(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: -)
العلمانية المفهوم والمظاهر والأسباب   (مصطفى باحو)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: العلمانية - المفهوم والمظاهر والأسباب

المؤلف: أبو سفيان مصطفى باحُّو السلاوي المغربي

الناشر: جريدة السبيل، المغرب

الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م

عدد الصفحات: 170

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 محرم 1434

ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ: ধারণা, স্বরূপ ও কারণসমূহ   (মুস্তফা বাহু)

বিভাগ: বিভিন্ন মতবাদ ও খণ্ডন


বই: ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ - ধারণা, স্বরূপ ও কারণসমূহ

লেখক: আবু সুফিয়ান মুস্তফা বাহু আস-সালাউয়ি আল-মাগরিবি

প্রকাশক: জারিদাতুস সাবিল, মরক্কো

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৯ মুহররম ১৪৩৪

(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة: بحوث في العلمانية

(1)

طليعة السلسلة:

 

العلمانية

المفهوم والمظاهر والأسباب

 

مصطفى باحو
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বিষয়ক গবেষণামালা

(১)

সিরিজের প্রারম্ভিকা:

 

ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ

প্রত্যয়, বহিঃপ্রকাশ ও কারণসমূহ

 

মুস্তাফা বাহু
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ২)
الطبعة الأولى: رمضان 1432 - غشت 2011

الناشر: جريدة السبيل. سلا. المغرب.

الإيداع القانوني: 2011 MO2240
প্রথম সংস্করণ: রমজান ১৪৩২ - আগস্ট ২০১১

প্রকাশক: আস-সাবিল পত্রিকা। সালে। মরক্কো।

আইনি নিবন্ধন: ২০১১ MO2240
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌تمهيد

بسم الله الرحمن الرحيم، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين.

وبعد، فهذه سلسلة متتابعة حول العلمانية أبدؤها بهذه الرسالة، التي جعلتها طليعة لباقي السلسلة، أي: بمثابة المقدمة العامة لها، تمهيدا لبحوثها وتأسيسا لمواضعها، ولهذا تمحورت حول مفهوم العلمانية وأسبابها ومظاهرها وتاريخها وتطورها وآثارها وغير ذلك.

وستتلوها إن شاء الله سلسلة تضم أبحاثا عديدة نَجَز بعضها، وبعضها في الطريق إلى الإنجاز. منها:

1. الإسلام في نظر العلمانيين. وهو تحت الطبع بحمد الله.

2. موقف القرآن من العلمانية. وقد فرغت منه.

3. موقف السنة من العلمانية.

4. ماذا تريد العلمانية؟. وقد فرغت منه.

5. ماذا يعني تطبيق الشريعة؟

6. العلمانية والمذهب المالكي.

7. المذهب المالكي والقوانين المغربية.

8. النصوص الواردة في الفقه السياسي الإسلامي.

9. الأخبار الواردة في جمع المصحف وتدوينه. دراسة حديثية نقدية.

10. الأخبار الواردة في الحنفاء: دراسة حديثية نقدية.

11. الأخبار الواردة في الخلافة الراشدة. دراسة حديثية نقدية.

12. المعتزلة والصوفية، والتوظيف العلماني.
উপক্রমণিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূলের প্রতি।

অতঃপর, এটি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ (সেক্যুলারিজম) বিষয়ক একটি ধারাবাহিক গবেষণা-মালা, যা আমি এই পুস্তিকাটি দিয়ে শুরু করছি। একে আমি এই ধারাবাহিকের অগ্রপথিক তথা একটি সাধারণ ভূমিকা হিসেবে নির্ধারণ করেছি, যাতে পরবর্তী গবেষণাসমূহের পথ সুগম হয় এবং এর বিষয়বস্তুগুলোর তাত্ত্বিক ভিত্তি স্থাপিত হয়। এ কারণেই এই পুস্তিকাটি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের ধারণা, এর কারণ, স্বরূপ, ইতিহাস, বিবর্তন, প্রভাব এবং এ জাতীয় অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।

ইনশাআল্লাহ, এরপর ধারাবাহিকভাবে আরও অনেকগুলো গবেষণাপত্র প্রকাশিত হবে, যার কিছু কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং কিছু সমাপ্তির পথে। তার মধ্যে রয়েছে:

১. সেক্যুলারিস্টদের দৃষ্টিতে ইসলাম। আল্লাহর প্রশংসায় এটি বর্তমানে মুদ্রণাধীন রয়েছে।

২. ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের প্রতি কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি। এর কাজ আমি সমাপ্ত করেছি।

৩. ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের প্রতি সুন্নাহর দৃষ্টিভঙ্গি।

৪. ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ আসলে কী চায়? এর কাজ আমি সমাপ্ত করেছি।

৫. শরীয়াহর প্রয়োগ বলতে কী বোঝায়?

৬. ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও মালেকী মাযহাব।

৭. মালেকী মাযহাব ও মরক্কোর আইনসমূহ।

৮. ইসলামী রাজনৈতিক ফিকহ শাস্ত্রে বর্ণিত পাঠ্যসমূহ।

৯. পবিত্র কুরআন সংকলন ও তা লিপিবদ্ধকরণ সম্পর্কিত বর্ণনাগুলো: একটি সমালোচনামূলক হাদীসতাত্ত্বিক গবেষণা।

১০. 'হুনাফা' (একনিষ্ঠ তাওহীদপন্থী) সম্পর্কে বর্ণিত বর্ণনাগুলো: একটি সমালোচনামূলক হাদীসতাত্ত্বিক গবেষণা।

১১. খুলাফায়ে রাশেদীন সম্পর্কে বর্ণিত বর্ণনাগুলো: একটি সমালোচনামূলক হাদীসতাত্ত্বিক গবেষণা।

১২. মু'তাযিলা ও সূফীবাদ এবং সেক্যুলারদের দ্বারা এগুলোর ব্যবহার।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ৪)
وستصدر تباعا إن شاء الله، وقد يحصل فيها تقديم وتأخير.

هذا وتبقى بحوث كثيرة في حاجة إلى من يتصدى لها، لأنها تعتبر أحد أهم ركائز المشروع العلماني منها:

1 - دراسة تاريخ الأديان، وبيان أن الأديان سماوية، وليست مرحلة من مراحل تطور الفكر البشري، ودحض جميع الشبهات التي تثار حول الموضوع.

وعلم تاريخ الأديان علم غربي، نشأ في وسط إلحادي ينكر الأديان، ويبحث لها عن مبررات وجودها، ولهذا اصطبغ بصبغة إيديولوجية أكثر منها علمية معرفية.

فأغلب الباحثين الغربيين فيه وقبل كتابة بحوثهم لا يرون في الدين إلا خرافة نسجها العقل البشري، فكيف نتحدث عن نزاهة البحث العلمي وحياديته؟ هنا يكون البحث العلمي محكوما بآراء مسبقة يصعب تجاهلها (1).

2 - دراسة علوم قراءة النص كالسميولوجيا، والهرمنيوطيقا، والألسنية، والأسلوبية، وعلم السرد، وبيان ما لها وما عليها وإبراز اختلاف اجتهادات رموزها، وأن ما فيها من مناهج صحيحة لقراءة النص لا يمكن أن تؤدي إلا إلى قراءة صحيحة للنص الديني، وأن الآفة من القارئ لا من المنهج، الذي يريد أن يقرأ ما يريد هو في النص لا ما يريد أن يقوله النص.

--------------------------------------------

(1) وقد اعترف حسن حنفي بأن تاريخ علم الأديان فيه اجتهادات عديدة، وكلها آراء ظنية. الأسطورة والتراث (283).
ইনশাআল্লাহ এগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে, আর এক্ষেত্রে ক্রমানুসারে কিছুটা আগে-পরে হতে পারে।

এর বাইরেও এমন অনেক গবেষণা রয়ে গেছে যেগুলো সম্পন্ন করার জন্য যোগ্য ব্যক্তির প্রয়োজন, কারণ এগুলো ধর্মনিরপেক্ষ প্রকল্পের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। তন্মধ্যে রয়েছে:

১ - ধর্মসমূহের ইতিহাস অধ্যয়ন এবং এই বিষয়টি স্পষ্ট করা যে, ধর্মসমূহ ঐশী; এগুলো মানবীয় চিন্তার বিবর্তনের কোনো পর্যায় নয়। সেই সাথে এই বিষয়ে উত্থাপিত সকল সংশয় খণ্ডন করা।

ধর্মসমূহের ইতিহাসের বিষয়টি মূলত একটি পশ্চিমা জ্ঞানশাখা, যার উদ্ভব হয়েছে ধর্ম-অস্বীকারকারী এক নাস্তিক্যবাদী পরিবেশে, যা ধর্মের অস্তিত্বের জাগতিক কারণ খুঁজে বেড়ায়। এই কারণেই এটি জ্ঞানতাত্ত্বিক বা বৈজ্ঞানিক হওয়ার চেয়ে আদর্শিক রঙে বেশি রঞ্জিত হয়েছে।

এই ক্ষেত্রের অধিকাংশ পশ্চিমা গবেষক তাদের গবেষণা রচনার পূর্বেই ধর্মকে মানুষের মস্তিস্কপ্রসূত একটি রূপকথা ছাড়া অন্য কিছু মনে করেন না। এমতাবস্থায় বৈজ্ঞানিক গবেষণার সততা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে আমরা কীভাবে কথা বলতে পারি? এখানে বৈজ্ঞানিক গবেষণাটি এমন সব পূর্বনির্ধারিত মতামতের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় যা উপেক্ষা করা কঠিন (১)।

২ - পাঠ-বিশ্লেষণমূলক জ্ঞানশাখাসমূহ যেমন: সেমিওলজি (চিহ্নতত্ত্ব), হারমেনিউটিক্স (ব্যাখ্যাতত্ত্ব), ভাষাতত্ত্ব, শৈলীবিজ্ঞান এবং বর্ণনাতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করা; এগুলোর সবল ও দুর্বল দিকগুলো বর্ণনা করা এবং এগুলোর প্রবক্তাদের ইজতিহাদ বা মতামতের ভিন্নতা তুলে ধরা। আর এটি স্পষ্ট করা যে, পাঠ বিশ্লেষণের সঠিক পদ্ধতিগুলো ধর্মীয় পাঠের সঠিক অনুধাবনের দিকেই নিয়ে যায়। মূলত সমস্যাটি পদ্ধতির নয় বরং পাঠকের, যে পাঠ্যের মূল বার্তার পরিবর্তে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী অর্থ খুঁজতে চায়।

--------------------------------------------

(১) হাসান হানাফি স্বীকার করেছেন যে, ধর্মতত্ত্বের ইতিহাসে অসংখ্য ব্যাখ্যা রয়েছে এবং এগুলোর সবই ধারণাপ্রসূত মতামত। আল-উসতুরা ওয়াত-তুরাস (২৮৩)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ৫)
وطالما تبجح أركون ونصر أبو زيد بهذه الآليات، وأن اعتمادها كاف لتجاوز النص الديني برمته.

وطوال عصور الإسلام الخالدة بما فيها عصور الضعف والانحطاط والوهن كان لا يسمع في أرجاء العالم الإسلامي إلا القرآن والسنة وأحكامهما وما تفرع عنهما من فقه واستنباط. ولم يكن يُرفع صوت فوق صوت القرآن والسنة، وأن أحكامهما فوق كل حكم وكل تشريع وكل قانون. وهكذا صار الحال في المغرب، فكان إلى فقهاء المالكية المفزع والمرجع في كل شيء، منهم القضاة والحكام، ولا نعرف في تاريخ المغرب خروجا عن أحكام المذهب المالكي لا في البيوع ولا في قضاء الأسرة، ولا في الحدود ولا غيرها. وهذه تواريخ المغرب مدونة ومنشورة. وهذه كتب النوازل والأحكام للونشريسي والعلمي والوزاني والبرزلي وغيرها، يظهر فيها جليا أن الشريعة الإسلامية هي الحكم في كل شيء.

وهذه كتب الوثائق وأحكام القضاء مدونة معروفة كتبصرة ابن فرحون والمتيطية وغيرها، بل حتى حكام المغرب إلى ما قبل الاستعمار لم يعرف في تاريخهم الطويل تحكيم غير الشريعة الإسلامية، ممثلة في المذهب المالكي، ولم يعرف عن واحد منهم أنه ألغى أحكام الشريعة واستبدلها بقوانين أخرى مناقضة لها ومعارضة لأحكامها.

إلى أن جاء الاستعمار فأحكم سيطرته، وفرض أحكامه، وألغى حكم الشريعة واستبدلها بقوانينه الوضعية، ثم بعد الاستقلال الصوري بقي الحال على ما هو عليه، وإلى الله المشتكى وحده لا شريك له.

وخلف الاستعمار خلفه فلولا من العلمانيين يسهرون على تنفيذ خططه والإجهاز على ما تبقى من أحكام الشريعة «مدونة الأسرة»، ثم لا زالت شوكة
দীর্ঘদিন যাবত আরকুন এবং নাসর আবু জায়েদ এই পদ্ধতিগুলো নিয়ে আস্ফালন করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, ধর্মীয় পাঠ্যকে পুরোপুরি অতিক্রম করার জন্য এগুলোর অবলম্বনই যথেষ্ট।

ইসলামের চিরন্তন যুগগুলোতে—এমনকি দুর্বলতা, অবক্ষয় ও হীনবল হওয়ার সময়কালেও—সমগ্র মুসলিম বিশ্বে কুরআন ও সুন্নাহ, তাদের বিধিবিধান এবং তা থেকে উদ্ভূত ফিকহ ও ইস্তিনবাত ব্যতীত আর কিছুই শোনা যেত না। কুরআন ও সুন্নাহর বাণীর উপরে অন্য কোনো কণ্ঠস্বর উত্থিত হতো না এবং এ দুটির বিধান ছিল সকল বিচার, বিধান ও আইনের ঊর্ধ্বে। মরক্কোর অবস্থাও তেমনই ছিল; মালিকি ফকিহগণই ছিলেন সবকিছুর আশ্রয়স্থল এবং নির্দেশনার উৎস। তাদের মধ্য থেকেই বিচারক ও শাসকগণ নিযুক্ত হতেন। মরক্কোর ইতিহাসে আমরা মালিকি মাযহাবের বিধানের বাইরে কোনো বিচ্যুতি লক্ষ্য করি না—তা ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত লেনদেনই হোক, কিংবা পারিবারিক বিচারব্যবস্থা, হদ বা দণ্ডবিধি অথবা অন্য কোনো ক্ষেত্রেই হোক। মরক্কোর এসব ইতিহাস লিপিবদ্ধ ও প্রকাশিত রয়েছে। ওয়ানশারিসি, আলমি, ওয়াযযানি এবং বারযালি প্রমুখের 'নাওয়াযিল' ও 'আহকাম' বিষয়ক গ্রন্থাবলি বিদ্যমান, যেখানে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, ইসলামি শরীয়াহই ছিল সবকিছুর মীমাংসাকারী।

দলিল-দস্তাবেজ এবং বিচারিক বিধানের সুপরিচিত কিতাবসমূহ—যেমন ইবনে ফারহুনের 'তাবসিরাহ' ও 'মাতিতিয়্যাহ' সহ অন্যান্য গ্রন্থাবলি—সংরক্ষিত আছে। এমনকি উপনিবেশ পূর্ববর্তী মরক্কোর শাসকদের সুদীর্ঘ ইতিহাসে মালিকি মাযহাবের মাধ্যমে উপস্থাপিত ইসলামি শরীয়াহ ব্যতীত অন্য কোনো বিধান অনুযায়ী শাসন পরিচালনার কথা জানা যায় না। তাদের মধ্যে এমন কোনো শাসকের কথা জানা যায় না, যিনি শরীয়াহর বিধান বাতিল করে তার পরিবর্তে শরীয়াহ বিরোধী ও সাংঘর্ষিক অন্য কোনো আইন প্রবর্তন করেছেন।

পরিশেষে যখন উপনিবেশবাদ এল এবং তাদের আধিপত্য সুসংহত করল, তারা নিজেদের বিধান চাপিয়ে দিল এবং শরীয়াহর শাসন বাতিল করে নিজেদের মানব রচিত আইনের প্রবর্তন করল। এরপর নামমাত্র স্বাধীনতার পরেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং তা অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে। কেবল এক অদ্বিতীয় আল্লাহর নিকটই আমাদের সকল ফরিয়াদ।

উপনিবেশবাদীরা তাদের উত্তরসূরি হিসেবে একদল ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীকে রেখে গেছে, যারা তাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে এবং শরীয়াহর অবশিষ্ট বিধানসমূহ—যেমন 'পারিবারিক আইনি কাঠামো'—নিশ্চিহ্ন করতে সচেষ্ট রয়েছে। এরপরও সেই শত্রুতার কাঁটা...
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ৬)
العلمانيين تشتد مع مرور الوقت إلى أن جاهروا بعقائدهم وآرائهم، فدافعوا على علمانية الدولة وفصلوا الشريعة التي حكمت المغرب لقرون عديدة عن الحياة العامة.

