(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: -)
عجالة المبتدي وفضالة المنتهي في النسب   (الحازمي)

القسم: الأنساب


الكتاب: عجالة المبتدي وفضالة المنتهي في النسب

المؤلف: أبو بكر محمد بن موسى بن عثمان الحازمي الهمداني، زين الدين (ت 584هـ)

حققه وعلق عليه وفهرس له: عبد الله كنون

الناشر: الهيئة العامة لشؤون المطابع الأميرية، القاهرة

الطبعة: الثانية، 1393 هـ - 1973 م

عدد الصفحات: 127

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 7 صفر 1434

বংশবিদ্যার ক্ষেত্রে নবিশের পাথেয় এবং অভিজ্ঞের সম্বল   (আল-হাযিমী)

বিভাগ: বংশবিদ্যা


বই: বংশবিদ্যার ক্ষেত্রে নবিশের পাথেয় এবং অভিজ্ঞের সম্বল

লেখক: আবু বকর মুহাম্মদ বিন মূসা বিন উসমান আল-হাযিমী আল-হামদানী, যাইনুদ্দীন (মৃত্যু ৫৮৪ হিজরী)

সম্পাদনা, টীকা ও নির্ঘণ্ট প্রণয়ন: আব্দুল্লাহ কানুন

প্রকাশক: হাইআতুল আম্মাহ লি-শুউনিল মাতাবিউল আমিরিয়্যাহ (সরকারি মুদ্রণালয় বিষয়ক সাধারণ কর্তৃপক্ষ), কায়রো

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৯৩ হিজরী - ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৭

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৭ সফর ১৪৩৪

(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

أخبرنا الشيخ الفقيه العالم المُقرئ أبو الحسن عليٌّ بن أبي الفتح المبارك بن الحسن بن أحمد بن ماسويه الواسطي بقراءتي عليه بجامع دمشق عمَّره الله بذكره، قلت له: أخبركم الشيخ الإمام العالم الحافظ أبو بكر محمَّد بن أبي عثمان بن موسى الحازمي قراءة عليه وأنت تسمع في مجالس آخرها الثَّالث عشر من ذي الحجَّة سنة ثلاثٍ وثمانين وخمسمائة قال:

الحمد لله بارئ النَّسيم، وخالق الأنوار والظُّلَم، ومُوجِد الأشياء من العدم، الذي أبرم فأحكم، وأجزل فأنعم، وعلَّم الإنسان ما لم يعلم، وصلَّى الله على النبيِّ المبعوث بالدِّين الأقوم، وعلى آله وصحبه ذوى السَّبق الأقدم.

أمَّا بعد، وفَّقك الله وإيَّانا للوصول إلى ماهيَّة الأشياء والاطِّلاع على خفايا العلوم، إن الطَّالب للحديث الذي هو منبع الأحكام، وعليه تبنى دعائم الإسلام، يفتقر إلى معرفة علم الحديث إذ هو آلته، وبه يمكن تصحيحه وتثبيته.

ثمَّ علم الحديث يشتمل على أنواع كثيرة تقرب من مائة نوع، ذكر منها طائفة أبو عبد الله الحافظ رحمة الله عليه في معرفة أصول الحديث وكل نوع منها علم مستقل لو أنفد الطالب فيه عُمُرَه لما أدرك نهايته. ولكن المبتدئ يحتاج أن يستطرف من كل نوع، لأنها أصول الحديث، ومتى جهل الطالب الأصول، تعذَّر عليه طريق الوصول.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

শেখ, ফকিহ, আলিম, ক্বারি আবুল হাসান আলী ইবনে আবিল ফাতহ আল-মুবারক ইবনুল হাসান ইবনে আহমদ ইবনে মাসওয়াই আল-ওয়াসিতি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—আমি দামেস্কের জামে মসজিদে তাঁর নিকট পাঠকালে (আল্লাহ জিকিরের মাধ্যমে একে আবাদ রাখুন)—আমি তাঁকে বললাম: শেখ, ইমাম, আলিম, হাফিজ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আবি উসমান ইবনে মুসা আল-হাজিমি কি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন এমতাবস্থায় যে আপনি শ্রবণ করছিলেন এবং তাঁর নিকট পাঠ করা হচ্ছিল এমন মজলিসসমূহে যার সর্বশেষটি ছিল ৫৮৩ হিজরি সালের ১৩ই জিলহজ? তিনি বললেন:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বায়ুপ্রবাহের স্রষ্টা, আলো ও অন্ধকারের সৃষ্টিকর্তা এবং অনস্তিত্ব থেকে সকল বস্তুর উদ্ভাবক; যিনি যা নির্ধারণ করেছেন তা সুদৃঢ় করেছেন, প্রচুর দান করেছেন ও অনুগ্রহ করেছেন এবং মানুষকে তা শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক সেই নবীর ওপর যিনি সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনসহ প্রেরিত হয়েছেন এবং তাঁর পরিবার ও সেইসব সাহাবীগণের ওপর যারা প্রাচীনকাল থেকেই অগ্রগামী হওয়ার মর্যাদার অধিকারী।

অতঃপর, আল্লাহ আপনাকে এবং আমাদের বস্তুর হাকিকত বা স্বরূপ উপলব্ধি এবং ইলমের নিগূঢ় রহস্যসমূহ অবগত হওয়ার তৌফিক দান করুন। নিশ্চয়ই হাদিসের অন্বেষণকারী—যা হচ্ছে আহকাম বা বিধানের উৎস এবং যার ওপর ইসলামের স্তম্ভসমূহ প্রতিষ্ঠিত—তার জন্য ইলমে হাদিসের জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য। কেননা এটিই হচ্ছে এর হাতিয়ার, আর এর মাধ্যমেই হাদিসকে বিশুদ্ধ করা এবং সুদৃঢ়ভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়।

তদুপরি ইলমে হাদিস বহু প্রকারের ওপর বিন্যস্ত যা প্রায় একশ প্রকারের কাছাকাছি। আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) 'উসুলুল হাদিস' সংক্রান্ত আলোচনায় এর মধ্য হতে একটি অংশ উল্লেখ করেছেন। এর প্রতিটি প্রকারই এক একটি স্বতন্ত্র ইলম; যদি কোনো শিক্ষার্থী এতে তার পুরো জীবনও ব্যয় করে দেয়, তবুও সে এর শেষ সীমানায় পৌঁছাতে পারবে না। তবে একজন শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিটি প্রকার থেকে সারসংক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন, কারণ এগুলোই হাদিসের মূলনীতি। আর শিক্ষার্থী যখন মূলনীতি সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে, তখন তার জন্য গন্তব্যে পৌঁছানোর পথ দুর্গম হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ৪)
ومن أصول الحديث معرفة الأنساب، وأهمها معرفة أنساب العرب، فإنها تنتسب إلى القبائل، وهي تفانت، وطريق إدراك معرفتها النَّقل.

وأما العجم فإنها لا تكاد تنتسب إلى أب قديم إلَاّ نادراً، وأكثر انتسابها إلى الأمكنة والصّنائع. أمّا الأمكنة فأكثرها مشهورة مدركة بالأخبار المتواترة، غير مفتقرة إلى

تجشُّم بحثٍ وتكلُّف سَبْر، إلَاّ أمكنة يسيرة تحتاج إلى استكشاف، إما لبعدها عن حوزة الإسلام وإمّا لبعدها عن حوزة الإسلام وإما لخمول ذكرها نحو القرى والجبال والأودية. وهذه وإن كانت مفتقرة إلى البحث عنها لخفائها فلا تلحق القبائل في غموضها، فإنها ربما لا تكون مشهورة في غير صُقعها وهي في أصقاعها. وأما القبائل فإنها مفتقرة إلى البحث التَّامّ فإن أكثرها أودت، ومن بقي من نسلها ربَّما تعذَّر عليه التمييز بين آبائه فضلاً عن آباء غيره لقلَّة اكتراثه بضبط أنسابه، فرُبَّ رجل يزعم أنه عدوىّ، فلو قيل من أي عدىّ لاستصعب عليه علم ذلك. وأمل الصنائع فهي مشهورة شائعة لاشتراكها بين العرب والعجم. وإنَّما ذكرت هذا الفصل ليعلم المبتدئ قدر مأخذ هذا العِلْم.

وقد ألَّف جماعة من الأخباريِّين تواليف جمَّة في هذا العلم وأطنبوا فيها، وذكروا ما يلزم الحديثيّ معرفته وما لا يلزمه، ولو تتبَّع كتبهم لفلت وقته والوقت عزيز.

فجمعت في هذا الكتاب، بعد ذكر مقدمة لا بدَّ منها في معرفة اصطلاح النُّسَّاب، الأنساب المتداولة بين أهل الحديث، ورتَّبتها على حروف المعجم. وربَّما أذكر من كل قبيلة نسباً مُتّصلاً أو رجلا أو رجلين تنبيها للمبتدئ، ولم أذكر من الاختلاف والاشتقاق إلَاّ اليسير، والله مسهِّل العسير.
হাদিসের অন্যতম মূলনীতি হলো বংশপরিচয় সম্পর্কিত জ্ঞান, আর এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আরবদের বংশধারা সম্পর্কে জানা। কারণ তারা গোত্রসমূহের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়, যা বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং এই জ্ঞান অর্জনের পথ হলো শ্রুতিপরম্পরা।

আর অনারবদের অবস্থা হলো এই যে, তারা খুব কমই প্রাচীন কোনো পিতৃপুরুষের সাথে নিজেদের সম্বন্ধ যুক্ত করে, বরং তাদের অধিকাংশ সম্বন্ধ হয়ে থাকে স্থান ও পেশার ভিত্তিতে। স্থানের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, এর অধিকাংশই সুপ্রসিদ্ধ এবং যা মুতাওয়াতির বা বহুপ্রসিদ্ধ সংবাদ দ্বারা জানা যায়। এ ক্ষেত্রে কোনো গভীর গবেষণা বা ক্লান্তিকর অনুসন্ধানের প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয় না, কেবল সামান্য কিছু স্থান ব্যতীত যা উদ্ঘাটন করার প্রয়োজন পড়ে; হয়তো ইসলামের সীমানা থেকে দূরবর্তী হওয়ার কারণে অথবা ইসলামের সীমানা থেকে দূরবর্তী হওয়ার কারণে অথবা সেগুলোর আলোচনা কম থাকার কারণে, যেমন গ্রাম, পাহাড় ও উপত্যকাসমূহ। আর এগুলো অস্পষ্ট হওয়ার কারণে যদিও অনুসন্ধানের প্রয়োজন হয়, তবুও জটিলতার দিক থেকে এগুলো গোত্রসমূহের সমপর্যায়ের নয়। কারণ সম্ভবত সেগুলো নিজ অঞ্চল ব্যতীত অন্য কোথাও প্রসিদ্ধ নয়, অথচ নিজ অঞ্চলেই তা সুপরিচিত। কিন্তু গোত্রগুলোর ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে, কেননা তাদের অধিকাংশই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আর তাদের বংশধরদের মধ্যে যারা অবশিষ্ট আছে, বংশধারা সংরক্ষণে উদাসীনতার কারণে তাদের পক্ষে হয়তো নিজ পিতৃপুরুষদের মধ্যে পার্থক্য করাই দুষ্কর হয়ে পড়ে, অন্যদের পিতৃপুরুষদের কথা তো বলাই বাহুল্য। ফলে অনেক সময় দেখা যায়, কোনো ব্যক্তি নিজেকে আদাবী বলে দাবি করে, কিন্তু যদি তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে কোন আদী থেকে, তবে তার পক্ষে তা বলা কঠিন হয়ে যায়। আর পেশাসমূহ সুপ্রসিদ্ধ ও প্রচলিত, কারণ আরব ও অনারবদের মধ্যে তা সাধারণ বা অভিন্ন। আমি এই পরিচ্ছেদটি কেবল এজন্যই উল্লেখ করেছি যাতে একজন শিক্ষানবিশ এই বিদ্যার উৎসের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে।

ঐতিহাসিকদের এক বড় দল এই বিদ্যায় অসংখ্য কিতাব রচনা করেছেন এবং তাতে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তারা সেখানে একজন হাদিস বিশারদের জন্য যা জানা জরুরি এবং যা জরুরি নয়—তাও উল্লেখ করেছেন। কিন্তু কেউ যদি তাদের সকল কিতাব অনুসরণ করতে যায়, তবে তার সময় ফুরিয়ে যাবে, অথচ সময় অত্যন্ত মূল্যবান।

তাই আমি এই কিতাবে বংশবিদদের পরিভাষা সম্পর্কে একটি অপরিহার্য ভূমিকা উল্লেখ করার পর হাদিস বিশারদদের মাঝে প্রচলিত বংশধারাগুলো সংকলিত করেছি এবং সেগুলোকে বর্ণানুক্রমে বিন্যস্ত করেছি। আমি হয়তো প্রতিটি গোত্র থেকে একজন বা দুইজন ব্যক্তির কথা অথবা কোনো নিরবচ্ছিন্ন বংশধারা উল্লেখ করব যাতে শিক্ষানবিশ বিষয়টি বুঝতে পারে। আর আমি মতভেদ ও শব্দতত্ত্ব সম্পর্কে সামান্যই উল্লেখ করেছি। আল্লাহ কঠিন কাজকে সহজকারী।
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ৫)
أمَّا ذكر المقدِّمة فاعلم وفقك الله أنَّ في العرب أرحاءً وجماجم وشعوبا وقبائل، أمَّا الأرحاء من العرب فستّ، والجماجم تسع، وسائر العرب قبائل وعمائر ليست بأرحاء ولا جماجم.

فأما الأرحاء من ربيعة: فبكر بن وائل، وعبد القيس؛ ومن مضر تميم، وأسد، ومن اليمن كلبٌ وطّيء. وإنَّما سمِّيت أرحاء لفضل قوَّتها وعددها على سائر العرب، ولأنها حمت دوراً مياهاً ومرابع لم يكن للعرب مثلها فدارت في دورها دور الرَّحى على أقطابها، لا تفارق دورها طلباً للنَّجعة وإنما تردَّدُ فيها كدور

الرَّحى، ولم يكن لقيس رحىً لضيق دارها.

وأمَّا الجماجم فاثنتان في ربيعة، وأربع في مضر، وثلاث في اليمن.

فجماجم مضر: غطفان بن سعد قيس عيلان، وهوازن بن منصور بن عكرمة بن خصفة بن قيس عيلان، وتميم بن مرّ بن أُد بن طابخة بن إلياس بن مضر، وكنانة بن مدركة بن خزيمة بن إلياس بن مضر.

وجماجم ربيعة: بكر بن وائل بن قاسط بن هنب بن أفصي بن دعميّ بن جديلة ابن أسد بن ربيعة، وعبد القيس بن أفصى بن دعميّ.

وجماجم اليمن: مذحج واسمه مالك بن أُدد بن زيد بن يشجب بن عريب بن زيد بن كهلان بن سبأ، والأزد بن الغوث بن نبت بن مالك بن أُدد بن زيد بن
ভূমিকা বর্ণনার ক্ষেত্রে, আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন, জেনে রাখুন যে আরবদের মধ্যে ‘আরহা’ (জাঁতাকল সদৃশ শক্তিশালী গোষ্ঠী), ‘জামাজিম’ (শিরোমণি গোত্র), ‘শুউব’ (বৃহৎ জাতি) এবং ‘কাবাইল’ (উপজাতি) রয়েছে। আরবদের মধ্যে ‘আরহা’ হলো ছয়টি, আর ‘জামাজিম’ হলো নয়টি। অবশিষ্ট আরবরা হলো বিভিন্ন উপজাতি ও শাখা-গোত্র যারা ‘আরহা’ কিংবা ‘জামাজিম’ কোনোটির অন্তর্ভুক্ত নয়।

রাবি‘আহ গোত্রের ‘আরহা’সমূহ হলো: বাকর বিন ওয়ায়িল এবং আবদ আল-কায়স; মুদার গোত্র থেকে তামীম এবং আসাদ; আর ইয়েমেন থেকে কালব এবং তাইয়ি। এদের ‘আরহা’ (জাঁতাকল) নামকরণ করা হয়েছে অন্যান্য আরবদের তুলনায় তাদের অধিক শক্তি ও সংখ্যার কারণে, এবং যেহেতু তারা এমন বসতি, জলাশয় ও চারণভূমি রক্ষা করত যার নজির আরবদের মাঝে ছিল না। ফলে তারা তাদের বসভূমিতে এমনভাবে আবর্তিত হতো যেমন জাঁতাকল তার অক্ষের ওপর ঘোরে। তারা জীবনোপকরণের সন্ধানে নিজেদের আবাসভূমি ত্যাগ করত না, বরং সেখানে আবর্তিত হতো যেমন

জাঁতাকল ঘোরে। বসতির সংকীর্ণতার কারণে কায়স গোত্রের কোনো ‘আরহা’ ছিল না।

আর ‘জামাজিম’ হলো রাবি‘আহ গোত্রে দুটি, মুদারে চারটি এবং ইয়েমেনে তিনটি।

মুদারের জামাজিমসমূহ হলো: গাতফান বিন সাদ কায়স আয়লান, হাওয়াযিন বিন মানসুর বিন ইকরিমাহ বিন খাসাফাহ বিন কায়স আয়লান, তামীম বিন মুর বিন উদ্দ বিন তাবিখাহ বিন ইলিয়াস বিন মুদার, এবং কিনানাহ বিন মুদ্রিকাহ বিন খুযায়মাহ বিন ইলিয়াস বিন মুদার।

রাবি‘আহর জামাজিমসমূহ হলো: বাকর বিন ওয়ায়িল বিন কাসিত বিন হানব বিন আফসা বিন দামি বিন জাদিলাহ ইবনে আসাদ বিন রাবি‘আহ, এবং আবদ আল-কায়স বিন আফসা বিন দামি।

ইয়েমেনের জামাজিমসমূহ হলো: মাজহিজ—যার নাম মালিক বিন উদাদ বিন যায়েদ বিন ইয়াশজুব বিন আরীব বিন যায়েদ বিন কাহলান বিন সাবা, এবং আল-আযদ বিন আল-গাওস বিন নাবত বিন মালিক বিন উদাদ বিন যায়েদ বিন...
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ৬)
كهلان بن سبأ بن يشجب بن يعرب بن قحطان، وأسمه يقطن بن عابر بن شالخ بن أرفخشد بن سام بن نوح، وقضاعة بن مالك بن حمير بن سبأ.

