(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: -)
العلمانيون العرب وموقفهم من الإسلام   (مصطفى باحو)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: العلمانيون العرب وموقفهم من الإسلام

المؤلف: أبو سفيان مصطفى باحُّو السلاوي المغربي

الناشر: المكتبة الإسلامية للنشر والتوزيع، القاهرة - جمهورية مصر العربية

الطبعة: الأولى، 1433 هـ - 2012 م

عدد الصفحات: 389

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 محرم 1434

আরব সেকুলারিস্টগণ এবং ইসলামের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি   (মুস্তফা বাহু)

বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডন


গ্রন্থ: আরব সেকুলারিস্টগণ এবং ইসলামের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি

লেখক: আবু সুফিয়ান মুস্তফা বাহু আস-সালাউয়ি আল-মাগরিবী

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, কায়রো - মিশর আরব প্রজাতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৩ হিজরি - ২০১২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণলব্ধ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৯ মহররম ১৪৩৪

(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة: بحوث في العلمانية

(2)

 

العلمانيون العرب وموقفهم من الإسلام

 

مصطفى باحو
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বিষয়ক গবেষণা সিরিজ

(২)

 

আরব ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীগণ এবং ইসলামের প্রতি তাঁদের অবস্থান

 

মোস্তফা বাহু
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌تقديم

بسم الله الرحمن الرحيم، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين.

بعد الكتاب الأول من سلسلة بحوث في العلمانية: «العلمانية: المفهوم والمظاهر والأسباب». الذي طبع في الرباط، ونشرته جريدة «السبيل» المغربية غشت 2011.

هذا هو الكتاب الثاني، الذي خصصته للحديث عن حقيقة نظرة العلمانيين للإسلام وموقفهم منه، بعيدا عن التمويه الإيديولوجي والتزييف الإعلامي الذي يمارسه الخطاب العلماني. وأبين فيه أن الموقف العلماني من الإسلام مضمر برؤية استشراقية دونية، فهو في نظرهم يقوم على أسس خرافية أسطورية لا عقلانية، وهو مرحلة من مراحل تطور الفكر البشري نحو الفكر العقلاني الوضعي الذي يرى الأديان مجموعة من الأوهام التي صنعها البشر البدائيون لتبرير عجزهم أمام ظروف الطبيعة القاهرة، وأن الإسلام دين البداوة والخيمة والقبيلة (1). وبالتالي لم يعد صالحا لمجتمعات الطاقة النووية والخلايا الجذعية والانترنيت.

وتنطلق رؤيتهم تلك من أساس دهري، وهو أن الإسلام دين بشري أو لِنَقُل: محمدي، ويتغافلون عن كون صاحب الشرع هو من يعلم الطاقة النووية والخلايا الجذعية وغيرها. فالله شرع شرعا مع علمه بمتغيرات الأحوال والأزمان والأماكن، شرعا صالحا لحضارة الجمل وحضارة الانترنيت، وهو الذي خلق

--------------------------------------------

(1) الحركات الإسلامية للربيعو (83).
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূলের প্রতি।

'ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে গবেষণামালা' সিরিজের প্রথম গ্রন্থ: «ধর্মনিরপেক্ষতা: ধারণা, স্বরূপ ও কারণসমূহ»-এর পর, যা ২০১১ সালের আগস্টে রাবাতে মুদ্রিত এবং মরক্কোর সংবাদপত্র «আস-সাবিল» কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছিল।

এটি হচ্ছে দ্বিতীয় গ্রন্থ, যা আমি ধর্মনিরপেক্ষবাদীদের ইসলামের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির বাস্তবতা এবং তাদের অবস্থানের পর্যালোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি; যা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী বয়ানে বিদ্যমান আদর্শিক ছদ্মবেশ এবং মিডিয়াভিত্তিক অপপ্রচারের ঊর্ধ্বে। এতে আমি স্পষ্ট করেছি যে, ইসলামের প্রতি ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানটি একটি হীনমন্যতামূলক প্রাচ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে আচ্ছন্ন। তাদের দৃষ্টিতে ইসলাম অলীক উপকথা, পৌরাণিক ও অযৌক্তিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত; এটি মানব চিন্তার বিবর্তনের এমন একটি পর্যায় যা যুক্তিবাদী ইতিবাচক চিন্তার দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই চিন্তা ধর্মসমূহকে আদিম মানুষের তৈরি কিছু ভ্রান্ত ধারণা হিসেবে গণ্য করে, যা তারা প্রকৃতির কঠোর পরিস্থিতির সামনে নিজেদের অসহায়ত্বকে যৌক্তিক রূপ দিতে তৈরি করেছিল। তাদের মতে, ইসলাম হলো মরুবাসী বেদুইন, তাবু এবং গোত্রীয় সংস্কৃতির ধর্ম (১)। ফলে তা পারমাণবিক শক্তি, স্টেম সেল এবং ইন্টারনেটের এই বর্তমান সমাজের জন্য আর উপযোগী নয়।

তাদের এই দৃষ্টিভঙ্গি একটি নাস্তিক্যবাদী বা ইহজাগতিকতাবাদী ভিত্তি থেকে উৎসারিত, আর তা হলো—ইসলাম একটি মানবীয় ধর্ম অথবা বলা যায়: এটি 'মুহাম্মদী' ধর্ম। তারা এই বিষয়টি উপেক্ষা করে যে, শরিয়তের প্রবর্তক স্বয়ং পারমাণবিক শক্তি, স্টেম সেল এবং অন্যান্য সকল বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ অবগত। আল্লাহ এমন এক শরীয়ত বা জীবনবিধান প্রবর্তন করেছেন যা অবস্থা, কাল ও পাত্রের পরিবর্তন সম্পর্কে তাঁর পূর্ণ জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও উষ্ট্র-সভ্যতা এবং ইন্টারনেট-সভ্যতা—উভয়ের জন্যই সমানভাবে উপযোগী। আর তিনিই সৃষ্টি করেছেন...

--------------------------------------------

(১) আর-রাবিউ রচিত 'আল-হারাকাত আল-ইসলামিয়্যাহ' (৮৩)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৬)
الإنسان ويعرف ما يصلح له وما لا يصلح.

لكن الخطاب العلماني يقف على أرض إلحادية لا تؤمن بوجود إله ولا تعترف بدين، ويتظاهر بكونه لا مشكلة له مع الدين، وأنه يكفل حرية الاعتقاد للجميع.

وهدفنا في هذا الكتاب تعرية تلك الأقنعة وهتك تلك الأستار التي يتمترس خلفها الخطاب العلماني، وتفكيكها وطحنها وسحقها إلى الأبد.

وأغلب رموز العلمانيين يصرحون بعلمانية صارخة لادينية، كأركون وعادل ضاهر وعزيز العظمة وهاشم صالح وطيب تيزيني ونصر أبي زيد، ويرفضون التمسح بالدين بأي شكل من الأشكال، بل ينتقدون علمانيين آخرين يحاولون البحث عن جذور إسلامية للعلمانية أو الاحتجاج بالنصوص الدينية، ويعتبرون هذا تنازلا خطيرا وانبطاحا لا مبرر له. بينما يفضل آخرون الهجوم مرة والتراجع أخرى في انتظار تهيؤ الأجواء للهجوم النهائي، يمثل هذا الاتجاه حسن حنفي وخليل عبد الكريم والعشماوي وآخرون.

ولا خلاف بين الطائفتين إلا في التكتيك، وهل حان نقد الدين الإسلامي ونقضه وتجاوزه؟، أم أن الجو العام والخشية من ردود أفعال جماهيرية غاضبة ترجع على المشروع العلماني بالضعف؟ تحتم اعتبار المرحلة وظروفها وملابساتها في الحسبان.

وعموما يستحيل وجود علماني يؤمن إيمانا حقيقيا بالدين أو الغيب أو المقدسات إلا إذا لم يكن علمانيا حقيقيا أو يفهم العلمانية فهما ساذجا طفوليا.

لأن الدين يقوم على اعتبارات ميتافيزيقية وأصول غيبية، والعلمانية ما جاءت إلا لمحاربة الغيبيات باعتبارها مقومات خرافية أسطورية تنتمي إلى عصر
মানুষ নিজের জন্য কোনটি কল্যাণকর এবং কোনটি অকল্যাণকর তা জানে।

কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী বয়ান এক নাস্তিক্যবাদী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে যা কোনো ইশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না এবং কোনো ধর্মকে স্বীকার করে না; অথচ এটি এমন ভান করে যেন ধর্মের সাথে এর কোনো বিরোধ নেই এবং এটি সবার বিশ্বাসের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।

এই গ্রন্থে আমাদের লক্ষ্য হলো সেই সকল মুখোশ উন্মোচন করা এবং সেই পর্দাগুলো ছিঁড়ে ফেলা যার পেছনে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী বয়ান আত্মগোপন করে থাকে; সেই সাথে সেগুলোকে চিরতরে ভেঙে চুরমার ও ধূলিসাৎ করে দেওয়া।

ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের অধিকাংশ অগ্রপথিক প্রকাশ্য ও ধর্মহীন ধর্মনিরপেক্ষতার ঘোষণা দেন, যেমন—আরকুন, আদিল দাহের, আজিজ আল-আজমা, হাশেম সালেহ, তয়্যিব তিজিনি এবং নাসর আবু জায়েদ। তারা যেকোনো উপায়ে ধর্মের সাথে সংশ্লিষ্টতাকে প্রত্যাখ্যান করেন; বরং তারা সেই সকল ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের সমালোচনা করেন যারা ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য ইসলামি মূল খোঁজার চেষ্টা করেন কিংবা ধর্মীয় পাঠ (নস) দ্বারা দলিল পেশ করেন। তারা একে এক বিপজ্জনক আপস এবং অযৌক্তিক নতিস্বীকার বলে মনে করেন। অন্যদিকে, অন্য একদল কখনো আক্রমণ করেন আবার কখনো পিছু হটেন এবং চূড়ান্ত আক্রমণের উপযোগী পরিবেশ তৈরির অপেক্ষায় থাকেন; হাসান হানাফি, খলিল আব্দুল করিম, আল-আশমাউই এবং আরও অনেকে এই ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন।

এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে কৌশলগত দিক ছাড়া অন্য কোনো পার্থক্য নেই। প্রশ্ন হলো—ইসলাম ধর্মকে সমালোচনা, খণ্ডন ও অতিক্রম করার সময় কি এখনই? নাকি বিদ্যমান প্রেক্ষাপট এবং জনগণের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার ভয় ধর্মনিরপেক্ষ প্রকল্পকে দুর্বল করে দেবে? এমতাবস্থায় এই পর্যায়, পরিস্থিতি ও এর পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে বিবেচনায় নেওয়া তাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাধারণভাবে বলতে গেলে, এমন কোনো ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীর অস্তিত্ব থাকা অসম্ভব যে ধর্ম, অদৃশ্য জগত বা পবিত্র বিষয়গুলোর প্রতি প্রকৃত বিশ্বাস রাখে; যদি না সে প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী না হয় কিংবা ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কে কোনো সরল ও শিশুসুলভ ধারণা পোষণ করে থাকে।

কারণ ধর্ম অধিবিদ্যক (মেটাফিজিক্যাল) ধারণা এবং অদৃশ্যের মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর ধর্মনিরপেক্ষতার আগমনই ঘটেছে অদৃশ্য বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য; যেহেতু তারা এগুলোকে প্রাচীন যুগের অলীক ও পৌরাণিক উপাদান হিসেবে গণ্য করে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৭)
سيطرة الخرافة واللاعقل (1).

فالعلمانية = سيادة العقل وحده.

والدين يقوم على مقومات غيبية لا عقلانية حسب النظرة العلمانية نفسها.

هذا من جهة، ومن جهة أخرى فالعلمانية، لا تؤمن إلا بما دلت عليه التجربة والحواس.

والدين تدور قواعده على الله والرسل والجنة والنار والشياطين، وكلها مفاهيم خرافية أسطورية لا يثبتها العلم التجريبي الحديث، وبالتالي فهي غير علمية ولا تتمتع بأية مصداقية.

وعليه فالعلمانية والدين الإسلامي نقيضان لا يجتمعان.

وأما مسألة أن العلمانية تكفل حرية الاعتقاد، نعم هي تكفل حرية اعتقاد أيّ شيء كان دينا أم إلحادا أم وثنية أم عبدة شياطين.

فهي لم تعط للدين امتيازا ما، فهي ترى أن الإنسان حر في اعتقاد ما يشاء ولو كان خرافيا وتافها في نظرها وتقديرها.

ولذلك فتحوير المسألة من الموقف من الدين إلى الموقف من التدين محاولة للفت الأنظار فقط، بمعنى ما هو موقف العلمانية من الدين نفسه؟ وما هي نظرتها إلى الغيبيات والماورائيات؟ بغض النظر عن سماحها بالتدين.

فهي ترى أن هذه خرافات تافهة لا عقلانية، تنتمي إلى حيز الأوهام التي

--------------------------------------------

(1) سمى زكي نجيب محمود كتابه «خرافة الميتافيزيقا» الذي عدله فيما بعد إلى «موقف من الميتافيزيقا»، واعتبر أن كل ما لا يدخل تحت الحس فهو ميتافيزيقا مرفوضة (3)، وأن العبارات الميتافيزيقية أقوال فارغة من المدلول والمعنى (12). أي: هي أشياء خرافية لا حقيقة لها. ويعني بها كل الغيب: الله الملائكة الروح الجن الجنة النار …

وهي لا تنفع السامع شيئا لأنها لا تدل على شيء (104).

ولهذا دعا إلى حذف الميتافيزيقا من دائرة المعارف الإنسانية (
কুসংস্কার এবং অযৌক্তিকতার আধিপত্য (১)।

সুতরাং সেকুলারিজম = একমাত্র বিবেকের সার্বভৌমত্ব।

এবং সেকুলার দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী ধর্ম মূলত অদৃশ্য ও অযৌক্তিক উপাদানের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

এটি একদিকের বিষয়, আর অন্যদিক থেকে সেকুলারিজম কেবল অভিজ্ঞতা এবং পঞ্চেন্দ্রিয় দ্বারা প্রমাণিত বিষয়ের ওপরই বিশ্বাস রাখে।

পক্ষান্তরে ধর্মের মূলনীতিগুলো আল্লাহ, রাসূলগণ, জান্নাত, জাহান্নাম এবং শয়তানদের কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, যার সবগুলোই আধুনিক পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অলীক ও পৌরাণিক ধারণা মাত্র, যা বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত নয়। ফলে এগুলোর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা গ্রহণযোগ্যতা নেই।

অতএব সেকুলারিজম এবং ইসলাম ধর্ম একে অপরের বিপরীত মেরুর দুটি সত্তা যা কখনোই একত্রিত হওয়া সম্ভব নয়।

আর সেকুলারিজম যে বিশ্বাসের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়—হ্যাঁ, এটি যেকোনো বিষয়ে বিশ্বাসের স্বাধীনতা দেয়, তা ধর্ম হোক কিংবা নাস্তিক্যবাদ, মূর্তিপূজা হোক কিংবা শয়তানের উপাসনা।

অর্থাৎ এটি ধর্মকে বিশেষ কোনো মর্যাদা দান করে না; বরং এটি মনে করে যে মানুষ তার ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো কিছু বিশ্বাস করতে স্বাধীন, যদিও তা সেকুলারিজমের দৃষ্টিতে ও বিচারে অলীক ও তুচ্ছই হোক না কেন।

অতএব, ধর্মের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি পরিবর্তন করে ধার্মিকতার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে নিয়ে আসা কেবল দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা মাত্র। অর্থাৎ ধর্মের প্রতি খোদ সেকুলারিজমের অবস্থান কী? এবং ধার্মিকতার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বাদ রেখে অদৃশ্য জগৎ ও অতিপ্রাকৃত বিষয়ের প্রতি এর দৃষ্টিভঙ্গি কেমন?

