(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: -)
عقود الجمان في علم المعاني والبيان القسم: البلاغة
الكتاب: عُقُودُ الجُمَانْ في عِلْمِ الْمَعَانِي وَالْبَيَانْ
وهو نظم لكتاب «تلخيص المفتاح» للخطيب القزويني المتوفى 739 هـ
المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)
تحقيق وضبط: عبد الحميد ضحا
الناشر: دار الإمام مسلم للطباعة والنشر والتوزيع، القاهرة
الطبعة: الأولى، 1433 هـ - 2012 م
عدد الصفحات: 125
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 جُمادَى الأولى 1434
অলঙ্কার শাস্ত্রের (মা'আনী ও বায়ান) মুক্তামালা বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত)
গ্রন্থ: অলঙ্কার শাস্ত্রের (মা'আনী ও বায়ান) মুক্তামালা
এটি খতীব কাযভীনী (মৃত্যু ৭৩৯ হি.) রচিত «তালখীসুল মিফতাহ» গ্রন্থের কাব্যিক রূপ
লেখক: আব্দুর রহমান বিন আবু বকর، জালালুদ্দীন সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হি.)
সম্পাদনা ও যাচাই: আব্দুল হামীদ দ্বোহা
প্রকাশক: দারুল ইমাম মুসলিম মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা، কায়রো
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৩ হিজরী - ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৪
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: -)
عُقُودُ الجُمَانْ
في
عِلْمِ الْمَعَانِي وَالْبَيَانْ
تأليفُ
الإمامِِ الحافظِ جلالِ الدِّينِ السُّيُوطِيِّ
المُتَوَفَّى سنةَ (911) هـ
- وهو نظم لكتاب تلخيص المفتاح للخطيب القزويني
المتوفى سنة (739) هـ
تحقيق وضبط: عبد الحميد ضحا
উকুদুল জুমান
প্রসঙ্গে
ইলমে মাআনি ও ইলমে বয়ান
রচনা:
ইমাম হাফিজ জালালুদ্দিন সুয়ূতী
মৃত্যু: ৯১১ হিজরী
- এটি খতীব আল-কাযভীনী রচিত ‘তালখীসুল মিফতাহ’ গ্রন্থের কাব্যরূপ
মৃত্যু: ৭৩৯ হিজরী
সম্পাদনা ও বিন্যাস: আব্দুল হামিদ দুহা
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدِّمة المحقِّقالحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله، أمَّا بعدُ:
فقد طلب إليَّ بعضُ أولي العلم والفضل - أولَ عام 2006 م - أن أحقِّق منظومة "عقود الجمان" للسيوطي وأضبطها ضبطا كاملا؛ لأهميتها في علم البلاغة، فلم نر أحدًا ضبطها بكل حروفها، فاستعنت بالله تعالى، وحصلت على مخطوطتها من "موقع مخطوطات الأزهر الشريف"، ثم حصلت على كتاب "شرح عقود الجمان في علم المعاني والبيان"، تأليف الحافظ جلال الدين عبد الرحمن السيوطي، وبهامشه: "حلية اللب المصون على الجوهر المكنون"؛ للشيخ أحمد الدمنهوري، مطبعة مصطفى البابي الحلبي وأولاده بمصر (1358 هـ / 1939 م / 597).
وانتهيتُ منها في أقل من أسبوعين - بفضل الله - ولكن انشغلت عن طباعتها، حتى يسَّر الله طباعتها الآن (2012م).
সম্পাদকের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। অতপর:
২০০৬ খ্রিস্টাব্দের শুরুর দিকে ইলম ও ফযীলতের অধিকারী কতিপয় ব্যক্তি আমার কাছে আবেদন করেন যেন আমি সুয়ূতী রহ.-এর ‘উকূদুল জুমান’ কাব্যগ্রন্থটি সম্পাদনা করি এবং এর হরকতসমূহ পূর্ণাঙ্গভাবে বিন্যস্ত করি; অলঙ্কারশাস্ত্রে (ইলমুল বালাগাহ) এর গুরুত্বের কারণে। আমরা কাউকে দেখিনি যিনি এর প্রতিটি অক্ষরকে পূর্ণাঙ্গরূপে হরকতযুক্ত করেছেন। অতঃপর আমি মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং ‘আল-আযহার আশ-শরীফ পাণ্ডুলিপি সাইট’ থেকে এর পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করি। এরপর আমি হাফিয জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান আস-সুয়ূতী রচিত ‘শারহু উকূদিল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান’ গ্রন্থটি সংগ্রহ করি, যার টীকা হিসেবে রয়েছে শাইখ আহমাদ আদ-দামানহূরী রচিত ‘হিলয়াতুল লুববিল মাসূন আলাল জাওহারিল মাকনূন’; যা মিশরের মুস্তাফা আল-বাবি আল-হালাবি অ্যান্ড সন্স প্রেস থেকে প্রকাশিত (১৩৫৮ হিজরী / ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দ / ৫৯৭)।
আল্লাহর অনুগ্রহে আমি দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে এর কাজ শেষ করি—তবে এটি মুদ্রণের ক্ষেত্রে আমি ব্যস্ত হয়ে পড়ি, অবশেষে আল্লাহ এখন (২০১২ খ্রিস্টাব্দ) এর মুদ্রণ সহজ করে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ৬)
ومعلومة الصعاب التي يجدها من يضبط أُرْجُوزة لأول مرة دون سابق، فيحتاج المرء إلى إعراب الكلمات والحروف والرجوع لأمهات المعاجم، ووزن كل الأبيات؛ خاصة أنَّ المخطوط مليء بالتصحيف والتحريف والسقط، ولا يوجد به همزات، في أرجوزة ربما الحرف - لا الكلمة - يكسر الوزن والمعنى، وكذلك الكتاب المطبوع مليء بالتصحيف والتحريف والسقط.
لذا؛ اعتمدت على شرح السيوطي نفسِه رحمه الله لها في إعراب الكلمات، والمقارنة بين الكتاب المطبوع والمخطوط وشرح السيوطي لترجيح الضبط الذي أراه، وقد أشرت لمعظم التصحيفات في المخطوط، وبعضها فقط في المطبوع لكثرة الأخطاء الطِّباعية فيه، وعدم أهمية ذكرها، وأسأل الله أن ينفع بهذا العمل، ويجعله في ميزان حسناتنا.
কোনো পূর্বনিদর্শন ব্যতীত প্রথমবার কোনো উর্জুজা (রাজায ছন্দে রচিত কাব্য) সম্পাদনা করার ক্ষেত্রে যে নানাবিধ প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়, তা সর্বজনবিদিত। এক্ষেত্রে শব্দের ও বর্ণের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ, মূল অভিধানসমূহের শরণাপন্ন হওয়া এবং প্রতিটি পঙক্তির ছন্দোমাত্রা যাচাই করার প্রয়োজন পড়ে; বিশেষ করে পাণ্ডুলিপিটি যখন ভুল পাঠ, বিকৃতি ও বিচ্যুতিতে পরিপূর্ণ থাকে এবং তাতে কোনো হামযাহ-এর ব্যবহার নেই। একটি উর্জুজায় সম্ভবত একটি মাত্র বর্ণ—শব্দ নয়—ছন্দ ও অর্থ বিনষ্ট করে দিতে পারে। তদ্রূপ মুদ্রিত গ্রন্থটিও ভুল পাঠ, বিকৃতি ও বিচ্যুতিতে ভরপুর।
অতএব, শব্দসমূহের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে আমি স্বয়ং সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ) রচিত উক্ত কাব্যের ব্যাখ্যাগ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছি এবং সঠিক পাঠটি নির্ধারণের জন্য মুদ্রিত গ্রন্থ, পাণ্ডুলিপি ও সুয়ূতীর ব্যাখ্যাগ্রন্থের মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনা করেছি। আমি পাণ্ডুলিপির অধিকাংশ ভুল পাঠের প্রতি ইঙ্গিত করেছি এবং মুদ্রিত গ্রন্থের কেবল কিছু ভুলের উল্লেখ করেছি; কারণ তাতে মুদ্রণজনিত ত্রুটির আধিক্য থাকায় সেগুলো উল্লেখ করা তেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কর্মের দ্বারা উপকৃত করেন এবং একে আমাদের নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন।
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ৭)
تعريف عام بالمنظومة:نظم الإمام السيوطي (جلال الدين: عبد الرحمن بن أبي بكر السيوطي المتوفى: سنة إحدى عشرة وتسعمائة) منظومة "عقود الجمان في المعاني والبيان"، نظم فيها كتاب "تلخيص المفتاح" لجلال الدين القزويني، وكتاب "تلخيص المفتاح"؛ للإمام جلال الدين محمد بن عبد الرحمن بن عمر القزويني الشافعي، المتوفَّى سنة (739هـ)، رحمه الله تعالى، اختصره من القسم الثالث من "مفتاح العلوم"؛ للعلامة أبي يعقوب يوسف بن أبي بكر بن محمد بن علي السكاكي الحنفي، المتوفَّى سنة (626هـ)، رحمه الله تعالى، واشتهر شهرة واسعة.
ونص السيوطي رحمه الله على أنها ألف بيت، وما عددناه هو ألف وستة أبيات؛ ففي المخطوط ألف وخمسة أبيات، فهناك بيت سقط من الناسخ، وهو البيت:
وَسَمِّ بِالتَّسْمِيطِ إِنْ تَوَالَتْ
… ثَلاثَةٌ وَبِالْوِفَاقِ وَافَتْ
কাব্যটির সাধারণ পরিচিতি:ইমাম সুয়ূতী (জালালুদ্দিন: আবদুর রহমান বিন আবু বকর সুয়ূতী, মৃত্যু: ৯১১ হিজরি) "উকুদুল জুমান ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান" নামক কাব্যটি রচনা করেছেন। এতে তিনি জালালুদ্দিন আল-কাজউইনী-এর "তালখীসুল মিফতাহ" কিতাবটিকে ছন্দোবদ্ধ করেছেন। আর "তালখীসুল মিফতাহ" কিতাবটি হলো ইমাম জালালুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন উমর আল-কাজউইনী আশ-শাফিয়ী (মৃত্যু: ৭৩৯ হিজরি), আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন-এর রচনা। তিনি এটি আল্লামা আবু ইয়াকুব ইউসুফ বিন আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আলী আস-সাক্কাকী আল-হানাফী (মৃত্যু: ৬২৬ হিজরি), আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন-এর "মিফতাহুল উলূম" কিতাবের তৃতীয় অংশ থেকে সংক্ষিপ্ত করেছেন, যা ব্যাপক প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল।
সুয়ূতী (রহ.) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে এটি এক হাজার চরণের কাব্য, তবে আমাদের গণনায় তা এক হাজার ছয়টি চরণ; পাণ্ডুলিপিতে এক হাজার পাঁচটি চরণ পাওয়া যায়, সুতরাং লিপিকারের অসতর্কতায় একটি চরণ বাদ পড়েছে, আর সেই চরণটি হলো:
এবং একে তাসমীত নামে অভিহিত করো যদি ধারাবাহিকভাবে আসে
… তিনটি এবং মিলের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়।
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ৮)
وكذلك المطبوع فيه نفس العدد، ففيه بيت سقط أيضا وهو البيت:
أَوْ جُمْلَتَيْنِ اسْمِيَّتَيْنِ جَاءَتَا
… فِعْلِيَّتَيْنِ اسْمًا وَفِعْلاً يَا فَتَى
وهي على بحر الرجز، وإن كان حدث بعض الهنات من خروجه على بحر الرجز في أبيات أشرت إليها في مكانها؛ مثل قوله:
كالْكَرِيمِ مُكْثِرِ الرَّمَادِ
هذا؛ وقد شرحها السيوطي نفسه، وسمى الشرح: (حل عقود الجمان)، ووصفها بقوله:
أُرْجُوزَةٌ فَرِيدَةٌ فِي أَهْلِهَا
… إِذْ لَمْ يَكُنْ فِي فَنِّهَا كَمِثْلِهَا
قال السيوطي رحمه الله في الشرح: "هذه الأرجوزة حاوية لما في (تلخيص المفتاح) في العبارة، وتركت كثيرًا من الأمثلة معوضًا منها زيادات حسنة، بعضها اعترض عليه، وبعضها ليس كذلك ..... وربما قدمت وأخَّرت للمناسبة، ثم من الزيادات ما هو مميز بـ"قلت"، ومنه ما ليس كذلك
… وهو في ألف بيت.