وكانت بكر بن وائل تعدل في الجاهلية بتميم بن مرّ فسُمِّيتا الجُفَّين. وتغلب ابن وائل تعدل بالأزد وهما الكرشان؛ وطيء بن أُدد بن زيد بن يشجُب تعدل بأسد بن خزيمة بن مدركة بن إلياس بن مضر، وهما الحليفان. ومذحج تعدل بقُضاعة. وكنانةُ بن خزيمة تعدل بهوازن بن منصور. وبكر بن وائل تعدل بكندة بن عفير بن الحارث بن مُرَّة بن أُدد. وتغلب ابن وائل تعدل أيضا بضبَّة بن أُدّ، وتُعْدَلُ أيضاً بتميم عدداً.

ثمَّ العرب شعوبٌ وقبائلٌ، والعجم شعوبٌ لا غير، لأنا ذكرنا أنها لا تنتسب إلى آبائها. فأول العرب شعوب ثم قبائل ثم عمائرٌ ثم بطونٌ ثم أفخاذٌ ثم فصائل ثم عشائر. فالشعوب تجمع العمائر، والعمائر تجمع البطون، والبطون تجمع الأفخاذ، والبطون تجمع الأفخاذ، والأفخاذ تجمع الفصائل، والفصائل تجمع العشائر. مثلاً أولاد المنصور
কাহলান ইবনে সাবা ইবনে ইয়াশজুব ইবনে ইয়ারুব ইবনে কাহতান, আর তাঁর নাম ইয়াকতান ইবনে আবির ইবনে শালিহ ইবনে আরফাখশাদ ইবনে সাম ইবনে নূহ, এবং কুযাআ ইবনে মালিক ইবনে হিমইয়ার ইবনে সাবা।

জাহেলিয়াত যুগে বকর ইবনে ওয়ায়িলকে তামীম ইবনে মুররের সমকক্ষ মনে করা হতো, তাই তাদের উভয়কে 'আল-জুফফাইন' বলা হতো। তাগলিব ইবনে ওয়ায়িলকে আজদ গোত্রের সমান মনে করা হতো এবং তারা উভয় ছিল 'আল-কিরশান'; তয় ইবনে উদাদ ইবনে যায়েদ ইবনে ইয়াশজুব আসাদ ইবনে খুযাইমা ইবনে মুদরিকা ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদারের সমপর্যায়ের ছিল এবং তারা উভয়ই ছিল 'আল-হালীফাইন' (দুই মিত্র)। আর মাযহিজকে কুযাআর সমান গণ্য করা হতো। কিনানা ইবনে খুযাইমা ছিল হাওয়াযিন ইবনে মানসুরের সমান। বকর ইবনে ওয়ায়িল কিন্দা ইবনে উফায়র ইবনে আল-হারিস ইবনে মুররা ইবনে উদাদের সমান ছিল। তাগলিব ইবনে ওয়ায়িল দাব্বা ইবনে উদ্দ-এরও সমান ছিল এবং সংখ্যার দিক থেকে তামীম গোত্রেরও সমান ছিল।

অতঃপর আরবরা হলো শুউব (বৃহত্তর জাতি) এবং কাবায়িল (গোত্র), আর অনারবরা কেবল শুউব, কারণ আমরা উল্লেখ করেছি যে তারা তাদের পিতৃপুরুষের দিকে বংশীয় সম্বন্ধ রক্ষা করে না। আরবদের স্তরের বিন্যাস হলো—প্রথমে শুউব, তারপর কাবায়িল, তারপর আমাইর, তারপর বুতুন, তারপর আফখায, তারপর ফাসায়িল এবং সবশেষে আশায়ির। শুউব আমাইরসমূহকে একত্রিত করে, আমাইর বুতুনসমূহকে একত্রিত করে, বুতুন আফখাযসমূহকে একত্রিত করে, বুতুন আফখাযসমূহকে একত্রিত করে, আফখায ফাসায়িলসমূহকে একত্রিত করে এবং ফাসায়িল আশায়িরসমূহকে একত্রিত করে। উদাহরণস্বরূপ আল-মানসুরের সন্তানগণ
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ৭)
عشيرةٌ، وبنو العباس فصيلةٌ، وبنو هاشم بن عبد مناف فخذٌ،

وقصيٌّ بنُ كلاب بطنٌ، وقريشٌ عمارةٌ، وكنانة قبيلةٌ، ومضر شعبٌ.

وقيل إنما فصِّل هذا التفصيل تشبيهاً بالإنسان. فالشَّعبُ من شُعب الرأس ومنه لتَشَعَّب القبائل، والقبائل مأخوذة من قبائل الرَّأس وهي الأطباق واحدها قبيلةٌ؛ والقبيل غير القبيلة، قال الأزهريّ: القبيل: الجماعة ليسوا من أبٍ واحد وجمعه قُبُل، فإذا كانوا من أب واحد فهم قبيلة. ثم عمائر الصَّدر، وفيه القلب؛ ثم البطون كالبطن الذي استبطن الكبد والرِّئة والطِّحال والأمعاء، فصار مسكناً لها؛ ثم الأفخاذ كالفخذ أسفل البطن؛ ثم الفصائل كالرُّكبة لأنها انفصلت من الفخذ؛ ثم العشيرة كالسَّاقين والقدمين في أنها تحمل ما فوقها بالحبِّ وحسن المعاشرة ولا يثقل حملها عليها.

ويقال إنما سمِّيت العرب الشُّعوب لأنهم حين تفرقوا من إسماعيل وقحطان صاروا شعوبا، قال فيهم الشاعر:

فبَادُوا بعد إمَّتِهم وصَارُوا … شُعُوباً شُعِّبتْ من بَعْد عَاد

ثم القبائل، حين تقابلوا ونظر بعضهم إلى بعض في حلة واحدة وكانوا كقبائل الرأس، ثم العمائر حين عمروا الأرض وسكنوها، ويقال إنَّ اسم كل واحد منهم عامر، ثم البطون حين استبطنوا الأودية ونزلوها وبنوا البيوت بالشعر ودعموها فقالت العرب: بيت فلان، وبقي من آل فلان بيتان، وهم أهل الأبيات والبيوتات، ثم الأفخاذ، والفخذ أصغر من البطن، ثم الفصائل وهم الأحياء حين انفصلوا من الأفخاذ، قال تعالى:
আশিরাহ, আর বনু আব্বাস হলো ফাসিলাহ, আর বনু হাশিম ইবনে আবদে মানাফ হলো ফখায, এবং কুসাই ইবনে কিলাব হলো বাতন, আর কুরাইশ হলো ইমারাহ, এবং কিনানাহ হলো কাবিলাহ এবং মুদার হলো শু'ব।

বলা হয়েছে যে, মানুষের সাথে সাদৃশ্য রেখেই এই বিস্তারিত বিন্যাস করা হয়েছে। শু'ব (জনগোষ্ঠী) শব্দটি মাথার খুলির শাখা (শু'আব) থেকে এসেছে এবং তা থেকেই গোত্রসমূহ শাখায়িত হয়েছে। আর কাবিলাহ শব্দটি মাথার খুলির জোড়াসমূহ থেকে নেওয়া হয়েছে যা মূলত খুলির হাড়ের স্তরসমূহ, এর একবচন হলো কাবিলাহ। কাবিল এবং কাবিলাহ এক নয়; আল-আজহারি বলেছেন: 'কাবিল' হলো এমন একদল লোক যারা এক পিতার বংশধর নয় এবং এর বহুবচন হলো 'কুবুল'। পক্ষান্তরে যদি তারা একই পিতার সন্তান হয় তবে তারা হলো 'কাবিলাহ'। এরপর হলো বুক বা বক্ষদেশ (ইমারাহ), যার মধ্যে হৃদয় থাকে। এরপর হলো পেট বা উদরসমূহ (বুতুন), যেমন সেই পেট যা কলিজা, ফুসফুস, প্লীহা এবং অন্ত্রসমূহকে নিজের ভেতরে ধারণ করে এবং সেগুলোর আবাসে পরিণত হয়। এরপর হলো উরুসমূহ (আফখায), যেমন পেটের নিচের অংশ উরু। এরপর হলো উপশাখা বা বিচ্ছেদসমূহ (ফাসাইল), যেমন হাঁটু; কারণ এটি উরু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এরপর হলো নিকটাত্মীয় (আশিরাহ), যেমন দুই নলা এবং দুই পা; এই অর্থে যে, এগুলো হৃদ্যতা ও সুন্দর সাহচর্যের মাধ্যমে নিজের উপরের অংশকে বহন করে এবং সেই ভার বহন করা তাদের জন্য কষ্টকর হয় না।

বলা হয়ে থাকে যে, আরবদের শুউব (জনগোষ্ঠীসমূহ) নামকরণ করা হয়েছে কারণ তারা যখন ইসমাইল এবং কাহতান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল তখন তারা বিভিন্ন গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছিল। কবি তাদের সম্পর্কে বলেছেন:

অতঃপর তারা তাদের নেতৃত্বের পর ধ্বংস হয়ে গেল এবং আদ জাতির পর তারা এমন সব জনগোষ্ঠীতে পরিণত হলো যারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।

এরপর হলো কাবিলাহ (বংশসমূহ), যখন তারা একে অপরের মুখোমুখি হলো এবং একই এলাকায় একে অপরকে দেখল এবং তারা মাথার খুলির হাড়ের স্তরের মতো ছিল। এরপর হলো ইমারাহ (আবাদ), যখন তারা পৃথিবী আবাদ করল এবং সেখানে বসবাস শুরু করল। বলা হয় যে, তাদের প্রত্যেকের নাম ছিল 'আমের'। এরপর হলো বুতুন (উদর/অভ্যন্তর), যখন তারা উপত্যকার অভ্যন্তরে প্রবেশ করল এবং সেখানে বসতি স্থাপন করল এবং পশম দিয়ে ঘর নির্মাণ করে তা সুদৃঢ় করল। তখন আরবরা বলত: অমুকের ঘর, অমুকের পরিবার থেকে দুটি ঘর অবশিষ্ট আছে; তারা ঘর এবং মর্যাদাবান বংশের অধিকারী। এরপর হলো আফখায (উরুসমূহ), আর ফখায (উরু) হলো পেট অপেক্ষা ছোট। এরপর হলো ফাসাইল (উপশাখা), তারা হলো সেই সব বসতি যারা উরু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। মহান আল্লাহ বলেছেন:
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ৮)
(وفَصِيلَتِه التي تُؤوِْيه)، ثم العشائر حين انضمَّ كل بني أب إلى أبيهم دون عمِّهم فحسن تعاشرهم. فالشَّعب مثل: مضر وربيعة ابني نزار بن معدّ بن عدنان، وإياد أخيهما، وأنمار وحمير بن سبأ، وكهلان بن سبأ. ثم دون هذه شعوب تشعبت منهم مثل: قصاعة وهمدان بن مالك بن زيد، وبجيلة ابن أنمار. ثم القبائل دون الشعوب، مثل: قيس عيلان ويقال قيس بن عيلان، ويأتي

ذكر الاختلاف فيه وطابخة بن إلياس، ومدركة بن إلياس. ثم العمائر دون القبائل، مثل: كنانة بن خزبمة بن مدركة، وأسد بن خزيمة، وهذيلي بن مدركة، وتميم بن مرّ، وضبَّة بن أدّ، والرباب ومزينة، ثم البطون مثل: فهر بن مالك بن النَّضر ابن كنانة، وبكر بن عبد مناة بن كنانة. ثم الأفخاذ مثل: لؤيّ بن غالب بن فهر، وتميم الأدرم، ومحارب بن فهر. ثم الفصائل مثل قصيّ بن كلاب، وزهرة بن كلاب ومخزوم بن يقظة بن مرَّة بن كعب، وتميم بن مرّة، وجمح بن عمرو بن هصيص، وعديّ بن كعب لؤي بن غالب. ثم العشائر مثل: عبد مناف بن قصي.

وهذا مثال ذكرناه لقياس عليه سائر العرب. وهذا باب كبير، وفيه كلام كثير اقتصرنا منه على المذكور.

نذكر الآن القبائل والعمائر وغيرها مرتبة على حروف المعجم ليكون أسهل تناولا لطالبه. والله الموفِّق للصواب، وإليه المرجع والمآب.
(এবং তাঁর সেই নিকটতম পরিবার যা তাঁকে আশ্রয় দেয়), তারপর ‘আশিরা’ (গোষ্ঠী), যখন প্রত্যেক পিতার সন্তানেরা তাদের চাচার পরিবর্তে তাদের পিতার সাথে মিলিত হলো, ফলে তাদের পারস্পরিক মেলামেশা সুন্দর হলো। অতঃপর ‘শা’ব’ (মহাসম্প্রদায়) যেমন: নাযার বিন মা’আদ বিন আদনানের দুই পুত্র মুদার ও রাবিয়া, এবং তাদের ভাই ইয়াদ, এবং আনমার ও হিময়ার বিন সাবা, এবং কাহলান বিন সাবা। তারপর এর নিচে রয়েছে সেই ‘শু’উব’ (শাখা জাতিসমূহ) যা তাদের থেকে শাখা হিসেবে বের হয়েছে, যেমন: কুদাআহ ও হামদান বিন মালিক বিন যায়দ, এবং বাজিলাহ ইবনে আনমার। এরপর ‘শু’উব’-এর নিচে রয়েছে ‘কাবায়িল’ (গোত্রসমূহ), যেমন: কায়স আয়লান—যাকে কায়স বিন আয়লানও বলা হয়, এবং এতে মতভেদের উল্লেখ সামনে আসবে—এবং তাবিখাহ বিন ইলিয়াস ও মুদরিকা বিন ইলিয়াস। এরপর ‘কাবায়িল’-এর নিচে রয়েছে ‘আমারাহ’ (শাখা-গোত্রসমূহ), যেমন: কিনানাহ বিন খুযাইমাহ বিন মুদরিকা, আসাদ বিন খুযাইমাহ, হুযাইল বিন মুদরিকা, তামীম বিন মুররা, দাব্বাহ বিন উদ্দ, এবং আল-রাবাব ও মুযাইনাহ। এরপর ‘বুতুন’ (উপ-গোত্রসমূহ) যেমন: ফিহর বিন মালিক বিন আন-নাদর বিন কিনানাহ এবং বকর বিন আবদ মানাত বিন কিনানাহ। এরপর ‘আফখায’ (বংশধারা) যেমন: লুআই বিন গালিব বিন ফিহর, তামীম আল-আদরাম এবং মুহারিব বিন ফিহর। এরপর ‘ফাসায়িল’ (নিকটতম পরিবারসমূহ) যেমন: কুসাই বিন কিলাব, যুহরাহ বিন কিলাব, মাখযুম বিন ইয়াকাজাহ বিন মুররাহ বিন কা’ব, তামীম বিন মুররাহ, জুমাহ বিন আমর বিন হাসীস এবং আদি বিন কা’ব বিন লুআই বিন গালিব। এরপর ‘আশায়ির’ (গোষ্ঠীসমূহ) যেমন: আবদ মানাফ বিন কুসাই।

আর এটি একটি উদাহরণ যা আমরা উল্লেখ করেছি যাতে এর ওপর ভিত্তি করে অন্যান্য আরব গোত্রগুলোর বিন্যাস অনুমান করা যায়। এটি একটি বিশাল অধ্যায় এবং এতে অনেক আলোচনা রয়েছে, তবে আমরা কেবল যা বর্ণিত হয়েছে তাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছি।

আমরা এখন গোত্র, শাখা-গোত্র এবং অন্যান্য বিষয়গুলো বর্ণানুক্রমিকভাবে উল্লেখ করব যাতে অন্বেষণকারীর জন্য তা খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিকদাতা, এবং তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তন ও শেষ আশ্রয়স্থল।
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌باب الهمزة

الأَبُّودي بفتح الهمزة وتشديد الباء المضمومة وبعد الواو دال مهملة منسوب إلى أَبُّود، بطن من الصَّدِف، منهم أحمد بن يونس بن سويد بن سويد الصَّدفي الأبُّودي من أهل مصر، له ذكر في الأخبار. قال أبن يونس: ولم تقع له أيُّ رواية.

الأَبْذَوِي بفتح الهمزة وسكون الباء وفتح الذال المعجمة، منسوب إلى أبْذَي بن عَدِيّ بن تُجِيب. وتمام النسب يأتي ذكره. ومن ولده جماعة من أهل اعلم في مصر، ومن مواليهم عبد الرحمن يحنِّس المصرى الأَبْذَوِي مولى بني أَبْذَي، كان عريفا على مَوالي تُجيب، وكان من شرف العطاء، وهو الذي تولَّى قتال ابن الزُّبير مدةً فيما ذكره ابن عُفَيْر.

الأُجْذُومي منسوب إلى الأُجْذُوم بطن من الصَّدِف، منهم أحرش بن صبح الأُجْذُومي الصَّدفي مولاهُم، روى عن سعيد بن كثير بن عُفير. وقال الدَّارقطني: وولد الصَّدِفُ بنُ شهال بن عمرو بن دعميّ بن زيد بن حضرموت ويقال إنه الصَّدِفُ ابن أسلم بن زيد بن مالك بن حضرموت الأكبر حُريماً وهو الأحْرُوم، وجُذَاما وهو الأُجْذُوم، ابنا الصَّدف.

