(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: -)
رد الجميل في الذب عن إرواء الغليل   (عبد الله العبيلان)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: رَدُّ الجَمِيلِ فِي الذَّبِّ عَن إرواء الغليل وَهُوَ رَدٌّ عَلَى كِتَابِ (مُسْتَدْرك التَّعْلِيل)

المؤلف: أبو عبد الرحمن عبد الله بن صالح العبيلان

الناشر: دَارُ اللُؤْلُؤَة لِلطبَاعَةِ وَالنَّشْرِ، بيروت - الدَّارُ الأثريَّةُ لِلطبَاعَةِ وَالنَّشْرِ والتوزيع، الأردن

الطبعة: الأولى، 1431 هـ - 2010 م

عدد الصفحات: 376

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 محرم 1434

ইরওয়াউল গালীল-এর প্রতিরক্ষায় কৃপা ও অনুগ্রহের প্রত্যুত্তর   (আবদুল্লাহ আল-উবায়লান)

বিভাগ: তাখরীজ এবং আতরাফ


কিতাব: ইরওয়াউল গালীল-এর প্রতিরক্ষায় কৃপা ও অনুগ্রহের প্রত্যুত্তর, যা হলো (মুসতাদরাক আত-তালীলের) কিতাবের একটি প্রত্যুত্তর

লেখক: আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবনে সালেহ আল-উবায়লান

প্রকাশক: দারুল লুলুআহ মুদ্রণ ও প্রকাশনী، বৈরুত - আদ-দারুল আসারিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনী ও পরিবেশনা، জর্ডান

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩১ হিজরি - ২০১০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭৬

[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর ছাপানো কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৯ মুহাররম ১৪৩৪

(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: -)
رَدُّ الجَمِيلِ

فِي الذَّبِّ عَن

إرواء الغليل

وَهُوَ رَدٌّ عَلَى كِتَابِ (مُسْتَدْرك التَّعْلِيل)

 

تَأليفُ

أبي عبد الرَّحمن عبد الله بن صالح العبيلان

 

دَارُ اللُؤْلُؤَة - الدَّارُ الأثريَّةُ
উত্তম প্রত্যুত্তর

প্রতিরক্ষায়

ইরওয়াউল গালীল

এবং এটি (মুস্তাদরাকুত তা’লীল) নামক গ্রন্থের একটি খণ্ডন

 

রচনায়

আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ বিন সালিহ আল-উবায়লান

 

দারুল লু’লু’আহ - আদ-দারুল আসারিয়্যাহ
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ৩)
رَدُّ الجَمِيلِ

فِي الذَّبِّ عَن

إرواء الغليل

وَهُوَ رَدٌّ عَلَى كِتَابِ (مُسْتَدْرك التَّعْلِيل)
উত্তম প্রত্যুত্তর

প্রতিরক্ষায়

ইরওয়াউল গালীল

এবং এটি (মুসতাদরাকুত তালীল) কিতাবের একটি প্রত্যুত্তর
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ৪)
جَميع الحقُوق مَحفوظَة

الطَّبعَةُ الأُولى

1431 هـ - 2010 م

دار اللؤلؤة لِلطبَاعَةِ وَالنَّشْرِ لبنان - بيروت

هاتف: 009611824194

جوال: 0096170587166

البريد الإلكتروني: DARALLOLOAA@nocmqil.com

 

الدار الأثرية للطباعة والنشر والتوزيع

عمان - الأردن - تلفاكس: 65658045/ 00962

حلوى: 795943456/ 00962 - ص ب: 925595 - الرمز البريدى: 11190

الرمز الإلكتروني: alatharya1423@yahoo.com
সকল সত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪৩১ হিজরি - ২০১০ খ্রিস্টাব্দ

দার আল-লুলুয়াহ প্রকাশনী ও মুদ্রণালয়, লেবানন - বৈরুত

টেলিফোন: ০০৯৬১১৮২৪১৯৪

মোবাইল: ০০৯৬১৭০৫৮৭১৬৬

ইমেইল: DARALLOLOAA@nocmqil.com

 

আদ-দার আল-আসারিয়্যাহ প্রকাশনী ও পরিবেশনা

আম্মান - জর্ডান - টেলিফ্যাক্স: ০০৯৬২৬৫৬৫ ৮০৪৫

মোবাইল: ০০৯৬২৭৯৫৯৪৩৪৫৬ - পোস্ট বক্স: ৯২৫৫৯৫ - পোস্টাল কোড: ১১১৯০

ইমেইল: alatharya1423@yahoo.com
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌الْمقَدِّمَة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدًا رسول الله.

أما بعد: فقد أطلعني أحد طلبة العلم على كتاب بعنوان "مستدرك التعليل على إرواء الغليل" للدكتور أحمد الخليل، فرأيته جانب الصواب في معظم تعقباته على "إرواء الغليل"، وليس هذا الأهم؛ بل المنهج الذي سلكه في تعقُّباته منهج خلا من التحقيق العلمي الدقيق المبني على الدراسة الواسعة للحديث من حيث الصناعة الحديثية ومعرفة مقاصد الشريعة والفقه في معانيها، وهذه سمة كثير ممن يشتغلون بعلم الحديث في هذا العصر!

واعتمد الدكتور أحمد على التقليد؛ وكأن أقوال أهل العلم في الرجال وعلل الحديث وَحْيٌ منزل من السماء لا تجوز مخالفته، وكأنهم لم يختلفوا في ذلك، ونتج من ذلك وغيره -كما سيتضح لك- تضعيف أحاديث هي عمدة أهل العلم وأصولهم في كثير من مسائل الفقه.

ورحم الله ابن القيم حيث قال: "وقد احتَجَّ الأَئِمَّةُ الأَرْبَعَةُ وَالْفُقَهَاءُ قَاطِبَةً بصحيفة عَمْرِو بن شُعَيْبِ عن أبيه عن جَدِّهِ، وَلا يُعْرَفُ في أَئِمَّةِ الْفَتْوَى إلَاّ من احْتَاجَ إلَيْهَا وَاحْتَجَّ، بهَا وَإِنَّمَا طَعَنَ فيها من لم يَتَحَمَّلْ أَعْبَاءَ الْفِقْهِ وَالفَتْوَى".
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁরই কাছে তওবা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট ও আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল।

অতঃপর: দ্বীনি ইলমের একজন শিক্ষার্থী আমাকে ডক্টর আহমদ আল-খলীল রচিত "মুসতাদরাকুত তা’লীল আলা ইরওয়াইল গালীল" শিরোনামের একটি বইয়ের ব্যাপারে অবহিত করেন। আমি দেখেছি যে, "ইরওয়াইল গালীল"-এর ওপর তার অধিকাংশ আপত্তিতে তিনি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। আর এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়; বরং তিনি তার আপত্তিসমূহে যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, তা হাদীস শাস্ত্রের কারিগরি দিক এবং শরীয়তের উদ্দেশ্য ও অর্থের গভীর ফিকহ সম্পর্কে বিস্তৃত অধ্যয়নের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক গবেষণা বর্জিত। আর বর্তমান যুগে হাদীস বিজ্ঞান নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের অনেকের মধ্যেই এই বৈশিষ্ট্যটি বিদ্যমান!

ডক্টর আহমদ অন্ধ অনুকরণের ওপর নির্ভর করেছেন; যেন বর্ণনাকারী এবং হাদীসের ত্রুটি বিষয়ে বিদগ্ধ আলেমদের বক্তব্য আকাশ থেকে অবতীর্ণ ওহী, যার বিরোধিতা করা বৈধ নয়, আর যেন তারা এ বিষয়ে কোনো মতভেদই করেননি! এর ফলে এবং অন্যান্য কারণে—যা আপনার কাছে অচিরেই স্পষ্ট হবে—এমন সব হাদীসকে দুর্বল সাব্যস্ত করা হয়েছে যা ফিকহের অনেক মাসআলায় বিদগ্ধ আলেমদের প্রধান অবলম্বন ও মূল ভিত্তি।

ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ)-কে আল্লাহ দয়া করুন, তিনি বলেছেন: "চার ইমাম এবং সকল ফকীহ আমর ইবনে শুআইব-এর তাঁর পিতা ও তাঁর দাদা থেকে বর্ণিত সহীফাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ফতোয়া প্রদানকারী ইমামদের মধ্যে এমন কাউকে পাওয়া যায় না যিনি এর মুখাপেক্ষী হননি এবং একে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেননি। প্রকৃতপক্ষে তারাই এর সমালোচনা করেছেন যারা ফিকহ ও ফতোয়ার গুরুভার বহন করেননি।"
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ৬)
وقبل الجواب على تعقُّبات الدكتور الخليل أنبِّه على قواعد ومسائل فى علوم الحديث، نصيحة لطلبة العلم الراغبين فى البحث والدراسة فى هذا العلم الشريف، وأُبَيِّنُ لجملة من طلبة العلم الذين يتقفّرون هذا الفن أنهم علموا أشياء وفاتهم الأكثر، وأن زمن الرواية انتهى، ولا ينبغى لأحد أن يتشبع بما لم يُعْطَ، وأن أقدر الناس فى الحكم على الأحاديث في هذا العصر -وخصوصًا المختلف فيها- هم أهل العلم بمعانيه والاطلاع الواسع على متونه وآثار الصحابة، فهم حملته الأوَّلون، فإن السنة يصدِّقُ بعضها بعضًا، وعمل الصحابة أعظم برهان على صدق الحديث أو كذبه وخطئه من صوابه، قال تعالى:- {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلامَ دِينًا} [المائدة: 3] الآية، فحديث لا يعرفه الصحابة رضي الله عنه ليس بحديتْ، ويأتي مؤيد بيان وتفصيل.

فأقول وبالله التوفيق:

أول هذه القواعد: أن أهل الحديث ليسوا على درجة واحدة في الفقه، كما قال عليه السلام "نضَّرَ اللهُ عبدًا سَمِعَ مقالتي فوعاها، ثم أدَّاها إلى من لم يسمعها، فرُبَّ حاملِ فقهٍ لا فِقْهَ له، ورُبَّ حاملِ فِقْهٍ إلى من هو أفقهُ منه" وهو حديث متواتر.

قال شيخ الإسلام: "وأهل العلم المأثور عن الرسول صلى الله عليه وسلم أعظم الناس قيامًا مًا بهذه الأصول، لا تأخذ أحدهم في الله لومة لائم، ولا يصدهم عن سبيل الله العظائم؛ بل يتكلم أحدهم بالحق الذي عليه، ويتكلم في أحب الناس إليه عملاً بقوله تعالى: ({يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ إِنْ يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلَى بِهِمَا فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَى أَنْ تَعْدِلُوا وَإِنْ تَلْوُوا أَوْ تُعْرِضُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا (135)} [النساء: 135] وقوله تعالى: ({يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ وَلا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ} [المائدة: 8].
ডক্টর আল-খালীল-এর আপত্তিসমূহের উত্তর দেওয়ার আগে আমি হাদীস শাস্ত্রের কিছু মূলনীতি ও মাসআলার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এটি সেই সব ইলম অন্বেষণকারী বা শিক্ষার্থীদের জন্য নসিহত, যারা এই মহান শাস্ত্র নিয়ে গবেষণা ও পড়াশোনা করতে আগ্রহী। আর আমি ইলম অন্বেষণকারীদের একটি দলের কাছে স্পষ্ট করছি যারা এই শিল্পের পিছে লেগে থাকে যে, তারা কিছু বিষয় জেনেছে বটে, কিন্তু অধিকাংশ বিষয়ই তাদের কাছে অস্পষ্ট রয়ে গেছে। রেওয়ায়েত বা বর্ণনার যুগ শেষ হয়ে গেছে, এবং কারো জন্য এমন কিছু নিয়ে তৃপ্তিবোধ করা উচিত নয় যা তাকে দেওয়া হয়নি। বর্তমান যুগে হাদীসের ওপর হুকুম প্রদানে—বিশেষ করে মতভেদপূর্ণ হাদীসগুলোর ক্ষেত্রে—সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি হলেন তারা, যারা হাদীসের অর্থের ব্যাপারে জ্ঞানী এবং হাদীসের মতন (মূল পাঠ) ও সাহাবীগণের আছার বা বর্ণনাসমূহের ব্যাপারে গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী। কারণ তাঁরাই এর প্রথম বাহক। সুন্নাহর এক অংশ অন্য অংশকে সত্যায়ন করে। আর সাহাবীগণের আমল বা কর্মই কোনো হাদীসের সত্যতা বা মিথ্যা হওয়া এবং ভুল বা সঠিক হওয়ার ব্যাপারে সবচেয়ে বড় প্রমাণ। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।" [সূরা আল-মায়িদাহ: ৩] আয়াতটি। সুতরাং যে হাদীস সম্পর্কে সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) অবগত নন, তা কোনো হাদীস নয়। এর স্বপক্ষে বর্ণনা ও বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে।

আমি বলছি, আর আল্লাহর সাহায্যেই তাওফীক অর্জিত হয়:

এই মূলনীতিগুলোর প্রথমটি হলো: হাদীস বিশারদগণ ফিকহ বা গভীর বুঝের ক্ষেত্রে একই স্তরের নন। যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ সেই বান্দাকে সজীব ও সতেজ রাখুন, যে আমার কথা শুনেছে, অতঃপর তা মনে রেখেছে এবং তা এমন ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিয়েছে যে তা শোনেনি। কেননা অনেক ফিকহ (জ্ঞানের কথা) বহনকারী আছে যে নিজে ফকীহ নয়, আবার অনেক ফিকহ বহনকারী এমন ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়ে অধিক ফকীহ।" আর এটি একটি মুতাওয়াতির হাদীস।

শাইখুল ইসলাম বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত ইলমের অধিকারীরাই এই মূলনীতিগুলো পালনে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগামী। আল্লাহর ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দা তাদের স্পর্শ করে না এবং কোনো বড় বিপদও তাদের আল্লাহর পথ থেকে বিরত রাখতে পারে না; বরং তাদের প্রত্যেকেই নিজের ওপর অর্পিত সত্যের ব্যাপারে কথা বলেন এবং আল্লাহর বাণীর ওপর আমল করে নিজের সবচেয়ে প্রিয় মানুষের বিরুদ্ধেও সত্য কথা বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা ন্যায়ের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাক আল্লাহর সাক্ষী হিসেবে; যদিও তা তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে কিংবা পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে হয়। সে ধনী হোক বা দরিদ্র হোক, আল্লাহই উভয়ের শ্রেষ্ঠ অভিভাবক। অতএব তোমরা ন্যায়বিচার করতে প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা পেঁচানো কথা বলো কিংবা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে মনে রেখো, তোমরা যা করো আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবগত।} [সূরা আন-নিসা: ১৩৫] এবং আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায়ের সাক্ষ্যদানে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাক। কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদের এমন উত্তেজিত না করে যে তোমরা ইনসাফ করবে না। ইনসাফ করো, এটা তাকওয়ার নিকটতর। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় তোমরা যা করো, আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবগত।} [সূরা আল-মায়িদাহ: ৮]।"
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ৭)
ولهم من التعديل والتجريح، والتضعيف والتصحيح، من السعي المشكور والعط المبرور؛ ما كان من أسباب حفظ الدين وصيانته عن إحداث المفترين، وهم في ذلك على درجات: منهم المقتصر على مجرد النقل والرواية، ومنهم أهل المعرفة الحديث والدراية، ومنهم أهل الفقه فيه والمعرفة بمعانيه" (1).

وأعلى هذه الدرجات كما لا يخفى، وأقدرهم في الحكم على الأحاديث الدرجة الثالثة.

ثانيها: ما قرَّره الأئمة في مصنفاتهم: أن الضعيف إذا تعدَّدت طرقه يصير حسنًا.

قال شيخ الإسلام: "وذلك أن الحديث إنما يخاف فيه من شيئين: إما تعمُّد الكذب، وإما خطأ الراوي، فإذا كان من وجهين لم يأخذه أحدهما في الفقه عن الآخر، وليس مما جرت العادة بأن يتفق تساوي الكذب فيه؛ عُلِمَ أنه ليس بكذب، لا سيما إذا كان الرواة ليسوا من أهل الكذب.

وأما الخطأ؛ فإنه مع التعدد يضعف؛ ولهذا كان أبو بكر وعمر رضي الله عنها يطلبان مع المحدث الواحد من يوافقه خشية الغلط، ولهذا قال تعالى في المرأتين: {أَنْ تَضِلَّ إِحْدَاهُمَا فَتُذَكِّرَ إِحْدَاهُمَا الأُخْرَى} [البقرة: 282]. هذا لو كانا عن صاحب واحد، فكيف وهذا قد رواه عن صاحب وذلك عن آخر وفي لفظ أحدهما زيادة على لفظ الآخر؟ فهذا كله ونحوه مما يبين أن الحديث في الأصل معروف".

وفي مسائل إسحاق بن منصور للإمام أحمد: "قُلْت: متى يتركُ حديث الرجلِ؟ قَالَ: إذا كان الغالب عليه الخطأ. قُلْتُ: الكذب من قليلٍ أو كثير؟ قَالَ: نعم" (2).

وقال ابن الصلاح: "فمنه ضعف يزيله ذلك بأن يكون ضعفه ناشئًا من

--------------------------------------------

(1) انظر "مجموع الفتاوى" (1/ 10).

