(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: -)
إعلام السائلين عن كتب سيد المرسلين لابن طولون القسم: السيرة النبوية
الكتاب: إعلام السائلين عن كتب سيد المرسلين لابن طولون
المؤلف: محمد بن طولون الدمشقي (880 - 953 هـ)
حققه: محمود الأرناؤوط [ت 1438 هـ]
راجعه: عبد القادر الأرناؤوط [ت 1425 هـ]
الناشر: مؤسسة الرسالة، بيروت - لبنان
الطبعة: الثانية، 1407 هـ - 1987 م
عدد الصفحات: 163
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবন তুলুন রচিত ‘ইলামুস সায়িলিন আন কুতুবি সাইয়িদুল মুরসালিন’ বিভাগ: সীরাতুন নবী
গ্রন্থ: ইবন তুলুন রচিত ‘ইলামুস সায়িলিন আন কুতুবি সাইয়িদুল মুরসালিন’
লেখক: মুহাম্মাদ ইবন তুলুন আদ-দিমাশকী (৮৮০ - ৯৫৩ হি.)
সম্পাদনা: মাহমুদ আল-আরনাউত [মৃত্যু ১৪৩৮ হি.]
পুনরীক্ষণ: আব্দুল কাদির আল-আরনাউত [মৃত্যু ১৪২৫ হি.]
প্রকাশক: মুআসসাসাতুর রিসালাহ، বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৭ হি. - ১৯৮৭ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৫১)
الأوَّلُ فِي كتَابِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم إِلى النَّجَاشِيِّ مَلِكِ الْحَبَشَةِوإنما بدأنا بِهِ لكونه أسلم لما وصلهُ الكتابُ، ورد جوابه ردًا حسنًا رضي الله عنه.
أَخْبَرَنَا الْجَمَالُ بْنُ الْمُبَرِّدِ ، بِقَرَاءَتِي عَلَيْهِ، أَخْبَرَكُمْ أَبُو حَفْصٍ الرَّامِينِيِّ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ الْمُحِبِّ، أَنْبَأَنَا أَبُو زَكَرِيَّا بْنُ سَعْدٍ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ بَقِيٍّ.
ح ، وَشَافَهَتْنِي عَالِيًا أُمُّ عَبْدِ الرَّزِاق الأُمُورِيَّةُ، عَنْ أُمِّ مُحَمَّدٍ الْعُمَرِيَّةِ، عَنْ أُمِّ عَبْدِ اللَّهِ الْكَمَالِيَّةِ، عَنْ أَبِي الْقَاسِمِ بْنِ بَقِيٍّ،
হাবাশার বাদশাহ নাজাশির প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্র সংক্রান্ত প্রথম পরিচ্ছেদআমরা এটি দিয়েই শুরু করেছি কারণ যখন তাঁর কাছে পত্রটি পৌঁছেছিল তখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে এর উত্তর দিয়েছিলেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
আল-জামাল বিন আল-মুবররিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তাঁর সামনে আমার পাঠের মাধ্যমে—তিনি বলেছেন: আবু হাফস আর-রামিনি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর বিন আল-মুহিব্ব আমাদের জানিয়েছেন, আবু যাকারিয়া বিন সাদ আমাদের জানিয়েছেন, আবু আল-কাসিম বিন বাকি আমাদের জানিয়েছেন।
(হ), এবং উম্মু আবদুর রাজ্জাক আল-আমুরিয়্যাহ উচ্চ সনদে আমাকে মৌখিকভাবে বর্ণনা করেছেন, তিনি উম্মু মুহাম্মাদ আল-উমারিয়্যাহ থেকে, তিনি উম্মু আবদুল্লাহ আল-কামালিয়্যাহ থেকে, তিনি আবু আল-কাসিম বিন বাকি থেকে।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৫২)
أَنْبَأَنَا أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ بِشْكَوَالٍ، أَنْبَأَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْقُرْطُبِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو عُمَرَ بْنُ عَبْدِ الْبَرِّ، أَنْبَأَنَا أَبُو عُمَرَ الإِشْبِيلِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبِي أَبُو مُحَمَّدٍ، أَنْبَأَنَا ابْنُ يُونُسَ، أَنْبَأَنَا بَقِيُّ بْنُ مَخْلَدٍ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَرْمَلَةَ الأَسْلَمِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ، يَقُولُ: " كَتَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى النَّجَاشِيِّ: تَعَالَ إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَنْ لا نَعْبُدَ إِلا اللَّهَ وَلا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ ، فَآمَنَ وَمَنْ كَانَ عِنْدَهُ، وَأَرْسَلَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِهَدِيَّةٍ حُلَّةٍ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: اتْركُوهُ مَا تَرَكَكُمْ ".
আবুল কাসিম বিন বিশকুওয়াল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আল-কুরতুবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু উমর বিন আব্দুল বার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু উমর আল-ইশবিলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার পিতা আবু মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে ইউনুস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বাকি বিন মাখলাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর বিন আবি শায়বা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুর রহিম বিন সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান বিন হারমালাহ আল-আসলামী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজাশীর নিকট লিখেছিলেন: ‘এসো সেই কথায় যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করব না এবং আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ছাড়া রব হিসেবে গ্রহণ করব না। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তোমরা বল, তোমরা সাক্ষী থাক যে আমরা মুসলিম।’ অতঃপর তিনি এবং তাঁর নিকট যারা ছিল তারা ঈমান আনলেন এবং তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এক সেট পোশাক উপহার হিসেবে পাঠালেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘সে যতক্ষণ তোমাদের ছেড়ে রাখছে, তোমরাও তাকে ছেড়ে দাও’।"
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
وَبِهِ إِلَى ابْنِ أَبِي شَيْبَةَ
حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ يَعْقُوبَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَوْنٍ، قَالَ: " بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ عَمْرَو بْنَ أُمَيَّةَ إِلَى النَّجَاشِيِّ، فَأَصْبَحَ يَتَكَلَّمُ بِلِسَانِ قَوْمِهِ، فَلَمَّا أَتَاهُ وَجَدَ لَهُمْ بَابًا صَغِيرًا يَدْخُلونَ مِنْهُ مُكَفِّرِينَ، فَلَمَّا رَأَى عَمْرُو ذَلِكَ وَلَّى ظَهْرَهُ الْقَهْقَرَى، قَالَ: فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَى الْحَبَشَةِ فِي مَجْلِسِهِمْ عِنْدَ النَّجَاشِيِّ، حَتَّى هَمُّوا بِهِ، حَتَّى قَالُوا لِلنَّجَاشِيِّ: إِنَّ هَذَا لَمْ يَدْخُلْ كَمَا دَخَلْنَا، قَالَ: مَا مَنَعَكَ أَنْ تَدْخُلَ كَمَا دَخَلُوا؟ ، قَالَ: إِنَّا لا نَصْنَعُ هَذَا بِنَبِيِّنَا، وَلَوْ صَنَعْنَاهُ بِأَحَدٍ صَنَعْنَاهُ بِهِ، قَالَ: صَدَقَ دَعُوهُ، قَالُوا لِلنَّجَاشِيِّ: هَذَا يَزْعُمُ أَنَّ عِيسَى مَمْلُوكٌ: قَالَ: فَمَا تَقُولُ فِي عِيسَى، قَالَ: كَلِمَةُ اللَّهِ وَرُوحُهُ، قَالَ: فَقَالَ: مَا اسْتَطَاعَ عِيسَى أَنْ يَعْدُوَ ذَلِكَ "
وَقَالَ أَبُو الفتح بْن سَيِّد النَّاسِ: ذكر ابْن إسحاق أَن عمرًا، قَالَ: يا أصحمة، عليَّ القولُ وعليك الاستماع، إنك كأنك فِي الرِّقة عَلَيْنَا منا، وكأنا فِي الثقة بكَ منك، لأنا لَمْ نظُن بكَ خيرًا قطُ إلا نلناهُ، وَلَمْ نَخَفْكَ عَلَى شَيْء قطُ إلا أمناهُ، وَقَدْ أخذنا الحُجةَ عليك من فيك، الإنجيلُ بيننا وبينك، شاهدٌ لا يُرد، وقاضٍ لا يجور، وَفِي ذَلِكَ الموقع الحرّ وإصابةٌ المَفْصلِ، وإلا فأنت فِي هَذَا النَّبِي الأُمّي، كاليهود فِي عِيسَى بْن مريم.
وَقَدْ فرق النَّبِي صلى الله عليه وسلم رُسلهُ إِلَى النَّاس، فوجه رجُلًا إِلَى كِسْرَى، ورجُلًا إِلَى قَيْصَر، ورجُلًا إِلَى المُقوقس، فرجاكَ لما لَمْ يرجُهم لهُ، وأمنك
এবং তাঁর সনদেই ইবনে আবি শাইবা পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে।
হাতেম ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব থেকে, তিনি জাফর ইবনে আউন থেকে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবনে উমাইয়াকে নাজাশির নিকট প্রেরণ করেন। সকালে তিনি তাঁর কওমের ভাষায় কথা বলছিলেন। যখন তিনি তাঁর কাছে আসলেন, তখন তাদের জন্য একটি ছোট দরজা দেখতে পেলেন যেখান দিয়ে তারা মাথা নত করে প্রবেশ করে। আমর যখন তা দেখলেন, তখন তিনি পিঠ ঘুরিয়ে উল্টো হয়ে প্রবেশ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন: এতে নাজাশির মজলিসে উপস্থিত হাবশাবাসীদের নিকট বিষয়টি অত্যন্ত কঠিন মনে হলো, এমনকি তারা তাঁর প্রতি চড়াও হতে উদ্যত হলো। তারা নাজাশিকে বলল: এই ব্যক্তি সেভাবে প্রবেশ করেনি যেভাবে আমরা প্রবেশ করেছি। নাজাশি বললেন: তারা যেভাবে প্রবেশ করেছে সেভাবে প্রবেশ করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তিনি বললেন: আমরা আমাদের নবীর সাথেও এমনটি করি না; আর যদি আমরা কারো সাথে এমনটি করতাম তবে তাঁর সাথেই করতাম। নাজাশি বললেন: সে সত্য বলেছে, তাকে ছেড়ে দাও। তারা নাজাশিকে বলল: এই ব্যক্তি দাবি করে যে ঈসা একজন দাস। নাজাশি বললেন: তুমি ঈসা সম্পর্কে কী বল? তিনি বললেন: তিনি আল্লাহর বাণী এবং তাঁর রূহ। বর্ণনাকারী বলেন: তখন নাজাশি বললেন: ঈসা এর বাইরে যাওয়ার সামান্যতম ক্ষমতাও রাখেন না।"
আবুল ফাতহ ইবনে সাইয়্যেদুন নাস বলেন: ইবনে ইসহাক উল্লেখ করেছেন যে, আমর বলেছিলেন: হে আসহামা, আমার কাজ হলো বলা এবং আপনার কাজ হলো শোনা। আমাদের প্রতি আপনার কোমলতার কারণে আপনি যেন আমাদেরই একজন, আর আপনার প্রতি আমাদের আস্থার কারণে আমরা যেন আপনারই অংশ। কারণ, আমরা আপনার কাছে যখনই কোনো কল্যাণের আশা করেছি, তা লাভ করেছি; আর যখনই কোনো বিষয়ে আপনাকে নিয়ে আশঙ্কাবোধ করেছি, তা থেকে নিরাপদ থেকেছি। আমরা আপনার বিরুদ্ধে আপনার নিজের মুখ থেকেই প্রমাণ গ্রহণ করেছি; আমাদের ও আপনার মাঝে ইঞ্জিল রয়েছে—যা এমন এক সাক্ষী যাকে প্রত্যাখ্যান করা যায় না এবং এমন এক বিচারক যে অবিচার করে না। আর এই কথাটি ছিল অত্যন্ত মোক্ষম এবং সঠিক স্থানে আঘাতের মতো। নতুবা এই উম্মী নবীর ব্যাপারে আপনার অবস্থা মারয়াম পুত্র ঈসার ব্যাপারে ইহুদিদের মতো হয়ে যাবে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের নিকট তাঁর দূতদের ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি পারস্য সম্রাট কিসরার নিকট একজনকে, রোমান সম্রাট কায়সারের নিকট একজনকে এবং মুকাউকিসের নিকট একজনকে পাঠিয়েছিলেন। তিনি আপনার নিকট এমন কিছুর আশা করেছেন যা তাদের নিকট করেননি এবং আপনাকে বিশ্বাস করেছেন...
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
مَا عَلَى خافهم عَلَيْهِ، لخيرٍ سالفٍ، وأجرْ يُنتظر، فَقَالَ النجاشي: أشهَدُ بالله أنهُ النَّبِي الأمي الَّذِي ينتظره أهلُ الْكِتَاب، وأن بشاره مُوسى براكب الحمار كبشارة عِيسَى براكبِ الجمل، وأن العيان لَيْسَ بأشفى من الْخَبَر.
وذكر الزيلعي فِي تخريج أحاديث الهداية وغيره، عَنِ الواقدي، أَن الَّذِي كتبه النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِلَى النجاشي مَعَ عَمْرو صورته: «بِسْمِ اللَّهِ الرَّحَمْنِ الرَّحِيمِ، من مُحَمدِ رَسُولِ اللَّه، إِلَى النَجاشي مَلكِ الحبشَةَ، أسلِم أنتَ، فإني أحمدُ إليكَ اللَّه الَّذِي لا اللَّه إلا هُو، الملِكُ، القُدّوسُ، السّلامُ، الُمؤِمن، المُهيَمن، وأشهدُ أَن عِيسَى ابْن مريم روحُ اللَّه وَكلمتُهُ، ألقاها إِلَى مريم البَتول الطيبة الحصينة، فحملت بهِ، فخلقَهُ من روحِهِ، ونفخهُ كَمَا خَلقَ آدم بيده، وإني أدعوكَ إِلَى اللَّه وحدهُ لا شريكَ لهُ، والمُوالاةِ عَلَى طاعَتِهِ، وأن تتبعنَي وتُؤمن بالذي جاءني، فإني رسولُ اللَّه، إني أدعُوكَ وجَنَودَكَ إِلَى اللَّه عز وجل، وَقَدْ بلغتُ ونصحتُ، فاقبلوا نصيحتي، والسلام علَى من اتّبعَ الهُدى» .
