(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: -)
الانتهاء لمعرفة الأحاديث التي لم يفت بها الفقهاء   (عبد السلام علوش)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: الانتهاء لمعرفة الأحاديث التي لم يفت بها الفقهاء، ومناقشها على ضوء الأصلين:

أصول الفقه وأصول الحديث

المؤلف: أبو عبد الله عبد السلام بن محمد بن عمر علوش

الناشر: دار ابن حزم للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1416 هـ - 1996 م

عدد الصفحات: 446

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 1 صفر 1434

ফকীহগণ যে সকল হাদীস অনুযায়ী ফতোয়া দেননি তা জানার পূর্ণাঙ্গ আলোচনা   (আবদুস সালাম আলুশ)

বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ


গ্রন্থ: ফকীহগণ যে সকল হাদীস অনুযায়ী ফতোয়া দেননি তা জানার পূর্ণাঙ্গ আলোচনা, এবং দুই মূলনীতির আলোকে সেগুলোর পর্যালোচনা:

উসুলুল ফিকহ ও উসুলুল হাদীস

লেখক: আবু আবদুল্লাহ আবদুস সালাম বিন মুহাম্মদ বিন উমর আলুশ

প্রকাশক: দার ইবনে হাজম মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১ সফর ১৪৩৪

(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم

الكتاب: الانتهاء لمعرفة الأحاديث التي لم يفت بها الفقهاء

المؤلف: أبو عبد الله عبد السلام محمد عمر علوش

الناشر: دار ابن حزم - بيروت

سنة الطبع: 1416 هـ - 1996 م

عدد المجلدات: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

গ্রন্থ: আল-ইনতিহা লি-মা‘রিফাতি আল-আহাদিস আল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহাউ

লেখক: আবু আবদুল্লাহ আবদুস সালাম মুহাম্মদ উমর আলুশ

প্রকাশক: দার ইবনে হাযম - বৈরুত

প্রকাশকাল: ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقَدِّمَة

الحمد للَّه القائل: (وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا) في تنزيله، والذي جعل أصدق القول في قيله، وأحسن الهدي هدي رسوله، وأشهد أن لا إله إلا هو لا منتهى لتبجيله، وعلمه وتفصيله، وكتابه وتأويله، وأشهد أن محمداً قد اصطفاه على خلقه بالرسالة لسائر العوالم، ومبلغ المعالم، بإتمام المكارم، وإبطال المظالم، وإحكام القواعد، وإرساء الأوابد، بشيراً ونذيراً، وسراجاً منيراً، فأدَّى وبلَّغ، وأتم فأبلغ.

فلم يكن لمتبعيه عن هديه تحويلاً، وعن الثابت من قوله محيلاً، إلا

ببرهان بين، وصارف من الدليل متعين، بعد أن لزمتهم الحجة في قوله تعالى

(وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا (36).

وإن الواقفين على أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم التي في الأحكام، وشرائع الإسلام، وعلى فتاوى العلماء، والمجتهدين والفقهاء، ما يجدون من مقبول حديثه مطروحاً، ولا من متروك صحيحه إلا مقدوحاً، قد ظهرت صحته، وخفيت علته.

والمطلعون على علل الأخبار، وضعيف الآثار، يعلمون أن المفتين قد أفتوا وعملوا بالضعيف المردود، بل الواهي والمسرود، هو واقع في مسائلهم؛ بعضهم أكثر من بعض، بحسب ما لهم في هذه الصنعة من علوم
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর অবতীর্ণ কিতাবে বলেছেন: (আর রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাকো)। তিনি তাঁর বাণীতে সত্যতম কথা এবং তাঁর রাসূলের হেদায়াতকে সর্বোত্তম হেদায়াত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই; তাঁর মর্যাদা, তাঁর জ্ঞান ও বিশদ বর্ণনা এবং তাঁর কিতাব ও তার ব্যাখ্যার কোনো পরিসীমা নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদকে তিনি তাঁর সৃষ্টির ওপর মনোনীত করেছেন সকল জগতের জন্য রিসালাত দিয়ে; তিনি নিদর্শনসমূহের প্রচারক, সচ্চরিত্রের পূর্ণতাদানকারী, অবিচার বিলোপকারী, মূলনীতিসমূহের সুদৃঢ়কারী এবং শাশ্বত বিধানের প্রতিষ্ঠাকারী; সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী এবং এক উজ্জ্বল প্রদীপ। তিনি আমানত আদায় করেছেন, বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন এবং পূর্ণাঙ্গরূপে প্রচার করেছেন।

সুতরাং তাঁর অনুসারীদের জন্য তাঁর হেদায়াত থেকে বিচ্যুত হওয়ার বা তাঁর প্রমাণিত কথা থেকে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, কেবল

সুস্পষ্ট দলিল এবং অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতেই তা হতে পারে; যেহেতু মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে তাদের ওপর অকাট্য প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে:

(আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর নিজেদের কাজের ব্যাপারে অন্য কোনো এখতিয়ার থাকে না; আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে তো সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হয় (৩৬))।

নিশ্চয়ই যারা ইসলামের বিধান ও শরিয়ত সংক্রান্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহ এবং আলেম, মুজতাহিদ ও ফকিহগণের ফতোয়াসমূহ পর্যবেক্ষণ করেন, তারা তাঁর গ্রহণযোগ্য হাদিসের কোনোটিকেই বর্জনীয় হিসেবে পান না এবং তাঁর সহিহ হাদিসের কোনোটিকেই পরিত্যক্ত হিসেবে পান না, যদি না তা ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত হয়—যার বিশুদ্ধতা বাহ্যত প্রকাশ পেলেও তার অভ্যন্তরীণ সূক্ষ্ম ত্রুটি অস্পষ্ট ছিল।

আর যারা বর্ণনার সূক্ষ্ম ত্রুটি এবং দুর্বল আসারসমূহ (বর্ণনা) সম্পর্কে অবগত, তারা জানেন যে ফতোয়াদানকারীগণ অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল ও প্রত্যাখ্যাত বর্ণনা অনুযায়ী ফতোয়া দিয়েছেন ও আমল করেছেন; বরং অত্যন্ত দুর্বল ও অসার বর্ণনাও তাদের মাসআলাসমূহের মধ্যে স্থান পেয়েছে; এই শাস্ত্রের জ্ঞানে তাদের ব্যুৎপত্তি অনুযায়ী কারো ক্ষেত্রে এটি অধিক আবার কারো ক্ষেত্রে অল্প।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৬)
النقض. والإعلال والدحض، وكثرة الاطلاع، وشدة التحري في الاتباع، وما لبسطه في غير هذا المقام اتساع.

فإذا علمت أن هذا فعلهم في الضعيف، فكيف هو بالصحيح المنيف، والحسن الرهيف. ثم إني أجلت البصر في النصوص، وفتاوى أهل الخصوص، فوقفت فيها على أحاديث يسيرة، وجمل عسيرة، قد ندت أوابدها، وأطلقت مقايدها، وليس من قائل يقول بها، مع ظهور السلامة من الانتقاد، أو الجواب عن رد أهل الاجتهاد، على ما سيأتي تفصيله، وترتيبه وتذييله. فوقع في نفسي لذاك التصنيف والتحرير، واستعنت عليه بالعليم الخبير، وسميته: "الانتهاء، لمعرفة الأحاديث التي لم يفت بها الفقهاء ".

وقسمت الكتاب لبابين وسبعة فصول:

- الباب الأول: وقد اشتمل على خمسة فصول.

1 - الفصل الأول: في تعريف خبر الواحد.

2 - الفصل الثاني: في اتفاق العلماء على العمل بخبر الواحد.

3 - الفصل الثالث: في بيان أدلة القائلين بالاحتجاج.

4 - الفصل الرابع: في بيان الشروط التي ذكرها بعض العلماء للعمل

بالخبر ومناقشتها.

5 - الفصل الخامس: في ذكر شرطنا في الكتاب لإيراد الخبر الذي لم

يفتوا به.

- الباب الثاني: واشتمل على فصلين.

الفصل الأول: في ذكر الأحاديث التي على شرط الكتاب.
খণ্ডন, ত্রুটি শনাক্তকরণ ও বাতিলকরণ, ব্যাপক অবগতি, অনুসরণের ক্ষেত্রে কঠোর অনুসন্ধান এবং যা বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশ এখানে নেই।

সুতরাং আপনি যখন জানলেন যে দুর্বল হাদিসের ক্ষেত্রে তাদের কর্মপন্থা এমন, তখন মহান সহীহ এবং সূক্ষ্ম হাসান হাদিসের ক্ষেত্রে তা কেমন হবে! এরপর আমি মূল পাঠ্যসমূহ এবং বিশেষজ্ঞগণের ফতোয়াগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করলাম। সেখানে আমি সামান্য কিছু হাদিস এবং জটিল বক্তব্য পেলাম যার বিরল দিকগুলো অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে এবং যার বাধ্যবাধকতা শিথিল হয়ে গেছে; অথচ এগুলোর ভিত্তিতে আমলকারী কেউ নেই। যদিও এগুলো সমালোচনা থেকে মুক্ত হওয়া সুস্পষ্ট অথবা মুজতাহিদগণের প্রত্যাখ্যানের বিপরীতে উত্তর বিদ্যমান রয়েছে, যার বিস্তারিত বিবরণ, বিন্যাস ও পরিশিষ্ট সামনে আসবে। তাই আমার অন্তরে এটি সংকলন ও রচনার সংকল্প জাগ্রত হলো এবং আমি এ ব্যাপারে সর্বজ্ঞ ও সম্যক অবহিত আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করলাম। আমি এর নামকরণ করেছি: "আল-ইনতিহা: ফকিহগণ যে হাদিসগুলোর ভিত্তিতে ফতোয়া দেননি তা জানার মাধ্যম"।

আমি কিতাবটিকে দুটি পরিচ্ছেদ ও সাতটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:

- প্রথম পরিচ্ছেদ: এটি পাঁচটি অনুচ্ছেদ সম্বলিত।

১ - প্রথম অনুচ্ছেদ: খবরে ওয়াহিদের সংজ্ঞার বর্ণনায়।

২ - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: খবরে ওয়াহিদের ওপর আমল করার ক্ষেত্রে আলেমগণের ঐকমত্যের বর্ণনায়।

৩ - তৃতীয় অনুচ্ছেদ: (খবরে ওয়াহিদকে) দলিল হিসেবে গ্রহণকারীদের প্রমাণের বর্ণনায়।

৪ - চতুর্থ অনুচ্ছেদ: হাদিস অনুযায়ী আমল করার জন্য কিছু আলেম কর্তৃক উল্লিখিত শর্তাবলির বর্ণনা

ও তার পর্যালোচনা।

৫ - পঞ্চম অনুচ্ছেদ: ফকিহগণ যে হাদিসের ওপর ফতোয়া দেননি, তা এই কিতাবে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে

আমাদের শর্তের বর্ণনায়।

- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এটি দুটি অনুচ্ছেদ সম্বলিত।

প্রথম অনুচ্ছেদ: এই কিতাবের শর্ত অনুযায়ী হাদিসসমূহের বর্ণনায়।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৭)
الفصل الثاني: في ذكر بعض الأحاديث التي ليست على شرطنا فيه.

والحمد للَّه أولاً وآخراً.

وكتب أبو عبد الله راجي رحمات ربه

لتسع خلون من شهر ربيع الآخر

لسنة ألف وأربعمائة وأربع عشرة للهجرة

على صاحبها أفضل الصلاة وأتم السلام
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এমন কিছু হাদীস উল্লেখ প্রসঙ্গে যা এতে আমাদের শর্তানুযায়ী নয়।

আদিতে ও অন্তে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

এটি লিখেছেন আবু আব্দুল্লাহ, যিনি তাঁর রবের রহমতের প্রত্যাশী

রবিউস সানি মাসের নয় তারিখ

চৌদ্দশত চৌদ্দ হিজরি সনে

এর (হিজরতের) অধিকারীর প্রতি সর্বোত্তম দরুদ ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الباب الأول
প্রথম অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الفصل الأول: في تعريف خبر الواحد

وهو ما رواه الواحد أو الاثنان دون أن يبلغ حد الشهرة أو التواتر. ويرى بعض أهل العلم بل أكثرهم أن لا دخل للشهرة في تعريف خبر الآحاد، فيقولون: "الخبر نوعان: متواتر وآحاد ".

فهؤلاء بمقتضى تعريفهم يكون الحديث أو الخبر غير المتواتر آحاداً، وهذا المستتب عند جمهور الأصوليين من أئمة أصول الفقه.

والتعريف الأول هو المقول به عند أئمة أهل مصطلح الحديث. وبهذا يعرف أن الأول يدخل في الثاني بخلاف عكسه.

وبهذا يعرف أيضاً أن ثمرة الخلاف منتفية في وجوب العمل بالخبر، لأنهما قد اتفقا في تعريفيهما على اشتراك أقل الحديث رواية في كونه من أخبار الآحاد، فكان اتفاقهما على مما هو أعلى منه آكد.

