(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: -)
الإصابة في تمييز الصحابة القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الإصابة في تمييز الصحابة
المؤلف: أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن أحمد بن حجر العسقلاني (ت 852هـ)
تحقيق: عادل أحمد عبد الموجود وعلى محمد معوض
الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت
الطبعة: الأولى - 1415 هـ
عدد الأجزاء: 8
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ইসাবাহ ফী তাময়ীযিস সাহাবাহ বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: আল-ইসাবাহ ফী তাময়ীযিস সাহাবাহ
লেখক: আবু আল-ফজল আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন হাজার আল-আসকালানী (মৃত্যু ৮৫২ হিজরী)
সম্পাদনা ও গবেষণা: আদিল আহমদ আব্দুল মওজুদ এবং আলী মুহাম্মাদ মুআউওয়াদ
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম - ১৪১৫ হিজরী
খণ্ড সংখ্যা: ৮
[বইটির নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ৭)
[المجلد الأول]
من هو الصّحابيّ؟
الصّحابيّ لغة:مشتقّ من الصّحبة، وليس مشتقّا من قدر خاصّ منها، بل هو جار على كل من صحب غيره قليلا أو كثيرا.
كما أنّ قولك: مكلّم، ومخاطب، وضارب، مشتق من المكالمة، والمخاطبة، والضّرب.
وجار على كلّ من وقع منه ذلك، قليلا أو كثيرا. يقال: صحبت فلانا حولا وشهرا ويوما وساعة وهذا يوجب في حكم اللّغة اجراءها على من صحب النبي صلى الله عليه وسلم ساعة من نهار.
قال السّخاويّ: «الصّحابيّ لغة: يقع على من صحب أقلّ ما يطلق عليه اسم صحبة، فضلا عمّن طالت صحبته وكثرت مجالسته» [ (1) ] .
الصّحابيّ عند علماء الأصولقال أبو الحسين في «المعتمد» : هو من طالت مجالسته له على طريق التّبع له والأخذ عنه، أما من طالت بدون قصد الاتباع أو لم تطل كالوافدين فلا.
وقال الكيا الطّبريّ: هو من ظهرت صحبته لرسول اللَّه صلى الله عليه وسلم صحبة القرين قرينه حتى يعد من أحزابه وخدمه المتصلين به.
قال صاحب «الواضح» : وهذا قول شيوخ المعتزلة. وقال ابن فورك: هو من أكثر مجالسته واختص به.
الصّحابيّ عند علماء الحديثقال ابن الصّلاح حكاية عن أبي المظفّر السّمعانيّ أنه قال: أصحاب الحديث يطلقون اسم الصّحابة على كل من روى عنه حديثا أو كلمة، ويتوسعون حتى يعدون من رآه رؤية من
--------------------------------------------
[প্রথম খণ্ড] সাহাবী কে?শাব্দিক অর্থে সাহাবী:এটি 'সোহবত' (সঙ্গ) শব্দ থেকে ব্যুৎপন্ন, এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ সঙ্গের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং যে ব্যক্তি অন্যের সঙ্গে অল্প বা দীর্ঘ সময় অবস্থান করে, তার সবার ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য।
যেমন আপনার কথা: বক্তা, সম্বোধনকারী এবং প্রহারকারী—যথাক্রমে বাক্যালাপ, সম্বোধন এবং প্রহার থেকে ব্যুৎপন্ন।
এবং যার মাধ্যমেই এই কাজগুলো সংঘটিত হয়, চাই তা অল্প হোক বা বেশি, তার সবার জন্যই শব্দগুলো প্রযোজ্য। বলা হয়: আমি অমুকের সাথে এক বছর, এক মাস, একদিন বা এক ঘণ্টা কাটিয়েছি। এটি ভাষার বিধান অনুযায়ী ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রেও শব্দটির প্রয়োগ আবশ্যক করে, যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে দিনের কোনো এক ঘণ্টা অতিবাহিত করেছেন।
সাখাভী বলেন: «শাব্দিক অর্থে সাহাবী তাকেই বলা হয়, যার ক্ষেত্রে নূন্যতম সঙ্গ শব্দটি প্রয়োগ করা যায়, আর যার সঙ্গ দীর্ঘ হয়েছে এবং যার সাহচর্যে থাকার সুযোগ বেশি হয়েছে, তার কথা তো বলাই বাহুল্য» [ (১) ] ।
উসুলবিদগণের নিকট সাহাবীআবু আল-হুসাইন 'আল-মুতামাদ' গ্রন্থে বলেন: সাহাবী হলেন তিনি, যিনি তাঁর আনুগত্য ও তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে দীর্ঘকাল তাঁর সাহচর্যে ছিলেন। তবে যিনি আনুগত্যের উদ্দেশ্য ব্যতীত দীর্ঘকাল সাথে ছিলেন কিংবা যার সাহচর্যের সময় দীর্ঘ ছিল না (যেমন আগত প্রতিনিধি দল), তিনি এর অন্তর্ভুক্ত নন।
আল-কিয়া তাবারী বলেন: সাহাবী হলেন তিনি, যার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এমন গভীর সাহচর্য প্রকাশ পেয়েছে, যেমন এক বন্ধু অন্য বন্ধুর সাথে থাকে; এমনকি তাকে তাঁর সাথী ও তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট সেবকদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়।
'আল-ওয়াদিহ' গ্রন্থের লেখক বলেন: এটি মুতাজিলা শায়খদের অভিমত। ইবনে ফুরাক বলেন: তিনি হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি তাঁর সাথে অধিক সময় অতিবাহিত করেছেন এবং তাঁর সাথে বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
হাদীস বিশারদগণের নিকট সাহাবীইবনে আল-সালাহ আবু আল-মুজাফফর আল-সামআনী থেকে বর্ণনা করে বলেন যে, তিনি বলেছেন: হাদীস বিশারদগণ এমন প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে সাহাবী শব্দটি প্রয়োগ করেন, যিনি তাঁর থেকে একটি হাদীস বা একটি বাক্য বর্ণনা করেছেন। তারা এই ক্ষেত্রে আরও প্রশস্ততা অবলম্বন করেন, এমনকি যারা তাঁকে কেবল একবার দেখেছেন তাদেরও এর অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ৮)
الصّحابة، وهذا لشرف منزلة النبي صلى الله عليه وسلم أعطوا كل من رآه حكم الصّحابة [ (1) ] .
وقال سيّد التّابعين سعيد بن المسيّب: الصّحابي من أقام مع رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم سنة أو سنتين، وغزا معه غزوة أو غزوتين [ (2) ] .
ووجهه أن لصحبته صلى الله عليه وسلم شرفا عظيما فلا تنال إلا باجتماع طويل يظهر فيه الخلق المطبوع عليه الشخص كالغزو المشتمل على السّفر الّذي هو قطعة من العذاب، والسّنة المشتملة على الفصول الأربعة التي يختلف فيها المزاج.
وقال بدر الدّين بن جماعة [ (3) ] : وهذا ضعيف، لأنه يقتضي أنه لا يعد جرير بن عبد اللَّه البجليّ، ووائل بن حجر وأضرابهما من الصحابة، ولا خلاف أنهم صحابة.
وقال العراقيّ: ولا يصح هذا عن ابن المسيّب، ففي الإسناد إليه محمّد بن عمر الواقديّ شيخ ابن سعد ضعيف في الحديث [ (4) ] .
وقال الواقديّ: ورأيت أهل العلم يقولون: كل من رأى رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وقد أدرك الحلم فأسلم وعقل أمر الدّين ورضيه فهو عندنا ممّن صحب النبيّ صلى الله عليه وسلم ولو ساعة من نهار [ (5) ] .
وهذا التعريف غير جامع، لأنه يخرج بعض الصحابة ممّن هم دون الحلم ورووا عنه كعبد اللَّه بن عبّاس، وسيّدي شباب أهل الجنّة الحسن والحسين، وابن الزبير.
قال العراقيّ: والتّقييد بالبلوغ شاذّ [ (6) ] .
وقال السّيوطيّ في «تدريب الرّاوي» : ولا يشترط البلوغ على الصّحيح، وإلا لخرج من أجمع على عدّه في الصّحابة.
والأصح ما قيل في تعريف الصّحابيّ أنه «من لقي النبيّ صلى الله عليه وسلم في حياته مسلما ومات على إسلامه.
--------------------------------------------
সাহাবীগণ; এবং এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উচ্চ মর্যাদার কারণে যে, তাঁকে দেখেছেন এমন প্রত্যেককে তারা সাহাবীর হুকুম দিয়েছেন।
তাবিঈদের সর্দার সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব বলেন: সাহাবী সেই ব্যক্তি যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক বা দুই বছর অবস্থান করেছেন এবং তাঁর সাথে এক বা দুটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।
এর কারণ হলো, তাঁর সাহচর্যের এক মহান মর্যাদা রয়েছে, যা দীর্ঘ সাহচর্য ব্যতীত অর্জিত হয় না; যাতে ব্যক্তির স্বভাবজাত চরিত্র ফুটে ওঠে, যেমন যুদ্ধে অংশগ্রহণ যা সফরের অন্তর্ভুক্ত এবং যা কষ্টের একটি অংশ, আর এক বছর যা চারটি ঋতুকে অন্তর্ভুক্ত করে যার ফলে মেজাজ পরিবর্তিত হয়।
বদরুদ্দীন ইবনুল জামাআহ বলেন: এটি দুর্বল মত, কারণ এটি দাবি করে যে, জারীর বিন আবদুল্লাহ আল-বাজালী, ওয়াইল বিন হুজর এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের সাহাবী হিসেবে গণ্য করা হবে না; অথচ তারা যে সাহাবী এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই।
ইরাকী বলেন: ইবনুল মুসায়্যিব থেকে এটি সহীহভাবে প্রমাণিত নয়, কারণ তাঁর পর্যন্ত পৌঁছানোর সনদে ইবনে সা’দের উস্তাদ মুহাম্মাদ বিন উমর আল-ওয়াকিদী রয়েছেন, যিনি হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল।
ওয়াকিদী বলেন: আমি বিদ্বানদের বলতে দেখেছি যে, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছেন এবং সাবালকত্বে পৌঁছেছেন, অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং দ্বীনের বিষয়াবলি অনুধাবন করেছেন ও তাতে সন্তুষ্ট হয়েছেন, তিনি আমাদের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্যে ধন্যদের অন্তর্ভুক্ত, যদিও তা দিনের সামান্য সময়ের জন্য হয়।
এই সংজ্ঞাটি পূর্ণাঙ্গ নয়, কারণ এটি এমন কিছু সাহাবীকে বাদ দেয় যারা সাবালকত্বের নিচে ছিলেন অথচ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমন আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, জান্নাতী যুবকদের দুই সরদার হাসান ও হুসাইন এবং ইবনুয যুবাইর।
ইরাকী বলেন: সাবালকত্বের শর্তারোপ করাটি বিচ্ছিন্ন মত।
সুয়ূতী ‘তাদরীবুর রাবী’-তে বলেন: বিশুদ্ধ মতানুসারে সাবালকত্ব শর্ত নয়, অন্যথায় এমন ব্যক্তিবর্গ বাদ পড়তেন যাদের সাহাবী হিসেবে গণ্য করার ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে।
আর সাহাবীর সংজ্ঞায় সবচেয়ে বিশুদ্ধ কথা হলো যে, তিনি হলেন এমন ব্যক্তি «যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় মুমিন অবস্থায় তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ৯)
شرح التّعريف:(من لقي النّبيّ صلى الله عليه وسلم : جنس في التّعريف يشمل كل من لقيه في حياته، وأمّا من رآه بعد موته قبل دفنه صلى الله عليه وسلم فلا يكون صحابيّا كأبي ذؤيب الهذليّ الشّاعر فإنه رآه قبل دفنه.
(مسلما) : خرج به من لقيه كافرا وأسلم بعد وفاته كرسول قيصر فلا صحبة له.
(ومات على إسلامه) : خرج به من كفر بعد إسلامه ومات كافرا.
أما من ارتدّ بعده ثم أسلم ومات مسلما فقال العراقيّ: فيهم نظر، لأن الشّافعيّ وأبا حنيفة نصّا على أن الردّة محبطة للصّحبة السابقة كقرّة بن ميسرة والأشعث بن قيس.
وجزم الحافظ ابن حجر شيخ الإسلام ببقاء اسم الصّحبة له كمن رجع إلى الإسلام في حياته كعبد اللَّه بن أبي سرح.
وهل يشترط لقيه في حال النّبوة أو أعم من ذلك حتى يدخل من رآه قبلها ومات على الحنيفية كزيد بن عمرو بن نفيل، وكذا من رآه قبلها وأسلم بعد البعثة ولم يره؟.
قال العراقيّ: ولم أر من تعرّض لذلك، وقد عد ابن مندة زيد بن عمرو في الصّحابة.
هل من الملائكة صحابة؟
الملائكة أجسام نورانيّة قادرة على التّشكيل والظهور بأشكال مختلفة، وهي تتشكل بأشكال حسنة، شأنها الطاعة وأحوال جبريل مع النبي صلى الله عليه وسلم حين تبليغه الوحي وظهوره في صورة دحية الكلبي تؤيد رجحان هذا التعريف للملائكة على غيره.
والملائكة لا يوصفون بذكورة ولا أنوثة ولا يتوالدون، فمن وصفهم بذكورة فسق ومن وصفهم بأنوثة أو خنوثة كفر، لقوله تعالى: وَجَعَلُوا الْمَلائِكَةَ الَّذِينَ هُمْ عِبادُ الرَّحْمنِ إِناثاً أَشَهِدُوا خَلْقَهُمْ [ (1) ] الآية، ومسكنهم السموات ومنهم من يسكن الأرض.
وقد دل على وجودهم الكتاب والسنّة والإجماع فالمنكر كافر، وإذا فيجب الإيمان إجمالا فيمن علم منهم إجمالا، وتفصيلا فيمن علم بالشخص كجبريل وميكائيل أو بالنوع كحملة العرش والحافين من حوله والكتبة والحفظة وقد خلق اللَّه الملائكة جندا له منفذين لأوامره في خلقه فمنهم ساكن السّماوات وأفضلهم حملة العرش والحافّين من حوله وهم الكروبيون، ومنهم الموكلون بالنار وهم الزبانية مع مالك ومنهم الموكلون بالجنة لإعداد النعيم مع رضوان، ومنهم سفير اللَّه إلى أنبيائه وهو جبريل، والموكل بالمطر والسحاب
--------------------------------------------
সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:(যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন: এটি সংজ্ঞার এমন একটি সাধারণ প্রকার যা তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎকারী সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর যে ব্যক্তি তাঁর ইন্তেকালের পর কিন্তু দাফনের আগে তাঁকে দেখেছেন, তিনি সাহাবী হবেন না; যেমন কবি আবু জুআইব আল-হুযালী, কারণ তিনি তাঁকে দাফনের পূর্বে দেখেছিলেন।
(মুসলিম অবস্থায়) : এর দ্বারা এমন ব্যক্তি বাদ পড়ে যায় যে কাফির অবস্থায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছিল এবং তাঁর ইন্তেকালের পর ইসলাম গ্রহণ করেছিল, যেমন কায়সারের দূত; তার জন্য সাহাবী হওয়ার মর্যাদা নেই।
(এবং ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন) : এর দ্বারা এমন ব্যক্তি বাদ পড়ে যায় যে ইসলাম গ্রহণের পর কুফরি করেছে এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে।
তবে যে ব্যক্তি তাঁর ইন্তেকালের পর মুরতাদ হয়েছিল এবং পরবর্তীতে পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের ব্যাপারে ইমাম ইরাকী বলেন: তাদের ক্ষেত্রে ভিন্নমত রয়েছে। কারণ ইমাম শাফিঈ এবং ইমাম আবু হানিফা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ধর্মত্যাগ পূর্বের সাহাবী হওয়ার মর্যাদাকে বাতিল করে দেয়, যেমন কুররাহ ইবনে মায়সারা এবং আশ'আস ইবনে কায়স।
শায়খুল ইসলাম হাফেজ ইবনে হাজার নিশ্চিতভাবে বলেছেন যে, তাদের ক্ষেত্রে সাহাবী নাম বহাল থাকবে, ঠিক যেমন ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে তাঁর জীবদ্দশাতেই ইসলামে ফিরে এসেছিল, যেমন আবদুল্লাহ ইবনে আবি সারাহ।
আর নবুওয়াত প্রাপ্তির অবস্থায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হওয়া কি শর্ত, নাকি বিষয়টি আরও ব্যাপক যাতে নবুওয়াতের পূর্বে তাঁকে দেখা ব্যক্তিও অন্তর্ভুক্ত হবে এবং হানিফ ধর্মের ওপর মৃত্যুবরণ করেছে, যেমন যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়েল? একইভাবে যে ব্যক্তি নবুওয়াতের আগে তাঁকে দেখেছিল এবং নবুওয়াত প্রকাশের পর ইসলাম গ্রহণ করেছিল কিন্তু পুনরায় তাঁকে দেখেনি?
ইরাকী বলেন: আমি কাউকে এই বিষয়ে আলোচনা করতে দেখিনি, তবে ইবনে মান্দাহ যায়েদ ইবনে আমরকে সাহাবীদের মধ্যে গণ্য করেছেন।
ফেরেশতাদের মধ্যে কি সাহাবী আছেন?ফেরেশতারা নূরানি দেহধারী সত্তা যারা বিভিন্ন রূপ ধারণ ও প্রকাশে সক্ষম। তারা সুন্দর আকৃতি ধারণ করে থাকে এবং তাদের বৈশিষ্ট্য হলো আনুগত্য। জিবরাঈল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থা যখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ওহী পৌঁছাতেন এবং দিহিয়া আল-কালবী-র মূর্তিতে উপস্থিত হতেন, তা ফেরেশতাদের এই সংজ্ঞার শ্রেষ্ঠত্বকেই সমর্থন করে।
ফেরেশতাদের পুরুষ বা নারী হিসেবে বর্ণনা করা যায় না এবং তারা বংশবিস্তার করে না। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের পুরুষ হিসেবে বর্ণনা করবে সে ফাসেক, আর যে ব্যক্তি তাদের নারী বা হিজড়া হিসেবে বর্ণনা করবে সে কাফির। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "আর তারা রহমানের বান্দা ফেরেশতাদেরকে নারী গণ্য করেছে; তারা কি তাদের সৃষ্টি প্রত্যক্ষ করেছিল?" (আয়াত)। তাদের আবাসস্থল আসমানসমূহ এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ পৃথিবীতেও বসবাস করে।
কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা তাদের অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়, তাই অস্বীকারকারী কাফির। সুতরাং যাদের সম্পর্কে সাধারণভাবে জানা যায় তাদের প্রতি সামগ্রিকভাবে ঈমান আনা ওয়াজিব, আর যাদের সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় তাদের প্রতি বিস্তারিতভাবে ঈমান আনা ওয়াজিব; যেমন জিবরাঈল ও মিকাইল, অথবা শ্রেণির দিক থেকে যেমন আরশ বহনকারী ফেরেশতাগণ এবং আরশের চারপাশ ঘিরে থাকা ফেরেশতাগণ, লেখক ফেরেশতাগণ এবং হেফাযতকারী ফেরেশতাগণ। আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে তাঁর সৃষ্টিজগতে তাঁর আদেশ পালনকারী বাহিনী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ আসমানে বসবাসকারী, আর তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন আরশ বহনকারীগণ এবং যারা এর চারপাশে ঘিরে আছে তারা হলেন কারুবিয়্যুন। তাদের মধ্যে জাহান্নামের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন যাবানিয়াহ ফেরেশতাগণ মালিকের সাথে, এবং জান্নাতের নেয়ামতসমূহ প্রস্তুত করার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন রেদওয়ানের সাথে। আর নবীদের নিকট আল্লাহর দূত হলেন জিবরাঈল, এবং বৃষ্টি ও মেঘমালার দায়িত্বে নিয়োজিত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ১০)
والرزق وهو ميكائيل، وصاحب النفخ وهو إسرافيل، والموكلون بحفظ بني آدم والكاتبون لأعمالهم، ومنهم منكر ونكير فتانا القبر، ومنهم ملك الموت وأعوانه وهو عزرائيل وَما يَعْلَمُ جُنُودَ رَبِّكَ إِلَّا هُوَ.
عصمة الملائكةوالقول الحق أنهم معصومون يستحيل صدور الذنوب منهم كبيرة كانت أو صغيرة بدليل قوله تعالى: لا يَعْصُونَ اللَّهَ ما أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ ما يُؤْمَرُونَ [ (1) ] .
وقوله: يُسَبِّحُونَ اللَّيْلَ وَالنَّهارَ لا يَفْتُرُونَ [ (2) ] . وقوله: يَخافُونَ رَبَّهُمْ مِنْ فَوْقِهِمْ وَيَفْعَلُونَ ما يُؤْمَرُونَ [ (3) ] . وقوله: إِنَّ الَّذِينَ عِنْدَ رَبِّكَ لا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبادَتِهِ وَيُسَبِّحُونَهُ وَلَهُ يَسْجُدُونَ [ (4) ] . أي أن شأنهم وحياتهم التي فطروا عليهما هي الخضوع والعبادة واللَّه أعلم وهل هم صحابة أم لا؟. أجاب الحافظ ابن حجر رحمه الله فقال: وهل تدخل الملائكة محل نظر؟، وقد قال بعضهم إن ذلك ينبئ على أنه هل كان مبعوثا إليهم أو لا. وقد نقل الإمام فخر الدّين في «أسرار التّنزيل» الإجماع على أنه صلى الله عليه وسلم لم يكن مرسلا إلى الملائكة ونوزع في هذا النقل بل رجح الشيخ تقيّ الدّين السّبكيّ أنه كان مرسلا إليهم.
هل من الجن صحابة؟!
اختلف علماء التّوحيد في بيان حقيقة الجن، فقال بعضهم بتغاير حقيقته، فعرّفوا الجن بأنها أجسام هوائية لطيفة تتشكل بأشكال مختلفة وتظهر منها أفعال عجيبة، منهم المؤمن ومنهم الكافر.
أما الشّياطين: فهي أجسام نارية شأنها إقامة النفس في الغواية والفساد.
وقال آخرون إن حقيقتها واحدة وهي أجسام نارية عاقلة قابلة للتشكل بأشكال حسنة أو قبيحة، وهم كبني آدم يأكلون ويشربون ويتناسلون ويكلفون، منهم المؤمن ومنهم العاصي، أما الشّيطان فاسم للعاصي، ويدل على ذلك قوله تعالى: وَالْجَانَّ خَلَقْناهُ مِنْ قَبْلُ مِنْ نارِ السَّمُومِ [ (5) ] . كما يدل على تكليفهم ووجودهم قوله تعالى: وَإِذْ صَرَفْنا إِلَيْكَ نَفَراً مِنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ فَلَمَّا حَضَرُوهُ قالُوا أَنْصِتُوا فَلَمَّا قُضِيَ وَلَّوْا إِلى قَوْمِهِمْ مُنْذِرِينَ.
