(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
جوامع السيرة - ط العلمية   (ابن حزم)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: جوامع السيرة النبوية

المؤلف: ابن حزم الأندلسي (ت 456 هـ)

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1403 هـ - 1983 م

عدد الصفحات: 212

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

জাওয়ামি আস-সিরাহ - আল-ইলমিয়্যাহ সংস্করণ   (ইবনে হাযম)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী


কিতাব: জাওয়ামি আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ

লেখক: ইবনে হাযম আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৪৫৬ হিজরি)

প্রকাশক: দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৩ হিজরি - ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১২

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

صلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم أخبرنى بتصانيف أبى محمد على بن أحمد بن سعيد بن حزم الفارسى الظاهرى، شيخنا الإمام الأوحد الرحالة أبو حيان محمد بن يوسف بن على ابن حيان الأندلسى الجيانى رحمه الله تعالى، قال: أخبرنى بتصانيف الإمام أبى محمد وجميع رواياته، الكاتب أبو محمد عبد الله بن محمد بن هارون الطائى القرطبى بمدينة تونس وغيره، قالوا: أخبرنا قاضى الجماعة على مذهب أهل الحديث، أبو القاسم أحمد بن يزيد بن بقى (ح)(1) وأخبرنا الحافظ القاضى أبو على الحسن بن عبد العزيز بن أبى الأحوص عن ابن بقى أيضا، قال:

أخبرنا القاضى الخطيب أبو الحسن شريح بن محمد بن شريح الرعينى، وهو آخر من حدث عنه، قال: أخبرنا أبو محمد على بن أحمد بن سعيد بن حزم رحمة الله عليه.

وكان فى صدر الأصل الذي كتبت منه:

«كتب إلى القاضى أبو الحسن شريح بن محمد بن شريح الرعينى من حمص الأندلس، قال: أنبأنا أبو محمد على بن أحمد بن سعيد بن حزم الظاهرى الحافظ، قال: وقرأت على أبى محمد بن عبد الله بن محمد ابن مرزوق اليحصبى الأندلسى بمصر، عن أبى بكر عبد الباقى بن محمد بن بريال الحجاري، قال رحمه الله تعالى»:

--------------------------------------------

(1) «ح» اختصار كلمة «تحويل»، وهو اصطلاح للمحدثين يستخدمونه للإشارة إلى تحويل الإسناد من أوله.
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আমাদের শাইখ, অদ্বিতীয় ইমাম, পর্যটক আবু হাইয়ান মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আলী ইবনে হাইয়ান আল-আন্দালুসী আল-জাইয়ানী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) আমাকে আবু মুহাম্মাদ আলী ইবনে আহমদ ইবনে সাঈদ ইবনে হাযম আল-ফারিসী আজ-জহিরীর রচনাবলী সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন: তিউনিস শহরের লেখক আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হারুন আত-তাঈ আল-কুরতুবী এবং অন্যরা আমাকে ইমাম আবু মুহাম্মাদ-এর রচনাবলী ও তাঁর সকল বর্ণনা সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তাঁরা বলেন: আহলে হাদিসের মাযহাব অনুযায়ী জামাতের বিচারক আবু আল-কাসিম আহমদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে বাকী (হা)(১) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। এবং হাফিয বিচারক আবু আলী আল-হাসান ইবনে আব্দুল আযীয ইবনে আবিল আহওয়াসও ইবনে বাকী থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:

খতীব ও বিচারক আবু আল-হাসান শুরাইহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে শুরাইহ আর-রুআইনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আর তিনিই তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনাকারী সর্বশেষ ব্যক্তি। তিনি বলেন: আবু মুহাম্মাদ আলী ইবনে আহমদ ইবনে সাঈদ ইবনে হাযম (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।

যে মূল পান্ডুলিপি থেকে আমি এটি নকল করেছি, তার শুরুতে ছিল:

«আন্দালুসের হিমস থেকে বিচারক আবু আল-হাসান শুরাইহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে শুরাইহ আর-রুআইনী আমাকে লিখেছেন, তিনি বলেন: হাফিয আবু মুহাম্মাদ আলী ইবনে আহমদ ইবনে সাঈদ ইবনে হাযম আজ-জহিরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মিশরে আবু মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মারযুক আল-ইয়াহসুবী আল-আন্দালুসীর নিকট পাঠ করেছি, তিনি আবু বকর আব্দুল বাকী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে বিরিয়াল আল-হাজ্জারী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন:»

--------------------------------------------

(১) «হা» হলো «তাহওয়ীল» (পরিবর্তন) শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। এটি মুহাদ্দিসগণের ব্যবহৃত একটি পরিভাষা, যা তাঁরা সনদের শুরু থেকে অন্য সনদে রূপান্তর বা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে ব্যবহার করেন।
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌باب نسب رسول الله صلى الله عليه وسلم (1)

هو أبو القاسم محمد بن عبد الله بن عبد المطلب - واسمه شيبة الحمد - ابن هاشم، - واسمه عمرو - بن عبد مناف - واسمه المغيرة - ابن قصى - واسمه زيد - بن كلاب بن مرة بن كعب بن لؤيّ بن غالب بن فهر بن مالك بن النضر بن كنانة بن خزيمة بن مدركة بن إلياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان.

هاهنا انتهى النسب الصحيح الذي لا شك فيه.

وعدنان بلا شك من ولد إسماعيل الذبيح.(2) رسول الله، ابن إبراهيم خليل الله ورسوله، صلى الله على سيدنا محمد، وعليهما وعلى جميع رسله وأنبيائه.

وفى عبد المطلب يجتمع معه عليه السلام: بنو على، وجعفر، وعقيل - بنى أبى طالب -، وبنو العباس، وبنو الحارث، وبنو أبى لهب

وفى عبد مناف يجتمع معه: بنو أمية، وسائر بنى عبد شمس، وبنو المطلب، وبنو نوفل.

وفى قصى يجتمع معه: بنو عبد العزى، وبنو عبد الدار، الذين منهم حجبة الكعبة.

وفى كلاب يجتمع معه: بنو زهرة، وأمه منهم، وهى آمنة بنت وهب.

ابن عبد مناف بن زهرة.

--------------------------------------------

(1) انظر نسبه فى زاد المعاد ج 1 وابن كثير.

(2) الذبيح: سمى بهذا الاسم تأكيدا لقوله تعالى فى سورة الصافات الآية 102: (يا بنى إنى أرى فى المنام أنى أذبحك … ).
‌আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশপরিচয় অধ্যায় (১)

তিনি হলেন আবুল কাসেম মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব - যাঁর নাম ছিল শায়বাতুল হামদ - ইবনে হাশেম - যাঁর নাম ছিল আমর - ইবনে আবদে মানাফ - যাঁর নাম ছিল আল-মুগীরা - ইবনে কুসাই - যাঁর নাম ছিল যায়েদ - ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে আন-নাদর ইবনে কিনানা ইবনে খুযাইমা ইবনে মুদরিকাহ ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিযার ইবনে মা'দ ইবনে আদনান।

এখানেই সহীহ বংশধারা সমাপ্ত হয়েছে যা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

আর আদনান নিঃসন্দেহে যবীহুল্লাহ আল্লাহর রাসূল ইসমাইল (২)-এর বংশধর, যিনি আল্লাহর খলীল ও তাঁর রাসূল ইব্রাহীমের পুত্র। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁদের উভয়ের উপর এবং তাঁর সকল রাসূল ও নবীগণের উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

আব্দুল মুত্তালিবে তাঁর (আলাইহিস সালাম) সাথে মিলিত হয়েছেন: আলীর বংশধরগণ, জা'ফর এবং আকীল - আবু তালিবের পুত্রগণ -, আব্বাসের বংশধরগণ, হারিসের বংশধরগণ এবং আবু লাহাবের বংশধরগণ।

আবদে মানাফে তাঁর সাথে মিলিত হয়েছেন: উমাইয়া বংশীয়রা, আবদে শামসের অবশিষ্ট সকল বংশধরগণ, মুত্তালিবের বংশধরগণ এবং নওফলের বংশধরগণ।

কুসাই-এ তাঁর সাথে মিলিত হয়েছেন: আব্দুল উজ্জার বংশধরগণ এবং আবদুদ দারের বংশধরগণ, যাঁদের মধ্যে কাবার চাবিবাহক ও রক্ষীবৃন্দ ছিলেন।

কিলাব-এ তাঁর সাথে মিলিত হয়েছে: বনু যুহরাহ, আর তাঁর মাতা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি হলেন আমিনা বিনতে ওয়াহাব।

ইবনে আবদে মানাফ ইবনে যুহরাহ।

--------------------------------------------

(১) তাঁর বংশপরিচয় দেখুন যাদুল মা'আদ ১ম খণ্ড এবং ইবনে কাসীরে।

(২) আয-যবীহ: এই নামে নামকরণ করা হয়েছে সূরা আস-সাফফাতের ১০২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণীর সত্যতা নিশ্চিত করতে: (হে প্রিয় বৎস! আমি স্বপ্নে দেখছি যে, আমি তোমাকে যবেহ করছি...)।
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
وفى مرة يجتمع معه: بنو تميم بن مرة، وبنو مخزوم بن يقظة بن مرة.

وفى كعب يجتمع معه: بنو عدى، وبنو جمح، وبنو سهم.

وفى لؤيّ يجتمع معه: بنو عامر بن لؤيّ.

وفى غالب يجتمع معه: بنو تيم الأدرم.

وفى فهر يجتمع معه: بنو الحارث، وبنو محارب. وفهو هذا: هو أبو قريش كلها، من لم يكن من ولده فلا نسب له فى قريش، ومن كان من ولد فهر فهو قرشى.

وفى كنانة يجتمع معه: كل من ينتمى إلى كنانة من بنى عبد مناة، وملك، وملكان، وحدال، وعمرو بن كنانة.

وفى خزيمة يجتمع معه: بنو أسد، والقارة، وهم بنو الهون بن خزيمة.

وفى مدركة يجتمع معه: بنو هذيل.

وفى إلياس يجتمع معه: بنو تميم وإخوتهم، وبنو ضبة، ومزينة، والرباب، وخزاعة، وأسلم. فأما الرباب فهم: تيم، وعدى، وثور، وعكل.

وفى مضر يجتمع معه: قبائل قيس كلها: سليم، ومازن، وفزارة، وعبس، وأشجع، ومرة، وسائر بنى ذبيان، وغطفان؛ وعقيل، وقشير، والحريش، وجعدة، والعجلان، وكلاب، والبكاء، وهلال، وسواءة، وبنو جشم، وبنو نصر، وثقيف، وسعد، وسائر هوازن، ومحارب، وعدوان، وفهم، وباهلة، وغنى، والطفاوة، وسائر قيس.

وفى نزار يجتمع معه: قبائل ربيعة، كبكر، وتغلب، وعنز - بنى وائل، وعبد القيس وقبائلها، وعنزة، والنمر بن قاسط.
এবং মুররাহ-তে তাঁর সাথে মিলিত হয়েছে: বনু তামীম ইবনে মুররাহ এবং বনু মাখযূম ইবনে ইয়াকাজাহ ইবনে মুররাহ।

এবং কাব-এ তাঁর সাথে মিলিত হয়েছে: বনু আদী, বনু জুমাহ এবং বনু সাহম।

এবং লুআই-তে তাঁর সাথে মিলিত হয়েছে: বনু আমির ইবনে লুআই।

এবং গালিব-এ তাঁর সাথে মিলিত হয়েছে: বনু তাইম আল-আদরাম।

এবং ফিহর-এ তাঁর সাথে মিলিত হয়েছে: বনু আল-হারিস এবং বনু মুহারিব। আর এই ফিহর হলেন সমগ্র কুরাইশের আদি পিতা; যে তাঁর বংশধর নয়, কুরাইশ বংশে তার কোনো বংশতালিকাগত স্থান নেই, আর যে ফিহরের বংশধর, সেই কুরাইশী।

এবং কিনানাহ-তে তাঁর সাথে মিলিত হয়েছে: বনু আবদ মানাত, মালিক, মিলকান, হিদাল এবং আমর ইবনে কিনানাহ-এর মধ্য থেকে যারা কিনানাহর সাথে সম্বন্ধযুক্ত তারা সকলেই।

এবং খুযাইমাহ-তে তাঁর সাথে মিলিত হয়েছে: বনু আসাদ এবং আল-কারাহ; তারা হলো বনু আল-হূন ইবনে খুযাইমাহ।

এবং মুদরিকাহ-তে তাঁর সাথে মিলিত হয়েছে: বনু হুযাইল।

এবং ইলিয়াস-এ তাঁর সাথে মিলিত হয়েছে: বনু তামীম ও তাদের ভ্রাতৃবৃন্দ, বনু দাব্বাহ, মুযাইনাহ, আল-রিবাব, খুযাআহ এবং আসলাম। আর আল-রিবাব হলো: তাইম, আদী, সাওর এবং উকল।

এবং মুদার-এ তাঁর সাথে মিলিত হয়েছে: কাইস-এর সকল গোত্র: সুলাইম, মাযিন, ফাযারাহ, আবস, আশজা, মুররাহ এবং বনু জুবইয়ান-এর অবশিষ্টাংশ, গাতাফান; এবং উকাইল, কুশাইর, আল-হারীশ, জাদাহ, আল-আজলান, কিলাব, আল-বাক্কা, হিলাল, সাওয়াআহ, বনু জুশাম, বনু নাসর, সাকিফ, সাদ এবং হাওয়াযিন-এর অবশিষ্টাংশ, মুহারিব, আদওয়ান, ফাহম, বাহিলাহ, গানি, আল-তাফাওয়াহ এবং কাইসের অন্যান্য সকল শাখা।

এবং নিযার-এ তাঁর সাথে মিলিত হয়েছে: রাবিআহ-র গোত্রসমূহ, যেমন বকর, তাগলিব এবং আনয—বনু ওয়াইল, আবদ আল-কাইস ও তার গোত্রসমূহ, আনযাহ এবং আল-নামির ইবনে কাসিত।
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وفى معد يجتمع معه: إياد، بلا شك.

وفى عدنان يجتمع معه: بنوعك، وغافق.

وفى إبراهيم الخليل عليه الصلاة والسلام، يجتمع معه: بنو إسرائيل، ومن عرف نسبه من بنى عيصاد بن إسحاق أخى يعقوب، وذلك لا يوجد اليوم.

وأما قضاعة وقبائل قحطان، وهم أهل اليمن، فالله أعلم بتشعبهم، إلا أنهم يجتمعون معه فى نوح، بلا شك، وبالله تعالى التوفيق.

 

‌‌مولده ومبعثه وسنه ووفاته صلى الله عليه وسلم

ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم بمكة، وعاش يتيما، إذ مات أبوه وهو عليه السلام لم يكمل له ثلاث سنين(1)، وماتت أمه وهو لم يستكمل سبع سنين.

وكفله جده عبد المطلب، ومات عبد المطلب ولرسول الله صلى الله عليه وسلم ثمانى سنين.

ثم كفله عمه أبو طالب، وكان به رفيقا، وقد خفف الله تعالى بذلك من عذابه، فهو أخف أهل النار عذابا.

وأتته عليه السلام النبوة من عند الله عز وجل، وهو فى غار حراء، وهو عليه السلام ابن أربعين سنة، فأقام بمكة ثلاث عشرة سنة، أسلم فيها رجال من أصحابه ونساء.

ثم هاجر إلى المدينة، إذ أكرم الله الأنصار رضوان الله عليهم بذلك، فأقام بالمدينة عشر سنين.

--------------------------------------------

(1) يرى بعض المؤرخين هذا والأرجح أن أباه مات وهو جنين فى بطن أمه.
মাআদের সাথে নিঃসন্দেহে ইয়াদ মিলিত হয়েছে।

আদনানের সাথে বনু উক্ক এবং গাফিক মিলিত হয়েছে।

এবং ইবরাহীম আল-খালীল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের সাথে বনী ইসরাঈল এবং ইয়াকূব (আলাইহিস সালাম)-এর ভাই ঈসাদ বিন ইসহাকের বংশধরদের মধ্যে যাদের বংশ পরিচয় জানা যায় তারা মিলিত হয়; আর বর্তমানে তাদের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।

আর কুদাআ ও কাহতান গোত্রসমূহের ক্ষেত্রে—যারা ইয়ামেনের অধিবাসী—তাদের শাখা-প্রশাখা সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন; তবে তারা নিঃসন্দেহে নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে মিলিত হয়। আর আল্লাহ তাআলাই তাওফীকদাতা।

 

‌‌রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম, নবুওয়াত লাভ, বয়স এবং ওফাত

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং এতিম হিসেবে জীবন অতিবাহিত করেন। যখন তার পিতার মৃত্যু হয় তখন তার বয়স পূর্ণ তিন বছর হয়নি(১), এবং যখন তার মায়ের মৃত্যু হয় তখন তার বয়স পূর্ণ সাত বছর হয়নি।

অতঃপর তার দাদা আব্দুল মুত্তালিব তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং আব্দুল মুত্তালিবের যখন মৃত্যু হয় তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বয়স ছিল আট বছর।

এরপর তার চাচা আবু তালিব তার দায়িত্ব নেন এবং তিনি তার প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন। আল্লাহ তাআলা এর কারণে তার আযাব লাঘব করেছেন; ফলে তিনি জাহান্নামীদের মধ্যে সবচাইতে হালকা আযাবপ্রাপ্ত।

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পক্ষ থেকে তার কাছে নবুওয়াত আসল হেরা গুহায় অবস্থানকালে, তখন তার বয়স ছিল চল্লিশ বছর। তিনি মক্কায় তেরো বছর অবস্থান করেন, এই সময়ে তার সাহাবীদের মধ্য থেকে পুরুষ ও মহিলারা ইসলাম গ্রহণ করেন।

অতঃপর তিনি মদীনায় হিজরত করেন, যার মাধ্যমে আল্লাহ আনসারদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সম্মানিত করেছেন। তিনি মদীনায় দশ বছর অবস্থান করেন।

--------------------------------------------

(১) কোনো কোনো ঐতিহাসিক এমনটি মনে করেন, তবে অধিক সঠিক মত হলো যে, তিনি যখন তার মায়ের গর্ভে ছিলেন তখনই তার পিতার মৃত্যু হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
مات عليه السلام بها، وقبره فيها، فى المسجد، فى بيته الذي كان بيت عائشة أم المؤمنين رضوان الله عليها، وفيه دفن صلى الله عليه وسلم.

