(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: -)
إقامة الدليل على علو رتبة إرواء الغليل   (أحمد بن إبراهيم بن أبي العينين)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: إقَامَةُ الدَّليل عَلى عُلو رتبَة إرْوَاءِ الغَليل وَالرَّد عَلى مُستَدَرك التعليل

المؤلف: أبو عبد الله أحمد بن إبراهيم بن أبي العينين

الناشر: مكتبة ابن عباس للنشر والتوزيع، مصر

الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م

عدد الصفحات: 392

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 محرم 1434

'ইরওয়াইল গালীল'-এর উচ্চ মর্যাদার প্রমাণ প্রতিষ্ঠা   (আহমদ বিন ইবরাহীম বিন আবিল আইনাইন)

বিভাগ: তাখরীজ ও আতরাফ


গ্রন্থ: 'ইরওয়াইল গালীল'-এর উচ্চ মর্যাদার প্রমাণ প্রতিষ্ঠা এবং 'মুস্তাদরাকুত তালীলে'র খণ্ডন

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন ইবরাহীম বিন আবিল আইনাইন

প্রকাশক: মাকতাবাতু ইবনে আব্বাস প্রকাশনা ও বিতরণ، মিশর

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩২ হিজরী - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯২

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাহ-তে প্রকাশের তারিখ: ১৯ মুহাররাম ১৪৩৪

(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: -)
إقَامَةُ الدَّليل

عَلى عُلو رتبَة إرْوَاءِ الغَليل وَالرَّد عَلى مُستَدَرك التعليل

 

لأبي عَبد اللهِ أَحمد بن إبراهيم أَبي العَينين

 

مكتبة ابن عباس
প্রমাণ উপস্থাপন

'ইরওয়াউল গালীল'-এর সুউচ্চ মর্যাদার স্বপক্ষে এবং 'মুস্তাদরাকুত তালীল'-এর খণ্ডন

 

আবু আবদিল্লাহ আহমাদ ইবনে ইবরাহীম আবুল আইনাইন কর্তৃক

 

মাকতাবাতু ইবনে আব্বাস
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ২)
حقوق الطبع محفوظة

الطبعه الأولى 1432 هـ - الموافق 2011 م

مكتبة ابن عباس

للنشر والتوزيع

منية سمنود - ش الثورة - ت: 6493250

فرع المنصورة - عزبة عقل - ت: 9104437

القاهرة - درب الأتراك - بجوار مكتبة العلوم والحكم

م: 0101697676

البريد الإلكتروني: ebn_abas@hotmail.com

 

مركز النعمان للبحوث والدراسات الإسلامية وتحقيق التراث والترجمة

المركز الرئيسي: اليمن - صنعاء

ت: 00967 - 733702792

ت: 733702792 - 00967

ص. ب: صنعاء (4173)

البريد الإلكترني: shady_noaman@hotmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ ১৪৩২ হিজরী - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

মাকতাবাতু ইবনে আব্বাস

প্রকাশনা ও বিতরণের জন্য

মুনিয়্যাত সামান্নুদ - সাওরা সড়ক - টেলিফোন: ৬৪৯৩২৫০

মানসুরা শাখা - ইজবাতু আকল - টেলিফোন: ৯১০৪৪৩৭

কায়রো - দারবুল আতুরাক - মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম-এর পাশে

মোবাইল: ০১০১৬৯৭৬৭৬

ইমেইল: ebn_abas@hotmail.com

 

আন-নুমান ইসলামি গবেষণা ও অধ্যয়ন, ঐতিহ্য যাচাই ও অনুবাদ কেন্দ্র

প্রধান কেন্দ্র: ইয়েমেন - সানা

টেলিফোন: ০০৯৬৭ - ৭৩৩৭০২৭৯২

টেলিফোন: ৭৩৩৭০২৭৯২ - ০০৯৬৭

পোস্ট বক্স: সানা (৪১৭৩)

ইমেইল: shady_noaman@hotmail.com
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المقدمة

الحمد لله وحده، وأشهد ألا إله إلا الله، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم.

- وبعد،،

فإن أمة الإسلام تمر هذه الأيام بمرحلة حرجة في تاريخها، فقد تكالب عليها الأعداء من الداخل والخارج، وقد توحدت صفوفهم، وتكاتفت جهودهم، وتناسقت خططهم للنيل من الإسلام وأهله، ومن بين هؤلاء قوم ينتسبون إلى الإسلام من أصحاب المذاهب المنحرفة من أهل البدع والعقائد الفاسدة كالصوفية والشيعة وغيرهم، فهم يتربصون بأهل السنة لتشويه صورتهم، وخاصة بأئمتهم، فيتلقفون الطعون عليهم، ويزخرفونها، وينفخون فيها.

 

-‌‌خطورة التشكيك في علماء السنة:

ومن أعظم من تعرض لهذه الحملات الضارية إمام المحدثين في هذا العصر، وإمام أهل السنة بالشام، شيخنا العلامة محمد ناصر الدين الألباني رحمه الله، وذلك لما قام به من نصرة عقيدة السلف الصالح، ومذهب أهل الحديث في بلاد الغالب عليها عقائد فاسدة، ومذاهب كاسدة، وبدع وخرافات، مع ما قام به من خدمة لسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلذلك كثرت السهام التي أطلقها أعداء السنة نحوه، وهذا مما يسوء كل مسلم غيورعلى السنة؛ لأن الطعن فيه ليس طعنًا في شخصه فحسب، والتشكيك فيه وفي علمه ليس تشكيكًا في شخصه فحسب، بل هما طعن وتشكيك في السنة التي ينشرها، ويدافع عنها.

قال الشيخ محمد بن صالح بن عثيمين رحمه الله في "شرح رياض الصالحين" (1/ 682): "إن الذين يلتقطون زلات العلماء، ليشيعوها ليسوا مسيئين للعلماء شخصيًّا فحسب؛ بل مسيئون للعلماء شخصيًّا، ومسيئون إلى علمهم الذي
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

- অতঃপর,,

নিশ্চয়ই ইসলামি উম্মাহ বর্তমান সময়ে তার ইতিহাসের এক সংকটময় মুহূর্ত অতিক্রম করছে। ভেতর ও বাহিরের শত্রুরা তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ইসলাম ও মুসলিমদের ক্ষতি করার জন্য তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তাদের প্রচেষ্টা সংহত করেছে এবং পরিকল্পনাগুলো সমন্বয় করেছে। এদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা নিজেদের ইসলামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে, যারা বিদআত ও ভ্রান্ত আকিদার অনুসারী বিচ্যুত মতবাদের ধারক, যেমন সুফি, শিয়া ও অন্যান্যরা। তারা আহলুস সুন্নাহর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য ওঁৎ পেতে থাকে, বিশেষ করে তাদের ইমামদের ক্ষেত্রে। তারা ইমামদের বিরুদ্ধে করা অপবাদগুলো লুফে নেয়, সেগুলোকে চাকচিক্যময় করে এবং ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে প্রচার করে।

 

-‌সুন্নাহর আলেমদের ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টির ভয়াবহতা:

এই প্রচণ্ড আক্রমণের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম প্রধান হলেন এ যুগের ইমামুল মুহাদ্দিসীন এবং শামের আহলুস সুন্নাহর ইমাম, আমাদের শাইখ আল্লামা মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ)। কারণ তিনি সালাফে সালেহীনের আকিদা ও আহলে হাদিসের মানহাজকে সাহায্য করতে দাঁড়িয়েছিলেন এমন সব জনপদে যেখানে ভ্রান্ত আকিদা, অকেজো মাযহাব এবং বিদআত ও কুসংস্কারের জয়জয়কার ছিল। এর পাশাপাশি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর যে খেদমত তিনি আঞ্জাম দিয়েছেন, তার ফলে সুন্নাহর শত্রুরা তাঁর দিকে অসংখ্য তীর ছুড়েছে। এটি এমন এক বিষয় যা সুন্নাহর প্রতি আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিমকে ব্যথিত করে। কারণ তাঁর সমালোচনা করা মানে কেবল তাঁর ব্যক্তির সমালোচনা করা নয়, এবং তাঁর ও তাঁর ইলমের ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টি করা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়ে সংশয় সৃষ্টি করা নয়; বরং এগুলো হলো সেই সুন্নাহর ওপর আঘাত ও সংশয় যা তিনি প্রচার করেন এবং যার প্রতিরক্ষা করেন।

শাইখ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) "শারহু রিয়াদুস সলিহীন" (১/ ৬৮২) গ্রন্থে বলেছেন: "নিশ্চয়ই যারা আলেমদের ভুলভ্রান্তি খুঁজে বেড়ায় সেগুলো প্রচার করার জন্য, তারা কেবল আলেমদের ব্যক্তিগতভাবে অপদস্থ করছে না; বরং তারা আলেমদের ব্যক্তিগতভাবে অপদস্থ করার পাশাপাশি তাদের সেই ইলমকেও অবমাননা করছে যা তারা বহন করেন।"
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ৪)
يحملونه، ومسيئون إلى الشريعة التي تُتلقى من جهتهم، لأن العلماء إذا لم يثق الناس فيهم، وإذا اطَّلعوا على عوراتهم -التي قد لا تكون عورات إلا على حسب نظر هذا المغرض- فإنهم تقل ثقتهم بالعلماء وبما عندهم من العلم، فيكون في هذا جناية على الشرع الذي يحملونه من سنة الرسول صلى الله عليه وسلم، لذلك من نصيحتك لأئمة المسلمين من أهل العلم أن تدافع عن عوراتهم، وأن تسترها ما استطعت، وأن لا تسكت".

 

-‌‌تحول الدكتور أحمد الخليل من مقلد للشيخ الألباني إلى ناقد له ومشكك فيه:

ولئن كان الهجوم على الشيخ الألباني رحمه الله والتشكيك في علمه أمرًا خطيرًا من الأعداء والفرق المنحرفة، ويحتاج إلى دفع شرهم وبيان ظلمهم وغيهم، فأخطر منه أن يشكك في الشيخ رحمه الله وفي علمه ومنهجه من ينتسب إلى السنة وإلى المنهج السلفي، وقد كثر هؤلاء هدانا الله وإياهم، والاحتياج إلى بيان زللهم وسوء صنيعهم آكد، وذلك لأنهم يشككون أبناء منهجهم بخلاف المخالفين في العقيدة والمنهج، فإن الشباب السلفي لا يلتفت إليهم في الغالب، ولذلك فقد آليت على نفسي أن أذب عن الشيخ رحمه الله وغيره من أهل العلم مهما كلفني، وقد كان آخر من وقفت عليهم ممن يشككون في الشيخ رحمه الله وفي علمه: الدكتور أحمد ابن محمد الخليل، وقد كان يقلد الشيخ في أحكامه على الأحاديث تصحيحًا وتضعيفًا وتعليلًا إلى عهد ليس بالبعيد، فقد كتب تعليقًا على كتاب بلوغ المرام هو وأخوه، وطبعته دار المسلم، وكان يعتمد فيه على أحكام الشيخ على الأحاديث، ثم أخفى هذا الكتاب، فلم يضعه على موقعه، ولم يشر إليه في ذكر مؤلفاته، وقد كلفت الأخ الفاضل محمد بن عبد الغني أن يبحث عن الكتاب على شبكة المعلومات، فلم يعثر عليه، فكتب للدكتور على موقعه يسأله عن تحقيقه لبلوغ المرام، فأنكره، فحدد له وصف الكتاب ودار النشر التي تولت طباعته، فلم يرد
তারা যা বহন করেন, এবং তারা সেই শরীয়তের প্রতি অন্যায়কারী যা তাদের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। কারণ আলেমদের ওপর যখন মানুষের আস্থা থাকে না এবং যখন তারা তাদের দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে জানতে পারে—যা হয়তো কেবল সেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তির দৃষ্টিতেই ত্রুটি—তখন আলেমদের প্রতি এবং তাদের নিকট থাকা ইলমের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যায়। ফলে এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত যে শরীয়ত তারা বহন করছেন, তার প্রতি একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। তাই আলেমদের মধ্য থেকে মুসলিমদের ইমামদের প্রতি আপনার শুভকামনার একটি অংশ হলো তাদের মান-সম্মান রক্ষা করা, সাধ্যমতো তাদের দোষ গোপন রাখা এবং এ ব্যাপারে চুপ না থাকা।

 

-‌‌ডক্টর আহমদ আল-খালিলের রূপান্তর: শায়খ আলবানীর মুকাল্লিদ থেকে তাঁর সমালোচক ও সংশয় প্রকাশকারীতে:

যদিও শত্রু এবং বিভ্রান্ত দলগুলোর পক্ষ থেকে শায়খ আলবানী রাহিমাহুল্লাহর ওপর আক্রমণ এবং তাঁর ইলম নিয়ে সংশয় তৈরি করা একটি বিপজ্জনক বিষয়, যার জন্য তাদের অনিষ্ট দূর করা এবং তাদের জুলুম ও বিভ্রান্তি স্পষ্ট করা প্রয়োজন; তবে এর চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হলো শায়খ রাহিমাহুল্লাহ এবং তাঁর ইলম ও মানহাজ সম্পর্কে এমন ব্যক্তির সংশয় প্রকাশ করা, যে নিজেকে সুন্নাহ ও সালাফি মানহাজের অনুসারী দাবি করে। এদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে—আল্লাহ আমাদের ও তাদের হেদায়েত দান করুন। তাদের বিচ্যুতি ও মন্দ আচরণের বর্ণনা দেওয়া আরও বেশি জরুরি। কারণ তারা নিজ মানহাজের অনুসারীদের মাঝে সংশয় সৃষ্টি করে, যা আকিদা ও মানহাজে ভিন্ন মতাবলম্বীরা করতে পারে না; কেননা সালাফি যুবকরা সাধারণত তাদের প্রতি মনোযোগ দেয় না। এই কারণেই আমি শায়খ রাহিমাহুল্লাহ এবং অন্যান্য আলেমদের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করার সংকল্প করেছি, তাতে আমার যা-ই ত্যাগ স্বীকার করতে হোক না কেন। শায়খ রাহিমাহুল্লাহ ও তাঁর ইলম সম্পর্কে সংশয় পোষণকারীদের মধ্যে সর্বশেষ যাকে আমি পেয়েছি, তিনি হলেন ডক্টর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-খালিল। অথচ খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, তিনি হাদিসের সহিহ, যয়িফ এবং ইল্লত (ত্রুটি) নির্ণয়ের ক্ষেত্রে শায়খের সিদ্ধান্তের অনুসরণ করতেন। তিনি এবং তাঁর ভাই ‘বুলুগুল মারাম’ গ্রন্থের ওপর একটি টীকা লিখেছিলেন এবং তা ‘দারুল মুসলিম’ থেকে মুদ্রিত হয়েছিল। সেখানে তিনি হাদিসের ওপর শায়খের দেওয়া হুকুমের ওপর নির্ভর করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি এই বইটি লুকিয়ে ফেলেন, তা তাঁর ওয়েবসাইটে দেননি এবং নিজের রচিত বইয়ের তালিকায় এর উল্লেখ করেননি। আমি সম্মানিত ভাই মুহাম্মদ বিন আব্দুল গানিকে ইন্টারনেটে বইটি অনুসন্ধান করতে বলেছিলাম, কিন্তু তিনি তা পাননি। এরপর তিনি ডক্টরের ওয়েবসাইটে তাঁর নিকট বুলুগুল মারামের তাহকিক সম্পর্কে জানতে চেয়ে লিখলে তিনি তা অস্বীকার করেন। অতঃপর যখন তিনি বইটির বর্ণনা এবং মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করলেন, তখন তিনি আর কোনো উত্তর দেননি।
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ৫)
عليه، وذلك لأنه تأثر بهؤلاء المُحَدِّثين الجدد الذين يزعمون أنهم على منهج المتقدمين، وذلك يحملهم على عدم تقدير ما قام به الأئمة ممن يصفونهم بالمتأخرين (1) من خدمة لحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم تصحيحًا وتضعيفاً، وفي مقدمتهم شيخنا إمام العصر: محمد ناصر الدين الألباني رحمه الله، فلما انتحل هذا المذهب الجديد ألَّف كتابًا سمَّاه: "مستدرك التعليل على إرواء الغليل" (2)، بناه على التشكيك في صحة منهج الشيخ في الحكم على الأحاديث تصحيحاً وتضعيفاً.

 

-‌‌وضع الدكتور نفسه موضع المعلم المؤدب للشيخ الألباني رحمه الله:

لقد قال في مقدمة كتابه ص (10):

"لما كنت أقرأ في هذا الكتاب (يعني الإرواء) لفت انتباهي كثرة مخالفة أحكام الشيخ الألباني رحمه الله لأحكام الأئمة المتقدمين، حتى صار ذلك يشكل ظاهرة في الكتاب، وإذا نظر الإنسان في الكتاب وجد أن هذا الاختلاف ناشئ عن اختلاف في المنهج" (3).

وقد ملأ كتابه بالتطاول على الشيخ رحمه الله، فنزل نفسه منزلة المعلم المرشد الموجه للشيخ رحمه الله، فمن ذلك ما قاله ص (237): نبهت مرارًا أن هذا الأسلوب

--------------------------------------------

(1) ولا أدري ما الحد الفاصل عند هؤلاء المحدثين الجدد بين المتقدمين والمتأخرين؟!، وما الدليل على هذا الحد إن صرحوا به؟!، وقد بينت خطأ هذا المسلك في كتابي "القول الحسن في كشف شبهات حول الاحتجاج بالحديث الحسن".

(2) وقد رد عليه الشيخ عبد الله بن صالح العبيلان في كتاب سماه "رد الجميل في الذب عن إرواء الغليل"، وقد اعتنى فيه في الأغلب بالجانب الفقهي، فرأيت أن أتمم الفائدة بالرد عليه من الناحية الحديثية، وأسأل الله أن يكتب الأجر لي وللشيخ العبيلان، إنه جواد كريم.

(3) وسيأتي بيان فساد دعواه تلك في مناقشه مقدمته بما لا حاجة لذكره هنا.
তার ওপর, আর এটি এ কারণে যে তিনি সেই নতুন মুহাদ্দিসদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন যারা দাবি করে যে তারা পূর্ববর্তীগণের (মুতাআদ্দিমীন) মানহাজের ওপর রয়েছেন। আর এটি তাদেরকে সেই সব ইমামদের—যাদেরকে তারা পরবর্তী (মুতাআখখিরীন) হিসেবে অভিহিত করে (১)—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের খিদমতের ক্ষেত্রে (সহীহ বা যঈফ নির্ণয়ে) তাদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন না করার দিকে ধাবিত করে। তাদের অগ্রভাগে রয়েছেন আমাদের শায়খ, সমসাময়িক যুগের ইমাম: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী রাহমাহুল্লাহ। যখন তিনি এই নতুন মতাদর্শ গ্রহণ করলেন, তখন তিনি একটি গ্রন্থ রচনা করলেন যার নাম দিলেন: "মুসতাদরাকুত তা’লীল আলা ইরওয়াইল গালীল" (২)। তিনি এটি হাদীসের হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে (সহীহ ও যঈফ নির্ণয়ে) শায়খের মানহাজের বিশুদ্ধতার বিষয়ে সংশয় তৈরির ওপর ভিত্তি করে নির্মাণ করেছেন।

 

-‌‌ডক্টর নিজেকে শায়খ আলবানী রাহমাহুল্লাহ-এর শিক্ষক ও শিষ্টাচার প্রদানকারীর স্থানে বসিয়েছেন:

তিনি তার গ্রন্থের মুকাদ্দিমার ১০ পৃষ্ঠায় বলেছেন:

"আমি যখন এই কিতাবটি (অর্থাৎ ইরওয়া) পড়তাম, তখন শায়খ আলবানী রাহমাহুল্লাহ-এর হুকুমসমূহ পূর্ববর্তী ইমামগণের হুকুমের বিপরীতে হওয়ার বিষয়টি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করত, এমনকি তা কিতাবটির একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। আর যদি কেউ কিতাবটির দিকে লক্ষ্য করে তবে দেখতে পাবে যে, এই মতপার্থক্য মানহাজের পার্থক্যের কারণেই সৃষ্টি হয়েছে" (৩)।

তিনি তার কিতাবটিকে শায়খ রাহমাহুল্লাহ-এর প্রতি ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্যে পরিপূর্ণ করেছেন, এবং নিজেকে শায়খ রাহমাহুল্লাহ-এর জন্য একজন শিক্ষক, পথপ্রদর্শক ও দিকনির্দেশকের মর্যাদায় আসীন করেছেন। এর মধ্যে ২৩৭ পৃষ্ঠায় তার বলা এই কথাটিও রয়েছে: আমি বারবার সতর্ক করেছি যে এই পদ্ধতিটি...