الآيات، وقوله: قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِنَ الْجِنِّ فَقالُوا إِنَّا سَمِعْنا قُرْآناً عَجَباً يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ وَلَنْ نُشْرِكَ بِرَبِّنا أَحَداً [ (6) ] . وحيث ثبت وجودهم بكلام اللَّه وكلام أنبيائه
--------------------------------------------
রিজিকের দায়িত্বে নিয়োজিত হলেন মিকাঈল, আর সিঙ্গায় ফুঁ দেওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত হলেন ইসরাফীল। আদম সন্তানদের সংরক্ষণের জন্য নিয়োজিত এবং তাদের আমলসমূহ লিপিবদ্ধকারী ফেরেশতাগণও রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন কবরের দুই পরীক্ষক মুনকার ও নাকীর। আরও রয়েছেন মৃত্যুর ফেরেশতা ও তাঁর সাহায্যকারীগণ, যিনি হলেন আজরাঈল। আর আপনার রবের বাহিনী সম্পর্কে তিনি ব্যতীত অন্য কেউ জানে না।
ফেরেশতাদের নিষ্পাপতাসঠিক কথা হলো তাঁরা নিষ্পাপ; তাঁদের থেকে গুনাহ প্রকাশ পাওয়া অসম্ভব, তা বড় হোক বা ছোট, যার দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ তাঁদের যা নির্দেশ দেন তাঁরা তাতে অবাধ্য হন না এবং তাঁরা যা আদিষ্ট হন তা-ই করেন।" [ (১) ]।
এবং তাঁর বাণী: "তাঁরা দিন-রাত তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করেন, তাঁরা ক্লান্ত হন না।" [ (২) ]। এবং তাঁর বাণী: "তাঁরা তাঁদের রবকে ভয় করেন যিনি তাঁদের উপরে এবং তাঁরা যা আদিষ্ট হন তা-ই করেন।" [ (৩) ]। এবং তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই যারা তোমার রবের সান্নিধ্যে আছে, তারা তাঁর ইবাদত করতে অহংকার করে না এবং তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তাঁরই সিজদা করে।" [ (৪) ]। অর্থাৎ তাঁদের অবস্থা ও জীবন যে প্রকৃতির ওপর সৃষ্টি করা হয়েছে তা হলো বিনয় ও ইবাদত। আর আল্লাহই ভালো জানেন তাঁরা সাহাবী কি না। হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) এর উত্তর দিতে গিয়ে বলেছেন: "ফেরেশতারা কি (সাহাবীর সংজ্ঞায়) অন্তর্ভুক্ত হবে তা পর্যালোচনার বিষয়।" কেউ কেউ বলেছেন যে, এটি নির্ভর করে তিনি তাঁদের নিকট রাসুল হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন কি না তার ওপর। ইমাম ফখরুদ্দীন 'আসরারুত তানজীল' গ্রন্থে এই ইজমা বা ঐক্যমত বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ফেরেশতাদের নিকট রাসুল হিসেবে প্রেরিত হননি। তবে এই বর্ণনার ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করা হয়েছে, বরং শায়খ তকিউদ্দীন সুবকী এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন যে তিনি তাঁদের নিকটও রাসুল হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন।
জিনদের মধ্যে কি সাহাবী আছেন?তাওহীদ শাস্ত্রের আলেমগণ জিনের স্বরূপ বর্ণনায় মতভেদ করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ জিনের ভিন্ন সত্তার কথা বলেছেন এবং জিনকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, তাঁরা হলো সূক্ষ্ম বায়বীয় শরীর যারা বিভিন্ন রূপ ধারণ করতে পারে এবং তাঁদের থেকে বিস্ময়কর সব কাজ প্রকাশ পায়। তাঁদের মধ্যে মুমিন রয়েছে এবং কাফিরও রয়েছে।
আর শয়তানরা হলো আগুনের তৈরি শরীর যাদের কাজ হলো আত্মাকে পথভ্রষ্টতা ও ফাসাদের মধ্যে লিপ্ত করা।
অন্যরা বলেছেন যে তাঁদের স্বরূপ একই, আর তা হলো তাঁরা বুদ্ধিমান অগ্নিময় শরীর যারা সুন্দর বা কুৎসিত রূপ ধারণ করতে সক্ষম। তাঁরা আদম সন্তানদের মতোই আহার করে, পান করে, বংশবৃদ্ধি করে এবং শরীয়তের বিধান পালনে আদিষ্ট। তাঁদের মধ্যে মুমিন আছে আবার পাপিষ্ঠও আছে। আর শয়তান হলো পাপিষ্ঠদের নাম। এর প্রমাণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর আমি এর আগে জিনকে প্রখর আগুনের শিখা থেকে সৃষ্টি করেছি।" [ (৫) ]।
যেমন তাঁদের দায়িত্ব ও অস্তিত্বের প্রমাণ হিসেবে আল্লাহ তাআলার এই বাণীটিও রয়েছে: "স্মরণ করো, যখন আমি তোমার প্রতি একদল জিনকে আকৃষ্ট করেছিলাম যারা কুরআন শুনছিল। তারা যখন তার নিকট উপস্থিত হলো, তারা বলল, 'চুপ থাকো'। যখন পাঠ শেষ হলো, তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারী হিসেবে ফিরে গেল।" আয়াতসমূহ। এবং তাঁর বাণী: "বলুন, আমার প্রতি ওহী প্রেরিত হয়েছে যে জিনের একটি দল মনোযোগ দিয়ে কুরআন শুনেছে এবং বলেছে, 'আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি, যা সঠিক পথ প্রদর্শন করে। ফলে আমরা তাতে ঈমান এনেছি এবং আমরা কখনও আমাদের রবের সাথে কাউকে শরিক করব না'।" [ (৬) ]। যেহেতু আল্লাহর কালাম ও তাঁর নবীদের বাণীর মাধ্যমে তাঁদের অস্তিত্ব সাব্যস্ত হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ১১)
وانعقد عليه الإجماع كان الإيمان بما ثبت واجبا ومنكره كافر.. والسؤال بعد ذلك هل هم داخلون في الصحابة الحق؟.
نعم. يدخل في الصّحابة رضوان اللَّه تعالى عليهم من رآه صلى الله عليه وسلم أو لقيه مؤمنا به من الجنّ، لأنه صلى الله عليه وسلم بعث إليهم قطعا وهم مكلّفون، وفيهم العصاة والطّائعون.
قال الحافظ ابن حجر، الرّاجح دخولهم، لأن النبي صلى الله عليه وسلم بعث إليهم قطعا.
قال السّبكيّ في فتاويه: كونه صلى الله عليه وسلم مبعوثا إلى الإنس والجن كافّة وأن رسالته شاملة للثقلين فلا أعلم فيه خلافا، ونقل جماعة الإجماع عليه.
قال السّبكيّ: والدّليل عليه قبل الإجماع الكتاب والسّنة، أما الكتاب فآيات منها قوله تعالى: لِيَكُونَ لِلْعالَمِينَ نَذِيراً. [ (1) ]
وقد أجمع المفسّرون على دخول الجنّ في ذلك في هذه الآية. ومع ذلك هو مدلول لفظها، فلا يخرج عنه إلّا بدليل.
ومنها قوله تعالى في سورة الأحقاف: فَلَمَّا قُضِيَ وَلَّوْا إِلى قَوْمِهِمْ مُنْذِرِينَ [ (2) ] .
والمنذرون هم المخوفون مما يلحق بمخالفته لوم، فلو لم يكن مبعوثا إليهم لما كان القرآن الّذي أتى به لازما لهم ولا خوفوا به.
ومنها قولهم فيها، أَجِيبُوا داعِيَ اللَّهِ فأمر بعضهم بعضا بإجابته دليل على أنه داع لهم، وهو معنى بعثه إليهم.
ومنها قولهم: وَآمِنُوا بِهِ يَغْفِرْ لَكُمْ
… الآية، وذلك يقتضي ترتيب المغفرة على الإيمان به، وأن الإيمان به شرط فيها، وإنّما يكون كذلك إذا تعلّق حكم رسالته بهم، وهو معنى كونه مبعوثا إليهم.
ومنها قولهم: وَمَنْ لا يُجِبْ داعِيَ اللَّهِ الآية، فعدم إعجازهم وأوليائهم، وكونهم في ضلال مرتّب على عدم إجابته، وذلك أدلّ دليل على بعثته إليهم.
ومنها قوله تعالى: سَنَفْرُغُ لَكُمْ أَيُّهَ الثَّقَلانِ [ (3) ] . فهذا تهديد ووعيد شامل لهم وارد على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم عن اللَّه، وهو يقتضي كونه مرسلا إليهم، وأيّ معنى للرسالة غير ذلك وكذلك مخاطبتهم في بقيّة السورة بقوله: وَلِمَنْ خافَ مَقامَ رَبِّهِ جَنَّتانِ، [ (4) ] وغير ذلك من الآيات التي تضمّنتها هذه السورة.
--------------------------------------------
এবং এর ওপর ইজমা (ঐক্যমত) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, যা প্রমাণিত হয়েছে তার ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব এবং তা অস্বীকারকারী কাফির। এরপর প্রশ্ন হলো, তারা কি প্রকৃত সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত?
হ্যাঁ। জিনদের মধ্য থেকে যারা তাকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈমানসহ দেখেছেন বা তার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, তারা সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) অন্তর্ভুক্ত হবেন। কারণ তিনি নিশ্চিতভাবে তাদের প্রতিও প্রেরিত হয়েছেন এবং তারা শরীয়তের বিধান পালনে আদিষ্ট; তাদের মধ্যে পাপাচারী এবং অনুগত—উভয় প্রকারই রয়েছে।
হাফিজ ইবনে হাজার বলেন, অধিকতর সঠিক মত হলো তারা অন্তর্ভুক্ত, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিশ্চিতভাবে তাদের নিকট প্রেরিত হয়েছেন।
সুবকী তাঁর ফাতাওয়া গ্রন্থে বলেন: তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে সমস্ত মানুষ ও জিন জাতির নিকট প্রেরিত হয়েছেন এবং তাঁর রিসালাত যে উভয় সম্প্রদায়ের জন্য ব্যাপক, এ বিষয়ে আমি কোনো মতভেদ জানি না। একদল আলেম এ বিষয়ে ইজমা বর্ণনা করেছেন।
সুবকী বলেন: ইজমার পূর্বে এর দলিল হলো কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহ। কিতাবের দলিলসমূহের মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী হলো: "যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন।" [ (১) ]
মুফাসসিরগণ এই আয়াতে জিনদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তদুপরি, এটি আয়াতের শব্দেরই অর্থগত দাবি, যা কোনো দলিল ছাড়া বাদ দেওয়া সম্ভব নয়।
দলিলসমূহের মধ্যে সূরা আহকাফে মহান আল্লাহর বাণী হলো: "যখন তা (কুরআন পাঠ) সমাপ্ত হলো, তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারী হিসেবে ফিরে গেল।" [ (২) ]
সতর্ককারী বলতে তারাই যারা এমন পরিণাম সম্পর্কে ভয় দেখায় যার বিরুদ্ধাচরণ করলে নিন্দা প্রাপ্য হয়। যদি তিনি তাদের প্রতি প্রেরিত না হতেন, তবে তাঁর আনীত কুরআন তাদের জন্য আবশ্যক হতো না এবং তা দ্বারা তাদের ভয় দেখানো হতো না।
দলিলসমূহের মধ্যে সেখানে তাদের উক্তি হলো: "আল্লাহর আহ্বায়কের ডাকে সাড়া দাও।" তাদের একে অপরকে সাড়া দেওয়ার আদেশ দেওয়া একথারই দলিল যে, তিনি তাদের প্রতি আহ্বানকারী ছিলেন; আর এটাই হলো তাদের নিকট তাঁর প্রেরিত হওয়ার অর্থ।
দলিলসমূহের মধ্যে তাদের উক্তি হলো: "এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনো, তিনি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন..." (আয়াতাংশ)। এটি তাঁর প্রতি ঈমান আনার ওপর ক্ষমা প্রাপ্তি নির্ভর হওয়ার দাবি রাখে এবং ঈমান আনয়নকে ক্ষমার শর্ত হিসেবে সাব্যস্ত করে। আর এটি তখনই হতে পারে যখন তাঁর রিসালাতের বিধান তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়; আর এটাই হলো তাদের নিকট তাঁর প্রেরিত হওয়ার অর্থ।
দলিলসমূহের মধ্যে তাদের উক্তি হলো: "আর যে ব্যক্তি আল্লাহর আহ্বায়কের ডাকে সাড়া দেবে না..." (আয়াতাংশ)। সুতরাং আল্লাহর পাকড়াও থেকে বাঁচতে তাদের অক্ষমতা এবং তাদের পথভ্রষ্ট হওয়া—এই সবকিছুই তাঁর ডাকে সাড়া না দেওয়ার ওপর নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি তাদের নিকট তাঁর প্রেরিত হওয়ার সুস্পষ্টতম দলিল।
দলিলসমূহের মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী হলো: "হে জিন ও মানব জাতি! আমি শীঘ্রই তোমাদের বিচারের জন্য মনোনিবেশ করব।" [ (৩) ] এটি তাদের উভয়ের জন্য একটি হুমকি ও হুঁশিয়ারি, যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখে উচ্চারিত হয়েছে। এটি তাদের নিকট তাঁর প্রেরিত হওয়ার দাবি রাখে; কারণ এছাড়া রিসালাতের আর অন্য কী অর্থ হতে পারে? তদ্রূপ সূরার অবশিষ্ট অংশে তাদের সম্বোধন করে বলা হয়েছে: "আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে, তার জন্য রয়েছে দুটি জান্নাত।" [ (৪) ] এছাড়াও এই সূরায় বর্ণিত অন্যান্য আয়াতসমূহও এর অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ১২)
ومنها قوله تعالى في سورة الجنّ: فَآمَنَّا بِهِ وَلَنْ نُشْرِكَ بِرَبِّنا أَحَداً [ (1) ] ، فإن قوة هذا الكلام تقتضي أنهم انقادوا له وآمنوا بعد شركهم، وذلك يقتضي أنّهم فهموا أنّهم مكلّفون به، وكذلك كثير من الآيات التي في هذه السّورة التي خاطبوا بها قومهم.
ومنها قولهم فيها: وَأَنَّا لَمَّا سَمِعْنَا الْهُدى آمَنَّا بِهِ [ (2) ] ، وكذا قولهم: فَمَنْ أَسْلَمَ فَأُولئِكَ تَحَرَّوْا رَشَداً [ (3) ] الآيات.
ومنها قوله تعالى: قُلِ اللَّهُ شَهِيدٌ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَأُوحِيَ إِلَيَّ هذَا الْقُرْآنُ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ [ (4) ] .
فهذه الآية تقتضي أن النبي صلى الله عليه وسلم منذر بالقرآن كله من بلغه القرآن جنيّا كان أو إنسيّا، وهي في الدّلالة كآية الفرقان أو أصرح، فإن احتمال عود الضّمير على الفرقان غير وارد هنا، فهذه مواضع في الفرقان تدل على ذلك دلالة قوية، أقواها آية الأنعام هذه، وتليها آية الفرقان، وتليها آيات الأحقاف، وتليها آيات الرحمن، وخطابها في عدّة آيات: فَبِأَيِّ آلاءِ رَبِّكُما تُكَذِّبانِ، وتليها سورة الجنّ، فقد جاء ترتيبها في الدلالة والقوة كترتيبها في المصحف، وفي القرآن أيضا ما يدلّ لذلك، ولكن دلالة الإطلاق اعتمدها كثير من العلماء في مباحث، وهو اعتماد جيد وهو هنا أجود، لأن الأمر بالإنذار، والمطلق إذا لم يتقيّد بقيد يدل على تمكن المأمور في الإتيان به في أي فرد شاء من أفراده وفي كلها، وهو صلى الله عليه وسلم كامل الشفقة على خلق اللَّه، والنصيحة لهم والدعاء إلى اللَّه تعالى، فمع تمكنه من ذلك لا يتركه في شخص من الأشخاص، ولا في زمن من الأزمان، ولا في مكان من الأمكنة، وهكذا كانت حالته- صلى الله عليه وسلم، ويعلم أيضا من الشريعة أن اللَّه تعالى لم يرده قوله: قُمْ فَأَنْذِرْ [ (5) ] مطلق الإنذار حتى يكتفي بإنذار واحد لشخص واحد، بل أراد التّشمير والاجتهاد في ذلك، فهذه القرائن تفيد الأمر بالإنذار لكل من يفيد فيه الإنذار، والجن بهذه الصّفة، لأنه كان فيهم سفهاء وقاسطون وهم مكلفون فإذا أنذروا رجعوا عن ضلالهم فلا يترك النبي صلى الله عليه وسلم دعاءهم، والآية بالقرائن المذكورة مفيدة للأمر بذلك فثبتت البعثة إليهم بذلك، ومنها كل آية فيها لفظ المؤمنين ولفظ الكافرين مما فيه أمر أو نهي ونحو ذلك فإنّ المؤمنين والكافرين صفتان لمحذوف، والموصوف المحذوف يتعيّن أن يكون النّاس بل المكلّفون أعمّ من أن يكونوا إنسا أو جنّا، وإذا ثبت ذلك أمكن الاستدلال بما لا يعدّ ولا يحصى من الآيات كقوله تعالى:
--------------------------------------------
এর মধ্যে একটি হলো সূরা আল-জিনে আল্লাহ তাআলার বাণী: "তাই আমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং আমরা কখনও আমাদের রবের সাথে কাউকে শরিক করব না।" [ (১) ]। কেননা এই বক্তব্যের শক্তি দাবি করে যে, তারা তাদের শিরকের পর অনুগত হয়েছে এবং ঈমান এনেছে। আর এটি একথার দাবি রাখে যে, তারা বুঝতে পেরেছিল তারা এর দ্বারা আদিষ্ট (মুকাল্লাফ)। তেমনিভাবে এই সূরার অনেক আয়াত রয়েছে যার মাধ্যমে তারা তাদের কওমকে সম্বোধন করেছিল।
এর মধ্যে আরও রয়েছে তাতে তাদের এই কথা: "আর আমরা যখন হেদায়েত শুনলাম তখন তাতে বিশ্বাস স্থাপন করলাম।" [ (২) ]। আর তাদের এই কথা: "অতঃপর যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে, তারাই সঠিক পথ বেছে নিয়েছে।" [ (৩) ] আয়াতসমূহ।
এর মধ্যে আরও রয়েছে আল্লাহ তাআলার বাণী: "বলুন, আমার ও তোমাদের মধ্যে আল্লাহ সাক্ষী। আর আমার নিকট এই কুরআন ওহি করা হয়েছে যাতে আমি এর দ্বারা তোমাদেরকে এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাকে সতর্ক করি।" [ (৪) ]।
এই আয়াতটি দাবি করে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সমগ্র কুরআনের মাধ্যমে তাকেই সতর্ককারী যার নিকট কুরআন পৌঁছাবে, সে জিন হোক বা মানুষ। এটি দালিলিক দিক থেকে সূরা আল-ফুরকানের আয়াতের মতো অথবা তার চেয়েও স্পষ্ট। কেননা এখানে সর্বনামটি 'ফুরকান'-এর দিকে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। সুতরাং কুরআনের এই স্থানগুলো এর উপর জোরালো প্রমাণ বহন করে। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হলো সূরা আল-আনআমের এই আয়াতটি, এরপর সূরা আল-ফুরকানের আয়াত, এরপর সূরা আল-অহকাফের আয়াতসমূহ, এরপর সূরা আর-রাহমানের আয়াতসমূহ। আর এর বেশ কিছু আয়াতে সম্বোধন করা হয়েছে: "অতঃপর তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?" এরপর সূরা আল-জিন। দালিলিক শক্তি ও অবস্থানের দিক থেকে এর বিন্যাস মুসহাফের বিন্যাসের মতোই এসেছে। কুরআনে আরও অনেক কিছু রয়েছে যা এর প্রমাণ দেয়। তবে বহু আলিম বিভিন্ন আলোচনায় 'ইতলাক' বা নিঃশর্ত দালিলিক পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেছেন এবং এটি একটি উত্তম নির্ভরতা। আর এখানে এটি আরও বেশি উত্তম। কারণ নির্দেশটি হলো সতর্ক করার, আর নিঃশর্ত নির্দেশ (মুতলাক) যদি কোনো শর্তের দ্বারা সীমাবদ্ধ না হয়, তবে তা নির্দেশিত ব্যক্তির জন্য তার প্রতিটি ক্ষেত্রে এবং সকল ক্ষেত্রেই তা পালনের সক্ষমতা নির্দেশ করে। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি পূর্ণ দয়া ও মমতা সম্পন্ন, তাদের প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষী এবং আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী ছিলেন। সুতরাং এটি পালনে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও তিনি কোনো ব্যক্তি, কোনো সময় বা কোনো স্থানে তা পরিত্যাগ করবেন না। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অবস্থাও এমনই ছিল। শরিয়ত থেকে এও জানা যায় যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণী: "উঠুন এবং সতর্ক করুন" [ (৫) ] দ্বারা কেবল সাধারণ সতর্ক করা বুঝাননি যা একজন ব্যক্তির জন্য একবার সতর্ক করলেই যথেষ্ট হবে, বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এই কাজে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রম করা। সুতরাং এই সূত্রগুলো সেই প্রত্যেকের জন্য সতর্ক করার নির্দেশের ফায়দা দেয় যাদের ক্ষেত্রে সতর্কবাণী ফলপ্রসূ হয়। জিনদের বৈশিষ্ট্যও এমন, কারণ তাদের মধ্যে নির্বোধ ও সীমালঙ্ঘনকারী ছিল এবং তারা শরয়ি বিধান পালনে আদিষ্ট (মুকাল্লাফ)। অতএব যখন তাদের সতর্ক করা হবে, তারা তাদের পথভ্রষ্টতা থেকে ফিরে আসবে। তাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের দাওয়াত দেওয়া পরিত্যাগ করবেন না। উল্লিখিত সূত্রগুলোর মাধ্যমে আয়াতটি সেই নির্দেশেরই ফায়দা দেয়, ফলে এর দ্বারা তাদের প্রতি নবীর প্রেরিত হওয়া প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে আরও রয়েছে সেই প্রতিটি আয়াত যাতে 'মুমিনগণ' এবং 'কাফিরগণ' শব্দগুলো রয়েছে, যেখানে আদেশ বা নিষেধ বা অনুরূপ কিছু আছে। কেননা 'মুমিন' ও 'কাফির' হলো উহ্য বিশেষ্যের বিশেষণ। আর সেই উহ্য বিশেষ্যটি নিশ্চিতভাবে 'মানুষ' হবে, বরং তার চেয়েও ব্যাপক অর্থাৎ 'মুকাল্লাফ' (যাদের ওপর বিধান বর্তায়), তারা মানুষ হোক বা জিন। আর যখন এটি সাব্যস্ত হলো, তখন অগণিত আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করা সম্ভব হবে, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَهُ، أُولئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ [ (1) ] فالجن الذين لم يتبعوه ليسوا مفلحين، وإنما يكون كذلك، وإذا ثبتت رسالته في حقهم.
وكقوله تعالى: لِيُنْذِرَ الَّذِينَ ظَلَمُوا وَبُشْرى لِلْمُحْسِنِينَ [ (2) ] ، وكقوله: هُدىً لِلْمُتَّقِينَ [ (3) ] ، ونحو ذلك من الآيات أيضا قوله تعالى: إِنَّما تُنْذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ [ (4) ] ، ومن الجن كذلك، ولو تتبّعنا الآيات التي من هذا الجنس لوجدناها جاءت كثيرة.
واعلم أن المقصود بتكثير الأدلة أن الآية الواحدة والآيتين قد يمكن تأويلها، ويتطرّق إليها الاحتمال فإذا كثرت قد تترقى إلى حدّ يقطع بإرادة ظاهرها، وبقي الاحتمال والتأويل عنها.
وأمّا السّنّة
ففي صحيح مسلم من حديث العلاء عن أبيه عن أبي هريرة أن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم قال: (فضّلت على الأنبياء بستّ: أعطيت جوامع الكلم، ونصرت بالرّعب، وأحلّت لي الغنائم، وجعلت لي الأرض طهورا ومسجدا، وأرسلت إلى الخلق كافّة، وخيم بي التّيسيّون) [ (5) ] .
ومحل الاستدلال قوله: (وأرسلت إلى الخلق كافّة) ، فإنه يشمل الجن والإنس، وحمله على الإنس خاصّة تخصيص بغير دليل فلا يجوز، والكلام فيه كالكلام في قوله تعالى: لِلْعالَمِينَ.
