(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: -)
إذهاب الحزن وشفاء الصدر السقيم   (عبد السلام مقبل المجيدي)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: إذهاب الحزن وشفاء الصدر السقيم

المؤلف: عبد السلام مقبل المجيدي

الناشر: دار الإيمان - القاهرة

الطبعة: -

عدد الصفحات: 573

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বিষণ্ণতা দূরীকরণ ও অসুস্থ হৃদয়ের আরোগ্য   (আবদুস সালাম মুকবিল আল-মাজঈদী)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী


গ্রন্থ: বিষণ্ণতা দূরীকরণ ও অসুস্থ হৃদয়ের আরোগ্য

লেখক: আবদুস সালাম মুকবিল আল-মাজঈদী

প্রকাশক: দারুল ঈমান - কায়রো

সংস্করণ: -

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৭৩

[বইয়ের নম্বরকরণ মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الإهداء

إلى: سيدي رسول الله صلى الله عليه وسلم … صاحب خبر السماء صلى الله عليه وسلم … نفسي له الفداء …

أنفاسك الطاهرة … طالما أقرأت الكتاب المجيد … فكان من يديك- يا سيدي- كلّ برّ أمين مبين رشيد … فخلف من بعدهم- يا سيدي- خلف ورثوا الكتاب … يأخذون عرض هذا الأدنى … طمعا في السراب … وبلي القران في صدور أقوام كما تبلى الثياب … وانطلق الملأ منهم ينتجون: إن سيرهم على حرف الكتاب لفي ضلال مبين … فحرفوه، ورموا به في غيابات الجب، وكانوا فاعلين … وهم يصعدون …

يصعدون- يا سيدي- ولا يلوون على أحد … واشتري بايات الله ثمن قليل …

وحشرج الصدر لذلك بعويل الأسوار، وسمعت اهات نداء الحق خلف أسوار العويل … وملأ من المؤمنين للحق كارهون … يجادلون في الحق بعدما تبين، وهم ينظرون … وأحلوا الخسر؛ إذ حطموا باستكبارهم التواصي بحق وصبر، وهم لا يشعرون … وصار ما سوى الكتاب المجيد عندهم هو العجاب … فمسنا حين من الدهر تاهت عنا فيه حقيقة المتاب … وأفل عنا كل نور صالح، وتركتنا شفقة عبد لله ناصح، ولغبنا بعوج ماديات المصالح، ونأت خلفنا هدايات عليّ حكيم …

فذهبت الريح … وبكى الغار … وأنّ أحد وَمَنْ يُهِنِ اللَّهُ فَما لَهُ مِنْ مُكْرِمٍ … ألم تدعهم في أخراهم … وأخذ عليهم ميثاق الكتاب ألا يقولوا على الله إلا الحق …

فكان نداؤك- يا حبيبي- يشق الأزمان للولهى، ويغيث أمة من اضطرام الفتنة حيرى: «هذا الكتاب … فتمسكوا به فإنكم لن تضلوا بعده أبدا» ، فسارع إلى الخيرات كلّ ممسّك بالكتاب يهدي إلى الحق وإلى طريق مستقيم … يبتغي الحق مظانه، وعلى شدة القروح انقلبوا بنعمة من الله وفضل … لم يمسسهم سوء … فإذا
উৎসর্গ

নিবেদন: আমার নেতা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি … আসমানের বার্তার অধিকারী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি … তাঁর জন্য আমার প্রাণ উৎসর্গিত হোক …

আপনার পবিত্র নিশ্বাস … দীর্ঘকাল আপনি এই মহিমান্বিত কিতাব পাঠ করেছেন … ফলে আপনার দুহাত থেকেই—হে আমার নেতা—প্রতিটি কল্যাণকর, বিশ্বস্ত, সুস্পষ্ট ও সঠিক পথনির্দেশ এসেছে … অতঃপর তাদের পরে—হে আমার নেতা—এমন এক উত্তরসূরিদের আবির্ভাব ঘটল যারা কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়েছে … তারা এই তুচ্ছ দুনিয়ার ধন-সম্পদ গ্রহণ করে … মরীচিকার লোভে … আর একদল জাতির অন্তরে কুরআন জীর্ণ হয়ে গেছে যেমন জীর্ণ হয়ে যায় পোশাক … তাদের একদল প্রভাবশালী লোক এই বলে প্রচার করতে শুরু করল যে: কিতাবের আক্ষরিক বিধানের ওপর তাদের পথচলা নিশ্চিতভাবেই সুস্পষ্ট গোমরাহি … অতঃপর তারা তা বিকৃত করল এবং একে নিক্ষেপ করল গভীর অন্ধকার কূপে, আর তারা ছিল সক্রিয় অপরাধী … যখন তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করছিল …

তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করছিল—হে আমার নেতা—এবং তারা কারো দিকে ফিরে তাকাচ্ছিল না … আর আল্লাহর আয়াতসমূহকে সামান্য মূল্যে বিক্রি করা হয়েছিল …

সেই কারণে বিলাপের প্রাচীরের আর্তনাদে বুক কেঁপে উঠেছিল, আর বিলাপের প্রাচীরের আড়ালে সত্যের আহ্বানের দীর্ঘশ্বাস শোনা যাচ্ছিল … আর মুমিনদের একদল সত্যকে অপছন্দকারী ছিল … সত্য সুস্পষ্ট হওয়ার পর তারা সে বিষয়ে বিতর্ক করছিল, যেন তারা চেয়ে চেয়ে দেখছিল … তারা ক্ষতিকে বরণ করে নিল; যখন তারা তাদের অহংকারের মাধ্যমে সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ প্রদানকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করল, অথচ তারা অনুভব করতে পারছিল না … আর মহিমান্বিত কিতাব ছাড়া অন্য যা কিছু ছিল তাই তাদের নিকট আশ্চর্যজনক মনে হতে লাগল … অতঃপর কালের এমন এক সময় আমাদের ওপর এল যখন আমাদের নিকট থেকে তওবার প্রকৃত হাকিকত হারিয়ে গেল … আমাদের নিকট থেকে প্রতিটি নেক নূর অদৃশ্য হয়ে গেল, এবং আল্লাহর একজন কল্যাণকামী বান্দার মমতা আমাদের ছেড়ে চলে গেল, আর বৈষয়িক স্বার্থের বক্রতায় আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়লাম, এবং সুউচ্চ প্রজ্ঞাময় সত্তার হিদায়াতসমূহ আমাদের পেছনে দূরে সরে গেল …

ফলে প্রভাব-প্রতিপত্তি চলে গেল … গুহা কেঁদে উঠল … এবং উহুদ পাহাড় আর্তনাদ করল, আর আল্লাহ যাকে অপমানিত করেন তাকে সম্মান দাতা কেউ নেই … আপনি কি তাদের তাদের শেষ অবস্থায় ছেড়ে দেননি … আর তাদের নিকট থেকে কিতাবের অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছিল যেন তারা আল্লাহ সম্পর্কে সত্য ছাড়া অন্য কিছু না বলে …

অতঃপর আপনার আহ্বান—হে আমার প্রিয়—শোকার্তদের জন্য কালকে চিরে দিচ্ছিল, এবং ফিতনার আগুনে দগ্ধ বিভ্রান্ত উম্মতকে উদ্ধার করছিল: «এই কিতাব … তোমরা একে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো, কারণ এরপর তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না», ফলে কিতাবকে দৃঢ়ভাবে ধারণকারী প্রত্যেকেই কল্যাণের দিকে ধাবিত হলো যা সত্যের দিকে এবং সরল পথের দিকে পরিচালিত করে … সে সত্যকে তার প্রকৃত উৎসসমূহে অনুসন্ধান করে, এবং ক্ষতের তীব্রতা সত্ত্বেও তারা আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহ নিয়ে ফিরে এল … কোনো অনিষ্ট তাদের স্পর্শ করেনি … তখন...
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ৪)
سعيهم محمّد محمود أحمد … بما علمتهم من الكتاب المجيد … حتى كادوا يكونون عليه- لهفا وشوقا- لبدا … ينتظرون ورود الحوض، وشروق شمسك أمامه … كأن وجهك ورقة مصحف علّمته … وما زالوا- يا حبيبي- يخرون للأذقان … يبكون ابتغاء شربة هنيئة لا تظمأ بعدها قلوب لهفى طالما ظمئت إلى يدك الشريفة- أبدا …

يرددون مع الحبيب الجليل ابن أم عبد- إذ أمرتهم بالتمسك بعهده-:

«اللهم أسالك إيمانا لا يرتد … ونعيما لا ينفد … ومرافقة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم في أعلى جنان الخلد …
তাদের প্রচেষ্টা প্রশংসিত, প্রশংসনীয় ও উত্তম … আপনি তাদের মহান কিতাব থেকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তার মাধ্যমে … এমনকি তারা তাঁর নিকট—আকুলতা ও আকাঙ্ক্ষায়—ভিড় জমানোর উপক্রম হয়েছিল … তারা হাউযে আগমন এবং তার সামনে আপনার সূর্যের উদয়ের অপেক্ষায় রয়েছে … যেন আপনার চেহারা মুসহাফের একটি পাতা যা আপনি শিক্ষা দিয়েছেন … হে আমার প্রিয়তম, তারা থুতনির ওপর লুটিয়ে পড়তে থাকল … তারা এমন এক তৃপ্তিদায়ক পানীয়ের আশায় কাঁদছে যার পর সেই আকুল অন্তরগুলো আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না, যা আপনার সম্মানিত হাতের জন্য দীর্ঘকাল তৃষ্ণার্ত ছিল—চিরকাল …

তারা মহান প্রিয়ভাজন ইবনে উম্মে আবদ-এর সাথে পুনরাবৃত্তি করছিল—যখন আপনি তাদের তাঁর অঙ্গীকার আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়েছিলেন—:

«হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এমন ঈমান প্রার্থনা করছি যা বিচ্যুত হবে না … এবং এমন নিয়ামত যা শেষ হবে না … এবং জান্নাতুল খুলদের সর্বোচ্চ স্তরে আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহচর্য …
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

المقدّمة

الحمد لله على الائه … هدانا لهذا، وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله … لقد جاءت رسل ربنا بالحق، ومقال الصدق، صلى اللة عليهم اجمعين … اللهم صلّ على محمد صلاة أزدلف بها إلى مغفرتك، وسلم عليه تسليما يحشرني في زمرة أوليائه … الهم اجعل صلاتك ورحمتك وبركاتك على سيد المرسلين، وإمام المتقين، وخاتم النبيين محمد عبدك ورسولك إمام الخير، وقائد الخير، ورسول الرحمة … الهم ابعثه مقاما محمودا يغبطه به الأولون والاخرون، وعلى اله وأصحابه الكرام الطيبين، الأخيار الطاهرين.

اللهم إني أعوذ بك أن أقول بحقّ أطلب به غير طاعتك، وأعوذ بك أن أتزين للناس بشيء يشينني عندك … أعوذ بك أن أستعين بشيء من معاصيك على ضرّ نزل بي … أعوذ بك أن تجعلني عبرة لأحد من خلقك في مقام الخزي … اجعلى ممن ابتدأته بفضلك … وأعقبته بودك، ورأفتك، ورحمتك.

وبعد: فكم عللت الفؤاد العليل بإشراق غده ان أن كان يتطلع لهفا وشوقا إلى معرفة المنهجية النبوية الصافية في تعليم اللفظ القراني … فمتى غده إن لم يكن الان؟ والاخرة على الأبواب … ومعرفة كهذه تفتح أبواب الإيمان واليقين والعمل والإخبات ففيها لكل ذلك مغتسل بارد وشراب … وقد كانت رسالة العالمية العليا (الدكتوراه) محاوله أولية في سبيل تحقيق ذلك، إلا أن طولها، وعمق أبواب كثيرة من مسائلها دعا عددا من الأحباب النصحة لكتاب الله وللمسلمين إلى طلب اختصارها عسى أن يعم النفع بها لعامة المسلمين بعد أن كان موقوفا على
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর নেয়ামতসমূহের উপর … তিনি আমাদের এর দিকে পথ দেখিয়েছেন, আর আল্লাহ আমাদের পথ না দেখালে আমরা কখনোই পথ পেতাম না … আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য ও সত্য বাণী নিয়ে এসেছেন, তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক … হে আল্লাহ! মুহাম্মাদের ওপর এমন রহমত বর্ষণ করুন যার মাধ্যমে আমি আপনার ক্ষমার নিকটবর্তী হতে পারি, এবং তাঁকে এমনভাবে শান্তি প্রদান করুন যা আমাকে তাঁর বন্ধুদের দলের সাথে পুনরুত্থিত করবে … হে আল্লাহ! আপনি আপনার রহমত, করুণা ও বরকত বর্ষণ করুন রাসূলগণের সরদার, মুত্তাকীদের ইমাম ও সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি আপনার বান্দা ও রাসূল, কল্যাণের ইমাম, কল্যাণের নেতা ও রহমতের রাসূল … হে আল্লাহ! তাঁকে সেই মাকামে মাহমুদে (প্রশংসিত স্থানে) পৌঁছে দিন যাতে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষ ঈর্ষা করবে, এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সম্মানীত, পবিত্র, শ্রেষ্ঠ ও নির্মল সাহাবীগণের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি এমন সত্য বলা থেকে যার মাধ্যমে আমি আপনার আনুগত্য ব্যতীত অন্য কিছু প্রত্যাশা করি, এবং আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি মানুষের সামনে এমন কিছু দিয়ে নিজেকে সজ্জিত করা থেকে যা আপনার নিকট আমাকে লাঞ্ছিত করবে … আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি আমার ওপর আপতিত কোনো বিপদে আপনার অবাধ্যতামূলক কোনো কিছুর সাহায্য গ্রহণ করা থেকে … আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি আপনি যেন আমাকে আপনার সৃষ্টির কারো কাছে অপমানের দৃষ্টান্ত না বানান … আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যাদেরকে আপনি আপনার অনুগ্রহ দ্বারা শুরু করেছেন … এবং যাদের পরিণাম আপনার ভালোবাসা, মমতা ও করুণা দ্বারা পূর্ণ করেছেন।

অতঃপর: আমি কতবারই না এই রুগ্ন হৃদয়কে আগামীর উজ্জ্বল দিনের আশা দিয়ে সান্ত্বনা দিয়েছি, যখন এটি কুরআনের শব্দাবলী শিক্ষার বিশুদ্ধ নববী পদ্ধতি জানার জন্য প্রবল আকাঙ্ক্ষা ও আগ্রহ নিয়ে পথ চেয়ে ছিল … তবে সেই আগামী কাল কখন আসবে যদি এখনই না হয়? আর আখিরাত তো সন্নিকটে … এই ধরণের জ্ঞান ঈমান, ইয়াকীন, আমল ও বিনয়-একাগ্রতার দ্বার উন্মোচন করে, কারণ এতে রয়েছে সেই সবকিছুর জন্য শীতল গোসল ও পানীয় … আমার ডক্টরেট (পিএইচডি) গবেষণাপত্রটি ছিল এই লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি প্রাথমিক প্রচেষ্টা; তবে এর দীর্ঘতা এবং এর অনেক প্রসঙ্গের গভীরতার কারণে আল্লাহর কিতাব ও মুসলিমদের কল্যাণকামী একদল প্রিয়জন এটি সংক্ষিপ্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে এর উপকারিতা সাধারণ মুসলিমদের জন্য ব্যাপক হয়, যেখানে এটি আগে সীমাবদ্ধ ছিল...
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ৬)
المختصين والباحثين … فكان هذا الكتاب … ملتمسا من الله عز وجل خير ختام وحسن ماب.

 

‌‌المنهجية النبوية في تعليم اللفظ القراني … لماذا؟

1- لأن حاجة علماء الإقراء والتجويد ماسة وضرورية إلى منهج محدد يوضح لهم كيفية إقراء النبي صلى الله عليه وسلم اللفظ القراني، ليكون أساسا تقعيديا يعتمدون عليه في تأصيل عمليات الإقراء، وركنا واضحا يتخذونه سبيلا تطبيقيا في تعليم اللفظ القراني وتعلمه.

2- ليستبين المقياس المطلق لصحة المنهجية التعليمية للفظ القراني، وبالتالي يتم تصحيح بعض الأخطاء الشائعة في المنهجيات التعليمية السائدة كالغلو في حفظ الألفاظ دون مصاحبة ذلك لمنهجية في تعلم المعاني، والتخلق بالخلق القراني … فتكون هذه الدراسة محاولة في سبيل إعادة المنهجية النبوية إلى واقع الأمة، وتمثل أساسا لتقويم واقع الإقراء وتسديده في العصر الحاضر.

3- ليأوى معلم القران ومتعلمه من المسلمين عامة إلى ظلال وارفة عيشا مع قضايا علم القراءة والتجويد في صورتها الصافية، وسيرتها الأولى … حيث كان الموجه القران الكريم، والسنة النبوية قبل حدوث الأقوال وتعددها- على فضلها- … عسى أن ينشر الله له فيها من رحمته، ويهيئ له من أمره مرفقا إذا دلف إلى جنانها في عصر أحزاننا المستديمة على حد قول القائل:

دخلت، وقلبي قد طار مني … ولكنه عاد لمّا دخلت

دخلت الرحاب، وأسلمت نفسي … إلى تلف الوجد حتى سلمت

وكان المقام العظيم العظيم … عليه يخيم نور وصمت

فطوف بي من جلال القران … ذهول فهمت، وهمت، وهمت
বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের জন্য … তাই এই কিতাবটি … আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার নিকট উত্তম সমাপ্তি ও সুন্দর প্রত্যাবর্তনের আশায় সংকলিত।

 

‌কুরআনি শব্দাবলি শিক্ষাদানে নববী মানহাজ (পদ্ধতি) … কেন?

১- কারণ ইকরা (কুরআন পাঠ দান) ও তাজবিদ শাস্ত্রের আলেমদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট মানহাজের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত প্রবল ও জরুরি, যা তাঁদের সামনে স্পষ্ট করবে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে কুরআনি শব্দ পাঠ করাতেন। যাতে এটি ইকরা বা পাঠদান প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কুরআনি শব্দ শেখা ও শেখানোর ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট প্রয়োগিক পথ হিসেবে গণ্য হয়।

২- যেন কুরআনি শব্দের শিক্ষা পদ্ধতির সঠিকতার চূড়ান্ত মানদণ্ড স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর ফলে বর্তমানে প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতিগুলোর কিছু সাধারণ ভুল সংশোধন করা সম্ভব হবে, যেমন—অর্থ বুঝা ও কুরআনি চরিত্র গঠনের পদ্ধতি অনুসরণ না করে কেবল শব্দ মুখস্থ করার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করা … ফলশ্রুতিতে এই গবেষণাটি উম্মাহর বাস্তব জীবনে নববী মানহাজ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য হবে এবং বর্তমান যুগে কুরআন পাঠ দানের বাস্তবতাকে মূল্যায়ন ও সংশোধন করার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

৩- যেন সাধারণ মুসলিমদের মধ্য থেকে কুরআনের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কিরাত ও তাজবিদ শাস্ত্রের বিষয়াবলীর নির্মল রূপ ও আদি পদ্ধতির শীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিতে পারে … যেখানে কুরআন মাজিদ এবং সুন্নাহই ছিল একমাত্র দিকনির্দেশক—পরবর্তী বিভিন্ন মত ও উক্তির আবির্ভাবের আগে—সেগুলোর মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও … যেন আল্লাহ এর মাধ্যমে তাঁর পক্ষ থেকে রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁর কাজ সহজ করে দেন, যখন তিনি এই শোকের যুগে এর বাগানে প্রবেশ করবেন; যেমনটি কবি বলেছেন:

আমি প্রবেশ করলাম, আর আমার হৃদয় আমা হতে উড়ে গিয়েছিল … কিন্তু আমি প্রবেশ করতেই তা ফিরে এল।

আমি সেই আঙ্গিনায় প্রবেশ করলাম এবং নিজেকে সমর্পণ করলাম … প্রেমের দহন পর্যন্ত, অবশেষে আমি মুক্তি পেলাম।

সেই অতি মহান স্থানটি ছিল এমন … যার ওপর নূর ও নিস্তব্ধতা ছেয়ে ছিল।

অতঃপর কুরআনের মহিমা আমাকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করল … যে আমি বিস্ময়ে বিমূঢ় ও ব্যাকুল হয়ে পড়লাম।
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ৭)
4- لسد الثغرة القائمة في مؤلفات علوم القران الكريم؛ إذ لا يوجد- فيما أعلم- كتاب جامع يتضمن دراسة وصفية لتعليم النبي صلى الله عليه وسلم القران الكريم لأصحابه رضى الله عنهم، ويؤصل لقواعد علم التجويد، وإن سدت كتب فضائل القران ومقدمات التفاسير جزا عظيما وهاما من ذلك.

