(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: -)
بينات الرسول صلى الله عليه وآله وسلم ومعجزاته القسم: السيرة النبوية
الكتاب: بينات الرسول صلى الله عليه وآله وسلم ومعجزاته
المؤلف: عبد المجيد بن عزيز الزنداني
الناشر: دار الإيمان - القاهرة
الطبعة: -
عدد الصفحات: 415
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিদর্শনাবলী ও মুজিজাসমূহ বিভাগ: সীরাতুন্নবী
বই: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিদর্শনাবলী ও মুজিজাসমূহ
লেখক: আব্দুল মাজিদ বিন আজিজ আল-জিন্দানি
প্রকাশক: দারুল ইমান - কায়রো
সংস্করণ: -
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১৫
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৩)
[بينات الرسول ص ومعجزاته]
مقدّمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102) [آل عمران: 102] .
يا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ واحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْها زَوْجَها وَبَثَّ مِنْهُما رِجالًا كَثِيراً وَنِساءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسائَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحامَ إِنَّ اللَّهَ كانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً (1) [النساء: 1] .
يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيداً (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فازَ فَوْزاً عَظِيماً (71) .
[الأحزاب: 70، 71] .
أما بعد:
* أين كان سكان الأرض الموجودون اليوم قبل مائة عام؟!.
* وأين سيكونون- ونحن معهم- بعد مائة عام؟!.
والجواب:
كنا في عالم الغيب، وسننتقل إلى عالم الغيب مرة أخرى!.
فنحن مسافرون بين غيب الماضي وغيب المستقبل!!.
* فمن الذي خلقنا وجاء بنا إلى هذا الوجود؟.
* وما هي صفاته؟.
[রাসূল (সা.)-এর নিদর্শনাবলী ও তাঁর মুজিযাসমূহ]
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট হেদায়েত কামনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই। আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (১০২) [আল-ইমরান: ১০২] ।
হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাঁদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তা বজায় রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক। (১) [আন-নিসা: ১] ।
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে মহা সফলতা লাভ করে। (৭১) ।
[আল-আহযাব: ৭০, ৭১] ।
অতঃপর:
* আজ পৃথিবীতে বসবাসকারী মানুষগুলো একশ বছর আগে কোথায় ছিল?!.
* আর একশ বছর পর তারা—এবং আমরাও তাদের সাথে—কোথায় থাকবে?!.
উত্তর হলো:
আমরা অদৃশ্যের জগতে ছিলাম এবং আবারও অদৃশ্যের জগতে স্থানান্তরিত হব!.
আমরা মূলত অতীতের অদৃশ্য জগত এবং ভবিষ্যতের অদৃশ্য জগতের মধ্যবর্তী মুসাফির!!.
* তবে কে আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং এই অস্তিত্বে নিয়ে এসেছেন?.
* আর তাঁর গুণাবলী কী কী?.
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৪)
* ولماذا خلقنا؟.
* وماذا يريد منا؟.
* وما الذي يرضيه من أفعالنا؟.
* وما الذي يغضبه علينا؟.
* ولماذا نموت؟.
* وما الذي ينتظرنا بعد الموت؟.
وما الأدلة على كل ذلك؟.
إن الذي خلق فسوى، وقدر فهدى، لا يمكن أن يتركنا بدون هدى، فهو الذي خلق الكون، وهدى كل مخلوق إلى ما قدر له: هو الذي يهدي الشمس والقمر والليل والنهار، والحيوان والشجر، وجسميات أصغر الذرات إلى ما قدر لها.
وشاء الخالق سبحانه أن يهديناا، فخلق لنا أدوات العلم ونحن في بطون الأمهات كما قال تعالى: وَاللَّهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُونِ أُمَّهاتِكُمْ لا تَعْلَمُونَ شَيْئاً وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصارَ وَالْأَفْئِدَةَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ (78) [النحل: 78] .
وبدون هذه الأدوات لا نستطيع كسب أي علم كما لا يقدر أحد أن يمنحنا شيئا منها قال تعالى: قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَخَذَ اللَّهُ سَمْعَكُمْ وَأَبْصارَكُمْ وَخَتَمَ عَلى قُلُوبِكُمْ مَنْ إِلهٌ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُمْ بِهِ انْظُرْ كَيْفَ نُصَرِّفُ الْآياتِ ثُمَّ هُمْ يَصْدِفُونَ (46) [الأنعام: 46]
وما خلق الله لنا أدوات العلم التي بها نسمع ونرى ونعقل إلا وهو يريد لنا أن نتعلم.
يريدنا أن نسمع، فخلق لنا أدوات السمع.
ويريدنا أن نرى، فخلق لنا أدوات الإبصار.
* আর কেনই বা তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন?
* আর তিনি আমাদের নিকট থেকে কী চান?
* আর আমাদের কর্মসমূহের মধ্যে কোনটি তাঁকে সন্তুষ্ট করে?
* আর কোনটি আমাদের ওপর তাঁর ক্রোধকে প্ররোচিত করে?
* আর কেনই বা আমরা মৃত্যুবরণ করি?
* আর মৃত্যুর পর আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে?
আর এ সবকিছুর দলিল বা প্রমাণ কী?
নিশ্চয়ই যিনি সৃষ্টি করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন, এবং যিনি নির্ধারণ করেছেন ও পথ দেখিয়েছেন, এটা সম্ভব নয় যে তিনি আমাদের কোনো পথনির্দেশনা ছাড়াই ছেড়ে দেবেন। তিনিই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন এবং প্রতিটি সৃষ্টিকে তার জন্য নির্ধারিত বিষয়ের দিকে পরিচালিত করেছেন: তিনিই সূর্য, চন্দ্র, রাত, দিন, পশুপাখি, বৃক্ষরাজি এবং ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরমাণুর কণাগুলোকে সেদিকে পরিচালিত করেন যা তাদের জন্য তিনি নির্ধারণ করেছেন।
আর সৃষ্টিকর্তা সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের পথপ্রদর্শনের ইচ্ছা করেছেন, তাই তিনি আমাদের জন্য জ্ঞানের উপকরণসমূহ সৃষ্টি করেছেন যখন আমরা আমাদের মায়েদের উদরে ছিলাম; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: আর আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের উদর থেকে বের করেছেন এমন অবস্থায় যে তোমরা কিছুই জানতে না, এবং তিনি তোমাদের জন্য শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণসমূহ সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো (৭৮) [নাহল: ৭৮]।
আর এই উপকরণগুলো ব্যতীত আমরা কোনো জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হতাম না, যেমনটি অন্য কেউ আমাদের এগুলোর কোনোটিই দান করার ক্ষমতা রাখে না। আল্লাহ তাআলা বলেন: বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি আল্লাহ তোমাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেন এবং তোমাদের হৃদয়ে মোহর মেরে দেন, তবে আল্লাহ ছাড়া এমন কোনো ইলাহ আছে কি, যে তোমাদের তা ফিরিয়ে দেবে? দেখুন, আমরা কীভাবে নিদর্শনসমূহ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বর্ণনা করি, তবুও তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় (৪৬) [আনআম: ৪৬]।
আল্লাহ আমাদের জন্য জ্ঞানের উপকরণসমূহ সৃষ্টি করেননি—যার দ্বারা আমরা শুনি, দেখি এবং উপলব্ধি করি—কেবল এটিই কারণ যে তিনি চান আমরা যেন শিখি।
তিনি চান যেন আমরা শুনি, তাই তিনি আমাদের জন্য শ্রবণের উপকরণসমূহ সৃষ্টি করেছেন।
আর তিনি চান যেন আমরা দেখি, তাই তিনি আমাদের জন্য দর্শনের উপকরণসমূহ সৃষ্টি করেছেন।
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৫)
ويريدنا أن نعقل ما نسمع ونرى، فخلق لنا القلب والفؤاد كي نعقل «1» .
وبهذه الأدوات نكتسب العلم.
وأول علم يريدنا الخالق أن نعلمه هو أن نعلم أنه لا إله إلا هو، وأن نعلم صفاته سبحانه، وأن نعلم أن محمدا رسوله الذي أرسله إلينا هاديا ومبشرا ونذيرا.
وأن نعلم الدين الذي ارتضاه لنا.
وأن نعلم مستقبلنا ومستقبل البشرية الذي نسير إليه بعد الموت الذي نخرج به من حياتنا الدنيا.
لكن هذه العلوم لا تعلم على الوجه الصحيح إلا بتعليم يأتينا من الذي خلقنا، وأحيانا، ويميتنا، ويبعثنا بعد موتنا.
لذلك أرسل الله الرسل لتعلمنا بلغة نفهم دلالاتها ومعانيها كما قال سبحانه وَما أَرْسَلْنا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ فَيُضِلُّ اللَّهُ مَنْ يَشاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشاءُ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (4) [إبراهيم: 4] .
فلا يبقى لأحد من البشر عذر يعتذر به وحجّة يتعلق بها كما قال تعالى:
رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ وَكانَ اللَّهُ عَزِيزاً حَكِيماً (165) [النساء: 165] .
أما التائهون الذين قال شاعرهم:جئت لا أعلم من أين ولكني أتيت!!
ولقد أبصرت قدّامي طريقا فمشيت!!
وسأبقى سائرا إن شئت هذا أم أبيت!!
--------------------------------------------
তিনি চান আমরা যা শুনি ও দেখি তা যেন অনুধাবন করি, তাই তিনি আমাদের জন্য অন্তর ও হৃদয় সৃষ্টি করেছেন যাতে আমরা অনুধাবন করতে পারি «১»।
আর এই উপকরণগুলোর মাধ্যমেই আমরা জ্ঞান অর্জন করি।
সৃষ্টিকর্তা আমাদের প্রথম যে বিষয়টি জানাতে চান তা হলো—তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে জানা এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে তাঁর রাসূল যাকে তিনি আমাদের নিকট পথপ্রদর্শক, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছেন তা জানা।
এবং সেই দ্বীন সম্পর্কে জানা যা তিনি আমাদের জন্য পছন্দ করেছেন।
এবং আমাদের ভবিষ্যৎ ও মানবজাতির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানা যার দিকে আমরা মৃত্যুর পর ধাবিত হচ্ছি, যে মৃত্যুর মাধ্যমে আমরা এই পার্থিব জীবন থেকে বিদায় নিই।
কিন্তু এই জ্ঞানসমূহ সঠিকভাবে অর্জন করা সম্ভব নয় কেবল তাঁর পক্ষ থেকে আসা শিক্ষার মাধ্যমেই, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, জীবন দান করেছেন, মৃত্যু দেন এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থিত করবেন।
এজন্যই আল্লাহ রাসূলদের পাঠিয়েছেন যাতে তারা আমাদের এমন ভাষায় শিক্ষা দেন যার সংকেত ও অর্থ আমরা বুঝতে পারি, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: “আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তাঁর নিজ সম্প্রদায়ের ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি যেন তিনি তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাবান।” [ইবরাহীম: ৪]
ফলে মানুষের মধ্যে কারো কোনো অজুহাত পেশ করার বা কোনো দলিলের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ অবশিষ্ট থাকে না, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন:
“আমি রাসূলদের পাঠিয়েছি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে, যাতে রাসূলদের আসার পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো দলিল বা অজুহাত না থাকে। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাবান।” [আন-নিসা: ১৬৫]
আর সেই বিভ্রান্তরা যাদের কবি বলেছিল:আমি এসেছি তবে জানি না কোত্থেকে, কিন্তু আমি এসেছি!!
আমি আমার সামনে একটি পথ দেখলাম এবং হাঁটতে থাকলাম!!
আমি চলতেই থাকব চাই আমি এটা পছন্দ করি বা না করি!!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৬)
كيف جئت؟ كيف أبصرت طريقي؟!
لست أدري!!
ولماذا لست أدري؟!
لست أدري!!
لماذا لا يدري هذا الحائر المتخبط؟
لأنه لم يعرف رسول ربه، ولم يتلق الهدى منه، فعاش تائها يتخبط في الطلاسم «1» .
والعلم بالرسول وصدقه هو: مفتاح العلم ومفتاح الهدى والفوز في الدنيا والآخرة.
لكن إيماننا بالرسول- صلى الله عليه وسلم لا يتحقق إلا إذا عرفنا أدلة صدقه وبراهين رسالته.
وأمّا الكفار فلن يتركوا ماهم عليه من الكفر حتى تأتيهم البينة المصدقة للرسول صلى الله عليه وسلم، كما قال سبحانه وتعالى: لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتابِ وَالْمُشْرِكِينَ مُنْفَكِّينَ حَتَّى تَأْتِيَهُمُ الْبَيِّنَةُ (1) رَسُولٌ مِنَ اللَّهِ يَتْلُوا صُحُفاً مُطَهَّرَةً (2) فِيها كُتُبٌ قَيِّمَةٌ (3) [البينة: 1- 3] .
ولقد جعل الله البيّنات والمعجزات شهادات إلهية أيّد الله بها رسله حتى لا يكذبهم الناس، قال تعالى: لَقَدْ أَرْسَلْنا رُسُلَنا بِالْبَيِّناتِ [الحديد: 25] .
ويتحدى الرسول قومه أن يأتوا بمثل ما جاءهم به من المعجزات التي يعجز أمامها البشر، فتخضع رقابهم لبينة الرسول ومعجزاته، ويعلموا أنه مرسل من الله خالقهم.
--------------------------------------------
আমি কীভাবে এলাম? কীভাবে আমি আমার পথ দেখলাম?!
আমি জানি না!!
আর আমি কেন জানি না?!
আমি জানি না!!
কেন এই কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও বিভ্রান্ত ব্যক্তি জানে না?
