(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: -)
أصول السنة لابن أبي زمنين القسم: العقيدة
الكتاب: أصول السنة، ومعه رياض الجنة بتخريج أصول السنة
المؤلف: أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن عيسى بن محمد المري، الإلبيري المعروف بابن أبي زَمَنِين المالكي (ت 399هـ)
تحقيق وتخريج وتعليق: عبد الله بن محمد عبد الرحيم بن حسين البخاري
الناشر: مكتبة الغرباء الأثرية، المدينة النبوية - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1415 هـ
عدد الصفحات: 310
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে আবি যামানিনের উসুলুস সুন্নাহ বিভাগ: আকীদা
কিতাব: উসুলুস সুন্নাহ, এবং এর সাথে উসুলুস সুন্নাহর তাখরীজ সংবলিত রিয়াযুল জান্নাহ
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ঈসা বিন মুহাম্মদ আল-মাররী, আল-ইলবীরী যিনি ইবনে আবি যামানিন আল-মালিকী নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩৯৯ হিজরী)
তাহকীক, তাখরীজ ও তালীক: আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আব্দুর রহীম বিন হুসাইন আল-বুখারী
প্রকাশক: মাকতাবাতুল গুরবা আল-আসারিইয়াহ, মদীনা মুনাওয়ারা - সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৫ হিজরী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১০
[কিতাবের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
باب
فِي اَلْحَضِّ عَلَى لُزُومِ اَلسُّنَّةِ وَاتِّبَاعِ اَلْأَئِمَّةِاِعْلَمْ رَحِمَكَ اَللَّهُ أَنَّ اَلسُّنَّةَ دَلِيلُ اَلْقُرْآنِ، وَأَنَّهَا لَا تُدْرَكُ بِالْقِيَاسِ وَلَا تُؤْخَذُ بِالْعُقُولِ، وَإِنَّمَا هِيَ فِي اَلِاتِّبَاعِ لِلْأَئِمَّةِ وَلِمَا مَشَى عَلَيْهِ جُمْهُورُ هَذِهِ اَلْأُمَّةِ، وَقَدْ ذَكَرَ اَللَّهُ عز وجل أَقْوَامًا أَحْسَنَ اَلثَّنَاءَ عَلَيْهِمْ فَقَالَ: فَبَشِّرْ عِبَادِيَ َالَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ اَلْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ أُولَئِكَ اَلَّذِينَ هَدَاهُمُ اَللَّهُ وَأُولَئِكَ هُمْ أُولُو اَلْأَلْبَابِ وَأَمَرَ عِبَادَهُ فَقَالَ: وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا اَلسُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
পরিচ্ছেদ
সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং ইমামগণের অনুসরণের প্রতি উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গেআল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন, আপনি জেনে রাখুন যে সুন্নাহ হলো কুরআনের নির্দেশক ও প্রমাণ। একে কিয়াস (যুক্তি-নির্ভর অনুমান) দ্বারা অনুধাবন করা যায় না এবং কেবল বুদ্ধি-বিবেচনা দিয়ে অর্জন করা যায় না। বরং এটি হলো ইমামগণের অনুসরণ এবং এই উম্মতের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ (জুমহুর) যে পথের ওপর পরিচালিত হয়েছেন, তার অনুসরণের মধ্যে নিহিত। মহান আল্লাহ এমন কিছু সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করেছেন যাদের তিনি সর্বোত্তম প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন: "সুসংবাদ দিন আমার সেই বান্দাদেরকে, যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে এবং তার মধ্য থেকে যা উত্তম তা অনুসরণ করে। এরাই তারা যাদেরকে আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন এবং এরাই হলো বোধসম্পন্ন লোক।" আল্লাহ তাঁর বান্দাদের নির্দেশ দিয়ে আরও বলেছেন: "আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।"
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
1 - وَحَدَّثَنِي أَبُو اَلْحَزْمِ وَهْبُ بْنُ مَسَرَّةَ اَلْحِجَازِيُّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ وَضَّاحٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ مُعَاوِيَةَ الصُّمَادِحِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ قَالَ: ثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: خَطَّ لَنَا رَسُولُ اَللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطًّا، ثُمَّ قَالَ: "هَذَا سَبِيلُ اَللَّهِ"، ثُمَّ خَطَّ خُطُوطًا عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ وَقَالَ: "هَذِهِ سُبُلٌ عَلَى كُلِّ سَبِيلٍ مِنْهَا شَيْطَانٌ يَدْعُو إِلَيْهِ"، وَقَرَأَ {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ..} اَلْآيَة
১ - আবু আল-হাজম ওয়াহব ইবনে মাসাররাহ আল-হিজাজি আমাকে বর্ণনা করেছেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াদদাহ থেকে, তিনি মুসা ইবনে মুয়াবিয়া আস-সুমাদিহি থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি থেকে, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে যায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য একটি রেখা টানলেন, অতঃপর বললেন: "এটি আল্লাহর পথ"। এরপর তিনি তাঁর ডানে ও বামে আরও কিছু রেখা টানলেন এবং বললেন: "এগুলো বিভিন্ন পথ, এর প্রতিটি পথের ওপর একজন শয়তান রয়েছে যে সেদিকে আহ্বান করছে।" অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: {আর নিশ্চিতভাবেই এটি আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো...} আয়াত।
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
2 - اِبْنُ مَهْدِيٍّ قَالَ: وَحَدَّثَنِي مَنْصُورُ بْنُ سَعْدٍ قَالَ: سَمِعْتُ اَلْحَسَنَ يُحَدِّثُ عَنْ اَلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: مَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي
২ - ইবনে মাহদি বলেন: এবং মানসুর ইবনে সাদ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি হাসানকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ থেকে বিমুখ হবে, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়।
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৪০)
3 - اِبْنُ مَهْدِيٍّ قَالَ: وَحَدَّثَنِي مُبَارَكُ بْنُ فَضَالَةَ عَنْ اَلْحَسَنِ بْنِ أَبِي اَلْحَسَنِ، أَنَّهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اَللَّهِ صلى الله عليه وسلم: عَمَلٌ قَلِيلٌ فِي سُنَّةٍ، خَيْرٌ مِنْ عَمَلٍ كَثِيرٍ فِي بِدْعَةٍ
৩ - ইবনে মাহদী বলেন: মুবারক বিন ফাদালাহ আল-হাসান বিন আবিল হাসান থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সুন্নাহ অনুযায়ী অল্প আমল, বিদআত অনুযায়ী অধিক আমল অপেক্ষা উত্তম।
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৪১)