الأَحْمَسي منسوب إلى أحْمَسِ بَجِيلَة، وإلى أحْمَسِ ربيعة؛ أما الأول فهو أحْمَسِ ابن الغوث بن أنمار بن إراش بن عمرو بن الغوث بن كهلان، هكذا يقول أكثر أهل النَّسب، وإليه ينسب جماعة من الصحابة والتابعين ومن بعدهم. منهم في الصحابة: جُنْدُب بن سفيان الأَحْمَسِي، وجابر الأَحْمَسِي والصُّنابيح بنُ الأعسر الأَحْمَسِي، وغيرهم.
হামজা পরিচ্ছেদ

আল-আব্বুদী: হামজার ফাতহা (যবর) ও পেশযুক্ত 'বা'-এর তাশদীদ এবং ওয়াও-এর পরে নুকতাহীন 'দাল' যোগে। এটি সাদিফ গোত্রের একটি শাখা আব্বুদ-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন মিসরীয় আহমদ বিন ইউনুস বিন সুওয়াইদ বিন সুওয়াইদ আস-সাদিফী আল-আব্বুদী, ইতিহাসে তার উল্লেখ রয়েছে। ইবনে ইউনুস বলেছেন: তার পক্ষ থেকে কোনো হাদিস বা বর্ণনা পাওয়া যায় না।

আল-আবযাভী: হামজার ফাতহা, 'বা'-এর সুকুন এবং নুকতাহযুক্ত 'যাল'-এর ফাতহা যোগে। এটি আবযা বিন আদি বিন তুজীব-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। এর পূর্ণ বংশপরম্পরা সামনে আলোচিত হবে। তার বংশধরদের মধ্যে মিসরে একদল আলেম রয়েছেন। তাদের মুক্তদাসদের মধ্যে রয়েছেন বনু আবযা-এর মুক্তদাস মিসরীয় আব্দুর রহমান ইয়ুহান্নিস আল-আবযাভী। তিনি তুজীব গোত্রের মুক্তদাসদের গোত্র-প্রধান ছিলেন। তিনি উচ্চমানের রাজকীয় ভাতার অধিকারী ছিলেন। ইবনে উফাইরের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনিই একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ইবনে জুবাইরের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

আল-উজযুমী: এটি আল-উজযুম-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত যা সাদিফ গোত্রের একটি শাখা। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন তাদের মুক্তদাস আহরাশ বিন সুবহ আল-উজযুমী আস-সাদিফী। তিনি সাঈদ বিন কাসীর বিন উফাইর থেকে বর্ণনা করেছেন। দারাকুতনী বলেছেন: সাদিফ বিন শাহাল বিন আমর বিন দামি বিন যায়িদ বিন হাজরামাউত—মতান্তরে সাদিফ বিন আসলাম বিন যায়িদ বিন মালিক বিন হাজরামাউত আল-আকবার—এর দুই পুত্র ছিল: হুরইম, যাকে আল-আহরুম বলা হয় এবং জুযাম, যাকে আল-উজযুম বলা হয়। তারা সাদিফের দুই সন্তান।

আল-আহামাসী: এটি বাজিলাহ গোত্রের আহামাস এবং রাবিয়াহ গোত্রের আহামাস-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। প্রথমজন হলেন আহামাস বিন গাওস বিন আনমার বিন ইরাশ বিন আমর বিন গাওস বিন কাহলান। অধিকাংশ বংশতত্ত্ববিদ এমনই বলেন এবং তার দিকেই একদল সাহাবী, তাবিঈ ও পরবর্তীগণ সম্বন্ধযুক্ত। সাহাবীদের মধ্যে রয়েছেন: জুনদুব বিন সুফিয়ান আল-আহামাসী, জাবির আল-আহামাসী এবং সুন্নাবীহ বিন আসআর আল-আহামাসী প্রমুখ।
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ১০)
والثاني فهو أحْمَسُ بن ضبيعة بن ربيعة بن نِزار، وباقي النسب يأتي ذكره، وينسب أيضاً إليه جماعة منهم: شُبَيْل بن عَزْرَةَ الأَحْمَسي الضَّبَعي، خَتَنَ قَتَادة، يروى عن أنس بن مالك وغيره، روى عنه شعبة؛ وجماعة سواه من الفرسان والشعراء.

الأَحْدُبي بضم الدال بعد الحاء المهملة منسوب إلى أَحْدُب، بطن من غافق منهم: عيسى بنُ إبراهيم بن عيسى بن مثرود الغافقي ثم الأحْدُبي مولاهم يكنى أبا موسى، يروى عن رشيد بن سعيد وعبد الله بن وهب وعبد الرحمن ابن القاسم وغيرهم. قاله ابن يونس.

الأَخْيَلي منسوب إلى أَخْيَل، واسمه كعب بن معوية بن عمرو بن نفيل.

الإِرَاشِي منيوب إلى إِراشة بن عنز بن وائل بن قاسط بن هنب بن أفصي ابن دُعْميّ بن جديلة بن أسد بن ربيعة بن نزار أخي رفيدة، وهما داخلان في خثعم.

الأَرْحَبِي ينسب إلى أَرْحَب بن دُعام بن مالك بن معاوية بن صعب بن دومان قاله الأَبْيوَرْدِيّ، بطن من همدان، منهم جماعة من العلماء في الشاميِّين والكوفيِّين.

الأَزْدي منسوب إلى الأَزْد، واسمه دِرَاءُ، ويقال دَرَا بنُ الغوث بن نبت بن مالك بن أُدَد بن زيد بن كهلان بن سبأ بن يشجب بن يعرب بن قحطان، وإليه جِمَاعُ الأنصار، وكان أَنَسُ بن مالك يقول: إن لم نكن من الأَزْد فلسنا من الناس، أخبرنا محمد بن أبى الفتوح أنا محمد بن أبي عبد الله المُطرِّز أنا أحمد بن عبد الله نَا سليمان بن أحمد نا العبَّاسُ بن الفضل الأسفاطي نا محمد بن كثير نا محمد بن ميمون
দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেন আহমাস বিন দবিয়াহ বিন রবিয়াহ বিন নিজার। বংশপরম্পরার অবশিষ্টাংশ পরবর্তীতে উল্লেখ করা হবে। তাঁর দিকে একদল লোককে সম্পৃক্ত করা হয়, যাদের মধ্যে রয়েছেন: শুবাইল বিন আজরাহ আল-আহমাসি আদ-দবায়ি, যিনি কাতাদাহর জামাতা। তিনি আনাস বিন মালিক ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁর থেকে শু'বাহ বর্ণনা করেছেন। এছাড়া অশ্বারোহী ও কবিদের মধ্য থেকে তিনি ছাড়াও আরও একদল লোক রয়েছেন।

আল-আহদুবি (বিন্দুহীন 'হা'-এর পরবর্তী 'দাল' বর্ণে পেশসহ), এটি আহদুবের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা গাফিক গোত্রের একটি শাখা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ঈসা বিন ইবরাহিম বিন ঈসা বিন মাছরুদ আল-গাফিকি, অতঃপর আল-আহদুবি—তাঁদের আযাদকৃত দাস, যাঁর উপনাম (কুনিয়াত) আবু মুসা। তিনি রুশাইদ বিন সাঈদ, আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহব, আব্দুর রহমান ইবনুল কাসিম ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি ইবনে ইউনুস বলেছেন।

আল-আখয়ালি, এটি আখয়ালের দিকে সম্বন্ধযুক্ত; তাঁর নাম কাব বিন মুয়াবিয়া বিন আমর বিন নুফাইল।

আল-ইরাশি, এটি ইরাশাহ বিন আনয বিন ওয়ায়েল বিন কাসিত বিন হিনব বিন আফসা বিন দু'মি বিন জাদিলাহ বিন আসাদ বিন রবিয়াহ বিন নিজারের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যিনি রুফাইদাহর ভাই; তাঁরা উভয়েই খাসআম গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।

আল-আরহাবি, এটি আরহাব বিন দুআম বিন মালিক বিন মুয়াবিয়া বিন সাব বিন দুমান-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত—এ কথা আল-আবইউয়ারদি বলেছেন। এটি হামদান গোত্রের একটি শাখা। শামী (সিরীয়) ও কুফিবাসী আলেমদের একটি দল তাঁদের অন্তর্ভুক্ত।

আল-আযদি, এটি আযদ-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। তাঁর নাম দিরা অথবা বলা হয় দারা বিন আল-গাওছ বিন নাবত বিন মালিক বিন উদাদ বিন যায়েদ বিন কাহলান বিন সাবা বিন ইয়াশজুব বিন ইয়ারুব বিন কাহতান। তাঁর সাথেই আনসারদের মূল বংশধারা যুক্ত। আনাস বিন মালিক বলতেন: "আমরা যদি আযদ গোত্রের না হতাম, তবে আমরা মানুষ হিসেবে গণ্য হতাম না।" আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আবু আল-ফুতুহ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আবু আব্দুল্লাহ আল-মুতরিজ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুলাইমান বিন আহমাদ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্বাস বিন আল-ফাজল আল-আসফাতি, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন কাসির, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন মাইমুন।
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ১১)
عن غيلان بن جرير قال: سمعت أنس بن مالك وذكره. وجاء في الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم: الأَزْدُ جُرْثُومةُ العرب وقد جاء ذكرهم في غير حديث والثناء عليهم، أخبرنا محمد بن إبراهيم أبو بكر الخطيب أنا الحسنُ بن أحمد القارئ أنا أَبُو نُعيم الحافظ نا أبو القاسم اللَّخمي نا محمد بن صالح بن الوليد نا عبد القُدُّوس بن محمد الحبحابي نا عمِّي صالح بن عبد الكبير نا عمِّي عبد السلام بن شعيب بن الحبحاب عن أبيه عن أنس بن مالك قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الأَزْدُ أُسْدُ الله في الأرض، يريد الناس أن يضعوهم ويأبى الله إلَاّ أن يرفعهم، وليأتينَّ على الناس زمان يقول الرجل يا ليتني كان أبي أزديّا، يا ليتني

كانت أُمِّي أزدية. هذا حديث غريب لا يُعْرف إلَاّ من هذا الوجه. ويقال فيه الأسد بالسِّين بدل الزَّاي.

وقد يَجِيءُ في بعض الأنساب: فلانٌ الأزديّ من أزْدِ شَنُوءَة وفلان الأزْدي من أزْدِ الحجر، فيظُنُّ من لم يتبحَّر في علم النسب أنَّ الثاني والثالث غيرُ الأول، لاختلاف المعرَّف به في كل اسم من هذه الأسماء الثلاثة، وليس كذلك، وقد وَهِمَ غير واحد من أئمة الحديث في ذلك؛ والصواب أن الثاني والثالث مُندرجٌ في الأول وهما من ولده. والمنسوب إليه إنما هو الأبُ الأول، كما أنه يقال فلان العَلَوي والمنسوب إليه هو عليّ بن أبي طالب رضي الله عنه وإن كان في آبائه من يسمَّى عليّا هذا ظاهر لا خفاء به، وقد بيَّنا أوهامهم في كتاب الفيصل.
গাইলান বিন জারির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আনাস বিন মালিককে তাঁর কথা উল্লেখ করতে শুনেছি। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: “আযদ হলো আরবদের মজ্জা (উৎসমূল)।” অনেক হাদিসে তাদের কথা এবং তাদের প্রশংসায় বর্ণনা এসেছে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আবু বকর আল-খাতিব, তিনি আল-হাসান বিন আহমদ আল-কারি থেকে, তিনি হাফেজ আবু নুআইম থেকে, তিনি আবুল কাসেম আল-লাখমি থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন আল-ওয়ালিদ থেকে, তিনি আব্দুল কুদ্দুস বিন মুহাম্মদ আল-হাবহাবি থেকে, তিনি তাঁর চাচা সালিহ বিন আব্দুল কবির থেকে, তিনি তাঁর চাচা আব্দুস সালাম বিন শুআইব বিন আল-হাবহাব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আযদ হলো জমিনে আল্লাহর সিংহ। মানুষ চায় তাদের নিচু করতে, কিন্তু আল্লাহ তাদের উচ্চ করা ছাড়া অন্য কিছু চান না। মানুষের কাছে অবশ্যই এমন এক সময় আসবে যখন কোনো ব্যক্তি বলবে, ‘হায়! আমার পিতা যদি আযদ গোত্রীয় হতেন! হায়! আমার

মা যদি আযদ গোত্রীয় হতেন।’ এটি একটি গরিব (বিরল) হাদিস যা কেবল এই সূত্রেই পরিচিত। এখানে ‘আযদ’ (যায় যোগে) শব্দের পরিবর্তে ‘আসাদ’ (সিন যোগে) শব্দটিও বলা হয়ে থাকে।

কোনো কোনো বংশতালিকায় এমনটি আসতে দেখা যায়: অমুক ব্যক্তি শানুয়া আযদ থেকে আযদি, আবার অমুক ব্যক্তি আল-হাজর আযদ থেকে আযদি। যারা বংশবিদ্যায় পারদর্শী নন তারা মনে করেন যে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যক্তি প্রথম ব্যক্তি থেকে ভিন্ন, কারণ এই তিনটি নামের প্রতিটির পরিচয়সূত্রে ভিন্নতা রয়েছে। বিষয়টি আসলে তেমন নয়। হাদিসের ইমামদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি এ ব্যাপারে ভুল ধারণা পোষণ করেছেন। সঠিক কথা হলো, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যক্তি প্রথমটির অন্তর্ভুক্ত এবং তারা তারই বংশধর। যার দিকে সম্পর্কযুক্ত করা হয় তিনি মূলত মূল আদি পিতা। যেমনটি বলা হয় ‘অমুক ব্যক্তি আলাউই (আলী বংশীয়)’, এখানে সম্পর্কটি আলী বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর দিকেই, যদিও তাঁর পিতৃপুরুষদের মধ্যে আলীর নামধারী অন্য কেউ থেকে থাকেন। এটি একটি স্পষ্ট বিষয় যা অস্পষ্ট নয়। আর তাদের ভুলগুলো আমরা ‘আল-ফয়সাল’ নামক কিতাবে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ১২)
الأسَدي منسوب إلى أسَدِ قريش، وهو أسد بن عبدِ العُزَّى بن قُصيّ بن كلاب ابن مُرَّة بن كعب بن لؤيّ بن فِهْر بن مالك بن النَّضر بن كنانة بن خزيمة بن مدركة بن إلياس بن مضر بن نزار بن معدّ بن عدنان، منهم. آل الزبير بن العوَّام، وآل حكيم بن حزام وغيرهم.

وإلى أسد بن خزيمة بن مدركة بن إلياس بن مضر. وقال أبو نصر بن ماكولا في كتابه: أما الأسدي بفتح السين فجماعة يُنسَبون إلى أسد بن عبد العُزَّى، وأسد بن دودان، وأسد بن خزيمة: وهذا وهم، لأنَّ أسد بن دودان لا يعرف في قبائل مضر، والمعروف غنم بن دودان بن أسد بن خزيمة. ولو كان كما زعم لكان مكرَّرا من غير فائدة، فإن الثاني مندرج في الأول، والمنسوب إليه يكون الأول دون الثَّاني كما بيَّنا.

وممَّن ينسب إلى أسد بن خزيمة: عكاشة بن محصن وأهلُه، وخزيم بن فاتك وولده، وغيرهم من الصحابة والتابعين فمن بعدهم.

