(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: -)
وا محمداه إن شانئك هو الأبتر القسم: السيرة النبوية
الكتاب: وَا مُحَمَّدَاهُ {إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ}
المؤلف: أبو التراب سيد بن حسين بن عبد الله العفاني
الناشر: دار العفاني، مصر
الطبعة: الأولى، 1427 هـ - 2006 م
عدد الأجزاء: 4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 صفر 1434
হায় মুহাম্মদ! নিশ্চয়ই আপনার শত্রুই নির্বংশ বিভাগ: সীরাতুন্নবী
বই: হায় মুহাম্মদ! {নিশ্চয়ই আপনার শত্রুই নির্বংশ}
লেখক: আবু তুরাব সাইয়িদ বিন হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ আল-আফফানি
প্রকাশক: দারুল আফফানি, মিসর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ডের সংখ্যা: ৪
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৭ সফর ১৪৩৪
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ৩)
إهداء* أهدي على استحياء هذا الكتاب إلى سيدي وحبيبيى وقدوتي، سيدِ ولدِ آدم، وإمامِ المرسلين وقائد الغرَّ المحجلين رسول الله محمد صلى الله عليه وسلم -
উৎসর্গ* আমি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে এই গ্রন্থটি উৎসর্গ করছি আমার নেতা, আমার প্রিয়তম এবং আমার আদর্শ, আদমসন্তানের সরদার, রাসূলগণের ইমাম এবং শুভ্রোজ্জ্বল ওযূকারী উম্মতের সেনাপতি আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ-এর প্রতি — তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। -
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ৫)
وَامُحَمَّدَاهُ
{إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ}
হে মুহাম্মদ!
{নিশ্চয় আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই তো নির্বংশ।}
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ৬)
مقدمة
ভূমিকা
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمدَ لله، نحمدُه ونستعينُه ونستغفره، ونعوذُ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، مَن يهدِهِ اللهُ فلا مُضِلَّ له، ومن يُضللْ فلا هاديَ له، وأشهدُ أن لا إلهَ إلا اللهُ وحدَه لا شريك له، وأشهدُ أن محمدًا عبدُه ورسوله.
* {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].
* {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1].
* {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70، 71].
أما بعد:
فإن أصدقَ الحديثِ كتاب الله، وأحسنَ الهَدي هديُ محمدٍ صلى الله عليه وسلم، وشَرَّ الأمور محدثاتُها، وإن كلَّ محدثةٍ بدعة، وكل بدعةٍ ضلالة، وكلَّ ضلالةٍ في النار.
أما بعد:
حين نريدُ أن نَشْرُفَ بالدخول إلى رحاب سيد البشر رسولِ الله صلى الله عليه وسلم -
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
* {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]।
* {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয়ের থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে চেয়ে থাকো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।
* {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহাসাফল্য লাভ করল।} [আল-আহজাব: ৭০, ৭১]।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
অতঃপর:
যখন আমরা মানবজাতির শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্যে প্রবেশের মাধ্যমে সম্মানিত হতে চাই -
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ৮)
وأُفُقِه الوضيء الطليق المرفرف، ونَرِفَّ بأجنحةِ الشوق والنور والطُّهْر إلى ذلك المقام الأعلى، ونتَّخذَ من ذلك مِعراجًا إلى السِّراج المنير والقلبِ المُصَفى لسيِّد الرسل وأزكى العالمين وأحبِّ الرجال وأجلِّهم وأفضلِهم وأغلاهم صلى الله عليه وسلم .. نقتربُ في حياءِ مَن يعلمُ أنه يجاوزُ قَدْرَه .. نقتربُ في تهلُّل، ونعيشُ لحظاتٍ مُترَعةِ بغِبطةِ الحياة مع رسولِ رَفع اللهُ به قَدْرَ الإنسان والحياة .. مع السِّراج المنير .. وحاملِ النور إلى هذه البَسيطة .. الذي قال فيه ربُّه عز وجل وكلامُ الملوك ملوكُ الكلام-: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا (45) وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا} [الأحزاب: 45، 46].
* نورٌ فكيف تُحيط بكُنهِهِ الظَّلْمَاءُ؟!!:
كيف أتطاولُ للحديث عن ذلك المَقام الأنور وثُقْلَةُ الطينِ في كياني، وظلمةُ التراب وكثافةُ اللحم والدم، وعَرامةُ الشهوة في دروبي وحياتي وآثامي!!! فعُذرًا يا طُهْرَ الطُهْر.
* عُذرًا رسول الله ..
كيف أرنو إلى سَنَاك وذُنوبي جسامُ؟! ..
عَزَّ الوُرُودُ وطالَ فيكَ أُوامُ
… وأرِقْتُ وَحْدِي والأنامُ نيامُ
وَرَدَ الجميعُ ومِنْ سَنَاك تَزَوَّدُوا
… وطُرِدْتُ عن نَبْع السَّنَا وأَقامُوا
ومُنِعْتُ حتى أنْ أَحومَ ولَم أكدْ
… وتَقَطَّعَت نفسي عليك وحامُوا
قَصَدُوكَ وامتدحُوا ودُونيَ أُغْلِقَتْ
… أبوابُ مَدْحِكَ فالحروفُ عِقامُ
أدْنو فأذكرُ ما جَنَيْتُ فأَنْثَنِي
… خَجَلاً تَضِيقُ بحِمْلِيَ الأقَدَامُ
আর তাঁর উজ্জ্বল, মুক্ত ও উড্ডীয়মান দিগন্তের দিকে আমরা আকাঙ্ক্ষা, নূর এবং পবিত্রতার ডানায় ভর করে সেই উচ্চতর মকামের দিকে উড়ে চলি। একেই আমরা সেই প্রদীপ্ত চেরাগ এবং রাসূলগণের সরদার, বিশ্ববাসীর মাঝে পবিত্রতম, মানবজাতির মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রিয়, মহান, শ্রেষ্ঠ এবং মহামূল্যবান ব্যক্তিত্বের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্মল হৃদয়ের দিকে আরোহণের মাধ্যম (মিরাজ) হিসেবে গ্রহণ করি... আমরা এমন এক লজ্জাবোধ নিয়ে তাঁর নিকটবর্তী হই যে জানে যে সে তার যোগ্যতার সীমা অতিক্রম করছে... আমরা আনন্দ-উল্লাসে এগিয়ে যাই এবং সেই রাসূলের সাথে জীবনের পরম সুখে ভরপুর মুহূর্তগুলো অতিবাহিত করি, যাঁর মাধ্যমে আল্লাহ মানুষের মর্যাদা ও জীবনকে উচ্চকিত করেছেন... সেই প্রদীপ্ত চেরাগের সাথে... এবং এই ধরাতলে নূরের বাহকের সাথে... যাঁর সম্পর্কে তাঁর প্রতিপালক আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন—আর বাদশাহদের কথা হলো কথার বাদশাহ—: "হে নবী! আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে।" [আল-আহযাব: ৪৫, ৪৬]।
* তিনি নূর, তবে অন্ধকার কীভাবে তাঁর সারবত্তাকে বেষ্টন করবে?!!:
আমি কীভাবে সেই উজ্জ্বলতম মকাম সম্পর্কে কথা বলার ধৃষ্টতা দেখাব যখন আমার অস্তিত্ব মাটির ভারে ন্যুব্জ, ধূলির অন্ধকারে আচ্ছন্ন, রক্ত-মাংসের ঘনত্বে স্থবির এবং আমার পথ ও জীবনে পাপ ও প্রবৃত্তির তীব্রতা বিদ্যমান!!! হে পবিত্রতার আধার, তাই আমাকে ক্ষমা করুন।
* হে আল্লাহর রাসূল, ক্ষমা করবেন...
কীভাবে আমি আপনার জ্যোতির দিকে দৃষ্টি দেব যখন আমার পাপরাশি পর্বতসম?!...
আপনার সান্নিধ্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে এবং আপনার তরে পিপাসা দীর্ঘ হয়েছে
… আমি একাকী নির্ঘুম রাত কাটাই যখন সারা বিশ্ব ঘুমে মগ্ন
সকলে আপনার সান্নিধ্যে পৌঁছেছে এবং আপনার জ্যোতি হতে পাথেয় সংগ্রহ করেছে
… আর আমি সেই জ্যোতির প্রস্রবণ থেকে বিতাড়িত হয়েছি, অথচ তারা সেখানে অবস্থান করছে
আমাকে এমনকি আশেপাশে বিচরণ করতেও বাধা দেওয়া হয়েছে, অথচ আমি প্রায় পৌঁছেই গিয়েছিলাম
… আপনার তরে আমার প্রাণ ওষ্ঠাগত, অথচ তারা আপনাকে ঘিরে রেখেছে
তারা আপনার সংকল্প করেছে এবং আপনার প্রশংসা গেয়েছে, কিন্তু আমার সামনে
… আপনার প্রশংসার দ্বার রুদ্ধ হয়ে গেছে, ফলে আমার শব্দগুলো আজ বন্ধ্যা
আমি কাছে এগুতে চাইলেই নিজের অপরাধের কথা মনে পড়ে যায়, ফলে লজ্জিত হয়ে ফিরে আসি
… লজ্জায় আমার পা-গুলো আমার ভার বইতে অক্ষম হয়ে সংকুচিত হয়ে আসে
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ৯)
أمِنَ الحضيضِ أُريدُ لَمسًا للذُّرَى
… جَل المَقامُ فلا يُطالُ مُقامُ
وِزرِي يُكبِّلُنِي ويُخْرِسُنِي الأسَى
… فيموتُ فِي طَرَفِ اللسانِ كَلَامُ
يمَّمْتُ نحوكَ يا حبيبَ الله في
… شوقٍ تُقِضُّ مضاجِعي الآثامُ
أرجو الوصولَ فليلُ عُمري غايةٌ
… أشواكها الأوزارُ والآلامُ
يَا مَن وُلدْتَ فأشْرَقَتْ برُبوعِنَا
… نفحاتُ نورِك وانجلى الإظلامُ
أأعودُ ظمآنًا وغيريَ يَرْتَوِي
… أيُرَدُّ عن حوضِ النبيِّ هُيامُ؟!
كيفَ الدخولُ إلى رِحاب المصطفى
… والنفْسُ حَيْرى الذنوبُ جسامُ؟!
ماذا أقولُ وألفُ ألفِ قصيدةٍ
… عصماءَ قَبْلي سطَّرَتْ أَقلامُ؟!
مَدَحُوك ما بَلغوا برغْم ولائهم
… أسوارَ مجْدك فالدُّنُّو لمامُ
حتى وقفتُ أمامَ نورِك باكيًا
… فتدفقَ الإحَساسُ والإلهامُ
وتوالت الصُّورُ المُضيئةُ كالرُّؤَى
… وطَوى الفوادَ سكينة وسَلَامُ
يا مِلءَ رَوحِي وَهْجُ حُبِّك في دمي
… قَبَسٌ يُضِئُ سريرتي وزِمَامُ
أنتَ الحبيبُ وأنْتَ من أرْوَى لَنَا
… حتى أضاءَ قلوبَنا الإسلامُ
حُورِبتَ لَم تَخْضَعْ ولَمْ تَخْشَ العِدَا
… مَن يَحْمِه الرحمنُ كيفَ يُضَامُ؟!
وملأتَ هذا الكونَ نُورًا فاختفتْ
… صورُ الظَّلامِ وقُوِّضَتْ أصنامُ
* * *
* عُذرًا رسولَ الله:
حين أريدُ الدخولَ إلى جَنابك ورحابك ومَقامك الأنور أحتاجُ إلى عُمرٍ جديد، أولُ نَفَسٍ منه حتى آخرِه ملؤه الطهارةُ كلُّ الطهارة .. ونورُ الإيمان الغامر، وجَمالُ الإحسانِ الباهر.
আমি কি নিম্নভূমি থেকে শিখর স্পর্শ করতে চাই?
… এ মর্যাদা অতি মহান, যার উচ্চতায় পৌঁছানো সম্ভব নয়।
আমার পাপরাশি আমাকে শৃঙ্খলিত করে রেখেছে এবং শোক আমাকে নির্বাক করে দিয়েছে
… ফলে জিহ্বার প্রান্তে কথাগুলো মৃতপ্রায়।
হে আল্লাহর প্রিয়তম! আমি আপনার অভিমুখেই পথ চলেছি এমন এক
… ব্যাকুলতায় যেখানে পাপসমূহ আমার নিদ্রা কেড়ে নিয়েছে।
আমি গন্তব্যে পৌঁছানোর আশা রাখি, কারণ আমার জীবনের রাত্রি এক অন্তিম সীমা
… যার কণ্টকসমূহ হলো পাপরাশি ও যন্ত্রণাসমূহ।
হে মহান! যাঁর জন্মলাভে আমাদের জনপদসমূহ উদ্ভাসিত হয়েছে
… আপনার নূরের সৌরভে এবং বিদূরিত হয়েছে সকল অন্ধকার।
অন্যেরা যখন তৃপ্ত হচ্ছে, আমি কি তৃষ্ণার্ত ফিরে যাব?
… নবীজির হাউজ থেকে কি কোনো প্রেমাতুরকে ফিরিয়ে দেওয়া যায়?!
মুস্তফার সান্নিধ্যে প্রবেশের পথ কোথায়,
… যখন নফ্স দিশেহারা আর পাপসমূহ অতি বিশাল?!
আমি কী বলব যখন আমার পূর্বে লক্ষ লক্ষ নিখুঁত
… কবিতা কলমসমূহ লিপিবদ্ধ করেছে?!
তাঁরা আপনার প্রশংসা করেছেন, কিন্তু গভীর অনুরাগ সত্ত্বেও তাঁরা পৌঁছাতে পারেননি
… আপনার গৌরবের সুউচ্চ প্রাচীরে, কেননা সেই সান্নিধ্য ছিল যৎসামান্য।
অবশেষে আমি আপনার নূরের সামনে ক্রন্দনরত অবস্থায় দাঁড়ালাম
… অমনি অনুভূতি ও অনুপ্রেরণা উপচে পড়ল।
স্বপ্নের মতো একের পর এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি ভেসে এল
… আর অন্তরকে আবৃত করল প্রশান্তি ও শান্তি।
হে আমার আত্মার পূর্ণতা! আপনার ভালোবাসার দীপ্তি আমার রক্তে মিশে আছে
… এ এক আলোকশিখা যা আমার অন্তরাত্মাকে আলোকিত করে এবং আমাকে চালিত করে।
আপনিই প্রিয়তম এবং আপনিই সেই জন যিনি আমাদের এমনভাবে তৃপ্ত করেছেন
… যে ইসলাম আমাদের হৃদয়কে আলোকিত করেছে।
আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু আপনি নতি স্বীকার করেননি এবং শত্রুদের ভয় পাননি
… রাহমান যাঁকে রক্ষা করেন, তাঁর কীভাবে অনিষ্ট হতে পারে?!
আপনি এই বিশ্বজগতকে আলোয় পূর্ণ করেছেন, ফলে মুছে গেছে
… অন্ধকারের প্রতিচ্ছবি এবং চূর্ণ হয়েছে মূর্তিসমূহ।
* * *
* ক্ষমা করবেন হে আল্লাহর রাসূল:
যখন আমি আপনার মহান সান্নিধ্যে, আপনার আঙিনায় এবং আপনার অতি উজ্জ্বল মাকামে প্রবেশ করতে চাই, তখন আমার প্রয়োজন এক নতুন জীবনের; যার প্রথম শ্বাস থেকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত থাকবে কেবলই পবিত্রতা আর পবিত্রতা... এবং ঈমানের উপচে পড়া নূর ও ইহসানের বিস্ময়কর সৌন্দর্য।
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ১০)
أحتاج إلى قلبٍ حيٍّ كأجمل ما تكونُ القلوب .. رقيقٍ ليِّنٍ صافٍ .. تَنبِضُ فيه كلُّ نابضةٍ بالإِشراق والتفتُّح لاستقبالِ النور الذي يُشرِق في الضمائر مع النور الذي يُشرق في النواظر.
