(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: -)
إنارة الدجى في مغازي خير الورى صلى الله عليه وآله وسلم   (حسن بن محمد مشاط)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: إنارة الدجى في مغازي خير الورى صلى الله عليه وآله وسلم

المؤلف: حسن بن محمد المشاط [ت 1399 هـ]

قدم له بدراسة: ا. د. عبد الوهاب إبراهيم أبو سليمان

الناشر: دار المنهاج، (جدة - بيروت)

الطبعة: الثانية، 1426 هـ - 2006 م

عدد الصفحات: 832

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সৃষ্টিশ্রেষ্ঠের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) যুদ্ধাভিযানসমূহের বর্ণনায় অন্ধকারের আলোকবর্তিকা   (হাসান বিন মুহাম্মদ মাশশাত)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


বই: সৃষ্টিশ্রেষ্ঠের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) যুদ্ধাভিযানসমূহের বর্ণনায় অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লেখক: হাসান বিন মুহাম্মদ আল-মাশশাত [মৃত্যু ১৩৯৯ হিজরি]

গবেষণামূলক ভূমিকা প্রদান করেছেন: অধ্যাপক ডক্টর আব্দুল ওয়াহাব ইব্রাহিম আবু সুলাইমান

প্রকাশক: দারুল মিনহাজ، (জেদ্দা - বৈরুত)

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪২৬ হিজরি - ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৩২

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[مقدمة التحقيق]

إنارة الدّجى في مغازي خير الورى صلى الله عليه وسلم شرح العلّامة المحدّث الأصوليّ الفقيه القاضي حسن بن محمّد المشّاط لمنظومة أحمد البدويّ المجلسيّ الشّنقيطيّ في المغازي (ت 1220 هـ تقريبا)

هذا الكتاب سما كالشّمس في الأفق … وقد وعى أهل هذا البيت فكرته

لأحمد البدويّ المجلسيّ به … نظم المغازي الّذي قد شمت روعته

وشيخنا حسن المشّاط أوضحه … بشرحه حقّق الرّحمن بغيته

أسماه باسم جميل علّ نيّته … مقبولة فأتمّ الله رغبته

أنار فيه الدّجى بما الحبيب غزا … أفادنا فجزاه الله جنّته

من اسمه حسن والحسن ديدنه … كأنّ ربّ السّما أعطاه منيته

أم القرى شهدت والبيت والحرم … بقدره والحجاز الرّحب أثبته

يقضي بمكّة عن علم ومعرفة … بين العباد أعزّ الله رتبته

وزارنا في بلاد الشّام حين أبي … رآه سرّ به بل كان بلغته

أجازه بعلوم كالحديث أضف … فقها أذانا وبالإسناد أبحته «1»

وبيننا نسب ما زال متّصلا … بالعلم يزكو فنل إن شئت نسبته

حفيده البارع المحمود طوبى له … معي اعتنى طيّب الرّحمن وجهته

بطبعه وبنشر العلم محتسبا … مولاي فامح ذنوبي واجل صفحته

وانفع إلهي بهذا السّفر قارئه … هبه التّأسي بمن أيّدت بعثته

عليه صل على أصحابه مددا … واخصص أحبّة هادينا وعترته

والحمد لله في بدء ومختتم … يا ذا الجلال أعنّا نحي سنّته

محمد عبد الرحمن بن عبد العزيز عيون السّود، الشّيبانيّ

--------------------------------------------

(1) البحت: الصرف، الخالص من كل شيء، وباحته الودّ: خالصه.
‌‌[সম্পাদকের ভূমিকা]

ইনাতুদ দুজা ফী মাগাযী খাইরিল ওয়ারা (সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম মানবের যুদ্ধাভিযানসমূহের বর্ণনায় অন্ধকারের আলোকবর্তিকা) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এটি মাগাযী বা যুদ্ধাভিযান বিষয়ক আহমদ আল-বাদাউয়ী আল-মাজলিসী আল-শিনকিতী (মৃত্যু আনুমানিক ১২২০ হিজরী) রচিত কাব্যগ্রন্থের ওপর আল্লামা, মুহাদ্দিস, উসূলবিদ, ফকীহ ও কাযী হাসান বিন মুহাম্মদ আল-মাশশাত কর্তৃক রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

এই কিতাবটি দিগন্তের সূর্যের মতো সমুজ্জ্বল হয়েছে … এবং এই পরিবারের ব্যক্তিবর্গ এর মূল ভাবধারা উপলব্ধি করেছেন।

আহমদ আল-বাদাউয়ী আল-মাজলিসী এতে … যুদ্ধাভিযানসমূহকে পদ্যাকারে সংকলিত করেছেন, যার চমৎকারিত্ব আমি প্রত্যক্ষ করেছি।

আর আমাদের শায়খ হাসান আল-মাশশাত তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন … তাঁর এই ভাষ্যের মাধ্যমে দয়াময় আল্লাহ তাঁর অভিপ্রায় পূরণ করেছেন।

তিনি এর একটি সুন্দর নামকরণ করেছেন, হতে পারে তাঁর নিয়তটি … কবুলযোগ্য, ফলে আল্লাহ তাঁর আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করেছেন।

প্রিয় নবী যে সকল যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করেছেন, তার মাধ্যমে তিনি অন্ধকারকে আলোকিত করেছেন … তিনি আমাদের উপকৃত করেছেন, আল্লাহ তাঁকে জান্নাত দিয়ে পুরস্কৃত করুন।

যাঁর নাম হাসান এবং সৌন্দর্যই যাঁর স্বভাব … মনে হয় যেন আসমানের রব তাঁকে তাঁর কাঙ্ক্ষিত বস্তু দান করেছেন।

উম্মুল কুরা (মক্কা), বায়তুল্লাহ এবং হারাম শরীফ তাঁর মর্যাদার সাক্ষ্য দিচ্ছে … এবং বিশাল হিজাজ ভূখণ্ড তা সাব্যস্ত করেছে।

তিনি মক্কায় ইলম ও মারেফাতের সাথে ফয়সালা প্রদান করতেন … বান্দাদের মাঝে আল্লাহ তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ করেছেন।

তিনি আমাদের সিরিয়া (শাম) অঞ্চল সফর করেছিলেন যখন আমার পিতা … তাঁকে দেখেছিলেন এবং অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন, বরং তিনি ছিলেন তাঁর পরম প্রাপ্তি।

তিনি তাঁকে হাদিসের মতো বিভিন্ন ইলমের ইজাজত প্রদান করেছেন, আরও যোগ করুন … ফিকহ ও আযানের ইজাজত, এবং আমি তা বিশুদ্ধ সনদের মাধ্যমে অবারিত করেছি। «১»

আমাদের মাঝে এমন এক বংশীয় সম্পর্ক রয়েছে যা ইলমের মাধ্যমে … সদা প্রবহমান ও বিকশিত হয়, আপনি চাইলে সেই সম্পর্কের অংশীদার হতে পারেন।

তাঁর দক্ষ ও প্রশংসিত নাতি, তাঁর জন্য শুভ সংবাদ … তিনি আমার সাথে যত্ন সহকারে কাজ করেছেন, দয়াময় আল্লাহ তাঁর পথ সুগম ও পবিত্র করুন।

তিনি এটি মুদ্রণ ও ইলম প্রচারের মাধ্যমে সওয়াবের আশা রাখেন … হে আমার প্রতিপালক, আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং তাঁর জীবন আমলনামাকে উজ্জ্বল করুন।

হে আমার ইলাহ! এই গ্রন্থের মাধ্যমে এর পাঠককে উপকৃত করুন … তাঁকে এমন এক সত্তার অনুসরণের তাওফীক দিন, যাঁর নবুওয়াতকে আপনি শক্তিশালী করেছেন।

তাঁর ওপর এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর সর্বদা রহমত বর্ষণ করুন … এবং বিশেষভাবে আমাদের হিদায়েতকারী রাসুলের প্রিয়জন ও তাঁর বংশধরদের (আহলে বাইত) ওপর রহমত নাযিল করুন।

শুরু ও শেষে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য … হে মহিমান্বিত সত্তা! তাঁর সুন্নাতকে জিন্দা করতে আমাদের সাহায্য করুন।

মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন আবদুল আযীয উয়ুনুস সুদ, আল-শাইবানী

--------------------------------------------

(১) আল-বুহত: অর্থাৎ খাঁটি, প্রতিটি বস্তু থেকে যা বিশুদ্ধ। আর 'বাহাতাহুল উড' মানে হলো অকৃত্রিম ভালোবাসা।
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌القسم الأول الترجمة- الدراسة
প্রথম অংশ: অনুবাদ ও পর্যালোচনা
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌ترجمة الشّارح فضيلة الشّيخ حسن محمّد المشّاط «1»

1317- 1399 هـ ولد رحمه الله تعالى بمكة المكرمة، عام (1317 هـ) نشأ في أحضان أسرة علمية من أسر مكة العريقة (آل مشاط) «2» ، تلقّى تعليمه في رحابها المباركة بالمدرسة الصولتية، وبالمسجد الحرام على يد العلماء الأكابر «3» ، وقد أبدى أثناء تحصيله العلم تفوّقا ونبوغا في الدراسة، أهلاه لأن يكون معاونا في الدروس الابتدائية أثناء تعلمه «4» .

أقبل على العلم بكليته، شغف به صبيا، وشابا يافعا، وتضاعف شغفه وولعه به كهلا، وشيخا، فكان شريط حياته تعلما وتعليما، استفادة وإفادة.

شجعه على هذا التوجه والاتجاه والداه الكريمان، ومن بعدهما زوجه المصون رحمهم الله تعالى؛ إذ هيّؤوا له جوّا عائليا يعبق بالحب، ويشع بالطهر والصفاء، في رعاية أسرية حانية «5» .

--------------------------------------------

(1) قد ترجم لفضيلته ترجمة موسعة في كتابه: «الجواهر الثمينة في بيان أدلة عالم المدينة» دراسة وتحقيق تلميذه عبد الوهاب إبراهيم أبو سليمان، والمدون هنا رؤوس الموضوعات هناك، وتتم الإشارة بالهامش هنا عن مواطن وجودها في تلك الدراسة.

(2) انظر (الفصل الأول: مؤلف الكتاب: ولادته، ونشأته) من دراسة كتاب «الجواهر الثمينة في بيان أدلة عالم المدينة» (الطبعة الأولى، بيروت، دار الغرب الإسلامي، عام 1406) ، (ص 17) .

(3) انظر قسم الدراسة ل «الجواهر الثمينة» (ص 32) .

(4) انظر قسم الدراسة ل «الجواهر الثمينة» (ص 20، 26) .

(5) انظر قسم الدراسة ل «الجواهر الثمينة» (ص 18- 22- 24) .
ভাষ্যকার সম্মানিত শাইখ হাসান মুহাম্মদ আল-মাশশাত-এর জীবনী «১»

১৩১৭- ১৩৯৯ হিজরি। তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ১৩১৭ হিজরি সনে মক্কাতুল মুকাররমায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মক্কার একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী পরিবারে (আল-মাশশাত পরিবার) ইলমি বা জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিবেশে লালিত-পালিত হন «২»। তিনি এর বরকতময় প্রাঙ্গণে মাদরাসা আস-সাওলাতিয়াহ এবং মসজিদুল হারামে বরেণ্য আলেমদের নিকট শিক্ষা লাভ করেন «৩»। জ্ঞান আহরণকালে তিনি পড়াশোনায় এমন মেধা ও শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রাখেন, যা তাঁকে শিক্ষা গ্রহণকালেই প্রাথমিক স্তরের পাঠদানে সহকারী হওয়ার যোগ্যতা দান করে «৪»।

তিনি তাঁর পূর্ণ সত্তা দিয়ে জ্ঞানের দিকে ধাবিত হন; শৈশব ও কৈশোরে ইলমের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল এবং প্রৌঢ় ও বার্ধক্যে সেই অনুরাগ ও আসক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। ফলে তাঁর সমগ্র জীবনধারা ছিল শিক্ষা গ্রহণ ও শিক্ষা দান এবং জ্ঞান আহরণ ও জ্ঞান বিতরণের এক অবিচ্ছিন্ন সিলসিলা।

তাঁর এই পথচলা ও জীবনদর্শনের ক্ষেত্রে তাঁর সম্মানিত পিতামাতা এবং তাঁদের পরে তাঁর সতী-সাধ্বী স্ত্রী (আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁকে উৎসাহিত করেছেন। কেননা তাঁরা তাঁর জন্য ভালোবাসা ও মমতায় ঘেরা এমন এক পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করেছিলেন, যা পবিত্রতা ও নির্মলতায় উদ্ভাসিত ছিল «৫»।

--------------------------------------------

(১) তাঁর কিতাব: ‘আল-জাওয়াহিরুস সামিনাহ ফি বয়ানি আদিল্লাতি আলিমিল মাদিনাহ’-তে তাঁর একটি বিস্তারিত জীবনী দেওয়া হয়েছে। কিতাবটির গবেষণা ও সম্পাদনা করেছেন তাঁর ছাত্র আব্দুল ওয়াহাব ইব্রাহিম আবু সুলাইমান। এখানে যা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তা মূলত সেই জীবনীর প্রধান শিরোনামসমূহ। সেই গবেষণার কোথায় এই অংশগুলো রয়েছে, তা এখানে টীকায় নির্দেশ করা হয়েছে।

(২) দেখুন (প্রথম অধ্যায়: গ্রন্থের লেখক: তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা), ‘আল-জাওয়াহিরুস সামিনাহ ফি বয়ানি আদিল্লাতি আলিমিল মাদিনাহ’ কিতাবের গবেষণা অংশ (প্রথম সংস্করণ, বৈরুত, দারুল গারবিল ইসলামী, ১৪০৬ হিজরি), (পৃষ্ঠা ১৭)।

(৩) দেখুন ‘আল-জাওয়াহিরুস সামিনাহ’-এর গবেষণা অংশ (পৃষ্ঠা ৩২)।

(৪) দেখুন ‘আল-জাওয়াহিরুস সামিনাহ’-এর গবেষণা অংশ (পৃষ্ঠা ২০, ২৬)।

(৫) দেখুন ‘আল-জাওয়াহিরুস সামিনাহ’-এর গবেষণা অংশ (পৃষ্ঠা ১৮- ২২- ২৪)।
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১০)
حفّته العناية الإلهية سنوات تحصيله، فأوجدت منه محدثا كبيرا، فقيها مالكيا، وأصوليا نحريرا، عالما من علماء السيرة النبوية، متضلعا من العلوم العربية، متحققا بسلوك علماء الآخرة، كل هذا في خشية العالم وتواضعه، وورعه وتقواه، منصرفا عن الدنيا ومظاهرها، عفيف اليد واللسان، كثير الذكر والتأمل «1» .

رحل إلى كثير من البلاد العربية: مصر، والشام، وفلسطين، ولبنان، والسودان، فتعرّف على علمائها، فأجازوه وأجازهم، لم ينقطع عن إفادة الناس فيها، وعقد حلقات الدروس في مساجدها، فحلّ بين أهلها عالما مبجلا «2» .

أمّا تلاميذه النبغة العلماء.. فهم كثر، ليسوا في مكة وديار الحجاز فقط، بل في البلاد الإسلامية بعامة، وجزيرة العرب بخاصة، في أفريقيا، وجنوب شرق آسيا، ولهم نتاج علمي غزير، ومؤسسات علمية كثيرة، نشرت النور والمعرفة في أصقاع تلك البلاد.

أمّا حياته العملية والوظيفية.. فإنّ تاريخ مكة العلمي والتربوي يعتز به واحدا من كبار العلماء المدرّسين، الذين كان تعليم أبناء المسلمين هوايتهم، يبتغون به وجه الله، فتخرّجت بهم أجيال من العلماء والمفكّرين والمثقّفين «3» .

اشتغل بالقضاء بالمحكمة الشرعية الكبرى بمكة المكرمة زهاء خمسة عشر عاما، من عام (1361) إلى عام (1375) كان مثال النزاهة والعفّة والعدل، له مواقف قضائية تاريخية، تشهد له بسداد الرأي، والتوفيق- بفضل من الله- إلى الحكم الصواب «4» .

--------------------------------------------

(1) انظر قسم الدراسة ل «الجواهر الثمينة» (ص 25) .

(2) انظر قسم الدراسة ل «الجواهر الثمينة» (ص 28- 32- 54) .

(3) انظر قسم الدراسة ل «الجواهر الثمينة» (ص 36- 44) .