(2) انظر "مسائل الإمام أحمد بن حنبل وابن راهويه" (2/ 562).
তাদের রয়েছে 'জারহ-তাদিল' (সমালোচনা ও গুণগান) এবং 'তাদঈফ-তাসহিহ' (দুর্বল ও সহিহকরণ) সংক্রান্ত এমন প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা ও পুণ্যময় দান, যা দীনকে হিফাজত করার এবং মিথ্যাবাদীদের উদ্ভাবন থেকে একে রক্ষা করার অন্যতম কারণ হিসেবে গণ্য হয়েছে। এক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত: তাদের কেউ শুধু বর্ণনা ও রেওয়ায়েতের ওপর সীমাবদ্ধ, কেউ হাদিস বিষয়ক জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী (দিরায়াহ), আবার কেউ এই বিষয়ের ফিকহ ও অর্থ সংক্রান্ত গভীর জ্ঞানের অধিকারী।" (১)।

যেমনটি অস্পষ্ট নয় যে, এই স্তরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ এবং হাদিসের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বাধিক পারদর্শী হলো তৃতীয় স্তরটি।

দ্বিতীয়ত: ইমামগণ তাদের গ্রন্থাবলিতে যা সাব্যস্ত করেছেন তা হলো: দুর্বল হাদিসের সূত্র একাধিক হলে তা 'হাসান' স্তরে উন্নীত হয়।

শাইখুল ইসলাম বলেন: "বিষয়টি হলো, হাদিসের ক্ষেত্রে কেবল দুটি বিষয়ের আশঙ্কা করা হয়: হয় ইচ্ছাকৃত মিথ্যাচার, অথবা বর্ণনাকারীর ভুল। সুতরাং হাদিসটি যদি এমন দুটি ভিন্ন দিক থেকে আসে যেখানে একজন অপরজনের কাছ থেকে ফিকহ অর্জন করেনি, এবং যেখানে সাধারণত মিথ্যার সাদৃশ্য ঘটা স্বাভাবিক নয়; তবে এটি জানা যায় যে তা মিথ্যা নয়, বিশেষ করে যখন বর্ণনাকারীগণ মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিত নন।

আর ভুলের বিষয়টি হলো, একাধিক সূত্রের উপস্থিতিতে ভুলের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায়। এই কারণেই আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) ভুলের আশঙ্কায় একজন হাদিস বর্ণনাকারীর সাথে এমন একজনকে খুঁজতেন যিনি তার বর্ণনার সমর্থন করবেন। একারণেই মহান আল্লাহ দুজন নারীর ক্ষেত্রে বলেছেন: {যাতে তাদের একজন ভুল করলে অপরজন তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে পারে} [আল-বাকারা: ২৮২]। এটি তো তখন যখন বর্ণনাকারীগণ একই সাহাবি থেকে বর্ণনা করেন, কিন্তু বিষয়টি যদি এমন হয় যে একজন এক সাহাবি থেকে এবং অন্যজন অন্য সাহাবি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং একজনের শব্দে অন্যজনের শব্দের চেয়ে অতিরিক্ত কিছু রয়েছে? এই সবকিছু এবং এজাতীয় বিষয়গুলো এটিই স্পষ্ট করে যে, হাদিসটি মূলত সুপরিচিত।"

ইমাম আহমদের নিকট ইসহাক ইবনে মনসুরের মাসায়েলসমূহে বর্ণিত আছে: "আমি বললাম: কখন একজন ব্যক্তির হাদিস বর্জন করা হবে? তিনি বললেন: যখন তার ওপর ভুলের প্রাধান্য দেখা দিবে। আমি বললাম: মিথ্যাচার কি সামান্য হোক বা বেশি? তিনি বললেন: হ্যাঁ" (২)।

ইবনুস সালাহ বলেন: "এর মধ্যে এমন কিছু দুর্বলতা রয়েছে যা দূরীভূত হয়, যখন সেই দুর্বলতার উৎস হয়...

--------------------------------------------

(১) দেখুন "মাজমুউল ফাতাওয়া" (১/১০)।

(২) দেখুন "মাসায়েলুল ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল ওয়া ইবনে রাহওয়াইহ" (২/৫৬২)।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ৮)
ضعف حفظ راويه، مع كونه من أهل الصدق والديانة، فإذا رأينا ما رواه قد جاء من وجه آخر عرفنا أنه مما قد حفظه، ولم يختل فيه ضبطه له" (1).

وقال الحافظ ابن حجر: "ومتى توبع السيئ الحفظ بمعتبر كأن يكون فوقه أو مثله لا دونه، وكذا المستور والمرسل والمدلس؛ صار حديثهم حسنًا؛ لا لذاته؛ بل باعتبار المجموع من المُتابَع والمتابع" (2).

وقال العلامة الشنقيطي رحمه الله:

"وهذه الروايات الواردة بذكر اليدين إلى المرفقين تدل على السنية، وإن كانت لا يخلو شيء منها من مقال، فإن بعضها يشدُّ بعضًا؛ لما تقرر في علوم الحديث من أن الطرق الضعيفة المعتبر بها يقوى بعضها بعضًا حتى يصلح مجموعها للاحتجاج، لا تخاصم بواحد أهل بيت، فضعيفان يغلبان قويًّا، وتعتضد أيضًا بالموقوفات المذكورة" (3).

وقال الحافظ ابن حجر في كلامه على ما سكت عليه أبو داود:

"ومن هنا يتبين أن جميع ما سكت عليه أبو داود لا يكون من قبيل الحسن الاصطلاحي، بل هو على أقسام:

1 - منه ما هو في الصحيحين، أو على شرط الصحة.

2 - ومنه ما هو من قبيل الحسن لذاته.

3 - ومنه ما هو من قبيل الحسن إذا اعتضد.

وهذان القسمان كثير في كتابه جدًّا.

4 - ومنه ما هو ضعيف، لكنه من رواية من لم يجمع على تركه غالبًا، وكل

--------------------------------------------

(1) انظر "مقدمة ابن الصلاح" (ص 34).

(2) انظر "نخبة الفكر" (ص 230).

(3) انظر "أضواء البيان" (1/ 363).
"তার বর্ণনাকারীর স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা সত্ত্বেও তিনি সত্যবাদিতা ও দ্বীনদারীর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যখন আমরা দেখি যে তার বর্ণিত বিষয়টি অন্য কোনো সূত্র থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তখন আমরা বুঝতে পারি যে এটি তিনি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পেরেছিলেন এবং তার স্মৃতিশক্তির হেফাযতে কোনো বিচ্যুতি ঘটেনি" (১)।

হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "যখন দুর্বল স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারীর বর্ণনার সমর্থন (মুতাবায়াত) এমন কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনা দ্বারা পাওয়া যায় যা তার সমপর্যায়ের বা তার চেয়ে উন্নত কিন্তু তার নিম্নস্তরের নয়, এবং একইভাবে মাসতুর, মুরসাল ও মুদাল্লাস বর্ণনার ক্ষেত্রেও যদি এটি ঘটে; তবে তাদের হাদিসটি হাসান পর্যায়ে উন্নীত হয়; এটি তার স্বকীয় গুণের কারণে নয়, বরং মুতাবা’ (সমর্থিত) ও মুতাবা’ (সমর্থনকারী)—এ উভয়ের সমষ্টিগত বিবেচনায়" (২)।

আল্লামা শানকীতি (রহ.) বলেন:

"কনুই পর্যন্ত উভয় হাত ধোয়ার বিষয়ে যেসব বর্ণনা এসেছে তা সুন্নাত হওয়ার প্রমাণ দেয়। যদিও এগুলোর কোনটিই সমালোচনা মুক্ত নয়, তবুও এর একটি অন্যটিকে শক্তিশালী করে; কেননা উলূমুল হাদিসে এটি প্রতিষ্ঠিত যে, নির্ভরযোগ্য দুর্বল সূত্রগুলো একে অপরকে শক্তিশালী করে, এমনকি তাদের সমষ্টি দলীল হিসেবে গ্রহণের উপযোগী হয়। পরিবারের একজনের সাথে যেমন ঝগড়া করে পারা যায় না, তেমনি দুটি দুর্বল বর্ণনা একটি শক্তিশালী বর্ণনার ওপর প্রবল হয় এবং এগুলো উল্লিখিত মাওকুফ বর্ণনাগুলোর দ্বারাও শক্তি লাভ করে" (৩)।

হাফেজ ইবনে হাজার ইমাম আবু দাউদ কর্তৃক নীরবতা অবলম্বন করা হাদিসগুলো সম্পর্কে বলেন:

"এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, ইমাম আবু দাউদ যেসব হাদিসের ব্যাপারে নীরব থেকেছেন তার সবগুলি পরিভাষাগত 'হাসান' নয়, বরং তা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত:

১ - এর মধ্যে কিছু রয়েছে যা সহীহাইনের (বুখারি ও মুসলিম) অন্তর্ভুক্ত অথবা সহীহ হওয়ার শর্তের ওপর উত্তীর্ণ।

২ - এর মধ্যে কিছু হলো হাসান লি-জাতিহি (স্বকীয়ভাবে হাসান) পর্যায়ের।

৩ - এর মধ্যে কিছু হলো সেই হাসান যা অন্য কিছুর সমর্থনে হাসান হয়েছে।

এই দুটি প্রকার তার কিতাবে অত্যন্ত বেশি রয়েছে।

৪ - আবার কিছু রয়েছে দুর্বল, কিন্তু তা এমন বর্ণনাকারীর বর্ণনা থেকে এসেছে যাকে বর্জন করার বিষয়ে সাধারণত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি, এবং প্রতিটি

--------------------------------------------

(১) দেখুন "মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ" (পৃ. ৩৪)।

(২) দেখুন "নুখবাতুল ফিকার" (পৃ. ২৩০)।

(৩) দেখুন "আদওয়াউল বায়ান" (১/ ৩৬৩)।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ৯)
هذه الأقسام عنده تصلح للاحتجاج بها، كما نقل ابن منده عنه أنه يخرج الحديث الضعيف إذا لم يجد في الباب غيره، وأنه أقوى عنده من رأي الرجال" (1).

وقال الحافظ شمس الدين الذهبي رحمه الله:

"قلت: فقد وفي رحمه الله بذلك بحسب اجتهاده، وبيَّن ما ضعفه شديد ووهنه غير محتمل وكاسر (2) عن ما ضعفه خفيف محتمل، فلا يلزم من سكوته والحالة هذه عن الحديث أن يكون حسنًا عنده، ولا سيما إذا حكمنا على حد الحسن باصطلاحنا المولَّد الحادث، الذي هو في عرف السلف يعود إلى قسم من أقسام الصحيح الذي يجب العمل به عند جمهور العلماء، أو الذي يرغب عنه أبو عبد الله البخاري ويمشِّيه مسلم، وبالعكس؛ فهو داخل في أداني مراتب الصحة، فإنه لو انحطَّ عن ذلك لخرج عن الاحتجاج ولبقي متجاذبًا بين الضعف والحسن، فكتاب أبي داود أعلى ما فيه من الثابت ما أخرجه الشيخان، وذلك نحو من شطر الكتاب، ثم يليه ما أخرجه أحد الشيخين ورغب عنه الآخر، ثم يليه ما رَغِبَا عنه وكان إسناده جيِّدًا سالمًا من عِلّةٍ وشذوذٍ، ثم يليه ما كان إسناده صالحًا، وقَبِلَهُ العلماءُ لمجيئه من وجهين ليِّنين فصاعدًا؛ يعضد كل إسناد منهما الآخر، ثم يليه ما ضعف إسناده لنقص حفظ راويه، فمثل هذا يُمَشِّيه أبو داود ويسكت عنه غالبًا، ثم يليه ما كان بين الضعف من جهة راويه؛ فهذا لا يسكت عنه؛ بل يوهنه غالبًا، وقد يسكت عنه بحسب شهرته ونكارته، والله أعلم" (3).

وقال العلامة المحقق ابن قيم الجوزية رحمه الله:

"الأَصْلُ الرابع من أصول أحمد: الأَخْذُ بِالْمُرْسَلِ وَالْحَدِيثِ الضعيف إذَا

--------------------------------------------

(1) انظر "النكت على ابن الصلاح": (1/ 435).

(2) أي: غضَّ الطرفَ والنظر.

(3) انظر "سير أعلام النبلاء " (13/ 214).
তাঁর নিকট এই প্রকারগুলো দলীল হিসেবে গ্রহণের যোগ্য, যেমন ইবন মানদাহ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি যঈফ হাদীস বর্ণনা করতেন যদি সেই অধ্যায়ে অন্য কোনো হাদীস না পেতেন, এবং এটি তাঁর নিকট মানুষের রায়ের (ব্যক্তিগত মতামত) চেয়ে অধিক শক্তিশালী ছিল।" (১)।

হাফেজ শামসুদ্দিন আয-যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

"আমি বলি: তিনি (আবু দাউদ) তাঁর ইজতিহাদ অনুযায়ী সেই দায়িত্ব পালন করেছেন এবং যে হাদীসের দুর্বলতা অত্যন্ত তীব্র ও যার অসারতা অসহনীয়, সেটিকে এমন হাদীস থেকে পৃথক (২) করেছেন যার দুর্বলতা সামান্য ও সহনীয়। এমতাবস্থায় কোনো হাদীসের ব্যাপারে তাঁর নীরব থাকা থেকে এটি আবশ্যক হয় না যে, হাদীসটি তাঁর নিকট 'হাসান' হবে, বিশেষ করে যদি আমরা হাসানের সংজ্ঞা আমাদের উদ্ভাবিত আধুনিক পরিভাষা অনুযায়ী নির্ধারণ করি; যা সালাফদের নিকট সহীহ হাদীসেরই একটি প্রকার হিসেবে গণ্য ছিল যার ওপর আমল করা জুমহুর উলামাদের নিকট ওয়াজিব, অথবা যা আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারী বর্জন করেছেন কিন্তু মুসলিম গ্রহণ করেছেন, কিংবা এর বিপরীত; সুতরাং এটি সহীহ পর্যায়ের সর্বনিম্ন স্তরের অন্তর্ভুক্ত। কারণ তা যদি এর নিচে নেমে যেত, তবে দলীল হিসেবে গ্রহণের অযোগ্য হয়ে পড়ত এবং দুর্বল ও হাসানের মাঝে দোদুল্যমান থাকত। আবু দাউদের কিতাবে সাব্যস্ত হাদীসগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের হলো যা শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন, যা কিতাবটির প্রায় অর্ধেক। এরপর সেই হাদীসগুলো যা শাইখাইনের কোনো একজন বর্ণনা করেছেন এবং অন্যজন বর্জন করেছেন। এরপর যা তাঁরা উভয়েই বর্জন করেছেন অথচ তার সনদ উত্তম এবং ইল্লত (সূক্ষ্ম ত্রুটি) ও শ্যুজুজ (বিচ্ছিন্নতা) থেকে মুক্ত। এরপর সেই হাদীসগুলো যার সনদ গ্রহণযোগ্য এবং উলামাগণ তা গ্রহণ করেছেন কারণ তা দুটি বা ততোধিক দুর্বল সূত্র থেকে বর্ণিত হয়ে একে অপরকে শক্তিশালী করেছে। এরপর সেই হাদীসগুলো যার সনদ রাবীর হিফযের (স্মৃতিশক্তি) ত্রুটির কারণে দুর্বল হয়েছে; আবু দাউদ এ জাতীয় হাদীস চালিয়ে নিতেন এবং সাধারণত এ ব্যাপারে নীরব থাকতেন। এরপর যা রাবীর দিক থেকে অত্যন্ত দুর্বল; এ জাতীয় হাদীসে তিনি নীরব থাকেন না, বরং সাধারণত একে দুর্বল বলে উল্লেখ করেন। তবে কখনো এর প্রসিদ্ধি বা মুনকার হওয়ার কারণে নীরব থাকতে পারেন। আল্লাহই ভালো জানেন।" (৩)।

আল্লামা মুহাক্কিক ইবনুল কায়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

"ইমাম আহমাদের উসূলসমূহের চতুর্থ উসূল হলো: মুরসাল এবং যঈফ হাদীস গ্রহণ করা যখন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন "আন-নুকাতু আলা ইবনিস সালাহ": (১/ ৪৩৫)।

(২) অর্থাৎ: সেটিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া বা উপেক্ষা করা।

(৩) দেখুন "সিয়ারু আ'লামিন নুবালা": (১৩/ ২১৪)।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ১০)
لم يَكُنْ في الْبَابِ شَيْءّ يَدْفَعُهُ، وهو الذي رَجَّحَهُ على الْقِيَاسِ، وَلَيسَ المُرَادُ بالضَّعِيفِ عِنْدَهُ الْبَاطِل وَلا الْمُنْكَر، وَلَا ما في رِوَايَتِهِ مُتَّهَمٌ بِحَيثُ لا يَسوغُ الذَّهَابُ إلَيْهِ فَالْعَمَلُ بِهِ؛ بَلْ الْحَدِيثُ الضَّعِيفُ عنده قَسِيمُ الصَّحِيحِ، وقِسْمٌ من أَقْسَامِ الْحَسَنِ، ولم يَكُنْ يقسم الحديث إلَى صحِيحٍ وَحَسَنٍ وَضَعِيفٍ بَلْ إلَى صَحِيحٍ وَضَعِيفٍ، وَلِلضعِيفِ عنده مَرَاتِبُ، فإذا لم يَجِدُ في الْبَابِ أَثَرًا يَدْفَعُهُ وَلا قَوْلَ صَاحِبٍ، وَلا إجماعًا على خِلَافِه، كان الْعَمَلُ بِهِ عِنْدَهُ أَوْلَى من الْقِيَاسِ.

وَلَيْسَ أحدٌ من الأَئِمَّةِ إلَاّ وهو مُوَافِقة على هذا الأَصلِ من حَيْثُ الجملَة، فإنه ما منهم أَحَد إلَاّ وقد قَدَّمَ الحديث الضعِيفَ على الْقِيَاسِ" (1).

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله:

"والضعيفُ عندهم نوعان: ضعيف ضعفًا لا يمتنعُ العملُ به؛ وهو يشبِهُ الحسن في اصطلاح الترمذي، وضعيف ضعفًا يُوجِبُ تركه؛ وهو الواهِ؛ وهذا بمنزلة مرض المريض قد يكون قاطعًا بصاحبه، فيجعل التبرع من الثلث، وقد لا يكون قاطعًا بصاحبه، وهذا موجود في كلام الإمام أحمد وغيره، ولهذا يقولون: هذا فيه لين، فيه ضعف، وهذا عندهم موجود في الحديث، ومن العلماء المحدِّثين أهل الإتقان، مثل: شعبة، ومالك، والثوري، ويحيى بن سعيد القطان، وعبد الرحمن بن مهدي؛ هم في غاية الإتقان والحفظ؛ بخلاف من هو دون هؤلاء.