أحتاجُ إلى كلِّ جمالٍ في الوجود يَهمِسُ لقلمي .. وقفةٌ لقلمي في الجَمَال والنور .. جمالِ كل هامس وكلِّ جاهر .. وكلِّ مُسْتَخْفٍ وكلِّ سارب .. وكلِّ نورٍ باهر يواجهُ العيون والمشاعر .. ائتوا لي بكلام من نورٍ عليه رَوْنقُ الماء، كأنما اشتَعَلت به الغيوم، كلامٍ يتلألأ بالنور، فكأنما عُصِر من النجوم.
ائتوا لي بجمالِ الجنة الباهر .. بظلِّها الممدود .. ومائِها المسكوب، بنورها، وسَجْسَجُها كلُّ تسنيمٍ وسلسبيلٍ ورحيقٍ مختوم، وأنهارِ خمرِها وعَسَلِها ولبنها ومائها ليطهرَ فيه قلمي بنور الخلد أولاً قبلَ أن يتكلم عن سيِّد الرسل صلى الله عليه وسلم.
ائتوا لي بكلِّ جمالٍ في الكون: بنسائم الأسحار، وزَجَل المُسبِّحين آناءَ الليل وأطرافَ النهار .. وطُهرِ المستغفرين الأبرار قائِمِي الليل وصائِمِي النهار المستغفرين بالأسحار.
ائتوا بجمالِ الخِضَمِّ ومَوجِه الزَّاخر، والعيونِ الفَوَّارة، والنَّبع الرَّوِيِّ، والنّبتةِ النامية، والبُرْعم الناعم، والزهرةِ المتفتحة، وابتسامةِ الفجر الوليد، بجمال كلِّ طير سابحٍ في الفضاء، وسَمَكٍ يُسبِّحُ ويَسْبَحُ في الماء، حتى يرتعشَ القلمُ رِقةً ويستحمَّ في النور ليكتبَ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.
حين أريدُ الشرف كلَّ الشرف والعِزَّ كلَّ العِز بالكتابة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، أحتاجُ إلى خَطَراتٍ رفَّافةٍ شفَّافة، وأعماقٍ طاهرةٍ كلَّ الطهر،
আমার প্রয়োজন একটি জীবন্ত হৃদয়, যেমনটা সর্বাপেক্ষা সুন্দর হৃদয় হতে পারে—কোমল, নমনীয় এবং স্বচ্ছ—যাতে প্রতিটি স্পন্দন প্রভা ও প্রস্ফুটনের সাথে স্পন্দিত হয় সেই নূরকে গ্রহণ করার জন্য, যা বিবেকে উদিত হয় চোখের দৃষ্টিতে উদিত নূরের সাথে।
আমার অস্তিত্বের প্রতিটি সুন্দরের প্রয়োজন যা আমার কলমের নিকট নিভৃতে কথা বলবে; সৌন্দর্য ও নূরের মাঝে আমার কলমের জন্য একটি বিরতি—প্রতিটি মৃদুভাষী ও উচ্চকণ্ঠের সৌন্দর্য, প্রতিটি নিভৃত ও প্রবহমান বিষয়ের সৌন্দর্য, এবং প্রতিটি উজ্জ্বল নূরের সৌন্দর্য যা চক্ষু ও অনুভূতির সম্মুখবর্তী হয়। আমার নিকট নূরের এমন বাণী নিয়ে এসো যাতে পানির স্নিগ্ধতা রয়েছে, যেন মেঘমালা তাতে প্রজ্বলিত হয়েছে; এমন কথা যা নূরে ঝলমল করে, যেন তা নক্ষত্ররাজি থেকে নিংড়ে বের করা হয়েছে।
আমার জন্য জান্নাতের সেই প্রদীপ্ত সৌন্দর্য নিয়ে এসো—তার সুদীর্ঘ ছায়া এবং প্রবহমান পানি, তার নূর, তার মনোরম আবহাওয়া, আর তাসনিম, সালসাবিল ও মোহরকৃত সুধা, এবং তার শরাব, মধু, দুধ ও পানির নহরসমূহ; যাতে রাসুলকুলের সরদার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কথা বলার আগে আমার কলম জান্নাতের নূরে প্রথমে পবিত্র হয়ে নিতে পারে।
মহাবিশ্বের প্রতিটি সৌন্দর্য আমার জন্য নিয়ে এসো: শেষ রাতের স্নিগ্ধ বাতাস, দিবা-রজনীর বিভিন্ন প্রহরে তসবিহ পাঠকারীদের গুঞ্জন এবং সেই পুণ্যবান ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের পবিত্রতা, যারা রাতে দণ্ডায়মান থাকেন ও দিনে সিয়াম পালন করেন এবং শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
বিশাল সমুদ্র ও তার উত্তাল তরঙ্গের সৌন্দর্য নিয়ে এসো, প্রবহমান প্রস্রবণ, তৃষ্ণা নিবারণকারী ঝরনা, বর্ধনশীল চারাগাছ, কোমল কুঁড়ি, প্রস্ফুটিত ফুল এবং নবজাত ভোরের মুচকি হাসির সৌন্দর্য নিয়ে এসো; আকাশে বিচরণকারী প্রতিটি পাখি এবং পানিতে তসবিহ পাঠরত ও সন্তরণশীল মাছের সৌন্দর্য নিয়ে এসো, যাতে কোমলতায় কলমটি স্পন্দিত হয় এবং নূরে অবগাহন করে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে লিখতে পারে।
যখন আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে লিখে পূর্ণ মর্যাদা ও সম্মান অর্জন করতে চাই, তখন আমার প্রয়োজন কম্পমান স্বচ্ছ চিন্তা এবং পূর্ণরূপে পবিত্র অন্তরের অন্তস্তল।
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ১১)
تستجيشُ فيها وفي أغوارها كلُّ مشاعرِ الطهْر اللامتناهية.
أحتاجُ إلى كلِّ رُوحٍ مأنوسةٍ شفيقةٍ، أحتاجُ إلى إِيناسٍ وَدُودٍ نَدِيٍّ، وأنفاسِ مناجاةٍ دامعة .. فيها كلُّ ذبُولِ العبادة الوضيء .. وجمالِها الحبيب الهامِسِ اللطيفِ .. جمالٌ لا يدانيه جمالُ التصورات الشاعرية الطليقة.
يَحتاج قلمي لمدادٍ نيِّرٍ طاهرٍ ذاب فيه طِيبُ كلِّ طيب في الجنة قبل الدنيا .. كلُّ مِسكٍ أذفر، وكلُّ طيوب العنبر .. مِدادٌ يعلوه كلُّ بريقِ الماس واللآليء وأصفى الدُّرِّ والجواهر، عزًّا بشرفِ الكلام عن سيِّد الأوَّلين والآخرين صلى الله عليه وسلم.
مِدادٌ ذابت فيه آهاتُ المشتاقين إلى لقاء الله ورسوله صلى الله عليه وسلم .. وكل طُهْر وأُنسٍ وطمأنينةٍ ويقينٍ في الكون .. وكل رُوحِ فجرٍ وضيئة.
يحتاج قلمي إلى نسيمِ مِسكٍ يَهُبُّ فوق شجرة طوبى ليهتزَّ القلمُ بكل طهر وطِيبٍ وظلٍّ حتى يكتبَ ألفاظًا وعباراتٍ تليقُ بمَقام النبوة .. وتتأدَّبُ مع جلالها ..
حروفُ معانٍ أو عقودُ جواهرٍ
… تُحَاكِي مصابيحَ النجوم الزواهرِ
وإبريزُ تبريزٍ من النَّظم فُتِّحَتْ
… قوافيه زهْرًا في رياضِ الدَّفَاتِرِ
يروحُ بأرواحِ المحامد حُسنُها
… فيَرْقَى بها في سَاميات المفاخِرِ
إذا ما هداها الفكرُ أَهدتْ لَذِي النهي
… شمائلَ أَشهى من طُيَوب المَعاصِرِ
تشعشع من نورِ المعَاني عنايَةً
… بها تُضرَبُ الأمثالُ بين المَعاشِرِ
وتَنظِمُ من نَثْرِ المثاني قلائدًا
… تُزَخْرِف جيْدَ الجُودِ من كُل فاخِرِ
وتَنشُرُ مِن طَيِّ المُرُوعة للفتَى
… مكارمَ أخَلاقٍ وحُسْنَ سَرَائِرِ
إذا سَتَروها بالحِجاب تبرَّجتْ
… محاسنُ تبدو من وراءِ الستائِرِ
এর ভেতর এবং এর গভীর গহীনে অসীম পবিত্রতার সকল অনুভূতি আলোড়িত হয়।
আমার প্রয়োজন প্রতিটি পরিচিত ও দয়ালু আত্মার, আমার প্রয়োজন বন্ধুসুলভ ও স্নিগ্ধ সহচার্যের এবং অশ্রুসিক্ত নিভৃত প্রার্থনার নিশ্বাসের... যাতে রয়েছে ইবাদতের প্রোজ্জ্বল বিনয়... এবং এর প্রিয়, গুঞ্জনময় ও কোমল সৌন্দর্য... এমন এক সৌন্দর্য যার সমকক্ষ হতে পারে না মুক্ত কাব্যিক কল্পনার সৌন্দর্যও।
আমার কলমের প্রয়োজন এমন এক উজ্জ্বল ও পবিত্র কালির, যাতে দুনিয়ার আগে জান্নাতের প্রতিটি সুগন্ধির সৌরভ মিশে আছে... প্রতিটি তীব্র কস্তুরী এবং আম্বরের সকল সুবাস... এমন এক কালি যা হীরা, মুক্তা এবং স্বচ্ছতম মণি-মাণিক্যের বিভায় উদ্ভাসিত, যা আদি-অন্তের সরদার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে কথা বলার সম্মানে মহিমান্বিত।
এমন এক কালি যাতে মিশে আছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাতের জন্য ব্যাকুলদের দীর্ঘশ্বাস... এবং মহাবিশ্বের সকল পবিত্রতা, সখ্যতা, প্রশান্তি ও দৃঢ় বিশ্বাস... এবং ভোরের প্রতিটি প্রোজ্জ্বল প্রাণশক্তি।
আমার কলমের প্রয়োজন এমন এক কস্তুরীর সমীরণ যা তুবা বৃক্ষের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, যাতে কলমটি পবিত্রতা, সুগন্ধ এবং ছায়ায় আন্দোলিত হয়ে এমন সব শব্দ ও বাক্য লিখতে পারে যা নবুওয়াতের মর্যাদার উপযুক্ত হয়... এবং তার মহিমার প্রতি আদব বজায় রাখে...
অর্থপূর্ণ বর্ণমালা অথবা রত্নহারের মালা
… যা উজ্জ্বল নক্ষত্রের প্রদীপের মতো প্রতীয়মান হয়।
আর কাব্য গাঁথুনির বিশুদ্ধ স্বর্ণরাজি প্রস্ফুটিত হয়েছে
… খাতাগুলোর উদ্যানে এর অন্ত্যমিলগুলো পুষ্প হয়ে।
এর সৌন্দর্য প্রশংসার সৌরভ ছড়িয়ে যায়
… এবং তা নিয়ে আরোহণ করে উচ্চতর গৌরবের শিখরে।
যখন চিন্তা একে পথ দেখায়, তখন তা জ্ঞানীদের উপহার দেয়
… এমন সব গুণাবলী যা নির্যাসিত সুগন্ধির চেয়েও অধিক আকর্ষণীয়।
অর্থের আলো থেকে বিশেষ অনুগ্রহে তা বিচ্ছুরিত হয়
… যার মাধ্যমে জনসমাজে উপমা পেশ করা হয়।
আর তা প্রশংসামূলক পঙ্ক্তিমালা থেকে এমন কণ্ঠহার গেঁথে দেয়
… যা প্রতিটি গৌরবময় মহানুভবতার গ্রীবাকে অলঙ্কৃত করে।
এবং তা যুবকের পৌরুষের আড়াল থেকে উন্মোচিত করে
… মহান চারিত্রিক গুণাবলী এবং অন্তরের নির্মল সৌন্দর্য।
তারা যদি একে পর্দা দিয়ে ঢেকেও রাখে, তবুও তা প্রকাশ পেয়ে যায়
… পর্দার আড়াল থেকেও এর সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ১২)
وإِنْ فُضَّ الأكون مِسْكُ ختامها
… تَعَطَّر منها كل نَجْدٍ وغائِرِ
تَخَيرْتُها للهاشميِّ مُحمَّدٍ
… حَميدِ المساعِي خير بادٍ وحاضِرِ
هدانا الصراطَ المستقيمَ بهَدْيهَ
… وأورَى بنورِ الحقِّ نورَ البصائِرِ
أحتاج إلى نجاءٍ أليفٍ للقلب، وهَمْسٍ لطيفٍ للروح، ولَمْسٍ مُوحٍ للضمير .. ليكونَ اللفظُ في رقَّته كنسيم السَّحَر والفجر والجِنان .. ليكونَ أنداءَ مشعشعةً بالعطر، وخَطَراتٍ رفَّافةً شفافةً ذَوبَّها الشوقُ والحنين لرسول ربِّ العالمين صلى الله عليه وسلم.
أولى أن نخطَّ هذه الأسطرَ والصفحات بنبضِ قلوبنا ولهيبِ أرواحنا، وواكفِ دموعنا، وكل أدبِ العابدين الخاشعين الأوَّابين القانتين لتسدَّ عَجْزي وضَعفي وتجبُرَ كَسرِي.
وتملؤني هيبةٌ لجلالِ النبوَّة أن أكتبَ أعمقَ وأجملَ اللمساتِ عن سيّد السادات صلى الله عليه وسلم ..
مكانُك مِن قلبي وعيني كلاهما
… مكانُ السُوَيدَا من فؤادي وأقربُ
وذِكْرُك في نفسي وإنْ شفَّها الظَّما
… ألذُّ من الماء الزلالِ وأعذبُ
إي واللهِ ..
دماءٌ مزجناها بحبِّ محمدٍ
… وأكبادُنا من شوقها تتوقدُ
فاللهم ارزقنا الشوقَ إلى لقياه، وشرفَ محبته والذبِّ عنه، وعن سُنَّتِه في الدنيا، وشرفَ جِواره والقربِ منه والشُّرب من حَوضه في الآخرة.
لا نؤمنُ حتى يكونَ رسولُنا صلى الله عليه وسلم أحبَّ إلينا من أنفُسِنا وأهلينا وأموالنا والدنيا وما عليها.
যদি মহাবিশ্বে এর সমাপ্তির মৃগনাভি উন্মুক্ত করা হয়
… তবে প্রতিটি উচ্চভূমি ও নিম্নভূমি তার সুবাসে সুবাসিত হবে।
আমি এটি হাশেমী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য চয়ন করেছি
… যাঁর প্রচেষ্টা প্রশংসিত এবং যিনি মরুচারী ও নগরবাসী সকলের মাঝে সর্বোত্তম।
তিনি তাঁর হিদায়াতের মাধ্যমে আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করেছেন
… এবং সত্যের আলোর দ্বারা অন্তর্দৃষ্টির আলোকে প্রজ্জ্বলিত করেছেন।
হৃদয়ের জন্য আমার এক নিবিড় নিভৃত আলাপন, আত্মার জন্য এক কোমল গুঞ্জন এবং বিবেকের জন্য এক অনুপ্রেরণাদায়ী পরশ প্রয়োজন... যেন শব্দের সুক্ষ্মতা শেষ রাত, প্রভাত এবং জান্নাতের সমীরণের মতো হয়... যেন তা সুবাসিত উজ্জ্বল শিশিরবিন্দু এবং হৃদয়ে প্রবহমান স্বচ্ছ চিন্তার মতো হয়, যা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও ব্যাকুলতায় বিগলিত।
আমাদের হৃদস্পন্দন, আত্মার দহন, অশ্রুধারা এবং ইবাদতকারী, বিনীত, তওবাকারী ও অনুগত বান্দাদের পূর্ণ আদব দিয়ে এই পংক্তি ও পৃষ্ঠাগুলো লিপিবদ্ধ করাই অধিক সমীচীন, যাতে তা আমার অক্ষমতা ও দুর্বলতাকে পূর্ণ করতে পারে এবং আমার ভগ্ন দশাকে সারিয়ে তুলতে পারে।
নবুয়তের মহিমা ও গাম্ভীর্যের এক গভীর ভীতি আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলছে যখন আমি সাইয়্যেদুস সাদাত (নেতাদের নেতা) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে গভীরতম ও সুন্দরতম কিছু শব্দ লিখতে যাচ্ছি...