সেকুলারিজম মনে করে যে এগুলো তুচ্ছ ও অযৌক্তিক কুসংস্কার, যা সেই অলীক কল্পনার জগতের অন্তর্ভুক্ত যা

--------------------------------------------

(১) জাকি নাজীব মাহমুদ তার গ্রন্থের নাম রেখেছিলেন 'খুরাফাতুল মেটাফিজিক্স' (অধিবিদ্যার অলীকতা), যা পরে তিনি পরিবর্তন করে 'মাওকিফুন মিনাল মেটাফিজিক্স' (অধিবিদ্যার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি) করেন। তিনি মনে করেন যে, যা কিছু ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয় তার সবই বর্জনীয় অধিবিদ্যা (৩)। এবং অধিবিদ্যামূলক বাক্যগুলো তাৎপর্য ও অর্থহীন কথামালা (১২)। অর্থাৎ: এগুলো অলীক বস্তু যার কোনো বাস্তবতা নেই। এর দ্বারা তিনি সকল অদৃশ্যের বিষয় বুঝিয়েছেন: আল্লাহ, ফেরেশতাগণ, রুহ, জিন, জান্নাত, জাহান্নাম ...

এবং এগুলো শ্রোতার কোনো উপকারে আসে না কারণ এগুলো কোনো কিছুরই নির্দেশ করে না (১০৪)।

একারণেই তিনি মানববিদ্যার পরিধি থেকে অধিবিদ্যাকে বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছেন (
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৮)
تكونت عبر الزمن.

وقد بيَّن العلماني محمد الشيخ أن المجتمع العلماني مجتمع مادي يلغي كل الأديان والقيم من اعتباراته.

قال: إن المجتمع الحداثي استحال مجتمعا ماديا، بمعنى أنه مجتمع صار لا يُحَكّم في مبادراته المتعددة الاعتبارات التقليدية روحية كانت أو خلقية، وإنما صار يحتكم إلى العوامل المادية وحدها دون سواها (1).

فالدين يتحول إلى شيء متجاوز وملغى، ثم بعد هذا، من شاء أن يتدين بشيء ما فله ذلك. يعني يتحول إلى مسألة شخصية مرتبطة بالضمير.

إن الإسلام هو صاحب الدار، فلا يعقل أن يستجدي العلمانية لتخصص له ركنا أو لتسمح هي له بأن يتحول من حضارة عظيمة ودين يحكم كل مفاصيل الحياة إلى مسألة شخصية يؤمن بها من شاء ويكفر من شاء.

والإسلام في داره (دار الإسلام) كما قال القرضاوي لا يكتفي بأن تكون عقيدته مجرد شيء مسموح به، وليس محظورا كالمخدرات والسموم البيضاء إنه يريد أن تكون عقيدته روح الحياة، وجوهر الوجود ومُلْهِم أبناء المجتمع، وأن تكون أساس التكوين النفسي والفكري لأفراد الأمة، وبعبارة أخرى تكون محور التربية والثقافة والفن والإعلام والتشريع والتقاليد في المجتمع كله (2).

 

‌‌هل يمكن للمسلم المحافظة على دينه في ظل العلمانية؟

إذا كان يمكن للمسيحي المحافظة على دينه في ظل العلمانية، لأن المسيحية مجموعة وصايا وآداب تمارس داخل الكنيسة، فإن الإسلام بتشريعاته المتعددة

--------------------------------------------

(1) ما معنى أن يكون المرء حداثيا (38).

(2) التطرف العلماني (29).
সময়ের আবর্তে গঠিত হয়েছে।

ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী মুহাম্মদ আশ-শাইখ স্পষ্ট করেছেন যে, ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ একটি বস্তুনিষ্ঠ সমাজ যা তার বিবেচনা থেকে সমস্ত ধর্ম ও মূল্যবোধকে বাতিল করে দেয়।

তিনি বলেন: আধুনিক সমাজ একটি বস্তুগত সমাজে পরিণত হয়েছে, যার অর্থ হলো এটি এমন একটি সমাজ যা তার বহুমুখী উদ্যোগের ক্ষেত্রে আধ্যাত্মিক বা নৈতিক কোনো ঐতিহ্যগত বিবেচনা দ্বারা পরিচালিত হয় না, বরং এটি শুধুমাত্র এবং একচেটিয়াভাবে বস্তুগত কারণসমূহের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয় (১)।

ফলে ধর্ম একটি সেকেলে ও বাতিল বিষয়ে পরিণত হয়; অতঃপর এর পরে যে কেউ কোনো কিছুতে বিশ্বাস করতে চাইলে তা করতে পারে। অর্থাৎ এটি বিবেকের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি ব্যক্তিগত বিষয়ে রূপান্তরিত হয়।

প্রকৃতপক্ষে ইসলাম হলো এই গৃহের মালিক, তাই ধর্মনিরপেক্ষতার কাছে তার জন্য একটি কোণ বরাদ্দ করতে বা একটি মহান সভ্যতা ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণকারী ধর্ম থেকে এমন এক ব্যক্তিগত বিষয়ে পরিণত হওয়ার অনুমতি চাওয়া অযৌক্তিক, যেখানে যে ইচ্ছা বিশ্বাস করবে আর যে ইচ্ছা অবিশ্বাস করবে।

আর ইসলাম তার নিজ গৃহে (দারুল ইসলামে), যেমনটি আল-কারজাভি বলেছেন, তার আকিদা কেবল একটি অনুমোদিত বিষয় হিসেবেই সন্তুষ্ট থাকে না—যেটি মাদক বা সাদা বিষের মতো নিষিদ্ধ নয়—বরং সে চায় তার আকিদা হবে জীবনের প্রাণশক্তি, অস্তিত্বের নির্যাস এবং সমাজের সন্তানদের অনুপ্রেরণা। এটি হবে উম্মাহর প্রতিটি সদস্যের মনস্তাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক গঠনের ভিত্তি। অন্য কথায়, এটি হবে সমগ্র সমাজের শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্পকলা, গণমাধ্যম, আইন প্রণয়ন এবং ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু (২)।

 

‌‌ধর্মনিরপেক্ষতার ছায়াতলে কি একজন মুসলিম তার ধর্ম রক্ষা করতে পারে?

যদি একজন খ্রিস্টানের পক্ষে ধর্মনিরপেক্ষতার অধীনে তার ধর্ম রক্ষা করা সম্ভব হয়—কারণ খ্রিস্টধর্ম হলো গির্জার ভেতরে পালিত কিছু উপদেশ ও শিষ্টাচারের সমষ্টি—তবে ইসলাম তার বহুমুখী বিধিব্যবস্থা সম্বলিত...

--------------------------------------------

(১) আধুনিক হওয়ার অর্থ কী (৩৮)।

(২) ধর্মনিরপেক্ষ চরমপন্থা (২৯)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৯)
والمتداخلة والشاملة لكافة مناحي الحياة يستحيل تطبيقه في ظل نظام علماني.

فالعلمانية تؤطر المجتمع وتوجهه بطريقة لا تمكن المسلم من ممارسة دينه في جو مطمئن.

فلا يستطيع المسلم أكل الحلال وفق مفهوم الشريعة، لأن الشريعة كما ترى العلمانية لا دخل لها في التحليل والتحريم، فذبح الحيوان هو طقوس دينية لا تلزم العلمانية، وتحريم الخنزير والميسر والربا فروض دينية لا ترى فيها العلمانية إلا كوابح دينية يجب تجاوزها وإلغاؤها، وبالتالي فلن يجد المسلم أين يضع ماله ولا حلالا يأكله.

وتبيح العلمانية للمرأة كشف مفاتنها وعورتها، وتبيح لها ممارسة الفاحشة برغبتها، فيتعرض المسلم للتحريش والإغواء والفتنة.

ولا يسمح في ظل النظام العلماني للمسلم منع ابنته من الاختلاط والتبرج، بل والعري التام، واتخاذ صديق لها تدخله معها منزل والدها المسلم، والويل للأب المسلم المسكين إن اعترض، فقوانين العلمانية صارمة في ردعه وتركه عبرة لأمثاله.

وللابن في ظل العلمانية اتخاذ الخليلات ومشاهدة أفلام الإباحة في منزل والده، الذي هو ملزم بالنفقة عليه. وليس أمام المسلم إلا طاعة المبادئ العلمانية والانصياع لها.

فكيف يقال إن حرية التدين مكفولة في ظل العلمانية؟

وأما الإعلام فسواء عرض أفلام الجنس أم عروضا نسائية عارية تماما فلا يحق للمسلم أن يعترض أو ينكر، وللإعلام الدفاع عن الدعارة باعتبارها نشاطا اقتصاديا مربحا، أو عرض أصناف الخمور والتحريض على شربها أو بيان أصناف طهي الخنزير.

وما على المسلم إلا الإذعان والاستسلام، وكل ما يمكنه فعله أن يردد: لا حول ولا قوة إلا بالله، إن تركت له العلمانية إيمانا يستطيع به فعل ذلك.

وأما الحديث عن تغيير المنكر فأحد المستحيلات العشر في دين العلمانية.
এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে পরিব্যপ্ত এবং অবিচ্ছেদ্য এই বিধানগুলো একটি ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থার অধীনে প্রয়োগ করা অসম্ভব।

কেননা ধর্মনিরপেক্ষতা সমাজকে এমনভাবে বিন্যস্ত ও পরিচালিত করে যাতে একজন মুসলিমের পক্ষে নিরুদ্বেগ পরিবেশে নিজ ধর্ম পালন করা সম্ভব হয় না।

ফলে একজন মুসলিম শরীয়তের ধারণা অনুযায়ী হালাল আহার গ্রহণ করতে পারে না; কারণ ধর্মনিরপেক্ষতার দৃষ্টিতে কোনো কিছু হালাল বা হারাম করার ক্ষেত্রে শরীয়তের কোনো ভূমিকা নেই। পশু জবেহ করা হলো ধর্মীয় আচার যা ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থাকে বাধ্য করে না। শূকর, জুয়া ও সুদ নিষিদ্ধকরণ স্রেফ ধর্মীয় বিধান, যাকে ধর্মনিরপেক্ষতা ধর্মীয় প্রতিবন্ধকতা ছাড়া আর কিছু মনে করে না, যা অতিক্রম করা এবং বিলোপ করা আবশ্যক। ফলস্বরূপ, একজন মুসলিম তার সম্পদ রাখার মতো বৈধ স্থান পাবে না এবং খাওয়ার জন্য হালাল খাবারও খুঁজে পাবে না।

ধর্মনিরপেক্ষতা নারীকে তার সৌন্দর্য ও লজ্জাস্থান উন্মুক্ত করার অনুমতি দেয় এবং নিজ ইচ্ছায় ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার সুযোগ করে দেয়; যার ফলে একজন মুসলিম প্ররোচনা, প্রলোভন ও ফিতনার সম্মুখীন হয়।

ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থার অধীনে একজন মুসলিমকে তার কন্যাকে অবাধ মেলামেশা, প্রদর্শনপ্রীতি, এমনকি সম্পূর্ণ নগ্নতা এবং বন্ধু (বয়ফ্রেন্ড) গ্রহণ থেকে বাধা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় না, যাকে সে তার মুসলিম পিতার ঘরে নিয়ে আসবে। আর যদি সেই অসহায় মুসলিম পিতা এতে বাধা দেয়, তবে তার জন্য ধ্বংস অনিবার্য; কারণ ধর্মনিরপেক্ষ আইন তাকে দমনে এবং অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপনে অত্যন্ত কঠোর।

ধর্মনিরপেক্ষতায় একজন পুত্রসন্তান তার পিতার ঘরেই বান্ধবী রাখা এবং অশ্লীল চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ পায়, অথচ পিতা তার ভরণপোষণ দিতে বাধ্য থাকেন। এমতাবস্থায় একজন মুসলিমের সামনে ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শের আনুগত্য ও বশ্যতা স্বীকার করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না।

তবে কীভাবে বলা হয় যে, ধর্মনিরপেক্ষতার ছায়াতলে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত?

আর গণমাধ্যমের কথা বললে, তারা যৌন চলচ্চিত্র প্রদর্শন করুক কিংবা সম্পূর্ণ নগ্ন নারীদেহ—তাতে আপত্তি জানানো বা প্রতিবাদ করার অধিকার একজন মুসলিমের নেই। গণমাধ্যমের অধিকার রয়েছে পতিতাবৃত্তিকে একটি লাভজনক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে সমর্থন করার, অথবা বিভিন্ন প্রকার মদের বিজ্ঞাপন ও তা পানে প্ররোচনা দেওয়ার কিংবা শূকরের মাংস রান্নার নানাবিধ প্রণালী বর্ণনা করার।

মুসলিমের কাজ শুধু নতি স্বীকার করা ও আত্মসমর্পণ করা। সে বড়জোর এইটুকু বলতে পারে: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই'; যদি ধর্মনিরপেক্ষতা তার জন্য সেই ঈমানটুকু অবশিষ্ট রাখে যার মাধ্যমে সে এটুকুও উচ্চারণ করতে পারে।

আর অসৎ কাজের পরিবর্তনের (নাহি আনিল মুনকার) বিষয়টি তো ধর্মনিরপেক্ষতার ধর্মে দশটি অসম্ভব বিষয়ের একটি।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১০)
هذا فضلا عن أن هناك أركانا وواجبات دينية شرعية لا يمكن القيام بها إلا في ظل دولة إسلامية تحمي هذه الواجبات، وإلا يستحيل القيام بهذه الشعائر دون وجود السلطة السياسية التي تحميها، بل وتقوم بها. كالزكاة، والجهاد، والشورى، والعدل الاجتماعي، وإقامة الحدود، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وتحريم الربا، وتحريم الخمر، وتحريم الخنزير، ومنع التبرج، وغيرها.

وهل السياسة العلمانية التي تحلل الحرام الشرعي مثل الزنا والخمر والربا والعري والتفسخ والأفلام الإباحية والشذوذ، وتدافع عنها وتنشرها بشتى الوسائل وتحرض عليها إعلاميا وإشهاريا، وتذوذ عنها أمنيا وتحميها عسكريا وقانونيا تعتبر محايدة ضد الدين ولا تسعى لتهميشه؟

 

‌‌لا حجة في الوحي.

نصوص القرآن والسنة لا حجة فيها عند العلمانيين، وتَنازُل بعض العلمانيين للاحتجاج بها تنازل خطير في نظر عادل ضاهر.