فإن قال قائل: على أن المراد بالخلق الناس
رواية البخاري من حديث جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (أعطيت خمسا لم يعطهنّ أحد من الأنبياء قبلي)
[ (6) ] ، فذكر من جملتها:
--------------------------------------------
সুতরাং যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে, তাঁকে সম্মান করেছে, তাঁকে সাহায্য করেছে এবং তাঁর সাথে যে নূর অবতীর্ণ হয়েছে তার অনুসরণ করেছে, তারাই সফলকাম [(১)]। সুতরাং যেসব জিন তাঁর অনুসরণ করেনি তারা সফলকাম নয়, আর বিষয়টি তখনই এমন হয় যখন তাদের ক্ষেত্রেও তাঁর রিসালাত সাব্যস্ত হয়েছে।
এবং যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: যাতে তা যালিমদের সতর্ক করে এবং মুহসিনদের জন্য সুসংবাদ স্বরূপ হয় [(২)]। আর যেমন তাঁর বাণী: মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত [(৩)]। এ জাতীয় অন্যান্য আয়াতের মধ্যে আল্লাহ তাআলার এই বাণীও রয়েছে: আপনি কেবল তাদেরকেই সতর্ক করতে পারেন যারা উপদেশ অনুসরণ করে [(৪)]। জিনদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। আমরা যদি এই জাতীয় আয়াতগুলো অনুসন্ধান করি, তবে দেখব যে সেগুলো অনেক সংখ্যায় এসেছে।
জেনে রাখুন যে, দলীলের আধিক্যের উদ্দেশ্য হলো—একটি বা দুটি আয়াতের ক্ষেত্রে তাবিল (ব্যাখ্যা) বা অন্য কোনো সম্ভাবনার সুযোগ থাকতে পারে, কিন্তু যখন দলীলের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তখন তা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যা এর বাহ্যিক অর্থটিই উদ্দেশ্য হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করে এবং এর বিপরীতে অন্য কোনো সম্ভাবনা বা তাবিল অবশিষ্ট থাকে না।
আর সুন্নাহর ক্ষেত্রে
সহীহ মুসলিমে আল-আলা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমাকে ছয়টি বিষয় দিয়ে অন্যান্য নবীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে: আমাকে জাওয়ামিউল কালিম বা অল্প কথায় ব্যাপক অর্থবোধক কথা দান করা হয়েছে, আমাকে ভীতি দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে, আমার জন্য গনীমত হালাল করা হয়েছে, আমার জন্য জমিনকে পবিত্রকারী ও সিজদাহর স্থান করা হয়েছে, আমাকে সমগ্র সৃষ্টির নিকট প্রেরণ করা হয়েছে এবং আমার মাধ্যমেই নবীদের সিলসিলা সমাপ্ত করা হয়েছে) [(৫)]।
এখানে দলীলের স্থান হলো তাঁর এই বাণী: (আমাকে সমগ্র সৃষ্টির নিকট প্রেরণ করা হয়েছে); কেননা এটি জিন এবং ইনসান (মানুষ) উভয়কেই শামিল করে। একে কেবল মানুষের জন্য সুনির্দিষ্ট করা কোনো দলীল ছাড়াই 'তাখসিস' বা সীমাবদ্ধ করা, যা জায়েয নয়। এ বিষয়ে আলোচনা ঠিক তেমনই যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী 'সারা জাহানের জন্য'-এর ক্ষেত্রে করা হয়।
যদি কোনো বক্তা বলে: এখানে সৃষ্টি বলতে কেবল মানুষ উদ্দেশ্য—
তবে বুখারীর রেওয়ায়েতে জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দেওয়া হয়েছে যা আমার আগে কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি)
[(৬)], অতঃপর তিনি সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত উল্লেখ করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
«وأرسلت إلى النّاس كافّة» ،
قلنا: لو كان هذا حديثا واحدا كنا نقول: لعلّ هذا اختلاف من الرّواة، ولكن الّذي ينبغي أن يقال: إنهما حديثان، لأن حديث مسلم من رواية أبي هريرة، وفيه ست خصال، وحديث البخاريّ من رواية جابر وفيه خمس خصال.
والظّاهر أنّ النّبي صلى الله عليه وسلم قالهما في وقتين، وفي حديث مسلم زيادة في عدة الخصال، وفي سنن المرسل إليهم فيجب إثباتها زيادة على حديث جابر، وليس بنا ضرورة إلى حمل أحد الحديثين على الآخر إذ لا منافاة بينهما، بل هما حديثان مختلفا المخرج والمعنى، وإن كان بينهما اشتراك في أكثر الأشياء، وخرج كل من صاحبي الصّحيحين واحدا منها ولم يذكر الآخر.
فهذا الحديث الّذي ذكرناه عن مسلم واستدللنا به أصرح الأحاديث الصحيحة الدالة على شمول الرّسالة للجنّ والإنس.
ومن الأدلّة أيضا أن النّبي صلى الله عليه وسلم خاتم النبيين وشريعته آخر الشرائع وناسخة لكل شريعة قبلها، ولا شريعة باقية الآن غير شريعته، ولذلك إذا نزل عيسى ابن مريم صلى الله عليه وسلم إنّما يحكم بشريعة محمّد صلى الله عليه وسلم فلو لم يكن الجن مكلفين بها لكانوا إمّا مكلفين بشريعة غيرها، وهو خلاف ما تقرّر، وإمّا ألّا يكونوا مكلّفين أصلا، ولم يقل أحد بذلك، ولا يمكن القول به، لأن القرآن كله مليء بتكليفهم، قال تعالى: لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ وقال قالَ ادْخُلُوا فِي أُمَمٍ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِكُمْ مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ فِي النَّارِ إلى غير ذلك من الآيات، ودخولهم النار دليل على تكليفهم، وهذا أوضح من أن يقام عليه دليل، فإن تكليفهم معلوم من الشرع بالضرورة، وتكليفهم بغير هذه الشّريعة يستلزم بقاء شريعة معها، فثبت أنّهم مكلّفون بهذه الشريعة كالإنس [ (1) ] .
وقال ابن حزم الظّاهريّ:
قد أعلمنا اللَّه أن نفرا من الجن آمنوا وسمعوا القرآن من النبي صلى الله عليه وسلم ففيهم صحابة فضلاء. هذا واللَّه تعالى أعلى وأعلم.
--------------------------------------------
«এবং আমাকে সকল মানুষের প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে» ,
আমরা বলেছি: যদি এটি একটিমাত্র হাদিস হতো, তবে আমরা বলতাম যে সম্ভবত এটি বর্ণনাকারীদের ভিন্নতা হতে পারে। কিন্তু যা বলা আবশ্যক তা হলো: এগুলো দুটি ভিন্ন হাদিস; কেননা মুসলিমের হাদিসটি আবু হুরায়রা বর্ণিত, যাতে ছয়টি বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ আছে এবং বুখারীর হাদিসটি জাবির বর্ণিত, যাতে পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ আছে।
এবং প্রকাশ্য এই যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুটি ভিন্ন সময়ে এগুলো বলেছেন। মুসলিমের হাদিসে বৈশিষ্ট্যের সংখ্যায় আধিক্য রয়েছে এবং কাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে সে বিষয়ে বর্ণনা রয়েছে, তাই জাবিরের হাদিসের সাথে একে অতিরিক্ত হিসেবে সাব্যস্ত করা ওয়াজিব। আমাদের জন্য একটি হাদিসকে অন্যটির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার (ব্যাখ্যা করার) কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ তাদের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। বরং এগুলো উৎস ও অর্থের দিক থেকে দুটি ভিন্ন হাদিস, যদিও অধিকাংশ বিষয়ে তাদের মধ্যে মিল রয়েছে। সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) এর উভয় সংকলক তাদের মধ্যে একটি করে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং অন্যটি উল্লেখ করেননি।
অতএব, মুসলিম থেকে বর্ণিত এই হাদিসটি যা আমরা উল্লেখ করেছি এবং যা দ্বারা দলিল পেশ করেছি, তা জিন ও মানুষের প্রতি রিসালাতের ব্যাপকতার ওপর দলালতকারী বিশুদ্ধতম হাদিসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুস্পষ্ট।
অন্যান্য দলিলের মধ্যে একটি হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন সর্বশেষ নবী এবং তাঁর শরীয়ত হলো সর্বশেষ শরীয়ত যা পূর্ববর্তী সকল শরীয়তকে রহিতকারী। বর্তমানে তাঁর শরীয়ত ব্যতীত অন্য কোনো শরীয়ত অবশিষ্ট নেই। এই কারণেই ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিস সালাম) যখন অবতরণ করবেন, তখন তিনি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শরীয়ত অনুযায়ী ফয়সালা করবেন। যদি জিনেরা এই শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত না হতো, তবে তারা হয় অন্য কোনো শরীয়তের অনুসারী হতো—যা সাব্যস্তকৃত নিয়মের পরিপন্থী—অথবা তারা আদৌ শরীয়তের দায়বদ্ধ (মুকাল্লাফ) হতো না, কিন্তু কেউ এমনটি বলেননি এবং তা বলাও সম্ভব নয়। কারণ সমগ্র কুরআন তাদের শরীয়তের দায়বদ্ধতার বর্ণনায় পূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি অবশ্যই জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করব।" তিনি আরও বলেছেন: "তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তী সেই সব উম্মতদের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করো যারা জিন ও মানুষের মধ্য থেকে গত হয়েছে।" এ ছাড়া আরও অনেক আয়াত রয়েছে। তাদের জাহান্নামে প্রবেশ করা তাদের শরীয়তের দায়বদ্ধ হওয়ার দলিল। এটি এর ওপর দলিল পেশ করার চাইতেও অধিক স্পষ্ট, কারণ শরীয়ত অনুযায়ী তাদের দায়বদ্ধতা অকাট্যভাবে জ্ঞাত। আর এই শরীয়ত ব্যতীত অন্য কোনো শরীয়ত দ্বারা তাদের দায়বদ্ধ হওয়ার অর্থ দাঁড়ায় তার সাথে অন্য কোনো শরীয়ত অবশিষ্ট থাকা; সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, তারা মানুষের মতোই এই শরীয়তের মাধ্যমে দায়বদ্ধ [ (১) ] ।
এবং ইবনে হাজম আল-জাহেরী বলেছেন:
আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন যে একদল জিন ঈমান এনেছিল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে কুরআন শুনেছিল, সুতরাং তাদের মধ্যেও মর্যাদাবান সাহাবী রয়েছেন। আল্লাহ তাআলাই সর্বাপেক্ষা ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بم يعرف الصّحابيّ؟
يعرف الصّحابيّ بأحد الأدلّة التّالية:
أولا: التّواتر، وهو رواية جمع عن جمع يستحيل عادة تواطؤهم على الكذب، وذلك كأبي بكر وعمر وعثمان وعليّ وبقيّة العشرة المبشّرين بالجنّة- رضي الله عنهم.
ثانيا: الشّهرة أو الاستفاضة القاصرة عن حد التواتر كما في أمر ضمام بن ثعلبة، وعكاشة بن محصن.
ثالثا: أن يروى عن آحاد الصّحابة أنه صحابي كما في حممة بن أبي أحممة الدّوسيّ الّذي مات ب «أصبهان» مبطونا فشهد له أبو موسى الأشعريّ أنه سمع النّبي صلى الله عليه وسلم حكم له بالشهادة، هكذا ذكره أبو نعيم في «تاريخ أصبهان» .
رابعا: أن يخبر أحد التّابعين بأنه صحابي بناء على قبول التّزكية من واحد عدل وهو الرّاجح.
خامسا: أن يخبر هو عن نفسه بأنه صحابيّ بعد ثبوت عدالته ومعاصرته، فإنه بعد ذلك لا يقبل ادّعاؤه بأنه رأى النبي صلى الله عليه وسلم أو سمعه،
لقوله صلى الله عليه وسلم في الحديث الصحيح: «أرأيتكم ليلتكم هذه، فإنّه على رأس مائة سنة منه لا يبقى أحد ممّن على ظهر الأرض
… » [ (1) ] .
يريد بهذا انخرام ذلك القرن، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم ذلك في سنة وفاته، ومن هذا المأخذ لم يقبل الأئمّة قول من ادّعى الصّحبة بعد الغاية المذكورة.
وقد ذكر الحافظ ابن حجر في «الإصابة» - هنا- ضابطا يستفاد منه معرفة جمع كثير من الصّحابة يكتفى فيهم بوصف يتضمّن أنهم صحابة، وهو مأخوذ من ثلاثة آثار:
أحدها: أنهم كانوا لا يؤمّرون في المغازي إلا الصّحابة، فمن تتبّع الأخبار الواردة من الرّدة والفتوح وجد من ذلك الكثير.
--------------------------------------------
একজন সাহাবীকে কীসের মাধ্যমে চেনা যায়?
একজন সাহাবীকে নিম্নোক্ত প্রমাণসমূহের যে কোনো একটির মাধ্যমে চেনা যায়:
প্রথমত: তাওয়াতুর বা নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনা। এটি এমন একদল লোকের বর্ণনা যাদের পক্ষে মিথ্যার ওপর একমত হওয়া স্বাভাবিকভাবে অসম্ভব। যেমন: আবু বকর, উমর, উসমান, আলী এবং জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত অবশিষ্ট দশজন সাহাবী (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।
দ্বিতীয়ত: প্রসিদ্ধি বা ইস্তিফাযাহ যা তাওয়াতুরের পর্যায়ে পৌঁছেনি। যেমন: দিমাম বিন ছা'লাবা এবং উকাশাহ বিন মিহসান-এর বিষয়টি।
তৃতীয়ত: কোনো একজন সাহাবীর পক্ষ থেকে বর্ণিত হওয়া যে অমুক ব্যক্তি একজন সাহাবী। যেমন: হুমামাহ বিন আবি হুমামাহ আদ-দাওসী-এর ক্ষেত্রে হয়েছে, যিনি ‘ইসফাহান’ অঞ্চলে পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। তখন আবু মুসা আল-আশআরী তাঁর ব্যাপারে সাক্ষ্য দেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর শাহাদাতের ফয়সালা দিতে শুনেছেন। এভাবেই আবু নুআইম ‘তারিখে ইসফাহান’ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
চতুর্থত: কোনো তাবেয়ীর পক্ষ থেকে খবর দেওয়া যে অমুক ব্যক্তি একজন সাহাবী। এটি একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির প্রশংসামূলক স্বীকৃতি গ্রহণের ওপর ভিত্তি করে, যা অধিকতর সঠিক মত।
পঞ্চমত: কোনো ব্যক্তি নিজেই নিজের ব্যাপারে সাহাবী হওয়ার খবর দেওয়া, তবে তা তাঁর ন্যায়পরায়ণতা এবং সমসাময়িকতা সাব্যস্ত হওয়ার শর্তে। এরপরে কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখা বা তাঁর থেকে শোনার দাবি করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না,
কারণ সহীহ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «তোমরা কি তোমাদের এই রাতটি দেখছ? নিশ্চয়ই আজ থেকে একশ বছর পূর্ণ হলে পৃথিবীর বুকে অবস্থানকারীদের কেউই আর অবশিষ্ট থাকবে না
… » [ (১) ] ।
এর মাধ্যমে তিনি সেই প্রজন্মের সমাপ্তি বুঝিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ইন্তেকালের বছর এই কথাটি বলেছিলেন। এই সূত্রের কারণেই ইমামগণ উল্লিখিত সময়সীমার পর সাহাবী হওয়ার দাবিদারদের কথা গ্রহণ করেননি।
হাফেজ ইবনে হাজার ‘আল-ইসাবাহ’ গ্রন্থে এখানে একটি মূলনীতি উল্লেখ করেছেন যার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক সাহাবীকে চেনা সম্ভব। তাদের ক্ষেত্রে এমন একটি গুণই যথেষ্ট যা তাদের সাহাবী হওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি তিনটি ঐতিহাসিক বর্ণনা থেকে নেওয়া হয়েছে:
তার একটি হলো: তাঁরা যুদ্ধাভিযানসমূহে সাহাবী ব্যতীত অন্য কাউকে সেনাপতি বা নেতা নিযুক্ত করতেন না। সুতরাং কেউ যদি রিদদ্দার যুদ্ধ এবং বিজয়সমূহের সংবাদসমূহ অনুসন্ধান করে, তবে সে এর অনেক উদাহরণ খুঁজে পাবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ثانيها: أن عبد الرّحمن بن عوف قال: كان لا يولد لأحد مولود إلا أتى به النبي صلى الله عليه وسلم فدعا له، وهذا أيضا يوجد منه الكثير.
ثالثها: أنه لم يبق بالمدينة ولا بمكّة ولا الطّائف ولا من بينها من الأعراف إلا من أسلم وشهد حجّة الوداع، فمن كان في ذلك الوقت موجودا اندرج فيهم، لحصول رؤيتهم للنبيّ صلى الله عليه وسلم وإن لم يرهم هو.
قال الذّهبيّ في «الميزان» في ترجمة «رتن» 2/ 45 «وما أدراك ما رتن؟! شيخ دجّال بلا ريب، ظهر بعد السّتمائة فادّعى الصّحبة، والصّحابة لا يكذبون وهذا جريء على اللَّه ورسوله، وقد ألّفت في أمره جزءا» .
حكمة اللَّه في اختيار الصّحابةالواقع أنّ العقل المجرّد من الهوى والتعصّب، يحيل على اللَّه في حكمته ورحمته، أن يختار لحمل شريعته الختاميّة أمة مغموزة أو طائفة ملموزة تعالى اللَّه عن ذلك علوّا كبيرا، ومن هنا كان توثيق هذه الطّبقة الكريمة طبقة الصّحابة، يعتبر دفاعا عن الكتاب والسّنّة وأصول الإسلام من ناحية، ويعتبر إنصافا أدبيّا لمن يستحقونه من ناحية ثانية، ويعتبر تقديرا لحكمة اللَّه البالغة في اختيارهم لهذه المهمّة العظمى من ناحية ثالثة، كما أن توهينهم والنيل منهم يعدّ غمزا في هذا الاختيار الحكيم، ولمزا في ذلك الاصطفاء والتّكريم فوق ما فيه من هدم الكتاب والسنّة والدّين.
على أن المتصفّح لتاريخ الأمّة العربية وطبائعها ومميزاتها يرى من سلامة عنصرها وصفاء جوهرها، وسمو مميزاتها، ما يجعله يحكم مطمئنّا بأنّها صارت خير أمّة أخرجت للنّاس بعد أن صهرها الإسلام، وطهرها القرآن ونفى خبثها سيّد الأنام، عليه الصلاة والسلام.
ولكن الإسلام قد ابتلي حديثا بمثل أو بأشدّ ممّا ابتلي به قديما، فانطلقت ألسنة في هذا العصر ترجف في كتاب اللَّه بغير علم، وتخوض في السّنة بغير دليل، وتطعن في الصّحابة دون استحياء، وتنال من حفظة الشريعة بلا حجّة، وتتهمهم تارة بسوء الحفظ، وأخرى بالتزيد وعدم التثبت، وقد زوّدناك، وسلّحناك، فانزل في الميدان ولا تخش عداك.
يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدامَكُمْ.
نصرنا اللَّه بنصرة الإسلام، وثبت منا الأقدام والحمد للَّه في البدء والختام
.
দ্বিতীয়ত: আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) বলেছেন: যারই কোনো সন্তান জন্ম নিত, তাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে আসা হতো এবং তিনি তার জন্য দোয়া করতেন; এই ধরণের ঘটনাও প্রচুর পাওয়া যায়।
তৃতীয়ত: মদিনা, মক্কা, তায়েফ বা এদের মধ্যবর্তী গ্রামাঞ্চলগুলোতে এমন কেউ অবশিষ্ট ছিল না যারা ইসলাম গ্রহণ করেনি এবং বিদায় হজ্জে উপস্থিত হয়নি। সুতরাং যারা ওই সময়ে বিদ্যমান ছিল, তারা তাঁদের (সাহাবীদের) অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছিলেন, যদিও তিনি তাঁদের সবাইকে দেখেননি।
ইমাম যাহাবী তাঁর 'আল-মিজান' গ্রন্থের ২য় খণ্ড ৪৫ পৃষ্ঠায় 'রাতান' নামক ব্যক্তির জীবনীতে বলেছেন, "তুমি কি জানো রাতান কে?! সে নিঃসন্দেহে একজন দাজ্জাল (মিথ্যাবাদী) শাইখ। সে ছয়শত হিজরির পরে আবির্ভূত হয়ে সাহাবী হওয়ার দাবি করেছে। অথচ সাহাবীগণ মিথ্যা বলেন না, আর এই ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর মিথ্যারোপ করার সাহস দেখিয়েছে। আমি তার বিষয়ে একটি পৃথক পুস্তিকা রচনা করেছি।"
সাহাবীদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে আল্লাহর হিকমতবাস্তবতা হলো, প্রবৃত্তি ও গোঁড়ামি মুক্ত বুদ্ধি আল্লাহর হিকমত ও রহমতের ক্ষেত্রে এটি অসম্ভব মনে করে যে, তিনি তাঁর চূড়ান্ত শরীয়ত বহনের জন্য কোনো ত্রুটিপূর্ণ জাতি বা নিন্দিত দলকে মনোনীত করবেন; আল্লাহ তাআলা তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। এখান থেকেই সাহাবীদের এই সম্মানিত স্তরের নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করা একদিক থেকে কুরআন, সুন্নাহ এবং ইসলামের মূলনীতিসমূহের প্রতিরক্ষা হিসেবে গণ্য হয়; দ্বিতীয়ত এটি তাঁদের প্রতি একটি নৈতিক ন্যায়বিচার যারা এর যোগ্য; এবং তৃতীয়ত এটি আল্লাহর সেই সুগভীর প্রজ্ঞার মূল্যায়ন যা তিনি এই মহান কাজের জন্য তাঁদের নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। একইভাবে তাঁদের অবমাননা করা এবং তাঁদের সমালোচনা করা মূলত এই হিকমতপূর্ণ নির্বাচনের ওপর কটাক্ষ এবং এই মহান বাছাই ও সম্মানের প্রতি নিন্দা করার শামিল, যা কুরআন, সুন্নাহ এবং দ্বীনকে ধ্বংস করার নামান্তর।
তাছাড়া আরব জাতির ইতিহাস, তাদের প্রকৃতি এবং বৈশিষ্ট্যসমূহ যে কেউ পর্যবেক্ষণ করলে তাদের বংশগত বিশুদ্ধতা, স্বভাবজাত নির্মলতা এবং গুণাবলীর শ্রেষ্ঠত্ব দেখতে পাবেন, যা তাকে দৃঢ়ভাবে এই ফয়সালা দিতে বাধ্য করবে যে, ইসলাম তাঁদেরকে গঠন করার পর, কুরআন তাঁদের পবিত্র করার পর এবং মানবজাতির শ্রেষ্ঠ পুরুষ (তাঁর ওপর শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক) তাঁদের কলুষতা দূর করার পর তাঁরা মানুষের জন্য উত্থিত শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত হয়েছেন।
কিন্তু ইসলাম বর্তমানে অতীতের মতো বা তার চেয়েও কঠোর পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছে। এই যুগে এমন কিছু জিহ্বা সক্রিয় হয়েছে যারা জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহর কিতাব নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ায়, প্রমাণ ছাড়াই সুন্নাহ নিয়ে বিতর্ক করে, নির্লজ্জভাবে সাহাবীদের আক্রমণ করে এবং কোনো দলিল ছাড়াই শরীয়তের হেফাজতকারীদের মানহানি করে। তারা কখনও তাঁদেরকে দুর্বল স্মৃতির অধিকারী বলে অভিযুক্ত করে, আবার কখনও অতিরঞ্জন এবং অসতর্কতার অপবাদ দেয়। আমি তোমাকে সরঞ্জাম ও অস্ত্র সজ্জিত করে দিয়েছি, সুতরাং তুমি ময়দানে অবতীর্ণ হও এবং তোমার শত্রুদের ভয় করো না।
হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা সুদৃঢ় করবেন।
আল্লাহ আমাদের ইসলামের বিজয়ের মাধ্যমে সাহায্য করুন এবং আমাদের পা সুদৃঢ় রাখুন। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য শুরুতে এবং শেষে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
مرتبة الصّحابةللصّحابة- رضي الله عنهم أجمعين- خصيصة، وهي أنه لا يسأل عن عدالة أحد منهم، وذلك أمر مسلّم به عند كافّة العلماء، لكونهم على الإطلاق معدلين بنصوص الشرع من الكتاب والسّنة، وإجماع من يعتدّ به في الإجماع من الأمّة.
فأمّا الكتاب:قال تعالى: مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَماءُ بَيْنَهُمْ، تَراهُمْ رُكَّعاً سُجَّداً يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْواناً، سِيماهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ، ذلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْراةِ، وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ، فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوى عَلى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ، وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحاتِ مِنْهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْراً عَظِيماً [ (1) ] .
وقال تعالى: لِلْفُقَراءِ الْمُهاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيارِهِمْ وَأَمْوالِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْواناً، وَيَنْصُرُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ. وَالَّذِينَ تَبَوَّؤُا الدَّارَ وَالْإِيمانَ مِنْ قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هاجَرَ إِلَيْهِمْ، وَلا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حاجَةً مِمَّا أُوتُوا، وَيُؤْثِرُونَ عَلى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كانَ بِهِمْ خَصاصَةٌ، وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ [ (2) ] .
وقال تعالى: وَالَّذِينَ آمَنُوا وَهاجَرُوا وَجاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَالَّذِينَ آوَوْا وَنَصَرُوا أُولئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا، لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ [ (3) ] .
وقال تعالى: لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ ما فِي قُلُوبِهِمْ، فَأَنْزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ، وَأَثابَهُمْ فَتْحاً قَرِيباً [ (4) ] .
وقال تعالى: يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ [ (5) ] .
وقال تعالى: وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهاجِرِينَ وَالْأَنْصارِ، وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسانٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ، وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهارُ خالِدِينَ فِيها أَبَداً، ذلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ [ (6) ] .