কারণ সে তার রবের রাসূলকে চিনতে পারেনি এবং তাঁর কাছ থেকে হিদায়াত গ্রহণ করেনি। ফলে সে গোলকধাঁধায় দিশেহারা ও বিভ্রান্ত হয়ে জীবন অতিবাহিত করছে «১»।
রাসূল সম্পর্কে জ্ঞান এবং তাঁর সত্যতা জানাই হলো: জ্ঞানের চাবিকাঠি, হিদায়াতের চাবিকাঠি এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার চাবিকাঠি।
তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আমাদের ঈমান ততক্ষণ বাস্তবায়িত হয় না, যতক্ষণ না আমরা তাঁর সত্যতার প্রমাণাদি এবং তাঁর রিসালাতের দলিলসমূহ সম্পর্কে জানতে পারি।
আর কাফিররা তাদের কুফরির ওপর যা রয়েছে তা ততক্ষণ ত্যাগ করবে না, যতক্ষণ না তাদের নিকট রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যতা প্রমাণকারী সুস্পষ্ট দলিল আসবে; যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: ‘আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে, তারা তাদের কুফরি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ছিল না যতক্ষণ না তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসে। (১) আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রাসূল, যিনি পবিত্র সহীফাসমূহ তিলাওয়াত করেন, (২) যাতে রয়েছে সঠিক ও মূল্যবান কিতাবসমূহ। (৩)’ [আল-বাইয়্যিনাহ: ১-৩]।
আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্ট প্রমাণাদি এবং মুজিজাসমূহকে ইলাহী সাক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর রাসূলদের শক্তিশালী করেছেন যাতে মানুষ তাঁদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন না করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদেরকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ প্রেরণ করেছি।’ [আল-হাদীদ: ২৫]।
রাসূল তাঁর কওমকে চ্যালেঞ্জ করেন যেন তারা তাঁর আনীত মুজিজার মতো কিছু নিয়ে আসে, যার সামনে মানুষ অক্ষম হয়ে পড়ে। ফলে তারা রাসূলের সুস্পষ্ট প্রমাণ ও মুজিজার সামনে অবনত হয় এবং জানতে পারে যে, তিনি তাঁদের স্রষ্টা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৭)
وهذه البينات والمعجزات التي يؤيد الله بها رسله هي: التي حولت سحرة فرعون الذين كانوا يقولون لفرعون قبل مواجهتهم مع موسى- عليه السلام: أَإِنَّ لَنا لَأَجْراً إِنْ كُنَّا نَحْنُ الْغالِبِينَ (41) قالَ نَعَمْ وَإِنَّكُمْ إِذاً لَمِنَ الْمُقَرَّبِينَ (42) [الشعراء: 41- 42] فوعدهم فرعون بما طلبوا، وزادهم أن يجعلهم من الحاشية، ولما ألقوا حبالهم وعصيّهم، وجاؤا بسحر عظيم استرهبوا به أعين الناس، أمر الله موسى أن يلقى عصاه فَأَلْقى مُوسى عَصاهُ فَإِذا هِيَ تَلْقَفُ ما يَأْفِكُونَ (45) [الشعراء: 45] .
ُلْقِيَ السَّحَرَةُ ساجِدِينَ (46) قالُوا آمَنَّا بِرَبِّ الْعالَمِينَ (47) رَبِّ مُوسى وَهارُونَ
(48) [الشعراء: 46- 48] .
فانقلب السحر على الساحر، وأسقط أمر فرعون، فتوعد السحرة: قالَ آمَنْتُمْ لَهُ قَبْلَ أَنْ آذَنَ لَكُمْ إِنَّهُ لَكَبِيرُكُمُ الَّذِي عَلَّمَكُمُ السِّحْرَ فَلَسَوْفَ تَعْلَمُونَ لَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ مِنْ خِلافٍ وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ أَجْمَعِينَ (49) [الشعراء: 49] .
فكان رد الإيمان الذي وقر في قلوب السحرة بعد أن رأوا البينة والمعجزة أن قالوا: قالُوا لَنْ نُؤْثِرَكَ عَلى ما جاءَنا مِنَ الْبَيِّناتِ وَالَّذِي فَطَرَنا فَاقْضِ ما أَنْتَ قاضٍ إِنَّما تَقْضِي هذِهِ الْحَياةَ الدُّنْيا (72) [طه: 72] .
رأوا البينة والمعجزة، فامنوا بالرسول، وصدّقوه، فهانت الدنيا أمام وعد الآخرة، وصغر فرعون في أعين السحرة المؤمنين، وهان الموت أمام الإيمان.
وبينات الرسول ومعجزاته هي: القنطرة التي عبر عليها الصحابة من الكفر والتكذيب إلى الإيمان واليقين. فبعد أن كانوا من المكذبين الذين يرمون الرسول بالسحر والكهانة والشعر والافتراء، صاروا يتسابقون لامتثال أمره ويهتفون قائلين: " فداك أبي وأمي يا رسول الله".
আর এই সকল সুস্পষ্ট প্রমাণ ও মুজিযা যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর রাসুলদের শক্তিশালী করেন, তা-ই ফিরআউনের জাদুকরদের জীবনকে বদলে দিয়েছিল; যারা মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে মোকাবিলার পূর্বে ফিরআউনকে বলছিল: ‘আমরা যদি বিজয়ী হই, তবে আমাদের জন্য কি কোনো প্রতিদান থাকবে?’ (৪১) সে বলল: ‘হ্যাঁ, এবং অবশ্যই তোমরা তখন আমার নিকটবর্তীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (৪২) [আশ-শুআরা: ৪১-৪২]। অতঃপর ফিরআউন তাদের যা চেয়েছিল তার প্রতিশ্রুতি দিল এবং অতিরিক্ত হিসেবে তাদের পারিষদবর্গের অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দিল। আর যখন তারা তাদের রশি ও লাঠিগুলো নিক্ষেপ করল এবং এক বিরাট জাদু প্রদর্শন করল যার মাধ্যমে তারা মানুষের চোখকে আতঙ্কিত করে দিল, তখন আল্লাহ মূসাকে তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করার আদেশ দিলেন। অতঃপর মূসা তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলেন, আর হঠাৎ তা তাদের অলীক সৃষ্টিগুলোকে গিলে ফেলতে লাগল (৪৫) [আশ-শুআরা: ৪৫]।
ফলে জাদুকররা সিজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়ল (৪৬)। তারা বলল: ‘আমরা বিশ্বজগতের রবের প্রতি ঈমান আনলাম (৪৭)। যিনি মূসা ও হারূনের রব’
(৪৮) [আশ-শুআরা: ৪৬-৪৮]।
ফলে জাদু জাদুকরের ওপরই উল্টে গেল এবং ফিরআউনের চক্রান্ত নস্যাৎ হয়ে গেল। তখন সে জাদুকরদের হুমকি দিল: সে বলল: ‘আমি তোমাদের অনুমতি দেওয়ার আগেই কি তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয় সে তোমাদের প্রধান, যে তোমাদের জাদু শিখিয়েছে। সুতরাং শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে। আমি অবশ্যই তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলব এবং তোমাদের সকলকেই শূলে চড়াব’ (৪৯) [আশ-শুআরা: ৪৯]।
মুজিযা ও সুস্পষ্ট প্রমাণ দেখার পর জাদুকরদের অন্তরে যে ঈমান প্রোথিত হয়েছিল, তার জবাবে তারা বলল: তারা বলল: ‘আমাদের কাছে যে সকল সুস্পষ্ট প্রমাণ এসেছে তার ওপর এবং যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন তাঁর ওপর আমরা তোমাকে কখনোই প্রাধান্য দেব না। সুতরাং তুমি যা ফয়সালা করতে চাও তা-ই করো; তুমি তো কেবল এই পার্থিব জীবনেরই ফয়সালা করতে পারো’ (৭২) [তহা: ৭২]।
তারা সুস্পষ্ট প্রমাণ ও মুজিযা দেখল, ফলে রাসুলের প্রতি ঈমান আনল এবং তাঁকে সত্য বলে মেনে নিল। ফলে আখিরাতের প্রতিশ্রুতির সামনে দুনিয়া তুচ্ছ হয়ে গেল, মুমিন জাদুকরদের চোখে ফিরআউন ক্ষুদ্র হয়ে গেল এবং ঈমানের সামনে মৃত্যু সহজ হয়ে গেল।
আর রাসুলের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও মুজিযাসমূহ হলো সেই সেতু, যা পার হয়ে সাহাবীগণ কুফর ও অস্বীকার থেকে ঈমান ও ইয়াকিনের দিকে অগ্রসর হয়েছিলেন। তাঁরা এমন মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের অন্তর্ভুক্ত থাকার পর—যারা রাসুলকে জাদু, গণকগিরি, কবিতা ও মিথ্যারোপের অপবাদ দিত—তাঁরা তাঁর আদেশ পালনে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করতে লাগলেন এবং উচ্চস্বরে বলতে লাগলেন: "হে আল্লাহর রাসুল, আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোক।"
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৮)
والعلم ببينات الرسول ومعجزاته هو: العلم الذي يجب أن يأخذ منه كل مسلم ما يثبت له صدق الرسول صلى الله عليه وسلم، وأنه قد جاء بالحق من ربه، قال تعالى:
أَفَمَنْ يَعْلَمُ أَنَّما أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ الْحَقُّ كَمَنْ هُوَ أَعْمى إِنَّما يَتَذَكَّرُ أُولُوا الْأَلْبابِ (19) [الرعد: 19] .
وعلى كل مسلم أن يبلّغه أهله وأقاربه وجيرانه والناس جميعا؛ ليخرج الناس من العمى إلى الهدى.
والعلم ببينات الرسول ومعجزاته يثمر التصديق للرسول، والإيمان بالوعد والوعيد، فيثمر المحبة لله، والحرص على مرضاته، والفوز بجناته، كما يثمر الخوف من الله ومن عذاب النار.
وبهذا يتولد الدافع القوي في نفوس المؤمنين إلى فعل الطاعات واجتناب المحرمات، فيفيض الخير في المجتمع فيضا، ويغيض الشر غيضا. وتسعد البشرية بحياة مصبوغة بالفضيلة، بعيدة عن الرذيلة والجريمة.
وبينات الرسول ومعجزاته هي: العروة الوثقى التي يعتصم بها المؤمن أمام أمواج الفتن والشبهات التي لا يصمد أمامها من اكتسب إيمانه تقليدا للأباء أو مسايرة للمجتمع.
كما أنها العصمة أمام تيارات العلمانية، والثقافات المعادية للدين التي تغزو الناس بوسائل الإعلام، التي تدخل عليهم البيوت والغرف.
فكان لا بد من نشر الدواء الوافي من أمراض الشكوك ومزالق الفتن.
فرأينا أن نقدم خلاصة مفيدة لبعض بينات الرسول- صلى الله عليه وسلم ومعجزاته التي أيّده الله بها، وأقام بها الحجّة على عباده.
ولما كان رسول الله- صلى الله عليه وسلم هو رسول الله إلى الناس كافة، فقد جعل الله بينات رسالته ومعجزاته باقية متجددة مع كل عصر؛ تكفي كل أصناف البشر
রাসূলের প্রমাণাদি এবং তাঁর মুজিজাসমূহ সম্পর্কিত জ্ঞান হলো সেই জ্ঞান, যা থেকে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য গ্রহণ করা আবশ্যক যা তার নিকট রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যতা প্রমাণ করে এবং তিনি যে তাঁর রবের পক্ষ থেকে সত্য নিয়ে এসেছেন তা নিশ্চিত করে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
“যে ব্যক্তি জানে যে তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা সত্য, সে কি ঐ ব্যক্তির মত যে অন্ধ? নিশ্চয়ই কেবল জ্ঞানীরাই উপদেশ গ্রহণ করে।” (১৯) [রা'দ: ১৯]
আর প্রত্যেক মুসলিমের ওপর কর্তব্য হলো এটি তার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এবং সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া; যাতে মানুষকে অন্ধত্ব থেকে হিদায়াতের পথে বের করে আনা যায়।
রাসূলের প্রমাণাদি এবং তাঁর মুজিজাসমূহ সম্পর্কিত জ্ঞান রাসূলের প্রতি বিশ্বাস এবং আল্লাহর ওয়াদা ও শাস্তির বাণীর ওপর ঈমান আনয়নকে ফলপ্রসূ করে। ফলে এটি আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের আকাঙ্ক্ষা এবং তাঁর জান্নাত লাভের পাথেয় হয়; ঠিক যেভাবে এটি আল্লাহর প্রতি ভয় এবং জাহান্নামের আজাব থেকে ভীতি সৃষ্টি করে।
এর মাধ্যমে মুমিনদের অন্তরে আনুগত্যমূলক কাজ সম্পাদন এবং হারাম বর্জনের একটি শক্তিশালী প্রেরণা জাগ্রত হয়। ফলে সমাজে কল্যাণের জোয়ার বয়ে যায় এবং অকল্যাণ দূরীভূত হয়। আর মানবজাতি চারিত্রিক উৎকর্ষমণ্ডিত এক জীবনের মাধ্যমে সৌভাগ্য লাভ করে, যা চারিত্রিক স্খলন ও অপরাধ থেকে বহু দূরে।
রাসূলের প্রমাণাদি এবং মুজিজাসমূহ হলো সেই সুদৃঢ় বন্ধন যা মুমিনকে ফিতনা এবং সন্দেহের ঢেউয়ের সামনে দৃঢ় রাখে। সেইসব ঢেউয়ের সামনে তারা টিকে থাকতে পারে না, যারা কেবল পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুকরণ করে কিংবা সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে চলার মাধ্যমে ঈমান লাভ করেছে।
তেমনিভাবে এটি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের প্রবাহ এবং দ্বীন-বিদ্বেষী সংস্কৃতি থেকে সুরক্ষাকবচ, যা প্রচারমাধ্যমের সাহায্যে মানুষের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে এবং তাদের ঘর ও কক্ষগুলোতে ঢুকে পড়ছে।
কাজেই সন্দেহের ব্যাধি এবং ফিতনার পিচ্ছিল পথ থেকে বাঁচতে পর্যাপ্ত প্রতিষেধক প্রচার করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
এজন্য আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু প্রমাণাদি এবং তাঁর মুজিজাসমূহের একটি উপকারী সারসংক্ষেপ পেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁকে শক্তিশালী করেছেন এবং তাঁর বান্দাদের ওপর দলীল প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমস্ত মানুষের প্রতি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, তাই আল্লাহ তাঁর রিসালাতের প্রমাণাদি এবং মুজিজাসমূহকে প্রতিটি যুগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও চিরস্থায়ী করেছেন; যা সব ধরনের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৯)
على اختلاف علومهم وثقافاتهم ومداركهم.
فمن أراد البينة وجدها وشاهدها، في عصر النبي صلى الله عليه وسلم، وما بعده، وإلى يومنا هذا، وإلى ما شاء الله.
فالقرآن هو المعجزة الكبرى الباقية بين أيدينا.
معجز في فصاحته وبلاغته.
ومعجز في علومه.
وهو سجل موثوق لمعجزات الرسالة الموثّقة بأعلى درجات التوثيق التي أقر بها المؤمن والكافر.
ومعجز في أخباره. ويمكن للناس التأكد من كل أوجه إعجازه.
وقد جعلنا الكتاب خمسة فصول:الفصل الأول: قدمنا فيه للقارئ الكريم بعض البشارات التي لا تزال موجودة في كتب النصارى، واليهود، والهندوس، والمجوس. ونقلناها من مصادرها بلغتها الأصلية، ومن الكتب التي يقدّسها أهلها إلى يومنا هذا. وهذه البشارات من الشهادات التي استشهد الله عليها أهل الكتاب كما قال تعالى: وَيَقُولُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَسْتَ مُرْسَلًا قُلْ كَفى بِاللَّهِ شَهِيداً بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَمَنْ عِنْدَهُ عِلْمُ الْكِتابِ (43) .
[الرعد: 43]
وبينا في الفصل الثاني: المعجزة العلمية في القرآن والسّنّة، وتوسعنا في المعجزات العلمية القرآنية. وهذا النوع يعرفه أكابر علماء عصرنا في مجال العلوم الكونية والطبية، ويأتي هذا الإعجاز محققا لوعد الله القائل: سَنُرِيهِمْ آياتِنا فِي الْآفاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُ عَلى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ (53) [فصلت: 53] .