وقد أخذ على إخوانه الاحتجاج بالنصوص الدينية لتسويغ وجهة نظرهم، وأنهم بذلك ينخرطون في حرب النصوص، واعتبره تنازلا خطيرا للخصم، لأن القضية الأساسية للعلماني هي قضية استقلالية العقل الإنساني (1).

وهكذا قال نصر أبو زيد، فقد لام صديق دربه زكي نجيب محمود كيف أنه أعطى لمعارضيه فرصة للنيل منه، بل ولاغتياله (أي: فكريا) من جانبين على حد تعبيره.

الجانب الأول هو تسليمه بحجية النصوص الدينية وخاصة القرآن، وهي في نظر أبي زيد لا تستحق ذلك، ولولا طول كلامه لنقلته برمته، لكن أكتفي بقوله

--------------------------------------------

(1) الأسس الفلسفية للعلمانية (399).
এর বাইরেও এমন অনেক রুকন এবং শরয়ী ধর্মীয় আবশ্যিক কর্তব্য রয়েছে যা একটি ইসলামি রাষ্ট্রের ছায়াতলে অবস্থান করা ছাড়া পালন করা সম্ভব নয়, যে রাষ্ট্র এই কর্তব্যগুলোকে সুরক্ষা দেবে। অন্যথায়, এই সকল ইবাদত বা নিদর্শনসমূহ এমন কোনো রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের অস্তিত্ব ছাড়া পালন করা অসম্ভব যা এগুলোকে রক্ষা করবে, বরং স্বয়ং তা পরিচালনা করবে। যেমন: জাকাত, জিহাদ, শূরা (পরামর্শ), সামাজিক ন্যায়বিচার, দণ্ডবিধি কায়েম করা, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করা, সুদ হারাম করা, মদ হারাম করা, শূকর হারাম করা, বেহায়াপনা রোধ করা ইত্যাদি।

আর ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি কি—যা ব্যভিচার, মদ, সুদ, উলঙ্গপনা, চারিত্রিক অবক্ষয়, পর্নোগ্রাফি এবং বিকৃত যৌনাচারের মতো শরয়ী হারাম বিষয়গুলোকে বৈধতা দেয়, এবং নানা উপায়ে এগুলোকে রক্ষা ও প্রচার করে এবং মিডিয়া ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এগুলোর প্রতি প্ররোচিত করে, এমনকি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং সামরিক ও আইনিভাবে এগুলোকে সুরক্ষা প্রদান করে—তা কি ধর্মের প্রতি নিরপেক্ষ এবং ধর্মকে কোণঠাসা করার চেষ্টা থেকে মুক্ত বলে গণ্য হতে পারে?

 

‌‌ওহী বা প্রত্যাদেশ কোনো প্রমাণ নয়.

ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের নিকট কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্য বা নস-সমূহের কোনো প্রামাণিকতা নেই। আর কিছু ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীর পক্ষ থেকে এগুলোকে দলিল হিসেবে পেশ করার যে নমনীয়তা, আদিল যাহেরের দৃষ্টিতে তা এক বিপজ্জনক আপস।

তিনি তার সহকর্মীদের ধর্মীয় পাঠ্য বা নস দ্বারা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির যৌক্তিকতা প্রমাণের চেষ্টার সমালোচনা করেছেন এবং মনে করেন যে, এর মাধ্যমে তারা পাঠ্যের যুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছেন। তিনি একে প্রতিপক্ষের কাছে একটি বিপজ্জনক নতিস্বীকার হিসেবে গণ্য করেছেন, কারণ একজন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীর কাছে মূল বিষয় হলো মানবীয় বুদ্ধিবৃত্তির স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতা (১)।

অনুরূপ কথা নসর আবু জায়েদও বলেছেন। তিনি তার দীর্ঘদিনের বন্ধু জাকি নাজিব মাহমুদকে এই বলে তিরস্কার করেছেন যে, তিনি কেন তার বিরোধীদের তাকে ঘায়েল করার, এমনকি তার ভাষায় দুই দিক থেকে তাকে (অর্থাৎ বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে) হত্যা করার সুযোগ করে দিলেন।

প্রথম দিকটি হলো ধর্মীয় পাঠ্য বা নস—বিশেষত কুরআনের—প্রামাণিকতা মেনে নেওয়া, যা আবু জায়েদের মতে সেই মর্যাদার যোগ্য নয়। তার বক্তব্য দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কায় আমি তা পূর্ণাঙ্গভাবে উদ্ধৃত করছি না, তবে আমি কেবল তার এই কথাটুকুই উল্লেখ করছি—

--------------------------------------------

(১) আল-উসাস আল-ফালসাফিয়্যাহ লিল-ইলমানিয়্যাহ (৩৯৯)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১১)
في آخره: وإذا كان زكي نجيب محمود بذلك الإقرار والإعلان قد كرس مرجعية النصوص الدينية، فإنه قد منح بذلك خصمه سلاحا فتاكا للنيل منه، هذا هو الجانب الأول، والجانب الثاني الذي مكن للخصم من اغتيال خطاب زكي نجيب محمود إقراره لا بالفروق النوعية بين الرجل والمرأة فقط، بل وتسليمه بالنتائج المترتبة على هذه الفروق اجتماعيا وثقافيا ونفسيا (1).

واعتبر بعد أن الخطاب الديني يزيف قضية المرأة حين يصر على مناقشتها من خلال مرجعية النصوص (2).

وهو نفس ما أكده فرج فودة أنه لا حجة في القرآن والسنة بل الحجة في الدستور والقانون (3).

وأكد القمني أن الأديان برمتها موضوع للبحث فقط لا وسيلة للمعرفة، قال: والأديان بالنسبة لمثلي هي موضوع درس ومعرفة، وليست وسيلة لأي نوع من أنواع المعرفة (4).

فالأديان موضوع للبحث، لا وسيلة للمعرفة.

 

‌‌الذئب الوديع:

يظهر أغلب العلمانيين أنفسهم بمثابة الناصح الأمين الذي يريد فهما أوسع للدين وأشمل وأكثر حضارية وعقلانية على حد تعبير بعضهم.

ونص آخرون على أن العلمانية مرادها وضع الدين في موضعه الذي وضعه الله

--------------------------------------------

(1) دوائر الخوف (113).

(2) دوائر الخوف (123).

(3) حوار حول العلمانية (22 - 23 - 24).

(4) شكرا ابن لادن.
পরিশেষে: জাকি নাজিব মাহমুদ যদি এই স্বীকৃতি ও ঘোষণার মাধ্যমে ধর্মীয় পাঠ্যের প্রামাণ্যতাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে থাকেন, তবে এর মাধ্যমে তিনি নিজের প্রতিপক্ষকে তাকে পরাস্ত করার জন্য একটি মারাত্মক অস্ত্র তুলে দিয়েছেন। এটি হলো প্রথম দিক; আর দ্বিতীয় দিকটি—যা প্রতিপক্ষকে জাকি নাজিব মাহমুদের বক্তব্য নস্যাৎ করতে সক্ষম করেছে—তাহলো নারী ও পুরুষের মধ্যে কেবল গুণগত পার্থক্যের স্বীকৃতিই নয়, বরং এই পার্থক্যের ফলে উদ্ভূত সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক ফলাফলগুলোকেও মেনে নেওয়া (১)।

অতঃপর তিনি মনে করেন যে, ধর্মীয় বক্তব্য নারী ইস্যুটিকে বিকৃত করে যখন এটি ধর্মীয় পাঠ্যের প্রামাণ্যতার আলোকে তা আলোচনার ওপর জেদ ধরে (২)।

এটি সেই একই বিষয় যা ফারাজ ফাওদা জোর দিয়ে বলেছেন যে, কুরআন ও সুন্নাহর কোনো প্রামাণ্যতা নেই, বরং প্রামাণ্যতা কেবল সংবিধান ও আইনের (৩)।

আল-ক্বিমনি নিশ্চিত করেছেন যে, ধর্মগুলো সামগ্রিকভাবে কেবল গবেষণার বিষয়বস্তু মাত্র, জ্ঞানের মাধ্যম নয়। তিনি বলেছেন: "আমার মতো ব্যক্তির কাছে ধর্মগুলো হলো অধ্যয়ন ও জ্ঞানের বিষয়বস্তু, কোনো প্রকার জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়" (৪)।

সুতরাং ধর্মগুলো হলো গবেষণার বিষয়বস্তু, জ্ঞানের মাধ্যম নয়।

 

‌‌বিনম্র নেকড়ে:

অধিকাংশ সেকুলারিস্ট নিজেদেরকে এমন এক বিশ্বস্ত হিতাকাঙ্ক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করেন, যারা ধর্মের আরও ব্যাপক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, অধিকতর সভ্য ও যৌক্তিক বোধ কামনা করেন—যেমনটি তাদের কেউ কেউ ব্যক্ত করেছেন।

অন্যরা উল্লেখ করেছেন যে, সেকুলারিজমের উদ্দেশ্য হলো ধর্মকে সেই স্থানে রাখা যা আল্লাহ নির্ধারিত করেছেন

--------------------------------------------

(১) দাওয়াইরুল খাওফ (১১৩)।

(২) দাওয়াইরুল খাওফ (১২৩)।

(৩) হিওয়ারুন হাওলাল ইলমানিয়্যাহ (২২ - ২৩ - ২৪)।

(৪) শুকরান ইবনে লাদেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১২)
فيه، فالدين مكانه المسجد ودوره تهذيب الأخلاق والقيم الروحية التي ينحصر أثرها داخل المسجد.

وادعى آخرون أن هدفهم هو الوفاء للإسلام وإعطاء ديناميكية جديدة وحقنة حيوية جديدة في شرايينه.

وحاول العلمانيون المغاربة وغيرهم أصحاب «المفاهيم الملتبسة» و «قدر العلمانية في العالم العربي» جاهدين إيهام قرائهم بأن علمانيتهم ليست ضد الدين، بل هي في خدمة الدين. بل أكد أحد كُتابهم -وهو محمد سبيلا- بأن العلمانية هي أحسن حاضن للدين (1). وعند عبد العلي بنعمور: العلمانية تكريم للدين.

هكذا بكل صفاقة وجه!!!.

وكتابي هذا إن شاء الله لطحن هذه التفاهات وذرها في الهواء.

وزعم عبد المجيد الشرفي أنه يهدف لمصالحة المسلم المعاصر مع دينه (2).

وكأن المسلم في خصام مع دينه، لكن كما يقال: كل إناء بما فيه ينضح.

ونصحنا بعدم التمسك بحرفية النص وأنه لا بد من البحث عن روح النص ومغزاه ومقصده حتى تكون العبادة لله وحده (3).

هكذا قال.

لكن لا تلبث هذه الوداعة إلا أن تكشف عن حقيقتها وتسفر عن شراستها، فضرب لنا الشرفي مثلا، بأن ما ورد في القرآن عن آدم وحواء وإبليس والجن والشياطين والملائكة ومعجزات الأنبياء ليست إلا تماشيا مع الذهنية الميثية

--------------------------------------------

(1) قدر العلمانية في العالم العربي (41).

(2) الإسلام بين الرسالة والتاريخ (59).

(3) نفس المرجع (61).
এতে ধর্মের স্থান হলো মসজিদ এবং এর ভূমিকা হলো চরিত্র গঠন ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের পরিশুদ্ধি, যার প্রভাব কেবল মসজিদের ভেতরেই সীমাবদ্ধ।

অন্যরা দাবি করেছেন যে, তাদের লক্ষ্য হলো ইসলামের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন এবং এর ধমনীতে নতুন গতিশীলতা ও জীবনীশক্তির সঞ্চার করা।

মরক্কোর ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী এবং 'অস্পষ্ট ধারণা' ও 'আরব বিশ্বে ধর্মনিরপেক্ষতার নিয়তি' রচয়িতারা তাদের পাঠকদের এই ভ্রম দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন যে, তাদের ধর্মনিরপেক্ষতা ধর্মের বিরোধী নয়, বরং তা ধর্মের সেবায় নিয়োজিত। এমনকি তাদের একজন লেখক—মুহাম্মদ সাবিলা—নিশ্চিত করেছেন যে, ধর্মনিরপেক্ষতা হলো ধর্মের জন্য সর্বোত্তম আশ্রয় (১)। আব্দুল আলী বেনাম্মুরের মতে: ধর্মনিরপেক্ষতা হলো ধর্মের প্রতি এক অনন্য সম্মান।

অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে এভাবেই দাবি করা হয়েছে!!!

ইনশাআল্লাহ, আমার এই গ্রন্থটি এসব নিরর্থক আস্ফালনকে চূর্ণবিচূর্ণ করে বাতাসে উড়িয়ে দেওয়ার জন্য।

আব্দুল মাজিদ আশ-শারাফি দাবি করেছেন যে, তার লক্ষ্য হলো সমকালীন মুসলিমের সঙ্গে তার ধর্মের পুনর্মিলন ঘটানো (২)।

যেন একজন মুসলিম তার ধর্মের সঙ্গে বিবাদে লিপ্ত! তবে প্রবাদ আছে: পাত্রে যা থাকে, তা-ই উপচে পড়ে।

তিনি আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন যেন আমরা আক্ষরিক অর্থের ওপর অটল না থাকি, বরং মূল পাঠের নিহিত চেতনা ও উদ্দেশ্যের সন্ধান করি, যাতে ইবাদত কেবল আল্লাহর জন্যই নিবেদিত হয় (৩)।

তিনি এভাবেই বলেছেন।

কিন্তু এই আপাত নম্রতা খুব শীঘ্রই তার স্বরূপ উন্মোচন করে এবং রুদ্ররূপ ধারণ করে। শারাফি উদাহরণ দিয়ে বলেছেন যে, আদম, হাওয়া, ইবলিস, জিন, শয়তান ও ফেরেশতা এবং নবীদের মুজিজা সম্পর্কে কুরআনে যা বর্ণিত হয়েছে, তা কেবল তৎকালীন পৌরাণিক মানসিকতার সাথে সঙ্গতি রাখার জন্য।

--------------------------------------------

(১) আরব বিশ্বে ধর্মনিরপেক্ষতার নিয়তি (৪১)।

(২) রিসালাত ও ইতিহাসের মাঝে ইসলাম (৫৯)।

(৩) একই সূত্র (৬১)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
الأسطورية، وأنها رموز وأمثال لا حقائق تاريخية (1).

إنما يتحاشى الشرفي ذكر الله مع ما تقدم، مع أن الباب واحد، تجنبا لردود الأفعال التي قد تؤثر سلبا على تقبل مشروعه.

فكل الغيب -الذي هو أس الدين والإيمان- خرافات وهمية في نظر الشرفي، آمن الناس بها في عصر سيادة الخرافة، أما وقد تحررنا من كل ذلك فلم نعد بحاجة إليها وأصبح تجاوزها أمرا لازما وحتميا.

 

‌‌استحالة اجتثاث الدين من المجتمع:

رغم الهجمة العلمانية الشرسة على الأديان، ورغم كونها مدججة بقوة الدولة وجبروتها، ورغم تسخيرها كافة الوسائل الأمنية والإعلامية والثقافية لتحقيق ذلك، لم تفلح في استئصال الدين من المجتمعات.

