(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: -)
ملحمة حر   (عبد الحميد ضحا)

القسم: الشعر ودواوينه


الكتاب: ملحمة حر «ديوان»

المؤلف: عبد الحميد محمد محمد حسين ضحا

الناشر: مكتبة الآداب، القاهرة

الطبعة: الأولى، 1433 هـ - 2011 م

عدد الصفحات: 106

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 جُمادَى الأولى 1434

এক স্বাধীন মানবের মহাকাব্য   (আব্দুল হামিদ দুহা)

বিভাগ: কবিতা ও কাব্যগ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: এক স্বাধীন মানবের মহাকাব্য «কাব্যগ্রন্থ»

লেখক: আব্দুল হামিদ মুহাম্মদ মুহাম্মদ হুসাইন দুহা

প্রকাশক: মাকতাবাতুল আদাব، কায়রো

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৩ হিজরী - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জুমাদাল উলা ১৪৩৪

(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: -)
ديوان

"ملحمة حر"

عبد الحميد ضحا
দীওয়ান

"একজন স্বাধীনের মহাকাব্য"

আব্দুল হামিদ দুহা
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌إهداء

إلى كل أحرار العالم وشهداء الحرية

الأقمار التي تضيء للبشرية الظلام

والشموس التي ستلتهم الظلام
উৎসর্গ

বিশ্বের সকল স্বাধীনতাকামী মানুষ এবং স্বাধীনতার শহীদদের প্রতি

সেই চন্দ্রমাসমূহ যা মানবতার অন্ধকারকে আলোকিত করে

এবং সেই সূর্যসমূহ যা অন্ধকারকে গ্রাস করে ফেলবে
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، صلى الله عليه وسلم.

في خضمِّ الصراع المستعر بين الفكر الإسلامي والأفكار التغريبية، ونحن إذ نخوض هذا الصراع في أهم روافد الفكر؛ الأدب - أقدِّم ديواني "ملحمة حر"، ممثلاً للشعر الإسلامي، كما أراه وأنظِّر له، وللأدب الإسلامي عمومًا.

 

والأدب الإسلامي كما أراه: هو الأدب - بشتى فروعه من شعر ورواية وقصة قصيرة … إلخ - الذي يراعي آداب الإسلام وأحكامه، ويُعْنى بإشاعة الفضيلة ومحاربة الرذيلة في المجتمع.

قال الشاعر:

وَمَا مِنْ كَاتِبٍ إِلَاّ سَيَفْنَى … وَيَبْقَى الدَّهْرَ مَا كَتَبَتْ يَدَاهُ

فَلا تَكْتُبْ بِكَفِّكَ غَيْرَ شَيْءٍ … يَسُرُّكَ فِي الْقِيَامَةِ أَنْ تَرَاهُ
ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর।

ইসলামি চিন্তা ও পাশ্চাত্য ভাবধারার মধ্যে প্রজ্জ্বলিত সংগ্রামের মাঝখানে, এবং আমরা যখন চিন্তার অন্যতম প্রধান উৎস ‘সাহিত্য’-এর মাধ্যমে এই সংগ্রামে লিপ্ত; তখন আমি আমার কাব্যগ্রন্থ "মালহামাতু হুর" (এক স্বাধীনের মহাকাব্য) পেশ করছি, যা ইসলামি কবিতার প্রতিনিধিত্ব করে—যেমনিভাবে আমি একে দেখি ও এর তাত্ত্বিক রূপরেখা প্রদান করি, এবং সাধারণভাবে ইসলামি সাহিত্যেরও প্রতিনিধিত্ব করে।

 

আমার দৃষ্টিতে ইসলামি সাহিত্য হলো—কবিতা, উপন্যাস ও ছোটগল্পসহ সাহিত্যের যাবতীয় শাখা … ইত্যাদি—যা ইসলামের শিষ্টাচার ও বিধানসমূহ মেনে চলে এবং সমাজে সদ্গুণের প্রসার ও অপকর্ম প্রতিরোধের প্রতি গুরুত্বারোপ করে।

কবি বলেছেন:

এমন কোনো লেখক নেই যে নশ্বর নয় … তবে তার দুই হাত যা লিখেছে তা মহাকালের তরে অবশিষ্ট থেকে যায়।

সুতরাং তোমার হাত দিয়ে এমন কিছু ছাড়া অন্য কিছু লিখো না … যা কিয়ামতের দিন দেখে তুমি আনন্দিত হবে।
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ৬)
ومعلوم أن للأدب دورًا عظيمًا في تاريخ البشرية عامة، وفي تاريخ المسلمين خاصة، وقد صح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((إن من البيان لسحرًا، وإن من الشعر لحكمة))، ولما كان يوم الأحزاب، وردَّهم الله بغيظهم لم ينالوا خيرًا، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من يحمي أعراض المؤمنين؟)) قال كعب: أنا يا رسول الله، فقال: ((إنك تحسن الشعر؟)) فقال حسان بن ثابت: أنا يا رسول الله، قال: ((نعم، اهجهم أنت، فسيعينك روح القدس)).

فالأدب الإسلامي هو لسان المجاهد والداعية، والمدافع عن الإسلام وعقيدته وشريعته، فهو حاضر منذُ انبلج فجرُ الإسلام، وقد استمرَّ عبرَ القرون وخلالَ العصور حتى يومِنا هذا.

أما مصطلح "الأدب الإسلامي"، فهو حديث، وأظنه أخذ موضعه بسبب الصحوة الإسلامية، وأيضًا بسبب تصدِّيه للهجمة العلمانية الشرسة على كل ما هو إسلامي، ومحاولة حصر الأدب والحداثة في الخلاعة والمجون والشذوذ، والثورةِ على قواعد
এটা সুবিদিত যে, সাধারণভাবে মানব ইতিহাসে এবং বিশেষভাবে মুসলিমদের ইতিহাসে সাহিত্যের একটি সুমহান ভূমিকা রয়েছে। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: “নিশ্চয়ই কোনো কোনো বর্ণনায় যাদু রয়েছে, আর নিশ্চয়ই কোনো কোনো কবিতায় রয়েছে হিকমত (প্রজ্ঞা)।” আর যখন আহযাবের যুদ্ধের দিন উপস্থিত হলো এবং আল্লাহ কাফিরদের তাদের ক্রোধসহ ফিরিয়ে দিলেন যে তারা কোনো কল্যাণ লাভ করতে পারেনি, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “কে মুমিনদের সম্মান রক্ষা করবে?” কাব বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি। তিনি বললেন: “তুমি কি ভালো কবিতা বলতে পারো?” তখন হাসসান বিন সাবিত বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি। তিনি বললেন: “হ্যাঁ, তুমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যাঙ্গাত্মক কবিতা বলো, রুহুল কুদুস তোমাকে সাহায্য করবেন।”

সুতরাং ইসলামী সাহিত্য হলো মুজাহিদ ও দায়ীর ভাষা, এবং ইসলাম, তার আকিদা ও শরীয়তের রক্ষকের কণ্ঠস্বর। ইসলামের উষালগ্ন থেকেই এর উপস্থিতি বিদ্যমান এবং এটি শতাব্দী ও যুগ পরম্পরায় আজ অবধি অব্যাহত রয়েছে।

আর "ইসলামী সাহিত্য" পরিভাষাটি আধুনিক; আর আমার ধারণা, ইসলামী জাগরণের কারণেই এটি নিজের স্থান করে নিয়েছে। এছাড়াও ইসলাম-সংশ্লিষ্ট সবকিছুর ওপর ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের প্রচণ্ড আক্রমণের মোকাবিলা করা এবং সাহিত্য ও আধুনিকতাকে কেবল অশ্লীলতা, নির্লজ্জতা, বিকৃতি এবং নিয়ম-নীতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কারণেই এটি প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ৭)
الإسلام؛ بدعوى الخروج على التابوهات!!

وها أنذا أحاول من خلال أشعاري ورواياتي وقصصي ومقالاتي وبرامجي التلفزيونية أن أنشر هذه المدرسة، ساعيًا إلى دعوة الأدباء الإسلاميين إلى التجديد في الأدب، والاهتمام بنشر اللغة الفصحى وتحبيبها للناس، مع استخدام واستحداث الصور والأساليب الجمالية التي تأخذ بلبِّ المتلقي؛ تطبيقًا لحديث النبي صلى الله عليه وسلم: ((إن من البيان لسحرًا)).

نريد إبداعَ أدبٍ إسلامي، ملتزمٍ بقضايا الأمة، يراعي أصول الإسلام، نريده رفيع المستوى، عالي الجودة، ذا لغة جزلة وفصيحة، وصور تعبيرية راقية، يخوض في الأغراض الأدبية المختلفة.

نريد إبداع الأدب الإسلامي الرائع البيان والصور، الذي يلامس الروح، ويخاطب العقل، ويثير الأحاسيس والعواطف الوجدانية والإنسانية، ويسمو بها.
ইসলাম; নিষিদ্ধ প্রথা (ট্যাবু) ভেঙে ফেলার অজুহাতে!!

আর আমি এখন আমার কবিতা, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই মতাদর্শ প্রচার করার চেষ্টা করছি; আমি ইসলামি সাহিত্যিকদের সাহিত্যে আধুনিকায়ন আনার এবং প্রমিত ভাষা প্রসার ও জনগণের কাছে তা প্রিয় করে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সাথে এমন নান্দনিক চিত্রকল্প ও পদ্ধতির ব্যবহার ও উদ্ভাবন করতে চাই যা পাঠকদের হৃদয় কেড়ে নেবে; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর বাস্তব রূপ হিসেবে: "নিশ্চয়ই কিছু বাগ্মিতার মাঝে জাদু রয়েছে।"

আমরা এমন এক ইসলামি সাহিত্যের সৃজন চাই, যা উম্মাহর ইস্যুগুলোর প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে এবং ইসলামের মূলনীতিসমূহ মেনে চলবে। আমরা একে উচ্চমানের, উন্নত গুণসম্পন্ন, বলিষ্ঠ ও প্রাঞ্জল ভাষা সমৃদ্ধ এবং মার্জিত প্রকাশভঙ্গি সম্পন্ন হিসেবে পেতে চাই, যা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বিচরণ করবে।

আমরা চমৎকার বাগ্মিতা ও চিত্রকল্প সমৃদ্ধ এমন ইসলামি সাহিত্যের সৃজন চাই, যা আত্মাকে স্পর্শ করবে, বুদ্ধিবৃত্তিকে সম্বোধন করবে এবং আধ্যাত্মিক ও মানবিক অনুভূতি ও আবেগকে জাগ্রত করে তাকে উচ্চাসনে আরোহণ করাবে।
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ৮)
نريده مصوِّرًا واقع الأمة تصويرًا حيًّا، من غير بهرجة، ولا زخرفة، ولا رمزية غامضة، مدافعًا عن عقيدتها، ناصرًا قضاياها، ناشرًا للفضيلة، محاربًا للرذيلة.