--------------------------------------------

(১) আমি জানি না এই নতুন মুহাদ্দিসদের নিকট পূর্ববর্তী (মুতাআদ্দিমীন) এবং পরবর্তী (মুতাআখখিরীন)দের মাঝে সীমারেখাটি কী?! আর যদি তারা সেই সীমানা স্পষ্ট করেও থাকেন, তবে তার দলিলই বা কী?! আমি আমার গ্রন্থ "আল-কাওলুল হাসান ফী কাশফি শুবুহাতিন হাওলাল ইহতিজাজি বিল হাদীসিল হাসান"-এ এই পথের ভুলসমূহ স্পষ্ট করেছি।

(২) শায়খ আবদুল্লাহ বিন সালিহ আল-উবাইলান তার বিরুদ্ধে "রাদ্দুল জমীল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল" নামক গ্রন্থে জবাব দিয়েছেন। তিনি সেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফিকহী দিকটি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাই আমি হাদীসতাত্ত্বিক দিক থেকে তার উত্তর প্রদান করে বিষয়টিকে পূর্ণতা দান করার সংকল্প করেছি। আমি আল্লাহর নিকট আমার এবং শায়খ উবাইলানের জন্য প্রতিদান প্রার্থনা করছি; নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা ও দয়ালু।

(৩) শীঘ্রই তার মুকাদ্দিমা বা ভূমিকা নিয়ে আলোচনার সময় তার এই দাবির অসারতার বর্ণনা আসবে যা এখানে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ৬)
لا ينبغي مع الأئمة.

وفي ص (307) قال عن حديث: اعتبره الشيخ رحمه الله شاهدًا للمرفوع، وهو أمر غريب حقّاً؟

وفي ص (421) قال: كان ينبغي ألا يوصف كلام الإِمام أحمد بأنه لا وجه له.

 

-‌‌ تطاول الدكتور الخليل واحتقاره لأئمة الحديث الذين يصفهم بالمتأخرين:

وقال في ص (161): كان الواجب على الشيخ الألباني أن يبحث قبل أن يسارع في الرد على الترمذي، وإنما أطلت -نوعاً ما- في هذا التوضيح، لأنبه إلى خطأ بالغ يكثر من المتأخرين المشتغلين بالحديث، وهو المسارعة إلى نقد كلام الحفاظ المتقدمين بجرأة غير محمودة، وبانتقادات سطحية، ليس من الإنصاف نسبتها إلى المتقدمين، ولو تأمل الناقد، ودرس الإسناد على الوجه المطلوب لوجد أن كلام الحفاظ دليلًا [كذا] على حفظهم وتقدمهم. اهـ.

هكذا لم يكتف بوضع نفسه موضع المعلم المربي للشيخ الذي يعلمه كيف يخاطب أهل العلم حتى طال بغروره أئمة المسلمين العظام الذين يسمونهم بالمتأخرين، فوصفهم بالمسارعة إلى نقد كلام الحفاظ المتقدمين بجرأة غير محمودة، وبالسطحية، وعدم الإنصاف، فهل يرضى مسلم بذلك؟!، ومن المستفيد بهذا التطاول على أئمة المسلمين والحط من قدرهم إلى هذا الحدِّ؟!!.

 

-‌‌جرأة الخليل وتسرعه في الحكم بنكارة متون الأحاديث من قبل نفسه فقط!!!

ولم يقف الدكتور الخليل في جرأته على علماء الأمة، بل قد طالت جرأته حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، فحكم على متون أحاديث بالنكارة، دون أن يُسبق إليها، وكأنه أحمد بن حنبل أو يحيى بن معين أو أبو حاتم الرازي، فقال ص (370) في
ইমামদের সাথে এমন আচরণ করা সমীচীন নয়।

এবং (৩০৭) পৃষ্ঠায় তিনি একটি হাদীস সম্পর্কে বলেছেন: শেখ (রাহিমাহুল্লাহ) এটিকে মারফূ হাদীসের জন্য একটি সাক্ষী হিসেবে গণ্য করেছেন, আর এটি কি সত্যিই এক অদ্ভুত বিষয় নয়?

এবং (৪২১) পৃষ্ঠায় তিনি বলেছেন: ইমাম আহমাদের বক্তব্যকে ভিত্তিহীন হিসেবে অভিহিত করা উচিত ছিল না।

 

-‌‌ডক্টর আল-খালিলের ঔদ্ধত্য এবং হাদীসের ইমামদের প্রতি অবজ্ঞা, যাদেরকে তিনি পরবর্তী যুগের (মুতাআখখিরীন) হিসেবে অভিহিত করেন:

এবং তিনি (১৬১) পৃষ্ঠায় বলেছেন: শেখ আলবানীর উচিত ছিল ইমাম তিরমিযীর বক্তব্যের জবাব দেওয়ার আগে গবেষণা করা। আমি এই ব্যাখ্যাটি কিছুটা দীর্ঘ করেছি একটি বড় ভুলের দিকে ইঙ্গিত করার জন্য, যা হাদীস চর্চায় নিয়োজিত পরবর্তী যুগের লোকদের মধ্যে ব্যাপকভাবে দেখা যায়; আর তা হলো প্রশংসনীয় নয় এমন ধৃষ্টতার সাথে পূর্ববর্তী হাফেযদের বক্তব্যের সমালোচনা করতে তাড়াহুড়ো করা এবং অগভীর সমালোচনার আশ্রয় নেওয়া, যা পূর্ববর্তীদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা ইনসাফসম্মত নয়। যদি সমালোচক গভীরভাবে লক্ষ্য করতেন এবং নিয়মমাফিক সনদ অধ্যয়ন করতেন, তবে তিনি দেখতে পেতেন যে হাফেযদের বক্তব্যই তাদের মুখস্থ শক্তি ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ। সমাপ্ত।

এভাবে তিনি নিজেকে শেখের একজন শিক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে উপস্থাপন করেই ক্ষান্ত হননি—যিনি তাকে শেখাবেন কীভাবে আলেমদের সাথে কথা বলতে হয়—বরং তার অহংকার মুসলিম উম্মাহর সেই মহান ইমামদের পর্যন্ত পৌঁছেছে যাদের তারা পরবর্তী যুগের আলেম বলেন। তিনি তাদের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী হাফেযদের বক্তব্যের সমালোচনায় অনভিপ্রেত ধৃষ্টতা, অগভীরতা এবং অন্যায্যতার অভিযোগ এনেছেন। কোনো মুসলিম কি এতে সন্তুষ্ট হতে পারে?! মুসলিম উম্মাহর ইমামদের প্রতি এই ধৃষ্টতা এবং তাদের মর্যাদাকে এই পর্যায়ে ক্ষুণ্ণ করার মাধ্যমে কার লাভ হচ্ছে?!!

 

-‌‌হাদীসের মতনের (মূল পাঠ) ওপর কেবল নিজের পক্ষ থেকেই 'মুনকার' বা অগ্রহণযোগ্য হওয়ার হুকুম দেওয়ার ক্ষেত্রে আল-খালিলের ধৃষ্টতা ও তাড়াহুড়ো!!!

উম্মাহর আলেমদের প্রতি ধৃষ্টতা দেখিয়েই ডক্টর আল-খালিল থেমে থাকেননি, বরং তার এই দুঃসাহস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস পর্যন্ত পৌঁছেছে। তিনি হাদীসের মতনগুলোকে 'মুনকার' বলে হুকুম দিয়েছেন এমন সব ক্ষেত্রে যেখানে তার আগে কেউ এমনটি বলেননি। তিনি যেন নিজেই আহমাদ ইবনে হাম্বল বা ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন অথবা আবু হাতিম আর-রাযী হয়ে গেছেন! তিনি (৩৭০) পৃষ্ঠায় বলেছেন:
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ৭)
حديث: "أَيسُرُّكِ أنْ يُسَوِّرَكِ اللهُ بِهِما بِسوَارينِ مِنْ نَارٍ": العلة الثالثة: نكارة المتن.

وقال ص (373) في حديث عائشة: "أتُؤَدِّينَ زَكَاتَهُنَّ؟ ": العلهَ الثالثة: نكارة المتن … إلى غير ذلك مما ستجده في هذا الكتاب.

 

-‌‌جرأة الخليل وتسرعه في وضع قواعد من قبل نفسه فقط!!!

وقد تجرأ على وضع قواعد من قبل نفسه، فقال ص (324): معلوم أن التفرد في الطبقات المتأخرة قادح جدًّا، ودال على وجود الخطأ في الحديث. اهـ.

 

‌‌تهويل الخليل في ما ادَّعاه من الأخطاء بذكره الأحاديث المكررة:

وقد ظهر من خلال كتابه محاولة التشكيك في الشيخ رحمه الله مهما أمكنه، وذلك من خلال تكثير عدد الأحاديث التي انتقدها؛ فإن الحديث قد يتكرر في مواضع، فيجعل له رقماً مستقلًّا، مع أنه لو كان يريد بيان ما يراه صوابًا دون التشكيك في علم الشيخ ومنهجه لجمع الأحاديث المكررة في موضع واحد، فمن ذلك الحديث رقم (42)، (43)، (46)، (50)، (58)، (85)، (87)، (98)، وقد يكون الشيخ تراجع عن حكمه على الحديث، فالمنصف لا يذكره فيما ينتقد عليه، فمن ذلك الحديث رقم (48)، (67)، ولهما نظائر.

 

-‌‌ذكر الأدلة على إرادة الخليل النيل منه الشيخ الألباني وحده دون غيره:

ومن تتبع كلامه علم أنه يريد النيل من الشيخ خاصة، فإنه يقف على موافقة غير الشيخ له في الحكم على الحديث، فيذكر الشيخ بالانتقاد دون غيره، فمن ذلك أنه عزا الحديث ص (184) لزاد المعاد - ط الرسالة، وعليها تعليق الشيخ شعيب الأرناؤوط، وهو يصحح الحديث كصنيع الشيخ الألباني، فلم يذكره، وذكر الشيخ خاصة.

وكذلك في ص (190) فإنه عزا الحديث لابن حبان بتعليق الشيخ شعيب،
হাদিস: "আল্লাহ এ দুটির পরিবর্তে তোমাকে আগুনের দুটি চুড়ি পরিয়ে দিন, এটা কি তোমাকে আনন্দিত করবে?": তৃতীয় ত্রুটি: মূল পাঠের (মতন) অসংগতি।

তিনি ৩৭৩ পৃষ্ঠায় আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিসের ব্যাপারে বলেছেন: "তুমি কি এগুলোর জাকাত প্রদান করো?": তৃতীয় ত্রুটি: মূল পাঠের অসংগতি … এ জাতীয় আরও অনেক কিছু আপনি এই বইটিতে পাবেন।

 

-‌‌খলীলের ধৃষ্টতা এবং কেবল নিজের পক্ষ থেকে নীতিমালা প্রণয়নে তার তাড়াহুড়ো!!!

তিনি নিজের পক্ষ থেকে নীতিমালা প্রণয়নে সাহসী হয়েছেন এবং ৩২৪ পৃষ্ঠায় বলেছেন: এটি জানা কথা যে, পরবর্তী স্তরের বর্ণনাকারীদের মধ্যে একক বর্ণনা (তাফাররুদ) অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ এবং তা হাদিসে ভুল থাকার প্রমাণ বহন করে। সমাপ্ত।

 

‌‌পুনরাবৃত্ত হাদিসগুলো উল্লেখ করার মাধ্যমে খলীল যে ভুলগুলোর দাবি করেছেন তাতে তার অতিরঞ্জন:

তার বইয়ের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি যথাসম্ভব শাইখের (রহিমাহুল্লাহ) ব্যাপারে সংশয় তৈরির চেষ্টা করেছেন। এটি তিনি করেছেন তার সমালোচিত হাদিসগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে; কারণ একটি হাদিস বিভিন্ন স্থানে পুনরাবৃত্ত হতে পারে, কিন্তু তিনি সেটিকে আলাদা নম্বর দিয়েছেন। অথচ তিনি যদি শাইখের ইলম ও মানহাজের ওপর সংশয় তৈরি না করে কেবল সঠিক বিষয়টি স্পষ্ট করতে চাইতেন, তবে তিনি পুনরাবৃত্ত হাদিসগুলোকে এক স্থানে জমা করতেন। এর মধ্যে রয়েছে হাদিস নং (৪২), (৪৩), (৪৬), (৫০), (৫৮), (৮৫), (৮৭), (৯৮)। আবার এমনও হতে পারে যে, শাইখ হয়তো হাদিসটির ব্যাপারে তার পূর্বের সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে এসেছেন, তাই কোনো ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি এটি তার সমালোচনা হিসেবে উল্লেখ করবেন না। এর উদাহরণ হলো হাদিস নং (৪৮), (৬৭) এবং এই জাতীয় অন্যান্য হাদিস।

 

-‌‌খলীল যে অন্য কাউকে বাদ দিয়ে কেবল শাইখ আলবানীকেই লক্ষ্যবস্তু বানাতে চেয়েছেন, তার প্রমাণাদি উল্লেখ:

যে ব্যক্তি তার কথাগুলো যাচাই করবে, সে জানতে পারবে যে তিনি বিশেষভাবে শাইখকেই আক্রমণ করতে চেয়েছেন। কারণ তিনি দেখতে পান যে, হাদিসের হুকুমের ক্ষেত্রে শাইখ ছাড়া অন্যরাও তার সাথে একমত হয়েছেন, তবুও তিনি অন্যদের বাদ দিয়ে কেবল শাইখেরই সমালোচনা করেন। এর একটি উদাহরণ হলো, ১৮৪ পৃষ্ঠায় তিনি একটি হাদিসকে 'যাদুল মাআদ' (রিসালাহ সংস্করণ)-এর দিকে নেসবত করেছেন, যার ওপর শাইখ শুআইব আরনাউতের টীকা রয়েছে এবং তিনি শাইখ আলবানীর মতোই হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন; কিন্তু তিনি তার কথা উল্লেখ না করে কেবল শাইখের কথাই উল্লেখ করেছেন।

একইভাবে ১৯০ পৃষ্ঠায় তিনি হাদিসটিকে শাইখ শুআইবের টীকাসহ ইবনে হিব্বানের দিকে নেসবত করেছেন,
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ৮)
وهو موافق للشيخ الألباني، فلم يذكر الشيخ شعيبًا، وذكر الشيخ الألباني خاصة.

وفي ص (233): ذكر حديثا صححه الشيخ أبو إسحاق الحويني، فلم يذكره، وذكر الشيخ فقط.

وفي ص (282): في الطريق الرابعة رد على محققي المسند دون أن يذكرهم.

فتأمل كيف يتحاشى ذكرهم، ثم يشنع على الشيخ بمثل ما سبق ذكره، وهذا شيء كثير جدًّا، حيث يقف على من وافق الشيخ في الحكم فلا يذكره، ثم يذكر الشيخ وحده مما يدل على قصده الشيخ دون غيره، بل لم يقف قصده النيل من الشيخ على هذا، فإن الشيخ كثيراً ما يذكر من يسبقه بالحكم على الحديث، فيخفيه هذا المستدرِك، فمن ذلك:

- قال الشيخ في الإرواء (1/ 120) عن حديث: "أَلْقِ عَنْكَ شَعَرَ الْكُفْرِ، وَاخْتَتِنْ"؛ بينت احتجاج شيخ الإسلام ابن تيمية بالحديث في صحيح أبي داود رقم (383)، فأخفى ذلك المستدرك.

- قال الشيخ في الإرواء (2/ 287 - 288): قال الدارقطني: الحسن مختلف في سماعه من سمرة، وقد سمع منه حديثًا واحداً، وهو حديث العقيقة، فيما زعم قريش بن أنس عن حبيب بن الشهيد، وقد خالف المستدرك هذا في الحديث رقم (52)، وأخفى كلام الدارقطني الذي ذكره الشيخ الألباني.

- قال الشيخ في الإرواء (1/ 320) عن حديث: "الأَرْضُ كلُّهَا مَسْجِدٌ إِلَاّ الْحَمَّامَ وَالْمَقْبُرَةَ": قال شيخ الإسلام ابن تيمية: أسانيده جيدة، ومن تكلم فيه فما استوفى طرقه، وقد أشار إلى صحته الإِمام البخاري في جزء القراءة، فأخفى ذلك المستدرك، فهل هذا من الأمانة؟، أم أن البخاري وابن تيمية ليس لهما اعتبار عنده؟!.
আর এটি শেখ আলবানীর সাথে সংগতিপূর্ণ; ফলে তিনি শেখ শুআইবকে উল্লেখ করেননি, বরং বিশেষভাবে কেবল শেখ আলবানীকেই উল্লেখ করেছেন।

আর ২৩৩ পৃষ্ঠায়: তিনি এমন একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন যা শেখ আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনী সহীহ বলেছেন, কিন্তু তিনি তাঁকে উল্লেখ করেননি, বরং কেবল শেখকে উল্লেখ করেছেন।

আর ২৮২ পৃষ্ঠায়: চতুর্থ সূত্রে তিনি 'আল-মুসনাদ'-এর মুহাক্কিকদের (গবেষকদের) নাম উল্লেখ না করেই তাদের প্রতিবাদ করেছেন।

সুতরাং লক্ষ্য করুন, কীভাবে তিনি তাদের উল্লেখ করা এড়িয়ে চলেন, আর এরপর শেখের ওপর পূর্বোল্লিখিত বিষয়ের মতো অপবাদ আরোপ করেন। এটি অত্যন্ত বেশি ঘটে থাকে; তিনি যখন দেখেন যে কেউ কোনো হুকুমের (সিদ্ধান্তের) ক্ষেত্রে শেখের সাথে একমত হয়েছেন, তখন তিনি তাঁকে উল্লেখ করেন না, বরং কেবল শেখের কথা উল্লেখ করেন—যা প্রমাণ করে যে তিনি অন্য কাউকে নয়, বরং বিশেষ করে শেখ আলবানীকেই লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন। এমনকি শেখের মানহানি করার এই উদ্দেশ্য এখানেই থেমে থাকেনি; কারণ শেখ প্রায়শই হাদিসের হুকুমের ক্ষেত্রে তাঁর পূর্ববর্তীদের কথা উল্লেখ করেন, কিন্তু এই মুস্তাদরিক (সংশোধনকারী) তা গোপন করেন। এর কিছু উদাহরণ হলো:

- শেখ 'আল-ইরওয়া' গ্রন্থে (১/১২০) একটি হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: "তুমি তোমার থেকে কুফুরির চুল ফেলে দাও এবং খতনা করো"; আমি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার এই হাদিসটি দ্বারা দলিল পেশ করার বিষয়টি 'সহীহ আবু দাউদ'-এর ৩৮৩ নম্বর হাদিসে স্পষ্ট করেছি, কিন্তু ওই মুস্তাদরিক তা গোপন করেছেন।

- শেখ 'আল-ইরওয়া' গ্রন্থে (২/২৮৭-২৮৮) বলেছেন: দারাকুতনী বলেছেন: সামুরা থেকে হাসানের শ্রবণের (হাদিস শোনার) ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে, তিনি তাঁর থেকে কেবল একটি হাদিসই শুনেছেন, আর তা হলো আকিকার হাদিস; যেমনটি কুরাইশ বিন আনাস হাবিব বিন শাহীদ থেকে দাবি করেছেন। এই মুস্তাদরিক ৫২ নম্বর হাদিসে এর বিরোধিতা করেছেন এবং দারাকুতনীর সেই বক্তব্যটি গোপন করেছেন যা শেখ আলবানী উল্লেখ করেছিলেন।

- শেখ 'আল-ইরওয়া' গ্রন্থে (১/৩২০) একটি হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: "গোসলখানা এবং কবরস্থান ব্যতীত সমগ্র জমিনই মসজিদ": শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেছেন: এর সনদগুলো উত্তম, আর যারা এর সমালোচনা করেছেন তারা এর সকল সূত্র নিয়ে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করেননি; এমনকি ইমাম বুখারী 'জুযউল কিরাত'-এ এর বিশুদ্ধতার (সহীহ হওয়ার) দিকে ইঙ্গিত করেছেন। কিন্তু ওই মুস্তাদরিক তা গোপন করেছেন। তবে এটি কি আমানতদারিতা? নাকি তাঁর নিকট বুখারী এবং ইবনে তাইমিয়ার কোনো গুরুত্ব নেই?!
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ৯)
- ونقل الشيخ في الإرواء (4/ 155 - 159): تصحيح عبد الحق، وابن دقيق العيد، وابن حجر حديث: "أيُّمَا صَبِىٍّ حَجَّ، ثُمَّ بَلَغَ فَعَلَيْهِ حَجَّةٌ أخْرَى … " الحديث، فأخفى كل ذلك.