في ندوة لندن (يونيو 1994) حول سقوط العلمانية والتحدي الإسلامي للغرب أكد البروفيسور جون كين أن الدين لا يمكن أن يجتث نهائيا من حياة الناس، وإنما الذي نجحت العلمنة (2) في تحقيقه هو إخضاعها الدين لنظم مدنية أوجدها البشر صارت لها السلطة العليا والكلمة الأخيرة، غير أن ظهور الأصولية الدينية في الغرب اتخذ أشكالا عدة في مقدمتها: بروز الحديث عن «السباسة المسيحية» والجدل المتجدد حول الدين والإجهاض، ومطالبة 80% من البريطانيين بتدريس الدين في المدارس، هذه المؤشرات وغيرها كثير تثير تساؤلات عدة حول مدى نجاح العلمنة في إقصاء الدين عن الحياة، الأمر الذي يستدعي إعادة النظر في المسألة برمتها. من زاوية مراجعة موقف العلمانية من

--------------------------------------------

(1) نفس المرجع (61).

(2) طبعا في الغرب.
পৌরাণিক কাহিনী, এবং এগুলো কেবল প্রতীক ও রূপক মাত্র, কোনো ঐতিহাসিক সত্য নয় (১)।

আশ-শারাফি উপরোক্ত বিষয়গুলোর সাথে আল্লাহর নাম উল্লেখ করা এড়িয়ে চলেন, যদিও বিষয়টি একই সূত্রে গাঁথা; মূলত তার প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন প্রতিক্রিয়া এড়াতেই তিনি এমনটি করেন।

শারাফির দৃষ্টিতে সকল অদৃশ্যের বিষয়—যা মূলত ধর্ম ও বিশ্বাসের মূল ভিত্তি—তা কেবল কাল্পনিক কুসংস্কার মাত্র; মানুষ কুসংস্কারাচ্ছন্ন যুগে এগুলোতে বিশ্বাস স্থাপন করেছিল। কিন্তু যেহেতু আমরা সেই সব থেকে এখন মুক্ত হয়েছি, তাই আমাদের আর এগুলোর প্রয়োজন নেই এবং এগুলোকে অতিক্রম করা একটি আবশ্যকীয় ও অনিবার্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

 

‌‌সমাজ থেকে ধর্মকে নির্মূল করার অসম্ভবতা:

ধর্মের ওপর ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের তীব্র আক্রমণ সত্ত্বেও, এটি রাষ্ট্রের শক্তি ও প্রতাপে সজ্জিত হওয়া এবং তা অর্জনে নিরাপত্তা, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সকল উপায়-উপকরণ নিয়োজিত করা সত্ত্বেও, সমাজ থেকে ধর্মকে সমূলে উৎপাটন করতে তারা সফল হয়নি।

১৯৯৪ সালের জুন মাসে লন্ডনে অনুষ্ঠিত ‘ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের পতন এবং পশ্চিমের প্রতি ইসলামী চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রফেসর জন কিন জোর দিয়ে বলেন যে, মানুষের জীবন থেকে ধর্মকে চিরতরে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। বরং ধর্মনিরপেক্ষকরণ (২) যা অর্জনে সফল হয়েছে তা হলো ধর্মকে মানুষের তৈরি এমন এক নাগরিক ব্যবস্থার অনুগত করা, যার হাতেই সর্বোচ্চ ক্ষমতা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকে। তবে পশ্চিমে ধর্মীয় মৌলবাদের উত্থান বিভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ‘খ্রিস্টীয় রাজনীতি’ নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত, ধর্ম ও গর্ভপাত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক এবং ব্রিটিশদের শতকরা ৮০ ভাগের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ে ধর্ম শিক্ষার দাবি। এই সব এবং আরও অনেক সূচক জীবন থেকে ধর্মকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষকরণের সফলতার মাত্রা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উত্থাপন করে, যা সমগ্র বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাববার দাবি রাখে। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের অবস্থান পর্যালোচনার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে...

--------------------------------------------

(১) একই সূত্র (৬১)।

(২) অবশ্যই তা পশ্চিমে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
العلاقة بين الدين والمجتمع (1).

وكذا أكد أركون أن بوادر الانفراج بين الديني والعلماني في تصاعد في أوربا (2).

وذكر عالم الاجتماع الألماني وأستاذ اللاهوت الإنجليزي الدكتور جوتفرايد كونزلن: ولأن الاهتمام الإنساني بالدين لم يتلاش، بل تزايد .. وفي ظل انحسار المسيحية، انفتح باب أوربا لضروب من الروحانيات وخليط من العقائد الدينية لا علاقة لها بالمسيحية ولا بالكنيسة من التنجيم .. إلى عبادة القوى الخفية .. والخارقة .. والاعتقاد بالأشباح .. وطقوس الهنود الحمر .. وروحانيات الديانات الآسيوية .. والإسلام، الذي أخذ يحقق نجاحا متزايدا في المجتمعات الغربية (3).

وها قد حان الشروع في الكتاب بعون الله، نوثق فيه لنظرة العلمانيين للتدين عموما والإسلام خصوصا، فالعلماني يحاول دائما أن يظهر بمظهر الباحث النزيه والناقد البريء من أية أفكار مسبقة وأية إيديولوجيا. وهو دوما يرمي مخالفيه بتلك التهم المجانية، بينما لو تمعنا قليلا لا كثيرا لرأيناه في صورته الحقيقية: مثقف تسممت أفكاره بالدراسات الاستشراقية الغربية، حتى غدت قناعاته واختياراته منسجمة تماما مع الطرح الغربي والبحث الاستشراقي فأصبحت له مواقف متطرفة من الدين والتدين يغلفها بستار البحث العلمي أو النقد التاريخي.

ولو أزحت الستار لرأيت خلفه: أفكارا مسبقة، وإيديولوجيا متخفية، وأهدافا مسطرة يبحث لها عن سَنَد ودعم. وبعبارة أوضح: لرأيت مخالب تحت قفازات من حرير.

--------------------------------------------

(1) المفترون (247).

(2) قضايا في نقد العقل الديني (258 - 259 - 275).

(3) مأزق المسيحية والعلمانية في أوربا (18 - 33 - 34).
ধর্ম ও সমাজের মধ্যকার সম্পর্ক (১)।

অনুরূপভাবে আরকুন নিশ্চিত করেছেন যে, ইউরোপে ধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষতার মধ্যে সমঝোতার লক্ষণসমূহ ক্রমবর্ধমান (২)।

জার্মান সমাজবিজ্ঞানী এবং ইংরেজ ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক ডক্টর গটফ্রিড কুয়েনজলেন উল্লেখ করেছেন: যেহেতু ধর্মের প্রতি মানুষের আগ্রহ বিলুপ্ত হয়নি, বরং বৃদ্ধি পেয়েছে... এবং খ্রিষ্টধর্মের পশ্চাদপসরণের প্রেক্ষাপটে, ইউরোপের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে এমন সব আধ্যাত্মিকতা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের মিশ্রণের জন্য যার সাথে খ্রিষ্টধর্ম বা গির্জার কোনো সম্পর্ক নেই; যেমন—জ্যোতিষশাস্ত্র থেকে শুরু করে... অদৃশ্য ও অতিপ্রাকৃত শক্তির উপাসনা... প্রেতাত্মায় বিশ্বাস... রেড ইন্ডিয়ানদের আচার-অনুষ্ঠান... এশীয় ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতা... এবং ইসলাম, যা পশ্চিমা সমাজে উত্তরোত্তর সাফল্য অর্জন করতে শুরু করেছে (৩)।

এখন আল্লাহর সাহায্যে গ্রন্থটি শুরু করার সময় এসেছে, যেখানে আমরা সাধারণভাবে ধর্মপরায়ণতা এবং বিশেষভাবে ইসলাম সম্পর্কে ধর্মনিরপেক্ষবাদীদের দৃষ্টিভঙ্গি নথিভুক্ত করব। একজন ধর্মনিরপেক্ষবাদী সর্বদা নিজেকে একজন নিরপেক্ষ গবেষক এবং যেকোনো পূর্বনির্ধারিত ধারণা ও আদর্শ থেকে মুক্ত একজন নির্দোষ সমালোচক হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করেন। তিনি সর্বদা তার বিরোধীদের ওপর ভিত্তিহীনভাবে এসব অভিযোগ চাপিয়ে দেন, অথচ আমরা যদি খুব বেশি না, সামান্য গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি, তবে তাকে তার প্রকৃত রূপে দেখতে পাব: এমন একজন বুদ্ধিজীবী যার চিন্তাধারা পশ্চিমা প্রাচ্যতত্ত্ববাদী অধ্যয়ন দ্বারা বিষাক্ত হয়ে পড়েছে, এমনকি তার বিশ্বাস ও পছন্দগুলো পশ্চিমা চিন্তাধারা এবং প্রাচ্যতত্ত্বীয় গবেষণার সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে ধর্ম ও ধর্মপরায়ণতার প্রতি তার এক প্রকার চরমপন্থী অবস্থান তৈরি হয়েছে, যা তিনি বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা ঐতিহাসিক সমালোচনার আবরণে ঢেকে রাখেন।

আর আপনি যদি পর্দা সরিয়ে ফেলেন, তবে তার পেছনে দেখতে পাবেন: পূর্বনির্ধারিত ধারণা, প্রচ্ছন্ন আদর্শ এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য যার স্বপক্ষে তিনি প্রমাণ ও সমর্থন খুঁজছেন। আরও স্পষ্টভাবে বলতে গেলে: আপনি রেশমি দস্তানার নিচে লুকানো নখর দেখতে পাবেন।

--------------------------------------------

(১) আল-মুফাতারুন (২৪৭)।

(২) ধর্মীয় বুদ্ধিবৃত্তির সমালোচনা সংক্রান্ত বিষয়াদি (২৫৮ - ২৫৯ - ২৭৫)।

(৩) ইউরোপে খ্রিষ্টধর্ম ও ধর্মনিরপেক্ষতার সংকট (১৮ - ৩৩ - ৩৪)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌العلمانية ومحاربة التدين

يلجأ العلمانيون إلى تأسيس خطاب خداعي تمويهي مخاتل ومراوغ لموقفه من الدين، فيخفى ذئبيته تحت ستار الحمل الوديع، وقد يتمسح بعضهم بالدين، وربما يعلن أنه مسلم (1) يسره ما يسرنا ويحزنه ما يحزننا، ويتظاهر بالحرص على إبعاد الدين عن مجال السياسة، لكي لا يتلوث -وهو الطاهر النقي- بحممها الملتهبة وتقلباتها المتناقضة، محاولا تجميل صورته وتلميعها، ويناور لعله يرضى قارئه المسلم.

فهذا سعيد لكحل تأسف لاعتبار الإفطار في رمضان جنحة وعدم فتح حانة قرب مسجد، ثم في رمشة عين أخذ يتمسح بالدين ويثرثر، ويصلي على النبي صلى الله عليه وسلم ويشرح الآيات والأحاديث (2).

ورغم محاولة بعض العلمانيين إظهار أنفسهم أنهم ليسوا ضد الدين وأنهم يقفون منه موقفا محايدا، إلا أنه بالتأمل في تصرفاتهم وأطروحاتهم يتبين أنهم يقفون منه موقف المعاند والمحارب له، ولا يعدو الأمر أن يكون مرحلة من مراحل التحذير والمواجهة.

بل لا يعدو الأمر أن يكون شراكا خداعيا يتمترس به الخطاب العلماني بقصد التمويه والمخاتلة من باب ذر الرماد في العيون.

--------------------------------------------

(1) وقد يطلق بعضهم كونه مسلما وهو لا يقصد إلا أنه يعيش في مجتمع مسلم نشأ فيه وترعرع، كما صرح أركون نفسه. الأنسنة والإسلام (146).

أي: مسلم باعتبار النشأة لا باعتبار العقيدة، أي: أو بعبارة أخرى: الإسلام الجغرافي لا الإسلام العقا

(2) العلمانية مفاهيم ملتبسة (275).
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ এবং ধর্মপরায়ণতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ

ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা ধর্মের প্রতি তাদের অবস্থানের ক্ষেত্রে একটি প্রতারণামূলক, ছদ্মবেশী, কুটিল ও চাতুর্যপূর্ণ বয়ান তৈরি করার আশ্রয় নেয়। তারা একটি শান্ত মেষশাবকের আড়ালে তাদের নেকড়েসুলভ চরিত্রকে গোপন করে। তাদের কেউ কেউ ধর্মের প্রতি ভক্তি প্রদর্শন করে, এমনকি নিজেকে মুসলিম বলে ঘোষণা করে যে আমাদের সুখে সুখী এবং আমাদের দুঃখে দুঃখিত হয়। সে রাজনীতির ক্ষেত্র থেকে ধর্মকে দূরে রাখার ব্যাপারে অতি উৎসাহ প্রদর্শন করে এই ভান করে যে, পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন ধর্ম যেন রাজনীতির উত্তপ্ত লাভা ও এর বৈপরীত্যপূর্ণ পটপরিবর্তন দ্বারা কলুষিত না হয়। এভাবে সে নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল ও সুশোভিত করার চেষ্টা করে এবং মুসলিম পাঠকদের সন্তুষ্ট করার জন্য কৌশলের আশ্রয় নেয়।

এই যেমন সাঈদ লাকহাল; তিনি রমজান মাসে প্রকাশ্যে পানাহার করাকে অপরাধ গণ্য করার কারণে এবং মসজিদের পাশে মদের দোকান খোলার অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। এরপর চোখের পলকেই তিনি আবার ধর্মের দোহাই দেওয়া ও প্রলাপ বকা শুরু করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করেন এবং আয়াত ও হাদিসের ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

যদিও কিছু ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী নিজেদের এমনভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন যে তারা ধর্মের বিরোধী নন এবং এ বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান পোষণ করেন, তবুও তাদের কর্মকাণ্ড ও মতবাদসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এটি স্পষ্ট হয় যে, তারা ধর্মের বিরুদ্ধে চরম বিদ্বেষী ও যুদ্ধংদেহী মনোভাব পোষণ করেন। আর এসব বিষয় মূলত (ধর্মের বিরুদ্ধে) সতর্কীকরণ ও মোকাবিলার বিভিন্ন পর্যায়ের একটি অংশ মাত্র।

বরং এটি একটি প্রতারণামূলক ফাঁদ ছাড়া আর কিছু নয়, যা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী বয়ান জনগণের চোখে ধুলো দেওয়ার উদ্দেশ্যে এবং ছদ্মবেশ ধারণের জন্য ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে।

--------------------------------------------

(১) তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেকে মুসলিম হিসেবে অভিহিত করেন কিন্তু এর দ্বারা তারা কেবল এটিই বুঝাতে চান যে, তারা একটি মুসলিম সমাজে বসবাস করেন যেখানে তারা জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বেড়ে উঠেছেন, যেমনটি আরকুন নিজেই স্পষ্ট করেছেন। আল-আনসানাহ ওয়াল ইসলাম (১৪৬)।

অর্থাৎ: লালন-পালনের বিচারে মুসলিম, আকিদা বা বিশ্বাসের বিচারে নয়। অন্য কথায়: এটি ভৌগোলিক ইসলাম, আকিদাগত ইসলাম নয়।

(২) ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ: অস্পষ্ট ধারণাসমূহ (২৭৫)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
وسنثبت بحمد الله في هذا الكتاب بما لا يدع مجالا للشك أن العلمانية مناقضة للدين باعتراف العلمانيين أنفسهم، وسنبين أن العلمانية كنظرية وتصرفات العلمانيين في كتبهم ومؤلفاتهم تناقض أصول الدين وفروعه.