نريد أديبًا متأثرًا بلغة القرآن الكريم، وبيانه، ومعانيه، وأساليبه، وصوره، وكيف يصور واقع الإنسان، وهمومه، وأحواله، ونفسيته، وما يعانيه من المآسي والويلات، وما في نفسه من الخير والشر، ويقدم له العلاج الناجع، والبلسم الشافي، وما يحقق له السعادة في الدنيا والآخرة.

ولكن للأسف الأمر شديد وصعب؛ فالصراع الدائر في المجال الأدبي صراع شرس، فكل مفاتيح الأدب الرسمي في أيدي العلمانيين والشيوعيين، وهم يُشْهرون أي فتى أو فتاة حتى لو كان ضعيفًا في الإملاء والكتابة، ما دام يثور على محارم الله وشريعته، بدعوى "الخروج على التابوهات"، فيظهرونه في الإعلام، ويحصل على الجوائز، أما المواهب الإسلامية، فيحاربونها، لدرجة أنه لم
আমরা তাকে উম্মাহর বাস্তবতার এক জীবন্ত রূপকার হিসেবে চাই, যাতে কোনো কৃত্রিমতা, বাহ্যিক চাকচিক্য কিংবা অস্পষ্ট রূপক থাকবে না; তিনি হবেন এর আকিদাহর প্রহরী, এর সমস্যাবলির সাহায্যকারী, সদ্গুণের প্রচারক এবং অপকর্মের বিরুদ্ধে লড়াকু।

আমরা এমন একজন সাহিত্যিক প্রত্যাশা করি যিনি পবিত্র কুরআনের ভাষা, এর অলঙ্কারশাস্ত্র, এর অর্থসমূহ, এর শৈলী ও চিত্রকল্পের মাধ্যমে প্রভাবিত এবং এটি যেভাবে মানুষের বাস্তবতা, তার চিন্তা-উদ্বেগ, অবস্থা ও মনস্তত্বকে চিত্রিত করে তা থেকে শিক্ষা গ্রহণকারী। তিনি মানুষের সকল দুঃখ-দুর্দশা এবং তার অন্তরে বিদ্যমান ভালো ও মন্দকে চিত্রায়িত করবেন এবং তার সামনে এমন এক কার্যকর চিকিৎসা ও মহৌষধ পেশ করবেন, যা দুনিয়া ও আখেরাতে তার জন্য সুখ বয়ে আনবে।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও কঠিন; কেননা সাহিত্য অঙ্গনে চলমান এই লড়াইটি অতিশয় হিংস্র। প্রাতিষ্ঠানিক সাহিত্যের সকল চাবিকাঠি আজ ধর্মনিরপেক্ষ ও কমিউনিস্টদের হাতে। তারা যেকোনো তরুণ বা তরুণীকে খ্যাতিমান করে তোলে—এমনকি সে লিখনশৈলী ও বানানে দুর্বল হলেও—যতক্ষণ সে "ট্যাবু ভাঙার" অজুহাতে আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ এবং তাঁর শরিয়তের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। তারা তাকে মিডিয়ায় প্রচার করে এবং সে পুরস্কার লাভ করে। অন্যদিকে তারা ইসলামি মেধাগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে, এমন পর্যায়ে যে এটি আর...
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ৯)
يحصل أديب إسلامي في مصر خلال ربع القرن الماضي على جائزة، مهما وصل في الموهبة والإتقان.

لذلك؛ يحتاج الأدب الإسلامي إلى أدباء من نوعية خاصة، يملكون الموهبة والدراسة؛ حتى يُفْحِموا الأدعياء بموهبتهم وإتقانهم.

ومن ثم؛ نحتاج إلى أديب ذي ملكة فنية أرقى من تلك التي يحتاجها أديب غير ملتزم؛ حتى يحوِّل المألوف في عرف الأدب مما يخالف العقيدة إلى غير مألوف، والخير إلى شيء باهر جذَّاب، نريده ساحر البيان، وحكيم الزمان.

أما بالنسبة لهذا الديوان "ملحمة حر"، فيبدو من خلال قصائده المدى الذي وصل له تجبر الطغاة مع أصحاب الفكر الإسلامي، من اضطهاد وتعذيب واعتقال، لدرجة أني مكثت ما يربو على أحد عشر عامًا في المعتقلات دون تهمة واحدة أو رؤية النيابة أو القضاء، وحين تم اعتقالي وأنا طالب بالفرقة الثانية
গত পঁচিশ বছরে মিশরের কোনো ইসলামী সাহিত্যিক কোনো পুরস্কার লাভ করেননি, তিনি প্রতিভা ও নিপুণতার যে উচ্চশিখরেই আরোহণ করুন না কেন।

অতএব, ইসলামী সাহিত্যের জন্য বিশেষ এক শ্রেণির সাহিত্যিক প্রয়োজন, যাদের প্রতিভা ও জ্ঞানদীপ্ত অধ্যয়ন উভয়ই রয়েছে; যেন তারা তাদের প্রতিভা ও শৈল্পিক নৈপুণ্য দ্বারা ভণ্ড দাবিদারদের নির্বাক করে দিতে পারেন।

সেই ধারাবাহিকতায়, আমাদের এমন একজন শৈল্পিক গুণসম্পন্ন সাহিত্যিক প্রয়োজন যার দক্ষতা একজন আদর্শহীন সাহিত্যিকের তুলনায় হবে আরও উচ্চস্তরের; যেন তিনি সাহিত্যের প্রচলিত রীতিতে যা আকিদাহ বিরোধী তাকে বর্জনীয় এবং কল্যাণকে এক দীপ্তিময় ও চিত্তাকর্ষক বিষয়ে রূপান্তর করতে পারেন। আমরা তাকে জাদুকরী বর্ণনাশৈলী সম্পন্ন এবং যুগের প্রাজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে পেতে চাই।

আর এই কাব্যগ্রন্থ "মালহামাতু হুর" (এক মুক্ত মানবের মহাকাব্য) প্রসঙ্গে বলা যায়, এর কবিতাগুলোর মাধ্যমে ইসলামী চিন্তাধারার অনুসারীদের ওপর জালেমদের চরম অবমাননা, নির্যাতন ও বন্দিত্বের সেই ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে; যা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কিংবা প্রসিকিউশন বা বিচার বিভাগের মুখোমুখি হওয়া ছাড়াই আমাকে এগারো বছরেরও বেশি সময় বন্দিশালায় অতিবাহিত করতে হয়েছে। যখন আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তখন আমি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলাম।
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ১০)
بكلية الهندسة، وجدوا قصيدة أتحدث فيها عن الشهادة، فأخذها الجيش الذي أتى لاعتقالي كلٌّ منهم يقرؤها ويعطيها لزميله، وكأنهم أمسكوا بقنبلة!!

وتفجرت في السجن أجمل أشعاري، التي ضاع كثير منها بسبب منع الأقلام والأوراق سنوات طويلة، ولم يبق منها إلا ما حفظتْه ذاكرتي لسنوات طويلة، أترنَّم بكلماتها كل مدة؛ حتى لا تهوي في بئر النسيان وتلحق بأخواتها.

ومن العجائب أني لم أدرس العروض على يد أحد، وأذكر هنا مقولة أحد الشعراء الفرنسيين: "الألم يفجر الشعر ويفجر العبقرية".

 

وَزْنُ شِعْرِي نغَُْم السِّيَاطِ حَزِينًا … تلُهُِْب الظهَّْرَ مِنْ أبَِيٍّ مُهَانِ

وَزْنُ شِعْرِي سُكُونُ لَيْلٍ رَهِيبٍ … فِي سُجُونٍ تنَُوءُ بِالحْيَوَانِ

وَزْنُ شِعْرِي آهَاتُ حُرٍّ صَرِيعٍ … وَصُرَاخُ الجِْرَاحِ وَالسََّّجانِ

وَزْنُ شِعْرِي صَوْتُ الإِبَاءِ يُناَدِي … لا أُبَالِي باِلْقَتْلِ أَوْ بِالهْوَانِ
ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে তারা একটি কবিতা খুঁজে পায় যেখানে আমি শাহাদাত সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। আমাকে গ্রেফতার করতে আসা সেনাবাহিনী সেটি হস্তগত করে; তাদের প্রত্যেকেই তা পড়ছিল এবং তার সহকর্মীকে দিচ্ছিল, যেন তারা একটি জীবন্ত বোমা ধরেছে!!