- قال الشيخ في الإرواء (5/ 83) عن حديث: "لَا يُتْمَ بَعْدَ احْتِلَامٍ": حسَّن إسناده النووي في الرياض، فأخفاه المستدرك .. إلخ.

 

-‌‌ذكر الأدلة على إخلال الخليل بالأمانة العلمية:

وقد وقع فيما هو أبين من ذلك في الإخلال بالأمانة العلمية؛ فإنه إذا أراد تضعيف راوٍ أتى بقول من ضعفه، وأخفى كلام من وثقه، فمن ذلك:

- نقل الكلام في علي بن علي الرفاعي ص (214)، وترك من كلام الموثقين: قول الآجري: أثنى عليه أبو داود، وقال لبعضهم عنه: اذهبوا إلى سيدنا، وفي سؤالات الآجري (1255): سمعت أبا داود يقول: حدث شعبة عن علي بن علي الرفاعي، وقال: سئل أبو داود عن سليمان بن سليمان، وعلي بن علي الرفاعي، فقال: علي بن علي الرفاعي، وجعل يثني على علي بن علي الرفاعي، وقال البزّار: ليس به بأس، وقال مغلطاي: ذكره ابن شاهين، وابن خلفون في جملة الثقات.

وقال المستدرِك: هشام بن حسان روايته عن الحسن بالذات فيها مقال.

وترك قول ابن عيينة: كان هشام أعلم الناس بحديث الحسن، وقد روى الجماعة هشام عن الحسن، فأين الأمانة؟!

- وفي ص (393): نقل كلام المجرحين لهشام بن سعد، وترك قول الساجي: صدوق، وقول أبي زرعة الرازي: محله الصدق، وقول العجلي: جائز الحديث، حسن الحديث.
- শাইখ 'আল-ইরওয়া' গ্রন্থে (৪/ ১৫৫ - ১৫৯) উদ্ধৃত করেছেন: আব্দুল হক, ইবনু দাকীকিল ঈদ এবং ইবনু হাজার কর্তৃক এই হাদীসের বিশুদ্ধতা যাচাই (তাসহীহ): "যে শিশু হজ করল, অতঃপর প্রাপ্তবয়স্ক হলো, তার ওপর পুনরায় হজ করা আবশ্যক ..." হাদীসটি। কিন্তু তিনি এই সবটুকুই গোপন করেছেন।

- শাইখ 'আল-ইরওয়া' গ্রন্থে (৫/ ৮৩) এই হাদীস সম্পর্কে বলেছেন: "প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর আর কোনো পিতৃহীনতা নেই।" ইমাম নববী 'রিয়াদুস সালেহীন'-এ এর সনদকে হাসান বলেছেন, কিন্তু মুস্তাদরিক তা গোপন করেছেন... ইত্যাদি।

 

-‌‌আল-খলীলের বৈজ্ঞানিক আমানতদারিতা লঙ্ঘনের প্রমাণসমূহের উল্লেখ:

তিনি বৈজ্ঞানিক আমানতদারিতা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এর চেয়েও স্পষ্ট বিষয়ে লিপ্ত হয়েছেন; কেননা তিনি যখন কোনো বর্ণনাকারীকে দুর্বল সাব্যস্ত করতে চান, তখন তাকে যারা দুর্বল বলেছেন তাদের উক্তি নিয়ে আসেন, আর যারা তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন তাদের কথা গোপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে:

- ২১৪ পৃষ্ঠায় আলী ইবনে আলী আল-রিফাই সম্পর্কে আলোচনা নকল করেছেন এবং নির্ভরযোগ্যতাদানকারীদের বক্তব্যগুলো বাদ দিয়েছেন: আল-আজুরীর উক্তি: আবু দাউদ তাঁর প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর সম্পর্কে কাউকে কাউকে বলেছেন: "আমাদের সায়্যিদের কাছে যাও।" এবং 'সুয়ালাত আল-আজুরী' (১২৫৫)-তে আছে: আমি আবু দাউদকে বলতে শুনেছি: শু'বাহ আলী ইবনে আলী আল-রিফাই থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং তিনি বলেছেন: আবু দাউদকে সুলাইমান ইবনে সুলাইমান এবং আলী ইবনে আলী আল-রিফাই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: আলী ইবনে আলী আল-রিফাই, এবং তিনি আলী ইবনে আলী আল-রিফাইয়ের প্রশংসা করতে থাকেন। আল-বাযযার বলেছেন: তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। মুগলতায় বলেছেন: ইবনু শাহীন এবং ইবনুল খালাফুন তাঁকে নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

এবং মুস্তাদরিক বলেছেন: বিশেষ করে হাসান থেকে হিশাম ইবনে হাসসানের বর্ণনার ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে।

অথচ তিনি ইবনে উয়াইনার উক্তিটি বাদ দিয়েছেন: হিশাম ছিলেন হাসানের হাদীস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী। এবং জামাআত হাসান থেকে হিশামের বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। তাহলে আমানতদারিতা কোথায়?!

- এবং ৩৯৩ পৃষ্ঠায়: হিশাম ইবনে সা'দকে যারা সমালোচনা করেছেন তাদের বক্তব্য নকল করেছেন এবং সাজীর উক্তি: সত্যবাদী, আবু যুরআ আর-রাযীর উক্তি: তাঁর অবস্থান সত্যনিষ্ঠার স্তরে, এবং আজলীর উক্তি: তাঁর হাদীস গ্রহণযোগ্য, তাঁর হাদীস উত্তম।
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ১০)
وفي ص (434) نقل كلام من جرح فضيل بن سليمان النميري فقط، وترك قول الساجي: كان صدوقًا، وعنده مناكير، وقال الذهبي في الميزان: حديثه في الكتب الستة، وهو صدوق، فكون الجماعة رووا له أهم شيء من أمره، فقد جاز بها القنطرة.

- وفي ص (446) قال: رواد بن الجراح ضعيف جدًّا، بل قال الدارقطني: متروك، وأشار ابن عدي إلى كثرة تفرداته، وأنه لا يتابع، ومع ذلك اختلط، فاقتصر من كلام الأئمة على هذا فقط، وقد قال الدوري عن ابن معين: لا بأس به، إنما غلط في حديث سفيان، وقال عثمان الدارمي عن ابن معين: ثقة، وقال معاوية عنه: ثقة مأمون، وقال عبد الله بن أحمد عن أبيه: صاحب سنة، لا بأس به، إلا أنه حدث عن سفيان أحاديث مناكير، وذكره ابن حبان في الثقات، وقال: يخطئ، ويخالف، وقال أبو حاتم الرازي: مضطرب الحديث، تغير في آخر عمره، وكان محله الصدق، فقال له ابنه: أدخله البخاري في كتاب الضعفاء، فقال أبو حاتم: يحول من هناك (1)، وذكره ابن شاهين في الثقات، فلو أن منصفًا وقف على هذا لما بَعُد أن يُحسِّن حديثه إلا في روايته عن سفيان، فحذف هذا كله المستدرِك، ليحكم عليه بـ "ضعيف جدًّا".

 

-‌‌اقتطاع الخليل منه كلام العلماء ما يوافق مراده، وترك ما يخالفه:

- وقد بلوت هذه الأفاعيل من هؤلاء المتطاولين على أهل العلم، ولم يقف في الإخلال بالأمانة العلمية عند هذا، بل راحٍ يقتطع من كلام العالم الواحد ما يساعده على غرضه من تضعيف الراوي جدّا، ويترك ما يخالف ذلك، فقد قال ابن عدي: عامة ما يرويه لا يتابعه الناس عليه، وكان شيخاً صالحًا، وفي

--------------------------------------------

(1) هذا مع ما عرف عن أبي حاتم من التشدد.
৪৩৪ পৃষ্ঠায় তিনি কেবল ফুযাইল বিন সুলাইমান আন-নুমাইরীর সমালোচনা সংক্রান্ত বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করেছেন এবং সাজীর এই কথাটি বর্জন করেছেন: "তিনি সত্যবাদী ছিলেন এবং তার কিছু মুনকার (অস্বীকৃত) বর্ণনা রয়েছে।" আয-যাহাবী আল-মিযানে বলেছেন: "তার বর্ণিত হাদীস ছয়টি কিতাবে বিদ্যমান এবং তিনি সত্যবাদী। জামাআত (প্রধান হাদীস সংকলকগণ) তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন—এটিই তার সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যার মাধ্যমে তিনি নির্ভরযোগ্যতার সেতু পার হয়ে গেছেন।"

- ৪৪৬ পৃষ্ঠায় তিনি বলেছেন: "রাওয়াদ বিন আল-জাররাহ অত্যন্ত দুর্বল, এমনকি আদ-দারাকুতনী তাকে পরিত্যক্ত (মাতরুক) বলেছেন।" ইবনে আদী তার একক বর্ণনার আধিক্যের প্রতি এবং তাকে কেউ অনুসরণ করে না এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং তিনি শেষ বয়সে বিভ্রান্ত (ইখতিলাত) হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ইমামদের বক্তব্য থেকে কেবল এটুকুই গ্রহণ করেছেন। অথচ আদ-দুরী ইবনে মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন: "তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই, তিনি কেবল সুফিয়ানের হাদীসে ভুল করেছেন।" উসমান আদ-দারিমী ইবনে মাঈন থেকে বলেছেন: "নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)।" মুয়াবিয়া তার থেকে বলেছেন: "নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত।" আবদুল্লাহ বিন আহমাদ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন: "তিনি সুন্নাহর অনুসারী, তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই, তবে তিনি সুফিয়ান থেকে কিছু মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন।" ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং বলেছেন: "তিনি ভুল করেন এবং বিরোধিতা করেন।" আবু হাতিম আর-রাযী বলেছেন: "তার হাদীস অস্থিরতাপূর্ণ, জীবনের শেষভাগে তিনি পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিলেন, তবে তিনি সত্যবাদিতার অবস্থানে ছিলেন।" তখন তার ছেলে তাকে বললেন: "আল-বুখারী তো তাকে দুর্বলদের কিতাবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন," আবু হাতিম বললেন: "তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া উচিত (১)।" ইবনে শাহীন তাকে নির্ভরযোগ্যদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন। যদি কোনো ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি এই বিষয়গুলো দেখতেন, তবে সুফিয়ানের বর্ণনা ব্যতীত তার হাদীসকে 'হাসান' (উত্তম) বলা অসম্ভব ছিল না। কিন্তু সংশোধনকারী (মুসতাদরিক) এই সব কিছু বাদ দিয়েছেন যাতে তাকে "অত্যন্ত দুর্বল" বলে রায় দিতে পারেন।

 

-‌‌আল-খালীল কর্তৃক আলেমদের বক্তব্য থেকে নিজের উদ্দেশ্যের অনুকূল অংশ কেটে নেওয়া এবং প্রতিকূল অংশ বর্জন করা:

- ইলমের ধারক-বাহকদের ওপর চড়াও হওয়া এসব ব্যক্তিদের এ জাতীয় অপকৌশল আমি প্রত্যক্ষ করেছি। তিনি বৈজ্ঞানিক আমানতদারিতার এই লঙ্ঘনেই ক্ষান্ত হননি, বরং একজন আলেমের বক্তব্য থেকেই কেবল সেই অংশটুকু বেছে নিয়েছেন যা বর্ণনাকারীকে চরম দুর্বল হিসেবে প্রমাণের ক্ষেত্রে তার উদ্দেশ্য পূরণ করে এবং এর বিপরীত অংশটুকু বর্জন করেছেন। যেমন ইবনে আদী বলেছেন: "তার বর্ণিত সাধারণ হাদীসগুলোতে লোকেরা তাকে অনুসরণ করে না, তবে তিনি একজন সৎ ব্যক্তি (শাইখুন সালিহ) ছিলেন।"

--------------------------------------------

(১) এটি আবু হাতিমের কঠোরতা সম্পর্কে যা জানা যায় তা থাকা সত্ত্বেও।
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ১১)
حديث الصالحين بعض النكرة، إلا أنه يكتب حديثه، فحذف من كلام ابن عدي ما يخفف من ضعفة عنده، ويحسِّن حاله وهو قوله: كان شيخاً صالحًا، وفي حديث الصالحين بعض النكرة، إلا أنه يكتب حديثه، ولهذا نظائر، وهي أشد وأنكى، ففي ص (353) قال في زياد بن الربيع: ذكره ابن عدي في الضعفاء ولم يذكر قول ابن عدي فيه؛ لأنه: قد قواه بقوله: ولا أرى بأحاديثه بأسًا، فتركها هذا المستدرِك، فهل يريد بذلك النصيحة للمسلمين؟!!

- وقال فيه أيضًا: وذكره الذهبي في الميزان.

قلت: ورمز له بعلامة (صح) التي تدل على تصحيحه لروايته رغم ما فيه من مقال، فحذفها، نسأل الله المعافاة.

- وقال فيه أيضًا: قال البخاري: فيه نظر، ولم يذكر أن الذهبي قال: قد احتج به أبو عبد الله في جامعه الصحيح، فما أقبح هذا!.

-جرأة الخليل على اقتطاع بعض كلام العلماء، ليساعده على تضعيف حديث أو تصحيحه وترك ما يخالف ذلك:

وقد فعل هذه الأفاعيل مع حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، ففي ص (419) قال في حديث عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم وقَّت لأهل العراق ذات عرق: قال الإِمام مسلم -يعني في التمييز ص (214) -: الأحاديث التي ذكرناها من قبل أن النبي صلى الله عليه وسلم وقت لأهل العراق ذات عرق، فليس منها واحد يثبت، فاقتصر المستدرك على هذا من قول مسلم، وترك ما بعده، وهو: فأما رواية المعافى بن عمران عن أفلح عن القاسم عن عائشة، فليس بمستفيض عن المعافى، إنما روى هشام بن بهرام، وهو شيخ من الشيوخ، ولا يقر الحديث بمثله إذا تفرد، فقد بين مسلم رحمه الله سبب تضعيفه للحديث، وهو ظنه أن هشام بن بهرام تفرد به، وليس كما ظن، فقد
নেককার লোকদের হাদীসের মধ্যে কিছু অস্বীকৃত বিষয় থাকে, তবে তাদের হাদীস লিখে রাখা হয়। ফলে তিনি ইবনে আদীর কথা থেকে এমন কিছু অংশ বাদ দিয়েছেন যা তাঁর দৃষ্টিতে ওই রাবীর দুর্বলতাকে লাঘব করে এবং তাঁর অবস্থাকে উন্নত করে। আর তা হলো তাঁর এই উক্তি: "তিনি একজন নেককার শাইখ ছিলেন, আর নেককার লোকদের হাদীসে কিছু অস্বীকৃত বিষয় থাকে, তবে তাঁর হাদীস লিখে রাখা হয়।" এর আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে, যা আরও গুরুতর ও বেদনাদায়ক। উদাহরণস্বরূপ, ৩৫৩ পৃষ্ঠায় যিয়াদ বিন আর-রাবী সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "ইবনে আদী তাঁকে দুর্বল রাবীদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন।" কিন্তু তিনি সেখানে ইবনে আদীর সেই কথাটি উল্লেখ করেননি যা দ্বারা তিনি তাঁকে শক্তিশালী করেছেন; কারণ তিনি বলেছিলেন: "আমি তাঁর হাদীসগুলোতে কোনো সমস্যা দেখি না।" এই মুস্তাদরিক (সংশোধনকারী) তা বর্জন করেছেন। তিনি কি এর মাধ্যমে মুসলিমদের কল্যাণ কামনা করতে চান?!!

- এবং তিনি তাঁর সম্পর্কে আরও বলেছেন: "আয-যাহাবী তাঁকে আল-মিযান গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।"

আমি বলি: আয-যাহাবী তাঁর জন্য 'সহীহ' চিহ্ন ব্যবহার করেছেন, যা তাঁর বর্ণনার বিষয়ে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তাঁর বর্ণনাকে বিশুদ্ধ গণ্য করার প্রমাণ দেয়। কিন্তু তিনি তা মুছে ফেলেছেন। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করি।

- তিনি তাঁর সম্পর্কে আরও বলেছেন: "বুখারী বলেছেন: তাঁর ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে।" কিন্তু তিনি এটি উল্লেখ করেননি যে, আয-যাহাবী বলেছেন: "আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম বুখারী) তাঁর জামে সহীহ গ্রন্থে তাঁর মাধ্যমে দলীল গ্রহণ করেছেন।" এটি কতই না মন্দ কাজ!

- আলেমদের বক্তব্যের কিছু অংশ কেটে ফেলার ক্ষেত্রে আল-খালীল-এর ধৃষ্টতা, যাতে তা তাঁকে কোনো হাদীসকে দুর্বল বা সহীহ প্রমাণ করতে সহায়তা করে এবং যা এর বিপরীত তা তিনি বর্জন করেন:

তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসের সাথেও এ জাতীয় কাজ করেছেন। ৪১৯ পৃষ্ঠায় আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদীসে—যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরাকবাসীদের জন্য যাতু ইর্ক-কে মীকাত নির্ধারণ করেছেন—সেখানে তিনি বলেছেন: ইমাম মুসলিম (অর্থাৎ আত-তাময়ীয গ্রন্থের ২১৪ পৃষ্ঠায়) বলেছেন: "আমরা পূর্বে যে সকল হাদীস উল্লেখ করেছি যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরাকবাসীদের জন্য যাতু ইর্ক নির্ধারণ করেছেন, সেগুলোর একটিও প্রমাণিত নয়।" এই মুস্তাদরিক ইমাম মুসলিমের বক্তব্যের কেবল এই অংশটুকুই গ্রহণ করেছেন এবং এর পরের অংশটি ছেড়ে দিয়েছেন, যা হলো: "তবে মুআফা বিন ইমরান-এর বর্ণনা, যা আফলাহ থেকে, তিনি কাসিম থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণিত; তা মুআফা থেকে সুপ্রসিদ্ধ নয়। বরং এটি হিশাম বিন বাহরাম বর্ণনা করেছেন, আর তিনি সাধারণ একজন শাইখ, যখন তিনি একাকী বর্ণনা করেন তখন তাঁর মতো রাবীর মাধ্যমে হাদীস সুপ্রতিষ্ঠিত হয় না।" ইমাম মুসলিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি হাদীসটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করার কারণ স্পষ্ট করেছেন, আর তা হলো তাঁর ধারণা যে হিশাম বিন বাহরাম এটি বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন। অথচ বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি তিনি ধারণা করেছেন, কেননা...
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ১২)
تابعه أبو هاشم محمد بن علي عند النسائي (5/ 125)، وهو ثقة، وقد خرَّج المستدرِك الحديث من النسائي، ووقف على المتابعة، ولذلك أخفى سبب تضعيف مسلم للحديث مع ولعه الشديد بمسألة التفرد التي ضعف بها مسلم الحديث، فعل يُفعل هذا بحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم؟!.

