(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: -)
عقيدة السلف - مقدمة أبي زيد القيرواني لكتابه الرسالة   (ابن أبي زيد القيرواني)

القسم: العقيدة


الكتاب: عقيدة السلف - مقدمة أبي زيد القيرواني لكتابه الرسالة

المؤلف: أبو محمد عبد الله بن (أبي زيد) عبد الرحمن النفزي، القيرواني، المالكي (ت 386 هـ)

نظمها: أحمد بن علي بن حسين بن مشرّف الوهيبي التميمي المالكي الأحسائي (ت 1285 هـ)

المحقق: بكر بن عبد الله أبو زيد

الناشر: دار العاصمة

عدد الصفحات: 69

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 جُمادَى الأولى 1434

সালাফদের আকীদা - তাঁর 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থের জন্য আবু যায়েদ আল-কায়রাওয়ানীর ভূমিকা   (ইবনে আবু যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী)

বিভাগ: আকীদা


গ্রন্থ: সালাফদের আকীদা - তাঁর 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থের জন্য আবু যায়েদ আল-কায়রাওয়ানীর ভূমিকা

লেখক: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন (আবু যায়েদ) আবদুর রহমান আন-নাফযী, আল-কায়রাওয়ানী, আল-মালিকী (মৃত্যু ৩৮৬ হিজরি)

কাব্যরূপ দিয়েছেন: আহমদ বিন আলী বিন হুসাইন বিন মুশাররাফ আল-উহাইবী আত-তামিমী আল-মালিকী আল-আহসাঈ (মৃত্যু ১২৮৫ হিজরি)

সম্পাদক: বকর বিন আবদুল্লাহ আবু যায়েদ

প্রকাশক: দারুল আসিমা

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জুমাদাল উলা ১৪৩৪

(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১)
عقيدة السلف

"مقدمة ابن أبي زيد القيرواني لكتابه الرسالة"

تُوفِّيَ سنة 386هـ -رحمه الله تعالى-

لأحمد بن مُشَرَّف الأحسائي المالكي

المتوفى سنة 1298هـ -رحمه الله تعالى-

تقديم

بكر بن عبد الله أبو زيد

عن ابن أبي زيد، ورسالته، وعبث بعض المعاصرين بها
সালাফদের আকিদা

"তার ‘আর-রিসালাহ’ গ্রন্থের জন্য ইবনে আবি যায়েদ আল-কাইরাওয়ানির ভূমিকা"

তিনি ৩৮৬ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন - আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন -

আহমাদ বিন মুশাররাফ আল-আহসায়ি আল-মালিকি-রচিত

মৃত্যু ১২৯৮ হিজরি - আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন -

উপস্থাপনা

বাকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ

ইবনে আবি যায়েদ, তাঁর রিসালাহ এবং সমসাময়িক কিছু লোকের তাতে হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

ابن أبي زيد، عبد الله بن عبد الرحمن، ت 386هـ.

عقيدة السلف/ لابن أبي زيد القيرواني؛ مراجعة بكر بن عبد الله أبو زيد.

-ط1. -الرياض: دار العاصمة، 1414هـ/1994م.

72ص؛ 12×17سم.

ردمك: × - 10 - 749 - 9960

1 - العقيدة الإسلامية.

2 - التوحيد.

أ- أبو زيد، بكر بن عبد الله، مراجع

ب- العنوان.

رقم الإداع: 0901/ 14
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ইবনে আবি যায়েদ, আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান, মৃত্যু ৩৮৬ হিজরি।

সালাফদের আকিদাহ/ ইবনে আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানি রচিত; বকর বিন আবদুল্লাহ আবু যায়েদ কর্তৃক পর্যালোচিত।

-১ম সংস্করণ। -রিয়াদ: দার আল-আসিমা, ১৪১৪ হিজরি/১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ।

৭২ পৃষ্ঠা; ১২×১৭ সে.মি.।

আইএসবিএন: × - ১০ - ৭৪৯ - ৯৯৬০

১ - ইসলামি আকিদাহ।

২ - তাওহিদ।

ক- আবু যায়েদ, বকর বিন আবদুল্লাহ, পর্যালোচনাকারী

খ- শিরোনাম।

জমাদান নম্বর: ০৯০১/ ১৪
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
عقيدة السلف

"مقدمة ابن أبي زيد القيرواني لكتابه الرسالة"
সলফগণের আকিদা

"ইবনে আবি যাইদ আল-কায়রাওয়ানি রচিত 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থের ভূমিকা"
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المُقَدِّمَةُ

الحَمْدُ للهِ عَلَى نِعْمَةِ التَّوحِيد، والصَّلاة والسَّلام على المبعوثِ رحمةً للعالمين، وعلى آله وأَصحابه، ومن تبعهم بإِحسان إِلى يوم الدين.

أَمَّا بعد: فإِن العلَاّمة أَبا محمد ابن أَبي زيد القيرواني (1): عبد الله بن أَبي زيد عبد الرحمن النَّفْزِي - بالزاي المعجمة- وقيل: النَّفْزَاوي، نسبة إلى قبيلة من قبائل إِفريقية البربرية.

--------------------------------------------

(1) ترجمته - رحمه الله تعالى- مبسوطة في كتب التراجم والسير للمالكية وغيرهم كما في ترجمته المطولة في مقدمة تحقيق: الرسالة الفقهية. طبع دار الغرب 1406 هـ (ص/ 9 - 62)، وتحقيق كتاب "العمر" بالترجمة: رقم/ 176.

وترجمته للشيخ محمد الحبيب ابن الخوجة أَمين عام مجمع الفقه الإِسلامي بجدة المنشورة في بعض الدوريات.

فما ها هنا عن ابن أَبي زيد، ورسالته مُحصَّل مما هنالك.
ভূমিকা

তাওহীদের নিয়ামতের জন্য সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে প্রেরিত রাসূলের প্রতি, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের প্রতি এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের সকলের প্রতি।

অত:পর: নিশ্চয় আল্লামা আবু মুহাম্মাদ ইবনে আবু যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী (১): আবদুল্লাহ ইবনে আবু যায়েদ আবদুর রহমান আন-নাফযী —বিন্দুযুক্ত 'যা' (Zay) অক্ষরের সাথে— এবং বলা হয়: আন-নাফযাওয়ী; এটি আফ্রিকার বার্বার গোত্রসমূহের একটির সাথে সম্বন্ধযুক্ত।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন— মালিকী এবং অন্যদের জীবনী ও ইতিহাসের গ্রন্থাবলীতে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি তাঁর দীর্ঘ জীবনী রয়েছে 'আর-রিসালাতুল ফিকহিয়্যাহ' এর তাহকীকের (সম্পাদনা) ভূমিকার মধ্যে। দারুল গারব মুদ্রণ, ১৪০৬ হিজরি (পৃষ্ঠা ৯-৬২), এবং 'আল-উমর' গ্রন্থের তাহকীকের জীবনী অংশে: নং ১৭৬।

এবং জেদ্দাস্থিত 'মাজমাউল ফিকহিল ইসলামী' (ইসলামী ফিকহ একাডেমি) এর সাধারণ সম্পাদক শায়খ মুহাম্মাদ আল-হাবীব ইবনুল খুজার লিখিত তাঁর জীবনী, যা কিছু সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

সুতরাং ইবনে আবু যায়েদ এবং তাঁর রিসালা সম্পর্কে এখানে যা কিছু আছে, তা সেখান থেকেই সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وقيل: بل إِلى "نَفْزَة" من بلاد الأَندلس، القيرواني المالكي، المولود سنة 310 هـ، والمتوفى بها سنة 386 هـ على الصحيح عن "76" عاماً - رحمه الله تعالى- كان من وجوه أَهل العلم ورفعائهم، مَعْنِيّاً بلزوم السنة والأَثر، والرد على أَهل الأَهواء والبدع، وبخاصة العبيديين، والطرقية؛ ولهذا، ولعلمه، وصرعه، ونبوغه في المذهب المالكي لا سيما في كتابه العُجاب: "النَّوادر والزيادات"، والذي هو الآن قيد التحقيق في "تونس" - كان يُلَقَّبُ بمالك الصغير.

وهو وطبقته آخر المتقدمين، وأَول المتأَخرين منهم.

وكان - رحمه الله تعالى- عالماً، فقيهاً، ورعاً، كريماً، مُمَدَّحاً، ثرياً، عالي الهمة، سَرِيَّا. وحصلت له إِمامة المالكية بل أَهل السنة كافة في المغرب في زمانه.

وكان عالي الإِسناد، معنياً بلقاء الشيوخ والأَخذ عنهم واستجازتهم غرباً، وشرقاً، لا سيما في رحلته الحجازية لأَداء فريضة حج بيت الله الحرام، ولهذا احْتَوَشَهُ الطلاب، وكثر عنه الآخذون، وصار طلب العلم وتعليمه: صنعته،

বলা হয়েছে: বরং আন্দালুসের ‘নাফজা’ অঞ্চলের দিকে [তাঁর নিসবত]। তিনি আল-কায়রাওয়ানি আল-মালিকি, ৩১০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সঠিক মতানুযায়ী সেখানেই ৩৮৬ হিজরিতে ৭৬ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন। তিনি আহলুল ইলমের অন্যতম বিশিষ্ট ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি সুন্নাহ ও আসারের অনুসরণ এবং প্রবৃত্তি পূজারি ও বিদআতিদের খণ্ডনে বিশেষভাবে মনোযোগী ছিলেন, বিশেষ করে উবাইদি ও তুরুকিদের বিরুদ্ধে। এ কারণে এবং তাঁর ইলম, পাণ্ডিত্য ও মালিকি মাযহাবে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কারণে—বিশেষ করে তাঁর বিস্ময়কর গ্রন্থ ‘আন-নাওয়াদির ওয়াজ-জিয়াদাত’-এর জন্য, যা বর্তমানে তিউনিসিয়ায় সম্পাদনার কাজ চলছে—তাঁকে ‘মালিকুস সগির’ (ছোট মালিক) উপাধি দেওয়া হয়েছিল।

তিনি ও তাঁর স্তরের উলামাগণ ছিলেন মুতাকাদ্দিমীনদের (পূর্বসূরি) শেষাংশ এবং মুতাআখখিরীনদের (উত্তরসূরি) প্রথমাংশ।

তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—ছিলেন একজন আলিম, ফকিহ, মুত্তাকি, দানশীল, প্রশংসিত, সম্পদশালী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। তাঁর সমকালে মাগরিব (উত্তর আফ্রিকা) অঞ্চলে তিনি মালিকি মাযহাবের, বরং সমস্ত আহলুস সুন্নাহর ইমামত ও নেতৃত্ব লাভ করেছিলেন।

তিনি উচ্চ সনদের অধিকারী ছিলেন। তিনি প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের শায়খদের সাথে সাক্ষাৎ, তাঁদের নিকট থেকে ইলম অর্জন ও ইজাজত গ্রহণের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন, বিশেষ করে আল্লাহর পবিত্র ঘর হজের ফরজ আদায়ের উদ্দেশ্যে তাঁর হিজাজ সফরের সময়। একারণে ছাত্ররা তাঁকে চারপাশ থেকে ঘিরে রাখত এবং তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণকারীর সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পায়। ফলে ইলম অন্বেষণ ও তার শিক্ষাদানই তাঁর প্রধান ব্রত ও পেশায় পরিণত হয়।
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
وتدريسه: حرفته، فشهد درسه الكبار، وتخرج به الأَقران، وأَلحق الأَحفاد بالأَجداد.

