(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: -)
أعلام النبوة للماوردي   (الماوردي)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: أعلام النبوة

المؤلف: أبو الحسن علي بن محمد بن محمد بن حبيب البصري البغدادي، الشهير بالماوردي (ت 450هـ)

الناشر: دار ومكتبة الهلال - بيروت

الطبعة: الأول - 1409 هـ

عدد الصفحات: 248

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মাওয়ার্দীর আলামুন নুবুওয়াত   (মাওয়ার্দী)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী


কিতাব: আলামুন নুবুওয়াত

লেখক: আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন হাবীব আল-বাসরী আল-বাগদাদী، আল-মাওয়ার্দী হিসেবে পরিচিত (মৃত্যু ৪৫০ হি.)

প্রকাশক: দার ওয়া মাকতাবাতুল হিলাল - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম - ১৪০৯ হিজরী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪৮

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[مقدمات التحقيق]

 

‌‌مقدمة الناشر

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الملك الديان الواحد الأحد الذي ليس له في ملكه ثان، المنزه عن حلول الأمكنة ومرور الزمان الذي اصطفى نبيه محمدا صلى الله عليه وسلم وزين به الأكوان وجعل وجودها لوجوده فلولاه ما يكون حادث ولا كان وفرض محبته على جميع خلقه وجعلها شرطا في صحة الإيمان فلا يؤمن أحد حتى يكون الرسول صلى الله عليه وسلم أحب إليه من النفس والآباء والبنون.

نحمده تعالى ونشكره على ما له علينا من صنوف الإحسان ونستعينه ونستغفره من كلّ ذنب عملناه من عمد أو خطأ أو نسيان ونشهد أن لا إله إلّا الله وحده لا شريك له، شهادة يسمو بها قائلها فلا يعاتب يوم العتاب، ونشهد أن سيدنا محمدا حبيبه ومصطفاه خير نبي أرسله سيد ولد آدم وأشرف بني عدنان صلى الله عليه وعلى اله واصحابه الطيبين الطاهرين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

وبعد، فها نحن عزيزي القارىء نقدم إليك الكتاب الثاني من كتب الإمام أبي علي بن محمد بن حبيب الماوردي البصري «أعلام النبوة» بعدما قدمنا إليك سابقا كتابه أدب الدنيا والدين آملين أن نكون في الطريق الذي آلينا على أنفسنا
[সম্পাদনার ভূমিকা]

 

প্রকাশকের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অধিপতি, কর্মফলদাতা, একক ও অদ্বিতীয়, যাঁর রাজত্বে কোনো দ্বিতীয় বা অংশীদার নেই। যিনি কোনো স্থানে সমাধান বা অবস্থান গ্রহণ করা এবং সময়ের আবর্তন থেকে পবিত্র। যিনি তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মনোনীত করেছেন এবং তাঁর দ্বারা বিশ্বজগতকে সুশোভিত করেছেন; আর তাঁর অস্তিত্বের খাতিরেই সবকিছুর অস্তিত্ব দান করেছেন, তিনি না হলে কোনো নশ্বর সৃষ্টির উদ্ভব হতো না। তিনি তাঁর সকল সৃষ্টির ওপর নবীর মহব্বতকে ফরজ করেছেন এবং একে ঈমান সঠিক হওয়ার শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। ফলে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার কাছে তার নিজের জীবন, পিতা-মাতা এবং সন্তান-সন্ততির চেয়েও অধিক প্রিয় না হন।

আমরা মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি এবং আমাদের ওপর তাঁর বিভিন্ন প্রকার অনুগ্রহের জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমরা তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং আমাদের কৃত সকল পাপ থেকে ক্ষমা চাইছি, চাই তা ইচ্ছাকৃত হোক, ভুলবশত হোক কিংবা বিস্মৃতিবশত হোক। আর আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এমন এক সাক্ষ্য যার দ্বারা এর প্রবক্তা উচ্চমর্যাদা লাভ করে এবং হিসাবের দিনে তাকে তিরস্কৃত হতে হবে না। এবং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর প্রিয় ও মনোনীত বান্দা, প্রেরিত নবীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, আদমসন্তানদের নেতা এবং আদনান বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ পুরুষ; আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গ ও সাহাবাগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের ওপর।

অতঃপর, হে প্রিয় পাঠক, ইমাম আবু আলী বিন মুহাম্মদ বিন হাবিব আল-মাওয়ার্দি আল-বসরীর কিতাবসমূহের মধ্য থেকে দ্বিতীয় কিতাব 'আলামুন নুবুওয়াহ' (নবুওয়াতের নিদর্শনাবলী) আমরা আপনার খেদমতে পেশ করছি, এর আগে আমরা তাঁর ‘আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদ দীন’ কিতাবটি আপনার কাছে উপস্থাপন করেছি। আমরা এই প্রত্যাশা করি যে, আমরা সেই পথেই অবিচল থাকব যার প্রতিশ্রুতি আমরা নিজেদের কাছে দিয়েছি।
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ৬)
أن نسلكه في خدمة الشرع الحنيف ومحبة الرسول العظيم صلى الله عليه وسلم وتقديم كتب التراث التي تركها لنا خير السلف زادا ومعينا للمعرفة ودليلا مرشدا في محاولة فهمنا لشرائع ديننا وسيرة نبينا، آملين أن نكون عند حسن ظنك عزيزي القارىء فيما قدمنا حاصلين على رضى الله ورضوانه هو نعم المولى ونعم النصير.

دار ومكتبة الهلال.
যাতে আমরা একে সুদৃঢ় শরীয়তের সেবা এবং মহান রাসূলের (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) ভালোবাসার পথে পরিচালিত করতে পারি এবং আমাদের দীনী বিধানসমূহ ও আমাদের নবীর সীরাত বোঝার প্রচেষ্টায় সর্বোত্তম পূর্বসূরিগণ আমাদের জন্য যে ঐতিহ্যের কিতাবসমূহ রেখে গেছেন, সেগুলোকে জ্ঞানের পাথেয় ও সহায়ক এবং পথপ্রদর্শক দলিল হিসেবে উপস্থাপন করতে পারি। হে প্রিয় পাঠক, আমাদের এই নিবেদনের মাধ্যমে আমরা আপনার সুধারণার উপযুক্ত হওয়ার আশা রাখছি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অনুগ্রহ প্রত্যাশা করছি; তিনিই শ্রেষ্ঠ অভিভাবক এবং শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী।

দার ওয়া মাকতাবাতুল হিলাল।
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌تقديم [من سعيد محمد اللحام]

 

‌‌الماوردي:

ولد أبو الحسن علي بن محمد بن حبيب الماوردي البصري سنة 364 للهجرة وتوفي سنة 450 للهجرة أي أنه عاش في فترة إزدهار الثقافة الإسلامية وفي أرقى عصور الدولة العباسية.

ولد في البصرة وإليها نسب وأخذ عن شيوخها وعلمائها ثم رحل إلى بغداد وأخذ عن أئمة العلم الذين عايشهم فيها.

والماوردي من فقهاء الشافعية المعدودين وعلم من أعلامها كما كان من رجال السياسة والأدب والفكر يميزه عن سواه وضوح أسلوبه ولغته وكثرة تآليفه في الفروع المختلفة للثقافة.

 

‌‌مشايخه:

لقد سمع الماوردي الحديث عن جماعة من شيوخ البصرة كان أبرزهم:

محمد بن عدي بن زحر المقري.

الحسن بن علي بن محمد الجبلي.

جعفر بن محمد بن الفضل البغدادي.

محمد بن المعلى الأسدي.

الفضل بن الحباب الجمحي.
উপস্থাপনা [সাঈদ মুহাম্মদ আল-লাহহাম-এর পক্ষ থেকে]

 

আল-মাওয়ার্দি:

আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাবিব আল-মাওয়ার্দি আল-বাসরি ৩৬৪ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪৫০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। অর্থাৎ তিনি ইসলামী সংস্কৃতির সমৃদ্ধির যুগে এবং আব্বাসীয় খেলাফতের সবচেয়ে উন্নত সময়ে বসবাস করেছেন।

তিনি বসরায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেই শহরের দিকেই তাকে নিসবত করা হয়। তিনি সেখানকার শাইখ ও আলেমদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন, অতঃপর বাগদাদে পাড়ি জমান এবং সেখানে বসবাসরত ইলমের ইমামদের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেন।

আল-মাওয়ার্দি ছিলেন শাফেয়ী মাজহাবের অন্যতম প্রথিতযশা ফকিহ এবং এর বিশিষ্ট ইমামগণের অন্তর্ভুক্ত। তিনি একাধারে রাজনীতি, সাহিত্য ও চিন্তাশীল ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার স্পষ্ট রচনাশৈলী, ভাষা এবং সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায় অসংখ্য রচনা তাকে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র করেছে।

 

তার শিক্ষকগণ:

আল-মাওয়ার্দি বসরার একদল শাইখের নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন, যাদের মধ্যে প্রধান ছিলেন:

মুহাম্মদ ইবনে আদি ইবনে জাহর আল-মুকরি।

আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-জাবালি।

জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফজল আল-বাগদাদি।

মুহাম্মদ ইবনুল মুআল্লা আল-আসাদি।

আল-ফজল ইবনুল হুবাব আল-জুমাহি।
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ৮)
كما أخذ الفقة عن عدد من المشايخ كان أشهرهم:

أبو القاسم عبد الواحد بن محمد الصميري القاضي.

وفي بغداد أخذ الفقه عن الشيخ أحمد بن أبي طاهر الإسفرايني، كما أخذ عن الكثيرين سواهم في مختلف العلوم الإسلامية والعربية وإن كانت كتب التاريخ لم توصل إلينا أسماء أساتذته في هذه العلوم لأن أرفع العلوم شأنا هو الفقه والحديث إنما ينضح في أسطر وصفحات كتبه ما ارتوى به في علوم الأدب واللغة والفلسفة مما يوضح لنا بما لا يقبل الشك بأنه قد اضطلع بهذه العلوم كأهلها، كيف لا والعصر الذي عاش فيه كان عصر العلوم الموسوعية والعلماء الموسوعيون الذين لا يعتبر واحدهم عالما حتى يتبحر في كل أنواع العلوم والفنون التي عرفها عصره، والماوردي لا يمكن أن يختلف في هذا عن سائر علماء عصره، وكما ذكرنا فإن كتبه التي وصلت إلينا وإن لم تصلنا كلها فهي تثبت لنا أنه اغترف منها ما سمح له حظه وعمره وسعيه إليها أن يغترف.

 

‌‌حياته:

تولى الماوردي القضاء في أكثر من بلد وقد ذكر ياقوت الحموي في معجمه أنه تولى القضاء في «أستوا» وهي حسب قوله كورة من نواحي نيسابور تضم ثلاثا وتسعين قرية ومركزها مدينة خيبوشان.

اختير سفيرا بين قادة الدولة العباسية وآل بويه بين سنة 381 هـ.

و422 هـ في عهد الخليفة القادر بالله.

طلب جلال الدولة بن بويه في سنة 429 هجرية من الخليفة أن يضيف إلى ألقابه لقب ملك الملوك «شاهنشاه» وهو اللقب الذي كان يحمله ملوك الفرس المجوس قبل الفتح الإسلامي فاختلف فقهاء بغداد في جواز التلقب بهذا اللقب فمنهم من وافق مسايرة لبني بويه ومنهم مسايرة للخليفة ومنهم من تحرج من الأمر وخاف من ذوي السلطان فلم يقل بهذا الأمر بنفي أو إيجاب، أما الماوردي فقد أفتاها صريحة بأنه لا يجوز وتخلى عن صداقته ومودته لجلال الدولة
তিনি আরও বেশ কয়েকজন শাইখের নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন, যাদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ছিলেন:

আবু কাসিম আবদুল ওয়াহিদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সুমাইরি আল-কাদি।

আর বাগদাদে তিনি শাইখ আহমদ ইবনে আবি তাহির আল-ইসফিরায়িনির নিকট ফিকহ শাস্ত্র গ্রহণ করেন, এছাড়াও তিনি বিভিন্ন ইসলামি ও আরবি বিজ্ঞানে তাঁদের ব্যতীত আরও অনেকের নিকট শিক্ষা লাভ করেন। যদিও ইতিহাসের কিতাবসমূহ এই শাস্ত্রগুলোতে তাঁর উস্তাদদের নাম আমাদের কাছে পৌঁছায়নি, কারণ ফিকহ ও হাদিসই ছিল সবচেয়ে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন বিজ্ঞান। তবে তাঁর রচিত বইগুলোর ছত্র ও পৃষ্ঠায় আদব, ভাষা ও দর্শন শাস্ত্রের সেই রস ফুটে ওঠে যা তিনি পান করেছিলেন; যা আমাদের নিকট সন্দেহাতীতভাবে স্পষ্ট করে যে, তিনি এই শাস্ত্রগুলোতে এর পারদর্শীদের মতোই পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন। এটি কেনই বা হবে না, অথচ তিনি যে যুগে বাস করতেন তা ছিল বিশ্বকোষীয় জ্ঞানের যুগ এবং সে যুগের আলিমগণ ছিলেন বহুবিদ্যাবিশারদ, যেখানে কোনো ব্যক্তিকে ততক্ষণ পর্যন্ত আলিম বিবেচনা করা হতো না যতক্ষণ না তিনি তাঁর যুগের পরিচিত সকল প্রকার জ্ঞান ও কলায় পারদর্শী হতেন। মাওয়ার্দিও এক্ষেত্রে তাঁর যুগের অন্যান্য আলিমদের থেকে ভিন্ন ছিলেন না। আমরা যেমনটি উল্লেখ করেছি, তাঁর যে সকল কিতাব আমাদের কাছে পৌঁছেছে—যদিও সব পৌঁছায়নি—সেগুলো আমাদের কাছে প্রমাণ করে যে, তিনি তাঁর ভাগ্য, আয়ু ও প্রচেষ্টার বিনিময়ে যতটুকু সম্ভব ছিল ততটুকু জ্ঞান আহরণ করেছিলেন।

 

তাঁর জীবন:

মাওয়ার্দি একাধিক শহরে বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। ইয়াকুত আল-হামাউয়ি তাঁর অভিধানে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি 'উস্তা' অঞ্চলে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী এটি নিশাপুরের পার্শ্ববর্তী একটি এলাকা যাতে তিরানব্বইটি গ্রাম রয়েছে এবং এর কেন্দ্র হলো খায়বুশান শহর।

৩৮১ হিজরি থেকে ৪২২ হিজরির মধ্যবর্তী সময়ে খলিফা আল-কাদির বিল্লাহর শাসনামলে তাঁকে আব্বাসীয় রাষ্ট্রের নেতা ও বুওয়াইহি বংশের মধ্যে দূত হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল।

৪২৯ হিজরিতে জালালুদ্দৌলা ইবনে বুওয়াইহি খলিফার নিকট তাঁর উপাধির সাথে 'মালিকুল মুলুক' (রাজাধিরাজ) বা 'শাহেনশাহ' উপাধিটি যুক্ত করার আবেদন করেন, যা ইসলামি বিজয়ের পূর্বে পারস্যের অগ্নিপূজক রাজারা ব্যবহার করত। বাগদাদের ফকিহগণ এই উপাধি গ্রহণের বৈধতা নিয়ে মতবিরোধ করেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বুওয়াইহি বংশের অনুকূলে সম্মতি দেন, কেউ কেউ খলিফার অনুকূলে ছিলেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে সংকটে পড়েন এবং সুলতানের ভয়ে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। তবে মাওয়ার্দি স্পষ্টভাবে ফতোয়া দেন যে এটি বৈধ নয় এবং তিনি জালালুদ্দৌলার সাথে তাঁর বন্ধুত্ব ও হৃদ্যতা বিসর্জন দেন।
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ৯)
فأرسل إليه وقال له: «أنا أتحقق أنك لو حابيت أحدا لحابيتني لما بيني وبينك وما حملك إلّا الدين، فزاد بذلك محلك عندي» .

وقد تنقل الماوردي بين كثير من البلاد ثم انتهى به المطاف في بغداد فعلم بها الفقه والحديث وتفسير القرآن والأصول والفروع والآداب.

 

‌‌مؤلفاته:

لقد ألف الماوردي في كثير من أبواب العلوم لكن ما وصل إلينا منها هو إثني عشر كتابا لا غير ما لم تكشف الأبحاث الحديثة عن المخطوطات عن كتب سواها ما تزال غارقة خلف أبواب المكتبات الخاصة، أما الكتب التي وصلت إلينا فهي:

1- كتاب «النكت والعيون» غير مطبوع، ونسخه الموجودة والمعروضة هي:

أ- نسخة جامع القرويين بفاس في المغرب.

ب- نسخة مكتبة قليج علي في اسطنبول.

ج- نسخة مكتبة كوبريلي.

د- نسخة مكتبة رمبول في الهند.

2- كتاب «الحاوي الكبير» : وهو موسوعة في عشرين جزءا وكلها في فقه الشافعية، لكن أجزاءه المختلفة ما زالت مخطوطة ومتفرقة بين المكتبات المنتشرة في الشرق والغرب وتعمل الإدارة الثقافية بجامعة الدول العربية على لمّ شعثه إن بشراء هذه الأجزاء المخطوطة أو بتصويرها حيث وجدت. وتسمية المؤلف لهذا الكتاب بكتاب «الحاوي الكبير» يعني للقارىء وجود كتاب آخر له في نفس الموضوع يسمى «الحاوي الصغير» ولعله الإسم الأصلي أو الإسم الأول لكتاب آخر سنتحدث عنه هو كتاب «الإقناع» .

لقد قدر المؤلف عدد أوراق كتاب الحاوي الكبير بأربعة آلاف ورقة وهو كتاب في فقه الشافعية يتعرض لكل مسائل الفقه الإسلامي.
তিনি তাঁর কাছে লোক পাঠালেন এবং তাঁকে বললেন: "আমি নিশ্চিত যে, যদি আপনি কারও প্রতি পক্ষপাতিত্ব করতেন, তবে আমাদের মধ্যকার সম্পর্কের কারণে আমার প্রতিই পক্ষপাতিত্ব করতেন; কিন্তু একমাত্র দ্বীনই আপনাকে (ন্যায়ের ওপর) অটল থাকতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এর ফলে আমার নিকট আপনার মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পেল।"

মাওয়ার্দি বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং অবশেষে বাগদাদে তাঁর যাত্রা শেষ হয়; সেখানে তিনি ফিকহ, হাদিস, কুরআনের তাফসির, উসুল (মূলনীতি), ফুরু (শাখা-প্রশাখা) এবং আদব (সাহিত্য) শিক্ষা প্রদান করেন।

 

‌‌তাঁর রচনাবলী:

মাওয়ার্দি জ্ঞানের অনেক শাখায় গ্রন্থ রচনা করেছেন, কিন্তু আমাদের নিকট সেগুলোর মধ্যে মাত্র বারোটি গ্রন্থ পৌঁছেছে; যদি না আধুনিক পাণ্ডুলিপি গবেষণা ব্যক্তিগত লাইব্রেরির রুদ্ধ দ্বারের অন্তরালে নিমজ্জিত অন্য কোনো গ্রন্থের সন্ধান পায়। আমাদের নিকট যে গ্রন্থগুলো পৌঁছেছে তা হলো:

১- "আন-নুকাত ওয়াল উয়ুন" নামক গ্রন্থ; এটি অমুদ্রিত, এবং এর বিদ্যমান ও প্রদর্শিত পাণ্ডুলিপিগুলো হলো:

ক- মরক্কোর ফাস শহরের জামে কারাউয়্যিনের পাণ্ডুলিপি।

খ- ইস্তাম্বুলের কিলিচ আলী লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি।

গ- কোপরুলু লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি।

ঘ- ভারতের রামপুর লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি।

২- "আল-হাবি আল-কাবির" গ্রন্থ: এটি বিশ খণ্ডের একটি বিশ্বকোষ এবং এর পুরোটাই শাফেয়ী ফিকহ শাস্ত্রের ওপর। তবে এর বিভিন্ন খণ্ডগুলো এখনও পাণ্ডুলিপি আকারে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের বিভিন্ন লাইব্রেরিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আরব লীগের সাংস্কৃতিক বিভাগ এই বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে একত্রিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে, চাই তা এই পাণ্ডুলিপিগুলো ক্রয়ের মাধ্যমে হোক অথবা যেখানে পাওয়া যায় সেখান থেকে অনুলিপি সংগ্রহের মাধ্যমে হোক। লেখক এই বইটির নাম "আল-হাবি আল-কাবির" রাখায় পাঠকের নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে, একই বিষয়ে তাঁর "আল-হাবি আস-সগির" নামে অন্য একটি গ্রন্থ রয়েছে; সম্ভবত এটি অন্য একটি গ্রন্থের মূল নাম বা প্রাথমিক নাম যা সম্পর্কে আমরা পরবর্তীতে আলোচনা করব, আর তা হলো "আল-ইকনা" গ্রন্থটি।

লেখক "আল-হাবি আল-কাবির" গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা চার হাজার পাতা হিসেবে প্রাক্কলন করেছেন এবং এটি শাফেয়ী ফিকহের এমন একটি গ্রন্থ যাতে ইসলামি ফিকহের সকল মাসআলা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ১০)
3- كتاب «الإقناع» : وهو مختصر كتاب «الحاوي الكبير» ولكنه كتاب صغير جدا لا يزيد على الأربعين ورقة وقد قدمه إلى الخليفة القادر بالله الذي قدره وأثنى عليه، وقد قال ياقوت في كتابه «إرشاد الأريب إلى معرفة الأديب» : «قرأت في مجموع لبعض أهل البصرة: تقدم القادر بالله إلى أربعة من أئمة المسلمين في أيامه في المذاهب الأربعة أن يصنف له كل واحد منهم مختصرا على مذهبه، فصنف له الماوردي «الإقناع» ، وصنف له أبو الحسين القدوري مختصره المعروف على مذهب أبي حنيفة، وصنف له أبو محمد عبد الوهاب بن محمد بن نصر المالكي مختصرا آخر، ولا أدري من صنف له على مذهب أحمد وعرضت عليه، فخرج الخادم إلى أقضى القضاة الماوردي وقال له: حفظ الله عليك دينك كما حفظت علينا ديننا» . وقد روى أيضا ياقوت عن نفس المجموع المذكور آنفا قول صاحب المجموع عن الماوردي: «كان أقضى القضاة رحمه الله قد سلك طريقة في ذوي الأرحام: يورث القريب والبعيد بالسوية، وهو مذهب لبعض المتقدمين، فجاءه يوما الشّينيزي في أصحاب القماقم، فصعد إليه المسجد، وصلّى ركعتين، والتفت إليه فقال له: أيها الشيخ اتبع ولا تبتدع. فقال: بل أجتهد ولا أقلد، فلبس نعله وانصرف» .