পুরানো কোনো কল্যাণের জন্য এবং প্রতীক্ষিত কোনো প্রতিদানের জন্য। অতঃপর নাজাশী বললেন: আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনিই সেই উম্মী নবী যার প্রতীক্ষা আহলে কিতাবগণ করছে। আর গাধার আরোহী সম্পর্কে মূসার সুসংবাদটি উটের আরোহী সম্পর্কে ঈসার সুসংবাদের মতোই। আর চাক্ষুষ দেখা সংবাদের চেয়ে অধিক নিশ্চিতকারী নয়।
যাইলায়ী 'তাখরিজ আহাদিসিল হিদায়া' ও অন্যান্য গ্রন্থে ওয়াকিদী থেকে উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমরের মাধ্যমে নাজাশীর নিকট যা লিখেছিলেন তার অনুলিপি ছিল এরূপ: «পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদের পক্ষ থেকে হাবশার রাজা নাজাশীর প্রতি। আপনি ইসলাম গ্রহণ করুন। আমি আপনার কাছে সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; যিনি রাজাধিরাজ, অতি পবিত্র, শান্তিদাতা, নিরাপত্তাদানকারী এবং রক্ষাকর্তা। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মারইয়ামের পুত্র ঈসা আল্লাহর রূহ এবং তাঁর কালিমা, যা তিনি পবিত্রা ও সতী সাধ্বী মারইয়ামের প্রতি নিক্ষেপ করেছিলেন। ফলে তিনি তাঁকে গর্ভে ধারণ করেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁকে তাঁর রূহ থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে ফুঁৎকার দিয়েছেন, যেমন তিনি আদমকে তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছিলেন। আমি আপনাকে এক ও অংশীদারহীন আল্লাহর দিকে এবং তাঁর আনুগত্যের ওপর অবিচল থাকার জন্য আহ্বান করছি। আর আপনি আমার অনুসরণ করুন এবং আমার নিকট যা এসেছে তার ওপর ঈমান আনুন; কেননা আমি আল্লাহর রাসূল। আমি আপনাকে এবং আপনার বাহিনীকে মহান আল্লাহর দিকে আহ্বান করছি। আমি দ্বীন পৌঁছে দিয়েছি এবং নসিহত করেছি, সুতরাং আপনারা আমার নসিহত গ্রহণ করুন। আর শান্তি বর্ষিত হোক তার ওপর যে হিদায়াতের অনুসরণ করে।»
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
وذكر أَبُو موسى المديني، فِي التتمة لكتاب ابْن منده فِي الصَّحَابَة، أَن النجاشي كتب مَعَ ولده كتابًا جوابًا لكتاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَهُوَ: " بِسْمِ اللَّهِ الرَّحَمْنِ الرَّحِيمِ، إِلَى مُحمدٍ رَسُولِ اللَّه، من أصحمة النجاشي، سلامٌ عليك يا نبي اللَّه، من اللَّه وَرَحمةُ اللَّه وبركاتُه، اللَّه الَّذِي لا اللَّه إلا هُو، الَّذِي هداني إِلَى الإِسْلام.
أما بعدُ: فَقَدْ أتاني كتابُكَ يا رَسُول اللَّهِ، فيما ذكرتَ من أمر عِيسَى، فَوربّ السماء وَالأَرْض، إِن عِيسَى لا يزيدُ عَلَى مَا قلتَ ثُفْرُوقًا، وإنهُ كَمَا ذكرت ولقد عَرفنا مَا بعَثتَ بِهِ إلينا، ولقد قربنا ابْن عمّكَ
আবু মূসা আল-মাদিনী ইবনে মান্দাহ-এর সাহাবীদের বিষয়ক গ্রন্থের পরিশিষ্টে (আত-তাতিম্মাহ) উল্লেখ করেছেন যে, নাজাশী তাঁর পুত্রের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পত্রের জবাবে একটি পত্র লিখেছিলেন, যা হলো: "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের প্রতি, আসহামা নাজাশীর পক্ষ থেকে। হে আল্লাহর নবী, আপনার প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাম, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। সেই আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, যিনি আমাকে ইসলামের হেদায়েত দান করেছেন।
অতঃপর: হে আল্লাহর রাসূল, ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর বিষয়ে আপনি যা উল্লেখ করেছেন, সে সংক্রান্ত আপনার পত্রটি আমার নিকট পৌঁছেছে। আকাশ ও পৃথিবীর রবের কসম, ঈসা (আলাইহিস সালাম) আপনি যা বলেছেন তার চেয়ে সামান্য পরিমাণও বেশি নন; তিনি ঠিক তেমনই যেমনটি আপনি বর্ণনা করেছেন। আপনি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন আমরা তা চিনেছি এবং আপনার চাচাতো ভাইকে আমরা সান্নিধ্যে স্থান দিয়েছি।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
وأَصْحَابهُ، وأشهدُ أنك رَسُول اللَّهِ صادقًا مصدوقًا، وَقَدْ بايعتكَ وبايعتُ ابْن عمكَ، وأسلمتُ عَلَى يديه لِلَّهِ رب العالمين، وبعثتُ إليكَ بابني أرها ابْن الأصحم فإني لا أملك إلا نفسي، وإن شئتَ أَن آتيك يا رَسُول اللَّهِ فعلتُ، فإني أشهدُ أَن مَا تقوله حقٌ، والسلام عليك يا رَسُول اللَّهِ «.
وذكر أَن ابنه خرج فِي ستين نفسًا من الحبشة فِي سفينة فِي البحر فلما توسطوا البحر غرقوا كلهم، علقه أَبُو موسى، عَنْ شيخه الإِمَام أَبِي الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيل بْن مُحَمَّد بْن الفضل التميمي، أَنَّهُ ذكره فِي المغازي فِي حوادث السنة السابعة من الهجرة.
وَقَالَ أَبُو الفتح ابْن سَيِّد النَّاسِ بَعْد أَن ذكر هَذَا الجواب بأنقص من هَذَا، الثُّفُروق، علاقة مَا بَيْنَ النواة والقمع، توفي النجاشي سَنَة تسع وأخبر النَّبِي صلى الله عليه وسلم بموته» وخرج بالناس إِلَى المصلى، فصلى عَلَيْهِ وكبر أربعًا انتهى ".
...এবং তাঁর সাহাবীগণ। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি আল্লাহর সত্যবাদী ও সত্যনিষ্ঠ রাসূল। আমি আপনার নিকট বায়আত হয়েছি এবং আপনার চাচাতো ভাইয়ের নিকট বায়আত হয়েছি। আমি তাঁর হাতে বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট ইসলাম গ্রহণ করেছি। আমি আমার পুত্র আরহা ইবনুল আসহামকে আপনার নিকট প্রেরণ করলাম, কেননা আমি কেবল আমার নিজের সত্তারই মালিক। হে আল্লাহর রাসূল, আপনি যদি চান যে আমি নিজে আপনার নিকট উপস্থিত হই, তবে আমি তা-ই করব। নিশ্চয়ই আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি যা বলেন তা সত্য। হে আল্লাহর রাসূল, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।
বর্ণিত আছে যে, তাঁর পুত্র আবিসিনিয়া থেকে ষাটজন লোকসহ একটি জাহাজে করে সমুদ্রপথে যাত্রা করেন। যখন তারা সমুদ্রের মাঝপথে পৌঁছান, তখন তারা সবাই ডুবে মারা যান। আবু মুসা এটি তাঁর উস্তাদ ইমাম আবুল কাসিম ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফাদল আত-তামিমির সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এটি তাঁর 'মাগাজি' গ্রন্থে হিজরি সপ্তম বর্ষের ঘটনাবলির বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন।
আবুল ফাতহ ইবনে সাইয়্যিদিন নাস এই উত্তরটি এর চেয়ে কিছুটা সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করার পর বলেছেন: 'থুফরুক' হলো খেজুরের আঁটি ও বৃন্তের মধ্যবর্তী সংযোগস্থল। নাজ্জাশি নবম হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মৃত্যুর সংবাদ প্রদান করেন। তিনি লোকজনকে নিয়ে জানাযার ময়দানের দিকে বের হলেন, অতঃপর তাঁর জানাযার সালাত আদায় করলেন এবং চার তাকবীর প্রদান করলেন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
تنبيه: قَدْ كَتَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى نجاشي آخر غَيْر هَذَا كَمَا أَخْبَرَنَا شيخنا هَذَا:
أَنْبَأَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ الْفُولاذِيُّ، أَنْبَأَنَا التَّاجُ بْنُ بَرْدَسٍ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْفِدَاءِ بْنُ الْخَبَّازِ، أَنْبَأَنَا الأَرْبَلِيُّ، أَنْبَأَنَا الْفَرَاوِيُّ، أَنْبَأَنَا الْفَارِسِيُّ، أَنْبَأَنَا الْجَلُودِيُّ، أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُفْيَانَ، أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ، حَدَّثَنِي يُوسُفُ بْنُ حَمَّادٍ الْمَعْنِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ: «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَتَبَ إِلَى كِسْرَى، وَإِلَى قَيْصَرَ، وَإِلَى النَّجَاشِيِّ وَإِلى كُلِّ جَبَّارٍ يَدْعُوهُمْ إِلَى اللَّهِ عز وجل، وَلَيْسَ بِالنَّجَاشِيِّ الَّذِي صَلَّى عَلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم» ، وَبِهِ إِلَى مُسْلِمٍ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْد اللَّهِِ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْد الوُهاب بْن عَطَاء، عَنْ سَعِيد، عَنْ قَتَادَة
সতর্কবার্তা: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই নাজাশি ব্যতীত অন্য এক নাজাশিকেও পত্র লিখেছিলেন, যেমনটি আমাদের শাইখ আমাদের অবহিত করেছেন:
আবুল আব্বাস আল-ফুলাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আত-তাজ ইবনে বারদাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল ফিদা ইবনুল খাব্বায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-আরবালি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-ফারাওয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-ফারিসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-জুলুদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইব্রাহিম ইবনে সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইউসুফ ইবনে হাম্মাদ আল-মানি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদিল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিসরা, কায়সার, নাজাশি এবং প্রত্যেক প্রতাপশালী শাসকের নিকট মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর দিকে আহ্বান জানিয়ে পত্র লিখেছিলেন; আর তিনি সেই নাজাশি ছিলেন না যার জানাজার সালাত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আদায় করেছিলেন», এবং একই সনদে ইমাম মুসলিম পর্যন্ত: মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আর-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল ওয়াহহাব ইবনে আতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
، حَدَّثَنَا أنَسُ بْن مَالِك، عَنِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ، وَلَمْ يَقُلْ: وَلَيْسَ بِالنَّجَاشِيِّ الَّذِي صَلّى عَلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مُسْلِمٌ: وَحَدَّثَنِيهِ نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، أَخْبَرَنِي أَبِي، حَدَّثَنِي خَالِدُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ قَتَادَة:، عَنْ أَنَسٍ، وَلَمْ يَذْكُرْ: وَلَيْسَ بِالنَّجَاشِيِّ الَّذِي صَلَّى عَلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
, আনাস ইবনে মালিক আমাদের নিকট নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি এ কথাটি বলেননি: "এবং তিনি সেই নাজাশি নন যার ওপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জানাজার সালাত আদায় করেছিলেন।" ইমাম মুসলিম বলেন: নাসর ইবনে আলী আল-জাহদামি আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: খালিদ ইবনে কায়স কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আর তিনি এ কথাটি উল্লেখ করেননি: "এবং তিনি সেই নাজাশি নন যার ওপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জানাজার সালাত আদায় করেছিলেন।"
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
الثَاني فِي كِتَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى المنذِر بْن سَاوى العبديوإنما ثنينا بِهِ لإسلامه رضي الله عنه.
أَخْبَرَنَا أَبُو الْبَقَاءِ مُحَمَّدُ بْنُ الْعِمَادِ الْعُمَرِيُّ، عَنْ أَبِي الْوَفَاءِ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ الْحَلَبِيِّ، أَنْبَأَنَا السَّرَّاجُ عُمَرُ بْنُ عَلِيٍّ الْوَادِي آشِيُّ، الشَّهِيرُ بِابْنِ الْمُلَقِّنِ، أَنْبَأَنَا الْحَافِظُ فَتْحُ الدِّينِ أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَيِّدِ النَّاسِ، قَالَ: " كَتَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمُنْذِرِ بْنِ سَاوَى الْعَبْدِيِّ مَعَ الْحَضْرَمِيِّ كِتَابًا بَعْدَ انْصِرَافِهِ مِنَ الْحُديْبِيَةِ، ثُمَّ قَالَ: ذَكَرَ الْوَاقِدِيُّ بِإِسْنَادِهِ ، عَنْ عِكْرِمَةَ،
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুনযির বিন সাওয়া আল-আবদী-এর প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পত্র সম্পর্কেআর তাঁর ইসলাম গ্রহণ করার কারণেই আমরা একে দ্বিতীয় স্থানে উল্লেখ করেছি, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
আবু আল-বাকা মুহাম্মাদ বিন আল-ইমাদ আল-উমারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ওয়াফা ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-হালাবী থেকে, তিনি বলেন আস-সাররাজ উমর বিন আলী আল-ওয়াদি আশী, যিনি ইবনুল মুলাক্কিন নামে পরিচিত, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন হাফিয ফাতহউদ্দীন আবু আল-ফাতহ মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সাইয়্যিদুন নাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুদায়বিয়া থেকে ফিরে আসার পর আল-হাযরামীর মাধ্যমে মুনযির বিন সাওয়া আল-আবদী-এর নিকট একটি পত্র প্রেরণ করেন। অতঃপর তিনি বলেন: আল-ওয়াকিদী তাঁর সনদসহ ইকরিমা থেকে উল্লেখ করেছেন,
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৬০)
قَالَ: وَجَدْتُ هَذَا الْكِتَابَ فِي كُتُبِ ابْنِ عَبَّاسٍ بَعْدَ مَوْتِهِ فَنَسَخْتُهُ فَإِذَا فِيهِ: " بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعَلاءَ بْنَ الْحَضْرَمِيِّ إِلَى الْمُنْذِرِ بْنِ سَاوَى، وَكَتَبَ مَعَهُ كِتَابًا إِلَيْهِ يَدْعُوهُ فِيهِ إِلَى الإِسْلامِ، فَكَتَبَ الْمُنْذِرُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَمَّا بَعْدُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ: فَإِنِّي قَرَأْتُ كِتَابَكَ عَلَى أَهْلِ الْبَحْرَيْنِ فَمِنْهُمْ مَنْ أَحَبَّ الإِسْلامَ وَأُعْجِبَ بِهِ وَدَخَلَ فِيهِ، وَمِنْهُمْ مَنْ كَرِهَهُ، وَبِأَرْضِي مَجُوسٌ، وَيَهُودٌ، فَأَحْدِثْ إِلَيَّ فِي ذَلِكَ أَمْرَكَ فَكَتَبَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحَمْنِ الرَّحِيمِ: مِنْ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللَّهِ إِلَى الْمُنْذِرِ بْنِ سَاوَى: سَلامٌ عَلَيْكَ، فَإِنِّي أَحْمَدُ إِلَيْكَ اللَّهَ، الَّذِي لا إِلَهَ إِلا هُوَ، وَأَشْهَدُ أَنَّ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.