তাদের জ্ঞান, সংস্কৃতি ও উপলব্ধির ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও।
সুতরাং যে ব্যক্তি স্পষ্ট প্রমাণ অন্বেষণ করেছে, সে তা পেয়েছে এবং প্রত্যক্ষ করেছে; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে, তাঁর পরবর্তী সময়ে, আমাদের বর্তমান দিন পর্যন্ত এবং আল্লাহ যতদিন চান।
বস্তুত কুরআন হলো আমাদের নিকট বিদ্যমান সর্বশ্রেষ্ঠ চিরস্থায়ী অলৌকিক নিদর্শন (মুজিযা)।
এটি এর সাবলীলতা ও বাগ্মিতায় অলৌকিক।
এবং এটি এর জ্ঞান-বিজ্ঞানেও অলৌকিক।
এটি নবুওয়াতের মুজিজাসমূহের একটি নির্ভরযোগ্য দলিল, যা সর্বোচ্চ স্তরের প্রামাণিকতার সাথে সংরক্ষিত এবং মুমিন ও কাফির উভয়ই তা স্বীকার করেছে।
এটি এর সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রেও অলৌকিক। এবং মানুষ এর অলৌকিকত্বের সকল দিক সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে।
আমরা এই গ্রন্থটিকে পাঁচটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি:প্রথম অধ্যায়: এতে আমরা সম্মানিত পাঠকের সামনে এমন কিছু সুসংবাদ তুলে ধরেছি যা খ্রিস্টান, ইহুদি, হিন্দু এবং অগ্নিপূজকদের ধর্মগ্রন্থগুলোতে আজও বিদ্যমান। আমরা সেগুলো তাদের মূল ভাষার উৎস থেকে এবং সেই কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃত করেছি যেগুলোকে তাদের অনুসারীরা আজও পবিত্র বলে গণ্য করে। এই সুসংবাদসমূহ সেই সাক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর ব্যাপারে আল্লাহ আহলে কিতাবদের সাক্ষী করেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর যারা কুফরি করেছে তারা বলে, 'তুমি প্রেরিত রসূল নও।' বলো, 'আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ এবং যার কাছে কিতাবের জ্ঞান আছে, সে-ই যথেষ্ট।'" (৪৩)।
[রা'দ: ৪৩]
দ্বিতীয় অধ্যায়ে আমরা বর্ণনা করেছি: কুরআন ও সুন্নাহর বৈজ্ঞানিক মুজিযা, এবং কুরআনের বৈজ্ঞানিক মুজিজাসমূহ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। এই বিষয়টি আমাদের যুগের মহাজাগতিক ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীরা অবগত আছেন। এই অলৌকিকত্ব আল্লাহর সেই ওয়াদার বাস্তবায়নস্বরূপ যেখানে তিনি বলেছেন: "শীঘ্রই আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাবো দিগন্তসমূহে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে, যতক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, এটিই সত্য। আপনার প্রতিপালকের ব্যাপারে কি এটি যথেষ্ট নয় যে, তিনি সর্ববিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী?" (৫৩) [ফুসসিলাত: ৫৩] ।
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১০)
وأما الفصل الثالث: فقد بينا فيه معجزة التحدي بالقرآن، ومنها فصاحة القرآن وبلاغته في مفرداته وتراكيبه، التي أعجزت فصحاء العرب وبلغاءهم، فلم يجد المكابرون والجاحدون منهم إلا أن يقولوا عنه: سِحْرٌ يُؤْثَرُ، لأن القرآن كلام الله الذي يحمل العلم الإلهي وينم عن العظمة والصفات الإلهية التي لا تحدّ بحدّ.
ومن معجزات القرآن تحدّيه للإنس والجن أن يأتوا بمثله، وأعلن القرآن للثقلين من الجن والإنس أنهم لن يقدروا على المجيء بمثل كتاب الله كما قال تعالى: قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هذَا الْقُرْآنِ لا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيراً (88) [الإسراء: 88] ، بل تحداهم أن يأتوا بعشر سور مثله وتحداهم أن يأتوا بسورة من مثله، كما ذكرنا علامات واضحة في القرآن تدل قارئه وسامعه أنه من عند الله عز وجل واستحالة أن يكون من عند غيره.
وأما الفصل الرابع: فقد جمعنا فيه الكثير من الخوارق المعجزة التي أيّد الله بها رسوله في كل مراحل الدعوة، مثل انشقاق القمر، ونزول الملائكة للقتال مع المسلمين، وتكثير الطعام القليل ليكفي جيش المسلمين في عدة غزوات، ونبع الماء من بين أصابعه حتى يفيض على العطشى من جيش الصحابة الذي قد يصل إلى الآلاف، وغيرها من الخوارق الشاهدة بتأييد الله لرسوله صلى الله عليه وسلم.
وسجل بعضها القرآن كما في سورة الأنفال مذكرا بما أنزل الله على رسوله من الملائكة، والمطر، والنعاس، الذي نزل على المؤمنين أمنة. قال تعالى:
… إِنْ كُنْتُمْ آمَنْتُمْ بِاللَّهِ وَما أَنْزَلْنا عَلى عَبْدِنا يَوْمَ الْفُرْقانِ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعانِ وَاللَّهُ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ [الأنفال: 41] .
واستعرضنا الخوارق التي سجلت في السّنّة، وبيّنا ما امتازت به السّنّة من
আর তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমরা কুরআনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ প্রদানের মুজিজা ব্যাখ্যা করেছি। এর মধ্যে রয়েছে কুরআনের শব্দাবলি ও বাক্যগঠনের প্রাঞ্জলতা ও অলঙ্কারশাস্ত্র, যা আরবের বাকপটু ও অলঙ্কারবিদদের অক্ষম করে দিয়েছিল। ফলে তাদের মধ্যে যারা দাম্ভিক ও সত্য অস্বীকারকারী ছিল, তারা একে ‘পরম্পরাগত জাদু’ বলা ছাড়া আর কোনো পথ খুঁজে পায়নি। কারণ কুরআন হলো আল্লাহর বাণী, যা ঐশী জ্ঞান বহন করে এবং এমন এক মহানুভবতা ও খোদায়ী গুণাবলির (সিফাত) পরিচয় দেয় যা কোনো সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়।
কুরআনের মুজিজাসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো মানুষ ও জিন জাতির প্রতি এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ। কুরআন জিন ও মানুষের জন্য ঘোষণা করেছে যে, তারা আল্লাহর কিতাবের অনুরূপ কিছু আনতে কখনোই সক্ষম হবে না; যেমন মহান আল্লাহ বলেন: বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ কিছু আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয় (৮৮) [আল-ইসরা: ৮৮]। বরং তিনি তাদের এর অনুরূপ দশটি সূরা এবং এমনকি একটি সূরা নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জও দিয়েছেন। যেমনটি আমরা কুরআনে এমন কিছু স্পষ্ট নিদর্শনের কথা উল্লেখ করেছি যা পাঠক ও শ্রোতার কাছে প্রমাণ করে যে এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হওয়া অসম্ভব।
আর চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এতে আমরা এমন অনেক অলৌকিক মুজিজা সংগ্রহ করেছি যার মাধ্যমে আল্লাহ দাওয়াতের প্রতিটি পর্যায়ে তাঁর রাসূলকে সাহায্য করেছেন। যেমন: চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়া, মুসলমানদের পক্ষে যুদ্ধের জন্য ফেরেশতাদের অবতরণ করা, বিভিন্ন যুদ্ধে মুসলিম সেনাবাহিনীর জন্য অল্প খাবার বৃদ্ধি করা যাতে তা সকলের জন্য যথেষ্ট হয়, এবং তাঁর আঙুলসমূহের মাঝ থেকে পানির ঝরণা প্রবাহিত হওয়া যাতে সাহাবায়ে কিরামের তৃষ্ণার্ত বাহিনী তৃপ্ত হতে পারে যাদের সংখ্যা হাজারে পৌঁছে যেত। এছাড়াও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি আল্লাহর সাহায্যের সাক্ষীস্বরূপ আরও অনেক অলৌকিক ঘটনা এতে বর্ণিত হয়েছে।
কুরআন এগুলোর কিছু বিষয় নথিভুক্ত করেছে, যেমন সূরা আল-আনফালে মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলের ওপর ফেরেশতা, বৃষ্টি এবং তন্দ্রা অবতীর্ণ করার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, যা মুমিনদের ওপর প্রশান্তিস্বরূপ অবতীর্ণ হয়েছিল। মহান আল্লাহ বলেন:
… যদি তোমরা আল্লাহর ওপর এবং সেই বিষয়ের ওপর ঈমান আনো যা আমি আমার বান্দার ওপর ফয়সালার দিনে অবতীর্ণ করেছিলাম, যেদিন দুই দল পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিল। আর আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান [আল-আনফাল: ৪১]।
এবং আমরা সুন্নাহতে বর্ণিত অলৌকিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেছি এবং সুন্নাহ যে বৈশিষ্ট্যে অনন্য তা বর্ণনা করেছি...
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১১)
الحفظ والتوثيق.
وجعلنا الفصل الأخير مذكرا بما بشّرنا به الرسول صلى الله عليه وسلم من نعيم أبدي، يفوز به أهل الإيمان، وعذاب مقيم يحيط بأهل الكفر، سائلين المولى أن ينفعنا والمسلمين بما قدمنا.
كما أننا ننادي كل مؤمن غيور أن يساهم معنا في نشر حقائق الإيمان، وتذكير المسلمين بها، كما قال تعالى: وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ (55) [الذاريات: 55] وكما قال تعالى: قُلْ هذِهِ سَبِيلِي أَدْعُوا إِلَى اللَّهِ عَلى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي [يوسف: 108] . فمن كان من أتباع محمد صلى الله عليه وسلم، فعليه أن يساهم في الدعوة إلى الله، كما قال عليه الصلاة والسلام" بلّغوا عني ولو آية" «1» .
فعلى الأب أن يبلغ أبناءه.
وعلى الولد أن يبلغ أهله.
وعلى الأستاذ أن يبلغ طلابه.
وعلى الشيخ أن يبلغ رواده.
وعلى القائد أن يبلغ جنده.
وعلى الزعيم أن يبلغ أتباعه.
وعلى المسلمين أن يبلغ بعضهم بعضا، وعليهم أن يبلغوا سائر الأمم.
فإذا علم الناس بينات الرسول ومعجزاته، علموا أنه الرسول الصادق، فاتبعوه، وسلكوا طريق الفلاح في الدنيا والآخرة.
وننادي أصحاب المال أن يبذلوا من أموالهم.
وأن يساهم أصحاب الجاه بجاههم.
--------------------------------------------
সংরক্ষণ ও প্রামাণ্যকরণ।
এবং আমরা শেষ অধ্যায়টিকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের যে চিরন্তন নিয়ামতের সুসংবাদ দিয়েছেন—যা ঈমানদারগণ লাভ করবে—এবং কুফুরীর অনুসারীদের ঘিরে রাখা চিরস্থায়ী আযাবের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করেছি; আমরা মহান রবের নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদের উপস্থাপিত এই কাজ দ্বারা আমাদের এবং মুসলিমদের উপকৃত করেন।
সেই সাথে আমরা প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মুমিনকে আহ্বান জানাই যেন তারা ঈমানের সত্যসমূহ প্রচারে এবং মুসলিমদেরকে তা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সাথে অবদান রাখে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর আপনি উপদেশ দিতে থাকুন, কারণ উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে" (৫৫) [আদ-ধারিয়াত: ৫৫] এবং যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "বলুন, এটিই আমার পথ; আমি ও আমার অনুসারীগণ আল্লাহর দিকে আহ্বান জানাই জাগ্রত জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টির সাথে" [ইউসুফ: ১০৮]। সুতরাং যে ব্যক্তি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারী হবে, তাকে অবশ্যই আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার কাজে অংশগ্রহণ করতে হবে, যেমনটি তিনি (সা.) বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদি তা একটি আয়াতও হয়" «১»।
সুতরাং পিতার উচিত তার সন্তানদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
এবং সন্তানের উচিত তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
এবং শিক্ষকের উচিত তার ছাত্রদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
এবং শায়খের উচিত তার কাছে আগমনকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
এবং নেতার উচিত তার সৈন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
এবং প্রধানের উচিত তার অনুসারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
এবং মুসলিমদের উচিত একে অন্যের নিকট পৌঁছে দেওয়া, আর তাদের কর্তব্য হলো অন্যান্য সকল জাতির কাছে তা পৌঁছে দেওয়া।
যখন মানুষ রসূলের সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও মুজিযাসমূহ সম্পর্কে জানবে, তখন তারা বুঝতে পারবে যে তিনিই সত্য রসূল; ফলে তারা তাঁর অনুসরণ করবে এবং দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতার পথে চলবে।
আমরা সম্পদশালীদের আহ্বান জানাই যেন তারা তাদের সম্পদ ব্যয় করে।
এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যেন তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি দিয়ে সহযোগিতা করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১২)
وأصحاب العلم بعلمهم.
وأصحاب الجهد بجهدهم.
وأن تتشابك أيديهم بالتعاون لنشر حقائق الإيمان الذي جعله الله أفضل الأعمال كما قال سبحانه: أَجَعَلْتُمْ سِقايَةَ الْحاجِّ وَعِمارَةَ الْمَسْجِدِ الْحَرامِ كَمَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَجاهَدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ لا يَسْتَوُونَ عِنْدَ اللَّهِ وَاللَّهُ لا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ
(19) [التوبة: 19] .
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين
تأليف فضيلة الشّيخ عبد المجيد الزندانيّ غفر الله له ولوالديه ولسائر المسلمين
এবং ইলমের অধিকারীরা তাদের ইলমের দ্বারা।
এবং প্রচেষ্টার অধিকারীরা তাদের প্রচেষ্টার দ্বারা।
এবং ঈমানের সত্যসমূহ প্রচারের লক্ষে সহযোগিতার মাধ্যমে যেন তাদের হাতগুলো একে অপরের সাথে যুক্ত হয়, যে ঈমানকে আল্লাহ সর্বোত্তম আমল হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন; যেমনটি তিনি সুবহানাহু বলেছেন: "তোমরা কি হাজীদের পানি পান করানো এবং মসজিদুল হারাম আবাদ করাকে সেই ব্যক্তির সমতুল্য মনে করেছ যে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে? তারা আল্লাহর নিকট সমান নয় এবং আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না।"
(১৯) [তাওবাহ: ১৯]।
এবং আমাদের শেষ কথা হলো যে, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
রচনা: ফযীলাতুশ শায়খ আব্দুল মাজিদ আল-যিন্দানি, আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতা-মাতাকে এবং সমস্ত মুসলিমকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الفصل الأول وَإِنَّهُ لَفِي زُبُرِ الْأَوَّلِينَ البشارات في الكتب السابقة
প্রথম পরিচ্ছেদ: এবং নিশ্চয়ই তা পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহে বিদ্যমান; পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে বর্ণিত সুসংবাদসমূহ।
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الفصل الأول البشارات
تمهيد:شاء الله سبحانه أن ينقذ البشرية في الحقبة الأخيرة من تاريخها- على حين فترة من الرسل- برسالة خاتمة لجميع الرسالات السابقة صالحة لكل زمان ومكان إلى قيام الساعة، فاختار سبحانه لهذه المهمّة عبده ورسوله محمدا صلى الله عليه وسلم النبي العربي الأمي، وأهله لحمل هذه الرسالة، وجعل له قبل مجيئه وظهوره إلى الدنيا مقدمات وبشارات تنبئ وتبشر بظهوره، وأخذ الله سبحانه الميثاق على جميع الأنبياء بالتصديق بمحمد صلى الله عليه وسلم إذا جاءهم، قال سبحانه: وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثاقَ النَّبِيِّينَ لَما آتَيْتُكُمْ مِنْ كِتابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جاءَكُمْ رَسُولٌ مُصَدِّقٌ لِما مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنْصُرُنَّهُ قالَ أَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلى ذلِكُمْ إِصْرِي قالُوا أَقْرَرْنا قالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُمْ مِنَ الشَّاهِدِينَ (81) [آل عمران: 81] .