4- كتاب «أعلام النبوة» : وتوجد نسخته المخطوطة في دار الكتب المصرية تحت رقم 6 ش علم الكلام.

5- كتاب «أدب القاضي» : غير مطبوع وتوجد نسخته المخطوطة في مكتبة السليمانية في اسطنبول.

6- كتاب «الأحكام السلطانية» : وهو أشبه بدستور لدولة إذ يضم بين صفحاته أسس قيام الدولة وشروط استحقاق الخلافة وصفات الخليفة وسلطات هذا الخليفة التي يتصرف من خلالها والأمور التي يحق له أن يتصرف بها، كما يتحدث عن الوزارة والقضاء والعقوبات والحدود والحسبة والجزية وكل تفريعاتها مع أصولها في الدين.

والماوردي على ما يبدو أول من ابتكر هذا الموضوع وجعله مادة لكتاب إذ
৩- «আল-ইকনা» গ্রন্থ: এটি «আল-হাউয়ি আল-কাবীর» গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার, তবে এটি অত্যন্ত ছোট একটি বই যা চল্লিশ পৃষ্ঠার বেশি নয়। তিনি এটি খলিফা আল-কাদির বিল্লাহর নিকট পেশ করেন, যিনি এর মূল্যায়ন করেন এবং তাঁর প্রশংসা করেন। ইয়াকুত তাঁর «ইরশাদুল আরীব ইলা মা'রিফাতিল আদীব» গ্রন্থে বলেছেন: "আমি বসরার অধিবাসী জনৈক ব্যক্তির একটি সংকলনে পড়েছি: আল-কাদির বিল্লাহ তাঁর সময়ের চারজন মুসলিম ইমামের নিকট চার মাজহাব অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য একটি করে সংক্ষিপ্তসার রচনার প্রস্তাব দেন। ফলে আল-মাওয়ার্দি তাঁর জন্য «আল-ইকনা» রচনা করেন, আবু আল-হুসাইন আল-কুদুরি তাঁর জন্য হানাফি মাজহাব অনুযায়ী তাঁর প্রসিদ্ধ «মুখতাসার» রচনা করেন, এবং আবু মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব বিন মুহাম্মদ বিন নাসর আল-মালিকি অন্য একটি সংক্ষিপ্তসার রচনা করেন। আহমাদ বিন হাম্বলের মাজহাব অনুযায়ী কে রচনা করেছিলেন তা আমার জানা নেই। সেগুলো তাঁর নিকট পেশ করা হলে, একজন খাদেম প্রধান বিচারপতি আল-মাওয়ার্দির নিকট এসে বললেন: আল্লাহ আপনার দ্বীনকে হেফাযত করুন যেভাবে আপনি আমাদের দ্বীনকে হেফাযত করেছেন।" ইয়াকুত সেই একই সংকলন থেকে আল-মাওয়ার্দি সম্পর্কে সংকলনকারীর আরেকটি উক্তি বর্ণনা করেছেন: "প্রধান বিচারপতি (রহ.) রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়দের (যাবিল আরহাম) ক্ষেত্রে এমন একটি পদ্ধতি অবলম্বন করতেন যেখানে তিনি নিকটবর্তী ও দূরবর্তী আত্মীয়দের সমানভাবে উত্তরাধিকারী গণ্য করতেন, যা পূর্বসূরিদের কারও কারও মাজহাব ছিল। একদিন তাঁর নিকট কামাকাম সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত আশ-শিনীজি এলেন এবং মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন। এরপর তাঁর দিকে ফিরে বললেন: হে শাইখ, অনুসরণ করুন এবং নব উদ্ভাবন করবেন না। তিনি উত্তরে বললেন: বরং আমি ইজতিহাদ করি এবং অন্ধ অনুসরণ করি না। এরপর তিনি তাঁর জুতো পরে প্রস্থান করলেন।"

৪- «আলামুন নুবুওয়াহ» গ্রন্থ: এর পাণ্ডুলিপি মিশরের দারুল কুতুব-এ 'ইলমুল কালাম' বিভাগে ৬ নম্বর ক্রমিকাধীনে সংরক্ষিত আছে।

৫- «আদাবুল কাজি» গ্রন্থ: এটি অপ্রকাশিত এবং এর পাণ্ডুলিপি ইস্তাম্বুলের সুলাইমানিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে।

৬- «আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ» গ্রন্থ: এটি একটি রাষ্ট্রের সংবিধানের অনুরূপ, কারণ এটি তার পাতাগুলোর মধ্যে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি, খেলাফতের যোগ্যতার শর্তাবলি, খলিফার গুণাবলি এবং খলিফার সেই সকল ক্ষমতা যার মাধ্যমে তিনি পরিচালনা করেন এবং যে সকল বিষয়ে তাঁর পরিচালনার অধিকার রয়েছে তা অন্তর্ভুক্ত করে। এছাড়াও এটি মন্ত্রণালয়, বিচার বিভাগ, দণ্ডবিধি, হুদুদ, হিসবাহ, জিজিয়া এবং দ্বীনের মূলনীতির সাথে এর সকল শাখা-প্রশাখা নিয়ে আলোচনা করে।

এবং আল-মাওয়ার্দি দৃশ্যত প্রথম ব্যক্তি যিনি এই বিষয়টির উদ্ভাবন করেছেন এবং একে একটি গ্রন্থের বিষয়বস্তু হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যেহেতু...
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ১১)
لم يسبقه أحد بجعل شؤون الدولة موضوعا لتأليف مستقل. إن المرجح أن الماوردي خلال جمعه وإعداده لكتاب الحاوي الكبير وهو الكتاب الذي سبق أن ذكرناه وذكرنا أنه في فقه الشافعية قد وجد أن هذه المادة يمكن أن تستقل في كتاب خاص بها رغم وجودها مبثوثة في مختلف كتب الفقه وأجزاء موسوعته «الحاوي الكبير» . لقد تحدث المستشرقين عن أبي الحسن الماوردي كثيرا وخصوصا عن كتابه هذا الذي اعتبروه نظرية الماوردي في الخلافة الإسلامية» .

7- كتاب «تسهيل النظر وتعجيل الظفر» : وهو كسابقه كتاب في السياسة والحكومة وما زال مخطوطا لم يطبع.

8- كتاب «نصيحة الملوك» : وهو كتاب سياسي آخر ما زال غير مطبوع ومن نسخه المخطوطة المعروفة نسخة مكتبة باريس.

9- كتاب «قوانين الوزارة وسياسة الملك» : وقد طبع في «دار العصور» في مصر سنة 1929 ميلادية وأسماه الناشر أدب الوزير وهو أيضا كتاب في علم السياسة والاجتماع وهو من كتب الماوردي التي ترجمت إلى عدد من اللغات الأوروبية وخصوصا الألمانية والفرنسية بعد أن ترجمت أصلا في الفترات السابقة إلى اللغة اللاتينية وكانت مرجعا في علم السياسة والاجتماع وأصول الحكم وعلاقة الحاكم بالمحكومين.

10- كتاب «الأمثال والحكم» : وقد جمع فيه ثلاثمائة حديث وثلاثمائة حكمة وثلاثمائة بيت في الشعر وقسمها على عشرة فصول. ونسخته المخطوطة موجودة في مكتبة مدينة ليدن.

11- كتاب «البغية العليا في أدب الدين والدنيا» : وهو الكتاب الذي عرف باسم «أدب الدنيا والدين» وهو ما بين أيدينا.

12- كتاب «في النحو» : لم نقع له على نسخة مخطوطة وإنما عرفناه من خلال معجم ياقوت الحموي الذي ذكره في ترجمته للمؤلف إذ قال: «وله تصانيف حسان في كل فن منها: كتاب في النحو، رأيته في حجم الإيضاح أو أكبر» .
রাষ্ট্রীয় বিষয়াবলীকে একটি স্বতন্ত্র রচনার বিষয়বস্তু হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তাঁর পূর্বে আর কেউ অগ্রণী হননি। সম্ভবত আল-মাওয়ারদী তাঁর 'আল-হাউয়ি আল-কাবীর' গ্রন্থটি সংকলন ও প্রস্তুতির সময়—যে গ্রন্থটির কথা আমরা আগে উল্লেখ করেছি এবং বলেছি যে এটি শাফেয়ী ফিকহের ওপর রচিত—উপলব্ধি করেছিলেন যে, এই বিষয়বস্তুগুলো একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে স্থান পাওয়ার যোগ্য, যদিও তা ফিকহের বিভিন্ন কিতাবে এবং তাঁর বিশ্বকোষ 'আল-হাউয়ি আল-কাবীর'-এর বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। প্রাচ্যবিদগণ আবুল হাসান আল-মাওয়ারদী সম্পর্কে অনেক আলোচনা করেছেন, বিশেষ করে তাঁর এই কিতাবটি নিয়ে, যেটিকে তাঁরা ইসলামি খিলাফত বিষয়ে আল-মাওয়ারদীর তাত্ত্বিক দর্শন হিসেবে গণ্য করেন।

৭- 'তাসহীলুন নাজর ওয়া তা'জীলুজ জাফার' গ্রন্থ: এটিও পূর্বেরটির মতো রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থা বিষয়ক একটি কিতাব এবং এটি এখনও পাণ্ডুলিপি আকারেই রয়েছে, মুদ্রিত হয়নি।

৮- 'নাসীহাতুল মুলুক' গ্রন্থ: এটি আরেকটি রাজনৈতিক কিতাব যা এখনও অপ্রকাশিত রয়ে গেছে এবং এর পরিচিত পাণ্ডুলিপিগুলোর একটি প্যারিস লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে।

৯- 'কাওয়ানীনুল ওয়াজারা ওয়া সিয়াসাতুল মুলক' গ্রন্থ: এটি ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে মিশরের 'দারুল উসুর' থেকে মুদ্রিত হয়েছে এবং প্রকাশক এর নামকরণ করেছেন 'আদাবুল ওয়াজীর'। এটিও রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিষয়ক একটি গ্রন্থ। আল-মাওয়ারদীর এই কিতাবটি বেশ কিছু ইউরোপীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বিশেষ করে জার্মান ও ফরাসি ভাষায়। এর আগে এটি লাতিন ভাষায় অনূদিত হয়েছিল এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, শাসনের মূলনীতি ও শাসক-শাসিতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি আকর গ্রন্থ বা রেফারেন্স হিসেবে গণ্য হতো।

১০- 'আল-আমসাল ওয়াল হিকাম' গ্রন্থ: এতে তিনি তিনশ হাদিস, তিনশ প্রবাদ-প্রবচন এবং তিনশ কাব্য চরণ সংকলন করেছেন এবং সেগুলোকে দশটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছেন। এর পাণ্ডুলিপি লিডেন শহরের লাইব্রেরিতে বিদ্যমান।

১১- 'আল-বুগয়াতুল উলয়া ফী আদাবিদ দীন ওয়াদ দুনিয়া' গ্রন্থ: এটি সেই কিতাব যা 'আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদ দীন' নামে পরিচিত এবং এটিই এখন আমাদের হাতে রয়েছে।

১২- 'ব্যাকরণ (নাহু) বিষয়ক গ্রন্থ': আমরা এর কোনো পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাইনি, তবে ইয়াকুত আল-হামাভী-র অভিধান থেকে আমরা এর সম্পর্কে জানতে পেরেছি, যেখানে তিনি লেখকের জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন: "প্রত্যেক শাস্ত্রে তাঁর চমৎকার সব রচনা রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো ব্যাকরণ বিষয়ক গ্রন্থ; আমি এটি 'আল-ঈজাহ' গ্রন্থের সমান বা তার চেয়ে বড় আকারে দেখেছি।"
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ১২)
قالوا عنه:

 

‌‌الخطيب البغدادي:

كان الخطيب البغدادي أحمد بن علي بن ثابت من تلامذة الماوردي وقد قال عنه في كتابه تاريخ بغداد: «علي بن محمد بن حبيب أبو الحسن البصري المعروف بالماوردي كان من وجوه الفقهاء الشافعيين، وله تصانيف عدة في أصول الفقه وفروعه، وفي غير ذلك» .

جعل إليه ولاية القضاء ببلدان كثيرة.

سكن ببغداد في درب الزعفران وحدث بها عن الحسن بن علي بن محمد الجبلي، وصاحب أبي خليفة الجمحي وعن محمد بن عدي بن زحر المقري، ومحمد بن المعلى الأسدي وجعفر بن محمد بن الفضل البغدادي، كتبت عنه وكان ثقة. مات في يوم الثلاثاء سلخ شهر ربيع الأول في سنة خمسين وأربعمائة ودفن في الغد في مقبرة باب حرب وصليت عليه في جامع المدينة وكان قد بلغ ستا وثمانين سنة» .

 

‌‌ابن الصلاح:

جاء في «طبقات الشافعية الكبرى» لتاج الدين السبكي قول ابن الصلاح عنه: «هذا الماوردي، عفا الله عنه، يتهم بالاعتزال، وقد كنت لا أتحقق ذلك عليه، وأتأوّل له، وأعتذر عنه في كونه يورد في تفسيره، في الآيات التي يختلف فيها أهل التفسير، تفسير أهل السنة، وتفسير المعتزلة، غير معترض لبيان ما هو الحق منها، وأقول: لعل قصده إيراد كل ما قيل من حق وباطل، ولهذا يورد من أقوال «المشبّهة» أشياء، مثل هذا الإيراد، حتى وجدته يختار في بعض المواضع قول المعتزلة، وما بنوه على أصولهم الفاسدة. وتفسيره عظيم الضرر، لكونه مشحونا بتأويلات أهل الباطل، تلبيسا وتدسيسا، على وجه لا يفطن له غير أهل العلم والتحقيق، مع أنه تأليف رجل لا يتظاهر بالانتساب إلى المعتزلة، بل يجتهد في كتمان موافقتهم فيما هو لهم فيه موافق. ثم هو ليس معتزليا مطلقا، فإنه لا يوافقهم في جميع أصولهم، مثل خلق القرآن، كما دل
তাঁর সম্পর্কে তারা যা বলেছেন:

 

‌‌আল-খাতীব আল-বাগদাদী:

আল-খাতীব আল-বাগদাদী আহমাদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত আল-মাওয়ার্দীর ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি তাঁর সম্পর্কে নিজের 'তারীখ বাগদাদ' গ্রন্থে বলেছেন: «আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাবীব আবুল হাসান আল-বসরী, যিনি আল-মাওয়ার্দী নামে পরিচিত, তিনি শাফেয়ী ফকীহদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। উসূলে ফিকহ, ফিকহের শাখা-প্রশাখা এবং অন্যান্য বিষয়ে তাঁর অনেক গ্রন্থ রয়েছে»।

তাঁকে অনেক শহরের বিচারকের (কাজী) দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল।

তিনি বাগদাদের 'দারবে যা'ফরান' নামক স্থানে বসবাস করতেন। সেখানে তিনি হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ আল-জাবালি, আবু খলীফা আল-জুমাহীর সহচর, মুহাম্মাদ ইবনে আদী ইবনে যাহর আল-মুকরী, মুহাম্মাদ ইবনে আল-মুআল্লা আল-আসাদী এবং জাফর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আল-ফযল আল-বাগদাদী থেকে বর্ণনা করেছেন। আমি তাঁর থেকে হাদীস লিখেছি এবং তিনি বিশ্বস্ত ছিলেন। তিনি চারশত পঞ্চাশ হিজরী সালের রবিউল আউয়াল মাসের শেষ দিন মঙ্গলবার মৃত্যুবরণ করেন এবং পরদিন 'বাব হারব' কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জামে মদীনায় আমি তাঁর জানাযা পড়েছি। তাঁর বয়স হয়েছিল ছিয়াশি বছর।»

 

‌‌ইবনুস সালাহ:

তাজউদ্দীন আস-সুবকীর 'তাবাকাতুশ শাফেয়ীয়াহ আল-কুবরা' গ্রন্থে ইবনুস সালাহ-এর উক্তি তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে: «এই আল-মাওয়ার্দী, আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, মুতাজিলা মতবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত। আমি আগে তাঁর ব্যাপারে এই বিষয়টি নিশ্চিত ছিলাম না, এবং তাঁর পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও ওজর পেশ করতাম এই বলে যে, তিনি তাঁর তাফসীরে এমন সব আয়াত—যেখানে মুফাসসিরদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে—সেখানে আহলুস সুন্নাহর তাফসীর এবং মুতাজিলাদের তাফসীর উভয়ই উল্লেখ করেন, কোনটি সত্য তা বর্ণনা করার প্রতিবাদ না করেই। আমি বলতাম: সম্ভবত তাঁর উদ্দেশ্য হলো সত্য-মিথ্যা যা বলা হয়েছে তার সবটুকুই সংকলন করা। এই কারণেই তিনি 'মুসাব্বিহাহ' (আল্লাহকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করা গোষ্ঠী)-দের উক্তি থেকেও অনুরূপ অনেক কিছু উল্লেখ করেছেন। শেষ পর্যন্ত আমি দেখতে পেলাম যে, তিনি কিছু কিছু স্থানে মুতাজিলাদের মত এবং তাদের ভ্রান্ত মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে যা তৈরি করা হয়েছে তা বেছে নিচ্ছেন। আর তাঁর তাফসীর অত্যন্ত ক্ষতিকারক, কারণ এটি বাতিলপন্থীদের অপব্যাখ্যায় পূর্ণ, যা প্রতারণা ও সংগোপনে এমনভাবে করা হয়েছে যে আলেম এবং গবেষক ছাড়া অন্য কেউ তা ধরতে পারবে না। অথচ এটি এমন এক ব্যক্তির রচনা যিনি নিজেকে মুতাজিলা হিসেবে প্রকাশ করেন না, বরং যে বিষয়ে তিনি তাদের সাথে একমত তা গোপন রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তাছাড়া তিনি নিরঙ্কুশ মুতাজিলা নন, কারণ তিনি তাদের সকল মূলনীতির সাথে একমত নন, যেমন কুরআনের সৃষ্টি হওয়া সম্পর্কিত মতবাদ, যেমনটি বোঝা যায়...»
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ১৩)
عليه تفسيره، في قوله عز وجل: ما يَأْتِيهِمْ مِنْ ذِكْرٍ مِنْ رَبِّهِمْ مُحْدَثٍ.

وغير ذلك، ويوافقهم في القدر، وهي البلية التي غلبت على البصريين، وعيبوا بها قديما» .

 

‌‌أبو إسحاق الشيرازي:

ويقول الشيرازي وهو من علماء وفقهاء الشافعية الأجلاء عن الماوردي:

«درس بالبصرة وبغداد سنين كثيرة في الفقه والتفسير وأصول الفقه والأدب وكان حافظا للمذهب» .

 

‌‌ابن خلكان:

يقول ابن خلكان في «وفيات الأعيان» عن الماوردي: «كان من وجوه الفقهاء الشافعية وكبارهم، وكان حافظا للمذهب، وله فيه كتاب «الحاوي» الذي لم يطالعه أحد إلّا شهد له بالتبحر والمعرفة التامة بالمذهب» .