 

‌‌الأهداف التفصيلية للكتاب:

1- التأصيل الشرعي الدقيق لمناهج القراء، وقواعد التجويد حيث تخلو الكتب المؤلفة في هذا العلم- غالبا- من ذلك.

2- الوصول إلى نتائج مبينة في بعض قضايا اللفظ القراني الشائكة كمسألة التواتر القراني … والتكبير عند خواتم القران … عدد الحفاظ في عهد النبي صلى الله عليه وسلم …

صورة حفظ القران مسألة عامة شائعة … التأكيد على حفظ كبار الصحابة رضي الله عنهم للقران كله في حياة النبي صلى الله عليه وسلم … العرضة الأخيرة … حل إشكالات في الفهم لبعض الروايات والنصوص التعليمية … الكلام عن القراءة التفسيرية … نظرية القراءة بالمعنى … أسلوب إدارة النبي صلى الله عليه وسلم للجامعة النبوية القرانية … تخرج الاف الحفاظ للقران الكريم على أيدي أئمة الإقراء من أصحابه رضي الله عنهم.

3- إظهار الأداة الواقعية التي تؤدي إلى الاطمئنان على دقة نقل ألفاظ القران الكريم، وعدم طروء أي تطور مخالف لما كان عليه الأمر قديما في نقلها إلا ما كان عائدا إلى خدمة الأصل التوقيفي … فتتجلى عند ذاك واقعية الحقيقة الإيمانية (العقدية) الخالدة (حقيقة الحفظ الإلهي للقران الكريم) إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحافِظُونَ (الحجر: 9) ، ذلِكَ الْكِتابُ لا رَيْبَ فِيهِ (البقرة: 2) ، تَنْزِيلُ الْكِتابِ لا رَيْبَ فِيهِ مِنْ رَبِّ الْعالَمِينَ (السجدة: 2) ، من خلال وصف ذلك في العهد النبوي، وعرض حقائق التلاوة بطريقة فيها تنوع جديد.
৪- উলুমুল কুরআনের (কুরআনের জ্ঞানসমূহ) রচনাবলিতে বিদ্যমান শূন্যতা পূরণ করা; কারণ আমার জানামতে এমন কোনো পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ নেই যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের কুরআন শিক্ষা দেওয়ার একটি বর্ণনামূলক অধ্যয়ন অন্তর্ভুক্ত করে এবং তাজবিদ শাস্ত্রের নিয়মাবলিকে মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত করে, যদিও কুরআনের ফযীলত বিষয়ক গ্রন্থসমূহ এবং তাফসিরের ভূমিকাগুলো এর একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ পূরণ করেছে।

 

‌‌গ্রন্থের বিস্তারিত উদ্দেশ্যসমূহ:

১- ক্বারীগণের মানহাজ এবং তাজবিদের নিয়মাবলির সূক্ষ্ম শারঈ মূলনীতি নির্ধারণ করা, যেহেতু এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থগুলো সাধারণত এ থেকে শূন্য থাকে।

২- কুরআনের শব্দ চয়ন সংক্রান্ত কিছু জটিল বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া, যেমন কুরআনের তাওয়াতুর (নিরবচ্ছিন্নতা) সংক্রান্ত মাসআলা... কুরআনের শেষ সূরাগুলোর ক্ষেত্রে তাকবীর বলা... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে হাফেজদের সংখ্যা...

কুরআন হিফযের বিষয়টি একটি সাধারণ ও প্রচলিত বিষয়... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় বড় বড় সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের সম্পূর্ণ কুরআন হিফয করার বিষয়টি নিশ্চিত করা... আল-আরজাতুল আখিরাহ (সর্বশেষ পাঠ)... শিক্ষা বিষয়ক কিছু বর্ণনা ও পাঠ্য বোঝার ক্ষেত্রে জটিলতাগুলোর সমাধান করা... কিরাআতে তাফসিরি (ব্যাখ্যামূলক তিলাওয়াত) প্রসঙ্গে আলোচনা... অর্থের ভিত্তিতে কিরাআতের তত্ত্ব... নববী কুরআন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিচালনার পদ্ধতি... তাঁর সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মধ্য থেকে কিরাআতের ইমামদের হাতে হাজার হাজার কুরআনের হাফেজদের শিক্ষা সমাপন করা।

৩- সেই বাস্তব উপায়সমূহ ফুটিয়ে তোলা যা কুরআনের শব্দাবলি হস্তান্তরের নির্ভুলতার ব্যাপারে প্রশান্তি দান করে, এবং এর হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রাচীন পদ্ধতির বিপরীত কোনো পরিবর্তন না ঘটার বিষয়টি নিশ্চিত করে, কেবল যা মূল তাওকীফী (আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত) বিষয়ের খিদমত হিসেবে গণ্য হয় তা ছাড়া... তখন শাশ্বত ঈমানী (আকীদাগত) বাস্তব সত্য (কুরআনের ঐশী সংরক্ষণের হাকিকত) স্পষ্ট হয়ে ওঠে: "নিশ্চয় আমিই যিকর (কুরআন) নাযিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী" (হিজর: ৯), "এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই" (বাকারা: ২), "বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে কিতাব অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই" (সাজদাহ: ২); আর এটি ফুটিয়ে তোলা হবে নববী যুগের বর্ণনার মাধ্যমে এবং তিলাওয়াতের হাকিকতসমূহকে নতুন বৈচিত্র্যময় পদ্ধতিতে উপস্থাপনের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ৮)
4- رام المؤلف أن يبين أن النبي صلى الله عليه وسلم كان- في أداء البلاغ المبين للفظ القراني- كرئيس جامعة عصرية تضم تحتها عددا من الكليات، ومجموعة متخصصة من هيئة التدريس يبرز بعضهم ككبار المدرسين، ويمكن تشبيه بعضهم بالمعلم الأول في عصرنا … وأما الطلاب فأعداد غفيرة تشكل الأمة بأسرها، ومنهم المتفرغون لتعلم القران الكريم كالسبعين الذين قتلوا في بئر معونة، كما حاول أن يبين مفردات المنهج الذي يجب على جميعهم أن يتعلموه «الواجب العيني» ، ثم يرتقي بعضهم إلى الدراسات العليا ليحيطوا بنسبة أكثر وأدق من المعرفة القرانية لهذا المنهج التعليمي «الفرض الكفائي» …

5- فصّل الكتاب كيفية تعليم الناس اللفظ القراني وفق منهجية التلقي، وكيف كانت تتم عملية التلقين والتلقي على الرغم من كثرة العدد، مع ضرورة تطبيق اللفظ القراني، ومعرفة معانيه.

 

‌‌لماذا اختار الكتاب مصطلح (أصحاب) ولم يختر مصطلح (تلاميذ) ؟

لأن هذا هو المصطلح النبوي لتلاميذ النبي صلى الله عليه وسلم … والاصطلاح على المتعلم بأنه (تلميذ) نشأ متأخرا «1» ، والأصحاب مأخوذ من الصحبة التي «تعني المصاحبة والمرافقة والمجالسة على حب الله تعالى وحب رسوله صلى الله عليه وسلم، والصحابة هم أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم الذين صاحبوه وجالسوه وسمعوا منه وأخذوا عنه هدي الإسلام وسننه، فنصروه وعزّروه وجاهدوا معه بأموالهم وأنفسهم في سبيل الله.

ولقد قام المنهج النبوي على تأسيس الصلة والصحبة والجندية كلها على المتابعة بالمحبة والصدق والإخلاص» «2» ، ولا شك أن الظلال النفسية لمصطلح صاحب لها

--------------------------------------------

(1) انظر: لسان العرب (3/ 478) ومما ذكره أن التلاميذ هم الخدم والأتباع واحدهم تلميذ.

(2) أحمد علي الإمام (دكتور) : الصحبة والصحابة (ص 6) ، منشورات مجمع الفقه الإسلامي، الخرطوم.
৪- লেখক এটি স্পষ্ট করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআনের শব্দাবলির সুস্পষ্ট প্রচারের ক্ষেত্রে বর্তমান যুগের এমন এক আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানের মতো ছিলেন, যার অধীনে অনেকগুলো অনুষদ এবং শিক্ষকবৃন্দের একটি বিশেষায়িত দল রয়েছে, যাদের মধ্যে কেউ কেউ জ্যেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে সুপরিচিত, আবার কাউকে আমাদের সময়ের প্রথম শিক্ষকের সাথে তুলনা করা যেতে পারে … আর ছাত্র ছিল এক বিশাল জনসমষ্টি যা সমগ্র উম্মতকে গঠন করে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ছিল পবিত্র কুরআন শিক্ষার জন্য নিবেদিতপ্রাণ, যেমন বীর মাউনায় শহীদ হওয়া সত্তর জন সাহাবী। তিনি সেই পাঠ্যক্রমের বিষয়াদিও ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন যা তাদের সকলের জন্য শেখা আবশ্যক (ওয়াজিব আইনি), এরপর তাদের মধ্যে কেউ কেউ উচ্চতর শিক্ষায় উন্নীত হতেন যাতে এই শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে কুরআন বিষয়ক জ্ঞান অধিকতর ও সূক্ষ্মভাবে আয়ত্ত করা যায় (ফরজ কিফায়া) …

৫- কিতাবটিতে মানুষের নিকট কুরআনের শব্দাবলি পৌঁছে দেওয়ার পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা সরাসরি গ্রহণের (তালক্কি) পদ্ধতির অনুসারী। এতে দেখানো হয়েছে যে, বিশাল জনসমষ্টি হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে মুখে মুখে শেখানো (তালকিন) এবং গ্রহণ করার (তালক্কি) প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতো, যার সাথে কুরআনের শব্দের প্রায়োগিক প্রয়োগ এবং এর অর্থ অনুধাবনের আবশ্যকতাও জড়িত ছিল।

 

‌‌কেন কিতাবটিতে ‘আসহাব’ (সঙ্গীগণ) পরিভাষাটি বেছে নেওয়া হয়েছে এবং ‘তালামীজ’ (ছাত্রবৃন্দ) পরিভাষাটি বেছে নেওয়া হয়নি?

কারণ এটিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ছাত্রদের জন্য ব্যবহৃত নববী পরিভাষা … আর শিক্ষার্থীকে ‘তিলমীজ’ (ছাত্র) হিসেবে অভিহিত করার পরিভাষাটি পরবর্তী সময়ে উদ্ভব হয়েছে (১)। ‘আসহাব’ শব্দটি নেওয়া হয়েছে ‘সুহবাত’ থেকে, যার অর্থ হলো আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ভালোবাসার ভিত্তিতে সাহচর্য প্রদান, সাথে থাকা এবং একত্রে উপবেশন করা। সাহাবা হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সেই সকল সঙ্গী যারা তাঁর সাহচর্য লাভ করেছেন, তাঁর মজলিসে বসেছেন, তাঁর নিকট থেকে শুনেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে ইসলামের হিদায়াত ও সুন্নাত গ্রহণ করেছেন। অতঃপর তাঁরা তাঁকে সাহায্য করেছেন, শক্তিশালী করেছেন এবং আল্লাহর পথে নিজেদের জান ও মাল দিয়ে তাঁর সাথে জিহাদ করেছেন। আর নববী পদ্ধতি গড়ে উঠেছিল সম্পর্ক, সাহচর্য এবং আনুগত্যের ভিত্তিতে, যার মূলে ছিল ভালোবাসা, সত্যবাদিতা এবং ইখলাস (২)। নিঃসন্দেহে ‘সাহিব’ (সাথী) পরিভাষাটির মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবের রয়েছে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: লিসানুল আরব (৩/ ৪৭৮); সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তালামীজ হলো সেবক ও অনুসারীবৃন্দ, যাদের একবচন হলো তিলমীজ।

(২) ডক্টর আহমাদ আলী আল-ইমাম: আস-সুহবাহ ওয়া আস-সাহাবাহ (পৃষ্ঠা ৬), মাজমাউল ফিকহিল ইসলামী এর প্রকাশনা, খার্তুম।
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ৯)
أثرها الراقي بصورة أعلى بكثير من الظلال التي يثيرها مصطلح تلميذ خاصة في المرحلة الثانوية والجامعية، وقد طلب البعض عدم استعمال مصطلح تلميذ لطلاب العلم في هاتين المرحلتين.

 

‌‌حول الروايات الواردة في الكتاب:

يلتزم الكاتب إيراد الروايات المقبولة دون غيرها في صلب البحث، وقد يورد غيرها مما لم يشتد ضعفه على سبيل الاستشهاد- إن كانت تلك الروايا صالحة للاعتبار- وذلك ينسجم مع ما قاله الإمام أحمد- رحمه الله: «الأحاديث الضعيفة قد يحتاج إليها في وقت، والمنكر أبدا منكر» «1» ، وكل ذلك بحسب ما يلائم كل قضية من درجة في التوثيق. وقد يذكر الكاتب تخريج الهيثمي في مجمع الزوائد وحكمه على الرواية، مع أنه إنما يحكم على السند الذي أمامه وليس على الحديث، ولذا فقد يضعّف بعض الأحاديث مع أنها مقواة من جهات أخرى، فأرجو ألا يغتر بذلك.

 

‌‌معوقات في مواجهة البحث:

1- شح المادة العلمية التفصيلية لهذا البحث، وما ذاك إلا لصيرورة مفردات مناهج التعليم للفظ القراني بدهيات لا يستغنى عنها، فصار الجانب العملي فيها مغنيا عن النقل العلمي، كما أن هذا اقتضى التنقيب البالغ عن النصوص المطلوبة في كل كتاب علمي يمكن الاطلاع عليه … وهو ما جعل العبء مضاعفا.

2- غموض الترتيب في المادة المجموعة لعدم النسج على مثال سابق في خصوص الموضوع، كما أن جلالة الموضوع، وهيبته؛ إذ إن حقيقته محاولة العيش بين الرسول صلى الله عليه وسلم والقران الكريم والصحابة رضي الله عنهم مع أشرف وظيفة بعث بها

--------------------------------------------

(1) أحمد علي الإمام (دكتور) : الصحبة والصحابة (ص 6) ، منشورات مجمع الفقه الإسلامي، الخرطوم.
এর উন্নত প্রভাব 'তিলমিয' (ছাত্র) পরিভাষাটি বিশেষত মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে যে আবহ সৃষ্টি করে তার তুলনায় অনেক বেশি গভীর। কেউ কেউ জ্ঞান অন্বেষণকারীদের জন্য এই দুই স্তরে 'তিলমিয' পরিভাষাটি ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

 

‌‌কিতাবে বর্ণিত বর্ণনাগুলোর বিষয়ে:

লেখক গবেষণার মূল অংশে গ্রহণযোগ্য বর্ণনাগুলো ছাড়া অন্য কিছু না আনতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে ক্ষেত্রবিশেষে তিনি এমন বর্ণনাগুলোও উদ্ধৃতি হিসেবে উল্লেখ করতে পারেন যা খুব বেশি দুর্বল নয়—যদি সেই বর্ণনাগুলো বিবেচনার যোগ্য হয়। এটি ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ: "কখনও কখনও দুর্বল হাদীসের প্রয়োজন হতে পারে, তবে মুনকার (পরিত্যক্ত) হাদীস সর্বদা মুনকার।" (১) আর এ সবই প্রতিটি বিষয়ের নির্ভরযোগ্যতার মানদণ্ড অনুযায়ী করা হয়েছে। লেখক কখনো কখনো মাজমাউজ যাওয়াইদ-এ হাইসামি-র তাখরীজ এবং বর্ণনার ওপর তাঁর হুকুম উল্লেখ করতে পারেন, যদিও তিনি কেবল তাঁর সামনে উপস্থিত সনদের ওপর ভিত্তি করেই হুকুম দেন, হাদীসের ওপর নয়। এ কারণে তিনি কিছু হাদীসকে দুর্বল বলতে পারেন, যদিও সেগুলো অন্য দিক থেকে শক্তিশালী। তাই আমি আশা করি কেউ যেন এ দ্বারা বিভ্রান্ত না হন।

 

‌‌গবেষণার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাসমূহ:

১- এই গবেষণার জন্য বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক উপকরণের স্বল্পতা। এর কারণ হলো কুরআনুল কারীমের শব্দাবলি শিক্ষার পাঠ্যক্রমের বিষয়গুলো এমন এক স্বতঃসিদ্ধ বিষয়ে পরিণত হয়েছে যা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই। ফলে এর প্রায়োগিক দিকটি তাত্ত্বিক বর্ণনার প্রয়োজনীয়তা দূর করে দিয়েছে। এছাড়া, এর জন্য সম্ভাব্য প্রতিটি বৈজ্ঞানিক কিতাব থেকে প্রয়োজনীয় পাঠ্যসমূহ খুঁজে বের করার জন্য ব্যাপক অনুসন্ধানের প্রয়োজন হয়েছে... যা পরিশ্রমকে দ্বিগুণ করে দিয়েছে।

২- সংগৃহীত তথ্যাবলির বিন্যাসের অস্পষ্টতা, কারণ এই বিশেষ বিষয়ে পূর্বে কোনো নমুনা বিদ্যমান ছিল না। এছাড়া বিষয়ের গাম্ভীর্য ও মর্যাদা; যেহেতু এর মূল হাকিকত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, কুরআনুল কারীম এবং সাহাবী রাযিয়াল্লাহু আনহুমদের মাঝে অবস্থান করে সেই মহান দায়িত্বটি পালন করার চেষ্টা করা যার জন্য তাঁকে প্রেরণ করা হয়েছিল

--------------------------------------------

(১) আহমাদ আলী আল-ইমাম (ডক্টর): আস-সুহবাহ ওয়া আস-সাহাবাহ (পৃ. ৬), মাজমাউল ফিকহ আল-ইসলামি পাবলিকেশনস, খার্তুম।
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ১০)
الرسول صلى الله عليه وسلم هي تعليم الكتاب … وهذا قد يؤود الباحث فيتنكب الصواب في ثنايا الاضطراب … وذا أثر نفسي لا ينكره الباحث.