قال قتادة: هذا ميثاق أخذه الله على النبيين أن يصدّق بعضهم بعضا، وأن يبلغوا كتاب الله ورسالاته، فبلغت الأنبياء كتاب الله ورسالاته إلى قومهم، وأخذ عليهم- فيما بلغهم رسلهم- أن يؤمنوا بمحمد صلى الله عليه وسلم ويصدقوه وينصروه «1» .
وأشار- سبحانه- إلى القرآن العظيم في كتب الأنبياء السابقين كما قال تعالى: وَإِنَّهُ لَفِي زُبُرِ الْأَوَّلِينَ (196) [الشعراء: 196] أي: أن ذكر هذا القرآن موجود ومنوّه به في كتب الأنبياء السابقين، وهذا الكتاب هو الرسالة التي حملها النبي الخاتم إلى البشرية.
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: সুসংবাদসমূহ ভূমিকা:মহান আল্লাহ ইচ্ছা করলেন যে, তিনি মানবজাতির ইতিহাসের সর্বশেষ যুগে—দীর্ঘকাল রাসূলগণের আগমন বন্ধ থাকার পর—পূর্ববর্তী সকল আসমানী বার্তার সমাপ্তিকারী এক বার্তার মাধ্যমে মানবতাকে রক্ষা করবেন, যা কিয়ামত পর্যন্ত সকল সময় ও স্থানের জন্য উপযোগী। সুতরাং তিনি এই মহান দায়িত্বের জন্য তাঁর বান্দা ও রাসূল নিরক্ষর আরব নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মনোনীত করলেন এবং তাঁকে এই রিসালাত বহন করার যোগ্য করে তুললেন। তাঁর পৃথিবীতে আগমন ও আবির্ভাবের পূর্বে তিনি এমন কিছু পটভূমি ও সুসংবাদ নির্ধারণ করেছিলেন যা তাঁর আবির্ভাবের সংবাদ দেয় ও সুসংবাদ প্রদান করে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সমস্ত নবীদের কাছ থেকে এই মর্মে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তাঁদের কাছে আসবেন, তখন তাঁরা যেন তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করেন। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন: "আর যখন আল্লাহ নবীগণের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যে, আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি, এরপর যখন তোমাদের কাছে থাকা বিষয়বস্তুর সত্যায়নকারী হিসেবে একজন রাসূল আসবেন, তখন তোমরা অবশ্যই তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে। তিনি বললেন, তোমরা কি স্বীকার করলে এবং এর ওপর আমার দেওয়া প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করলে? তারা বলল, আমরা স্বীকার করলাম। তিনি বললেন, তবে তোমরা সাক্ষী থাকো এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী রইলাম।" (আলে ইমরান: ৮১)।
কাতাদাহ বলেন: "এটি এমন এক অঙ্গীকার যা আল্লাহ নবীদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলেন যে, তাঁরা একে অপরকে সত্যায়ন করবেন এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর বাণীসমূহ পৌঁছে দেবেন। অতঃপর নবীগণ আল্লাহর কিতাব ও তাঁর বাণীসমূহ তাঁদের কওমের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং তাঁদের কাছে রাসূলগণ যা পৌঁছে দিয়েছিলেন তার মধ্যে এই অঙ্গীকারও ছিল যে, তাঁরা যেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান আনেন, তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করেন এবং তাঁকে সাহায্য করেন।" (১)।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পূর্ববর্তী নবীদের কিতাবসমূহেও মহান কুরআনের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যেমনটি তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই এর উল্লেখ পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে রয়েছে।" (আশ-শুয়ারা: ১৯৬)। অর্থাৎ: এই কুরআনের আলোচনা পূর্ববর্তী নবীদের কিতাবসমূহে বিদ্যমান এবং গুরুত্বের সাথে উল্লিখিত হয়েছে। আর এই কিতাবই হলো সেই জীবনবিধান যা সর্বশেষ নবী মানবজাতির জন্য বহন করে এনেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ومن ثمّ تناقلت أمم الأرض عن طريق الأحبار والرهبان والكهان خبر النبي الخاتم الذي بشّرت به النبوات السابقة، ولما انقطعت الرسالة بعد عيسى عليه السلام فترة من الزمن «1» ، زاد تلهف أمم الأرض إلى النّبيّ الخاتم، وكان عيسى عليه السلام هو آخر من بشر بمحمد صلى الله عليه وسلم من الأنبياء كما قال تعالى عنه في خطابه لبني إسرائيل:
يا بَنِي إِسْرائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ مُصَدِّقاً لِما بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْراةِ وَمُبَشِّراً بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ [الصف: 6] وبدأ أهل الكتب وغيرهم كالهندوس والمجوس يتوقعون قرب ظهوره بناء على ما يجدونه في كتبهم وأخبار أنبيائهم من الوعد بمقدمه والإخبار بزمان ظهوره ومكانه.
وقد سجّل التاريخ في هذه الفترة مقدمات وحوادث تدل على قرب مقدمه وظهوره صلى الله عليه وسلم، منها ما كان قبل مولده، ومنها ما كان عند مولده، ومنها ما كان قبل بعثته.
فأمّا ما كان قبل مولده فمنه تناقل الأحبار والرهبان لذكر النبي الخاتم، بل كان اليهود في بلاد العرب عندما يقاتلون قبيلة من العرب يخوفونهم بقرب مبعث نبي يقاتلونهم معه فكانوا يقولون سيبعث نبي آخر الزمان نقتلكم به قتل عاد وإرم وكانوا يدعون بين يدي قتالهم مع العرب بقولهم: " اللهم انصرنا بالنبي المبعوث في آخر الزمان". فلما ظهر النّبيّ من غير بني إسرائيل كفروا به كما قال تعالى: وَلَمَّا جاءَهُمْ كِتابٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُصَدِّقٌ لِما مَعَهُمْ وَكانُوا مِنْ قَبْلُ يَسْتَفْتِحُونَ عَلَى الَّذِينَ كَفَرُوا فَلَمَّا جاءَهُمْ ما عَرَفُوا كَفَرُوا بِهِ فَلَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْكافِرِينَ (89) [البقرة: 89] .
ومن الإرهاصات على قرب مقدم النّبيّ أن الراهب" عيصا" الذي ترك بلاد
--------------------------------------------
এরপর পৃথিবীর জাতিসমূহ পণ্ডিত, সন্ন্যাসী ও পুরোহিতদের মাধ্যমে শেষ নবীর সংবাদ আদান-প্রদান করতে থাকে, যাঁর সুসংবাদ পূর্ববর্তী নবুওয়াতগুলোতে দেওয়া হয়েছিল। ঈসা আলাইহিস সালামের পর যখন দীর্ঘ সময় ওহী বা রিসালাত বন্ধ ছিল (১), তখন পৃথিবীর জাতিসমূহের মধ্যে শেষ নবীর প্রতি আকাঙ্ক্ষা আরও বৃদ্ধি পায়। বনী ইসরাঈলের প্রতি তাঁর ভাষণে আল্লাহ তাআলা যেমনটি বর্ণনা করেছেন, আম্বিয়াদের মধ্যে ঈসা আলাইহিস সালামই ছিলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুসংবাদ দানকারী সর্বশেষ নবী:
"হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং আমার পরে আহমদ নামক একজন রাসূলের আগমনের সুসংবাদদাতা।" [আস-সাফ: ৬] এবং আহলে কিতাব ও অন্যরা যেমন হিন্দু ও অগ্নিপূজকরা তাদের কিতাবে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এবং তাদের নবীদের বর্ণিত তাঁর আগমনের প্রতিশ্রুতি, আবির্ভাবের সময় ও স্থানের সংবাদের ভিত্তিতে তাঁর আবির্ভাবের প্রতীক্ষা করতে শুরু করে।
ইতিহাস এই সময়ে এমন কিছু উপক্রমণিকা ও ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছে যা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমন ও আবির্ভাবের নিকটবর্তিতার ইঙ্গিত দেয়; যার কিছু তাঁর জন্মের পূর্বে, কিছু তাঁর জন্মের সময় এবং কিছু তাঁর নবুওয়াত পূর্ব সময়ে সংঘটিত হয়েছিল।
তাঁর জন্মের পূর্বে যা ঘটেছিল তার মধ্যে অন্যতম হলো পণ্ডিত ও সন্ন্যাসীদের মাঝে শেষ নবীর আলোচনা প্রচলিত থাকা। এমনকি আরব ভূখণ্ডের ইহুদিরা যখন কোনো আরব গোত্রের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতো, তখন তারা শীঘ্রই একজন নবীর আবির্ভাব হবে বলে তাদের ভয় দেখাত, যাঁর সাথে মিলে তারা যুদ্ধ করবে। তারা বলত, শেষ যামানার একজন নবী প্রেরিত হবেন, যাঁর সাথে মিলে আমরা তোমাদের আদ ও ইরাম জাতির মতো ধ্বংস করে দেব। তারা আরবদের সাথে যুদ্ধের পূর্বে এভাবে দুআ করত: "হে আল্লাহ! শেষ যামানায় প্রেরিত নবীর মাধ্যমে আমাদের বিজয় দান করুন।" কিন্তু যখন নবী বনী ইসরাঈল ব্যতীত অন্য বংশে আবির্ভূত হলেন, তখন তারা তাঁকে অস্বীকার করল। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: আর যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব আসল যা তাদের কাছে থাকা বিষয়ের সত্যায়নকারী—অথচ তারা এর আগে কাফিরদের বিরুদ্ধে বিজয় প্রার্থনা করত—অতঃপর যখন তাদের কাছে সেই পরিচিত বিষয়টি আসল, তখন তারা তাকে অস্বীকার করল। সুতরাং কাফিরদের ওপর আল্লাহর লানত। (৮৯) [আল-বাকারা: ৮৯]।
নবীর আগমনের নিকটবর্তিতার অন্যতম নিদর্শন বা 'ইরহাসাত' ছিল যে, সন্ন্যাসী "ঈসা", যিনি দেশ ত্যাগ করেছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الشام وقدم إلى قرب مكة أخبر أهل مكة أنه قد حان زمن النبي الذي تدين له العرب والعجم، والذي سيكون من أهل مكة «1» .
وإنما كان أهل الكتاب يعرفون ذلك من كتبهم وأخبار أنبيائهم كما قال تعالى: الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوباً عِنْدَهُمْ فِي التَّوْراةِ وَالْإِنْجِيلِ [الأعراف: 157] .
ومن الإرهاصات على مقدمه في عام ولادته أن الله سبحانه أهلك نصارى الحبشة القادمين من اليمن لهدم الكعبة المشرفة التي ستكون قبلة للرسول القادم وأمّته، مع أن قريشا كانت قد أعلنت تخليها عن البيت لعجزها عن الدفاع عنه، حيث قال عبد المطلب: للبيت رب يحميه ومعلوم أن هذا الإهلاك لم يكن لأجل المشركين، وإنما كان ذلك حماية لقبلة الرسول القادم وأمته. قال تعالى:
أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحابِ الْفِيلِ (1) أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِي تَضْلِيلٍ (2) وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْراً أَبابِيلَ (3) تَرْمِيهِمْ بِحِجارَةٍ مِنْ سِجِّيلٍ (4) فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَأْكُولٍ (5) [الفيل: 1- 5] .
ومن إرهاصات مقدمه إلهام الله لجدّه عبد المطلب أن يختار له الاسم الفريد بين قومه" محمد" والذي تطابق مع ما جاء في البشارات السابقة، دون علم من جده أو أحد من أهله بذلك.
ومن ذلك خاتم النبوة الذي كان علامة مميزة على ظهره الشريف تدل على نبوته كما ذكر ذلك في الكتب السابقة «2» ، وقد روي أن أحد أحبار اليهود
--------------------------------------------
সিরিয়া থেকে মক্কার নিকটবর্তী স্থানে আসার পর তিনি মক্কাবাসীদের সংবাদ দিলেন যে, সেই নবীর সময় সন্নিকট হয়েছে যার আনুগত্য করবে আরব ও আজম (অনারব), এবং যিনি হবেন মক্কাবাসীদের মধ্য থেকেই।
আর আহলে কিতাবগণ তাদের কিতাব ও তাদের নবীদের সংবাদ থেকে তা জানতেন, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: যারা অনুসরণ করে সেই রাসূলের, যিনি উম্মী নবী, যার উল্লেখ তারা তাদের কাছে থাকা তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায় [আল-আরাফ: ১৫৭]।
তাঁর আগমনের অন্যতম পূর্বাভাস ছিল যে, তাঁর জন্মের বছরে মহান আল্লাহ সেই ইয়েমেন থেকে আসা আবিসিনিয়ার খ্রিস্টানদের ধ্বংস করে দিয়েছিলেন যারা পবিত্র কাবা ধ্বংস করতে এসেছিল, যা হতে যাচ্ছিল আগত রাসূল এবং তাঁর উম্মতের কিবলা। অথচ কুরাইশরা কাবা রক্ষার সামর্থ্য না থাকায় তা ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল, যেখানে আব্দুল মুত্তালিব বলেছিলেন: এই ঘরের একজন রব রয়েছেন যিনি এটি রক্ষা করবেন। এটি সুবিদিত যে, এই ধ্বংস কেবল মুশরিকদের জন্য ছিল না, বরং তা ছিল আগত রাসূল ও তাঁর উম্মতের কিবলার সুরক্ষার জন্য। আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
আপনি কি দেখেননি আপনার রব হাতিওয়ালাদের সাথে কী করেছিলেন? (১) তিনি কি তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেননি? (২) তিনি তাদের বিরুদ্ধে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠিয়েছিলেন, (৩) যারা তাদের ওপর কঙ্করের পাথর নিক্ষেপ করছিল, (৪) অতঃপর তিনি তাদের চর্বিত তৃণের মতো করে দিলেন। (৫) [আল-ফীল: ১-৫]।
তাঁর আগমনের আরেকটি পূর্বাভাস হলো আল্লাহ তাআলা তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিবকে তাঁর কওমের মধ্যে এক অনন্য নাম ‘মুহাম্মদ’ নির্বাচন করার অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন, যা পূর্ববর্তী সুসংবাদসমূহের সাথে মিলে গিয়েছিল, যদিও তাঁর দাদা বা তাঁর পরিবারের কেউ সে সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।
এর মধ্যে অন্যতম ছিল নবুওয়াতের মোহর যা তাঁর সম্মানিত পিঠের ওপর একটি স্বতন্ত্র চিহ্ন ছিল এবং তাঁর নবুওয়াতের প্রমাণ বহন করত, যেমনটি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে। বর্ণিত আছে যে, ইহুদি পণ্ডিতদের একজন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أغمي عليه عندما رأى علامة خاتم النبوة على مولود في مكة من غير بني إسرائيل «1» ؛ لأنه وقومه اليهود كانوا يتمنون أن يكون من بني إسرائيل.