أَمَّا بَعْدُ: فَإِنِّي أُذَكِّرُكَ اللَّهَ عز وجل فَإِنَهُ مَنْ يَنْصَحْ فِإِنَّمَا يَنْصَحُ لِنَفْسِهِ، وَمَنْ يُطِعْ رُسُلِي وَيَتَّبِعْ أمْرَهُمْ فَقَدْ أَطَاعَنِي، وَمَنْ يَنْصَحْ لُهمْ فَقَدْ نَصَحَ لِي، وَإِنَّ رُسُلِي قَدْ أَثْنَوْا عَلَيْكَ خَيْرًا، وَإِنِّي قَدْ شَفَعْتُكَ فِي قَوْمِكِ فَاتْرُكْ لِلْمُسْلِمِيَن مَا أَسْلَمُوا عَلَيْهِ، وَعَفَوْتُ عَنْ أَهْلِ الذُّنُوبِ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ، وَإِنَّكَ مَهْمَا تُصْلِحُ، فَلَنْ نَعْزِلَكَ، عَنْ عَمَلِكَ، وَمَنْ أَقَامَ عَلَى يَهُودِيَّةٍ،
তিনি বললেন: আমি ইবনে আব্বাসের মৃত্যুর পর তাঁর কিতাবসমূহের মধ্যে এই কিতাবটি পেয়েছি এবং তা অনুলিপি করেছি। তাতে রয়েছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলা ইবনুল হাদরামিকে আল-মুনজির ইবনে সাওয়ার নিকট প্রেরণ করেন এবং তাঁর সাথে একটি পত্র লিখে পাঠান যাতে তাঁকে ইসলামের দাওয়াত দেন। অতঃপর মুনজির রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট লিখলেন: অতঃপর, হে আল্লাহর রাসূল! আমি বাহরাইনবাসীদের নিকট আপনার পত্রটি পাঠ করেছি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইসলামকে পছন্দ করেছে, এর প্রতি মুগ্ধ হয়েছে এবং এতে দাখিল হয়েছে। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে অপছন্দ করেছে। আর আমার ভূমিতে মজুসী এবং ইয়াহুদী রয়েছে, সুতরাং এ ব্যাপারে আপনার নির্দেশ আমাকে প্রদান করুন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট লিখলেন: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে আল-মুনজির ইবনে সাওয়ার প্রতি: আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি আপনার নিকট সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
অতঃপর: আমি আপনাকে মহান আল্লাহ সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি কল্যাণ কামনা করে, সে নিজের জন্যই কল্যাণ কামনা করে। আর যে ব্যক্তি আমার দূতগণের আনুগত্য করে এবং তাদের নির্দেশ অনুসরণ করে, সে আমারই আনুগত্য করল। আর যে ব্যক্তি তাদের প্রতি শুভাকাঙ্ক্ষী হলো সে আমার প্রতিই শুভাকাঙ্ক্ষী হলো। নিশ্চয়ই আমার দূতগণ আপনার সম্পর্কে উত্তম প্রশংসা করেছেন। আর আমি আপনার সম্প্রদায়ের ব্যাপারে আপনার সুপারিশ কবুল করলাম। সুতরাং মুসলিমরা যে অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করেছে তা তাদের নিকট থাকতে দিন। আর আমি অপরাধীদের ক্ষমা করে দিলাম, অতএব আপনি তাদের থেকে তা গ্রহণ করুন। আপনি যতক্ষণ পর্যন্ত সংশোধন ও সংস্কারের ওপর থাকবেন, ততক্ষণ আমরা আপনাকে আপনার দায়িত্ব থেকে অপসারিত করব না। আর যে ব্যক্তি ইয়াহুদী ধর্মের ওপর অটল থাকবে,
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৬১)
أَوْ مَجُوسِيَّةٍ فَعَليْهِ الْجِزْيَةُ ".
ثُمَّ قَالَ: أَسْلَمَ الْمُنْذِرُ هَذَا بِكِتَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَحَسُنَ إِسْلامُهُ، وَمَاتَ قَبْلَ رِدَّةِ أََهْْلِ الْبَحْرَيْنِ ".
وَذَكَرَ ابْنُ قَانِعٍ أَنَّهُ وَفَدَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ أَبُو الرَّبِيعِ بْنُ سَالِمٍ لا يَصِحُّ ذَلِكَ
وَقَدْ ذكر الزيلعي ذَلِكَ فِي آخر كتابه تخريج أحاديث الهداية، فَقَالَ: رَوَى الواقدي فِي آخر كِتَاب الردة، فَقَالَ: حَدَّثَنِي مُعَاذُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِِ بْنِ أَبِي جَهْمٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي خَيْثَمَةَ، قَالَ: بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعَلاءَ بْنَ الْحَضْرَمِيِّ إِلَى الْمُنْذِرِ
অথবা অগ্নিপূজক হলে তার উপর জিজিয়া ধার্য হবে।"
অতঃপর তিনি বললেন: "এই মুনযির আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্রের মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর ইসলাম গ্রহণ সুন্দর হয়েছিল, আর তিনি বাহরাইনবাসীদের ধর্মত্যাগের পূর্বেই ইন্তেকাল করেন।"
ইবনে কানি' উল্লেখ করেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রতিনিধি হয়ে এসেছিলেন। আবু আল-রাবি ইবনে সালিম বলেন, এটি সঠিক নয়।
যায়লায়ি তাঁর কিতাব 'তাখরিজ আহাদিস আল-হিদায়াহ'-এর শেষে এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: ওয়াকিদি 'কিতাব আল-রিদ্দাহ'-এর শেষে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: মুআয ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি জাহম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে সুলাইমান ইবনে আবি খাইসামাহ থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল-আলা ইবনে আল-হাদরামিকে মুনযিরের নিকট প্রেরণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৬২)
بْنِ سَاوَى الْعَبْدِيِّ بِالْبَحْرِينِ لِلَيَالِي بَقَيْنَ مِنْ رَجَبٍ سَنَةَ تِسْعٍ، مُنْصَرَفَهُ عليه السلام مِنْ تَبُوكَ، وَكَتَبَ إِلَيْهِ كِتَابًا فِيهِ: " بِسْمِ اللَّهِ الرَّحَمْنِ الرَّحِيمِ، مِنْ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللَّهِ، إِلَى الْمُنْذِرِ بْنِ سَاوَى ، سَلامٌ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى.
أَمَّا بَعْدُ: فَإِنِّي أَدْعُوكَ إِلَى الإِسْلامِ فَأَسْلِمْ تَسْلَمْ، وَأَسْلِمْ يَجْعَلِ اللَّهُ لَكَ مَا تَحْتَ يَدَيْكَ، وَاعْلَمْ أَنَّ دِينِي سَيَظْهَرُ إِلَى مُنْتَهَى الْخُفِّ وَالْحَافِرِ ".
وَخَتَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْكِتَابَ، فَخَرَجَ الْعَلاءُ بْنُ الْحَضْرَمِيِّ إِلَى الْمُنْذِر وَمَعَهُ نَفَرٌ فِيهِمْ أَبُو هُرَيْرَةَ، وَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اسْتَوْصِ بِهِمْ خَيْرًا» ، وَقَالَ: «إِنْ أَجَابَكَ إِلَى مَا دَعَوْتُهُمْ إِلَيْهِ، فَأَقِمْ حَتَّى يأْتِيكَ أَمْرِي، وَخُذِ الصَّدَقَةَ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ فَرُدَّهَا فِي فُقَرَائِهِمْ» ، قَالَ الْعَلاءُ: وَكَتَبَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كِتَابًا يَكُونُ مَعِي، وَكَتَبَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَائِضَ الإِبِلِ، وَالْبَقَرِ، وَالْغَنَمِ، وَالْحَرْثِ، وَالذَّهَبِ، وَالْفِضَّةِ، عَلَى وَجْهِهَا، وَقَدِمَ الْعَلاءُ بْنُ الْحَضْرَمِيِّ عَلَيْهِ ، فَقَرَأَ الْكِتَابَ، فَقَالَ:
বাহরাইনের মুনজির ইবনে সাওয়া আল-আবদির নিকট নয় হিজরীর রজব মাসের শেষ কয়েক রাতে, তাবুক থেকে তাঁর (আলাইহিস সালাম) প্রত্যাবর্তনের পর। তিনি তাকে একটি পত্র লিখলেন যাতে ছিল: "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ-এর পক্ষ থেকে মুনজির ইবনে সাওয়া-এর প্রতি। শান্তি বর্ষিত হোক তার ওপর যে হিদায়াত অনুসরণ করে।
অতঃপর: আমি আপনাকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিচ্ছি। ইসলাম গ্রহণ করুন, নিরাপদ থাকবেন। ইসলাম গ্রহণ করুন, আল্লাহ আপনার হাতের অধীনে যা আছে তা আপনার জন্যই বহাল রাখবেন। জেনে রাখুন যে, আমার দীন উট ও ঘোড়ার খুর যতদূর পৌঁছায় ততদূর পর্যন্ত জয়যুক্ত হবে।"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চিঠিতে মোহর মারলেন। অতঃপর আলা ইবনুল হাদরামি মুনজিরের অভিমুখে যাত্রা করলেন এবং তাঁর সাথে একদল লোক ছিল যাদের মধ্যে আবু হুরায়রা (রা.)-ও ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "তাদের সাথে উত্তম আচরণের অসিয়ত পালন করো।" তিনি আরও বললেন: "যদি তারা আপনার আহ্বানে সাড়া দেয়, তবে আমার নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করুন। আর তাদের ধনীদের থেকে সদকা (যাকাত) গ্রহণ করে তাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করে দিন।" আলা (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য একটি লিপি লিখে দিলেন যা আমার সাথে ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য উট, গরু, বকরি, শস্য, সোনা এবং রূপার যাকাতের বিধানসমূহ যথাযথভাবে লিখে দিলেন। অতঃপর আলা ইবনুল হাদরামি তার কাছে উপস্থিত হলেন, সে পত্রটি পাঠ করল এবং বলল:
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
أَشْهَدُ أَنَّ مَا دَعَا إِلَيْهِ حَقٌ، وَأَنَّهُ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، وَأَكْرَمَ مَنْزِلَهُ وَرَجَعَ الْعَلاءُ فَأَخْبَرَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَبَرَهُ فَسُرَّ، ثُمَّ نَقَلَ مَا أَسْنَدَهُ الْوَاقِدِيّ، عَنْ عِكْرِمَةَ نَحْو مَا تَقَدَّمَ.
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি যার প্রতি আহ্বান করেছেন তা সত্য, এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, আর মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; এবং তিনি তাঁর অবস্থানকে সম্মানিত করেছেন। অতঃপর আল-আলা প্রত্যাবর্তন করলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর সংবাদ অবহিত করলেন, এতে তিনি আনন্দিত হলেন। এরপর আল-ওয়াকিদি ইকরিমা হতে যা বর্ণনা করেছেন তা পূর্বে বর্ণিত বিষয়ের অনুরূপ উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
الثَالِث فِي كِتَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى كِسْرَىأَخْبَرَتْنَا أُمُّ عَبْدِ الرَّزَّاقِ خَدِيجَةُ ابْنَةُ عَبْدِ الْكَرِيمِ الأَرْمَوِيَّةُ، أَخْبَرَتْنَا أُمُّ مُحَمَّدِ عَائِشَةُ ابْنَةُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْهَادِي، قَالَتْ: أَنْبَأَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ الْحَجَّارُ، أَنْبَأَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِِ بْنُ الزُّبَيْدِيِّ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْوَقْتِ السَّجْزِيُّ، أَنْبَأَنَا الدَّاوُدِيُّ، أَنْبَأَنَا السَّرْخَسِيُّ، أَنْبَأَنَا الْفَرْبَرِيُّ، أَنْبَأَنَا الْبُخَارِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِِ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ، " أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ بِكِتَابِهِ مَعَ عَبْدِ اللَّهِِ بْنِ حُذَافَةَ السَّهْمِيِّ إِلَى كِسْرَى، فَأَمَرَهُ أَنْ يَدْفَعَهُ إِلَى عَظِيمِ الْبَحْرَيْنِ، فَدَفَعَهُ عَظِيمُ الْبَحْرَيْنِ إِلَى كِسْرَى، فَلَمَّا قَرَأَهُ مَزَّقَهُ، فَحَسِبْتُ أَنَّ الْمُسَيِّبِ، قَالَ: فَدَعَا عَلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَنْ يُمَزَّقُوا كُلَّ مُمَزَّقٍ "
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কিসরার নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরিত পত্র সম্পর্কেআমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উম্মু আবদুর রাজ্জাক খাদিজাহ বিনতে আবদুল কারিম আল-আরমাভিয়্যাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উম্মু মুহাম্মাদ আয়িশাহ বিনতে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল হাদি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আল-হাজ্জার, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ ইবনে আয-যুবাইদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ওয়াকত আস-সাজযি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আদ-দাউদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আস-সারখাসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ফারাবরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-বুখারি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি সালিহ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি বলেন: উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইবনে আব্বাস তাকে সংবাদ দিয়েছেন, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পত্রখানা আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা আস-সাহমির মাধ্যমে কিসরার নিকট প্রেরণ করেন। তিনি তাকে নির্দেশ দেন তা বাহরাইনের অধিপতির নিকট সমর্পণ করতে, অতঃপর বাহরাইনের অধিপতি তা কিসরার নিকট পৌঁছে দেন। যখন সে (কিসরা) তা পাঠ করল, তখন তা ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলল। আমি মনে করি মুসাইয়িব বলেছিলেন: তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিরুদ্ধে এই বলে বদদোয়া করলেন যেন তাদেরকেও পুরোপুরি ছিন্নভিন্ন করে ফেলা হয়।"
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
قَالَتْ عَائِشَةُ: وَأَنْبَأَتْنَا أُمُّ عَبْدِ اللَّهِِ زَيْنَبُ ابْنَةُ الْكَمَالِ الْمَقْدِسِيَّةِ، عَنِ ابْنِ بَقِيٍّ، أَنْبَأَنَا ابْنُ بَشْكُوَالٍ، أَنْبَأَنَا الْقُرْطُبِيُّ، أَنْبَأَنَا ابْن عَبْدِ الْبَرِّ، أَنْبَأَنَا أَبُو عُمَرَ الإِشْبِيلِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبِي، أَنْبَأَنَا ابْنُ يُونُسَ، أَنْبَأَنَا ابْنُ مَخْلَدٍ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَرْمَلَةَ الأَسْلَمِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ سَعْيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ، يَقُولُ: " كَتَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى كِسْرَى: أَمَّا بَعْدُ: {تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلا اللَّهَ وَلا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 64] ، قَالَ سَعِيدٌ: فَمَزَّقَ كِسْرَى الْكِتابَ، وَلَمْ يَنْظُرْ فِيهِ، فَقَالَ نَبِيُّ اللَّهِ: مُزِقَ وَمُزِّقَتْ أُمَّتُهُ، قَالَ الْجَمَالُ بْنُ الْمُبَرِّدُ: فَمَزَّقَهُ اللَّهُ عز وجل بِدَعْوَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَمَزَّقَ مُلْكَهُ كُلَّ مُمَزَّقٍ ".
