(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: -)
فنون العجائب لأبي سعيد النقاش   (أبو سعيد النقاش)

القسم: كتب السنة


الكتاب: فنون العجائب في أخبار الماضيين من بني إسرائيل وغيرهم من العباد والزاهدين

المؤلف: أبو سعيد محمد بن علي بن عمر بن مهدي الأصبهاني الحنبلي النقاش (ت 414هـ)

دراسة وتحقيق: طارق الطنطاوي

الناشر: مكتبة القرآن، القاهرة

عدد الصفحات: 133

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবু সাঈদ আন-নাক্কাশের ফুনুনুল আজায়িব   (আবু সাঈদ আন-নাক্কাশ)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: বনী ইসরাঈল এবং অন্যান্য ইবাদতকারী ও দুনিয়াবিমুখদের মধ্য হতে বিগত জাতিসমূহের সংবাদে বিচিত্র সব বিস্ময়কর ঘটনাবলি

লেখক: আবু সাঈদ মুহাম্মাদ বিন আলী বিন উমর বিন মাহদী আল-আসবাহানী আল-হাম্বলী আন-নাক্কাশ (মৃত্যু ৪১৪ হিজরী)

গবেষণা ও সম্পাদনা: তারিক আল-তান্তাবী

প্রকাশক: মাকতাবাতুল কুরআন, কায়রো

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৩

[কিতাবের নম্বরকরণ মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ رَبِّ تَمِّمْ بِالْخَيْرِ أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْعَالِمُ الْعَامِلُ، بَقِيَّةُ السَّلَفِ، عِمَادُ الدِّينِ أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ مَحْمُودِ بْنِ مُحَمَّدٍ الصَّالَحَانِيُّ - أَبْقَاهُ اللَّهُ - قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ بِمَسْجِدِ أَخِيهِ يَحْيَى بِبَابِ السَّلَامِ بِمَحْرُوسَةِ شِيرَازَ سَنَةَ تِسْعٍ وَخَمْسِينَ وَسِتِّ مِئَةٍ قَالَ: أَنَا وَالِدِي الْإِمَامُ الْعَالِمُ الْمُتَحَقِّقُ الْمُتَبَحِّرُ: سَعْدُ الدِّينِ نَاصِرُ السُّنَّةِ ذُو الْبَيَانَيْنِ أَبُو الْقَاسِمِ مَحْمُودُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ بِرَوَايَتِهِ عَنِ الْقَاضِي أَبِي رَشِيدٍ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْغَفَّارِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ أَشْنَةَ قَالَ: أَنَا الشَّيْخُ أَبُو سَعِيدٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَمْرِو بْنِ مَهْدِيٍّ النَّقَّاشُ الْحَنْبَلِيُّ رحمه الله قُرِئَ عَلَيْهِ فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الْآخَرِ سَنَةَ أَرْبَعَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعِ مِئَةٍ قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَجْرِ فِي أَرْضِهِ إِلَّا مَا قَدَّرَ مِنْ عَجَائِبِ صُنْعِهِ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مَنِ اخْتَارَ لِنُبُوَّتِهِ مِنْ رِسَالَتِهِ، وَعَلَى مَنْ نَصَرَهُ وَآوَاهُ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আমার রব, কল্যাণের সাথে সমাপ্ত করুন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, আমলকারী, সালাফদের সুযোগ্য উত্তরসূরি, ইমাদুদ্দীন আবু আলী আল-হুসাইন বিন মাহমুদ বিন মুহাম্মাদ আস-সালাহানি—আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন—তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শুনছিলাম শিরাজ সংরক্ষিত নগরীর বাবুস সালামে তাঁর ভাই ইয়াহইয়ার মসজিদে, ছয়শ উনষাট হিজরি সনে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, ইমাম, বিজ্ঞ গবেষক ও অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী আলেম: সাদুদ দীন নাসীরুস সুন্নাহ যুল বায়ানাইন আবুল কাসিম মাহমুদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন; কাজী আবু রাশিদ আবদুল্লাহ থেকে তাঁর বর্ণনায়, তিনি আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল গাফফার বিন আহমাদ বিন আলী আশনাহ থেকে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু সাঈদ মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আমর বিন মাহদী আন-নাক্কাশ আল-হাম্বলী (রাহিমাহুল্লাহ)। তাঁর নিকট চারশ চৌদ্দ হিজরি সনের রবিউল আখির মাসে পাঠ করা হয়েছে। তিনি বলেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর জমিনে তাঁর সৃষ্টির বিস্ময়কর বিষয়াবলির মধ্যে কেবল তা-ই কার্যকর হয় যা তিনি নির্ধারণ করেছেন। আর আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যাঁকে তিনি তাঁর রিসালাতের মাধ্যমে নবুওয়তের জন্য মনোনীত করেছেন, এবং তাঁদের ওপর যারা তাঁকে সাহায্য করেছেন ও আশ্রয় দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌حَدِيثُ مَا ذَكَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ كَلَامِ الذِّئْبِ وَفِيهِ دَلَالَةٌ لِنِبُوَّتِهِ عليه السلام
নেকড়ে বাঘের কথা বলা সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা বর্ণনা করেছেন সেই সংক্রান্ত হাদীস এবং এতে তাঁর নবুওয়াতের প্রমাণ বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
1 - أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَالِحٍ الْكَرِيزِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو سُلَيْمَانَ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ الْمُنْذِرِ الْقَزَّازُ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «حَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ، وَلَا حَرَجَ»
১ - ইয়াকুব ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-কারিযি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু সুলাইমান মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনুল মুনযির আল-কাযযায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আমির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আমর আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই।»
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
1 - " بَيْنَا رَجُلٌ يَسُوقُ بَقَرَةً، إِذَا أَعْيَى فَرَكِبَهَا، فَالْتَفَتَتْ إِلَيْهِ، فَقَالَتْ: يَا هَذَا إِنَّا لَمْ نُخْلَقْ لِهَذَا إِنَّمَا خُلِقْنَا لِحِرَاثَةِ الْأَرْضِ ". فَقَالَ النَّاسُ: سُبْحَانَ اللَّهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فَإِنِّي آمَنْتُ بِمَا قَالَ الثَّوْرُ أَنَا، وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ» . رضي الله عنهما، وَلَيْسَا فِي الْقَوْمِ، فَقَالَ النَّاسُ: آمَنَّا بِمَا آمَنَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