وقد يتستر بعض العلمانيين خلف مناهضة الدولة الدينية، ومرادهم الدين نفسه.

ومع أن الإسلاميين كرروا آلاف المرات أنهم ضد الدولة الدينية التي تحكم بالحق الإلهي إلا أن العلمانيين أصروا على اتهامهم بها.

والعقل يقتضي أن سبب هذا الإصرار العلماني:

- إما أن الإسلاميين يدعون لدولة دينية.

- وإما أن دولة الخلافة الإسلامية كانت دولة دينية تحكم بالحق الإلهي.

ولكن لا هذا كان ولا ذاك.

والذي حصل هو أنه كان في أوربا دولة دينية يسيطر عليها رجال الدين ويحكمون فيها بالحق الإلهي، فعارضت فلسفة الأنوار هذه الدولة الدينية، فردد العلمانيون عندنا كالببغاوات ما قالوا، وحاولوا إسقاط التاريخ الغربي برمته وتفاصيله وأبعاده، فوقعوا في مغالطة مفضوحة ومهزلة مضحكة.

وقد بينت في الكتاب الأول وسأبين إن شاء الله تعالى في هذا الكتاب أن العلمانية ليس فقط ضد الدين، ولكنها أسوأ من ذلك، إنها تسعى إلى أن تحل محله وتعمل على إقصائه عن واقع الحياة، وتحويله إلى نوع من الفولكلور.

وسيأتي معنا قريبا تصريح العلمانيين بأن هدفهم الحقيقي هو إقصاء الدين والإجهاز عليه، أو لنقل بعبارة مهذبة حسب أركون: تهدف إلى التخلص من البعد
আমরা আল্লাহর প্রশংসার সাথে এই কিতাবে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করব যে, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ (সেকুলারিজম) খোদ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ীই ধর্মের পরিপন্থী। আমরা আরও স্পষ্ট করব যে, তত্ত্ব হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ এবং ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের গ্রন্থ ও রচনায় ফুটে ওঠা তাদের আচরণসমূহ ধর্মের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখাসমূহের সাথে সাংঘর্ষিক।

কিছু ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী হয়তো 'ধর্মীয় রাষ্ট্র' বিরোধিতার আড়ালে আত্মগোপন করেন, অথচ তাদের প্রকৃত লক্ষ্য খোদ ধর্মই।

ইসলামপন্থীরা হাজারো বার এ কথা পুনরাবৃত্তি করা সত্ত্বেও যে, তারা সেই 'ধর্মীয় রাষ্ট্র' বা থিওক্রেসির বিরোধী যা কি না খোদায়ী অধিকারের (ডিভাইন রাইট) দোহাই দিয়ে শাসনকার্য চালায়—ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা তবুও তাদের এই অপবাদ দিতেই বদ্ধপরিকর।

আর বুদ্ধিবিবেচনা এই দাবি করে যে, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের এই জেদের কারণ হলো:

- হয় ইসলামপন্থীরা একটি ধর্মীয় রাষ্ট্রের দাওয়াত দিচ্ছেন।

- অথবা ইসলামী খিলাফত রাষ্ট্রটি এমন একটি ধর্মীয় রাষ্ট্র ছিল যা খোদায়ী অধিকারের ভিত্তিতে পরিচালিত হতো।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, এর কোনোটিই সঠিক ছিল না।

বরং যা ঘটেছিল তা হলো, ইউরোপে এমন এক ধর্মীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল যার ওপর যাজকতন্ত্রের আধিপত্য ছিল এবং তারা সেখানে খোদায়ী অধিকারের অজুহাতে শাসন করত। ফলে জ্ঞানালোকের দর্শন (এনলাইটেনমেন্ট) এই ধর্মীয় রাষ্ট্রের বিরোধিতা করে। আর আমাদের দেশের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা তোতাপাখির মতো তাদের সেই কথাগুলোরই পুনরাবৃত্তি করতে থাকে। তারা পশ্চিমা ইতিহাসের সামগ্রিক রূপ, খুঁটিনাটি ও তার পরিমণ্ডলকে হুবহু আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে; ফলে তারা এক জঘন্য বিভ্রান্তি ও হাস্যকর প্রহসনে নিপতিত হয়েছে।

আমি প্রথম খণ্ডে স্পষ্ট করেছি এবং ইনশাআল্লাহ এই কিতাবেও স্পষ্ট করব যে, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ কেবল ধর্মের বিরুদ্ধাচরণই নয়, বরং তার চেয়েও জঘন্য। এটি ধর্মের স্থলাভিষিক্ত হতে চায় এবং বাস্তব জীবন থেকে ধর্মকে নির্বাসিত করে তাকে নিছক এক প্রকার লোকজ ঐতিহ্যে (ফোকলোর) রূপান্তরিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে।

শীঘ্রই আমাদের সামনে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের এমন কিছু বক্তব্য আসবে যেখানে তারা স্পষ্ট করেছে যে, তাদের প্রকৃত লক্ষ্য হলো ধর্মকে নির্বাসিত করা এবং একে সমূলে বিনাশ করা; অথবা যদি আরকনের অনুকরণে মার্জিত ভাষায় বলি: এর লক্ষ্য হলো সেই মাত্রাটি থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া...
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
الديني عن طريق امتصاصه داخل النموذج العلماني المهيمن (1).

وقال عن مشروعه النقدي ومشروع المستشرقين: فإنه يمكننا أن نعتقد بأن الطفرات الذهنية العميقة الجارية حاليا سوف تتكفل بجعل كل تلك الصراعات الدائرة حول المسألة الدينية بشكل عام، والإسلام بشكل خاص، شيئا باليا ولا معنى له. إن كل هذا سوف يتبخر ويذهب مع الريح، ولن يبقى إلا الدين من أجل الذاكرة (2).

إلى أن قال: هذا هو المشروع الذي أريد أن أقوم به بشكل استباقي انطلاقا من المثال الإسلامي (61).

بهذه الصراحة يتحدث أركون.

وهكذا فعل كثيرون كالقمني والمؤدب وآخرون.

بينما يكتب آخرون وخاصة الجابري بحذر شديد ولف ودوران.

وعند التحقيق فمشروعهم واحد، أو كما قال أركون عن الجابري نفسه: لأن العقل العربي نفسه هو عقل ديني. قضايا في نقد العقل الديني (331).

يتفقان في ضرورة نقد التراث لتجاوزه، ويختلفان في الأسلوب، يقول أركون حاثا صديقه الجابري على توجيه لكمات قوية للتراث: باختصار ينبغي الدخول في صلب المشاكل الحقيقية وعدم تحاشيها بحجة مراعاة الشعب أو الجماهير أو العامة … الخ ينبغي أن يصل النقد إلى جذور الأشياء لا أن يكتفي بدغدغتها أو مسها مسا خفيفا (3).

--------------------------------------------

(1) قضايا في نقد العقل الديني (209).

(2) قضايا في نقد العقل الديني (60).

(3) قضايا في نقد العقل الديني (331).
ধর্মীয় বিষয়কে প্রভাবশালী ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর অভ্যন্তরে শোষিত করার মাধ্যমে (১)।

তিনি তাঁর সমালোচনামূলক প্রকল্প এবং প্রাচ্যবিদদের প্রকল্প সম্পর্কে বলেছেন: "আমরা বিশ্বাস করতে পারি যে, বর্তমানে চলমান গভীর মানসিক পরিবর্তনগুলো সাধারণভাবে ধর্মীয় বিষয় এবং বিশেষ করে ইসলামকে কেন্দ্র করে আবর্তিত সমস্ত দ্বন্দ্বকে সেকেলে ও অর্থহীন করে তোলার দায়িত্ব নেবে। এই সবকিছুই বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসের সাথে মিশে যাবে এবং স্মৃতিরক্ষার নিমিত্তে ধর্ম ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না (২)।"

পরিশেষে তিনি বলেছেন: "এটিই সেই প্রকল্প যা আমি ইসলামী দৃষ্টান্তের ভিত্তিতে অগ্রিমভাবে সম্পন্ন করতে চাই (৬১)।"

আরকুন এই স্পষ্টতার সাথেই কথা বলেন।

এবং আল-কিমনি, আল-মুয়াদ্দাব এবং অন্যদের মতো অনেকেই অনুরূপ কাজ করেছেন।

অন্যদিকে অন্যান্যেরা, বিশেষ করে আল-জাবেরি, অত্যন্ত সতর্কতা এবং ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে লেখেন।

কিন্তু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে তাদের প্রকল্প অভিন্ন; অথবা আরকুন স্বয়ং আল-জাবেরি সম্পর্কে যেমনটি বলেছেন: "কারণ খোদ আরব মননই হলো একটি ধর্মীয় মনন।" ধর্মীয় মনন সমালোচনার প্রসঙ্গসমূহ (৩৩১)।

ঐতিহ্যকে অতিক্রম করার নিমিত্তে এর সমালোচনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে তারা একমত, তবে তারা পদ্ধতির ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেন। আরকুন তাঁর বন্ধু আল-জাবেরিকে ঐতিহ্যের ওপর জোরালো আঘাত হানার আহ্বান জানিয়ে বলেন: "সংক্ষেপে, প্রকৃত সমস্যার মূলে প্রবেশ করতে হবে এবং জনগণ বা সাধারণ মানুষের বিবেচনার অজুহাতে তা এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয় … ইত্যাদি। সমালোচনাকে বিষয়ের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে, কেবল সামান্য নাড়াচাড়া বা হালকা স্পর্শে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না (৩)।"

--------------------------------------------

(১) ধর্মীয় মনন সমালোচনার প্রসঙ্গসমূহ (২০৯)।

(২) ধর্মীয় মনন সমালোচনার প্রসঙ্গসমূহ (৬০)।

(৩) ধর্মীয় মনন সমালোচনার প্রসঙ্গসমূহ (৩৩১)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
وإمعانا في ذر الرماد في العيون كتب العلماني المغربي أحمد عصيد: لأنه لم يوجد قط مثقف علماني واحد كتب ليمس بالدين الإسلامي في جوهره أو بالحق في الإيمان والتدين، وإنما التوجه العام هو نقد أشكال القراءة والفهم المنحرفة للدين وأنواع توظيفه السياسية المغرضة (1).

وكل جملة في هذه الفقرة تمارس تزييفا ومغالطة مكشوفين.

وسنبين له في هذا الكتاب أن أكثر العلمانيين كتبوا يطعنون في الدين الإسلامي عشرات النصوص التي سوف نريحك من تتبعها في مظانها، وهي كافية لإقناع حمار جدك إن شاء الله.

بل عصيد نفسه نقض كلامه كله، بل ومن الأصل، فصرح قبل هذا بقليل (338) تقليدا لعلماء الاجتماع الغربيين أن الدين مرحلة من مراحل التطور العقلي للبشرية، بدأت بالأسطورة ثم بتعدد الآلهة، ثم التوحيد، ثم العقل العلماني المعاصر (2).

فالدين تشكل عبر التطور البشري للعقل البشري، وليس إلا مرحلة خرافية من مراحل التطور، وتسمح العلمانية لمن شاء أن يؤمن بمثل هذه الخرافات، لأن له الحق في أن يؤمن بما شاء.

وسيأتي معنا مزيد بسط لهذه القضية.

وأما أن العلمانية تنتقد أشكال القراءة لا الدين نفسه، فهذا ما سنخصص له فصلا خاصا لنبين فيه تهافته وتفاهته.

ويكفينا الآن قول رفيقي دربه هشام جعيط وعلي حرب، وأولياء نعمته الفرنسيين.

--------------------------------------------

(1) العلمانية مفاهيم ملتبسة (3

(2) وكرر نحوه في قدر العلمانية في العالم العربي (149).
মানুষের চোখে ধুলো দেওয়ার অপচেষ্টায় মরক্কোর ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী আহমদ আসিদ লিখেছেন: "কেননা এমন একজন ধর্মনিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবীও নেই যিনি ইসলামের মূল সত্তা বা ঈমান ও ধর্মপালনের অধিকারকে আঘাত করার জন্য লিখেছেন; বরং সাধারণ প্রবণতা হলো ধর্মের বিকৃত ব্যাখ্যা ও বুঝের বিভিন্ন রূপ এবং এর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক ব্যবহারের সমালোচনা করা" (১)।

এই অনুচ্ছেদের প্রতিটি বাক্য সুস্পষ্ট জালিয়াতি ও বিভ্রান্তিতে পরিপূর্ণ।

আমরা এই গ্রন্থে তাকে দেখিয়ে দেব যে, অধিকাংশ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ইসলাম ধর্মকে আক্রমণ করে এমন ডজন ডজন পাঠ্য রচনা করেছেন, যেগুলো মূল উৎস থেকে খুঁজে বের করার কষ্ট থেকে আমরা আপনাকে মুক্তি দেব; আর সেগুলো (ইনশাআল্লাহ) আপনার পিতামহের গাধাকেও বোঝানোর জন্য যথেষ্ট।

বরং আসিদ নিজেই তার পূর্বোক্ত বক্তব্য পুরোপুরি খণ্ডন করেছেন, এমনকি মৌলিকভাবেই। তিনি এর কিছুকাল পূর্বে (৩৩৮) পশ্চিমা সমাজবিজ্ঞানীদের অনুকরণে ব্যক্ত করেছেন যে, ধর্ম হলো মানবজাতির বুদ্ধিবৃত্তিক বিবর্তনের একটি পর্যায় মাত্র, যা উপকথা দিয়ে শুরু হয়ে বহুশ্বরবাদ, অতঃপর একশ্বরবাদ এবং সর্বশেষ সমকালীন ধর্মনিরপেক্ষ বুদ্ধিবৃত্তিতে উপনীত হয়েছে (২)।

সুতরাং ধর্ম মানবীয় বুদ্ধিবৃত্তির বিবর্তনের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে এবং এটি বিবর্তনের একটি কাল্পনিক পর্যায় ছাড়া আর কিছু নয়। আর ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ যে কাউকে এই ধরণের কুসংস্কারে বিশ্বাস করার সুযোগ দেয়, কারণ তার যা ইচ্ছা বিশ্বাস করার অধিকার রয়েছে।

এই বিষয়ে সামনে আরও বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

আর ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ধর্মের মূল সত্তার বদলে কেবল ব্যাখ্যার রূপগুলোর সমালোচনা করে—এই দাবির অসারতা ও তুচ্ছতা প্রমাণের জন্য আমরা একটি বিশেষ অধ্যায় উৎসর্গ করব।

আপাতত আমাদের জন্য তার পথচলার সঙ্গী হিশাম জায়িত ও আলি হারব এবং তার ফরাসি অন্নদাতাদের বক্তব্যই যথেষ্ট।

--------------------------------------------

(১) ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ: অস্পষ্ট ধারণাসমূহ (৩...