وقال تعالى: وَكَذلِكَ جَعَلْناكُمْ أُمَّةً وَسَطاً [ (7) ] .
--------------------------------------------
সাহাবীদের মর্যাদাসাহাবীদের—আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন—একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, আর তা হলো তাঁদের কারো ন্যায়পরায়ণতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা যাবে না। এটি সকল উলামায়ে কেরামের নিকট একটি স্বীকৃত বিষয়। কারণ তাঁরা পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্য এবং উম্মতের গ্রহণযোগ্য ইজমা অনুযায়ী নিঃশর্তভাবে ন্যায়পরায়ণ হিসেবে সাব্যস্ত।
পবিত্র কুরআনের প্রমাণসমূহ:মহান আল্লাহ বলেন: মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা রয়েছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়াশীল। আপনি তাঁদেরকে রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় দেখবেন, তাঁরা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করেন। তাঁদের চিহ্ন তাঁদের মুখমণ্ডলে সিজদার প্রভাবে বিদ্যমান। তাওরাতে তাঁদের দৃষ্টান্ত এরূপ এবং ইঞ্জিলেও তাঁদের দৃষ্টান্ত এরূপ, যেমন একটি চারাগাছ যা থেকে অঙ্কুর নির্গত হয়, অতঃপর তা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং নিজ কাণ্ডের ওপর সোজা হয়ে উঠে, যা কৃষকদের চমৎকৃত করে, যেন তিনি তাঁদের দ্বারা কাফিরদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করেন। তাঁদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে ও নেক আমল করেছে, আল্লাহ তাঁদেরকে ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন [(১)]।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: এই সম্পদ সেই দরিদ্র মুহাজিরদের জন্য, যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করে। তারাই সত্যবাদী। আর যারা তাদের আগে এই জনপদে (মদিনায়) বসবাস করেছে এবং ঈমান এনেছে, তারা মুহাজিরদের ভালোবাসে এবং মুহাজিরদের যা দেওয়া হয়েছে তার জন্য তারা নিজেদের অন্তরে কোনো আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে না। আর তারা নিজেদের ওপর অন্যদের অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা অভাবগ্রস্ত হয়। আর যাদেরকে মনের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম [(২)]।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: আর যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, আর যারা আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে, তারাই প্রকৃত মুমিন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযিক [(৩)]।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন তারা গাছের নিচে আপনার কাছে বায়আত গ্রহণ করছিল। তিনি জানতেন যা তাদের অন্তরে ছিল, অতঃপর তিনি তাদের ওপর প্রশান্তি নাজিল করলেন এবং তাঁদেরকে এক নিকটবর্তী বিজয় পুরস্কার হিসেবে দান করলেন [(৪)]।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সাথে থাকো [(৫)]।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম ও অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন। তিনি তাঁদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নহর প্রবাহিত, সেখানে তাঁরা চিরকাল থাকবে। এটিই মহাসাফল্য [(৬)]।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী উম্মত করেছি [(৭)]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
والوسط: الخيار والعدول، فهم خير الأمم وأعدلها في أقوالهم وأعمالهم وإرادتهم ونيّاتهم، وبهذا استحقوا أن يكونوا شهداء للرّسل على أممهم يوم القيامة، واللَّه تعالى يقبل شهادتهم عليهم فهم شهداؤه، ولهذا نوّه بهم ورفع ذكرهم وأثنى عليهم، لأنه تعالى لما اتخذهم شهداء أعلم خلقه من الملائكة وغيرهم بحال هؤلاء الشهداء، وأمر ملائكته أن تصلّي عليهم وتدعو لهم وتستغفر لهم، والشّاهد المقبول عند اللَّه هو الّذي يشهد بعلم وصدق فيخبر بالحق مستندا إلى علمه به، كما قال تعالى: إِلَّا مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ [ (1) ] [ (2) ] .
وقال تعالى: كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ، وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ، وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ [ (3) ] .
ويدخل في الخطاب الصَّحابيّ من باب أولى، فلقد شهد بأنهم يأمرون بكل معروف وينهون عن كل منكر.
وقال تعالى: وَجاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهادِهِ هُوَ اجْتَباكُمْ، وَما جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ مِلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْراهِيمَ هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ مِنْ قَبْلُ وَفِي هذا لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيداً عَلَيْكُمْ، وَتَكُونُوا شُهَداءَ عَلَى النَّاسِ [ (4) ] .
فأخبر تعالى أنه اجتباهم، والاجتباء كالاصطفاء، وهو افتعال من «اجتبى الشّيء يجتبيه» ، إذا ضمّه إليه وحازه إلى نفسه، فهم المجتبون الّذين اجتباهم اللَّه إليه وجعلهم أهله وخاصّته وصفوته من خلقه بعد النّبيين والمرسلين، ولهذا أمرهم تعالى أن يجاهدوا فيه حقّ جهاده ويبذلوا له أنفسهم ويفردوه بالمحبّة والعبوديّة، ويختاروه وحده إلها معبودا محبوبا على كل ما سواه، كما اختارهم على من سواهم، فيتخذونه وحده إلههم ومعبودهم الّذي يتقربون إليه بألسنتهم وجوارحهم وقلوبهم ومحبتهم وإرادتهم، فيؤثرونه في كل حال على من سواه كما اتخذهم عبيده وأولياءه وأحبّاءه، وآثرهم بذلك على من سواهم، ثم أخبرهم تعالى أنّه يسّر عليهم دينه غاية التّيسير، ولم يجعل عليهم فيه من حرج البتّة لكمال محبَّته لهم ورأفته ورحمته وحنانه بهم، ثم أمرهم بلزوم ملّة إمام الحنفاء أبيهم إبراهيم، وهي إفراده تعالى وحده بالعبودية والتعظيم والحبّ والخوف والرّجاء والتوكّل والإنابة والتفويض والاستسلام، فيكون تعلّق ذلك من قلوبهم به وحده لا بغيره، ثم أخبر تعالى أنه فعل ذلك
--------------------------------------------
ওয়াসাত হলো: উৎকৃষ্ট ও ন্যায়নিষ্ঠ হওয়া। সুতরাং তারা তাদের কথা, কাজ, ইচ্ছা এবং নিয়তের দিক দিয়ে সকল উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক ন্যায়নিষ্ঠ। আর এ কারণেই তারা কিয়ামতের দিন সকল রাসুলের পক্ষে তাদের উম্মতদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আল্লাহ তাআলা তাদের বিরুদ্ধে এই সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন, ফলে তারা হবে তাঁরই সাক্ষী। আর এই কারণেই তিনি তাদের মর্যাদা উচ্চ করেছেন, তাদের কথা তুলে ধরেছেন এবং তাদের প্রশংসা করেছেন। কেননা আল্লাহ তাআলা যখন তাদেরকে সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তখন তিনি ফেরেশতামণ্ডলী এবং অন্য সব সৃষ্টিকে এই সাক্ষীদের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেছেন। আর তিনি তাঁর ফেরেশতাদের নির্দেশ দিয়েছেন তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করতে, তাদের জন্য দোয়া করতে এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে। আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য সাক্ষী সেই ব্যক্তি, যে জ্ঞান ও সততার সাথে সাক্ষ্য দেয় এবং সত্য সংবাদ প্রদান করে সেই বিষয়ের জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তবে যারা সত্যের সাক্ষ্য দেয় এবং তারা জানে।" [ (১) ] [ (২) ]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য যাদেরকে বের করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজে বাধা দাও এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনো।" [ (৩) ]।
এই সম্বোধনে সাহাবীগণ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত, কারণ আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তারা প্রতিটি সৎকাজের আদেশ দেন এবং প্রতিটি অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করো যেভাবে জিহাদ করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন এবং দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো কঠোরতা বা সংকীর্ণতা রাখেননি। এটি তোমাদের পিতা ইব্রাহিমের আদর্শ। তিনি ইতিপূর্বে তোমাদের নাম রেখেছেন 'মুসলিম' এবং এই কিতাবেও (তোমাদের এই নাম রাখা হয়েছে), যাতে রাসুল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন এবং তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হও।" [ (৪) ]।
আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি তাদেরকে মনোনীত করেছেন। আর ইজতিবা (মনোনয়ন) হলো ইসতিফা (বাছাই করা)-এর মতো। এটি 'ইজতাবাশ শাইয়া ইয়াজতাবিহি' থেকে আগত, যার অর্থ হলো কোনো কিছুকে নিজের দিকে টেনে নেওয়া এবং নিজের জন্য নির্দিষ্ট করা। সুতরাং তারা হলো সেই মনোনীত ব্যক্তি যাদেরকে আল্লাহ তাঁর নিজের জন্য বেছে নিয়েছেন এবং নবী ও রাসুলগণের পর তাদেরকে তাঁর আপনজন, বিশেষ নৈকট্যপ্রাপ্ত ও সৃষ্টির মধ্য থেকে মনোনীত হিসেবে গণ্য করেছেন। আর এই কারণেই আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তাঁর পথে যথাযথভাবে জিহাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁর জন্য নিজেদের উৎসর্গ করতে এবং ভালোবাসা ও ইবাদতে তাঁকে একক হিসেবে গ্রহণ করতে বলেছেন। তারা যেন অন্য সব কিছু বাদ দিয়ে একমাত্র তাঁকেই মাবুদ ও প্রিয় ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করে, যেমনটি তিনি তাদেরকে অন্যদের ওপর অগ্রাধিকার দিয়ে মনোনীত করেছেন। ফলে তারা একমাত্র তাঁকেই তাদের ইলাহ ও মাবুদ হিসেবে গ্রহণ করবে, যাঁর নৈকট্য তারা লাভ করবে তাদের জিহ্বা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, অন্তর, ভালোবাসা ও ইচ্ছার মাধ্যমে। তারা যেন সব অবস্থায় অন্য সব কিছুর ওপর তাঁকে প্রাধান্য দেয়, যেভাবে তিনি তাদেরকে তাঁর বান্দা, বন্ধু ও প্রিয়পাত্র হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং এর মাধ্যমে তাদেরকে অন্যদের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। এরপর আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাদের জন্য তাঁর দ্বীনকে অত্যন্ত সহজ করে দিয়েছেন এবং এতে তাদের ওপর বিন্দুমাত্র কোনো কঠোরতা রাখেননি। এটি তাদের প্রতি তাঁর পূর্ণ ভালোবাসা, মমতা, দয়া ও করুণার বহিঃপ্রকাশ। অতঃপর তিনি তাদেরকে একনিষ্ঠদের ইমাম ও তাদের পিতা ইব্রাহিমের আদর্শ আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই আদর্শ হলো ইবাদত, সম্মান, ভালোবাসা, ভয়, আশা, তাওয়াক্কুল, প্রত্যাবর্তন, সমর্পণ এবং আত্মসমর্পণে একমাত্র আল্লাহ তাআলাকেই একক হিসেবে গ্রহণ করা। ফলে তাদের অন্তরের এই সকল বিষয়ের সংশ্লিষ্টতা হবে একমাত্র তাঁরই সাথে, অন্য কারো সাথে নয়। এরপর আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি তা করেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ليشهد عليهم رسوله ويشهدوا هم على النّاس، فيكون مشهودا لهم بشهادة الرّسول، شاهدين على الأمم بقيام حجّة اللَّه عليهم [ (1) ] .
وقال تعالى: قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلامٌ عَلى عِبادِهِ الَّذِينَ اصْطَفى [ (2) ] .
قال ابن عبّاس: أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم اصطفاهم اللَّه لنبيه عليه السلام [ (3) ] .
تلك آيات عظيمة نزلت من عند المولى عز وجل تشهد بفضل وعدالة جميع أصحاب النّبي صلى الله عليه وسلم الّذين كانوا معه في المواقف الحاسمة في تاريخ الدّعوة الإسلامية ابتداء من دار الأرقم بن أبي الأرقم، وانتهاء بفتح المدائن.
فمن الأمور القطعيّة الثبوت والدّلالة أن عدالة أصحاب سيدنا رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم جاءت من فوق سبعة أرقعة، فلا يتصور لإنسان مهما أوتي من علم ومعرفة أن يطعن في صحابة رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم بعد شهادة اللَّه عز وجل لهم!! وهذا سنفرد له كلمة عن الحديث عن سيدنا «أبي هريرة» رضي اللَّه تعالى عنه.
يُرِيدُونَ أَنْ يُطْفِؤُا نُورَ اللَّهِ بِأَفْواهِهِمْ، وَيَأْبَى اللَّهُ إِلَّا أَنْ يُتِمَّ نُورَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْكافِرُونَ [ (4) ] .
وأمّا السّنّة:وفي نصوص السّنّة النبويّة المشرّفة الشّاهدة بذلك كثرة منها:
عن أبي سعيد عن النّبي- عليه السلام قال: «لا تسبّوا أصحابي، فو الّذي نفسي بيده لو أنّ أحدكم أنفق مثل أحد ذهبا ما أدرك مدّ أحدهم ولا نصيفه» [ (5) ] .
--------------------------------------------
যাতে তাঁর রাসূল তাঁদের উপর সাক্ষ্য দেন এবং তাঁরা মানুষের উপর সাক্ষ্য দেন; ফলে রাসূলের সাক্ষ্য দ্বারা তাঁদের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করা হবে এবং তাঁরা উম্মতদের উপর আল্লাহর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে সাক্ষী হবেন [ (১) ]।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: “বলুন, সকল প্রশংসা আল্লাহর এবং শান্তি তাঁর সেই বান্দাদের প্রতি যাদের তিনি মনোনীত করেছেন” [ (২) ]।
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: “মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে আল্লাহ তাঁর নবীর (আলাইহিস সালাম) জন্য মনোনীত করেছেন” [ (৩) ]।
এগুলি মহান রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ মহান আয়াত, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল সাহাবীর শ্রেষ্ঠত্ব ও ন্যায়পরায়ণতার সাক্ষ্য দেয়, যাঁরা ইসলামি দাওয়াতের ইতিহাসে দারুল আরকাম ইবনে আবিল আরকাম থেকে শুরু করে মাদায়েন বিজয় পর্যন্ত সকল চূড়ান্ত মুহূর্তে তাঁর সাথে ছিলেন।
এটি অকাট্যভাবে প্রমাণিত ও সুনিশ্চিত বিষয় যে, আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের ন্যায়পরায়ণতা সাত আসমানের ওপর থেকে এসেছে। সুতরাং কোনো মানুষের পক্ষে, তাকে যত জ্ঞান ও প্রজ্ঞাই দেওয়া হোক না কেন, মহান আল্লাহর সাক্ষ্যের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের প্রতি কটাক্ষ করা কল্পনাও করা যায় না!! এ বিষয়ে আমরা আমাদের নেতা ‘আবু হুরায়রা’ (রাযিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু) সম্পর্কে আলোচনার সময় বিস্তারিত আলোকপাত করব।
“তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূর নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূর পূর্ণ করা ছাড়া অন্য কিছু চান না, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে” [ (৪) ]।
সুন্নাহর বর্ণনা:সম্মানিত সুন্নাহর বর্ণনাসমূহে একে সমর্থনকারী অসংখ্য নস বা উদ্ধৃতি রয়েছে, তন্মধ্যে:
আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: “তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। সেই সত্তার শপথ যাঁর আল্লাহর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও ব্যয় করো, তবুও তাঁদের কারো এক মুদ (এক আঁজলা) কিংবা তার অর্ধেক পরিমাণ আমলের সমতুল্য হবে না” [ (৫) ]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ২০)
وهذا خطاب منه لخالد بن الوليد ولأقرانه من مسلمة الحديبيّة والفتح، فإذا كان مدّ أحد أصحابه أو نصيفه أفضل عند اللَّه من مثل أحد ذهبا من مثل خالد وأضرابه من أصحابه، فكيف يجوز أن يحرمهم اللَّه الصّواب في الفتاوى ويظفر به من بعدهم؟ هذا من أبين المحال [ (1) ]
وعن عبد اللَّه بن مغفّل المزنيّ قال: قال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: اللَّه اللَّه في أصحابي، اللَّه اللَّه في أصحابي لا تتّخذوهم غرضا بعدي، فمن أحبّهم فبحبّي أحبّهم، ومن أبغضهم فببغضي أبغضهم، ومن آذاهم فقد آذاني ومن آذاني فقد آذى اللَّه، ومن آذى اللَّه فيوشك أن يأخذه [ (2) ] .
وعن أبي موسى قال: صلّينا مع النّبيّ صلى الله عليه وسلم المغرب، ثم قلنا: لو انتظرنا حتى نصلّي معه العشاء، فانتظرناه فخرج علينا، فقال: «ما زلتم ها هنا» ، قال: قلنا: نعم يا رسول اللَّه، قلنا: نصلّي معك العشاء، قال: «أحسنتم وأصبتم» ، ثم رفع رأسه إلى السّماء، وكان كثيرا ما يرفع رأسه إلى السّماء، قال: «النّجوم أمنة لأهل السّماء، فإذا ذهبت النّجوم أتى أهل السّماء ما يوعدون وأنا أمنة لأصحابي، فإذا ذهبت أتى أصحابي ما يوعدون، وأصحابي أمنة لأمّتي، فإذا ذهب أصحابي أتى أمّتي ما يوعدون» [ (3) ] .
ووجه الاستدلال بالحديث أنه جعل نسبة أصحابه إلى من بعدهم كنسبته إلى أصحابه، وكنسبة النّجوم إلى السماء، ومن المعلوم أنّ هذا التّشبيه يعطي من وجوب اهتداء الأمة بهم ما هو نظير اهتدائهم بنبيّهم صلى الله عليه وسلم ونظير اهتداء أهل الأرض بالنّجوم، وأيضا فإنه جعل بقاءهم بين الأمة أمنة لهم، وحرزا من الشّرّ وأسبابه [ (4) ] .
وعن عمران بن حصين قال: قال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: «خير أمّتي القرن الّذي بعثت فيهم، ثمّ الَّذين يلونهم، ثمّ الّذين يلونهم» [ (5) ] .
--------------------------------------------
এটি তাঁর পক্ষ থেকে খালিদ ইবনে ওয়ালীদ এবং হুদায়বিয়া ও মক্কা বিজয়ের সময় ইসলাম গ্রহণকারী তাঁর সমসাময়িকদের প্রতি একটি সম্বোধন। সুতরাং যদি তাঁর (পূর্ববর্তী) কোনো একজন সাহাবীর এক 'মুদ' (এক আজলা) বা তার অর্ধেক পরিমাণ দান আল্লাহর নিকট খালিদ ও তাঁর মতো সাহাবীদের ওহুদ পর্বত পরিমাণ স্বর্ণ দানের চেয়েও শ্রেষ্ঠ হয়, তবে কীভাবে এটি সম্ভব হতে পারে যে, আল্লাহ তাঁদেরকে (পূর্ববর্তী সাহাবীদের) ফতোয়ার ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত থেকে বঞ্চিত করবেন আর তাঁদের পরবর্তী লোকদেরকে তা দান করবেন? এটি স্পষ্টতই অসম্ভব। [ (১) ]
আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল আল-মুযানী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার সাহাবীদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, আমার সাহাবীদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আমার পরে তোমরা তাঁদেরকে সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু বানিও না। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁদেরকে ভালোবাসল, সে আমার প্রতি ভালোবাসার কারণেই তাঁদেরকে ভালোবাসল। আর যে ব্যক্তি তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল, সে আমার প্রতি বিদ্বেষের কারণেই তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল। যে ব্যক্তি তাঁদেরকে কষ্ট দিল, সে মূলত আমাকেই কষ্ট দিল; আর যে আমাকে কষ্ট দিল, সে আল্লাহকে কষ্ট দিল। আর যে আল্লাহকে কষ্ট দিল, শীঘ্রই তিনি তাকে পাকড়াও করবেন।" [ (২) ]
আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করলাম। অতঃপর আমরা বললাম: যদি আমরা এশার সালাত পর্যন্ত অপেক্ষা করি এবং তাঁর সাথেই তা আদায় করি (তবে ভালো হতো)। সুতরাং আমরা তাঁর জন্য অপেক্ষা করলাম। এরপর তিনি আমাদের কাছে বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: "তোমরা কি এখনও এখানেই আছ?" আমরা বললাম: "হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার সাথে এশার সালাত আদায়ের জন্য (অপেক্ষা করছি)।" তিনি বললেন: "তোমরা ভালো করেছ এবং সঠিক কাজ করেছ।" অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মাথা তুললেন—আর তিনি প্রায়ই আকাশের দিকে মাথা তুলতেন—এবং বললেন: "নক্ষত্ররাজি আকাশের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ। সুতরাং যখন নক্ষত্ররাজি চলে যাবে, তখন আকাশের জন্য প্রতিশ্রুত (বিপর্যয়) চলে আসবে। আর আমি আমার সাহাবীদের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ। সুতরাং যখন আমি চলে যাব, তখন আমার সাহাবীদের ওপর প্রতিশ্রুত (বিপর্যয়) চলে আসবে। আর আমার সাহাবীরা আমার উম্মতের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ। সুতরাং যখন আমার সাহাবীরা চলে যাবেন, তখন আমার উম্মতের ওপর প্রতিশ্রুত (বিপর্যয়) চলে আসবে।" [ (৩) ]
এই হাদীস থেকে দলীল গ্রহণের পদ্ধতি হলো যে, তিনি তাঁর পরবর্তী লোকদের সাপেক্ষে তাঁর সাহাবীদের মর্যাদাকে তাঁর সাহাবীদের সাপেক্ষে নিজের মর্যাদার মতো এবং আকাশের সাপেক্ষে নক্ষত্ররাজির মতো নির্ধারণ করেছেন। আর এটি সুপরিচিত যে, এই তুলনাটি উম্মতের জন্য তাঁদের অনুসরণের আবশ্যকতাকে সেভাবেই সাব্যস্ত করে যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ এবং পৃথিবীবাসীর জন্য নক্ষত্ররাজির মাধ্যমে পথচলা আবশ্যিক। তাছাড়া, তিনি উম্মতের মাঝে তাঁদের উপস্থিতিকে নিরাপত্তা এবং অনিষ্ট ও এর কারণসমূহ থেকে সুরক্ষাস্বরূপ সাব্যস্ত করেছেন। [ (৪) ]
ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো সেই প্রজন্ম যাদের মধ্যে আমি প্রেরিত হয়েছি, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী, অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী।" [ (৫) ]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ২১)
فأخبر النّبيّ صلى الله عليه وسلم أن خير القرون قرنه مطلقا،
وذلك يقتضي تقديمهم في كل باب من أبواب الخير، وإلّا لو كان خيرا من بعض الوجوه فلا يكونون خير القرون مطلقا [ (1) ] .
وقد يقول قائل: إن هذه الأدلّة تتناول أصحاب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم الذين كانوا معه قبل الفتح، وأمّا من أسلم بعد الفتح فلا دليل على عدالتهم، فأسوق جوابا له قول الدّكتور محمّد السّماحيّ: (وأما مسلمة الفتح والأعراب الوافدون على رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم فهؤلاء لم يتحملوا من السنة مثل ما تحمّل الصّحابة الملازمون لرسول اللَّه صلى الله عليه وسلم ومن تعرّض منهم للرّواية كحكيم بن حزام، وعتّاب، وغيرهم عرفوا بالصّدق والدّيانة وغاية الأمانة على أنه ورد ما يجعلهم أفضل من سواهم من القرون بعدهم،
كقوله صلى الله عليه وسلم: «خير القرون قرني ثمّ الّذين يلونهم ثمّ الّذين يلونهم ثمّ يفشو الكذب» [ (2) ] .
وهو حديث صحيح مروي في «الصّحيحين»
وغيرهما بألفاظ مختلفة، والخيرية لا تكون إلا للعدول الذين يلتزمون الدّين والعمل به. وقال تعالى: كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ [ (3) ] .
والخطاب الشّفهيّ لصحابة رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم ومن حضر نزول الوحي، وهو يشمل جميعهم، وكذلك قوله تعالى: وَكَذلِكَ جَعَلْناكُمْ أُمَّةً وَسَطاً، لِتَكُونُوا شُهَداءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيداً [ (4) ] ، وسطا: عدولا.
فالإسلام كان في أول شبابه فتيّا قويّا في قلوب من أذعنوا له واتّبعوا هداه، وتمسّكوا بمبادئه، واصطبغوا بصبغته، فكانت العدالة قوية في نفوسهم شائعة في آحادهم، حتى إننا نرى الذين وقعوا منهم في الكبائر ما لبثوا أن ساقتهم عزائمهم إلى الاعتراف وطلب الحدّ، ليطهروا به أنفسهم، وسارعوا إلى التّوبة حيث تاب اللَّه عليهم، ولا نريد بقولنا: الصحابة عدول- أكثر من أنّ ظاهرهم العدالة [ (5) ] .