لهذه الأسباب شرعت في إصدار هذه السلسة التي ستستمر {حَتَّى يَحْكُمَ اللهُ بَيْنَنَا وَهُوَ خَيْرُ الْحَاكِمِينَ}.

ولا يفوتني التنبيه هنا إلى ضرورة إنشاء مركز لدراسة العلمانية، من كافة جوانبها، ودراسة تطبيق الشريعة الإسلامية ومعوقاته ومشاكله وحلوله، ودراسة مناهج النقد الغربية المعاصرة والمذاهب الفلسفية التي لها علاقة بموضوع العلمانية، ومذاهب قراءة النص، ومذاهب المستشرقين.

فهذه ثلاثة محاور رئيسة مترابطة فيما بينها:

- العلمانية.

- تطبيق الشريعة.

- المذاهب الفلسفية والنقدية الغربية.

وإن كان الموضوع الأول كُتِبت فيه بحوث عديدة، فإن المبحث الثاني أقل عناية، والمبحث الثالث تقل فيه البحوث أكثر.

وإنما قلت مترابطة، لأن العلمانية تقف على أسس فلسفية غربية، كما سيأتي، وهدفها تنحية الشريعة من الوجود الفعلي وإقصاؤها. ولبلوغ هذا الإقصاء يتم استدعاء جملة من المناهج النقدية التفكيكية.

ويقوم المشروع العلماني في نقده للإسلام على ثلاث ركائز:
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের তৎপরতা সময়ের সাথে সাথে তীব্রতর হতে থাকে, যতক্ষণ না তারা প্রকাশ্যে তাদের বিশ্বাস ও মতাদর্শ ব্যক্ত করতে শুরু করে। তারা রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতার স্বপক্ষে অবস্থান নেয় এবং দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী ধরে মরক্কোর শাসনব্যবস্থায় বিদ্যমান শরীয়াহকে জনজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।

এই সকল কারণেই আমি এই ধারাবাহিকটি প্রকাশ করা শুরু করেছি, যা অব্যাহত থাকবে {যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের মধ্যে ফয়সালা করেন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী}।

এখানে আমি ধর্মনিরপেক্ষতাকে তার সামগ্রিক দিক থেকে অধ্যয়ন করা, ইসলামী শরীয়াহর প্রয়োগ এবং এর প্রতিবন্ধকতা, সমস্যা ও সমাধান নিয়ে গবেষণা করা, এবং ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সমকালীন পশ্চিমা সমালোচনা পদ্ধতি, দার্শনিক মতবাদসমূহ, পাঠ-বিশ্লেষণ পদ্ধতি ও প্রাচ্যবিদদের মতাদর্শসমূহ পর্যালোচনার জন্য একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা আবশ্যক মনে করছি।

এগুলো হলো পরস্পর সম্পর্কিত তিনটি প্রধান মূলবিন্দু:

- ধর্মনিরপেক্ষতা।

- শরীয়াহর প্রয়োগ।

- পশ্চিমা দার্শনিক ও সমালোচনামূলক মতবাদসমূহ।

যদিও প্রথম বিষয়টি নিয়ে প্রচুর গবেষণা হয়েছে, তবে দ্বিতীয় বিষয়টি অপেক্ষাকৃত কম মনোযোগ পেয়েছে এবং তৃতীয় বিষয়টিতে গবেষণার হার আরও কম।

আমি এগুলোকে 'পরস্পর সম্পর্কিত' বলেছি, কারণ ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা দার্শনিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে—যা সামনে আলোচিত হবে—এবং এর লক্ষ্য হলো শরীয়াহকে বাস্তব উপস্থিতি থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং একে বর্জন করা। আর এই বর্জন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ সমালোচনামূলক বিনির্মাণবাদী পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া হয়।

ইসলামের সমালোচনায় ধর্মনিরপেক্ষ প্রকল্পটি তিনটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত:
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ৭)
1 - النصوص الدينية ومفاهيمها القروسطية (1) متناقضة ومختلة، وهذا دور الاستشراق وأذنابه العرب.

2 - المناهج الإسلامية لقراءة النص الديني (أصول الفقه وعلوم اللغة وعلوم القرآن) أصبحت متجاوزة وغير علمية. بينما المناهج النقدية الغربية لقراءة النصوص فهي علمية وعلى درجة كبيرة من الاحترافية والمصداقية.

3 - تطبيق النصوص الدينية عبر التاريخ لم يجلب للبشرية إلا الشر والخراب والدمار (2).

تحليل هذه المسائل ودراستها دراسة معمقة أكاديمية يمثل نقطة البدء في مواجهة المشروع العلماني وتفكيك خطابه من أجل تجاوزه وتهميشه.

وأنا أرى أن تأسيس مركز علمي أكاديمي راق لكشف حقيقة العلمانية وبيان خطرها على الإسلام والمسلمين أفضل عند الله من إفطار مليون مسلم، وخير من 1000 محاضرة. لأن ذاك واجب، وهذا مستحب.

--------------------------------------------

(1) هذا المصطلح يستعمله عدد من العلمانيين اختصارا للقرون الوسطى.

(2) ويرى علمانيون كأركون أن الإسلام لم يطبق طوال عهوده، وبالتالي فالمناداة بالدولة الإسلامية حلم لا غير. قضايا في نقد العقل الديني (127).

وهذا يحتاج إلى رصد تاريخي لمسألة تطبيق الشريعة الإسلامية عبر العصور المختلفة، وأنها طبقت بنسب متفاوتة، وأنها كانت حاضرة بقوة في كل المجالات الحيوية السياسية والاقتصادية والاجتماعية. وظل الإسلام هو المرجع الوحيد للخلفاء والتجار والحرفيين والصناع والعلماء وكافة طبقات المجتمع.

وأن الأمر ليس قاصرا على الأحوال الشخصية كما زعم خليل عبد الكريم في أعماله (225 - 363) وأركون في الإسلام الأخلاق والسياسة وغيرهم.
১ - ধর্মীয় পাঠ্য এবং সেগুলোর মধ্যযুগীয় ধারণাগুলো (১) স্ববিরোধী ও ত্রুটিপূর্ণ; আর এটিই প্রাচ্যতত্ত্ব এবং তাদের আরব অনুসারীদের ভূমিকা।

২ - ধর্মীয় পাঠ্য পর্যালোচনার ইসলামি পদ্ধতিসমূহ (উসূলুল ফিকহ, ভাষাবিজ্ঞান ও কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানসমূহ) বর্তমানে সেকেলে ও অবৈজ্ঞানিক হয়ে পড়েছে। পক্ষান্তরে, পাঠ্য পর্যালোচনার ক্ষেত্রে পশ্চিমা সমালোচনামূলক পদ্ধতিগুলো বৈজ্ঞানিক এবং উচ্চমানের পেশাদারিত্ব ও নির্ভরযোগ্যতাসম্পন্ন।

৩ - ইতিহাসের পরিক্রমায় ধর্মীয় বিধানের প্রয়োগ মানবজাতির জন্য অকল্যাণ, বিনাশ ও ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনেনি (২)।

এই বিষয়গুলোর বিশ্লেষণ এবং গভীর অ্যাকাডেমিক অধ্যয়ন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী প্রকল্পের মোকাবিলা এবং এর বয়ানকে খণ্ডন করার প্রারম্ভিক বিন্দু হিসেবে গণ্য হয়, যাতে একে অতিক্রম করে অপ্রাসঙ্গিক করে তোলা সম্ভব হয়।

আমি মনে করি, ধর্মনিরপেক্ষতার স্বরূপ উন্মোচন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য এর ক্ষতিকারক দিকগুলো ব্যাখ্যা করার লক্ষ্যে একটি উচ্চমানসম্পন্ন বৈজ্ঞানিক অ্যাকাডেমিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা আল্লাহর নিকট দশ লক্ষ মুসলিমকে ইফতার করানোর চেয়েও উত্তম এবং ১০০০টি বক্তৃতার চেয়েও শ্রেষ্ঠ। কারণ, পূর্বোক্তটি একটি আবশ্যিক কর্তব্য, আর শেষোক্তটি একটি ঐচ্ছিক নেক আমল মাত্র।

--------------------------------------------

(১) এই পরিভাষাটি বেশ কিছু ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী 'মধ্যযুগ'-এর সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে ব্যবহার করেন।

(২) আরকুনের মতো ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা মনে করেন যে, ইতিহাসের কোনো কালেই ইসলাম পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি; ফলে ইসলামি রাষ্ট্রের দাবি নিছক একটি স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়। 'ধর্মীয় বুদ্ধিবৃত্তির সমালোচনা সংক্রান্ত বিষয়াদি' (১২৭)।

আর এর জন্য বিভিন্ন যুগে ইসলামি শরীয়াহ প্রয়োগের বিষয়টি ঐতিহাসিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এটি নিশ্চিত যে, শরীয়াহ বিভিন্ন মাত্রায় প্রয়োগ করা হয়েছিল এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এর শক্তিশালী উপস্থিতি ছিল। খলিফা, ব্যবসায়ী, কারিগর, শিল্পী, আলেম এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের নিকট ইসলামই ছিল একমাত্র জীবনবিধান।

এবং এই প্রয়োগ কেবল ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, যেমনটি খলিল আব্দুল করিম তাঁর রচনায় (২২৫ - ৩৬৩) এবং আরকুন তাঁর 'ইসলাম: নৈতিকতা ও রাজনীতি' গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা দাবি করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ৮)
ولابد من حشد الطاقات العلمية اللازمة لهذا المركز منها مثلا:

- متخصصون في اللغة والترجمة التي لها علاقة بهذا الموضوع كالفرنسية والإنجليزية والألمانية.

- متخصصون في العلوم الإنسانية المعاصرة.

- متخصصون في الفلسفة وخاصة الغربية.

- متخصصون في العلمانية.

- متخصصون في التاريخ.

- متخصصون في الاستشراق.

- متخصصون في علوم الشريعة المختلفة.

ولابد من وضع خطة متكاملة للعمل، ووضع استراتيجية شاملة للمشروع.

ولابد من ضمان التمويل الضروري بعيدا عن الحكومات حتى لا يبقى المركز تحت سيطرة أحد أو لخدمة أجندة خاصة.

ولابد من توفير مكتبة متكالمة لهذه المهمة.

يكون المركز تحت إشراف هيئة رفيعة المستوى يرأسها مدير وتحته لجان متعددة متخصصة. ويجب أن يكون كل العاملين في المركز متفرغين.

والله أسأل التوفيق والسداد في هذه البحوث، عسى -إن لم أُوَفق للتمام فيها- أن أقاربه وأدانيه. وصلى الله وسلم على رسوله المبعوث رحمة للعالمين.
এই কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা একত্রিত করা আবশ্যক, যার মধ্যে রয়েছে যেমন:

- ফরাসি, ইংরেজি এবং জার্মানির মতো এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ভাষা ও অনুবাদ বিশেষজ্ঞগণ।

- সমকালীন মানবিক বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞগণ।

- দর্শন, বিশেষ করে পাশ্চাত্য দর্শন বিশেষজ্ঞগণ।

- ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বিশেষজ্ঞগণ।

- ইতিহাস বিশেষজ্ঞগণ।

- প্রাচ্যতত্ত্ব বিশেষজ্ঞগণ।

- শরীয়াহর বিভিন্ন শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ।

কাজের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা এবং প্রকল্পের জন্য একটি সামগ্রিক কৌশল প্রণয়ন করা অপরিহার্য।

সরকারি প্রভাবমুক্ত থেকে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে কেন্দ্রটি কারও নিয়ন্ত্রণে না থাকে অথবা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত না হয়।

এই মহৎ কাজের জন্য একটি সমৃদ্ধ ও পূর্ণাঙ্গ পাঠাগারের ব্যবস্থা করা আবশ্যক।

কেন্দ্রটি একজন পরিচালকের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের পর্ষদের তত্ত্বাবধানে থাকবে, যার অধীনে বিভিন্ন বিশেষায়িত কমিটি কাজ করবে। কেন্দ্রের সকল কর্মীকে অবশ্যই পূর্ণকালীন নিয়োজিত হতে হবে।

আমি আল্লাহর নিকট এই গবেষণায় তাওফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি; যদি আমি এটি পূর্ণাঙ্গ করতে সক্ষম নাও হই, তবে যেন অন্তত এর লক্ষ্যবস্তুর নিকটবর্তী হতে পারি। বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত রাসূলের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مقدمة

بعد سقوط الشيوعية تحول الإسلام إلى عدو استراتيجي للغرب باعتراف نصر حامد أبي زيد (1) ومحمد أركون (2).

فلم يجد سلاحا أمضى من سلاح العلمانية لإزاحة الإسلام وزعزعته من المجتمعات الإسلامية والحد من هيمنته على الحياة العامة للمسلمين، وتحجيم دوره وتهميشه داخل جدران المساجد والزوايا، وتحويله في النهاية إلى نوع من الفولكلور أو التراث الشعبي.

فجُندت وحشدت جحافل من العلمانيين العرب للقيام بدور الطليعة الأولى والنيابة عن الغرب في نشر المشروع الحضاري الغربي.

ولا تعدو العلمانية في تقديري أن تكون واجهة للرجل الأبيض المتفوق، ومقدمة لهيمنة الحضارة الغالبة وتركيع باقي الحضارات.

وقد بين العلماني تركي علي الربيعو كيف سعى الخطاب الغربي عموما إلى إبراز تفوق الرجل الأبيض أو قل تبرير التمركز الأوربي عن طريق تبرير المعجزة الأوربية الحالية بأنها تستند إلى معجزة عريقة في تاريخ البشرية ألا وهي المعجزة الإغريقية، وبالتالي تبرير العرقية والعنصرية (3).

--------------------------------------------

(1) دوائر الخوف (55).

(2) قضايا في نقد العقل الديني (202).

(3) أزمة الخطاب التقدمي (160).
ভূমিকা

কমিউনিজমের পতনের পর ইসলাম পাশ্চাত্যের নিকট এক কৌশলগত শত্রুতে পরিণত হয়েছে, যা নসর হামিদ আবু জায়েদ (১) এবং মোহাম্মদ আরকুন (২) স্বীকার করেছেন।

ফলে মুসলিম সমাজ থেকে ইসলামকে স্থানচ্যুত ও অস্থিতিশীল করতে, মুসলমানদের জনজীবনে এর প্রভাবকে সীমিত করতে, মসজিদের দেয়াল ও খানকাহর ভেতরে এর ভূমিকাকে সংকুচিত ও প্রান্তিক করে দিতে এবং পরিশেষে একে এক প্রকার লোকজ সংস্কৃতি বা লোকঐতিহ্যে রূপান্তরিত করতে তারা ধর্মনিরপেক্ষতার চেয়ে অধিক ধারালো কোনো অস্ত্র খুঁজে পায়নি।

তাই পশ্চিমা সভ্যতা-প্রকল্প প্রসারে অগ্রবর্তী বাহিনী হিসেবে এবং পাশ্চাত্যের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য এক বিশাল আরব ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী বাহিনীকে নিয়োজিত ও সমবেত করা হয়েছে।

আমার বিবেচনায়, ধর্মনিরপেক্ষতা শ্রেষ্ঠত্বকামী শ্বেতাঙ্গ মানুষের একটি বহিরাবরণ ছাড়া আর কিছুই নয় এবং এটি মূলত বিজয়ী সভ্যতার আধিপত্য প্রতিষ্ঠা ও অবশিষ্ট সভ্যতাগুলোকে পদানত করার একটি সোপান।

ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী তুর্কি আলী আল-রাবিউ বর্ণনা করেছেন যে, কীভাবে পশ্চিমা বয়ান সাধারণত শ্বেতাঙ্গ মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ফুটিয়ে তুলতে অথবা ইউরোপ-কেন্দ্রিকতাকে এই বলে বৈধতা দিতে সচেষ্ট হয়েছে যে, বর্তমান ইউরোপীয় অলৌকিক সাফল্য মানব ইতিহাসের এক প্রাচীন মহিমা তথা গ্রীক অলৌকিকতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে; আর এভাবেই তারা জাতিবিদ্বেষ ও বর্ণবাদকে ন্যায়সংগত করতে চেয়েছে (৩)।

--------------------------------------------

(১) দাওয়াইরুল খাওফ (৫৫)।

(২) কাদায়া ফি নাকদিল আকলিদ দ্বীনি (২০২)।

(৩) আজমাতুল খিতাবিত তাকাদদুমি (১৬০)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ১০)
من هنا جاء تبرير الاستعمار، وأن الرجل الأبيض المتفوق حضاريا يسعى إلى تحضير وتحديث الشعوب المتخلفة ونقلها إلى جنته.