وكان له في التأْليف رِيَادَةٌ، وفي صنعته عناية، وعلى عبارته حلاوة وطلاوة.

وقد بلغت مؤلفاته نحو أَربعين مؤلفاً، في التفسير، والحديث، والفقه، والرد على المخالفين.

وكان أَول مؤلفاته: "الرسالة" ولهذا قالوا: "هي باكورة السَّعْدِ، وزبدة المذهب"، وقد كتبها استجابة لرغبة بَلَدِيِّهِ، مُؤَدِّبِ الصِّبْيَةِ، ومعلمهم القرآن الكريم: أَبي محفوظ مُحْرَز بن خلف البكري التونسي المالكي، المولود سنة 340 هـ.

والمتوفى سنة 413 هـ.

وقيل: بل إِن الذي طلب منه تأْليفها هو: السَّبَائي: إِبراهيم بن محمد، فالله أَعلم.

وهي أَول مختصر في مذهب المالكية.

وهي أَيضاً: أَول كتاب طبع لابن أَبي زيد - رحمه الله تعالى- ولها طبعات كثيرة في: فاس، والقاهرة، وتونس،
তাঁর অধ্যাপনা ছিল তাঁর পেশা; তাঁর পাঠদানে বিজ্ঞজনরা উপস্থিত হতেন, তাঁর নিকট তাঁর সমসাময়িকরা শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন এবং তিনি উত্তরসূরিদেরকে পূর্বসূরিদের সাথে (জ্ঞানের পরম্পরায়) যুক্ত করেছেন।

গ্রন্থ রচনায় তাঁর ছিল অগ্রণী ভূমিকা, তাঁর কর্মকুশলতায় ছিল বিশেষ যত্ন এবং তাঁর বর্ণনাভঙ্গিতে ছিল মাধুর্য ও লাবণ্য।

তাফসীর, হাদীস, ফিকহ এবং বিরোধীদের খণ্ডন বিষয়ে তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় চল্লিশটি।

তাঁর প্রথম গ্রন্থ ছিল: "আর-রিসালাহ"; একারণেই উলামাগণ বলেছেন: "এটি সৌভাগ্যের অগ্রদূত এবং মাযহাবের নির্যাস।" তিনি এটি তাঁর স্বদেশী, শিশুদের শিষ্টাচার শিক্ষক এবং পবিত্র কুরআনের শিক্ষক আবু মাহফূজ মুহরিয বিন খালাফ আল-বাকরী আত-তিউনিসী আল-মালিকী—যিনি ৩৪০ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন—তাঁর অনুরোধে লিখেছিলেন।

এবং যিনি ৪১৩ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

কারো মতে, এটি রচনার জন্য তাঁর কাছে যিনি অনুরোধ করেছিলেন তিনি হলেন আস-সাবায়ী: ইব্রাহীম বিন মুহাম্মদ; আল্লাহই ভালো জানেন।

এটি মালেকী মাযহাবের প্রথম সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ।

এটি ইবনে আবী যায়দ—আল্লাহ তা'আলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—এর মুদ্রিত প্রথম গ্রন্থ এবং এর বহু সংস্করণ ফাস, কায়রো ও তিউনিসে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
ولندن، وباريس، إِذ ترجمت إِلى اللغتين: الِإنكليزية، والفرنسية.

وهي تنتظم أَبواب الشريعة في: التوحيد، والفقه، والآداب، وقد حوت نحو أَربعة آلاف مسأَلة.

وقد اعتمدها المالكية شرقاً وغرباً، وعكفوا عليها: دراسة، وتدريساً، وتلقيناً، وحفظاً، وشرحاً، ونظماً؛ حتى بلغت شروحها نحو ثلاثين، بل قال زَرُّوق، المتوفى سنة 899 هـ - رحمه الله تعالى- في شرحه لها: (1/ 3): "حتى لَقَدْ ذُكر أَنها منذ وجدت حتى الآن، يَخْرج لها في كل سنة شرح وتبيان".

فتكون شروحها والبيانات عنها بالمئات حتى أَن علي ابن محمد بن خلف المُنُوفي المتوفى سنة 939 هـ له ستة شروح على الرسالة.

ولشدة الحفاوة بها كتبت بالذهب، وبيعت أَول نسخة منها في حلقة شيخه بالِإجازة، شيخ المالكية ببغداد: أَبي بكر محمد بن عبد الله التميمي الأَبهَري، المُتوفَّى سنة
এবং লন্ডন ও প্যারিস, কারণ এটি ইংরেজি ও ফরাসি এই দুই ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

এটি তাওহীদ, ফিকহ ও আদব বা শিষ্টাচার—শরীয়তের এই অধ্যায়গুলো বিন্যস্তভাবে উপস্থাপন করেছে এবং এতে প্রায় চার হাজার মাসআলা বা ধর্মীয় বিধান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

পূর্ব ও পশ্চিমের মালিকি মাযহাবের পণ্ডিতগণ এর ওপর নির্ভর করেছেন এবং তাঁরা এটি অধ্যয়ন, অধ্যাপনা, পাঠদান, মুখস্থকরণ, ব্যাখ্যা প্রদান ও কাব্যাকারে রূপান্তরের কাজে নিবিষ্ট থেকেছেন; এমনকি এর শরাহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ত্রিশটিতে পৌঁছেছে। বরং ৮৯৯ হিজরিতে ইন্তেকালকারী যররুক (রহমাতুল্লাহি তা'আলা) তাঁর শরাহ গ্রন্থে (১/৩) বলেছেন: "এমনকি এটিও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি রচিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রতি বছর এর জন্য একটি করে ব্যাখ্যা ও বিশদ বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে।"

ফলে এর ব্যাখ্যা ও বিশদ বিবরণগুলো শত শত ছাড়িয়ে গেছে, এমনকি ৯৩৯ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন খালাফ আল-মুনুফি এই 'রিসালা'-র ওপর ছয়টি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন।

এর প্রতি গভীর গুরুত্বের কারণে এটি স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়েছিল এবং এর প্রথম পাণ্ডুলিপিটি বাগদাদের মালিকি মাযহাবের প্রধান শায়খ এবং লেখকের ইজাজত প্রদানকারী উস্তাদ আবু বকর মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ আত-তামিমি আল-আভহারি—যিনি ইন্তেকাল করেছেন... সালে—এর মজলিসে বিক্রি হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
375 هـ -رحمه الله تعالى- بيعت بعشرين ديناراً ذهباً.

ولشدة الحفاوة بها أَيضاً، كان أَخذ التلاميذ لها عن الأَشياخ بالِإسناد والاجازة إلى مؤلفها، وأَسانيدُها مثبتة في الأَثبات، والمشيخات، والفهارس حتى عصرنا.

وكان أَول شروحها لتلميذه: أَبي بكر محمد بن مَوْهَب المقبري، المتوفى سنة 406 هـ -رحمه الله تعالى-.

وقيل: بل أَول شارح لها هو: القاضي عبد الوَهَّاب بن نصر المالكي المتوفى سنة 422 هـ رحمه الله تعالى-. وقد بيعت أَول نسخة من شرحه لها بمائة مثقال ذهبا.

وهذان الشرحان يلتقيان مع ابن أَبي زيد - رحمه الله تعالى- على طريقة السلف كما يفيده نقل ابن القيم عنهما في: "اجتماع الجيوش الِإسلامية".

وأمَّا جُل الشُّروح المطبوعة كشرح زَوُّوق، والعدوي، وابن ناجي، وابن غنيم، وغيرهم فهي على طريقة الخلف في شرح المقدمة، والله المستعان.

وَلَا يُسْتَنكَرُ هذا؛ فإِن المذهب ينتسب إِليه طوائف
৩৭৫ হিজরিতে -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- এটি বিশ স্বর্ণদিনারে বিক্রয় হয়েছিল।

এর প্রতি গুরুত্ব ও সমাদরের আধিক্যের কারণে ছাত্ররা তাদের শিক্ষকদের নিকট হতে সনদ ও ইজাযতসহ এর লেখকের সাথে যুক্ত হয়ে এটি গ্রহণ করত। আর এর সনদসমূহ আসবাত, মাশয়াখাত এবং ফাহারিসসমূহে আমাদের বর্তমান যুগ পর্যন্ত সংরক্ষিত রয়েছে।

এর প্রথম ব্যাখ্যাগ্রন্থটি ছিল তাঁর ছাত্র আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মাওহাব আল-মাকবারির, যিনি ৪০৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন-।

বলা হয়ে থাকে: বরং এর প্রথম ব্যাখ্যাকার হলেন আল-কাদি আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে নাসর আল-মালিকি, যিনি ৪২২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন-। তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের প্রথম পাণ্ডুলিপিটি একশ স্বর্ণ-মিথকালের বিনিময়ে বিক্রয় হয়েছিল।

এই দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ ইবনে আবি যায়িদ -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- এর সাথে সালাফদের পদ্ধতির ওপর একমত হয়েছে, যেমনটি ইবনুল কায়্যিম তাঁর "ইজতিমাউল জুয়ুশিল ইসলামিয়্যাহ" গ্রন্থে তাদের থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন।

আর অধিকাংশ মুদ্রিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ যেমন যাররুক, আদাবি, ইবনে নাজি, ইবনে গুনাইম এবং অন্যদের ব্যাখ্যাগুলো মুকাদ্দিমার ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে খালাফদের পদ্ধতি অনুযায়ী রচিত। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

আর এটি বিস্ময়কর বা আপত্তিকর কিছু নয়; কেননা এই মাযহাবের সাথে বিভিন্ন দল নিজেদের সম্বন্ধ করে থাকে।
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
مخالفون لصاحب المذهب في كثير من مسائل الاعتقاد، كما حصل في المنتسبين إِلى الأَئمة الأَربعة، ومن أَمثلة ذلك كتاب "الفقه الأَكبر" المنسوب إِلى أَبي حنيفة - رحمه الله تعالى- فقد شرحه أَبو منصور الماتريدي، وغيره فمشوا فيه على التأْويل. والله المستعان (1).

وتناولها علماء آخرون بالنظم، منها نظم في تسعين بيتاً لمقدمة الرسالة في: "الاعتقاد" للشيخ أَحمد بن مشرف المالكي الأَحسائي، المتوفى سنة 1285هـ - رحمه الله تعالى-. طبعته جامعة الِإمام محمد بن سعود الِإسلامية عام 1396 هـ.