وقد يكون الرجل عندهم ضعيفًا لكثرة الغلط في حديثه، ويكون حديثه إذًا الغالب عليه الصحة لأجل الاعتبار به والاعتضاد به، فإن تعدُّدَ الطُّرقِ وكثرتَها يقوِّي بعضَها بعضًا، حتى قد يحصل العلم بها، ولو كان الناقلون فُجَّارا فُسَّاقًا؛ فكيف إذا كانوا علماء عدولاً، ولكن كثر في حديثهم الغلط؟

--------------------------------------------

(1) انظر "إعلام الموقعين" (1/ 31).
এই বিষয়ে এমন কিছু ছিল না যা তাকে প্রত্যাখ্যান করে, আর এটিকেই তিনি কিয়াসের ওপর প্রাধান্য দিতেন। তাঁর নিকট ‘যঈফ’ (দুর্বল) বলতে ‘বাতিল’ বা ‘মুনকার’ উদ্দেশ্য নয়, আর এমনও নয় যার বর্ণনাকারী অভিযুক্ত এবং যার ওপর ভিত্তি করে আমল করা জায়েয নেই। বরং তাঁর নিকট যঈফ হাদীস হলো সহীহ হাদীসের একটি সহগামী প্রকার এবং তা ‘হাসান’ হাদীসেরই একটি শ্রেণীভুক্ত। তিনি হাদীসকে সহীহ, হাসান ও যঈফ—এই তিন ভাগে বিভক্ত করতেন না, বরং সহীহ ও যঈফ—এই দুই ভাগে ভাগ করতেন। তাঁর নিকট যঈফ হাদীসের বিভিন্ন স্তর ছিল। যদি তিনি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাকে প্রত্যাখ্যান করার মতো কোনো বর্ণনা (আসার), কোনো সাহাবীর বক্তব্য অথবা তার বিপরীত কোনো ইজমা (ঐক্যমত্য) না পেতেন, তবে তার ওপর আমল করা তাঁর নিকট কিয়াসের চেয়েও উত্তম ছিল।

আইম্মাদের (ইমামদের) মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি সামগ্রিকভাবে এই মূলনীতির সাথে একমত পোষণ করেননি। কেননা তাঁদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি কিয়াসের ওপর যঈফ হাদীসকে প্রাধান্য দেননি (১)।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

“তাঁদের নিকট যঈফ হাদীস দুই প্রকার: প্রথমত, এমন দুর্বলতা যা তার ওপর আমল করা থেকে বিরত রাখে না; এটি তিরমিযীর পরিভাষায় ‘হাসান’ হাদীসের সদৃশ। দ্বিতীয়ত, এমন দুর্বলতা যা তা বর্জন করাকে আবশ্যক করে দেয়; আর তা হলো ‘ওয়াহি’ (অত্যন্ত দুর্বল)। এটি রোগীর অসুস্থতার ন্যায়; কখনো তা রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়, ফলে (মরণকালীন) দান-সদকা এক-তৃতীয়াংশ থেকে কার্যকর হয়, আবার কখনো তা মৃত্যুর কারণ হয় না। ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্যদের বক্তব্যে এটি বিদ্যমান রয়েছে। এজন্যই তাঁরা বলেন: ‘এতে নমনীয়তা (লিন) আছে’, ‘এতে দুর্বলতা (যঈফ) আছে’। তাঁদের নিকট হাদীসের ক্ষেত্রে এটি বিদ্যমান। মুহাদ্দিস উলামাদের মধ্যে একদল রয়েছেন অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও পারদর্শী (আহলুল ইতকান), যেমন: শু’বাহ, মালিক, সাওরী, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান এবং আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী; তাঁরা হিফয ও নিপুণতার চূড়ান্ত স্তরে ছিলেন; যারা তাঁদের নিচের স্তরের তাদের বিষয়টি ভিন্ন।

কখনো কখনো তাঁদের নিকট কোনো ব্যক্তি তার বর্ণিত হাদীসে প্রচুর ভুলের কারণে যঈফ হতে পারেন, কিন্তু তবুও তার হাদীসের অধিকাংশ সঠিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে; যেন তা দ্বারা সমর্থন (ই’তিবার) ও সহায়তা (ইতিযাদ) লাভ করা যায়। কেননা বর্ণনার আধিক্য ও বিভিন্ন সূত্র একে অপরকে শক্তিশালী করে, এমনকি এর মাধ্যমে ইলম (নিশ্চিত জ্ঞান) অর্জিত হতে পারে; যদিও বর্ণনাকারীরা পাপাচারী (ফুজ্জার ও ফুসসাক) হয়। তাহলে সেই সব ন্যায়নিষ্ঠ আলিমদের অবস্থা কেমন হবে, যাদের হাদীসে ভুলের পরিমাণ কিছুটা বেশি?”

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ‘ইলামুল মুওয়াক্কিয়ীন’ (১/৩১)।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ১১)
ومثل هذا: عبد الله بن لهيعة؛ فإنه من أكابر علماء المسلمين، وكان قاضيًا بمصر كثير الحديث، لكن احترقت كتبه، فصار يُحَدِّثُ من حِفْظِهِ، فوقع في حديثه غلطٌ كثيرٌ، مع أن الغالب على حديثه الصحة، قال أحمد: قد أكتبُ حديثَ الرجلِ للاعتبار به، مثل: ابن لهيعة.

وأما مَن عُرِفَ منه أنه يتعمَّد الكذبَ؛ فمنهم من لا يروي عن هذا شيئًا، وهذه طريقة أحمد بن حنبل وغيره؛ لم يروِ في "مسنده" عمَّن يُعرَف أنه يتعمَّدُ الكذبَ، لكن يروي عمَّن عُرِفَ منه الغلط، للاعتبار به والاعتضاد.

ومن العلماء من كان يسمعُ حديث من يكذبُ، ويقول: إنه يميِّزُ بين ما يكذبه وبين ما لا يكذبه، ويُذْكَر عن الثوريّ أنه كان يأخذُ عن الكلبي وينهى عن الأخذ عنه، ويذكر أنه يعرف.

ومثل هذا قد يقع لمن كان خبيرًا بشخص إذا حدَّثه بأشياء يميِّزُ بين ما صَدَقَ فيه وما كذَبَ فيه؛ بقرائن لا يمكنُ ضبطُها.

وخبر الواحد قد يقترن به قرائن تدل على أنه صدقٌ، أو تقترنُ به القرائن تدل على أنه كذب" (1).

وقال ابن رجب: "وقد قال البيهقي في بعض أحاديث كثير بن عبد الله المزني: إذا انضمت إلى غيرها من الأسانيد التي فيها ضعف قوتها.

وقال الشافعي في المرسل: إنه إذا استند من وجه آخر وأرسله من يأخذ العلم عن غير من يأخذ عنه المرسل الأول؛ فإنه يقبل.

وقال الجوزجاني: إذا كان الحديث المسند من رجل غير مقنع -يعني لا يقنع برواياته- وشد أركانه المراسيل بالطرق المقبولة عند ذوي الاختيار استعمل واكتفي به.

--------------------------------------------

(1) "مجموع الفتاوى" (18/ 25 - 27).
এর উদাহরণ হলো: আবদুল্লাহ ইবনে লাহিয়া; তিনি মুসলিম আলেমদের মধ্যে বড় মাপের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি মিসরের বিচারক ছিলেন এবং প্রচুর হাদিস বর্ণনা করতেন। কিন্তু তাঁর কিতাবগুলো পুড়ে গিয়েছিল, ফলে তিনি তাঁর মুখস্থ স্মৃতি থেকে হাদিস বর্ণনা করতে শুরু করেন। এতে তাঁর বর্ণিত হাদিসে অনেক ভুল হয়ে যায়, যদিও তাঁর হাদিসের অধিকাংশ ছিল সঠিক। আহমাদ বলেন: আমি কোনো ব্যক্তির হাদিস লিপিবদ্ধ করি তা দিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করার জন্য, যেমন: ইবনে লাহিয়া।

আর যাঁর সম্পর্কে জানা যায় যে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলেন, তাঁদের মধ্য থেকে কেউ কেউ তাঁর থেকে কিছুই বর্ণনা করেন না। এটি ছিল আহমাদ বিন হাম্বল এবং অন্যদের পদ্ধতি; তিনি তাঁর 'মুসনাদ' গ্রন্থে এমন কারো থেকে বর্ণনা করেননি যাঁর সম্পর্কে জানা ছিল যে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলেন। তবে তিনি এমন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যাঁর সম্পর্কে ভুলের কথা জানা যায়, যাতে তা দিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ ও সমর্থন লাভ করা যায়।

আলেমদের মধ্যে এমন কেউ কেউ ছিলেন যারা মিথ্যাবাদীর হাদিস শুনতেন এবং বলতেন যে, তিনি যা মিথ্যা বলেছেন আর যা মিথ্যা বলেননি তার মধ্যে তিনি পার্থক্য করতে পারেন। সাওরি সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি কালবি থেকে বর্ণনা গ্রহণ করতেন কিন্তু অন্যদের তাঁর থেকে গ্রহণ করতে নিষেধ করতেন; আর তিনি উল্লেখ করতেন যে তিনি তা চিনতে পারেন।

এমনটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঘটতে পারে যিনি কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে অভিজ্ঞ, যখন সেই ব্যক্তি তাঁর নিকট কিছু বর্ণনা করেন তখন তিনি তাঁর সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন; এমন কিছু আলামতের মাধ্যমে যা নির্দিষ্ট করে বর্ণনা করা সম্ভব নয়।

আর খবর-এ-ওয়াহিদ বা একক বর্ণনার সাথে এমন কিছু আলামত যুক্ত হতে পারে যা সেটি সত্য হওয়ার প্রমাণ দেয়, আবার এমন কিছু আলামতও যুক্ত হতে পারে যা সেটি মিথ্যা হওয়ার প্রমাণ দেয় (১)।

ইবনে রজব বলেন: "বায়হাকি কাসির বিন আবদুল্লাহ আল-মুজানির কিছু হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: যখন এটি দুর্বলতা সম্পন্ন অন্যান্য সনদের সাথে যুক্ত হয়, তখন সেটি শক্তিশালী হয়।"

শাফিয়ি মুরসাল হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: যদি তা অন্য কোনো সূত্রে মুসনাদ (সংযুক্ত) হিসেবে পাওয়া যায় এবং এমন কেউ তা মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেন যিনি প্রথম মুরসাল বর্ণনাকারীর উৎস থেকে ভিন্ন কোনো উৎস থেকে জ্ঞান অর্জন করেন; তবে সেটি গ্রহণযোগ্য হবে।

জুজজানি বলেন: যদি কোনো মুসনাদ হাদিস এমন কোনো ব্যক্তি থেকে বর্ণিত হয় যিনি নির্ভরযোগ্য নন —অর্থাৎ যার বর্ণনা সন্তোষজনক নয়— এবং মুরসাল হাদিসসমূহ বিশেষজ্ঞগণের নিকট গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিসমূহের মাধ্যমে এর ভিত্তিগুলোকে শক্তিশালী করে, তবে তা ব্যবহার করা হবে এবং তাই যথেষ্ট হবে।

--------------------------------------------

(১) "মাজমুউল ফাতাওয়া" (১৮/ ২৫ - ২৭)।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ১২)
وهذا إذا لم يعارض بالمسند الذي هو أقوى منه، وقد استدل الإمام أحمد بهذا الحديث، وقال: قال النبي- صلى الله عليه وسلم: "لا ضرر ولا ضرار" (1). وقال أبو عمرو ابن الصلاح: هذا الحديث أسنده الدارقطني من وجوه، ومجموعها يقوِّي الحديث ويحسِّنه، وقد تقبَّله جماهير أهل العلم واحتجوا به، وقول أبي داود إنه من الأحاديث التي يدور الفقه عليها؛ يشعر بكونه غير ضعيف، والله أعلم (2).

وقيل: (3) ينبغي أن يجعل الحديث الضعيف في هذا الباب أربعة أقسام:

1 - الضعيف المنجبر الضعف بمتابعة أو شاهد، وهو ما يقال في أحد رواته: لين الحديث أو فيه لين، وهو الحديث الملقب بالمشبه؛ أي المشبه بالحسن من وجه، وبالضعيف من وجه آخر، وهو إلى الحسن أقرب.

2 - الضعيف المتوسط الضعف، وهو ما يقال في راويه: ضعيف الحديث، أو: مردود الحديث، أو: منكر الحديث …

3 - الضعيف الشديد الضعف، وهو ما فيه مُتَّهَمٌ، أو متروك.

4 - الموضوع.

- الأمثلة:

قد جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم من طريقين أنه لعن زوَّارات القبور، فعن أبي هريرة رضي الله عنه: "أن النبيَّ صلى الله عليه وسلم لعن زائرات القبور" رواه الإمام أحمد (4)، وابن ماجة (5)، والترمذي (6)، وصححه.

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد في "مسنده" (1/ 313)، وابن ماجه في "سننه": (2/ 784).

(2) انظر: "جامع العلوم والحكم" (1/ 304).

(3) انظر: "مجموع الفتاوى" (24/ 350).

(4) في "مسنده" (2/ 337، 356).

(5) في "سننه" (1576).

(6) في "جامعه" (1056).
এবং এটি তখন কার্যকর হয় যখন এর চেয়ে শক্তিশালী কোনো মুসনাদ (বর্ণনা) দ্বারা এর বিরোধিতা না করা হয়। ইমাম আহমাদ এই হাদিসটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন এবং বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না।" (১)। আবু আমর ইবনুস সালাহ বলেছেন: আদ-দারা কুতনী এই হাদিসটিকে বিভিন্ন সূত্রে মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এর সমষ্টি হাদিসটিকে শক্তিশালী করে ও হাসান পর্যায়ে উন্নীত করে। অধিকাংশ আলিম এটি গ্রহণ করেছেন এবং এটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। আবু দাউদ এর উক্তি যে, এটি এমন একটি হাদিস যার ওপর ফিকহ আবর্তিত হয়—তা নির্দেশ করে যে হাদিসটি দুর্বল নয়, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। (২)।

এবং বলা হয়েছে: (৩) এই অধ্যায়ে জঈফ (দুর্বল) হাদিসকে চারটি ভাগে বিভক্ত করা উচিত:

১ - এমন জঈফ যার দুর্বলতা মুতাবায়াত (অনুরূপ বর্ণনা) বা শাহেদ (সমর্থক বর্ণনা) দ্বারা দূর হয়ে গেছে। এটি এমন বর্ণনা যার কোনো একজন বর্ণনাকারী সম্পর্কে বলা হয়: 'হাদিসের ক্ষেত্রে শিথিল' বা 'তার মাঝে শিথিলতা রয়েছে'। এটি 'মুশাব্বাহ' উপাধিপ্রাপ্ত হাদিস; অর্থাৎ এক দিক থেকে হাসানের সদৃশ এবং অন্য দিক থেকে জঈফের সদৃশ, তবে এটি হাসানের বেশি নিকটবর্তী।

২ - মধ্যম মানের জঈফ। এটি এমন হাদিস যার বর্ণনাকারী সম্পর্কে বলা হয়: 'হাদিসে দুর্বল', অথবা: 'প্রত্যাখ্যাত হাদিস', অথবা: 'মুনকার হাদিস' …

৩ - চরম পর্যায়ের জঈফ। এটি এমন হাদিস যাতে অভিযুক্ত অথবা পরিত্যক্ত কোনো বর্ণনাকারী থাকে।

৪ - মাওজু (জাল)।

- উদাহরণসমূহ:

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে দুটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি কবরের নারী দর্শনার্থীদের অভিশাপ দিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: "নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবর জিয়ারতকারী নারীদের লানত করেছেন।" ইমাম আহমাদ (৪), ইবনু মাজাহ (৫) ও তিরমিজি (৬) এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিজি) একে সহিহ বলেছেন।

--------------------------------------------

(১) আহমাদ এটি তাঁর "মুসনাদ"-এ (১/ ৩১৩) এবং ইবনু মাজাহ তাঁর "সুনান"-এ: (২/ ৭৮৪) বর্ণনা করেছেন।

(২) দেখুন: "জামি’উল উলূম ওয়াল হিকাম" (১/ ৩০৪)।

(৩) দেখুন: "মাজমুউল ফাতাওয়া" (২৪/ ৩৫০)।

(৪) তাঁর "মুসনাদ"-এ (২/ ৩৩৭, ৩৫৬)।

(৫) তাঁর "সুনান"-এ (১৫৭৬)।

(৬) তাঁর "জামি"-এ (১০৫৬)।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ১৩)
وعن ابن عباس رضي الله عنها:"أن النبي- صلى الله عليه وسلم لعن زائرات القبور والمتَّخذين عليها المساجد والسُّرج"، رواه الإمام أحمد (1)، وأبو داود (2)، والنسائي (3)، والترمذي وحسنه (4)، وفي نسخ تصحيحه، ورواه بن ماجه (5) من دون ذكر الزيارة.

فإن قيل: الحديث الأول رواه عمر بن أبي سلمة، وقد قال فيه علي بن المديني: تركه شعبة، وليس بذاك. وقال ابن سعد: كان كثير الحديث، وليس يحتج بحديثه. وقال السَّعدي، والنسائي: ليس بقوي الحديث.

والثاني: فيه أبو صالح باذام مولى أم هانئ، وقد ضعفوه، قال أحمد: كان ابن مهدي ترك حديث أبي صالح، وكان أبو حاتم يكتب حديثه ولا يحتج به. وقال ابن عدي: عامة ما يرويه تفسير، وما أقل ما له في "المسند"، ولم أعلم أحدًا من المتقدِّمين رَضِيَهُ.

قلت: الجواب على هذا من وجوه:

أحدها: أن يقال: كلٌّ من الرجلين قد عدَّله طائفة من العلماء كما جرَّحه آخرون، أما عمر؛ فقد قال فيه أحمد بن عبد الله العجلي: ليس به بأس. وكذلك قال يحيى بن معين: ليس به بأس. وابن معين وأبو حاتم من أصعب الناس تزكية.

وأما قول من قال: تركه شعبة، فمعناه: أنه لم يرو عنه، كما قال أحمد

ابن حنبل: لم يسمع شعبة من عمر بن أبي سلمة شيئًا. وشعبة ويحيى بن سعيد وعبد الرحمن بن مهدي ومالك ونحوهم، قد كانوا يتركون الحديث عن أناس لنوع شبهة بلغتهم لا توجب رد أخبارهم، فهم إذا رووا عن شخص كانت

--------------------------------------------

(1) في "مسنده" (1/ 229، 287، 4 32، 337).

(2) في "السنن" (3236).

(3) في "السنن الكبرى" (2170) وفي "المجتبى" (4/ 94 - 95).

(4) في "جامعه" (320).

(5) في "السنن" (1575).
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবর জিয়ারতকারী নারী এবং কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণকারী ও প্রদীপ প্রজ্বলনকারীদের লানত করেছেন।" এটি ইমাম আহমাদ (১), আবু দাউদ (২), নাসায়ি (৩), তিরমিযী (৪) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে হাসান বলেছেন, আবার কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে একে সহীহ বলেছেন। ইবনে মাজাহ (৫) এটি বর্ণনা করেছেন জিয়ারতের উল্লেখ ছাড়া।

যদি বলা হয়: প্রথম হাদিসটি ওমর ইবনে আবু সালামাহ বর্ণনা করেছেন, যার সম্পর্কে আলী ইবনুল মাদিনী বলেছেন: শু'বাহ তাকে পরিত্যাগ করেছেন এবং তিনি তেমন নির্ভরযোগ্য নন। ইবনে সাদ বলেছেন: তিনি প্রচুর হাদিস বর্ণনা করতেন, কিন্তু তার হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। আস-সাদী এবং নাসায়ি বলেছেন: তিনি হাদিসে শক্তিশালী নন।

আর দ্বিতীয় হাদিসটিতে আবু সালেহ বাযাম রয়েছেন, যিনি উম্মে হানির আযাদকৃত দাস ছিলেন। মুহাদ্দিসগণ তাকে দুর্বল বলেছেন। আহমাদ বলেছেন: ইবনে মাহদী আবু সালেহর হাদিস বর্জন করেছিলেন। আবু হাতেম তার হাদিস লিখতেন কিন্তু তা দিয়ে দলিল পেশ করতেন না। ইবনে আদি বলেছেন: তিনি যা বর্ণনা করেছেন তার অধিকাংশ হলো তাফসীর, এবং 'মুসনাদ'-এ তার বর্ণনা খুবই কম। পূর্ববর্তী আলেমদের মধ্যে কাউকে আমি জানি না যিনি তাকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে পছন্দ করেছেন।

আমি বলি: এর উত্তর কয়েকভাবে দেওয়া যায়:

প্রথমত: বলা হবে যে, এই দুই ব্যক্তির প্রত্যেককেই একদল আলেম নির্ভরযোগ্য বলেছেন, যেমনটি অন্য একদল তাদের সমালোচনা করেছেন। ওমরের ব্যাপারে আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ইজলি বলেছেন: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। একইভাবে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনও বলেছেন: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। আর ইবনে মাঈন ও আবু হাতেম তো নির্ভরযোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন।

আর যারা বলেছেন যে, "শু'বাহ তাকে পরিত্যাগ করেছেন", তার অর্থ হলো: তিনি তার থেকে বর্ণনা করেননি, যেমনটি আহমাদ

ইবনে হাম্বল বলেছেন: শু'বাহ ওমর ইবনে আবু সালামাহ থেকে কিছুই শোনেননি। আর শু'বাহ, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী, মালিক এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ কোনো কোনো লোকের হাদিস বর্ণনা করা ছেড়ে দিতেন এমন কিছু সংশয়ের কারণে যা তাদের নিকট পৌঁছাত, যা আসলে তাদের বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করার অপরিহার্য কারণ ছিল না। সুতরাং তারা যখন কোনো ব্যক্তির থেকে বর্ণনা করতেন তখন তা হতো...