وقد ظل الفكر الحداثي «هو الفكر الذي أُوكل إليه أو أوكل إلى نفسه مهمة إعادة تركيب النسيج الثقافي الاجتماعي العربي والإسلامي وفقا لنموذج أرقى، النموذج الغربي المكتمل للتاريخ للثقافة للمجتمع للعلمنة للدولة الأمة» (1).

وحاولت جوقة العلمانيين العرب القفز على هذه الحقائق وتسويق علمانيتهم كفهم تنويري تجديدي للإسلام، مرفقة ذلك بهجمة شرسة على الإسلام وأصوله وأحكامه، وتصوير مخالفيهم من العلماء الرسميين والإسلاميين بمثابة قطيع أو حثالة من الناس دوغمائيين متحجرين متزمتين لا عقلانيين متعطشين للدماء، خارج التاريخ وفوق الواقع.

والنقد في الخطاب العلماني دائما يتوجه إلى «الأنا» أي: إلى ذلك الموروث الثقيل الخرافي المكبل للحركة وللتقدم. وينسى أو يتناسى ذاك «الآخر» الغربي المترصد الباحث عن الهيمنة والسيطرة والإلحاق الحضاري. فالتراث هو الشيطان الأكبر، بل والوحيد، وهو الظلام الدامس الغارق في كل أصناف الرجعية والتخلف. والنور الوحيد والأمل الوحيد هو ذاك الغرب بفكره التنويري الحداثي، ولا يهم أنه هو الذي احتل أرضنا ونهب ثرواتنا وقسم بلادنا ولازال يعرقل حركتنا ويساند عدونا ويتآمر على مصالحنا.

والعلمانية ليست فصل الدين عن الدولة فقط كما يروج عدد من العلمانيين تسترا وتزييفا، بل هي كما سيأتي مفصلا فلسفة عامة للوجود، لها رؤية

--------------------------------------------

(1) الخطاب العربي المعاصر (14).
এখান থেকেই উপনিবেশবাদের যৌক্তিকতা তৈরি হয়েছে যে, সাংস্কৃতিকভাবে শ্রেষ্ঠ শ্বেতাঙ্গ মানুষ অনগ্রসর জাতিগুলোকে সভ্য ও আধুনিক করতে এবং তাদের নিজের স্বর্গে পৌঁছে দিতে সচেষ্ট।

আর আধুনিকতাবাদী চিন্তাটিই ছিল সেই চিন্তা, "যাকে অর্পণ করা হয়েছিল অথবা সে নিজেই নিজের ওপর এই দায়িত্ব তুলে নিয়েছিল যে, একটি উচ্চতর কাঠামোর আদলে আরব ও ইসলামি সমাজ-সাংস্কৃতিক বুননকে পুনর্গঠিত করতে হবে; যা হচ্ছে ইতিহাস, সংস্কৃতি, সমাজ, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং জাতিরাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ পশ্চিমা আদর্শ" (১)।

আরব ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের দলটি এই সত্যগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ার এবং তাদের ধর্মনিরপেক্ষতাকে ইসলামের এক নবজাগরণমূলক ও সংস্কারবাদী ব্যাখ্যা হিসেবে বাজারজাত করার চেষ্টা করেছে। এর পাশাপাশি তারা ইসলাম, এর মূলনীতি ও বিধানাবলির ওপর তীব্র আক্রমণ চালিয়েছে এবং তাদের বিরোধী সরকারি আলেম ও ইসলামপন্থীদের একদল গোঁড়া, স্থবির, কট্টর, কাণ্ডজ্ঞানহীন ও রক্তপিপাসু জনতা হিসেবে চিত্রিত করেছে, যারা ইতিহাসের বাইরে এবং বাস্তবতাবর্জিত।

ধর্মনিরপেক্ষ ডিসকোর্সে সমালোচনা সর্বদা 'স্ব-সত্তা'র দিকেই ধাবিত হয়, অর্থাৎ: সেই স্থবির ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন ঐতিহ্যের দিকে যা গতি ও অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধক। তারা সেই ওত পেতে থাকা পশ্চিমা 'অপর' সত্তাকে ভুলে যায় বা ভুলে থাকার ভান করে, যে আধিপত্য, নিয়ন্ত্রণ ও সাংস্কৃতিক দাসত্বের সন্ধানে রত। ফলে ঐতিহ্যই তাদের কাছে বড় শত্রু, বরং একমাত্র শত্রু; এবং তা সব ধরনের পশ্চাৎপদতা ও অনগ্রসরতায় নিমজ্জিত এক ঘুটঘুটে অন্ধকার। আর একমাত্র আলো এবং একমাত্র আশা হলো সেই পশ্চিম ও তার আধুনিকতাবাদী চিন্তাধারা। অথচ তারা যে আমাদের ভূমি দখল করেছে, আমাদের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে, আমাদের দেশগুলোকে বিভক্ত করেছে এবং আজও আমাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে, আমাদের শত্রুদের সমর্থন দিচ্ছে ও আমাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে—তা তাদের কাছে কোনো বিবেচ্য বিষয়ই নয়।

আর ধর্মনিরপেক্ষতা কেবল রাষ্ট্র থেকে ধর্মের বিচ্ছেদ নয়, যেমনটি অনেক ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী গোপনীয়তা বজায় রাখতে ও জালিয়াতির আশ্রয়ে প্রচার করে থাকে; বরং এটি অস্তিত্বের একটি সামগ্রিক দর্শন, যার একটি নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে

--------------------------------------------

(১) আল-খিতাব আল-আরাবি আল-মুয়াসির (১৪)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ১১)
للكون وللإنسان، تعتبر فيه الإنسان مركزا رئيسا ووحيدا لهذا الكون، ولا مكان فيها للماورائيات والغيبيات والأساطير الدينية. والتي تتحول إلى شيء فردي وشخصي شأنه شأن الأكل والشرب واللباس.

«الأمر الذي تبدو فيه قضية السياسة مجرد جزئية في المشروع العلماني، الذي يقوم أساسا على تهميش المقدس كحد أدنى، أو إلغائه وإنكاره تماما كحد أقصى. إن شئت الدقة فقل: إن الدين في ظل ذلك المشروع: إما محال إلى التقاعد، وإما مفصول من الخدمة» (1).

«ولا ريب أن موجة العلمنة التي شهدت نوعا من الصعود منذ بدايات القرن الماضي تتجه اليوم نحو مزيد من الضمور والانكماش، وخصوصا في أوساط المثقفين والقطاعات الشبابية الحديثة، ولعل هذا ما يفسر حرص بعض القوى العلمانية الجذرية على الاستنجاد بأدوات الدولة للتعويض عن انكماش قاعدتها الاجتماعية في محاولة لفرض نمط من العلمنة الفوقية والقسرية عبر المؤسسات الرسمية» (2).

فيما سعى آخرون إلى الاستنجاد بالدين نفسه وبعلومه ورموزه وتاريخه، حتى زعم حسن حنفي أن الإسلام في جوهره علماني (3).

بينما فضل علماني آخر القول بأن العلمنة بدأت بعد موت النبي صلى الله عليه وسلم.

وزعم آخر أنها بدأت بمجيء الدولة الأموية.

--------------------------------------------

(1) المفترون (246).

(2) في العلمانية والدين والديمقراطية (125).

(3) حوار المشرق والمغرب مواقف (58) (ص 80 - 90). واعتبر الجابري هذا قفزا على مسألة العلمانية وأنه طرح لا يحل المشكل.
মহাবিশ্ব ও মানুষের ক্ষেত্রে, এটি মানুষকে এই মহাবিশ্বের প্রধান ও একমাত্র কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করে; এতে আধিভৌতিকতা, অদৃশ্য বিষয়াদি এবং ধর্মীয় অলৌকিক কাহিনীর কোনো স্থান নেই। এগুলো আহার, পানীয় এবং পোশাক-পরিচ্ছদের মতোই একটি ব্যক্তিগত ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিষয়ে পরিণত হয়।

«ফলে রাজনীতির বিষয়টি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী প্রকল্পের একটি নিছক অংশ হিসেবে প্রতীয়মান হয়, যা মূলত ন্যূনতম পর্যায়ে পবিত্রতাকে প্রান্তিককরণ করার ওপর, অথবা সর্বোচ্চ পর্যায়ে তা সম্পূর্ণরূপে বিলোপ ও অস্বীকার করার ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। আপনি যদি আরো সুনির্দিষ্টভাবে বলতে চান তবে বলুন: সেই প্রকল্পের অধীনে ধর্ম হয় অবসরে পাঠানো হয়েছে, নতুবা চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে» (১)।

«নিঃসন্দেহে গত শতাব্দীর শুরু থেকে ধর্মনিরপেক্ষকরণের যে ঢেউ এক ধরণের উত্থান প্রত্যক্ষ করেছিল, তা আজ আরও ক্ষয় ও সঙ্কোচনের দিকে ধাবিত হচ্ছে; বিশেষ করে বুদ্ধিজীবী মহল ও আধুনিক যুব সমাজের মধ্যে। সম্ভবত এটিই ব্যাখ্যা করে কেন কিছু উগ্র ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী শক্তি তাদের সামাজিক ভিত্তির সঙ্কোচন পুষিয়ে নিতে রাষ্ট্রীয় যন্ত্রপাতির সাহায্য নিতে উন্মুখ হয়ে পড়েছে, যাতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া এবং বাধ্যতামূলক এক ধরণের ধর্মনিরপেক্ষতা আরোপ করা যায়» (২)।

অন্যদিকে অনেকে খোদ ধর্ম, এর শাস্ত্রসমূহ, প্রতীকসমূহ এবং ইতিহাসের সাহায্য নিতে সচেষ্ট হয়েছে; এমনকি হাসান হানাফি দাবি করেছেন যে ইসলাম তার সারবত্তায় ধর্মনিরপেক্ষ (৩)।

আবার অন্য এক ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী এই বলাকে পছন্দ করেছেন যে, ধর্মনিরপেক্ষকরণ শুরু হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর।

আর অন্য একজন দাবি করেছেন যে এটি উমাইয়া রাষ্ট্রের আগমনের সাথে শুরু হয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) আল-মুফিতারুন (২৪৬)।

(২) ফিল ইলমানিয়্যাতি ওয়াদ-দ্বীনি ওয়াদ-দিমুকরাতিয়্যাহ (১২৫)।

(৩) হিওয়ারুল মাশরিকি ওয়াল মাগরিব মাওয়াকিফ (৫৮) (পৃ. ৮০ - ৯০)। আল-জাবিরি বিষয়টিকে ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য করেছেন এবং মনে করেছেন যে এটি এমন এক প্রস্তাবনা যা সমস্যার সমাধান করে না।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ১২)
وزعم آخرون أن التاريخ الإسلامي عرف نماذج علمانية فقط كالمعتزلة والفلاسفة وابن مسكويه وابن خلدون وابن عربي وآخرين (1). وهذا رأي محمد أركون وغيره.

وأكد كثيرون أن العلمانية لم تعرفها البلدان الإسلامية إلا مع الاستعمار، كما سيأتي بيان ذلك إن شاء الله.

و «بذريعة مواجهة التطرف ظهرت في العقدين الأخيرين «ميلشيات» ضمت نفرا من المثقفين كانت مهمتهم ومازالت محاولة قطع الطريق على تقدم المسيرة الإسلامية بمختلف الوسائل المشروعة وغير المشروعة، وبشكل أساسي فإن الذين انخرطوا في تلك الميلشيات كانوا خليطا من غلاة العلمانيين والماركسيين وغيرهم من الذين نجحت حملات التعبئة في تخويفهم من الإسلام والمسلمين، أو الذين استقرت في أعماقهم كراهية الاثنين، ووجدوا أن مكانهم الطبيعي هو في معسكر «الضد» الرافض لكل ما هو إسلامي» (2).

وقد نجح الخطاب الرسمي في استقطاب أعداد هائلة من العلمانيين وجيشهم في صفه، مستثمرا موجة العداء للإرهاب، وبث في روعهم أن الخطر الداهم هو خطر الإسلاميين، ولذلك أصبحت ترى كيف أن المثقف التقدمي الماركسي الذي كان بالأمس يزعم مناصرة الطبقة الكادحة والمستضعفة كيف تحول إلى بوق من أبواق مَنْ هُم في نظره قوى رجعية تعادي التقدم.

--------------------------------------------

(1) وإذا استثنينا الفلاسفة أو بعضهم لا تسلم لأركون ومن معه تلك المزاعم. وللعلمانيين تعلق شديد بالمعتزلة ظنا منهم أن كل الصيد في جوف الفرا، كما يقول المثل، لقلة خبرتهم بمذاهب الاعتزال.

(2) المفترون (6).
অন্যান্যরা দাবি করেছেন যে, ইসলামি ইতিহাসে কেবল মুতাজিলা, দার্শনিক, ইবনে মিসকাওয়াইহ, ইবনে খালদুন, ইবনে আরাবি এবং অন্যদের মতো কিছু ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টান্তেরই দেখা মেলে (১)। এটি মোহাম্মদ আরকুন ও অন্যদের অভিমত।

অনেকে এই বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন যে, মুসলিম দেশগুলো উপনিবেশবাদের আগে ধর্মনিরপেক্ষতার সাথে পরিচিত ছিল না, যা ইনশাআল্লাহ অচিরেই বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হবে।

এবং "চরমপন্থা মোকাবিলার অজুহাতে গত দুই দশকে এমন কিছু 'মিলিশিয়া' বা বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠীর আত্মপ্রকাশ ঘটেছে যারা একদল বুদ্ধিজীবীকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তাদের লক্ষ্য ছিল এবং এখনও আছে বিভিন্ন বৈধ ও অবৈধ পন্থায় ইসলামি অগ্রযাত্রার পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা করা। মূলত, যারা এই মিলিশিয়াগুলোতে শামিল হয়েছিল তারা ছিল কট্টর ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী, মার্কসবাদী এবং অন্যদের একটি সংমিশ্রণ, যাদেরকে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে আতঙ্কিত করতে বিভিন্ন প্রচারণা সফল হয়েছিল, অথবা যাদের অন্তরের গভীরে এই উভয়ের প্রতি ঘৃণা প্রোথিত ছিল। তারা অনুভব করেছিল যে তাদের স্বাভাবিক অবস্থান হলো সেই 'প্রতিপক্ষ' শিবিরে যা ইসলামি ভাবাপন্ন সবকিছুকেই প্রত্যাখ্যান করে" (২)।

রাষ্ট্রীয় বয়ান বা ডিসকোর্স বিপুল সংখ্যক ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীকে আকৃষ্ট করতে এবং তাদের নিজ পক্ষে সমবেত করতে সফল হয়েছে। তারা সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী ঢেউকে কাজে লাগিয়ে তাদের মনে এই ধারণা বদ্ধমূল করে দিয়েছে যে, আসন্ন বিপদ মূলত ইসলামপন্থীদের পক্ষ থেকেই। ফলে আজ দেখা যায়, যে প্রগতিশীল মার্কসবাদী বুদ্ধিজীবী গতকাল পর্যন্ত মেহনতি ও মজলুম শ্রেণির পক্ষাবলম্বনের দাবি করতেন, তিনি কীভাবে আজ তাদেরই মুখপত্রে পরিণত হয়েছেন যারা তার দৃষ্টিতে প্রগতিবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি।

--------------------------------------------

(১) আমরা যদি দার্শনিক বা তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে বাদ দেই, তবে আরকুন ও তার অনুসারীদের এই দাবিগুলো টিকবে না। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের মুতাজিলাদের প্রতি গভীর আসক্তি রয়েছে, কারণ তারা মনে করে যে—আরব প্রবাদ অনুযায়ী—'সব শিকারই বুনো গাধার পেটে' (অর্থাৎ মুতাজিলাদের মধ্যেই তাদের সব উদ্দেশ্য নিহিত), মূলত মুতাজিলা মতবাদ সম্পর্কে তাদের সীমিত জ্ঞানের কারণেই এমনটি ঘটে থাকে।

(২) আল-মুফতারুন (৬)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ১৩)
فغدت حرية التعبير وتأسيس الأحزاب والجمعيات حكرا على الطائفة العلمانية، أما الإسلامي فهو الخطر الداهم.

إنها الديمقراطية الانتقائية أو ديمقراطية الاستثناءات.