وجميعهم إنما يريدون بخبر الواحد، الحديث المتصل الإسناد، الخالي من الشذوذ والإعلال والإعضال أو سائر العلل التي يعلل بها أئمة الحديث الخبر، مما هو مبسوط في كتب المصطلح.
প্রথম পরিচ্ছেদ: খবর-ই-ওয়াহিদের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে

এটি হলো এমন বর্ণনা যা একজন বা দুইজন ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন এবং যা প্রসিদ্ধি বা তাওয়াতুরের (অবিচ্ছিন্নতা) পর্যায়ে পৌঁছেনি। কিছু আলেম, বরং তাদের অধিকাংশ মনে করেন যে, খবর-ই-আহাদের সংজ্ঞায় প্রসিদ্ধির কোনো প্রভাব নেই। তারা বলেন: "খবর দুই প্রকার: মুতাওয়াতির এবং আহাদ।"

তাদের এই সংজ্ঞার দাবি অনুযায়ী, মুতাওয়াতির নয় এমন প্রতিটি হাদিস বা খবরই ‘আহাদ’ হিসেবে গণ্য হবে। উসুলুল ফিকহের ইমামগণের মধ্যে জুমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) উসুলবিদদের নিকট এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিষয়।

আর প্রথম সংজ্ঞাটি হলো হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা বিশেষজ্ঞ ইমামগণের অভিমত। এর মাধ্যমে জানা যায় যে, প্রথম প্রকারটি দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হবে, তবে এর বিপরীতটি নয়।

এর মাধ্যমে আরও জানা যায় যে, খবরের ওপর আমল করার আবশ্যিকতার ক্ষেত্রে এই মতপার্থক্যের কোনো বিশেষ প্রভাব নেই। কারণ উভয় পক্ষই নিজ নিজ সংজ্ঞায় এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, বর্ণনার দিক থেকে সর্বনিম্ন স্তরের হাদিসও খবর-ই-আহাদের অন্তর্ভুক্ত; সুতরাং যা এর চেয়ে উচ্চ স্তরের, সেটির ক্ষেত্রে তাদের ঐকমত্য আরও সুনিশ্চিত।

তারা সকলেই খবর-ই-ওয়াহিদ বলতে এমন হাদিসকে বুঝিয়েছেন যার সনদ অবিচ্ছিন্ন এবং যা বিচ্যুতি (শুজুজ), সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইলাল), জটিলতা (ইদাল) কিংবা অন্যান্য যাবতীয় দোষ থেকে মুক্ত যার মাধ্যমে হাদিস বিশারদগণ কোনো বর্ণনাকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেন, যা পরিভাষা শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১২)
فلم يعد من فرق بين خبر الواحد، وأصح الأحاديث المتواترة، إلا قلة الرواة في الأول عن الآخر.
ফলে খবর-ই-ওয়াহিদ এবং সর্বাধিক বিশুদ্ধ মুতাওয়াতির হাদিসসমূহের মধ্যে প্রথমটিতে শেষোক্তটির তুলনায় বর্ণনাকারীর স্বল্পতা ছাড়া আর কোনো পার্থক্য অবশিষ্ট রইল না।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الفصل الثاني: في ذكر اتفاق أهل العلم

على وجوب العمل بخبر الآحاد إلا من شذ

وقبل الشروع في بيان أعدادهم وتقسيماتهم، وأدلة إثباتهم ونفيهم، فالواجب معرفته أننا نعني هنا بالاحتجاج في مسائل التعبد وإثبات السنن، بخلاف ما يسوقه المتكلمون من مسألة إفادة العلم اليقيني من خبر الآحاد، وبخلاف ما يسوقه بعض المصنفين في العقائد من الاحتجاج به في العقيدة، وغيرها من المسائل، فتلك أشياء أخرى قد اختلفوا فيها واتفقوا، في ما يحتاج غير هذا الموضع لبيانه، وبسطه على النحو المرضي، وإنما القول عندنا هنا عن الاحتجاج فيما يستدل به الفقهاء على الأحكام الشرعية في إثبات الدلالات وإقامة الحجج والبراهين على انتصاب مسائل الحلال والحرام، والسنة والبدعة، وبنحوها مما هو ليس من جنس تلك المسائل الطويلة العريضة في المبنى، والتي إنما هي من عمل فئة قليلة من أهل العلم فضلاً عن المتعلمين.

قال الشوكاني رحمه الله في الإرشاد:

وقد ذهب الجمهور إلى وجوب العمل بخبر الواحد، وأنه وقع التعبّد به. وقال القاشاني والرافضة وابن داود، لا يجب العمل به، وحكاه
দ্বিতীয় অধ্যায়: বিজ্ঞজনদের ঐকমত্যের বর্ণনায়

বিচ্ছিন্ন কিছু ব্যক্তি ব্যতীত খবর-ই আহাদের ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে

তাদের সংখ্যা ও শ্রেণিবিন্যাস এবং তাদের সাব্যস্তকরণ ও অস্বীকারের দলীলসমূহ বর্ণনার শুরুতে যা জানা আবশ্যক তা হলো, আমরা এখানে ইবাদত সংক্রান্ত বিষয়াদি ও সুন্নাহ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে দলীল হিসেবে গ্রহণের বিষয়টি বোঝাচ্ছি; যা মুতাকাল্লিমুনদের (ইলমে কালামবিদ) খবর-ই আহাদ থেকে নিশ্চিত জ্ঞান আহরণ সংক্রান্ত মাসআলা এবং আকীদা বিষয়ক কিছু লেখকের আকীদা ও অন্যান্য মাসায়েলে একে দলীল হিসেবে পেশ করার দাবির বিপরীত। কারণ সেগুলো ভিন্ন বিষয় যেগুলোতে তারা মতভেদ ও ঐকমত্য পোষণ করেছেন, যা সন্তোষজনকভাবে বর্ণনা ও ব্যাখ্যার জন্য এই স্থান ব্যতীত অন্য স্থানের প্রয়োজন। বরং আমাদের এখানে বক্তব্য হলো ফকীহগণ শারঈ বিধানের ক্ষেত্রে দালালাত সাব্যস্ত করা এবং হালাল-হারাম ও সুন্নাহ-বিদআত সংক্রান্ত মাসায়েল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যে সকল প্রমাণ ও দলীল উপস্থাপন করেন সে সম্পর্কে; যা সেই দীর্ঘ ও বিস্তৃত কাঠামোগত মাসায়েলগুলোর পর্যায়ভুক্ত নয়, যেগুলোর চর্চা শিক্ষার্থীদের কথা বাদই দিলাম, কেবল স্বল্পসংখ্যক আলিমদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

আশ-শাওকানী (রহিমাহুল্লাহ) আল-ইরশাদ গ্রন্থে বলেছেন:

জমহুর উলামায়ে কেরাম খবর-ই ওয়াহিদের ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়ার মত পোষণ করেছেন এবং এর মাধ্যমে ইবাদত করা সাব্যস্ত হয়েছে। আর আল-কাশানী, রাফেযী সম্প্রদায় এবং ইবনে দাউদ বলেছেন যে, এর ওপর আমল করা ওয়াজিব নয়। আর তিনি এটি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১৪)
الماوردي عن الأصم وابن علية وقال: إنهما قالا: لا يقبل خبر الواحد في السنن والديانات، ويقبل في غيره من أدلة الشرع، وحكى الجويني في "شرح الرسالة" عن هشام والنظام أنه لا يقبل خبر الواحد، إلا بعد قرينة تنضم إليه وهو علم الضرورة بأن يخلق الله في قلبه ضرورة الصدق. قال: وإليه ذهب أبو الحسين اللبان الفرضي، قال بعد حكاية هذا عنه:

فإن تاب فالله يرحمه، وإلا فهي مسألة التكفير لأنه إجماع، فمن أنكره يكفر، انتهى.

قلت: وهذا الذي قاله هو أو نقله عن غيره فيه أمور:

أولها: أن من ذكر أسمائهم لا يكاد يعتد بأحد منهم أصلاً - أعني الثلاثة الأول - فإن القاشاني وابن داود ليسا ممن يخرق بخلافهم الإجماع، لكونهما ليسا من أئمة هذا الشأن أصلاً ولم يقع على قول أحد منهما التعويل في مسألة من مسائل الأصول أصلاً، ثم لم يأتيا كما سيأتي على حجة تذكر، ولذلك فكأن الجويني رحمه الله رأى هذا المذهب، فذكر كما تقدم استكمال الإجماع، وحذر من مسألة التكفير في نقض الإجماع، لكن على ما سيأتي في خامسها.

وثانيها: إطلاقه القول في رفض الرافضة للاحتجاج به، وهو مردود، فإنه قول طائفة من الرافضة قليلة كما حكاه غير واحد منهم، كالكاظمي في " العناوين "، والجيلاني في " القوانين "، والحيدري في " أصول الاستنباط ". فلم ينسبوه لسائر الرافضة.

لكن ربما عنى الشوكاني فيه معنى آخر، فأخذه من أنهم لا يعتمدون
আল-মাওয়ার্দি আল-আসাসম এবং ইবন উলাইয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: তাঁরা উভয়ই বলেছেন: সুন্নাহ ও ধর্মীয় বিশ্বাস সংক্রান্ত বিষয়ে 'খবরুল ওয়াহিদ' (একক বর্ণনা) গ্রহণ করা হবে না, তবে শরীয়তের অন্যান্য দলিলাদির ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হবে। জুওয়াইনি 'শারহুর রিসালাহ'-তে হিশাম ও নাজ্জাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, 'খবরুল ওয়াহিদ' ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণ করা হবে না যতক্ষণ না এর সাথে এমন কোনো আনুষঙ্গিক প্রমাণ যুক্ত হয় যা অপরিহার্য জ্ঞান (ইলমুত দারুরাহ) প্রদান করে, যাতে আল্লাহ তাঁর অন্তরে এর সত্যতা সম্পর্কে একটি অপরিহার্য নিশ্চয়তা সৃষ্টি করেন। তিনি বলেছেন: আবুল হোসেন আল-লাব্বান আল-ফারজি এই মতটিই গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করার পর বলেছেন:

যদি তিনি তাওবা করেন তবে আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করবেন, অন্যথায় এটি কুফরির (তাকফির) মাসআলা, কারণ এটি ইজমা (ঐক্যমত্য)। সুতরাং যে ব্যক্তি এটি অস্বীকার করবে সে কাফির হয়ে যাবে। সমাপ্ত।

আমি বলি: তিনি যা বলেছেন অথবা অন্যের থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে কয়েকটি বিষয় রয়েছে:

প্রথমত: তিনি যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তাঁদের কারো কথাই মূলত গণ্য করার মতো নয়—আমি প্রথম তিনজনের কথা বলছি—কারণ আল-কাশানি এবং ইবনে দাউদ এমন ব্যক্তি নন যাঁদের ভিন্নমতের কারণে ইজমা বা ঐক্যমত্য লঙ্ঘিত হয়। কারণ তাঁরা কেউই মূলত এই শাস্ত্রের ইমামদের অন্তর্ভুক্ত নন এবং উসূলের (মূলনীতি) কোনো মাসআলায় তাঁদের কারো কথার ওপর নির্ভর করা হয়নি। তদুপরি, সামনে যা আসবে সে অনুযায়ী তাঁরা উল্লেখযোগ্য কোনো দলিলও উপস্থাপন করতে পারেননি। এই কারণেই মনে হয় যে, জুওয়াইনি (রহিমাহুল্লাহ) যখন এই মাজহাব বা মতটি দেখলেন, তখন তিনি পূর্বে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে সে অনুযায়ী ইজমার পূর্ণতা বর্ণনা করেছেন এবং ইজমা ভঙ্গের ক্ষেত্রে তাকফির বা কাফির ঘোষণার মাসআলা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন, তবে এর বিশদ বিবরণ পঞ্চম পয়েন্টে আসবে।

দ্বিতীয়ত: রাফেজিদের দলিল হিসেবে এটি বর্জন করার ব্যাপারে তাঁর ঢালাও মন্তব্য প্রত্যাখ্যানযোগ্য। কারণ এটি রাফেজিদের একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর বক্তব্য, যেমনটি তাঁদের একাধিক আলিম বর্ণনা করেছেন। যেমন কাজিমি তাঁর 'আল-আনাউইন' গ্রন্থে, জিলানি তাঁর 'আল-কাওয়ানিন' গ্রন্থে এবং হায়দারি তাঁর 'উসূলুল ইসতিনবাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তাঁরা এটিকে সকল রাফেজির দিকে নিসবত বা সম্পৃক্ত করেননি।

তবে সম্ভবত শাওকানি এখানে অন্য কোনো অর্থ বুঝিয়েছেন, তাই তিনি এটিকে গ্রহণ করেছেন যে তারা নির্ভর করে না...
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১৫)
في المسائل إلا قول طائفة من العلماء عندهم، ولو كان الخبر خلاف مسائلهم، فهو خاص مردود، لأن هذه الطائفة عندهم قبلت خبر الواحد فيما حكاه أهل التصنيف عنهم.

وثالثها: أننا لا نعبأ بخلاف الرافضة أصلاً، وبيننا وبين القول بقواعدهم وأصولهم، التي حرروها مفاوز ما أظنها تتجاوز.

ورابعها: أن قول هشام والنظام لا يعتبر نفياً للقول بحجة خبر الآحاد، وإنما هو زيادة شرط منهما حتى يقبل الخبر.

وإنما كان وجه الإنكار عليهما الاتساع في وضع هذا الشرط الذي ينال كل حديث مهما بلغت صحته وارتفع قبوله، بخلاف غيرهما من الفقهاء الذين اشترطوا شروطاً أخرى في أشياء مخصوصة، كالتي شرطها الحنفية كما سيأتي، وبخلاف اشتراط طائفة من المحدثين أشياء أخرى مبسوطة في كتب المصطلح على ما سيأتي بيانه إن شاء الله تعالى. وبيان الشروط الصحيحة منها والفاسدة.