4 - حَدَّثَنِي (أَبِي رحمه الله عَنْ أَبِي اَلْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ اَلْحَسَنِ، عَنْ أَبِي دَاوُدَ أَحْمَدَ بْنِ مُوسَى، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَلَامٍ قَالَ: حَدَّثَنِي اَلْخَلِيلُ بْنُ مُرَّةَ عَنْ اَلْوَضِينِ بْنِ عَطَاءَ عَنْ مَكْحُولٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اَللَّهِ صلى الله عليه وسلم: اَلسُّنَّةُ سُنَّتَانِ سُنَّةٌ فِي فَرِيضَةٍ اَلْأَخْذُ بِهَا هُدًى وَتَرْكُهَا ضَلَالَةٌ، وَسُنَّةٌ فِي غَيْرِ فَرِيضَةٍ اَلْأَخْذُ بِهَا فَضِيلَةٌ وَتَرْكُهَا لَيْسَ بِخَطِيئَةٍ
৪ - আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) আবু আল-হাসান আলী ইবনুল হাসান থেকে, তিনি আবু দাউদ আহমাদ ইবনে মূসা থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সালাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খলীল ইবনে মুররাহ আল-ওয়াদীন ইবনে আতা থেকে এবং তিনি মাকহুল থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: সুন্নাহ দুই প্রকার; একটি সুন্নাহ যা ফরজ (অপরিহার্য) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা গ্রহণ করা হেদায়াত এবং বর্জন করা পথভ্রষ্টতা। আর অপর সুন্নাহটি ফরজ নয় এমন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা গ্রহণ করা ফযিলত এবং বর্জন করা কোনো পাপ নয়।
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
5 - يَحْيَى قَالَ: وَحَدَّثَنِي حَفْصُ بْنُ عُمَرَ بْنِ ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو السُّلَمِيِّ، عَنْ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اَللَّهِ صلى الله عليه وسلم: كُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ
৫ - ইয়াহইয়া বলেন: হাফস বিন উমর বিন সাবিত বিন কাইস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি খালিদ বিন মা'দান থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আমর আস-সুলামী থেকে, তিনি ইরবাদ বিন সারিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: প্রত্যেক বিদআতই পথভ্রষ্টতা।
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
6 - يَحْيَى قَالَ: وَحَدَّثَنَا اَلْحَسَنُ بْنُ دِينَارٍ، عَنْ اَلْحَسَنِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اَللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَلَا هَلْ عَسَى رَجُلٌ يُكَذِّبُنِي وَهُوَ مُتَّكِئٌ عَلَى حَشَايَاهُ، يَبْلُغُهُ اَلْحَدِيثُ عَنِّي فَيَقُولُ: يَا أَيُّهَا اَلنَّاسُ: كِتَابُ اَللَّهِ: وَدَعُونَا مِنْ حَدِيثِ رَسُولِ اَللَّهِ صَلَّى اَللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
৬ - ইয়াহইয়া বলেন: হাসান ইবনে দিনার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: সাবধান! সম্ভবত এমন কোনো লোক আসবে যে আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে এমতাবস্থায় যে সে তার গদিতে হেলান দিয়ে বসে থাকবে; তার নিকট আমার কোনো হাদীস পৌঁছালে সে বলবে: হে লোকসকল! আল্লাহর কিতাবই (যথেষ্ট); তোমরা আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদীস বর্জন করো।
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৫০)
7 - وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَسْلَمَ بْنِ عَبْد الْعَزِيز، عَنْ يُونُسَ بْنِ عَبْدِ الْأَعْلَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي اَللَّيْثُ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ اَلْأَشَجِّ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ اَلْخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ: "سَيَأْتِي قَوْمٌ يَأْخُذُونَكُمْ بِمُتَشَابِهِ اَلْقُرْآنِ فَخُذُوهُمْ بِالسُّنَنِ فَإِنَّ أَصْحَابَ اَلسُّنَنِ أَعْلَمُ بِكِتَابِ اَللَّهِ".
৭ - এবং ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আসলাম ইবনে আবদুল আজিজ থেকে, তিনি ইউনুস ইবনে আবদুল আ’লা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি বলেন: আমাকে লায়স সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি উমর ইবনুল আশাজ থেকে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "অচিরেই এমন এক সম্প্রদায়ের আগমন ঘটবে যারা কুরআনের মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট বিষয়াদি) নিয়ে তোমাদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হবে; এমতাবস্থায় তোমরা সুন্নাহর মাধ্যমে তাদের মোকাবিলা করো, কেননা সুন্নাহর অনুসারীরাই আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত।"
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৫২)
8 - ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: وَأَخْبَرَنِي رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ اَلْمَدِينَةِ عَنْ اِبْن عَجْلَانَ، عَنْ صَدَقَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ اَلْخَطَّابِ كَانَ يَقُولُ: "إِنَّ أَصْحَابَ اَلرَّأْيِ أَعْدَاءَ اَلسُّنَنِ أَعْيَتْهُمْ أَنْ يَحْفَظُوهَا وَتَفَلَّتَ مِنْهُمْ أَنْ يَعُوهَا، وَاسْتَحْيَوْا حِينَ سُئِلُوا أَنْ يَقُولُوا: لَا نَعْلَمُ، فَعَارَضُوا اَلسُّنَنَ بِرَأْيِهِمْ".
৮ - ইবন ওহাব বলেন: মদিনার অধিবাসীদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি ইবন আজলান থেকে এবং তিনি সাদাকাহ ইবন আব্দুল্লাহ থেকে আমাকে খবর দিয়েছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব বলতেন: "নিশ্চয়ই রায়পন্থীরা (ব্যক্তিগত মতামত পোষণকারীরা) হলো সুন্নাহসমূহের শত্রু। সুন্নাহসমূহ মুখস্থ করা তাদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে এবং সেগুলো অনুধাবন করা তাদের আয়ত্তের বাইরে চলে গেছে। যখন তাদের কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন ‘আমরা জানি না’ বলতে তারা লজ্জাবোধ করে; ফলে তারা নিজেদের রায়ের (মতামতের) মাধ্যমে সুন্নাহসমূহের বিরোধিতা করে।"
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
9 - اِبْنُ وَهْبٍ قَالَ: وَأَخْبَرَنِي خَالِدُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أُسَيْدٍ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ أَرْسَلَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ إِلَى أَقْوَامٍ خَرَجُوا فَقَالَ لَهُ: "إِنْ خَاصَمُوك بِالْقُرْآنِ فَخَاصِمهمْ بِالسُّنَّةِ".