لقد اختار كثير من العلمانيين الماركسيين الانحياز إلى الأنظمة المستبدة واختاروا أن يدعموها بتبرير سياستها تجاه الإسلاميين وابتلاع خطاياها وتحسين صورتها. لأنه بعد فشل مشروعهم وجدوا أن التعلق بأهداب الأنظمة الحاكمة بذريعة الدفاع عنها ضد الخطر الأصولي باب يكسبهم بعض الشرعية ودور يفتعل لهم قضية (1).

ولهذا لم تكن العلمانية يوما ما خيارا شعبيا ولا تتمتع برضى جماهيري، بل هي قرينة التسلط السياسي وانعكاس لمصالح بعض الفئات العلمانية النخبوية المتسلحة بمخالب الدولة، ثم بحماية القوى الخارجية (2).

وغالبا ما غازل الساسة العرب التيار العلماني لتشاركهم في مصالح فئوية ونخبوية ضيقة، وكره متطرف للآخر الإسلامي.

كان أغلب العلمانيين التونسيين يمثلون الطابور الخامس لحكم الطاغية ابن علي الذي أطاح به الشعب التونسي.

فعبد المجيد الشرفي ومحمد الشرفي وعبد الوهاب المؤدب والعفيف الأخضر وغيرهم من التونسيين لم يجدوا أمامهم من يستحق النقد والتجريح إلا

--------------------------------------------

(1) المفترون.

(2) في العلمانية والدين والديمقراطية.
ফলে বাকস্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক দল ও সমিতি গঠনের অধিকার কেবল ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠীর একচেটিয়া অধিকারে পরিণত হয়েছে; অন্যদিকে ইসলামপন্থীদের ক্ষেত্রে তা এক আসন্ন বিপদ হিসেবে গণ্য হয়েছে।

এটি হলো নির্বাচনমূলক গণতন্ত্র বা ব্যতিক্রমসমূহের গণতন্ত্র।

অনেক মার্ক্সবাদী ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার পক্ষাবলম্বন করা বেছে নিয়েছেন এবং ইসলামপন্থীদের প্রতি তাদের নীতিকে বৈধতা প্রদান, তাদের পাপসমূহকে হজম করা এবং তাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার মাধ্যমে তাদের সমর্থন করার পথ বেছে নিয়েছেন। কারণ, তাদের নিজস্ব প্রকল্পটি ব্যর্থ হওয়ার পর তারা লক্ষ্য করেছে যে, মৌলবাদী বিপদের বিরুদ্ধে রক্ষার অজুহাতে শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয় গ্রহণ করা এমন এক দ্বার উন্মোচন করে যা তাদের কিছুটা বৈধতা দেয় এবং তাদের জন্য একটি কৃত্রিম ইস্যু তৈরির ভূমিকা পালন করে (১)।

এই কারণেই ধর্মনিরপেক্ষতা কখনও জনগণের পছন্দ ছিল না এবং তা গণ-সন্তুষ্টি লাভ করেনি। বরং এটি রাজনৈতিক আধিপত্যবাদের সহগামী এবং রাষ্ট্রের নখরে সশস্ত্র কিছু ধর্মনিরপেক্ষ অভিজাত শ্রেণির স্বার্থের প্রতিফলন, যা পরবর্তীতে বিদেশি শক্তির সুরক্ষা লাভ করে (২)।

আরব রাজনীতিবিদরা প্রায়শই ধর্মনিরপেক্ষ ধারার সাথে তোষণমূলক আচরণ করেছেন যাতে তারা তাদের সংকীর্ণ গোষ্ঠীগত ও অভিজাত স্বার্থ এবং ইসলামপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতি চরম ঘৃণার অংশীদার হতে পারে।

অধিকাংশ তিউনিসীয় ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ছিল স্বৈরশাসক বিন আলীর শাসনের পঞ্চম বাহিনী হিসেবে, যাকে তিউনিসিয়ার জনগণ ক্ষমতাচ্যুত করেছিল।

ফলে আবদুল মজিদ আশ-শারাফি, মুহাম্মদ আশ-শারাফি, আবদুল ওয়াহাব আল-মুয়াদ্দিব, আফিফ আল-আখদার এবং অন্যান্য তিউনিসীয়রা তাদের সামনে সমালোচনা ও বিদ্ধ করার যোগ্য কাউকে খুঁজে পাননি কেবল

--------------------------------------------

(১) আল-মুফতারুন (মিথ্যা অপবাদদানকারীগণ)।

(২) ধর্মনিরপেক্ষতা, ধর্ম এবং গণতন্ত্র প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ১৪)
القرآن والسنة وعلوم المسلمين وأحكام الشريعة وصحابة رسول الله وعلماء الأمة على مر التاريخ.

ولم يسلم من عضاتهم ونهشاتهم إلا الطاغية ابن علي وزبانيته. بل كان الثاني منهم وزيرا في حكومته.

وقد انكشف للعالم الآن بعد الثورة التونسية حجم الفساد والطغيان والقهر والظلم والتسلط التي كان يتمتع بها النظام التونسي الديكتاتوري الذي روج له الإعلام العلماني العالمي والمغربي بمثابة النظام العلماني الناجح، بل دعا كتَّاب الأحداث المغربية والاتحاد الاشتراكي عندنا في المغرب إلى استيراد النموذج التونسي وتعميمه.

ولذلك فأنا دائما أنبه إلى أن حراس الهيكل العلماني وسدنته غالبا ما يغطي بعضهم على بعض ويسكت بعضهم عن جرائم بعض، مهما قمع وقتل وسفك، ما دام يذب عن الهيكل.

والطغمة العلمانية الفاسدة سياسيا وماليا واجتماعيا تساندها وتبارك خطواتها مليشيات علمانية فاسدة فكريا وسياسيا ودينيا.

وأكثر العلمانيين في تناولهم للإسلام محكومون بسلف وبرؤية حاقدة مسبقة. كما سيأتي.

ويغلب على كتابات كثير منهم طابع التشنج والتصميم الإيديولوجي القبلي والجاهز، الرافض للآخر والمصمم على إقصائه وتهميشه، بل تصويره كحثالة من الذباب الهائج، كما سيأتي تفصيله في محله.
কুরআন, সুন্নাহ, মুসলিমদের জ্ঞান-বিজ্ঞান, শরীয়তের বিধানাবলী, রাসূলুল্লাহর সাহাবীগণ এবং ইতিহাসের পরিক্রমায় উম্মাহর আলেম সমাজ।

স্বৈরশাসক বিন আলী এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গরা ব্যতীত আর কেউই তাদের দংশন ও আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়নি। বরং তাদের দ্বিতীয় জন তো তার সরকারের একজন মন্ত্রী ছিলেন।

তিউনিসিয়ার বিপ্লবের পর এখন বিশ্ববাসীর কাছে সেই দুর্নীতি, স্বৈরতন্ত্র, নিপীড়ন, অবিচার ও আধিপত্যের ব্যাপকতা উন্মোচিত হয়েছে, যা তিউনিসিয়ার স্বৈরাচারী সরকার ভোগ করছিল। অথচ বৈশ্বিক ও মরক্কোর ধর্মনিরপেক্ষ মিডিয়া একে একটি সফল ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থা হিসেবে প্রচার করেছিল; এমনকি আমাদের মরক্কোর ‘আল-আহদাস আল-মাগরিবিয়া’ এবং ‘সোশ্যালিস্ট ইউনিয়ন’-এর লেখকরা তিউনিসিয়ার সেই মডেল আমদানি ও তা সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তাই আমি সর্বদা এই বিষয়ে সতর্ক করি যে, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের মন্দিরের প্রহরী ও খাদেমরা একে অপরকে আড়াল করে রাখে এবং একে অপরের অপরাধের বিষয়ে নিশ্চুপ থাকে—তা সে যত দমন-পীড়ন, হত্যা ও রক্তপাতই করুক না কেন—যতক্ষণ পর্যন্ত সে সেই মন্দিরের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করে।

রাজনৈতিক, আর্থিক ও সামাজিকভাবে কলুষিত এই ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠীটিকে বুদ্ধিভিত্তিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয়ভাবে ভ্রষ্ট ধর্মনিরপেক্ষ মিলিশিয়ারা সমর্থন জোগায় এবং তাদের কর্মকাণ্ডে আশীর্বাদ বর্ষণ করে।

ইসলাম নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে অধিকাংশ ধর্মনিরপেক্ষবাদী তাদের পূর্বসূরিদের দ্বারা এবং একটি পূর্বনির্ধারিত বিদ্বেষপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। যেমনটি সামনে আলোচিত হবে।

তাদের অনেকের লেখাতেই উত্তেজনা এবং পূর্বনির্ধারিত আদর্শিক গোঁড়ামির ছাপ প্রবল, যা অন্যকে প্রত্যাখ্যান করে এবং তাকে বর্জন ও প্রান্তিকীকরণের ব্যাপারে বদ্ধপরিকর; এমনকি তাকে ক্ষিপ্ত মাছির ঝাঁকের আবর্জনা হিসেবে চিত্রায়িত করে। এর বিস্তারিত বর্ণনা যথাস্থানে আসবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ১৫)
ولنؤجل الكلام عن سيد القمامة القمني الآن فهو فارس هذا الميدان بلا منازع، ولنختر علمانيا جزائريا يُسَوق له العلمانيون على أنه مؤرخ الفكر الإسلامي، إنه محمد أركون.

يظهر جليا لمتتبع كتبه وأبحاثه أنه محكوم برؤية استشراقية مغلفة بغلاف النقد التاريخي العلمي.

فهو كغيره من العلمانيين يكن عداءا عميقا وجذريا للإسلاميين، بل ولرجال الدين والعلماء والفقهاء على مر العصور، لكن هو أكثر عدائية مع الإسلاميين.

وعامة كتبه وخاصة «قضايا في نقد العقل الديني» مليء بالتهجمات الرخيصة، وطافح بأطنان من التهم البئيسة والاتهامات المجانية الخسيسة، ولا يفرق بين إسلامي وآخر، فالكل متطرفون دوغمائيون دمويون.

بينما نراه إذا ذكر أستاذه بلاشير ونحوه من الغربيين والمستشرقين انْحَلَّت حُبْوَتُه وانطلق لسانه كالسيل الجارف تمجيدا وتبجيلا.

بل الأكثر من هذا كتب في الكتاب (229) مقالا مطولا حول التسامح واللاتسامح. وفي نفس الكتاب كان نصيب الإسلام قرآنا وسنة وفقهاء: اللاتسامح. وكال لهم مختلف أنواع الاتهامات من مثل: إن الإسلام عنيف ويؤصل للعنف من خلال مصدره الرئيسي القرآن، وخاصة سورة التوبة.

فهو من جهة يؤصل لثقافة التسامح مع الآخر، ويعاتب القرآن والسنة لإشاعتها ثقافة اللاتسامح. ومن جهة يمارس اللاتسامح مع دينه وقرآنه وسنته تحت ستار النقد التاريخي.
আবর্জনা-শিরোমণি আল-কিমনি সম্পর্কে আলোচনা আমরা আপাতত স্থগিত রাখি, কারণ তিনি নিঃসন্দেহে এই ময়দানের অপ্রতিদ্বন্দ্বী অশ্বারোহী। আমরা বরং এমন একজন আলজেরীয় ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীকে বেছে নেই, যাকে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা ইসলামী চিন্তাধারার ঐতিহাসিক হিসেবে উপস্থাপন করে থাকে; তিনি হলেন মোহাম্মদ আরকুন।

তাঁর গ্রন্থ ও গবেষণাসমূহ পর্যবেক্ষণ করলে এটি সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি একটি প্রাচ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা পরিচালিত, যা বৈজ্ঞানিক ঐতিহাসিক সমালোচনার আবরণে আবৃত।

অন্যান্য ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের মতো তিনিও ইসলামপন্থীদের প্রতি গভীর ও মজ্জাগত শত্রুতা পোষণ করেন; এমনকি যুগ যুগ ধরে চলে আসা ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, ওলামা ও ফকিহদের প্রতিও। তবে ইসলামপন্থীদের প্রতি তাঁর শত্রুতা অধিকতর প্রকট।

তাঁর সামগ্রিক রচনাবলি, বিশেষ করে 'ধর্মীয় বুদ্ধিবৃত্তির সমালোচনা প্রসঙ্গে' (কাদায়া ফি নাকদিল আকলি আদ-দিনি) সস্তা আক্রমণাত্মক উক্তিতে ঠাসা এবং অগণিত হীন ও ভিত্তিহীন অভিযোগে জর্জরিত। তিনি এক ইসলামপন্থীর সাথে অন্যজনের কোনো তফাত করেন না; তাঁর মতে সকলেই উগ্রবাদী, অন্ধ মতান্ধ এবং রক্তপিপাসু।

অথচ দেখা যায়, যখনই তিনি তাঁর শিক্ষক ব্লাশিয়ার কিংবা তাঁর মতো পশ্চিমা প্রাচ্যবাদীদের কথা তোলেন, তখনই তাঁর বিনয় বিগলিত হয় এবং তাঁর জিহ্বা তাঁদের প্রশংসায় ও গুণগানে বানের জলের মতো পঞ্চমুখ হয়ে ওঠে।

এমনকি এর চেয়েও বড় কথা হলো, তিনি উক্ত গ্রন্থে (২২৯ পৃষ্ঠায়) সহিষ্ণুতা ও অসহিষ্ণুতা বিষয়ে একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখেছেন। একই গ্রন্থে ইসলাম, কুরআন, সুন্নাহ এবং ফকিহদের ভাগে জুটেছে কেবল 'অসহিষ্ণুতা'। তিনি তাঁদের প্রতি বিভিন্ন ধরনের অপবাদ আরোপ করেছেন, যেমন: ইসলাম সহিংস এবং এটি তার প্রধান উৎস কুরআনের মাধ্যমে—বিশেষ করে সূরা আত-তাওবার মাধ্যমে—সহিংসতার ভিত্তি স্থাপন করে।

এভাবে তিনি একদিকে যেমন অন্যের প্রতি সহিষ্ণুতার সংস্কৃতির তাত্ত্বিক ভিত্তি স্থাপন করেন এবং কুরআন ও সুন্নাহর প্রতি অসহিষ্ণুতার সংস্কৃতি প্রচারের অভিযোগ আনেন, তেমনি অন্যদিকে ঐতিহাসিক সমালোচনার আড়ালে তিনি নিজের ধর্ম, কুরআন ও সুন্নাহর প্রতি চরম অসহিষ্ণুতা প্রদর্শন করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ১৬)
فهو ليس معنيا بالتسامح مع غرمائه التقليديين، وإنما عليهم هم أن يتسامحوا معه ومع اليهود المحاربين والغاصبين وسندهم الدائم النصراني.

ثم أين التسامح في الفكر العلماني الحداثي عموما، ولا منهج له في دولنا إلا الاستئصال والنبذ والإقصاء؟

وأين التسامح في العلمانية الفرنسية مع أبناء بلده الجزائر لما كان تحت الاحتلال؟

وأين التسامح فيما يجري في العراق وأفغانستان وفلسطين؟

أليست العلمانية هناك هي القاتلة الناهبة المستعمرة؟

أين التسامح لما كانت الشيوعية تبيد الملايين، وتحول المساجد إلى اصطبلات؟

أليست فرنسا العلمانية داعما مركزيا للصهيونية العنصرية؟

كان العلمانيون يهدفون إلى توجيه ضربات موجعة للإسلام وعقائده وعلومه ورموزه عبر ترسانة ضخمة من المفاهيم والآليات النقدية الغربية.

لكن أثبتت التجارب والملاحظات فشل هذا المشروع التغريبي، وثبت بما لا يدع مجالا للشك أنه كلما زادت جرعات العلمنة في المجتمع زادت قوة التدين، وأن لكل فعل رد فعل مساو له في المقدار مضاد له في الاتجاه (1). مما يؤكد ما قاله جماعة من الغربيين إن الإسلام يشكل استثناء في قبول العلمنة.

--------------------------------------------

(1) قال فرانسوا بورجا في كتابه الإسلام السياسي: إن مقدار ضغط الغرب على المسلمين هو نفسه مقدار صحوة المسلمين مرة أخرى. الجديد في المخطط الغربي تجاه المسلمين (38).
সুতরাং সে তার ঐতিহ্যগত প্রতিপক্ষদের প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শনের ব্যাপারে মোটেও আগ্রহী নয়; বরং তাদেরই উচিত তার প্রতি এবং যুদ্ধবাজ ও জবরদখলকারী ইয়াহুদি এবং তাদের চিরস্থায়ী সহযোগী খ্রিস্টানদের প্রতি সহনশীল হওয়া।

অতঃপর আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাধারায় সাধারণভাবে সহনশীলতা কোথায়, যখন আমাদের দেশগুলোতে নির্মূল, বর্জন এবং বহিষ্কার ছাড়া তাদের আর কোনো কর্মপন্থা নেই?