১ - "এক ব্যক্তি একটি গাভী তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, এক পর্যায়ে সে ক্লান্ত হয়ে পড়লে তার ওপর সওয়ার হলো। তখন গাভীটি তার দিকে ফিরে তাকিয়ে বলল: হে ব্যক্তি! নিশ্চয়ই আমাদেরকে এই কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি, বরং আমাদেরকে কেবল ভূমি চাষাবাদের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে।" তখন লোকেরা (বিস্মিত হয়ে) বলল: আল্লাহ পরম পবিত্র, আল্লাহ পরম পবিত্র! তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "ষাঁড়টি যা বলেছে তার ওপর আমি, আবু বকর এবং উমর ঈমান আনলাম।" অথচ তখন তাঁরা (আবু বকর ও উমর - আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। অতঃপর লোকেরা বলল: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাতে ঈমান এনেছেন আমরাও তাতে ঈমান আনলাম।
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
1 - " وَبَيْنَا رَجُلٌ فِي غَنَمٍ لَهُ، إِذْ جَاءَ الذِّئْبُ فَأَخَذَ مِنْهَا شَاةً، فَسَعَى خَلْفَهُ حَتَّى انْتَزَعَهَا ⦗ص: 24⦘ مِنْهُ، فَأَقْبَلَ الذِّئْبُ وَأَقْعَى عَلَى ذَنَبِهِ، وَقَالَ: يَا هَذَا، أَمَا تَتَّقِي اللَّهَ؟ تَنْزَعُ مِنِّي رِزْقًا رَزَقَنِيهِ اللَّهُ؟ " فَقَالَ النَّاسُ: سُبْحَانَ اللَّهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فَإِنِّي آمَنْتُ بِهِ أَنَا، وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ» . رضي الله عنهما، وَلَيْسَا فِي الْقَوْمِ، فَقَالَ النَّاسُ: آمَنَّا بِمَا آمَنَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
১ - "একদা এক ব্যক্তি তার মেষপালের মধ্যে ছিল, এমতাবস্থায় একটি নেকড়ে এসে সেখান থেকে একটি ভেড়া নিয়ে গেল। সে নেকড়েটির পিছু ধাওয়া করল এবং একপর্যায়ে তার কাছ থেকে সেটি উদ্ধার করল ⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘। তখন নেকড়েটি ফিরে এল এবং তার লেজের ওপর ভর দিয়ে বসে পড়ল। সে বলল: হে ব্যক্তি! তুমি কি আল্লাহকে ভয় করো না? আল্লাহ আমাকে যে রিজিক দান করেছেন, তুমি তা আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছ? লোকেরা (বিস্ময়ে) বলে উঠল: সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ কতই না পবিত্র)! সুবহানাল্লাহ! তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আমি এতে ঈমান এনেছি এবং আবু বকর ও উমরও (ঈমান এনেছে)», যদিও তারা তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। অতঃপর লোকেরা বলল: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাতে ঈমান এনেছেন, আমরাও তাতে ঈমান আনলাম।"
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
2 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحْرِمٍ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْحِيرِيُّ، حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ قَطَنٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «حَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ، وَلَا حَرَجَ»
2 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহরিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হারিস বিন মুহাম্মদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ বিন হারুন। এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-হীরী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসাদ্দাদ বিন কাতান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন ইবরাহিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ বিন হারুন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আমর, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই।»
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
2 - " بَيْنَا رَجُلٌ يَسُوقُ بَقَرَةً فَأَعْيَى فَرَكِبَهَا، فَالْتَفَتَتْ إِلَيْهِ، فَقَالَتْ: إِنِّي لَمْ أُخْلَقْ لِهَذَا، إِنَّمَا خُلِقْتُ لِحِرَاثَةِ الْأَرْضِ ". فَقَالَ مَنْ حَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: سُبْحَانَ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فَإِنِّي آمَنْتُ بِهِ أَنَا، وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ» . وَلَيْسَا فِي الْمَجْلِسِ، فَقَالَ الْقَوْمُ: فَإِنَّا آمَنَّا بِمَا آمَنَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم "
২ - "একদা এক ব্যক্তি একটি গাভী হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, এমতাবস্থায় সে ক্লান্ত হয়ে তার পিঠে আরোহণ করল। তখন গাভীটি তার দিকে ফিরে তাকাল এবং বলল: 'নিশ্চয়ই আমাকে এই কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি, আমাকে কেবল ভূমি কর্ষণের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে।' রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আশেপাশে থাকা লোকেরা (বিস্ময়ে) বলে উঠল: 'সুবহানাল্লাহ!' তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'আমি এতে ঈমান এনেছি এবং আবু বকর ও উমরও (ঈমান এনেছে)।' অথচ তারা তখন সেই মজলিসে উপস্থিত ছিলেন না। তখন উপস্থিত জনতা বলল: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বিশ্বাস করেছেন, আমরাও তাতে বিশ্বাস স্থাপন করলাম।'"
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
2 - قَالَ: " وَبَيْنَمَا رَجُلٌ يَسُوقُ غَنَمًا لَهُ عَدَا الذِّئْبُ عَلَيْهِ فَأَخَذَ شَاةً، فَاتَّبَعَهُ يَطْلُبُهُ، فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ الذِّئْبُ فَقَالَ: مَنْ لَهَا يَوْمَ السَّبُعِ، يَوْمَ لَا رَاعٍ لَهَا غَيْرِي ". فَقَالَ مَنْ حَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: سُبْحَانَ اللَّهِ سُبْحَانَ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «آمَنْتُ بِهِ أَنَا، وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ» . وَلَيْسَا فِي الْمَجْلِسِ، فَقَالَ الْقَوْمُ: وَإِنَّا آمَنَّا بِمَا آمَنَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم "

 

3 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو الْحِيرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو خُبَيْبٍ الْبِرْتِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ سَانٍ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، مِثْلَهُ
২ - তিনি বললেন: "এক ব্যক্তি যখন তাঁর এক পাল ছাগল হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় একটি নেকড়ে তার ওপর চড়াও হয়ে একটি ছাগল ছিনিয়ে নিল। তখন লোকটি সেটির পিছু ধাওয়া করল। নেকড়েটি তার দিকে ফিরে তাকাল এবং বলল: 'হিংস্র পশুর দিনে এর দেখাশোনা কে করবে, যেদিন আমি ছাড়া এর কোনো রাখাল থাকবে না?'" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আশেপাশে যারা ছিলেন তারা বলে উঠলেন: "সুবহানাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ!" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমি এতে ঈমান এনেছি এবং আবু বকর ও উমরও ঈমান এনেছে।" অথচ তারা মজলিসে উপস্থিত ছিলেন না। তখন উপস্থিত লোকজন বললেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাতে ঈমান এনেছেন আমরাও তাতে ঈমান আনলাম।"

 

৩ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর আল-হিরি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু খুবাইব আল-বিরতি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল হামীদ বিন সান, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ বিন আব্দুল্লাহ, তিনি মুহাম্মদ বিন আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
4 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الشَّافِعِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو شَيْخٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْأَصْبَهَانِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا حَسَّانُ يَعْنِي ابْنَ سِيَاهٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «حَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا حَرَجَ»
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইব্রাহীম আশ-শাফিঈ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু শায়খ মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আল-আসবাহানী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে হাবীব, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাসান—অর্থাৎ ইবনে সিয়াহ—মুহাম্মাদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «তোমরা বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই।»
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
4 - " بَيْنَمَا رَجُلٌ يَسُوقُ بَقَرَةً إِذْ أَعْيَى فَرَكِبَهَا، فَالْتَفَتَتْ إِلَيْهِ فَقَالَتْ: إِنَّا لَمْ نُخْلَقْ لِهَذَا، إِنَّمَا خُلِقْنَا لِحِرَاثَةِ الْأَرْضِ ". فَقَالَ مَنْ حَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: سُبْحَانَ اللَّهِ سُبْحَانَ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ: «فَإِنِّي آمَنْتُ بِهِ أَنَا، وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ» . وَلَيْسَا فِي الْمَجْلِسِ. فَقَالَ مَنْ حَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: فَإِنَّا آمَنَّا بِمَا آمَنَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
৪ - "এক ব্যক্তি যখন একটি গরু হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়লেন এবং তার ওপর আরোহণ করলেন। তখন গরুটি তার দিকে ফিরে তাকাল এবং বলল: 'নিশ্চয়ই আমাদেরকে এর জন্য সৃষ্টি করা হয়নি, বরং আমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে জমি চাষ করার জন্য'। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আশেপাশে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ বললেন: সুবহানাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ! তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «নিশ্চয়ই আমি এতে ঈমান এনেছি এবং আবু বকর ও উমরও (ঈমান এনেছে)»। অথচ তারা সেই মজলিসে উপস্থিত ছিলেন না। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আশেপাশে যারা ছিলেন তারা বললেন: 'আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বিষয়ের ওপর ঈমান এনেছেন, আমরাও তার ওপর ঈমান আনলাম'।"
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
4 - قَالَ " وَبَيْنَمَا رَجُلٌ يَسُوقُ غَنَمًا عَدَا الذِّئْبُ فَأَخَذَ شَاةً مِنْهَا، فَطَلَبَهُ الرَّجُلُ فَقَالَ: مَنْ لَهَا يَوْمَ السَّبُعِ، يَوْمَ لَيْسَ لَهَا رَاعٍ غَيْرِي ". قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو يَوْمُ السَّبُعِ: يَوْمُ الْقِيَامَةِ، فَقَالَ مَنْ حَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: سُبْحَانَ اللَّهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ قَالَ: «فَإِنِّي آمَنْتُ بِهِ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ» ، وَلَيْسَا فِي الْمَجْلِسِ. فَقَالَ مَنْ حَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: فَإِنَّا آمَنَّا بِمَا آمَنَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
৪ - তিনি বললেন, "এক ব্যক্তি যখন একপাল বকরি তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন একটি নেকড়ে আক্রমণ করে সেখান থেকে একটি বকরি ছিনিয়ে নিল। তখন লোকটি সেটির পিছু ধাওয়া করল। তখন নেকড়েটি বলল: হিংস্র পশুর দিনে এদের দেখাশোনা করার কে আছে? যেদিন আমি ছাড়া এদের আর কোনো রাখাল থাকবে না।" মুহাম্মদ ইবনে আমর বলেন, হিংস্র পশুর দিন হলো কিয়ামতের দিন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আশেপাশে যারা ছিলেন তারা বললেন: সুবহানাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ! তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমি এতে ঈমান এনেছি এবং আবু বকর ও উমরও (ঈমান এনেছে)"—অথচ তারা তখন সেই মজলিসে উপস্থিত ছিলেন না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চারপাশের ব্যক্তিবর্গ বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাতে ঈমান এনেছেন, আমরাও তাতে ঈমান আনলাম।
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
5 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَهْلٍ بِشْرُ بْنُ أَحْمَدَ، أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ⦗ص: 26⦘: " بَيْنَمَا رَجُلٌ يَسُوقُ بَقَرَةً إِذَا أَعْيَى فَرَكِبَهَا، فَقَالَتْ: إِنَّا لَمْ نُخْلَقْ لِهَذَا إِنَّمَا خُلِقْنَا لِحِرَاثَةِ الْأَرْضِ ". فَقَالَ مَنْ حَوْلَهُ: سُبْحَانَ اللَّهِ سُبْحَانَ اللَّهِ فَقَالَ: «إِنِّي آمَنْتُ بِهِ أَنَا، وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ» . وَلَيْسَا فِي الْمَجْلِسِ. قَالَ مَنْ حَوْلَهُ: آمَنَّا بِمَا آمَنَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم "
৫ - আবু সাহল বিশর ইবনে আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাসান ইবনে সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, কুতাইবা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘: "এক ব্যক্তি একটি গাভী তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, এমতাবস্থায় সে ক্লান্ত হয়ে পড়লে তার ওপর সওয়ার হলো। তখন গাভীটি বলল: 'নিশ্চয়ই আমাদের এ কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি, বরং আমাদের কেবল জমি চাষ করার জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে'।" তখন তার চারপাশের লোকেরা বলে উঠল: 'সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!' তিনি বললেন: "আমি এতে ঈমান আনলাম এবং আবু বকর ও উমরও।" অথচ তারা তখন সেই মজলিসে উপস্থিত ছিলেন না। তখন তার উপস্থিত লোকেরা বলল: "আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যার ওপর ঈমান এনেছেন আমরাও তার ওপর ঈমান আনলাম।"
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
5 - قَالَ: " وَبَيْنَمَا رَجُلٌ يَسُوقُ شَاةً عَدَا الذِّئْبُ عَلَيْهَا، فَأَخَذَهَا، فَطَلَبَهُ ، فَقَالَ: فَمَنْ لَهَا يَوْمَ السَّبُعِ يَوْمَ لَيْسَ لَهَا رَاعٍ غَيْرِي ". فَقَالَ مَنْ حَوْلَهُ: سُبْحَانَ اللَّهِ قَالَ: «فَإِنِّي آمَنْتُ بِهِ أَنَا، وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرَ» . وَلَيْسَا فِي الْمَجْلِسِ. قَالَ مَنْ حَوْلَهُ: آمَنَّا بِمَا آمَنَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم "
৫ - তিনি বললেন: "একদা এক ব্যক্তি একটি ভেড়া তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় একটি নেকড়ে সেটির ওপর আক্রমণ করে তা ছিনিয়ে নিল। তখন ওই ব্যক্তি সেটির পিছু ধাওয়া করলেন। তখন নেকড়েটি বলল: 'হিংস্র পশুর সেই দিনে এর দেখাশোনার জন্য কে আছে, যেদিন আমি ছাড়া এর কোনো রাখাল থাকবে না?'" তখন তাঁর আশেপাশে উপস্থিত ব্যক্তিগণ বলে উঠলেন: "সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ অতি পবিত্র)!" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমি এতে ঈমান এনেছি এবং আবু বকর ও উমরও ঈমান এনেছেন।" অথচ তাঁরা তখন মজলিসে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর আশেপাশের লোকেরা বলল: "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার প্রতি ঈমান এনেছেন, আমরাও তার প্রতি ঈমান আনলাম।"
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
6 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مَالِكٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " بَيْنَمَا رَجُلٌ رَاكِبٌ عَلَى بَقَرَةٍ الْتَفَتَتْ إِلَيْهِ، فَقَالَتْ: إِنِّي لَمْ أُخْلَقْ لِهَذَا، إِنَّمَا خُلِقْتُ لِلْحِرَاثَةِ ". قَالَ: «فَآمَنْتُ بِهِ أَنَا، وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ» . رضي الله عنهما قَالَ: " وَأَخَذَ الذِّئْبُ شَاةً، فَتَبِعَهَا الرَّاعِي، فَقَالَ الذِّئْبُ: مَنْ لَهَا يَوْمَ السَّبُعِ، يَوْمَ لَا رَاعِيَ لَهَا غَيْرِي؟ فَآمَنْتُ بِهِ أَنَا، وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ ". رضي الله عنهما قَالَ أَبُو سَلَمَةَ: وَمَا هُمَا يَوْمَئِذٍ فِي الْقَوْمِ

 

7 - وَأَخْبَرَنَاهُ أَبُو سَهْلٍ بِشْرُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ⦗ص: 27⦘: «بَيْنَمَا رَجُلٌ رَاكِبٌ عَلَى بَقَرَةٍ الْتَفَتَتْ إِلَيْهِ» . فَذَكَرَ مِثْلَهُ سَوَاءً
৬ - আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন জাফর বিন মালিক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, তিনি সা'দ বিন ইবরাহিম থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "একদা এক ব্যক্তি একটি গরুর পিঠে আরোহণ করে যাচ্ছিল, তখন গরুটি তার দিকে ফিরে তাকাল এবং বলল: 'নিশ্চয়ই আমি এর জন্য সৃষ্টি হইনি, আমি কেবল হাল চাষের জন্যই সৃষ্টি হয়েছি'।" তিনি বললেন: "আমি এতে ঈমান আনলাম এবং আবু বকর ও উমরও (ঈমান আনল)।" (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)। তিনি আরও বললেন: "একটি নেকড়ে একটি বকরি ছিনিয়ে নিয়ে গেল, তখন রাখাল সেটির পিছু নিল। তখন নেকড়েটি বলল: 'হিংস্র পশুর দিনে একে কে রক্ষা করবে, যেদিন আমি ছাড়া তার আর কোনো রাখাল থাকবে না?' তখন আমি এতে ঈমান আনলাম এবং আবু বকর ও উমরও (ঈমান আনল)।" (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)। আবু সালামাহ বলেন: "অথচ তারা উভয়ে সেদিন সেখানে উপস্থিত লোকদের মাঝে ছিলেন না।"

 