একইভাবে মুদ্রিত কপিতেও একই সংখ্যা রয়েছে, এতেও একটি পঙ্ক্তি বাদ পড়েছে, আর পঙ্ক্তিটি হলো:
অথবা দুটি নামবাচক বাক্য আসলো
… দুটি ক্রিয়াবাচক বাক্য, হে যুবক, বিশেষ্য ও ক্রিয়া হিসেবে
এটি রাজায ছন্দের ওপর রচিত, যদিও কিছু পঙ্ক্তিতে রাজায ছন্দ থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে যা আমি যথাস্থানে নির্দেশ করেছি; যেমন তাঁর উক্তি:
যেমন প্রচুর ছাই উৎপাদনকারী দয়ালু ব্যক্তি
উল্লেখ্য যে, সুয়ূতী নিজেই এর ব্যাখ্যা লিখেছেন এবং ব্যাখ্যাগ্রন্থের নাম দিয়েছেন: (হাল্লু উকূদিল জুমান), এবং তিনি এর বর্ণনায় বলেছেন:
এটি একটি অনন্য কাব্যগ্রন্থ তার সমগোত্রীয়দের মাঝে
… কারণ এর শিল্পকলায় এর কোনো সদৃশ নেই
সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ) ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন: "এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশভঙ্গির দিক থেকে (তালখিসুল মিফতাহ)-এর বিষয়বস্তুকে ধারণকারী, এবং আমি অনেক উদাহরণ বর্জন করেছি এবং তার পরিবর্তে উত্তম কিছু পরিবর্ধন করেছি, যার কোনো কোনোটির ব্যাপারে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে, আবার কোনোটির ব্যাপারে তেমনটি নয়... আর কখনও কখনও প্রাসঙ্গিকতার খাতিরে আমি আগে-পিছে করেছি, অতঃপর বর্ধিত অংশগুলোর মধ্যে কিছু 'আমি বলেছি' শব্দ দ্বারা চিহ্নিত, আবার কিছু তেমন নয়... আর এটি এক হাজার পঙ্ক্তি বিশিষ্ট।"
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ৯)
قال: وإنما بلغت ذلك لما فيها من الزيادات، لو اقتصرنا على ما في التلخيص لم يزد على النصف من ذلك".
وأتمَّها في: سلخ جمادى الثانية سنة 872، اثنتين وسبعين وثمانمائة.
أوله: (الحمد لله المنزَّه عن المماثلة. . . إلخ)
وأول النظم:
قال الفقير عابد الرحمن
… الحمد لله على البيان
وقد نظَم هذه المنظومة الجامعة - لله درُّه - في يومين اثنين.
وقد اشتهر السيوطي بجودة النظم؛ بل هو مِن أبرع الناظمين في زمانه؛ فقد نظم - رحمه الله تعالى - في أغلب فنون الآلة، ولم يختر إلا الكتب المهمة الأجمع في كل فن، وما عليه اعتماد المتأخرين:
- في علم النحو: نَظَمَ ألفية سماها: (الفريدة في النحو والتصريف والخط)، وشَرَحها في كتاب سماه "المطالع السعيدة"، وهو مطبوع؛ ولكنها لم تشتهر كما اشتهرت ألفية ابن مالك، وعلى الأخيرة الاعتماد
তিনি বললেন: "আর এটি এই পর্যায়ে পৌঁছেছে এতে থাকা অতিরিক্ত অংশগুলোর কারণে; যদি আমরা কেবল 'আত-তালখিস'-এ যা আছে তাতে সীমাবদ্ধ থাকতাম, তবে তা এর অর্ধেকের বেশি হতো না।"
এবং তিনি এটি সমাপ্ত করেছেন: ৮৭২ হিজরী সনের জুমাদাল আখিরা মাসের শেষে।
এর শুরু: (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সদৃশ হওয়া থেকে পবিত্র... ইত্যাদি)
এবং কাব্যগ্রন্থের শুরু:
অসহায় বান্দা আবদুর রহমান বললেন
… সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য বর্ণনা করার ক্ষমতা দানের ওপর
এবং তিনি এই সংকলিত কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন—আল্লাহর পক্ষ থেকেই এর শ্রেষ্ঠত্ব—মাত্র দুই দিনে।
সুয়ূতী কাব্যের চমৎকারিত্বের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন; বরং তিনি তাঁর সময়ের সবচেয়ে দক্ষ কাব্য রচয়িতাদের অন্যতম ছিলেন। তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—সহায়ক শাস্ত্রসমূহের (উলূমে আলা) অধিকাংশতেই কাব্য রচনা করেছেন এবং তিনি প্রতিটি শাস্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংকলিত গ্রন্থসমূহ ছাড়া অন্য কিছু বেছে নেননি, যেগুলোর ওপর পরবর্তী যুগের আলেমদের নির্ভরতা রয়েছে:
- নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে: তিনি একটি আলফিয়াহ রচনা করেন যার নাম দিয়েছেন: (আল-ফারিদাহ ফিন নাহবি ওয়াত তাসরিফি ওয়াল খাত্ত), এবং তিনি "আল-মাতালিউস সাঈদা" নামক কিতাবে এর ব্যাখ্যা করেছেন, যা মুদ্রিত হয়েছে; তবে এটি ইবনে মালিকের আলফিয়াহর মতো প্রসিদ্ধ হয়নি এবং নির্ভরতা শেষেরটির ওপরই।
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ১০)
في هذا الفن، وقد نظمها في ثلاثة أيام.
- في علم أصول الفقه: نَظَمَ كتاب "جمع الجوامع" للعلامة تاج الدين السبكي - رحمه الله تعالى - الذي جمعه من زهاء مائة مصنف في الأصول في منظومه سماها (الكوكب الساطع نظم جمع الجوامع) في 1480 بيتًا.
- في علم مصطلح الحديث: نَظَمَ كتاب مقدمة ابن الصلاح في ألفية؛ لكنها لم تشتهر كاشتهار ألفية الحافظ العراقي؛ لأنها أقعد في الفن، ولإمامة مؤلفها، وقد خُدمت بالشرح من نخبة من علماء الحديث.
هذا؛ ومِن المعلوم أن حفظ المتون يُرَسِّخ العلم في ذهن الطالب، ويبني طالب العلم بناء محكمًا.
شرَّاحها:- السيوطي هو أول شارح لها كما سبق.
এই শাস্ত্রে, এবং তিনি এটি তিন দিনে কাব্যবদ্ধ করেছেন।
- উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রে: তিনি আল্লামা তাজউদ্দীন সুবকী -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- এর "জামউল জাওয়ামি" গ্রন্থটিকে কাব্যবদ্ধ করেছেন, যা তিনি উসূল শাস্ত্রের প্রায় একশতটি গ্রন্থ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি এটি "আল-কাওকাবুস সাতি' নাযমু জামউল জাওয়ামি" নামক একটি কাব্যগ্রন্থে ১৪৮০টি পঙক্তিতে বিন্যস্ত করেছেন।
- ইলমে মুসতালাহুল হাদীসে: তিনি ইবনুস সালাহ-এর "মুকাদ্দিমাহ" গ্রন্থটিকে একটি আলফিয়্যাহ (সহস্র পঙক্তির কবিতা) আকারে কাব্যবদ্ধ করেছেন; তবে এটি হাফিজ ইরাকি-এর আলফিয়্যাহর মতো খ্যাতি লাভ করেনি; কারণ সেটি (ইরাকির আলফিয়্যাহ) এই শাস্ত্রে অধিকতর সুসংহত এবং এর লেখকের ইমামতের (শ্রেষ্ঠত্বের) কারণে। আর একদল বরেণ্য হাদীস বিশারদ এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখে এর খেদমত করেছেন।
বিষয়টি হলো; এটি সর্বজনবিদিত যে মতন (মূলপাঠ) মুখস্থ করা শিক্ষার্থীর মনে ইলমকে সুদৃঢ় করে এবং ইলম অন্বেষণকারীকে এক মজবুত ভিত্তির ওপর গড়ে তোলে।
এর ব্যাখ্যাকারগণ:- সুয়ূতী নিজেই এর প্রথম ব্যাখ্যাকার যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ১১)
- عبد الله بن محمد بن عبد الله الحسيني [000 - 1027 هـ = 000 - 1618 م]: من العلماء باللغة والبيان، أصله من المغرب، ومولده بقرية قرب دمنهور (بمصر) سكن القاهرة، وتوفي بها عن نحو سبعين عامًا.
من تصانيفه: شرح عقود الجمان في المعاني والبيان للسيوطي، و"رشف الضرب" اختصر به "لسان العرب"، ولم يُكْمله، و"حاشية على حاشية الدَّماميني على المغني".
- عبد الرحمن المرشدي [975 - 1037 هـ = 1567 - 1628 م]، عبد الرحمن بن عيسى بن مرشد العمري، الحنفي، المعروف بالمرشدي، (أبو الوجاهة): عالم، أديب، مشارك في أنواع من العلوم، ولد بمكة في 5 جمادى الأولى، وولي إفتاء الحرم المكي، وقتل بمكة في 9 ذي الحجة.
من تصانيفه: شرح عقود الجمان في المعاني والبيان للسيوطي، والوافي شرح الكافي في العروض والقوافي، وحاشية على تفسير البيضاوي، ومناهل السمر في منازل القمر، وجامع الفتاوى، وله نثر وشعر.
আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুসাইনি [০০০ - ১০২৭ হিজরি = ০০০ - ১৬১৮ খ্রিস্টাব্দ]: তিনি ভাষা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের (বায়ান) আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তার আদি নিবাস মরক্কো, এবং তার জন্ম (মিশরের) দমানহুরের নিকটবর্তী একটি গ্রামে। তিনি কায়রোতে বসবাস করতেন এবং সেখানে প্রায় সত্তর বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
তার রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: সুয়ুতির ‘উকুদুল জুমান ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান’-এর শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ), এবং ‘রাশফুদ দারব’ যার মাধ্যমে তিনি ‘লিসানুল আরব’-কে সংক্ষিপ্ত করেছেন, তবে তা সম্পন্ন করতে পারেননি, এবং ‘মুগনি’-র ওপর দামামিনির হাশিয়ার ওপর একটি হাশিয়া।
- আব্দুর রহমান আল-মুরশিদি [৯৭৫ - ১০৩৭ হিজরি = ১৫৬৭ - ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দ], আব্দুর রহমান বিন ঈসা বিন মুরশিদ আল-উমারি, হানাফি, যিনি আল-মুরশিদি নামে পরিচিত, (আবু আল-ওয়াজাহাহ): তিনি একজন আলেম, সাহিত্যিক এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। তিনি ৫ই জুমাদাল উলা-তে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং মক্কার হারামের ইফতা-র (ফতোয়া প্রদানের) দায়িত্বে নিযুক্ত হন। ৯ই জিলহজ মক্কায় তাকে হত্যা করা হয়।
তার রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: সুয়ুতির ‘উকুদুল জুমান ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান’-এর শারহ, ‘আল-ওয়াফি শারহুল কাফি ফিল আরুদ ওয়াল কাওয়াফি’, তাফসিরে বায়দাবির ওপর একটি হাশিয়া, ‘মানাহিলুস সামার ফি মানাজিলিল কামার’, এবং ‘জামিউল ফাতাওয়া’। তার গদ্য ও পদ্যও রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ১২)
- محمد بن عبد الكريم بن عيسى بن أحمد بن نعمة الله بن علي الحلبي، الترمانيني الأزهري، الشافعي (نور الدين) [1198 - 1250 هـ= 1784 - 1834 م]: فقيه، أديب، بياني، نحوي، منطقي، ولد في ترمانين من قرى حلب، وتعلم بها وبحلب، ورحل إلى الجامع الأزهر بمصر، وعاد إلى حلب فتولى التدريس بجامعها الأموي، ثم الإفتاء على مذهب الشافعي إلى أن توفي.
من تصانيفه: شرح عقود الجمان في المعاني والبيان للسيوطي، وحاشية على منهج الطلاب في فروع الفقه الشافعي في مجلدين، وشرح المقدمة الآجرومية في النحو، وشرح التهذيب في المنطق، وشرح في ميادين الأدب.
- علي بن عبد القادر بن سالم العيدروس العلوي [1292 - 1364هـ = 1875 - 1945م]: أديب، نحوي، منطقي، بياني، من أهل حضرموت.
