0/0
(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: -)
الموفي بمعرفة التصوف والصوفي   (كمال الدين الأدفوي)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: الموفي بمعرفة التصوف والصوفي

المؤلف: كمال الدين أبو الفضل جعفر بن ثعلب الأدفوي المصري (685 - 748 هـ)

حققه وقدم له وعلق عليه: الدكتور محمد عيسى صالحية [ت 1431 هـ]

الناشر: مكتبة دار العروبة للنشر والتوزيع - الكويت

الطبعة: الأولى، 1408 هـ - 1988 م

عدد الصفحات: 80

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 ربيع الأول 1442

তাসাউফ ও সুফি পরিচিতি বিষয়ক পর্যাপ্ত জ্ঞান   (কামালুদ্দিন আল-আদফুউয়ী)

বিভাগ: মতবাদ ও খণ্ডন


কিতাব: তাসাউফ ও সুফি পরিচিতি বিষয়ক পর্যাপ্ত জ্ঞান (আল-মুফি বি-মা’রিফাতিত তাসাউফ ওয়াস সুফি)

লেখক: কামালুদ্দিন আবুল ফজল জাফর বিন সা’লাব আল-আদফুউয়ী আল-মিসরী (৬৮৫ - ৭৪৮ হিজরি)

সম্পাদনা, ভূমিকা ও টীকা প্রদান: ডক্টর মুহাম্মদ ঈসা সালিহিয়া [মৃত্যু ১৪৩১ হিজরি]

প্রকাশক: মাকতাবাতু দারিল উরুবাহ প্রকাশনা ও বিতরণ কেন্দ্র - কুয়েত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮০

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ১)
كتاب نادر في نقد الصوفية

الموفى بمعرفة التصوف والصوفي

تأليف الإمام كمال الدين أبي الفضل جعفر بن ثعلب الأدفوي المصري

(685 - 748 هـ)

حققه وقدم له وعلق عليه الدكتور محمد عيسى صالحية

مكتبة دار العروبة للنشر والتوزيع

الكويت
সুফিবাদ পর্যালোচনায় একটি দুর্লভ গ্রন্থ

আল-মুওয়াফফা বি-মা'রিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সুফি (সুফিবাদ ও সুফি পরিচিতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ)

ইমাম কামালুদ্দিন আবুল ফজল জাফর বিন ছা'লাব আল-আদফুয়ী আল-মিসরী প্রণীত

(৬৮৫ - ৭৪৮ হিজরি)

ডক্টর মুহাম্মদ ঈসা সালেহিয়া কর্তৃক সম্পাদিত, ভূমিকা সংবলিত ও টীকাযুক্ত

মাকতাবাতু দারিল উরুবাহ প্রকাশনা ও বিতরণ

কুয়েত
(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ৩)
جميع الحقوق محفوظة

الطبعة الأولى

1408 هـ - 1988 م

مكتبة دار العروبة للنشر والتوزيع

ص ب: 26223/ الصفاة

الرمز البريدي: 13123

الكويت
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪০৮ হিজরী - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ

মাকতাবাতু দারিল উরুবাহ প্রকাশনা ও বিতরণ

পো.ব.: ২৬২২৩/ আস-সাফাত

পোস্টাল কোড: ১৩১২৩

কুয়েত
(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ৫)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

 

‌‌تمهيد

شهد القرن الثاني الهجري ظهور الحركة الصوفية، حين بدأ إعراضُ النَّاس عن السبيل السويّ من مراقبةِ اللَّه وخشيته وذكره في السِّرّ والعلَن والزهد في الدُّنيا. فقد هالَ جماعةَ الصالحين تكالبُ النَّاس على الدُّنيا. واستباقهم للانهماكِ في الملذّاتِ والملاهي، فانتحوا جانبًا متجهين إلى الحقِّ سبحانَه، متبتِّلينَ، يتلُونَ كتاب اللَّه، ويقومونَ الليلَ تهجدًا وتهليلًا بالسرِّ والعلَن.

وأخذَ جماعةٌ من هؤلاءِ على أَنفسهم تبيين السلوك العملي للصوفيّة، فوصف المحاسبي في كتابه "الرعاية لحقوق اللَّه تعالى" سلوك الصوفية بأسلوب علمي.

وكانت مسالك الصوفية حتَّى القرن السادس الهجري بصورة عامةٌ قريبةٌ إلى الزهد، مع ما خَالَطَها في بعض الأحيان من ابتعادٍ عن جادة الصواب.

غير أن الأحداثَ الجسامَ التي تعاقبت على الدولة الإسلامية منذ أواخر القرن السادس الهجري وأوائل القرن السابع الهجري، أَوجدت ردة فعل معاكسة، فانصرف بعضهم عن الحياة وشؤونها ومالوا إلى التواكل، وغدا الزهد في أعرافهم نوعًا من اللامبالاة يصل لدرجة الخنوع.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌উপক্রমণিকা

হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীতে সুফি আন্দোলনের উদ্ভব ঘটে, যখন মানুষ আল্লাহর পর্যবেক্ষণ (মুরাকাবা), তাঁর ভয় (খাশিয়াত), প্রকাশ্যে ও গোপনে তাঁর স্মরণ এবং দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি স্বরূপ সঠিক পথ থেকে বিমুখ হতে শুরু করে। দুনিয়ার প্রতি মানুষের চরম আসক্তি একদল নেককার মানুষকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। বিলাসিতা ও আমোদ-প্রমোদে মানুষের মগ্ন হওয়ার প্রতিযোগিতা দেখে তারা একপাশে সরে গিয়ে মহান সত্যের (আল্লাহর) অভিমুখী হন এবং একান্তচিত্তে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করতে থাকেন এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে তাহাজ্জুদ ও তাহলিলের মাধ্যমে রাত্রি জাগরণ করতে থাকেন।

তাদের মধ্য থেকে একদল ব্যক্তি সুফিবাদীদের ব্যবহারিক আচরণ স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আল-মুহাসিবি তাঁর "আর-রিআয়া লি হুকুউকি-িল্লাহ তাআলা" নামক গ্রন্থে সুফিদের আচরণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন।

ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দী পর্যন্ত সুফিদের পথসমূহ সাধারণভাবে কৃচ্ছ্রসাধন বা দুনিয়াত্যাগের (জুহদ) কাছাকাছি ছিল, যদিও এর মাঝে কখনো কখনো সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি মিশ্রিত হয়ে যেত।

তবে ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীর শেষভাগ এবং সপ্তম হিজরি শতাব্দীর শুরু থেকে ইসলামি রাষ্ট্রের ওপর একের পর এক যে গুরুতর সংকটপূর্ণ ঘটনাবলি আপতিত হতে থাকে, তা এক বিপরীত প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ফলে তাদের মধ্যে কেউ কেউ জীবন ও জীবনের কার্যাবলি থেকে বিমুখ হয়ে পড়েন এবং অলসতা ও পরনির্ভরশীলতার দিকে ঝুঁকে যান। তাদের পরিভাষায় তখন 'জুহদ' বা দুনিয়াত্যাগ এক প্রকার উদাসীনতায় পরিণত হয়, যা শেষ পর্যন্ত চরম হীনম্মন্যতা ও অসহায়ত্ব বরণের পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ৬)
لقد كانت البداية حين عقد الأيوبيون العزمَ على التصدّي لتيار الفكر الشيعي إثر انهيار الدولة الفاطمية؛ إذ أنشأ الأيوبيون العديد من المدارس ودور الحديث في مصر والشام واستدعي علماء وفقهاء السُّنَّة ليقوموا بدورهم في تلك المؤسسات، فأصبحت مدن إسلامية كثيرة مثل الإسكندرية، والقاهرة، وقوص، وأسيوط، والقدس، وحلب، ودمشق، وطرابلس، مراكزَ نابضة لعلوم السنَّة والفكر السنِّي.

ثم جاءت الهجمة الصليبية الشرسة لتُضيف أعباءً أُخرى، حيث ألقت بكاهلها على صلاح الدِّين، فعمل على تثبيت عروبية وإسلامية البلاد التي كانت مطمع الغزاة الجدد، فأقام الخوانق والرُّبط والزوايا والتكايا، إضافة إلى المساجد والمدارس ودور الحديث والبيمارستانات، وكان هدف صلاح الدِّين من وراء ذلك النهوض بالشعور الديني عند المسلمين، ورفع استعدادات الأمة الإسلامية لمقاومة الأخطار التي تتهددها.

واحتل جماعة من الناس تلك الأماكن، امتهنوا الذكر وقراءة القرآن. وسلكوا السبيل القويم، وكانوا نماذج خيرة للأتقياء والعبَّاد. ولكن تلك الأماكن ما لبثت أن أصبحت ملجأً وملاذًا لكل طالبة راحة، حيث يجد فيها ضالته من الطعام واللباس والشراب دون عناء يذكر، وتلا ذلك ازدياد أعداد المنتظمين في سلك الصوفية، لا سيما بعد تضخم عدد الخانقات والرُّبط والزوايا والتكايا، ومبالغة الناس في حبس الأوقاف عليها، وتباري السلاطين والأمراء والأغنياء في تقديم الأموال والهدايا لمرتاديها. فسهلت حياة المتصوفة ونعموا بعيشة مترفة باذخة، قادت إلى تفشي البدع فيما بعد.

وإزاء ذلك فقد كثر ادّعاء التصوف، بقصد التعيش، فأمّ العديدون الخانقات، ولبسوا الصوف، وحلقوا الرؤوس، ولكنهم لم يتخلقوا بأخلاق
এই যাত্রার সূচনা হয়েছিল তখন, যখন ফাতেমীয় রাষ্ট্রের পতনের পর আইয়ুবীগণ শিয়াপন্থী চিন্তাধারার স্রোত প্রতিহত করার সংকল্প গ্রহণ করেন। এর প্রেক্ষাপটে আইয়ুবীগণ মিশর ও সিরিয়ায় (শাম) অসংখ্য মাদ্রাসা ও দারুল হাদিস প্রতিষ্ঠা করেন এবং সুন্নি আলেম ও ফকিহদের এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজ নিজ ভূমিকা পালনের জন্য আহ্বান জানান। ফলে আলেকজান্দ্রিয়া, কায়রো, কুস, আসিউত, জেরুজালেম, আলেপ্পো, দামেস্ক এবং ত্রিপোলির মতো অনেকগুলো ইসলামি শহর সুন্নি ইলম ও চিন্তাধারার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়।

এরপর ক্রুসেডারদের প্রচণ্ড আক্রমণ মরার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে আবির্ভূত হয়, যার গুরুভার সালাহউদ্দীনের কাঁধে এসে পড়ে। তিনি সেই সব ভূখণ্ডের আরবীয় ও ইসলামি পরিচয় সুদৃঢ় করার জন্য কাজ করেন, যা ছিল নব্য আক্রমণকারীদের লালসার লক্ষ্যবস্তু। ফলে তিনি মসজিদ, মাদ্রাসা, দারুল হাদিস ও বিমারিস্তান (হাসপাতাল) ছাড়াও অসংখ্য খানকাহ, রিবাত, জাওয়িয়া ও তকিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। সালাহউদ্দীনের এর পেছনের উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতি জাগ্রত করা এবং ইসলামি উম্মাহর আসন্ন বিপদসমূহ প্রতিরোধের প্রস্তুতি বৃদ্ধি করা।

একদল লোক এই স্থানগুলোতে অবস্থান গ্রহণ করেন, যারা জিকির ও কুরআন তিলাওয়াতকে নিজেদের ব্রত করে নিয়েছিলেন। তারা সঠিক পথ অনুসরণ করতেন এবং তাকওয়াবান ও ইবাদতগুজারদের জন্য উত্তম আদর্শ ছিলেন। কিন্তু শীঘ্রই এই স্থানগুলো আরামপ্রিয় ব্যক্তিদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়, যেখানে তারা কোনো বিশেষ পরিশ্রম ছাড়াই খাবার, পোশাক ও পানীয়ের সংস্থান পেয়ে যেত। এর ধারাবাহিকতায় সুফি ধারায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে, বিশেষ করে যখন খানকাহ, রিবাত, জাওয়িয়া ও তকিয়াগুলোর সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। মানুষ এগুলোর জন্য অঢেল সম্পত্তি ওয়াকফ করতে শুরু করে এবং সুলতান, আমির ও বিত্তবানরা এখানকার বাসিন্দাদের অর্থ ও উপহার প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। ফলে সুফিবাদীদের জীবন সহজ হয়ে যায় এবং তারা এক বিলাসবহুল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন উপভোগ করতে শুরু করেন, যা পরবর্তীতে বিদআতের প্রসারের দিকে ধাবিত করে।

এর প্রেক্ষিতে নিছক জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে সুফিবাদের ছদ্মবেশ ধারণের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। ফলে অনেকে খানকাহগুলোতে ভিড় জমায়, পশমি বস্ত্র পরিধান করে এবং মাথা মুণ্ডন করে; কিন্তু তারা সেই উন্নত নৈতিক আদর্শে বলীয়ান হতে পারেনি।
(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ৭)
الزهاد أو الصوفية، وغدا الصوفي على الأغلب، رجلًا أكولًا، كثير الفضول، يُضرب بتطفُّله المثل، فقالوا: "نعوذ باللَّه من النَّار، ومن الصوفي إذا عرف باب الدار". وفي وصفٍ آخر لحالهم بأنهم "أكلة، بطلة، سطلة، لا شغل لهم ولا مشغلة".

وعرَّف كثير من الفقهاء جماعة المتصوفة "بأنهم رجال يظهرون الإسلام، ويبطنون فاسد العقيدة، في أرجلهم جماجم وعذباتهم من قدام"(1).

ومما زاد في تكالب جماعات من النَّاس على الانضواء في سلك الصوفية، وقوع الهجمة التترية المغولية المدمرة على العالم الإسلامي، وما أورثته في النفوس من شعور بالمرارة وخيبة الأمل، وما أتصف به ذلك العصر من شظف في العيش نتيجة القحط والجدب فاستدامت المجاعات، وانتشرت الأمراض السارية كالطاعون والجُدري وغير ذلك من الأمراض الفتاكة. ووجد هؤلاء في الخانقات بسطةً في العيش، وسَعة في الحال، بل وترفًا في المأكل والمشرب والملبس، ذلك أن العديد من المصالح والمنشآت، كالبساتين والدكاكين والحمامات والأسواق قد وقفت على الصوفية، فخانقاه سعيد السعداء بمصر التي أنشئت سنة 569 هـ = 1173 م، أوقفت عليها جملة من المصالح لينفق من ريعها على فقراء الصوفية، من جملتها بستان الحبانية وقيسارية شراب، وكان يخصص لكل صوفي فيها ثلاثة أرغفة زنتها ثلث رطل في مرق، ويعمل لصوفيتها الحلو كل شهر، ويفرق عليهم الصابون(2). أما صوفية خانقاه ركن الدِّين بيبرس، فقد أُلحق بها مطبخ، يوزع منه على المجاورين اللَّحم والطعام وثلاثة أرغفة كل يوم إضافة إلى

--------------------------------------------

(1) سلام: الأدب في العصر المملوكي، 1/ 202، ووردت الأوصاف في الرسالة، 7 أ.

(2) المقريزي: المواعظ، 2/ 416.

যাহেদ বা সুফিগণ; কালক্রমে সুফিদের অধিকাংশ অতিভোজনকারী ও মাত্রাতিরিক্ত কৌতূহলী ব্যক্তিতে পরিণত হন, এমনকি তাদের পরান্নভোজিতা প্রবাদে পরিণত হয়। তারা বলতেন: "আমরা জাহান্নাম থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই, আর সেই সুফি থেকেও যে (কারও) বাড়ির দরজার সন্ধান পেয়েছে।" তাদের অবস্থা বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে যে, তারা হলো "ভোজনবিলাসী, অলস ও কাণ্ডজ্ঞানহীন; যাদের কোনো কাজ নেই, নেই কোনো ব্যস্ততা।"

অনেক ফকিহ সুফি সম্প্রদায়কে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, "তারা এমন লোক যারা বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করে কিন্তু অন্তরে ভ্রান্ত আকিদা পোষণ করে; তাদের পায়ে থাকে কাঠের খড়ম এবং পাগড়ির ঝালর থাকে সামনের দিকে"(১)।

বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সুফি তরিকায় যোগ দেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ছিল মুসলিম বিশ্বে তাতার ও মোঙ্গলদের বিধ্বংসী আক্রমণ। এই আক্রমণ জনমনে তিক্ততা ও চরম হতাশার জন্ম দিয়েছিল। এছাড়া সেই যুগে অনাবৃষ্টি ও দুর্ভিক্ষের ফলে জীবনযাত্রার কঠিন সংকটে দুর্ভিক্ষ দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল এবং প্লেগ ও গুটিবসন্তের মতো মারাত্মক ও ঘাতক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়েছিল। এই পরিস্থিতিতে তারা খানকাহগুলোতে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন, সচ্ছলতা এমনকি পানাহার ও পোশাকে বিলাসিতার সুযোগ খুঁজে পায়। কারণ বাগান, দোকান, হাম্মামখানা ও বাজারের মতো অনেক প্রতিষ্ঠান সুফিদের কল্যাণে ওয়াকফ করা হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, মিশরে ৫৬৯ হিজরি (১১৭৩ খ্রিস্টাব্দ) সালে প্রতিষ্ঠিত 'সাঈদ আল-সুয়াদা' খানকাহর কথা উল্লেখ করা যায়। এর আয়ের উৎস হিসেবে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ওয়াকফ করা হয়েছিল যাতে তার লভ্যাংশ দরিদ্র সুফিদের জন্য ব্যয় করা যায়। এর মধ্যে ছিল হাব্বানিয়াহ বাগান এবং কায়সারিইয়াহ শারাব। সেখানকার প্রত্যেক সুফির জন্য দৈনিক তিন রুটি বরাদ্দ ছিল যার ওজন ছিল এক রতলের এক-তৃতীয়াংশ এবং তা ঝোলসহ পরিবেশন করা হতো। প্রতি মাসে সুফিদের জন্য মিষ্টান্ন তৈরি করা হতো এবং তাদের মাঝে সাবান বিতরণ করা হতো(২)। রুকনুদ্দিন বাইবার্স খানকাহর সুফিদের জন্য একটি রান্নাঘর সংযুক্ত ছিল, যেখান থেকে প্রতিদিন মাংস, রান্না করা খাবার এবং তিন টুকরো রুটি আবাসিকদের মাঝে বিতরণ করা হতো...

--------------------------------------------

(১) সালাম: আল-আদাব ফিল আসর আল-মামলুকি (মামলুক যুগের সাহিত্য), ১/২০২; বর্ণনাগুলো আর-রিসালা, ৭/আ-তে উল্লেখ করা হয়েছে।

(২) আল-মাকরিজি: আল-মাওয়াইজ, ২/৪১৬।

(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ৮)
الحلوى، ولصوفية خانقاه شيخو علاوة على ما ذكر، الزيت والصابون(1).

