(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: -)
إرشاد العابد في حكم مكث الجنب والحائض والنفساء في المساجد   (شريف مراد)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: إرشاد العابد في حكم مكث الجنب والحائض والنفساء في المساجد

المؤلف: شريف مراد أبو عمرو

المصدر: إهداء من المؤلف لبرنامج الشاملة

عدد الصفحات: 49

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মসজিদে জানাবাতগ্রস্ত, ঋতুবতী ও নিফাসগ্রস্ত ব্যক্তির অবস্থানের বিধান প্রসঙ্গে ইবাদতকারীর প্রতি নির্দেশনা (ইরশাদুল আবিদ)   (শরিফ মুরাদ)

বিভাগ: ফিকহি মাসায়েল


বই: ইরশাদুল আবিদ ফি হুকমি মাকসিল জুনুবি ওয়াল হায়েজি ওয়ান নুফাসাই ফিল মাসাজিদ

লেখক: শরিফ মুরাদ আবু আমর

উৎস: শামেলা প্রোগ্রামের জন্য লেখকের পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ১)
إرشاد العابد في حكم مكث الجنب والحائض والنفساء في المساجد

أبو عمرو شريف مراد

 

قال اللهُ تعالى:

{وَعَهِدْنَا إِلَى إبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَن طَهّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ}

- الآية 125 سورة البقرة -

فمنعهُ من الحيّض من تمام طهارته (ابن تيمية)
মসজিদে জুনুব (অপবিত্র ব্যক্তি), ঋতুবতী এবং নিফাসগ্রস্ত নারীর অবস্থানের বিধান সম্পর্কে ইবাদতকারীর প্রতি নির্দেশনা

আবু আমর শরীফ মুরাদ

 

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:

{এবং আমি ইব্রাহিম ও ইসমাইলকে নির্দেশ দিয়েছিলাম যে, তোমরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী এবং রুকু ও সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র করো।}

- সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ১২৫ -

সুতরাং ঋতুবতীকে (মসজিদ থেকে) বিরত রাখা ঘরটি পবিত্র করার পূর্ণতারই অংশ (ইবনে তাইমিয়াহ)
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌المقدمة

إنّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلّ له، ومن يضلل فلا هادى له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

 

"يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله حق تقاته ولا تموتنّ إلا وأنتم مسلمون "

"يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالاً كثيراً ونساءً واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام، إنّ الله كان عليكم رقيباً"

" يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله وقولوا قولاً سديداً، يصلح لكم أعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم، ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزاً عظيماً ".

 

أما بعد …

انتشر بين كثير من الأخوات المؤمنات أن الحائض يجوز لها اللبث والمكث في المسجد، وأنّه لا يوجد مانع شرعي من ذلك، فجمعت ما استطعت من أقوال العلماء في هذه المسألة، وحصرت أقوال من أجاز ذلك ثم أردفت ذلك بالرد على أقوالهم.

ونسأل الله تعالى التوفيق والسداد وقبول الحقّ حيث كان.

 

وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

 

أبو عمرو

شريف مراد
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।

 

"হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।"

"হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী বিস্তার করেছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।"

"হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তবেই তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।"

 

অত:পর …

অনেক মুমিন বোনদের মাঝে এটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ঋতুবর্তী নারীর জন্য মসজিদে অবস্থান করা ও সময় অতিবাহিত করা বৈধ এবং এর সপক্ষে শরয়ী কোনো বাধা নেই। তাই আমি এই মাসআলায় আলেমদের মতামতসমূহ থেকে যা সম্ভব হয়েছে তা সংগ্রহ করেছি এবং যারা এটি বৈধ বলেছেন তাদের উক্তিগুলো সংকলিত করেছি, অতঃপর তাদের সেই মতামতের খণ্ডন যুক্ত করেছি।

আমরা মহান আল্লাহর কাছে তাওফিক, সঠিক পথ লাভ এবং সত্য যেখানেই থাকুক তা গ্রহণ করার তৌফিক কামনা করছি।

 

আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

আবু আমর

শরীফ মুরাদ
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الفصل الأول مقدمة

 

‌‌1- تعريف الجنابة: (1)

لغة: البعد.

وفي الشرع: حال من ينزل منه منىّ أو يكون منه جماع

وقال الأزهري: ويقال له جنب لأنّه نهى أن يقرب مواضع

الصلاة.

 

‌‌2- تعريف الحيض: (2)

لغةً: السيلان. يقال حاض الوادي إذا سال.

وفي الشرع: وهو دم طبيعة يخرج من أقصى رحم المرأة البالغة السليمة عن

الداء

والصغر، وبه تصير المرأة بالغة،

وهو يخرج من قبلها في أيام معلومة من غير ولادة ولا مرض

ولا إفتضاض، ولونه عادة السواد، كريه الرائحة،

وهو محتدم (أي شديد الحرارة) ،لذّاع محرق (أي موجع مؤلم) .

والحيضة: الدم نفسه.

 

‌‌3 - تعريف النِّفاَس: (3)

لغةً: الولادة، والنَّفسْ: الدمّ، ومنه لا نفس له سائلة أي لا دمّ له يجرى.

وشرعاً: دمّ ترخية الرحم مع الولادة، وهو يخرج من قُبُل المرأة بسبب

الولادة.

 

‌‌4 - التسوية بين الحائض والنُفساء في الأحكام:

- قال ابن قدامة (المغنى 1 / 432) حكم النُفساء حكم الحائض في جميع ما يحرم عليها ويسقط عنها،لا نعلم في هذا خلافاً. وقال (1/277) النفاس كالحيض سواء، فإن دم النفس هو دم الحيض.

- وقال النووي في المنهاج: النفاس يحرم به ما يحرم بالحيض.

وقال الخطيب (في شرحه مغنى المحتاج1/119،120) : بالإجماع لأنّه دم حيض مجتمع فحكمه حكم الحيض في سائر أحكامه إلا في شيئين:

أحدهما: أنّ الحيض يوجب البلوغ والنفاس لا يوجبه

والثانى: أن الحيض يتعلق به العدة والابتداء ولا يتعلقان بالنفاس.

(2) (3)

--------------------------------------------

(1) 1-2-3) هذا التعريف تم جمعه من عدة كتب، انظر: لسان العرب / ابن منظور، المصباح المنير / الفيومي، مختار الصحاح / الرازي، النهاية / ابن الأثير، تعريفات الجرجاني، أحكام القرآن للجصّاص، شرح زاد المستقنع / العثيمين، الفقه الإسلامي وأدلته /د. وهبة الزحيلي، فقه السنة /سيد سابق، القاموس الفقهي لغة واصطلاحاً / سعيد أبو حبيب.
‌প্রথম পরিচ্ছেদ: ভূমিকা

 

‌১- জানাবাতের (অপবিত্রতা) সংজ্ঞা: (১)

আভিধানিক অর্থে (لغة): দূরত্ব।

শরিয়তের পরিভাষায় (شرعاً): যার বীর্যপাত হয়েছে অথবা যার দ্বারা যৌনসঙ্গম সংঘটিত হয়েছে তার অবস্থাকে জানাবাত বলা হয়।

আল-আজহারি বলেন: একে 'জুনুব' বলা হয় কারণ তাকে সালাতের স্থানসমূহের নিকটে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

 

‌২- হায়েজের (ঋতুস্রাব) সংজ্ঞা: (২)

আভিধানিক অর্থে (لغة): প্রবাহিত হওয়া। বলা হয়, 'উপত্যকাটি ঋতুবতী হয়েছে' (حاض الوادي) যখন তা প্রবাহিত হয়।

শরিয়তের পরিভাষায় (شرعاً): এটি একটি প্রাকৃতিক রক্ত যা রোগমুক্ত এবং সাবালিকা (بالغة) নারীর জরায়ুর শেষ প্রান্ত থেকে নির্গত হয়। এর মাধ্যমে নারী সাবালিকা (بالغة) হিসেবে গণ্য হয়। এটি প্রসব, রোগ বা কুমারীত্ব ভঙ্গ হওয়া ব্যতীত নির্দিষ্ট দিনগুলোতে নারীর সম্মুখ পথ দিয়ে নির্গত হয়। এর বর্ণ সাধারণত কালো, দুর্গন্ধযুক্ত এবং তা অত্যন্ত উত্তপ্ত ও জ্বালাপোড়াদায়ক (অর্থাৎ যন্ত্রণাদায়ক)।

আর 'হায়জাহ' বলতে রক্তকেই বোঝায়।

 

‌৩ - নিফাসের (প্রসবোত্তর রক্ত) সংজ্ঞা: (৩)

আভিধানিক অর্থে (لغة): সন্তান প্রসব। 'নাফস' (النفس) অর্থ রক্ত; এখান থেকেই বলা হয় 'তার কোনো প্রবহমান রক্ত নেই' (لا نفس له سائلة), অর্থাৎ যার কোনো প্রবহমান রক্ত প্রবাহিত হয় না।

শরিয়তের পরিভাষায় (شرعاً): সন্তান প্রসবের সাথে জরায়ু শিথিল হওয়ার কারণে যে রক্ত নির্গত হয়। এটি সন্তান প্রসবের কারণে নারীর সম্মুখ পথ দিয়ে বের হয়।

 

‌৪ - বিধিবিধানের ক্ষেত্রে ঋতুবতী ও প্রসূতি নারীর সমতা:

- ইবনে কুদামা (আল-মুগনি ১/৪৩২) বলেন, ঋতুবতী নারীর ওপর যা কিছু হারাম এবং যা কিছু রহিত হয়, প্রসূতি নারীর বিধানও তদ্রূপ। এ বিষয়ে কোনো মতভেদ আছে বলে আমাদের জানা নেই। তিনি আরও বলেন (১/২৭৭), নিফাস হায়েজের মতোই, কারণ নিফাসের রক্ত মূলত হায়েজেরই রক্ত।

- ইমাম নববী আল-মিনহাজ গ্রন্থে বলেন: হায়েজের কারণে যা যা হারাম হয়, নিফাসের কারণেও তা হারাম হয়।

আল-খাতিব (তার শরাহ মুগনি আল-মুহতাজ ১/১১৯, ১২০-এ) বলেন: সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) অনুযায়ী এটি সাব্যস্ত, কারণ এটি মূলত পুঞ্জীভূত হায়েজের রক্ত। তাই দুটি বিষয় ব্যতীত অন্যান্য সকল বিধানের ক্ষেত্রে এর হুকুম হায়েজের মতোই:

প্রথমত: হায়েজের মাধ্যমে সাবালিকা (بالغة) হওয়া সাব্যস্ত হয়, কিন্তু নিফাসের মাধ্যমে তা হয় না।

দ্বিতীয়ত: ইদ্দত (عدة) গণনা ও তার শুরু হায়েজের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা নিফাসের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়।

(২) (৩)

--------------------------------------------

(১) ১-২-৩) এই সংজ্ঞাটি বেশ কয়েকটি গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে, দেখুন: লিসানুল আরব / ইবনে মঞ্জুর, আল-মিসবাহুল মুনির / ফাইয়ুমি, মুখতারুস সিহাহ / রাজি, আন-নিহায়াহ / ইবনুল আসির, তারিফাতুল জুরজানি, আহকামুল কুরআন / জাসসাস, শারহু জাদিল মুস্তাকনি / উসাইমিন, আল-ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতুহু / ড. ওয়াহবা জুহাইলি, ফিকহুস সুন্নাহ / সাইয়িদ সাবিক, আল-কামুস আল-ফিকহি লুগাতান ওয়া ইসতিলাহান / সাঈদ আবু হাবিব।
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ৬)
- وقال الشوكاني في نيل الأوطار (1/284) : قد وقع الإجماع من العلماء - كما في البحر - أن النفاس كالحيض في جميع ما يَحلّ ويَحرم ويُكره ويُندب.

 

‌‌5 - الفرق بين دخول المسجد والمكث فيه:

الدخول:- قال في المصباح المنير: (داخل الشيء خلاف خارجه، ودخلت الدار: صرت داخلها، فهي حاوية لك) .

المكث:- قال في النهاية: (المكث هو:الإقامة مع الإنتظار والتلبث في المكان) .

اللبث:- قال في مختار الصحاح: (لبث أي مكث) .

 

وعلى هذا فإن اللبث والمكث بمعنى واحد،وقد وردا في القرآن الكريم (1) ، والمكث يختلف عن مجرد الدخول، حيث أن الأول فيه إقامة وانتظار.

وقد أردت أن أوضح هذا الفرق - وهو واضح - لأننا سنجد من يثبت حكماً للحائض وهى تدخل المسجد، ثم يقيس عليه حكماً آخر للبثها في المسجد بالرغم من وجود فارق بينهما، بل من الناس من لا ينتبه لهذا الفرق أصلاً!!

 

‌‌6 - الفرق بين الحائض والجنب في الأحكام:

من الثابت أن الحائض والجنب يشتركان في كثير من الأحكام، إلا أنهما بالرغم من ذلك يختلفان في أحكام أخرى منها:

* حدث الحيض أغلظ من حدث الجنابة:

- قال شيخ الإسلام ابن تيمية (2) : (الحائض حدثها أغلظ من الجنب) .

- قال الحافظ ابن حجر العسقلاني (3) : (وأعمال الحج مشتملة على ذكر وتلبية ودعاء، ولم تمنع الحائض من شيء من ذلك فكذلك الجنب، لأن حدثها أغلظ من حدثه) .

- وقال أيضاً (4) : (والاستقذار بالحائض أكثر من الجنب) .

--------------------------------------------

(1) مثل قول الله تعالى { … فلبث في السجن بضع سنين} يوسف - 42،وقوله سبحانه {فمكث غير بعيد … } النمل - 22 ويوجد غير ذلك.

(2) الفتاوى الكبرى 2/ 389 ط دار الغد العربي.

(3) فتح الباري شرح صحيح البخاري 1/ 486

(4) المرجع السابق 1/478
এবং শাওকানি নাইলুল আউতার (১/২৮৪) গ্রন্থে বলেছেন: আলেমগণের ঐকমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—যেমনটি 'আল-বাহর' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে—যে, যা কিছু বৈধ, নিষিদ্ধ, অপছন্দনীয় (مكروه) এবং পছন্দনীয় (مندوب), সে সব ক্ষেত্রে নিফাস ঠিক হায়েজের মতোই।

 

‌‌৫ - মসজিদে প্রবেশ এবং সেখানে অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য:

প্রবেশ:- আল-মিসবাহুল মুনির গ্রন্থে বলা হয়েছে: (কোনো কিছুর অভ্যন্তর হচ্ছে তার বাহিরের বিপরীত। আমি ঘরে প্রবেশ করলাম: অর্থাৎ আমি তার অভ্যন্তরে উপস্থিত হলাম, ফলে সেটি তোমাকে পরিবেষ্টনকারী হলো)।

অবস্থান:- আন-নিহায়া গ্রন্থে বলা হয়েছে: (আল-মুকস হলো: কোনো স্থানে অপেক্ষা ও বিলম্বের সাথে অবস্থান করা)।

অবস্থান:- মুখতারুস সিহাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: (লাবস অর্থাৎ মুকস বা অবস্থান করা)।

 

এর ভিত্তিতে, 'লাবস' এবং 'মুকস' একই অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা পবিত্র কুরআনেও (১) এসেছে। আর 'মুকস' বা অবস্থান করা কেবল প্রবেশের চেয়ে ভিন্ন, কারণ প্রথমটিতে অবস্থান এবং অপেক্ষা বিদ্যমান থাকে।

আমি এই পার্থক্যটি স্পষ্ট করতে চেয়েছি—যদিও তা স্পষ্ট—কারণ আমরা এমন কাউকে পাব যারা হায়েযগ্রস্ত নারীর মসজিদে প্রবেশের ক্ষেত্রে একটি বিধান সাব্যস্ত করেন, অতঃপর মসজিদে তার অবস্থানের ক্ষেত্রে অন্য একটি বিধানকে তার ওপর কিয়াস (قياس) করেন, যদিও উভয়ের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। বরং মানুষের মধ্যে এমনও কেউ আছেন যারা এই পার্থক্যের দিকে একেবারেই লক্ষ্য করেন না!!

 

‌‌৬ - হায়েযগ্রস্ত নারী এবং জুনুবির বিধানের মধ্যে পার্থক্য:

এটি প্রতিষ্ঠিত যে, হায়েযগ্রস্ত নারী এবং জুনুবি অনেক বিধানে অংশীদার, তবে তা সত্ত্বেও তারা অন্য কিছু বিধানে ভিন্নতর, যার মধ্যে রয়েছে:

* হায়েযের অপবিত্রতা (حدث) জানাবতের অপবিত্রতার (حدث) চেয়ে অধিক গুরুতর:

- শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (২) বলেছেন: (হায়েযগ্রস্ত ব্যক্তির অপবিত্রতা (حدث) জুনুবির চেয়ে অধিক গুরুতর)।

- হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (৩) বলেছেন: (হজ সংক্রান্ত আমলসমূহ জিকির, তালবিয়া ও দোয়ার অন্তর্ভুক্ত। হায়েযগ্রস্ত নারীকে এর কোনোটি থেকেই নিষেধ করা হয়নি, তেমনি জুনুবিকেও নয়; কারণ তার অপবিত্রতা (حدث) তার (জুনুবির) অপবিত্রতার চেয়ে অধিক গুরুতর)।

- তিনি আরও বলেছেন (৪): (হায়েযের ক্ষেত্রে অপরিচ্ছন্নতা জুনুবির চেয়ে বেশি)।

--------------------------------------------

(১) যেমন মহান আল্লাহর বাণী { … অতঃপর তিনি কারাগারে কয়েক বছর অবস্থান করলেন} ইউসুফ - ৪২, এবং তাঁর বাণী {অতঃপর সে অল্প সময় অবস্থান করল … } আন-নামল - ২২; এ ছাড়াও অন্যান্য উদাহরণ রয়েছে।

(২) আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা ২/৩৮৯, দারুল গাদ আল-আরাবি সংস্করণ।

(৩) ফাতহুল বারি শারহু সহিহ বুখারি ১/৪৮৬

(৪) পূর্বোক্ত উৎস ১/৪৭৮
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ৭)
- قال الخطيب الشربيني (1) : (يحرم بالحيض ما حرم بالجنابة من صلاة وغيرها لأنه أغلظ، ويدل على أنه أغلظ منها أنه يحرم به ما يحرم بها وأشياء أخرى) .

- قال حصني (2) : (ويحرم بالحيض والنفاس ثمانية أشياء..منها دخول المسجد..ولا شك أن حدثها أغلظ من الجنابة) .

- قال العلاّمة الشوكاني (3) : (والجنب لا يمكث في المسجد فالحائض أولى بالمنع) .

- قال الإمام ابن القيم (4) : (الحائض إذا انقطع دمها فهي كالجنب فيما يجب عليها ويحرم، فيصح صومها وغسلها وتجب عليها الصلاة ولها أن تتوضأ وتجلس في المسجد، ويجوز طلاقها على أحد القولين، إلا في مسألة واحدة فإنها تخالف الجنب فيها وهى جواز وطئها، فإنه يتوقف على الاغتسال) .

-وقال أيضاً (5) : الحائض إذا انقطع دمها صارت كالجنب يحرم عليها ما يحرم عليه، ويصح منها ما يصح منه)

- وقد ورد ذلك عن جمع من أهل العلم أيضاً، وسيأتي بعض ذلك إن شاء الله تعالى.

 

**‌‌ وضوء الحائض لا يصح بخلف الجنب فإنه يستحب أحياناً:

- قال موفق الدين بن قدامة (6) (فصل: إذا توضأ الجنب فله الُلبث في المسجد في قول أصحابنا وإسحاق … فأما الحائض إذا توضأت فلا يباح لها اللبث لأن وضوءها لا يصح) .

- وقال أيضاً (7) : (ويستحب للجنب إذا أراد أن ينام أن يتوضأ وضوءه للصلاة … وإذا أراد أن يأكل أو يعود للجماع ويغسل فرجه، فأما الحائض فلا يستحب لها ذلك لأن الوضوء لا يؤثر في حدثها ولا يصح منها)

--------------------------------------------

(1) مغني المحتاج شرح المنهاج 1/109

(2) كفاية الأخيار في حل غاية الاختصار

(3) نيل الأوطار شرح منتقى الأخبار 1/227

(4) بدائع الفوائد 3/196 ط دار الكتب العلمية

(5) تهذيب سنن أبى داود عند الحديث رقم 2171

(6) المغني لابن قدامة

(7) الكافي 1/73
- খতিব আশ-শিরবিনী (১) বলেছেন: (ঋতুবস্থার কারণে তা-ই হারাম হয় যা জনাবেতের কারণে হারাম হয়—যেমন নামাজ ও অন্যান্য বিষয়; কারণ এটি অধিকতর গুরুতর। এটি যে জনাবেত অপেক্ষা গুরুতর তার প্রমাণ হলো, জনাবেতের কারণে যা কিছু হারাম হয় ঋতুবস্থার কারণে সেগুলো হারাম হওয়ার পাশাপাশি আরও অন্যান্য বিষয়ও হারাম হয়)।

- হিসনি (২) বলেছেন: (ঋতু ও নেফাসের কারণে আটটি বিষয় হারাম হয়... যার মধ্যে মসজিদে প্রবেশ করাও অন্তর্ভুক্ত... এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এর অপবিত্রতা জনাবেত অপেক্ষা অধিকতর গুরুতর)।

- আল্লামা আশ-শাওকানি (৩) বলেছেন: (অপবিত্র ব্যক্তি মসজিদে অবস্থান করতে পারে না, সুতরাং ঋতুবতী মহিলার ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা আরও অগ্রগণ্য)।

- ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (৪) বলেছেন: (ঋতুবতী মহিলার রক্তস্রাব বন্ধ হলে সে তার ওপর যা ওয়াজিব হয় এবং যা হারাম হয় সে ক্ষেত্রে অপবিত্র ব্যক্তির ন্যায় গণ্য হবে। এমতাবস্থায় তার সিয়াম ও গোসল সহিহ (صحيح) হবে, তার ওপর নামাজ ওয়াজিব হবে, তার জন্য অজু করা ও মসজিদে বসা বৈধ এবং দুই মতের এক মত অনুযায়ী তাকে তালাক দেওয়াও জায়েজ। তবে কেবল একটি মাসআলায় সে অপবিত্র ব্যক্তির থেকে ভিন্ন হবে, আর তা হলো তার সাথে সহবাস জায়েজ হওয়া; কারণ এটি গোসল করার ওপর নির্ভরশীল)।

- তিনি আরও বলেছেন (৫): (ঋতুবতী মহিলার রক্তস্রাব বন্ধ হলে সে অপবিত্র ব্যক্তির ন্যায় হয়ে যায়; তার ওপর তা-ই হারাম হয় যা অপবিত্র ব্যক্তির ওপর হারাম এবং তার পক্ষ থেকে তা-ই সহিহ (صحيح) হয় যা অপবিত্র ব্যক্তির পক্ষ থেকে সহিহ (صحيح) হয়)।

- একদল আলেম থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে তার কিছু অংশ আসবে।

 

**‌‌ ঋতুবতী মহিলার অজু সহিহ (صحيح) হয় না, যা অপবিত্র ব্যক্তির বিপরীত; কারণ তার ক্ষেত্রে এটি কখনো কখনো মুস্তাহাব হয়:

- মুয়াফফাকুদ্দিন ইবনে কুদামা (৬) বলেছেন: (পরিচ্ছেদ: যদি অপবিত্র ব্যক্তি অজু করে তবে আমাদের সাথীগণ এবং ইসহাকের মতে তার জন্য মসজিদে অবস্থান করা বৈধ... কিন্তু ঋতুবতী মহিলা যদি অজু করে তবে তার জন্য অবস্থান করা বৈধ নয়, কারণ তার অজু সহিহ (صحيح) হয় না)।

- তিনি আরও বলেছেন (৭): (অপবিত্র ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো যখন সে ঘুমানোর ইচ্ছা করবে তখন নামাজের অজুর ন্যায় অজু করে নেওয়া... এবং যখন সে আহার করতে চায় কিংবা পুনরায় সহবাস করতে চায় তখন লজ্জাস্থান ধৌত করা (ও অজু করা মুস্তাহাব)। তবে ঋতুবতী মহিলার জন্য এটি মুস্তাহাব নয়, কারণ অজু তার অপবিত্রতার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না এবং তা তার পক্ষ থেকে সহিহ (صحيح) হয় না)।

--------------------------------------------

(১) মুগনি আল-মুহতাজ শারহুল মিনহাজ ১/১০৯

(২) কিফায়াতুল আখইয়ার ফি হাল্লি গায়াতিল ইখতিসার

(৩) নাইলুল আওতার শারহু মুনতাকাল আখবার ১/২২৭

(৪) বাদা'িউল ফাওয়ায়িদ ৩/১৯৬, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ সংস্করণ

(৫) তাহজিবু সুনানি আবি দাউদ, হাদিস নং ২১৭১-এর আলোচনায়

(৬) আল-মুগনি লি ইবনি কুদামা

(৭) আল-কাফি ১/৭৩
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ৮)
- وقال المرداوي (1) : (فوائد: … منها: حكم الحائض والنفساء بعد انقطاع الدم حكم الجنب فيما تقرر على الصحيح من المذهب) .