وإلى أسد بن ربيعة بن نزار بن معدّ بن عدنان بن أُدّ، ويقال أُدَدَ بن الهَمَيسع بن

نبت بن قيدار، ويقال نبت يرى وإسماعيل أعراق الثَّرى. ويقال أُدَدَ بنُ زند بعد الزَّاي نون بن يرى بن أعراق الثَّرى. ويقال أُدَد بن زنْد بعد الزَّاي نون بن يرى بن اعراق الثَّرى. وقالت أُمُّ سَلَمة: فزندٌ هو الهَمَيسَعُ،
আসাদী নামটি কুরাইশ বংশীয় আসাদের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি হলেন আসাদ ইবনে আব্দুল উজ্জা ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররা ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে নাদর ইবনে কিনানা ইবনে খুজাইমা ইবনে মুদরিকা ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিজার ইবনে মাদ ইবনে আদনান। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলো জুবাইর ইবনুল আওয়ামের বংশধর, হাকিম ইবনে হিজামের বংশধর এবং আরও অনেকে।

তদ্রূপ আসাদ ইবনে খুজাইমা ইবনে মুদরিকা ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদারের সাথেও সম্পৃক্ত। আবু নাসর ইবনে মাকুলা তাঁর কিতাবে বলেছেন: ‘সীন’ বর্ণের উপর ফাতহা (যবর) যোগে ‘আসাদী’ শব্দটি একদল মানুষের প্রতি নির্দেশ করে যারা আসাদ ইবনে আব্দুল উজ্জা, আসাদ ইবনে দাওদান এবং আসাদ ইবনে খুজাইমার সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু এটি একটি বিভ্রান্তি; কারণ মুদার গোত্রসমূহের মধ্যে আসাদ ইবনে দাওদান বলে কেউ পরিচিত নয়। বরং সুপরিচিত নাম হলো গানাম ইবনে দাওদান ইবনে আসাদ ইবনে খুজাইমা। যদি বিষয়টি তাঁর দাবি অনুযায়ী হতো, তবে তা কোনো বিশেষ ফায়দা ছাড়াই পুনরাবৃত্তি হতো। কেননা দ্বিতীয়টি প্রথমটির অন্তর্ভুক্ত, আর যার সাথে সম্বন্ধ করা হয়েছে তা আমাদের বর্ণনা অনুযায়ী দ্বিতীয়টির পরিবর্তে প্রথমটিই হবে।

আসাদ ইবনে খুজাইমার সাথে যাদের নিসবত (সম্বন্ধ) করা হয় তাদের মধ্যে রয়েছেন: উকাশা ইবনে মিহসান ও তাঁর পরিবারবর্গ, খুজাইম ইবনে ফাতিক ও তাঁর সন্তানাদি এবং সাহাবী ও তাবেয়ীনদের মধ্য হতে আরও অনেকে এবং তাঁদের পরবর্তীগণ।

আবার এই নিসবত আসাদ ইবনে রাবিআ ইবনে নিজার ইবনে মাদ ইবনে আদনান ইবনে উদ্দ-এর সাথেও সম্পৃক্ত হয়। আর বলা হয়ে থাকে, উদাদ ইবনে হামাইসা ইবনে

নাবত ইবনে কাইদার। আরও বলা হয়, নাবত ইয়ারা এবং ইসমাইল হলো মাটির সুগভীর মূলের ন্যায়। অন্য বর্ণনায় এসেছে, উদাদ ইবনে যানদ—‘যা’ অক্ষরের পর ‘নুন’ সহযোগে—ইবনে ইয়ারা ইবনে আরাক আস-সারা। আবার কেউ বলেছেন, উদাদ ইবনে যানদ—‘যা’ অক্ষরের পর ‘নুন’ সহযোগে—ইবনে ইয়ারা ইবনে আরাক আস-সারা। উম্মু সালামাহ (রা.) বলেন: এই যানদই হলো হামাইসা।
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ১৩)
ويرى هو نبتٌ، وأعراق الثَّرى هو إسماعيل. ويقال: أشجب بن نابت بن إسماعيل ابن إبراهيم بن آزر بن ناجِر بن سَارَغ بن الرَّاع بن القسم، الذي قسم الأرض بين أهلها، ابن يعبر بن شالخ بن رافد بن السَّائم وهو سام بن نوح بن ملكان بن مثوب بن إدريس بن الرَّائد بن مهلهل بن قنان بن الطاهر بن هبة وهو شيث بن آدم. وقيل غير ذلك. والتحقيق فيه أن ما بعد عدنان لا يمكن تحقيقه لكثرة تخليط النسَّابين فيه، واقتصرنا على ما ذكره الزُّبير بن بكَّار.

أخبرنا محمد بن عبد الخالق أنا الحسن بن أحمد الفهرى أنا أحمد بن عبد الله نا عبد الله بن محمد بن جعفر نا عبد الله بن محمد بن يعقوب نا أبو حاتم الرَّازي حدَّثني أصبع عن بن وهب أخبرني بن لهيعة عن أبي الأسود عن نسب النبي صلى الله عليه وسلم فذكره إلى معدّ بن عدنان بن أُدَد، قال أبو الأُسود: سمعت عروة بن الزُّبير يقول: ما عرفنا أحداً يعرف ما وراء معدّ بن عدنان.

ومن يُنْسَب إلى أسد بن ربيعة فأكثر ما يقال فيه الرَّبَعي.
এবং মনে করা হয় যে তিনি হলেন নাবিত, আর মাটির শিকড় হলেন ইসমাইল। আরও বলা হয়: আশজাব বিন নাবিত বিন ইসমাইল বিন ইবরাহিম বিন আজার বিন নাজির বিন সারাগ বিন রা' বিন কাসিম—যিনি পৃথিবীকে তার বাসিন্দাদের মধ্যে বণ্টন করেছিলেন—বিন ইয়াবার বিন শালাখ বিন রাফিদ বিন সায়িম, আর তিনি হলেন নূহ বিন মালকান বিন মাসুব বিন ইদরিস বিন রায়িদ বিন মাহলাইল বিন কানান বিন তাহির বিন হিবাহ, আর তিনি হলেন আদমের পুত্র শীস। এ বিষয়ে অন্য বর্ণনাও আছে। এ নিয়ে সূক্ষ্ম গবেষণা হলো, আদনানের পরবর্তী বংশতালিকা নিশ্চিতভাবে নিরূপণ করা সম্ভব নয়, কেননা বংশতত্ত্ববিদগণ এতে অনেক বেশি মতভেদ ও মিশ্রণ ঘটিয়েছেন। তাই আমরা জুবাইর বিন বাক্কার যা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলাম।

মুহাম্মাদ বিন আব্দুল খালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাসান বিন আহমাদ আল-ফিহরি আমাদের জানিয়েছেন, আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন জাফর আমাদের জানিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আমাদের জানিয়েছেন, আবু হাতিম আর-রাজি আমাদের জানিয়েছেন, আসবা ইবনে ওয়াহাব থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, ইবনে লাহিয়া আবু আল-আসওয়াদ থেকে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বংশপরম্পরা সম্পর্কে আমাদের জানিয়েছেন, অতঃপর তিনি তা মা'আদ বিন আদনান বিন উদাদ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। আবু আল-আসওয়াদ বলেন: আমি উরওয়াহ বিন জুবাইরকে বলতে শুনেছি: আমরা এমন কাউকে পাইনি যিনি মা'আদ বিন আদনানের ঊর্ধ্বের বংশপরম্পরা সম্পর্কে অবগত আছেন।

আর যাকে আসাদ বিন রাবিয়ার বংশের দিকে সম্পৃক্ত করা হয়, তার ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়েই 'রাবায়ি' বলা হয়।
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ১৪)
وإلى أسد بن شريك، بطن من الأزد، منهم حنان الأسدي صاحب الرقيق بصريّ. فال أبو نصر في كتابه: حنان الأسدي صاحب الرقيق من بني أسد بن شريك روَى عن أبي عثمان النَّهْدي، روَى عنه حجَّاجٌ الصوَّاف وهو عمُّ مُسدَّد بن مسرهد، له حديث واحد. وكذا ذكره الخطيب؛ وغيرهم.

ومنهم مُسدَّدُ بن مسرهد، ويقال في نسبه: مُسدد بن مسرهد بن مسربل بن مغربل بن مرعبل بن أرندل بن سرندل بن عدندل بن مالك بن المستورد الأسدي البصريّ، هكذا ساق نسبه أبو علي منصور بن عبد الله الخالدي عن ابي إسحاق

إبراهيم بن أحمد بن مُسدَّد، ولم يكن الخالدي ممن يُعتَمد عليه. ويقال في نسبه أيضاً: أسْدى بسكون السين والأزدي، والكل صحيح، فإن بني أسد بن شريك من الأسد بن يغوث، ويقال للأزد أسد كما ذكرنا.

الأُسيِّدي مشدد الياء ويقال أيضاً بتسكين الياء، فأما أصحاب الحديث فإنما يقولونه بتشديد الياء، وأهل اللغة جوَّزُوا فيه التخفيف واختاره طلباً للتخفيف قاله أبو أحمد العسكري. وهو منسوب إلى أُسيِّدبن عمرو بن تميم بن مُرَّة بن طابخة ابن إلياس بن مضر؛ منهم حنضلة بن الرَّبيع الأُسيِّدي الكاتب له صحبة ورواية عن النبي صلى الله عليه وسلم، وجماعةٌ غيره من الصحابة والتابعين فمن بعدهم.

الأَسْعَدي منسوب إلى أسعد بن همام بن مرَّة بن ذهل بن شيبان بن ثعلبة بن عكابة بن صعب بن عليّ بن بكر بن وائل بن قاسط بن هِنْب بن أفصى بن دُعميّ
এবং আসাদ বিন শারিকের দিকে সম্পর্কিত, যিনি আজদ গোত্রের একটি শাখা। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন বসরার অধিবাসী হানান আল-আসাদি, যিনি ‘সাহিবুর রাকিফ’ (দাসদের মালিক) হিসেবে পরিচিত। আবু নাসর তার কিতাবে বলেছেন: বনু আসাদ বিন শারিক বংশোদ্ভূত হানান আল-আসাদি সাহিবুর রাকিফ আবু উসমান আন-নাহদি থেকে বর্ণনা করেছেন। তার থেকে হাজ্জাজ আস-সাওওয়াফ বর্ণনা করেছেন, যিনি মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদ-এর চাচা। তার একটিমাত্র হাদিস রয়েছে। আল-খাতিব এবং অন্যান্যরাও অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।

এবং তাদের মধ্যে রয়েছেন মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদ। তার বংশপরম্পরায় বলা হয়: মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদ বিন মুসারবাল বিন মুগারবাল বিন মুর’াবাল বিন আরান্দাল বিন সারান্দাল বিন আদান্দাল বিন মালিক বিন আল-মুস্তাওরিদ আল-আসাদি আল-বাসরি। আবু আলি মনসুর বিন আব্দুল্লাহ আল-খালিদি আবু ইসহাক থেকে এভাবেই তার বংশতালিকা বর্ণনা করেছেন

ইবরাহিম বিন আহমাদ বিন মুসাদ্দাদ। আল-খালিদি এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না যাদের ওপর নির্ভর করা যায়। তার বংশ পরিচয়ে আরও বলা হয়: ‘আসদি’ (সিনের ওপর সুকুন দিয়ে) এবং ‘আল-আজদি’; এর প্রতিটিই সঠিক। কেননা বনু আসাদ বিন শারিক হলো আসাদ বিন ইয়াগুস বংশের অন্তর্ভুক্ত, আর আজদ গোত্রকেও আসাদ বলা হয়, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি।

‘আল-উসাইয়িদি’ ইয়ায়ের ওপর তাশদিদ দিয়ে, আবার ইয়ায়ের ওপর সুকুন দিয়েও বলা হয়। তবে হাদিস বিশারদগণ একে ইয়ায়ের ওপর তাশদিদ দিয়েই উচ্চারণ করেন। ভাষাবিদগণ একে হালকা উচ্চারণের (তাখফিফ) অনুমতি দিয়েছেন এবং আবু আহমাদ আল-আসকারি সহজ করার উদ্দেশ্যে একেই গ্রহণ করেছেন। এটি উসাইদ বিন আমর বিন তামিঁম বিন মুররাহ বিন তাবিখা বিন ইলিয়াস বিন মুদার-এর সাথে সম্পর্কিত। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন হানজালা বিন আর-রাবি আল-উসাইয়িদি আল-কাতিব, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। এছাড়া আরও একদল সাহাবি, তাবেয়ি এবং তাঁদের পরবর্তীগণ এর অন্তর্ভুক্ত।

‘আল-আসআদি’ এটি আসআদ বিন হাম্মাম বিন মুররাহ বিন যুহল বিন শায়বান বিন সা’লাবাহ বিন উকাবাহ বিন সা’ব বিন আলি বিন বাকর বিন ওয়াইল বিন কাসিত বিন হিনব বিন আফসা বিন দু’মি-এর সাথে সম্পর্কিত।
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ১৫)
ابن جديلة بن أسد بن ربيعة. وهم جماعةٌ من الفرسان والشعراء منهم: الغضبان ابن القبعثري بن هوذة، وذو الكعب وهو النُّعمان بن عمرو بن ثعلبة بن أسعد وكان شريفا.

الأسْلَمي منسوب إلى أسلم بن أفصى بن حارثة بن عمرو بن عامر بن عويمر ابن عمرو كذا ساقه أبو بكر البرقي وقال خليفة بن خيّاط: أسلم بن افصى ابن حارثة بن عمرو بن عامر بن حارثة بن امرئ القيس بن ثعلبة بن مازن بن الأزد بن الغوث وهم خلقٌ كثير من الصحابة والتابعين فمن بعدهم من العلماء ورواه الحديث.

الأَسْبَذِيّ بفتح الهمزة وسكون السين وفتح الباء المعجمة بواحدة وبذال معجمة، منسوب إلى عبد الله بن زيد بن عبد الله بن دارم بن مالك بن حنظلة بن مالك ابن زيد مناة بن تميم بن مُرّ. قال ابن الكلبي: إنما قيل - يعني لَوَلَده - أَسْبَذِيُّون لأنهم كانوا يعبدون فرساً، ويقال بل هي مدينة يقال لها أسبذ كان نزلها فنُسب إليها.

وقال الهيثم بن عديّ: إنما قيل لهم الأَسْبَذِيُّون أي الجُمَّاع وهم من بني
ইবনে জাদীলাহ বিন আসাদ বিন রাবীআহ। তারা অশ্বারোহী ও কবিদের একটি দল, যাদের মধ্যে রয়েছেন: আল-গদবান ইবনুল কুবাসারী বিন হাওযাহ এবং যুল কা’ব, যিনি হলেন নুমান বিন আমর বিন সা’লাবাহ বিন আসআদ; আর তিনি অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন।

আল-আসলামী শব্দটি আসলাম বিন আফসা বিন হারিসাহ বিন আমর বিন আমির বিন উওয়াইমির বিন আমর-এর সাথে সম্পর্কিত; আবু বকর আল-বারকী এভাবেই বংশপরম্পরা বর্ণনা করেছেন। খলীফাহ বিন খইয়াত বলেছেন: আসলাম বিন আফসা বিন হারিসাহ বিন আমর বিন আমির বিন হারিসাহ বিন ইমরুল কায়স বিন সা’লাবাহ বিন মাযিন বিন আল-আযদ বিন আল-গাউস। তারা হলেন সাহাবী ও তাবিঈদের মধ্যে এক বিশাল গোষ্ঠী এবং তাঁদের পরবর্তী উলামায়ে কিরাম ও হাদীস বর্ণনাকারীগণ।

আল-আসবাদী (হামযাহ বর্ণে ফাতহাহ, সীন বর্ণে সুকুন, এক নুকতাহ বিশিষ্ট বা বর্ণে ফাতহাহ এবং যাল বর্ণ সহযোগে উচ্চারিত)। এটি আবদুল্লাহ বিন যায়েদ বিন আবদুল্লাহ বিন দারিম বিন মালিক বিন হানযালাহ বিন মালিক বিন যায়েদ মানাত বিন তামীম বিন মুর-এর সাথে সম্পর্কিত। ইবনুল কালবী বলেছেন: তাদের—অর্থাৎ তার সন্তানদের—'আসবাদীউুন' বলা হতো কারণ তারা ঘোড়ার পূজা করত। আবার বলা হয় যে, এটি 'আসবাদ' নামক একটি শহর, তিনি সেখানে অবতরণ করেছিলেন বিধায় তার দিকেই এটি সম্বন্ধিত করা হয়েছে।

আল-হাইসাম বিন আদী বলেছেন: তাদেরকে 'আসবাদীউুন' বলা হতো যার অর্থ হলো 'একত্রিত জনসমষ্টি', আর তারা বনু... এর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ১৬)
زيد بن عبد الله بن دارم، منهم المنذر بن ساوى صاحب هجر، كتب إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال ذلك ابن الكلبي وغيره.

الأُسْوَارِي يقال بضم الهمزة وفتحها منسوب إلى الأُسْوَارة بطن من بني تميم قاله أبو نعيم الحافظ، منهم: حماد بن عثمان الأُسواري روى عن يونس بن عبيد، روى عنه حيوةُ بن شريح وغيره؛ وإسحاق بن إدريس الأُسْواريّ، يقال هو أول من جمع المسند بالبصرة، روى عنه أبو موسى العنزي؛ وعمرو بن فائد الأُسْوارِيّ، ذُكِر في القُرَّاء الذين حُفظ عنهم الحروف، قاله الباطرقاني. . . وغيرهم.

الأَشجْعَي منسوب إلى أشجع بن ريث بن غطفان بن سعد بن قيس عيلان ابن مضر، بطن منهم طارق بن أشيم الأشجعيّ، وجماعة سواه من الصحابة والتابعين ومن بعدهم من الشعراء والفرسان وغيرهم.