من تصانيفه: شرح عقود الجمان في المعاني والبيان للسيوطي،
- মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারিম বিন ঈসা বিন আহমদ বিন নিমাতুল্লাহ বিন আলী আল-হালাবি, আত-তারমানিনি আল-আজহারি, আশ-শাফিয়ি (নূরুদ্দিন) [১১৯৮ - ১২৫০ হিজরি = ১৭৮৪ - ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দ]: ফকিহ, সাহিত্যিক, অলঙ্কারশাস্ত্রবিদ, ব্যাকরণবিদ, যুক্তিবিদ। তিনি হালবের অন্তর্গত তারমানিন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানে ও হালবে শিক্ষা অর্জন করেন। তিনি মিশরের জামে আজহারে গমন করেন এবং পুনরায় হালবে ফিরে এসে সেখানকার উমাইয়্যা জামে মসজিদে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর মৃত্যু অবধি শাফিয়ি মাযহাব অনুযায়ী ইফতা (ফতোয়া প্রদান) এর দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন।
তাঁর রচনাবলি: আস-সুয়ুতির অলঙ্কারশাস্ত্র বিষয়ক গ্রন্থ ‘উকুদুল জুমান ফি আল-মাআনি ওয়াল বায়ান’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, শাফিয়ি ফিকহের শাখা বিষয়ক গ্রন্থ ‘মানহাজুত তুল্লাব’-এর উপর দুই খণ্ডে একটি হাশিয়া (টীকা), ব্যাকরণ শাস্ত্রের ‘আল-মুকাদ্দিমাতুল আজরুমিয়্যাহ’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যুক্তিবিদ্যার ‘আত-তাহজিব’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং সাহিত্যের বিভিন্ন ময়দানে ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
- আলী বিন আব্দুল কাদির বিন সালিম আল-আইদারুস আল-আলাওয়ি [১২৯২ - ১৩৬৪ হিজরি = ১৮৭৫ - ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ]: সাহিত্যিক, ব্যাকরণবিদ, যুক্তিবিদ, অলঙ্কারশাস্ত্রবিদ, হাদারামাউতের অধিবাসী।
তাঁর রচনাবলি: আস-সুয়ুতির অলঙ্কারশাস্ত্র বিষয়ক গ্রন্থ ‘উকুদুল জুমান ফি আল-মাআনি ওয়াল বায়ান’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وشرح ألفية السيوطي في النحو، وشرح الشمسية في المنطق.
أما بيانات المخطوط، فهي كالتالي:اسم الكتاب: حل عقود الجمان، في المعاني والبيان - المؤلف: جلال الدين السيوطي، مخطوط محفوظ بالمكتبة الأزهرية، رقم النسخة: (187) [5338]، عدد الأوراق: 119 ورقة، مسطرته: 23 سطرًا، وعلى الغلاف كتب بخط حديث: تأليفه: سنة 875، كتابته: سنة 1162 بخط الشيخ أحمد السحيمي.
وكتب: (اتقوا النظر إلى الأمرد؛ فإنَّ فيه لمحةً من الحور العين)، ذكره خير الدين الرملي في فتاويه الحنفية.
وعلى الغلاف أيضًا وقفٌ هذا نصه: (وقف هذا الكتابَ العمدة الشيخ أحمد ابن العمدة الشيخ محمد السحيمي، على جميع من ينتفع به، وجعل مَقَرَّه بمنزله بالدرب الأصفر بالجمالية بالقاهرة، وتحت يد رجل من أعلم وأصلح غير أقاربه، فإن لم يكن فتحت يد عالم صالح، فمن بدله بعدما سمعه فإنما إثمه على الذين يبدلونه إن الله سميع عليم) ينظر: فهارس
এবং নাহু শাস্ত্রে সুয়ূতী-এর আলফিয়্যাহ-এর শারহ, এবং মানতিক শাস্ত্রে শামসিয়্যাহ-এর শারহ।
পাণ্ডুলিপির তথ্যসমূহ নিম্নরূপ:গ্রন্থের নাম: হাল্লু উকূদিল জুমান ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান - লেখক: জালালুদ্দীন সুয়ূতী, আল-আজহার লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি, কপি নম্বর: (১৮৭) [৫৩৩৮], পত্র সংখ্যা: ১১৯টি, প্রতিটি পাতায় লাইন সংখ্যা: ২৩টি, এবং মলাটের ওপর আধুনিক লিপিতে লেখা আছে: গ্রন্থনা: ৮৭৫ হিজরি, অনুলিপি: ১১৬২ হিজরি, শায়খ আহমাদ আল-সুহাইমীর হস্তাক্ষরে।
এবং লেখা আছে: (তোমরা দাড়িহীন কিশোরদের দিকে তাকানো থেকে বেঁচে থাকো; কারণ তাদের মাঝে হুরুল ইনের আভা রয়েছে), এটি খায়রুদ্দীন আর-রামলী তাঁর ফাতাওয়া আল-হানাফিয়্যাহ-তে উল্লেখ করেছেন।
মলাটের ওপর একটি ওয়াকফনামাও রয়েছে যার বক্তব্য হলো: (এই গ্রন্থটি উমদাহ শায়খ আহমাদ ইবনে উমদাহ শায়খ মুহাম্মাদ আল-সুহাইমী সেই সমস্ত ব্যক্তির জন্য ওয়াকফ করেছেন যারা এ থেকে উপকৃত হবে। তিনি কায়রোর আল-জামালিয়্যাহর আদ-দারব আল-আসফারে অবস্থিত তাঁর নিজ বাসভবনে এর স্থান নির্ধারণ করেছেন, এবং তাঁর আত্মীয়স্বজন ব্যতীত অন্য এমন এক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে থাকবে যে সর্বাধিক জ্ঞানী ও সৎ। যদি তা কোনো যোগ্য আলেমের তত্ত্বাবধানে না থাকে, তবে যে ব্যক্তি এটি শোনার পর পরিবর্তন করবে, তার পাপ কেবল তাদের ওপরই হবে যারা তা পরিবর্তন করবে; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ)। দ্রষ্টব্য: সূচিপত্র।
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المكتبة الأزهرية (4/ 406).
بعض الكتب المسماة بعقود الجمان:رأيت أن أذكر الكتب التي تتشابه مع اسم هذه المنظومة - دون تفصيل للاختصار - وهي:
عقود الجمان على تحفة الإخوان في علم البيان - عقود الجمان في بيان حدود البلدان - عقود الجمان شرح قصيدة السلطان - عقود الجمان في مناقب أبي حنيفة النعمان - عقود الجمان الكافلة ببيان فضل ليلة النصف من شعبان - ديوان شعر "عقود الجمان من نظم الحسن بن عبد الرحمن" - عقود الجمان في شرح قانون الإيمان - عقود الجمان في جواز تعليم الكتابة للنسوان - عقود الجمان فيمن اسمه سليمان - عقود الجمان في عقود الرهن والضمان - عقود الجمان في أيام آل سعود في عمان - عقود الجمان في تجويد القرآن - عقود الجمان وتذييل وفيات الأعيان - عقود الجمان في سلطنة آل عثمان - عقود الجمان في
আল-মাকতাবাতুল আযহারিয়া (৪/ ৪০৬)।
'উকুদুল জুমান' নামে অভিহিত কিছু কিতাব:আমি এই মানযূমার (কাব্যগ্রন্থের) নামের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কিতাবগুলো উল্লেখ করা সমীচীন মনে করেছি - সংক্ষিপ্ত করার স্বার্থে বিস্তারিত আলোচনা ছাড়াই - আর সেগুলো হলো:
ইলমে বয়ান বিষয়ক 'তুহফাতুল ইখওয়ান'-এর ওপর উকুদুল জুমান - দেশসমূহের সীমানা বর্ণনায় উকুদুল জুমান - কাসিদাতুস সুলতানের ব্যাখ্যায় উকুদুল জুমান - আবু হানিফা আন-নু'মানের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায় উকুদুল জুমান - শাবান মাসের মধ্যরাত্রির ফজিলত বর্ণনায় পর্যাপ্ত উকুদুল জুমান - হাসান বিন আব্দুর রহমান রচিত কাব্যসমগ্র "উকুদুল জুমান" - কানুনুল ঈমানের ব্যাখ্যায় উকুদুল জুমান - নারীদের লেখা শেখানোর বৈধতা বিষয়ে উকুদুল জুমান - যাদের নাম সুলাইমান তাদের পরিচিতিতে উকুদুল জুমান - বন্ধক ও জামানতের চুক্তিসমূহের বিধানে উকুদুল জুমান - ওমানে আল-সাউদ বংশের শাসনকাল বিষয়ক উকুদুল জুমান - কুরআনের তাজউইদ বিষয়ে উকুদুল জুমান - উকুদুল জুমান এবং ওয়াফায়াতুল আইয়ানের পরিশিষ্ট - উসমানীয় সালতানাতের ইতিহাসে উকুদুল জুমান - উকুদুল জুমান...
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ১৫)
عدم صحبة أبناء الزمان - عقود الجمان في مختصر أخبار الزمان - عقود الجمان في وقائع الزمان - عقود الجمان في شعراء هذا الزمان - عقود الجمان في تاريخ أهل الزمان.
সমকালীন ব্যক্তিদের সাথে সাহচর্য বর্জন - যুগের সংবাদের সারসংক্ষেপে মুক্তার মালাসমূহ - যুগের ঘটনাবলি বিষয়ক মুক্তার মালাসমূহ - বর্তমান সময়ের কবিদের বর্ণনায় মুক্তার মালাসমূহ - যুগের অধিবাসীদের ইতিহাসে মুক্তার মালাসমূহ।
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أوَّل المخطوط
পাণ্ডুলিপির প্রারম্ভ
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ১৮)
آخر المخطوط
পাণ্ডুলিপির সমাপ্তি
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ২০)
ترجمة الإمام السيوطي (1)
هو الحافظ أبو الفضل جلال الدِّين عبد الرحمن بن كمال الدين أبي بكر بن محمد السيوطي المعروف بابن الأسيوطي.
ولد بالقاهرة ليلة الأحد مستهل رجب سنة تسع وأربعين وثمانمائة، وكانت أمه أَمة تركية وأصل أبيه من العجم، ومات أبوه وهو ابن ست سنين فكفله وصيُّه الشهاب بن الطباخ ورباه عند الأمير برسباي الجركسي أستاذ دار الصحبة، واتصل بالأمير إينال الأشقر رأس نوبة النوب وكان لبيته اتصال بالأمراء من عهد الأمير شيخو، وكان في جملة أوصيائه الإمام كمال الدين بن الهمام وله أياد بيضاء عليه.
أخذ العلم عن العلم البلقيني والشرف المناوي والشمس بن الفالاتي
--------------------------------------------
ইমাম সুয়ূতী (রহ.)-এর জীবনী(১)
তিনি হলেন হাফিয আবুল ফজল জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন কামালুদ্দীন আবূ বকর বিন মুহাম্মাদ আস-সুয়ূতী, যিনি ইবনুল আসয়ূতী নামে পরিচিত।
তিনি ৮৪৯ হিজরির রজব মাসের শুরুতে রোববার দিবাগত রাতে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মা ছিলেন একজন তুর্কি দাসী এবং তাঁর পিতার বংশমূল ছিল অনারব। তাঁর বয়স যখন ছয় বছর তখন তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। এরপর তাঁর অভিভাবক শিহাব বিন তাব্বাখ তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ‘দারুস সোহবাত’-এর উস্তায আমীর বারসবে আল-জারকাসীর নিকট তাঁকে লালন-পালন করেন। তিনি আমীর ইনাল আল-আশকার রা’সুন নুবা আন-নূবের সংস্পর্শে আসেন। আমীর শাইখুর যুগ থেকেই তাঁর পরিবারের সাথে আমীরদের যোগাযোগ ছিল। তাঁর অভিভাবকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন ইমাম কামালুদ্দীন ইবনুল হুমাম এবং তাঁর প্রতি তাঁর (ইবনুল হুমামের) অনেক অনুগ্রহ ছিল।
তিনি আল্লামা আল-বুলকিনী, আশ-শারফ আল-মুনাবী এবং আশ-শামস বিন আল-ফালাতীর নিকট ইলম অর্জন করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ২১)
والجلال المحلي والزين العقبي والبرهان البقاعي والشمس السخاوي الشافعيين، وعن محقق الديار المصرية سيف الدين البكتمري والعلامة محيي الدين الكافيجي البرغمي والحافظ قاسم بن قطلوبغا السودوني والإمام تقي الدين الشمني الحنفيين وغيرهم من المالكية والحنابلة، وعدة شيوخه إجازة وقراءة وسماعًا نحو مائة وخمسين شيخًا وقد جمعهم في معجمه، ولم يكثر من سماع الرواية لاشتغاله بما هو أهم وهو الدراية كما يحكي هو عن نفسه، وممن أجاز له من حلب ابن مقبل، وآخر من أجاز له الصلاح بن أبي عمر.