ابتدأه وجعه فى بيت عائشة، واشتد أمره فى بيت ميمونة أم المؤمنين رضوان الله عليها، فمرض فى بيت عائشة بإذن نسائه، رضوان الله عليهن، بذلك.

وصلى الناس عليه أفذاذا(1)، وكفن فى ثلاثة أثواب بيض سحولية قطنية، ليس فيها قميص ولا سراويل ولا عمامة؛ ولحد له فى قبره، وهو الحفرة تحت جرف القبر.

وتولى غسله على والعباس عمه، والفضل، وقثم، ابنا العباس، وأسامة بن زيد مولاه، وشقران مولاه أيضا، رضي الله عنهم.

ودخل فى قبره على بن أبى طالب رضوان الله عليه، والفضل، وقثم، وشقران، وقيل: أوس بن خولى الأنصاري.

وقد قيل: إن المغيرة بن شعبة نزل فى قبره بحيلة.

وسجى ببرد حبرة، ووضعت فى قبره قطيفة كان يتغطاها.

ومات وله ثلاث وستون سنة - ولد ليوم الاثنين، لثمان بقين من ربيع الأول، ونبى يوم الاثنين لأيام خلت من ربيع الأول، وهاجر يوم الاثنين، لأيام خلت لربيع. ومات صلى الله عليه وسلم يوم الاثنين لثمان خلون لربيع الأول؛ وقد قيل غير ذلك.

ولم يختلف فى أنه عليه السلام مات يوم الاثنين ودفن ليلة الأربعاء، وقيل: يوم الثلاثاء.

--------------------------------------------

(1) أفذاذا: فرادى ليس لهم إمام.
তিনি (আলাইহিস সালাম) সেখানেই ইন্তেকাল করেছেন এবং সেখানেই তাঁর কবর; মসজিদের ভেতরে, তাঁর সেই ঘরে যা উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘর ছিল এবং সেখানেই তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাফন করা হয়েছে।

তাঁর অসুস্থতা আয়িশাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরে শুরু হয়েছিল এবং উম্মুল মুমিনীন মায়মূনাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরে তা তীব্রতর হয়েছিল। অতঃপর তিনি তাঁর অন্যান্য স্ত্রীদের (রাযিয়াল্লাহু আনহুন্ন) সম্মতিক্রমে আয়িশাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরেই অবস্থান করে অসুস্থতা অতিবাহিত করেন।

মানুষ এককভাবে তাঁর জানাযার সালাত আদায় করেন(১)। তাঁকে তিনটি সাদা সুতী সাহুলী কাপড়ে কাফন দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে কোনো জামা, পায়জামা বা পাগড়ি ছিল না। তাঁর জন্য কবরে লাহাদ (পার্শ্ব-খাত) তৈরি করা হয়েছিল, যা হলো কবরের তলদেশের একদিকের গর্ত।

তাঁর গোসলের দায়িত্ব পালন করেন আলী, তাঁর চাচা আব্বাস, আব্বাসের দুই পুত্র ফযল ও কুসাম, তাঁর মুক্তদাস উসামাহ বিন যায়েদ এবং তাঁর অপর মুক্তদাস শুকরান (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)।

তাঁর কবরে নেমেছিলেন আলী বিন আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু), ফযল, কুসাম এবং শুকরান। বলা হয়ে থাকে যে, আউস বিন খাওলী আনসারীও নেমেছিলেন।

আরও বলা হয়েছে যে, মুগীরাহ বিন শু'বাহ কোনো এক কৌশলে তাঁর কবরে নেমেছিলেন।

তাঁকে একটি নকশা করা ইয়ামানি চাদর (হিবারাহ) দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁর কবরে একটি মখমলের চাদর রাখা হয়েছিল যা তিনি গায়ে দিতেন।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল তেষট্টি বছর। তিনি সোমবার জন্মগ্রহণ করেছিলেন যখন রবিউল আউয়াল মাসের আট দিন বাকি ছিল। রবিউল আউয়াল মাসের কয়েক দিন অতিবাহিত হওয়ার পর এক সোমবারে তিনি নবুয়ত লাভ করেন এবং এক সোমবারেই হিজরত করেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সোমবার ইন্তেকাল করেন যখন রবিউল আউয়াল মাসের আট দিন অতিবাহিত হয়েছিল; এ বিষয়ে অন্য মতও বর্ণিত হয়েছে।

তিনি (আলাইহিস সালাম) যে সোমবার ইন্তেকাল করেছেন এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই, তবে তাঁকে বুধবার রাতে দাফন করা হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন মঙ্গলবার।

--------------------------------------------

(১) এককভাবে: অর্থাৎ পৃথক পৃথকভাবে, তাঁদের কোনো ইমাম ছিল না।
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وكانت علته اثنى عشر يوما، وقيل: أربعة عشر يوما، ابتدأ به صداع وتمادى به، وكان ينفث فى علته شيئا يشبه نفث آكل الزبيب.

ومات بعد أن خيره الله عز وجل بين البقاء فى الدنيا ولقاء ربه عز وجل فاختار عليه السلام لقاء ربه تعالى.

 

‌‌أعلام رسول الله صلى الله عليه وسلم (1)

1 - منها القرآن، الذي دعا العرب وغيرهم - مذ بعثه الله عز وجل، قرنا قرنا إلى يومنا هذا، وإلى يوم القيامة - إلى أن يأتوا بمثله إن شكوا فى صدقه، فأعجز الله تعالى عن ذلك جميع البلغاء، ومنع الجن عن ذلك وغيرهم، قال تعالى: {وَ إِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمّا نَزَّلْنا عَلى عَبْدِنا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ وَ اُدْعُوا شُهَداءَكُمْ مِنْ دُونِ اللهِ إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ}(2) وقال تعالى:

{أَمْ يَقُولُونَ اِفْتَراهُ قُلْ فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِثْلِهِ وَ اُدْعُوا مَنِ اِسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللهِ إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ}(3).

2 - وشق الله تعالى له القمر بمكة، إذ سألته قريش آية، فأنزل الله تعالى فى ذلك: {اِقْتَرَبَتِ السّاعَةُ وَ اِنْشَقَّ الْقَمَرُ * وَ إِنْ يَرَوْا آيَةً يُعْرِضُوا وَ يَقُولُوا سِحْرٌ مُسْتَمِرٌّ}(4).

3 - وأطعم النفر الكثير فى منزل جابر، وفى منزل أبى طلحة يوم الخندق:

--------------------------------------------

(1) أعلام: أى علامات النبوة، وهى المعجزات.

(2) سورة البقرة الآية 22.

(3) سورة يونس الآية 38.

(4) سورة القمر الآيتان 1، 2.
তাঁর অসুস্থতা ছিল বারো দিন, আর বলা হয়েছে: চৌদ্দ দিন। এটি শুরু হয়েছিল মাথাব্যথা দিয়ে এবং তা অব্যাহত ছিল। তিনি তাঁর অসুস্থতায় কিশমিশ ভক্ষণকারীর থুথু ফেলার মতো কিছু একটা ফেলছিলেন।

আর তিনি ইন্তেকাল করেন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁকে দুনিয়াতে অবস্থান করা এবং তাঁর রব আযযা ওয়া জাল্লার সাথে সাক্ষাতের মধ্যে ইখতিয়ার (পছন্দ) দেওয়ার পর। ফলে তিনি (আলাইহিস সালাম) তাঁর মহান রবের সাথে সাক্ষাৎকেই বেছে নেন।

 

‌‌রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিদর্শনসমূহ (১)

১ - এর মধ্যে রয়েছে কুরআন, যার মাধ্যমে তিনি আরব ও অন্যদের দাওয়াত দিয়েছেন—যেদিন থেকে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁকে পাঠিয়েছেন, যুগ যুগ ধরে আমাদের এই দিন পর্যন্ত এবং কিয়ামত পর্যন্ত—এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার জন্য যদি তারা এর সত্যতায় সন্দেহ পোষণ করে। ফলে আল্লাহ তাআলা সমস্ত অলংকারিকদের এ বিষয়ে অক্ষম করে দিয়েছেন এবং জিন ও অন্যদের এ থেকে বিরত রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি, তাতে যদি তোমরা সন্দেহের মধ্যে থাকো, তবে তার মতো একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাক্ষীদের আহ্বান করো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও}(২) আর আল্লাহ তাআলা বলেন:

{নাকি তারা বলে যে, সে এটি রচনা করেছে? বলো, তবে তোমরা এর মতো একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও}(৩)।

২ - এবং আল্লাহ তাআলা মক্কায় তাঁর জন্য চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করেছিলেন, যখন কুরাইশরা তাঁর কাছে নিদর্শন দাবি করেছিল। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন: {কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছে। আর তারা যদি কোনো নিদর্শন দেখে তবে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, 'এ তো এক চলমান যাদু'}(৪)।

৩ - আর তিনি খন্দকের যুদ্ধের দিন জাবিরের ঘরে এবং আবু তালহার ঘরে এক বিশাল জনসমষ্টিকে আহার করিয়েছেন:

--------------------------------------------

(১) আলাম: অর্থাৎ নবুওয়তের নিদর্শনাবলী, আর তা হলো মুজিযাসমূহ।

(২) সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৩ (মূল পাঠে ২২ আছে)।

(৩) সূরা ইউনুস, আয়াত ৩৮।

(৪) সূরা আল-কামার, আয়াত ১-২।
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
مرة ثمانين رجلا من أربعة أمداد من شعير وعناق.

ومرة أكثر من ذلك، من أقراص من شعير، حملها أنس بن مالك فى يده.

ومرة أطعم جميع الجيش، وهم تسعمائة، من تمر يسير أتت به ابنة بشير بن سعد فى يدها، فأكلوا منه حتى شبعوا، وفضلت منه فضلة.

4 - ونبع الماء من بين أصابعه، فشرب منه العسكر كلهم وهم عطاش، وتوضئوا كلهم، كل ذلك من قدح صغير ضاق عن أن يبسط فيه صلى الله عليه وسلم يده المكرمة.

وأهراق(1) من وضوئه فى عين تبوك، ولا ماء فيها، ومرة أخرى فى بئر الحديبية، فجاشتا بالماء، فشرب من عين تبوك أهل الجيش، وهم ألوف، حتى رووا كلهم، وفاضت إلى يوم القيامة. وشرب من بئر الحديبية ألف وأربعمائة، حتى رووا كلهم، ولم يكن فيها قبل ذلك ماء.

5 - وأمر عليه السلام عمر بن الخطاب رضوان الله عليه أن يزود أربعمائة راكب من تمر كان فى اجتماعه كربضة البعير، فزودهم كلهم منه، وبقى بجثته كما كان.

6 - ورمى الجيش بقبضة من تراب، فعميت عيونهم، ونزل بذلك القرآن فى قوله تعالى: {وَما رَمَيْتَ إِذْ رَمَيْتَ وَلكِنَّ اللهَ رَمى}(2)

7 - وأبطل عز وجل الكهانة بمبعثه، فانقطعت، وكانت ظاهرة موجودة.

--------------------------------------------

(1) أهراق أى صب من ماء وضوئه فى البئر فغاض ماءها.

(2) سورة الأنفال الآية 17.
একবার চার মুদ যব এবং একটি বকরির বাচ্চা থেকে আশি জন লোক আহার করেন।

আরেকবার এর চেয়েও বেশি সংখ্যক লোক যবের রুটি থেকে আহার করেন, যা আনাস ইবনে মালিক তাঁর হাতে বহন করেছিলেন।

অন্য এক সময়ে তিনি পুরো বাহিনীকে আহার করান, যাঁদের সংখ্যা ছিল নয়শ জন; তাঁরা সামান্য কিছু খেজুর থেকে আহার করেন যা বশীর ইবনে সাআদ-এর কন্যা তাঁর হাতে করে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁরা তা থেকে তৃপ্তিসহকারে আহার করেন এবং তারপরও কিছু অবশিষ্ট থেকে যায়।

4 - তাঁর আঙুলসমূহের মাঝখান থেকে পানি প্রবাহিত হয়েছিল, ফলে তৃষ্ণার্ত থাকা সত্ত্বেও পুরো সৈন্যবাহিনী তা থেকে পান করেন এবং সকলে অজু করেন। এই সবকিছুই ঘটেছিল একটি ছোট পাত্র থেকে, যা এতটাই সংকীর্ণ ছিল যে তাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সম্মানিত হাত প্রসারিত করতে পারছিলেন না।

তিনি তাঁর অজুর পানি(1) তাবুকের একটি ঝর্ণায় ঢেলে দেন, যাতে কোনো পানি ছিল না। অন্য একবার হুদায়বিয়ার কূপেও তা করেন। ফলে উভয়টি পানিতে উথলে ওঠে। তাবুকের ঝর্ণা থেকে সৈন্যবাহিনীর হাজার হাজার সদস্য পান করেন এবং সকলে তৃপ্ত হন; সেই ঝর্ণার পানি কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে। আর হুদায়বিয়ার কূপ থেকে চৌদ্দশ জন লোক পান করেন এবং সকলে তৃপ্ত হন, অথচ এর আগে তাতে কোনো পানি ছিল না।

5 - তিনি (আলাইহিস সালাম) উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে নির্দেশ দেন চারশ আরোহীকে খেজুরের রসদ সরবরাহ করতে, যা স্তূপীকৃত অবস্থায় একটি উটের বসার স্থানের মতো ছিল। তিনি তাঁদের সকলকেই তা থেকে রসদ দেন, অথচ খেজুরের স্তূপটি আগের মতোই অক্ষুণ্ণ রয়ে যায়।

6 - তিনি শত্রুবাহিনীর দিকে এক মুষ্ঠি মাটি নিক্ষেপ করেন, ফলে তাদের চোখ অন্ধ হয়ে যায়। এই প্রসঙ্গে কুরআন অবতীর্ণ হয় মহান আল্লাহর বাণীতে: {আর আপনি যখন নিক্ষেপ করেছিলেন, তখন আপনি নিক্ষেপ করেননি বরং আল্লাহই নিক্ষেপ করেছেন।}(2)

7 - মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাঁর প্রেরণের মাধ্যমে গণকগিরিকে বাতিল করে দেন, ফলে তা বন্ধ হয়ে যায়, অথচ তা পূর্বে একটি প্রকাশ্য ও বিদ্যমান প্রথা ছিল।

--------------------------------------------

(1) 'আহরাকা' অর্থাৎ তিনি তাঁর অজুর পানি কূপে ঢেলে দেন এবং এর পানি প্রবাহিত হয়।

(2) সূরা আল-আনফাল, আয়াত ১৭।
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
8 - وحن إليه الجذع الذي كان يخطب إليه، إذ عمل له المنبر، حتى سمع منه جميع الحاضرين مثل صوت الإبل، فضمه إليه، فسكن.

وموضع الجذع معروف إلى اليوم، موقف عليه.

9 - ودعا اليهود إلى تمنى الموت، وأخبرهم أنهم لا يتمنونه، فحيل بينهم وبين النطق بذلك، وهذا منصوص فى القرآن.

10 - وأخبر بالغيوب.

وأنذر بأن عمار تقتله الفئة الباغية.

وأن عثمان رضي الله عنه تصيبه بلوى وله الجنة.

وأن الحسن بن على رضوان الله عليهما سيد يصلح الله به بين فئتين.

عظيمتين من المسلمين، فكان كل ذلك.

وأخبر عن رجل قاتل فى سبيل الله عز وجل بأنه من أهل النار، فظهر ذلك، بأن ذلك الرجل قتل نفسه.

وهذه الأشياء لا تعرف البتة بشيء من وجوه تقدمة المعرفة، لا بنجوم، ولا بكتف، ولا بخط، ولا بزجر.

11 - واتبعه سراقة بن مالك بن جعشم، فساخت قدما فرسه فى الأرض، ثم أخرجهما وأتبعه دخان، حتى استعاذه سراقة، فدعا له، فانطلقت الفرس.

12 - وأنذر بأن ستوضع فى ذراعيه سوار كسرى، فكان كذلك.

13 - وأخبر بقتل الأسود العنسى الكذاب ليلة قتله، وهو بصنعاء اليمن، وأخبر بمن قتله.
8 - সেই খেজুর গাছের কাণ্ডটি তাঁর বিরহে ক্রন্দন করেছিল যার ওপর ভর দিয়ে তিনি খুতবা দিতেন, যখন তাঁর জন্য মিম্বর তৈরি করা হয়েছিল। এমনকি উপস্থিত সকলেই সেই কাণ্ড থেকে উটের ন্যায় শব্দ শুনতে পেয়েছিল। অতঃপর তিনি সেটিকে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরলেন, তখন সেটি শান্ত হলো।

সেই কাণ্ডের স্থানটি আজ পর্যন্ত পরিচিত, সেখানে একটি বিশেষ চিহ্ন বা স্থান নির্ধারিত রয়েছে।

9 - তিনি ইহুদিদেরকে মৃত্যু কামনা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং তাদের সংবাদ দিয়েছিলেন যে তারা কখনোই তা কামনা করবে না। ফলে তাদের ও সেই কথা উচ্চারণের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল; আর এটি কুরআনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত রয়েছে।

10 - তিনি অদৃশ্যের সংবাদ প্রদান করেছিলেন।

তিনি সতর্ক করেছিলেন যে আম্মারকে একটি বিদ্রোহী দল হত্যা করবে।

আর উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এক বিপদে পতিত হবেন এবং তাঁর জন্য জান্নাত রয়েছে।

আর হাসান বিন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) একজন নেতা, যার মাধ্যমে আল্লাহ মুসলিমদের দুটি বিশাল দলের মধ্যে মীমাংসা করে দেবেন; আর এর সবই বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

তিনি এক ব্যক্তি সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছিলেন যে মহান আল্লাহর পথে লড়াই করছিল, যে সে জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত। পরবর্তীতে তা প্রকাশ পেল এভাবে যে, সেই ব্যক্তিটি আত্মহত্যা করেছিল।

আর এই বিষয়গুলো পূর্বজ্ঞানের কোনো সাধারণ মাধ্যমেই জানা সম্ভব নয়; নক্ষত্রবিদ্যার মাধ্যমে নয়, কাঁধের হাড় দেখে নয়, রেখা টেনে ভাগ্য গণনা করে নয়, আর পাখি উড়িয়ে লক্ষণ বিচার করেও নয়।

11 - সুরাকা বিন মালিক বিন জু’শুম তাঁর অনুসরণ করেছিল, তখন তার ঘোড়ার পা দুটি মাটিতে দেবে গেল। অতঃপর সে পা দুটি বের করল এবং তার পিছু পিছু ধোঁয়া বের হলো। এমনকি সুরাকা তাঁর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করল, তখন তিনি তার জন্য দুআ করলেন এবং ঘোড়াটি সচল হলো।

12 - তিনি এই মর্মে সংবাদ দিয়েছিলেন যে অচিরেই তার দুই হাতে পারস্য সম্রাট কিসরার কঙ্কণ পরানো হবে; আর তা-ই ঘটেছিল।

13 - তিনি মিথ্যাবাদী আসওয়াদ আনসির হত্যার সংবাদ দিয়েছিলেন ঠিক সেই রাতে যখন তাকে হত্যা করা হয়েছিল, অথচ সে ছিল ইয়ামেনের সান’আয়; এবং কে তাকে হত্যা করেছে তার সংবাদও তিনি দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
14 - وأنذر بموت النجاشى، وبينه وبينه البحر الملح، ومسيرة أيام فى البر، وخرج هو وجميع أصحابه إلى البقيع، فصلوا عليه فوجد قد مات ذلك اليوم، إذ ورد الخبر بذلك.