أما صوفية خانقاه سرياقوس فلهم كل سنة ثمن كسوة وتوسعة في كل رمضان والعيدين والمواسم، فوق ما كان لهم من طعام شهي وخبز نقي إضافة إلى الحلوى وزيت الزيتون والصابون وثمن الفواكه، هذا عدا ما في الخانقاه من سكر وألوان من الشراب وأنواع الأدوية.

كما أُلحق بالخوانق الحمامات والمطابخ والمدافن، ومدت أرضيتها بالفرش وآلات النحاس والكتب والقناديل وغيرها من الأدوات النفيسة، التي لا يقتنيها إلا الملوك والأمراء.

إنَّ من يطلع على وقفيات الخوانق والزوايا والأربطة يدرك مدى العبء الاقتصادي الذي عاناه المجتمع بسبب ضيق القاعدة التي تستفيد من المصالح الاقتصادية المحبوسة على الصوفية دون غيرهم من شرائح المجتمع.

وكدليل على حياة البذخ والترف التي نعم بها الصوفيون، نقدّم أنموذجين السماعين عقدا في مصر والشام سنة 659 هـ = 1261 م.

"قال المولي قطب الدِّين رحمه الله: حكى لي بعض الناصرية، قال: لما دخلنا الدِّيار المصرية، اتفق أن بعض أكابر الأمراء عمل سماعًا، وحضر بنفسه إلى الأمير جمال الدِّين ودعاه، فوعده بالمضي إليه والحضور عنده، فلما كان عشاء الآخرة، مضي ونحن معه -جماعة من مماليكه وخواصه- إلى دار ذلك الأمير، فلما دخل وجد جماعةً من الأمراء جلوسًا في إيوان الدار، وجماعةً من الفقراء في وسط الدار، فوقف، ولم يدخل، وقال لصاحب الدار: أخطأتم فيما فعلتم، كان ينبغي أن يقعد الفقراء فوق وأنتم

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق، 1/ 283.

মিষ্টিদ্রব্য; এছাড়া শাইখু খানকাহর সুফিদের জন্য উল্লিখিত বিষয়াদি ছাড়াও তেল ও সাবানের ব্যবস্থা ছিল(১)।

অন্যদিকে সিরিয়াকুস খানকাহর সুফিদের জন্য প্রতি বছর পোশাকের খরচ এবং প্রতি রমজান, দুই ঈদ ও বিভিন্ন মৌসুমে অতিরিক্ত বরাদ্দ ছিল। এর পাশাপাশি তাদের জন্য ছিল সুস্বাদু খাবার, উৎকৃষ্ট মানের রুটি, মিষ্টিদ্রব্য, জয়তুনের তেল, সাবান এবং ফলের মূল্য। এ ছাড়াও খানকাহটিতে চিনি, নানাবিধ পানীয় ও বিভিন্ন প্রকার ঔষধের ব্যবস্থা ছিল।

খানকাহগুলোর সাথে গোসলখানা, রান্নাঘর ও সমাধিস্থল সংযুক্ত ছিল। এর মেঝেগুলো গালিচা দ্বারা আবৃত ছিল এবং সেখানে তামা নির্মিত তৈজসপত্র, কিতাবাদি, প্রদীপ এবং অন্যান্য মূল্যবান সরঞ্জামাদি ছিল, যা সাধারণত রাজা-বাদশাহ ও আমীরগণ ব্যতীত অন্য কেউ সংগ্রহ করত না।

যে ব্যক্তি খানকাহ, জাউইয়া ও রিবাতগুলোর ওয়াকফনামাগুলো পর্যবেক্ষণ করবেন, তিনি সমাজের ওপর চেপে বসা সেই অর্থনৈতিক বোঝার বিশালতা উপলব্ধি করতে পারবেন। সমাজবদ্ধ অন্যান্য স্তরের মানুষকে বঞ্চিত করে কেবল সুফিদের জন্য এই অর্থনৈতিক সুবিধাসমূহ সীমাবদ্ধ রাখার ফলে এই সংকীর্ণতার সৃষ্টি হয়েছিল।

সুফিরা যে বিলাসিতা ও জাঁকজমকপূর্ণ জীবন উপভোগ করতেন, তার প্রমাণ হিসেবে আমরা ১২৬১ খ্রিস্টাব্দ (৬৫৯ হিজরি) সনে মিসর ও শামে অনুষ্ঠিত দুটি 'সামা' মাহফিলের উদাহরণ পেশ করছি।

"মওলা কুতুবুদ্দিন (রহ.) বলেন: জনৈক নাসিরি বংশীয় ব্যক্তি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আমরা মিসরীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করলাম, তখন এক প্রভাবশালী আমীর একটি সামা মাহফিলের আয়োজন করলেন। তিনি স্বয়ং আমীর জামালুদ্দিনের নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে দাওয়াত দিলেন। তিনি সেখানে যাওয়ার ও উপস্থিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন। এশার নামাজের পর তিনি এবং আমরা—তাঁর একদল দাস ও ঘনিষ্ঠ অনুচর—ঐ আমীরের বাড়ির দিকে রওনা হলাম। তিনি যখন ভেতরে প্রবেশ করলেন, দেখলেন আমীরদের একটি দল ঘরের বারান্দায় বসে আছেন এবং একদল ফকীর (সুফি) ঘরের মাঝখানে অবস্থান করছেন। তখন তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন, ভেতরে প্রবেশ করলেন না এবং গৃহকর্তাকে বললেন: আপনারা যা করেছেন তা ভুল করেছেন। ফকীরদের উপরে বসা উচিত ছিল এবং আপনাদের...

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, ১/ ২৮৩।

(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ৯)
في أرض الدار، ولم يجلس حتى تحول الفقراء إلى مكان الأمراء، والأمراء إلى مكان الفقراء، وقعد هو ونحن بين الأمراء، فلما غنّى المغني، قام أحدهم والدف بيده يستعطي، وهذه كانت عادة المغاني في الدِّيار المصرية، فلما رآه الأمير جمال الدِّين انتهره، وقال: والك".

وتمضي الرواية في شرح حال الصوفية وهم يرقصون ويجمعون النقود من الذهب والفضة من الأمراء، ثم أكلهم ما لذ وطاب من المطعم والمشرب(1). وإنصرافهم فرحين جذلين.

كما أورد قطب الدِّين اليونيني في "ذيله" على "مرآة الزمان" لسبط ابن الجوزي عرضًا دقيقًا، وصف فيه إحدى تلك الليالي الراقصة، جاءت في ترجمة لاجين بن عبد اللَّه الأمير حسام الدِّين الجوكنداري (ت 662 هـ/ 63 - 1264 م).

حيث قال: ". . . وكان له في الفقر والصالحين عقيدة حسنة، ويكثر من الإحسان إليهم والبر بهم، وافتقادهم بالنفقة والكسوة وغير ذلك، وكان يعمل لهم السماعات، ويحضر فيها من المآكل والمشاريب والأرابيح الطيبة والشموع ما يبهر العقل ويتجاوز الحد، فكان يقدر ما يغرمه على السماع الواحد تقريبًا ثمانية آلاف درهم(2). . . إلخ.

ويمضي اليونيني في وصف ليلة سماع حضرها هو بنفسه في دارة لاجين الكائنة بالعُقَيبة بدمشق أواخر سنة 659 هـ، ذلك أن الدار أضيئت

--------------------------------------------

(1) حبيب الزيات: ليلة رقص وسماع أميرية للفقراء، مجلة المشرق العدد 43 سنة 1939 م، نقلًا عن الدر المنتخب في تكملة تاريخ حلب - مخطوط بالمكتبة الأحمدية بحلب المحفوظة الآن بمكتبة الأسد بدمشق رقم 1214، الأوراق من 270 - 271 من الجزء الأول.

(2) اليونيني: "ذيل مرآة الزمان" خ أكسفورد POC.OR.132 الأوراق 112 - 113.

বাড়ির আঙিনায়, আর তিনি ততক্ষণ বসেননি যতক্ষণ না দরিদ্ররা (সুফিগণ) আমিরদের স্থানে এবং আমিররা দরিদ্রদের স্থানে স্থানান্তরিত হলেন। তিনি এবং আমরা আমিরদের মাঝে বসলাম। যখন গায়ক গান গাইতে শুরু করল, তখন তাদের মধ্যে একজন হাতে দফ (খঞ্জনি) নিয়ে সাহায্য চাইতে দাঁড়াল। এটি ছিল তৎকালীন মিশরের গায়কদের একটি সাধারণ রীতি। আমির জামালুদ্দিন যখন তাকে দেখলেন, তিনি তাকে ধমক দিলেন এবং বললেন: "তোমার দুর্ভোগ হোক!"

বর্ণনাটি সুফিদের অবস্থার ব্যাখ্যায় এগিয়ে চলে, যেখানে তারা নাচছিলেন এবং আমিরদের কাছ থেকে স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা সংগ্রহ করছিলেন। এরপর তারা অত্যন্ত সুস্বাদু ও উত্তম খাবার ও পানীয় গ্রহণ করেন(১) এবং অত্যন্ত আনন্দিত ও উল্লসিত চিত্তে বিদায় নেন।

কুতুবুদ্দিন আল-ইউনিনি সিবত ইবনুল জাওযির "মিরআতুয যামান" গ্রন্থের পরিশিষ্ট (যাইল)-এ একটি সূক্ষ্ম বিবরণ প্রদান করেছেন, যেখানে তিনি এই ধরণের একটি নৃত্যমুখর রজনীর বর্ণনা দিয়েছেন। এটি লাজীন বিন আব্দুল্লাহ আমির হুসামুদ্দিন আল-জুকান্দারি (মৃত্যু ৬৬২ হিজরি/ ১২৬৩ - ১২৬৪ খ্রিস্টাব্দ)-এর জীবনী আলোচনায় বর্ণিত হয়েছে।

যেখানে তিনি বলেন: ". . . দরিদ্র (ফকির) ও নেককার ব্যক্তিদের প্রতি তার প্রগাঢ় ভক্তি ছিল। তিনি তাদের প্রতি প্রচুর ইহসান ও সদাচরণ করতেন এবং ব্যয়ভার বহন ও পোশাক প্রদানের মাধ্যমে তাদের দেখাশোনা করতেন। তিনি তাদের জন্য সামা (আধ্যাত্মিক সংগীত) মাহফিলের আয়োজন করতেন এবং সেখানে এমন সব খাবার, পানীয়, সুগন্ধি এবং মোমবাতির ব্যবস্থা করতেন যা বুদ্ধি ও চিন্তাকে বিমোহিত করত এবং সাধারণ সীমা অতিক্রম করত। ধারণা করা হতো যে, তিনি একেকটি সামা মাহফিলে প্রায় আট হাজার দিরহাম ব্যয় করতেন(২). . . ইত্যাদি।

আল-ইউনিনি ৬৫৯ হিজরির শেষের দিকে দামেস্কের আল-উকাইবায় অবস্থিত লাজীনের প্রাসাদে আয়োজিত একটি সামা মাহফিলের বর্ণনা অব্যাহত রাখেন, যেখানে তিনি স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন। সেই ঘরটি আলোকিত করা হয়েছিল

--------------------------------------------

(১) হাবিব যাইয়াত: লাইলাতু রাকসিন ওয়া সামায়িন আমিরিয়্যাহ লিল-ফুকারা, আল-মাশরিক পত্রিকা, সংখ্যা ৪৩, ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দ; 'আদ-দুররুল মুনতাখাব ফি তাকমিলাতি তারিখি হালাব' থেকে উদ্ধৃত - যা আলেপ্পোর আহমাদিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি, বর্তমানে দামেস্কের মাকতাবাতুল আসাদ-এ সংরক্ষিত, নম্বর ১২১৪, প্রথম খণ্ডের ২৭০ - ২৭১ পৃষ্ঠা।

(২) আল-ইউনিনি: "যাইল মিরআতিয যামান", অক্সফোর্ড পাণ্ডুলিপি POC.OR.132, পৃষ্ঠা ১১২ - ১১৩।

(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ১০)
بالشموع الكافورية في أنوار (شمعدانات) الفضة، والمطعمة بصنوف الجواهر والأحجار الكريمة.

حتى إذا قضيت صلاة المغرب مدَّ للفقراء سماطًا اشتمل على قريب مئة زبدية عادلية، في كل زبدية خروف صحيح رضعي، وحوالي ثلاث مئة زبدية في كل واحدة ثلاثة طيور دجاج وغير ذلك من أنواع الطعام، وبعد العشاء وإتمام الصلاة شرع الحاضرون في الغناء والرقص، حتى إذا ما تعبوا مَدَّ سماطًا من الحلوى والقطائف الرطبة والمقلوة المصنوعة بالسكر المصري والفستق والمسك ثم رقصوا وغنوا جميعًا، ومن ثم مُد سماطًا عظيمًا من الفواكه النادرة في غير موسمها من سفرجل وتفاح وكمثرى ورمان وبطيخ، وبعدها عادوا إلى الرقص والغناء، ومن ثم مَدَّ سماطًا من المكسرات على أنواعها من قصب عراقي وفستق وبندق وزبيب، والكعك المحشو والخشكنان (أقراص من الدقيق والحلوى)، والبقسماط وغيرها، وكان شرابهم مصنوعًا بالثلج والسكر وعاء الخلافه (نوع من الصفصاف المصري المستقطر)، وماء الورد، إضافة إلى المباخر المعمرة بالند والعنبر والعود الهندي حتى إذا كان وقت السحر دخلوا حمامًا مجاورًا لدار لاجين، فاستحمّوا وأُلبسوا القمصان والثياب الجدد، وبعد الحمام عادوا إلى الدار فأُشربوا الأشربة التي تناسب الحمام، ومن ثم مد لهم سماطًا من الحلوى الساخنة، وبعدها ينصرفون.

والتقدير حالة الناس آنذاك، فقد علّق اليونيني على وقوع هذا السماع، بأنه أقيم، والناس في ضنك، فغرارة القمح بدمشقي ثمنها ثلاث مئة درهم، ورطل اللحم بالدمشقي ثمنه سبعة دراهم، والدجاجة ثمنها ثلاثة دراهم. وجميع الأشياء غالية جدًا.

فانظر أي ترف ورخاء، عاش فيه صوفية ذلك العصر؟
রৌপ্য নির্মিত দীপাধারে (শমাদান) কর্পূর মিশ্রিত মোমবাতি প্রজ্বলিত ছিল, যা বিভিন্ন প্রকার মণি-মাণিক্য ও মূল্যবান রত্নপাথরে খচিত ছিল।

মাগরিবের নামায শেষ হওয়ার পর দরিদ্রদের জন্য দস্তরখান বিছানো হতো, যাতে প্রায় একশত ‘আদিলিয়া’ পাত্র থাকত। প্রতিটি পাত্রে একটি করে আস্ত দুগ্ধপোষ্য ভেড়া এবং প্রায় তিনশত পাত্রের প্রতিটিতে তিনটি করে মুরগি ও অন্যান্য নানা পদের খাবার পরিবেশন করা হতো। এশার নামায সম্পন্ন হওয়ার পর উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ গীত ও নৃত্যে মগ্ন হতেন। তারা ক্লান্ত হয়ে পড়লে তাদের সামনে মিষ্টান্ন এবং মিসরীয় চিনি, পেস্তা ও কস্তুরি দ্বারা প্রস্তুতকৃত সিক্ত ও ভাজা ‘কাতাইফ’ (এক প্রকার পিঠা) এর দস্তরখান বিছানো হতো। অতঃপর তারা পুনরায় সকলে মিলে নৃত্য ও গীত শুরু করতেন। এরপর অসময়ের দুষ্প্রাপ্য ফলমূল যেমন—সফরজল (কুইন্স), আপেল, নাশপাতি, ডালিম ও তরমুজের এক বিশাল দস্তরখান বিছানো হতো। এরপর তারা পুনরায় নৃত্য ও গীতে ফিরে যেতেন। অতঃপর বিভিন্ন প্রকার শুষ্ক ফল ও বাদাম যেমন—ইরাকি আখ (কাসাব), পেস্তা, হেজেলনাট ও কিসমিস এবং পুরভরা পিঠা, ‘খুশকানান’ (আটা ও মিষ্টান্ন দিয়ে তৈরি চাকতি), বিস্কুট বা টোস্ট (বাকসামাত) ইত্যাদির দস্তরখান বিছানো হতো। তাদের পানীয় প্রস্তুত করা হতো বরফ, চিনি, ‘আ-উল খিলাফাহ’ (এক প্রকার পরিশ্রুত মিসরীয় উইলো নির্যাস) এবং গোলাপজল দিয়ে। এর পাশাপাশি থাকতো ‘নাদ’ (সুগন্ধি), আম্বর ও ইন্ডিয়ান ঊদ (আগর) দ্বারা পরিপূর্ণ ধূপদানি। সেহরির সময় হলে তারা লাজিনের গৃহসংলগ্ন একটি হাম্মামে (গোসলখানা) প্রবেশ করতেন। সেখানে তারা গোসল সেরে নতুন জামা ও পোশাক পরিধান করতেন। হাম্মাম থেকে ফিরে আসার পর তাদের গোসল-পরবর্তী উপযোগী পানীয় পরিবেশন করা হতো। অতঃপর তাদের জন্য গরম মিষ্টান্নের দস্তরখান বিছানো হতো এবং এরপর তারা বিদায় নিতেন।

তৎকালীন জনমানুষের অবস্থার পর্যালোচনায় আল-ইউনিনী এই ‘সামা’ মাহফিল অনুষ্ঠানের ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন যে, এটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল যখন মানুষ চরম দুর্দশার মধ্যে ছিল। তখন দামেস্কে এক বস্তা (গারারা) গমের মূল্য ছিল তিনশত দিরহাম, এক রতল মাংসের দাম ছিল সাত দিরহাম এবং একটি মুরগির দাম ছিল তিন দিরহাম। সবকিছুর দামই ছিল অত্যন্ত চড়া।

লক্ষ্য করুন, সেই যুগের সুফিরা কী রূপ বিলাসিতা ও প্রাচুর্যের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করতেন!
(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ১১)
ولم يقتصر دور الصوفية على التخريب الاقتصادي، بل تعداه إلى التأثير في الأحداث السياسية والاجتماعية، وذلك من خلال تغلغل الحركة في أوساط العامة والخاصة، ومن ثم فإنَّ الدولة اعترفت بمؤسسات الصوفية وقربت مشايخ الصوفية، حتى إن السلاطين كانوا يفاخرون ببناء الأربطة والخوانق والزوايا لجماعة الصوفية، لاعتقادهم أن بإمكان الفقراء المتصوفة الإتيان بالخوارق، وكشف الضّرّ عن السلاطين، والادعاء بالمكاشفة ومشاهدة الحق(1). ولذا فإن فقراء الصوفية كثيرًا ما دعوا ليرفعوا الضَّرر عن مصاب، أو ليدعوا بالعافية لمريض(2).