ফরাসি ধর্মনিরপেক্ষতা যখন আলজেরিয়া দখল করে রেখেছিল, তখন সেখানকার অধিবাসীদের প্রতি তাদের সহনশীলতা কোথায় ছিল?

ইরাক, আফগানিস্তান এবং ফিলিস্তিনে যা ঘটছে, তাতে সহনশীলতা কোথায়?

সেখানে ধর্মনিরপেক্ষতাই কি ঘাতক, লুটেরা এবং ঔপনিবেশিক শক্তি নয়?

সাম্যবাদ যখন লক্ষ লক্ষ মানুষকে নির্মূল করছিল এবং মসজিদগুলোকে আস্তাবলে পরিণত করছিল, তখন সহনশীলতা কোথায় ছিল?

ধর্মনিরপেক্ষ ফ্রান্স কি বর্ণবাদী জায়নবাদের মূল সমর্থনকারী নয়?

ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা পশ্চিমা তাত্ত্বিক কাঠামো এবং সমালোচনামূলক পদ্ধতির এক বিশাল ভাণ্ডার ব্যবহার করে ইসলাম, এর আকিদা, জ্ঞানবিজ্ঞান এবং প্রতীকের ওপর মরণঘাতী আঘাত হানার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল।

কিন্তু অভিজ্ঞতা এবং পর্যবেক্ষণ এই পাশ্চাত্যকরণ প্রকল্পের ব্যর্থতা প্রমাণ করেছে। এটি নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয়েছে যে, সমাজে ধর্মনিরপেক্ষকরণের মাত্রা যত বৃদ্ধি পায়, ধর্মনিষ্ঠার শক্তিও তত বৃদ্ধি পায়। আর প্রতিটি ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া রয়েছে (১)। এটি পশ্চিমা গবেষকদের একটি দলের এই বক্তব্যকেই সমর্থন করে যে, ধর্মনিরপেক্ষতা গ্রহণের প্রশ্নে ইসলাম একটি ব্যতিক্রম।

--------------------------------------------

(১) ফ্রাঁসোয়া বুর্গা তার 'পলিটিক্যাল ইসলাম' গ্রন্থে বলেছেন: মুসলমানদের ওপর পশ্চিমা চাপের মাত্রা ঠিক ততটাই, যতটা তাদের পুনরায় জাগ্রত হওয়ার মাত্রা। 'আল-জাদিদ ফিল-মুখাত্তাতিল গারবি তুজাহাল মুসলিমিন' (৩৮)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ১৭)
مشكلة التيار العلماني أنه مصمم لرؤية واحدة ذات هدف واحد. يجعل من ديننا مشكلة، فلا يرى فيه إلا ظلامية وتطرفا وعنفا وتخلفا ورجعية، بينما يتغاضى عن جرائم أولياء نعمته.

فالعسكر الذي يتحكم في الجزائر، ومن خلفه فرنسا، التي تتحكم في مصائر شعوب إفريقية عديدة، وتتدخل فيها تدخلا سافرا وتحول دون تقدمها ونهضتها وتدعم الديكتاتوريات فيها التي تحتاج إلى ترسانة أركون الجزائري الضخمة من المناهج لسبر أغوارها وتفكيكها وفضحها. علما أن دينه المعشوق «العلمانية» هي السبب في جميع تلك الجرائم.

ألم تكن فرنسا لما احتلت الجزائر وقتلت وشردت ونهبت علمانية إلى النخاع؟.

قتل ونهب ودعم للظلم والطغيان والاستبداد، كل ذلك في صحيفة العلمانية التي احتضنت أغلب العلمانيين وربتهم على عينها ودججتهم بالأسلحة الفلسفية والمعرفية، وجَيَّشت معهم مُطَّوعين للإجهاز على ما تبقى من القوة الحضارية للمسلمين المتمثلة في هذا الدين العظيم (1).

--------------------------------------------

(1) وبهذه المناسبة أدعو الباحثين الإسلاميين إلى تأسيس علم جديد اسمه علم الاستلاب الفكري، يهدف هذا العلم إلى دراسة الاستلاب الغربي للعقول العربية والإسلامية وتدجينها لخدمة مشروعه الحضاري التغريبي، والبحث في مناهجه وأساليبه وطرقه وأهدافه ومخططاته وتاريخه، بدءا من زعيم التغريب رفاعة الطهطاوي ومرورا بطه حسين وقاسم أمين وانتهاء بأبناء السربون أركون وحنفي وغيرهم ..
ধর্মনিরপেক্ষ ধারার সমস্যা হলো এটি একটি একক লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এটি আমাদের ধর্মকে একটি সমস্যা হিসেবে দাঁড় করায়; ফলে এতে অন্ধকারাচ্ছন্নতা, চরমপন্থা, সহিংসতা, অনগ্রসরতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায় না। অথচ তারা নিজেদের অভিভাবকদের অপরাধের ব্যাপারে চোখ বন্ধ করে থাকে।

আলজেরিয়া নিয়ন্ত্রণকারী সামরিক বাহিনী এবং তাদের পেছনে থাকা ফ্রান্স—যারা বহু আফ্রিকান জাতির ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে, সেখানে নগ্ন হস্তক্ষেপ করে, তাদের অগ্রগতি ও পুনর্জাগরণকে বাধাগ্রস্ত করে এবং সেখানকার স্বৈরতন্ত্রকে সমর্থন দেয়—তাদের গভীর রহস্য উদ্ঘাটন, ব্যবচ্ছেদ ও স্বরূপ উন্মোচনের জন্য আলজেরীয় আরকুনের বিশাল পদ্ধতিগত শাস্ত্রীয় ভাণ্ডারের প্রয়োজন। অথচ বাস্তবতা হলো, তার পরম আরাধ্য ধর্ম 'ধর্মনিরপেক্ষতা'-ই এসব অপরাধের মূল কারণ।

ফ্রান্স যখন আলজেরিয়া দখল করেছিল এবং গণহত্যা, উচ্ছেদ ও লুণ্ঠন চালিয়েছিল, তখন কি তারা হাড়েমজ্জায় ধর্মনিরপেক্ষ ছিল না?

হত্যা, লুণ্ঠন এবং জুলুম, তান্ডব ও স্বৈরাচারের পৃষ্ঠপোষকতা—এসবই ধর্মনিরপেক্ষতার আমলনামার অন্তর্ভুক্ত। এই মতবাদই অধিকাংশ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীকে লালন-পালন করেছে, নিজ তত্ত্বাবধানে গড়ে তুলেছে এবং তাদের দার্শনিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক অস্ত্রে সজ্জিত করেছে। এমনকি এই মহান ধর্মের (১) মাঝে নিহিত মুসলিমদের অবশিষ্ট যে সভ্যতাগত শক্তি রয়েছে, তা নিঃশেষ করার জন্য তারা একদল অনুগত ব্যক্তিকে নিয়োজিত করেছে।

--------------------------------------------

(১) এই প্রসঙ্গে আমি ইসলামী গবেষকদের 'বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব' নামে একটি নতুন শাস্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাই। এই শাস্ত্রের লক্ষ্য হবে আরব ও মুসলিম মানসকে পশ্চিমা বলয়ে বন্দি করা এবং তাদের পাশ্চাত্যকরণ প্রকল্পের সেবায় নিয়োজিত করার প্রক্রিয়াটি নিয়ে গবেষণা করা। সেইসাথে এর পদ্ধতি, কৌশল, লক্ষ্য, পরিকল্পনা ও ইতিহাস অনুসন্ধান করা; যার সূচনা হয়েছিল পাশ্চাত্যকরণের পুরোধা রিফায়াহ আল-তাহতাউয়ি থেকে এবং পর্যায়ক্রমে ত্বহা হুসাইন, কাসেম আমিন হয়ে সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আরকুন, হানাফি ও অন্যদের মাধ্যমে এর বিস্তার ঘটেছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقد دلت الشواهد التاريخية العديدة والوثائق المنشورة أن العلمانية سلاح غربي للهيمنة ومقدمة للغزو الفكري والإلحاق الحضاري والتبعية الثقافية وذوبان الهوية، أو لنقل بعبارة أدق كما سماها بعض الكتاب: العمالة الحضارية.

وإن التجديد الذي يزعم العلمانيون أنهم يمارسونه للدين ليس أكثر من عملية نقل أو سطو على ما هو شائع في الثقافة الغربية الوضعية، وعرضه في الساحة الثقافية العربية والإسلامية على أنه إبداع أصيل (1).

الأمر الذي جعل العلمانيين يتحولون إلى أسرى للغزو الفكري، ينظرون بنظارات غربية سميكة لا ترى في ديننا وحضارتنا وتاريخنا إلا صورا كربونية للحضارة الغربية ودينها وتاريخها (2).

ولو أزالوا تلك النظارات من أعينهم لتبين لهم أن الشريعة الإسلامية تمثل الطاقة المحركة للأمة نحو التحرر الوطني والعزة الوطنية والقومية، وصمام الأمان نحو التمايز الثقافي والحضاري، الذي يكرس التنوع والتعدد، لا الذوبان والتبعية والإلحاق الحضاري للحضارة الغربية (3).

والعلمانية هي الرمز لاستسلام الأمة الإسلامية لخيار التبعية للغرب الاستعماري والذوبان في الحضارة الغربية الوضعية المادية (4).

--------------------------------------------

(1) العلمانيون والقرآن (637).

(2) الغزو الفكري وهم أم حقيقة (87).

(3) الشريعة الإسلامية والعلمانية الغربية (8).

(4) نفس المرجع.
অসংখ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ এবং প্রকাশিত নথিপত্র এ কথা নির্দেশ করেছে যে, ধর্মনিরপেক্ষতা হলো আধিপত্য বিস্তারের একটি পশ্চিমা অস্ত্র এবং বুদ্ধিবৃত্তিক আক্রমণ, সভ্যতাগত সংযুক্তি, সাংস্কৃতিক পরাধীনতা ও পরিচয় বিলুপ্তির একটি ভূমিকা মাত্র; অথবা আরও নির্ভুলভাবে বলতে গেলে—যেমনটি কোনো কোনো লেখক একে অভিহিত করেছেন: সভ্যতাগত দাসত্ব।

ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা ধর্মের যে সংস্কারের দাবি করে, তা পশ্চিমা বস্তুবাদী সংস্কৃতির প্রচলিত বিষয়গুলোর অনুকরণ বা তস্করবৃত্তি ছাড়া আর কিছুই নয়; যা তারা আরব ও ইসলামি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে মৌলিক উদ্ভাবন হিসেবে উপস্থাপন করে থাকে (১)।

এই বিষয়টিই ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের বন্দীতে পরিণত করেছে; তারা স্থূল পশ্চিমা চশমা দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে, যার ফলে তারা আমাদের ধর্ম, সভ্যতা ও ইতিহাসের মাঝে পশ্চিমা সভ্যতা, ধর্ম ও ইতিহাসের কার্বন কপি বা হুবহু প্রতিচ্ছবি ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায় না (২)।

তারা যদি তাদের চোখ থেকে সেই চশমাগুলো সরিয়ে ফেলত, তবে তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠত যে, ইসলামি শরিয়াহ হলো উম্মাহর জাতীয় মুক্তি এবং জাতীয় ও জাতিগত মর্যাদার পথে চালিকাশক্তি; এটি সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত স্বাতন্ত্র্য রক্ষার এক সুরক্ষা কবচ, যা বৈচিত্র্য ও বহুমাত্রিকতাকে সুদৃঢ় করে—পশ্চিমা সভ্যতার সাথে বিলীন হওয়া, পরাধীনতা কিংবা সভ্যতাগত বিলোপকে নয় (৩)।

ধর্মনিরপেক্ষতা হলো ঔপনিবেশিক পশ্চিমের পরাধীনতা মেনে নেওয়া এবং বস্তুবাদী পশ্চিমা সভ্যতায় বিলীন হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামি উম্মাহর আত্মসমর্পণের এক প্রতীক (৪)।

--------------------------------------------

(১) আল-ইলমানিয়্যুন ওয়াল কুরআন (৬৩৭)।

(২) আল-গাযওয়ুল ফিকরি: ওয়াহমুন আম হাকিকাহ (৮৭)।

(৩) আশ-শরীয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল ইলমানিয়্যাতুল গারবিয়্যাহ (৮)।

(৪) একই উৎস।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقد عبر العلماني اللبناني علي حرب عن هذه الحقيقة بقوله عن منجزات الفكر الغربي: لأننا نتغذى منه، بل نحن ثمرة من ثمراته. الممنوع والممتنع (231).

فالنموذج الغربي المحتذى يسكن في تلافيف دماغ المثقف العربي يمنعه من رؤية واقعه ويدفعه للتفكير وفق النموذج المحتذى (1).

وسيأتي مزيد بسط في محله لهذه المسألة إن شاء الله.

ولكن لننقل الآن ثلاثة نقول هامة في هذا الصدد:

الأول: قال المستشرق جب في كتابه «حيثما يتجه الإسلام»: إن جعل العالم الإسلامي غربيا، أو حمله على حضارة الغرب لا يتوقف على المظاهر الخارجية للتقليد والاقتباس، بل يجب علينا أن نبحث عن الآراء الجريئة والحركات المستحدثة التي ابتكرت بدافع من التأثر (2) بالأساليب الغربية، وينتهي إلى ضرورة خضوع العالم الإسلامي لقيم الغرب وعاداته. ويقول: المدارس والمعاهد ليست إلا خطوة في الطريق (3).

والثاني: قال السيناتور الأمريكي جوزيف ليبرمان المرشح الديمقراطي لمنصب نائب الرئيس في الانتخابات الأمريكية سنة 2000م: إنه لا حل مع الدول العربية والإسلامية إلا أن تفرض عليها أمريكا القيم والنظم والسياسات

--------------------------------------------

(1) الحركات الإسلامية (124).

(2) في المطبوع: التأثير. ولعل الصواب ما أثبت.

(3) تهافت العلمانية (17).
লেবানিজ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী আলী হারব পশ্চিমা চিন্তাধারার অর্জন সম্পর্কে এই সত্যটি ব্যক্ত করেছেন এই বলে যে: "যেহেতু আমরা তা থেকে পুষ্টি গ্রহণ করি, বরং আমরা তারই অন্যতম ফসল।" আল-মামনু ওয়াল মুমতানি (২৩১)।

ফলত, অনুসৃত পশ্চিমা মডেলটি আরব বুদ্ধিজীবীদের মস্তিষ্কের ভাঁজে এমনভাবে গেঁথে আছে যা তাদের নিজ বাস্তবতা দেখা থেকে বিরত রাখে এবং সেই অনুকরণীয় মডেল অনুযায়ী চিন্তা করতে তাড়িত করে (১)।

ইনশাআল্লাহ, এই বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা যথাস্থানে আসবে।

তবে এই প্রসঙ্গে এখন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি উল্লেখ করা যাক:

প্রথম: প্রাচ্যবিদ গিব তার «ইসলাম যেদিকে মোড় নিচ্ছে» গ্রন্থে বলেছেন: "ইসলামী বিশ্বকে পশ্চিমা করা কিংবা তাকে পশ্চিমা সভ্যতার অনুগামী করা কেবল অনুকরণ ও গ্রহণের বাহ্যিক কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং আমাদের উচিত সেইসব সাহসী মতাদর্শ ও নব্য আন্দোলনগুলো অনুসন্ধান করা যা পশ্চিমা রীতিনীতি দ্বারা প্রভাবিত (২) হয়ে উদ্ভাবিত হয়েছে।" তিনি পরিশেষে ইসলামী বিশ্বকে পশ্চিমা মূল্যবোধ ও প্রথার অনুগত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি আরও বলেন: "স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এই পথের একটি ধাপ মাত্র" (৩)।

দ্বিতীয়: ২০০০ সালের মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মার্কিন সিনেটর জোসেফ লিবারম্যান বলেছেন: "আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে আমেরিকার জন্য তাদের ওপর নিজস্ব মূল্যবোধ, ব্যবস্থা ও নীতিমালা চাপিয়ে দেওয়া ব্যতীত কোনো সমাধান নেই..."

--------------------------------------------

(১) আল-হারাকাতুল ইসলামিয়্যাহ (১২৪)।

(২) মুদ্রিত সংস্করণে রয়েছে: 'প্রভাব বিস্তার'। সম্ভবত আমি যা লিখেছি (প্রভাবিত হওয়া) সেটিই সঠিক।

(৩) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ (১৭)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ২০)
التي نراها ضرورية. فالشعارات التي أعلنتها أمريكا عند استقلالها لا تنتهي عند الحدود الأمريكية بل تتعداها إلى الدول الأخرى (1).