- وقال ابن مفلح (2) : (في الرعاية وجه: لا يجوز لحائض ونفساء اللبث في المسجد لأن حدثهما باق لا أثر للوضوء فيه، فإن لم ينقطع الدم لم يجز، نص عليه) . انتهى ملخصاً.

 

‌‌الخلاصة:

1 - حدث الحائض أغلظ من حدث الجنب.

2 - الجنب يستحب له الوضوء عند الأكل أو معاودة الجماع أو النوم.

كما ورد في الحديث المتفق عليه (3) {أن عمر رضي الله عنه سأل النبي صلى الله عليه وسلم: أيرقد أحدنا وهو جنب؟ قال: نعم إذا توضأ} .

وروى مسلم (4) {عن أبى سعيد رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:إذا أتى أحدكم أهله ثم أراد أن يعود فليتوضأ} .

وروى مسلم وأبو داود والنسائي وابن ماجه {عن عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا أراد أن يأكل أو ينام توضأ. تعنى وهو جنب} . وفي الباب أحاديث أخرى صحيحة.

3- أما الحائض فلا يستحب لها الوضوء عند هذه الأشياء لأنه لم يرد لها ذكر عند أي من هذه الأحاديث، بل إن وضوءها لا يصح كما مر، وقد ذكر ابن قدامة في المغنى بعد ذكر هذه الأحاديث الخاصة بالجنب (إن هذه الأحاديث تدل على الاستحباب، فالحائض حدثها قائم، فلا وضوء مع ما ينافيه، فلا معنى للوضوء) .

4- الحائض والنفساء بعد إنقطاع دمهما لهما حكم الجنب عند بعض أهل العلم (الحنابلة) .

 

وقد أردت إيضاح ذلك أيضاً لأننا سنجد من يقرر حكماً للجنب ثم يسحبه على الحائض بالرغم من وجود فارق بينهما في الأحكام كما سبق، وسيأتي مزيد من ذلك إن شاء الله تعالى.

--------------------------------------------

(1) الإنصاف في معرفة الراجح من الخلاف 1/246. أي حكمها بعد انقطاع الدم وقبل الغسل مثل الجنب.

(2) المبدع في شرح المقنع 1/189

(3) البخاري 1/80، مسلم 1/248،249

(4) رواه مسلم 1/249، والترمذي وابن ماجه.
- এবং আল-মারদাভী (১) বলেন: (উপকারিতা: … তন্মধ্যে একটি হলো: রক্ত বন্ধ হওয়ার পর ঋতুবতী ও নেফাসগ্রস্তার বিধান হলো জানাবাতগ্রস্ত ব্যক্তির বিধানের অনুরূপ, যা মাযহাবের বিশুদ্ধ (الصحيح) মত অনুযায়ী সাব্যস্ত হয়েছে)।

- এবং ইবনে মুফলিহ (২) বলেন: (আর-রি'আয়াহ গ্রন্থে একটি অভিমত রয়েছে যে: ঋতুবতী ও নেফাসগ্রস্তার জন্য মসজিদে অবস্থান করা জায়েয নয়, কারণ তাদের অপবিত্রতা বিদ্যমান থাকে এবং তাতে ওযুর কোনো প্রভাব নেই; সুতরাং রক্ত বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তা জায়েয হবে না, এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে)। সংক্ষেপিত সমাপ্ত।

 

‌‌সারসংক্ষেপ:

১ - ঋতুবতীর অপবিত্রতা জানাবাতগ্রস্ত ব্যক্তির অপবিত্রতা অপেক্ষা অধিক গুরুতর।

২ - জানাবাতগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য আহারের সময়, পুনরায় সহবাসের প্রাক্কালে অথবা ঘুমানোর সময় ওযু করা মুস্তাহাব।

যেমনটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে (৩) {উমর (রা.) নবী (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: আমাদের কেউ কি জানাবাত অবস্থায় ঘুমানো পারবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, যখন সে ওযু করবে}।

এবং মুসলিম (৪) বর্ণনা করেছেন {আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যখন তোমাদের কেউ তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে, অতঃপর পুনরায় তা করতে চায়, তবে সে যেন ওযু করে নেয়}।

এবং মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন {আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) যখন আহার করার অথবা ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন তখন ওযু করতেন। অর্থাৎ জানাবাত অবস্থায়}। এই বিষয়ে আরও অন্যান্য সহিহ (صحيحة) হাদিস রয়েছে।

৩- পক্ষান্তরে ঋতুবতীর জন্য এই বিষয়গুলোর সময় ওযু করা মুস্তাহাব নয়। কারণ এই হাদিসগুলোর কোনোটিতেই তার কথা উল্লেখ করা হয়নি, বরং তার ওযু শুদ্ধ হবে না যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনে কুদামা আল-মুগনী গ্রন্থে জানাবাত সম্পর্কিত এই হাদিসগুলো উল্লেখ করার পর বলেছেন যে, (নিশ্চয়ই এই হাদিসগুলো মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ বহন করে, আর ঋতুবতীর অপবিত্রতা বিদ্যমান থাকে, তাই যা ওযুর পরিপন্থী তার সাথে ওযু করার সুযোগ নেই, সুতরাং এখানে ওযুর কোনো অর্থ হয় না)।

৪- রক্ত বন্ধ হওয়ার পর ঋতুবতী ও নেফাসগ্রস্তার বিধান কিছু আলেমগণের (হাম্বলি মাযহাব) মতে জানাবাতগ্রস্ত ব্যক্তির বিধানের অনুরূপ।

 

আমি এটিও স্পষ্ট করতে চেয়েছি কারণ আমরা এমন অনেককে পাব যারা জানাবাতগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য একটি বিধান সাব্যস্ত করেন এবং তা ঋতুবতীর ওপরও প্রয়োগ করেন, অথচ পূর্বে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে যে বিধানের ক্ষেত্রে উভয়ের মাঝে পার্থক্য বিদ্যমান। ইনশাআল্লাহ তাআলা এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত সামনে আসবে।

--------------------------------------------

(১) আল-ইনসাফ ফি মা'রিফাতিল রাজিহি মিনাল খিলাফ ১/২৪৬। অর্থাৎ রক্ত বন্ধ হওয়ার পর এবং গোসলের পূর্বে তার বিধান জানাবাতগ্রস্ত ব্যক্তির মতো।

(২) আল-মুবদি' ফি শারহিল মুকনি' ১/১৮৯

(৩) বুখারি ১/৮০, মুসলিম ১/২৪৮, ২৪৯

(৪) মুসলিম ১/২৪৯, এবং তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الفصل الثاني أقوال من أجاز للحائض المكث في المسجد والجواب عنها

 

‌‌(أ) قالوا لم يأت نهى عن ذلك بدليل صحيح؛ فيبقى الأمر على البراءة الأصلية.

الجواب عن ذلك:

بل ورد النهي عن ذلك، ولقد استدل العلماء القائلون بعدم جواز مكث الحائض في المسجد بالآية 43 من سورة النساء، وبثلاثة أحاديث: حديثين متفق على صحتهما،والثالث مختلف في صحته.

 

أولاً: الآية 43 من سورة النساء:

قال سبحانه وتعالى: (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا لَا تَقْرَبُوا الصَّلَاةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَى حَتَّى تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّى تَغْتَسِلُوا وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُورًا) .

 

1- من تفسير شيخ المفسرين ابن جرير الطبري:

قال رحمه الله: تأويل هذه الآية على قولين:

الأول: لا تقربوا نفس الصلاة وأنتم سكارى. ثم ذكر من قال من السلف بهذا القول.

الثاني: لا تقربوا مواضع الصلاة وأنتم سكارى. ثم ذكر من قال من السلف بهذا القول. ومنهم أثر عبد الله بن عباس، ولكنه أثر ضعيف لوجود أبى جعفر الرازي في إسناده، إلا انه ورد عن غير ابن عباس أيضاً وبأسانيد أخرى كثيرة (1) ، انظرها في تفسير الطبري.

--------------------------------------------

(1) كما سيأتي عند نقل كلام ابن كثير.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ঋতুবতী নারীর মসজিদে অবস্থানের অনুমতিদানকারীদের বক্তব্য এবং তার উত্তর

 

‌‌(ক) তারা বলেন যে, এর নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে কোনো সঠিক (صحيح) দলিল আসেনি; সুতরাং বিষয়টি মূল বৈধতার (البراءة الأصلية) ওপরই বহাল থাকবে.

এর উত্তর:

বরং এর পক্ষে নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে। যে সকল উলামায়ে কেরাম ঋতুবতী নারীর জন্য মসজিদে অবস্থান বৈধ নয় বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন, তারা সূরা নিসা-এর ৪৩ নম্বর আয়াত এবং তিনটি হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। এর মধ্যে দুইটি হাদিসের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে ঐকমত্য (متفق على صحتهما) রয়েছে এবং তৃতীয়টির বিশুদ্ধতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

 

প্রথমত: সূরা নিসা-এর ৪৩ নম্বর আয়াত:

মহান আল্লাহ বলেন: (হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নেশাগ্রস্ত থাক, তখন নামাজের নিকটবর্তী হয়ো না—যতক্ষণ না তোমরা কী বলছো তা বুঝতে পারো। আর অপবিত্র (جنبًا) অবস্থায়ও নয়—যতক্ষণ না তোমরা গোসল করো; তবে পথ অতিক্রমকারী (عابري سبيل) হিসেবে হলে ভিন্ন কথা। আর যদি তোমরা অসুস্থ হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার থেকে আসে অথবা তোমরা স্ত্রীদের স্পর্শ কর এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম কর; সুতরাং তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও অত্যন্ত দয়ালু)।

 

১- মুফাসসিরদের প্রধান ইবনে জারীর আত-তবারীর তাফসীর হতে:

তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন: এই আয়াতের ব্যাখ্যার ব্যাপারে দুইটি মত রয়েছে:

প্রথমত: খোদ নামাজের নিকটবর্তী হয়ো না যখন তোমরা নেশাগ্রস্ত থাকো। অতঃপর তিনি সালাফদের মধ্য থেকে যারা এই মত পোষণ করেছেন তাদের কথা উল্লেখ করেন।

দ্বিতীয়ত: নামাজের স্থানসমূহের (মসজিদ) নিকটবর্তী হয়ো না যখন তোমরা নেশাগ্রস্ত থাকো। অতঃপর তিনি সালাফদের মধ্য থেকে যারা এই মত পোষণ করেছেন তাদের কথা উল্লেখ করেন। তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের একটি বর্ণনা (أثر) রয়েছে, কিন্তু তার সানাদে (إسناده) আবু জাফর আর-রাযীর উপস্থিতির কারণে এটি একটি দুর্বল (ضعيف) বর্ণনা (أثر)। তবে এটি ইবনে আব্বাস ছাড়াও অন্যদের থেকে এবং অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে (أسانيد) বর্ণিত হয়েছে (১), যা তাফসীরে তবারীতে দেখে নিন।

--------------------------------------------

(১) যেমনটি সামনে ইবনে কাসীরের বক্তব্য বর্ণনার সময় আসবে।
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ১০)
ثمّ قال رحمه الله: " وأولى القولين بالتأويل لذلك تأويل من تأوله {ولا جنباً إلا عابري سبيل} : إلا مجتازي طريق فيه. وذلك أنه قد بين حكم المسافر إذا عدم الماء وهو جنب في قوله: {وإن كنتم مرضي أو على سفرٍٍ أو جاءَ أحدٌ منكم من الغائط أو لامستم النسآء فلم تَجدوا ماءً فتيمموا صعيداً طيباً} ، فكان معلوماً بذلك أن قوله {ولا جنباً إلا عابري سبيل حتى تغتسلوا} لو كان معنياً به المسافر لم يكن لإعادة ذكره في قوله {وإن كنتم مرضي أو على سفرٍٍ} معنى مفهوم، وقد مضى ذكر حكمه قبل ذلك، وإن كان ذلك كذلك فتأويل الآية: يا أيها الذين آمنوا لا تقربوا المساجد للصلاة مصلين فيها وأنتم سكارى حتى تعلموا ما تقولون، ولا تقربوها أيضاً جنباً حتى تغتسلوا إلا عابري سبيل. والعابر السبيل المجتازه مراً وقطعاً ". أ. هـ

 

فها هو شيخ المفسرين الطبري يقول بأن الصحيح في معنى الآية: لا تقربوا المساجد وأنتم جنباً حتى تغتسلوا إلا أن تعبروها مجتازين- يعنى من غير مكث فيها.

 

2 - من تفسير الحافظ ابن كثير:

قال رحمه الله تعالى: " ينهى تبارك وتعالى عباده المؤمنين عن:

1 - فعل الصلاة في حال السكر الذي لا يدرى معه المصلى ما يقول.

2 - وعن قربان محالّها التي هي المساجد للجنب إلا أن يكون مجتازاً من باب إلى باب من غير مكث وقد كان هذا قبل تحريم الخمر."
অতঃপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আর এ বিষয়ে দুই মতের ব্যাখ্যার মধ্যে অধিকতর অগ্রগণ্য হলো তাদের ব্যাখ্যা যারা {ولا جنباً إلا عابري سبيل} (আর অপবিত্র অবস্থায় নয়, তবে পথ অতিক্রমকারী হিসেবে ব্যতীত)-এর ব্যাখ্যা করেছেন: অর্থাৎ যারা তাতে পথ অতিক্রমকারী। আর বিষয়টি হলো এই যে, তিনি মুসাফিরের বিধান বর্ণনা করেছেন যখন সে পানি পায় না অথচ সে অপবিত্র অবস্থায় থাকে, তাঁর এই বাণীতে: {وإن كنتم مرضي أو على سفرٍٍ أو جاءَ أحدٌ منكم من الغائط أو لامستم النسآء فلم تَجدوا ماءً فتيمموا صعيداً طيباً} (আর যদি তোমরা অসুস্থ হও অথবা সফরে থাকো অথবা তোমাদের কেউ পায়খানা থেকে আসে অথবা তোমরা স্ত্রীদের স্পর্শ করো এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো)। সুতরাং এর মাধ্যমে এটি জানা গেল যে, তাঁর বাণী {ولا جنباً إلا عابري سبيل حتى تغتسلوا} (আর তোমরা অপবিত্র অবস্থায় সালাতের নিকটবর্তী হয়ো না, যতক্ষণ না তোমরা গোসল করো, তবে যদি পথ অতিক্রমকারী হও) দ্বারা যদি মুসাফির উদ্দেশ্য হতো, তবে {وإن كنتم مرضي أو على سفرٍٍ} (আর যদি তোমরা অসুস্থ হও অথবা সফরে থাকো) বাণীতে এর পুনরুল্লেখের কোনো বোধগম্য অর্থ থাকত না, অথচ ইতিপূর্বেই তার বিধানের উল্লেখ গত হয়েছে। আর বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে আয়াতের ব্যাখ্যা হলো: হে মুমিনগণ! তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মসজিদে সালাত আদায়ের জন্য তার নিকটবর্তী হয়ো না, যতক্ষণ না তোমরা কী বলছো তা বুঝতে পারো; এবং অপবিত্র অবস্থায়ও মসজিদের নিকটবর্তী হয়ো না যতক্ষণ না তোমরা গোসল করো, তবে কেবল পথ অতিক্রমকারী হিসেবে ব্যতীত। আর পথ অতিক্রমকারী হলো সে, যে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে এবং তা পার হয়ে যায়।" উদ্ধৃতি সমাপ্ত।

 

সুতরাং এই যে মুফাসসিরদের প্রধান তাবারী বলছেন যে, আয়াতের অর্থের ক্ষেত্রে সঠিক (صحيح) হলো: তোমরা অপবিত্র অবস্থায় মসজিদের নিকটবর্তী হয়ো না যতক্ষণ না তোমরা গোসল করো, তবে যদি তোমরা তা অতিক্রম করো—অর্থাৎ সেখানে অবস্থান করা ব্যতীত।

 

2 - হাফিজ (الحافظ) ইবনে কাসীরের তাফসির হতে:

তিনি (রহিমাহুল্লাহু তায়ালা) বলেন: "আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাঁর মুমিন বান্দাদের নিষেধ করছেন:

1 - নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সালাত সম্পাদন করা থেকে, যে অবস্থায় সালাত আদায়কারী কী বলছে তা বুঝতে পারে না।

2 - এবং সালাতের স্থানসমূহ তথা মসজিদের নিকটবর্তী হওয়া থেকে অপবিত্র অবস্থায়, তবে এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করে অন্য দরজা দিয়ে বের হওয়ার মাধ্যমে অতিক্রমকারী হওয়া ব্যতীত, সেখানে অবস্থান না করে। আর এটি ছিল মদ হারাম হওয়ার পূর্বের বিধান।"
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ১১)
ثمّ أورد بعد ذلك أثر ابن عباس المذكور آنفاً برواية ابن أبى حاتم ولكن في سندها أيضاً أبى جعفر الرازي، ثمّ قال ابن كثير:" قال - يعنى ابن أبى حاتم - وروى عن عبد الله بن مسعود وأنس وأبى عبيدة وسعيد ابن المسيب والضحاك وعطاء ومجاهد ومسروق وإبراهيم النخعي وزيد بن أسلم وأبى مالك وعمرو بن دينار والحكم بن عتبة وعكرمة والحسن البصري ويحي بن سعيد الأنصاري وابن شهاب وقتادة نحو ذلك، وقال ابن جرير حدثنا المثنى حدثنا أبو صالح حدثني الليث حدثنا يزيد بن أبى حبيب عن قول الله عز وجل {ولا جنباً إلا عابري سبيل} إنّ رجالاً من الأنصار كانت أبوابهم في المسجد فكانت تصيبهم الجنابة ولا ماء عندهم فيردون الماء ولا يجدون ممراً إلا في المسجد فأنزل الله: {ولا جنباً إلا عابري سبيل} . ويشهد لصحة ما قاله يزيد بن أبى حبيب رحمه الله (1) ما ثبت في صحيح البخاري أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:"سدوا كل خوخة في المسجد،إلا خوخة أبى بكر". وهذا قاله في آخر حياته صلى الله عليه وسلم علماً منه أنّ أبا بكر رضي الله عنه سيلى الأمر بعده (2) ويحتاج إلى الدخول في المسجد كثيراً للأمور المهمة فيما يصلح للمسلمين فأمر بسد الأبواب الشارعة إلى المسجد إلا بابه رضي الله عنه".

وقال: " وبهذه الآية احتج كثير من الأئمة على أنه يحرم على الجنب المكث في المسجد وجوز له المرور وكذا الحائض والنفساء أيضاً في معناه، إلا أن بعضهم قال يحرم مرورهما لإحتمال التلويث، ومنهم من قال إن أمنت كل واحدة منهما التلويث في حال المرور جاز لهما المرور وإلا فلا ".

فانظر رحمك الله كيف قال: المرور، أمّا عند حكم المكث فيصرح بالتحريم، وإذا أمنت التلويث فإنه يجوز لها المرور فقط.

--------------------------------------------

(1) هذه الرواية فيها احتمال إرسال؛ ولذلك استشهد ابن كثير لصحتها بحديث آخر صحيح في صحيح البخاري.

(2) كذا قال رحمه الله.
এরপর তিনি ইবনে আবি হাতিমের বর্ণনায় ইতিপূর্বে উল্লেখিত ইবনে আব্বাসের আসার (أثر) উল্লেখ করেছেন, তবে এর সনদেও (سند) আবু জাফর আর-রাজি রয়েছেন। অতঃপর ইবনে কাসীর বলেন: "তিনি—অর্থাৎ ইবনে আবি হাতিম—বলেছেন: আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ, আনাস, আবু উবায়দাহ, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, যাহহাক, আতা, মুজাহিদ, মাসরুক, ইব্রাহিম নাখয়ি, যায়েদ বিন আসলাম, আবু মালিক, আমর বিন দিনার, হাকাম বিন উতাইবাহ, ইকরিমা, হাসান বসরী, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আনসারী, ইবনে শিহাব এবং কাতাদাহ থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। ইবনে জারীর বলেন: আল-মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-লাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব মহান আল্লাহর বাণী— {এবং অপবিত্র অবস্থায়ও নয়, যদি পথ অতিক্রমকারী না হও} প্রসঙ্গে বলেছেন যে, আনসারদের কিছু লোকের ঘরের দরজা ছিল মসজিদের দিকে। তাদের জানাবাত (অপবিত্রতা) অর্জিত হতো অথচ তাদের নিকট পানি থাকতো না, আবার তারা পানি আনতে যেতে চাইলে মসজিদ ছাড়া কোনো পথ পেতেন না। তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করেন: {এবং অপবিত্র অবস্থায়ও নয়, যদি পথ অতিক্রমকারী না হও}। ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব (রহিমাহুল্লাহ) যা বলেছেন তার বিশুদ্ধতার (صحة) সাক্ষ্য দেয় সহিহ বুখারি-তে প্রমাণিত সেই হাদিস, যাতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আবু বকরের ছোট দরজা ব্যতীত মসজিদের সকল ছোট দরজা বন্ধ করে দাও।" এটি তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জীবনের শেষ সময়ে বলেছিলেন; কারণ তিনি জানতেন যে তাঁর পরে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাকে প্রচুর মসজিদে যাতায়াত করতে হবে। তাই তিনি মসজিদের দিকে উন্মুক্ত সকল দরজা বন্ধ করার নির্দেশ দিলেও তাঁর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) দরজাটি খোলা রাখার নির্দেশ দেন।"

তিনি আরও বলেন: "এই আয়াত দ্বারা অনেক ইমাম দলীল পেশ করেছেন যে, অপবিত্র (জুনুব) ব্যক্তির জন্য মসজিদে অবস্থান করা হারাম, তবে তার জন্য পথ অতিক্রম করা জায়েয। একইভাবে ঋতুবতী এবং নিফাসওয়ালী নারীও এই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। তবে তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন, মসজিদ অপবিত্র হওয়ার আশঙ্কায় তাঁদের পথ অতিক্রম করাও হারাম। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, যদি তাঁদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে পথ অতিক্রমের সময় অপবিত্রতা থেকে মুক্ত থাকার নিশ্চয়তা থাকে তবে তাঁদের জন্য পথ অতিক্রম জায়েয হবে, অন্যথায় নয়।"

অতএব হে আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, লক্ষ্য করুন তিনি কীভাবে বলেছেন: 'পথ অতিক্রম' (مرুর), কিন্তু অবস্থানের হুকুমের ক্ষেত্রে তিনি স্পষ্টভাবে হারামের কথা উল্লেখ করেছেন। আর যদি অপবিত্রতা থেকে মুক্ত থাকার নিশ্চয়তা থাকে তবেই কেবল তার জন্য পথ অতিক্রম জায়েয হবে।

--------------------------------------------

(১) এই বর্ণনায় (رواية) বিচ্ছিন্নতার (إرسال) সম্ভাবনা রয়েছে; এজন্য ইবনে কাসীর এর বিশুদ্ধতার (صحة) স্বপক্ষে সহিহ বুখারি থেকে অন্য একটি সহিহ (صحيح) হাদিস দ্বারা দলীল পেশ করেছেন।

(২) তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এরূপই বলেছেন।
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ১২)
ثمّ حكى بعد ذلك قول الطبري السابق نقله واختيار الطبري لتأويل الآية، ثم قال ابن كثير:

" وهذا الذي نصره - يعنى الطبري -هو قول الجمهور، وهو الظاهر من الآية، وكأنه تعالى نهى عن:

1 - تعاطى الصلاة على هيئة ناقصة تناقض مقصودها.