وقد بلغ من تأثير شيخ شيوخ خانقاه سعيد السعداء أن نجح في إبعاد ابن تيمية عن مصر إلى الشام سنة 707 هـ = 1307 م، حيث حُبس في الشام، بدعوى تكلمه على مشايخ الطريقة، وكان شيخ سعيد السعداء قد جمع فوق خمس مئة صوفي من صوفية الخانقاه وسار بهم في تظاهرة إلى القلعة، وكانت جماعات غفيرة من العامة قد انضمت إلى المظاهرة، وفي القلعة، شكوا للسلطان ابن تيمية، الذي أحالهم بدوره إلى القاضي الشافعي فدفعهم عنه إلى تقي الدِّين علي بن الزواوي المالكي، والذي أصدر بدوره الحكم الذي أشرنا إليه(3).

وفي دمشق أيضًا عُنِّف ابنُ رمضان الشاهد، لأنه تكلم في حق الفقراء(4). وضُرِب حتى طلبة التوبة والاستغفار.

بل إن الصوفية كثيرًا ما قاموا بإراقة الخمور والبوزة لأنها محرمة على

--------------------------------------------

(1) الكلاباذي: التعرف لمذهب أهل التصوف، 16.

(2) الصقاعي: تالي وفيات الأعيان، 151.

(3) ابن طولون: مفاكهة الخلان، ج 1 ص 21.

(4) المرجع السابق ج 1 ص 9، 7، حوادث سنة 885 هـ.

সুফিদের ভূমিকা কেবল অর্থনৈতিক নাশকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সাধারণ ও অভিজাত শ্রেণির মধ্যে এই আন্দোলনের অনুপ্রবেশের মাধ্যমে তা রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাবলির ওপর প্রভাব বিস্তার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ফলে রাষ্ট্র সুফি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং সুফি মাশায়েখদের সান্নিধ্য গ্রহণ করে। এমনকি সুলতানগণ সুফিদের জন্য রিবাত, খানকাহ ও জাউইয়া নির্মাণ করে গর্ববোধ করতেন; কারণ তারা বিশ্বাস করতেন যে, সুফি ‘ফকির’গণ অলৌকিক ক্ষমতা প্রদর্শনে সক্ষম, তারা সুলতানদের বিপদ-আপদ দূর করতে পারেন এবং আধ্যাত্মিক উন্মোচন ও সত্য দর্শনের দাবি রাখেন(১)। এ কারণেই বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির কষ্ট দূর করতে কিংবা অসুস্থ রোগীর আরোগ্য কামনায় দুআ করার জন্য প্রায়শই সুফি ফকিরদের আহ্বান জানানো হতো(2)।

সাঈদ আস-সুআদা খানকাহর শায়খুশ শুয়ুখের প্রভাব এতটাই প্রবল ছিল যে, তিনি ৭০৭ হিজরি মোতাবেক ১৩০৭ খ্রিস্টাব্দে ইবনে তাইমিয়াকে মিশর থেকে সিরিয়ায় নির্বাসিত করতে সক্ষম হন। সেখানে তরীকার শায়খদের সমালোচনা করার অভিযোগে তাকে বন্দি করা হয়। সাঈদ আস-সুআদা-র শায়খ খানকাহর পাঁচ শতাধিক সুফিকে একত্রিত করে দুর্গের অভিমুখে এক বিক্ষোভ মিছিল পরিচালনা করেন। সাধারণ মানুষের এক বিরাট অংশও সেই মিছিলে যোগ দেয়। দুর্গে পৌঁছে তারা সুলতানের কাছে ইবনে তাইমিয়ার বিরুদ্ধে নালিশ করেন। সুলতান বিষয়টি শাফেঈ বিচারকের কাছে ন্যস্ত করেন এবং তিনি পুনরায় তাকে তাকিউদ্দীন আলী বিন আয-যাওয়াউয়ি আল-মালিকির কাছে প্রেরণ করেন, যিনি আমাদের ইতিপূর্বে উল্লিখিত রায়টি প্রদান করেছিলেন(৩)।

দামেস্কেও ইবনে রামাদান আশ-শাহিদকে লাঞ্ছিত করা হয়, কারণ তিনি ‘ফকিরদের’ (সুফিদের) ব্যাপারে সমালোচনা করেছিলেন(৪)। তাকে মারধর করা হয়, এমনকি তিনি তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করতে বাধ্য হন।

এমনকি সুফিরা প্রায়শই মদ ও বোজা (এক প্রকার মাদকদ্রব্য) ঢেলে ফেলে দিতেন, কারণ সেগুলো নিষিদ্ধ ছিল...

--------------------------------------------

(১) আল-কালাবাদি: আত-তাআররুফ লি মাযহাব আহল আত-তাসাউউফ, ১৬।

(২) আস-সুকায়ি: তালি ওফায়াত আল-আয়ান, ১৫১।

(৩) ইবনে তুলুন: মুফাকাহাত আল-খিল্লান, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২১।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯, ৭; ৮৮৫ হিজরির ঘটনাবলি।

(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ১২)
غيرهم، وقد يخرجون إلى الشوارع لإطلاق سراح أحدهم من السجن، وأمورًا أخرى كثيرة.

وسدر الصوفية في مفاسدهم، حتى إن بعضهم أفتى بحرام الكسب إِلَّا عند الضرورة، لأن الكسب في عرفهم ينفي التوكل على اللَّه أو ينقص منه، وقد أمرهم اللَّه بالتوكل، ورزقهم في السماء وما يوعدون(1).

ثم إن بعض الصوفية كانوا لا يقيمون الصلاة أبدًا، مدعين أنهم لا يقومون بأدائها إِلَّا في الأماكن المقدسة فقط(2).

لقد عمَّ الفساد حياة الصوفية في عادتهم وأخلاقهم ورسومهم وسننهم وملابسهم وأزيائهم ومشاربهم ومآكلهم، واشتهر المتفقرون من المتصوفة بالجشع في الأكل والشرب، والولع بالرقص والتهافت على السماع والغناء.

حتى قال فيهم الشاعر الطاهر: [الوافر]

أرى جيلَ التصوف شرَّ جيلِ … فقل لهمُ وأَهونُ بالحلولِ

أَقالَ اللَّهُ حين عبدتموه … كلوا أكل البهائم وارقصوا لي(3)

وعليه فإن أبرز مظاهر الفساد في حياة المتصوفة علاوة على ما ذكر، يمكن إيجازها بما يلي:

--------------------------------------------

(1) الشيباني: الكسب، 37 العيني: عقد الجمان، ج 33/ 38 أ، الكلاباذي: التعرف، 102.

(2) الشعراني: اليواقيت والجواهر، 1/ 125.

(3) وردت الأبيات في النص المنشور من رسالة ابن القارع، علي منصور الحلبي، الذي كان معاصرًا لأبي العلاء المعري، والتي جاءت رسالة الغفران ردًا على رسالة ابن القارح لأبي العلاء، وقد جاء في الشطر الأول من البيت الثاني: أقال اللَّه حين عشقتموه ولعله الأصوبه، لأن الصوفية تعشق بينما العبادة لكل البشر، انظر: أبو العلاء المعري: رسالة الغفران، ومعها نص محقق من رسالة ابن القارح، تحقيق د. بنت الشاطئ، ط. السادسة، دار المعارف، 1977 ص 36 - 37، بنت الشاطئ: جديد في رسالة الغفران، ط. بيروت 1972، ص 51.

অন্যদের অপেক্ষা, এবং তারা তাদের একজনকে জেল থেকে মুক্ত করার জন্য রাজপথে বেরিয়ে আসে এবং এ ছাড়াও আরও অনেক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়।

সুফিরা তাদের ভ্রষ্টতায় এতটাই নিমজ্জিত হয়েছিল যে, তাদের কেউ কেউ চরম প্রয়োজন ব্যতীত জীবিকা অন্বেষণকে হারাম বলে ফতোয়া দিয়েছিল। কারণ তাদের পরিভাষায়, জীবিকা অন্বেষণ আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা নির্ভরতাকে অস্বীকার করার শামিল অথবা তা হ্রাস করে। অথচ আল্লাহ তাদের তাওয়াক্কুল করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাদের রিযিক ও প্রতিশ্রুত বিষয়সমূহ আকাশেই রয়েছে(১)।

উপরন্তু, কিছু সুফি কখনোই সালাত আদায় করত না। তারা দাবি করত যে, তারা কেবল পবিত্র স্থানসমূহ ছাড়া আর কোথাও সালাত আদায় করে না(২)।

সুফিবাদী জীবনধারা তাদের অভ্যাস, চরিত্র, প্রথা, রীতিনীতি, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং আহার-বিহারে সামগ্রিকভাবে পচন ধরেছিল। তথাকথিত দরিদ্র সুফিরা পানাহারে চরম লোভ, নাচের প্রতি আসক্তি এবং গান-বাজনা ও 'সামা' মাহফিলের প্রতি ব্যাকুলতার জন্য পরিচিতি লাভ করেছিল।

এমনকি কবি আল-তাহির তাদের সম্পর্কে বলেছেন: [আল-ওয়াফির ছন্দ]

আমি সুফি সম্প্রদায়কে নিকৃষ্টতম প্রজন্ম হিসেবে দেখছি … তাদের বলো, যারা 'হুলুল' (ঐশ্বরিক অবতারত্ব) বিশ্বাসের মতো তুচ্ছ কাজে লিপ্ত।

আল্লাহ কি তোমাদের ইবাদত করার সময় এ কথা বলেছিলেন যে … তোমরা পশুর মতো আহার করো আর আমার উদ্দেশ্যে নৃত্য করো?(৩)

ফলশ্রুতিতে, উপরোল্লিখিত বিষয়গুলো ছাড়াও সুফিদের জীবনে দুর্নীতির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহকে নিম্নোক্তভাবে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা যেতে পারে:

--------------------------------------------

(১) আশ-শায়বানি: আল-কাসব, ৩৭; আল-আইনি: ‘ইকদ আল-জুমান, খণ্ড ৩৩/ ৩৮ ক; আল-কালাবাদি: আত-তা‘আররুফ, ১০২।

(২) আশ-শা‘রানি: আল-য়াওয়াকিত ওয়াল-জাওয়াহির, ১/ ১২৫।

(৩) পঙ্ক্তিগুলো ইবনে আল-ক্বারিহ অর্থাৎ আলী মানসুর আল-হালাবির চিঠির প্রকাশিত পাঠে পাওয়া যায়। তিনি আবুল আলা আল-মা'আররির সমসাময়িক ছিলেন। মা'আররির 'রিসালাত আল-গুফরান' মূলত ইবনে আল-ক্বারিহর চিঠির উত্তর হিসেবে লেখা হয়েছিল। দ্বিতীয় পঙ্ক্তির প্রথম অংশে 'যখন তোমরা তাঁর ইবাদত করলে' উল্লেখ আছে, তবে সম্ভবত 'যখন তোমরা তাঁকে প্রেম (ইশক) করলে' কথাটি অধিকতর সঠিক; কারণ সুফিরা প্রেমের দাবি করে, অন্যদিকে ইবাদত সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য। দেখুন: আবুল আলা আল-মা'আররি: রিসালাত আল-গুফরান, সাথে ড. বিন্তুশ শাতি কর্তৃক সম্পাদিত ইবনে আল-ক্বারিহর চিঠির পাঠ, ৬ষ্ঠ সংস্করণ, দারুল মাআরিফ, ১৯৭৭, পৃ. ৩৬-৩৭; বিন্তুশ শাতি: জাদিদ ফি রিসালাত আল-গুফরান, বৈরুত ১৯৭২, পৃ. ৫১।

(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌مظاهر الفساد في حياة المتصوفة

-‌‌ السماع والرقص:

والسماع عند الصوفية، لياليَ تعقد، فيها ينشدون ويرقصون، وفي تعرفهم أن السماع يولد حالة في القلب تسمّى بالوجد، وهذا بدوره يحرك أعضاء البدن، فإن كانت الحركات غير موزونة كانت اضطرابات، وإن كانت موزونة فحينئذ تكون تصفيقًا ورقصًا(1)، ويبدو أن نوعا من الهوى والغلبة قد سيطرا على الصوفي، فإن سمع غناء أو إيقاعا بقضيب، تواجد وصفق وربما مزَّق ثيابه ورماها(2).

وقد أنكر عليهم جماعة من العلماء مثل هذا السلوك الشائن، وصنفوا الكتب، ووضعوا القصائد في ذم سلوكهم، فالإمام موفق الدِّين، عبد اللَّه بن أحمد بن محمد بن قُدامة المقدسي وضع رسالة في ذم ما عليه مدَّعو التصوف من الغناء والرقص والتواجد وضرب الدُّف وسماع المزامير، ورفع الأصوات المنكرة بما يسمونه ذكرًا وتهليلًا، بدعوى أنها من أنواع القرب إلى اللَّه تعالى.

وهجاهم كثيرٌ من الشعراء مثل شدَّاد بن إبراهيم الملقب بالطاهر الجزري، والعميد أبو محمد، عبد اللَّه، أحمد بن إبراهيم الزواوي الكاتب، وظهير الدِّين قاضي السَّلاميَّة ت 610 هـ = 1213 م(3)، الذي هجا مكي شيخ زاوية الفقراء بالبوازيج، البليدة القريبة من السَّلَّامية، فقال: [المتقارب]

أَلا قُلْ لِمَكّي قَوْلَ النَّصُوحِ … فَحقُّ النصيحة أن تُستَمَعْ

متى سمع النَّاسُ في دِينِهم … بأَنَّ الغِنَا سُنّةٌ تُتَّبعْ؟

--------------------------------------------

(1) الغزالي: إحياء علوم الدين، 2/ 236، ابن الجوزي: تلبيس إبليس 267 (نقد مسلك الصوفية في الغناء والسماع، الهروردي: عوارف المعارف، باب 24 "القول والسماع").

(2) ابن الجوزي: تلبيس إبليس، 247، 250، 260.

(3) هو أبو إسحاق، إبراهيم بن نصر بن عسكر، انظر ابن خلكان: وفيات الأعيان 7/ 37 - 38.

সুফীদের জীবনে অবক্ষয়ের স্বরূপ

-‌‌ সামা (সঙ্গীত) ও নৃত্য:

সুফীদের নিকট সামা হলো এমন সব মাহফিল যা রাতের বেলা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তারা পংক্তি আবৃত্তি করে এবং নৃত্য করে। তাদের সংজ্ঞায়, সামা অন্তরে এমন এক অবস্থার সৃষ্টি করে যাকে 'ওয়াজদ' (ভাবাবেশ) বলা হয়; এটি পরবর্তীতে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আলোড়িত করে। যদি এই নড়াচড়াগুলো ছন্দহীন হয় তবে তা অস্থিরতা হিসেবে গণ্য হয়, আর যদি তা ছন্দময় হয় তবে তাকে তালি ও নৃত্য বলা হয়(১)। প্রতীয়মান হয় যে, এক প্রকার প্রবৃত্তি ও আবেগ সুফীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করে; ফলে সে যখন কোনো গান বা লাঠির তালের আওয়াজ শোনে, তখন সে ভাবাবেগে আপ্লুত হয়, তালি দেয় এবং কখনও কখনও নিজের পোশাক ছিঁড়ে ফেলে দেয়(২)।

একদল আলেম তাদের এমন কলঙ্কজনক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা এ বিষয়ে কিতাব রচনা করেছেন এবং তাদের আচরণের নিন্দায় কবিতা লিখেছেন। ইমাম মুওয়াফফাকুদ্দীন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন কুদামা আল-মাকদিসি সেই সব সুফীবাদের দাবিদারদের নিন্দায় একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন যারা গান, নৃত্য, কৃত্রিম ভাবাবেশ, দফ বাজানো এবং বাঁশির সুর শোনাকে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হিসেবে দাবি করে এবং জিকির ও তাহলিল নাম দিয়ে বিকট স্বরে চিৎকার করে।

অনেক কবিও তাদের বিদ্রূপ করেছেন, যেমন শাদ্দাদ বিন ইবরাহিম—যিনি আত-তহির আল-জাজারি নামে পরিচিত, আল-আমীদ আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন ইবরাহিম আজ-জাওয়াউয়ি আল-কাতিব এবং জহিরুদ্দীন কাজি আস-সালামিয়া (মৃ. ৬১০ হিজরি = ১২১৩ খ্রিস্টাব্দ)(৩)। জহিরুদ্দীন কাজি আস-সালামিয়ার নিকটবর্তী আল-বুওয়াজিজে অবস্থিত 'ফুকরা'দের খানকাহর শায়খ মাক্কীকে বিদ্রূপ করে মুতাকারিব ছন্দে বলেছিলেন:

ওহে, মাক্কীকে একজন হিতৈষীর কথা বলে দাও ... কেননা নসিহতের দাবি হলো তা মনোযোগ দিয়ে শোনা।

মানুষ তাদের দ্বীনের ব্যাপারে কবে শুনেছে যে ... গান একটি অনুসরণযোগ্য সুন্নাত?

--------------------------------------------

(১) আল-গাজালি: ইহয়াউ উলুমিদ্দীন, ২/২৩৬; ইবনুল জাওজি: তালবিসু ইবলিস, ২৬৭ (গান ও সামার ক্ষেত্রে সুফীদের পদ্ধতির সমালোচনা); আল-হুরওয়ারদি: আওয়ারিফুল মাআরিফ, ২৪তম অধ্যায় "আল-কাওল ওয়াস-সামা"।

(২) ইবনুল জাওজি: তালবিসু ইবলিস, ২৪৭, ২৫০, ২৬০।

(৩) তিনি হলেন আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন নাসর বিন আসকার; দেখুন ইবনে খাল্লিকান: ওফায়াতুল আইয়ান, ৭/৩৭-৩৮।

(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ১৪)
وَأَنْ يَأْكُلَ المَرْءُ أَكلَ البَعِيْرِ … وَيَرْقُصَ في الجَمْع حتَّى يَقَعْ

وَلَوْ كَانَ طاوي الحَشَا جائعًا … لما دار من طَرَبٍ واسْتَمعْ

وقالوا سَكِرْنا بحبِّ الإِلهِ … وَمَا أسْكَرَ القَوْمَ إِلا القِصَعْ

كذاك الحميرُ إذَا أخصْبتْ … يُنَقّزها ريُّها وَالشَبَعْ

 

-‌‌ مصاحبة المرد والأحداث:

استحل بعض الصوفية كل المحرمات والكبائر، وتظاهروا بالفسق والفجور والمخازي، فليلة الماشوش تتم علانية عند متصوفة شيراز(1). وقد روى خبرها التنوخي في مشوار المحاضرة(2)، ذلك أن ابن خفيف البغدادي، شيخ متصوفة شيراز، وقد مات رجل صوفي من أصحابه، وخلف زوجة صوفية، فاجتمع النساء الصوفيات يعزينها، حتَّى إذا انتهت مراسيم الدفن، وصل ابن خفيف الدار وأخذ يعزي المرأة بكلام من كلام الصوفية إلى أن قال: أعزبت.