আমার হৃদয়ে ও নয়নে আপনার স্থান
… ঠিক হৃদপিণ্ডের অন্তঃস্থলের মতো, বরং তার চেয়েও নিকটে।
আমার অন্তরে আপনার স্মরণ—যদিও তা তৃষ্ণায় কাতর—
… তবুও তা সুপেয় নির্মল পানির চেয়েও অধিক সুস্বাদু ও মিষ্ট।
হ্যাঁ, আল্লাহর কসম...
আমাদের রক্তকে আমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ভালোবাসায় রঞ্জিত করেছি
… এবং আমাদের কলিজা তাঁর বিরহ-আকাঙ্ক্ষায় দগ্ধ হচ্ছে।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের দান করুন তাঁর সাথে সাক্ষাতের ব্যাকুলতা, তাঁকে ভালোবাসার মর্যাদা, এবং দুনিয়াতে তাঁর ও তাঁর সুন্নাহর প্রতিরক্ষার তাওফিক; আর আখিরাতে তাঁর সান্নিধ্য, তাঁর নৈকট্য এবং তাঁর হাউয থেকে পান করার সৌভাগ্য দান করুন।
আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারব না, যতক্ষণ না আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে আমাদের নিজেদের প্রাণ, পরিবার, সম্পদ এবং দুনিয়া ও তার মধ্যকার সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হন।
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
• قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "والذي نفسي بيده، لا يؤمنُ أحدُكم حتى أكونَ أحبَّ إليه من والده وولده"
(1).
• وقال صلى الله عليه وسلم: "لا يؤمنُ أحدُكم حتى أكونَ أحبَّ إليه من ولده، ووالده والناسِ أجمعين"
(2).
• وعن عمر بن الخطاب رضي الله عنه أنه قال للنبي صلى الله عليه وسلم: يا رسول الله، لأنت أحبُّ إليَّ من كل شيءٍ إلاَّ من نفسي، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "لا والذي نفسي بيده، حتى أكونَ أحب إليك من نفسك". فقال له عمرُ: فإنه الآنَ، واللهِ لأنت أحب إليَّ من نفسي. فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: "الآن يا عمر"
(3).
واللهُ يعلمُ منَّا أنا نشتري رؤيتَه بأهلنا وأموالنا .. فاللهم ارزقنا شَرَفَ محبَّته.
• عن أبي ذر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أشدُّ أمتي لي حُبًّا قوم يكونونَ بعدي، يودُّ أحدُهم أنه فَقَد أهلَهُ ومَالَه وأنه رآني"
(4).
• وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إنَّ أُناسًا من أمتي يأتُون بعدي، يَوَدُّ أحدُهم لو اشترى رؤيتي بأهلِهِ ومَالِه"
(5).
--------------------------------------------
• রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা ও সন্তানের চেয়েও অধিক প্রিয় হই।"
(১).
• এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার সন্তান, পিতা এবং সকল মানুষের চেয়েও অধিক প্রিয় হই।"
(২).
• উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমার কাছে আমার নিজের প্রাণ ছাড়া অন্য সব কিছুর চেয়ে অধিক প্রিয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "না, সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, যতক্ষণ না আমি তোমার কাছে তোমার নিজের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয় হই।" তখন উমর তাঁকে বললেন: আল্লাহর শপথ, এখন আপনি আমার কাছে আমার নিজের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: "হে উমর, এখন (তোমার ঈমান পূর্ণ হলো)।"
(৩).
আল্লাহ আমাদের সম্পর্কে জানেন যে, আমরা আমাদের পরিবার ও সম্পদের বিনিময়ে হলেও তাঁকে এক নজর দেখতে চাই.. অতএব হে আল্লাহ, আমাদের তাঁর ভালোবাসার মর্যাদা দান করুন।
• আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে আমার প্রতি সর্বাধিক ভালোবাসা পোষণকারী হলো সেই সব লোক যারা আমার পরে আসবে; তাদের কেউ কেউ এই আকাঙ্ক্ষা করবে যে, যদি সে তার পরিবার ও সম্পদ হারিয়েও আমাকে একবার দেখতে পেত!"
(৪).
• আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের কিছু লোক আমার পরে আসবে, যাদের কেউ কেউ কামনা করবে যে যদি সে তার পরিবার ও সম্পদের বিনিময়েও আমাকে এক নজর দেখতে পেত।"
(৫).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
* صغائرُ الحياة قد أحاطت بمجد الحياة، لِتُثبِتَ الصغائرُ أنها صغائر، وليُثبتَ المجدُ أنه المجد:
حين يتبجَّح الأقزام الأشقياء المناكيد من الصليبيِّين صغائرِ الحياة الدانماركيِّين ويُدنِّسون ويسَوِّدون وجهَ صُحُفِهم التعيسة برسوم الكاريكتير التي تسيء وتستهزيُّ بالرسول صلى الله عليه وسلم سيِّدِ البشر ..
شُلَّت أياديهمُ قَبُحت وجوهُهمُ
… تعسًا لكفرهم .. قومٌ مناكيدُ
يجحدون نبُوَّته، ويكفرون بنوره ورسالته، وقد قال صلى الله عليه وسلم: "إنه ليس شيء بين السماء الأرض إلاَّ يعلمُ أني رسول الله؛ إلاَّ عاصيَ الجِنِّ والإنس"
(1).
هم أقزامٌ تعيشُ أنفسهم في التراب، ويتمرَّغون بأخلاقهم فيه، ينقلبون على الحياة من صُنْع التراب ناسًا دودًا كطبع الدود، لا يقع في شيءٍ إلاَّ أفسده أو قذَّره، أوْ قومًا سُوسًا كطبع السُّوس لا ينالُ شيئًا إلاَّ نَخَره وعابه، أوْ قومًا كالحيَّاتِ والأفاعي تَنفُث سُمَّها في أرجاء الحياة، أو خنافسَ إذا دُفِنت في الورْد لم تتحرك، فإذا أُعيدت إلى الرَّوَث رَتَعتْ .. أشدَّ بلادةً من البقر والحمير حين جحدوا نُبُوَّةَ الأمينِ الكريم سيدِ البشر صلى الله عليه وسلم، يلقِي أعداؤه -أعداءُ الحياة أعداءُ النور- على هذا التراب من ظلام أنفسهم، فلا يبقى تُرابًا، بل يرجع ظلامًا، فكأنهم إذ يمشون يطؤون المجهول بخوفه ورَوْعَتِهِ، ثم لا يستقرُّ ظلامًا، بل يرجعُ آلامًا، فكأنهم يَنبتون على المرض لا على الحياة، ثم لا يثبت آلامًا، بل يتحوَّلُ فَوْرةً وتوثُّبًا تكونُ منه نزواتُ الحمق والجنونِ في النفس.
--------------------------------------------
জীবনের ক্ষুদ্রতা জীবনের মহিমা ও গৌরবকে পরিবেষ্টন করেছে, যেন এই ক্ষুদ্রতা প্রমাণ করে যে তা ক্ষুদ্রই, আর মহিমা প্রমাণ করে যে তা মহিমাই:
যখন ক্রুসেডারদের মধ্য থেকে জীবনের ক্ষুদ্রতা স্বরূপ সেই হতভাগা, দুর্ভাগা ড্যানিশ বামনরা আস্ফালন করে এবং তাদের হতশ্রী সংবাদপত্রের পাতাগুলোকে ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে কলঙ্কিত ও কৃষ্ণবর্ণ করে তোলে, যার মাধ্যমে তারা মানবজাতির শ্রেষ্ঠতম সত্তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অপমান ও উপহাস করে...
তাদের হাত অবশ হয়ে যাক, তাদের চেহারা বিকৃত হোক
… তাদের কুফরের জন্য ধ্বংস অনিবার্য... এক দুর্ভাগা জাতি।
তারা তাঁর নবুওয়াতকে অস্বীকার করে এবং তাঁর নূর ও রিসালাতকে প্রত্যাখ্যান করে; অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী এমন কোনো বস্তু নেই যা জানে না যে আমি আল্লাহর রাসূল; কেবল অবাধ্য জিন ও মানুষ ব্যতীত"
(১)।
তারা এমন বামন যাদের আত্মা ধুলোয় বসবাস করে এবং তারা তাদের চারিত্রিক নোংরামি নিয়ে সেখানে গড়াগড়ি খায়। তারা জীবনের ওপর ধুলোর তৈরি একদল মানুষের মতো আবির্ভূত হয়েছে যারা কীটের স্বভাবজাত পোকা সদৃশ, যা কোনো কিছুর ওপর পড়লে তাকে নষ্ট বা অপবিত্র না করে ছাড়ে না; অথবা ঘুণে ধরা এক জাতি যারা কোনো কিছু পেলে তাকে ছিদ্র ও ত্রুটিযুক্ত করে দেয়; অথবা সাপ ও কালনাগিনীর ন্যায় যারা জীবনের পরতে পরতে বিষ ঢেলে দেয়; অথবা সেই গোবরে পোকার মতো যা ফুলের ভেতর দাফন করলেও নড়েচড়ে না, কিন্তু গোবরে ফিরিয়ে দিলে মনের সুখে বিচরণ করে... তারা গরু ও গাধার চেয়েও স্থূলবুদ্ধিসম্পন্ন যখন তারা আমীন ও দয়ালু মানবজাতির শ্রেষ্ঠ সত্তা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতকে অস্বীকার করেছে। তারা—জীবনের শত্রু ও আলোর শত্রু—নিজেদের আত্মার অন্ধকার থেকে এই ধুলোর ওপর অন্ধকার নিক্ষেপ করে, ফলে তা কেবল ধুলো থাকে না বরং অন্ধকারে পর্যবসিত হয়। যেন তারা চলার সময় এক অজানা বিভীষিকা ও আতঙ্কের ওপর পা রাখছে। তারপর সেই অন্ধকার কেবল অন্ধকার হিসেবেই স্থির থাকে না, বরং ব্যথায় পরিণত হয়। যেন তারা জীবনের ওপর নয় বরং রোগের ওপর অঙ্কুরিত হচ্ছে। অতপর তা কেবল ব্যথা হিসেবেও স্থির থাকে না, বরং একটি প্রবল উত্তেজনা ও উন্মাদনায় রূপ নেয় যা থেকে মনের মূর্খতা ও পাগলামির ঝোঁক তৈরি হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
{خَتَمَ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ} فلا تصل إليها حقيقةٌ من الهدى ولا صدى، {وَعَلَى أَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ} فلا نورَ يُوصوِصُ لها ولا هدى .. نفوسٌ صَلْدة مظلمة جامدة.
هم الظلام كلُّ الظلام .. هم أصحابُ الظلمات، فكيف يُدرِكون نورَ سيِّد السادات صلى الله عليه وسلم؟!! هم المنغمسون في الكفر والشِّرك والجهل، أحاطت بهمُ الظلمات من كلِّ وجه، فهم بمنزلة الأنعام بل هم أضلُّ سبيلاً، فهم في ظلمات آرائهم يعمهون، وفي ضلالتهم يتهوَّكون، وفي رَيبهم يتردَّدون، مغترين بظاهر السَّراب، مُمحِلين مُجدِبين مما بعث اللهُ به رسولَه صلى الله عليه وسلم من الحكمة وفَصْل الخِطاب، إنْ عندهم إلاَّ نُخالةُ الأفكار وزُبالاتُ الأذهان التي قد رَضُوا بها واطمأنوا إليها، {إِنْ فِي صُدُورِهِمْ إِلَّا كِبْرٌ مَا هُمْ بِبَالِغِيهِ} [غافر: 56]، أوجبه لهم اتِّباعُ الهوى ونخوةُ الشيطان، وهم لأجله يُجادلون في آيات الله بغير سلطان.
أهلُ الظلمات المناوؤون لمحمد صلى الله عليه وسلم وشانؤوه من المغضوب عليهم والضالين من اليهود النصارى، {قَدْ بَدَتِ الْبَغْضَاءُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ وَمَا تُخْفِي صُدُورُهُمْ أَكْبَرُ} [آل عمران: 118]، قولُهم ظُلْمة، وعَمَلُهم ظُلمة، ومُدخلُهم ظلمة، ومُخرَجُهم ظلمة، ومَصيرهم إلى الظُّلْمة، قلوبهم مُظلمة، وجوهُهم مُظلمة، كلامهم مُظْلِم، وحالُهم مُظلم، وإذا قابَلَتْ بصيرتُهم الخُفَّاشيةُ ما بعث اللهُ به محمدًا صلى الله عليه وسلم من النور جَدَّ في الهرب منه، وكاد نورُه يَخطِفُ بصره، هَرَب إلى ظلماتِ الشِّرك والجُحود والعِنادِ والاستهزاء التي هي به أنسبُ وأولى، كما قيل:
خفافيشُ أعشاها النهارُ بضَوئه
… ووافَقَها قِطعٌ من الليل مُظلِمُ
{আল্লাহ তাদের হৃদয়ে মোহর মেরে দিয়েছেন} ফলে তাতে হিদায়াতের কোনো সত্য বা প্রতিধ্বনি পৌঁছায় না, {এবং তাদের দৃষ্টির ওপর রয়েছে আবরণ} ফলে কোনো আলো তাতে উঁকি দেয় না এবং কোনো হিদায়াতও নয়... এগুলো পাথুরে, অন্ধকারাচ্ছন্ন ও নিথর আত্মা।
তারা অন্ধকার, আপাদমস্তক অন্ধকার... তারা অন্ধকারের অধিবাসী, তবে তারা কীভাবে সাইয়্যেদুস সাদাত (নেতৃকুলের শিরোমণি) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নূর প্রত্যক্ষ করবে?!! তারা কুফরি, শিরক ও অজ্ঞতায় নিমজ্জিত, সব দিক থেকে অন্ধকার তাদের পরিবেষ্টন করে আছে। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো, বরং তারা আরও পথভ্রষ্ট। তারা তাদের নিজস্ব মতামতের অন্ধকারে হাতড়ে বেড়াচ্ছে, তাদের বিভ্রান্তিতে বিভ্রান্ত হয়ে আছে এবং তাদের সংশয়ে দোদুল্যমান। তারা মরীচিকার চাকচিক্যে প্রতারিত। আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে যে হিকমত ও চূড়ান্ত ফয়সালা দিয়ে পাঠিয়েছেন, তা থেকে তারা রিক্ত ও বঞ্চিত। তাদের কাছে তো কেবল চিন্তার তুষ ও মগজের আবর্জনা ছাড়া আর কিছুই নেই, যা নিয়ে তারা সন্তুষ্ট এবং যাতে তারা প্রশান্তি পায়। {তাদের অন্তরে কেবল অহংকারই রয়েছে, যা তারা হাসিল করতে পারবে না} [গাফির: ৫৬], যা তাদের কুপ্রবৃত্তি অনুসরণ ও শয়তানি দম্ভের ফলে সৃষ্টি হয়েছে। আর এ কারণেই তারা কোনো দলিল ছাড়াই আল্লাহর নিদর্শনাবলি নিয়ে বিতর্ক করে।
অন্ধকারের অনুসারীরা যারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিরোধিতা করে এবং তাঁর প্রতি ঘৃণা পোষণ করে, তারা অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্ট ইয়াহুদি ও নাসারাদের অন্তর্ভুক্ত। {তাদের মুখ থেকে তো বিদ্বেষ প্রকাশ পেয়ে গেছে এবং তাদের অন্তর যা গোপন করে তা আরও ভয়াবহ} [আলি ইমরান: ১১৮]। তাদের কথা অন্ধকার, তাদের কাজ অন্ধকার, তাদের প্রবেশ অন্ধকার, তাদের প্রস্থান অন্ধকার এবং তাদের গন্তব্য অন্ধকারের দিকে। তাদের অন্তর অন্ধকারাচ্ছন্ন, তাদের চেহারা অন্ধকারাচ্ছন্ন, তাদের কথা অন্ধকার এবং তাদের অবস্থাও অন্ধকার। যখন তাদের বাদুড়-সদৃশ অন্তর্দৃষ্টি সেই নূরের মুখোমুখি হয় যা দিয়ে আল্লাহ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে পাঠিয়েছেন, তখন তারা তা থেকে পলায়নে সচেষ্ট হয়। সেই নূর যেন তাদের দৃষ্টি কেড়ে নিতে চায়। তারা শিরক, অস্বীকার, হঠকারিতা ও উপহাসের অন্ধকারের দিকে পলায়ন করে, যা তাদের জন্য অধিক মানানসই ও উপযোগী। যেমনটি বলা হয়েছে:
বাদুড়সমূহ যাদের দিনের আলো অন্ধ করে দেয়
… আর রজনীর ঘন অন্ধকারই তাদের অনুকূল হয়।
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فإذا جاء زُبالةَ الأفكار، ونُحاتةَ الأذهان، جال وصال، وأبدى وأعاد، وقعقع وفرقع، فإذا طَلَع نورُ الوحي وشمسُ الرسالة، انحَجَر في حُجرةِ الحشرات.