2 - وعن الدخول إلى محلها على هيئة ناقصة وهى الجنابة المباعدة للصلاة ولمحلها أيضاً، والله أعلم."

 

وقال "وقوله عز وجل {حتى تغتسلوا} دليل لما ذهب إليه الأئمة الثلاثة: أبوحنيفة ومالك والشافعي أنه يحرم على الجنب المكث في المسجد حتى يغتسل أو يتيمم إن عدم الماء أو لم يقدر على استعماله بطريقة، وذهب الإمام أحمد إلى أنه متى توضأ الجنب جاز له المكث في المسجد لما روى سعيد بن منصور في سننه بسند صحيح أنّ الصحابة كانوا يفعلون ذلك. "

 

فائدة:

أوضح ابن كثير أن تفسير آية {ولا تقربوا الصلاة وأنتم سكارى ولا … } أي لا تقربوا مواضع الصلاة وأنه قول الجمهور، وفي ذلك رد على من قال أن المقصود حقيقة الصلاة وأنه قول أكثر المفسرين! (1)

نعم من الصحيح أنه قول بعض المفسرين بلا شك، ولكن الجمهور على خلاف ذلك، وقد عرفت قول الجهبذين الطبري وابن كثير.

3 - ومن تفسير مفاتح الغيب لفخر الدين الرازي:

بعد أن نقل الرازي الاختلاف في تأويل الآية، قال إن أصحاب الشافعي انتصروا لقوله بوجوه منها:

الأول: أنّه سبحانه وتعالى قال: {لا تقربوا الصلاة} والقرب والبعد لا يصحان على نفس الصلاة على سبيل الحقيقة، إنّما يصحان على المسجد.

الثاني: أنّا لو حملناه على ما قلنا لكان الاستثناء صحيحاً، أمّا لو حملناه على ما قلتم لم يكن صحيحاً لأن من لم يكن عابر سبيل وقد عجز عن استعمال الماء بسبب المرض الشديد؛ فإنّه يجوز له الصلاة بالتيمم، وإذا كان كذلك كان حمل الآية على ذلك أولى.

--------------------------------------------

(1) قال ذلك فخر الدين الرازي، ونقله بعد ذلك بعض المعاصرين.
এরপর তিনি ইমাম তাবারির পূর্বে বর্ণিত মত এবং আয়াতের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তাবারির পছন্দ উল্লেখ করেন, অতঃপর ইবনে কাসীর বলেন:

"আর তিনি (অর্থাৎ তাবারি) যা সমর্থন করেছেন তা সংখ্যাগরিষ্ঠ (الجمهور)-দের অভিমত এবং আয়াতের প্রকাশ্য অর্থও এটিই। আল্লাহ তাআলা যেন নিষেধ করেছেন:

১ - সালাতের উদ্দেশ্য পরিপন্থী অসম্পূর্ণ অবস্থায় সালাত আদায় করা থেকে।

২ - এবং অসম্পূর্ণ অবস্থায় সালাতের স্থানে প্রবেশ করা থেকে, যা হলো জানাবাত বা অপবিত্রতা, যা সালাত এবং সালাতের স্থান উভয় থেকেই দূরে রাখে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।"

 

তিনি বলেন, "আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার বাণী {যতক্ষণ না তোমরা গোসল করো}—এটি তিন ইমাম: আবু হানিফা, মালিক ও শাফিয়ীর মাযহাবের দলিল যে, অপবিত্র ব্যক্তির জন্য গোসল না করা পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করা হারাম; অথবা যদি পানি না পাওয়া যায় বা কোনো উপায়ে তা ব্যবহারে সক্ষম না হয় তবে তায়াম্মুম করা পর্যন্ত। আর ইমাম আহমাদ এই মত পোষণ করেছেন যে, অপবিত্র ব্যক্তি যখন অজু করবে, তখন তার জন্য মসজিদে অবস্থান করা জায়েজ। কারণ সাঈদ ইবনে মানসুর তার সুনানে সহিহ (صحيح) সনদে (بسند) বর্ণনা করেছেন যে, সাহাবীগণ এরূপ করতেন।"

 

ফায়দা:

ইবনে কাসীর স্পষ্ট করেছেন যে, {তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সালাতের নিকটবর্তী হয়ো না এবং... … } আয়াতের ব্যাখ্যা হলো—তোমরা সালাতের স্থানের (মসজিদ) নিকটবর্তী হয়ো না; এবং এটিই সংখ্যাগরিষ্ঠ (الجمهور)-দের অভিমত। এর মাধ্যমে তাদের প্রতিবাদ করা হয়েছে যারা বলেন যে, এর দ্বারা প্রকৃত সালাত উদ্দেশ্য এবং এটিই অধিকাংশ মুফাসসিরের অভিমত! (১)

হ্যাঁ, নিঃসন্দেহে এটি কিছু মুফাসসিরের অভিমত হওয়া সঠিক (صحيح), কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ (الجمهور) ওলামাগণের অবস্থান এর বিপরীত। আপনি তো দুই বিজ্ঞ পণ্ডিত ইমাম তাবারি ও ইবনে কাসীরের বক্তব্য জানলেন।

৩ - ফখরুদ্দিন রাযীর তাফসীরে মাফাতিহুল গাইব থেকে:

আয়াতের ব্যাখ্যার ব্যাপারে মতভেদ উল্লেখ করার পর রাযী বলেন যে, শাফিয়ী মাযহাবের অনুসারীরা তাঁর মতের স্বপক্ষে বিভিন্ন দিক থেকে যুক্তি দিয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে:

প্রথমত: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {তোমরা সালাতের নিকটবর্তী হয়ো না}। আর নিকটবর্তী হওয়া বা দূরবর্তী হওয়া প্রকৃত অর্থে স্বয়ং সালাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া সঠিক (يصحان) নয়, বরং তা মসজিদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া সঠিক।

দ্বিতীয়ত: আমরা যদি আয়াতটিকে আমাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী গ্রহণ করি তবে ব্যতিক্রমটি সঠিক (صحيح) হবে; পক্ষান্তরে আপনারা যা বলেছেন সে অনুযায়ী ধরলে তা সঠিক (صحيح) হবে না। কারণ যে ব্যক্তি পথচারী নয় এবং গুরুতর অসুস্থতার কারণে পানি ব্যবহারে অক্ষম, তার জন্য তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করা জায়েজ। আর বিষয়টি যেহেতু এমন, তাই আয়াতের এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করাই অধিকতর উত্তম।

--------------------------------------------

(১) ফখরুদ্দিন রাযী একথা বলেছেন এবং পরবর্তীতে বর্তমান যুগের কেউ কেউ তা উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الثالث: أنّا إذا حملنا عابر السبيل على الجنب المسافر فهذا إن كان واجداً للماء لم يجز له القرب من الصلاة البتّة فحينئذ يحتاج إلى إضمار هذا الاستثناء في الآية، وإن لم يكن واجداً للماء لم يجز له الصلاة إلا مع التيمم فيفتقر إلى إضمار هذا الشرط في الآية، وأمّا على ما قلناه فإنّا لا نفتقر إلى إضمار شيء في الآية؛ فكان قولنا أولى.

الرابع: أن الله تعالى ذكر حكم السفر وعدم الماء وجواز التيمم بعد هذا، فلا يجوز حمل هذا على حكم مذكور في آية بعد هذه الآية. والذي يؤكده أن القرّاء استحبوا الوقف عند قوله {حتى تغتسلوا} ثمّ يستأنف قوله {وإن كنتم مرضي} لأنّه حكم آخر. وأمّا إذا حملت الآية على ما ذكرنا لم نحتج فيه إلى هذه الإلحاقات، فكان ما قلناه أولى.

وقال الرازي أيضاً: قيل للذي يجب عليه الغسل جنب لأنّه يجتنب الصلاة والمسجد وقراءة القرآن حتى يتطهر.

4 - وقال القاضي أبو بكر بن العربي في" أحكام القرآن":

المسألة الحادية عشرة: ثبت عن عطاء بن يسار أنه قال: كان رجال من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم تصيبهم الجنابة فيتوضئون ويأتون المسجد يتحدثون فيه. وربما أغتر بهذا جاهل فظنَّ أنَّ اللبث للجنب في المسجد جائز. وهذا لا حجة فيه، فإن كل موضع وضع للعبادة وأكرم عن النجاسة الظاهرة كيف يدخله من لا يرضي لتلك العبادة، ولا يصح له أن يتلبس بها؟

 

5 - وقال الشوكاني في تفسيره" فتح القدير":
তৃতীয়ত: আমরা যদি 'পথচারী' (عابر السبيل) বলতে সফররত অবস্থায় অপবিত্র (جنب) ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য নিই, তবে সে যদি পানি পায়, তবে তার জন্য সালাতের নিকটবর্তী হওয়া মোটেও জায়েজ হবে না। সে ক্ষেত্রে আয়াতের মাঝে এই ব্যতিক্রমটিকে উহ্য (إضمار) ধরার প্রয়োজন পড়বে। আর যদি সে পানি না পায়, তবে তায়াম্মুম (تيمم) করা ব্যতীত তার জন্য সালাত আদায় করা বৈধ হবে না; ফলে আয়াতে এই শর্তটিকেও উহ্য (إضمار) রাখার প্রয়োজন দেখা দেয়। পক্ষান্তরে আমরা যা বলেছি, সে অনুযায়ী আয়াতের মধ্যে কোনো কিছু উহ্য রাখার প্রয়োজন হয় না; অতএব আমাদের বক্তব্যটিই অধিকতর উত্তম।

চতুর্থত: আল্লাহ তাআলা সফরের বিধান, পানির অনুপস্থিতি এবং তায়াম্মুমের (تيمم) বৈধতা সম্পর্কে এর পরেই আলোচনা করেছেন। সুতরাং এই বিষয়টিকে পরবর্তী আয়াতে বর্ণিত হুকুমের ওপর প্রয়োগ করা সমীচীন নয়। এর সপক্ষে জোরালো যুক্তি হলো, কিরাত বিশেষজ্ঞগণ (القراء) {حتى تغتسلوا} পর্যন্ত পাঠ করে বিরতি (الوقف) দেয়া মুস্তাহাব মনে করেছেন এবং এরপর {وإن كنتم مرضى} থেকে পুনরায় শুরু করেন; কারণ এটি একটি ভিন্ন বিধান। পক্ষান্তরে আয়াতটিকে যদি আমাদের উল্লিখিত অর্থে গ্রহণ করা হয়, তবে এই ধরণের ব্যাখ্যার কোনো প্রয়োজন পড়ে না। তাই আমাদের মতটিই অগ্রগণ্য।

ইমাম রাযী আরও বলেন: যার ওপর গোসল ফরজ হয়েছে তাকে জুনুব (جنب) বলা হয়, কারণ সে পবিত্রতা অর্জন করা পর্যন্ত সালাত, মাসজিদ এবং কুরআন তিলাওয়াত থেকে দূরে থাকে।

4 - এবং কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবি 'আহকামুল কুরআন' গ্রন্থে বলেছেন:

একাদশ মাসআলা: আতা ইবনে ইয়াসার থেকে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে এমন কিছু লোক ছিলেন যারা অপবিত্র (الجنابة) অবস্থায় অজু করতেন এবং মাসজিদে এসে কথাবার্তা বলতেন। কোনো অজ্ঞ ব্যক্তি হয়তো এতে বিভ্রান্ত হয়ে ধারণা করতে পারে যে, অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির জন্য মাসজিদে অবস্থান করা বৈধ (جائز)। অথচ এতে কোনো দলিল নেই। কেননা, যে স্থানটি ইবাদতের জন্য নির্ধারিত এবং দৃশ্যমান নাপাকি থেকে পবিত্র রাখা হয়েছে, সেখানে এমন ব্যক্তি কীভাবে প্রবেশ করতে পারে যে সেই ইবাদতের জন্য পছন্দনীয় নয় এবং যার জন্য তাতে লিপ্ত হওয়া শুদ্ধ নয়?

 

5 - এবং শাওকানি তার তাফসির 'ফাতহুল কাদির'-এ বলেছেন:
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
يمكن أن يقال: أن بعض قيود النهى أعنى (لا تقربوا) وهو قوله (وأنتم سكارى) يدل على أن المراد بالصلاة معناها الحقيقي وبعض قيود النهى وهو قوله (إلا عابري سبيل) يدل على أن المراد مواضع الصلاة ولا مانع من اعتبار كل واحد منهما مع قيده الدالّ عليه ويكون ذلك بمنزلة نهيين مقيد كل واحد منهما بقيد، وهما لا تقربوا الصلاة التي هي ذات الأذكار والأركان وأنتم سكارى، ولا تقربوا مواضع الصلاة حال كونكم جنباً إلا حال عبوركم في المسجد من جانب إلى جانب.

ثمّ حكى قول الطبري وقول ابن كثير وهو قول الجمهور كما سبق.

 

توضيح:

بالرغم من أن هذه الآية في حق الجنب إلا إنها أيضاً في حق الحائض كما قال المفسرون، وذلك لأن الحائض حدثها أغلظ من حدث الجنب، فكل ما ينطبق حكماً على الجنب ينطبق على الحائض، وليس كل ما ينطبق حكماً على الحائض ينطبق على الجنب، لأن الحائض حدثها أغلظ كما سبق.

 

ثانياً: الأحاديث:

الحديث الأول:

حديث رواه الجماعة: عن أمّ عطية قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

{لتخرج العواتق ذوات الخدور-أو العواتق وذوات الخدور - والحيض فيشهدن الخير ودعوة المسلمين، ويعتزل الحيض المصلى} . (1)

 

من فقه الحديث:

- ترجم الإمام البخاري لهذا الحديث: "باب: اعتزال الحيض المصلى "

- وقال الإمام النووي (في شرحه لصحيح مسلم 6/179) : "فيه منع الحيض من المصلى، واختلف أصحابنا في هذا المنع، فقال الجمهور: هو منع تنزيه لا تحريم وسببه الصيانة والاحتراز من مقارنة النساء للرجال من غير حاجة ولا صلاة، وإنما لم يحرم لأنّه ليس مسجداً. وحكى أبو جعفر الدارمي من أصحابنا عن بعض أصحابنا أنّه قال يحرم المكث في المصلى على الحائض كما يحرم مكثها في المسجد لأنّه موضع للصلاة فأشبه المسجد والصواب الأول. "

--------------------------------------------

(1) خ351،971،974،980،981،1652،م،ن، ت 537،د 1125،هـ 1308
বলা যেতে পারে যে: নিষেধের কিছু সীমাবদ্ধতা অর্থাৎ (তোমরা নিকটবর্তী হয়ো না), যা তাঁর বাণী (এমতাবস্থায় যখন তোমরা মদ্যপ), তা নির্দেশ করে যে সালাত দ্বারা এখানে এর প্রকৃত অর্থ উদ্দেশ্য। আর নিষেধের অন্য কিছু সীমাবদ্ধতা যা তাঁর বাণী (পথচারী ব্যতীত), তা নির্দেশ করে যে এর দ্বারা সালাতের স্থানসমূহ উদ্দেশ্য। প্রত্যেকটি বিষয়কে তার নির্দেশক সীমাবদ্ধতাসহ গণ্য করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। এটি এমন দুটি নিষেধের স্থলাভিষিক্ত হবে যার প্রতিটিই একটি স্বতন্ত্র শর্ত দ্বারা সীমাবদ্ধ। আর তা হলো: তোমরা সালাতের নিকটবর্তী হয়ো না যা যিকর ও রুকনসমূহের সমষ্টি, এমতাবস্থায় যখন তোমরা মদ্যপ; এবং তোমরা সালাতের স্থানসমূহের নিকটবর্তী হয়ো না যখন তোমরা জুনুব (جنب) অবস্থায় থাকো, মসজিদে এক পাশ থেকে অন্য পাশে অতিক্রম করা ব্যতীত।

অতঃপর তিনি ইমাম তাবারী ও ইবনে কাসীরের বক্তব্য বর্ণনা করেছেন এবং এটিই সংখ্যাগরিষ্ঠ (الجمهور) আলিমগণের মত, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

 

ব্যাখ্যা:

যদিও এই আয়াতটি জুনুব (جنب) ব্যক্তির ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছে, তবুও এটি ঋতুবতী (حائض) নারীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যেমনটি মুফাসসিরগণ বলেছেন। এর কারণ হলো ঋতুবতী নারীর অপবিত্রতা (حدث) জুনুব ব্যক্তির অপবিত্রতার (حدث) চেয়ে অধিক গুরুতর। সুতরাং বিধানগতভাবে যা জুনুব (جنب) ব্যক্তির ওপর প্রযোজ্য হয়, তা ঋতুবতী (حائض) নারীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়; কিন্তু ঋতুবতী নারীর ওপর প্রযোজ্য সকল বিধান জুনুব ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না। কারণ ঋতুবতী নারীর অপবিত্রতা (حدث) অধিক গুরুতর, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

দ্বিতীয়ত: হাদিসসমূহ:

প্রথম হাদিস:

হাদিস বিশারদদের একটি দল (الجماعة) কর্তৃক বর্ণিত হাদিস: উম্মে আতিয়্যাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

{পর্দানশীন যুবতী নারীরা—অথবা বলেছেন যুবতী ও পর্দানশীন নারীরা—এবং ঋতুবতী মহিলারা যেন বের হয় এবং তারা কল্যাণ ও মুসলিমদের দোয়ায় শরিক হয়; তবে ঋতুবতী মহিলারা যেন সালাতের স্থান থেকে দূরে থাকে।} (১)

 

হাদিসের ব্যাখ্যা ও বিধান:

- ইমাম বুখারী এই হাদিসের শিরোনাম (ترجمة) দিয়েছেন: "পরিচ্ছেদ: ঋতুবতী মহিলাদের সালাতের স্থান থেকে দূরে থাকা"

- এবং ইমাম নববী (শরহে সহিহ মুসলিম ৬/১৭৯-এ) বলেছেন: "এতে ঋতুবতী মহিলাদের সালাতের স্থান থেকে দূরে থাকার নির্দেশ রয়েছে। আমাদের (শাফেয়ী) মাজহাবের অনুসারীগণ এই নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ (الجمهور) আলিমগণ বলেছেন: এটি তানজিহ বা অপছন্দনীয়তাজ্ঞাপক (تنزيه) নিষেধ, তাহরিম বা চূড়ান্ত নিষিদ্ধ (تحريم) নয়। এর কারণ হলো কোনো প্রয়োজন বা সালাত ব্যতিরেকে পুরুষদের সাথে মহিলাদের সহাবস্থান থেকে সুরক্ষা ও সতর্কতা অবলম্বন করা। আর এটি হারাম করা হয়নি কারণ ওই স্থানটি মসজিদ নয়। আমাদের সাথীদের মধ্যে আবু জাফর আদ-দারিমি আমাদের জনৈক সাথীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: ঋতুবতী নারীর জন্য সালাতের স্থানে অবস্থান করা নিষিদ্ধ (تحريم), যেমনটি মসজিদে অবস্থান করা তার জন্য নিষিদ্ধ; কেননা এটি সালাতের স্থান বিধায় মসজিদের সদৃশ। তবে প্রথম মতটিই সঠিক (الصواب)।"

--------------------------------------------

(১) বুখারী ৩৫১, ৯৭১, ৯৭৪, ৯৮০, ৯৮১, ১৬৫২; মুসলিম; নাসাঈ; তিরমিযী ৫৩৭; আবু দাউদ ১১২৫; ইবনে মাজাহ ১৩০৮
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
- وقال الحافظ (الفتح 1/505 -ح 324- عند تبويب البخاري: " باب: شهود الحائض العيدين ودعوة المسلمين ويعتزلنّ المصلى ") قال: " حمل الجمهور الأمر المذكور على الندب لأن المصلى ليس بمسجد فيمتنع الحيّض من دخوله ".

فانظر - رحمك الله - كيف رخص لها في حضور مجالس العلم ومواطن الخير، أمّا المسجد فلا، حتى وإن كان فيه مواطن الخير للنصوص الواردة في ذلك.

- وقد وقع في رواية لأبى داود ح 1126 [قالت أم عطية: والحيّض يكنّ خلف الناس فيُكَبرن مع الناس] . وفي هذه الرواية رد على من قال يعتزل الحيّض المصلى أي: يعتزلن الصلاة، حيث أن هذه الرواية توضح أن الحيّض لم يكنّ مع باقي النساء، وإنّما خلفهنّ.

 

فائدة: اختلف العلماء في الحكم على مصلى العيد:

1 - فمنهم من اعتبره كالمسجد في الأحكام، ولذلك قال بتحريم دخول الحائض فيه.

2 - ومنهم من اعتبره ليس بمسجد وليس له أحكامه؛ فقال بكراهة دخول الحائض فيه.

 

الخلاصة:

قال الإمام النووي والحافظ ابن حجر العسقلاني عند شرح هذا الحديث بتحريم المسجد على الحائض، وهو واضح من قول الأول (لم يحرم لأنّه ليس مسجداً) ، أي لو كان مسجداَ لحرم. ومن قول الثاني (لأن المصلى ليس بمسجد فيمتنع الحيّض من دخوله) ، أي لو كان المصلى مسجداً لامتنع الحيض من دخوله.