والثالث: في كتاب الأقليات بين العروبة والإسلام لمحمد السماك (ص 57 - 59) أن فلاسفة الاستعمار الفرنسي ومنظروه أعلنوا أن الأسلحة الفرنسية هي التي فتحت البلاد العربية، وهذا يخولنا اختيار التشريع الذي يجب تطبيقه في هذه البلاد!. . ويجب فصل الدين الإسلامي عن القانون المدني. . وحصر الإسلام في الاعتقاد وحده. . والحيلولة دون اندماج العادات والأعراف في الشرع الإسلامي، ليتيسر دمجها في القانون الفرنسي بدلا من القانون الإسلامي (2).

ومن ناحية أكد جمع من الكتاب الغربيين والعرب العلمانيين أن الإسلام يمثل استثناء فريدا في الممانعة ضد العلمنة، وأنه رغم الهجمة الاستعمارية الشرسة والحملات التغريبية المتعددة والدعم اللامشروط للمليشيات العلمانية، ظل الإسلام عصيا على أي اختراق علماني باعتراف العلمانيين كما سيأتي بيانه في فصل خاص إن شاء الله.

مما أوقع العلمانية في أزمة ومأزق حقيقي حتى صارت مرادفة للكفر والإلحاد عند جماهير الناس، وشاع في الإعلام والجرائد والمجلات ومراكز البحوث والأوساط السياسية مقابلة الإسلام بالعلمانية والإسلاميين بالعلمانيين.

ولهذا سارع عدد منهم إلى محاولة التمظهر بالتدين وأن هدفهم فقط هو إبعاد الدين عن أي استغلال سياسي.

--------------------------------------------

(1) الغرب والإسلام (84) نقلا عن صحيفة الأهرام في 16/ 01/2002.

(2) الغرب والإسلام (73).
যা আমরা প্রয়োজনীয় মনে করি। আমেরিকার স্বাধীনতার সময় তারা যে সকল শ্লোগান ঘোষণা করেছিল, তা কেবল আমেরিকার সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা অন্যান্য রাষ্ট্র পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত (১)।

তৃতীয়ত: মুহাম্মাদ আল-সাম্মাক-এর 'আল-আকাল্লিয়াত বাইন আল-আরুবাহ ওয়াল ইসলাম' (পৃষ্ঠা ৫৭-৫৯) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, ফরাসি উপনিবেশবাদের দার্শনিক ও তাত্ত্বিকগণ ঘোষণা করেছিলেন যে, ফরাসি সমরাস্ত্রই আরব ভূখণ্ড জয় করেছে, আর এটিই আমাদের এই দেশগুলোতে কাঙ্ক্ষিত আইন চয়ন ও প্রয়োগের অধিকার প্রদান করে! এবং অবশ্যই ইসলাম ধর্মকে দেওয়ানি আইন থেকে পৃথক করতে হবে... ইসলামকে কেবল বিশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে... এবং ইসলামী শরীয়াহর সাথে প্রচলিত প্রথা ও সংস্কৃতির সংমিশ্রণে বাধা দিতে হবে, যাতে ইসলামী আইনের পরিবর্তে সেগুলোকে ফরাসি আইনের অন্তর্ভুক্ত করা সহজতর হয় (২)।

অন্যদিকে, একদল পশ্চিমা ও আরব ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী লেখক এটি নিশ্চিত করেছেন যে, ইসলাম ধর্মনিরপেক্ষকরণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। চরম ঔপনিবেশিক আক্রমণ, নানাবিধ পশ্চিমাঘেঁষা অভিযান এবং ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠীগুলোর প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন থাকা সত্ত্বেও, ইসলাম যে কোনো প্রকার ধর্মনিরপেক্ষ অনুপ্রবেশের ঊর্ধ্বে থেকেছে; যা খোদ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের নিজেদেরই স্বীকৃতি, যেমনটি ইনশাআল্লাহ একটি বিশেষ অধ্যায়ে বর্ণিত হবে।

যা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে এক প্রকৃত সংকট ও টানাপোড়েনের মুখে ফেলেছে, এমনকি সাধারণ জনগণের কাছে এটি কুফর ও নাস্তিকতার সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে গণমাধ্যম, সংবাদপত্র, সাময়িকী, গবেষণা কেন্দ্র এবং রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ইসলামের বিপরীতে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ এবং ইসলামপন্থীদের বিপরীতে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের তুলনা করার বিষয়টি ব্যাপকতা লাভ করেছে।

একারণেই তাদের একদল তড়িঘড়ি করে নিজেদের ধার্মিক হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছে এবং বলছে যে তাদের উদ্দেশ্য কেবল ধর্মকে যে কোনো রাজনৈতিক অপব্যবহার থেকে রক্ষা করা।

--------------------------------------------

(১) আল-গারব ওয়াল ইসলাম (৮৪), ১৬/০১/২০০২ তারিখের আল-আহরাম পত্রিকা থেকে উদ্ধৃত।

(২) আল-গারব ওয়াল ইসলাম (৭৩)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ২১)
في حين فضل آخرون تجاوز هذا المصطلح لما ارتبط به من حمولة إلحادية معادية للدين. وأبرز من مثل هذا التيار هو الجابري، الذي فضل مصطلح الديمقراطية والعقلانية بدل العلمانية (1).

لكن لا تعدو المسألة أن تكون مناورة مكشوفة من الجابري. وقد بين العلماني اللبناني علي حرب في نقد النص (126) أن مراد الجابري عدم إثارة حفيظة الإسلاميين وحسب.

وفضَّل عبد العلي بنعمور استعمال مصطلح الزمنية بدل العلمانية، لأن العلمانية تحمل فكرة عقائدية مادية بارزة (2).

واقترح سعد الدين إبراهيم إبدال مصطلح «علماني» إلى «مدني»، و «إسلامي» إلى «ديني» (3).

وكذا نقل نصر أبو زيد عن إخوانه تفضيل مصطلح «التنوير» و «الليبرالية» وغيرها على مصطلح العلمانية (4).

واستحسن عبد الله العروي مصطلح «دنيوي» أو «معاملاتي» أو «سلطاني» بدل علماني (5).

--------------------------------------------

(1) في نقد الحاجة إلى الإصلاح له (83)، ومواقف (34) (ص 17 - 85 - 103 - ) ومجلة اليوم السابع، باريس عدد 22 آب 1988.

(2) العلمانية مفاهيم ملتبسة (244) وقدر العلمانية في العالم العربي (58).

(3) الحوار بين الإسلاميين والعلمانيين (31).

(4) التفكير في زمن التكفير (34).

(5) السنة والإصلاح (211).
অন্য অনেকে এই পরিভাষাটিকে বর্জন করাকে শ্রেয় মনে করেছেন, কারণ এর সাথে নাস্তিক্যবাদী এবং ধর্মবিরোধী অনুষঙ্গ যুক্ত হয়ে পড়েছে। এই ধারার অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি হলেন আল-জাবেরী, যিনি 'ধর্মনিরপেক্ষতা'র পরিবর্তে 'গণতন্ত্র' ও 'যুক্তিবাদ' পরিভাষা দুটি ব্যবহার করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন (১)।

কিন্তু বিষয়টি আল-জাবেরীর একটি প্রকাশ্য কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়। লেবাননী ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী আলী হারব 'নাক্বদুন নাস' (১২৬) গ্রন্থে স্পষ্ট করেছেন যে, আল-জাবেরীর উদ্দেশ্য ছিল কেবল ইসলামপন্থীদের ক্ষোভ উসকে না দেওয়া।

আব্দুল আলী বেনাম্মুর 'ধর্মনিরপেক্ষতা'র পরিবর্তে 'জামানিয়্যাহ' (কালিকতা) পরিভাষাটি ব্যবহারের পক্ষপাতি ছিলেন, কারণ ধর্মনিরপেক্ষতা একটি সুষ্পষ্ট বস্তুবাদী আদর্শিক ধারণা বহন করে (২)।

সাদ আল-দীন ইবরাহীম 'ধর্মনিরপেক্ষ' পরিভাষাকে 'বেসামরিক' এবং 'ইসলামী' পরিভাষাকে 'ধর্মীয়' শব্দ দ্বারা প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব করেছেন (৩)।

একইভাবে নসর আবু জায়েদ তার সতীর্থদের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, তারা 'ধর্মনিরপেক্ষতা' পরিভাষার চেয়ে 'আলোকায়ন' ও 'উদারতাবাদ' এবং অন্যান্য পরিভাষাকে প্রাধান্য দিতেন (৪)।

আব্দুল্লাহ আল-আরউয়ী 'ধর্মনিরপেক্ষ' শব্দের পরিবর্তে 'পার্থিব', 'লেনদেন-সংক্রান্ত' অথবা 'শাসনতান্ত্রিক' পরিভাষা ব্যবহার করাকে শ্রেয় মনে করেছেন (৫)।

--------------------------------------------

(১) তার রচিত 'ফি নাক্বদিল হাজাত ইলাল ইসলাহ' (৮৩), এবং মাওয়াকিফ (৩৪) (পৃ. ১৭ - ৮৫ - ১০৩) এবং আল-ইয়াউমুস সাবি' সাময়িকী, প্যারিস, সংখ্যা ২২ আগস্ট ১৯৮৮।

(২) আল-ইলমানিয়্যাহ: মাফাহিমুল মুলতাবিসাহ (২৪৪) এবং ক্বদরুল ইলমানিয়্যাহ ফিল আলামিল আরাবি (৫৮)।

(৩) আল-হিওয়ার বাইনাল ইসলামিয়্যিন ওয়াল ইলমানিয়্যিন (৩১)।

(৪) আত-তাফকির ফি জামানিত তাকফির (৩৪)।

(৫) আস-সুন্নাহ ওয়াল ইসলাহ (২১১)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ২২)
ولم تثمر هذه المحاولات شيئا يذكر، بل ظلت العلمانية مصطلحا ذا حمولة سلبية، زيادة على ذلك تحولت إلى مفهوم متحجر مغلق ونهائي، وتصلبت وتخشبت مفاهيمها حتى تحولت إلى أصنام وأوثان هامدة كما سيأتي بيانه في محله.

وهكذا كل فكر متسلط عبر التاريخ، فقد كانت الماركسية تزعم أنها الحقيقة العلمية الوحيدة، وأنها أرقى ما وصل إليه العقل البشري، وما عداها أفكار رجعية متخلفة.

وهكذا يرى جمع من العلمانيين أن العلمانية حتمية غير قابلة للنقاش (1)، فوق تاريخية ومطلقة، فإما العلمانية وإما الجحيم (2).

وهذا ما تنعاه العلمانية على الأديان.

ولهذا أحس جمع من العلمانيين بالمأزق الذي وصلته علمانيتهم فتحدثوا عن أزمة العلمانية أو ما بعد العلمانية، أو ما بعد الحداثة.

وكالعادة جاء النقد من الغرب، فما كان على المقلِّدين إلا الإتباع.

ومن أكثر العلمانيين نقدا لمأزق العلمانية العربية علي حرب وتركي علي الربيعو، وقليلا كمال عبد اللطيف، وقد عبر الأخير في كتابه التفكير في العلمانية (5) عن الالتباس الكبير في مفهوم العلمانية، ووصفه بأنه من أكثر مفاهيم الفكر السياسي العربي التباسا، سواء على مستوى اللفظ والرسم والجذر اللغوي، أو

--------------------------------------------

(1) اعتبر أركون العلمانية حتمية وإجبارية لأنها مسألة تخص المعرفة. العلمنة والدين (10). ولفؤاد زكريا مقالة بعنوان: العلمانية ضرورة حضارة، في مجلة قضايا فكرية ع 8/ 1989.

(2) لما سئل نصر أبو زيد: هل العلمانية ضرورية للمجتمعات العربية؟ قال: هي أو الموت. قدر العلمانية في العالم العربي (53).
এই প্রচেষ্টাগুলো উল্লেখযোগ্য কোনো ফল বয়ে আনেনি, বরং ধর্মনিরপেক্ষতা একটি নেতিবাচক অর্থবহ পরিভাষা হিসেবেই রয়ে গেছে। তদুপরি, এটি একটি জড়বদ্ধ, রুদ্ধ ও চূড়ান্ত ধারণায় পরিণত হয়েছে এবং এর ধারণাগুলো এতটাই কঠোর ও অনমনীয় রূপ নিয়েছে যে তা প্রাণহীন মূর্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে, যা যথাস্থানে বিস্তারিত বর্ণিত হবে।

ইতিহাসের পাতায় প্রতিটি আধিপত্যকামী চিন্তাধারার চিত্র এমনই ছিল। মার্ক্সবাদ দাবি করত যে এটিই একমাত্র বৈজ্ঞানিক সত্য এবং মানব বুদ্ধিবৃত্তির সর্বোচ্চ শিখর, আর তা ছাড়া অন্য সব চিন্তাধারা পশ্চাৎপদ ও প্রতিক্রিয়াশীল।

একইভাবে একদল ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী মনে করেন যে, ধর্মনিরপেক্ষতা এক অনস্বীকার্য অপরিহার্যতা যা বিতর্কের ঊর্ধ্বে (১), এটি ইতিহাসের ঊর্ধ্বে এবং পরম সত্য; তাই হয় ধর্মনিরপেক্ষতা, নতুবা নরক (২)।

অথচ ধর্মনিরপেক্ষতা ধর্মের ওপর এই অভিযোগই আরোপ করে থাকে।

এ কারণেই একদল ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী তাদের এই মতবাদ যে সংকটে উপনীত হয়েছে তা উপলব্ধি করতে পেরেছেন; ফলে তারা ধর্মনিরপেক্ষতার সংকট, উত্তর-ধর্মনিরপেক্ষতা বা উত্তর-আধুনিকতা সম্পর্কে আলোচনা শুরু করেছেন।

আর প্রথা অনুযায়ী পশ্চিম থেকেই এই সমালোচনা এসেছে, ফলে অন্ধ অনুসারীদের জন্য অনুসরণ করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।

আরব ধর্মনিরপেক্ষতার এই সংকট নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করেছেন আলী হারব ও তুর্কি আলী আল-রাবিউ, এবং কিছুটা কামাল আবদেল লতিফ। শেষোক্তজন তাঁর 'ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে ভাবনা' (৫) গ্রন্থে ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণার ব্যাপক অস্পষ্টতা প্রকাশ করেছেন এবং এটিকে আরব রাজনৈতিক চিন্তাধারার সবচেয়ে অস্পষ্ট ধারণাগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, চাই তা শব্দগত, রূপগত বা ভাষাগত বুৎপত্তিগত পর্যায়ে হোক, অথবা...

--------------------------------------------

(১) আরকুন ধর্মনিরপেক্ষতাকে একটি অবধারিত ও বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে গণ্য করেছেন কারণ এটি জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। দেখুন: 'ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্ম' (১০)। ফুয়াদ জাকারিয়ার একটি প্রবন্ধ রয়েছে যার শিরোনাম: 'ধর্মনিরপেক্ষতা সভ্যতার অপরিহার্যতা', যা 'কাজায়া ফিকরিয়্যাহ' সাময়িকীর সংখ্যা ৮/১৯৮৯-এ প্রকাশিত।

(২) নসর আবু জায়েদকে যখন প্রশ্ন করা হয়েছিল: আরব সমাজগুলোর জন্য কি ধর্মনিরপেক্ষতা অপরিহার্য? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: এটি অথবা মৃত্যু। দেখুন: 'আরব বিশ্বে ধর্মনিরপেক্ষতার ভাগ্য' (৫৩)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ২৩)
على مستوى الدلالة المباشرة أو الدلالات المختزنة ضمن تلافيف طبقات معانيه العديدة المترسبة بفعل الزمان.

وقبل أن نختم هذه المقدمة لابد من التأكيد على الحقائق التالية:

الأولى: إذا كانت العلمانية حلا لمشاكل المجتمعات الغربية فإنها لما قطعت عن سياقها وشروطها أصبحت هي نفسها جزءا من المشكلة في المجتمعات العربية والإسلامية، بل هي المشكلة ذاتها، لأن الظروف غير الظروف والشروط غير الشروط والذهنيات مختلفة والحضارة مختلفة.

فلم نجن منها إلا البطالة والفقر والظلم والاستبداد ولم تنجح العلمانية في إخراجنا من تخلفنا، بل زادته عمقا وتعقيدا.

ولطالما سوق الإعلام الغربي والعربي والمغربي نموذج تونس باعتباره نموذجا علمانيا ناجحا واعدا. فجاءت الثورة البوعزيزية لتكشف الغطاء عن التضليل الإعلامي والضلال العلماني: دولة استبدادية قمعية بوليسية وتدهور اجتماعي وفساد إداري، والقائمة طويلة.