(4) انظر قسم الدراسة ل «الجواهر الثمينة» (ص 45- 51) .
তার জ্ঞানার্জনের বছরগুলোতে ঐশ্বরিক অনুগ্রহ তাঁকে পরিবেষ্টিত করে রেখেছিল, ফলে তাঁর মধ্য থেকে গড়ে উঠেছিল একজন মহান মুহাদ্দিস, একজন মালিকি ফকিহ, একজন বিজ্ঞ উসূলবিদ, সিরাতে নববীর অন্যতম আলিম, আরবি ভাষায় সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী এবং আখেরাতমুখী আলিমদের আদর্শে উজ্জীবিত এক ব্যক্তিত্ব। এসব কিছুর সাথে মিশে ছিল একজন আলিমের আল্লাহর ভয় ও বিনয়, পরহেজগারি ও তাকওয়া। তিনি দুনিয়া ও এর চাকচিক্য থেকে বিমুখ ছিলেন, হাত ও জিহ্বার পবিত্রতা রক্ষাকারী ছিলেন এবং প্রচুর জিকির ও ধ্যানে নিমগ্ন থাকতেন «১»।

তিনি অনেক আরব দেশে সফর করেছেন: মিশর, শাম, ফিলিস্তিন, লেবানন ও সুদান। সেখানে তিনি সেদেশের আলিমদের সাথে পরিচিত হন, তাঁরা তাঁকে ইজাজত প্রদান করেন এবং তিনিও তাঁদের ইজাজত দান করেন। সেসব দেশে অবস্থানকালে তিনি মানুষকে ইলম দানে বিরত হননি এবং সেখানকার মসজিদগুলোতে দারসের আসর পরিচালনা করেছেন। ফলে তিনি সেখানকার অধিবাসীদের মাঝে একজন সম্মানিত আলিম হিসেবে সমাদৃত হন «২»।

তাঁর মেধাবী আলিম ছাত্রদের কথা বলতে গেলে.. তাঁরা সংখ্যায় অনেক। শুধু মক্কা বা হিজাজ ভূমিতেই নয়, বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বে সাধারণভাবে এবং আরব উপদ্বীপে বিশেষভাবে, আফ্রিকায় এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তাঁরা ছড়িয়ে আছেন। তাঁদের রয়েছে প্রচুর ইলমি অবদান এবং অসংখ্য ইলমি প্রতিষ্ঠান, যা সেসব দেশের প্রান্তে প্রান্তে আলো ও জ্ঞান ছড়িয়ে দিয়েছে।

তাঁর কর্মজীবন ও পেশাগত জীবনের কথা বলতে গেলে.. মক্কার ইলমি ও শিক্ষা সংক্রান্ত ইতিহাস তাঁকে একজন বড় মাপের শিক্ষক-আলিম হিসেবে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে, যাঁদের নেশা ছিল মুসলিম সন্তানদের শিক্ষিত করে তোলা এবং এর মাধ্যমে তাঁরা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টিই অন্বেষণ করতেন। তাঁদের মাধ্যমে বহু প্রজন্মের আলিম, চিন্তাবিদ এবং শিক্ষিত সমাজ গড়ে উঠেছে «৩»।

তিনি মক্কা মুকাররমার বড় শরিয়াহ আদালতে প্রায় পনের বছর বিচারক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন, ১৩৬১ হিজরি থেকে ১৩৭৫ হিজরি পর্যন্ত। তিনি ছিলেন সততা, চারিত্রিক পবিত্রতা ও ন্যায়বিচারের এক মূর্ত প্রতীক। তাঁর এমন কিছু ঐতিহাসিক বিচারিক সিদ্ধান্ত রয়েছে, যা তাঁর সুচিন্তিত মতামত এবং আল্লাহর অনুগ্রহে সঠিক ফয়সালায় পৌঁছানোর তৌফিকের সাক্ষ্য দেয় «৪»।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: 'আল-জাওয়াহিরুস সামিনাহ' এর গবেষণা অংশ (পৃ. ২৫)।

(২) দেখুন: 'আল-জাওয়াহিরুস সামিনাহ' এর গবেষণা অংশ (পৃ. ২৮- ৩২- ৫৪)।

(৩) দেখুন: 'আল-জাওয়াহিরুস সামিনাহ' এর গবেষণা অংশ (পৃ. ৩৬- ৪৪)।

(৪) দেখুন: 'আল-জাওয়াহিরুস সামিনাহ' এর গবেষণা অংশ (পৃ. ৪৫- ৫১)।
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১১)
فلا غرو أن يكون علما بارزا بين العلماء المكّيّين، ذا مكانة رفيعة في الوسط العلمي، والمجتمع المكّي، رحمه الله رحمة الأبرار، وأدخله جنّته مع النّبيّين، والصدّيقين والشهداء والصالحين، وحسن أولئك رفيقا، ذلك الفضل من الله وكفى بالله عليما.

 

‌‌نشاطه العلمي:

درس بالحرم الشريف، والمدرسة الصولتية، وبمنزلة، لعقود طويلة، منذ شبابه حتى مرحلة شيخوخته ومرضه الذي انتقل بعده إلى جوار ربه، رحمه الله.

استمرّ يدرس بالحرم الشريف دروسا خاصة وعامة ببرنامج زمني، يكاد يكون نظام العلماء والمدرّسين في هذا المكان المبارك منذ قرون، أمّا العلوم.. فإنّها تختلف من عالم لآخر حسب تمكّنه واتجاهه «1» .

أمّا البرنامج العلمي والزمني لفضيلة الشيخ حسن محمد مشاط، وما دأب عليه تلاميذه وروّاده.. فهو كالآتي:

 

‌‌دروس ما بين المغرب والعشاء:

يخصّص النصف الأول لهذه الفترة لتدريس الفقه المالكي لمجموعة من الطلاب، محدودة العدد، وآخر مجموعة من الدارسين هذا المذهب قد تدرّج بهم من كتب المبادئ في المذهب، مثل: «متن الأخضري» في الفقه، و «منظومة ابن عاشر» ، و «متن الرسالة» ، حتى منتهيا بها بدراسة «متن سيدي خليل المالكي» .

يخصص النصف الثاني لما بين المغرب والعشاء لدرس عام، يحضره الخاصة والعامة لتدريس أحد كتب الصحاح الستة، دراسة علمية محققة للسند والمتن وفقه الحديث، وقد درسها مرات عديدة متكررة، والكتب بأيدي الطلاب يدونون عنه الفوائد والنكات العلمية.

--------------------------------------------

(1) انظر قسم الدراسة ل «الجواهر الثمينة» (ص 52) .
সুতরাং মক্কার আলেমদের মাঝে তিনি একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং ইলমি অঙ্গন ও মক্কী সমাজে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হওয়াতে আশ্চর্যের কিছু নেই। আল্লাহ তাঁকে নেককারদের ন্যায় রহমত দান করুন এবং তাঁকে নবীগণ, সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তিগণ, শহীদগণ ও নেককারদের সাথে জান্নাতে প্রবেশ করান; আর তারা কতই না উত্তম সঙ্গী! এই অনুগ্রহ আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর মহাজ্ঞানী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।

 

‌‌তাঁর ইলমি তৎপরতা:

তিনি কয়েক দশক ধরে হারম শরীফ, মাদরাসা সওলাতিয়া এবং নিজের বাসভবনে দরস প্রদান করেছেন। এটি তাঁর যৌবনকাল থেকে শুরু করে বার্ধক্য এবং অসুস্থ হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী ছিল, যার পর তিনি তাঁর রবের সান্নিধ্যে চলে যান। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

তিনি হারম শরীফে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচী অনুযায়ী বিশেষ ও সাধারণ দরস প্রদান অব্যাহত রাখেন, যা কয়েক শতাব্দী ধরে এই বরকতময় স্থানে আলেম ও শিক্ষকদের একটি নির্ধারিত রীতি হিসেবে চলে আসছে। তবে ইলম বা জ্ঞানসমূহের ক্ষেত্রে একজন আলেমের সাথে অন্যজনের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় তাঁদের দক্ষতা ও ঝোঁক অনুযায়ী (১)।

মান্যবর শায়খ হাসান মুহাম্মদ মাশশাতের ইলমি ও সময়ের রুটিন এবং তাঁর ছাত্র ও অনুসারীরা যে নিয়মটি অনুসরণ করতেন, তা ছিল নিম্নরূপ:

 

‌‌মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ের দরসসমূহ:

এই সময়ের প্রথম অংশটি তিনি একদল সীমিত সংখ্যক ছাত্রকে মালেকী ফিকহ পড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট করতেন। এই মাযহাবের শিক্ষার্থীদের শেষ দলটিকে নিয়ে তিনি মাযহাবের প্রাথমিক কিতাবসমূহ, যেমন: ফিকহ শাস্ত্রে ‘মাতনুল আখদারি’, ‘মানযুমা ইবনু আশির’ এবং ‘মাতনুর রিসালাহ’ থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে ‘মাতনু সিনি খলিল আল-মালেকী’ শেষ করা পর্যন্ত পাঠদান করাতেন।

মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ের দ্বিতীয় অংশটি তিনি একটি সাধারণ দরসের জন্য নির্দিষ্ট করতেন, যেখানে বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ সকলেই উপস্থিত হতেন। এতে সিহাহ সিত্তার (বিশুদ্ধ ছয়টি কিতাব) যেকোনো একটি কিতাব পড়ানো হতো। এটি সনদ, মতন এবং ফিকহুল হাদীসের ওপর ভিত্তি করে একটি গবেষণামূলক ও তাত্ত্বিক পাঠদান ছিল। তিনি বহুবার এই কিতাবগুলো পুনরাবৃত্তি করে পড়িয়েছেন। শিক্ষার্থীদের হাতে কিতাব থাকত এবং তারা তাঁর থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন ইলমি ফায়দা ও সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক বিষয়সমূহ লিপিবদ্ধ করে নিত।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ‘আল-জাওয়াহিরুস সামীনাহ’ এর গবেষণা অংশ (পৃষ্ঠা ৫২)।
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১২)
والدرس بعد صلاة العشاء: يخص الليالي الثلاث الأولى من الأسبوع لتدريس اللغة العربية، والليلتين الأخيرتين- ليلة الأربعاء والخميس- لتدريس مادة أصول الفقه، وقد درس عليه الطلاب في هذه العلوم كتب البدايات حتى النهايات.

عدد الدارسين في هذه العلوم وهذه الفترة عدد محدود من طلاب العلم المداومين.

أمّا ليلتا الثلاثاء والجمعة من كل أسبوع.. فقد اعتاد علماء المجسد الحرام اتخاذهما إجازة أسبوعية.

وعادة ما يبتدئون الدروس ويختمونها بالدعاء مستقبلين الكعبة المشرفة، وما أن يرتفع صوت الحق بأذان العشاء.. حتى تتوقف كافة الدروس، وترتفع الأيدي بالدعاء إلى الله عز وجل.

هذه صورة تحكي واقعا يوميا مشهودا كل مساء في المسجد الحرام، ليس فيما يخص فضيلة الشيخ حسن محمّد المشاط، بل هو صحيح بالنسبة لكافة العلماء الذين كانت تمتلئ ساحات المسجد الحرام وأروقته بدروسهم وحلقاتهم العلمية، أمثال الشيخ محمد العربي التباني، والسيد علوي مالكي، والسيد محمّد أمين كتبي، والشيخ محمّد نور سيف، والشيخ عبد الله دردوم، والشيخ محمّد مرداد، وغيرهم كثير، حسب برنامج علمي من الدروس الشرعية واللغوية يختص به كل واحد منهم.

 

‌‌نشاطه التأليفي «1» :

مؤلفات الشيخ حسن محمّد المشاط رحمه الله شاهد حي، يحكي تمكنه في العلوم التي ألّف فيها، كما أنّها تدل أصالة على مقدار عمقه في علوم الآلة:

اللغوية، والبيانية التي لا تستقيم العلوم الشرعية بدونها.

--------------------------------------------

(1) انظر قسم الدراسة ل «الجواهر الثمينة» (ص 57- 72) .
এশার নামাজের পরের পাঠদান: সপ্তাহের প্রথম তিন রাত আরবি ভাষা পাঠদানের জন্য নির্ধারিত ছিল এবং শেষ দুই রাত—বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাত—উসূলে ফিকহ পাঠদানের জন্য ছিল। ছাত্ররা এই সকল বিদ্যায় তাঁর কাছে প্রাথমিক স্তর থেকে শেষ স্তর পর্যন্ত কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করেছেন।

এই বিদ্যায় এবং এই সময়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ছিল সীমিত।

আর প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও শুক্রবার রাত... মসজিদুল হারামের আলেমগণ এই দুই রাতকে সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে গ্রহণ করতে অভ্যস্ত ছিলেন।

তাঁরা সাধারণত কাবার দিকে মুখ করে দোয়ার মাধ্যমে পাঠদান শুরু ও শেষ করতেন। আর যখনই এশার আজানের মাধ্যমে সত্যের ধ্বনি উচ্চারিত হতো, তখনই সকল পাঠদান বন্ধ হয়ে যেত এবং মহান আল্লাহর দরবারে দোয়ার জন্য হাত উত্তোলিত হতো।

এটি এমন একটি চিত্র যা মসজিদুল হারামের প্রতিদিন সন্ধ্যার বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলে। এটি শুধু ফযীলাতুশ শায়খ হাসান মুহাম্মদ আল-মাশশাত-এর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, বরং এটি সেই সকল আলেমদের ক্ষেত্রেও সত্য যাদের জ্ঞানগর্ভ পাঠদান ও হালকায়ে ইলমের মাধ্যমে মসজিদুল হারামের আঙিনা ও বারান্দাসমূহ পরিপূর্ণ থাকতো। যেমন: শায়খ মুহাম্মদ আল-আরাবি আত-তাব্বানি, সাইয়্যেদ আলউই মালিকি, সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আমিন কুতুবি, শায়খ মুহাম্মদ নূর সাইফ, শায়খ আব্দুল্লাহ দারদুম, শায়খ মুহাম্মদ মিরদাদ এবং আরও অনেকে; তাঁদের প্রত্যেকের জন্য নির্ধারিত শরয়ী ও ভাষাতাত্ত্বিক পাঠদানের একটি বৈজ্ঞানিক কর্মসূচি অনুসারে।

 

‌‌তাঁর রচনাশৈলী (১):

শায়খ হাসান মুহাম্মদ আল-মাশশাত (রহিমাহুল্লাহ)-এর রচনাবলী এক জীবন্ত সাক্ষী, যা তাঁর সেই সকল শাস্ত্রে পারদর্শিতার কথা বলে যেগুলোতে তিনি কলম ধরেছেন। অধিকন্তু, এটি বিশেষভাবে তাঁর সাহায্যকারী বিদ্যায় (উলূমুল আলাহ) গভীরতার প্রমাণ দেয়:

ভাষাতাত্ত্বিক ও অলঙ্কারশাস্ত্রীয় জ্ঞান, যা ছাড়া শরয়ী জ্ঞান সঠিক হতে পারে না।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: 'আল-জাওয়াহির আস-সামিনাহ' এর গবেষণা অংশ (পৃষ্ঠা ৫৭-৭২)।
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
ألّف في أصول الحديث كتابي:

«رفع الأستار عن مخدرات طلعة الأنوار» .

و «شرح المنظومة البيقونية» .

وكلاهما كتابان معتبران، ينالان الاهتمام الدائم من الدارسين في معظم الأقطار الإسلامية، كما كان في الماضي عند ما كان المؤلف على قيد الحياة، وقد طبعا مرات عديدة نالا تدقيق المؤلف، ومراجعته وتحقيقه.

ألّف في الفقه على طريقة المحدّثين كتابين هما:

1- «إسعاف أهل الإيمان بوظائف شهر رمضان» .

2- «إسعاف أهل الإسلام بوظائف الحج إلى بيت الله الحرام» .

هما كتابا حديث وفقه في موضوعهما، وقد طبعا لعدة مرات، وكان لهما الحظ الوافر من مراجعة المؤلف وتحقيقاته، حظيا بتدريسهما لطلابه في مناسباتهم الدينية لمرات عديدة.

كان رحمه الله تعالى عالما من علماء الحديث المشهود لهم في هذا المجال، وعالما من علماء أصول الفقه، قد أنتج في هذا المجال العلمي كتابه:

«الجواهر الثمينة في بيان أدلة عالم المدينة» «1» ، وقد طبع طبعتين.

وحاشية موسعة على «لب الأصول» .

ألّف في العقيدة:

«البهجة السنية في شرح الخريدة في علم التوحيد» طبع بأندونيسيا، يدرس في معاهدها ومؤسساتها التعليمية.

--------------------------------------------

(1) طبع طبعتين عام (1406) وعام (1412) بتحقيق تلميذه عبد الوهاب إبراهيم أبو سليمان.
তিনি উসুলুল হাদিস (হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি) বিষয়ে দুটি গ্রন্থ রচনা করেছেন:

‘রাফউল আস্তার আন মুখাদ্দারাত তালআতিল আনওয়ার’।

এবং ‘শারহুল মানজুমাতুল বাইকুনিয়্যাহ’।

এই উভয়টিই নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ, যা অধিকাংশ ইসলামি ভূখণ্ডের শিক্ষার্থীদের নিকট সর্বদা বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে আসছে; ঠিক যেমনটি অতীতে লেখক যখন জীবিত ছিলেন তখনও ছিল। গ্রন্থ দুটি বহুবার মুদ্রিত হয়েছে এবং লেখকের সূক্ষ্ম নিরীক্ষণ, পর্যালোচনা ও সম্পাদনা (তাহকিক) লাভ করেছে।

তিনি মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতিতে ফিকহ শাস্ত্রের ওপর দুটি গ্রন্থ রচনা করেছেন, সেগুলো হলো:

১- ‘ইসআফু আহলিল ইমান বি-ওয়াযায়িফি শাহরি রমজান’।

২- ‘ইসআফু আহলিল ইসলাম বি-ওয়াযায়িফিল হাজ্জি ইলা বাইতিল্লাহিল হারাম’।

নিজ নিজ বিষয়ে এই উভয়টিই হাদিস ও ফিকহের গ্রন্থ। এগুলো বহুবার মুদ্রিত হয়েছে এবং লেখকের পর্যালোচনা ও তাহকিকের যথেষ্ট সৌভাগ্য লাভ করেছে। বিভিন্ন ধর্মীয় উপলক্ষে তিনি তাঁর ছাত্রদের নিকট গ্রন্থ দুটি বহুবার পাঠদান করেছেন।

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) এই ক্ষেত্রে হাদিস শাস্ত্রের স্বীকৃত আলেমদের একজন ছিলেন এবং উসুলুল ফিকহেরও একজন বিশেষজ্ঞ আলেম ছিলেন। এই ইলমি ময়দানে তিনি তাঁর এই গ্রন্থটি রচনা করেছেন:

‘আল-জাওয়াহিরুস সামিনাহ ফি বায়ানি আদিল্লাতি আলিমিল মদিনা’ (১), যা দুইবার মুদ্রিত হয়েছে।

এবং ‘লুব্বুল উসুল’-এর ওপর একটি বিস্তৃত হাশিয়া (টীকা)।

আকিদা বিষয়ে তিনি রচনা করেছেন:

‘আল-বাহজাতুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল খারিদাহ ফি ইলমিত তাওহিদ’, যা ইন্দোনেশিয়ায় মুদ্রিত হয়েছে এবং সেখানকার মাদরাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) এটি ১৪০৬ হিজরি ও ১৪১২ হিজরিতে তাঁর ছাত্র আবদুল ওয়াহাব ইব্রাহিম আবু সুলায়মানের সম্পাদনায় (তাহকিক) দুইবার মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
درس بالحرم الشريف شروح «ألفية ابن مالك» كابن عقيل، والمكودي، وحواشيهما مرات عديدة، مدوّنا تاريخ تدريسه لها على صفحات النسخ التي درس فيها، وكذلك علوم البلاغة، غير أنّه لم يؤلف فيهما.