 

‌‌تاج الدين السبكي:

ويقول تاج الدين السبكي في «طبقات الشافعية الكبرى» عن الماوردي:

«علي بن محمد بن حبيب الإمام الجليل القدر الرفيع المقدار والشأن، أبو الحسن المعروف بالماوردي، كان إماما جليلا له اليد الباسطة في المذهب والتفنن التام في سائر العلوم» .
এর ওপর তাঁর তাফসির রয়েছে, মহান আল্লাহর বাণী প্রসঙ্গে: "তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের নিকট কোনো নতুন উপদেশ আসে না।"

এবং এর বাইরেও অন্যান্য বিষয়। আর তিনি তাকদিরের ব্যাপারে তাদের সাথে একমত পোষণ করেছেন, আর এটি এমন একটি মুসিবত যা বসরার অধিবাসীদের ওপর প্রবল হয়েছিল এবং প্রাচীনকাল থেকেই এর কারণে তাদের নিন্দা করা হতো।

 

‌‌আবু ইসহাক আশ-শিরাজি:

শাফেয়ি মাযহাবের সুমহান আলেম ও ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত আশ-শিরাজি আল-মাওয়ার্দি সম্পর্কে বলেন:

«তিনি বসরা ও বাগদাদে দীর্ঘ বছর ধরে ফিকহ, তাফসির, উসুলুল ফিকহ ও সাহিত্যের ওপর পাঠদান করেছেন এবং তিনি মাযহাবের হাফিজ ছিলেন।»

 

‌‌ইবনে খাল্লিকান:

ইবনে খাল্লিকান তাঁর 'ওয়াফায়াতুল আইয়ান' গ্রন্থে আল-মাওয়ার্দি সম্পর্কে বলেন: «তিনি শাফেয়ি ফকিহদের প্রধান ব্যক্তিত্ব ও তাঁদের মধ্যে বড় মাপের আলেম ছিলেন এবং তিনি মাযহাবের হাফিজ ছিলেন। এই মাযহাবে তাঁর 'আল-হাউই' নামক গ্রন্থটি রয়েছে, যা কেউ পাঠ করলে অবশ্যই তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ও মাযহাব সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানের সাক্ষ্য দেবে।»

 

‌‌তাজউদ্দীন আস-সুবকি:

তাজউদ্দীন আস-সুবকি তাঁর 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা' গ্রন্থে আল-মাওয়ার্দি সম্পর্কে বলেন:

«আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাবিব, সুউচ্চ মর্যাদা ও শানের অধিকারী মহান ইমাম, আবুল হাসান—যিনি আল-মাওয়ার্দি নামে পরিচিত। তিনি একজন মহান ইমাম ছিলেন, মাযহাবের ক্ষেত্রে যাঁর প্রসারিত হাত ছিল এবং অন্যান্য সকল বিদ্যায় যাঁর পূর্ণ পারদর্শিতা ছিল।»
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌[مقدمة المؤلف]

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ* الحمد لله الذي أحكم ما خلق وقدّر، وعدل فيما قسم ودبر، وأنذر بما أنشأ وأظهر، واستأثر بما أخفى وأسر، وأنعم بما أمر وحظر، وأرشد إلى إنذاره بنوعي تفضيل تميز بهما جنس البشر عن كل حيوان بهيم، وهما نطق يفضي إلى الفهم، وعقل يؤدي إلى العلم، ليعان بهما على ما كلف من أوان التعبد فيصل بالعقل إلى علمه واستعلامه، وبالنطق إلى فهمه واستفهامه، فيصير مهيأ لقبول ما كلف من التعارف ومعانا على ما تعبد به من الشرائع نعمة بها قطع الأعذار، وعمّ بها المصالح ليكون الخلق على رغب يدعوهم إلى الطاعة ورهب يكفهم عن المعصية فيعم الخير بالرغبة، وينحسم الشر بالرهبة، وهذا لا يستقر في النفوس إلّا برسل مبلغين عن الله ثوابه فيما أمر، وعقابه فيما حظر، فوجب أن يوضح في إثبات النبوّات ما ينتفي عنه ارتياب مغرور وشبهة معاند، وقد جعلت كتابي هذا مقصورا على ما أفضى ودل عليه ليكون عن الحق موضحا وللسرائر مصلحا وعلى صحة النبوّة دليلا ولشبه المستريب مزيلا وجعلت ما تضمنه مشتملا على أمرين:

أحدهما: ما اختص بإثبات النبوّة من أعلامها.

والثاني: فيما يختلف من أقسامها وأحكامها ليكون الجمع بينهما أنفى
[লেখকের ভূমিকা]

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সৃষ্টিকে সুদৃঢ় করেছেন ও সুপরিমিত করেছেন; তিনি যা বণ্টন ও পরিচালনা করেছেন তাতে ইনসাফ করেছেন; যা সৃষ্টি ও প্রকাশ করেছেন তার মাধ্যমে সতর্ক করেছেন; আর যা গোপন ও লুকায়িত রেখেছেন তা নিজের জন্য বিশেষিত রেখেছেন। তিনি যা আদেশ ও নিষেধ করেছেন তার মাধ্যমে নেয়ামত দান করেছেন এবং তাঁর সতর্কবার্তার প্রতি এমন দুই প্রকার শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে পথপ্রদর্শন করেছেন যার দ্বারা মানবজাতিকে সকল নির্বাক চতুষ্পদ প্রাণী থেকে স্বতন্ত্র করেছেন। সেই দুটি হলো: বাকশক্তি—যা বুঝার দিকে নিয়ে যায়, এবং বুদ্ধি—যা জ্ঞানের দিকে ধাবিত করে। যাতে এই দুটির মাধ্যমে মানুষ ইবাদতের সময়কাল থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালনে সহায়তা লাভ করতে পারে; ফলে সে বুদ্ধির মাধ্যমে জ্ঞান ও তত্ত্বানুসন্ধানে এবং বাকশক্তির মাধ্যমে অনুধাবন ও জিজ্ঞাসায় উপনীত হতে পারে। এর ফলে সে পরিচিতি সংক্রান্ত অর্পিত দায়িত্বসমূহ গ্রহণে প্রস্তুত হয় এবং শরীয়তের যেসব বিধিবিধান পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাতে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়। এটি এমন এক নেয়ামত যার মাধ্যমে সকল ওজর-আপত্তি ছিন্ন হয়েছে এবং জনকল্যাণ ব্যাপক হয়েছে; যাতে সৃষ্টিজগত এমন এক আগ্রহের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে যা তাদেরকে আনুগত্যের দিকে আহ্বান করে এবং এমন এক ভীতির ওপর থাকে যা তাদেরকে নাফরমানি থেকে বিরত রাখে। ফলে আগ্রহের দ্বারা কল্যাণ ব্যাপ্ত হয় এবং ভীতির দ্বারা অকল্যাণ মূলোৎপাটিত হয়। আর এটি মানুষের মনে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় না কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সেই রাসূলগণের মাধ্যমেই, যারা তাঁর আদিষ্ট বিষয়ে পুরস্কার এবং নিষিদ্ধ বিষয়ে শাস্তির সংবাদ পৌঁছে দেন। অতএব, নবুওয়াত প্রমাণের ক্ষেত্রে এমন বিষয় স্পষ্ট করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে যার দ্বারা বিভ্রান্ত ব্যক্তির বিভ্রান্তি ও হঠকারীর সংশয় দূরীভূত হয়। আমি আমার এই গ্রন্থটিকে সেই সকল বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছি যা সত্যকে স্পষ্ট করে, অন্তঃকরণকে সংশোধন করে, নবুওয়াতের সত্যতার ওপর প্রমাণ পেশ করে এবং সন্দেহকারীর সংশয় অপনোদন করে। আর আমি এর বিষয়বস্তুকে দুটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করেছি:

প্রথমটি: নবুওয়াত প্রমাণের সাথে সংশ্লিষ্ট নিদর্শনসমূহ সংক্রান্ত।

দ্বিতীয়টি: নবুওয়াতের বিভিন্ন প্রকারভেদ ও বিধানসমূহ সংক্রান্ত; যাতে এ দুটির সমন্বয় অধিকতর কার্যকরভাবে সংশয় দূরকারী হয়।
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ১৬)
للشبهة وأبلغ في الإبانة، وجعلت ما تضمنه هذا كتابا مشتملا على أحد وعشرين بابا.

الباب الأول: في مقدمة الأدلة.

الباب الثاني: في معرفة الإله المعبود.

الباب الثالث: في صحة التكليف.

الباب الرابع: في إثبات النبوّات.

الباب الخامس: في مدة العالم وعدة الرسل عليهم الصلاة والسلام.

الباب السادس: في إثبات نبوّة محمد صلى الله عليه وسلم.

الباب السابع: فيما يتضمنه القرآن من أنواع إعجازه.

الباب الثامن: في معجزات عصمته صلى الله عليه وسلم.

الباب التاسع: فيما شوهد من معجزات أفعاله وصلى الله عليه وسلم.

الباب العاشر: فيما سمع من معجزات أقواله صلى الله عليه وسلم.

الباب الحادي عشر: فيما أكرمه الله تعالى به من إجابة دعوته صلى الله عليه وسلم.

الباب الثاني عشر: في إنذاره بما يستحدث بعده صلى الله عليه وسلم.

الباب الثالث عشر: في معجزه صلى الله عليه وسلم بما ظهر من البهائم.

الباب الرابع عشر: في ظهور المعجز من الشجر والجماد.

الباب الخامس عشر: في بشائر الأنبياء عليهم الصلاة والسلام بنبوّته صلى الله عليه وسلم.

الباب السادس عشر: في هتوف الجن بنبوته صلى الله عليه وسلم.

الباب السابع عشر: فيما هجست النفوس من إلهام العقول بنبوّته صلى الله عليه وسلم.

الباب الثامن عشر: في مبادىء نسبه وطهارة مولده صلى الله عليه وسلم.

الباب التاسع عشر: في آيات مولده وظهوره بركته صلى الله عليه وسلم.

الباب العشرون: في شرف أخلاقه وكمال فضائله.

الباب الحادي والعشرون: في مبتدى بعثته واستقرار نبوّته.

وأنا أسأل الله تعالى حسن معونته وأرغب إليه في توفيقه وهدايته وصلى الله على محمد وعلى آله وصحابته وهو حسبي ونعم الوكيل.
সংশয় নিরসনে অধিকতর সহায়ক এবং বর্ণনায় অধিকতর সুস্পষ্ট। আমি এতে যা রয়েছে তাকে একুশটি অধ্যায় সম্বলিত একটি গ্রন্থে রূপ দিয়েছি।

প্রথম অধ্যায়: দলীলসমূহের উপক্রমণিকা প্রসঙ্গে।

втоর অধ্যায়: উপাস্য ইলাহ-র পরিচিতি প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অধ্যায়: শরয়ী দায়িত্বারোপের (তাকলীফ) বৈধতা প্রসঙ্গে।

চতুর্থ অধ্যায়: নবুওয়াত প্রমাণ করা প্রসঙ্গে।

পঞ্চম অধ্যায়: জগতের স্থিতিকাল এবং রাসূলগণের (তাঁদের ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক) সংখ্যা প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ অধ্যায়: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াত প্রমাণ করা প্রসঙ্গে।

সপ্তম অধ্যায়: কুরআনের অন্তর্ভুক্ত অলৌকিকত্বের (ই’জায) প্রকারভেদ প্রসঙ্গে।

অষ্টম অধ্যায়: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিষ্পাপত্বের (ইসমাত) মুজিযাসমূহ প্রসঙ্গে।

নবম অধ্যায়: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্মগত যেসব মুজিযা প্রত্যক্ষ করা হয়েছে, সে প্রসঙ্গে।

দশম অধ্যায়: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণীগত যেসব মুজিযা শোনা গিয়েছে, সে প্রসঙ্গে।

একাদশ অধ্যায়: আল্লাহ তাআলা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দোয়া কবুল করার মাধ্যমে তাঁকে যে সম্মান দান করেছেন, সে প্রসঙ্গে।

দ্বাদশ অধ্যায়: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরে যা কিছু ঘটবে সে সম্পর্কে তাঁর দেওয়া সতর্কবার্তা প্রসঙ্গে।

ত্রয়োদশ অধ্যায়: চতুষ্পদ জন্তুর মাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুজিযা প্রসঙ্গে।

চতুর্দশ অধ্যায়: বৃক্ষরাজি ও জড় পদার্থের মাধ্যমে মুজিযা প্রকাশ পাওয়া প্রসঙ্গে।

পঞ্চদশ অধ্যায়: নবীগণের (তাঁদের ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক) দেওয়া তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়াতের সুসংবাদ প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠদশ অধ্যায়: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়াত সম্পর্কে জিনদের ঘোষণা প্রসঙ্গে।

সপ্তদশ অধ্যায়: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়াত সম্পর্কে অন্তরে উদিত হওয়া অনুভব ও বিচারবুদ্ধির ইলহাম প্রসঙ্গে।

অষ্টাদশ অধ্যায়: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বংশমর্যাদার সূচনা এবং তাঁর পবিত্র জন্মবৃতান্ত প্রসঙ্গে।

ঊনবিংশ অধ্যায়: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্মের নিদর্শনাবলী এবং তাঁর বরকতের প্রকাশ পাওয়া প্রসঙ্গে।

বিংশ অধ্যায়: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উন্নত চরিত্র ও গুণাবলীর পূর্ণতা প্রসঙ্গে।

একবিংশ অধ্যায়: তাঁর রিসালাতের সূচনা এবং নবুওয়াত সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রসঙ্গে।

আর আমি আল্লাহ তাআলার নিকট তাঁর উত্তম সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট তাঁর তাওফীক ও হিদায়াত কামনা করছি। আর আল্লাহর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الباب الأول في مقدمة الأدلة

والأدلة ما أوصلت إلى العلم بالمدلول عليه، والدليل معلوم بالعقل، والمدلول عليه معلوم بالدليل، فيكون العقل موصلا إلى الدليل، وليس بدليل، لأن العقل أصل كل معلوم من دليل ومدلول عليه، ولذلك سمي أم العلم، فصار العقل مستدلا وإن لم يكن دليلا، والعلم الحادث عنه ما تميز به الحق من الباطل، والصحيح من الفاسد، والممكن من الممتنع، وهو على ضربين: علم اضطرار وعلم اكتساب، فأما علم الاضطرار فهو ما أدرك ببداهة العقول وهو نوعان: حس ظاهر، وخبر متواتر، وعلم الحس متأخر عن العقل وعلم الخبر متقدم عليه، ولا يفتقر علم الاضطرار إلى نظر واستدلال لإدراكه ببديهة العقل ويشترك فيه الخاصة والعامة ولا يتوجه إليه جحد ولا تحسن المطالبة فيه بدليل لأنه غاية لتناهي النظر.

 

‌‌علم الاكتساب

وأما علم الاكتساب فطريقه النظر والاستدلال لأنه غير مدرك ببديهة العقل، فصحّ أن يتوجه إليه الاعتراض فيه بطلب الدليل عليه، فلذلك لم يتوصل إليه إلّا بالنظر والاستدلال، وهو على ضربين: أحدهما؛ ما كان من قضايا العقول، والثاني؛ ما كان من أحكام السمع، فأما قضايا العقول فضربان: أحدهما؛ ما علم إستدلالا بضرورة العقل، والثاني؛ ما علم
প্রথম পরিচ্ছেদ: দলীলসমূহের উপক্রমণিকা

দলীলসমূহ হলো তা-ই, যা দলীলকৃত বিষয় (মাদলুল) সম্পর্কে জ্ঞান পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেয়। আর দলীল বিবেকের মাধ্যমে জ্ঞাত হয় এবং দলীলকৃত বিষয়টি দলীলের মাধ্যমে জ্ঞাত হয়। সুতরাং বিবেক দলীলের নিকট পৌঁছিয়ে দেওয়ার মাধ্যম, কিন্তু তা নিজে দলীল নয়। কারণ বিবেক হলো দলীল ও দলীলকৃত বিষয়ের মাধ্যমে অর্জিত সকল জ্ঞানের মূল। এই কারণেই একে জ্ঞানের জননী (উম্মুল ইলম) বলা হয়। ফলে বিবেক হলো দলীল অন্বেষণকারী, যদিও তা নিজে দলীল নয়। আর বিবেক হতে উদ্ভূত জ্ঞান হলো তা-ই, যার মাধ্যমে সত্য থেকে মিথ্যাকে, সঠিক থেকে ভ্রান্তকে এবং সম্ভব থেকে অসম্ভবকে আলাদা করা যায়। এটি দুই প্রকার: অপরিহার্য জ্ঞান (ইলমুত দিরারাহ) এবং অর্জিত জ্ঞান (ইলমুল ইক্তিসাব)। অপরিহার্য জ্ঞান হলো যা বুদ্ধির স্বতঃস্ফূর্ততায় অনুধাবিত হয়। এটি আবার দুই প্রকার: বাহ্যিক ইন্দ্রিয় এবং মুতাওয়াতির সংবাদ। ইন্দ্রিয়জাত জ্ঞান বিবেকের পশ্চাদবর্তী, আর সংবাদলব্ধ জ্ঞান বিবেকের অগ্রবর্তী। অপরিহার্য জ্ঞান বুদ্ধির স্বতঃস্ফূর্ততায় অনুভূত হওয়ার কারণে তা গবেষণা ও দলীল অন্বেষণের মুখাপেক্ষী হয় না। এতে বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ জনতা সকলেই সমানভাবে অংশীদার এবং এর প্রতি কোনো প্রকার অস্বীকার প্রযুক্ত হয় না। এছাড়া এতে দলীল দাবি করাও সমীচীন নয়, কেননা এটিই হলো গবেষণার চূড়ান্ত সীমা।

 

অর্জিত জ্ঞান

আর অর্জিত জ্ঞানের পথ হলো গবেষণা ও দলীল অন্বেষণ, কারণ তা বুদ্ধির স্বতঃস্ফূর্ততায় অনুধাবিত হয় না। ফলে এর বিপরীতে দলীল তলব করার মাধ্যমে আপত্তি উত্থাপন করা বৈধ হয়। এই কারণেই গবেষণা ও দলীল অন্বেষণ ব্যতীত এটি অর্জন করা সম্ভব হয় না। এটি দুই প্রকার: প্রথমত, যা বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত; দ্বিতীয়ত, যা শ্রবণলব্ধ (শরয়ী) বিধানের অন্তর্ভুক্ত। বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়সমূহ আবার দুই প্রকার: প্রথমটি যা বুদ্ধির অপরিহার্যতার নিরিখে দলীল দ্বারা জানা যায়, এবং দ্বিতীয়টি যা জানা যায়...
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ১৮)
استدلالا بدليل العقل، فأما المعلوم بضرورة العقل فهو ما لا يجوز أن يكون على خلاف ما هو به كالتوحيد فيوجب العلم الضروري، وإن كان عن استدلال للوصول إليه بضرورة العقل، وأما المعلوم بدليل العقل فهو ما يجوز أن يكون على خلاف ما هو به كآحاد الأنبياء إذا ادعى النبوّة فيوجب علم الاستدلال ولا يوجب علم الاضطرار لحدوثه عن دليل العقل لا عن ضرورته، واختلف في أصل النبوّات على العموم هل يعلم بضرورة العقل أو بدليله على اختلافهم في التعبد بالشرائع هل اقترن بالعقل أو بعقبه فذهب من جعله مقترنا بالعقل إلى إثبات عموم النبوّات بضرورة العقل وذهب من جعله متأخرا عن العقل إلى إثباتها بدليل العقل، وذهب أصحاب الإلهام إلى إسقاط الاستدلال بقضايا العقول وجعلوا إثبات المعارف بالإلهام أصلا يغني عن أصل، وهذا فاسد بقول الله تعالى: فَاعْتَبِرُوا يا أُولِي الْأَبْصارِ «1» فجعله بالاعتبار مدركا دون الإلهام، ويقال لمن أثبت المعارف بالإلهام لم قلت بالإلهام؟ فإن استدل ناقض، فإن قال: قلته بالإلهام، قيل له: انفصل عمن أسقط الإلهام بالإلهام، وعمن قال في الإلهام بغير إلهامك في جميع أقوالك فلا تجد فصلا، وكفى بذلك فسادا.

 

‌‌الضرورة والدليل

فإذا ثبت أن كلا الضربين «2» مدرك بقضية العقل فيما علم بضرورته من التوحيد أو بدليله من النبوّة، صار بعد العلم به واجبا واختلف في وجوبه، هل وجب بما صار معلوما به من قضية العقل أو بالسمع، فذهب قوم إلى وجوب التوحيد والنبوة بالعقل كما علم بالعقل ويكون التوحيد وعموم النبوات قبل السمع فرضا، وذهب آخرون إلى وجوبهما بالسمع وإن علما بالعقل لأن الوجوب تعبد لا يثبت إلّا بالسمع.

واختلف من قال بهذا في وجوب ورود السمع به فأوجبه بعضهم ولم يوجبه

--------------------------------------------

(1) سورة الحشر الآية (2) .