15 - وخرج من بيته على مائة من قريش ينتظرونه ليقتلوه بزعمهم، فوضع التراب على رءوسهم، ولم يروه.

16 - وشكا إليه البعير بحضرة أصحابه وتذلل له.

17 - وقال لنفر من أصحابه: أحدكم فى النار ضرسه مثل أحد، فماتوا كلهم على الإسلام وارتد منهم واحد: وهو الرحال الحنفى، فقتل مرتدا مع مسيلمة الكذاب، لعنهما الله تعالى.

18 - وقال لآخرين منهم: آخركم موتا فى النار، فسقط آخرهم موتا فى النار، فاحترق فمات.

19 - ودعا شجرتين فأتتاه فاجتمعتا، ثم أمرهما فافترقتا.

20 - وكان صلوات الله وسلامه عليه نحو الربعة، فإذا مشى مع الطوال طالهم.

21 - ودعا النصارى إلى المباهلة بالتلاعن، فامتنعوا، وأخبر أنهم إن فعلوا ذلك هلكوا كلهم، فعلموا صحة قوله، فامتنعوا.

22 - وأتاه عامر بن الطفيل بن مالك بن جعفر بن كلاب بن ربيعة ابن عامر بن صعصعة، وأربد بن قيس بن جزء بن خالد بن جعفر بن كلاب، وهما فارسا العرب وفاتكاهم، عازمين على قتله، فحال الله بينهما وبين ذلك؛ وضرب بين أربد وبينه، صلى الله عليه وسلم، مرة بعامر، ومرة بسور،
১৪ - তিনি নাজ্জাশীর মৃত্যুর সংবাদ প্রদান করেছিলেন, অথচ তাঁর ও নাজ্জাশীর মাঝে ছিল লবণাক্ত সমুদ্র এবং স্থলপথে বহু দিনের পথ। তিনি ও তাঁর সকল সাহাবী বাকী'র দিকে বের হলেন এবং তাঁর জানাজা পড়লেন। পরবর্তীতে যখন এ সংক্রান্ত সংবাদ পৌঁছাল, তখন দেখা গেল যে তিনি সেই দিনই মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

১৫ - তিনি তাঁর ঘর থেকে একশ জন কুরাইশকে অতিক্রম করে বের হলেন যারা তাঁদের ধারণা অনুযায়ী তাঁকে হত্যা করার অপেক্ষায় ছিল। তিনি তাদের মাথায় মাটি নিক্ষেপ করলেন, অথচ তারা তাঁকে দেখতে পেল না।

১৬ - সাহাবীদের উপস্থিতিতে একটি উট তাঁর কাছে অভিযোগ পেশ করল এবং তাঁর সামনে বিনম্র হলো।

১৭ - তিনি তাঁর একদল সাহাবীকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন: "তোমাদের মধ্যে একজনের দাঁত জাহান্নামে ওহুদ পাহাড়ের সমান হবে।" অতঃপর তাঁদের সবাই ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করেন, তবে তাঁদের মধ্য থেকে একজন মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) হয়ে যায়; সে হলো রাজ্জাল আল-হানাফি। সে ভণ্ড মুসাইলামার সাথে মুরতাদ অবস্থায় নিহত হয়েছিল, আল্লাহ তাআলা তাদের উভয়ের ওপর লানত বর্ষণ করুন।

১৮ - তিনি তাঁদের মধ্য থেকে অন্য কয়েকজনকে বলেছিলেন: "তোমাদের মধ্যে যে সবার শেষে মৃত্যুবরণ করবে, সে জাহান্নামে যাবে।" অতঃপর তাদের মধ্যে যে সবার শেষে মারা গিয়েছিল, সে আগুনে পড়ে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করল।

১৯ - তিনি দুটি গাছকে আহ্বান করলেন, ফলে সেগুলো তাঁর কাছে এসে একত্রিত হলো। অতঃপর তিনি সেগুলোকে আদেশ দিলেন এবং তারা পরস্পর আলাদা হয়ে গেল।

২০ - আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক, তিনি মধ্যম গড়নের ছিলেন। তবে তিনি যখন দীর্ঘদেহী ব্যক্তিদের সাথে হাঁটতেন, তখন তিনি তাঁদের চেয়ে দীর্ঘ দেখাতেন।

২১ - তিনি খ্রিস্টানদের মুবাহালা তথা একে অপরকে অভিশাপ দেওয়ার মাধ্যমে সত্য নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছিলেন, কিন্তু তারা তা করতে অস্বীকৃতি জানাল। তিনি সংবাদ দিয়েছিলেন যে, তারা যদি তা করত তবে তারা সবাই ধ্বংস হয়ে যেত। তারা তাঁর কথার সত্যতা বুঝতে পেরেছিল, তাই তারা বিরত রইল।

২২ - তাঁর কাছে আমির ইবনে তুফাইল ইবনে মালিক ইবনে জাফর ইবনে কিলাব ইবনে রাবিয়াহ ইবনে আমির ইবনে সা’সা’আহ এবং আরবাদ ইবনে কাইস ইবনে জুয ইবনে খালিদ ইবনে জাফর ইবনে কিলাব আসল। তারা ছিল আরবের দুজন দক্ষ অশ্বারোহী ও দুর্ধর্ষ ঘাতক, যারা তাঁকে হত্যার সংকল্প করেছিল। কিন্তু আল্লাহ তাদের ও তাঁর সংকল্পের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং আরবাদের মাঝখানে একবার আমিরকে এবং একবার দেয়ালকে আড়াল হিসেবে রাখা হয়েছিল,
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
ودعا عليهما، فهلك عامر فى وجهه من منصرفه عنه عليه السلام، وأهلك أربد الصاعقة، أحرقته، لعنهما الله.

23 - وأخبر أنه يقتل أبى بن خلف الجمحى، فخدشه يوم أحد خدشا لطيفا، فكانت منيته منها.

24 - وأطعم السم، فمات من أكله معه لحينه، وعاش هو صلى الله عليه وسلم بعد ذلك بأربع سنين؛ وكلمه ذراع الشاة المسمومة بأنه مسموم.

25 - وأخبر أصحابه يوم بدر بمصارع صناديد قريش، ووقفهم على مصارعهم رجلا رجلا، فلم يتعد واحد منهم ذلك الموضع.

26 - وأنذر بأن طوائف من أمته يغزون فى البحر، وقال لأم حرام بنت ملحان: أنت منهم؛ فكانت منهم؛ وصح غزو طائفة من أمته فى البحر.

27 - وزويت(1) له الأرض، فأرى مشارقها ومغاربها، وأنذر ببلوغ ملك أمته ما زوى له منها، فكان ذلك؛ وبلغ ملكهم من أول المشرق إلى بلاد السند والترك إلى آخر المغرب من سواحل البحر المحيط بالأندلس وبلاد البربر، ولم يتسعوا فى الجنوب والشمال كل الاتساع، أعنى مثل اتساعهم شرقا وغربا، فكان كما أخبر سواء بسواء.

28 - وأخبر فاطمة ابنته رضوان الله عليها أنها أول أهله لحاقا به، فكان كذلك.

--------------------------------------------

(1) فرويت: أى طويت وتكشفت له.
তিনি তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করলেন। ফলে আমির তাঁর নিকট থেকে ফিরে যাওয়ার পথেই মৃত্যুবরণ করল। আর আরবিদকে বজ্রপাত ধ্বংস করল এবং তাকে পুড়িয়ে দিল। আল্লাহ তাদের ওপর অভিশাপ বর্ষণ করুন।

২৩ - তিনি সংবাদ দিয়েছিলেন যে, তিনি উবাই ইবনে খালাফ আল-জুমাহিকে হত্যা করবেন। ওহুদের দিন তিনি তাকে সামান্য একটু আঘাত করেছিলেন, আর তাতেই তার মৃত্যু হয়েছিল।

২৪ - তাঁকে বিষ মিশ্রিত খাবার খাওয়ানো হয়েছিল। তাঁর সাথে যারা সেই খাবার খেয়েছিলেন, তারা তৎক্ষণাৎ মারা গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরপরও চার বছর বেঁচে ছিলেন। বিষযুক্ত ছাগলের বাহুর মাংস তাঁর সাথে কথা বলে জানিয়েছিল যে, তাতে বিষ রয়েছে।

২৫ - তিনি বদর যুদ্ধের দিন তাঁর সাহাবীদের কুরাইশ নেতাদের নিহত হওয়ার স্থানগুলো সম্পর্কে জানিয়েছিলেন এবং প্রত্যেক ব্যক্তির নিহত হওয়ার জায়গায় তাঁদের দাঁড় করিয়ে দেখিয়েছিলেন। তাদের একজনও সেই নির্ধারিত স্থান অতিক্রম করতে পারেনি।

২৬ - তিনি সংবাদ দিয়েছিলেন যে, তাঁর উম্মতের একদল লোক সমুদ্রে যুদ্ধ করবে। তিনি উম্মে হারাম বিনতে মিলহানকে বলেছিলেন: আপনি তাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। পরবর্তীতে তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। আর তাঁর উম্মতের একদলের সমুদ্রে যুদ্ধ করার বিষয়টি বাস্তবায়িত হয়েছিল।

২৭ - তাঁর জন্য পৃথিবীকে সংকুচিত করা হয়েছিল। ফলে তিনি এর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তগুলো দেখতে পেয়েছিলেন। তিনি সংবাদ দিয়েছিলেন যে, তাঁর উম্মতের শাসনব্যবস্থা পৃথিবীর সেই সব স্থানে পৌঁছাবে যা তাঁর জন্য সংকুচিত করা হয়েছিল। বাস্তবে তা-ই হয়েছিল। তাদের রাজত্ব প্রাচ্যের শুরু থেকে সিন্ধু ও তুর্কি দেশসমূহ পর্যন্ত এবং প্রতীচ্যের শেষ প্রান্তে আন্দালুস ও বার্বার দেশগুলোর উপকূলীয় মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। তবে তারা দক্ষিণ ও উত্তর দিকে ততোটা বিস্তৃত হয়নি, যতটা পূর্ব ও পশ্চিম দিকে হয়েছিল। সুতরাং তিনি যেভাবে সংবাদ দিয়েছিলেন, ঠিক সেভাবেই ঘটেছিল।

২৮ - তিনি তাঁর কন্যা ফাতিমা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-কে জানিয়েছিলেন যে, তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম তাঁর সাথে মিলিত হবেন। বাস্তবে তা-ই ঘটেছিল।

--------------------------------------------

(১) সংকুচিত করা হয়েছে: অর্থাৎ গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁর নিকট উন্মোচিত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
29 - وأخبر نساءه رضوان الله عليهن بأن أطولهن يدا أسرعهن لحاقا به، فكانت زينب بنت جحش الأسدية أطولهن يدا بالصدقة، وأو لهن موتا بعده.

30 - ومسح ضرع شاة فدرت، فكان ذلك سبب إسلام عبد الله ابن مسعود. ومرة أخرى فى خيمتى. أم معبد الخزاعية.

31 - وندرت(1) عين بعض أصحابه، وهو قتادة، فسقطت، فردها، فكانت أصح عينيه وأحسنهما.

32 - وتفل فى عينى على رضوان الله عليه، وهو أرمد، يوم خيبر، فصح من حينه، ولم يرمد بعدها، وبعثه بالراية وقد قال: لا ينصرف حتى يفتح الله عليه، فكان كما قال، لم ينصرف كرم الله وجهه، إلا بالفتح.

33 - وكانوا يسمعون تسبيح الطعام بين يديه.

34 - وأصيبت رجل بعض أصحابه، فمسحها، فبرئت من حينها.

35 - وقل زاد جيش كان فيه، فدعا بجميع ما بقى من الزاد، فاجتمع منه شيء يسير جدا، فدعا عليه بالبركة، ثم أمرهم فأخذوا، فلم يبق وعاء فى العسكر إلا ملئ.

36 - وحكى الحكم بن أبى العاص مشيته مستهزئا، فقال له: كذلك فكن، فلم يزل يرتعش إلى أن مات.

--------------------------------------------

(1) نذرت: أى خرجت.
29 - তিনি তাঁর স্ত্রীদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সংবাদ দিয়েছিলেন যে, তাঁদের মধ্যে যাঁর হাত দীর্ঘতম, তিনি সবার আগে তাঁর সাথে মিলিত হবেন। দান-সদকার কারণে জয়নাব বিনতে জাহশ আল-আসাদিয়্যাহ ছিলেন তাঁদের মাঝে দীর্ঘতম হাতের অধিকারী এবং তাঁর ওফাতের পর স্ত্রীদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম মৃত্যুবরণ করেন।

30 - তিনি একটি বকরির ওলান স্পর্শ করলেন, ফলে তা দুধে ভরে গেল। আর এটাই ছিল আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের ইসলাম গ্রহণের কারণ। অনুরূপ আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল উম্মে মাবাদ আল-খুজাইয়্যাহর তাঁবুতে।

31 - তাঁর জনৈক সাহাবী—যিনি হলেন কাতাদাহ—তাঁর চোখ কোটরচ্যুত হয়ে বেরিয়ে এসেছিল এবং তা পড়ে গিয়েছিল; তিনি তা পুনরায় স্বস্থানে স্থাপন করে দিলেন, ফলে সেটিই তাঁর অধিক সুস্থ ও সুন্দর চোখে পরিণত হলো।

32 - খায়বারের যুদ্ধের দিন আলী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর চোখের পীড়া থাকা অবস্থায় তিনি তাঁর দুই চোখে থুতু দিলেন, ফলে তিনি তৎক্ষণাৎ সুস্থ হয়ে গেলেন এবং এরপর আর কখনো তাঁর চোখের পীড়া হয়নি। তিনি তাঁকে পতাকা দিয়ে পাঠালেন এবং বললেন: "আল্লাহ তাকে বিজয় দান না করা পর্যন্ত সে ফিরে আসবে না।" তিনি যেমনটি বলেছিলেন তেমনটিই হলো; আলী (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে সম্মানিত করুন) বিজয় লাভ না করে ফিরে আসেননি।

33 - সাহাবীগণ তাঁর সামনে খাবারের তাসবিহ পাঠের শব্দ শুনতে পেতেন।

34 - তাঁর জনৈক সাহাবীর পা আহত হয়েছিল, তিনি তাতে হাত বুলিয়ে দিলেন এবং তা তৎক্ষণাৎ আরোগ্য লাভ করল।

35 - তিনি যে সৈন্যবাহিনীতে ছিলেন, তাদের খাদ্যসামগ্রী ফুরিয়ে গিয়েছিল। তখন তিনি অবশিষ্ট সব খাদ্য আনতে বললেন, যা পরিমাণে ছিল অতি সামান্য। তিনি তাতে বরকতের দোয়া করলেন এবং এরপর সাহাবীগণকে তা নিতে নির্দেশ দিলেন। ফলে সেনাবাহিনীর এমন কোনো পাত্র অবশিষ্ট ছিল না যা পূর্ণ করা হয়নি।

36 - হাকাম ইবনুল আস বিদ্রূপের ছলে তাঁর হাঁটার ভঙ্গি অনুকরণ করেছিল। তখন তিনি তাকে বললেন: "তুমি এমনই থাকো।" এরপর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সে সবসময় কাঁপতে থাকত।

--------------------------------------------

(1) নাজারাত: অর্থাৎ বেরিয়ে এসেছিল।
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
37 - وخطب أمامة بنت الحارث بن عوف بن أبى حارثة بن مرة بن نشبة بن غيظ بن مرة بن عوف بن سعد بن ذبيان، وكان أبوها أعرابيا جافيا، سيد قومه، فقال: إن بها بياضا، وكانت العرب تكنى بهذا البرص، فقال له صلوات الله وسلامه عليه: لتكن كذلك؛ فبرصت من وقتها، وانصرف أبوها، فرأى ما حدث بها، فتزوجها ابن عمها، يزيد بن جمرة بن عوف ابن أبى حارثة، فولدت له الشاعر شبيب بن يزيد، وهو المعروف بابن البرصاء.

إلى غير ذلك من آياته ومعجزاته صلى الله عليه وسلم؛ وإنما أتينا بالمشهور المنقول تقل التواتر. وبالله التوفيق.

 

‌‌حجه صلى الله عليه وسلم وكم اعتمر فى الاسلام

حج صلى الله عليه وسلم واعتمر قبل النبوة وبعدها قبل الهجرة، حججا وعمرا لا يعرف عددا.

ولم يحج بعد أن هاجر إلى المدينة إلا حجة واحدة، وهى حجة الوداع، سنة عشر.

واعتمر بعد أن هاجر إلى المدينة عمرتين مفردتين، قصد لهما وأتمهما:

إحداهما: عمرة القضية، قصد لها من المدينة سنة سبع، فأتمها فى ذى القعدة؛ والأخرى: عمرته من الجعرانة، عام ثمان، إثر وقعة حنين فى ذى القعدة أيضا.