৭ - এবং আমাদের নিকট এটি সংবাদ দিয়েছেন আবু সাহল বিশর বিন আহমাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন জাফর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, তিনি সা'দ বিন ইবরাহিম থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘: "একদা এক ব্যক্তি একটি গরুর পিঠে আরোহণ করে যাচ্ছিল, তখন গরুটি তার দিকে ফিরে তাকাল..." এরপর তিনি হুবহু এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
8 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَهْلٍ ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ الْمُسَيِّبِ، وَأَبُو سَلَمَةَ: أَنَّهُمَا سَمِعَا أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " بَيْنَمَا رَاعٍ فِي غَنَمِهِ عَدَا عَلَيْهِ الذِّئْبُ، فَأَخَذَ مِنْهَا شَاةً، فَطَلَبَهُ الرَّاعِي حَتَّى اسْتَنْقَذَهَا مِنْهُ، فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ الذِّئْبُ، فَقَالَ لَهُ: فَمَنْ لَهَا يَوْمَ السَّبُعِ أَوْ يَوْمًا لَيْسَ لَهَا رَاعٍ غَيْرِي ". فَقَالَ النَّاسُ: سُبْحَانَ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فَإِنِّي أُؤْمِنُ بِذَلِكَ، وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ»
৮ - আবু সাহল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাসান ইবনে সুফিয়ান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবু সালিহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, লাইস আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, উকাইল আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, ইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত, ইবনে আল-মুসাইয়িব এবং আবু সালামাহ আমাকে জানিয়েছেন যে, তাঁরা আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "একদা এক রাখাল তার ছাগলপালের মধ্যে ছিল, এমতাবস্থায় একটি নেকড়ে তার ওপর আক্রমণ করল এবং একটি ছাগল ছিনিয়ে নিল। রাখাল সেটিকে তাড়া করল এবং শেষ পর্যন্ত নেকড়ের কাছ থেকে সেটি উদ্ধার করল। তখন নেকড়েটি তার দিকে ফিরে তাকাল এবং তাকে বলল: হিংস্র পশুর দিনে এদের দেখাশোনার জন্য কে থাকবে, যেদিন আমি ছাড়া এদের আর কোনো রাখাল থাকবে না?" তখন মানুষ বিস্ময়ে বলল: সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই আমি এতে ঈমান এনেছি, আর আবু বকর ও উমরও (ঈমান এনেছে)।"
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
9 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مَالِكٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: " جَاءَ ذِئْبٌ إِلَى رَاعِيِ الْغَنَمِ، فَأَخَذَ مِنْهَا شَاةً، فَطَلَبَهُ الرَّاعِي حَتَّى انْتَزَعَهَا مِنْهُ قَالَ: فَصَعِدَ الذِّئْبُ عَلَى تَلٍّ فَأَقْعَى وَاسْتَنْفَرَ، وَقَالَ: عَمَدْتَ إِلَى رِزْقٍ رَزَقَنِيهِ اللَّهُ، انْتَزَعْتَهُ مِنِّي ". فَقَالَ الرَّجُلُ: تَالَلَّهِ إِنْ رَأَيْتُ كَالْيَوْمِ ذِئْبًا يَتَكَلَّمُ فَقَالَ الذِّئْبُ: أَعْجَبُ مِنْ هَذَا رَجُلٌ فِي النَّخَلَاتِ بَيْنَ الْحَرَّتَيْنِ يُخْبِرُكُمْ بِمَا مَضَى، وَبِمَا هُوَ كَائِنٌ بَعْدَكُمْ، وَكَانَ الرَّجُلُ يَهُودِيًّا، فَجَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَسْلَمَ، وَخَبَّرَهُ، فَصَدَّقَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّهَا أَمَارَةٌ مِنْ أَمَارَاتٍ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ، قَدْ أَوْشَكَ الرَّجُلُ أَنْ يَخْرُجَ فَلَا يَرْجِعُ حَتَّى تُحَدِّثُهُ نَعْلَاهُ وَسَوْطُهُ مَا أَحْدَثَ أَهْلُهُ بَعْدَهُ»
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন জাফর বিন মালিক, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, আশ’আস বিন আব্দুল্লাহ থেকে, শাহর বিন হাওশাব থেকে, আবু হুরাইরা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "একটি নেকড়ে এক মেষপালকের কাছে এসে তার পাল থেকে একটি ভেড়া ধরে নিয়ে গেল। রাখাল সেটিকে তাড়া করল এবং নেকড়ের কাছ থেকে তা উদ্ধার করল। বর্ণনাকারী বলেন: তখন নেকড়েটি একটি টিলার ওপর চড়ে দুই পা গেড়ে বসল এবং চিৎকার করে বলল: 'তুমি আমার সেই রিযিক কেড়ে নিলে যা আল্লাহ আমাকে দান করেছিলেন?' লোকটি বলল: 'আল্লাহর কসম! আজকের মতো বিস্ময়কর দৃশ্য আমি আর দেখিনি, একটি নেকড়ে কথা বলছে!' নেকড়েটি বলল: 'এর চেয়েও বিস্ময়কর বিষয় হলো দুই পাথুরে মাঠের (হাররা) মধ্যবর্তী খেজুর বাগানে অবস্থানরত এক ব্যক্তি, যিনি তোমাদেরকে অতীতের সংবাদ এবং তোমাদের পরে যা ঘটবে তার সংবাদ দিচ্ছেন।' লোকটি ছিল একজন ইয়াহুদী। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে ইসলাম গ্রহণ করল এবং তাঁকে বিষয়টি জানাল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কথা সত্য বলে সত্যায়ন করলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «এটি কিয়ামতের পূর্ববর্তী সময়ের নিদর্শনসমূহের একটি। অচিরেই এমন সময় আসবে যখন কোনো লোক ঘর থেকে বের হবে, আর সে ফিরে আসার আগেই তার জুতো এবং তার চাবুক তাকে জানিয়ে দেবে যে, তার অবর্তমানে তার পরিবার কী করেছে»।"
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
10 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الصُّوفِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْبَخْتَرِيِّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شَاكِرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الْحَفَرِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " بَيْنَمَا رَجُلٌ يَسُوقُ بَقَرَةً، فَأَرَادَ أَنْ يَرْكَبَهَا، فَالْتَفَتَتْ إِلَيْهِ، فَقَالَتْ: إِنَّا لَمْ نُخْلَقْ لِهَذَا، إِنَّمَا خُلِقْنَا لِلْحَرْثِ "
১০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর সাঈদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি উসমান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আস-সুফি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-বাখতারি আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন শাকির, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ আল-হাফারি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "একদা এক ব্যক্তি একটি গরু হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি সেটির পিঠে আরোহণ করতে চাইলেন। তখন গরুটি তার দিকে ফিরে তাকাল এবং বলল: নিশ্চয়ই আমাদের এই কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি, বরং আমাদের কেবল চাষাবাদের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
11 - أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْقِصَارُ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الصَّاحِبِ، حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ اللَّيْثِ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدٍ، وَأَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الصَّلَاةِ، فَأَقْبَلَ عَلَى أَصْحَابِهِ، قَالَ: " بَيْنَمَا رَجُلٌ يَسُوقُ بَقَرَةً بَدَا لَهُ أَنْ يَرْكَبَهَا، فَأَقْبَلَتْ عَلَيْهِ فَقَالَتْ: إِنَّا لَمْ نُخْلَقْ لِهَذَا "