(২) এবং অনুরূপ বিষয়ের পুনরাবৃত্তি করেছেন 'আরব বিশ্বে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের গুরুত্ব' (১৪৯) গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
قال هشام جعيط: إن كل أصناف النخب في العالم العربي بعيدة كل البعد ليس فقط عن التيارات الإسلامية، بل عن الإسلام ذاته (1).

وقال علي حرب في الممنوع والممتنع (222): فالنقد ينبغي أن يتجه إلى تفكيك تلك الترسانة التراثية التي فقدت فاعليتها في الفكر والعمل، ولهذا ينبغي للنقد أن يشمل كل شيء الأصول والفروع، أنظمة المعارف ومنظومات العقائد، الشروحات والتفاسير. انتهى.

وورد في توجيهات وزارة التعليم الفرنسية في إطار قانون تعميم التعليم الصادر يوم 28 مارس سنة 1882 ما يلي: يجب ألا نذكر للطفل البالغ من العمر سبع سنوات شيئا عن الله، ليشعر هذا الطفل من تلقاء نفسه على امتداد ساعات الست التي يتلقاها يوميا أن الله غير موجود أصلا، أو أننا في أحسن الأحوال لم نعد بحاجة إليه (2).

فهذا ثلاثة نقول نزفها لعصيد، فلعلها تكفيه.

وأما أنها تعطي اعتبارا للدين بسماحها بالتدين، فلا، لأن الدين واللادين والكفر والشرك والانحلال الخلقي كلها تصير مسائل شخصية لا دخل للمجتمع ولا الأديان فيها، وعليه فلم تعط العلمانية للدين أيّ امتياز، بل خنقته وألغته من المجتمع ومنعته من ممارسة نشاطه ومهامه داخل المجتمع، وسوته بالكفر والضلال وعبادة الأوثان والانحلال الخلقي والدعارة واللواط، وجعلتهم مسائل شخصية ترجع للضمير.

--------------------------------------------

(1) مجلة اليوم السابع، باريس عدد 11 يناير 1988. نقلا عن المفترون (18).

(2) في العلمانية والدين والديمقراطية (186).
হিশাম জাইত বলেছেন: আরব বিশ্বের সকল পর্যায়ের অভিজাত শ্রেণি কেবল ইসলামি ধারাগুলো থেকেই নয়, বরং খোদ ইসলাম থেকেই অনেক দূরে অবস্থান করছে (১)।

আলি হারব 'আল-মামনু ওয়াল-মুমতানি' (২২২) গ্রন্থে বলেছেন: সমালোচনাকে সেই ঐতিহ্যগত ভাণ্ডার বা সমরাস্ত্র বিনির্মাণের (deconstruction) দিকে ধাবিত হতে হবে যা চিন্তা ও কর্মের ক্ষেত্রে তার কার্যকারিতা হারিয়েছে। এ কারণে সমালোচনাকে মূলনীতি ও শাখাসমূহ, জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যবস্থা ও আকীদা কাঠামো এবং ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ—সবকিছুর ক্ষেত্রেই অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। সমাপ্ত।

১৮৮২ সালের ২৮ মার্চ প্রকাশিত শিক্ষা সাধারণীকরণ আইনের কাঠামোতে ফরাসি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নিম্নোক্ত বক্তব্যটি এসেছে: সাত বছর বয়সী একটি শিশুর কাছে ঈশ্বর সম্পর্কে কোনো কিছুই উল্লেখ করা যাবে না, যাতে প্রতিদিনের ছয় ঘণ্টার শিক্ষা চলাকালীন শিশুটি নিজেই অনুভব করতে পারে যে, ঈশ্বরের কোনো অস্তিত্ব নেই অথবা বড়জোর আমাদের আর তাঁর কোনো প্রয়োজন নেই (২)।

এই তিনটি উদ্ধৃতি আমরা আসিদের সম্মুখে পেশ করছি, সম্ভবত তার জন্য এটিই যথেষ্ট হবে।

আর এই যে দাবি করা হয় যে, ধর্মপালনের সুযোগ দিয়ে এটি ধর্মকে গুরুত্ব দেয়—তা সঠিক নয়। কারণ ধর্ম, অধর্ম, কুফর, শিরক এবং নৈতিক অবক্ষয়—সবই ব্যক্তিগত বিষয়ে পরিণত হয়, যেখানে সমাজ বা ধর্মের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকে না। ফলে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ধর্মকে কোনো বিশেষ মর্যাদা দেয়নি, বরং একে শ্বাসরোধ করেছে, সমাজ থেকে বিলুপ্ত করেছে এবং সমাজের অভ্যন্তরে এর কর্মকাণ্ড ও দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান করেছে। এটি ধর্মকে কুফর, পথভ্রষ্টতা, মূর্তিপূজা, নৈতিক স্খলন, ব্যভিচার ও সমকামিতার সমান্তরালে নিয়ে এসেছে এবং এগুলোকে বিবেকের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিগত বিষয়ে রূপান্তর করেছে।

--------------------------------------------

(১) আল-ইয়াউম আস-সাবি' সাময়িকী, প্যারিস, ১১ জানুয়ারি ১৯৮৮ সংখ্যা। 'আল-মুফতারুন' (১৮) থেকে উদ্ধৃত।

(২) ফিল ইলমানিয়্যাহ ওয়াদ দিন ওয়াদ দিমুকরাতিয়্যাহ (সেকুলারিজম, ধর্ম ও গণতন্ত্রে) (১৮৬)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২০)
ولنأخذ نموذجا علمانيا آخر يمارس تزييف الوعي والمغالطة.

حاول العلماني السوداني عبد الله أحمد النعيم أن يستغفل عقولنا فألف كتابا ضخما ليبين لنا أنه يدعو إلى علمانية الدولة فقط لا علمانية الإنسان والمجتمع (19)، أي: يدعو إلى العلمانية في شقها السياسي والقانوني. محاولا الاستدلال بأن الأنظمة العلمانية الغربية لا تزال تحتفظ للدين بمجموعة من المواقع وتُؤَمن له دورا ما في المجتمع.

مع أن كل ما أورده بنفسه هناك ليس إلا فتاتا بسيطا جدا جدا حول المائدة التي تتفضل العلمانية بالإبقاء عليها للدين، بل العجيب أن كل النصوص التي أوردها شاهدة عليه لا له.

فذكر مثلا (13) أن الديانة البروتستانية واليهودية تتمتع في فرنسا بحق تنظيم علاقتها بالدولة في حين لا يتمتع المسلمون بأي شيء باعترافه. بل يقابلون بالتهميش والتمييز والإقصاء ومحاربة الشعائر (لا الرموز) الدينية كالحجاب ونحوه.

أليست علمانيته هي السبب في هذا التمييز والعنصرية؟

وذكر كذلك (14) نفس التمييز العنصري ضد المسلمين ونحوهم في إيطاليا، وذكر أن الجماعات الدينية في إيطاليا لها نظام هرمي طبقي، يتكون من ثلاث طبقات، أعلى الهرم تقف الكنيسة الكاثوليكية تعامل البروتستانتية واليهود، وتتمتع بامتيازات مالية وتعليمية.

ثم قال: وهذه الامتيازات غير متوفرة للجماعات الدينية في الطابق الأدنى من الهرم. وذكر منها المسلمين.

والعجيب كذلك أنه ذكر أن القانون الإيطالي يحظر على رجال الدين تولي مناصب عامة مثل القضاء والمحاماة والخدمة المدنية في جباية الضرائب وغيرها (15).
এবার আমরা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের অন্য একটি দৃষ্টান্ত গ্রহণ করব, যা সচেতনতাকে বিভ্রান্ত করে এবং কুযুক্তি প্রদর্শন করে।

সুদানি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী আবদুল্লাহ আহমদ আন-নাঈম আমাদের বুদ্ধিকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি একটি বিশাল গ্রন্থ রচনা করেছেন এটা প্রমাণ করতে যে, তিনি কেবল রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতার আহ্বান জানাচ্ছেন, মানুষ ও সমাজের ধর্মনিরপেক্ষতার নয় (১৯); অর্থাৎ, তিনি এর রাজনৈতিক ও আইনি রূপের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন যে, পশ্চিমা ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থাগুলো ধর্মের জন্য এখনো কিছু স্থান অবশিষ্ট রেখেছে এবং সমাজে ধর্মের জন্য একটি নির্দিষ্ট ভূমিকা নিশ্চিত করে।

যদিও তিনি সেখানে যা কিছু উপস্থাপন করেছেন, তা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ কর্তৃক ধর্মের জন্য দয়াপরবশ হয়ে টেবিলের ওপর ফেলে রাখা যৎসামান্য উচ্ছিষ্ট ছাড়া আর কিছু নয়। বরং আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, তিনি যেসব উদ্ধৃতি পেশ করেছেন তার প্রতিটিই তার বিপক্ষে যায়, স্বপক্ষে নয়।

উদাহরণস্বরূপ, তিনি উল্লেখ করেছেন (১৩) যে, ফ্রান্সে প্রোটেস্ট্যান্ট ও ইহুদি ধর্ম রাষ্ট্রের সাথে তাদের সম্পর্ক বিন্যাসের অধিকার ভোগ করে, অথচ তার নিজের স্বীকারোক্তি অনুসারেই মুসলমানরা সেখানে কোনো সুযোগ-সুবিধাই পায় না। বরং তারা কোণঠাসা হওয়া, বৈষম্য, বর্জন এবং হিজাবের মতো ধর্মীয় বিধিবিধানের (কেবল প্রতীক নয়) বিরোধিতার সম্মুখীন হয়।

তার এই ধর্মনিরপেক্ষতাবাদই কি এই বৈষম্য ও বর্ণবাদের মূল কারণ নয়?

একইভাবে তিনি ইতালিতেও মুসলিম ও অন্যদের বিরুদ্ধে একই ধরনের বর্ণবৈষম্যের কথা উল্লেখ করেছেন (১৪)। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইতালির ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মাঝে একটি পিরামিড সদৃশ স্তরবিন্যাস বিদ্যমান, যা তিনটি স্তরে বিভক্ত। সেই পিরামিডের শীর্ষে অবস্থান করছে ক্যাথলিক চার্চ, যা প্রোটেস্ট্যান্ট ও ইহুদিদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে এবং তারা আর্থিক ও শিক্ষাগত বিশেষ সুবিধা ভোগ করে।

অতঃপর তিনি বলেছেন: এই সুযোগ-সুবিধাগুলো পিরামিডের নিম্নস্তরে অবস্থিত ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর জন্য লভ্য নয়। আর তাদের মধ্যে তিনি মুসলমানদের কথা উল্লেখ করেছেন।

আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, তিনি উল্লেখ করেছেন যে ইতালীয় আইন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের বিচার বিভাগ, আইন পেশা এবং কর আদায়সহ অন্যান্য জনসেবামূলক রাষ্ট্রীয় পদে অধিষ্ঠিত হওয়া নিষিদ্ধ করে (১৫)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২১)
وأين حقوق الإنسان؟ وأين المساواة؟ أليست العلمانية هي السبب في كل ذلك؟.

ثم زاد العلماني السوداني فأكد أن الدولة ملزمة بتدريس الديانة الكاثوليكية، وأما البروتستانت واليهود فيمكنهم توفير معلمين لدينهم في المدارس، وأما المسلمون فاسمع إلى عبارة النعيم: فلا يحق لهم توفير أساتذة لدينهم في المدارس إطلاقا (15). وزاد (16) أن المسلمين محرومون خلافا لغيرهم من تمويل منظماتهم من خلال الضريبة.

وذكر أن في أمريكا (18) يمنع طلاب المدارس التي تمولها الدولة من الصلاة الجماعية.

فأين كفل العلمانية للحرية الشخصية وحرية التدين؟.

وقد كان أركون أكثر صراحة، فاعتبر في كتابه تاريخية الفكر العربي (292) مفهوم الدين متضادا مع مفهوم العلمانية.

وقد كرر هذا أركون في كافة كتبه، حيث ميز بين النظرة الدينية القائمة على الأساطير والتعالي والتقديس، والنظرة العلمانية القائمة على العقلانية والنقد وإبعاد كل مفاهيم غيبية ماورائية.

وهذا تمييز واضح بين المذهبين، لكن بعض العلمانيين لأهداف إيديولوجية وخاصة بعض المغاربة يتمسحون بالدين نزولا عند رغبة الجماهير.

وهذا الموقف الانتهازي الرجعي يهدف إلى التراجع خطوة إلى الخلف من أجل خطوتين إلى الأمام.

وفضل علمانيون آخرون الوضوح والصراحة، ولهذا يتحاشى أركون مجرد التمظهر ومجرد الانتساب للدين أو الاعتراف بوجود الله، كما يفعل بعض
আর মানবাধিকারই বা কোথায়? আর সাম্যই বা কোথায়? ধর্মনিরপেক্ষতাবাদই কি এই সবকিছুর মূলে নয়?

অতঃপর উক্ত সুদানীয় ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী আরও বাড়িয়ে বললেন যে, রাষ্ট্র ক্যাথলিক ধর্ম শিক্ষা প্রদানে বাধ্য, আর প্রোটেস্ট্যান্ট ও ইহুদিরা বিদ্যালয়ে তাদের ধর্মের শিক্ষক নিয়োগ করতে পারবে। কিন্তু মুসলমানদের ক্ষেত্রে আন-নাঈমের বক্তব্যটি শুনুন: তাদের জন্য বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের কোনো অধিকারই নেই (১৫)। তিনি আরও যোগ করেন (১৬) যে, অন্যদের বিপরীতে মুসলমানরা করের মাধ্যমে তাদের সংগঠনগুলোর অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত।

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আমেরিকায় (১৮) রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের জামাতে প্রার্থনা করা নিষিদ্ধ।

তবে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের সেই নিশ্চয়তা কোথায়?

আরকুন অধিকতর স্পষ্টভাষী ছিলেন; তিনি তার 'তারিখিয়্যাতুল ফিকরিল আরাবি' (আরব চিন্তাধারার ঐতিহাসিকতা) গ্রন্থে (২৯২) ধর্মের ধারণাকে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের ধারণার পরিপন্থী হিসেবে গণ্য করেছেন।

আরকুন তার সকল গ্রন্থে এই কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন, যেখানে তিনি মিথলজি, অতিন্দ্রীয়তা ও পবিত্রতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং যুক্তিবাদ, সমালোচনা ও সমস্ত অতীন্দ্রিয় আধিভৌতিক ধারণাকে বর্জনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেছেন।

এটি উভয় মতবাদের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট পার্থক্য। তবে কিছু ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী মতাদর্শগত উদ্দেশ্যে, বিশেষ করে মাগরেব অঞ্চলের কেউ কেউ জনসাধারণের আকুতি বিবেচনা করে ধর্মের লেবাস ধারণ করেন।

এই সুবিধাবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থানের লক্ষ্য হলো দুই ধাপ সামনে অগ্রসর হওয়ার জন্য এক ধাপ পিছু হটা।

অন্যান্য ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা স্পষ্টবাদিতা ও অকপটতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন; এই কারণেই আরকুন ধর্মের সাথে নিছক লৌকিকতা রক্ষা বা আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার করা থেকে বিরত থাকেন, যেমনটা কেউ কেউ করে থাকেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২২)
المنافقين عندنا (1).