واعتمر عمرة ثالثة، قرنها مع حجته التي ذكرنا، قصد لهما من المدينة، أهل بهما فى ذى القعدة، وأتمهما فى ذى الحجة.
৩৭ - তিনি আল-হারিস বিন আউফ বিন আবি হারিসা বিন মুররাহ বিন নাশবাহ বিন গাইজ বিন মুররাহ বিন আউফ বিন সাদ বিন জুবইয়ান-এর কন্যা উমামাহ বিনতে আল-হারিসের বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার পিতা ছিল একজন রুক্ষ স্বভাবের মরুবাসী আরব এবং নিজ গোত্রের নেতা। সে বলল: "নিশ্চয়ই তার দেহে ধবল (সাদা দাগ) রয়েছে।" আরবরা শ্বেতী রোগ বোঝাতে এই শব্দটিকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করত। তখন তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—তিনি বললেন: "সে যেন তেমনই হয়।" ফলে তৎক্ষণাৎ সে শ্বেতী রোগে আক্রান্ত হলো। অতঃপর তার পিতা প্রস্থান করল এবং তার সাথে যা ঘটেছে তা দেখতে পেল। পরবর্তীতে তার চাচাতো ভাই ইয়াযিদ বিন জামরাহ বিন আউফ বিন আবি হারিসা তাকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে কবি শাবিব বিন ইয়াযিদ জন্মগ্রহণ করেন, যিনি 'ইবনুল বারসা' (শ্বেতী রোগাক্রান্তের সন্তান) নামে পরিচিত।

এ ছাড়াও তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও অনেক নিদর্শন ও মুজিজা রয়েছে। আমরা কেবল সেই সব প্রসিদ্ধ বিষয়গুলোই উল্লেখ করেছি যা প্রায় মুতাওয়াতির (অবিচ্ছিন্ন বর্ণনা) পর্যায়ের। আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক আসে।

 

‌‌তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হজ এবং ইসলামে তিনি কতবার উমরাহ করেছেন

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবুওয়াতের আগে এবং নবুওয়াতের পরে হিজরতের পূর্বে অসংখ্যবার হজ ও উমরাহ করেছেন যার সংখ্যা নিরূপণ করা সম্ভব নয়।

মদীনায় হিজরত করার পর তিনি দশম হিজরীতে কেবল একবারই হজ করেছেন, যা 'বিদায় হজ' নামে পরিচিত।

মদীনায় হিজরত করার পর তিনি স্বতন্ত্রভাবে দু'টি উমরাহ করার সংকল্প করেছিলেন এবং তা সম্পন্ন করেছিলেন:

এর মধ্যে একটি হলো: 'উমরাতুল কদা' (কাজাঁ উমরাহ), যার জন্য তিনি সপ্তম হিজরীতে মদীনা থেকে যাত্রা করেন এবং যিলকদ মাসে তা সম্পন্ন করেন। অন্যটি হলো: অষ্টম হিজরীতে হুনাইন যুদ্ধের পর যিলকদ মাসে 'জি'রানা' থেকে পালন করা উমরাহ।

তিনি তৃতীয় আরও একটি উমরাহ করেছিলেন যা তিনি আমাদের ইতিপূর্বে উল্লেখিত হজের সাথে একত্রে পালন করেন। সেটির জন্য তিনি মদীনা থেকে যাত্রা করেন এবং যিলকদ মাসে ইহরাম বাঁধেন ও যিলহজ মাসে তা সম্পন্ন করেন।
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وكان خرج ليعتمر من المدينة، فصده المشركون وقد بلغ الحديبية، فحل عليه السلام بها ونحر الهدى، ورجع هو وأصحابه، رضوان الله عليهم أجمعين.

 

‌‌غزواته صلى الله عليه وسلم

غزا صلوات الله وسلامه عليه خمسا وعشرين غزوة، وهى على ترتيبها:

أولها غزوة ودان وهى الأبواء، ثم غزوة بواط وهى من ناحية رضوى، ثم عزوة العشيرة من بطن ينبع، ثم غزوة بدر الأولى يطلب كرز بن جابر، ثم بدر الثانية، وهى البطشة التي أعز الله تعالى فيها الإسلام، وأهلك رءوس الكفرة، ثم غزوة بنى سليم حتى بلغ قرقرة الكدر، ثم غزوة السويق يطلب أبا سفيان بن حرب، ثم غزوة غطفان وهى غزوة ذى أمر، ثم غزوة نجران، ثم غزوة أحد، ثم غزوة حمراء الأسد، ثم غزوة ذات الرقاع من نخل، ثم بدر الآخرة، ثم دومة الجندل، ثم غزوة الخندق، وهى آخر غزوة غزاها أهل الكفر إليه، ثم غزوة بنى قريظة، ثم غزوة بنى لحيان من هذيل، ثم غزوة ذى قرد، ثم غزوة بنى المصطلق من خزاعة، ثم غزوة الحديبية، ثم غزوة خيبر، ثم غزوة الفتح - فتح مكة - ثم غزوة حنين إلى هوازن، ثم الطائف، ثم تبوك.

قاتل منها فى تسع: وهى بدر المعظمة، وهى بدر القتال، وهى بدر البطشة، وقاتل صلى الله عليه وسلم فى أحد والخندق وقريظة والمصطلق وخيبر والفتح وحنين والطائف.

وقيل: إنه عليه الصلاة والسلام قاتل فى وادى القرى والغابة، ولم يكن فى سائرها أصلا، وبالله التوفيق.
তিনি মদিনা থেকে উমরাহ করার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন, কিন্তু মুশরিকরা তাঁকে বাধা প্রদান করে যখন তিনি হুদায়বিয়ায় পৌঁছান। ফলে তিনি (আলাইহিস সালাম) সেখানে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং কুরবানির পশু জবাই করেন। অতঃপর তিনি এবং তাঁর সাহাবীগণ—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—ফিরে আসেন।

 

‌‌তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুদ্ধসমূহ

তিনি (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) পঁচিশটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, যা ক্রমানুসারে নিম্নরূপ:

প্রথমটি হলো ওয়াদ্দান যুদ্ধ যা আল-আওয়া নামেও পরিচিত, এরপর বুওয়াত যুদ্ধ যা রাদ্বওয়া অঞ্চলের দিকে অবস্থিত, এরপর ইয়ানবুর উপত্যকা অঞ্চলের আল-উশাইরা যুদ্ধ, এরপর প্রথম বদর যুদ্ধ যাতে কুরয ইবনে জাবিরকে অনুসন্ধান করা হয়েছিল, এরপর দ্বিতীয় বদর যুদ্ধ, আর এটিই ছিল সেই মহা-সংগ্রাম (আল-বাতশাহ) যাতে আল্লাহ তাআলা ইসলামকে সম্মানিত করেছেন এবং কুফরের মূল হোতাদের ধ্বংস করেছেন, এরপর বনু সুলাইম যুদ্ধ যাতে তিনি কারকারাতুল কুদর পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন, এরপর সুউইক যুদ্ধ যাতে আবু সুফিয়ান ইবনে হারবকে অনুসন্ধান করা হয়েছিল, এরপর গাতাফান যুদ্ধ যা যিল আমার যুদ্ধ নামেও পরিচিত, এরপর নাজরান যুদ্ধ, এরপর উহুদ যুদ্ধ, এরপর হামরাউল আসাদ যুদ্ধ, এরপর নাখল অঞ্চলের জাতুর রিকা যুদ্ধ, এরপর শেষ বদর যুদ্ধ, এরপর দুমাতুল জানদাল যুদ্ধ, এরপর খন্দক যুদ্ধ—যা ছিল কাফিরদের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে পরিচালিত সর্বশেষ যুদ্ধ—এরপর বনু কুরাইজা যুদ্ধ, এরপর হুযাইল গোত্রের বিরুদ্ধে বনু লিহিয়ান যুদ্ধ, এরপর যিল কারাদ যুদ্ধ, এরপর খুজাআ গোত্রের বিরুদ্ধে বনু মুস্তালিক যুদ্ধ, এরপর হুদায়বিয়া যুদ্ধ, এরপর খায়বার যুদ্ধ, এরপর ফাতহ যুদ্ধ অর্থাৎ মক্কা বিজয়, এরপর হাওয়াযিন গোত্রের অভিমুখে হুনাইন যুদ্ধ, এরপর তায়েফ যুদ্ধ এবং পরিশেষে তাবুক যুদ্ধ।

এর মধ্যে তিনি নয়টি যুদ্ধে সরাসরি লড়াই করেছেন: আর সেগুলো হলো মহিমান্বিত বদর, যা যুদ্ধের বদর ও মহা-আঘাতের বদর নামে পরিচিত। এছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ, খন্দক, কুরাইজা, মুস্তালিক, খায়বার, মক্কা বিজয়, হুনাইন এবং তায়েফ যুদ্ধে সরাসরি লড়াই করেছেন।

এবং বলা হয়ে থাকে যে, তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) ওয়াদিউল কুরা এবং গাবাহ যুদ্ধেও লড়াই করেছেন। আর অবশিষ্ট যুদ্ধগুলোতে তিনি সরাসরি লড়াই করেননি। আল্লাহই তাওফিক দাতা।
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌بعوثه صلى الله عليه وسلم

1 - بعث صلى الله عليه وسلم عبيدة بن الحارث بن المطلب أسفل ثنية المرة.

2 - وبعث حمزة بن عبد المطلب إلى ساحل البحر من ناحية العيص.

وكان هذان البعثان متقاربين جدا أو معا، فلذلك اختلف فى أيهما كان قبل، وهما أول بعوثه، وأول راية عقدها.

3 - وبعث سعد بن أبى وقاص إلى الخرار.

4 - وبعث عبد الله بن جحش إلى نخلة.

5 - وبعث زيد بن حارثة مولاه إلى القردة.

6 - وبعث محمد بن مسلمة الأنصاري إلى قتل كعب بن الأشرف.

7 - وبعث مرثد بن أبى مرثد الغنوى إلى الرجيع.

8 - وبعث المنذر بن عمرو الأنصاري إلى بئر معونة.

9 - وبعث عبد الله بن عتيك إلى قتل سلام بن أبى الحقيق، بخيبر.

10 - وبعث أبا عبيدة بن الجراح إلى ذى القصة، من طريق العراق.

11 - وبعث عمر بن الخطاب إلى تربة، من أرض بنى عامر.

12 - وبعث على بن أبى طالب إلى اليمن.

13 - وبعث غالب بن عبد الله الليثى إلى الكديد، إلى بنى الملوح من بنى كنانة.

14 - وبعث على بن أبى طالب إلى بنى عبد الله بن سعد، من أهل فدك.

15 - وبعث ابن أبى العوجاء السلمى إلى بنى سليم.

16 - وبعث عكاشة بن محصن الأسدي إلى الغمرة.
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রেরিত বাহিনীসমূহ

১ - রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উবায়দাহ ইবনুল হারিস ইবনুল মুত্তালিবকে সানিয়্যাতুল মাররার নিম্নদেশে প্রেরণ করেন।

২ - এবং হামযাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিবকে আইস সংলগ্ন সমুদ্র উপকূলের দিকে প্রেরণ করেন।

এই দুটি অভিযান সময়ানুক্রমিকভাবে অত্যন্ত কাছাকাছি অথবা একসাথে সংঘটিত হয়েছিল; একারণেই কোনটি আগে ছিল তা নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। আর এই দুটিই ছিল তাঁর প্রেরিত সর্বপ্রথম বাহিনী এবং তাঁর প্রথম হাতে বাঁধা পতাকা।

৩ - এবং সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাসকে আল-খাররারের দিকে প্রেরণ করেন।

৪ - এবং আব্দুল্লাহ ইবনে জাহশকে নাখলার দিকে প্রেরণ করেন।

৫ - এবং তাঁর মুক্তদাস যায়েদ ইবনে হারিসাহকে আল-কারাদার দিকে প্রেরণ করেন।

৬ - এবং মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ আল-আনসারীকে কাব ইবনুল আশরাফকে হত্যার অভিযানে প্রেরণ করেন।

৭ - এবং মারসাদ ইবনে আবি মারসাদ আল-গানাবিকে আর-রাজী’র দিকে প্রেরণ করেন।

৮ - এবং মুনযির ইবনে আমর আল-আনসারীকে বি’রে মাউনার দিকে প্রেরণ করেন।

৯ - এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আতিককে খায়বারে সালাম ইবনে আবি হুকাইককে হত্যার অভিযানে প্রেরণ করেন।

১০ - এবং আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহকে ইরাকের পথে অবস্থিত যুল কাসসাহ অভিমুখে প্রেরণ করেন।

১১ - এবং উমর ইবনুল খাত্তাবকে বনু আমির গোত্রের এলাকা তুরাবার দিকে প্রেরণ করেন।

১২ - এবং আলী ইবনে আবি তালিবকে ইয়ামেনে প্রেরণ করেন।

১৩ - এবং গালিব ইবনে আব্দুল্লাহ আল-লাইসিকে আল-কাদীদ নামক স্থানে বনু কিনানাহর অন্তর্ভুক্ত বনু মুলওয়াহ গোত্রের কাছে প্রেরণ করেন।

১৪ - এবং আলী ইবনে আবি তালিবকে ফাদাকবাসী বনু আব্দুল্লাহ ইবনে সা’দ গোত্রের কাছে প্রেরণ করেন।

১৫ - এবং ইবনু আবিল আওজা আস-সুলামীকে বনু সুলাইম গোত্রের দিকে প্রেরণ করেন।

১৬ - এবং উক্কাশাহ ইবনে মিহসান আল-আসাদিকে আল-গামরার দিকে প্রেরণ করেন।
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
17 - وبعث أبا سلمة بن عبد الأسد المخزومى إلى قطن، ماء لبنى أسد بناحية نجد.

18 - وبعث محمد بن مسلمة الأنصاري من بنى حارثة بن الأوس، إلى القرطاء، من هوزان.

19 - وبعث بشير بن سعد الأنصاري، من بنى الحارث بن الخزرج، إلى ناحية خيبر.

20 - وبعث زيد بن حارثة إلى الجموم، من أرض بنى سليم.

21 - وبعث زيدا أيضا إلى جذام، من أرض حسمى.

22 - وبعث زيدا أيضا إلى الطرف، من ناحية نخل من طريق العراق.

23 - وبعث أبا بكر رضي الله عنه إلى فزارة.

24 - وبعث أبا عامر الأشعرى عم أبى موسى إلى أوطاس.

25 - وبعث زيدا أيضا إلى فزارة، فقتل أم قرفة وغيرها.

26 - وبعث عبد الله بن رواحة إلى خيبر.

27 - وبعث مرة أخرى عبد الله بن عتيك إلى خيبر، لقتل أبى رافع بن أبى الحقيق.

28 - وبعث عبد الله بن أنيس الجهنى لقتل خالد بن سفيان الهذلى، فقتله عبد الله، بعثه عليه السلام لذلك وحده، وجعل له عليه السلام آية عند لقائه أن تأخذ عبد الله رعدة، فكان كما قال عليه السلام.

29 - وبعث الأمراء: عليهم زيد بن حارثة، فإن قتل فعليهم جعفر بن أبى طالب، فإن قتل فعليهم عبد الله بن رواحة. فقتلوا كلهم رضوان الله عليهم بمؤتة فى أول الشام، لقوا هنالك عساكر النصارى من
১৭ - এবং তিনি আবু সালামাহ ইবনে আবদিল আসাদ আল-মাখজুমিকে কাতান-এর দিকে প্রেরণ করেন, যা নজদ অঞ্চলের বনু আসাদ গোত্রের একটি জলাশয়।

১৮ - এবং তিনি বনু হারিসা ইবনুল আউস গোত্রের মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ আল-আনসারিকে হাওয়াজিন গোত্রের আল-কুরাতা-এর দিকে প্রেরণ করেন।

১৯ - এবং তিনি বনু হারিস ইবনুল খাজরাজ গোত্রের বাশির ইবনে সাদ আল-আনসারিকে খায়বার অঞ্চলের দিকে প্রেরণ করেন।

২০ - এবং তিনি জায়দ ইবনে হারিসাহকে বনু সুলাইম গোত্রের ভূখণ্ড আল-জামুম-এর দিকে প্রেরণ করেন।

২১ - এবং তিনি পুনরায় জায়দকেও হিসমা অঞ্চলের জুজাম গোত্রের দিকে প্রেরণ করেন।

২২ - এবং তিনি পুনরায় জায়দকেও ইরাক পথের নাখল অঞ্চলের আত-তারাফ-এর দিকে প্রেরণ করেন।

২৩ - এবং তিনি আবু বকর (রাদিআল্লাহু আনহু)-কে ফাজারা গোত্রের দিকে প্রেরণ করেন।

২৪ - এবং তিনি আবু মুসার চাচা আবু আমির আল-আশআরিকে আওতাস-এর দিকে প্রেরণ করেন।

২৫ - এবং তিনি পুনরায় জায়দকেও ফাজারা গোত্রের দিকে প্রেরণ করেন, এরপর তিনি উম্মে কিরফাহ ও অন্যদের হত্যা করেন।

২৬ - এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহাহকে খায়বারের দিকে প্রেরণ করেন।

২৭ - এবং তিনি আবু রাফে ইবনে আবিল হুকাইককে হত্যার জন্য আবারও আবদুল্লাহ ইবনে আতিককে খায়বারে প্রেরণ করেন।

২৮ - এবং তিনি খালিদ ইবনে সুফিয়ান আল-হুযালিকে হত্যার জন্য আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস আল-জুহানিকে প্রেরণ করেন, অতঃপর আবদুল্লাহ তাকে হত্যা করেন। তিনি (আলাইহিস সালাম) তাকে একাই এ কাজের জন্য পাঠিয়েছিলেন এবং তার সাথে সাক্ষাতের সময় তার জন্য একটি নিদর্শন নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন যে, আবদুল্লাহর শরীরে কম্পন সৃষ্টি হবে; আর তিনি (আলাইহিস সালাম) যেমনটি বলেছিলেন তেমনটিই ঘটেছিল।

২৯ - এবং তিনি সেনাপতিদের প্রেরণ করেন: তাদের প্রধান ছিলেন জায়দ ইবনে হারিসাহ, যদি তিনি নিহত হন তবে জাফর ইবনে আবি তালিব তাদের প্রধান হবেন, আর তিনিও যদি নিহত হন তবে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহাহ তাদের প্রধান হবেন। তাঁরা সকলে (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সিরিয়ার প্রবেশদ্বার মুতাহ যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন, সেখানে তাঁরা নাসারাদের বাহিনীর মুখোমুখি হয়েছিলেন...
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
الروم ومتنصرة العرب، وأخذ الراية خالد بن الوليد، فانحاز بالمسلمين.