قال لها: هاهنا غير(3).

فقالت: لا غير(4).

فقال: فما معنى التزام النفوس آفات الهموم وتعذيبها بعذاب الغموم؟ ولأي معنى تترك الامتزاج(5) لتلتقي الأنوار(6) وتصفو الأرواح وتقع

--------------------------------------------

(1) انظر الزيات (حبيب): كتابة الديارات في الجزء الأول من مسالك الأبصار لابن فضل اللَّه العمري، مجلة المشرق 42: 1948، 297.

(2) التنوخي: نشوار المحاضرة، مجلة المجمع العربي بدمشق، العدد 17 ص 261 - 262.

(3) أي هل يوجد هنا غير موافق في المذهب.

(4) أي ليس من يخالف.

(5) كناية عن الوطء.

(6) أي النور الإلهي.

আর মানুষ উটের মতো আহার করে … এবং মজলিসে নাচতে থাকে যতক্ষণ না সে লুটিয়ে পড়ে।

যদি সে ক্ষুধার্ত ও খালি পেটে থাকত … তবে উল্লাসে এমন চক্কর দিত না এবং গান শুনত না।

তারা বলে, আমরা ইলাহির প্রেমে মাতাল … অথচ বড় বড় খাদ্যপাত্র ছাড়া অন্য কিছু তাদের মাতাল করেনি।

গাধাও যখন উর্বর চারণভূমি পায় … তখন তৃপ্তি ও পেটভরা আহার তাকে লাফালাফি করতে বাধ্য করে।

 

-‌‌ কিশোর ও যুবাদের সঙ্গদান:

কিছু সুফি সকল হারাম ও কবিরা গুনাহকে বৈধ করে নিয়েছিল এবং তারা প্রকাশ্য পাপাচার, ব্যভিচার ও লজ্জাজনক কাজে লিপ্ত হতো। শিরাজের সুফিদের নিকট 'লাইলাতুল মাশুশ' (মাশুশ রাত্রি) প্রকাশ্যে পালিত হতো। তানুখী তার 'নিশওয়ারুল মুহাদারা' গ্রন্থে এর সংবাদ বর্ণনা করেছেন। ঘটনাটি হলো, শিরাজের সুফিদের শায়খ ইবনে খাফিফ আল-বাগদাদীর এক সুফি সাথী মারা গেলে তিনি এক সুফি স্ত্রী রেখে যান। সুফি মহিলারা তাকে সান্ত্বনা দিতে সমবেত হন। দাফন কাজ শেষ হলে ইবনে খাফিফ সেই বাড়িতে পৌঁছান এবং সুফিদের পরিভাষায় তাকে সান্ত্বনা দিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি বললেন: তুমি কি নিঃসঙ্গ হয়ে গেলে?

তিনি তাকে বললেন: এখানে কি ভিন্ন কেউ (অদীক্ষিত কেউ) আছে?

মহিলা বললেন: না, ভিন্ন কেউ নেই।

তখন তিনি বললেন: তবে কেন নফসকে দুশ্চিন্তার বিপদে আটকে রাখা এবং দুঃখ-বেদনার আযাবে তাকে কষ্ট দেওয়া? কিসের জন্য মিলন বর্জন করা যাতে নূরসমূহ মিলিত হতে পারে, আত্মাগুলো স্বচ্ছ হতে পারে এবং...

--------------------------------------------

(১) দেখুন আয-যায়্যাত (হাবীব): ইবনে ফযলুল্লাহ আল-উমরীর 'মাসালিকুল আবসার' এর প্রথম খণ্ডে 'কিতাবুদ দিয়ারাত', আল-মাশরিক পত্রিকা ৪২: ১৯৪৮, ২৯৭।

(২) আত-তানুখী: নিশওয়ারুল মুহাদারা, দামেস্কের আল-মাজমাউল আরাবি পত্রিকা, সংখ্যা ১৭, পৃষ্ঠা ২৬১-২৬২।

(৩) অর্থাৎ, এখানে কি এই মতাদর্শের সাথে একমত নয় এমন কেউ আছে?

(৪) অর্থাৎ, ভিন্নমতাবলম্বী কেউ নেই।

(৫) এটি যৌনমিলনের একটি রূপক অর্থ।

(৬) অর্থাৎ, ঐশী নূর।

(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ১৫)
الاختلافات وتنزل البركات. فقالت النساء: إذا شئت.

فاختلط جماعة الرجال بجماعة النساء طول ليلتهم، فلما كان سحرًا خرجوا، ويبدو أن ذلك الحادث قد وقع في اليوم الأول من الصوم، أو الأحد الأول من الصوم حسب رواية الشابشتي في الديارات(1)، وأصبح ذلك اليوم احتفالًا لهم يختلط فيه الرجال بالنساء.

وقد أشار ابن الجوزي إلى أن صوفية عصره قد سدُّوا على أنفسهم باب النظر إلى النساء الأجانب، لبعدهم عن مصاحبتهن وامتناعهم عن مخالطتهن، واشتغلوا بالتعبد عن النكاح. واتفقت لهم صحبة الأحداث على وجه الإرادة وقصد الزهادة(2).

ويقرر ابن الجوزي بأن آفة الصوفية في عصره في صحبة الأحداث ومعاشرة الأضداد(3)، ولم يقف البلاء عند هذا الحد، بل تعداه لإِضفاء مشروعية ذلك للمتصوفة، فقد صنف أبو الفضل، محمد بن طاهر، المعروف بابن القيسراني الشيباني ت 507 هـ = 1113 م رسالة في إباحة السماع والنظر إلى المرد(4). واشتهر من المتصوفة بالتهتك والاستباحة خضر الكردي شيخ الملك الظاهر بيبرس، والشيخ أبي الحسن الحريري، وسليمان بن المولّه المجذوبه.

وكان علي الحريري أكثرَ المتصوفة تهتكًا في معاشرة الأحداث "فكان

--------------------------------------------

(1) وردت عند الحديث عن دير الخوات ص 93، وانظر ابن فضل اللَّه العمري: مسالك الأبصار، 1/ 280 - 282 (تحقيق أحمد زكي باشا).

(2) ابن الجوزي: تلبيس إبليس، 265.

(3) المرجع السابق، 276.

(4) الشعراني: الطبقات الكبرى، 2/ 129.

মতভেদ দূরীভূত হয় এবং বরকত নাজিল হয়। তখন মহিলারা বলল: আপনি যেমন চান।

অতঃপর পুরুষ ও মহিলাদের একটি দল সারা রাত একত্রে মেলামেশা করল। যখন ভোর হলো, তারা বেরিয়ে গেল। মনে হয় এই ঘটনাটি রোজার প্রথম দিনে অথবা আশ-শাবাশতি-এর ‘আদ-দিয়ারাত’ গ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী রোজার প্রথম রবিবারে ঘটেছিল(১), এবং সেই দিনটি তাদের জন্য একটি উৎসবে পরিণত হয়েছিল যাতে নারী ও পুরুষ একত্রে মেলামেশা করত।

ইবনুল জাওযি উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর সময়ের সুফিগণ পরনারীদের দিকে তাকানোর পথ নিজেদের জন্য রুদ্ধ করে দিয়েছিলেন, যেহেতু তারা তাদের সাহচর্য থেকে দূরে থাকতেন এবং তাদের সাথে মেলামেশা থেকে বিরত থাকতেন। তারা বিবাহের পরিবর্তে ইবাদতে মশগুল থাকতেন। কিন্তু আধ্যাত্মিক সংকল্প এবং বৈরাগ্যের উদ্দেশ্যে কিশোরদের সাহচর্য তাদের নিকট গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছিল(২)।

ইবনুল জাওযি সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন যে, তাঁর যুগের সুফিদের প্রধান ব্যাধি ছিল কিশোরদের সাহচর্য এবং বিপরীত স্বভাবের লোকদের সাথে মেলামেশা(৩)। এই বিপদ কেবল এখানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং সুফিদের জন্য এর বৈধতা প্রদানের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। আবু আল-ফদল মুহাম্মদ ইবনে তাহির, যিনি ইবনুল কায়সারানি আশ-শায়বানি (মৃত্যু ৫০৭ হি. = ১১১৩ খ্রি.) নামে পরিচিত, তিনি ‘সামা’ (সুফি সংগীত) এবং অমশ্রূধারী তরুণদের দিকে তাকানোর বৈধতা বিষয়ে একটি পুস্তিকা রচনা করেন(৪)। সুফিদের মধ্যে যারা নৈতিক শিথিলতা ও যথেচ্ছাচারের জন্য পরিচিত ছিলেন তারা হলেন সুলতান আল-জাহির বিবারসের শাইখ খিদর আল-কুর্দি, শাইখ আবুল হাসান আল-হারিরি এবং সুলায়মান ইবনে আল-মুওয়াল্লাহ আল-মাজযুব।

আলি আল-হারিরি কিশোরদের সাথে মেলামেশার ক্ষেত্রে সুফিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নীতিভ্রষ্ট ছিলেন, তিনি ছিলেন...

--------------------------------------------

(১) দাইর আল-খাওয়াত সম্পর্কে আলোচনার সময় ৯৩ পৃষ্ঠায় এটি বর্ণিত হয়েছে; আরও দেখুন ইবনে ফাদলুল্লাহ আল-উমারি: মাসালিক আল-আবসার, ১/ ২৮০-২৮২ (আহমদ জাকি পাশা সম্পাদিত)।

(২) ইবনুল জাওযি: তালবিস ইবলিস, ২৬৫।

(৩) প্রাগুক্ত উৎস, ২৭৬।

(৪) আশ-শা’রানি: আত-তাবাকাত আল-কুবরা, ২/ ১২৯।

(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ১৬)
من وقع نظره عليه من الأحداث وأولاد الجند والأمراء وغيرهم يحسن ظنه فيه، ويميل إليه، ولا يعود ينتفع به أهله، بل يلازمه ويقيم عنده، اعتقادًا فيه وميلًا إليه"(1).

ومع أن ظاهرة مصاحبة المُرد والأحداث والمخنثين كانت واضحة في العصور العباسية المتأخرة، فقد اشتدت في عصر المماليك، وذلك إثر قدوم طائفة من الأوبراتية التترية(2)، المشهورين بالجمال سنة 695 هـ = 1295 م، وانتشارهم في مصر والشام، ومن ثم دخولهم في خدمة الأمراء المماليك، وتنافس أمراء المماليك في اقتناء صبيانهم وبناتهم، ومن تبقى من هؤلاء الأويراتية بعد ذلك انخرط في الجيش، وتفرقوا في الممالك لتنتشر معهم المفاسد، ووجدته جماعات من الصوفية فيهم ضالتهم، فبالغوا في إضفاء مشروعية صوفية على فعلتهم النكراء، وقد أورد لنا الشعراني -أحد كبار متصوفة القرن العاشر الهجري- خبر الصالح محمد بن عراقي، الذي كان لا يمكِّن ابنه عليًا من الخروج إلى السوق، حين كان أمرد، إلّا أن يُبَرقَع خوفًا عليه من السوء والفتنة(3).

ولم يقف الأمر على المرد والأحداث بل تعداه إلى سواه من البهائم والحيوانات، فقد كان الشيخ الصوفي علي وحيش (ت 917 هـ/ 1511 م) كثير الاعتداء على البهائم والأتن(4).

لقد كان هذا الضرب من التصوف استهزاءً بالأديان، وبعدًا عن جادة الزهد والعبادة، وتهتكًا، حتَّى استحق صوفية القرون التالية للقرن السادس

--------------------------------------------

(1) الدلجي: الفلاكة، 72، ابن الفوطي: الحوادث الجامعة، 325.

(2) قبائل مغولية سكنت الجزء الأعلى من خط نهر Venessei بأواسط آسيا.

(3) الشعراني: لواقح الأنوار، 2/ 257، زكي مبارك: التصوف، 1/ 257.

(4) الشعراني: الطبقات الكبرى، 2/ 129 - 130.

"তরুণ, সৈনিক ও আমিরদের সন্তান এবং অন্যান্য যাদের দৃষ্টিই তাঁর ওপর নিপতিত হতো, তারা তাঁর প্রতি সুধারণা পোষণ করত এবং তাঁর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ত। এমনকি তাদের পরিবারবর্গও তাদের থেকে আর উপকৃত হতে পারত না; বরং তাঁর প্রতি বিশ্বাস ও অনুরাগের বশবর্তী হয়ে তারা তাঁর সান্নিধ্যে লেগে থাকত এবং তাঁর কাছেই অবস্থান করত"(১).

যদিও শেষ আব্বাসীয় যুগে শ্মশ্রুহীন কিশোর, তরুণ ও নপুংসকদের সাহচর্যের প্রবণতা সুস্পষ্ট ছিল, তবে মামলুক যুগে তা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। হিজরি ৬৯৫ (১২৯৫ খ্রিস্টাব্দ) সালে সৌন্দর্যের জন্য খ্যাত তাতারদের 'ওয়াইরাত' (ওবেরাতিয়া) গোত্রের এক দলের আগমনের পর এটি ঘটে(২)। তারা মিশর ও সিরিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং মামলুক আমিরদের অধীনে চাকরিতে প্রবেশ করে। মামলুক আমিররা তাদের ছেলে ও মেয়েদের সংগ্রহ করার বিষয়ে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। এই ওয়াইরাতদের মধ্যে যারা অবশিষ্ট ছিল, তারা পরবর্তীতে সেনাবাহিনীতে যোগ দেয় এবং বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে তাদের সাথে সাথে নানা অনাচারও বিস্তার লাভ করে। সুফিদের কিছু গোষ্ঠী তাদের মাঝে নিজেদের আকাঙ্ক্ষিত বস্তুর সন্ধান পায় এবং তারা তাদের এই জঘন্য কর্মকাণ্ডের ওপর সুফিবাদী বৈধতা আরোপের ক্ষেত্রে চরম বাড়াবাড়ি করে। দশম হিজরি শতকের অন্যতম প্রধান সুফি আশ-শা'রানী সালেহ মুহাম্মদ বিন ইরাকি সম্পর্কে একটি সংবাদ উল্লেখ করেছেন—তিনি তাঁর পুত্র আলী যতক্ষণ পর্যন্ত শ্মশ্রুহীন কিশোর ছিলেন, ততক্ষণ পর্যন্ত অনিষ্ট ও ফিতনার ভয়ে নেকাব পরিধান করানো ব্যতীত তাঁকে বাজারে বের হতে দিতেন না(৩).

এই বিষয়টি কেবল শ্মশ্রুহীন কিশোর ও তরুণদের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা গবাদি পশু ও অন্যান্য জন্তু-জানোয়ার পর্যন্ত গড়িয়েছিল। সুফি শেখ আলী ওয়াহিশ (মৃত্যু ৯১৭ হিজরি/ ১৫১১ খ্রিস্টাব্দ) চতুষ্পদ প্রাণী ও গাধার ওপর প্রচুর পাশবিক নির্যাতন চালাতেন(৪).

সুফিবাদের এই রূপটি ছিল ধর্মের প্রতি উপহাস, যুহদ (বৈরাগ্য) ও ইবাদতের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি এবং এক প্রকার নৈতিক স্খলন; যার ফলে ষষ্ঠ হিজরি পরবর্তী শতাব্দীগুলোর সুফিরা যোগ্য প্রতিপন্ন হয়...

--------------------------------------------

(১) আদ-দালাজি: আল-ফালাকাহ, ৭২; ইবনুল ফুওয়াতি: আল-হাওয়াদিসুল জামিআহ, ৩২৫।

(২) মধ্য এশিয়ার ইয়েনিসেই (Yenisei) নদীর ঊর্ধ্ব অববাহিকায় বসবাসকারী মঙ্গোলীয় উপজাতি।

(৩) আশ-শা'রানী: লাওয়াকিহুল আনওয়ার, ২/২৫৭; জাকি মুবারক: আত-তাসাউউফ, ১/২৫৭।

(৪) আশ-শা'রানী: আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২/১২৯-১৩০।

(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ১৭)
هجري، لقبَ "الفقراء المخربين"، لأنهم يناقضون السنن والعادات ويخرجون عن الآداب والشرائع(1).

 

-‌‌ تعاطي الحشيش:

دأب عدد من الصوفية على تعاطي الحشيشة، بدعوى أنها تذهب الهموم الكثيفة عن قلوبهم، وتجلو بفعلها أفكارهم الشريفة.

وليس بين أيدينا نص موثوق حول كيفية دخولها إلى العالم الإسلامي، فقد تعددت الروايات حولها، فبعض الروايات تنسبها إلى الهندي بيرزطن الذي حملها معه من الهند إلى فارس في القرن الأول الهجري، ومن ثم انتقلت بواسطة جماعة القلندرية الذين كانوا ينتظمون في سلك الصوفية، وقد حلقوا الرؤوس والحواجب والشوارب(2).

ورواية أخرى تنسب كشفها إلى الشيخ حيدر ت 618 هـ = 1221 م، والذي جعلها وقفًا على رفاقه من متصوفة خراسان، وأوصى أن يزرعوها على قبره بعد وفاته، ومن ثم انتقلت إلى بغداد فالشام ومصر، ومن الجدير بالذكر أن جماعة الحيدرية قدموا إلى دمشق بعد سنة 655 هـ = 1257 م، وعلى رؤوسهم طراطير، ولحاهم مقصوصة، وشواربهم بغير قص، وبنوا لهم زاوية خارج دمشق، ومنها وصلوا إلى مصر(3).

وقد تغنّى شعراء الصوفية بمحاسن الحشيشة، وأطلقوا عليها عدة أسماء مثل حشيشة الفقراء، ومدامة حيدر، والقلندرية.

وكان شاعرهم محمد بن علي بن الأعمى، أكثر الشعراء لهجًا بمزايا الحشيشة، فقال: [الطويل].

--------------------------------------------

(1) الزيات: الفقراء المخربون، مجلة المشرق، مجلد 43 سنة 1949، 511 - 515.

(2) ابن شاكر الكتبي: فوات الوفيات، 2/ 112.

(3) المقريزي: السلوك، ج 1 ق 1 ص 407.

হিজরি শতকে, "ফুকারা আল-মুখরিবিন" (ধ্বংসাত্মক দরবেশ) উপাধি লাভ করেন, কারণ তারা সুন্নাহ ও প্রথা বিরোধী কাজ করতেন এবং শিষ্টাচার ও শরিয়তের গণ্ডি অতিক্রম করতেন(১).