هؤلاء الذين تنكَّبوا صراطَ الله المستقيم، واستبدلوه بطريقٍ بهيم لا معالم فيه، واندفعوا بظُلمةِ شهواتِهم وشُبهاتهم، وغيِّهم وضلالاتهم في التِّيه، وظلمةِ الحيرة والقلق والانقطاع عن الهدى، والوحشةِ من الجَنَاب الآمن المأنوس، وظلمةِ اضطراب القِيمَ وتخلخُلِ الأحكام والموازين والقيم، وظلمةِ الهواجس والوساوس .. لهم ومعهم وفيهم كلُّ نزغاتِ الشياطين ..
وكيف يُدرك في الدنيا حقيقتَه
… قومٌ ظلامٌ تسَلَّوْا عنه بالظُّلَمُ
حوَّلوا الحياة هم وتلاميذُهم وأذنابُهم إلى مستنقعٍ آسن، وارتكس الدجاجلةُ شانِؤو محمد صلى الله عليه وسلم ومعهم الغوغاء في الحمأة الوبيئة، وفي الدَّرْكِ الهابط، وفي الظلام البهيم، وأفسدوا الأرض، وأَسِنت الحياةُ بسببهم، وظَهَر الفسادُ في البرِّ والبحر بما كسبت أيدي الناس، وشكى ضوءُ النهار وظلمةُ الليل والمعقِّباتُ إلى ربِّهم، وكادت السماواتُ يتفطَّرْنَ مِن فوقهم، وتنفطرُ الأرضُ، وتَخِرُّ الجبال هدًّا لتطاولِ اللئام الأقزام على رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلى وحيه وعلى شريعته، وعلى تبجُّحهم، ومَلأ القولُ الفاجرُ كلَّ حاضرٍ وبادِي، وعلا فحيحُ الأفاعي ..
يُرمرِمُ من فُتاتِ الغرب قُوتًا
… ويَشربُ من كؤوسهم الثُّمالةْ
يُقَبِّل راحةَ الإفرنج دَوْمًا
… ويَلثِمُ دونما خَجلٍ نِعَالهْ
* * *
যখনই চিন্তার আবর্জনা আর মস্তিষ্কের উচ্ছিষ্ট সামনে আসে, তখন সে দম্ভভরে বিচরণ করে, আস্ফালন করে এবং বারবার নানা কথা বলে হৈচৈ ও শোরগোল সৃষ্টি করে। কিন্তু যখনই ওহীর নূর এবং রিসালাতের সূর্য উদিত হয়, তখন সে কীটের গর্তে গিয়ে লুকিয়ে পড়ে।
এরা তারাই যারা আল্লাহর সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং এর পরিবর্তে এমন এক অন্ধকার পথ বেছে নিয়েছে যাতে কোনো দিকনিশানা নেই। তারা তাদের কুপ্রবৃত্তি ও সংশয়ের অন্ধকার এবং লক্ষ্যহীনতা ও ভ্রষ্টতার গোলকধাঁধায় নিজেদের সঁপে দিয়েছে। তারা নিমজ্জিত হয়েছে বিভ্রান্তি, উদ্বেগ, হিদায়াত থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং সেই নিরাপদ ও প্রশান্তিময় আশ্রয় থেকে বিমুখতার এক গভীর অন্ধকারে। তাদের গ্রাস করেছে মূল্যবোধের অস্থিতিশীলতা, বিধান ও মানদণ্ডের শিথিলতা এবং কুচিন্তা ও কুমন্ত্রণার অন্ধকার। শয়তানের সব প্ররোচনা তাদের জন্য, তাদের সাথে এবং তাদের মধ্যেই বিদ্যমান।
ইহকালে কী করে তারা লাভ করবে এর প্রকৃত পরিচয়
… সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন জাতি যারা অন্ধকারের মাঝেই খুঁজে নিয়েছে সান্ত্বনা?
তারা, তাদের শিষ্য এবং অনুসারীরা জীবনকে এক দুর্গন্ধময় জলাশয়ে পরিণত করেছে। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিদ্বেষী সেই দাজ্জালরা এবং তাদের সাথে থাকা মূর্খ জনতা এক বিষাক্ত পঙ্কিলতায়, এক গভীর অধঃপতনে এবং ঘন অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে। তারা জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করেছে এবং তাদের কারণে জীবন বিষিয়ে উঠেছে। মানুষের হাতের কামাইয়ের দরুন জলে ও স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। দিনের আলো, রাতের অন্ধকার এবং রক্ষণাবেক্ষণকারী ফেরেশতারা তাদের রবের কাছে অভিযোগ করেছে। আসমানসমূহ তাদের উপর ফেটে পড়ার উপক্রম হয়েছে, পৃথিবী বিদীর্ণ হতে চলেছে এবং পাহাড়সমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে লুটিয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে; কারণ এই নীচ বামনরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর ওহী এবং তাঁর শরীয়তের বিরুদ্ধে আস্ফালন করেছে। তাদের দাম্ভিকতা আর পাপাচারপূর্ণ কথাবার্তা শহর ও গ্রাম সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এবং সাপের হিসহিস শব্দ উচ্চকিত হয়েছে।
সে পশ্চিমের উচ্ছিষ্ট থেকে জীবন ধারণের রসদ কুড়ায়
… আর তাদের পানপাত্রের তলানি পান করে।
সে সর্বদা ইউরোপীয়দের হাতের তালু চুম্বন করে
… আর নির্লজ্জভাবে তাদের পাদুকা লেহন করে।
* * *
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
* جَحَدُوه، وحَنَّ الجِذعُ إِليه، وسَلمَ الصَّخْرُ عليه، وسجدت الحيواناتُ بين يديهِ:
جَحدوا نُبُوتَه، وكانت الأحجارُ تُسلِّمُ عليه، والجِذعُ يبكي لفِراقه ويحن إليه، وسَجَدت الحيواناتُ بين يديه تعظيمًا له:
• عن جابر بن سَمُرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إني لأعْرِف حجَرًا بمكَّةَ، كان يُسَلِّمُ علي قبل أن أبعث"
(1).
° وعن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: "كان المسجدُ مسقوفًا على جُذوع من نخْل، فكان النبي صلى الله عليه وسلم إذا خَطَب يقومُ إلى جِذْع منها، فلما صُنع له المنبرُ فكان عليه، فسَمِعْنا لذلك الجِذع صوتًا كصوت العِشار، حتى جاء النبيُّ صلى الله عليه وسلم فوضع يده عليه فسكت"
(2).
• وعن ابن عباس رضي الله عنهما: أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يخطب إلى جِذع قبل أن يَتَّخذَ المنبرَ، فلما اتَّخَذ المنبر وتحوَّل إليه، حَنَّ الجذعُ، فاحتَضَنه فسكن، وقال: "لو لم أحتضِنْه لَحَنَّ إلى يوم القيامة"
(3).
° وعن عائشة رضي الله عنها قالت: "كان لآل رسول الله صلى الله عليه وسلم وَحْشٌ، فكان إذا خَرَج رسولُ الله صلى الله عليه وسلم اشتدَّ ولَعِب في البيت، فإذا دخل رسولُ الله صلى الله عليه وسلم سَكَن فلم يتحرك كراهيةَ أن يُؤذيَه"
(4).
--------------------------------------------
তারা তাকে অস্বীকার করেছে, খেজুর গাছের কান্ড তার বিরহে আর্তনাদ করেছে, পাথর তাকে সালাম দিয়েছে এবং পশুরা তার সামনে সিজদা করেছে:
তারা তার নবুওয়াতকে অস্বীকার করেছিল, অথচ পাথরসমূহ তাকে সালাম দিত, খেজুর গাছের কান্ড তার বিরহে কাঁদত ও তার প্রতি আকুলতা প্রকাশ করত এবং পশুরা তাকে সম্মান প্রদর্শনার্থে তার সামনে সিজদা করত:
• জাবির ইবনে সামুরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয় আমি মক্কার এমন একটি পাথরকে চিনি, যা আমার নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে আমাকে সালাম দিত"
(১)।
° জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "মসজিদটি খেজুর গাছের কান্ডের খুঁটির ওপর ছাদবিশিষ্ট ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন খুতবা দিতেন, তখন এর একটি কান্ডের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়াতেন। যখন তার জন্য মিম্বর তৈরি করা হলো এবং তিনি তার ওপর অবস্থান নিলেন, তখন আমরা সেই কান্ডটি থেকে দশ মাসের গর্ভবতী উটনীর শব্দের মতো কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম। অবশেষে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসলেন এবং তার ওপর হাত রাখলেন, তখন সেটি শান্ত হলো"
(২)।
• ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত: মিম্বর গ্রহণ করার আগে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি খেজুর গাছের কান্ডের দিকে ফিরে খুতবা দিতেন। যখন তিনি মিম্বর গ্রহণ করলেন এবং সেদিকে সরে গেলেন, তখন কান্ডটি আর্তনাদ করে উঠল। তিনি সেটিকে জড়িয়ে ধরলেন, ফলে সেটি শান্ত হলো। তিনি বললেন: "যদি আমি একে জড়িয়ে না ধরতাম, তবে এটি কিয়ামত পর্যন্ত এভাবে আর্তনাদ করতে থাকত"
(৩)।
° আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরিবারের একটি বন্য প্রাণী ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ঘর থেকে বের হতেন, তখন সেটি দ্রুত ছোটাছুটি করত এবং ঘরে খেলাধুলা করত। কিন্তু যখনই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরে প্রবেশ করতেন, তখন সেটি শান্ত হয়ে যেত এবং তাকে কষ্ট দেওয়ার অপছন্দনীয়তায় নড়াচড়া করত না"
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
• وعن أنس رضي الله عنه قال: "كان أهلُ بيتٍ من الأنصار لهم جَمَلٌ يَسْنُون عليه
(1)، وإن الجَمَلَ استصعب عليهم فمنعهم ظَهْرَه، وإن الأنصار جاؤوا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقالوا: إنه كان لنا جَمَلٌ نُسنِي عليه، وإنه استصعب علينا، ومَنَعَنا ظَهْرَه، وقد عَطِش الزرعُ والنخل، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لأصحابه: "قوموا". فقاموا، فدخل الحائطَ -والجَمَلُ في نَاحية-، فمشى النبي صلى الله عليه وسلم نحوه. فقالت الأنصار: يا نبيَّ الله، إنه قد صار مِثلَ الكلب الكَلِبِ، وإنا نخافُ عليك صَوْلَتَه! فقال: "ليس عليَّ منه بأسٌ"، فلما نظر الجمل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم أقبل نحوه حتى خَرَّ ساجدًا بين يديه، فأخذ رسولُ رسول الله صلى الله عليه وسلم بناصيته أذلَّ ما كانت قط حتى أدخله في العمل، فقال له أصحابه: يا رسول الله، هذه البهيمةُ لا تعقلُ تسجد لك، ونحن نعقل، فنحن أحقُّ أن نسجدَ لك، فقال: "لا يصلحُ لبشرٍ أن يسجد لبشر، ولو صَلَح لبشر أن يسجدَ لبشر لأمرتُ المرأةَ أن تسجدَ لزوجها من عِظَم حقِّه عليها، والذي نفسي بيده لو كان من قَدَمه إلى مَفْرِقِ رأسِه قَرحةٌ تنبجِسُ بالقيح والصديد، ثم استقبلته فلحَسَتْه ما أدَّتْ حقَّه"
(2).
° وعن سَفِينةَ رضي الله عنه مولى النبي صلى الله عليه وسلم قال: "ركبتُ البحرَ، فانكسرت السَّفينة، فركبتُ لَوْحًا، فطرحني اللَّوْحُ في أَجَمَةٍ فيها الأسدُ، فأقبل إليَّ يريدُني، فقلتُ: يا أبا الحارث
(3)، أنا مَوْلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فطأطأ رأسه
--------------------------------------------
• আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আনসারদের একটি পরিবারের একটি উট ছিল যার সাহায্যে তারা পানি সেচন করত
(১)। কিন্তু উটটি তাদের অবাধ্য হয়ে গেল এবং তাদের পিঠ ব্যবহার করতে (আরোহণ করতে) বাধা দিতে লাগল। এমতাবস্থায় আনসারগণ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বললেন: আমাদের একটি উট ছিল যা দিয়ে আমরা পানি সেচন করতাম, কিন্তু সেটি আমাদের অবাধ্য হয়ে গেছে এবং আমাদের পিঠ ব্যবহার করতে দিচ্ছে না। এদিকে ফসলি জমি ও খেজুর বাগান তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর সাহাবীদের বললেন: 'তোমরা উঠো'। তাঁরা উঠলেন এবং বাগানে প্রবেশ করলেন—তখন উটটি এক কোণে ছিল। নবী (সা.) উটটির দিকে অগ্রসর হলেন। আনসারগণ বললেন: হে আল্লাহর নবী! এটি পাগলা কুকুরের মতো হয়ে গেছে, আমরা আপনার ওপর এর আক্রমণের ভয় করছি! তিনি বললেন: 'আমার ব্যাপারে ওর থেকে কোনো ভয় নেই'। উটটি যখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দিকে তাকাল, তখন সে তাঁর দিকে এগিয়ে এল এবং তাঁর সামনে সিজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়ল। রাসূলুল্লাহ (সা.) তার কপালের পশম ধরলেন, তখন সে আগের চেয়েও অত্যন্ত অনুগত হয়ে পড়ল, এমনকি তিনি তাকে কাজে লাগিয়ে দিলেন। তাঁর সাহাবীগণ তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এই অবুঝ পশুটি আপনার প্রতি সিজদা করছে, অথচ আমরা জ্ঞানসম্পন্ন; সুতরাং আমাদেরই অধিকার বেশি যে আপনাকে সিজদা করি। তিনি বললেন: 'কোনো মানুষের জন্য অন্য কোনো মানুষকে সিজদা করা সমীচীন নয়। যদি কোনো মানুষের জন্য অন্য মানুষকে সিজদা করা সমীচীন হতো, তবে আমি স্ত্রীকে তার স্বামীর প্রতি তার সুমহান অধিকারের কারণে তাকে সিজদা করার নির্দেশ দিতাম। সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! যদি তার (স্বামীর) পা থেকে মাথার তালু পর্যন্ত এমন কোনো ক্ষত থাকে যা থেকে পুঁজ ও রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে, এরপর স্ত্রী সেটির দিকে এগিয়ে গিয়ে তা চেটে পরিষ্কার করে দেয়, তবুও সে তার হক পূর্ণ আদায় করতে পারবে না'।"
(২) ° এবং নবী (সা.)-এর মুক্তদাস সাফিনা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি সমুদ্রে ভ্রমণ করছিলাম, তখন জাহাজটি ভেঙে গেল। আমি একটি তক্তার ওপর চড়লাম। তক্তাটি আমাকে একটি ঝোপঝাড়পূর্ণ স্থানে নিয়ে ফেলল যেখানে একটি সিংহ ছিল। সে আমার দিকে অগ্রসর হলো। আমি বললাম: হে আবুল হারিস
(৩), আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মুক্তদাস। তখন সে তার মাথা নিচু করল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وأقبل إلي، فدفعني بمَنكِبه حتى أخرَجَني من الأجَمَة، ووضعني على الطريق وهَمْهَم، فظننت أنه يُوَدِّعني"
(1).
