্ত (বা সময়) সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে তিনি তা বলেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম বলেছেন: আমি জানি সেটি কোন মুহূর্ত। আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টি করা শুরু করেছেন রবিবার, এবং জুমার দিনের শেষ মুহূর্তে তা সমাপ্ত করেছেন। সুতরাং সেটি জুমার দিনের শেষ মুহূর্ত।

আমাকে আল-মুসান্না বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদেরকে হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন। আমাদেরকে হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, আতা ইবনে আস-সাইব থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে। [ইহুদিরা নবী ﷺ কে বলল: রবিবার কীসের দিন? অতঃপর রাসূলুল্লাহ

(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ২৪)
الله ص: خلق الله فيه الارض وبسطها، قالوا: فالاثنين؟ قال: خلق الله فِيهِ آدَمَ، قَالُوا: فَالثُّلاثَاءِ؟ قَالَ: خَلَقَ فِيهِ الْجِبَالَ وَالْمَاءَ وَكَذَا وَكَذَا وَمَا شَاءَ اللَّهُ، قَالُوا: فَيَوْمُ الأَرْبِعَاءِ؟ قَالَ: الأَقْوَاتَ، قَالُوا: فَيَوْمُ الْخَمِيسِ؟ قَالَ: خَلَقَ السَّمَوَاتِ، قَالُوا: فَيَوْمُ الْجُمُعَةِ؟ قَالَ: خَلَقَ اللَّهُ فِي سَاعَتَيْنِ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ، ثُمَّ قَالُوا:

السَّبْتَ- وَذَكَرُوا الرَّاحَةَ- قَالَ: سُبْحَانَ الله! فانزل الله: «وَلَقَدْ خَلَقْنَا السَّماواتِ وَالْأَرْضَ وَما بَيْنَهُما فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَما مَسَّنا مِنْ لُغُوبٍ] » .

فقد بين هذان الخبران اللذان رويناهما عن رسول الله ص أن الشمس والقمر خلقا بعد خلق الله أشياء كثيرة من خلقه، وذلك أن حديث ابن عباس عن رسول الله ص ورد بأن الله خلق الشمس والقمر يوم الجمعة فإن كان ذلك كذلك، فقد كانت الأرض والسماء وما فيهما- سوى الملائكة وآدم- مخلوقة قبل خلق الله الشمس والقمر، وكان ذلك كله ولا ليل ولا نهار، إذ كان الليل والنهار إنما هو اسم لساعات معلومة من قطع الشمس والقمر درج الفلك.

وإذا كان صحيحا أن الأرض والسماء وما فيهما، سوى ما ذكرنا، قد كانت ولا شمس ولا قمر- كان معلوما أن ذلك كله كان ولا ليل ولا نهار.

وكذلك حديث ابى هريرة عن [رسول الله ص، لأنه أخبر عنه أنه قال: خلق الله النور يوم الأربعاء،] يعني بالنور الشمس إن شاء الله.

فإن قال لنا قائل: قد زعمت أن اليوم إنما هو اسم لميقات ما بين طلوع الفجر إلى غروب الشمس، ثم زعمت الآن أن الله خلق الشمس والقمر بعد أيام من أول ابتدائه خلق الأشياء التي خلقها، فأثبت مواقيت، وسميتها بالأيام، ولا شمس ولا قمر، وهذا إن لم تأت ببرهان على صحته، فهو كلام ينقض بعضه بعضا!
আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বললেন: আল্লাহ তাতে (শনিবার) পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে বিস্তৃত করেছেন। তারা বললো: তাহলে সোমবার? তিনি (সাঃ) বললেন: আল্লাহ তাতে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন। তারা বললো: তাহলে মঙ্গলবার? তিনি (সাঃ) বললেন: তাতে তিনি পর্বতমালা, পানি এবং এরকম আরও অনেক কিছু সৃষ্টি করেছেন যা আল্লাহ চেয়েছেন। তারা বললো: তাহলে বুধবার? তিনি (সাঃ) বললেন: জীবনোপকরণ (খাদ্য)। তারা বললো: তাহলে বৃহস্পতিবার? তিনি (সাঃ) বললেন: তিনি আকাশমণ্ডলী সৃষ্টি করেছেন। তারা বললো: তাহলে শুক্রবার? তিনি (সাঃ) বললেন: আল্লাহ দুই প্রহরে রাত ও দিন সৃষ্টি করেছেন। এরপর তারা বললো:

শনিবারের কথা—আর তারা বিশ্রামের কথা বললো—তিনি (সাঃ) বললেন: আল্লাহ পবিত্র! অতঃপর আল্লাহ এই আয়াত নাযিল করলেন: "আর আমরা অবশ্যই আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এর মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছি এবং আমাদেরকে কোন ক্লান্তি স্পর্শ করেনি।" (সুরা ক্বাফ ৫০:৩৮)

আল্লাহর রাসূল (সাঃ) থেকে আমরা যে দুটি বর্ণনা করেছি, তা থেকে প্রমাণিত হয় যে, সূর্য ও চন্দ্রকে আল্লাহ তাঁর বহু সৃষ্টিকে সৃষ্টি করার পরেই সৃষ্টি করেছেন। কারণ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, আল্লাহ সূর্য ও চন্দ্রকে শুক্রবার দিন সৃষ্টি করেছেন। যদি তাই হয়, তাহলে পৃথিবী ও আকাশ এবং সেগুলোর মধ্যে যা কিছু আছে—ফেরেশতা ও আদম (আ.) ব্যতীত—তা সূর্য ও চন্দ্র সৃষ্টির পূর্বেই সৃষ্ট ছিল। আর এই সবকিছু রাত বা দিন ছাড়াই ছিল, কারণ রাত ও দিন হচ্ছে আকাশমণ্ডলে সূর্য ও চন্দ্রের পরিভ্রমণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু সময়ের নাম।