আর কারাপ্রকোষ্ঠে আমার শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলো প্রস্ফুটিত হয়েছিল, যার অধিকাংশই দীর্ঘকাল কলম ও কাগজ নিষিদ্ধ থাকার কারণে হারিয়ে গেছে। আমার স্মৃতি দীর্ঘ বছর ধরে যা সংরক্ষণ করে রেখেছে তা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমি নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর সেগুলোর শব্দাবলি আওড়াই; যাতে তা বিস্মৃতির অতল গহ্বরে তলিয়ে না যায় এবং তার পূর্ববর্তী হারানো কবিতাগুলোর পথ না ধরে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, আমি কারো কাছে ছন্দপ্রকরণ (আরুজ) শিখিনি। আমি এখানে জনৈক ফরাসি কবির উক্তি স্মরণ করছি: "বেদনা কাব্য ও প্রতিভাকে প্রস্ফুটিত করে।"

 

আমার কবিতার ছন্দ হলো চাবুকের করুণ সুর … যা লাঞ্ছিত আত্মমর্যাদাবান ব্যক্তির পিঠকে দগ্ধ করে।

আমার কবিতার ছন্দ হলো বিভীষিকাময় রাতের নিস্তব্ধতা … এমন সব কারাগারে যা পশুর ভারে নুইয়ে পড়ছে।

আমার কবিতার ছন্দ হলো ভূপাতিত এক মুক্ত মানুষের দীর্ঘশ্বাস … এবং জখম ও কারারক্ষীর চিৎকার।

আমার কবিতার ছন্দ হলো আত্মমর্যাদার সেই কণ্ঠস্বর যা ঘোষণা করে … আমি মৃত্যু কিংবা লাঞ্ছনার পরোয়া করি না।
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ১১)
وأيضًا يتعرض هذا الديوان لفترات مختلفة في حياتي، وقد كتبت في مختلف الأغراض الشعرية، وحاولت أن أبتكر قصائد وتعابير وصورًا أحسب أني لم أُسبَق إليها؛ مثل قصائد «لو تصعدين إلى القمر»، و «عندما بكى وبكيته الكتاب»، و « .. عيون»، وغيرها، ومن المعلوم أن من يقفون ضد الأدب الإسلامي يصفون الأدباء الإسلاميين بالوعّاظ، وأنهم يخاطبون العاطفة الدينية لدى المتلقين، وأظن أن في ديواني هذا ردا مفحمًا.

 

أما بالنسبة للعروض، ففي هذا الديوان زحافان استعملتهما مستحسنًا لهما، مخالفًا جل شعراء العصر الحديث، وهما:

1) قبض مفاعيلن في حشو الطويل:

- فقد اعتبره د. إبراهيم أنيس "صورة نادرة لا تستريح إليها الآذان، وقد رويت في بعض أبيات الشعر القديم، ولكنا لا نكاد نراها في شعر حديث، فقد رويت في معلقة امرئ القيس عشر مرات، وجاءت هذه الصورة في معلقة زهير أربع مرات، وفي
তদুপরি এই কাব্যগ্রন্থটি আমার জীবনের বিভিন্ন পর্যায়কে তুলে ধরে। আমি বিবিধ কাব্যিক উদ্দেশ্য নিয়ে লিখেছি এবং এমন কিছু কবিতা, অভিব্যক্তি ও চিত্রকল্প উদ্ভাবনের চেষ্টা করেছি যা ইতিপূর্বে কেউ করেনি বলে আমি মনে করি; যেমন ‘যদি তুমি চাঁদে উঠতে’, ‘যখন গ্রন্থটি কেঁদেছিল এবং আমিও তার জন্য কেঁদেছিলাম’, ও ‘.. চোখসমূহ’ শীর্ষক কবিতাবলী এবং আরও অন্যান্য। এটি সুবিদিত যে যারা ইসলামি সাহিত্যের বিরোধিতা করেন, তারা ইসলামি সাহিত্যিকদের ‘ওয়াজকারী’ বা ‘উপদেশক’ হিসেবে অভিহিত করে থাকেন এবং দাবি করেন যে তারা কেবল পাঠকদের ধর্মীয় আবেগকে সম্বোধন করেন। আমি মনে করি আমার এই কাব্যগ্রন্থে তার একটি দাঁতভাঙা জবাব রয়েছে।

 

আর ছন্দশাস্ত্রের বিচারে, এই কাব্যগ্রন্থে আমি দুটি ‘জিহাফ’ ব্যবহার করেছি যেগুলোকে আমি উত্তম বলে মনে করেছি, যদিও আমি আধুনিক যুগের অধিকাংশ কবির বিরুদ্ধাচরণ করেছি। সেগুলো হলো:

১) ‘তাবিল’ ছন্দের মধ্যভাগে ‘মাফাইলুন’-এর ‘কাবদ’ করা:

- ড. ইব্রাহিম আনিস একে একটি ‘বিরল রূপ হিসেবে গণ্য করেছেন যা কর্ণসুখকর নয়’। এটি প্রাচীন কবিতার কিছু চরণে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু আধুনিক কবিতায় আমরা এর দেখা পাই না বললেই চলে। ইমরুল কায়েসের ‘মুয়াল্লাকা’য় এটি দশবার বর্ণিত হয়েছে এবং জুহাইরের ‘মুয়াল্লাকা’য় এই রূপটি চারবার এসেছে। এবং
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ১২)
معلقة طرفة ثمان مرات، ومع هذا فنحن نشعر بثقل هذه الصورة في حشو البيت، ولعل انحرافًا في رواية المعلقات هو الذي جاءنا بتلك الحالات التي رويت في شعر الجاهليين".

- هذا الزحاف الذي استثقله الدكتور إبراهيم أنيس، وحاول أن يغير من رواية الأبيات التي جاء فيها هذا الزحاف؛ بدعوى أنها روايات محرَّفة - قد استحسنه الخليل وسائر العروضيين - ما عدا المعري - وورد في عيون الشعر الجاهلي والمعلقات، ومن الباحثين من أعد جدولاً إحصائيًّا، وجد فيه أن امرأ القيس استعمله 84 مرة، والنابغة 22 مرة، وزهيرًا 40 مرة، والأعشى 32 مرة، ولسنا بصدد ذكر الأبحاث والمراجع، ولكني أدلِّل على صحة أذن الخليل، وأذني.

- على كراهة المعري للقبض في حشو الطويل، اعتبر أنه "قلَّ ما تسلم قصيدة جاهلية بنيت على الطويل من أن يستعمل فيها قبض السباعي، أما امرؤ القيس فكثير الاستعمال له، وأما النابغة وزهير وأعشى قيس، فيستعملون ذلك دون الملك الضليل"، بل
তরফার মুআল্লাকাতে আটবার [ব্যবহৃত হয়েছে], তবুও আমরা বাইতের হাশু-তে (ছত্রের মধ্যবর্তী অংশে) এই চিত্রটির ভারীত্ব অনুভব করি; সম্ভবত মুআল্লাকাত বর্ণনার কোনো বিচ্যুতিই আমাদের কাছে জাহেলী কবিদের কবিতায় বর্ণিত সেই পরিস্থিতিগুলো নিয়ে এসেছে।

- ডক্টর ইব্রাহীম আনিস যে যিহাফটিকে (ছন্দোগত পরিবর্তন) শ্রুতিকটু বা ভারী মনে করেছেন এবং এই যিহাফ সম্বলিত পংক্তিগুলোর বর্ণনা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন এই দাবিতে যে সেগুলো বিকৃত বর্ণনা—তা খলীল ইবন আহমদ এবং আল-মা'আররি ব্যতীত অন্যান্য সকল ছন্দবিশারদ সুন্দর বলে গণ্য করেছেন। এটি জাহেলী কবিতার শ্রেষ্ঠ সংকলন ও মুআল্লাকাতে বিদ্যমান রয়েছে। গবেষকদের মধ্যে কেউ কেউ একটি পরিসংখ্যানমূলক তালিকা তৈরি করেছেন, যেখানে দেখা গেছে যে ইমরুল কায়েস এটি ৮৪ বার, নাবিগাহ ২২ বার, যুহাইর ৪০ বার এবং আল-আ'শা ৩২ বার ব্যবহার করেছেন। আমরা এখানে গবেষণা ও তথ্যসূত্র উল্লেখের বিস্তারিত আলোচনায় যাচ্ছি না, তবে আমি খলীলের শ্রবণেন্দ্রিয় এবং আমার নিজের কানের শৈল্পিক নির্ভুলতার প্রমাণ দিচ্ছি।

- তওয়ীল ছন্দের হাশু-তে 'কাবদ' ব্যবহারের প্রতি আল-মা'আররির অনীহা থাকা সত্ত্বেও তিনি স্বীকার করেছেন যে, "তওয়ীল ছন্দের ওপর ভিত্তি করে রচিত খুব কম জাহেলী কাসিদাই এমন পাওয়া যাবে যা সাবায়ি (সাত অক্ষরবিশিষ্ট রুকন) অংশে কাবদ-এর ব্যবহার থেকে মুক্ত। ইমরুল কায়েস এটি প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করতেন, আর নাবিগাহ, যুহাইর এবং আ'শা কায়েস 'মালিকুয যালীল' (ইমরুল কায়েস)-এর চেয়ে কম এটি ব্যবহার করতেন", বরং...
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ১৩)
إن المعري خاطب امرأ القيس في رسالة الغفران بقوله: "وبعض المعلمين ينشد قولك:

من السيل والغُثاء فلكةُ مغزلِ

فيشدِّد الثاء، فيقول (أي: امرؤ القيس): "إن هذا لجهول، وهذا البائس أراد أن يصحِّح الزنة فأفسد اللفظ"، فهو هنا ينكر على المعلمين والرواة تشديد ثاء (الغُثاء)؛ هروبًا من قبض مفاعيلن وتصحيحًا للزنة، ويعتبر عملهم إفسادًا للغة".