- وفي ص (439) احتج بحديث رواه ابن خزيمة (2886) يؤيد ما به يريده، ويصبو إليه من تضعيف الحديث الذي صححه الشيخ، والحديث الذي احتج به في إسناده شريك بن عبد الله النخعي، وهو ضعيف، فأخفى ذلك، فتبًّا للهوى.

- وقال البيهقي في طريق من طرق حديث: "الأَرْضُ كُلُّهَا مَسْجِدٌ إِلَاّ الْحَمَّامَ وَالْمَقْبُرَةَ": حديث الثوري مرسل، وقد رُوي موصولًا، وليس بشيء، فاكتفى المستدرِك بهذا من كلام البيهقي في ص (175)، وحذف قوله: وحديث حماد ابن سلمة موصول، وقد تابعه على وصله عبد الواحد بن زياد والدراوردي، وهو يدل على تقويته للموصول، فهل هذا من الأمانة؟!!

- وفي حديث: "المَرْأَةُ عَوْرَةٌ"، قال ص (171): قال الدارقطني: الموقوف هو الصحيح من حديث أبي إسحاق، وحذف قوله: ورفعه صحيح من حديث قتادة، أسأل الله العافية.

وقد أدى به محاولة الانتصار لرأيه إلى تناقض عجيب، فمن ذلك:

 

-‌‌تناقض عجيب من الخليل للانتصار لرأيه:

- قال ص (299): قبيصة وهو ابن عقبة بن محمد بن سفيان ضعيف في سفيان الثوري، ثم ناقض نفسه لما كانت رواية قبيصة عن سفيان تحقق مراده، فقال في ص (312): رواية قبيصة عن سفيان لم يقدح فيها كل الحفاظ، بل قدح فيها
আন-নাসায়ী (৫/ ১২৫) সূত্রে আবু হাশিম মুহাম্মদ বিন আলী তাকে অনুসরণ করেছেন, এবং তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বর্ণনাকারী। 'মুসতাদরিক' (লেখক) আন-নাসায়ী থেকে হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং তিনি এই অনুবর্তিতা (মুতাবায়াত) সম্পর্কে অবগত ছিলেন। একারণেই তিনি মুসলিম কর্তৃক হাদীসটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করার কারণটি গোপন করেছেন, অথচ মুসলিম একক বর্ণনার (তাফাররুদ) বিষয়ের প্রতি অতিমাত্রায় গুরুত্বারোপ করতেন যে কারণে তিনি হাদীসটিকে দুর্বল বলেছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসের সাথে কি এমন আচরণ করা যায়?!

- এবং ৪৩৯ পৃষ্ঠায় তিনি ইবনে খুজাইমা (২৮৮৬) বর্ণিত এমন একটি হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যা তার কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্যকে সমর্থন করে এবং শায়খ কর্তৃক সহীহ সাব্যস্ত করা হাদীসটিকে দুর্বল করার যে ঝোঁক তার রয়েছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। অথচ তিনি যে হাদীসটি দ্বারা দলিল দিয়েছেন তার সনদে শারিক বিন আব্দুল্লাহ আন-নাখায়ী রয়েছেন, যিনি একজন দুর্বল বর্ণনাকারী; কিন্তু তিনি তা গোপন করেছেন। সুতরাং প্রবৃত্তি বা খেয়াল-খুশির অনুসরণ ধ্বংস হোক।

- বায়হাকী হাদীসের অন্যতম একটি সূত্র—"গোসলখানা এবং কবরস্থান ব্যতীত সমগ্র পৃথিবীই সিজদার স্থান"—সম্পর্কে বলেছেন: আস-সাওরীর হাদীসটি মুরসাল, যদিও এটি মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু তা ধর্তব্য নয়। 'মুসতাদরিক' (লেখক) ১৭৫ পৃষ্ঠায় বায়হাকীর বক্তব্যের কেবল এতটুকু অংশ উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন এবং তার এই কথাটি বাদ দিয়েছেন: "এবং হাম্মাদ বিন সালামাহর হাদীসটি মুত্তাসিল, আর মুত্তাসিল বর্ণনার ক্ষেত্রে আব্দুল ওয়াহিদ বিন যিয়াদ ও আদ-দারওয়ারদী তাকে অনুসরণ করেছেন।" এটি বর্ণনার মুত্তাসিল হওয়াকে শক্তিশালী করার প্রমাণ দেয়। সুতরাং এটি কি আমানতদারিতার পরিচয়?!!

- এবং "নারী হলো গোপনযোগ্য (আওরাত)" শীর্ষক হাদীসটি সম্পর্কে তিনি ১৭১ পৃষ্ঠায় বলেছেন: আদ-দারা কুতনী বলেছেন: আবু ইসহাকের সূত্রে মাওকুফ বর্ণনাটিই সহীহ। অথচ তিনি দারা কুতনীর এই কথাটি বাদ দিয়েছেন: "এবং কাতাদার সূত্রে এর মারফু বর্ণনাটিও সহীহ।" আমি আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা (আফিয়াত) প্রার্থনা করি।

নিজের মতকে বিজয়ী করার এই প্রচেষ্টা তাকে এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের দিকে নিয়ে গেছে, যার উদাহরণ নিম্নরূপ:

 

-‌‌নিজের মতকে বিজয়ী করার ক্ষেত্রে খলীলের পক্ষ থেকে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য:

- তিনি ২৯৯ পৃষ্ঠায় বলেছেন: কাবীসাহ—যিনি উকবাহ বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ানের পুত্র—সুফিয়ান আস-সাওরীর বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল। এরপর যখন কাবীসাহর বর্ণনাটি সুফিয়ান থেকে তার উদ্দেশ্য হাসিল করছিল, তখন তিনি নিজের বক্তব্যের বিরোধিতা করে ৩১২ পৃষ্ঠায় বললেন: সুফিয়ান থেকে কাবীসাহর বর্ণনার ব্যাপারে সকল হাফেজে হাদীস আপত্তি করেননি, বরং আপত্তি করেছেন...
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ১৩)
الإِمام أحمد وابن معين، وظاهر كلام غيرهما عدم القدح فيها، بل الثناء عليها، ثم ذكر ثناء الأئمة على رواية قبيصة عن سفيان، فهل يوثق بأمثال هؤلاء بعد ذلك؟!!

 

-‌‌نسبة الخليل للعلماء كلامًا لم يقولوه:

ولم يقف في إخلاله بالأمانة عند إخفائه الحقائق وكتمان ما يخالف ما يريد من كلام العلماء، بل قد وقع فيما هو أشد من ذلك، فقد نسب للعلماء كلامًا لم يقولوه، ففي ص (125) قال: صحح النسائي والبيهقي وقف الحديث على ابن عباس.

والحديث عند النسائي في الكبرى (3945) مرفوعًا وليس فيه أنه صحح وقفه كما ادعى.

 

-‌‌ضحالة الخليل في علم الحديث العجيبة مع تطاوله على الكبار:

ومع تطاوله على كبار العلماء فقد بدت منه ضحالة عجيبة، لا تقع من طالب علم مبتدئ في هذا الفن الشريف، ففي سنن البيهقي الكبير (1/ 304): قال الإِمام أحمد: وقد روي من وجه آخر ضعيف عن علي هكذا، فقال المستدرِك ص (334): ضعفه الإِمام أحمد، نقله البيهقي في السنن، فهذه فضيحة، فإن الإِمام أحمد المذكور هنا هو البيهقي نفسه، وذلك يتكرر كثيراً في كتب البيهقي، والعجب أن ابن التركماني بيَّن ذلك في الجوهر النقي الذي في حاشية السنن، فقال: قال البيهقي: وقد روي من وجه آخر ضعيف عن علي، فلم يلتفت إلى ذلك المستدرك، فاهتمامه إنما هو مُنصبٌّ على التشكيك في الكبار، لا أن يتعلم منهم.

- وفي ص (321) قال عن حديث عبد الله بن زيد: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم حين استسقى أطال الدعاء، وأكثر المسألة، قال: ثم تحول إلى القبلة، وحول رداءه، فقلبه ظهرًا لبطن، وتحول الناس معه، فقال المستدرِك: قوله: "وتحول الناس
ইমাম আহমাদ এবং ইবনে মাঈন, এবং অন্যদের কথার বাহ্যিক দিক হলো এতে কোনো ত্রুটি নেই, বরং এর প্রশংসা করা হয়েছে। তারপর তিনি সুফিয়ান থেকে ক্ববিসার বর্ণনার ওপর ইমামদের প্রশংসার কথা উল্লেখ করেছেন। তাহলে এরপর কি এই ধরণের লোকদের ওপর আস্থা রাখা যায়?!!

 

-‌‌আল-খলীল কর্তৃক আলেমদের প্রতি এমন কথা আরোপ করা যা তারা বলেননি:

আমানতদারিতার খেলাপের ক্ষেত্রে তিনি কেবল সত্য গোপন করা এবং আলেমদের কথার মধ্য থেকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাওয়া অংশগুলো লুকিয়ে রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তিনি তার চেয়েও গুরুতর বিষয়ে জড়িয়ে পড়েছেন। তিনি আলেমদের প্রতি এমন কথা আরোপ করেছেন যা তারা বলেননি। ১২৫ পৃষ্ঠায় তিনি বলেছেন: নাসায়ী এবং বায়হাকী এই হাদীসটিকে ইবনে আব্বাসের ওপর মাওকুফ হিসেবে সহীহ বলেছেন।

অথচ হাদীসটি নাসায়ীর আল-কুবরা গ্রন্থে (৩৯৪৫) মারফূ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে এবং এতে তাঁর দাবি অনুযায়ী হাদীসটিকে মাওকুফ হিসেবে সহীহ বলার কোনো উল্লেখ নেই।

 

-‌‌বড় বড় আলেমদের অবজ্ঞা করার পাশাপাশি হাদীস শাস্ত্রে আল-খলীলের আশ্চর্যজনক অজ্ঞতা:

বড় বড় আলেমদের প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শনের পাশাপাশি তার মধ্যে এমন এক অদ্ভুত অজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে, যা এই মহৎ শাস্ত্রের একজন প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেও ঘটে না। যেমন, বায়হাকীর সুনান আল-কাবীর গ্রন্থে (১/৩০৪) বলা হয়েছে: ইমাম আহমাদ বলেছেন: আলীর সূত্রে এটি অন্য এক দুর্বল মাধ্যমে এভাবে বর্ণিত হয়েছে। তখন মুস্তাদরিক ৩৩৪ পৃষ্ঠায় বলেছেন: ইমাম আহমাদ একে দুর্বল বলেছেন, যা বায়হাকী তাঁর সুনান গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। এটি একটি লজ্জাজনক ঘটনা, কারণ এখানে উল্লিখিত ইমাম আহমাদ হলেন স্বয়ং বায়হাকী নিজে। এটি বায়হাকীর গ্রন্থসমূহে প্রায়শই ঘটে থাকে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইবনুত তুর্কমানী সুনান-এর টীকাগ্রন্থ আল-জাওহারুন নাকী-তে বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেছেন: বায়হাকী বলেছেন: আলীর সূত্রে এটি অন্য এক দুর্বল মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু মুস্তাদরিক সেদিকে ভ্রুক্ষেপই করেননি। কেননা তার সমস্ত মনোযোগ নিবদ্ধ বড় বড় আলেমদের নিয়ে সংশয় তৈরি করার ওপর, তাদের থেকে শেখার ওপর নয়।

- এবং ৩২১ পৃষ্ঠায় তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে বলেছেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যখন তিনি বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করছিলেন, তখন তিনি দীর্ঘ সময় দোয়া করলেন এবং বেশি বেশি প্রার্থনা করলেন। তিনি বলেন: তারপর তিনি কিবলার দিকে মুখ ফিরলেন এবং তাঁর চাদর উল্টালেন, ফলে চাদরের বাইরের দিক ভেতরে করে দিলেন এবং মানুষও তাঁর সাথে ঘুরে দাঁড়াল। তখন মুস্তাদরিক বললেন: তাঁর কথা: "এবং মানুষও ঘুরে দাঁড়াল"
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ১৪)
معه" عزاه الشيخ الألباني إلى مسند أحمد بهذه اللفظة، وهذه اللفظة لم أجدها في مسند أحمد، وقد تتبعت رواية الحديث كلها في مسند أحمد، ولم أجد هذا اللفظ. انتهى كلامه.

قلت: هو موجود بهذه اللفظة في مسند أحمد (26/ 388).

- وقال في ص (218) عن شيخ الطبراني محمود بن محمد الواسطي: لم أجده بعد طول بحث؟

قلت: قال الدارقطني في سؤالات حمزة السهمي (367): ثقة، وترجم له الخطيب في تاريخه (13/ 94)، وترجم له الذهبي في تاريخ الإسلام (7/ 617) رقم (10327)، وقال: محدث كبير، وترجم له في السير (14/ 242)، وقال: الحافظ المفيد العالم، وقال: كان من بقايا الحفاظ ببلده.

فإذا بحث بحثًا طويلًا، ولم يصل إلى شيء من هذه المصادر التي في متناول الطالب المبتدئ، فليعلم قدره من هذا العلم الشريف.

ولئن كان قد وقع في كلامي بعض الألفاظ الشديدة، فإنني أرى أنني لم أقل فيه كلمة إلا بمثل ما وقع منه أو دونه، على أن كل ما قلته فيه من كلام قد يجد في نفسه منه دون جملة واحدة مما قاله تشكيكًا وتطاولًا على إمام العصر شيخنا الألباني رحمه الله وغيره من أهل العلم.

وكم كنت أود أن يقصر الدكتور أحمد الخليل نفسه على ما يحسن، فقد كانت له مؤلفات صغيرة في بعض الأحكام الفقهية، يمكن أن يستفاد منها، وإن أراد أن يكون له نصيب من علم الحديث، فليدخل الحصن من بابه، فيبدأ من جديد بتعلم هذا العلم الشريف من أهله المتحققين به المعروفين بالمنهج الصحيح فيه المتبعين للأئمة في هذا الشأن، فإن العلم سلسلة متصلة بأهله على مر الدهور، فليس لأحد
"তার সাথে" - শায়খ আলবানী এটি এই শব্দে মুসনাদে আহমদের দিকে সম্বন্ধ করেছেন, অথচ এই শব্দটি আমি মুসনাদে আহমদে খুঁজে পাইনি। আমি মুসনাদে আহমদের হাদীসের সকল বর্ণনা তালাশ করেছি, কিন্তু এই শব্দটি পাইনি। তার কথা সমাপ্ত।

আমি বলি: এটি এই শব্দেই মুসনাদে আহমদে (২৬/ ৩৮৮) বিদ্যমান রয়েছে।

- এবং তিনি ২১৮ পৃষ্ঠায় তাবারানীর উস্তাদ মাহমুদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়াসিতি সম্পর্কে বলেছেন: দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরেও আমি তাকে খুঁজে পাইনি?

আমি বলি: দারাকুতনী 'সুয়ালাতু হামযা আস-সাহমী' (৩৬৭) গ্রন্থে বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)। খতীব তার ইতিহাসে (১৩/ ৯৪) তার জীবনী উল্লেখ করেছেন, যাহাবী 'তারিখুল ইসলাম' (৭/ ৬১৭), নম্বর (১০৩২৭)-এ তার জীবনী এনেছেন এবং বলেছেন: তিনি বড় মুহাদ্দিস। তিনি 'সিয়ার' (১৪/ ২৪২) গ্রন্থেও তার জীবনী লিখেছেন এবং বলেছেন: হাফেজ, হিতাকাঙ্ক্ষী আলেম। আরও বলেছেন: তিনি তার শহরের অবশিষ্ট হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

যদি তিনি দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরও এমন সব উৎস থেকে কিছু না পান যা একজন প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীর নাগালের মধ্যে, তবে এই সম্মানিত ইলমে তার নিজের অবস্থান ও যোগ্যতা কতটুকু তা যেন তিনি জেনে নেন।

আমার কথায় যদি কিছু কঠোর শব্দ এসে থাকে, তবে আমি মনে করি যে, তার থেকে যা প্রকাশ পেয়েছে বা তার চেয়ে কম ছাড়া আমি তার সম্পর্কে কিছু বলিনি। এছাড়া তার সম্পর্কে আমার বলা সকল কথা হয়তো তার কাছে একটি বাক্যের চেয়েও নগণ্য মনে হতে পারে যা তিনি বর্তমান যুগের ইমাম আমাদের শায়খ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) এবং অন্যান্য আহলে ইলমদের প্রতি সংশয় প্রকাশ ও ধৃষ্টতা প্রদর্শনের মাধ্যমে করেছেন।

আমি কতই না আকাঙ্ক্ষা করতাম যদি ডক্টর আহমদ আল-খালীল নিজেকে সেই গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখতেন যা তিনি ভালো জানেন। কেননা ফিকহী আহকাম বিষয়ে তার কিছু ছোট ছোট রচনা রয়েছে যা থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব। আর তিনি যদি ইলমে হাদীসে কোনো অংশ পেতে চান, তবে তাকে অবশ্যই দুর্গে প্রবেশ করতে হবে তার দরজা দিয়ে। অর্থাৎ নতুন করে এই সম্মানিত ইলম শিক্ষা করা শুরু করতে হবে এর দক্ষ বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে, যারা এতে সঠিক মানহাজের জন্য পরিচিত এবং যারা এই বিষয়ে ইমামগণের অনুসারী। কেননা ইলম হলো যুগের পর যুগ এর পারদর্শীদের মাধ্যমে একটি অবিচ্ছিন্ন ধারা, তাই কারো জন্য নয়...
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ১৫)
أن يخرج علينا بمنهج يتهم فيه علماء الأمة بالخلل، فإن الأمة لا تجتمع على ضلالة، وسترى إن شاء الله في هذا الكتاب أن المستدرك قد أخطأ في أكثر ما استدركه، وأن الصواب في ذلك مع الشيخ رحمه الله.

وأظن أنني لست بحاجة إلى التنبيه على أن دفاعي عن إمام أهل الحديث في عصرنا الشيخ الإِمام الألباني رحمه الله لا يعني الدعوة إلى تقليده، فليس ذلك من منهجنا، وسترى في هذا الكتاب وغيره ما يدفع ذلك، وليس معنى أن نرى في حديث خلاف ما قرره الشيخ أننا ننتقصه، بل المسألة اجتهادية على كل حال، وبالله التوفيق، هذا وقد سميته: "إقامة الدليل على علو رتبة إرواء الغليل، والرد على مستدرك التعليل".