الأشْهَلي منسوب إلى عبد الأشهل بن جُشَم بن الحارث بن الخزرج بن عمرو بن مالك بن الأوس بن حارثة بن ثعلبة بن عمرو بن عامر بن حارثة بن امرئ القيس بن ثعلبة بن مازن بن الأزد بن الغوث. اتَّفق على هذا ابن إسحاق وخليفة بنُ خيَّاط وأبو بكر البرقي وغيرهم. ومن قال فيه جُشَم بن حارثة ابن الحارث فقد وَهِم، فإن حارثة هو أخو جُشَم، وهما ابنا الحارث بن الخزرج. والأشهليُّون منهم جماعة من كبار الصحابة من نقباء الأنصار نحو أُسيد بن حضير وغيره من الصحابة ومن بعدهم من العلماء.
জায়েদ বিন আব্দুল্লাহ বিন দারিম; তাদের মধ্যে রয়েছেন হাজারের অধিপতি মুনযির বিন সাওয়া, যার নিকট আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পত্র লিখেছিলেন; ইবনুল কালবি ও অন্যান্যরা এটি উল্লেখ করেছেন।

আল-উসওয়ারি: হামযা বর্ণে পেশ বা যবর দিয়ে এটি উচ্চারিত হয়, যা বনু তামিমে’র একটি শাখা ‘আল-উসওয়ারাহ’ এর সাথে সম্পর্কিত; হাফেয আবু নুয়াইম এটি বলেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: হাম্মাদ বিন উসমান আল-উসওয়ারি, যিনি ইউনুস বিন উবাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে হায়ওয়াহ বিন শুরাইহ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। এবং ইসহাক বিন ইদরিস আল-উসওয়ারি, বলা হয়ে থাকে যে তিনিই বসরায় সর্বপ্রথম ‘মুসনাদ’ সংকলন করেন, তার থেকে আবু মুসা আল-আনাযি বর্ণনা করেছেন। এবং আমর বিন ফায়েদ আল-উসওয়ারি, তিনি সেই সকল ক্বারিদের অন্তর্ভুক্ত যাদের থেকে কিরাআতের বর্ণসমূহ সংরক্ষিত হয়েছে; আল-বাতিরকানি এটি বলেছেন... এবং আরও অনেকে।

আল-আশজা‘য়ি: এটি আশজা‘ বিন রাইস বিন গাতফান বিন সা‘দ বিন কাইস আয়লান ইবনে মুদার-এর সাথে সম্পর্কিত। এটি একটি শাখা গোত্র, যাদের মধ্যে রয়েছেন সাহাবি তারিক বিন আশইয়াম আল-আশজা‘য়ি এবং তিনি ছাড়াও সাহাবি, তাবিঈ এবং পরবর্তী যুগের কবি, অশ্বারোহী ও অন্যান্যদের একটি বড় জামাত।

আল-আশহালি: এটি আবদিল আশহাল বিন জুশাম বিন আল-হারিস বিন আল-খাযরাজ বিন আমর বিন মালিক বিন আল-আওস বিন হারিসা বিন সা‘লাবা বিন আমর বিন আমির বিন হারিসা বিন ইমরুল কাইস বিন সা‘লাবা বিন মাযিন বিন আল-আযদ বিন আল-গাওস-এর সাথে সম্পর্কিত। ইবনে ইসহাক, খলিফা বিন খাইয়্যাত, আবু বকর আল-বারকি ও অন্যান্যরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন। আর যারা একে ‘জুশাম বিন হারিসা ইবনুল হারিস’ বলেছেন তারা ভুল করেছেন, কেননা হারিসা হলেন জুশামের ভাই এবং তারা উভয়েই হারিস বিন আল-খাযরাজ-এর পুত্র। আল-আশহালিদের মধ্যে আনসারদের নকিবগণের (নেতৃবৃন্দ) অন্তর্ভুক্ত উসাইদ বিন হুদাইরের মতো বড় বড় সাহাবিদের একটি দল এবং আরও অনেক সাহাবি ও পরবর্তী যুগের আলেমগণ রয়েছেন।
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ১৭)
الأَشْعَري منسوب إلى الأشْعَر، واسمه نبتُ بن أُدَد بن زيد بن يشجُب بن عريب ابن زيد بن كهلان بن سبأ، قال لبن الكلبي فيما أخبرنا محمد بن علي بن أحمد أنا أبو طاهر أحمد بن الحسن الكرجي من كتابه أنا أبو الحُسين محمد ابن الحسين الأصبهاني أنا محمد ابن أحمد بن إسحاق المُعَدَّل نا عمرو بن أحمد الأهْوازي نا

شبابٌ العُصْفُري نا هشام بن محمد الكلبي عن أبيه، قال: يقولون وَلَد قحطان المُرْعِفَ وهو يَعْرُبَ يشجب وجمدان وجُنادة ووائلا وكعباً، فولد يشجب سبأ وهو عابر فولد سبأُ كهلان وحمير ومنهما تفرَّقت القبائل، فولد كهلان زيداً، فولد زيد بن كهلان عَريباً ومالكاً، فولد عَرِيبُ بن زيد يشجب، فولد يشجُبُ بن عَريب زيداً، فولد زيد بن عريب أُدَدَ بن زيد، فولد أُدَدَ ابن زيد مُرّة ونبتاً وهو الأشعر ومالكا وهو مَذْحِج وجُلْهُمة وهو طيِّئ وأُمُّهما مُدِلَّةُ بنت ذي منجشان.

ومن ولد الأشعر أبو موسى عبد الله بن قيس بن سليم ابن حضَّا كذا يقوله خليفة بن حرب بن عامر بن عذر بن وائل بن ناجية بن جماهر بن الأشعر. كذا ساقه ابن الكلبي والعصفري وقد خولفا في بعض الأسماء.
আল-আশআরি শব্দটি আল-আশআরের দিকে নিসবত বা সম্বন্ধযুক্ত, আর তাঁর নাম হলো নাবত বিন উদাদ বিন যায়েদ বিন ইয়াশজুব বিন আরিব বিন যায়েদ বিন কাহলান বিন সাবা। ইবনুল কালবি বলেছেন—যেমনটি আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আলি বিন আহমাদ, তিনি বলেন আমাদের জানিয়েছেন আবু তাহের আহমাদ বিন আল-হাসান আল-কারাজি তাঁর কিতাব থেকে, তিনি বলেন আমাদের জানিয়েছেন আবু আল-হুসাইন মুহাম্মাদ ইবনে আল-হুসাইন আল-আসফাহানি, তিনি বলেন আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ বিন ইসহাক আল-মুয়াদ্দাল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন আহমাদ আল-আহওয়াযি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন

শাবাব আল-উসফুরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম বিন মুহাম্মাদ আল-কালবি তাঁর পিতা থেকে। তিনি বলেন: তারা বলে যে, কাহতান আল-মুরয়িফকে জন্ম দিয়েছেন, আর তিনি হলেন ইয়ারুব, ইয়াশজুব, জুমদান, জুনাদা, ওয়ায়েল এবং কাব। অতঃপর ইয়াশজুব সাবা-কে জন্ম দেন, যিনি হলেন আবির। সাবা জন্ম দেন কাহলান এবং হিমইয়ারকে, আর তাঁদের থেকেই গোত্রগুলো বিভক্ত হয়েছে। কাহলান যায়েদকে জন্ম দেন। যায়েদ বিন কাহলান আরিব এবং মালিককে জন্ম দেন। আরিব বিন যায়েদ ইয়াশজুবকে জন্ম দেন। ইয়াশজুব বিন আরিব যায়েদকে জন্ম দেন। যায়েদ বিন আরিব উদাদ বিন যায়েদকে জন্ম দেন। উদাদ বিন যায়েদ মুররাহ এবং নাবতকে জন্ম দেন, আর এই নাবত-ই হলেন আল-আশআরি; আরও জন্ম দেন মালিককে, যিনি হলেন মাযহিজ, এবং জুলহুমাহকে, যিনি হলেন তায়ি। তাঁদের উভয়ের মাতা হলেন মুদিল্লাহ বিনতে যি মানজাশান।

আর আল-আশআরের সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন আবু মুসা আব্দুল্লাহ বিন কাইস বিন সুলাইম বিন হাদ্দা—খলিফা বিন হারব বিন আমির বিন উযর বিন ওয়ায়েল বিন নাজিয়াহ বিন জামাহির বিন আল-আশআরি এভাবেই তাঁর বংশপরম্পরা উল্লেখ করেছেন। ইবনুল কালবি এবং আল-উসফুরি এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন, তবে কোনো কোনো নামের ক্ষেত্রে তাঁদের বিরোধিতা করা হয়েছে (অর্থাৎ ভিন্নমত বর্ণিত হয়েছে)।
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ১৮)
الأصبحي منسوب إلى ذي أصبح، واسمه الحارث بن عوف بن مالك بن زيد بن عامر بن ربيعة بن نبت بن مالك بن زيد بن كهلان بن سبأ بن يشجب، منهم مالك بن أنس الأصبحي إمام دار الهجرة.

الأصْمعي منسوب إلى أصمع بن مظهر بن رياح بن عمرو بن عبد شمس بن أعيا ابن سعد بن عبد بن غنم بن قتيبة بن مالك بن أعصُر بن سعد بن قيس بن عيلان بن مضر. منهم أبو سعد عبد الملك بن قريب بن عبد الملك ابن علي بن أصمع الأصمعيّ وأهلُه.

الأكْلُبي منسوب إلى أكْلُب بضم اللام بن ربيعة بن عِفْرِس بن أنمار وهو خثعم، بطن من خثعم منهم ابن الدُّمَيْنَة الشاعر وغيرُه.

الأَلْهَاني منسوب إلى أَلْهَان وهو أخو همدان بن مالك بن زيد بن أوسلة بن ربيعة ابن الخيار بن مالك بن زيد بن كهلان بن سبأ بن يشجب، منهم محمد بن زياد الألهاني صاحب أبي هريرة روَى عن أبي هريرة وغيره. وفي من روَى عن أبي هريرة آخرُ يقال له محمد بن زياد وليس بالألهاني، وهو أوثق من هذا.

الأُمَوِيّ بضم الهمزة منسوب إلى أُميَّة بن عبد شمس بن عبد مناف بن قُصيّ كلاب، وهم جمٌّ غفير من الصحابة والتابعين والعلماء والأمراء والشعراء.
আসবাহী শব্দটি যী আসবাহ-এর সাথে সম্পর্কিত, আর তার নাম হলো আল-হারিস ইবন আউফ ইবন মালিক ইবন যায়েদ ইবন আমির ইবন রাবিআহ ইবন নাবাত ইবন মালিক ইবন যায়েদ ইবন কাহলান ইবন সাবা ইবন ইয়াশজুব। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন দারুল হিজরতের ইমাম মালিক ইবন আনাস আসবাহী।

আসমায়ী শব্দটি আসমা ইবন মাজহার ইবন রিয়াহ ইবন আমর ইবন আবদ শামস ইবন আ’ইয়া ইবন সাদ ইবন আবদ ইবন গানাম ইবন কুতাইবাহ ইবন মালিক ইবন আসুর ইবন সাদ ইবন কায়স ইবন আইলান ইবন মুদার-এর সাথে সম্পর্কিত। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আবু সাদ আব্দুল মালিক ইবন কুরাইব ইবন আব্দুল মালিক ইবন আলী ইবন আসমা আল-আসমায়ী এবং তার পরিবারবর্গ।

আকলুবী শব্দটি আকলুব-এর (লাম বর্ণে পেশসহ) সাথে সম্পর্কিত, যিনি রাবিআহ ইবন ইফরিস ইবন আনমার-এর পুত্র, আর আনমার হলো খাশআম। এটি খাশআম গোত্রের একটি শাখা। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন কবি ইবনুদ দুমাইনাহ এবং অন্যান্যরা।

আলহানী শব্দটি আলহান-এর সাথে সম্পর্কিত, আর তিনি হলেন হামদান ইবন মালিক ইবন যায়েদ ইবন আওসালাহ ইবন রাবিআহ ইবনুল খিয়ার ইবন মালিক ইবন যায়েদ ইবন কাহলান ইবন সাবা ইবন ইয়াশজুব-এর ভাই। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আবু হুরায়রা-এর সঙ্গী মুহাম্মদ ইবন যিয়াদ আলহানী; তিনি আবু হুরায়রা এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে অপর একজন রয়েছেন যাকে মুহাম্মদ ইবন যিয়াদ বলা হয়, তবে তিনি আলহানী নন; আর তিনি এই ব্যক্তির চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য।

উমাবী (হামযাহ বর্ণে পেশসহ) শব্দটি উমাইয়াহ ইবন আবদ শামস ইবন আবদ মানাফ ইবন কুসাই ইবন কিলাব-এর সাথে সম্পর্কিত। তাদের মধ্যে সাহাবী, তাবিঈ, আলেম, আমির এবং কবিদের এক বিশাল জামাত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ১৯)
الأُمْلُوكِيّ منسوب إلى أُملوك بن وائل بن رعين، وقيل إن أُمْلُوك وردمان أخوان ابنا وائل بن الغوث بن قطن بن عريب بن زهير بن أيمن بن هميسع بن حمير.

الأَمَوِي بفتح الهمزة منسوب إلى أَمَة بن بجالة بن مازن بن ثعلبة بن سعد بن ذُبيان بن بغيض بن ريث بن غطفان، منهم: علقمة بن عبيد بن عبد بن فُتيَّة بن أَمَة، قال هشام عن أبيه؛ قول الشمَّاخ:

أَلَا تِلك ابْنَةُ الأَمَوِيّ قالت … أَرَاك اليومَ جِسْمُك كالصَّنِيع

أَو الرَّجيع؛ يريد بني أَمَةَ هؤلاء. ومنهم: مالك بن سبيع بن عمرو بن فُتيَّة بن أَمَةَ، كان شريفا؛ وهو صاحب الرُّهُن التي وُضِعَت على يديه في حرب عبس وذُبيان.

الأَنمْاري منسوب إلى أنمار، وأنمار في العرب غير واحد، منهم: أنمار بن إراش ابن عمرو بن الغوث بن نبت، قاله خليفة، وقيل:: أنمار بن إراش بن لحيان بن عمرو ابن سبأ بن العريب بن نبت بن مالك بن زيد بن كهلان بن سبأ وهو أخو بجيلة وخثعم وقال بعضهم: أنمار بن نزار بن معدٌ بن عدنان أخو إياد، منهم بجيلة انتسبوا إلى اليمن إلَاّ من كان منهم بالشام والمغرب فإنهم على نسبهم إلى أنمار بن نزار، ومع هذا الاختلاف من يُنسب إلى أنمار هذا جماعة من الصحابة فمن بعدهم.

ومنهم أنمار مذحج منهم: أبو سعيد الأنماري له صحبة وروايةٌ عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال خليفة: أبو سعيد هذا هو من أنمار مذحج. ومنهم زهير الأنماري
আল-উমলুকি শব্দটি উমলুক বিন ওয়াইল বিন রুয়াইনের সাথে সম্পর্কিত। বলা হয় যে, উমলুক এবং রাদমান হলো দুই ভাই, যারা ওয়াইল বিন আল-গাওস বিন কাতান বিন আরিব বিন জুহাইর বিন আয়মান বিন হুমাইসা বিন হিমইয়ারের পুত্র।

হামজার ফাতহাহ (যবর) সহকারে আল-আমারি শব্দটি আমাহ বিন বাজাল্লাহ বিন মাযিন বিন সালাবাহ বিন সাদ বিন যুবইয়ান বিন বাগিদ বিন রইস বিন গাতফানের সাথে সম্পর্কিত। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন: আলকামা বিন উবাইদ বিন আবদ বিন ফুতাইয়াহ বিন আমাহ। হিশাম তার পিতার সূত্রে শম্মাকের উক্তি বর্ণনা করেছেন:

জেনে রেখো, সেই আল-আমায়ির কন্যা বলেছে … আজ তোমার শরীরকে দেখছি যেন তা সুগঠিত

অথবা পুরানো চামড়ার মতো; তিনি এখানে এই বনু আমাহ গোত্রকে বুঝিয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন: মালিক বিন সুবাই বিন আমর বিন ফুতাইয়াহ বিন আমাহ। তিনি একজন সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন; আর তিনিই ছিলেন সেই বন্ধক রাখা বস্তুগুলোর জিম্মাদার, যা আবস ও যুবইয়ানের যুদ্ধের সময় তাঁর হাতে রাখা হয়েছিল।

আল-আনমারি শব্দটি আনমারের সাথে সম্পর্কিত। আরবদের মাঝে আনমার নামক একাধিক ব্যক্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন: আনমার বিন ইরাশ বিন আমর বিন আল-গাওস বিন নাবত—একথা খালিফা বলেছেন। আরও বলা হয়েছে: আনমার বিন ইরাশ বিন লিহিয়ান বিন আমর বিন সাবা বিন আল-আরিব বিন নাবত বিন মালিক বিন যায়িদ বিন কাহলান বিন সাবা। তিনি বাজিলাহ ও খাস'আমের ভাই। কেউ কেউ বলেছেন: আনমার বিন নিযার বিন মা'দ বিন আদনান, যিনি ইয়াদ-এর ভাই। বাজিলাহ গোত্র এদের অন্তর্ভুক্ত, যারা নিজেদের ইয়েমেনের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে; তবে যারা সিরিয়া ও মাগরিবে অবস্থান করত, তারা আনমার বিন নিযারের সাথে নিজেদের বংশীয় সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এই মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, এই আনমারের সাথে সাহাবীদের একটি দল এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের অনেকেই নিজেদের সম্পৃক্ত করেছেন।

আর তাদের মধ্যে মাদহিজ গোত্রের আনমারও রয়েছে। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন: আবু সাঈদ আল-আনমারি, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। খালিফা বলেছেন: এই আবু সাঈদ মাদহিজ গোত্রের আনমারের বংশোদ্ভূত। আর তাদের মধ্যে যুহাইর আল-আনমারিও রয়েছেন।
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ২০)
المذحجي ويقال له أبو زهير، شاميّ له صُحبةٌ وروايةٌ عن النبي صلى الله عليه وسلم، روَى عنه خالد بن معدان.

ومنهم أنمار بن بغيض بن ريث بن غطفان، منهم أبو كبشة الأنماريّ صحابي له

روايةٌ، كذا قاله بعضهم، وقال خليفة: هو من أنمار مذحج.

ومنهم أنمار بن مازن بن عمرو بن تميم بن مرّ بن أْدِّ بن طابخه، منهم عُبيدُ الله ابن العيزار الأنماري التَّميمي، نسبه خليفة بن خيَّاط كذلك.

الأوْسِيّ من بني أوس بن حارثة بن ثعلبة البُهْلول بن عمرو مزيقيا بن عامر ماء السماء بن حارثة الغِطريف بن امرئ القيس البطريق بن ثعلبة بن مازن بن الأَزْد بن الغوث بن نبت بن مالك بن زيد بن كهلان بن سبأ منهم الجمُّ الغفير من الأنصار.

الأوْدِي منسوب إلى أَوْد بن صعب بن سعد العشيرة بن مذحج وهو مالك بن اُدَد بن زيد بن يشجب بن عريب بن زيد بن كهلان بن سبأ، منهم إدريس بن يزيد بن عبد الرحمن بن الأَسْوَد بن حجيَّة بن الأصهب بن زيد بن خلاوة بن زعافر وهو عامر ابن حرب بن سعد بن منبَّه بن أود بن صعب الأودي، وابنه عبد الله بن إدريس الأودي وأخوه وأهله وجماعة سواهم.