30 - وبعث كعب بن عمير الغفارى إلى ذات أطلاح، من أرض الشام.

31 - وبعث عيينة بن حصن بن حذيفة بن بدر الفزارى إلى بنى العنبر من بنى تميم.

32 - وبعث غالب بن عبد الله الليثى إلى أرض بنى مرة، فأصابوا فى الحرقات من جهينة.

33 - وبعث خالد بن الوليد إلى بنى جذيمة من بنى كنانة.

34 - وبعث خالدا أيضا إلى اليمن.

35 - وبعث عمرو بن العاص إلى ذات السلاسل من أرض بنى عذرة، وأمده بجيش عليهم أبو عبيدة.

36 - وبعث عبد الله بن أبى حدرد الأسلمى إلى بطن إضم.

37 - وبعث ابن أبى حدرد أيضا إلى الغابة.

38 - وبعث عبد الرحمن بن عوف إلى دومة الجندل.

39 - وبعث أبا عبيدة بن الجراح إلى سيف البحر.

40 - وبعث عمرو بن أمية الضمرى إلى قتل أبى سفيان صخر بن حرب ابن أمية، فلم يمكنه ذلك ولم يتهيأ له.

41 - وبعث زيد بن حارثة إلى مدين.

42 - وبعث سالم بن عمير إلى أبى عفك، من بنى عمرو بن عوف، فقتله.

43 - وبعث عمرو بن عدى الخطمى إلى عصماء بنت مروان، من بنى أمية ابن زيد، فقتلها.
রোমান এবং খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণকারী আরবদের বিপক্ষে (যুদ্ধ হয়েছিল), আর খালিদ বিন ওয়ালিদ পতাকা গ্রহণ করেন এবং মুসলিমদের নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে ফিরে আসেন।

৩০ - এবং তিনি কা'ব বিন উমাইর আল-গিফারিকে শাম অঞ্চলের জাত আতলাহ অভিমুখে প্রেরণ করেন।

৩১ - এবং তিনি উইয়ায়নাহ বিন হিসন বিন হুযাইফাহ বিন বদর আল-ফাযারিকে বনু তামিমে অন্তর্ভুক্ত বনু আনবার গোত্রের নিকট প্রেরণ করেন।

৩২ - এবং তিনি গালিব বিন আব্দুল্লাহ আল-লাইসিকে বনু মুররাহ ভূখণ্ডে প্রেরণ করেন, তারা জুহাইনা গোত্রের হুরাকাত নামক স্থানে আক্রমণ করেন।

৩৩ - এবং তিনি খালিদ বিন ওয়ালিদকে বনু কিনানা গোত্রভুক্ত বনু জাযিমাহ এর নিকট প্রেরণ করেন।

৩৪ - এবং তিনি খালিদকেও পুনরায় ইয়ামেনে প্রেরণ করেন।

৩৫ - এবং তিনি আমর বিন আসকে বনু উযরাহ ভূখণ্ডের জাত আস-সালাসিল অভিমুখে প্রেরণ করেন এবং তাকে একদল সৈন্য দিয়ে সহায়তা করেন যাদের নেতৃত্বে ছিলেন আবু উবাইদাহ।

৩৬ - এবং তিনি আব্দুল্লাহ বিন আবু হাদরাদ আল-আসলামিকে বাতনে ইযাম অভিমুখে প্রেরণ করেন।

৩৭ - এবং তিনি ইবনে আবু হাদরাদকে পুনরায় গাবাহ অভিমুখে প্রেরণ করেন।

৩৮ - এবং তিনি আব্দুর রহমান বিন আউফকে দুমাতুল জানদাল অভিমুখে প্রেরণ করেন।

৩৯ - এবং তিনি আবু উবাইদাহ বিন জাররাহকে সাইফুল বাহর (সমুদ্র উপকূল) অভিমুখে প্রেরণ করেন।

৪০ - এবং তিনি আমর বিন উমাইয়াহ আদ-দামরিকে আবু সুফিয়ান সাখর বিন হারব বিন উমাইয়াহকে হত্যা করার জন্য প্রেরণ করেন, কিন্তু তা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি এবং সে সুযোগও তার জোটেনি।

৪১ - এবং তিনি যায়েদ বিন হারিসাহকে মাদইয়ান অভিমুখে প্রেরণ করেন।

৪২ - এবং তিনি সালিম বিন উমাইরকে বনু আমর বিন আউফ গোত্রের আবু আফাকের নিকট প্রেরণ করেন এবং তিনি তাকে হত্যা করেন।

৪৩ - এবং তিনি আমর বিন আদি আল-খাতমিকে বনু উমাইয়াহ বিন যায়েদ গোত্রের আসমা বিনতে মারওয়ানের নিকট প্রেরণ করেন এবং তিনি তাকে হত্যা করেন।
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
44 - وبعث بعثا أسر فيه ثمامة بن أثال الحنفى.

45 - وبعث علقمة بن مجزز المدلجى.

46 - وبعث كرز بن جابر خلف الذين قتلوا الرعاء وسملوا عيونهم.

47 - وبعث أسامة بن زيد إلى الشام، وهو آخر بعوثه، مات صلى الله عليه وسلم قبل أن ينفذه، فأنفذه أبو بكر الصديق، رضوان الله عليهم ورحمته وبركاته، وبالله التوفيق.

 

‌‌صفته وأسماؤه صلى الله عليه وسلم

كان صلى الله عليه وسلم ليس بالطويل البائن، ولا بالقصير، ولا بالأبيض الأمهق، ولا الآدم(1)، ولا بالجعد القطط، ولا السبط، رجل الشعر، أزهر اللون، مشربا بحمرة فى بياض ساطع، كأن وجهه القمر حسنا، ضخم الكراديس، أوطف الأشفار(2)، أدعج العينين، فى بياضهما عروق حمر رقاق، حسن الثغر، واسع الفم، حسن الأنف، إذا مشى كأنه يتكفأ، إذا التفت التفت بجميعه، كثير النظر إلى الأرض، ضخم اليدين لينهما، قليل لحم العقبين، كث اللحية واسعها، أسود الشعر، ليس لرجليه أخمص، إذا طول شعره فإلى شحمة أذنيه ومع كتفه، وإذا قصره فإلى أنصاف أذنيه، لم يبلغ شيب رأسه ولحيته عشرين شيبة.

وهو: محمد، صلى الله عليه وسلم، وأحمد، والماحى: يمحو الله به الكفر، والحاشر: يحشر الناس على عقبيه، والعاقب: ليس بعده نبى، والمقفى، ونبى التوبة، ونبى الملحمة، وسماه الله تعالى: رءوفا رحيما.

--------------------------------------------

(1) الآدم: الأسمر. والأمهق، أى الذي ليس بياضه شديدا.

(2) الكراديس، أى ضخم عظم المفاصل وطويل أهداب العينين.
৪৪ - তিনি একটি সৈন্যদল প্রেরণ করেন, যাতে সুমামা ইবনে উসাল আল-হানাফি বন্দী হন।

৪৫ - তিনি আলকামা ইবনে মুজাজজিজ আল-মুদলিজিকে প্রেরণ করেন।

৪৬ - তিনি কুরজ ইবনে জাবিরকে সেই সব ব্যক্তিদের পশ্চাদ্ধাবনে প্রেরণ করেন যারা রাখালদের হত্যা করেছিল এবং তাদের চোখ উপড়ে ফেলেছিল।

৪৭ - তিনি উসামা ইবনে যায়িদকে শাম দেশে প্রেরণ করেন, যা ছিল তাঁর প্রেরিত সর্বশেষ সৈন্যদল। এটি কার্যকর করার পূর্বেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন, এরপর আবু বকর সিদ্দিক (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক) তা কার্যকর করেন। আর আল্লাহর তাওফীকেই সকল সাফল্য।

 

‌‌তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও নামসমূহ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতি দীর্ঘদেহী ছিলেন না, আবার একদম খাটোও ছিলেন না। তিনি একেবারে ফ্যাকাশে সাদাও ছিলেন না, আবার একদম তামাটে বর্ণের(১)ও ছিলেন না। তাঁর চুল অতি কোঁকড়ানো ছিল না, আবার একেবারে সোজাও ছিল না, বরং পরিমিত ঢেউখেলানো ছিল। তাঁর গায়ের রঙ ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল, শুভ্রতার মাঝে লালাভ আভা মিশ্রিত। সৌন্দর্যের দিক থেকে তাঁর চেহারা ছিল যেন পূর্ণিমার চাঁদ। তাঁর হাড়ের জোড়াগুলো ছিল সুঠাম ও বড়। চোখের পাপড়ি ছিল দীর্ঘ, চোখ দুটি ছিল গভীর কালো, আর চোখের শুভ্র অংশে চিকন লাল রেখা ছিল। তাঁর দাঁতগুলো ছিল অত্যন্ত সুন্দর, মুখগহ্বর ছিল প্রশস্ত এবং নাক ছিল সুগঠিত ও সুন্দর। তিনি যখন হাঁটতেন তখন মনে হতো যেন কোনো ঢালু স্থান থেকে দ্রুত নেমে আসছেন। তিনি যখন কারো দিকে ফিরতেন, তখন পুরো শরীর ঘুরিয়ে ফিরতেন। তিনি মাটির দিকেই বেশি তাকিয়ে থাকতেন। তাঁর দুই হাত ছিল সুঠাম ও কোমল, আর গোড়ালিতে মাংস কম ছিল। তাঁর দাড়ি ছিল ঘন ও প্রশস্ত এবং চুল ছিল নিকষ কালো। তাঁর পায়ের পাতা ছিল সমান (মাঝখানে গভীর খিলান ছিল না)। তাঁর চুল যখন লম্বা হতো তখন কানের লতি এবং কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছাত, আর যখন ছোট করতেন তখন কানের অর্ধেক পর্যন্ত থাকত। তাঁর মাথা ও দাড়ির পাকা চুলের সংখ্যা বিশটিও অতিক্রম করেনি।

তিনি হলেন: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং আহমাদ। আর তিনি 'আল-মাহি' (বিদূরণকারী): আল্লাহ যাঁর মাধ্যমে কুফর মিটিয়ে দেন। তিনি 'আল-হাশির' (একত্রকারী): যাঁর কদমের পিছে (অর্থাৎ তাঁর পরে) হাশরের ময়দানে মানুষের পুনরুত্থান ও জমায়েত হবে। তিনি 'আল-আকিব' (সর্বশেষ): যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। তিনি 'আল-মুকাফফি' (সর্বশেষ অনুগামী নবী), 'তাওবার নবী', এবং 'যুদ্ধের নবী'। আর মহান আল্লাহ তাঁর নামকরণ করেছেন: 'রউফ' (অতিশয় দয়াপরবশ) ও 'রাহিম' (পরম দয়ালু)।

--------------------------------------------

(১) আল-আদম: তামাটে বা শ্যামল বর্ণ। আল-আমাাহাক: যার শুভ্রতা অত্যন্ত তীব্র (ফ্যাকাশে) নয়।

(২) আল-কারাদিস: হাড়ের জোড়া বা গ্রন্থি বড় হওয়া। আর চোখের পাপড়ি দীর্ঘ হওয়া।
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وكان على نغض كتفه الأيسر خاتم النبوة، كأنه بيضة حمام، لونه لون جسده، عليه خيلان(1)، ومن فوقه شعرات.

 

‌‌أمراؤه صلى الله عليه وسلم

باذان الفارسى على اليمن كلها، وهو باذان بن ساسان بن بلاش، ابن الملك جاماسف، بن الملك فيروز بن يزدجرد الملك، بن بهرام جور الملك، فلما مات باذان ولى رسول الله صلى الله عليه وسلم ابنه شهر بن باذان صنعاء وأعمالها فقط.

وولى المهاجر بن أبى أمية بن المغيرة كندة والصدف.

وولى زياد بن لبيد البياضى الأنصاري حضر موت.

وولى أبا موسى الأشعرى زبيد وعدن ورمع والساحل.

وولى معاذ بن جبل الجند.

وولى عتاب بن أسيد بن أبى العيص بن أمية بن عبد شمس مكة وإقامة الموسم والحج بالمسلمين سنة ثمان، وهو دون العشرين سنة.

وولى أبا سفيان صخر بن حرب بن أمية بن عبد شمس نجران.

وولى يزيد بن أبى سفيان صخر بن حرب على تيماء.

وولى خالد بن سعيد بن أبى العاص بن أمية بن عبد شمس على صنعاء بعد قتل شهر بن باذان، وقتل شهر بن باذان، رحمة الله عليه، الأسود العنسى الكذاب لعنه الله.

وولى أخاه عمرو بن سعيد على وادى القرى.

--------------------------------------------

(1) خيلان جمع خال وهى الشامة فى جسم الانسان.
তাঁর বাম কাঁধের হাড়ের কাছে নবুওয়াতের মোহর ছিল, যা দেখতে অনেকটা কবুতরের ডিমের মতো ছিল। এর বর্ণ ছিল তাঁর দেহের বর্ণের ন্যায় এবং এতে তিল ও ওপরের দিকে কিছু পশম বা চুল ছিল।

 

‌‌তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিযুক্ত শাসকগণ

বাযান আল-ফারসি সমগ্র ইয়েমেনের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ছিলেন বাযান বিন সাসান বিন বালাশ বিন রাজা জামাসফ বিন রাজা ফিরোজ বিন রাজা ইয়াজদাগির্দ বিন রাজা বাহরাম গুর। যখন বাযান মারা যান, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পুত্র শাহর বিন বাযানকে কেবল সানা ও তার সংলগ্ন অঞ্চলগুলোর শাসক নিযুক্ত করেন।

তিনি মুহাজির বিন আবি উমাইয়া বিন আল-মুগিরাকে কিনদাহ ও আস-সাদাফের শাসক নিযুক্ত করেন।

তিনি যিয়াদ বিন লাবিদ আল-বায়াদি আল-আনসারিকে হাদরামাউতের শাসক নিযুক্ত করেন।

তিনি আবু মুসা আল-আশআরিকে জাবিদ, এডেন, রামা' এবং উপকূলীয় অঞ্চলের শাসক নিযুক্ত করেন।

তিনি মুয়াজ বিন জাবালকে আল-জানাদ অঞ্চলের শাসক নিযুক্ত করেন।

তিনি আত্তাব বিন আসিদ বিন আবিল আস বিন উমাইয়া বিন আব্দে শামসকে মক্কা এবং অষ্টম হিজরি সনে হজের মৌসুম কায়েম ও মুসলমানদের নিয়ে হজ পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল বিশ বছরেরও কম।

তিনি আবু সুফিয়ান সাখর বিন হারব বিন উমাইয়া বিন আব্দে শামসকে নাজরানের শাসক নিযুক্ত করেন।

তিনি ইয়াজিদ বিন আবি সুফিয়ান সাখর বিন হারবকে তাইমার শাসক নিযুক্ত করেন।

শাহর বিন বাযান নিহত হওয়ার পর তিনি খালিদ বিন সাঈদ বিন আবিল আস বিন উমাইয়া বিন আব্দে শামসকে সানার শাসক নিযুক্ত করেন। শাহর বিন বাযান (রহিমাহুল্লাহ)-কে অভিশপ্ত মিথ্যাবাদী আসওয়াদ আল-আনসি হত্যা করেছিল।

তিনি তাঁর ভাই আমর বিন সাঈদকে ওয়াদিউল কুরার শাসক নিযুক্ত করেন।

--------------------------------------------

(১) 'খাইলান' হলো 'খাল' শব্দের বহুবচন, যা মানুষের শরীরের তিলকে বোঝায়।
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
وولى أخاهما الحكم بن سعيد على قرى عرينة، وهى فدك وغيرها.

وولى أخاهم أبان بن سعيد على مدينة الخط بالبحرين، وهى التي تنسب إليها الرماح.

وولى العلاء بن الحضرمى حليف بنى سعيد بن العاص على القطيف بالبحرين.

وولى عمرو بن العاص على عمان وأعمالها.

وولى عثمان بن أبى العاص الثقفى على الطائف.

وولى محمية بن جزء بن عبد يغوث بن عويج بن عمرو بن زبيد الزبيدى على الأخماس التي بحضرته، صلى الله عليه وسلم، قيل: وهو حليف بنى جمح.

وولى على بن أبى طالب، كرم الله وجهه، على الأخماس باليمن، والقضاء بها.

وولى معيقيب بن أبى فاطمة الدوسى حليف بنى أمية بن عبد شمس على خاتمه صلى الله عليه وسلم.

وولى عدى بن حاتم على صدقات بنى أسد.

وولى مالك بن نويرة اليربوعى على صدقات بنى حنظلة بن زيد مناة ابن تميم.

وولى قيس بن عاصم المنقرى، والزبرقان بن بدر على صدقات بنى سعد ابن زيد مناة بن تميم.

وولى عمر بن الخطاب على بعض من الصدقات أيضا، وجماعة كثيرة على الصدقات أيضا، لأنه كان على كل قبيلة وال يقبض صدقاتها.