وقد ظهرت آثار هذه الدراسات العلمية المتنوعة واضحة في شرحه لهذه المنظومة.

تجلّت قدراته اللغوية رحمه الله في التحليل اللغوي للمنظومة عند ما يحتاج النظم إلى ذلك، حيث ضرورات النظم توجب تقديم ما حقه التأخير، وتأخير ما حقه التقديم، فيستوجب هذا بيان وضع كل عبارة أو جملة في موضعها الصحيح، ومن ثمّ إعرابها لتوضيح معناها.

إن اطّلاعه الواسع، وقدراته الرفيعة في علم الحديث سندا ومتنا.. أضاف إلى النظم من الوقائع والأحداث ما لا يوجد إلّا في كتب الحديث، وما لا يعرفه إلّا المحدث الضليع، فهو على ذكر ممّا هو مدوّن في هذه المدونات، وما يذكره علماء السيرة النبوية، وقد يتخلل هذا: تعارض الروايات، والأحداث، والوقائع، فيفحصها حسب القوانين العلمية الأصولية، وقد وفق رحمه الله تعالى في هذا الجانب كل التوفيق.

وملكاته الفقهية والأصولية قدمت للقارئ معلومات فقهية مهمة كلّما واتت مناسبة لذكرها.

 

‌‌الدراسة

 

‌‌شروح المنظومة:

يوجد شرح آخر لهذه المنظومة للعلّامة الشيخ حماد الأمين الشنقيطي، وقد ذكر الشيخ حسن محمّد المشاط هذا الشرح، واطّلع عليه، واستفاد منه، وذكر منهجه
তিনি হারাম শরীফে ‘আলফিয়া ইবনে মালিক’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ যেমন ইবনে আকীল, মাকুদী এবং এগুলোর টীকাগ্রন্থগুলো বহুবার পাঠদান করেছেন। তিনি যে পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে পড়াতেন সেগুলোর পৃষ্ঠায় তিনি তাঁর পাঠদানের তারিখগুলো লিখে রাখতেন। একইভাবে তিনি বালাগাত বা অলঙ্কারশাস্ত্রও পড়াতেন, তবে তিনি এই দুটি বিষয়ে কোনো গ্রন্থ রচনা করেননি।

এই বিভিন্নমুখী ইলমী গবেষণার প্রভাব তাঁর এই কাব্যগ্রন্থের (মানজুমা) ব্যাখ্যায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

কাব্যের প্রয়োজনে যখনই ভাষাগত বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয়েছে, তখনই তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) ভাষাগত দক্ষতা প্রোজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। যেহেতু কাব্যের ছন্দের প্রয়োজনে কখনও কখনও যা পরে আসার কথা তা আগে এবং যা আগে আসার কথা তা পরে নিতে হয়, তাই প্রতিটি শব্দগুচ্ছ বা বাক্যের সঠিক অবস্থান স্পষ্ট করা এবং অর্থ পরিষ্কার করার জন্য সেটির ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ইরাব) করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

ইলমে হাদিসের সনদ ও মতন উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর বিস্তৃত জ্ঞান ও উচ্চতর দক্ষতা এই কাব্যগ্রন্থে এমন সব ঘটনা ও বিষয়াবলি সংযোজন করেছে যা কেবল হাদিসের কিতাবসমূহে পাওয়া যায় এবং যা কেবল একজন বিজ্ঞ মুহাদ্দিসই অবগত থাকেন। এসকল কিতাবে যা লিপিবদ্ধ রয়েছে এবং সিরাত বিশেষজ্ঞগণ যা উল্লেখ করেছেন সে সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন। এর মধ্যে বিভিন্ন বর্ণনা ও ঘটনার মাঝে বৈপরীত্য দেখা দিলে তিনি সেগুলোকে ইলমী ও উসূলী নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেন। আল্লাহ তাআলা এই ক্ষেত্রে তাঁকে পূর্ণ সফলতা দান করেছেন।

তাঁর ফিকহ ও উসূল শাস্ত্রের দক্ষতা সুযোগ অনুযায়ী পাঠকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ফিকহী তথ্য সরবরাহ করেছে।

 

‌‌পর্যালোচনা

 

‌‌কাব্যগ্রন্থের ব্যাখ্যাসমূহ:

আল্লামা শায়খ হাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকিতী কর্তৃক এই কাব্যগ্রন্থের আরেকটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে। শায়খ হাসান মুহাম্মদ আল-মাশাত এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি পর্যালোচনা করেছেন, তা থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং এর পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
وطريقته، وأنّه من جملة ما اعتمده في شرحه، ولكنه اتّخذ منهجا آخر مستقلا، هو ما وضحه بقوله:

(وقد اعتمدت في هذا الشرح على شرح العلّامة الشيخ حمّاد بن الأمين الشنقيطي ابن أخي الناظم على هذا النظم، وهو شرح على طريقة المتقدمين، غير مزج، يذكر جملة من أبيات النظم، ويتكلم عليها على عادة علماء ذلك القطر في الإسهاب، والولوج في كل فن وباب) «1» .

 

‌‌مصادر الشرح «إنارة الدجى في مغازي خير الورى» :

خصّ الشارح رحمه الله تعالى المقدمة الثالثة بذكر أشهر من ألّف في المغازي، وبيّن المصادر التي اعتمدها بشكل رئيس، وذكر من بينها شرح العلّامة الشيخ حمّاد بن الأمين الشنقيطي، وبيّن منهجه في شرح هذه المنظومة، وقد سلك المؤلف رحمه الله تعالى منهجا مغايرا؛ فقد كان الأول يعتمد وحدة موضوعية من الأبيات، ثمّ يتحدث عن موضوعها جملة، دون تعرض لتحليل الأبيات ومدلولاتها، في حين أنّ الشارح هنا يعتمد الأسلوب التحليلي لكل جملة وعبارة في النظم، وبيان مؤداها ومدلولاتها.

وقد ظهر اعتماده على أهم مدونات السيرة النبوية وأكثرها اعتمدا عند علماء هذا الفن، بل أكثر الاعتماد على ابن إسحاق، والحافظ اليعمري، و «روض النهاة» وهي مصادر أصلية ذات وزن كبير في هذا العلم، علما بأنّ الشارح رحمه الله تعالى قد أسعفته ملكاته العلمية، وعمقه في علم الحديث أن يكون من بين مصادره المنثورة في هذا الشرح: «الصحيحان» بشكل خاص، وبقية كتب الصحاح بشكل عام، وكتب شروح الحديث مثل «فتح الباري» وغيره.

--------------------------------------------

(1) (ج 1، ص 6) .
...এবং তাঁর পদ্ধতি, আর এটি সেইসব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যার ওপর তিনি তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে নির্ভর করেছেন, তবে তিনি একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন, যা তিনি তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন:

(আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে এই কাব্যের ওপর মূল কবির ভ্রাতুষ্পুত্র আল্লামা শেখ হাম্মাদ বিন আল-আমিন আশ-শিনকিতীর ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করেছি। এটি পূর্বসূরিদের পদ্ধতিতে রচিত একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যেখানে মূল পাঠের সাথে ব্যাখ্যা মিশ্রিত করা হয়নি। এতে কাব্যের কয়েকটি পঙ্‌ক্তি একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ওই অঞ্চলের আলেমদের রীতি অনুযায়ী বিস্তারিত আলোচনা ও প্রতিটি শাস্ত্র ও অধ্যায়ে প্রবেশ করা হয়েছে) «১»।

 

‌‌‘ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা’ ব্যাখ্যাগ্রন্থের উৎসসমূহ:

ব্যাখ্যাকার (রহিমাহুল্লাহ) তৃতীয় মুকাদ্দিমাটি বা ভূমিকাটি মাগাজি বা যুদ্ধাভিযান বিষয়ক রচনার ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ লেখকদের আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। তিনি প্রধানত যে উৎসগুলোর ওপর নির্ভর করেছেন সেগুলো বর্ণনা করেছেন এবং সেগুলোর মধ্যে আল্লামা শেখ হাম্মাদ বিন আল-আমিন আশ-শিনকিতীর ব্যাখ্যার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি এই কাব্য ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতিও বর্ণনা করেছেন। তবে লেখক (রহিমাহুল্লাহ) একটি ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন; কারণ পূর্বোক্ত জন (শিনকিতি) কবিতাগুলোর একটি বিষয়ভিত্তিক এককের ওপর নির্ভর করতেন, অতঃপর সেগুলোর মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে সামগ্রিকভাবে আলোচনা করতেন, কিন্তু পঙ্‌ক্তিগুলোর বিশ্লেষণ ও এর নিহিতার্থের দিকে যেতেন না। পক্ষান্তরে, বর্তমান ব্যাখ্যাকার এখানে কাব্যের প্রতিটি বাক্য ও শব্দবন্ধের বিশ্লেষণমূলক পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন এবং এর তাৎপর্য ও অর্থ ব্যাখ্যা করেছেন।

সীরাতে নববীর গুরুত্বপূর্ণ সংকলনসমূহ এবং এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহের ওপর তাঁর নির্ভরতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বরং তিনি ইবনে ইসহাক, হাফেজ আল-ইয়ামুরি এবং ‘রওদুন নুহাত’-এর ওপর অধিক নির্ভর করেছেন, যা এই শাস্ত্রের অত্যন্ত ওজনদার মৌলিক উৎস। উল্লেখ্য যে, ব্যাখ্যাকার (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ইলমি প্রজ্ঞা এবং হাদিস শাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্যের কারণে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা উৎসগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে ‘সহিহাইন’ (বুখারি ও মুসলিম), সাধারণভাবে অন্যান্য সহিহ গ্রন্থসমূহ এবং হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ যেমন ‘ফাতহুল বারি’ ইত্যাদির সাহায্য নিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬)।
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
فمن ثمّ أصبح الشرح موسوعة مصغرة للأحداث والوقائع النبوية من مصادر صحيحة موثقة.

 

‌‌صلة الشارح رحمه الله بمنظومة المغازي، وتحقيقه نصوصها:

علاقة الشارح رحمه الله تعالى بهذه المنظومة علاقة حفظ ودرس، وأكثر من هذا هي علاقة عشق وهيام، فقد كانت من جملة محفوظاته التي اهتمّ بها في شبابه، واعتنى بها حفظا، ودرسا، وتدريسا، وكتابة، وشرحا على مدى مسيرة حياته رحمه الله، وقد أحبها لأسباب عديدة:

أولا: لموضوعها، فهي عرض أمين، وإبراز لمواقف البطولة شاخصة وممثلة في رسول الله صلى الله عليه وسلم وصحابته الكرام رضي الله تعالى عنهم.

ثانيا: سلاسة عبارتها، وسهولة حفظها.

وقد سجل إعجابه بها كتابة عندما ترجم لناظمها رحمه الله تعالى؛ إذ أثنى عليها، وسماها: «فصل الخطاب» في هذا الموضوع، وعدها متفوقة على سابقتها «الدرة السنية في المعالم السنية» من تأليف القاضي أبي عبد الله محمّد بن عيسى بن محمّد بن أصبغ الأزدي، المعروف بابن المناصف، الذي بلغ سبعة آلاف بيت من الرجز «1» .

وللحديث عمّا تميزت به هذه المنظومة يقول:

(قلت: ومنظومتنا هذه هي فصل الخطاب، والآية في الإعجاب، لا تدع شاذة ولا فاذة من عيون المغازي.. إلّا أتت عليها بأبدع أسلوب، وأسلس تعبير، فهي الفريدة في بابها، الممتعة لطلابها، وها هي ذي بين أيدينا ترفل في أبواب

--------------------------------------------

(1) انظر «إنارة الدجى في شرح مغازي خير الورى» (ج 1، ص 69) .
ফলে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সহীহ ও নির্ভরযোগ্য উৎস হতে সংকলিত নববী ঘটনাপ্রবাহের এক সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষে পরিণত হয়েছে।

 

‌‌মাগাযী কাব্যগ্রন্থের সাথে ব্যাখ্যাকার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সম্পর্ক এবং এর পাঠ্যসমূহের তাহকীক (যাচাই-বাছাই):

এই কাব্যগ্রন্থের সাথে ব্যাখ্যাকার (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা)-এর সম্পর্ক ছিল মুখস্থকরণ ও অধ্যয়নের; বরং তার চেয়েও বেশি এটি ছিল এক গভীর ভালোবাসা ও আসক্তির সম্পর্ক। এটি ছিল তাঁর সেই সমস্ত মুখস্থ নিহিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা নিয়ে তিনি তাঁর যৌবনে ব্যাপক গুরুত্বারোপ করেছিলেন এবং তাঁর সমগ্র জীবনব্যাপী মুখস্থকরণ, অধ্যয়ন, শিক্ষাদান, লিখন ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে এর বিশেষ যত্ন নিয়েছেন। তিনি একে বেশ কিছু কারণে পছন্দ করতেন:

প্রথমত: এর বিষয়বস্তুর কারণে; কেননা এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) বীরত্বগাথার এক আমানতদারতাপূর্ণ উপস্থাপনা ও সুস্পষ্ট চিত্রায়ন।

দ্বিতীয়ত: এর সাবলীল ভাষা এবং সহজে মুখস্থ করার উপযোগী হওয়া।

তিনি এই কাব্যের রচয়িতার জীবনী লেখার সময় তাঁর মুগ্ধতার কথা লিপিবদ্ধ করেছেন; সেখানে তিনি এর প্রশংসা করেছেন এবং এই বিষয়ে একে 'ফাসলুল খিতাব' (চূড়ান্ত কথা) বলে অভিহিত করেছেন। এমনকি তিনি একে এর পূর্ববর্তী গ্রন্থ কাজী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন মুহাম্মদ বিন আসবাগ আল-আযদি—যিনি ইবনুল মানাসিফ নামে পরিচিত—রচিত 'আদ-দুররাতুস সানিয়্যাহ ফিল মাআলিমিস সানিয়্যাহ' এর চেয়েও শ্রেষ্ঠ গণ্য করেছেন, যার রাজায ছন্দের কবিতা সংখ্যা সাত হাজারে পৌঁছেছিল।

এই কাব্যগ্রন্থটির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে তিনি বলেন:

(আমি বলছি: আমাদের এই কাব্যগ্রন্থটি হলো এক চূড়ান্ত কথা এবং বিস্ময়কর নিদর্শনের ন্যায়। এটি মাগাযী বা যুদ্ধাভিযান সংক্রান্ত ইতিহাসের কোনো দুর্লভ কিংবা বিচ্ছিন্ন বিষয়কেই বাদ দেয়নি, বরং প্রতিটি বিষয়কে অত্যন্ত চমৎকার শৈলী ও সহজবোধ্য অভিব্যক্তিতে উপস্থাপন করেছে। এটি তার নিজ অঙ্গনে এক অনন্য সংযোজন এবং জ্ঞানান্বেষীদের জন্য আনন্দদায়ক। আর এটি এখন আমাদের হাতের নাগালে বিভিন্ন অধ্যায়ে সুশোভিত হয়ে বিদ্যমান...)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: 'ইনারাতুদ দুজা ফী শারহি মাগাযী খাইরিল ওয়ারা' (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৬৯)।
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
حسنها، مدبجة بكلام الحفاظ والمهرة، من نقدة أهل هذا الشأن، فليحكم لها، أو عليها) «1» .

وقد كان لها النصيب الموفور من قراءته وتدريسه لها، وكثيرا ما كان يستشهد بها في دروسه ومجالسه، ويحث طلابه على حفظها.

قرأ هذه المنظومة، وصححها على يد شيخه الشيخ محمّد عبد الله زيدان «2» ، ولم تكن النسخة التي استنسخها الوحيدة، بل كانت هناك نسخة أخرى هي نسخة الشيخ حمّاد، وتختلف أحيانا عن نسخته، تعلق الشارح رحمه الله تعالى تعلقا شديدا بهذه المنظومة جعله يقارن بين نسخته وبين ما هو موجود في النسخة الأخرى، وقد ذكر بعض هذه المخالفات، ونوّه عنها في شرحه، من هذه المواضع:

1- أسماء الذين ثبتوا مع النّبيّ صلى الله عليه وسلم في يوم هوازن (ج 2/ ص 241، 244) .

2- الاختلاف في صدر البيت، ففي نسخته يذكر أوّله:

ومعتب نجل قشير قالا … وعدنا النّبي أن ننالا

وأن في بعض النسخ:

وابن قشير معتب قال أما … وعدنا محمّد أن نغنما

وعقب على هذا قائلا: (والخطب سهل، والمعنى واحد) (ج 1/ ص 280) .

وهو بهذا التدقيق لنصوص المنظومة يبرهن على عنايته بتحقيق نصوصها تحقيقا علميا سليما.

--------------------------------------------

(1) انظر «إنارة الدجى» (ج 1، ص 70) .