أسأل الله عز وجل لنا ولإخواننا المسلمين التوفيق والسداد، وأن يغفر لنا، ولوالدينا ومشايخنا، وأن يجعل هذا العمل نافعًا للإسلام والمسلمين، وأن أجده في ميزان حسناتي يوم نلقى الله عز وجل

 

وكتب

أبو عبد الله أحمد بن إبراهيم بن أبي العينين
তিনি এমন এক মানহাজ নিয়ে আমাদের সামনে আবির্ভূত হয়েছেন যাতে তিনি উম্মাহর আলেমদের বিচ্যুতি বা ত্রুটির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। অথচ উম্মাহ কখনোই গোমরাহির ওপর ঐক্যবদ্ধ হয় না। আর আপনি ইনশাআল্লাহ এই কিতাবে দেখতে পাবেন যে, যিনি ভুল সংশোধন করতে চেয়েছেন তিনি তাঁর অধিকাংশ সংশোধনীতেই ভুল করেছেন, আর এ বিষয়ে সত্য শায়খের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) সাথেই রয়েছে।

আর আমি মনে করি এই বিষয়ে সতর্ক করার প্রয়োজন নেই যে, আমাদের যুগের আহলে হাদিসের ইমাম শায়খ আলবানী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর পক্ষ থেকে আমার এই প্রতিরক্ষা মানে এই নয় যে, এটি তাঁকে অন্ধভাবে অনুকরণের আহ্বান; কারণ এটি আমাদের মানহাজ নয়। আপনি এই কিতাবে এবং অন্যান্য স্থানে এমন বিষয় দেখতে পাবেন যা একে নাকচ করে দেয়। আর কোনো হাদিসের ক্ষেত্রে শায়খ যা সাব্যস্ত করেছেন তার বিপরীতে আমাদের ভিন্ন মত পোষণ করার অর্থ এই নয় যে, আমরা তাঁর অবমূল্যায়ন করছি, বরং বিষয়টি সর্বাবস্থায় একটি ইজতিহাদী বিষয়। আর আল্লাহর তাওফিকেই সব সম্পন্ন হয়। আমি এই কিতাবটির নাম রেখেছি: "ইরওয়াইল গালিলের উচ্চ মর্যাদার স্বপক্ষে প্রমাণাদি উপস্থাপন এবং সংশোধনী প্রদানকারীর আপত্তির খণ্ডন"।

আমি মহামহিমান্বিত আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য এবং আমাদের মুসলিম ভাইদের জন্য তাওফিক ও সঠিক পথের ওপর অটল থাকার প্রার্থনা করছি; এবং তিনি যেন আমাদের, আমাদের পিতা-মাতা ও আমাদের উস্তাদদের ক্ষমা করে দেন। তিনি যেন এই কাজটিকে ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য কল্যাণকর করেন এবং যেদিন আমরা মহামহিমান্বিত আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করব, সেদিন যেন আমি একে আমার নেক আমলের পাল্লায় পাই।

 

লিখেছেন

আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আবিল আইনাইন
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌نصيحتي للقائمين على النشر في دار ابن الجوزي وغيرهم

لقد وقفت على كتب كثيرة نافعة نشرتها دار ابن الجوزي، وهذا خير عظيم، فنشر العلم النافع من أعظم القربات، وهو امتثال لقوى النبي صلى الله عليه وسلم: "فَلْيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ" فيجب على القائمين عليها أن يحافظوا على نشر كتب العلماء الموثوق بعلمهم، وألا يتعجلوا في النشر لطلاب العلم خاصة في مجال النقد إلا بعد عرضه على العلماء الموثوق بهم، وألا يعتمدوا في ذلك على الشهادات النظامية فقط، فقد سبق ذكر بعض ما وقع من الدكتور صاحب الكتاب المردود عليه من أمور في غاية الخطورة، لا تقع من طالب علم مبتدئ.

 

-‌‌أخطاء نحوية كثيرة وقعت من الدكتور أحمد الخليل:

ومع ما سبق ذكره وستراه في هذا الكتاب، فإن الدكتور الخليل قد وقع في أخطاء نحوية لا يقع فيها طالب علم في بداية أمره، فمن ذلك:

--------------------------------------------

الخطأ ................................... الصواب ................................. الصفحة

_________

فإن للحذاق من المحدثين في هذه ........ فإن للحذاق من المحدثين في هذه

المسألة نظر آخر ....................... المسألة نظرًا آخر .......................... 13

على أن حسين الجعفي .................. على أن حسينًا الجعفي ..................... 21

أسقط رجل من هؤلاء ................... أسقط رجلًا من هؤلاء ...................... 43

ربما كان هذا الذي لم يعرف هالك ........ ربما كان هذا الذي لم يعرف هالكًا

كذاب .................................... كذابًا ...................................... 49

إن حميد عنده تدليس ...................... إن حميدًا عنده تدليس .................... 141

إن في النفس شيء ........................ إن في النفس شيئًا ....................... 141

إن كلام الحفاظ دليلًا على حفظهم .......... إن كلام الحفاظ دليلِّ على حفظهم ........ 161
‌‌দার ইবনে আল-জাওজি এবং অন্যদের প্রকাশনার দায়িত্বশীলদের প্রতি আমার উপদেশ

আমি দার ইবনে আল-জাওজি থেকে প্রকাশিত অনেক উপকারী কিতাব দেখেছি, আর এটি একটি মহা কল্যাণকর কাজ। কেননা উপকারী ইলম প্রচার করা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর বাস্তবায়ন: "উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে (বার্তাটি) পৌঁছে দেয়।" সুতরাং এর দায়িত্বশীলদের উচিত নির্ভরযোগ্য ইলমের অধিকারী আলেমদের কিতাব প্রকাশের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া। আর ইলমে দ্বীনের শিক্ষার্থীদের কিতাব প্রকাশের ক্ষেত্রে—বিশেষ করে সমালোচনা বা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে—নির্ভরযোগ্য আলেমদের কাছে উপস্থাপন না করে তাড়াহুড়ো না করা। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক সনদের ওপর নির্ভর করা ঠিক হবে না। ইতিপূর্বে খণ্ডনকৃত কিতাবের লেখক ডাক্তারের পক্ষ থেকে এমন কিছু অত্যন্ত বিপজ্জনক বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, যা একজন প্রাথমিক স্তরের ইলম অন্বেষণকারীর পক্ষ থেকেও সংঘটিত হয় না।

 

-‌‌ডক্টর আহমদ আল-খালীল কর্তৃক সংঘটিত অসংখ্য ব্যাকরণগত ভুল:

পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে এবং আপনি এই কিতাবে যা দেখতে পাবেন তা ছাড়াও ডক্টর আল-খালীল এমন কিছু ব্যাকরণগত ভুল করেছেন, যা প্রাথমিক স্তরের একজন ইলম অন্বেষণকারীও করে না। তার মধ্যে কয়েকটি হলো:

--------------------------------------------

ভুল ................................... সঠিক ................................. পৃষ্ঠা

_________

নিশ্চয়ই অভিজ্ঞ মুহাদ্দিসদের নিকট এই মাসআলায় অন্য দৃষ্টিভঙ্গি (নাজারুন) রয়েছে ........ নিশ্চয়ই অভিজ্ঞ মুহাদ্দিসদের নিকট এই মাসআলায় অন্য দৃষ্টিভঙ্গি (নাজারান) রয়েছে .......... ১৩

হুসাইন আল-জু’ফি .................. হুসাইনান আল-জু’ফি ..................... ২১

ব্যক্তিকে বাদ দিয়েছেন (রাজুলুন) ................... ব্যক্তিকে বাদ দিয়েছেন (রাজুলান) ...................... ৪৩

সম্ভবত যাকে চেনা যায়নি সে ধ্বংসপ্রাপ্ত (হালিকুন) মিথ্যাবাদী (কাযযাবুন) ........ সম্ভবত যাকে চেনা যায়নি সে ধ্বংসপ্রাপ্ত (হালিকান) মিথ্যাবাদী (কাযযাবান) .......... ৪৯

নিশ্চয়ই হুমাইদ (হুমাইদ) তার নিকট তাদলিস রয়েছে .................. নিশ্চয়ই হুমাইদ (হুমাইদান) তার নিকট তাদলিস রয়েছে .................... ১৪১

নিশ্চয়ই মনের ভেতর কিছু (শাইউন) আছে ........................ নিশ্চয়ই মনের ভেতর কিছু (শাইআন) আছে ....................... ১৪১

নিশ্চয়ই হাফেজদের কথা তাদের হেফজের দলিল (দালিলান) .......... নিশ্চয়ই হাফেজদের কথা তাদের হেফজের দলিল (দালিলুন) ........ ১৬১
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ১৭)
_________

الخطأ ................................... الصواب ................................. الصفحة

--------------------------------------------

ذكر الشيخ الألباني لفظ .................. ذكر الشيخ الألباني لفظًا ...................... 233

جمع وإعداد أبو الحسن .................. جمع وإعداد أبي الحسن ...................... 256

إن هذين حديثين منفصلان ............... إن هذين حديثان منفصلان ................. 301

وهو ليس ردًّا علميا مبني على ........... وهو ليس ردًّا علميًّا مبنيًّا على

معرفة درجة إتقان الرجل ................ معرفة درجة إتقان الرجل .................. 304

واعتبره منكر ............................ واعتبره منكرًا ............................. 334

فصارت العلل ثلاث ..................... فصارت العلل ثلاثًا ........................ 349

إن في إسناده مجهول، وآخر صدوق ...... إن في إسناده مجهولًا، وآخر صدوقًا ........ 350

إن خالد .................................. إن خالدًا ................................. 370

اللهم أحييني .............................. اللهم أحيني ............................... 375

عبارات باقي الأئمة نحوًا مما سلف ........ عبارات باقي الأئمة نحوٌ مما سلف .......... 393

قدم أبو حاتم شريك ........................ قدم أبو حاتم شريكًا ..................... 408

فإذا كان شريك معروف .................... فإذا كان شريك معروفًا .................. 408

مع أن غندر ............................... مع أن غندرًا ............................ 415

_________

فهذه أكثر من عشرين خطأً نحويًّا وقع فيها هذا الدكتور المستدرِك، ولم أستقص، ولم أتحر الاستقصاء، ويغلب على الظن أن من استقصى فسيجد غيرها، فهل تأهل مثل هذا للتصنيف، فضلًا عن أن يصدر نفسه ناقدًا على أئمة العلماء؟!، فليحذر القائمون على دور النشر من أن يكونوا شركاء لهؤلاء المتعجلين في التصنيف، بل النقد، ولم يتأهلوا بعد - في جرم التشكيك في آهل العلم، فيتحملوا التبعة معهم، فالأمر جدُّ خطير، أسأل الله أن يوفق الجميع لما يحب ويرضى.
_________

ভুল ................................... সঠিক ................................. পৃষ্ঠা

--------------------------------------------

শায়খ আলবানী শব্দটি উল্লেখ করেছেন .................. শায়খ আলবানী শব্দটি উল্লেখ করেছেন ...................... ২৩৩

সংগ্রহ ও বিন্যাস আবু আল-হাসান .................. সংগ্রহ ও বিন্যাস আবি আল-হাসান ...................... ২৫৬

নিশ্চয় এই দুটি পৃথক হাদিস ............... নিশ্চয় এই দুটি পৃথক হাদিস ................. ৩০১

এবং এটি কোনো ইলমী রদ (খণ্ডন) নয় যা ব্যক্তির পারঙ্গমতার স্তর জানার ওপর ভিত্তি করে গঠিত ........... এবং এটি কোনো ইলমী রদ নয় যা ব্যক্তির পারঙ্গমতার স্তর জানার ওপর ভিত্তি করে গঠিত

ব্যক্তির পারঙ্গমতার স্তর জানা ................ ব্যক্তির পারঙ্গমতার স্তর জানা .................. ৩০৪

এবং তিনি এটিকে মুনকার গণ্য করেছেন ............................ এবং তিনি এটিকে মুনকার গণ্য করেছেন ............................. ৩৩৪

ফলে ইল্লত (ত্রুটি) তিনটি হলো ..................... ফলে ইল্লত তিনটি হলো ........................ ৩৪৯

নিশ্চয় এর সনদে একজন মাজহুল (অজ্ঞাত) এবং অন্য একজন সাদুক (সত্যবাদী) রয়েছেন ...... নিশ্চয় এর সনদে একজন মাজহুল এবং অন্য একজন সাদুক রয়েছেন ........ ৩৫০

নিশ্চয় খালিদ .................................. নিশ্চয় খালিদকে ................................. ৩৭০

হে আল্লাহ! আমাকে জীবিত রাখুন .............................. হে আল্লাহ! আমাকে জীবিত রাখুন ............................... ৩৭৫

অবশিষ্ট ইমামদের উক্তিগুলো পূর্বের মতই ........ অবশিষ্ট ইমামদের উক্তিগুলো পূর্বের মতই .......... ৩৯৩

আবু হাতিম শারিককে প্রাধান্য দিয়েছেন ........................ আবু হাতিম শারিককে প্রাধান্য দিয়েছেন ..................... ৪০৮

সুতরাং শারিক যদি পরিচিত হতেন .................... সুতরাং শারিক যদি পরিচিত হতেন .................. ৪০৮

যদিও গুন্দার ............................... যদিও গুন্দারকে ............................ ৪১৫

_________

এগুলো বিশটিরও বেশি নাহুগত (ব্যাকরণিক) ভুল যাতে এই সংশোধনকারী ডক্টর লিপ্ত হয়েছেন। আমি এর কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করিনি এবং করার চেষ্টাও করিনি। প্রবল ধারণা এই যে, যে ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান করবে সে এর চেয়েও বেশি ভুল খুঁজে পাবে। সুতরাং এই ধরনের ব্যক্তি কি গ্রন্থ রচনার যোগ্যতা রাখেন, ইমাম পর্যায়ের আলেমদের সমালোচক হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করা তো দূরের কথা?! অতএব, প্রকাশনা সংস্থাগুলোর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক হওয়া উচিত যেন তারা এই গ্রন্থ রচনা তথা সমালোচনায় তড়িঘড়ি করা ব্যক্তিদের অংশীদার না হন—অথচ তারা এখনও যোগ্য হয়ে ওঠেননি—আহলে ইলমদের (জ্ঞানী ব্যক্তিদের) ব্যাপারে সংশয় তৈরির অপরাধে; অন্যথায় তাদের সাথে এর পরিণতির দায়ভারও বহন করতে হবে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন সকলকে সেই তাওফিক দান করেন যা তিনি পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন।
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌مناقشة ما كتبه المستدرِك في المقدمة

-‌‌غلط الخليل في رمي الشيخ الألباني بمخالفة منهج الأئمة المتقدمين:

قال المستدرك ص (10): لما كنت أقرأ في هذا الكتاب (يعني الإرواء) لفت انتباهي كثرة مخالفة أحكام الشيخ الألباني رحمه الله لأحكام الأئمة المتقدمين حتى صار ذلك يشكل ظاهرة في الكتاب، وإذا نظر الإنسان في الكتاب وجد أن هذا الاختلاف ناشئ عن اختلاف في المنهج، لا عن اختلاف في التطبيق … إلخ.

وأقول: يؤسفني أن يكون هذا المستدرِك بهذا الحال، فإن ما حكاه بخلاف الحقيقة كما سيقف على ذلك القارئ بنفسه، فَقَلَّ أن تجد حديثًا اعترض المستدرك على الشيخ رحمه الله في حكمه ليس للشيخ فيه سلف من الأئمة المتقدمين، وحقيقة الأمر أنه ليس هناك خلاف بين الأئمة المتحققين بهذا العلم الشريف، لا من يصفونهم بالمتقدمين ولا من يصفونهم بالمتأخرين، بل الاختلاف يقع بين المتقدمين والمتأخرين في الحكم على أفراد أحاديث، فالمسألة اجتهادية، وكذلك الأمر بالنسبة للشيخ الألباني رحمه الله، وهذا التفريق إنما أحدثه بعض المعاصرين، وقد بينت فساده، وأنه لا أصل له في كتابي: "القول الحسن في كشف شبهات حول الاحتجاج بالحديث الحسن".

 

-‌‌غلط الخليل في رمي الشيخ الألباني بعدم حسن مخاطبة الأئمة:

ثم راح هذا المستدرِك يتهم الشيخ رحمه الله بالتقليل من قدر الأئمة وعلمهم بالحديث وعلله، وتخريج طلاب على هذه الطريقة المذمومة، فقال: وكذلك لفت انتباهي أثناء قراءة الإرواء كثرة العبارات التي يقولها الشيخ معلقًا بها على تعليلات الأئمة، مما يهون بها من شأن تلك العبارات حتى نشأ جمع من طلاب العلم، ليس لكلام الأئمة في نفوسهم قيمة، ولا وزن، وهذا أمر خطير، ثم نقل
ভূমিকায় মুস্তাদরিক (সংশোধনকারী) যা লিখেছেন তার পর্যালোচনা

-‌‌পূর্ববর্তী ইমামগণের মানহাজ বা পদ্ধতি লঙ্ঘনের অভিযোগে শাইখ আলবানীকে অভিযুক্ত করার ক্ষেত্রে খলীলের ভুল:

মুস্তাদরিক (পৃষ্ঠা ১০) বলেছেন: যখন আমি এই কিতাবটি (অর্থাৎ ইরওয়াউল গালীল) পড়ছিলাম, তখন শাইখ আলবানী (রহিমাহুল্লাহ)-এর সিদ্ধান্তগুলো পূর্ববর্তী ইমামগণের সিদ্ধান্তের সাথে প্রচুর পরিমাণে ভিন্নমত হওয়ার বিষয়টি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে, এমনকি কিতাবটিতে এটি একটি লক্ষণীয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আর কোনো ব্যক্তি যদি কিতাবটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে তবে দেখতে পাবে যে, এই মতপার্থক্য মূলত পদ্ধতির পার্থক্যের কারণে সৃষ্টি হয়েছে, প্রয়োগের পার্থক্যের কারণে নয়... ইত্যাদি।

আমি বলব: এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে এই মুস্তাদরিকের অবস্থা এমন, কারণ তিনি যা বর্ণনা করেছেন তা বাস্তবতার বিপরীত, যা পাঠক নিজেই প্রত্যক্ষ করবেন। এমন হাদিস খুব কমই পাওয়া যাবে যেখানে মুস্তাদরিক শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর হুকুমের ওপর আপত্তি জানিয়েছেন অথচ সেই হুকুমের ক্ষেত্রে শাইখের জন্য পূর্ববর্তী ইমামগণের মধ্য থেকে কোনো পূর্বসূরি নেই। প্রকৃত সত্য এই যে, এই মহান ইলমে পারদর্শী প্রকৃত ইমামদের মধ্যে কোনো মৌলিক বিরোধ নেই—চাই তারা যাদের 'মুতাকাদ্দিমীন' (পূর্ববর্তী) হিসেবে অভিহিত করেন তারা হোক কিংবা যাদের 'মুতাআখখিরীন' (পরবর্তী) হিসেবে অভিহিত করেন তারা হোক। বরং নির্দিষ্ট কিছু হাদিসের হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে মুতাকাদ্দিমীন ও মুতাআখখিরীনদের মধ্যে মতপার্থক্য ঘটে থাকে, সুতরাং বিষয়টি ইজতিহাদী (গবেষণালব্ধ)। শাইখ আলবানী (রহিমাহুল্লাহ)-এর ক্ষেত্রেও বিষয়টি ঠিক তেমনই। আর এই যে বিভাজন—এটি মূলত বর্তমান সময়ের কিছু লোক উদ্ভাবন করেছেন; আমি আমার কিতাব "আল-কাওলুল হাসান ফী কাশফি শুবুহাতি হাওলাল ইহতিজাজি বিল হাদিসিল হাসান"-এ এর অসারতা এবং এটি যে ভিত্তিহীন তা স্পষ্ট করেছি।

 

-‌‌ইমামগণের সাথে কথা বলার ক্ষেত্রে শিষ্টাচার লঙ্ঘনের অভিযোগে শাইখ আলবানীকে অভিযুক্ত করার ক্ষেত্রে খলীলের ভুল:

এরপর এই মুস্তাদরিক শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বিরুদ্ধে ইমামগণের মর্যাদা এবং হাদিস ও তার গূঢ় রহস্য বা ত্রুটি ('ইলাল) সম্পর্কে তাঁদের জ্ঞানকে খাটো করে দেখার অপবাদ দিতে শুরু করেন এবং এই নিন্দনীয় পদ্ধতিতে একদল ছাত্র তৈরি করার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন: একইভাবে ইরওয়া পড়ার সময় ইমামগণের বর্ণনাকৃত ত্রুটির ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে শাইখের ব্যবহৃত অসংখ্য বাক্য আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যার মাধ্যমে তিনি ওই বর্ণনাগুলোর গুরুত্ব লাঘব করেছেন। এমনকি এর ফলে এমন একদল শিক্ষার্থী তৈরি হয়েছে যাদের অন্তরে ইমামগণের কথার কোনো মূল্য বা ওজন নেই; আর এটি একটি ভয়াবহ বিষয়। এরপর তিনি উদ্ধৃত করেন...
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ১৯)
عن الشيخ قوله في بعض الأحاديث التي أعلها بعض الأئمة: أعله بعض المتقدمين بما لا يقدح، أو هذه العلل ليست بشيء، وهذا الإعلال ليس بشيء عندنا، ثم قال: فهذه العبارات لا تنبغي في حق الأئمة.