 

الحديث الثاني:

حديث رواه الجماعة إلا البخاري:

{عن السيدة عائشة رضي الله عنها قالت:

قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: ناوليني الخمرة - وفي رواية الثوب - من المسجد، قالت: إنى حائض.فقال: إنّ حيضتك ليست في يدك. - وفي رواية فناولته -} . وهذه الألفاظ كلها عند مسلم. (1)

 

من فقه الحديث:

--------------------------------------------

(1) حم2/70،6/45،101،106،10،12،114،173،179،214،229،245،م1/45، د 1/60،ت1/134وقال حسن صحيح،ن1/120،158،هـ1/207،مي1/197، 247.
- এবং হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেছেন (ফাতহুল বারী ১/৫০৫ - হাদিস ৩২৪ - বুখারীর অনুচ্ছেদ শিরোনামের অধীনে: "পরিচ্ছেদ: ঋতুমতী নারীদের দুই ঈদে এবং মুসলিমদের দোয়ায় উপস্থিতি এবং ঈদগাহ থেকে দূরে থাকা"): "অধিকাংশ (جمهور) আলেম উক্ত নির্দেশকে মুস্তাহাব (ندب) হিসেবে গ্রহণ করেছেন, কারণ ঈদগাহ (مصلى) মসজিদ নয়, অন্যথায় ঋতুমতী নারীদের সেখানে প্রবেশ করা নিষিদ্ধ হতো।"

সুতরাং লক্ষ করুন—আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন—কিভাবে তাকে ইলমি মজলিস এবং কল্যাণকর স্থানসমূহে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মসজিদের ক্ষেত্রে তা নয়, এমনকি সেখানে কল্যাণকর কিছু থাকলেও; কারণ এই বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা বিদ্যমান।

- আবু দাউদের একটি বর্ণনায় (হাদিস ১১২৬) এসেছে [উম্মে আতিয়্যাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: ঋতুমতী নারীরা মানুষের পেছনে থাকত এবং মানুষের সাথে তাকবির পাঠ করত]। এই বর্ণনায় তাদের প্রতিবাদ রয়েছে যারা বলেন ঋতুমতী নারীরা ঈদগাহ (مصلى) থেকে পৃথক থাকবে অর্থাৎ সালাত থেকে পৃথক থাকবে; কারণ এই বর্ণনাটি স্পষ্ট করে যে, ঋতুমতী নারীরা অন্যান্য নারীদের সাথে থাকত না, বরং তাদের পেছনে থাকত।

 

ফায়দা: ঈদগাহের বিধান সম্পর্কে ওলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন:

১ - তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে বিধানের ক্ষেত্রে মসজিদের মতো গণ্য করেছেন, তাই তারা এতে ঋতুমতী নারীর প্রবেশ হারাম হওয়ার কথা বলেছেন।

২ - আবার কেউ কেউ একে মসজিদ হিসেবে গণ্য করেননি এবং এর ক্ষেত্রে মসজিদের বিধান প্রযোজ্য নয় বলে মনে করেন; তাই তারা এতে ঋতুমতী নারীর প্রবেশ মাকরূহ (كراهة) হওয়ার কথা বলেছেন।

 

সারসংক্ষেপ:

ইমাম নববী এবং হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী এই হাদিসের ব্যাখ্যায় ঋতুমতী নারীর জন্য মসজিদ হারাম হওয়ার কথা বলেছেন। এটি প্রথমজনের কথা থেকে স্পষ্ট হয় যে, "(ঈদগাহে প্রবেশ) হারাম হয়নি কারণ এটি মসজিদ নয়"; অর্থাৎ যদি মসজিদ হতো তবে হারাম হতো। আর দ্বিতীয়জনের কথা থেকে: "যেহেতু ঈদগাহ (مصلى) মসজিদ নয়, অন্যথায় ঋতুমতী নারীদের সেখানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হতো"; অর্থাৎ যদি ঈদগাহ মসজিদ হতো তবে ঋতুমতী নারীদের সেখানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হতো।

 

দ্বিতীয় হাদিস:

ইমাম বুখারী ছাড়া জামায়াত (جماعة) অর্থাৎ প্রধান হাদিস বিশারদগণের সকলে এটি বর্ণনা করেছেন:

{সায়্যিদা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: আমাকে মসজিদ থেকে জায়নামাজ—অন্য বর্ণনায় এসেছে কাপড়—দাও। আমি বললাম: আমি তো ঋতুমতী। তিনি বললেন: তোমার ঋতু তো তোমার হাতে নয়।—অন্য বর্ণনায় রয়েছে: এরপর আমি তাকে তা দিলাম।} এই সব কটি শব্দই মুসলিম-এ রয়েছে। (১)

 

হাদিসের ফিকহ থেকে:

--------------------------------------------

(১) আহমদ ২/৭০, ৬/৪৫, ১০১, ১০৬, ১০, ১২, ১১৪, ১৭৩, ১৭৯, ২১৪, ২২৯, ২৪৫; মুসলিম ১/৪৫; আবু দাউদ ১/৬০; তিরমিজি ১/১৩৪ এবং তিনি একে হাসান সহিহ (حسن صحيح) বলেছেন; নাসায়ি ১/১২০, ১৫৮; ইবনে মাজাহ ১/২০৭; দারেমি ১/১৯৭, ২৪৭।
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
- قال الترمذي بعد روايته للحديث في سننه: " حديث عائشة حديث حسن صحيح، وهو قول عامّة أهل العلم لا نعلم بينهم اختلافاً في ذلك: بأنّ لا بأس أن تتناول الحائض شيئاً من المسجد ".

وهذا يوضح أن الحديث عنده يَخُص تناول الحائض شيئاً من المسجد بدون مكث فيه.

- وقال الشوكاني (نيل الأوطار 1/227) : " استدلوا به على جواز دخول الحائض المسجد للحاجة تعرض لها إذا لم يكن على جسدها نجاسة ".

(فانظر رحمك الله كيف قال جواز الدخول ولم يقل جواز المكث كما بينّا في المقدمة) .

 

- وقال أيضاً: "وعليه المشهور من مذاهب العلماء أنّها لا تدخل لا مقيمة ولا عابرة لقوله صلى الله عليه وسلم: [لا أحل المسجد لحائض ولا جنب] ،قالوا: ولأن حدثها أغلظ من حدث الجنابة ".

وقال أيضاً: " وقد ذهب إلى جواز دخول الحائض المسجد وأنّها لا تمنع إلا مخافة ما يكون منها: زيد بن ثابت، وحكاه الخطّابي عن: مالك والشافعي وأحمد وأهل الظاهر ". - فانظر رحمك الله كيف قال جواز الدخول ولم يقل جواز المكث -.

وقال أيضاً: " ومنع من دخولها: سفيان وأصحاب الرأي، وهو المشهور من مذهب مالك ".

 

الحديث الثالث:

حديث اختلف أهل العلم في تصحيحه وتضعيفه. رواه أبو داود ح 232، والبيهقي 2 /442 -443 ح 4323،4324 (1) .

قال أبو داود حدثنا مُسدد قال حدثنا عبد الواحد بن زياد قال حدثنا أَفْلَتْ بن خَليفة قال حدثتني جَسْرة بنت دِجاجة قالت سمعت عائشة تقول:

--------------------------------------------

(1) وقد ورد في ذلك أيضاً حديث أم سلمة مرفوعاً رواه ابن ماجه والطبراني، لكن في إسناده أبو الخطّاب الهجري وهو ضعيف، وقال أبو زرعة حديث عائشة أصح من حديث أم سلمة. ولذا أعرضت عن ذكره.وانظر نصب الراية للزيلعي 1/194، 195.
- ইমাম তিরমিজি তাঁর সুনান গ্রন্থে হাদিসটি বর্ণনা করার পর বলেন: "আয়েশার হাদিসটি একটি হাসান সহিহ (حسن صحيح) হাদিস, আর এটিই অধিকাংশ বিজ্ঞ আলেমদের অভিমত। এ বিষয়ে তাঁদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য আছে বলে আমাদের জানা নেই যে: ঋতুবতী নারীর মসজিদ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করায় কোনো দোষ নেই।"

এটি স্পষ্ট করে যে, তাঁর নিকট হাদিসটি কেবল ঋতুবতী নারীর মসজিদে অবস্থান (مكث) না করে কোনো কিছু গ্রহণের সাথে সংশ্লিষ্ট।

- এবং শাওকানি (নাইলুল আওতার ১/২২৭) বলেন: "তাঁরা এটি দিয়ে ঋতুবতী নারীর প্রয়োজনে মসজিদে প্রবেশের বৈধতা (جواز) সম্পর্কে দলিল পেশ করেছেন, যদি তাঁর শরীরে কোনো অপবিত্রতা না থাকে।"

(আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন, লক্ষ্য করুন তিনি প্রবেশের বৈধতা (جواز) বলেছেন কিন্তু অবস্থানের বৈধতা (جواز المكث) বলেননি, যেমনটি আমরা ভূমিকায় স্পষ্ট করেছি)।

 

- তিনি আরও বলেন: "উলামাদের মাযহাবগুলোর মধ্যে এটিই প্রসিদ্ধ যে, তিনি (ঋতুবতী নারী) সেখানে অবস্থানকারী বা অতিক্রমকারী হিসেবেও প্রবেশ করতে পারবেন না। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: [আমি ঋতুবতী ও অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির জন্য মসজিদ হালাল করি না]। তাঁরা বলেন: কারণ তাঁর অপবিত্রতা জানাবাত বা যৌন অপবিত্রতার (جنابة) চেয়েও অধিক গুরুতর।"

তিনি আরও বলেন: "আর জায়েদ ইবনে সাবিত ঋতুবতী নারীর মসজিদে প্রবেশের বৈধতার (جواز) পক্ষে মত দিয়েছেন এবং কেবল রক্তপাতের আশঙ্কার কারণেই তাকে নিষেধ করা হবে। খাত্তাবি এটি ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ এবং আহলে জাহের থেকে বর্ণনা করেছেন।" - আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন, লক্ষ্য করুন তিনি প্রবেশের বৈধতা (جواز الدخول) বলেছেন কিন্তু অবস্থানের বৈধতা (جواز المكث) বলেননি -।

তিনি আরও বলেন: "সুফিয়ান এবং আসহাবুর রায় তার প্রবেশ নিষেধ করেছেন এবং এটিই ইমাম মালিকের মাযহাবের প্রসিদ্ধ অভিমত।"

 

তৃতীয় হাদিস:

এমন একটি হাদিস যার বিশুদ্ধতা (تصحيح) এবং দুর্বলতা (تضعيف) নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এটি আবু দাউদ (হাদিস নং ২৩২) এবং বায়হাকি (২/৪৪২-৪৪৩, হাদিস নং ৪৩২৩, ৪৩২৪) (১) বর্ণনা করেছেন।

আবু দাউদ বলেন, আমাদের কাছে মুসাদ্দাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে জিয়াদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আফলাত ইবনে খলিফা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার কাছে জাসরা বিনতে দিজাজাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি আয়েশাকে বলতে শুনেছি:

--------------------------------------------

(১) এ বিষয়ে উম্মে সালামাহ থেকে একটি মারফু (مرفوع) হাদিসও বর্ণিত হয়েছে যা ইবনে মাজাহ ও তাবারানি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু এর সনদ বা সূত্রে (إسناد) আবুল খাত্তাব আল-হাজরি রয়েছেন এবং তিনি একজন দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী। আবু যুরআ বলেন, আয়েশার হাদিসটি উম্মে সালামাহর হাদিসের তুলনায় অধিক বিশুদ্ধ (أصح)। এই কারণে আমি এটি উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি। দেখুন যাইলঈর নাসবুর রায়াহ ১/১৯৪, ১৯৫।
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
{جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم ووجوه بيوت أصحابه شارعة في المسجد فقال: وجهوا هذه البيوت عن المسجد. ثمّ دخل النبي صلى الله عليه وسلم ولم يصنع القوم شيئاً رجاء أن ينزل فيهم رخصة. فخرج إليهم بعد فقال وجهوا هذه البيوت عن المسجد، فإنّى لا أحل المسجد لحائض ولا جنب}

 

- وقد بوّب البيهقي لهذا بقوله: " باب الجنب يمرّ في المسجد مارّاً ولا يقيم فيه ". وقال بعد روايته للحديث: وهذا إن صحّ فمحمول في الجنب على المكث فيه دون العبور بدليل الكتاب. (1)

 

وهذا الحديث هو أوضح حديث في هذا الباب، ولكن ضعّفه بعض أهل العلم بسبب ضعف راويين من رواته وهما: أفلت بن خليفة، وجسرة بنت دِجاجة، لكن رد هذا التضعيف آخرون، وبيان ذلك:-

 

أولاً: أفلت بن خليفة العامري: (2)

قال ابن حزم: أفلت مجهول الحال، وقال الخطابي: قد ضعفوا هذا الحديث وقالوا أفلت راويه مجهول لا يصح الاحتجاج بحديثه.

وقد ردّ ذلك جماعة من الحُفّاظ منهم الحافظ المنذري في تهذيب السنن، حيث علّق على كلام الخطابي قائلاً:" وفيما قاله نظر، فإنه أفلت بن خليفة العامري ويقال الذهلي وكنيته أبو حسان حديثه في الكوفيين، وروى عنه سفيان بن سعيد الثوري وعبد الواحد بن زياد، وقال الإمام أحمد: ما أرى به بأساً، وسأل عنه أبو حاتم الرازي فقال شيخ، وحكى البخاري أنّه سمع من جسرة بنت دجاجة. ". انتهى كلام المنذري.

- وقال الدارقطني: صالح وروى عنه الثقات.

- ووثقه ابن حبّان.

- وقال في الكشاف: صدوق.

--------------------------------------------

(1) يقصد الآية 43 من سورة النساء، وقد تقدمت.

(2) تجد ترجمته في: تهذيب الكمال 1/120، الكاشف 1/137، الجرح والتعديل 2/346، الثقات 86/88،ميزان الاعتدال - أثناء ترجمة جسرة بنت دجاجة -،تهذيب التهذيب برقم 587، تقريب التهذيب.
{রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসলেন এবং দেখলেন তাঁর সাহাবীদের ঘরের দরজাগুলো মসজিদের দিকে উম্মুক্ত। তখন তিনি বললেন: "এই ঘরগুলোর অভিমুখ মসজিদ থেকে অন্যদিকে ফিরিয়ে দাও।" এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভেতরে প্রবেশ করলেন এবং সাহাবীগণ এই আশায় কিছুই করলেন না যে হয়তো তাদের জন্য কোনো শিথিলতা অবতীর্ণ হবে। এরপর তিনি পুনরায় তাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেন, "এই ঘরগুলোর অভিমুখ মসজিদ থেকে অন্যদিকে ফিরিয়ে দাও, কারণ আমি ঋতুবতী এবং অপবিত্র ব্যক্তির জন্য মসজিদকে বৈধ করি না।"}

 

- ইমাম বায়হাকী এই বিষয়ে এই বলে অধ্যায় বিন্যাস করেছেন: "অধ্যায়: অপবিত্র ব্যক্তি মসজিদের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করা প্রসঙ্গে, সেখানে অবস্থান না করে।" এবং তিনি হাদিসটি বর্ণনা করার পর বলেন: "এটি যদি সহিহ (صحّ) হয়, তবে তা অপবিত্র ব্যক্তির জন্য সেখানে অবস্থানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, কেবল অতিক্রম করার ক্ষেত্রে নয়; যার দলিল হলো আল্লাহর কিতাব।" (১)

 

এই হাদিসটি এই অধ্যায়ের সবচেয়ে স্পষ্ট হাদিস, কিন্তু একদল আলেম এর দুজন বর্ণনাকারীর দুর্বলতার কারণে একে দুর্বল (ضعّفه) সাব্যস্ত করেছেন। তারা হলেন: আফলাত ইবনে খলিফা এবং জাসরাহ বিনতে দিজাজাহ। তবে অন্য একদল এই দুর্বল (التضعيف) সাব্যস্ত করার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:-

 

প্রথমত: আফলাত ইবনে খলিফা আল-আমেরী: (২)

ইবনে হাজম বলেন: আফলাত হলো অপরিচিত (مجهول الحال)। খাত্তাবী বলেন: তারা এই হাদিসটিকে দুর্বল (ضعفوا) বলেছেন এবং বলেছেন যে, এর বর্ণনাকারী আফলাত অপরিচিত (مجهول), তার হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা শুদ্ধ নয়।

একদল হাফিজ (الحُفّاظ) এই মতটি প্রত্যাখ্যান করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন হাফিজ মুনজিরী। তিনি তাহজিবুস সুনান গ্রন্থে খাত্তাবীর বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: "তিনি যা বলেছেন তাতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। কারণ তিনি হলেন আফলাত ইবনে খলিফা আল-আমেরী, তাকে যুহলীও বলা হয় এবং তার কুনিয়াত বা উপনাম হলো আবু হাসান। কুফাবাসীদের মধ্যে তার হাদিস প্রচলিত এবং তার থেকে সুফিয়ান ইবনে সাঈদ আস-সাওরী ও আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যিয়াদ বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ বলেন: আমি তার মধ্যে কোনো সমস্যা দেখি না (ما أرى به بأساً)। আবু হাতিম আর-রাজিকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি তাকে শাইখ (شيخ) বলেন। ইমাম বুখারী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি জাসরাহ বিনতে দিজাজাহ থেকে শুনেছেন।" মুনজিরীর বক্তব্য সমাপ্ত।

- দারাকুতনী বলেন: তিনি যোগ্য (صالح) এবং নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীগণ তার থেকে বর্ণনা করেছেন।

- ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) সাব্যস্ত করেছেন।

- আল-কাশশাফ গ্রন্থে বলা হয়েছে: তিনি সত্যবাদী (صدوق)।

--------------------------------------------

(১) এখানে উদ্দেশ্য হলো সূরা আন-নিসার ৪৩ নম্বর আয়াত, যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

(২) তার জীবনী পাওয়া যাবে: তাহজিবুল কামাল ১/১২০, আল-কাশিফ ১/১৩৭, আল-জারহ ওয়াত-তাদিল ২/৩৪৬, আস-সিকাত ৮৬/৮৮, মিযানুল ইতিদাল—জাসরাহ বিনতে দিজাজাহ-এর জীবনীর আলোচনায়—, তাহজিবুত তাহজিব ক্রমিক নং ৫৮৭, তাকরিবুত তাহজিব।
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
ثانياً: جَسْرة بنت دِجاجة: (1)

- قال الإمام البخاري في تاريخه الكبير: عندها عجائب.

- قال الحافظ في تهذيب التهذيب: " قال العجلي: ثقة تابعية، ذكرها ابن حبّان في الثقات، وقال البخاري: عندها عجائب، وقال أبو الحسن بن القطّان: هذا القول لا يكفي لمن يسقط كل ما رَوَتْ، كأنّه يُعرِّض بابن حزم لأنّه زعم أنّ حديثها باطل." أ. هـ ملخصاً

- وقال ابن حبّان في الثقات: " تروى عن عائشة، روى عنها أفلت ".

الحكم على الحديث:

(أ) من ضعّف الحديث:

قال ابن حزم: باطل

وقال أبو محمد عبد الحق: لا يثبت من جهة إسناده.

وقال الخطابي: ضعّفوا هذا الحديث.

وقال البيهقي: هذا إن صح.

وضعّفه من المُعَاصرين: الشيخ الألباني. (2)

(ب) من صحّحَّ الحديث:

- قال الشوكاني (3) : "الحديث صحيح … وقال أبو زرعة: حديث عائشة أصح من حديث أم سلمة، وضعّف ابن حزم هذا الحديث، وقال الخطابي ضعّفوا هذا الحديث … وليس ذلك بسديد …

الحديث إمّا حسن أو صحيح، وجَزْم ابن حزم بالبطلان مجازفة وكثيراً ما يقع في مثلها

--------------------------------------------

(1) ترجمتها في: تهذيب الكمال3/1680،تهذيب التهذيب8848 والكاشف3/66،خلاصة3/377،أعلام النساء1/160،لسان الميزان7/189،الميزان1/399،المشتبه510،سؤالات البرقاني رقم 69،تراجم الأخبار 1/240. وقد روى البخاري هذا الحديث في التاريخ الكبير بزيادة (إلا لمحمد وآل محمد) ،ثم قال البخاري: وجسرة عندها عجائب.ثم ذكر بعد ذلك حديث (سدوا هذه الأبواب إلا باب أبى بكر) . فكأن البخاري يقول الثابت لفظ (باب أبى بكر) وليس لفظ (لمحمد وآل محمد) ، وقد وجدت كلاماً يؤيد ذلك لأبى محمد العيني في البناية شرح الهداية 1 / 636. .

(2) في إرواء الغليل، تمام المنّة، ضعيف سنن أبى داود، ضعيف سنن ابن ماجه.ولم يزد فضيلته على كلام مَن سبقوه مِن الذين ضعّفوا الحديث.

(3) نيل الأوطار 1/229
দ্বিতীয়ত: জাসরাহ বিনতে দিজাজাহ: (১)

- ইমাম বুখারি তাঁর 'তারিখুল কাবীর' গ্রন্থে বলেছেন: তাঁর নিকট বিস্ময়কর (عجائب) বর্ণনা রয়েছে।

- হাফেজ (ইবনে হাজার) 'তহজিবুত তহজিব' গ্রন্থে বলেছেন: "আল-ইজলি বলেছেন: তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) তাবেয়ি (تابعية)। ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ইমাম বুখারি বলেছেন: তাঁর নিকট বিস্ময়কর (عجائب) বর্ণনা রয়েছে। আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান বলেছেন: এই উক্তিটি এমন ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট নয় যে তাঁর বর্ণিত সকল হাদিসকে বর্জন করতে চায়; মনে হয় তিনি ইবনে হাজমের প্রতি ইঙ্গিত করছেন, কারণ তিনি দাবি করেছেন যে তাঁর বর্ণিত হাদিস বাতিল (باطل)।" - সংক্ষেপিত।

- ইবনে হিব্বান 'আস-সিকাত' গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, আর তাঁর থেকে আফলাত বর্ণনা করেছেন।"

হাদিসের ওপর হুকুম:

(ক) যারা হাদিসটিকে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন:

ইবনে হাজম বলেছেন: বাতিল (باطل)

আবু মুহাম্মদ আবদুল হক বলেছেন: এর সনদের (إسناد) দিক থেকে এটি সাব্যস্ত নয়।

খাত্তাবি বলেছেন: তাঁরা এই হাদিসটিকে দুর্বল (ضعفوا) সাব্যস্ত করেছেন।

বাইহাকি বলেছেন: এটি যদি সহিহ (صح) হয়।

সমকালীনদের মধ্যে একে দুর্বল (ضعفه) বলেছেন: শায়খ আলবানি। (২)

(খ) যারা হাদিসটিকে সহিহ (صحح) বলেছেন:

- শাওকানি (৩) বলেছেন: "হাদিসটি সহিহ (صحيح) … আবু জুরআ বলেছেন: আয়েশা (রা.)-এর হাদিসটি উম্মে সালামাহর হাদিসের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ (أصح)। ইবনে হাজম এই হাদিসটিকে দুর্বল (ضعف) বলেছেন এবং খাত্তাবি বলেছেন যে তাঁরা একে দুর্বল (ضعفوا) বলেছেন … অথচ এটি সঠিক নয় …

হাদিসটি হয় হাসান (حسن) অথবা সহিহ (صحيح)। ইবনে হাজমের এটিকে বাতিল (باطل) বলে নিশ্চিত করা একটি দুঃসাহস এবং তিনি প্রায়ই এ ধরনের কাজ করেন।"

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী রয়েছে: তহজিবুল কামাল ৩/১৬৮০, তহজিবুত তহজিব ৮৮৪৮, আল-কাশিফ ৩/৬৬, খুলাসাহ ৩/৩৭৭, আলামুন নিসা ১/১৬০, লিসানুল মিজান ৭/১৮৯, আল-মিজান ১/৩৯৯, আল-মুশতাবিহ ৫১০, সুয়ালাতুল বারকানি নং ৬৯, তারাজিমুল আখবার ১/২৪০। ইমাম বুখারি 'তারিখুল কাবীর' গ্রন্থে হাদিসটি অতিরিক্ত (মুহাম্মদ ও তাঁর বংশধরদের জন্য ব্যতীত) শব্দসহ বর্ণনা করেছেন। এরপর বুখারি বলেছেন: জাসরার নিকট বিস্ময়কর (عجائب) বর্ণনা রয়েছে। এরপর তিনি (আবু বকরের দরজা ব্যতীত সকল দরজা বন্ধ করে দাও) হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। যেন বুখারি বলতে চাইছেন যে, সাব্যস্ত শব্দ হলো (আবু বকরের দরজা) এবং (মুহাম্মদ ও তাঁর বংশধরদের জন্য) শব্দটি নয়। আমি এর সমর্থনে আবু মুহাম্মদ আল-আইনির 'আল-বিনায়াহ শারহুল হিদায়াহ' ১/৬৩৬ গ্রন্থে একটি বক্তব্য পেয়েছি।

(২) ইরওয়াল গালিল, তামামুল মিন্নাহ, যয়িফ সুনানে আবু দাউদ, যয়িফ সুনানে ইবনে মাজাহ গ্রন্থে। তিনি তাঁর পূর্ববর্তী যারা হাদিসটিকে দুর্বল (ضعفوا) বলেছিলেন তাদের বক্তব্যের চেয়ে অতিরিক্ত কিছু বলেননি।

(৩) নাইলুল আওতার ১/২২৯।
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال ابن سيد الناس: ولعمري إنّ التحسين لأقل مراتبه لثقة رواته، ووجود شواهد له من خارج فلا حجة لأبى محمد بن حزم في رده، ولا حاجة بنا إلى تصحيح ما رواه في ذلك لأن هذا الحديث كاف في الرد ".