الأَوْزاعي منسوب إلى الأوْزَاع بطن من ذي الكلاع من اليمن من سيبان بالسين المهملة، وقيل: الأوزاع بطن من همدان. وقيل: أوزاع اسمه مرثد بن زيد بن سدد بن زرعه بن كعب بن زيد بن سهل بن عمرو بن قيس بن معاوية بن جُشَم ابن عبد شمس بن وائل بن الغوث بن قطن بن عريب بن زهير بن أيمن بن هميسع ابن الحمير. منهم عبد الرحمن بن عمرو الأوزاعيُّ إمام أهل الشَّام.
আল-মাযহিজী, তাকে আবু জুহাইর বলা হয়। তিনি একজন শামী, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহচর্য ও তাঁর থেকে বর্ণনা লাভ করেছেন। তাঁর থেকে খালিদ ইবনে মা’দান বর্ণনা করেছেন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন আনমার ইবনে বাগিয ইবনে রাইস ইবনে গাতফান। তাদের মধ্যে আবু কাবশা আল-আনমারী নবীজির সাহাবী, যাঁর বর্ণনা রয়েছে। কেউ কেউ এমনটিই বলেছেন, তবে খলিফা বলেন: তিনি আনমার মাযহিজ-এর অন্তর্ভুক্ত।

তাদের মধ্যে রয়েছেন আনমার ইবনে মাযিন ইবনে আমর ইবনে তামিমি ইবনে মুর ইবনে উদ্দ ইবনে তাবিখা। তাদের মধ্যে উবায়দুল্লাহ ইবনুল আয়যার আল-আনমারী আত-তামীমী রয়েছেন, খলিফা ইবনে খইয়াত তাঁকে এভাবেই বংশপরম্পরায় উল্লেখ করেছেন।

আল-আউসী হলেন বনী আউস ইবনে হারিসা ইবনে সালাবা আল-বুহলুল ইবনে আমর মুযাইকিয়া ইবনে আমির মাউস সামা ইবনে হারিসা আল-গিতরিফ ইবনে ইমরুল কায়েস আল-বাতরিক ইবনে সালাবা ইবনে মাযিন ইবনে আল-আযদ ইবনে আল-গাউস ইবনে নাবত ইবনে মালিক ইবনে যাইদ ইবনে কাহলান ইবনে সাবা-এর বংশধর। তাদের মধ্য থেকে আনসারদের একটি বিশাল দল রয়েছে।

আল-আউদী বংশটি আউদ ইবনে সা'ব ইবনে সা'দ আল-আশিরা ইবনে মাযহিজ-এর সাথে সম্পর্কিত। আর তিনি হলেন মালিক ইবনে উদাদ ইবনে যাইদ ইবনে ইয়াশজুব ইবনে উরাইব ইবনে যাইদ ইবনে কাহলান ইবনে সাবা। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইদ্রিস ইবনে ইয়াযিদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আল-আসওয়াদ ইবনে হাজিয়্যাহ ইবনে আল-আসওয়াব ইবনে যাইদ ইবনে খালাওয়া ইবনে যা’আফির—আর তিনি হলেন আমির ইবনে হারব ইবনে সা’দ ইবনে মুনাব্বিহ ইবনে আউদ ইবনে সা’ব আল-আউদী—এবং তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ ইবনে ইদ্রিস আল-আউদী, তাঁর ভাই, পরিবার এবং আরও একদল ব্যক্তি।

আল-আওযাঈ বংশটি আওযা-এর সাথে সম্পর্কিত, যা ইয়ামানের যুল কালা'র সাইবান (সীন বর্ণ যোগে) শাখার একটি গোত্র। কেউ কেউ বলেন, আওযা হামদান বংশের একটি গোত্র। আবার কেউ বলেন, আওযা হলো মারসাদ ইবনে যাইদ ইবনে সাদাদ ইবনে যারাআ ইবনে কা'ব ইবনে যাইদ ইবনে সাহল ইবনে আমর ইবনে কায়াস ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে জুশাম ইবনে আবদু শামস ইবনে ওয়াইল ইবনে আল-গাউস ইবনে কাতান ইবনে উরাইব ইবনে জুহাইর ইবনে আয়মান ইবনে হুমাইসা ইবনে হিমইয়ার-এর নাম। তাদের মধ্যে শামের অধিবাসীদের ইমাম আবদুর রহমান ইবনে আমর আল-আওযাঈ অন্যতম।
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ২১)
الأوَّابي بتشديد الواو منسوب إلى أوَّاب بطن من تُجيب، منهم زياد بن نافع الأوَّابي مولى بني الأوَّاب، يروى عن كعب صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم. روَى عنه بكر بن سَوَادة.

الأَيْدَعانِي منسوب إلى أيْدَعان، منهم رومان بن سودان وقيل سودان ابن رومان التُّجِيي ثم الأيْدَعاني، قيا أنه قاتل عثمان بن عفَّان رضي الله عنه. شهد فتح

مصر. قاله ابن يونس.
আল-আউওয়াবী: ‘ওয়াও’ বর্ণের তাশদীদসহ, এটি তুজীব গোত্রের একটি শাখা আউওয়াবের সাথে সম্পর্কিত। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন বনু আল-আউওয়াবের মুক্তদাস যিয়াদ বিন নাফি আল-আউওয়াবী। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী কাব থেকে বর্ণনা করেন। তার নিকট থেকে বকর বিন সাওয়াদা বর্ণনা করেছেন।

আল-আইদআনী: এটি আইদআনের সাথে সম্পর্কিত। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন রুমান বিন সুদান—মতান্তরে সুদান বিন রুমান—আল-তুজীবী, অতঃপর আল-আইদআনী। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুর হত্যাকারী ছিলেন। তিনি মিশর বিজয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ইবনে ইউনুস এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌باب الباء

البَارِقي منسوب إلى بَارِق بن عوف بن عديّ بن حارثة بن عمرو مُزَيْقيَا بن عامر ماء السماء. وقد ذكرنا باقي النَّسب كذا قاله أبو بكر البَرَقي. وقال خليفة بن خيَّاط: بارق هو سعد بن عديّ بن حارثة بن عمرو بن عامرٍ، والأشهر أن بارق هم بنو عديّ بن حارثة بن عمرو بن عامر، نزلوا جبلاً باليمن يقال له بارق فسمُّوا به. وجماع بارق سعد بن عديّ كما قاله خليفة. منهم عروة بن الجعد، ويقال ابن أبي الجعد البارقي، من سكان الكوفة، له صحبةٌ وروايةٌ عن النبي صلى الله عليه وسلم، له ثلاثة أحاديث فيما قيل، حديثان في ذِكر الخيل، وحديث في الأُضحية.

البَاهِلي منسوب إلى باهلة بن أعْصُر، ويقال يعصر بن سعد بن قيس بن عيلان بن مضر بن بزار بن معدّ بن عدنان، اتَّفق على هذا أهل النسب. وقال أبو بكر البرقي: باهلة امرأةٌ، أُمُّ ولد معن بن مالك بن يعصر، وهي باهلة بنت سعد العشيرة من مذحج. وقال ابن جبيب: ولد مالك بن أعصر بن سعد بن قيس عيلان، سعد مناة بن مالك، وأمُّه باهلة بنت صعب بن سعد العشيرة بها يُعْرف، ثم خَلَف على باهلة ابن زوجها معن بن مالك فولدت أوداً، وجِئاوَةَ. ووُلِدَ لمعن بن مالك من أرنب بنت شمخ بن فزارة شيبان وهو فرَّاص، وزيد وهو لحيان، ووائل والحارث وحرب ووهيبة وعمرو؛ ومن سودة بنت عمرو بن تميم قتيبة وقَعْنب، فحضنت هؤلاء أجمعين باهلة فنُسبوا إليها وغلبت على نِسبتهم. وقال
বা অধ্যায়

আল-বারেকী শব্দটি বারেক বিন আউফ বিন আদি বিন হারিসাহ বিন আমর মুযাইকিয়া বিন আমির মাউস সামা-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। আবু বকর আল-বারাকী যেমনটি বলেছেন, আমরা বংশপরম্পরার বাকি অংশ উল্লেখ করেছি। খলিফা বিন খাইয়্যাত বলেছেন: বারেক হলেন সাদ বিন আদি বিন হারিসাহ বিন আমর বিন আমির। তবে অধিক প্রসিদ্ধ মত হলো, বারেক হলো আদি বিন হারিসাহ বিন আমর বিন আমিরের বংশধর; তারা ইয়ামেনের একটি পাহাড়ে অবতরণ করেছিল যাকে বারেক বলা হয়, ফলে তাদের এই নামে নামকরণ করা হয়েছে। খলিফা যেমনটি বলেছেন, বারেকের মূল ভিত্তি হলো সাদ বিন আদি। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন উরওয়াহ বিন আল-জাদ, আর তাকে ইবনে আবি আল-জাদ আল-বারেকীও বলা হয়; তিনি কুফার অধিবাসী ছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর বর্ণিত হাদীস তিনটি; দুটি হাদীস ঘোড়া প্রসঙ্গে এবং একটি হাদীস কুরবানী প্রসঙ্গে।

আল-বাহিলী শব্দটি বাহিলা বিন আসুর—যাকে ইয়াসুর বিন সাদ বিন কাইস বিন আইলান বিন মুদার বিন বিযার বিন মাদ বিন আদনানও বলা হয়—এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। বংশবিদগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন। আবু বকর আল-বারাকী বলেছেন: বাহিলা একজন নারী, তিনি মান বিন মালিক বিন ইয়াসুরের উম্মু ওয়ালাদ (সন্তান প্রসবকারিণী দাসী) ছিলেন। তিনি হলেন মাজহিজ গোত্রের সাদ আল-আশিরাহ-এর কন্যা বাহিলা। ইবনে হাবীব বলেছেন: মালিক বিন আসুর বিন সাদ বিন কাইস আইলান-এর পুত্র হলেন সাদ মানাহ বিন মালিক, আর তাঁর মা হলেন বাহিলা বিনতে সাব বিন সাদ আল-আশিরাহ, যাঁর নামানুসারেই তিনি পরিচিত। এরপর বাহিলার স্বামীর পুত্র মান বিন মালিক বাহিলাকে বিবাহ করেন, ফলে তাঁর গর্ভে আউদ ও জিয়াওয়াহ জন্মগ্রহণ করেন। আরনাব বিনতে শামখ বিন ফাজারা-এর গর্ভে মান বিন মালিকের শায়বান—যিনি ফাররাস নামে পরিচিত—যায়িদ—যিনি লিহয়ান নামে পরিচিত—এবং ওয়াইল, আল-হারিস, হারব, উহাইবাহ ও আমর জন্মগ্রহণ করেন। আর সাওদাহ বিনতে আমর বিন তামীম-এর গর্ভে কুতাইবাহ ও কানাব জন্মগ্রহণ করেন। বাহিলা এদের সকলকেই লালন-পালন করেছিলেন, ফলে তারা তাঁর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত হলো এবং তাদের বংশ পরিচয়ে এই নামই প্রাধান্য লাভ করল। তিনি বলেন..।
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ২৩)
خليفة: باهلة بنت أُدِّ بن صعب بنت سعد العشيرة ابن مالك بن أُدَد بن زيد بن يشجُب بن يعرب بن قحطان، منهم أبو أُمامة الصُّدَيُّ ابن عجلان بن وهب بن عريب بن وهب بن رياح بن الحارث بن معن بن مالك ابن أعصُر. كذا ساق نسبته خليفة، وقد خولف في بعض الأسماء.

البَجَلِي منسوب إلى بَجِيلَة وهم ولَدُ أنمار بن إراش بن عمرو بن الغوث ابن نبت

بن مالك بن زيد بن كهلان بن سبأ؛ نُسِبوا إلى أُمِّهم وهي بجيلةُ بنت صعب بن سعد العشيرة، قاله خليفة بن خيَّاط. وقيل: بَجِيلةُ أُمةٌ سوداءُ كانت لنزار ابن معدّ بن عدنان فوهبها لولده أنمار، فتزوَّج أنمار هند بنت غافق بن الشَّاهد ابن عَكّ بن عُدْثان فولدت له ولده، وماتت أُمُّهم فحضنتهم بَجيلَةُ فنُسِبُوا إليها ما خلا خثعم. والصحيح أن أنمار هو ابن إراش كما ذكرناه أولاً. ومن بَجِيلَة خلق كثير من الصحابة والتابعين ومن بعدهم من العلماء والفرسان والشعراء.

البَجْليِ بسكون الجيم منسوب إلى بَجْلَة وهمْ ولدَ ثَعْلَبة بن بُهْثة بن ُسليم ابن منصُور بن عِكْرِمة بن خَصَفةَ بن قيس بن عَيْلان بن نضر، نسبوا إلى ُأمِّهم بجلة بنت هناءة بن مالك بن فهم الأزدي؛ منهم أبو نجيح العِرْبَاضُ بن سَارِيَةَ وعمرو بن عبسة بن بجلة ابن حذيفة بن عمرو بن خلف بن مازن بن مالك بن ثعلبة
খলিফা বলেন: বাহিলা হলেন উদ্দ বিন সা'ব বিন সাদ আল-আশিরা ইবনে মালিক বিন উদাদ বিন যায়েদ বিন ইয়াশজুব বিন ইয়ারুব বিন কাহরানের কন্যা। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আবু উমামা আস-সুদাই ইবনে আজলান বিন ওয়াহাব বিন আরিব বিন ওয়াহাব বিন রিয়াহ বিন আল-হারিস বিন মা'ন বিন মালিক ইবনে আসুর। খলিফা এভাবেই তাঁর বংশপরম্পরা বর্ণনা করেছেন, তবে কিছু নামের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য রয়েছে।

আল-বাজালি বাজিলার দিকে সম্বন্ধযুক্ত, আর তারা হলেন আনমার বিন ইরাশ বিন আমর বিন আল-গাওস বিন নাবত

বিন মালিক বিন যায়েদ বিন কাহলান বিন সাবা-এর বংশধর। তাদের বংশের নামকরণ করা হয়েছে তাদের মা বাজিলার নামে, যিনি ছিলেন সা'ব বিন সাদ আল-আশিরার কন্যা; একথা খলিফা বিন খাইয়্যাত বলেছেন। আবার বলা হয়েছে: বাজিলা ছিলেন একজন কৃষ্ণাঙ্গ দাসী, যিনি নিজার ইবনে মা'আদ বিন আদনানের মালিকানাধীন ছিলেন। তিনি তাকে তাঁর পুত্র আনমারকে দান করেন। অতঃপর আনমার হিন্দ বিনতে গাফিক বিন আশ-শাহিদ বিন আক্ক বিন উদসানকে বিবাহ করেন এবং তিনি তাঁর সন্তানদের জন্ম দেন। তাদের মা মারা যাওয়ার পর বাজিলা তাদের লালন-পালন করেন, ফলে খাস'আম ব্যতীত অন্যদের তাঁর দিকে সম্বন্ধ করা হয়। সঠিক কথা হলো আনমার হলেন ইরাশ-এর পুত্র, যেমনটি আমরা প্রথমে উল্লেখ করেছি। বাজিলা গোত্র থেকে অসংখ্য সাহাবী, তাবিঈ এবং পরবর্তী যুগের আলিম, বীর যোদ্ধা ও কবিদের উদ্ভব হয়েছে।

আল-বাজলি (জীম বর্ণে সুকুনসহ) বাজলার দিকে সম্বন্ধযুক্ত। তারা হলেন সা'লাবা বিন বুহসা বিন সুলাইম বিন মানসুর বিন ইকরিমাহ বিন খাসাফা বিন কায়স বিন আইলান বিন নাদর-এর সন্তান। তাদের নামকরণ করা হয়েছে তাদের মা বাজলা বিনতে হানায়াহ বিন মালিক বিন ফাহম আল-আযদি-এর নামে। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আবু নাজিহ আল-ইরবাদ বিন সারিয়া এবং আমর বিন আবাসা বিন বাজলা বিন হুযাইফা বিন আমর বিন খালাফ বিন মাজিন বিন মালিক বিন সা'লাবা।
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ২৪)
بن بُهثة بن سُليم، له صحبة ورواية عن النبي صلى الله عليه وسلم. ومنهم عيسى بن عبد الرحمن البَجْلي كوفي حدَّث عنه الثَّوْرِيُّ وغيره.

البُحْتُري منسوب إلى بحتر بن عتُّود بن عُنَيْن بن سلامان بن ثُعل بن عمرو ابن الغوث بن طيِّئ؛ منهم الوليد بن جابر بن ظالم بن حارث بن عتَّاب بن أبي حارثة بن جُدَيِّ بن تدول بن بُحتُر، ذكره الطَّبريُّ فيمن وفد على النبي صلى الله عليه وسلم من طيِّئ وكتب له كتاباً فهو عندهم.

البَدِّي بفتح الباء وتشديد الدال منسوب إلى بَدّا بن الحارث بن معاوية ابن ثور بن مُرْتِع بن كِندة؛ منهم حبيب بن يسار البَدِّي مولى بني بَدّا، روَى عن زيد بن أرقم، وروَى عنه يوسف بن صُهيب وغيره. وعمرو بن عبد الله البَدّي الكُوفي رأى حجر بن عديّ؛ وابنه محمد بن عمرو البدّي روَى عن أبيه. وزكرياءُ بن يحيى البَدّي حدَّث عن همَّام بن حارث وإبراهيم النَّخعي والشَّعبي، روَى عنه غسَّان بن الرَّبيع وغيرُه.