وأقول: هكذا أوهم هذا المستدرِك أنه أعلم بقدر الأئمة، وما ينبغي أن يخاطبوا به من إمام المحدثين وإمام المربين وإمام المعلمين في هذا العصر، والشيخ رحمه الله يجري في هذا التعبير على سنن أهل العلم، فقد قال الإِمام عبد الغني بن سعيد الأزدي في كتابه المؤتلف والمختلف (2/ 522) في عبد الله بن عنمة: عنمة مسكنة النون بعد العين المهملة، فقال ابن ماكولا في الإكمال (6/ 441): قال عبد الغني: عَنْمة بسكون النون، وليس بشيء.

وقال ابن عبد البر في الاستيعاب (3219): أبو يزيد النميري له صحبة؛ فقال ابن الأثير في أسد الغابة (6/ 332): قوله: (النميري) ليس بشيء.

وقال الحافظ ابن حجر في الإصابة (1/ 56) في ترجمة الأغر بن يسار المزني: ومال ابن الأثير إلى التفرقة بين المزني والجهني، وليس بشيء.

وغير ذلك كثير من الأئمة في نقد كلام بعضهم بعضًا، ولم أر أحداً من العلماء المعتبرين انتقد واحداً منهم في ذلك، وقال: إنها عبارة لا تنبغي في حق الأئمة كما ادَّعى هذا المستدرِك على إمام المحدثين في عصرنا، فانتقاده على الشيخ من البلاء الذي ابتلينا به من طلاب العلم في أيامنا، والله المستعان.

ولم يكتف هذا المستدرِك في انتقاده على الشيخ في عباراته التي استعملها في نقد بعض الأحكام على الأحاديث من بعض أهل العلم حتى ذهب يعلم الشيخ العبارات اللائقة، فقال: "ولو اكتفى الشيخ بقوله: إن هذا الإعلال ليس بصحيح مثلًا أو نحو هذه العبارة لكان هو الأولى، أما أنها ليست بشيء فهذا غير مقبول مع الأئمة".اهـ.
শাইখ সম্পর্কে তাঁর কথা—কিছু হাদিসের ক্ষেত্রে যা কিছু ইমাম ত্রুটিযুক্ত (মা'লুল) বলেছেন: "পূর্ববর্তীদের কেউ কেউ এমন কিছু দ্বারা একে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন যা ক্ষতিকর নয়", অথবা "এই ত্রুটিগুলো কিছুই নয়", অথবা "এই ত্রুটি নির্ণয় আমাদের নিকট কিছুই নয়"; অতঃপর তিনি (সমালোচক) বললেন: "ইমামদের শানে এই শব্দগুলো ব্যবহার করা সমীচীন নয়।"

আমি বলি: এই সংশোধনকারী এমন ধারণা দিয়েছেন যে তিনি ইমামদের মর্যাদা সম্পর্কে এবং তাঁদের সাথে কীভাবে সম্বোধন করা উচিত সে বিষয়ে বর্তমান যুগের মুহাদ্দিসদের ইমাম, মুরব্বিদের ইমাম এবং শিক্ষকদের ইমামের চেয়েও বেশি জানেন। অথচ শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর এই অভিব্যক্তিতে আহলে ইলমদের (উলামাদের) পথ অনুসরণ করেছেন। যেমন ইমাম আব্দুল গনি বিন সাঈদ আল-আযদি তাঁর 'আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ' (২/৫২২) গ্রন্থে আব্দুল্লাহ বিন আনামাহ্ সম্পর্কে বলেছেন: 'আননামাহ' শব্দে 'আইন' বর্ণের পর 'নুন' বর্ণটি সাকিন হবে। তখন ইবন মাকুলা 'আল-ইকমাল' (৬/৪৪১) গ্রন্থে বলেছেন: "আব্দুল গনি বলেছেন—নুন সাকিন হবে, অথচ এটি কিছুই নয়।"

ইবনে আব্দুল বার 'আল-ইস্তিআব' (৩২১৯) গ্রন্থে বলেছেন: আবু ইয়াযিদ আন-নুমাইরি সাহাবী ছিলেন; তখন ইবনুল আসির 'আসাদুল গাবাহ' (৬/৩৩২) গ্রন্থে বলেছেন: তাঁর (ইবনে আব্দুল বারের) কথা—'(আন-নুমাইরি)'—এটি কিছুই নয়।

হাফিয ইবনে হাজার 'আল-ইসাবাহ' (১/৫৬) গ্রন্থে আল-আগার বিন ইয়াসার আল-মুযানি-এর জীবনীতে বলেছেন: ইবনুল আসির আল-মুযানি এবং আল-জুহানি-এর মাঝে পার্থক্য করার দিকে ঝুঁকেছেন, অথচ এটি কিছুই নয়।

একে অপরের কথার সমালোচনা করার ক্ষেত্রে ইমামদের পক্ষ থেকে এর আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে। আমি নির্ভরযোগ্য আলেমদের কাউকেই দেখিনি যারা এই কারণে তাঁদের কাউকে সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন যে—এটি ইমামদের শানে একটি অশোভন উক্তি, যেমনটা এই সংশোধনকারী আমাদের যুগের মুহাদ্দিসদের ইমামের বিরুদ্ধে দাবি করেছেন। সুতরাং শাইখের ওপর তাঁর এই সমালোচনা বর্তমান সময়ের ইলম অন্বেষণকারীদের পক্ষ থেকে আমাদের ওপর আপতিত এক বিপদ, আর আল্লাহর নিকটই সাহায্য চাওয়া হয়।

এই সংশোধনকারী কিছু আলেমের হাদিস বিষয়ক হুকুমের সমালোচনা করতে গিয়ে শাইখ যেসব শব্দ ব্যবহার করেছেন কেবল তার সমালোচনা করেই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি শাইখকে উপযুক্ত শব্দ শেখাতে গিয়ে বলেছেন: "শাইখ যদি কেবল বলতেন—উদাহরণস্বরূপ, এই ত্রুটি নির্ণয় সঠিক নয় অথবা এই জাতীয় কোনো শব্দ, তবে তাই উত্তম হতো। কিন্তু 'এটি কিছুই নয়' বলা ইমামদের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ২০)
فأقول: وأي فرق يؤثر بين "ليس بصحيح" و"ليس بشيء" فغير الصحيح ليس بشيء معتبر، وهل يجرؤ على أن يوجه هذا التعليم المزعوم لابن ماكولا، وابن الأثير، وابن حجر وغيرهم من العلماء الذين استعملوا هذا التعبير دون أي نكير من بعضهم على بعض في استعماله؟!، أسأل الله المعافاة.

 

-‌‌غلط الخليل في ما ادعاه من الفرق بين منهح الأئمة المتقدمين والمتأخرين:

قال المستدرِك ص (12): الواقع أن لكل من المتقدمين والمتأخرين منهجًا خاصًّا به، يظهر ذلك جليًّا لكل من نظر في كلام الأئمة وتعليلاتهم المبثوثة في كتب العلل والرجال.

ويدل على هذا الفرق بين المتقدمين من الأئمة والمتأخرين من العلماء أمران:

الأمر الأول: العبارات الصريحة من أهل العلم التي تدل على الفرق بين المنهجين، ولا أعلم أحدًا من أهل العلم -سوى المعاصرين- أنكر وجود الفرق بينهما، وهناك في المقابل عدد منهم نص على وجود الفرق بعبارات واضحة، ومن هؤلاء: الحافظ ابن رجب، والحافظ ابن حجر، والحافظ العلائي، وابن الوزير، وابن دقيق العيد، والشيخ المعلمي.

قلت: قوله: "لا أعلم أحدًا من أهل العلم أنكر وجود الفرق بينهما" كلام عجيب، فإن البينة على المدَّعي، فكان الواجب أن يقول: أثبت هذا الفرق فلان وفلان من أهل العلم، ولا أعلم لهم مخالفًا، ولا أدري: هل عدم علمه بمن أنكر ذلك يقتضي عدم الوجود.

وقوله: "هناك في المقابل عدد منهم نص على وجود الفرق بعبارات واضحة"، فلا أدري هل يعلم الدكتور معنى النص أم لا؟، وكلامه ذلك يدل على عدم علمه بمعناه، فإن كان كذلك فكان ينبغي له ألا يتكلم بكلام لا يدري معناه،
আমি বলি: "সহিহ নয়" এবং "কিছুই নয়" এর মধ্যে এমন কী প্রভাববিস্তারী পার্থক্য আছে? কারণ যা সহিহ নয় তা গ্রহণযোগ্য কিছু নয়। তিনি কি ইবনে মাকুলা, ইবনুল আসির, ইবনে হাজার এবং অন্যান্য আলেমদের প্রতি এই কথিত শিক্ষা দেওয়ার সাহস করবেন, যারা একে অপরের প্রতি কোনো আপত্তি ছাড়াই এই পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন?! আমি আল্লাহর কাছে সুস্থতা প্রার্থনা করছি।

 

-‌‌পূর্বসূরি এবং উত্তরসূরি ইমামগণের পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্যের দাবিতে আল-খলিলের ভুল:

মুস্তাদরিক ১২ পৃষ্ঠায় বলেছেন: বাস্তবতা হলো, পূর্বসূরি এবং উত্তরসূরিদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব বিশেষ পদ্ধতি রয়েছে; যারা ইমামদের বক্তব্য এবং ত্রুটি (ইলাল) ও বর্ণনাকারী (রিজাল) বিষয়ক গ্রন্থসমূহে ছড়িয়ে থাকা তাদের কারণ দর্শানোসমূহ পর্যবেক্ষণ করেন, তাদের কাছে এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।

পূর্ববর্তী ইমাম এবং পরবর্তী আলেমদের মধ্যে এই পার্থক্যের ওপর দুটি বিষয় প্রমাণ পেশ করে:

প্রথম বিষয়: আহলে ইলমদের (বিদ্বানদের) স্পষ্ট বক্তব্যসমূহ যা এই দুই পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্যের প্রমাণ দেয়। সমসাময়িকদের ব্যতীত আহলে ইলমদের মধ্যে আর কাউকে আমি জানি না যিনি এদের মধ্যে পার্থক্যের অস্তিত্বকে অস্বীকার করেছেন। অপরদিকে, তাঁদের মধ্যে বেশ কিছু সংখ্যক আলেম স্পষ্ট ভাষায় এই পার্থক্যের অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: হাফেজ ইবনে রজব, হাফেজ ইবনে হাজার, হাফেজ আলাইয়ি, ইবনুল উজির, ইবনে দাকিকুল ঈদ এবং শেখ মুয়াল্লিমি।

আমি বলি: তাঁর এই কথা— "আহলে ইলমদের মধ্যে আমি কাউকে জানি না যিনি উভয়ের মধ্যে পার্থক্যের অস্তিত্বকে অস্বীকার করেছেন"—এটি একটি বিস্ময়কর কথা। কেননা প্রমাণের ভার দাবিদারের ওপর। তাই তাঁর বলা উচিত ছিল: অমুক অমুক আলেম এই পার্থক্যটি সাব্যস্ত করেছেন এবং আমি তাঁদের কোনো বিরোধিতাকারী সম্পর্কে জানি না। আমি জানি না, এই বিষয়ে অস্বীকারকারী সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান না থাকা কি তাদের অস্তিত্ব না থাকাকেই আবশ্যক করে কি না?

এবং তাঁর কথা: "বিপরীতপক্ষে তাঁদের একদল স্পষ্ট ভাষায় পার্থক্যের অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করেছেন," আমি জানি না ডক্টর সাহেব 'নাস' (সুস্পষ্ট পাঠ) শব্দের অর্থ জানেন কি না। তাঁর এই কথাটি অর্থ সম্পর্কে তাঁর অজ্ঞতাকেই নির্দেশ করে। যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে যে শব্দের অর্থ তিনি জানেন না তা দিয়ে কথা বলা তাঁর জন্য সমীচীন নয়,
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ২১)
فإن النص هو ما دل بنفس لفظه وصيغته على المعنى دون توقف على أمر خارجي (1)، وهذا يعني في مسألتنا أن يكون واحد من العلماء قال باللفظ: هناك فرق ثابت بين منهج المتقدمين ومنهج المتأخرين أو نحو ذلك من العبارات، وما نقله من كلام الأئمة الذين ذكرهم آنفًا ليس فيه شيء من ذلك، حتى يقال: إنه نص، بل ولا ما يشير إليه مجرد إشارة، وأذكر مثالًا لذلك، وهو ما نقله عن الإِمام ابن دقيق العيد من قوله: إن لكل من أئمة الفقه والحديث طريقًا غير طريق الآخر، فإن الذي تقتضيه قواعد الأصول والفقه أن العمدة في تصحيح الحديث عدالة الراوي وجزمه بالرواية" ونظرهم يميل إلى اعتبار التجويز الذي يمكن معه صدق الراوي وعدم غلطه، فمتى حصل ذلك، وجاز أن يكون غلطًا، وأمكن الجمع بين روايته ورواية من خالفه بوجه من الوجوه الجائزة لم يترك حديثه، فأما أهل الحديث فإنهم قد يروون الحديث من رواية الثقات العدول، ثم تقوم لهم علل تمنعهم عن الحكم بصحته". اهـ.

فهل في هذا الكلام ذكر للمتقدمين أو المتأخرين أصلًا، فضلًا عن أن يفرق بين منهجهما؟!، وما نقله عن غير ابن دقيق العيد لا يختلف كثيراً عما نقله عنه رحمهم الله.

وبهذا تظهر دعاوى هؤلاء المحدثين الجدد الذين يريدون هدم ما عليه أئمة الحديث قديمًا وحديثًا، ويظهر للناس ما هم عليه من الجرأة والتقول على أهل العلم، فهل يوثق بهم بعد ذلك؟!!.

ثم نقول لهذا المستدرِك: هل هؤلاء الأئمة الذين ذكرتهم من المتأخرين أم من المتقدمين؟

--------------------------------------------

(1) الوجيز في أصول الفقه للدكتور عبد الكريم زيدان ص (340).
কেননা নস (সুস্পষ্ট পাঠ) হলো তা-ই যা বাহ্যিক কোনো বিষয়ের ওপর নির্ভর না করে আপন শব্দ ও বিন্যাসের মাধ্যমেই নির্দিষ্ট অর্থের নির্দেশ প্রদান করে (১)। আমাদের আলোচ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো, আলেমদের মধ্য থেকে কেউ এই শব্দে বলবেন: 'মুতাকাদ্দিমীন (পূর্ববর্তীগণ) ও মুতাআখখিরীনদের (পরবর্তীগণ) মানহাজের (পদ্ধতি) মাঝে একটি সুনিশ্চিত পার্থক্য বিদ্যমান' অথবা এই জাতীয় কোনো বাক্য। অথচ তিনি ইতিপূর্বে যেসব ইমামদের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন তাতে এর ছিটেফোঁটাও নেই যাতে একে 'নস' (সুস্পষ্ট প্রমাণ) বলা যায়; বরং তাতে এর প্রতি সামান্যতম ইঙ্গিতও নেই। আমি এর একটি উদাহরণ দিচ্ছি, যা তিনি ইমাম ইবন দাকীক আল-ঈদ থেকে উদ্ধৃত করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: 'ফকিহ ও মুহাদ্দিস ইমামগণের প্রত্যেকেরই একে অপরের থেকে ভিন্ন পথ রয়েছে; কেননা উসুল ও ফিকহের মূলনীতি অনুসারে হাদীস সহীহ করার ক্ষেত্রে প্রধান ভিত্তি হলো বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতা এবং বর্ণনার ব্যাপারে তার দৃঢ়তা'। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি মূলত বর্ণনাকারীর সত্যবাদী হওয়ার সম্ভাবনা এবং ভুল না করার দিকটিকে প্রধান্য দেয়। সুতরাং যখন এটি অর্জিত হয় এবং বর্ণনাকারীর ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও যদি তার বর্ণনা ও তার বিরোধিতাকারীর বর্ণনার মাঝে অনুমোদিত কোনো পন্থায় সমন্বয় করা সম্ভব হয়, তবে তার হাদীস বর্জন করা যাবে না। পক্ষান্তরে মুহাদ্দিসগণ অনেক সময় নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে হাদীস বর্ণনা করেন, অতঃপর তাঁদের সামনে এমন কিছু ইল্লত (সূক্ষ্ম ত্রুটি) প্রকাশিত হয় যা তাঁদেরকে উক্ত হাদীস সহীহ হওয়ার হুকুম প্রদান থেকে বিরত রাখে।' সমাপ্ত।

তো এই বক্তব্যে কি আদৌ মুতাকাদ্দিমীন বা মুতাআখখিরীনদের কোনো উল্লেখ আছে? তাঁদের মানহাজের মাঝে পার্থক্য করা তো দূরের কথা! আর তিনি ইবন দাকীক আল-ঈদ ছাড়া অন্য যাঁদের থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, তা তাঁর উদ্ধৃতি থেকে খুব একটা ভিন্ন কিছু নয়, আল্লাহ তাঁদের রহমত করুন।

এর মাধ্যমেই সেই নব্য মুহাদ্দিসদের দাবির অসারতা স্পষ্ট হয় যারা প্রাচীন ও আধুনিক যুগের হাদীস বিশারদ ইমামদের অনুসৃত পথকে ধ্বংস করতে চায়। আর মানুষের কাছে এটি পরিষ্কার হয়ে যায় যে, আহলে ইলমদের ওপর মিথ্যাচার ও দুঃসাহস দেখানোর ক্ষেত্রে তারা কতদূর পৌঁছেছে। এরপর কি তাদের ওপর আর আস্থা রাখা যায়?!!

অতঃপর আমরা এই আপত্তি উত্থাপনকারীকে বলি: আপনি যেসব ইমামদের কথা উল্লেখ করেছেন তাঁরা কি মুতাআখখিরীনদের অন্তর্ভুক্ত নাকি মুতাকাদ্দিমীনদের?

--------------------------------------------

(১) ড. আব্দুল কারীম যাইদান রচিত আল-ওয়াজিজ ফি উসুলিল ফিকহ, পৃষ্ঠা (৩৪০)।
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ২২)
لا شك أنهم عن المتأخرين عند أصحاب هذا المنهج، فهل هؤلاء الأئمة يبطلون منهجهم، ويريدون الانحراف عن الحق، أم ماذا؟

أليس لكل واحد من هؤلاء الأئمة الذين ذكرهم مسألة أو مسائل خالف فيها بعض الأئمة المتقدمين؟!

فكيف يقضي هذا الإِمام على نفسه إذا خالف بعض الأئمة المتقدمين؟

وسترى حال دعاواه في مناقشة استدراكاته فيما يلي:
নিঃসন্দেহে এই মানহাজের অনুসারীদের নিকট তারা পরবর্তী যুগের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত; তবে এই ইমামগণ কি তাদের মানহাজকে বাতিল করছেন এবং সত্য থেকে বিচ্যুত হতে চাচ্ছেন, নাকি অন্য কিছু?

উল্লিখিত এই ইমামদের প্রত্যেকেরই কি এমন কোনো মাসয়ালা বা মাসয়ালাসমূহ নেই যাতে তারা পূর্ববর্তী কোনো ইমামের বিরোধিতা করেছেন?!

সুতরাং এই ইমাম যখন পূর্ববর্তী কোনো ইমামের বিরোধিতা করেন, তখন তিনি নিজের বিরুদ্ধে কী ফয়সালা দেন?