* وأعجبُ من هذا استباقُ النوق للموت بين يديه، وكأنَّ الموت بين يديْه حياة:
• عن عبد الله بن قُرْط رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "أعظمُ الأيام عند الله يومُ النحْر، ثم يومُ النَّفْر"، وقُرِّب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم خَمس بَدَناتٍ، فطَفِقْنَ يَزْدَلِفْنَ إليه
(2) أَيَّتهُنَّ يبدأ بها، فلما وَجَبَت جنوبُها، قال كلمة خفيفة لم أفهمها، فسألت بعضَ مَن يَلِيني: ما قال؟ .. قالوا: قال: "مَن شاء اقتطع"
(3).
ما بال النوق يسْرِعْن للموت بين يديه .. وكأنَّ الموتَ بين يديه حياة!! ما بالُها وَعَت مَا لم يَعِه غِلاظُ الأكباد مَن البشر!! وما بالها سارعت فيما يرضيه، وقصَّر في محبته مَن شَرَّفهم اللهُ بالانتساب إليه بعد أن كانوا على هامشِ الحياة لا شأنَ لهم في الأرض ولا ذِكر لهم في السماء!!.
* حتى الكلاب تَغضب لرسول الله صلى الله عليه وسلم:
إن كانت الكلابُ تغضب لمن ينتقص شخصَ الرسول الكريم .. فماذا يفعل المليارُ وربعُ مليار ممَّن أنقذهم الله به من الظلمات، وأخرَجَهم إلى النور على يديْه؟! .. وماذا سنقول لنبينا صلى الله عليه وسلم حينما نلقاه على الحوض؟! ..
--------------------------------------------
"সে আমার দিকে এগিয়ে এল এবং তার কাঁধ দিয়ে আমাকে ধাক্কা দিয়ে ঝোপ থেকে বের করে আনল এবং আমাকে রাস্তায় রেখে গুনগুন শব্দ করল, তখন আমার মনে হলো যে সে আমাকে বিদায় জানাচ্ছে"
(১).
* এর চেয়েও বিস্ময়কর হলো তাঁর সামনে উটগুলোর মৃত্যুর জন্য প্রতিযোগিতা করা, যেন তাঁর সামনে মৃত্যুই জীবন:
• আবদুল্লাহ ইবনে কুর্ত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর কাছে দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো কোরবানির দিন, অতঃপর মিনা ত্যাগের দিন", এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পাঁচটি উট আনা হলো, সেগুলো তাঁর কাছে এগিয়ে আসতে লাগল
(২) যে, কোনটিকে দিয়ে তিনি আগে শুরু করবেন। অতঃপর যখন সেগুলো যবেহ হয়ে পার্শ্বদেশে লুটিয়ে পড়ল, তখন তিনি নিচু স্বরে একটি কথা বললেন যা আমি বুঝতে পারিনি। আমি আমার পার্শ্বস্থ একজনকে জিজ্ঞাসা করলাম: তিনি কী বললেন? তারা বলল: তিনি বলেছেন: "যার ইচ্ছা সে (মাংস) কেটে নিতে পারে"
(৩).
উটগুলোর কী হলো যে তারা তাঁর সামনে মৃত্যুর জন্য দ্রুত ধাবিত হচ্ছে .. যেন তাঁর সামনে মৃত্যুই জীবন!! তাদের কী হলো যে তারা তা উপলব্ধি করল যা পাষাণ হৃদয়ের মানুষরাও বুঝতে পারেনি!! তাদের কী হলো যে তারা তাঁর সন্তুষ্টির কাজে দ্রুত এগিয়ে গেল, অথচ তাঁর ভালোবাসার ক্ষেত্রে তারা অবহেলা করল যাদেরকে আল্লাহ তাঁর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, একদা তারা জীবনের প্রান্তসীমায় ছিল, জমিনে তাদের কোনো গুরুত্ব ছিল না এবং আসমানেও তাদের কোনো আলোচনা ছিল না!!.
* এমনকি কুকুরও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অপমানে ক্রোধান্বিত হয়:
যদি কুকুরই এমন ব্যক্তির ওপর রাগান্বিত হয় যে রাসূলুল্লাহর শান হরণ করতে চায় .. তবে সেই সোয়া শত কোটি মানুষের কী করা উচিত যাদের আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে অন্ধকার থেকে উদ্ধার করেছেন এবং তাঁর হাতে আলোর পথে বের করে এনেছেন?! .. আমরা আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কী বলব যখন হাউজে কাওসারে তাঁর সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হবে?! ..
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ২০)
لنُعِدَّ للسؤال جوابًا من الآن .. انظر إلى هذا الخبرِ وتدبَّرْه .. تجد العجبَ العُجاب، يَرويه حافظ الدنيا ابن حجر العسقلاني في كتابه "الدرر الكامنة": "كان النصارى ينشُرون دعاتَهم بين قبائل المغول طَمَعًا في تنصيرهم، وقد مَهَّد لهم الطاغية "هولاكو" سبيلَ الدعوة بسببِ زوجته الصليبية "ظفرخاتون"، وذات مرة توجَّه جماعةٌ من كبار النصارى لحضور حفلٍ مغوليٍّ كبير عُقِد بسبب تنصُّر أحدِ أمراءِ المغول، فأخذ واحدٌ من دُعاة النصارى في شتم النبي صلى الله عليه وسلم، وكان هناك كلبُ صيدٍ مربوط، فلما بدأ هذا الصليبيُّ الحاقد في سبِّ النبي صلى الله عليه وسلم زمجر الكلبُ وهاج، ثم وثب على الصليبي وخَمَشه بشدةٍ، فخلَّصوه منه بعد جَهْدٍ.
فقال بعض الحاضرين: هذا بكلامك في حقِّ محمد صلى الله عليه وسلم.
فقال الصليبيُّ: كلاَّ، بل هذا الكلبُ عزيزُ النفس رآني أُشير بيدي، فظنَّ أني أُريدُ ضربه، ثم عاد لسَبِّ النبيّ صلى الله عليه وسلم وأقذع في السبِّ، عندها قطع الكلبُ رِباطَه ووثب على عُنق الصليبيِّ وقَلَع زَوره في الحال، فمات الصليبي من فوره، فعندها أسلم نحوُ أربعين ألفًا من المغول"
(1).
والتطاولُ على أزكى الرسل وسيِّدهم صلى الله عليه وسلم فاق كلَّ حدٍّ من المغضوب عليهم والضالين: اليهود والنصارى، ومن عُبَّاد البقر، والزنادقةِ، والملاحدة، وأهل النفاق .. والتطاولُ على سُنَّتِهِ وإنكارُ المتواتر منها وما صحَّحه جهابذةُ الحديث وشيوخُ الحُفاظ: أصبح تجارةً رائجةً بين الدهماء والغوغاء وأهل الخبث ممن يعرفهم أهلُ الله مِن لَحْن قولهم.
--------------------------------------------
আসুন আমরা এখন থেকেই জিজ্ঞাসার উত্তর প্রস্তুত করি... এই সংবাদটির দিকে তাকান এবং এটি নিয়ে চিন্তা করুন... আপনি এক পরম বিস্ময় দেখতে পাবেন, যা দুনিয়ার হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি তাঁর 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: "খ্রিস্টানরা মঙ্গোল উপজাতিদের মধ্যে তাদের ধর্মপ্রচারকদের ছড়িয়ে দিচ্ছিল তাদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার লালসায়। স্বৈরাচারী 'হালাকু' তার ক্রুসেডার স্ত্রী 'জাফর খাতুন'-এর কারণে তাদের জন্য এই প্রচারের পথ সুগম করে দিয়েছিলেন। একবার মঙ্গোলদের এক আমীরের খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল মঙ্গোল অনুষ্ঠানে খ্রিস্টানদের উচ্চপদস্থ একদল লোক উপস্থিত হন। তখন খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকদের একজন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দিতে শুরু করেন। সেখানে একটি শিকারি কুকুর বাঁধা ছিল। যখনই এই বিদ্বেষী ক্রুসেডার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দিতে শুরু করল, কুকুরটি গর্জন করে উঠল এবং উত্তেজিত হয়ে পড়ল। তারপর সে ক্রুসেডারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত করল। অনেক চেষ্টার পর তারা তাকে কুকুরটির হাত থেকে মুক্ত করল।
উপস্থিত কিছু লোক বলল: এটি হয়েছে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে তোমার আপত্তিকর বক্তব্যের কারণে।
তখন সেই ক্রুসেডার বলল: মোটেই না, বরং এই কুকুরটি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন; সে আমাকে হাত দিয়ে ইশারা করতে দেখেছে, ফলে সে ভেবেছে আমি তাকে মারতে চাইছি। এরপর সে পুনরায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দিতে শুরু করল এবং অত্যন্ত অশ্লীল ভাষায় গালি দিল। তখন কুকুরটি তার বাঁধন ছিঁড়ে ফেলল এবং ক্রুসেডারের ঘাড়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাৎক্ষণিকভাবে তার কণ্ঠনালি উপড়ে ফেলল। ফলে সেই ক্রুসেডার তৎক্ষণাৎ মারা গেল। আর তখন প্রায় চল্লিশ হাজার মঙ্গোল ইসলাম গ্রহণ করল"
(১).
পবিত্রতম এবং সকল রাসূলের সরদার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শন অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্টদের (ইহুদি ও খ্রিস্টান), গো-পূজারী, জিন্দিক, নাস্তিক এবং মুনাফিকদের পক্ষ থেকে সকল সীমা অতিক্রম করেছে। তাঁর সুন্নাহর প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শন এবং মুতাওয়াতির সুন্নাহসমূহ ও হাদিস শাস্ত্রের বিশারদ ও হাফেজদের সত্যায়িত হাদিসগুলো অস্বীকার করা সাধারণ মানুষ, বিশৃঙ্খলাকারী এবং সেইসব বিদ্বেষপরায়ণ লোকদের মধ্যে এক লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে, যাদেরকে আল্লাহর প্রিয় বান্দারা তাদের কথার ধরন দেখেই চিনে ফেলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ২১)
° وقديمًا قال ناصرُ السُّنة الإمام الشافعي -لله درُّه-: "مَن استُغضِب ولم يَغْضَب فهو حمار"
(1).
وهذي غضبتي -على قَدْري الضئيل- على صفحاتِ الكتب .. في هذه السلسلة التي أسأل الله أن يجعَلها جُنَّةً لي ورِدءً من النار .. ورِفعةً وقربةً وجوارًا لسيِّد الأبرار صلى الله عليه وسلم، وطُهْرةً من الذنوب والآثامِ والأوزار .. فاللهم سدِّد قلمي وزِّكه، واجعل له القبولَ بين الصالحين، ونَقِّه عن أعراض الدنيا، واجعله شجًى في حلوقِ المارقين والمنافقين .. واجعله وَقْفًا على نشر السُّنة والدفاع عنها، ونشرِ محاسن هذا الدين العظيم، ونهيًا عن المنكر، ووفِّر لي الأجرَ يوم لقياك.
• قال صلى الله عليه وسلم: "إنَّ من أمتي قومًا يُعطَوْن مثل أُجُور أوَّلِهم، يُنكِرون المُنكَر"
(2).
* أرفع عملٍ ووسامٍ أن ننافح
(3) عن رسولنا صلى الله عليه وسلم:
• للهِ درُّ من ينافحُ عن رسولِ الله صلى الله عليه وسلم، ويكونُ من أنصارِ الله ورسوله، هذا موضعٌ كريم يرفعُنا إليه الله، وهل أرفعُ من مكانٍ يكونُ فيه العبدُ نصيرًا للرب وللرسول صلى الله عليه وسلم؟! إن هذه الصفةَ تحملُ من التكريم ما هو أكبرُ من الجنة والنعيم .. فما أجدرَ أتباعَ محمد صلى الله عليه وسلم أن ينتدِبوا لهذا الأمرِ الدائم!.
• وطوبى لمن يُنافحُ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم .. فله نصيبٌ من قول
--------------------------------------------
° সুন্নাহর সাহায্যকারী ইমাম শাফিঈ (আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন) অনেক আগে বলেছিলেন: "যাকে রাগান্বিত করার চেষ্টা করা হয় অথচ সে রাগান্বিত হয় না, সে হলো একটি গাধা"
(১).
আর বইয়ের পাতায় এটিই আমার ক্রোধ—আমার নগণ্য সামর্থ্য অনুযায়ী—এই ধারাবাহিকটিতে, যার সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি একে আমার জন্য ঢাল এবং জাহান্নাম থেকে সুরক্ষা দান করেন... আর যেন পুণ্যবানদের সরদার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সান্নিধ্য, নৈকট্য ও উচ্চমর্যাদার মাধ্যম বানান, এবং পাপ ও অপরাধ থেকে পবিত্র হওয়ার অসিলা করেন... হে আল্লাহ, আপনি আমার কলমকে সঠিক পথে পরিচালিত ও পরিশুদ্ধ করুন, নেককার বান্দাদের মাঝে একে কবুল করুন, একে দুনিয়াবি উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত রাখুন এবং একে ধর্মত্যাগী ও মুনাফিকদের কণ্ঠনালীর কাঁটা বানিয়ে দিন... একে সুন্নাহর প্রচার ও প্রতিরক্ষা এবং এই মহান দ্বীনের সৌন্দর্য বিস্তারের জন্য এবং মন্দ কাজের নিষেধের জন্য ওয়াকফ হিসেবে কবুল করুন, আর আপনার সাথে সাক্ষাতের দিনে আমার জন্য এর প্রতিদান পরিপূর্ণ করে দিন।
• রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে এমন একদল লোক রয়েছে যাদেরকে তাদের পূর্ববর্তীদের ন্যায় সওয়াব দেওয়া হবে; তারা মন্দ কাজের প্রতিবাদ করে"
(২).
* আমাদের রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ হয়ে প্রতিরক্ষা করা হলো সর্বোচ্চ আমল ও সম্মান:
• সেই ব্যক্তি কতই না চমৎকার যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতিরক্ষা করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাহায্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়। এটি একটি সম্মানিত স্থান যেখানে আল্লাহ আমাদের উন্নীত করেন। আর এমন অবস্থানের চেয়ে উচ্চতর কি আর কিছু হতে পারে যেখানে বান্দা তার রব এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহায্যকারী হবে?! নিশ্চয়ই এই গুণটি এমন সম্মান বহন করে যা জান্নাত ও নেয়ামতের চেয়েও বড়... সুতরাং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসারীদের জন্য এই চিরস্থায়ী কাজের জন্য নিজেদের নিয়োজিত করা কতই না উপযুক্ত!
• আর সুসংবাদ সেই ব্যক্তির জন্য যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ হয়ে প্রতিরক্ষা করে... কারণ তার জন্য সেই বাণীতে অংশ রয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ২২)
رسول الله صلى الله عليه وسلم لحسان: "إن رُوحَ القُدُسِ
(1) لا يزال يؤيِّدك، ما نافحتَ عن الله ورسوله"
(2).
• وقوله صلى الله عليه وسلم: "إن اللهَ يؤيِّدُ حسَّانَ برُوح القدس ما نافَحَ عن رسول الله"
(3).
• وقوله صلى الله عليه وسلم: "إن رُوحَ القدس معك ما هاجَيْتَهم
(4) "
(5).
• وقوله صلى الله عليه وسلم: "اهْجُ المشركين، فإن رُوحَ القُدسِ معك" .. قاله لحسان
(6).
• وقوله صلى الله عليه وسلم: "اهْجُ قريشًا، فإنه أشدُّ عليهم من رَشْقِ النَّبْل
(7) "
(8).