- وقال: " قال الحافظ: وأمّا قول ابن الرفعة في أواخر شروط الصلاة: إنّ أفلت متروك. فمردود؛ لأنّه لم يقله أحد من أئمة الحديث ". أ. هـ (1)

- وقال الحافظ الزيلعي (2) : " هو حديث حسن ".

- وقال أيضاً: " قال ابن القطّان: قال أبو محمد عبد الحقّ في حديث جسرة هذا، أنه لم يثبت من جهة إسناده ولم يبين ضعفه، ولست أقول إنّه حديث صحيح وإنّما أقول إنّه حسن ".

- وهذا الحديث رواه أبو داود وسكت عليه ولم يضعّفه، فهو حسن على الأقل عنده.

- كما صححه أيضاً إمام الائمة ابن خزيمة، حيث رواه في المجلد الثاني من صحيحه.

- وقال الإمام الزركشي (3) : قد صح الحديث المتقدم، وحسّنه ابن القطّان وغيره.

وقد أورد الحافظ ابن حجر هذا الحديث في تهذيب التهذيب، وكذا في تلخيص الحبير، ثمّ نقل كلام من ضعّفه، ثمّ أعقبه برد ابن القطّان وابن حبّان، فكأنّه يميل إلى رأيهما فيصححه أو يحسّنه على الأقل.

- قلت: ولعلّ حجّة من ضعّف الحديث قول الحافظ ابن حجر في تقريب التهذيب في جسرة: مقبولة. وهذا يعنى عند الحافظ إذا توبعت وإلا فلينة، وهى لم تُتابع فيكون الحديث ضعيفاً.

ولكننا نلاحظ أنّ الحافظ قد نقل أيضاً القول بأنّها ثقة عن العجلي وابن حبّان. بلّ إنّه أعقب كلام الإمام البخاري بقول ابن القطّان في الدفاع عن جسرة، وقال الحافظ أنّ ابن القطّان هنا يُعرّض بابن حزم.

--------------------------------------------

(1) بتصرف يسير تحرزاً عن تكرار ما سبق من كلام المنذري والحافظ في التهذيب.

(2) نصب الراية في تخريج أحاديث الهداية 1/194

(3) إعلام الساجد في أحكام المساجد ص223 ط. دار الكتب العلمية.
ইবনে সাইয়্যেদুন নাস বলেন: "আমার জীবনের শপথ, এর বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতার (ثقة) কারণে এবং এর বাহ্যিক সাক্ষ্য-প্রমাণ (شواهد) বিদ্যমান থাকার কারণে একে হাসান (تحسين) সাব্যস্ত করা এর সর্বনিম্ন স্তর। সুতরাং আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজমের জন্য এটি প্রত্যাখ্যান করার কোনো দলিল নেই, এবং তিনি এ বিষয়ে যা বর্ণনা করেছেন তা সহিহ (تصحيح) করারও আমাদের প্রয়োজন নেই, কারণ এই হাদিসটিই খণ্ডন করার জন্য যথেষ্ট।"

- তিনি বলেন: "হাফিজ বলেছেন: নামাজের শর্তাবলির পরিচ্ছেদের শেষে ইবনুর রিফ'আহ যে উক্তি করেছেন যে—আফলাত বর্জনীয় (متروك)—তা প্রত্যাখ্যাত (مردود); কারণ হাদিসের ইমামগণের মধ্যে কেউই এটি বলেননি।" সমাপ্ত। (১)

- হাফিজ যায়লায়ি (২) বলেছেন: "এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস।"

- তিনি আরও বলেন: "ইবনুল কাত্তান বলেছেন: আবু মুহাম্মদ আব্দুল হক জাসরার এই হাদিসটি সম্পর্কে বলেছেন যে, এর সনদ (إسناد) বা সূত্রের দিক থেকে এটি সাব্যস্ত হয়নি, তবে তিনি এর দুর্বলতা (ضعف) স্পষ্ট করেননি। আমি বলছি না যে এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস, বরং আমি বলছি এটি হাসান (حسن)।"

- এই হাদিসটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং এ বিষয়ে মৌনতা অবলম্বন করেছেন ও একে দুর্বল (ضعّفه) বলেননি। সুতরাং এটি তার নিকট অন্তত হাসান (حسن)।

- যেমনভাবে ইমামগণের ইমাম ইবনে খুজাইমাও একে সহিহ (صححه) সাব্যস্ত করেছেন, যেহেতু তিনি এটি তার সহিহ গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডে বর্ণনা করেছেন।

- ইমাম যারকাশি (৩) বলেছেন: পূর্বোক্ত হাদিসটি সহিহ (صح) সাব্যস্ত হয়েছে এবং ইবনুল কাত্তান ও অন্যান্যরা একে হাসান (حسّنه) বলেছেন।

হাফিজ ইবনে হাজার এই হাদিসটি তাহজিবুত তাহজিব এবং তালখিসুল হাবির গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি যারা একে দুর্বল (ضعّفه) বলেছেন তাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন এবং এরপর ইবনুল কাত্তান ও ইবনে হিব্বানের খণ্ডন উল্লেখ করেছেন। এতে মনে হয় যে, তিনি তাদের মতের দিকেই ঝুঁকেছেন এবং একে সহিহ (صححه) মনে করছেন অথবা অন্তত হাসান (يحسّنه) গণ্য করছেন।

- আমি বলি: সম্ভবত যারা হাদিসটিকে দুর্বল (ضعّف) বলেছেন তাদের দলিল হলো তাকরিবুত তাহজিব গ্রন্থে জাসরা সম্পর্কে হাফিজ ইবনে হাজারের উক্তি: 'গ্রহণযোগ্য' (مقبولة)। আর হাফিজের নিকট এর অর্থ হলো যখন অন্য কেউ তাকে সমর্থন (توبعت) করে, অন্যথায় সে শিথিল (لينة)। কিন্তু এখানে তাকে কেউ সমর্থন (تُتابع) করেনি, তাই হাদিসটি দুর্বল (ضعيفاً) সাব্যস্ত হবে।

কিন্তু আমরা লক্ষ করি যে, হাফিজ আল-ইজলি ও ইবনে হিব্বান থেকে তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলার মতটিও বর্ণনা করেছেন। এমনকি তিনি ইমাম বুখারির বক্তব্যের পর জাসরার সমর্থনে ইবনুল কাত্তানের বক্তব্য উল্লেখ করেছেন এবং হাফিজ বলেছেন যে, ইবনুল কাত্তান এখানে ইবনে হাজমকে লক্ষ্য করে কথা বলেছেন।

--------------------------------------------

(১) আল-মুনজিরি ও হাফিজ ইবনে হাজারের ‘আত-তাহজিব’ গ্রন্থে যা পূর্বে গত হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সামান্য পরিমার্জিত।

(২) নাসবুর রায়া ফি তাখরিজ আহাদিসিল হিদায়া ১/১৯৪

(৩) ইলামুস সাজিদ ফি আহকামিল মাসাজিদ, পৃষ্ঠা ২২৩, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ২০)
ولعل ذلك لأن الجرح فيها غير مُفسر فلم يقبله ابن القطان إلا إذا تبين السبب، وذلك كما قال الإمام الذهبي (1) : قول أبى بكر بن الجعابى (عنده عجائب) عبارة محتملة للتليين فلا تُقبَل إلا مُفسّرة. وانظر تهذيب التهذيب وتلخيص الحبير.

هذا مع ملاحظة أن ابن القطّان ليس من المتساهلين في التعديل، بلّ إن الإمام الذهبي قال عنه (2) :انّه تعنت في أماكن من كتابه بيان الوهم والإيهام، وقال الحافظ ابن حجر (3) : ابن القطّان يتبع ابن حزم في إطلاق التجهيل على من لا يطّلعون على حاله.

أمّا مجرد تضعيف الحديث لمجرد أن الحافظ قال في التقريب أن جسرة (مقبولة) فهذا مردود بتوثيق الأئمة لها كما سبق.وقد قال الشيخ الألباني (4) : أبو الجعفاء … وثقه ابن معين والدارقطنى وروى عنه جماعة من الثقات فلا يلتفت بعد هذا إلى قول الحافظ فيه (مقبول) يعنى لين الحديث عند التفرد، فكيف هذا مع توثيق الإمامين المذكورين إيّاه؟!

وقال الشيخ مقبل بن هادى الوادعي (5) : إن الحافظ ربما يحكم على رجل بأنّه (مقبول) أي لا يحتج بحديثه إلا في الشواهد والمتابعات، ويكون قد وثقه معتبر.

 

** وبذلك يكون من صحّحّ الحديث أو حسّنه:

ابن خزيمة، وأبو داود، والمنذري، وابن القطّان، وابن سيد الناس، والزيلعي، والشوكاني. بالإضافة إلى الموقف المذكور للحافظ ابن حجر.

 

وأرى، والله أعلم: أن الحديث حسن، وأقول كما قال ابن القطان " ولست أقول إنّه حديث صحيح وإنّما أقول إنّه حسن ". مع ملاحظة أن صحة هذا الحديث أو ضعفه ليس هو الفيصل في الحكم على المسألة لوجود أدلة أخرى سبق بيانها.

 

ومن أدلة المجوزين:

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النُبلاء 10 / 634

(2) سير أعلام النُبلاء 22 / 307

(3) لسان الميزان 1 / 235 ط. دار الفكر

(4) إرواء الغليل 6 / 347

(5) إتحاف النبيل - المقدمة ص 5 ط. مكتبة ابن تيمية
সম্ভবত এর কারণ হলো, এতে নেতিবাচক সমালোচনা (جرح) অনির্ধারিত (غير مفسر), তাই ইবনুল কাত্তান এটি গ্রহণ করেননি যতক্ষণ না এর কারণ স্পষ্ট হয়। যেমনটি ইমাম দাহাবি (১) বলেছেন: আবু বকর ইবনুল জা'আবি এর বক্তব্য "তার নিকট আজায়িব (বিস্ময়কর বর্ণনা) রয়েছে" এমন একটি শব্দ যা বর্ণনাকারীর শিথিলতার (تليين) সম্ভাবনা রাখে, তাই এটি সবিস্তার ব্যাখ্যা (مفسرة) ছাড়া গ্রহণ করা হবে না। দেখুন তাহজিবুত তাহজিব ও তালখিসুল হাবির।

এ কথা লক্ষ্য রাখার সাথে সাথে যে, ইবনুল কাত্তান নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণের (تعديل) ক্ষেত্রে শিথিলতাকারীদের (متساهلين) অন্তর্ভুক্ত নন, বরং ইমাম দাহাবি তার সম্পর্কে বলেছেন (২): তিনি তার 'বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহাম' কিতাবের বেশ কিছু স্থানে কঠোরতা (تعنت) করেছেন। আর হাফিজ ইবনু হাজার বলেছেন (৩): ইবনুল কাত্তান ঐসব ব্যক্তিদের অজ্ঞাত সাব্যস্ত করার (تجهيل) ক্ষেত্রে ইবনে হাজমকে অনুসরণ করেন যাদের অবস্থা সম্পর্কে তারা অবহিত নন।

আর কেবল হাফিজ ইবনু হাজার 'তাকরিব' গ্রন্থে জাসরাহ-কে গ্রহণযোগ্য (مقبولة) বলার কারণে হাদিসটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করা (تضعيف) প্রত্যাখ্যাত; কারণ ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে ইমামগণ তাকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করেছেন (توثيق)। শেখ আলবানি (৪) বলেছেন: আবু আল-জা'ফা … ইবনে মাঈন ও দারাকুতনি তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন (وثقه) এবং একদল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী (ثقات) তার থেকে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এরপর হাফিজ ইবনু হাজার তাকে গ্রহণযোগ্য (مقبول) বলেছেন—অর্থাৎ একক বর্ণনার ক্ষেত্রে (تفرد) তার হাদিস বর্ণনায় শিথিল (لين الحديث)—এ কথার দিকে কর্ণপাত করা যাবে না। যেখানে উল্লিখিত দুই ইমাম তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন (توثيق), সেখানে এটি কীভাবে সম্ভব?!

শেখ মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদিয়ি (৫) বলেছেন: হাফিজ ইবনু হাজার হয়তো কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে গ্রহণযোগ্য (مقبول) হওয়ার হুকুম দেন, যার অর্থ হলো তার হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় (لا يحتج) কেবল শওয়াহিদ (شواهد) ও মুতাবাআত (متابعات) ব্যতীত, অথচ কোনো নির্ভরযোগ্য ইমাম তাকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত (وثقه) করেছেন।

 

** এর মাধ্যমে যারা হাদিসটিকে সহিহ সাব্যস্ত করেছেন (صحح) অথবা হাসান সাব্যস্ত করেছেন (حسنه), তারা হলেন:

ইবনে খুজাইমা, আবু দাউদ, আল-মুনজিরি, ইবনুল কাত্তান, ইবনে সাইয়্যিদুন নাস, আয-যাইলায়ি এবং আশ-শাওকানি। সাথে হাফিজ ইবনু হাজরের উল্লিখিত অবস্থানও রয়েছে।

 

আমি মনে করি, আল্লাহ ভালো জানেন: হাদিসটি হাসান (حسن)। আমি ইবনুল কাত্তানের মতোই বলব, "আমি বলছি না যে এটি সহিহ (صحيহ) হাদিস, বরং আমি বলছি এটি হাসান (حسن)"। তবে লক্ষ্যণীয় যে, এই হাদিসটির বিশুদ্ধতা (صحة) বা দুর্বলতা (ضعف) এই মাসআলায় চূড়ান্ত ফয়সালা নয়, কারণ ইতিপূর্বে বর্ণিত অন্যান্য দলিলও বিদ্যমান রয়েছে।

 

অনুমতি প্রদানকারীদের দলিলসমূহ:

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ১০ / ৬৩৪

(২) সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ২২ / ৩০৭

(৩) লিসানুল মিজান ১ / ২৩৫ ত. দারুল ফিকর

(৪) ইরওয়াউল গালীল ৬ / ৩৪৭

(৫) ইতহাফুন নাবিল - ভূমিকা পৃষ্ঠা ৫ ত. মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌(ب) قول رسول الله صلى الله عليه وسلم: " المؤمن لا يَنْجُسُ ". (1)

 

الجواب عن ذلك:

قد تلصق أعيان النجاسة بالمؤمن فيكون حاملاً لها ولكنّه هو لا ينجس، ألا ترى أن الرجل يكون على جسده دماً مسفوحاً أو بولاً فنقول له لا تصلى هكذا حتى تزيل هذه النجاسة. فهل يعنى ذلك أنّه نجس؟ الجواب: لا، وإنّما هو يحملها فقط. وكذلك الحائض فإن حيضتها نجاسة تحملها معها، أمّا هي ذاتها فليست نجسة، ونقول لها لا تصلى ولا تصومي ولا تمكثي في المساجد و....و.....، ليس لأنّها نجسة، ولكن لأنّها تحمل النجاسة.

قال السندي (2) : ونجاسة بعض الأعيان اللاّصقة بأعضائه أحياناً لا توجب نجاسة الأعضاء، نعم تلك الأعيان يجب الاحتراز عنها فإذا لم تكن فما بقى إلا أعضاء المؤمن فلا وجه للاحتراز عنها.

فكأنّه قال: لو كانت هناك نجاسة لكانت تلك النجاسة في أعضاء المؤمن إذ ليس هناك عين نجاسة لاصقة به، والمؤمن لا ينجس بهذه الصفة فلا نجاسة.

وقال العظيم آبادي (3) : معنى قوله: " لا ينجس " أي بالحدث سواء كان أصغر أو أكبر، ويدل عليه المقام، إذ المقام مقام الحدث، فلا يرد بأنه يتنجس بالنجاسة. وقد يقال: إن المراد نفسه لا يصير نجساً، لأنّه إن صحبه شيء من النجاسة فنجاسته بسبب صحبته بذلك، لا أن ذاته صار نجساً، فإذا زال ما كان معه من النجاسة فالمؤمن على حاله من الطهارة، فصدق أن المؤمن لا يتنجس أصلاً.

 

ومن أدلتهم: ‌‌(ج) : كان أهل الصُفّة يبيتون في المسجد بحضرة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهم جماعة كثيرة، ولا شك أن فيهم من يحتلم، فما نُهوا قط عن ذلك.

 

الجواب:

--------------------------------------------

(1) خ 283، م 4 / 66، ن 1 / 145 عن أبى هريرة مرفوعاً، حم 5 / 384، م 4 / 67، د 230، ن 1 / 145، هـ 535 عن حذيفة مرفوعاً أيضاً.

(2) في حاشيته على سنن النسائي 1 / 145

(3) عون المعبود 1 / 387
(খ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "মুমিন অপবিত্র (ينجس) হয় না।" (১)

 

এর উত্তর:

কখনো কখনো মুমিনের শরীরে নাপাক বস্তু লেগে থাকতে পারে, ফলে সে তা বহনকারী হয়, কিন্তু সে নিজে অপবিত্র (ينجس) হয় না। আপনি কি দেখেন না যে, কোনো ব্যক্তির শরীরে প্রবহমান রক্ত বা প্রস্রাব লেগে থাকলে আমরা তাকে বলি, এই অপবিত্রতা (نجاسة) দূর না করা পর্যন্ত এভাবে নামাজ পড়বেন না। এর অর্থ কি এই যে সে অপবিত্র (نجس)? উত্তর হলো: না, বরং সে কেবল তা বহন করছে। তেমনিভাবে ঋতুবতী নারী, তার ঋতুস্রাব একটি অপবিত্রতা (نجاسة) যা সে বহন করে; কিন্তু সে সত্তাগতভাবে অপবিত্র (نجسة) নয়। আমরা তাকে নামাজ না পড়তে, রোজা না রাখতে এবং মসজিদে অবস্থান না করতে বলি... ইত্যাদি। এটি সে অপবিত্র (نجسة) বলে নয়, বরং সে নাপাকি বা অপবিত্রতা (نجاسة) বহন করছে বলে।

ইমাম সিন্দি (২) বলেন: "কখনো কখনো শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে লেগে থাকা কিছু অপবিত্র (الأعيان) বস্তু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অপবিত্রতা (نجاسة) আবশ্যক করে না। হ্যাঁ, ঐসব বস্তু থেকে বেঁচে থাকা ওয়াজিব (واجب); তবে সেগুলো যখন না থাকে, তখন মুমিনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না, তাই তা থেকে বেঁচে থাকার কোনো কারণ নেই।"

যেন তিনি বলছেন: যদি সেখানে কোনো অপবিত্রতা (نجاسة) থাকতো, তবে সেই অপবিত্রতা (نجاسة) মুমিনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে থাকতো, যেহেতু তার সাথে লেগে থাকা কোনো বাহ্যিক অপবিত্র (عين نجاسة) বস্তু নেই। আর মুমিন এই অবস্থায় অপবিত্র (ينجس) হয় না, সুতরাং কোনো অপবিত্রতা (نجاسة) নেই।

আল্লামা আজিমাবাদী (৩) বলেন: "তাঁর বাণী 'অপবিত্র (لا ينجس) হয় না' এর অর্থ হলো—হাদাস (حدث) বা অপবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে, চাই তা ছোট হাদাস হোক বা বড় হাদাস (أكبر)। প্রসঙ্গের দাবি এটাই, কেননা এটি হাদাস (الحدث) সংক্রান্ত আলোচনা। সুতরাং অপবিত্র বস্তু লেগে অপবিত্র (يتنجس) হওয়ার বিষয়টি এখানে আসবে না।" আরও বলা হয়ে থাকে যে: এর উদ্দেশ্য হলো সে নিজে অপবিত্র (نجساً) হয় না। কারণ তার সাথে যদি কোনো অপবিত্রতা (النجاسة) থাকে, তবে তার অপবিত্রতা হলো সেই সংশ্লিষ্টতার কারণে, তার সত্তা অপবিত্র (نجساً) হয়ে যাওয়ার কারণে নয়। সুতরাং যখন তার সাথে থাকা অপবিত্রতা (النجاسة) দূর হয়ে যায়, তখন মুমিন তার পবিত্রতার (الطهارة) ওপরই বহাল থাকে। ফলে এটি সত্য প্রমাণিত হয় যে, মুমিন আদতেই অপবিত্র (يتنجس) হয় না।

 

তাদের অন্যতম দলিল: (গ): আহলে সুফফাগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপস্থিতিতে মসজিদে রাত যাপন করতেন, তারা ছিলেন এক বিশাল জামাত। নিঃসন্দেহে তাদের মধ্যে কারো কারো স্বপ্নদোষ হতো, অথচ তাদের কখনো তা থেকে নিষেধ করা হয়নি।

 

এর উত্তর:

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি ২৮৩, সহিহ মুসলিম ৪/৬৬, সুনানে নাসাঈ ১/১৪৫; আবু হুরাইরাহ থেকে মারফু (مرفوعاً) হিসেবে বর্ণিত। মুসনাদে আহমাদ ৫/৩৮৪, সহিহ মুসলিম ৪/৬৭, সুনানে আবু দাউদ ২৩০, সুনানে নাসাঈ ১/১৪৫, সুনানে ইবনে মাজাহ ৫৩৫; হুজাইফাহ থেকেও মারফু (مرفوعاً) হিসেবে বর্ণিত।

(২) সুনানে নাসাঈ-এর ওপর তাঁর হাশিয়া (حاشيته) ১/১৪৫।

(৩) আউনুল মাবুদ ১/৩৮৭।
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ২২)
1 - أهل الصُّفَّة كانوا من أكثر المسلمين فقراً ولم يكن لهم بيوت فكانوا يأوون إلى موضع مُظلّ في مسجد المدينة يسكنونه (1) ، فكأنهم مضطرين، والقول فيهم كالقول في المعتكف، ألا ترى أن المعتكف إذا اعتكف فإنّه يبادر إلى الاغتسال، فكذلك هم، وكانوا قطعاً يغتسلون عقب احتلامهم.