নিম্নোক্ত আলোচনায় তার সংশোধনীসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে তার দাবিসমূহের স্বরূপ আপনি দেখতে পাবেন:
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الحديث الأول

- الإرواء (1/ 34) رقم (4):

عن أوس بن أوس قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أيَّامِكُمْ يوْمَ الْجُمُعَةِ، فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنَ الصَّلَاةِ فِيهِ، فَإِنَّ صَلاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَليَّ". قَالَ: فَقَالُوا: يَا رَسُولَ الله، وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلاتُنَا عَلَيْكَ، وَقَدْ أَرِمْتَ؟ قَالَ: يَقُولُونَ: بَلِيتَ. قَالَ "إِنَّ اللهَ تبارك وتعالى حَرَّمَ عَلَى الأَرْضِ أَجْسَادَ الأنبِيَاءِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِمْ".

حكم الشيخ الألباني رحمه الله: صحيح.

حكم المستدرك: ضعيف.

الراجح عندي: أنه صحيح، كما قال الشيخ، وسبقه بذلك الحكم عدد من الأئمة من المتقدمين والمتأخرين.

فالحديث رواه أبو داود (1047)، (1531)، والنسائي (3/ 91 - 92)، وابن ماجه (1636)، وأحمد (16162)، وابن أبي شيبة (3/ 602)، والدارمي (1572)، والحربي في غريب الحديث (1/ 67 - 68)، وإسماعيل القاضي في فضل الصلاة علي النبي صلى الله عليه وسلم (22)، وابن أبي عاصم في الآحاد والمثاني (1577)، والمروزي في الجمعة وفضلها (13)، وابن خزيمة (1733)، (1734)، وابن حبان (910)، والطبراني في الكبير (589)، والأوسط (4780)، والحاكم (1/ 278)، (4/ 560)، وأبو نعيم في المعرفة (989)، والبيهقي في السنن الكبير (3/ 248 - 249)، وفي فضائل الأوقات (275)، وفي حياة الأنبياء في قبورهم (10)، وفي الشعب (3029)، وفي المعرفة (4/ 420 - 421)، وابن عساكر (9/ 295 - 296) من طرق عن حسين بن علي الجعفى عن عبد الرحمن بن يزيد ابن جابر عن أبي الأشعث الصنعاني
প্রথম হাদিস

- আল-ইরওয়া (১/ ৩৪) নম্বর (৪):

আউস ইবনে আউস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনটি সর্বোত্তম, সুতরাং এই দিনে তোমরা আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো, কারণ তোমাদের দরুদ আমার নিকট পেশ করা হয়।" তিনি (আউস) বলেন: তারা বলল: হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের দরুদ আপনার নিকট কীভাবে পেশ করা হবে অথচ আপনি জীর্ণ হয়ে (মাটির সাথে মিশে) যাবেন? তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: তারা বলতে চেয়েছিল যে আপনি নিঃশেষ হয়ে যাবেন। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা জমিনের জন্য নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন।"

শাইখ আল-আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর হুকুম: সহিহ।

মুস্তাদরাক-এর হুকুম: জয়িফ (দুর্বল)।

আমার নিকট অগ্রগণ্য মত হলো: এটি সহিহ, যেমনটি শাইখ বলেছেন; এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ওলামায়ে কেরামের একটি দল এই হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর পূর্বগামী হয়েছেন।

হাদিসটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (১০৪৭), (১৫৩১), নাসায়ি (৩/ ৯১ - ৯২), ইবনে মাজাহ (১৬৩৬), আহমাদ (১৬১৬২), ইবনে আবি শায়বাহ (৩/ ৬০২), দারেমি (১৫৭২), হারবি 'গরিবুল হাদিস' গ্রন্থে (১/ ৬৭ - ৬৮), ইসমাইল আল-কাজি 'ফাদলুস সালাতি আলান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম' গ্রন্থে (২২), ইবনে আবি আসিম 'আল-আহাদ ওয়াল মাসানি' গ্রন্থে (১৫৭৭), মারওয়াজি 'আল-জুমুআহ ওয়া ফাদলুহা' গ্রন্থে (১৩), ইবনে খুজাইমাহ (১৭৩৩), (১৭৩৪), ইবনে হিব্বান (৯১০), তাবারানি 'আল-কাবির' (৫৮৯) ও 'আল-আওসাত' (৪৭৮০) গ্রন্থে, হাকেম (১/ ২৭৮), (৪/ ৫৬০), আবু নুয়াইম 'আল-মারিফা' গ্রন্থে (৯৮৯), বায়হাকি 'আস-সুনানুল কাবির' (৩/ ২৪৮ - ২৪৯), 'ফাদায়িলুল আওকাত' (২৭৫), 'হায়াতুল আনবিয়া ফি কুবুরিহিম' (১০), 'শুয়াবুল ইমান' (৩০২৯) ও 'আল-মারিফা' (৪/ ৪২০ - ৪২১) গ্রন্থে এবং ইবনে আসাকির (৯/ ২৯৫ - ২৯৬) গ্রন্থে; তারা সবাই হুসাইন ইবনে আলী আল-জুফী-এর সূত্রে আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবীর থেকে, তিনি আবুল আশআস আস-সানআনী থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ২৪)
ورواه ابن ماجه (1085)، والبزار (3485) من طريق الجعفي عن عبد الرحمن بن يزيد بن جابر عن أبي الأشعث فقالا: عن شداد بن أوس، قال المزي: ذلك وهم.

قلت: وهو كما قال، فرواية الجماعة عن أوس بن أوس أصح.

والحديث رجاله ثقات، لكن بعض الأئمة قال: إن حسينًا الجعفي إنما يروى عن عبد الرحمن بن يزيد بن تميم، وهو ضعيف، وأخطأ في قوله: ابن جابر الثقة قال ابن أبي حاتم في العلل (565): سمعت أبي يقول: عبد الرحمن بن يزيد بن جابر لا أعلم أحدًا من أهل العراق يحدث عنه، والذي عندي أن الذي يروي عنه أبو أسامة وحسين الجعفي واحد، وهو عبد الرحمن بن يزيد بن تميم، لأن أبا أسامة روى عن عبد الرحمن بن يزيد عن القاسم عن أبي أمامة خمسة أحاديث -أو ستة أحاديث- منكرة لا يحتمل أن يحدث عبد الرحمن بن يزيد بن جابر مثله، ولا أعلم أحدًا من أهل الشام روى عن ابن جابر من هذه الأحاديث شيء (1).

وأما حسين الجعفي فإنه روى عن عبد الرحمن بن يزيد بن جابر عن أبي الأشعث عن أوس بن أوس عن النبي صلى الله عليه وسلم في يوم الجمعة أنه قال: "أفضل الأيام يوم الجمعة فيه الصعقة، وفيه النفخة"، وفيه كذا، وهو حديث منكر، لا أعلم أحدًا رواه غير حسين الجعفي، وأما عبد الرحمن بن يزيد بن تميم فهو ضعيف الحديث، وعبد الرحمن بن يزيد بن جابر ثقة.

فتبين بذلك أن أبا حاتم نفى علمه برواية حسين الجعفي عن ابن جابر، وأما البخاري فقال: عن ابن تميم: ويقال: هو الذي روى عنه أهل الكوفة بصيغة

--------------------------------------------

(1) قوله: "شيء"، كذا في جميع النسخ، والجادة "شيئاً"، وما في النسخ جارٍ على لغة ربيعة. كذا في حاشية نسخة الشيخ/ سعد بن عبد الله الحميد.
এটি ইবনে মাজাহ (১০৮৫) এবং আল-বাযযার (৩৪৮৫) আল-জু'ফি সূত্রে আবদুর রহমান বিন ইয়াযিদ বিন জাবির থেকে, তিনি আবুল আশ'আস থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়ই বলেছেন: শাদ্দাদ বিন আওস থেকে। আল-মিযযি বলেন: এটি একটি বিভ্রম।

আমি বলছি: তিনি যেমনটি বলেছেন বিষয়টি তেমনই। কেননা একদল বর্ণনাকারীর (আল-জামা'আহ) আওস বিন আওস থেকে বর্ণিত বর্ণনাটিই অধিকতর সহীহ।

হাদিসটির বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে কিছু ইমাম বলেছেন: হুসাইন আল-জু'ফি মূলত আবদুর রহমান বিন ইয়াযিদ বিন তামীম থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি যয়ীফ (দুর্বল)। তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ইবন জাবির বলার ক্ষেত্রে ভুল করেছেন। ইবন আবি হাতিম আল-ইলাল (৫৬৫) গ্রন্থে বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: আবদুর রহমান বিন ইয়াযিদ বিন জাবির থেকে ইরাকবাসীদের কাউকে হাদিস বর্ণনা করতে আমি জানি না। আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, আবু উসামাহ এবং হুসাইন আল-জু'ফি যাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি মূলত একই ব্যক্তি, আর তিনি হলেন আবদুর রহমান বিন ইয়াযিদ বিন তামীম। কেননা আবু উসামাহ আবদুর রহমান বিন ইয়াযিদ থেকে, তিনি আল-কাসিম থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে পাঁচটি -অথবা ছয়টি- মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস বর্ণনা করেছেন, যা আবদুর রহমান বিন ইয়াযিদ বিন জাবিরের মতো ব্যক্তির পক্ষে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। আর সিরিয়াবাসীদের মধ্যে কেউ ইবন জাবির থেকে এই হাদিসগুলোর কোনো কিছু বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই (১)।

পক্ষান্তরে হুসাইন আল-জু'ফি আবদুর রহমান বিন ইয়াযিদ বিন জাবির সূত্রে আবুল আশ'আস থেকে, তিনি আওস বিন আওস থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে জুমার দিন সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "দিনসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমার দিন; এতেই মহানাদ হবে এবং এতেই শিঙায় ফুঁক দেওয়া হবে", এবং এতে আরও এমন এমন উল্লেখ আছে। এটি একটি মুনকার হাদিস। হুসাইন আল-জু'ফি ছাড়া অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই। আর আবদুর রহমান বিন ইয়াযিদ বিন তামীম হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল, পক্ষান্তরে আবদুর রহমান বিন ইয়াযিদ বিন জাবির নির্ভরযোগ্য।

এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, আবু হাতিম হুসাইন আল-জু'ফি কর্তৃক ইবন জাবিরের নিকট থেকে বর্ণনা করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। আর ইমাম বুখারী বলেছেন: ইবন তামীম থেকে; এবং বলা হয়: তিনি সেই ব্যক্তি যাঁর থেকে কুফাবাসীরা বর্ণনা করেছেন - এই ভঙ্গিতে।

--------------------------------------------

(১) তাঁর কথা: "শাইউন", সকল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তা "শাইআন" হওয়ার কথা ছিল। পাণ্ডুলিপিগুলোতে যা আছে তা রাবি'আ গোত্রের উপভাষা অনুযায়ী। শেখ সাদ বিন আবদুল্লাহ আল-হুমাইদ এর পাণ্ডুলিপির টীকাতেও অনুরূপ উল্লেখ আছে।
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ২৫)
التمريض، وأما الخطيب فأطلق القول حيث قال: روى الكوفيون أحاديث عبد الرحمن بن يزيد بن تميم عن عبد الرحمن بن يزيد بن جابر.

وأما أبو داود كما في سؤالات أبي عبيد (327) فذكر أبا أسامة فقط، وأما أبو زرعة فالذي وقفت له في ذلك هو تضعيفه لابن تميم فقط.

وقد فصل أبو حاتم القول في الجرح والتعديل لابنه حيث قال: سألت محمد ابن عبد الرحمن ابن أخي حسين الجعفي عن عبد الرحمن بن يزيد فقال: قدم الكوفة وعبد الرحمن بن يزيد بن تميم ويزيد بن يزيد بن جابر، ثم قدم عبد الرحمن ابن يزيد بن جابر بعد ذلك بدهر، فالذي يحدث عنه أبو أسامة ليس هو ابن جابر هو عبد الرحمن بن يزيد بن تميم.

قلت: فدل هذا على بعد ما بين قدوم ابن تميم وابن جابر الكوفة، ودل أيضًا على أن ابن أخي حسين الجعفي خص أبا أسامة فقط بالخلط بين الروايتين.

وقد بين سبب وقوع هذا الخلط من أبي أسامة الإِمام موسى بن هارون حيث قال: روى أبو أسامة عن عبد الرحمن بن يزيد بن جابر، وكان ذلك وهمًا منه، هو لم يلق ابن جابر، وإنما لقي ابن تميم، فظن أنه ابن جابر، وابن جابر ثقة، وابن تميم ضعيف.

ولذلك قال العجلي في الثقات (292): سمع حسين بن علي الجعفي من عبد الرحمن بن يزيد بن جابر حديثين: حديث: "أَكْثِرُوا مِنَ الصَّلَاةِ عَليّ يَوْمَ الجُمعَةِ، فَإِنَّ صَلَاتكُم تَبْلُغَنِي"، وحديث آخر في الجمعة.

وقال ابن حبان في المجروحين: عبد الرحمن بن يزيد بن تميم روى عنه الكوفيون: أبو أسامة والحسين الجعفي وذووهما، فرده الدارقطني في تعليقه بقوله: قوله: حسين الجعفي روى عن عبد الرحمن بن يزيد بن تميم خطأ، الذي يروي عنه
'তামরিদ' (দুর্বলতা নির্দেশক ভঙ্গি), আর আল-খতিব আল-বাগদাদি সাধারণভাবে বলেছেন: কুফাবাসীরা আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে তামিমে-এর হাদিসগুলো আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবির-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

আর আবু দাউদ, যেমনটি আবু উবাইদের প্রশ্নাবলীতে (৩২৭) বর্ণিত হয়েছে, তিনি কেবল আবু উসামার কথা উল্লেখ করেছেন। আর আবু জুরআর ক্ষেত্রে আমি যা পেয়েছি তা হলো, তিনি কেবল ইবনে তামিমকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন।

আবু হাতিম তাঁর ছেলে ইবনে আবি হাতিমের 'আল-জারহ ওয়াত-তাদিল' গ্রন্থে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। সেখানে তিনি বলেন: আমি হুসাইন আল-জু’ফির ভ্রাতুষ্পুত্র মুহাম্মদ ইবন আব্দুর রহমানকে আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: "আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে তামিম এবং ইয়াজিদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবির কুফায় আগমন করেন। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবির সেখানে আসেন। সুতরাং আবু উসামা যার নিকট থেকে বর্ণনা করেন তিনি ইবনে জাবির নন, বরং তিনি হলেন আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে তামিম।"

আমি বলছি: এটি প্রমাণ করে যে, ইবনে তামিম এবং ইবনে জাবিরের কুফায় আগমনের মাঝে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ছিল। এটি আরও প্রমাণ করে যে, হুসাইন আল-জু’ফির ভ্রাতুষ্পুত্র কেবল আবু উসামার বর্ণনার ক্ষেত্রেই দুই রাবির মধ্যে সংমিশ্রণ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নির্দিষ্ট করেছেন।

আবু উসামার এই ভুল হওয়ার কারণ ইমাম মুসা ইবনে হারুন স্পষ্ট করে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "আবু উসামা আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, যা ছিল তাঁর একটি ভ্রম (ওয়াহম)। তিনি ইবনে জাবিরের সাথে সাক্ষাৎ পাননি, বরং তিনি ইবনে তামিমে-এর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন এবং মনে করেছিলেন যে তিনি ইবনে জাবির। অথচ ইবনে জাবির নির্ভরযোগ্য এবং ইবনে তামিম দুর্বল।"

এই কারণেই আল-ইজলি 'আস-সিকাত' (২৯২) গ্রন্থে বলেছেন: "হুসাইন ইবনে আলী আল-জু’ফি আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবির থেকে দুটি হাদিস শুনেছেন: একটি হাদিস হলো- 'তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো, কারণ তোমাদের দরুদ আমার নিকট পৌঁছানো হয়', এবং জুমার ফজিলত সম্পর্কিত অন্য আরেকটি হাদিস।"

আর ইবনে হিব্বান 'আল-মাজরুহিন' গ্রন্থে বলেছেন: "আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে তামিম থেকে কুফাবাসীরা বর্ণনা করেছেন: আবু উসামা, হুসাইন আল-জু’ফি এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ।" কিন্তু দারা কুতনি তাঁর টিকায় এটি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন: "তার এই কথা যে—হুসাইন আল-জু’ফি আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে তামিম থেকে বর্ণনা করেছেন—তা ভুল। বরং যিনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেন..."
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ২৬)
حسين هو: عبد الرحمن بن يزيد بن جابر، وأبو أسامة يروي عن عبد الرحمن بن يزيد هذا ابن تميم، فيقول: ابن جابر، ويغلط في اسم جده.

قلت: فهذا التفصيل والتفريق بين أبي أسامة وحسين الجعفي زيادة علم ليست عند غيره من الأئمة فيجب الأخذ بها.

فإذا صرح حسين الجعفي، وهو ثقة بالسماع من ابن جابر لم يكن لأحد الطعن في روايته عنه، وقد صرح بتحديثه له عند المروزي في الجمعة وفضلها وعند إسماعيل القاضي والحاكم وابن حبان والبيهقي في حياة الأنبياء في قبورهم، ووجوده عند هؤلاء الأئمة من طرق كثيرة يرد دعوى المستدرك حصول الوهم في رواية ابن حبان.

وقد خاض هذا المستدرِك مع قصور باعه في هذا العلم الشريف غمار الترجيح بين قول هؤلاء الأعلام، فادعى رجحان قول من اتهم حسينًا الجعفي بالغلط في اسم عبد الرحمن بن يزيد بن جابر بقوله:

1 - لم يرو أحد من أهل الشام هذا الحديث عن ابن جابر، مع أنهم أهل بلده، ولهم عناية بحديثه.

قلت: فكان ماذا؟ ولئن كان أهل الحديث من أهل الشام لم يرووه عن ابن جابر فهل رواه أحد من أهل الشام أو غيرهم عن ابن تميم؟!!

ثم قال:

2 - تفرد حسين الجعفي عن ابن جابر بهذا الحديث، كما ذكر أبو حاتم.

قلت: وهو ثقة روى له الجماعة، فتفرده مقبول لا غبار عليه، وهذا المستدرِك يضعف كثيراً من الأحاديث بذلك السبب، مع أن البخاري ومسلمًا وجمهور المحدثين علي خلاف ذلك، وإنما ذهب إلى الإعلال بذلك مَنْ تشدد من الأئمة في
হুসাইন হলেন: আবদুর রহমান বিন ইয়াজিদ বিন জাবির। আবু উসামাহ এই আবদুর রহমান বিন ইয়াজিদ (যিনি মূলত ইবনে তামীম) থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: "ইবনে জাবির", এবং তিনি তার দাদার নামের ক্ষেত্রে ভুল করেন।

আমি বলি: আবু উসামাহ এবং হুসাইন আল-জু'ফীর মধ্যে এই বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও পার্থক্য নিরূপণ করা একটি অতিরিক্ত জ্ঞান যা অন্য ইমামদের নিকট নেই, তাই এটি গ্রহণ করা আবশ্যক।

হুসাইন আল-জু'ফী যখন ইবনে জাবির থেকে সরাসরি শোনার কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন—এবং তিনি একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী—তখন তার বর্ণনার ওপর আপত্তি তোলার অধিকার কারো নেই। তিনি আল-মারওয়াযীর 'আল-জুমুআ ওয়া ফাদলুহা' গ্রন্থে এবং ইসমাইল আল-কাদী, আল-হাকিম, ইবনে হিব্বান ও আল-বাইহাকীর 'হায়াতুল আম্বিয়া ফী কুবুরিহিম' গ্রন্থে ইবনে জাবির থেকে সরাসরি বর্ণনা শোনার কথা উল্লেখ করেছেন। এই ইমামদের নিকট বহু সূত্রে এই বর্ণনার উপস্থিতি ইবনে হিব্বানের বর্ণনায় ভুল বা বিভ্রান্তি ঘটার দাবিকারীর বক্তব্যকে খণ্ডন করে।

এই পর্যালোচক, এই মহান ইলমের ক্ষেত্রে নিজের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও, এই সকল বিজ্ঞ ইমামদের মতামতের মধ্যে প্রাধান্য নির্ণয়ের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন। তিনি হুসাইন আল-জু'ফীর ওপর আবদুর রহমান বিন ইয়াজিদ বিন জাবির-এর নামের ক্ষেত্রে ভুল করার অভিযোগকারীদের মতের প্রাধান্য দাবি করেছেন এই বলে:

১ - শামের অধিবাসীদের কেউ ইবনে জাবির থেকে এই হাদীসটি বর্ণনা করেননি, যদিও তারা তার দেশের লোক এবং তার হাদীসের প্রতি তাদের বিশেষ যত্ন রয়েছে।

আমি বলি: তাতে কী হয়েছে? শামের হাদীস বিশারদগণ যদি এটি ইবনে জাবির থেকে বর্ণনা না-ই করে থাকেন, তবে কি শাম বা অন্য এলাকার কেউ এটি ইবনে তামীম থেকে বর্ণনা করেছেন?!!