وانصرف إلى الجمْع والتأليف وهو صغير فبلغت عدة مؤلفاته نحو ستمائة، ما بين رسائل في ورقة أو ورقتين وكتب في عدة مجلدات، والغالب في مصنفاته تلخيص كتب الآخرين فقيمتها العلمية توزن بقدر ما لصاحب الأصل من التحقيق، والتضارب الواقع بين أقواله في كتبه إنما يأتي من اختلاف آراء أصحاب الكتب التي يقوم هو باختصارها حيث لا يتسع له الوقت لتمحيصها وترجيح الراجح منها، قال تلميذه الشمس الداودي
এবং জালাল আল-মাহাল্লি, জাইন আল-উকবি, বুরহান আল-বিকাঈ এবং শামস আল-সাখাবি—যারা শাফেঈ মাযহাবের অনুসারী ছিলেন; এবং মিশরের মুহাক্কিক সাইফউদ্দীন আল-বাকতামারি, আল্লামা মুহিউদ্দীন আল-কাফিয়াজি আল-বারগামি, হাফেজ কাসিম বিন কুতলুবুগা আস-সুদুনি এবং ইমাম তাকিউদ্দীন আশ-শুমুন্নি—যারা হানাফি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, এবং অন্যান্য মালিকি ও হাম্বলি উলামাগণের নিকট থেকে (তিনি ইলম অর্জন করেছেন)। ইজাযত, পাঠ এবং শ্রবণের সূত্রে তার উস্তাদদের সংখ্যা প্রায় একশত পঞ্চাশ জন, যাদের তিনি তার ‘মুজাম’ গ্রন্থে একত্রিত করেছেন। তিনি রেওয়ায়েত শ্রবণে খুব বেশি সময় ব্যয় করেননি, কারণ তিনি এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অর্থাৎ দিরায়েত বা তত্ত্বানুসন্ধানে ব্যস্ত ছিলেন, যেমনটি তিনি নিজেই নিজের সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন। আলেপ্পোর যে সকল উলামা তাকে ইজাযত দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে ইবনে মুকবিল অন্যতম, আর তাকে সর্বশেষ ইজাযত দানকারী ব্যক্তি হলেন সালাহ বিন আবি উমর।
তিনি অল্প বয়স থেকেই সংকলন ও রচনার কাজে আত্মনিয়োগ করেন, ফলে তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ছয়শতে পৌঁছেছে; যার মধ্যে এক বা দুই পাতার পুস্তিকা থেকে শুরু করে কয়েক খণ্ডের বিশাল গ্রন্থও রয়েছে। তার অধিকাংশ রচনার বৈশিষ্ট্য হলো অন্যদের কিতাবের সারসংক্ষেপ তৈরি করা, ফলে এগুলোর ইলমি মান মূল লেখকের গবেষণার গভীরতা অনুযায়ী পরিমাপ করা হয়। তার বিভিন্ন কিতাবের বক্তব্যের মধ্যে যে বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়, তা মূলত ঐ সকল কিতাবের লেখকদের মতপার্থক্য থেকে উৎসারিত যেগুলোর তিনি সংক্ষেপায়ন করেছেন; কারণ সেই মতগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করা এবং সেগুলোর মধ্য থেকে অগ্রগণ্য মতটি নির্বাচন করার মতো পর্যাপ্ত সময় তিনি পেতেন না। তার ছাত্র শামস আদ-দাউদি বলেন:
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ২২)
المالكي مؤلف طبقات المفسرين الكبرى: عاينت الشيخ وقد كتب في يوم واحد ثلاثة كراريس تأليفًا وتحريرًا وكان مع ذلك يملي الحديث ويجيب عن المتعارض منه بأجوبة حسنة. اهـ. ومن يكون بهذا الإسراع طول عمره لا يتسنى له تحقيق ما يدونه؛ بل كثيرًا ما تفوته مواضع الفائدة من الأصول التي يلخصها.
وقد يتابع أوهام الأصل التي لا يخلو منها تصنيف فتسوء سمعته بتآليفه. قال السخاوي: إن له مؤلفات كثيرة مع كثرة ما يقع له من التحريف والتصحيف فيها وما ينشأ عن عدم فهم المراد؛ لكونه لم يزاحم الفضلاء في دروسهم ولا جلس بينهم في مسائهم وتعريسهم بل استبد بالأخذ من بطون الدفاتر والكتب، وأخذ من كتب المحمودية وغيرها كثيرًا من التصانيف القديمة التي لا عهد لكثير من العصريين بها في فنون، فغير فيها شيئًا يسيرًا وقدم وأخر ونسبها لنفسه وهوّل في مقدماتها. اهـ.
ولي مشيخة الحديث مشيخة البيبرسية بعد الجلال البكري إلى أن
'তাবাকাতুল মুফাসসিরিন আল-কুবরা'-এর লেখক আল-মালিকি বলেন: আমি শাইখকে দেখেছি যে তিনি একদিনে রচনা ও সম্পাদনা মিলিয়ে তিন ক্রাশ (পুস্তিকা) লিখেছেন। এর পাশাপাশি তিনি হাদিস ইমলা (শ্রুতলিপি প্রদান) করতেন এবং পরস্পরবিরোধী হাদিসগুলোর চমৎকার উত্তর প্রদান করতেন। সমাপ্ত। সারা জীবন যিনি এমন দ্রুতগতির অধিকারী হন, তাঁর পক্ষে যা কিছু তিনি লিপিবদ্ধ করছেন তা যথাযথভাবে যাচাই করা সম্ভব হয় না; বরং তিনি যেসব মূল গ্রন্থ থেকে সারসংক্ষেপ তৈরি করেন, প্রায়শই সেগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো তাঁর দৃষ্টি এড়িয়ে যায়।
কখনও কখনও তিনি মূল পাণ্ডুলিপির ভুলগুলোর অনুসরণ করে ফেলেন যা কোনো রচনা থেকেই মুক্ত নয়, ফলে তাঁর এসব রচনার কারণে তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়। সাখাভি বলেন: তাঁর বহু রচনা রয়েছে, তবে তাতে প্রচুর পরিমাণে শব্দের বিকৃতি ও ভুল রয়েছে যা রচনার উদ্দেশ্য বুঝতে না পারার কারণে সৃষ্টি হয়েছে; কেননা তিনি বিদগ্ধ আলিমদের পাঠদানে উপস্থিত হয়ে তাঁদের সাথে জ্ঞানচর্চা করেননি এবং তাঁদের সান্নিধ্য লাভ করেননি। বরং তিনি কেবল গ্রন্থ ও নথিপত্রের ভেতর থেকে জ্ঞান আহরণের ওপর নির্ভর করেছেন। তিনি মাহমুদিয়্যাহ ও অন্যান্য কুতুবখানা থেকে বিভিন্ন শাস্ত্রের এমন অনেক প্রাচীন পাণ্ডুলিপি গ্রহণ করেছেন যেগুলোর ব্যাপারে সমসাময়িক অনেকেরই কোনো ধারণা ছিল না। এরপর তিনি সেগুলোতে সামান্য পরিবর্তন ঘটিয়েছেন এবং বিষয়বস্তু আগে-পিছে করে সেগুলোকে নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন এবং সেগুলোর ভূমিকায় অনেক অতিরঞ্জন করেছেন। সমাপ্ত।
জালাল আল-বাকরির পর তিনি বাইবারসিয়্যাহর হাদিসের শাইখ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যে পর্যন্ত...
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ২৩)
صرفه عنها السلطان الملك العادل طومانباي الأول يوم الاثنين ثاني عشر من رجب سنة ست وتسعمائة، حيث تحزب عليه جمع من مشايخ المدرسة بسبب يبسه معهم ومعاندته لهم بحيث أخرج وظائف كثيرة عنهم وقرر فيها غيرهم، وحصل له إهانات من ترسيم وإساءات وأمر بنفي، وكانت حكايات كما يقول صاحب "البدر الطالع" فيما علقه على الضوء اللامع بخطه ثم انقطع بسكنه في الروضة وتزهد.
وكان يأتي إليه أعيان الأمراء للزيارة فلا يقوم لهم، وعرضت عليه مشيخة البيبرسية سنة 909 فامتنع من قبولها واستمر على انقطاعه، وكان الأمراء والأغنياء يأتون إلى زيارته ويعرضون عليه الأموال النفيسة فيردها، وأهدى إليه السلطان الملك الأشرف قانصوه الغوري خصيًّا وألف دينار فرد الألف وأخذ الخصيّ فأعتقه وجعله خادمًا في الحجرة النبوية وقال لقاصد السلطان: لا تعد تأتينا بهدية قط فإن الله تعالى أغنانا عن مثل ذلك.