আর যদি এটি সঠিক হয় যে, পৃথিবী ও আকাশ এবং সেগুলোর মধ্যে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা ব্যতীত সবকিছুই সূর্য ও চন্দ্র ছাড়া বিদ্যমান ছিল—তাহলে এটি স্পষ্ট যে, এই সবকিছুই রাত বা দিন ছাড়াই ছিল।

অনুরূপভাবে আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসূল (সাঃ)-এর হাদিস, কারণ তিনি (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহ বুধবার দিন নূর (আলো) সৃষ্টি করেছেন। 'নূর' বলতে আল্লাহ চাহেন তো, সূর্যকে বোঝানো হয়েছে।

যদি আমাদের কেউ বলে: তুমি তো দাবী করেছ যে, 'দিন' হচ্ছে ফজর উদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের নাম, এরপর তুমি এখন দাবী করছো যে, আল্লাহ তাঁর সৃষ্ট বস্তুসমূহের প্রথম সৃষ্টির কয়েকদিন পর সূর্য ও চন্দ্রকে সৃষ্টি করেছেন, সুতরাং তুমি এমন সময়সীমা প্রমাণ করেছো এবং সেগুলোকে 'দিন' বলেছো, যখন সূর্য বা চন্দ্র ছিল না। আর এর সপক্ষে যদি তুমি কোন প্রমাণ না দাও, তাহলে এই কথাগুলো একে অপরের পরিপন্থী!
(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ২৫)
قيل: إن الله سمى ما ذكرته أياما، فسميته بالاسم الذي سماه به، وكان وجه تسميه ذلك أياما، ولا شمس ولا قمر، نظير قوله عز وجل: «وَلَهُمْ رِزْقُهُمْ فِيها بُكْرَةً وَعَشِيًّا» ولا بكرة ولا عشي هنالك، إذ كان لا ليل في الآخرة ولا شمس ولا قمر، كما قال جل وعز: «وَلا يَزالُ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي مِرْيَةٍ مِنْهُ حَتَّى تَأْتِيَهُمُ السَّاعَةُ بَغْتَةً أَوْ يَأْتِيَهُمْ عَذابُ يَوْمٍ عَقِيمٍ» .

فسمى تعالى ذكره يوم القيامة يوما عقيما، إذ كان يوما لا ليل بعد مجيئه، وإنما أريد بتسمية ما سمي أياما قبل خلق الشمس والقمر قدر مدة ألف عام من أعوام الدنيا، التي العام منها اثنا عشر شهرا من شهور أهل الدنيا، التي تعد ساعاتها وأيامها بقطع الشمس والقمر درج الفلك، كما سمي بكرة وعشيا لما يرزقه أهل الجنة في قدر المدة التي كانوا يعرفون ذلك من الزمان في الدنيا بالشمس ومجراها في الفلك، ولا شمس عندهم ولا ليل وبنحو الذي قلنا في ذلك قال السلف من أهل العلم.

ذكر بعض من حضرنا ذكره ممن قال ذلك:

حَدَّثَنِي القاسم، قال: حَدَّثَنَا الحسين، قال: حَدَّثَنِي الحجاج، عن ابن جريج، عن مجاهد أنه قال: يقضي الله عز وجل أمر كل شيء ألف سنة إلى الملائكة، ثم كذلك حتى يمضي ألف سنة، ثم يقضي أمر كل شيء ألفا، ثم كذلك أبدا، قال: «فِي يَوْمٍ كانَ مِقْدارُهُ أَلْفَ سَنَةٍ» قال: اليوم أن يقول لما يقضي إلى الملائكة ألف سنة: كن فيكون، ولكن سماه يوما، سماه كما شاء كل ذلك

বলা হয়েছে যে, আল্লাহ যা উল্লেখ করেছেন তাকে 'দিন' (আইয়াম) বলে নামকরণ করেছেন, তাই আমিও সেই নামেই তাকে নামকরণ করেছি। সূর্য বা চাঁদ না থাকা সত্ত্বেও সেগুলোকে 'দিন' বলার কারণ ছিল মহান আল্লাহর বাণী, "আর তাদের জন্য সেখানে সকাল-সন্ধ্যায় তাদের রিযিক রয়েছে," এর সদৃশ। অথচ সেখানে কোনো সকাল বা সন্ধ্যা থাকবে না, কারণ আখেরাতে কোনো রাত, সূর্য বা চাঁদ থাকবে না। যেমন মহামহিম আল্লাহ বলেছেন, "যারা কুফরি করেছে, তারা এর ব্যাপারে সর্বদা সন্দেহে থাকবে, যতক্ষণ না আকস্মিকভাবে তাদের কাছে কিয়ামত আসে, অথবা তাদের কাছে এক বন্ধ্যা দিনের আযাব আসে।"

সুতরাং, তাঁর মহিমা প্রকাশার্থে তিনি কিয়ামতের দিনকে 'বন্ধ্যা দিন' (ইয়াওমুন আকীম) বলেছেন, কারণ এটি এমন একটি দিন যার আগমনের পর আর কোনো রাত থাকবে না। আর সূর্য ও চাঁদ সৃষ্টির পূর্বে যা 'দিন' (আইয়াম) নামে অভিহিত হয়েছিল, তা দ্বারা দুনিয়ার এক হাজার বছরের সময়ের পরিমাণ বোঝানো হয়েছে, যার প্রতি বছর দুনিয়াবাসীদের বারো মাস নিয়ে গঠিত, যাদের ঘণ্টা ও দিন গণনা করা হয় সূর্য ও চাঁদের কক্ষপথে পরিভ্রমণ দ্বারা। যেমন জান্নাতবাসীদের যে রিযিক দেওয়া হবে, সেটিকে সকাল ও সন্ধ্যা (বুকরাহ ওয়া আশিয়্যা) বলা হয়েছে, সেই সময়ের পরিমাপ অনুযায়ী যা তারা দুনিয়াতে সূর্য ও তার কক্ষপথে চলাচলের মাধ্যমে চিনত, যদিও তাদের (জান্নাতে) কোনো সূর্য বা রাত থাকবে না। আর আমরা এ বিষয়ে যা বলেছি, জ্ঞানীদের পূর্বসূরিরাও একই কথা বলেছেন।