৯ - ইবনুল ওয়াহাব বলেন: এবং আমাকে খালিদ বিন হুমাইদ ইয়াহইয়া বিন উসাইদ থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আলী বিন আবু তালিব আব্দুল্লাহ বিন আব্বাসকে এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করলেন যারা (আনুগত্য থেকে) বেরিয়ে গিয়েছিল, অতঃপর তিনি তাকে বললেন: "যদি তারা কুরআনের মাধ্যমে তোমার সাথে তর্কে লিপ্ত হয়, তবে তুমি সুন্নাহর মাধ্যমে তাদের সাথে বিতর্ক করো।"
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
10 - وَحَدَّثَنِي وَهْبٌ عَنْ اِبْنِ وَضَّاحٍ، عَنْ الصُّمَادِحِيِّ، عَنْ اِبْنِ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنْ اَلشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ: "لَا يَأْتِي عَلَيْكُمْ عَامٌ إِلَّا اَلَّذِي بَعْدَهُ شرٌّ مِنْهُ، لَا أَعْنِي عَامًا أَخْصَبَ مِنْ عَامٍ وَلَا أَمْطَرَ مِنْ عَامٍ، وَلَكِنْ ذَهَابَ عُلَمَائِكُمْ وَخِيَارِكُمْ، ثُمَّ يُحْدِثُ قَوْمٌ يَقِيسُونَ اَلْأُمُورَ بِرَأْيِهِمْ فَيُهْدَمُ اَلْإِسْلَامُ وَيُثْلَمُ".
১০ - এবং ওয়াহাব ইবনে ওয়াদ্দাহ থেকে, তিনি সুমাদিহী থেকে, তিনি ইবনে মাহদী থেকে, তিনি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ থেকে, তিনি মুজালিদ থেকে, তিনি শাবী থেকে, তিনি মাসরূক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেছেন: "তোমাদের ওপর এমন কোনো বছর আসে না যার পরবর্তী বছরটি তার চেয়ে নিকৃষ্ট নয়। আমি এমনটি বোঝাচ্ছি না যে এক বছর অন্য বছরের তুলনায় অধিক উর্বর অথবা এক বছর অন্য বছরের তুলনায় অধিক বৃষ্টিবহুল, বরং আমি বোঝাচ্ছি তোমাদের আলেম ও সর্বোত্তম লোকদের চলে যাওয়াকে। অতঃপর এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটবে যারা তাদের নিজস্ব মতামতের ভিত্তিতে বিষয়সমূহ পরিমাপ করবে, ফলে ইসলাম ধ্বংস হয়ে যাবে এবং তাতে ফাটল সৃষ্টি হবে।"
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
11 - اِبْنُ مَهْدِيٍّ قَالَ: وَحَدَّثَنَا سُفْيَانُ اَلثَّوْرِيُّ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ اِبْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: "اِتَّبِعُوا وَلَا تَبْتَدِعُوا فَقَدْ كُفِيتُمْ".
১১ - ইবন মাহদী বলেন: সুফিয়ান সাওরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হাম্মাদ বিন যায়েদ থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে, তিনি ইবন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "তোমরা অনুসরণ করো এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন (বিদআত) করো না, কেননা তোমাদের জন্য যথেষ্ট করা হয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
12 - اِبْنُ مَهْدِيٍّ قَالَ: وَحَدَّثَنِي زَمْعَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ حَاضِرٍ اَلْأَزْدِيِّ قَالَ: قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ: أَوْصِنِي قَالَ: "عَلَيْكَ بِالِاسْتِقَامَةِ، اِتَّبِعْ وَلَا تَبْتَدِعْ".
১২ - ইবনে মাহদী বলেন: জামআহ ইবনে সালিহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে হাদির আল-আজদী থেকে, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে বললাম: "আমাকে উপদেশ দিন।" তিনি বললেন: "তুমি অবিচল থাকো, অনুসরণ করো এবং বিদআত করো না।"
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
13 - اِبْنُ مَهْدِيٍّ قَالَ: وَحَدَّثَنَا عبد المؤمن بْنُ عبيد الله قَالَ: حَدَّثَنِي مَهْدِيُّ بْنُ أَبِي أَبِي اَلْمَهْدِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ اِبْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: "لَا يَأْتِي عَلَى اَلنَّاسِ عَامٌ إِلَّا أَحْدَثُوا فِيهِ بِدْعَةً، وَأَمَاتُوا فِيهِ سُنَّةً حَتَّى تَحْيَى اَلْبِدَعُ وَتَمُوتُ اَلسُّنَنُ".