ومن الإرهاصات في أول طفولته البركة التي حلت في بيت مرضعته حليمة السعدية حيث كانت أنعامهم تروح شباعا ممتلئة باللبن الكثير، بينما كانت تلك البلاد مجدبة والناس يشكون جوع الأنعام «2» .
ومن الإرهاصات حادثة شق الصدر، وهو صغير أخبر أنس رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أتاه جبريل وهو يلعب مع الغلمان فأخذه فصرعه فشق عن قلبه واستخرج القلب ثم شق القلب، فاستخرج منه علقة فقال: هذا حظ الشيطان منك ثم غسله في طست من ذهب بماء زمزم ثم لأمه فأعاده مكانه وجعل الغلمان يسعون إلى أمه [أي مرضعته] فقالوا: إن محمدا قد قتل!! فجاؤه وهو منتقع اللون، قال أنس: فلقد كنت أرى أثر المخيط في صدره «3» .
حفظه من الرذائل والمنكرات:مع أنه شاب عاش في بيئة جاهلية وبين جاهليين، لم يذكر عنه شيء من الرذائل، ولو عرف شيء من ذلك لعيب به، لا سيما مع حرصهم الشديد على إلصاق التهم- الكاذبة- به بعد نبوته.
ومع ذلك عاش محفوظا من الرذائل طوال عمره. وقد قال سبحانه: أَمْ لَمْ يَعْرِفُوا رَسُولَهُمْ فَهُمْ لَهُ مُنْكِرُونَ (69) [المؤمنون: 69] .
وقال- سبحانه- مرشدا رسوله أن يقول لهم:
… فَقَدْ لَبِثْتُ فِيكُمْ عُمُراً مِنْ قَبْلِهِ أَفَلا تَعْقِلُونَ [يونس: 16] .
--------------------------------------------
মক্কায় বনী ইসরাঈল বহির্ভূত এক নবজাতকের দেহে নবুওয়াতের মোহরের চিহ্ন দেখে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছিলেন; কারণ তিনি এবং তাঁর সম্প্রদায় ইয়াহূদীরা আশা করেছিলেন যে, তিনি বনী ইসরাঈল থেকে হবেন।
তাঁর শৈশবের অলৌকিক ঘটনাসম্মূহের (ইরহাসাত) অন্তর্ভুক্ত হলো সেই বরকত যা তাঁর দুধমাতা হালিমা আস-সা'দীয়ার ঘরে অবতীর্ণ হয়েছিল, যখন তাদের গবাদি পশুগুলো পেটভরা অবস্থায় প্রচুর দুধে পরিপূর্ণ হয়ে ফিরে আসত, অথচ সেই ভূখণ্ড ছিল অনাবৃষ্টির কবলে এবং মানুষজন গবাদি পশুর ক্ষুধা নিয়ে অভিযোগ করত।
অলৌকিক নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো বক্ষ বিদীর্ণ করার (শাক্কুস সাদর) ঘটনা; তিনি যখন শিশু ছিলেন, আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বালকদের সাথে খেলা করছিলেন, এমন সময় জিবরাঈল তাঁর নিকট আসলেন। অতঃপর তিনি তাঁকে ধরলেন এবং শুইয়ে দিয়ে তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করলেন এবং তাঁর হৃৎপিণ্ড বের করলেন। এরপর হৃৎপিণ্ডটি বিদীর্ণ করে তা থেকে একটি রক্তপিণ্ড বের করলেন এবং বললেন, "এটি তোমার মধ্যে শয়তানের অংশ।" এরপর তিনি একটি স্বর্ণের পাত্রে যমযমের পানি দিয়ে তা ধৌত করলেন, অতঃপর তা জোড়া লাগিয়ে স্বস্থানে ফিরিয়ে দিলেন। বালকরা দৌড়ে তাঁর মায়ের (অর্থাৎ দুধমাতা) কাছে গিয়ে বলল, "মুহাম্মাদকে মেরে ফেলা হয়েছে!" তারা তাঁর কাছে এসে দেখল তাঁর গায়ের রঙ বিবর্ণ হয়ে গেছে। আনাস বলেন, "আমি তাঁর বুকে সেলাইয়ের চিহ্ন দেখতে পেতাম।"
অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে তাঁর সুরক্ষা:যদিও তিনি জাহেলী পরিবেশ ও জাহেলী লোকদের মধ্যে একজন যুবক হিসেবে জীবনযাপন করেছেন, তবুও তাঁর ব্যাপারে কোনো অশ্লীলতার কথা উল্লেখ করা হয়নি। যদি এর কোনো কিছু জানা থাকত, তবে অবশ্যই তা দিয়ে তাঁর নিন্দা করা হতো, বিশেষ করে তাঁর নবুওয়াত লাভের পর তাঁর প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করার ব্যাপারে তাদের প্রবল আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও।
তা সত্ত্বেও তিনি সারা জীবন অশ্লীলতা থেকে সুরক্ষিত ছিলেন। মহান আল্লাহ বলেন: নাকি তারা তাদের রাসূলকে চিনতে পারেনি যে কারণে তারা তাঁকে অস্বীকার করছে? (৬৯) [আল-মুমিনুন: ৬৯]।
মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলকে নির্দেশ দিয়ে তাদের বলতে বলেছেন: … আমি তো এর আগে তোমাদের মাঝে জীবনের দীর্ঘ একটা সময় অতিবাহিত করেছি। তবে কি তোমরা বুঝতে পারছ না? [ইউনূস: ১৬] ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وفي خلال هذه الفترة عرف قومه صدقه ونزاهته وأمانته وكريم أخلاقه حتى عرف بينهم بالصادق الأمين، وأمّنوه على ودائعهم وأماناتهم واستمر ذلك منهم حتى أثناء خصومتهم له بعد النبوة، فهل يعقل ممن هذه صفاته أن يصدق الناس ويكذب على الله، ويحفظ أمانات الناس ويخون أمانة الله؟.
ومن الإرهاصات أن قريشا كانت تدعوه بالأمين.
تسميته صلى الله عليه وسلم بالأمين:فقد اختصمت قريش من يرفع الحجر الأسود عندما أعادوا بناء الكعبة، فحكّموا بينهم أول داخل، فدخل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا: قد جاء الأمين" «1» .
ومن حفظ الله له أنه هم أن يستمع للغناء في سمر مع أهل مكة في ليلتين فعصمه الله منهما، بأن ألقى عليه النوم حتى أصبح «2» .
ومن مقدمات بعثته أن حجرا كان يسلّم عليه:قال النبي صلى الله عليه وسلم: «إني لأعرف حجرا بمكة كان يسلم عليّ قبل أن أبعث إني لأعرفه الآن» «3» .
ومن مقدمات بعثته الرؤيا الصالحة (الصادقة) وتحبيب التعبد إليه:قالت عائشة رضي الله عنها: أول ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا الصالحة، فكان لا يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح ثم حبب إليه الخلاء، وكان يخلو بغار حراء، فيتحنث فيه" وهو التعبد" الليالي ذوات العدد قبل أن ينزع إلى أهله، ويتزود لذلك، ثم يرجع إلى خديجة، فيتزود لمثلها حتى جاءه الحق (الوحي) ،
--------------------------------------------
এই সময়কালে তাঁর কওম (সম্প্রদায়) তাঁর সততা, স্বচ্ছতা, বিশ্বস্ততা এবং উন্নত চরিত্রের কথা জানত, এমনকি তিনি তাদের মাঝে 'আস-সাদিক আল-আমিন' (সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত) হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তারা তাঁর কাছে তাদের গচ্ছিত সম্পদ ও আমানত জমা রাখত এবং নবুওয়াত লাভের পর তাঁর সাথে চরম শত্রুতার সময়ও তাদের এই ধারা অব্যাহত ছিল। সুতরাং যাঁর গুণাবলি এমন, তাঁর পক্ষে কি এটি বিবেকগ্রাহ্য যে তিনি মানুষের সাথে সত্য বলবেন আর আল্লাহর নামে মিথ্যা রচনা করবেন, এবং মানুষের আমানত রক্ষা করবেন আর আল্লাহর আমানতের খেয়ানত করবেন?
নবুওয়াত-পূর্ব অলৌকিক নিদর্শনসমূহের (ইরহাসাত) মধ্যে একটি হলো এই যে, কুরাইশরা তাঁকে 'আল-আমিন' (বিশ্বস্ত) বলে ডাকত।
তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) 'আল-আমিন' হিসেবে নামকরণ:যখন কুরাইশরা পুনরায় কাবা ঘর নির্মাণ করল, তখন হাজরে আসওয়াদ কে স্থাপন করবে তা নিয়ে তারা বিবাদে লিপ্ত হলো। তখন তারা সিদ্ধান্ত নিল যে, তাদের মাঝে প্রথম যে ব্যক্তি প্রবেশ করবে তাকেই তারা বিচারক মানবে। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রবেশ করলেন এবং তারা বলল: "এই তো আল-আমিন (বিশ্বস্ত ব্যক্তি) এসেছেন" [১]।
আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর সুরক্ষার একটি নিদর্শন হলো এই যে, তিনি দুই রাতে মক্কার লোকদের সাথে নৈশ আড্ডায় গান শোনার ইচ্ছা করেছিলেন, কিন্তু আল্লাহ তাঁকে তা থেকে রক্ষা করেন। আল্লাহ তাঁর ওপর ঘুম চাপিয়ে দেন এবং তিনি সকাল হওয়া পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকেন [২]।
নবুওয়াত লাভের অন্যতম ভূমিকা (পূর্বলক্ষণ) ছিল পাথর কর্তৃক তাঁকে সালাম দেওয়া:নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি মক্কার এমন একটি পাথর চিনি যা আমার নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে আমাকে সালাম দিত; আমি এখনো সেটি চিনতে পারি" [৩]।
নবুওয়াত প্রাপ্তির প্রাক-নিদর্শনসমূহের মধ্যে ছিল পুণ্যময় (সত্য) স্বপ্ন এবং নির্জনে ইবাদতকে তাঁর কাছে প্রিয় করে তোলা:আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে ওহী আসার সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে পুণ্যময় স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন, তা প্রভাতের শুভ্র আভার মতো প্রকাশিত হতো। এরপর তাঁর কাছে নির্জনতা প্রিয় করে তোলা হলো। তিনি হেরা গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন এবং সেখানে পরিবারে ফিরে আসার আগে নির্দিষ্ট সংখ্যক রাত 'তাহান্নুছ' অর্থাৎ ইবাদত করতেন। তিনি এর জন্য পাথেয় সঙ্গে নিতেন, এরপর পুনরায় খাদীজার কাছে ফিরে আসতেন এবং অনুরূপ সময়ের জন্য আবার পাথেয় নিতেন। এভাবেই তাঁর কাছে মহাসত্য (ওহী) আসলো,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২০)
وهو في غار حراء «1» .
الذين أسلموا بسبب البشارات:وأما بعد بعثته صلى الله عليه وسلم، فقد شاهدنا سرعة إقبال أهل المدينة على الإسلام يحثهم على ذلك ما كانوا يسمعونه من اليهود عن مقدمه، وما كانوا يستفتحون به على أعدائهم كما بينا، بينما كان أهل مكة يصدون عنه ويحاربونه.
وكان عبد الله بن سلام ممن أسلم أيضا على هذه البشارات وهو أعلم أحبار اليهود القاطنين في المدينة المنورة باعتراف اليهود أنفسهم، وهو ممن قال الله تعالى فيه: قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ كانَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَكَفَرْتُمْ بِهِ وَشَهِدَ شاهِدٌ مِنْ بَنِي إِسْرائِيلَ عَلى مِثْلِهِ فَآمَنَ وَاسْتَكْبَرْتُمْ إِنَّ اللَّهَ لا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ (10) [الأحقاف: 10] ، وكان عبد الله بن سلام قد بلغه مقدم النبي صلى الله عليه وآله وسلم المدينة، فأتاه يسأله عن أشياء فقال: إني سائلك عن ثلاث لا يعلمهن إلا نبيّ: ما أول أشراط الساعة؟، وما أول طعام يأكله أهل الجنة؟، وما بال الولد ينزع إلى أبيه أو أمه؟، قال: أخبرني به جبريل آنفا. فقال ابن سلام: ذاك عدو اليهود من الملائكة. قال: «أما أول أشراط الساعة فنار تحشرهم من المشرق إلى المغرب.