انْتَهَى
وَقَالَ الزَّيْلَعِيُّ فِي آَخِرِ كِتَابِهِ تخريج أحاديث الهداية: كِتَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِلَى كِسْرَى ملك الفرس، ذَكَرَ الْوَاقِدِيُّ مِنْ حَدِيثِ الشِّفَاءِ بِنْتُ
আয়েশা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উম্মু আবদিল্লাহ জাইনাব বিনতুল কামাল আল-মাকদিসিয়্যাহ, তিনি ইবনে বাক্বী থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে বাশকুওয়াল থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-কুরতুবী থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে আবদিল বার থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর আল-ইশবীলী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে ইউনুস থেকে, তিনি ইবনে মাখলাদ থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ থেকে, তিনি আমাদের বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে সুলায়মান থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে হারমালাহ আল-আসলামী থেকে, তিনি বলেন: আমি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবকে বলতে শুনেছি: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসরার নিকট লিখেছিলেন: অতঃপর: {তোমরা এমন একটি কথার দিকে এসো যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সমান; তা এই যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করব না এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করব না আর আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ছাড়া রব হিসেবে গ্রহণ করব না। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তোমরা বলো, তোমরা সাক্ষী থাকো যে আমরা মুসলিম।} [আলে ইমরান: ৬৪], সাঈদ বলেন: তখন কিসরা পত্রটি ছিঁড়ে ফেলল এবং সেদিকে তাকাল না। তখন আল্লাহর নবী বললেন: তাকে ছিন্নভিন্ন করা হয়েছে এবং তার জাতিকেও ছিন্নভিন্ন করা হয়েছে। জামাল ইবনুল মুবাররাদ বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দোয়ার কারণে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাকে ধ্বংস করে দিয়েছেন এবং তার রাজত্বকে সম্পূর্ণরূপে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছেন।"
সমাপ্ত
এবং জায়লায়ী তাঁর 'তাখরিজু আহাদিসিল হিদায়া' কিতাবের শেষে বলেছেন: পারস্য সম্রাট কিসরার নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্র, ওয়াকিদী শিফা বিনত এর হাদিস থেকে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ عَبْدَ اللَّهِِ بْنَ حُذَافَةَ السَّهْمِيَّ مُنْصَرَفَهُ مِنَ الْحُدَيْبِيَةِ إِلَى كِسْرَى، وَبَعَثَ مَعَهُ كِتَابًا مَخْتُومًا فِيهِ: «بِسْمِ اللَّهِ الرَّحَمْنِ الرَّحِيمِ، مِنْ مُحَمَّدًا رَسُولِ اللَّهِ إِلَى كِسْرَى عَظِيمِ فَارِسٍ، سَلامٌ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى، وَآمَنَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهُ، وَشَهِدَ أَنَّ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عْبدُهُ وَرَسُولُهُ، أدْعُوكَ بِدِعَايَةِ اللَّهِ، فَإِنِّي أَنَا رَسُولُ اللَّهِ إِلَى النَّاسِ كَافَّةً، ليُنْذِرَ مَنْ كَانَ حَيًّا، وَيَحِقَّ الْقَوْلُ عَلَى الْكَافِرِينَ، أَسْلِمْ تَسْلَمْ، فَإِنْ أبَيْتَ فَإِنَّ عَلَيْكَ إِثْمَ الْمَجُوِسِ» .
قَالَ عَبْدُ اللَّهِِ بْنُ حُذَافَةَ: فَانْتَهَيْتُ إِلَى بَابِهِ فَطَلَبْتُ الإِذْنَ عَلَيْهِ حَتَّى وَصَلْتُ إِلَيْهِ، فَدَفَعْتُ إِلَيْهِ كِتَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقُرِئَ عَلَيْهِ، فَأَخَذَهُ وَمَزَّقَهُ، فَلَمَّا بَلَغَ ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَزَّقَ اللَّهُ مُلْكَهُ» ، قَالَ: وأخرجه الْبُخَارِي مختصرًا، عَنِ ابْن عَبَّاس، ثُمَّ ذكر لفظ الْبُخَارِي المتقدم
আব্দুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়া থেকে ফেরার পথে আব্দুল্লাহ ইবনে হুজাফাহ আস-সাহমীকে কিসরার নিকট প্রেরণ করেন এবং তাঁর সাথে একটি মোহরকৃত চিঠি পাঠান যাতে ছিল: «পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ-এর পক্ষ হতে পারস্যের মহান অধিপতি কিসরার প্রতি। শান্তি বর্ষিত হোক তার ওপর যে হেদায়েত অনুসরণ করে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনে এবং সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আমি আপনাকে আল্লাহর আহ্বানে আহ্বান করছি, কারণ আমি সকল মানুষের প্রতি আল্লাহর রাসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছি, যেন আমি জীবিতদের সতর্ক করি এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে কথা (শাস্তির ফয়সালা) সত্য বলে প্রমাণিত হয়। ইসলাম গ্রহণ করুন, নিরাপদ থাকবেন। আর যদি আপনি অস্বীকার করেন তবে অগ্নিউপাসকদের পাপ আপনার ওপর বর্তাবে।» ।
আব্দুল্লাহ ইবনে হুজাফাহ বলেন: আমি তার দ্বারে পৌঁছলাম এবং তার নিকট যাওয়ার অনুমতি চাইলাম যতক্ষণ না আমি তার কাছে পৌঁছলাম। এরপর আমি তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চিঠিটি প্রদান করলাম। তার সামনে সেটি পাঠ করা হলো, এরপর সে সেটি গ্রহণ করল এবং ছিঁড়ে ফেলল। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ সংবাদ পৌঁছাল, তখন তিনি বললেন: «আল্লাহ তার রাজত্বকে ছিন্নভিন্ন করে দিন»। তিনি বলেন: বুখারী এটি ইবনে আব্বাস হতে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর বুখারীর পূর্বোক্ত পাঠ উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
الرابعُ فِي كِتَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى قَيْصَرأَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي عُمَرَ بِقَرَاءَتِي عَلَيْهِ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ عُرْوَةَ، أَنْبَأَنَا أَبُو زَكَرِيَّا الرُّحْبِيُّ.
ح وَأَخْبَرَتْنَا عَالِيًا أُمُّ عَبْدِ الرَّزَّاقِ خَدِيجَةُ ابْنَةُ عَبْدِ الْكَرِيمِ الأَرْمَوِيَّةُ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهَا، قَالَتْ: أَخْبَرَتْنَا أُمُّ مُحَمَّدِ بِنْتُ عَبْدُ الْهَادِي ، قَالَتْ: وَأَبُو زَكَرِيَّا، أَنْبَأَنَا الشِّهَابُ بْنُ الشَّحْنَةِ، أَنْبَأَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِِ بْنُ الزُّبَيْدِيُّ، أَنْبَأَنَا السِّجْزِيُّ، أَنْبَأَنَا الدَّوُدِيُّ، أَنْبَأَنَا السَّرْخَسِيُّ، أَنْبَأَنَا الْفِرْبَرِيُّ، أَنْبَأَنَا الْبُخَارِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِِ بْنَ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ، أَنَّ أَبَا سُفيْانَ بْنَ حَرْبٍ ، أَخْبَرَهُ " أَنَّ هِرَقْلَ أَرْسَلَ إِلَيْهِ فِي رَكْبٍ مِنْ قُرَيْشٍ، وَكَانُوا تُجَّارًا بِالشَّامِ فِي
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কায়সারের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরিত পত্র প্রসঙ্গেআবূ বকর মুহাম্মাদ ইবনে আবী বকর ইবনে আবী উমার তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবূল হাসান ইবনে উরওয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং আবূ যাকারিয়া আর-রুহবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
হ (তাহউীল)। উম্মু আব্দুর রায্যাক খাদিজা বিনতে আব্দুল কারীম আল-আরমাউইয়্যাহ উচ্চ সনদে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: উম্মু মুহাম্মাদ বিনতে আব্দুল হাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি এবং আবূ যাকারিয়া বলেন: শিহাব ইবনে আশ-শুহনা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আবূ আব্দুল্লাহ ইবনে আয-যুবাইদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আস-সিজযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আদ-দাওূদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আস-সারখাসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আল-ফিরাবরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; ইমাম বুখারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আবূল ইয়ামান আল-হাকাম ইবনে নাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; ইমাম যুহরী থেকে বর্ণিত; উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে মাসউদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবূ সুফিয়ান ইবনে হারব তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, হিরাক্লিয়াস তাঁর নিকট কুরাইশদের এক কাফেলার সাথে লোক পাঠালেন, তাঁরা তখন শাম দেশে ব্যবসায়ী হিসেবে অবস্থান করছিলেন।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
الْمُدَّةِ الَّتِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَادَ فِيهَا أَبَا سُفْيَانَ وَكُفَّارِ قُرَيْشٍ، فَأَتَوهُ وَهُمْ بِإِيلِيَاءَ، فَدَعَاهُمْ فِي مَجْلِسِهِ وَحَوْلهُ عُظَمَاءُ الرُّومِ، ثُمَّ دَعَاهُمْ وَدَعَا بِتُرْجُمَانِهِ، فَقَالَ: أَيُّكُمْ أَقْرَبُ نَسَبًا بِهَذَا الرَّجُلِ الَّذِي يَزْعُمُ أَنُّهُ نَبِيٌّ؟ قَالَ أَبُو سُفْيَانَ: فَقُلْتُ: أَنَا أَقْرَبُهُمْ نَسَبًا، فَقَالَ: أَدْنُوهُ مِنِّي، وَقَرِّبُوا أَصْحَابَهُ فَاجْعَلُوهُمْ عِنْدَ ظَهْرِهِ، ثُمَّ قَالَ لِتُرْجُمَانِهِ: قُل لَهُمْ: إِنِّي سَائِلٌ هَذَا عَنْ هَذَا الرَّجُلِ، فَإِنْ كَذِّبَنِي فَكَذِّبُوهُ.
فَواللَّهِ لَوْلا الْحَيَاءُ مِنْ أَنْ يَأْثِرُوا عَلَيَّ كَذِبًا لكَذَبْتُ عَنْهُ، أَوْ قَالَ عَلَيْهِ، ثُمَّ كَانَ أَوَّلُ مَا سَأَلَنِي عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: كَيْفَ نسُبُهُ فِيكُمْ؟ فَقُلْتُ: هُوَ فِينَا ذُو نَسَبٍ، قَالَ: فَهَلْ قَالَ هَذَا الْقَوْلَ مِنْكُمْ أَحَدٌ قَطُّ قَبْلَهُ؟ قُلْتُ: لا، قَالَ: فَهَلْ كَانَ مِنْ آَبَائِهِ مِنْ مَلِكٍ؟ قُلْتُ: لا ، قَالَ: فَأَشْرَافُ النَّاسِ يَتَّبِعُونَهُ أَمْ ضُعَفَائُهُمْ؟ قُلْت: بَل ضُعَفَائُهُمْ، قَالَ: أَيَزِيدُونَ أَمْ يَنْقُصُونَ؟ قُلْتُ: بَلْ يَزِيدُونَ، قَالَ: فَهَلْ يَرْتَدُّ أَحَدٌ مِنْكُمْ سَخْطَةً لِدِينِهِ بَعْدَ أَنْ يَدْخُل فِيهِ؟ قُلْت: لا، قَالَ: فَهَلْ كُنْتُمْ تَتَّهِمُونَهُ بِالْكَذِبِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَ مَا قَالَ؟ قُلْتُ: لا، قَالَ: فَهَلْ يَغْدِرُ؟ قَلْتُ: لا، وَنَحْنُ مِنْهُ فِي مُدَّةٍ لا نَدْرِي مَا هُوَ فَاعِلٌ فِيهَا، قَالَ: لَمْ يُمْكِنِّي كَلِمَةً أُدْخِلُ فِيهَا شَيْئًا غَيْرَ هَذِهِ الْكَلِمَةِ، قَالَ: فَهَلْ قَاتَلْتُمُوهُ؟ قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: فَكَيْفَ كَانَ قِتَالُكُمْ إِيَّاهُ؟ قُلْتُ: الْحَرْبُ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُ سِجَالٌ، يَنَالُ مِنَّا، وَنَنَالُ مِنْهُ،
যে সময়কালে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু সুফিয়ান ও কুরাইশ কাফিরদের সাথে সন্ধি করেছিলেন, তখন তারা ইলিয়ায় (জেরুজালেম) অবস্থানকালে হিরাক্লিয়াসের নিকট উপস্থিত হলেন। তিনি তাঁর মজলিসে তাদেরকে ডাকলেন, আর তাঁর চারপাশে তখন রোমের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অতঃপর তিনি তাদেরকে এবং তাঁর দোভাষীকে ডাকলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, "যে ব্যক্তি নিজেকে নবী বলে দাবি করছেন, বংশের দিক থেকে তোমাদের মধ্যে কে তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী?" আবু সুফিয়ান বলেন, আমি বললাম, "বংশের দিক থেকে আমিই তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী।" তখন তিনি বললেন, "তাকে আমার নিকটে নিয়ে আসো এবং তার সাথীদেরকেও কাছে আনো এবং তাদেরকে তার পিঠের পেছনে দাঁড় করাও।" এরপর তিনি তাঁর দোভাষীকে বললেন, "তাদেরকে বলো যে, আমি এই ব্যক্তিটিকে ওই লোকটির (নবীর) ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞাসা করব; যদি সে আমার কাছে মিথ্যা বলে, তবে তোমরা তাকে মিথ্যাবাদী বলে ধরিয়ে দেবে।"