وهذا شبلي شميل -أحد كبار الرواد العلمانيين العرب الأوائل- ذكر أنه نفى الأديان لا لغرض في النفس ولا غيره، بل لأنه التزم جانب العلم. آراء الدكتور شبلي شميل (19).

وقال عن الأديان: وهي في اعتقادي نفعت كثيرا وأضرت كذلك (19).

ثم ذكر أنها لم تعد تصلح الآن (19).

وأنها أضرت كثيرا بجمودها وجمود أتباعها بها (20).

فما رأي عصيد في هذه العصيدة.

وعلى كل حال فلنشرع الآن في سرد مواقف العلمانيين العرب من الإسلام حسب الفقرات التالية:

 

‌‌يجب نقد الإسلام في حد ذاته، وهو واجب مقدس.

لأن الإسلام كما قال خليل عبد الكريم في الإسلام بين الدولة الدينية والدولة المدنية (8 - 9) بدأت تظهر على وجهه علامات الشيخوخة كتجاعيد وتشققات وجفاف.

والسبيل الوحيد عنده لتجاوز هذه الشيخوخة هو الانعتاق من قيود المسلمات والمقدسات الزائفة.

وحقيقة نقد الفكر الديني عند العلمانيين هو نقض له وإدانة، وهذا خلاف ما يوجبه البحث العلمي النزيه والمحايد.

وجل تلك الكتابات تنطلق من مواقف أيديولوجية مسبقة. أغلبها ماركسي مشبع بموقف ماركس العدائي ضد الدين.

--------------------------------------------

(1) وأركون حسب معرفتي به من خلال كتبه المنشورة أجزم بأنه لم يكن يؤمن بإله ولا دين ولا نبي ولا إسلام ولا أي شيء إلا العقل الغربي المحض.
আমাদের নিকট মুনাফিকগণ (১)।

আর এই শিবলী শুমায়্যিল—যিনি প্রথম সারির অন্যতম প্রধান আরব ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী অগ্রদূত—তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ধর্মসমূহকে অস্বীকার করেছেন কোনো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য বা অন্য কিছুর জন্য নয়, বরং এই কারণে যে তিনি বিজ্ঞানের পক্ষাবলম্বন করেছেন। ডক্টর শিবলী শুমায়্যিলের মতামত (১৯)।

ধর্মসমূহ সম্পর্কে তিনি বলেছেন: আমার বিশ্বাস মতে এগুলো যেমন অনেক উপকার করেছে, তেমনি ক্ষতিও করেছে (১৯)।

অতঃপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এগুলো এখন আর উপযোগী নয় (১৯)।

আর এগুলো তার স্থবিরতা এবং এর অনুসারীদের গোঁড়ামির কারণে অনেক ক্ষতি সাধন করেছে (২০)।

এমতাবস্থায় এই জগাখিচুড়ি (আসসিদা) সম্পর্কে আসসিদ-এর অভিমত কী!

যা-ই হোক, এখন আমরা নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইসলাম সম্পর্কে আরব ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের অবস্থানের বর্ণনা শুরু করি:

 

‌‌ইসলামের সমালোচনা করা আবশ্যক, আর এটি একটি পবিত্র দায়িত্ব.

কারণ খলীল আব্দুল করীম তার 'আল-ইসলাম বাইনা আদ-দাওলা আদ-দিনিয়্যা ওয়া আদ-দাওলা আল-মাদানিয়্যা' (ধর্মীয় রাষ্ট্র ও নাগরিক রাষ্ট্রের মাঝে ইসলাম) গ্রন্থে (৮-৯) যেমনটি বলেছেন— ইসলামের চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ যেমন বলিরেখা, ফাটল ও শুষ্কতা প্রকাশ পেতে শুরু করেছে।

তার মতে, এই বার্ধক্য কাটিয়ে ওঠার একমাত্র পথ হলো মিথ্যা স্বতঃসিদ্ধ এবং পবিত্রতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি লাভ করা।

ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের নিকট ধর্মীয় চিন্তা সমালোচনার প্রকৃত রূপ হলো একে খণ্ডন করা ও নিন্দা জানানো, যা নিরপেক্ষ ও সৎ বৈজ্ঞানিক গবেষণার চাহিদার পরিপন্থী।

এই লেখাগুলোর অধিকাংশেরই সূত্রপাত পূর্বনির্ধারিত আদর্শিক অবস্থান থেকে। এর সিংহভাগই মার্কসবাদী, যা ধর্মের বিরুদ্ধে মার্কসের শত্রুতামূলক অবস্থানে পরিপূর্ণ।

--------------------------------------------

(১) আর আরকুন—তার প্রকাশিত বইপত্রের মাধ্যমে তার সম্পর্কে আমার যতটুকু জানাশোনা, তাতে আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি যে, তিনি আল্লাহ, ধর্ম, নবী, ইসলাম বা বিশুদ্ধ পশ্চিমা যুক্তি ছাড়া আর কোনো কিছুতেই বিশ্বাস করতেন না।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
ويوضح لنا سيد القمني في هذه الفقرة أنه لا دليل على صدق الإسلام، وبالتالي فلا يجوز استثناء شيء من النقد، قال: إن شرط العلمانية هو السماح بالنقد الموضوعي دون حدود ولا سقوف حمراء، لذلك أفهم أن تكون مسلما أو مسيحيا وأن تكون أيضا علمانيا، أي أنك لا تفرض دينك على غيرك، وتقبل نقد دينك لأنه لا دليل على صدقه. لذلك لا نصدقه إنما نؤمن به، والفرق عظيم في آليات الموقفين. فكل دين يزعم المؤمنون به أنه الصدق المطلق، وهو ما يعني عدم الصدق بالمرة، لتناقض الأديان تناقضا تاما والمصدر واحد إذا سلمنا بالإيمان. انتكاسة القمني، عفوا انتكاسة المسلمين (315).

وزاد في انتكاسته (315): إن من يزعم العلمانية وينزعج من نقد دينه هو منافق يرتد عند أول ناصية ويبيعنا جميعا عند أول موقف.

وكل العقائد والمسلمات هي تحت مطرقة نقد العلمانيين، فأركون مثلا يهدف إلى إعادة التفكير الجذري بالرؤيا الأخلاقية والسياسة في الإسلام عن طريق وضع القيم العقائدية والإيمانية التكرارية على محك التاريخ وجعلها إشكالية ( Problematique) لا مطلقة أو نهائية تتجاوز التاريخ. ويتأسف على عدم ظهور هذا المشروع الكبير الواسع في العالم الإسلامي (1).

وأكد على مشروعه حول ما سماه تحرير الفكر الإسلامي من سياجاته العقائدية الخاصة به (2).

وكيف سيتم ذلك؟ أجاب أركون على الفور: لا يمكن أن ينجح ما دامت

--------------------------------------------

(1) الإسلام الأخلاق والسياسة (17).

(2) الأنسنة والإسلام (34).
সাইয়্যেদ আল-কিমনি এই অনুচ্ছেদে আমাদের কাছে স্পষ্ট করেছেন যে ইসলামের সত্যতার কোনো প্রমাণ নেই, তাই সমালোচনার ক্ষেত্রে কোনো কিছুকেই ব্যতিক্রম হিসেবে রাখার সুযোগ নেই। তিনি বলেছেন: ধর্মনিরপেক্ষতার শর্ত হলো কোনো সীমা বা অলঙ্ঘনীয় বাধা ছাড়াই বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনার সুযোগ দেওয়া। তাই আমি বুঝি যে আপনি মুসলিম বা খ্রিস্টান হতে পারেন এবং একই সাথে ধর্মনিরপেক্ষও হতে পারেন, অর্থাৎ আপনি অন্যের ওপর আপনার ধর্ম চাপিয়ে দেবেন না এবং আপনার ধর্মের সমালোচনা গ্রহণ করবেন কারণ এর সত্যতার কোনো প্রমাণ নেই। এজন্য আমরা একে যুক্তি দিয়ে সত্য বলে মানি না বরং এর ওপর স্রেফ বিশ্বাস স্থাপন করি, আর এই দুই অবস্থানের প্রক্রিয়ার মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। প্রতিটি ধর্মের বিশ্বাসীরাই দাবি করে যে তাদের ধর্মই পরম সত্য, যার অর্থ হলো এটি মোটেই সত্য নয়, কারণ বিশ্বাসের দাবি মেনে নিলেও ধর্মগুলোর মধ্যে পূর্ণ বৈপরীত্য বিদ্যমান অথচ উৎস অভিন্ন। আল-কিমনির অধঃপতন, থুড়ি মুসলিমদের অধঃপতন (৩১৫)।

তিনি তার সেই অধঃপতিত উক্তিতে আরও বাড়িয়ে বলেছেন (৩১৫): যে ব্যক্তি ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি করে অথচ নিজের ধর্মের সমালোচনায় বিচলিত হয়, সে একজন মুনাফিক যে প্রথম সুযোগেই মত পরিবর্তন করবে এবং প্রথম কোনো সংকটেই আমাদের সবাইকে বিক্রি করে দেবে।

এবং সমস্ত আকিদা ও স্বতঃসিদ্ধ বিষয়গুলো ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের সমালোচনার হাতুড়ির নিচে রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আরকুন ইসলামের নৈতিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমূল নতুন করে চিন্তা করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এটি করার জন্য তিনি পুনরাবৃত্তিমূলক আকিদাগত ও বিশ্বাসগত মূল্যবোধগুলোকে ইতিহাসের কষ্টিপাথরে যাচাই করতে চান এবং সেগুলোকে ইতিহাস-অতীত কোনো পরম বা চূড়ান্ত বিষয় হিসেবে না দেখে বরং একটি সমস্যামূলক (Problematique) বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করতে চান। মুসলিম বিশ্বে এই বিশাল ও বিস্তৃত প্রকল্পের অনুপস্থিতিতে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন (১)।

তিনি তার সেই প্রকল্পের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন যাকে তিনি ইসলামি চিন্তাধারাকে তার নিজস্ব আকিদাগত বেষ্টনী থেকে মুক্ত করা বলে অভিহিত করেছেন (২)।

আর তা কীভাবে সম্পন্ন হবে? আরকুন সাথে সাথে উত্তর দিলেন: এটি ততক্ষণ সফল হওয়া সম্ভব নয় যতক্ষণ পর্যন্ত

--------------------------------------------

(১) ইসলাম: নৈতিকতা ও রাজনীতি (১৭)।

(২) মানবতাবাদ ও ইসলাম (৩৪)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
الأطر والأسس التاريخية القصصية للإيمان غير مهدمة، كما هدمت أسس الإيمان المسيحي منذ القرن الثامن عشر (1).

وبعبارة أكثر صراحة حسب أركون: تهدف العلمانية إلى بناء مجتمع بدون إله، كما عبر «جيل فيري» (2).

وفي كتاب آخر له يقول أركون: وهكذا نلمح تلك الاستمرارية المحزنة إن لم تكن المحبطة للآمال والتي ارتكبتها الأديان عن طريق تشكيل امبراطوريات مرتكزة على الكيل بمكيالين (3).

واتهم الأديان بالتعصب وأنها أقوى من المحبة والتسامح والإخاء. وأنها تتميز بالنظرة الاحتقارية للآخر وأنها فعلت مجازر في حق الأقليات (4). إلى آخر كلامه.

وفي كتاب آخر له اسمه «العلمنة والدين» (72) بين أركون أن العلمانية تحذف كليا الموقف الديني وتعتبره شيئا قديما باليا.

لكن عند أركون فالعلمانية لا تهمل الدين كعامل مؤثر في الدراسة لا لصدقه في نفسه، يقول عن العلمانية: وهي تحاول أن تعيد دمج العامل الديني في الدراسة وليس استبعاده وإهماله. قلت العامل الديني وليس الأديان أو العقائد بحد ذاتها أو بمضامينها التفصيلية (81).

بمعنى أن العامل الديني مُعطى أثر في الظاهرة الإنسانية فلا يهمل كعامل

--------------------------------------------

(1) نفس المرجع

(2) نفس المرجع (61).

(3) نحو نقد العقل الإسلامي (178).

(4) نفس المرجع.
বিশ্বাসের ঐতিহাসিক ও বর্ণনামূলক কাঠামো এবং ভিত্তিগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়নি, যেভাবে অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের ভিত্তিগুলো ধ্বংস হয়ে গিয়েছে (১)।

আরকোঁ-র মতে আরও স্পষ্ট ভাষায়: ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের লক্ষ্য হলো ঈশ্বরহীন একটি সমাজ বিনির্মাণ করা, যেমনটি ‘জুল ফেরি’ ব্যক্ত করেছেন (২)।

তাঁর অন্য একটি গ্রন্থে আরকোঁ বলেন: এভাবেই আমরা সেই দুঃখজনক—যদি হতাশাজনক না বলি—ধারাবাহিকতা প্রত্যক্ষ করি যা ধর্মগুলো দ্বিমুখী মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে সাম্রাজ্য গঠনের মাধ্যমে ঘটিয়েছে (৩)।

তিনি ধর্মগুলোকে গোঁড়ামির দায়ে অভিযুক্ত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, এগুলো ভালোবাসা, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্বের চেয়েও শক্তিশালী। তাঁর মতে, ধর্মগুলো ‘অপর’-এর প্রতি অবজ্ঞাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং এগুলো সংখ্যালঘুদের অধিকারের ক্ষেত্রে গণহত্যা চালিয়েছে (৪)। তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত।

‘ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্ম’ (৭২) নামক তাঁর অন্য একটি গ্রন্থে আরকোঁ ব্যাখ্যা করেছেন যে, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ধর্মীয় অবস্থানকে সম্পূর্ণরূপে বর্জন করে এবং একে একটি সেকেলে ও জীর্ণ বিষয় হিসেবে গণ্য করে।

তবে আরকোঁ-র নিকট ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ধর্মকে অধ্যয়নের ক্ষেত্রে একটি প্রভাবশালী অনুষঙ্গ হিসেবে উপেক্ষা করে না, তা ধর্মের নিজস্ব সত্যতার কারণে নয়। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ সম্পর্কে তিনি বলেন: এটি ধর্মীয় অনুষঙ্গকে অধ্যয়নের মধ্যে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করে, একে বাদ দেওয়া বা অবহেলা করা এর উদ্দেশ্য নয়। আমি ‘ধর্মীয় অনুষঙ্গ’ বলেছি, স্বয়ং ধর্মসমূহ বা বিশ্বাস কিংবা তাদের বিস্তারিত বিষয়বস্তু নয় (৮১)।

অর্থাৎ, ধর্মীয় অনুষঙ্গ হলো একটি প্রদত্ত বিষয় যা মানবিক প্রপঞ্চের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে, তাই একে একটি প্রভাবক হিসেবে উপেক্ষা করা যায় না।

--------------------------------------------

(১) একই সূত্র

(২) একই সূত্র (৬১)।

(৩) ইসলামি বুদ্ধিবৃত্তির সমালোচনার পথে (১৭৮)।

(৪) একই সূত্র।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
مؤثر في الدراسات التاريخية والسوسيولوجية، وليس لأن له قيمة في حد ذاته، أي: هو مادة للدراسة العلمية كما قال مترجمه وظله هاشم صالح (109).