যারা এই কথা বলেছেন, তাদের মধ্যে যাদের নাম আমাদের কাছে উল্লেখ আছে, তাদের কয়েকজনের আলোচনা:

আল-কাসিম আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হুসাইন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাজ্জাজ আমাকে ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন, ইবনে জুরাইজ মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: মহান আল্লাহ ফেরেশতাদের কাছে এক হাজার বছর ধরে প্রতিটি জিনিসের আদেশ জারি করেন। তারপর এভাবেই চলতে থাকে যতক্ষণ না এক হাজার বছর অতিবাহিত হয়, তারপর তিনি প্রতিটি জিনিসের জন্য আরও এক হাজার বছরের আদেশ জারি করেন, তারপর এভাবেই চিরকাল। তিনি (মুজাহিদ) বলেন, "এমন এক দিনে, যার পরিমাণ ছিল এক হাজার বছর।" তিনি বলেন: (এই আয়াতের) 'দিন' হলো, যখন আল্লাহ ফেরেশতাদের কাছে এক হাজার বছরের জন্য কোনো কিছু আদেশ করেন, তখন বলেন: 'হও', আর তা হয়ে যায়। কিন্তু তিনি (আল্লাহ) একে 'দিন' বলে নামকরণ করেছেন, তিনি যেমন চেয়েছেন তেমনই এর নামকরণ করেছেন।

(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ২৬)
عن مجاهد، قال: وقوله تعالى: «وَإِنَّ يَوْماً عِنْدَ رَبِّكَ كَأَلْفِ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ» قال: هو هو سواء.

وبنحو الذي ورد عن رسول الله ص من الخبر، بأن الله جل جلاله خلق الشمس والقمر بعد خلقه السموات والأرض وأشياء غير ذلك، ورد الخبر عن جماعة من السلف أنهم قالوه.

ذكر الخبر عمن قال ذلك منهم:

حدثنا ابو هشام الرفاعى، حدثنا ابن يمان، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ:

«فَقالَ لَها وَلِلْأَرْضِ ائْتِيا طَوْعاً أَوْ كَرْهاً قالَتا أَتَيْنا طائِعِينَ» .

قَالَ: قَالَ اللَّهُ عز وجل لِلسَّمَوَاتِ: أَطْلِعِي شمسى وقمرى، واطلعى نجومى.

وَقَالَ لِلأَرْضِ: شَقِّقِي أَنْهَارَكِ، وَأَخْرِجِي ثِمَارَكِ، فَقَالَتَا: أَتَيْنَا طَائِعِينَ.

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُعَاذٍ،: قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قال: حدثنا سعيد، عن قتادة:

«وَأَوْحى فِي كُلِّ سَماءٍ أَمْرَها» ، خلق فيها شمسها وقمرها ونجومها وصلاحها.

فقد بينت هذه الأخبار التي ذكرناها عن رسول الله ص وعمن ذكرناها عنه أن الله عز وجل خلق السموات والأرض قبل خلقه الزمان والأيام والليالي، وقبل الشمس والقمر والله أعلم

মুজাহিদ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর নিশ্চয় তোমার রবের নিকট একদিন তোমাদের গণনার হাজার বছরের সমান।" তিনি বলেন: এটা (এই সময়কাল) ঠিক তেমনই, তাতে কোনো পার্থক্য নেই।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে সংবাদ বর্ণিত হয়েছে, যে আল্লাহ তাআলা সূর্য ও চাঁদ সৃষ্টি করেছেন আসমান ও যমীন এবং অন্যান্য জিনিস সৃষ্টির পর, অনুরূপ খবর পূর্ববর্তী নেককারদের (সালাফ) একটি দল থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরাও একই কথা বলেছেন।

তাঁদের মধ্যে যারা এই কথা বলেছেন, তাঁদের থেকে বর্ণিত সংবাদ উল্লেখ:

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হিশাম আল-রিফায়ী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে ইয়ামান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, ইবনে জুরেইজ থেকে, সুলাইমান ইবনে মূসা থেকে, মুজাহিদ থেকে, ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে:

"অতঃপর তিনি আসমান ও যমীনকে বললেন, 'তোমরা স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় আসো!' তারা বলল, 'আমরা অনুগতভাবে আসলাম।'"

তিনি বলেন: মহান আল্লাহ আসমানসমূহকে বললেন: "তুমি আমার সূর্য ও আমার চাঁদকে উদিত করো, এবং আমার নক্ষত্রসমূহকে উদিত করো।"

এবং যমীনকে বললেন: "তুমি তোমার নদীসমূহকে প্রবাহিত করো, এবং তোমার ফলমূল উৎপন্ন করো।" অতঃপর উভয়ই (আসমান ও যমীন) বলল: "আমরা অনুগতভাবে আসলাম।"

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনে মুআয, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ, ক্বাতাদা থেকে:

"এবং তিনি প্রতিটি আসমানে তার নির্দেশ (বা ব্যবস্থা) ওহী করলেন," অর্থাৎ, তিনি তাতে (প্রতিটি আসমানে) তার সূর্য, তার চাঁদ, তার নক্ষত্রসমূহ এবং তার কল্যাণ (বা উপযোগিতা) সৃষ্টি করলেন।

সুতরাং, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এবং যাদের থেকে আমরা বর্ণনা করেছি, তাঁদের থেকে প্রাপ্ত এই সকল সংবাদ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন সময়, দিন ও রাত্রি সৃষ্টির পূর্বে, এবং সূর্য ও চাঁদ সৃষ্টির পূর্বে। আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।