--------------------------------------------

(১) তাঁর 'মুসনাদ'-এ (১/ ২২৯, ২৮৭, ৪৩২, ৩৩৭)।

(২) 'আস-সুনান'-এ (৩২৩৬)।

(৩) 'আস-সুনানুল কুবরা'-তে (২১৭০) এবং 'আল-মুজতাবা'-তে (৪/ ৯৪-৯৫)।

(৪) তাঁর 'জামে'-তে (৩২০)।

(৫) 'আস-সুনান'-এ (১৫৭৫)।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ১৪)
روايتهم تعديلا له، وأما ترك الرواية فقد يكون لشبهة لا توجب الجرح، وهذا معروف في غير واحد قد خُرِّجَ له في الصحيح.

وكذلك قول من قال: ليس بقوي في الحديث، عبارة لينة تقتضى أنه ربما كان في حفظه بعض التغير، ومثل هذه العبارة لا تقتضي عندهم تعمُّد الكذب ولا مبالغة في الغلط.

وأما أبو صالح؛ فقد قال يحيى بن سعيد القطان: لم أر أحدًا من أصحابنا ترك أبا صالح مولى أم هانئ، وما سمعتُ أحدًا من الناس يقول فيه شيئًا، ولم يتركه شعبة ولا زائدة (1). فهذه رواية شعبة عنه تعديل له كما عرف من عادة شعبة، وترك ابن مهدي له لا يعارض ذلك، فإن يحيى بن سعيد أعلم بالعلل والرجال من ابن مهدي، فإن أهل الحديث متفقون على أن شعبة ويحيى بن سعيد أعلم بالرجال من ابن مهدي وأمثاله.

وأما قول أبي حاتم: يكتب حديثُه ولا يحتجُّ به. فأبو حاتم يقول مثل هذا في كثير من رجال الصحيحين، وذلك أن شرطه في التعديل صعب، والحجَّة في اصطلاحه ليس هو الحجة في جمهور أهل العلم.

وهذا كقول من قال: لا أعلم أنهم رضوه. وهذا يقتضى أنه ليس عندهم من الطبقة العالية، ولهذا لم يخرج البخاري ومسلم له ولأمثاله، لكن مجرد عدم تخريجهما للشخص لا يوجب رد حديثه، وإذا كان كذلك، فيقال: إذا كان الجارح والمعدل من الأئمة لم يقبل الجرح إلا مفسَّرًا؛ فيكون التعديل مقدَّمًا على الجرح المطلق".

وقال شيخ الإسلام رحمه الله:

"وقد روى الترمذي والبزار من حديث كثير بن عبد الله بن عمرو بن عوف المزنى، عن أبيه، عن جده: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم -قال: "الصُّلحُ جائزٌ بين المسلمين

--------------------------------------------

(1) انظر "الكامل في ضعفاء الرجال" (2/ 69)، و"ميزان الاعتدال في نقد الرجال" (2/ 3).
তাদের বর্ণনা করা হলো তার নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ, আর বর্ণনা বর্জন করা কখনো এমন সংশয়ের কারণে হতে পারে যা জরাহ (দোষারোপ) আবশ্যক করে না। এটি সহীহ গ্রন্থগুলোতে স্থান পাওয়া একাধিক রাবীর ক্ষেত্রে সুপরিচিত।

একইভাবে কারও এ কথা বলা যে, "তিনি হাদীসে শক্তিশালী নন", এটি একটি নমনীয় উক্তি যা ইঙ্গিত করে যে সম্ভবত তার স্মৃতিশক্তিতে কিছুটা পরিবর্তন ঘটেছিল। তাদের মতে, এ ধরণের উক্তি ইচ্ছাকৃত মিথ্যা বলা বা অত্যধিক ভুলের সম্ভাবনা বোঝায় না।

আর আবু সালিহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান বলেন: "আমি আমাদের সাথীদের কাউকেই উম্মে হানির আযাদকৃত গোলাম আবু সালিহকে বর্জন করতে দেখিনি এবং মানুষের কাউকে তার সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক কথা বলতে শুনিনি। শু'বাহ এবং যায়িদাহও তাকে বর্জন করেননি (১)।" সুতরাং শু'বাহর তার থেকে বর্ণনা করা হলো তার নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ, যেমনটি শু'বাহর অভ্যাস হিসেবে পরিচিত। আর ইবনে মাহদীর তাকে বর্জন করা এর সাথে সাংঘর্ষিক নয়; কারণ ইয়াহইয়া বিন সাঈদ ইলমুল ইলাল (হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) এবং রিজাল (বর্ণনাকারী) সম্পর্কে ইবনে মাহদীর চেয়ে অধিক জ্ঞানী। হাদীস বিশারদগণ একমত যে, শু'বাহ এবং ইয়াহইয়া বিন সাঈদ রাবীদের বিষয়ে ইবনে মাহদী ও তার সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের তুলনায় অধিক জ্ঞানী।

আর আবু হাতেমের এই উক্তি যে, "তার হাদীস লেখা যাবে কিন্তু তার দ্বারা দলিল পেশ করা যাবে না" - এ প্রসঙ্গে কথা হলো, আবু হাতেম সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর অনেক রাবী সম্পর্কেও এমনটি বলেন। এর কারণ হলো, তা'দীল (নির্ভরযোগ্যতা প্রদান)-এর ক্ষেত্রে তার শর্ত অত্যন্ত কঠিন, এবং তার পরিভাষায় 'হুজ্জাত' (দলিলযোগ্য হওয়া) বলতে যা বোঝায়, তা অধিকাংশ আলেমদের পরিভাষার অনুরূপ নয়।

এটি সেই ব্যক্তির উক্তির মতো যে বলে: "আমি জানি না যে তারা তাকে পছন্দ করেছেন কি না।" এটি এই ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি তাদের নিকট উচ্চ স্তরের অন্তর্ভুক্ত নন। একারণেই ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম তার ও তার সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেননি। তবে কোনো ব্যক্তির হাদীস তাদের উভয়ের বর্ণনা না করাটা কেবল সেই কারণে তার হাদীস প্রত্যাখ্যান করাকে আবশ্যক করে না। যদি বিষয়টি এমন হয়, তবে বলা হবে: "যখন জরাহকারী ও তা'দীল প্রদানকারী উভয়ই ইমামদের পর্যায়ের হন, তখন ব্যাখ্যা ছাড়া জরাহ গ্রহণ করা হবে না; সেক্ষেত্রে সাধারণ জরাহর তুলনায় তা'দীলকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে।"

শাইখুল ইসলাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন:

"তিরমিযী ও বাযযার কাসীর বিন আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আওফ আল-মুযানী থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: 'মুসলমানদের মধ্যে আপস-নিষ্পত্তি বৈধ।'

--------------------------------------------

(১) দেখুন "আল-কামিল ফি দুয়াফাউর রিজাল" (২/ ৬৯), এবং "মিযানুল ইতিদাল ফি নাকদির রিজাল" (২/ ৩)।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ১৫)
إلا صُلحًا حرَّمَ حلالاً، أو أحلَّ حرامًا، والمسلمون على شروطهم إلا شرطًا حرَّم حلالاً أو أحلَّ حرامًا" (1)، قال الترمذي: حديث حسن صحيح.

وروى ابن ماجه منه اللفظ الأول، لكن كثير بن عمرو ضعَّفه الجماعة، وضرب أحمد على حديثه في "المسند"، فلم يحدِّث به (2)، فلعل تصحيح الترمذي له لروايته من وجوه.

وقد روى أبو بكر البزار أيضًا: عن محمد بن عبد الرحمن بن السلماني عن أبيه عن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الناس على شروطهم، ما وافقت الحق" (3)، وهذه الأسانيد وإن كان الواحد منها ضعيفًا؛ فاجتماعها من طرق يشد بعضها بعضًا" (4).

"وقال الإمام أحمد: أحاديث: "أفطر الحاجم والمحجوم" (5)، "لا نكاح إلا بولي" (6)، أحاديث يشد بعضها بعضًا، وأنا أذهب إليها" (7).

وعن علي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تبرز فحْذك، ولا تنظر إلى

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي (1352) وابن ماجه (2353) والحاكم (4/ 113) وغيرهم، وانظر: "إرواء الغليل" (5/ 250).

(2) انظر: "المحرر" لابن عبد الهادي (1/ 495).

(3) أخرج أيضًا ابن الجارود في "المنتقى" ج 1/ ص1 16، برقم 637 - حَدَّثَنَا حَمْزَةُ بْنُ مَالِكِ ابن حمزة الأَسْلَمِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي سُفْيَانُ يَعنِي ابْنَ حَمْزَةَ عَمَّه عَن كَثِيرٍ يَعْنِي ابْنَ يَزِيدَ عَنِ الْوَلِيدِ بن رَبَاحِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "الْمُسْلِمُونَ عَلَى شُرُوطِهِم مَا وافق الْحَقَّ مِنْهَا"، وفي سنن الدارقطني: (3/ 28) وعن خصيف عن عطاء بن أبي رباح عن أنس بن مالك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "المسلمون على شروطهم ما وافق الحق من ذلك". وأورده الهيثمي عن ابن عمر في مجمع الزوائد: (4/ 86) من مسند البزار.

(4) انظر "مجموع الفتاوى": (29/ 147).

(5) أخرجه البخاري في صحيحه: ج 2/ ص 685: (وَيُروَى عن الْحَسَنِ عن غَيرِ وَاحِدٍ مَرْفُوعًا قال: أفطر الْحَاجِم والمَحْجُومُ).

(6) وأخرجه البخاري في صحيحه: (5/ 1970) بَاب من قال: لا نِكَاحَ إلا بِوَلِيٍّ، لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: (فَلا تَعْضُلوهنَّ).

(7) انظر "تحفة الطالب" (ص/353).
"...তবে এমন কোনো সন্ধি ব্যতীত যা হালালকে হারাম করে অথবা হারামকে হালাল করে। আর মুসলমানরা তাদের শর্তের ওপর অটল থাকবে, তবে এমন কোনো শর্ত ব্যতীত যা হালালকে হারাম করে অথবা হারামকে হালাল করে" (১)। ইমাম তিরমিযী বলেন: এটি একটি হাসান সহীহ হাদীস।

ইবনে মাজাহ হাদীসের প্রথম অংশটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু কাসীর ইবনে আমরকে মুহাদ্দিসগণের একটি জামাত দুর্বল (যঈফ) বলেছেন। ইমাম আহমদ 'আল-মুসনাদ'-এ তার বর্ণিত হাদীসের ওপর দাগ টেনে দিয়েছেন (বর্জন করেছেন), তাই তিনি তা বর্ণনা করেননি (২)। সম্ভবত ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন কারণ এটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

আবু বকর আল-বাযযারও বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আস-সালমানী থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মানুষ তাদের শর্তাবলীর ওপর অটল থাকবে, যতক্ষণ তা হকের (সত্যের) অনুকূলে হয়" (৩)। আর এই সনদগুলোর প্রতিটি এককভাবে দুর্বল হলেও, বিভিন্ন সূত্রের একত্রীকরণ একে অপরকে শক্তিশালী করে (৪)।

"ইমাম আহমদ বলেন: 'সিঙা প্রদানকারী ও গ্রহণকারী উভয়ের রোজা ভেঙে গেছে' (৫), এবং 'অভিভাবক ব্যতীত কোনো বিবাহ নেই' (৬)—এই হাদীসগুলো একে অপরকে শক্তিশালী করে এবং আমি এই মতটিই গ্রহণ করি" (৭)।

আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তুমি তোমার ঊরু উন্মুক্ত করো না এবং তাকিয়ে দেখো না...

--------------------------------------------

(১) অত্র হাদীসটি তিরমিযী (১৩৫২), ইবনে মাজাহ (২৩৫৩), হাকেম (৪/১১৩) ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। দেখুন: "ইরওয়াউল গালীল" (৫/২৫০)।

(২) দেখুন: ইবনে আব্দুল হাদী রচিত "আল-মুহাররার" (১/৪৯৫)।

(৩) ইবনুল জারূদও "আল-মুন্তাকা" (খণ্ড ১/ পৃষ্ঠা ১১৬, হাদীস নং ৬৩৭)-এ বর্ণনা করেছেন: হামযাহ ইবনে মালিক ইবনে হামযাহ আল-আসলামী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান অর্থাৎ ইবনে হামযাহ তার চাচা থেকে, তিনি কাসীর অর্থাৎ ইবনে ইয়াযীদ থেকে, তিনি ওয়ালীদ ইবনে রাবাহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মুসলমানরা তাদের শর্তাবলীর ওপর অটল থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তা হকের অনুকূলে হয়।" এবং সুনানে দারা কুতনীতে (৩/২৮) খুসাইফ থেকে, তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: "মুসলমানরা তাদের শর্তাবলীর ওপর অটল থাকবে, যা হকের সাথে মিল রাখে।" আল-হাইসামী ইবনে উমর (রা.) থেকে এটি "মাজমাউয যাওয়াইদ" (৪/৮৬)-এ আল-বাযযারের মুসনাদ থেকে উল্লেখ করেছেন।

(৪) দেখুন "মাজমুউল ফাতাওয়া": (২৯/১৪৭)।

(৫) ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে (খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ৬৮৫) বর্ণনা করেছেন: (হাসান থেকে একাধিক বর্ণনাকারীর সূত্রে মারফূ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: সিঙা প্রদানকারী ও গ্রহণকারী উভয়ের রোজা ভেঙে গেছে)।

(৬) ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে (৫/১৯৭০) অনুচ্ছেদ: "যিনি বলেন: অভিভাবক ব্যতীত বিবাহ নেই", মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: (অতএব তোমরা তাদের বাধা দিও না)।

(৭) দেখুন "তুহফাতুত তালিব" (পৃষ্ঠা ৩৫৩)।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ১৬)
فخذ حي ولا ميت" (1)، رواه أبو داود وابن ماجه.

وعن ابن عباس قال: مر رسول الله صلى الله عليه وسلم على رجل وفخذه خارجة فقال: "غط فخذك فإن فخذ الرجل من عورته" (2)، رواه أحمد، وروى الترمذي قوله: "الفخذ عورة"، وقال: حديث حسن غريب.

وروي ذلك من وجوه أخرى يشد بعضها بعضًا (3).

وقال الشيخ الشنقيطي رحمه الله عند تفسير قول الله عز وجل: (وَلِلَّهِ عَلَى الناس حِجُّ اَلبَيتِ مَنِ اَستَطَاعَ إِلَيةِ سَبِيلاً)، وذكر حديث: "السبيل: الزاد والراحلة" وطرقه، قال: "هذا هو حاصل روايات الأحاديث الواردة بتفسير السبيل في الآية: بالزاد، والراحلة. وقال غير واحد: إن هذا الحديث لا يثبت مسندًا، وأنه ليس له طريق صحيحة، إلا الطريق التي أرسلها الحسن.

قال مقيدُه -عفا الله عنه وغفر له-: الذي يظهر لي والله تعالى أعلم: أن حديث الزاد والراحلة المذكور، ثابت لا يقل عن درجة الاحتجاج، لأن الطريقين اللتين أخرجهما به الحاكم في "المستدرك" عن أنس قال: كلتاهما صحيحة الإسناد، وأقرَّ تصحيحهما الحافظ الذهبي، ولم يتعقَّبْهُ بشيءٍ، والدعوى على سعيد بن أبي عروبة وحماد بن سلمة في روايتهما الحديث عن أنس، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنها غلط، وأن الصحيح: عن قتادة، عن الحسن مرسلاً، دعوى لا مُستند لها؛ بل هي تغليطٌ وتوهيم للعدول المشهورين من غير استناد إلى دليل.

والصحيح عند المحقّقين من الأصوليين والمحدِّثينْ أن الحديثَ إذا جاء من طريق صحيحة، وجاء من طرق أخرى غير صحيحة، فلا تكون تلك الطرق

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد في مسنده: (1/ 146) وأخرجه أبو داود في سننه: (3/ 196)، وأيضًا: (4/ 40)، وابن ماجه: (1/ 469) والحاكم (4/ 200).

(2) أخرجه أحمد في مسنده: (1/ 275)، والترمذي في سننه: (5/ 111).

(3) انظر "شرح العمدة" (4/ 262).
"জীবিত বা মৃত কারও উরুর দিকে তাকাবে না" (১), এটি আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যার উরু উন্মুক্ত ছিল, তখন তিনি বললেন: "তোমার উরু ঢেকে রাখো, কেননা পুরুষের উরু সতর বা লজ্জাস্থানের অন্তর্ভুক্ত" (২), এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। এবং তিরমিযী এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "উরু হলো সতর", এবং তিনি বলেছেন: এটি একটি হাসান গরীব হাদীস।

এটি আরও অন্যান্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যা একে অপরকে শক্তিশালী করে (৩)।

শায়খ শানকিতী (রহিমাহুল্লাহ) মহান আল্লাহর বাণী: (এবং মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ্জ করা তার অবশ্য কর্তব্য) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন এবং তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেছেন: "সামর্থ্য (সাবীল) হলো: পাথেয় ও বাহন" এবং এর সূত্রসমূহ। তিনি বলেন: "আয়াতে 'সাবীল' (সামর্থ্য)-এর ব্যাখ্যায় পাথেয় ও বাহনের স্বপক্ষে বর্ণিত হাদীসগুলোর বর্ণনার নির্যাস এটিই।" এবং একাধিক আলেম বলেছেন: এই হাদীসটি 'মুসনাদ' হিসেবে সাব্যস্ত নয়, এবং হাসান (বসরী) থেকে বর্ণিত মুরসাল সূত্রটি ছাড়া এর কোনো সহীহ সূত্র নেই।

এর টীকাকার (আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন ও মার্জনা করুন) বলেছেন: আমার কাছে যা স্পষ্ট হচ্ছে এবং মহান আল্লাহই ভালো জানেন: পাথেয় ও বাহন সংক্রান্ত উল্লিখিত হাদীসটি সাব্যস্ত এবং তা প্রমাণের মানদণ্ড থেকে নিচে নয়। কারণ হাকেম তার 'মুস্তাদরাক'-এ আনাস (রা.) থেকে যে দুটি সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, সেগুলোর সনদ সহীহ। হাফেজ যাহাবী এগুলোর সহীহ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন এবং কোনো আপত্তি উত্থাপন করেননি। আর সাঈদ বিন আবু আরুবা এবং হাম্মাদ বিন সালামা আনাস (রা.) এর মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন সেটিকে ভুল বলা এবং সহীহ বর্ণনাটি কাতাদাহ থেকে হাসানের মুরসাল বর্ণনা—এরূপ দাবি করার কোনো ভিত্তি নেই। বরং এটি কোনো প্রমাণ ছাড়াই প্রখ্যাত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের ভুল সাব্যস্ত করা এবং তাদের সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করার নামান্তর।

উসুলবিদ ও মুহাদ্দিসগণের নিকট সঠিক অভিমত হলো, হাদীস যদি একটি সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয় এবং অন্যান্য অ-সহীহ সূত্রেও আসে, তবে সেই সূত্রগুলো...