 

‌‌منهج الاختصار للبحث:

1- قرئ أصل هذا الكتاب عدة مرات أخر من أوله إلى اخره حتى يتم حذف ما يمكن حذفه، وتعديل ما يجب تعديله بحيث يتناسب مع الحيز المقترح له من عدد الصفحات.

2- حذفت الاراء الفقهية المختلفة، واكتفي ببيان الراجح فقط عند وجود الاختلاف في المسألة … ومن أراد الاستزادة فعليه بالأصل.

3- اكتفي بأهم النصوص القرانية والحديثية التي توضح فكرة الموضوع، واقتصر على واحد منها عندما يسوغ ذلك، كما اكتفي في غالب الأحيان بموضع الشاهد من النص القراني أو النبوي، وحذف تفصيل الكلام على تخريج الأحاديث، وكلام الشراح حولها إلا ما لابد منه في نظر الكاتب.

4- حذفت العبارات التي يمكن بدونها فهم الفكرة الأصلية، وكان وجودها زيادة إيضاح وبيان، وامتد هذا التصرف إلى النصوص المنقولة عن أهل العلم.

5- حذفت الاعتراضات على الفكرة أو المعنى الراجح والأجوبة على ذلك غالبا.

6- دمجت عدد من المطالب والمباحث، وحذف بعضها لكن الكاتب أبقى على الهيكل العام (الفصول) كما هو.

7- تم حذف كثير من تفاصيل براهين النظريات التي مال إليها الباحث في الفصل الخامس، كما حذف موضوع التواتر القرائي بأكمله من هذا الفصل مما لا أظن الباحث يستطيع الاكتفاء بما هو موجود في هذا المختصر، فأنصح بالرجوع إلى الأصل في هذا الموضوع الكبير.
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাজ হলো কিতাব শিক্ষা দেওয়া … আর এটি গবেষককে ভারাক্রান্ত করতে পারে, ফলে তিনি বিভ্রান্তির গোলকধাঁধায় সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হতে পারেন … আর এটি এমন এক মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব যা কোনো গবেষক অস্বীকার করতে পারেন না।

 

‌‌গবেষণার সারসংক্ষেপকরণের পদ্ধতি:

১- এই বইয়ের মূল পাণ্ডুলিপি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুনরায় কয়েকবার পাঠ করা হয়েছে, যাতে যা বর্জনযোগ্য তা বর্জন করা যায় এবং যা সংশোধন করা আবশ্যক তা সংশোধন করা যায়, যেন এটি নির্ধারিত পৃষ্ঠা সংখ্যার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

২- বিভিন্ন ফিকহি মতামতসমূহ বাদ দেওয়া হয়েছে এবং কোনো বিষয়ে মতভেদ থাকলে শুধুমাত্র বিশুদ্ধ বা অগ্রগণ্য মতটি উল্লেখ করার ওপর সীমাবদ্ধ থাকা হয়েছে … আর যারা আরও বিস্তারিত জানতে চান, তারা যেন মূল পাণ্ডুলিপিটি দেখে নেন।

৩- বিষয়ের মূল ধারণা স্পষ্ট করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কুরআনি আয়াত ও হাদিসের উদ্ধৃতির ওপর নির্ভর করা হয়েছে। যেখানে সম্ভব হয়েছে সেখানে কেবল একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কুরআন বা হাদিসের উদ্ধৃতি থেকে কেবল প্রাসঙ্গিক অংশটুকু গ্রহণ করা হয়েছে এবং হাদিসের তাখরিজ (উৎস নির্ণয়) ও ব্যাখ্যাকারীদের বিস্তারিত আলোচনা বাদ দেওয়া হয়েছে, তবে লেখকের দৃষ্টিতে যা অপরিহার্য তা রাখা হয়েছে।

৪- এমন সব বাক্য বাদ দেওয়া হয়েছে যা ছাড়াও মূল বিষয়টি বোঝা সম্ভব এবং যেগুলোর উপস্থিতি ছিল কেবল অতিরিক্ত ব্যাখ্যামূলক। আলেমদের থেকে উদ্ধৃত পাঠ্যগুলোর ক্ষেত্রেও এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।

৫- মূল ধারণা বা অগ্রগণ্য মতের ওপর উত্থাপিত আপত্তি এবং সেগুলোর উত্তরগুলো সাধারণত বাদ দেওয়া হয়েছে।

৬- বেশ কিছু অনুচ্ছেদ ও পরিচ্ছেদ একীভূত করা হয়েছে এবং কিছু বাদ দেওয়া হয়েছে, তবে লেখক সাধারণ কাঠামো (অধ্যায়সমূহ) অপরিবর্তিত রেখেছেন।

৭- পঞ্চম অধ্যায়ে গবেষক যে তত্ত্বগুলোর দিকে ঝুঁকেছেন সেগুলোর প্রমাণের অনেক বিস্তারিত বিবরণ বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এই অধ্যায় থেকে কিরাআতের তাওয়াতুর (নিরবচ্ছিন্নতা) বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া হয়েছে, কারণ আমি মনে করি না যে এই সংক্ষিপ্তসারে যা রয়েছে তা একজন গবেষকের জন্য যথেষ্ট হবে। তাই এই বিশাল বিষয়ের ক্ষেত্রে আমি মূল পাণ্ডুলিপিটি দেখার পরামর্শ দিচ্ছি।
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ১১)
8- حذفت معلومات المرجع من أول موضع ورد فيه غالبا، واكتفى بمختصره، حيث يغني فهرس المراجع عن ذلك، كما تم حذف تراجم الأعلام، وتفاصيل التعريفات اللغوية.

9- تركت ما فيه ذكر لأخبار القراء من الصحابة والتابعين مما يزيّن القارئ به مجالسه وحلقته.

فإن اعترض على هذه الطريقة في الاختصار … فأنا أسلم بذلك، وليكن هذا كتاب جديد يكون مدخلا للأصل.

 

‌‌الهيكل العام للبحث «خطة البحث» :

يتكون البحث من مقدمة وخمسة فصول، وقد اختار الباحث أن يسير سيرا متدرجا بالنسبة لتعليم قراءة القران الكريم، ابتداء بما قبل القراءة وحتى ختامها …

ولما كان البحث دائرا حول شخصية النبي صلى الله عليه وسلم التعليمية في الإطار الخاص وهو تعليم ألفاظ القران الكريم لا التعليم لكل ما يتعلم فقد انعقد الفصل الأول لأجل ذلك فكان حول شخصية النبي صلى الله عليه وسلم التعليمية من الناحية العامة إشارة إليها، ومن الناحية الخاصة المتعلقة بتعليم اللفظ القراني.

ولما كان البحث دائرا حول تعليم ألفاظ القران الكريم فقد لزم من هذا بيان أصول هذا التعليم في منهجية النبي صلى الله عليه وسلم من الناحية الإدارية والمنهجية وعقد الفصل الثاني لأجل ذلك.

ولما كان محور البحث متركزا في كيفية تعليم تلاوة الألفاظ القرانية فقد عقد الفصل الثالث لإيضاح ذلك بالتفصيل، وبيان منهجية النبي صلى الله عليه وسلم في تعليم الترتيل «التجويد» .
৮- রেফারেন্সের তথ্যসমূহ সাধারণত প্রথম উল্লেখ থেকেই বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এর সংক্ষিপ্ত রূপের ওপরই নির্ভর করা হয়েছে, যেহেতু গ্রন্থপঞ্জিই এর জন্য যথেষ্ট। অনুরূপভাবে ব্যক্তিবর্গের জীবনী এবং ভাষাতাত্ত্বিক সংজ্ঞার বিস্তারিত বিবরণও বাদ দেওয়া হয়েছে।

৯- সাহাবী ও তাবিঈদের মধ্যকার ক্বারীগণের জীবনের ঘটনাবলি যা উল্লেখ করা হয়েছে তা আমি রেখে দিয়েছি, যা দ্বারা পাঠক তার মজলিস এবং হালকাসমূহকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করতে পারেন।

যদি সংক্ষেপণের এই পদ্ধতির ওপর কেউ আপত্তি করেন … তবে আমি তা মেনে নেব। আর এটি যেন একটি নতুন গ্রন্থ হিসেবে মূল গ্রন্থে প্রবেশের পথ হয়ে দাঁড়ায়।

 

‌‌গবেষণার সাধারণ কাঠামো «গবেষণা পরিকল্পনা» :

গবেষণাটি একটি ভূমিকা ও পাঁচটি অধ্যায়ের সমন্বয়ে গঠিত। গবেষক কুরআনুল কারীম পাঠ শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি ধারাবাহিক পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন, যা পাঠ শুরুর পূর্ব থেকে এর সমাপ্তি পর্যন্ত বিস্তৃত …

যেহেতু এই গবেষণাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিক্ষা প্রদানের ব্যক্তিত্বকে ঘিরে একটি বিশেষ কাঠামোতে আবর্তিত, আর তা হলো কুরআনের শব্দাবলি শিক্ষা দেওয়া—যা শেখার মতো সকল বিষয়ের সাধারণ শিক্ষা নয়—তাই প্রথম অধ্যায়টি সেই উদ্দেশ্যেই রচিত হয়েছে। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিক্ষা প্রদানের ব্যক্তিত্বের প্রতি সাধারণভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে এবং কুরআনি শব্দাবলি শিক্ষা দেওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ দিকের ওপর আলোচনা করা হয়েছে।

যেহেতু গবেষণাটি কুরআনের শব্দাবলি শিক্ষা দেওয়ার বিষয়ে আবর্তিত, তাই প্রশাসনিক ও পদ্ধতিগত দিক থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্মপদ্ধতির আলোকে এই শিক্ষার মূলনীতিসমূহ বর্ণনা করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। এই উদ্দেশ্যেই দ্বিতীয় অধ্যায়টি সাজানো হয়েছে।

যেহেতু গবেষণার মূল কেন্দ্রবিন্দু কুরআনি শব্দাবলি তিলাওয়াত শিক্ষা দেওয়ার পদ্ধতির ওপর নিবদ্ধ, তাই এটি বিস্তারিতভাবে স্পষ্ট করার জন্য এবং তারতীল «তাজবিদ» শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পদ্ধতি বর্ণনার জন্য তৃতীয় অধ্যায়টি নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ১২)
ولما كان حفظ «جمع» القران يمثل الغاية من هذا التعليم فقد انعقد الفصل الرابع لبيان جمع القران كتابة وعن ظهر قلب، واستتبع هذا الكلام عن جامعي القران الكريم من الصحابة على يد النبي صلى الله عليه وسلم «المخرجات التعليمية» .

ولأن القران قد اختص من بين سائر الكتب السماوية بنزوله على لغة العرب ومن ثم امتناع ترجمته حرفيا، مع الإذن بقراءته على سبعة أحرف … فقد انعقد الفصل الخامس لبيان كيفية تعليم النبي صلى الله عليه وسلم ذلك، واستتبع هذا ربط ذلك بحقيقة التواتر القراني واثاره التي تدل على عدم مس القران الكريم كما أنزله الله تعالى بزيادة أو نقصان، وبيان الحقائق التي تجلي بعض الاستشكالات التي أوردت على المنهجية الشرعية لتناقل القران الكريم.

وعلى هذا انحصرت تبويبات البحث بعد المقدمة في التالي:

الفصل الأول: شخصية النبي صلى الله عليه وسلم التعليمية: وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: طبيعة الوظيفة الرسالية لسيدنا محمد صلى الله عليه وسلم.

المبحث الثاني: وظيفة التلاوة.

المبحث الثالث: حكم تعلم القران الكريم وتعليمه.

الفصل الثاني: أصول تعليم النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه ألفاظ القران: وفيه أربعة مباحث:

المبحث الأول: تعليمه صلى الله عليه وسلم كيفية تعلمه لكلام الله القراني.

المبحث الثاني: وسائل تعليم ألفاظ القران الكريم كما وضعها النبي صلى الله عليه وسلم.

المبحث الثالث: وسائل النشر التعليمية لألفاظ القران الكريم في عموم المجتمع المسلم كما قام بها النبي صلى الله عليه وسلم.

المبحث الرابع: القواعد التربوية المصاحبة لعملية الإقراء «من حيث اللفظ» .
যেহেতু কুরআনের হিফজ বা ‘সংকলন’ই ছিল এই শিক্ষার মূল লক্ষ্য, তাই চতুর্থ অধ্যায়টি লিখন ও মুখস্থকরণের মাধ্যমে কুরআন সংকলনের বিবরণ প্রদানের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তত্ত্বাবধানে সাহাবায়ে কেরামের মধ্য থেকে যারা কুরআন সংকলন করেছিলেন, তাঁদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যা ‘শিক্ষাগত ফলাফল’ হিসেবে বিবেচিত।

আর যেহেতু কুরআন সকল আসমানি কিতাবের মধ্যে আরবি ভাষায় নাযিল হওয়ার মাধ্যমে বিশিষ্টতা লাভ করেছে এবং এর ফলে এর শাব্দিক অনুবাদ অসম্ভব, সেই সঙ্গে সাত হরফে তা পাঠ করার অনুমতি রয়েছে … তাই পঞ্চম অধ্যায়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে তা শিক্ষা দিতেন, তা বর্ণনার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সাথে কুরআনের মুতাওয়াতির হওয়ার বাস্তবতা ও এর প্রভাবসমূহকে যুক্ত করা হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে আল্লাহ তাআলা যেভাবে কুরআন নাযিল করেছেন তাতে কোনো বৃদ্ধি বা ঘাটতি ঘটেনি। সেই সঙ্গে কুরআন হস্তান্তরের শরয়ী পদ্ধতির ওপর উত্থাপিত কিছু সংশয় নিরসনকারী সত্যগুলোও এখানে স্পষ্ট করা হয়েছে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভূমিকার পর গবেষণার অধ্যায়গুলো নিম্নোক্তভাবে বিন্যস্ত হয়েছে:

প্রথম অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষকসুলভ ব্যক্তিত্ব। এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের দায়িত্বের প্রকৃতি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তিলাওয়াতের দায়িত্ব।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনুল কারিম শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেওয়ার বিধান।

দ্বিতীয় অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক সাহাবায়ে কেরামকে কুরআনের শব্দাবলি শিক্ষা দেওয়ার মূলনীতি। এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর কুরআনি কালাম শেখার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদ্ধতি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনুল কারিমের শব্দাবলি শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমসমূহ, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্ধারণ করেছেন।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুসলিম সমাজের সর্বস্তরে কুরআনুল কারিমের শব্দাবলি প্রচারের শিক্ষামূলক মাধ্যমসমূহ, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিচালনা করেছেন।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কুরআন পাঠদান প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষামূলক মূলনীতিসমূহ (শব্দগত দিক থেকে)।
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ১৩)
الفصل الثالث: جماع منهجية النبي صلى الله عليه وسلم في تحفيظ الألفاظ وترتيلها: وفيه ستة مباحث وهي:

المبحث الأول: تعليمه صلى الله عليه وسلم أساسيات الدرس القراني «منهج الحلقات القرانية» .

المبحث الثاني: تعليمه صلى الله عليه وسلم ماهية التجويد وحكمه.

المبحث الثالث: تعليمه صلى الله عليه وسلم أهمية التجويد وضوابطه الشرعية.

المبحث الرابع: تعليمه صلى الله عليه وسلم ترتيل ألفاظ القران الكريم.

المبحث الخامس: تعليمه صلى الله عليه وسلم مراتب الأداء الأعلى من التجويد.

المبحث السادس: تعليمه صلى الله عليه وسلم الملحقات بأحكام التجويد.

الفصل الرابع: تعليمه صلى الله عليه وسلم جمع القران الكريم حفظا وكتابة «المخرجات التعليمية» : وفيه أربعة مباحث:

المبحث الأول: أثر عامل السن في أسلوب تعليمه «منهجية النبي صلى الله عليه وسلم في تعليم الصغار» .

المبحث الثاني: تعليمه صلى الله عليه وسلم ألقاب حامل القران وصفاته.

المبحث الثالث: أصحاب «تلاميذ» النبي صلى الله عليه وسلم من أئمة الإقراء «المخرجات التعليمية» .

المبحث الرابع: تعليمه صلى الله عليه وسلم جمع القران.

الفصل الخامس: تعليمه صلى الله عليه وسلم قراءة القران على أحرفه المنزلة: وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعليمه صلى الله عليه وسلم القراءة بما تيسر من الأحرف السبعة.

المبحث الثاني: تعليمه صلى الله عليه وسلم أن القراءة سنة يأخذها الاخر عن الأول.
তৃতীয় অধ্যায়: শব্দাবলি মুখস্থকরণ ও তারতীলের সাথে তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামগ্রিক কর্মপদ্ধতি: এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে, সেগুলো হলো:

প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআন পাঠের মৌলিক বিষয়াবলি সম্পর্কে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিক্ষাদান «কুরআনী হালকার পাঠ্যপদ্ধতি»।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাজবীদের স্বরূপ ও এর বিধান সম্পর্কে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিক্ষাদান।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাজবীদের গুরুত্ব ও এর শরয়ী নীতিমালা সম্পর্কে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিক্ষাদান।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের শব্দাবলি তারতীলের সাথে পাঠ করা সম্পর্কে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিক্ষাদান।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাজবীদের উচ্চতর স্তরের আদায় সম্পর্কে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিক্ষাদান।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাজবীদের বিধানের সাথে সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক বিষয়াবলি সম্পর্কে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিক্ষাদান।

চতুর্থ অধ্যায়: মুখস্থকরণ ও লিখন পদ্ধতির মাধ্যমে পবিত্র কুরআন সংকলন সম্পর্কে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিক্ষাদান «শিক্ষামূলক ফলাফল»: এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: শিক্ষাদান পদ্ধতিতে বয়সের প্রভাব «শিশুদের শিক্ষাদানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কর্মপদ্ধতি»।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনের বাহকের উপাধি ও গুণাবলি সম্পর্কে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিক্ষাদান।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কিরাত বিশেষজ্ঞ ইমামগণের মধ্য হতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথীবর্গ «ছাত্রগণ» «শিক্ষামূলক ফলাফল»।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কুরআন সংকলন সম্পর্কে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিক্ষাদান।

পঞ্চম অধ্যায়: অবতীর্ণ ‘আহরুফ’ (সাত রীতি) অনুযায়ী কুরআন পাঠ সম্পর্কে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিক্ষাদান: এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সাত ‘আহরুফ’ বা রীতির মধ্য হতে যা সহজসাধ্য তা অনুযায়ী পাঠ করা সম্পর্কে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিক্ষাদান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআন পাঠ একটি সুন্নাহ পদ্ধতি যা পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের নিকট থেকে গ্রহণ করবে—এ সম্পর্কে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিক্ষাদান।
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ১৪)
المبحث الثالث: المنهجية الشرعية لتناقل القران الكريم «التواتر في نقل ألفاظ القران» .

رَبَّنا لا تُزِغْ قُلُوبَنا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنا وَهَبْ لَنا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ، رَبَّنا إِنَّنا سَمِعْنا مُنادِياً يُنادِي لِلْإِيمانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا رَبَّنا فَاغْفِرْ لَنا ذُنُوبَنا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئاتِنا وَتَوَفَّنا مَعَ الْأَبْرارِ (193) رَبَّنا وَآتِنا ما وَعَدْتَنا عَلى رُسُلِكَ وَلا تُخْزِنا يَوْمَ الْقِيامَةِ إِنَّكَ لا تُخْلِفُ الْمِيعادَ.