(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌القول في الإبانة عن فناء الزمان والليل والنهار وأن لا شيء يبقى غير الله تعالى ذكره

والدلالة على صحة ذلك قول الله تعالى ذكره: «كُلُّ مَنْ عَلَيْها فانٍ وَيَبْقى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلالِ وَالْإِكْرامِ» ، وقوله تعالى: «لا إِلهَ إِلَّا هُوَ كُلُّ شَيْءٍ هالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُ» فإن كان كل شيء هالك غير وجهه- كما قال جل وعز- وكان الليل والنهار ظلمة أو نورا خلقهما لمصالح خلقه، فلا شك انهما فانيان هالكان، كما اخبر، وكما قال: «إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ» يعني بذلك أنها عميت فذهب ضوءها، وذلك عند قيام الساعة، وهذا ما لا يحتاج إلى الإكثار فيه، إذ كان مما يدين بالإقرار به جميع أهل التوحيد من أهل الإسلام وأهل التوراة والإنجيل والمجوس، وإنما ينكره قوم من غير أهل التوحيد، لم نقصد بهذا الكتاب قصد الإبانة عن خطإ قولهم فكل الذين ذكرنا عنهم أنهم مقرون بفناء جميع العالم حتى لا يبقى غير القديم الواحد، مقرون بأن الله عز وجل محييهم بعد فنائهم، وباعثهم بعد هلاكهم، خلا قوم من عبدة الأوثان، فإنهم يقرون بالفناء، وينكرون البعث
সময়, রাত ও দিনের বিলীন হওয়া এবং আল্লাহ তায়ালার স্মরণ ব্যতীত আর কোনো কিছুর অবশিষ্ট না থাকা সংক্রান্ত আলোচনা।

আর এর সত্যতার প্রমাণ হলো আল্লাহ তায়ালার বাণী: «পৃথিবীপৃষ্ঠে যা কিছু আছে, সবই নশ্বর। আর আপনার প্রতিপালকের মহিমাময় ও মহান সত্তাই কেবল অবশিষ্ট থাকবে।» এবং তাঁর (আল্লাহর) বাণী: «তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। তাঁর সত্তা ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল।» যদি তাঁর সত্তা ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল হয় – যেমন তিনি, মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী, বলেছেন – আর রাত ও দিন যদি অন্ধকার বা আলো হয়, যা তিনি তাঁর সৃষ্টির কল্যাণের জন্য তৈরি করেছেন, তাহলে নিঃসন্দেহে এ দুটোই বিনাশশীল ও ধ্বংস হবে, যেমন তিনি জানিয়েছেন, এবং যেমন তিনি বলেছেন: «যখন সূর্যকে গুটিয়ে নেওয়া হবে।» এর দ্বারা তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, এর আলো নিভে যাবে এবং এটি দৃষ্টিহীন হয়ে পড়বে; আর তা ঘটবে কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময়। আর এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন নেই, কারণ ইসলাম ধর্মাবলম্বী, তাওরাত ও ইঞ্জিলের অনুসারী এবং মাজুস (জোরোস্ট্রিয়ান) সহ সকল তাওহীদবাদী এটি স্বীকার করে। তাওহীদবাদী নয় এমন কিছু লোকই কেবল এটি অস্বীকার করে। এই গ্রন্থে আমরা তাদের মতামতের ভুল প্রমাণ করার উদ্দেশ্য করিনি। কারণ যাদের সম্পর্কে আমরা উল্লেখ করেছি যে, তারা সমগ্র বিশ্বের বিলীন হওয়াকে স্বীকার করে – যতক্ষণ না একমাত্র চিরন্তন সত্তা ব্যতীত আর কিছু অবশিষ্ট থাকে – তারা এ-ও স্বীকার করে যে, আল্লাহ, পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত, তাদের বিলীন হওয়ার পর পুনরুজ্জীবিত করবেন এবং তাদের ধ্বংসের পর পুনরুত্থিত করবেন, তবে প্রতিমাপূজকদের একটি দল ব্যতীত; কারণ তারা বিলীন হওয়াকে স্বীকার করে, কিন্তু পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে।

(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ২৮)
القول في الدلالة على أن الله عز وجل القديم الأول قبل شيء وأنه هو المحدث كل شيء بقدرته تعالى ذكره فمن الدلالة على ذلك أنه لا شيء في العالم مشاهد إلا جسم أو قائم بجسم، وأنه لا جسم إلا مفترق أو مجتمع، وأنه لا مفترق منه إلا وهو موهوم فيه الائتلاف إلى غيره من أشكاله، ولا مجتمع منه إلا وهو موهوم فيه الافتراق، وأنه متى عدم أحدهما عدم الآخر معه، وأنه إذا اجتمع الجزءان منه بعد الافتراق، فمعلوم أن اجتماعهما حادث فيهما بعد أن لم يكن، وأن الافتراق إذا حدث فيهما بعد الاجتماع، فمعلوم أن الافتراق فيهما حادث بعد أن لم يكن.