ومن قَبْلُ أَفرد المقدمة الخَفَّافُ المالكي وغيره- رحم الله الجميع-.

ومقدمة هذه الرسالة على وجازتها، حاوية لأَصول الاعتقاد في الإِسلام على طريقة سلف هذه الأُمة، وخيارها

--------------------------------------------

(1) انظر: "شرح العقيدة الطحاوية": (ص/ 323). "مختصر العلو": (ص / 136 - 137).
তারা আকিদার অনেক মাসআলায় মাযহাবের ইমামের বিরোধিতা করেছেন, যেমনটি চার ইমামের অনুসারী বলে পরিচয়দানকারী অনেকের ক্ষেত্রে ঘটেছে। এর একটি উদাহরণ হলো ইমাম আবু হানিফা —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন— এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত "আল-ফিকহুল আকবার" কিতাবটি। আবু মনসুর আল-মাতুরিদি এবং অন্যরা এর ব্যাখ্যা করেছেন এবং তাতে তারা তাবিল (রূপক ব্যাখ্যা)-এর পথ অনুসরণ করেছেন। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয় (১)।

অন্যান্য আলেমগণ একে কাব্য আকারে উপস্থাপন করেছেন, যার মধ্যে শাইখ আহমদ বিন মুশরিফ আল-মালিকি আল-আহসায়ি (মৃত্যু ১২৮৫ হিজরি) —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন— এর "আল-ইতিকাদ" বিষয়ক রিসালার মুকাদ্দিমার নব্বইটি পঙক্তির কাব্যরূপটি অন্যতম। এটি ১৩৯৬ হিজরিতে ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক মুদ্রিত হয়েছে।

এর আগে আল-খাফফাফ আল-মালিকি এবং অন্যরা এই মুকাদ্দিমাটিকে স্বতন্ত্রভাবে সংকলন করেছেন —আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন—।

এই রিসালার মুকাদ্দিমাটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও তা এই উম্মতের সালাফ এবং শ্রেষ্ঠ মনীষীদের অনুসৃত পদ্ধতিতে ইসলামের আকিদাগত মূলনীতিসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ": (পৃষ্ঠা/ ৩২৩); "মুখতাসারুল উলু": (পৃষ্ঠা / ১৩৬ - ১৩৭)।
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
من الصحابة رضي الله عنهم فمن بعدهم: في بيان حقيقة الِإيمان وأَركانه الستة، وتقرير توحيد الله -سبحانه- في أَسمائه، وصفاته، كالاستواء، وإثباتها على حقيقتها، وتفويض كيفيتها، إِثباتاً من غير تفويض للحقيقة، ولا تشبيه، ولاتمثيل، ولا تعطيل. فرحم الله هذا الحبر رحمة واسعة، آمين.

وقد رأَيتها في مطلع هذا العام 1414 هـ. منشورة مفردة باسم: "العقيدة الِإسلامية التي يُنَشَّاُ عليها الصِّغار" للِإمام ابن أَبي زيد القيرواني. وُلد سنة 310 هـ، وتُوفي سنة 386 - رحمه الله تعالى - اعتنى به: عبد الفتاح أَبو غدة.

الناشر: مكتب المطبوعات الِإسلامية بحلب".

فرأَيت هذا "المُعْتَنِي بِهَا" قد تناولها بقلم غير قلم ابن أَبي زيد، وبعقيدة تخالف عقيدته، فَوَظَّفَ التحريف بما سَوَّلَتْ له نَفْسُهُ في نَصِّ هذه العقيدة ومعناها فَفَتَح فيها ثُلَما، وَغَشَّاها من عقيدة التفويض والتحريف مَا غَشَّى، تفريطاً في الحق وهو بين يديه، وتعدياً على الخلق وهو بين
সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং তাঁদের পরবর্তীগণের অনুসরণে: ঈমানের হাকিকত ও এর ছয়টি রুকনের বর্ণনায়, এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নাম ও গুণাবলিতে তাঁর তাওহীদ সুপ্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে—যেমন উঠা—সেগুলোকে তাদের প্রকৃত অর্থের ওপর সাব্যস্ত করা এবং তাদের ধরন আল্লাহর ওপর সোপর্দ করা; এটি এমন এক সাব্যস্তকরণ যাতে প্রকৃত অর্থ সোপর্দ করা হয় না, এবং কোনো সাদৃশ্য প্রদান, উপমা পেশ কিংবা গুণাবলি অস্বীকার করা হয় না। আল্লাহ এই মহান পন্ডিতকে প্রশস্ত রহমত দান করুন, আমীন।

আমি এই ১৪১৪ হিজরি সালের শুরুতে ইমাম ইবনে আবি যায়েদ আল-কাইরাওয়ানির—যিনি ৩১০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩৮৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন)—"শিশুদের লালন-পালনের জন্য ইসলামি আকিদা" নামে এটি পৃথকভাবে প্রকাশিত হতে দেখেছি। এর সম্পাদনা করেছেন: আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ।

প্রকাশক: মাকতাবুল মাতবুয়াতিল ইসলামিয়্যাহ, হালাব।

অতঃপর আমি লক্ষ্য করলাম যে, এই "সম্পাদক" ইবনে আবি যায়েদের লেখনীর পরিবর্তে ভিন্ন লেখনী এবং তাঁর আকিদার বিরোধী আকিদা নিয়ে এতে হস্তক্ষেপ করেছেন। তিনি তাঁর কুপ্রবৃত্তির প্ররোচনায় এই আকিদার মূল পাঠ ও অর্থের মধ্যে বিকৃতি সাধন করেছেন, যার ফলে এতে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এতে অর্থ সোপর্দকরণ ও বিকৃতির আকিদার এমন আবরণ দিয়েছেন যা তিনি দিয়েছেন; যা তাঁর সামনে বিদ্যমান সত্যের প্রতি অবহেলা এবং সৃষ্টির প্রতি সীমালঙ্ঘন, অথচ তিনি...
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
أَيديهم، فصار واجباً عَلَى مَنْ عَلِمَ: كشف تلك الدسائس.

ودفع هذا التعدي البائس، نصرة لعقيدة أَهل السنة وأَهلها، وحماية لعقائدهم من دخولات المخالفين لها؛ وليحذر المسلمون من تسليم أَولادهم لمن يتمسح بمعتقدهم، وحقيقته استدراجهم إِلى فاسد مشربه، وفتح باب الأَهواء، والمُشَاقَّةِ في صُفُوفِهم، نعوذ بالله من الهوى وأَهله. وإليك البيان:
তাদের হাত; ফলে যারা অবগত রয়েছেন, তাদের ওপর এই ষড়যন্ত্রগুলো উন্মোচন করা ওয়াজিব হয়ে পড়েছে।

এবং এই জঘন্য সীমালঙ্ঘন প্রতিহত করা, আহলে সুন্নাতের আকিদা ও তার অনুসারীদের সাহায্যার্থে এবং বিরোধীদের অনুপ্রবেশ থেকে তাদের বিশ্বাসমালাকে সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে; আর মুসলিমরা যেন তাদের সন্তানদের এমন ব্যক্তির কাছে সমর্পণ করার ব্যাপারে সতর্ক থাকে যে তাদের আকিদার সাথে সম্পৃক্ততার ভান করে, অথচ বাস্তবে তার উদ্দেশ্য হলো তাদেরকে নিজ কলুষিত মতাদর্শের দিকে ধাবিত করা এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ ও তাদের কাতারের মাঝে বিভেদের দ্বার উন্মোচন করা। আমরা প্রবৃত্তি ও প্রবৃত্তিপূজারীদের থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। নিম্নে তার বিবরণ পেশ করা হলো:
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
•‌‌ توظيفه التحريف لنص مقدمة الرسالة:

* رأَيت في إِخراجه للنص تصرفات في ذات النص بالحذف في موضعين: (ص 20، 23)، والتصرف بإِبدال كلمة بأُخرى في موضع واحد: (ص 25)، والزيادة من كيسه على النَّص في ستة مواضع: (ص 33، 38، 41، 41،41).

تُعْلَمُ هذا بالمقابلة بين نص المقدمة الذي نقله وبين نَصِّ المقدمة في "الرسالة" ومع شروحها المطبوعة. وقد قابلت النص الذي طبعه: على نُسخ الرسالة مفردة، ومع شروحها المطبوعة الآتية، وهي:

1 - الرسالة الفقهية مع "غُرر المقالة" للمغراوي (ص/ 71 - 80). المحققة عام 1406 هـ طبع دار الغرب.

2 - رسالة القيرواني. طبع مكتبة الحلبي بمصر عام 1368 هـ: (ص/ 2 - 4).

3 - متن الرسالة. طبع مكتبة القاهرة: (ص 3 - 12).

4 - رسالة ابن أَبي زيد. طبع نيجريا: (ص 2 - 9).
রিসালাহ-র ভূমিকার পাঠে তার বিকৃতির প্রয়োগ:

* আমি তার পাঠ উপস্থাপনায় মূল পাঠের মধ্যে কিছু হস্তক্ষেপ লক্ষ্য করেছি: দুই স্থানে বিলোপ (পৃ. ২০, ২৩), এক স্থানে একটি শব্দের পরিবর্তে অন্য শব্দ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ (পৃ. ২৫), এবং ছয়টি স্থানে নিজের পক্ষ থেকে পাঠের মধ্যে অতিরিক্ত সংযোজন (পৃ. ৩৩, ৩৮, ৪১, ৪১, ৪১)।

তার উদ্ধৃত ভূমিকার পাঠ এবং 'রিসালাহ' ও এর মুদ্রিত ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহে বিদ্যমান ভূমিকার পাঠের মধ্যে তুলনা করলে বিষয়টি জানা যায়। তিনি যে পাঠটি ছেপেছেন, আমি তা রিসালাহ-র একক প্রতিলিপি এবং নিম্নোক্ত মুদ্রিত ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখেছি, সেগুলো হলো:

১ - মাগরাবি রচিত "গুরারুল মাকালাহ" সহ আল-রিসালাহ আল-ফিকহিয়্যাহ (পৃ. ৭১ - ৮০)। ১৪০৬ হিজরিতে সম্পাদিত, দারুল গারব থেকে প্রকাশিত।

২ - রিসালাতুল কায়রাওয়ানি। মিসরের মাকতাবাতুল হালাবি থেকে ১৩৬৮ হিজরিতে মুদ্রিত: (পৃ. ২ - ৪)।

৩ - মাতনুর রিসালাহ। মাকতাবাতুল কাহিরাহ থেকে মুদ্রিত: (পৃ. ৩ - ১২)।

৪ - রিসালাহ ইবনু আবি যায়িদ। নাইজেরিয়া থেকে মুদ্রিত: (পৃ. ২ - ৯)।
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
5 - ، 6 - شرح زروق ومعه شرح ابن ناجي: (1/ 4 - 71). طبع مصر، عام 1332 هـ.