2 - أنّ الجنب قد يجوز له المكث في المسجد إذا توضأ - عند الحنابلة - للأثر الوارد في سنن سعيد بن منصور، أمّا الحائض فليس لها ذلك كما مرّ في المقدمة، مع ملاحظة الفارق بين الحائض والجنب كما سبق أيضاً.

 

ومن أدلتهم قالوا: ‌‌(د) : إن النبي صلى الله عليه وسلم لم ينه السيدة عائشة رضي الله عنها في الحجّ إلا من الطواف بالبيت فقط. (متفق عليه)

 

الجواب عن ذلك:

- بوّب البخاري في صحيحه لهذا الحديث فقال: (باب تقضى الحائض المناسك كلها إلا الطواف)

فانظر- رحمك الله - كيف قال:المناسك، فإنّ هذا الحديث خاص بالمناسك فقط.

- قال الحافظ في الفتح 1/ 478: غير ألاّ تطوفي بالبيت هذا الاستثناء مختص بأحوال الحجّ، لا بجميع أحوال المرأة.

- وقال أيضاً 3 /590: قوله " ويعتزل الحيض المصلى " فإنّه يناسب قوله صلى الله عليه وسلم (ان الحائض لا تطوف بالبيت) لأنّها إذا أُمرت باعتزال المصلى، كان اعتزالها للمسجد بل للمسجد الحرام بل للكعبة من باب أولى.

--------------------------------------------

(1) انظر لسان العرب لابن منظور.
১ - আহলে সুফফা ছিলেন মুসলমানদের মধ্যে সর্বাধিক দরিদ্র এবং তাদের কোনো ঘরবাড়ি ছিল না। তারা মদিনার মসজিদের একটি ছায়াযুক্ত স্থানে আশ্রয় নিতেন এবং সেখানেই বসবাস করতেন (১)। তারা যেন ছিলেন অনন্যোপায় (مضطرين), আর তাদের ব্যাপারে হুকুম ইতিকাফকারীর (معتكف) হুকুমের মতোই। আপনি কি দেখেন না যে, ইতিকাফকারী (معتكف) যখন ইতিকাফ করে (اعتكف), তখন সে গোসলের দিকে ধাবিত হয়? তাদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তেমনি ছিল। আর তারা স্বপ্নদোষের (احتلام) পর নিশ্চিতভাবেই গোসল করতেন।

২ - হাম্বলি মাজহাব অনুযায়ী, জুনুব (جنب) বা অপবিত্র ব্যক্তির জন্য মসজিদে অবস্থান করা বৈধ হতে পারে যদি সে অজু করে নেয়—সুনান সাঈদ বিন মানসুর-এ বর্ণিত আছারের (أثر) ভিত্তিতে। তবে ঋতুবতী (حائض) নারীর জন্য এটি অনুমোদিত নয়, যেমনটি ভূমিকায় অতিবাহিত হয়েছে। সাথে ঋতুবতী (حائض) ও জুনুব (جنب) ব্যক্তির মধ্যকার পার্থক্যের দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে যা পূর্বে আলোচিত হয়েছে।

 

তাদের দলিলের মধ্যে তারা বলেন: ‌‌(দ) : নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ পালনকালে সায়্যিদাহ আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে কেবল কাবা ঘরের তওয়াফ (طواف) ব্যতীত অন্য কিছু থেকে নিষেধ করেননি। (মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه))

 

এর উত্তর হলো:

- ইমাম বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে এই হাদিসের জন্য অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন এভাবে: (পরিচ্ছেদ: ঋতুবতী (حائض) নারী তওয়াফ ব্যতীত হজের সমস্ত কাজ (مناسك) সম্পন্ন করবে)

অতএব লক্ষ্য করুন—আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন—তিনি কীভাবে 'মানাসিক' বা হজের কার্যাবলি বলেছেন; কেননা এই হাদিসটি কেবল হজের কার্যাবলির (مناسك) সাথেই খাস (خاص) বা সুনির্দিষ্ট।

- হাফেজ (ইবনে হাজার) ফাতহুল বারিতে (১/৪৭৮) বলেন: "তবে তুমি কাবা ঘরের তওয়াফ করবে না"—এই ব্যতিক্রমটি কেবল হজের অবস্থার সাথে খাস (مختص), নারীর সকল অবস্থার জন্য নয়।

- তিনি আরও বলেন (৩/৫৯০): তাঁর বাণী "ঋতুবতী নারীরা যেন ঈদগাহ থেকে দূরে থাকে" তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে, "নিশ্চয়ই ঋতুবতী (حائض) নারী কাবা ঘর তওয়াফ (طواف) করবে না"। কারণ তাকে যখন ঈদগাহ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তখন মসজিদ থেকে দূরে থাকা, বরং মসজিদে হারাম থেকে, এমনকি কাবার নিকটবর্তী হওয়া থেকে বিরত থাকা আরও জোরালোভাবে আবশ্যক (من باب أولى)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনুল মঞ্জুর রচিত লিসানুল আরব।
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
- قلت: ألا ترى أن الحاج يصلى الصلوات الخمس. فهل نقول أن الحائض لها أن تصلى أثناء الحجّ لأنها تفعل كما يفعل الحاجّ تماماً عدا الطواف كما في لفظ الحديث؟!! بالقطع لا، فإنّ هذا الحديث خاص بفعلها للمناسك من تلبية ورمى جمرات والمبيت في منى........... ولا يوجد في البيت المعظم أي فعل من مناسك الحجّ المفروضة إلا الطواف بالبيت وصلاة ركعتين بعده -على اعتبار أن السعي خارج المسجد- فلماذا ستدخل الحائض حينئذ إذا كانت لن تطوف وبالتالي لن تصلى ركعتي الطواف؟ ولعل الحافظ لذلك قال ان هذا الاستثناء مختص بأحوال الحجّ.

 

ومن أدلتهم ‌‌(هـ) : إنّ الأحاديث المانعة من دخول الحائض المسجد إمّا باطلة أو غير مشهورة، إلى غير ذلك من العلل......

 

الجواب:

قد سبق بيان الأحاديث الخاصة بالباب، فمنها حديث رواه الجماعة، وحديث آخر رواه الجماعة إلا البخاري، وحديث ثالث مختلف فيه بين أهل العلم والأكثرون على تصحيحه، كما سبق نقل أقوال أهل العلم في شروح هذه الأحاديث لدى الرد على قولهم (أ) .

 

وقالوا ‌‌(و) : إنّ الآية في قوله تعالى {ولا جنباً إلا عابري سبيل حتى تغتسلوا} قال فيها على رضي الله عنه: إذا أجنب فلم يجد الماء تيمم......... إلى آخر ما سبق ذكره.

والجواب:

سبق الرد على ذلك مفصلاً أيضاً لدى شرح هذه الآية المباركة، وذكرنا أقوال المفسرين في ذلك.

 

وقالوا ‌‌(ز) : قد نُقل عن الإمام أحمد: أنّه يجوز للجنب والحائض أن يمكث في المسجد إذا توضأ

الجواب:

ليس هذا هو المذهب الصحيح للإمام في هذه المسألة، وهذا ما سنوضحه في الفصل الآتي إن شاء الله تعالى، مع بيان أقوال أصحاب المذاهب الأخرى.

আমি বললাম: আপনি কি দেখছেন না যে, হাজি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করেন? তবে কি আমরা বলব যে, ঋতুবতী নারীর জন্য হজের সময় সালাত আদায় করা বৈধ, কারণ সে তো হাদিসের শব্দ অনুযায়ী তওয়াফ ব্যতীত হাজির মতো হুবহু সব কাজই করে থাকে?!! অবশ্যই না, কেননা এই হাদিসটি তার হজের কার্যাবলী যেমন— তালবিয়া পাঠ, জামরাতে কঙ্কর নিক্ষেপ এবং মিনায় অবস্থান ইত্যাদির সাথে নির্দিষ্ট (خاص)। আর সম্মানিত ঘরের (কাবা শরিফ) ভেতরে হজের ফরজ কার্যাবলীর অন্য কোনো আমল নেই তওয়াফ এবং তার পরবর্তী দুই রাকাত সালাত ব্যতীত—সাঈ মসজিদের বাইরে হওয়ার ভিত্তিতে—তবে ঋতুবতী নারী কেন তখন প্রবেশ করবে যখন সে তওয়াফই করবে না এবং ফলশ্রুতিতে তওয়াফের দুই রাকাত সালাতও আদায় করবে না? সম্ভবত একারণেই হাফিজ বলেছেন যে, এই ব্যতিক্রমটি হজের অবস্থার সাথে নির্দিষ্ট (مختص)।

 

তাদের দলীলসমূহের মধ্যে ‌(৫) : ঋতুবতী নারীর মসজিদে প্রবেশে বাধা প্রদানকারী হাদিসগুলো হয় বাতিল (باطلة) অথবা প্রসিদ্ধ নয় (غير مشهورة), এছাড়াও আরও অন্যান্য ত্রুটি (العلل) রয়েছে...

 

উত্তর:

এই অধ্যায় সংশ্লিষ্ট হাদিসগুলো পূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তার মধ্যে কোনো হাদিস জামায়াত (الجماعة) বর্ণনা করেছেন, অন্য একটি হাদিস বুখারি ব্যতীত জামায়াতের বাকি সকলে বর্ণনা করেছেন এবং তৃতীয় আরেকটি হাদিস যা আলেমদের নিকট মতভেদপূর্ণ হলেও অধিকাংশ আলেম একে সহিহ (تصحيحه) হিসেবে গণ্য করার পক্ষে, যেমনটি তাদের (১) নং বক্তব্যের জবাবে এই হাদিসগুলোর ব্যাখ্যায় আলেমদের উক্তিগুলো ইতিপূর্বে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

 

তারা বলেছে ‌(৬) : মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে {আর অপবিত্র অবস্থায় নয়, যতক্ষণ না তোমরা গোসল করো, তবে পথ অতিক্রমকারী হলে ভিন্ন কথা} আলী (রা.) বলেছেন: যখন কেউ অপবিত্র হয় এবং পানি না পায়, তবে সে তায়াম্মুম করবে......... যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে তার শেষ পর্যন্ত।

উত্তর:

এই বরকতময় আয়াতের ব্যাখ্যায় এ বিষয়ে বিস্তারিত উত্তরও ইতিপূর্বে প্রদান করা হয়েছে এবং আমরা সেখানে মুফাসসিরদের অভিমতসমূহ উল্লেখ করেছি।

 

তারা বলেছে ‌(৭) : ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: অপবিত্র ব্যক্তি এবং ঋতুবতী নারীর জন্য মসজিদে অবস্থান করা বৈধ (يجوز) যদি সে অজু করে নেয়

উত্তর:

এই মাসআলায় ইমামের সঠিক (الصحيح) মাযহাব এটি নয়। এটিই আমরা পরবর্তী পরিচ্ছেদে অন্যান্য মাযহাবের অনুসারীদের অভিমত বর্ণনাসহ ইনশাআল্লাহ স্পষ্ট করব।
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌الفصل الثالث: أقوال الفقهاء

 

‌‌أولاً: الحنابلة

 

1 - (كشف القناع) للبهوتي، شرح (الإقناع) للحجاوي:

-قال (1) : ويمنع الحيض خمسة عشر شيئاً:.............. التاسع: (الإعتكاف و) العاشر: (اللبث في المسجد) ولو بوضوء....... (و) الخامس عشر: (مرورها في المسجد إن خافت تلويثه) لأن تلويثه بالنجاسة محرم والوسائل لها حكم المقاصد..... (ولا) يمنع (مرورها في المسجد إن أمنت تلويثه) قال في رواية ابن إبراهيم: تمرّ ولا تقعد.

وقال (2) : (ولجنب) ونحوه (عبور مسجد ولو لغير حاجة) لقوله تعالى {ولا جنباً إلا عابري سبيل} وهو الطريق،وروى سعيد بن منصور عن جابر قال: " كان أحدنا يمرُّ في المسجد جنباً مجتازاً " (3) وحديث عائشة " إنّ حيضتك ليست في يدك " رواه مسلم شاهد بذلك، وقيل لحاجة فقط..... (وكذا حائض ونفساء مع أمن تلويثه) فلهما عبوره كالجنب (وإن خافتا) أي الحائض والنفساء (تلويثه) أي المسجد (حَرُم) دخولهما فيه (كلبثهما فيه) مطلقاً.

قال: (ويحرم على جنب وحائض ونفساء انقطع دمهما اللبث فيه ولو مصلى عيد لأنّه مسجد لا مُصلى الجنائز إلا أن يتوضئوا) أي الجنب والحائض والنفساء إذا انقطع دمهما فيجوز لهما اللبث في المسجد.... .

 

فانظر - رحمك الله - كيف قال بجواز المرور فقط للحائض والنفساء، وبتحريم اللبث عليهما، أمّا إذا أنقطع دمهما فيجوز لهما اللبث عندئذ بعد الوضوء، كما سبق نقله عن الإمام ابن القيم. بل لقد صرّح بأن قول الإمام أحمد كما ورد في رواية ابن إبراهيم بأنّها تمرُّ ولا تقعد.

وبذلك تعرف أن قولهم أنّه يجوز للجنب والحائض أن يمكثا في المسجد إذا توضئا خطأ قطعاً ولم يقله أصحاب المذهب، وإنما قالوا يجوز للحائض أن تمكث في المسجد إذا توضأت بعد انقطاع دمها، وهو قيد هام لأن وضوء الحائض أثناء الحيض لا يصح بخلاف الجنب، أمّا الجنب فيجوز له اللبث في المسجد بعد الوضوء عند الحنابلة.

--------------------------------------------

(1) 1 / 197 ط. دار الفكر.

(2) 1 / 48

(3) سنده ضعيف، وانظر سنن سعيد بن منصور.
‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ফকিহগণের অভিমত

 

‌‌প্রথমত: হাম্বলি মাযহাব

 

১ - আল-বাহুতি রচিত 'কাশশাফুল কিনা', যা আল-হিজ্জাবি রচিত 'আল-ইকনা'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ:

-তিনি (১) বলেছেন: ঋতুস্রাব পনেরটি বিষয়কে বাধা প্রদান করে:.............. নবম: (ইতিকাফ এবং) দশম: (মসজিদে অবস্থান করা) যদিও ওজু থাকা অবস্থায় হয়....... (এবং) পঞ্চদশ: (মসজিদের ভেতর দিয়ে তার যাতায়াত করা যদি সে তা অপবিত্র করার আশঙ্কা করে), কারণ নাপাকি দ্বারা তা অপবিত্র করা হারাম এবং মাধ্যমসমূহ মূল উদ্দেশ্যের বিধানের অন্তর্ভুক্ত হয়..... (এবং এটি) বাধা দেয় না (মসজিদের ভেতর দিয়ে তার যাতায়াতকে যদি সে তা অপবিত্র না করার ব্যাপারে নিরাপদ থাকে)। ইবনে ইব্রাহিমের বর্ণনায় তিনি বলেছেন: সে অতিক্রম করবে কিন্তু বসবে না।

এবং তিনি (২) বলেছেন: (অপবিত্র বা জুনুবি ব্যক্তির জন্য) এবং অনুরূপ ব্যক্তিদের জন্য (মসজিদ অতিক্রম করা বৈধ, যদিও কোনো প্রয়োজন ব্যতীত হয়), কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর অপবিত্র অবস্থায় নয়, পথ অতিক্রমকারী ব্যতীত} আর এটি হলো পথ। সাঈদ ইবনে মানসুর জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমাদের কেউ কেউ অপবিত্র অবস্থায় পারাপারের উদ্দেশ্যে মসজিদের ভেতর দিয়ে যেতেন" (৩)। আর আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিস "নিশ্চয়ই তোমার ঋতুস্রাব তোমার হাতে নেই" যা মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তা এর সপক্ষে প্রমাণস্বরূপ। আর কেউ কেউ বলেছেন, কেবল প্রয়োজনের খাতিরে (বৈধ)।.... (তেমনি ঋতুবতী ও নিফাসওয়ালী নারী যদি অপবিত্র করার ব্যাপারে নিরাপদ থাকে), তবে তাদের উভয়ের জন্য জুনুবি ব্যক্তির ন্যায় তা অতিক্রম করা বৈধ। (আর যদি তারা উভয়ে আশঙ্কা করে) অর্থাৎ ঋতুবতী ও নিফাসওয়ালী নারী (তা অপবিত্র করার) অর্থাৎ মসজিদকে, (তবে তাদের প্রবেশ হারাম) যেমন সেখানে তাদের অবস্থান করা নিঃশর্তভাবে হারাম।

তিনি বলেছেন: (অপবিত্র ব্যক্তি এবং ঋতুবতী ও নিফাসওয়ালী নারী যাদের রক্ত বন্ধ হয়েছে, তাদের জন্য সেখানে অবস্থান করা হারাম, এমনকি ঈদের নামাজের স্থানেও; কেননা তা মসজিদ, জানাজার নামাজের স্থান নয়; যতক্ষণ না তারা ওজু করে)। অর্থাৎ জুনুবি ব্যক্তি এবং ঋতুবতী ও নিফাসওয়ালী নারী যখন তাদের রক্ত বন্ধ হয়ে যায়, তখন তাদের জন্য মসজিদে অবস্থান করা জায়েজ...।

 

অতএব লক্ষ্য করুন - আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন - তিনি কীভাবে ঋতুবতী ও নিফাসওয়ালী নারীর জন্য কেবল অতিক্রম করাকে জায়েজ বলেছেন এবং তাদের অবস্থানের ক্ষেত্রে হারাম বলেছেন। তবে যখন তাদের রক্ত বন্ধ হয়ে যায়, তখন ওজু করার পর তাদের জন্য সেখানে অবস্থান করা জায়েজ, যেমনটি ইতিপূর্বে ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। বরং তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে ইব্রাহিমের বর্ণনায় ইমাম আহমদের বক্তব্য হলো, সে অতিক্রম করবে কিন্তু বসবে না।

এর মাধ্যমে আপনি জানতে পারলেন যে, জুনুবি ও ঋতুবতী ব্যক্তি ওজু করলে মসজিদে অবস্থান করতে পারবে বলে তাদের যে উক্তি, তা নিশ্চিতভাবে ভুল এবং মাযহাবের অনুসারীগণ তা বলেননি। বরং তাঁরা বলেছেন যে, ঋতুবতী নারীর রক্ত বন্ধ হওয়ার পর ওজু করলে সে মসজিদে অবস্থান করতে পারবে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত, কারণ ঋতুস্রাব চলাকালীন ঋতুবতীর ওজু শুদ্ধ হয় না, যা জুনুবি ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভিন্ন। আর জুনুবি ব্যক্তির ক্ষেত্রে হাম্বলি মাযহাব মতে ওজুর পর মসজিদে অবস্থান করা বৈধ।

--------------------------------------------

(১) ১ / ১৯৭ সংস্করণ: দারুল ফিকর।

(২) ১ / ৪৮

(৩) এর সনদ (سند) দুর্বল (ضعيف), আর দেখুন সুনানে সাঈদ ইবনে মানসুর।
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
2 - (الإنصاف) للمرداوي، على (المقنع) لموفق الدين ابن قدامة:

- قال (1) : (باب الحيض:...... يمنع عشرة أشياء...... اللبث في المسجد) تُمنع الحائض من اللبث في المسجد مُطلقاً على الصحيح من المذهب، وعليه جمهور الأصحاب.

وقال: (وقيل لا تُمنع إذا توضأت وأمنت التلويث. وهو ظاهر كلام المصنف في باب الغُسل حيث قال ومن لزمه الغسل حرم عليه قراءة آية ويجوز له العبور في المسجد ويحرم عليه اللبث فيه إلا أن يتوضأ. فظاهره دخول الحائض في هذه العبارة، لكن نقول: عموم هذا اللفظ مخصوص بما هنا) .

- وقال 1/347،348: (تنبيه: ظاهر كلام المصنف أنها لا تُمنع من المرور منه. وهو المذهب مُطلقاً إذا أمنت التلويث........ ونص أحمد - في رواية ابن إبراهيم - تمرُّ ولا تقعد.

- وقال 1/ 243: ومن لزمه الغسل حرم عليه قراءة آية فصاعداّ، وفي بعض آية روايتان، ويجوز لها العبور في المسجد.

- وقال 1/ 246:} (ويحرم عليه- الجنب -اللبث في المسجد إلا أن يتوضأ) هذا المذهب في غير الحائض والنفساء وعليه جمهور الأصحاب وجزم به كثير منهم وهو من مُفردات المذهب. وعنه لا يجوز وإن توضأ. نقلها أبو الفرج الشيرازي واختاره ابن عقيل قاله في الفائق وأطلقهما ابن تميم. وعنه يجوز وإن لم يتوضأ، ذكرها في الرعاية ونقلها الخطابي عن أحمد. وقيل في جلوسه فيه بلا غُسل ولا وضوء روايتان {.

فانظر - رحمك الله - كيف أن ما نقله الخطابي عن الإمام أحمد في الجنب وأن هذا في غير الحائض والنفساء، علماً بأن الإمام البغوي قال في شرح السنة (2) :" وجوّز أحمد والمُزِنى المكث فيه "، ونحن الآن قد علمنا أنّه جوّز ذلك للجنب وليس للحائض، بل إن نصه في الحائض: تمرُّ ولا تقعد، والصحيح من مذهبه تحريم اللبث على الجنب أيضاً إلا إذا توضأ.