আল্লাহর কসম! লোকরা আমার নামে মিথ্যা অপবাদ রটাবে—এই লজ্জাবোধ যদি না থাকত, তবে অবশ্যই আমি তাঁর (নবীর) ব্যাপারে মিথ্যা বলতাম। অতঃপর তিনি আমাকে সর্বপ্রথম যে প্রশ্নটি করলেন তা হলো, "তোমাদের মধ্যে তাঁর বংশমর্যাদা কেমন?" আমি বললাম, "তিনি আমাদের মধ্যে অতি সম্ভ্রান্ত বংশের।" তিনি বললেন, "তোমাদের মধ্যে তাঁর আগে কি আর কেউ কখনো এ ধরনের কথা বলেছে?" আমি বললাম, "না।" তিনি বললেন, "তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে কি কোনো বাদশাহ ছিলেন?" আমি বললাম, "না।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "সম্ভ্রান্ত লোকেরা কি তাঁর অনুসরণ করছে, নাকি দুর্বলরা?" আমি বললাম, "বরং দুর্বল লোকেরাই তাঁর অনুসরণ করছে।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তাদের সংখ্যা কি বাড়ছে না কমছে?" আমি বললাম, "বরং তা বাড়ছে।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তাদের মধ্যে কেউ কি তাঁর দ্বীনে প্রবেশ করার পর সেটির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে ধর্মত্যাগ করে?" আমি বললাম, "না।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তিনি বর্তমানে যা বলছেন, তা বলার আগে তোমরা কি কখনো তাঁকে মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিলে?" আমি বললাম, "না।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তিনি কি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন?" আমি বললাম, "না। তবে আমরা বর্তমানে তাঁর সাথে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের সন্ধিতে আছি এবং জানি না এই সময়ে তিনি কী করবেন।" আবু সুফিয়ান বলেন, এই কথাটি ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনো কিছু যোগ করার সুযোগ আমার হয়নি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তোমরা কি তাঁর সাথে যুদ্ধ করেছ?" আমি বললাম, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "তাঁর সাথে তোমাদের যুদ্ধের ফলাফল কেমন হয়েছিল?" আমি বললাম, "আমাদের ও তাঁর মধ্যে যুদ্ধের পাল্লা সমান; কখনো তিনি জয়লাভ করেন, আবার কখনো আমরা জয়লাভ করি।"
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
قَالَ: مَاذَا يَأْمُرُكُمْ؟ قُلْتُ: يَقُولُ: اعْبُدُوا اللَّهَ وَحْدَهُ وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَاتْرُكُوا مَا يَقُولُ آَبَاؤُكُمْ، وَيَأْمُرُنَا بِالصَّلاةِ، وَالصِّدْقِ، َالْعَفَافِ، وَالصِّلَةِ، فَقَالَ لِلتُرْجُمَانِ قُلْ لَهُ: سَأَلْتُكَ عَنْ نَسَبِهِ، فَذَكَرْتَ أَنَّهُ فِيكُمْ ذُو نَسَبٍ، فَكَذَلِكَ الرُّسُلُ تُبْعَثُ فِي نَسَبِ قَوْمِهَا، وَسَأَلْتُكَ هَلْ قَالَ أَحَدٌ مِنْكُمْ هَذَا الْقَوْلَ؟ فَذَكَرْتَ أَنْ لا، فَقُلُتُ: لَوْ كَانَ أَحَدٌ، قَالَ هَذَا الْقَوْلَ قَبْلَهُ، لَقُلْتُ: رَجُلٌ يَأْتَسِي بِقَوْلٍ قِيلَ قَبْلَهُ، وَسَأَلْتُكَ هَلْ كَانَ مِنْ آَبَائِهِ مَنْ مَلَكَ؟ فَذَكَرْتَ أَنْ لا، قُلْتُ: لَوْ كَانَ مِنْ آَبَائِهِ مَنْ مَلِكِ، قُلْتُ: رَجُلٌ يَطْلُبُ مُلْكَ أَبِيِهِ، وَسَأَلْتُكَ هَلْ كُنْتُمْ تَتَّهِمُونَهُ بِالكَذِبِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَ مَا قَالَ؟ فَذَكَرْتَ أَنْ لا، فَقَدْ أَعْرَفَ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ لِيَذَرُ الْكَذِبَ عَلَى النَّاسِ، وَيَكْذِبُ عَلَى اللَّهِ، وَسَأَلْتُكَ أَشْرَافَ النَّاسِ اتَّبَعُوهُ أَمْ ضُعَفَاؤَهُمْ؟ فَذَكَرْتَ أَنَّ ضُعَفَاءَهُمُ اتَّبَعُوهُ، وَهُمْ أَتْبَاعُ الرُّسُلِ، وَسَأَلْتُكَ أَيَزِيدُونَ أَمْ يَنْقُصُونَ، فَذَكَرْتَ أَنَّهُمْ يَزِيدُونَ، وَكَذَلِكَ أَمْرُ الإِيمَانِ حَتَّى يَتِمَّ، وَسَأَلْتُكَ أَيَرْتَدَّ أَحَدٌ سَخْطَةً لِدِينِهِ بَعْد أَنْ يَدْخُلَ فِيهِ، فَذَكَرْتَ أَنْ لا، وَكَذَلِكَ الإِيمَانُ حِينَ تُخَالِطُ بَشَاشَتُهُ القُلُوبَ، وَسَأَلْتُكَ هَلْ يَغْدُرُ؟ فَذَكَرْتَ أَنْ لا، وَكَذَلِكَ الرُّسُلُ لا تَغْدُرُ، وَسَأَلْتُكَ بِمَا يَأْمُرُكُمْ؟ فَذَكَرْتَ أَنَّهُ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَعْبُدُوا اللَّهَ وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَيَنْهَاكُمْ عَنْ عِبَادَةِ الأَوْثَانِ، وَيَأْمُرُكُمْ بِالصَّلاةِ، وَالصِّدْقِ، وَالْعَفَافِ ، وَالصِّلَةِ، فَإِنْ كَانَ مَا تَقُولُ حَقًا فَسَيَمْلِكُ مَوْضِعَ قَدَمَيَّ هَاتَيْنِ، وَقَدْ كُنْتُ أَعْلَمُ أَنَّهُ خَارِجٌ، وَلَمْ أَكُنْ أَظُنُّ أَنَّهُ مِنْكُمْ، فَلَوْ أَعْلَمُ أَنِّي أَخْلُصُ إِلَيْهِ، لَتَجَشَّمْتُ لِقَاءَهُ، وَلَوْ كُنْتُ عِنْدَهُ لَغَسَلْتُ، عَنْ قَدَمَيْهِ، ثُمَّ دَعَا بِكِتَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، الَّذِي بَعَثَ بِهِ مَعَ دِحْيَةَ إِلَى عَظِيمِ
তিনি বললেন: সে তোমাদের কী আদেশ দেয়? আমি বললাম: সে বলে: তোমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না, আর তোমাদের পূর্বপুরুষরা যা বলে তা বর্জন করো। সে আমাদের সালাত, সত্যবাদিতা, চারিত্রিক পবিত্রতা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার আদেশ দেয়। অতঃপর তিনি দোভাষীকে বললেন, তাকে বলো: আমি তোমাকে তার বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি, তুমি উল্লেখ করেছ যে সে তোমাদের মধ্যে উচ্চবংশীয়। নবিগণ এভাবেই তাঁদের কওমের উচ্চবংশে প্রেরিত হন। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তোমাদের মধ্যে কেউ কি আগে এমন কথা বলেছে? তুমি বললে যে না। আমি বললাম, যদি তার আগে কেউ এমন কথা বলত, তবে আমি বলতাম সে এমন এক ব্যক্তি যে তার আগের কোনো কথার অনুসরণ করছে। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তার পূর্বপুরুষদের মধ্যে কি কেউ রাজা ছিলেন? তুমি বললে যে না। আমি বললাম, যদি তার পূর্বপুরুষদের মধ্যে কেউ রাজা থাকতেন, তবে আমি বলতাম সে তার পিতার রাজত্ব ফিরে পেতে চাইছে। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, সে যা বলেছে তা বলার আগে তোমরা কি তাকে মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করতে? তুমি বললে যে না। এতে আমি বুঝতে পারলাম যে, যে ব্যক্তি মানুষের সাথে মিথ্যা বলে না, সে আল্লাহর ব্যাপারে কখনও মিথ্যা বলবে না। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, সমাজের প্রভাবশালীরা তার অনুসরণ করছে নাকি দুর্বলরা? তুমি বললে যে দুর্বলরাই তার অনুসরণ করছে। আর এরাই তো নবিগণের অনুসারী হয়ে থাকে। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তারা সংখ্যায় বাড়ছে নাকি কমছে? তুমি বললে যে তারা বাড়ছে। ঈমানের বিষয়টিও এমনই থাকে যতক্ষণ না তা পূর্ণতা পায়। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, কেউ কি তার দ্বীনে প্রবেশের পর অসন্তুষ্ট হয়ে তা ত্যাগ করে? তুমি বললে যে না। ঈমানের মাধুর্য যখন অন্তরের সাথে মিশে যায়, তখন এমনই হয়। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, সে কি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে? তুমি বললে যে না। নবিগণ এভাবেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, সে তোমাদের কী আদেশ দেয়? তুমি বললে যে সে তোমাদের একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করার আদেশ দেয়, আর তোমাদের মূর্তিপূজা করতে নিষেধ করে; এবং সে তোমাদের সালাত, সত্যবাদিতা, চারিত্রিক পবিত্রতা ও আত্মীয়তার সম্পর্কের আদেশ দেয়। তুমি যা বলছ তা যদি সত্য হয়, তবে অচিরেই সে আমার এই দুই পায়ের নিচের জায়গার মালিক হবে। আমি জানতাম যে তাঁর আবির্ভাব ঘটবে, তবে আমি ভাবিনি যে সে তোমাদের মধ্য থেকে হবে। যদি আমি জানতাম যে আমি তাঁর কাছে পৌঁছাতে পারব, তবে তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য আমি যে কোনো কষ্ট বরণ করতাম। আর আমি যদি তাঁর কাছে থাকতাম, তবে অবশ্যই তাঁর দুই পা ধুইয়ে দিতাম। এরপর তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই পত্রটি আনালেন, যা তিনি দহিয়ার মাধ্যমে মহান নেতার কাছে পাঠিয়েছিলেন...
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৭০)
بُصْرَى، فَدَفَعَهُ إِلَى هِرَقلَ فَقَرَأَهُ، فَإِذَا فِيهِ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحَمْنِ الرَّحِيمِ، مِنْ مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِِ وَرَسُولِهِ، إِلَى هِرَقْلَ عَظِيمِ الرُّومِ، سَلامٌ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الهُدَى.
أمَا بْعدُ: فَإِنِّي أَدْعُوكِ بِدِعَايَةِ الإِسْلامِ، أَسْلِمْ تَسْلَمْ، يُؤْتِكَ اللَّهُ أَجْرَكَ مَرَّتَيْنِ، فَإِن تَوَلَّيْتَ، فَإِنَّ عَلَيْكَ إِثْمَ اليَرِيسِيِّينَ، {يَأَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلا اللَّهَ وَلا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا
বসরা (এর গভর্নর), তিনি তা হিরাক্লিয়াসের নিকট সমর্পণ করলেন এবং তিনি তা পাঠ করলেন। তাতে লিখিত ছিল: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি। শান্তি বর্ষিত হোক তার ওপর যে হিদায়াত অনুসরণ করে।
অতঃপর, আমি আপনাকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছি। ইসলাম গ্রহণ করুন, শান্তিতে থাকবেন; আল্লাহ আপনাকে দ্বিগুণ প্রতিদান দান করবেন। আর যদি আপনি বিমুখ হন, তবে আপনার ওপর প্রজাসাধারণের পাপ বর্তাবে। {হে আহলে কিতাব! তোমরা এমন একটি কথার দিকে এসো যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন; তা হলো, আমরা যেন আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত না করি, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক না করি এবং আমাদের কেউ যেন আল্লাহকে বাদ দিয়ে একে অপরকে প্রতিপালক হিসেবে গ্রহণ না করে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়...
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৭১)
فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 64] ، قَالَ أَبُو سُفْيَانَ: فَلَمَّا قَالَ مَا قَالَ، وَفَرَغَ مِنْ قِرَاءَةِ الْكِتَابِ، كَثُرَ عِنْدَهُ الصَّخَبُ، وَارْتَفَعَتِ الأَصْوَاتُ، وَأُخْرِجْنَا، فَقُلْتُ لأَصْحَابِي حِينَ أُخْرِجْنَا: لَقَدْ أَمِرَ أَمْرُ ابْنِ أَبِي كَبْشَةَ إِنَّهُ يَخَافُهُ مَلِكُ بَنِي الأَصْفَرِ، فَمَا زِلْتُ مُوقِنًا بِأَمْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ سَيَظْهَرُ حَتَّى أَدْخَلَ اللَّهُ عَلَيَّ الإِسْلامُ "
তোমরা বলো, ‘তোমরা সাক্ষী থাকো যে, আমরা মুসলিম।’ [আলে ইমরান: ৬৪]। আবু সুফিয়ান বলেন: যখন তিনি যা বলার বললেন এবং পত্রটি পাঠ করা শেষ করলেন, তখন তাঁর নিকট হট্টগোল বৃদ্ধি পেল এবং কণ্ঠস্বরসমূহ উচ্চ হলো, আর আমাদের বের করে দেওয়া হলো। যখন আমাদের বের করে দেওয়া হলো, তখন আমি আমার সঙ্গীদের বললাম: ‘ইবনে আবি কাবশার বিষয়টি তো শক্তিশালী হয়ে উঠেছে; বনু আসফারের (রোমানদের) রাজাও তাঁকে ভয় পাচ্ছেন।’ এরপর থেকে আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিষয়টি বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাসী ছিলাম, পরিশেষে আল্লাহ আমাকে ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য দান করলেন।
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৭২)
وَكَانَ ابْنُ النَّاطُورِ ، صَاحِبَ إِيلِيَاءَ وَهِرَقْلَ ، أَسْقُفًا عَلَى نَصَارَى الشَّامِ يُحَدِّثُ أَنَّ هِرَقلَ حِينَ قَدِمَ إِيلِيَاءَ، أَصْبَحَ يَوْمًا خَبِيثَ النَّفْسِ، فَقَالَ بَعْضُ بَطَارِقَتِهِ قَدِ اسْتَنْكَرْنَا هَيْئَتَكَ، قَالَ ابْنُ النَّاطُورِ: وَكَانَ هِرَقْلُ حَزَّاءً يَنْظُرُ فِي النِّجُومِ، فَقَالَ لَهُمْ حِينَ سَأَلُوهُ: إِنِّي رَأَيْتُ اللَّيْلَةَ حِينَ نَظَرْتُ فِي النِّجُومِ مَلِكَ الْخِتَانِ قَدْ ظَهَرَ، فَمَنْ يَخْتَتِنْ مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ؟ قَالُوا، لَيْسَ يَخْتَتِنُ إِلا الْيَهُودُ، فَلا يَهُمَّنَّكَ شَأْنَهُمْ، وَاكْتُبْ إِلَى مَدَائِنَ مُلْكِكَ فَلْيَقْتُلُوا مَنْ فِيهِمْ مِنَ الْيَهُودِ، فَبَيْنَا هُمْ عَلَى أَمْرِهِمْ أُتِيَ هِرَقْلُ بِرَجُلٍ أَرْسَلَ بِهِ مَلِكُ غَسَّانَ يُخْبِرُ عَنْ خَبَرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا اسْتَخْبَرَهُ هِرَقْلُ، قَالَ: اذْهَبُوا فَانْظُرُوا أَمُخْتَتَنٌ هُوَ أَمْ لا؟ فَنَظَرُوا إِلَيْهِ ، فَحَدَّثُوهُ أَنَّهُ مُخْتَتَنٌ، وَسَأَلَهُ عَنِ الْعَرَبِ، فَقَالَ: هُمْ يَخْتَتِنُونَ، فَقَالَ هِرَقْلُ: هَذَا مَلِكُ هَذِهِ الأُمَّةِ قَدْ ظَهَرَ، ثُمَّ كَتَبَ هِرَقْلُ إِلَى صَاحِبٍ لَهُ بِرُومِيَّةَ وَكَانَ نَظِيرَهُ فِي