 

-‌‌ গাঁজা সেবন:

একদল সুফি গাঁজা সেবনে অভ্যস্ত ছিলেন, এই অজুহাতে যে এটি তাদের অন্তর থেকে পুঞ্জীভূত দুশ্চিন্তা দূর করে এবং এর প্রভাবে তাদের মহৎ চিন্তাগুলো স্বচ্ছ হয়।

ইসলামি বিশ্বে এটি কীভাবে প্রবেশ করল সে বিষয়ে আমাদের হাতে কোনো নির্ভরযোগ্য পাঠ্য নেই; এ নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনা প্রচলিত রয়েছে। কিছু বর্ণনায় একে ভারতীয় পীরজতনের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়, যিনি প্রথম হিজরি শতকে ভারত থেকে পারস্যে এটি নিয়ে এসেছিলেন। অতঃপর এটি কালান্দারিয়া সম্প্রদায়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যারা সুফি তরিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং তারা তাদের মাথা, ভ্রু ও গোঁফ মুণ্ডন করত(২).

অন্য একটি বর্ণনা এর আবিষ্কারকে শেখ হায়দার (মৃত্যু ৬১৮ হিজরি = ১২২১ খ্রিস্টাব্দ)-এর দিকে নিসবত করে, যিনি একে খোরাসানের সুফিদের মধ্যে তাঁর সাথীদের জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন এবং অসিয়ত করেছিলেন যেন তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর কবরে এটি রোপণ করা হয়। সেখান থেকে এটি বাগদাদ, অতঃপর সিরিয়া ও মিশরে পৌঁছে। উল্লেখ্য যে, হায়দারিয়া সম্প্রদায় ৬৫৫ হিজরি = ১২৫৭ খ্রিস্টাব্দের পর দামেস্কে আসে; তাদের মাথায় ছিল লম্বা টুপি (তরাতীর), দাড়ি ছিল ছোট করে ছাঁটা এবং গোঁফ ছিল বড় রাখা। তারা দামেস্কের বাইরে একটি খানকাহ (জাওয়িয়া) নির্মাণ করে এবং সেখান থেকেই তারা মিশরে পৌঁছায়(৩).

সুফি কবিগণ গাঁজার গুণকীর্তন করে কবিতা রচনা করেছেন এবং তারা এর বিভিন্ন নাম দিয়েছিলেন, যেমন—ফকিরদের লতা (হাশিশাতুল ফুকারা), হায়দারের সুরা (মাদামাতু হায়দার) এবং কালান্দারিয়া।

তাদের কবিদের মধ্যে মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে আল-আ'মা গাঁজার গুণাবলি বর্ণনায় সবচেয়ে বেশি মুখর ছিলেন, তিনি বলেন: [তবিল ছন্দ]।

--------------------------------------------

(১) আয-যায়্যাত: আল-ফুকারা আল-মুখরিবুন, মাজাল্লাতুল মাশরিক, খণ্ড ৪৩, ১৯৪৯ সাল, ৫১১ - ৫১৫।

(২) ইবনে শাকির আল-কুতুবি: ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত, ২/ ১১২।

(৩) আল-মাকরিজি: আস-সুলুক, খণ্ড ১, অংশ ১, পৃষ্ঠা ৪০৭।

(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ১৮)
دع الخمر واشرب من مدامة حيدر … معنبرة خضراء مثل الزبرجد

يعاطيكَها ظبي من الترك أغيد … يميسُ على غصنٍ من البانِ أملدِ

فتحسبها في كفِّه إذ يديرها … كرقم عذار فوق خدِّ مورَّد

يرنحها أَدنى نَسيم تنسَّمت … فتهفو إلى بردِ النَّسيم المرود

وتشدو على أغصانها الوُرقُ في الضحى … فيطربها سجع الحمامِ المغرّدِ

هي البِكْرُ لَمْ تُنْكَح بماءِ سحابةٍ … ولا عُصرتْ يومًا برجلٍ ولا يدِ

ولا عبثَ القسيس يومًا بكَأْسها … ولا قرَّبوا مِنْ دنّها كلَّ مقعدِ

ولَا نصَّ في تحريمها عندَ مالكٍ … ولا [هي] عند الشافعيّ وأحمدِ

ولا أثبت النُّعمانُ تنجيسَ عينهِا … فخُذْها بحدّ المشرفي المهنَّدِ

وكف أكف الهمّ بالكيفِ واسترحْ … ولا تطرحن يومَ السرورِ إلى غدِ(1)

لقد أدخل الصوفية الحشيشة إلى العالم الإسلامي منذ القرن السادس الهجري، ولا زالت أمتنا تعاني من آثار هذا المرض الاجتماعي حتَّى اليوم.

 

-‌‌ الإدعاء بالإتيان بالخوارق والكرامات:

عمَّ بين الصوفية اعتقاد بأن الإنسان إذا ارتاض وجاهد في العبادة، فإنه قد يلتحق بالملائكة الكرام حتّى يطير في الهواء ويمشي على الماء، فبالرياضية حسب اعتقادهم، ينسلخ الصوفي بالكليَّة عن الحظوظ البشرية، وهذا الاعتقاد في أساسه، اعتقاد البراهمة(2)، ولكنه شاع عند الصوفية، وكانوا يحرصون على نشر الأخبار التي تروي طيران أحدهم في الهواء، فالشيخ أبو يوسف، صفي الدِّين، الحسين بن جمال الدِّين الأنصاري الخزرجي "ارتفع بجلسته إلى العلو قدر قامتين، ودار وسع المجلس الذي كان الصوفية فيه، ثم نزل إلى موضعه! ! "(3).

--------------------------------------------

(1) المقريزي: الخطط، 3/ 40.

(2) الغزي: لطف السمر، 1/ 363.

(3) صفي الدين الخزرجي: سير الأولياء، 30، تحقيق مأمون محمود ياسين وعفت وصال، ط. بيروت.

মদ ত্যাগ করো এবং হায়দারের সুধা পান করো … যা সুগন্ধিযুক্ত এবং জবরজদের মতো সবুজ।

কোনো এক সুশ্রী তুর্কি কিশোর তা তোমাকে পরিবেশন করবে … যে কোমল বানের শাখার মতো দোদুল্যমান।

যখন সে তা আবর্তিত করে, তখন তার হাতের তালুতে তুমি একে মনে করবে … গোলাপী গালের ওপর অঙ্কিত তিলকের মতো।

মৃদু বাতাস প্রবাহিত হলে তা দুলতে থাকে … এবং শীতল সমীরণের পরশে কাঁপতে থাকে।

পূর্বাহ্ণে তার ডালপালায় ধূসর কপোতগুলো গান গায় … এবং গুঞ্জনরত ঘুঘুর কলতান তাকে আনন্দিত করে।

এটি সেই কুমারী যাকে মেঘের পানি দ্বারা সিক্ত করা হয়নি … এবং যা কোনোদিন হাত বা পা দিয়ে নিংড়ানো হয়নি।

কোনো পাদ্রি কোনোদিন এর পেয়ালা নিয়ে খেলা করেনি … এবং তারা এর মটকার কাছে কোনো পঙ্গুকে বসায়নি।

ইমাম মালিকের নিকট এর নিষিদ্ধতার ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট বর্ণনা নেই … এবং ইমাম শাফিয়ী ও আহমদের কাছেও [তা নেই]।

ইমাম নুমানও (আবু হানিফা) এর মূল সত্তার অপবিত্রতা প্রমাণ করেননি … অতএব ধারালো মাশরাফি তলোয়ারের ন্যায় তেজ নিয়ে এটি গ্রহণ করো।

আমোদ-প্রমোদের মাধ্যমে দুশ্চিন্তার হাতকে প্রতিহত করো এবং বিশ্রাম নাও … আর আনন্দের দিনকে আগামীকালের জন্য ফেলে রেখো না।(১)

সুফিরা হিজরি ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে ইসলামি বিশ্বে হাশিশের (গাঁজা) প্রচলন ঘটিয়েছে এবং আমাদের উম্মাহ আজও এই সামাজিক ব্যাধির কুফলে ভুগছে।

 

-‌‌ অলৌকিক বিষয় ও কারামত প্রদর্শনের দাবি:

সুফিদের মধ্যে এই বিশ্বাস ছড়িয়ে পড়েছিল যে, মানুষ যদি আধ্যাত্মিক সাধনা ও ইবাদতে কঠোর পরিশ্রম করে, তবে সে সম্মানিত ফেরেশতাদের স্তরে উন্নীত হতে পারে, এমনকি সে বাতাসে উড়তে পারে এবং পানির ওপর দিয়ে হাঁটতে পারে। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, সাধনার মাধ্যমে একজন সুফি সম্পূর্ণভাবে মানবিক কামনা-বাসনা ও সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়ে যান। এই বিশ্বাসের মূল ভিত্তি হলো ব্রাহ্মণদের(২) বিশ্বাস, তবে তা সুফিদের মধ্যে ব্যাপকতা লাভ করেছিল। তারা এমন সব সংবাদ প্রচার করতে সচেষ্ট থাকত যেখানে তাদের কারও বাতাসে ওড়ার কাহিনী বর্ণিত হতো। যেমন শেখ আবু ইউসুফ সফিউদ্দীন হুসাইন বিন জামালুদ্দীন আনসারী খাযরাজী "বসা অবস্থায় দুই জন মানুষের উচ্চতা পরিমাণ উপরে উঠে গিয়েছিলেন এবং সুফিরা যেখানে অবস্থান করছিল সেই মজলিস প্রদক্ষিণ করেছিলেন, তারপর পুনরায় স্বস্থানে নেমে এসেছিলেন!!"(৩)।

--------------------------------------------

(১) আল-মাকরিজি: আল-খিতাত, ৩/৪০।

(২) আল-গাজ্জি: লুতফুল সামার, ১/৩৬৩।

(৩) সফিউদ্দীন খাযরাজী: সিয়ারুল আউলিয়া, ৩০, সম্পাদনা: মামুন মাহমুদ ইয়াসিন ও ইফফাত উসাল, বৈরুত সংস্করণ।

(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقد أنكر ابن تيميَّة على صوفية الأحمدية ما يفعلونه من دخولهم في النيران المشتعلة، وأكلهم الحيَّات، ولبسهم الأطواق الحديد في أعناقهم، وتقلدهم بالسلاسل على مناكبهم، وعمل الأساور الحديد في أيديهم(1) وغيرها من الخوارق.

لقد حفلت القرون من السابع الهجري إلى العاشر الهجري بأخبار كرامات وخوارق هؤلاء الصوفية حتّى غدت أمرًا مصدوقًا، يتعرض من كذَّبه إلى التعزير والإيذاء، وانسحبت آثار ذلك على العصور التالية، وخاصة في العهد العثماني، حين أصبحت الطرق الصوفية واسعة الانتشار، كثيرة الأتباع.

كانت الصوفية في ذلك العصر شرًّا أصاب المجتمع، وإفسادًا للقيم والآداب، وتخريبًا للشرائع والسنن، وقد عبر كلُّ من فتح الدِّين ابن سيد الناس، وصلاح الدِّين الصفدي عن حال الصوفية بعبارات مقنعة، تعكس واقع حال المتصوفة، فالشيخ فتح الدِّين محمد بن محمد بن سيد الناس، يقول فيهم: [الخفيف]

ما شروط الصوفي في عصرنا اليو … م سوى ستة بغير زيادة

وهي. . .(2) العلوق والسكر والسطْ … ـلة والرقص والغنا والقياده

وإذا ما هذى وأبدي اتّحادًا … وحلولًا من جهله وأعاده

وأتى المنكراتِ عقلًا وشرعًا … فهو شيخُ الشُّيوخ ذو السِّجَّادَة(3)

كما وصف الصفدي هيئة أحد رجال الصوفية، فقال:

"شيخ مسن فقير، حرفوش، مكشوف الرأس، منفوش الشعر، عليه

--------------------------------------------

(1) المقريزي: السلوك، ج 2 ق 1 ص 16.

(2) كلمة فاحشة بذيئة.

(3) المقريزي: الخطط، 2/ 424، ابن شاكر الكتبي: فوات الوفيات 3/ 287.

ইবনে তাইমিয়্যাহ আহমদিয়া সুফিদের প্রজ্বলিত অগ্নিতে প্রবেশ, সর্প ভক্ষণ, গলায় লোহার বেড়ি পরিধান, কাঁধে শিকল ঝোলানো, হাতে লোহার বালা পরিধান(১) এবং এই জাতীয় অন্যান্য অতিপ্রাকৃত কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সপ্তম হিজরি থেকে দশম হিজরি পর্যন্ত শতাব্দীগুলো এই সুফিদের কারামত ও অলৌকিক ঘটনার সংবাদে পরিপূর্ণ ছিল, এমনকি তা জনমনে এক ধ্রুব সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল। যে ব্যক্তি এগুলো অস্বীকার করত তাকে লাঞ্ছনা ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। পরবর্তী যুগগুলোতেও এর প্রভাব অব্যাহত থাকে, বিশেষ করে উসমানীয় শাসনামলে, যখন সুফি তরীকাগুলো ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে এবং তাদের অনুসারী সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

তৎকালীন সুফিবাদ ছিল সমাজের জন্য এক অকল্যাণ, যা নৈতিক মূল্যবোধ ও শিষ্টাচারের অবক্ষয় ঘটিয়েছিল এবং শরিয়ত ও সুন্নাহর মূলে কুঠারাঘাত করেছিল। ফাতহ উদ্দীন ইবনে সাইয়্যেদ আন-নাস এবং সালাহ উদ্দীন আস-সাফাদী তৎকালীন সুফিদের বাস্তব অবস্থা অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। শেখ ফাতহ উদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাইয়্যেদ আন-নাস তাদের সম্পর্কে বলেন: [খাফীফ ছন্দ]

বর্তমান যুগে সুফি হওয়ার শর্ত ছয়টির বেশি নয় … অতিরিক্ত কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই

আর সেগুলো হলো. . .(২) কামাসক্তি, মত্ততা, আক্রমণাত্মক আচরণ … নাচ, গান ও কুপথপ্রদর্শন

যখন সে প্রলাপ বকে এবং মূর্খতাবশত আল্লাহর সাথে একাত্মতা … ও অবতারবাদের কথা প্রকাশ করে এবং বারবার তা আওড়ায়

আর যুক্তি ও শরিয়ত বিরোধী অন্যায় কাজে লিপ্ত হয় … তখন সে সাজ্জাদানশীন ‘শায়খুশ শুয়ুখ’ (প্রধান শায়খ) হিসেবে গণ্য হয়(৩)

অনুরূপভাবে আস-সাফাদী একজন সুফি ব্যক্তির অবয়ব বর্ণনা করে বলেন:

"একজন বৃদ্ধ, দরিদ্র, ভবঘুরে লোক; যার মস্তক উন্মুক্ত, চুল উস্কোখুস্কো এবং তার পরনে ছিল

--------------------------------------------

(১) আল-মাকরিজি: আস-সুলুক, ২য় খণ্ড, ১ম ভাগ, পৃ. ১৬।

(২) একটি অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ শব্দ।

(৩) আল-মাকরিজি: আল-খিতাত, ২/৪২৪, ইবনে শাকির আল-কুতুবী: ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত ৩/২৮৭।

(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ২০)
دلق رقيق، بالي الخلقة رقيق، قد تمكن منه الوسخ ونبت فيه ورسخ، قد جمعه من عدة رقاع، له مدفأة يستدفئ بنارها"(1).

 

‌‌تحليل مادة الرسالة التي ننشرها:

ناقشت الرسالة، مسألة اقتصادية مهمة، وهي، هل يصح الوقف والوصية للصوفية أم لا؟ ذلك أن عددًا كبيرًا من مصالح البلدان، كالدكاكين والحمامات والأسواق والبساتين والقرى الفلاحية والطواحين والمعاصر وغيرها، كانت توقف على صوفية خانقاه أو يوصي بإنفاق ريعها على جماعة صوفية معينة، وبالتالي فإنه لا يستفيد من هذه المصالح إلا حفنةٌ من المجتمع حظيتْ بخيراتهِ وهباتِهِ، بل وأثرت في مجرى الأحداث السياسية والاجتماعية في الأمة، فغدت هي المتنفذة المقربة من أُولي الأمر، بل إن أُولي الأمر أنفسَهم باتوا يخشونهم، فتزلفوا لهم بالمبالغة في إكرامهم وإغداق الأموال عليهم.

لقد شكل هؤلاء الصوفية عبئًا ثقيلًا على اقتصاد المجتمع، وأُرْهِقَ الأهالي والفلاحون بتوفير احتياجاتهم طمعًا في إرضائهم ونيل دعواتهم، وانعكست الأهداف وغرق الصوفية في المفاسد والإِفساد، وسيروا الحياة الاجتماعية وفق ما يرغبون، وطغي هيلمانهم، واستفحل تأثيرهيم، فقام جماعة من العلماء، وأخذوا على عاتقهم تنبيه المجتمع لحالة التردي التي وصلت إليها حركة الصوفية، وذلك من خلال إيقاظ الأحاسيس بأصول الصوفية الحقة، فأعاد هذا النفر من العلماء، البحث في التصوف، وحقيقة الصوفي من حيث المبادئ والأهداف، والقصد من ذلك إثارة المسألة عند الناس، ليقارنوا بين حال الصوفية في عصرهم، وما يجب أن يكونوا عليه.

وكان مؤلف رسالتنا جعفر بن ثعلب الأدفوي أحد هؤلاء العلماء الذين

--------------------------------------------

(1) سلام: الأدب في العصر المملوكي، ج 1 ص 203.

"একটি জীর্ণ আলখাল্লা, যা অতি প্রাচীন ও জীর্ণ, যাতে ময়লা জমে শক্ত হয়ে বসে গেছে, যা অনেকগুলো তালি জুড়ে তৈরি করা হয়েছে; তার একটি চুলা রয়েছে যার আগুনে সে উষ্ণতা গ্রহণ করে"(১).