7 - ، 8 - شرح العدوي مع شرح المنوفي: (1/ 7 - 110). طبع دار الفكر.

9 - الفواكه الدواني. لابن غنيم: (1/ 2 - 129).

10 - الثمر الدواني. لصالح بن عبد السميع الأَزهري: (ص 3 - 20).

11 - تنوير المقالة للتتائي. (1/ 31 - 380). طبع عام 1409 هـ.

12 - كفاية الطالب الرباني. للمنوفي: (1/ 13 - 234). طُبع مفرداً عام 1407 هـ.

بالمقابلة على متن مقدمة الرسالة في جميع هذه النُّسخ، وَجَدْتُ أَن جميع ما أَشرف إِلى مواضعه من تحريفاته بالحذف، أَو التغيير، أَو الزيادة، كلها تحريفات من عنده، وجميعها بالجملة تحمل نَفَساً مذهبياً، وعصبية خَلْفية. نَعَمْ تَوَرَّع في مقدمة الطبع فذكر أنه سيزيد ألفاظا؟؟
৫ - , ৬ - যাররূকের ব্যাখ্যা এবং সাথে ইবন নাজীর ব্যাখ্যা: (১/ ৪ - ৭১)। মিশর মুদ্রণ, ১৩৩২ হিজরী।

৭ - , ৮ - আল-মানুফীর ব্যাখ্যার সাথে আল-আদাবীর ব্যাখ্যা: (১/ ৭ - ১১০)। দারুল ফিকর মুদ্রণ।

৯ - আল-ফাওয়াকিহ আদ-দাওয়ানী। ইবন গুনাইম রচিত: (১/ ২ - ১২৯)।

১০ - আস-সামার আদ-দাওয়ানী। সালিহ বিন আবদুস সামী আল-আযহারী রচিত: (পৃষ্ঠা ৩ - ২০)।

১১ - আত-তাতায়ীর তানভীরুল মাকালাহ। (১/ ৩১ - ৩৮০)। ১৪০৯ হিজরী মুদ্রণ।

১২ - আল-মানুফীর কিফায়াতুত তালিব আর-রাব্বানী: (১/ ১৩ - ২৩৪)। পৃথকভাবে ১৪০৭ হিজরী মুদ্রণ।

এই সকল পাণ্ডুলিপির সাহায্যে 'রিসালাহ' (আর-রিসালাহ) গ্রন্থের ভূমিকার মূল পাঠের সাথে তুলনা করে আমি দেখতে পেয়েছি যে, বর্জন, পরিবর্তন বা অতিরিক্ত সংযোজনের মাধ্যমে তিনি যেসব স্থানে বিকৃতি সাধন করেছেন, তার সবই তাঁর পক্ষ থেকে কৃত নিজস্ব বিকৃতি। সামগ্রিকভাবে এই সবকিছুর মূলে একটি নির্দিষ্ট মাযহাবী মানসিকতা এবং খালাফী (পরবর্তী যুগের অনুসারীসুলভ) গোঁড়ামি বিদ্যমান। তবে হ্যাঁ, মুদ্রণের ভূমিকায় তিনি আল্লাহভীরুতা প্রদর্শন করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে তিনি কিছু শব্দ বৃদ্ধি করবেন??
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
فَحَوَّل هذه العقيدة من انتظامها العقدي لفرائض الاعتقاد إِلى مذكرة فقهية في قالب اصطلاح مذهبه الفقهي، بإِقحامه ستة أَلفاظ في ستة مواضع من كلام ابن أَبي زيد في مقدمته، فهذه ست كذبات كذبها على ابن أَبي زيد - رحمه الله تعالى- منها ألفاظ: "فرض وواجب ومطلوب"؟؟

وأُمور الاعتقاد تجري على سياق واحد بأَنها أَصل الدين وقاعدته.

والفرض والواجب لا فرق بينهما عند جمهور الفقهاء منهم مالك - رحمه الله تعالى-، وابن أَبي زيد مالكي المذهب. والتفريق بينهما من مفردات مذهب الحنفية؛ إِذ الفرض عند الحنفية لما ثبت بدليل قطعي، والواجب لما ثبت بدليل ظني، و"المطلوب" ما تردد بينهما، فلماذا هذا؟

وعندئذٍ تعرف السِّرَّ في حذفه قول ابن أَبي زيد في فاتحة المقدمة: "فإِنك سأَلتني أَن أَكتب لك جملة مختصرة من واجب الديانة مما تنطق به الأَلسنة، وتعتقده القلوب، وتعمله الجوارح، وما يتصل بالواجب من ذلك من السنن
সুতরাং তিনি এই আকিদাহকে এর আকিদাগত বিন্যাস থেকে সরিয়ে তার ফিকহী মাযহাবের পরিভাষার ছাঁচে একটি ফিকহী নোটে রূপান্তরিত করেছেন, ইবনে আবি যায়দ-এর মুকাদ্দিমার ছয়টি স্থানে ছয়টি শব্দ অনুপ্রবেশ করানোর মাধ্যমে। এগুলো ইবনে আবি যায়দ (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রতি করা ছয়টি মিথ্যাচার—যার মধ্যে শব্দগুলো হলো: "ফরজ, ওয়াজিব এবং মাতলুব"??

আর আকিদার বিষয়সমূহ একক ধারায় পরিচালিত হয়, কেননা এগুলো দ্বীনের মূল এবং ভিত্তি।

ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) সহ জমহুর ফকিহগণের নিকট ফরজ এবং ওয়াজিবের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, আর ইবনে আবি যায়দ মালেকি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। এই দুটির মধ্যে পার্থক্য করা হানাফি মাযহাবের বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কারণ হানাফিদের নিকট যা অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত তা ফরজ, আর যা ধারণাপ্রসূত দলিল দ্বারা প্রমাণিত তা ওয়াজিব, এবং "মাতলুব" হলো যা এই দুটির মাঝে দোলায়মান; তবে কেন এমনটি করা হলো?

আর তখনই আপনি ইবনে আবি যায়দ-এর মুকাদ্দিমার প্রারম্ভে তার এই উক্তিটি বর্জন করার পেছনের রহস্য জানতে পারবেন: "নিশ্চয় আপনি আমার কাছে দ্বীনের আবশ্যিক বিষয়াবলি থেকে একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ লিখে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন, যা জিহ্বা উচ্চারণ করবে, অন্তর বিশ্বাস করবে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আমল করবে, আর এর সাথে ওয়াজিবের সাথে সংশ্লিষ্ট সুন্নাহসমূহও..."
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
من مؤكدها ونوافلها ورغائبها، وشيء من الآداب منها.

وَجُمَل من أُصول الفقه وفنونه على مذهب الإِمام مالك ابن أَنس رحمه الله وطريقته ما سهل سبيل ما أَشكل من ذلك من تصير الراسخين، وبيان المتفقهين".

فقد حذف ما تحته خط، وهو كلام ينتظم جميع ما سيذكره من أُمور الاعتقاد، والآداب، والأَحكام من أَنها على مذهب مالك وطريقته، وتفسير الراسخين، وبيان المتفقهين.

وأَما التغيير فعند قول ابن أَبي زيد -رحمه الله تعالى-: "ولا يتفكرون في ماهية ذاتها": (ص 25)، بعد أَن حذف هذا الحلبي كلمة: "ماهية"- وفي بعض النسخ: "مائية"- وأَبدلها بكلمة: "حقيقة"- قال في التعليق: "أَي لا يعلم أَحد حقيقة ذات الله تبارك وتعالى … ".

فهذا ليس بياناً مُلَاقياً؛ فإِن مرتبة التفكير تسبق مرتبة العلم، فنفي "التفكير" في ذات الله، أَبلغ من نفي العلم فتأَمل.
এর সুন্নাতে মুয়াক্কাদা, নফল ও মুস্তাহাব কার্যাবলি এবং এর আদবসমূহের কিছু অংশ।

এবং ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব ও তাঁর তরীকা অনুযায়ী উসুলুল ফিকহ ও এর শাখা-প্রশাখার সারসংক্ষেপ, যা ইলমে পারদর্শীগণের বিশ্লেষণ এবং ফকীহগণের বর্ণনার মাধ্যমে জটিল বিষয়গুলোর পথ সুগম করে দেয়।"

নিচে রেখাঙ্কিত অংশটি তিনি বাদ দিয়েছেন, অথচ এটি এমন একটি বক্তব্য যা পরবর্তীতে বর্ণিতব্য আকিদা, আদব এবং আহকাম সংক্রান্ত সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে যে—তা ইমাম মালিকের মাযহাব ও তরীকা এবং ইলমে পারদর্শীগণের ব্যাখ্যা ও ফকীহগণের বর্ণনা অনুযায়ী।

আর পরিবর্তনের বিষয়টি ইবনে আবি যায়েদ (রহিমাহুল্লাহ তাআলা)-এর এই বাণীর ক্ষেত্রে ঘটেছে: "এবং তারা তাঁর সত্তার মাহিয়াত (স্বরূপ) নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না" (পৃষ্ঠা ২৫)। এই হালাবি ব্যক্তি 'মাহিয়াত' শব্দটি বাদ দিয়ে—কোনো কোনো অনুলিপিতে যা 'মায়িয়াত' রয়েছে—তার পরিবর্তে 'হাকীকত' শব্দটি প্রতিস্থাপন করেছেন। তিনি টিকায় বলেছেন: "অর্থাৎ, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার সত্তার হাকীকত (প্রকৃত স্বরূপ) কেউ জানে না … "।

এটি কোনো সঙ্গতিপূর্ণ ব্যাখ্যা নয়; কারণ চিন্তা-গবেষণার স্তর জ্ঞানের স্তরের পূর্ববর্তী। সুতরাং আল্লাহর সত্তার বিষয়ে "চিন্তা-গবেষণা" করাকে অস্বীকার করা কেবল জ্ঞানকে অস্বীকার করার চেয়ে অধিক বলিষ্ঠ ও অর্থবহ, অতএব বিষয়টি অনুধাবন করুন।
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
فانظر إِلى هذا المكر: حَذْفٌ، وَزِيَادَة، وَتَغْيِيرٌ، وَتَدْلِيسٌ، وَفِرَارٌ مِن طَريقة السلف، وتلفيقٌ مرفوض شرعاًَ وَمَسْلَكاَ.

ولا أَحب أَن أُطيل ببيان ذلك؛ لأَن سطوه هذا بالتحريف كافٍ في إِدانته، وسحب الثقة منه، يؤيده ما بعده:

* ورأَيت أَن طَبْعَهُ النَّزَّاع إِلى التحريف، قَدْ أَعْمَلَهُ فيما نقله في تعليقاته:

ففي التعليقة رقم/2 (1)، (ص/28 - 30) نقل عن القرطبي في تفسيره: (7/ 1) فزاد، ونقص، وَلَفَّق، وَتَصَرَّف بعبارات أُخر، كما يُعلم بالمقابلة.