- وأتى أبو تمام بهذا الزحاف في العصر العباسي، ولم يشعر بحرج، ولا اضطراب موسيقي فى قوله:

ألنَّا الأكفَّ بالعطاء فجاوزت … مدى اللين إلا أن أعراضنا الصخر

ويقول أبو تمام فى قصيدة أخرى:

نُجُومٌ طَوَالِعُ جِبَالٌ فَوَارِعُ … غُيُوثٌ هَوَامِعُ سُيُولٌ دَوَافِعُ

فاستخدم "مفاعلن" فى حشو البيت مرتين فى بيت واحد،
আল-মাআরি 'রিসালাতুল গুফরান'-এ ইমরাউল কায়েসকে সম্বোধন করে বলেছেন: "কিছু শিক্ষক আপনার পঙক্তিটি এভাবে আবৃত্তি করেন:

স্রোত ও আবর্জনার কারণে যেন একটি টাকুচক্র।

ফলে তিনি 'ছা' বর্ণে তাশদিদ দেন; তখন তিনি (অর্থাৎ ইমরাউল কায়েস) বলেন: 'নিশ্চয়ই এ ব্যক্তি অত্যন্ত অজ্ঞ, এই হতভাগা ছন্দের ওজন ঠিক করতে গিয়ে শব্দটিকে বিকৃত করে ফেলেছে।' সুতরাং তিনি এখানে শিক্ষক ও বর্ণনাকারীদের কর্তৃক 'আল-গুছা' শব্দের 'ছা' বর্ণে তাশদিদ প্রদানকে প্রত্যাখ্যান করেছেন; যা তারা 'মাফাইলুন' ছন্দের সংকোচন এড়াতে এবং ছন্দ ঠিক রাখতে করেছিল। তিনি তাদের এই কাজকে ভাষার বিকৃতি হিসেবে বিবেচনা করেছেন।"

- আব্বাসীয় যুগে আবু তাম্মাম এই 'জিহাফ' (ছন্দগত পরিবর্তন) ব্যবহার করেছেন এবং এতে তিনি কোনো সংকোচ বা সংগীতের অসঙ্গতি অনুভব করেননি, যেমনটি তাঁর উক্তিতে দেখা যায়:

আমরা দানের মাধ্যমে হাতসমূহকে কোমল করেছি, ফলে তা কোমলতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে … তবে আমাদের সম্মান পাথরের মতো অটল।

আবু তাম্মাম অন্য একটি কবিতায় বলেন:

উদীয়মান নক্ষত্র, সুউচ্চ পর্বত, অঝোর বৃষ্টি এবং বেগবান স্রোতস্বিনী …

এখানে তিনি পঙক্তির অভ্যন্তরীণ অংশে একই সাথে দুইবার 'মাফাইলুন' ছন্দ ব্যবহার করেছেন।
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ১৪)
وجاءت العروض على الوزن نفسه "مفاعلن"، والضرب جاء على الوزن نفسه "مفاعلن"، ومع ذلك لم نشعر باضطراب موسيقي؛ بل حسن التقسيم عند أبى تمام، أو لجوءه إلى فن صيغ البيت بصيغة موسيقية زاهية متموجة.

 

وهذه الدلائل تجعلنا نقبل " مفاعلن " فى حشو البيت ولا نرفضها، ولا نتهم أشعار الأقدمين بضعف الرواية وفسادها؛ ولا نقبل بأذن الخليل بن أحمد بديلا.

 

2) خبن مستفعلن في حشو البسيط:

- اشتهر الآن بين الشعراء أن خبن (مستفعلن) في البسيط يجوز في أول تفاعيل الصدر والعجز، ويقبح في غير ذلك، ومنهم من يقبِّح خبن مستفعلن الأخيرة التي في العجز فقط.

وأقول: خبن مستفعلن في البسيط استحسنه الخليل وسائر العروضيين، وحتى لا أطيل أذكر أمثلة وردت فيها مستفعلن مخبونة، منها قول النابغة الذبياني:
'আরুজ' (কবিতার প্রথম চরণের শেষ রুকন) একই ছন্দোবদ্ধ রূপ 'মুফা'ইলুন' অনুযায়ী এসেছে, এবং 'দারব' (কবিতার দ্বিতীয় চরণের শেষ রুকন) একই ছন্দোবদ্ধ রূপ 'মুফা'ইলুন' অনুযায়ী এসেছে; তা সত্ত্বেও আমরা সুরের কোনো বিশৃঙ্খলা অনুভব করি না; বরং এটি আবু তাম্মামের চমৎকার বিন্যাস অথবা পঙ্‌ক্তিকে উজ্জ্বল ও তরঙ্গায়িত সুরের ছাঁচে ঢালাই করার শৈল্পিক কৌশলের বহিঃপ্রকাশ।

 

এই প্রমাণগুলো আমাদের পঙ্‌ক্তির মাঝখানের অংশে (হাশউ) 'মুফা'ইলুন' গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং আমরা একে প্রত্যাখ্যান করি না। আমরা প্রাচীনদের কবিতাকে দুর্বল বর্ণনা বা ত্রুটিযুক্ত বলে অভিযুক্ত করি না; আর খলীল বিন আহমদের শ্রুতির (কান) কোনো বিকল্প আমরা গ্রহণ করি না।

 

২) বাসীত ছন্দের মাঝখানের অংশে (হাশউ) 'মুস্তাফ'ইলুন' এর খাবন:

- বর্তমানে কবিদের মাঝে এটি প্রসিদ্ধ যে, বাসীত ছন্দে 'মুস্তাফ'ইলুন' এর খাবন প্রথম চরণের এবং দ্বিতীয় চরণের প্রথম রুকনগুলোতে জায়েজ বা বৈধ, তবে অন্য স্থানে তা শ্রুতিকটু। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ কেবল দ্বিতীয় চরণের শেষ 'মুস্তাফ'ইলুন'-এর খাবন হওয়াকে শ্রুতিকটু মনে করেন।

আমি বলি: বাসীত ছন্দে 'মুস্তাফ'ইলুন'-এর খাবন হওয়াকে খলীল এবং অন্যান্য সকল ছন্দবিশারদ সুন্দর বলে গণ্য করেছেন। কথা দীর্ঘ না করার জন্য আমি এমন কিছু উদাহরণ দিচ্ছি যেখানে 'মুস্তাফ'ইলুন' খাবন হিসেবে এসেছে, যার মধ্যে নাবিগাহ আদ-দুবইয়ানির এই উক্তিটি অন্যতম:
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ১৫)
سَراتُهُ ما خَلا لَبانَهُ لَهِقٌ … وَفي القَوائِمِ مِثْلُ الوَشْمِ بِالْقارِ

وقال أيضًا:

قَالَتْ أَلا لَيْتَمَا هَذا الحَمامُ لَنا … إِلى حَمامَتِنا وَنِصفُهُ فَقَدِ

وقال أيضًا:

وَقُلْتُ يا قَومُ إِنَّ اللَيْثَ مُنقَبِضٌ … عَلى بَراثِنِهِ لِوَثْبَةِ الضَّاري

وقال الأعشى:

عُلَّقْتُها عَرَضًا وَعُلَّقَتْ رَجُلاً … غَيْرِي وَعُلَّقَ أُخْرَى غَيْرَها الرَجُلُ

وكما ذكرت أن الخليل وتبعه سائر العروضيين استحسنوا هذا الزحاف، فلا داعي للتشدد في تقبيحه.

 

وأخيرًا: أرجو بل أتمنى أن يكون هذا الديوان إضافة - لا تكرارًا - للشعر وأغراضه المختلفة، وأن يكون نموذجًا مبتكرًا وقمينًا بلقب "الشعر الإسلامي".

عبد الحميد ضحا
তার পিঠের উপরিভাগ তার বক্ষ ব্যতীত উজ্জ্বল শ্বেতবর্ণ … আর পায়ের নলিগুলোতে রয়েছে আলকাতরার উল্কির মতো চিহ্ন।

এবং তিনি আরও বলেছেন:

সে বলল, "হায়! যদি এই কবুতরগুলো আমাদের হতো … আমাদের কবুতরের সাথে, এবং তার অর্ধেকও।"

এবং তিনি আরও বলেছেন:

আমি বললাম, "হে কওম! নিশ্চয়ই সিংহ গুটিসুটি মেরে বসে আছে … শিকারী পশুর ন্যায় ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য তার থাবার ওপর।"

এবং আল-আ'শা বলেছেন:

আমি আকস্মিকভাবে তার প্রেমে পড়েছি, আর সে আমার পরিবর্তে অন্য এক পুরুষের প্রেমে পড়েছে … আবার সেই পুরুষটিও তাকে ছাড়া অন্য এক নারীর প্রেমে পড়েছে।

যেমনটি আমি উল্লেখ করেছি যে, আল-খলীল এবং তাঁর অনুসারী সকল ছন্দবিশারদগণ এই যিহাফকে (ছন্দ বিচ্যুতি) সুন্দর বলে গণ্য করেছেন, তাই একে কদর্য সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে কঠোরতা প্রদর্শনের কোনো প্রয়োজন নেই।

 

পরিশেষে: আমি আশা করি বরং কামনা করি যে, এই কাব্যগ্রন্থটি কবিতার বিভিন্ন শাখা ও উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে কেবল পুনরাবৃত্তি নয় বরং একটি নতুন সংযোজন হবে এবং এটি "ইসলামী কবিতা" উপাধির যোগ্য একটি উদ্ভাবনী দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।

আব্দুল হামীদ দ্বোহা
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌فَلْسَفَتِي فِي الْحَيَاة

أَرَى الدُّنْيَا بُكَاءً حِينَ عُرْسِ … وَمَهْمَا غَيَّرَتْ يَوْمِي كَأَمْسِي

تَبَسَّمُ بَعْضَ حِينٍ ثُمَّ تَاتِي … جِنَايَتُهَا لِتُوهِنَ عِزَّ نَفْسِي

فَذِي لَذَّاتُهَا تَلِدُ الْبَلايَا … وَذَاكَ السَّعْدُ عَاقِبَةٌ لِبُؤْسِ

رُوَيْدَكِ لا أَبَا لَكِ فَاعْرِفِينِي … فَإِنَّ السَّعْدَ عِنْدِي مِثْلُ نَحْسِي

أَرَى الْحُزْنَ الَّذِي يُدْمِي فُؤَادِي … عَدُوًّا لَمْ يَرُمْنِ لِغَيْرِ فَرْسِي

فَلا أُعْطِيهِ مِنْ نَفْسِي نَقِيرًا … وَلا يَلْقَى بِقَلْبِي غَيْرَ حَسِّ
জীবনে আমার দর্শন

আমি দুনিয়াকে বিয়ের আনন্দের মাঝেও ক্রন্দন হিসেবে দেখি … তা আমার আজকের দিনকে গতকালের ন্যায় যতই পরিবর্তন করুক না কেন।

সে অল্পক্ষণ হাসে, অতঃপর তার অপরাধ উপস্থিত হয় … আমার আত্মমর্যাদাকে হীনবল করার জন্য।

এর আনন্দ-উল্লাস বিপদ-মুসিবত প্রসব করে … আর ওই সুখ হলো দুঃখেরই এক পরিণাম।

থামো, তোমার কপাল মন্দ হোক, আমাকে চিনে নাও … কেননা আমার নিকট সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য একই সমান।

আমি সেই বিষাদকে যা আমার হৃদয়কে রক্তাক্ত করে, তাকে দেখি … এমন এক শত্রু হিসেবে যে আমাকে শিকার করা ছাড়া আর কিছু সংকল্প করেনি।