ثناء أهل العلم على الصّحابةوهذا الثّناء للاستئناس وليس للتّدليل إذ لا يصحّ القول مع اللَّه عز وجل ورسوله صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ হলো নিরঙ্কুশভাবে তাঁর যুগ,
আর এটি কল্যাণের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের অগ্রগণ্যতা দাবি করে; অন্যথায় যদি কোনো কোনো দিক থেকে তারা শ্রেষ্ঠ হতো, তবে তারা নিরঙ্কুশভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ হতে পারত না [(১)]।
কেউ হয়তো বলতে পারেন: এই দলিলগুলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেই সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত করে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে তাঁর সাথে ছিলেন। কিন্তু যারা বিজয়ের পর ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তাদের ন্যায়পরায়ণতার (আদালাত) ব্যাপারে কোনো দলিল নেই। এর উত্তরে আমি ডক্টর মুহাম্মদ আস-সামাহীর বক্তব্য পেশ করছি: (পক্ষান্তরে মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম গ্রহণকারী এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আগত মরুবাসী আরবদের কথা হলো— তারা সুন্নাহর অতটা সংরক্ষণ বা বহন করতে পারেননি যতটা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সার্বক্ষণিক অবস্থানকারী সাহাবীগণ পেরেছেন। তবে তাদের মধ্য থেকে যারা হাদিস বর্ণনায় প্রবৃত্ত হয়েছেন, যেমন হাকীম বিন হিযাম, আত্তাব ও অন্যান্যরা, তারা সত্যবাদিতা, দ্বীনদারী এবং চরম আমানতদারিতার জন্য পরিচিত ছিলেন। তাছাড়া এমন বর্ণনাও রয়েছে যা তাদেরকে পরবর্তী যুগগুলোর মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিপন্ন করে,
যেমন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ হলো আমার যুগ, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী; এরপর মিথ্যার বিস্তার ঘটবে" [(২)]।
এটি একটি সহীহ হাদিস যা "সহীহাইন" (বুখারী ও মুসলিম) এবং অন্যান্য কিতাবে বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে। শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাদের জন্যই হতে পারে যারা ন্যায়পরায়ণ এবং যারা দ্বীনের অনুসরণ ও তদানুযায়ী আমল করেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন: "তোমরা হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত যাদের মানুষের জন্য বের করা হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজ থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর ওপর ঈমান আনো" [(৩)]।
এই সরাসরি সম্বোধন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ এবং যারা ওহী নাযিলের সময় উপস্থিত ছিলেন তাদের জন্য, যা তাদের সকলকে শামিল করে। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: "এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী জাতি বানিয়েছি, যাতে তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হও এবং রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন" [(৪)], এখানে মধ্যপন্থী অর্থ হলো: ন্যায়পরায়ণ।
ইসলাম তার প্রাথমিক যুগে যারা এর আনুগত্য করেছিল, হেদায়েত অনুসরণ করেছিল, এর আদর্শকে আঁকড়ে ধরেছিল এবং এর রঙে রঞ্জিত হয়েছিল, তাদের অন্তরে অত্যন্ত শক্তিশালী ও সতেজ ছিল। ফলে ন্যায়পরায়ণতা তাদের সত্তায় ছিল সুদৃঢ় এবং তাদের প্রত্যেকের মাঝে ছিল ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এমনকি আমরা দেখতে পাই, তাদের মধ্যে যারা কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়েছিলেন, তাদের দৃঢ় সংকল্প অনতিবিলম্বে তাদেরকে অপরাধ স্বীকার এবং হদ কার্যকর করার দাবির দিকে পরিচালিত করত, যাতে তারা এর মাধ্যমে নিজেদের পবিত্র করতে পারেন। তারা তওবার দিকে দ্রুত ধাবিত হতেন এবং আল্লাহও তাদের তওবা কবুল করতেন। "সাহাবীগণ ন্যায়পরায়ণ"—একথা দ্বারা আমরা কেবল এটাই বোঝাতে চাই যে, বাহ্যিকভাবে তারা ন্যায়পরায়ণ ছিলেন [(৫)]।
সাহাবীদের প্রশংসায় আলেমদের বক্তব্যআর এই প্রশংসা হলো হৃদয়ের প্রশান্তি বা সমর্থন হিসেবে, দলিল হিসেবে নয়; কেননা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর বিপরীতে আর কোনো কথা বলা সমীচীন নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ২২)
حيث نص اللَّه ورسوله على عدالتهم، فهل بعد تعديل اللَّه عز وجل رسوله صلى الله عليه وسلم تعديل؟!! فأقول وللَّه الحمد والمنّة:
قال الإمام النّوويّ: الصّحابة كلهم عدول، من لابس الفتن وغيرهم بإجماع من يعتدّ به [ (1) ] .
قال إمام الحرمين: والسّبب في عدم الفحص عن عدالتهم أنهم حملة الشّريعة، فلو ثبت توقّف في روايتهم لانحصرت الشّريعة على عصره صلى الله عليه وسلم ولما استرسلت سائر الأعصار.
قال أبو زرعة الرّازيّ: إذا رأيت الرّجل ينتقص أحدا من أصحاب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم فاعلم أنه زنديق، وذلك أنّ الرسول حق، والقرآن حق، وما جاء به حق، وإنما أدى ذلك كله إلينا الصحابة، وهؤلاء الزّنادقة يريدون أن يجرحوا شهودنا ليبطلوا الكتاب والسّنّة فالجرح بهم أولى.
قال ابن الصّلاح: «ثم إن الأمة مجمعة على تعديل جميع الصّحابة ومن لابس الفتن منهم، فكذلك بإجماع العلماء الذين يعتدّ بهم في الإجماع إحسانا للظّنّ بهم، ونظرا إلى ما تمهد لهم من المآثر، وكأن اللَّه سبحانه وتعالى أتاح الإجماع على ذلك لكونهم نقلة الشّريعة» [ (2) ] .
قال الخطيب البغداديّ في الكفاية» مبوبا على عدالتهم:
ما جاء في تعديل اللَّه ورسوله للصّحابة، وأنه لا يحتاج إلى سؤال عنهم، وإنما يجب فيمن دونهم كل حديث اتّصل إسناده بين من رواه وبين النّبيّ صلى الله عليه وسلم لم يلزم العمل به إلا بعد ثبوت عدالة رجاله، ويجب النّظر في أحوالهم سوى الصّحابي الّذي رفعه إلى رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، لأن عدالة الصحابة ثابتة معلومة بتعديل اللَّه لهم، وإخباره عن طهارتهم واختياره لهم في نص القرآن.
والأخبار في هذا المعنى تتّسع، وكلها مطابقة لما ورد في نصّ القرآن، وجميع ذلك يقتضي طهارة الصّحابة والقطع على تعديلهم ونزاهتهم، فلا يحتاج أحد منهم مع تعديل اللَّه تعالى لهم، المطّلع على بواطنهم إلى تعديل أحد من الخلق له [ (3) ] .
وقال الإمام مالك: من انتقص أحدا من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فليس له في هذا الفيء حق، قد قسم اللَّه الفيء في ثلاثة أصناف فقال:
--------------------------------------------
যেহেতু আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তাঁদের ন্যায়পরায়ণতার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন, তাই মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্ত করার পর আর কারোর ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্ত করার প্রয়োজন আছে কি?!! আমি আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলছি:
ইমাম নববী বলেন: সাহাবীগণ সকলেই ন্যায়পরায়ণ, চাই তাঁরা ফিতনায় জড়িয়ে থাকুন বা না থাকুন, সেই সকল আলিমদের ঐকমত্যে যাদের মত গ্রহণযোগ্য [ (১) ]।
ইমামুল হারামাইন বলেন: তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা যাচাই না করার কারণ হলো তাঁরা শরীয়তের বাহক। যদি তাঁদের বর্ণনার ক্ষেত্রে থমকে যাওয়া (সন্দেহ পোষণ) সাব্যস্ত হতো, তবে শরীয়ত কেবল তাঁর (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) যুগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ত এবং পরবর্তী যুগসমূহে তা প্রসারিত হতো না।
আবু যুরআ আর-রাযী বলেন: যখন আপনি কোনো ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনো সাহাবীর সমালোচনা বা মানহানি করতে দেখবেন, তখন জেনে নিন যে সে একজন যিনদীক (ধর্মত্যাগী)। এর কারণ হলো রাসূল সত্য, কুরআন সত্য এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা সত্য। আর এই সবকিছুই আমাদের কাছে সাহাবীগণ পৌঁছে দিয়েছেন। এই যিনদীকরা মূলত আমাদের সাক্ষীদের (সাহাবীদের) দোষারোপ করতে চায় যাতে তারা কিতাব ও সুন্নাহকে বাতিল করতে পারে। অথচ দোষারোপ তাদেরই প্রাপ্য।
ইবনুস সালাহ বলেন: «অতঃপর উম্মাহ সকল সাহাবীর ন্যায়পরায়ণতার ব্যাপারে একমত, এমনকি তাঁদের মধ্যে যারা ফিতনায় জড়িয়েছেন তাঁদের ব্যাপারেও। একইভাবে ঐ সকল আলিমদের ঐকমত্যে যাদের মত ইজমায় গণ্য হয়; তাঁদের প্রতি সুধারণা পোষণ করে এবং তাঁদের যে মহান মর্যাদা ও কর্মরাজি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেদিকে লক্ষ্য রেখে। যেন মহান আল্লাহ এই বিষয়ের ওপর ঐকমত্য সহজ করে দিয়েছেন যেহেতু তাঁরা শরীয়তের বর্ণনাকারী» [ (২) ]।
খতীব বাগদাদী তাঁর 'আল-কিফায়া' গ্রন্থে সাহাবীগণের ন্যায়পরায়ণতার ওপর শিরোনাম দিয়ে বলেন:
আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে সাহাবীগণের ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্ত করার বর্ণনা, এবং এই যে তাঁদের সম্পর্কে কোনো জিজ্ঞাসার প্রয়োজন নেই। বরং সাহাবীগণ ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে আবশ্যিক হলো, প্রত্যেক এমন হাদীস যার সনদ বর্ণনাকারী এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মধ্যে সংযুক্ত রয়েছে, সেটির ওপর আমল করা অপরিহার্য হবে না যতক্ষণ না তার বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা সাব্যস্ত হয়। এবং সেই সাহাবী ব্যতীত—যিনি হাদীসটিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন—অন্যদের অবস্থা যাচাই করা আবশ্যক। কারণ সাহাবীগণের ন্যায়পরায়ণতা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদেরকে ন্যায়পরায়ণ ঘোষণার মাধ্যমে সাব্যস্ত ও সুপরিচিত। আল্লাহ কুরআনের স্পষ্ট বর্ণনায় তাঁদের পবিত্রতার সংবাদ দিয়েছেন এবং তাঁদেরকে নির্বাচন করেছেন।
এই অর্থের সংবাদসমূহ অত্যন্ত ব্যাপক এবং এর সবগুলোই কুরআনের স্পষ্ট বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই সবকিছুই সাহাবীগণের পবিত্রতা এবং তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা ও নিষ্কলুষতার ওপর অকাট্য প্রমাণ দেয়। সুতরাং আল্লাহ তাআলা—যিনি তাঁদের অন্তরের গোপন অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত—যাদেরকে ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্ত করেছেন, তাঁদের মধ্যে কেউই সৃষ্টিজগতের অন্য কারোর পক্ষ থেকে ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্ত করার মুখাপেক্ষী নন [ (৩) ]।
এবং ইমাম মালিক বলেন: যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনো সাহাবীর সমালোচনা করে, এই ফাই (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ)-এ তার কোনো অধিকার নেই। আল্লাহ তাআলা ফাই-এর সম্পদকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করেছেন, অতঃপর তিনি বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
لِلْفُقَراءِ الْمُهاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيارِهِمْ وَأَمْوالِهِمْ، يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْواناً، وَيَنْصُرُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ، أُولئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ [ (1) ] .
ثم قال:
وَالَّذِينَ تَبَوَّؤُا الدَّارَ وَالْإِيمانَ مِنْ قَبْلِهِمْ، يُحِبُّونَ مَنْ هاجَرَ إِلَيْهِمْ، وَلا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حاجَةً مِمَّا أُوتُوا، وَيُؤْثِرُونَ عَلى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كانَ بِهِمْ خَصاصَةٌ [ (2) ] .
وهؤلاء هم الأنصار.
ثم قال:
وَالَّذِينَ جاؤُ مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ: رَبَّنَا اغْفِرْ لَنا وَلِإِخْوانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونا بِالْإِيمانِ، وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا، رَبَّنا إِنَّكَ رَؤُفٌ رَحِيمٌ [ (3) ] .
فمن تنقّصهم فلا حق له في فيء المسلمين [ (4) ] .
عقيدة أهل السّنّة في تفضيل الصّحابةأجمع أهل السّنّة على أن أفضل الصّحابة بعد النّبي صلى الله عليه وسلم على الإطلاق أبو بكر ثم عمر، وممّن حكى إجماعهم على ذلك أبو العبّاس القرطبي، فقال: ولم يختلف أحد في ذلك من أئمّة السّلف ولا الخلف، فقال: ولا مبالاة بأقوال أهل التّشيّع ولا أهل البدع، انتهى. وقد حكى الشّافعيّ وغيره إجماع الصّحابة والتابعين على ذلك، قال البيهقيّ في كتاب «الاعتقاد» : روينا عن أبي ثور عن الشّافعيّ قال: ما اختلف أحد من الصّحابة والتابعين في تفضيل أبي بكر وعمر وتقديمهما على جميع الصّحابة، وإنما اختلف من اختلف منهم في عليّ وعثمان [ (5) ] .
وقال العلّامة الكمال بن الهمّام في «المسايرة» : فضل الصّحابة الأربعة على حسب ترتيبهم في الخلافة، إذ حقيقة الفضل ما هو فضل عند اللَّه تعالى، وذلك لا يطلع عليه إلا رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وقد ورد عنه ثناؤه عليهم كلهم، ولا يتحقّق إدراك حقيقة تفضيله عليه السلام لبعضهم على بعض إن لم يكن سمعيّا يصل إلينا قطعيّا في دلالته إلا الشاهدين لذلك الزمان، لظهور قرائن الأحوال لهم، وقد ثبت ذلك لنا صريحا ودلالة كما في صحيح البخاريّ من حديث عمرو بن العاص حين سأله عليه السلام:
--------------------------------------------
(ঐ সম্পদ) সেই অভাবগ্রস্ত মুহাজিরদের জন্য, যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে, তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করে। তারাই সত্যবাদী [ (১) ]।
অতঃপর তিনি বললেন:
আর যারা তাদের (মুহাজিরদের) পূর্বে এই নগরীতে (মদিনায়) বসবাস করেছিল এবং ঈমান এনেছিল, তারা তাদের কাছে হিজরতকারীদের ভালোবাসে এবং যা তাদের প্রদান করা হয়েছে সে বিষয়ে তারা নিজেদের অন্তরে কোনো আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে না, আর তারা নিজেদের ওপর তাদের অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা নিজেরা অভাবগ্রস্ত হয় [ (২) ]।
আর এরাই হলেন আনসারগণ।
অতঃপর তিনি বললেন:
আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানে আমাদের অগ্রগামী হয়েছে, আর যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত দয়ালু ও পরম করুণাময় [ (৩) ]।
সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের অবমাননা করবে, মুসলিমদের যুদ্ধলব্ধ সম্পদে (ফাই) তার কোনো অধিকার নেই [ (৪) ]।
সাহাবীদের শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে আহলুস সুন্নাহর আকিদাআহলুস সুন্নাহ এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর সাহাবীদের মধ্যে নিরঙ্কুশভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন আবু বকর, তারপর উমর। যাদের পক্ষ থেকে এই ইজমা বর্ণিত হয়েছে তাদের মধ্যে আবু আব্বাস আল-কুরতুবি অন্যতম। তিনি বলেন: সালাফ ও খালাফ ইমামগণের মধ্যে এ বিষয়ে কেউ দ্বিমত পোষণ করেননি। তিনি আরও বলেন: শিয়া বা বিদআতিদের বক্তব্যের কোনো গুরুত্ব নেই (সমাপ্ত)। ইমাম শাফেয়ি ও অন্যান্যরা এ বিষয়ে সাহাবী ও তাবিঈদের ইজমা বর্ণনা করেছেন। ইমাম বায়হাকি তাঁর ‘আল-ইতিকাদ’ গ্রন্থে বলেন: আমরা আবু সাওর থেকে, তিনি শাফেয়ি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ও উমরের শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাঁদেরকে সকল সাহাবীর ওপর অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সাহাবী ও তাবিঈদের মধ্যে কেউ দ্বিমত করেননি। কেবল উসমান ও আলীর ব্যাপারে তাঁদের মাঝে মতপার্থক্য হয়েছিল [ (৫) ]।
আল্লামা কামাল ইবনুল হুমাম তাঁর ‘আল-মুসাইয়ারা’ গ্রন্থে বলেন: চার খলিফার শ্রেষ্ঠত্ব তাঁদের খিলাফতের ক্রমানুসারেই। কেননা শ্রেষ্ঠত্বের প্রকৃত স্বরূপ হলো যা আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত, আর তা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত অন্য কেউ অবগত হতে পারেন না। তাঁর থেকে তাঁদের সকলের প্রশংসাই বর্ণিত হয়েছে। আর তাঁদের একজনের ওপর অন্যজনের শ্রেষ্ঠত্বের প্রকৃত অবস্থা উপলব্ধি করা সম্ভব নয় যদি না তা আমাদের নিকট দলিলের মাধ্যমে অকাট্যভাবে পৌঁছায়, অথবা কেবল সেই সময়ের প্রত্যক্ষদর্শীরাই পারিপার্শ্বিক অবস্থার নিরিখে তা অনুধাবন করতে পারতেন। আর এটি আমাদের নিকট স্পষ্টভাবে ও ইঙ্গিতে প্রমাণিত হয়েছে, যেমনটি সহীহ বুখারিতে আমর ইবনুল আস-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করেছিলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
من أحبّ النّاس إليك من الرّجال؟ فقال: «أبوها» . يعني عائشة رضي الله عنها وتقديمه في الصّلاة على ما قدّمنا مع أن الاتّفاق على أن السّنّة أن يقدم على القوم أفضلهم علما، وقراءة، وخلقا، وورعا، فثبت أنه كان أفضل الصّحابة، وصحّ من حديث ابن عمر في صحيح البخاريّ قال: كنا في زمن النّبي صلى الله عليه وسلم لا نعدل بأبي بكر أحدا ثم عمر ثم عثمان، ثم نترك أصحاب النّبي صلى الله عليه وسلم لا نعدل بأبي بكر أحدا ثم عمر ثم عثمان، ثم نترك أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم لا نفاضل بينهم،
وصحّ فيه من حديث محمّد بن الحنفيّة: قلت لأبي: أيّ النّاس خير بعد رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم؟ فقال: أبو بكر، قلت: ثم من؟ قال: ثم عمر، وخشيت أن يقول عثمان، قلت: ثم أنت قال: ما أنا إلا واحد من المسلمين،
فهذا عليّ نفسه مصرّح بأن أبا بكر أفضل النّاس، وأفاد بعد ما ذكرنا تفضيل أبي بكر وحده على الكلّ، وفي بعض ترتيب الثّلاثة، ولما أجمعوا على تقديم عليّ بعدهم دل على أنه كان أفضل من بحضرته وكان منهم الزّبير وطلحة فثبت أنه كان أفضل الخلق بعد الثلاثة.
هذا واعتقاد أهل السّنّة تزكية جميع الصّحابة والثناء عليهم، كما أثنى اللَّه سبحانه وتعالى عليهم إذ قال:
كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ [ (1) ] . [ (2) ] .
وقال العلّامة البغداديّ في «أصول الدّين» : [ (3) ] أصحابنا مجمعون على أن أفضلهم الخلفاء الأربعة، ثم السّتّة الباقون بعدهم إلى تمام العشرة وهم: طلحة والزّبير وسعد بن أبي وقّاص وسعيد بن زيد بن عمرو بن نفيل وعبد الرّحمن بن عوف وأبو عبيدة بن الجرّاح، ثم البدريّون، ثم أصحاب أحد، ثم أهل بيعة الرّضوان بالحديبية، واختلف أصحابنا في تفضيل عليّ وعثمان، فقدم الأشعريّ عثمان، وبناه على أصله في منع إمامة المفضول.
وقال محمّد بن إسحاق بن خزيمة والحسين بن الفضل البجليّ بتفضيل علي رضي الله عنه وقال القلانسيّ: لا أدري أيهما أفضل، وأجاز إمامة المفضول.
وقال العلّامة اللقانيّ في جوهرته:
وأوّل التّشاجر الرجز الّذي ورد
… إن خضت فيه واجتنب داء الحسد
--------------------------------------------
পুরুষদের মধ্যে আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয় কে? তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তার (আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার) পিতা।" অর্থাৎ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা। আর আমাদের পূর্বে বর্ণিত আলোচনা অনুযায়ী সালাতে তাকে (আবু বকরকে) ইমাম হিসেবে সামনে এগিয়ে দেওয়া—অথচ এ বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে যে, সুন্নাহ হলো কওমের মধ্যে ইলম, কিরাত, চরিত্র এবং তাকওয়ায় যিনি শ্রেষ্ঠ তাকেই ইমাম হিসেবে অগ্রগণ্য করা—এ থেকে প্রমাণিত হয় যে তিনি ছিলেন সাহাবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। সহীহ বুখারীতে ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসটি বিশুদ্ধ, তিনি বলেন: "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আবু বকরের সমকক্ষ কাউকে মনে করতাম না, এরপর উমরকে, এরপর উসমানকে। এরপর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের ছেড়ে দিতাম এবং তাদের মধ্যে একজনের ওপর অন্যজনকে শ্রেষ্ঠত্ব দিতাম না।"
তাতে (সহীহ বুখারীতে) মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ থেকে বর্ণিত হাদীসটি বিশুদ্ধ, তিনি বলেন: "আমি আমার পিতাকে (আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে) জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ কে? তিনি বললেন: আবু বকর। আমি বললাম: তারপর কে? তিনি বললেন: তারপর উমর। আমি আশঙ্কা করলাম যে তিনি হয়তো উসমানের কথা বলবেন, তাই বললাম: তারপর কি আপনি? তিনি বললেন: আমি তো মুসলমানদের মধ্যে সাধারণ একজন ব্যক্তি মাত্র।"
সুতরাং স্বয়ং আলী নিজেই স্পষ্টভাবে বর্ণনা করছেন যে আবু বকরই মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। আর আমরা যা উল্লেখ করেছি তা থেকে আবু বকরের একচ্ছত্র শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়। এবং কারো কারো মতে তিনজনের এই ক্রমধারাও প্রমাণিত। আর যখন তাঁরা তাঁদের পর আলীকে (খলিফা হিসেবে) অগ্রগণ্য করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, তখন তা প্রমাণ করে যে তিনি তৎকালীন উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন। তাঁদের মধ্যে জুবাইর এবং তালহাও উপস্থিত ছিলেন। সুতরাং সাব্যস্ত হলো যে, উল্লিখিত তিনজনের পর তিনি (আলী) সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন।
এটি জেনে রাখা উচিত যে, আহলে সুন্নাতের আকিদা হলো সমস্ত সাহাবীর পবিত্রতা ঘোষণা করা এবং তাঁদের প্রশংসা করা, যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁদের প্রশংসা করে বলেছেন:
তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত, যাদের মানবজাতির (কল্যাণের) জন্য বের করা হয়েছে। [ (১) ]। [ (২) ]।
আল্লামা আল-বাগদাদী ‘উসুলুদ দীন’ গ্রন্থে বলেছেন: [ (৩) ] আমাদের ইমামগণ এ বিষয়ে একমত যে, সাহাবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন চার খলিফা, এরপর অবশিষ্ট জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের বাকি ছয়জন। তাঁরা হলেন: তালহা, জুবাইর, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, সাঈদ ইবনে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল, আবদুর রহমান ইবনে আউফ এবং আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ। এরপর বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীরা, এরপর উহুদ যুদ্ধের অংশগ্রহণকারীরা, এরপর হুদাইবিয়ায় বাইয়াতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীরা। আর আলী ও উসমানের শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে আমাদের ইমামগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম আশআরী উসমানকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং একে তিনি তাঁর এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেছেন যে, অধিক উত্তম ব্যক্তি বর্তমান থাকতে কম উত্তম ব্যক্তির ইমামত বা নেতৃত্ব জায়েজ নয়।
মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমাহ এবং হুসাইন ইবনুল ফজল আল-বাজালী আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর শ্রেষ্ঠত্বের কথা বলেছেন। আল-কালানিসী বলেছেন: আমি জানি না তাঁদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ, এবং তিনি অধিক উত্তম ব্যক্তির উপস্থিতিতেও কম উত্তম ব্যক্তির নেতৃত্বকে জায়েজ মনে করেছেন।
আল্লামা আল-লাকানী তাঁর ‘জাওহারা’ কাব্যে বলেছেন:
এবং সাহাবীদের মধ্যে যে বিরোধপূর্ণ ঘটনা ঘটেছিল তার ব্যাখ্যাকরণ কর... যদি তুমি তাতে প্রবেশ করো, তবে হিংসার ব্যাধি থেকে দূরে থেকো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فقال العلّامة البيجوريّ في شرحه عليها:
وقد وقع تشاجر بين علي ومعاوية- رضي الله عنهما وقد افترقت الصحابة ثلاث فرق:
فرقة اجتهدت، فظهر لها أن الحق مع عليّ، فقاتلت معه، وفرقة اجتهدت، فظهر لها أن الحق مع معاوية، فقاتلت معه، وفرقة توقّفت.