(2) الضربين: النوعين.
বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের মাধ্যমে যুক্তি প্রদান; আর বুদ্ধির অনিবার্যতার (জরুরত) মাধ্যমে যা জ্ঞাত, তা এমন বিষয় যার বিপরীত হওয়া অসম্ভব, যেমন তাওহীদ; যা অনিবার্য জ্ঞান (ইলমে দরুরি) উৎপাদন করে, যদিও বুদ্ধির অনিবার্যতার মাধ্যমে সেখানে পৌঁছানোর জন্য যুক্তির (ইস্তিদলাল) প্রয়োজন হয়। আর যা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের মাধ্যমে জ্ঞাত, তা এমন বিষয় যার বিপরীত হওয়া সম্ভব, যেমন ব্যক্তিনির্ভর নবীগণ যখন নবুওয়াতের দাবি করেন; এটি যুক্তিনির্ভর জ্ঞান (ইলমে ইস্তিদলালি) উৎপাদন করে এবং তা অনিবার্য জ্ঞান (ইলমে ইদতিরার) উৎপাদন করে না, কারণ তা বুদ্ধির অনিবার্যতার পরিবর্তে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের মাধ্যমে অর্জিত হয়। সাধারণভাবে নবুওয়াতের মূল ভিত্তি সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে যে, এটি কি বুদ্ধির অনিবার্যতায় জানা যায় নাকি তার প্রমাণের মাধ্যমে; যা শরয়ি বিধান পালনের বাধ্যবাধকতা (তাআববুদ) বুদ্ধির সাথে যুক্ত নাকি তার পরবর্তী বিষয়—এ নিয়ে তাদের মতভেদের ওপর ভিত্তি করে। যারা একে বুদ্ধির সাথে যুক্ত মনে করেন, তারা বুদ্ধির অনিবার্যতার মাধ্যমেই সাধারণ নবুওয়াত প্রমাণের দিকে গিয়েছেন; আর যারা একে বুদ্ধির পরবর্তী বিষয় মনে করেন, তারা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের মাধ্যমে এটি সাব্যস্ত করার দিকে গিয়েছেন। আর ইলহামপন্থীরা (অনুপ্রেরণাবাদী) বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তির কার্যকারিতা বাতিল করার দিকে গিয়েছেন এবং তারা জ্ঞান লাভের ভিত্তি হিসেবে ইলহামকে নির্ধারণ করেছেন যা অন্য কোনো ভিত্তির মুখাপেক্ষী নয়। এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে বাতিল বলে গণ্য: "অতএব হে চক্ষুষ্মানগণ, তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো" (১)। ফলে তিনি বিষয়টিকে ইলহামের পরিবর্তে শিক্ষা গ্রহণের (ইতবার) মাধ্যমে অর্জনযোগ্য করেছেন। আর যারা ইলহামের মাধ্যমে জ্ঞান সাব্যস্ত করে, তাদের বলা হবে: তোমরা কেন ইলহামের কথা বলছ? তারা যদি কোনো যুক্তি দেয়, তবে তা তাদের নিজেদের মতবাদেরই পরিপন্থী হবে। আর যদি তারা বলে: আমি ইলহামের মাধ্যমেই এটি বলেছি, তবে তাকে বলা হবে: তবে যে ব্যক্তি ইলহামের মাধ্যমেই ইলহামকে বাতিল করে দেয়, কিংবা যে ব্যক্তি তোমার সকল বক্তব্যের বিপরীতে তোমার ইলহাম ব্যতীত অন্য ইলহামের দাবি করে, তার থেকে তোমার পার্থক্য কোথায়? তুমি কোনো পার্থক্য খুঁজে পাবে না। আর তাদের মতবাদ বাতিল হওয়ার জন্য এটিই যথেষ্ট।

 

‌‌অনিবার্যতা ও প্রমাণ

যখন এটি প্রমাণিত হলো যে, উভয় প্রকারই (২) বুদ্ধির সিদ্ধান্ত দ্বারা উপলব্ধিযোগ্য—তাওহীদের মতো বিষয় যা বুদ্ধির অনিবার্যতায় জ্ঞাত কিংবা নবুওয়াতের মতো বিষয় যা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের মাধ্যমে জ্ঞাত—তখন এটি জানার পর তা পালন করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। তবে এর আবশ্যকতা (উজুব) নিয়ে মতভেদ রয়েছে: এটি কি বুদ্ধির সিদ্ধান্ত দ্বারা জ্ঞাত হওয়ার কারণে আবশ্যক হয়েছে, নাকি শ্রুতিদালিল বা ওহীর (সামআ) কারণে? একদল মনে করেন যে, তাওহীদ ও নবুওয়াত বুদ্ধির মাধ্যমেই আবশ্যক হয়, যেভাবে তা বুদ্ধির মাধ্যমে জানা যায়; ফলে ওহী আসার পূর্বেই তাওহীদ ও সাধারণ নবুওয়াত পালন করা ফরজ হিসেবে গণ্য হবে। অন্যরা মনে করেন, এ দুটি ওহীর মাধ্যমেই আবশ্যক হয়, যদিও তা বুদ্ধির মাধ্যমে জানা যায়; কারণ আবশ্যকতা হলো একটি ইবাদতগত বিষয় (তাআববুদ), যা ওহী ব্যতীত সাব্যস্ত হয় না।

যারা এই মত পোষণ করেন, তাদের মাঝে ওহী আসার আবশ্যকতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে; তাদের কেউ একে আবশ্যক করেছেন, আবার কেউ একে আবশ্যক করেননি

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হাশর, আয়াত (২)।

(২) উভয় প্রকার: দুই প্রকার।
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ১৯)
آخرون منهم وأسقطوا فرض التوحيد عن العقلاء إذا لم يرد سمع بإيجابه.

وذهب آخرون إلى أن ما علم بضرورة العقل من التوحيد واجب بالعقل وما علم بدليل العقل من النبوّة واجب بالسمع لأن التوحيد أصل والنبوّة فرع والاجتهاد فيهما فرض على أعيان ذوي العقول إذا اقترن بكمال عقله قوة الفطنة وصحة الروية، فيستغنى بكمال عقله وصحة رويته عن تنبيه ذوي العقول الوافرة ليصل بإجتهاد عقله من اضطرار أو استدلال إلى قضايا العقول ليصير عالما بها ومستغنيا عن عقل غيره فيها، وإن ضعفت فطنته وقلت رويته لزمه أن يتنبه بذوي العقول على الوصول إليها بعقله لا بعقولهم فيعلمها بالتنبيه كما علمها غيره بالنظر وإن لم يصل إليها بالتنبيه فليس بكامل العقل ويصير تبعا لذوي العقول لأن عدم الموجب دال على سقوط الموجب.

 

‌‌أحكام العقل

والعقل هو ما أفاد العلم بموجباته، وقيل: بل هو قوة التمييز بين الحق والباطل. وقيل: هو العلم بخفيات الأمور التي لا يوصل إليها إلّا بالاستدلال والنظر وهو ضربان، غريزي هو أصل ومكتسب هو فرع.

فأما الغريزي فهو الذي يتعلق به التكليف ويلزم به التعبد.

وأما المكتسب فهو الذي يؤدي إلى صحة الاجتهاد وقوة النظر ويمتنع أن يتجرد المكتسب عن الغريزي ولا يمتنع أن يتجرد الغريزي عن المكتسب لأن الغريزي أصل يصح قيامه بذات والمكتسب فرع لا يصح قيامه إلّا بأصله.

ومن الناس من امتنع من تسمية المكتسب عقلا لأنه من نتائجه ولا اعتبار بالنزاع في التسمية إذا كان المعنى مسلّما.

 

‌‌أحكام السمع

وأما أحكام السمع فمأخوذة عمن يلزم طاعته من الرسل والعقل مشروط في التزامها وإن لم يكن السمع مشروطا في قضايا العقول. وما يتضمنه السمع نوعان: تعبد وإنذار، فالتعبد الأوامر والنواهي، والإنذار الوعد والوعيد فإن
তাদের মধ্যে অন্যরা বিবেকবানদের ওপর থেকে তাওহীদের আবশ্যকতাকে রহিত করেছেন যদি তা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে কোনো শ্রুত দলীল (শরীয়াহর বাণী) না আসে।

আবার অন্য একদল মনে করেন যে, তাওহীদের যেসব বিষয় বিবেকের অনিবার্যতার মাধ্যমে জানা যায় তা বিবেকের আলোকেই ওয়াজিব, আর নবুওয়াতের যেসব বিষয় বিবেকের দলীলের মাধ্যমে জানা যায় তা শ্রুত দলীলের মাধ্যমে ওয়াজিব। কারণ তাওহীদ হলো মূল এবং নবুওয়াত হলো শাখা। আর এই উভয় বিষয়ে ইজতিহাদ করা বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের ওপর ব্যক্তিগতভাবে ফরয, যখন তার বুদ্ধিবৃত্তিক পূর্ণতার সাথে তীক্ষ্ণ মেধা ও সঠিক চিন্তাশক্তি যুক্ত হয়। ফলে সে তার পূর্ণ বুদ্ধি ও সঠিক চিন্তাশক্তির কারণে অন্য বুদ্ধিমানদের সতর্কীকরণের মুখাপেক্ষী থাকে না, যাতে সে তার বুদ্ধিবৃত্তিক ইজতিহাদের মাধ্যমে—তা অনিবার্যভাবেই হোক বা যুক্তিপ্রমাণের মাধ্যমেই হোক—বুদ্ধিবৃত্তিক সিদ্ধান্তসমূহে পৌঁছাতে পারে এবং সে বিষয়ে জ্ঞানী হয়ে অন্যের বুদ্ধির মুখাপেক্ষীহীন হতে পারে। আর যদি তার মেধা দুর্বল হয় এবং চিন্তাশক্তি কম হয়, তবে তার জন্য আবশ্যক হলো অন্য বুদ্ধিমানদের সতর্কবার্তার মাধ্যমে নিজ বুদ্ধির সাহায্যে সেখানে পৌঁছানো, তাদের বুদ্ধির মাধ্যমে নয়। ফলে সে সতর্কীকরণের মাধ্যমে তা জানতে পারবে যেমন অন্যরা চিন্তাগবেষণার মাধ্যমে জেনেছে। আর যদি সে সতর্কীকরণের মাধ্যমেও সেখানে পৌঁছাতে না পারে, তবে সে পূর্ণ বুদ্ধিমান নয় এবং সে বুদ্ধিমানদের অনুসারী হয়ে যাবে; কারণ ওয়াজিব হওয়ার কারণের অনুপস্থিতি ওয়াজিব রহিত হওয়ার প্রমাণ।

 

‌‌বিবেকের বিধানসমূহ

বিবেক হলো তা-ই যা স্বীয় আবশ্যকীয় বিষয়াদির জ্ঞান দান করে। আবার বলা হয়েছে: বরং এটি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করার শক্তি। আরও বলা হয়েছে: এটি গোপন বিষয়াদির জ্ঞান যা কেবল যুক্তিপ্রমাণ ও চিন্তাগবেষণার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। আর এটি দুই প্রকার: স্বভাবজাত—যা মূল, এবং অর্জিত—যা শাখা।

স্বভাবজাত বুদ্ধি হলো তা-ই যার সাথে শরীয়তের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট এবং যার মাধ্যমে ইবাদত করা অপরিহার্য হয়।

আর অর্জিত বুদ্ধি হলো তা-ই যা সঠিক ইজতিহাদ ও শক্তিশালী চিন্তাশক্তির দিকে ধাবিত করে। স্বভাবজাত বুদ্ধি ছাড়া অর্জিত বুদ্ধি থাকা অসম্ভব, তবে অর্জিত বুদ্ধি ছাড়া স্বভাবজাত বুদ্ধি থাকা অসম্ভব নয়। কারণ স্বভাবজাত বুদ্ধি হলো মূল যা স্বতন্ত্রভাবে বিদ্যমান থাকতে পারে, আর অর্জিত বুদ্ধি হলো শাখা যা স্বীয় মূল ছাড়া বিদ্যমান থাকতে পারে না।

কিছু মানুষ অর্জিত বুদ্ধিকে 'বিবেক' বা 'বুদ্ধি' নাম দিতে অস্বীকার করেছেন, কারণ এটি বুদ্ধিরই একটি ফলাফল। আর পরিভাষা নিয়ে বিতর্কের কোনো গুরুত্ব নেই যদি তার অর্থ স্বীকৃত হয়।

 

‌‌শ্রুত দলীলের বিধানসমূহ

আর শ্রুত দলীলের বিধানসমূহ গ্রহণ করা হয় সেই রাসূলদের থেকে যাদের আনুগত্য করা আবশ্যক। আর এই বিধানসমূহ মানার ক্ষেত্রে বিবেক একটি শর্ত, যদিও বিবেকের সিদ্ধান্তসমূহের ক্ষেত্রে শ্রুত দলীল শর্ত নয়। শ্রুত দলীল যা অন্তর্ভুক্ত করে তা দুই প্রকার: ইবাদত ও সতর্কীকরণ। ইবাদত হলো আদেশ ও নিষেধসমূহ, আর সতর্কীকরণ হলো পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির হুঁশিয়ারি।
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ২০)
جمع الرسول بين التعبد والإنذار فهو الشرع الكامل المغني عن غيره وإن انفرد بالتعبد دون الإنذار فإن تقدمه إنذار غيره كمل الشرع بتعبده وإنذار من تقدمه وإن لم يتقدمه إنذار من غيره، أما في مبادىء النبوات أو في من لم تبلغهم دعوة الأنبياء فقد اختلف في قضايا العقول هل تقتضي الثواب على الطاعة والعقاب على المعصية، فذهب فريق إلى اقتضائها لذلك فعلى هذا يكون شرعا كمل بتعبد الرسول وإنذار العقول، وذهب فريق إلى أن قضايا العقول لا تقتضي ثوابا ولا عقابا، فعلى هذا اختلف في التعبد هل يكون مستحقا على ما تقدم من نعم الله تعالى على خلقه أو لجزاء مستقبل فذهب فريق إلى استحقاقه بسابق النعمة فإن وعد الله تعالى ثوابا عليه كان تفضلا منه يستحق بالوعد دون التعبد فعلى هذا يكون التعبد فرضا مستحقا يقتضي تركه عقابا وإن لم يقتض فعله ثوابا، وذهب آخرون إلى استحقاقه بما يقابله من الجزاء بالثواب عليه وما تقدم من النعمة تفضل منه فعلى هذا يكون التزام التعبد مستحبا وليس بمستحق فلا يلزم على تركه عقاب كما لم يستحق على فعله ثواب لأنه لم يقترن به وعد بثواب يوجب التزام التعبد، وإن انفرد الرسول بالإنذار دون التعبد فالإنذار لا يكون إلّا على فعل وإلّا كان عبثا لا يصدر عن كليم، فإن كان إنذاره على شرع تقدمه تضمن إنذاره إثبات ذلك الشرع وكان هذا المنذر من أمة ذلك المتعبد، وإن كان المتعبد قد أنذر كان هذا الإنذار تأكيدا ولم يحتج هذا المنذر إلى إظهار معجز، وإن لم يكن المتعبد قد أنذر تكامل شرع المتعبد بإنذار المتأخر وتكامل إنذار المتأخر بتعبد المتقدم واحتاج هذا المنذر إلى إظهار معجز إلى إنذاره موجب لكمال الشرع وإن أنذر المتأخر على فعل الخير واجتناب الشر خرج عن حكم الشرع إلى الوعظ والزجر بأمر إلهي يستحق له بسط اليد في الانكار واستيفاء ما تضمنه الإنذار.

রাসূল ইবাদত এবং সতর্কীকরণের সমন্বয় ঘটিয়েছেন, ফলে তিনি হলেন এমন এক পূর্ণাঙ্গ শরীয়ত যা অন্য সব কিছুর অভাব পূরণকারী। যদি তিনি সতর্কীকরণ ব্যতিরেকে কেবল ইবাদতের বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে একক হন, এমতাবস্থায় যদি তাঁর পূর্বে অন্য কারও সতর্কীকরণ বিদ্যমান থাকে, তবে তাঁর প্রবর্তিত ইবাদত এবং পূর্বসূরির সতর্কীকরণের মাধ্যমে শরীয়ত পূর্ণতা লাভ করে। আর যদি তাঁর পূর্বে অন্য কারও সতর্কীকরণ না থাকে—তা নবুওয়াতের প্রারম্ভিক স্তরে হোক কিংবা যাদের নিকট নবীদের দাওয়াত পৌঁছেনি তাদের ক্ষেত্রে হোক—তবে বিবেকের বিচার্য বিষয়সমূহ আনুগত্যের বিনিময়ে সওয়াব এবং নাফরমানির কারণে শাস্তির দাবি রাখে কি না, সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। এক দল মনে করেন যে বিবেক তা দাবি করে; এমতাবস্থায় এটি এমন এক শরীয়ত হবে যা রাসূলের ইবাদত এবং বিবেকের সতর্কীকরণের মাধ্যমে পূর্ণতা পেয়েছে। অন্য এক দল মনে করেন যে বিবেকের বিচার্য বিষয়সমূহ সওয়াব কিংবা শাস্তির দাবি রাখে না। এই মতানুসারে, ইবাদত কি মাখলুকের ওপর আল্লাহ তাআলার পূর্ববর্তী নেয়ামতসমূহের কারণে প্রাপ্য হবে নাকি ভবিষ্যৎ প্রতিদানের জন্য—তা নিয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। এক দল মনে করেন যে এটি পূর্ববর্তী নেয়ামতের কারণেই প্রাপ্য; এমতাবস্থায় আল্লাহ তাআলা যদি এর ওপর সওয়াবের ওয়াদা করেন তবে তা হবে তাঁর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ, যা কেবল ওয়াদার কারণে প্রাপ্য হবে, ইবাদতের কারণে নয়। এই মত অনুযায়ী, ইবাদত হবে একটি প্রাপ্য ফরজ যার পরিত্যাগে শাস্তি অবধারিত হয়, যদিও তা পালনে সওয়াব আবশ্যক না হয়। অন্য এক দল মনে করেন যে ইবাদত প্রাপ্য হয় তার বিনিময়ে সওয়াব লাভের মাধ্যমে, আর পূর্ববর্তী নেয়ামতসমূহ ছিল তাঁর পক্ষ থেকে স্রেফ অনুগ্রহ। এই মতানুসারে, ইবাদত পালনের অঙ্গীকার হবে মুস্তাহাব এবং তা আদায় করা অপরিহার্য নয়; ফলে তা পরিত্যাগের কারণে কোনো শাস্তি প্রযোজ্য হবে না, যেমনিভাবে তা পালনের কারণে সওয়াব সাব্যস্ত হয় না, যেহেতু এর সাথে সওয়াবের এমন কোনো প্রতিশ্রুতি যুক্ত হয়নি যা ইবাদতের অঙ্গীকারকে আবশ্যক করে তোলে। আর রাসূল যদি ইবাদতের বিধান ব্যতীত কেবল সতর্কীকরণে একক হন, তবে সতর্কীকরণ অবশ্যই কোনো কর্মের প্রেক্ষিতে হতে হবে, অন্যথায় তা নিরর্থক কাজে পরিণত হবে যা কোনো প্রাজ্ঞ বক্তার পক্ষ থেকে প্রকাশ পাওয়া অসম্ভব। যদি তাঁর সতর্কীকরণ পূর্ববর্তী কোনো শরীয়তের ওপর ভিত্তি করে হয়, তবে তাঁর সতর্কীকরণ সেই শরীয়তের প্রামাণিকতাকেও অন্তর্ভুক্ত করবে এবং এই সতর্ককারী সেই ইবাদত প্রবর্তনকারী নবীর উম্মতভুক্ত হবেন। যদি ইবাদত প্রবর্তনকারী নবী ইতিপূর্বেই সতর্ক করে থাকেন, তবে এই সতর্কীকরণ হবে কেবল একটি গুরুত্বারোপ, আর এই সতর্ককারীর জন্য কোনো মোজেজা প্রদর্শনের প্রয়োজন হবে না। কিন্তু যদি ইবাদত প্রবর্তনকারী নবী সতর্ক না করে থাকেন, তবে পরবর্তী সতর্ককারীর সতর্কীকরণের মাধ্যমে পূর্ববর্তী নবীর শরীয়ত পূর্ণতা পাবে এবং পূর্ববর্তীলব্ধ ইবাদতের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যক্তির সতর্কীকরণ পূর্ণতা লাভ করবে; এমতাবস্থায় এই সতর্ককারীকে তাঁর সতর্কীকরণের স্বপক্ষে মোজেজা প্রদর্শন করতে হবে যা শরীয়তের পূর্ণতার জন্য আবশ্যক। আর যদি পরবর্তী ব্যক্তি কল্যাণকর কাজ করা এবং অকল্যাণ বর্জনের বিষয়ে সতর্ক করেন, তবে তা শরীয়তের বিধানের গণ্ডি থেকে বের হয়ে আল্লাহর আদেশে নসিহত ও ধমকপ্রদানের অন্তর্ভুক্ত হবে, যার জন্য তিনি অন্যায়ের প্রতিবাদে হাত প্রসারিত করার এবং সতর্কবার্তায় যা নিহিত ছিল তা পুরোপুরি আদায় করার অধিকার লাভ করবেন।

(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ২১)
الباب الثاني في معرفة الإله المعبود

لا يصح التعبد ببعثة الرسل إلّا بعد معرفة المعبود المرسل ليعلم أنهم رسل مطاع معبود فيطاعوا لفرض طاعة المعبود، والمعبود هو الله عز وجل المنعم على عباده بما كلفهم من عبادته وافترض عليهم من طاعته بعد النعمة عليهم بخلق ذواتهم والإرشاد إلى مصالحهم واستودعهم علم اضطرار يدرك ببداية العقول «1» ، وعلم اكتساب يدرك بالفكر والنظر «2» ، ولما كانوا محجوبين عن ذاته لم يدركوه ببداية الحواس اضطرارا، وقد ظهر من إظهار آثار صنعته وإتقان حكمته ما يوصل إلى معرفة ذاته وصفاته اكتسابا لإدراكها بالاعتبار والنظر، ولو شاء لخلق ما يدرك ببداية الحواس، لكن معرفته بالاستدلال أبلغ في الحكمة لظهور التباين في الرتبة فلذلك ما امتنع الوصول إلى معرفته اضطرارا ووصل إليها استدلالا واكتسابا يخرج عن بداية العقول إلى استدلال معقول.