জেরুজালেমের প্রশাসক এবং হিরাক্লিয়াসের সঙ্গী ইবনে নাতুর ছিলেন সিরিয়ার খ্রিস্টানদের বিশপ। তিনি বর্ণনা করতেন যে, হিরাক্লিয়াস যখন জেরুজালেমে আসলেন, একদিন সকালে তাঁকে অত্যন্ত বিমর্ষ দেখা গেল। তখন তাঁর প্রধান পাদ্রীদের কেউ কেউ বললেন, "আমরা আপনার অবয়বে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করছি।" ইবনে নাতুর বলেন: হিরাক্লিয়াস ছিলেন জ্যোতিষী, তিনি নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করতেন। যখন তাঁরা তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি তাঁদের বললেন: "আজ রাতে নক্ষত্ররাজি দেখার সময় আমি দেখলাম যে, খতনাকারীদের বাদশাহর আবির্ভাব ঘটেছে। বর্তমান জাতিসমূহের মধ্যে কারা খতনা করে?" তাঁরা বললেন, "ইয়াহুদি ব্যতীত আর কেউ খতনা করে না। তাই তাঁদের নিয়ে আপনি উদ্বিগ্ন হবেন না। বরং আপনি আপনার সাম্রাজ্যের শহরগুলোতে ফরমান পাঠিয়ে দিন যেন তারা সেখানকার ইয়াহুদিদের হত্যা করে।" তাঁরা যখন এই আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন, তখন গাসসানের বাদশাহর প্রেরিত এক ব্যক্তিকে হিরাক্লিয়াসের নিকট উপস্থিত করা হলো, যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে খবর দিচ্ছিল। হিরাক্লিয়াস তার নিকট হতে তথ্য সংগ্রহের পর বললেন, "তোমরা গিয়ে দেখে এসো সে খতনাকৃত কি না?" তাঁরা তাকে পরীক্ষা করে জানাল যে সে খতনাকৃত। এরপর হিরাক্লিয়াস তাকে আরবদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। সে উত্তর দিল, "তারা খতনা করে।" তখন হিরাক্লিয়াস বললেন, "ইনিই এই উম্মতের সেই বাদশাহ, যাঁর প্রকাশ ঘটেছে।" এরপর হিরাক্লিয়াস রোমে অবস্থানরত তাঁর এক বন্ধুর নিকট চিঠি লিখলেন, যিনি জ্ঞানে তাঁর সমকক্ষ ছিলেন—
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
الْعِلْمِ ، وَصَارَ هِرَقْلُ إِلَى حِمْصَ فَلَمْ يَرُمْ حِمْصَ حَتَّى أَتَاهُ كِتَابٌ مِنْ صَاحِبِهِ يُوَافِقُ رَأْيَ هِرَقْلَ عَلَى خُرُوجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَأَنَّهُ نَبِيٌّ، فَأَذِنَ هِرَقْلُ لِعُظَمَاءِ الرُّومِ فِي دَسْكَرَةَ لَهُ بِحِمْصَ، ثُمَّ أَمَرَ بِأَبْوَابِهِ فَغُلِّقَتْ، ثُمَّ اطَّلَعَ، فَقَالَ: يَا مَعْشَرَ الرُّومِ هَلْ لَكُمْ فِي الْفَلاحِ وَالرُّشْدِ، وَأَنْ يَثْبُتَ لَكُمْ مُلْكُكُمْ فَتُبَايِعُوا هَذَا النَّبِيَّ؟ فَحَاصُوا حَيْصَةَ حُمُرِ الْوَحْشِ إِلَى الأَبْوَابِ فَوَجَدُوهَا قَدْ غُلِّقَتْ، فَلَمَّا رَأَى هِرَقْلُ نَفْرَتَهُمْ وَأَيِسَ مِنَ الإِيمَانِ، قَالَ: رُدُّوهُمْ عَلَيَّ، وَقَالَ: إِنِّي قُلْتُ مَقَالَتِي آَنِفًا أَخْتَبِرُ بِهَا شِدَّتَكُمْ عَلَى دِينِكُمْ فَقَدْ رَأَيْتُ، فَسَجَدُوا لَهُ وَرَضُوا عَنْهُ، فَكَانَ ذَلِكَ آَخِرِ شَأْنِ هِرَقْلَ
وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِِ بْنِ أَبِي عُمَرَ سَمَاعًا عَلَيْهِ، أَنْبَأَنَا الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ نَاصِرِ الدِّينِ حُضُورًا فِي آَخِرِ الْخَامِسَةِ، أَنْبَأَنَا التَّاجُ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ بَرْدَسٍ بِقَرِاءَتِي عَلَيْهِ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْفِدَاءَ بْنِ الْخَبَّازِ، أَنْبَأَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِِ الأَرْبَلِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِِ الْفَرَاوِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ الْفَارِسِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو أَحْمَدَ الْجَلُودِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْفَقِيهُ، حَدَّثَنَا الْحَافِظُ أَبُو الْحُسَيْنِ الْقُشَيْرِيُّ، أَنْبَأَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، وَاللَّفْظُ لابْنِ رَافِعٍ، قَالَ ابْنُ رَافِعٍ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا ، وَقَالَ الأَخَرَانِ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّزَاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ أَبَا سُفْيَانَ أَخْبَرَهُ مِنْ فِيِهِ إِلَى فِيهِ، قَالَ: " انْطَلَقْتُ فِي الْمُدَّةِ الَّتِي كَانَتْ بَيْنِي وَبَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: فَبَيْنَمَا أَنَا بِالشَّامِ إِذْ جِيءَ
জ্ঞানের, এবং হিরাক্লিয়াস হিমসের দিকে রওনা হলেন। তিনি হিমস ত্যাগ করার পূর্বেই তাঁর সেই সঙ্গীর পক্ষ থেকে একটি পত্র পেলেন যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাবের বিষয়ে এবং তিনি যে একজন নবী, সে ব্যাপারে হিরাক্লিয়াসের মতের সাথে ঐকমত্য পোষণ করছিল। অতঃপর হিরাক্লিয়াস রোমের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে হিমসে তাঁর একটি প্রাসাদে সমবেত হওয়ার অনুমতি দিলেন। এরপর তিনি প্রাসাদের ফটকগুলো বন্ধ করার নির্দেশ দিলেন এবং সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হলো। তারপর তিনি তাদের সম্মুখে উপস্থিত হয়ে বললেন: হে রোমবাসী! তোমরা কি কল্যাণ ও সঠিক পথ লাভ করতে চাও এবং চাও কি যে তোমাদের রাজত্ব সুসংহত হোক? তবে তোমরা এই নবীর নিকট আনুগত্যের শপথ (বায়াত) গ্রহণ করো। একথা শুনে তারা বন্য গাধার ন্যায় ক্ষিপ্রগতিতে ফটকগুলোর দিকে ছুটে গেল, কিন্তু সেগুলো বন্ধ দেখতে পেল। হিরাক্লিয়াস যখন তাদের এই বিমুখতা লক্ষ্য করলেন এবং তাদের ঈমান আনার ব্যাপারে নিরাশ হলেন, তখন বললেন: তাদের পুনরায় আমার নিকট ফিরিয়ে আনো। তিনি বললেন: আমি এইমাত্র যা বলেছি, তা ছিল তোমাদের ধর্মের প্রতি তোমাদের নিষ্ঠা পরীক্ষা করার জন্য; আর আমি তা প্রত্যক্ষ করেছি। এরপর তারা তাঁকে সিজদাহ করল এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হলো। এটিই ছিল হিরাক্লিয়াসের জীবনের শেষ পরিণতি।
এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবু উমর তাঁর কাছে শ্রবণের মাধ্যমে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে নাসিরুদ্দিন পঞ্চম স্তরের শেষে উপস্থিত থাকাকালীন সময়ে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাজ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে বারদাস তাঁর কাছে আমার পাঠের মাধ্যমে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফিদা ইবনুল খাব্বাজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-আরবালি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-ফারাবি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আল-ফারিসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ আল-জালুদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক আল-ফকিহ, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন হাফিজ আবু আল-হুসাইন আল-কুশাইরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-হানজালি, ইবনে আবু উমর এবং মুহাম্মদ ইবনে রাফি ও আবদ ইবনে হুমাইদ - আর শব্দাবলি ইবনে রাফির - ইবনে রাফি ও ইবনে আবু উমর বলেছেন আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, এবং অপর দু'জন বলেছেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, যুহরি থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে উতবাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু সুফিয়ান তাঁকে সরাসরি নিজের মুখ থেকে বর্ণনা করে বলেছেন: "আমি সেই মেয়াদে (সফরে) বের হয়েছিলাম যা আমার ও আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে (চুক্তি স্বরূপ) নির্ধারিত ছিল। তিনি বলেন: আমি যখন শামে অবস্থান করছিলাম, এমতাবস্থায় হঠাৎ আনা হলো..."
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
بِكِتَابٍ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى هِرَقْلَ، وَكَانَ دِحْيَةُ الْكَلْبِيُّ جَاءَ بِهِ، فَدَفَعَهُ إِلَى عَظِيمِ بُصْرَى، فَدَفَعَهُ عَظِيمُ بُصْرَى إِلَى هِرَقْلَ، فَقَالَ هِرَقْلُ: هَلْ هَاهُنَا أَحَدٌ مِنْ قَوْمِ هَذَا الرَّجُلِ الَّذِي يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ؟ فَقَالَ أَبُو سُفْيَانَ: فَقُلْتُ أَنَا، فَأَجْلَسُونِي بَيْنَ يَدَيْهِ، وَأَجْلَسُوا أَصْحَابِي خَلْفِي ، فَدَعَا بِتُرْجُمَانِهِ ، فَقَالَ: قُلْ لَهُمْ إِنِّي سَائِلٌ هَذَا، عَنْ هَذَا الرَّجُلِ الَّذِي يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ، فَإِنْ كَذَّبَنِي فَكَذِّبُوهُ، قَالَ: فَقَالَ أَبُو سُفْيَانَ: وَايْمُ اللَّهِ لَوْلا مَخَافَةُ أَنْ يُؤْثَرَ عَلَيَّ الْكَذِبَ لَكَذِبْتُ "، ثُمَّ ذَكَرَ بِمِثْلِ مَا قَدَّمْنَا إِلَى قَوْلِهِ حَتَّى أَدْخَلَ اللَّهُ عَلَيَّ الإِسْلامَ وَلَمْ يَذْكُرْ مَا بَعْدَهُ
وَأَخْبَرَنَا الْمَحْيَوِيُّ يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ الْحَنَفِيُّ، أَخْبَرَتْنَا أُمُّ مُحَمَّدٍ عَائِشَةُ ابْنَةُ مُحَمَّدِ بْنِ الزَّيْنِ، عَنْ أُمِّ مُحَمَّدِ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحِيمِ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ بَقِيٍّ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ بَشْكُوَالٍ، أَنْبَأَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْقُرْطُبِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو عُمَرَ بْنُ عَبْدِ الْبَرِّ، أَنْبَأَنَا أَبُو عُمَرَ الإِشْبِيلِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبِي أَبُو مُحَمَّدٍ، أَنْبَأَنَا ابْنُ يُونُسَ، أَنْبَأَنَا بَقِيُ بْنُ مَخْلَدٍ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَرْمَلَةَ الأَسْلَمِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ، يَقُولُ: " كَتَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى قَيْصَرَ فَقَرَأَهُ، فَقَالَ: هَذَا كِتَابٌ لَمْ أَسْمَعْ بِهِ بَعْدَ سُلَيْمَانَ النَّبِيِّ عليه السلام، بِسْمِ اللَّهِ الرَّحَمْنِ الرَّحِيمِ، ثُمَّ أَرْسَلَ إِلَى أَبِي سُفْيَانَ، وَالْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ وَكَانَا
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে হিরাক্লিয়াসের নিকট প্রেরিত একটি পত্র নিয়ে দিহইয়া আল-কালবী আসলেন। তিনি তা বুসরার অধিপতির নিকট দিলেন, আর বুসরার অধিপতি তা হিরাক্লিয়াসের নিকট পৌঁছালেন। তখন হিরাক্লিয়াস বললেন: "এখানে কি সেই ব্যক্তির কওমের কেউ আছে, যে নিজেকে নবী বলে দাবি করে?" আবু সুফিয়ান বলেন: "আমি বললাম, আমি আছি। তখন তারা আমাকে তার সামনে বসালো এবং আমার সাথীদের আমার পেছনে বসালো। এরপর সে তার দোভাষীকে ডাকল এবং বলল: 'তাদের বলো যে, আমি এই ব্যক্তিকে সেই লোক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব যে নিজেকে নবী বলে দাবি করে; যদি সে আমার কাছে মিথ্যা বলে তবে তোমরা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে'।" আবু সুফিয়ান বলেন: "আল্লাহর কসম! যদি আমার পক্ষ থেকে মিথ্যা বর্ণনা করার ভয় না থাকত, তবে অবশ্যই আমি (তার সম্পর্কে) মিথ্যা বলতাম।" এরপর তিনি আমরা যা পূর্বে উল্লেখ করেছি অনুরূপ বর্ণনা করলেন তাঁর এই কথা পর্যন্ত যে, "শেষ পর্যন্ত আল্লাহ আমার নিকট ইসলামকে সমাগত করলেন"; আর তিনি এর পরের অংশ উল্লেখ করেননি।
এবং আল-মাহয়াবী ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ আল-হানাফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উম্মু মুহাম্মদ আয়েশা বিনতে মুহাম্মদ ইবনে আল-যায়ন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি উম্মু মুহাম্মদ বিনতে আবদুর রহীম থেকে বর্ণনা করেছেন, আবুল কাসিম ইবনে বাকী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল কাসিম ইবনে বাশকুওয়াল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আল-কুরতুবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু উমর ইবনে আবদুল বারর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু উমর আল-ইশবিলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার পিতা আবু মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে ইউনুস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বাকী ইবনে মাখলাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুর রহীম ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে হারমালা আল-আসলামী থেকে, তিনি বলেন: আমি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবকে বলতে শুনেছি: "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কায়সারের নিকট পত্র লিখলেন। সে তা পাঠ করল এবং বলল: 'এটি এমন এক পত্র যা আমি সুলাইমান নবী আলাইহিস সালামের পর আর শুনিনি: পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।' এরপর সে আবু সুফিয়ান এবং মুগীরা ইবনে শু'বার নিকট লোক পাঠাল, আর তাঁরা উভয়ে তখন..."