وأما أول طعام يأكله أهل الجنة فزيادة كبد الحوت. وأما الولد فإذا سبق ماء الرجل ماء المرأة نزع الولد، وإذا سبق ماء المرأة ماء الرجل نزعت الولد» ، قال: أشهد أن لا إله إلا الله وأنك رسول الله. قال: يا رسول الله، إن اليهود قوم بهت، فاسألهم عنى قبل أن يعلموا باسلامي. فجاءت اليهود؛ فقال النبي صلى الله عليه وآله وسلم: «أي رجل عبد الله بن سلام فيكم؟» قالوا خيرنا وابن خيرنا، وأفضلنا وابن أفضلنا فقال النبي صلى الله عليه وآله وسلم: «أرأيتم إن أسلم عبد الله بن سلام؟» قالوا: أعاذه الله من ذلك، فأعاد عليهم، فقالوا مثل
--------------------------------------------
এবং তিনি তখন হেরা গুহায় ছিলেন «১»।
সুসংবাদের ভিত্তিতে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন:আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুয়ত প্রাপ্তির পর, আমরা মদিনাবাসীদের ইসলামের দিকে দ্রুত ধাবিত হতে দেখেছি। ইহুদিদের নিকট থেকে তাঁর আগমন সম্পর্কে তারা যা শুনত এবং তাঁর মাধ্যমে তারা যেভাবে শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় কামনা করত—যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি—সেটিই তাদের এই কাজে অনুপ্রাণিত করছিল; পক্ষান্তরে মক্কাবাসীরা তাঁকে বাধা দিচ্ছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিল।
আব্দুল্লাহ ইবনে সালামও সেই সব ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা এই সুসংবাদসমূহের ভিত্তিতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি মদিনা মুনাওয়ারায় বসবাসকারী ইহুদি পণ্ডিতদের মধ্যে সবচেয়ে বিজ্ঞ ছিলেন—যা ইহুদিরা নিজেরাও স্বীকার করত। তিনি তাদেরই একজন যাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: "বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি এই কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় এবং তোমরা তা অস্বীকার কর, আর বনী ইসরাঈলের একজন সাক্ষী এর অনুরূপ বিষয়ের সাক্ষ্য দিয়ে ঈমান আনে, আর তোমরা অহংকার কর; নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।" (১০) [সূরা আল-আহকাফ: ১০]। আব্দুল্লাহ ইবনে সালামের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মদিনায় আগমনের সংবাদ পৌঁছালে তিনি তাঁর কাছে এসে কিছু বিষয়ে প্রশ্ন করলেন এবং বললেন: "আমি আপনাকে তিনটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছি যা নবী ছাড়া কেউ জানে না: কিয়ামতের প্রথম আলামত কী? জান্নাতিরা প্রথম কোন খাবার খাবে? আর কেন সন্তান তার পিতার সাদৃশ্য পায় অথবা তার মাতার সাদৃশ্য পায়?" তিনি বললেন: "জিবরাঈল এইমাত্র আমাকে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন।" তখন ইবনে সালাম বললেন: "ফেরেশতাদের মধ্যে তিনিই তো ইহুদিদের শত্রু।" তিনি বললেন: "কিয়ামতের প্রথম আলামত হলো একটি আগুন, যা মানুষকে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে হাকিয়ে নিয়ে একত্রিত করবে।
আর জান্নাতিরা প্রথম যে খাবারটি খাবে তা হলো মাছের কলিজার অতিরিক্ত অংশ। আর সন্তানের বিষয়ে কথা হলো—যখন পুরুষের বীর্য নারীর বীর্যের আগে নির্গত হয়, তখন সন্তান পিতার সাদৃশ্য লাভ করে; আর যখন নারীর বীর্য পুরুষের বীর্যের আগে নির্গত হয়, তখন সন্তান মাতার সাদৃশ্য লাভ করে।" তিনি বললেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রাসূল।" তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! ইহুদিরা চরম অপবাদকারী জাতি। তাই তারা আমার ইসলাম গ্রহণের কথা জানার আগেই আপনি তাদের কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন।" অতঃপর ইহুদিরা আসল; তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জিজ্ঞেস করলেন: "তোমাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম কেমন লোক?" তারা বলল: "আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির সন্তান; আমাদের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান এবং সবচেয়ে মর্যাদাবান ব্যক্তির সন্তান।" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমরা কী মনে করো যদি আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম ইসলাম গ্রহণ করেন?" তারা বলল: "আল্লাহ তাঁকে এ থেকে রক্ষা করুন!" তিনি পুনরায় তাদের কাছে একই প্রশ্ন করলেন, তারাও একই উত্তর দিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২১)
ذلك. فخرج إليهم عبد الله فقال: أشهد أن لا إله إلا الله وأنّ محمدا رسول الله.
قالوا: شرنا وابن شرنا، وتنقصوه. قال: هذا كنت أخاف يا رسول الله «1» .
وكان زيد بن سعنة ممن أسلم على هذه البشارات أيضا، وهو من علماء اليهود حيث تعرف على صفات النبي صلى الله عليه وسلم، والتي منها أنه لا تزيده شدة الجهل عليه إلا حلما «2» .
--------------------------------------------
এটিই। এরপর আবদুল্লাহ তাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন এবং বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল।
তারা বলল: সে আমাদের মধ্যে নিকৃষ্ট এবং নিকৃষ্টের সন্তান; তারা তার দোষ বর্ণনা করতে লাগল। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি এরই ভয় পাচ্ছিলাম (১)।
আর যায়েদ ইবনে সা'নাও ছিলেন তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা এই সুসংবাদগুলোর ওপর ভিত্তি করে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন ইহুদি পণ্ডিতদের একজন, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলী চিনতে পেরেছিলেন; যার মধ্যে একটি ছিল এই যে, তাঁর প্রতি কারো চরম মূর্খতা তাঁর সহিষ্ণুতাকেই বৃদ্ধি করে (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২২)
وممن أسلم على ذلك أيضا من اليهود كعب الأحبار بعد معرفته بتلك البشارات، وقد سأله عبد الله بن عباس كيف تجد نعت رسول الله صلى الله عليه وسلم في التوراة فقال كعب: نجده محمد بن عبد الله، يولد بمكة ويهاجر إلى طابة ويكون ملكه بالشام، وليس بفحاش ولا صخاب بالأسواق، ولا يكافئ بالسيئة السيئة ولكن يعفو ويغفر، أمته الحمادون يحمدون الله في كل سراء وضراء ويكبرون الله على كل نجد، يوضؤون أطرافهم ويأتزرون في أوساطهم، يصفون في صلاتهم كما يصفون في قتالهم، دويّهم في مساجدهم كدوي النحل، يستمع مناديهم في جو السماء" «1» .
وكان ممن أسلم- أيضا- على هذه البشارات جماعة من أهل الكتاب من نصارى الحبشة، ذكرهم الله- سبحانه- بقوله: الَّذِينَ آتَيْناهُمُ الْكِتابَ مِنْ قَبْلِهِ هُمْ بِهِ يُؤْمِنُونَ (52) وَإِذا يُتْلى عَلَيْهِمْ قالُوا آمَنَّا بِهِ إِنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّنا إِنَّا كُنَّا مِنْ قَبْلِهِ مُسْلِمِينَ (53) أُولئِكَ يُؤْتَوْنَ أَجْرَهُمْ مَرَّتَيْنِ بِما صَبَرُوا وَيَدْرَؤُنَ بِالْحَسَنَةِ السَّيِّئَةَ وَمِمَّا رَزَقْناهُمْ يُنْفِقُونَ (54) [القصص: 52- 54] .
وقد ورد في الروايات التاريخية أن وفدا من نصارى الحبشة قدموا على النبي صلى الله عليه وسلم، فسألوه عن الدين فأجابهم وعرفوا من أوصافه ما في كتبهم فأسلموا فكان ذلك مثار حنق وأذية المشركين لكن هذا الوفد أعرض عنهم كما قال تعالى:
وَإِذا سَمِعُوا اللَّغْوَ أَعْرَضُوا عَنْهُ وَقالُوا لَنا أَعْمالُنا وَلَكُمْ أَعْمالُكُمْ سَلامٌ عَلَيْكُمْ لا نَبْتَغِي الْجاهِلِينَ (55) [القصص: 55] .
--------------------------------------------
সেই সুসংবাদগুলো জানার পর ইহুদিদের মধ্য থেকে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তাদের মধ্যে কাব আল-আহবারও ছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, তাওরাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ণনা তিনি কীভাবে পেয়েছেন। কাব বললেন: আমরা তাঁকে মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ হিসেবে পাই, যাঁর জন্ম মক্কায় এবং তিনি তাবাহতে (মদিনায়) হিজরত করবেন এবং তাঁর রাজত্ব হবে শামে। তিনি অশ্লীলভাষী নন এবং বাজারে শোরগোলকারী নন। তিনি মন্দের বিনিময়ে মন্দ করেন না, বরং ক্ষমা ও মার্জনা করেন। তাঁর উম্মত হবে প্রচুর প্রশংসাকারী, যারা প্রতিটি সুসময় ও দুঃসময়ে আল্লাহর প্রশংসা করবে এবং প্রতিটি উচ্চভূমিতে আল্লাহর মহিমা ঘোষণা (তাকবির) করবে। তারা তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ধৌত করবে (ওজু করবে) এবং কোমরে লুঙ্গি বাঁধবে। তারা তাদের সালাতে সেভাবেই কাতারবদ্ধ হবে যেভাবে তারা যুদ্ধে কাতারবদ্ধ হয়। তাদের মসজিদে তাদের গুঞ্জন মৌমাছির গুঞ্জনের মতো হবে এবং তাদের আহ্বানকারীর (মুয়াজ্জিন) ডাক আকাশের দিগন্তে শুনা যাবে।
এই সুসংবাদগুলোর ভিত্তিতে আহলে কিতাব তথা হাবশার (আবিসিনিয়া) খ্রিস্টানদের একটি দলও ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন: "যাদেরকে আমি এর আগে কিতাব দিয়েছি, তারা এতে বিশ্বাস করে। আর যখন তাদের কাছে এটি পাঠ করা হয়, তখন তারা বলে: আমরা এতে ঈমান আনলাম, নিশ্চয় এটি আমাদের রবের পক্ষ থেকে সত্য; আমরা তো এর আগে থেকেই আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) ছিলাম। তাদের দু’বার পুরস্কার দেওয়া হবে, কারণ তারা ধৈর্য ধারণ করেছে এবং তারা ভালোর মাধ্যমে মন্দকে প্রতিহত করে এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে।" [কাসাস: ৫২-৫৪]।
ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলোতে এসেছে যে, হাবশার খ্রিস্টানদের একটি প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসেছিলেন। তারা তাঁকে দ্বীন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাদের উত্তর দেন। তারা তাদের কিতাবসমূহে বর্ণিত গুণাবলীর সাথে তাঁর মিল খুঁজে পেয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। এটি মুশরিকদের ক্রোধ ও নির্যাতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, কিন্তু এই প্রতিনিধি দলটি তাদের উপেক্ষা করে চলে যায়, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন:
"আর যখন তারা অসার বাক্য শুনে তখন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে: আমাদের আমল আমাদের জন্য এবং তোমাদের আমল তোমাদের জন্য; তোমাদের প্রতি সালাম, আমরা জাহেলদের (অজ্ঞদের) সঙ্গ চাই না।" [কাসাস: ৫৫]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وكان ممن أسلم على البشارات في الكتب السابقة سلمان الفارسي رضي الله عنه الذي لقي أحد رهبان النصارى فذكر له علامات النبي المنتظر، وصفة المدينة ذات النخل التي سيهاجر إليها النبي وهيأ الله لسلمان الفارسي أسبابا ساقته إلى المدينة المنورة فانطبقت عليها أوصاف المدينة التي ذكرها له الراهب فمكث فيها حتى جاءها النبي مهاجرا فتعرف على صفاته التي ذكرت له وأسلم بعد أن رأى التطابق بين الوصف والحقيقة.
وكان ممن صدق بالنبي صلى الله عليه وسلم من أهل الكتاب ورقة بن نوفل القرشي الذي كان على الديانة النصرانية، فعند ما قصّ له النبي صلى الله عليه وسلم ما جاءه من الوحي بواسطة الملك جبريل قال: هذا الناموس الذي نزل الله على موسى
… ، ثم تمنى أن يطول به العمر لنصر النبي صلى الله عليه وسلم حين يعاديه الناس «1» .
وكان ممن صدق النبي صلى الله عليه وسلم من النصارى ملك الحبشة، حيث سمع من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم حقيقة دين الإسلام المطابق لما جاء به عيسى عليه السلام «2» ، ولذلك دخل في الإسلام، وصلى عليه النبي صلى الله عليه وسلم حين وفاته.
وممن أسلم من النصارى أيضا عديّ بن حاتم الطائي عندما سمع نقد بعض الأمور في ديانته من النبي صلى الله عليه وسلم «3» .
وممن أقر بنبوة محمد صلى الله عليه وسلم ولم يدخل في الإسلام هرقل ملك النصارى الروم الذي قال لأبي سفيان بن حرب (بعد أن سأله عن أحوال وصفات محمد صلى الله عليه وسلم :
قد كنت أعلم أنه خارج ولم أكن أظن أنه منكم، فلو أني أعلم أني أخلص إليه
--------------------------------------------
পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে বর্ণিত সুসংবাদের ভিত্তিতে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সালমান আল-ফারসি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। তিনি জনৈক খ্রিষ্টান পাদ্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তিনি তাঁর কাছে প্রতীক্ষিত নবীর নিদর্শনসমূহ এবং যে খেজুরগাছ সমৃদ্ধ শহরে নবী হিজরত করবেন তার বর্ণনা প্রদান করেন। আল্লাহ তাআলা সালমান আল-ফারসির জন্য এমন সব কারণ ও উপায় তৈরি করে দেন যা তাকে মদিনা মুনাওয়ারার দিকে নিয়ে যায়। ফলে পাদ্রী তাকে যে শহরের বর্ণনা দিয়েছিলেন, তার সাথে মদিনার বৈশিষ্ট্যাবলি হুবহু মিলে যায়। তিনি সেখানে অবস্থান করতে থাকেন যতক্ষণ না নবী সেখানে হিজরত করে আগমন করেন। এরপর তিনি তাঁর কাছে বর্ণিত নবীর বৈশিষ্ট্যাবলি শনাক্ত করেন এবং বর্ণনা ও বাস্তবতার মাঝে মিল দেখে ইসলাম গ্রহণ করেন।
আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সত্য বলে বিশ্বাস করেছিলেন, তাদের অন্যতম হলেন কুরাইশ বংশীয় ওয়ারাকা ইবনে নাওফাল, যিনি খ্রিষ্টধর্মের অনুসারী ছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফেরেশতা জিবরাইলের মাধ্যমে তাঁর কাছে আসা ওহীর ঘটনা যখন তাকে শোনালেন, তখন তিনি বললেন: "এটি সেই নামুস (গোপন রহস্য বহনকারী ফেরেশতা), যা আল্লাহ মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর ওপর অবতীর্ণ করেছিলেন
…"। এরপর তিনি আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন যে, যদি তিনি দীর্ঘজীবী হতেন তবে যখন মানুষ নবীর সাথে শত্রুতা করবে, তখন তিনি তাকে সাহায্য করতেন।
খ্রিষ্টানদের মধ্য থেকে যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সত্য বলে বিশ্বাস করেছিলেন, তাদের মধ্যে হাবশার (আবিসিনিয়া) বাদশাহ অন্যতম। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের নিকট থেকে ইসলাম ধর্মের এমন প্রকৃত রূপ সম্পর্কে শুনতে পান যা ঈসা (আলাইহিস সালাম) যা নিয়ে এসেছিলেন তার সাথে হুবহু মিলে যায়। ফলে তিনি ইসলামে প্রবেশ করেন এবং তাঁর মৃত্যুর সময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জানাজা পড়ান।
খ্রিষ্টানদের মধ্য থেকে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে আদি ইবনে হাতিম আত-তায়িও ছিলেন, যখন তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে তাঁর নিজের ধর্মের কিছু বিষয়ের সমালোচনা শুনতে পান।
আর যারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াতকে স্বীকার করেছিলেন কিন্তু ইসলামে প্রবেশ করেননি, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন রোমের খ্রিষ্টান সম্রাট হেরাক্লিয়াস। তিনি আবু সুফিয়ান ইবনে হারবকে (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অবস্থা ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পর) বলেছিলেন:
আমি জানতাম যে তিনি আবির্ভূত হবেন, তবে আমি ভাবিনি যে তিনি তোমাদের মধ্য থেকে হবেন। আমি যদি জানতাম যে আমি তাঁর নিকট পৌঁছাতে পারব...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৪)
لتجشمت لقاءه، ولو كنت عنده لغسلت عن قدمه «1» . ومثله المقوقس عظيم القبط في مصر الذي أهدى للنبي صلى الله عليه وسلم جاريتين وأهدى له أيضا بغلة يركبها.