وفي التعليقة رقم/ 1، (ص/ 31 - 32) عن زَرُّوق: تلفيق ظاهر، كما يعلم بالمقابلة.

--------------------------------------------

(1) في سياقه للآية الكريمة غلط مطبعي فليصحح.
সুতরাং এই চক্রান্তের দিকে লক্ষ্য করুন: বর্জন, সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতারণা, সালাফদের পদ্ধতি থেকে পলায়ন এবং এমন এক জালিয়াতি যা শরিয়তগতভাবে ও আদর্শিকভাবে প্রত্যাখ্যাত।

আমি এর বর্ণনায় দীর্ঘসূত্রিতা করতে পছন্দ করি না; কারণ বিকৃতির মাধ্যমে তার এই হঠকারিতা তাকে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য এবং তার উপর থেকে আস্থা প্রত্যাহার করার জন্য যথেষ্ট, যা পরবর্তী বিষয়গুলো দ্বারা সমর্থিত হয়:

* আর আমি দেখেছি যে, বিকৃতির প্রতি তার এই প্রবণতা তিনি তার টীকাগুলোতে যা উদ্ধৃত করেছেন তার মধ্যেও প্রয়োগ করেছেন:

যেমন ২ নম্বর টীকা (১), (পৃষ্ঠা: ২৮-৩০)-এ তিনি কুরতুবীর তাফসীর (৭/১) থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন: অতঃপর তিনি তাতে সংযোজন করেছেন, বিয়োজন করেছেন, জালিয়াতি করেছেন এবং ভিন্ন শব্দের মাধ্যমে রদবদল করেছেন, যা মূল পাঠের সাথে তুলনা করলে জানা যায়।

এবং ১ নম্বর টীকা (পৃষ্ঠা: ৩১-৩২)-এ যাররূক থেকে উদ্ধৃত অংশে: স্পষ্ট জালিয়াতি বিদ্যমান, যা মূল পাঠের সাথে তুলনা করলে জানা যায়।

--------------------------------------------

(১) আয়াতের প্রসঙ্গের বিন্যাসে মুদ্রণজনিত ত্রুটি রয়েছে, তাই তা সংশোধন করা উচিত।
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
•‌‌ توظيفه التحريف لمعانيها بصرفها عن طريقة السلف:

* ورأَيته في تعليقاته على هذه المقدمة في التوحيد قد قلبها من عقيدة السَّلف إِلى عقيدة خلفية، تحمل: الِإرجاء، والتفويض، والتأْويل، وَحَمْلَ نصوص الصفات على المتشابه:

فَحَوَّلَ الِإيمان، من حقيقته الشرعية: قول، واعتقاد، وعمل، إِلى عقيدة "الِإرجاء"؛ إِذ أَخرج "الأَعمال" عن حقيقة الِإيمان، ومسماه، وَلبَّس في العبارة كما في تعليقته رقم/2، (ص/24).

وقد بينت ما في هذا القول الفاسد من الجناية على الإِسلام، وعلى المسلمين، وذلك في كتاب: "تحريف النصوص من مآخذ أَهل الأَهواء في الاستدلال".

* وَحَوَّلَ ما قرره ابن أَبي زيد - رحمه الله تعالى- من أَن الله -سبحانه- فوق عرشه المجيد بذاته، وهو في كل مكان بعلمه، خلق الِإنسان ويعلم ما توسوس به نفسه … على العرش استوى، وعلى الملك احتوى … ، حَوَّلَّهُ إِلى
সালাফদের অনুসৃত পথ থেকে সরিয়ে সেগুলোর অর্থ বিকৃত করার ক্ষেত্রে তার অপপ্রয়োগ:

* আর আমি তাওহীদ বিষয়ক এই ভূমিকার ওপর তার টীকাগুলোতে তাকে দেখেছি যে, তিনি সেটিকে সালাফদের আকীদা থেকে সরিয়ে খালাফদের আকীদায় রূপান্তরিত করেছেন; যা ইরজা, তাফবীদ, তাবীল এবং সিফাত বা গুণাবলি বিষয়ক দলিলগুলোকে মুতাশাবিহাত বা অস্পষ্ট বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করার ধারণাকে ধারণ করে:

ফলে তিনি ঈমানকে তার শরয়ী হাকীকত বা বাস্তবতা—যা হলো মৌখিক স্বীকৃতি, বিশ্বাস ও আমল—থেকে পরিবর্তন করে 'ইরজা' এর আকীদায় নিয়ে গেছেন; যেহেতু তিনি 'আমল'কে ঈমানের হাকীকত ও তার সংজ্ঞা থেকে বের করে দিয়েছেন এবং তিনি তার ২ নম্বর টীকায় (পৃষ্ঠা-২৪) শব্দের মারপ্যাঁচে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন।

আর আমি এই ভ্রান্ত মতবাদের মধ্যে ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি যে অপরাধ ও অনিষ্ট রয়েছে, তা "তাহরিফুন নুসুস মিন মাআখিযি আহলিল আহওয়ায়ি ফিস স্তিদলাল" নামক গ্রন্থে বর্ণনা করেছি।

* আর ইবনে আবি যায়েদ (রহিমাহুল্লাহ তা’আলা) যা সাব্যস্ত করেছেন যে—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা স্বীয় সত্তায় তাঁর মহিমান্বিত আরশের উপরে, আর তিনি তাঁর ইলম বা জ্ঞানের মাধ্যমে সর্বত্র বিরাজমান, তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার মনে যে কুমন্ত্রণা জাগে সে সম্পর্কেও তিনি অবগত … তিনি আরশের উপর উঠেছেন, আর রাজত্বের ওপর কর্তৃত্বশীল হয়েছেন … , তিনি সেটিকে রূপান্তরিত করেছেন:
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
عقيدة التفويض بثلاث تعليقات:

التعليقة الأَولى: رقم/ 2، (ص/ 26)، والتعليقة الثانية: رقم/ 1، (ص 27)، والتعليقة الثالثة: رقم/1، (ص/31)، كلها تعليقات تدور على نفي ما نطق به الوحيان الشريفان من استواء الله -سبحانه- على عرشه، استواء حقيقياً يليق بجلاله من غير تكييف، ولا تشبيه، ولا تعطيل. وإِليك البيان:

1 - قال في التعليقة الأَولى: رقم/ 2، (ص/ 26): لفظة: "بذاته" لم ترد في الكتاب والسنة ولا في كلام الصحابة رضي الله عنهم قال الحافظ الذهبي في كتاب: "العلو": (ص/ 172) عند ذكرها في كلام ابن أَبي زيد هنا: (وقد نقموا على ابن أَبي زيد في قوله: "بذاته" فليته تركها).

إِلى آخر ما نقله عن الذهبي -رحمه الله تعالى- في ذلك من كتابه: "سير أَعلام النبلاء" في موضعين منه.

وهنا ينبغي أَن يقف المسلم على الحقائق الآتية:
তিনটি টীকা সহকারে তাফওয়ীদের আকিদা:

প্রথম টীকা: নং/ ২, (পৃষ্ঠা/ ২৬), দ্বিতীয় টীকা: নং/ ১, (পৃষ্ঠা/ ২৭), এবং তৃতীয় টীকা: নং/ ১, (পৃষ্ঠা/ ৩১), এই সবগুলি টীকা মহান আল্লাহ—সুবহানাহু—এর তাঁর আরশের উপর উঠা—যা দুই সম্মানিত ওহী (কুরআন ও সুন্নাহ) দ্বারা বর্ণিত—তাকে অস্বীকার করার উপর আবর্তিত হয়েছে, এমন এক প্রকৃতভাবে উঠা যা তাঁর মহিমার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কোনো ধরণ নির্ধারণ, সাদৃশ্য প্রদান বা অর্থহীন করা ব্যতীত। আপনার সামনে তার বর্ণনা পেশ করা হলো:

১ - প্রথম টীকায় বলা হয়েছে: নং/ ২, (পৃষ্ঠা/ ২৬): "স্বয়ং" শব্দটি কিতাব ও সুন্নাহতে কিংবা সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) বাণীর মধ্যে আসেনি। হাফেজ যাহাবী তাঁর "আল-উলু" কিতাবে (পৃষ্ঠা/ ১৭২) এখানে ইবনে আবি যায়েদের বক্তব্যে এটি উল্লেখ করার সময় বলেছেন: (ইবনে আবি যায়েদের "স্বয়ং" কথাটি বলার কারণে তারা তাঁর সমালোচনা করেছেন; হায়, তিনি যদি এটি বর্জন করতেন)।

তাঁর কিতাব "সিয়ারু আলামিন নুবালা" এর দুটি স্থানে এ সম্পর্কে যাহাবী (রহিমাহুল্লাহু তায়ালা)-এর নিকট থেকে যা নকল করা হয়েছে তার শেষ পর্যন্ত।

আর এখানে একজন মুসলিমের জন্য নিম্নোক্ত সত্যগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া উচিত:
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
* الحقيقة الأُولى:

أَنه مازال أَمر المسلمين جارياً على الإِسلام والسنة من لدن الصحابة من المهاجرين والأَنصار رضي الله عنهم إِلى من بعدهم من التابعين لهم بإحسان ما تتابعوا، يؤمنون بصفات الله -تعالى- التي نَطَقَ بها الوحيان الشريفان، فَتُمَرُّ كما جاءت وتثبت على ظاهرها بأَلفاظها، وتثبت دلالة أَلفاظها على حقائقها، ومعانيها، وتعيين المراد منها على ما يليق باللهِ تبارك وتعالى وذلك كالقول في الذات سواء، مع تفويض الكيفية، ونفي الشبيه والمثال، والتنزيه عن التعطيل.

وهذا مُوجَبُ النصوص، والعقول، وفِطَر الخلائق السليمة. وكانت الحال كذلك في صدر الأُمة في أُمور التوحيد كافة لا يشوبهم في ذلك شائبة.