وخامسها: في بيان الإجماع الذي حكاه الجويني، فإن المراد به إما الصحابة، وإما مَن بعدهم، وقد قدمنا أن من لا يعبأ بخلاف من خالف لا يتوانى عن ذكر الإجماع في المسألة، وعلى عدم اعتبار المشترطين من القائلين بالنفي. وأنها مسألة إجماع من العلماء، وذلك بعد الارتفاع عن مسألة نفي العلم أو العلم بالنفي التي يثيرها المتكلمون.

وأما إن كان المراد إجماع الصحابة على ذلك، فهذا نقله غير واحد من العلماء وحكاه عنهم، بل وجعله من أدلة القول على العمل بخبر الواحد، لأنه يكون دليلاً لا يقبل الرد عند سائر من يعتبر إجماع الصحابة، ولا يجيز مخالفتهم.

كما سيأتي بيان هذه المسألة عند دليل الإجماع على صحة قبول خبر الواحد.
মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রে তাদের কাছে আলেমদের একটি গোষ্ঠীর অভিমত ছাড়া আর কিছুই নেই। এমনকি যদি কোনো সংবাদ তাদের মাসআলার বিপরীত হয়, তবে তা বিশেষ কারণে প্রত্যাখ্যাত, কারণ এই গোষ্ঠীটি তাদের কাছে একক সংবাদ গ্রহণ করেছে যা সংকলনকারীগণ তাদের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন।

তৃতীয়ত: আমরা রাফেজীদের বিরোধিতাকে মোটেও গুরুত্ব দিই না। তারা যেসব নিয়ম ও মূলনীতি সংকলিত করেছে, সেগুলোকে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে এমন বিশাল ব্যবধান রয়েছে যা অতিক্রম করা সম্ভব নয় বলে আমি মনে করি।

চতুর্থত: হিশাম ও নাজ্জামের বক্তব্যকে একক সংবাদের (খবর আল-ওয়াহিদ) প্রামাণিকতাকে অস্বীকার করা হিসেবে গণ্য করা হয় না; বরং এটি সংবাদটি গ্রহণ করার জন্য তাদের পক্ষ থেকে একটি অতিরিক্ত শর্ত মাত্র।

তাদের ওপর আপত্তির কারণ হলো এমন শর্তারোপের ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন করা যা প্রতিটি হাদীসকেই আক্রান্ত করে, হাদীসটি যতই সহীহ বা গ্রহণযোগ্য হোক না কেন। এটি অন্যান্য ফকীহদের বিপরীত, যারা নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে ভিন্ন শর্তারোপ করেছেন, যেমন হানাফীগণ যেসব শর্তারোপ করেছেন যা সামনে আলোচিত হবে। এটি মুহাদ্দিসগণের সেই গোষ্ঠীর শর্তারোপের চেয়েও ভিন্ন যা পরিভাষার (মুসতালাহ) গ্রন্থগুলোতে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে, যা ইনশাআল্লাহ তায়ালা সামনে স্পষ্ট করা হবে। সেখানে সঠিক ও ভ্রান্ত শর্তগুলোর বিবরণও আসবে।

পঞ্চমত: জুওয়াইনী যে ইজমার কথা বর্ণনা করেছেন তার ব্যাখ্যায় বলা যায় যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় সাহাবীগণ, অথবা তাদের পরবর্তীগণ। আমরা আগেই উল্লেখ করেছি যে, যারা বিরোধিতাকারীদের বিরোধিতাকে তোয়াক্কা করেন না, তারা কোনো মাসআলায় ইজমা উল্লেখ করতে কার্পণ্য করেন না এবং অস্বীকারকারীদের আরোপিত শর্তসমূহকে তারা ধর্তব্যের মধ্যে নেন না। মুতাকাল্লিমরা (ইলমে কালাম শাস্ত্রবিদরা) জ্ঞান অস্বীকার করা বা অস্বীকারের জ্ঞান সম্পর্কে যে বিতর্ক তোলেন, তা থেকে উত্তরণের পর এটি আলেমদের নিকট একটি ইজমার মাসআলা।

আর যদি এর দ্বারা সাহাবীগণের ইজমা উদ্দেশ্য হয়, তবে এটি অনেক আলেম বর্ণনা করেছেন এবং তাদের পক্ষ থেকে উদ্ধৃত করেছেন। বরং তারা একে একক সংবাদের (খবর আল-ওয়াহিদ) ওপর আমল করার সপক্ষে অন্যতম দলীল হিসেবে গণ্য করেছেন। কেননা যারা সাহাবীগণের ইজমাকে গ্রহণ করেন এবং তাদের বিরোধিতা করা বৈধ মনে করেন না, তাদের নিকট এটি এমন এক দলীল যা প্রত্যাখ্যানযোগ্য নয়।

যেমন একক সংবাদ (খবর আল-ওয়াহিদ) গ্রহণের বৈধতার ওপর ইজমার দলীল বর্ণনার সময় এই মাসআলাটির বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقد قال الإمام الشافعي في الرسالة:

" لم أحفظ عن فقهاء المسلمين أنهم اختلفوا في تثبيت خبر الواحد ".

يعني في العمل به.
এবং ইমাম শাফেয়ী তাঁর 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থে বলেছেন:

"আমি মুসলিম ফকীহদের নিকট থেকে এমনটি পাইনি যে, তাঁরা খবরে ওয়াহিদ সাব্যস্ত করার বিষয়ে কোনো মতবিরোধ করেছেন।"

অর্থাৎ এর ওপর আমল করার ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الفصل الثالث: في ييان أدلة القائلين

بالاحتجاج بخبر الآحاد

اعلم رحمك الله أن أدلة القائلين بالاحتجاج قد انقسمت من حيث الأصلين لفرعين أساسيين: أدلة عقلية، وأدلة سمعية.

قال الشيخ الرازي في المحصول:

" والذين قالوا: وقع التعبد به - يعني خبر الآحاد - اتفقوا على أن الدليل السمعي دلّ عليه، واختلفوا في الدليل العقلي هل دلّ عليه أم لا. فذهب القفال وابن سريج منّا، وأبو الحسين البصري - من المعتزلة - إلى أن دليل العقل دل على وقوع التعبد به. وأما الجمهور منا ومن المعتزلة كأبي عليّ وأبي هاشم والقاضي عبد الجبار، فقد اتفقوا على أن دليل التعبد به: السمع فقط. وهو قول أبي جعفر الطوسي من الإمامية. انتهى.

لكن الآمدي في " الإحكام " يزيد ذكر أسماء القائلين بوجود الدليل العقلي فيقول: " واختلفوا في دليل وجوبه بدليل العقل: فأثبته
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: খবরুল আহাদকে দলীল হিসেবে গ্রহণের প্রবক্তাদের

দলীলসমূহ বর্ণনায়

জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাকে রহম করুন—নিশ্চয়ই যারা খবরুল আহাদকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করার প্রবক্তা, তাদের দলীলসমূহ মূলনীতির বিচারে দুটি মৌলিক শাখায় বিভক্ত হয়েছে: যৌক্তিক দলীল এবং শ্রুতিগত দলীল।

শায়খ রাযী ‘আল-মাহসুল’ গ্রন্থে বলেছেন:

"এবং যারা বলেছেন যে, এটি দ্বারা আমল সাব্যস্ত হয়েছে—অর্থাৎ খবরুল আহাদ—তারা একমত হয়েছেন যে শ্রুতিগত দলীল এর ওপর নির্দেশ করে। তবে তারা যৌক্তিক দলীলের বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, তা এর ওপর নির্দেশ করে কি না। সুতরাং আমাদের মধ্য থেকে কাফফাল ও ইবনে সুরাইজ এবং মুতাযিলাদের মধ্য থেকে আবুল হুসাইন আল-বাসরী এই মত পোষণ করেছেন যে, যৌক্তিক দলীল এটি দ্বারা আমল সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে। পক্ষান্তরে আমাদের এবং মুতাযিলাদের জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামা) যেমন আবু আলী, আবু হাশিম এবং কাযী আব্দুল জব্বার—তারা একমত হয়েছেন যে এর মাধ্যমে আমল সাব্যস্ত হওয়ার দলীল কেবল শ্রুতিগত। আর এটিই ইমামিয়াদের মধ্য থেকে আবু জাফর আত-তুসীর বক্তব্য। সমাপ্ত।

তবে আমেদী ‘আল-ইহকাম’ গ্রন্থে যৌক্তিক দলীলের অস্তিত্বের প্রবক্তাদের নাম উল্লেখের ক্ষেত্রে পরিধি বৃদ্ধি করেছেন এবং বলেছেন: "এবং যৌক্তিক দলীলের মাধ্যমে এর ওয়াজিব হওয়ার দলীল নিয়ে তারা মতভেদ করেছেন; অতঃপর তিনি তা সাব্যস্ত করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১৮)
أحمد بن حنبل، والقفال وابن سريج من الشافعية، وأبو الحسين من المعتزلة وجماعة كثيرة.

ونفاه الباقون.

وفصل أبو عبد الله البصري - بين الخبر الدال على ما يسقط بالشبهة، وما لا يسقط بها، فمنع منه في الأول، وجوزه في الثاني، انتهى. قلت: فهذا أوان الشروع في تفصيل هذين الفرعين وفيهما: الدليل العقلي، ثم ذكر الأدلة السمعية من الكتاب والسنة والقياس والإجماع.
আহমাদ বিন হাম্বল, শাফিঈদের মধ্য থেকে কাফফাল ও ইবনু সুরাইজ, মুতাযিলাদের মধ্য থেকে আবুল হুসাইন এবং আরও এক বিশাল গোষ্ঠী।

আর অবশিষ্টরা একে অস্বীকার করেছেন।

আবু আব্দুল্লাহ আল-বাসরী সেই সংবাদের মধ্যে পার্থক্য করেছেন যা সন্দেহের কারণে বাতিল হয়ে যায় এবং যা সন্দেহের কারণে বাতিল হয় না—তার মধ্যে। তিনি প্রথমটির ক্ষেত্রে একে নিষিদ্ধ করেছেন এবং দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে একে বৈধ করেছেন, সমাপ্ত। আমি বলি: এই দুটি শাখার বিস্তারিত বর্ণনায় প্রবেশের এখনই সময় এবং এতে রয়েছে: যৌক্তিক প্রমাণ, অতঃপর কিতাব, সুন্নাহ, কিয়াস ও ইজমা থেকে প্রাপ্ত শ্রুতিনির্ভর দলীলসমূহের বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১৯)
أ - الفرع الأول: في بيان الحجج العقلية:

وحيث أن الآمدي لا يقول بصحة الحجج العقلية على دليل العمل بخبر الواحد، - وإن كان يقول بحجية الخبر الواحد من أدلة أخرى - فقد اخترت إيراد ما ذكره من هذه الححج العقلية ومناقضته لها، ومناقشته في ذلك.

قال رحمه الله في " الإحكام ":

فأما من قال بكونه - يعني الدليل العقلي - حجة، فقد احتجوا بحجج ضعيفة، لا بد من ذكرها والتنبيه على ما فيها، ثم نذكر بعد ذلك ما هو المختار.

1 - الحجة الأولى من جهة المعقول:

وهي ما اعتمد عليها أبو الحسين البصري وجماعة من المعتزلة وهي أنهم قالوا: العقلاء يعلمون وجوب العمل بخبر الآحاد في العقليات، ولا يجوز أن يعلموا وجوب ذلك إلا وقد علموا علة وجوبه، ولا علة لذلك سوى أنهم ظنوا بخبر الواحد تفصيل جملة معلومة بالعقل.

وبيان ذلك أنه قد علم بالعقل وجوب التحرز من المضار، وحسن اجتلاب المنافع. فإذا ظننا صدق من أخبرنا بمضرة، يلزمنا أن لا نشرب الدواء الفلاني، وأن لا نفصد، وأن لا نقوم من تحت حائط مستهدم، فقد ظننا تفصيلاً لما علمناه جملة من وجوب التحرز عن المضار.