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
تَاجِرَيْنِ بِأَرْضِهِ فَسَأَلَهُمَا، عَنْ بَعْضِ شَأْنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَسَأَلَهُمَا مَنِ اتَّبَعَهُ فَقَالا: تَبِعَهُ النِّسَاءُ وَضَعْفَةُ النَّاسِ، فَقَالَ: أَرَأَيْتُمَا الَّذِينَ يَدْخُلُونَ مَعَهُ يَرْجِعُونَ، قَالَا: لا، قَالَ: هُوَ نَبِيٌ، لَيَمْلِكَنَّ مَا تَحْتَ قَدَمَيَّ، لَوْ كُنْتُ عِنْدَهُ لَقَبَّلْتُ قَدَمَيْهِ "
أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخَزْرَجِيُّ، أَخْبَرَتْنَا أُمُّ عَبْدِ اللَّهِِ ابْنَةُ الشَّمْسِ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْحَجَّاجِ الْمُزِّيُّ، أَنْبَأَنَا ابْنُ الدَّرَجِيِّ، وَابْنُ الْحَدَّادِ، قَالَا:، أَنْبَأَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الصَّيْدَلانِيُّ، أَخْبَرَتْنَا فَاطِمَةُ بِنْتُ عَبْدِ اللَّهِِ، قَالَتْ: أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرِ بْنِ رَيْدَةَ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الطَّبَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِِ الْحَضْرَمِيُّ، وَالْحُسَيْنُ بْنُ إِسْحَاقَ، قَالَا: حَدَّثَنَا الْجُمَانِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَلَمَةَ بْنِ كَهِيلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ دِحْيَةَ الْكَلْبِيِّ، قَالَ: " بَعَثَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى قَيْصَرَ صَاحِبِ الرُّومِ بِكِتَابٍ، فَقُلْتُ: اسْتَأْذِنُوا لِرَسُولِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَتَى قَيْصَرَ، فَقِيلَ لَهُ: إِنَّ عَلَى الْبَابِ رَجُلًا يَزْعُمُ أَنَّهُ رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَفَزِعُوا لِذَلِكَ ، فَقَالَ:
তার ভূখণ্ডে থাকা দুজন ব্যবসায়ীকে তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং তাদের কাছে জানতে চাইলেন যে, কারা তাঁকে অনুসরণ করে? তারা বলল: নারী এবং সমাজের দুর্বল লোকেরা তাঁর অনুসরণ করেছে। তিনি বললেন: তোমরা কি দেখেছ, যারা তাঁর সাথে প্রবেশ করে তারা কি আবার ফিরে যায়? তারা বলল: না। তিনি বললেন: তিনি একজন নবী; তিনি অবশ্যই আমার এই দুই পায়ের নিচের জায়গার মালিক হবেন। আমি যদি তাঁর কাছে থাকতাম, তবে অবশ্যই তাঁর দুই পায়ে চুমু খেতাম।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-খাজরাজি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উম্মু আব্দুল্লাহ বিনতে আশ-শামস, আমাদের জানিয়েছেন আবু আল-হাজ্জাজ আল-মিযযি, আমাদের জানিয়েছেন ইবনুদ দারাজি এবং ইবনুল হাদ্দাদ, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের জানিয়েছেন আবু জাফর আস-সায়দালানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফাতিমা বিনতে আব্দুল্লাহ, তিনি বলেছেন: আমাদের জানিয়েছেন আবু বকর বিন রায়দাহ, আমাদের জানিয়েছেন আবু আল-কাসিম আত-তাবারানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাদরামি এবং আল-হুসাইন বিন ইসহাক, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-জুমানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন সালামাহ বিন কুহাইল, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন শাদ্দাদ থেকে, তিনি দিহইয়া আল-কালবি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে রোমের অধিপতি কায়সারের নিকট একটি পত্রসহ প্রেরণ করলেন। আমি বললাম: আল্লাহর রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দূতের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করো। অতঃপর কায়সারের নিকট সংবাদ পৌঁছানো হলো এবং তাঁকে বলা হলো: নিশ্চয়ই দরজায় এমন একজন লোক আছে যে দাবি করছে সে আল্লাহর রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত দূত। এতে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। অতঃপর তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
أَدْخِلْهُ، فَأَدْخَلَنِي عَلَيْهِ وَعِنْدَهُ بَطَارِقَتُهُ فَأَعْطَيْتُهُ الْكِتَابَ فَقُرِئَ عَلَيْهِ فَإِذَا فِيهِ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحَمْنِ الرَّحِيمِ، مِنْ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللَّهِ إِلَى قَيْصَرِ الرُّومِ، قَالَ: فَقُرِئَ الْكِتَابُ حَتَّى فَرَغَ مِنْهُ ثُمَّ أَمَرَهُمْ فَخَرَجُوا مِنْ عِنْدِهِ، ثُمَّ بَعَثَ إِلَيَّ فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ، فَسَأَلَنِي فَأَخْبَرْتُهُ، فَبَعَثَ إِلَى الأَسْقُفِ فَدَخَلَ عَلَيْهِ وَكَانَ صَاحِبَ أَمْرِهِمْ، يُصْدِرُونَ عَنْ قَوْلِهِ، وَعَنْ رَأْيِهِ، فَلَمَّا قَرَأَ الْكِتَابَ، قَالَ الأَسْقُفُ: هُوَ وَاللَّهِ الَّذِي بَشَّرَنَا بِهِ مُوسَى وَعِيسَى الَّذِي كُنَّا نَنْتَظِرُ، قَالَ قَيْصَرُ: فَمَا تَأْمُرُنِي؟ قَالَ الأَسْقُفُ: أَمَّا أَنَا فَإِنِّي مُصَدِّقُهُ وَمُتَّبِعُهُ، فَقَالَ قَيْصَرُ: أَعْرِفُ أَنَّهُ كَذَلِكَ، وَلَكِنْ لا أَسْتَطِيعُ أَنْ أَفْعَلَ، إِنْ فَعَلْتَ ذَهَبَ مُلْكِي، وَقَتَلَنِي الرُّومُ "
وَأَخْبَرَنَا أَبُو عُمَرَ يُوسُفُ بْنُ حَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ حَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْهَادِي، أَنْبَأَنَا جَدِّي، أَنْبَأَنَا الصَّلاحُ بْنُ أَبِي عُمَرَ، أَنْبَأَنَا الْفَخْرُ بْنُ الْبُخَارِيِّ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْيَمَانِ الِكِنْدِيُّ، وَأَبُو حَفْصِ بْنُ طَبَرْزَدَ، قَالَ الْكِنْدِي أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الْحَرِيرِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو طَالِبٍ الْعِشَارِيُّ، قَالَ ابْنُ طَبَرْزَدَ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الأَنْصَارِيُّ، وَالْكَرْخِيُّ، قَالا: أَخْبَرَتْنَا خَدِيجَةُ بِنْتُ مُحَمَّدٍ، قَالَتْ: أَخْبَرَنَا أَبُو طَالِبٍ الْعَشْرِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ سَمْعُونٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْخَتلِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا نَجِيحٌ أَبُو مَعْشَرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ دِحْيَةَ بْنِ خليْفَةَ، قَالَ: " وَجَّهَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى مَلِكِ الرَّومِ بِكِتَابِهِ وَهُوَ بِدِمَشْقَ، فَنَاوَلْتُهُ
"তাকে প্রবেশ করাও।" অতঃপর তিনি আমাকে তাঁর নিকট প্রবেশ করালেন এবং তাঁর নিকট তাঁর প্রধান ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিল। আমি তাঁকে পত্রটি দিলাম এবং তাঁর সম্মুখে তা পাঠ করা হলো। তাতে লেখা ছিল: "পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ হতে রোম সম্রাট কায়সারের প্রতি।" তিনি বলেন: পত্রটি শেষ হওয়া পর্যন্ত পাঠ করা হলো। অতঃপর তিনি তাদের নির্দেশ দিলেন এবং তারা তাঁর নিকট থেকে বেরিয়ে গেল। এরপর তিনি আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন এবং আমি তাঁকে সংবাদ দিলাম। অতঃপর তিনি বিশপের নিকট লোক পাঠালেন এবং সে তাঁর নিকট প্রবেশ করল। সে ছিল তাদের সকল বিষয়ের মূল ব্যক্তি; তারা তার কথা ও মতামতের ভিত্তিতেই পরিচালিত হতো। বিশপ যখন পত্রটি পাঠ করলেন, তখন তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, ইনিই তিনি যাঁর সুসংবাদ মূসা ও ঈসা আমাদের দিয়েছিলেন এবং যাঁর জন্য আমরা প্রতীক্ষা করছিলাম।" কায়সার বললেন: "তাহলে আপনি আমাকে কী আদেশ করেন?" বিশপ বললেন: "আমি তো তাঁর সত্যতা স্বীকার করছি এবং তাঁর অনুসরণ করছি।" কায়সার বললেন: "আমি জানি যে বিষয়টি এমনই, কিন্তু আমি তা করতে সক্ষম নই; আমি যদি তা করি তবে আমার রাজত্ব চলে যাবে এবং রোমবাসীরা আমাকে হত্যা করবে।"
এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর ইউসুফ বিন হাসান বিন আহমাদ বিন হাসান বিন আব্দুল হাদী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আস-সালাহ বিন আবি উমর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ফাখর বিন আল-বুখারি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ইয়ামান আল-কিন্দি এবং আবু হাফস বিন তাবারজাদ। আল-কিন্দি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম আল-হারিরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব আল-ইশারী। ইবনে তাবারজাদ বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-আনসারি এবং আল-কারখি, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খাদিজা বিনতে মুহাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব আল-আশরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন বিন সামউন, আমাদের বর্ণনা করেছেন উসমান বিন আহমাদ, আমাদের বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন ইবরাহিম আল-খাতলি, আমাদের বর্ণনা করেছেন উমর বিন ইবরাহিম, আমাদের বর্ণনা করেছেন নাজিহ আবু মাশার, মুহাম্মাদ বিন কাব থেকে, তিনি দিহ্ইয়াহ বিন খলিফা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পত্রসহ আমাকে রোম সম্রাটের নিকট পাঠিয়েছিলেন যখন তিনি দামেস্কে ছিলেন, অতঃপর আমি তা তাঁর নিকট হস্তান্তর করলাম।"
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
كِتَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَبَّلَ خَاتَمَهُ، وَوَضَعَهُ تَحْتَ شَيْءٍ كَانَ عَلَيْهِ قَاعِدًا، ثُمَّ نَادَى فَاجْتَمَعَ الْبَطَارِقَةُ وَقَوْمُهُ، فَقَامَ عَلَى وَسَائِدَ ثُنِيَتْ لَهُ، كَذَلِكَ كَانَتْ فَارِسُ وَالرُّومُ، وَلَمْ يَكُنْ لَهَا مَنَابِرُ، ثُمَّ خَطَبَ أَصْحَابَهُ ، فَقَالَ: هَذَا كِتَابُ النَّبِيِّ الَّذِي بَشَّرَنَا بِهِ الْمَسِيحُ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: فَنَخَرُوا نَخْرَةً فَأَوْمَأ بِيَدِهِ أَنِ اسْكُتُوا، ثُمَّ قَالَ: إِنَّمَا اخْتَبَرْتُكُمْ كَيْفَ نُصْرَتُكُمْ لِلنَّصْرَانِيَّةِ، قَالَ: فَبَعَثَ إِلَيَّ مِنَ الْغَدِّ سِرًا فَأَدْخَلَنِي بَيْتًا عَظِيمًا فِيهِ ثَلاثِ مِائَةٌ وَثَلاثَةَ عَشْرَ صُورَةٍ، فَإِذَا هِيَ صُوَرُ الأَنْبِيَاءِ وَالْمُرْسَلِينَ، قَالَ: انْظُرْ مَنْ صَاحِبُكَ مِنْ هَؤُلاءِ؟ ، قَالَ: فَرَأَيْتُ صُورَةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَأَنَّهُ يَنْظُرُ فَقُلْتُ هَذَا، قَالَ: صَدَقْتَ، فَقَالَ صُوْرَةُ مَنْ هَذَا، عَنْ يَمِينِهِ؟ قُلْتُ: رَجُلٌ مِنْ قَوْمِهِ يُقَالُ لَهُ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، قَالَ: فَمَنْ ذَا عَنْ يَسَارِهِ؟ قُلْتُ: رَجُلٌ مِنْ قَوْمِهِ يُقَالُ لَهُ: عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، قَالَ: أَمَّا إِنَّا نَجِدُ فِي الْكِتَابِ أَنَّ بِصَاحِبَيْهِ هَذَيْنِ يُتِمُّ اللَّهُ هَذَا الدِّينَ، فَلَمَّا قَدِمْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرْتُهُ ، فَقَالَ: صَدَقَ ، بِأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ يَتِمُّ هَذَا الدِّينِ، وَيُفْتَحُ بَعْدِي " وَرَأَيْتُ فِي مَوْضِعٍ أَنَّهُ أَدْخَلَهُ بَيْتًا فِيهِ صِوَرٌ ، فَقَالَ: انْظُرْ صَاحِبَكُمْ فِي هَذَهِ، فَنَظَرْتُ فَمَا رَأَيْتُ شَيْئًا، فَقُلْتُ: لا، فَقَالَ: صَدَقْتَ، ثُمَّ أَدْخَلَنِي بَيْتًا آَخَرَ، فَقَالَ: انْظُرْ هَلْ هُوَ فِي هَذِهِ؟ فَنَظَرْتُ فَلَمْ أَجِدْ أَحَدًا، أَدْخَلَنِي بَيْتًا آَخَرَ ، فَقَالَ: انْظُرْ فِي هَذِهِ، فَنَظَرْتُ فَإِذَا صُورَةٌ كَأَنَّهَا صُورَةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْتُ: هَذِهِ، فَقَالَ: صَدَقْتَ، ثُمَّ قَالَ: مَنْ هَذَا، عَنْ يَمِينِهِ ، فَإِذَا صُورَةٌ كَأَنَّهَا صُورَةُ أَبِي بَكْرٍ، فَقُلْتُ: هَذَا ابْنُ أَبِي قُحَافَةَ، فَأَرَانِي صُورَةً، عَنْ يَسَارِهِ،
তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্রটি গ্রহণ করলেন, অতঃপর তাঁর মোহরটি চুম্বন করলেন এবং সেটিকে এমন কিছুর নিচে রাখলেন যার ওপর তিনি উপবিষ্ট ছিলেন। এরপর তিনি উচ্চস্বরে আহ্বান করলেন, ফলে সেনাপতিগণ ও তাঁর কওম সমবেত হলো। অতঃপর তিনি তাঁর জন্য বিছানো গদিগুলোর ওপর দাঁড়ালেন; পারস্য ও রোমের প্রথা এমনই ছিল এবং তাদের কোনো মিম্বর (বক্তৃতা মঞ্চ) ছিল না। এরপর তিনি তাঁর সঙ্গীদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: "এটি সেই নবীর পত্র, যাঁর সুসংবাদ মসীহ (ঈসা আ.) আমাদের দিয়েছিলেন এবং যিনি ইবরাহীমের পুত্র ইসমাঈলের বংশধর।" বর্ণনাকারী বলেন: তারা তখন বিকট শব্দে চিৎকার করে উঠল (বা বিরক্তি প্রকাশ করল), ফলে তিনি হাত দিয়ে ইশারা করলেন যেন তারা চুপ থাকে। এরপর তিনি বললেন: "আমি কেবল তোমাদের পরীক্ষা করছিলাম যে, খ্রিস্টধর্মের প্রতি তোমাদের সাহায্য ও আনুগত্য কেমন।"
বর্ণনাকারী বলেন: পরদিন তিনি গোপনে আমার কাছে লোক পাঠালেন এবং আমাকে একটি বিশাল ঘরে প্রবেশ করালেন। সেখানে তিনশত তেরোটি প্রতিকৃতি ছিল। দেখা গেল, সেগুলো নবী ও রাসূলগণের প্রতিকৃতি। তিনি বললেন: "দেখো তো, এদের মধ্যে তোমাদের সঙ্গী (নবী) কে?" বর্ণনাকারী বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিকৃতি দেখতে পেলাম, যেন তিনি তাকিয়ে আছেন। আমি বললাম: "এই তো তিনি।" তিনি বললেন: "তুমি সত্য বলেছ।" অতঃপর তিনি বললেন: "তাঁর ডান পাশে এটি কার প্রতিকৃতি?" আমি বললাম: "তাঁর কওমের এক ব্যক্তি, যাঁকে আবু বকর সিদ্দিক বলা হয়।" তিনি বললেন: "তবে তাঁর বাম পাশে এটি কে?" আমি বললাম: "তাঁর কওমের এক ব্যক্তি, যাঁকে উমর ইবনুল খাত্তাব বলা হয়।" তিনি বললেন: "জেনে রেখো, আমরা কিতাবে পাই যে, আল্লাহ তাঁর এই দুই সঙ্গীর মাধ্যমেই এই দ্বীনকে পূর্ণতা দান করবেন।"
অতঃপর যখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে সংবাদটি দিলাম, তখন তিনি বললেন: "সে সত্য বলেছে; আবু বকর ও উমরের মাধ্যমেই এই দ্বীন পূর্ণতা পাবে এবং আমার পরে বিজয়সমূহ অর্জিত হবে।" আমি অন্য এক স্থানে দেখেছি যে, তিনি তাঁকে একটি ঘরে প্রবেশ করালেন যেখানে অনেকগুলো প্রতিকৃতি ছিল। তিনি বললেন: "এর মধ্যে তোমাদের সঙ্গীকে খুঁজে দেখো।" আমি তাকালাম কিন্তু কিছুই দেখতে পেলাম না। আমি বললাম: "না (এখানে নেই)।" তিনি বললেন: "তুমি সত্য বলেছ।" অতঃপর তিনি আমাকে অন্য একটি ঘরে প্রবেশ করালেন এবং বললেন: "দেখো তো, তিনি কি এতে আছেন?" আমি তাকালাম কিন্তু কাউকে পেলাম না। এরপর তিনি আমাকে অন্য একটি ঘরে নিয়ে গেলেন এবং বললেন: "এর মধ্যে দেখো।" আমি দৃষ্টিপাত করতেই এমন একটি প্রতিকৃতি দেখতে পেলাম যা হুবহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিকৃতির মতো। আমি বললাম: "এই তো এটি।" তিনি বললেন: "তুমি সত্য বলেছ।" অতঃপর তিনি বললেন: "তাঁর ডানে এটি কে?" সেখানে একটি প্রতিকৃতি ছিল যা হুবহু আবু বকরের প্রতিকৃতির মতো। আমি বললাম: "ইনি ইবনে আবু কুহাফা।" এরপর তিনি আমাকে তাঁর বাম পাশের একটি প্রতিকৃতি দেখালেন—
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
فَقَالَ: مَنْ هَذَا؟ فَقُلْتُ: عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، فَقَالَ: إِنَّا نَجِدُ فِي الْكِتَابِ أَنَّ هَذَا قَرْنًا مِنْ حَدِيدٍ
وَفِي كِتَابِ مَعَالِمَ الإِسْلامِ لأَبِي يُوسُفَ يُوسُفَ الإِسْفَرَايِينِيِّ فِي حَدِيثِ هِرَقْلَ مَعَ هِشَامِ بْنِ الْعَاصِ، حِينَ بَعَثَهُ أَبُو بَكْرٍ أَنَّهُ أَرْسَلَ إِلَيْهِمْ لَيْلًا فَاسْتَعَادَ قَوْلَهُمْ وَأَنَّه دَعَا بِشَيْءٍ كَهَيْئَةِ الْبَرْعَةِ الْعَظِيمَةِ فِيهَا بُيُوتٌ صِغَارٌ عَلَيْهَا أَبْوَابُ فَفَتَحَ بَيْتًا وَقِفْلا فَاسْتَخْرَجَ حَرِيرَةً فِيهَا صُورَةٌ، ثُمَّ صَارَ يُخْرِجُ مِنْ كُلِّ بَيْتٍ صُورَةٍ مِنْ صِوَرِ الأَنْبِيَاءِ، ثُمَّ فَتَحَ بَابًا فِيهِ صُورَةٌ بَيْضَاءُ فَإِذَا وَاللَّهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ هَلْ تَعْرِفُونَ هَذَا؟ قُلْنَا: نَعَمْ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: فَبَكَيْنَا، قَالَ: فَقَامَ قائِمًا ثُمَّ جَلَسَ، قَالَ: بِدِينِكُمْ إِنَّهُ لَهُوَ قُلْنَا: نَعَمْ وَاللَّهِ إِنَّهُ لَهُوَ، فَأَمْسَكَ سَاعَةً يَنْظُرُ إِلَيْنَا ، ثُمَّ قَالَ: أَمَا إِنَّهُ كَانَ فِي آَخِرِ الْبُيُوتِ، وَلَكِنِّي عَجَلْتُهُ إِلَيْكُمْ لأَنْظُرَ مَا عِنْدَكُمْ، قُلْنَا مَنْ أَيْنَ لَكُمْ هَذِّهِ الصُّورَةُ؟ ، قَالَ: إِنَّ آَدَمَ سَأَلَ رَبَّهُ أَنْ يُرِيَهُ الأَنْبِيَاءَ مِنْ وَلَدِهِ، فَأَنْزَلَ عَلَيْهِ صُوَرَهُمْ، وَكَانَتْ فِي خِزَانَةِ آَدَمَ عِنْدَ مَغْرِبِ الشَّمْسِ، فَاسْتَخْرَجِهَا ذُو اْلَقْرَنَيْنِ، فدُفِعَتْ إِلَى دَانْيَالَ فَصَوَّرَهَا دَانْيَالَ، ثُمَّ قَالَ لَنَا: أَمَا وَاللَّهِ لَوَدَدْتُ أَنَّ نَفْسِي طَابَتْ بِالْخُرُوجِ مِنْ مُلْكِيِ وَإِنْ كُنْتُ عبدًا لِشَرِّكُمْ حَتَّى أَمُوتَ، ثُمَّ أَجَازَنَا وَسَرَّحَنَا.