وإذا كان الأمر فيما في العالم من شيء كذلك، وكان حكم ما لم يشاهد وما هو من جنس ما شاهدنا في معنى جسم أو قائم بجسم، وكان ما لم يخل من الحدث لا شك أنه محدث بتأليف مؤلف له إن كان مجتمعا، وتفريق مفرق له إن كان مفترقا وكان معلوما بذلك أن جامع ذلك إن كان مجتمعا، ومفرقه إن كان مفترقا من لا يشبهه، ومن لا يجوز عليه الاجتماع والافتراق، وهو الواحد القادر الجامع بين المختلفات، الذي لا يشبهه شيء، وهو على كل شيء قدير- فبين بما وصفنا أن بارئ الأشياء ومحدثها كان قبل كل شيء، وأن الليل والنهار والزمان والساعات محدثات، وأن محدثها الذي يدبرها ويصرفها قبلها، إذ كان من المحال أن يكون شيء يحدث شيئا إلا ومحدثه قبله، وأن في قوله تعالى ذكره:

«أَفَلا يَنْظُرُونَ إِلَى الْإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ وَإِلَى السَّماءِ كَيْفَ رُفِعَتْ وَإِلَى الْجِبالِ كَيْفَ نُصِبَتْ وَإِلَى الْأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ» ، لابلغ الحجج،

এই বিষয়ে আলোচনা যে, আল্লাহ তা'আলা অনাদি ও প্রথম সত্তা, সকল কিছুর পূর্বে বিদ্যমান, এবং তাঁর মহিমান্বিত ক্ষমতা বলে তিনিই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, তাঁর স্মরণীয় সত্তা মহিমান্বিত হোক। এর প্রমাণগুলোর মধ্যে একটি হলো এই যে, জগতে যা কিছু দৃশ্যমান, তা হয় বস্তু (জিসম) অথবা বস্তুর সাথে সংলগ্ন। এবং এমন কোনো বস্তু (জিসম) নেই যা হয় বিচ্ছিন্ন নয়তো একত্রিত। এবং এর বিচ্ছিন্ন অংশগুলির মধ্যে এমন কোনোটি নেই যা এর অন্যান্য অনুরূপ অংশের সাথে একত্রিত হওয়ার সম্ভাবনা ধারণ করে না, আর এর একত্রিত অংশগুলির মধ্যে এমন কোনোটি নেই যা বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা ধারণ করে না। এবং যখন এদের একটি অনুপস্থিত হয়, তখন অন্যটিও তার সাথে অনুপস্থিত হয়। এবং যখন এর দুটি অংশ বিচ্ছিন্নতার পর একত্রিত হয়, তখন জানা যায় যে, তাদের এই একত্রীকরণ তাদের মধ্যে এমন একটি নতুন ঘটনা (হাদাস) যা পূর্বে বিদ্যমান ছিল না। এবং যখন তাদের মধ্যে একত্রীকরণের পর বিচ্ছেদ ঘটে, তখন জানা যায় যে, এই বিচ্ছেদ তাদের মধ্যে এমন একটি নতুন ঘটনা (হাদাস) যা পূর্বে বিদ্যমান ছিল না।

আর যখন জগতে বিদ্যমান সকল বস্তুর অবস্থা এমনই; আর যা দৃশ্যমান নয় এবং যা আমরা দেখেছি তার অনুরূপ, বস্তু (জিসম) বা বস্তুর সাথে সংলগ্ন হওয়ার দিক থেকে তার বিধানও তেমনই; এবং যা নতুনত্বের (হাদাস) প্রভাব থেকে মুক্ত নয়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই যে তা সৃষ্ট (মুহদাস); যদি তা একত্রিত থাকে তবে তা কোনো সংগ্রাহক দ্বারা একত্রিত করে সৃষ্ট, এবং যদি তা বিচ্ছিন্ন থাকে তবে তা কোনো বিচ্ছেদকারী দ্বারা বিচ্ছিন্ন করে সৃষ্ট। এবং এর দ্বারা জানা যায় যে, একত্রিত বস্তুর সংগ্রাহক এবং বিচ্ছিন্ন বস্তুর বিচ্ছেদকারী এমন একজন সত্তা যিনি তার সদৃশ নন, এবং যার উপর একত্রীকরণ ও বিচ্ছেদ প্রযোজ্য নয়। তিনিই এক ও সর্বশক্তিমান, যিনি ভিন্ন ভিন্ন বস্তুকে একত্রিত করেন, যার মতো আর কিছুই নেই, এবং তিনিই সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান। সুতরাং, যা আমরা বর্ণনা করলাম তা দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, সকল বস্তুর সৃষ্টিকর্তা ও প্রবর্তক (মুহদিস) সকল কিছুর পূর্বে বিদ্যমান ছিলেন। এবং রাত, দিন, সময় ও ঘণ্টাসমূহ সবই সৃষ্ট (মুহদাস)। এবং তাদের সৃষ্টিকর্তা (মুহদিস) যিনি এগুলোকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করেন, তিনি তাদের পূর্বে বিদ্যমান। কেননা এটা অসম্ভব যে, কোনো কিছু অন্য কিছুকে সৃষ্টি করবে অথচ তার সৃষ্টিকর্তা তার পূর্বে বিদ্যমান না থাকে। এবং আল্লাহ তা'আলার এই বাণীতে, তাঁর স্মরণীয় সত্তা মহিমান্বিত হোক:

«তারা কি উটের দিকে তাকায় না কীভাবে তা সৃষ্টি করা হয়েছে? আর আকাশের দিকে কীভাবে তা উঁচু করা হয়েছে? আর পাহাড়ের দিকে কীভাবে তা স্থাপন করা হয়েছে? আর পৃথিবীর দিকে কীভাবে তা বিছানো হয়েছে?» — রয়েছে সবচেয়ে জোরালো প্রমাণসমূহ,

(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ২৯)
وأدل الدلائل- لمن فكر بعقل، واعتبر بفهم- على قدم بارئها، وحدوث كل ما جانسها، وأن لها خالقا لا يشبهها.

وذلك أن كل ما ذكر ربنا تبارك وتعالى في هذه الآية من الجبال والأرض والإبل فإن ابن آدم يعالجه ويدبره بتحويل وتصريف وحفر ونحت وهدم، غير ممتنع عليه شيء من ذلك ثم إن ابن آدم مع ذلك غير قادر على إيجاد شيء من ذلك من غير أصل، فمعلوم أن العاجز عن إيجاد ذلك لم يحدث نفسه، وأن الذي هو غير ممتنع ممن أراد تصريفه وتقليبه لم يوجده من هو مثله، ولا هو أوجد نفسه، وأن الذي أنشأه وأوجد عينه هو الذي لا يعجزه شيء أراده، ولا يمتنع عليه إحداث شيء شاء إحداثه، وهُوَ اللَّهُ الْواحِدُ الْقَهَّارُ.