কাজেই আমি তাকে আমার পক্ষ থেকে সামান্যতম তুচ্ছ অংশও প্রদান করি না … আর সে আমার অন্তরে কেবল দৃঢ় অনুভূতি ছাড়া আর কিছুই পায় না।
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ১৮)
وَإِنِّي إِنْ كُلِمْتُ مِنَ الْعَوَادِي … يَطِيبُ الْكَلْمُ ثُمَّ يَزِيدُ بَاسِي

وَمَا هَذَا لِبَاسِي بَلْ لأَنِّي … رَضِيتُ قَضَا الرَّحِيمِ فَزَالَ يَاسِي

فَيَا دُنْيَا سَأَحْيَا فِيكِ حُرًّا … أَبِيَّ النَّفْسِ شَانِئَ كُلِّ جِبْسِ

أُوَاجِهُ مَوْجَكِ الْعَاتِي وَإِنِّي … لَمُنْتَصِرٌ وَإِنْ فَارَقْتُ رَاسِي

أَغُوصُ بِيَمِّكِ اللُّجِيِّ كَيْمَا … أَحُوزَ الدُّرَّ أَصْنَعَ مِنْهُ كَاسِي

أُحَلِّقُ فِي سَمَائِكِ ثُمَّ أَغْزُو … جِنَانَكِ وَاضِعًا فِي الأَرْضِ غَرْسِي

* * *
আর যদি আমি বিপদের দ্বারা জখম হই … তবে সেই ক্ষত শুকিয়ে যায় এবং আমার সাহস বেড়ে যায়

আর এটি আমার পোশাক নয়, বরং এজন্য যে আমি … পরম দয়াময়ের ফয়সালায় সন্তুষ্ট হয়েছি, ফলে আমার নিরাশা দূর হয়ে গেছে

হে পৃথিবী, আমি তোমার মাঝে স্বাধীন হয়ে বেঁচে থাকব … আত্মমর্যাদাবান হয়ে এবং সকল নিচ ও কাপুরুষকে ঘৃণা করে

আমি তোমার উত্তাল তরঙ্গের মুখোমুখি হই এবং আমি … অবশ্যই বিজয়ী, যদিও আমার মস্তক দেহচ্যুত হয়

আমি তোমার অতল সমুদ্রে ডুব দেই যেন … মুক্তা আহরণ করতে পারি এবং তা দিয়ে আমার পেয়ালা নির্মাণ করি

আমি তোমার আকাশে উড্ডয়ন করি, অতঃপর তোমার … উদ্যানে বিচরণ করি পৃথিবীতে আমার চারা রোপণ করে

* * *
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌مَلْحَمَةُ حُرٍّ

فِي الدُّجَى هَلْ رَأَيْتَ فِكْرَ طَرِيدِ … لا يُبَالِي طُغَاةَ حُكْمِ الْحَدِيدِ؟

هَلْ تُرَاهُ يَنَامُ لَيْلاً طَوِيلاً … فِي انْتِظَارِ الْكِلابِ تَعْوِي بِبِيدِ

أَوْ تُرَاهُ يُقَطِّعُ اللَّيْلَ فِكْرًا … فِي خَلاصٍ لأُمَّةٍ فِي الْقُيُودِ؟

يَا لَهُ مِنْ دُجًى يَسُودُ وَيَطْغَى … مَنْ لِفَجْرٍ يَاتِي بِمَجْدٍ تَلِيدِ؟!

أَتُرَاهُ يَصِيرُ نَجْمًا مُضِيئًا … هَادِيًا لِلأُبَاةِ رَمْزَ الصُّمُودِ

أَمْ تُرَاهُ كَشَمْعَةٍ فِي ظَلامٍ … هَاجَ رِيحٌ عَلَى ضِيَاهَا الْبَؤُودِ؟
একজন মুক্ত মানবের মহাকাব্য

রজনীর অন্ধকারে তুমি কি কোনো বিতাড়িত ব্যক্তির চিন্তা দেখেছ … যে লৌহ শাসনের স্বৈরাচারীদের পরোয়া করে না?

তুমি কি তাকে দীর্ঘ রাত ঘুমিয়ে থাকতে দেখ … নির্জন প্রান্তরে চিৎকারকারী কুকুরদের অপেক্ষায়?

নাকি তাকে দেখ শৃঙ্খলিত উম্মাহর মুক্তির চিন্তায় … রাত্রি অতিবাহিত করতে?

হায়! কী এক অন্ধকার যা আধিপত্য বিস্তার করছে ও সীমা লঙ্ঘন করছে … কে আছে সেই সুবহে সাদিকের জন্য যা প্রাচীন গৌরব বয়ে আনবে?!

তুমি কি দেখ তাকে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হতে … যা আত্মমর্যাদাশীলদের পথপ্রদর্শক ও অটলতার প্রতীক?

নাকি তাকে দেখ অন্ধকারের মাঝে এক মোমবাতির ন্যায় … যার ক্ষীণ আলোর ওপর প্রবল বাতাস আছড়ে পড়েছে?
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ২০)
هَجَمُوا كَالْكِلابِ كَي يَاسِرُوهُ … أَسَرُوهُ كَأَسْرِ لَيْثٍ عَنِيدِ

أَوْثَقُوهُ وَعَصَّبُوا عَيْنَيْهِ … عَذَّبُوهُ وَلَيْتَهُمْ كَالْيَهُودِ

سَأَلُونِي تَكُونُ مَنْ؟ قلت: حرٌّ … إِنَّنِي حُرٌّ فِي دِيَارِ الْعَبِيدِ

أَطْرَقُوا دَهْشَةً وَبَهْتًا وَقَالُوا … كَيْفَ شَبَّ الأَبِيُّ بَيْنَ السُّجُودِ؟!

هَلْ مَكَثْتَ الْحَيَاةَ فِي أَرْضِنَا أَوْ … قَدْ أَتَيْتَ افْتِتَانَهُمْ مِنْ بَعِيدِ؟

أَرَضَعْتَ الْخُنُوعَ - لَسْتُ أُرَاكَهْ … أَمْ سَقَاكَ الإِبَاءَ بَعْضُ الْوُغُودِ؟

كَيْفَ رُمْتَ التَّحَدِّيَ انْطِقْ أَجِيبَنْ … سَفَهًا مِنْكَ أَمْ لِجَهْلِ الْوَعِيدِ؟
তারা কুকুরের ন্যায় ঝাঁপিয়ে পড়ল তাকে বন্দী করতে … তারা তাকে বন্দী করল এক অদম্য সিংহের ন্যায় বন্দী করার মতো।

তারা তাকে শক্ত করে বাঁধল এবং তার চোখ বেঁধে দিল … তারা তাকে নির্যাতন করল, আর হায়! তারা যেন ইহুদিদের ন্যায়।

তারা আমাকে জিজ্ঞেস করল, "তুমি কে?" আমি বললাম: "মুক্ত" … "নিশ্চয়ই আমি দাসত্বের জনপদে একজন মুক্ত মানুষ।"

তারা বিস্ময় ও বিমূঢ়তায় মাথা নিচু করল এবং বলল … "কীভাবে এক আত্মমর্যাদাবান ব্যক্তি সিজদাহর মাঝে বেড়ে উঠল?!"

তুমি কি আমাদের এই ভূমিতেই জীবন অতিবাহিত করেছ, নাকি … দূর থেকে তাদের বিভ্রান্ত করতে এসেছ?

তুমি কি বশ্যতা পান করেছ? - আমি তো তোমাকে তেমন দেখছি না … নাকি কোনো নীচ লোক তোমাকে আত্মমর্যাদার সুধা পান করিয়েছে?

কীভাবে তুমি চ্যালেঞ্জ করার ইচ্ছা করলে? কথা বলো, উত্তর দাও … এ কি তোমার নির্বুদ্ধিতা, নাকি শাস্তির হুমকি সম্পর্কে অজ্ঞতা?
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ২১)
فَتَبَسَّمْتُ ثُمَّ قُلْتُ: رُوَيْدًا … لِمَ صِرْتُمْ كَذِي مُصَابٍ شَدِيدِ؟!

أَوَخِلْتُمْ حُرًّا أَبِيًّا يَهَابَنْ … أَيَّ بَاسٍ وَلَوْ بِقَطْعِ الْوَرِيدِ؟!

كُنْتُ عَبْدَ الدُّنْيَا وَحُرِّرْتُ لَمَّا … بِعْتُ نَفْسِي وَرُمْتُ دَارَ الْخُلُودِ

فَأَنَا الْحُرُّ صِرْتُ حُرًّا بِدِينِي … وَعَدُوًّا لِكُلِّ طَاغٍ مَرِيدِ

وَأَنَا الْحُرُّ وَالْمُحَرِّرُ قَوْمِي … وَأَنَا مَنْ يُعِزُّ دِينَ الْمَجِيدِ

كَمْ يَغِيظُ الثَّبَاتُ قَوْمًا مُنَاهُمْ … أَنَّ حُرًّا يُثْنَى بِبَاسٍ مَزِيدِ

عَذَّبُونِي بِقَسْوَةٍ ثُمَّ قَالُوا … أَيُّ حُرٍّ جَزَاؤُهُ كَالْحَصِيدِ
আমি মৃদু হাসলাম, অতঃপর বললাম: একটু থামো … তোমরা কেন এমন আচরণ করছো যেন তোমরা বড় কোনো বিপদে পড়েছো?!

তোমরা কি মনে করেছিলে যে, একজন আত্মমর্যাদাশীল স্বাধীন ব্যক্তি ভয় পাবে … কোনো শক্তিকে, এমনকি তা যদি ঘাড়ের রগ কেটে ফেলাও হয়?!