১৩ - ইবন মাহদী বলেন: আবদুল মুমিন বিন উবাইদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাহদী বিন আবিল মাহদী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "মানুষের নিকট এমন কোনো বছর আসে না যাতে তারা তাতে একটি বিদআত উদ্ভাবন করে না এবং একটি সুন্নাহকে মিটিয়ে দেয় না; এভাবে একসময় বিদআতসমূহ জীবিত হয়ে ওঠে এবং সুন্নাহসমূহ বিলুপ্ত হয়ে যায়।"
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৬০)
باب
فِي اَلْإِيمَانِ بِصِفَاتِ اَللَّهِ وَأَسْمَائِهِقَالَ مُحَمَّدٌ: وَاعْلَمْ أَنَّ أَهْلَ اَلْعِلْمِ بِاَللَّهِ وَبِمَا جَاءَتْ بِهِ أَنْبِيَاؤُهُ وَرُسُلُهُ يَرَوْنَ اَلْجَهْلَ بِمَا لَمْ يُخْبِرْ بِهِ تبارك وتعالى عَنْ نَفْسِهِ عِلْمًا، وَالْعَجْزَ عَمَّا لَمْ يُدَّعَ إِيمَانًا، وَأَنَّهُمْ إِنَّمَا يَنْتَهُونَ مِنْ وَصْفِهِ بِصِفَاتِهِ وَأَسْمَائِهِ إِلَى حَيْثُ اِنْتَهَى فِي كِتَابِهِ، وَعَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ، وَقَدْ قَالَ: وَهُوَ أَصْدَقُ اَلْقَائِلِينَ: كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُ قُلْ أَيُّ شَيْءٍ أَكْبَرُ شَهَادَةً قُلِ اَللَّهُ شَهِيدٌ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَقَالَ: وَيُحَذِّرُكُمُ اَللَّهُ نَفْسَهُ وَقَالَ: فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ رُوحِي وَقَالَ: فَإِنَّكَ بِأَعْيُنِنَا وَقَالَ: وَلِتُصْنَعَ عَلَى عَيْنِي وَقَالَ: وَقَالَتِ اَلْيَهُودُ يَدُ اَللَّهِ مَغْلُولَةٌ غُلَّتْ أَيْدِيهِمْ وَلُعِنُوا بِمَا
পরিচ্ছেদ
আল্লাহর গুণাবলি ও তাঁর নামসমূহের প্রতি ঈমান প্রসঙ্গেমুহাম্মদ বলেছেন: আপনি জেনে রাখুন যে, আল্লাহ এবং তাঁর নবী ও রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন সে সম্পর্কে যারা জ্ঞান রাখেন, তাঁরা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা নিজের সম্পর্কে যা সংবাদ দেননি সে বিষয়ে অজ্ঞ থাকাকেই জ্ঞান মনে করেন, এবং যে বিষয়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়নি সে বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করাকেই ঈমান মনে করেন। আর তাঁরা আল্লাহর গুণাবলি ও তাঁর নামসমূহের বর্ণনায় কেবল সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকেন যেখানে তিনি তাঁর কিতাবে এবং তাঁর নবীর জবানে সীমাবদ্ধ থেকেছেন। আর তিনি বলেছেন—এবং তিনি সকল বক্তার চেয়ে অধিক সত্যবাদী—: "তাঁর চেহারা ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল।" "বলুন: সাক্ষ্যের দিক থেকে কোন বিষয়টি সবচেয়ে বড়? বলুন: আল্লাহ আমার ও তোমাদের মাঝে সাক্ষী।" এবং তিনি বলেছেন: "আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের সত্তা সম্পর্কে সতর্ক করছেন।" এবং তিনি বলেছেন: "অতঃপর যখন আমি তাকে সুঠাম করব এবং তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁ দেব।" এবং তিনি বলেছেন: "কেননা আপনি আমাদের চোখের সামনে রয়েছেন।" এবং তিনি বলেছেন: "এবং যাতে তুমি আমার চোখের সামনে লালিত-পালিত হও।" এবং তিনি বলেছেন: "আর ইয়াহূদীরা বলে: আল্লাহর হাত শৃঙ্খলিত; তাদের হাতই শৃঙ্খলিত হয়েছে এবং তারা যা বলেছে তার কারণে তারা অভিশপ্ত হয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৬১)
قَالُوا بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ وَقَالَ: وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ اَلْقِيَامَةِ وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ وَقَالَ: إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَى وَقَالَ: وَكَلَّمَ اَللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا وَقَالَ: اَللَّهُ نُورُ اَلسَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَقَالَ: اَللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ اَلْحَيُّ اَلْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ وَقَالَ: هُوَ اَلْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ
وَمِثْلُ هَذَا فِي اَلْقُرْآنِ كَثِيرٌ فَهُوَ تبارك وتعالى نُورُ اَلسَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، كَمَا أَخْبَرَ عَنْ نَفْسِهِ، وَلَهُ وَجْهٌ وَنَفْسٌ وَغَيْرُ ذَلِكَ كَمَا وَصَفَ بِهِ نَفْسَهُ، وَيَسْمَعُ وَيَرَى وَيَتَكَلَّمُ، اَلْأَوَّلُ وَلَا شَيْءَ قَبْلَهُ، وَالْآخِرُ اَلْبَاقِي إِلَى غَيْرِ نِهَايَةٍ لَا شَيْءَ بَعْدَهُ، وَالظَّاهِرُ اَلْعَالِي فَوْقَ كُلِّ شَيْءٍ مِمَّا خَلَقَ وَالْبَاطِنُ بَطَنَ عِلْمُهُ بِخَلْقِهِ تَعَالَى: وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌحَيُّ قَيُّومٌ، لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ.
তারা বলেছিল, বরং তাঁর উভয় হাত প্রসারিত। এবং তিনি বলেছেন: কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোয় এবং আকাশমণ্ডলী তাঁর ডান হাতে ভাঁজ করা থাকবে। এবং তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই আমি তোমাদের উভয়ের সাথে আছি, আমি শুনি ও দেখি। এবং তিনি বলেছেন: আর আল্লাহ মুসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন। এবং তিনি বলেছেন: আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর নূর। এবং তিনি বলেছেন: আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক; তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। এবং তিনি বলেছেন: তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই প্রকাশ্য এবং তিনিই অপ্রকাশ্য।
এবং কুরআনে এ ধরনের দৃষ্টান্ত অনেক রয়েছে। সুতরাং তিনি বরকতময় ও মহান, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর নূর, যেমনটি তিনি নিজের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। এবং তাঁর চেহারা, নফস (সত্তা) ও এছাড়া আরও অনেক কিছু রয়েছে যা দ্বারা তিনি নিজের গুণ বর্ণনা করেছেন; আর তিনি শোনেন, দেখেন ও কথা বলেন। তিনি আদি যার পূর্বে কিছু নেই, এবং তিনি অন্ত—যিনি অনাদি কাল পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবেন এবং যার পরে কিছু নেই। আর তিনি প্রকাশ্য—যিনি তাঁর সৃষ্টির সবকিছুর উপরে সমুন্নত, এবং তিনি অপ্রকাশ্য—মহান এই অর্থে যে, তাঁর জ্ঞান তাঁর সৃষ্টির প্রতিটি বিষয়কে পরিবেষ্টন করে আছে। এবং তিনি প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক, তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না।
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৬২)
14 - وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ عَبْد اللهِ بْنِ عَبْد اللهِ بْنِ سَعِيدٍ بْنِ اَلْقَطَّانِ، عَنْ اِبْنِ وَضَّاحٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَشْرَسُ بْنُ رَبِيعَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو ظِلَالٍ أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ فَقَالَ لَهُ: يَا أَبَا ظِلَالٍ مَتَّى أُصِبْتَ فِي بَصَرِكَ? قَالَ: لَا أَعْقِلُهُ، قَالَ: أَفَلَا أُحَدِّثُك بِمَا حَدَّثَنِي بِهِ نَبِيُّ اَللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ جِبْرِيلَ عليه السلام عَنْ رَبِّهِ أَنَّ اَللَّهَ قَالَ: يَا جِبْرِيلُ مَا ثَوَابُ عَبْدِي إِذَا أَخَذْتُ كَرِيمَتَهُ? قَالَ جِبْرِيلُ: رَبِّ لَا أَعْلَمُ إِلَّا مَا عَلَّمْتَنِي، قَالَ: يَا جِبْرِيلُ ثَوَابُ عَبْدِي إِذَا أَخَذْتُ كَرِيمَتَهُ اَلنَّظَرُ إِلَى وَجْهِي اِنْتَهَى.