فإن قال قائل: فما تنكر أن تكون الأشياء التي ذكرت من فعل قديمين؟

قيل: أنكرنا ذلك لوجودنا اتصال التدبير وتمام الخلق، فقلنا: لو كان المدبر اثنين، لم يخلوا من اتفاق أو اختلاف، فإن كانا متفقين فمعناهما واحد، وإنما جعل الواحد اثنين من قال بالاثنين وإن كانا مختلفين كان محالا وجود الخلق على التمام والتدبير على الاتصال، لأن المختلفين، فعل كل واحد منهما خلاف فعل صاحبه، بأن أحدهما إذا أحيا أمات الآخر، وإذا أوجد أحدهما أفنى الآخر، فكان محالا وجود شيء من الخلق على ما وجد عليه من التمام والاتصال.

وفي قول الله عز وجل ذكره: «لَوْ كانَ فِيهِما آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتا فَسُبْحانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ» ، وقوله عز وجل: «مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِنْ وَلَدٍ وَما كانَ مَعَهُ مِنْ إِلهٍ إِذاً لَذَهَبَ كُلُّ إِلهٍ بِما خَلَقَ وَلَعَلا بَعْضُهُمْ عَلى بَعْضٍ سُبْحانَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ عالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهادَةِ فَتَعالى عَمَّا يُشْرِكُونَ»

এবং সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ – যারা বুদ্ধি দিয়ে চিন্তা করে এবং জ্ঞান দিয়ে বিবেচনা করে তাদের জন্য – এর স্রষ্টার অনাদিত্বের (قدم) উপর, এবং এর সমজাতীয় সকল কিছুর সসীমতার (حدوث) উপর, এবং যে এর একজন স্রষ্টা আছেন যিনি এর সদৃশ নন।

আর তা হলো যে, আমাদের বরকতময় ও সুমহান রব এই আয়াতে যা কিছু উল্লেখ করেছেন যেমন পর্বতমালা, পৃথিবী এবং উট – সেগুলোকে আদম সন্তান পরিবর্তন, রূপান্তর, খনন, খোদাই এবং ধ্বংসের মাধ্যমে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে; এর কোনো কিছুই তার জন্য অসম্ভব নয়। এরপরও আদম সন্তান মূল ছাড়া এর কোনো কিছু সৃষ্টি করতে সক্ষম নয়। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, যা সৃষ্টি করতে অক্ষম সে নিজেকে সৃষ্টি করেনি। এবং যাঁর পরিবর্তন ও রূপান্তর করতে ইচ্ছুক এমন কারো দ্বারা যিনি অপ্রতিরোধ্য নন, তাঁকে তাঁর মতো কেউ সৃষ্টি করেনি এবং তিনি নিজেও নিজেকে সৃষ্টি করেননি। আর যিনি তাকে (সৃষ্ট বস্তুকে) সৃষ্টি করেছেন ও তাকে অস্তিত্ব দিয়েছেন, তিনিই এমন সত্তা যাঁর কাছে কোনো কিছু অসাধ্য নয় যা তিনি চান, এবং কোনো কিছু সৃষ্টি করতে তিনি চাইলে তাঁর জন্য তা অসম্ভব নয়। আর তিনিই আল্লাহ, এক ও পরাক্রমশালী।

যদি কেউ বলে: তাহলে আপনি কেন অস্বীকার করেন যে উল্লেখিত বস্তুগুলো দুজন চিরন্তন সত্তার কাজ?

বলা হবে: আমরা তা অস্বীকার করি কারণ আমরা ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিকতা এবং সৃষ্টির পূর্ণতা প্রত্যক্ষ করি। তাই আমরা বলি: যদি ব্যবস্থাপক দুজন হতেন, তাহলে তারা হয় ঐক্যবদ্ধ হতেন না হয় মতানৈক্য করতেন। যদি তারা ঐক্যবদ্ধ হতেন, তাহলে তাদের অর্থ (সত্তা) এক হতো, আর যারা দুজন সত্তার কথা বলে তারাই এককে দুজন বানিয়েছে। আর যদি তারা মতানৈক্য করতেন, তাহলে সৃষ্টির পূর্ণতা এবং ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিকতা অসম্ভব হতো। কারণ যারা ভিন্নমত পোষণ করে, তাদের প্রত্যেকের কাজ তাদের সঙ্গীর কাজের বিপরীত হয়। যেমন, যদি একজন জীবন দেন, অন্যজন মৃত্যু ঘটান; এবং যদি একজন সৃষ্টি করেন, অন্যজন ধ্বংস করেন। সুতরাং সৃষ্টিতে যে পূর্ণতা ও ধারাবাহিকতা বিদ্যমান, তা বিদ্যমান থাকা অসম্ভব হতো।

আর আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে (যেমন): "যদি এতদুভয়ের (আকাশ ও পৃথিবীতে) আল্লাহ ব্যতীত অন্য উপাস্য থাকত, তাহলে উভয়ই বিপর্যস্ত হয়ে যেত। সুতরাং আরশের অধিপতি আল্লাহ তারা যা আরোপ করে তা থেকে পবিত্র।" (কুরআন ২১:২২)। এবং তাঁর এই বাণীতে (যেমন): "আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে অন্য কোনো উপাস্যও নেই। যদি থাকত, তাহলে প্রত্যেক উপাস্য তার সৃষ্ট বস্তু নিয়ে চলে যেত এবং একে অপরের উপর প্রাধান্য বিস্তার করত। তারা যা আরোপ করে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র। তিনি দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সকল কিছুর জ্ঞানী। তারা যা শিরক করে তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।" (কুরআন ২৩:৯১-৯২)।