আমি দুনিয়ার গোলাম ছিলাম এবং তখনই মুক্ত হয়েছি যখন … আমি নিজেকে বিক্রি করেছি এবং চিরস্থায়ী আবাসের আকাঙ্ক্ষা করেছি।

সুতরাং আমিই সেই স্বাধীন, আমি আমার দ্বীনের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছি … এবং প্রত্যেক অবাধ্য স্বৈরাচারের শত্রুতে পরিণত হয়েছি।

আর আমিই সেই স্বাধীন এবং আমার জাতির মুক্তিদাতা … আর আমিই সেই ব্যক্তি, যে মহান সত্তার দ্বীনকে সম্মানিত করে।

অবিচলতা সেই কওমকে কতটা ক্রোধান্বিত করে যাদের আকাঙ্ক্ষা হলো … যেন কোনো স্বাধীন ব্যক্তিকে প্রচণ্ড শক্তির মাধ্যমে নত করে দেওয়া যায়।

তারা আমাকে নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করল, অতঃপর বলল … কোনো স্বাধীন ব্যক্তির প্রতিদান কি কর্তিত ফসলের মতো ধ্বংসাত্মক হয়?
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ২২)
أَتَرُومُونَ بَعْثَ شَعْبٍ خَنُوعٍ؟! … ذَاكَ شَعْبُ الرُّقَادِ مُنْذُ الْعُهُودِ

هَلْ حَسِبْتُمْ عُيُونَنَا قَدْ تُغَافِي؟! … هَلْ دَرَيْتُمْ مَا عِنْدَنَا مِنْ جُنُودِ؟!

مَنْ يَذُقْ بَعْضَ نَارِنَا - قَدْ رَأَيْتَهْ … يَتَبَرَّا مِنْ كُلِّ وَغْدٍ عَنِيدِ

فَتَحَامَلْتُ ثُمَّ قُلْتُ: زَعَمْتُمْ … ذِي دَعَاوَى سَتَنْتَهِي لِلْخُمُودِ

غَرَّكُمْ قِلَّةُ الأُبَاةِ وَخِلْتُمْ … أَنَّ فِي نَارِكُمْ هَلاكَ الأُسُودِ

رُبَّ حُرٍّ يُحَرِّرُ النَّاسَ قَتْلُهْ … فَوْقَ مَا يَجْنِي فِي مِئَاتِ الْعُقُودِ

ذَهَبٌ هُمْ تَزِيدُهُمْ نَارُكُمْ هَا … ذِي نَقَاءً وَكُلَّ وَصْفٍ حَمِيدِ
তোমরা কি এক হীন-অনুগত জাতিকে জাগ্রত করতে চাও?! … সেটি তো অনাদিকাল থেকেই এক নিদ্রাচ্ছন্ন জাতি।

তোমরা কি মনে করেছ আমাদের চোখগুলো তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়বে?! … আমাদের নিকট কী পরিমাণ রণবাহিনী রয়েছে, সে সম্পর্কে কি তোমাদের কোনো ধারণা আছে?!

যে আমাদের আগুনের সামান্য স্বাদ আস্বাদন করবে - তুমি তাকে দেখেছ যে … সে প্রত্যেক হীন অবাধ্য ব্যক্তি হতে সম্পর্ক ছিন্ন করবে।

অতঃপর আমি ধৈর্য ধারণ করে বললাম: তোমরা ধারণা করেছ … এই দাবিগুলো তো বিলীন হওয়ার মাধ্যমেই সমাপ্ত হবে।

অকুতোভয়দের স্বল্পতা তোমাদের প্রতারিত করেছে এবং তোমরা ভেবেছ … তোমাদের অগ্নিতেই সিংহদের বিনাশ হবে।

অনেক স্বাধীন ব্যক্তি এমন আছেন, যাঁদের শাহাদাত মানুষকে এমনভাবে মুক্ত করে … যা শত শত দশকেও অর্জিত হয় না।

তারা তো স্বর্ণের ন্যায়, তোমাদের এই অগ্নি তাদের পবিত্রতা … এবং প্রতিটি প্রশংসনীয় গুণকে কেবল বৃদ্ধিই করে।
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ২৩)
إِنْ تَكُنْ نَارُكُمْ هَلاكًا فَإِنَّا … فِي ثَبَاتٍ وَفِي نَمَاءٍ مَدِيدِ

أَطْرَقُوا فِي يَاسٍ وَحُزْنٍ وَقَالُوا … أَوَيَحْيَا الرُّقُودُ بَعْدَ الرُّقُودِ؟!

إِنْ يَكُنْ أَحْرَارُ الْبِلادِ قَلِيلاً … فَسَيُحْيُونَ شَعْبَهُمْ مِنْ جَدِيدِ

اسْجِنُوهُ وَكُلَّ حُرٍّ عَنِيدٍ … لا لِحُرٍّ يَعِيشُ بَيْنَ الْعَبِيدِ

* * *
যদি তোমাদের অগ্নি বিনাশের কারণ হয়, তবে আমরা … অবিচলতায় এবং সুদীর্ঘ সমৃদ্ধিতে রয়েছি।

তারা নিরাশা ও বিষাদে মস্তক অবনত করল এবং বলল: … দীর্ঘ নিদ্রার পর কি নিদ্রিতরা পুনরায় জীবিত হতে পারে?!

দেশের স্বাধীনচেতা ব্যক্তিরা সংখ্যায় নগণ্য হলেও … অচিরেই তারা তাদের জাতিকে নতুনভাবে পুনরুজ্জীবিত করবে।

তাকে এবং প্রতিটি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ স্বাধীন মানুষকে কারারুদ্ধ করো … ক্রীতদাসদের মাঝে কোনো স্বাধীন মানুষের জীবন যাপন সম্ভব নয়।

* * *
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌قَيْدِي يُحَدِّثُنِي

دَعَانِي الْقَيْدُ يَا حُرُّ … أَلا يَثْنِيكَ ذَا الْقَهْرُ؟!

أَلَمْ تُوهِنْكَ ذِي الأَهْوَا … لُ لَمْ يُوهِنْكَ ذَا الأَسْرُ؟!

فَكَمْ سَوْطٍ عَلَى الظَّهْرِ الْـ … ـجَرِيحِ كَأَنَّهُ الْجَمْرُ!

وَكَمْ ضَيَّعْتَ فِي الأَسْرِ السْـ … ـسِنِينَ وَهَا هِيَ الْعُمْرُ!

وَكَمْ يَوْمٍ يَمُرُّ وَقَدْ … هَوَى مِنْ هُونِكَ الْقَطْرُ!

وَلَوْ كُنْتَ الدَّمِيعَ لَقَدْ … جَرَى مِنْ دَمْعِكَ الْبَحْرُ!

وَكَمْ ظَمَأٍ وَجُوعٍ لَوْ … لِجُمْلٍ مَا لَهَا صَبْرُ!

* * *

أَيَا قَيْدِي أَنَا الْحُرُّ … فَإِنْ أَكُ ذَا فَمَا السِّرُّ؟

إِذَا لَمْ أَلْقَ أَهْوَالاً … فَمَا عَبْدٌ وَمَا حُرُّ

فَيَلْقَى الْحُرُّ مَا يُرْدِي … كَأَنْ مَا ضَرَّهُ ضُرُّ

وَعِنْدَ نَجَاتِهِ يَزْهُو … كَمَلْكٍ نَالَهُ النَّصْرُ
আমার শৃঙ্খল আমার সাথে কথা বলছে

হে স্বাধীন! শৃঙ্খল আমাকে ডেকে বলল … এই নিপীড়ন কি তোমাকে দমিত করে না?!

এই ভয়াবহতাগুলো কি তোমাকে দুর্বল করেনি … এই বন্দিদশা কি তোমাকে হীনবল করেনি?!

আহত পৃষ্ঠদেশের ওপর কত চাবুক … যেন সেগুলো জ্বলন্ত অঙ্গার!

বন্দিত্বের মাঝে কতগুলো বছর তুমি হারিয়েছ … আর দেখো, এটাই তো ছিল জীবন!

কত দিন গত হচ্ছে অথচ … তোমার হীনতায় অশ্রুবিন্দু ঝরে পড়ছে!

তুমি যদি অধিক ক্রন্দনশীল হতে, তবে নিশ্চিতভাবেই … তোমার অশ্রু থেকে সমুদ্র প্রবাহিত হতো!

কত যে তৃষ্ণা আর ক্ষুধা, যা যদি … উটের ওপরও আসত, তবে তার ধৈর্য থাকত না!

* * *

হে আমার শৃঙ্খল, আমিই তো স্বাধীন … যদি আমি এমনই হই, তবে এর রহস্য কী?

আমি যদি ভয়াবহতার সম্মুখীন না হই … তবে দাসেরই বা কী পরিচয় আর স্বাধীনেরই বা কী?

স্বাধীন ব্যক্তি তো সংহারক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় … যেন কোনো যাতনাই তাকে স্পর্শ করেনি!

আর মুক্তির ক্ষণে সে এমনভাবে উদ্ভাসিত হয় … যেন এক রাজা, যে বিজয় লাভ করেছে।
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَإِنْ يَهْلِكْ فَلِلأَحْرَا … رِ رَمْزٌ فِي الدُّجَى بَدْرُ

يَمُوتُ النَّاسُ كُلُّهُمُ … وَلا يُمْحَى لَهُ ذِكْرُ

وَفِي الْفِرْدَوْسِ مَثْوَاهُ … نَعِيمٌ مَا لَهُ دَهْرُ

وَذَا دَابِي مَعَ الأَهْوَا … لِ صَبْرٌ بَلْ رِضًا نَذْرُ

وَذَاكَ الْعَبْدُ لا يَهْوَى الْـ … ـمَعَالِيَ إِذْ بِهَا الْعُسْرُ

فَمَا مِنْ مَبْدَأٍ إِلَاّ … حَيَاةٌ عَيْشُهَا يُسْرُ

* * *

فَقَالَ الْقَيْدُ يَا حُرُّ … صَدَقْتَ وَإِنَّكَ الْبَرُّ

لَقَدْ صَاحَبْتُ أَقْوَامًا … مِنَ الأَحْرَارِ هُمْ كُثْرُ

فُكُنْتُ الْمُبْكِيَ الْبَاكِي … وَكَانَ لَهُمْ مَعِي أَمْرُ

* * *

أَلا يَا أَيُّهَا الْقَيْدُ … كَفَى ذَمًّا لَكَ الْقَهْرُ

فَإِنَّكَ لِلطُّغَاةِ يَدٌ … عَلَى أَحْرَارِنَا شَرُّ

لَقَدْ آلَمْتَ أَقْوَامًا … لأَهْلِ الأَرْضِ هُمْ ذُخْرُ

* * *
আর যদি সে ধ্বংসও হয়, তবে স্বাধীনচেতাদের জন্য … তিমির রজনীতে সে পূর্ণিমার চাঁদ সম এক নিদর্শন।