ولهذا لا ترى في هذه الحقبة الزمنية المباركة تآليف في تقرير التوحيد.
প্রথম সত্য:

মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে শুরু করে নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারী তাবেঈদের যুগ পর্যন্ত মুসলমানদের সামগ্রিক অবস্থা ইসলাম ও সুন্নাহর ওপর পরিচালিত হয়ে আসছিল। তাঁরা মহান আল্লাহর সেই সকল গুণাবলীর ওপর ঈমান রাখতেন যা পবিত্র ওহীদ্বয় (কুরআন ও সুন্নাহ) বর্ণনা করেছে। সুতরাং এই গুণাবলীগুলোকে যেভাবে এসেছে সেভাবেই রাখা হতো এবং শব্দ অনুযায়ী সেগুলোর বাহ্যিক অর্থের ওপর সাব্যস্ত করা হতো। আর এই শব্দগুলো যে প্রকৃত বাস্তবতা ও অর্থের ওপর প্রমাণ বহন করে এবং মহান আল্লাহর শান অনুযায়ী যেভাবে প্রযোজ্য, সেভাবেই সেগুলোর উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে সাব্যস্ত করা হতো। এটি মহান আল্লাহর সত্তার (জাত) বিষয়ে বিশ্বাসের মতোই, যেখানে গুণাবলীর ধরণ বা প্রকৃতি (কায়ফিয়্যাত) মহান আল্লাহর ওপর ন্যস্ত করা হয়, কোনো সদৃশ ও উদাহরণকে অস্বীকার করা হয় এবং গুণাবলী অস্বীকার করার (তাতীল) অপবাদ থেকে আল্লাহকে পবিত্র রাখা হয়।

আর এটিই হলো দলীলসমূহ, বুদ্ধি এবং সৃষ্টির সুস্থ স্বভাবজাত প্রকৃতির দাবি। উম্মতের সোনালী যুগে তাওহীদের যাবতীয় বিষয়ে অবস্থা এমনই ছিল এবং এতে তাঁদের মাঝে কোনো প্রকার সংশয়ের লেশমাত্র ছিল না।

এই কারণেই এই বরকতময় যুগে তাওহীদ প্রমাণের বিষয়ে কোনো গ্রন্থ সংকলন দেখতে পাওয়া যায় না।
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
* الحقيقة الثانية:

أَنه لما وقعت في الأُمة بذور البدع في الِإرجاء، والقدر، والتشيع، والتأْويل، والتفويض … قابلها السلف عن قوس واحدة بالرد، والِإنكار، وصاحوا بهم من جميع الأَقطار، فتميزت جماعة المسلمين المنابذين لهذه الأَهواء باسم: السلف، وأَهل السنة، وأَهل السنة والجماعة، وأَهل الحديث. وانحازت الأَهواء في رؤوس أَصحابها يُعْرَفُونَ بأَلقابهم التي تفصلهم عن جماعة المسلمين: شيعة، رافضة، قدرية، مرجئة، مؤولة، مفوضة، جهمية، معتزلة، ماتريدية، أَشعرية …

* الحقيقة الثالثة:

أَن القيام بهذا الواجب الِإيماني العظيم من أَهل السنة والجماعة في الرد على أَهل الأَهواء كِفَاحاً، أَوْجَدَ كذلك الرَّدَّ كتابة على كل مَن مَدَّ لسانه بباطل في مقامات التوحيد وأَصل الملة، فكتبوا الردود ودونوها، وأَبطلوا شبه المخالفين وزيفوها، وأَن نهاية صدورها من المخالفين، إِنما هو عن
* দ্বিতীয় সত্য:

নিশ্চয় যখন উম্মাহর মধ্যে ইরজা, কদর, শিয়া মতবাদ, তাবিল এবং তাফবিদের বিদআতের বীজ উপ্ত হলো … তখন সালাফগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকৃতির মাধ্যমে এর মোকাবিলা করলেন এবং বিশ্বের সকল প্রান্ত থেকে তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন। ফলে এই কুপ্রবৃত্তিগুলোর বিরোধী মুসলিম জামাত ‘সালাফ’, ‘আহলে সুন্নাত’, ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত’ এবং ‘আহলে হাদিস’ নামে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হলো। আর কুপ্রবৃত্তিগুলো তাদের প্রবক্তাদের চিন্তাধারায় গেড়ে বসল এবং তারা এমন সব উপাধিতে পরিচিত হলো যা তাদের মুসলিম জামাত থেকে পৃথক করে দেয়: শিয়া, রাফেজি, কদরিয়া, মুরজিয়া, মুআউবিলা, মুফাউবিদা, জাহমিয়া, মুতাজিলা, মাতুরিদিয়া, আশআরিয়া …

* তৃতীয় সত্য:

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের পক্ষ থেকে কুপ্রবৃত্তির অনুসারীদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মাধ্যমে এই মহান ঈমানি দায়িত্ব পালন করা একইভাবে সেই সব ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত জবাবের সূত্রপাত ঘটাল, যারা তাওহিদের মর্যাদা ও মিল্লাতের মূলনীতির বিষয়ে বাতিলের বিস্তার ঘটিয়েছিল। ফলে তারা এই প্রত্যাখ্যানগুলো লিপিবদ্ধ ও সংকলন করলেন এবং বিরোধীদের সংশয়সমূহকে বাতিল ও অসার প্রমাণ করলেন। আর বিরোধীদের পক্ষ থেকে এগুলোর প্রকাশ ঘটার বিষয়টি মূলত...
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
هوى وتلاعب بالدين.

فَرَدَّ عَلَى القدرية في القرن الثاني الأَئمة: مالك المتوفا سنة 179 هـ، وابن المبارك المتوفا سنة 181 هـ، وغيرهما- رحم الله الجميع-. وهكذا عَلَى بقية الفرق، ومؤلفاتهم فيها مشهورة، ومنها جملة مطبوعة.

ولهذا فيكاد يكون أَول الكتب المؤلفة في التوحيد، هي في مجال الرد على المخالفين فحسب.

* الحقيقة الرابعة:

أَن أَهل السنة والجماعة حين يكتبون في بيان أَمر التوحيد، وتقريره، ابتداءً؛ لتلقين المسلمين المعتقد الحق، ودفع تلقينهم عقائد المخالفين- فإِنهم في تآليفهم هذه يقتصرون على أَلفاظ نصوص الوحيين الشريفين كما سَلَكَهُ شيخ الإِسلام ابن تيمية - رحمه الله تعالى- في "العقيدة الواسطية" وغيرها.

وقد يأْتي بعضهم ببعض هذه الأَلفاظ مثل "بائن من خلقه"، "بذاته"، "غير مخلوق" لزيادة البيان؛ ولما يشاهده
প্রবৃত্তি এবং দ্বীন নিয়ে তামাশা করা।

দ্বিতীয় শতাব্দীতে ইমামগণ কাদারিয়্যাহ সম্প্রদায়ের প্রতিবাদ করেছেন: ইমাম মালিক (মৃত্যু ১৭৯ হিজরি), ইবনুল মুবারক (মৃত্যু ১৮১ হিজরি) এবং অন্যান্যাগণ—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি দয়া করুন। একইভাবে অন্যান্য ফিরকাগুলোর ক্ষেত্রেও এটি হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁদের গ্রন্থসমূহ সুপ্রসিদ্ধ এবং এর মধ্যে অনেকগুলো মুদ্রিত রয়েছে।

এই কারণেই তাওহীদ বিষয়ে রচিত প্রাথমিক গ্রন্থসমূহ প্রায় সম্পূর্ণরূপেই কেবল বিরোধীদের খণ্ডন করার উদ্দেশ্যে ছিল।

* চতুর্থ সত্য:

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত যখন তাওহীদের বিষয় বর্ণনা ও তা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রাথমিকভাবে লেখনী ধারণ করেন—যাতে মুসলিমদের সঠিক আকিদা শিক্ষা দেওয়া যায় এবং বিরোধীদের আকিদার প্রভাব প্রতিহত করা যায়—তখন তাঁরা তাঁদের এই গ্রন্থগুলোতে পবিত্র দুই ওহীর ভাষ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন। যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) তাঁর ‘আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ’ ও অন্যান্য গ্রন্থে করেছেন।

কখনও কখনও তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বিষয়টিকে আরও বিশদ করার জন্য এবং সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে যা পর্যবেক্ষণ করেন তার কারণে ‘সৃষ্টি থেকে পৃথক’, ‘সত্তা অনুযায়ী’, ‘অসৃষ্ট’—এ ধরণের কিছু শব্দ ব্যবহার করেন।
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
في عصره من ظهور المخالفين وانتشار مذاهبهم، فهو تقرير وَرَدٌّ على تلكم التوجهات العقدية المرفوضة بمقياس الشرع المطهر، يوضحه ما بعده:

* الحقيقة الخامسة:

أَن وجود الأَقوال الشنيعة من المخالفين في حق الله- تبارك وتعالى المُعْلَنَةِ في مذاهبهم الباطلة: التأْويل، التفويض، التعطيل … المخالفة لما نطق به الوحيان الشريفان في أُمور التوحيد والسنة، اضطرت علماء السلف الذين واجهوا هذه المذاهب، والأَقاويل الباطلة بِالرَّدِّ والِإبطال- إِلى البيان بأَلفاظ تفسيرية محدودة، هي من دلالة أَلفاظ نصوص الصفات على حقائقها ومعانيها لا تخرج عنها؛ هؤلاء المخالفين لما تجرؤا على الله فتفوهوا بالباطل وجب على أَهل الإِسلام الحق الجهر بالحق، والرد على الباطل جهرة بنصوص الوحيين، لفظاً ومعنى ودلالة بِتَعَابِيرَ عن حقائقها ومعانيها الحَقَّة لا تخرج عنها البتة، وانتشر ذلك بينهم دون أَن ينكره منهم أَحد.
তাঁর যুগে বিরোধীদের আবির্ভাব এবং তাদের মতাদর্শের প্রসারের পরিপ্রেক্ষিতে, এটি হচ্ছে পবিত্র শরীয়তের মানদণ্ডে প্রত্যাখ্যাত ঐ সকল আকিদাগত ঝোঁক-প্রবণতার একটি বিবরণ ও খণ্ডন, যা পরবর্তী আলোচনা দ্বারা স্পষ্ট হবে:

* পঞ্চম সত্য:

আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার শানে বিরোধীদের বাতিল মতাদর্শে ঘোষিত জঘন্য বক্তব্যসমূহের উপস্থিতি—যেমন: তা'বিল (অপব্যাখ্যা), তাফবিদ (অর্থের ভার অর্পণ), তা'তিল (গুণাবলি অস্বীকার করা) … যা তাওহীদ ও সুন্নাহর বিষয়ে দুই ওহীর (কুরআন ও সুন্নাহর) বাণীর পরিপন্থী—তা সালাফ আলেমদের (যাঁরা এই সকল মতাদর্শ ও বাতিল উক্তিগুলোর প্রতিবাদ ও খণ্ডন করেছেন) বাধ্য করেছে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যামূলক শব্দের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করতে। যা মূলত সিফাত বা গুণাবলির নস বা দলিলসমূহের শব্দগুলো যে হাকিকত ও অর্থের ওপর দালালাত বা নির্দেশ করে তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং তা থেকে বিচ্যুত নয়; এই বিরোধীরা যখন আল্লাহর ব্যাপারে দুঃসাহস দেখিয়েছে এবং বাতিল কথা বলেছে, তখন সত্যনিষ্ঠ মুসলমানদের ওপর ওয়াজিব হয়ে পড়েছে উচ্চকণ্ঠে সত্য প্রচার করা এবং দুই ওহীর দলিলসমূহের শব্দ, অর্থ ও নির্দেশের মাধ্যমে প্রকাশ্যে বাতিলকে খণ্ডন করা। আর এটি করতে হবে এমন সব অভিব্যক্তির মাধ্যমে যা ঐগুলোর হাকিকত ও সত্য অর্থসমূহ প্রকাশ করে এবং যা থেকে কোনোভাবেই বিচ্যুত হয় না। আর এই কর্মপন্থা তাঁদের মধ্যে প্রচলিত হয়েছে এবং তাঁদের মধ্য থেকে কেউ এর প্রতিবাদ করেননি।
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وكان منها- مثلاً- أَلفاظ خمسة: "بذاتها"، "بائن من خلقه"، "حقيقة"، "في كل مكان بعلمه"، "غير مخلوق". فأَهل السنة يُثبتون: استواء الله على عرشه المجيد، كما أَثبته الله لنفسه. فلما نفى المخالفون "استواء الله على عرشه المجيد" وَلَجَأُوا إِلى أَضيق المسالك، فأَوَّلَهُ بَعْضٌ بالاستيلاء، وبعض بالتفويض، وبعض بالحلول، رد عليهم أَهل السنة بإِثبات استواء الله سبحانه على عرشه المجيد بذاته، وأَنه -سبحانه- بائن من خلقه، وأَنه استواء حقيقة.