14 - এবং আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ বিন আল-কাত্তান, ইবনে ওয়াদদাহ থেকে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ সাঈদ বিন আবি মারইয়াম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসাদ বিন মুসা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আশরাস বিন রাবীআহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জিলাল যে, তিনি আনাস বিন মালিকের নিকট প্রবেশ করলেন। অতঃপর তিনি তাকে বললেন: হে আবু জিলাল, আপনি কখন আপনার দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন? তিনি বললেন: আমি তা মনে করতে পারছি না। তিনি (আনাস) বললেন: আমি কি আপনাকে তা বলব না যা আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট জিবরীল (আলাইহিস সালাম) থেকে এবং তিনি তাঁর প্রতিপালকের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ বলেছেন: হে জিবরীল, আমার বান্দার পুরস্কার কী যখন আমি তার প্রিয় দুই বস্তুকে (চক্ষুদ্বয়কে) নিয়ে নিই? জিবরীল বললেন: হে আমার প্রতিপালক, আপনি আমাকে যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমি কিছুই জানি না। তিনি (আল্লাহ) বললেন: হে জিবরীল, যখন আমি আমার বান্দার প্রিয় দুই বস্তুকে নিয়ে নিই, তখন তার পুরস্কার হলো আমার মুখমণ্ডলের দিকে তাকানো। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
15 - وَحَدَّثَنِي وَهْبٌ عَنْ اِبْنِ وَضَّاحٍ قَالَ: حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ عَدِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ اَلْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَوْ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ اَلْخُدْرِيِّ، عَنْ اَلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: اِحْتَجَّ آدَمُ وَمُوسَى فَقَالَ مُوسَى يَا آدَمُ أَنْتَ أَسْكَنَك اَللَّهُ اَلْجَنَّةَ، وَنَفَخَ فِيكَ مِنْ رُوحِهِ … ثُمَّ ذَكَرَ اَلْحَدِيثَ.
১৫ - এবং ওয়াহাব আমার নিকট ইবনে ওয়াদ্দাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউসুফ ইবনে আদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুআবিয়া আমাদের নিকট আ’মাশ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা অথবা আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আদম ও মূসা বিতর্কে লিপ্ত হলেন। তখন মূসা বললেন, হে আদম! আল্লাহ আপনাকে জান্নাতে বসবাস করতে দিয়েছিলেন এবং আপনার মধ্যে তাঁর রূহ থেকে ফুঁক দিয়েছিলেন … অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
16 - وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ عَنْ أَسْلَمَ عَنْ يُونُسَ، عَنْ اِبْنِ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بنُ عِيَاضٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ اَلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا سَمِعَتْ اَلنَّبِيَّ عليه الصلاة والسلام يَقُولُ وَهُوَ سَاجِدٌ: … ثُمَّ ذَكَرَ اَلْحَدِيثَ وَفِي آخِرِهِ: أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ
১৬ - এবং আমার কাছে ইসহাক বর্ণনা করেছেন আসলাম থেকে, তিনি ইউনুস থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ ইবনে ইয়াদ, তিনি মুসা ইবনে উকবাহ থেকে, তিনি আলী ইবনে হুসাইন থেকে, তিনি নবীর (আল্লাহ তাঁর উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) স্ত্রী আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবীকে (তাঁর উপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) সিজদারত অবস্থায় বলতে শুনেছেন: ... অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন এবং তার শেষাংশে রয়েছে: আপনি তেমনই যেমন আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
17 - وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ اِبْنِ وَضَّاحٍ، عَنْ اِبْنِ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْد اللهِ بْنُ بَكْرٍ اَلسَّهْمِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ اَلْقَاسِمِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَنَّ رَسُولَ اَللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: خَلَقَ اَللَّهُ اَلْخَلْقَ، وَقَضَى اَلْقَضِيَّةَ، وَأَخَذَ مِيثَاقَ اَلنَّبِيِّينَ، وَعَرْشُهُ عَلَى اَلْمَاءِ فَأَخَذَ أَهْلَ اَلْيَمِينِ بِيَمِينِهِ، وَأَهْلَ اَلشِّمَالِ بِيَدِهِ اَلْأُخْرَى، وَكِلْتَا يَدِ اَلرَّحْمَنِ يَمِينٌ … ثُمَّ ذَكَرَ اَلْحَدِيثَ.