وطلبه السلطان مرارًا فلم يحضر إليه على ما ذكره النجم الغزي في
সুলতান আল-মালিকুল আদিল তুমানবে আউয়াল ৯০৬ হিজরি সনের ১২ই রজব সোমবার তাকে সেই পদ থেকে অপসারিত করেন। এর কারণ ছিল মাদরাসার একদল শায়খ তার বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হয়েছিলেন, কেননা তিনি তাদের প্রতি কঠোরতা ও একগুঁয়েমি প্রদর্শন করেছিলেন। তিনি তাদের থেকে অনেক পদ কেড়ে নিয়ে অন্য ব্যক্তিদের সেখানে নিযুক্ত করেছিলেন। ফলে তাকে অবমাননা, কড়াকড়ি এবং নির্বাসনের আদেশের সম্মুখীন হতে হয়। যেমনটি 'আল-বাদরুত তালি' গ্রন্থের লেখক 'আয-যাউল লামি'র ওপর তার স্বহস্তলিখিত টীকায় উল্লেখ করেছেন যে, সেখানে অনেক ঘটনা ঘটেছিল। এরপর তিনি রওজায় বসবাস শুরু করেন এবং নির্জনবাস ও কৃচ্ছ্রসাধনা গ্রহণ করেন।
বিশিষ্ট আমিরগণ তার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসতেন, কিন্তু তিনি তাদের সম্মানে উঠে দাঁড়াতেন না। ৯০৯ হিজরি সনে তাকে 'বাই বারসিয়া'র প্রধান শায়খ হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান এবং নিজের নির্জনবাস অব্যাহত রাখেন। আমির ও ধনী ব্যক্তিরা তার সাথে দেখা করতে আসতেন এবং তাকে মূল্যবান ধন-সম্পদ দিতে চাইতেন, কিন্তু তিনি তা ফিরিয়ে দিতেন। সুলতান আল-মালিকুল আশরাফ কানসুহ আল-ঘাউরি তাকে একজন ভৃত্য এবং এক হাজার দিনার উপহার পাঠিয়েছিলেন। তিনি এক হাজার দিনার ফেরত দেন এবং ভৃত্যটিকে গ্রহণ করে তাকে মুক্ত করে দেন এবং হুজরাহ নববীর খাদেম হিসেবে নিযুক্ত করেন। সুলতানের দূতকে তিনি বলেছিলেন: "কখনো আর আমাদের কাছে কোনো উপহার নিয়ে আসবে না, কারণ আল্লাহ তাআলা আমাদের এই ধরনের জিনিসের থেকে অমুখাপেক্ষী করেছেন।"
সুলতান তাকে বারবার তলব করেছিলেন, কিন্তু তিনি তার নিকট উপস্থিত হননি, যেমনটি নাজমুদ্দীন আল-গাজ্জি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الكواكب السائرة وابن العماد في شذرات الذهب. ومن شعره:
فوِّضْ أحاديث الصّفا
… ت ولا تشبّه أو تعطلْ
إن رمت إلا الخوض في
… تحقيق معضلة فأوِّل
إن المفوض سالم
… مما تكلفه المؤول
ألف في تحريم المنطق وادعى الاجتهاد فصنف في ذلك عدة رسائل فقام العلماء ضده حتى انقبع في عقر داره، ويحكي الشعراني في ذيل طبقاته عن السيوطي أنه كان يقول: قد أشاع الناس عني أني ادعيت الاجتهاد المطلق كأحد الأئمة الأربعة وذلك باطل عني إنما مرادي بذلك المجتهد المنتسب .. ولما بلغت مرتبة الترجيح لم أخرج في الإفتاء عن ترجيح النووي .. ولما بلغت إلى مرتبة الاجتهاد المطلق لم أخرج في الإفتاء عن مذهب الشافعي. اهـ. وغريب جدًّا ما يرويه الداودي والشعراني عنه أنه كان يحفظ مائتي ألف حديث إن لم يكن مراده أنه يحفظها في خزانته لأن شيخ حفاظ الأمة أبا عبد الله البخاري لما سئل عن أحاديث جامعة: هل تحفظها؟ أجاب بقوله: أرجو أن لا يخفى علي منها شيء. ولم يدّع مثل
'আল-কাওয়াকিব আস-সাইয়িরাহ' এবং ইবনুল ইমাদ 'শাযারাতুয যাহাব'-এ (এটি উল্লেখ করেছেন)। তাঁর কবিতা থেকে:
সিফাত বিষয়ক হাদীসসমূহ (আল্লাহর ওপর) সোপর্দ করো
… এবং সাদৃশ্য প্রদান করো না কিংবা অর্থহীন করো না
যদি কোনো জটিল বিষয় নিরসনে গভীর গবেষণায়
… প্রবৃত্ত হতে চাও, তবে ব্যাখ্যা করো
নিশ্চয়ই সোপর্দকারী নিরাপদ
… ব্যাখ্যাকারীর কৃত্রিম ও কষ্টসাধ্য প্রয়াস থেকে
তিনি যুক্তিবিদ্যা হারাম হওয়ার বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন এবং ইজতিহাদের দাবি করেন, ফলে এই বিষয়ে তিনি বেশ কিছু পুস্তিকা সংকলন করেন। তখন আলিমগণ তাঁর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, এমনকি তিনি নিজ ঘরে অন্তরীণ হয়ে পড়েন। আশ-শা'রানী তাঁর 'তাবাকাত'-এর পরিশিষ্টে আস-সুয়ূতী সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে তিনি বলতেন: "লোকেরা আমার সম্পর্কে রটিয়েছে যে আমি চার ইমামের মতো ইজতিহাদে মুতলাক (পূর্ণাঙ্গ ইজতিহাদ)-এর দাবি করেছি, অথচ তা আমার প্রতি অপবাদ। আমার উদ্দেশ্য তো ছিল মুজতাহিদে মুনতাসিব (মাযহাব সংশ্লিষ্ট মুজতাহিদ)... আর যখন আমি তারজিহ (প্রাধান্য প্রদান)-এর স্তরে উপনীত হলাম, তখন ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে আমি ইমাম নববীর অগ্রাধিকারের বাইরে যাইনি... আর যখন আমি ইজতিহাদে মুতলাক-এর স্তরে পৌঁছালাম, তখনও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে শাফিয়ী মাযহাব থেকে বের হইনি।" (সমাপ্ত)। আদ-দাউদী ও আশ-শা'রানী তাঁর থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা অতীব আশ্চর্যজনক যে, তিনি দুই লক্ষ হাদীস মুখস্থ রাখতেন; যদি না তাঁর উদ্দেশ্য এমন হয় যে তিনি তা তাঁর কুতুবখানায় (সংগ্রহশালায়) সংরক্ষণ করতেন। কেননা এই উম্মতের হাফিযদের শাইখ আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারীকে যখন সর্বজনীন হাদীসসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "আপনি কি এগুলো মুখস্থ রাখেন?" তিনি উত্তরে বলেছিলেন: "আমি আশা করি তার কোনো কিছুই আমার অগোচরে নেই।" অথচ তিনিও এমন দাবি করেননি...
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ২৫)
هذه الدعوى.
وله مقامة تهجم فيها على السخاوي سماها "الكاوي في الرد على السخاوي" كما تحامل عليه أيضًا عند ترجمته في "نظم العقيان"؛ مع أنه في عداد شيوخه وما ذنب السخاوي إليه إلا قلة صبره إزاء الدعاوى العريضة. وذكر في "النور السافر" ما كتبه السيوطي إلى السخاوي معرضًا به ومتهجمًا عليه وهو قوله:
قال السخاويُّ: إن تعروك مشكلة
… علمي كبحر من الأمواج ملتطم
والحافظ الديمي عيث الزمان فخذ
… غرفا من اليم أو رشفا من الديم
والديمي الفخر عثمان المحدث ممن كان بينه وبين السخاوي منافسة أيضًا. ويرى بعضهم أن كلًّا من الثلاثة كان فردًا في فنه مع المشاركة في غيره؛ فالسخاوي تفرد بمعرفة علل الحديث، والديمي بأسماء الرجال، والسيوطي بحفظ المتون. اهـ.
وانتصر للسخاوي على السيوطي الشاعر الأديب ابن العليف أحمد بن الحسين المكي في كتابين سماهما "الشهاب الهاوي على
এই দাবি।
এবং সাখাভির বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক একখানা মাকামা (গদ্য রচনা) তাঁর রয়েছে, যার নাম তিনি দিয়েছেন ‘আল-কাওয়ি ফি আর-রাদ্দি আলা আস-সাখাভি’। অনুরূপভাবে ‘নাযমুল উকইয়ান’ গ্রন্থে তাঁর জীবনী আলোচনার সময়ও তিনি তাঁর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেছেন; অথচ তিনি তাঁর শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আর সাখাভির অপরাধ কেবল এটুকুই ছিল যে, বড় বড় দাবির সম্মুখে তাঁর ধৈর্য ছিল সামান্য। ‘আন-নূরুস সাফির’ গ্রন্থে সুয়ূতী সাখাভির প্রতি যা লিখেছিলেন তা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তিনি তাঁকে উপহাস ও আক্রমণ করে বলেছিলেন:
সাখাভি বলেছেন: যদি কোনো সমস্যা তোমাকে গ্রাস করে
… তবে জেনে রাখো আমার ইলম হচ্ছে উত্তাল তরঙ্গমালার সমুদ্রের ন্যায়।
আর হাফেজ দাইমি হলেন এই যমানার বৃষ্টি, সুতরাং গ্রহণ করো
… সমুদ্র থেকে এক আঁজলা অথবা বৃষ্টির এক চুমুক।
দাইমি হলেন ফখর উসমান মুহাদ্দিস, যাঁর সাথে সাখাভিরও এক প্রকার প্রতিযোগিতা ছিল। কেউ কেউ মনে করেন যে, তাঁদের এই তিনজনের প্রত্যেকেই নিজ নিজ শিল্পে অদ্বিতীয় ছিলেন, যদিও অন্যান্য বিষয়েও তাঁদের অংশীদারিত্ব ছিল। সাখাভি ইলমে ইলালুল হাদিস (হাদিসের গূঢ় ত্রুটিসমূহ) জানলে অনন্য ছিলেন, দাইমি আসমাউর রিজালে (বর্ণনাকারীদের জীবনী), আর সুয়ূতী ছিলেন মতন (হাদিসের মূল পাঠ) মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে। সমাপ্ত।
আর সুয়ূতীর বিপক্ষে সাখাভির পক্ষাবলম্বন করেছেন সাহিত্যিক কবি ইবনুল উলাইফ আহমাদ ইবনুল হুসাইন আল-মাক্কি দুটি কিতাবের মাধ্যমে, যেগুলোর নাম তিনি দিয়েছেন ‘আশ-শিহাবুল হাবি আলা...’
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ২৬)
منشئ الكاوي"، و"المنتقد اللوذعي على المجتهد المدعي".
واستقصى الداودي ذكر أسماء مؤلفاته فزادت على خمسمائة مؤلف:
منها: "الدر المنثور في التفسير بالمأثور" في ستة مجلدات لخص فيها كتب التفاسير بالرواية للمتقدمين بتجريدها عن الأسانيد ولم يتكلم عليها، فبقي جامعًا للغث والثمين وفيه من الأقوال المردودة ما لا يوصف.
ومنها: "الإتقان في علوم القرآن" وجُلّه من البرهان للبدر الزركشي وهذا كتاب جليل جدًّا إلا أن السيوطي أغفل مواطن الفائدة منها وتابعه في أوهامه الظاهرة كقوله في أسباب النزول: إن عثمان بن مظعون شرب الخمر في عهد عمر
… إلخ، مع أنه ممن حرم الخمر على نفسه في الجاهلية والإسلام ومات قبل التحريم في أول الهجرة بالمدينة وهو أول من دفن فيها من المسلمين؛ وكل ذلك في غاية الشهرة، بل الذي شرب هو قدامة بن مظعون
… إلى غير ذلك، سوى
'মুন্শিউল কাওয়ি' এবং 'আল-মুন্তাকিদুল লাওযাঈ আলাল মুজতাহিদিল মুদ্দাঈ'।
আদ-দাউদী তাঁর গ্রন্থরাজির নামসমূহ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলো পাঁচশতেরও অধিক:
তন্মধ্যে একটি হলো: ছয় খণ্ডে রচিত 'আদ-দুররুল মানসুর ফিত তাফসিরি বিল মাসুর', যাতে তিনি পূর্বসূরিদের বর্ণিত তাফসির গ্রন্থগুলোকে সনদ বর্জন করে সংক্ষেপিত করেছেন এবং সেগুলোর ওপর কোনো মন্তব্য করেননি। ফলে এটি অসার ও মূল্যবান—উভয় প্রকার বর্ণনার সংকলন হিসেবেই থেকে গেছে এবং এতে অবর্ণনীয় পরিমাণে প্রত্যাখ্যানযোগ্য উক্তি রয়েছে।
অন্যটি হলো: 'আল-ইতকান ফি উলুমিল কুরআন', যার অধিকাংশ বিষয়বস্তু বদর আজ-যারকাশী রচিত 'আল-বুরহান' থেকে নেওয়া। এটি অত্যন্ত মর্যাদাশীল একটি গ্রন্থ, তবে সুয়ূতী এতে উপকারি দিকগুলো উপেক্ষা করেছেন এবং তাঁর প্রকাশ্য ভুলগুলোতেও তাঁর অনুসরণ করেছেন। যেমন শানে নুযূল বা অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনায় তাঁর উক্তি: উসমান ইবনে মাজউন উমরের যুগে মদ পান করেছিলেন
… ইত্যাদি; অথচ তিনি জাহেলিয়াত ও ইসলাম—উভয় যুগে নিজের জন্য মদ হারাম করে নিয়েছিলেন এবং মদ্যপান হারামের বিধান অবতীর্ণ হওয়ার আগেই হিজরতের শুরুতে মদিনায় ইন্তেকাল করেছিলেন; আর তিনিই ছিলেন সেখানে সমাহিত হওয়া প্রথম মুসলিম। আর এসব বিষয় অত্যন্ত প্রসিদ্ধ; বরং যিনি মদ পান করেছিলেন তিনি হলেন কুদামা ইবনে মাজউন
… এ ছাড়াও আরও অনেক বিষয় রয়েছে, কেবল
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ما له من الأوهام فيه وغير ما حشده فيه من الأخبار من غير تمحيص مما يتمسك به خصوم الكتاب الكريم.
ومنها: "الجامع الكبير" الذي أراد أن يستقصى فيه السنن على حروف الهجاء من غير تقيد بالصحيح، وقد رتبه على أبواب الفقه الشيخ علي المتقي الحنفي الهندي في عدة مؤلفات أكبرها "كنز العمال"؛ إلا أنه يتنافى في ما يقوله السيوطي في أول الكتاب مع ما يسرده نفسه فيما ألفه في الموضوعات كما وقع له مثل ذلك في "الجامع الصغير".
وله أيضًا "تاريخ الخلفاء" و"طبقات النحاة" و"حسن المحاضرة".
و"طبقات الحفاظ" لخص فيها طبقات الذهبي وذيل عليها بما في هذا الذيل لكنه لم يتعب فيه بل اختصر تراجمه من الدرر الكامنة وإنباء الغمر إلا فيما قل جدًّا ولم يذكر الوفيات أثر التراجم ولا أسند أحاديث بطرف المترجمين. وشهرة مؤلفاته تغني عن الإفاضة فيها.