--------------------------------------------

(1) 1 / 346، 347 ط. مطبعة السنة المحمدية

(2) 2 / 42 ط. المكتب الإسلامي
২ - মুওয়াফফাকুদ্দিন ইবনে কুদামা বিরচিত আল-মুকনি-এর ওপর আল-মারদাউয়ি রচিত আল-ইনসাফ:

- তিনি (১) বলেছেন: (হায়েযের অধ্যায়:...... দশটি বিষয়কে নিষিদ্ধ করে...... মসজিদে অবস্থান করা) মাযহাবের সঠিক (الصحيح) মত অনুযায়ী হায়েযগ্রস্ত নারীর জন্য মসজিদে অবস্থান করা সাধারণভাবে নিষিদ্ধ এবং মাযহাবের অধিকাংশ ফকীহ (جمهور الأصحاب) এই মতের ওপর রয়েছেন।

তিনি আরও বলেছেন: (বলা হয়েছে যে, যদি তিনি ওযু করেন এবং অপবিত্র হওয়ার আশঙ্কা না থাকে তবে তাকে নিষেধ করা হবে না। এটি গোসলের অধ্যায়ে গ্রন্থকারের বক্তব্যের আপাত (ظاهر) অর্থ, যেখানে তিনি বলেছেন: যার ওপর গোসল ওয়াজিব তার জন্য কুরআনের আয়াত পাঠ করা হারাম এবং তার জন্য মসজিদে যাতায়াত করা জায়েজ হলেও সেখানে অবস্থান করা হারাম, যদি না সে ওযু করে। সুতরাং তার এই বক্তব্যের আপাত (ظاهر) অর্থে হায়েযগ্রস্ত নারীও অন্তর্ভুক্ত হন, কিন্তু আমরা বলি: এই শব্দের সাধারণতা (عموم) এখানে নির্দিষ্ট (مخصوص) করা হয়েছে)।

- তিনি ১/৩৪৭, ৩৪৮ পৃষ্ঠায় বলেছেন: (সতর্কবার্তা: গ্রন্থকারের বক্তব্যের আপাত (ظاهر) অর্থ হলো তাকে মসজিদের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে বাধা দেওয়া হবে না। এটিই মাযহাবের (المذهب) চূড়ান্ত অভিমত যদি তিনি অপবিত্র করার ব্যাপারে নিরাপদ থাকেন........ এবং ইমাম আহমাদ ইবনে ইব্রাহিমের বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ (نص) করেছেন যে—সে অতিক্রম করবে কিন্তু বসবে না।

- তিনি ১/২৪৩ পৃষ্ঠায় বলেছেন: যার ওপর গোসল ওয়াজিব তার জন্য এক বা একাধিক আয়াত তিলাওয়াত করা হারাম, এবং আয়াতের অংশবিশেষের ক্ষেত্রে দুটি বর্ণনা (روايتان) রয়েছে; তবে তার জন্য মসজিদে যাতায়াত করা জায়েজ।

- তিনি ১/২৪৬ পৃষ্ঠায় বলেছেন: (এবং জুনুবি (الجنب) ব্যক্তির জন্য মসজিদে অবস্থান করা হারাম যতক্ষণ না সে ওযু করে) এটি হায়েয ও নেফাসগ্রস্ত নারী ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে মাযহাবের (المذهب) অভিমত এবং মাযহাবের অধিকাংশ ফকীহ (جمهور الأصحاب) এই মত পোষণ করেছেন এবং তাদের অনেকেই এ ব্যাপারে দৃঢ়তা প্রকাশ করেছেন, আর এটি মাযহাবের একক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ (مفردات) মাসআলার অন্তর্ভুক্ত। ইমাম আহমাদ থেকে আরেকটি বর্ণনা রয়েছে যে, ওযু করলেও তা জায়েজ নয়। এটি আবু আল-ফরাজ আল-শিরাজি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আকিল আল-ফাইক গ্রন্থে এটি গ্রহণ করেছেন এবং ইবনে তামীম উভয় মতকে সাধারণভাবে উল্লেখ করেছেন। তার থেকে বর্ণিত আরেকটি মতে তা জায়েজ যদিও সে ওযু না করে, যা আল-রিআয়াহ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে এবং খাত্তাবি ইমাম আহমাদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর গোসল বা ওযু ছাড়া মসজিদে বসার ব্যাপারে দুটি বর্ণনা (روايتان) রয়েছে।

সুতরাং লক্ষ্য করুন—আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন—খাত্তাবি ইমাম আহমাদ থেকে জুনুবি (الجنب) ব্যক্তি সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন তা হায়েয ও নেফাসগ্রস্ত নারী ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যদিও ইমাম বাগাভি শারহুস সুন্নাহ (২)-তে বলেছেন: "আহমাদ ও মুযানি মসজিদে অবস্থানের অনুমতি দিয়েছেন", কিন্তু আমরা এখন অবগত হলাম যে তিনি জুনুবি (الجنب) ব্যক্তির জন্য তা জায়েজ করেছেন, হায়েযগ্রস্ত নারীর জন্য নয়। বরং হায়েযগ্রস্ত নারীর ব্যাপারে তার সুস্পষ্ট পাঠ (نص) হলো: সে অতিক্রম করবে কিন্তু বসবে না। আর তার মাযহাবের সঠিক (الصحيح) মত হলো জুনুবি (الجنب) ব্যক্তির জন্যও মসজিদে অবস্থান করা হারাম যতক্ষণ না সে ওযু করে।

--------------------------------------------

(১) ১ / ৩৪৬, ৩৪৭; প্রকাশনী: মাতবাহ আস-সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়াহ

(২) ২ / ৪২; প্রকাশনী: আল-মাকতাব আল-ইসলামি
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
- وقال 1 / 246: (فوائد: … منها حكم الحائض والنفساء بعد انقطاع الدم حكم الجنب فيما تقرر على الصحيح من المذهب وهو من المفردات. وقيل لا يباح لهما ما يباح للجنب كما قبل طهرهما. نص عليه) .

 

3 - (المبدع) لابن مفلح، شرح (المقنع) لابن قدامة:

- قال (1) : (والجنب يحرم عليه اللبث في المسجد إلا أن يتوضأ) .. وفي الرعاية رواية: يجوز لجنب مطلقاً. وفيه وجه لا يجوز لحائض ولا نفساء لأن حدثها باق لا أثر للوضوء فيه فإن لم ينقطع الدم لم يجز، نص عليه. وإن تعذر واحتاج فبدونه، نص عليه.

 

قلت: فها هو ذا يقررّ ويكررّ مرة أخرى بأن المنقول في جواز المكث مُطلقاً ولو بدون وضوء خاص بالجنب وليس للحائض والنفساء ذلك حتى مع الوضوء.

- وقال: (باب الحيض:........ يمنع عشرة أشياء.......اللبث في المسجد) لقوله عليه السلام {لا أُحل المسجد لحائض ولا جنب} رواه أبو داود. وقيل لا بوضوء، وقيل ويمنع دخوله، وحكى رواية لخوفها تلويثه في الأشهر، ونص في رواية ابن ابراهيم: تمرُّ ولا تقعد........ .

4 - (الفروع) لابن مفلح، ومعه (تصحيح الفروع) للمرداوي:

- قال (2) : (وللجنب اللبث فيه بوضوء، وعنه لا، وفي الرعاية رواية يجوز لجنب مطلقاً، وحكاه الخطابي عن أحمد وإن تعذر واحتاج فبدونه، نص عليه.)

 

قلت: فهذا نص آخر في كتب الحنابلة يوضح أن جواز اللبث الذي قاله الإمام أحمد ونقله عنه الخطابي إنما هو في حق الجنب لا الحائض.

وقال 1/260،261: (باب الحيض:...... يمنع اللبث في المسجد وقيل لا بوضوء، وقيل يمنع دخوله، وحكى رواية: كخوفها تلويثه في الأشهر، ونص في رواية ابن إبراهيم: تمرّ ولا تقعد) .

 

قلت: فيتضح بذلك أن قوله (قيل بلا وضوء) أن هذا على سبيل التضعيف، كما يتضح أنه يقصد بذلك الوضوء لو امتنع دمها كما سبق بيانه.

--------------------------------------------

(1) 1 / 189 ط. المكتب الإسلامي

(2) 1 / 201
এবং তিনি বলেছেন ১ / ২৪৬: (উপকারিতা: … এর মধ্যে রয়েছে রক্ত বন্ধ হওয়ার পর ঋতুবতী এবং নিফাসগ্রস্ত মহিলার বিধান অপবিত্র (জুনুব) ব্যক্তির বিধানের ন্যায়, যা মাযহাবের সঠিক (صحيح) মত হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে এবং এটি একক অভিমতসমূহের (مفردات) অন্তর্ভুক্ত। আবার বলা হয়েছে: অপবিত্র ব্যক্তির জন্য যা বৈধ, তাদের উভয়ের জন্য তা বৈধ নয় যেমনটা তাদের পবিত্র হওয়ার পূর্বে ছিল। তিনি এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন)।

 

৩ - ইবনে মুফলিহ রচিত (আল-মুবদি), ইবনে কুদামা রচিত (আল-মুকনি)-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ:

- তিনি বলেছেন (১): (অপবিত্র ব্যক্তির জন্য মসজিদে অবস্থান করা হারাম, তবে অজু করলে ভিন্ন কথা)... এবং 'আর-রিয়াহ' গ্রন্থে একটি বর্ণনা (رواية) রয়েছে: অপবিত্র ব্যক্তির জন্য তা ঢালাওভাবে জায়েজ। আর এতে একটি অভিমত (وجه) রয়েছে যে, ঋতুবতী ও নিফাসগ্রস্ত মহিলার জন্য তা জায়েজ নয় কারণ তার অপবিত্রতা অবশিষ্ট থাকে, সেখানে অজুর কোনো প্রভাব নেই। সুতরাং যদি রক্ত বন্ধ না হয় তবে জায়েজ হবে না, তিনি এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আর যদি তা অসম্ভব হয় এবং প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে অজু ছাড়াই জায়েজ, তিনি এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

 

আমি বলি: সুতরাং এখানে তিনি পুনরায় সাব্যস্ত ও পুনরাবৃত্তি করছেন যে, কোনো শর্ত ছাড়াই এমনকি অজু ছাড়াও অবস্থান করার বৈধতার যে বর্ণনাটি পাওয়া যায়, তা কেবল অপবিত্র ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট; ঋতুবতী ও নিফাসগ্রস্ত মহিলার জন্য এমনকি অজুর সাথেও তা জায়েজ নয়।

- এবং তিনি বলেছেন: (ঋতুস্রাব অধ্যায়:........ এটি দশটি বিষয়কে নিষেধ করে....... মসজিদে অবস্থান করা) কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন {আমি ঋতুবতী ও অপবিত্র ব্যক্তির জন্য মসজিদকে হালাল করছি না} এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। আবার বলা হয়েছে অজু করলেও জায়েজ নয়, এবং বলা হয়েছে প্রবেশ করাও নিষিদ্ধ। প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী অপবিত্র হওয়ার ভয়ে একটি বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করা হয়েছে। আর ইবনে ইব্রাহিমের বর্ণনায় (رواية) স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: সে অতিক্রম করবে কিন্তু বসবে না........ ।

৪ - ইবনে মুফলিহ রচিত (আল-ফুরু), সাথে রয়েছে আল-মারদাওয়ি রচিত (তাশহিহুল ফুরু):

- তিনি বলেছেন (২): (অপবিত্র ব্যক্তির জন্য অজুর সাথে মসজিদে অবস্থান করা জায়েজ, তবে তার পক্ষ থেকে অন্য বর্ণনায় 'না' বলা হয়েছে। আর 'আর-রিয়ায়াহ' গ্রন্থে একটি বর্ণনা (رواية) রয়েছে যে, অপবিত্র ব্যক্তির জন্য তা ঢালাওভাবে জায়েজ। আল-খাত্তাবি এটি আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর যদি তা অসম্ভব হয় এবং প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে অজু ছাড়াই জায়েজ, তিনি এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।)

 

আমি বলি: হাম্বলি মাযহাবের কিতাবসমূহের এটি অন্য একটি পাঠ যা স্পষ্ট করে দেয় যে, ইমাম আহমাদ অবস্থানের যে বৈধতার কথা বলেছেন এবং আল-খাত্তাবি তার থেকে যা বর্ণনা করেছেন, তা কেবল অপবিত্র ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ঋতুবতী মহিলার জন্য নয়।

এবং তিনি ১/২৬০, ২৬১ পৃষ্ঠায় বলেছেন: (ঋতুস্রাব অধ্যায়:...... মসজিদে অবস্থান করা নিষিদ্ধ। বলা হয়েছে অজু করলেও জায়েজ নয়, এবং বলা হয়েছে প্রবেশ করাও নিষিদ্ধ। প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী অপবিত্র হওয়ার ভয়ে একটি বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করা হয়েছে। আর ইবনে ইব্রাহিমের বর্ণনায় (رواية) স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: সে অতিক্রম করবে কিন্তু বসবে না)।

 

আমি বলি: এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, তার কথা (বলা হয়েছে অজু ছাড়া) এটি দুর্বলকরণ (تضعيف) হিসেবে বলা হয়েছে। যেমন এটিও স্পষ্ট হয় যে, এর দ্বারা তিনি ঐ সময়ের অজুর কথা বুঝিয়েছেন যদি তার রক্ত বন্ধ হয়ে যায়, যেমনটা আগে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) ১ / ১৮৯ প্রকাশনা: আল-মাকতাবুল ইসলামী

(২) ১ / ২০১
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
5 - (الكافي في فقه الإمام المبجل أحمد بن حنبل) لموفق الدين بن قدامة:

- قال (1) : ومن لزمه الغسل حرم عليه ما يحرم على المحدث...... ويحرم عليه اللبث في المسجد لقول الله تعالى: {ولا جنباً إلا عابري سبيل حتى تغتسلوا} يعنى مواضع الصلاة.......قال بعض أصحابنا: إذا توضأ الجنب حل له اللبث في المسجد لأن الصحابة رضي الله عنهم كان أحدهم إذا أراد أن يتحدث في المسجد وهو جنب توضأ ثم دخل فجلس فيه....... .

-وقال1/91: (الحيض يتعلق به ثلاثة عشرة حكماً:.......... السابع: تحريم اللبث في المسجد لما ذكرنا من قبل) .

 

6 - (المغنى) لموفق الدين بن قدامة:

- قال: ليس لهم - للجنب والحائض والنفساء - اللبث في المسجد..... ويباح العبور للحاجة من: أخذ شيء أو تركه أو كون الطريق فيه، أمّا لغير ذلك فلا يجوز بحال.

- وقال:الحائض إذا توضأت فلا يباح لها اللبث لأن وضوءها لا يصح.

- وقال (2) : علّق الشرع على الحيض أحكاماً منها أنّه يمنع اللبث في المسجد والطواف بالبيت لأنّه في معنى الجنابة.

- وقال (1/ 281) : إن انقطع حيض المرأة ولم تغتسل فهي كالجنب.

 

7 - (المحرر في الفقه) لمجد الدين ابن تيمية، ومعه (الفوائد السنية على مشكل المحرر) لابن مفلح:

- قال (3) : وللجنب العبور في المسجد ويحرم لبثه فيه إلا أن يتوضأ.

- وقال1/24،25: ويمنع الحيض فعل ما تمنعه الجنابة ما لم تغتسل منه.

 

8 - (شرح العمدة) للإمام تقي الدين ابن تيمية على (العمدة) لموفق الدين بن قدامة المقدسى:

-قال (4) : "باب: الحيض ويمنع عشرة أشياء:.........اللبث في المسجد "

--------------------------------------------

(1) 1 / 73: ط. المكتب الإسلامي.

(2) 1 / 277 ط. دار هجر.

(3) 1 / 20 ط. دار الكتاب العربي.

(4) 1 / 457، 460 ط. مكتبة العُبيكان.
5 - মুয়াফফাকুদ্দিন ইবনে কুদামা রচিত (আল-কাফি ফি ফিকহিল ইমামিল মুবাজ্জাল আহমদ বিন হাম্বল):

- তিনি বলেছেন (১) : যার ওপর গোসল ফরজ হয়েছে, তার ওপর সেই সব বিষয় হারাম (حرام) যা অপবিত্র (محدث) ব্যক্তির জন্য হারাম (حرام)...... এবং তার জন্য মসজিদে অবস্থান করা হারাম (حرام); কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর অপবিত্র অবস্থায় নয়, যতক্ষণ না তোমরা গোসল করো, তবে যদি পথ অতিক্রমকারী হও (সেটা ভিন্ন কথা)} অর্থাৎ সালাতের স্থানসমূহ....... আমাদের একদল সাথী বলেছেন: জুনুবি (جنب) ব্যক্তি যদি ওযু করে তবে তার জন্য মসজিদে অবস্থান করা বৈধ (حل), কারণ সাহাবী (رضي الله عنهم) -গণের মধ্যে কেউ যখন জুনুবি (جنب) অবস্থায় মসজিদে কথা বলতে চাইতেন, তখন তিনি ওযু করতেন এবং সেখানে প্রবেশ করে বসতেন....... ।

- এবং তিনি ১/৯১ পৃষ্ঠায় বলেছেন: (হায়েযের সাথে তেরটি বিধান সংশ্লিষ্ট:.......... সপ্তম: মসজিদে অবস্থান হারাম (تحريم) হওয়া, যার কারণ আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি) ।

 

6 - মুয়াফফাকুদ্দিন ইবনে কুদামা রচিত (আল-মুগনি):

- তিনি বলেছেন: তাদের জন্য—অর্থাৎ জুনুবি (جنب), ঋতুবতী (حائض) এবং নিফাসগ্রস্ত (نفساء) নারীর জন্য—মসজিদে অবস্থান করা জায়েজ নয়..... তবে প্রয়োজনে যাতায়াত করা বৈধ (يباح), যেমন: কোনো কিছু গ্রহণ করা বা রাখা অথবা মসজিদটি যাতায়াতের পথ হওয়া; এছাড়া অন্য কোনো কারণে কোনোভাবেই জায়েজ নয়।

- তিনি বলেছেন: ঋতুবতী নারী যদি ওযু করে তবুও তার জন্য মসজিদে অবস্থান করা বৈধ (يباح) নয়; কারণ তার ওযু সহিহ (يصح) হয় না।

- তিনি বলেছেন (২) : শরিয়ত হায়েযের ওপর কিছু বিধান অর্পণ করেছে, যার মধ্যে একটি হলো এটি মসজিদে অবস্থান এবং বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতে বাধা প্রদান করে; কারণ এটি জানাবাত (جنابة) -এর পর্যায়ভুক্ত।

- তিনি বলেছেন (১/ ২৮১): যদি নারীর ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু সে গোসল না করে, তবে সে জুনুবি (جنب) ব্যক্তির ন্যায়।

 

7 - মাজদুদ্দিন ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত (আল-মুহাররার ফিল ফিকহ), এবং সাথে ইবনে মুফলিহ রচিত (আল-ফাওয়াইদ আস-সুানিয়্যাহ আলা মুশকিলিল মুহাররার):

- তিনি বলেছেন (৩) : জুনুবি (جنب) ব্যক্তির জন্য মসজিদে যাতায়াত করা বৈধ, তবে ওযু না করা পর্যন্ত তার সেখানে অবস্থান করা হারাম (يحرم)।

- এবং তিনি ১/২৪, ২৫ পৃষ্ঠায় বলেছেন: জানাবাত (جنابة) যা কিছু করতে বাধা দেয়, হায়েযও তা করতে বাধা দেয় যতক্ষণ না তা থেকে গোসল করা হয়।

 

8 - মুয়াফফাকুদ্দিন ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি রচিত (আল-উমদাহ)-এর ওপর ইমাম তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত (শারহুল উমদাহ):

- তিনি বলেছেন (৪) : "অধ্যায়: হায়েয (حيض), আর এটি দশটি বিষয়কে নিষিদ্ধ করে:......... মসজিদে অবস্থান করা"

--------------------------------------------

(১) ১ / ৭৩: মুদ্রণ. আল-মাকতাব আল-ইসলামি।

(২) ১ / ২৭৭ মুদ্রণ. দারু হাজার।

(৩) ১ / ২০ মুদ্রণ. দারুল কিতাব আল-আরাবি।

(৪) ১ / ৪৫৭, ৪৬০ মুদ্রণ. মাকতাবাতুল ওবাইকান।
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
لا يجوز لها قراءة القرآن ومسّ المصحف واللبث في المسجد لأن حدثها كحدث الجنب وأغلظ لقيام سبب الحدث، وسواء في ذلك ما قبل الانقطاع وما بعده لأن أحسن أحوالها أن تكون كالجنب، ولها العبور في المسجد ولكن إذا كان دمّها جارياً فإنّها تتلجم لتأمن من تلويث المسجد.......... . وأمّا اللبث فيه بالوضوء فيجوز إذا انقطع دمّها، وأمّا قبل فلا يجوز، نصّ عليه، لأن طهارتها لا تصح وسبب الحدث قائم، ولذلك لم يستحب لها الوضوء لنوم أو أكل ونحو ذلك.

- وقال (1) : ويحرم على الجنب اللبث في المسجد بغير وضوء، فأمّا العبور فيه فلا بأس به....ولأن المسجد منزل الملائكة لما فيه من الذكْر، والملائكة لا تدخل بيتاً فيه كلب ولا جنب ولا تمثال كذلك رواه على عن النبي صلى الله عليه وسلم أخرجه مسلم وغيره (2) ، ففي لبث الجنب في المسجد إيذاء للملائكة.

 

خلاصة القول في مذهب الحنابلة:

المرور بالمسجد والتردد فيه بدون مكث يجوز للجنب والحائض والنفساء حال نزول الدم إن أُمِنَ تلويث المسجد، ويجوز للجنب أن يمكث في المسجد بوضوء، أمّا الحائض والنفساء فإنّه لا يجوز لأي منهما المكث في المسجد حتى ولو مع الوضوء، إلا إذا انقطع الدم أولاً ثمّ توضأتا.

 

‌‌ثانياً: الشافعية

 

9 - (المجموع) للنووي، شرح (المهذب) للشيرازي:

- قال (3) : قال أصحابنا: يتعلق بالحيض أحكام:.......... (التاسع) يحرم مسّ المصحف وحمله وقراءة القرآن، والمكث في المسجد، وكذا العبور على أحد الوجهين.

- وقال (2 /395) : (فرع في مذاهب العلماء في مكث الجنب في المسجد وعبوره فيه بلا مكث) :

--------------------------------------------

(1) 1 / 388، 389.

(2) لفظ مسلم بدون ذكر "الجنب"، ورواه بزيادة "الجنب" حم 1/80، ن 1/116، د 227، ك، وضعّف الحديث بهذه الزيادة الألباني في ضعيف الجامع 6216، ولكن صححه بهذه الزيادة الحاكم ووافقه الذهبي.