والذي يؤدي إلى معرفته جل جلاله ثلاثة فصول:

أحدهما: أن العالم محدث وليس بقديم.

والثاني: أن للعالم محدثا قديما «3» .

--------------------------------------------

(1) أي يدرك بالبديهة والفهم.

(2) أي بإعمال الفكر في الكون والمخلوقات يدرك الخالق.

(3) محدثا قديما: خالقا.
উপাস্য ইলাহ সম্পর্কে জানার বিষয়ে দ্বিতীয় অধ্যায়

রাসূলদের প্রেরণের মাধ্যমে ইবাদত করা ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হয় না, যতক্ষণ না প্রেরণকারী উপাস্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়; যাতে এটি জানা যায় যে, তাঁরা এমন এক উপাস্যের পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল যাঁর আনুগত্য করা হয়, ফলে উপাস্যের আনুগত্যের বাধ্যবাধকতার কারণে তাঁদেরও আনুগত্য করা হবে। আর উপাস্য হলেন মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ, যিনি তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর ইবাদত অর্পণ করার মাধ্যমে এবং তাঁর আনুগত্য ফরয করার মাধ্যমে তাঁদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন; তাঁদের অস্তিত্ব সৃষ্টির মাধ্যমে এবং তাঁদের কল্যাণকর বিষয়াদির প্রতি নির্দেশনার মাধ্যমে তাঁদের ওপর অনুগ্রহ করার পর। আর তিনি তাঁদের মাঝে এমন আবশ্যকীয় জ্ঞান আমানত রেখেছেন যা প্রাথমিক বুদ্ধি দ্বারা উপলব্ধি করা যায়, এবং এমন অর্জিত জ্ঞান যা চিন্তা ও গবেষণার মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায়। যেহেতু তাঁরা তাঁর সত্তা থেকে আবৃত ছিলেন, তাই তাঁরা ইন্দ্রিয়লব্ধ প্রাথমিক অনুভূতির মাধ্যমে আবশ্যিকভাবে তাঁকে লাভ করতে পারেননি। অথচ তাঁর সৃষ্টিশৈলীর নিদর্শন এবং প্রজ্ঞার নিপুণ প্রকাশ থেকে এমন কিছু প্রকাশ পেয়েছে যা চিন্তা ও গবেষণার মাধ্যমে তাঁর সত্তা ও গুণাবলী অর্জিত জ্ঞানের স্তরে পৌঁছে দেয়। তিনি চাইলে এমন কিছু সৃষ্টি করতে পারতেন যা ইন্দ্রিয়লব্ধ প্রাথমিক অনুভূতির মাধ্যমেই অনুভব করা যেত, কিন্তু দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে তাঁকে জানা প্রজ্ঞার দিক থেকে অধিকতর কার্যকর, যাতে মর্যাদার পার্থক্য স্পষ্ট হয়। এ কারণেই আবশ্যিকভাবে তাঁকে জানার পথ রুদ্ধ রাখা হয়েছে এবং দলীল ও অর্জনের মাধ্যমে তাঁকে জানার পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যা প্রাথমিক কাণ্ডজ্ঞান থেকে যুক্তিগ্রাহ্য প্রমাণের স্তরে উপনীত করে।

তাঁর (যাঁর প্রতাপ সুমহান) পরিচয় লাভের দিকে যা ধাবিত করে তা তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:

এক: এই জগত সৃষ্টিশীল, অনাদি নয়।

দুই: এই জগতের একজন অনাদি সৃষ্টিকর্তা রয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ যা স্বতঃস্ফূর্ত জ্ঞান ও বোধগম্যতা দ্বারা উপলব্ধি করা যায়।

(২) অর্থাৎ মহাবিশ্ব ও সৃষ্টিজগতের মধ্যে চিন্তাশক্তি প্রয়োগ করার মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তাকে উপলব্ধি করা।

(৩) অনাদি সৃষ্টিকর্তা: অর্থাৎ স্রষ্টা।
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ২২)
والثالث: أنه واحد لا شريك له.

فأما الفصل الأول؛ في حدوث العالم، فالمحدث ما كان له أول، والقديم ما لا أول له، والدليل على حدوث العالم شيئان:

أحدهما: أن العالم جواهر وأجسام، لا تنفك عن أعراض محدثة من اجتماع وافتراق وحركة وسكون، وإنما كانت الأعراض محدثة لأمرين:

أحدهما: أنه لا يصح قيامها بذواتها.

والثاني: لوجودها بعد عدمها «4» ، وزوالها بعد وجودها «5» ، وما لم ينفك عن الأعراض المحدثة لم يسبقها، لأنه لو سبقها لكان لا مجتمعا ولا مفترقا ولا متحركا ولا ساكنا، وهذا مستحيل فإستحال سبقه، وما لم يسبق المحدث فهو محدث فإن قيل: فليس يستنكر أن تكون الحوادث الماضية لا أول لها، فلم يلزم حدوث العالم، قيل: إذا كان لكل واحد من الحوادث أول استحال أن لا يكون لجميعها أول لأنها ليست غير آحادها، فصارت جميعها محدثة لأنها ذوات أوائل محدثة.

والدليل الثاني: على حدوث العالم وجوده محدودا متناهي الأجزاء والأبعاض وما تناهت أجزاؤه وأمكن توهم الزيادة عليه والنقصان منه كان تقديره على ما هو به دليلا، على أن غيره قدره إذ ليس كون ذاته على صفة بأولى من كونه على غيرها لولا تدبر غيره لها. فإن قيل: فلم لا كانت طينته قديمة وأعراض تركيبه وتصويره حادثة، كأفعال الله تعالى حادثة عن ذاته القديمة؟

قيل: لأن حدوث أعراضه فيه، وهو لا ينفك منها فصار محدثا بها وأفعال الله تعالى حادثة في غيره، فلم يمنع حدوثها من قدمه، ولو حدثت فيه لمنعت من قدمه.

وأما الفصل الثاني: أن للعالم محدثا قديما، فالدليل على أن له محدثا قديما شيئان:

--------------------------------------------

(4) أي كان هناك وقت لم تكن موجودة فيه.

(5) أي أنها فانية وليست خالدة.
এবং তৃতীয়টি: নিশ্চয়ই তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই।

প্রথম পরিচ্ছেদ: জগতের নবসৃষ্টি (হুদুছ) প্রসঙ্গে। যা কিছুর শুরু আছে তা-ই নবসৃষ্ট, আর যার কোনো শুরু নেই তা-ই অনাদি। জগতের নবসৃষ্টির প্রমাণ দুটি:

প্রথমটি: জগৎ হলো মৌলিক কণা ও বস্তুপিণ্ড সমষ্টি, যা সংযোগ, বিয়োগ, গতি ও স্থিতি—এইসব নবসৃষ্ট গুণাবলি থেকে পৃথক হতে পারে না। আর এই গুণাবলি দুটি কারণে নবসৃষ্ট:

এক: এগুলো স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অস্তিত্বশীল থাকা সম্ভব নয়।

দুই: এগুলো অনস্তিত্বের পর অস্তিত্ব লাভ করার কারণে «৪», এবং অস্তিত্ব লাভের পর বিলীন হয়ে যাওয়ার কারণে «৫»। আর যা কিছু নবসৃষ্ট গুণাবলি থেকে পৃথক হতে পারে না, তা সেগুলোর আগে থাকতে পারে না। কারণ, যদি সেটি সেগুলোর আগে থাকত, তবে সেটি না সংযুক্ত হতো, না বিচ্ছিন্ন; না গতিশীল হতো, না স্থির। এটি অসম্ভব, তাই এগুলোর পূর্বে সেটির অস্তিত্ব থাকা অসম্ভব। আর যা কিছু নবসৃষ্ট বিষয়ের পূর্বে থাকতে পারে না, সেটি নিজেও নবসৃষ্ট। যদি বলা হয়: অতীত ঘটনাবলির কোনো শুরু নেই—এ কথাটি অসম্ভব নয়, সুতরাং জগতের নবসৃষ্টি অনিবার্য হয় না। জবাবে বলা হবে: যদি প্রতিটি আলাদা ঘটনার শুরু থাকে, তবে সমষ্টির কোনো শুরু থাকবে না—এটি অসম্ভব। কারণ সমষ্টি তো এককগুলো ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়। ফলে সবটুকুই নবসৃষ্ট হিসেবে গণ্য হবে, যেহেতু এর প্রতিটি অংশই শুরুবিশিষ্ট ও নবসৃষ্ট।

দ্বিতীয় প্রমাণ: জগতের নবসৃষ্টির প্রমাণ হলো এটি সীমাবদ্ধ এবং এর অংশ ও অবয়ব সসীম। যার অংশসমূহ সসীম এবং যার মধ্যে বৃদ্ধি বা হ্রাসের কল্পনা করা সম্ভব, সেটি বর্তমান অবস্থায় সুবিন্যস্ত থাকাই প্রমাণ করে যে, অন্য কেউ একে পরিমাপিত করেছেন। কারণ, অন্য কোনো সত্তার পরিকল্পনা ছাড়া তার সত্তার একটি বিশেষ অবস্থায় থাকা অন্য কোনো অবস্থায় থাকার চেয়ে বেশি অগ্রগণ্য হতে পারে না। যদি বলা হয়: কেন এর মূল উপাদান অনাদি হতে পারবে না এবং এর বিন্যাস ও রূপ লাভের গুণগুলো নবসৃষ্ট হতে পারবে না, যেমন মহান আল্লাহর কাজসমূহ তাঁর অনাদি সত্তা থেকে নবসৃষ্ট হয়?

জবাবে বলা হবে: কারণ বস্তুর গুণাবলি নবসৃষ্ট হওয়া তার নিজের মধ্যেই ঘটে এবং সে এগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না, ফলে সে এগুলোর কারণেই নবসৃষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে মহান আল্লাহর কাজসমূহ অন্যের মধ্যে বা অন্য স্থানে সৃষ্টি হয়, তাই সেগুলো নবসৃষ্ট হওয়া তাঁর অনাদি হওয়ার পরিপন্থী নয়। যদি সেগুলো তাঁর নিজের সত্তায় সৃষ্টি হতো, তবে তা তাঁর অনাদি হওয়াকে বাধাগ্রস্ত করত।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জগতের একজন অনাদি সৃষ্টিকর্তা রয়েছেন। জগতের একজন অনাদি সৃষ্টিকর্তা থাকার প্রমাণ দুটি:

--------------------------------------------

(৪) অর্থাৎ এমন একটি সময় ছিল যখন সেগুলো বিদ্যমান ছিল না।

(৫) অর্থাৎ সেগুলো নশ্বর এবং চিরস্থায়ী নয়।
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ২৩)
أحدهما: أنه لما استحال أن يكون العالم محدثا لذاته لإفضائه إلى وجوده قبل حدثه دل على أن محدثه غيره.

والثاني: أن وجود ما لم يكن يوجب أن يقتضي موجدا كما اقتضى المبنى بانيا والمصنوع صانعا والدليل على قدم محدثه شيئان:

أحدهما: أنه لا أول له وما لا أول له قديم.

والثاني: أنه لو لم يكن قديما لاحتاج إلى محدث ولاحتاج محدثه إلى محدث ولا تنتهي إلى ما لا غاية له فامتنع وثبت قدمه أنه لم يزل ولا يزال فلم يكن له أول ولا يكون له آخر. وإذا كان محدثه قديما وجب أن يكون قادرا مريدا.

والدليل على قدرته أنه يصح منه أن يفعل ولا يفعل مع انتفاء الموانع وقد فعل فدل وجود الفعل منه على قدرته عليه، والدليل على أنه مريد أنه لما وجد منه الفعل وهو غير ساه ولا مكره ولا عابث لانتفاء السهو عنه بعلمه وانتفاء الإكراه عنه بقدرته وانتفاء العبث عنه بحكمته دل على إرادته كما كانت كتابة الكاتب مع انتفاء هذه العوارض دليلا على إرادة كتابته فصار إحداثه للعالم دليلا على قدمه وحدوث أفعاله وقدمه يوجب أن تكون صفات ذاته قديمة لقدمه وحدوث أفعاله يوجب أن تكون صفات أفعاله محدثه.

وأما الفصل الثالث: أنه واحد لا شريك له ولا مثل، فالدليل عليه شيئان:

أحدهما: أن عموم قدرته شامل لجميع المحدثات فوجب أن يكون محدث بعضها محدثا لجميعها إذ ليس بعضها بأخص بقدرته من بعض، فأوجب تكافؤ الأمرين عموم الجميع.

والثاني: أنه لو كان معه غيره لم يخل أن يكون مماثلا أو مخالفا، فإن خالفه بطل أن يكون قادرا، وإن ماثله استحال وجود إحداث واحد من محدثين كما استحال وجود حركة واحدة من متحركين.
প্রথমটি: যেহেতু মহাবিশ্ব নিজেই নিজের উদ্ভাবক হওয়া অসম্ভব—কারণ তা তার সৃষ্টির পূর্বেই তার অস্তিত্বকে আবশ্যক করে—সেহেতু এটি প্রমাণ করে যে এর উদ্ভাবক অন্য কেউ।

এবং দ্বিতীয়টি: যা ছিল না তার অস্তিত্বে আসা একজন অস্তিত্বদানকারীকে আবশ্যক করে, যেমন কোনো অট্টালিকা একজন নির্মাণকারীকে এবং কোনো বস্তু তার কারিগরকে আবশ্যক করে। আর এর উদ্ভাবকের অনাদিত্বের প্রমাণ দুইটি:

প্রথমটি: তাঁর কোনো শুরু নেই, আর যার কোনো শুরু নেই তিনি অনাদি।

দ্বিতীয়টি: তিনি যদি অনাদি না হতেন, তবে তাঁর একজন উদ্ভাবকের প্রয়োজন হতো, এবং সেই উদ্ভাবকের জন্য আরেকজন উদ্ভাবকের প্রয়োজন হতো; এভাবে অসীম পর্যন্ত এর কোনো সমাপ্তি ঘটত না, যা অসম্ভব। সুতরাং তাঁর অনাদিত্ব প্রমাণিত হলো যে তিনি সর্বদা ছিলেন এবং সর্বদা থাকবেন; তাঁর কোনো শুরু নেই এবং তাঁর কোনো শেষ নেই। আর যখন এর উদ্ভাবক অনাদি হলেন, তখন তাঁর জন্য ক্ষমতাশীল ও ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন হওয়া অপরিহার্য।

তাঁর ক্ষমতার প্রমাণ হলো যে, কোনো বাধা না থাকা অবস্থায় তাঁর পক্ষ থেকে কোনো কাজ করা বা না করা উভয়ই সম্ভব ছিল, এবং তিনি কাজ করেছেন। সুতরাং তাঁর পক্ষ থেকে কর্মের অস্তিত্ব তাঁর ক্ষমতারই প্রমাণ। আর তিনি ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন হওয়ার প্রমাণ হলো যে, তাঁর পক্ষ থেকে কর্ম সম্পাদিত হয়েছে এমন অবস্থায় যখন তিনি উদাসীন নন, বাধ্য নন এবং অনর্থক কোনো কাজ করেন না। কারণ তাঁর জ্ঞানের কারণে তাঁর থেকে বিস্মৃতি অসম্ভব, তাঁর ক্ষমতার কারণে বাধ্যবাধকতা অসম্ভব এবং তাঁর প্রজ্ঞার কারণে অনর্থক কাজ হওয়া অসম্ভব। এটি তাঁর ইচ্ছাশক্তির প্রমাণ দেয়, যেমন এই ত্রুটিগুলোমুক্ত অবস্থায় কোনো লেখকের লেখা তাঁর লেখার ইচ্ছারই প্রমাণ বহন করে। সুতরাং মহাবিশ্বের উদ্ভাবন তাঁর অনাদিত্ব এবং তাঁর কর্মসমূহের নশ্বরতার প্রমাণ হয়ে দাঁড়ালো। আর তাঁর অনাদিত্ব এটি আবশ্যক করে যে তাঁর সত্তাগত গুণাবলীও তাঁর অনাদিত্বের কারণে অনাদি হবে, এবং তাঁর কর্মসমূহের নশ্বরতা এটি আবশ্যক করে যে তাঁর কর্মগত গুণাবলী নশ্বর হবে।

আর তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং তাঁর সদৃশ কেউ নেই। এর প্রমাণ দুটি:

প্রথমটি: তাঁর ক্ষমতার ব্যাপকতা সমস্ত নশ্বর সৃষ্টিকে পরিবেষ্টন করে আছে। সুতরাং এর কোনো অংশের উদ্ভাবককে অবশ্যই সমস্ত কিছুরই উদ্ভাবক হতে হবে, কারণ কোনো সৃষ্টিই তাঁর ক্ষমতার ক্ষেত্রে অন্যটির চেয়ে বেশি বিশিষ্ট নয়। তাই উভয় বিষয়ের সমতা সবকিছুর সাধারণত্বকে আবশ্যক করেছে।

দ্বিতীয়টি: যদি তাঁর সাথে অন্য কেউ থাকত, তবে সে হয় তাঁর অনুরূপ হতো অথবা তাঁর বিপরীত হতো। যদি সে বিপরীত হতো তবে তাঁর ক্ষমতাশীল হওয়া বাতিল হয়ে যেত। আর যদি অনুরূপ হতো, তবে দুইজন উদ্ভাবকের পক্ষ থেকে একটি মাত্র নশ্বর সৃষ্টি অস্তিত্বে আসা অসম্ভব হতো, যেমন দুইজন সঞ্চালনকারীর পক্ষ থেকে একটি গতি সৃষ্টি হওয়া অসম্ভব।
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ২৪)
وذهب الثنوية «6» من المتباينة إلى إثبات قديمين هما عندهم نور وظلمة يحدث الخير عن النور والشر عن الظلمة وهذا فاسد من وجهين:

أحدهما: أن النور والظلمة لا ينفكان أن يكونا جسما أو جوهرا أو عرضا، وجميعها محدثة فدل على حدوثهما.

والثاني: أن الظلمة ليست بذات وإنما هي فقد النور عما يقبل النور، ولهذا إذا فقدنا النور في الهواء تصورناه مظلما فلم يجز أن يوصف بقدم ولا يضاف إليها فعل.

وذهب المجوس إلى أن الله تعالى والشيطان فاعلان، فالله تعالى فاعل الخير وخالق الحيوان النافع، والشيطان فاعل الشر وخالق الحيوان الضار، قالوا: لأن فاعل الشر شرير ويتعالى الله عن هذه الصفة، وجعلوا الله تعالى جسما وإن كان قديما. واختلفوا في قدم الشيطان، فقال به بعضهم وامتنع من قدمه زرادشت وأكثرهم واختلفوا في علة حدوثه، فزعم زرادشت أن الله تعالى استوحش ففكر فكرة رديئة فتولد منها (اهرمن) وهو إبليس.

وقال غيره، بل شكّ فتولد الشيطان من شكه. وقال آخرون: بل حدث عفن فتولد الشيطان من عفنه وهذه أقاويل تدفعها العقول، أما جعلهم الله تعالى جسما، فدليلنا على حدوث الأجسام يمنع أن يكون الله تعالى مع قدمه جسما.

ودليلنا على الثنوية يمنع أن يكون الشيطان معه ثانيا وإثبات قدرته يمنع أن يكون مغلوبا وعلمه بمنع أن يكون شاكا أو مفكرا وانتفاء الحزن عنه يمنع أن يكون مستوحشا وامتناع الفساد عليه يمنع أن يكون عفنا. وقولهم أن فاعل الشر شرير قيل خروجه عن قدرته مثبت لعجزه فوجب أن يدخل في عموم قدرته.