এতে যে সকল ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে এবং যাচাই-বাছাই ব্যতিরেকে তিনি এতে যেসব বর্ণনা সঙ্কলন করেছেন, যা পবিত্র কিতাবের শত্রুরা দলীল হিসেবে আঁকড়ে ধরে।
এবং সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: 'আল-জামি আল-কবীর', যাতে তিনি সহীহ হওয়ার শর্তারোপ না করেই বর্ণানুক্রমিকভাবে সুনানসমূহ সবিস্তারে সংকলন করতে চেয়েছিলেন। শায়খ আলী আল-মুত্তাকী আল-হানাফী আল-হিন্দী এটিকে ফিকহের অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করে বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে সর্ববৃহৎ হলো 'কানজুল উম্মাল'। তবে সুয়ূতী এই কিতাবের শুরুতে যা বলেছেন, তা জাল হাদীস বিষয়ে তাঁর নিজস্ব রচিত গ্রন্থসমূহের বর্ণনার সাথে সাংঘর্ষিক, যেমনটা তাঁর 'আল-জামি আস-সাগীর' কিতাবের ক্ষেত্রেও ঘটেছে।
এছাড়াও তাঁর রয়েছে 'তারীখুল খুলাফা', 'তাবাকাতুন নুহাত' এবং 'হুসনুল মুহাদারা'।
এবং 'তাবাকাতুল হুফফাজ', যাতে তিনি যাহাবীর 'তাবাকাত' সংক্ষেপ করেছেন এবং এই পরিশিষ্টে যা রয়েছে তা এতে সংযোজন করেছেন। তবে তিনি এতে তেমন পরিশ্রম করেননি, বরং খুব সামান্য কিছু অংশ ব্যতীত জীবনীগুলো তিনি 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' এবং 'ইনবাউল গুমর' থেকে সংক্ষেপ করেছেন। তিনি জীবনীগুলোর শেষে মৃত্যুসন উল্লেখ করেননি এবং যাদের জীবনী বর্ণিত হয়েছে তাদের সূত্রে কোনো হাদীসও বর্ণনা করেননি। তাঁর গ্রন্থসমূহের প্রসিদ্ধি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা থেকে অমুখাপেক্ষী করে তোলে।
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وكانت وفاته في سحر ليلة الجمعة 19 من جمادى الأولى سنة 911 هـ. ودُفِن في حوش قوصون خارج باب القرافة بمصر كما في ذيل الشعراني والكواكب السائرة والشذرات، وحو ض قوصون هذا تحت القلعة لا عند جامعه الكبير ما حقَّقه الأستاذ العلامة أحمد تيمور باشا في كتابه "قبر الإمام السيوطي"، أغدق الله على ضريحه سحائب رحمته، وأدخله فسيح جَنته.
তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ৯১১ হিজরি সনের ১৯শে জুমাদাল উলা, শুক্রবার রাতের শেষ প্রহরে। তাঁকে মিশরের বাবুল কারাফার বাইরে ‘হাউশ কুসুন’-এ দাফন করা হয়, যেমনটি ‘যাইলুশ শা’রানি’, ‘আল-কাওয়াকিবুস সাইয়্যিরাহ’ এবং ‘আশ-শাযারাত’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আর এই হাউশ কুসুন হলো কেল্লার নিচে, তাঁর বড় জামে মসজিদের নিকট নয়—যেমনটি বিজ্ঞ আলেম আহমাদ তাইমুর পাশা তাঁর ‘কবরুল ইমাম আস-সুয়ুতি’ গ্রন্থে বিশ্লেষণপূর্বক বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তাঁর কবরের ওপর রহমতের মেঘমালা বর্ষণ করুন এবং তাঁকে তাঁর প্রশস্ত জান্নাতে প্রবেশ করান।
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ২৯)
1 - قَالَ الْفَقِيرُ عَابِدُ الرَّحْمَنِ
… الحَمْدُ للهِ عَلَى الْبَيَانِ
2 - وَأَفْضَلُ الصَّلَاةِ وَالسَّلَامِ
… عَلَى النَّبِيِّ أَفْصَحِ الْأَنَامِ
3 - وَهَذِهِ أُرْجُوزَةٌ مِثْلُ الْجُمَانْ
… ضَمَّنْتُهَا عِلْمَ الْمَعَانِي وَالْبَيَانْ
4 - لَخَّصْتُ فِيهَا مَا حَوَى التَّلْخِيصُ مَعْ
… ضَمِّ زِيَادَاتٍ كَأَمْثَالِ اللُّمَعْ
5 - وَفِيهِ أَبْحَاثٌ مُهِمَّاتٌ تَجِي
… عَنْ شَيْخِنَا الْعَلَّامَةِ الْكَافِيَجِي
6 - مَا بَيْنَ إِصْلَاحٍ لِمَا يُنْتَقَدُ
… وَذِكْرِ أَشْيَاءَ لَهَا يُعْتَمَدُ
7 - وَضَمِّ مَا فَرَّقَهُ لِلمُشْبِهِ
… وَاللهَ رَبِّي أَسْأَلُ النَّفْعَ بِهِ
8 - وَأَنْ يُزَكِّيْ عَمَلِي وَيُعْرِضَا
… عَنْ سُوئِهِ وَأَنْ يُنِيلَنَا الرِّضَا
مقدمة9 - يُوصَفُ بِالْفَصَاحَةِ المُرَكَّبُ
… وَمُفْرَدٌ وَمُنْشِئٌ مُرَتِّبُ
10 - وَغَيْرَ ثَانٍ صِفْهُ بِالْبَلَاغَهْ
… وَمِثْلُهَا فِي ذَلِكَ البَرَاعَهْ
11 - فَصَاحَةُ الْمُفْرَدِ أَلَّا تَنْفُرَا
… حُرُوفُهُ كَهُعْخُعٍ وَاسْتَشْزَرَا
12 - وَعَدَمُ الخُلْفِ لِقَانُونٍ جَلِي
… كَـ"الْحَمْدُ للهِ العَلِيِّ الأَجْلَلِ"
13 - وَفَقْدُهُ غَرَابَةً قَدْ أُرْتِجَا
… كَـ"فَاحِمًا وَمَرْسِنًا مُسَرَّجَا"
1 - অভাবী বান্দা আবদুর রহমান বললেন
… সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর দানকৃত সুস্পষ্ট বর্ণনার ওপর
2 - আর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম
… বর্ষিত হোক সৃষ্টির সবচেয়ে বাগ্মী নবীর ওপর
3 - আর এটি মুক্তার দানার ন্যায় এক ছন্দোবদ্ধ কবিতা
… যাতে আমি ‘ইলমুল মাআনী’ ও ‘ইলমুল বায়ান’ সন্নিবেশিত করেছি
4 - এতে আমি ‘আত-তালখীস’ কিতাবের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেছি
… এবং সাথে সাথে উজ্জ্বল প্রদীপের ন্যায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বর্ধিত করেছি
5 - এতে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রয়েছে যা
… আমাদের শায়খ আল্লামা কাফিয়াজী থেকে প্রাপ্ত
6 - যাতে যেমন সমালোচিত বিষয়ের সংশোধন রয়েছে
… তেমনি নির্ভরযোগ্য তথ্যাবলিও বর্ণিত হয়েছে
7 - আর বিচ্ছিন্ন সদৃশ বিষয়গুলোকে এতে একত্রিত করা হয়েছে
… এবং আমি আমার রব আল্লাহর নিকট এর দ্বারা কল্যাণের প্রার্থনা করি
8 - তিনি যেন আমার আমলকে কবুল করেন এবং এর ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করেন
… আর আমাদের তাঁর সন্তুষ্টির মঞ্জিলে পৌঁছান
ভূমিকা9 - প্রাঞ্জলতা (ফাসাহাত) গুণটি বাক্য
… একক শব্দ এবং কুশলী রচয়িতার জন্য বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়
10 - দ্বিতীয়টি (অর্থাৎ একক শব্দ) ব্যতীত অন্যগুলোকে সাবলীলতা (বালাগাত) দ্বারা গুণান্বিত করো
… আর এই ক্ষেত্রে ‘বারাআত’ শব্দটিও অনুরূপ
11 - একক শব্দের প্রাঞ্জলতা হলো—তার বর্ণগুলো উচ্চারণে শ্রুতিকটু না হওয়া
… যেমন ‘হু’খু’ এবং ‘ইসতাশযারা’ শব্দদ্বয়
12 - এবং শব্দের গঠন সুষ্পষ্ট ব্যাকরণিক নিয়মের পরিপন্থী না হওয়া
… যেমন: ‘আল-হামদুলিল্লাহিল আলিয়্যিল আজলালি’
13 - এবং শব্দে এমন কোনো দুর্বোধ্যতা না থাকা যা অর্থ অনুধাবনে বাধা দেয়
… যেমন: ‘ফাহিমান’ এবং ‘মারসিনান মুসাররাজা’
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ৩০)
14 - قِيلَ وَفَقْدُ كُرْهِهِ فِي السَّمْعِ
… نَحْوُ جِرِشَّاهُ وَذَا ذُو مَنْعِ
15 - وَفِي الْكَلَامِ فَقْدُهُ فِي الظَّاهِرِ
… لِضَعْفِ تَالِيفٍ وَلِلتَّنَافُرِ
16 - فِي الكَلِمَاتِ وَكَذَا التَّعْقِيدُ مَعْ
… فَصَاحَةٍ فِي الكَلِمَاتِ تُتَّبَعْ
17 - فَالضَّعْفُ نَحْوُ قَدْ جَفَوْنِي وَلَمِ
… أَجْفُ الْأَخِلَّاءَ وَمَا كُنْتُ عَمِي
18 - وَذُو تَنَافُرٍ أَتَاكَ النَّصْرُ
… كَلَيْسَ قُرْبَ قَبْرِ حَرْبٍ قَبْرُ
19 - كَذَاكَ أَمْدَحْهُ الَّذِي تَكَرَّرَا
… وَالثَّالِثُ الخَفَاءُ فِي قَصْدٍ عَرَا
20 - لِخَلَلٍ فِي النَّظْمِ أَوْ فِي الِاِنْتِقَالْ
… إِلَى الَّذِي يَقْصِدُهُ ذَوُو الْمَقَالْ
21 - قِيلَ وَأَلَّا يَكْثُرَ التَّكَرُّرُ
… وَلَا الْإِضَافَاتُ وَفِيهِ نَظَرُ
22 - وَحَدُّهَا فِي مُتَكَلِّمٍ شُهِرْ
… مَلَكَةٌ عَلَى الْفَصِيحِ يَقْتَدِرْ
23 - بَلَاغَةُ الْكَلَامِ أَنْ يُطَابِقَا
… لِمُقْتَضَى الْحَالِ وَقَدْ تَوَافَقَا
24 - فَصَاحَةً وَالْمُقْتَضَى مُخْتَلِفُ
… حَسْبَ مَقَامَاتِ الْكَلَامِ يُؤْلَفُ
25 - فَمُقْتَضَى تَنْكِيرِهِ وَذِكْرِهِ
… وَالْفَصْلِ الِايجَازِ خِلَافُ غَيْرِهِ
26 - كَذَا خِطَابٌ لِلذَّكِيِّ وَالْغَبِي
… وَكِلْمَةٌ لَهَا مَقَامٌ أَجْنَبِي
27 - مَعْ كِلْمَةٍ تَصْحَبُهَا فَالْفِعْلُ ذَا
… أَنْ لَيْسَ كَالْفِعْلِ الَّذِي تَلَا إِذَا
28 - وَالِارْتِفَاعُ فِي الْكَلَامِ وَجَبَا
… بِأَنْ يُطَابِقَ اعْتِبَارًا نَاسَبَا
29 - وَفَقْدُهَا انْحِطَاطُهُ فَالْمُقْتَضَى
… مُنَاسِبٌ مِنِ اعْتِبَارٍ مُرْتَضَى
১৪ - বলা হয়েছে, শ্রবণে কটুতা না থাকা (প্রাঞ্জলতার শর্ত)... যেমন 'জিরিশশা' (শব্দটি), এটি বর্জনীয়।