وهذا أوان انطلاق القلم في البحث سائرا بسم الله مجراه ومرساه، وحسبنا الله ونعم الوكيل، على الله ربنا توكلنا.

الدكتور عبد السلام مقبل المجيدي
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআন স্থানান্তরের শরয়ী পদ্ধতি «কুরআনের শব্দাবলী বর্ণনায় তাওয়াতুর».

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের সরল পথ প্রদর্শনের পর আমাদের অন্তরকে সত্যলঙ্ঘনে প্রবৃত্ত করবেন না এবং আপনার নিকট থেকে আমাদের অনুগ্রহ দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি পরম দাতা। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা এক আহ্বানকারীকে ঈমানের দিকে আহ্বান করতে শুনেছি যে, 'তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনো', তাই আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন, আমাদের মন্দ কাজগুলো দূর করে দিন এবং পুণ্যবানদের সাথে আমাদের মৃত্যু দান করুন। (১৯৩) হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার রাসূলগণের মাধ্যমে আমাদের যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা আমাদের প্রদান করুন এবং কিয়ামতের দিন আমাদের লাঞ্ছিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না।

আর এটিই গবেষণায় কলম চালনার সময়, যা আল্লাহর নামেই শুরু হচ্ছে এর গতিপথ ও গন্তব্য। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর ওপরই আমরা ভরসা করেছি।

ডক্টর আবদুস সালাম মুকবিল আল-মাজঈদী
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ১৫)
الفصل الأول: شخصية النبي صلى الله عليه وسلم التعليمية «الرسول المعلم» :

وفيه ثلاثة مباحث:

يتناول هذا الفصل شخصية النبي صلى الله عليه وسلم التعليمية بما يعطي لمعلم القران الكريم الدلالات الاتية:

1- الاعتزاز بهذه الوظيفة، واستشعار أنها فعل النبي صلى الله عليه وسلم وهديه، وسمته …

فهي أفضل الأعمال.

2- استشعار الاهتمام الشديد الذي أولاه الشرع لتلاوة القران وتعليمه بما يعين الفرد والمجتمع على استيعاب مدى الأهمية الشرعية ومن ثم الواقعية لهذين العملين في الحياة، وذلك لأن جميع وظائف النبي صلى الله عليه وسلم تفصيلا تعود إلى تلاوة الكتاب المجيد، وتعليمه … وبناء على ذلك يبين الفصل الأخير حكم تعلم ألفاظ القران الكريم وتعليمه، ولتحقيق الغاية من هذا الفصل فقد انقسم منطقيا إلى ثلاثة مباحث هي:

المبحث الأول: طبيعة الوظيفة الرسالية لسيدنا محمد صلى الله عليه وسلم.

المبحث الثاني: وظيفة التلاوة.

المبحث الثالث: حكم تعلم القران الكريم وتعليمه.

ولما كان المبحث الأول كالتقدمة للثاني والثالث كالتتمة كان الثاني أطول منهما.
প্রথম অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষাদানকারী ব্যক্তিত্ব «শিক্ষক রাসূল» :

এতে রয়েছে তিনটি পরিচ্ছেদ:

এই অধ্যায়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষাদানকারী ব্যক্তিত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা কুরআন মাজীদের শিক্ষকের জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ইঙ্গিত প্রদান করে:

১- এই পদের প্রতি গৌরব বোধ করা এবং এটি অনুভব করা যে, এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাজ, তাঁর আদর্শ ও তাঁর পথ …

কেননা এটি সর্বোত্তম কাজ।

২- কুরআন তিলাওয়াত ও তা শিক্ষার প্রতি শরীয়ত যে গভীর গুরুত্বারোপ করেছে তা অনুধাবন করা, যা ব্যক্তি ও সমাজকে জীবনে এই দুটি কাজের শরয়ী এবং বাস্তব গুরুত্ব কতখানি তা উপলব্ধি করতে সহায়তা করবে। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সকল দায়িত্বের বিস্তারিত বিবরণ মূলত এই মহান কিতাবের তিলাওয়াত এবং তা শিক্ষার দিকেই ফিরে যায় … এর ভিত্তিতে শেষ পরিচ্ছেদে কুরআন মাজীদের শব্দাবলি শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেওয়ার বিধান বর্ণনা করা হয়েছে। এই অধ্যায়ের লক্ষ্য অর্জনের জন্য এটি যৌক্তিকভাবে তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত হয়েছে, যা হলো:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রিসালাতের দায়িত্বের প্রকৃতি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তিলাওয়াতের দায়িত্ব।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআন মাজীদ শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেওয়ার বিধান।

যেহেতু প্রথম পরিচ্ছেদটি দ্বিতীয়টির জন্য ভূমিকা স্বরূপ এবং তৃতীয়টি পরিশিষ্ট স্বরূপ, তাই দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি অন্য দুটির চেয়ে দীর্ঘতর হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌المبحث الأول: طبيعة الوظيفة الرسالية لسيدنا محمد صلى الله عليه وسلم:

وفيه ثلاثة مطالب:

يناقش هذا المبحث وظيفة النبي صلى الله عليه وسلم العامة، ويحلل الدلالات اللفظية لوصفها المصطلحي، وماهية مرتكزاتها تفصيلا … ويرجع ذلك إلى ثلاثة مطالب:

 

‌‌المطلب الأول: الوظيفة العامة للنبي صلى الله عليه وسلم.

المطلب الثاني: تحليل دلالات الوصف الإجمالي للوظيفة النبوية.

المطلب الثالث: تفصيل الوظيفة الرسالية للنبي صلى الله عليه وسلم.

المطلب الأول: الوظيفة العامة للنبي صلى الله عليه وسلم:

يمكن إيجاز وظيفة النبي صلى الله عليه وسلم في أن الله جل جلاله إنما بعثه معلما كما قال صلى الله عليه وسلم: «إن الله لم يبعثني معنتا، ولا متعنتا، ولكن بعثني معلما ميسرا» «1» ، وجعل وظيفته الكاملة القيام ب (البلاغ المبين) كما قال عز وجل: فَاعْلَمُوا أَنَّما عَلى رَسُولِنَا الْبَلاغُ الْمُبِينُ (المائدة: 92) وهذا الأسلوب يفيد حصر الوظيفة على البلاغ، وقصر المهمة على أن يكون البلاغ مبينا، وحصرت مهمته صلى الله عليه وسلم في ذلك ليعلم طبيعتها أهل المشرق والمغرب ممن اهتدى، أو اثر الردى … فقد بين الله جل جلاله لنبيه صلى الله عليه وسلم أن المعاندين إن «جادلوك بالأقاويل المزورة، والمغالطات فأسند أمرك إلى ما كلفت من الإيمان والتبليغ» » .

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم (2/ 110) .

(2) الجامع لأحكام القران (4/ 45) عند تأويل قوله: فَإِنْ حَاجُّوكَ فَقُلْ أَسْلَمْتُ وَجْهِيَ لِلَّهِ … (ال عمران: 20) .
প্রথম পরিচ্ছেদ: আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের দায়িত্বের প্রকৃতি:

এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

এই পরিচ্ছেদটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাধারণ দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করে এবং এর পারিভাষিক বর্ণনার শাব্দিক নির্দেশনাসমূহ ও এর বিস্তারিত ভিত্তিসমূহ বিশ্লেষণ করে … আর এটি তিনটি উপ-পরিচ্ছেদে বিভক্ত:

 

‌প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাধারণ দায়িত্ব.

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: নববী দায়িত্বের সামগ্রিক বর্ণনার নির্দেশনাসমূহের বিশ্লেষণ।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের দায়িত্বের বিস্তারিত বিবরণ।

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাধারণ দায়িত্ব:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দায়িত্বকে সংক্ষেপে এভাবে ব্যক্ত করা যায় যে, আল্লাহ জাল্লা জালালুহু তাঁকে মূলত একজন শিক্ষক হিসেবেই প্রেরণ করেছেন, যেমনটি তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে কঠোরতা অবলম্বনকারী বা অন্যের ভুল অন্বেষণকারী হিসেবে পাঠাননি, বরং তিনি আমাকে একজন সহজকারী শিক্ষক হিসেবে পাঠিয়েছেন» «১»। আর তিনি তাঁর পূর্ণাঙ্গ দায়িত্বকে ‘সুস্পষ্ট প্রচার’ (আল-বালাগ আল-মুবীন) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: “অতএব তোমরা জেনে রাখ যে, আমাদের রাসূলের ওপর কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বই ন্যস্ত” (আল-মায়িদাহ: ৯২)। এই শৈলীটি দায়িত্বকে কেবল প্রচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করার এবং মিশনটিকে কেবল সুস্পষ্ট প্রচারের ওপর নির্দিষ্ট করার অর্থ প্রদান করে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মিশনকে এর মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে যাতে হেদায়াতপ্রাপ্ত কিংবা ধ্বংসের পথ বেছে নেওয়া পূর্ব ও পশ্চিমের অধিবাসীরা এর প্রকৃত রূপ সম্পর্কে জানতে পারে … কেননা আল্লাহ জাল্লা জালালুহু তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমীপে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, একগুঁয়ে বিরোধীরা যদি «তোমার সাথে মিথ্যা কথাবার্তা এবং বিভ্রান্তিকর যুক্তির মাধ্যমে বিতর্ক করে, তবে তুমি তোমার বিষয়টি সেই ঈমান ও প্রচারের দিকে ন্যস্ত করো যা পালনের দায়িত্ব তোমাকে দেওয়া হয়েছে»।

--------------------------------------------

(১) সহীহ মুসলিম (২/ ১১০)।

(২) আল-জামি' লি-আহকামিল কুরআন (৪/ ৪৫), আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যার অধীনে: “অতঃপর যদি তারা তোমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তবে তুমি বলো, ‘আমি আমার সত্তাকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সমর্পণ করলাম’...” … (আল ইমরান: ২০)।
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌تحديد نطاق وظيفة الرسول صلى الله عليه وسلم:

وإذا كان ما سبق هو إخبار للمخاطبين يبين مهمة الرسول صلى الله عليه وسلم ويحصرها؛ فقد أكّد هذا الحصر بخطاب الله تعالى للرسول صلى الله عليه وسلم ذاته مباشرة بما يبين له نطاق مهمته ووظيفته صلى الله عليه وسلم قوله: فَإِنَّما عَلَيْكَ الْبَلاغُ الْمُبِينُ (النحل: 82) ، وعمم الأمر خطابا للرسول صلى الله عليه وسلم وغيره زيادة في الإيضاح والتأكيد في قوله سبحانه وتعالى: وَما عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلاغُ الْمُبِينُ (العنكبوت: 18) ، وهذه هي وظيفة الرسل عامة كما قال جل جلاله: فَهَلْ عَلَى الرُّسُلِ إِلَّا الْبَلاغُ الْمُبِينُ (النحل: 35) ، وقد أخذ هذا التحديد النظري طابعا تطبيقيا في إيضاح الرسل وظيفتهم لأقوامهم كما في قوله سبحانه وتعالى على لسان نوح وهود- عليهما السلام أُبَلِّغُكُمْ رِسالاتِ رَبِّي (الأعراف: 62، 68) ، وعلى لسان صالح عليه السلام: لَقَدْ أَبْلَغْتُكُمْ رِسالَةَ رَبِّي (الأعراف: 79) ، وشعيب عليه السلام: لَقَدْ أَبْلَغْتُكُمْ رِسالاتِ رَبِّي (الأعراف: 93) ، ورسل صاحب يس: وَما عَلَيْنا إِلَّا الْبَلاغُ الْمُبِينُ «1» (يس: 17) .

 

‌‌تعليم النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه رضي الله عنهم حدود مهمته:

وقد علم النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه نطاق مهمته الرسالية، لما يترتب على ذلك من ضرورات منهجية ترجع إلى حفظ أصول الدين وقواعده، وتتلخص في عنصر واحد: أن يكونوا شهودا على ذلك في الدنيا والاخرة:

أما في الدنيا فحتى لا يفتري عليه أحد بكتمان، أو نقصان، ويعلم الثقلان أن ما بلغه هو الدين الكامل.

--------------------------------------------

(1) هذه إشارات، ويستعان لمزيد من التحليل ب: المعجم المفهرس لمعاني القران العظيم (1/ 225) .
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দায়িত্বের পরিধি নির্ধারণ:

যদি উপরোক্ত আলোচনাটি শ্রোতাদের কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দায়িত্ব বর্ণনা এবং তা সীমাবদ্ধকরণের একটি সংবাদ হয়ে থাকে, তবে আল্লাহ তাআলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সরাসরি সম্বোধন করার মাধ্যমে এই সীমাবদ্ধতাকে আরও সুদৃঢ় করেছেন, যা তাঁর দায়িত্ব ও কর্মপরিধিকে স্পষ্ট করে। মহান আল্লাহর বাণী: "তোমার দায়িত্ব কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া" (আন-নাহল: ৮২)। অধিকতর স্পষ্টীকরণ এবং গুরুত্ব প্রদানের লক্ষ্যে তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং অন্যদের উদ্দেশ্য করে এই বিষয়টি সাধারণভাবে ঘোষণা করেছেন: "রাসূলের দায়িত্ব কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া" (আল-আনকাবূত: ১৮)। আর এটাই হলো সাধারণভাবে সকল রাসূলের দায়িত্ব, যেমনটি মহামহিম আল্লাহ বলেছেন: "রাসূলগণের দায়িত্ব কি স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া ব্যতীত অন্য কিছু?" (আন-নাহল: ৩৫)। এই তাত্ত্বিক নির্ধারণটি বাস্তব রূপ লাভ করেছে যখন রাসূলগণ তাঁদের নিজ নিজ জাতির কাছে তাঁদের দায়িত্ব স্পষ্ট করেছেন। যেমনটি মহান আল্লাহ নূহ এবং হূদ আলাইহিমাস সালাম-এর জবানে উল্লেখ করেছেন: "আমি তোমাদের কাছে আমার রবের রিসালাত পৌঁছে দিচ্ছি" (আল-আরাফ: ৬২, ৬৮)। সালেহ আলাইহিস সালাম-এর জবানে: "আমি তো তোমাদের কাছে আমার রবের রিসালাত পৌঁছে দিয়েছি" (আল-আরাফ: ৭৯)। শুআইব আলাইহিস সালাম-এর জবানে: "আমি তো তোমাদের কাছে আমার রবের রিসালাতসমূহ পৌঁছে দিয়েছি" (আল-আরাফ: ৯৩)। এবং ইয়াসীন সূরা সংশ্লিষ্ট রাসূলগণের জবানে: "স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের একমাত্র দায়িত্ব" (ইয়াসীন: ১৭)।

 

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম-কে নিজ দায়িত্বের সীমা শিক্ষা দেওয়া:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে তাঁর রিসালাতের দায়িত্বের পরিধি শিক্ষা দিয়েছিলেন। এর কারণ ছিল সেই সব পদ্ধতিগত প্রয়োজনীয়তা যা দীনের মূলনীতি ও নিয়মাবলি সংরক্ষণের সাথে সম্পর্কিত। এটি একটি মূল উপাদানে সংক্ষিপ্ত করা যায়: তা হলো তারা যেন ইহকাল ও পরকালে এর সাক্ষী হতে পারেন।

দুনিয়ার ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হলো, কেউ যেন তাঁর ওপর সত্য গোপন বা কমিয়ে বলার অপবাদ আরোপ করতে না পারে, এবং জিন ও মানব জাতি জানতে পারে যে তিনি যা পৌঁছে দিয়েছেন তা-ই হলো পূর্ণাঙ্গ দীন।

--------------------------------------------

(১) এগুলো হলো ইঙ্গিতমাত্র। অধিকতর বিশ্লেষণের জন্য সাহায্য নেওয়া যেতে পারে: আল-মু'জাম আল-মুফাহরাস লি-মাআ'নিল কুরআন আল-আজিম (১/২২৫)।
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ১৮)
وأما في الاخرة فحتى يشهدوا له عند الله جل جلاله.

من أجل ذلك بين لهم صلى الله عليه وسلم غير ما تقدم- أن الله عز وجل أوجب عليه البلاغ لكل ما أوحى إليه من ربه عز وجل، وإن لم يفعل فما قام بوظيفته التي أرسل من أجلها، كما قال سبحانه وتعالى: يا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ ما أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَما بَلَّغْتَ رِسالَتَهُ (المائدة: 67) ، كما قال الزهري في فقه هذه الاية:

«من الله الرسالة، وعلى الرسول البلاغ، وعلينا التسليم» «1» ، … فكل شيء سكت عنه صلى الله عليه وسلم فهو مما لم يؤمر بتبليغه- إن كان ثم شيء يبلّغ-، وقد علم الصحابة رضي الله عنهم بأنه لو كان ثم شيء يستحق البلاغ لأمر بتبليغه فعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: صلّى رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إبراهيم: زاد أو نقص- فلمّا سلّم قيل له: يا رسول الله! أحدث في الصّلاة شيء؟ قال: «وما ذاك؟» قالوا:

صلّيت كذا وكذا. قال: فثنى رجليه، واستقبل القبلة، فسجد سجدتين ثمّ سلّم، ثمّ أقبل علينا بوجهه، فقال: «إنّه لو حدث في الصّلاة شيء أنبأتكم به» «2» .

استشهاده صلى الله عليه وسلم الخلق على قيامه بالبلاغ: وقد شهّد أمته على إبلاغه الرسالة، واستنطقهم بذلك في أعظم المجامع، كما في خطبته في حجة الوداع، فعن جابر بن عبد الله أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال في خطبة حجة الوداع: «أيها الناس! إنكم مسؤولون عني فما أنتم قائلون؟ قالوا: نشهد أنك قد بلغت، وأديت، ونصحت. فجعل يرفع أصبعه إلى السماء وينكسها إليهم ويقول: اللهم اشهد» «3» .

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري (6/ 2738) .

(2) البخاري (1/ 156) ، مسلم (1/ 400) ، مرجعان سابقان.