وبيان أن العلة للوجوب ما ذكره دورانها معها وجوداً وعدماً، وذلك بعينه موجود في خبر الواحد في الشرعيات، فوجب العمل به، وذلك لأنا قد
ক - প্রথম শাখা: যৌক্তিক দলীলসমূহ বর্ণনায়:

যেহেতু আল-আমেদি খবর-ই ওয়াহিদের ওপর আমল করার প্রমাণ হিসেবে যৌক্তিক দলীলসমূহের বিশুদ্ধতার প্রবক্তা নন—যদিও তিনি অন্যান্য দলীলের ভিত্তিতে খবর-ই ওয়াহিদের প্রামাণিকতা স্বীকার করেন—তাই আমি তাঁর বর্ণিত এই যৌক্তিক দলীলগুলো এবং সেগুলোর প্রতি তাঁর খণ্ডন ও পর্যালোচনা তুলে ধরা নির্বাচন করেছি।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ‘আল-ইহকাম’ গ্রন্থে বলেছেন:

আর যারা এটিকে—অর্থাৎ যৌক্তিক দলীলকে—প্রমাণ হিসেবে গণ্য করেছেন, তারা কিছু দুর্বল দলীল পেশ করেছেন, যা উল্লেখ করা এবং তাতে কী ত্রুটি রয়েছে তা সতর্ক করে দেওয়া আবশ্যক; অতঃপর আমরা এর পরে যা গ্রহণযোগ্য মত তা উল্লেখ করব।

১ - বুদ্ধি বা যুক্তির দিক থেকে প্রথম দলীল:

এটি হলো সেই দলীল যার ওপর আবুল হুসাইন আল-বাসরী এবং মুতাজিলাদের একটি দল নির্ভর করেছেন। তারা বলেছেন: বিবেকবান ব্যক্তিরা বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে খবর-ই আহাদের ওপর আমল করা আবশ্যক বলে জানেন। আর তারা এর আবশ্যকতা সম্পর্কে ততক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেন না, যতক্ষণ না তারা এর আবশ্যক হওয়ার কারণ জানতে পারেন। আর এর কোনো কারণ নেই এটি ছাড়া যে, তারা খবর-ই ওয়াহিদের মাধ্যমে এমন কিছু বিষয়ের বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন যা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সাধারণভাবে জানা ছিল।

এর ব্যাখ্যা হলো, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে এটি জানা যে, ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক এবং কল্যাণ অর্জন করা উত্তম। সুতরাং যখন আমাদের কাছে কেউ কোনো ক্ষতির সংবাদ দেয় এবং আমরা তার সত্যতার প্রবল ধারণা পোষণ করি, তখন আমাদের জন্য অমুক ঔষধ পান না করা, রক্তমোক্ষণ না করা এবং ধসে পড়া দেয়ালের নিচে না দাঁড়ানো আবশ্যক হয়ে পড়ে। এভাবে আমরা ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকার আবশ্যকতা সম্পর্কে যে সাধারণ জ্ঞান রাখতাম, খবর-ই ওয়াহিদের মাধ্যমে তার বিস্তারিত বিষয়ের ওপর প্রবল ধারণা লাভ করলাম।

আর আবশ্যকতা বা ওয়াজিব হওয়ার কারণ যে তিনি যা উল্লেখ করেছেন সেটিই—তার প্রমাণ হলো অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের ক্ষেত্রে তার সাথে এর সহাবস্থান (আবর্তন)। আর ঠিক এই বিষয়টিই শরয়ি বিষয়াবলীতে খবর-ই ওয়াহিদের মধ্যে বিদ্যমান। সুতরাং এর ওপর আমল করা ওয়াজিব। আর এটি এ কারণে যে, আমরা...
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২০)
علمنا في الجملة وجوب الانقياد للنبي صلى الله عليه وسلم فيما يخبرنا به من مصالحنا ودفع المضار عنا.

فإذا ظننا بخبر الواحد، أن النبي صلى الله عليه وسلم قد دعانا للانقياد له في فعل أخبر أنه مصلحة وخلافه مضرة، فقد ظننا تفصيل ما علمناه في الجملة، يوجب العمل به.

قال الآمدي:

ولقائل أن يقول: أما أولاً، فلا نسلم وجوب العمل بخبر الواحد في العقليات، بل غايته إذا ظننا صدقه، أن يكون العمل بخبره أولى من تركه، وكون الفعل أولى من الترك، أمر أعم من الواجب لشموله للمندوب، فلا يلزم منه الوجوب.

قلت: قول الآمدي: ". . . العمل بخبره أولى من تركه. . . لشموله للمندوب، فلا يلزم منه الوجوب " منقوض بسائر المسائل التي لا يسع القول بالندب فيها مجالاً. أو التي لا يمكن أن تكون إلا ندباً أصلاً.

مثال الأول الأحاديث التي تخبر عن فرضية الغسل للجمعة مثلاً، فإن ندب الاغتسال لها ثابت عند سائر الفقهاء، وإحالة أحاديث الفرض على الندب فيه إهمال لأنه أبطل الخبر الزائد فيه إبطالاً تاماً.

ومثال الثاني أحاديث ندب وضع اليدين على الصدر في الصلاة، أو تحريك الأصبع في التشهد ونحوها من أحاديث الندب، فإن القول فيها بالندب على رأي الآمدي هو إعمال تام للخبر، فيرد عليه فيه.

وذلك أن قولنا بوجوب العمل بخبر الواحد لا يعني منه أحاديث الفرض فقط، بل المستحبات، وكذلك المحرمات والمكروهات. فإذا تأملت هذا علمت اضطراب قوله في سائر الأحاديث التي تفيد إما الاستحباب وإما الكراهة حسب، دون التحليل أو التحريم، ولا الفرائض.
সাধারণভাবে আমরা জেনেছি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কল্যাণের জন্য যা সংবাদ দেন এবং আমাদের থেকে অকল্যাণ দূর করার জন্য যা বলেন, তাতে তাঁর আনুগত্য করা ওয়াজিব।

সুতরাং যখন আমরা খবরে ওয়াহিদের মাধ্যমে ধারণা লাভ করি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের এমন কোনো কাজে তাঁর আনুগত্য করার আহ্বান জানিয়েছেন যেটিকে তিনি কল্যাণকর বলেছেন এবং এর বিপরীতকে ক্ষতিকর বলেছেন, তখন আমরা সাধারণভাবে যা জানতাম তার বিস্তারিত রূপ সম্পর্কে ধারণা পেলাম, যা তার ওপর আমল করাকে ওয়াজিব করে তোলে।

আল-আমেদী বলেন:

কোনো বক্তা বলতে পারেন যে: প্রথমত, আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে খবরে ওয়াহিদ অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়াকে স্বীকার করি না; বরং বড়জোর যদি আমরা তার সত্যতার ধারণা পাই, তবে তার খবর অনুযায়ী আমল করা বর্জন করার চেয়ে উত্তম হবে। আর কোনো কাজ বর্জন করার চেয়ে উত্তম হওয়া বিষয়টি ওয়াজিব অপেক্ষা অধিক ব্যাপক; কেননা এটি মানদুবকেও অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং এর দ্বারা ওয়াজিব হওয়া সাব্যস্ত হয় না।

আমি বলি: আমেদীর কথা— "...তার খবর অনুযায়ী আমল করা বর্জন করার চেয়ে উত্তম... যেহেতু এটি মানদুবকে অন্তর্ভুক্ত করে, তাই এর দ্বারা ওয়াজিব হওয়া সাব্যস্ত হয় না" —ঐসব মাসআলার মাধ্যমে খণ্ডিত হয়ে যায় যেখানে মানদুব বা মুস্তাহাব বলার কোনো অবকাশ নেই, অথবা যা মূলত মুস্তাহাব হওয়া ছাড়া অন্য কিছু হওয়া সম্ভব নয়।

প্রথমটির উদাহরণ হলো সেই হাদিসগুলো যা জুমার দিনের গোসল ফরজ হওয়ার সংবাদ দেয়। উদাহরণস্বরূপ, অধিকাংশ ফকিহদের নিকট জুমার গোসল মুস্তাহাব হওয়া সাব্যস্ত। এখন ফরজ সংক্রান্ত হাদিসগুলোকে মুস্তাহাবের দিকে ধাবিত করার মধ্যে অবহেলা রয়েছে; কারণ এটি সংশ্লিষ্ট খবরের অতিরিক্ত অংশকে (ফরজিয়াত) সম্পূর্ণরূপে বাতিল করে দেয়।

দ্বিতীয়টির উদাহরণ হলো সালাতে বুকের ওপর দুই হাত রাখার মুস্তাহাব হওয়া সংক্রান্ত হাদিসগুলো, অথবা তাশাহহুদে আঙুল নাড়ানো এবং এই জাতীয় অন্যান্য মুস্তাহাব সম্পর্কিত হাদিসসমূহ। আমেদীর মতানুসারে এই ক্ষেত্রে মুস্তাহাব বলা মানে হলো খবরটির ওপর পূর্ণাঙ্গ আমল করা, ফলে এখানে তাঁর ওপর আপত্তি উত্থাপিত হয়।

এর কারণ হলো, খবরে ওয়াহিদের ওপর আমল করা ওয়াজিব বলার অর্থ কেবল ফরজ সংক্রান্ত হাদিস নয়, বরং মুস্তাহাব, হারাম এবং মাকরূহ বিষয়গুলোও এর অন্তর্ভুক্ত। আপনি যদি এটি গভীরভাবে চিন্তা করেন, তবে অন্যান্য হাদিসের ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্যের অস্থিরতা বুঝতে পারবেন, যা কেবল মুস্তাহাব বা মাকরূহ হওয়ার ফায়দা দেয়, হালাল-হারাম বা ফরজ হওয়া ছাড়া।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২১)
ثم قال الآمدي رحمه الله:

" سلمنا أن العمل بخبره واجب في العقليات، ولكن لا نسلم أن علة الوجوب ما ذكرتموه من الدوران، فلا يدل على أن المدار علة الدائر، لجواز أن تكون العلة معنى ملازماً لما ذكرتموه لا ما ذكرتموه. . . " إلى آخر ما قال.

وقد ضربت على القسم الآخر من قوله لأنه داخل على التحقيق في مبحث آخر من مباحث القياس في معرفة العلة والطرق التي تتبع في ذلك، وليس ذلك من مباحث هذا الكتاب.

قال الآمدي:

2 - الحجة الثانية:

قالوا: صدق الواحد في خبره ممكن، فلو لم نعمل به، لكنا تاركين لأمر الله تعالى وأمر رسوله، وهو خلاف ما يقتضيه الاحتياط. قال الآمدي: ولقائل أن يقول: صدق الراوي وإن كان ممكناً وراجحاً، فلم قلتم بوجوب العمل به والاحتياط بالأخذ بقوله، وإن كان مناسباً، ولكن لا بد له من شاهد بالاعتبار، ولا شاهد له سوى خبر التواتر، وقول الواحد في الفتوى والشهادة، ولا يمكن القياس على الأول، لأن ذلك مفيد للعلم، ولا يلزم من إفادته الوجوب إفادة الخبر الظني له، ولا يمكن قياسه على الثاني، وذلك لأن براءة الذمة معلومة وهي الأصل، وغاية قول الشاهد والمفتي مع مخالفته للبراءة الأصلية بالنظر إلى شخص واحد العمل بخبر الواحد المخالف لبراءة الذمة بالنظر إلى جميع الناس، وإن سلمنا صحة القياس فغايته أنه مفيد لظن لإلحاق. وهو غير معتبر في إثبات الأصول. . .
এরপর আমেদী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

"আমরা মেনে নিলাম যে, যুক্তিনির্ভর বিষয়াবলীতে তাঁর খবরের ওপর আমল করা ওয়াজিব, কিন্তু আমরা এটি স্বীকার করি না যে, ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো আপনারা যা আবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং এটি প্রমাণ করে না যে, আবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুটি আবর্তিত বিষয়ের কারণ। কেননা সম্ভাবনা রয়েছে যে, কারণটি এমন একটি অর্থ যা আপনাদের উল্লিখিত বিষয়ের সাথে অবিচ্ছেদ্য, কিন্তু তা আপনাদের উল্লিখিত বিষয়টি নিজে নয়... " তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত।

আমি তাঁর বক্তব্যের পরবর্তী অংশটি বাদ দিয়েছি, কারণ তা পর্যালোচনার দিক থেকে কিয়াসের অন্য একটি আলোচনার অন্তর্ভুক্ত যা কারণ শনাক্তকরণ এবং এ ক্ষেত্রে অনুসৃত পদ্ধতিসমূহ সংশ্লিষ্ট। আর এটি এই কিতাবের আলোচ্য বিষয় নয়।

আমেদী বলেন:

২ - দ্বিতীয় দলিল:

তাঁরা বলেছেন: একজনের খবরের সত্যতা সম্ভবপর; সুতরাং যদি আমরা তাঁর ওপর আমল না করি, তবে আমরা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের আদেশ বর্জনকারী হব, যা সতর্কতার দাবির পরিপন্থী। আমেদী বলেন: উত্তরদানকারী বলতে পারেন: রাবীর সত্যবাদিতা যদিও সম্ভবপর এবং প্রবল, তবুও আপনারা কেন এর ওপর আমল করা ওয়াজিব বললেন? আর তাঁর কথা গ্রহণ করার মাধ্যমে সতর্কতা অবলম্বন করা যদিও সংগতিপূর্ণ, তবে এর গ্রহণযোগ্যতার জন্য অবশ্যই একটি সাক্ষ্য থাকা প্রয়োজন। আর মুতাওয়াতির খবর এবং ফাতাওয়া ও সাক্ষ্যদানের ক্ষেত্রে একজনের কথা ছাড়া এর আর কোনো সাক্ষ্য নেই। প্রথমটির ওপর কিয়াস করা সম্ভব নয়, কারণ তা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে; আর নিশ্চিত জ্ঞান দ্বারা ওয়াজিব হওয়া প্রমাণিত হলে এটি আবশ্যক হয় না যে ধারণাপ্রসূত খবরও তা প্রদান করবে। আর দ্বিতীয়টির ওপরও কিয়াস করা সম্ভব নয়; কারণ দায়মুক্তি নিশ্চিতভাবে জ্ঞাত এবং এটিই মূল ভিত্তি। আর সাক্ষী ও মুফতির কথা মৌলিক দায়মুক্তির পরিপন্থী হলেও তা কেবল একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কিন্তু সকল মানুষের ক্ষেত্রে মৌলিক দায়মুক্তির পরিপন্থী একক খবরের ওপর আমল করা ভিন্ন বিষয়। আর যদি আমরা কিয়াসের সঠিকতা মেনেও নেই, তবে এর চূড়ান্ত ফলাফল হলো এটি অন্তর্ভুক্তকরণের ক্ষেত্রে একটি ধারণা প্রদান করে। আর মূলনীতিসমূহ প্রমাণের ক্ষেত্রে এটি ধর্তব্য নয়...
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২২)
3 - الحجة الثالثة:

أنهم قالوا: إذا وقعت واقعة، ولم يجد المفتي سوى خبر الواحد، فلو لم يحكم به لتعطلت الواقعة عن حكم الشارع، وذلك ممتنع.