১৫ - আর বাক্যের ক্ষেত্রে বাহ্যিকভাবে এর অভাব (প্রাঞ্জলতার অনুপস্থিতি) পরিলক্ষিত হয়... রচনার দুর্বলতা ও শ্রুতিকটু শব্দগুচ্ছের আধিক্যের কারণে।
১৬ - শব্দের মধ্যে, তেমনিভাবে জটিলতাও; যদিও শব্দের পৃথক পৃথক প্রাঞ্জলতা অনুসরণ করা হয়।
১৭ - রচনার দুর্বলতা যেমন: "তারা আমার প্রতি রূঢ় হয়েছে, কিন্তু আমি বন্ধুদের প্রতি রূঢ় হইনি এবং আমি অন্ধ ছিলাম না।"
১৮ - আর শ্রুতিকটু শব্দগুচ্ছের আধিক্য তোমার নিকট এসেছে... যেমন: "হারবের কবরের নিকট কোনো কবর নেই।"
১৯ - তেমনি "আমি তার প্রশংসা করি" (শব্দটি) যা পুনরাবৃত্তি হয়েছে; আর তৃতীয় ত্রুটিটি হলো উদ্দেশ্যে অস্পষ্টতা প্রকাশ পাওয়া।
২০ - বাক্যের বিন্যাসে ত্রুটির কারণে অথবা বক্তা যা বলতে চান তাতে উত্তরণের সমস্যার কারণে।
২১ - বলা হয়েছে, যেন পুনরাবৃত্তি অধিক না হয় এবং সম্বন্ধপদ (ইজাফাত) এর আধিক্যও না থাকে, তবে এই বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে।
২২ - আর বক্তার ক্ষেত্রে এর (প্রাঞ্জলতার) সংজ্ঞা প্রসিদ্ধ... এমন এক অর্জিত প্রতিভা যার দ্বারা সে প্রাঞ্জল বাক্য প্রয়োগে সক্ষম হয়।
২৩ - বাক্যের অলঙ্কারশাস্ত্রীয় আবেদন (বালাগাত) হলো পরিস্থিতির চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া, আর উভয়টি যেন মিলে যায়—
২৪ - প্রাঞ্জলতার সাথে; আর পরিস্থিতির চাহিদা ভিন্ন ভিন্ন হয়... বাক্যের প্রেক্ষিত অনুযায়ী তা বিন্যস্ত হয়।
২৫ - সুতরাং শব্দের অনির্দিষ্টকরণ, উল্লেখ করা, বিচ্ছেদ ও সংক্ষেপকরণের চাহিদা এর বিপরীত বিষয়গুলো থেকে ভিন্ন।
২৬ - তেমনি মেধাবী ও অল্প মেধার অধিকারীর প্রতি সম্বোধন... এবং এমন শব্দ যার জন্য ভিন্ন প্রেক্ষাপট বিদ্যমান।
২৭ - তার সাথে থাকা অন্য একটি শব্দের কারণে; কেননা এই ক্রিয়াটি এমন নয়... যা 'ইযা' (যখন)-এর পরে আসা ক্রিয়ার মতো।
২৮ - আর বাক্যের মান সমুন্নত হওয়া আবশ্যক... যথাযথ বিবেচনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার মাধ্যমে।
২৯ - আর এর অনুপস্থিতিতেই মানের অবনতি ঘটে; সুতরাং পরিগৃহীত বিবেচনার আলোকে উপযুক্ত বিষয়ই হলো কাঙ্ক্ষিত চাহিদা।
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ৩১)
30 - وَيُوصَفُ اللَّفْظُ بِتِلْكَ بِاعْتِبَارْ
… إِفَادَةِ الْمَعْنَى بِتَرْكِيبٍ يُصَارْ
31 - وَقَدْ يُسَمَّى ذَاكَ بِالْفَصَاحَهْ
… وَلِبَلَاغَةِ الْكَلَامِ سَاحَهْ
32 - بِطَرَفَيْنِ حَدُّ الِاعْجَازِ عَمَلْ
… وَمَا لَهُ مُقَارِبٌ وَالْأَسْفَلْ
33 - هُوَ الَّذِي إِذَا لِدُونِهِ نَزَلْ
… فَهْوَ كَصَوْتِ الْحَيْوَانِ مُسْتَفَلْ
34 - بَيْنَهُمَا مَرَاتِبٌ وَتَتْبَعُ
… بَلَاغَةً مُحَسِّنَاتٌ تُبْدِعُ
35 - وَحَدُّهَا فِي مُتَكَلِّمٍ كَمَا
… مَضَى فَمَنْ إِلَى الْبَلَاغَةِ انْتَمَى
36 - فَهْوَ فَصِيحٌ مِنْ كَلِيمٍ أَوْ كَلَامْ
… وَعَكْسُ ذَا لَيْسَ لَنَا بِهِ الْتِزَامْ
37 - قُلْتُ وَوَصْفٌ مِنْ بَدِيعٍ حَرَّرَهْ
… شَيْخِي وَشَيْخُهُ الْإِمَامُ حَيْدَرَهْ
38 - وَمَرْجِعُ الْبَلَاغَةِ التَّحَرُّزُ
… عَنِ الخَطَا فِي ذِكْرِ مَعْنًى يَبْرُزُ
39 - وَالمَيْزُ لِلْفَصِيحِ مِنْ سِوَاهُ ذَا
… يُعْرَفُ فِي اللُّغَةِ وَالصَّرْفِ كَذَا
40 - فِي النَّحْوِ وَالَّذِي سِوَى التَّعَقُّدِ
… المَعْنَوِيْ يُدْرَكُ بِالْحِسِّ قَدِ
41 - وَمَا بِهِ عَنِ الْخَطَا فِي التَّادِيَهْ
… مُحْتَرَزٌ عِلْمَ الْمَعَانِي سَمِّيَهْ
42 - وَمَا عَنِ التَّعْقِيدِ فَالبَيَانُ
… ثُمَّ الْبَدِيعُ مَا بِهِ اسْتِحْسَانُ
30 - শব্দকে তার দ্বারা বিশেষায়িত করা হয় এই বিবেচনায়
… যে তা সুশৃঙ্খল বিন্যাসের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করে।
31 - কখনও তাকে ফাসাহাত (বাকপটুতা) বলা হয়
… আর বাক্যালঙ্কারের (বালাগাত) রয়েছে এক বিস্তৃত ক্ষেত্র।
32 - অলৌকিকত্বের (ই’জায) সীমা দুই প্রান্ত নিয়ে গঠিত
… এবং যা তার নিকটবর্তী এবং যা নিম্নতর।
33 - এটি এমন যে, যদি তা তারও নিচে নেমে যায়
… তবে তা পশুর শব্দের ন্যায় অতি নিম্নস্তরের হয়ে পড়ে।
34 - এই দুইয়ের মাঝে অনেক স্তর রয়েছে এবং তার অনুগামী হয়
… সেই অলঙ্কারসমূহ যা অলঙ্করণকে সৃজনশীল করে তোলে।
35 - আর বক্তার ক্ষেত্রে এর সীমা বা সংজ্ঞা তেমনই, যেমন
… পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে; সুতরাং যে ব্যক্তি বালাগাতের (অলঙ্কারশাস্ত্র) প্রতি নিজেকে সম্পৃক্ত করে।
36 - সে বক্তা হিসেবে 'ফাসিহ' (সুভাষী) অথবা তার বক্তব্যটি 'ফাসিহ'
… আর এর বিপরীত বিষয়ের সাথে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
37 - আমি বলছি: ইলমে বাদী’র যে বর্ণনাটি বিশ্লেষণ করেছেন
… আমার শায়খ এবং তাঁর শায়খ ইমাম হায়দারাহ।
38 - আর বালাগাতের মূল ভিত্তি হলো রক্ষা পাওয়া
… প্রকাশিত অর্থের বর্ণনায় ভুল করা থেকে।
39 - আর 'ফাসিহ' শব্দকে অন্যদের থেকে পৃথক করার বিষয়টি
… লুগাত (অভিধান) ও সরফ (শব্দতত্ত্ব) দ্বারা একইভাবে জানা যায়।
40 - নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রেও; আর যা অর্থগত জটিলতা
… ব্যতিরেকে অন্য কিছু, তা অনুভবের মাধ্যমেই উপলব্ধি করা যায়।
41 - আর যার মাধ্যমে ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে ভুল থেকে
… বেঁচে থাকা যায়, তাকে 'ইলমে মা’আনী' নামে নামকরণ করো।
42 - আর যা জটিলতা ও অস্পষ্টতা থেকে রক্ষা করে তা 'ইলমে বয়ান'
… অতঃপর 'ইলমে বাদী’' হলো সেটি যার দ্বারা সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الفن الأول: علم المعاني43 - وَحَدُّهُ عِلْمٌ بِهِ قَدْ تُعْرَفُ
… أَحْوَالُ لَفْظٍ عَرَبِيٍّ يُؤْلَفُ
44 - مِمَّا بِهَا تَطَابُقٌ لِمُقْتَضَى
… حَالٍ وَحَدِّي سَالِمٌ وَمُرْتَضَى
45 - يُحْصَرُ فِي أَحْوَالِ الِاسْنَادِ وَفِي
… أَحْوَالِ مُسْنَدٍ إِلَيْهِ فَاعْرِفِ
46 - وَمُسْنَدٍ تَعَلُّقَاتِ الْفِعْلِ
… وَالْقَصْرِ وَالْإِنْشَاءِ ثُمَّ الْوَصْلِ
47 - وَالْفَصْلِ وَالْإِيجَازِ وَالْإِطْنَابِ
… وَنَحْوِهِ تَاتِيكَ فِي أَبْوَابِ
مسألة48 - مُحْتَمِلٌ لِلصِّدْقِ وَالْكِذْبِ الْخَبَرْ
… وَغَيْرُهُ الْإِنْشَا وَلا ثَالِثَ قَرْ
49 - تَطَابُقُ الْوَاقِعِ صِدْقُ الْخَبَرِ
… وَكِذْبُهُ عَدَمُهُ فِي الْأَشْهَرِ
50 - وَقِيلَ بَلْ تَطَابُقُ اعْتِقَادِهِ
… وَلَوْ خَطَا وَالكِذْبُ فِي افْتِقَادِهِ
51 - فَفَاقِدُ اعْتِقَادِهِ لَدَيْهِ
… وَاسِطَةٌ وَقِيلَ لَا عَلَيْهِ
52 - الْجَاحِظُ الصِّدْقُ الَّذِي يُطَابِقُ
… مُعْتَقِدًا أَوْ وَاقِعًا يُوَافِقُ
53 - وَفَاقِدٌ مَعَ اعْتِقَادِهِ الْكَذِبْ
… وَغَيْرُ ذَا لَيْسَ بِصِدْقٍ أَوْ كَذِبْ
54 - وَوَافَقَ الرَّاغِبُ في الْقِسْمَيْنِ
… وَوَصَفَ الثَّالِثَ بِالْوَصْفَيْنِ
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইলমুল মাআনি৪৩ - এর সংজ্ঞা হলো এমন এক জ্ঞান যার দ্বারা পরিজ্ঞাত হওয়া যায়
… বিন্যস্ত আরবি শব্দের সেই অবস্থাগুলো সম্পর্কে
৪৪ - যার মাধ্যমে শব্দ পরিস্থিতি বা প্রসঙ্গের দাবি অনুযায়ী হয়
… আর আমার এই সংজ্ঞাটি ত্রুটিমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য।
৪৫ - এটি সীমাবদ্ধ থাকে ইসনাদ (সংযুক্তি)-এর অবস্থা এবং
… মুসনাদ ইলাইহি-এর অবস্থার বর্ণনায়, সুতরাং তা জেনে নাও।
৪৬ - আরও মুসনাদ, ক্রিয়ার সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ
… কসর (সীমাবদ্ধকরণ), ইনশা (অনুজ্ঞা/আকাঙ্ক্ষামূলক বাক্য) এবং ওসল (সংযুক্তি)।
৪৭ - এবং ফাসল (বিযুক্তি), ইজায (সংক্ষিপ্ততা) ও ইত্নাব (বিস্তৃতি)
… ও এই জাতীয় বিষয়সমূহ যা তোমার কাছে বিভিন্ন অধ্যায়ে আসবে।
মাসআলা৪৮ - সত্য বা মিথ্যার সম্ভাবনা রাখে এমন বাক্য হলো খবর (সংবাদ)
… আর এর বিপরীত হলো ইনশা, এর বাইরে তৃতীয় কোনো প্রকার নেই।
৪৯ - বাস্তবের সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়াই হলো খবরের সত্যতা