(2) انظر «إنارة الدجى» (ج 2، ص 244) .
এর সৌন্দর্য, যা এই বিষয়ের হাফেজ ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে সুসজ্জিত এবং এই বিষয়ের সমালোচকদের দ্বারা মূল্যায়িত, সুতরাং এর অনুকূলে বা প্রতিকূলে বিচার করা যেতে পারে (১)।

এটি তাঁর পাঠ ও পাঠদানের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল এবং তিনি প্রায়শই তাঁর দরস ও মজলিসসমূহে এটি উদ্ধৃত করতেন এবং তাঁর ছাত্রদের এটি মুখস্থ করতে উৎসাহিত করতেন।

তিনি এই কাব্যগ্রন্থটি পাঠ করেছেন এবং তাঁর শিক্ষক শায়খ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ যাইদানের (২) নিকট এটি সংশোধন করেছেন। তাঁর তৈরিকৃত অনুলিপিটিই একমাত্র পাণ্ডুলিপি ছিল না, বরং সেখানে শায়খ হাম্মাদের অপর একটি পাণ্ডুলিপিও ছিল, যা মাঝে মাঝে তাঁর কপির চেয়ে ভিন্ন হতো। ব্যাখ্যাকার (রহিমাহুল্লাহ) এই কাব্যগ্রন্থের প্রতি অত্যন্ত গভীরভাবে অনুরাগী ছিলেন, যা তাঁকে তাঁর কপি এবং অন্য কপিতে যা আছে তার মধ্যে তুলনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তিনি এর কিছু পার্থক্য উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে সেগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এসব স্থানের মধ্যে রয়েছে:

১- হাওয়াযিনের যুদ্ধের দিন যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে অবিচল ছিলেন তাঁদের নামসমূহ (খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ২৪১, ২৪৪)।

২- পংক্তির প্রথমাংশে পার্থক্য; তাঁর কপিতে প্রথমাংশ এভাবে উল্লিখিত হয়েছে:

এবং কুশাইরের পুত্র মুআত্তিব বলল... নবী আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে আমরা সফল হব।

আর কিছু কপিতে রয়েছে:

আর ইবনে কুশাইর মুআত্তিব বলল যে... মুহাম্মদ আমাদের গনিমতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এর ওপর মন্তব্য করে তিনি বলেন: (বিষয়টি সহজ, এবং অর্থ একই) (খণ্ড ১/ পৃষ্ঠা ২৮০)।

কাব্যগ্রন্থের পাঠের ক্ষেত্রে এই সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তিনি এর বিষয়বস্তু একটি সঠিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে সম্পাদনার প্রতি তাঁর বিশেষ যত্নের প্রমাণ দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন ‘ইনারাতুদ দুজা’ (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৭০)।

(২) দেখুন ‘ইনারাতুদ দুজা’ (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৪৪)।
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌منهج الشارح رحمه الله تعالى:

أوّلا: قدم الشارح رحمه الله لشرحه لمنظومة المغازي بمقدمات تعريفية مهمة، يحتاج إليها دارس هذا العلم، مبتدئا حسب الترتيب الآتي:

1- ترجمة الناظم، والتعريف بمكانته العلمية، وجهوده في التأليف في فن المغازي، والأنساب.

2- مشروعية الجهاد، وقد وضح هنا التدرّج التشريعي في هذه الشعيرة الإسلامية المهجورة.

3- في المغازي وفضل تعليمها.

4- في أشهر من ألّف في المغازي، وقد أتى على ذكر أهمها، منذ القرن الأول الهجري.. حتى القرن الحادي عشر الهجري.

ثانيا: من المعلوم أنّ النظم لا يتّسع لتفصيل الأحداث والوقائع، وأقصى ما يمكن هو التصريح إجمالا لأهم الأحداث، وما عدا هذا فيكتفى عنه بالإشارة والرمز، فمن ثمّ سلك الشارح رحمه الله تعالى لبيان التفاصيل والإسهاب فيها طريقتين مختلفتين:

أ- يسرد الحدث كاملا برواياته، وكافة وقائعه، في عبارة نثرية متسلسلة، وفي النهاية يذكر: أنّ هذا هو ما عناه الناظم من البيت التالي، أو الأبيات التالية، وبهذا يكون القارئ على إلمام بالمقصود، من كل حرف وكلمة في النظم، ثم يعرج بعد هذا على تحليل النظم، تحليلا لغويا بيانيا.

ب- وأحيانا يقدم تحليل النظم تحليلا لغويا، وبيانيا كاملا، وبعد هذا يأخذ في سرد موضوع النظم في عبارة نثرية متسلسلة، مترابطة الأحداث بعبارته، والاستشهاد لعرضه من كتب الحديث والسيرة النبوية.
ব্যাখ্যাদাতার (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) কর্মপদ্ধতি:

প্রথমত: ব্যাখ্যাদাতা (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর মাগাযী (রণাভিযান) বিষয়ক কাব্যগ্রন্থের ব্যাখ্যার শুরুতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিচিতিমূলক ভূমিকা পেশ করেছেন, যা এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তিনি নিম্নলিখিত ক্রম অনুসারে আলোচনা শুরু করেছেন:

১- কাব্য রচয়িতার জীবনী, তাঁর ইলমী মর্যাদা এবং মাগাযী ও বংশপরম্পরা (আনসাব) শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনায় তাঁর প্রচেষ্টাসমূহের পরিচিতি।

২- জিহাদের বিধান; এখানে তিনি বর্তমানে পরিত্যক্ত এই ইসলামি বিধানটির শরয়ি ক্রমবিকাশ স্পষ্ট করেছেন।

৩- মাগাযী এবং তা শিক্ষার ফযীলত সম্পর্কে।

৪- মাগাযী শাস্ত্রে প্রসিদ্ধ গ্রন্থকারদের সম্পর্কে। এতে তিনি হিজরি প্রথম শতাব্দী থেকে একাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন।

দ্বিতীয়ত: এটি সুবিদিত যে, পদ্য বা কবিতার কাঠামোতে ঘটনাপ্রবাহের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া সম্ভব হয় না; সেখানে বড়জোর প্রধান ঘটনাগুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া যায়। এছাড়া বাকি বিষয়ের ক্ষেত্রে কেবল ইশারা বা সংকেতের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই ব্যাখ্যাদাতা (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বিস্তারিত বিবরণ ও ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন:

ক- তিনি কোনো ঘটনাকে তার বিভিন্ন বর্ণনা ও আদ্যোপান্তসহ একটি ধারাবাহিক গদ্য শৈলীতে পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেন। পরিশেষে তিনি উল্লেখ করেন যে, পরবর্তী পঙ্ক্তি বা পঙ্ক্তিমালা দ্বারা কাব্য রচয়িতা এই বিষয়টিই বুঝিয়েছেন। এর ফলে পাঠক কাব্যের প্রতিটি বর্ণ ও শব্দের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সম্যক অবগত হতে পারেন। এরপর তিনি কাব্যটির ভাষাতাত্ত্বিক ও অলঙ্কারশাস্ত্রীয় বিশ্লেষণে মনোনিবেশ করেন।

খ- কখনও কখনও তিনি প্রথমে কাব্যের পূর্ণাঙ্গ ভাষাতাত্ত্বিক ও অলঙ্কারশাস্ত্রীয় বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। এরপর তিনি কাব্যের মূল বিষয়বস্তুকে একটি সুসংবদ্ধ ও ধারাবাহিক গদ্যাকারে বর্ণনা করেন এবং নিজের উপস্থাপনার সপক্ষে হাদিস ও সীরাতে নববীর কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেন।
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
والمعيار في هذا التراوح عند الشارح: هو علاقة الحدث بما ذكر قبله، أو ما يذكر بعده.

ثالثا: استكماله الأحداث والوقائع التي لم يتأتّ للناظم عرضها، والحديث عنها، من ذلك:

أ- عمرة القضاء: توقف الناظم عند عقد الصلح (ج 2/ ص 138) دون أن ينوّه عن عمرة القضاء، فرأى الشارح رحمه الله تعالى أنّ الحديث عن عمرة القضاء، وما جرى فيها من وقائع.. يعد جزءا مهما لاستكمال صلح الحديبية ونتائجه البالغة على المسلمين، فمن ثمّ تحدث عنها بالتفصيل.

كذلك لم يعرض الناظم للأحداث التي وقعت للمسلمين لما وصلوا إلى تبوك، (ج 2/ ص 294) وقد تنبّه لها الشارح رحمه الله فأكملها.

رابعا: عنايته بضبط أسماء الغزوات، والأماكن، والأسماء، ضبطا صحيحا، كتابة بالحروف حسب طريقة الضبط عند القدماء، وذكر الأقوال عند الاختلاف، وترجيح الصحيح، معتمدا في هذا على دواوين اللغة ومعاجمها، وكتب السيرة والتاريخ المتخصصة.

انظر مثالا لهذا: (غزوة ذي قرقرة) (ج 1/ ص 132) .

خامسا: اختياره من المصادر الأحداث والوقائع التي تنمي في القارئ روح التضحية والفداء في سبيل الله، والتي من شأنها أن تستثير في القارئ نوازع الخير، وتضاعف في نفسه محبة النّبيّ صلى الله عليه وسلم، والصحابة الكرام.

سادسا: اهتمامه بتحديد موقع الغزوة، وتاريخ حدوثها، وحامل لوائها، وعدد أفرادها، وذكر اسم خليفة رسول الله صلى الله عليه وسلم على المدينة أثناء غيابه عنها.

هذه هي العناصر الرئيسة في منهج المؤلف، وقد يقف الدارس بصفاء ذهنه وملكته على جوانب أخرى في منهج الشارح رحمه الله، تضم إلى ما سبق عرضه.
ব্যাখ্যাকারীর নিকট এই পরিবর্তনের মানদণ্ড হলো: ঘটনার সাথে তার পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে অথবা পরে যা উল্লেখ করা হবে তার সম্পর্ক।

তৃতীয়ত: তিনি সেই সব ঘটনা ও বিষয়সমূহ পূর্ণ করেছেন যা মূল রচয়িতার পক্ষে তুলে ধরা বা বর্ণনা করা সম্ভব হয়নি, যেমন:

ক- উমরাতুল কাযা: মূল রচয়িতা সন্ধি চুক্তির বর্ণনায় থেমে গিয়েছেন (খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ১৩৮), উমরাতুল কাযা সম্পর্কে কোনো কিছু উল্লেখ করা ছাড়াই। ফলে ব্যাখ্যাকারী (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) মনে করেছেন যে, উমরাতুল কাযা এবং এতে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী সম্পর্কে আলোচনা করা হুদাইবিয়ার সন্ধি এবং মুসলিমদের উপর এর সুদূরপ্রসারী ফলাফলসমূহ পূর্ণ করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই তিনি এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

একইভাবে মূল রচয়িতা মুসলিমদের তাবুক পৌঁছানোর পর যেসব ঘটনা ঘটেছিল তা তুলে ধরেননি (খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ২৯৪), ব্যাখ্যাকারী (রহিমাহুল্লাহ) সেদিকে লক্ষ্য করেছেন এবং তা পূর্ণ করেছেন।

চতুর্থত: যুদ্ধবিগ্রহের (গাযওয়া) নাম, স্থান এবং ব্যক্তিনামসমূহের সঠিক উচ্চারণ ও নির্ভুল বিন্যাসের প্রতি তাঁর যত্নশীলতা। তিনি প্রাচীনদের অনুসৃত পদ্ধতি অনুযায়ী অক্ষরের মাধ্যমে লিখে তা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করেছেন এবং মতভেদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অভিমত উল্লেখ করে সঠিকটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি ভাষা ও অভিধানের মূল গ্রন্থসমূহ এবং সীরাত ও ইতিহাসের বিশেষায়িত কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করেছেন।

এর একটি উদাহরণ দেখুন: (গাযওয়ায়ে যি ক্বারক্বারা) (খণ্ড ১/ পৃষ্ঠা ১৩২)।

পঞ্চমত: উৎসসমূহ থেকে এমন সব ঘটনা ও বিষয়সমূহ নির্বাচন করা যা পাঠকের মাঝে আল্লাহর পথে কুরবানি ও আত্মোৎসর্গের চেতনা বৃদ্ধি করে এবং যা পাঠকের মনে কল্যাণের প্রবৃত্তি জাগিয়ে তোলে এবং তাঁর অন্তরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সম্মানিত সাহাবীগণের প্রতি ভালোবাসা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ষষ্ঠত: যুদ্ধের স্থান, তা সংঘটিত হওয়ার তারিখ, পতাকাবাহী, সৈন্য সংখ্যা নির্ধারণ এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুপস্থিতিতে মদীনায় তাঁর প্রতিনিধির নাম উল্লেখ করার প্রতি তাঁর গুরুত্বারোপ।

এগুলোই হলো লেখকের কর্মপদ্ধতির প্রধান উপাদানসমূহ। একজন গবেষক তাঁর স্বচ্ছ চিন্তা ও মেধা দিয়ে ব্যাখ্যাকারীর (রহিমাহুল্লাহ) কর্মপদ্ধতির আরও অন্যান্য দিক সম্পর্কে অবগত হতে পারেন, যা ইতিপূর্বে উপস্থাপিত আলোচনার সাথে যুক্ত করা সম্ভব।
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌منهج الشارح رحمه الله تعالى في التعبير عن رأيه:

من السّمات البارزة في حياة المؤلف فضيلة الشيخ حسن بن محمّد المشاط تواضعه الجم مع الكبير والصغير، حالا ومقالا، وهو مظهر من مظاهر سلوكه العام، وبنفس السلوك يتعامل مع العلماء وآرائهم وكتبهم، ولا تبدو منه كلمة يشتمّ منها رائحة الجرح، فضلا عن الصريح.

يلمس القارئ هذا بوضوح فيما يذكر من آراء خاصة به، أو ترجيح، بعبارة متواضعة يستهلها أحيانا بقوله: (قال العبد الضعيف) في أكثر من موضع، أو مناسبة. انظر (ج 1/ ص 125- 127) .

وأحيانا يستهل الجملة عند ما يريد التعبير عن رأيه بقوله: (واعلم) أو بكلمة:

(قلت) بضمير المفرد المتكلم.

 

‌‌خصائص الشرح:

اشتمل الشرح على مجموعة من الخصائص العلمية المهمة نتيجة اهتمام الشارح رحمه الله، وبذله جهدا كبيرا في إنجازه، يطول الحديث في استعراضها تفصيلا، ومن الأجدى عرض أهم تلك الخصائص، ونماذج منها:

 

‌‌أولا: تحديد موقع الأماكن التي جرت فيها الأحداث،

وتحقيق أسمائها بحسب اشتهارها في الماضي، وتسميتها في الحاضر مثال هذا:

هدا الشام حاليا بوادي فاطمة الذي يسمى في كتب السيرة ب (الرجيع) وتنسب إليه وقعة الرجيع، وسماه الإمام في «جامعه» ب (الهداة) ويعلق الشارح رحمه الله تعالى هنا قائلا:

(قلت: ويسمى اليوم ب (هدا الشام) ويعرف بهذا الاسم، وله طريق من مر الظهران، وادي فاطمة، بينه وبينها نحو ساعة بالسيارة، وبهذا الموضع مزارع
ব্যাখ্যাদাতার (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) নিজস্ব মতামত প্রকাশের পদ্ধতি:

গ্রন্থকার ফজিলতুশ শাইখ হাসান বিন মুহাম্মদ আল-মাশাত-এর জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ছোট-বড় সবার প্রতি তাঁর অগাধ বিনয়, যা তাঁর কথা ও কাজ উভয় ক্ষেত্রেই প্রকাশ পেত। এটি ছিল তাঁর সাধারণ আচরণের একটি বহিঃপ্রকাশ। আলিমগণ এবং তাঁদের মতামত ও কিতাবসমূহের ক্ষেত্রেও তিনি একই আচরণ বজায় রাখতেন। তাঁর পক্ষ থেকে এমন কোনো শব্দ প্রকাশ পেত না যেখান থেকে সমালোচনার লেশমাত্র পাওয়া যায়, সরাসরি সমালোচনার তো প্রশ্নই আসে না।

পাঠক এটি স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারেন যখন তিনি তাঁর নিজস্ব কোনো মত বা কোনো বিষয়ের প্রাধান্য (তারজিহ) উল্লেখ করেন। তিনি অত্যন্ত বিনয়সূচক বাক্যের মাধ্যমে তা শুরু করেন, অনেক স্থানে বা উপলক্ষে তিনি বলেন: (এই দুর্বল বান্দা বলেছে)। দেখুন (১ম খণ্ড/ ১২৫-১২৭ পৃষ্ঠা)।

কখনও কখনও তিনি যখন নিজের মতামত প্রকাশ করতে চান, তখন বাক্যটি শুরু করেন: (জেনে রাখুন) কিংবা এই শব্দের মাধ্যমে:

(আমি বলেছি) উত্তম পুরুষ একবচনের সর্বনাম যোগে।

 

‌ব্যাখ্যার বৈশিষ্ট্যসমূহ:

ব্যাখ্যাকারের (রহিমাহুল্লাহ) বিশেষ মনোযোগ এবং এটি সম্পন্ন করতে তাঁর কঠোর পরিশ্রমের ফলে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ইলমি বৈশিষ্ট্যের সমাহার হয়েছে। এগুলোর বিস্তারিত পর্যালোচনায় দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন হবে, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং তার কিছু নমুনা উপস্থাপন করাই অধিক উপযোগী:

 

‌প্রথমত: ঘটনাসমূহ সংঘটিত হওয়ার স্থানসমূহ নির্ধারণ করা,

এবং অতীতে সেগুলোর প্রসিদ্ধি এবং বর্তমানে সেগুলোর নামকরণের আলোকে নামসমূহ তাহকিক (যাচাই) করা। এর উদাহরণ হলো:

বর্তমানে হাদা আশ-শাম হলো ‘ওয়াদি ফাতিমা’, যা সিরাত গ্রন্থসমূহে (রাজী) নামে অভিহিত এবং এর সাথে ‘রাজী’-এর যুদ্ধ সম্পর্কিত। ইমাম তাঁর ‘জামে’ গ্রন্থে একে (আল-হাদাত) নামে নামকরণ করেছেন। এখানে ব্যাখ্যাকার (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন:

(আমি বলছি: বর্তমানে এটি ‘হাদা আশ-শাম’ নামে পরিচিত এবং এই নামেই এটি চেনা যায়। মাররুজ জাহরান বা ওয়াদি ফাতিমা থেকে এর একটি রাস্তা রয়েছে, যেখান থেকে গাড়িতে সেখানে পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। এই স্থানে অনেক খামার রয়েছে...
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২১)
كثيرة، وهواء طلق، ونخيل، وعيون، وآبار عذبة جدا، جئته يوما من الصباح إلى المساء، فصليت في جامعه، وبه مدرسة ابتدائية، ويقال: إنّ عدد من يسكنها اليوم يقرب من الألف) (ج 2/ ص 51) .