وقد قال العلماء: المصيب بأجرين والمخطئ بأجر، وقد شهد اللَّه ورسوله لهم بالعدالة، والمراد من تأويل ذلك أن يصرف إلى محمل حسن لتحسين الظّنّ بهم فلم يخرج واحد منهم عن العدالة بما وقع بينهم، لأنهم مجتهدون.
وقوله: (إن خضت فيه) أي إن قدّر أنّك خضت فيه فأوّله: ولا تنقص أحدا منهم، وإنما قال المصنّف ذلك لأن الشّخص ليس مأمورا بالخوض فيما جرى بينهم، فإنه ليس من العقائد الدّينية، ولا من القواعد الكلامية، وليس ممّا ينتفع به في الدّين، بل ربّما ضرّ في اليقين، فلا يباح الخوض فيه إلا للرّدّ على المتعصبين، أو للتّعليم كتدريس الكتب التي تشتمل على الآثار المتعلقة بذلك، وأما العوام فلا يجوز لهم الخوض فيه لشدّة جهلهم، وعدم معرفتهم بالتأويل. [ (1) ]
وقال السّعد التّفتازانيّ:
«يجب تعظيم الصّحابة والكفّ عن مطاعنهم، وحمل ما يوجب بظاهره الطّعن فيهم على محامل وتأويلات، سيّما المهاجرين والأنصار وأهل بيعة الرّضوان، ومن شهد بدرا وأحدا والحديبيّة، فقال: انعقد على علوّ شأنهم الإجماع، وشهد بذلك الآيات الصّراح، والأخبار الصّحاح» .
«وللرّوافض سيما الغلاة منهم مبالغات في بغض البعض من الصّحابة- رضي الله عنهم والطّعن فيهم بناء على حكايات وافتراءات لم تكن في القرن الثّاني والثّالث، فإياك والإصغاء إليها، فإنّها تضلّ الأحداث، وتحيّر الأوساط وإن كانت لا تؤثر فيمن له استقامة على الصّراط المستقيم، وكفاك شاهدا على ما ذكرنا أنّها لم تكن في القرون السّالفة ولا فيما بين العترة الطّاهرة، بل ثناؤهم على عظماء الصّحابة وعلماء السّنّة والجماعة، والمهديين من خلفاء الدّين مشهور وفي خطبهم ورسائلهم وأشعارهم ومدائحهم مذكور» [ (2) ] .
--------------------------------------------
আল্লামা বৈজুরী এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন:
আলী এবং মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মধ্যে বিবাদ ঘটেছিল এবং সাহাবায়ে কেরাম তিন দলে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিলেন:
এক দল ইজতিহাদ করেছিলেন, ফলে তাঁদের নিকট প্রকাশ পেয়েছিল যে হক আলীর সাথে রয়েছে, তাই তাঁরা তাঁর পক্ষে লড়াই করেছিলেন; এক দল ইজতিহাদ করেছিলেন, ফলে তাঁদের নিকট প্রকাশ পেয়েছিল যে হক মুয়াবিয়ার সাথে রয়েছে, তাই তাঁরা তাঁর পক্ষে লড়াই করেছিলেন; এবং এক দল বিরত ছিলেন।
উলামায়ে কেরাম বলেছেন: যিনি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন তিনি দুটি সওয়াব পাবেন, আর যিনি ভুল করেছেন তিনি একটি সওয়াব পাবেন। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাঁদের ন্যায়পরায়ণতার সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর এই বিষয়গুলোর ব্যাখ্যার উদ্দেশ্য হলো সেগুলোকে একটি উত্তম অর্থের দিকে ধাবিত করা যাতে তাঁদের প্রতি সুধারণা বজায় থাকে। ফলে তাঁদের মধ্যে যা ঘটেছিল তার কারণে তাঁদের কেউই ন্যায়পরায়ণতা থেকে বিচ্যুত হননি, কেননা তাঁরা ছিলেন মুজতাহিদ।
এবং তাঁর উক্তি: (যদি তুমি তাতে লিপ্ত হও) অর্থাৎ যদি ধরা হয় যে তুমি তাতে লিপ্ত হয়েছ, তবে তা ব্যাখ্যা করো; এবং তাঁদের কাউকেও খাটো করবে না। গ্রন্থকার কেবল একারণেই এটি বলেছেন যে, মানুষের জন্য তাঁদের মধ্যে যা ঘটেছিল তাতে লিপ্ত হওয়া আদিষ্ট নয়। কারণ এটি দ্বীনি আকীদা বা ইলমে কালামের মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয়, এবং এটি এমন কিছু নয় যা দ্বারা দ্বীনের ক্ষেত্রে কোনো উপকার পাওয়া যায়; বরং কখনো কখনো তা একীনের (দৃঢ় বিশ্বাসের) ক্ষতি করে। তাই গোঁড়ামিবাদীদের খণ্ডন করা অথবা শিক্ষার উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে এতে লিপ্ত হওয়া বৈধ নয়, যেমন সেই সব কিতাব পাঠদান করা যাতে এ সংক্রান্ত ঘটনাবলী বর্ণিত হয়েছে। আর সাধারণ মানুষের জন্য এতে লিপ্ত হওয়া জায়েজ নয়, কারণ তাদের অজ্ঞতা প্রবল এবং ব্যাখ্যার জ্ঞান তাদের নেই। [ (১) ]
সাদুত তাফতাজানী বলেছেন:
«সাহাবায়ে কেরামের সম্মান করা এবং তাঁদের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। তাঁদের সম্পর্কে বাহ্যত যা নিন্দনীয় মনে হয়, সেগুলোকে উপযুক্ত অর্থ ও ব্যাখ্যার ওপর প্রয়োগ করতে হবে। বিশেষ করে মুহাজির, আনসার, বাইয়াতে রিদওয়ানকারী এবং বদর, উহুদ ও হুদাইবিয়াতে উপস্থিত সাহাবাগণের ক্ষেত্রে। তিনি বলেছেন: তাঁদের উচ্চ মর্যাদার বিষয়ে ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এ ব্যাপারে স্পষ্ট আয়াতসমূহ ও সহীহ হাদীসসমূহ সাক্ষ্য দিয়েছে।»
«আর রাফেজীদের, বিশেষ করে তাদের মধ্যে যারা চরমপন্থী, সাহাবায়ে কেরামের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কয়েকজনের প্রতি ঘৃণা পোষণ এবং তাঁদেরকে নিন্দা করার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি রয়েছে। এগুলো এমন সব কাহিনী ও মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে যা দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে ছিল না। অতএব তুমি তা শোনা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ তা অল্পবয়স্কদের বিভ্রান্ত করে এবং মধ্যম পর্যায়ের লোকদের কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেয়, যদিও সিরাতুম মুস্তাকীমের ওপর অবিচল ব্যক্তিদের ওপর তা কোনো প্রভাব ফেলে না। আর আমরা যা উল্লেখ করেছি তার প্রমাণ হিসেবে এটিই যথেষ্ট যে, পূর্ববর্তী যুগগুলোতে এবং পবিত্র বংশধরদের মাঝে এসব বিষয় ছিল না; বরং সাহাবায়ে কেরামের মহান ব্যক্তিত্ব, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের উলামায়ে কেরাম এবং দ্বীনের হেদায়াতপ্রাপ্ত খলীফাদের প্রতি তাঁদের প্রশংসা সুবিদিত এবং তাঁদের খুতবা, পত্রাবলী, কবিতা ও প্রশংসাগীতিতে তা বর্ণিত রয়েছে।» [ (২) ] .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال العلّامة المرعشيّ في «نشر الطّوالع» :
«يجب تعظيم جميع أصحاب النّبي صلى الله عليه وسلم والكفّ عن مطاعنهم، وحسن الظّنّ بهم، وترك التّعصّب والبغض لأجل بعضهم على بعض، وترك الإفراط في محبّة بعضهم على وجه يفضي إلى عداوة آخرين منهم والقدح فيهم، فإن اللَّه تعالى أثنى عليهم في مواضع كثيرة منها قوله تعالى:
يَوْمَ لا يُخْزِي اللَّهُ النَّبِيَّ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ نُورُهُمْ يَسْعى بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمانِهِمْ.. [ (1) ]
الآية.
وقد أحبّهم النّبي صلى الله عليه وسلم وأثنى عليهم وأوصى أمّته بعدم سبّهم وبغضهم وأذاهم، وما ورد من المطاعن، فعلى تقدير صحته له محامل وتأويلات، ومع ذلك لا يعادل ما ورد في مناقبهم، وحكي عن آثارهم المرضية وسيرهم الحميدة نفعنا اللَّه بمحبّتهم أجمعين [ (2) ] .
قال: الإمام النّوويّ- رحمه اللَّه تعالى:
واعلم أن سبب تلك الحروب أن القضايا كانت مشتبهة، فلشدّة اشتباهها اختلف اجتهادهم وصاروا ثلاثة أقسام: قسم ظهر لهم بالاجتهاد أن الحقّ في هذا الطرف، وأن مخالفه باغ فوجب عليهم نصرته وقتال الباغي عليه فيما اعتقدوه فعلوا ذلك، ولم يكن يحل لمن هذه صفته التأخّر عن مساعدة الإمام العدل في قتال البغاة.
وقسم عكس هؤلاء ظهر لهم بالاجتهاد أن الحق في الطّرف الآخر، فوجب عليهم مساعدته وقتال الباغي عليه.
وقسم ثالث اشتبهت عليهم القضية وتحيّروا فيها ولم يظهر لهم ترجيح أحد الطرفين فاعتزلوا الفريقين، وكان هذا الاعتزال هو الواجب في حقهم، لأنه لا يحل الإقدام على قتال مسلم حتى يظهر أنه مستحق لذلك، ولو ظهر لهؤلاء رجحان أحد الطرفين وأن الحق معه لما جاز لهم التأخّر عن نصرته في قتال البغاة عليه.
فكلهم معذورون- رضي الله عنهم ولهذا اتّفق أهل الحق ومن يعتدّ به في الإجماع على قبول شهاداتهم ورواياتهم وكمال عدالتهم رضي الله عنهم أجمعين.
--------------------------------------------
আল্লামা মারাশি ‘নাশরাতুত তাওয়ালি’ গ্রন্থে বলেছেন:
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল সাহাবীকে সম্মান করা, তাঁদের সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকা, তাঁদের সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করা এবং তাঁদের একে অপরের প্রতি পক্ষপাতের কারণে গোঁড়ামি ও বিদ্বেষ বর্জন করা ওয়াজিব। তেমনিভাবে তাঁদের কারো প্রতি ভালোবাসায় এমন আতিশয্য ত্যাগ করাও আবশ্যক যা অন্যদের প্রতি শত্রুতা পোষণ ও তাঁদের নিন্দা করার দিকে ধাবিত করে। কেননা আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের অনেক স্থানে তাঁদের প্রশংসা করেছেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী:
যেদিন আল্লাহ নবীকে এবং তাঁর সাথে যারা ঈমান এনেছে তাঁদের লাঞ্ছিত করবেন না। তাঁদের নূর তাঁদের সামনে এবং তাঁদের ডান পাশে ধাবিত হবে... [(১)]
আয়াতটি পূর্ণ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের ভালোবাসতেন, তাঁদের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর উম্মতকে তাঁদের গালি দেওয়া, তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা এবং তাঁদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকার অসিয়ত করেছেন। আর তাঁদের সমালোচনা সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা ধরে নিলেও তার নানাবিধ ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য রয়েছে। তা সত্ত্বেও, সেই বিষয়গুলো তাঁদের মর্যাদা এবং তাঁদের সন্তোষজনক কীর্তি ও প্রশংসনীয় জীবনচরিত সংক্রান্ত বর্ণনার সমকক্ষ হতে পারে না। আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি ভালোবাসার বরকতে আমাদের উপকৃত করুন। [(২)]
ইমাম নববী—আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন—বলেছেন:
জেনে রাখুন, সেই যুদ্ধগুলোর কারণ ছিল বিষয়গুলোর অস্পষ্টতা। অস্পষ্টতা অত্যন্ত প্রবল হওয়ার কারণে তাঁদের ইজতিহাদ বা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তে ভিন্নতা দেখা দিয়েছিল এবং তাঁরা তিন ভাগে বিভক্ত হয়েছিলেন: একদল, যাঁদের ইজতিহাদে এটি স্পষ্ট হয়েছিল যে এই পক্ষটিই সত্যের ওপর রয়েছে এবং এর বিরোধী পক্ষটি বিদ্রোহী; ফলে তাঁদের বিশ্বাস অনুযায়ী সত্যপন্থীকে সাহায্য করা এবং বিদ্রোহীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা তাঁদের ওপর আবশ্যক হয়ে পড়েছিল এবং তাঁরা তা-ই করেছিলেন। যাঁর অবস্থা এমন হয়, তাঁর জন্য বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ন্যায়পরায়ণ ইমামকে সাহায্য করা থেকে বিরত থাকা বৈধ ছিল না।
আরেক দল ছিল প্রথম দলের বিপরীত, যাঁদের ইজতিহাদে এটি প্রকাশ পেয়েছিল যে সত্য অন্য পক্ষটির সাথে রয়েছে; ফলে সেই পক্ষকে সাহায্য করা এবং বিদ্রোহীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা তাঁদের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়েছিল।
তৃতীয় একটি দল ছিল যাঁদের কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট থেকে গিয়েছিল এবং তাঁরা এ নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছিলেন। কোনো এক পক্ষকে প্রাধান্য দেওয়ার মতো কোনো সংকেত তাঁদের কাছে স্পষ্ট না হওয়ায় তাঁরা উভয় পক্ষ থেকে দূরে ছিলেন। তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিস্পৃহ থাকাই ছিল আবশ্যক, কারণ কোনো মুসলমানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া ততক্ষণ পর্যন্ত বৈধ নয় যতক্ষণ না সে এর উপযুক্ত বলে প্রমাণিত হয়। যদি তাঁদের কাছে কোনো এক পক্ষের অগ্রাধিকার এবং সত্য তাঁর সাথে থাকা স্পষ্ট হতো, তবে বিদ্রোহীর বিরুদ্ধে তাঁকে সাহায্য করা থেকে পিছিয়ে থাকা তাঁদের জন্য জায়েজ হতো না।
তাই তাঁরা সকলেই মার্জনীয়—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। এ কারণেই সত্যপন্থী উলামায়ে কেরাম এবং ইজমার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য বিশেষজ্ঞগণ তাঁদের সাক্ষ্য ও বর্ণনা গ্রহণ এবং তাঁদের পূর্ণ ন্যায়পরায়ণতার ব্যাপারে একমত হয়েছেন—আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الدواعي والعوامل التي توافرت في الصحابة حتى استظهروا القرآن والحديث النبوي الشريف وثبتوا فيهماإن محاولة الطّعن في أصحاب سيّدنا رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم هي محاولة للطّعن في القرآن الكريم والسّنّة النبويّة المشرفة فالطّاعن فيهم يريد زعزعة النّاس بكتاب اللَّه وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم مقصده في ذلك افتتان المسلمين عن دينهم فكثرت الأيدي الآثمة من النيل بكتاب اللَّه وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم فاستكثروا على الصّحابة- رضوان اللَّه عليهم- أن يكونوا قد حفظوا الحديث الشّريف، وهذا ما ستراه في الدّفاع عن إمام الحافظين سيدنا أبي هريرة- رضي الله عنه ومع كل ذلك أبي اللَّه إلّا أن يتمّ نوره ولو كره الكافرون.
وإليك ما كتب العلّامة الزّرقانيّ في «مناهل العرفان» فقال: ويزعم أن شبهات القوم كلها متشابهة، وطرق دفعها هي الأخرى متشابهة، فإن واجب الحيطة والحذر يقتضينا أن نقيم خطّا منيعا من خطوط الدّفاع عن الكتاب والسّنة، وأن نؤلف هذا الخطّ من جبهتين قويتين:
الجبهة الأولى: تطاول السّماء بتجلية الدواعي والعوامل التي توافرت في الصحابة حتى جعلت منهم كثرة غامرة يحفظون القرآن والحديث، وينقلونهما نقلا متواترا مستفيضا.
والجبهة الثانية: تفاخر الجوزاء بنظم الدّواعي والعوامل التي توافرت فيهم رضوان اللَّه عليهم، حتى جعلتهم يتثبّتون أبلغ تثبّت وأدقه في القرآن وجمع القرآن، وكل ما يتّصل بالقرآن، وفي الحديث الشّريف، وكل ما يتّصل بالحديث الشريف.
وإنّي أستمنح اللَّه فتوحا وتوفيقا في هذه المحاولة الجليلة، لِيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَنْ بَيِّنَةٍ، وَيَحْيى مَنْ حَيَّ عَنْ بَيِّنَةٍ، وَإِنَّ اللَّهَ لَسَمِيعٌ عَلِيمٌ [ (1) ] .
أوّلا: عوامل حفظ الصّحابة للكتاب والسّنّة
العامل الأوّل:أنهم كانوا أميين لا يعرفون القراءة، ولا يحذقون الخطّ والكتابة اللَّهمّ إلّا نزر يسير لا
--------------------------------------------
সহাবায়ে কিরামের মাঝে বিদ্যমান সেই সকল কারণ ও উপাদান যার মাধ্যমে তাঁরা কুরআন ও মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ মুখস্থ করেছেন এবং তাতে সুদৃঢ় হয়েছেনআমাদের নেতা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের প্রতি কটাক্ষ করার অপচেষ্টা মূলত পবিত্র কুরআন এবং সম্মানিত নববী সুন্নাহর প্রতি কটাক্ষ করারই নামান্তর। তাঁদের সমালোচনাকারী মূলত আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ সম্পর্কে মানুষের মাঝে সংশয় তৈরি করতে চায়; তার উদ্দেশ্য হলো মুসলিমদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করা। আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার জন্য অনেক পাপিষ্ঠ হাত সক্রিয় হয়েছে। তারা সাহাবায়ে কিরাম—রাযিয়াল্লাহু আনহুম—হাদীস শরীফ মুখস্থ রেখেছেন বলে যে তথ্য পাওয়া যায়, সেটিকে অনেক বড় করে দেখেছে (অবিশ্বাস্য মনে করেছে)। হাফেজদের ইমাম আমাদের নেতা আবু হুরায়রা—রাযিয়াল্লাহু আনহু—এর প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত আলোচনায় আপনি সেটি দেখতে পাবেন। এতদসত্ত্বেও আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণ করা ছাড়া ক্ষান্ত হবেন না, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।
আল্লামা যারকানি তাঁর 'মানাহিলুল ইরফান' গ্রন্থে যা লিখেছেন তা নিম্নরূপ: তিনি মনে করেন যে, উক্ত সম্প্রদায়ের উত্থাপিত সংশয়গুলো যেমন সব একরকম, তেমনি সেগুলো নিরসনের উপায়গুলোও অনেকটা একই ধরণের। এমতাবস্থায় সতর্কতা ও সাবধানতার দাবি হলো আমরা কুরআন ও সুন্নাহর সুরক্ষায় একটি দুর্ভেদ্য প্রতিরক্ষা ব্যূহ তৈরি করি এবং এই ব্যূহকে দুটি শক্তিশালী ফ্রন্ট দ্বারা গঠন করি:
প্রথম ফ্রন্ট: এটি আকাশসম উচ্চতায় সেই সকল কারণ ও উপাদানকে উন্মোচিত করবে যা সাহাবায়ে কিরামের মাঝে বিদ্যমান ছিল, যা তাঁদেরকে এমন এক বিশাল জামাতে পরিণত করেছিল যারা কুরআন ও হাদীস মুখস্থ রাখতেন এবং তা মুতাওয়াতির ও সুবিস্তৃতভাবে বর্ণনা করতেন।
দ্বিতীয় ফ্রন্ট: এটি সেই সকল কারণ ও উপাদান সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যাসের মাধ্যমে নক্ষত্ররাজিকেও হার মানাবে, যা সাহাবায়ে কিরাম—রাযিয়াল্লাহু আনহুম—এর মাঝে বিদ্যমান ছিল; যা তাঁদেরকে কুরআন, কুরআন সংকলন ও কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে এবং হাদীস শরীফ ও হাদীসের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে অত্যন্ত সুদৃঢ় ও সূক্ষ্মতম সতর্কতা অবলম্বনকারী হিসেবে গড়ে তুলেছিল।
আমি এই মহৎ প্রচেষ্টায় আল্লাহর নিকট বিজয় ও তাওফীক প্রার্থনা করছি, যাতে 'যে ধ্বংস হবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই জীবিত থাকে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।' [(১)]
প্রথমত: সাহাবায়ে কিরামের কুরআন ও সুন্নাহ সংরক্ষণের কারণসমূহপ্রথম কারণ:তাঁরা নিরক্ষর ছিলেন, পড়তে জানতেন না এবং হস্তলিপি ও লিখনে দক্ষ ছিলেন না। তবে খুব সামান্য কতিপয় লোক ব্যতীত যারা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
يصاغ منهم حكم على المجموع، وترجع هذه الأميّة السّائدة فيهم إلى غلبة البداوة عليهم وبعدهم عن أسباب الحضارة، وعدم اتّصالهم اتصالا وثيقا بالأمّتين المتحضّرتين آنذاك الفرس والروم.
ومعلوم أن الكتابة والقراءة وإمحاء الأميّة في أيّة أمّة رهين بخروجها من عهد السّذاجة والبساطة إلى عهد المدنية والحضارة.
ثم إن هذه الأميّة تجعل المرء منهم لا يعوّل إلا على حافظته وذاكرته فيما يهمّه حفظه وذكره، ومن هنا كان تعويل الصّحابة على حوافظهم يقدحونها في الإحاطة بكتاب اللَّه وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم لأن الحفظ هو السّبيل الوحيدة أو الشّبيهة بالوحيدة إلى إحاطتهم بها، ولو كانت الكتابة شائعة فيهم لاعتمدوا على النقش بين السّطور بدلا من الحفظ في الصّدور.
نعم، كان هناك كتّاب للوحي، وكان بعض الصّحابة يكتبون القرآن لأنفسهم، إلا أن هؤلاء وهؤلاء كانوا فئة قليلة، ولعلك لم تنس أن كتابة القرآن في عهد الرّسول صلى الله عليه وسلم كان الغرض منها زيادة التوثّق والاحتياط للقرآن الكريم بتقييده وتسجيله.
أما السّنة النّبوية
فقد نهى النّبي صلى الله عليه وسلم أصحابه عن كتابتها أوّل الأمر مخافة اللّبس بالقرآن، إذ قال عليه الصلاة والسلام: «لا تكتبوا عنّي، ومن كتب عنّي غير القرآن فليمحه، وحدّثوا عنّي فلا حرج، ومن كذب عليّ متعمّدا فليتبوَّأ مقعدة من النّار» [ (1) ] .
نعم. خشي الرّسول صلى الله عليه وسلم أن يختلط القرآن بالسّنّة إذا هم كتبوا السّنّة كما كانوا يكتبون القرآن، أو أن تتوزّع جهودهم وهي لا تحتمل أن يكتبوا جميع السّنّة وجميع القرآن فقصرهم على الأهمّ أوّلا وهو القرآن، خصوصا إذا لاحظنا أن أدوات الكتابة كانت نادرة لديهم إلى حدّ بعيد، حتى كانوا يكتبون في اللخاف والسّعف والعظام كما علمت.