 

‌‌আমরা যে রিসালাহটি প্রকাশ করছি তার বিষয়বস্তুর বিশ্লেষণ:

রিসালাহটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করেছে, আর তা হলো: সুফিদের জন্য ওয়াকফ এবং অসিয়ত করা কি বৈধ কি না? কারণ দেশের একটি বিশাল অংশের সম্পদ, যেমন: দোকানপাট, স্নানাগার, বাজার, ফলের বাগান, কৃষিভিত্তিক গ্রাম, আটা কল, তেল কল ও অন্যান্য স্থাপনা কোনো খানকাহর সুফিদের নামে ওয়াকফ করা হতো অথবা সেগুলোর আয় কোনো নির্দিষ্ট সুফি গোষ্ঠীর পেছনে ব্যয় করার অসিয়ত করা হতো। ফলে সমাজের একটি নগণ্য অংশ ছাড়া অন্য কেউ এসব সম্পদ থেকে উপকৃত হতে পারত না, যারা এই জনকল্যাণ ও দান-অনুগ্রহের একচেটিয়া অধিকারী হয়ে পড়েছিল। এমনকি তারা উম্মাহর রাজনৈতিক ও সামাজিক গতিধারায় প্রভাব বিস্তার করেছিল, ফলে তারা শাসকগোষ্ঠীর প্রভাবশালী ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিল। এমনকি খোদ শাসকরাও তাদের ভয় পেতে শুরু করেছিলেন এবং তাদের অতিমাত্রায় সম্মান প্রদর্শন ও অঢেল সম্পদ ঢেলে দিয়ে তাদের তোষামোদি করতে লিপ্ত হয়েছিলেন।

এই সুফিরা সমাজের অর্থনীতির ওপর এক ভারী বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এবং স্থানীয় অধিবাসী ও কৃষকরা তাদের সন্তুষ্টি অর্জন ও দোয়া পাওয়ার লালসায় তাদের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে হিমশিম খেতেন। এর ফলে মূল লক্ষ্যসমূহ বিচ্যুত হয়ে গিয়েছিল এবং সুফিরা নানাবিধ দুর্নীতি ও চারিত্রিক স্খলনে নিমজ্জিত হয়েছিলেন। তারা সামাজিক জীবনকে তাদের খেয়ালখুশি অনুযায়ী পরিচালনা করতে শুরু করেন, তাদের দম্ভ বেড়ে গিয়েছিল এবং তাদের নেতিবাচক প্রভাব চরম আকার ধারণ করেছিল। তখন একদল আলেম জাগ্রত হন এবং সুফি আন্দোলনের এই চরম অধঃপতনের বিষয়ে সমাজকে সচেতন করার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন। তারা প্রকৃত সুফিবাদের মূলভিত্তি সম্পর্কে মানুষের বোধশক্তি জাগ্রত করার চেষ্টা করেন। এই আলেমগণ সুফিবাদ, সুফির হাকিকত, এর মূলনীতি ও লক্ষ্যসমূহ নিয়ে পুনরায় চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেন; যার উদ্দেশ্য ছিল জনমানসে এই প্রশ্নটি উত্থাপন করা, যাতে তারা তাদের সমকালীন সুফিদের অবস্থার সাথে তাদের প্রকৃত আদর্শিক রূপটির তুলনা করতে পারে।

আমাদের এই রিসালাহটির লেখক জাফর ইবনে ছালাব আল-আদফুয়ি ছিলেন সেইসব আলেমদের একজন যারা

--------------------------------------------

(১) সালাম: আল-আদাব ফিল আসরিল মামলুকি (মামলুক যুগের সাহিত্য), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৩।

(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ২১)
صنفوا في باب الصوفية، وعقد أبوابًا في رسالتنا للبحث في مبادئ الصوفية حيث اتكأ على "الرسالة القشيرية" واقتبس منها عشرة آراء لكبار فقهاء الصوفية عرضها بشكل ميسر بسيط.

وحول حقيقة الصوفي والكلام فيه، فقد تناول مؤلفنا، النسبة إلى التصوف، وبيان من تصدق عليه النسبة، وقرَّر بأن البدع واختلاف الفرق الإسلامية بعد سنة 200 هـ، هي التي أخرجت التصوف عن أُصوله ومعناه(1).

وحتَّى ينجح في إقناع قارئ الرسالة أو مسامعها، فقد استشهد بأكثر من عشرين رأيًا لفقهاء من الصوفية من أهل الطريق وأصحاب العلم والتحقيق(2)، وملخص ما انتهى إليه، أن الصوفي في العرف العام، هو من اتصف بالصفات المحمودة في الشرع، وتخلق بالأخلاق الممدوحة، وإن بَعُد فيها الطبع، معرض عن الدُّنيا، مقبلٌ على الآخرة، سالك الطريق التي هي أولى بالمرء".

وأما في العرف الخاص، فإن الصوفي من يلبس لبسة مخصوصة من دلق(3) أو فرجيه(4)، وله عمامة، يرخي منها عذبة قصيرة من قدامه، ويحضر

--------------------------------------------

(1) انظر الرسالة، 4 ب.

(2) الرسالة، 6 أ.

(3) الدلق: نوع من اللباس يجعل تحت العباءة الفوقانية، وقد يكون كالمعطف واسعًا بدون فتحة، سوى فتحة الكتفين، ويُحاك من حرير الطرح الأزرق اللون أو من الصوف الأسود، انظر، محمد عيسى صالحية: من وثائق الحرم القدسي الشريف، ص 27، دوزي: معجم، 183، ماير: الملابس المملوكية، 90.

(4) فرجية: ثوب فضفاض، له كمان واسعان، يتجاوزان قليلًا أطراف الأصابع، وقد يكون لها ذيل يرخى من فوق الرأس. انظر دوزي: معجم الملابس، 167 (النص المترجم المنشور في مجلة اللسان العربي م 10 ج 3).

তাঁরা সুফিবাদ অধ্যায়ে গ্রন্থনা করেছেন এবং আমাদের এই রিসালাহ বা পুস্তিকাটিতে সুফিবাদের মূলনীতিসমূহ পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে কতগুলো পরিচ্ছেদ বিন্যস্ত করেছেন, যেখানে তিনি 'আর-রিসালাহ আল-কুশাইরিয়্যাহ'র ওপর নির্ভর করেছেন এবং সেখান থেকে প্রথিতযশা সুফি ফকিহদের দশটি অভিমত উদ্ধৃত করেছেন, যা তিনি অত্যন্ত সহজ ও সাবলীলভাবে উপস্থাপন করেছেন।

সুফির প্রকৃত স্বরূপ এবং এ সংক্রান্ত আলোচনার ক্ষেত্রে আমাদের লেখক তাসাউউফ বা সুফিবাদের সাথে সম্পৃক্ততা এবং কাদের ওপর এই নিসবত বা সম্পৃক্ততা যথার্থভাবে প্রযোজ্য হয় তা আলোচনা করেছেন। তিনি এই সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করেছেন যে, হিজরি ২০০ সালের পরবর্তী বিদআতসমূহ এবং ইসলামি ফিরকাগুলোর পারস্পরিক মতভেদই তাসাউউফকে তার মূল ভিত্তি ও অর্থ থেকে বিচ্যুত করেছে(১)।

এই পুস্তিকার পাঠক বা শ্রোতাকে আশ্বস্ত করার উদ্দেশ্যে তিনি তরিকতপন্থি ও জ্ঞান-গবেষণায় সমৃদ্ধ বিশটিরও অধিক সুফি ফকিহদের অভিমত তুলে ধরেছেন(২)। তাঁর আলোচনার সারসংক্ষেপ হলো—সাধারণ পরিভাষায় সুফি হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি শরিয়ত নির্দেশিত প্রশংসনীয় গুণাবলিতে গুণান্বিত এবং উত্তম আখলাক বা চরিত্রের অধিকারী, যদিও তা অর্জনে স্বভাবজাত প্রবৃত্তির বিপরীতে চলতে হয়। তিনি দুনিয়াবিমুখ, পরকালমুখী এবং এমন পথের পথিক যা একজন মানুষের জন্য সর্বাপেক্ষা উত্তম।

পক্ষান্তরে বিশেষ পরিভাষায় সুফি হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি বিশেষ ধরনের পোশাক যেমন 'দাল্ক'(৩) কিংবা 'ফারজিয়্যাহ'(৪) পরিধান করেন এবং তাঁর মাথায় থাকে পাগড়ি, যার সামনের দিক থেকে তিনি একটি ছোট শিমলা (পাগড়ির ঝুলন্ত অংশ) ঝুলিয়ে রাখেন, এবং তিনি উপস্থিত হন

--------------------------------------------

(১) দেখুন রিসালাহ, ৪-খ।

(২) রিসালাহ, ৬-ক।

(৩) দাল্ক: এক প্রকার পোশাক যা ওপরের আলখেল্লার নিচে পরিধান করা হয়। এটি অনেকটা প্রশস্ত কোটের মতো হতে পারে যাতে কাঁধের ছিদ্র ছাড়া অন্য কোনো উন্মুক্ত অংশ থাকে না। এটি নীল রঙের রেশমি কাপড় অথবা কালো পশম দ্বারা তৈরি করা হয়। দেখুন, মুহাম্মদ ঈসা সালিহিয়্যাহ: মিন ওয়াশায়িক আল-হারাম আল-কুসদি আল-শরিফ, পৃষ্ঠা ২৭; দোজি: মু'জাম, ১৮৩; মেয়ার: আল-মালাবিস আল-মামলুকিয়্যাহ, ৯০।

(৪) ফারজিয়্যাহ: একটি ঢিলেঢালা পোশাক, যার হাতা দুটি বেশ প্রশস্ত এবং আঙুলের ডগা ছাড়িয়ে সামান্য নিচ পর্যন্ত লম্বা হয়। এর একটি ঝুলন্ত অংশও থাকতে পারে যা মাথার ওপর থেকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। দেখুন, দোজি: মু'জামুল মালাবিস, ১৬৭ (আল-লিসান আল-আরাবি সাময়িকী, খণ্ড ১০, অংশ ৩-এ প্রকাশিত অনূদিত পাঠ)।

(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ২২)
في الخانقاه بعد العصر ليحضر القراءة والذكر، وغير متعاط للحرف الدنيئة كالحياكة أو الحجامة أو القمامة، وغير موصوف بالثروة.

وكأن الأُدفوي أراد القول، إن شروط الانتظام في سلك الصوفية في عصره هي:

- التزيّي بأزياء معينة.

- مداومة الحضور إلى الخانقاه بعد العصر للقراءة والذكر.

- عدم تعاطي الحرفة الدنيئة كالحياكة والحجامة والقمامة.

- غير معروفة بالثراء.

وما عداها من الزهد والعبادة والبعد عن زخرف الدُّنيا فغدت شيئًا مهملًا.

لقد مهَّد الأدفوي بالبابين السابقين ليصل إلى الباب الثالث، وهو "من يستحق الوقف والوصية من الصوفية"، وهذا الباب هو جوهر الرسالة، والمقصد الأساسي لتصنيفها، ويدخل هذا الباب في نظريات الإلزام والالتزام من فقه القانون المدني. في حيثيات "العُرف".

والمادة القانونية التي يطرحها هي، أن العرف محكّم وفاصل في النزاع إذا كان منضبطًا، ولا خلاف عليه في بلد معين، فإذا اضطرب العرف في ذلك البلد، وجب البيان حينئذٍ، أي أن الحكم يربط بالأسباب.

فالوقف لا يصح على الصوفية، لعدم ضبط معنى الصوفية ووقوفه عند حدٍ. وقد أفاض مؤلف الرسالة في الاستشهاد بما في المذاهب الأربعة جواز الوقف من عدمه، فالشافعية لا تجيزه، وكذا بعض علماء الحنفية، وأما
আসরের পর খানকায় পাঠ ও জিকিরে উপস্থিত হওয়ার জন্য, এবং সেলাই, শিঙা লাগানো বা আবর্জনা পরিষ্কারের মতো নিচু পেশায় লিপ্ত নয় এবং বিত্তবান হিসেবে পরিচিত নয়।

যেন আদফাউয়ী এটিই বলতে চেয়েছেন যে, তাঁর যুগে সুফি ধারায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার শর্তাবলি ছিল নিম্নরূপ:

- বিশেষ পোশাক পরিধান করা।

- আসরের পর পাঠ ও জিকিরের জন্য নিয়মিত খানকায় উপস্থিত থাকা।

- সেলাই, শিঙা লাগানো এবং আবর্জনা পরিষ্কারের মতো নিচু পেশায় লিপ্ত না হওয়া।

- বিত্তবান হিসেবে পরিচিত না হওয়া।

এর বাইরে দুনিয়াবিমুখতা (জুহদ), ইবাদত এবং পার্থিব চাকচিক্য থেকে দূরে থাকার মতো বিষয়গুলো অবহেলিত বিষয়ে পরিণত হয়েছিল।

আদফাউয়ী পূর্ববর্তী অধ্যায় দুটির মাধ্যমে তৃতীয় অধ্যায়ে পৌঁছানোর পথ তৈরি করেছেন, যা হলো "সুফিদের মধ্যে কারা ওয়াকফ ও ওসিয়তের যোগ্য", এই অধ্যায়টিই এই রিসালাহর সারবস্তু এবং এর রচনার মূল উদ্দেশ্য। এই অধ্যায়টি দেওয়ানি আইনের ফিকহশাস্ত্রে বাধ্যবাধকতা ও অঙ্গীকার (Obligation and Commitment) তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত, যা মূলত "প্রথা" (উরফ)-এর প্রেক্ষাপটে আলোচিত।

তিনি যে আইনি ধারাটি উপস্থাপন করেছেন তা হলো—প্রথা বা উরফ যদি সুশৃঙ্খল হয় এবং কোনো নির্দিষ্ট জনপদে এ নিয়ে কোনো মতবিরোধ না থাকে, তবে তা বিবাদ মীমাংসায় মানদণ্ড ও সিদ্ধান্তকারী হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি সেই জনপদে প্রথাটি অসংলগ্ন হয়ে পড়ে, তবে সেক্ষেত্রে ব্যাখ্যা প্রদান করা আবশ্যক হয়ে পড়ে; অর্থাৎ রায়টি তখন কারণসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট হবে।

সুফিদের অনুকূলে ওয়াকফ করা বৈধ নয়, কারণ 'সুফি' শব্দের সংজ্ঞায় কোনো শৃঙ্খলা নেই এবং এর কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা নেই। রিসালাহর লেখক চার মাজহাবের দলীলসমূহ উল্লেখ করে ওয়াকফ বৈধ হওয়া বা না হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। শাফেয়ী মাজহাব এটি বৈধ মনে করে না এবং হানাফী আলেমদের একাংশও তেমনি মনে করেন। তবে...
(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ২৩)
الحنابلة، فأجازوا الوقف على المنقطعين للعبادة، وتصفية النفس من الأخلاق المذمومة(1).

ثم ناقش مؤلفنا رأي الغزالي في الوقف على الصوفية، والذي أورده في كتاب "إحياء علوم الدِّين"(2)، حيث ذهب الغزالي إلى أنَّ الصوفي هو من اتصف بما يلي:

- الصلاح.

- الفقر.

- لبس زي الصوفية.

- ألا يكون مشتغلًا بحرفة.

- أن يكون مخالطة للصوفية بطريق المساكنة والخلطة(3).

وقد تناول مؤلف رسالتنا هذه القضايا، وناقشها، وفنَّدها بندًا بندًا، واستشهد بأقوال كبار رجال الزهد والتصوف لإِثبات حجته، وإبطال حجج الغزالي، وقد استند مؤلفنا في ردّه على الغزالي، على الأمور التالية:

- أن الغزالي فيما أورده لم يجرِ على القواعد الفقهية.

- أن الغزالي استند على رسوم الصوفية المحدثة.

- اعتراف الغزالي بأن لا دليلَ لديه عما يقوله إلا العادات والأعراف الخاصة.

- العرف الخاص لا اعتبار له عند أهل الفتوى(4).

- قدم الأُدفوي جملة من الشواهد التاريخية تبطل الادعاء بالزي، وتنفي شرط المساكنة والخِلطة، وحتى الفقر والاشتغال بحرفة دون أخرى، وأما الصلاح،

--------------------------------------------

(1) الرسالة، 8 أ.

(2) الغزالي: إحياء علوم الدين، 2/ 153.

(3) الرسالة، 9 أ.

(4) الرسالة، 9 ب.

হাম্বলীগণ; তারা ইবাদতের জন্য নিবেদিতপ্রাণ এবং নিন্দনীয় চরিত্র থেকে নফস পরিশুদ্ধকারীদের জন্য ওয়াকফ করা বৈধ বলেছেন(১)।

অতঃপর আমাদের লেখক সুফিদের জন্য ওয়াকফ সংক্রান্ত ইমাম গাজালীর মতামতের সমালোচনা করেছেন, যা তিনি "এহিয়াউ উলুমিদ্দীন" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন(২), যেখানে গাজালী মনে করেন যে সুফি হলেন তিনি, যিনি নিম্নোক্ত গুণাবলীতে গুণান্বিত হন:

- নেককার বা সৎ হওয়া।

- দরিদ্র হওয়া।

- সুফিদের পোশাক পরিধান করা।

- কোনো পেশায় নিযুক্ত না থাকা।

- একত্রে বসবাস এবং মেলামেশার মাধ্যমে সুফিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকা(৩)।

আমাদের এই রিসালার লেখক এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন, পর্যালোচনা করেছেন এবং পয়েন্ট ধরে ধরে তা খণ্ডন করেছেন। তিনি তার প্রমাণাদি উপস্থাপনে এবং গাজালীর যুক্তি বাতিল করতে বড় বড় যুহদ ও তাসাউফবিদদের বাণী উদ্ধৃত করেছেন। গাজালীর বক্তব্যের জবাবে আমাদের লেখক নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করেছেন:

- গাজালী যা উল্লেখ করেছেন তা ফিকহি মূলনীতি অনুসরণ করেনি।

- গাজালী সুফিদের নবউদ্ভাবিত রীতিনীতির ওপর নির্ভর করেছেন।

- গাজালীর নিজের স্বীকারোক্তি যে, বিশেষ অভ্যাস ও প্রথা ব্যতীত তার বক্তব্যের স্বপক্ষে কোনো দলিল নেই।

- ফতোয়া প্রদানকারী বা মুফতিগণের নিকট বিশেষ প্রথার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই(৪)।

- আল-উদফুওয়ী বেশ কিছু ঐতিহাসিক প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন যা বিশেষ পোশাকের দাবিকে বাতিল করে এবং একত্রে বসবাস ও মেলামেশার শর্তকে নাকচ করে, এমনকি দারিদ্র্য এবং নির্দিষ্ট পেশায় নিযুক্ত থাকার শর্তকেও; আর নেককার হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে...

--------------------------------------------

(১) আর-রিসালাহ, ৮ ক।

(২) গাজালী: এহিয়াউ উলুমিদ্দীন, ২/ ১৫৩।

(৩) আর-রিসালাহ, ৯ ক।

(৪) আর-রিসালাহ, ৯ খ।

(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ২৪)
فبيَّن مؤلف رسالتنا، بأن الصلاح محصور في الاقتداء بسنَّة الرسول صلى الله عليه وسلم، وأن مسالك الصوفية لا بد أن تكون وفق القرآن والسُّنَّة(1)، وأتى بشواهد عديدة من أقوال أئمة التصوفة المشهورين بالصلاح والتحقيق.