(3) 2 / 395 ط. مكتبة الإرشاد.
তার জন্য কুরআন তিলাওয়াত করা, মুসহাফ স্পর্শ করা এবং মসজিদে অবস্থান করা বৈধ নয়; কারণ তার অপবিত্রতা বড় অপবিত্র ব্যক্তির অপবিত্রতার ন্যায়, বরং অপবিত্রতার কারণ বিদ্যমান থাকায় তা আরও গুরুতর। এ ক্ষেত্রে রক্ত বন্ধ হওয়ার পূর্বের এবং পরের অবস্থা সমান; কারণ তার সর্বোত্তম অবস্থা হলো সে একজন বড় অপবিত্র ব্যক্তির মতো হবে। তবে সে মসজিদ অতিক্রম করতে পারবে; কিন্তু যদি তার রক্ত প্রবাহিত হতে থাকে, তবে মসজিদের পবিত্রতা রক্ষার্থে সে বাঁধন ব্যবহার করবে যাতে মসজিদ অপবিত্র হওয়া থেকে নিরাপদ থাকে.......... । তবে রক্ত বন্ধ হওয়ার পর অযু করে সেখানে অবস্থান করা জায়েজ, কিন্তু রক্ত বন্ধ হওয়ার আগে তা জায়েজ নয়। এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে; কারণ এমতাবস্থায় তার পবিত্রতা শুদ্ধ নয় এবং অপবিত্রতার কারণ বিদ্যমান। আর এই কারণেই তার জন্য ঘুম বা আহার ও এ জাতীয় কাজের জন্য অযু করা মুস্তাহাব নয়।

- তিনি (১) বলেন: অযু ব্যতীত বড় অপবিত্র ব্যক্তির জন্য মসজিদে অবস্থান করা হারাম। তবে কেবল অতিক্রম করাতে কোনো অসুবিধা নেই....। কারণ যিকির হওয়ার কারণে মসজিদ হলো ফেরেশতাদের আবাসস্থল, আর ফেরেশতারা এমন ঘরে প্রবেশ করেন না যাতে কুকুর, বড় অপবিত্র ব্যক্তি বা মূর্তি থাকে। একইভাবে আলী (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যা মুসলিম ও অন্যান্যরা (২) সংকলন করেছেন। ফলে বড় অপবিত্র ব্যক্তির মসজিদে অবস্থান ফেরেশতাদের কষ্ট দেওয়ার শামিল।

 

হাম্বলী মাযহাবের সারকথা:

মসজিদ অতিক্রম করা এবং সেখানে অবস্থান না করে যাতায়াত করা বড় অপবিত্র ব্যক্তি, ঋতুবতী এবং প্রসূতি নারীর জন্য রক্ত নির্গত হওয়ার অবস্থায় জায়েজ, যদি মসজিদ অপবিত্র না হওয়ার নিশ্চয়তা থাকে। বড় অপবিত্র ব্যক্তির জন্য অযুসহ মসজিদে অবস্থান করা জায়েজ। তবে ঋতুবতী ও প্রসূতি নারীর জন্য অযু থাকলেও মসজিদে অবস্থান করা জায়েজ নয়, যতক্ষণ না প্রথমে রক্ত বন্ধ হয় এবং তারা অযু করে।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: শাফেঈ মাযহাব

 

৯ - নববী রচিত আল-মাজমু, যা শিরাজী রচিত আল-মুহাযযাব-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ:

- তিনি (৩) বলেন: আমাদের আসহাবগণ (শাফেঈ ফকীহগণ) বলেছেন: ঋতুস্রাবের সাথে বেশ কিছু বিধান সংশ্লিষ্ট:.......... (নবম) মুসহাফ স্পর্শ করা ও বহন করা, কুরআন তিলাওয়াত করা এবং মসজিদে অবস্থান করা হারাম; অনুরূপভাবে দুই মতের একটি অনুযায়ী অতিক্রম করাও হারাম।

- তিনি (২ / ৩৯৫) বলেন: (বড় অপবিত্র ব্যক্তির মসজিদে অবস্থান এবং অবস্থান না করে কেবল অতিক্রম করা সংক্রান্ত ফকীহদের বিভিন্ন মতের পরিচ্ছেদ):

--------------------------------------------

(১) ১ / ৩৮৮, ৩৮৯।

(২) মুসলিম-এর শব্দে "জুনুব" (বড় অপবিত্র ব্যক্তি) উল্লেখ নেই। তবে আহমাদ ১/৮০, নাসায়ী ১/১১৬, আবু দাউদ ২২৭ এবং হাকীম-এ "জুনুব" শব্দ বৃদ্ধিসহ এটি বর্ণিত হয়েছে। আলবানী যঈফুল জামে ৬২১৬-এ এই অতিরিক্ত অংশসহ হাদিসটিকে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন, কিন্তু হাকীম এই অতিরিক্ত অংশসহ একে সহীহ (صحيح) বলেছেন এবং যাহাবী তার সাথে একমত হয়েছেন।

(৩) ২ / ৩৯৫, মাকতাবাতুল ইরশাদ সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
1- مذهبنا: أنه يحرم عليه المكث في المسجد جالساً أو قائماً أو متردداً أو على أي حال كان، متوضئاً كان أو غيره، ويجوز له العبور من غير لبث، سواء كان له حاجة أم لا.

وحكى ابن المنذر مثل هذا عن: عبد الله بن مسعود وابن عباس وسعيد بن المسيب والحسن البصري وسعيد بن جبير وعمرو بن دينار ومالك.

2- وحكى عن: سفيان الثوري وأبى حنيفة وأصحابه وإسحاق بن راهوية أنه لا يجوز له العبور إلا أنه لا يجد بداً منه فيتوضأ ثم يمر.

3- وقال أحمد: يحرم المكث ويباح العبور لحاجة ولا يباح لغير حاجة. قال ولو توضأ استباح المكث. وجمهور العلماء على أن الوضوء لا أثر له في هذا.

4- وقال المزني وداود وابن المنذر: يجوز للجنب المكث في المسجد مطلقاً. وحكاه الشيخ أبو حامد عن زيد بن أسلم.

 

واحتج من أباح المكث مطلقاً بما ذكره ابن المنذر في الأشراف وذكره غيره أن النبي صلى الله عليه وسلم قال "المؤمن لا ينجس " رواه البخاري ومسلم من رواية أبى هريرة، وبما أحتج به المزني في المختصر واحتج به غيره أن المشرك يمكث في المسجد، فالمسلم الجنب أولى، وأحسن ما يوجه به هذا المذهب أن الأصل عدم التحريم، وليس لمن حرّم دليل صحيح صريح.

واحتج أصحابنا بقول الله تعالى {لا تقربوا الصلاة وأنتم سكارى حتى تعلموا ما تقولون ولا جنباً إلا عابري سبيل} قال الشافعي رحمه الله في الأم: قال بعض العلماء بالقرآن:معناها لا تقربوا مواضع الصلاة.

قال الشافعي: وما أشبه ما قال بما قال: لأنه ليس في الصلاة عبور سبيل؛ إنما عبور السبيل في موضعها وهو المسجد.

قال الخطابي: وعلى ما تأولها الشافعي تأولها أبو عبيدة معمر بن المثنى.
1- আমাদের মাযহাব হলো: জুনুবী ব্যক্তির জন্য মসজিদে অবস্থান করা হারাম, চাই সে বসে থাকুক, দাঁড়িয়ে থাকুক, পায়চারি করুক বা অন্য যেকোনো অবস্থায় থাকুক, সে অযু অবস্থায় থাকুক বা না থাকুক। তবে অবস্থান করা ব্যতীত কেবল অতিক্রম করে চলে যাওয়া তার জন্য বৈধ, চাই তার কোনো প্রয়োজন থাকুক বা না থাকুক।

ইবনুল মুনযির এই মতটি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, ইবনে আব্বাস, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, হাসান আল-বাসরি, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, আমর ইবনে দিনার এবং মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন।

2- সুফিয়ান আস-সাওরি, আবু হানিফা ও তাঁর অনুসারীগণ এবং ইসহাক ইবনে রাহওয়ায়হ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তার জন্য (মসজিদ) অতিক্রম করা বৈধ নয়, যদি না কোনো বিকল্প উপায় থাকে; সে ক্ষেত্রে সে অযু করবে এবং এরপর অতিক্রম করবে।

3- ইমাম আহমাদ বলেছেন: মসজিদে অবস্থান করা হারাম এবং প্রয়োজনবশত অতিক্রম করা বৈধ, তবে প্রয়োজন ছাড়া বৈধ নয়। তিনি আরও বলেছেন, যদি সে অযু করে তবে অবস্থান করা বৈধ হবে। কিন্তু জমহুর আলেমদের মতে, এক্ষেত্রে অযুর কোনো প্রভাব নেই।

4- মুযানী, দাউদ এবং ইবনুল মুনযির বলেছেন: জুনুবী ব্যক্তির জন্য মসজিদে অবস্থান করা নিঃশর্তভাবে বৈধ। শায়খ আবু হামিদ এটি যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

 

যারা নিঃশর্তভাবে অবস্থান করা বৈধ বলেছেন, তারা ইবনুল মুনযির তাঁর 'আল-ইশরাফ' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন এবং অন্যরাও যা বর্ণনা করেছেন তা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মুমিন অপবিত্র হয় না।" এটি বুখারী ও মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনা থেকে বর্ণনা করেছেন। মুযানী তাঁর 'আল-মুখতাসার' গ্রন্থে এবং অন্যরাও যা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন তা হলো—মুশরিক ব্যক্তি মসজিদে অবস্থান করতে পারে, সুতরাং একজন জুনুবী মুসলিম এর জন্য তা আরও বেশি উপযোগী। আর এই মাযহাবের পক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি হলো—মূল বিধান হলো নিষিদ্ধ না হওয়া, আর যারা একে হারাম বলেছেন তাদের নিকট কোনো সহিহ (صحيح) ও স্পষ্ট দলিল নেই।

আমাদের সাথীবর্গ মহান আল্লাহর বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: {তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সালাতের কাছে যেও না, যতক্ষণ না তোমরা যা বলছ তা বুঝতে পারো এবং জুনুবী অবস্থায়ও নয়, তবে পথ অতিক্রমকারী ব্যতীত}। ইমাম শাফেয়ী (রহ.) 'আল-উম্ম' গ্রন্থে বলেছেন: কুরআন বিশেষজ্ঞ কোনো কোনো আলেম বলেছেন, এর অর্থ হলো—সালাতের স্থানসমূহের নিকটবর্তী হয়ো না।

ইমাম শাফেয়ী বলেন: তিনি যা বলেছেন তা অত্যন্ত সঙ্গত; কারণ সালাতের ভেতরে কোনো পথ অতিক্রম করার বিষয় নেই; বরং পথ অতিক্রম তো সালাতের স্থানে হয়ে থাকে আর তা হলো মসজিদ।

খাত্তাবী বলেছেন: শাফেয়ী যেভাবে এর ব্যাখ্যা করেছেন, আবু উবায়দাহ মা'মার ইবনুল মুসান্নাও সেভাবেই এর ব্যাখ্যা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
قال البيهقي في معرفة السنن والآثار: وروينا هذا التفسير عن ابن عباس. قال وروينا عن جابر قال " كان أحدنا يمر في المسجد مجتازاً وهو جنب " (1)

ثمّ ذكر النووي الاختلاف في حديث " لا أحل المسجد لحائض ولا جنب ". كما سبق توضيحه.

قال النووي: وأجاب أصحابنا عن احتجاجهم بحديث " المسلم لا ينجس ". بأنه لا يلزم من عدم نجاسته جواز لبثه في المسجد.

وأمّا القياس على المشرك فجوابه من وجهين:

(أحدهما) : أن الشرع فرّق بينهما، فقام دليل تحريم مكث الجنب. وثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم حبس بعض المشركين في المسجد،فإذا فرّق الشرع لم يجز التسوية.

(والثاني) : أن الكافر لا يعتقد حرمة المسجد فلا يكلف بها،بخلاف المسلم. وهذا كما أن الحربي لو أتلف على المسلم شيئاً لم يلزمه ضمانه لأنه لم يلتزم الضمان بخلاف المسلم والذمي إذا أتلفا.

 

10 - روضة الطالبين وعمدة المفتين. للإمام النووي:

- قال (2) : (فصل) يحرم على الجنب ما يحرم على المحدث وشيئان: قراءة القرآن، واللبث في المسجد

- وقال (3) : وأمّا اللبث في المسجد فحرام على الجنب، ولا يحرم عليه العبور، ولكن يكره إلا لغرض بأن يكون المسجد طريقه إلى مقصده أو أقرب الطريقين إليه، وفي وجه: إنما يجوز العبور إذا لم يكن طريق سواه وليس بشيء. ويحرم التردد في جوانبه فإنه كالمكث، ويجوز المكث للضرورة بأن نام في المسجد فاحتلم ولم يمكن الخروج لإغلاق الباب أو لخوف العسس أو غيره على النفس والمال.

--------------------------------------------

(1) قال النووي بعد ذلك ص 186 واحتجوا بحديث جابر: " كنا نمشى في المسجد جنباً لا نرى به بأساً " رواه الدارمي بإسناد ضعيف.

(2) 1 / 85 ط.المكتب الإسلامي.

(3) 1 / 86
বায়হাকি 'মা'রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার' গ্রন্থে বলেন: আমরা এই ব্যাখ্যা ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছি। তিনি বলেন, আমরা জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন, "আমাদের কেউ অপবিত্র (جنب) অবস্থায় অতিক্রমকারী হিসেবে মসজিদের ভেতর দিয়ে চলাচল করত।" (১)

অতঃপর ইমাম নববী "আমি ঋতুবতী এবং অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির জন্য মসজিদ হালাল করি না" শীর্ষক হাদিসটির ব্যাপারে মতভেদ উল্লেখ করেছেন, যেমনটি ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

ইমাম নববী বলেন: আমাদের (শাফেয়ি মাজহাবের) ফকিহগণ তাদের "মুহমিন অপবিত্র হয় না" হাদিস দ্বারা পেশকৃত দলিলের উত্তর দিয়েছেন এভাবে যে, তার অপবিত্র (نجاسة) না হওয়া থেকে মসজিদে অবস্থান বৈধ হওয়া আবশ্যক হয় না।

আর মুশরিকের ওপর কিয়াস (قياس) বা অনুমানের উত্তর দুটি দিক থেকে হতে পারে:

(প্রথমত): শরিয়ত এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য করেছে; ফলে জানাবাতগ্রস্ত বা অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির অবস্থান হারাম (تحريم) হওয়ার দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর এটি প্রমাণিত যে, নবী (সা.) কিছু মুশরিককে মসজিদে আবদ্ধ করে রেখেছিলেন। সুতরাং যখন শরিয়ত পার্থক্য করে দিয়েছে, তখন উভয়কে সমান গণ্য করা বৈধ নয়।

(দ্বিতীয়ত): কাফির মসজিদের পবিত্রতায় বিশ্বাস করে না, তাই তাকে এর বিধান পালনের দায়িত্ব প্রদান করা হয় না, যা মুসলিমের বিপরীত। এটি তেমন, যেমন কোনো হারবি (حربي) যদি কোনো মুসলিমের কোনো সম্পদ নষ্ট করে, তবে তার ওপর ক্ষতিপূরণ প্রদান আবশ্যক হয় না, কারণ সে দায়বদ্ধতা স্বীকার করেনি। কিন্তু মুসলিম বা জিম্মি (ذمي) কোনো কিছু নষ্ট করলে তার বিপরীত বিধান প্রযোজ্য হয়।

 

১০ - ইমাম নববী রচিত 'রাওদাতুত তালিবিন ওয়া উমদাতুল মুফতিন':

- তিনি বলেন (২): (পরিচ্ছেদ) অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির জন্য তা-ই হারাম (يحرم) যা অজুহীন (محدث) ব্যক্তির জন্য হারাম (يحرم), সাথে অতিরিক্ত আরও দুটি বিষয়: কুরআন তিলাওয়াত এবং মসজিদে অবস্থান করা।

- তিনি আরও বলেন (৩): মসজিদে অবস্থান করা অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির জন্য হারাম (حرام), তবে অতিক্রম করা তার জন্য হারাম (يحرم) নয়। কিন্তু কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া এটি অপছন্দনীয় (يكره), যেমন—মসজিদটি তার গন্তব্যে পৌঁছানোর পথ হওয়া বা এটি দুটি পথের মধ্যে নিকটতর পথ হওয়া। এক মতে (وجه): অতিক্রম করা কেবল তখনই বৈধ যখন অন্য কোনো পথ না থাকে, তবে এ মতটি গ্রহণযোগ্য নয়। মসজিদের বিভিন্ন দিকে বিচরণ করাও হারাম (يحرم), কারণ এটি অবস্থানের নামান্তর। তবে প্রয়োজনে অবস্থান করা বৈধ (يجوز), যেমন—কেউ মসজিদে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় স্বপ্নদোষ (احتلم) হলো এবং দরজা বন্ধ থাকার কারণে বা পাহারাদার কিংবা জান-মালের ক্ষতির ভয়ে বের হওয়া সম্ভব হলো না।

--------------------------------------------

(১) ইমাম নববী এরপর ১৮৬ পৃষ্ঠায় বলেন, তারা জাবির (রা.)-এর হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "আমরা অপবিত্র (جنب) অবস্থায় মসজিদের ভেতর দিয়ে চলাচল করতাম এবং এতে কোনো সমস্যা মনে করতাম না।" দারেমি এটি দুর্বল (ضعيف) সনদে (إسناد) বর্ণনা করেছেন।

(২) ১ / ৮৫, আল-মাকতাব আল-ইসলামি সংস্করণ।

(৩) ১ / ৮৬
(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আবিদ ফী হুকমি মাকছিল জুনুবি ওয়াল হায়িদি ওয়ান নুফাসা ফিল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
- وقال (1) : ويحرم على الحائض ما يحرم على الجنب، ولا يجب عليها قضاء الصلاة. ولو أرادت العبور في المسجد فإن خافت تلويثه لعدم إحكامها لشده أو لغلبة الدم، حرم العبور عليها، ولا يختص هذا بها، بل المستحاضة والسلس ومن به جراحة نضّاحة يحرم عليهم العبور إن خافوا التلويث. فإن أمنت الحائض التلويث جاز العبور على الصحيح كالجنب (2) ومن عليه نجاسة لا يخاف تلويثها.

 

11 - مختصر المُزَنى:

قال (3) :ولا بأس أن يمر الجنب ماراً ولا يقيم فيه،وتأول قول الله جلّ ذكره " ولا جنباً إلا عابري سبيل " (قال) وذلك عندي موضع الصلاة (قال) وأكره ممر الحائض فيه (قال) ولا بأس أن يبيت المشرك في كل مسجد إلا المسجد الحرام لقول الله جلّ ذكره " فلا يقربوا المسجد الحرام بعد عامهم هذا " (قال المُزَني) فإذا بات فيه المشرك فالمسلم أولى أن يجلس فيه ويبيت، وأُحب إعظام المسجد عن أن يبيت فيه المُشرك أو يقعد فيه.

12 - (الحاوي الكبير) لأبى الحسن المواردي شرح (مختصر المُزَني) :

قال (4) : فصل: حيض المرأة يتعلق به سبعة أحكام:..........

الرابع: دخول المسجد: لما روى عن النبي صلى الله عليه وسلم قال (أمّا المسجد فلا أحلّه لجنب ولا حائض) ، ولأن حدث الحيض أغلظ من حدث الجنابة، ثمّ كان نص الكتاب يمنع الجنب من المقام فيه فكانت الحائض مع ما يُخاف تنجيس المسجد بدمّها أحق بالمنع، وإذا مُنعت من المسجد فهي ممنوعة من الاعتكاف لا محالة.

 

13 - (المنهاج) للنووي، وشرحه (مغنى المحتاج) للخطيب الشربيني:

- قال (5) :} (ويحرم بها - أي بالجنابة - ما حرم بالحدث، والمكث في المسجد لا عبوره) وخرج بالمكث والتردد العبور {. أ. هـ بتصرف يسير.

--------------------------------------------

(1) 1 / 135

(2) انظر رحمك الله، فإنه قال جواز العبور، ولم يقل جواز المكث.

(3) ص 19 ط. دار المعرفة.

(4) 1 / 383 ط.دار الكتب العلمية.

(5) 1 / 71 ط. دار الفكر.
এবং তিনি বলেছেন (১): ঋতুবতী নারীর জন্য তা-ই হারাম যা অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির জন্য হারাম, আর তার জন্য সালাতের কাজা করা ওয়াজিব নয়। সে যদি মসজিদের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করতে চায় এবং যদি তা অপবিত্র করার আশঙ্কা থাকে—কাপড় ভালোভাবে না বাঁধার কারণে অথবা রক্তের আধিক্যের কারণে—তবে তার জন্য অতিক্রম করা হারাম। এই বিধান কেবল তার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ইস্তিহাজাগ্রস্ত নারী (مستحاضة), প্রস্রাব ঝরা রোগী (سلس) এবং যার প্রবাহমান ক্ষত রয়েছে, তাদের সবার জন্যই অতিক্রম করা হারাম যদি তারা অপবিত্র করার আশঙ্কা করে। আর যদি ঋতুবতী নারী অপবিত্র না করার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়, তবে শুদ্ধ (صحيح) মতানুযায়ী অতিক্রম করা জায়েজ, যেমনটি অপবিত্র (جنব) ব্যক্তি এবং যার শরীরে নাপাকি লেগে আছে কিন্তু তা দিয়ে অপবিত্র করার ভয় নেই—তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

 

১১ - মুখতাসার আল-মুজানি:

তিনি বলেন (৩): অপবিত্র (جنب) ব্যক্তি যদি মসজিদ অতিক্রম করে তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই, কিন্তু সেখানে অবস্থান করবে না। তিনি মহান আল্লাহর বাণী "অপবিত্র অবস্থায় নয়, পথ অতিক্রমকারী ব্যতীত" এর ব্যাখ্যায় বলেন, আমার নিকট এর অর্থ হলো সালাতের স্থান। তিনি বলেন, আমি ঋতুবতী নারীর মসজিদের ভেতর দিয়ে যাওয়াকে অপছন্দ করি। তিনি বলেন, মুশরিক ব্যক্তি মসজিদুল হারাম ব্যতীত অন্য যেকোনো মসজিদে রাত যাপন করলে কোনো অসুবিধা নেই; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন, "এই বছরের পর তারা যেন মসজিদুল হারামের নিকটবর্তী না হয়।" আল-মুজানি বলেন, মুশরিক যদি সেখানে রাত যাপন করে, তবে মুসলমান সেখানে বসা বা রাত যাপনের অধিক হকদার। আর আমি মসজিদের সম্মান বজায় রাখার স্বার্থে মুশরিকের সেখানে রাত যাপন বা বসে থাকাকে অপছন্দ করি।

১২ - আবুল হাসান আল-মাওয়ার্দি রচিত আল-হাউয়ি আল-কাবির, যা মুখতাসার আল-মুজানি-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ:

তিনি বলেন (৪): পরিচ্ছেদ: নারীর ঋতুস্রাব সংক্রান্ত সাতটি বিধান রয়েছে:..........

চতুর্থ: মসজিদে প্রবেশ: যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন (আমি অপবিত্র (جنب) ও ঋতুবতীর (حائض) জন্য মসজিদ হালাল করি না)। তদুপরি ঋতুর অপবিত্রতা (حدث) জানাবাতের (جنابة) অপবিত্রতা অপেক্ষা অধিক গুরুতর। এরপর যেহেতু আল-কুরআনের অকাট্য বর্ণনা অপবিত্র (جنب) ব্যক্তিকে সেখানে অবস্থান করতে নিষেধ করেছে, তাই ঋতুবতী নারী—যার রক্ত দ্বারা মসজিদ অপবিত্র হওয়ার আশঙ্কা থাকে—সে তো নিষেধাজ্ঞার অধিক যোগ্য। আর যখন তাকে মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে, তখন তার জন্য ইতিকাফও নিশ্চিতভাবে নিষিদ্ধ।

 

১৩ - নববী রচিত আল-মিনহাজ এবং খতিব আশ-শিরবিনি রচিত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ মুগনি আল-মুহতাজ:

- তিনি বলেন (৫): {এর দ্বারা অর্থাৎ জানাবাতের (جنابة) কারণে তা-ই হারাম হয় যা অপবিত্রতার (حدث) কারণে হারাম হয়; মসজিদে অবস্থান করা হারাম কিন্তু অতিক্রম করা নয়। আর অবস্থান ও ঘোরাঘুরি করা থেকে অতিক্রম করাকে পৃথক করা হয়েছে।} সামান্য পরিমার্জনসহ সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) ১ / ১৩৫

(২) লক্ষ্য করুন (আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন), তিনি অতিক্রম করা জায়েজ বলেছেন, অবস্থান করা জায়েজ বলেননি।

(৩) পৃষ্ঠা ১৯, দারুল মা’রিফাহ সংস্করণ।

(৪) ১ / ৩৮৩, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ সংস্করণ।

(৫) ১ / ৭১, দারুল ফিকর সংস্করণ।