وولى أبا بكر الصديق على موسم سنة تسع، وخليفته على ولاية الأمور كلها أبو بكر الصديق رضي الله عنه.
তিনি তাদের ভাই হাকাম ইবনে সাঈদকে উরাইনার গ্রামসমূহের ওপর নিয়োগ দেন, যা ফাদাক ও অন্যান্য এলাকা নিয়ে গঠিত।

তিনি তাদের ভাই আবান ইবনে সাঈদকে বাহরাইনের খাত্ত শহরের ওপর নিয়োগ দেন, যার সাথে বর্শাসমূহকে সম্বন্ধিত করা হয়।

তিনি বনু সাঈদ ইবনে আসের মিত্র আলা ইবনুল হাদরামিকে বাহরাইনের কাতিফ অঞ্চলের ওপর নিয়োগ দেন।

তিনি আমর ইবনুল আসকে ওমান এবং এর অধীনস্থ এলাকাসমূহের ওপর নিয়োগ দেন।

তিনি উসমান ইবনে আবু আস সাকাফিকে তায়েফের ওপর নিয়োগ দেন।

তিনি মুহাম্মিয়াহ ইবনে জুয ইবনে আবদ ইয়াগুস ইবনে উইজ ইবনে আমর ইবনে জুবাইদ আজ-জুবাইদিকে তাঁর সামনে উপস্থিত গণিমতের পঞ্চমাংশের (খুমুস) ওপর নিয়োগ দেন, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম; বলা হয়ে থাকে যে তিনি বনু জুমাহ-এর মিত্র ছিলেন।

তিনি আলী ইবনে আবু তালিবকে—আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে সম্মানিত করুন—ইয়ামেনের গণিমতের পঞ্চমাংশ এবং সেখানকার বিচারকার্যের ওপর নিয়োগ দেন।

তিনি বনু উমাইয়া ইবনে আবদ শামসের মিত্র মুয়াইকিব ইবনে আবু ফাতিমা আদ-দাওসিকে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মোহর সংরক্ষণের ওপর নিয়োগ দেন।

তিনি আদি ইবনে হাতিমকে বনু আসাদ গোত্রের সদকা আদায়ের ওপর নিয়োগ দেন।

তিনি মালিক ইবনে নুওয়াইরা আল-ইয়ারবুয়িকে বনু হানজালা ইবনে জাইদ মানাত ইবনে তামিম গোত্রের সদকা আদায়ের ওপর নিয়োগ দেন।

তিনি কায়স ইবনে আসিম আল-মিনকারি এবং জিবরিকান ইবনে বদরকে বনু সাদ ইবনে জাইদ মানাত ইবনে তামিম গোত্রের সদকা আদায়ের ওপর নিয়োগ দেন।

তিনি উমর ইবনুল খাত্তাবকেও কিছু সদকা আদায়ের ওপর নিয়োগ দিয়েছিলেন, এবং আরও অনেক ব্যক্তিকেও সদকা আদায়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন; কারণ প্রতিটি গোত্রের জন্য একজন করে গভর্নর নিযুক্ত ছিলেন যিনি তাদের সদকা গ্রহণ করতেন।

তিনি নবম হিজরি সনের হজের মৌসুমে আবু বকর সিদ্দিককে আমীর হিসেবে নিয়োগ দেন, আর যাবতীয় বিষয় পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর প্রধান প্রতিনিধি ছিলেন আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)।
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌فصل

كان عمرو بن عبسة السلمى صديق رسول الله صلى الله عليه وسلم فى الجاهلية(1).

وكان عياض بن حمار بن ناجية بن عقال بن محمد بن سفيان بن مجاشع ابن دارم بن مالك بن حنظلة بن زيد مناة بن تميم، حرمى رسول الله صلى الله عليه وسلم فى الجاهلية، ويعنى ذلك أن قريشا كانت من الحمس، وكانت بنو مجاشع من الحلة، وهما دينان من أديان العرب فى الجاهلية، فكان الحل لا يطوف بالبيت إلا عريانا إلا أن يعيره رجل من الحمس ثيابا يطوف بها؛ فكان عياض يطوف فى ثياب رسول الله، صلى الله عليه وسلم وعياض هذا: ابن عم الأقرع ابن حابس بن عقال لحا.

وكان الضحاك بن سفيان الكلابى سيافه، صلى الله عليه وسلم؛ وبالله التوفيق.

 

‌‌كتابه صلى الله عليه وسلم

على بن أبى طالب، وعثمان، وعمر، وأبو بكر، وخالد بن سعيد بن العاص، وأبى بن كعب الأنصاري، وحنظلة بن الربيع الأسيدى، ويزيد ابن أبى سفيان، وزيد بن ثابت الأنصاري من بنى النجار، ومعاوية بن أبى سفيان.

وكان زيد بن ثابت من ألزم الناس لذلك، ثم تلاه معاوية بعد الفتح.

فكانا ملازمين الكتابة بين يديه، صلى الله عليه وسلم، فى الوحى وغير ذلك، لا عمل لهما غير ذلك.

--------------------------------------------

(1) يقول بعض المؤرخين إنه لم يكن صديقا للرسول عليه السلام فى الجاهلية وإنما كان سباقا إلى الإسلام حتى قيل إنه كان ربع الإسلام عند إسلامه.
পরিচ্ছেদ

জাহেলিয়াত যুগে আমর ইবনে আবাসা আল-সুলামি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বন্ধু ছিলেন(১)।

আর ইয়াদ বিন হিমার বিন নাজিয়া বিন উককাল বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান বিন মুজাশে' বিন দারিম বিন মালিক বিন হানজালা বিন যায়েদ মানাত বিন তামিমি জাহেলিয়াত যুগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের 'হুরামি' (পোশাক আদান-প্রদানকারী বন্ধু) ছিলেন। এর অর্থ হলো, কুরাইশরা ছিল 'হুমস' রীতির অন্তর্ভুক্ত এবং বনু মুজাশে' ছিল 'হিল্লাহ' রীতির অন্তর্ভুক্ত। এ দুটি ছিল জাহেলিয়াত যুগে আরবদের দুটি ধর্মীয় ধারা। হিল্লাহ রীতির অনুসারীরা উলঙ্গ অবস্থা ছাড়া কাবা ঘর তাওয়াফ করতে পারত না, যদি না হুমস রীতির কোনো ব্যক্তি তাকে তাওয়াফের জন্য পোশাক ধার দিত। ফলে ইয়াদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পোশাকে তাওয়াফ করতেন। আর এই ইয়াদ ছিলেন আকরা' বিন হাবিস বিন উককালের আপন চাচাতো ভাই।

দাহহাক বিন সুফিয়ান আল-কিলাবি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তলোয়ারধারী (দেহরক্ষী); আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি।

 

‌তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লেখকবৃন্দ

আলী বিন আবু তালিব, উসমান, উমর, আবু বকর, খালিদ বিন সাঈদ বিন আল-আস, উবাই বিন কাব আল-আনসারি, হানজালা বিন আল-রবি আল-উসাইদি, ইয়াজিদ বিন আবু সুফিয়ান, বনু নাজ্জারের যায়েদ বিন সাবিত আল-আনসারি এবং মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান।

যায়েদ বিন সাবিত এই কাজে সবচেয়ে বেশি নিবিষ্ট থাকতেন, এরপর মক্কা বিজয়ের পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন মুয়াবিয়া।

তাঁরা উভয়েই তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্মুখে ওহী এবং অন্যান্য বিষয় লিপিবদ্ধ করার কাজে নিয়োজিত থাকতেন; এটি ছাড়া তাঁদের অন্য কোনো কাজ ছিল না।

--------------------------------------------

(১) কোনো কোনো ঐতিহাসিক বলেন যে, তিনি জাহেলিয়াত যুগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বন্ধু ছিলেন না, বরং তিনি ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণে অগ্রণী ছিলেন, এমনকি বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর ইসলাম গ্রহণের সময় তিনি ছিলেন ইসলামের এক-চতুর্থাংশ।
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌فصل

كان قيس بن سعد بن عبادة الساعدى من رسول الله صلى الله عليه وسلم بمنزلة صاحب الشرطة من الأمير.

ووقف المغيرة بن شعبة الثقفى على رأسه بالسيف يوم الحديبية.

وكان بلال بن رباح على نفقاته.

وكانت أم أيمن دايته.

وكان أنس بن مالك خادمه.

وكان ذؤيب بن حلحلة بن عمرو الخزاعى، والد الفقيه قبيصة بن ذؤيب، صاحب بدن رسول الله صلى الله عليه وسلم التي أهدى، والناظر عليها.

وقد أذن عليه رباح الأسود مولاه، وأبو موسى الأشعرى.

وكان ابن أم مكتوم الأعمى، وهو من بنى عامر بن لؤيّ، واسمه عمرو ابن قيس بن زائدة بن الأصم، واسمه جندب، بن هزم بن رواحة بن حجر ابن عبد بن معيص بن عامر بن لؤيّ: مؤذنه مع بلال.

وحجمه أبو طيبة من الأنصار.

وكان شعراؤه الذين يذبون عن الإسلام بألسنتهم: كعب بن مالك الأسلمى، وعبد الله بن رواحة من بنى الحارث بن الخزرج، وحسان بن ثابت من بنى النجار، كلهم من الخزرج من الأنصار.

وخطيبه ثابت بن قيس بن الشماس.

وفارسه أبو قتادة الأنصاري.

وضيفه أبو أيوب خالد بن زيد من بنى النجار.
পরিচ্ছেদ

কায়েস বিন সাদ বিন উবাদাহ আস-সাঈদী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তেমনি ছিলেন, যেমন একজন আমীরের নিকট পুলিশ প্রধানের মর্যাদা থাকে।

হুদায়বিয়ার দিন মুগীরা বিন শুবা আস-সাকাফী তাঁর মাথার পাশে তলোয়ার হাতে দণ্ডায়মান ছিলেন।

বেলাল বিন রাবাহ তাঁর ব্যয়নির্বাহের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

উম্মে আয়মান ছিলেন তাঁর ধাত্রী।

আনাস বিন মালেক ছিলেন তাঁর সেবক।

জুআইব বিন হালহালা বিন আমর আল-খুজায়ী—যিনি ফকীহ কাবিছা বিন জুআইবের পিতা—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক উপঢৌকন হিসেবে প্রেরিত হাদীর পশুর দায়িত্বশীল ও এর তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন।

তাঁর মুক্তদাস রাবাহ আল-আসওয়াদ এবং আবু মুসা আল-াশআরী তাঁর কাছে প্রবেশের অনুমতিকারীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

অন্ধ ইবনে উম্মে মাকতুম—যিনি বনু আমির বিন লুওয়াই গোত্রের ছিলেন এবং তাঁর নাম ছিল আমর ইবনে কায়েস বিন যায়িদাহ বিন আল-আসাম্ম; আর আল-আসাম্মের নাম ছিল জুনদুব বিন হাযম বিন রাওয়াহা বিন হাজার বিন আবদ বিন মায়িস বিন আমির বিন লুওয়াই—তিনি বেলালের সাথে তাঁর মুয়াজ্জিন ছিলেন।

আনসারদের মধ্য থেকে আবু তাইবা তাঁর হিজামা (শিঙা লাগানো) করেছিলেন।

তাঁর কবিগণ, যারা নিজেদের জিহ্বা দিয়ে ইসলামকে প্রতিরক্ষা করতেন, তারা হলেন: আসলামী গোত্রের কা’ব বিন মালিক, বনু হারিস বিন খাযরাজ গোত্রের আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা এবং বনু নাজ্জার গোত্রের হাসসান বিন সাবিত; তাঁরা সকলেই আনসারদের খাযরাজ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

তাঁর খতীব ছিলেন সাবিত বিন কায়েস বিন শাম্মাস।

তাঁর অশ্বারোহী যোদ্ধা ছিলেন আবু কাতাদা আল-আনসারী।

তাঁর আতিথ্যকারী ছিলেন বনু নাজ্জার গোত্রের আবু আইয়ুব খালিদ বিন যায়িদ।
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
واتخذ صلى الله عليه وسلم خاتم ذهب، ثم رماه وتبرأ منه؛ واتخذ خاتم فضة، فصه منه، نقشه: محمد، رسول، الله، ثلاثة أسطر: كان يحبسه فى خنصره المقدس فى يساره، وربما فى يمينه المقدسة، يجعل فصه إلى باطن كفه، ونهى أن ينقش أحد على نقشه، كما نهى أن يتكنى أحد بكنيته، فلا يحل شيء من ذلك. فلم يزل الخاتم فى يده إلى أن مات، ثم فى يد أبى بكر، ثم عمر، ثم فى يد عثمان، فلما كان فى السنة السادسة من خلافته سقط من يده فى بئر أريس؛ فنزحت البئر، وأخرج منها أكوام من طين، فلم يوجد الخاتم، فإنا الله وإنا إليه راجعون، فإنه كان أثرا مباركا فذهب.

 

‌‌رسله صلى الله عليه وسلم

بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم، قبل الفتح وبعد الحديبية، رسله إلى الملوك:

1 - فبعث دحية بن خليفة الكلبى، إلى قيصر ملك الروم، واسمه هرقل.

2 - وبعث عبد الله بن حذافة السهمى إلى كسرى أبرويز بن هرمز، ملك الفرس.

3 - وبعث عمرو بن أمية الضمرى، إلى النجاشى ملك الحبشة.

4 - وبعث حاطب بن أبى بلتعة اللخمى، إلى المقوقس صاحب الإسكندرية، ومصر.

5 - وبعث عمرو بن العاص؛ إلى جيفر وعياذ ابنى الجلندى الأزديين، ملكى عمان.

6 - وبعث سليط بن عمرو أحد بنى عامر بن لؤيّ، إلى هوذة بن على، الملك على اليمامة، وإلى ثمامة بن أثال، الحنفيين.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি সোনার আংটি গ্রহণ করেছিলেন, তারপর তিনি তা ফেলে দেন এবং তা থেকে বিমুখ হন। অতঃপর তিনি একটি রুপার আংটি গ্রহণ করেন, যার পাথরটি ছিল সেই রুপারই অংশ। তার খোদাই ছিল: মুহাম্মদ, রাসূল, আল্লাহ—এই তিনটি পঙ্ক্তিতে। তিনি তা তাঁর পবিত্র বাম হাতের কনিষ্ঠা আঙুলে পরতেন এবং কখনো কখনো তাঁর পবিত্র ডান হাতেও পরতেন। তিনি আংটির পাথরটি তাঁর হাতের তালুর ভেতরের দিকে রাখতেন। তিনি তাঁর আংটির নকশার মতো কাউকে নকশা করতে নিষেধ করেছেন, যেমনটি তিনি তাঁর কুনিয়াতে (উপনামে) কাউকে ভূষিত হতে নিষেধ করেছিলেন। সুতরাং এর কোনোটিই বৈধ নয়। আংটিটি তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর হাতে ছিল, তারপর আবু বকরের হাতে, এরপর উমরের হাতে এবং এরপর উসমানের হাতে ছিল। যখন তাঁর খিলাফতের ষষ্ঠ বছর এল, তখন সেটি তাঁর হাত থেকে আরিস নামক কূপে পড়ে গেল। তখন কূপের পানি সেচে ফেলা হলো এবং তা থেকে কাদার স্তূপ বের করে আনা হলো, কিন্তু আংটিটি আর পাওয়া গেল না। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। সেটি ছিল একটি বরকতময় নিদর্শন যা হারিয়ে গেল।

 

‌‌তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রেরিত দূতগণ

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা বিজয়ের আগে এবং হুদায়বিয়ার সন্ধির পর রাজা-বাদশাহদের কাছে তাঁর দূতদের প্রেরণ করেন:<

১ - তিনি দিহয়াহ বিন খলিফা আল-কালবীকে রোম সম্রাট কায়সারের কাছে প্রেরণ করেন, যার নাম ছিল হিরাক্লিয়াস।

২ - তিনি আবদুল্লাহ বিন হুজাফা আস-সাহমিকে পারস্য সম্রাট কিসরা আবরুইজ বিন হুরমুজের কাছে প্রেরণ করেন।

৩ - তিনি আমর বিন উমাইয়া আদ-দামরিকে আবিসিনিয়ার রাজা নাজাশির কাছে প্রেরণ করেন।

৪ - তিনি হাতিব বিন আবি বালতাআ আল-লাখমিকে আলেকজান্দ্রিয়া ও মিশরের অধিপতি মুকাওকিসের কাছে প্রেরণ করেন।

৫ - তিনি আমর ইবনুল আসকে ওমানের দুই রাজা আল-জুলান্দা আল-আজদির দুই পুত্র জাইফার ও আয়াদের কাছে প্রেরণ করেন।

৬ - তিনি বনু আমির বিন লুআই গোত্রের সালিদ বিন আমরকে ইয়ামামার রাজা হাওজাহ বিন আলী এবং সুমামা বিন উসাল আল-হানাফির কাছে প্রেরণ করেন।
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
7 - وبعث العلاء بن الحضرمى إلى المنذر بن ساوى العبدى ملك البحرين.

8 - وبعث شجاع بن وهب الأسدي، من أسد خزيمة، إلى الحارث ابن أبى شمر الغسانى، وابن عمه جبلة بن الأيهم، ملكى البلقاء من عمل دمشق.

9 - وبعث المهاجر بن أبى أمية المخزومى، إلى الحارث بن عبد الملك الحميرى، أحد مقاولة اليمن.

10 - وبعث معاذ بن جبل إلى جملة اليمن، داعيا إلى الإسلام، فأسلم جميع ملوكهم، كذى الكلاع وذى ظليم وذى زرود وذى مران وغيرهم.

وأسلم سائر الملوك الذين ذكرنا قبل أنهم أرسل إليهم عليه السلام. وأسلم قومهم، حاشا قيصر والمقوقس وهوذة وكسرى والحارث بن أبى شمر والنجاشى، وهو غير الذي هاجر إليه أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، مات ذلك رضوان الله عليه مسلما، وأتى الوحى إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بموته، فنعاه إلى المسلمين، وخرج بهم إلى البقيع، وصف أصحابه صفوفا، وصلى عليه، وكبر عليه أربعا، وكان يكتم قومه إسلامه خوفا منهم.

وتأخر إسلام ثمامة بن أثال، ثم أسلم مختارا بعد ذلك.

وأما قيصر فهم بالإسلام، فغلبه قومه، فلم يسلم.