… আর এর অভাবই হলো মিথ্যা, এটিই অধিক প্রসিদ্ধ মত।
৫০ - বলা হয়েছে, বরং সত্য হলো বক্তার বিশ্বাসের সাথে সংগতি থাকা
… যদিও তা ভুল হয়, আর মিথ্যা হলো বিশ্বাসের অনুপস্থিতি।
৫১ - সুতরাং যার নিকট বিশ্বাসের অনুপস্থিতি রয়েছে তা
… একটি মধ্যবর্তী স্তর; আবার বলা হয়েছে যে এটি তার ওপর প্রযোজ্য নয়।
৫২ - আল-জাহিজ বলেন: সত্য হলো তা-ই যা বাস্তব এবং
… বক্তার বিশ্বাস উভয়ের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
৫৩ - আর বিশ্বাসের অনুপস্থিতির সাথে যা থাকে তা মিথ্যা
… আর এই ক্ষেত্রগুলো ছাড়া বাকিগুলো সত্য বা মিথ্যা কোনোটিই নয়।
৫৪ - আর আল-রাঘিব এই দুই প্রকারের ক্ষেত্রে একমত পোষণ করেছেন
… এবং তৃতীয় প্রকারটিকে উভয় বিশেষণের দ্বারা বিশেষিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
أحوال الإسناد الخبري55 - الْقَصْدُ بِالْإِخْبَارِ أَنْ يُفَادَا
… مُخَاطَبٌ حُكْمًا لَهُ أَفَادَا
56 - أَوْ كَوْنُهُ قَدْ عَلِمَهْ وَالْأَوَّلا
… فَائِدَةَ الْإِخْبَارِ (*) سَمِّ وَاجْعَلا
57 - لَازِمَهَا الثَّانِيْ وَقَدْ يُنَزَّلُ
… عَالِمُ هَذَيْنِ كَمَنْ قَدْ يَجْهَلُ
58 - لِعَدَمِ الْجَرْيِ عَلَى مُوجَبِهِ
… وَمَا أَتَى لِغَيْرِ ذَا أَوِّلْ بِهِ
59 - فَلْيُقْتَصَرْ عَلَى الَّذِي يَحْتَاجُ لَهْ
… مِنَ الْكَلامِ وَلْيُعَامَلْ عَمَلَهْ
60 - فَإِنْ يُخَاطِبْ خَالِيًا لِلذِّهْنِ مِنْ (1)
… حُكْمٍ وَمِنْ تَرَدُّدٍ فَلْيَغْتَنِنْ
61 - عَنِ المُؤَكِّدَاتِ أَوْ مُرَدِّدَا
… وَطَالِبًا فَمُسْتَجِيدًا أَكِّدَا
62 - أَوْ مُنْكِرًا فَأَكِّدَنْ وُجُوبَا
… بِحَسَبِ الْإِنْكَارِ فالضُّرُوبَا
63 - أَوَّلَهَا سَمِّ ابْتَدَائِيًّا وَمَا
… تَلَاهُ فَهْوَ الطَّلَبِيُّ وَانْتَمَى
64 - تَالِيهِ لِلْإِنْكَارِ ثُمَّ مُقْتَضَى
… ظَاهِرِهِ إِيرَادُهَا كَمَا مَضَى
--------------------------------------------
সংবাদমূলক বাচনের অবস্থাসমূহ৫৫ - সংবাদ প্রদানের উদ্দেশ্য হলো সম্বোধিত ব্যক্তিকে এমন কোনো বিধান সম্পর্কে অবগত করা... যা তার জানা ছিল না।
৫৬ - অথবা বক্তা যে বিষয়টি জানেন তা তাকে জানানো। প্রথম প্রকারকে... সংবাদের উপকারিতা (ফায়দাতুল ইখবার) নামকরণ করো এবং গণ্য করো—
৫৭ - দ্বিতীয় প্রকারকে তার আবশ্যকতা (লাযিমুল ফায়দাহ)। কখনো কখনো... এই দুই বিষয়ে অবগত ব্যক্তিকে অজ্ঞ ব্যক্তির ন্যায় গণ্য করা হয়;
৫৮ - যেহেতু সে জ্ঞানের দাবি অনুযায়ী আমল করে না। আর যা এর ভিন্ন উদ্দেশ্যে আসে... তার উপযুক্ত ব্যাখ্যা প্রদান করো।
৫৯ - সুতরাং কথার মধ্য থেকে যতটুকু প্রয়োজন... ততটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত এবং সে অনুযায়ী শব্দ প্রয়োগ করা উচিত।
৬০ - যদি এমন ব্যক্তিকে সম্বোধন করা হয় যার মন (সংশয় বা জ্ঞান থেকে) খালি থাকে... তবে তাকিদ বা নিশ্চয়তাবোধক শব্দ পরিহার করা উচিত;
৬১ - আর যদি সে দ্বিধাগ্রস্ত ও সত্যের সন্ধানী হয়... তবে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য তাকিদ ব্যবহার করা উত্তম।
৬২ - আর যদি সে অস্বীকারকারী হয়, তবে অস্বীকারের মাত্রা অনুযায়ী... তাকিদ প্রদান করা ওয়াজিব বা আবশ্যক। এভাবেই এর প্রকারগুলো বিন্যস্ত—
৬৩ - এর প্রথম প্রকারকে 'ইবতিদায়ি' (প্রাথমিক) নামকরণ করো, এবং যা... এর পরে আসে তা হলো 'তালাবি' (জিজ্ঞাসু);
৬৪ - আর তার পরবর্তীটি 'ইনকারি' (অস্বীকারমূলক) প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর পরিস্থিতির... বাহ্যিক দাবি হলো এগুলোকে সেভাবেই উপস্থাপন করা যেভাবে পূর্বে বর্ণিত হলো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুল জুমান ফী ইলমিল মাআনী ওয়াল বায়ান
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
65 - وَرُبَّمَا خُولِفَ ذَا فَلْيُورَدِ
… كَلامُ ذِي الْخُلُوِّ كَالْمُرَدِّدِ
66 - إِذَا لَهُ قُدِّمَ مَا يُلَوِّحُ
… بِخَبَرٍ فَهْوَ لِفَهْمٍ يَجْنَحُ
67 - كَمِثْلِ مَا يَجْنَحُ مَنْ تَرَدَّدَا
… لِطَلَبٍ فَالْحُسْنُ أَنْ يُؤَكَّدَا
68 - وَيُجْعَلُ الْمُقِرُّ مِثْلَ الْمُنْكِرِ
… إِنْ سِمَةُ النُّكْرِ عَلَيهِ تَظْهَرِ
69 - كَقَوْلِنَا لِمُسْلِمٍ وَقَدْ فَسَقْ
… يَا أَيُّهَا الْمِسْكِينُ إِنَّ المَوْتَ حَقّْ
70 - وَيُجْعَلُ الْمُنْكِرُ إِنْ كَانَ مَعَهْ
… شَوَاهِدٌ لَوْ يَتَأَمَّلْ مُرْدِعَهْ
71 - كَغَيْرِهِ كَقَوْلِكَ: الإِسْلامُ حَقّْ
… لِمُنْكِرٍ وَالنَّفْيُ فِيهِ مَا سَبَقْ
72 - ثُمَّ مِنَ الْإِسْنَادِ مَا يُسَمَّى
… حَقِيقَةً عَقْلِيَّةً كَأَنْ مَا
73 - يُسْنَدُ فِعْلٌ لِلَّذِي لَهُ لَدَى
… مُخَاطِبٍ وَشِبْهُهُ فِيمَا بَدَا
74 - كَقَوْلِنَا أَنْبَتَ رَبُّنَا الْبَقَلْ
… وَأَنْبَتَ الرَّبِيعُ، قَوْلُ مَنْ جَهِلْ
75 - وَجَاءَ زَيْدٌ مَعَ فَقْدِ الْفِعْلِ
… عِلْمًا وَمَا يُدْعَى الْمَجَازَ العَقْلِي
76 - إِسْنَادُهُ إِلَى الَّذِي لَيْسَ لَهُ
… بَلْ لِمُلابِسٍ وَقَدْ أَوَّلَهُ
77 - وَأَنَّهُ يُلابِسُ الْفَاعِلَ مَعْ
… مَفْعُولِهِ وَمَصْدَرًا وَمَا اجْتَمَعْ
78 - مِنَ الزَّمَانِ وَالْمَكَانِ وَالسَّبَبْ
… فَهْوَ إِلَى الْمَفْعُولِ غَيْرُ مَا انْتَصَبْ
79 - وَفَاعِلٌ أَصْلٌ وَغَيْرُ ذَا مَجَازْ
… كَعِيشَةٍ رَاضِيَةٍ إِذَا تُجَازْ
80 - وَالسَّيْلُ مُفْعَمٌ وَلَيْلٌ سَارِي
… وَجَدَّ جَدُّهُمْ وَنَهْرٌ جَارِي
৬৫ - অনেক সময় এর ব্যতিক্রম ঘটে, ফলে সংশয়মুক্ত ব্যক্তির সামনে এমনভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয় যেন সে একজন দ্বিধাগ্রস্ত ব্যক্তি।
৬৬ - যখন তার সামনে এমন কিছু পেশ করা হয় যা সংবাদের প্রতি ইঙ্গিত দেয়, তখন সে তা বোঝার দিকে ঝুঁকে পড়ে।
৬৭ - যেমনটি কোনো কিছু অন্বেষণে দ্বিধাগ্রস্ত ব্যক্তি ঝুঁকে পড়ে; এমতাবস্থায় বক্তব্যকে তাকিদ বা গুরুত্ব দিয়ে দৃঢ় করা উত্তম।
৬৮ - আর যে ব্যক্তি স্বীকারকারী, তাকে অস্বীকারকারীর মতো গণ্য করা হয়, যদি তার মধ্যে অস্বীকারের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
৬৯ - যেমন আমরা একজন পাপাচারী মুসলিমকে বলি: হে অসহায়! নিশ্চয়ই মৃত্যু ধ্রুব সত্য।
৭০ - আর অস্বীকারকারীকে (স্বীকারকারীর মতো) গণ্য করা হয় যদি তার কাছে এমন প্রমাণ থাকে যা নিয়ে চিন্তা করলে সে সত্যবিমুখতা থেকে বিরত হতো।
৭১ - তাকে অন্যদের মতোই গণ্য করা হয়; যেমন কোনো অস্বীকারকারীকে আপনার বলা: ‘ইসলাম সত্য’, যেখানে ইতিপূর্বে কোনো নফি বা অস্বীকারের প্রাধান্য ছিল না।
৭২ - এরপর অন্বয় বা ইসনাদের একটি প্রকার হলো যাকে ‘হাকিকতে আকলিয়্যাহ’ (বুদ্ধিবৃত্তিক বাস্তবতা) বলা হয়; যেন তা—
৭৩ - বক্তার নিকট কোনো কাজকে এমন কিছুর দিকে সম্বন্ধ করা, যার জন্য প্রকৃতপক্ষে বাহ্যত তা সাব্যস্ত হয়।
৭৪ - যেমন আমাদের কথা: ‘আমাদের রব উদ্ভিদ জন্মান’; আর ‘বসন্তকাল উদ্ভিদ জন্মায়’—এটি (প্রকৃত কারণ সম্পর্কে) অজ্ঞ ব্যক্তির কথা।
৭৫ - আর ‘জায়েদ এসেছে’—এখানে মূল ক্রিয়ার অনুপস্থিতি সত্ত্বেও জ্ঞানের ভিত্তিতে (সম্বন্ধ করা); আর যাকে ‘মাজাযে আকলি’ (বুদ্ধিবৃত্তিক রূপক) বলা হয়—
৭৬ - তা হলো ক্রিয়াকে এমন কিছুর দিকে সম্বন্ধ করা যা প্রকৃতপক্ষে তার জন্য নয়, বরং কোনো সম্পর্কের কারণে তার দিকে সম্বন্ধ করা এবং ব্যাখ্যার আশ্রয় নেওয়া।
৭৭ - এটি কর্তাবাচ্য, কর্মবাচ্য, ক্রিয়ামূল এবং আরও যা কিছু এর সাথে একত্রিত হয়—তার সাথে সম্পর্কযুক্ত হয়।
৭৮ - (এই সম্পর্ক হতে পারে) সময়, স্থান এবং কারণ থেকে; সুতরাং কর্মবাচ্যের দিকে সম্বন্ধ হওয়াটি নসবযুক্ত হওয়া ছাড়া ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে।
৭৯ - কর্তার দিকে সম্বন্ধ হওয়াই হলো মূল, আর অন্যগুলো হলো মাজায বা রূপক; যেমন ‘সন্তুষ্ট জীবন’, যখন তা প্রয়োগ করা হয়।
৮০ - এবং ‘ভরপুর প্লাবন’, ‘চলমান রাত’, ‘তাদের প্রচেষ্টা জোরালো হলো’ এবং ‘প্রবহমান নদী’।