সকল মানুষই মৃত্যুবরণ করে, … কিন্তু তার সুখ্যাতি কখনো বিলুপ্ত হয় না।

আর জান্নাতুল ফেরদাউসে হবে তার আবাস, … এমন নিয়ামতরাজি যার কোনো অন্ত নেই।

আর সকল ভয়াবহ সংকটেও ধৈর্য ধারণই আমার স্বভাব, … বরং তা এক সন্তুষ্টচিত্ত অঙ্গীকার।

আর সেই দাস উচ্চমর্যাদা অন্বেষণ করে না, … কেননা তাতে রয়েছে কৃচ্ছ্রসাধন ও কাঠিন্য।

তার নিকট আরাম-আয়েশের জীবন ছাড়া … অন্য কোনো আদর্শের অস্তিত্ব নেই।

* * *

অতঃপর শিকল বলল, হে মুক্ত পুরুষ! … তুমি সত্য বলেছ এবং নিশ্চয়ই তুমি একজন পুণ্যবান।

আমি বহু স্বাধীনচেতা মানুষের সঙ্গী হয়েছি, … যারা সংখ্যায় ছিল অনেক।

আমি তাদের ক্রন্দনের কারণ হয়েছি এবং নিজেও কেঁদেছি, … আর তাদের সাথে আমার এক বিশেষ যোগসূত্র ছিল।

* * *

ওহে শিকল! … তোমার নিন্দার জন্য তোমার এই নিগ্রহ ও জবরদস্তিই যথেষ্ট।

কেননা তুমি স্বৈরশাসকদের এমন এক হাত, … যা আমাদের স্বাধীন মানুষদের জন্য ঘোর অকল্যাণ।

নিশ্চয়ই তুমি এমন সব মানুষকে ব্যথিত করেছ, … যারা ছিল বিশ্ববাসীর জন্য এক অমূল্য সম্পদ।

(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ২৬)
فَنَادَى الْقَيْدُ يَا حُرُّ … أَنَا كَدَوَائِكُمْ مُرُّ

كَفَى فَخْرًا بِأَنِّي بِي … يَبِينُ الْغِرُّ وَالْغُرُّ

فَمَنْ يَثْبُتْ فَذَا عِنْدِي … رَبِيبٌ لِي بِهِ فَخْرُ

وَمَنْ يَهْوِي فَذَا حِمْلٌ … هَوَى فَأَرَاحَ مَنْ بَرُّوا

إِذَا قَهْرًا أَكُونُ فَهَا … أَنَا بِثَبَاتِكُمْ صِفْرُ

* * *

أَيَا قَيْدِي لِمَ الأَحْرَا … رُ دَوْمًا فِي الْوَرَى نَزْرُ

* * *

أَجَابَ الْقَيْدُ يَا حُرُّ … أَلا يَكْفِيكُمُ الدُّرُّ

جِبَالَ مَعَادِنٍ تَابَى … وَتَهْوَى الدُّرَّ لا إِمْرُ

وَهَاكَ نَصِيحَتِي فَاثْبُتْ … وَلا تَرْكَنْ لَكَ النَّصْرُ

وَكُنْ دَوْمًا مَعَ الأَحْرَا … رِ ذَاكَ الْعِزُّ وَالْبِرُّ

عَسَى يَوْمًا بِأَيْدِيكُمْ … يَزُولُ الظُّلْمُ وَالْكُفْرُ

وَيَاتِي أُمَّةَ الإِسْلا … مِ مِنْ أَيْدِيكُمُ الْفَجْرُ

* * *
তখন শৃঙ্খল ডেকে বলল, হে মুক্ত মানব … আমি তোমাদের ওষুধের মতোই তিক্ত।

আমার জন্য এটাই যথেষ্ট গৌরবের যে, আমার মাধ্যমেই … অনভিজ্ঞ এবং অভিজাতদের মধ্যে পার্থক্য প্রকাশিত হয়।

সুতরাং যে অটল থাকে, সে আমার কাছে … এমন এক পালিত সন্তান যাকে নিয়ে আমি গর্ব করি।

আর যে নুয়ে পড়ে, সে তো এক বোঝা … সে ঝরে পড়ে সৎকর্মশীলদের ভারমুক্ত করল।

যদি আমি জবরদস্তিমূলক হই, তবে দেখো … তোমাদের অটলতার সামনে আমি তুচ্ছ।

* * *

হে আমার শৃঙ্খল! কেন স্বাধীন মানুষেরা … সৃষ্টির মাঝে সর্বদা সংখ্যায় নগণ্য?

* * *

শৃঙ্খল উত্তর দিল, হে মুক্ত সত্তা … মুক্তা কি তোমাদের জন্য যথেষ্ট নয়?

খনিজ পদার্থের পাহাড়গুলো অসম্মতি জানায় … আর তারা মুক্তাকেই ভালোবাসে, কোনো তুচ্ছ বিষয়কে নয়।

এই নাও আমার উপদেশ, অটল থাকো … আর অবনত হয়ো না, তোমার জন্যই তো বিজয়।

আর সর্বদা স্বাধীনদের কাতারে থাকো … ওটাই হলো সম্মান ও পুণ্য।

হতে পারে একদিন তোমাদের হাতেই … জুলুম ও কুফরের বিনাশ ঘটবে।

আর ইসলামি উম্মাহর কাছে আসবে … তোমাদের হাতের স্পর্শে নতুন প্রভাত।

* * *
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌شِعْرِي

وَدَّ شِعْرِي لَوْ صَارَ سَيْفًا يُحَامِي … عَنْ حِمَى قَوْمِي عَنْ حِمَى الإِيمَانِ

وَدَّ شِعْرِي لَوْ صَارَ مِنْهُ بُحُورٌ … حِمَمًا أَوْ لَظًى عَلَى الطُّغْيَانِ

وَدَّ شِعْرِي لَوْ صَارَ شَاطِئَ بَحْرٍ … لِسَفِينِ الْمُفَكِّرِ الْحَيْرَانِ

وَدَّ شِعْرِي لَوْ صَارَ بَيْتُهُ مَاوًى … لأَبِيٍّ مِنْ ذِلَّةِ الْحِرْمَانِ

ذَاكَ شِعْرِي وَنَبْعُهُ مِنْ جَنَانِي … ذَاكَ شِعْرِي يَفُوحُ مِنْهُ بَيَانِي

شِعْرُ حُرٍّ أَبَى الْخُنُوعَ وَيَرْجُو … أَنْ يَرَى رَبَّهُ بِأَعْلَى الْجِنَانِ

* * *
আমার কবিতা

আমার কবিতা কামনা করে যদি তা একটি তরবারি হতো যা রক্ষা করত … আমার জাতির সীমানা আর ঈমানের সীমানাকে

আমার কবিতা কামনা করে যদি তা হতে সৃষ্টি হতো এমন সমুদ্র … যা হতো স্বৈরাচারের ওপর জ্বলন্ত লাভা কিংবা লেলিহান অগ্নিশিখা

আমার কবিতা কামনা করে যদি তা হতো সমুদ্রের তটভূমি … বিভ্রান্ত চিন্তাশীল ব্যক্তির জাহাজের জন্য

আমার কবিতা কামনা করে যদি তার পঙ্ক্তিগুলো হতো আশ্রয়স্থল … বঞ্চনার লাঞ্ছনা হতে কোনো আত্মমর্যাদাশীল ব্যক্তির জন্য

ওটিই আমার কবিতা এবং তার উৎস হলো আমার অন্তর … ওটিই আমার কবিতা যা থেকে বিচ্ছুরিত হয় আমার লালিত্যময় বর্ণনা

এক স্বাধীন মানুষের কবিতা যে মাথানত করতে অস্বীকার করেছে এবং আশা রাখে … জান্নাতের সুউচ্চ স্থানে তার রবকে প্রত্যক্ষ করার

* * *
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ২৮)
وَزْنُ شِعْرِي نَغْمُ السِّيَاطِ حَزِينًا … تُلْهِبُ الظَّهْرَ مِنْ أَبِيٍّ مُهَانِ

وَزْنُ شِعْرِي سُكُونُ لَيْلٍ رَهِيبٍ … فِي سُجُونٍ تَنُوءُ بِالْحَيَوَانِ

وَزْنُ شِعْرِي آهَاتُ حُرٍّ صَرِيعٍ … وَصُرَاخُ الْجِرَاحِ وَالسَّجَّانِ

وَزْنُ شِعْرِي صَوْتُ الإِبَاءِ يُنَادِي … لا أُبَالِي بِالْقَتْلِ أَوْ بِالْهَوَانِ

* * *

صَارَ شِعْرِي رُوحًا تُقَارِنُ رُوحِي … صَارَ نَفْسِي وَفِكْرَتِي وَكِيَانِي

قَدْ جَعَلْتُ الْقَرِيضَ بَدْرَ اللَّيَالِي … نُورُهُ يَاتِي مِنْ صَدَى وِجْدَانِي

وَجَعَلْتُ الْبُحُورَ مَسْبَحَ فِكْرِي … فَأَغُوصُ انْتِقَاءَ خَيْرِ الْجُمَانِ
আমার কবিতার ছন্দ চাবুকের বিষাদময় সুর … যা এক লাঞ্ছিত আত্মমর্যাদাবানের পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধ করে।

আমার কবিতার ছন্দ এক বিভীষিকাময় রজনীর নিস্তব্ধতা … সেই কারাগারগুলোতে, যা জীবন্ত সত্তাদের ভারে নুয়ে পড়ে।

আমার কবিতার ছন্দ হলো এক ভূপাতিত স্বাধীন মানবের দীর্ঘশ্বাস … এবং জখম ও কারারক্ষীর আর্তনাদ।

আমার কবিতার ছন্দ হলো আত্মমর্যাদার এক উদাত্ত আহ্বান … আমি মৃত্যু কিংবা লাঞ্ছনার পরোয়া করি না।

* * *

আমার কবিতা আজ আমার রূহের সহগামী এক রূহে পরিণত হয়েছে … তা হয়েছে আমার প্রাণ, আমার চিন্তা এবং আমার অস্তিত্ব।