--------------------------------------------

(6) ويسمون أيضا: المثنوية، وهي مشتقة من مثنى، لقولهم بقدم اثنين: النور والظلمة.
দ্বৈতবাদীরা [৬], যারা পৃথকীকরণের অনুসারী, তারা দুইজন অনাদি সত্তা সাব্যস্ত করার দিকে গিয়েছে, যারা তাদের নিকট হলো নূর (আলো) এবং জুলমত (অন্ধকার)। নূর থেকে কল্যাণ এবং জুলমত থেকে অকল্যাণ সৃষ্টি হয়। এটি দুই কারণে অসার:

প্রথমত: নূর এবং জুলমত দেহ, সারাংশ অথবা গুণ হওয়া থেকে মুক্ত নয়, আর এগুলোর সবই সৃষ্ট, যা তাদের উভয়ের সৃষ্ট হওয়ার প্রমাণ বহন করে।

দ্বিতীয়ত: অন্ধকার কোনো স্বতন্ত্র সত্তা নয়, বরং তা হলো আলো গ্রহণকারী বস্তু থেকে আলোর অনুপস্থিতি মাত্র। এজন্যই যখন আমরা বাতাসে আলোর অনুপস্থিতি লক্ষ্য করি, তখন তাকে অন্ধকার হিসেবে কল্পনা করি। সুতরাং একে অনাদি হিসেবে গুণান্বিত করা বৈধ নয় এবং এর প্রতি কোনো কাজকেও সম্বন্ধ করা যায় না।

আর অগ্নিপূজকরা এই মত পোষণ করেছে যে, আল্লাহ তাআলা এবং শয়তান উভয়ই কর্তা। আল্লাহ তাআলা কল্যাণের কর্তা এবং উপকারী প্রাণীর স্রষ্টা, আর শয়তান অকল্যাণের কর্তা এবং ক্ষতিকারক প্রাণীর স্রষ্টা। তারা বলে: কারণ অকল্যাণের কর্তা তো মন্দ ব্যক্তি, আর আল্লাহ তাআলা এই বৈশিষ্ট্য থেকে অতি পবিত্র ও ঊর্ধ্বে। তারা আল্লাহ তাআলাকে দেহ হিসেবে সাব্যস্ত করেছে, যদিও তিনি অনাদি। শয়তানের অনাদি হওয়ার ব্যাপারে তারা মতভেদ করেছে; তাদের কেউ কেউ একে অনাদি বলেছে, তবে জরথুস্ত্র এবং তাদের অধিকাংশ তা অস্বীকার করেছে। তারা তার সৃষ্টির কারণ নিয়ে মতভেদ করেছে। জরথুস্ত্র দাবি করেছে যে, আল্লাহ তাআলা একাকীত্ব বোধ করেছিলেন, ফলে তিনি একটি মন্দ চিন্তা করেছিলেন এবং তা থেকে 'আহরিমান' অর্থাৎ ইবলিসের জন্ম হয়।

অন্যরা বলেছে, বরং তিনি সন্দেহ পোষণ করেছিলেন, ফলে তাঁর সন্দেহ থেকে শয়তানের জন্ম হয়েছে। আবার অন্যরা বলেছে: বরং পচন বা দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়েছিল, ফলে সেই পচন থেকে শয়তানের জন্ম হয়েছে। এগুলো এমন সব কথা যা বিবেক-বুদ্ধি প্রত্যাখ্যান করে। আর তাদের আল্লাহ তাআলাকে দেহ সাব্যস্ত করার বিষয়ে আমাদের যুক্তি হলো, দেহের সৃষ্ট হওয়ার প্রমাণই আল্লাহ তাআলা অনাদি হওয়ার পাশাপাশি দেহ হওয়াকে অসম্ভব করে দেয়।

দ্বৈতবাদীদের বিরুদ্ধে আমাদের যুক্তি শয়তানকে তাঁর সাথে দ্বিতীয় উপাস্য হতে বাধা দেয়। তাঁর ক্ষমতার প্রমাণ তাঁকে পরাজিত হতে বাধা দেয় এবং তাঁর জ্ঞান তাঁকে সন্দেহকারী বা চিন্তামগ্ন হতে বাধা দেয়। তাঁর থেকে দুঃখ-বেদনার অনুপস্থিতি তাঁকে একাকীত্ব বোধ করা থেকে বাধা দেয় এবং তাঁর ক্ষেত্রে বিকৃতি অসম্ভব হওয়া তাঁকে পচনশীল হওয়া থেকে বাধা দেয়। আর তাদের এই কথা যে, 'অকল্যাণের কর্তা হলো মন্দ ব্যক্তি', এর উত্তরে বলা হয়, একে তাঁর ক্ষমতার বাইরে রাখা মানে তাঁর অক্ষমতা সাব্যস্ত করা, তাই এটি তাঁর সামগ্রিক ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত হওয়া আবশ্যক।

--------------------------------------------

(৬) তাদের আল-মুসান্নাবিয়্যাহ-ও বলা হয়, যা মুসান্না থেকে উদ্ভূত, কারণ তারা দুই অনাদি সত্তা: নূর এবং জুলমত থাকার কথা বলে।
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌قول النصارى

«7» فأما النصارى فقد كانوا قبل أن تنصّر قسطنطين الملك على دين صحيح في توحيد الله تعالى ونبوّة عيسى عليه السلام ثم اختلفوا في عيسى بعد تنصّر قسطنطين وهو أول من تنصر من ملوك الروم، فقال أوائل النسطورية أن عيسى هو الله، وقال أوائل اليعاقبة أنه ابن الله، وقال أوائل الملكانية أن الآلهة ثلاثة احدهم عيسى. ثم عدل أواخرهم عن التصريح بهذا القول المستنكر حين استنكرته النفوس ودفعته العقول، فقالوا أن الله تعالى جوهر واحد هو ثلاثة أقانيم: أقنوم الآب وأقنوم الابن وأقنوم روح القدس، وأنها واحدة في الجوهرية وأن أقنوم الآب هو الذات وأقنوم الابن هو الكلمة وأقنوم روح القدس هو الحياة، واختلفوا في الأقانيم فقال بعضهم: هى خواص وقال بعضهم:

هي أشخاص، وقال بعضهم. هي صفات وقالوا: إن الكلمة اتحدت بعيسى واختلفوا في الاتحاد فقال النسطورية معنى الاتحاد أن الكلمة ظهرت حتى جعلته هيكلا وأن المسيح جوهران أقنومان أحدهما إلهي والآخر إنساني فلذلك صح منه الأفعال الإلهية من اختراع الأجسام وإحياء الموتى والأفعال الإنسانية من الأكل والشرب.

--------------------------------------------

(7) لقد تجاوز المؤلف رحمه الله قول الأريوسية أي آريوس وأتباعه الذين ذكرهم الرسول الكريم في رسالته إلى قيصر ملك الروم في قوله صلى الله عليه وسلم «فإن عليك إثم الأريسيين،» الذين قالوا بأن المسيح هو الكلمة، كلمة الله وأن الكلمة محدثة أي أنها مخلوق من مخلوقات الله وأن المسيح بالتالي نبي من الأنبياء فقط، وأنه إنسان. لكن بعد اتفاق بعض البطاركة والمطارنة مع الملك قسطنطين الأول على جعل المسيحية دين الدولة الرومانية مقابل بعض التعديلات في أسس لعقيد المسيحية وقد تطورت هذه التعديلات حتى وصلت إلى فكرة التثليث في مجمع نيقيا أي أنها تبنت الديانة الوثنية الرومانية القائلة بثلاثية الألوهة زفس- كرونوس- جوبيتر بتسمية جديدة الآب، الإبن، الروح القدس. وقول الوثنية الرومانية بأن هيرا آلهة الأرض وأم الإله ألبسوه للعذراء مريم. وقد أبيد الأريوسيين وحرموا وكفّروا واضطهدوا حيثما وجدوا، أما الذين سبق أن قتلتهم الوثنية الرومانية منهم قبل تبني الدولة لمسيحية التثليث فاعتبرتهم الكنيسة شهداء وقديسين لكنها حرّمت كتبهم مدعية أن فيها كفرا وهرطقة فتأمل.
খ্রিস্টানদের বক্তব্য

«৭» খ্রিস্টানদের কথা বলতে গেলে, রাজা কনস্টানটাইন খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করার পূর্বে তারা মহান আল্লাহর একত্ববাদ এবং ঈসা আলাইহিস সালামের নবুওয়াতের ওপর সঠিক দ্বীনের অনুসারী ছিল। অতঃপর কনস্টানটাইনের খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের পর তারা ঈসা আলাইহিস সালামের ব্যাপারে মতভেদ শুরু করে। কনস্টানটাইনই ছিলেন রোমান রাজাদের মধ্যে প্রথম খ্রিস্টধর্ম গ্রহণকারী। আদি নেস্টোরীয়রা বলত যে, ঈসা-ই আল্লাহ। আদি ইয়াকুবীয়রা বলত যে, তিনি আল্লাহর পুত্র। আর আদি মেলকীয়রা বলত যে, উপাস্য হচ্ছে তিনজন, যাদের একজন হলেন ঈসা। পরবর্তী সময়ে যখন তাদের নফস এই ঘৃণ্য কথাকে অপছন্দ করল এবং বিবেক তা প্রত্যাখ্যান করল, তখন তাদের পরবর্তী বংশধররা এই প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে সরে এল। তারা বলল যে, মহান আল্লাহ এমন এক একক সত্তা (জাওহার) যিনি তিনটি আকানিমের (মূল সত্তা) সমষ্টি: পিতার আকানিম, পুত্রের আকানিম এবং পবিত্র আত্মার আকানিম। তারা আরও দাবি করল যে, এই তিনটি জাওহার বা সত্তাগত দিক থেকে এক। পিতার আকানিম হলেন খোদ সত্তা, পুত্রের আকানিম হলেন বাণী (কালিমা) এবং পবিত্র আত্মার আকানিম হলেন জীবন। তারা আকানিমগুলোর ব্যাখ্যায় মতভেদ করেছে; তাদের কেউ কেউ বলেছে এগুলো হলো বৈশিষ্ট্য, কেউ বলেছে এগুলো স্বতন্ত্র ব্যক্তি, আবার কেউ বলেছে এগুলো হলো গুণাবলী। তারা আরও বলে যে, ‘বাণী’ ঈসার সাথে একীভূত হয়েছে এবং এই একীভূত হওয়ার ধরনেও তারা মতভেদ করেছে। নেস্টোরীয়দের মতে, একীভূত হওয়ার অর্থ হলো 'বাণী' এমনভাবে প্রকাশিত হয়েছে যে তা ঈসাকে একটি কাঠামোতে পরিণত করেছে এবং মসীহ হলেন দুটি জাওহার ও দুটি আকানিমের সমষ্টি—যার একটি ঐশ্বরিক এবং অপরটি মানবিক। আর একারণেই তার পক্ষ থেকে একদিকে যেমন নতুন দেহ সৃষ্টি করা ও মৃতকে জীবিত করার মতো ঐশ্বরিক কাজগুলো করা সম্ভব হয়েছে, তেমনি পানাহার করার মতো মানবিক কাজগুলো করাও সম্ভব হয়েছে।

--------------------------------------------

(৭) লেখক (রহিমাহুল্লাহ) এখানে আরিয়াসবাদ অর্থাৎ আরিয়াস ও তার অনুসারীদের বক্তব্য এড়িয়ে গেছেন, যাদের কথা দয়ালু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোম সম্রাট কায়সারের কাছে প্রেরিত পত্রে উল্লেখ করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, "তবে আপনার ওপর প্রজাদের (আরিয়াসীয়দের) পাপ বর্তাবে।" তারা (আরিয়াসীয়রা) বলত যে, মসীহ হলেন বাণী, আল্লাহর বাণী; আর এই বাণী হলো নতুনভাবে সৃষ্ট, অর্থাৎ তিনি আল্লাহর সৃষ্টিসমূহের মধ্যে একজন সৃষ্টি মাত্র। ফলে মসীহ কেবল নবীদের মধ্য থেকে একজন নবী এবং একজন মানুষ। কিন্তু কিছু বিশপ ও ধর্মযাজক সম্রাট প্রথম কনস্টানটাইনের সাথে খ্রিস্টধর্মকে রোমান সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রীয় ধর্ম করার বিনিময়ে খ্রিস্টীয় আকীদার মূলে কিছু পরিবর্তনের ব্যাপারে একমত হন। এই পরিবর্তনগুলো বিবর্তিত হতে হতে অবশেষে নিসিয়া কাউন্সিলে ত্রিত্ববাদের ধারণায় গিয়ে পৌঁছে। অর্থাৎ তারা মূলত রোমান পৌত্তলিক ধর্মকেই গ্রহণ করে নেয়, যা জিউস-ক্রোনোস-জুপিটার—এই তিন উপাস্যের তত্ত্বে বিশ্বাসী ছিল; কেবল নতুন নাম দেওয়া হয় পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা। আর রোমান পৌত্তলিকতার সেই বিশ্বাস—যেখানে হেরা-কে পৃথিবীর দেবী এবং ঈশ্বরের মাতা মনে করা হতো—তা তারা কুমারী মরিয়মের ওপর আরোপ করে। এরপর আরিয়াসবাদীদের যেখানেই পাওয়া গেছে, সেখানেই তাদের সমূলে বিনাশ করা হয়েছে, সমাজচ্যুত ও কাফের ঘোষণা করা হয়েছে এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ত্রিত্ববাদী খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের আগে রোমান পৌত্তলিকদের হাতে তাদের মধ্যে যারা নিহত হয়েছিল, চার্চ তাদেরকে শহীদ ও সাধু হিসেবে গণ্য করে, অথচ তাদের কিতাবসমূহকে কুফরি ও ধর্মদ্রোহী আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সুতরাং বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করুন।
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال اليعاقبة: الاتحاد هو الممازجة حتى صار منها شيء ثالث نزل من السماء وتجسد من روح القدس وصار إنسانا هو المسيح وهو جوهر من جوهرين وأقنوم من أقنومين جوهر لاهوتي وجوهر ناسوتي.

وقال الملكانية: المسيح جوهران أقنوم واحد، وليس لهذا المذهب شبهة تقبلها العقول وفسادها ظاهر في المعقول.

أما قولهم أن الله تعالى جوهر فقد دللنا على حدوث الجواهر فاستحال أن يكون القديم جوهرا.

وأما قولهم أنه ثلاثة أقانيم فإن جعلوها أشخاصا قالوا بالتثليث وامتنعوا من التوحيد وقد دللنا على أن القديم واحد وإن جعلوا الأقانيم خواص وصفات لذات واحدة فقد جعلوه أبا وابنا من جوهر أبيه فشركوا بينهما في الجوهر الإلهي وفضلوه على الآب بالجوهر الإنساني فلم يكن مع اشتراكهما في الإلهي أن يتولد من الآب بأولى أن يتولد منه الآب مع تفضيله بالجوهر الإنساني. وكيف يكون قديما ما تولد عن قديم وإنما ظهرت منه الأفعال الإلهية لأنها من قبل الله تعالى إظهارا لمعجزته وليست من فعله كفلق البحر لموسى عليه السلام وليس ذلك من إلهية موسى وقولهم جوهر لاهوتي وجوهر ناسوتي فناسوت المسيح كناسوت غيره من الأنبياء وقد زال ناسوته فبطل لاهوته.

 

‌‌معنى الوحدانية

فإذا ثبت أن الله تعالى واحد قديم فقد اختلف في معنى وحدانيته فقالت طائفة المراد بأنه واحد وأن جميع المحدثات منسوبة إلى قدرة واحدة أحدث القادر بها جميع المحدثات.

وقالت طائفة أخرى: المراد به نفي القسمة عن ذاته واستحال التبعض والتجزئة في صفته.

وقال الجمهور وهو المذهب المشهور أنه واحد الذات قديم الصفات تفرد بالقدم عن شريك مماثل واختص بالقدرة عن فاعل معادل لا شبه لذاته تنتفي
ইয়াকুবীয়রা বলেছে: মিলন বা ঐক্য হলো এমন সংমিশ্রণ যার ফলে একটি তৃতীয় সত্তা তৈরি হয়েছে যা আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে এবং রুহুল কুদুস (পবিত্র আত্মা) থেকে দেহ ধারণ করেছে এবং মানুষে পরিণত হয়েছে, তিনিই হলেন মসীহ। তিনি দুটি সারসত্তা এবং দুটি মূল উপাদানের (আকনুম) সমষ্টি; একটি লাহুতি (ঐশ্বরিক) সারসত্তা এবং অন্যটি নাসুতি (মানবিক) সারসত্তা।

আর মালকানীয়রা বলেছে: মসীহ হলেন দুটি সারসত্তা কিন্তু এক মূল উপাদান (আকনুম)। এই মতবাদের এমন কোনো যুক্তি নেই যা বুদ্ধি গ্রহণ করতে পারে এবং যুক্তির বিচারে এর অসারতা সুস্পষ্ট।

আর তাদের এই দাবি যে আল্লাহ তাআলা একটি 'জাওহার' বা সারসত্তা, তার বিপরীতে আমরা প্রমাণ করেছি যে সকল 'জাওহার' বা সারসত্তা হলো নব্যসৃষ্ট, তাই অনাদি সত্তার পক্ষে 'জাওহার' হওয়া অসম্ভব।

আর তাদের এই কথা যে তিনি তিনটি 'আকনুম' বা মূল উপাদান; তারা যদি এগুলোকে তিনটি পৃথক ব্যক্তি মনে করে তবে তারা ত্রিত্ববাদে লিপ্ত হলো এবং তাওহীদকে অস্বীকার করল, অথচ আমরা প্রমাণ করেছি যে অনাদি সত্তা এক। আর তারা যদি এই 'আকনুম'গুলোকে একটি মাত্র সত্তার বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী হিসেবে গণ্য করে, তবে তারা তাকে তার পিতার সারসত্তা থেকে উদ্ভূত পিতা ও পুত্র হিসেবে সাব্যস্ত করল। ফলে তারা ঐশ্বরিক সারসত্তার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে অংশীদারিত্ব তৈরি করল এবং তাকে মানবিক সারসত্তার মাধ্যমে পিতার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করল। সুতরাং ঐশ্বরিক বিষয়ে তাদের অংশীদারিত্ব থাকা সত্ত্বেও পিতা থেকে পুত্রের জন্মগ্রহণ করা যেমন সম্ভব, মানবিক সারসত্তার শ্রেষ্ঠত্বের কারণে পুত্র থেকে পিতার জন্ম হওয়াও তদ্রূপ যুক্তিসঙ্গত হয়ে পড়ে। আর যা কোনো অনাদি সত্তা থেকে জন্ম নেয় তা কীভাবে অনাদি হতে পারে? তার মাধ্যমে ঐশ্বরিক কার্যাবলি প্রকাশিত হওয়া ছিল মূলত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর মুজিজা প্রকাশের উদ্দেশ্যে, তা তাঁর নিজের কাজ ছিল না; যেমন মুসা আলাইহিস সালামের জন্য সমুদ্র দ্বিধাবিভক্ত হওয়া তাঁর নিজস্ব কোনো ইলাহী ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ছিল না। আর তাদের এই বক্তব্য যে 'লাহুতি সারসত্তা' এবং 'নাসুতি সারসত্তা', তো মসীহের 'নাসুত' বা মানবিক রূপ অন্য নবীদের মানবিক রূপের মতোই ছিল। যখন তাঁর মানবিক রূপ তিরোহিত হলো, তখন তাঁর ঐশ্বরিক রূপও বাতিল হয়ে গেল।

 

‌‌একত্ববাদের অর্থ

যখন এটি প্রমাণিত হলো যে আল্লাহ তাআলা এক ও অনাদি, তখন তাঁর একত্ববাদের অর্থ নিয়ে মতভেদ দেখা দিল। একদল বলেছে: এর অর্থ হলো তিনি এক এবং সমস্ত নব্যসৃষ্ট বস্তু একটি মাত্র কুদরতের সাথে সম্পর্কিত, যার মাধ্যমে সেই ক্ষমতাধর সত্তা সকল সৃষ্টিকে অস্তিত্ব দান করেছেন।

অন্য একটি দল বলেছে: এর অর্থ হলো তাঁর সত্তা থেকে বিভাজনকে অস্বীকার করা এবং তাঁর গুণে অংশ বা খণ্ড হওয়া অসম্ভব সাব্যস্ত করা।

জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামায়ে কেরাম বলেছেন—আর এটিই প্রসিদ্ধ মত—তিনি স্বীয় সত্তায় এক এবং তাঁর গুণাবলী অনাদি। তিনি সমকক্ষ কোনো অংশীদার ছাড়াই অনাদি হওয়ার গুণে একক এবং সমতুল্য কোনো কর্তা ছাড়াই কুদরত বা সক্ষমতায় বিশিষ্ট। তাঁর সত্তার কোনো সদৃশ নেই যা অপ্রমাণিত...
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ২৭)
عنه الحوادث والأعراض ولا تناله المنافع والمضار ولا ينعت بكل ولا بعض ولا يوصف بمكان يحل فيه أو يخلو منه لحدوث الأمكنة واستحالة التجزئة لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ «8» كما وصف نفسه في كتابه ودلت عليه آثار صنعته وإتقان حكمته.

وقد سئل علي بن أبي طالب كرم الله تعالى وجهه عن العدل والتوحيد فقال: التوحيد أن لا تتوهمه «9» والعدل أن لا تتهمه «10» ففصح بما بهر إيجازه وقهر إعجازه. وقد لحظ دلائل التوحيد من السعداء من قال:

أيا عجبا كيف يعصى الإل … هـ أم كيف يجحده جاحد

وفي كل شيء له شاهد … دليل على أنه واحد

--------------------------------------------

(8) سورة الشورى الآية (11) .

(9) أي أن تؤمن بوحدانية الله إيمانا مطلقا غير قابل للنقاش ولا للسؤال.

(10) أي أن تسلم تسليما مطلقا تسليم العبد الطائع القابل دون اعتراض لأحكام سيده ولا سؤال عن السبب والنتيجة.
তাঁর থেকে নশ্বর ঘটনাবলি ও আপতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ দূরীভূত; কোনো লাভ বা ক্ষতি তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না। তাঁকে সমষ্টি বা অংশ হিসেবে বিশেষায়িত করা যায় না। তাঁকে এমন কোনো স্থানের সাথে গুণান্বিত করা যায় না যেখানে তিনি অবস্থান করেন কিংবা যা থেকে তিনি বিমুক্ত হন; কেননা স্থানসমূহ নশ্বর এবং তাঁর ক্ষেত্রে বিভাজন অসম্ভব। তাঁর সদৃশ কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা (৮)। যেমনটি তিনি তাঁর কিতাবে নিজেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সৃষ্টিশৈলীর নিদর্শন ও প্রজ্ঞার পূর্ণতা তাঁর ওপর প্রমাণ পেশ করেছে।

আলী ইবনে আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে মর্যাদামণ্ডিত করুন)-কে ন্যায়বিচার ও একত্ববাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: তাওহীদ হলো তাঁকে কল্পনা না করা (৯) এবং ন্যায়বিচার হলো তাঁর ওপর অপবাদ না দেওয়া (১০)। তিনি এমন সুস্পষ্ট ভাষায় উত্তর দিলেন যার সংক্ষিপ্ততা বিস্ময়কর এবং অলৌকিকত্ব অতুলনীয়। সৌভাগ্যবানদের মধ্যে যারা তাওহীদের প্রমাণাদি লক্ষ্য করেছেন, তারা বলেছেন:

হায় বিস্ময়! কীভাবে ইলাহের অবাধ্যতা করা হয়? ... অথবা কীভাবে অস্বীকারকারী তাঁকে অস্বীকার করে?