(3) وورد مثل ذلك عن أبي بكرة عند البخاري (1/ 52) ، ومسلم (3/ 1305) ، وعن ابن عباس عند البخاري (2/ 619) ، وقد جاء مثل ذلك أيضا عن عدد من الصحابة في أكثر من موطن.. انظر: الأصل.
আর আখিরাতে যেন তারা মহান আল্লাহর নিকট তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করে।

এ কারণেই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের সামনে যা আগে উল্লেখ করা হয়েছে তা ছাড়াও বর্ণনা করেছেন যে, মহান আল্লাহ তাঁর ওপর তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা কিছু ওহি করা হয়েছে তা পৌঁছে দেওয়া আবশ্যক করেছেন। আর যদি তিনি তা না করেন, তবে তিনি তাঁর সেই দায়িত্ব পালন করলেন না যার জন্য তাঁকে প্রেরণ করা হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: হে রাসূল! আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা নাজিল করা হয়েছে তা পৌঁছে দিন। আর যদি আপনি তা না করেন, তবে আপনি তাঁর রিসালাত (বার্তা) পৌঁছে দিলেন না (আল-মায়িদাহ: ৬৭)। যেমনটি যুহরি এই আয়াতের মর্মার্থ বর্ণনায় বলেছেন:

«আল্লাহর পক্ষ থেকে বার্তা প্রেরণ, রাসূলের ওপর তা পৌঁছে দেওয়া এবং আমাদের ওপর তা মেনে নেওয়া ওয়াজিব» «১» , … সুতরাং যে বিষয় সম্পর্কে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নীরব থেকেছেন, তা সেই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়নি—যদি সেখানে পৌঁছে দেওয়ার মতো কিছু থেকে থাকে—। আর সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) জানতেন যে, যদি সেখানে পৌঁছে দেওয়ার যোগ্য কিছু থাকত তবে অবশ্যই তাঁকে তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতো। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত আদায় করলেন—ইব্রাহিম বলেন: (রাবী সম্ভবত) বাড়িয়েছিলেন বা কমিয়েছিলেন—অতঃপর যখন তিনি সালাম ফেরালেন, তাঁকে বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! সালাতের মধ্যে কি নতুন কিছু ঘটেছে? তিনি বললেন: «সেটি কী?» তাঁরা বললেন:

আপনি অমুক অমুক ভাবে সালাত আদায় করেছেন। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি তাঁর দুই পা ভাঁজ করলেন এবং কিবলার দিকে মুখ করলেন, এরপর দুটি সিজদা দিলেন এবং সালাম ফেরালেন। তারপর আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন: «যদি সালাতের মধ্যে নতুন কিছু ঘটত, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের তা জানিয়ে দিতাম» «২» ।

রিসালাত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে সৃষ্টিজগতকে সাক্ষী রাখা: তিনি তাঁর উম্মতকে রিসালাত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে সাক্ষী করেছেন এবং সবচাইতে বড় সমাবেশে তাঁদের এই সাক্ষ্য দিতে উদ্বুদ্ধ করেছেন, যেমনটি বিদায় হজের ভাষণে করেছিলেন। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজের ভাষণে বলেছিলেন: «হে লোকসকল! তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, তখন তোমরা কী বলবে?» তাঁরা বললেন: আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি পৌঁছে দিয়েছেন, আদায় করেছেন এবং নসিহত করেছেন। তখন তিনি আকাশের দিকে নিজের আঙুল উঠাতে লাগলেন এবং তাঁদের দিকে নিচু করে ইশারা করতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন: «হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন» «৩» ।

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি (৬/ ২৭৩৮)।

(২) বুখারি (১/ ১৫৬), মুসলিম (১/ ৪০০), পূর্বোক্ত দুটি সূত্র।

(৩) অনুরূপ বর্ণনা আবু বাকরাহ থেকে বুখারিতে (১/ ৫২), এবং মুসলিম (৩/ ১৩০৫)-এ এসেছে, এবং ইবনে আব্বাস থেকে বুখারিতে (২/ ৬১৯)-এ এসেছে। এছাড়াও একাধিক স্থানে বহু সংখ্যক সাহাবী থেকে অনুরূপ বর্ণনা এসেছে.. দেখুন: আল-আসল।
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ১৯)
وشهد له الصحابة رضي الله عنهم بكمال البلاغ في الدنيا: فمنعوا بذلك أوهام المتخرصين أن يكون فرّط أو كتم أو خص بعض الناس بشيء من البيان العام الواجب تبليغه عليه صلى الله عليه وسلم، فعن ابن عباس أنه جاءه رجل فقال له: إن ناسا يأتونا فيخبرونا أن عندكم شيئا لم يبده رسول الله صلى الله عليه وسلم للناس، فقال ابن عباس: ألم تعلم أن الله سبحانه وتعالى قال: يا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ ما أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ «1» ، وعن مسروق عن عائشة قالت: من حدثك أن محمدا كتم شيئا مما أنزل الله عليه فقد كذب وهو يقول يا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ ما أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ «2» .

 

‌‌مادة البلاغ الأساسية:

ومادة البلاغ الأساسية هي القران الكريم كما قال جل جلاله: وَأُوحِيَ إِلَيَّ هذَا الْقُرْآنُ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ (الأنعام: 19) ، وقال عز وجل: وَهذا كِتابٌ أَنْزَلْناهُ مُبارَكٌ مُصَدِّقُ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَلِتُنْذِرَ أُمَّ الْقُرى وَمَنْ حَوْلَها (الأنعام: 92) أي:

«مكة ومن حولها من أحياء العرب وسائر طوائف بني ادم من عرب وعجم» «3» ، وقال جل جلاله: وَمَنْ يَكْفُرْ بِهِ مِنَ الْأَحْزابِ فَالنَّارُ مَوْعِدُهُ (هود: 17) ، وقال سبحانه وتعالى:

تَبارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقانَ عَلى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعالَمِينَ نَذِيراً (الفرقان: 1) .

ولأن مادة البلاغ الأساسية هي القران قال ابن عباس رضي الله عنها في قوله سبحانه وتعالى:

وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَما بَلَّغْتَ رِسالَتَهُ (المائدة: 67) : «يعني إن كتمت اية مما أنزل

--------------------------------------------

(1) تفسير ابن كثير: (2/ 78) ، وقال عن هذا الحديث: «وهذا إسناد جيد» ، وتتمته: «والله ما ورثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم سوداء في بيضاء» .

(2) البخاري (6/ 2739) ، مرجع سابق.

(3) ابن كثير (2/ 157) ، مرجع سابق.
সাহাবায়ে কেরাম (রা.) দুনিয়াতে তাঁর দাওয়াত বা প্রচারের পূর্ণতার সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা মিথ্যাচারীদের সেই অমূলক ধারণাকে প্রতিহত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি করেছেন বা কোনো কিছু গোপন করেছেন অথবা কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে এমন কোনো সাধারণ বর্ণনার অংশীদার করেছেন যা প্রচার করা তাঁর ওপর ওয়াজিব ছিল। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল: কিছু লোক আমাদের কাছে এসে বলে যে, আপনাদের নিকট এমন কিছু আছে যা রাসূলুল্লাহ (সা.) মানুষের কাছে প্রকাশ করেননি। তখন ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন: তুমি কি জানো না যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: হে রাসূল! আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, তা পৌঁছে দিন। মাসরুক থেকে বর্ণিত, আয়েশা (রা.) বলেন: যে ব্যক্তি তোমাকে বলবে যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর ওপর নাযিলকৃত আল্লাহর ওহীর কোনো কিছু গোপন করেছেন, সে মিথ্যা বলেছে। অথচ আল্লাহ বলছেন: হে রাসূল! আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, তা পৌঁছে দিন।

 

‌‌প্রচারের মৌলিক উপাদান:

প্রচারের মৌলিক উপাদান হলো পবিত্র কুরআন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: “আর এই কুরআন আমার নিকট ওহী করা হয়েছে যাতে আমি এর মাধ্যমে তোমাদের এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাদেরকে সতর্ক করি” (আল-আনআম: ১৯)। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: “আর এটি একটি কিতাব যা আমি নাযিল করেছি, বরকতময়, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী; যাতে আপনি উম্মুল কুরা (মক্কা) ও তার চারপাশের অধিবাসীদের সতর্ক করতে পারেন” (আল-আনআম: ৯২)। অর্থাৎ:

«মক্কা এবং তার চারপাশের আরবের গোত্রসমূহ এবং আরব ও অনারব নির্বিশেষে বনী আদমের অন্যান্য সমস্ত গোষ্ঠী» «৩», এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: “আর বিভিন্ন দলের মধ্য থেকে যারা একে অস্বীকার করবে, আগুনই হবে তাদের প্রতিশ্রুত স্থান” (হুদ: ১৭), এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন:

“পরম কল্যাণময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফুরকান নাযিল করেছেন যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন” (আল-ফুরকান: ১)।

আর যেহেতু প্রচারের মূল উপাদান হলো কুরআন, তাই ইবনে আব্বাস (রা.) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার এই বাণী প্রসঙ্গে বলেন:

“আর আপনি যদি তা না করেন, তবে তো আপনি তাঁর রিসালাত পৌঁছালেন না” (আল-মায়িদাহ: ৬৭): “অর্থাৎ আপনি যদি নাযিলকৃত কোনো একটি আয়াতও গোপন করেন...”

--------------------------------------------

(১) তাফসীরে ইবনে কাসীর: (২/৭৮), তিনি এই হাদীস সম্পর্কে বলেছেন: «এটি একটি উত্তম সনদ», এবং এর অবশিষ্টাংশ হলো: «আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের নিকট সাদার মধ্যে কালো (লিখিত) কোনো কিছুই উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাননি»।

(২) বুখারী (৬/২৭৩৯), পূর্বোক্ত সূত্র।

(৩) ইবনে কাসীর (২/১৫৭), পূর্বোক্ত সূত্র।
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ২০)
إليك من ربك لم تبلغ رسالته» «1» ، وقال لهم النبي صلى الله عليه وسلم: قُلْ لا أَسْئَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْراً (الأنعام: 90) ، «أي لا أطلب منكم على إبلاغي إياكم هذا القران أجرا أي أجرة ولا أريد منكم شيئا» «2» كما كان يبين أن هذا العلم الذي أوتيه، وأمر بتبليغه خير كثير كما قال صلى الله عليه وسلم: «قد علمني الله عز وجل خيرا» «3» ، فتحددت وظيفة البلاغ بإيصال مادته الأساسية إلى هؤلاء الأحزاب باختلاف أمصارهم وأعصارهم.

 

‌‌الإبانة في البلاغ:

ونلحظ أن (الإبانة) صفة ضرورية ملازمة لوظيفة البلاغ، والإبانة نوعان:

1- إبانة لفظية: أي يجب على الرسول صلى الله عليه وسلم أن يكون لفظه بالبلاغ مبينا كما في قوله تعالى: بِلِسانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ (الشعراء: 195) .

2- وإبانة معنوية: أي يجب على الرسول صلى الله عليه وسلم أن يبين تأويل الكلام الذي أمر بتبليغه كما في قوله سبحانه وتعالى: وَأَنْزَلْنا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ ما نُزِّلَ إِلَيْهِمْ (النحل: 44) ، فمما «يجب أن يعلم أن النبي صلى الله عليه وسلم بين لأصحابه رضي الله عنهم معاني القران، كما بين لهم ألفاظه، فقوله تعالى: لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ ما نُزِّلَ إِلَيْهِمْ يتناول هذا وهذا» «4» .

 

‌‌الاتصال بين الإبانة اللفظية والإبانة المعنوية:

واللفظ والمعنى متصلان اتصالا وثيقا إلا أنه لا يمكن للمعنى الثبات مع اهتزاز لفظه أو تغييره في الكلام المعجز إذ أول أوجه إعجازه تتمثل في إعجازه في لفظه كما لخص الخطابي- رحمه الله تعالى- أركان إعجاز القران في: «اللفظ الحامل،

--------------------------------------------

(1) ابن كثير (2/ 79) ، مرجع سابق.

(2) ابن كثير (2/ 157) ، مرجع سابق.

(3) أحمد (5/ 368) ، وقال ابن كثير في تفسيره (3/ 456) ، مرجع سابق: «وهذا إسناد صحيح» .

(4) مقدمة في أصول التفسير (ص 208) .
আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, (তা যদি না পৌঁছান) তবে আপনি তাঁর বার্তা পৌঁছালেন না।" «১» এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে বললেন: "বলো, আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না" (আল-আনআম: ৯০), "অর্থাৎ আমি তোমাদের কাছে এই কুরআন পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে কোনো প্রতিদান বা মজুরি দাবি করছি না এবং আমি তোমাদের কাছে কিছুই চাই না" «২»। ঠিক যেমন তিনি স্পষ্ট করছিলেন যে, তাঁকে যে ইলম প্রদান করা হয়েছে এবং যা প্রচার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা প্রভূত কল্যাণকর; যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাকে কল্যাণ শিক্ষা দিয়েছেন" «৩»। ফলে প্রচারের (বালাগ) দায়িত্বটি নির্ধারিত হলো এর মৌলিক বিষয়বস্তুকে বিভিন্ন অঞ্চলের এবং বিভিন্ন যুগের এই দলগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে।

 

‌‌প্রচারের ক্ষেত্রে স্পষ্টিকরণ (আল-ইবানা):

আমরা লক্ষ্য করি যে, 'স্পষ্টিকরণ' (ইবানা) হলো প্রচারের দায়িত্বের সাথে অবিচ্ছেদ্য একটি অপরিহার্য গুণ। স্পষ্টিকরণ দুই প্রকার:

১- ভাষাগত স্পষ্টিকরণ: অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্য আবশ্যক হলো তাঁর প্রচারের ভাষা যেন স্পষ্ট হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "স্পষ্ট আরবি ভাষায়" (আশ-শুআরা: ১৯৫)।

২- অর্থগত স্পষ্টিকরণ: অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর আবশ্যক হলো তিনি যে কালাম প্রচারের জন্য আদিষ্ট হয়েছেন তার মর্মার্থ বা ব্যাখ্যা স্পষ্ট করা, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "আমি আপনার প্রতি যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে" (আন-নাহল: ৪৪)। সুতরাং এটি "অবশ্যই জ্ঞাত হওয়া উচিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কাছে কুরআনের অর্থসমূহ স্পষ্ট করেছেন, যেমন তিনি তাদের কাছে এর শব্দসমূহ স্পষ্ট করেছেন। অতএব, আল্লাহর বাণী: 'যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে'—এটি শব্দ এবং অর্থ উভয়টিকেই শামিল করে" «৪»।

 

‌‌ভাষাগত স্পষ্টিকরণ এবং অর্থগত স্পষ্টিকরণের মধ্যকার সম্পর্ক:

শব্দ এবং অর্থ একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত, তবে অলৌকিক বাণীর (কালামে মু'জিজ) ক্ষেত্রে শব্দের বিচ্যুতি বা পরিবর্তনের ফলে অর্থের স্থিরতা বজায় রাখা সম্ভব নয়। কারণ এর অলৌকিকত্বের (ইজায) প্রথম দিকটিই হলো এর ভাষাগত অলৌকিকত্ব, যেমন খাত্তাবী (রাহিমাহুল্লাহ) কুরআনের অলৌকিকত্বের স্তম্ভগুলোকে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এভাবে: "বহনকারী শব্দ,

--------------------------------------------

(১) ইবনে কাসীর (২/৭৯), পূর্বোক্ত সূত্র।

(২) ইবনে কাসীর (২/১৫৭), পূর্বোক্ত সূত্র।

(৩) আহমাদ (৫/৩৬৮), এবং ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে (৩/৪৫৬) বলেছেন, পূর্বোক্ত সূত্র: "এবং এই সনদটি সহীহ।"

(৪) মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর (পৃ. ২০৮)।
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ২১)
المعنى القائم به، الرباط الناظم لهما» «1» ، ولأن إعجاز القران يعتمد على حقيقة واحدة هي أن الله سبحانه وتعالى قاله، كان لا بد من بلوغ أقصى درجات الإبانة اللفظية في كلام الله جل جلاله تمهيدا للإبانة المعنوية؛ ولذا يظهر الاهتمام بألفاظ القران واضحا في القران، ومن ذلك قول الله عز وجل: حم (1) وَالْكِتابِ الْمُبِينِ «أي البين الواضح الجلي المعاني والألفاظ؛ لأنه نزل بلغة العرب التي هي أفصح اللغات للتخاطب بين الناس، ولهذا قال تعالى إِنَّا جَعَلْناهُ أي أنزلناه قُرْآناً عَرَبِيًّا أي بلغة العرب فصيحا واضحا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ أي تفهمونه وتتدبرونه كما قال عز وجل: بِلِسانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ» «2» .

وصار الطلب الشرعي لضبط ألفاظ القران الكريم استحضارا واستظهارا وإتقانا للأداء بديهية شرعية في حياة الصحابة رضي الله عنهم، كما كان تعظيمه، وصونه باستظهار ألفاظه، والعمل على نشره كتابة وحفظا وتعليما من أبرز مقاصد التنزيل الحكيم: أي ليعظم عندهم بألفاظه، فيحافظ عليها، ويتبع معانيها: كما في قوله سبحانه وتعالى: وَإِنَّهُ فِي أُمِّ الْكِتابِ لَدَيْنا لَعَلِيٌّ حَكِيمٌ (الزخرف: 4) ف «بين شرفه في الملأ الأعلى ليشرفه ويعظمه ويطيعه أهل الأرض … » «3» وكما قال تبارك وتعالى: إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ (77) فِي كِتابٍ مَكْنُونٍ (78) لا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ (79) تَنْزِيلٌ مِنْ رَبِّ الْعالَمِينَ (80) (الواقعة: 77- 80) وقال تعالى: كَلَّا إِنَّها تَذْكِرَةٌ (11) فَمَنْ شاءَ ذَكَرَهُ (12) فِي صُحُفٍ مُكَرَّمَةٍ (13) مَرْفُوعَةٍ مُطَهَّرَةٍ (14) بِأَيْدِي سَفَرَةٍ (15) كِرامٍ بَرَرَةٍ (عبس: 11- 16) فإذا كانت «الملائكة يعظمون المصاحف المشتملة على القران في الملأ

--------------------------------------------

(1) بيان إعجاز القران (ص 26) .

(2) ابن كثير (4/ 123) ، مرجع سابق.