قال الآمدي: " ولقائل أن يقول: خلو الواقعة عن الحكم الشرعي، إنما يمتنع مع وجود دليله، وأما عدم الدليل فلا، ولهذا فإنه لو لم يظفر في الواقعة بدليل ولا خبر الواحد، فإنه لا يمتنع خلو الواقعة عن الحكم الشرعي، والمصير إلى البراءة الأصلية … ".

قلت: وهذا منه رحمه الله كاف في دفع هذه الحجة الثالثة بمثاله المذكور، فلا حاجة للإطالة في ذكر بقية جوابه.

قال الآمدي:

4 - الحجة الرابعة:

قالوا: إنه لو لم يكن خبر الواحد واجب القبول، لتعذر تحقيق بعثة الرسول صلى الله عليه وسلم إلى كل أهل عصره. وذلك ممتنع، وبيان ذلك أنه لا طريق إلى تعريف أهل عصره إلا بالمشافهة أو الرسل، ولا سبيل له إلى المشافهة للكل لتعذره، والرسالة منحصرة في عدد التواتر والآحاد، والتواتر إلى كل أحد متعذر، فلو لم يكن خبر الواحد مقبولاً، لما تحقق معنى التبليغ والرسالة إلى جميع الخلق فيما أرسل به، وهو محال مخالف لقوله تعالى: (لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ).

قال الآمدي رادّاً:

ولقائل أن يقول: إنما يمتنع ذلك لو كان التبليغ إلى كل من في عصره واجباً، وأن كل من في عصره مكلف بما بعث به، وليس لذلك. بل إنما هو مكلف بالتبليغ إلى من يقدر على إبلاغه، إما بالمشافهة أو
৩ - তৃতীয় দলীল:

তাঁরা বলেছেন: যখন কোনো ঘটনা ঘটে এবং মুফতি কেবল 'খবরুল ওয়াহিদ' (একক বর্ণনা) খুঁজে পান, এমতাবস্থায় তিনি যদি এর দ্বারা বিধান না দেন, তবে ঘটনাটি শরীয়ত প্রণেতার বিধান থেকে শূন্য থেকে যাবে, যা অসম্ভব।

আল-আমিদী বলেছেন: "কেউ বলতে পারেন: কোনো ঘটনা শরয়ী বিধান থেকে শূন্য হওয়া কেবল তখনই অসম্ভব যখন তার দলীল বিদ্যমান থাকে। কিন্তু দলীলের অনুপস্থিতিতে এটি অসম্ভব নয়। এ কারণেই, কোনো ঘটনায় যদি দলীল বা খবরুল ওয়াহিদ পাওয়া না যায়, তবে ঘটনাটি শরয়ী বিধান থেকে মুক্ত থাকা অসম্ভব নয় এবং তখন 'মূল দায়মুক্তি' (বারাআত আল-আসলিইয়াহ)-র দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হয়…"।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর পক্ষ থেকে তাঁর উল্লিখিত উদাহরণটিই এই তৃতীয় দলীল খণ্ডনের জন্য যথেষ্ট, তাই তাঁর উত্তরের বাকি অংশ উল্লেখ করে দীর্ঘায়িত করার প্রয়োজন নেই।

আল-আমিদী বলেছেন:

৪ - চতুর্থ দলীল:

তাঁরা বলেছেন: যদি 'খবরুল ওয়াহিদ' গ্রহণ করা আবশ্যক না হতো, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাঁর সমসাময়িক সকল মানুষের নিকট প্রেরণের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা অসম্ভব হয়ে পড়ত। আর তা অসম্ভব। এর ব্যাখ্যা হলো, তাঁর সমসাময়িক লোকদেরকে (দীনের বিধান) অবগত করার জন্য সরাসরি কথোপকথন অথবা দূত পাঠানো ব্যতীত অন্য কোনো পথ নেই। সকলের সাথে সরাসরি কথোপকথন করা অসম্ভব হওয়ার কারণে তা সম্ভব নয়। আর সংবাদ পৌঁছানো হয় 'মুতাওয়াতির' (অসংখ্য বর্ণনা) নতুবা 'আহাদ' (একক বর্ণনা)-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। প্রত্যেক ব্যক্তির কাছে মুতাওয়াতির পৌঁছানো দুঃসাধ্য। সুতরাং খবরুল ওয়াহিদ যদি গ্রহণযোগ্য না হতো, তবে যার মাধ্যমে তাঁকে পাঠানো হয়েছে তা সমস্ত সৃষ্টির কাছে পৌঁছে দেওয়ার (তাবলীগ) এবং রিসালাতের উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হতো না। আর এটি অসম্ভব এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর পরিপন্থী: (যাতে আপনি মানুষের কাছে তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে)।

আল-আমিদী এর জবাবে বলেছেন:

কেউ বলতে পারেন: এটি কেবল তখনই অসম্ভব হতো যদি তাঁর সময়ের প্রত্যেকের কাছে প্রচার করা ওয়াজিব হতো এবং তাঁর যুগের প্রত্যেকেই তাঁর প্রেরিত বার্তার বিধান পালনে বাধ্য হতো। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। বরং তিনি কেবল তাদের কাছেই পৌঁছাতে আদিষ্ট ছিলেন যাদের কাছে তিনি পৌঁছাতে সক্ষম, হয় সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে অথবা...
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২৩)
بخبر التواتر، وكذلك كل واحد من الأئمة إنما كلف بما أرسل به الرسول إذا علمه، وأما مع عدم علمه به فلا، ولهذا فإن من كان في زمن الرسول في البلاد النائية والجزائر المنقطعة، ولا سبيل إلى إعلامه، فإن النبي صلى الله عليه وسلم لم يكن مكلفاً بتبليغه، ولا ذلك الشخص كان مكلفاً بما أرسل به،. انتهى كلام الآمدي.

قلت: وقول الآمدي باطل، وما ادعاه من شرط شمول التبليغ ونفيه ليس بلازم، وبيان صورة الرد في المثال الآتي:

وهو أن رسله صلى الله عليه وسلم الذين أرسلهم، كان بعضهم آحاداً، ولو لم يكن خبرهم حجة لما حل له صلى الله عليه وسلم منابذة الرافضين منهم إلى القتال في مواقع معلومة من السيرة بل ودعائه صلى الله عليه وسلم على من مزق كتبه.

بل وكيف يستقيم أن يرسل صلى الله عليه وسلم إلى القبائل من يعلمهم الشرائع آحاداً،

وهو يعلم من شريعته صلى الله عليه وسلم أن خبر الواحد ليس بحجة!!!

لكن النظر عندي في هذه الحجة هل تلحق على الصواب بالعقلية أم النقلية منها، والأصوب الثاني قال الآمدي:

5 - الحجة الخامسة:

قالوا: قد ثبت أن مخالفة أمر الرسول سبب لاستحقاق العقاب، فإذا أخبر الواحد بذلك عن الرسول صلى الله عليه وسلم، وغلب على الظن صدقه، فإما أن يجب العمل الراجح والمرجوح معاً، أو تركهما معاً، أو العمل بالمرجوح دون الراجح أو بالعكس.
মুতাওয়াতির সংবাদের মাধ্যমে; একইভাবে ইমামগণের প্রত্যেকের ওপর কেবল তা-ই পালন করার দায়িত্ব অর্পিত হয় যা রাসূল প্রেরণ করেছেন, যখন তিনি তা জানতে পারেন। আর তা না জানা পর্যন্ত নয়। এই কারণেই, যারা রাসূলের যুগে দূরবর্তী দেশ বা বিচ্ছিন্ন দ্বীপে ছিল এবং যাদের কাছে খবর পৌঁছানোর কোনো পথ ছিল না, তাদের নিকট দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ছিল না এবং সেই ব্যক্তিটিও যা পাঠানো হয়েছিল তা পালনে আদিষ্ট ছিল না। আমেদী-র বক্তব্য সমাপ্ত।

আমি বলি: আমেদীর কথাটি বাতিল, এবং দাওয়াত পৌঁছানোর ব্যাপকতা ও তার অনুপস্থিতির শর্ত সম্পর্কে তিনি যা দাবি করেছেন তা অপরিহার্য নয়। খণ্ডন করার স্বরূপটি পরবর্তী উদাহরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হলো:

আর তা হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর যে সকল দূত প্রেরণ করেছিলেন, তাদের কেউ কেউ ছিলেন একক ব্যক্তি। তাদের সংবাদ যদি দলিল না হতো, তবে সীরাতের প্রসিদ্ধ ঘটনাগুলোতে তাদের প্রত্যাখ্যানকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য বৈধ হতো না; বরং যারা তাঁর পত্র ছিঁড়ে ফেলেছিল তাদের বিরুদ্ধেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদদোয়া করতেন না।

অধিকন্তু, এটি কীভাবে সংগতিপূর্ণ হতে পারে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন গোত্রের কাছে শরিয়ত শিক্ষা দেওয়ার জন্য একক ব্যক্তিদের পাঠাবেন,

অথচ তিনি তাঁর শরিয়ত থেকে জানতেন যে একক ব্যক্তির সংবাদ দলিলযোগ্য নয়!!!

তবে আমার নিকট বিচার্য বিষয় হলো, এই দলিলটি কি যৌক্তিক নাকি বর্ণনাগত দলিলে অন্তর্ভুক্ত হওয়া সঠিক? এর মধ্যে দ্বিতীয়টিই অধিকতর সঠিক। আমেদী বলেন:

৫ - পঞ্চম দলিল:

তারা বলেন: এটি প্রমাণিত যে রাসূলের আদেশের বিরোধিতা করা শাস্তির যোগ্য হওয়ার কারণ। সুতরাং যখন কোনো একজন ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে সেই সংবাদ দেন এবং তার সত্যতা সম্পর্কে প্রবল ধারণা জন্মে, তখন হয় প্রবল ও দুর্বল উভয় সংবাদের ওপর আমল করা ওয়াজিব হবে, অথবা উভয়টি ত্যাগ করা, অথবা প্রবলের পরিবর্তে দুর্বলের ওপর আমল করা অথবা এর বিপরীতটি করা।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২৪)
وبالاحتمال لا سبيل إلى الأول والثاني والثالث لأنه محال. فلم يبق سوى الرابع وهو المطلوب ".انتهى.

قلت: وهذا احتجاج بين البطلان، فلم نذكر رد الآمدي عليه لوضوحه.
এবং সম্ভাবনার বিচারে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রকারের কোনো অবকাশ নেই, কারণ তা অসম্ভব। সুতরাং চতুর্থ প্রকারটি ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকল না, আর এটিই উদ্দিষ্ট। সমাপ্ত।

আমি বলি: এই যুক্তিটি সুস্পষ্টভাবে বাতিল, তাই এর স্পষ্টতার কারণে এর ওপর আল-আমিদির খণ্ডন আমরা উল্লেখ করিনি।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২৫)
ب - الفرع الثاني: في بيان النقلية: وهي أنواع.

1 - أولها: حجج القرآن الكريم:

* الحجة الأولى في قوله تعالى: (فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ (122).

قال الرازي وغيره من العلماء فيها:

وجه الاستدلال: أن الله تعالى أوجب الحذر بأخبار الطائفة، والطائفة ها هنا عدد لا يفيد قولهم العلم، ومتى وجب الحذر بإخبار عدد لا يفيد قولهم العلم فقد وجب العمل بالخبر الذي لا نقطع بصحته.

وإنما قلنا: إنه أوجب الحذر - عند إخبار الطائفة - لأنه أوجب الحذر بإنذار الطائفة، والإنذار هو الإخبار.

وإنما قلنا: إنه أوجب الحذر بإنذار الطائفة لقوله تعالى: (وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ) وكلمة " لعل " للترجي، وذلك في حق الله تعالى محال، وإذا تعذر حمله على ظاهره وجب حمله على المجاز، وذلك لأن المترجي طالب للشيء. فإن كان الطلب لازماً للترجي وجب حمل هذا اللفظ على الطلب، فيلزم أن يكون الله طالباً للحذر، وطلب الله تعالى هو الأمر فثبت أن الله تعالى أمر بالحذر عند إنذار الطائفة. وإنما قلنا: إن الإنذار هو الإخبار، لأنه عبارة عن الخبر المخوف، والخبر داخل في الخبر المخوف، فثبت أن الله تعالى أوجب الحذر عند إخبار الطائفة.
খ - দ্বিতীয় শাখা: নক্লী (বর্ণনামূলক) দলিলসমূহের বর্ণনায়: আর তা কয়েক প্রকার।

১ - প্রথমত: কুরআনুল কারীমের দলিলসমূহ:

* প্রথম দলিল, মহান আল্লাহর বাণী: (সুতরাং কেন তাদের প্রতিটি দল থেকে এক একটি ক্ষুদ্র দল বের হলো না, যেন তারা দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের স্বজাতীয়দের সতর্ক করতে পারে যখন তারা তাদের কাছে ফিরে আসবে, যাতে তারা সতর্ক হয় [সূরা তওবা: ১২২])।

ইমাম রাজী এবং অন্যান্য আলেমগণ এর ব্যাখ্যায় বলেছেন:

দলিল গ্রহণের পদ্ধতি: আল্লাহ তাআলা একটি ক্ষুদ্র দলের সংবাদের ভিত্তিতে সতর্ক হওয়াকে ওয়াজিব করেছেন; আর এখানে 'তায়েফা' (ক্ষুদ্র দল) বলতে এমন সংখ্যাকে বোঝানো হয়েছে যাদের কথা অকাট্য নিশ্চিত জ্ঞান (ইলম) প্রদান করে না। আর যখন এমন সংখ্যার সংবাদের ভিত্তিতে সতর্ক হওয়া ওয়াজিব হয় যাদের কথা নিশ্চিত জ্ঞান দেয় না, তখন এমন সংবাদের (খবর) ওপর আমল করা ওয়াজিব হয়ে যায় যার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে আমরা অকাট্যভাবে নিশ্চিত নই।

আমরা কেন বললাম যে তিনি ক্ষুদ্র দলের সংবাদের ভিত্তিতে সতর্ক হওয়া ওয়াজিব করেছেন? কারণ তিনি ক্ষুদ্র দলের সতর্কীকরণের (ইনজার) মাধ্যমে সতর্ক হওয়া ওয়াজিব করেছেন, আর 'ইনজার' মূলত সংবাদ প্রদানই।

আর আমরা কেন বললাম যে তিনি ক্ষুদ্র দলের সতর্কীকরণের মাধ্যমে সতর্ক হওয়া ওয়াজিব করেছেন? কারণ মহান আল্লাহর বাণী: (যাতে তারা তাদের কওমকে সতর্ক করতে পারে যখন তারা তাদের কাছে ফিরে আসবে, যেন তারা সতর্ক হয়)। এখানে 'লা-আল্লা' (যেন/আশা করা) শব্দটি প্রত্যাশা বা আশাপ্রকাশের (তারাজ্জি) জন্য ব্যবহৃত হয়, যা মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে অসম্ভব। যখন শব্দটিকে তার প্রকাশ্য বা শাব্দিক অর্থে গ্রহণ করা অসম্ভব হয়, তখন একে রূপক (মাজায) অর্থে গ্রহণ করা ওয়াজিব। কারণ প্রত্যাশাকারী ব্যক্তি মূলত কোনো কিছুর অন্বেষণকারী বা তলবকারী হয়। যদি অন্বেষণ বা তলব করা প্রত্যাশার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়, তবে এই শব্দটিকে 'তলব' বা অন্বেষণের অর্থে গ্রহণ করা আবশ্যক। ফলে এটি অবধারিত হয় যে, আল্লাহ তাআলা সতর্ক হওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো কিছুর তলব বা অন্বেষণই হলো আদেশ (আমর)। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, আল্লাহ তাআলা ক্ষুদ্র দলের সতর্কীকরণের সময় সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আর আমরা কেন বললাম যে ইনজার হলো সংবাদ প্রদান? কারণ এটি হচ্ছে ভীতিপ্রদ সংবাদের নামান্তর, আর সংবাদ তো ভীতিপ্রদ সংবাদেরই অন্তর্ভুক্ত। অতএব প্রমাণিত হলো যে, আল্লাহ তাআলা ক্ষুদ্র দলের সংবাদের ভিত্তিতে সতর্ক হওয়াকে ওয়াজিব করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২৬)
وإنما قلنا: إن الطائفة ها هنا: عدد لا يفيد قولهم العلم، لأن كل ثلاثة فرقة، والله تعالى أوجب على كل فرقة أن تخرج منها طائفة، والطائفة من الثلاثة واحد أو اثنان، وقول الواحد أو الاثنين لا يفيد العلم.

وإنما قلنا إنه تعالى لما أوجب الحذر عند خبر العدد الذي لا يفيد قولهم العلم وجب العمل بذلك الخبر لأن قوماً إذا فعلوا فعلاً، وروى الراوي خبراً يقتضي المنع من ذلك الفعل، فإما أن يجب عليهم تركه عند سماع ذلك الخبر أو لا يجب.

فإن وجب فهو المراد من وجوب العمل بمقتضى الخبر، وإذا ثبت وجوب العمل بمقتضى ذلك الخبر - في هذه الصورة - وجب العمل به في سائر الصور، ضرورة أن لا قائل بالفرق.

وإن لم يجب الترك، لم يجب الحذر، وذلك ينافي ما دلت عليه الآية من وجوب الحذر.

قلت: بقي الجواب عما إذا وقع النقاش مع حصر الطائفة في العدد الذي لا يفيد العلم، والجواب: أنه لا يخلو من أن يكون المراد من لفظ الطائفة التي وجب عليها الخروج للتفقه، والإنذار إذا رجعت أمرين:

الأول: العدد الذي ينتهي لحد التواتر.

الثاني: العدد الذي لا ينتهي لحد التواتر.

ومن يحصر المراد بالأول يلزمه القول بأن الواجب على كل طائفة، وأهل قرية، أو بادية إذا كان عددهم ما دون حد التواتر أن يخرجوا بأجمعهم للتفقه والإنذار، وهذا لا يقول به قائل في أي عصر من الأعصار، بل القول خلافهم، فدل على أن المراد يشمل الأمر الثاني للخروج من هذا الإلزام.

والله أعلم.

وبهذا العرض يكون وقع الجواب عما يمكن أن يبديه أهل الاعتراض على صحة هذا الاستدلال، اللهم إلا وجهين نذكرهما، والجواب عليهما.
আর আমরা বলেছি: এখানে 'ত্বায়িফা' (দল) বলতে এমন সংখ্যাকে বোঝানো হয়েছে যাদের কথা নিশ্চিত জ্ঞান (ইলম) প্রদান করে না। কারণ, প্রতি তিনজনে একটি 'ফিরকাহ' (দল) গঠিত হয়, আর আল্লাহ তাআলা প্রতিটি 'ফিরকাহ' থেকে একটি 'ত্বায়িফা' বের হওয়া ওয়াজিব করেছেন। তিনজনের মধ্যে 'ত্বায়িফা' হলো একজন বা দুইজন, আর একজনের বা দুইজনের কথা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না।

আর আমরা বলেছি যে, মহান আল্লাহ যখন এমন সংখ্যার সংবাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা (হাযার) অবলম্বন করা ওয়াজিব করেছেন যাদের কথা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না, তখন সেই সংবাদের ওপর আমল করা ওয়াজিব হয়ে যায়। কেননা, যখন কোনো সম্প্রদায় কোনো কাজ করে এবং কোনো বর্ণনাকারী এমন সংবাদ বর্ণনা করেন যা সেই কাজটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবি রাখে, তখন হয় সেই সংবাদ শোনার পর তাদের জন্য কাজটি ছেড়ে দেওয়া ওয়াজিব হবে, অথবা ওয়াজিব হবে না।

যদি ওয়াজিব হয়, তবে সংবাদের দাবি অনুযায়ী আমল করার বাধ্যবাধকতার উদ্দেশ্য এটাই। আর যদি এই সুরতে (অবস্থায়) সংবাদের দাবি অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব বলে সাব্যস্ত হয়, তবে অন্যান্য সকল সুরতেও এর ওপর আমল করা ওয়াজিব হবে; কারণ বিষয়টি সুষ্পষ্ট যে, কেউ এখানে পার্থক্যের কথা বলেননি।

আর যদি ছেড়ে দেওয়া ওয়াজিব না হয়, তবে সতর্কতা অবলম্বন করাও ওয়াজিব হবে না; আর এটি আয়াতের নির্দেশিত সতর্কতার বাধ্যবাধকতার পরিপন্থী।

আমি বলছি: 'ত্বায়িফা' শব্দটিকে এমন সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা নিয়ে বিতর্কের জবাব এখনও অবশিষ্ট রয়েছে যা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না। উত্তরটি হলো: 'ত্বায়িফা' শব্দ দ্বারা যাদের ওপর দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের জন্য বের হওয়া এবং ফিরে আসার পর সতর্ক করা ওয়াজিব করা হয়েছে, তা দুটি বিষয়ের বাইরে নয়:

প্রথম: এমন সংখ্যা যা মুতাওয়াতির-এর সীমায় পৌঁছে।

দ্বিতীয়: এমন সংখ্যা যা মুতাওয়াতির-এর সীমায় পৌঁছে না।

আর যারা অর্থটিকে প্রথমটির (মুতাওয়াতির) মধ্যে সীমাবদ্ধ করেন, তাদের জন্য এটি বলা অপরিহার্য হয়ে পড়ে যে, প্রতিটি দল, গ্রামের অধিবাসী বা মরুবাসীদের সংখ্যা যদি মুতাওয়াতির-এর সীমার নিচে হয়, তবে তাদের সকলের ওপর দ্বীনি জ্ঞান অর্জন ও সতর্ক করার জন্য বের হওয়া ওয়াজিব। অথচ কোনো যুগের কোনো প্রবক্তাই এ কথা বলেননি, বরং তাদের বক্তব্য এর বিপরীত। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, এই বাধ্যবাধকতা থেকে উত্তরণের জন্য উদ্দেশ্যটি দ্বিতীয় বিষয়টিকেই অন্তর্ভুক্ত করে।

আর আল্লাহই ভালো জানেন।

এই বর্ণনার মাধ্যমেই এই দলীলটির বিশুদ্ধতার ওপর বিরোধিতাকারীরা যে সব আপত্তি উত্থাপন করতে পারেন তার উত্তর প্রদান সম্পন্ন হলো। তবে কেবল দুটি দিক ব্যতিরেকে, যা আমরা উল্লেখ করব এবং সেগুলোর উত্তর প্রদান করব।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২৭)
* مناقشة الاعتراض الأول:

فإنهم قالوا: الحمل على الفتوى - أي حمل الخبر على الفتوى - متعذر لوجهين:

الأول:

أنا لو حملناه على الفتوى، لاختص لفظ القوم بغير المجتهدين، لأن المجتهد لا يجوز له العمل بفتوى المجتهد، لكن التقييد غير جائز لأن الآية مطلقة. انتهى اعتراضهم.

قلت: وقد دفعه غير واحد من غير وجه، ولم أوردها جميعها، إذ لا حاجة لها، بل هي دفع للخطأ بجنسه، فإن أصل الاعتراض غير صحيح، ولا هو في باب الموضوع، إذ أننا بصدد الرواية عن الشارع، لا بصدد نقل فتوى المجتهد، وإلزام الآخر بها، فإننا لا نريد إلزام المجتهد إلا بقبول خبر الآحاد في الرواية فقط.

* مناقشة الاعتراض الثاني:

فإنهم قالوا: ومع تطرق هذه الاحتمالات فالاستدلال بالآية على كون خبر الواحد حجة في الشرعيات غير خارج عن باب الظنون فيما هو من جملة الأصول، والخصم مانع لصحته، فالقاعدة الأصولية أن الدليل إذا تطرق إليه الاحتمال بطل في الاستدلال. انتهى الاعتراض الثاني.

قلت: والجواب على الاعتراض من أوجه:

الأول: أن الاحتمال المذكور في القاعدة إنما هو الاحتمال غير المدفوع، ولا المنفي، وإلا فلترد كل قاعدة بأي احتمال ولو كان خطأً، وهو
* প্রথম আপত্তির আলোচনা:

তারা বলেছেন: ফতোয়ার ওপর প্রয়োগ করা—অর্থাৎ খবরকে ফতোয়ার ওপর প্রয়োগ করা—দুটি কারণে অসম্ভব:

প্রথমটি:

আমরা যদি একে ফতোয়ার ওপর প্রয়োগ করি, তবে ‘কওম’ (জাতি) শব্দটি অ-মুজতাহিদের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যাবে, কেননা একজন মুজতাহিদের জন্য অন্য মুজতাহিদের ফতোয়া অনুযায়ী আমল করা বৈধ নয়। কিন্তু এই সীমাবদ্ধকরণ বৈধ নয়, কারণ আয়াতটি নিঃশর্ত। তাদের আপত্তি সমাপ্ত।

আমি বলি: একাধিক আলেম বিভিন্ন দিক থেকে এটি খণ্ডন করেছেন, এবং আমি তার সব কটি উল্লেখ করিনি, কেননা তার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং এটি ভুলকে তার স্বজাতীয় বিষয় দিয়ে প্রতিহত করা; কারণ আপত্তির মূল ভিত্তিটিই সঠিক নয় এবং তা এই প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্তও নয়। কেননা আমরা শরিয়তদাতার পক্ষ থেকে বর্ণনার (রেওয়ায়েত) বিষয়ে আলোচনা করছি, মুজতাহিদের ফতোয়া বর্ণনা করা এবং অন্যকে তার দ্বারা বাধ্য করার বিষয়ে নয়। আমরা মুজতাহিদকে কেবল বর্ণনার ক্ষেত্রে ‘খবরে ওয়াহেদ’ বা একক সংবাদ গ্রহণ করতে বাধ্য করতে চাই মাত্র।

* দ্বিতীয় আপত্তির আলোচনা:

তারা বলেছেন: এই সম্ভাবনাগুলো আসার ফলে, শরিয়তের বিষয়াবলীতে একক সংবাদ দলিল হওয়ার ক্ষেত্রে এই আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করা উসুলের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোতে ধারণার গণ্ডি বহির্ভূত নয়। আর প্রতিপক্ষ এর সঠিকতা স্বীকার করে না। সুতরাং উসুলি মূলনীতি হলো—দলিলে যখন কোনো সম্ভাবনার অনুপ্রবেশ ঘটে, তখন তার দ্বারা দলিল পেশ করা বাতিল হয়ে যায়। দ্বিতীয় আপত্তি সমাপ্ত।

আমি বলি: এই আপত্তির উত্তর কয়েকটি দিক থেকে দেওয়া যায়:

প্রথমটি: মূলনীতিতে উল্লিখিত ‘সম্ভাবনা’ বলতে কেবল সেই সম্ভাবনাকেই বোঝানো হয়েছে যা খণ্ডন করা হয়নি বা নাকচ করা হয়নি। অন্যথায় যেকোনো সম্ভাবনার কারণে প্রতিটি মূলনীতিই প্রত্যাখ্যাত হতো, যদিও তা ভুল হতো। আর এটি...
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২৮)
غير صحيح، وبه تبطل سائر الأصول لأنه لا يخلو من إيراد احتمال ولو في غير موضعه، فعلمنا من هذا أن الاحتمال المراد إنما هو الاحتمال الذي لا يرد، ولا دليل على بطلانه، ولكننا قدمنا دفع جميع هذه الاحتمالات فلم يعد من معنى للاستدراك بها على بطلان أصلنا هذا.

الثاني: أن الفقهاء يحتجون بغلبة الظن، وهو لا يكون إلا في معرض الاحتمال، وكذا الأصوليون في كثير من مسائل الترجيح التي لا يظهر فيها الصواب بيناً، ولم يمنعهم من ذلك العمل بها، والاعتماد عليها.

الثالث: أن الدلالات الظنية إذا جتمعت أفادت القطع، بحسب كثرتها، ونحن لنا في هذا الباب ما لا ينضبط من الأدلة، التي لو تأملها المتأمل أفادت القطع عنده، والله أعلم.

* الحجة الثانية في قوله تعالى: (وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ). ووجه الاستدلال من هذه الآية أن الله تعالى أوجب البيان على كل فرد من الذين أوتوا الكتاب تبيان ما عرف وأن لا يكتم، فلو لم يكن بيانه حجة، ولا بلاغاً، لما كان من معنى في مطالبته بذلك.

وإنما قلنا بأن الأمر لكل واحد منهم، لأن الخطاب يكون على حسب الوسع، وليس في الوسع اجتماعهم جميعهم في مكان واحد، وإبلاغهم إبلاغاً واحدا لكل إنسان، فتبين أن المخاطب بذلك هو كل واحد منهم. وإنما قلنا بالوجوب، لأن الميثاق والعهد من أبلغ الالتزام الذي هو مقتضى الوجوب.
সঠিক নয়, এবং এর মাধ্যমে অন্যান্য সকল মূলনীতি বাতিল হয়ে যায়। কারণ এটি কোনো সম্ভাবনা উপস্থাপনের বাইরে নয়, যদিও তা প্রেক্ষিতহীন হয়। সুতরাং আমরা এর থেকে জানতে পেরেছি যে, কাঙ্ক্ষিত সম্ভাবনা কেবল সেই সম্ভাবনাই যা বাতিল হয় না এবং যার অসারতার কোনো প্রমাণ নেই। তবে আমরা পূর্বেই এই সমস্ত সম্ভাবনা খণ্ডন করেছি, তাই আমাদের এই মূলনীতির অসারতার ওপর এগুলো দিয়ে আর কোনো আপত্তি তোলার অবকাশ থাকে না।

দ্বিতীয়ত: ফকিহগণ প্রবল ধারণার ভিত্তিতে দলিল পেশ করেন, আর তা কেবল সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটেই হয়ে থাকে। একইভাবে উসুলবিদগণ তারজিহ বা প্রাধান্য দেওয়ার অনেক বিষয়ের ক্ষেত্রেও তাই করেন যেখানে সঠিক বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় না। আর এটি তাদের সেই অনুযায়ী আমল করতে এবং তার ওপর নির্ভর করতে বাধা দেয়নি।

তৃতীয়ত: ধারণাপ্রসূত প্রমাণাদি যখন একত্রিত হয়, তখন তা পরিমাণের আধিক্য অনুসারে নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। আর আমাদের কাছে এই বিষয়ে অগণিত দলিল রয়েছে, যা কোনো চিন্তা-গবেষণাকারী গভীরভাবে লক্ষ্য করলে তা তার নিকট নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করবে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

* দ্বিতীয় দলিল আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে: (আর যখন আল্লাহ কিতাবপ্রাপ্তদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যে, অবশ্যই তোমরা তা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না)। এই আয়াত থেকে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি হলো, আল্লাহ তাআলা আহলে কিতাবদের প্রত্যেকের ওপর তারা যা জানে তা বর্ণনা করা এবং তা গোপন না করা আবশ্যক করেছেন। সুতরাং যদি তাদের বর্ণনা দলিল বা প্রচার হিসেবে গণ্য না হতো, তবে তাদের এ বিষয়ে আদেশ করার কোনো অর্থ থাকত না।

আমরা বলেছি যে এই নির্দেশ তাদের প্রত্যেকের জন্য, কারণ সম্বোধন সামর্থ্য অনুযায়ী হয়ে থাকে। আর তাদের সবার এক স্থানে একত্রিত হওয়া এবং প্রতিটি মানুষের কাছে এককভাবে বার্তা পৌঁছানো তাদের সামর্থ্যের বাইরে। সুতরাং স্পষ্ট হলো যে, এর দ্বারা সম্বোধনকৃত ব্যক্তি হলো তাদের প্রত্যেকেই। আর আমরা আবশ্যকতা বা ওয়াজিব হওয়ার কথা এ জন্য বলেছি যে, অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি হলো প্রতিশ্রুতির চূড়ান্ত পর্যায় যা আবশ্যকতাকেই দাবি করে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২৯)
لكن تطرق الاحتمال لهذه الآية بخلاف سابقتها، وذلك بأن المراد بذلك العدد الذي تقوم به الحجة، دون ما لا تقوم به.

فتبقى هذه الآية الدلالة منها على سبيل الاحتمال لا الجزم. وهذا موجود في آيات أخرى منها:

* الحجة الثالثة فى قوله تعالى: (إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى) الآية.

* الحجة الرابعة في قوله تعالى: (وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ) الآية.

* الحجة الخامسة في قوله تعالى: (فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ). وفيها مناقشات أخرى سوى تطرق الاحتمال المذكور.

* الحجة السادسة في قوله تعالى: (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا). ووجه الاستدلال بهذه الآية من وجهين:

الأول: أنه علق وجوب التثبت على خبر الفاسق، فدل على أن غير الفاسق بخلافه، وذلك إما أن يكون بالجزم برده أو بقبوله، ولا جائز أن يقال بالأول، وإلا كان خبر العدل أنزل درجة من خبر الفاسق، وهو محال، فلم يبق غير الثاني.
তবে পূর্ববর্তী আয়াতের বিপরীতে এই আয়াতের ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা বিদ্যমান, আর তা হলো—এখানে সেই সংখ্যার কথা উদ্দেশ্য যার মাধ্যমে হুজ্জত বা প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়, এমন নয় যে যার মাধ্যমে তা হয় না।

ফলে এই আয়াতের নির্দেশ্যতা (দালালাত) নিশ্চিত হওয়ার পরিবর্তে সম্ভাব্যতার পর্যায়েই থেকে যায়। এটি অন্য আরও কিছু আয়াতেও পরিলক্ষিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে:

* তৃতীয় প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয়ই যারা গোপন করে যা আমি অবতীর্ণ করেছি সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও হিদায়াত থেকে...) শেষ পর্যন্ত।

* চতুর্থ প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: (আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি বানিয়েছি যাতে তোমরা মানবজাতির উপর সাক্ষী হতে পারো...) শেষ পর্যন্ত।

* পঞ্চম প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: (সুতরাং তোমরা জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো যদি তোমরা না জানো)। এতে উল্লিখিত সম্ভাব্যতা ছাড়াও অন্যান্য আলোচনা রয়েছে।

* ষষ্ঠ প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: (হে মুমিনগণ! যদি তোমাদের কাছে কোনো পাপাচারী ব্যক্তি কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও)। এই আয়াত থেকে দালিলিক প্রমাণের দিকটি দুইভাবে পরিলক্ষিত হয়:

প্রথমত: তিনি সংবাদ যাচাইয়ের আবশ্যকতাকে পাপাচারীর সংবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন। যা একথার প্রমাণ দেয় যে, পাপাচারী নয় এমন ব্যক্তি এর বিপরীত। আর তা হয় নিশ্চিতভাবে তা প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে হবে অথবা তা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে। তবে প্রথম বিষয়টি বলা বৈধ নয়; নতুবা ন্যায়পরায়ণ (আদিল) ব্যক্তির সংবাদের মর্যাদা পাপাচারীর সংবাদের চেয়েও নিচে নেমে যাবে, যা অসম্ভব। সুতরাং দ্বিতীয় বিষয়টি ছাড়া আর কোনো বিকল্প অবশিষ্ট থাকে না।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৩০)
الثاني: وهو ما جاء في سبب نزول الآية.

فقد أخرج الإمام أحمد في مسنده، وابن أبي عاصم في تفسيره، والطبراني في معجمه، وابن مندة، وابن مردويه في التفسير، بإسناد حسن عن الحارث بن ضرار الخزاعي قال:

قدمت على رسول الله صلى الله عليه وسلم فدعاني إلى الإسلام، فدخلت فيه وأقررت به، ودعاني إلى الزكاة فأقررت بها، قلت: يا رسول الله: أرجع إلى قومي فأدعوهم إلى الإسلام وأداء الزكاة، فمن استجاب لي جمعت زكاته، وترسل إلي يا رسول الله رسولاً (بأبان) كذا وكذا ليأتيك بما جمعت من الزكاة، فلما جمع الحارث الزكاة، ممن استجاب له وبلغ الأبان الذي أراد رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يبعث إليه، احتبس الرسول فلم يأت، فظن الحارث أنه قد حدث فيه سخطة من الله ورسوله، فدعا بسروات قومه فقال لهم: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان وقت لي وقتاً يرسل إلي رسوله ليقبض ما كان عندي من الزكاة، وليس من رسول الله صلى الله عليه وسلم الخلف، ولا أرى حبس رسوله إلا من سخطة فانطلقوا فنأتي رسول الله، وبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم الوليد بن عقبة إلى الحارث ليقبض المال وكان عنده مما جمع من الزكاة، فلما سار الوليد حتى بلغ بعض الطريق فرق فرجع، فأتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: إن الحارث منعني الزكاة وأراد قتلي، فضرب رسول الله صلى الله عليه وسلم البعث إلى الحارث، فأقبل الحارث بأصحابه حتى إذا استقبل البعث وفصل عن المدينة لقيهم الحارث فقالوا: هذا الحارث، فلما غشيهم قال لهم: إلى من بعثتم؟، قالوا: إليك، قال: ولم؟ قالوا: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث إليك الوليد بن عقبة فزعم أنك منعته الزكاة وأردت قتله، قال: لا والذي بعث محمداً بالحق، ما رأيته ولا أتاني.

فلما دخل الحارث على رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: منعت الزكاة وأردت قتل رسولي.
দ্বিতীয়: যা আয়াত নাযিলের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে।

ইমাম আহমাদ তাঁর ‘মুসনাদ’-এ, ইবনে আবি আসিম তাঁর তাফসিরে, তাবারানি তাঁর ‘মুজাম’-এ, ইবনে মান্দাহ এবং ইবনে মারদাওয়াইহ তাঁদের তাফসিরে হাসান সনদে হারিস ইবনে দ্বিরার আল-খুজায়ি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপস্থিত হলাম, তখন তিনি আমাকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম এবং তার স্বীকৃতি দিলাম। তিনি আমাকে যাকাতের নির্দেশ দিলেন, আমি তাও স্বীকার করে নিলাম। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আমার কওমের কাছে ফিরে যাই এবং তাদেরকে ইসলাম ও যাকাত আদায়ের দাওয়াত দিই। তাদের মধ্যে যারা আমার ডাকে সাড়া দেবে, আমি তাদের যাকাত সংগ্রহ করব। আর হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমার কাছে অমুক অমুক সময়ে একজন প্রতিনিধি পাঠাবেন, যাতে আমি যা যাকাত সংগ্রহ করেছি তা তিনি আপনার কাছে নিয়ে আসতে পারেন। অতঃপর যখন হারিস তাঁর ডাকে সাড়া দানকারীদের কাছ থেকে যাকাত সংগ্রহ করলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিনিধি পাঠানোর নির্ধারিত সময় উপস্থিত হলো, তখনো প্রতিনিধি এলেন না। হারিস ধারণা করলেন যে, হয়তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে কোনো অসন্তুষ্টির কারণে এমনটি হয়েছে। তখন তিনি তাঁর কওমের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ডাকলেন এবং তাদের বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে থাকা যাকাত গ্রহণের জন্য একজন প্রতিনিধি পাঠানোর একটি সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন না। আমি মনে করি কেবল অসন্তুষ্টির কারণেই তাঁর প্রতিনিধি আসা বন্ধ হয়েছে। অতএব চলো, আমরা আল্লাহর রাসূলের কাছে যাই। এদিকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংগৃহীত যাকাত সংগ্রহের জন্য ওয়ালিদ বিন উকবা-কে হারিসের কাছে পাঠালেন। ওয়ালিদ রওনা হয়ে পথের কিছু দূর যাওয়ার পর ভয় পেয়ে ফিরে এলেন। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন: হারিস আমাকে যাকাত দিতে অস্বীকার করেছে এবং আমাকে হত্যা করতে চেয়েছে। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারিসের কাছে একদল সৈন্য পাঠালেন। হারিসও তাঁর সাথীদের নিয়ে এগিয়ে আসছিলেন। যখন তিনি মদীনা থেকে বের হওয়া সেই সেনাদলের মুখোমুখি হলেন, তখন তারা তাকে দেখে বলল: এই তো হারিস। তিনি তাদের কাছে পৌঁছে জিজ্ঞেস করলেন: আপনারা কার কাছে যাচ্ছেন? তারা বলল: আপনার কাছে। তিনি বললেন: কেন? তারা বলল: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার কাছে ওয়ালিদ বিন উকবা-কে পাঠিয়েছিলেন, সে দাবি করেছে যে আপনি তাকে যাকাত দিতে অস্বীকার করেছেন এবং তাকে হত্যা করতে চেয়েছেন। হারিস বললেন: না, সেই সত্তার কসম যিনি মুহাম্মদকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি তাকে দেখিওনি এবং সে আমার কাছে আসেইনি।

অতঃপর হারিস যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে প্রবেশ করলেন, তিনি বললেন: তুমি যাকাত দিতে অস্বীকার করেছ এবং আমার প্রতিনিধিকে হত্যা করতে চেয়েছ।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৩১)
قال: والذي بعثك بالحق، ما رأيته ولا رآني، وما أقبلت إلا حين احتبس عليَّ رسول رسول الله صلى الله عليه وسلم، خشيت أن تكون كانت سخطة من الله ورسوله فنزل (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا) إلى قوله (حَكِيمٌ).