وطالما هتف العلمانيون بنموذج تركيا، التي لم تحس بنعمة الرفاهية والتقدم إلا في ظل حكم العدالة والتنمية الإسلامي.

قال أركون عن التجربة العلمانية التونسية: إنها تستحق أن تُستعار وتُقلد وتُعمم وتُرسَّخ في مجمل بلدان حوض البحر الأبيض المتوسط (1).

--------------------------------------------

(1) نحو نقد العقل الإسلامي (186).
প্রত্যক্ষ অর্থের স্তরে অথবা সময়ের পরিক্রমায় সঞ্চিত এর বহুবিধ অর্থগত স্তরের ভাঁজে ভাঁজে নিহিত থাকা তাৎপর্যের স্তরে।

এই ভূমিকার ইতি টানার আগে নিম্নোক্ত ধ্রুব সত্যগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করা আবশ্যক:

প্রথমত: ধর্মনিরপেক্ষতা যদি পশ্চিমা সমাজগুলোর সমস্যার সমাধান হয়ে থাকে, তবে যখন একে তার নিজস্ব প্রেক্ষাপট ও শর্তাবলী থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, তখন এটি আরব ও মুসলিম সমাজগুলোতে নিজেই সমস্যার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে; বরং এটিই এখন মূল সমস্যা। কারণ তখনকার পরিস্থিতি ও শর্তাবলী ছিল ভিন্ন আর এখানকার পরিস্থিতি ও শর্তাবলী ভিন্ন, এমনকি মানসিকতা ও সভ্যতাও সম্পূর্ণ আলাদা।

ফলে এটি থেকে আমরা বেকারত্ব, দারিদ্র্য, জুলুম ও স্বৈরাচার ছাড়া আর কিছুই অর্জন করতে পারিনি। ধর্মনিরপেক্ষতা আমাদের অনগ্রসরতা থেকে মুক্তি দিতে সফল হয়নি, বরং একে আরও গভীর ও জটিল করে তুলেছে।

দীর্ঘকাল ধরে পশ্চিমা, আরব এবং মাগরিবি মিডিয়া তিউনিসিয়ার মডেলকে একটি সফল ও সম্ভাবনাময় ধর্মনিরপেক্ষ মডেল হিসেবে প্রচার করে এসেছে। অতঃপর ‘বু-আজিজি’ বিপ্লব এসে মিডিয়ার বিভ্রান্তি এবং ধর্মনিরপেক্ষতার পথভ্রষ্টতার পর্দা উন্মোচন করে দিল: একটি স্বৈরাচারী, দমনমূলক ও পুলিশি রাষ্ট্র, সামাজিক অবক্ষয় এবং প্রশাসনিক দুর্নীতি—এই তালিকা অত্যন্ত দীর্ঘ।

আর ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা দীর্ঘকাল তুরস্কের মডেল নিয়ে জয়ধ্বনি করেছে, অথচ তুরস্ক সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির নেয়ামত কেবল তখনই আস্বাদন করতে পেরেছে যখন সেখানে ইসলামপন্থী জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিউনিসিয়ার ধর্মনিরপেক্ষ অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আরকুন বলেছেন: এটি এমন এক অভিজ্ঞতা যা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের সমস্ত দেশে গ্রহণ করা, অনুকরণ করা, ছড়িয়ে দেওয়া এবং সুপ্রতিষ্ঠিত করার দাবি রাখে (১)।

--------------------------------------------

(১) ইসলামি বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যালোচনার পথে (১৮৬)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ২৪)
وماذا عن حقوق الإنسان يا ابن السربون؟ أليس النظام الذي تريد أن تعممه علينا نظاما بوليسيا قمعيا استبداديا باعتراف المنظمات الفرنسية التي توجد بين أظهرها وتكتب في كل وقت عنه؟.

انظر كيف يتغاضى العلمانيون بعضهم عن بعض، فالهم الإيديولوجي فوق حقوق الإنسان والحريات العامة، أو لنقل إن العلمانية مقدسة وفوق كل الاعتبارات، وما دامت ستطبق فلا يهم بأية وسيلة، ولا بأس أن تكون على أشلاء الناس وجثثهم فضلا عن حقوقهم وآدميتهم.

وكانت العلمانية الفرنسية وعلى رأسها ساركوزي أكبر داعم للطاغية ابن علي، طوال 23 عاما. ولزمت الصمت طوال 23 يوما من القتل والقمع إبان الثورة.

وقد أدان مجموعة من السياسيين والحقوقيين الفرنسيين هرم السلطة السياسية الفرنسية العلمانية تواطؤهم مع الطاغية.

ولأن العلمانيين لا أيمان لهم، رفض ساركوزي استقبال صديقه الجلاد ابن علي، {كَمَثَلِ الشَّيْطَانِ إِذْ قَالَ لِلْإِنسَانِ اكْفُرْ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِّنكَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبَّ الْعَالَمِينَ} الحشر16 (1).

والثانية: إذا كانت محاكمة العلماء في محاكم التفتيش من أهم الأسباب التي أفرزت العلمنة في الغرب، فإنه لم يحاكم عالم لبحوثه العلمية في التاريخ الإسلامي باعتراف العلماني محمد أركون في تاريخية الفكر العربي (25).

--------------------------------------------

(1) كتبت هذا قبل ثورة تونس، ثم جاءت ثورة تونس وأسقطت الطاغية وأعوانه إلى الأبد، وتحررت المساجد من قمع نظامه، وتصاعدت الحركات الإسلامية، وعادت البلاد إلى أهلها.
হে সরবোন-তনয়, মানবাধিকারের স্বরূপ তবে কী? আপনি আমাদের ওপর যে ব্যবস্থাটি চাপিয়ে দিতে চাচ্ছেন, সেটি কি একটি পুলিশি, দমনমূলক এবং স্বৈরাচারী ব্যবস্থা নয়—খোদ আপনার পরিমণ্ডলে অবস্থানরত সেই ফরাসি সংস্থাগুলোর স্বীকৃতি মতেই, যারা প্রতিনিয়ত এ নিয়ে লিখছে?

লক্ষ্য করুন, কীভাবে সেক্যুলারবাদীরা একে অপরের অপরাধকে উপেক্ষা করে; তাদের কাছে আদর্শিক স্বার্থ মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার ঊর্ধ্বে। অথবা বলা যায় যে, তাদের নিকট সেক্যুলারবাদ পবিত্র এবং সকল বিবেচনার ঊর্ধ্বে; আর যতক্ষণ পর্যন্ত এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে, ততক্ষণ মাধ্যম কোনটি তা অপ্রাসঙ্গিক। মানুষের অধিকার ও মনুষ্যত্ব তো দূরের কথা, এটি যদি মানুষের ছিন্নভিন্ন দেহাংশ ও লাশের ওপর দিয়েও প্রতিষ্ঠিত হয়, তাতেও তাদের কোনো আপত্তি নেই।

ফরাসি সেক্যুলারবাদ এবং তার শীর্ষে থাকা সারকোজি সুদীর্ঘ ২৩ বছর যাবত স্বৈরশাসক বিন আলির বৃহত্তম সমর্থক ছিলেন। এমনকি বিপ্লব চলাকালীন ২৩ দিনের নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ ও দমনের সময়ও তারা পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখেছিলেন।

একদল ফরাসি রাজনীতিবিদ ও মানবাধিকার কর্মী ফ্রান্সের সেক্যুলার রাজনৈতিক ক্ষমতার উচ্চস্তরকে সেই স্বৈরশাসকের সঙ্গে আঁতাতের জন্য নিন্দা জানিয়েছেন।

যেহেতু সেক্যুলারবাদীদের কোনো অঙ্গীকার বা বিশ্বস্ততা নেই, তাই সারকোজি তার বন্ধু ও জল্লাদ বিন আলিকে আশ্রয় দিতে অস্বীকার করেন। তাদের দৃষ্টান্ত শয়তানের মতো, “যখন সে মানুষকে বলল: কুফরি করো। অতঃপর যখন সে কুফরি করল, তখন শয়তান বলল: নিশ্চয় তোমার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই, আমি তো বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।” (আল-হাশর: ১৬) (১)।

দ্বিতীয়ত: ইনকুইজিশন বা ধর্মীয় বিচারালয়ে বিজ্ঞানীদের বিচার করা যদি পশ্চিমে সেক্যুলারবাদ উদ্ভবের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে থাকে, তবে ইসলামী ইতিহাসে কোনো বিজ্ঞানীকেই তার বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হয়নি—যেমনটি সেক্যুলার চিন্তাবিদ মুহাম্মদ আরকুন তার 'আরব চিন্তাধারার ঐতিহাসিকতা' গ্রন্থে স্বীকার করেছেন (২৫)।

--------------------------------------------

(১) এটি তিউনিসিয়া বিপ্লবের পূর্বে লেখা হয়েছিল। অতঃপর তিউনিসিয়া বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং তা চিরতরে সেই স্বৈরশাসক ও তার দোসরদের পতন ঘটায়। তার শাসনের নিপীড়ন থেকে মসজিদসমূহ মুক্ত হয়, ইসলামি আন্দোলনগুলো বেগবান হয় এবং দেশ পুনরায় তার প্রকৃত অধিবাসীদের নিকট ফিরে আসে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقد شجع الإسلام العلم وطلبه، ولم يعرف تاريخه معارضة البحث العلمي الجاد. وقد نَعِم العلماء المسلمون بحرية مطلقة في بحوثهم خلال القرون السالفة في ميادين البحث المختلفة.

أما الكنيسة فكانت ترى أن الجهالة أم التقوى.

وإذا كانت الاكتشافات العلمية مضادة للتعاليم المسيحية المحرفة التي لا تمثل عقائد عيسى عليه السلام. فديننا بخلاف ذلك، فقد عضدت الاكتشافات العلمية ما دل عليه القرآن والسنة من حديث حول نشأة الأرض والكواكب والسحاب والأجنة وغيرها، كما هو معروف، حتى نشأ علم جديد يسمى علم الإعجاز العلمي في القرآن والسنة، وله رجاله ومؤلفاته ومؤتمراته، يشارك فيها المسلمون وغيرهم.

ولقد رماه العلمانيون عن قوس واحدة، وسخروا منه واستهزؤوا من رموزه، لأنه يهدم أصلا أصيلا من أصولهم، ألا هو تاريخية النص الديني. كما سيأتي تفصيله في الجزء الثاني عند حديثنا عن موقف العلمانيين من القرآن الكريم إن شاء الله تعالى.

وقد تواطأ العلمانيون على إدانته والتنقيص من قيمته، فأركون مثلا في تاريخية الفكر العربي (199) اعتبره من الأدبيات الإسلامية التبريرية التبجيلية، وقال: إن هذا خطأ يجب أن يدان فورا.

أما خليل عبد الكريم فأزعجه كثيرا وجود هذا العلم (1).

--------------------------------------------

(1) الأعمال الكاملة (195).
ইসলাম জ্ঞান এবং জ্ঞানার্জনকে উৎসাহিত করেছে এবং এর ইতিহাসে ঐকান্তিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার কোনো বিরোধিতা পরিলক্ষিত হয়নি। বিগত শতাব্দীগুলোতে মুসলিম পণ্ডিতগণ গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের গবেষণার কাজে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করেছেন।

পক্ষান্তরে গির্জার ধারণা ছিল যে, মূর্খতাই হলো ধার্মিকতার মূল উৎস।

আর যদি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারসমূহ বিকৃত খ্রিস্টীয় শিক্ষার পরিপন্থী হয়ে থাকে—যা মূলত ঈসা আলাইহিস সালামের আকিদার প্রতিনিধিত্ব করে না—তবে আমাদের দ্বীন এর সম্পূর্ণ বিপরীত। কেননা বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারসমূহ পৃথিবী, গ্রহরাজী, মেঘমালা এবং ভ্রূণতত্ত্বসহ অন্যান্য বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনাসমূহকে আরও সুদৃঢ় করেছে, যা সর্বজনবিদিত। এমনকি এর ফলে 'কুরআন ও সুন্নাহর বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব' নামক একটি নতুন শাস্ত্রের উদ্ভব হয়েছে, যার রয়েছে নিজস্ব বিশেষজ্ঞগণ, গ্রন্থাবলী এবং সম্মেলনসমূহ, যেখানে মুসলিম ও অমুসলিম সকলেই অংশগ্রহণ করে থাকেন।

সেক্যুলারবাদীরা ঐক্যবদ্ধভাবে একে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে এবং এর পুরোধা ব্যক্তিত্বদের উপহাস ও বিদ্রূপ করেছে; কারণ এটি তাদের একটি মৌলিক ভিত্তি তথা 'ধর্মীয় ভাষ্যের ঐতিহাসিকতা'র ধারণাকে ধূলিসাৎ করে দেয়। ইনশাআল্লাহ তাআলা, এ বিষয়ে দ্বিতীয় খণ্ডে পবিত্র কুরআনের প্রতি সেক্যুলারবাদীদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনার সময় আমরা বিস্তারিত আলোকপাত করব।

সেক্যুলারবাদীরা একে অভিযুক্ত করতে এবং এর গুরুত্ব হ্রাস করতে ঐকমত্য পোষণ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, আরকুন তার 'তরিখিয়াতুল ফিকরিল আরাবি' (১৯৯) গ্রন্থে একে ইসলামি সাফাইমূলক ও গুণকীর্তনমূলক সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং বলেছেন: এটি একটি ভুল যা অবিলম্বে নিন্দা করা উচিত।

আর খলিল আব্দুল করিম এই শাস্ত্রের অস্তিত্বের কারণে অত্যন্ত বিচলিত বোধ করেছেন (১)।

--------------------------------------------

(১) আল-আ'মালুল কামিলাহ (১৯৫)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ২৬)
ولهذا لم ير بأسا هو والقمني (1) في اختراع المغالطات حوله، فزعما أن علماءه يدعون أن في النصوص المقدسة سائر النظريات العلمية التجريبية والإنسانية التي ظهرت وتظهر وسوف تظهر إلى يوم القيامة (2).

وليس في المسلمين من يقول هذا، ولكن هذه سِلْعة المُفْلس. والقوم لا هَمَّ لهم بشيء اسمه كذب وافتراء، لأن علمانيتهم لا تهتم بهذه الأمور الإيمانية. وكلنا نعلم أن هذه الفرية من بنات أفكارهم ومما عملت أيديهم. ولا يوجد عالم واحد يقول إن كل النظريات المكتشفة في القرآن والسنة، ولكن يقولون: إن الله أودع في كتابه إشارات لبعض الحقائق العلمية من باب الحجة ومن باب إقامة البراهين المناسبة لهذا العصر لإظهار كون هذا الكتاب من عند الله وأنه حق.

فكل ما في الأمر أن القرآن والسنة اشتملا على حقائق علمية معينة إظهارا لإعجازه المستمر إلى يوم القيامة وتثبيتا لإيمان أهله.

والعجيب أن علماء غربيين في شتى التخصصات اعترفوا للقرآن والسنة بذلك، وشارك عدد منهم في مؤتمرات هذا العلم. ولكن الطابور الخامس يشكك ويهمز ويلمز.

وقال خليل عبد الكريم بعد أن ذكر أن عرب الحجاز كانوا في الدرك الأسفل من السلم الحضاري وأن محصولهم من الطب والفلك وغيرها كانت مجرد معارف، وإن تلك البيئة من المستحيل عقلا أن تنبثق عنها نصوص تحمل نظريات علمية، لأن فاقد الشيء لا يعطيه (3).

--------------------------------------------

(1) انتكاسة المسلمين (26 - 35).

(2) الأعمال الكاملة (218) والإسلام بين الدولة الدينية (8 - 9 - 10).