--------------------------------------------

(১) এটি আহমাদ তার মুসনাদে: (১/ ১৪৬), আবু দাউদ তার সুনানে: (৩/ ১৯৬) ও (৪/ ৪০), ইবনে মাজাহ: (১/ ৪৬৯) এবং হাকেম (৪/ ২০০) বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি আহমাদ তার মুসনাদে: (১/ ২৭৫) এবং তিরমিযী তার সুনানে: (৫/ ১১১) বর্ণনা করেছেন।

(৩) দেখুন "শারহুল উমদাহ" (৪/ ২৬২)।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ১৭)
علة في الصحيحة، إذا كان رواتها لم يخالفوا جميع الحفاظ؛ بل انفراد الثقة العدل بما لم يخالف فيه غيره مقبول عند المحققين.

فرواية سعيد بن أبي عروبة وحماد بن سلمة الحديث المذكور عن قتادة عن أنس مرفوعًا؛ لم يخالفوا فيها غيرهم؛ بل حفظوا ما لم يحفظه غيرهم، ومن حفظ حجة على من لم يحفظ، فادِّعاء الغلط عليهما بلا دليل؛ غلط، وقول النووي في "شرح المهذب": وروى الحاكم حديث أنس، وقال: وهو صحيح، ولكن الحاكم متساهل كما سبق بيانه مرات، والله أعلم.

يجاب عنه: بأنا لو سلَّمنا أن الحاكم متساهل في التصحيح؛ لا يلزم من ذلك أنه لا يُقْبَلُ له تصحيح مطلقًا. ورُبَّ تصحيح للحاكم مطابق للواقع في نفس الأمر، وتصحيحه لحديث أنس المذكور لم يتساهل فيه، ولذا لم يُبْدِ النوويُّ وجهًا لتساهله فيه، ولم يتكلم في أحد من رواته؛ بل هو تصحيح مطابق.

فإن قيل: متابعة حماد بن سلمة لسعيد بن أبي عروبة المذكورة راويها عن حماد، هو أبو قتادة عبد الله بن واقد الحرَّاني، وهو متروك، لا يحتجُّ بحديثه، كما جزم به غير واحد من العلماء بالرجال. وقال فيه ابن حجر في "التقريب": متروك.

فقد تساهل الحاكم في قوله: إن هذه الطريق على شرط مسلم. مع أن في إسنادها أبا قتادة المذكور!

فالجواب: أن أبا قتادة المذكور وإن ضعفه الأكثرون فقد وثقه الإمام أحمد وأثنى عليه، وناهيك بتوثيق الإمام أحمد وثنائه، وذكر ابن حجر والذهبي أن عبد الله بن أحمد قال لأبيه: إن يعقوب بن إسماعيل بن صبيح ذكر أن أبا قتادة المذكور كان يكذب، فعَظُمَ ذلك عنده جدًّا، وأثنى عليه، وقال: إنه يتحرَّى الصدق. قال: ولقد رأيته يشبه أصحاب الحديث.

وقال أحمد في موضع آخر: ما به بأس، رجل صالح يشبه أهل النسك،
সহীহ বর্ণনার মধ্যে কোনো ত্রুটি হবে না যদি তার বর্ণনাকারীগণ সকল হাফেযদের বিরোধিতা না করেন; বরং নির্ভরযোগ্য ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারীর এমন একক বর্ণনা যা অন্য কারো বিরোধী নয়, তা মুহাক্কিকগণের নিকট গ্রহণযোগ্য।

সুতরাং আনাস থেকে কাতাদা এবং তার মাধ্যমে সাঈদ ইবনে আবি আরুবা ও হাম্মাদ ইবনে সালামাহ বর্ণিত উল্লিখিত মারফু হাদীসটিতে তারা অন্যদের বিরোধিতা করেননি; বরং তারা এমন কিছু মুখস্থ রেখেছেন যা অন্যরা রাখেনি। আর যে ব্যক্তি মুখস্থ রেখেছে সে মুখস্থ না রাখা ব্যক্তির ওপর দলিল। সুতরাং কোনো দলিল ছাড়াই তাদের উভয়ের ওপর ভুলের অপবাদ দেওয়াটাই ভুল। আর "শরহুল মুহাযযাব"-এ নববীর উক্তি: "হাকিম আনাসের হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি সহীহ, কিন্তু হাকিম শিথিলকারী যেমনটি ইতিপূর্বে কয়েকবার বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহই ভালো জানেন।"

এর জবাবে বলা হবে: আমরা যদি মেনেও নিই যে হাকিম হাদীস বিশুদ্ধীকরণে শিথিলকারী, তবে এর দ্বারা এটা আবশ্যক হয় না যে তার কোনো তাসহিহ-ই নিঃশর্তভাবে কবুল করা হবে না। হাকিমের অনেক তাসহিহ বাস্তবের সাথে হুবহু মিলে যায়। আর আনাসের উল্লিখিত হাদীসের ক্ষেত্রে তিনি শিথিলতা করেননি, একারণেই নববী তার শিথিলতার কোনো কারণ পেশ করতে পারেননি এবং এর কোনো বর্ণনাকারী সম্পর্কেও কোনো কথা বলেননি; বরং এটি একটি সঠিক তাসহিহ।

যদি বলা হয়: সাঈদ ইবনে আবি আরুবার সমর্থনে হাম্মাদ ইবনে সালামাহর যে বর্ণনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার বর্ণনাকারী হলেন আবু কাতাদা আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াকিদ আল-হাররানি; আর তিনি হলেন পরিত্যক্ত, তার হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করা যায় না, যেমনটি একাধিক রিজাল শাস্ত্রবিদ নিশ্চিতভাবে বলেছেন। ইবনে হাজার "আত-তাকরীব"-এ তার সম্পর্কে বলেছেন: পরিত্যক্ত।

সুতরাং হাকিম তার এই উক্তিতে শিথিলতা করেছেন যে: এই সনদটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী। অথচ এর সনদে উক্ত আবু কাতাদা রয়েছেন!

উত্তর হলো: উল্লিখিত আবু কাতাদাকে যদিও অধিকাংশ মুহাদ্দিস দুর্বল বলেছেন, তবে ইমাম আহমাদ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং তার প্রশংসা করেছেন। আর ইমাম আহমাদের নির্ভরযোগ্যতা প্রদান এবং প্রশংসাই আপনার জন্য যথেষ্ট। ইবনে হাজার ও যাহাবী উল্লেখ করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ তার পিতাকে বলেছিলেন: ইয়াকুব ইবনে ইসমাইল ইবনে সাবিহ উল্লেখ করেছেন যে উক্ত আবু কাতাদা মিথ্যা বলতেন; এতে তিনি অত্যন্ত বিস্মিত হলেন এবং তার প্রশংসা করলেন ও বললেন: সে সততা অন্বেষণ করে। তিনি আরও বললেন: আমি তাকে হাদীস বিশারদদের সদৃশ দেখেছি।

ইমাম আহমাদ অন্য এক স্থানে বলেছেন: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই, তিনি একজন নেককার লোক যিনি ইবাদতকারীদের সদৃশ,
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ১৮)
ربما أخطأ. وفي إحدى الروايتين عن ابن معين أنه قال: أبو قتادة الحراني ثقة. ذكرها عنه ابن حجر والذهبي. وقول من قال: لعله كبر فاختلط. تخمين وظن، لا يثبت به اختلاطه، ومعلوم أن المقرر في الأصول وعلوم الحديث: أن الصحيح أن التعديل يُقْبَلُ مُجُمَلاً، والتجريح لا يُقْبَلُ إلا مفصَّلاً، مع أن رواية سعيد بن أبي عروبة عن أنس ليس في أحد من رواتها كلام.

ومما يؤيد ذلك: موافقة الحافظ النقادة الذهبي للحاكم على تصحيح متابعة حماد، مع أن حديث أنس الصحيح المذكور معتضد بمرسل الحسن، ولا سيِّما على قول من يقول إن مراسيله صحاح إذا روتها عنه الثقات؛ كابن المديني وغيره، كما قدمناه، ويؤيد ذلك: أن مشهور مذهب مالك وأبي حنيفة وأحمد الاحتجاج بالمرسل، كما قدمناه مرارًا، ويؤيده أيضًا: الأحاديث المتعددة التي ذكرنا، وإن كانت ضعافًا لأنها تقوي غيرها، ولا سيما حديث ابن عباس فإنا قد ذكرنا سنده وبيَّنا أنه لا يقل عن درجة الاحتجاج.

وقال الشوكاني في "نيل الأوطار": ولا يخفى أن هذه الطرق يقوِّي بعضها بعضًا، فتصلح للاحتجاج.

ومما يؤيد الحديث المذكور: أن أكثر أهل العلم على العمل به كما قدمنا عن أبي عيسى الترمذي أنه قال في حديث الزاد والراحلة: والعمل عليه عند أهل العلم" (1).

ومن المستقر عند علماء الحديث: أن التصحيحَ والتضعيف من الأمور الاجتهادية، ولا يلزم الأخذ بحكم فريق من العلماء دون آخر لأجل أنهم متقدّمون أو متأخّرون! بل لأجل الدليل وحجة الاجتهاد.

قال الإمام الشنقيطي: " .... والحاصل أن لزوم الكفارة في نذر المعصية جاءت فيه أحاديث متعددة لا يخلو شيء منها من كلام، وقد يقوِّي بعضها بعضًا.

--------------------------------------------

(1) انظر "أضواء البيان" (4/ 317).
সম্ভবত তিনি ভুল করেছেন। ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত দুই বর্ণনার একটিতে আছে যে তিনি বলেছেন: আবু কাতাদাহ আল-হাররানি নির্ভরযোগ্য। ইবনে হাজার ও যাহাবি তাঁর থেকে এটি উল্লেখ করেছেন। আর যারা বলেছেন: সম্ভবত তিনি বৃদ্ধ হওয়ার কারণে স্মৃতিবিভ্রম বা বিভ্রান্তির (ইখতিলাত) শিকার হয়েছিলেন, তা কেবল অনুমান ও ধারণা মাত্র, যা দ্বারা তাঁর বিভ্রান্তি প্রমাণিত হয় না। এটি জানা কথা যে, উসুল এবং হাদিস বিজ্ঞানে সাব্যস্ত নীতি হলো: সঠিক মতানুসারে প্রশংসা (তাদিল) সাধারণভাবে গ্রহণ করা হয়, আর ত্রুটি বর্ণনা (তাজরিহ) বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছাড়া গ্রহণ করা হয় না। অথচ আনাস থেকে সাঈদ ইবনে আবি আরুবার বর্ণনার কোনো রাবির ব্যাপারে কোনো সমালোচনা নেই।

একে সমর্থন করে এমন বিষয় হলো: হাম্মাদের মুতাবাআতকে সহিহ বলার ক্ষেত্রে হাকিমের সাথে হাফেজ ও সূক্ষ্মদর্শী আলিম যাহাবির ঐকমত্য পোষণ করা; যদিও আনাস থেকে বর্ণিত উল্লিখিত সহিহ হাদিসটি হাসানের মুরসাল বর্ণনা দ্বারা সমর্থিত হয়েছে। বিশেষ করে তাদের মতে যারা বলেন যে, যখন নির্ভরযোগ্য রাবিগণ হাসানের মাধ্যমে বর্ণনা করেন তখন তাঁর মুরসালগুলো সহিহ হিসেবে গণ্য হয়; যেমন ইবনুল মাদিনি ও অন্যান্যরা, যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। আরও সমর্থন করে যে: ইমাম মালেক, আবু হানিফা ও আহমদের প্রসিদ্ধ মাযহাব হলো মুরসাল হাদিসকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা, যা আমরা ইতিপূর্বে বারবার উল্লেখ করেছি। আরও সমর্থন করে আমাদের উল্লিখিত একাধিক হাদিস, যদিও সেগুলো দুর্বল, কারণ সেগুলো একে অপরকে শক্তিশালী করে; বিশেষ করে ইবনে আব্বাসের হাদিসটি, যার সনদ আমরা উল্লেখ করেছি এবং স্পষ্ট করেছি যে তা দলিল হিসেবে গ্রহণের স্তরের নিচে নয়।

শাওকানি 'নাইলুল আওতার'-এ বলেছেন: এটি অস্পষ্ট নয় যে, এই সূত্রগুলো একে অপরকে শক্তিশালী করে, ফলে তা দলিল হিসেবে গ্রহণের যোগ্য হয়।

উল্লিখিত হাদিসটিকে আরও যা সমর্থন করে তা হলো: অধিকাংশ আলিম এর ওপর আমল করেছেন, যেমনটি আমরা আবু ঈসা তিরমিজি থেকে ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে তিনি পাথেয় ও বাহন সংক্রান্ত হাদিসটির ব্যাপারে বলেছেন: "আহলে ইলমদের নিকট এর ওপর আমল রয়েছে।" (১)।

হাদিস বিশারদগণের নিকট এটি প্রতিষ্ঠিত যে: হাদিসকে সহিহ বা জয়িফ (দুর্বল) বলা ইজতিহাদি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। কোনো একদল আলিমের ফয়সালা অন্য দলের ওপর ছেড়ে দিয়ে গ্রহণ করা আবশ্যক নয় কেবল তারা পূর্ববর্তী বা পরবর্তী হওয়ার কারণে! বরং তা দলিল ও ইজতিহাদের প্রমাণের ভিত্তিতে হয়ে থাকে।

ইমাম শানকিতি বলেছেন: "... সারকথা হলো, পাপাচারের মানত করলে কাফফারা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যেগুলোর কোনোটিই সমালোচনা মুক্ত নয়, তবে সম্ভবত একে অপরকে শক্তিশালী করতে পারে।"

--------------------------------------------

(১) দেখুন "আদওয়াউল বায়ান" (৪/ ৩১৭)।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال الشوكاني: قال النووي في الروضة: حديث: "لا نذر في معصية، وكفارته كفارة يمين" (1)، ضعيف باتفاق المحدثين.

قال الحافظ: قلت: قد صححه الطحاوي وأبو علي ابن السكن، فأين الاتفاق؟! انتهى" (2).

قال الحافظ ابن حجر:

" … عن جابر قال: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا توضأ أدار الماء على مرفقيه" (3)، لكن إسناده ضعمف.

وفي البزار والطبراني من حديث وائل بن حجر في صفة الوضوء: "وغسل ذراعيه حتى جاوز المرفق" (4)، وفي الطحاوي والطبراني من حديث ثعلبة بن عباد عن أبيه مرفوعًا: "ثم غسل ذراعيه حتى يسيل الماء على مرفقيه". فهذه الأحاديث يقوِّي بعضها بعضًا" (5).

وقال الحافظ:

"وروى البيهقي من طريق عبد الرحمن بن حميد بن عبد الرحمن بن عوف عن أبيه عن عثمان: "أنه أتم بمنى ثم خطب فقال: إن القصر سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وصاحبيه، ولكنه حدث طَغام -يعني بفتح الطاء والمعجمة- فخفتُ أن يستنوا" (6).

وعن ابن جريج: "أن أعرابيًّا ناداه في مني: يا أمير المؤمنين؛ ما زلت

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد (4/ 443) وأبو داود (3/ 232) والترمذي (4/ 103) وابن ما جه (1/ 686).

(2) أضواء البيان ج 5/ ص240.

(3) أخرجه البيهقي في السنن الكبرى: (1/ 56)، وأخرجه الدارقطني في سننه: (1/ 83).

(4) أخرجه الطبراني في المعجم الكبير: (22/ 50).

(5) "فتح الباري: (1/ 292).

(6) أخرجه البيهقي في السنن الكبرى: (3/ 144).
শাওকানী বলেছেন: নববী 'রওজাহ' গ্রন্থে বলেছেন: হাদিস: "পাপের কাজে কোনো মানত নেই এবং এর কাফফারা হলো শপথের কাফফারা" (১), এটি মুহাদ্দিসগণের ঐকমত্যে দুর্বল।

হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: আমি বলি: একে তহাবী এবং আবু আলী ইবনে আস-সাকান সহীহ বলেছেন, তাহলে ঐকমত্য কোথায়?! সমাপ্ত" (২)।

হাফেজ ইবনে হাজার বলেছেন:

" … জাবের (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অজু করতেন, তখন তাঁর দুই কনুইয়ের উপর পানি ঘুরাতেন" (৩), কিন্তু এর সনদ দুর্বল।

এবং বাযযার ও তাবারানীতে ওয়াইল ইবনে হুজর-এর হাদিসে ওজুর বর্ণনায় এসেছে: "তিনি তাঁর দুই বাহু ধৌত করেছেন এমনকি কনুই অতিক্রম করেছেন" (৪), এবং তহাবী ও তাবারানীতে সা'লাবা ইবনে আব্বাদ তাঁর পিতা থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "অতঃপর তিনি তাঁর দুই বাহু ধৌত করেছেন যাতে পানি তাঁর দুই কনুইয়ের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়"। এই হাদিসগুলো একে অপরকে শক্তিশালী করে" (৫)।

এবং হাফেজ বলেছেন:

"বায়হাকী আব্দুর রহমান ইবনে হুমাইদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ-এর সূত্রে তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি উসমান (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে: "তিনি মিনায় পূর্ণ নামাজ আদায় করেছিলেন, অতঃপর খুতবা দিয়ে বলেছিলেন: নিশ্চয়ই কসর করা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর দুই সঙ্গীর সুন্নত, কিন্তু সাধারণ অজ্ঞ লোকদের আবির্ভাব ঘটেছে - অর্থাৎ 'ত' এবং 'গাইন' বর্ণে জবর সহকারে - তাই আমি ভয় পাচ্ছি যে তারা একেই সুন্নাহ বা নিয়ম বানিয়ে নেবে" (৬)।

এবং ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণিত: "এক বেদুইন মিনায় তাঁকে ডেকে বলল: হে আমীরুল মুমিনীন; আপনি তো সর্বদা

--------------------------------------------

(১) আহমদ (৪/ ৪৪৩), আবু দাউদ (৩/ ২৩২), তিরমিজি (৪/ ১০৩) এবং ইবনে মাজাহ (১/ ৬৮৬) এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) আদওয়াউল বায়ান খণ্ড ৫/ পৃষ্ঠা ২৪০।

(৩) বায়হাকী আস-সুনানুল কুবরাতে এটি বর্ণনা করেছেন: (১/ ৫৬), এবং দারাকুতনী তাঁর সুনানে এটি বর্ণনা করেছেন: (১/ ৮৩)।

(৪) তাবারানী আল-মু'জামুল কাবীরে এটি বর্ণনা করেছেন: (২২/ ৫০)।

(৫) ফাতহুল বারী: (১/ ২৯২)।

(৬) বায়হাকী আস-সুনানুল কুবরাতে এটি বর্ণনা করেছেন: (৩/ ১৪৪)।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ২০)
أصليها منذ رأيتك عام أول ركعتين" (1). وهذه طرق يقوِّي بعضُها بعضًا" (2).