انْتَهَى وَقَالَ: أَبُو الْفَتْحِ بْنِ سَيِّدِ النَّاسِ: ذَكَرَ الْوَاقِدِيُّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ،
তিনি বললেন: ইনি কে? আমি বললাম: উমর ইবনুল খাত্তাব। তিনি বললেন: আমরা কিতাবে পাচ্ছি যে তিনি লোহার একটি শৃঙ্গ।
এবং আবু ইউসুফ ইউসুফ আল-ইসফরাইনি-র 'মাআলিমুল ইসলাম' কিতাবে হিশাম ইবনুল আস-এর সাথে হিরাকলের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যখন আবু বকর তাঁকে পাঠিয়েছিলেন, তিনি (হিরাকল) রাতের বেলা তাঁদের নিকট লোক পাঠালেন এবং তাঁদের বক্তব্য পুনরায় শুনতে চাইলেন। এবং তিনি একটি বড় সিন্দুকের ন্যায় বস্তু আনালেন যাতে ছোট ছোট প্রকোষ্ঠ ছিল এবং সেগুলোতে দরজা ছিল। অতঃপর তিনি একটি প্রকোষ্ঠ ও তালা খুললেন এবং একটি রেশমি কাপড় বের করলেন যাতে একটি ছবি ছিল। তারপর তিনি প্রতিটি প্রকোষ্ঠ থেকে নবীদের ছবিসমূহের একটি করে ছবি বের করতে থাকলেন। অতঃপর তিনি একটি দরজা খুললেন যাতে একটি সাদা ছবি ছিল, আল্লাহর কসম, সেটি ছিল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ছবি। তিনি বললেন: তোমরা কি একে চেনো? আমরা বললাম: হ্যাঁ, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। বর্ণনাকারী বলেন: আমরা কেঁদে ফেললাম। তিনি বলেন: তখন তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন এবং পুনরায় বসলেন। তিনি বললেন: তোমাদের দ্বীনের কসম, তিনিই কি সেই ব্যক্তি? আমরা বললাম: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম, তিনিই সেই ব্যক্তি। তিনি কিছুক্ষণ আমাদের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর বললেন: জেনে রেখো, এটি শেষ প্রকোষ্ঠে ছিল, কিন্তু আমি তোমাদের নিকট এটি দ্রুত উপস্থিত করলাম যাতে তোমাদের নিকট কী আছে তা দেখতে পারি। আমরা বললাম: আপনারা এই ছবি কোথায় পেলেন? তিনি বললেন: আদম তাঁর রবের কাছে আবেদন করেছিলেন যেন তিনি তাঁর সন্তানদের মধ্য থেকে নবীদেরকে তাঁকে দেখান। অতঃপর আল্লাহ তাঁর নিকট তাঁদের ছবি অবতীর্ণ করেন এবং সেগুলো সূর্যাস্তের স্থানে আদমের ভাণ্ডারে ছিল। অতঃপর যুল-কারনাইন তা উদ্ধার করেন এবং তা দানিয়াল-এর নিকট অর্পণ করা হয়, আর দানিয়াল তা অঙ্কন করেন। তারপর তিনি আমাদের বললেন: আল্লাহর কসম, আমি যদি আমার রাজত্ব ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারতাম এবং তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে অধম ব্যক্তির দাস হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত থাকতে পারতাম (তবে আমি তাই করতাম)। এরপর তিনি আমাদের পুরস্কার দিলেন এবং বিদায় দিলেন।
সমাপ্ত। এবং আবুল ফাতহ ইবনে সাইয়্যিদুন নাস বলেন: ওয়াকিদি ইবনে আব্বাস-এর হাদিস থেকে উল্লেখ করেছেন,
(খণ্ড: ১)
ইলামুস সাইলীন আন কুতুবি সাইয়্যিদিল মুরসালীন লি-ইবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
وَمِنْ حَدِيثِهِ خَرَجَ فِي الصَّحِيحِ: " أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَتَبَ إِلَى قَيْصَرَ يَدْعُوهُ إِلَى الإِسْلامِ، وَبَعَثَ بِكِتَابِهِ مَعَ دِحْيَةَ الْكَلْبِيِّ وَأَمَرَهُ أَنْ يَدْفَعَهُ إِلَى عَظِيمِ بُصْرَى، لَيَدْفَعَهُ إِلَى قَيْصَرَ، فَدَفَعَهُ عَظِيمُ بُصْرَى إِلَى قَيْصَرَ، وَكَانَ قَيْصَرُ لَمَّا كَشَفَ اللَّهُ عَنْهُ جُنُودَ فَارِسَ مَشَى مِنْ حِمْصَ إِلَى إِيلِيَاءَ شُكْرًا لِلَّهِ عز وجل فِيمَا أَبْلاهُ مِنْ ذَلِكَ، فَلَمَّا جَاءَ قَيْصَرَ كِتَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: الْتَمِسُوا لَنَا هَاهُنَا مِنْ قَوْمِهِ أَحَدًا نَسْأَلُهُمْ عَنْهُ، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَأَخْبَرَنِي أَبُو سُفْيَانَ بْنُ حَرْبٍ أَنَّهُ كَانَ بِالشَّامِ فِي رِجَالٍ مِنْ قُرَيْشٍ، قَدِمُوا تُجَّارًا وَذَلِكَ فِي الْهُدْنَةِ الَّتِي كَانَتْ بَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبَيْنَ كُفَّارِ قُرَيْشٍ، قَالَ: فَأَتَانَا رَسُولُ قَيْصَرَ فَانْطَلَقَ بِنَا حَتَّى قَدِمْنَا إِيلِيَاءَ، فَدَخَلْنَا عَلَيْهِ فَإِذَا هُوَ جَالِسٌ فِي مَجْلِسِ مُلْكِهِ، عَلَيْهِ التَّاجُ وَحَوْلَهُ عُظَمَاءُ الرَّومِ ، فَقَالَ لِتُرْجُمَانِهِ: سَلْهُمْ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ نَسَبًا بِهَذَا الرَّجُلِ الَّذِي يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ؟ ثُمَّ ذَكَرَ بِمِثْلِ مَا قَدَّمْنَا مِمَّا فِي الصَّحِيحَيْنِ، وَزَادَ فِيهِ: وَيُرْوَى فِي خَبَرِ أَبِي سُفْيَانَ، أَنَّهُ قَالَ لِقَيْصَرَ لَمَّا سَأَلَهُ، عَنِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم: أَيُّهَا الْمَلِكُ، أَلا أُخْبِرُكَ عَنْهُ خَبَرًا يُعْرَفُ بِهِ أَنَّهُ قَدْ كَذِبَ، قَالَ: وَمَا هُوَ؟ قُلْت لَهُ: زَعَمَ لَنَا أَنَّهُ خَرَجَ مِنْ أَرْضِنَا أَرْضِ الْحَرَمِ فِي لَيْلَةٍ فَجَاءَ مَسْجِدَكُمْ هَذَا مَسْجِدَ إِيلِيَاءَ وَرَجَعَ إِلَيْنَا فِي تِلْكَ اللَّيْلَةِ قَبْلَ الصَّبَاحِ، قَالَ: وَبَطْرِيقُ إِيلِيَاءَ عِنْدَ رَأْسِ قَيْصَرَ، فَقَالَ: هَذَا صَحِيحٌ، قَالَ: وَمَا عِلْمُكَ بِهَذَا؟ ، قَالَ: إِنِّي كُنْتُ لا أَنَامُ لَيْلَةً حَتَّى أُغْلِقَ أَبْوَابَ الْمَسْجِدِ، فَلَمَّا كَانَتْ تِلْكَ اللَّيْلَةُ أَغْلَقْتُ الأَبْوَابَ غَيْرَ بَابٍ وَاحِدٍ غَلَبَنِي فَاسْتَعَنْتُ عَلَيْهِ عُمَّالِي وَمَنْ يَحْضُرْنِي فَلَمْ نَسْتَطِعْ أَنْ نُحَرِّكَهُ، كَأَنَّمَا نُزَاوِلُ
তাঁর বর্ণিত হাদীসের মধ্যে সহীহ গ্রন্থে এসেছে: "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কায়সারের (রোম সম্রাট) নিকট তাঁকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানিয়ে পত্র লিখলেন এবং তিনি দাহইয়া আল-কালবীর মাধ্যমে তাঁর পত্রটি পাঠালেন। তিনি দাহইয়াকে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন তা বসরার অধিপতির কাছে পৌঁছে দেন, যাতে সে তা কায়সারের নিকট অর্পণ করে। অতঃপর বসরার অধিপতি তা কায়সারের কাছে পৌঁছে দিলেন। যখন আল্লাহ তাআলা কায়সারের ওপর থেকে পারস্য বাহিনীকে হটিয়ে দিলেন, তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার শোকরিয়া স্বরূপ—যা তিনি তাঁকে দান করেছিলেন—সে হিমস থেকে ঈলিয়া (জেরুজালেম) পর্যন্ত হেঁটে গেল। যখন কায়সারের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্র পৌঁছাল, তখন সে বলল: 'আমাদের কাছে এখানে তাঁর গোত্রের কাউকে খুঁজে বের করো, যেন আমরা তাকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারি।' ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন: অতঃপর আমাকে আবু সুফিয়ান ইবনে হারব সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তখন কুরাইশের একদল লোকের সাথে সিরিয়ায় ছিলেন। তাঁরা ব্যবসায়ী হিসেবে সেখানে গিয়েছিলেন। আর এটি ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং কুরাইশ কাফেরদের মধ্যকার সন্ধির (হুদায়বিয়ার সন্ধি) সময়কার কথা। তিনি বললেন: কায়সারের দূত আমাদের কাছে এল এবং আমাদের নিয়ে চলল, অবশেষে আমরা ঈলিয়ায় পৌঁছালাম। আমরা তাঁর কাছে প্রবেশ করলাম এবং দেখলাম সে তাঁর রাজদরবারে বসে আছে, তাঁর মাথায় মুকুট এবং তাঁর চারপাশে রোমের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সে তাঁর দোভাষীকে বলল: 'তাদের জিজ্ঞাসা করো, এই যে ব্যক্তি নিজেকে নবী বলে দাবি করে, বংশগতভাবে তাদের মধ্যে কে তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী?' অতঃপর তিনি (বর্ণনাকারী) সহীহাইনে বর্ণিত সেই দীর্ঘ হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করলেন এবং তাতে আরও বর্ধিত বর্ণনা রয়েছে: আবু সুফিয়ানের বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, যখন কায়সার তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তিনি কায়সারকে বলেছিলেন: 'হে সম্রাট! আমি কি আপনাকে তাঁর সম্পর্কে এমন একটি কথা বলব না, যার দ্বারা চেনা যাবে যে তিনি মিথ্যা বলছেন?' সম্রাট বলল: 'সেটি কী?' আমি তাকে বললাম: 'তিনি আমাদের কাছে দাবি করেছেন যে, তিনি এক রাতে আমাদের ভূমি অর্থাৎ হারাম অঞ্চল থেকে বের হয়ে আপনাদের এই মসজিদে অর্থাৎ ঈলিয়ার মসজিদে এসেছেন এবং সেই রাতেই ভোর হওয়ার আগেই আবার আমাদের কাছে ফিরে গেছেন।' বর্ণনাকারী বলেন: তখন ঈলিয়ার প্রধান যাজক কায়সারের মাথার কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বলে উঠলেন: 'এটি সত্য।' সম্রাট বলল: 'তোমার এ বিষয়ে কী জানা আছে?' যাজক বললেন: 'আমি কোনো রাতেই মসজিদের দরজাগুলো বন্ধ না করে ঘুমাতাম না। কিন্তু সেই রাতে আমি একটি দরজা ছাড়া সব দরজা বন্ধ করেছিলাম; ওই একটি দরজা বন্ধ করতে আমি ব্যর্থ হলাম। আমি আমার কর্মচারীদের এবং সেখানে উপস্থিত লোকদের সাহায্য নিলাম, কিন্তু আমরা সেটি নাড়াতেও পারলাম না। মনে হচ্ছিল আমরা যেন কোনো পাহাড় নাড়ানোর চেষ্টা করছি...'