(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ৩০)
أبلغ حجة، وأوجز بيان، وأدل دليل على بطول ما قاله المبطلون من أهل الشرك بالله، وذلك أن السموات والأرض لو كان فيهما إله غير الله، لم يخل أمرهما مما وصفت من اتفاق واختلاف وفي القول باتفاقهما فساد القول بالتثنية، وإقرار بالتوحيد، وإحالة في الكلام بأن قائله سمى الواحد اثنين وفي القول باختلافهما، القول بفساد السموات والأرض، كما قال ربنا جل وعز: «لَوْ كانَ فِيهِما آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتا» لأن أحدهما كان إذا أحدث شيئا وخلقه كان من شأن الآخر إعدامه وإبطاله، وذلك أن كل مختلفين فأفعالهما مختلفة، كالنار التي تسخن، والثلج الذي يبرد ما أسخنته النار وأخرى، أن ذلك لو كان كما قاله المشركون بالله لم يخل كل واحد من الاثنين اللذين أثبتوهما قديمين من أن يكونا قويين او عاجزين، فان كانا عاجزين فالعاجز مقهور وغير كائن إلها وإن كانا قويين فإن كل واحد منهما بعجزه عن صاحبه عاجز، والعاجز لا يكون إلها وإن كان كل واحد منهما قويا على صاحبه عاجز، والعاجز لا يكون إلها وإن كان كل واحد منهما قويا على صاحبه، فهو بقوة صاحبه عليه عاجز، تعالى ذكره عما يشرك المشركون! فتبين إذا أن القديم بارئ الأشياء وصانعها هو الواحد الذي كان قبل كل شيء، وهو الكائن بعد كل شيء، والأول قبل كل شيء، والآخر بعد كل شيء، وأنه كان ولا وقت ولا زمان، ولا ليل ولا نهار، ولا ظلمة ولا نور إلا نور وجهه الكريم ولا سماء ولا أرض، ولا شمس ولا قمر ولا نجوم، وأن كل شيء سواه محدث مدبر مصنوع، انفرد بخلق جميعه بغير شريك ولا معين ولا ظهير، سبحانه من قادر قاهر! وقد حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ سَهْلٍ الرَّمْلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ أَبِي الزَّرْقَاءِ، عَنْ جَعْفَرٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الأَصَمِّ، عَنْ أَبِي هريرة، [ان النبي ص قال:

আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত অন্যের সাথে শিরককারী বাতিলপন্থীদের উক্তি যে ভুল, তার সবচেয়ে জোরালো যুক্তি, সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা এবং সবচেয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ হলো এই যে, যদি আসমান ও যমীনে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য থাকত, তবে তাদের (আসমান ও যমীনের) কার্যকারিতা আমার বর্ণিত ঐক্য ও অনৈক্যের ঊর্ধ্বে থাকত না। আর তাদের (আসমান ও যমীনের) ঐক্য মেনে নিলে দ্বৈতবাদের ধারণা বাতিল হয়ে যায় এবং একত্ববাদ (তওহীদ)-এর স্বীকৃতি আসে, আর এটি বাক্যের মধ্যে এক ধরণের স্ববিরোধিতা, কেননা এর প্রবক্তা এককে দুই নামে আখ্যায়িত করেছে। আর তাদের (আসমান ও যমীনের) মধ্যে অনৈক্য থাকলে, আসমান ও যমীনের বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংস অবশ্যম্ভাবী, যেমনটি আমাদের মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী প্রতিপালক বলেছেন: «যদি আকাশ ও পৃথিবীতে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য থাকত, তবে উভয়ই বিপর্যস্ত হয়ে যেত»। কারণ, তাদের একজন যদি কোনো কিছু সৃষ্টি বা উদ্ভাবন করত, তবে অপরের কাজ হতো সেটিকে ধ্বংস বা বাতিল করে দেওয়া। যেহেতু ভিন্ন প্রকৃতির দুটি সত্তার কর্মও ভিন্ন হয়, যেমন আগুন যা উত্তপ্ত করে এবং বরফ যা আগুন কর্তৃক উত্তপ্ত বস্তুকে শীতল করে।

আরেকটি বিষয় হলো, আল্লাহ তায়ালার সাথে শিরককারীরা যা বলে, যদি তা সত্য হতো, তবে তারা যে দুজন সত্তাকে অনাদি বলে প্রমাণ করেছে, তাদের প্রত্যেকে হয় শক্তিশালী হতো অথবা অক্ষম। যদি তারা অক্ষম হতো, তবে অক্ষম সত্তা পরাজিত এবং উপাস্য হওয়ার যোগ্য নয়। আর যদি তারা শক্তিশালী হতো, তবে তাদের প্রত্যেকেই নিজ সঙ্গীর (অন্য উপাস্যের) ব্যাপারে অপারগতার কারণে অক্ষম বলে বিবেচিত হতো, এবং অক্ষম সত্তা উপাস্য হতে পারে না। আর যদি তাদের প্রত্যেকেই নিজ সঙ্গীর উপর শক্তিশালী হতো, তবে সঙ্গীর শক্তি তার উপর থাকায় সে অপারগই থাকত, এবং অপারগ সত্তা উপাস্য হতে পারে না। শিরককারীরা যা কিছু আল্লাহর সাথে অংশীদার করে, তা থেকে তাঁর স্মরণ অনেক ঊর্ধ্বে!