وقال ابن عبد الهادي:

"قال الدارقطني: ثنا الحسين بن إسماعيل ثنا عبد الله بن منيب ثنا يحيى بن إبراهيم بن أبي قتيلة قال: ثنا الحارث بن محمد الفهري، عن يحيى بن سعيد، عن أنس بن مالك: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لا يحلُّ مال امرئ مسلم إلا بطيب نفسه" (3).

وهذا الإسناد ضعيف، لم يخرجه أحد من أهل السنن، ولا هو مخرج في الكتب الستة، وفي رجاله الحارث بن محمد الفهري: لا يعرف مجهول.

وفيه أيضًا: عبد الله بن منيب الربعي، قال الرازي: يحل ضرب عنقه!

لكنه مروي من وجوه عن ابن عمر بأسانيد يقوي بعضها بعضًا" (4).

وقال الإمام ابن قيم الجوزية:

"وأما جمهور العلماء: كمالك وأحمد وأبي حنيفة والشافعي وأصحابهم فقالوا: إن اضطرت إلى الكحل بالإثمد، تداويًا لا زينة، فلها أن تكتحل به ليلا، وتمسحه نهارًا، وحجتهم حديث أم سلمة المتقدم رضي الله عنها، فإنها قالت في كحل الجلاء: "لا تكتحل إلا لما لا بد منه، يشتد عليك فتكتحلين بالليل وتغسلينه بالنهار". ومن حجتهم حديث أم سلمة رضي الله عنها الآخر، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل عليها، وقد جعلت عليها صبرًا، فقال: "ما هذا يا أم سلمة؟ " فقلت: صبرِّ يا رسول الله، ليس فيه طيب. فقال: "إنه يشب الوجه". فقال: "لا تجعليه إلا

--------------------------------------------

(1) انظر "التمهيد لابن عبد البر: (16/ 303).

(2) انظر "فتح الباري: (2/ 571).

(3) أخرجه الدارقطني في سننه: (3/ 26).

(4) انظر تنقيح تحقيق أحاديث التعليق: (3/ 50).
"আমি আপনাকে গত বছর দেখার পর থেকে এটি দুই রাকাত পড়ছি" (১)। আর এগুলো এমন সব সূত্র যা একে অপরকে শক্তিশালী করে" (২)।

আর ইবন আবদিল হাদী বলেছেন:

"দারাকুতনী বলেছেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবন ইসমাঈল, তিনি আবদুল্লাহ ইবন মুনীব থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবন ইবরাহীম ইবন আবী কুতাইলা থেকে, তিনি হারিস ইবন মুহাম্মদ আল-ফিহরী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কোনো মুসলিম ব্যক্তির সম্পদ তার মনের সন্তুষ্টি ব্যতীত (অন্যের জন্য) হালাল নয়" (৩)।

আর এই সনদটি দুর্বল, সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকদের কেউ এটি উদ্ধৃত করেননি, এবং এটি কুতুবে সিত্তাহর (ছয়টি প্রধান হাদিস গ্রন্থ) অন্তর্ভুক্তও নয়। এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে হারিস ইবন মুহাম্মদ আল-ফিহরী রয়েছেন: তিনি অপরিচিত ও মাজহুল (অজ্ঞাত)।

এতে আরও রয়েছেন: আবদুল্লাহ ইবন মুনীব আর-রিবঈ, যার সম্পর্কে আর-রাযী বলেছেন: তার গর্দান উড়িয়ে দেওয়া বৈধ!

তবে এটি ইবন উমর (রা.) থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে এমন সব সনদে যা একে অপরকে শক্তিশালী করে" (৪)।

আর ইমাম ইবনুল কায়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ বলেছেন:

"পক্ষান্তরে জুমহুর (অধিকাংশ) উলামায়ে কিরাম: যেমন মালিক, আহমাদ, আবু হানীফা, শাফিঈ এবং তাঁদের অনুসারীগণ বলেছেন: যদি কোনো নারী সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য নয় বরং চিকিৎসার প্রয়োজনে ইসমীদ সুরমা ব্যবহার করতে বাধ্য হন, তবে তিনি রাতে তা ব্যবহার করতে পারেন এবং দিনে তা মুছে ফেলবেন। তাঁদের দলীল হলো উম্মু সালামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-র পূর্বে উল্লিখিত হাদীসটি, যেখানে তিনি 'জলা' সুরমা সম্পর্কে বলেছেন: "অপরিহার্য প্রয়োজন ছাড়া সুরমা ব্যবহার করো না, যখন অসহনীয় হয়ে পড়ে তখন রাতে ব্যবহার করবে এবং দিনে তা ধুয়ে ফেলবে।" তাঁদের দলীলের মধ্যে উম্মু সালামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-র বর্ণিত অন্য একটি হাদীসও রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন, এমতাবস্থায় তিনি মুখে 'সাবির' (এক প্রকার তিতা ভেষজ) মেখেছিলেন। তখন তিনি বললেন: "হে উম্মু সালামাহ, এটি কী?" আমি বললাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ, এটি সাবির, এতে কোনো সুগন্ধি নেই। তিনি বললেন: "এটি মুখমণ্ডলকে উজ্জ্বল করে।" অতঃপর তিনি বললেন: "এটি ব্যবহার করো না তবে

--------------------------------------------

(১) দেখুন ইবন আবদিল বার-এর "আত-তামহীদ": (১৬/৩০৩)।

(২) দেখুন "ফাতহুল বারী": (২/৫৭১)।

(৩) এটি দারাকুতনী তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন: (৩/২৬)।

(৪) দেখুন "তানকীহ তাহকীক আহাদীসিত তালীক": (৩/৫০)।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ২১)
بالليل، وتنزعيه بالنهار" (1). وهما حديث واحد فرَّقه الرُّواة، وأدخل مالك هذا القدر منه في "موطئه" بلاغًا، وذكر أبو عمر في "التمهيد" (2) له طرقًا يشدُّ بعضُها بعضًا، ويكفي احتجاج مالك به، وأدخله أهل السنن في كتبهم، واحتجَّ به الأئمة، وأقل درجاته أن يكون حسنًا" (3).

وقال أيضًا:

"وقد رويت أحاديث الامتحان في الآخرة من حديث الأسود بن سريع، صححه عبد الحق، والبيهقي، من حديث أبي هريرة، وأنس، ومعاذ، وأبي سعيد.

فأما حديث الأسود؛ فرواه معاذ، عن هشام، عن أبيه، عن قتادة، عن الأحنف بن قيس، عن الأسود بن سريع: أن النبيَّ صلى الله عليه وسلم …

وقال معاذ: وحدثني أبي، عن قتادة، عن الحسن، عن أبي رافع، عن أبي هريرة.

ورواه أحمد وإسحاق عن معاذ، ورواه حماد بن سلمة عن علي بن زيد بن جدعان، عن رافع، عن أبي هريرة.

ورواه معمر، عن ابن طاوس، عن أبيه، عن أبي هريرة موقوفًا عليه، وهذا لا يضرُّ الحديثَ؛ فإنه إن سلك طريق ترجيح الزائد لزيادته؛ فواضح، وإن سلك طريقَ المعارضة؛ فغايتها تحقق الوقف، ومثل هذا لا يقدم عليه بالرأي إذ لا مجال له، فيقبل بجزمٍ بأن هذا توقيف لا عن رأي.

--------------------------------------------

(1) أخرجه النسائي في "السنن الكبرى" (3/ 396) وأبو داود (4292)، وأخرجه البيهقى في السنن الكبرى: (7/ 440)، وانظر التمهيد لابن عبد البر: (24/ 363).

(2) (24/ 362).

(3) انظر: "زاد المعاد" (5/ 703).
...রাতে, আর দিনের বেলা তুমি তা খুলে ফেলবে" (১)। এ দুটি মূলত একই হাদিস যা বর্ণনাকারীরা পৃথক করেছেন। ইমাম মালিক এর এই অংশটুকু তাঁর 'মুওয়াত্তা' গ্রন্থে 'বালাগ' (বিচ্ছিন্ন সনদ) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আবু উমর 'আত-তামহিদ' (২) গ্রন্থে এর এমন কিছু সনদ উল্লেখ করেছেন যা একে অপরকে শক্তিশালী করে। ইমাম মালিকের এটি দ্বারা দলিল গ্রহণ করাই যথেষ্ট এবং সুনান সংকলকগণ তাঁদের কিতাবসমূহে এটি অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং ইমামগণ এটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। এর সর্বনিম্ন পর্যায় হলো এটি 'হাসান' (৩)।

তিনি আরও বলেছেন:

"আখিরাতে পরীক্ষার হাদিসসমূহ আসওয়াদ বিন সারী-এর হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে, যা আব্দুল হক এবং বাইহাকী সহীহ বলেছেন। এছাড়াও আবু হুরায়রা, আনাস, মুয়ায এবং আবু সাঈদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর হাদিস থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে।

আসওয়াদের হাদিসের ক্ষেত্রে; মুয়ায এটি হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আহনাফ বিন কায়স থেকে, তিনি আসওয়াদ বিন সারী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম …

মুয়ায বলেছেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আবু রাফি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে।

এটি ইমাম আহমাদ এবং ইসহাক মুয়ায থেকে বর্ণনা করেছেন। আর হাম্মাদ বিন সালামাহ এটি আলি বিন যায়েদ বিন জুদআন থেকে, তিনি রাফি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

মা'মার এটি ইবনে তাউস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে 'মাওকুফ' (সাহাবীর বক্তব্য) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর এটি হাদিসটির জন্য কোনো ক্ষতিকর নয়; কারণ যদি অতিরিক্ত তথ্যের অগ্রাধিকার প্রদানের নীতি অনুসরণ করা হয়, তবে তা স্পষ্ট। আর যদি বিরোধপূর্ণ বর্ণনার নীতি অনুসরণ করা হয়, তবে এর সর্বোচ্চ ফল হলো এটি 'মাওকুফ' হিসেবে সাব্যস্ত হওয়া। আর এই ধরনের বিষয়ে নিজস্ব রায়ের ভিত্তিতে কোনো কথা বলা যায় না যেহেতু এখানে সেই সুযোগ নেই। সুতরাং এটি দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করা হবে যে, এটি ওহী-লব্ধ জ্ঞান (তাওকিফ), কোনো ব্যক্তিগত রায় বা মতামত নয়।

--------------------------------------------

(১) নাসায়ি এটি তাঁর 'আস-সুনানুল কুবরা' (৩/ ৩৯৬) এবং আবু দাউদ (৪২৯২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। বাইহাকী 'আস-সুনানুল কুবরা' (৭/ ৪৪০) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আব্দুল বারের 'আত-তামহিদ' (২৪/ ৩৬৩) দেখুন।

(২) (২৪/ ৩৬২)।

(৩) দেখুন: 'যাদুল মা'আদ' (৫/ ৭০৩)।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ২২)
وأما حديث أنس؛ فرواه جرير بن عبد الحميد، عن ليث بن أبي سليم، عن عبد الوارث، عن أنس، عن النبي- صلى الله عليه وسلم: "يُؤتَى يومَ القيامةِ بأربعة: بالمولود، وبالمعتوه، وبمن مات في الفترة، وبالشيخ الفاني. كلهم يتكلَّمُ بحجَّتِهِ، فيقول الرب سبحانه لعنق من جهنم: ابرزي. ويقول لهم: إني كنتُ أبعثُ إلى عبادي رسولاً من أنفسهم وإني رسولُ نفسي إليكم. قال: ويقول لهم: ادخلوا هذه. ويقول من كتب عليه الشقاء: أَنَّى نَدْخُلُهَا ومنها كنَّا نفرُّ؟! فيقول الله: فأنتم لِرُسُلِي أشدُّ تكذيبًا. قال: وأما من كُتِبَ عليهم السعادة، فيمضي فيقتحم فيها، فيدخل هؤلاء إلى الجنة وهؤلاء إلى النار" (1).

وهذا وإن لم يعتمد عليه بمجرده، لمكان ليث بن أبي سليم عن عبد الوارث عن أنس عن النبي صلى الله عليه وسلم.

وأما حديث معاذ؛ فتقدم الكلام عليه.

وأما حديث أبي سعيد؛ فرواه محمد بن يحيى الذهلي: أخبرنا سعيد بن سليمان، عن فضيل بن مرزوق، عن عطية، عن أبي سعيد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الهالك في الفترة، والمعتوه، والمولود؛ يقول الهالك في الفترة: لم يأتني كتاب. ويقول المعتوه: ربِّ لم تجعل لي عقلًا أعقلُ به خيرًا ولا شرًّا. ويقول المولود: ربِّ لم أُدرك العقل! فيرفعُ لهم نارًا، فيقول: رِدُّوها (2). قال: فيَرِدُّها من كان في علم الله سعيدًا لو أدرك العمل، ويمسك عنها من كان في علم الله شقيًّا لو أدرك العمل. فيقول: إياي عصيتم فكيف لو رسلي أتتكم؟ " (3).

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو يعلى في "مسنده" (4112)، وصححه الشيخ الألباني بطرقه في "الصحيحة" (2468).

(2) أي: ادخلوها.

(3) أخرجه الطبراني في "المعجم الكبير" (16989) وفي "الأوسط" (1646).
আর আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস; এটি বর্ণনা করেছেন জারীর বিন আব্দুল হামীদ, লায়স বিন আবি সুলাইম থেকে, তিনি আব্দুল ওয়ারিস থেকে, তিনি আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে: "কিয়ামতের দিন চার ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে: নবজাতক, বিবেকহীন পাগল, ফাতরাহ (দুই নবীর অন্তর্বর্তীকালীন সময়) কালে মৃত ব্যক্তি এবং অতিবৃদ্ধ। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ দলীল পেশ করে কথা বলবে। তখন রব সুবহানাহু জাহান্নামের এক অংশকে বলবেন: প্রকাশিত হও। এরপর তিনি তাদের বলবেন: আমি আমার বান্দাদের কাছে তাদের মধ্য থেকেই রাসূল পাঠাতাম, আর আজ আমি নিজেই তোমাদের প্রতি আমার নিজের পক্ষ হতে প্রেরিত রাসূল। তিনি বলেন: এরপর তিনি তাদের বলবেন: তোমরা এতে প্রবেশ করো। যাদের ভাগ্যে দুর্গতি লেখা হয়েছে তারা বলবে: আমরা কীভাবে এতে প্রবেশ করব অথচ আমরা তো এ থেকেই পালাচ্ছিলাম?! তখন আল্লাহ বলবেন: তোমরা তো আমার রাসূলদের আরও বেশি অস্বীকার করতে। তিনি বলেন: আর যাদের ভাগ্যে সৌভাগ্য লেখা হয়েছে, তারা অগ্রসর হয়ে তাতে ঝাঁপিয়ে পড়বে। ফলে এরা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং ওরাই জাহান্নামে প্রবেশ করবে" (১)।

আর এটি এককভাবে নির্ভরযোগ্য না হলেও, লায়স বিন আবি সুলাইম সূত্রে আব্দুল ওয়ারিস থেকে, তিনি আনাস থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হওয়ার কারণে এটি বিবেচিত হয়েছে।

আর মুআয (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসটির ব্যাপারে আলোচনা ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

আর আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস; এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী: আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ বিন সুলায়মান, তিনি ফুদাইল বিন মারযুক থেকে, তিনি আতিয়্যাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে; তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ফাতরাহ কালে ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি, পাগল এবং নবজাতক; ফাতরাহ কালে ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি বলবে: আমার কাছে কোনো কিতাব আসেনি। পাগল বলবে: হে রব! আপনি আমাকে এমন কোনো বুদ্ধি দেননি যা দিয়ে আমি ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে পারি। আর নবজাতক বলবে: হে রব! আমি বুদ্ধিমান হওয়ার বয়স পর্যন্ত পৌঁছাতে পারিনি! তখন তাদের জন্য আগুন উন্মোচিত করা হবে এবং তিনি বলবেন: তোমরা এতে প্রবেশ করো (২)। তিনি বলেন: তখন আল্লাহর ইলমে যারা আমল করার সুযোগ পেলে সৌভাগ্যবান হতো তারা তাতে প্রবেশ করবে, আর আল্লাহর ইলমে যারা আমল করার সুযোগ পেলে দুর্ভাগা হতো তারা তা থেকে বিরত থাকবে। তখন তিনি বলবেন: তোমরা তো আমাকেই অমান্য করলে, তাহলে আমার রাসূলগণ তোমাদের কাছে আসলে কেমন করতে?" (৩)।

--------------------------------------------

(১) আবু ইয়ালা তাঁর "মুসনাদ" (৪১১২) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং শায়খ আলবানী তাঁর "আস-সাহীহা" (২৪৬৮) গ্রন্থে বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে একে সহীহ বলেছেন।

(২) অর্থাৎ: তোমরা এতে প্রবেশ করো।

(৩) তাবারানী এটি "আল-মুজামুল কাবীর" (১৬৯৮৯) এবং "আল-আওসাত" (১৬৪৬) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ২৩)
تابعه الحسن بن موسى عن فضيل، ورواه أبو نعيم عن فضيل بن مروزق فوقه، فهذا وإن كان فيه عطية؛ فهو ممن يُعْتَبر بحديثه ويُسْتَشْهَدُ به، وإن لم يكن حُجَّة.

وأما الوقف؛ فقد تقدم نظيره من حديث أبي هريرة؛ فهذه الأحاديث يشدُّ بعضُها بعضًا، وتشهدُ لها أصول الشرع وقواعده، والقول بمضمونها هو مذهب السلف والسنة، نقله عنهم الأشعري رحمه الله في "المقالات" وغيرها".

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله:

"مسألة: ولمس المرأة بشهوة:

ظاهرُ المذهب: أن الرجل متى وقع شيء من بشرته على بشرة أنثى بشهوة انتقض وضوؤه. وإن كان لغير شهوة، مثل أن يقبلها رحمة لها، أو يعالجها وهي مريضة، أو تقع بشرته عليها سهوا وما أشبه ذلك؛ لم ينقض. وعنه: ينقض اللمس مطلقًا، لعموم قوله: (أَوْ لامَستُم النِّسَاءَ) وقراءة حمزة والكسائي: "أو لمستم النساء". وحقيقة الملامسة: التقاء البشرتين، لا سيما اللمس؛ فإنه باليد أغلب، كما قال:

لمست بكفي كـ ـفه أطلب الغنى

ولهذا قال عمر وابن مسعود رضي الله عنها: "القبلة من اللمس وفيها الوضوء".

وقال عبد الله بن عمر: "قبلة الرجل امرأته وجسّها بيده من الملامسة".

ولأنه مس ينقض، فلم تعتبر فيه الشهوة كمس الذكر، ولأن مس النساء في الجملة مظنَّة خروج الخارج، وأسباب الطهارة مما نيط الحكم فيها بالمظان بدليل الإيلاج والنوم ومس الذكر.