ويلاحظ بأن مؤلفنا كان ينقم على الغزالي طرح تلك الآراء، بل ويقابلها بالاستهجان، فحين عرض الغزالي لنزول الخانقاه، قال مؤلف رسالتنا "وهذا الذي ذكره الغزالي لا يناسب تحقيقه"(2)، وفي موضع آخر قال: ". . . وهو لم يبينه قبل، وأحال عليه، فهو عجيب منه"(3)، وفي معرض نقده لكتاب "الإِحياء" قال: "لأن كتاب الإِحياء ليس موضوعًا للتحقيق على طريقة الفقه، وأكثره وكثير منه، مبني على كلام صوفي"(4)

ومجمل ما انتهى إليه مؤلف رسالتنا، أن المنتسبين إلى التصوف ثلاثة أقسام:

- قسم اتبعوا ما جاء في الشرع، ووقفوا مع ما قاله علماء السُّنَّة، فهم يستحقون التعظيم ويستوجبون التبجيل والتكريم(5).

- قسم حصل لهم غلوٌ في التصوف فابتدعوا طرقًا واخترعوا عقائدَ، ووقفوا مع ألفاظ مزخرفة جمعوها، فيدخلون في جملة الكفار، ويستحقون النار.

- قسم غلب عليهم الجهل، ووقفوا مع ما أُحدث من رسوم وتركوا النظر في المعارف والعوارف والعلوم. واحتفلوا بالرقص والسماع والشهوات، وهؤلاء

--------------------------------------------

(1) الرسالة 12 ب -15 أ.

(2) الرسالة، 8 ب.

(3) الرسالة، 8 ب.

(4) الرسالة، 8 ب.

(5) لم يذكر الوقف كاستحقاقٍ لهؤلاء، وإنما اكتفى بأستحقاقهم التعظيم والتبجيل والتكريم.

আমাদের রিসালাহর লেখক স্পষ্ট করেছেন যে, কল্যাণ কেবল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আর সুফিদের পথ অবশ্যই কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী হতে হবে(১)। তিনি এই ক্ষেত্রে সততা ও পাণ্ডিত্যের জন্য প্রসিদ্ধ তাসাউফের ইমামগণের অসংখ্য উক্তি প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

লক্ষ্য করা যায় যে, আমাদের লেখক ইমাম গাজালির এই জাতীয় অভিমত ব্যক্ত করার ব্যাপারে অসন্তুষ্ট ছিলেন, এমনকি তিনি ঘৃণাভরে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। গাজালি যখন খানকায় অবস্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন, তখন আমাদের রিসালাহর লেখক বলেন, "গাজালি যা উল্লেখ করেছেন, তা তার পাণ্ডিত্যের সাথে মানানসই নয়"(২)। অন্য এক স্থানে তিনি বলেন, "...অথচ তিনি এটি ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করেননি এবং সেটির দিকেই উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যা তার পক্ষ থেকে বিস্ময়কর"(৩)। 'ইহইয়া' (ইহইয়াউ উলুমিদ দীন) কিতাবের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, "কারণ ইহইয়া কিতাবটি ফিকহী পদ্ধতিতে গবেষণার জন্য রচিত হয়নি; বরং এর অধিকাংশ ও বিরাট একটি অংশ সুফিদের কথার ওপর ভিত্তি করে রচিত"(৪)

আমাদের রিসালাহর লেখক তাসাউফের অনুসারীদের যে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন, তার সারসংক্ষেপ হলো:

- একদল যারা শরীয়তের বিধান অনুসরণ করেছেন এবং সুন্নাহর অনুসারী আলেমদের বক্তব্যের ওপর অবিচল থেকেছেন। সুতরাং তারা শ্রদ্ধা ও সম্মানের যোগ্য এবং মর্যাদা ও ভক্তির দাবিদার(৫)।

- আরেক দল যারা তাসাউফে চরমপন্থার শিকার হয়েছে, ফলে তারা নতুন নতুন তরীকা (বিদআত) ও আকিদা উদ্ভাবন করেছে এবং তাদের সংগৃহীত অলঙ্কৃত শব্দমালার ওপর স্থির হয়েছে। তারা কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত এবং জাহান্নামের উপযুক্ত।

- অন্য দল যাদের ওপর মূর্খতা প্রবল হয়েছে এবং তারা উদ্ভাবিত রীতিনীতির ওপর অটল থেকেছে; তারা উচ্চতর জ্ঞান, আধ্যাত্মিকতা ও ইলম অর্জনের প্রতি মনোযোগ দেওয়া ছেড়ে দিয়েছে। তারা নাচ, গান ও কুপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করার উৎসবে মেতে উঠেছে। আর এরা—

--------------------------------------------

(১) আর-রিসালাহ, ১২ খ - ১৫ ক।

(২) আর-রিসালাহ, ৮ খ।

(৩) আর-রিসালাহ, ৮ খ।

(৪) আর-রিসালাহ, ৮ খ।

(৫) তিনি এই শ্রেণির লোকদের প্রাপ্য হিসেবে 'ওয়াকফ' পাওয়ার কথা উল্লেখ করেননি, বরং তারা কেবল শ্রদ্ধা, সম্মান ও মর্যাদার উপযুক্ত হওয়ার কথা বলে ক্ষান্ত হয়েছেন।

(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ২৫)
الأخسرون أعمالًا في الدُّنيا والآخرة(1).

أما الوقف على صوفية عصره، فلا يُقره‌‌ مؤلف الرسالة للأسباب الشرعية التي أشرنا إليها. وفي ذلك قطع لمصدر ارتزاق لفئة كسولة خاملة، استنامت في عيشها إلى السهولة واليسر، واستطابت الراحة. وكان خطأ المجتمع أن وفَّرَ لها سُبل الحياة بدون تعب، فملأ الواحد منهم بطنه بلذيذ الطعام، ونام نومًا عميقًا، في انتظار الطعام الألذ، والمتعة السهلة المنال.

وصدق من قال: نعوذ باللَّه من النار، ومن الصوفي إذا عرف باب الدار.

 

مؤلف الرسالة:

هو جعفر بن ثعلب بن جعفر الأُدفُوي، أبو الفضل، كمال الدِّين ولد في بلدة أُدْفُو(2) سنة 685 هـ = 1286 م، وبها نشأ. ثم درس بمدرسة قُوص، التي كانت بها مدرسة تضارع مدارس القاهرة، ثم انتقل إلى القاهرة، ودرس على جملة من أساتذة العصر، منهم أبو حيَّان، محمد بن علي بن يوسف الأندلسي، أثير الدِّين، وابن دقيق العيد، وتاج الدِّين الدشناوي، وأحمد بن محمد بن أحمد، محيي الدِّين القرطبي وسواهم.

وقد وُصِفَ المؤلف بأنه مؤرخ، وله علم بالأدب والفقه والفرائض والموسيقا، وكان ينعى على علماء عصره ما وَصَلَ إليه العلم في عصره، فقال: [الكامل]

إن الدروس بمصرنا في عصرنا … طبعت على غلط وفرط عياط

ومباحث لا تنتهي لنهاية … جدلًا ونقل ظاهر الأغلاط

ومدرس يبدي مباحث كلها … نشأت عن التخليط والأخلاط

--------------------------------------------

(1) انظر الرسالة، ص 17.

(2) وهي بلدة بصعيد مصر الأعلى بين أُسْوَان وقُوص. انظر "معجم البلدان" (1/ 126) و"شذرات الذهب" (6/ 153) طبعة القدسي (م).

দুনিয়া ও আখিরাতে যারা নিজেদের আমলের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত(১)।

তৎকালীন সময়ের সূফীদের ওপর ওয়াকফ করার বিষয়টি এই রিসালাতের রচয়িতা সেই সকল শরয়ি কারণে অনুমোদন করেন না যা আমরা ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছি। এর মাধ্যমে মূলত একটি অলস ও স্থবির গোষ্ঠীর জীবিকার উৎস বন্ধ হয়ে যায়, যারা আরাম-আয়েশ ও সহজ-সরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল এবং বিশ্রামকেই শ্রেয় জ্ঞান করেছিল। সমাজের ভুল ছিল তাদের জন্য কোনো পরিশ্রম ছাড়াই জীবনধারণের পথ সুগম করে দেওয়া। ফলে তাদের প্রত্যেকেই সুস্বাদু খাবার দিয়ে উদরপূর্তি করত এবং অধিকতর সুস্বাদু আহার ও অনায়াসলভ্য আনন্দের প্রতীক্ষায় গভীর ঘুমে বিভোর থাকত।

সেই বক্তা সত্যই বলেছেন: "আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই জাহান্নামের আগুন থেকে, এবং সেই সূফী থেকে যে (দুনিয়াদারদের) ঘরের দরজা চিনে ফেলেছে।"

 

রিসালাতের রচয়িতা:

তিনি হলেন জাফর ইবনে ছালাব ইবনে জাফর আল-উদফুয়ি, আবু আল-ফজল, কামালুদ্দিন। তিনি ৬৮৫ হিজরি মোতাবেক ১২৮৬ খ্রিস্টাব্দে উদফু(২) নামক জনপদে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। অতঃপর তিনি কুস-এর মাদরাসায় অধ্যয়ন করেন, যেখানে এমন এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল যা কায়রোর মাদরাসাগুলোর সমতুল্য ছিল। এরপর তিনি কায়রোতে স্থানান্তরিত হন এবং সমকালীন একদল প্রথিতযশা শিক্ষকের কাছে ইলম অর্জন করেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু হাইয়ান মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ আল-আন্দালুসি আসিরুদ্দিন, ইবনে দাকীক আল-ঈদ, তাজউদ্দিন আদ-দাশনাবি এবং আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ মুহিউদ্দিন আল-কুরতুবি প্রমুখ।

লেখককে একজন ঐতিহাসিক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সাহিত্য, ফিকহ, ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) এবং সংগীতশাস্ত্রে তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল। তিনি তাঁর সমকালীন আলেমদের এবং তৎকালীন ইলমের যে শোচনীয় অবস্থা হয়েছিল তার সমালোচনা করে বলেছিলেন: [কামিল ছন্দ]

আমাদের যুগে আমাদের মিশরের পাঠদানসমূহ... ভুলভ্রান্তি আর চরম বাগাড়ম্বরের ছাঁচে তৈরি হয়েছে।

এমন সব বিতর্ক যা কোনো উপসংহারে পৌঁছে না... কেবলই ঝগড়া আর স্পষ্ট ভুলভ্রান্তির অনুকরণ।

আর এমন সব শিক্ষক যারা এমন সব বিষয় উপস্থাপন করেন যার পুরোটাই... বিভ্রান্তি ও জগাখিচুড়ি থেকে জন্ম নিয়েছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আর-রিসালাহ, পৃষ্ঠা ১৭।

(২) এটি উচ্চ মিশরের একটি জনপদ যা আসওয়ান ও কুস-এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। দেখুন: "মুজামুল বুলদান" (১/১২৬) এবং "শাযারাতুজ জাহাব" (৬/১৫৩) আল-কুদসি সংস্করণ (ম)।

(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ২৬)
ومُحدِّث قد صار غاية علمه … أجزاء يرويها عن الدمياطي

وفلانة تروي حديثًا عاليًا … وفلان يروي ذاك عن أسباط

والفرق بين عزيزهم وغريرهم … وأفصح عن الخياط والحناط

والفاضل النحرير فيهم دأبه … قول (أرسطاليس) أو بقراط

وعلوم دين اللَّه نادت جهرة … هذا زمان فيه طُيَّ بساطي(1)

 

‌‌مؤلفاته:

من أهم مؤلفاته التي عرفناها:

 

-‌‌ الطالع السعيد الجامع أسماء نجباء الصعيد:

وقد ألفه بإشارة من شيخه أبي حيان، وقد ترجم فيه لأعلام عصره من إقليم قوص، وأعماله ومدنه، وقد جعل تراجمه على حروف المعجم، وشملت 594 ترجمة، من ضمنها ترجمة الأربع نساء. وقد طبع الكتاب سنة 1966، بتحقيق سعد محمد حسن.

 

-‌‌ الإمتاع في أحكام السماع:

ويبحث في ضروب الغناء من حيث جوازه وتحريمه، وفيه فوائد موسيقية عن آلات العزف والضرب، ومنه نسخ بدار الكتب والوثائق القومية، وثانية بالمكتبة الأزهرية بالقاهرة وثالثة بمتحف الطوب قابي، خزانة أحمد الثالث رقم A.1430 ورابعة في مكتبة جستربيتي، وانظر بروكلمان، الذيل 2/ 27(2).

 

-‌‌ البدر السافر وتحفة المسافر:

ترجم فيه لبعض شعراء القرن السابع، ويقع في مجلدين:

--------------------------------------------

(1) الشوكاني: البدر الطالع، 1/ 182 - 183، ابن حجر: الدرر الكامنة، 1/ 536 ط. بيروت. د. ت.

(2) انظر أيضًا كتاب الإِمتاع والانتفاع في مسألة سماع السماع للأُدفوي، خزانة مدريد الوطنية رقم 246، حبيبه الزيات: لغة الحضارة، مجلة المشرق عدد 63 ج 4، 5، تموز - آب 1965 ص 67 - 68.

একজন মুহাদ্দিস, যার জ্ঞানের চরম সীমা হয়ে দাঁড়িয়েছে … দিমইয়াতি থেকে বর্ণনা করা কিছু অংশ মাত্র।

অমুক নারী উচ্চ পর্যায়ের হাদিস বর্ণনা করেন … আর অমুক ব্যক্তি তা আসবাত থেকে বর্ণনা করেন।

তাদের মধ্যকার বিশিষ্ট ও সাধারণদের মাঝে পার্থক্য … দর্জি ও গম বিক্রেতাদের বর্ণনার মতোই স্পষ্ট।

তাদের মধ্যে যিনি গুণী ও বিজ্ঞ পণ্ডিত, তার নিরন্তর প্রচেষ্টা হলো … অ্যারিস্টটল বা হিপোক্রেটসের বাণী নিয়ে ব্যস্ত থাকা।

আল্লাহর দ্বীনের ইলমসমূহ উচ্চস্বরে ঘোষণা করছে … এটি এমন এক সময় যখন আমার বিছানা গুটিয়ে ফেলা হয়েছে।(১)

 

‌‌তাঁর রচনাবলি:

আমাদের জানা তাঁর গুরুত্বপূর্ণ রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:

 

-‌‌ আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবাইস সাঈদ:

তিনি তাঁর শিক্ষক আবু হাইয়ানের ইঙ্গিতে এটি রচনা করেন। এতে তিনি কুস অঞ্চল এবং এর অধীনস্থ এলাকা ও শহরগুলোর সমসাময়িক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি জীবনীগুলো অভিধানের বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসে সাজিয়েছেন, যাতে ৫৯৪ জন ব্যক্তির জীবনী স্থান পেয়েছে; যার মধ্যে চারজন নারীর জীবনীও রয়েছে। বইটি ১৯৬৬ সালে সাদ মুহাম্মদ হাসানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে।

 

-‌‌ আল-ইমতা ফি আহকামিস সামা:

এতে গানের বিভিন্ন প্রকারভেদ এবং এর বৈধতা ও অবৈধতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এতে বাদ্যযন্ত্র ও তালের যন্ত্র সম্পর্কে সংগীতবিষয়ক অনেক তথ্য রয়েছে। এর একটি পাণ্ডুলিপি মিশরের 'দারুল কুতুব ওয়াল ওয়াসায়িক আল-কাওমিয়া'-তে, দ্বিতীয়টি কায়রোর আল-আজহার লাইব্রেরিতে, তৃতীয়টি তোপকাপি মিউজিয়ামের আহমদ আস-সালিস গ্রন্থাগারে (নম্বর A.1430) এবং চতুর্থটি চেস্টার বিটি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে। দেখুন: ব্রোকলম্যান, আয-যাইল ২/২৭(২)।

 

-‌‌ আল-বাদরুস সাফির ওয়া তুহফাতুল মুসাফির:

এতে তিনি সপ্তম হিজরি শতাব্দীর কিছু কবির জীবনী সংকলন করেছেন। এটি দুই খণ্ডে সমাপ্ত:

--------------------------------------------

(১) আশ-শাওকানি: আল-বাদরুত তালি, ১/ ১৮২ - ১৮৩; ইবনে হাজার: আদ-দুরারুল কামিনাহ, ১/ ৫৩৬, বৈরুত সংস্করণ, প্রকাশকাল বিহীন।

(২) আরও দেখুন: আল-উদফুয়ি রচিত ‘কিতাবুল ইমতা ওয়াল ইনতিফা ফি মাসআলাতি সামায়িস সামা’, মাদ্রিদ ন্যাশনাল লাইব্রেরি নম্বর ২৪৬; হাবিবা যাইয়্যাত: লুগাতুল হাদারা, মাজাল্লাতুল মাশরিক, সংখ্যা ৬৩, খণ্ড ৪, ৫, জুলাই - আগস্ট ১৯৬৫, পৃষ্ঠা ৬৭ - ৬৮।

(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ২৭)
الأول في الفاتيكان رقم Mus.Borg.L.F.Araba،168

والثاني في مكتبة الفاتح بإستانبول رقم 4201.

ونسخة في فيينا ناقصة.

 

-‌‌ فرائد الفوائد ومقاصد القواعد في علم الفرائض:

منه نسخة في مكتبة غوتا بألمانيا الديمقراطية.

 

-‌‌ كتاب الإِسعاف:

وقد ورد ذكره في الرسالة التي نشرها(1).

 

-‌‌ كتاب الموفي بمعرفة التصوف والصوفي، وهو الذي نقوم بنشره لأول مرة.

ومن الجدير بالذكر أن كمال الدِّين الأدفوي قد عاش في القاهرة، واتخذ المدرسة الصالحية سكنًا يتردد عليه الأشياخ(2) فيها.

وقد وصفه الإسنوي بأنه: "كان مشاركًا في علوم متعددة، أديبًا شاعرًا ذكيًّا كريمًا، طارحًا للتكلف، ذا مروءة".

وقد توفي بالقاهرة بعد عودته من الحج عام 748 هـ = 1347 م(3).

 

‌‌وصف النسخ:

تحتفظ خزانة الفاتح بالمكتبة السليمانية في أستانبول - بتركيا بنسخة وحيدة من الرسالة مسجلة تحت رقم 2876 ولا علم لكاتب السطور بنسخة

--------------------------------------------

(1) انظر الرسالة ق 6 ب.

(2) الأدفوي: الطالع السعيد، المقدمة، ش.

(3) ابن العماد الحنبلي: شذرات الذهب، 6/ 153 من طبعة القدسي، الشوكاني: البدر الطالع، 1/ 182، المقريزي: السلوك ج 2 ق 3 ص 793، والسيوطي: حسن المحاضرة، 1/ 255، ابن تغري بردي: النجوم الزاهرة، 10/ 237، الأدفوي: الطالع السعيد أ - ت (مقدمة).