• وقوله صلى الله عليه وسلم: "يا حسانُ، أجِبْ عن رسول الله، اللهم أيِّدْه بُروحِ القدس"
(9).
• وقوله صلى الله عليه وسلم: "هَجَاهم حسانُ فشَفَى واشتفى
(10) "
(11).
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসসানকে বলেছেন: "নিশ্চয়ই রুহুল কুদুস
(১) অবিরত তোমাকে সমর্থন যোগাবে, যতক্ষণ তুমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ হয়ে প্রতিরক্ষা করবে"
(২).
• এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ হাসসানকে রুহুল কুদুসের মাধ্যমে সমর্থন যোগান, যতক্ষণ তিনি আল্লাহর রাসূলের পক্ষ হয়ে প্রতিরক্ষা করেন"
(৩).
• এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "নিশ্চয়ই রুহুল কুদুস তোমার সাথে আছেন যতক্ষণ তুমি তাদের নিন্দা ও দোষারোপ করতে থাকবে
(৪)"
(৫).
• এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "মুশরিকদের নিন্দা করো, কেননা রুহুল কুদুস তোমার সাথে আছেন" .. তিনি এটি হাসসানকে বলেছিলেন
(৬).
• এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "কুরাইশদের নিন্দা করো, কেননা এটি তাদের জন্য তীরের আঘাতের
(৭) চেয়েও অধিক যন্ত্রণাদায়ক"
(৮).
• এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "হে হাসসান, আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে উত্তর দাও। হে আল্লাহ, তাকে রুহুল কুদুস দ্বারা সাহায্য করুন"
(৯).
• এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "হাসসান তাদের নিন্দা করেছে, ফলে সে (মুমিনদের) প্রশান্তি দিয়েছে এবং নিজেও তৃপ্ত হয়েছে
(১০)"
(১১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
° ولله درُّ حسان رضي الله عنه وهو يقول لأبي سفيان بنِ الحارثِ بنِ عبد المطلب لما هجى رسول الله صلى الله عليه وسلم -وذلك قبل إسلامه-:
هَجَوْتَ محمدًا فأجَبْتُ عنه
… وعِندَ اللهِ في ذَاكَ الجزاءُ
هَجَوْتَ محمدًا بَرًّا تقيًّا
… رسولَ اللهِ شيمتُه الوفاءُ
(1)أتَهْجُوهُ وَلستَ له بكُفْءٍ
… فشرُّكما لِخَيْركُما الفِدَاءُ
فإنَّ أبي ووالدَهُ وعِرْضي
… لِعِرْضِ محمدٍ منكم وِقَاءُ
(2)نعم .. إن أعراضنا ودماءَنا وأنفُسَنا وأهلينا فداءٌ لرسول الله صلى الله عليه وسلم ..
عِرضي فدا عرضِ الحبيبِ محمدٍ
… وفِداهُ مُهجةُ خافقي وجَناني
وفداهُ كُلُّ صغيرِنا وكبيرِنا
… وفداهُ ما نظرت له العينانِ
ننافحُ عنه وذاك عزُّ الدهر .. ونمدحه وهذا علوٌّ وسموّ .. ونقول:
عذرًا رسول الله صلى الله عليه وسلم .. ننافح عن سيِّد السادات، وذاك بَهاءُ وعز الدهر .. ونمدحه وذاك علوٌّ وسموٌّ، وتَقصر كلماتُنا مهما أوتينا من لَسَنٍ وفصاحة أن نوفِّيه عُشْرَ معشار قَدْره صلى الله عليه وسلم ..
بمديحِهِ العَطِرِ المَنيفِ تَعَطَّرَتْ
… وتطهَّرَتْ وتنوَّرْتَ أوْزَانِي
يُعطِي القَرِيضَ غَضاضةً ونضارةً
… وفَصاحةً تُرْبِي على سُحْبَانِ
(3)--------------------------------------------
° কতই না চমৎকার হাসসান (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর ভূমিকা, যখন তিনি আবু সুফিয়ান ইবনুল হারিস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলছিলেন—যখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিন্দা করেছিলেন (তার ইসলাম গ্রহণের পূর্বে)—:
আপনি মুহাম্মাদকে গালি দিয়েছেন, আর আমি তাঁর পক্ষ থেকে উত্তর দিয়েছি
… এবং আল্লাহর কাছেই এর প্রতিদান রয়েছে।
আপনি মুহাম্মাদকে গালি দিয়েছেন, যিনি পরম পুণ্যবান ও মুত্তাকী
… আল্লাহর রাসূল, যার স্বভাব হলো বিশ্বস্ততা।
(১)আপনি কি তাঁকে গালি দিচ্ছেন অথচ আপনি তাঁর সমকক্ষ নন?
… তোমাদের মধ্যে যে নিকৃষ্ট সে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তমের জন্য উৎসর্গ হোক।
নিশ্চয়ই আমার পিতা, তাঁর পিতা এবং আমার সম্মান
… তোমাদের হাত থেকে মুহাম্মাদের সম্মানের জন্য ঢাল স্বরূপ।
(২)হ্যাঁ.. নিশ্চয়ই আমাদের সম্মান, রক্ত, জীবন এবং পরিবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য উৎসর্গীত..
আমার সম্মান প্রিয় মুহাম্মাদের সম্মানের জন্য উৎসর্গ
… এবং তাঁর জন্য আমার স্পন্দিত হৃদপিণ্ড ও প্রাণের রক্ত উৎসর্গ।
তাঁর জন্য আমাদের ছোট ও বড় সবাই উৎসর্গ
… এবং তাঁর জন্য উৎসর্গ তা-ই যা দুই চোখ অবলোকন করেছে।
আমরা তাঁর প্রতিরক্ষা করি আর এটাই যুগের গৌরব.. আমরা তাঁর প্রশংসা করি আর এটাই উচ্চতা ও আভিজাত্য.. এবং আমরা বলি:
ক্ষমা করবেন হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.. আমরা সকল নেতার নেতার প্রতিরক্ষা করি, আর এটাই হলো যুগের দীপ্তি ও গৌরব.. আমরা তাঁর প্রশংসা করি আর এটাই হলো উচ্চতা ও আভিজাত্য; আমরা যতই বাগ্মিতা ও বাকপটুতার অধিকারী হই না কেন, আমাদের শব্দমালা তাঁর মর্যাদার এক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশের হক আদায় করতেও অক্ষম..
তাঁর সুগন্ধিময় ও সুউচ্চ প্রশংসার মাধ্যমে সুবাসিত হয়েছে
… পবিত্র ও আলোকিত হয়েছে আমার কাব্যিক ছন্দসমূহ।
এটি কবিতাকে দান করে সজীবতা ও লাবণ্য
… এবং এমন এক বাগ্মিতা যা সুহবানকেও ছাড়িয়ে যায়।
(৩)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
° أو كما قال الصرصري لله درُّه:
إذا قيل فيك الشِّعْرُ جاء مُهَذَّبًا
… جَليَّ المعاني ليس فيه عَويصُ
ووَصْفُك يُعْطِي اللهْم نُورًا كأنَّهُ
… على الدُّرِّ في البحر الخِضمِّ يَغُوصُ
(1) * وأخيرًا:
هذه سلسلةُ: "شَرَابُ التسنيم مع النبيِّ الكريم صلى الله عليه وسلم"، تأتي في مجلدات على النسق التالي:
* الكتاب الأول: "وامحمداه .. وارسولاه .. إن شائنك هو الأبتر"، أَتتَبَّعُ فيه كلَّ شانِئي النبي الكريم صلى الله عليه وسلم على مَدَار التاريخ ممَّن وَعَتْهم ذاكرتي بدايةً من فرعون هذه الأمة .. مرورًا بزعماء الكفر من قريش أهل قَليبِ بدر، وشانئيه من يهود، وعلى رأسهم شيطانُ اليهود كعبُ بن الأشرف، ومَن أساؤوا الأدب معه ككسرى -لعنه الله-، أو الذين ادَّعَوا النبوَّة كمسيلِمة والعَنسِي، ومن ادَّعوا النبوةَ بعد ذلك من الطوائف المارقة الخارجة عن الإسلام.
وأذكر شانئيه في عصرنا الحديث "البابية، والبهائية، والقاديانية"، وأُعرِّجُ على أقوالِ الصليبيين من المستشرقين، والمفكرين قديمًا وحديثًا .. وأذكر مقال بعضِ مفكِّري الغرب الذين شهدوا للنبي صلى الله عليه وسلم بالبطولة والعبقرية والأثر العظيم في قومه، وإن لم يُثبتوا له النبوة .. ولكنهم أحسَنُ حالاً من الموتورين المسعورين الكلاب من بني جلدتهم.
وأُعرِّجُ على نواقضِ الإيمان برسول الله صلى الله عليه وسلم، وأُجَلِّي ذلك للمسلمين،
--------------------------------------------
° অথবা যেমন সারসারী (আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন) বলেছেন:
যখন আপনার শানে কবিতা রচিত হয়, তখন তা আসে সুসংবদ্ধ ও মার্জিত হয়ে
... তার অর্থসমূহ অত্যন্ত স্পষ্ট, তাতে কোনো অস্পষ্টতা নেই।
আর আপনার গুণকীর্তন অন্তরে এমন এক জ্যোতি দান করে, যেন তা
... বিশাল সমুদ্রের গভীরে মুক্তো সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ডুব দিচ্ছে।
(১) * এবং পরিশেষে:
এটি হলো "নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে শারাবুত তাসনীম" নামক ধারাবাহিক; যা নিমোক্ত বিন্যাসে কয়েক খণ্ডে প্রকাশিত হবে:
* প্রথম গ্রন্থ: "হে মুহাম্মাদ.. হে আল্লাহর রাসূল.. নিশ্চয়ই আপনার শত্রুই নির্বংশ", এতে আমি ইতিহাসের পরিক্রমায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সকল বিদ্বেষীদের অনুসন্ধান করেছি যারা আমার স্মৃতিতে সংরক্ষিত রয়েছে—এই উম্মতের ফেরাউন থেকে শুরু করে বদরের কূয়ার অধিবাসী কুরাইশ কাফেরদের নেতাগণ, ইহুদি বিদ্বেষীবর্গ এবং তাদের শীর্ষে থাকা ইহুদি শয়তান কাব বিন আশরাফ, এবং যারা তাঁর সাথে ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেছে যেমন কিসরা—আল্লাহর লানত তার ওপর—অথবা যারা নবুওয়াতের দাবি করেছিল যেমন মুসাইলিমা ও আনসী, এবং ইসলামের গণ্ডি থেকে বিচ্যুত সেই সব দল যারা পরবর্তীকালে নবুওয়াতের দাবি করেছে।
আমি এতে আমাদের বর্তমান যুগের বিদ্বেষীদের কথাও উল্লেখ করেছি যথা: "বাবিয়া, বাহাইয়া এবং কাদিয়ানিয়া", এবং প্রাচীন ও আধুনিক প্রাচ্যবিদ ও ক্রুসেডার চিন্তাবিদদের বক্তব্যের ওপর আলোকপাত করেছি। এছাড়াও আমি পশ্চিমের এমন কিছু চিন্তাবিদের প্রবন্ধ উল্লেখ করেছি যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বীরত্ব, প্রতিভা এবং তাঁর জাতির ওপর তাঁর সুমহান প্রভাবের সাক্ষ্য দিয়েছেন, যদিও তারা তাঁর নবুওয়াত স্বীকার করেননি; তবে তারা তাদের স্বজাতীয় সেই সব উন্মত্ত ও হিংস্র কুকুরদের চেয়ে উত্তম অবস্থায় আছে যারা বিদ্বেষে অন্ধ।
আমি এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমান ভঙ্গের কারণসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি এবং মুসলিমদের নিকট তা সুস্পষ্ট করেছি,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وأزيل بذلك -بحول الله وقوته وله المِنَّةُ والفضل- كثيرًا من الغِشاوة عن أعين السُّذَّج .. بعد أن نَجَمَ النِّفاقُ واستفحل أمره.
* الكتاب الثاني: الكوكبُ الدُّرِّي في خصائص النبي صلى الله عليه وسلم.
* الكتاب الثالث: شراب التسنيم من أخلاق النبي الكريم صلى الله عليه وسلم.
* الكتاب الرابع: أُنس المقرَّبين من شمائل النبي الكريم صلى الله عليه وسلم.
* الكتاب الخامس: لآليءُ البحار في دلائل نبوة سيِّد الأبرار صلى الله عليه وسلم .. ومعه "الكواكب النيرات في صحيح المعجزات".
* الكتاب السادس: الأقوالُ العاطرات في حقوق النبي سيِّد السادات صلى الله عليه وسلم .. ومعه "رد أهل الاتباع الزكي على الغلاة في شأن النبي صلى الله عليه وسلم".
* الكتاب السابع: المدائحُ النديَّة لسيد البشرية صلى الله عليه وسلم.
ونُفرد بعد ذلك ثلاثة مجلدات في سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو "الطيبُ النَّدِيّ في سيرة النبي صلى الله عليه وسلم".
ومِن التَّيَمُنِ: أن الأخَ الذي قام بصفِّ الكتاب سَمع في الرؤية رسولَ الله صلى الله عليه وسلم يَسألُ في المَنام رجلاً عن الكِتاب، ويَطمئنُّ عمَّا تمَّ فيه .. ولله الحمد والمِنة.
فاللهم ثقِّل ميزاني، وأصلح نيَّتي وسريرتي، وارزقني شهادةً في سبيلك، وموتًا في بلد رسولك، وارزقني جِوار النبي الكريم صلى الله عليه وسلم في أعلى الفردوس، ومتِّعني بالنظر إلى وجهك الكريم ..
وكتبه محبُّ رسول الله صلى الله عليه وسلم السيد بن حُسين العفاني
الإثنين 27 صفر 1427 هـ - 27 مارس 2006 م
এর মাধ্যমে—আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যে, এবং তাঁরই সমস্ত অনুগ্রহ ও শ্রেষ্ঠত্ব—সরলমনাদের চোখের অনেক পর্দা অপসারিত হবে... বিশেষত মুনাফিকি প্রকাশ পাওয়ার এবং এর প্রভাব প্রবল হওয়ার পর।
* দ্বিতীয় কিতাব: আল-কাওকাবুদ দুররি ফি খাসায়িসিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বৈশিষ্ট্যাবলীর বিষয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র)।
* তৃতীয় কিতাব: শারাবুত তাসনিম মিন আখলাকিন নাবিয়্যিল কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সম্মানিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরিত্র থেকে তাসনিম সুধা)।
* চতুর্থ কিতাব: উনসুল মুকাররাবিন মিন শামায়িলিন নাবিয়্যিল কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সম্মানিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চারিত্রিক গুণাবলি থেকে নৈকট্যপ্রাপ্তদের প্রশান্তি)।
* পঞ্চম কিতাব: লাআলিউিল বিহার ফি দালাইলি নুবুওয়াতি সাইয়্যিদিল আবরার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পুণ্যবানদের সরদারের নবুওয়াতের প্রমাণাদিতে সমুদ্রের মুক্তাসমূহ)... এবং এর সাথে রয়েছে "আল-কাওয়াকিবুন্ নাইয়্যিরাত ফি সহিহিল মুজিজাত" (সহিহ মুজিজাসমূহের বিষয়ে দেদীপ্যমান নক্ষত্রমন্ডলী)।
* ষষ্ঠ কিতাব: আল-আকওয়ালুল আতিরাত ফি হুকুকিন নবী সাইয়্যিদিল সাদাত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (নেতৃবৃন্দের নেতা নবীর হকের বিষয়ে সুগন্ধিময় বাণীসমূহ)... এবং এর সাথে রয়েছে "রাদ্দু আহলিত তিবায়িয যাকী আলাল গুলাতি ফী শানিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম" (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘনকারীদের প্রতি বিশুদ্ধ অনুসারীদের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান)।
* সপ্তম কিতাব: আল-মাদায়িহুন নাদিয়্যাহ লিসায়্যিদিল বাশারিয়্যাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মানবজাতির সরদারের জন্য সিক্ত প্রশংসাগীতি)।
এরপর আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিরতের বিষয়ে তিনটি খণ্ড পৃথক করছি, যা হলো "আত-তয়্যিবুন নাদিয়্যি ফি সিরাতিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম" (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিরতের বিষয়ে সুগন্ধময় সিক্ততা)।
আর শুভলক্ষণ ও বরকতস্বরূপ বিষয় হলো: যে ভাই কিতাবটির টাইপ বা কম্পোজ করেছেন, তিনি স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছেন যে, তিনি জনৈক ব্যক্তিকে এই কিতাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন এবং এতে যা কিছু সম্পন্ন হয়েছে সে সম্পর্কে আশ্বস্ত হচ্ছেন... সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই।
হে আল্লাহ! আমার পাল্লা ভারী করে দিন, আমার নিয়ত ও অভ্যন্তরীণ অবস্থা সংশোধন করে দিন, আমাকে আপনার পথে শাহাদাত এবং আপনার রাসূলের শহরে মৃত্যু নসিব করুন। আমাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের উচ্চ মাকামে সম্মানিত নবীর সান্নিধ্য দান করুন এবং আপনার মহিমান্বিত চেহারার দর্শনের মাধ্যমে আমাকে ধন্য করুন...