১১ - ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কিসার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাসান ইবনুল সাহিব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আর-রাবি ইবনে সুলায়মান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, শুয়াইব ইবনুল লাইস আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আমার পিতা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন উকাইল থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সাঈদ ও আবু সালামাহ থেকে, তাঁরা আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করে তাঁর সাহাবীগণের দিকে অভিমুখ করলেন এবং বললেন: "এক ব্যক্তি একটি গাভী হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, এমতাবস্থায় সেটির ওপর আরোহণ করার ইচ্ছা তার মনে জাগল। তখন গাভীটি তার দিকে ফিরে তাকাল এবং বলল: 'নিশ্চয়ই আমাদের এই কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি'।"
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
12 - أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ سَهْلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ التِّنِّيسِيُّ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، وَأَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " بَيْنَمَا رَجُلٌ يَحْمِلُ عَلَى بَقَرَةٍ حِمْلًا إِذِ الْتَفَتَتْ إِلَيْهِ فَقَالَتْ: إِنَّا لَمْ نُخْلَقْ لِهَذَا، إِنَّمَا خُلِقْنَا لِلْحَرْثِ ". فَقَالَ النَّاسُ: سُبْحَانَ اللَّهِ بَقَرَةٌ تَتَكَلَّمُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «فَإِنِّي أُؤْمِنُ بِذَلِكَ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ، وَلَيْسَا فِي الْقَوْمِ»
১২ - সুলায়মান ইবনে আহমদ ইবনে আইয়ুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বকর ইবনে সাহল আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আত-তিন্নিসি আমাদের বর্ণনা করেছেন, আল-লাইস ইবনে সাদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, উকাইল থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িব এবং আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তারা আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "একদা এক ব্যক্তি একটি গরুর উপর বোঝা বহন করাচ্ছিল, এমতাবস্থায় গরুটি তার দিকে ফিরে তাকাল এবং বলল: 'নিশ্চয়ই আমাদের এই কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি, আমাদের কেবল চাষাবাদের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে'।" তখন লোকজন বিস্ময়ে বলল: "সুবহানাল্লাহ! গরু কথা বলছে!" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আমি এতে বিশ্বাস করি এবং আবু বকর ও উমরও বিশ্বাস করে—যদিও তারা এখানে উপস্থিত নেই।"
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
13 - أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ بْنِ يَحْيَى بْنِ الضُّرَيْسِ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ شَبِيبِ بْنِ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، وَسَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " بَيْنَمَا رَجُلٌ فِي غَنَمٍ عَدَا عَلَيْهِ الذِّئْبُ، فَأَخَذَ مِنْهَا شَاةً، فَطَلَبَهُ الرَّاعِي حَتَّى اسْتَنْقَذَهَا مِنْهُ، فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ الذِّئْبُ فَقَالَ: مَنْ لَهَا يَوْمَ السَّبُعِ، يَوْمَ لَا رَاعٍ لَهَا غَيْرِي؟ " فَقَالَ النَّاسُ: سُبْحَانَ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فَإِنِّي أُؤْمِنُ بِذَلِكَ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ»
১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনু ইবরাহিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনু আইয়ুব ইবনু ইয়াহইয়া ইবনুয যুরাইস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনু শাবীব ইবনু সাঈদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, ইউনুস ইবনু ইয়াযীদ থেকে, তিনি ইবনু শিহাব থেকে, তিনি আবু সালামাহ ও সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, আর তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "একদা এক ব্যক্তি তার মেষপালের সাথে ছিল, এমতাবস্থায় একটি নেকড়ে বাঘ তাদের আক্রমণ করল এবং তাদের মধ্য থেকে একটি ভেড়া ছিনিয়ে নিল। তখন রাখাল সেটিকে ধাওয়া করল এবং নেকড়ের কাছ থেকে ভেড়াটি উদ্ধার করল। তখন নেকড়েটি তার দিকে তাকিয়ে বলল: ‘হিংস্র পশুর দিনে এর জন্য কে থাকবে? যেদিন আমি ছাড়া এর কোনো রাখাল থাকবে না?’" তখন লোকজন বিস্ময় প্রকাশ করে বলল: "সুবহানাল্লাহ!" আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই আমি এতে ঈমান রাখি এবং আবু বকর ও উমরও (এতে ঈমান রাখে)।"
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
13 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " بَيْنَمَا رَجُلٌ يَسُوقُ بَقَرَةً قَدْ حَمَلَ عَلَيْهَا، فَالْتَفَتَتْ إِلَيْهِ الْبَقَرَةُ، فَقَالَتْ: إِنِّي لَمْ أُخْلَقْ لِهَذَا، إِنَّمَا خُلِقْتُ لِلْحَرْثِ " فَقَالَ النَّاسُ: سُبْحَانَ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فَإِنِّي أُؤْمِنُ بِذَلِكَ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ»
১৩ - এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এক ব্যক্তি একটি গাভী তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল যার ওপর সে বোঝা চাপিয়েছিল। তখন গাভীটি তার দিকে ফিরে তাকাল এবং বলল: 'নিশ্চয়ই আমাকে এর জন্য সৃষ্টি করা হয়নি, বরং আমাকে কেবল চাষাবাদের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে'।" তখন লোকেরা বলল: সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই আমি এতে ঈমান রাখি এবং আবু বকর ও উমরও।"
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
14 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلَّامٍ، أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الْأَشْعَثِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْحُدَّانِيِّ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: جَاءَ ذِئْبٌ إِلَى رَاعِي غَنَمٍ، فَأَخَذَ مِنْهَا شَاةً، فَطَلَبَهُ الرَّاعِي، فَانْتَزَعَهَا مِنْهُ، فَصَعِدَ الذِّئْبُ عَلَى تَلٍّ فَأَقْعَى وَاسْتَنْفَرَ، وَقَالَ: عَمَدْتَ إِلَى رِزْقٍ رَزَقَنِيهِ اللَّهُ أَخَذْتُهُ فَانْتَزَعْتَهُ مِنِّي فَقَالَ الرَّجُلُ: تَالَلَّهِ إِنْ رَأَيْتُ كَالْيَوْمِ ذِئْبًا يَتَكَلَّمُ فَقَالَ الذِّئْبُ: أَوْ أَعْجَبُ مِنْ ذَلِكَ، رَجُلٌ بَيْنَ النَّخَلَاتِ بَيْنَ الْحَرَّتَيْنِ، يُخْبِرُكُمْ بِمَا مَضَى وَمَا هُوَ كَائِنٌ بَعْدَكُمْ. قَالَ: وَكَانَ الرَّجُلٌ يَهُودِيًّا، فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ، فَأَسْلَمَ، فَصَدَّقَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ: «إِنَّهَا أَمَارَةٌ مِنْ أَمَارَاتٍ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ، قَدْ أَوْشَكَ الرَّجُلُ أَنْ يَخْرُجَ ثُمَّ يَرْجِعُ، فَيُحَدِّثُهُ نَعْلَاهُ ⦗ص: 30⦘ وَسَوْطُهُ بِمَا أَحْدَثَ بَعْدَهُ أَهْلُهُ»