অতঃপর তিনি বলেন:

২ - আবু হাতিম যেমনটি উল্লেখ করেছেন, হুসাইন আল-জু'ফী ইবনে জাবির থেকে এই হাদীসটি বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন।

আমি বলি: তিনি একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী যার থেকে জামাআহ (প্রসিদ্ধ হাদীসবিদগণ) বর্ণনা গ্রহণ করেছেন, তাই তার একক বর্ণনা (তাফাররুদ) গ্রহণযোগ্য এবং এতে কোনো সংশয় নেই। এই পর্যালোচক এই কারণেই অনেক হাদীসকে দুর্বল বলে থাকেন, যদিও ইমাম বুখারী, মুসলিম এবং জুমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) মুহাদ্দিসগণের অবস্থান এর বিপরীত। বরং এককভাবে বর্ণনা করাকে ত্রুটি হিসেবে গণ্য করার দিকে কেবল সেই ইমামগণই গিয়েছেন যারা এ বিষয়ে কঠোরতা অবলম্বন করেন...
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ২৭)
هذا الباب كيحيى القطان وتأثر به في ذلك الإِمام أحمد.

 

-‌‌بيان فساد طريقة المستدرك في إعلال الأحاديث بالتفرد وإكثاره من ذلك:

قال ابن رجب الحنبلي في شرح علل الترمذي ص (655): قال إسحاق بن هانئ: قال لي أبو عبد الله (يعني أحمد): قال لي يحيى بن سعيد: لا أعلم عبيد الله يعني ابن عمر أخطأ إلا في حديث واحد لنافع عن ابن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: لَا تُسَافِر امْرَأةٌ فَوْقَ ثَلَاثَةِ أيَّامٍ … الحديث. قال أبو عبد الله: فأنكره يحيى بن سعيد عليه.

قال أبو عبد الله: قال لي يحيى بن سعيد: فوجدته قد حدث به العمري الصغير عن ابن عمر مثله.

قال أبو عبد الله: لم يسمعه إلا من عبيد الله، فلما بلغه عن العمري صححه.

قال ابن رجب: وهذا الكلام يدل على أن النكارة عند يحيى القطان لا تزول إلا بمعرفة الحديث من وجه آخر.

قلت: ويدل أيضًا على أن الأئمة المتقدمين قد يضعفون الحديث من بعض طرقه، ويكون ثابتًا من وجوه لم تبلغهم بخلاف المنتسبين إلى المدرسة الجديدة التي تقوم على احتقار الأئمة الذين يصفونهم بالمتأخرين وعلى تقديس الأئمة المتقدمين حتى أوشكوا أن يؤلهوهم، ويدل أيضًا على تقوية الحديث بطرقه الضعيفة بخلاف ما ذهب إليه أكثر أصحاب المدرسة المذكورة، ولي عليهم رد، وهو المسمى: بـ "القول الحسن في كشف شبهات حول أي حتجاج بالعديد الحسن".

قال ابن رجب: وكلام الإِمام أحمد قريب من ذلك.

قال عبد الله: سألت أبي عن حسين بن علي الذي يروي حديث المواقيت، فقال: هو أخو أبي جعفر محمد بن علي، وحديثه الذي روى في المواقيت ليس
এই বিষয়টি ইয়াহইয়া আল-কাত্তানের মতো এবং ইমাম আহমাদ এই ক্ষেত্রে তাঁর দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন।

 

-‌‌হাদিসকে একক বর্ণনার ভিত্তিতে দুর্বল সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে মুস্তাদরাক-এর পদ্ধতির অসারতা এবং এই কাজের আধিক্যের বর্ণনা:

ইবনে রাজাব আল-হাম্বলি 'শারহু ইলালিত তিরমিজি'র ৬৫৫ পৃষ্ঠায় বলেছেন: ইসহাক বিন হানি বলেছেন: আবু আব্দুল্লাহ (অর্থাৎ আহমাদ) আমাকে বলেছেন: ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আমাকে বলেছেন: আমি জানি না যে উবায়দুল্লাহ অর্থাৎ ইবনে উমর নাফে'র সূত্রে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত একটি হাদিস ছাড়া অন্য কোনো হাদিসে ভুল করেছেন। হাদিসটি হলো—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "কোনো নারী যেন তিন দিনের বেশি সফর না করে..." হাদিসটি শেষ পর্যন্ত। আবু আব্দুল্লাহ বলেন: ইয়াহইয়া বিন সাঈদ এটিকে তাঁর (উবায়দুল্লাহর) ভুল হিসেবে গণ্য করেছেন।

আবু আব্দুল্লাহ বলেন: ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আমাকে বলেছেন: পরবর্তীতে আমি দেখতে পেলাম যে, ছোট উমরি ইবনে উমর থেকে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন।

আবু আব্দুল্লাহ বলেন: তিনি এটি কেবল উবায়দুল্লাহর থেকেই শুনেছিলেন, কিন্তু যখন এটি উমরির পক্ষ থেকে তাঁর কাছে পৌঁছাল, তখন তিনি একে সঠিক বলে গণ্য করলেন।

ইবনে রাজাব বলেন: এই কথাটি প্রমাণ করে যে, ইয়াহইয়া আল-কাত্তানের নিকট কোনো হাদিসের অসংগতি অন্য কোনো সূত্রের মাধ্যমে হাদিসটি সম্পর্কে অবগত হওয়া ছাড়া দূর হয় না।

আমি বলছি: এটি আরও প্রমাণ করে যে, পূর্ববর্তী ইমামগণ কোনো হাদিসকে তার কোনো কোনো সূত্রের কারণে দুর্বল সাব্যস্ত করতে পারেন, অথচ সেটি এমন সব সূত্রে সাব্যস্ত হতে পারে যা তাদের নিকট পৌঁছেনি। এটি সেই নব্য মাদরাসার অনুসারীদের বিপরীত, যারা সেই ইমামদের তুচ্ছজ্ঞান করার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে যাদের তারা 'পরবর্তী' হিসেবে অভিহিত করে, এবং 'পূর্ববর্তী' ইমামদের এমনভাবে অতিমূল্যায়ন করে যে তারা প্রায় উপাস্যের মর্যাদায় নিয়ে গেছে। এটি দুর্বল সূত্রের মাধ্যমে হাদিস শক্তিশালী হওয়ারও প্রমাণ দেয়, যা উল্লিখিত মাদরাসার অধিকাংশ অনুসারীদের মতের পরিপন্থী। তাদের বিরুদ্ধে আমার একটি খণ্ডনমূলক কিতাব রয়েছে, যার নাম: "আল-কাউলুল হাসান ফি কাশফি শুবুহাতি হাওলা আইয়্যি ইহতিজাজ বিল হাদিসিল হাসান"।

ইবনে রাজাব বলেন: ইমাম আহমাদের বক্তব্যও এর কাছাকাছি।

আব্দুল্লাহ বলেন: আমি আমার পিতাকে হুসাইন বিন আলী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যিনি নামাজের ওয়াক্ত সম্পর্কিত হাদিস বর্ণনা করেন। তিনি বললেন: তিনি হলেন আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলীর ভাই, এবং ওয়াক্ত সম্পর্কে তিনি যে হাদিস বর্ণনা করেছেন তা নয়
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ২৮)
بمنكر؛ لأنه قد وافقه على بعض صفاته غيره.

وقال أحمد في بريد بن عبد الله بن أبي بردة: يروي أحاديث مناكير.

وقال أحمد في محمد بن إبراهيم بن الحارث التيمي وهو المنفرد برواية حديث: "الأعْمَال بِالنِّيَّات": في حديثه شيء، يروي أحاديث مناكير، أو قال: منكرة. وقال في زيد بن أبي أنيسة: إن حديثه لحسن مقارب، وإن فيها لبعض النكارة، قال: وهو على ذلك حسن الحديث.

قال الأثرم: قلت لأحمد: إن له أحاديث إن لم تكن مناكير فهي غرائب، قال: نعم.

قال ابن رجب: وهؤلاء الثلاثة متفق على الاحتجاج بحديثهم في الصحيح، وقد استنكر أحمد ما تفردوا به، وكذلك قال في عمرو بن الحارث: له أحاديث مناكير، وفي الحسين بن واقد، وخالد بن مخلد، وجماعة خرج لهم في الصحيح بعض ما ينفردون به.

وأما تصرف الشيخين والأكثرين فيدل على خلاف هذا، وأن ما رواه الثقة عن الثقة إلى منتهاه وليس له علة فليس بمنكر.

وقد خرجا في الصحيحين حديث بريد بن عبد الله بن أبي بردة، وحديث محمد بن إبراهيم التيمي، وحديث زيد بن أبي أنيسة. انتهى كلام ابن رجب رحمه الله، وقد أطلت في هذه المسألة لأن هذا المستدرِك كثيراً ما يعل الأحاديث بها، فليعلم أنها طريقة شاذة على خلاف ما عليه أكثر المحدثين، ولو اتبعت لردت كثير من أحاديث الصحيحين كما بين ذلك ابن رجب رحمه الله وقد زدت ذلك بيانًا في كتابي المشار إليه آنفًا.

ثم قال: في أحاديث أهل الكوفة عن ابن جابر مناكير كثيرة.
মনকার নয়; কারণ অন্যরাও তাঁর কিছু বৈশিষ্ট্যের সাথে একমত হয়েছেন।

ইমাম আহমাদ বুরাইদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি বুরদাহ সম্পর্কে বলেছেন: তিনি মনকার হাদীসসমূহ বর্ণনা করেন।

আহমাদ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম বিন আল-হারিস আত-তাইমি সম্পর্কে বলেছেন—যিনি 'সকল কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল' হাদীসটি বর্ণনায় একক—: তাঁর হাদীসে কিছু সমস্যা আছে, তিনি মনকার হাদীসসমূহ বর্ণনা করেন, অথবা তিনি বলেছেন: অগ্রহণযোগ্য। যায়েদ বিন আবি আনিসাহ সম্পর্কে তিনি বলেছেন: তাঁর হাদীস হাসান পর্যায়ের ও সহীহর নিকটবর্তী, তবে তাতে কিছু অগ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তিনি বলেন: এর পরেও তিনি হাসানুল হাদীস বা উত্তম হাদীস বর্ণনাকারী।

আল-আছরাম বলেন: আমি আহমাদকে বললাম: তাঁর এমন কিছু হাদীস রয়েছে যা যদি মনকার নাও হয় তবে অবশ্যই গারীব বা একক। তিনি বললেন: হ্যাঁ।

ইবনে রজব বলেন: এই তিনজন বর্ণনাকারীর হাদীস সহীহ গ্রন্থে দলিল হিসেবে গ্রহণের ব্যাপারে সকলে একমত, অথচ ইমাম আহমাদ তাঁদের একক বর্ণনাগুলোকে মনকার হিসেবে গণ্য করেছেন। অনুরূপভাবে তিনি আমর বিন আল-হারিস সম্পর্কে বলেছেন: তাঁর কিছু মনকার হাদীস রয়েছে। এবং আল-হুসাইন বিন ওয়াকিদ, খালিদ বিন মাখলাদ ও এমন একদল বর্ণনাকারী সম্পর্কেও একই কথা বলেছেন যাদের একক বর্ণনাসমূহ সহীহ গ্রন্থে স্থান পেয়েছে।

তবে শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) এবং অধিকাংশ মুহাদ্দিসের কর্মপন্থা এর বিপরীত বিষয়ের প্রমাণ দেয়; আর তা হলো, যখন একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী অপর একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন এবং তাতে কোনো সূক্ষ্ম ত্রুটি না থাকে, তবে তা মনকার বা অগ্রহণযোগ্য নয়।

আর তাঁরা উভয়েই সহীহাইনে বুরাইদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি বুরদাহ-র হাদীস, মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আত-তাইমির হাদীস এবং যায়েদ বিন আবি আনিসাহ-র হাদীস সংকলন করেছেন। ইবনে রজব (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য এখানেই শেষ। আমি এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছি কারণ এই মুস্তাদরিক বা সমালোচক প্রায়শই এগুলোর মাধ্যমে হাদীসগুলোকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেন। সুতরাং জেনে রাখা উচিত যে, এটি একটি শায বা বিচ্ছিন্ন পদ্ধতি যা অধিকাংশ মুহাদ্দিসের কর্মপন্থার পরিপন্থী। যদি এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, তবে সহীহাইনের অনেক হাদীসই প্রত্যাখ্যাত হয়ে যাবে, যেমনটি ইবনে রজব (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন এবং আমি আমার ইতিপূর্বে উল্লিখিত কিতাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

অতঃপর তিনি বলেন: ইবনে জাবির থেকে কূফাবাসীদের বর্ণনাকৃত হাদীসসমূহের মধ্যে অনেক মনকার বর্ণনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইকামাতুদ দালীল আলা উলুব্বি রুতবাতি ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ২৯)
قلت: هذا كلام مطلق ظهر تقييده بأبي أسامة وحده كما سبق بيانه، وكذلك ما ذكره بعد ذلك بقوله: كثرة الحفاظ الأثبات الذين ذهبوا إلى هذا، فقد سبق أن الأكثر لم يذكروا حسينًا الجعفي، ومن ذكره لم يقطع بذلك.

ثم قال: لم يذكر الدارقطني والعجلي ما يدل على صحة سماع حسين الجعفي من ابن جابر.

وأقول: قد سبق بالطرق الصحيحة إثبات سماعه منه، وأن الدارقطني قد فصل ما أجمله غيره حيث فرق بين أبي أسامة وحسين الجعفي، وبذلك يتبين أن هذا المستدرِك يشقق الكلام، ويعترض بأمور واهية لا تغني من الحق شيئًا، وإنما يشوش بها على من لا يدري، ولو أنه تأنى وتعلم قبل أن يخرج للناس مثل هذا الكتاب لكان خيرًا له ولغيره، والله المستعان.

وبهذا النفس المتعطش إلى تضعيف الأحاديث الذي تعامل به مع الطريق الصحيح السابق ذكره تعامل أيضًا مع الشواهد:

فقد ذكر الشيخ حديثًا رواه ابن ماجه (1637) من طريق سعيد بن أبي هلال عن زيد بن أيمن عن عبادة بن نسي عن أبي الدرداء مرفوعًا.

قال الشيخ: قال المنذري: إسناده جيد، فأخفاه المستدرِك، وهذا إخلال بالأمانة، وقال: منقطع في موضعين كما قال البوصيري رحمه الله.

قلت: أما الموضع الأول فهو بين عبادة بن نسي وأبي الدرداء، وقد ذكره الشيخ رحمه الله.

وأما الموضع الثاني الذي أشار إليه البوصيري فالظاهر أنه فهمه من قول البخاري: زيد بن أيمن عن عبادة بن نسي مرسل، والظاهر أن البخاري يعني أن الحديث مرسل بين عبادة وأبي الدرداء، ولا يعني بين زيد وعبادة، ولذا لم يذكر
আমি বলছি: এটি একটি ঢালাও বক্তব্য যার সীমাবদ্ধতা কেবল আবু উসামার ক্ষেত্রে প্রকাশ পেয়েছে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। একইভাবে তিনি এরপর যা উল্লেখ করেছেন এই বলে: ‘সুপ্রতিষ্ঠিত হাফেজগণের একটি বড় সংখ্যা এই মত গ্রহণ করেছেন,’ সে বিষয়েও আগে অতিক্রান্ত হয়েছে যে অধিকাংশ ইমাম হুসাইন আল-জু'ফীর কথা উল্লেখ করেননি, আর যারা উল্লেখ করেছেন তারা এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলেননি।

এরপর তিনি বলেছেন: আদ-দারা কুতনী এবং আল-ইজলী এমন কিছু উল্লেখ করেননি যা ইবনে জাবির থেকে হুসাইন আল-জু'ফীর শ্রবণ সঠিক হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে।

আমি বলছি: সহীহ সূত্রসমূহের মাধ্যমে তাঁর থেকে শ্রবণের বিষয়টি ইতিপূর্বে প্রমাণিত হয়েছে। আর আদ-দারা কুতনী সেই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন যা অন্যরা সংক্ষেপে ছেড়ে দিয়েছেন, যেখানে তিনি আবু উসামা এবং হুসাইন আল-জু'ফীর মাঝে পার্থক্য করেছেন। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, এই সমালোচক কথাকে জটিল করছেন এবং এমন সব অসার বিষয়ের মাধ্যমে আপত্তি তুলছেন যা সত্যের বিপরীতে কোনো কাজেই আসে না। তিনি এর মাধ্যমে কেবল তাদের মাঝেই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন যারা বিষয়টি জানে না। তিনি যদি ধৈর্য ধরতেন এবং মানুষের সামনে এই ধরনের কিতাব প্রকাশ করার আগে ইলম অর্জন করতেন, তবে তা তাঁর নিজের জন্য এবং অন্যদের জন্যও উত্তম হতো। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

হাদীস দুর্বল করার এই যে তৃষ্ণার্ত মানসিকতা যার মাধ্যমে তিনি পূর্বোক্ত সহীহ সূত্রের সাথে আচরণ করেছেন, সেই একই আচরণ তিনি শাহেদ বা সমর্থক বর্ণনাগুলোর ক্ষেত্রেও করেছেন:

শাইখ একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন যা ইবনে মাজাহ (১৬৩৭) সাঈদ ইবনে আবু হিলাল সূত্রে যায়িদ ইবনে আয়মান থেকে, তিনি উবাদাহ ইবনে নুসায়্যি থেকে এবং তিনি আবু দারদা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

শাইখ বলেন: আল-মুনজিরী বলেছেন: এর সনদ উত্তম, কিন্তু সমালোচক এটি গোপন করেছেন, যা আমানতদারিতার পরিপন্থী। তিনি বলেছেন: এটি দুই স্থানে বিচ্ছিন্ন, যেমনটি আল-বুসিরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন।

আমি বলছি: প্রথম স্থানটি হলো উবাদাহ ইবনে নুসায়্যি এবং আবু দারদার মাঝে, যা শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন।

আর দ্বিতীয় স্থানটি যার দিকে আল-বুসিরী ইশারা করেছেন, তা স্পষ্টতই ইমাম বুখারীর এই বক্তব্য থেকে তিনি বুঝেছেন যে: ‘যাইদ ইবনে আয়মান উবাদাহ ইবনে নুসায়্যি থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন’। তবে প্রকাশ্য বিষয় হলো, ইমাম বুখারী বুঝিয়েছেন যে হাদীসটি উবাদাহ এবং আবু দারদার মাঝে মুরসাল, যাইদ এবং উবাদাহর মাঝে নয়। আর এই কারণেই তিনি উল্লেখ করেননি...