এটি লিখেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রেমিক আস-সাইয়্যিদ বিন হুসাইন আল-আফ্ফানি।
সোমবার ২৭ সফর ১৪২৭ হিজরি - ২৭ মার্চ ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بِأَبِي أَنتَ وأُمِّي يَا رَسُول الله
হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোন
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بِأَبِي أَنتَ وأُمِّي يَا رَسُول الله
*
السِّراجُ المنير والإِنسانُ النَّجْمِيُّ صلى الله عليه وسلم -:
كما تَطلُعُ الشمسُ بأنوارها فتُفَجِّرُ يُنبوعَ الضوء -المُسَمَّى بالنهار-، يُولَدُ محمدٌ رسول الله صلى الله عليه وسلم فيُوجَدُ في الإنسانية يُنبوعُ النور -وهو الإسلام-.
وليس النهارُ إلاَّ يَقَظةَ الحياةِ تُحقِّقُ أعمالَها، وليس ما جاء به محمدٌ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم إلاَّ يقظةَ النفس تُحقِّقُ أفضالها.
والشمسُ خَلقها اللهُ حاملةً طابعًا خاصًّا، في عَمَلها للمادة تُحَوِّل به وتُغيِّر، والنبيُّ محمدٌ صلى الله عليه وسلم أرسله اللهُ حاملاً طابعًا في عَمَله تترقَّى فيه النفسُ وتسمو.
وليس النبي محمد صلى الله عليه وسلم إنسانًا من العُظماء يُقرأ تاريخُه بالفِكر معه المنطق، ومع المنطق الشكُّ، ولكنه إنسانٌ نَجمِيَ يُقرأ بمثل "التلسكوب" في الدِّقَّة معه العِلم، ومع العلم الإيمان.
ومحمدٌ رسول الله صلى الله عليه وسلم مِثلُ النَّجم سراجٌ منير، وإشراقٌ على الإنسانية يُقوِّمها في فَلَكها الأخلاقي، ويجذبُها إلى الكَمَال في نظامٍ هو بعينه صورة لقانونِ الجاذبية في الكواكب.
ونفسُ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم أبلغُ الأثفس قاطبةً، لا يمكنُ أن تَعرِفَ
الأرضُ أكملَ منها ولو اجتمعت فضائلُ الحكماء والمتألِّهين، وجُعلت في نِصابٍ واحدٍ، ما بَلغت أن يجيء منها مِثلُ نفسه صلى الله عليه وسلم.
نفسٌ سامقةٌ عاليةٌ تُطِلُّ على الدنيا من عَلٍ لتصحيح الوضعِ المغلوطِ للبشرية، وكأنَّ الحقيقةَ الساميةَ في هذا النبي صلى الله عليه وسلم تنادِي: أن قابِلوا على هذا
হে আল্লাহর রাসুল, আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোন।
*
প্রদীপ্ত চিরাগ এবং নাক্ষত্রিক মানুষ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -:
সূর্য যেভাবে তার আলোকমালা নিয়ে উদিত হয় এবং আলোর ঝরনাধারা—যাকে দিন বলা হয়—উৎসারিত করে, তেমনিভাবে আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্মগ্রহণ করেছেন এবং এর ফলে মানবতার মাঝে আলোর এক প্রস্রবণ সৃষ্টি হয়েছে, আর তা হলো ইসলাম।
দিন তো জীবনের এক জাগরণ ছাড়া আর কিছু নয় যা তার কর্মসমূহকে বাস্তবায়ন করে, তেমনিভাবে আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তা আত্মার এক জাগরণ ছাড়া আর কিছু নয় যা তার শ্রেষ্ঠত্ব ও গুণাবলিকে বাস্তবায়ন করে।
আল্লাহ তাআলা সূর্যকে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যা জড় পদার্থের ক্ষেত্রে তার ক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবর্তন ও রূপান্তর সাধন করে; আর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আল্লাহ এমন এক বৈশিষ্ট্য দিয়ে পাঠিয়েছেন যার প্রভাবে আত্মার উন্নতি ও উৎকর্ষ সাধিত হয়।
নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিছক এমন কোনো মহাপুরুষ নন যাঁর ইতিহাস কেবল চিন্তা ও যুক্তির মাপকাঠিতে পাঠ করা হবে—যেখানে যুক্তির সাথে সংশয়ও থাকে; বরং তিনি একজন নাক্ষত্রিক মানুষ যাঁকে পাঠ করতে হয় ‘দূরবীন’ বা টেলিস্কোপের মতো সূক্ষ্মতার সাথে, যেখানে বিজ্ঞানের সাথে থাকে ঈমান বা বিশ্বাস।
আর আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নক্ষত্রের মতো এক প্রদীপ্ত চিরাগ এবং মানবতার ওপর এমন এক উদ্ভাস যা তাকে তার নৈতিক কক্ষপথে সুপ্রতিষ্ঠিত করে এবং তাকে পূর্ণতার দিকে আকর্ষণ করে এমন এক সুশৃঙ্খল নিয়মে, যা অবিকল গ্রহ-নক্ষত্রের মাধ্যাকর্ষণ নিয়মের প্রতিচ্ছবি।
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পবিত্র সত্তা সমস্ত সত্তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ও গভীর; এই পৃথিবী তাঁর চেয়ে পূর্ণতর আর কোনো সত্তার পরিচয় পেতে পারে না। যদি সমস্ত প্রজ্ঞাবান ও ঈশ্বরনিষ্ঠ ব্যক্তিদের গুণাবলি একত্রিত করে এক পাল্লায় রাখা হয়, তবুও তা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পবিত্র সত্তার সমকক্ষ হতে পারবে না।
এক সুউচ্চ ও মহান সত্তা, যিনি মানবতার ভ্রান্ত অবস্থাকে সংশোধন করার জন্য উচ্চতা থেকে দুনিয়ার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন; মনে হয় যেন এই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ভেতরের সেই মহান সত্যটি এই আহ্বান জানাচ্ছে যে: তোমরা এর সাথে সামঞ্জস্য বিধান করো।
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الأصل، وصحِّحوا ما اعترى أنفسَكم من غَلَطِ الحياة وتحريفِ الإِنسانية.
هو نَبع في الأرض لمعاني النور بإزاءِ الشمس نَبْع النور في السماء.
مِن أين تَدَبَّرْتَ هذه النفسَ العظيمةَ، رأيتَها تَنبسط على الإِنسانية كالشمس في الأفق الأعلى تنبسط وتضحَى.
* قال تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا (45) وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا} [الأحزاب: 45، 46]. وهو حاملُ النور إلى البشرية .. نورِ الوحي.
* وقال تعالى: {قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ (15) يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [المائدة: 15، 16].
° قال العلامة ابن جرير الطبري: "قد جاءكم يا أهلَ التوراة والإنجيل {مِنَ اللَّهِ نُورٌ} يعني بالنور محمدًا صلى الله عليه وسلم الذي أنار اللهُ به الحق، وأظهر به الإسلام، ومَحق به الشرك، فهو نورٌ لمن استَنَار به، يُبيِّن الحقَّ، ومِن إنارته الحق تبيينُه لليهود كثيرًا مما كانوا يُخفون من الكتاب .. قد جاءكم من الله تعالى النورُ الذي أنار لكم به معالِمَ الحق"
(1).
نورٌ تُشرقُ به كينونةُ الإنسان عند الإيمان به وبما جاء به، فتَشِفُّ وتَخِفُّ وتَرِفُّ، ويُشرقُ به كل شيء أمامه، فيَتَّضحُ ويتكشَّفُ ويستقيم.
ثقلة الطين في كِيانه، وظُلمةُ التراب، وكثافةُ اللحم والدم، وعَرامةُ الشهوة والنزوة، كلُّ أولئك يُشرقُ ويُضيء ويتجلَّى .. تَخِفُّ الثقْلة،
--------------------------------------------
মূল (উৎস), এবং তোমাদের জীবনে যে ভুল এবং মানবতার যে বিকৃতি ঘটেছে তা সংশোধন করো।
তিনি হলেন জমিনে নূরের (আলোর) অর্থের এক প্রস্রবণ, যেমন আসমানে সূর্যের আলোর প্রস্রবণ।
যেদিক থেকেই তুমি এই মহান সত্তাকে অনুধাবন করবে, দেখবে যে তিনি মানবতার ওপর সূর্যের মতো উর্ধ্বাকাশে বিস্তৃত ও উদ্ভাসিত হচ্ছেন।
* মহান আল্লাহ বলেন: {হে নবী! আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে। এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে।} [আল-আহযাব: ৪৫, ৪৬]। আর তিনি মানবজাতির নিকট নূরের বাহক... ওহীর নূর।
* মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট এসেছে নূর ও স্পষ্ট কিতাব। এর মাধ্যমে আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে তাদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং নিজের অনুমতিক্রমে তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যান এবং তাদেরকে সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।} [আল-মায়িদাহ: ১৫, ১৬]।
° আল্লামা ইবনে জারীর আত-তাবারী বলেন: "হে তাওরাত ও ইঞ্জিল অনুসারীরা! তোমাদের নিকট {আল্লাহর পক্ষ থেকে নূর} এসেছে, এখানে নূর বলতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বোঝানো হয়েছে, যার মাধ্যমে আল্লাহ সত্যকে আলোকিত করেছেন, ইসলামকে প্রকাশ করেছেন এবং শিরককে মিটিয়ে দিয়েছেন। অতএব তিনি এমন ব্যক্তির জন্য নূর যে তাঁর থেকে আলো গ্রহণ করতে চায়, তিনি সত্যকে সুস্পষ্ট করেন। তাঁর সত্যকে আলোকিত করার একটি দিক হলো ইয়াহূদীদের নিকট ঐসব বিষয় স্পষ্ট করে দেওয়া যা তারা কিতাবের মধ্যে লুকিয়ে রাখত... মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট এমন নূর এসেছে যার মাধ্যমে তিনি তোমাদের জন্য সত্যের নিদর্শনসমূহকে আলোকিত করেছেন।"
(১)।
এটি এমন এক নূর যা দ্বারা মানুষের অস্তিত্ব উদ্ভাসিত হয় যখন সে তাঁর প্রতি এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতি ঈমান আনে। ফলে মানুষের আত্মা স্বচ্ছ, হালকা ও প্রফুল্ল হয় এবং তার সামনে সবকিছু আলোকিত হয়, ফলে তা স্পষ্ট, উন্মোচিত ও সঠিক পথে পরিচালিত হয়।
তার অস্তিত্বের মধ্যে কাদার স্থবিরতা, মাটির অন্ধকার, রক্ত ও মাংসের জড়তা এবং প্রবৃত্তি ও খেয়াল-খুশির তীব্রতা—এই সবকিছুই আলোকিত, দেদীপ্যমান ও প্রোজ্জ্বল হয়ে ওঠে... স্থবিরতা হালকা হয়ে যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وتُشرقُ الظلمة، وتَرقُّ الكثافة، وترِقُّ العرامة .. واللَّبس والغَبَشُ في الرؤية، والتأرجُح، والتردُّد في الخُطوة، والحَيرة والشرودُ في الاتجاه والطريقِ البهيم الذي لا معالم فيه: كل أولئك يشرقُ ويضيء ويتجلَّى .. يتضحُ الهَدَف، ويستقيمُ الطريقُ إليه، وتستقيمُ النفسُ على الطريق.
° ولله درُّ القائل في نبي الله صلى الله عليه وسلم:
وأبيضُ يُستسقَى الغمامُ بوَجهه
… ثُمالُ اليتامى عِصمةٌ للأراملِ
° ولله درُّ القائل:
كأن الثُرَيَّا عُلِّقَتْ بجبينه
… وفي جِيْدِه الشِّعْرَى وفي وجِههِ القَمَرُ
عليه جَلالُ المَجْدِ لوْ أنَّ وَجْهَهُ
… أضَاءَ بليلٍ هلَّلَ البَدْوُ والحَضَر
° عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: "لَما كانَ اليوم الذي دخَل فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة، أضاءَ منها كُلُّ شيء، فلما كان اليوم الذي مات فيه أظلم منها كلُّ شيء، وما نَفَضْنَا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم الأَيْدِي -وإِنَّا لَفِي دفْنِه- حتى أنكَرْنَا قُلُوبَنا"
(1).
وهو حامل النور -القرآن- إلى البشرية:
* قال تعالى: {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِنْ أَمْرِنَا مَا كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلَا الْإِيمَانُ وَلَكِنْ جَعَلْنَاهُ نُورًا نَهْدِي بِهِ مَنْ نَشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [الشورى: 52].
وأعظمُ مِنَّةٍ وتكريم يَمُنُّ الله به ويورِدُه في كتابه الكريم هذا المثل:
--------------------------------------------
অন্ধকার উদ্ভাসিত হয়, স্থূলতা সূক্ষ্ম হয়, এবং উগ্রতা প্রশমিত হয়। দৃষ্টির অস্পষ্টতা ও ধোঁয়াশা, পদক্ষেপে অস্থিরতা ও দ্বিধা, গন্তব্যহীনতা এবং দিশাহীন অন্ধকার পথ যার কোনো চিহ্ন নেই—এই সবকিছুই আলোকিত, প্রদীপ্ত ও বিকশিত হয়ে ওঠে। লক্ষ্য স্পষ্ট হয়ে যায়, সেই অভিমুখে পথ সরল ও সঠিক হয় এবং আত্মা সেই পথে অবিচল থাকে।
° আল্লাহর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শানে কবির উক্তি কতই না চমৎকার:
তিনি সেই শুভ্র কান্তির অধিকারী, যাঁর চেহারার অসিলায় মেঘের কাছে বৃষ্টি প্রার্থনা করা হয়; তিনি ইয়াতীমদের আশ্রয়স্থল এবং বিধবাদের রক্ষক।
° কবির উক্তিটি কতই না চমৎকার:
মনে হয় যেন কৃত্তিকা নক্ষত্রপুঞ্জ তাঁর ললাটে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর তাঁর গ্রীবায় লুব্ধক নক্ষত্র এবং তাঁর আনন জুড়ে পূর্ণিমার চাঁদ।
তাঁর ওপর মহিমার গরিমা বিরাজমান; যদি তাঁর বদনমণ্ডল কোনো অন্ধকার রাতে প্রদীপ্ত হতো, তবে মরুবাসী ও শহরবাসী সকলেই আল্লাহর মহিমা ঘোষণায় মুখরিত হতো।
° আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেদিন মদীনায় প্রবেশ করেছিলেন, সেদিন মদীনার প্রতিটি বস্তু আলোকিত হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর যেদিন তিনি ইন্তেকাল করলেন, সেদিন মদীনার সবকিছু অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গেল। আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দাফন করে হাত থেকে মাটিও ঝাড়িনি—অথচ তখনো আমরা দাফনকার্যেই লিপ্ত ছিলাম—তার আগেই আমরা নিজেদের অন্তরের পরিবর্তন অনুভব করলাম"
(১).