(3) ابن كثير (4/ 123) ، مرجع سابق.
এতে বিদ্যমান অর্থ এবং উভয়ের সমন্বয়কারী বন্ধন» «১», এবং যেহেতু কুরআনের অলৌকিকত্ব এই একটি ধ্রুব সত্যের ওপর নির্ভরশীল যে, মহান আল্লাহ তাআলা স্বয়ং এটি বলেছেন, তাই তাঁর বাণীতে শাব্দিক প্রাঞ্জলতার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানো অপরিহার্য ছিল যেন তা অর্থগত স্পষ্টতার পথ প্রশস্ত করে। এ কারণেই কুরআনের শব্দাবলির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের বিষয়টি কুরআনেই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মহান আল্লাহর বাণী: "হা-মীম (১) শপথ স্পষ্ট কিতাবের।" অর্থাৎ যার অর্থ ও শব্দাবলি অত্যন্ত সুষ্পষ্ট ও প্রাঞ্জল; কারণ এটি আরবী ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে, যা মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সর্বাধিক সাবলীল ভাষা। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "নিশ্চয় আমি একে বানিয়েছি" অর্থাৎ অবতীর্ণ করেছি "আরবী কুরআন" অর্থাৎ আরবী ভাষায় যা প্রাঞ্জল ও স্পষ্ট, "যাতে তোমরা বুঝতে পারো" অর্থাৎ যাতে তোমরা এটি অনুধাবন ও চিন্তা করতে পারো, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।" «২»।

কুরআনুল কারীমের শব্দাবলিকে মুখস্থ রাখা, অন্তরে গেঁথে রাখা এবং তিলাওয়াতের বিশুদ্ধতা বজায় রাখার শারঈ তাগিদ সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর জীবনে একটি স্বতঃসিদ্ধ শারঈ বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। একইভাবে একে সম্মান করা এবং এর শব্দাবলি মুখস্থ করার মাধ্যমে একে সংরক্ষণ করা এবং লিখন, মুখস্থকরণ ও শিক্ষার মাধ্যমে একে প্রচার করার প্রচেষ্টা ছিল প্রজ্ঞাপূর্ণ ওহী নাজিলের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। অর্থাৎ এর শব্দাবলির মাধ্যমে যেন তাদের নিকট এটি মর্যাদাবান হয়, ফলে তারা একে সংরক্ষণ করে এবং এর অর্থসমূহ অনুসরণ করে; যেমনটি মহান আল্লাহ তাআলার বাণীতে এসেছে: "এবং নিশ্চয় তা আমার নিকট মূল কিতাবে অত্যন্ত উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও প্রজ্ঞাপূর্ণ।" (যুখরুফ: ৪)। সুতরাং "তিনি উচ্চতর জগতে এর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করেছেন যাতে পৃথিবীবাসী একে সম্মান করে, এর মর্যাদা স্বীকার করে এবং এর আনুগত্য করে …" «৩» এবং যেমনটি বরকতময় আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয় এটি এক সম্মানিত কুরআন (৭৭) যা আছে এক সংরক্ষিত কিতাবে (৭৮) পবিত্রগণ ছাড়া কেউ তা স্পর্শ করে না (৭৯) এটি বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (৮০)" (ওয়াকিয়া: ৭৭-৮০)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "কখনই না, এটি তো একটি উপদেশবাণী (১১) অতএব যার ইচ্ছা সে তা স্মরণ রাখুক (১২) এটি আছে সম্মানিত সহীফাসমূহে (১৩) যা উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও পবিত্র (১৪) যা লেখকদের হাতে থাকে (১৫) যারা অত্যন্ত সম্মানিত ও পুণ্যবান (১৬)" (আবাসা: ১১-১৬)। সুতরাং যদি "ফেরেশতাগণ উচ্চতর জগতে কুরআন সম্বলিত মাসহাফসমূহকে সম্মান করেন

--------------------------------------------

(১) বায়ানু ইজাজিল কুরআন (পৃ. ২৬)।

(২) ইবনে কাসীর (৪/ ১২৩), পূর্বোক্ত সূত্র।

(৩) ইবনে কাসীর (৪/ ১২৩), পূর্বোক্ত সূত্র।
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ২২)
الأعلى، فأهل الأرض بذلك أولى وأحرى لأنه نزل عليهم وخطابه متوجه إليهم فهم أحق أن يقابلوه بالإكرام والتعظيم، والانقياد له بالقبول والتسليم لقوله جل جلاله:

وَإِنَّهُ فِي أُمِّ الْكِتابِ لَدَيْنا لَعَلِيٌّ حَكِيمٌ (الزخرف: 4) » «1» .

وبايات الله التي تبلغ البحار، وما وراء البحار … كان مستمسك العارفين …

ولها كان تعظيم السادات من المؤمنين … يعظمون ايات الله … وهي حبل النجاة في يوم الهول المبين:

قرت بها عين قاريها فقلت له … لقد ظفرت بحبل الله فاعتصم

إن تتلها خيفة من حر نار لظى … أطفأت نار لظى من وردها الشبم

كأنها الحوض تبيض الوجوه به … من العصاة وقد جاؤه كالحمم

وكالصراط وكالميزان معدلة … فالقسط من غيرها في الناس لم يقم

 

‌‌المطلب الثاني: تحليل دلالات الوظيفة الرسالية الإجمالية:

بعد أن استقر أن وظيفة النبي صلى الله عليه وسلم هي (البلاغ) ، وعلمت مادته فيجب معرفة ماهيته؛ وسر اختيار هذا المصطلح للدلالة عليه.

فأصل البلاغ البلوغ وهو الوصول من بلغ يبلغ بلوغا «2» ، وتظهر من مفاهيم البلاغ الدلالات التالية:

1- أنه يجب وصول المبلّغ به ليتم البلاغ:

فعدم وصوله نقص في التبليغ، إذ بلغ الشيء يبلغ بلوغا وبلاغا: وصل وانتهى، والبلاغ: ما بلغك، وفي التنزيل العزيز: إِلَّا بَلاغاً مِنَ اللَّهِ وَرِسالاتِهِ

--------------------------------------------

(1) ابن كثير (4/ 123) ، مرجع سابق.

(2) تفسير القرطبي (6/ 327) .
সর্বোচ্চ, আর যমীনের অধিবাসীরা সে কারণে এর অধিক যোগ্য ও দাবিদার, কেননা এটি তাদের নিকট অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর সম্বোধন তাদের প্রতিই নিবদ্ধ। সুতরাং তারা একে সম্মান ও মহত্ত্বের সাথে গ্রহণ করার এবং এর প্রতি আনুগত্য, কবুল ও আত্মসমর্পণের মাধ্যমে অনুগত হওয়ার অধিক হকদার; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে:

"আর নিশ্চয়ই তা আমাদের নিকট কিতাবের মূল উৎসে (উম্মুল কিতাব) অত্যন্ত উচ্চমর্যাদাবান ও প্রজ্ঞাপূর্ণ।" (আয-যুখরুফ: ৪)।

এবং আল্লাহর সেই আয়াতসমূহের মাধ্যমে যা সমুদ্র ও সমুদ্রের ওপার পর্যন্ত পৌঁছে যায়... তা ছিল আরিফগণের (আল্লাহভীরু জ্ঞানীদের) অবলম্বন...

আর এই কারণেই মুমিনদের মহান ব্যক্তিবর্গ একে সম্মান করতেন... তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মহিমান্বিত করেন... এবং এটিই সুস্পষ্ট ভয়াবহ দিবসে নাজাতের রশি:

এর দ্বারা এর পাঠকের চক্ষু শীতল হয়, তাই আমি তাকে বললাম... তুমি আল্লাহর রশি লাভে সফল হয়েছ, সুতরাং তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো।

তুমি যদি লেলিহান আগুনের উত্তাপের ভয়ে এটি পাঠ করো... তবে এর শীতল প্রবাহ সেই লেলিহান আগুনকে নির্বাপিত করে দেবে।

এটি যেন সেই হাউজ (কাওসার), যার মাধ্যমে পাপাচারীদের চেহারা উজ্জ্বল হয়ে যাবে, অথচ তারা সেখানে পৌঁছেছিল অঙ্গারের মতো কৃষ্ণবর্ণ হয়ে।

আর এটি ইনসাফ ও ভারসাম্যের বিচারে সিরাত ও মিযানের মতো... কেননা এটি ছাড়া মানুষের মাঝে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় না।

 

‌‌দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সামগ্রিক রিসালাতি দায়িত্বের তাৎপর্য বিশ্লেষণ:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দায়িত্ব যে 'বালাগ' বা পৌঁছানো—এটি সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এবং এর মূল উপাদান সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর, এখন এর হাকীকত বা স্বরূপ জানা আবশ্যক; আর এই অর্থ প্রকাশের জন্য এই পরিভাষাটি নির্বাচনের রহস্যও জানা প্রয়োজন।

'বালাগ'-এর মূল উৎস হলো 'বুলূগ', যার অর্থ হলো পৌঁছানো; এটি 'বালাগা-ইয়াবলুগু-বুলূগান' থেকে আগত। 'বালাগ'-এর ধারণা থেকে নিম্নোক্ত অর্থসমূহ পরিস্ফুট হয়:

১- বালাগ বা প্রচার সম্পন্ন হওয়ার জন্য যা প্রচার করা হচ্ছে তা অবশ্যই গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে:

সুতরাং তা না পৌঁছানো হলো তাবলীগের ক্ষেত্রে একটি ত্রুটি; কেননা কোনো কিছু 'বালাগা' হওয়ার অর্থ হলো তা পৌঁছাল এবং সমাপ্ত হলো। আর 'বালাগ' হলো যা আপনার কাছে পৌঁছেছে। মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে এসেছে: "কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে পৌঁছানো এবং তাঁর রিসালাতসমূহ ব্যতীত।"

--------------------------------------------

(১) ইবনে কাসীর (৪/ ১২৩), পূর্বোক্ত সূত্র।

(২) তাফসীরে কুরতুবী (৬/ ৩২৭)।
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ২৩)
(الجن: 23) ، أي لا أحد منجى إلا أن أبلّغ عن الله ما أرسلت به، والإبلاغ:

الإيصال، وكذلك التّبليغ، والاسم منه البلاغ «1» ، وهذا يقتضي فعل الوسائل القولية والعملية لإيصال المبلغ به.

2- الكفاية بالمبلغ به كما في قوله جل جلاله: إِنَّ فِي هذا لَبَلاغاً لِقَوْمٍ عابِدِينَ (الأنبياء: 106) ، وكما في قوله سبحانه وتعالى: هذا بَلاغٌ لِلنَّاسِ وَلِيُنْذَرُوا بِهِ (إبراهيم: 52) والإشارة للقران الكريم كما في قوله عز وجل: أَوَلَمْ يَكْفِهِمْ أَنَّا أَنْزَلْنا عَلَيْكَ الْكِتابَ يُتْلى عَلَيْهِمْ (العنكبوت: 51) والبلاغ هنا الكفاية «أي كفاية لأنه يبلغ مقدار الحاجة» «2» ؛ ومنه قول الراجز:

تزجّ من دنياك بالبلاغ … وباكر المعدة بالدّباغ

«3» ويظهر من هذه الايات أن المادة الأساسية للتبليغ هو القران الكريم.

3- أن القران المبلغ به هو السبيل الوحيد الذي يوصل إلى مطلوب الإنسان من السعادة، فالبلاغ ما يتبلّغ ويتوصّل به إلى الشيء المطلوب «4» ، وتبلّغ بالشيء:

وصل به إلى مراده «5» .

4- الاجتهاد في أداء الرسالة فقولك: «أراه من المبالغين في التبليغ، بالغ يبالغ مبالغة وبلاغا إذا اجتهد في الأمر» «6» .

--------------------------------------------

(1) لسان العرب (8/ 419) .

(2) القرطبي (6/ 327) ، مرجع سابق.

(3) معجم مقاييس اللغة (1/ 156) .

(4) النهاية في غريب الأثر (1/ 152) .

(5) انظر: لسان العرب (8/ 419) ، مرجع سابق.

(6) لسان العرب (8/ 419) ، مرجع سابق.
(আল-জিন: ২৩), অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি যা দিয়ে প্রেরিত হয়েছি তা পৌঁছে দেওয়া ছাড়া আমার জন্য আর কোনো আশ্রয়দাতা নেই; আর ইবলাগ হলো:

পৌঁছে দেওয়া, আর অনুরূপভাবে তাবলিগও; এর বিশেষ্য পদ হলো বালাগ (১), আর এটি যা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে তা পৌঁছানোর জন্য যাবতীয় বাচনিক ও ব্যবহারিক মাধ্যমের প্রয়োগকে অপরিহার্য করে।

২- যা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে তার মাধ্যমে পর্যাপ্ততা লাভ করা, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: “নিশ্চয়ই এতে ইবাদতকারী সম্প্রদায়ের জন্য পর্যাপ্ত বার্তা রয়েছে” (আল-আম্বিয়া: ১০৬)। এবং যেমনটি তাঁর সুমহান বাণীতে রয়েছে: “এটি মানুষের জন্য এক বার্তা যাতে এর মাধ্যমে তাদের সতর্ক করা যায়” (ইবরাহিম: ৫২)। এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে পবিত্র কুরআনের দিকে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: “তাদের জন্য কি এটি যথেষ্ট নয় যে, আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা তাদের নিকট পাঠ করা হয়?” (আল-আনকাবুত: ৫১)। এখানে বালাগ মানে হলো পর্যাপ্ততা “অর্থাৎ এটি যথেষ্ট কারণ তা প্রয়োজনের মাত্রায় পৌঁছে দেয়” (২); এ প্রসঙ্গে কবির পংক্তি:

তোমার দুনিয়া থেকে জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় পাথেয় গ্রহণ করো... এবং দিনের শুরুতেই পাকস্থলীকে আহারের মাধ্যমে সচল করো।

(৩) এই আয়াতগুলো থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, তাবলিগের মূল উপাদান হলো পবিত্র কুরআন।

৩- যে কুরআন প্রচার করা হচ্ছে তা-ই সুখের সেই একমাত্র পথ যা মানুষকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। সুতরাং বালাগ হলো তা-ই যার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বস্তুতে পৌঁছানো যায় (৪); আর কোনো কিছু দিয়ে লক্ষ্য অর্জন করা হলো:

তার মাধ্যমে নিজ গন্তব্যে পৌঁছানো (৫)।

৪- বার্তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শ্রম ব্যয় করা। যেমন আপনার উক্তি: “আমি তাকে প্রচারকার্যে কঠোর পরিশ্রমীদের অন্তর্ভুক্ত দেখছি; সে কোনো কাজে জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করলে তাকে মুবালিগ বলা হয়” (৬)।

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব (৮/৪১৯)।

(২) কুরতুবি (৬/৩২৭), পূর্বোক্ত সূত্র।

(৩) মু’জাম মাকায়িসুল লুগাহ (১/১৫৬)।

(৪) আন-নিহায়া ফি গারিবিল আসার (১/১৫২)।

(৫) দেখুন: লিসানুল আরব (৮/৪১৯), পূর্বোক্ত সূত্র।

(৬) লিসানুল আরব (৮/৪১৯), পূর্বোক্ত সূত্র।
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ২৪)
5- ويدل الوصف الشخصي للنبي صلى الله عليه وسلم ب (الرسول) ، والوصف الوظيفي له ب (البلاغ) على المصدر الإلهي لتعلم الأنبياء، وذكر هذا والتأكيد عليه هو دأب كل نبي ورسول يقولون: إِنَّمَا الْعِلْمُ عِنْدَ اللَّهِ وَأُبَلِّغُكُمْ ما أُرْسِلْتُ بِهِ (الأحقاف: 23) أي لا أعلم من ذلك إلا ما علمني الله، وإنما أنا رسول إليكم من الله مبلغ أبلغكم عنه ما أرسلني به من الرسالة «1» ، فهذا قول هود عليه السلام، ومثله قول النبي صلى الله عليه وسلم قُلْ إِنَّما أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحى إِلَيَّ (الكهف: 110) «أي قل يا محمد إنما أنا بشر مثلكم من بني ادم لا علم لي إلا ما علمني الله» «2» ومثله على لسان يوسف عليه السلام: ذلِكُما مِمَّا عَلَّمَنِي رَبِّي (يوسف: 37) ، وكان يبلغهم بالقران كمادة أساسية في منهاج التبليغ، فيحاولون إبعاده عن ذلك، وصرفه عنه فيقولون ائْتِ بِقُرْآنٍ غَيْرِ هذا أَوْ بَدِّلْهُ (يونس: 15) ، فيكون رده هو التأكيد على هذه المصدرية كما في قوله تعالى قُلْ ما يَكُونُ لِي أَنْ أُبَدِّلَهُ مِنْ تِلْقاءِ نَفْسِي (يونس: 15) «وإنما هو رسول مبلّغ، ومأمور متبّع» «3» .

ونظرا لهذه المقتضيات يحاسب الرسل على ذلك كما في قوله عز وجل: لِيَعْلَمَ أَنْ قَدْ أَبْلَغُوا رِسالاتِ رَبِّهِمْ (الجن: 28) ، وكما في قوله جل جلاله: ما قُلْتُ لَهُمْ إِلَّا ما أَمَرْتَنِي بِهِ (المائدة: 117) .

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير الطبري (26/ 25) .

(2) الطبري (16/ 39) ، مرجع سابق.

(3) الطبري (11/ 95) ، مرجع سابق.
৫- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যক্তিগত গুণ 'রাসূল' (বার্তাবাহক) এবং তাঁর দায়িত্বগত গুণ 'বালাগ' (বার্তা পৌঁছানো)—এই উভয়টিই নবীদের জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে ঐশী উৎসের প্রমাণ দান করে। এই বিষয়টি উল্লেখ করা এবং এর ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রত্যেক নবী ও রাসূলের রীতি ছিল। তাঁরা বলতেন: "নিশ্চয় জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকট রয়েছে, আর আমি তোমাদের কাছে তা-ই পৌঁছে দিচ্ছি যা নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি" (আল-আহকাফ: ২৩)। অর্থাৎ আল্লাহ আমাকে যা শিখিয়েছেন, তা ছাড়া আমি এর কিছুই জানি না। আমি তো কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি প্রেরিত একজন বার্তাবাহক, যিনি তাঁর পক্ষ থেকে সেই রিসালাত পৌঁছে দেন যা দিয়ে তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন «১»। এটি ছিল হুদ আলাইহিস সালামের উক্তি। অনুরূপ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "বলুন, আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ, আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়" (আল-কাহফ: ১১০)। অর্থাৎ: "হে মুহাম্মদ, আপনি বলুন যে, আমি আদম সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত তোমাদের মতোই একজন মানুষ; আল্লাহ আমাকে যা শিখিয়েছেন তা ব্যতীত আমার কোনো জ্ঞান নেই" «২»। অনুরূপ ইউসুফ আলাইহিস সালামের জবানে বর্ণিত হয়েছে: "এটি সেই জ্ঞান যা আমার রব আমাকে শিখিয়েছেন" (ইউসুফ: ৩৭)। তিনি দাওয়াতের মানহাজে মৌলিক উপাদান হিসেবে কুরআনের মাধ্যমে তাঁদের নিকট বার্তা পৌঁছে দিতেন, কিন্তু তারা তাঁকে তা থেকে সরিয়ে নিতে এবং বিমুখ করতে চেষ্টা করত। তারা বলত: "এ কুরআন ছাড়া অন্য কোনো কুরআন আনুন অথবা এটি পরিবর্তন করুন" (ইউনুস: ১৫)। তখন তাঁর উত্তর হতো এই ঐশী উৎসের ওপর গুরুত্বারোপ করা, যেমন মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে: "বলুন, আমার নিজের পক্ষ থেকে একে পরিবর্তন করা আমার কাজ নয়" (ইউনুস: ১৫)। "তিনি তো কেবল একজন বার্তাবাহক এবং আদেশপ্রাপ্ত অনুসারী" «৩»।

এই সকল প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে রাসূলদের এ বিষয়ে হিসাব নেওয়া হবে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "যাতে তিনি জেনে নেন যে, তাঁরা তাঁদের রবের রিসালাতসমূহ পৌঁছে দিয়েছেন" (আল-জিন: ২৮)। এবং যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "আপনি আমাকে যা আদেশ করেছেন তা ছাড়া আমি তাদের আর কিছুই বলিনি" (আল-মায়িদাহ: ১১৭)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসীরে তাবারী (২৬/ ২৫)।

(২) তাবারী (১৬/ ৩৯), পূর্বোক্ত উৎস।

(৩) তাবারী (১১/ ৯৫), পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المطلب الثالث: تفصيل الوظيفة الرسالية للنبي صلى الله عليه وسلم:

جاء تفصيل هذه الوظيفة (البلاغ) ، وبيان امتداداتها في ايات أخر؛ إذ ورد بيانها في أربع ايات من القران الكريم: في سورة البقرة موضعان، وموضع في سورة ال عمران، وموضع في سورة الجمعة، وترجع صيغها الإجمالية إلى قوله سبحانه وتعالى: كَما أَرْسَلْنا فِيكُمْ رَسُولًا مِنْكُمْ يَتْلُوا عَلَيْكُمْ آياتِنا وَيُزَكِّيكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ الْكِتابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُمْ ما لَمْ تَكُونُوا تَعْلَمُونَ (البقرة: 151) وقوله عز وجل: هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُوا عَلَيْهِمْ آياتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ (الجمعة: 2) ، وقد فرّعت هذه الايات وظيفة البلاغ إلى ثلاثة فروع:

‌‌[فروع وظيفة البلاغ]

 

‌‌الأول: يَتْلُوا عَلَيْهِمْ آياتِهِ:

وقدم تلاوة الايات على سائر الفروع الاخرى في كل الايات، بل قد انفردت هذه الوظيفة بالذكر في عدد من المواضع كقوله جل جلاله: رَسُولٌ مِنَ اللَّهِ يَتْلُوا صُحُفاً مُطَهَّرَةً (البينة: 2) ، وكذلك قوله عز وجل: رَسُولًا يَتْلُوا عَلَيْكُمْ آياتِ اللَّهِ مُبَيِّناتٍ (الطلاق: 11) ، ويَتْلُوا هنا في موضع نصب نعت لرسول ومعناه يقرأ، والتلاوة القراءة، وآياتِ اللَّهِ يعني القران «1» فقوله سبحانه وتعالى: يَتْلُوا عَلَيْهِمْ آياتِهِ أي يقرأ عليهم اي كتابه وتنزيله «2» .