১৭ - এবং ইসহাক আমার নিকট আহমদ ইবনে খালিদ থেকে, তিনি ইবনে ওয়াদদাহ থেকে, তিনি ইবনে আবি শায়বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে বাকর আস-সাহমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বিশর ইবনে নুমায়র আমাদের নিকট কাসিম থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ সৃষ্টিজগৎ সৃষ্টি করেছেন এবং ফয়সালা নির্ধারণ করেছেন এবং নবীদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন, তখন তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে। অতঃপর তিনি ডানদিকের অধিকারীদেরকে তাঁর ডান হাত দ্বারা ধরলেন এবং বামদিকের অধিকারীদেরকে তাঁর অপর হাত দ্বারা ধরলেন; আর রহমানের উভয় হাতই ডান হাত ... অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
18 - وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ عَنْ أَسْلَمَ، عَنْ يُونُسَ، عَنْ اِبْنِ وَهْبٍ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو صَخْرٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ قَالَ: حَدَّثَنِي رِجَالٌ مِنْ اَلْأَنْصَارِ مَا مِنْهُمْ رَجُلٌ إِلَّا حَدَّثَنِي عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَسُولِ اَللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ خَرَجَ عَنْ بَعْضِ نِسَائِهِ، فَإِذَا حَلْقَةٌ فِي اَلْمَسْجِدِ … ثُمَّ ذَكَرَ حَدِيثًا وَفِيهِ: إِنِّي سَأَلْتُ رَبِّي أَنْ يُدْخِلَ مَعِي مِنْ أُمَّتِي مَنْ يُقِرُّ بِهِ عَيْنَي اَلْجَنَّةَ، فَأَعْطَانِي سَبْعِينَ أَلْفًا، ثُمَّ اِسْتَزَدْتُهُ فَزَادَنِي مَعَ كُلِّ أَلْفٍ سَبْعِينَ أَلْفًا، ثُمَّ اِسْتَزَدْتُهُ فَأَشَارَ إِلَيَّ بِكَفَّيْهِ هَكَذَا وَهَكَذَا" فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ حَسْبُنَا يَا رَسُولَ اَللَّهِ، فَقَالَ عُمَرُ: يَا أَبَا بَكْرٍ دَعْنَا نَدْخُلُ اَلْجَنَّةَ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ: يَا عُمَرُ وَمَا تُبْقِي (حَفْنَتَانِ) مِنْ حَفَنَاتِ اَللَّهِ، وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ اَلْقِيَامَةِ وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ
১৮ - এবং ইসহাক আসলাম থেকে, তিনি ইউনুস থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহব থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু সাখর সাফওয়ান ইবনে সুলাইম থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনসারদের একদল লোক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তাদের প্রত্যেকেই তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর জনৈক স্ত্রীর কাছ থেকে বের হলেন, তখন মসজিদে একটি বৈঠক দেখতে পেলেন … এরপর তিনি একটি হাদিস উল্লেখ করেন যাতে রয়েছে: "আমি আমার রবের কাছে প্রার্থনা করলাম যেন তিনি আমার উম্মতের মধ্য থেকে এমন লোকদের আমার সাথে দাখিল করেন যাদের দ্বারা জান্নাতে আমার চোখ জুড়িয়ে যায়। তিনি আমাকে সত্তর হাজার দান করলেন। এরপর আমি তাঁর কাছে আরও বৃদ্ধির আবেদন করলাম, তখন তিনি প্রতি হাজারের সাথে আরও সত্তর হাজার বৃদ্ধি করে দিলেন। এরপর আমি তাঁর কাছে আরও বৃদ্ধির আবেদন করলাম, তখন তিনি তাঁর দুই হাতের তালু দিয়ে এভাবে এবং এভাবে আমাকে ইশারা করলেন।" তখন আবু বকর বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের জন্য এটিই যথেষ্ট।" উমর বললেন, "হে আবু বকর, আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করতে দিন।" আবু বকর বললেন, "হে উমর, আল্লাহর অঞ্জলিগুলোর মধ্য থেকে (দুটি অঞ্জলি) আর কী বাকি রাখবে, যেখানে কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী থাকবে আল্লাহর মুষ্টিতে এবং আসমানসমূহ আল্লাহর ডান হাতে ভাঁজ করা থাকবে।"
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
19 - اِبْنُ وَهْبٍ: قَالَ: وَأَخْبَرَنِي مَسْلَمَةُ بْن عَلِيٍّ، عَنْ عَبْدِالرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ: حَدَّثَنِي رَجُلٌ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو إِدْرِيسَ الْخَوْلَانِيُّ، عَنْ اَلنَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ اَلكِلَابِيّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اَللَّهِ صلى الله عليه وسلم: مَا مِنْ قَلْبٍ إِلَّا وَهُوَ بَيْنَ أُصْبُعَيْنِ مِنْ أَصَابِعِ رَبِّكَ، فَإِذَا شَاءَ أَنْ يُقِيمَهُ أَقَامَهُ، وَإِذَا شَاءَ أَنْ يُزِيغَهُ أَزَاغَهُ
১৯ - ইবনে ওয়াহাব বলেন: এবং আমাকে মাসলামা বিন আলী সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি বলেন: আমাকে একজন ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে আবু ইদ্রিস আল-খাওলানি বর্ণনা করেছেন নাওয়াস বিন সামআন আল-কিলাবি থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: এমন কোনো অন্তর নেই যা তোমার রবের আঙ্গুলসমূহের মধ্য হতে দুটি আঙ্গুলের মাঝে অবস্থিত নয়। সুতরাং তিনি যখন সেটাকে অটল রাখতে চান, তখন অটল রাখেন; আর যখন সেটাকে বিচ্যুত করতে চান, তখন বিচ্যুত করে দেন।
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৭১)
20 - وَحَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ فَحْلُون عَنْ اَلْحُسَيْنِ بْنِ حُمَيْدٍ اَلْعَكِيّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ بُكَيْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي اَلزِّنَادِ، عَنْ اَلْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اَللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: يَتَعَاقَبُونَ فِيكُمْ مَلَائِكَةٌ بِاللَّيْلِ، وَمَلَائِكَةٌ بِالنَّهَارِ، وَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلَاةِ اَلْفَجْرِ وَصَلَاةِ اَلْعَصْرِ ثُمَّ يَعْرُجُ اَلَّذِينَ بَاتُوا فِيكُمْ فَيَسْأَلُهُمْ وَهُوَ أَعْلَمُ بِهِمْ كَيْفَ تَرَكْتُمْ عِبَادِي? فَيَقُولُونَ: تَرَكْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ وَأَتَيْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ
২০ - সাঈদ ইবনে ফাহলুন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবনে হুমাইদ আল-আক্কি থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর থেকে, তিনি মালিক থেকে, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের নিকট রাতে একদল ফেরেশতা এবং দিনে একদল ফেরেশতা পালাক্রমে আগমন করেন। তারা ফজর ও আসরের সালাতে একত্রিত হন। অতঃপর যারা তোমাদের মাঝে রাত্রিযাপন করেছিলেন তারা উপরে উঠে যান। তখন তিনি (আল্লাহ) তাদের জিজ্ঞেস করেন—অথচ তিনি তাদের সম্পর্কে সর্বাধিক পরিজ্ঞাত—‘তোমরা আমার বান্দাদের কোন অবস্থায় ছেড়ে এসেছ?’ তারা বলেন, ‘আমরা যখন তাদের ছেড়ে এসেছি তখন তারা সালাত আদায় করছিলেন এবং যখন আমরা তাদের নিকট গিয়েছিলাম তখনও তারা সালাত আদায় করছিলেন।’
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৭২)
21 - وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ عَنْ أَسْلَمَ، عَنْ يُونُسَ، عَنْ اِبْنِ وَهْبٍ قَالَ: حَدَّثَنِي اَلْحَارِثُ بْنُ نَبْهَانَ، عَنْ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ أَبِي مُوسَى اَلْأَشْعَرِيِّ، قَالَ: كُنَّا فِي مَسِيرٍ مَعَ اَلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا أَهْبَطَ اَلنَّاسُ كَبَّرُوا، وَإِذَا عَلَوْا كَبَّرُوا، فَقَالَ رَسُولُ اَللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَيُّهَا اَلنَّاسُ ارْبَعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ، إِنَّكُمْ لَا تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلَا غَائِبًا
২১ - ইসহাক আসলাম থেকে, তিনি ইউনুস থেকে এবং তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হারিস বিন নাবহান আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি থেকে, তিনি আবু উসমান আন-নাহদি থেকে এবং তিনি আবু মুসা আল-আশআরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক সফরে ছিলাম। যখন লোকেরা নিচে অবতরণ করত তখন তারা তাকবির ধ্বনি দিত এবং যখন তারা উপরে উঠত তখন তারা তাকবির ধ্বনি দিত। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে লোকসকল! তোমরা নিজেদের প্রতি সদয় হও; নিশ্চয় তোমরা কোনো বধির কিংবা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছ না।
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
22 - وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ، عَنْ أَحْمَدَ، عَنْ اِبْنِ وَضَّاحٍ، عَنْ اِبْنِ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي حَيَّانَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اَللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا بَارِزًا لِلنَّاسِ فَأَتَى رَجُلٌ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اَللَّهِ مَا اَلْإِيمَانُ? … ثُمَّ ذَكَرَ اَلْحَدِيثَ وَفِيهِ: قَالَ: يَا رَسُولَ اَللَّهِ مَا اَلْإِحْسَانُ? قَالَ: أَنْ تَعْبُدَ اَللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنَّك إِنْ لَا تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ
২২ - এবং ইসহাক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ থেকে, তিনি ইবনে ওয়াদদাহ থেকে, তিনি ইবনে আবি শায়বাহ থেকে, তিনি বলেন: ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাইয়্যান থেকে, তিনি আবু জুরআহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন জনসমক্ষে উপবিষ্ট ছিলেন, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, ঈমান কী? ... এরপর তিনি হাদীসটি বর্ণনা করেন এবং তাতে রয়েছে: তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, ইহসান কী? তিনি বললেন: তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন।
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
23 - اِبْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ قَالَا: حَدَّثَنَا عُبِيْدُ الله، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ اِبْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اَللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ اَلْمَسِيحَ بَيْنَ ظَهْرَانَي اَلنَّاسِ فَقَالَ: إِنَّ اَللَّهَ لَيْسَ بِأَعْوَرَ، وَإِنَّ اَلْمَسِيحَ اَلدَّجَّالَ أَعْوَرُ (اَلْعَيْنِ) اَلْيُمْنَى، كَأَنَّ عَيْنَهُ عِنَبَةٌ طَافِيَةٌ
24 - وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ، عَنْ أَسْلَمَ، عَنْ يُونُسَ، عَنْ اِبْنِ وَهْبٍ قَالَ: حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ حُسَيْنٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي اَلرِّجَالِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ أَنَّ جِبْرِيلَ قَالَ لِرَسُولِ اَللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَلَّا أُعَلِّمُكَ دُعَاءً
… ثُمَّ ذَكَرَ اَلدُّعَاءَ وَفِي أَوَّلِهِ: يَا نُورَ اَلسَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ
قَالَ مُحَمَّدٌ: فَهَذِهِ صِفَاتُ رَبِّنَا اَلَّتِي وَصَفَ بِهَا نَفْسَهُ فِي كِتَابِهِ، وَوَصَفَهُ بِهَا نَبِيُّهُ صلى الله عليه وسلم، وَلَيْسَ فِي شَيْءٍ مِنْهَا تَحْدِيدٌ وَلَا تَشْبِيهٌ وَلَا تَقْدِيرٌ فَسُبْحَانَ مَنْ لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ اَلسَّمِيعُ اَلْبَصِيرُ. لَمْ تَرَهُ اَلْعُيُونُ فَتَحُدُّهُ كَيْفَ هُوَ كَيْنُونِيَّتُهُ، لَكِنْ رَأَتْهُ اَلْقُلُوبُ فِي حَقَائِقِ اَلْإِيمَانِ بِهِ.