১৪ - আবুল হাসান আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনে আইয়ুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালাম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-হানজালী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মামার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আশআস ইবনে আবদুল্লাহ আল-হুদ্দানি থেকে, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একটি নেকড়ে এক মেষপালকের কাছে এসে সেখান থেকে একটি ভেড়া ধরে নিয়ে গেল। রাখাল সেটির পিছু ধাওয়া করল এবং তার কাছ থেকে ভেড়াটি ছাড়িয়ে নিল। তখন নেকড়েটি একটি টিলার ওপর উঠে কুকুরের মতো পা গুটিয়ে বসে লেজ ঝাপটা দিয়ে বলল: আমি এমন এক রিযিকের সংকল্প করেছিলাম যা আল্লাহ আমাকে দান করেছিলেন, আর তুমি তা আমার থেকে কেড়ে নিলে? লোকটি বলল: আল্লাহর কসম! আমি আজকের মতো বিস্ময়কর কোনো দৃশ্য দেখিনি যে, একটি নেকড়ে কথা বলছে! নেকড়েটি বলল: এর চাইতেও বিস্ময়কর বিষয় হলো ওই ব্যক্তি, যিনি দুই পাথুরে পাহাড়ের মধ্যবর্তী খেজুর বাগানে অবস্থান করছেন, তিনি তোমাদেরকে অতীত এবং তোমাদের পরবর্তীকালে যা ঘটবে সে সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন। বর্ণনাকারী বলেন: লোকটি ইহুদি ছিল। সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বিষয়টি জানাল এবং ইসলাম গ্রহণ করল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সত্যতা নিশ্চিত করলেন এবং বললেন: «এটি কিয়ামতের নিদর্শনসমূহের একটি নিদর্শন। অচিরেই এমন সময় আসবে যখন কোনো ব্যক্তি ঘর থেকে বের হয়ে ফিরে আসার পর তার জুতো ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ এবং তার চাবুক তাকে সংবাদ দেবে যে, তার অনুপস্থিতিতে তার পরিবার কী কাজ করেছে।’»
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
15 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْحَاقَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رُسْتَةَ، وَاللَّفْظُ لَهُ قَالَا: حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ الْفَضْلِ، حَدَّثَنَا أَبُو نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: " بَيْنَمَا رَاعٍ يَرْعَى بِالْحَرَّةِ شَاءً، إِذِ انْتَفَزَ ذِئْبٌ شَاةً مِنْ شَائِهِ، فَحَالَ الرَّاعِي بَيْنَ الذِّئْبِ وَالشَّاةِ، فَأَقْعَى الذِّئْبُ عَلَى ذَنَبِهِ، ثُمَّ قَالَ لِلرَّاعِي: أَلَا أُحَدِّثُكَ بِأَعْجَبَ شَيْءٍ رَسُولُ اللَّهِ بَيْنَ الْحَرَّتَيْنِ يُحَدِّثُ النَّاسَ بِأَنْبَاءِ مَا قَدْ سَبَقَ، فَسَاقَ الرَّاعِي الشَّاءَ حَتَّى انْتَهَى إِلَى الْمَدِينَةِ، فَزَوَاهَا فِي زَاوِيَةٍ مِنْ زَوَايَاهَا، ثُمَّ دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَحَدَّثَهُ بِمَا قَالَ الذِّئْبُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «صَدَقَ الرَّاعِي، أَلَا مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ كَلَامُ السِّبَاعِ الْإِنْسَ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُكَلِّمَ السِّبَاعُ الْإِنْسَ، وَيُكَلِّمَ الرَّجُلَ شِرَاكُ نَعْلِهِ وَعَذَبَةُ سَوْطِهِ، وَتُخْبِرَهُ فَخِذُهُ بِمَا فَعَلَ أَهْلُهُ بَعْدَهُ»
১৫ - আমাদের নিকট আবু মুহাম্মাদ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুসা ইবনে ইসহাক এবং মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে রুস্তাহ বর্ণনা করেছেন—এবং শব্দসমূহ তাঁরই—তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট শায়বান ইবনে ফাররুখ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-কাসিম ইবনুল ফাদল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু নাদরা বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "একদা এক রাখাল হাররাহ নামক স্থানে ছাগল চরাচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় একটি নেকড়ে তাঁর একটি ছাগলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। তখন রাখাল নেকড়ে ও ছাগলটির মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ালেন। এতে নেকড়েটি তার লেজের ওপর ভর দিয়ে বসে পড়ল এবং রাখালকে বলল: 'আমি কি তোমাকে এর চেয়েও বিস্ময়কর বিষয়ের সংবাদ দেব না? আল্লাহর রাসূল দুই হাররাহর মধ্যবর্তী স্থানে (মদিনায়) অবস্থান করছেন এবং তিনি মানুষকে অতীত সংবাদের সংবাদ দিচ্ছেন।' তখন রাখাল ছাগলগুলো তাড়িয়ে নিয়ে মদিনায় পৌঁছালেন এবং শহরের একটি কোণে সেগুলোকে আবদ্ধ করলেন। অতঃপর তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে উপস্থিত হলেন এবং নেকড়ে যা বলেছিল তা তাঁকে জানালেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «রাখাল সত্য বলেছে। শোনো, হিংস্র পশুর মানুষের সাথে কথা বলা কিয়ামতের আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, কিয়ামত কায়েম হবে না যতক্ষণ না হিংস্র পশু মানুষের সাথে কথা বলবে, ব্যক্তির জুতার ফিতা ও তার চাবুকের অগ্রভাগ তার সাথে কথা বলবে, এবং তার উরু তাকে সংবাদ দেবে যা তার অনুপস্থিতিতে তার পরিবার করেছে।»"
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
‌‌حَدِيثُ مُوَرِّقٍ
মুওয়াররিকের হাদিস
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
16 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الشَّافِعِيُّ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرِ بْنِ مَطَرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَغْرَاءَ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ الْمُفَضَّلِ بْنِ فَضَالَةَ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " كَانَ فِيمَنْ سَلَفَ مِنَ الْأُمَمِ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ: مُوَرِّقٌ، وَكَانَ مُتَعَبِّدًا، فَبَيْنَمَا ⦗ص: 31⦘ هُوَ قَائِمٌ فِي صَلَاتِهِ إِذْ ذَكَرَ النِّسَاءَ، فَاشْتَهَاهُنَّ، وَانْتَشَرَ حَتَّى قَطَعَ صَلَاتَهُ، فَغَضِبَ فَأَخَذَ قَوْسَهُ فَقَطَعَ وَتَرَهَا وَعَقَدَهُ بِخِصْيَتَيْهِ، وَشَدَّهُ إِلَى عَقِبَيْهِ، ثُمَّ مَدَّ رِجْلَيْهِ فَانْتَزَعَهُمَا، ثُمَّ أَخَذَ طَمْرَيْهِ وَنَعْلَيْهِ حَتَّى أَتَى أَرْضًا لَا أَنِيسَ بِهَا وَلَا وَحْشَ، فَاتَّخَذَ عَرِيشًا، ثُمَّ جَعَلَ يُصَلِّي، فَجَعَلَ كُلَّمَا أَصْبَحَ انْصَدَعَتْ لَهُ الْأَرْضُ، فَخَرَجَ لَهُ خَارِجٌ مِنْهَا مَعَهُ طَعَامٌ فِي إِنَاءٍ، فَأَكَلَهُ حَتَّى شَبِعَ، ثُمَّ يَدْخُلُ فَيَخْرُجُ لَهُ خَارِجٌ بِإِنَاءٍ فِيهِ شَرَابٌ فَيَشْرَبُ حَتَّى يُرْوَى، ثُمَّ يَدْخُلُ وَتَلْتَئِمُ الْأَرْضُ، فَإِذَا أَمْسَى فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ، وَمَرَّ أُنَاسٌ قَرِيبًا مِنْهُ، فَأَتَاهُ رَجُلَانِ مِنَ الْقَوْمِ، فَمَرَّا عَلَيْهِ مِنْ تَحْتِ اللَّيْلِ، فَسَأَلَاهُ عَنْ قَصْدِهِمَا، فَمَدَّ لَهُمَا بِيَدِهِ، وَقَالَ: هَذَا قَصْدُكُمَا حَيْثُ تُرِيدَانِ، فَسَارَا غَيْرَ بَعِيدٍ، ثُمَّ قَالَا أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: مَا يَسْكُنُ هَذَا الرَّجُلُ هَا هُنَا أَرْضًا لَا أَنِيسَ بِهَا وَلَا وَحْشَ، لَوْ رَجَعْنَا حَتَّى نَعْلَمَ عِلْمَهُ حَقًّا لَهُ، فَقَالَا لَهُ: يَا عَبْدَ اللَّهِ، مَا يُقِيمُكَ هَا هُنَا بِأَرْضٍ لَا أَنِيسَ بِهَا وَلَا وَحْشَ؟ قَالَ: امْضِيَا لِشَأْنِكُمَا وَدَعَانِي. فَأَبَيَا وَأَلَحَّا عَلَيْهِ، قَالَ: فَإِنِّي مُخْبِرُكُمَا عَلَى أَنَّ مَنْ كَتَمَهُ مِنْكُمَا أَكْرَمَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَمَنْ أَظْهَرَ عَلَيَّ مِنْكُمَا أَهَانَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ. قَالَا: نَعَمْ. قَالَ: انْزِلَا. فَلَمَّا أَصْبَحَا خَرَجَ مِنَ الْأَرْضِ مِثْلُ الَّذِي كَانَ يَخْرُجُ مِنَ الطَّعَامِ وَمِثْلَاهُ مَعَهُ، حَتَّى أَكَلُوا وَشَبِعُوا، ثُمَّ دَخَلَ فَأَخْرَجَ إِلَيْهِمْ شَرَابًا فِي إِنَاءٍ مِثْلَ الَّذِي كَانَ يَخْرُجُ إِلَيْهِ كُلَّ يَوْمٍ وَمِثْلَيْهِ مَعَهُ، فَشَرِبُوا حَتَّى رَوَوْا، ثُمَّ دَخَلَ فَالْتَأَمَتِ الْأَرْضُ، فَنَظَرَ أَحَدُهُمَا إِلَى صَاحِبِهِ فَقَالَ: مَا يَعْجَلُنَا هَذَا الطَّعَامُ وَالشَّرَابُ، وَقَدْ عَلِمْنَا سِمَتَنَا فِي الْأَرْضِ، امْكُثْ إِلَى الْعَشِيِّ فَمَكَثَا، فَخَرَجَ إِلَيْهِمَا بِالْعَشِيِّ مِنَ الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ مِثْلُ الَّذِي خَرَجَ أَوَّلَ النَّهَارِ، فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: امْكُثْ بِنَا حَتَّى نُصْبِحَ، فَمَكَثَا، فَلَمَّا أَصْبَحَا خَرَجَ إِلَيْهِمَا مِثْلُ ذَلِكَ، ثُمَّ رَكِبَا فَانْطَلَقَا، فَأَمَّا أَحَدُهُمَا فَلَزِمَ بَابَ الْمَلِكِ حَتَّى كَانَ مِنْ خَاصَّتِهِ وَسُمَّارِهِ، وَأَمَّا الْآخَرُ فَأَقْبَلَ عَلَى تِجَارَتِهِ وَعَمَلِهِ، وَكَانَ ذَلِكَ الْمَلِكُ لَا يَكْذِبُ أَحَدٌ فِي زَمَانِهِ مِنْ أَهْلِ مَمْلَكَتِهِ كَذْبَةً ⦗ص: 32⦘ فَعَرَفَ إِلَّا صَلَبَهُ، فَبَيْنَا هُوَ لَيْلَةً فِي السَّمَرِ يُحَدِّثُونَهُ مِمَّا رَأَوْا مِنَ الْعَجَائِبِ، أَنْشَأَ ذَلِكَ الرَّجُلُ، فَحَدَّثَ الْمَلِكَ فَقَالَ: مَا سَمِعْتُ بِأَعْجَبَ مِنْهُ قَطُّ، فَحَدَّثَ فَقَالَ: لَأُحَدِّثَنَّكَ أَيُّهَا الْمَلِكُ، فَحَدَّثَهُ بِحَدِيثِ الرَّجُلِ الَّذِي رَأَى مِنْ أَمْرِهِ، فَقَالَ الْمَلِكُ: مَا سَمِعْتُ بِكَذِبٍ قَطُّ أَعْظَمُ مِنْ هَذَا، وَاللَّهِ لَتَأْتِيَنَّ عَلَى مَا قُلْتَ بِبَيِّنَةٍ أَوْ لَأُصَلِّبَنَّكَ. قَالَ: بَيِّنَتِي فُلَانٌ. قَالَ: رِضًا، إِيتُونِي بِهِ، فَلَمَّا أَتَاهُ، فَقَالَ الْمَلِكُ: إِنَّ هَذَا حَدَّثَنِي أَنَّكُمَا مَرَرْتُمَا بِرَجُلٍ مِنْ أَمْرِهِ كَذَا وَكَذَا، فَقَالَ الرَّجُلُ: أَيُّهَا الْمَلِكُ، وَلَسْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا كَذِبٌ، وَهَذَا مَا لَا يَكُونُ لَوْ حَدَّثْتُكَ بِهَذَا كَانَ عَلَيْكَ فِي الْحَقِّ أَنْ تَصْلُبَنِيَ قَالَ: صَدَقْتَ وَبَرَرْتَ " قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «فَأَدْخَلَ الَّذِي كَتَمَ عَلَيْهِ فِي خَاصَّتِهِ وَسَمَرِهِ، وَأَمَرَ بِالْآخَرِ فَصُلِبَ» فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: فَأَمَّا الَّذِي كَتَمَ عَلَيْهِ مِنْهُمَا فَأَكْرَمَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ " ثُمَّ نَظَرَ إِلَى ثُمَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَنَسٍ فَقَالَ: يَا أَبَا الْمُثَنَّى، سَمِعْتَ جَدَّكَ يُحَدِّثُ بِهَذَا الْحَدِيثِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: نَعَمْ
১৬ - আমাদের নিকট আবু বকর আশ-শাফিয়ী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার নিকট মুহাম্মাদ ইবনে বিশর ইবনে মাতার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে হুমাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবদুর রহমান ইবনে মাগরা ও সুলায়মান ইবনে ইয়াযিদ আল-মুফাদদ্বাল ইবনে ফাদ্বালাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বকর ইবনে আবদুল্লাহ আল-মুযানী থেকে, আর তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "পূর্ববর্তী উম্মতগণের মধ্যে মুওয়াররিক নামক এক ব্যক্তি ছিল। সে ছিল অত্যন্ত ইবাদতগুজার। একদা সে যখন ⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ তার সালাতে দাঁড়িয়ে ছিল, তখন তার নারীদের কথা মনে পড়ল এবং সে তাদের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ল। তার এই কামনা এমন পর্যায়ে পৌঁছাল যে সে তার সালাত বিচ্ছিন্ন করে ফেলল। এতে সে অত্যন্ত রাগান্বিত হলো এবং তার ধনুকটি নিয়ে সেটির রশি কেটে ফেলল। এরপর সে রশিটি তার অণ্ডকোষদ্বয়ের সাথে বাঁধল এবং নিজের দুই গোড়ালির সাথে শক্ত করে কষে দিল। অতঃপর সে তার দুই পা সজোরে প্রসারিত করল এবং অণ্ডকোষ দুটি বিচ্ছিন্ন করে ফেলল। এরপর সে তার দুটি পুরনো জীর্ণ বস্ত্র ও জুতা জোড়া নিয়ে এমন এক নির্জন প্রান্তরে চলে গেল যেখানে কোনো মানুষ বা বন্যপ্রাণীর চিহ্ন ছিল না। সেখানে সে একটি কুঁড়েঘর তৈরি করল এবং সালাত আদায় করতে লাগল। প্রতিদিন সকাল হলে জমিন তার জন্য বিদীর্ণ হতো এবং সেখান থেকে একজন ব্যক্তি একটি পাত্রে খাবার নিয়ে বের হতো। সে তৃপ্ত হওয়া পর্যন্ত তা আহার করত। এরপর ওই ব্যক্তি ভেতরে চলে যেত এবং অন্য একজন একটি পাত্রে পানীয় নিয়ে বের হতো। সে তৃপ্ত হওয়া পর্যন্ত তা পান করত। তারপর সে ভেতরে চলে যেত এবং জমিন পুনরায় মিলিত হয়ে যেত। সন্ধ্যাবেলাতেও সে অনুরূপ করত। একদা কিছু লোক তার নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিল। তাদের মধ্য থেকে দুজন ব্যক্তি রাতের অন্ধকারে তার কাছে এল এবং তাদের গন্তব্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। সে তার হাত বাড়িয়ে তাদের দিকে ইশারা করে বলল: 'এটিই তোমাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের পথ।' তারা কিছুটা পথ যাওয়ার পর একজন তার সঙ্গীকে বলল: 'এই লোক এই নির্জন স্থানে কেন বসবাস করছে যেখানে কোনো মানুষ বা বন্যপ্রাণী নেই? আমরা যদি ফিরে গিয়ে তার প্রকৃত অবস্থা জানতে পারতাম!' তারা ফিরে এসে তাকে বলল: 'হে আল্লাহর বান্দা, কিসে আপনাকে এই নির্জন স্থানে থাকতে বাধ্য করেছে যেখানে কোনো মানুষ বা বন্যপ্রাণী নেই?' সে বলল: 'তোমরা তোমাদের কাজে চলে যাও এবং আমাকে আমার অবস্থায় থাকতে দাও।' তারা যেতে অস্বীকার করল এবং বারবার পীড়াপীড়ি করতে লাগল। তখন সে বলল: 'আমি তোমাদের প্রকৃত অবস্থা জানাব এই শর্তে যে, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এটি গোপন রাখবে আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করবেন, আর যে ব্যক্তি এটি প্রকাশ করে দেবে আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে লাঞ্ছিত করবেন।' তারা বলল: 'আমরা রাজি।' সে বলল: 'নেমে আসো।' সকাল হলে জমিন থেকে তার জন্য যা আসত তার সমপরিমাণ এবং আরও দ্বিগুণ খাবার বের হয়ে এল। তারা সবাই মিলে আহার করল এবং তৃপ্ত হলো। এরপর সে ভেতরে গেল এবং তাদের জন্য পাত্রে পানীয় বের করে আনা হলো যা প্রতিদিন তার জন্য আসত তার সমপরিমাণ এবং আরও দ্বিগুণ। তারা তৃপ্ত হয়ে পান করল। এরপর সে ভেতরে প্রবেশ করল এবং জমিন পুনরায় মিলিত হয়ে গেল। তখন তাদের একজন তার সঙ্গীকে বলল: 'এই খাবার ও পানীয়র জন্য আমরা তাড়াহুড়ো করছি