وعنه: أن مس النساء لا ينقض بحال، لما روى حبيب بن أبي ثابت عن عروة عن عائشة رضي الله عنها: "أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يُقَبِّلُ بعض نسائه ثم يصلِّي ولا
আল-হাসান ইবনে মুসা ফুযাইল থেকে এটি অনুসরণ করেছেন, এবং আবু নুয়াইম এটি তার উপরে ফুযাইল ইবনে মারযুক থেকে বর্ণনা করেছেন। অতএব, এতে আতিয়্যাহ থাকলেও, তিনি এমন এক ব্যক্তি যার হাদিস বিবেচনা করা হয় এবং এর মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়, যদিও এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ দলিল নয়।

আর মাউকুফ বর্ণনার ক্ষেত্রে, ইতিপূর্বে আবু হুরায়রা থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা গত হয়েছে; এই হাদিসগুলো একে অপরকে শক্তিশালী করে এবং শরীয়তের মূলনীতি ও নিয়মাবলি এর সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়। এগুলোর মর্ম অনুযায়ী কথা বলাই হলো সালাফ ও সুন্নাহর মতাদর্শ, যা আল-আশআরি (রাহিমাহুল্লাহ) 'আল-মাকালাত' ও অন্যান্য গ্রন্থে তাদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

"মাসআলা: কামোত্তেজনা সহকারে নারীকে স্পর্শ করা:

মাযহাবের প্রকাশ্য অভিমত হলো: যখনই কোনো পুরুষের শরীরের কোনো অংশ কামোত্তেজনা সহকারে কোনো নারীর শরীরের ওপর পড়বে, তখন তার ওজু ভেঙে যাবে। আর যদি তা কামোত্তেজনা ছাড়া হয়, যেমন দয়াপরবশ হয়ে তাকে চুম্বন করা, অথবা অসুস্থ অবস্থায় তার সেবা করা, অথবা ভুলবশত শরীরের চামড়া তার ওপর লেগে যাওয়া বা এই জাতীয় কিছু, তবে ওজু ভাঙবে না। আর তাঁর (ইমাম আহমাদ) থেকে আরেকটি বর্ণনা রয়েছে যে: স্পর্শ করলে সাধারণভাবে ওজু ভেঙে যাবে, কারণ আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতা: "অথবা তোমরা যদি নারীদের স্পর্শ কর" এবং হামযাহ ও কিসাঈর কিরাত হলো: "অথবা তোমরা নারীদের স্পর্শ করো"। আর মলামাসাহ বা স্পর্শ করার প্রকৃত অর্থ হলো দুই শরীরের চামড়ার মিলন, বিশেষ করে স্পর্শ করা; কারণ এটি হাতের মাধ্যমেই বেশি হয়ে থাকে, যেমন কবি বলেছেন:

আমি স্বচ্ছলতা কামনায় আমার হাতের তালু দিয়ে তার হাতের তালু স্পর্শ করলাম

এই কারণেই উমর ও ইবনে মাসউদ (রাযিআল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: "চুম্বন করা স্পর্শ করার অন্তর্ভুক্ত এবং এতে ওজু আবশ্যক।"

আর আব্দুল্লাহ ইবনে উমর বলেছেন: "স্বীয় স্ত্রীকে চুম্বন করা এবং হাত দিয়ে তাকে স্পর্শ করা মলামাসাহর অন্তর্ভুক্ত।"

আর যেহেতু এটি এমন এক স্পর্শ যা ওজু নষ্ট করে, তাই লিঙ্গ স্পর্শ করার মতো এতেও কামোত্তেজনা শর্ত হিসেবে গণ্য হবে না। এছাড়া সাধারণভাবে নারীদের স্পর্শ করা কোনো কিছু নির্গত হওয়ার একটি সম্ভাব্য কারণ, আর পবিত্রতার বিষয়গুলো এমন যে সেগুলোর বিধান সম্ভাবনার সাথে যুক্ত থাকে, যেমনটি লিঙ্গ প্রবেশ করানো, ঘুম এবং লিঙ্গ স্পর্শ করার দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়।

আর তাঁর থেকে আরেকটি বর্ণনা হলো: নারীকে স্পর্শ করলে কোনো অবস্থাতেই ওজু ভঙ্গ হয় না। কারণ হাবিব ইবনে আবি সাবিত উরওয়াহ থেকে এবং তিনি আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কোনো কোনো স্ত্রীকে চুম্বন করতেন, অতঃপর সালাত আদায় করতেন এবং তিনি নতুন করে ওজু করতেন না—"
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ২৪)
يتوضأ". رواه أبو داود، والترمذي، وابن ماجه (1).

ورواه إبراهيم التيمي عن عائشة؛ أخرجه أبو داود والنسائي.

وقد احتجَّ به أحمد في رواية حنبل، وقد تكلَّم هو وغيره في الطريق الأولى؛ بأن عروة المذكور هو عروة المزني، كذلك قال سفيان الثوري: ما حدثنا حبيب إلا عن عروة المزني.

وعروة هذا لم يدرك عائشة، وإن كان عروة بن الزبير؛ فإن حبيبًا لم يدركه، قال إسحاق بن راهويه: لا تظنوا أن حبيبًا لقي عروة.

وفي الثاني: بأن إبراهيم التيمي لا يصح سماعه من عائشة.

وجواب هذا: أن عامة ما في الإسناد نوع إرسال، وإذا أرسل الحديث من وجهين مختلفين، اعتضد أحدهما بالآخر، لا سيما وقد رواه البزار بإسناد جيد، عن عطاء عن عائشة رضي الله عنها مثله".

وقال الحافظ في "الفتح" (1/ 292):

"ويمكن أن يستدل لدخولهما بفعله صلى الله عليه وسلم، ففي الدارقطني بإسناد حسن من حديث عثمان في صفة الوضوء: "فغسل يديه إلى المرفقين حتى مسَّ أطراف العضدين" (2)، وفيه عن جابر قال: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا توضأ أدار الماء على مرفقيه"، لكن إسناده ضعيف، وفي البزار والطبراني من حديث وائل بن حجر في صفة الوضوء: "وغسل ذراعيه حتى جاوز المرفق". وفي الطحاوي والطبراني من حديث ثعلبة بن عباد عن أبيه مرفوعًا: "ثم غسل ذراعيه حتى يسيل الماء على مرفقيه". فهذه الأحاديث يقوِّي بعضها بعضًا".

قال الحافظ: "روى سعيد بن منصور من حديث ابن عمر مرفوعًا: "سفر

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود (2382) والترمذي (727) وابن ماجه (811).

(2) أخرجه الدارقطني في سننه: (1/ 83).
অযু করতেন।" এটি আবু দাউদ, তিরমিযী এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন (১)।

আর এটি ইবরাহীম আত-তাইমী আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন; এটি আবু দাউদ ও নাসাঈ বের করেছেন।

আহমদ হাম্বলের বর্ণনায় এটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, আর তিনি এবং অন্যান্যরা প্রথম সূত্রটি সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন; এই মর্মে যে, এখানে উল্লেখিত উরওয়াহ হলেন উরওয়াহ আল-মুযানী। একইভাবে সুফিয়ান আস-সাওরী বলেছেন: হাবীব আমাদের কাছে উরওয়াহ আল-মুযানী ব্যতীত অন্য কারো সূত্রে বর্ণনা করেননি।

আর এই উরওয়াহ আয়েশাকে পাননি (সাক্ষাৎ পাননি), আর যদি তিনি উরওয়াহ ইবনে যুবায়েরও হন, তবে হাবীব তাকে পাননি। ইসহাক ইবনে রাহওয়াই বলেছেন: তোমরা ধারণা করো না যে হাবীব উরওয়াহর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।

আর দ্বিতীয় সূত্রে: ইবরাহীম আত-তাইমীর আয়েশা থেকে সরাসরি শোনার বিষয়টি প্রমাণিত নয়।

এর উত্তর হলো: সনদের সাধারণ অবস্থা হলো এক প্রকার 'ইরসাল' (সূত্র বিচ্ছিন্নতা), আর যখন একটি হাদিস দুটি ভিন্ন সূত্র থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়, তখন একটি অন্যটির দ্বারা শক্তিশালী হয়। বিশেষ করে আল-বাযযার যখন আতা থেকে এবং তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে উত্তম সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

হাফেজ (ইবনে হাজার) 'আল-ফাতহ' গ্রন্থে (১/ ২৯২) বলেছেন:

"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমলের মাধ্যমে এই দুটির (কনুইয়ের) অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে দলিল পেশ করা সম্ভব। দারাকুতনীতে উত্তম (হাসান) সনদে উসমানের হাদিসে অযুর বর্ণনায় এসেছে: "অতঃপর তিনি তাঁর হাত দুটি কনুই পর্যন্ত ধুলেন এমনকি বাহুর উপরিভাগও স্পর্শ করলেন" (২)। আর তাতে জাবির থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অযু করতেন তখন তিনি তাঁর কনুইয়ের ওপর পানি ঘুরাতেন", তবে এর সনদ দুর্বল। আল-বাযযার ও তাবারানীতে ওয়ায়িল ইবনে হুজর এর হাদিসে অযুর বর্ণনায় রয়েছে: "এবং তিনি তাঁর দুই বাহু ধুলেন এমনকি তা কনুই অতিক্রম করল"। আর তাহাবী ও তাবারানীতে সা'লাবা ইবনে আব্বাদ তাঁর পিতা থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "অতঃপর তিনি তাঁর দুই বাহু ধুলেন এমনকি তাঁর কনুইয়ের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলো"। সুতরাং এই হাদিসগুলো একে অপরকে শক্তিশালী করে।"

হাফেজ বলেন: "সাঈদ ইবনে মানসুর ইবনে উমর থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "সফর

--------------------------------------------

(১) এটি আবু দাউদ (২৩৮২), তিরমিযী (৭২৭) এবং ইবনে মাজাহ (৮১১) বের করেছেন।

(২) এটি দারাকুতনী তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন: (১/ ৮৩)।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ২৫)
المرأة مع عبدها ضيعة" (1)، لكن في إسناده ضعف، وقد احتج به أحمد وغيره" (2).

"وروى الإمام أحمد عن جرير عن قابوس عن أبيه: "أن عليًّا سئل، فقيل له: أحدنا يستعجل فيغسل شيئًا قبل شيء؟ قال: لا، حتى يكون كما أمره الله تعالى". احتج به أحمد في رواية الأثرم" (3).

 

-‌‌ ومن أمثلة اختلاف النقَّاد في الحكم على رواة الحديث:

عن عبد الله بن عمر- رضي الله عنها: "أن غيلان بن سلمة أسلم وله عشر نسوة في الجاهلية فأسلمن معه، فأمره النبي صلى الله عليه وسلم أن يتخير أربعًا منهن" (4)، رواه الترمذي، وابن ماجه، وهذا وإن كان مرسلاً على الصحيح عند الأئمة -قاله الإمام أحمد والبخاري وغيرهما- إلا أنه قد عضده الذي قبله، فصار حجة بالاتفاق، ولهذا احتج به أحمد في رواية أبي الحارث" (5).

قال الحافظ الهيثمي: "عن معقل بن يسار قال: قال رسول الله- صلى الله عليه وسلم: "من اشترى رقبة ليعتقها، فلا يشترط لأهلها العتق، فإن عقده من الرزق"، رواه الطبراني في الكبير والأوسط، وفيه سعيد بن الفضل القرشي؛ ضعفه أبو حاتم، وقوَّاه غيره" (6).

وقال: "وعن سلمان قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن أهل المعروف في الدنيا أهل المعروف في الآخرة، وإن أهل المنكر في الدنيا أهل المنكر في

--------------------------------------------

(1) قال الهيثمي في "مجمع الزوائد" (3/ 214): "رواه البزار والطبراني في الأوسط، وفيه بزيع بن عبد الرحمن، ضعفه أبو حاتم، وبقية رجاله ثقات".

(2) انظر "فتح الباري" (4/ 77).

(3) انظر "تنقيح تحقيق أحاديث التعليق" (1/ 128).

(4) أخرجه أحمد في مسنده: (2/ 83) والترمذي في سننه: (1128)، وابن ماجه (1953) والدارقطني في سننه: (3/ 269).

(5) انظر "شرح الزركشي: (2/ 392).

(6) انظر: "مجمع الزوائد" (4/ 86).
"দাসী তার দাসের সাথে থাকলে তা ধ্বংসের কারণ" (১), তবে এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে, এবং ইমাম আহমদ ও অন্যান্যরা এর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন (২)।

"ইমাম আহমদ জারীর থেকে, তিনি কাবুস থেকে, তিনি তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে: "আলী (রাযি.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আমাদের কেউ কি তাড়াহুড়ো করে (অজু করার সময়) এক অঙ্গ ধোয়ার আগে অন্যটি ধুয়ে ফেলতে পারে? তিনি বললেন: না, যতক্ষণ না তা সেভাবেই সম্পন্ন হয় যেভাবে আল্লাহ তাআলা তাকে আদেশ করেছেন।" আল-আসরামের বর্ণনায় ইমাম আহমদ এর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন (৩)।

 

-‌‌ হাদিসের বর্ণনাকারীদের বিষয়ে ফয়সালা দেওয়ার ক্ষেত্রে হাদিস বিশারদগণের মতপার্থক্যের উদাহরণসমূহ:

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযি.) থেকে বর্ণিত: "গিলান ইবনে সালামা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং জাহেলিয়াত যুগে তার দশজন স্ত্রী ছিল যারা তার সাথেই ইসলাম গ্রহণ করেছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে তাদের মধ্য থেকে চারজনকে পছন্দ করে নেওয়ার নির্দেশ দিলেন" (৪), এটি তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। এটি আইম্মায়ে কেরামের নিকট বিশুদ্ধ মতানুসারে 'মুরসাল' হলেও — যা ইমাম আহমদ, বুখারী ও অন্যান্যরা বলেছেন — তবে এটি পূর্বের বর্ণনার দ্বারা শক্তিশালী হয়েছে, ফলে এটি সর্বসম্মতিক্রমে দলিলের মর্যাদা লাভ করেছে। এই কারণেই ইমাম আহমদ আবু হারিসের বর্ণনায় একে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন (৫)।

হাফেজ হাইসামী বলেছেন: "মা'কিল ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: 'যে ব্যক্তি মুক্ত করার উদ্দেশ্যে কোনো দাস ক্রয় করবে, সে যেন দাসের পরিবারের জন্য তার মালিকানা বা হকের শর্ত না রাখে, কেননা তার এই চুক্তিটি রিযিকের অন্তর্ভুক্ত।' এটি তাবারানি আল-কাবীর এবং আল-আওসাতে বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে সাঈদ ইবনুল ফাদল আল-কুরাশি রয়েছেন; আবু হাতিম তাকে দুর্বল বলেছেন এবং অন্যান্যেরা তাকে শক্তিশালী বলেছেন" (৬)।

তিনি আরও বলেছেন: "সালমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: 'দুনিয়াতে যারা নেককার মানুষ, আখেরাতেও তারাই নেককার হবে। আর দুনিয়াতে যারা পাপাচারী, আখেরাতেও তারাই পাপাচারী হিসেবে...'

--------------------------------------------

(১) হাইসামী 'মাজমাউয যাওয়াইদ' (৩/২১৪) গ্রন্থে বলেছেন: 'এটি বাযযার এবং তাবারানি আল-আওসাতে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে বাযী ইবনে আবদুর রহমান রয়েছেন, যাকে আবু হাতিম দুর্বল বলেছেন এবং বাকি বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য'।

(২) দেখুন 'ফাতহুল বারী' (৪/৭৭)।

(৩) দেখুন 'তানকীহুত তাহকীক আহাদিসিত তা'লীক' (১/১২৮)।

(৪) এটি আহমদ তার মুসনাদে: (২/৮৩), তিরমিযী তার সুনানে: (১১২৮), ইবনে মাজাহ (১৯৫৩) এবং দারাকুতনী তার সুনানে: (৩/২৬৯) বর্ণনা করেছেন।

(৫) দেখুন 'শারহুয যারকাশী': (২/৩৯২)।

(৬) দেখুন: 'মাজমাউয যাওয়াইদ' (৪/৮৬)।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ২৬)
الآخرة"، رواه الطبراني، وفيه هشام بن لاحق؛ تركه أحمد، وقواه النسائي، وبقية رجاله ثقات" (1).

قال الحافظ الذهبي: "عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إن الجنة لتزخرف لرمضان من رأس الحول إلى الحول المقبل، فإذا كان أول يوم من شهر رمضان هبت ريح من تحت العرش، فشققت ورق الجنة عن الحور العين، فقلن: يا رب؛ اجعل لنا من عبادك أزواجًا، وتقر بهم أعيننا وقر أعينهم بنا" (2)، قال الفقيه نصر: تفرد به الوليد بن الوليد العبسي وقد تركوه.

قلت: وهَّاه الدارقطني، وقوَّاه أبو حاتم" (3).

"حديث زياد بن الحارث الصدائي رضي الله عنه قال: "أمرني رسول الله صلى الله عليه وسلم: أن أؤذن في صلاة الفجر، فأذنت فأراد بلال أن يقيم، فقال رسول الله- صلى الله عليه وسلم: إن أخا صداء قد أذن، ومن أذن فهو يقيم"، رواه أبو داود، والترمذي، وابن ماجه، قال الترمذي: إنما نعرفه من حديث الإفريقي، وهو ضعيف عند أهل الحديث. وحسَّنه الحازمي، وقوَّاه العقيلي وابن الجوزي" (4).

قال الزيلعي: "فحديث أبي هريرة أخرجه الترمذي عن عثمان بن محمد الأخنس عن المقبري عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "ما بين المشرق والمغرب قبلة" (5) انتهى، وقال: حديث حسن صحيح. وتكلم فيه أحمد وقواه البخاري" (6).

وقال ابن عبد الهادي: "وعن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده قال: قال

--------------------------------------------

(1) انظر: "مجمع الزوائد" (7/ 263).

(2) أخرجه ابن خزيمة في صحيحه: (3/ 190)، وأخرجه الطبراني في المعجم الأوسط: (7/ 44)، وأبو يعلى في مسنده: (9/ 180).

(3) انظر: "تذكرة الحفاظ" (3/ 1108).

(4) نظر: "خلاصة البدر المنير": (1/ 105).

(5) أخرجه النسائي في "السنن الكبرى" (2/ 96)، والترمذي (2/ 171) وابن ماجه (1/ 323).