 

‌‌ثانيا: تحقيقه للأحداث التي تتضارب فيها الروايات وتصحيحها:

ترد بعض الأحيان أحداث تختلف فيها الروايات فيفحصها الشارح رحمه الله بحاسة المحدث، المؤرّخ، الخبير بترتيب الأحداث، فيخرج برأي سديد.

من هذا ما ذكره نقلا عن كتاب «الروض الأنف» للسهيلي:

(أنّ رسول الله صلى الله عليه وسلم بلغه شيء عن أهل مسجد الضرار، وكان قد استخلف عاصم بن عدي العجلاني على قباء، والعالية، فرده لينظر في ذلك، وضرب له بسهمه مع أهل بدر) (ج 1/ ص 134) .

يقول الشارح رحمه الله تعالى في دراسة هذا وفحصه حسب الأصول العلمية:

(قلت: هكذا قالوا، ولم يكن إذ ذاك مسجد الضرار، وإنّما كان سنة تسع عند خروجه صلى الله عليه وسلم لتبوك، فيحتمل أن يكون استخلافه عليه الصلاة والسلام على أهل قباء والعالية من المدينة لشيء بلغه عنهم؛ ولذلك عدّ من البدريين، وضرب له بسهم، وهو المعتمد كما ذكره الحافظ في «الإصابة» أمّا ذكر مسجد الضرار.. فلا معنى له) . (ج 1/ ص 135) .

ويلجأ إلى التوفيق بين الروايات إذا أمكن، ما لم يؤدّ إلى تعارض أو تناقض، وذلك: بأن تنسب بعض الأحداث إلى بعض الصحابة، وفي روايات أخرى تنسب إلى آخرين سواهم، ولا يمنع العقل والواقع صدوره من كليهما، فيحاول الشارح رحمه الله تعالى بصفاء إيماني، وحب عميق، وإجلال وإكبار لصحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم.. التوفيق بينهما بمنطق مقبول، ومن الأمثلة على هذا:

ذكر الشارح رحمه الله: أنّ الإمام الزرقاني ذكر في «المواهب» : (عن
অনেক, নির্মল বাতাস, খেজুর গাছ, ঝরনা এবং অত্যন্ত সুপেয় পানির কূপ। আমি একদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে ছিলাম, তার জামে মসজিদে সালাত আদায় করেছি। সেখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বলা হয়: বর্তমানে সেখানে বসবাসকারীর সংখ্যা প্রায় এক হাজার। (খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ৫১) ।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: যে সকল ঘটনায় বর্ণনাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বৈপরীত্য রয়েছে সেগুলোর অনুসন্ধান ও সংশোধন:

মাঝে মাঝে এমন কিছু ঘটনা সামনে আসে যেগুলোর বর্ণনায় ভিন্নতা থাকে, তখন ব্যাখ্যাকার (রহিমাহুল্লাহ) একজন মুহাদ্দিস, ঐতিহাসিক এবং ঘটনাক্রম বিন্যাসে বিশেষজ্ঞের দূরদৃষ্টি দিয়ে সেগুলো পরীক্ষা করেন এবং একটি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন।

এর মধ্যে একটি হলো সুহাইলি-র ‘আর-রাওদুল উনুফ’ গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত তাঁর এই বক্তব্য:

(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাসজিদে দিরারের অধিবাসী সম্পর্কে কোনো সংবাদ পান, আর তিনি আসিম বিন আদি আল-আজলানিকে কুবা ও আলিয়ার দায়িত্ব দিয়ে সেখানে রেখে গিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি তাকে সেখানে কী ঘটছে তা দেখার জন্য ফেরত পাঠান এবং বদর যুদ্ধের অংশগ্রহণকারীদের সাথে তার জন্য একটি অংশ বরাদ্দ করেন।) (খণ্ড ১/ পৃষ্ঠা ১৩৪)।

বৈজ্ঞানিক মূলনীতির আলোকে এটি বিশ্লেষণ ও পরীক্ষা করে ব্যাখ্যাকার (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেন:

(আমি বলি: তারা এভাবেই বলেছেন, অথচ তখন মাসজিদে দিরারের অস্তিত্ব ছিল না। সেটি ছিল নবম হিজরিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাবুক অভিযানের সময়। সুতরাং সম্ভব যে, কুবা ও মদিনার উঁচু এলাকা (আলিয়া)-র অধিবাসীদের সম্পর্কে কোনো সংবাদ পাওয়ায় রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম তাকে তাদের উপর প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছিলেন; আর একারণেই তাকে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং তার জন্য একটি অংশ বরাদ্দ করা হয়েছে। এটিই নির্ভরযোগ্য মত, যেমনটি হাফিজ ইবনে হাজার ‘আল-ইসাবাহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তবে মাসজিদে দিরারের উল্লেখ করার... কোনো যৌক্তিকতা নেই।) (খণ্ড ১/ পৃষ্ঠা ১৩৫)।

যখনই সম্ভব হয় তিনি বর্ণনাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের পথ বেছে নেন, যদি না তা কোনো বিরোধ বা বৈপরীত্য সৃষ্টি করে। আর তা হলো: কোনো কোনো ঘটনা কিছু সাহাবীর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, আবার অন্য বর্ণনায় অন্যদের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। বুদ্ধি ও বাস্তবতার নিরিখে উভয় পক্ষ থেকেই তা ঘটা অসম্ভব নয়। এমতাবস্থায় ব্যাখ্যাকার (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) ঈমানি স্বচ্ছতা, গভীর ভালোবাসা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে একটি গ্রহণযোগ্য যুক্তির মাধ্যমে উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করেন। এর একটি উদাহরণ হলো:

ব্যাখ্যাকার (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন: ইমাম যারকানি ‘আল-মাওয়াহিব’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: (থেকে...
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২২)
عروة: أنّه لما وضع فيه- خبيب بن عدي رضي الله عنه السلاح نادوه- المشركون من بني لحيان فقد كان أسيرهم-: أتحب أنّ محمدا مكانك؟ قال: لا والله، ما أحب أن يفديني بشوكة في قدمه) .

وذكر الزرقاني رواية أخرى فقال: (ويقال: إنّ ذلك لزيد بن الدثنة، وأنّ أبا سفيان قال له ذلك) .

ويعلّق الشارح رحمه الله تعالى على هذا التعارض موفقا بين الروايتين قائلا:

(أقول: ولا منافاة، فمن الممكن أن يقع ذلك لكل من الصحابيين، وغايتهم واحدة، هو الله ورسوله صلى الله عليه وسلم (ج 2/ ص 53) .

 

‌‌ثالثا: اهتمامه بالروايات المتعددة:

إنّ الشارح رحمه الله تعالى معروف بدقته ويقظته الشديدة؛ لما بين مؤلفي السير من اتفاق أو اختلاف في الأحداث والوقائع، أو أسبابها، أو تعددها، وتعدد أسمائها.

من هذا ما جاء في (ج 1/ ص 169) في عرض أحداث غزوة بني سليم؛ إذ جاء تحت عنوان (تنبيه) ما يأتي:

(جعل الناظم غزوة بني سليم غير غزوة قرقرة الكدر؛ لما سيأتي، فهما غزوتان؛ تبعا لأصله «العيون» ، وجعلهما صاحب «المواهب» واحدة، وتبعه تلميذه الشامي) .

 

‌‌رابعا: مقارنته بين هذه المنظومة، وبين رصيفتها منظومة الشيخ غالي بن المختار في «تبصرة المحتاج» ، من هذا:

عرض الناظم رحمه الله لقصة العرنيين وسرية سعيد بن زيد رضي الله عنه في الأبيات الثلاث الآتية:

وبعدها انتهبها الأولى انتهوا … لغاية الجهد وطيبة اجتووا
উরওয়াহ থেকে বর্ণিত: যখন খুবায়েব ইবনে আদী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর অস্ত্র রাখা হলো (আঘাত করার জন্য), তখন বনু লিহইয়ানের মুশরিকরা—যাদের কাছে তিনি বন্দী ছিলেন—তাকে ডেকে বলল: "তুমি কি এটা পছন্দ করো যে, তোমার পরিবর্তে মুহাম্মাদ এখানে থাকুক?" তিনি বললেন: "না, আল্লাহর শপথ! আমি এটাও পছন্দ করি না যে, তিনি আমার বিনিময়ে তাঁর পায়ে একটি কাঁটার আঘাতও সহ্য করুন।"

যুরকানী অন্য একটি বর্ণনা উল্লেখ করে বলেন: "বলা হয় যে, এই ঘটনাটি যায়েদ ইবনে দাছিনার ক্ষেত্রে ঘটেছিল এবং আবু সুফিয়ান তাকে এটি বলেছিলেন।"

ব্যাখ্যাকার (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) এই দুই বর্ণনার বাহ্যিক বৈপরীত্যের ওপর উভয় বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন:

"আমি বলছি: এর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই; কারণ সম্ভবত এই ঘটনাটি উভয় সাহাবীর ক্ষেত্রেই ঘটেছিল এবং তাদের উদ্দেশ্য ছিল অভিন্ন—তা হলো আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।" (খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ৫৩)।

 

‌‌তৃতীয়ত: একাধিক বর্ণনার প্রতি তাঁর গুরুত্বারোপ:

ব্যাখ্যাকার (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) তাঁর সূক্ষ্মতা এবং প্রখর সতর্কতার জন্য সুপরিচিত; বিশেষ করে সীরাত লেখকদের মধ্যে ঘটনাবলী ও বাস্তব চিত্রগুলোর ক্ষেত্রে যে ঐক্য বা অনৈক্য রয়েছে, অথবা সেগুলোর কারণসমূহ, বা সেগুলোর সংখ্যা এবং নামসমূহের বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে।

এর একটি দৃষ্টান্ত হলো যা (খণ্ড ১/ পৃষ্ঠা ১৬৯)-এ বনু সুলাইম যুদ্ধের ঘটনাবলী বর্ণনায় এসেছে; সেখানে 'সতর্কতা' শিরোনামের অধীনে নিম্নোক্ত বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে:

"নাযিম (কবিতা রচয়িতা) বনু সুলাইম যুদ্ধকে কারকারাতুল কুদর যুদ্ধ থেকে ভিন্ন হিসেবে গণ্য করেছেন যা সামনে আসবে সেই সংবাদের ভিত্তিতে। সুতরাং এগুলো তাঁর মূল উৎস 'আল-উয়ুন'-এর অনুসরণে দুটি পৃথক যুদ্ধ। পক্ষান্তরে 'আল-মাওয়াহিব' গ্রন্থের লেখক এগুলোকে একটিই যুদ্ধ গণ্য করেছেন এবং তাঁর ছাত্র শামীও তাঁর অনুসরণ করেছেন।"

 

‌‌চতুর্থত: এই কাব্যগ্রন্থ এবং শেখ গালি ইবনুল মুখতারের 'তাবসিরাতুল মুহ্তাজ' কাব্যগ্রন্থের মধ্যে তাঁর তুলনামূলক আলোচনা; যেমন:

নাযিম (রাহিমাহুল্লাহ) উরাইনাহ গোত্রের ঘটনা এবং সাঈদ ইবনে যায়েদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সারিয়্যাহ বা সামরিক অভিযানের বিষয়টি পরবর্তী তিনটি পংক্তিতে উপস্থাপন করেছেন:

অতঃপর যারা সীমালঙ্ঘন করেছিল তারা তা লুণ্ঠন করল … চরম প্রচেষ্টার পর, আর মদীনার আবহাওয়া তাদের প্রতিকূল হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
فخرجوا وشربوا ألبانها … ونبذوا إذ سمنوا أمانها

فاقتصّ منهم النّبي أن مثلوا … بعبده ومقلتيه سملوا

وبعد أن أتمّ الشارح رحمه الله تعالى تحليلها وبيانها، وفصل أحداث هذه السرية.. ذكر الآتي:

وقد أشار إلى هذه السرية الشيخ غالي بن المختار في «تبصرة المحتاج» بأبسط ممّا ههنا، وسماها بسرية كرز بن جابر الفهري بقوله:

فنجل جابر لنيف ذو العلا … كرز بإثر نفر عدوا على

لقاح خير مرسل وقتلوا … غلامه ومقلتيه سملوا

وإذ بهم أتى النّبي قطعا … أيديهم ونعم ما قد صنعا

وقطع الأرجل ثمّ سملا … أعينهم وردّهم ممتثلا

بجانب الحرة يستسقونا … لما أصابهم فلا يسقونا

(ج 2/ ص 74)

 

‌‌خامسا: اهتمامه بالجوانب الفقهية:

الفقه الإسلامي أحد العلوم التي برع فيها الشارح- رحمه الله تعالى- وملك عنانها، فلا عجب أن يعطي الجانب الفقهي اهتماما كبيرا، خصوصا وأنّ المواقف النبوية في هذه الغزوات ذات طابع خاص.. تعد مصدرا لأحكام شرعية كثيرة لا مجال لإبرازها واستنباطها.. إلّا من خلال أقوال الرسول صلى الله عليه وسلم، وأفعاله، وتحرّكاته في هذه المناسبات بخاصة، وبحكم التفاعل العلمي الفقهي في نفس الشارح رحمه الله تعالى.. لم يأل جهدا أن يتحدث عن الجوانب الفقهية، والأحكام التشريعية إذا طرأت مناسبة لذلك، والأمثلة على هذا كثيرة، ومنثورة في صفحات الكتاب، وعرض الأحداث، ويكتفى هنا بالإشارة إلى عناوين بعضها، مثل:
তারা বের হয়ে গেল এবং সেগুলোর দুধ পান করল … এবং যখন তারা হৃষ্টপুষ্ট হলো তখন তারা নিরাপত্তা ও অঙ্গীকার বিসর্জন দিল।

ফলে নবী (সা.) তাদের থেকে কিসাস গ্রহণ করলেন কারণ তারা বিকৃতি ঘটিয়েছিল … তাঁর দাসের ওপর এবং তাঁর দুই চোখের মণি তারা উপড়ে ফেলেছিল।

ব্যাখ্যাকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এর বিশ্লেষণ ও বর্ণনা সম্পন্ন করার পর এবং এই অভিযানের ঘটনাবলি বিস্তারিত বর্ণনা করার পর নিম্নোক্ত বিষয়টি উল্লেখ করেছেন:

শায়খ গালি বিন আল-মুখতার ‘তাবসিরাতুল মুহতাজ’ গ্রন্থে এই অভিযানটি এখানে বর্ণিত আলোচনার চেয়েও বিস্তারিতভাবে ইঙ্গিত করেছেন এবং তিনি একে ‘করজ বিন জাবির আল-ফিহরি-এর অভিযান’ নামে অভিহিত করে বলেছেন:

অতঃপর জাবিরের উচ্চমর্যাদাশীল পুত্র … করজ সেই দলের পিছু নিলেন যারা অবাধ্যতা ও বিদ্রোহ করেছিল।

শ্রেষ্ঠ রাসুলের উষ্ট্রীর পালের ওপর (তারা আক্রমণ করেছিল) এবং তারা হত্যা করেছিল … তাঁর গোলামকে এবং তাঁর দুই চোখের মণি তারা উপড়ে ফেলেছিল।

অতঃপর যখন তাদের নবী (সা.) এর নিকট আনা হলো, তিনি কেটে দিলেন … তাদের হাতসমূহ, আর তিনি যা করেছিলেন তা কতই না উত্তম ছিল।

এবং তিনি পাগুলো কেটে দিলেন, এরপর উপড়ে ফেললেন … তাদের চোখগুলো এবং আদেশ পালনার্থে তাদের সে অবস্থায় ফেলে রাখলেন।

হাররার (পাথুরে ভূমি) একপাশে তারা পানি প্রার্থনা করছিল … তাদের ওপর আপতিত শাস্তির কারণে, কিন্তু তাদের পানি পান করানো হয়নি।

(খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ৭৪)

 

‌‌পঞ্চম: ফিকহী দিকসমূহের প্রতি তাঁর গুরুত্বারোপ:

ইসলামী ফিকহ এমন একটি শাস্ত্র যাতে ব্যাখ্যাকার (রাহিমাহুল্লাহ) পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন এবং এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভ করেছিলেন। তাই তিনি ফিকহী দিকটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেবেন এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, বিশেষ করে এই যুদ্ধবিগ্রহগুলোতে নবীজির অবস্থানগুলো একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী... যা অনেক শারয়ী বিধানের উৎস হিসেবে বিবেচিত, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, কর্ম এবং বিশেষত এই উপলক্ষগুলোতে তাঁর পদক্ষেপসমূহের মাধ্যম ছাড়া প্রকাশ ও আহরণ করার কোনো সুযোগ নেই। ব্যাখ্যাকার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর অন্তরে বিদ্যমান ফিকহী ইলমের সক্রিয়তার কারণে... কোনো সুযোগ উপস্থিত হলে তিনি ফিকহী দিকসমূহ এবং বিধানসমূহ নিয়ে আলোচনা করতে কোনো ত্রুটি করেননি। এর উদাহরণ বইটির পাতাগুলোতে এবং ঘটনাবলি বর্ণনায় প্রচুর পরিমাণে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এখানে কেবল কয়েকটির শিরোনাম উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করা হচ্ছে, যেমন:
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
1- حكم من دعا بدعوى الجاهلية في الإسلام، وأقوال الفقهاء فيه (ج 2/ ص 85) .

2- حرمة التسبب لإسقاط الأطفال، وحكم استعمال الحبل من أصله (ج 2/ ص 101) .

3- جواز الاجتهاد بحضرة النّبيّ صلى الله عليه وسلم (ج 2/ ص 50) .

4- حكم أخذ الأجرة على دخول الكعبة (ج 2/ ص 226) .

5- حكم النياحة على الميت، وإرهاق أهل الميت بعمل طعام للمعزين (ج 2/ ص 172، 173) .

6- هل يغسل الشهيد إذا كان جنبا (ج 1/ ص 233- 234) .

7- المعنى الذي ينبغي أن يحمل عليه حديث المغفرة لأهل بدر، وحكم ما إذا ارتكب أحدهم فعلا يوجب حدا شرعيا (ج 1/ ص 128) .