(3) الأعمال الكاملة (195).
এই কারণে তিনি এবং আল-কিমনি (১) এটি নিয়ে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর কূযুক্তি উদ্ভাবন করতে কোনো দ্বিধাবোধ করেননি। তারা দাবি করেছেন যে, এর (ইসলামের) পণ্ডিতরা নাকি এমন দাবি করেন যে পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোতে সেই সমস্ত পরীক্ষামূলক ও মানবিক বৈজ্ঞানিক তত্ত্বসমূহ বিদ্যমান যা অতীতে প্রকাশিত হয়েছে, বর্তমানে প্রকাশিত হচ্ছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত প্রকাশিত হবে (২)।

অথচ মুসলমানদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি এই কথা বলেন, বরং এটি দেউলিয়াদের পুঁজি মাত্র। এই সম্প্রদায়ের নিকট মিথ্যা ও অপবাদ বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই, কারণ তাদের ধর্মনিরপেক্ষতা এই সমস্ত ঈমানি বিষয়ের কোনো গুরুত্ব দেয় না। আমরা সকলেই জানি যে, এই অপবাদ তাদের নিজস্ব মস্তিস্কপ্রসূত উদ্ভাবন এবং তাদের স্বহস্তনির্মিত কারসাজি। এমন একজন আলেমও নেই যিনি বলেন যে, আবিষ্কৃত সকল তত্ত্বই কুরআন ও সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত; বরং তারা বলেন: আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে কিছু বৈজ্ঞানিক সত্যের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করেছেন প্রামাণিক দলিল হিসেবে এবং এই যুগের উপযোগী প্রমাণাদি উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে, যাতে এটি প্রতীয়মান হয় যে এই কিতাব আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং এটি ধ্রুব সত্য।

মূল বিষয়টি হলো, কুরআন ও সুন্নাহ নির্দিষ্ট কিছু বৈজ্ঞানিক সত্যকে অন্তর্ভুক্ত করেছে কিয়ামত পর্যন্ত এর অলৌকিকত্বের (মুজিজা) ধারাবাহিকতা প্রদর্শনের জন্য এবং মুমিনদের ঈমানকে সুদৃঢ় করার জন্য।

আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, বিভিন্ন বিষয়ের পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা কুরআন ও সুন্নাহর এই সত্যতাকে স্বীকার করে নিয়েছেন এবং তাদের অনেকেই এই বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন। কিন্তু এই অভ্যন্তরীণ শত্রুরা (পঞ্চম বাহিনী) সন্দেহ পোষণ করছে এবং উপহাস ও বিদ্রুপ করে চলেছে।

খলিল আব্দুল কারিম হেজাজের আরবদের সভ্যতার সোপানে অত্যন্ত নিম্নস্তরের বলে উল্লেখ করার পর এবং চিকিৎসা ও জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ে তাদের অর্জনকে কেবল সাধারণ জ্ঞান হিসেবে গণ্য করার পর বলেছেন যে, যুক্তিগতভাবে এটি অসম্ভব যে এমন একটি পরিবেশ থেকে এমন সব বাণী উৎসারিত হবে যা বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বহন করে; কারণ, যার কাছে কিছু নেই সে অন্যকে কিছু দিতে পারে না (৩)।

--------------------------------------------

(১) ইনতিকাসাতুল মুসলিমিন (২৬ - ৩৫)।

(২) আল-আমালুল কামিলাহ (২১৮) এবং আল-ইসলাম বাইনাদ দাওলাতিদ দ্বীনিইয়্যাহ (৮ - ৯ - ১০)।

(৩) আল-আমালুল কামিলাহ (১৯৫)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ২৭)
كان علماء السنة قديما يقولون عن الجهمية: إنهم يدورون على أنه لا يوجد إله في السماء.

وهكذا العلمانيون في تقديري، يتحدث خليل عبد الكريم عن القرآن والسنة بمثابتهما إفرازا ثقافيا لعرب الحجاز في القرن السابع، لا أن إلها في السماء يعلم السر وأخفى هو الذي أنزله. وهذه هي حقيقة «تاريخية النص» كما سيأتي تفصيله في الجزء الثاني.

وهذا عادل الجندي يقول: بل إن هناك من أدعياء الدين ممن يقومون بدور المشعوذ والساحر بصورة بارعة (راجع ما يقوم به خبراء الإعجاز العلمي في القرآن) (1).

وقال أشرف عبد القادر: وأتعجب من جريدة الأهرام المصرية كيف تسمح للمشعوذ زغلول النجار أن ينشر أكاذيبه وهذياناته عن الإعجاز العلمي في القرآن الذي هو كذب وقح على القرآن والعلم معا (2).

وجزم أبو زيد بأن النصوص الدينية ليست نصوصا مفارقة لبنية الثقافة التي تشكلت في إطارها بأي حال من الأحوال (3).

من هنا يستحيل عند أبي زيد الحديث عن الإعجاز العلمي في القرآن، لأنه ما دام نصا لغويا فيجب بحثه داخل إطار الثقافة التي تشكل فيها لا

--------------------------------------------

(1) العلمانية مفاهيم ملتبسة (320) وقدر العلمانية في العالم العربي (133).

(2) العلمانية مفاهيم ملتبسة (10).

(3) النص والسلطة (92) وانظر (145) منه.
প্রাচীনকালে সুন্নি আলেমগণ জাহমিয়াদের সম্পর্কে বলতেন: তাদের মূল বক্তব্য এখানে এসে উপনীত হয় যে, আসমানে কোনো ইলাহ নেই।

আমার দৃষ্টিতে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরাও ঠিক তেমনই। খলিল আব্দুল করিম কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে এমনভাবে আলোচনা করেন যেন তা সপ্তম শতাব্দীর হিজাযের আরবদের একটি সাংস্কৃতিক ফসল মাত্র; এমনটি নয় যে, আসমানে বিরাজমান এমন এক ইলাহ তা অবতীর্ণ করেছেন যিনি গোপন ও অতি গোপন সবকিছু জানেন। আর এটিই হলো ‘নসের ঐতিহাসিকতা’র প্রকৃত রূপ, যার বিস্তারিত বিবরণ দ্বিতীয় খণ্ডে আসবে।

আর এই আদিল আল-জুন্দি বলছেন: বরং ধর্মের দাবিদারদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা অত্যন্ত নিপুণভাবে জাদুকর ও ভণ্ড সাধকের ভূমিকা পালন করে (কুরআনের বৈজ্ঞানিক মুজিজা বিশেষজ্ঞদের কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করুন) (১)।

আশরাফ আব্দুল কাদির বলেন: মিশরের আল-আহরাম পত্রিকার ব্যাপারে আমি বিস্মিত যে, তারা কীভাবে ভণ্ড জঘলুল আল-নাজ্জারকে কুরআনের বৈজ্ঞানিক মুজিজা সম্পর্কে তার মিথ্যাচার ও প্রলাপ প্রচারের অনুমতি দেয়, যা কুরআন ও বিজ্ঞান উভয়ের নামেই এক নির্লজ্জ মিথ্যাচার (২)।

আবু যায়েদ দৃঢ়তার সাথে দাবি করেছেন যে, ধর্মীয় পাঠসমূহ কোনোভাবেই সেই সাংস্কৃতিক কাঠামোর ঊর্ধ্বে নয় যার পরিমণ্ডলে এগুলো গঠিত হয়েছে (৩)।

এখান থেকেই আবু যায়েদের নিকট কুরআনের বৈজ্ঞানিক মুজিজা সম্পর্কে আলোচনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কারণ, এটি যতক্ষণ পর্যন্ত একটি ভাষাগত পাঠ, ততক্ষণ একে অবশ্যই সেই সংস্কৃতির কাঠামোর ভেতরে আলোচনা করতে হবে যেখানে এটি গঠিত হয়েছিল, অন্যথায় নয়

--------------------------------------------

(১) আল-ইলমানিয়্যাহ: মাফাহিম মুলতাবাহ (৩২০) এবং কদরুল ইলমানিয়্যাহ ফিল আলামিল আরাবি (১৩৩)।

(২) আল-ইলমানিয়্যাহ: মাফাহিম মুলতাবাহ (১০)।

(৩) আন-নাস ওয়াস-সুলতাহ (৯২) এবং এর ১৪৫ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ২৮)
خارجها، قال: وأي حديث عن الكلام الإلهي خارج اللغة من شأنه أن يجذبنا شئنا ذلك أم أبينا إلى دائرة الخرافة والأسطورة (1).

يتظاهر هنا أبو زيد بمثابة الناصح الأمين الحريص على عدم تحويل القرآن إلى خرافة وأساطير، مع أنه هو وإخوانه هم الذين طالما اتهموا القرآن بتضمنه الخرافات والأساطير.

لكن ما يسكت عنه أبو زيد ويضمره هو أن الإعجاز العلمي في القرآن سيقضي على مفهوم تاريخية القرآن التي يدور عليها مشروعه ومشروع إخوانه.

لأن القرآن إذا كان أخبر عن نظريات علمية لم تكن في عصر إنتاجه وتشكله حسب عبارة أبي زيد، إذا فالقرآن بهذا الاعتبار يلغي تماما الحديث عن تاريخيته، وبالتالي فهو نص مفارق فوق بشري.

وهذا يهدم الصرح العلماني بأسره.

وأما سيد القمامة فقد سخر في معظم كتبه من الإعجاز العلمي في القرآن والسنة، منها: انتكاسة المسلمين (25 - 26)، وحجة القمني أمران:

1 - إن القرآن كتاب إيمان وليس كتاب تكنولوجيا ورياضيات وبيولوجيا.

2 - لماذا لم يكتشف المسلمون أيا من هذه النظريات اعتمادا على القرآن والسنة (2).

--------------------------------------------

(1) نفس المرجع.

(2) انتكاسة المسلمين (26).
এর বাইরে, তিনি বলেন: ভাষার গণ্ডির বাইরে ঐশী বাণী সম্পর্কে যেকোনো আলোচনা আমাদের ইচ্ছা হোক বা না হোক অলীক কল্পনা ও উপকথার বৃত্তে টেনে নেবে (১)।

এখানে আবু যায়েদ এমন এক বিশ্বস্ত উপদেষ্টার রূপ ধারণ করেছেন যিনি কুরআনকে অলীক কল্পনা ও উপকথায় রূপান্তরিত না করার ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ, অথচ তিনি এবং তার অনুসারীরাই কুরআনকে উপকথা ও কল্পকাহিনী ধারণ করার অভিযোগে দীর্ঘকাল ধরে অভিযুক্ত করে আসছেন।

কিন্তু আবু যায়েদ যা নিয়ে নীরবতা অবলম্বন করেছেন এবং মনের ভেতর গোপন রেখেছেন তা হলো, কুরআনের বৈজ্ঞানিক অলৌকিকতা (ইজায) কুরআনের সেই 'ঐতিহাসিকতা'র ধারণাকে ধ্বংস করে দেবে, যাকে কেন্দ্র করেই তার এবং তার সহযোগীদের সকল বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ড আবর্তিত হয়।

কারণ আবু যায়েদের ভাষ্যমতে, কুরআন যদি এমন সব বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের সংবাদ দিয়ে থাকে যা এর নাযিল হওয়া এবং রূপ পরিগ্রহ করার যুগে বিদ্যমান ছিল না, তবে সেই বিচারে কুরআন তার ঐতিহাসিকতার যাবতীয় আলাপকে পুরোপুরি বাতিল করে দেয়; এবং ফলস্বরূপ এটি একটি অতিমানবিক ও অতীন্দ্রিয় ঐশী পাঠ্য হিসেবে প্রমাণিত হয়।

আর এটি সামগ্রিক ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোকে সমূলে বিনাশ করে দেয়।

অন্যদিকে সাইয়্যিদ আল-কুমা-মাহ তার অধিকাংশ কিতাবে কুরআন ও সুন্নাহর বৈজ্ঞানিক অলৌকিকতাকে বিদ্রূপ করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো: ইনতিকাসাতুল মুসলিমিন (২৫-২৬)। কিমনির যুক্তি ছিল দুটি:

১ - কুরআন বিশ্বাসের কিতাব, এটি প্রযুক্তি, গণিত বা জীববিজ্ঞানের কিতাব নয়।

২ - কেন মুসলমানরা কুরআন ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে এই তত্ত্বগুলোর কোনোটিই আগে আবিষ্কার করতে পারেনি? (২)।

--------------------------------------------

(১) একই উৎস।

(২) ইনতিকাসাতুল মুসলিমিন (২৬)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যাহ আল-মাফহুম ওয়াল মাজাহির ওয়াল আসবাব (পৃষ্ঠা: ২৯)
وليس من همنا الآن بيان تهافت هذا الطرح. ونؤجل ذلك إلى بحوث قادمة إن شاء الله.

والثالثة: نَعَم للحداثة التقنية ولا للحداثة الفكرية الفلسفية.

الحداثة التقنية لها ارتباط بالترفيه المادي والتحديث الآلي، وليست لها أبعاد أيديولوجية ولا فلسفة حياتية، ولا أفكار مسبقة.

بينما الحداثة الفكرية مرتبطة تمام الارتباط بنظرة وجودية وفلسفة للحياة وموقف من الآخر سواء كان هذا الآخر دينا أو مذهبا أو حضارة أو شخصا أو غيره.

والحداثة التقنية يتفق عليها كل الناس. وهي جوهر الرقي والتقدم والازدهار. ولهذا فاليابان مثلا لها حداثة تقنية هائلة مع حفاظها على هويتها وأديانها المعروفة.

ويحاول العلمانيون خلط الحداثة التقنية بالحداثة الفكرية الفلسفية، وإيهام الجماهير بأن كل معارض للحداثة فهو ضد التحضر والتقدم.

مع أن الفرق واضح بين الأمرين.

والحداثة التقنية والعلمية شيء، والحداثة الفكرية الفلسفية التي تعني في الأصل إقصاء الدين من المجتمع وإبعاده عن المشاركة شيء آخر.

والحداثة الأولى مرحب بها من قبل الجميع، والثانية مقبولة كنيسيا وغربيا، ومرفوضة إسلاميا.

فمن الممكن كما قال رفيق عبد السلام في كتابه «في العلمانية والدين والديمقراطية» (125) الخروج من دائرة الروابط التقليدية الموروثة مثل رابطة القبيلة والطائفة والمذهب لصالح الانتماء الحديث، والانتقال من نمط الإنتاج
এই প্রস্তাবনার অসারতা বর্ণনা করা বর্তমানে আমাদের লক্ষ্য নয়। ইনশাআল্লাহ আমরা এটিকে আগামী কোনো গবেষণার জন্য স্থগিত রাখছি।

তৃতীয়ত: কারিগরি আধুনিকায়নের পক্ষে 'হ্যাঁ' এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ও দার্শনিক আধুনিকতার পক্ষে 'না'।

কারিগরি আধুনিকতা মূলত বস্তুগত বিলাসিতা এবং যান্ত্রিক আধুনিকায়নের সাথে সম্পৃক্ত; এর কোনো আদর্শিক দিক নেই, নেই কোনো জীবনদর্শন কিংবা পূর্বনির্ধারিত কোনো ধারণা।

পক্ষান্তরে, বুদ্ধিবৃত্তিক আধুনিকতা অস্তিত্ববাদী দৃষ্টিভঙ্গি, জীবনদর্শন এবং 'অপর'-এর (Other) প্রতি নির্দিষ্ট অবস্থানের সাথে পূর্ণরূপে জড়িত—সেই 'অপর' কোনো ধর্ম, মতবাদ, সভ্যতা, ব্যক্তি বা অন্য যা-ই হোক না কেন।

আর কারিগরি আধুনিকতার ব্যাপারে সকল মানুষই একমত। এটি উন্নতি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির মূল নির্যাস। একারণেই উদাহরণস্বরূপ জাপানের কথা বলা যায়, যাদের রয়েছে বিশাল কারিগরি আধুনিকতা; অথচ তারা নিজেদের পরিচিত স্বতন্ত্র পরিচয় ও ধর্মসমূহকে অক্ষুণ্ণ রেখেছে।

সেক্যুলারবাদীরা কারিগরি আধুনিকতাকে বুদ্ধিবৃত্তিক ও দার্শনিক আধুনিকতার সাথে গুলিয়ে ফেলার চেষ্টা করে এবং জনসাধারণের মনে এই ভ্রান্ত ধারণা গেঁথে দিতে চায় যে, আধুনিকতার যেকোনো বিরোধিতাকারী আসলে সভ্যতা ও প্রগতির বিরোধী।

অথচ এই উভয় বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য অত্যন্ত সুস্পষ্ট।

কারিগরি ও বৈজ্ঞানিক আধুনিকতা একটি স্বতন্ত্র বিষয়, আর বুদ্ধিবৃত্তিক ও দার্শনিক আধুনিকতা—যার মূল অর্থ হলো সমাজ থেকে ধর্মকে উচ্ছেদ করা এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড থেকে তাকে দূরে সরিয়ে রাখা—তা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

প্রথম প্রকারের আধুনিকতা সবার কাছে সমাদৃত, আর দ্বিতীয় প্রকারটি গির্জা ও পাশ্চাত্যীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য হলেও ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে তা বর্জনীয়।

রফিক আব্দুস সালাম তাঁর 'ফি আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া আদ-দিন ওয়া আদ-দিমুকরাতিয়্যাহ' (১২৫) গ্রন্থে যেমনটি বলেছেন, আধুনিক আনুগত্যের স্বার্থে গোত্র, সম্প্রদায় বা মাযহাবের মতো উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ঐতিহ্যগত সম্পর্কের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসা এবং উৎপাদন পদ্ধতি পরিবর্তনের মাধ্যমে...