আমি কাব্যকে করেছি যামিনীর পূর্ণশশী … যার জ্যোতি বিচ্ছুরিত হয় আমার অন্তরাবেগের প্রতিধ্বনি থেকে।

আর আমি ছন্দ-সমুদ্রকে করেছি আমার চিন্তার চারণভূমি … তাই আমি ডুব দিই শ্রেষ্ঠ মুক্তাগুলো চয়ন করার তরে।
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ২৯)
إِنَّ فَخْرِي أَنْ صَارَ شِعْرِيَ سِحْرًا … يَبْعَثُ الشَّعْبَ مِنْ رَدَى الطُّغْيَانِ

وَالأُبَاةُ الأَحْرَارُ قَدْ أَشْهَرُوهُ … فِي وُجُوهِ الطُّغَاةِ مِثْلَ السِّنَانِ

وَعُتَاةُ الطُّغَاةِ قَدْ عَلِمُوهُ … كَوَقُودِ الأَحْرَارِ بَلْ نِيرَانِ
নিশ্চয়ই আমার গর্ব যে আমার কবিতা জাদুতে পরিণত হয়েছে … যা জনগণকে স্বৈরাচারের ধ্বংস হতে পুনরুত্থিত করে

আর আত্মমর্যাদাবান স্বাধীন ব্যক্তিগণ একে উন্মুক্ত করেছেন … স্বৈরাচারীদের সম্মুখে বর্শার ফলার ন্যায়

এবং উদ্ধত স্বৈরাচারীরা একে চিনেছে … স্বাধীনদের ইন্ধন হিসেবে, বরং অগ্নিশিখা হিসেবে
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌عُمْرِي لَحْظَةٌ

سَنَتِي كَيَوْمٍ بَلْ لَعَشْرِي سَاعَةٌ … مَرَّ الزَّمَانُ عَلَيَّ كَالأَحْلامِ

حُزْنٌ وَآلامٌ وَفَرْحٌ هَزَّنِي … ذِكْرَى مَعِي وَكَأَنَّهَا أَوْهَامِي

قَدْ عِشْتُ أَحْزَانِي تَمُرُّ كَلِيلَةً … وَالْفَرْحُ مَرَّ بِسُرْعَةِ الأَجْرَامِ

فَإِذَا انْقَضَى الأَحْزَانُ زَالَ زَمَانُهَا … لا فَرْقَ بَيْنَ الْفَرْحِ وَالآلامِ

أَيْقَنْتُ حِينِي أَنَّ عُمْرِي لَحْظَةٌ … لا فَرْقَ بَيْنَ الْيَوْمِ وَالأَعْوَامِ

مَضَتِ السِّنُونَ وَكُلُّهَا مِنْ لَحْظَتِي … وَأَعِيشُ مُنْتَظِرًا عِنَاقَ حِمَامِي
আমার জীবন একটি মুহূর্ত

আমার এক বছর একটি দিনের মতো, বরং আমার দশ বছর একটি ঘণ্টার মতো … সময় আমার ওপর দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে স্বপ্নের ন্যায়।

দুঃখ, বেদনা এবং আনন্দ যা আমাকে প্রকম্পিত করেছে … স্মৃতিগুলো আমার সাথে আছে যেন তা আমার কল্পনাপ্রসূত বিভ্রম।

আমি আমার দুঃখের দিনগুলো অতিবাহিত করেছি যা একটি রাতের মতো কেটে যায় … আর আনন্দ অতিক্রান্ত হয়েছে গ্রহ-নক্ষত্রের ক্ষিপ্র গতিতে।

অতঃপর যখন দুঃখসমূহ সমাপ্ত হয়, তখন তাদের সময়ও বিলীন হয়ে যায় … আনন্দ এবং বেদনার মাঝে তখন আর কোনো পার্থক্য থাকে না।

সেই মুহূর্তে আমি নিশ্চিতভাবে উপলব্ধি করলাম যে আমার জীবন একটি মুহূর্ত মাত্র … দিন এবং বছরগুলোর মাঝে কোনো ব্যবধান নেই।

বছরগুলো অতিবাহিত হয়েছে এবং তার সবই আমার সেই মুহূর্তের অংশ … আর আমি আমার মৃত্যুর আলিঙ্গনের প্রতীক্ষায় বেঁচে আছি।
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ৩১)
كَمْ مِنْ فَتًى عَاشَ الْحَيَاةَ كَأَنَّهُ … لَمْ يَاتِ لِلدُّنْيَا كَمَا الأَنْعَامِ

وَفَتًى مُنَى الدُّنْيَا تَطُولُ حَيَاتُهُ … كَالشَّمْسِ كَالأَنْهَارِ كَالأَعْلامِ

فَسَمَاؤُهَا تَبْكِيهِ حِينَ وَفَاتِهِ … وَالأَرْضُ حَتَّى الأُسْدُ فِي الآجَامِ

يَحْيَا بِذِكْرٍ يَبْعَثُ الأَحْرَارَ قَدْ … صَارَتْ كَبَدْرٍ رُوحُهُ بِظَلامِ

وَلَقَدْ رَأَيْتُهُمَا فَأَضْنَانِي الْمُنَى … لَكِنَّ دَرْبَ الْحُرِّ دَرْبُ جِسَامِ

وَلَقَدْ هَوَيْتُ الْعَيْشَ رَاسًا لِلإِبَا … فَهَدَمْتُ جُبْنِي وَابْتَنَيْتُ رِجَامِي

فَالْعُمْرُ فِي ضَيْمٍ كَعُمْرٍ فِي الإِبَا … وَالْمَوْتُ حُرًّا ذَاكَ كُلُّ مَرَامِي

* * *
কত যুবকই তো এমনভাবে জীবন অতিবাহিত করেছে যেন সে … চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় এই দুনিয়ায় আসেইনি।

আর এমন এক যুবক যার জীবন দীর্ঘ হওয়াই দুনিয়ার আকাঙ্ক্ষা … সূর্যের ন্যায়, নদ-নদীর ন্যায় এবং সুউচ্চ পতাকার ন্যায়।

তার ওফাতের সময় আসমান তার জন্য রোদন করে … এবং যমিনও, এমনকি গভীর অরণ্যের সিংহরা পর্যন্ত।

তিনি এমন এক স্মৃতির মাঝে জীবিত থাকেন যা স্বাধীনচেতাদের জাগ্রত করে; … অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়ে তাঁর রূহ যেন এক পূর্ণিমার চাঁদ হয়ে উঠেছিল।

আমি উভয়কেই দেখেছি, আর সেই আকাঙ্ক্ষা আমাকে ক্লিষ্ট করেছে … তবে স্বাধীন মানবের পথ অত্যন্ত বন্ধুর ও মহৎ।

আমি আত্মমর্যাদার শীর্ষস্থানে থেকে জীবন অতিবাহিত করাকে ভালোবেসেছি … তাই আমি আমার ভীরুতাকে ধূলিসাৎ করেছি এবং আমার সুউচ্চ মিনার নির্মাণ করেছি।

লাঞ্ছনার মাঝে জীবন আর মর্যাদার মাঝে জীবন তো (সময়ের হিসেবে) একই … তাই স্বাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করাই আমার সকল আকাঙ্ক্ষার মূল।

* * *
(খণ্ড: ১) মালহামাতু হুর (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌هَلْ يَنْتَهِي لَيْلِي؟

لَيْلِي طَوِيلٌ وَهَلْ تُرَاهُ يُشْقِينِي … وَاللَّيْلُ يُشْقِي وَمَا حُرٌّ بِمَغْبُونِ

إِذَا ظَنَنْتُ سَوَادَ اللَّيْلِ مُحْتَضَرًا … إِذَا بِهِ فِي الصِّبَا يُدْمِي وَيُضْنِينِي

أَيْقَنْتُ أَنَّ لِلَيْلِي آخِرًا وَدَنَى … وَهَلْ تُرَى أَنْتَهِي أَوْ يَنْتَهِي دُونِي؟

أُسَامُ مُنْذُ سِنِينَ الْقَهْرَ لَمْ أَهُنِ … وَبِئْسَ قَهْرًا لِحُرٍّ عَيْشُ مَسْجُونِ

كَأَنَّنِي سَابِحٌ فِي الْبَحْرِ مُجْتَهِدًا … وَمَا لَهُ شَاطِئٌ هَلْ ذَاكَ يَثْنِينِي

إِنْ يَظْهَرِ الشَّاطِئُ الْمَامُولُ أَسْتَرِحِ … وَإِنْ حُرِمْتُ سَأَمْضِي، الْعَزْمُ يُغْنِينِي
আমার রজনী কি শেষ হবে?‌

আমার রজনী দীর্ঘ এবং তুমি কি মনে করো যে তা আমাকে কষ্ট দিচ্ছে? … রজনী কষ্ট দেয় বটে, তবে কোনো স্বাধীন মানুষ প্রবঞ্চিত হয় না।

যখন আমি ভেবেছিলাম রজনীর আঁধার শেষ হতে চলেছে … তখন দেখা গেল তা নবযৌবনে আমায় রক্তাক্ত ও ক্লান্ত করছে।

আমি নিশ্চিত ছিলাম যে আমার রজনীর একটি সমাপ্তি আছে এবং তা নিকটবর্তী … তবে তুমি কি মনে করো যে আমি শেষ হয়ে যাব, নাকি আমার পূর্বেই রজনী শেষ হবে?

বহু বছর ধরে আমি নিপীড়নের শিকার, তবুও আমি হীনবল হইনি … আর এক স্বাধীন মানুষের জন্য বন্দি জীবন কী নিকৃষ্ট নিপীড়ন!

যেন আমি সমুদ্রে কঠোর পরিশ্রমে সাঁতার কাটছি … যার কোনো তটরেখা নেই, তা কি আমাকে নিবৃত্ত করতে পারবে?

যদি সেই কাঙ্ক্ষিত তটরেখা দৃশ্যমান হয় তবে আমি বিশ্রাম পাব … আর যদি বঞ্চিত হই তবে আমি এগিয়ে যাব, দৃঢ় সংকল্পই আমার জন্য যথেষ্ট।