--------------------------------------------

(1) انظر: القرطبي (18/ 92) ، مرجع سابق.

(2) انظر: الطبري (4/ 163) ، مرجع سابق.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের দায়িত্বের বিস্তারিত বিবরণ:

এই দায়িত্বের (তাবলীগ বা পৌঁছানো) বিস্তারিত বিবরণ এবং এর ব্যাপ্তি অন্য আয়াতসমূহে বর্ণিত হয়েছে; কেননা পবিত্র কুরআনের চারটি আয়াতে এর বিবরণ এসেছে: সূরা আল-বাকারায় দুটি স্থানে, সূরা আলে ইমরানে একটি স্থানে এবং সূরা আল-জুমুআহ-তে একটি স্থানে। এর সামগ্রিক রূপ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার এই বাণীর দিকে ফিরে যায়: "যেভাবে আমি তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছি, যিনি তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করেন এবং তোমাদেরকে পবিত্র করেন, আর তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন এবং তোমাদেরকে এমন সব বিষয় শিক্ষা দেন যা তোমরা জানতে না।" (আল-বাকারা: ১৫১) এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তিনিই সেই সত্তা যিনি উম্মীদের মধ্য থেকে তাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন, যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে ছিল।" (আল-জুমুআহ: ২)। আর এই আয়াতগুলো তাবলীগের দায়িত্বকে তিনটি শাখায় বিন্যস্ত করেছে:

[তাবলীগের দায়িত্বের শাখাসমূহ]

 

প্রথম: তিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন:

প্রতিটি আয়াতেই অন্যান্য সমস্ত শাখার আগে আয়াত তিলাওয়াতকে অগ্রগণ্য করা হয়েছে, বরং বেশ কিছু স্থানে এই দায়িত্বটি এককভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ জাল্লা জালালুহু-এর বাণী: "আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রাসূল, যিনি পাঠ করেন পবিত্র সহীফাসমূহ।" (আল-বাইয়িনাহ: ২)। তেমনি মহান আল্লাহর বাণী: "একজন রাসূল, যিনি তোমাদের কাছে আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করেন।" (আত-তালাক: ১১)। এখানে 'ইয়াতলু' শব্দটি 'রাসূল'-এর বিশেষণ হিসেবে নসব অবস্থায় আছে এবং এর অর্থ হলো সে পাঠ করে। আর 'তিলাওয়াত' অর্থ হলো পাঠ করা। আর 'আল্লাহর আয়াতসমূহ' অর্থ হলো কুরআন (১)। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: 'তিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন' এর অর্থ হলো তিনি তাদের কাছে তাঁর কিতাব ও নাযিলকৃত ওহী পাঠ করেন (২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-কুরতুবী (১৮/৯২), পূর্বোক্ত উৎস।

(২) দেখুন: আত-তাবারী (৪/১৬৩), পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌الثاني: وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتابَ وَالْحِكْمَةَ:

فالكتاب يعني القران، ويعني بالحكمة السنة التي سنها الله جل ثناؤه للمؤمنين على لسان رسول الله صلى الله عليه وسلم وبيانه له، وقال ابن عباس: الكتاب الخط بالقلم لأن الخط فشا في العرب بالشرع لما أمروا بتقييده بالخط، وقال مالك بن أنس: الحكمة الفقه بالدين «1» ، ولخص بعضهم معاني الحكمة بقوله:

والحكمة العلم وقول الحق … وفعله مقترنا بالصدق

«2» فالمراد أنه يعلمهم كتاب الله الذي أنزل عليه مقروا ومكتوبا، ويبين لهم تأويله ومعانيه «3» ، و (يعلمهم الكتاب والحكمة) صفة أيضا ل (رسولا) مترتبة في الوجود على التلاوة «4» ، وكذلك التزكية تترتب في الوجود على التلاوة …

والفرعان الأولان هما مدار هذا الكتاب؛ إذ يتحدث الأول عن التلاوة، والاخر عن تعليم الكتاب تلاوة وكتابة … وبذلك تعلم ألفاظ القران الكريم.

 

‌‌الثالث: وَيُزَكِّيهِمْ:

التزكية هي التطهير والزكاة النماء والزيادة فيكون معنى قوله جل جلاله وَيُزَكِّيهِمْ يطهرهم من الشرك بالله، وعبادة الأوثان، ودنس الكفر والذنوب، وينميهم ويكثرهم بطاعة الله»

، فالتطهير إنما يكون باتباعهم إياه، وطاعتهم له فيما أمرهم ونهاهم «6» ، فيحملهم على ما يصيرون به أزكياء طاهرين من خبائث العقائد

--------------------------------------------

(1) انظر: القرطبي (18/ 92) ، مرجع سابق.

(2) التيسير في علوم التفسير (ص 29) .

(3) وانظر: الطبري (4/ 163) ، مرجع سابق.

(4) انظر: روح المعاني (28/ 93) ، مرجع سابق.

(5) انظر: الطبري (1/ 558) ، مرجع سابق.

(6) انظر: الطبري 4/ 163، مرجع سابق.
‌‌দ্বিতীয়: এবং তিনি তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন:

কিতাব অর্থ হলো কুরআন, এবং হিকমত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই সুন্নাহ যা আল্লাহ জাল্লা সানাউহু তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখনিসৃত বাণীর মাধ্যমে এবং তাঁর ব্যাখ্যার মাধ্যমে মুমিনদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন। ইবনে আব্বাস বলেন: কিতাব হলো কলম দ্বারা লিখন, কারণ আরবদের যখন শরীয়তকে লিখনের মাধ্যমে আবদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলো, তখন তাদের মাঝে লিখনের ব্যাপক প্রসার ঘটে। মালিক ইবনে আনাস বলেন: হিকমত হলো দ্বীনের গভীর জ্ঞান (ফক্বহ)। কেউ কেউ হিকমতের অর্থ সংক্ষেপে এভাবে বলেছেন:

হিকমত হলো জ্ঞান এবং সত্য কথা বলা ও সত্যের সাথে নিষ্ঠার সাথে কাজ করা …

সুতরাং উদ্দেশ্য হলো, তিনি তাদের আল্লাহর কিতাব শিক্ষা দেন যা তাঁর প্রতি পঠিত ও লিখিত আকারে অবতীর্ণ হয়েছে এবং তাদের নিকট এর ব্যাখ্যা ও অর্থসমূহ বর্ণনা করেন। আর (তিনি তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন) বাক্যটি (রাসূল) শব্দের একটি বিশেষণও বটে, যা অস্তিত্বের ক্রমে তিলাওয়াতের পরে আসে। অনুরূপভাবে তাজকিয়া বা আত্মশুদ্ধিও অস্তিত্বের ক্রমে তিলাওয়াতের পরে আসে …

প্রথম দুটি শাখা হলো এই কিতাবের মূল আবর্তনস্থল; কারণ প্রথমটি তিলাওয়াত সম্পর্কে আলোচনা করে এবং অপরটি কিতাবের তিলাওয়াত ও লিখন শিক্ষা দেওয়া সম্পর্কে আলোচনা করে … আর এর মাধ্যমেই পবিত্র কুরআনের শব্দসমূহ শিক্ষা লাভ করা যায়।

 

‌‌তৃতীয়: এবং তিনি তাদের পবিত্র করেন:

তাজকিয়া হলো পবিত্রকরণ এবং জাকাত হলো প্রবৃদ্ধি ও বৃদ্ধি। সুতরাং আল্লাহ জাল্লা জালালুহু-এর বাণী "এবং তিনি তাদের পবিত্র করেন"-এর অর্থ হলো তিনি তাদের আল্লাহর সাথে শিরক, মূর্তিপূজা এবং কুফরি ও গুনাহের কলুষতা থেকে পবিত্র করেন এবং আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে তাদের বিকশিত ও বর্ধিত করেন।

পবিত্রকরণ মূলত তাঁর অনুসরণ এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে তাঁর প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। ফলে তিনি তাদের এমন বিষয়ের ওপর পরিচালিত করেন যার মাধ্যমে তারা ভ্রান্ত আকিদাহ বা বিশ্বাসের অপবিত্রতা থেকে মুক্ত হয়ে পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র হয়ে ওঠে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-কুরতুবী (১৮/ ৯২), পূর্বোক্ত সূত্র।

(২) আত-তাইসির ফি উলূমিত তাফসির (পৃ. ২৯)।

(৩) আরও দেখুন: আত-তাবারী (৪/ ১৬৩), পূর্বোক্ত সূত্র।

(৪) দেখুন: রূহুল মাআনী (২৮/ ৯৩), পূর্বোক্ত সূত্র।

(৫) দেখুন: আত-তাবারী (১/ ৫৫৮), পূর্বোক্ত সূত্র।

(৬) দেখুন: আত-তাবারী ৪/ ১৬৩, পূর্বোক্ত সূত্র।
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ২৭)
والأعمال «1» ، وبذلك «يجعلهم أزكياء القلوب بالإيمان» كما قاله ابن عباس «2» ، وبين ابن كثير- رحمه الله تعالى- الوسيلة العملية لأداء عملية التزكية بقوله:

«يأمرهم بالمعروف، وينهاهم عن المنكر لتزكو نفوسهم وتطهر من الدنس والخبث الذي كانوا متلبسين به في حال شركهم وجاهليتهم» «3» .

ومعنى الاية إجمالا: «يقرأ عليهم ويبلغهم ما يوحى إليه من البينات، ويعلمهم القران، والحكمة وما يكمل به نفوسهم من أحكام الشريعة والمعارف الحقة» «4» .

 

‌‌من حكم ترتيب هذه الفروع في المواضع الأربعة «5» :

نلحظ أن التلاوة جاءت في الايات كلها في أول الفروع، ثم اختلف ترتيب الفرعين الاخرين حيث جاء التعليم للكتاب والحكمة أولا في دعاء إبراهيم وإسماعيل عليهما السلام في قوله عز وجل: رَبَّنا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُوا عَلَيْهِمْ آياتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (البقرة: 129) ، والدعاء من أساليب الطلب، وجاءت التزكية قبل التعليم في ايات الإخبار في الموضع الثاني من سورة (البقرة: 151) ، و (ال عمران: 16) ، و (الجمعة: 2) ، وقد تجلت من ذلك عدة حكم:

1- جاءت الفروع بهذه الهيئة في الترتيب مع أنها تعود لأمر واحد هو البلاغ المبين لأن المقام مقام تفصيل للنعم المطلوبة أو المرادة في العباد، ويدل على ذلك

--------------------------------------------

(1) انظر: روح المعاني (28/ 93) ، مرجع سابق.

(2) انظر: القرطبي (18/ 92) ، مرجع سابق.

(3) ابن كثير (1/ 425) ، مرجع سابق.

(4) تفسير أبي السعود (1/ 162) .

(5) يسمى هذا العلم (علم توجيه متشابه الكتاب) ، وهو فن مستقل من علوم القران … انظر: في الكتب المؤلفة فيه في مقدمة (السخاوي) علم الدين أبي الحسن علي بن محمد السخاوي ت 643 هـ: كتاب هداية المرتاب وغاية الحفاظ والطلاب في تبيين متشابه الكتاب.
এবং আমলসমূহ «১», আর এর মাধ্যমে «তিনি তাদের ঈমানের দ্বারা তাদের অন্তরকে পবিত্র করেন» যেমনটি ইবনে আব্বাস «২» বলেছেন। আর ইবনে কাসীর -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- পবিত্রকরণ প্রক্রিয়া সম্পাদনের ব্যবহারিক মাধ্যমটি তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন:

«তিনি তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ দেন এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করেন, যাতে তাদের নফস পবিত্র হয় এবং সেই অপবিত্রতা ও কলুষতা থেকে মুক্ত হয় যাতে তারা তাদের শিরক ও জাহেলিয়াতের অবস্থায় লিপ্ত ছিল» «৩»।

এবং আয়াতটির সারমর্ম হলো: «তিনি তাদের নিকট পাঠ করেন এবং তাদের কাছে পৌঁছে দেন যা তাঁর কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী থেকে ওহী করা হয়, আর তিনি তাদের শিক্ষা দেন কুরআন, হিকমত এবং যা দ্বারা তাদের নফস পূর্ণতা লাভ করে এমন শরীয়তের বিধান ও সত্য জ্ঞানসমূহ» «৪»।

 

‌‌এই শাখাগুলোর চারটি স্থানে বিন্যস্ত হওয়ার কিছু হিকমত «৫» :

আমরা লক্ষ্য করি যে, তিলাওয়াত সকল আয়াতেই শাখাগুলোর শুরুতে এসেছে, এরপর অন্য দুটি শাখার বিন্যাসে ভিন্নতা দেখা যায়। যেখানে ইব্রাহিম ও ইসমাইল আলাইহিমাস সালামের দুআয় কিতাব ও হিকমতের শিক্ষা আগে এসেছে মহান আল্লাহর এই বাণীতে: "হে আমাদের রব, তাদের মধ্যে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করুন, যিনি তাদের নিকট আপনার আয়াতসমূহ পাঠ করবেন এবং তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই আপনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়" (আল-বাকারা: ১২৯)। আর দুআ হলো প্রার্থনার অন্যতম পদ্ধতি। অন্যদিকে সংবাদ প্রদানের আয়াতসমূহে শিক্ষার আগে পবিত্রকরণের কথা এসেছে সূরা (আল-বাকারা: ১৫১), (আল ইমরান: ১৬), এবং (আল-জুমুআ: ২)-এর দ্বিতীয় স্থানে। এ থেকে বেশ কিছু হিকমত প্রকাশিত হয়েছে:

১- শাখাগুলো বিন্যাসের এই পদ্ধতিতে এসেছে যদিও তা একটি বিষয়ের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে আর তা হলো সুস্পষ্ট প্রচার (বালাগ), কারণ এই প্রেক্ষিতটি বান্দাদের মাঝে কাঙ্ক্ষিত বা উদ্দিষ্ট নেয়ামতসমূহের বিস্তারিত বর্ণনার ক্ষেত্র, আর তা প্রমাণ করে

--------------------------------------------

(১) দেখুন: রুহুল মাআনি (২৮/ ৯৩), পূর্বোক্ত উৎস।

(২) দেখুন: আল-কুরতুবি (১৮/ ৯২), পূর্বোক্ত উৎস।

(৩) ইবনে কাসীর (১/ ৪২৫), পূর্বোক্ত উৎস।

(৪) তাফসিরে আবিস সাউদ (১/ ১৬২)।

(৫) এই জ্ঞানকে বলা হয় (ইলমুত তাওজিহি মুতাশাবিহিল কিতাব), এটি উলূমুল কুরআনের একটি স্বতন্ত্র শাখা... দেখুন: এ বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহ—সাখাভীর ভূমিকায়; আলম উদ্দিন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ আস-সাখাভী, মৃত্যু ৬৪৩ হিজরি: কিতাব হিদায়েতুল মুরতাব ওয়া গায়াতুল হুফফাজ ওয়াত তুল্লাব ফি তাবিইনি মুতাশাবিহিল কিতাব।
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ২৮)
قوله عز وجل: وَيُعَلِّمُكُمْ ما لَمْ تَكُونُوا تَعْلَمُونَ (البقرة: 151) فإن الموصول مع كونه عبارة عن الكتاب والحكمة قطعا قد عطف تعليمه على تعليمهما وما ذلك إلا لتفصيل فنون النعم في مقام يقتضيه كما في قوله تعالى وَنَجَّيْناهُمْ مِنْ عَذابٍ غَلِيظٍ (هود: 58) عقب قوله تعالى نَجَّيْنا هُوداً وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِنَّا (هود: 58) «والمراد بعدم علمهم أنه ليس من شأنهم أن يعلموه بالفكر والنظر وغير ذلك من طرق العلم لانحصار الطريق في الوحي» «1» .

2- رتّبت بهذا الشكل دلالة على ضرورتها وترتبها في الوجود، والمعلم البارز في الترتيب أن التلاوة جاءت أولا في كل الايات، وذلك لأنها أساس الفرعين الاخرين، إذ حقيقة التعليم للكتاب تلاوة متعدية بإقراء ألفاظه، وتحفيظها وتفهيمها ببيان أحكامه للاخرين، وقد كان معظم تبليغه وكلامه صلى الله عليه وسلم تلاوة القران لا يزيد عليه إلا الأقل منه، ويدل على أن ذلك هو أساس وظائفه قوله عز وجل إِنَّما أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ رَبَّ هذِهِ الْبَلْدَةِ الَّذِي حَرَّمَها وَلَهُ كُلُّ شَيْءٍ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ (91) وَأَنْ أَتْلُوَا الْقُرْآنَ (النمل: 91- 92) .

3- وجاءت وَيُعَلِّمُكُمُ الْكِتابَ وَالْحِكْمَةَ ثانية في الدعاء: لأنها صفة أخرى مترتبة في الوجود على التلاوة، وأخر التزكية لأنها عبارة عن تكميل النفس بحسب القوة العملية وتهذيبها المتفرع على تكميلها بحسب القوة النظرية الحاصل بالتعليم المترتب على التلاوة «2» .

4- ويمكن النظر إلى الحكمة في الترتيب في كل سورة على حدة بالنظر إلى طبيعة وصف المخاطبين أو المتكلم عليهم: فلما كان ظاهر دعوته عليه السلام أن البعث

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير أبي المسعود (1/ 178) ، روح المعاني (28/ 93) ، مرجعان سابقان.