فرحمة بهم من ناحية، وأخذا لهم بتقديم الأهمّ على المهمّ من ناحية ثانية، وحفظا للقرآن أن يشتبه بالسّنّة إذا هم كتبوا السّنّة بجانب القرآن نظرا إلى عزّة الورق، وندرة أدوات الكتابة، رعاية لهذه الغايات الثّلاث نهى الرّسول عن كتابة السّنّة.
أما إذا أمن اللّبس، ولم يخش الاختلاط، وكان الأمر سهلا على الشّخص فلا عليه أن
--------------------------------------------
তাদের সবার ওপর একটি সামষ্টিক বিধান প্রযোজ্য হয়, এবং তাদের মধ্যে বিরাজমান এই নিরক্ষরতার মূল কারণ ছিল তাদের ওপর মরুবাসী স্বভাবের প্রবলতা, সভ্যতার উপকরণ থেকে তাদের দূরত্ব এবং তৎকালীন দুই সভ্য জাতি পারস্য ও রোমের সাথে নিবিড় সংযোগের অভাব।
আর এটি সুবিদিত যে, কোনো জাতির মধ্যে লেখা-পড়া ও নিরক্ষরতা দূরীকরণ বিষয়টি সেই জাতির সারল্য ও অকৃত্রিমতার যুগ থেকে নাগরিক জীবন ও সভ্যতার যুগে পদার্পণের ওপর নির্ভরশীল।
অতঃপর এই নিরক্ষরতা তাদের প্রত্যেককে এমন করে তুলেছিল যে, কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মুখস্থ রাখা ও স্মরণে রাখার ক্ষেত্রে তারা কেবল নিজেদের স্মৃতিশক্তির ওপরই নির্ভর করত। এ কারণেই আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ আয়ত্ত করার ক্ষেত্রে সাহাবীগণ তাঁদের স্মৃতিশক্তির ওপর নির্ভর করতেন এবং তা তীক্ষ্ণ করতেন। কারণ মুখস্থ রাখাই ছিল এটি আয়ত্ত করার একমাত্র বা প্রায় একমাত্র উপায়। যদি তাদের মধ্যে লেখালেখি প্রচলিত থাকত, তবে তারা হৃদয়ে মুখস্থ রাখার পরিবর্তে সারির অন্তরালে খোদাইকৃত অক্ষরের ওপর নির্ভর করত।
হ্যাঁ, সেখানে ওহী লেখকগণ ছিলেন এবং কিছু সাহাবী নিজেদের জন্য কুরআন লিখে রাখতেন। তবে তারা সংখ্যায় অল্প ছিলেন। সম্ভবত আপনি ভুলে যাননি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে কুরআন লিপিবদ্ধ করার উদ্দেশ্য ছিল পবিত্র কুরআনকে নথিবদ্ধ ও সুসংবদ্ধ করার মাধ্যমে অধিকতর প্রামাণ্যতা ও সতর্কতা নিশ্চিত করা।
আর সুন্নাতে নববীর কথা যদি বলি—
তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাথমিক পর্যায়ে কুরআনের সাথে সংমিশ্রণ ঘটার আশঙ্কায় সাহাবীদের তা লিখতে নিষেধ করেছিলেন। কারণ তিনি আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলেছিলেন: "তোমরা আমার পক্ষ থেকে কিছু লিখো না; আর কুরআন ব্যতীত যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে কিছু লিখেছে, সে যেন তা মুছে ফেলে। তোমরা আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" [ (১) ]।
হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশঙ্কা করেছিলেন যে, তারা যেভাবে কুরআন লিখত, সেভাবে যদি সুন্নাহও লিখতে থাকে, তবে কুরআনের সাথে সুন্নাহর সংমিশ্রণ ঘটে যেতে পারে। অথবা তাদের প্রচেষ্টাগুলো বিভক্ত হয়ে যেতে পারে, অথচ তারা সমস্ত সুন্নাহ ও সমস্ত কুরআন একসাথে লেখার সক্ষমতা রাখত না। তাই তিনি তাদেরকে প্রথমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অর্থাৎ কুরআনের ওপর সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। বিশেষ করে আমরা যখন লক্ষ্য করি যে, তাদের কাছে লেখার উপকরণ অত্যন্ত দুর্লভ ছিল; এমনকি তারা পাতলা পাথর, খেজুরের ডাল ও হাড়ের ওপর লিখতেন, যেমনটি আপনি জানেন।
সুতরাং একদিকে তাদের প্রতি দয়াবশত, দ্বিতীয়ত কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়ার নীতি গ্রহণ করে এবং কাগজের দুষ্প্রাপ্যতা ও লিখন সামগ্রীর অভাবের প্রেক্ষিতে কুরআনের পাশে সুন্নাহ লিখলে উভয়ের মধ্যে অস্পষ্টতা তৈরি হওয়ার হাত থেকে কুরআনকে রক্ষা করার জন্য—এই তিনটি লক্ষ্য বজায় রাখার স্বার্থেই রাসূলুল্লাহ সুন্নাহ লিখতে নিষেধ করেছিলেন।
তবে যখন বিভ্রান্তির আশঙ্কা দূর হলো, সংমিশ্রণের ভয় রইল না এবং বিষয়টি কোনো ব্যক্তির জন্য সহজ হয়ে গেল, তখন তার জন্য কোনো বাধা রইল না যে সে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
يكتب الحديث الشريف كما يكتب القرآن الكريم، وعلى ذلك تحمل الأحاديث الواردة في الإذن بكتابة السّنة آخر الأمر، والواردة في الإذن لبعض الأشخاص كعبد اللَّه بن عمرو- رضي الله عنه.
وأيّا ما تكن كتابة القرآن والسّنة النّبويّة، فإن التّعويل قبل كل شيء كان على الحفظ والاستظهار، ولا يزال التّعويل حتى الآن على التّلقّي من صدور الرّجال، ثقة عن ثقة وإماما عن إمام إلى النّبيّ صلى الله عليه وسلم.
غير أنّ الرّجل الأميّ والأمّة الأميّة يكونان أسبق من غيرهما إلى الحفظ، للمعنى الّذي تقدّم.
العامل الثّاني:أن الصّحابة كانوا أمّة يضرب بها المثل في الذّكاء وقوة الحافظة وصفاء الطّبع، وسيلان الذّهن وحدّة الخاطر، وفي التاريخ العربيّ شواهد على ذلك يطول بنا تفصيلها، حتى لقد كان الرّجل منهم يحفظ ما يسمعه لأوّل مرّة مهما طال وكثر، وربّما كان من لغة غير لغته ولسان سوى لسانه، وحسبك أن تعرف أنّ رءوسهم كانت دواوين شعرهم، وأنّ صدورهم كانت سجلّ أنسابهم، وأن قلوبهم كانت كتاب وقائعهم وأيّامهم، كلّ أولئك كانت خصائص كامنة فيهم وفي سائر الأمّة العربيّة من قبل الإسلام، ثم جاء الإسلام فأرهف فيهم هذه القوى والمواهب، وزادهم من تلك المزايا والخصائص بما أفاد طبعهم من صقل، ونفوسهم من طهر، وعقولهم من سموّ، خصوصا إذا كانوا يسمعون لأصدق الحديث وهو كتاب اللَّه، ولخير الهدي، وهو هدي محمد صلى الله عليه وسلم.
العامل الثّالث:بساطة هذه الأمّة العربية، واقتصارها في حياتها على ضروريات الحياة من غير ميل إلى التّرف، ولا إنفاق جهد أو وقت في الكماليات، فقد كان حسب الواحد منهم لقيمات يقمن صلبه، وكان يكفيه من معيشته ما يذكره شاعرهم في قوله: [الطويل]
وما العيش إلّا نومة وتبطّح
… وتمرٌ على رأس النّخيل وماء
وأنت تعلم أن هذه الحياة الهادئة الوادعة وتلك العيشة الراضية القاصدة توفر الوقت والمجهود، وترضي الإنسان بالموجود، ولا تشغل البال بالمفقود، ولهذا أثره العظيم في صفاء الفكرة، وقوّة الحافظة وسيلان الأذهان، خصوصا أذهان الصّحابة في اتجاهها إلى حفظ القرآن وحديث النّبي- عليه الصلاة والسلام وذلك على حد قول القائل: [من الطويل]
হাদীস শরীফ ঠিক সেভাবেই লেখা হতো যেভাবে কুরআন কারীম লেখা হতো। আর সুন্নাহ লিখে রাখার অনুমতি সংক্রান্ত পরবর্তী সময়ের হাদীসসমূহ এবং আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মতো কতিপয় ব্যক্তিকে দেওয়া অনুমতির বর্ণনাগুলো এই অর্থেই গ্রহণ করা হয়।
কুরআন ও সুন্নাহর লিখন পদ্ধতি যে প্রকারেরই হোক না কেন, সবকিছুর আগে মূল নির্ভরতা ছিল মুখস্থ রাখা এবং স্মৃতিশক্তির ওপর। আর এখনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি হতে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি এবং ইমাম হতে ইমামের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া বক্ষস্থ জ্ঞান লাভের ওপরই নির্ভরতা চলে আসছে।
তবে একজন নিরক্ষর ব্যক্তি এবং একটি নিরক্ষর জাতি মুখস্থ করার ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে অগ্রগামী হয়ে থাকে, যার কারণ পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয় কারণ:সাহাবীগণ এমন এক জাতি ছিলেন যারা মেধা, স্মরণশক্তি, মেজাজের স্বচ্ছতা, চিন্তার সাবলীলতা এবং প্রখর বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে প্রবাদতুল্য ছিলেন। আরব ইতিহাসে এর এমন সব প্রমাণ রয়েছে যার বিস্তারিত আলোচনা দীর্ঘ হবে; এমনকি তাদের কোনো ব্যক্তি যা প্রথমবার শুনতেন তাই মুখস্থ করে ফেলতেন, তা যত দীর্ঘ বা বেশিই হোক না কেন, এমনকি তা তার নিজের ভাষা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় হলেও। আপনার জন্য এতটুকু জানাই যথেষ্ট যে, তাদের মস্তকগুলো ছিল তাদের কাব্যের দিওয়ান, তাদের বক্ষগুলো ছিল তাদের বংশলতিকার রেজিস্টার এবং তাদের অন্তরগুলো ছিল তাদের যুদ্ধ-বিগ্রহ ও ইতিহাসের কিতাব। এই সব বৈশিষ্ট্য ইসলাম-পূর্ব যুগে তাদের এবং সমগ্র আরব জাতির মধ্যে সুপ্ত অবস্থায় ছিল। অতঃপর ইসলাম এসে তাদের এই শক্তি ও প্রতিভাকে আরও শাণিত করল এবং তাদের সেই সব গুণ ও বৈশিষ্ট্যকে আরও বৃদ্ধি করে দিল। কারণ ইসলাম তাদের স্বভাবে পরিচ্ছন্নতা, আত্মায় পবিত্রতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিল; বিশেষ করে যখন তারা সবচেয়ে সত্য বাণী অর্থাৎ আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ শ্রবণ করতেন।
তৃতীয় কারণ:এই আরব জাতির সরলতা এবং বিলাসিতার প্রতি কোনো প্রকার ঝোঁক না রেখে কেবল জীবনধারণের প্রয়োজনীয় উপকরণের ওপর তাদের জীবনকে সীমাবদ্ধ রাখা। তারা আরাম-আয়েশের পেছনে শ্রম বা সময় ব্যয় করত না। তাদের একজনের জন্য কয়েক লোকমা খাবারই যথেষ্ট ছিল যা তার মেরুদণ্ড সোজা রাখতে পারে। তার জীবনযাত্রার জন্য ততটুকুই যথেষ্ট ছিল যা তাদের একজন কবি তার এই উক্তিতে বর্ণনা করেছেন: [তবিল ছন্দ]
জীবন তো কেবল ঘুম আর উপুড় হয়ে শুয়ে থাকা
… আর খেজুর গাছের চূড়ার খেজুর এবং পানি
আপনি জানেন যে, এই শান্ত-স্থির জীবন এবং অল্পে তুষ্ট পরিমিত জীবনযাপন সময় ও শ্রম সাশ্রয় করে, বিদ্যমান বস্তুর ওপর মানুষকে সন্তুষ্ট রাখে এবং যা নেই তা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে না। চিন্তার স্বচ্ছতা, মুখস্থ করার শক্তি এবং প্রখর মেধার ওপর এর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে; বিশেষ করে কুরআন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস মুখস্থ করার ক্ষেত্রে সাহাবীগণের মেধার যে একাগ্রতা ছিল তার ওপর। আর এটি একজন প্রবক্তার এই উক্তির মতোই: [তবিল ছন্দ থেকে]
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
............. ....
… فصادف قلبا خاليا فتمكّنا
العامل الرّابع:حبّهم الصّادق للَّه ولرسوله ملك مشاعرهم، واحتل مكان العقيدة فيهم، وأنت تعرف من دراسة علم النّفس أنّ الحب إذا صدق وتمكّن حمل المحبّ على ترسّم آثار محبوبه، والتلذّذ بحديثه، والتّنادر بأخباره، ووعى كل ما يصدر عنه، ويبدو منه، ومن هنا كان حب الصّحابة للَّه ورسوله من أقوى العوامل على حفظهم كتاب اللَّه وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم على حد قول القائل: [البسيط] ل
ها أحاديث من ذكراك تشغلها
… عن الشّراب وتلهيها عن الزّاد
لها بوجهك نور يستضاء به
… ومن حديثك في أعقابها حاد
إذا شكت من كلال السّير واعدها
… روح القدوم فتحيا عند ميعاد
أما حب الصّحابة العميق للَّه تعالى فلا يحتاج إلى شرح وبيان، ولا إلى إقامة دليل عليه وبرهان فهم كما
قال فيهم النّبيّ صلى الله عليه وسلم خير القرون قرني ثمّ الّذين يلونهم [ (1) ] ،
وهم الّذين بذلوا نفوسهم ونفائسهم رخيصة في سبيل رضاه، وهم الّذين باعوا الدّنيا بما فيها يبتغون فضلا من اللَّه، وهم الّذين حملوا هداية الإسلام إلى الشّرق والغرب، وأتوا بالعجب العجاب في نجاح الدعوة الإسلامية بالحضر والبدو، وكانوا أحرياء بمدح اللَّه لهم غير مرّة في القرآن وبثناء الرسول صلى الله عليه وسلم عليهم في أحاديث عظيمة الشّأن.
وأمّا مظاهر حبهم للرسول صلى الله عليه وسلم فما حكاه التاريخ الصادق عنهم من أنه ما كان أحد يحبّ أحدا مثل ما كان أصحاب محمّد يحبون محمّدا، دم الرّجل منهم رخيص في سبيل أن يفدي رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم من شوكة يشاكها في أسفل قدمه، وماء وضوئه يبتدرونه في اليوم الشّديد البرد
--------------------------------------------
............. ....
… ফলে এটি একটি শূন্য হৃদয় পেল এবং সেখানে জাঁকিয়ে বসল।
চতুর্থ কারণ:আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি তাঁদের অকৃত্রিম ভালোবাসা তাঁদের অনুভূতিসমূহকে জয় করে নিয়েছিল এবং তাঁদের অন্তরে আকিদার স্থান দখল করে নিয়েছিল। আপনি মনোবিজ্ঞান অধ্যয়ন থেকে জানেন যে, ভালোবাসা যখন সত্য হয় এবং সুদৃঢ় হয়, তখন তা প্রেমিককে তাঁর প্রিয়জনের পদাঙ্ক অনুসরণে, তাঁর কথা আস্বাদনে এবং তাঁর সংবাদ চর্চায় উদ্বুদ্ধ করে। এমনকি প্রিয়জনের পক্ষ থেকে যা কিছু প্রকাশ পায় বা নির্গত হয়, তা সে গভীরভাবে হৃদয়ঙ্গম করে। এই প্রেক্ষাপটেই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি সাহাবীগণের ভালোবাসা ছিল আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ সংরক্ষণের অন্যতম শক্তিশালী কারণ। যেমনটি জনৈক কবি বলেছেন: [বাসিত ছন্দ]
আপনার স্মৃতির এমন সব আলোচনা তার কাছে রয়েছে যা তাকে পানীয় থেকে বিমুখ রাখে
… এবং খাদ্য গ্রহণ থেকে অন্যমনস্ক করে দেয়।
আপনার চেহারায় তার জন্য এমন এক নূর রয়েছে যা থেকে আলো নেওয়া হয়
… আর আপনার কথা তার পদচিহ্নের অনুসারীদের জন্য চালিকাশক্তি স্বরূপ।
যখন সে পথচলার ক্লান্তির অভিযোগ করে, তখন মিলনের আনন্দ তাকে আশ্বস্ত করে
… ফলে সেই মিলনের ক্ষণে সে নতুন জীবন ফিরে পায়।
মহান আল্লাহর প্রতি সাহাবীগণের গভীর ভালোবাসার বিষয়টি কোনো ব্যাখ্যা বা বিবৃতির মুখাপেক্ষী নয়, আর না এর জন্য কোনো দলিল বা প্রমাণের প্রয়োজন আছে। কেননা তাঁদের সম্পর্কে
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সর্বোত্তম যুগ হলো আমার যুগ, তারপর যারা তাদের পরবর্তী আসবে।" [ (১) ]
তাঁরাই সেই মহান সত্তা যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে নিজেদের জীবন ও মূল্যবান সম্পদসমূহকে অকাতরে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁরাই দুনিয়া ও এর ভেতরকার সবকিছুকে তুচ্ছ জ্ঞান করে আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণে প্রবৃত্ত হয়েছিলেন। তাঁরাই ইসলামের হিদায়াতকে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে বহন করে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং লোকালয় ও মরুপ্রান্তরে ইসলামী দাওয়াতের সাফল্যে বিস্ময়কর সব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তাঁরা পবিত্র কুরআনে একাধিকবার আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রশংসা এবং সুমহান শানের অধিকারী হাদিসসমূহে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে উচ্চকিত প্রশংসার যোগ্য পাত্র ছিলেন।
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তাঁদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ইতিহাস বর্ণনা করে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ তাঁকে যতটা ভালোবাসতেন, তেমন ভালোবাসা কেউ কখনো কাউকে বাসেনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পায়ের নিচে যেন একটি কাঁটাও না বিঁধে, সেই লক্ষ্যে নিজেদের রক্ত বিসর্জন দেওয়া তাঁদের কাছে ছিল অতি নগণ্য বিষয়। এমনকি প্রচণ্ড শীতের দিনেও তাঁরা তাঁর ওযুর পানি সংগ্রহের জন্য পরস্পরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
يتبركون به، وأب الواحد منهم وأبناؤه من ألدّ أعدائه ما داموا يعادون محمّدا وحديث محمّد موضع التّنافس من رجالهم ونسائهم، حتى إذا أعيا الواحد منهم طلابه، تناوب هو وزميل له الاختلاف إلى رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم على أن يقوم أحدهما بعمل الآخر عند ذهابه، ويقوم الآخر برواية ما سمعه وعرفه من الرّسول بعد إيابه.
وهذه وافدة النّساء تقول لرسول اللَّه صلى الله عليه وسلم يا رسول اللَّه، غلبنا عليك الرّجال، فاجعل لنا من نفسك يوما نأتيك فيه تعلمنا ممّا علّمك اللَّه، إلى غير ذلك من شواهد ومظاهر، تدلّ على مبلغ هذا الحبّ السّامي الشّريف.
ويرحم اللَّه القائل: [الوافر]
أسرت قريش مسلما في غزوة
… فمضى بلا وجل إلى السّيّاف
سألوه: هل يرضيك أنّك سالم
… ولك النّبيّ فدى من الإتلاف
فأجاب كلّا لا سلمت من الرّدى
… ويصاب أنف محمّد برعاف
ولقد كان من مظاهر هذا الحبّ تسابقهم إلى كتاب اللَّه يأخذون عنه، ويحفظونه منه، ثم إلى سنّته الغرّاء يحيطون بأقوالها وأفعالها وأحوالها وتقريراتها، بل كانوا يتفنّنون في البحث عن هديه وخيره، والوقوف على صفته وشكله، كما تجد ذلك واضحا من سؤال الحسن والحسين عن حلية رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وما أجيبا به من تجلية تلك الصّور المحمّدية الرائعة، ورسمها بريشة المصور الماهر والصّناع القادر، على يد أبيهما عليّ بن أبي طالب، وخالهما هند بن أبي هالة رضي الله عنهم أجمعين.
العامل الخامس:بلاغة القرآن الكريم إلى حدّ فاق كلّ بيان، وأخرس كلّ لسان وأسكت كل معارض ومكابر، وهدم كلّ مجادل ومهاتر، حتى قام ولا يزال يقوم في فم الدنيا معجزة من اللَّه لحبيبه، وآية من الحقّ لتأييد رسوله، وبعد كلام اللَّه في إعجازه وبلاغته كلام محمد صلى الله عليه وسلم في إشراقه وديباجته وبراعته وجزالة ألفاظه وسموّ معانيه وهدايته، فقد كان صلى الله عليه وسلم أفصح النّاس وأبلغ النّاس، وكان العرب إلى جانب ذلك مأخوذين بكل فصيح بليغ، متنافسين في حفظ أجود المنظوم والمنثور، فمن هنا هبّوا هبّة واحدة يحفظون القرآن ويفهمون القرآن، وكذلك السّنّة النّبويّة كانت عنايتهم بحفظها والعمل بها تلي عنايتهم بالقرآن الكريم يتناقلونها ويتبادرونها كما سمعت.
والكلام في أسرار بلاغة القرآن ووجوه إعجازه، وفي بلاغة كلام النّبوّة وامتيازه وفي
তারা তাঁর মাধ্যমে বরকত লাভ করতেন। তাদের কারো বাবা কিংবা সন্তানও তাদের চরম শত্রুতে পরিণত হতো যতক্ষণ তারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শত্রুতা করত। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীস তাদের পুরুষ ও নারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। এমনকি যখন তাদের কেউ তা অন্বেষণে ক্লান্ত হয়ে পড়ত, তখন সে এবং তার একজন সাথী পর্যায়ক্রমে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দরবারে আসা-যাওয়া করত; এই শর্তে যে, একজন যখন (রাসূলের কাছে) যাবে অন্যজন তার অনুপস্থিতিতে তার কাজ করে দেবে, আর ফিরে আসার পর অন্যজন যা শুনেছে এবং রাসূলের কাছ থেকে যা জেনেছে তা বর্ণনা করবে।
আর এই যে নারী প্রতিনিধি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলছেন, "হে আল্লাহর রাসূল! পুরুষেরা আপনার সান্নিধ্য লাভে আমাদের ওপর জয়ী হয়ে গিয়েছে। সুতরাং আপনি নিজের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একটি দিন নির্ধারণ করুন, যেদিন আমরা আপনার কাছে আসব এবং আল্লাহ আপনাকে যা শিখিয়েছেন তা থেকে আপনি আমাদের শিক্ষা দেবেন।" এ ছাড়াও আরও অনেক নিদর্শন ও প্রমাণ রয়েছে যা এই সুউচ্চ ও মহৎ ভালোবাসার গভীরতা নির্দেশ করে।
আল্লাহ সেই কবিকে রহম করুন যিনি বলেছেন: [ওয়াফির ছন্দ]
কুরাইশরা এক যুদ্ধে এক মুসলিমকে বন্দি করেছিল
… অতঃপর সে নির্ভয়ে জল্লাদের দিকে এগিয়ে গেল।
তারা তাকে জিজ্ঞেস করল: তুমি কি এটা পছন্দ করবে যে তুমি নিরাপদ থাকো
… আর তোমার বদলে নবী ধ্বংসের শিকার হন?