وأما المقوقس فقارب، وهادى رسول الله صلى الله عليه وسلم، مأبورا وهو عبد مجبوب، والبغلة الشهباء، التي كانت تسمى الدلدل، وجاريتين: إحداهما مارية أم ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم(1)، والأخرى أختها سيرين، وهبها رسول الله صلى الله عليه وسلم لحسان بن ثابت فولدت له ابنه عبد الرحمن، فهو ابن خالة إبراهيم

--------------------------------------------

(1) ومن أجلها قال عليه الصلاة والسلام: «أوصيكم بأهل مصر خيرا فإن لكم فيهم نسبا وصهرا»
৭ - তিনি আলা ইবনে আল-হাদরামিকে বাহরাইনের রাজা আল-মুনজির ইবনে সাওয়া আল-আবদির নিকট প্রেরণ করেন।

৮ - তিনি আসাদ খুজায়মা গোত্রের শুজা ইবনে ওয়াহাব আল-আসাদিকে দামেস্কের প্রশাসনিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত বালকা এলাকার দুই রাজা আল-হারিস ইবনে আবি শিমর আল-গাসসানি এবং তাঁর চাচাতো ভাই জাবালা ইবনে আল-আইহামের নিকট প্রেরণ করেন।

৯ - তিনি আল-মুহাজির ইবনে আবি উমাইয়্যাহ আল-মাখজুমিকে ইয়ামেনের অন্যতম শাসক আল-হারিস ইবনে আবদিল মালিক আল-হিমইয়ারির নিকট প্রেরণ করেন।

১০ - তিনি মুয়াজ ইবনে জাবালকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার জন্য সমগ্র ইয়ামেনে প্রেরণ করেন, ফলে সেখানকার সকল রাজা ইসলাম গ্রহণ করেন, যেমন: জু আল-কালা, জু জুলিম, জু জারুদ, জু মারান এবং অন্যান্যরা।

এবং অন্যান্য সকল রাজা যাঁদের কথা আমরা আগে উল্লেখ করেছি যে তাঁর পক্ষ হতে তাঁদের কাছে দূত পাঠানো হয়েছিল, তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁদের প্রজারাও ইসলাম গ্রহণ করেন, কায়সার, মুকাওকিস, হাওজা, কিসরা, আল-হারিস ইবনে আবি শিমর এবং নাজ্জাশি ব্যতীত। আর এই নাজ্জাশি তিনি নন যাঁর কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ হিজরত করেছিলেন; সেই নাজ্জাশি—আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন—মুসলিম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর খবর ওহীর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসেছিল। অতঃপর তিনি মুসলমানদের কাছে তাঁর মৃত্যুসংবাদ ঘোষণা করেন এবং তাঁদের নিয়ে বাকী'-র দিকে বের হন। তিনি সাহাবীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করান এবং তাঁর জানাজা পড়েন ও চার তকবির প্রদান করেন। তিনি নিজ সম্প্রদায়ের ভয়ে তাঁর ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি গোপন রাখতেন।

সুমামা ইবনে উসালের ইসলাম গ্রহণ বিলম্বিত হয়েছিল, অতঃপর তিনি এরপর স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেন।

আর কায়সারের ব্যাপারে কথা হলো যে, তিনি ইসলাম গ্রহণের সংকল্প করেছিলেন, কিন্তু তাঁর সম্প্রদায় তাঁর ওপর প্রবল হয়ে দাঁড়ায়, ফলে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি।

আর মুকাওকিসের ব্যাপারে কথা হলো যে, তিনি ইসলামের নিকটবর্তী হয়েছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উপহার হিসেবে মাবুর নামক একজন খাসি করা দাস, ‘দুলদুল’ নামক ধূসর রঙের খচ্চর এবং দুইজন দাসী পাঠিয়েছিলেন। তাঁদের একজন মারিয়া, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সন্তানের জননী হয়েছিলেন(১), আর অন্যজন তাঁর বোন সিরিন, যাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসসান ইবনে সাবিতকে দান করেন। অতঃপর তাঁর গর্ভে তাঁর পুত্র আবদুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন, যিনি ইব্রাহিমের খালাতো ভাই।

--------------------------------------------

(১) আর তাঁর কারণেই তিনি আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলেছিলেন: "আমি তোমাদের মিশরের অধিবাসীদের ব্যাপারে কল্যাণের অছিয়ত করছি, কেননা তোমাদের জন্য তাদের মাঝে বংশীয় ও বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে।"
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ابن رسول الله صلى الله عليه وسلم. وأما البغلة فكان يركبها إلى أن مات، ثم كانت عند على بن أبى طالب إلى أن مات، قيل: ثم صارت عند عبد الله بن جعفر ابن أبى طالب، وكان يجش لها الشعير لطول عمرها، إلى أن نفقت أيام معاوية.

وأما كسرى فكان أقبح القوم ردا، ومزق كتابه، فدعا عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم، فمزق الله ملكه أولا، ثم ملك الفرس جملة. وكان صلوات الله وسلامه عليه له رسل كثير إلى قبائل العرب.

 

‌‌نساؤه صلى الله عليه وسلم

أول أزواجه صلى الله عليه وسلم: خديجة بنت خويلد بن أسد بن عبد العزى بن قصى بن كلاب، تزوجها عليه الصلاة والسلام وهو ابن خمس وعشرين سنة، وماتت رضي الله عنها قبل الهجرة بثلاث سنين، ولم يتزوج غيرها حتى ماتت. وكانت قبله عند عتيق بن عابد بن عبد الله بن عمر بن مخزوم، فولدت له عبد الله، ثم خلف عليها أبو هالة، واسمه هند بن زرارة بن النباش ابن عدى بن حبيب بن صرد بن سلامة بن جروة بن أسيد بن عمرو بن تميم، فولدت له ابنين ذكرين، وهما: هند والحارث، وابنة اسمها زينب. فأما هند بن هند فشهد أحدا، وسكن البصرة، وروى عنه الحسن بن على ابن أبى طالب. وأما الحارث فقتله أحد الكفار عند الركن اليمانى.

فلما ماتت خديجة تزوج عليه السلام سودة بنت زمعة بن قيس بن عبد شمس بن عبد ود بن نصر بن مالك بن حسل بن عامر بن لؤيّ، وكانت قبله عند ابن عمها السكران بن عمرو بن عبد شمس؛ فمات عنها.

ثم تزوج رسول الله صلى الله عليه وسلم عائشة بنت أبى بكر الصديق، واسمه عبد الله، ابن أبى قحافة، واسمه عثمان، بن عامر بن عمرو بن كعب بن سعد بن تيم، ابن مرة بن كعب بن لؤيّ بن غالب، لم يتزوج بكرا غيرها. تزوجها بمكة
...রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পুত্র। আর খচ্চরটির কথা হলো, তিনি ইন্তেকাল পর্যন্ত সেটিতে আরোহণ করতেন। এরপর সেটি আলী ইবনে আবি তালিবের নিকটে ছিল তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত। বলা হয়ে থাকে: অতঃপর সেটি আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আবি তালিবের নিকট স্থানান্তরিত হয়। সেটির দীর্ঘায়ুর কারণে তিনি বার্লি পিষে খাওয়াতেন, পরিশেষে মুয়াবিয়ার শাসনামলে সেটি মারা যায়।

আর কিসরার (পারস্য সম্রাট) বিষয়টি হলো, সে ছিল প্রতিনিধিদের মধ্যে সবচেয়ে রূঢ় প্রত্যুত্তরকারী এবং সে রাসূলুল্লাহর পত্র ছিঁড়ে ফেলেছিল। ফলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিরুদ্ধে বদদোয়া করেন। ফলশ্রুতিতে আল্লাহ প্রথমে তার রাজত্ব এবং পরবর্তীতে পারস্যের সামগ্রিক সাম্রাজ্য ছিন্নভিন্ন করে দেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে আরব গোত্রসমূহের নিকট বহু দূত প্রেরিত হয়েছিল।

 

‌‌তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পত্নীগণ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রথম স্ত্রী ছিলেন: খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল উযযা ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব। পঁচিশ বছর বয়সে তিনি তাঁকে বিবাহ করেন। হিজরতের তিন বছর পূর্বে খাদিজা (রাজিআল্লাহু আনহা) ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর মৃত্যু অবধি নবীজি অন্য কোনো বিবাহ করেননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পূর্বে তিনি আতীক ইবনে আবিদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে মাখজুমের বিবাহবন্ধনে ছিলেন, যার ঔরসে তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ ভূমিষ্ঠ হন। এরপর তাঁর পাণিগ্রহণ করেন আবু হালা—তাঁর নাম হিন্দ ইবনে যুরারা ইবনে নাব্বাশ ইবনে আদি ইবনে হাবিব ইবনে সুরদ ইবনে সালামাহ ইবনে জারওয়াহ ইবনে আসায়িদ ইবনে আমর ইবনে তামিমি। তাঁর ঔরসে খাদিজা (রা.)-এর দুই পুত্র হিন্দ ও হারিস এবং জয়নাব নামক এক কন্যা জন্মগ্রহণ করেন। হিন্দ ইবনে হিন্দ ওহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তিনি বসরায় বসবাস করতেন এবং তাঁর থেকে হাসান ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর হারিসকে রুকনে ইয়ামানির নিকট এক কাফের হত্যা করেছিল।

যখন খাদিজা (রা.) ইন্তেকাল করলেন, তখন তিনি সাওদা বিনতে যামআ ইবনে কায়স ইবনে আব্দে শামস ইবনে আব্দে উদ ইবনে নাসর ইবনে মালিক ইবনে হাসল ইবনে আমির ইবনে লুওয়াইকে বিবাহ করেন। নবীজি (সা.)-এর পূর্বে তিনি তাঁর চাচাতো ভাই সাকরান ইবনে আমর ইবনে আব্দে শামসের বিবাহবন্ধনে ছিলেন; পরে তিনি ইন্তেকাল করেন।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর কন্যা আয়েশাকে বিবাহ করেন। আবু বকরের নাম ছিল আব্দুল্লাহ ইবনে আবি কুহাফা—আর আবি কুহাফার নাম উসমান—ইবনে আমির ইবনে আমর ইবনে কাব ইবনে সাদ ইবনে তাইম ইবনে মুররা ইবনে কাব ইবনে লুওয়াই ইবনে গালিব। তিনি আয়েশা (রা.) ব্যতীত অন্য কোনো কুমারী রমণীকে বিবাহ করেননি। তাঁকে তিনি মক্কায় বিবাহ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وهى بنت ست سنين، وبنى بها بعد الهجرة بسبعة أشهر فى شوال، وهى بنت تسع سنين، وبقيت معه تسع سنين وخمسة أشهر، وماتت سنة ثمان وخمسين.

ثم تزوج حفصة بنت عمر بن الخطاب بعد الهجرة بسنتين وأشهر، وكانت قبله تحت خنيس بن حذافة السهمى، فمات عنها، وتوفيت سنة خمس وأربعين، وصلى عليها مروان، وهو أمير المدينة.

ثم تزوج زينب بنت خزيمة بن الحارث بن عبد الله بن عمرو بن عبد الله ابن عبد مناف بن هلال بن عامر بن صعصعة، وكانت قبله عند عبيدة بن الحارث بن المطلب بن عبد مناف، قتل يوم بدر. وتوفيت زينب فى حياته بعد ضمه لها بشهرين، وقال الزهرى: بل كانت عند عبد الله بن جحش الأسدي المستشهد يوم أحد.

وتزوج أم سلمة، واسمها هند، بنت أبى أمية، واسمه حذيفة، ابن المغيرة بن عبد الله بن عمر بن مخزوم بن يقظة بن مرة بن كعب بن لؤيّ.

وكانت قبله عند أبى سلمة، واسمه عبد الله. بن عبد الأسد المخزومى، فولدت له عمر. وسلمة، ودرة، وزينب؛ وهى آخر نسائه موتا، ماتت سنة تسع وخمسين، وكذلك ذكر أبو حسان الحسن بن عثمان الزيادى فى تأريخه: أنها توفيت فى سنة تسع وخمسين، وقال ابن أبى خيثمة: قبل معاوية بسنة. وقال عطاء: آخرهن موتا صفية، وهذا وهم.

وتزوج زينب بنت جحش بن رئاب بن يعمر بن صبرة بن مرة بن كبير ابن غنم بن دودان بن أسد بن خزيمة، وكانت قبله صلى الله عليه وسلم عند زيد بن حارثة مولاه، وهى أول نسائه موتا بعده، ماتت فى أول خلافة عمر، وهى التي
তিনি তখন ছয় বছর বয়সী ছিলেন। হিজরতের সাত মাস পর শাওয়াল মাসে নয় বছর বয়সে তাঁর সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু হয়। তিনি তাঁর সাথে নয় বছর পাঁচ মাস অবস্থান করেন এবং আটান্ন হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

অতঃপর তিনি হিজরতের দুই বছর কয়েক মাস পরে ওমর ইবনুল খাত্তাবের কন্যা হাফসাকে বিয়ে করেন। এর পূর্বে তিনি খুনায়েস ইবনে হুযাফা আস-সাহমীর স্ত্রী ছিলেন, যিনি তাঁর থেকে পৃথক হয়ে (মৃত্যুর মাধ্যমে) বিদায় নেন। হাফসা পঁয়তাল্লিশ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং মারওয়ান তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান, যিনি তখন মদিনার আমির ছিলেন।

অতঃপর তিনি খুযায়মা ইবনুল হারিস ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদ মানাফ ইবনে হিলাল ইবনে আমির ইবনে সা’সাআ-র কন্যা যয়নাবকে বিয়ে করেন। তাঁর পূর্বে তিনি উবায়দাহ ইবনুল হারিস ইবনে মুত্তালিব ইবনে আবদ মানাফের স্ত্রী ছিলেন, যিনি বদরের যুদ্ধে নিহত হন। যয়নাব তাঁর (রাসূলের) জীবদ্দশায় তাঁকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণের দুই মাস পর ইন্তেকাল করেন। যুহরি বলেন: বরং তিনি ওহুদ যুদ্ধে শহীদ হওয়া আবদুল্লাহ ইবনে জাহশ আল-আসাদীর স্ত্রী ছিলেন।

এবং তিনি উম্মে সালামাকে বিয়ে করেন, যাঁর নাম হিন্দ, বিনতে আবু উমাইয়্যাহ—যাঁর নাম হুযায়ফাহ—ইবনে মুগীরা ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর ইবনে মাখযুম ইবনে ইয়াকাজা ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুয়াই।

তিনি তাঁর পূর্বে আবু সালামার স্ত্রী ছিলেন, যাঁর নাম আবদুল্লাহ ইবনে আবদিল আসাদ আল-মাখযুমী। তিনি তাঁর গর্ভে ওমর, সালামাহ, দুররাহ এবং যয়নাবকে জন্ম দেন। তিনি নবীজীর স্ত্রীদের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী; তিনি ঊনষাট হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আবু হাসসান হাসান ইবনে উসমান আজ-জিয়াদী তাঁর ইতিহাসে এভাবেই উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ঊনষাট হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। ইবনে আবি খায়সামা বলেন: মুয়াবিয়ার ইন্তেকালের এক বছর পূর্বে। আতা বলেন: তাঁদের মধ্যে সর্বশেষ ইন্তেকালকারী হলেন সাফিয়্যাহ, তবে এটি একটি ভ্রম।

এবং তিনি জাহশ ইবনে রিআব ইবনে ইয়ামুর ইবনে সাবরাহ ইবনে মুররাহ ইবনে কাবীর ইবনে গানাম ইবনে দাওদান ইবনে আসাদ ইবনে খুযায়মার কন্যা যয়নাবকে বিয়ে করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বে তিনি তাঁর মুক্তদাস যায়েদ ইবনে হারিসার স্ত্রী ছিলেন। নবীজীর ইন্তেকালের পর তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে তিনিই প্রথম মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ওমরের খিলাফতের শুরুর দিকে ইন্তেকাল করেন। তিনিই সেই নারী যিনি
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
زوجها الله تعالى منه(1)، ولما فتحت البلاد وآتاها عمر ما فرض لها بكت وأعولت ودعت إلى الله عز وجل أن لا يريها عاما قابلا حتى تلقى رسول الله صلى الله عليه وسلم على ما فارقته من التقلل فى الدنيا، فماتت قبل تمام العام.

ثم تزوج رسول الله صلى الله عليه وسلم جويرية بنت الحارث بن أبى ضرار، واسمه حبيب، بن الحارث بن عابد بن مالك بن جذيمة، وهو المصطلق، من خزاعة. وكانت قبله عند رجل من بنى عمها، اسمه عبد الله بن جحش الأسدي، وتوفيت سنة ست وخمسين فى ربيع الأول، وصلى عليها مروان، قاله الواقدى.

ثم تزوج أم حبيبة، واسمها رملة، وقيل هند، بنت أبى سفيان صخر ابن حرب بن أمية بن عبد شمس، فيما بعد الحديبية، سيقت إليه من بلاد الحبشة، وكانت هنالك مهاجرة مسلمة، وكانت قبله تحت عبيد الله بن جحش الأسدي، فارتد إلى النصرانية، ثم مات إلى النار. قيل: إن النجاشى أصدقها أربعمائة دينار ذهبا، وماتت فى خلافة أخيها معاوية، سنة أربع وأربعين، فيما قاله أبو حسان الزيادى، وقال أيضا مثله الواقدى.

وتزوج إثر فتح خيبر صفية بنت حيى بن أخطب، من بنى النضير، من ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم هرون بن عمران أخى موسى بن عمران عليهما السلام، وهو عمران بن قاهاث بن لاوى بن رسول الله صلى الله عليه وسلم يعقوب بن رسول الله صلى الله عليه وسلم إسحاق بن رسول الله صلى الله عليه وسلم إبراهيم رسول الله وخليله.

وكانت قبله تحت كنانة بن أبى الحقيق. قال الواقدى رحمه الله تعالى: وفى سنة خمسين ماتت صفية بنت حيى، وقاله أيضا أبو حسان الزيادى.