(2) تفسير أبي السعود (1/ 178) ، مرجع سابق.
মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তিনি তোমাদেরকে তা শিক্ষা দেন যা তোমরা জানতে না" (আল-বাকারা: ১৫১)। নিশ্চয়ই এখানে সংযুক্ত অব্যয়টি (মউসুল) নিশ্চিতভাবে কিতাব ও হিকমতকে বোঝালেও, এর শিক্ষাদানকে ওই দুটির শিক্ষাদানের ওপর সংযুক্ত করা হয়েছে কেবল প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে নেয়ামতের বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করার জন্য। যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে পরিদৃষ্ট হয়: "এবং আমি তাদেরকে কঠোর আজাব থেকে রক্ষা করেছি" (হূদ: ৫৮), যা মহান আল্লাহর এই বাণীর পরে এসেছে: "আমি হূদ এবং তাঁর সাথে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে রহমত স্বরূপ রক্ষা করেছি" (হূদ: ৫৮)। "তাদের না জানা বলতে উদ্দেশ্য হলো, চিন্তা-গবেষণা বা জ্ঞানের অন্য কোনো উপায়ে তা জানা তাদের সাধ্যায়ত্ত ছিল না, কারণ এর পথ কেবল ওহীর মধ্যে সীমাবদ্ধ।" (১)।

২- এগুলোকে এই ক্রমে বিন্যস্ত করা হয়েছে অস্তিত্বের ক্ষেত্রে এগুলোর আবশ্যকতা ও পরম্পরা নির্দেশ করার জন্য। এই বিন্যাসে সুস্পষ্ট বিষয় হলো যে, সকল আয়াতেই তিলাওয়াত প্রথমে এসেছে; কারণ এটি অন্য দুটি শাখার মূল ভিত্তি। কেননা কিতাব শিক্ষা দেওয়ার প্রকৃত স্বরূপ হলো এর শব্দগুলো পাঠ করানোর মাধ্যমে তিলাওয়াত করা, তা মুখস্থ করানো এবং এর বিধানাবলি বর্ণনার মাধ্যমে অন্যদের অনুধাবন করানো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকাংশ তবলিগ ও বাণী ছিল কুরআনের তিলাওয়াত, যার অতিরিক্ত অংশ ছিল খুবই সামান্য। এটিই যে তাঁর মূল দায়িত্বের ভিত্তি ছিল তা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা প্রমাণিত হয়: "আমি কেবল এই নগরীর রবের ইবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি, যিনি একে সম্মানিত করেছেন এবং সব কিছু তাঁরই। আর আমি আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হই এবং যেন কুরআন তিলাওয়াত করি" (আন-নামল: ৯১-৯২)।

৩- আর দোয়ার মধ্যে "তিনি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন" বাক্যটি দ্বিতীয় স্থানে এসেছে; কারণ এটি অস্তিত্বের ক্ষেত্রে তিলাওয়াতের পরবর্তী একটি গুণ। আর তাজকিয়া বা আত্মশুদ্ধিকে শেষে রাখা হয়েছে কারণ এটি কর্মগত শক্তির মাধ্যমে আত্মার পূর্ণতা ও সংস্কার সাধনকে বোঝায়, যা তিলাওয়াত-নির্ভর শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত তাত্ত্বিক শক্তির পূর্ণতা লাভের পরবর্তী স্তর (২)।

৪- প্রতিটি সূরায় আলাদাভাবে এই বিন্যাসের হিকমত বা রহস্যের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া সম্ভব, যা সম্বোধিত ব্যক্তি বা যাদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে তাদের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে। যেহেতু তাঁর দাওয়াতের প্রকাশ্য দিক ছিল এই যে, পুনরুত্থান...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসীরে আবি মাসউদ (১/ ১৭৮), রুহুল মাআনি (২৮/ ৯৩), পূর্বোক্ত দুটি উৎস।

(২) তাফসীরে আবি সউদ (১/ ১৭৮), পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ২৯)
لأمة مسلمة كانوا إلى تعليم ما ذكر أحوج منهم إلى التزكية؛ فإن أصلها موجود بالإسلام، فأخر قوله وَيُزَكِّيهِمْ أي يطهر قلوبهم بما أوتي من دقائق الحكمة فترتقي بصفائها ولطفها من ذروة الدين إلى محل يؤمن عليها فيه من أن ترتد على أدبارها، وتحرف كتابها كما فعل من تقدمها، والتزكية اكتساب الزكاة بما هو لها بمنزلة الغذاء للجسم، «ولما ذكر سبحانه في سورة الجمعة بعثه في الأميين عامة اقتضى المقام تقديم التزكية التي رأسها البراءة من الشرك الأكبر ليقبلوا ما جاءهم من العلم، وأما تقديمها في ال عمران مع ذكر البعث للمؤمنين فلاقتضاء الحال بالمعاتبة على الإقبال على الغنائم الذي كان سبب الهزيمة لكونها إقبالا على الدنيا التي هي أم الأدناس» «1» .

5- ومن حكم الترتيب أن التلاوة عامة لجميع الناس، والتزكية خاصة بمن استجاب للايات فامن بها، وتعليم الكتاب والحكمة خاص ببعض المؤمنين «2» .

6- وفي هذا الترتيب يظهر لنا الفرق في عملية تعليم القران (علم القراءة) عن عملية تعليم الأحكام، فعلم القراءة طريقه (التلقي) الذي تشير إليه لفظة يَتْلُوا، وعلم الأحكام أعم من التلقي فقد يكون بالاستنباط مثلا كما تشير إليه لفظة وَيُعَلِّمُهُمُ فرتب «التعليم على التلاوة كما هو الواقع لأن التلاوة أول ما يقرع السمع، والتعليم الذي هو التفهم بعده» «3» .

--------------------------------------------

(1) (البقاعي) برهان الدين أبي الحسن إبراهيم بن عمر البقاعي ت 885 هـ: نظم الدرر في تناسب الايات والسور.

(2) أشار شيخ الإسلام ابن تيمية في مجموع الفتاوى (16/ 185) إلى شيء يشبه هذا مع خلاف في جزئية من الفكرة.

(3) (السيوطي) جلال الدين عبد الرحمن بن أبي بكرت 911 هـ: قطف الأزهار في كشف الأسرار، تحقيق د. أحمد بن محمد الحمادي، إصدار وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية- قطر، 1414 هـ- 1994 م.
একটি মুসলিম উম্মাহর জন্য যা উল্লেখ করা হয়েছে তা শেখার প্রয়োজনীয়তা ছিল তাদের পরিশুদ্ধি অপেক্ষা অধিক; কারণ পরিশুদ্ধির মূল তো ইসলামের মাধ্যমেই বিদ্যমান। তাই তিনি তাঁর বাণী 'এবং তিনি তাদের পরিশুদ্ধ করেন' অংশটিকে পরে এনেছেন, অর্থাৎ তিনি তাদের নিকট আগত হিকমতের সূক্ষ্ম বিষয়াবলির মাধ্যমে তাদের অন্তরকে পবিত্র করেন। ফলে তা (অন্তর) তার স্বচ্ছতা ও সূক্ষ্মতার দ্বারা দ্বীনের শিখর হতে এমন এক অবস্থানে উন্নীত হয় যেখানে তার পূর্ববর্তীদের ন্যায় পেছন ফিরে চলে যাওয়া এবং কিতাব বিকৃত করার বিষয়ে নিরাপত্তা লাভ করা যায়। আর পরিশুদ্ধি হলো সেই পবিত্রতা অর্জন করা যা অন্তরের জন্য শরীরের খাদ্যের সমতুল্য। "আর যখন সুবহানাহু তাআলা সূরা আল-জুমুআহ-তে নিরক্ষরদের মাঝে সাধারণভাবে তাঁর (রাসূলের) প্রেরণের কথা উল্লেখ করেছেন, তখন মাকাম বা প্রাসঙ্গিকতা দাবি করেছে পরিশুদ্ধিকে অগ্রবর্তী করার, যার মূল হলো বড় শিরক থেকে মুক্তি পাওয়া, যাতে তারা তাদের নিকট আগত জ্ঞান গ্রহণ করতে পারে। পক্ষান্তরে সূরা আল-ইমরানে মুমিনদের জন্য প্রেরণের বর্ণনার সাথে একে (পরিশুদ্ধিকে) পরে উল্লেখ করা হয়েছে গণিমতের প্রতি ঝুঁকে পড়ার কারণে তিরস্কারের চাহিদাগত কারণে, যা ছিল পরাজয়ের মূল কারণ; কেননা তা ছিল দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়া যা সকল কলুষতার জননী।" (১)।

৫- এই বিন্যাসের হিকমতসমূহের মধ্যে একটি হলো তিলাওয়াত সকল মানুষের জন্য সাধারণ, আর পরিশুদ্ধি বিশেষভাবে তাদের জন্য যারা আয়াতসমূহের আহবানে সাড়া দিয়ে তাতে ঈমান এনেছে। এবং কিতাব ও হিকমতের শিক্ষা প্রদান বিশেষভাবে কিছু মুমিনের জন্য প্রযোজ্য। (২)।

৬- এই বিন্যাসের মাধ্যমে কুরআন শিক্ষা দানের প্রক্রিয়া (কিরাত বিদ্যা) এবং বিধিবিধান শিক্ষা দানের প্রক্রিয়ার মধ্যকার পার্থক্য আমাদের নিকট স্পষ্ট হয়। কিরাত বিদ্যার পদ্ধতি হলো 'তালকি' (সরাসরি গ্রহণ), যার দিকে 'তিনি তিলাওয়াত করেন' শব্দটি ইঙ্গিত করে। আর বিধিবিধানের জ্ঞান 'তালকি' বা সরাসরি গ্রহণের চেয়ে আরও ব্যাপক, কারণ তা ইস্তিম্বাত বা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের মাধ্যমেও হতে পারে, যেমনটি 'এবং তিনি তাদের শিক্ষা দেন' শব্দটি নির্দেশ করে। ফলে "তিলওয়াতের পর শিক্ষাদানকে বিন্যস্ত করা হয়েছে যেমনটি বাস্তবে ঘটে থাকে, কারণ তিলাওয়াতই সর্বপ্রথম কানে করাঘাত করে এবং শিক্ষাদান তথা অনুধাবন প্রক্রিয়া তার পরে ঘটে থাকে।" (৩)।

--------------------------------------------

(১) (আল-বিকায়ি) বুরহানুদ্দিন আবুল হাসান ইবরাহিম বিন উমর আল-বিকায়ি (মৃত্যু ৮৮৫ হি.): নাজমুত দুরার ফি তানাসুবিল আয়াতি ওয়াস সুওয়ার।

(২) শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ মাজমুউল ফাতাওয়া-তে (১৬/১৮৫) এই বিষয়ের কাছাকাছি একটি দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যদিও ধারণার একটি অংশে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে।

(৩) (আস-সুয়ূতী) জালালুদ্দিন আব্দুর রহমান বিন আবি বকর (মৃত্যু ৯১১ হি.): কাতফুল আজহার ফি কাশফিল আসরার, তাহকিক: ড. আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-হাম্মাদি, কাতার ওয়াকফ ও ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত, ১৪১৪ হি- ১৯৯৪ খ্রি.
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ৩০)
7- ومن الحكم الظاهرة لهذا الترتيب: أن التلاوة للقران يجب أن تكون عامة للناس، وعامة في مجتمع المؤمنين ظاهرة لا يكون أحد من المؤمنين في المجتمع إلا سامعا أو قائما بها … بالقدر الذي يجعل هجران القران المذكور في قول جل جلاله: وَقالَ الرَّسُولُ يا رَبِّ إِنَّ قَوْمِي اتَّخَذُوا هذَا الْقُرْآنَ مَهْجُوراً (الفرقان: 30) ، منتف عنه.. أما التعليم للكتاب تعليما تفصيليا دقيقا ففرض كفاية يقوم به بعض المؤمنين عن المجتمع كله.

وهذا يقتضي منهجيا من الدولة المسلمة: العمل على إشاعة القران بالوسائل الإعلامية والتوجيهية المختلفة، ومواكبة تطور العصر في هذا السبيل.

 

‌‌علاقة البلاغ بالتلاوة والتعليم:

تقدم أن البلاغ هو الوصف المجمل لوظيفة النبي صلى الله عليه وسلم، ويزاد هنا توضيح ذلك:

فالبلاغ هو غاية التلاوة وهو باعث التعليم كما في قوله تعالى بَلِّغْ ما أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ (المائدة: 67) ، ولا يبلغه إلا إذا تلاه، ولا بد من الإبانة في محاور البلاغ الثلاثة: التلاوة، والتعليم، والتزكية … وهذا البلاغ ينبغي أن يبقى متواصلا لكل الأجيال القادمة كما في قوله- تعالى ذكره-: «لأنذركم به ومن بلغ» ، فاقتضى هذا أمورا من حيث العملية التعليمية لألفاظ القران الكريم:

بقاء تلاوته بعد النبي صلى الله عليه وسلم ليحدث البلاغ.

أن تكون تلاوته بالطريقة ذاتها التي تلاه بها رسول الله صلى الله عليه وسلم من حيث أداء اللفظ الخارجي ومن حيث أداؤه الداخلي، وإن لم يكن هذا فما بلغت رسالة الله إلى العالمين.

أن يعلم النبي صلى الله عليه وسلم صحابته طريقة تلاوته للقران الكريم وحفظه وأدائه ليتم ذلك البلاغ المتواصل، وأن يعلمهم صلى الله عليه وسلم طريقة التعليم ليعلموا من بعدهم حتى يبقى البلاغ متصلا.
৭- এবং এই বিন্যাসের প্রকাশ্য হিকমতসমূহের মধ্যে একটি হলো: কুরআনের তিলাওয়াত সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হতে হবে এবং মুমিন সমাজে এটি এমনভাবে প্রকাশ্য ও ব্যাপক হতে হবে যেন সমাজের কোনো মুমিনই তিলাওয়াত শ্রবণকারী অথবা তিলাওয়াত সম্পাদনকারী হওয়া থেকে বাদ না পড়ে … যাতে মহান আল্লাহর এই বাণীতে উল্লিখিত কুরআনের প্রতি বিমুখতা বা বর্জন দূরীভূত হয়: “আর রাসূল বললেন, হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আমার জাতি এই কুরআনকে পরিত্যক্ত হিসেবে গ্রহণ করেছে” (আল-ফুরকান: ৩০)। আর কিতাবের বিস্তারিত ও সূক্ষ্ম শিক্ষা প্রদান করা হলো ফরজে কিফায়া, যা পুরো সমাজের পক্ষ থেকে মুমিনদের একটি অংশ আঞ্জাম দিয়ে থাকে।

আর এটি পদ্ধতিগতভাবে মুসলিম রাষ্ট্রের নিকট দাবি রাখে: বিভিন্ন প্রচারমাধ্যম ও দিকনির্দেশনামূলক উপায়ে কুরআনের প্রচার ও প্রসারে কাজ করা এবং এ পথে যুগের অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে চলা।

 

‌‌তিলাওয়াত ও শিক্ষার সাথে প্রচারের সম্পর্ক:

পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, প্রচার (বা তাবলিগ) হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দায়িত্বের একটি সামগ্রিক বর্ণনা, এখানে তার আরও স্পষ্টীকরণ প্রদান করা হচ্ছে:

বস্তুত প্রচারই হলো তিলাওয়াতের মূল লক্ষ্য এবং এটিই শিক্ষার প্রেরণা, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: “আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তা পৌঁছে দিন” (আল-মায়িদাহ: ৬৭)। আর তিলাওয়াত ব্যতীত তিনি তা পৌঁছাতে পারতেন না। প্রচারের তিনটি মূল অক্ষ—তিলাওয়াত, শিক্ষা এবং তাজকিয়া (আত্মশুদ্ধি)—এর ব্যাখ্যা প্রদান করা আবশ্যক … আর এই প্রচার বা পৌঁছানোর ধারা পরবর্তী সকল প্রজন্মের জন্য নিরবচ্ছিন্ন থাকা আবশ্যক, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: “যাতে আমি তোমাদের এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাদের এর মাধ্যমে সতর্ক করি”। সুতরাং এটি পবিত্র কুরআনের শব্দাবলি শিক্ষাদানের প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়কে আবশ্যক করে:

প্রচার বা তাবলিগ সম্পন্ন হওয়ার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরেও এর তিলাওয়াত অব্যাহত থাকা।

তিলাওয়াত ঠিক সেই পদ্ধতিতে হওয়া যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিলাওয়াত করেছিলেন—শব্দের বাহ্যিক উচ্চারণ এবং এর অভ্যন্তরীণ মর্ম বা হক আদায়ের দিক থেকে; এটি না হলে জগতবাসীর নিকট আল্লাহর রিসালাত বা বার্তা পৌঁছাত না।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেন তাঁর সাহাবীগণকে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, হিফজ এবং তা আদায়ের পদ্ধতি শিক্ষা দেন যাতে সেই নিরবচ্ছিন্ন প্রচার সুসম্পন্ন হয়; এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেন তাঁদের শিক্ষার পদ্ধতিও শিখিয়ে দেন যাতে তাঁরা তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মকে শিক্ষা দিতে পারেন, ফলে প্রচারের এই ধারাবাহিকতা অবিচ্ছিন্ন থাকে।
(খণ্ড: ১) ইজহাবু হাজান ওয়া শিফাউস সদরিস সাকিম (পৃষ্ঠা: ৩১)
.. وبذا مضى خليل الله الأكرم صلى الله عليه وسلم معلم الناس أكرم كلام … وخير هدي ونظام … مضى يجذب القلوب إليه وهو يجري من فمه الطاهر الزكي عسلا مصفى … يتلو … ولتلاوته مذاق لم يتغير طعمه أبد الدهر … فأنى عن حبه يبتعد اللاهون؟ وبمن غيره تستشفي نظرات المتيمين؟

قلبي- وحبّك للقلوب شفاء- … بهواك يخفق، والهوى استهداء

يا من بعثت مسددا ومؤيدا … و «محمدا» ، وزكت بك الالاء

الوحي وحي الله أنت مكانه … وبيانه، وصراطه الوضاء

قرانه يهدي لأقوم منهج … في العالمين، وايه غراء
.. এভাবে আল্লাহর পরম সম্মানিত বন্ধু (খলীলুল্লাহ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় নিলেন, যিনি মানুষকে সর্বোত্তম বাণী … এবং সর্বোত্তম আদর্শ ও বিধানের শিক্ষা দিয়েছেন … তিনি বিদায় নিলেন অন্তরসমূহকে তাঁর দিকে আকর্ষণ করে, এমতাবস্থায় যে তাঁর পবিত্র ও নির্মল মুখ হতে পরিশোধিত মধুর ন্যায় বাণী নির্গত হচ্ছিল … তিনি তিলাওয়াত করতেন … আর তাঁর তিলাওয়াতের এমন এক স্বাদ রয়েছে যার আস্বাদন অনন্তকাল অপরিবর্তিত থাকে … সুতরাং বিমুখরা কীভাবে তাঁর ভালোবাসা থেকে দূরে থাকতে পারে? আর অনুরাগী প্রেমিকদের দৃষ্টিরাজি তিনি ব্যতীত কার মাধ্যমে নিরাময় লাভ করবে?

আমার অন্তর—আর আপনার ভালোবাসা তো অন্তরসমূহের জন্য শেফা— … আপনারই প্রেমে স্পন্দিত হয়, আর আপনার এই প্রেমই হলো হেদায়েত অন্বেষণ।

হে সেই সত্তা, যাঁকে সঠিক পথপ্রদর্শক ও সাহায্যপ্রাপ্ত হিসেবে পাঠানো হয়েছে … এবং যিনি 'মুহাম্মাদ', আপনারই মাধ্যমে নেয়ামতসমূহ পবিত্র ও বরকতময় হয়েছে।

ওহী আল্লাহরই ওহী, আপনিই তার আধার … এবং তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও উজ্জ্বল সরল পথ।

তাঁর কুরআন বিশ্ববাসীর জন্য সবচেয়ে সুদৃঢ় ও সঠিক পথের দিশা দেয় … আর তাঁর আয়াতসমূহ অত্যন্ত উজ্জ্বল ও মহিমান্বিত।