وكذلك دخل في الإسلام على أساس هذه البشارات عدد كبير من الأحبار والرهبان وغيرهم من أهل الديانات عبر التاريخ وإلى يومنا هذا.
ومما يؤسف له أن تلك البشارات بمحمد صلى الله عليه وسلم قد تعرضت للتحريف والاخفاء من قبل بعض علماء اليهودية والنصرانية عبر التاريخ، وما زالت تلك التغيرات تطرأ على الكتب إلى يومنا هذا.
ويوجد كثير من البشارات التي تعرضت للإخفاء والتحريف في النسخ التي كان يحتج بها علماء المسلمين عبر التاريخ على اليهود والنصارى، كما كان يحتج بها من أسلم منهم على قومه، كما سيأتي بيانه.
وبالرغم من هذا التحريف فقد أبقى الله في هذه الكتب من نور البشارات بمقدم محمد صلى الله عليه وسلم ما يقيم الحجة في عصرنا على أهل هذه الكتب، ويثبت إيمان المؤمنين، فهيا لنرى ماذا بقي من نور هذه البشارات التي اشتملت عليها الكتب السابقة الموجودة الآن بين يدي أتباعها، وما قالته هذه البشارات عن النبي الأمي محمد صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
...তবে আমি কষ্ট স্বীকার করে হলেও তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতাম এবং আমি যদি তাঁর কাছে থাকতাম তবে তাঁর পা ধুইয়ে দিতাম। (১) আর তাঁর মতোই মিসরের কিবতিদের মহান অধিপতি মুকাওকিস, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দুইজন দাসী উপহার দিয়েছিলেন এবং তাঁকে আরোহণের জন্য একটি খচ্চরও উপহার দিয়েছিলেন।
অনুরূপভাবে, ইতিহাসের পরিক্রমায় এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত এই সুসংবাদগুলোর ভিত্তিতে বহু সংখ্যক ইহুদি পণ্ডিত, খ্রিষ্টান সন্ন্যাসী এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ইসলামে দীক্ষিত হয়েছেন।
দুঃখজনক বিষয় এই যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কিত সেই সুসংবাদগুলো ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের কিছু আলেমের পক্ষ থেকে বিকৃতি ও গোপনের শিকার হয়েছে এবং আজও ঐ কিতাবগুলোতে এই পরিবর্তনগুলো সাধিত হচ্ছে।
এমন অনেক সুসংবাদ বিদ্যমান রয়েছে যা ঐ সমস্ত পাণ্ডুলিপিতে গোপন ও বিকৃতির শিকার হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে মুসলিম পণ্ডিতগণ ইতিহাসের বিভিন্ন যুগে ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পেশ করতেন। একইভাবে তাদের মধ্য থেকে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তারাও তাদের স্বজাতির বিরুদ্ধে এই প্রমাণগুলো পেশ করতেন, যার বিবরণ সামনে আসছে।
এই বিকৃতি সত্ত্বেও আল্লাহ এই কিতাবগুলোতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনী বার্তার এমন নূরের সুসংবাদ অবশিষ্ট রেখেছেন, যা আমাদের যুগে এই কিতাবধারীদের ওপর দলিল হিসেবে গণ্য হয় এবং মুমিনদের ঈমানকে সুদৃঢ় করে। অতএব, আসুন আমরা দেখি বর্তমানে অনুসারীদের কাছে বিদ্যমান পূর্ববর্তী কিতাবগুলোতে এই সুসংবাদগুলোর নূর থেকে কী অবশিষ্ট রয়েছে এবং উম্মি নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে এই সুসংবাদগুলো কী বলেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৫)
النبيّ الأمّي290: 210 And the booK is delivered to him that is not learned، saying، Read this، Ipray thee:and he saith، I am not learned.
" ويدفع الكتاب للأمي ويقال له: اقرأ هذا أرجوك فيقول: أنا أمي" أي لست بقارئ سفر أشعيا: الإصحاح 29 الفقرة 12
لقد أشار القرآن الكريم إلى أمّية الرسول صلى الله عليه وسلم وأنها مذكورة عند أهل التوراة والإنجيل.
قال تعالى: الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوباً عِنْدَهُمْ فِي التَّوْراةِ وَالْإِنْجِيلِ [الأعراف: 157] .
إن أمية النبي صلى الله عليه وسلم وكيفية بدء الوحي إليه لأول مرة موجود عند أهل الكتاب إلى يومنا هذا.
فقد جاء في سفر أشعيا: " ويدفع الكتاب للأمي ويقال له: اقرأ هذا أرجوك فيقول: أنا أمي" «1» أي لست بقارئ. [أ]
وهذا ترجمة للنص الذي ورد في نسخة الملك جيمس للكتاب المقدس المعتمدة عند النصارى وهي أوثق النسخ للتوراة والإنجيل عندهم «2» .
--------------------------------------------
নিরক্ষর নবী২৯০: ২১০ এবং কিতাবটি তাকে প্রদান করা হয়েছে যে শিক্ষিত নয়, তাকে বলা হচ্ছে, অনুগ্রহ করে এটি পড়ুন: এবং সে বলছে, আমি শিক্ষিত নই।
"এবং কিতাবটি নিরক্ষর ব্যক্তিকে দেওয়া হবে এবং তাকে বলা হবে: এটি পড়ুন, আমি আপনাকে অনুরোধ করছি; তখন সে বলবে: আমি নিরক্ষর" অর্থাৎ আমি পাঠক নই। যিশাইয় ভাববাদীর পুস্তক: অধ্যায় ২৯, অনুচ্ছেদ ১২।
আল-কুরআনুল কারীম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিরক্ষরতার দিকে ইঙ্গিত করেছে এবং এটি তাওরাত ও ইঞ্জিল কিতাবধারীদের নিকট বর্ণিত রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন: যারা অনুসরণ করে সেই রাসুলের, যিনি উম্মী (নিরক্ষর) নবী, যাঁর উল্লেখ তারা তাদের কাছে রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়। [আল-আরাফ: ১৫৭]।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিরক্ষরতা এবং তাঁর নিকট প্রথমবার ওহী বা প্রত্যাদেশ শুরু হওয়ার পদ্ধতিটি আহলে কিতাবদের নিকট আজ পর্যন্ত বিদ্যমান রয়েছে।
যিশাইয় ভাববাদীর পুস্তকে এসেছে: "এবং কিতাবটি নিরক্ষর ব্যক্তিকে দেওয়া হবে এবং তাকে বলা হবে: এটি পড়ুন, আমি আপনাকে অনুরোধ করছি; তখন সে বলবে: আমি নিরক্ষর" «১» অর্থাৎ আমি পাঠক নই। [আ]
এটি খ্রিস্টানদের নিকট স্বীকৃত বাইবেলের 'কিং জেমস ভার্সন'-এ বর্ণিত পাঠের অনুবাদ, যা তাদের নিকট তাওরাত ও ইঞ্জিলের নির্ভরযোগ্য সংস্করণগুলোর অন্যতম «২» ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৬)
21 IF you give it to someone who cant read and ask him to read it to you، he will answer that he doesntnknow how.
" إذا تعطيه إلى شخص لا يستطيع القراءة وتطلب إليه أن يقرأه عليك سيجيب بأنه لا يعرف كيف".
Good News Bible
وفي النسخة المسماة) Good News Bible ورد ما ترجمته كالآتي:
" إذا تعطيه إلى شخص لا يستطيع القراءة وتطلب إليه أن يقرأه عليك سيجيب بأنه لا يعرف كيف". [ب] " أو"" ت يدفع الكتاب لمن لا يعرف الكتابة ويقال له اقرأ هذا فيقول لا أعرف الكتابة"" أو يدفع الكتاب لمن لا يعرف الكتابة ويقال له: اقرأ هذا فيقول:
لا أعرف الكتابة"" الكتاب المقدس"/ دار الكتاب المقدس في الشرق الأوسط
وبينما نجد هذا النص الواضح في الطبعات الإنجليزية نرى أن القسس العرب قد حرفوا هذا النص في نسخته العربية فجعلوا العبارة كالآتي:
" أو يدفع الكتاب لمن لا يعرف الكتابة ويقال له: اقرأ هذا فيقول: لا أعرف الكتابة" «1» . [ت]
--------------------------------------------
২১ যদি তুমি এটি এমন কাউকে দাও যে পড়তে জানে না এবং তাকে এটি তোমার জন্য পড়তে বলো, সে উত্তর দেবে যে সে জানে না কীভাবে।
"যদি তুমি এটি এমন কাউকে দাও যে পড়তে জানে না এবং তাকে এটি তোমার জন্য পড়তে বলো, সে উত্তর দেবে যে সে জানে না কীভাবে।"
গুড নিউজ বাইবেল
এবং "গুড নিউজ বাইবেল" নামক সংস্করণে এর অনুবাদ নিম্নরূপ বর্ণিত হয়েছে:
"যদি তুমি এটি এমন কাউকে দাও যে পড়তে জানে না এবং তাকে এটি তোমার জন্য পড়তে বলো, সে উত্তর দেবে যে সে জানে না কীভাবে।" [খ] "অথবা" "গ বইটি এমন কাউকে দেওয়া হয় যে লিখতে জানে না এবং তাকে বলা হয় এটি পড়ো, তখন সে বলে আমি লিখতে জানি না" "অথবা বইটি এমন কাউকে দেওয়া হয় যে লিখতে জানে না এবং তাকে বলা হয়: এটি পড়ো, তখন সে বলে:
আমি লিখতে জানি না" "পবিত্র বাইবেল" / মধ্যপ্রাচ্যের বাইবেল সোসাইটি
আর যেখানে আমরা ইংরেজি সংস্করণগুলোতে এই স্পষ্ট পাঠ্যটি দেখতে পাই, সেখানে আমরা লক্ষ্য করি যে আরব পাদ্রিরা এই পাঠ্যটিকে এর আরবি সংস্করণে বিকৃত করেছেন এবং বাক্যটিকে নিম্নরূপ করেছেন:
"অথবা বইটি এমন কাউকে দেওয়া হয় যে লিখতে জানে না এবং তাকে বলা হয়: এটি পড়ো, তখন সে বলে: আমি লিখতে জানি না" «১» । [ত]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فانظر كيف حرّفوا النص! فالسائل يطلب القراءة والنبي ينفي عن نفسه معرفة الكتابة! وهذا التحريف مقصود لئلا تتطابق الحادثة المذكورة في النص السابق مع قصة نزول جبريل عليه السلام على النّبيّ صلى الله عليه وسلم ومطالبته له بالقراءة فنفى النبي صلى الله عليه وسلم عن نفسه القدرة على القراءة.
قال الحافظ ابن حجر: وقد وقع في مرسل عبيد بن عمير عند ابن إسحاق أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «أتاني جبريل بنمط من ديباج فيه كتاب، قال: اقرأ، قلت: ما أنا بقارئ» «1» .
وكم من الزمن قد مر بعد عيسى عليه السلام، وما نزل وحي على نبي أمّي إلا على النبي الأمي محمد صلى الله عليه وسلم، الذي يجدون أميته مكتوبة عندهم حتى يومنا هذا.
--------------------------------------------
লক্ষ্য করুন তারা কীভাবে পাঠ্যটিকে বিকৃত করেছে! প্রশ্নকর্তা পাঠ করার জন্য বলছেন, অথচ নবী নিজের থেকে লিখনশৈলী জানার বিষয়টি অস্বীকার করছেন! এই বিকৃতিটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যাতে পূর্বোক্ত পাঠ্যে বর্ণিত ঘটনাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট জিবরাঈল আলাইহিস সালামের আগমনের এবং তাঁকে পাঠ করতে বলার কাহিনীর সাথে মিলে না যায়, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের থেকে পাঠ করার সক্ষমতা অস্বীকার করেছিলেন।
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: ইবনে ইসহাকের নিকট উবায়দ বিন উমায়েরের মুরসাল বর্ণনায় এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «জিবরাঈল আমার নিকট রেশমি কাপড়ের একটি টুকরো নিয়ে আসলেন যাতে একটি কিতাব ছিল। তিনি বললেন: পাঠ করুন। আমি বললাম: আমি পাঠ করতে জানি না» «১»।
ঈসা আলাইহিস সালামের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে, অথচ নিরক্ষর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাড়া অন্য কোনো নিরক্ষর নবীর ওপর ওহী অবতীর্ণ হয়নি, যাঁর নিরক্ষরতার কথা তারা আজও তাদের নিকট লিখিত অবস্থায় পায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৮)
اسم النبي صلى الله عليه وسلم
ث
حكوممتكيم فكلو محمديم زيه دودي فزيه ريعي.
التوراة: نشيد الأنشاد: الاصحاح الخامس: الفقرة 16:
" كلامه أحلى الكلام إنه محمد العظيم هذا حبيبي وهذا خليلي"
[1] لا تزال نسخ التوراة باللغة العبرية تحمل اسم محمد جليّا واضحا إلى يومنا هذا. ففي نشيد الأنشاد من التوراة في الاصحاح الخامس الفقرة السادسة عشر وردت هذه الكلمات:
حكوممتكيم فكلّو محمديم زيه دودي فزيه ريعي. [ث] .
ومعنى هذا: " كلامه أحلى الكلام إنه محمد العظيم هذا حبيبي وهذا خليلي".
فاللفظ العبري يذكر اسم محمد جليّا واضحا ويلحقه ب (يم) التي تستعمل في العبرية للتعظيم. واسم محمد مذكور أيضا في المعجم المفهرس للتوراة «1» [ث] عند بيانه هذا اللفظ المتعلق بالنص السابق" محمديم" «2» .
--------------------------------------------
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাম
থ
হিক্কো মামিত্তাকিম ভেকুল্লো মুহাম্মাদিম যেহ দোদি ভিযেহ রেই।
তাওরাত: শলোমনের গান: পঞ্চম অধ্যায়: ১৬ অনুচ্ছেদ:
"তাঁর কথা অত্যন্ত মিষ্ট, তিনি মহান মুহাম্মাদ, তিনি আমার প্রিয় এবং তিনি আমার বন্ধু"
[১] তাওরাতের হিব্রু পাণ্ডুলিপিগুলোতে আজও মুহাম্মাদ নামটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বিদ্যমান। তাওরাতের শলোমনের গানের পঞ্চম অধ্যায়ের ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদে এই শব্দগুলো এসেছে:
হিক্কো মামিত্তাকিম ভেকুল্লো মুহাম্মাদিম যেহ দোদি ভিযেহ রেই। [থ] ।
এর অর্থ হলো: "তাঁর কথা অত্যন্ত মিষ্ট, তিনি মহান মুহাম্মাদ, তিনি আমার প্রিয় এবং তিনি আমার বন্ধু।"
হিব্রু শব্দে স্পষ্টভাবে মুহাম্মাদ নামটির উল্লেখ রয়েছে এবং এর সাথে (ইম) যুক্ত করা হয়েছে, যা হিব্রু ভাষায় সম্মান প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত হয়। তাওরাতের নির্ঘণ্ট অভিধানেও মুহাম্মাদ নামটির উল্লেখ রয়েছে «১» [থ], যেখানে পূর্বোক্ত পাঠের সাথে সংশ্লিষ্ট "মুহাম্মাদিম" «২» শব্দটির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ج
61 His mouth is most sweel:yea.he is al.together lovely.This is my beloved.and this is
my friend.