কেন? অথচ আমরা তো পৃথিবীতে আমাদের পথ চিনে নিয়েছি। সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানেই অবস্থান করো।' তারা সেখানে অবস্থান করল। সন্ধ্যা হলে দিনের শুরুর মতোই তাদের জন্য খাবার ও পানীয় বের হয়ে এল। তাদের একজন তার সঙ্গীকে বলল: 'সকাল হওয়া পর্যন্ত আমাদের সাথে অবস্থান করো।' তারা অবস্থান করল এবং সকাল হলে পুনরায় অনুরূপ খাবার এল। এরপর তারা সওয়ার হয়ে রওনা দিল। তাদের একজন বাদশাহর দরবারে গিয়ে আশ্রয় নিল এবং শেষ পর্যন্ত তার বিশেষ সহচর ও নৈশসঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত হলো। আর অন্যজন তার ব্যবসা ও কাজে মনোনিবেশ করল। সেই বাদশাহর এমন নিয়ম ছিল যে, তার রাজ্যের কোনো লোক যদি একটি মিথ্যাও বলত ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘ এবং তা প্রমাণিত হতো, তবে তিনি তাকে ক্রুশবিদ্ধ করতেন। এক রাতে নৈশকালীন আড্ডায় তারা বাদশাহর নিকট তাদের দেখা নানা বিস্ময়কর ঘটনা বর্ণনা করছিল। তখন সেই ব্যক্তি বাদশাহর নিকট ইবাদতগুজার লোকটির ঘটনা বর্ণনা করতে শুরু করল। সে বলল: 'আমি এর চেয়ে বিস্ময়কর কিছু কখনো শুনিনি।' এরপর সে সবিস্তারে বলতে লাগল: 'হে বাদশাহ, আমি অবশ্যই আপনাকে এটি বর্ণনা করব।' সে সেই লোকের বিষয়ে যা যা দেখেছিল তা বর্ণনা করল। বাদশাহ বললেন: 'আমি এর চেয়ে বড় মিথ্যা কখনো শুনিনি। আল্লাহর কসম, তুমি যা বলেছ তার সপক্ষে অবশ্যই প্রমাণ দাখিল করতে হবে, নতুবা আমি তোমাকে ক্রুশবিদ্ধ করব।' সে বলল: 'অমুক ব্যক্তি আমার প্রমাণ।' বাদশাহ বললেন: 'আমি এতে সন্তুষ্ট, তাকে আমার নিকট নিয়ে এসো।' যখন তাকে নিয়ে আসা হলো, তখন বাদশাহ বললেন: 'এই ব্যক্তি আমাকে বলেছে যে তোমরা দুজন এক ব্যক্তির কাছে গিয়েছিলে যার অবস্থা ছিল এমন এমন।' তখন সেই ব্যক্তি বলল: 'হে বাদশাহ, আপনি কি জানেন না যে এটি ডাহা মিথ্যা? আর এমনটি হওয়া অসম্ভব। আমি যদি আপনার নিকট এই ঘটনা বর্ণনা করতাম তবে ন্যায়বিচারের খাতিরে আপনার উচিত ছিল আমাকেই ক্রুশবিদ্ধ করা।' বাদশাহ বললেন: 'তুমি সত্য বলেছ এবং পুণ্যময় কাজ করেছ।'" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "অতঃপর বাদশাহ সেই ব্যক্তিকে তার ঘনিষ্ঠ সহচর ও নৈশসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করলেন যে ঘটনাটি গোপন করেছিল, আর অন্যজনের ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং তাকে ক্রুশবিদ্ধ করা হলো।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ঘটনাটি গোপন করেছিল আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করেছেন।" এরপর তিনি সুমামাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আনাস-এর দিকে তাকিয়ে বললেন: "হে আবু আল-মুসান্না, তুমি কি তোমার দাদাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে এই হাদীসটি বর্ণনা করতে শুনেছ?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।"
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
‌‌حَدِيثٌ آخَرُ
অন্য একটি হাদিস
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
17 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ بُنْدَارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ الْهَيْثَمُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سابطٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «حَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ فَإِنَّهُ كَانَتْ فِيهِمُ الْأَعَاجِيبُ»
১৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনুল হাসান ইবনু বুন্দার, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু নাসর আল-হাইসাম ইবনু বিশর, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সাহল ইবনু উসমান, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ওয়াকী‘, তিনি রাবী‘ ইবনু সাদ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু সাবিত থেকে, তিনি জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, কেননা তাদের মধ্যে অনেক বিস্ময়কর বিষয় ছিল»
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
17 - قَالَ: ثُمَّ أَنْشَأَ يُحَدِّثُ قَالَ: " خَرَجَتْ طَائِفَةٌ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ فَقَالُوا: لَوْ أَتَيْنَا مَقْبَرَتَنَا، وَصَلَّيْنَا، وَدَعَوْنَا اللَّهَ عز وجل يُخْرِجُ إِلَيْنَا رَجُلًا مِمَّنْ قَدْ مَاتَ نَسْأَلْهُ عَنِ الْمَوْتِ قَالَ: فَصَلُّوا وَدَعُوا قَالَ: فَإِذَا رَجُلٌ خِلَاسِيُّ بَيْنَ عَيْنَيْهِ أَثَرُ السُّجُودِ، وَقَدْ أَطْلَعَ رَأْسَهُ مِنْ قَبْرِهِ، فَقَالَ: يَا هَؤُلَاءِ، مَا أَرَدْتُمْ إِلَيَّ، لَقَدْ مُتُّ مِنْ مِئَةِ عَامٍ فَمَا سَكَنَتْ عَنِّي حَرَارَةُ الْمَوْتِ حَتَّى كَانَ الْآنَ، أَدْعُو اللَّهَ عز وجل أَنْ يُعِيدَنِي ⦗ص: 33⦘ كَمَا كُنْتُ "
১৭ - তিনি বললেন: অতঃপর তিনি বর্ণনা করতে শুরু করলেন এবং বললেন: "বনী ইসরাঈলের একদল লোক বের হলো। তারা বলল: আমরা যদি আমাদের কবরস্থানে যেতাম এবং সালাত আদায় করতাম ও মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করতাম যেন তিনি আমাদের নিকট মৃতদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তিকে বের করে আনেন যাকে আমরা মৃত্যু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারি। তিনি বলেন: অতঃপর তারা সালাত আদায় করল ও প্রার্থনা করল। তিনি বলেন: তখন হঠাৎ দেখা গেল এক শ্যামলা বর্ণের লোক যার দুই চোখের মাঝে সিজদার চিহ্ন রয়েছে, সে তার কবর থেকে মাথা বের করেছে। সে বলল: হে লোকসকল, তোমরা আমার নিকট কী চাও? আমি একশত বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছি, কিন্তু মৃত্যুর তীব্র যন্ত্রণা এই সময় পর্যন্ত আমার নিকট থেকে প্রশমিত হয়নি। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে ফিরিয়ে দেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ যেমন আমি ছিলাম।"
(খণ্ড: ১) ফুনুনুল আজায়িব লি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
18 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ الْقَاضِي مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سَعْدٍ الْجُعْفِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَابِطٍ، حَدَّثَنَا جَابِرٌ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «حَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا حَرَجَ، فَإِنَّهُ كَانَتْ فِيهِمُ الْأَعَاجِيبُ»
১৮ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ আল-কাদি মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইবরাহিম, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর বিন আহমাদ বিন ফারিস, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আন-নুমান, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওকিই, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আর-রাবি বিন সাদ আল-জুফি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন সাবিত, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাবির (রা.), তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই। কারণ নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে অনেক বিস্ময়কর ঘটনা ছিল।»