البُرجُمي بفتح الباء كذا يقوله أكثر أصحاب الحديث ووجدت بخط ابن الفرات بضم الباء وهو الأشهر عند أهل التَّحقيق، منسوب إلى البراجم وهم قيس وكُلْفة وغالب وعمرو وهم ولد حنظلة بن مالك بن زيد مناة بن تميم. قاله خليفة وقيل: البراجم سِتُّ قبائل: عمرو، وقيس، وكلفة، وغالب، وظُليم بنو حنظلة بن مالك بن زيد مناة بن تميم. وقال ابن الكلبي: وإنما سُمُّوا البراجم من بني حنظلة بن مالك
...বিন বুহসা বিন সুলাইম, তাঁর সাহচর্য এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হাদিস বর্ণনা রয়েছে। তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন ঈসা বিন আবদুর রহমান আল-বাজালি আল-কুফি, যাঁর থেকে আস-সাওরি ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন।

আল-বুহতুরি শব্দটি বুহতুর বিন আতুদ বিন উনায়ন বিন সালামুন বিন সুয়াল বিন আমর বিন আল-গাউস বিন তাইয়ি-এর সাথে সম্পর্কিত; তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আল-ওয়ালিদ বিন জাবির বিন জালিম বিন হারিস বিন আত্তাব বিন আবি হারিসা বিন জুদাই বিন তাদুল বিন বুহতুর, ইমাম তাবারী তাঁকে তাইয়ি গোত্র থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আগত প্রতিনিধি দলের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জন্য একটি লিপি লিখে দিয়েছিলেন যা তাঁদের নিকট সংরক্ষিত আছে।

আল-বাদদি (বা বর্ণে ফাতহা এবং দাল বর্ণে তাশদিদ সহ) শব্দটি বাদদা বিন আল-হারিস বিন মুয়াবিয়া বিন সাওর বিন মুরতি' বিন কিনদাহ-এর সাথে সম্পর্কিত; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বনু বাদদা-এর মুক্তদাস হাবিব বিন ইয়াসার আল-বাদদি, তিনি যায়েদ বিন আরকাম থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে ইউসুফ বিন সুহাইব ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন। আর আমর বিন আবদুল্লাহ আল-বাদদি আল-কুফি হুজর বিন আদি-কে দেখেছেন; তাঁর পুত্র মুহাম্মদ বিন আমর আল-বাদদি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং জাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া আল-বাদদি হাম্মাম বিন হারিস, ইবরাহিম আন-নাখয়ি ও আশ-শা'বি থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁর থেকে গাসসান বিন আর-রাবি ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন।

আল-বুরজুমি (বা বর্ণে ফাতহা সহ), অধিকাংশ হাদিস বিশারদগণ এভাবেই বলেন, তবে আমি ইবনুল ফুরাতের হস্তলিপিতে বা বর্ণে যম্মাহ (পেশ) সহ পেয়েছি যা গবেষকদের নিকট অধিক প্রসিদ্ধ। এটি বারাজিম-এর সাথে সম্পর্কিত এবং তারা হলো কায়স, কুলফাহ, গালিব এবং আমর; তারা হানজালা বিন মালিক বিন যায়েদ মানাত বিন তামীম-এর সন্তান। খলিফা এটি বলেছেন। মতান্তরে বলা হয়েছে: বারাজিম হলো ছয়টি গোত্র: আমর, কায়স, কুলফাহ, গালিব এবং জুলিম, যারা হানজালা বিন মালিক বিন যায়েদ মানাত বিন তামীম-এর সন্তান। ইবনুল কালবি বলেছেন: হানজালা বিন মালিকের সন্তানদের মধ্য হতে তাঁদের বারাজিম নামকরণ করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ২৫)
بن زيد مناة بن تميم وهم خمسة: عمرو، والظُّليم، وقيس، وكُلفة، وغالب بنو حنظلة، لأنه قال لهم رجلٌمنهم يقال له حارث بن عامر بن عمرو بن حنظلة: أيَّتُها القبائل التي قد ذهب عددها تعالوا فلنجتمع فلنكن مثل براجم يدي هذه، ففعلوا فسمُّوا البراجم. وعند ابن حبيب ظَلِيم الظاء.

البُرْسَاني منسوب إلى بُرسان، بطن من الأزد، وهو بُرسانُ بن عمرو بن كعب بن الغطريف الأصغر بن عبد الله بن الغطريف وهو عامر بن بكر بن يشكر بن مُبَشِّر بن صعب ابن دُهمان بن نصر بن الأزد بن الغوث بن نبت قاله خليفة. وقال في موضع آخر: ابن نصر بن زهران بن مالك بن نصر بن الأزد، قاله محمَّد بن سعد كاتب الواقِدي. منهم محمد بن بكر بن عثمان أبو عثمان وقيل أبو عبد الله البصري البُرسانيّ سَمِع ابن جُرَيْح وسعيد بن أبي عروبة وشعبة وغيرهم، روَى عنه أحمد ابن حنبل ويحيى بن معين وهارون بن عبد الله البزَّاز البَصري وغيرهم.

وفي هَمْدانَ أيضاً بُرْسان وهو بُرْسانُ واسمه الحارث بن عمرو بن ربيعة بن عبد الله بن وادعة بن عمرو بن عامر بن نَاشِج بن دافع بن مالك بن جُشم بن حامد بن جُشَم بن خيوان.
যায়িদ মানাত বিন তামীমের বংশধর, তারা পাঁচজন: আমর, আয-যুলিম, কাইস, কুলফাহ এবং গালিব—এরা হানযালাহ-এর সন্তান। কারণ তাদেরই হারিস বিন আমির বিন আমর বিন হানযালাহ নামক এক ব্যক্তি বলেছিলেন: "হে গোত্রসমূহ, যাদের সংখ্যা কমে গেছে, এসো আমরা একত্রিত হই এবং আমার এই হাতের আঙুলের গিঁটগুলোর (বারাজিম) মতো হয়ে যাই।" তারা তাই করল এবং তাদের নাম দেওয়া হলো 'আল-বারাজিম'। ইবনে হাবিবের মতে এটি 'যালিম' (য' বর্ণ দিয়ে)।

আল-বুরসানি শব্দটি বুরসানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা আযদ গোত্রের একটি শাখা। তিনি হলেন বুরসান বিন আমর বিন কাব বিন আল-গাতরিফ আল-আসগার বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-গাতরিফ—যিনি আমির বিন বকর বিন ইয়াশকর বিন মুবাশশির বিন সাব বিন দুহমান বিন নাসর বিন আল-আযদ বিন আল-গাওস বিন নাবত; খলিফাহ এ কথা বলেছেন। তিনি অন্য স্থানে বলেছেন: নাসর বিন যাহরান বিন মালিক বিন নাসর বিন আল-আযদের বংশধর; এ কথা ওয়াকিদির লেখক মুহাম্মদ বিন সাদ বলেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মদ বিন বকর বিন উসমান আবু উসমান, মতান্তরে আবু আব্দুল্লাহ আল-বাসরি আল-বুরসানি। তিনি ইবনে জুরায়জ, সাঈদ বিন আবি আরুবাহ, শু'বাহ এবং অন্যদের নিকট হতে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তাঁর থেকে আহমদ ইবনে হাম্বল, ইয়াহইয়া বিন মাঈন, হারুন বিন আব্দুল্লাহ আল-বাযযায আল-বাসরি এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন।

হামদান গোত্রেও বুরসান রয়েছে, তিনি হলেন বুরসান এবং তাঁর নাম হারিস বিন আমর বিন রাবিআহ বিন আব্দুল্লাহ বিন ওয়াদিআহ বিন আমর বিন আমির বিন নাশিজ বিন দাফি বিন মালিক বিন জুশাম বিন হামিদ বিন জুশাম বিন খায়ওয়ান।
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ২৬)
البُرْسمِيّ منسوب إلى بُرْسُم، بطن من حمير، منهم أبو عثمان البُرْسُمي، دِمَشْقي ذكره خليفة في الطبقة الأولى من تابعي الشام.

البَرَحِي بالحاء المهملة منسوب إلى بَرِيح، وهم بطن من كِندة، منهم القاسم بن عبد الله بن ثعلبة التُّجيبيّ ثم البَرَحِيّ من بني الحارث بن معاوية، سمع عبد الله بن عمرو بن العاص، روى عنه سلمةُ بن أكسوم وجعفر بن ربيعة.

وفي قُضاعة أيضاً بَرِيح وهو بَرِيح بن خُزيمة بن تيم الله بن أسد بن وبرة بن تغلب بن حُلْوَان بن عِمران بن إلحاف بن قضاعة.

البَكَّائي منسوب إلى البَكَّاءَ وهو ربيعةُ بن عمرو بن عامر بن ربيعة بن عامر ابن صعصعة، قاله خليفة بن خيَّاط. وقال أبو بكر البَرَقي: البَكَّاء هو ربيعةٌ بن عامر ابن صعصعة وتبعه على ذلك جماعةٌ؛ ومِمَّن ينسب إليه الفُجَيْع بن عبد الله بن جُندع بن البَكَّاء بن عمرو البَكَّائي، كان ممن وفد مع أبيه على رسول الله صلى الله عليه وسلم، وغيره جماعة من الصحابة والتابعين ومن بعدهم.

البَكْري منسوب إلى بَكْر، وبَكْرٌ في العرب جماعةٌ، منهم بَكْرُ بنُ وائل بن قاسِط بن هِنْب بن أفصَى بن دُعْمِيِّ بن جَدِيلة بن أسد بن ربيعة بن نِزار، قبيلٌ منهم الصحابة والتابعين وجماعة من أهل العلم.

ومنهم بَكْرُ بن عبدِ مناة بن كنانة بن خُزَيمة بن مُدْرِكة بن إلياس بن مُضر، ومن ولده أيضاً جماعة.

ومنهم بكْرُ بن النَّخَع بن عوف بن المِشْر بن النَّخَع واسمه جَسْر بن عمرو بن عُلَة ابن جَلد بن مالك بن أُدَد بن زيد بن يشجُب، منهم عَلْقَمةُ بن قيس بن عبد الله
আল-বুরসামি হচ্ছে বুরসাম-এর সাথে সম্পৃক্ত, যা হিমইয়ার গোত্রের একটি শাখা। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আবু উসমান আল-বুরসামি। তিনি দামেস্কের অধিবাসী ছিলেন; খলিফা তাঁকে সিরিয়ার তাবেয়িদের প্রথম স্তরে উল্লেখ করেছেন।

আল-বারাহি (বিন্দুহীন হা সহকারে) বারীহ-এর সাথে সম্পৃক্ত, যারা কিনদাহ গোত্রের একটি শাখা। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আল-কাসিম বিন আবদুল্লাহ বিন সা’লাবা আত-তুজিবি, অতঃপর আল-বারাহি; তিনি বনু হারিস বিন মুয়াবিয়ার বংশোদ্ভূত। তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস থেকে শুনেছেন। তাঁর থেকে সালামা বিন আকসুম এবং জাফর বিন রাবিয়াহ বর্ণনা করেছেন।

কুযা’আহ গোত্রেও বারীহ রয়েছে, তিনি হলেন বারীহ বিন খুজাইমাহ বিন তাইমুল্লাহ বিন আসাদ বিন ওয়াবারাহ বিন তাগলিব বিন হুলওয়ান বিন ইমরান বিন ইলহাফ বিন কুযা’আহ।

আল-বাক্কায়ি হচ্ছে আল-বাক্কা’-এর সাথে সম্পৃক্ত, আর তিনি হলেন রাবিয়াহ বিন আমর বিন আমির বিন রাবিয়াহ বিন আমির বিন সা’সা’আহ; খলিফা বিন খাইয়াত এমনটিই বলেছেন। আবু বকর আল-বারকি বলেছেন: আল-বাক্কা’ হলেন রাবিয়াহ বিন আমির বিন সা’সা’আহ। একদল আলেম এ ব্যাপারে তাঁর অনুসরণ করেছেন। আল-বাক্কা’-এর সাথে যাদের নিসবত বা সম্পর্ক রয়েছে তাদের মধ্যে আল-ফুজাই’ বিন আবদুল্লাহ বিন জুনদা’ বিন আল-বাক্কা’ বিন আমর আল-বাক্কায়ি অন্যতম। তিনি তাঁর পিতার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসা প্রতিনিধি দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এ ছাড়াও একদল সাহাবি, তাবেয়ি এবং তাদের পরবর্তীগণ এ বংশের অন্তর্ভুক্ত।

আল-বাকরি হচ্ছে বাকর-এর সাথে সম্পৃক্ত। আরবদের মধ্যে ‘বাকর’ নামক একাধিক গোষ্ঠী রয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো বাকর বিন ওয়ায়িল বিন কাসিত বিন হিনব বিন আফসা বিন দু’মি বিন জাদিলা বিন আসাদ বিন রাবিয়াহ বিন নিযার। এটি এমন একটি গোত্র যাদের মধ্যে অনেক সাহাবি, তাবেয়ি এবং একদল আলেম রয়েছেন।

তাদের মধ্যে আরও রয়েছে বাকর বিন আবদে মানাত বিন কিনানাহ বিন খুজাইমাহ বিন মুদরিকাহ বিন ইলিয়াস বিন মুযার। তাঁর বংশধরদের মধ্যেও একদল লোক রয়েছেন।

তাদের অন্তর্ভুক্ত আরও হলেন বাকর বিন আন-নাখা বিন আউফ বিন আল-মিশর বিন আন-নাখা; আর তাঁর নাম হলো জাসর বিন আমর বিন উলাহ বিন জালদ বিন মালিক বিন উদাদ বিন যাইদ বিন ইয়াশজুব। তাদের অন্যতম হলেন আলক্বামাহ বিন কায়স বিন আবদুল্লাহ।
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ২৭)
ابن مالك بن علقمة بن سلامان بن كُهَيْل بن بكر بن النَّخَع بن عوف، الفقيه صاحب ابن مسعود، وجماعة سواه، وقد ميَّزنا بين الكُلّ في كتاب الفيصل.

البِكَالي بكسر الباء وتخفيف الكاف، بطن من حمير، قاله الغسَّاني؛ منهم: عمرو البِكَالي، له صُحبة وفي حديثة خِلاف؛ وثُوَيْب أبو رُشيد البكَالي، حِمْصي معروف بِكُنْيَته؛ ونَوفٌ البِكَالي هو ابن فضالة؛ وأبو الوَداك جبر بن نوف البِكَالي. وبِكَال

هو ابن دُعْمِيّ بن سعد بن عوف بن عديّ بن مالك بن زيد بن سهل ابن عمرو بن قيس بن معاوية بن جُشَم بن عبد شمس بن وائل بن الغوث بن قطن بن عريب بن زهير بن أيمن بن الهَمَيْسع بن حمير بن سبأ، وجماعة غيرهم.

البَكِيلي منسوب إلى بَكِيل بن جُشَم بن خَيْوَان بن نوف بن همدان ومن بَكِيل الثَّوريُّون ثور همدان، والأرحبيُّون، والمُرهبيُّون، كلهم بَكِيلِيُّون؛ منهم أبو السَّفَر سعيد بن يُحمد الثَّوري البَكِيلي، روَى عن ابن عباس والبَراءِ بن عازِب وسعيد بن جُبَيْر، روى عنه أبو إسحاق وغيره؛ وصالح بن حيّ الثَّوري البَكِيلي وأهلُه وغيرهم.

البَلَوِي منسوب إلى بَلِيّ بن عمرو بن إلحاق بن قُضاعة، قبيل منهم جماعةٌ من الصحابة والتابعين ومن بعدهم.
বিন মালিক বিন আলকামা বিন সালামা বিন কুহাইল বিন বকর বিন আন-নাখা' বিন আউফ, তিনি ফকিহ এবং ইবনে মাসউদের সাথী ও অন্যান্যদেরও সাথী ছিলেন। আমরা 'কিতাবুল ফয়সাল'-এ সকলের মাঝে পার্থক্য বর্ণনা করেছি।

আল-বিকালি (বা-এর নিচে কাসরা তথা ই-কার এবং কাফ-এর হালকা উচ্চারণ সহ), এটি হিময়ার গোত্রের একটি শাখা, যা আল-গাসসানি বলেছেন। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন: আমর আল-বিকালি, তিনি সাহচর্য (সাহাবী হওয়ার মর্যাদা) লাভ করেছেন এবং তার বর্ণিত হাদিস নিয়ে মতভেদ আছে; এবং থুওয়াইব আবু রুশাইদ আল-বিকালি, তিনি হিমসের অধিবাসী এবং তার উপনামেই (কুনিয়ত) সুপরিচিত; এবং নাওফ আল-বিকালি, যিনি ইবনে ফাদালা; এবং আবুল ওয়াদাক জাবর বিন নাওফ আল-বিকালি। এবং বিকাল হলেন—

ইবনে দু'মি বিন সাদ বিন আউফ বিন আদি বিন মালিক বিন যায়েদ বিন সাহল বিন আমর বিন কায়স বিন মুয়াবিয়া বিন জুশাম বিন আবদু শামস বিন ওয়াইল বিন আল-গাওস বিন কাতান বিন আরিব বিন যুহাইর বিন আয়মান বিন আল-হামায়সা বিন হিময়ার বিন সাবা এবং আরও একদল লোক।

আল-বাকিলি শব্দটি বাকিল বিন জুশাম বিন খাইওয়ান বিন নাওফ বিন হামদানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। আর বাকিল গোত্র থেকেই আস-সাওরিউন (হামদানের সাওরিরা), আল-আরহাবিউন এবং আল-মুরহাবিউন উদ্ভূত হয়েছে; তারা সবাই বাকিলি। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আবু আস-সাফার সাঈদ বিন ইউহামাদ আস-সাওরি আল-বাকিলি, তিনি ইবনে আব্বাস, বারা বিন আযিব এবং সাঈদ বিন জুবাইর থেকে বর্ণনা করেছেন। তার থেকে আবু ইসহাক ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও রয়েছেন সালিহ বিন হাই আস-সাওরি আল-বাকিলি, তার পরিবারবর্গ এবং অন্যান্যরা।

আল-বালাউয়ি শব্দটি বালি বিন আমর বিন ইলহাক বিন কুদাআর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। এটি একটি গোত্র যাদের মধ্য থেকে একদল সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাদের পরবর্তী স্তরের ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন।
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ২৮)
البُنَانِي منسوب إلى بُنانَةَ وهم ولَدُ سعد بن لُؤيّ، وأُمُّ سعد اسمُها بُنانة، وقيل: بل هي أَمَةٌ لِسَعد كانت حضنت بَنِيه، وقيل بل بُنانةُ أُمُّ بني سعد بن ضُبيعة بن نِزار. وقال الزُّبير بن بكَّار: بُنانةُ كانت أَمةٌ لسعد بن لؤيّ حضنت بنيه عِمَار وعَمارِي ومَخزُوم بعد أُمّهم فغلبت عليهم فسُمُّوا بها؛ منهم أبو محمد ثابت بن أسْلَم البُناني وغيرُه. وأما عبد العزيز بن صُهيب البُناني فليس منسوباً إلى القبيلة وإنما قيل له البُناني لأنه كان ينزل سِكَّة بُنانة بالبصرة، قاله أبو حاتم البُسْتي، وكذا عليُّ بن إبراهيم البُناني ليس منسوباً إلى القبيلة، وإنما قيل له البُناني لأنه من بُنَان ناحية من نواحي مَرْوَ الشَّاهَجان. وقد فصَّلنا بين الكُلِّ في كتاب الفَيْصَل.