" كلامه أحلى الكلام هو المتصف بالصفات الحميدة هذا حبيبي وهذا خليلي"
لكن يد التحريف عند اليهود والنصارى تأبى التسليم بأن لفظ" محمد" هو اسم النبي وتصر على أنه صفة للنبي وليس اسما له؛ فيقولون إن معنى لفظ" محمديم" هو" المتصف بالصفات الحميدة" كما جاء في نسخة الملك جيمس المعتمدة عند النصارى. [ج] .
ح
61 His speech is most sweet.
and he is altogehther desirable.This is my beloved and this is my friend.
" كلامه أحلى الكلام إنه صاحب الصفات الحميدة هذا حبيبي وهذا خليلي" النسخة القياسية المنقحة وعليه فيكون المعنى لهذه الإشارة عندهم" كلامه أحلى الكلام «1» إنه صاحب الصفات الحميدة". [ح]
--------------------------------------------
জ
৬১ তাঁর মুখ অত্যন্ত মিষ্ট: হ্যাঁ, তিনি সর্বতোভাবে আকর্ষণীয়। ইনিই আমার প্রিয়তম এবং ইনিই আমার বন্ধু।
"তাঁর কথা মধুরতম কথা, তিনি প্রশংসনীয় গুণাবলীতে গুণান্বিত, ইনিই আমার প্রিয়তম এবং ইনিই আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু।"
কিন্তু ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বিকৃতিসাধনকারী হাত এই কথাটি মেনে নিতে অস্বীকার করে যে "মুহাম্মাদ" শব্দটি নবীর নাম, বরং তারা এই জেদ ধরে যে এটি নবীর একটি গুণ এবং তাঁর নাম নয়; তাই তারা বলে যে "মুহাম্মাদিম" শব্দটির অর্থ হলো "প্রশংসনীয় গুণে গুণান্বিত", যেমনটি খ্রিস্টানদের কাছে নির্ভরযোগ্য কিং জেমস সংস্করণে এসেছে। [জ]।
হ
৬১ তাঁর কথা অত্যন্ত মিষ্ট।
এবং তিনি সর্বতোভাবে বাঞ্ছনীয়। ইনিই আমার প্রিয়তম এবং ইনিই আমার বন্ধু।
"তাঁর কথা মধুরতম কথা, নিশ্চয়ই তিনি প্রশংসনীয় গুণের অধিকারী, ইনিই আমার প্রিয়তম এবং ইনিই আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু" এটি রিভাইজড স্ট্যান্ডার্ড ভার্সন অনুযায়ী। সেমতে তাদের নিকট এই ইঙ্গিতের অর্থ দাঁড়ায় "তাঁর কথা মধুরতম কথা «১» নিশ্চয়ই তিনি প্রশংসনীয় গুণাবলীর অধিকারী"। [হ]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فمن هو، يا أهل الكتاب، غير" محمديم" محمد العظيم الرسول صلى الله عليه وسلم الذي كلامه أحسن الكلام وهو المحمود في صفاته كلها، وهو حبيب الله وخليله كما جاء ذلك في نفس النشيد عقب ذكر اسمه. " هذا هو حبيبي وهذا هو خليلي". [ج، ح]
لكنّي أقول خ لكم الحقّ إنّه خير لكم أنّ أنطلق لأنّه إن لم أنطلق لا ياتيكم المغربى.
لكني أقول لكم إنه من الخير لكم أن أنطلق لأنه إن لم أنطلق لا يأتيكم المعزي (الفارقليط) " إنجيل يوحنا: الإصحاح: 16 الفقرة: 7
[2] وأما ما جاء عن اسمه عند النصارى، فقد ورد في عدة أماكن، منها ما جاء في إنجيل يوحنا «1» في قول عيسى عليه السلام وهو يخاطب أصحابه:
" لكني أقول لكم إنه من الخير لكم أن أنطلق لأنه إن لم أنطلق لا يأتيكم المعزي (الفارقليط) . " [خ]
وكلمة" المعزي" أصلها منقول عن الكلمة اليونانية (باراكلي طوس) المحرفة عن الكلمة (بيركلوطوس) التي تعني محمدا أو أحمد. " إن التفاوت بين اللفظين يسير جدّا، وإن الحروف اليونانية كانت متشابهة، وإن تصحيف" بيركلوطوس" إلى" باراكلي طوس" من الكاتب في بعض النسخ قريب من القياس، ثم رجح أهل التثليث هذه النسخة على النسخ الآخرى. " «2» .
--------------------------------------------
হে কিতাবধারীগণ! "মুহাম্মাদিম" অর্থাৎ মহান রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যতিরেকে তিনি আর কে হতে পারেন? যাঁর কথা সর্বশ্রেষ্ঠ এবং তিনি তাঁর সকল গুণাবলীতে প্রশংসিত। তিনি আল্লাহর হাবিব ও খলিল (বন্ধু), যেমনটি ঠিক তাঁর নাম উল্লেখ করার পরেই সেই একই সংগীতে এসেছে: "ইনিই আমার প্রিয়তম এবং ইনিই আমার বন্ধু।" [জ, হ]
কিন্তু আমি তোমাদের সত্য বলছি, আমার চলে যাওয়া তোমাদের জন্য উত্তম; কেননা আমি যদি না যাই, তবে তোমাদের কাছে সেই প্রশংসিত জন আসবেন না।
কিন্তু আমি তোমাদের বলছি যে, আমার চলে যাওয়া তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক; কারণ আমি না গেলে তোমাদের কাছে 'শান্তিদাতা' (পারাকলিট) আসবে না। "যোহন লিখিত সুসমাচার: অধ্যায়: ১৬, অনুচ্ছেদ: ৭
[২] আর খ্রিষ্টানদের কাছে তাঁর নামের ব্যাপারে যা এসেছে, তা বেশ কয়েকটি স্থানে বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো যোহন লিখিত সুসমাচারে «১» বর্ণিত ঈসা আলাইহিস সালামের বক্তব্য, যখন তিনি তাঁর শিষ্যদের সম্বোধন করছিলেন:
"কিন্তু আমি তোমাদের বলছি যে, আমার চলে যাওয়া তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক; কারণ আমি না গেলে তোমাদের কাছে 'শান্তিদাতা' (পারাকলিট) আসবে না।" [খ]
আর "মুয়াযযী" (শান্তিদাতা) শব্দটি মূলত গ্রিক শব্দ 'পারাকলিটোস' (Paracletos) থেকে উদ্ধৃত, যা আসলে 'পেরিক্লুটোস' (Periclytos) শব্দের বিকৃত রূপ; যার অর্থ হলো মুহাম্মাদ বা আহমাদ। "এই শব্দ দুটির মধ্যে পার্থক্য খুবই সামান্য এবং গ্রিক অক্ষরগুলো দেখতে সদৃশ ছিল। কিছু পাণ্ডুলিপিতে লেখকের পক্ষ থেকে 'পেরিক্লুটোস' শব্দটিকে 'পারাকলিটোস'-এ পরিবর্তিত করা ভাষাগত যুক্তির বিচারে বেশ কাছাকাছি বিষয়। পরবর্তীতে ত্রিত্ববাদীরা অন্যান্য পাণ্ডুলিপির তুলনায় এই সংস্করণটিকেই প্রাধান্য দিয়েছে।" «২»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৩১)
" وسيبقى هذا إلى أن يأتي محمد رسول الله الذي متى جاء كشف هذا الخداع للذين يؤمنون بشريعة الله" إنجيل برنابا: الباب: 220
[3] وهناك إنجيل اسمه إنجيل" برنابا" استبعدته الكنيسة في عهدها القديم عام 492 م بأمر من البابا جلاسيوس، وحرّمت قراءته وصودر من كل مكان، لكن مكتبة البابا كانت تحتوي على هذا الكتاب. وشاء الله أن يظهر هذا الإنجيل على يد راهب لاتيني اسمه" فرامرينو" الذي عثر على رسائل" الإبريانوس" وفيها ذكر إنجيل برنابا يستشهد به، فدفعه حب الاستطلاع إلى البحث عن إنجيل برنابا وتوصل إلى مبتغاه عندما صار أحد المقربين إلى البابا" سكتش الخامس. " فوجد في هذا الإنجيل أنه سيزعم أن عيسى هو ابن الله وسيبقى ذلك إلى أن يأتي محمد رسول الله فيصحح هذا الخطأ. يقول إنجيل برنابا في الباب" 220":
" وسيبقى هذا إلى أن يأتي محمد رسول الله الذي متى جاء كشف هذا الخداع للذين يؤمنون بشريعة الله. "
وقد أسلم «فرامرينو» وعمل على نشر هذا الإنجيل الذي حاربته الكنيسة بين الناس «1» .
" إني جعلت اسمك محمدا، يا محمد يا قدوس الرب، اسمك موجود من الأبد" سفر أشعيا
[4] هذا وقد كان اسم النبي صلى الله عليه وسلم موجودا بجلاء في كتب اليهود والنصارى عبر التاريخ، وكان علماء المسلمين يحاجون الأحبار والرهبان بما هو
--------------------------------------------
"এবং এটি ততক্ষণ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ আগমন করবেন; যখন তিনি আসবেন, তিনি আল্লাহর শরিয়তের ওপর বিশ্বাস স্থাপনকারীদের নিকট এই প্রতারণা উন্মোচন করবেন।" - বার্নাবাসীয় ইঞ্জিল: অধ্যায়: ২২০
[৩] এবং সেখানে "বার্নাবাস" নামক একটি ইঞ্জিল রয়েছে যা ৪৯২ খ্রিস্টাব্দে পোপ গেলাসিয়াসের আদেশে গির্জা তার প্রাচীন আমলে বর্জন করেছিল। এর পাঠ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং সব স্থান থেকে এটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল, কিন্তু পোপের পাঠাগারে এই বইটি রক্ষিত ছিল। আল্লাহর ইচ্ছায় এই ইঞ্জিলটি "ফ্রামরিনো" নামক একজন ল্যাটিন সন্ন্যাসীর মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে, যিনি "ইব্রিয়ানুস"-এর পত্রাবলী খুঁজে পান যেখানে বার্নাবাসীয় ইঞ্জিলের উদ্ধৃতি দিয়ে দলিল পেশ করা হয়েছিল। ফলে কৌতূহলবশত তিনি বার্নাবাসীয় ইঞ্জিলের অনুসন্ধান শুরু করেন এবং তিনি যখন পোপ "সিক্সটাস পঞ্চম"-এর ঘনিষ্ঠজনদের অন্তর্ভুক্ত হন, তখন তিনি তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছান। তিনি এই ইঞ্জিলে দেখতে পান যে, ঈসা আল্লাহর পুত্র—এই দাবি করা হবে এবং এটি ততক্ষণ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ আসবেন এবং তিনি এই ভুলটি সংশোধন করবেন। বার্নাবাসীয় ইঞ্জিলের ২২০ অধ্যায়ে বলা হয়েছে:
"এবং এটি ততক্ষণ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ আগমন করবেন; যখন তিনি আসবেন, তিনি আল্লাহর শরিয়তের ওপর বিশ্বাস স্থাপনকারীদের নিকট এই প্রতারণা উন্মোচন করবেন।"
অতঃপর "ফ্রামরিনো" ইসলাম গ্রহণ করেন এবং গির্জা কর্তৃক অবদমিত এই ইঞ্জিলটি মানুষের মধ্যে প্রচারের কাজ করেন (১)।
"নিশ্চয়ই আমি তোমার নাম মুহাম্মদ রেখেছি; হে মুহাম্মদ, হে প্রভুর পবিত্রজন, তোমার নাম অনাদিকাল থেকেই বিদ্যমান।" - যিশাইয় পুস্তক
[৪] ইতিহাসজুড়ে ইহুদি ও নাসারাদের কিতাবসমূহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান ছিল এবং মুসলিম পণ্ডিতগণ ইহুদি পণ্ডিত ও খ্রিষ্টান সন্ন্যাসীদের নিকট ঐসব বিষয়ের মাধ্যমে দলিল পেশ করতেন যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইয়্যিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ওয়া মুজিজাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৩২)
موجود من ذكر محمد صلى الله عليه وسلم في كتبهم، ومن ذلك:
جاء في سفر أشعيا:" إني جعلت اسمك محمدا، يا محمد يا قدوس الرب، اسمك موجود من الأبد" ذكر هذه الفقرة علي بن ربّن الطبري (الذي كان نصرانيا فهداه الله للإسلام) في كتابه: الدين والدولة، وقد توفي عام 247 هـ «1» .
" سمعنا من أطراف الأرض صوت محمد" سفر أشعيا
وجاء في سفر أشعيا أيضا:
" سمعنا من أطراف الأرض صوت محمد" «2» .
" إن الله جاء من التيمان، والقدوس من جبل فاران، لقد أضاءت السماء من بهاء محمد، وامتلأت الأرض من حمده" سفر حبقوق
وجاء في سفر حبقوق:" إن الله جاء من التيمان، والقدوس من جبل فاران، لقد أضاءت السماء من بهاء محمد، وامتلأت الأرض من حمده" ذكره علي بن ربن الطبري في كتابه
--------------------------------------------
তাদের কিতাবসমূহে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উল্লেখ বিদ্যমান রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
যিশাইয় (আশইয়া) পুস্তকে এসেছে:"আমি তোমার নাম মুহাম্মদ রেখেছি; হে মুহাম্মদ, হে রবের পবিত্রজন, তোমার নাম অনাদিকাল থেকে বিদ্যমান।" এই অনুচ্ছেদটি আলি বিন রাব্বান আত-তাবারি (যিনি খ্রিস্টান ছিলেন, অতঃপর আল্লাহ তাঁকে ইসলামের হিদায়াত দান করেছেন) তাঁর 'আদ-দীন ওয়া আদ-দাওলা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তিনি ২৪৭ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন «১»।
"আমরা পৃথিবীর প্রান্তসমূহ থেকে মুহাম্মদের কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়েছি" - যিশাইয় পুস্তক।
যিশাইয় পুস্তকে আরও এসেছে:
"আমরা পৃথিবীর প্রান্তসমূহ থেকে মুহাম্মদের কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়েছি" «২»।
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তেইমান থেকে এসেছেন, আর সেই পবিত্রজন পারান পর্বত থেকে; আসমান মুহাম্মদের জ্যোতিতে উদ্ভাসিত হয়েছে এবং পৃথিবী তাঁর প্রশংসায় পূর্ণ হয়েছে" - হাবাক্কুক পুস্তক।
হাবাক্কুক পুস্তকে এসেছে:"নিশ্চয়ই আল্লাহ তেইমান থেকে এসেছেন, আর সেই পবিত্রজন পারান পর্বত থেকে; আসমান মুহাম্মদের জ্যোতিতে উদ্ভাসিত হয়েছে এবং পৃথিবী তাঁর প্রশংসায় পূর্ণ হয়েছে।" এটি আলি বিন রাব্বান আত-তাবারি তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------