সে উত্তর দিল: কক্ষনো না! আমি মৃত্যু থেকে মুক্তি চাই না
… আর এদিকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নাকে রক্ত ঝরুক (অর্থাৎ সামান্য আঘাত লাগুক)।
এই ভালোবাসারই অন্যতম বহিঃপ্রকাশ ছিল আল্লাহর কিতাবের প্রতি তাদের প্রতিযোগিতামূলক ধাবমান হওয়া, তা থেকে জ্ঞান গ্রহণ করা এবং তা মুখস্থ করা। এরপর তাঁর উজ্জ্বল সুন্নাহর প্রতি ধাবিত হওয়া; এর কথা, কাজ, অবস্থা ও মৌন সম্মতিসমূহকে আয়ত্ত করা। বরং তারা তাঁর হেদায়াত ও কল্যাণ অন্বেষণে এবং তাঁর গুণাবলি ও অবয়ব সম্পর্কে অবগত হওয়ার বিষয়ে গভীর পারদর্শিতা দেখাতেন। যেমনটি আপনি স্পষ্ট দেখতে পান হাসান ও হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শারীরিক সৌন্দর্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসার মাধ্যমে এবং সেই চমৎকার মুহাম্মাদী প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলার মাধ্যমে তাদের যে উত্তর দেওয়া হয়েছিল তার মাধ্যমে। যা অঙ্কিত হয়েছিল একজন দক্ষ রূপকার ও নিপুণ কারিগরের তুলিতে—তাদের পিতা আলী ইবনে আবি তালিব এবং তাদের মামা হিন্দ ইবনে আবি হালা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমায়িন)-এর মাধ্যমে।
পঞ্চম কারণ:কুরআনুল কারীমের অলঙ্কারশাস্ত্র এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা সমস্ত বর্ণনাভঙ্গিকে ছাড়িয়ে গিয়েছে, সমস্ত রসনাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে, প্রত্যেক বিরোধী ও অহংকারীকে নির্বাক করে দিয়েছে এবং প্রত্যেক বিতর্ককারী ও কলহপ্রিয়কে ধরাশায়ী করেছে। এমনকি এটি দুনিয়ার মুখে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রিয়তমের জন্য একটি মুজিযা হিসেবে এবং তাঁর রাসূলকে সমর্থনের জন্য সত্যের একটি নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আল্লাহর বাণীর অলৌকিকত্ব ও অলঙ্কারশাস্ত্রের পরেই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর স্থান; এর উজ্জ্বলতা, শৈলী, নিপুণতা, শব্দের গাম্ভীর্য, অর্থের উচ্চতা এবং হেদায়াতের দিক থেকে। কেননা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাঞ্জলভাষী ও বাগ্মী। আর আরবরাও এর পাশাপাশি প্রত্যেক প্রাঞ্জল ও বাগ্মী বাণীর প্রতি বিমোহিত ছিল এবং সর্বোত্তম কবিতা ও গদ্য মুখস্থ করার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল। এখান থেকেই তারা একযোগে কুরআন মুখস্থ করতে ও কুরআন বুঝতে সচেষ্ট হয়েছিল। একইভাবে সুন্নাহর প্রতিও তাদের গুরুত্ব ছিল; তা মুখস্থ করা এবং সে অনুযায়ী আমল করার বিষয়টি ছিল কুরআনুল কারীমের প্রতি তাদের গুরুত্বের পরেই। তারা একে অপরের কাছে এটি পৌঁছে দিত এবং এর দিকে ধাবিত হতো, যেমনটি আপনি শুনেছেন।
আর কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্রের রহস্য ও এর অলৌকিকত্বের দিকসমূহ এবং নবুওয়াতের বাণীর অলঙ্কারশাস্ত্র ও এর অনন্যতা সম্পর্কে আলোচনা...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
تنافس العرب في ميدان البيان كل ذلك مما لا يحتاج إلى شرح ولا تبيان، فهذا كتاب اللَّه ينطق علينا بالحقّ، ويتحدّى بإعجازه كافّة الخلق، وهذا سحر النّبوّة يفيض بالدّراري واللآلئ، ويزخر بالهدايات البالغة والحكم الغوالي، وهذا تاريخ الأدب العربيّ يسجّل لأولئك العرب تفوقهم في صناعة الكلام، وسبقهم في حلبة الفصاحة كافة الأنام، وامتيازهم في تذوق أسرار البلاغة خصوصا بلاغة القرآن.
العامل السّادس:التّرغيب في الإقبال على الكتاب والسّنّة علما وعملا، وحفظا وفهما، وتعليما ونشرا، وكذلك التّرهيب من الإعراض عنهما والإهمال لهما.
ففي القرآن الكريم قوله سبحانه: إِنَّ الَّذِينَ يَتْلُونَ كِتابَ اللَّهِ وَأَقامُوا الصَّلاةَ وَأَنْفَقُوا مِمَّا رَزَقْناهُمْ سِرًّا وَعَلانِيَةً يَرْجُونَ تِجارَةً لَنْ تَبُورَ، لِيُوَفِّيَهُمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدَهُمْ مِنْ فَضْلِهِ إِنَّهُ غَفُورٌ شَكُورٌ [ (1) ] .
فتأمّل كيف قدم تلاوة القرآن على إقام الصّلاة وإيتاء الزكاة؟ ونقرأ قوله جلّ ذكره:
كِتابٌ أَنْزَلْناهُ إِلَيْكَ مُبارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آياتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُوا الْأَلْبابِ [ (2) ] .
فانظر كيف حثّ بهذا الأسلوب البارع على تدبّر القرآن والتذكّر والاتّعاظ به.
ونقرأ قوله عزّ اسمه: إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ ما أَنْزَلْنا مِنَ الْبَيِّناتِ وَالْهُدى مِنْ بَعْدِ ما بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتابِ أُولئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّاعِنُونَ. إِلَّا الَّذِينَ تابُوا وَأَصْلَحُوا وَبَيَّنُوا فَأُولئِكَ أَتُوبُ عَلَيْهِمْ وَأَنَا التَّوَّابُ الرَّحِيمُ [ (3) ] .
فتدبّر كيف يكون وعيد من كتم القرآن وهدى القرآن؟
ثم نقرأ في السّنّة النّبوية
قوله صلى الله عليه وسلم: «ما اجتمع قوم في بيت من بيوت اللَّه يتلون كتاب اللَّه ويتدارسونه بينهم إلّا نزلت عليهم السّكينة، وغشيتهم الرّحمة، وحفّتهم الملائكة وذكرهم اللَّه فيمن عنده»
[ (4) ] .
--------------------------------------------
বাগ্মিতার ময়দানে আরবদের প্রতিযোগিতা—এসবই এমন বিষয় যা কোনো ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণের প্রয়োজন রাখে না। এই তো আল্লাহর কিতাব, যা আমাদের সামনে সত্য ব্যক্ত করছে এবং এর অলৌকিকত্বের মাধ্যমে সমস্ত সৃষ্টিজগতকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। এই তো নবুওয়াতের জাদু যা মণি-মুক্তার ন্যায় প্রজ্ঞায় বিচ্ছুরিত এবং সুদূরপ্রসারী হিদায়াত ও মূল্যবান হিকমতে ভরপুর। আর এই তো আরবি সাহিত্যের ইতিহাস, যা বাকশিল্পে সেই আরবদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং সাবলীলতার ময়দানে সমস্ত মানুষের ওপর তাদের অগ্রগামিতার কথা লিপিবদ্ধ করে রেখেছে। বিশেষ করে কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্রের রহস্য অনুধাবনে তাদের অনন্য বৈশিষ্ট্যের কথা বর্ণনা করেছে।
ষষ্ঠ কারণ:ইলম ও আমল, হিফজ ও অনুধাবন এবং শিক্ষা ও প্রচারের মাধ্যমে কুরআন ও সুন্নাহর দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান; একইভাবে এই দুটি থেকে বিমুখ হওয়া ও অবহেলার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয় যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন এক ব্যবসার আশা করে যা কখনো ধ্বংস হবে না। যাতে আল্লাহ তাদের প্রতিদান পূর্ণমাত্রায় দান করেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বাড়িয়ে দেন। নিশ্চয় তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও গুণগ্রাহী।" [ (১) ]।
লক্ষ্য করুন, কীভাবে তিনি সালাত কায়েম ও যাকাত প্রদানের আগে কুরআন তিলাওয়াতকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন? আমরা মহান আল্লাহর বাণী পাঠ করি:
"এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গবেষণা করে এবং বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে।" [ (২) ]।
দেখুন, কীভাবে এই চমৎকার শৈলীর মাধ্যমে কুরআনের তাদাব্বুর (গবেষণা), স্মরণ ও তা থেকে উপদেশ গ্রহণের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে।
আমরা মহান আল্লাহর বাণী পাঠ করি: "আমি যেসব স্পষ্ট নিদর্শন ও হিদায়াত নাযিল করেছি, মানুষের জন্য কিতাবে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার পর যারা তা গোপন করে, তাদের ওপর আল্লাহ লানত করেন এবং অন্যান্য লানতকারীরাও তাদের লানত করে। তবে যারা তাওবা করে, নিজেদের সংশোধন করে এবং সত্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে, আমি তাদের তাওবা কবুল করি। আর আমি অধিক তাওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু।" [ (৩) ]।
চিন্তা করুন, যারা কুরআন এবং কুরআনের হিদায়াত গোপন করে তাদের জন্য কী ভয়াবহ সতর্কবাণী রয়েছে?
এরপর আমরা সুন্নাহতে পাঠ করি
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "যখন কোনো সম্প্রদায় আল্লাহর ঘরসমূহের কোনো একটি ঘরে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে এবং নিজেদের মধ্যে তা নিয়ে পঠন-পাঠন করে, তখন তাদের ওপর প্রশান্তি নাযিল হয়, রহমত তাদের ঢেকে নেয়, ফেরেশতারা তাদের ঘিরে রাখে এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তীদের কাছে তাদের কথা আলোচনা করেন।"
[ (৪) ]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وفي «الصّحيحين» قوله صلى الله عليه وسلم: «خيركم من تعلّم القرآن وعلّمه» [ (1) ] .
وفي السّنة قوله صلى الله عليه وسلم: «عرضت عليّ ذنوب أمّتي فلم أر ذنبا أعظم من سورة من القرآن أو آية أتاها رجل ثمّ نسيها» [ (2) ] .
أليس ذلك وأمثال ذلك وهو كثير يحفز الهمم ويحرّك العزائم إلى حفظ القرآن واستظهاره والمداومة على تلاوته مخافة الوقوع في وعيد نسيانه، وهو وعيد شديد؟
أمّا السّنّة النّبوية فقد جاء في شأنها عن اللَّه تعالى: وَما آتاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ، وَما نَهاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا [ (3) ] ، وقوله: مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطاعَ اللَّهَ [ (4) ] ، وقوله: لَقَدْ كانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كانَ يَرْجُوا اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيراً [ (5) ] ، وقوله:
فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيما شَجَرَ بَيْنَهُمْ، ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً [ (6) ] .
وجاء ترغيبا في السّنّة النّبوية من الحديث الشّريف
قوله صلى الله عليه وسلم «نضّر اللَّه امرأ سمع منّا حديثا فأدّاه كما سمعه، فربّ مبلّغ أوعى من سامع» [ (7) ] ،
وهو حديث متواتر.
--------------------------------------------
এবং 'সহীহাইন'-এ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী রয়েছে: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শেখে এবং তা শিক্ষা দেয়" [ (১) ] ।
আর সুন্নাহর মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী রয়েছে: "আমার সামনে আমার উম্মতের পাপরাশি পেশ করা হয়েছিল, তখন আমি কোনো সূরার বা আয়াতের তুলনায় অধিক বড় কোনো পাপ দেখিনি যা কোনো ব্যক্তিকে দান করা হয়েছিল কিন্তু সে তা ভুলে গেছে" [ (২) ] ।
এগুলো এবং এ জাতীয় আরও অনেক বর্ণনা কি কুরআন হিফজ করার, একে আয়ত্তে রাখার এবং এর তিলাওয়াতের ওপর অবিচল থাকার জন্য হিম্মতকে উদ্দীপ্ত ও সংকল্পকে জাগ্রত করে না—এই ভয়ে যে, একে ভুলে যাওয়ার কঠোর সতর্কবার্তার মধ্যে যেন নিপতিত হতে না হয়, যা অত্যন্ত ভয়াবহ?
আর সুন্নাহে নববিয়্যাহ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে তোমরা বিরত থাকো" [ (৩) ] । তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল" [ (৪) ] । তাঁর বাণী: "তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে এক উত্তম আদর্শ" [ (৫) ] । এবং তাঁর বাণী:
"অতঃপর তোমার রবের শপথ, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তাদের মধ্যকার বিবাদপূর্ণ বিষয়ে তোমাকে বিচারক মান্য করে, তারপর তোমার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে নিজেদের মনে কোনো সংকীর্ণতা না পায় এবং তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়" [ (৬) ] ।
সুন্নাহে নববিয়্যাহর প্রতি উৎসাহিত করতে হাদিসে শরিফে এসেছে:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আল্লাহ সেই ব্যক্তির মুখমণ্ডল উজ্জ্বল করুন, যে আমাদের নিকট থেকে কোনো হাদিস শুনেছে অতঃপর তা যেভাবে শুনেছে সেভাবেই পৌঁছে দিয়েছে। কেননা অনেক সময় যাকে পৌঁছানো হয় সে শ্রবণকারী অপেক্ষা অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে" [ (৭) ] ।
আর এটি একটি মুতাওয়াতির হাদিস।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وقوله صلى الله عليه وسلم في خطبة حجة الوداع: «ألا فليبلّغ الشّاهد الغائب، فلعلّ بعض من يبلغه أن يكون أوعى له من بعض من سمعه» [ (1) ] .
وجاء ترهيبا من الإعراض عن السّنّة
قوله صلى الله عليه وسلم: «من رغب عن سنّتي فليس منّي» [ (2) ] .
وقوله صلى الله عليه وسلم: «ألا هل عسى رجل يبلغه الحديث عنّي، وهو متكئ على أريكته فيقول:
بيننا وبينكم كتاب اللَّه تعالى، فما وجدنا فيه حلالا استحللناه، وما وجدنا فيه حراما حرّمناه، وإنّ ما حرّم رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم كما حرّمه اللَّه» [ (3) ] .
فأنت ترى في الآيات والأحاديث الشّريفة ما يحفز همّة المؤمن الضّعيف إلى الإقبال على روائع النّبوة يستهديها، وبدائع النّبيّ صلى الله عليه وسلم يستظهرها، فكيف أنت والصّحابة الّذين كانوا لا يضارعون طول باع ولا علوّ همّة في هذا الميدان؟
العامل السّابع:منزلة الكتاب والسّنّة من الدّين، فالكتاب هو أصل التّشريع الأوّل والدّستور الجامع لخير الدّنيا والآخرة، والقانون المنظم لعلاقة الإنسان باللَّه، وعلاقته بالمجتمع الّذي يعيش فيه، ثمّ السّنّة هي الأصل الثّاني للتّشريع، وهي شارحة للقرآن الكريم، مفصّلة لمجمله، مقيّدة لمطلقه، مخصّصة لعامه، مبيّنة لمبهمه، مظهرة لأسراره كما قال سبحانه: وَأَنْزَلْنا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ ما نُزِّلَ إِلَيْهِمْ، وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ [ (4) ]
--------------------------------------------
এবং বিদায় হজের ভাষণে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: «সাবধান! উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়, কারণ হতে পারে যাকে পৌঁছে দেওয়া হবে সে শ্রবণকারীর চেয়ে বেশি সংরক্ষণকারী হবে» [ (১) ] ।
সুন্নাহ থেকে বিমুখ হওয়ার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন স্বরূপ এসেছে
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: «যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ থেকে বিমুখ হবে, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়» [ (২) ] ।
এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: «সাবধান! অচিরেই এমন এক ব্যক্তির কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো হাদিস পৌঁছাবে, যখন সে তার সুউচ্চ আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে এবং বলবে:
আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট, তাতে যা আমরা হালাল পাব তাকেই হালাল হিসেবে গ্রহণ করব এবং যা হারাম পাব তাকেই হারাম হিসেবে গণ্য করব। অথচ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা হারাম করেছেন তা আল্লাহর হারাম করার মতোই» [ (৩) ] ।
সুতরাং আপনি এই আয়াত ও হাদিসসমূহে এমন কিছু দেখতে পাচ্ছেন যা একজন দুর্বল মুমিনের হিম্মতকেও নবুয়তের চমৎকার বিষয়গুলোর দিকে ধাবিত হতে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনন্য আদর্শগুলো আয়ত্ত করতে উদ্দীপ্ত করে। তাহলে সেই সাহাবীদের অবস্থা কেমন ছিল, যারা এই ময়দানে কর্মতৎপরতা বা উচ্চ হিম্মতের দিক থেকে অতুলনীয় ছিলেন?
সপ্তম কারণ:দ্বীনের ক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাহর মর্যাদা। কিতাব হলো শরীয়তের প্রথম উৎস এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের জন্য এক সমন্বিত সংবিধান, যা আল্লাহর সাথে মানুষের সম্পর্ক এবং সে যে সমাজে বাস করে তার সাথে তার সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণকারী আইন। অতঃপর সুন্নাহ হলো শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস, যা পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদানকারী, এর সংক্ষিপ্ত বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনাকারী, এর নিঃশর্ত বিষয়ের শর্ত আরোপকারী, এর সাধারণ বিষয়ের নির্দিষ্টকারী, এর অস্পষ্ট বিষয়ের স্পষ্টকারী এবং এর রহস্য উন্মোচনকারী; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: আর আমি আপনার প্রতি যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে [ (৪) ]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
ومن هنا يقول ابن كثير: «السّنة قاضية على الكتاب وليس الكتاب قاضيا على السّنّة» ، يريد بهذه الكلمة ما وضحه السّيوطيّ بقوله: والحاصل أن معنى احتياج القرآن إلى السّنّة أنها مبيّنة له ومفصّلة لمجملاته، لأن فيه لو جازته كنوزا يحتاج إلى من يعرف خفايا خباياها فيبرزها، وذلك هو المنزل عليه صلى الله عليه وسلم وهو معنى كون السّنّة قاضية على الكتاب، وليس القرآن مبيّنا للسّنّة ولا قاضيا عليها، لأنها بيّنة بنفسها، إذ لم تصل إلى حدّ القرآن في الإعجاز والإيجاز، لأنها شرح له، وشأن الشّرح أن يكون أوضح وأبين وأبسط من المشروح» .
ولا ريب أنّ الصّحابة كانوا أعرف النّاس بمنزلة الكتاب والسّنّة، فلا غرو أن كانوا أحرص على حذقهما وحفظهما والعمل بهما.
العامل الثّامن:ارتباط كثير من كلام اللَّه ورسوله بوقائع وحوادث وأسئلة من شأنها أن تثير الاهتمام، وتنبّه الأذهان، وتلفت الأنظار إلى قضاء اللَّه ورسوله فيها، وحديثهما عنهما وإجابتهما عليها، وبذلك يتمكّن الوحي الإلهي والكلام النّبويّ في النّفوس أفضل تمكن، وينتقش في الأذهان على مرّ الزّمان.
انظر إلى القرآن الكريم تجده يساير الحوادث والطّوارئ في تجددها ووقوعها، فتارة يجيب السّائلين على أسئلتهم بمثل قوله تعالى: وَيَسْئَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَما أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا [ (1) ] .
وتارة يفصّل في مشكلة قامت، ويقضي على فتنة طغت بمثل قوله تعالى: إِنَّ الَّذِينَ جاؤُ بِالْإِفْكِ عُصْبَةٌ مِنْكُمْ لا تَحْسَبُوهُ شَرًّا لَكُمْ بَلْ هُوَ خَيْرٌ لَكُمْ، إلى قوله: مُبَرَّؤُنَ مِمَّا يَقُولُونَ لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ [ (2) ] .
وهي ستّ عشرة آية نزلت في حادث من أروع الحوادث هو اتّهام أمّ المؤمنين سيدتنا الجليلة السيدة أم المؤمنين عائشة زوج رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، الصّديقة بنت الصّديق، وفي هذه الآيات دروس اجتماعية قرئت، ولا تزال تقرأ على النّاس إلى يوم القيامة، ولا تزال تسجل براءة الحصان الطاهرة من فوق سبع سماوات، وتارة يلفت القرآن أنظار المسلمين إلى تصحيح أغلاطهم الّتي وقعوا فيها، ويرشدهم إلى شاكلة الصّواب كقوله في سورة آل عمران. وَإِذْ غَدَوْتَ مِنْ أَهْلِكَ تُبَوِّئُ الْمُؤْمِنِينَ مَقاعِدَ لِلْقِتالِ إلخ الآيات، التي نزلت في
--------------------------------------------
এখান থেকেই ইবনে কাসীর বলেন: «সুন্নাহ কিতাবের (কুরআনের) বিচারক, কিন্তু কিতাব সুন্নাহর ওপর বিচারক নয়», এই কথা দ্বারা তিনি যা বোঝাতে চেয়েছেন, তা সুয়ূতী তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন: «সারকথা হলো, কুরআনের সুন্নাহর মুখাপেক্ষী হওয়ার অর্থ হলো সুন্নাহ কুরআনের ব্যাখ্যাকারী এবং এর সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর বিশদ বর্ণনাকারী। কারণ কুরআনের সংক্ষিপ্ততার মাঝে এমন সব গুপ্তধন রয়েছে যার জন্য এমন কাউকে প্রয়োজন যে এর গোপন রহস্যগুলো জানবে এবং তা প্রকাশ করবে। আর তিনি হলেন যাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। সুন্নাহ কিতাবের ওপর বিচারক হওয়ার অর্থ এটিই। কুরআন সুন্নাহর ব্যাখ্যাকারী বা বিচারক নয়; কারণ সুন্নাহ নিজেই সুস্পষ্ট। সুন্নাহ অলৌকিকত্ব (মুজিজা) এবং সংক্ষিপ্ততার দিক থেকে কুরআনের স্তরে পৌঁছায়নি, কারণ তা হলো কুরআনের ব্যাখ্যা। আর ব্যাখ্যার বৈশিষ্ট্যই হলো তা মূল পাঠের তুলনায় অধিকতর স্পষ্ট, বিশদ ও সহজ হয়ে থাকে»।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সাহাবীগণ কুরআন ও সুন্নাহর মর্যাদা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবগত ছিলেন। তাই তারা এ দুটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন, সংরক্ষণ এবং সে অনুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই।
অষ্টম কারণ:আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনেক বাণীর সাথে বিভিন্ন ঘটনা, দুর্ঘটনা এবং প্রশ্নের সংশ্লিষ্টতা, যা মানুষের আগ্রহকে উদ্দীপিত করে, মেধাকে জাগ্রত করে এবং আল্লাহর ফয়সালা ও তাঁর রাসূলের সিদ্ধান্তের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এর ফলে ঐশী ওহী এবং নববী বাণী অন্তরে সর্বোত্তমভাবে গেঁথে যায় এবং সময়ের আবর্তে স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকে।
আপনি পবিত্র কুরআনের দিকে তাকালে দেখতে পাবেন যে, তা বিভিন্ন ঘটনা ও আকস্মিক পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। কখনো তা প্রশ্নকারীদের প্রশ্নের উত্তর দেয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: তারা আপনাকে রুহ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বলুন: রুহ আমার প্রতিপালকের আদেশঘটিত এবং তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে [ (১) ]।
আবার কখনো তা উদ্ভূত সমস্যার সমাধান দেয় এবং মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা ফিতনার অবসান ঘটায়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: যারা এই অপবাদ রচনা করেছে তারা তো তোমাদেরই একটি দল। একে তোমরা তোমাদের জন্য অনিষ্টকর মনে করো না; বরং এ তো তোমাদের জন্য কল্যাণকর, আয়াতের শেষ পর্যন্ত: তারা যা বলে তা থেকে এরা মুক্ত। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিজিক [ (২) ]।
এই ষোলটি আয়াত এমন এক অভূতপূর্ব ঘটনায় অবতীর্ণ হয়েছিল যা ছিল মুমিনদের জননী, আমাদের মহীয়সী নারী, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিণী, সিদ্দীকের কন্যা সিদ্দীকা আয়েশা (রা.)-এর ওপর অপবাদ আরোপের ঘটনা। এই আয়াতগুলোতে এমন সামাজিক শিক্ষা রয়েছে যা পঠিত হয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের কাছে পঠিত হতে থাকবে। এই আয়াতগুলো সাত আসমানের ওপর থেকে পবিত্র ও সতী নারীর নির্দোষিতা ঘোষণা করে যাচ্ছে। কখনো কুরআন মুসলমানদের ভুলত্রুটি সংশোধনের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং তাদের সঠিক পথের দিশা দেয়, যেমন সূরা আলে ইমরানে বর্ণিত হয়েছে: আর স্মরণ করুন যখন আপনি অতি প্রত্যুষে আপনার পরিজনদের নিকট থেকে বের হয়ে মুমিনদেরকে যুদ্ধের জন্য অবস্থানে বিন্যস্ত করছিলেন ইত্যাদি আয়াতসমূহ, যা অবতীর্ণ হয়েছিল
--------------------------------------------