(6) انظر: "نصب الراية": (1/ 303).
পরকাল", তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন, এবং এতে হিশাম বিন লাহিক রয়েছেন; আহমদ তাকে বর্জন করেছেন, কিন্তু নাসায়ি তাকে শক্তিশালী বলেছেন, এবং এর অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (১)।

হাফেজ যাহাবি বলেন: "ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয় রমজানের জন্য জান্নাতকে বছরের শুরু থেকে পরবর্তী বছর পর্যন্ত সুসজ্জিত করা হয়। যখন রমজান মাসের প্রথম দিন আসে, তখন আরশের নিচ থেকে একটি বাতাস প্রবাহিত হয়, যা হুরুল ঈনদের উপর জান্নাতের পাতাগুলো উড়িয়ে দেয়। তখন তারা বলে: হে রব; আপনার বান্দাদের মধ্য থেকে আমাদের জন্য স্বামী নির্ধারণ করুন, যাদের দেখে আমাদের চোখ জুড়াবে এবং আমাদের দেখে তাদের চোখ জুড়াবে" (২)। ফকিহ নাসর বলেন: ওয়ালিদ বিন ওয়ালিদ আল-আবিসি এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং মুহাদ্দিসগণ তাকে বর্জন করেছেন।

আমি বলি: দারাকুতনি তাকে দুর্বল বলেছেন এবং আবু হাতিম তাকে শক্তিশালী বলেছেন (৩)।

"জিয়াদ বিন হারিস আস-সুদায়ী রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে ফজর সালাতের আজান দেওয়ার আদেশ দিলেন। আমি আজান দিলাম, এরপর বিলাল ইকামত দিতে চাইলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: সুদা-এর ভাই আজান দিয়েছে, আর যে আজান দেয় সেই ইকামত দিবে", এটি আবু দাউদ, তিরমিজি এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি বলেন: আমরা এটি কেবল ইফরিকির হাদিস থেকে জানি, আর তিনি হাদিস বিশারদদের নিকট দুর্বল। তবে হাজিমি একে হাসান বলেছেন এবং উকাইলি ও ইবনুল জাওযি একে শক্তিশালী বলেছেন (৪)।

যাইলায়ি বলেন: "আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদিসটি তিরমিজি উসমান বিন মুহাম্মদ আল-আখনাস থেকে, তিনি মাকবুরি থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী স্থানই কিবলা" (৫) সমাপ্ত। তিনি বলেন: হাদিসটি হাসান সহিহ। ইমাম আহমদ এটি নিয়ে সমালোচনা করেছেন এবং ইমাম বুখারি একে শক্তিশালী বলেছেন (৬)।

ইবনে আব্দুল হাদি বলেন: "এবং আমর বিন শুআইব থেকে তার পিতার মাধ্যমে তার দাদা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তিনি বলেছেন

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "মাজমাউয যাওয়াইদ" (৭/ ২৬৩)।

(২) ইবনে খুজাইমা এটি তার সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: (৩/ ১৯০), তাবারানি এটি আল-মুজামুল আওসাতে বর্ণনা করেছেন: (৭/ ৪৪) এবং আবু ইয়ালা তার মুসনাদে বর্ণনা করেছেন: (৯/ ১৮০)।

(৩) দেখুন: "তাযকিরাতুল হুফফাজ" (৩/ ১১০৮)।

(৪) দেখুন: "খুলাসাতুল বদরিল মুনির": (১/ ১০৫)।

(৫) নাসায়ি এটি "আস-সুনানুল কুবরা" (২/ ৯৬), তিরমিজি (২/ ১৭১) এবং ইবনে মাজাহ (১/ ৩২৩) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(৬) দেখুন: "নাসবুর রায়াহ": (১/ ৩০৩)।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ২৭)
رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ليس للقاتل من الميراث شيء" (1)، رواه النسائي، والدارقطني، وقواه ابن عبد البر، وذكر له النسائي علة مؤثرة" (2).

وقال ابن الملقن: "عن عائشة رضي الله عنها أنَّها قالت: "صَلَاةٌ عَلَى سِواكٍ أفضلُ مِن صَلاةٍ عَلَى غير سِوَاكٍ بِسَبْعين دَرَجَة"، رواه أبو نعيم من حديث هاشم بن القاسم الحَرَّاني ثنا عيسى بن يونس عن فرج به، وفرج ضعفه الدارقطني وغيره، وقَوَّاه أحمد" (3).

"وقد روى أبو أحمد أيضاً من حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي- صلى الله عليه وسلم قال: "الذي يعمل عمل قوم لوط فارجموه الأعلى والأسفل، ارجموهما جميعًا" (4)، لكنه ضعفه. وبالجملة هذه الأحاديث يقوي بعضها بعضًا، إذ ليس فيها متهم بكذب وسوء الحفظ يزول بتتابعها، مع أن الجارحين لم يبينوا سبب الجرح، وقد قال يحيى بن سعيد: عباد بن منصور ثقة، لا ينبغي أن يُتْرَكَ حديثُه لرأي أخطأ فيه، وهذا يدل على أن تضعيفهم له كان بسبب خطئه في رأيه، ويقوي الحديث عمل راويه عليه" (5).

 

-‌‌ حجية الحديث المرسل إذا اعتضد:

وقال ابن عبد البر: "وأصل مذهب مالك رحمه الله والذي عليه جماعة أصحابنا المالكيين: أن مرسل الثقة تجب به الحجة ويلزم به العمل، كما يجب بالمسند سواء" (6).

--------------------------------------------

(1) أخرجه النسائي في السنن الكبرى: (4/ 79)، والدارقطني في سننه: (4/ 96)، والطبراني في المعجم الأوسط: (1/ 271).

(2) انظر: "المحرر في الحديث" (1/ 529).

(3) انظر: "البدر المنير": (2/ 18).

(4) أخرجه ابن ماجه في سننه: (2/ 856)، وأخرجه أبو يعلى في مسنده: (12/ 43).

(5) انظر: "شرح الزركشي": (3/ 106).

(6) انظر: "التمهيد" لابن عبد البر: (1/ 2).
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "হত্যাকারীর জন্য উত্তরাধিকারের কোনো অংশ নেই" (১), এটি নাসায়ী এবং দারা কুতনী বর্ণনা করেছেন, ইবন আবদিল বার এটিকে শক্তিশালী বলেছেন এবং নাসায়ী এর একটি প্রভাবশালী ত্রুটির কথা উল্লেখ করেছেন (২)।

ইবনুল মুলাক্কিন বলেছেন: "আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: 'মিসওয়াক করে সালাত আদায় করা মিসওয়াক বিহীন সালাতের চেয়ে সত্তর গুণ বেশি উত্তম', আবু নুয়াইম হাশিম ইবনুল কাসিম আল-হাররানির হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবনে ইউনুস থেকে, তিনি ফরাজ থেকে; দারা কুতনী ও অন্যান্যরা ফরাজকে দুর্বল বলেছেন, কিন্তু আহমদ তাকে শক্তিশালী বলেছেন" (৩)।

"আবু আহমদ আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: 'যে ব্যক্তি লুত সম্প্রদায়ের মতো কাজ করবে, তাদের উপরের এবং নিচের উভয়কেই পাথর ছুড়ে মারো, তাদের উভয়কেই পাথর ছুড়ে মারো' (৪), তবে তিনি এটিকে দুর্বল বলেছেন। মোটের ওপর, এই হাদিসগুলো একে অপরকে শক্তিশালী করে, কারণ এদের মধ্যে মিথ্যাচার বা স্মৃতিশক্তির চরম দুর্বলতার জন্য অভিযুক্ত কেউ নেই যার প্রভাব এদের সমষ্টিগত বর্ণনার মাধ্যমে দূরীভূত হয় না; যদিও সমালোচনাকারীরা তাদের সমালোচনার কারণ স্পষ্ট করেননি। ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেছেন: আব্বাদ ইবনে মনসুর নির্ভরযোগ্য, কোনো ভুল মতের কারণে তার হাদিস বর্জন করা উচিত নয়। এটি প্রমাণ করে যে, তার প্রতি তাদের দুর্বলতার অভিযোগ ছিল তার ব্যক্তিগত মতের ভুলের কারণে। আর বর্ণনাকারীর আমল এই হাদিসটিকে শক্তিশালী করে" (৫)।

 

-‌‌ মুরসাল হাদিস যদি সমর্থিত হয় তবে তার প্রামাণিকতা:

ইবন আবদিল বার বলেছেন: "ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাবের মূলনীতি এবং আমাদের মালিকী মাযহাবের একদল আলিমের অভিমত হলো: নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর মুরসাল হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণ ওয়াজিব এবং এর ওপর আমল করা আবশ্যক, যেমনটি মুসনাদ হাদিসের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য" (৬)।

--------------------------------------------

(১) নাসায়ী এটি আস-সুনান আল-কুবরা গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: (৪/৭৯), দারা কুতনী তার সুনান গ্রন্থে: (৪/৯৬), এবং তাবারানি আল-মু'জাম আল-আওসাত গ্রন্থে: (১/২৭১)।

(২) দেখুন: "আল-মুহাররার ফিল হাদিস" (১/৫২৯)।

(৩) দেখুন: "আল-বাদরুল মুনীর": (২/১৮)।

(৪) ইবনে মাজাহ এটি তার সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: (২/৮৫৬), এবং আবু ইয়ালা তার মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: (১২/৪৩)।

(৫) দেখুন: "শারহুয যারকাশি": (৩/১০৬)।

(৬) দেখুন: ইবন আবদিল বার রচিত "আত-তামহীদ": (১/২)।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ২৮)
وقال شيخ الإسلام: "والمرسل نقول: إذا عمل به جماهير أهل العلم وأرسله من أخذ العلم عن غير رجال المرسل الأول، أو روي مثله عن الصحابة، أو وافقة ظاهر القرآن؛ فهو حجة".

وقال: "والمرسل إذا عمل به الصحابة حجة وفاقًا" (1).

وقال العلائي: "اعتبار المرسل بما يعضده من مرسل آخر، أو مسند من وجه آخر، أو قول بعض الصحابة أو غير ذلك -كما سنبينه- وهو اختيار الإمام الشافعي رحمه الله، فيما رويناه عنه، وهذا نصه: قال (2): المنقطع مختلف؛ فمن شاهد أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، فروى حديثًا منقطعًا اعتبر عليه بأمور:

أحدها: أن ينظر إلى ما أرسل من الحديث، فإن تركه فيه الحفاظ المأمونون فأسندوه إلى النبي صلى الله عليه وسلم على معنى ما روى، كانت هذه دلالة على صحة ما قيل عنه وحفظه، وإن انفرد به مرسلاً؛ قُبِلَ ما انفرد به من ذلك، ويعتبر عليه بأن ينظر: هل يوافقه مرسل آخر ممن قبل العلم عنه من غير رجاله الذين قبل عنهم؟ فإن وجد ذلك؛ قوي، وهي أضعف من الأول، وإن لم يوجد ذلك؛ نظر إلى بعض ما يروى عن بعض الصحابة قولاً له، فإن وجد يوافق ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم كانت في هذه دلالة على أنه لم يأخذ مرسله إلا عن أصل يصح إن شاء الله تعالى" (3).

وقال ابن جرير: "أجمع التابعون بأسرهم على قبول المرسل، ولم يأت عنهم إنكاره، ولا عن أحد من الأئمة بعدهم إلى رأس المئتين" (4).

وقال أبو داود في "رسالته إلى أهل مكة": "وأما المراسيل؛ فقد كان يحتج

--------------------------------------------

(1) انظر: "شرح العمدة" (2/ 262).

(2) الرسالة" للإمام الشافعي (ص 463).

(3) انظر جامع التحصيل: (ص 39).

(4) انظر: "تدريب الراوي" (1/ 198).
শাইখুল ইসলাম বলেছেন: "মুরসাল হাদিস সম্পর্কে আমরা বলি: যখন অধিকাংশ ইলম অন্বেষী আলেম এর ওপর আমল করেন এবং এমন ব্যক্তি এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেন যিনি প্রথম মুরসাল বর্ণনাকারীর রাবিগণ ব্যতীত অন্য কারো থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন, অথবা সাহাবীদের থেকে এর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, অথবা এটি কুরআনের বাহ্যিক অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়; তবে তা হুজ্জাত বা দলীল।"

তিনি আরও বলেছেন: "সাহাবীগণ যদি মুরসাল হাদিসের ওপর আমল করেন, তবে তা সর্বসম্মতভাবে হুজ্জাত বা দলীল" (১)।

আল-আলাই বলেছেন: "মুরসাল হাদিসকে গ্রহণযোগ্য গণ্য করা হয় অন্য কোনো মুরসাল হাদিস, অথবা অন্য কোনো সূত্রের মুসনাদ হাদিস, অথবা কোনো সাহাবীর বক্তব্য বা অন্য কিছুর দ্বারা যা একে শক্তিশালী করে—যেমনটি আমরা বর্ণনা করব—আর এটিই ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর পছন্দ, যা আমরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছি। তাঁর মূল পাঠ হলো: তিনি বলেছেন (২): মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন) হাদিস সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে; সুতরাং যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের দেখেছেন, তারা যদি কোনো মুনকাতি হাদিস বর্ণনা করেন, তবে তা কয়েকটি বিষয়ের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে:

প্রথমত: যে হাদিসটি মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি বিশ্বস্ত হাফেজগণ সেটি গ্রহণ করেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত সেটির অর্থগত মারফু সনদ বর্ণনা করেন, তবে এটি তার বিশুদ্ধতা ও সংরক্ষণের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তিনি এককভাবে এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেন, তবে তার একক বর্ণনাটি গ্রহণ করা হবে এবং তা এভাবে যাচাই করা হবে: অন্য কেউ কি মুরসাল হিসেবে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন, যিনি এমন ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন যারা প্রথম বর্ণনাকারীর রাবি নন? যদি তা পাওয়া যায়, তবে এটি শক্তিশালী হবে, যদিও তা প্রথম সুরতের তুলনায় দুর্বল। আর যদি তা না পাওয়া যায়, তবে কোনো সাহাবীর বক্তব্য হিসেবে বর্ণিত কোনো সূত্রের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হবে। যদি সেটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিসের সাথে মিলে যায়, তবে তা এই বিষয়ের প্রমাণ হবে যে, তিনি এই মুরসাল হাদিসটি কোনো বিশুদ্ধ উৎস থেকেই গ্রহণ করেছেন, ইনশাআল্লাহ তাআলা" (৩)।

ইবনে জারীর বলেছেন: "তাবেয়ীগণ সকলে মুরসাল হাদিস গ্রহণের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন এবং তাদের পক্ষ থেকে এর কোনো অস্বীকৃতি আসেনি, এমনকি হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত পরবর্তী কোনো ইমামের থেকেও তা আসেনি" (৪)।

আবু দাউদ তাঁর "রিসালাতু ইলা আহলি মাক্কাহ"-তে বলেছেন: "আর মুরসাল হাদিসসমূহ; তা দ্বারা দলীল পেশ করা হতো

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "শারহুল উমদাহ" (২/ ২৬২)।

(২) ইমাম শাফিঈ-র "আর-রিসালাহ" (পৃ. ৪৬৩)।

(৩) দেখুন: "জামি’ আত-তাহসীল" (পৃ. ৩৯)।

(৪) দেখুন: "তাদরীবুর রাবী" (১/ ১৯৮)।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুজ জামিল ফীয যাব্বি আন ইরওয়াইল গালীল (পৃষ্ঠা: ২৯)
بها العلماء فيما مضى مثل سفيان الثوري، ومالك، والأوزاعي، حتى جاء الشافعي فتكلم فيها، وتابعه على ذلك أحمد بن حنبل وغيره، فإذا لم يكن مسند غير المراسيل، ولم يوجد المسند؛ فالمرسل يحتج به، وليس هو مثل المتصل في القوة".

يعني: إذا لم يكن له شاهد.

وقال الحافظ ابن حجر: "وأما الموطأ؛ فقال أبو بكر الأبهري: جملة ما فيه من الآثار عن النبي صلى الله عليه وسلم وعن الصحابة والتابعين ألف وسبع مئة وعشرون حديثا المسند منها ست مئة حديث، والمرسل مئتان واثنان وعشرون حديثًا، والموقوف ست مئة وثلاثة عشر، ومن قول التابعين مئتان وخمسة وثمانون" (1). وهذا يدل على الاحتجاج بها.

وقال البيهقي: "فالشافعي يقبل مراسيل كبار التابعين، إذا انضم إليها ما يؤكدها، ولا يقبلها إذا لم ينضم إليها ما يؤكدها، سواء أكان مرسل ابن المسيب، أو غيره، قال: وقد ذكرنا مراسيل لابن المسيب لم يقل بها الشافعي حين لم ينضم إليها ما يؤكدها، ومراسيل لغيره قال بها حين انضم إليها ما يؤكدها. قال: وزيادة ابن المسيب على غيره في هذا لأنه أصح التابعين إرسالاً" (2).

--------------------------------------------

* * *

(1) انظر: "النكت على مقدمة ابن الصلاح" (1/ 192).

(2) انظر: "المنهل الروي" (ص 44).
সুফিয়ান সাওরী, মালিক এবং আওযাঈর মতো পূর্ববর্তী আলেমগণ অতীতে এটি দ্বারা দলিল পেশ করতেন, যতক্ষণ না শাফিঈ আসলেন এবং এ বিষয়ে আলোচনা করলেন। অতঃপর আহমাদ বিন হাম্বল ও অন্যান্যরা এ ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করেন। সুতরাং যদি মুরসাল ব্যতীত অন্য কোনো মুসনাদ না থাকে এবং কোনো মুসনাদ পাওয়া না যায়, তবে মুরসাল দলিল হিসেবে গণ্য হবে, যদিও শক্তির দিক থেকে তা মুত্তাসিলের মতো নয়।

অর্থাৎ: যদি এর কোনো শাহেদ (সমর্থক বর্ণনা) না থাকে।

হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "আর মুওয়াত্তার ব্যাপারে আবু বকর আল-আভহারী বলেন: এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবীগণ এবং তাবেঈনদের থেকে বর্ণিত আছারের (বিবরণ) মোট সংখ্যা হলো এক হাজার সাতশত বিশটি। এর মধ্যে মুসনাদ হলো ছয়শত হাদিস, মুরসাল দুইশত বাইশটি, মাওকুফ ছয়শত তেরোটি এবং তাবেঈনদের বাণী দুইশত পঁচাশিটি" (১)। এটি তা দ্বারা দলিল গ্রহণের প্রমাণ বহন করে।

বায়হাকী বলেন: "ইমাম শাফিঈ প্রবীণ তাবেঈনদের মুরসাল বর্ণনাগুলো কবুল করেন যখন সেটির সাথে এমন কিছু যুক্ত হয় যা একে শক্তিশালী করে। আর যদি এমন কিছু যুক্ত না হয় যা একে শক্তিশালী করে, তবে তিনি তা কবুল করেন না; চাই তা ইবনুল মুসায়্যিবের মুরসাল হোক কিংবা অন্য কারো। তিনি বলেন: আমরা ইবনুল মুসায়্যিবের এমন কিছু মুরসাল বর্ণনা উল্লেখ করেছি যা ইমাম শাফিঈ গ্রহণ করেননি যখন সেটির সাথে কোনো শক্তিশালীকারী বর্ণনা যুক্ত হয়নি, আবার অন্যদের এমন কিছু মুরসাল তিনি গ্রহণ করেছেন যখন সেটির সাথে শক্তিশালীকারী কিছু যুক্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন: এ ক্ষেত্রে অন্যদের ওপর ইবনুল মুসায়্যিবের বিশেষত্ব এই যে, মুরসাল বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি তাবেঈনদের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ" (২)।

--------------------------------------------

* * *

(১) দেখুন: "আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ" (১/ ১৯২)।

(২) দেখুন: "আল-মানহালুর রাভী" (পৃ. ৪৪)।