فأَي خروج عن مقتضى النص في هذه الأَلفاظ.

بل نقول لهم بالِإلزام:

أَين لفظ "الاستيلاء" في نصوص الوحيين؟ وقد بينت بعضاً من ذلك في حرف الباء من: "معجم المناهي اللفظية" استطراداً فيما لا ينهى عنه.

وهذه الأَلفاظ انتشرف بين المسلمين: أَهل السنة والجماعة، ولم ينكرها منهم أَحد، وإليك البيان:
এর মধ্যে ছিল—উদাহরণস্বরূপ—পাঁচটি শব্দ: "সত্তাগতভাবে", "সৃষ্টি থেকে পৃথক", "প্রকৃতভাবে", "তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে সর্বস্থানে", "অসৃষ্ট"। আহলুস সুন্নাহ সাব্যস্ত করেন: মহান আরশের উপর আল্লাহর উঠা, যেভাবে আল্লাহ নিজের জন্য তা সাব্যস্ত করেছেন। অতঃপর যখন বিরোধীরা "মহান আরশের উপর আল্লাহর উঠা"-কে অস্বীকার করল এবং সংকীর্ণতম পথের আশ্রয় নিল, ফলে তাদের কেউ এর ব্যাখ্যা করল 'ইস্তিলা' (আধিপত্য বিস্তার) দিয়ে, কেউ 'তাফউইদ' (অর্পণ) দিয়ে, আর কেউ 'হুলুল' (সৃষ্টির সাথে মিশে যাওয়া) দিয়ে; তখন আহলুস সুন্নাহ তাদের প্রতিবাদ জানালেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার তাঁর মহান আরশের উপর সত্তাগতভাবে উঠা সাব্যস্ত করার মাধ্যমে, এবং এটি যে তিনি তাঁর সৃষ্টি থেকে পৃথক এবং এটি একটি প্রকৃত উঠা।

তাহলে এই শব্দগুলোর মাঝে দলিলের দাবি থেকে বিচ্যুতি কোথায়?

বরং আমরা তাদের বাধ্যতামূলক যুক্তির মাধ্যমে বলি:

ওহীর দলীলসমূহে "ইস্তিলা" (আধিপত্য বিস্তার) শব্দটি কোথায়? আমি "মু'জাম আল-মানাহি আল-লাফজিয়াহ" গ্রন্থের 'বা' বর্ণে এমন সব বিষয়ের প্রাসঙ্গিক আলোচনায় এর কিছু অংশ বর্ণনা করেছি যা নিষিদ্ধ নয়।

আর এই শব্দগুলো মুসলমানদের মধ্যে—আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের মাঝে—প্রসার লাভ করেছে এবং তাদের কেউই তা অস্বীকার করেননি। নিচে তার বিবরণ দেওয়া হলো:
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
"1"- لفظ: "بذاته":

أَما لفظ: "بذاته" فقال أَبو منصور السجزي المتوفى سنة 444 هـ رحمه الله تعالى (1):

"أَئمتنا كالثوري، ومالك، وابن عيينة، وحماد ابن زيد، والفضيل، وأَحمد، وإِسحاق متفقون على أَن الله فوق العرش بذاته، وأَن علمه بكل مكان" انتهى.

وأَبو إِسماعيل الهروي المتوفى سنة 481 هـ - رحمه الله تعالى- لما صرح في كتبه بلفظ "الذات" قال (2):

"ولم تزل أَئمة السَّلف تُصرِّح بذلك" انتهى.

فهذان نقلان يفيدان إِطلاق هذا اللفظ لدى السلف من غير نكير.

ومن أَفرادهم كما في "اجتماع الجيوش الِإسلامية"، و"مختصر العلو":

--------------------------------------------

(1) "اجتماع الجيوش الِإسلامية": (ص/ 246).

(2) "اجتماع الجيوش الِإسلامية": (ص/ 279).
"১"- শব্দ: "নিজ সত্তায়":

আর "নিজ সত্তায়" শব্দটির ব্যাপারে ৪৪৪ হিজরি সনে ইন্তেকালকারী আবু মানসুর আস-সিজজি (রহমাতুল্লাহি তাআলা) বলেছেন (১):

"আমাদের ইমামগণ যেমন সাওরি, মালিক, ইবন উয়াইনা, হাম্মাদ ইবন যায়িদ, ফুদাইল, আহমাদ এবং ইসহাক এই মর্মে একমত যে, আল্লাহ নিজ সত্তায় আরশের উপরে, আর তাঁর জ্ঞান সব জায়গায় বিদ্যমান।" সমাপ্ত।

আর ৪৮১ হিজরি সনে ইন্তেকালকারী আবু ইসমাইল আল-হারাউই (রহমাতুল্লাহি তাআলা) যখন তাঁর বইসমূহে "সত্তা" শব্দটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, তখন তিনি বলেন (২):

"সালাফের ইমামগণ সবসময়ই তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।" সমাপ্ত।

সুতরাং এই দুটি উদ্ধৃতি সালাফদের মাঝে কোনো প্রকার আপত্তি ছাড়াই এই শব্দটির প্রয়োগের প্রমাণ দেয়।

আর তাদের মধ্য হতে কতিপয় ব্যক্তি যেমনটি "ইজতিমাউল জুয়ুশ আল-ইসলামিয়্যাহ" এবং "মুখতাসারুল উলু"-তে বর্ণিত হয়েছে:

--------------------------------------------

(১) "ইজতিমাউল জুয়ুশ আল-ইসলামিয়্যাহ": (পৃষ্ঠা/ ২৪৬)।

(২) "ইজতিমাউল জুয়ুশ আল-ইসলামিয়্যাহ": (পৃষ্ঠা/ ২৭৯)।
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
1 - ابن أَبي شيبة: أَبو جعفر محمد بن عثمان العبسي الكوفي المتوفى سنة 297 هـ.

2 - أَبو جعفر محمد بن جرير الطبري، ت 310 هـ: "المختصر": (رقم 279).

3 - أَبو الحسن الأَشعري، ت 324 هـ: "اجتماع": (ص/ 281).

4 - أَبو سليمان الخطابي، ت 388 هـ: "اجتماع": (ص/ 281).

5 - ابن أَبي زيد القيرواني المالكي، ت 386 هـ: "اجتماع": (ص/ 150)، "المختصر" (رقم 279).

6 - أَبو عمرو الطلمنكي، ت 399 هـ: "اجتماع": (ص/142، 147، 281).

7 - أَبو بكر محمد بن الطيب الباقلاني، ت 403 هـ: "اجتماع": (ص/ 280، 281).

8 - محمد بن الحسن بن فورك، ت 406 هـ: "اجتماع": (ص/ 281).
১ - ইবনে আবি শায়বাহ: আবু জাফর মুহাম্মদ বিন উসমান আল-আবসি আল-কুফি, মৃত্যু ২৯৭ হিজরি।

২ - আবু জাফর মুহাম্মদ বিন জারির আত-তবারি, মৃত্যু ৩১০ হিজরি: "আল-মুখতাসার": (নম্বর ২৭৯)।

৩ - আবু আল-হাসান আল-আশআরি, মৃত্যু ৩২৪ হিজরি: "ইজতিমা": (পৃষ্ঠা/ ২৮১)।

৪ - আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবি, মৃত্যু ৩৮৮ হিজরি: "ইজতিমা": (পৃষ্ঠা/ ২৮১)।

৫ - ইবনে আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানি আল-মালিকি, মৃত্যু ৩৮৬ হিজরি: "ইজতিমা": (পৃষ্ঠা/ ১৫০), "আল-মুখতাসার" (নম্বর ২৭৯)।

৬ - আবু আমর আত-তালামনকি, মৃত্যু ৩৯৯ হিজরি: "ইজতিমা": (পৃষ্ঠা/ ১৪২, ১৪৭, ২৮১)।

৭ - আবু বকর মুহাম্মদ বিন আত-তয়্যিব আল-বাকিলানি, মৃত্যু ৪০৩ হিজরি: "ইজতিমা": (পৃষ্ঠা/ ২৮০, ২৮১)।

৮ - মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন ফুরাক, মৃত্যু ৪০৬ হিজরি: "ইজতিমা": (পৃষ্ঠা/ ২৮১)।
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
9 - محمد بن موهب تلميذ ابن أَبي زيد، ت 406 هـ: "اجتماع": (ص / 187، 188)، "المختصر":

(رقم 282).

10 - يحيى بن عمار السجزي، ت 422 هـ: "اجتماع": (279)، "المختصر": (رقم 319).

11 - عبد الوهاب بن نصر المالكي، ت 422 هـ: "اجتماع": (ص/ 164، 189، 280، 281)، "المختصر": (رقم 279).

12 - سعد بن علي الزنجاني الشافعي، ت 471 هـ: "اجتماع": (ص/ 197).

13 - أَبو إِسماعيل عبد الله الأَنصاري الهروي، ت 481 هـ: "اجتماع": (ص/ 279)، قال: "بذاته". وفي: "المختصر": (رقم 255)، قال: "على العرش بنفسه".