অতএব, এটা স্পষ্ট যে, অনাদি (সর্বদা বিদ্যমান), সকল বস্তুর সৃষ্টিকর্তা ও নির্মাতা সেই একক সত্তা, যিনি সবকিছুর পূর্বে ছিলেন এবং তিনি সবকিছুর পরেও বিদ্যমান থাকবেন। তিনি সবকিছুর পূর্বে আদি এবং সবকিছুর পরে অন্ত। তিনি তখনো ছিলেন যখন কোনো সময় বা কাল ছিল না, কোনো রাত বা দিন ছিল না, তাঁর মহিমান্বিত মুখমণ্ডলের নূর ব্যতীত কোনো অন্ধকার বা আলো ছিল না, কোনো আসমান বা যমীন ছিল না, কোনো সূর্য, চন্দ্র বা নক্ষত্র ছিল না। তাঁর ব্যতীত সবকিছুই সৃষ্ট, পরিচালিত ও নির্মিত। তিনি একাই সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন কোনো অংশীদার, সহায়ক বা সাহায্যকারী ছাড়াই। কতই না পবিত্র তিনি, যিনি সর্বশক্তিমান ও পরাক্রমশালী!

আর আমাকে আলী ইবন সাহল আর-রামলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদেরকে যায়দ ইবন আবী আয-যারকা বর্ণনা করেছেন, জাফর থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনুল আসাম থেকে, তিনি আবু হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে, [যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

(খণ্ড: ١) তারিখুত তাবারী = তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, ওয়াসিলাতু তারিখিত তাবারী (পৃষ্ঠা: ৩১)
إِنَّكُمْ تَسْأَلُونَ بَعْدِي عَنْ كُلِّ شَيْءٍ، حَتَّى يَقُولُ الْقَائِلُ: هَذَا اللَّهُ خَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فمن ذا خلقه!] .

حدثنى على، حَدَّثَنَا زَيْدٌ، عَنْ جَعْفَرٍ، قَالَ: قَالَ يَزِيدُ بْنُ الأَصَمِّ:

حَدَّثَنِي نَجَبَةُ بْنُ صَبِيغٍ، قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ أَبِي هُرَيْرَةَ فَسَأَلُوهُ عَنْ هَذَا فَكَبَّرَ وَقَالَ:

مَا حَدَّثَنِي خَلِيلِي بِشَيْءٍ إِلا قَدْ رَأَيْتُهُ- أَوْ أَنَا أَنْتَظِرُهُ قَالَ جَعْفَرٌ: فَبَلَغَنِي أَنَّهُ قَالَ: إِذَا سَأَلَكُمُ النَّاسُ عَنْ هذا فقولوا: الله خالق كل شيء، والله كَانَ قَبْلَ كُلِّ شَيْءٍ، وَاللَّهُ كَائِنٌ بَعْدَ كُلِّ شَيْءٍ.

فَإِذَا كَانَ مَعْلُومًا أَنَّ خَالِقَ الأَشْيَاءِ وَبَارِئَهَا كَانَ وَلا شَيْءَ غَيْرَهُ، وَأَنَّهُ أَحْدَثَ الأَشْيَاءَ فَدَبَّرَهَا، وَأَنَّهُ قَدْ خَلَقَ صُنُوفًا مِنْ خَلْقِهِ قَبْلَ خَلْقِ الأَزْمِنَةِ وَالأَوْقَاتِ، وَقَبْلَ خَلْقِ الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ اللَّذَيْنِ يُجْرِيهِمَا فِي أَفْلاكِهِمَا، وَبِهِمَا عُرِفَتِ الأَوْقَاتِ وَالسَّاعَاتِ، وَأُرِّخَتِ التَّأْرِيخَاتِ، وَفُصِلَ بين الليل والنهار، فلنقل: فيم ذَلِكَ الْخَلْقُ الَّذِي خُلِقَ قَبْلَ ذَلِكَ؟ وَمَا كان اوله؟

তোমরা আমার পরে সবকিছু সম্পর্কে প্রশ্ন করবে, এমনকি প্রশ্নকারী বলবে: এই আল্লাহ সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, তাহলে তাঁকে কে সৃষ্টি করেছে!]

আলী আমাকে বর্ণনা করেছেন, যায়দ আমাদের কাছে জাফর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (জাফর) বললেন, ইয়াযিদ ইবনুল আসাম্মি বলেছেন:

নাজিবাহ ইবনু সাবীগ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বললেন: আমি আবূ হুরায়রার কাছে ছিলাম, তখন লোকেরা তাঁকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল, তখন তিনি তাকবীর দিলেন এবং বললেন:

আমার প্রিয় বন্ধু (আল্লাহর রাসূল) আমাকে এমন কোনো বিষয়ে অবহিত করেননি যা আমি দেখিনি – অথবা যার জন্য আমি অপেক্ষা করছি। জাফর বললেন: আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে তিনি (আবূ হুরায়রা) বলেছেন: যখন লোকেরা তোমাদেরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে, তখন তোমরা বলো: আল্লাহ সবকিছু সৃষ্টিকর্তা, আল্লাহ সবকিছুর পূর্বে ছিলেন, এবং আল্লাহ সবকিছুর পরেও থাকবেন।

অতএব, যখন এটা জানা যে, সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা ও উদ্ভাবক ছিলেন এবং তিনি ছাড়া আর কিছুই ছিল না, এবং তিনিই জিনিসসমূহকে সৃষ্টি করেছেন ও সেগুলোকে সুব্যবস্থা করেছেন, এবং তিনি তাঁর সৃষ্টির বিভিন্ন প্রকার সৃষ্টি করেছেন সময় ও কাল সৃষ্টির পূর্বে, এবং সূর্য ও চাঁদ সৃষ্টির পূর্বে, যাদেরকে তিনি তাদের কক্ষপথে পরিচালনা করেন, আর এ দুটি দ্বারাই সময় ও মুহূর্তসমূহ পরিচিত হয়েছে, তারিখসমূহ নির্ধারিত হয়েছে, এবং রাত ও দিনের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে; তাহলে আমরা বলি: সেই সৃষ্টি কী ছিল যা এর পূর্বে সৃষ্টি হয়েছিল? এবং তার শুরু কী ছিল?