البَهْرَانِي منسوب إلى بهران بن عمرو بن إلحاف بن قُضَاعة أخي بَليّ منهم المِقدادُ بن عمرو بن ثعلبة بن مالك بن ربيعة بن ثُمَامة بن مطرود بن عمرو ابن سعد بن دَهِيز بن لُؤَيّ بن ثَعلبة بن مالك بن الشَّريد بن أبي أهون بن قاس بن دُرَيم بن القين بن أهود بن بهراء يكنى أبا معبد حليف بني زُهرة.

البَهْزِي منسوب إلى بَهْز بن امْرِئ القيس بن بُهْثَة بن سُليم بن منصور بن عِكْرِمة بن خصفة بن قيس بن عيلان بن مُضر منهم مُرّة، وقيل: زيد بن كَعب البَهزي صاحب
বুনানি শব্দটি বুনানা-এর সাথে সম্পর্কিত, তারা হলো সা’দ ইবনে লুআই-এর সন্তান। সা’দের মায়ের নাম ছিল বুনানা। আবার বলা হয়েছে, তিনি ছিলেন সা’দের একজন দাসী যিনি তার সন্তানদের লালন-পালন করেছিলেন। এও বলা হয়েছে যে, বুনানা ছিলেন সা’দ ইবনে দুবাইআ ইবনে নিজারের সন্তানদের মা। জুবায়ের ইবনে বাক্কার বলেছেন: বুনানা ছিলেন সা’দ ইবনে লুআই-এর একজন দাসী, যিনি তাদের মায়ের পর তার সন্তান ইমার, আমারি এবং মাখজুমকে লালন-পালন করেছিলেন; ফলে এই নামটি তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে এবং তারা এই নামেই পরিচিতি লাভ করেন। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আবু মুহাম্মাদ সাবিত ইবনে আসলাম আল-বুনানি এবং অন্যান্যরা। আর আব্দুল আজিজ ইবনে সুহাইব আল-বুনানি গোত্রের দিক থেকে বুনানি নন, বরং তাকে বুনানি বলা হতো কারণ তিনি বসরার বুনানা নামক গলিতে বসবাস করতেন; এ কথা আবু হাতিম আল-বুস্তি বলেছেন। একইভাবে আলী ইবনে ইব্রাহিম আল-বুনানি গোত্রের সাথে সম্পর্কিত নন, বরং তাকে বুনানি বলা হয় কারণ তিনি মার্ভ আশ-শাহিজানের একটি অঞ্চল ‘বুনান’ এর অধিবাসী ছিলেন। আমরা আল-ফয়সাল গ্রন্থে এ সবের বিস্তারিত পার্থক্য বর্ণনা করেছি।

বাহরানি শব্দটি বাহরা ইবনে আমর ইবনে ইলহাফ ইবনে কুদাআ-এর সাথে সম্পর্কিত, যিনি বালি-এর ভাই। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন মিকদাদ ইবনে আমর ইবনে সা’লাবা ইবনে মালিক ইবনে রাবিআ ইবনে সুমামা ইবনে মাত্রুদ ইবনে আমর ইবনে সা’দ ইবনে দাহিজ ইবনে লুআই ইবনে সা’লাবা ইবনে মালিক বিন আশ-শারীদ বিন আবি আহওয়ান বিন কাস বিন দুরাইম বিন আল-কাইন বিন আহওয়াদ বিন বাহরা; তার উপনাম ছিল আবু মা’বাদ এবং তিনি বনু জুহরা-র মিত্র ছিলেন।

বাহজি শব্দটি বাহজ ইবনে ইমরুল কায়েস ইবনে বুহসা ইবনে সুলাইম ইবনে মানসুর ইবনে ইকরিমা ইবনে খাসাফা ইবনে কায়েস ইবনে আয়লান ইবনে মুদার-এর সাথে সম্পর্কিত। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন মুররাহ, মতান্তরে জায়েদ ইবনে কাব আল-বাহজি, যিনি...
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ২৯)
الظَّبْي الحاقِف سك الشَّام، والحجَّاج بن عِلاط البَهْزي، وضمرة ابن ثعلبة البَهزي، وغيرهم من الصحابة.

البَوْلَاني منسوب إلى بَولان بن الغوث بن طَيِّئ. وقال ابن حبيب: بَولانُ اسمه غُصين بن عمرو، وحَضَنه عبدٌ له يقال له بَولانُ فغلب عليه.

البَيَاضِي منسوب إلى بياضة بن عامر بن زُرَيْق بن عبد حارثة بن مالك بن غَضْب بن جُشَم بن الخزرج، منهم زياد بن لبيد، وسلمة بن صخر، وحبيب بن زيد، وحاجب بن زيد، وخالد بن قيس، وزيد بن الدَّثِنَة، وعبد الله بن جابر، البياضيون وكلهم له صُحبة.

البَسِّي منسوب إلى بطنِ من حِمْيَر منهم توبة بن النَّمِر بن حرمل بن يغلب ابن ربيعة بن نَمِر بن جاشي الحضرمي ثم البَسِّي، يكنى أبا مِحْجَن، جُمِعَ له القضاء والقصص بمصر، روى عنه زياد بن عجلان واللَّيثُ وابن لهيعة وغيرهم.

البَهْدَلي منسوب إلى بَهْدَلَة، بطن من تميم وهم رهط الزِّبرقان، وهو بهدلة بن عوف ابن كعب بن سعد بن زيد مناة، بطن من تميم منهم طَيْسَلَةُ بن ميَّاس ويقال ابن علي البهْدَلي، سمِعَ ابن عمر؛ روى عنه يحيى بن أبي كثير، وفي نسبه اختلاف.
আয-যাবি আল-হাকিফ শামের অধিবাসী, এবং হাজ্জাজ বিন ইলাত আল-বাহযি, ও দামরা ইবনে সা'লাবা আল-বাহযি, এবং সাহাবীদের মধ্য থেকে আরও অনেকে।

আল-বাউলানি হলো বাউলান বিন আল-গাওস বিন তাইয়্যি-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। ইবনে হাবিব বলেন: বাউলানের আসল নাম ছিল গুসাইন বিন আমর, এবং তার একজন দাস তাকে লালন-পালন করেছিল যাকে বাউলান বলা হতো, ফলে এই নামই তার ওপর প্রাধান্য পায়।

আল-বায়াদি হলো বায়াদাহ বিন আমির বিন যুরাইক বিন আবদ হারিসা বিন মালিক বিন গাদাব বিন জুশাম বিন আল-খাযরাজ-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। তাদের মধ্যে রয়েছেন যিয়াদ বিন লাবিদ, সালামাহ বিন সাখর, হাবিব বিন যায়েদ, হাজিব বিন যায়েদ, খালিদ বিন কায়স, যায়েদ বিন আদ-দাসিনাহ এবং আবদুল্লাহ বিন জাবির। তারা সবাই বায়াদাহ বংশীয় এবং তাদের সবারই সাহাবিত্ব রয়েছে।

আল-বাস্সি হলো হিমইয়ারের একটি গোত্রের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। তাদের মধ্যে রয়েছেন তাওবাহ বিন আন-নামির বিন হারমাল বিন ইগলাব ইবনে রাবিআহ বিন নামির বিন জাশি আল-হাদরামি অতঃপর আল-বাস্সি, তার উপনাম (কুনিয়াত) ছিল আবু মিহজান। মিসরে তার নিকট বিচারকার্য এবং ওয়াজ-নসিহতের (কাসাস) দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল। তার থেকে যিয়াদ বিন আজলান, আল-লায়স, ইবনে লাহিয়া এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন।

আল-বাহদালি হলো বাহদালাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা তামীম গোত্রের একটি শাখা এবং তারা আয-যিবরিকানের বংশধর। তিনি হলেন বাহদালাহ বিন আউফ বিন কাব বিন সাদ বিন যায়েদ মানাত। তামীমের এই শাখা থেকে রয়েছেন তাইসালাহ বিন মাইয়াস, যাকে ইবনে আলী আল-বাহদালিও বলা হয়; তিনি ইবনে ওমর (রা.) থেকে শুনেছেন। তার থেকে ইয়াহইয়া বিন আবু কাসির বর্ণনা করেছেন এবং তার বংশপরিচয়ের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌باب التاء

التَّجيبي منسوب إلى وَلَدِ عديّ وسعد ابن

ي أشرس بن شبيب بن السَّكُون وقيل: السكن بن أشرص بن ثور، وأمُّهما تجيب بنت ثوبان بن سُلَيم بن رُهاء ابن مذحج، نُسِسبوا إليها وهم خلق كثير وعامَّتُهم بمصر؛ منهم معاوية بن حدَيْج بن جَفْنَة بن قتيرة بن حارثة بن عبد شمس بن معاوية بن جعفر بن أُسامة بن أسعد بن أشرس بن شبيب بن السَّكُون بن أشرس بن ثور بن عُفير التُّجيبي، يكنى أبا عبد الرحمن، من ساكني مِصْر.

التَّجُوبي من ولد تَجُوب بن كندة. ذكر ابن الكلبي أن جَدَّه أصاب دماً في قومه فوقع إلى مُراد فقال: جِئت أجوب إليكم فسمِّي به؛ منهم معاوية بن سعيد بن شُرَيْح مصري عزيز الحديث وهذه النسبة فيها نظر.

التَّرْخُمي منسوب إلى ذي تَرْخُم بن وائل بن الغوث بن سعد بن عوف بن عديّ ابن مالك بن زيد بن سهل من حِمْيَر، قاله الدَّارَقُطْني. وقيل: بطن من يَحْصِبُ وعامتُهم بالشام؛ منهم سعيد بن محمد بن سعيد التَّرْخُمي وابنُه محمد بن سعيد التَّرخُمي حِمْصِيَّان حدَّثا جميعاً.
তা বর্ণমালা অধ্যায়

তাজিবি: আদি এবং সা'দ এর সন্তানদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যারা আশরাস ইবন শাবিব ইবনুস সাকুন-এর পুত্র। আবার বলা হয়েছে: আস-সাকান ইবন আশরাস ইবন সাওর। তাদের উভয়ের মা ছিলেন তুজিব বিনতে সাওবান ইবন সুলাইম ইবন রুহা ইবন মাজহিজ। তাদের নামানুসারেই এই বংশের নামকরণ করা হয়েছে এবং তারা একটি বিশাল গোষ্ঠী, যাদের অধিকাংশ মিশরে বসবাস করে। তাদের মধ্যে মুয়াবিয়া ইবন হুদায়জ ইবন জাফনাহ ইবন কুতায়রা ইবন হারিসা ইবন আবদ শামস ইবন মুয়াবিয়া ইবন জাফর ইবন উসামা ইবন আসআদ ইবন আশরাস ইবন শাবিব ইবনুস সাকুন ইবন আশরাস ইবন সাওর ইবন উফাইর আত-তুজিবি অন্যতম। তাঁর উপনাম আবু আবদুর রহমান এবং তিনি মিশরের অধিবাসী ছিলেন।

তাজুবি: তাজুব ইবন কিনদাহ-এর বংশধর। ইবনুল কালবি উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর পিতামহ তাঁর স্বগোত্রের মধ্যে কাউকে হত্যা করেছিলেন, ফলে তিনি মুরাদ গোত্রে গিয়ে বলেন: "আমি তোমাদের কাছে পথ চিরে এসেছি", তাই তাঁকে এই নামে ডাকা হয়। তাঁদের মধ্যে মুয়াবিয়া ইবন সাঈদ ইবন শুরাইহ আল-মিসরি অন্যতম, যাঁর হাদিস বিরল; তবে এই সম্বন্ধের ব্যাপারে কিছুটা পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে।

তারখুমি: হিমইয়ার গোত্রের জি-তারখুম ইবন ওয়াইল ইবনুল গাউস ইবন সা’দ ইবন আউফ ইবন আদি ইবন মালিক ইবন যায়দ ইবন সাহল-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত; দারা কুতনি এমনটিই বলেছেন। আবার বলা হয়েছে: এটি ইয়াহসিব গোত্রের একটি শাখা এবং তাদের অধিকাংশই সিরিয়ায় বসবাস করে। তাদের মধ্যে সাঈদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন সাঈদ আত-তারখুমি এবং তাঁর পুত্র মুহাম্মাদ ইবন সাঈদ আত-তারখুমি অন্যতম; তাঁরা দুজনেই হিমস শহরের বাসিন্দা ছিলেন এবং তাঁরা উভয়েই হাদিস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) উজ্বালাতুল মুবতাদি ওয়া ফাদালাতুল মুনতাহী ফিন নাসাব (পৃষ্ঠা: ৩১)
التَّغْلِبِي منسوب إلى تَغْلِب بن وائِل بن قاسط بن هِنْب بن أفصى بن دعمي بن جَدِيلَة بن أسد بن ربيعة أخي بكر وعنز، وهم خلق كثير من العلماء والشعراء والفُرسان.

التِّنْعِي منسوب إلى تِنْعَة بكسر التاء وسكون النون، وهو تِنْعَة بن هانئ بن عمرو ابن ذُهل بن شرحبيل بن حبيب بن عُمير بن الأسود بن الضُّبيب بن عمرو بن عبد ابن سلامان بن الحارث بن حضرموت؛ منهم: أوْسُ بن ضمعج التِّنعيُّ؛ وعياض بن عياض أبو قيلة التِّنعي، حديثه عن سَلَمَه بن كُهَيْل؛ وحُجْر بن عنبس أبو السَّكن التِّنْعي حدَّث عن عليّ عليه السلام، روى عنه سلمَةُ بن كُهَيْل؛ والعيزار بن جرول التِّنعي، وعمرو بن سُوَيد التِّنعي الحَضرمي الكُوفي، يروى عن زيد بن

أرقم، وأخوه عامر بن سُوَيد يروى عن عبد الله بن عمرو؛ روى عنه جابر الجُعفي؛ ومحمد بن عُمَير بن سُويد التِّنعي يروى عن أبيه.

التَّميمي منسوب إلى تميم بن مُرِّ بن أُدِّ بن طابخة بن إلياس بن مُضر بن نِزَار ابن مَعَدّ بن عدنان.
আত-তাগলিবি হলো তাগলিব বিন ওয়াইল বিন কাসিত বিন হিনব বিন আফসা বিন দু'মি বিন জাদিদাহ বিন আসাদ বিন রাবিআহ-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত; যিনি বকর ও আনয-এর ভাই। তারা এক বিশাল জনগোষ্ঠী, যাদের মাঝে বহু আলেম, কবি ও বীর যোদ্ধা রয়েছেন।

আত-তিনয়ি হলো তিনআহ-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত (তা বর্ণে কাসরা এবং নুন বর্ণে সুকুন যোগে)। তিনি হলেন তিনআহ বিন হানি বিন আমর বিন যুহাল বিন শারহাবিল বিন হাবিব বিন উমাইর বিন আল-আসওয়াদ বিন আদ-দুবাইব বিন আমর বিন আবদ বিন সালামাহ বিন আল-হারিস বিন হাজরামাউত। তাদের মাঝে রয়েছেন: আওস বিন দামআজ আত-তিনয়ি; ইয়াদ বিন ইয়াদ আবু কিলাহ আত-তিনয়ি, যার বর্ণনা সালামাহ বিন কুহাইল থেকে সংগৃহীত; এবং হুজর বিন আনবাস আবুস সাকান আত-তিনয়ি, যিনি আলী (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে সালামাহ বিন কুহাইল বর্ণনা করেছেন; আল-আইজার বিন জারওয়াল আত-তিনয়ি; এবং আমর বিন সুওয়াইদ আত-তিনয়ি আল-হাজরামি আল-কুফি, যিনি যায়িদ বিন

আরকাম থেকে বর্ণনা করেন; তার ভাই আমির বিন সুওয়াইদ আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁর থেকে জাবির আল-জু'ফি বর্ণনা করেছেন; এবং মুহাম্মদ বিন উমাইর বিন সুওয়াইদ আত-তিনয়ি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন।

আত-তামিমি হলো তামিমি বিন মুর বিন উদ্দ বিন তাবিখা বিন ইলিয়াস বিন মুদার বিন নিযার বিন মা'আদ বিন আদনান-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত।