(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
حكم الغناء في مذهب المالكية   (مصطفى باحو)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: حكم الغناء في مذهب المالكية

المؤلف: أبو سفيان مصطفى باحُّو السلاوي المغربي

الناشر: جريدة السبيل

الطبعة: الثانية، ذو القعدة 1428 - ديسمبر 2007

عدد الصفحات: 59

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 7 صفر 1434

মালিকী মাযহাবে গান-বাজনার বিধান   (মোস্তফা বাহু)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


কিতাব: মালিকী মাযহাবে গান-বাজনার বিধান

গ্রন্থকার: আবু সুফিয়ান মোস্তফা বাহু আস-সালাওয়ী আল-মাগরিবি

প্রকাশক: জারিদাতুস সাবিল

সংস্করণ: দ্বিতীয়, যুল-কাদা ১৪২৮ - ডিসেম্বর ২০০৭

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৭ সফর ১৪৩৪

(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
حكم الغناء

في

مذهب المالكية

 

تأليف: مصطفى باحو
সংগীতের বিধান

মালিকি

মাযহাবে

 

গ্রন্থনায়: মোস্তফা বাহু
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
الكتاب: حكم الغناء في مذهب المالكية

المؤلف: مصطفى باحو

الطبعة: الثانية، ذو القعدة 1428 - دجنبر 2007

الناشر: جريدة السبيل

البريد الإلكتروني: assabil1@menara.ma

الإيداع القانوني: 2007/ 3208
গ্রন্থ: মালিকি মাযহাবে গান-বাজনার বিধান

লেখক: মুস্তাফা বাহু

সংস্করণ: দ্বিতীয়, যিলকদ ১৪২৮ - ডিসেম্বর ২০০৭

প্রকাশক: জারিদাতুস সাবিল

ইমেইল: assabil1@menara.ma

আইনি জমা: ২০০৭/ ৩২০৮
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة الطبعة الثانية

بسم الله الرحمن الرحيم

 

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وبعد، فهذه هي الطبعة الثانية لهذه الرسالة، تأتي بعد نفاد ألفي (2000) نسخة من الطبعة الأولى.

أطبعها بعد كثرة الإلحاح على إعادة طبعها، واستحسان طلبة العلم وأهله إعادة نشرها.

وقد أصلحت فيها بعض الأخطاء المطبعية. والله الموفق بمنه وكرمه.
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই।

অতঃপর, এটি হলো এই পুস্তিকাটির দ্বিতীয় সংস্করণ, যা প্রথম সংস্করণের দুই হাজার (২০০০) কপি নিঃশেষ হওয়ার পর প্রকাশিত হচ্ছে।

এটি পুনরায় মুদ্রণের জন্য প্রবল পিড়াপিড়ি এবং তালিবে ইলম ও বিদগ্ধজনদের পক্ষ থেকে এটি পুনরায় প্রকাশের সানুগ্রহ সমর্থনের প্রেক্ষিতে আমি এটি পুনরায় মুদ্রণ করছি।

আমি এতে কিছু মুদ্রণজনিত ত্রুটি সংশোধন করেছি। আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় তাওফিকদানকারী।
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌مقدمة الطبعة الأولى:

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

أما بعد، فإني كنت وقفت على بعض كتب المالكية المفردة في تحريم الغناء والرد على مستحليه، وكلها لازالت مخطوطة إلا كتاب الطرطوشي كما سيأتي، فرأيت أن أجمع بعض نصوصها، وأختار منها ما يوضح بجلاء مذهب المالكية في هذا الموضوع الذي استطار في الناس شره، وعمَّ بين الخلق ضرره.

أما الكتب التي جعلتها عمدة بحثي ومعول قصدي، فهي:

1 - الزجر والإقماع، بزواجر الشرع المطاع، لمن يؤمن بالله ورسوله ويوم الاجتماع، عن ءالات اللهو
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা:

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই।

অতঃপর, আমি মালিকি মাযহাবের এমন কিছু স্বতন্ত্র কিতাব সম্পর্কে অবগত হয়েছি যা গান-বাজনা নিষিদ্ধকরণ এবং যারা একে বৈধ মনে করে তাদের খণ্ডন প্রসঙ্গে রচিত। আল-তারতুশির কিতাব ব্যতীত (যার বর্ণনা সামনে আসবে) এগুলোর সবই এখনো পাণ্ডুলিপি অবস্থায় রয়েছে। তাই আমি এগুলোর কিছু উদ্ধৃতি সংকলন করার এবং সেখান থেকে এমন কিছু অংশ নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি যা এই বিষয়ে মালিকি মাযহাবের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে পরিস্ফুট করে; এটি এমন এক বিষয় যার অনিষ্টতা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে এবং যার ক্ষতি সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

আমি আমার গবেষণার প্রধান উৎস এবং মূল ভিত্তি হিসেবে যে কিতাবগুলোকে গ্রহণ করেছি, সেগুলো হলো:

১ - আয-যাজরু ওয়াল ইকমা‘, বি-যাওয়াজিরিশ শারয়িল মুতা‘, লিমান ইউ’মিনু বিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া ইয়াউমিল ইজতিমা‘, আন আলাতিল লাহউ (বাদ্যযন্ত্র বর্জনে আল্লাহর অনুগত শরীয়তের কঠোর বাণীসমূহ)
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
والسماع: لأبي عبد الله محمد بن المدني كنون (المتوفى سنة 1302)، وهو من علماء المالكية المتأخرين.

ويقع في أزيد من (291) صفحة، ورتبه على ثلاثة فصول.

الفصل الأول: في بيان حقيقة السماع وحكمه.

والثاني: في ذكر الآيات والأحاديث والآثار.

والثالث: في ذكر كلام الأئمة من المحدثين والفقهاء والصوفية.

قال في مقدمته (2): لما رأيت كثيرا من ينسب للعلم والفضل يحضر ءالات اللهو، التي هي من شأن ذوي الفسق والجهل، إما جهلا وعمها، وإما لبسا للحق بالباطل خفة وسفها، أردت أن أجمع في ذلك ما وقفت عليه من الآيات والأحاديث وكلام الأئمة، عسى أن ينتفع بذلك من أراد الله به خيرا، وللرشد ألهمه.

والمؤلف ابن المدني كنون قال عنه الثعالبي في الفكر السامي (2/ 303): هذا الشيخ من أكبر المتضلعين في العلوم
আস-সামা: এটি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-মাদানি কানুন (মৃত্যু ১৩০২ হিজরি) এর রচনা, যিনি পরবর্তীকালের (المتأخرين) মালেকি আলেমদের অন্তর্ভুক্ত।

এটি ২৯১ পৃষ্ঠারও বেশি পরিব্যাপ্ত এবং তিনি এটিকে তিনটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন।

প্রথম অধ্যায়: সামা-এর প্রকৃত স্বরূপ ও এর বিধান বর্ণনায়।

দ্বিতীয় অধ্যায়: আয়াত, হাদিস ও বর্ণনা (آثار) বর্ণনায়।

তৃতীয় অধ্যায়: মুহাদ্দিসগণ (المحدثين), ফকিহগণ ও সুফিগণের বক্তব্য বর্ণনায়।

তিনি তার ভূমিকার (২) পৃষ্ঠায় বলেছেন: যখন আমি ইলম ও মর্যাদার অধিকারী বলে পরিচিত অনেক ব্যক্তিকে বাদ্যযন্ত্রের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে দেখলাম—যা পাপাচারী ও অজ্ঞদের স্বভাব—হয়তো অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতার কারণে, নতুবা চপলতা ও নির্বুদ্ধিতাবশত সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করার কারণে; তখন আমি এ বিষয়ে আমার নজরে আসা আয়াত, হাদিস ও ইমামগণের বক্তব্য সংকলন করার ইচ্ছা পোষণ করলাম। হতে পারে এর দ্বারা তারা উপকৃত হবেন যাদের জন্য আল্লাহ কল্যাণ চান এবং যাদের তিনি সুপথের প্রেরণা দান করেন।

লেখক ইবনে আল-মাদানি কানুন সম্পর্কে ছা'আলিবি আল-ফিকর আস-সামি (২/৩০৩) গ্রন্থে বলেছেন: এই শাইখ জ্ঞান-বিজ্ঞানে প্রগাঢ় পাণ্ডিত্য অর্জনকারী শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্যতম।
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
الشرعية الورعين المعلنين بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وخاتمتهم في المغرب، شيخ شيوخنا، وشيخ شيوخ جل المغرب، رأس علمائه في القرن الثالث عشر بلا منازع، كان مفتيا محدثا نحويا لغويا معقوليا مشاركا محققا نزيها، قوالا للحق مطبوعا على ذلك، غير هياب ولا وجل، نزيها مقداما مهيبا، عالي الهمة، دؤوبا على نشر العلم والإرشاد والنهي عن المناكير والبدع … وكان شديدا على أهل الطرق وما لهم من البدع التي شوهت جمال الدين والمتصوفة أصحاب الدعاوى التي تكذبها الأحوال. انتهى.

وقد طبع الكتاب طبعة حجرية بفاس، ونسبه لكنون صاحب شجرة النور الزكية (430).

2 - تحريم الغناء والسماع لأبي بكر الطرطوشي المالكي، وقد طبع في دار الغرب الإسلامي.

3 - إمتاع الأسماع بتحرير ما التبس من حكم السماع لمحمد بن أحمد الرهوني المالكي (المتوفى سنة 1230).

وقد قسمه مؤلفه إلى ثلاثة أبواب:
শরীয়তপন্থী পরহেজগারগণের অন্তর্ভুক্ত, যারা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধকারী হিসেবে সুপরিচিত এবং মরক্কোতে (মাগরিব) তাঁদের ধারার সর্বশেষ প্রতিনিধি হলেন আমাদের শাইখদের শাইখ এবং মরক্কোর অধিকাংশ শাইখদের উস্তাদ। তিনি ছিলেন ত্রয়োদশ শতাব্দীর আলেমদের অবিসংবাদিত শিরোমণি। তিনি একাধারে মুফতি, মুহাদ্দিস (محدث), নাহুবিদ, ভাষাবিদ, যুক্তিশাস্ত্রবিদ, দক্ষ গবেষক ও অত্যন্ত পবিত্র চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন সত্য উচ্চারণে নির্ভীক এবং এটিই ছিল তাঁর সহজাত বৈশিষ্ট্য; কোনো ভয়-ভীতি বা শঙ্কা তাঁকে পিছু হটাতে পারত না। তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন, অগ্রগামী, প্রভাবশালী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিত্ব। তিনি ইলম প্রচার, সঠিক পথনির্দেশ এবং গর্হিত বা বর্জনীয় বিষয় (منكر) ও বিদআত প্রতিরোধের কাজে সদা সচেষ্ট ছিলেন … তিনি সূফী তরীকার অনুসারী এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত ঐসব বিদআতের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন যারা দ্বীনের সৌন্দর্যকে বিকৃত করেছে এবং ঐসব সুফিদের ব্যাপারেও যাদের দাবি-দাওয়া তাদের বাস্তব অবস্থার বিপরীত ছিল। সমাপ্ত।

কিতাবটি ফেজ শহরে লিথোগ্রাফিক পদ্ধতিতে মুদ্রিত হয়েছে এবং 'শাজরাতুন নূর আল-জাকিয়া' (৪৩০) গ্রন্থের লেখক কানুন একে তাঁর প্রতি নিসবত করেছেন।

২ - আবু বকর আল-তোরতুশি আল-মালিকি রচিত 'তহরিমুল গিনা ওয়াস সামা', যা দারুল গারব আল-ইসলামি থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

৩ - মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-রাহুনি আল-মালিকি (মৃত্যু ১২৩০ হিজরি) রচিত 'ইমতাউল আসমা বি তাহরিরি মা ইলতাবাসা মিন হুকমিস সামা'।

লেখক গ্রন্থটিকে তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছেন:
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
الأول: في تحقيق مذهب مالك وإبطال ما نسب إليه من إجازته سماع العود وفعله وأنه وجد في تركته.

والثاني: فيما جاء في ذم الغناء من الآيات القرآنية والأحاديث النبوية وأقوال الأئمة فقهاء وصوفية.

والثالث: فيما يفهم من انبغاء التنزه عن كل ما من شأنه أن يشغل عن ذكر الله.

والكتاب منه نسخ كثيرة في المكتبات، منها بالخزانة الحسنية رقم 6430، وهذه بخط المصنف، 4864 - 6040 - 11950 - 4764 - وبالخزانة العامة 4058 - 963 د، ويقع منسوبا في أكثر هذه المصادر للسلطان المولى سليمان مجازا، لأنه هو الآمر بكتابته.

والمؤلف الرهوني، قال عنه في الفكر السامي (2/ 297): كان حافظا متقنا فقيها متفننا .. من فقهاء وقته النظار، وممن تفتخر به الأعصار، دارت الفتيا عليه في المغرب.

4 - تقييد في إنكار الرقص والطار لأحمد بن محمد المرنيسي (ت 1277).

يوجد مخطوطا في الخزانة العامة رقم: 2744 د- 237 ك.
প্রথমত: ইমাম মালিকের মাযহাবের গবেষণামূলক বিশ্লেষণ (تحقيق) এবং তাঁর প্রতি যে বিষয়টির সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে যে, তিনি উদ (বাদ্যযন্ত্র) শ্রবণ ও এর চর্চাকে বৈধতা দিয়েছেন এবং এটি তাঁর ত্যাজ্য সম্পত্তিতে পাওয়া গিয়েছিল—তার অসারতা প্রমাণ প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয়ত: গান-বাজনার নিন্দায় অবতীর্ণ পবিত্র কুরআনের আয়াত, নববী হাদিস এবং ফকিহ (فقيه) ও সুফি ইমামগণের বাণীর বর্ণনায়।

তৃতীয়ত: আল্লাহর জিকির থেকে বিমুখ করতে পারে এমন সব বিষয় থেকে পবিত্র থাকার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে যা উপলব্ধি করা যায়, সে বিষয়ে।

গ্রন্থাগারগুলোতে এই কিতাবটির বহু পাণ্ডুলিপি (مخطوط) বিদ্যমান। এর মধ্যে ‘খিজানা হাসানিয়া’তে ৬৪৩০ নম্বর পাণ্ডুলিপিটি লেখকের নিজস্ব হস্তাক্ষরে লিখিত। এছাড়া ৪৮৬৪, ৬০৪০, ১১৯৫০ এবং ৪৭৬৪ নম্বর পাণ্ডুলিপিও সেখানে রয়েছে। ‘খিজানা আম্মা’তে ৪০৫৮ ও ৯৬৩-দ নম্বর পাণ্ডুলিপি রয়েছে। অধিকাংশ উৎসে কিতাবটিকে রূপকার্থে সুলতান মাওলা সুলাইমানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, কারণ তিনিই এটি রচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আর লেখক আল-রাহুনি সম্পর্কে ‘আল-ফিকর আস-সামি’ (২/২৯৭) গ্রন্থে বলা হয়েছে: তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (حافظ), সুদক্ষ (متقن) এবং বহুবিদ্যায় পারদর্শী ফকিহ (فقيه)... তিনি তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ তত্ত্বজ্ঞানী ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদের নিয়ে যুগ-যুগান্তর গর্ববোধ করে। মরক্কোতে ফতোয়া প্রদানের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন তিনি।

৪ - নৃত্য ও দফ বাজানোর প্রতিবাদে একটি প্রবন্ধ; লেখক: আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মুরনিসি (ওফাত ১২৭৭ হিজরি)।

এটি আল-খিজানা আল-আম্মাতে ২৭৪৪ দ- ২৩৭ ক নম্বরে পাণ্ডুলিপি (مخطوط) হিসেবে সংরক্ষিত আছে।
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وموضوعه واضح من عنوانه.

وقد رد عليه بعضهم، فتولى الرد عليه الغالي اللجائي في إبطال الشبه ورفع الإلباس، وهو الكتاب التالي:

5 - إبطال الشبه ورفع الإلباس في الرد على من صوب في تقييد له خطأ الناس، لأبي عبد الله محمد الغالي بن محمد الحسني العمراني اللجائي المتوفى (سنة 1289).

مخطوط في الخزانة الحسنية رقم (11482) ويقع في (564) صفحة، وهو رد على الصوفية والطرقيين في الرقص والسماع والغناء والذكر جماعة، وقد ذكر الكتاب منسوبا لمؤلفه صاحب دليل مؤرخ المغرب (2/ 435).

5 - السيف اليماني لمن أفتى بحل سماع الآلات والأغاني لمصطفى بن رمضان بن عبد الكريم البرلسي المالكي الشهير بالبولاقي (المتوفى سنة 1263).

وقد حققته وسيصدر قريبا إن شاء الله تعالى.

ثم زدت على الكتب المتقدمة نقولا أخرى من المعيار المعرب للونشريسي، والنوادر والزيادات لابن أبي زيد القيرواني،
এর বিষয়বস্তু এর শিরোনাম থেকেই স্পষ্ট।

কেউ কেউ এর ওপর খণ্ডন করেছেন, অতঃপর আল-গালি আল-লাজায়ী 'ইবতালুশ শুবাহ ওয়া রাফউল ইলবাস' কিতাবে এর প্রত্যুত্তর প্রদান করেছেন, আর কিতাবটি নিম্নরূপ:

5 - ইবতালুশ শুবাহ ওয়া রাফউল ইলবাস ফি আর-রাদ্দি আলা মান সাওয়াবা ফি তাকয়িদিন লাহু খাতায়িন নাস; এটি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আল-গালি ইবনে মুহাম্মদ আল-হাসানি আল-উমরানি আল-লাজায়ী-এর রচিত, যিনি (১২৮৯ হিজরি সালে) মৃত্যুবরণ (المتوفى) করেন।

এটি আল-খিজানাহ আল-হাসানিয়্যাহ-তে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি (مخطوط), যার নম্বর (১১৪৮২) এবং এটি (৫৬৪) পৃষ্ঠা সম্বলিত। এটি নাচ, সামা, গান এবং সম্মিলিত জিকিরের বিষয়ে সুফি ও তরিকতপন্থীদের খণ্ডনে রচিত; 'দালিলু মুয়াররিখিল মাগরিব' (২/৪৩৫) এর রচয়িতা কিতাবটিকে এর লেখকের সাথে সম্পর্কিত (منسوب) বলে উল্লেখ করেছেন।

5 - আস-সাইফুল ইয়ামানি লিমান আফতা বি-হিল্লি সামায়িল আলতি ওয়াল আগানি; এটি মোস্তফা ইবনে রমজান ইবনে আব্দুল কারিম আল-বুরুল্লুসি আল-মালিকি-এর রচিত, যিনি আল-বুলাকি নামে প্রসিদ্ধ, (১২৬৩ হিজরি সালে) মৃত্যুবরণ (المتوفى) করেন।

আমি এটি সম্পাদনা (تحقيق) করেছি এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা শীঘ্রই এটি প্রকাশিত হবে।

অতঃপর আমি পূর্বোক্ত কিতাবগুলোর সাথে ওনশারিসি-র 'আল-মিইয়ার আল-মুবরাব' এবং ইবনে আবি জায়িদ আল-কায়রাওয়ানি-র 'আন-নাওয়াদির ওয়াজ জিয়াদাত' থেকে আরও কিছু উদ্ধৃতি (نقول) বৃদ্ধি করেছি।
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وبعض شروح مختصر خليل، والبيان والتحصيل لابن رشد، والمقدمات الممهدات لابن رشد، وتفسير القرطبي، وشروح مسلم للقاضي عياض والأبي وغيرها، ليتبين لكل منصف بجلاء رأي المالكية في هذا الموضوع، وخطأ من نسب إليهم إجازته.

ولذلك قال شيخ الإسلام ابن تيمية- وهو الخبير بمقالات الناس وآرائهم- في الاستقامة (1/ 273): وأما نقلهم لإباحته عن مالك وأهل الحجاز كلهم فهذا غلط من أسوإ الغلط، فإن أئمة أهل الحجاز على كراهته وذمه، ومالك نفسه لم يختلف قوله وقول أصحابه في ذمه وكراهته، بل هو من المبالغين في ذلك، حتى صنف أصحابه كتبا مفردة في ذم الغناء والسماع. اهـ

ومن الرسائل التي ألفها علماء مالكية في نفس الموضوع:

6 - جواب في الرقص والشطح عند الذكر لعبد الله بن محمد بن موسى العبدوسي (ت849).

يوجد مخطوطا في الخزانة الحسنية (12212) (ص106 - 107).

وهي رسالة صغيرة في ثلاث صفحات ونصف في الرد على السماع الصوفي.
এবং মুখতাসার খলীল-এর কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ইবনে রুশদ-এর আল-বায়ান ওয়া আত-তাহসীল, ইবনে রুশদ-এর আল-মুকাদ্দিমাত আল-মুমাহহিদাত, তাফসীর আল-কুরতুবী এবং কাজী ইয়াদ ও আল-উব্বী কর্তৃক মুসলিম-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ এবং অন্যান্য উৎসসমূহ; যাতে প্রত্যেক ইনসাফগার ব্যক্তির নিকট এই বিষয়ে মালিকী মাযহাবের অভিমত সুস্পষ্ট হয় এবং যারা তাদের দিকে এর বৈধতাকে সম্বন্ধযুক্ত করেছে তাদের ভুলও স্পষ্ট হয়।

এই কারণেই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ—যিনি মানুষের মতবাদ ও চিন্তাধারা সম্পর্কে বিশেষভাবে অভিজ্ঞ—তাঁর ‘আল-ইস্তিকামাহ’ (১/২৭৩) গ্রন্থে বলেছেন: “আর ইমাম মালিক এবং হিজাযের সকল অধিবাসীর পক্ষ থেকে এর বৈধতা সংক্রান্ত তাদের বর্ণনাটি নিকৃষ্টতম ভুলগুলোর (غلط) একটি। কেননা হিজাযের ইমামগণ এর অপছন্দনীয়তা (كراهة) এবং নিন্দার (ذم) উপর অটল ছিলেন। স্বয়ং ইমাম মালিক এবং তাঁর অনুসারীদের বক্তব্যে এর নিন্দা (ذم) ও অপছন্দনীয়তার (كراهة) ব্যাপারে কোনো ভিন্নমত নেই; বরং তিনি এ ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন, এমনকি তাঁর অনুসারীরা গান এবং বাদ্য শ্রবণের (سماع) নিন্দায় (ذم) পৃথক পৃথক কিতাব রচনা করেছেন।” সমাপ্ত।

আর মালিকী আলেমগণ একই বিষয়ে যেসব পুস্তিকা রচনা করেছেন তার মধ্যে রয়েছে:

৬ - আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-আবদুসী (মৃ. ৮৪৯ হিজরী) রচিত যিকিরের সময় নৃত্য ও শাতহ (উন্মাদনা) সম্পর্কিত উত্তর।

এটি আল-খিজানাত আল-হাসানিয়্যাহ-তে পাণ্ডুলিপি (مخطوط) হিসেবে সংরক্ষিত আছে (১২২১২) (পৃ. ১০৬ - ১০৭)।

এটি সূফীবাদী শ্রবণ (سماع) বা বাদ্যের খণ্ডনে সাড়ে তিন পৃষ্ঠার একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা।
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
ومما قال فيها: الشطح والرقص والصياح ولطم الصدور وهز الرؤوس بالعنق حالة الذكر حرام وفاعله ظالم ءاثم عاص لله ورسوله، ومن لم يتب من ذلك فلا تجوز إمامته ولا شهادته، وكل من حضر هذا المشهود فهم منهم، وإن لم يعمل مثل عملهم. وقال الشيخ الطرطوشي رحمه الله: إن ذلك بدعة وضلالة. انتهى.

وفي الختام أنبه على مسألة هامة، وهي أن بعض العلماء يطلقون الغناء على ما تجرد عن الآلات الموسيقية، فيحكون فيه الخلاف. وهذا موجود في كلامهم، فيظن الواقف عليه أن الخلاف جار كذلك فيما اقترن بالآلات. وليس كذلك، فليتنبه إلى هذا جيدا (1)، والله الهادي إلى سواء السبيل.

 

وكتبه: أبو سفيان مصطفى باحو.

أوائل جمادى الأولى 1419/ 4 شتنبر 1998

--------------------------------------------

(1) وقد صرح بهذا الغلائي اللجائي في إبطال الشبه (107) وسيأتي نقل كلامه بنصه.
তিনি এ বিষয়ে যা বলেছেন তার মধ্যে রয়েছে: জিকিরের অবস্থায় ভাবোন্মাদনা (الشطح), নৃত্য, চিৎকার করা, বুক চাপড়ানো এবং ঘাড়সহ মাথা নাড়ানো নিষিদ্ধ (حرام); আর এর সম্পাদনকারী জালিম, পাপিষ্ঠ এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য। যে ব্যক্তি এ থেকে তওবা করবে না, তার ইমামতি কিংবা সাক্ষ্য (شهادة) গ্রহণযোগ্য হবে না। আর যারা এই মজলিসে উপস্থিত হবে তারা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে, যদিও তারা তাদের মতো কাজ না করে। শাইখ আত-তারতুশি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: নিশ্চয়ই এটি একটি উদ্ভাবন (بدعة) এবং পথভ্রষ্টতা (ضلالة)। সমাপ্ত।

পরিশেষে আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আর তা হলো—কিছু আলেম বাদ্যযন্ত্রবিহীন গানকে 'গিনা' হিসেবে অভিহিত করেন এবং সে বিষয়ে মতভেদের (خلاف) কথা উল্লেখ করেন। এটি তাদের আলোচনায় বিদ্যমান রয়েছে, যার ফলে কোনো পাঠক মনে করতে পারেন যে বাদ্যযন্ত্রযুক্ত গানের ক্ষেত্রেও এই মতভেদ (خلاف) কার্যকর। অথচ বিষয়টি তেমন নয়; সুতরাং এ ব্যাপারে সম্যক সতর্ক থাকা উচিত (১), আল্লাহই সঠিক পথের দিশারী।

 

এটি লিখেছেন: আবু সুফিয়ান মুস্তফা বাহু।

জমাদিউল আউয়ালের প্রথম দিক ১৪১৯ হিজরি / ৪ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮

--------------------------------------------

(১) আল-গালাঈ আল-লাজাঈ 'ইবতালুশ শুবুহ' (১০৭) গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং সামনে তার বক্তব্যের পূর্ণ পাঠ উদ্ধৃত করা হবে।
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الفصل الأول:

إجماع علماء المالكية وغيرهم على تحريم الغناء

نص عدد كبير من علماء المالكية على تحريم الغناء، وخصوصا إذا كان بآلة من آلات اللهو، ونقلوا في ذلك الإجماع، منهم القرطبي والطرطوشي وأبو عبد الله الساحلي ويوسف بن عمر الأنفاسي والدردير وابن المدني كنون وآخرون، وكلهم مالكية، وقد حكى الإجماع غير المالكية، لكني أقتصر هنا على ما حكاه المالكية أنفسهم، أو حكوه عن غيرهم وسكتوا مقرين له.

وإليك نصوصا من أقوالهم:

- قال العلامة أبو عبد الله الساحلي الأندلسي المالكي (ت: 754) في بغية السالك في أشرف المسالك (2/ 598): فأما الممنوع باتفاق فهو ما أضيف إليه الملاهي كالمزامير ونحوها.
প্রথম অধ্যায়:

গান-বাদ্য নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে মালিকি আলেম ও অন্যদের ঐকমত্য (إجماع)

মালিকি মাযহাবের বিপুল সংখ্যক আলেম গান নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছেন, বিশেষত যখন তা কোনো আনন্দ-উৎসবের বাদ্যযন্ত্রের সাথে হয়। এ বিষয়ে তারা ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আল-কুরতুবী, আত-তারতুশি, আবু আব্দুল্লাহ আল-সাহিলি, ইউসুফ ইবনে উমর আল-আনফাসি, আদ-দারদির, ইবনে আল-মাদানি কানুন এবং আরও অনেকে। তাঁরা সকলেই মালিকি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। মালিকিগণ ব্যতীত অন্যরাও এই ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন, তবে আমি এখানে কেবল মালিকি আলেমগণ নিজেরা যা বর্ণনা করেছেন অথবা অন্যদের থেকে বর্ণনা করে তার প্রতি মৌন সমর্থন জ্ঞাপন করে নীরব থেকেছেন, তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব।

তাদের বক্তব্যের কিছু উদ্ধৃতি নিচে দেওয়া হলো:

- আল্লামা আবু আব্দুল্লাহ আল-সাহিলি আল-আন্দালুসি আল-মালিকি (মৃত্যু: ৭৫৪ হি.) তাঁর বুগইয়াতুস সালিক ফি আশরাফিল মাসালিক (২/৫৯৮) গ্রন্থে বলেছেন: "আর যা সর্বসম্মতভাবে (اتفاق) নিষিদ্ধ, তা হলো ওইসব বিষয় যার সাথে বাদ্যযন্ত্র যেমন বংশীবাদন বা অনুরূপ কিছু যুক্ত থাকে।"
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
- وقال ابن الحاج (1) المالكي في المدخل ما نصه (2/ 2): وقد نقل ابن الصلاح رحمه الله تعالى أن الإجماع منعقد على أن آلات الطرب إذا اجتمعت فهي محرمة. اهـ.

- وقال الشيخ يوسف بن عمر الأنفاسي الفاسي المالكي المتوفى سنة (761): أما الغناء فحرام بآلة بإجماع. الزجر والإقماع (199).

- وقال ابن حجر الهيتمي في الزواجر (3/ 258): وقال الإمام أبو العباس القرطبي: أما المزامير والأوتار والكوبة فلا يختلف في تحريم استماعها، ولم أسمع عن أحد ممن يعتبر قوله من السلف وأئمة الخلف من يبيح ذلك.

- وقال أبو عبد الله القرطبي المالكي في تفسيره (14/ 54): فأما ما ابتدعته الصوفية اليوم من الإدمان على سماع المغاني بالآلات المطربة من الشبابات والطار والمعازف والأوتار فحرام.

--------------------------------------------

(1) ابن الحاج هو: أبو عبد الله محمد بن محمد العبدري الفاسي (ت737). له ترجمة في حسن المحاضرة (1/ 381) وكشف الظنون (2/ 1643) وغيرها.
- এবং ইবনুল হাজ্জ (১) আল-মালিকি 'আল-মাদখাল' গ্রন্থে (২/২) যা উল্লেখ করেছেন তার পাঠ্য হলো: ইবনুস সালাহ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বর্ণনা করেছেন যে, বাদ্যযন্ত্রসমূহ যখন একত্রিত হয়, তখন তা হারাম হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সমাপ্ত।

- এবং শেখ ইউসুফ বিন উমর আল-আনফাসি আল-ফাসি আল-মালিকি (মৃত্যু: ৭৬১ হিজরি) বলেছেন: বাদ্যযন্ত্রসহ গান গাওয়া ঐকমত্য (إجماع) অনুযায়ী হারাম। আয-যাজরু ওয়াল ইকমাহ (১৯৯)।

- এবং ইবনে হাজার আল-হাইতামি 'আয-যাওয়াযির' গ্রন্থে (৩/২৫৮) বলেছেন: ইমাম আবুল আব্বাস আল-কুরতুবি বলেছেন: বাঁশি, তারযুক্ত যন্ত্র এবং ঢোলের ক্ষেত্রে তা শোনার অবৈধতার বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই; আর আমি সালাফ এবং পরবর্তী যুগের ইমামদের মধ্য থেকে এমন কারো কথা শুনিনি যার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য (معتبر) হিসেবে বিবেচিত এবং তিনি একে বৈধ সাব্যস্ত করেছেন।

- এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-কুরতুবি আল-মালিকি তার তাফসিরে (১৪/৫৪) বলেছেন: বর্তমানে সুফিরা বাঁশি, দফ, বাদ্যযন্ত্র এবং তারযুক্ত যন্ত্রের মাধ্যমে গান শোনার আসক্তির যে নতুন প্রথা উদ্ভাবন করেছে, তা হারাম।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল হাজ্জ হলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-আবদারি আল-ফাসি (মৃত্যু: ৭৩৭ হিজরি)। হুসনুল মুহাদারা (১/৩৮১), কাশফুয যুনুন (২/১৬৪৩) এবং অন্যান্য গ্রন্থে তার জীবনী রয়েছে।
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
- وقال محمد بن المدني كنون في الزجر والإقماع (200): وقال الشيخ زروق (1) في قواعده: محل الخلاف في السماع إن تجرد عن ءالة، وإلا فمتفق على تحريمه، غير ما للعنبري وإبراهيم بن سعد، ولما فيهما لم يعتد غيره بقولهما (2). وقال في روح البيان ما نصه: وكذا لا خلاف في حرمة سماع الأوتار والمزامير وسائر الآلات (3).

ثم قال ابن المدني كنون بعد هذا: ومن خالف بعد انعقاد الإجماع فهو محجوج بالإجماع المنعقد قبله.

وقال أيضا (222): وقد تقدمت حكاية إجماع الأمة على تحريم آلات اللهو المجتمعة.

وقال أيضا (217): فما ظنك بمسألة المعازف المحرمة بإجماع.

--------------------------------------------

(1) زروق هو أبو العباس أحمد بن أحمد الفاسي المالكي المتوفى سنة (899).

له ترجمة في الأعلام (1/ 91) وشذرات الذهب (9/ 547) وشجرة النور (267) ونيل الابتهاج (1/ 130) وغيرها.

(2) ونقل هذا النص أيضا في إبطال الشبه (64 أ)،

(3) ثم ذكر استثناء الطبل في الجهاد والحج.
মুহাম্মদ ইবনে আল-মাদানি কানুন ‘আল-যাজর ওয়াল-ইকমাহ’ (২০০) গ্রন্থে বলেছেন: শায়খ যাররুক (১) তাঁর ‘কাওয়ায়েদ’ গ্রন্থে বলেছেন: শ্রবণের (السماع) ক্ষেত্রে মতপার্থক্যের (الخلاف) ক্ষেত্র তখনই হয় যখন তা বাদ্যযন্ত্রমুক্ত হয়; অন্যথায় এর নিষিদ্ধতার (تحريمه) ওপর ঐক্যমত (متفق) রয়েছে। আল-আনবারি এবং ইব্রাহিম ইবনে সা’দ-এর মত এর ব্যতিক্রম, তবে তাঁদের মধ্যে যা রয়েছে তার কারণে অন্য কেউ তাঁদের মতকে ধর্তব্যে নেননি (২)। এবং ‘রুহুল বায়ান’ গ্রন্থে এর পাঠ নিম্নরূপ: অনুরূপভাবে তারযুক্ত যন্ত্র, বাঁশি এবং অন্যান্য সকল বাদ্যযন্ত্র শোনার নিষিদ্ধতার (حرمة) বিষয়ে কোনো মতভেদ (خلاف) নেই (৩)।

অতঃপর ইবনে আল-মাদানি কানুন এরপর বলেছেন: ঐক্যমত (الإجماع) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর যে ব্যক্তি তার বিরোধিতা করবে, তবে তার বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠিত ঐক্যমত (الإجماع) দ্বারা দলিল পেশ করা হবে।

তিনি আরও বলেছেন (২২২): বাদ্যযন্ত্রের সমাহার নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়ার বিষয়ে উম্মাহর ঐক্যমতের (إجماع) বর্ণনা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেছেন (২১৭): তবে ঐক্যমতের (إجماع) ভিত্তিতে নিষিদ্ধ (المحرمة) বাদ্যযন্ত্রের (المعازف) বিষয়টি সম্পর্কে আপনার ধারণা কী?

--------------------------------------------

(১) যাররুক হলেন আবু আব্বাস আহমদ ইবনে আহমদ আল-ফাসি আল-মালিকি, যিনি (৮৯৯) হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর জীবনী ‘আল-আলাম’ (১/৯১), ‘শাযারাতুয যাহাব’ (৯/৫৪৭), ‘শাজারাতুন নূর’ (২৬৭), ‘নাইলুল ইবতিহাজ’ (১/১৩০) এবং অন্যান্য গ্রন্থে বিদ্যমান রয়েছে।

(২) এই পাঠটি ‘ইবতালুশ শুবাহ’ (৬৪ ক)-তেও উদ্ধৃত হয়েছে।

(৩) এরপর জিহাদ ও হজের ক্ষেত্রে ঢোলের ব্যতিক্রম হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وقال أيضا (230): وقال في العرف الندي في شرح قصيدة ابن الوردي عند قوله: "واله عن ءالة لهو أطربت"، ما نصه: قد اتفق الفقهاء من المتقدمين والمتأخرين رضي الله عنهم أجمعين أنه يحرم استعمال ءالات اللهو والطرب، سواء في ذلك ذوات الأوتار وغيرها كطنبور وعود وسنطير ومزمار عراقي، وكذلك يحرم استعمالها وسماعها، ويحرم الضرب بالكوبة، وهو طبل صغير ضيق الوسط واسع الطرفين. اهـ.

وقال أيضا في الزجر والإقماع (172): وفي حاشية العارف أبي زيد الفاسي رحمه الله تعالى عن الشامل: فأما على الهجو والغناء فممنوع اتفاقا.

وقال أيضا في الزجر والإقماع (156): قال في الطريقة المحمدية (1) ما نصه: قال في التاتارخانية: التغني واستماع الغناء حرام، أجمع عليه العلماء وبالغوا فيه.

--------------------------------------------

(1) في الآداب الشرعية لمحمد البركوي أو البركلي الحنفي المتوفى سنة 981.
তিনি আরও (২৩০) বলেছেন: ইবনুল ওয়ার্দীর কাসিদার ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-উরফুন নাদী'-তে তাঁর এই উক্তি: "আমোদ-প্রমোদের বাদ্যযন্ত্র থেকে বিরত থাক যা আনন্দ দেয়"-এর ব্যাখ্যায় বর্ণিত হয়েছে: পূর্ববর্তী (المتقدمين) ও পরবর্তী (المتأخرين) সকল ফকিহগণ (الفقهاء) — আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন — এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, আমোদ-প্রমোদ ও বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হারাম (يحرم); চাই তা তারযুক্ত বাদ্যযন্ত্র হোক কিংবা অন্য কিছু, যেমন: তানবুর, উদ, সানতির ও ইরাকি বাঁশি। অনুরূপভাবে এগুলো ব্যবহার করা ও শ্রবণ করা হারাম (يحرم), এবং 'কুবা' বাজানোও হারাম (يحرم); যা হলো মাঝখানে সংকীর্ণ ও দুই প্রান্ত প্রশস্ত এমন একটি ছোট ঢোল। সমাপ্ত।

তিনি 'আয-যাজরু ওয়াল ইকমা' (১৭২) গ্রন্থে আরও বলেছেন: আরিফ আবু যায়েদ আল-ফাসি (রহিমাহুল্লাহ)-এর হাশিয়াতে 'আশ-শামিল' থেকে বর্ণিত হয়েছে: তবে বিদ্রূপাত্মক কবিতা ও গান গাওয়ার বিষয়টি সর্বসম্মতভাবে (اتفاقا) নিষিদ্ধ।

তিনি 'আয-যাজরু ওয়াল ইকমা' (১৫৬) গ্রন্থে আরও বলেছেন: 'আত-তরীকাতুল মুহাম্মাদিয়া' (১)-তে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো: 'আত-তাতারখানিয়া'-তে বলা হয়েছে: গান গাওয়া এবং গান শোনা হারাম (حرام); উলামায়ে কিরাম (العلماء) এ বিষয়ে ঐকমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন এবং এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) এটি মুহাম্মদ আল-বিরকুই বা আল-বিরকিলি আল-হানাফি (মৃত্যু: ৯৮১ হিজরি) রচিত 'আল-আদাবূশ শারইয়্যাহ' গ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وقال كنون أيضا في الزجر والإقماع (178): وقال أيضا في لطائف المنن والأخلاق ما نصه: وأما سماع العود والطنبور وما شاكلهما، فظاهر كلام الأئمة الأربعة التحريم.

- وقال أبو بكر الطرطوشي في تحريم الغناء والسماع (200): وأما سماعه من المرأة فكل مجمع على تحريمه.

- وقال العلامة أبو عبد الله الساحلي الأندلسي المالكي (ت: 754) في بغية السالك في أشرف المسالك (2/ 605): وقد حكى الطرطوشي الإجماع على تحريم السماع الجاري الآن. ووجه المنع في ذلك قوي.

- وقال العلامة الدردير المالكي في شرحه على مختصر خليل (2/ 339): والحاصل أن الطبل بجميع أنواعه يجوز في النكاح ما لم يكن فيه صراصر أو ولو كان فيه على ما مر من الخلاف، وأما في غير النكاح فلا يجوز شيء منه اتفاقا في غير الدف، وعلى المشهور بالنسبة للدف، اهـ: تقرير شيخنا عدوي.
কন্নুন ‘আয-যাজর ওয়াল-ইকমাহ’ (১৭৮) গ্রন্থে আরও বলেছেন: তিনি ‘লাতাইফুল মিনান ওয়াল-আখলাক’ গ্রন্থেও যা বলেছেন তার মূল পাঠ হলো: আর উদ ও তনবুর এবং এ জাতীয় সরঞ্জাম শ্রবণ করার বিষয়ে চার ইমামের বক্তব্যের প্রকাশ্য দিক হলো এটি নিষিদ্ধ (تحريم)।

- আবু বকর আত-তোরতূশি ‘তাহরিমুল গিনা ওয়াস-সামাহ’ (২০০) গ্রন্থে বলেছেন: আর নারীর কণ্ঠ থেকে গান শোনার বিষয়টি নিষিদ্ধ হওয়ার (تحريمه) ওপর সকলেই একমত (مجمع على)।

- আল্লামা আবু আব্দুল্লাহ আল-সাহেলি আল-আন্দালুসি আল-মালিকি (মৃ: ৭৫৪ হি.) ‘বুগইয়াতুস সালিক ফি আশরাফিল মাসালিক’ (২/৬০৫) গ্রন্থে বলেছেন: তোরতূশি বর্তমানে প্রচলিত গান-বাদ্য নিষিদ্ধ হওয়ার (تحريم) ওপর ঐক্যমত (إجماع) বর্ণনা করেছেন। আর এর নিষিদ্ধতার কারণটিও বেশ শক্তিশালী।

- আল্লামা আদ-দারদীর আল-মালিকি ‘মুখতাসার খলীল’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে (২/৩৩৯) বলেছেন: সারকথা হলো, সব ধরণের ঢোল বিবাহ অনুষ্ঠানে বৈধ, যতক্ষণ না তাতে ঝনঝনানি বা ঘুঙুর থাকে; যদিও এ বিষয়ে ইতিপূর্বে বর্ণিত মতভেদ রয়েছে। তবে বিবাহ অনুষ্ঠান ছাড়া অন্য সময়ে ‘দফ’ ব্যতীত অন্য কোনো কিছুই সর্বসম্মতভাবে (اتفاقا) জায়েয নয়। আর ‘দফ’-এর ব্যাপারে প্রসিদ্ধ (مشهور) মতানুসারেও এটি জায়েয নয়। আমাদের শায়খ আদাবির বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
- وقال أبو عبد الله القرطبي المالكي في تفسيره (14/ 54) وابن الحاج في المدخل (3/ 119): ولهذه الآثار وغيرها قال العلماء بتحريم الغناء …

وقال أبو عبد الله القرطبي (14/ 56) وابن الحاج في المدخل (3/ 120): قال الطبري: فقد أجمع علماء الأمصار على كراهة الغناء، والمنع منه.

- وقال أبو العباس أحمد بن يوسف الفاسي المالكي: إن حكم سماع الغناء بالأوتار وسائر المزامر الحرمة في مشهور مذاهب الأئمة الأربعة. نقله في إبطال الشبه ورفع الإلباس (64).

- وقال الغالي اللجائي المالكي في إبطال الشبه ورفع الإلباس (104 ب): أما سماع الآلة فسلف أن المشهور من مذهب الأئمة الأربعة التحريم.

- وقال ابن رشد في البيان والتحصيل (7/ 472): أما العود والبوق فلا اختلاف في أنه لا يجوز استعمالها في عرس ولا غيره، فيفسخ فيهما باتفاق.
- এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-কুরতুবী আল-মালিকী তাঁর তাফসীরে (১৪/৫৪) এবং ইবনুল হাজ আল-মাদখাল গ্রন্থে (৩/১১৯) বলেছেন: এই সকল বর্ণনা (آثار) ও অন্যান্য দলীলের কারণে আলেমগণ গান গাওয়া নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়ার কথা বলেছেন …

আবু আব্দুল্লাহ আল-কুরতুবী (১৪/৫৬) এবং ইবনুল হাজ আল-মাদখাল গ্রন্থে (৩/১২০) বলেছেন: তাবারী বলেছেন: সকল অঞ্চলের আলেমগণ গান গাওয়া অপছন্দনীয় (كراهة) হওয়া এবং তা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ (أجمع) করেছেন।

- এবং আবু আব্বাস আহমাদ বিন ইউসুফ আল-ফাসি আল-মালিকী বলেছেন: তারযুক্ত যন্ত্র ও অন্যান্য বাঁশি সহযোগে গান শোনার বিধান (حكم) চার ইমামের প্রসিদ্ধ মাযহাব অনুযায়ী হারাম (الحرمة)। এটি ইবতালুশ শুবুহ ওয়া রাফউল ইলবাস গ্রন্থে (৬৪) বর্ণিত হয়েছে।

- এবং আল-গালি আল-লাজায়ী আল-মালিকী ইবতালুশ শুবুহ ওয়া রাফউল ইলবাস গ্রন্থে (১০৪ ব) বলেছেন: বাদ্যযন্ত্র শ্রবণ করার বিষয়ে ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, চার ইমামের মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত হলো এটি হারাম (التحريم)।

- এবং ইবনে রুশদ আল-বায়ান ওয়াত তাহসিল গ্রন্থে (৭/৪৭২) বলেছেন: উদ (এক প্রকার বাদ্যযন্ত্র) ও বিউগলের ক্ষেত্রে কোনো মতভেদ (اختلاف) নেই যে, বিবাহ বা অন্য কোনো অনুষ্ঠানে এগুলোর ব্যবহার বৈধ নয়; সুতরাং ঐকমত্যের (اتفاق) ভিত্তিতে এ উভয় ক্ষেত্রেই তা রহিত হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الفصل الثاني:

في ذكر النصوص عن مالك في تحريمه

- عن إسحاق بن عيسى الطباع قال: سألت مالك بن أنس عما يترخص فيه بعض أهل المدينة من الغناء، فقال: إنما يفعله عندنا الفساق.

رواه عبد الله بن أحمد في العلل (1/ 260) قال: ثني أبي قال: حدثنا إسحاق بن الطباع قال: سألت مالك بن أنس، الخ.

وهذا سند صحيح عال.

ورواه الخلال في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر (103) وابن الجوزي في تلبيس إبليس (244).

قال الخلال: أخبرنا عبد الله بن أحمد بن حنبل. فذكره.

- وقال ابن القاسم: كان مالك يكره الدفاف والمعازف كلها في العرس، وذلك أني سألته عنه فضعفه ولم يعجبه ذلك. المدونة (3/ 398).
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:

ইমাম মালিক থেকে গান হারাম হওয়ার বিষয়ে বর্ণিত মূল পাঠসমূহ (النصوص) উল্লেখ প্রসঙ্গে

- ইসহাক ইবনে ঈসা আত-তাব্বা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মালিক ইবনে আনাসকে মদিনার কিছু অধিবাসী গানের ক্ষেত্রে যে শিথিলতা প্রদর্শন করেন সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: "আমাদের এখানে কেবল পাপাচারীরাই (الفساق) এটি করে থাকে।"

এটি আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আল-ইলাল (১/ ২৬০) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে আত-তাব্বা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালিক ইবনে আনাসকে জিজ্ঞাসা করেছি... (ইত্যাদি)।

আর এটি একটি সহিহ (صحيح) ও উচ্চপর্যায়ের (عال) সনদ (سند)।

ইমাম আল-খাল্লাল আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার (১০৩) গ্রন্থে এবং ইবনুল জাওজি তালবিসু ইবলিস (২৪৪) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

আল-খাল্লাল বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেন।

- ইবনুল কাসিম বলেন: মালিক বিয়ের অনুষ্ঠানে দফ এবং সকল প্রকার বাদ্যযন্ত্র অপছন্দ করতেন। বিষয়টি হলো আমি তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি একে দুর্বল (ضعفه) সাব্যস্ত করেছিলেন এবং এটি তাঁর নিকট পছন্দনীয় ছিল না। আল-মুদাওয়ানা (৩/ ৩৯৮)।
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
- وقال ابن أبي زيد القيرواني في النوادر والزيادات (4/ 567): قال ابن المواز: قال مالك: لا بأس بالكبر والدف. وقال أصبغ: يعني في العرس خاصة، لإظهار النكاح. ولا يعجبني المزهر، وهو المربع، فإن لم يكن معه غيره فهو أحب إلي، فإن كان معه الكبر فلا يكن معهما غيرهما، ولا ينبغي ذلك في غير العرس. ولا يجوز الغناء في العرس ولا في غيره إلا مثل ما كان يقول نساء الأنصار … إلى آخر كلامه.

- وقال الطرطوشي في تحريم الغناء والسماع (161): أما مالك بن أنس رضي الله عنه فإنه نهى عن الغناء واستماعه، وقال: إذا اشترى جارية فوجدها مغنية كان له أن يردها بالعيب (1).

- وقال القاضي عياض في إكمال المعلم (3/ 306): المعروف عن مالك فيه المنع لا الإجازة.

- وقال محمد العتبي في المستخرجة (5/ 113 - البيان والتحصيل): قال أصبغ: وسمعت ابن القاسم وسئل عن الذي

--------------------------------------------

(1) علق في إبطال الشبه على هذا: وإنما كان له ردها لأن المنفعة غير شرعية (108 أ).
- এবং ইবনে আবি যাইদ আল-কায়রাওয়ানি 'আন-নাওয়াদির ওয়াজ-জিয়াদাত' (৪/ ৫৬৭) গ্রন্থে বলেছেন: ইবনে আল-মাওয়াজ বলেছেন: মালিক বলেছেন: কুবার (এক ধরণের ঢোল) এবং দফ (খঞ্জনি) ব্যবহারে কোনো সমস্যা নেই। আসবাগ বলেছেন: অর্থাৎ এটি বিশেষ করে বিবাহ অনুষ্ঠানে, বিবাহ প্রচারের উদ্দেশ্যে। তবে মিজহার—যা চারকোণা বিশিষ্ট—তা আমার নিকট পছন্দনীয় নয়; যদি এর সাথে অন্য কিছু না থাকে তবে তা আমার নিকট অধিকতর পছন্দনীয়, আর যদি এর সাথে কুবার থাকে তবে এ দুটির সাথে যেন অন্য কিছু না থাকে। বিবাহ ছাড়া অন্য কোনো অনুষ্ঠানে এটি হওয়া সমীচীন নয়। বিবাহের অনুষ্ঠানে বা অন্য কোথাও গান গাওয়া বৈধ (جائز) নয়, কেবল আনসারী নারীরা যা বলতেন তার অনুরূপ ব্যতীত … তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত।

- এবং আত-তোরতুশি 'তাহরিমুল গিনা ওয়াস সামা' (১৬১) গ্রন্থে বলেছেন: মালিক ইবনে আনাস (রা.) গান গাওয়া এবং তা শোনা থেকে নিষেধ করেছেন এবং তিনি বলেছেন: যদি কেউ কোনো দাসী ক্রয় করে এবং তাকে গায়িকা হিসেবে পায়, তবে ত্রুটির কারণে তাকে ফেরত দেওয়ার অধিকার তার থাকবে (১)।

- এবং কাজি ইয়াজ 'ইকমালুল মুলিম' (৩/ ৩০৬) গ্রন্থে বলেছেন: এ বিষয়ে মালিকের নিকট থেকে প্রসিদ্ধ মত হলো নিষেধ, অনুমতি (إجازة) নয়।

- এবং মুহাম্মদ আল-উতবি 'আল-মুস্তাকরাজাহ' (৫/ ১১৩ - আল-বায়ান ওয়াত তাহসিল) গ্রন্থে বলেছেন: আসবাগ বলেছেন: আমি ইবনে আল-কাসিমকে বলতে শুনেছি যখন তাঁকে সে ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে...

--------------------------------------------

(১) 'ইবতালুশ শুবাহ' গ্রন্থে এর ওপর টীকা করা হয়েছে যে: তার ফেরত দেওয়ার অধিকার কেবল এজন্য ছিল কারণ এই উপযোগিতাটি শরয়ি (شرعي) নয় (১০৮ ক)।
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
يدعى إلى الصنيع فجاء فوجد فيه لعبا، أيدخل؟ قال: إن كان شيئا خفيفا مثل الدف والكبر الذي يلعب به النساء، فما أرى به بأسا، قال أصبغ: ولا يعجبني، وليرجع، وقد أخبرني ابن وهب أنه سمع مالكا يسأل عن الذي يحضر الصنيع فيه اللهو، فقال: ما يعجبني للرجل ذي الهيئة يحضر اللعب، وأخبرني ابن وهب عن مالك وسئل عن ضرب الكبر والمزمار أو غير ذلك من اللهو، ينالك سماعه، وتجد لذته وأنت في طريق أو مجلس غيره، قال مالك: أرى أن يقوم من ذلك المجلس (1).

- وقال ابن الحاج في المدخل (2/ 2): ومذهب مالك رحمه الله أن الطار الذي فيه الصراصر محرم وكذلك الشبابة، ويجوز الغربال لإظهار النكاح. اهـ. ونقله الحطاب في شرح خليل (4/ 6) وكنون في الزجر والإقماع (222).

- وقال ابن الحاج في المدخل (3/ 120): وذكر أبو الطيب طاهر بن عبد الله الطبري قال: أما مالك بن أنس فإنه نهى عن الغناء وعن استماعه، وقال: إذا اشترى جارية ووجدها

--------------------------------------------

(1) ونقله الحطاب في مواهب الجليل (4/ 8).
কাউকে ভোজসভায় আমন্ত্রণ জানানো হলে সে সেখানে উপস্থিত হয়ে ক্রীড়া-কৌতুক (لعب) দেখতে পেল; সে কি সেখানে প্রবেশ করবে? তিনি (ইমাম মালিক) বললেন: যদি তা দফ বা ড্রামের মতো সামান্য কিছু হয় যা মহিলারা বাজিয়ে থাকে, তবে আমি এতে কোনো সমস্যা দেখি না। আসবাগ বলেন: এটি আমার নিকট পছন্দনীয় নয়, বরং তার ফিরে আসা উচিত। ইবন ওয়াহব আমাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি ইমাম মালিককে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছেন যে এমন ভোজসভায় উপস্থিত হয় যেখানে অসার বিনোদন (لهو) রয়েছে। তিনি বললেন: মর্যাদাবান ব্যক্তির জন্য ক্রীড়া-কৌতুক (لعب)-এর আসরে উপস্থিত হওয়া আমার নিকট পছন্দনীয় নয়। ইবন ওয়াহব আমাকে মালিকের সূত্রে আরও জানিয়েছেন যে, তাকে ড্রাম, বাঁশি বা এ জাতীয় অসার বিনোদন (لهو) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যার শব্দ আপনার কানে পৌঁছায় এবং আপনি পথচারী অবস্থায় বা অন্য কোনো মজলিসে থাকা অবস্থায় তাতে আনন্দ অনুভব করেন; মালিক বললেন: আমি মনে করি তার সেই মজলিস থেকে উঠে যাওয়া উচিত (১)।

- ইবনুল হাজ আল-মাদখালে (২/২) বলেছেন: ইমাম মালিক (রহ.)-এর মাযহাব হলো, ঝুনঝুনিযুক্ত দফ নিষিদ্ধ (محرم) এবং একইভাবে বাঁশিও; তবে বিবাহের ঘোষণার উদ্দেশ্যে চালুনি সদৃশ বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা বৈধ। আল-হাততাব শারহু খলিল (৪/৬) গ্রন্থে এবং কানুন আয-যাজরু ওয়াল ইকমা (২২২) গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন।

- ইবনুল হাজ আল-মাদখালে (৩/১২০) বলেছেন: আবু তাইয়্যেব তাহির ইবন আব্দুল্লাহ আত-তাবারী উল্লেখ করেছেন যে, মালিক ইবন আনাস গান গাওয়া এবং তা শ্রবণ করা থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন: যদি কেউ কোনো দাসী ক্রয় করে এবং তাকে পায়...

--------------------------------------------

(১) আল-হাততাব এটি মাওয়াহিবুল জলীল (৪/৮) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
مغنية كان له ردها بالعيب، وهو مذهب سائر أهل المدينة. قال النحاس: وهو ممنوع بالكتاب والسنة.

- وقال ابن الحاج في المدخل (3/ 118): وقال القاسم بن محمد: الغناء باطل، والباطل في النار.

وقال ابن القاسم: سألت عنه مالكا فقال: قال الله تعالى: {فَمَاذَا بَعْدَ الْحَقِّ إلَّا الضَّلَالُ} [يونس:32]: أفحق هو؟. انتهى.

- ونقل ابن المدني كنون في الزجر والإقماع (231) عن الجزولي: ومذهب مالك أن سماع ءالة اللهو كلها حرام إلا الدف في النكاح والكَبَر على خلاف …

- وقال ابن المدني كنون في الزجر والإقماع (231): وأما الغناء فمذهب مالك منعه سواء كان بآلة وبغير ءالة ..

- وقال أيضا في الزجر والإقماع (189)، بعد نقله عن النووي عزوه لمالك في رواية تجويز الغناء: وفيما عزاه لمالك نظر، والمعروف من مذهبه المنع سدا للذريعة، وحسما لأبواب الفسق وغيره.
গায়িকা (দাসী) হলে ত্রুটির কারণে তাকে ফেরত দেওয়ার অধিকার ক্রেতার রয়েছে, আর এটিই মদিনার সকল ফকিহগণের মাযহাব। আন-নাহহাস বলেন: এটি কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে নিষিদ্ধ।

- এবং ইবনুল হাজ্জ ‘আল-মাদখাল’ (৩/১১৮) গ্রন্থে বলেন: আল-কাসিম ইবনে মুহাম্মদ বলেছেন: গান গাওয়া বাতিল (باطل), আর যা বাতিল (باطل) তা আগুনের অধিবাসী (অর্থাৎ জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে)।

ইবনুল কাসিম বলেন: আমি এ সম্পর্কে মালিককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {সুতরাং সত্যের পর পথভ্রষ্টতা (ضلال) ছাড়া আর কী থাকে?} [ইউনুস:৩২]: তবে এটি কি সত্য? সমাপ্ত।

- ইবনুল মাদানী কাননুন ‘আয-যাজরু ওয়াল ইকমা’ (২৩১) গ্রন্থে আল-জুযুলি থেকে বর্ণনা করেছেন: মালিকের মাযহাব হলো সকল প্রকার বাদ্যযন্ত্র শোনা হারাম (حرام), তবে বিয়ের অনুষ্ঠানে দফ এবং ‘কাবার’ নামক ঢোলের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে …

- ইবনুল মাদানী কাননুন ‘আয-যাজরু ওয়াল ইকমা’ (২৩১) গ্রন্থে বলেন: আর গানের ব্যাপারে মালিকের মাযহাব হলো তা নিষিদ্ধ (منع), চাই তা বাদ্যযন্ত্রসহ হোক বা বাদ্যযন্ত্র ছাড়া হোক...

- তিনি ‘আয-যাজরু ওয়াল ইকমা’ (১৮৯) গ্রন্থে আরও বলেন, ইমাম নববী কর্তৃক গান বৈধ হওয়ার একটি বর্ণনা (رواية) ইমাম মালিকের দিকে সম্বন্ধ করার পর: ইমাম মালিকের দিকে যা সম্বন্ধ করা হয়েছে তাতে আপত্তি (نظر) রয়েছে; তার মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত হলো হারামের পথ রুদ্ধ করার (سدا للذريعة) এবং পাপাচার ও অন্যান্য দুষ্কর্মের পথ বন্ধ করার স্বার্থে তা নিষিদ্ধ (منع)।
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
- وفي شرح المباحث: روى أبو الطيب عن مالك وأبي حنيفة وعن الشافعي وعن أحمد بن حنبل وعن سفيان وجماعة من العلماء أن الغناء لهو منكر ملحق بالباطل، ومن استكثر منه فهو سفيه (1).

- وقال الشيخ أبو الحسن الصغير المكناسي في رسالة له في ذم البدع والسماع: وروي عن مالك أنه نهى عن السماع واستماعه، وسئل عما يترخص فيه بعض أهل المدينة من السماع، فقال: إنما يفعله عندنا الفساق الزنادقة (2).

- وقال القاضي عياض المالكي في ترتيب المدارك (2/ 53): قال التنيسي: كنا عند مالك وأصحابه حوله، فقال رجل من أهل نصيبين: (يا أباعبد الله) (3) عندنا قوم يقال لهم

--------------------------------------------

(1) الزجر والإقماع (163).

(2) وهذه الرسالة مخطوطة بالخزانة الحسنية رقم (12226)، والقرويين رقم (1/ 328)، في 8 أوراق، ونسب خطأ للزرويلي.

وله رسالة أخرى في ذم البدع جيدة، ما رأيت مثلها للمغاربة، وقد حققتها على نسخ.

(3) زيادة من المعيار.
- এবং শারহুল মাবাহিস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: আবু তায়্যিব বর্ণনা করেছেন মালিক, আবু হানিফা, শাফিয়ি, আহমাদ ইবনে হাম্বল, সুফিয়ান এবং একদল আলেম থেকে যে, গান-বাজনা হলো একটি গর্হিত (منكر) বিনোদন যা বাতিলের অন্তর্ভুক্ত; এবং যে ব্যক্তি এর প্রাচুর্য ঘটায় সে নির্বোধ (১)।

- এবং শায়খ আবুল হাসান আস-সগির আল-মিকনাসি বিদআত ও গান শোনার নিন্দায় রচিত তাঁর এক রিসালায় বলেছেন: মালিক থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি গান গাওয়া এবং তা শোনা থেকে নিষেধ করেছেন। মদিনাবাসীদের কেউ কেউ গান শোনার যে অবকাশ গ্রহণ করে থাকেন, সে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "আমাদের এখানে কেবল পাপাচারী (فاسق) ও ধর্মদ্রোহীরাই (زنديق) এটি করে থাকে" (২)।

- এবং কাজি ইয়াদ আল-মালিকি 'তারতিবুল মাদারিক' (২/৫৩) গ্রন্থে বলেছেন: তাত্তিনিসি বলেন: আমরা মালিকের কাছে ছিলাম এবং তাঁর ছাত্ররা তাঁর চারপাশ ঘিরে ছিল। তখন নাসিবিনবাসীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলল: (হে আবু আব্দুল্লাহ) (৩) আমাদের এখানে একদল লোক আছে যাদেরকে বলা হয়...

--------------------------------------------

(১) আয-যাজর ওয়াল ইকমায় (১৬৩)।

(২) এই রিসালাটি হাজানিয়া লাইব্রেরিতে ১২২২৬ নম্বর এবং আল-কারউইয়্যিন লাইব্রেরিতে (১/৩২৮) নম্বর পাণ্ডুলিপি হিসেবে ৮ পৃষ্ঠায় সংরক্ষিত আছে। এটি ভুলবশত আল-যারউয়িলির নামে সম্বন্ধ করা হয়েছে।

বিদআতের নিন্দায় তাঁর আরও একটি চমৎকার রিসালা রয়েছে, মাগরেব অঞ্চলের আলেমদের মধ্যে আমি এর কোনো সমতুল্য দেখিনি। আমি বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি থেকে এটি সম্পাদনা করেছি।

(৩) 'আল-মিইয়ার' থেকে সংগৃহীত অতিরিক্ত অংশ।
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
الصوفية، يأكلون كثيرا ثم يأخذون في القصائد، ثم يقومون فيرقصون، فقال مالك: أصبيان هم؟ قال: لا، قال: أمجانين هم؟ قال: لا، هم قوم مشايخ، وغير ذلك، عقلاء، فقال مالك: ما سمعت أن أحدا من أهل الإسلام يفعل هذا.

قال الشاطبي رحمه الله معلقا بعد ذكره هذا: انظر كيف أنكر مالك، وهو إمام السنة، أن يكون في أهل الإسلام من يفعل هذا إلا أن يكون مجنونا وصبيا، فهذا بين أنه ليس من شأن الإسلام (1).

- قال الونشريسي في المعيار (11/ 76): قال ابن عبد الحكم في المختصر: وسئل مالك عن الغناء فقال لا يجوز، فقيل له عن أهل المدينة الذين يسمعونه، فقال إنما يسمعه عندنا الفساق، وحكاه الأستاذ الطرطوشي في الحوادث والبدع (2) له عنه، وكذا القرطبي في كشف القناع، وصرح في الإكمال (3)

--------------------------------------------

(1) المعيار (11/ 41).

(2) تحريم الغناء والسماع (161).

(3) إكمال المعلم (3/ 306) للقاضي عياض.
সূফীরা; তারা অধিক আহার করে, অতঃপর তারা কবিতা পাঠে লিপ্ত হয় এবং পরে দাঁড়িয়ে নাচতে শুরু করে। তখন ইমাম মালিক জিজ্ঞেস করলেন: তারা কি শিশু? উত্তর দেওয়া হলো: না। তিনি বললেন: তারা কি উন্মাদ? উত্তর দেওয়া হলো: না, তারা বরং শায়খ (مشايخ) ও জ্ঞানী লোক। তখন ইমাম মালিক বললেন: আমি ইসলামের অনুসারীদের কাউকেই এমনটি করতে শুনিনি।

ইমাম আল-শাতিবি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এটি উল্লেখ করার পর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: লক্ষ্য করুন, সুন্নাহর ইমাম হওয়া সত্ত্বেও ইমাম মালিক কীভাবে এ বিষয়টিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন যে, কোনো উন্মাদ বা শিশু ব্যতীত ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে কেউ এমনটি করতে পারে। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, এটি ইসলামের রীতিনীতি বা আদর্শের অন্তর্ভুক্ত নয় (১)।

- আল-ওয়ানশারিসি তার আল-মি‘ইয়ার (১১/৭৬) গ্রন্থে বলেন: ইবনে আবদিল হাকাম আল-মুখতাসার গ্রন্থে বলেন: ইমাম মালিককে গান (الغناء) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এটি বৈধ নয়। তাকে মদিনার সেই অধিবাসীদের সম্পর্কে বলা হলো যারা এটি শোনে, তখন তিনি বললেন, আমাদের এখানে কেবল পাপাচারীরাই (الفساق) তা শোনে। উস্তাদ আল-তারতুশি আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা’ (২) গ্রন্থে তাঁর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। একইভাবে আল-কুরতুবি কাশফুল কিনা’ গ্রন্থে এবং আল-ইকমাল (৩) গ্রন্থেও এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আল-মি‘ইয়ার (১১/৪১)।

(২) তাহরিমুল গিনা ওয়াস সামা (১৬১)।

(৩) ক্বাযী আইয়াদ রচিত ইকমালুল মু’লিম (৩/৩০৬)।
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
بأنه المعروف عنه. وقال القاضي الطبري في مؤلفه في حكم السماع: نهى عن الغناء واستماعه، وإليه ذهب ابن حبيب وصرح به في واضحته.

- وقال الغالي اللجائي في إبطال الشبه ورفع الإلباس (109أ): وأما الغناء المقترن بما ذكر - أي بالآلات والرقص وغيرها – فقد نص الطرطوشي وغيره على حرمته، وسلف جواب الطرطوشي إذ قال فيه: هذا مذهب مالك والشافعي وأبي حنيفة وأحمد بن حنبل وغيرهم من أئمة المسلمين.

وقال أيضا (107 ب): هذا ولو لم يكن نص من أئمة مذهبنا بتحريم ذلك لكان نص الإمام كافيا شافيا وافيا، يجب الوقوف عنده، والعمل بمقتضاه.

وقال أيضا في إبطال الشبه (115) مبينا حرمة الغناء عند مالك: ويؤخذ التحريم أيضا من رواية أبي الطيب عن مالك والشافعي وأبي حنيفة وأحمد بن حنبل وغيرهم أن الغناء لهو منكر ملحق بالباطل، والباطل غير الحق، فيكون منهيا عنه، والأصل في النهي التحريم.
যে এটি তাঁর পক্ষ থেকে সুবিদিত (المعروف)। আর কাজী তবারি তাঁর 'হুকুমুস সামা' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি গান এবং তা শোনা থেকে নিষেধ করেছেন। ইবনে হাবিবও এই মত পোষণ করেছেন এবং তাঁর 'ওয়াদিহা' গ্রন্থে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।

- আর গালি আল-লাজায়ী 'ইবতালুশ শুবাহ ওয়া রাফউল ইলবাস' (১০৯-ক)-এ বলেছেন: আর ওই সকল বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট গান—অর্থাৎ বাদ্যযন্ত্র, নৃত্য এবং অন্যান্য বিষয়ের সাথে—তার হারাম (حرمته) হওয়ার ব্যাপারে আত-তারতুশি এবং অন্যান্যরা সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) প্রদান করেছেন। এর পূর্বে আত-তারতুশির উত্তর অতিবাহিত হয়েছে যেখানে তিনি বলেছেন: এটিই হলো মালেক, শাফেয়ি, আবু হানিফা, আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং মুসলিমদের অন্যান্য ইমামদের মাযহাব।

তিনি আরও বলেছেন (১০৭-খ): এটি এমন বিষয় যে, যদি আমাদের মাযহাবের ইমামগণের পক্ষ থেকে তা হারাম করার ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) না-ও থাকতো, তবুও স্বয়ং ইমামের বক্তব্যই যথেষ্ট, নিরাময়কারী এবং পূর্ণাঙ্গ হতো, যার ওপর স্থির থাকা এবং তার দাবি অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক (واجب)।

তিনি 'ইবতালুশ শুবাহ' (১১৫) গ্রন্থে ইমাম মালেকের নিকট গানের অবৈধতা বর্ণনা করতে গিয়ে আরও বলেন: হারাম (التحريم) হওয়ার বিষয়টি আবু তৈয়িবের বর্ণনা থেকেও গ্রহণ করা হয়, যিনি মালেক, শাফেয়ি, আবু হানিফা, আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, গান হলো একটি গর্হিত (منكر) ক্রীড়া যা বাতিলের অন্তর্ভুক্ত; আর যা বাতিল তা সত্যের বিপরীত। ফলে তা নিষিদ্ধ হবে, আর নিষেধাজ্ঞার মূলনীতি হলো তা হারাম (التحريم) হওয়া।
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الفصل الثالث:

في ذكر نصوص أخرى للمالكية في تحريمه

ولنبدأ بثلاثة كتب من أمهات المختصرات المالكية، الرسالة، ومختصر خليل، والتلقين للقاضي عبد الوهاب.

- قال العلامة ابن أبي زيد القيرواني في الرسالة (137): ولا تحضر من ذلك ما فيه نوح نائحة أو لهو من مزمار أو عود أو شبهه من الملاهي الملهية إلا الدف في النكاح، وقد اختلف في الكبر.

- قال أبو العباس القلشاني في شرح الرسالة: ومثل ذلك ممنوع لأنه ليس من أخلاق ذوي الدين … (1).

--------------------------------------------

(1) الزجر والإقماع (237)، وأبو العباس القلشاني هو أحمد بن محمد بن عبد الله القلشاني المغربي المالكي المتوفى سنة 863.

له ترجمة في الضوء اللامع (1/ 348) ونيل الابتهاج (1/ 116) وشجرة النور (258) والأعلام (1/ 229) وغيرها.
‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ:

এটি (গান-বাদ্য) নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে মালিকি মাযহাবের অন্যান্য উদ্ধৃতি প্রসঙ্গে

মালিকি মাযহাবের মৌলিক সংক্ষিপ্ত গ্রন্থসমূহের মধ্য হতে তিনটি কিতাব দিয়ে আমরা শুরু করছি: আর-রিসালাহ, মুখতাসার খলিল এবং কাজি আব্দুল ওয়াহহাবের আত-তালকিন।

- আল্লামা ইবনে আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানি ‘আর-রিসালাহ’ (১৩৭) গ্রন্থে বলেছেন: “বিলাপকারিণীর বিলাপ কিংবা বাঁশি, উদ (এক প্রকার তারযন্ত্র) বা এ জাতীয় আমোদ-প্রমোদের সরঞ্জাম রয়েছে এমন কোনো অনুষ্ঠানে তুমি উপস্থিত হবে না; তবে বিবাহের ক্ষেত্রে দফ বাজানোর অনুমতি রয়েছে। আর ‘কাবার’ (এক প্রকার ঢোল) এর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।”

- আবু আব্বাস আল-কালশানি ‘শারহুর রিসালাহ’-তে বলেছেন: “এই জাতীয় বিষয়গুলো নিষিদ্ধ, কারণ এটি দ্বীনদার ব্যক্তিদের আচরণের অন্তর্ভুক্ত নয় … (১)।”

--------------------------------------------

(১) আয-যাজরু ওয়াল-ইকমা (২৩৭)। আবু আব্বাস আল-কালশানি হলেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-কালশানি আল-মাগরিবি আল-মালিকি, যিনি ৮৬৩ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর জীবনচরিত (ترجمة) ‘আদ-দউ আল-লামি’ (১/ ৩৪৮), ‘নাইলুল ইবতিহাজ’ (১/ ১১৬), ‘শাজারাতুন নূর’ (২৫৮), ‘আল-আ’লাম’ (১/ ২২৯) এবং অন্যান্য গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال عبد السميع الأبي الأزهري المالكي في شرحها الثمر الداني (394): فيمتنع حضور شيء من ذلك.

- وقال ابن أبي زيد أيضا في الرسالة (139): ولتجب إذا دعيت إلى وليمة العرس، إن لم يكن هناك لهو مشهور ولا منكر بين.

قال عبد السميع الأبي الأزهري المالكي في شرح الرسالة الثمر الداني (397): أي ممنوع، مثل آلات الطرب الممنوعة.

- قال العلامة أبو عبد الله محمد جسوس في شرحها: أي ممنوع كآلات الطرب الممنوعة، وهي ذوات الأوتار (1).

- وقال ابن أبي زيد أيضا (134): ولا يحل لك أن تتعمد سماع الباطل كله .. ولا سماع شيء من الملاهي والغناء.

- وقال الشيخ يوسف بن عمر الأنفاسي الفاسي المالكي (ت761) في شرحها: قوله: "ولا سماع شيء من

--------------------------------------------

(1) الزجر والإقماع (235) وجسوس من متأخري المالكية واسمه: محمد بن قاسم بن محمد جسوس أبو عبد الله المتوفى سنة 1182.

له ترجمة في الأعلام للزركلي (7/ 8) والفكر السامي (2/ 291) وشجرة النور (355).
আব্দুল সামি আল-আবি আল-আজহারি আল-মালিকি এর ভাষ্যগ্রন্থ 'আস-সামার আদ-দানি' (৩৯৪)-তে বলেছেন: "অতএব এ জাতীয় কোনো কিছুতে উপস্থিত হওয়া নিষিদ্ধ।"

- এবং ইবন আবি জায়েদ 'আর-রিসালাহ' (১৩৯) গ্রন্থে আরও বলেছেন: "যদি তোমাকে বিয়ের ওলিমার দাওয়াত দেওয়া হয় তবে তা কবুল করা তোমার জন্য আবশ্যক, যদি সেখানে কোনো প্রসিদ্ধ খেল-তামাশা কিংবা প্রকাশ্য কোনো গর্হিত (منكر) বিষয় না থাকে।"

আব্দুল সামি আল-আবি আল-আজহারি আল-মালিকি 'আর-রিসালাহ'-এর ভাষ্য 'আস-সামার আদ-দানি' (৩৯৭)-তে বলেছেন: "অর্থাৎ নিষিদ্ধ, যেমন নিষিদ্ধ বাদ্যযন্ত্রসমূহ।"

- আল্লামা আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ জাসুস এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: "অর্থাৎ বারণকৃত, যেমন নিষিদ্ধ বাদ্যযন্ত্রসমূহ; আর সেগুলো হলো তারযুক্ত বাদ্যযন্ত্র (১)।"

- এবং ইবন আবি জায়েদ আরও বলেছেন (১৩৪): "আর তোমার জন্য সমস্ত বাতিল বা অসার কথা ইচ্ছাকৃতভাবে শোনা হালাল নয়... এবং কোনো প্রকার আমোদ-প্রমোদ ও গান শোনাও (বৈধ নয়)।"

- এবং শেখ ইউসুফ বিন উমর আল-আনফাসি আল-ফাসি আল-মালিকি (মৃত্যু ৭৬১ হি.) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: তাঁর উক্তি: "এবং কোনো কিছু শোনা..."

--------------------------------------------

(১) আয-যাজর ওয়াল ইকম' (২৩৫); জাসুস হলেন পরবর্তী যুগের মালিকি আলেমদের অন্তর্ভুক্ত, তাঁর নাম: মুহাম্মদ বিন কাসিম বিন মুহাম্মদ জাসুস আবু আব্দুল্লাহ, মৃত্যু ১১৮২ হিজরি।

যিরিকলির আল-আ'লাম (৭/৮), আল-ফিকর আস-সামি (২/২৯১) এবং শাজারাতুন নূর (৩৫৫) গ্রন্থে তাঁর জীবনী রয়েছে।
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
الملاهي والغناء"، هذا من أنواع الباطل، فسماع الملاهي حرام، واستثنى أبو محمد الدف في النكاح كما يأتي، والملاهي هي مثل العود والمزمار وغير ذلك من الملاهي لأنها كثيرة.

وقوله: "والغناء"، هو من الباطل أيضا، سواء كان بآلة أو بغير آلة على المشهور، أما بآلة فهو حرام بإجماع، وبغير ءالة ذكر عن بعض أهل المدينة جوازه، وهو شاذ، ونسبه بعض الشافعية لمالك، وأنكر هذا عبد الوهاب، وقال: لا يصح هذا عن مالك ولا يليق به (1).

- وقال القاضي عبد الوهاب المالكي المتوفى سنة (422) في التلقين (188) عطفا على ما لايجوز: ولا حضور مواضع اللهو ولا سماع الملاهي كالطبل والزمر، ورخص في الدف وشبهه في النكاح.

- وقال الشيخ في مختصره (263): عطفا على ما يخل بالمروءة ويقدح في العدالة: وسماع غناء.

--------------------------------------------

(1) الزجر والإقماع (230).
"বাদ্যযন্ত্র এবং গান", এটি বাতিল (باطل) বিষয়ের প্রকারভেদ। বাদ্যযন্ত্র শোনা নিষিদ্ধ, তবে আবু মুহাম্মদ বিবাহের ক্ষেত্রে দফ ব্যবহারের বিষয়টিকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছেন যেমনটি সামনে আসছে। বাদ্যযন্ত্র বলতে উদ, বাঁশি এবং এজাতীয় আরও অনেক সরঞ্জামকে বোঝায়, কারণ এগুলোর অনেক প্রকার রয়েছে।

তাঁর উক্তি: "এবং গান", এটিও বাতিল (باطل) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, প্রসিদ্ধ (مشهور) মত অনুযায়ী তা বাদ্যযন্ত্রসহ হোক বা বাদ্যযন্ত্র ব্যতীত। বাদ্যযন্ত্রসহ গান গাওয়া সর্বসম্মতিক্রমে নিষিদ্ধ। আর বাদ্যযন্ত্র ব্যতীত গানের ব্যাপারে মদিনার কোনো কোনো আলিমের পক্ষ থেকে বৈধতার কথা বর্ণিত হয়েছে, তবে তা বিচ্ছিন্ন (شاذ) মত। কোনো কোনো শাফেয়ী ফকিহ এটি ইমাম মালিকের দিকে নিসবত করেছেন, কিন্তু আবদুল ওয়াহহাব এটি অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন: ইমাম মালিক থেকে এটি সহিহ নয় (لا يصح) এবং এটি তাঁর মর্যাদার সাথে সংগতিপূর্ণ নয় (১)।

- ৪২২ হিজরিতে ইন্তেকালকারী কাজী আবদুল ওয়াহহাব মালিকি তাঁর আত-তালকিন (১৮৮) গ্রন্থে যা যা না-জায়েজ তার অনুবর্তী হিসেবে বলেছেন: আমোদ-প্রমোদের স্থানে উপস্থিত হওয়া এবং বাদ্যযন্ত্র যেমন ঢোল ও বাঁশি শোনা যাবে না; তবে বিবাহের ক্ষেত্রে দফ এবং এই জাতীয় জিনিসের অনুমতি দিয়েছেন।

- শায়খ তাঁর মুখতাসার (২৬৩) গ্রন্থে যা যা সৌজন্যবোধ পরিপন্থী এবং ন্যায়পরায়ণতাকে (عدالة) ক্ষুণ্ণ করে তার বর্ণনায় বলেছেন: গান শোনা।

--------------------------------------------

(১) আয-যাজরু ওয়াল ইকমাহ (২৩০)।
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وقال أيضا في جامعه: ولا يصغي بسمعه إلى الملاهي والغناء وءالاته والنظر إلى ذلك كله حرام. الزجر والإقماع (230).

- وقال الدسوقي المالكي في حاشيته على شرح الدردير (2/ 339): وأما بقية الآلات من ذوات الأوتار فالراجح حرمتها حتى في النكاح.

- وقال الطرطوشي المالكي في تحريم الغناء والسماع (166): فأما العود والطنبور وسائر الملاهي فحرام ومستمعه فاسق.

- وقال ابن عرفة المالكي: والغناء بآلة، فإن كانت ذات أوتار كالعود والطنبور والمعزفة والمزمار، فالظاهر عند العلماء حرمته، وأطلق ابن عبد الحكم أن سماع العود مكروه، وقد يريد به الحرمة. اهـ (1)

قلت: وفي المعيار (11/ 74) عن ابن عبد الحكم التصريح بالحرمة.

--------------------------------------------

(1) الزجر والإقماع (172).
তিনি তাঁর জামে গ্রন্থে আরও বলেছেন: "সে যেন আমোদ-প্রমোদ, গান এবং এর বাদ্যযন্ত্রের প্রতি কর্ণপাত না করে; আর এ সবের দিকে নজর দেওয়াও হারাম (حرام)।" আয-যাজরু ওয়াল ইকমা (২৩০)।

- এবং আদ-দুসুকি আল-মালিকি আদ-দারদিরের ব্যাখ্যার ওপর তাঁর হাশিয়া (২/৩৩৯)-তে বলেছেন: "আর তারযুক্ত অবশিষ্ট বাদ্যযন্ত্রগুলোর ক্ষেত্রে প্রবল অভিমত (الراجح) হলো সেগুলোর অবৈধতা (حرمتها), এমনকি বিবাহের অনুষ্ঠানেও।"

- এবং আত-তারতুশি আল-মালিকি তাহরিমুল গিনা ওয়াস সামা (১৬৬) গ্রন্থে বলেছেন: "আর উদ, তানবুর এবং অন্যান্য সকল বাদ্যযন্ত্র হারাম (حرام) এবং এর শ্রবণকারী পাপাচারী (فاسق)।"

- এবং ইবনে আরাফাহ আল-মালিকি বলেছেন: "বাদ্যযন্ত্রসহ গান গাওয়ার ক্ষেত্রে যদি তা উদ, তানবুর, মিযাফাহ এবং মিযমারের মতো তারযুক্ত হয়, তবে ওলামাদের নিকট প্রকাশ্য মত (الظاهر) হলো এর অবৈধতা (حرمته)। আর ইবনে আবদিল হাকাম সাধারণভাবে বলেছেন যে, উদের শব্দ শোনা অপছন্দনীয় (مكروه); তবে তিনি এর দ্বারা হারাম (الحرمة) হওয়ার বিষয়টিই উদ্দেশ্য করে থাকতে পারেন।" সমাপ্ত (১)

আমি বলছি: এবং আল-মিয়ার (১১/৭৪) গ্রন্থে ইবনে আবদিল হাকাম থেকে হারাম (الحرمة) হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বিবৃত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আয-যাজরু ওয়াল ইকমা (১৭২)।
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
- وقال العلامة الشطيبي المالكي في شرح المباحث الأصلية بعد أن عدد بعض ءالات الغناء: وكل هذا بدعة وضلالة، إنما أباحه في السماع أرباب الأهواء، الذين تشيخوا بلا إذن وربوا بغير معرفة فضلوا وأضلوا لأنفسهم ولمن اقتدى بهم (1).

- وقال الرهوني في إمتاع الأسماع (20): وقال في جامع الإرشاد ما نصه: ويحرم حضور مجالس اللهو وأهل المنكر ولينه عنه، ويأمر بالمعروف.

- وقال أبو عبد الله الساحلي المالكي (ت: 754) في بغية السالك في أشرف المسالك (2/ 607)، بعد كلام طويل حول مفاسد الغناء: والحق الذي لا ريب فيه أن هذه الملاهي قادحة في آداب العبودية، ناقضة لعرى الخضوع والافتقار، ومضادة لمعنى التدبر، بعيدة من الحق، قريبة من الباطل، يجب تنزيه جانب النبي صلى الله عليه وسلم وجانب أصحابه والسلف الصالح عن ذلك وأمثاله.

--------------------------------------------

(1) إبطال الشبه (64) والزجر والإقماع (226).
- আল্লামা শাতিবি আল-মালিকি 'শারহুল মাবাহিছিল আসলিয়্যাহ' গ্রন্থে গানের কতিপয় বাদ্যযন্ত্রের উল্লেখ করার পর বলেন: "এবং এই সব কিছুই বিদআত ও ভ্রষ্টতা। কেবল প্রবৃত্তিপূজারিরাই শ্রবণের ক্ষেত্রে একে বৈধতা দিয়েছে; যারা কোনো অনুমতি ছাড়াই শায়খ সেজেছে এবং প্রকৃত জ্ঞান ব্যতিরেকেই বেড়ে উঠেছে। ফলে তারা নিজেরা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং যারা তাদের অনুসরণ করেছে তাদেরকেও পথভ্রষ্ট করেছে (১)।"

- রাহুনী 'ইমতাউল আসমা' (২০) গ্রন্থে বলেন: এবং 'জামেউল ইরশাদ' গ্রন্থে হুবহু বর্ণিত হয়েছে যে— "আমোদ-প্রমোদ এবং পাপাচারী (منكر) ব্যক্তিদের মজলিসে উপস্থিত হওয়া হারাম; বরং তাকে তা থেকে বারণ করতে হবে এবং সৎকাজের আদেশ দিতে হবে।"

- আবু আব্দুল্লাহ আস-সাহলি আল-মালিকি (মৃ. ৭৫৪) 'বুগইয়াতুস সালিক ফি আশরাফিল মাসালিক' (২/৬০৭) গ্রন্থে গানের কুফল সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনার পর বলেন: "নিঃসন্দেহে ধ্রুব সত্য এই যে, যাতে কোনো সন্দেহ নেই—এই সকল আনন্দ-উপকরণ দাসত্বের আদব বা শিষ্টাচারকে কলুষিত করে, বিনয় ও মুখাপেক্ষিতার বন্ধন ছিন্ন করে এবং অনুধাবনের মর্মার্থের পরিপন্থী। এটি সত্য থেকে অনেক দূরে এবং মিথ্যার খুব নিকটবর্তী। তাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর সাহাবীগণ এবং সালাফে সালেহীন বা পুণ্যবান পূর্বসূরিদের মর্যাদাকে এই জাতীয় কাজ ও তৎসদৃশ বিষয় থেকে পবিত্র রাখা আবশ্যক।"

--------------------------------------------

(১) ইবতালুশ শুবাহ (৬৪) এবং আয-যাজরু ওয়াল ইকমাহ (২২৬)।
(খণ্ড: ১) হুকমুল গিনা ফী মাজহাবিল মালিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وأقبح شيء في هذه المسألة: التعامي عن جميع ما ذكر، والميل إلى الاستدلال بفعل المتأخرين على جواز ذلك، كيف يجمل نبذ ما تقدم ذكره، والتغافل عنه استنادا إلى فعل بعض المتأخرين، ومن لم تثبت عصمته لا يؤمن زلله، وقد قال مالك رحمه الله: من كل القول مأخوذ ومتروك، إلا ما قاله صاحب هذا القبر، يشير إلى النبي صلى الله عليه وسلم. (1)

وغير بعيد أن يكون المتأخر قد التبس عليه الحق، وجهله في هذه المسألة، فليس إلا الكتاب والسنة وفعل السلف، فهم أقرب عهدا بزمان النبوءة وأشد فهما لمعاني الكتاب والسنة، وأشد متابعة للنبي صلى الله عليه وسلم، ولما بعد زمن النبوة حدث التغيير والتبديل.

وقال أيضا عن الغناء (2/ 611): ولم يجعله فضيلة إلا من عري عن العلم واتبع هواه.

--------------------------------------------

(1) رواه ابن عبد البر في جامع البيان (2/ 91).

এই মাসআলায় সবচেয়ে গর্হিত বিষয় হলো: ইতিপূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে সে সবের প্রতি অন্ধত্ব প্রদর্শন করা এবং পরবর্তী যুগের (متأخرون) আলিমদের কর্মের মাধ্যমে এর বৈধতার সপক্ষে দলিল পেশ করার দিকে ঝুঁকে পড়া। পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তা বর্জন করা এবং পরবর্তী যুগের কিছু লোকের কর্মের ওপর ভিত্তি করে সে সম্পর্কে উদাসীন থাকা কীভাবে শোভন হতে পারে? অথচ যার নিষ্পাপ হওয়া (عصمة) প্রমাণিত নয়, তার পদস্খলন থেকে নিরাপদ থাকা যায় না। ইমাম মালিক (রহ.) বলেছেন: এই কবরের অধিবাসী—অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)—ব্যতীত অন্য যে কারো কথাই গ্রহণ করা যেতে পারে কিংবা বর্জন (متروك) করা যেতে পারে। (১)

আর এটি বিচিত্র নয় যে, পরবর্তী যুগের (متأخرون) কারো নিকট সত্য অস্পষ্ট থেকে গেছে এবং এই মাসআলায় তিনি অজ্ঞ ছিলেন। সুতরাং কিতাব, সুন্নাহ এবং পূর্বসূরিদের (سلف) কর্মপন্থা ছাড়া আর কিছুই (অনুসরণযোগ্য) নেই। কেননা তাঁরা নবুয়তের যুগের অধিকতর নিকটবর্তী ছিলেন এবং কিতাব ও সুন্নাহর মর্মার্থ অনুধাবনে অধিক পারদর্শী ছিলেন, আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণেও অধিক তৎপর ছিলেন। নবুয়তের যুগের পরবর্তী সময়েই তো নানা পরিবর্তন ও রদবদল ঘটেছে।

গান সম্পর্কে তিনি আরও বলেন (২/৬১১): জ্ঞানশূন্য এবং প্রবৃত্তি পূজারি ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ একে ফযিলত বা পুণ্যময় কাজ হিসেবে গণ্য করেনি।

--------------------------------------------

(১) ইবনু আবদিল বার এটি জামি বয়ান (২/৯১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।