وأخرجه الطبراني وابن مندة وابن مردويه من حديث علقمة بن ناجية رضي الله عنه.

وأخرجه الطبراني في الأوسط وابن مروديه من حديث جابر رضي الله عنه.

وأخرجه ابن راهويه وابن جرير والطبراني وابن مردويه عن أم سلمة رضي الله عنها.

وأخرجه ابن جرير وابن مردويه والبيهقي في سننه، وابن عساكر عن ابن عباس رضي الله عنهما.

وأخرجه عبد بن حميد وابن جرير وابن المنذر والبيهقي عن مجاهد مرسلاً.

وأخرجه عبد بن حميد عن الحسن مرسلاً.

وأخرجه عبد بن حميد في مسنده عن عكرمة مرسلاً.

وأخرجه عبد بن حميد وابن جرير عن قتادة مرسلاً، وفيه أنهم أقبلوا نحوه فهابهم فرجع فأخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم بأنهم ارتدوا. وأخرجه ابن المنذر عن الضحاك مرسلاً.
তিনি বললেন: সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমি তাকে দেখিনি এবং সেও আমাকে দেখেনি। আমি কেবল তখনই ফিরে এসেছি যখন আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরিত দূত আসতে দেরি করেছিলেন; আমি আশঙ্কা করেছিলাম যে এটি হয়তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে কোনো অসন্তুষ্টির কারণে হয়েছে। তখন নাযিল হলো: "হে মুমিনগণ, যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখ..." আয়াত থেকে "প্রজ্ঞাময়" পর্যন্ত।

তাবারানি, ইবনে মানদাহ এবং ইবনে মারদুওয়াই এটি আলকামা বিন নাজিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদীস থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

তাবারানি তাঁর ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থে এবং ইবনে মারদুওয়াই এটি জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদীস থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

ইবনে রাহওয়াইহ, ইবনে জারীর, তাবারানি এবং ইবনে মারদুওয়াই এটি উম্মে সালামা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

ইবনে জারীর, ইবনে মারদুওয়াই, বাইহাকী তাঁর ‘সুনান’ গ্রন্থে এবং ইবনে আসাকির এটি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

আবদ বিন হুমাইদ, ইবনে জারীর, ইবনে মুনযির এবং বাইহাকী এটি মুজাহিদ থেকে মুরসাল হিসেবে উদ্ধৃত করেছেন।

আবদ বিন হুমাইদ এটি হাসান থেকে মুরসাল হিসেবে উদ্ধৃত করেছেন।

আবদ বিন হুমাইদ তাঁর ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে ইকরিমা থেকে মুরসাল হিসেবে উদ্ধৃত করেছেন।

আবদ বিন হুমাইদ এবং ইবনে জারীর এটি কাতাদাহ থেকে মুরসাল হিসেবে উদ্ধৃত করেছেন; এতে বর্ণিত হয়েছে যে, তারা তাঁর দিকে অগ্রসর হয়েছিল, তখন তিনি তাদের দেখে ভীত হয়ে ফিরে আসেন এবং আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দেন যে তারা ধর্মত্যাগী হয়েছে। ইবনে মুনযির এটি দাহহাক থেকে মুরসাল হিসেবে উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৩২)
ووجه الاستدلال من هذا الحديث أن النبي صلى الله عليه وسلم عمل بخبر الواحد، حيث أرسل إليهم بعثاً لقتالهم، ولو لم يكن ذلك حجة عنده لما فعله.

وقد اعترض على الاستدلال الأول بأنه مأخوذ من مفهوم المخالفة، وهو مصدر تشريعي مختلف فيه، واعترض على الاستدلال الثاني أن المذكور من سبب النزول هذا هو خبر من أخبار الآحاد فلا يكون حجة في الأصول.

قلت: ولي أنا على الاستدلال اعتراض ثالث، وهو أن قوله " فتبينوا " هو من مواضع الاستدلال من الآية، وليس فيه العدد. فيبقى محتملاً كباقي الآيات، وأما القول على موضع الاستدلال الأول الذي ذكروه في مفهوم المخالفة فتقدم.

الخلاصة:

أن ما تقدم من الآيات لا يخلو الاستدلال بها من اعتراض، إلا الأولى، فهي حجة في الباب لمن تأمل، والله أعلم.
এই হাদীস থেকে দলীল গ্রহণের দিকটি হলো যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খবরে ওয়াহিদের (একক সংবাদ) ওপর আমল করেছেন, যেহেতু তিনি তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য একটি বাহিনী প্রেরণ করেছিলেন। যদি এটি তাঁর নিকট দলীল হিসেবে গণ্য না হতো, তবে তিনি এমনটি করতেন না।

প্রথম দলীলটির ব্যাপারে এই আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে যে, এটি 'মাফহুমুল মুখালাফাহ' (বিপরীত অর্থ) থেকে গ্রহণ করা হয়েছে, যা শরীয়তের একটি বিতর্কিত উৎস। আর দ্বিতীয় দলীলের ব্যাপারে আপত্তি হলো যে, শানে নুযূল হিসেবে যা বর্ণিত হয়েছে তা একটি একক সংবাদ (খবরে ওয়াহিদ), তাই এটি উসূল বা মূলনীতির ক্ষেত্রে দলীল হতে পারে না।

আমি বলি: এই দলীলের ব্যাপারে আমার তৃতীয় একটি আপত্তি আছে, তা হলো—আয়াতের "তোমরা যাচাই করে নাও" কথাটি দলীলের স্থান, আর এতে কোনো সংখ্যার উল্লেখ নেই। ফলে অন্যান্য আয়াতের মতো এটিও একাধিক অর্থের সম্ভাবনা রাখে। আর প্রথম দলীল গ্রহণের স্থান হিসেবে তারা 'মাফহুমুল মুখালাফাহ' সম্পর্কে যা বলেছেন, তা ইতিপূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে।

সারকথা:

ইতিপূর্বে আলোচিত আয়াতগুলো দ্বারা দলীল পেশ করার বিষয়টি আপত্তিমুক্ত নয়, তবে প্রথম আয়াতটি এর ব্যতিক্রম। কারণ যে ব্যক্তি গভীরভাবে চিন্তা করবে, তার নিকট এটি এই বিষয়ে একটি দলীল। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
2 - ثانيها حجج السنة:

وقبل الشروع في بيان أدلتها لا بد من التنبيه على أن القائلين بترك العمل بخبر الواحد، وأنه غير واجب العمل به، لا يعتدون بشيء من أدلة السنة إلا ما كان متواتراً، بخلاف سائر الأئمة القائلين بصحة الاحتجاج به، فإنه لا يلزمهم حصول هذا الشرط فيه، ولذلك فإنني أبتدئ هذه الحجج من السنة بالخبر الذي هو متواتر عند جمهور المحدثين والأئمة، بخلاف المتعنتين الذين ليس لقولهم حجة ولا برهان، الذين قالوا: أربعين.

أن يبلغ عدد المخبرين أربعين كالعدد المعتبر في الجمعة.

أو الذين قالوا: سبعين لقوله تعالى: (وَاخْتَارَ مُوسَى قَوْمَهُ سَبْعِينَ رَجُلًا).

أو الذين قالوا: ثلثمائة وبضعة عشر بعدد أهل بدر.

أو الذين قالوا: خمس عشرة مائة.

أو الذين قالوا: سبع عشرة مائة.

أو الذين قالوا: أربع عشرة مائة، وهؤلاء ثلاثتهم عزوه لعدة أهل بيعة الرضوان.

أو الذين قالوا: عدد هذه الأمة.

فإن هؤلاء جميعهم مجازفون مغالون، بل هاذون أعني القائلين منهم بما هو فوق السبعين.

وأما سائر بقية العلماء فقد قالوا بما هو دون ذلك بكثير، ما بين الأربعة إلى العشرين، ومعلوم أن هذا العدد مشروط في سائر الطبقات عند الجميع.

وهذا ذكر الحديث الأول الذي هو متواتر عند طائفة غير قليلة من
২ - দ্বিতীয়টি হলো সুন্নাহর দলীলসমূহ:

এর দলীলসমূহ বর্ণনা শুরু করার আগে এই বিষয়ে সতর্ক করা আবশ্যক যে, যারা খবরে ওয়াহিদ বা একক বর্ণনার ওপর আমল বর্জন করার প্রবক্তা এবং যারা মনে করেন যে এর ওপর আমল করা ওয়াজিব নয়, তারা সুন্নাহর দলীলসমূহের মধ্যে মুতাওয়াতির ব্যতীত অন্য কোনো কিছুকেই গণ্য করেন না। এটি সেই সকল ইমামদের মতের বিপরীত যারা একে (খবরে ওয়াহিদ) দলীল হিসেবে গ্রহণ করা সহীহ মনে করেন, কেননা তাদের নিকট খবরে ওয়াহিদের ক্ষেত্রে এই শর্ত পূরণ হওয়া আবশ্যক নয়। এই কারণে আমি সুন্নাহ থেকে এই দলীলগুলো এমন বর্ণনা দ্বারা শুরু করছি যা জুমহুর মুহাদ্দিস ও ইমামগণের নিকট মুতাওয়াতির। আমি সেই সকল হঠকারীদের ভ্রুক্ষেপ করছি না যাদের কথার স্বপক্ষে কোনো দলীল বা প্রমাণ নেই, যারা বলেছেন: চল্লিশ জন হতে হবে।

অর্থাৎ সংবাদ প্রদানকারীদের সংখ্যা চল্লিশে পৌঁছাতে হবে, যেমন জুমু'আর ক্ষেত্রে সংখ্যাটি বিবেচিত হয়।

অথবা যারা বলেছেন: সত্তর জন; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: (আর মূসা তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে সত্তর জন পুরুষ নির্বাচন করলেন)।

অথবা যারা বলেছেন: তিনশত দশের কিছু অধিক, যা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যার সমান।

অথবা যারা বলেছেন: পনেরো শত।

অথবা যারা বলেছেন: সতেরো শত।

অথবা যারা বলেছেন: চৌদ্দ শত; এই তিন দলই এই সংখ্যা নির্ধারণকে বাইয়াতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।

অথবা যারা বলেছেন: এই উম্মতের সামগ্রিক সংখ্যা।

নিশ্চয়ই তারা সকলে অনুমাননির্ভর ও অতিরঞ্জনকারী, বরং তারা প্রলাপ বকছেন—উদ্দেশ্য হলো তাদের মধ্যে যারা সত্তরের অধিক সংখ্যার কথা বলেছেন।

পক্ষান্তরে অবশিষ্ট আলেমগণ এর চেয়ে অনেক কম সংখ্যার কথা বলেছেন, যা চার থেকে বিশের মধ্যে। এটি সুপরিচিত যে, এই সংখ্যাটি সবার নিকটই বর্ণনা পরম্পরার সকল স্তরে থাকা শর্ত।

এখানে প্রথম হাদীসটি উল্লেখ করা হলো যা একটি বড় জামাতের নিকট মুতাওয়াতির...
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহা লি-মা’রিফাতিল আহাদিসিল্লাতি লাম ইয়াফতি বিহা আল-ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৩৪)
المحدثين والفقهاء الأصوليين، وهو أول حديث ذكره الشافعي رحمه الله في " الرسالة " في باب الحجة في تثبيت خبر الواحد.

1 - حديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "نضّر الله امرأً سمع منا حديثاً، فبلغه كما سمعه، فرب مبلغ أوعى من سامع ".
মুহাদ্দিসগণ এবং উসুলবিদ ফকীহগণ; এটিই প্রথম হাদিস যা শাফেঈ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থে 'খবরুল ওয়াহিদ' বা একক বর্ণনা সাব্যস্ত করার দলীল সংক্রান্ত অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন।

১ - আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে উজ্জ্বল ও সজীব রাখুন যে আমাদের থেকে কোনো কথা শুনেছে, অতঃপর তা অবিকল সেভাবেই পৌঁছে দিয়েছে যেভাবে সে শুনেছে; কেননা অনেক সময় যাকে পৌঁছানো হয় সে শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।"