 

‌‌سادسا: استخلاص الفوائد والعبر من الأحداث:

من أبرز الجوانب التي يحرص عليها الشارح رحمه الله هو استخلاص الفوائد والعبر من الأحداث مما يفيد الأمّة الإسلامية، ويرفع من شأنها، ويعيد إليها أمجادها، قد يطول به الوقوف عند الحدث حسبما يمليه الموقف، وقد يقصر، وهو حريص كل الحرص على توجيه نظر القارئ بخاصة، والمسلمين بعامة إلى الإفادة من التجارب التي مرّ بها المسلمون في عصر النبوة، والخلافة الراشدة، والأخذ بالأسباب التي تقودهم إلى العزة والكرامة، وتباعد بينهم وبين أسباب الذل والانحطاط.

تتجلى هذه الروح منذ الصفحات الأولى من هذا الكتاب، ففي نهاية حديثه عن المغازي، وفضل علمها وتعلمها يقول:
১- ইসলামে জাহেলিয়াতের আহ্বানে আহ্বানকারীর বিধান এবং এ বিষয়ে ফকিহগণের বক্তব্য (খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ৮৫)।

২- গর্ভপাতের কারণ হওয়ার নিষিদ্ধতা এবং মূলত গর্ভধারণ রোধ করার উপায় ব্যবহারের বিধান (খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ১০১)।

৩- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপস্থিতিতে ইজতিহাদ করার বৈধতা (খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ৫০)।

৪- কাবা ঘরে প্রবেশের জন্য বিনিময় বা পারিশ্রমিক গ্রহণের বিধান (খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ২২৬)।

৫- মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করার বিধান এবং শোকপ্রকাশকারীদের জন্য খাবার তৈরির মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির পরিবারকে কষ্ট দেওয়ার বিধান (খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ১৭২, ১৭৩)।

৬- শহীদ যদি অপবিত্র (জুনুবি) অবস্থায় থাকেন তবে কি তাকে গোসল করানো হবে? (খণ্ড ১/ পৃষ্ঠা ২৩৩- ২৩৪)।

৭- বদরবাসীদের জন্য ক্ষমার হাদিসটিকে যে অর্থে গ্রহণ করা উচিত এবং তাদের কেউ যদি শরয়ি দণ্ড (হদ) প্রযোজ্য হয় এমন কোনো কাজ করে তবে তার বিধান (খণ্ড ১/ পৃষ্ঠা ১২৮)।

 

‌‌ষষ্ঠত: ঘটনাবলি থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ:

ব্যাখ্যাকার (রহিমাহুল্লাহ) যে বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো ঘটনাবলি থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করা, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য কল্যাণকর, তাদের মর্যাদাকে সমুন্নত করে এবং তাদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনে। পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী কোনো ঘটনার বিশ্লেষণে তিনি দীর্ঘ আলোচনা করেন, আবার কখনো সংক্ষেপ করেন। তিনি বিশেষভাবে পাঠকের এবং সাধারণভাবে সকল মুসলিমের দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে অত্যন্ত সচেষ্ট—যাতে তারা নবুওয়াত ও খেলাফতে রাশেদার যুগে মুসলিমদের অতিক্রান্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে এবং সেই সব পথ অবলম্বন করে যা তাদের মর্যাদা ও সম্মানের দিকে নিয়ে যায় এবং তাদের থেকে লাঞ্ছনা ও অধঃপতনের কারণগুলোকে দূরে সরিয়ে দেয়।

এই চেতনা কিতাবটির প্রথম পৃষ্ঠাগুলো থেকেই সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে; যুদ্ধের ইতিহাস এবং তা জানা ও শেখার ফজিলত সম্পর্কে আলোচনার শেষে তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
(وإنّ في النظر إلى ما لأسلافنا الكرام القادة في الحرب والسلم، من المقدرة الفائقة، والبطولة النادرة، والتضحية بالمهج الغالية في سبيل العقيدة الحقة، والمبادئ الفاضلة.. ما يملأ القلوب إيمانا بفضلهم، وإعجابا بصنعهم، وإكبارا لجلائل أعمالهم، وحرصا على التأسّي بهم.

وفّق الله الأمّة للنظر فيما لسلفها الصالح؛ حتى تفيق من غفلتها، وتنهض من كبوتها، وتتذكر بذلك ما كان لها من عظمة ومجد، فتعمل لاسترجاعه، وتتبوّأ المكان اللائق بها، آمين) .

وهكذا تعامله مع كل حدث فيه تذكير واستحثاث لهمة الأمّة، وتوجيه نداء مخلص لأبنائها، والنماذج من هذه الوقفات للشارح رحمه الله تعالى كثيرة، منها:

ما ذكره من حكمة الرسول صلى الله عليه وسلم في إمضاء شروط صلح الحديبية (ج 2/ ص 121) .

وفوائد قصة التحلل من إحرام العمرة بعد إبرام عقد الصلح (ج 2/ ص 127) وغيرها كثير امتلأت به صفحات الشرح.

 

‌‌سابعا: ربطه بعض الأحداث قديما بما هو جار في العصر الحاضر:

لا ينسى الشارح رحمه الله تعالى أن يقارن الأحداث في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم بما يجري في عالمنا المعاصر؛ لإذكاء الشعور الإيماني، وبيان الواقع الذي انحدرت إليه الأمة، أو بعض طوائفها، ومن الأمثلة على هذا:

1- حديثه عن مشروعية الوقف في الإسلام بمناسبة تحبيس النّبيّ صلى الله عليه وسلم سبع حوائط بأنّه:

(أحد الأدلة الكثيرة على مشروعية الوقف في الإسلام) .

ثمّ يعلّق الشارح رحمه الله تعالى على هذا قائلا:
(যুদ্ধ ও শান্তিতে আমাদের সম্মানিত পূর্বসূরি নেতাদের অসাধারণ সক্ষমতা, বিরল বীরত্ব এবং সত্য আকিদা ও মহৎ নীতিমালার পথে অমূল্য জীবন বিসর্জনের প্রতি দৃষ্টিপাত করা এমন একটি বিষয়, যা অন্তরকে তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি ঈমানে, তাঁদের কর্মের প্রতি বিস্ময়ে এবং তাঁদের মহান কার্যাবলির প্রতি শ্রদ্ধায় পূর্ণ করে দেয় এবং তাঁদের অনুসরণে আগ্রহী করে তোলে।

আল্লাহ এই উম্মতকে তাঁদের নেককার পূর্বসূরিদের (সালাফ) অবস্থার প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার তাওফিক দান করুন; যাতে তারা তাদের অসচেতনতা থেকে জাগ্রত হয়, হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়া থেকে উঠে দাঁড়ায় এবং এর মাধ্যমে তারা তাদের হারানো গৌরব ও মর্যাদা স্মরণ করে তা পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হয় এবং নিজেদের যোগ্য স্থানে আসীন হয়, আমিন)।

এভাবেই তিনি প্রতিটি ঘটনার সাথে আচরণ করেছেন যেখানে উম্মাহর হিম্মতকে জাগ্রত ও ত্বরান্বিত করার এবং এর সন্তানদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানানোর সুযোগ রয়েছে। ব্যাখ্যাকার (রাহিমাহুল্লাহ) এর এই ধরণের অবস্থানের দৃষ্টান্ত অনেক, তার মধ্যে রয়েছে:

হুদাইবিয়ার সন্ধির শর্তাবলি কার্যকর করার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রজ্ঞা সম্পর্কে তিনি যা উল্লেখ করেছেন (খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ১২১)।

এবং সন্ধি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর উমরার ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার ঘটনার শিক্ষা ও উপকারিতা (খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ১২৭) এবং এ জাতীয় আরও অনেক বিষয় যা ব্যাখ্যার পৃষ্ঠাগুলোতে পরিপূর্ণ রয়েছে।

 

‌‌সপ্তম: অতীতের কিছু ঘটনাকে বর্তমান যুগে যা ঘটছে তার সাথে সম্পৃক্ত করা:

ব্যাখ্যাকার (রাহিমাহুল্লাহ) ঈমানি চেতনাকে প্রজ্জ্বলিত করতে এবং উম্মাহ বা উম্মাহর কিছু দল যে বাস্তবতায় পতিত হয়েছে তা বর্ণনা করার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগের ঘটনাবলিকে আমাদের সমসাময়িক বিশ্বের পরিস্থিতির সাথে তুলনা করতে ভুলেন না; এর উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাতটি বাগান ওয়াকফ করার প্রেক্ষিতে ইসলামে ওয়াকফ-এর বৈধতা সম্পর্কে তাঁর আলোচনা যে, এটি:

(ইসলামে ওয়াকফ-এর বৈধতার অনেক দলিলের মধ্যে একটি দলিল)।

অতঃপর ব্যাখ্যাকার (রাহিমাহুল্লাহ) এর ওপর মন্তব্য করে বলেন:
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
(خلافا لبعض علماء العصر ممّن يريد حل الأوقاف الإسلامية تبعا للهوى، هدانا الله، وإيّاهم على الصراط المستقيم) (ج 1/ ص 231) .

2- توجيه شباب الأمّة ونصحهم بالاقتداء بالصحب الكرام (ج 1/ ص 219) .

 

‌‌ثامنا: استشهاده بالشعر:

والشارح رحمه الله تعالى يقول الشعر، ويحفظه، خصوصا الشعر الرصين، الرفيع المعاني، الرقيق الحواشي، البليغ العبارة، وقد نثر هذا في مناسبات عديدة من الشرح، بما يلائم الموقف الذي يتحدث فيه.

ففي عرض أحداث غزوة خيبر، وتطلّع الصحابة رضوان الله عليهم إلى أن يعطى كل واحد منهم الراية عندما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لأعطينّ الراية رجلا يحبه الله ورسوله» ، ثمّ أعطاها عليا رضي الله عنه، وكان متخلفا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم لرمد أصابه، ثم لحق بالنّبيّ صلى الله عليه وسلم وأصحابه، وكانت الراية من نصيبه، ويعلق الشارح رحمه الله تعالى على هذا الحدث العظيم في (ج 2/ ص 146) بقوله:

(وفي هذه القصة لطيفة، وهي: أنّ من طلب شيئا، أو تعرّض لطلبه..

يحرمه غالبا، وأنّ من لم يطلب شيئا، ولم يتعرض لطلبه.. ربما وصل إليه) .

ثمّ يستشهد على هذا بالبيت التالي:

والدهر يعطي الفتى ما ليس يطلبه … يوما ويمنعه من حيث يطمعه

وإذا دعت المناسبة لذكر بعض الأشعار ذات المعاني الطريفة.. فإنّه يستشهد بها، مقدما لها بعنوان له مدلوله الرقيق (لطيفة) .

من هذا ما ذكره تحت هذا العنوان بعد الحديث عن أهل بدر وما خصّهم الله من مغفرة ورضوان قائلا:
(বর্তমান যুগের কিছু আলেমদের মতের বিপরীতে, যারা প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে ইসলামি ওয়াকফ বাতিল করতে চায়; আল্লাহ আমাদের এবং তাদেরকে সঠিক পথের দিশা দিন) (খন্ড ১/ পৃষ্ঠা ২৩১)।

২- উম্মাহর যুবকদের দিকনির্দেশনা প্রদান এবং তাঁদেরকে সম্মানিত সাহাবীগণের অনুসরণের উপদেশ প্রদান (খন্ড ১/ পৃষ্ঠা ২১৯)।

 

‌‌অষ্টম: কবিতা দ্বারা প্রমাণ উপস্থাপন:

ব্যাখ্যাকারী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) নিজেও কবিতা বলতেন এবং মুখস্থ রাখতেন, বিশেষ করে সেইসব কবিতা যা অত্যন্ত সুসংহত, উচ্চ অর্থবোধক, সূক্ষ্ম শৈলীসম্পন্ন এবং সাবলীল। তিনি ব্যাখ্যার বিভিন্ন স্থানে প্রসঙ্গের সাথে সংগতি রেখে এ ধরনের কবিতা ব্যবহার করেছেন।

যেমন খায়বার যুদ্ধের ঘটনাবলী বর্ণনার সময় এবং সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সেই আকাঙ্ক্ষা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: «আমি অবশ্যই এমন এক ব্যক্তিকে পতাকা দান করব যাকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ভালোবাসেন», অতঃপর তিনি তা আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে প্রদান করেন। তিনি চোখের অসুখের কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আসতে পারেননি, পরে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের সাথে যোগ দেন এবং পতাকাটি তাঁর ভাগ্যেই জোটে। ব্যাখ্যাকারী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) এই মহান ঘটনার ওপর (খন্ড ২/ পৃষ্ঠা ১৪৬) মন্তব্য করে বলেন:

(এই ঘটনার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম বিষয় রয়েছে, তা হলো: যে ব্যক্তি কোনো কিছু প্রার্থনা করে বা পাওয়ার চেষ্টা করে, সে প্রায়ই তা থেকে বঞ্চিত হয়; আর যে ব্যক্তি কোনো কিছু প্রার্থনা করে না এবং তা পাওয়ার চেষ্টাও করে না, সম্ভবত তা তার কাছে পৌঁছে যায়)।

অতঃপর তিনি এর স্বপক্ষে নিম্নোক্ত কবিতাটি উদ্ধৃত করেন:

সময় কোনো একদিন যুবককে তা-ই দান করে যা সে চায়নি … আর তাকে সেখান থেকে বঞ্চিত করে যেখান থেকে সে পাওয়ার আশা করেছিল।

আর যখন কোনো চমৎকার অর্থবোধক কবিতা উল্লেখ করার সুযোগ তৈরি হয়, তখন তিনি সেটি পেশ করেন এবং এর আগে একটি অর্থবহ শিরোনাম প্রদান করেন, যা হলো (লতিফাহ বা সূক্ষ্ম বিষয়)।

এর একটি উদাহরণ হলো যা তিনি এই শিরোনামের অধীনে বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে আলোচনা এবং আল্লাহ তাঁদেরকে যে বিশেষ ক্ষমা ও সন্তুষ্টি দান করেছেন তা উল্লেখ করার পর বলেছেন:
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
اقتبس الحديث المذكور بعض الأدباء فقال في محبوب يسمى بدرا «1» :

يا بدر أهلك جاروا … وعلموك التجري

وقبحوا لك وصلي … وزيّنوا لك هجري

فليفعلوا ما أرادوا … فإنّهم أهل بدر

 

‌‌تاسعا: استطراداته:

الاستطراد: عبارة عن إضافة معلومات إلى الموضوع الأساسي ممّا له علاقة به، لأدنى ملابسة، وقد حرص العلماء القدامى على هذا النوع من الإضافات في مؤلفاتهم، حتى إنّها كانت من حسنات التأليف وفضائله.

فليس عجبا أن يأخذ الشارح رحمه الله تعالى بهذا المبدأ جريا على عادة المؤلفين السابقين، فيمتلئ كتابه بالاستطرادات الكثيرة، والإضافات المفيدة، فيطيب له إذا وردت مناسبة لذكر فائدة، أو إضافة معلومة ذات علاقة بالموضوع أن يتحدث عنها.

ومن الاستطردات المهمة ما جاء في (ج 2/ ص 160) بعد الانتهاء من عرض أحداث أمراء جيش مؤتة رضي الله عنهم إسهابه في التعريف بكل واحد منهم:

زيد بن حارثة، وجعفر بن أبي طالب، وعبد الله بن رواحة بدءا من (ص 164- 180) ، حتى وقد بدأ التعريف بهم بقوله رحمه الله تعالى:

(وحيث حدا بنا المقام إلى هؤلاء الأمراء الثلاثة.. فلا بأس أن نلم بشيء من التعريف بهم، تيمّنا بذكراهم، وإن كانوا في غنية عن التعريف؛ لشرفهم العظيم بالانتساب الحقيقي إلى الجناب النبوي رضوان الله عليهم، لكنا في شديد الحاجة إلى معرفة حياتهم في ذلك العصر النبوي؛ لنقتفي آثارهم، ونتيمن بآثارهم، ونعطر النواصي بأريج شذاهم … ) (ج 62 ص 164) .

--------------------------------------------

(1) (ج 1/ ص 78) .
উক্ত হাদীসটি কিছু সাহিত্যিক উদ্ধৃত করেছেন এবং 'বদর' নামক এক প্রিয়ভাজন সম্পর্কে বলেছেন: «১» :

হে বদর! তোমার স্বজনরা জুলুম করেছে … আর তোমাকে শিখিয়েছে অবাধ্যতা

তারা তোমার কাছে আমার মিলনকে কদর্য করেছে … আর আমার বিচ্ছেদকে তোমার কাছে সুশোভিত করেছে

তারা যা চায় করুক … কেননা তারা তো বদরবাসী (আহলু বদর)

 

‌‌নবম: তাঁর প্রাসঙ্গিক আলোচনা (ইস্তিতরাদ):

ইস্তিতরাদ বা প্রাসঙ্গিক আলোচনা হলো: মূল বিষয়ের সাথে সামান্যতম সম্পর্ক আছে এমন কোনো তথ্য মূল বিষয়ের সাথে যুক্ত করা। প্রাচীন আলেমগণ তাঁদের গ্রন্থাবলীতে এই ধরণের সংযোজন করতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন, এমনকি এটি গ্রন্থ রচনার অন্যতম সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য হতো।

তাই এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, ব্যাখ্যাকার (শারহ-কারী) - আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন - পূর্ববর্তী লেখকদের রীতি অনুযায়ী এই নীতি গ্রহণ করেছেন। ফলে তাঁর গ্রন্থটি প্রচুর প্রাসঙ্গিক আলোচনা এবং উপকারী সংযোজনে পরিপূর্ণ হয়েছে। তাই যখনই কোনো বিশেষ উপকারিতা উল্লেখ করার বা বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট তথ্য যোগ করার সুযোগ আসে, তিনি সে সম্পর্কে আলোচনা করা পছন্দ করেন।

গুরুত্বপূর্ণ প্রাসঙ্গিক আলোচনার মধ্যে রয়েছে যা (২য় খণ্ড/ পৃষ্ঠা ১৬০) এ মুতার যুদ্ধের সেনাপতিদের - আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন - ঘটনাবলী বর্ণনা শেষ করার পর তাঁদের প্রত্যেকের বিস্তারিত পরিচয় প্রদানের ক্ষেত্রে এসেছে:

যায়েদ ইবনে হারিসা, জাফর ইবনে আবি তালিব এবং আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা; যা (পৃষ্ঠা ১৬৪-১৮০) পর্যন্ত বিস্তৃত। এমনকি তাঁদের পরিচয় প্রদান শুরু করতে গিয়ে তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন:

(যেহেতু আলোচনার প্রেক্ষাপট আমাদের এই তিনজন সেনাপতির দিকে নিয়ে এসেছে... তাই তাঁদের স্মৃতির বরকত লাভের উদ্দেশ্যে তাঁদের সামান্য পরিচয় তুলে ধরায় কোনো ক্ষতি নেই। যদিও তাঁরা পরিচয়ের মুখাপেক্ষী নন; কেননা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র সান্নিধ্যে প্রকৃত সম্বন্ধের কারণে তাঁরা সুউচ্চ সম্মানের অধিকারী - আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন। তবে নবুওয়াতের সেই যুগে তাঁদের জীবন সম্পর্কে জানা আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন; যাতে আমরা তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারি, তাঁদের আদর্শের মাধ্যমে বরকত লাভ করতে পারি এবং তাঁদের সুবাসের ঘ্রাণে নিজেদের ললাটকে সুগন্ধিত করতে পারি … ) (খণ্ড ৬২, পৃষ্ঠা ১৬৪)।

--------------------------------------------

(১) (১ম খণ্ড/ পৃষ্ঠা ৭৮)।
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
وبعد أن أطنب في ترجمة زيد بن حارثة رضي الله عنه.. ساقه الحديث إلى ذكر الأربعة الذين توالدوا صحابة (ج 2/ ص 169) .