প্রথমটি ভ্যাটিকানে, নম্বর Mus.Borg.L.F.Araba, ১৬৮

এবং দ্বিতীয়টি ইস্তাম্বুলের ফাতিহ লাইব্রেরিতে, নম্বর ৪২০১।

ভিয়েনায় একটি অসম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপি রয়েছে।

 

-‌‌ ফারাইদুল ফাওয়াইদ ওয়া মাকাসিদুল কাওয়াইদ ফি ইলমিল ফারাইদ:

এর একটি পাণ্ডুলিপি পূর্ব জার্মানির গোথা লাইব্রেরিতে রয়েছে।

 

-‌‌ কিতাবুল ইসআফ:

এবং তিনি যে রিসালাহটি (পুস্তিকা) প্রকাশ করেছেন তাতে এর উল্লেখ পাওয়া যায়(১)।

 

-‌‌ কিতাবুল মুফি বি-মা'রিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সুফি; এটিই সেই গ্রন্থ যা আমরা প্রথমবারের মতো প্রকাশ করছি।

উল্লেখযোগ্য যে, কামালুদ্দিন আল-আদফুওয়ী কায়রোতে বসবাস করতেন এবং সালিহিয়া মাদরাসাকে তার আবাসস্থল হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, যেখানে শায়খগণ তার কাছে যাতায়াত করতেন(২)।

আল-ইসনাবি তার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন: "তিনি বহুমুখী বিদ্যায় পারদর্শী, সাহিত্যিক, কবি, মেধাবী, দয়ালু, লৌকিকতা বর্জিত এবং উচ্চ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ছিলেন।"

তিনি হজ্জ থেকে ফেরার পর ৭৪৮ হিজরি মোতাবেক ১৩৪৭ খ্রিস্টাব্দে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন(৩)।

 

‌‌پাণ্ডুলিপির বর্ণনা:

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সুলাইমানিয়া লাইব্রেরির ফাতিহ সংগ্রহশালায় এই রিসালাহটির একমাত্র পাণ্ডুলিপি ২৮৭৬ নম্বরে সংরক্ষিত আছে। লেখকের জানামতে অন্য কোনো পাণ্ডুলিপি...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আর-রিসালাহ, পৃষ্ঠা ৬-খ।

(২) আল-আদফুওয়ী: আত-তালিউস সাঈদ, ভূমিকা, শ।

(৩) ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি: শাযারাতুজ যাহাব, ৬/১৫৩ (কুদসি সংস্করণ); আশ-শাওকানি: আল-বাদরুত তালি, ১/১৮২; আল-মাকরিজি: আস-সুলুক, ২য় খণ্ড, ৩য় অংশ, পৃষ্ঠা ৭৯৩; আস-সুয়ুতি: হুসনুল মুহাযারা, ১/২৫৫; ইবনে তাগরি বারদি: আন-নুজুমুজ যাহিরা, ১০/২৩৭; আল-আদফুওয়ী: আত-তালিউস সাঈদ, আলিফ-তা (ভূমিকা)।

(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ২৮)
أخرى في المكتبات العربية والأجنبية سواها، وقد جاء على صفحة عنوانها:

كتاب الموفي بمعرفة التصوف والصوفي.

تأليف جعفر بن ثعلب الأدفوي الشافعي.

وبالإضافة إلى السماع المسجل على صفحة العنوان، والذي سنشير إليه مع السماعات الأخرى المسجلة في نهاية الرسالة، فقد وردت عبارات تفيد بأن الأدفوي كان تلميذًا لأبي حيَّان، بخط المؤلف ثم حول كلمة القيمري عبارة، قلعة بين الموصل وخلاط (لب اللباب). وكذا إشارة إلى أن الرسالة قد روجعت من قبل أبي حيَّان الأندلسي نفسه.

 

‌‌السماعات الموجودة على الرسالة:

‌‌أولًا: على صفحة العنوان:

1 - " سمع جميع هذا الكتاب من لفظ مؤلفه الشيخ الإمام العلَّامة كمال الدِّين، أبي الفضل، جعفر بن ثعلب الشافعي الأدفوي نفع اللَّه به بحضور سيدنا وشيخنا الأستاذ الإمام العلَّامة وحيد دهره وفريد عصره، ونسيج وحده، أعجوبة الزمان أثير الدِّين، أبي حيَّان، محمد بن علي بن يوسف بن حيان، فسح اللَّه في مدته، صالحٌ بن عبد اللَّه بن عبد اللَّه الدمشقي القيمري، وذا خطه وصح ذلك يوم الاثنين، ثامن عشر صفر سنة إحدى وأربعين وسبعماية بمنزل شيخنا أبي حيَّان بالمدرسة الصالحية بين القصرين بالقاهرة المحروسة، وأجاز إليَّ جميع ما يجوز لهما روايته، والحمد للَّه رب العالمين وصلى اللَّه على سيدنا محمد وسلم".

ويستفاد من السماع أن الذي سجله هو صالح بن عبد اللَّه بن عبد اللَّه الدمشقي القيمري، وكان ذلك بتاريخ 18 صفر سنة 741 هـ، وبمنزل أبي حيَّان بالقاهرة، وأن صالحًا هذا قد أُجيز بالرواية من قبل الأدفوي وأبي حيَّان.
অন্যান্য আরবি ও বিদেশি গ্রন্থাগারে এটি ব্যতীত আরও কপি রয়েছে, এবং এর শিরোনাম পৃষ্ঠায় লিখিত রয়েছে:

কিতাবুল মুফি বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সুফি।

রচনায়: জাফর ইবনে সালাব আল-আদফুয়ি আশ-শাফিঈ।

শিরোনাম পৃষ্ঠায় লিপিবদ্ধ শ্রুতিলিপির (সামা') পাশাপাশি, যা আমরা এই পুস্তিকার শেষে অন্যান্য শ্রুতিলিপিগুলোর সাথে উল্লেখ করব, এমন কিছু বাক্য পাওয়া গিয়েছে যা নির্দেশ করে যে আদফুয়ি ছিলেন আবু হাইয়ানের ছাত্র। লেখকের হস্তাক্ষরে ‘আল-কাইমারি’ শব্দটির চারপাশে একটি ব্যাখ্যা রয়েছে: ‘মসুল ও খালাতের মধ্যবর্তী একটি দুর্গ’ (লুব্বুল লুবাব)। তদ্রূপ একটি ইঙ্গিতও রয়েছে যে, এই পুস্তিকাটি স্বয়ং আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি কর্তৃক পর্যালোচিত হয়েছে।

 

‌‌পুস্তিকায় বিদ্যমান শ্রুতিলিপি (সামা') সমূহ:

‌‌প্রথমত: শিরোনাম পৃষ্ঠায়:

১ - "এই সম্পূর্ণ কিতাবটি এর রচয়িতা শায়খ, ইমাম, আল্লামা কামালুদ্দিন আবুল ফজল জাফর ইবনে সালাব আশ-শাফিঈ আল-আদফুয়ি—আল্লাহ তাঁর দ্বারা কল্যাণ দান করুন—এর কণ্ঠ থেকে শ্রবণ করেছেন আমাদের সায়্যিদ ও শায়খ, উস্তাদ, ইমাম, আল্লামা, নিজ সময়ের অদ্বিতীয় ও অনন্য ব্যক্তিত্ব, যুগের বিস্ময় আসিরুদ্দিন আবু হাইয়ান মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ ইবনে হাইয়ান—আল্লাহ তাঁর জীবন দীর্ঘায়িত করুন—এর উপস্থিতিতে সালেহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকি আল-কাইমারি। এটি তাঁরই হস্তাক্ষর এবং এটি সোমবার, ১৮ই সফর, ৭৪১ হিজরি সনে সংরক্ষিত কায়রোর বাইনাল কাসরাইনস্থ আল-মাদরাসা আল-সালিহিয়্যায় আমাদের শায়খ আবু হাইয়ানের বাসভবনে সম্পন্ন ও সত্যায়িত হয়েছে। তিনি আমাকে তাঁদের উভয়ের বর্ণিত সকল বিষয়ের বর্ণনার অনুমতি (ইজাজত) প্রদান করেছেন। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের সায়্যিদ মুহাম্মদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।"

এই শ্রুতিলিপি থেকে অবগত হওয়া যায় যে, এটি লিপিবদ্ধকারী ছিলেন সালেহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকি আল-কাইমারি এবং এটি ৭৪১ হিজরি সনের ১৮ই সফর কায়রোতে আবু হাইয়ানের বাসভবনে সম্পন্ন হয়েছিল। আরও জানা যায় যে, উক্ত সালেহ আদফুয়ি ও আবু হাইয়ান উভয়ের নিকট থেকে বর্ণনার ইজাজত লাভ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌ثانيًا: على الورقة 18 أو 18 ب وجدت السماعات التالية:

1 - سمعها أجمع على مؤلفها إليخ الإمام العلَّامة كمال الدِّين، أبي الفضل الأدفوي أحسن اللَّه إليه، بقراءة. . . إلخ المُحَدِّث الرّحال، عز الدِّين بن حمزة بن أحمد الهكاري. . . إلخ، برهان الدِّين، إبراهيم بن أحمد بن أبي بكر الفدي -كذا- المرشدي وعبد العزيز بن محمد المؤذن البغدادي وذا خطه، وصحَّ وثبت بدار الحديث الكاملية(1) من القاهرة، يوم الخميس ثامن عشر رمضان سنة أربعين وسبعماية، وصلى اللَّه على سيدنا محمد النَّبيِّ وآله وصحبه وسلم.

ويستفاد من السماع أنه تم في دار الحديث الكاملية التي أنشأها السلطان الملك الكامل ناصر الدّين محمله بن الملك العادل أبي بكر بن أيوب سنة 622 هـ = 1225 م، وهي ثاني مدرسة عملت للحديث، ووقفها على المشتغلين بالحديث، وكانت بخط بين القصرين، وقد سمعها ثلاثة من العلماء، وسجل السماع بخط عبد العزيز بن محمد المؤذن البغدادي، وكان تاريخه قبل السماع المسجل على صفحة العنوان:

2 - على الصفحة 18 ب ما يفيد قراءة الرسالة من قبل عبد العزيز بن محمد بن خلف النوري، وقد سمعها منه عبد الواحد بن سعيد الغازازي والشيخ محمد السمودي وكان ذلك بالمدرسة الصالحية بالقاهرة المعزية في ثامن عشر شهر المحرم الحرام، افتتاح شهور سنة 743".

وكتبه جعفر بن ثعلب بن جعفر بن علي بن مطهر بن وائل الأُدفوي، حامدًا للَّه ومصليًا على نبيه، وحسبنا اللَّه ونعم الوكيل.

--------------------------------------------

(1) حول دار الحديث الكاملية، انظر، المقريزي: الخطط، 2/ 375، أحمد فكري: مساجد القاهرة ومدارسها، 2/ 55.

দ্বিতীয়ত: ১৮ অথবা ১৮ (খ) নং পত্রে নিম্নোক্ত শ্রবণলিপিগুলো (সামা'আত) পাওয়া গিয়েছে:

১ - এই সম্পূর্ণ অংশটি এর রচয়িতা—ইমাম আল্লামা কামালুদ্দীন আবুল ফজল আল-আদফুওয়ী (আল্লাহ তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করুন)—এর নিকট শ্রবণ করা হয়েছে। পাঠ করেছেন... প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও পর্যটক ইজ্জুদ্দীন বিন হামজা বিন আহমদ আল-হাক্কারী... বুরহানুদ্দীন ইবরাহিম বিন আহমদ বিন আবু বকর আল-ফাদি—অনুরূপভাবেই লিখিত—আল-মুরশিদী এবং আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল-মুয়াযযিন আল-বাগদাদী; এবং এটি তাঁরই হস্তলিপি। এটি কায়রোর দারুল হাদিস আল-কামিলিয়্যায়(১) বৃহস্পতিবার, ১৮ই রমজান, ৭৪০ হিজরি সনে সঠিক ও সাব্যস্ত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

এই শ্রবণলিপি থেকে জানা যায় যে, এটি দারুল হাদিস আল-কামিলিয়্যায় সম্পন্ন হয়েছে, যা সুলতান আল-মালিক আল-কামিল নাসিরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আল-মালিক আল-আদিল আবু বকর বিন আইয়ুব ৬২২ হিজরি = ১২২৫ খ্রিস্টাব্দ সনে প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল হাদিস চর্চার জন্য নির্মিত দ্বিতীয় মাদরাসা এবং তিনি এটি হাদিস নিয়ে গবেষণাকারীদের জন্য ওয়াকফ করেছিলেন। এটি 'বাইনাল কাসরাইন' এলাকায় অবস্থিত ছিল। তিনজন আলেম এটি শ্রবণ করেছেন এবং শ্রবণলিপিটি আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল-মুয়াযযিন আল-বাগদাদীর হস্তলিপিতে লিপিবদ্ধ হয়েছে। এর তারিখ শিরোনাম পৃষ্ঠায় লিপিবদ্ধ শ্রবণলিপির তারিখের পূর্বের ছিল:

২ - ১৮ (খ) নং পৃষ্ঠায় এমন বর্ণনা রয়েছে যা থেকে বুঝা যায় যে, রিসালাটি আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন খালাফ আন-নূরী পাঠ করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে এটি শ্রবণ করেছেন আব্দুল ওয়াহিদ বিন সাঈদ আল-গাযযাযী ও শেখ মুহাম্মদ আস-সামুদী। এটি কায়রোর মাদরাসা আস-সালিহিয়্যায় ৭৪৩ হিজরি সনের প্রথম মাস মুহাররমুল হারামের আঠারো তারিখে সম্পন্ন হয়েছিল।

এটি লিপিবদ্ধ করেছেন জাফর বিন সা'লাব বিন জাফর বিন আলী বিন মুতাহার বিন ওয়াইল আল-আদফুওয়ী; আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর নবীর ওপর দরুদ পাঠপূর্বক। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

--------------------------------------------

(১) দারুল হাদিস আল-কামিলিয়্যা সম্পর্কে দেখুন: আল-মাকরিযী: আল-খিতাত, ২/৩৭৫; আহমদ ফিকরী: মাসাজিদ আল-কাহিরা ওয়া মাদারিসুহা, ২/৫৫।

(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ৩০)
ويستفاد من السماع أن المؤلف قد أجاز لعبد العزيز النوري الرواية، وحضر القراءة بالتاريخ المشار إليه. وكذا على الصفحة نفسها ما يفيد نقلها من قبل يحيى الجعفري.

كتب المخطوط بخط نسخ جميل وبالمداد الأسود والمداد الأحمر، وكانت العناوين مكتوبة بالمداد الأحمر، ويخط أكبر حجمًا، كما خُط بالمداد الأحمر تحت العبارات المهمة في الرسالة.

عدد الأوراق: 18 ق.

عدد الأسطر: 15 س.

المقياس: 19.7 × 14 سم.

عدد الكلمات في السطر من (7 - 11) كلمة.

ولم يذكر اسم الناسخ أو تاريخه، ويبدو أن النسخة قد رُوجعت من قبل أحدهم، وعليها تمليكات، وكذا وقف باسم السلطان الغازي محمود خان.

وقبل أن أختم كلامي أتوجه بالشكر الجزيل إلى الأستاذ الدكتور خالد عبد الكريم جمعة الذي كان له فضل ظهور الكتاب ضمن مطبوعات مكتبة دار العروبة الغراء.

وإلى الأستاذ محمود الأرناؤوط الذي تولى تخريج الأحاديث الواردة في الكتاب.

الكويت في 27/ رجب/ 1408 هـ

الموافق 15/ مارس/ 1988 م

د. محمد عيسى صالحية

* * *
শ্রুতিলিপি থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, লেখক আব্দুল আজিজ আন-নূরীকে বর্ণনার অনুমতি প্রদান করেছেন এবং উল্লিখিত তারিখে তিনি পাঠদান মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। একইভাবে উক্ত পৃষ্ঠায় এটিও উল্লেখ রয়েছে যে, এটি ইয়াহইয়া আল-জা’ফরী কর্তৃক অনুলিখিত।

পাণ্ডুলিপিটি সুন্দর নাসখ লিপিতে কালো এবং লাল কালিতে লেখা হয়েছে। শিরোনামগুলো লাল কালিতে এবং তুলনামূলক বড় অক্ষরে লিখিত। এছাড়া পুস্তিকাটির গুরুত্বপূর্ণ বাক্যগুলোর নিচেও লাল কালি দিয়ে রেখা টানা হয়েছে।

পত্র সংখ্যা: ১৮টি।

লাইন সংখ্যা: ১৫টি।

পরিমাপ: ১৯.৭ × ১৪ সেন্টিমিটার।

প্রতি লাইনে শব্দের সংখ্যা: ৭ থেকে ১১টি।

এতে লিপিকারের নাম বা অনুলিখনের তারিখ উল্লেখ নেই। মনে হচ্ছে পাণ্ডুলিপিটি কেউ একজন সংশোধন করেছেন এবং এতে মালিকানা সংক্রান্ত টীকা ও সুলতান আল-গাজী মাহমুদ খানের নামে ওয়াকফনামা রয়েছে।

আমার আলোচনার ইতি টানার পূর্বে আমি অধ্যাপক ড. খালিদ আব্দুল কারিম জুমআর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যাঁর অবদানে কিতাবটি বিখ্যাত ‘মাকতাবাতু দারুল উরুবাহ’-এর প্রকাশনার অন্তর্ভুক্ত হয়ে আলোর মুখ দেখেছে।

এবং অধ্যাপক মাহমুদ আল-আরনাউতের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, যিনি কিতাবটিতে উল্লিখিত হাদিসসমূহের তাখরিজ সম্পন্ন করেছেন।

কুয়েত, ২৭ রজব, ১৪০৮ হিজরি

মোতাবেক ১৫ মার্চ, ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ

ড. মুহাম্মদ ঈসা সালিহিয়াহ

* * *
(খণ্ড: ১) আল-মুফী বি-মারিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সূফী (পৃষ্ঠা: ৩১)
كتاب نادر في نقد الصوفية

الموفى بمعرفة التصوف والصوفي

تأليف الإمام كمال الدين أبي الفضل جعفر بن ثعلب الأدفوي المصري

(685 - 748 هـ)

حققه وقدم له وعلق عليه الدكتور محمد عيسى صالحية

مكتبة دار العروبة للنشر والتوزيع

الكويت
সুফিবাদ পর্যালোচনায় এক দুর্লভ গ্রন্থ

আল-মুওয়াফ্ফা বি-মা’রিফাতিত তাসাউউফ ওয়াস সুফি (তাসাউউফ ও সুফি পরিচিতি বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা)

ইমাম কামালুদ্দিন আবুল ফজল জাফর বিন সা’লাব আল-আদফুয়ি আল-মিসরির রচনা

(৬৮৫ - ৭৪৮ হিজরি)

সম্পাদনা, ভূমিকা ও টীকা প্রদান করেছেন ডক্টর মুহাম্মদ ঈসা সালিহিয়া

মাকতাবাতু দারিল উরুবা প্রকাশনা ও বিতরণ

কুয়েত