--------------------------------------------

(1) وفيها نزلت آية سورة الأحزاب 37: «فلما قضى زيد منها وطرا زوجناكها لكى لا يكون على المؤمنين حرج فى أزواج أدعيائهم … ).
আল্লাহ তাআলা তাঁর সাথে তাঁর বিবাহ দিয়েছিলেন(১)। যখন বিভিন্ন দেশ বিজিত হলো এবং উমর তাঁর জন্য নির্ধারিত অংশ প্রদান করলেন, তখন তিনি ক্রন্দন করলেন এবং বিলাপ করলেন। তিনি মহান আল্লাহর কাছে দুআ করলেন যেন তিনি তাঁকে আগামী বছরটি না দেখান, যতক্ষণ না তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সেই অবস্থায় সাক্ষাৎ করতে পারেন—দুনিয়ার যে অল্পেতুষ্টির অবস্থায় তিনি তাঁকে ছেড়ে গিয়েছিলেন। অতঃপর বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই তিনি ইন্তেকাল করেন।

অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুয়াইরিয়াহ বিনতে আল-হারিস ইবনে আবি দিরারকে বিবাহ করেন। তাঁর (আবি দিরারের) নাম ছিল হাবিব, ইবনে আল-হারিস ইবনে আবিদ ইবনে মালিক ইবনে জাযিমা—যিনি খুজাআ গোত্রের বনু মুসতালিকের অন্তর্ভুক্ত। তিনি রাসুলুল্লাহর পূর্বে তাঁর এক চাচাতো ভাইয়ের বিবাহাধীনে ছিলেন, যার নাম ছিল আবদুল্লাহ ইবনে জাহশ আল-আসাদি। তিনি ছাপ্পান্ন হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন এবং মারওয়ান তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান; ওয়াকিদি এ কথা বলেছেন।

অতঃপর তিনি উম্মে হাবিবা—যার নাম ছিল রামলা, মতান্তরে হিন্দ—বিনতে আবু সুফিয়ান সাখর ইবনে হারব ইবনে উমাইয়া ইবনে আবদে শামসকে বিবাহ করেন। হুদায়বিয়ার পরবর্তী সময়ে আবিসিনিয়া দেশ থেকে তাঁকে রাসুলুল্লাহর নিকট পাঠানো হয়েছিল; তিনি সেখানে হিজরতকারী মুসলিম হিসেবে অবস্থান করছিলেন। ইতিপূর্বে তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে জাহশ আল-আসাদির বিবাহাধীনে ছিলেন, যে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হয়ে মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল এবং জাহান্নামের অধিবাসী হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিল। বলা হয়ে থাকে যে, নাজাসি তাঁকে চারশ স্বর্ণমুদ্রা মোহর হিসেবে প্রদান করেছিলেন। তিনি তাঁর ভাই মুআবিয়ার খেলাফতকালে চুয়াল্লিশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন; আবু হাসসান আল-জিয়াদি এটি বলেছেন এবং ওয়াকিদিও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

খয়বর বিজয়ের পর তিনি সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়াই ইবনে আখতাবকে বিবাহ করেন, যিনি বনু নাযির গোত্রের এবং আল্লাহর রাসুল হারুন ইবনে ইমরান (মুসা ইবনে ইমরান আলাইহিমাস সালামের ভাই)-এর বংশধর ছিলেন। এই ইমরান হলেন কাহাথ ইবনে লাবি ইবনে আল্লাহর রাসুল ইয়াকুব ইবনে আল্লাহর রাসুল ইসহাক ইবনে আল্লাহর রাসুল ও খলিলুল্লাহ ইব্রাহিমের বংশধর।

তিনি রাসুলুল্লাহর পূর্বে কিনানা ইবনে আবিল হুকাইকের বিবাহাধীনে ছিলেন। ওয়াকিদি (রহ.) বলেন: পঞ্চাশ হিজরি সনে সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়াই ইন্তেকাল করেন। আবু হাসসান আল-জিয়াদিও এটি বলেছেন।

--------------------------------------------

(১) আর এ বিষয়েই সূরা আল-আহযাবের ৩৭ নম্বর আয়াত নাজিল হয়েছে: «অতঃপর যায়েদ যখন তার সাথে প্রয়োজন শেষ করল, তখন আমি তাকে আপনার সাথে বিবাহ দিলাম, যাতে মুমিনদের জন্য তাদের পালক পুত্রদের স্ত্রীদের ব্যাপারে কোনো সংকীর্ণতা না থাকে … )।
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
ثم تزوج ميمونة بنت الحارث بن حزن بن بجير بن هرم بن رويبة بن عبد الله بن هلال بن عامر بن صعصعة، وهى خالة خالد بن الوليد وعبد الله ابن عباس. وكانت قبل رسول الله صلى الله عليه وسلم عند ابى رهم بن عبد العزى ابن أبى قيس بن عبد ود بن نصر بن مالك بن حسل بن عامر بن لؤيّ. وقال عبد الله بن محمد بن عقيل بن أبى طالب: بل كانت تحت حويطب بن عبد العزى أخى أبى رهم.

وهى آخر من تزوج صلى الله عليه وسلم، تزوجها بمكة فى عمرة القضاء بعد إحلاله، وبنى بها بسرف، وبها ماتت أيام معاوية، وذلك سنة إحدى وخمسين، قاله خليفة. وقبرها هناك معروف.

وبعث فى الجونية ليتزوجها، فدخل عليها ليخطبها، فاستعاذت بالله منه، فأعاذها، ولم يتزوجها، وردها إلى أهلها.

ولم يصح عنه عليه السلام أنه طلق امرأة قط، إلا حفصة بنت عمر، ثم راجعها، بأمر الله له بمراجعتها.

وأراد صلى الله عليه وسلم طلاق سودة بنت زمعة، إذ أسنت، وتوقع أن لا يوفيها حقها؛ فرغبت أن يمسكها، ويجعل يومها لعائشة بنت أبى بكر، فأمسكها.

ولم يبق من نسائه أمهات المؤمنين امرأة إلا تخيرته؛ إذ أنزل الله تعالى آية التخيير(1)، ومن ذكر غير هذا فقد ذكر الباطل المتيقن.

--------------------------------------------

(1) وهى الآية 29، والآية 30 من سورة الأحزاب: «يا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْواجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَياةَ الدُّنْيا وَ زِينَتَها فَتَعالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ … » إلى قوله تعالى: {فَإِنَّ اللهَ أَعَدَّ لِلْمُحْسِناتِ مِنْكُنَّ أَجْراً عَظِيماً».
এরপর তিনি মাইমুনা বিনতে আল-হারিস বিন হাযন বিন বুজাইর বিন হারাম বিন রুয়াইবা বিন আব্দুল্লাহ বিন হিলাল বিন আমির বিন সা’সা’কে বিবাহ করেন। তিনি ছিলেন খালিদ বিন ওয়ালিদ এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের খালা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিবাহের পূর্বে তিনি আবু রুহম বিন আব্দুল উযযা বিন আবু কায়স বিন আব্দুল উদ্দ বিন নাসর বিন মালিক বিন হিসল বিন আমির বিন লুয়াইয়ের অধীনে ছিলেন। আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আকিল বিন আবি তালিব বলেন: বরং তিনি আবু রুহমের ভাই হুয়াইতিব বিন আব্দুল উযযার বিবাহবন্ধনে ছিলেন।

তিনিই সর্বশেষ নারী যাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহ করেছিলেন। ইহরাম খোলার পর উমরাতুল কাযার সফরে মক্কায় তিনি তাঁকে বিবাহ করেন এবং ‘সারিফ’ নামক স্থানে তাঁর সাথে বাসর সম্পন্ন করেন। মুয়াবিয়ার শাসনামলে সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন, আর সেটা ছিল ৫১ হিজরি সালে; খলিফা ইবনে খাইয়াত এ কথা বলেছেন। সেখানে তাঁর কবর সুপরিচিত।

তিনি জাওনিয়া গোত্রের এক মহিলার নিকট বিবাহের প্রস্তাব পাঠান। অতঃপর যখন তিনি তাঁর নিকট বিয়ের প্রস্তাব দিতে প্রবেশ করেন, তখন সেই মহিলা তাঁর (রাসূলের) থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেন। তখন তিনি তাঁকে আল্লাহর আশ্রয় দান করেন এবং তাঁকে বিবাহ না করে তাঁর পরিবারের নিকট ফেরত পাঠিয়ে দেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও কোনো স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন বলে সহীহ সূত্রে প্রমাণিত নয়, কেবল হাফসা বিনতে উমর ব্যতীত। পরবর্তীতে আল্লাহর নির্দেশে তিনি তাঁকে পুনরায় গ্রহণ করেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওদা বিনতে জামআকে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা করেছিলেন, যখন তিনি বৃদ্ধা হয়ে গিয়েছিলেন এবং রাসূল আশঙ্কা করেছিলেন যে তিনি তাঁর প্রাপ্য হক আদায় করতে পারবেন না। তখন সাওদা চাইলেন যেন তিনি তাঁকে নিজ স্ত্রী হিসেবে রেখে দেন এবং তিনি নিজের পালার দিনটি আয়েশা বিনতে আবু বকরের জন্য দিয়ে দেন। ফলে তিনি তাঁকে রেখে দেন।

রাসূলুল্লাহর স্ত্রীদের তথা মুমিন জননীদের মধ্যে এমন কোনো নারী অবশিষ্ট ছিলেন না যিনি তাঁকে (রাসূলকে) পছন্দ করে নেননি; যখন মহান আল্লাহ ‘পছন্দ করে নেওয়ার’ আয়াত(১) নাজিল করেন। আর যে ব্যক্তি এর ব্যতিক্রম কিছু উল্লেখ করবে, সে সুনিশ্চিতভাবে একটি বাতিল ও ভিত্তিহীন কথা বলেছে।

--------------------------------------------

(১) এটি সূরা আল-আহযাবের ২৯ এবং ৩০ নম্বর আয়াত: “হে নবী! আপনার স্ত্রীদের বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার সৌন্দর্য কামনা করো, তবে এসো, আমি তোমাদের ভোগ-সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিই...” মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের মধ্যকার সৎকর্মশীলদের জন্য মহা পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন।”
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وصح أن صدقاته لنسائه كان لكل امرأة خمسمائة درهم، هذا الثابت فى ذلك، إلا صفية، فإنه أعتقها وجعل عتقها صداقها، لا صداق لها غير ذلك البتة، فصارت سنة بعده عليه السلام.

وأولم على زينب بنت جحش بشاة واحدة فكفت الناس، قال أنس ابن مالك: ولم نره أولم على امرأة من نسائه بأكثر من ذلك.

وأولم على صفية وليمة ليس فيها شحم ولا لحم، إنما كان السويق والتمر والسمن.

وأولم على بعض نسائه، لم تسم لنا، بمدين من شعير، فكفى ذلك كل من حضر.

وكان ينفق على نسائه كل سنة عشرين وسقا من شعير، وثمانين وسقا من تمر. هكذا رويناه من طريق فى غاية الصحة، وروينا من طريق فيها ضعف: أن هذا العدد لكل واحدة منهن فى العام، فالله أعلم، فقد كان لكل واحدة منهن الإماء والعبيد والعتقاء فى حياته، صلى الله عليه وسلم ورضى عن جميعهن رضوانا يوجب لهن الجنة.

 

‌‌أولاده صلى الله عليه وسلم

كل أولاده من ذكر وأنثى فمن خديجة بنت خويلد، حاشا إبراهيم، فإنه من مارية القبطية التي أهداها له المقوقس، لم يولد له من غيرها.

فالذكور من ولده:

القاسم، وبه كان يكنى، هو أكبر ولده، عاش أياما يسيرة، ولد له قبل النبوة.
এটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত যে তাঁর স্ত্রীদের মোহর ছিল প্রত্যেকের জন্য পাঁচশ দিরহাম। এটিই এ বিষয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত তথ্য, তবে সাফিয়্যাহর বিষয়টি স্বতন্ত্র, কারণ তিনি তাঁকে মুক্ত করেছিলেন এবং তাঁর এই মুক্তিদানকেই তাঁর মোহর হিসেবে গণ্য করেছিলেন। এ ছাড়া তাঁর জন্য অন্য কোনো মোহর মোটেও ছিল না। ফলে তাঁর পরবর্তী সময়ে এটি একটি সুন্নতে পরিণত হয়েছে।

তিনি যায়নাব বিনতে জাহশের ওলিমাতে একটি বকরি যবেহ করেছিলেন যা উপস্থিত মানুষের জন্য যথেষ্ট হয়েছিল। আনাস ইবনে মালিক বলেছেন: আমরা তাঁকে তাঁর স্ত্রীদের কারো ওলিমাতে এর চেয়ে বেশি কিছু দিয়ে ওলিমা করতে দেখিনি।

তিনি সাফিয়্যাহর ওলিমা দিয়েছিলেন এমন এক ভোজের মাধ্যমে যাতে কোনো চর্বি বা গোশত ছিল না; বরং তা ছিল কেবল ছাতু, খেজুর এবং ঘি।

তিনি তাঁর জনৈক স্ত্রীর ওলিমা করেছিলেন—যার নাম আমাদের নিকট উল্লেখ করা হয়নি—দুই মুদ যব দিয়ে, যা উপস্থিত সকলের জন্য যথেষ্ট হয়েছিল।

তিনি প্রতি বছর তাঁর স্ত্রীদের ভরণপোষণের জন্য বিশ ওয়াসাক যব এবং আশি ওয়াসাক খেজুর ব্যয় করতেন। অত্যন্ত বিশুদ্ধ সূত্রে আমরা এভাবেই বর্ণনা লাভ করেছি। তবে আমরা একটি দুর্বল সূত্রে বর্ণনা করেছি যে, এই পরিমাণ ছিল তাঁদের প্রত্যেকের জন্য বাৎসরিক বরাদ্দ। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। তাঁর জীবনকালেই তাঁদের প্রত্যেকের দাসী, দাস এবং মুক্ত করা দাস ছিল; আল্লাহ তাঁর ওপর দরুদ ও শান্তি বর্ষণ করুন এবং তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—এমন সন্তুষ্টি যা তাঁদের জন্য জান্নাত অবধারিত করে।

 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সন্তানগণ

ইবরাহিম ব্যতীত তাঁর সকল পুত্র ও কন্যা সন্তান খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ-এর গর্ভে জন্মলাভ করেছেন। ইবরাহিম ছিলেন মারিয়া কিবতিয়াহর গর্ভজাত, যাঁকে মুকাউকিস তাঁর নিকট উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। এই দুজন ব্যতীত অন্য কারো থেকে তাঁর কোনো সন্তান জন্ম হয়নি।

তাঁর পুত্র সন্তানগণ হলেন:

কাসিম, তাঁর নামানুসারেই তিনি কুনিয়াত বা উপনাম ধারণ করেছিলেন। তিনি তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান ছিলেন এবং অল্প কয়েকদিন জীবিত ছিলেন। নবুওয়াতের পূর্বেই তাঁর জন্ম হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) জাওয়ামিউস সীরাহ - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
وولدان آخران اختلف فى اسم أحدهما، إلا أنه لا يخرج الرواية فى ذلك عن «عبد الله» و «الطاهر» و «الطيب».

وروينا من طريق هشام بن عروة عن أبيه: أنه كان له ولد اسمه عبد العزى قبل النبوة، وهذا بعيد، والخبر مرسل، ولا حجة فى مرسل.

وأما إبراهيم فولد بالمدينة وعاش عامين غير شهرين، ومات قبل موت أبيه صلى الله عليه وسلم بثلاثة أشهر، يوم كسوف الشمس.

وبناته:

زينب؛ أكبر بناته، تزوجها أبو العاصى، اسمه القاسم، بن الربيع بن عبد العزى بن عبد شمس بن عبد مناف، وكانت خديجة أم المؤمنين خالة ابى العاصى. لم يكن لزينب زوج غير أبى العاصى، وماتت عنده سنة ثمان من الهجرة، قاله خليفة.

ومات أبو العاصى فى خلافة عمر. فولدت زينب لأبى العاصى: عليا، ومات مراهقا، وأمامة، تزوجها على بن أبى طالب بعد فاطمة فلم تلد له، ومات عنها، فتزوجها المغيرة بن نوفل بن الحارث بن عبد المطلب، فماتت عنده ولم تلد له.

وكان لرسول الله صلى الله عليه وسلم: رقية، تزوجها عثمان بن عفان، لم يكن لها زوج غيره، فولدت له ابنا اسمه: عبد الله، مات وله أربع سنين، ثم ماتت رقية بعد يوم بدر بثلاثة أيام.

وكان له صلى الله عليه وسلم أيضا: فاطمة رضوان الله عليها، وتزوجها أمير المؤمنين على بن أبى طالب كرم الله وجهه، فولدت له: الحسن، فهو أكبر ولده -
আরও দুইজন পুত্র ছিলেন যাদের একজনের নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে, তবে এই বিষয়ক বর্ণনাগুলো «আবদুল্লাহ», «আত-তহির» এবং «আত-তইয়িব» নামের বাইরে যায় না।

হিশাম ইবনে উরওয়াহ তাঁর পিতার সূত্রে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে: নবুওয়াতের পূর্বে তাঁর 'আবদুল উজ্জা' নামে এক পুত্র ছিল। তবে এটি দূরবর্তী সম্ভাবনা এবং বর্ণনাটি মুরসাল; আর মুরসাল বর্ণনায় কোনো দলিল নেই।

আর ইব্রাহিম মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন এবং দুই মাস কম দুই বছর জীবিত ছিলেন। তিনি তাঁর পিতা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের তিন মাস পূর্বে সূর্যগ্রহণের দিনে মৃত্যুবরণ করেন।

এবং তাঁর কন্যাগণ:

জয়নব; তাঁর কন্যাদের মধ্যে সবচেয়ে বড়, আবুল আস তাঁর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর নাম হলো কাসেম ইবনুর রবি' ইবনে আবদিল উজ্জা ইবনে আবদু শামস ইবনে আবদু মানাফ। উম্মুল মুমিনীন খাদিজা ছিলেন আবুল আসের খালা। আবুল আস ছাড়া জয়নবের অন্য কোনো স্বামী ছিল না। তিনি হিজরি অষ্টম সনে তাঁর নিকট থাকা অবস্থায় ইন্তেকাল করেন, খলিফা এ কথা বলেছেন।

আবুল আস উমরের খেলাফতকালে ইন্তেকাল করেন। জয়নব আবুল আসের ঔরসে আলী নামক এক পুত্র জন্ম দেন, যে কৈশোরেই মারা যায়; এবং উমামাহ্। ফাতেমার ইন্তেকালের পরে আলী ইবনে আবি তালিব উমামাহকে বিবাহ করেন, তবে তাঁর গর্ভে আলীর কোনো সন্তান হয়নি। আলীর মৃত্যুর পর মুগিরা ইবনে নওফেল ইবনুল হারিস ইবনে আবদুল মুত্তালিব তাঁকে বিবাহ করেন। মুগিরার নিকট থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং তাঁরও কোনো সন্তান হয়নি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম কন্যা ছিলেন রুকাইয়া। উসমান ইবনে আফফান তাঁকে বিবাহ করেন এবং তিনি ছাড়া তাঁর আর কোনো স্বামী ছিল না। তিনি তাঁর ঔরসে আবদুল্লাহ নামে এক পুত্র সন্তান জন্ম দেন, যে চার বছর বয়সে মারা যায়। এরপর রুকাইয়া বদর যুদ্ধের তিন দিন পর ইন্তেকাল করেন।

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরও কন্যা ছিলেন: ফাতেমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা। আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু তাঁকে বিবাহ করেন। তিনি তাঁর ঔরসে হাসানকে জন্ম দেন, আর সে ছিল তাঁর সন্তানদের মধ্যে বড়—