وبعد أن عددهم.. ساقه الحديث إلى الكلام عن موالي النّبيّ صلى الله عليه وسلم، وقدم لذكرهم بمقدمة مدخلا لإيجاد المناسبة لذكرهم قائلا:

(وبمناسبة ذكر سيدنا زيد لا بأس بإتمام مواليه صلى الله عليه وسلم تتميما للفائدة) (ج 2/ ص 169) .

ومن الاستطرادات المهمة التي أشبع بها الكتاب ذكره حدود الحرم، وتاريخ ترسيم الحدود، لدى عرض أحداث غزوة الفتح، وفتح النّبيّ صلى الله عليه وسلم لمكة المكرمة، وعفوه عن أهلها، وتحريمه لها، فذكر تحت عنوان (تاريخ أنصاب الحرم) (ج 2/ ص 197) اقتباسات مهمة عن مؤرخ مكة المكرمة أبي الوليد الأزرقي، فذكر أول من نصب أنصاب الحرم، وتابع بعد هذا الحديث عن من جددها حتى عهد سيدنا عمر بن الخطاب رضي الله عنه (ج 2/ ص 197) .

وفي مناسبة أخرى لدى الحديث عن إسلام عبد الله بن أميّة القرشي المخزومي، وكان هو وأبو سفيان بن الحارث شديدي الإيذاء للنّبيّ صلى الله عليه وسلم بمكة، وبعد الهجرة، وما كان من إعراض النّبيّ صلى الله عليه وسلم عنه تأديبا، ثمّ شفاعة أخته أم سلمة رضي الله عنها فيه، ثمّ عفو النّبيّ صلى الله عليه وسلم عنهما، يقول الشارح تعليقا (ج 2/ ص 192) .

ولكن احتضنتهما السعادة، جعلنا الله ممّن سبقت له العناية، وكتب له السعادة:

رب شخص تقوده الأقدار … للمعالي وما لذاك اختيار

غافلا والسعادة احتضنته … وهو منها مستوحش نفار

والشارح رحمه الله تعالى يحفظ الكثير من الشعر العذب الرقيق، ويستشهد به
যায়েদ ইবনে হারিসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর জীবনী বিস্তারিতভাবে আলোচনা করার পর, প্রসঙ্গের ধারাবাহিকতায় তাঁর আলোচনা সেই চারজন ব্যক্তির বর্ণনার দিকে প্রবাহিত হয়েছে যাঁদের বংশধরগণও সাহাবী হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন (খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ১৬৯)।

তাঁদের সংখ্যা গণনা করার পর, আলোচনার ধারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুক্তদাসদের বর্ণনার দিকে মোড় নেয়। তাঁদের কথা উল্লেখ করার পূর্বে তিনি একটি ভূমিকা পেশ করেছেন যাতে তাঁদের আলোচনার প্রাসঙ্গিকতা তৈরি হয়, তিনি বলেন:

(আমাদের নেতা যায়েদের বর্ণনার ধারাবাহিকতায়, উপকারের পূর্ণতার লক্ষ্যে নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর অন্যান্য মুক্তদাসদের কথা পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করাতে কোনো বাধা নেই) (খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ১৬৯)।

এই কিতাবটি যে সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রাসঙ্গিক আলোচনা দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো হারামের সীমানা এবং এই সীমানা নির্ধারণের ইতিহাসের বর্ণনা। মক্কা বিজয়ের ঘটনাবলি উপস্থাপনের সময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মক্কা বিজয়, মক্কাবাসীদের প্রতি তাঁর ক্ষমা প্রদর্শন এবং মক্কাকে পবিত্র (হারাম) ঘোষণা করার বর্ণনার সাথে এটি এসেছে। তিনি 'হারামের সীমানা স্তম্ভের ইতিহাস' শিরোনামের অধীনে (খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ১৯৭) মক্কা মুকাররমার ইতিহাসবিদ আবু ওয়ালিদ আল-আযরাকী থেকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। সেখানে তিনি সর্বপ্রথম কে হারামের সীমানা স্তম্ভ স্থাপন করেছিলেন তা উল্লেখ করেছেন এবং এরপর আমাদের নেতা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগ পর্যন্ত কারা তা সংস্কার করেছিলেন সে সম্পর্কে আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন (খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ১৯৭)।

অন্য এক প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ ইবনে উমাইয়া আল-কুরাশী আল-মাখযুমীর ইসলাম গ্রহণের আলোচনার সময়—যিনি এবং আবু সুফিয়ান ইবনুল হারিস মক্কায় ও হিজরতের পর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কঠোরভাবে কষ্ট দিতেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের শিষ্টাচার শেখানোর জন্য প্রথমে বিমুখতা প্রকাশ করেছিলেন, পরবর্তীতে তাঁর বোন উম্মে সালামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা)-এর সুপারিশে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের উভয়কে ক্ষমা করে দেন—সেখানে ব্যাখ্যাকার মন্তব্য করে বলেন (খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ১৯২):

কিন্তু পরম সৌভাগ্য তাঁদের উভয়কে আলিঙ্গন করল। আল্লাহ তাআলা আমাদের সেই সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করুন যাঁদের জন্য আল্লাহর যত্ন পূর্বনির্ধারিত এবং যাঁদের জন্য তিনি সৌভাগ্য লিখে রেখেছেন:

কত ব্যক্তিই তো এমন আছে যাকে তাকদীর উচ্চ মর্যাদার দিকে নিয়ে যায় … অথচ এতে তার নিজস্ব কোনো হাত বা ইচ্ছাশক্তি থাকে না;

সে ছিল অসচেতন, অথচ সৌভাগ্য তাকে আলিঙ্গন করেছে … যদিও সে তা থেকে উদাসীন ও পলায়নপর ছিল।

ব্যাখ্যাকার (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) অনেক শ্রুতিমধুর ও মার্জিত কবিতা মুখস্থ রাখতেন এবং সেগুলো উদ্ধৃতি হিসেবে ব্যবহার করতেন।
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
ما عنت له مناسبة.

وقد أبدع بعض الشعراء معنى بديعيا من قتل علي بن أبي طالب رضي الله عنه مرحبا اليهودي مستخدما الجناس التام في البيتين التاليين، هامش (2) (ج 2/ ص 149) يقول الشارح رحمه الله:

وأشار لذلك بعضهم وأجاد بقوله:

وشادن أبصرته مقبلا … فقلت من وجدي به مرحبا

قدّ فؤادي في الهوى قدة … قدّ علي في الوغى مرحبا

إلى غير ذلك من الاستشهادات العديدة للمعاني الرفيعة، والخيال البديع.

 

‌‌عاشرا: العرض الإجمالي لأهم الأحداث من عام ولادته صلى الله عليه وسلم إلى عام وفاته:

ختم الشارح رحمه الله تعالى هذا الكتاب بما اعتاده بعض المؤلّفين في السيرة النبوية الشريفة بعرض بعض الأحداث والتشريعات المهمة، التي وقعت من عام ولادته الشريفة صلى الله عليه وسلم الذي شرف الله به العالمين إلى عام وفاته صلى الله عليه وسلم.

ويلاحظ في هذا العرض أمور:

أولا: أنّه لم يكن متسلسلا سنة بعد سنة ترتيبا متتابعا، بل حسب وقوع الأحداث، السابق فالتالي، وإن تباعد ما بينهما؛ ولعله لم يوجد بينهما من الأحداث المهمة ما يوجب رصده، والاهتمام به.

بدا هذا واضحا منذ بداية العرض الموجز لقائمة الأحداث المهمة، حيث انتقل الشارح رحمه الله تعالى من سنة ولادته صلى الله عليه وسلم إلى السنة الرابعة مباشرة، ومنها إلى السادسة، وقد تتسلسل الأحداث زمنيا إذا حدث ما يستدعى ذكره من الأحداث.
যখনই তাঁর নিকট কোনো সুযোগ এসেছে।

কোনো কোনো কবি আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক ইহুদি মারহাবকে হত্যার ঘটনা থেকে একটি চমৎকার শৈল্পিক অর্থ ফুটিয়ে তুলেছেন এবং নিচের দুটি চরণে পূর্ণ শব্দালঙ্কার ব্যবহার করেছেন, টীকা (২) (খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ১৪৯) ব্যাখ্যাকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

কেউ কেউ সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং চমৎকারভাবে বলেছেন:

আমি এক হরিণশাবককে (সুন্দর যুবক) এগিয়ে আসতে দেখলাম … আর অনুরাগের আতিশয্যে তাকে বললাম 'স্বাগতম' (মারহাবা)

সে প্রেমের টানে আমার হৃদয়কে বিদীর্ণ করেছে … ঠিক যেমন আলী যুদ্ধের ময়দানে মারহাবকে বিদীর্ণ করেছিলেন

উন্নত অর্থ এবং চমৎকার কল্পনার এরূপ আরও অনেক উদ্ধৃতি রয়েছে।

 

‌‌দশম: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্মের বছর থেকে ওফাতের বছর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলির সামগ্রিক উপস্থাপনা:

ব্যাখ্যাকার (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) সীরাতে নববীর কোনো কোনো লেখকের অনুসৃত রীতি অনুযায়ী নবীজির সম্মানীত জন্মের বছর—যার মাধ্যমে আল্লাহ বিশ্বজগতকে সম্মানিত করেছেন—থেকে শুরু করে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওফাতের বছর পর্যন্ত সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি এবং শরয়ি বিধানসমূহ তুলে ধরার মাধ্যমে এই কিতাবটি সমাপ্ত করেছেন।

এই উপস্থাপনায় কয়েকটি বিষয় লক্ষণীয়:

প্রথমত: এটি বছর ভিত্তিক ধারাবাহিক ক্রমানুসারে ছিল না, বরং ঘটনাবলি সংঘটিত হওয়ার পরম্পরা অনুযায়ী ছিল, যদিও দুটির মধ্যবর্তী ব্যবধান দীর্ঘ ছিল; সম্ভবত সেই মধ্যবর্তী সময়ে এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেনি যা লিপিবদ্ধ করা বা গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক ছিল।

গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলির তালিকার এই সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনার শুরু থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যেখানে ব্যাখ্যাকার (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্মের বছর থেকে সরাসরি চতুর্থ বছরে চলে গেছেন এবং সেখান থেকে ষষ্ঠ বছরে। আর যখনই কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে, তখন তিনি কালানুক্রমিকভাবেই তা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
ثانيا: لم يكمل الشارح رحمه الله تعالى عرض الأحداث حسب تاريخ ولادته صلى الله عليه وسلم حتى الأمد الذي حدده وهو وفاته صلى الله عليه وسلم؛ فقد استمرّ يؤرّخ حسب الولادة الشريفة، ثمّ توقف أن يؤرخ بها بعد البعثة النبوية، وتابع رصده التاريخي حسب البعثة النبوية بعد بلوغه صلى الله عليه وسلم الأربعين من عمره الشريف، وأول حدث دونه هو:

(وفي السنة الثالثة من النبوة: توفي ورقة بن نوفل) .

واستمرّ التاريخ للأحداث حسب البعثة حتى السنة الرابعة عشرة من النبوة، ثمّ توقف في التاريخ بها في السنة الأولى للهجرة.

ثالثا: استأنف بعد ذلك التاريخ للأحداث حسب هجرة النّبيّ صلى الله عليه وسلم إلى المدينة المنوّرة، وبالتفاوت في الرصد التاريخي للأحداث يحقق الشارح رحمه الله تعالى أمرين مهمين:

الأول: الرصد التاريخي حسب الحدث الأهم حتى يأتي ما هو أهم منه، فيكون له الأوّلية.

الثاني: إبقاء الحدث الأهم حيا في الذاكرة على مدار الفترة الزمنية التي يؤرّخ لها.

 

‌‌حادي عشر: النقد العلمي المهذب:

استدرك الشارح رحمه الله تعالى على الناظم نقاطا علمية عديدة، بأسلوب علمي موضوعي مهذب، من ذلك:

ذكر الناظم أنّ أبا ذرّ الغفاري رضي الله عنه استشهد على يد العصابة من بني غطفان الذين نهبوا لقاح النّبيّ صلى الله عليه وسلم، وذلك قوله:

وأقبلت امرأة الغفاري … قتيل نهب إبل المختار

فاستدرك عليه الشارح رحمه الله بالعبارة التالية:
দ্বিতীয়ত: ব্যাখ্যাকারী (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্ম তারিখ অনুযায়ী ঘটনাবলি বর্ণনা করা সেই সময় পর্যন্ত পূর্ণ করেননি যা তিনি নির্ধারণ করেছিলেন, আর তা হলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মৃত্যু পর্যন্ত; তিনি সম্মানিত জন্ম অনুযায়ী ইতিহাস বর্ণনা অব্যাহত রেখেছিলেন, অতঃপর নবুওয়াত প্রাপ্তির পর সে অনুযায়ী ইতিহাস বর্ণনা করা বন্ধ করে দেন। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সম্মানিত চল্লিশ বছর বয়সে পদার্পণ করার পর তিনি নবুওয়াত প্রাপ্তির সময়কাল অনুযায়ী তাঁর ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ অনুসরণ করেন। আর তাঁর লিপিবদ্ধ করা প্রথম ঘটনাটি হলো:

(এবং নবুওয়াতের তৃতীয় বর্ষে: ওরাকা বিন নওফেল ইন্তেকাল করেন) ।

আর নবুওয়াতের চৌদ্দতম বছর পর্যন্ত নবুওয়াত অনুযায়ী ঘটনাবলির কালানুক্রমিক বর্ণনা অব্যাহত ছিল, অতঃপর হিজরতের প্রথম বছরে সেই পদ্ধতিতে ইতিহাস বর্ণনা করা বন্ধ হয়।

তৃতীয়ত: এরপর তিনি মদিনা মুনাওয়ারায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হিজরত অনুযায়ী ঘটনাবলির ইতিহাস বর্ণনা পুনরায় শুরু করেন। ঘটনাবলির ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণের এই পার্থক্যের মাধ্যমে ব্যাখ্যাকারী (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অর্জন করেছেন:

প্রথমটি: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা অনুযায়ী ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ, যতক্ষণ না তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আসে, তখন সেটিই অগ্রাধিকার পায়।

দ্বিতীয়টি: যে সময়কালের ইতিহাস বর্ণনা করা হচ্ছে, সেই পুরো সময়কাল জুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটিকে স্মৃতিতে জীবন্ত রাখা।

 

‌‌একাদশ: মার্জিত ইলমী সমালোচনা:

ব্যাখ্যাকারী (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) মূল কবিতার রচয়িতার ওপর একটি মার্জিত ও বস্তুনিষ্ঠ ইলমী পদ্ধতিতে বেশ কিছু ইলমী বিষয়ে সংশোধন পেশ করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে:

রচয়িতা উল্লেখ করেছেন যে, আবু যার আল-গিফারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বনু গাতফানের সেই দলটির হাতে শহীদ হয়েছিলেন যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দুগ্ধবতী উটগুলো লুণ্ঠন করেছিল। আর তা হলো তাঁর এই বক্তব্য:

আর গিফারির স্ত্রী এগিয়ে এলেন … মনোনীত নবীর উট লুণ্ঠনে নিহত ব্যক্তি।

অতঃপর ব্যাখ্যাকারী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ওপর নিম্নোক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে সংশোধন পেশ করেছেন:
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩১)
(وفي كلامه نظر؛ فإنّه إذا كان الغفاري أبا ذرّ فكيف يصفه بأنّه مقتول للذين أغاروا على اللقاح، فإنّ المعروف عند أهل السير أنّ المقتول هو ابن أبي ذرّ الغفاري واسمه: (ذرّ) ، ولم يقل أحد: إنّ المقتول أبو ذرّ) (ج 2/ ص 64) .

وفي مناسبة أخرى عندما قدم الناظم رحمه الله الحديث: موت رفاعة بن زيد كهف المنافقين (ج 2/ ص 83) على حادثة الواردة، (وذلك أنّ أجيرا لعمر بن الخطاب من بني غفار يقال له: جهجاه بن مسعود جاء يقود فرسه في موضع الزحام على الماء فازدحم مع سنان بن وبرة الجهني فاقتتلا) (ج 2/ ص 84) .

يقول الشارح تعليقا على تقديم الناظم ما حقه التأخير ترتيبا:

(ولو أخر هذه الحادثة عن حادثة الواردة.. لكان أولى كما صنعه صاحب الأصل الحافظ اليعمري في «سيرته» ، وكذا غيره) (ج 2/ ص 83) .

بمثل هذه العبارة المختصرة المهذبة يعبر الشارح عن نقده واعتراضاته: (وفي كلامه نظر) ، و (لكان أولى) ممّا ينم عن خلق إسلامي رفيع، هو من خصائص العلماء، وأهل الإيمان.

ويأخذ النقد عنده أحيانا صورة أخرى وهو اقتراح عبارات للنظم غير ما عبر به الناظم، من هذا قول الناظم:

خندق خير مرسل بأمر … سلمان والحروب ذات مكر

يقول الشارح رحمه الله تعالى: (قلت: ولو أنّ الناظم قال:

خندق خير مرسل وقد أشار … سلمان بالخندق نعم المستشار

.. لكان أليق بالأدب في حق الجناب النبوي) (ج 1/ ص 269) .

ويعتذر للناظم أحيانا، ومن الأمثلة على هذا: أنّ الناظم رحمه الله تعالى قدم مقالة سيدنا سعد بن معاذ في غزوة بدر على مقالة المقداد في تجاوبهم لنداء النّبيّ صلى الله عليه وسلم، وطلب المشورة عليه، في حين أنّ المقداد رضي الله عنه قد
(এবং তাঁর কথার মধ্যে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; কারণ যদি এই গিফারি ব্যক্তি আবু যার হন, তবে তিনি তাঁকে কীভাবে সেই ব্যক্তিদের দ্বারা নিহত বলে বর্ণনা করেন যারা দুগ্ধবতী উটগুলোর (লিকাহ) ওপর হামলা চালিয়েছিল? কারণ ইতিহাসবেত্তাদের নিকট সুপরিচিত বিষয় হলো এই যে, নিহত ব্যক্তিটি হলেন আবু যার আল-গিফারির পুত্র এবং তাঁর নাম ছিল: (যার), আর কেউ বলেননি যে নিহত ব্যক্তিটি ছিলেন আবু যার) (খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ৬৪)।

আর অন্য একটি উপলক্ষে যখন নাযিম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) মুনাফিকদের আশ্রয়স্থল রিফায়াহ বিন যায়িদের মৃত্যুর আলোচনাটি (খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ৮৩) সংশ্লিষ্ট ঘটনার আগে উল্লেখ করেছেন, (আর তা হলো এই যে, বনু গিফারের জাহজাহ বিন মাসউদ নামক উমর ইবনুল খাত্তাবের এক পারিশ্রমিকভোগী ব্যক্তি পানির ঘাটে ভিড়ের জায়গায় তার ঘোড়াটি নিয়ে আসলেন, অতঃপর সিনান বিন ওয়াবরা আল-জুহানির সাথে তার ভিড় লেগে গেল এবং তারা উভয়ে বিবাদে লিপ্ত হলেন) (খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ৮৪)।

বিন্যাস অনুযায়ী যা পরে আসা উচিত ছিল নাযিম কর্তৃক তা আগে নিয়ে আসার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ব্যাখ্যাকার বলেন:

(যদি তিনি এই ঘটনাটিকে বর্ণিত ঘটনার পরে উল্লেখ করতেন... তবে তা উত্তম হতো যেমনটি মূল গ্রন্থের লেখক হাফিজ আল-ইয়াহমুরি তাঁর ‘সিরাত’ গ্রন্থে করেছেন এবং অন্যরাও তদ্রূপ করেছেন) (খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ৮৩)।

এই ধরনের সংক্ষিপ্ত ও মার্জিত বাচনভঙ্গির মাধ্যমেই ব্যাখ্যাকার তাঁর সমালোচনা ও আপত্তিগুলো ব্যক্ত করেন: (এবং তাঁর কথার মধ্যে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে) এবং (তা অধিকতর উত্তম হতো), যা উচ্চতর ইসলামি শিষ্টাচারকেই প্রকাশ করে, যা আলিম সমাজ ও ঈমানদার ব্যক্তিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

তাঁর নিকট সমালোচনা কখনো কখনো অন্য রূপও ধারণ করে, আর তা হলো নাযিম যে ভাষা ব্যবহার করেছেন তার পরিবর্তে কবিতার পঙক্তির জন্য ভিন্ন কোনো শব্দ বা বাক্যের প্রস্তাব করা। এর মধ্যে নাযিমের এই বক্তব্যটি অন্যতম:

সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুলের পরিখা খনন … সালমানের পরামর্শে, আর যুদ্ধ হলো কৌশলের খেলা

ব্যাখ্যাকার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন: (আমি বলি: যদি নাযিম বলতেন:

সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল পরিখা খনন করলেন এবং সালমান ইঙ্গিত দিলেন … পরিখার ব্যাপারে, তিনি কতই না উত্তম পরামর্শদাতা

.. তবে তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে অধিকতর আদব বা শিষ্টাচারপূর্ণ হতো) (খণ্ড ১/ পৃষ্ঠা ২৬৯)।

তিনি কখনো কখনো নাযিমের পক্ষ থেকে ওজর বা অজুহাতও পেশ করেন। এর উদাহরণগুলোর মধ্যে একটি হলো: নাযিম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বদর যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহ্বানে সাড়া দেওয়া এবং তাঁর পরামর্শ চাওয়ার ক্ষেত্রে সায়্যিদুনা সা’দ বিন মুয়াজের বক্তব্যকে মিকদাদের বক্তব্যের আগে উল্লেখ করেছেন, যখন মিকদাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)...
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩২)
سبقه بمقالته المشهورة، ويعتذر الشارح رحمه الله تعالى عن الناظم بضرورة الشعر ويختم هذا قائلا: (والخطب سهل) (ج 1/ ص 92) .

وبعد:

فكتاب «إنارة الدجى في مغازي خير الورى» شرح العلّامة المحدث، الفقيه الأصولي، فضيلة الشيخ حسن محمّد المشاط المكي قبل هذا وبعده.. مرآة صافية للروح الإسلامية الشفافة، والحسن الإيماني القوي، ومشاعر الحب الصادقة الدفينة، التي يخفق بها قلب الشارح رحمه الله تعالى حبا لرسول الله صلى الله عليه وسلم وآل بيته وصحبه الأطهار، رضوان الله عليهم، وسلف الأمّة الصالحين؛ فقد كان حديثه عن السيرة النبوية حديثا يفيض إيمانا، يستجمع له مشاعره وإحساساته؛ إجلالا وإعظاما وخشوعا، حديث المتأثر المتفاعل بما يقول، يحسه سامعه، ويدركه على قسمات وجهه مغرورق العينين، وقد أخضلت الدموع لحيته، فيسري تيار من التأثّر والخشوع بين الحاضرين.

ولست بمحص، أو معدد خصائص هذا الكتاب وميزاته؛ فإنّ القارئ البصير، الصافي الفكر، سيقف على الكثير ممّا لم تتعرض له هذه الدراسة الموجزة؛ إذ استهدفت الإشارة إلى عرض إجمالي، محدد لخصائص هذا الشرح، ولم تكن تستهدف الحصر والاستقصاء.

والله أسأل- وهو خير مسؤول- أن يجزى فضيلة الشيخ حسن بن محمد مشاط شارح هذه المنظومة خير الجزاء؛ على ما بذله في سبيل إعلاء كلمة الدين، ونشر العلوم الشرعية؛ ابتغاء وجه الله، والفوز بالرضا والقبول، ونسأل الله أن يرحم ولده البار الشيخ أحمد حسن مشاط، الذي يسعى حثيثا إلى نشر تراث والده، والتضحية بكل ما يستطيعه في تعميم النفع به، وأن يجعل من ذريته خلف خير، يقتفون آثار الآباء والأجداد، يصلون الحاضر بالماضي، علما وعملا، إنّه سميع قريب مجيب الدعاء، لا يفوتني أن أشكر الآخرين الدكتور السيد قاسم بن محمد
তিনি তাঁর বিখ্যাত বক্তব্যের মাধ্যমে এর অগ্রবর্তী হয়েছেন, এবং ব্যাখ্যাকার (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) নাযেমের (কাব্য রচয়িতা) পক্ষ থেকে কবিতার ছন্দের প্রয়োজনে ওজর পেশ করেছেন এবং এই বলে এটি শেষ করেছেন: (এবং বিষয়টি সহজ) (খন্ড ১/ পৃষ্ঠা ৯২)।

অতঃপর:

সুতরাং, আল্লামা মুহাদ্দিস, ফকীহ, উসূলবিদ, শ্রদ্ধেয় শাইখ হাসান মুহাম্মদ আল-মাশশাত আল-মাক্কী কর্তৃক রচিত ‘ইনাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা’ গ্রন্থটি—এর আগে ও পরে—স্বচ্ছ ইসলামী রুহ, শক্তিশালী ঈমানি সৌন্দর্য এবং অন্তরে প্রোথিত ভালোবাসার এক নির্মল দর্পণ, যার মাধ্যমে ব্যাখ্যাকার (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবারবর্গ, পবিত্র সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এবং উম্মতের পূর্বসূরি নেককারদের প্রতি ভালোবাসায় স্পন্দিত হয়েছেন; নিশ্চয়ই সীরাতে নববী সম্পর্কে তাঁর আলোচনা ছিল ঈমানে ভরপুর একটি আলাপ, যাতে তিনি তাঁর সমস্ত অনুভূতি ও সংবেদনকে একত্রিত করতেন; সম্মান, মহিমা এবং বিনম্রতার সাথে। এটি ছিল এমন এক ব্যক্তির আলোচনা যিনি নিজে যা বলছেন তা দ্বারা প্রভাবিত ও ক্রিয়াশীল, যা শ্রোতা অনুভব করতে পারতেন এবং তাঁর মুখাবয়বে তা প্রত্যক্ষ করতেন, যখন তাঁর চোখ দুটি অশ্রুসজল থাকত এবং দাড়ি মোবারক অশ্রুতে ভিজে যেত, ফলে উপস্থিতদের মাঝে প্রভাব ও বিনম্রতার এক প্রবাহ বয়ে যেত।

আমি এই কিতাবের বৈশিষ্ট্য ও বিশেষত্বগুলো গণনা করতে বা সংখ্যাবদ্ধ করতে পারব না; কেননা বিচক্ষণ ও স্বচ্ছ চিন্তার অধিকারী পাঠক এমন অনেক কিছুর সন্ধান পাবেন যা এই সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনায় আলোচিত হয়নি; কারণ এর লক্ষ্য ছিল এই ব্যাখ্যার বৈশিষ্ট্যসমূহের একটি নির্দিষ্ট ও সামগ্রিক উপস্থাপনার দিকে ইঙ্গিত করা, এটি পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান বা পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের লক্ষ্যে ছিল না।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি—আর তিনিই শ্রেষ্ঠ প্রার্থিত সত্তা—তিনি যেন এই মানজুমার (কাব্যগ্রন্থ) ব্যাখ্যাকার শ্রদ্ধেয় শাইখ হাসান বিন মুহাম্মদ মাশশাতকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন; দ্বীনের কালিমাকে সমুন্নত করার পথে এবং শরয়ী ইলম প্রচারের ক্ষেত্রে তিনি যা কিছু ব্যয় করেছেন তার বিনিময়ে; কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং কবুলিয়াত ও রেযামন্দি লাভের আশায়। এবং আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁর পুণ্যবান পুত্র শাইখ আহমদ হাসান মাশশাতকে রহম করেন, যিনি নিরলসভাবে তাঁর পিতার ঐতিহ্য প্রচারের চেষ্টা করছেন এবং এর উপকারিতা সর্বজনীন করার ক্ষেত্রে সাধ্যমতো আত্মত্যাগ করছেন; আর আল্লাহ যেন তাঁর বংশধরদের মধ্যে এমন উত্তম উত্তরসূরি সৃষ্টি করেন যারা বাপ-দাদার পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন, ইলম ও আমলের মাধ্যমে বর্তমানকে অতীতের সাথে যুক্ত করবেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী, নিকটবর্তী এবং দোয়ায় সাড়াদানকারী। পরিশেষে আমি ডক্টর আস-সাইয়্যিদ কাসিম বিন মুহাম্মদ সহ অন্যান্যদের ধন্যবাদ জানাতে ভুলছি না।
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الأهدل، والدكتور صبغة الله نبي قطب الدين تلميذي المؤلف على ما قدماه من جهد في تصحيح الكتاب، وأسأل الله لهما العون، أن يخرجا هذا العمل الجليل إخراجا محققا محررا، حسب أصول التحقيق والبحث العلمي، وصلّى الله وسلم وبارك على سيدنا محمّد بن عبد الله، وعلى آله وصحبه أبد الآبدين.

بقلم تلميذ المؤلف الأستاذ الدكتور عبد الوهاب إبراهيم أبو سليمان كوالالمبور 16/ 5/ 1413 الموافق 10/ 11/ 1992
আল-আহদাল এবং লেখকের দুই ছাত্র ডক্টর সিবগাতুল্লাহ নাবী কুতুবুদ্দীন এই গ্রন্থটি সংশোধনে যে শ্রম প্রদান করেছেন তার জন্য আমি আল্লাহর কাছে তাদের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করি; যেন তারা এই মহান কাজটিকে পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার মূলনীতি অনুযায়ী একটি তাহকীককৃত ও পরিমার্জিত সংস্করণ হিসেবে প্রকাশ করতে পারেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর অনন্তকাল দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন।

লেখকের ছাত্র প্রফেসর ডক্টর আব্দুল ওয়াহাব ইব্রাহীম আবু সুলাইমান কর্তৃক লিখিত। কুয়ালালামপুর, ১৬/ ০৫/ ১৪১৩ হিজরি মোতাবেক ১০/ ১১/ ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌القسم الثاني كتاب إنارة الدجى في مغازي خير الورى صلى الله عليه وسلم
দ্বিতীয় অংশ: সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানবের (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) যুদ্ধাভিযানসমূহ সংক্রান্ত ‘ইনাতুদ দুজা’ কিতাব
(খণ্ড: ১) ইনারাতুদ দুজা ফি মাগাজি খাইরিল ওয়ারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌تعريف بصاحب النظم

ترجم له الأستاذ أحمد بن الأمين العلوي الشنقيطي في كتابه «الوسيط في تراجم أدباء شنقيط» طبعة الجمالية بالقاهرة، سنة (1329 هـ) - (1911 م) فقال:

(أحمد البدوي المجلسي ثم البوحمدي: هو العالم الكبير والنسّابة الشهير، وهو الذي أحيا أنساب العرب، بنظمه «عمود النسب» وقد أجاد فيه ومن تأمّل نظمه علم سعة اطّلاعه واقتداره في ذلك الفن، ونظم أيضا غزوات النّبيّ صلى الله عليه وسلم نظما جيدا، يدل على تبحّره في السيرة) .

وقال: (إنّه ليس من المتقدمين؛ وما أدري في أي تاريخ كان) اهـ

وقال الشيخ غالي بن المختار: قال البساتي الشنقيطي في «وسيلة الخليل إلى بعوث صاحب الإكليل» : (البدوي رحمه الله تعالى: هو أحمد الإمام الشهير بن سيدي محمّد بن أبي أحمد المجلسي) اهـ ولم يزد على ذلك.

أمّا «عمود النسب» فيزيد على ألف بيت، وممّا قاله في طالعته:

حمدا لمن رفع صيت العرب … وخصّهم بين الأنام بالنّبي

وعمّهم إنعامه بنسبته … فدخلوا بيمنها في زمرته
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌কাব্য রচয়িতার পরিচিতি

উস্তাদ আহমদ ইবনুল আমিন আল-আলাভি আশ-শিনকিতি কায়রোর আল-জামালিয়া থেকে ১৩২৯ হিজরি (১৯১১ খ্রিস্টাব্দ) সালে প্রকাশিত তাঁর «আল-ওয়াসিত ফি তারাজিম উদাবা শিনকিতি» গ্রন্থে তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন:

(আহমদ আল-বাদাভি আল-মাজলিসি অতঃপর আল-বুহামদি: তিনি একজন মহান আলেম এবং সুপ্রসিদ্ধ বংশলতিকা বিশারদ। তিনিই আরবদের বংশলতিকাকে তাঁর কাব্য «আমূদুন নাসাব»-এর মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। এতে তিনি অত্যন্ত দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। যে কেউ তাঁর কাব্য নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে, সে এই শাস্ত্রে তাঁর ব্যাপক পাণ্ডিত্য ও পারদর্শিতা সম্পর্কে জানতে পারবে। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুদ্ধসমূহ নিয়ে অত্যন্ত চমৎকারভাবে কাব্য রচনা করেছেন, যা সিরাত শাস্ত্রে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দেয়)।

তিনি আরও বলেছেন: (তিনি পূর্ববর্তী যুগের পণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত নন; তবে ঠিক কোন সময়ের ছিলেন তা আমার জানা নেই)। সমাপ্ত।

শায়খ গালি বিন আল-মুখতার বলেন: আল-বাসাতি আশ-শিনকিতি তাঁর «ওয়াসিলাতুল খলিল ইলা বুউসি সাহিবিল ইকলিল» গ্রন্থে বলেছেন: (বাদাভি আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন: তিনি হলেন প্রসিদ্ধ ইমাম আহমদ বিন সিদি মুহাম্মদ বিন আবি আহমদ আল-মাজলিসি)। সমাপ্ত। তিনি এর চেয়ে বেশি কিছু উল্লেখ করেননি।

আর «আমূদুন নাসাব» কাব্যটি এক হাজার চরণেরও বেশি। এর প্রারম্ভে তিনি যা বলেছেন:

প্রশংসা সেই সত্তার যিনি আরবদের খ্যাতি সুউচ্চ করেছেন … এবং সৃষ্টির মাঝে তাঁদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে বিশেষায়িত করেছেন

এবং তাঁর (নবীর) সাথে সম্পৃক্ত করে তাদের ওপর স্বীয় অনুগ্রহ পূর্ণ করেছেন … ফলে তাঁরা এর বরকতে তাঁর দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।