14 - إِسماعيل بن محمد بن الفضل التميمي، ت 535 هـ: "اجتماع": (ص/ 180، 183).
৯ - মুহাম্মাদ বিন মাওহাব, ইবনে আবি যায়িদের ছাত্র, মৃত্যু ৪০৬ হিজরি: "ইজতিমা": (পৃষ্ঠা / ১৮৭, ১৮৮), "আল-মুখতাসার":

(নম্বর ২৮২)।

১০ - ইয়াহইয়া বিন আম্মার আস-সিজজি, মৃত্যু ৪২২ হিজরি: "ইজতিমা": (২৭৯), "আল-মুখতাসার": (নম্বর ৩১৯)।

১১ - আব্দুল ওয়াহহাব বিন নাসর আল-মালিকি, মৃত্যু ৪২২ হিজরি: "ইজতিমা": (পৃষ্ঠা/ ১৬৪, ১৮৯, ২৮০, ২৮১), "আল-মুখতাসার": (নম্বর ২৭৯)।

১২ - সা'দ বিন আলী আয-যানজানি আশ-শাফেয়ি, মৃত্যু ৪৭১ হিজরি: "ইজতিমা": (পৃষ্ঠা/ ১৯৭)।

১৩ - আবু ইসমাইল আব্দুল্লাহ আল-আনসারি আল-হারাউয়ি, মৃত্যু ৪৮১ হিজরি: "ইজতিমা": (পৃষ্ঠা/ ২৭৯), তিনি বলেছেন: "সত্তা সহকারে"। এবং "আল-মুখতাসার" গ্রন্থে: (নম্বর ২৫৫), তিনি বলেছেন: "তিনি স্বয়ং আরশের উপর"।

১৪ - ইসমাইল বিন মুহাম্মাদ বিন ফাদল আত-তামিমি, মৃত্যু ৫৩৫ হিজরি: "ইজতিমা": (পৃষ্ঠা/ ১৮০, ১৮৩)।
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
15 - عبد القادر الجيلاني، ت 561 هـ: "اجتماع": (ص/ 276، 277).

16 - محمد بن فرج القرطبي، ت 671 هـ: "اجتماع": (ص/ 285).

"2" - لفظ: "بائن من خلقه":

وأَما لفظ: "بائن من خلقه" فقد عزاه أَبو نعيم الأَصبهاني المتوفى 430 هـ إِلى السلف فقال كما في: "مختصر العلو": (ص/ 261):

"طريقتنا طريقة السلف المتبعين للكتاب والسنة واِجماع الأُمة ومما اعتقدوه أَن الله لم يزل كاملاً بجميع صفاته القديمة … - إِلى أَن قال-: وأَن الأَحاديث التي ثبتت في العرش، واستواء الله عليه يقولون بها، ويثبتونها من غير تكييف، ولا تمثيل، وأَن الله بائن من خلقه، والخلق بائنون منه، لا يحل فيهم، وهو مستو على عرشه في سمائه من دون أَرضه" انتهى مختصراً.

قال الذهبي بعده: "فقد نقل هذا الِإمام الِإجماع على
১৫ - আব্দুল কাদির আল-জিলানী, মৃত্যু ৫৬১ হিজরি: "ইজতিমা": (পৃষ্ঠা/ ২৭৬, ২৭৭)।

১৬ - মুহাম্মদ বিন ফারাজ আল-কুরতুবি, মৃত্যু ৬৭১ হিজরি: "ইজতিমা": (পৃষ্ঠা/ ২৮৫)।

"২" - পরিভাষা: "তাঁর সৃষ্টি থেকে পৃথক":

আর "তাঁর সৃষ্টি থেকে পৃথক" পরিভাষাটি আবু নুয়াইম আল-আসফাহানি (মৃত্যু ৪৩০ হি.) সালাফদের দিকে নিসবত করেছেন। তিনি 'মুখতাসারুল উলু' (পৃষ্ঠা: ২৬১) গ্রন্থে যেমনটি বলেছেন:

"আমাদের পদ্ধতি হলো কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মাহর ইজমার অনুসারী সালাফদের পদ্ধতি। তাদের আকিদার অন্তর্ভুক্ত হলো যে, আল্লাহ সর্বদা তাঁর সকল অনাদি গুণাবলিসহ পরিপূর্ণ... -এরপর তিনি বলেন- আর আরশ এবং সেটির ওপর আল্লাহর উঠার বিষয়ে যে সকল হাদিস প্রমাণিত হয়েছে, সেগুলো তারা স্বীকার করেন এবং কোনো ধরণ-প্রকৃতি নির্ধারণ (তাকিফ) ও সদৃশ করা (তামসিল) ছাড়াই তা সাব্যস্ত করেন। আর আল্লাহ তাঁর সৃষ্টি থেকে পৃথক এবং সৃষ্টিরা তাঁর থেকে পৃথক; তিনি সৃষ্টির মধ্যে মিশে যান না। তিনি তাঁর আসমানে আরশের ওপর উঠেছেন, যমীনে নয়।" সংক্ষেপে সমাপ্ত।

এর পরে আয-যাহাবী বলেন: "এই ইমাম ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন যে-"
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
هذا القول، ولله الحمد … ".

ونقله- أَيضاً- الِإمامان أَبو زرعة، وابن أَبي حاتم، قالا كما في: "اجتماع الجيوش الِإسلامية": (ص/ 233)، و"مختصر العلوم": (ص / 204، رقم / 253)، واللفظ عن "اجتماع الجيوش الِإسلامية":

"أَدركنا العلماء في جميع الأَمصار حجازاً وعراقاً ومصراً وشاماً ويمناً فكان من مذهبهم الِإيمان قول وعمل يزيد وينقص، والقرآن كلام الله غير مخلوق … - إِلى أَن قال-: وأَن الله عز وجل على عرشه بائن من خلقه كما وصف نفسه في كتابه وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم بلا كيف، أَحاط بكل شيء علماً، ليس كمثله شيء وهو السميع البصير … " انتهى مختصراً.

وقال القرطبي محمد بن فرج المتوفى 671 هـ كما في:

"اجتماع الجيوش الِإسلامية": (ص/ 281):

"وقال جميع الفضلاء الأَخيار: إِن الله فوق عرشه كما أَخبر في كتابه وعلى لسان نبيه بلا كيف، بائن من جميع
এই উক্তিটি, এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য … ।

এবং এটি দুই ইমাম—আবু যুরআ ও ইবনে আবি হাতিম—ও বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন, যেমনটি 'ইজতিমাউল জুইউশিল ইসলামিয়্যাহ' (পৃষ্ঠা: ২৩৩) এবং 'মুখতাসারুল উলুম' (পৃষ্ঠা: ২০৪, নম্বর: ২৫৩)-এ বর্ণিত হয়েছে। আর পাঠটি 'ইজতিমাউল জুইউশিল ইসলামিয়্যাহ' থেকে সংগৃহীত:

"আমরা হিজায, ইরাক, মিসর, শাম ও ইয়ামেনসহ সকল জনপদের আলেমদের সান্নিধ্য পেয়েছি; তাঁদের মাযহাব ছিল এই যে—ঈমান হলো কথা ও কাজ, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়। আর কুরআন হলো আল্লাহর কালাম, যা সৃষ্ট নয় … —পরবর্তীতে তিনি বলেন—এবং মহান আল্লাহ তাঁর আরশের উপর আছেন, তিনি তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক, যেমনটি তিনি নিজের কিতাবে এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষায় নিজের বর্ণনা দিয়েছেন কোনো ধরন নির্ধারণ করা ছাড়াই। তিনি জ্ঞান দ্বারা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন। তাঁর সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা … " সংক্ষেপে সমাপ্ত।

এবং আল-কুরতুবী মুহাম্মদ বিন ফারাজ (মৃত ৬৭১ হিজরি) বলেন, যেমনটি এসেছে:

'ইজতিমাউল জুইউশিল ইসলামিয়্যাহ': (পৃষ্ঠা: ২৮১):

"এবং সকল শ্রেষ্ঠ ও পুণ্যবান মনীষীগণ বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর আরশের উপরে, যেমনটি তিনি তাঁর কিতাবে এবং তাঁর নবীর ভাষায় সংবাদ দিয়েছেন—কোনো ধরন ব্যতিরেকেই, তিনি সমস্ত সৃষ্টি থেকে পৃথক"
(খণ্ড: ১) আকীদাতুস সালাফ - মুকাদ্দিমাতু আবী যায়িদ আল-কায়রাওয়ানী লি কিতাবিহির রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
خلقه، هذا مذهب السلف الصالح فيما نقل عنهم الثقات" انتهى.

وحكاه البوشنجي المتوفى 242 هـ عن أَهل الأَمصار كما في "مختصر العلو": (ص / 225)، فقال:

"هذا ما رأَينا عليه أَهل الأَمصار، وما دلَّت عليه مذاهبهم فيه، وإِيضاح منهاج العلماء وصفة السنة وأَهلها، أَن الله فوق السماء على عرشه، بائن من خلقه، وعلمه وسلطانه وقدرته بكل مكان" انتهى.

ومن أَعلامهم كما في: "اجتماع الجيوش الِإسلامية"،

و"مختصر العلو":

1 - عبد الله بن المبارك، ت 181 هـ: "اجتماع": (ص / 134، 214)، "المختصر": (رقم 67).

2 - هشام بن عبد الله الرازي، ت 221 هـ: " المختصر": (رقم 53).

3 - سُنيد بن داود، ت 226 هـ: "اجتماع": (ص / 235) "المختصر": (رقم 56).
তাঁর সৃষ্টি হতে পৃথক; নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে তাঁদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা অনুসারে এটিই সালাফে সালেহীনের মাযহাব।" শেষ।

২৪২ হিজরীতে মৃত্যুবরণকারী আল-বুশানজী বিভিন্ন জনপদের অধিবাসীদের পক্ষ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি "মুখতাসারুল উলু" (পৃষ্ঠা: ২২৫) গ্রন্থে রয়েছে। তিনি বলেছেন:

"এটিই আমরা বিভিন্ন জনপদের অধিবাসীদের যে মতাদর্শের ওপর পেয়েছি এবং তাঁদের মাযহাবসমূহ যা নির্দেশ করে, আর উলামায়ে কেরামের মানহাজ এবং সুন্নাহ ও সুন্নাহর অনুসারীদের বৈশিষ্ট্যের ব্যাখ্যা হলো—আল্লাহ আকাশের উপরে তাঁর আরশের ওপর, তিনি তাঁর সৃষ্টি হতে পৃথক; আর তাঁর জ্ঞান, কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা সর্বত্র বিদ্যমান।" শেষ।

তাঁদের প্রখ্যাত ইমামগণের মধ্য হতে যেমনটি "ইজতিমাউল জুইউশিল ইসলামিয়্যাহ" এবং "মুখতাসারুল উলু" গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে:

১ - আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, মৃত্যু ১৮১ হিজরী: "ইজতিমা" (পৃষ্ঠা: ১৩৪, ২১৪), "মুখতাসার" (নং ৬৭)।

২ - হিশাম ইবনে আবদুল্লাহ আর-রাযী, মৃত্যু ২২১ হিজরী: "মুখতাসার" (নং ৫৩)।

৩ - সুনাইদ ইবনে দাউদ, মৃত্যু ২২৬ হিজরী: "ইজতিমা" (পৃষ্ঠা: ২৩৫), "মুখতাসার" (নং ৫৬)।