২৩ - ইবনে আবি শাইবাহ বলেছেন: আমাদের নিকট আবু উসামাহ ও মুহাম্মদ ইবনে বিশর বর্ণনা করেছেন, তারা বলেন: আমাদের নিকট উবাইদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, নাফি' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষের উপস্থিতিতে মাসীহ সম্পর্কে আলোচনা করলেন এবং বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ কানা নন, আর মাসীহ দাজ্জাল ডান চোখের দিক থেকে কানা, যেন তার চোখটি একটি ভেসে থাকা আঙ্গুর ফলের মতো।"
২৪ - এবং আমার নিকট ইসহাক বর্ণনা করেছেন, আসলাম থেকে, ইউনুস থেকে, ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি বলেছেন: আমার নিকট মূসা ইবনে হুসাইন বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে আবি আর-রিজাল থেকে, তিনি মূসা ইবনে উকবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জিবরাঈল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেন: "আমি কি আপনাকে এমন একটি দুআ শিখিয়ে দেব না...?" অতঃপর তিনি দুআটি উল্লেখ করলেন যার শুরুতে ছিল: "হে আসমান ও জমিনের নূর।"
মুহাম্মদ বলেছেন: এগুলি আমাদের রবের সেই গুণাবলী যা দিয়ে তিনি স্বয়ং নিজের কিতাবে নিজের বর্ণনা দিয়েছেন এবং তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-ও তাঁর বর্ণনা দিয়েছেন। এর কোনোকিছুর মধ্যেই কোনো সীমাবদ্ধতা আরোপ, কোনো তুলনা কিংবা ধরণ নির্ধারণ নেই। সুতরাং সুমহান সেই সত্তা যার সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। চর্মচক্ষু তাঁকে দেখতে পায় না যে তাঁর অস্তিত্বের ধরণ কেমন সেই সীমাবদ্ধতা আরোপ করবে, তবে অন্তরসমূহ তাঁর প্রতি ঈমানের হাকীকতের মাধ্যমে তাঁকে প্রত্যক্ষ করেছে।
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
25 - وَقَدْ حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ بْنِ لُبَابَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَد اَلْعتْبِي، عَنْ عِيسَى بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عبد الرحمن بْنِ اَلْقَاسِمِ أَنَّهُ قَالَ: لَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ أَنْ يَصِفَ اَللَّهَ إِلَّا بِمَا وَصَفَ بِهِ نَفْسَهُ فِي اَلْقُرْآنِ، وَلَا يُشَبِّهُ يَدَيْهِ بِشَيْءٍ، وَلَا وَجْهَهُ بِشَيْءٍ، وَلَكِنْ يَقُولُ: لَهُ يَدَانِ كَمَا وَصَفَ نَفْسَهُ فِي اَلْقُرْآنِ، وَلَهُ وَجْهٌ كَمَا وَصَفَ نَفْسَهُ، يَقِفُ عِنْدَمَا وَصَفَ بِهِ نَفْسَهُ فِي اَلْكِتَابِ، فَإِنَّهُ تبارك وتعالى لَا مِثْلَ لَهُ وَلَا شَبِيهَ وَلَكِنْ هُوَ اَللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ كَمَا وَصَفَ نَفْسَهُ، وَيَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ كَمَا وَصَفَهَا: وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ اَلْقِيَامَةِ وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِكَمَا وَصَفَ نَفْسَهُ قَالَ: وَكَانَ مَالِكٌ يُعَظِّمُ أَنْ يُحَدِّثَ أَحَدٌ بِهَذِهِ اَلْأَحَادِيثِ اَلَّتِي فِيهَا: أَنَّ اَللَّهَ خَلَقَ آدَمَ عَلَى صُورَتِهِ وَضَعَّفَهَا.
২৫ - ইসহাক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে লুবাবাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-উতবি থেকে, তিনি ঈসা ইবনে দিনার থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আল-কাসিম থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: কারো জন্যই আল্লাহকে এমন কোনো বিশেষণে বিশেষিত করা উচিত নয় যা দ্বারা তিনি স্বয়ং নিজেকে কুরআনে বিশেষিত করেননি। আর তিনি আল্লাহর হাতকে কোনো কিছুর সাথে তুলনা করবেন না এবং তাঁর চেহারাকেও কোনো কিছুর সাথে তুলনা করবেন না। বরং তিনি বলবেন: আল্লাহর দুটি হাত রয়েছে যেমনটি তিনি কুরআনে নিজের বর্ণনা দিয়েছেন এবং তাঁর একটি চেহারা রয়েছে যেমনটি তিনি নিজের বর্ণনা দিয়েছেন। আল্লাহ কিতাবে নিজের যে বর্ণনা দিয়েছেন তিনি সেখানেই থেমে যাবেন। কেননা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা, তাঁর কোনো সদৃশ নেই এবং তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই; বরং তিনি আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, যেমনটি তিনি নিজের বর্ণনা দিয়েছেন। এবং আল্লাহর হাত দুটি প্রসারিত যেমনটি তিনি সেগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন: "আর কিয়ামতের দিন সমস্ত জমিন থাকবে তাঁর হাতের মুঠোয় এবং আকাশসমূহ তাঁর ডান হাতে ভাঁজ করা থাকবে," যেমনটি তিনি নিজের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন: ইমাম মালিক সেই হাদীসগুলো বর্ণনা করাকে অত্যন্ত গুরুতর (অপছন্দনীয়) মনে করতেন যাতে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ আদমকে তাঁর নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি একে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
قَالَ مُحَمَّدٌ: وَقَالَ عَزَّ مِنْ قَائِلٍ: وَلِلَّهِ اَلْأَسْمَاءُ اَلْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَاوَفِي اَلْحَدِيثِ عَنْ رَسُولِ اَللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ لِلَّهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اِسْمًا
… ثُمَّ ذَكَرَهَا كُلَّهَا.
فَأَسْمَاءُ رَبِّنَا وَصِفَاتُهُ قَائِمَةٌ فِي اَلتَّنْزِيلِ، مَحْفُوظَةٌ عَنْ اَلرَّسُولِ، وَهِيَ كُلُّهَا غَيْرُ مَخْلُوقَةٍ، وَلَا مُسْتَحْدَثَةٍ، فَتَعَالَى اَللَّهُ عَمَّا يَقُولُ اَلْمُلْحِدُونَ عُلُوًّا كَبِيرًا.
মুহাম্মাদ বলেছেন: এবং তিনি মহান বক্তা হিসেবে বলেছেন: “আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেগুলোর মাধ্যমেই ডাকো।” আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে: “নিশ্চয় আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে
… অতঃপর তিনি তার সবগুলো উল্লেখ করেছেন।
সুতরাং আমাদের রবের নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলি নাযিলকৃত বাণীতে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং রাসূল থেকে সংরক্ষিত। আর তার সবগুলোই অসৃষ্ট এবং নবউদ্ভূত নয়। অতএব পথভ্রষ্টরা যা বলে আল্লাহ তা থেকে অতি উচ্চ ও সুমহান।
(খণ্ড: ১)
উসুলুস সুন্নাহ লি-ইবনি আবী যামানীন
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
26 -ٍ وَحَدَّثَنِي أَبِي عَنْ عَلِيِّ بْنِ اَلْحُسَيْنِ، عَنْ أَبِي دَاوُدَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَلَامٍ قَالَ: حَدَّثَنِي خِدَاشٌ، عَنْ عَوْفٍ، عَنْ اَلْحَسَنِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اَللَّهِ صلى الله عليه وسلم: لَا تُفَكِّرُوا فِي اَللَّهِ وَتَفَكَّرُوا فِيمَا خَلَقَ
২৬ - এবং আমার পিতা আমাকে আলী ইবনুল হুসাইন থেকে, তিনি আবু দাউদ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সালাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: খিদাশ আমার কাছে আউফ থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে চিন্তা করো না, বরং তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তা নিয়ে চিন্তা করো।