আর তিনি হলেন মানবজাতির নিকট নূরের—অর্থাৎ কুরআনের—বাহক:
* মহান আল্লাহ বলেন: {আর এভাবেই আমি তোমার প্রতি আমার নির্দেশ থেকে এক রূহ (ওহী) অবতীর্ণ করেছি। তুমি জানতে না কিতাব কী এবং ঈমান কী; কিন্তু আমি এটাকে করেছি এক নূর, যা দ্বারা আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করি। আর নিশ্চয়ই তুমি সরল সঠিক পথের দিকে পথপ্রদর্শন করো।} [সূরা আশ-শূরা: ৫২]।
মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র কিতাবে যে সর্বশ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ ও সম্মানের কথা উল্লেখ করেছেন, তা এই উপমার মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ৩২)
{اللَّهُ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ مَثَلُ نُورِهِ كَمِشْكَاةٍ فِيهَا مِصْبَاحٌ الْمِصْبَاحُ فِي زُجَاجَةٍ الزُّجَاجَةُ كَأَنَّهَا كَوْكَبٌ دُرِّيٌّ يُوقَدُ مِنْ شَجَرَةٍ مُبَارَكَةٍ زَيْتُونَةٍ لَا شَرْقِيَّةٍ وَلَا غَرْبِيَّةٍ يَكَادُ زَيْتُهَا يُضِيءُ وَلَوْ لَمْ تَمْسَسْهُ نَارٌ نُورٌ عَلَى نُورٍ يَهْدِي اللَّهُ لِنُورِهِ مَنْ يَشَاءُ وَيَضْرِبُ اللَّهُ الْأَمْثَالَ لِلنَّاسِ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} [النور: 35].
والضمير في "نوره" يعود على الله سبحانه.
° قال أُبَيُّ بنُ كعب رضي الله عنه: "مَثَلُ نورِه في قلب المسلم".
° وقال ابن القيم: "والمعنى: مَثَل نورِ الله سبحانه وتعالى في قلب عبده .. وأعظمُ عبادِهِ نصيبًا من هذا النور رسولُه صلى الله عليه وسلم".
والمؤمنُ قلبُه مُضِيءٌ يكادُ أن يُضيءَ بنفسه، يكادُ يعرفُ الحق بفطرته وعَقْله، ولكن لا مادَّةَ له من نفسه، فجاءت مادةُ الوحْي فباشرت قلبه، وخالطت بشاشَتَه، فازداد نورًا بالوحي على نورِه الذي فَطَره الله عليه، فاجتمع له نورُ الوحي إلى نورِ الفِطرة، {نُورٌ عَلَى نُورٍ}.
فما ظنك بنورِ رسول الله صلى الله عليه وسلم؟!.
انظر إلى هذا التشبيه العجيب الذي تضمَّنته الآيةُ، فيه من الأسرار والمعاني وإظهار تمام نِعمته على عَبدهِ المؤمن -وأكملُ عبادِه رسولُه صلى الله عليه وسلم بما أناله من نوره- ما تَقَر به عيونُ أهله، وتبتهجُ به قلوبُهم.
فتأمَّلْ صفةَ "المشكاة"، وهي كُوَّةٌ تَنفُذُ لتكونَ أجمعَ للضوء، قد وُضع فيها مِصباحٌ، وذلك المصباحُ داخلَ زجاجةٍ تُشبهُ الكوكبَ الدُّري في صَفائها وحُسنها، ومادتُه من أصفى الأدهانِ وأتمِّها وَقودًا، فمن شدةِ إضاءةِ زيتها وصفائِه يكادُ يُضيءُ من غير أن تمسَّه نار.
{আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর নূর। তাঁর নূরের উদাহরণ একটি দীপাধারের মতো, যাতে রয়েছে একটি প্রদীপ; প্রদীপটি একটি কাঁচের আবরণের মধ্যে অবস্থিত; কাঁচের আবরণটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো; তা প্রজ্বলিত হয় বরকতময় জয়তুন বৃক্ষের তেল দ্বারা, যা পূর্বদিকেরও নয় এবং পশ্চিমদিকেরও নয়; আগুন তাকে স্পর্শ না করলেও তার তেল যেন উজ্জ্বলতা ছড়াচ্ছে; নূরের ওপর নূর। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর নূরের দিকে পথ দেখান। আল্লাহ মানুষের জন্য দৃষ্টান্তসমূহ বর্ণনা করেন এবং আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে সর্বজ্ঞ।} [আন-নূর: ৩৫]
এবং "তাঁর নূর" বাক্যাংশের সর্বনামটি মহান আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।
° উবাই ইবনে কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "এটি হচ্ছে মুসলিমের হৃদয়ে তাঁর নূরের উদাহরণ।"
° ইবনুল কায়্যিম বলেন: "এর অর্থ হলো: তাঁর বান্দার হৃদয়ে মহান আল্লাহ তাআলার নূরের উদাহরণ.. আর তাঁর বান্দাদের মধ্যে এই নূরের সবচেয়ে বড় অংশ লাভ করেছেন তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।"
মুমিনের অন্তর আলোকিত, যা নিজেই প্রায় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে; সে তার স্বভাবজাত প্রকৃতি ও বুদ্ধি দ্বারা সত্যকে চিনে নিতে চায়, কিন্তু তার নিজের পক্ষ থেকে কোনো উপাদান ছিল না। এরপর ওহীর উপাদান এসে তার অন্তরে স্থান নিল এবং তার হৃদয়ের অন্তঃস্থলে মিশে গেল। ফলে আল্লাহ তাকে যে স্বভাবজাত নূরের ওপর সৃষ্টি করেছিলেন, ওহীর নূরের মাধ্যমে তা আরও বৃদ্ধি পেল। এভাবে স্বভাবজাত নূরের সাথে ওহীর নূর একত্রিত হলো, {নূরের ওপর নূর}।
তাহলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নূর সম্পর্কে আপনার ধারণা কী হতে পারে?!
আয়াতের অন্তর্ভুক্ত এই বিস্ময়কর উপমার দিকে তাকিয়ে দেখুন, এতে রয়েছে এমন সব রহস্য ও অর্থ এবং মুমিন বান্দার ওপর তাঁর নেয়ামতের পূর্ণতার বহিঃপ্রকাশ—আর তাঁর বান্দাদের মধ্যে পূর্ণতম হলেন তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), যাকে তিনি স্বীয় নূর থেকে দান করেছেন—যা দেখে সংশ্লিষ্টদের চক্ষু শীতল হয় এবং তাদের অন্তর প্রফুল্ল হয়।
লক্ষ্য করুন "দীপাধারের" বৈশিষ্ট্যের দিকে, এটি এমন এক তাক যা আলোকে ঘনীভূত করার জন্য নির্মিত, যাতে একটি প্রদীপ রাখা হয়েছে। সেই প্রদীপটি এমন এক কাঁচের আবরণের ভেতর যা তার স্বচ্ছতা ও সৌন্দর্যে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো। আর তার জ্বালানি হলো স্বচ্ছতম ও শ্রেষ্ঠ তেল, যার তীব্র উজ্জ্বলতা ও স্বচ্ছতার কারণে আগুন স্পর্শ না করলেও তা প্রায় প্রজ্বলিত হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
• فالمشكاةُ صَدْرُ المؤمن، والزجاجةُ قلبُه، وبصفائه تتجلَّى فيه صُورُ الحقائق والعلوم على ما هي عليه، وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن لله تعالى آنيةً من أهل الأرض، وآنيةُ ربكم قلوبُ عباده الصالحين، وأحبُّها إليه أَليَنُها وأرقُّها"
(1).
والشجرةُ المباركة: هي شجرةُ الوحي، وهي مادةُ المصباح التي يتَّقد منها.
فماذا ظنُّك بحظِّ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم مِن هذا المَثَل؟!.
• عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال: قال رسولُ الله صلى الله عليه وسلم: "إنَّ اللهَ خَلَق خَلقَه في ظُلمة، ثم ألقى عليهم من نُوره، فمن أصابه من ذلك النورِ اهتدى، ومن أخطأه ضَلَّ، فلذلك أقول: جَفَّ القلمُ على عِلم الله"
(2).
فيا لها من أنوارٍ كانت لرسول الله صلى الله عليه وسلم! فإنَّ نورَ الإِيمان يملأُ قلبَه، ومُدخَلُه نور، ومُخْرَجُه نور، وعِلمُه نور، ومِشيتُه في الناس نور، وكلامه نور، ومصيرُه إلى نور، وللمؤمن نصيبٌ من هذا.
--------------------------------------------
• অতএব, কুলুঙ্গি (মিশকাত) হলো মুমিনের বক্ষ, আর কাঁচের পাত্র (জুঝাজাহ) হলো তার অন্তর। আর এর স্বচ্ছতার কারণে এতে সত্য ও জ্ঞানের স্বরূপগুলো যেমন আছে তেমনই উদ্ভাসিত হয়। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই দুনিয়ার বাসিন্দাদের মধ্যে আল্লাহর কিছু পাত্র রয়েছে, আর তোমাদের রবের পাত্র হলো তাঁর নেক বান্দাদের অন্তরসমূহ। আর এগুলোর মধ্যে তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো যা সবচেয়ে বেশি কোমল ও দয়ার্দ্র"
(১).
আর বরকতময় গাছটি হলো ওহীর বৃক্ষ, যা সেই প্রদীপের উপাদান যা থেকে তা প্রজ্বলিত হয়।
তাহলে এই উদাহরণের ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রাপ্ত অংশ সম্পর্কে আপনার ধারণা কী হতে পারে?!
• আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিজগতকে অন্ধকারে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি তাদের ওপর তাঁর নূরের বিচ্ছুরণ ঘটিয়েছেন। অতঃপর যার ওপর সেই নূরের কিছু অংশ পড়েছে সে হিদায়েত প্রাপ্ত হয়েছে, আর যার থেকে তা বিচ্যুত হয়েছে সে পথভ্রষ্ট হয়েছে। সে কারণেই আমি বলি: আল্লাহর ইলমের ওপর ভিত্তি করে কলম শুকিয়ে গেছে (তাকদির নির্ধারিত হয়ে গেছে)"
(২).
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য কতই না নূর বা আলো ছিল! নিশ্চয়ই ঈমানের নূর তাঁর অন্তরকে পূর্ণ করে রেখেছে, তাঁর প্রবেশস্থল নূর, তাঁর নির্গমনস্থল নূর, তাঁর জ্ঞান নূর, মানুষের মাঝে তাঁর চলাচল নূর, তাঁর কথা নূর এবং তাঁর গন্তব্য নূরের দিকে। আর মুমিনের জন্যও এর একটি অংশ রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়া মুহাম্মাদাহ ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وتتزايدُ مادةُ النور حتى تظهرَ على وجوهِ المؤمنين وجوارحِهم وأبدانِهمِ، بل وثيابهم، ودُورِهم، يُبصِرُه مَن هو من جِنسهم، فإذا كان يوم القيامة برَز ذلك النورُ يسعى بين أيديهم وبأيمانهم، منهم مَن نوره كالشمس، وآخر كالقمر، وآخر كالنجوم.
° قال ابن القيم: "ولما كان "النورُ" من أسمائه الحُسنى وصفاته، كان دينُه نورًا ورسولُه نورًا، وكلامُه نورًا، ودارُه نوراً يتلألأ، والنورُ يتوقَّدُ في قلوب عباده المؤمنين، ويجري على ألسنتهم، ويظهر في وجوههم".
° قال ابن تيمية: "إن الله ضَرَب مَثَلَ نورِه في قلوبِ المؤمنين بالنور الذي في المصباح وهو في نفسه نورٌ، وهو مُنَوِّرٌ لغيره، فإذا كان نورٌ في القلوب هو "نورٌ"، وهو "منوِّر"، فهو في نفسه أحقُّ بذلك، وقد عُلِم أن كلَّ ما هو نورٌ فهو منوِّر"
(1).
*
وقفة:حين يَفيضُ النورُ الهادئُ الوضيءُ، فيَغمُرُ الكونَ كلَّه، ويَفيضُ على المشاعر والجوارح، وينسكبُ في الحنايا والجوانح، وحتى يَسْبَحَ الكونُ كلُّه في فيضِ النور الباهر، وحتى تُعانِقَه وتَرشُفَه العيونُ والبصائر، حين تنزاحُ الحُجُب، وتَشفُّ القلوب، وترفُّ الأرواح، ويَسْبَحُ كلُّ شيءٍ في الفيض الغامر، ويتطهَّرُ كلُّ شيءٍ في بحرِ النور، ويتجرَّدُ كلُّ شيءٍ من كثافته وثُقْله، فإذا هو انطلاقٌ ورَفرفة، ولقاءٌ ومعرفة، وامتزاجٌ وأُلفة، وفَرَحٌ
--------------------------------------------
নূরের উপাদান বৃদ্ধি পেতে থাকে যতক্ষণ না তা মুমিনদের চেহারা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও শরীরের ওপর, এমনকি তাদের পোশাক এবং ঘরবাড়ির ওপর প্রকাশিত হয়। যারা তাদের সমগোত্রীয় তারা তা দেখতে পায়। অতঃপর যখন কিয়ামত দিবস উপস্থিত হবে, সেই নূর প্রকাশিত হবে এবং তাদের সামনে ও ডান পাশে ধাবিত হবে। তাদের মধ্যে কারও নূর হবে সূর্যের মতো, কারও চাঁদের মতো এবং কারও নক্ষত্রের মতো।
° ইবনুল কায়্যিম বলেন: "যেহেতু 'আন-নূর' (জ্যোতি) আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ এবং গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত, তাই তাঁর দ্বীন নূর, তাঁর রাসূল নূর, তাঁর কালাম (বাণী) নূর এবং তাঁর আবাসস্থল (জান্নাত) এক ঝলমলে নূর। এই নূর তাঁর মুমিন বান্দাদের হৃদয়ে প্রজ্জ্বলিত হয়, তাদের জিহ্বায় প্রবাহিত হয় এবং তাদের চেহারায় প্রকাশিত হয়।"
° ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "আল্লাহ মুমিনদের হৃদয়ে তাঁর নূরের উদাহরণ সেই প্রদীপের নূরের সাথে দিয়েছেন যা নিজেও নূর এবং অন্যকেও আলোকিত করে। সুতরাং হৃদয়ে থাকা নূর যদি 'নূর' হয় এবং তা 'আলোকদানকারী' হয়, তবে আল্লাহ তাআলা স্বয়ং এর জন্য অধিক হকদার। আর এটি সুপরিচিত যে, যা কিছু নূর, তা-ই অন্যকে আলোকিত করে"
(১)।
*
একটি বিরতি:যখন এই শান্ত ও উজ্জ্বল নূর উপচে পড়ে এবং সমস্ত মহাবিশ্বকে প্লাবিত করে, আবেগ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর ছড়িয়ে পড়ে, এবং অন্তরের অন্তস্তল ও পাঁজরে প্রবহমান হয়; এমনকি পুরো মহাবিশ্ব যখন সেই প্রদীপ্ত নূরের প্লাবনে সাঁতার কাটে, এবং চোখ ও অন্তর্দৃষ্টি তাকে আলিঙ্গন করে ও সুধা পান করে; যখন পর্দাগুলো সরে যায়, অন্তরগুলো স্বচ্ছ হয়ে ওঠে, আত্মাগুলো স্পন্দিত হয় এবং সবকিছু এই প্লাবিত নূরের আধিক্যে সিক্ত হয়; যখন নূরের সমুদ্রে সবকিছু পবিত্র হয় এবং প্রতিটি বস্তু তার জড়তা ও স্থূলতা থেকে মুক্ত হয়; তখন তা হয় এক মুক্ত বিচরণ ও পাখা ঝাপটানো, এক সাক্ষাৎ ও পরিচয়, এক সংমিশ্রণ ও সখ্যতা, এবং এক আনন্দ...
--------------------------------------------