অথচ প্রতিটি বস্তুর মাঝেই তাঁর সাক্ষী বিদ্যমান ... যা প্রমাণ করে যে তিনি এক ও অদ্বিতীয়।

--------------------------------------------

(৮) সূরা আশ-শূরা, আয়াত (১১)।

(৯) অর্থাৎ আল্লাহর একত্ববাদের ওপর এমন নিরঙ্কুশ ঈমান রাখা যা কোনো বিতর্ক বা প্রশ্নের অবকাশ রাখে না।

(১০) অর্থাৎ স্বীয় মুনিবের বিধানের সামনে কোনো প্রকার আপত্তি কিংবা কারণ ও ফলাফল সম্পর্কে প্রশ্ন ছাড়াই এক অনুগত দাসের ন্যায় নিজেকে পূর্ণরূপে সঁপে দেওয়া।
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الباب الثالث في صحة التكليف

 

‌‌تعريفات [للتكليف]

التكليف هو إلزام ما ورد به الشرع تعبدا وهو نوعان:

أحدهما: ما تعلق بحقه من أمر بطاعة «1» ونهي عن معصية «2» .

والثاني: ما تعلق بحقوق عباده من تقدير الحقوق وتقرير العقود ليكونوا مدبرين بشرع مسموع ومنقادين لدين متبوع فلا تختلف فيه الآراء ولا تتبع فيه الأهواء، وليعلموا به ابتداء النشأة وانتهاء الرجعة، فتصلح به سرائرهم الباطنية، وتخشع له قلوبهم القاسية، وتجتمع به كلمتهم المتفرقة، وتتفق عليه أحوالهم المختلفة، ويسقط به تنازعهم في الحقوق المتجاذبة، ويكونوا على رغب في الثواب يبعثهم على الخير، ورهب من العقاب يكفهم عن الشر، وهذه أمور لا يصلح الخلق إلّا عليها ولا يوصل بغير الدين المشروع إليها، إذ ليس في طباع البشر أن يتفقوا على مصالحهم من غير وازع ولا يتناصفوا في الحقوق من غير دافع لحرصهم على اختلاف المنافع، وبهذا يفسد ما ذهبت إليه البراهمة من الاقتصار على قضايا العقول وإبطال التعبد

--------------------------------------------

(1) إيجاب الطاعات والقيام بها.

(2) نفي المحرمات والمكروهات وترك العمل بها.
তাকলিফ (বিধান পালনের আবশ্যকতা) এর বৈধতা প্রসঙ্গে তৃতীয় অধ্যায়

 

‌‌[তাকলিফের] সংজ্ঞাসমূহ

তাকলিফ হলো ইবাদত হিসেবে শরিয়ত যা নিয়ে এসেছে তা পালন করাকে আবশ্যক করা। এটি দুই প্রকার:

প্রথমত: যা তাঁর (আল্লাহর) হকের সাথে সংশ্লিষ্ট; যেমন আনুগত্যের নির্দেশ «১» এবং অবাধ্যতা থেকে নিষেধ «২» ।

দ্বিতীয়ত: যা তাঁর বান্দাদের হকের সাথে সংশ্লিষ্ট; যেমন অধিকারসমূহ নির্ধারণ করা এবং চুক্তিসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করা, যাতে তারা একটি শ্রুত শরিয়ত দ্বারা পরিচালিত হতে পারে এবং একটি অনুসৃত দ্বীনের অনুগত হতে পারে, ফলে এতে মতের ভিন্নতা দেখা দেবে না এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করা হবে না। আর এর মাধ্যমে তারা সৃষ্টির সূচনা এবং প্রত্যাবর্তনের শেষ সম্পর্কে জানতে পারবে, ফলে তাদের অভ্যন্তরীণ গোপন বিষয়সমূহ সংশোধিত হবে, তাদের কঠোর অন্তরসমূহ এর সামনে বিনীত হবে, তাদের বিচ্ছিন্ন কথা ও মতামত ঐক্যবদ্ধ হবে, তাদের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থা এর ওপর একমত হবে এবং পরস্পরবিরোধী অধিকার নিয়ে তাদের মধ্যকার বিবাদ নিরসন হবে। আর তারা সওয়াবের প্রতি এমন আগ্রহী হবে যা তাদের কল্যাণের দিকে ধাবিত করবে এবং শাস্তির প্রতি এমন ভীত হবে যা তাদের মন্দ থেকে বিরত রাখবে। এগুলো এমন বিষয় যা ছাড়া সৃষ্টির সংশোধন সম্ভব নয় এবং শরয়ি দ্বীন ছাড়া এ পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব নয়। কারণ মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য এমন নয় যে তারা কোনো নিয়ন্ত্রক ছাড়া নিজেদের কল্যাণের বিষয়ে একমত হবে, অথবা বিভিন্ন স্বার্থের প্রতি তাদের লোভের কারণে কোনো চালিকাশক্তি ছাড়া ন্যায়ের সাথে অধিকার প্রদান করবে। এর মাধ্যমেই ব্রাহ্মণ্যবাদীদের সেই মত বাতিল হয়ে যায় যারা কেবল বিবেকপ্রসূত বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা এবং ইবাদতকে বাতিল করার প্রবক্তা।

--------------------------------------------

(১) আনুগত্যসমূহ আবশ্যক করা এবং তা সম্পাদন করা।

(২) হারাম ও মাকরূহ বিষয়সমূহ নাকচ করা এবং সেগুলো বর্জন করা।
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ৩০)
بشرائع الرسل، فالتكليف حسن في العقول إذا توجه إلى من علمت معصيته واستحسنه المعتزلة لأن فيه تعريضا للثواب ولم يستحسنه الأشعرية لأنه بالمعصية معرض للعقاب، والأول أشبه بمذهب الفقهاء وإن لم يعرف لهم فيه قول يحكى، واختلف في التكليف هل يكون معتبرا بالأصلح فالذي عليه أكثر الفقهاء أنه معتبر بالأصلح لأن المقصود به منفعة العباد.

وذهب فريق من الفقهاء والمتكلمين إلى أنه موقوف على مشيئة الله تعالى من مصلحة وغيرها لأنه مالك لجميعها فمن اعتبر الأصلح منع من تكليف ما لا يطاق ومن اعتبره بالمشيئة جوز تكليف ما لا يطاق ويصح تكليف ما لحقت فيه المشقة المحتملة واختلف في صحة التكليف فيما لا مشقة فيه فجوزها الفقهاء ومنع منها بعض المتكلمين، وقد ورد التعبد بتحويل القبلة عن بيت المقدس إلى الكعبة وليس فيه مشقة وإذا اعتبر التكليف بالاستطاعة لم يتوجه إلى ما خرج عن الاستطاعة واختلف في المانع منه فقال فريق منع منه العقل لامتناعه فيه، وقال فريق منع منه الشرع وإن لم يمنع منه العقل بقوله تعالى: لا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْساً إِلَّا وُسْعَها «3» .

 

‌‌وجوب التكليف

فإذا تقرر شروط التكليف مع كونه حسنا فقد اختلف في وجوبه، فأوجبه من اعتبر الأصلح وجعله مقترنا بالعقل لأنه من حقوق حكمته، ولم يوجبه من حمله على الإرادة لأن الواجب يقتضي علوّ الموجب، وهذا منتف عن الله تعالى، واختلف من قال بهذا في تقدم العقل على الشرع.

فقال فريق: يجوز أن يقترن بالعقل ويجوز أن يتأخر عنه بحسب الإرادة ولا يجوز أن يتقدم على العقل لأن العقل شرط في لزوم التكليف.

وقال فريق: بل يجب أن يكون التكليف واردا بعد كمال العقل ولا يقترن به كما يتقدم عليه لقول الله تعالى: أَيَحْسَبُ الْإِنْسانُ أَنْ يُتْرَكَ

--------------------------------------------

(3) سورة البقرة من الآية (286) .
রাসূলগণের শরীয়তের বিধি-বিধানের মাধ্যমে দায়িত্ব অর্পণ (তাকলিফ) বিবেক-বুদ্ধির বিচারে একটি উত্তম বিষয়, এমনকি যদি তা এমন ব্যক্তির প্রতি নির্দেশিত হয় যার অবাধ্যতার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা থাকে। মুতাজিলাগণ একে উত্তম মনে করেন কারণ এতে সওয়াব বা পুরস্কার অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়। পক্ষান্তরে আশআরীগণ একে উত্তম মনে করেন না কারণ অবাধ্যতার ফলে এতে শাস্তির ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়। প্রথম মতটি ফকিহ বা ফিকহশাস্ত্রবিদদের মাযহাবের অধিক নিকটবর্তী, যদিও এ বিষয়ে তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য উদ্ধৃত হতে দেখা যায় না। দায়িত্ব অর্পণ কি সর্বাধিক কল্যাণের (আসলাহ) নিরিখে বিবেচিত হবে কি না তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশ ফকিহর মতে, এটি সর্বাধিক কল্যাণের ভিত্তিতেই বিবেচিত, কারণ এর মূল উদ্দেশ্য হলো বান্দাদের উপকার সাধন।

ফকিহ এবং কালাম শাস্ত্রবিদদের একটি দল মনে করেন যে, এটি কল্যাণ বা অন্য যা-ই হোক না কেন, মহান আল্লাহর ইচ্ছার (মাশিয়াত) ওপর নির্ভরশীল; যেহেতু তিনিই সবকিছুর মালিক। সুতরাং যারা 'সর্বাধিক কল্যাণ' (আসলাহ) বিবেচনা করেন, তারা সাধ্যের অতীত কোনো বিষয়ের দায়িত্ব অর্পণ (তাকলিফ মা লা ইউতাক) নিষিদ্ধ মনে করেন। আর যারা বিষয়টিকে আল্লাহর ইচ্ছার ওপর ন্যস্ত করেন, তারা সাধ্যের অতীত দায়িত্ব অর্পণকেও জায়েজ মনে করেন। সহনীয় কষ্ট বা পরিশ্রম রয়েছে এমন বিষয়ের দায়িত্ব অর্পণ শুদ্ধ। তবে যে কাজে কোনো কষ্ট নেই, এমন বিষয়ের দায়িত্ব অর্পণ শুদ্ধ হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে; ফকিহগণ একে জায়েজ বললেও কিছু কালাম শাস্ত্রবিদ তা নিষেধ করেছেন। বায়তুল মাকদিস থেকে কাবার দিকে কিবলা পরিবর্তনের মাধ্যমে ইবাদত করার নির্দেশ এসেছে, অথচ তাতে কোনো অতিরিক্ত কষ্ট ছিল না। যদি দায়িত্ব অর্পণকে সক্ষমতার নিরিখে বিবেচনা করা হয়, তবে সক্ষমতার বাইরের কোনো বিষয়ের প্রতি তা নির্দেশিত হয় না। এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক কী, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। একদল বলেছেন, বিবেক-বুদ্ধি একে বাধা দেয় কারণ এটি অসম্ভব। অন্য একদল বলেছেন, শরীয়ত একে বাধা দেয়, যদিও বুদ্ধিগতভাবে এটি অসম্ভব নয়; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: আল্লাহ কোনো সত্তাকে তার সাধ্যের অতীত কোনো দায়িত্ব দেন না (৩)।

 

‌‌দায়িত্ব অর্পণের আবশ্যকতা

দায়িত্ব অর্পণ (তাকলিফ) উত্তম হওয়ার বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এর আবশ্যকতা নিয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। যারা 'সর্বাধিক কল্যাণ' (আসলাহ) নীতিতে বিশ্বাসী, তারা একে আবশ্যক করেছেন এবং একে বিবেকের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন, কারণ এটি আল্লাহর হিকমত বা প্রজ্ঞার অন্যতম দাবি। যারা একে আল্লাহর ইচ্ছার (ইরাদা) ওপর ন্যস্ত করেছেন, তারা একে আল্লাহর ওপর আবশ্যক করেননি; কারণ 'আবশ্যক' হওয়ার বিষয়টি আদেশদাতার শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করে, যা মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যারা এই মত পোষণ করেন, তারা শরীয়ত আসার আগে বিবেকের অগ্রাধিকার নিয়ে মতভেদ করেছেন।

একদল বলেছেন: এটি বিবেকের সাথে যুগপৎ হওয়া যেমন সম্ভব, তেমনি আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী বিবেকের পরবর্তী হওয়াও সম্ভব। তবে এটি কোনোভাবেই বিবেকের আগে হওয়া সম্ভব নয়, কারণ দায়িত্ব অর্পণ আবশ্যক হওয়ার জন্য বিবেক-বুদ্ধি একটি শর্ত।

অন্য দল বলেছেন: বরং বিবেক-বুদ্ধি পূর্ণতা পাওয়ার পরেই দায়িত্ব অর্পণ বা শরীয়তের বিধান আসা আবশ্যক, এটি বিবেকের সাথে যুগপৎ হতে পারে না এবং তার আগে হওয়া তো অবান্তর। মহান আল্লাহর বাণী: মানুষ কি মনে করে যে তাকে এমনি ছেড়ে দেওয়া হবে?

--------------------------------------------

(৩) সূরা আল-বাকারা, আয়াত (২৮৬) হতে।
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ৩১)
سُدىً «4» وهذه صفة متوجهة إليه بعد كمال عقله.

 

‌‌شرعية التكليف

وقد استقر بما قدمناه أن التكليف الشرعي ما تضمنه الأوامر والنواهي في حقوق الله تعالى وحقوق عباده والمأمور به ضربان واجب وندب، فالواجب ما وجب أن يفعل والندب ما الأولى أن يفعل والمنهى عنه ضربان مكروه ومحظور، فالمحظور ما وجب تركه، والمكروه ما الأولى تركه، فأما المباح فما استوى فعله وتركه فلا يجب أن يفعل ولا الأولى أن يفعل ولا يجب أن يترك ولا الأولى أن يترك، واختلف في دخول المباح في التكليف، فذهب بعض أصحاب الشافعي رحمه الله إلى دخوله في التكليف. واختلف قائل هذا هل دخل فيه بإذن أو بأمر على وجهين:

أحدهما: بإذن ليخرج حكم الندب.

والثاني: بأمر دون أمر الندب كما أن أمر الندب دون أمر الواجب وذهب آخرون من أصحاب الشافعي رحمه الله إلى خروجه من التكليف بإذن أو أمر لاختصاص التكليف بما تضمنه ثواب أو عقاب واتفقوا في المباح أنه لا يستحق عليه حمد ولا ذم ويخرج عن القبيح واختلفوا في دخوله في الحسن فأدخله بعضهم فيه وأخرجه بعضهم منه.

 

‌‌الأمر والإرادة

والأمر بالتكليف هو استدعاء الطاعة بالانقياد للفعل واختلفوا في اقتران الإرادة به هل يكون شرطا في صحته، فذهب الأشعري إلى أن الإرادة غير معتبرة فيه ويجوز أن يأمر بما لا يريده ويكون أمرا كالذي يريده، وذهب المعتزلة إلى أنه لا يكون أمرا إلّا بالإرادة، فإن لم تعلم إرادته لم يكن أمرا. واختلفوا هل تعتبر إرادة الأفراد إرادة المأمور به فاعتبر بعضهم إرادة الأمر المنطوق به واعتبر آخرون منهم إرادة الفعل المأمور به والذي عليه جمهور الفقهاء أن الأمر دليل على

--------------------------------------------

(4) سورة القيامة الآية (36) .
লক্ষ্যহীন বা অনর্থক «৪» এবং এটি এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা তার বুদ্ধি পূর্ণ হওয়ার পর তার প্রতি বর্তায়।

 

‌‌শরয়ী বিধানের (তাকলিফ) বৈধতা

আমরা যা পূর্বে আলোচনা করেছি তা থেকে এটি স্থির হয়েছে যে, শরয়ী বিধান (তাকলিফ) হলো মহান আল্লাহর অধিকার এবং তাঁর বান্দাদের অধিকারের ক্ষেত্রে আদেশ ও নিষেধসমূহের সমষ্টি। আর আদিষ্ট বিষয় দুই প্রকার: ওয়াজিব এবং মানদুব (পছন্দনীয়)। ওয়াজিব হলো যা করা আবশ্যক এবং মানদুব হলো যা করা উত্তম। আর নিষিদ্ধ বিষয় দুই প্রকার: মাকরুহ এবং মাহজুর (হারাম)। মাহজুর হলো যা বর্জন করা আবশ্যক, আর মাকরুহ হলো যা বর্জন করা উত্তম। আর মুবাহ বা বৈধ কাজ হলো যার করা এবং বর্জন করা সমান, সুতরাং তা করা আবশ্যক নয় এবং করা উত্তমও নয়, আবার তা বর্জন করাও আবশ্যক নয় এবং বর্জন করাও উত্তম নয়। মুবাহ বিষয় শরয়ী বিধানের (তাকলিফ) অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিছু অনুসারী একে শরয়ী বিধানের অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। যারা এই মত পোষণ করেন, তারা এটি অনুমতির মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে নাকি আদেশের মাধ্যমে, সে বিষয়ে দুটি দৃষ্টিভঙ্গিতে বিভক্ত হয়েছেন:

এক: অনুমতির মাধ্যমে, যাতে মানদুবের বিধানটি পৃথক থাকে।

দুই: এমন আদেশের মাধ্যমে যা মানদুবের আদেশের চেয়ে নিম্নতর, যেমন মানদুবের আদেশ ওয়াজিবের আদেশের চেয়ে নিম্নতর। ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর অন্যান্য অনুসারীরা একে অনুমতি বা আদেশের মাধ্যমে শরয়ী বিধান (তাকলিফ) থেকে বহির্ভূত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন, কারণ শরয়ী বিধান কেবল সেই বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট যা সওয়াব বা শাস্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে। মুবাহ-এর ক্ষেত্রে তারা একমত হয়েছেন যে, এর জন্য কোনো প্রশংসা বা নিন্দা প্রাপ্য নয় এবং এটি মন্দ (কাবিহ) কাজের বহির্ভূত। তবে এটি উত্তম (হাসান) কাজের অন্তর্ভুক্ত কিনা তা নিয়ে তারা মতভেদ করেছেন; কেউ একে উত্তমের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, আবার কেউ তা থেকে বের করে দিয়েছেন।

 

‌‌আদেশ ও ইচ্ছা

শরয়ী বিধানের আদেশ হলো কোনো কাজের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের মাধ্যমে আনুগত্যের দাবি জানানো। আদেশের সাথে আল্লাহর ইচ্ছার (ইরাদা) সংশ্লিষ্টতা আদেশের সঠিক হওয়ার জন্য শর্ত কি না, তা নিয়ে তারা মতভেদ করেছেন। ইমাম আশআরী এই মত পোষণ করেছেন যে, এক্ষেত্রে ইচ্ছা ধর্তব্য নয় এবং তিনি যা চান না তা করার আদেশ দেওয়া বৈধ, আর সেটি তাঁর কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের আদেশের মতোই আদেশ হিসেবে গণ্য হবে। মুতাজিলারা মনে করেন যে, ইচ্ছা ব্যতীত কোনো কিছু আদেশ হতে পারে না; সুতরাং যদি তাঁর ইচ্ছা জানা না যায়, তবে সেটি আদেশ হবে না। তারা মতভেদ করেছেন যে, একক বিষয়সমূহের ইচ্ছা কি আদিষ্ট বিষয়ের ইচ্ছা হিসেবে গণ্য হবে কি না; তাদের কেউ কেউ উচ্চারিত আদেশের ইচ্ছাকে গণ্য করেছেন, আবার অন্যরা আদিষ্ট কাজের ইচ্ছাকে গণ্য করেছেন। আর জুমহুর (অধিকাংশ) ফকীহগণের অভিমত হলো যে, আদেশ হলো...

--------------------------------------------

(৪) সূরা আল-কিয়ামাহ, আয়াত (৩৬)।
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ৩২)
الإرادة وليست الإرادة شرطا في صحة الأمر. وإن كانت موجودة مع الأمر فيستدل بالأمر على الإرادة ولا يستدل بالإرادة على الأمر.

 

‌‌شروط صحة الأمر

ومن صحة الأمر أن يكون بما لا يمنع منه العقل فإن منع منه العقل لم يصح الأمر به لخروج التكليف عن محظورات العقول واختلف هل يعتبر صحته بحسنه في العقل فاعتبره فريق وأسقطه فريق. وإذا لم يكن يستوعب نصوص الشرع قضايا العقول كلها جاز العمل بمقتضى العقل فيها واختلف في إلحاقها بأحكام الشرع فألحقها فريق بها وجعلها داخلة فيها لأن الشرع لا يخرج عن مقتضاها وأخرجها فريق منها وإن جاز العمل بها كالمشروع لأن الشرع مسموع والعقل متبوع.

 

‌‌وقت الأمر

والأمر يكون بالقول أو ما قام مقام القول إذا عقل منه معنى الأمر واختلف فيه متى يكون أمرا. فذهب جمهور الفقهاء والمتكلمين إلى أنه يكون أمرا وقت القول ويتقدم على الفعل وذهب شاذ من الفقهاء والمتكلمين إلى أنه يكون أمرا وقت الفعل وما تقدمه من القول إعلام بالأمر وليس بأمر وهذا فاسد لأن الفعل يجب بالأمر فلو لم يكن ما تقدمه أمرا لاحتاج مع الفعل إلى تجديد أمر.

 

‌‌أبواب الأمر

والأمر ضربان: أمر اعلام «5» وأمر إلزام «6» فأما أمر الإعلام فمختص بالاعتقاد دون الفعل ويجب أن يتقدم الأمر على الاعتقاد بزمان واحد وهو وقت

--------------------------------------------

(5) كالأمر بالإحسان إلى الفقراء والمساكين مثلا وتركه ترك لخير وثواب ولا عقاب على تاركه.

(6) كالأمر بإداء الزكاة وتركه معصية وموجب للعقاب.
ইচ্ছা। নির্দেশ সঠিক হওয়ার জন্য ইচ্ছা কোনো শর্ত নয়। আর যদি নির্দেশের সাথে ইচ্ছা বিদ্যমান থাকে, তবে নির্দেশ দ্বারা ইচ্ছার প্রমাণ নেওয়া হয়, কিন্তু ইচ্ছা দ্বারা নির্দেশের প্রমাণ নেওয়া হয় না।

 

‌‌নির্দেশ সঠিক হওয়ার শর্তাবলি

নির্দেশ সঠিক হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো, এটি এমন বিষয় হতে হবে যা বিবেক (আকল) নিষেধ করে না। কারণ যদি বিবেক তা নিষেধ করে, তবে সেই নির্দেশ সঠিক হবে না; কেননা মানুষের বিবেক যা অসম্ভব মনে করে তা পালন করার দায়িত্ব (তাকলিফ) প্রদান করা হয় না। বিবেকের নিকট বিষয়টি উত্তম হওয়া এর সঠিক হওয়ার জন্য শর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে কি না—এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে; একদল একে বিবেচনা করেছেন এবং অন্য একদল একে বর্জন করেছেন। যদি শরয়ি নসসমূহ সমস্ত বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়কে পরিবেষ্টন না করে, তবে সেক্ষেত্রে বিবেকের দাবি অনুযায়ী আমল করা বৈধ। এগুলোকে শরয়ি বিধানের অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে; একদল একে তার সাথে যুক্ত করেছেন এবং একে শরয়ি বিধানের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেছেন, কারণ শরিয়ত বিবেকের দাবির বাইরে যায় না। অন্য একদল একে শরিয়ত থেকে বের করে রেখেছেন, যদিও বিধিবদ্ধ বিষয়ের মতো এর ওপর আমল করা বৈধ; কারণ শরিয়ত হলো শ্রুত বিষয় আর বিবেক হলো অনুসরিত বিষয়।

 

‌‌নির্দেশের সময়

নির্দেশ হয় মৌখিক কথা দ্বারা অথবা কথার স্থলাভিষিক্ত এমন কিছুর মাধ্যমে যা থেকে নির্দেশের অর্থ বোঝা যায়। এটি কখন নির্দেশ হিসেবে গণ্য হবে তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। জমহুর ফকিহ ও মুতাকাল্লিমিনদের মতে, এটি কথা বলার সময়ই নির্দেশ হিসেবে গণ্য হয় এবং কর্মের পূর্বে কার্যকর হয়। ফকিহ ও মুতাকাল্লিমিনদের একটি বিচ্ছিন্ন দল মনে করেন যে, এটি কর্মের সময়ই নির্দেশ হয় এবং তার পূর্বে যে কথা বলা হয়েছে তা কেবল নির্দেশ সম্পর্কে অবহিত করা, কোনো নির্দেশ নয়। এই মতটি অসার, কারণ কর্ম নির্দেশের মাধ্যমেই ওয়াজিব হয়; সুতরাং যদি পূর্ববর্তী কথাটি নির্দেশ না হতো, তবে কর্ম সম্পাদনের সময় নতুন করে নির্দেশের প্রয়োজন হতো।

 

‌‌নির্দেশের প্রকারভেদসমূহ

নির্দেশ দুই প্রকার: অবহিতকরণমূলক নির্দেশ «৫» এবং অপরিহার্যকরণমূলক নির্দেশ «৬»। অবহিতকরণমূলক নির্দেশ বিশ্বাসের সাথে নির্দিষ্ট, কর্মের সাথে নয়। আর বিশ্বাসের অন্তত এক সময় আগে এই নির্দেশ আসা আবশ্যক, আর সেই সময়টি হলো...

--------------------------------------------

(৫) যেমন উদাহরণস্বরূপ দরিদ্র ও মিসকিনদের প্রতি অনুগ্রহ করার নির্দেশ; এটি বর্জন করা মানে কল্যাণ ও সওয়াব বর্জন করা, তবে বর্জনকারীর জন্য কোনো শাস্তি নেই।

(৬) যেমন জাকাত প্রদানের নির্দেশ; এটি বর্জন করা গুনাহ এবং শাস্তির কারণ।
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
العلم به، وأما أمر الإلزام فمتوجه إلى الاعتقاد والفعل فيجمع بين اعتقاد الوجوب وإيجاد الفعل ولا يجزئه الاقتصار على أحدهما فإن فعله قبل اعتقاد وجوبه لم يجزه وإن اعتقد وجوبه ولم يفعله كان مأخوذا به ولا يلزم تجديد الاعتقاد عند فعله إذا كان على ما تقدم من اعتقاده لأن الاعتقاد تعبد التزام والفعل تأدية مستحق، ويجب أن يتقدم الأمر على الفعل بزمان الاعتقاد واختلف في إعتبار تقديمه بزمان التأهب للفعل على مذهبين:

أحدهما: وهو قول شاذ من الفقهاء يجب تقديمه على الفعل بزمانين.

أحدهما: زمان الإعتقاد.

والثاني: زمان التأهب للفعل وبه قال من المتكلمين من اعتبر القدرة قبل الفعل.

والمذهب الثاني: وهو قول جمهور الفقهاء يعتبر تقديم الأمر على الفعل بزمان الإعتقاد وحده والتأهب للفعل شروع فيه فلم يعتبر تقدمه عليه، وبه قال من المتكلمين من اعتبر القدرة مع الفعل.
সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা; আর আবশ্যিক করার নির্দেশটি বিশ্বাস ও আমল—উভয়ের প্রতি নিবদ্ধ। ফলে এটি ওয়াজিব হওয়ার বিশ্বাস এবং কাজটি সম্পন্ন করার মাঝে সমন্বয় ঘটায় এবং কেবল একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকা যথেষ্ট হবে না। যদি সে ওয়াজিব হওয়ার বিশ্বাসের পূর্বে কাজটি করে ফেলে তবে তা যথেষ্ট হবে না, আর যদি সে ওয়াজিব হওয়ার বিশ্বাস রাখে কিন্তু আমল না করে তবে সে এর জন্য পাকড়াওযোগ্য হবে। কাজটি করার সময় বিশ্বাসের পুনর্নবায়ন জরুরি নয় যদি তা তার পূর্ববর্তী বিশ্বাসের ওপরই অটল থাকে, কারণ বিশ্বাস হলো আনুগত্যের অঙ্গীকার আর আমল হলো প্রাপ্য হক আদায় করা। আমলের সময়ের পূর্বে বিশ্বাসের সময় পরিমাণ নির্দেশের অগ্রগামী হওয়া ওয়াজিব। আর কাজের প্রস্তুতির সময় পরিমাণ অগ্রগামী হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় দুটি মত রয়েছে:

প্রথমটি: এটি ফকিহদের মধ্যে একটি শায (বিচ্ছিন্ন) মত যে, কাজের পূর্বে দুই সময়ের ব্যবধানে নির্দেশের উপস্থিতি ওয়াজিব।

একটি হলো: বিশ্বাসের সময়।

দ্বিতীয়টি: কাজের প্রস্তুতির সময়। মুতাকাল্লিমদের মধ্যে যারা সক্ষমতাকে (কুদরত) কাজের আগে বিদ্যমান মনে করেন, এটি তাদের মত।

দ্বিতীয় মত: এটি জুমহুর ফকিহদের অভিমত। এতে কাজের পূর্বে কেবল বিশ্বাসের সময়ের ব্যবধানে নির্দেশের অগ্রবর্তী হওয়াকে বিবেচনা করা হয়। আর কাজের প্রস্তুতি মূলত কাজেরই সূচনা, তাই একে অগ্রবর্তী হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। মুতাকাল্লিমদের মধ্যে যারা সক্ষমতাকে কাজের সাথে সমসাময়িক মনে করেন, এটি তাদের অভিমত।
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌الباب الرابع في إثبات النبوّات

 

‌‌الأنبياء عليهم السلام

والأنبياء هم رسل الله تعالى إلى عباده بأوامره ونواهيه، زيادة على ما اقتضته العقول من واجباتها وإلزاما لما جوّزته من مباحاتها، لما أراده الله تعالى من كرامة العاقل وتشريف أفعاله واستقامة أحواله وانتظام مصالحه، حين هيأه للحكمة وطبعه على المعرفة، ليجعله حكيما وبالعواقب عليما، لأن الناس بنظرهم لا يدركون مصالحهم بأنفسهم ولا يشعرون لعواقب أمورهم بغرائزهم ولا ينزجرون مع اختلاف أهوائهم دون أن يرد عليهم آداب المرسلين وأخبار القرون الماضين، فتكون آداب الله فيهم مستعملة وحدوده فيهم متبعة وأوامره فيهم ممتثلة ووعده ووعيده فيهم زاجرا وقصص من غبر من الأمم واعظا فإن الأخبار العجيبة إذا طرقت الأسماع والمعاني الغريبة إذا أيقظت الأذهان استمدتها العقول فزاد علمها وصح فهمها وأكثر الناس سماعا أكثرهم خواطر وأكثرهم خواطر أكثرهم تفكرا وأكثرهم تفكرا أكثرهم علما وأكثرهم علما أكثرهم عملا فلم يوجد عن بعثة الرسل معدل ولا منهم في انتظام الحق بدا.

 

‌‌منكرو النبوة

وأنكر فريق من الأمم نبوّات الرسل وهم فيها ثلاثة أصناف:

أحدها: ملحدة دهرية يقولون بقدم العالم وتدبير الطبائع فهم بإنكار المرسل أجدر أن يقولوا بإنكار الرسل.
চতুর্থ অধ্যায়: নবুওয়াত প্রমাণের বর্ণনায়

 

নবীগণ (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)

নবীগণ হলেন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের নিকট প্রেরিত রাসূল, যারা আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ নিয়ে আসেন। এটি বিবেকের দাবি অনুযায়ী নির্ধারিত আবশ্যকীয় বিষয়াদির অতিরিক্ত বিষয় হিসেবে এবং বিবেক যা বৈধ মনে করে তা পালনে বাধ্য করার জন্য আসে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বিবেকবান মানুষের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করা, মানুষের কার্যাবলীকে সম্মানিত করা, অবস্থার সংশোধন এবং মানুষের স্বার্থের শৃঙ্খলা রক্ষা করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন; যেহেতু তিনি মানুষকে হিকমত বা প্রজ্ঞার জন্য উপযুক্ত করেছেন এবং জ্ঞান লাভের স্বভাব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তিনি মানুষকে প্রজ্ঞাবান এবং পরিণাম সম্পর্কে অবগত করতে পারেন। কারণ মানুষ নিজের বিচারবুদ্ধি দিয়ে তার নিজের কল্যাণ নিজে উপলব্ধি করতে পারে না এবং প্রবৃত্তির তাড়নায় বিষয়ের পরিণাম সম্পর্কে সচেতন হতে পারে না। ফলে মানুষের প্রবৃত্তির ভিন্নতা সত্ত্বেও রাসূলদের শেখানো শিষ্টাচার এবং পূর্ববর্তী জাতিগুলোর সংবাদ তাদের কাছে না আসা পর্যন্ত তারা নিবৃত্ত হয় না। এর ফলে তাদের মাঝে আল্লাহর শিষ্টাচারসমূহ কার্যকর হয়, তাঁর নির্ধারিত সীমারেখাসমূহ অনুসৃত হয়, তাঁর আদেশসমূহ পালিত হয় এবং তাঁর পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির হুমকি তাদের জন্য প্রতিবন্ধক হয় এবং পূর্ববর্তী জাতিগুলোর কাহিনী তাদের জন্য উপদেশ স্বরূপ হয়। কেননা অদ্ভুত সংবাদসমূহ যখন কানে পৌঁছায় এবং বিচিত্র অর্থসমূহ যখন বিবেককে জাগ্রত করে, তখন জ্ঞান তা গ্রহণ করে, ফলে তার জ্ঞান বৃদ্ধি পায় এবং বোধশক্তি সঠিক হয়। আর যারা বেশি শ্রবণ করে তাদের মনে চিন্তা উদ্রেককারী বিষয়ের আধিক্য ঘটে, আর যাদের চিন্তা উদ্রেককারী বিষয়ের আধিক্য ঘটে তাদের ভাবনা বেশি হয়, আর যাদের ভাবনা বেশি হয় তাদের জ্ঞান বৃদ্ধি পায়, আর যাদের জ্ঞান বেশি হয় তাদের আমলও বেশি হয়। সুতরাং রাসূল প্রেরণের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য এবং সত্যের শৃঙ্খলার জন্য তাঁদের বিকল্প নেই।

 

নবুওয়াত অস্বীকারকারীগণ

বিভিন্ন জাতির একদল নবুওয়াত অস্বীকার করেছে এবং তারা এ ক্ষেত্রে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত:

প্রথমত: নাস্তিক দাহরিয়া (বস্তুবাদী), যারা জগতের অনাদিত্ব এবং প্রকৃতির পরিচালনার প্রবক্তা। তারা যেহেতু প্রেরককে (স্রষ্টাকে) অস্বীকার করে, তাই রাসূলগণকে অস্বীকার করা তাদের জন্য অধিক স্বাভাবিক।
(খণ্ড: ১) আলামুন নুবুওয়াহ লিল মাওয়ারদী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
والصنف الثاني: براهمة موحدة «1» يقولون بحدوث العالم ويجحدون بعثة الرسل ويبطلون النبوات وهم المنسوبون إلى بهر من صاحب مقالتهم وشذ فريق منهم فادعى أنه آدم أبو البشر ومنهم من قال هو إبراهيم ومن قال من هذه الفرقة الشاذة منهم أنه أحد هذين أقر بنبوتهما وأنكر نبوّة من سواهما وجمهورهم على خلاف هذه المقالة في اعتزائهم لصاحب مقالتهم وإنكار جميع النبوّات عموما.

والصنف الثالث: فلاسفة لا يتظاهرون بإبطال النبوّات في الظاهر وهم مبطلوها في تحقيق قولهم، لأنهم يقولون أن العلوم الربانية بعد كمال العلوم الرياضية من الفلسفة والهندسة ليضعها من كملت رياضته إذا كان عليها مطبوعا.

 

‌‌إختلاف منكر والنبوة وبطلان حججهم

واختلف من أبطل النبوّات في علة إبطالها فذهب بعضهم إلى أن العلة في إبطالها أن الله تعالى قد أغنى عنها بما دلت عليه العقول من لوازم ما تأتي به الرسل وهذا فاسد من وجهين:

أحدهما: أنه لا يمنع ما دلت عليه العقول جواز أن تأتي به الرسل وجوبا ولو كان العقل موجبا لما امتنع أن تأتي به الرسل وجوبا، ولو كان العقل موجبا، لما امتنع أن تأتي به الرسل تأكيدا كما تترادف دلائل العقول على التوحيد، ولا يمنع وجود بعضها من وجود غيرها.

والثاني: أنه لا تستغني قضايا العقول عن بعثة الرسل من وجهين:

أحدهما: أن قضايا العقول قد تختلف فيما تكافأت فيه أدلتها فانحسم ببعثة الرسل اختلافها.

والثاني: أنه لا مدخل للعقول فيما تأتي به الرسل من الوعد والوعيد والجنة والنار وما يشرعونه من أوصاف التعبد الباعث على التأله فلم يغن عن

--------------------------------------------

(1) ومنهم من يقول بأن إدراك وحدانية الله تدرك بالعقل وجحدوا النبوات وادعوا أن العبادة إنما تكون بالقلب لا بالأفعال.
দ্বিতীয় শ্রেণি: একেশ্বরবাদী ব্রহ্মণ্যবাদী (ব্রাহ্মণ), যারা মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব বিশ্বাস করে কিন্তু রাসূল প্রেরণকে অস্বীকার করে এবং নবুওয়াতকে বাতিল সাব্যস্ত করে। তারা তাদের মতবাদের প্রবক্তা বাহরামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত। তাদের মধ্যে একটি ক্ষুদ্র দল বিচ্ছিন্ন হয়ে দাবি করেছে যে, তিনি হলেন মানবজাতির পিতা আদম। আবার তাদের কেউ কেউ বলেছে তিনি হলেন ইব্রাহিম। এই বিচ্ছিন্ন দলের মধ্যে যারা মনে করে যে তিনি এই দুজনের একজন, তারা তাদের নবুওয়াত স্বীকার করে কিন্তু অন্য সবার নবুওয়াত অস্বীকার করে। তবে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এই মতবাদের পরিপন্থী এবং তারা তাদের প্রবক্তাকে অনুসরণ করলেও সাধারণভাবে সকল নবুওয়াত অস্বীকার করে।

তৃতীয় শ্রেণি: দার্শনিকবৃন্দ, যারা বাহ্যিকভাবে নবুওয়াত অস্বীকারের বিষয়টি প্রকাশ করে না, তবে তারা তাদের বক্তব্যের নিগূঢ় বিশ্লেষণে নবুওয়াতকে বাতিল সাব্যস্তকারী। কারণ তারা মনে করে যে, দর্শন ও জ্যামিতির মতো গাণিতিক বিদ্যায় পূর্ণতা অর্জনের পর খোদায়ী জ্ঞানসমূহ অর্জিত হয়, যা ওই ব্যক্তিই লাভ করতে পারেন যার স্বভাবজাত যোগ্যতা রয়েছে এবং যিনি অনুশীলনের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করেছেন।

 

‌‌নবুওয়াত অস্বীকারকারীদের মতভেদ এবং তাদের যুক্তিসমূহের অসারতা

যারা নবুওয়াতকে বাতিল সাব্যস্ত করেছে, তারা তা বাতিলের কারণ সম্পর্কে মতভেদ করেছে। তাদের কেউ কেউ এই অভিমত পোষণ করেছে যে, নবুওয়াতকে বাতিল করার কারণ হলো—আল্লাহ তাআলা বিবেক-বুদ্ধির মাধ্যমেই মানুষকে সেই সকল আবশ্যকীয় বিষয়ের পথপ্রদর্শন করেছেন যা রাসূলগণ নিয়ে আসেন, ফলে নবুওয়াতের আর প্রয়োজন থাকে না। এটি দুটি কারণে অসার:

এক. বিবেক যা নির্দেশ করে, তা রাসূলগণের মাধ্যমে আবশ্যকীয়রূপে উপস্থিত হওয়া অসম্ভব নয়। এমনকি বিবেক যদি কোনো কিছুকে আবশ্যক করে, তবুও রাসূলগণের পক্ষ থেকে তা তাকিদ বা সুদৃঢ় করার জন্য আসা অসম্ভব নয়; যেমনটা তাওহিদ বা একত্ববাদের স্বপক্ষে বুদ্ধিবৃত্তিক দলীলসমূহ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। এদের একটির অস্তিত্ব অন্যটির উপস্থিতিকে বাধা প্রদান করে না।

দুই. বুদ্ধিবৃত্তিক সিদ্ধান্তসমূহ দুটি কারণে রাসূল প্রেরণের প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্ত হতে পারে না:

প্রথমত: বুদ্ধিবৃত্তিক সিদ্ধান্তসমূহে কখনো এমন বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয় যেখানে উভয় পক্ষের দলীল সমান শক্তিশালী থাকে। ফলে রাসূল প্রেরণের মাধ্যমেই সেই মতভেদ নিরসন সম্ভব হয়।

দ্বিতীয়ত: রাসূলগণ পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি, শাস্তির ভীতিপ্রদর্শন, জান্নাত, জাহান্নাম এবং ইবাদতের যে সকল পদ্ধতি ও বৈশিষ্ট্য প্রবর্তন করেন—যা মহান আল্লাহর দাসত্বের প্রেরণা জাগ্রত করে—সেগুলোতে বিবেকের কোনো প্রবেশাধিকার নেই। সুতরাং এগুলো থেকে...

--------------------------------------------

(১) তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে যে, আল্লাহর একত্ববাদ বিবেক দ্বারা উপলব্ধি করা সম্ভব; তাই তারা নবুওয়াতকে অস্বীকার করেছে এবং দাবি করেছে যে, ইবাদত কেবল অন্তরের মাধ্যমেই হয়, কোনো বাহ্যিক কর্মের মাধ্যমে নয়।