فالدين مادة للدراسة لا شرع يُتبع ويتدين به وليست له أية قيمة معيارية.

وفي كتاب ثالث «الإسلام الأخلاق والسياسة» تحدث أركون عن الحاجة والضرورة الملحة لإعادة التفكير بتراث الإسلام بدءا من أسسه وجذوره (171).

وفي كتاب رابع يرى أركون أنه لا بد من النقد التاريخي الصارم الذي لا هوادة فيه لكل المنظومة الإسلامية، وأنه لا بد من الحل الجذري الراديكالي أي: المتطرف، كما بين مترجمه وتلميذه هاشم صالح. نحو نقد العقل الإسلامي (12 - 19).

وزاد مجنون أركون: وذلك لأن الفلسفة العقلانية التنويرية الحديثة (أي: العلمانية) تخترق كل الأديان والمذاهب وتتعالى عليها (14).

فالعلمانية فوق الأديان وتتعالى عليها كما قال هاشم صالح. الذي تساءل في كتابه الإسلام والانغلاق اللاهوتي (30): لماذا لا يحق لنا أن ننقد الدين ونصول ونجول في كل القضايا الدينية من دون أن يزعجك أحد.

ويطمئننا هاشم صالح أن علمانيته لا تريد بتفكيك الدين عملا سلبيا ولا تخريبيا، بل هو عمل إبداعي خلاق لا يمكن لأي ثقافة أن تنهض بدونه (43).

هكذا بهذه الكلمات الثعلبية المعسولة يخاطب عواطفنا لعل تمائمنا تستسلم لسحره، ويزيد مضغضغا تلك العواطف مبينا أنه لا يريد تدمير الإسلام، وإنما من أجل التوصل إلى فهم عقلاني حر لدين الإسلام (44).
ঐতিহাসিক ও সমাজতাত্ত্বিক গবেষণায় প্রভাবশালী, এটি এই কারণে নয় যে এর স্বকীয় কোনো মূল্য আছে; অর্থাৎ, এটি বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনার একটি বিষয়মাত্র, যেমনটি তাঁর অনুবাদক ও ছায়াসঙ্গী হাশেম সালেহ বলেছেন (১০৯)।

সুতরাং ধর্ম হলো অধ্যয়নের একটি বিষয়, কোনো অনুসরণযোগ্য বিধান বা ধর্মীয় বিশ্বাস নয় এবং এর কোনো আদর্শগত মূল্য নেই।

তৃতীয় একটি গ্রন্থ 'ইসলাম: নৈতিকতা ও রাজনীতি'-তে আরকুন ইসলামের ঐতিহ্যকে এর ভিত্তি ও শিকড় থেকে পুনরায় চিন্তা করার প্রয়োজনীয়তা ও জরুরি আবশ্যকতা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন (১৭১)।

চতুর্থ একটি গ্রন্থে আরকুন মনে করেন যে, সমগ্র ইসলামি ব্যবস্থার ওপর কঠোর ও আপসহীন ঐতিহাসিক সমালোচনা অপরিহার্য এবং একটি আমূল বা র‍্যাডিক্যাল তথা চরমপন্থী সমাধান আবশ্যক; যেমনটি তাঁর অনুবাদক ও শিষ্য হাশেম সালেহ 'ইসলামি বিবেকের সমালোচনার অভিমুখে' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (১২-১৯)।

আরকুনের এই অন্ধ অনুরাগী আরও যোগ করেছেন: আর তা এজন্য যে, আধুনিক প্রবোধনবাদী যুক্তিবাদী দর্শন (অর্থাৎ: ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ) সমস্ত ধর্ম ও মতবাদকে ভেদ করে যায় এবং এগুলোর ঊর্ধ্বে অবস্থান করে (১৪)।

হাশেম সালেহর ভাষ্যমতে, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ধর্মের ঊর্ধ্বে এবং একে ছাড়িয়ে যায়। তিনি তাঁর 'ইসলাম ও ধর্মতাত্ত্বিক রুদ্ধতা' গ্রন্থে প্রশ্ন তুলেছেন (৩০): কেন আমাদের ধর্মকে সমালোচনা করার এবং কোনো প্রকার বিঘ্ন ছাড়াই সমস্ত ধর্মীয় বিষয়ে অবাধ বিচরণ করার অধিকার থাকবে না?

হাশেম সালেহ আমাদের আশ্বস্ত করেন যে, তাঁর ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ধর্মকে ব্যবচ্ছেদের মাধ্যমে কোনো নেতিবাচক বা ধ্বংসাত্মক কাজ করতে চায় না, বরং এটি একটি সৃজনশীল কাজ যা ছাড়া কোনো সংস্কৃতিই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না (৪৩)।

এভাবেই এই ধূর্ত ও মধুমাখা শব্দের মাধ্যমে তিনি আমাদের আবেগকে সম্বোধন করেন, যাতে আমাদের বিশ্বাসগুলো তাঁর জাদুমোহে আত্মসমর্পণ করে; আর তিনি এই আবেগকে আরও উসকে দিয়ে প্রকাশ করেন যে, তিনি ইসলামকে ধ্বংস করতে চান না, বরং ইসলাম ধর্মের একটি মুক্ত ও যুক্তিবাদী উপলব্ধিতে পৌঁছাতে চান (৪৪)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
يقصد فهما عقلانيا يتم فيه تجاوز وإقصاء كل المفاهيم الدينية ذات البنية الغيبية: الله، الملائكة، الجن، إبليس، الجنة، والنار … إلخ، وتجاوز كل التشريعات الإسلامية المختلفة تحريم الربا والميسر والخنزير وإيجاب الحجاب والحدود وغير ذلك. لأن كل هذه العقائد والتشريعات كانت استجابة لظروف تجاوز التطور الطبيعي للعقل البشري لها.

وفي مقابل طعن أركون في القرآن والسنة وعلوم الإسلام دافع أركون عن عقائد منحرفة عديدة عن الدين، بل عدها العلماء خارج إطار الإسلام، فقال عن البهائية والإسماعيلية: إنها حققت مكانة عالمية محترمة بفضل جهود الآغاخان وانفتاحه الإنساني المعروف (1).

وقال عن رجال الكنيسة: وهكذا تغير وجهها من رجعي ظلامي ومحاكم تفتيش إلى تقدمي عقلاني مستنير نسبيا (2).

بعد أن سردنا ما يكفي من النصوص العلمانية المؤكدة على ضرورة نقد الإسلام نقدا لا هوداة فيه كما قال هاشم صالح نخصص الفقرات التالية لذكر نماذج موثقة لهذا النقد، بل النقض والطعن والسخرية والاستهزاء بالدين وأحكامه، عسى أن نبين لعصيد أن (عصيدته) طعمها مُر حنظل لا يستساغ إلا من أمثاله.

--------------------------------------------

(1) نحو نقد العقل الاسلامي (323).

(2) نفس المرجع (324).

ودافع كذلك من العلمانيين عن التبشير المسيحي: العفيف الأخضر اعتبر أن صدور قانون يمنع التبشير في الجزائر وفي المغرب يمثل انتهاكا مرفوضا لحرية التدين المقدسة. الحوار المتمدن العدد: - 2006/ 3
তিনি এমন এক যৌক্তিক উপলব্ধি বুঝাতে চেয়েছেন, যেখানে অতিপ্রাকৃতিক বা অদৃশ্য কাঠামোর সকল ধর্মীয় ধারণা—যেমন: আল্লাহ, ফেরেশতা, জিন, ইবলিস, জান্নাত ও জাহান্নাম ... ইত্যাদি—অতিক্রম ও বর্জন করা হয়। পাশাপাশি সুদ, জুয়া ও শূকর নিষিদ্ধকরণ এবং হিজাব ও হুদুদ (শরয়ি দণ্ডবিধি) আবশ্যককরণসহ অন্যান্য সমস্ত ইসলামি বিধানকেও উপেক্ষা করা হয়। কারণ, তাঁর মতে এই সকল বিশ্বাস ও বিধান এমন কিছু পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রণীত হয়েছিল, যা মানববিবেকের স্বাভাবিক বিবর্তন ইতিপূর্বেই অতিক্রম করে এসেছে।

কুরআন, সুন্নাহ এবং ইসলামি জ্ঞানবিজ্ঞানের ওপর আরকুনের আক্রমণের বিপরীতে তিনি ধর্মচ্যুত বহু ভ্রান্ত আকিদা বা বিশ্বাসের পক্ষাবলম্বন করেছেন; এমনকি আলেমগণ সেগুলোকে ইসলামের গণ্ডিবহির্ভূত বলে গণ্য করেছেন। তিনি বাহাউল্লাহবাদ ও ইসমাইলিয়া মতবাদ সম্পর্কে বলেছেন: আগাখানের প্রচেষ্টা এবং তাঁর সুবিদিত মানবিক উদারতার বদৌলতে এগুলো এক সম্মানজনক বৈশ্বিক অবস্থান অর্জন করেছে (১)।

আর তিনি গির্জার যাজকদের সম্পর্কে বলেছেন: এভাবেই এর রূপ প্রতিক্রিয়াশীল অন্ধকারাচ্ছন্নতা ও ইনকুইজিশন (ধর্মীয় বিচারালয়) থেকে অপেক্ষাকৃত প্রগতিশীল, যৌক্তিক ও আলোকিত রূপে পরিবর্তিত হয়েছে (২)।

হাশেম সালেহর উক্তি অনুযায়ী ইসলামের ওপর আপসহীন সমালোচনার প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করে এমন যথেষ্ট পরিমাণ সেক্যুলার উদ্ধৃতি তুলে ধরার পর, আমরা পরবর্তী অনুচ্ছেদগুলোতে এই সমালোচনার—বরং বলা চলে ধর্ম ও এর বিধানাবলি খণ্ডন, আক্রমণ, বিদ্রূপ ও উপহাসের—কিছু প্রামাণ্য উদাহরণ উল্লেখ করার জন্য নির্ধারণ করেছি। সম্ভবত এর মাধ্যমে আমরা আসিদ-কে এটা বুঝিয়ে দিতে পারব যে, তার (আসিদাহ বা তৈরি খিচুড়ির) স্বাদ অত্যন্ত তিতকুটে যা কেবল তার মতো লোকেদের পক্ষেই গলাধঃকরণ করা সম্ভব।

--------------------------------------------

(১) ইসলামি বিবেকের সমালোচনার অভিমুখে (৩২৩)।

(২) একই উৎস (৩২৪)।

একইভাবে সেক্যুলারদের মধ্যে আল-আফিফ আল-আখদার খ্রিস্টীয় ধর্মপ্রচারের (মিশনারি তৎপরতা) পক্ষে সাফাই গেয়েছেন; তিনি মনে করেন যে, আলজেরিয়া ও মরক্কোতে ধর্মপ্রচার নিষিদ্ধ করে আইন জারি করা পবিত্র ধর্মীয় স্বাধীনতার একটি অগ্রহণযোগ্য লঙ্ঘন। আল-হাওয়ার আল-মুতামাদ্দিন, সংখ্যা: ২০০৬/ ৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌نقض أصول الإسلام وطعن في الدين:

نبدأ هذه الفقرات بعلماني قمامي من الدرجة الممتازة، حيث اعتبر سيد القمامة القمني أن سبب نكبتنا وتخلفنا هو رجوعنا واعتمادنا على كتاب واحد (أي: القرآن) أو كتابان (أي القرآن والسنة). شكرا ابن لادن (159).

وصرح اللعين أن عجز الإسلام كمشروع ومعه النبي والقرآن والبخاري وجبريل والملائكة ورب الأكوان والمؤمنون في المشارق والمغارب عن إقامة دولته المنشودة عبر تجربة ألف وأربعمائة عام. شكرا ابن لادن (159).

وعرَّى عاشق القمامة عن سوأته مباشرة وبغير حياء ولا خجل، وأكد أن المشكلة ليست في الخطاب الديني كما مر في (عصيدة) عصيد وغيره، بل في الدين نفسه.

وهذه عبارته بحروفها: هذا رغم أن المشكلة في الخطاب الديني لا يمكن ألا تكون إلا بمشكلة أعظم في الدين نفسه. خاصة أن في تكوين الإسلام مفردات تكوينية يتفرد بها عن معظم الأديان الأخرى، كانت سببا مباشرا في احتواء الدين على كثير من التناقضات الداخلية، سواء في المفاهيم أو في الأحكام … شكرا ابن لادن (160).

وصرح أن كتابه أهل الدين والديمقراطية مع الوطن والتاريخ والجغرافيا وليس مع وطن هلامي اسمه الإسلام (9).

وأنه رد وتفنيد لكثير من المسلمات ونقد للثوابت وخروج عن الخطوط الحمراء (9).

وقال: وسنفرض وجودنا وشروطنا على خريطة مستقبل سنشارك في رسمه وتخطيطه بأيدينا، ولن يرسمه لنا بعد ذلك أحد كان في الأرض كان أو في السماء (10).
ইসলামের মূলনীতিসমূহের বিনাশ এবং দ্বীনের প্রতি অপবাদ:

আমরা এই অনুচ্ছেদগুলো একজন অতি উচ্চস্তরের আবর্জনা-তুল্য ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীকে দিয়ে শুরু করছি। আবর্জনার অধিপতি আল-কিমনি মনে করেন যে, আমাদের বিপর্যয় ও অনগ্রসরতার কারণ হলো আমাদের ফিরে যাওয়া এবং একটি মাত্র কিতাব (অর্থাৎ কুরআন) অথবা দুটি কিতাবের (অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহ) ওপর নির্ভর করা। শুকরান বিন লাদেন (১৫৯)।

সেই অভিশপ্ত ব্যক্তিটি ঘোষণা করেছে যে, একটি প্রকল্প হিসেবে ইসলাম এবং সেই সাথে নবী, কুরআন, বুখারী, জিবরাঈল, ফেরেশতাকুল, মহাবিশ্বের প্রতিপালক এবং পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তের মুমিনগণ চৌদ্দশত বছরের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে। শুকরান বিন লাদেন (১৫৯)।

এই আবর্জনা-প্রেমিক কোনো প্রকার সংকোচ বা লজ্জা ছাড়াই সরাসরি তার কুৎসিত রূপ উন্মোচন করেছে এবং জোর দিয়ে বলেছে যে, সমস্যা 'ধর্মীয় বয়ানে' নয়—যেমনটি আস্সিদ ও অন্যদের আবোলতাবোলে উঠে এসেছে—বরং সমস্যা স্বয়ং দ্বীনের মধ্যেই।

তার হুবহু বক্তব্যটি হলো: "এটি সত্ত্বেও, ধর্মীয় বয়ানের সমস্যাটি দ্বীনের নিজস্ব আরও বড় কোনো সমস্যা ছাড়া অন্য কিছু হওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে ইসলামের গঠনকাঠামোতে এমন কিছু মৌলিক উপাদান রয়েছে যা তাকে অন্যান্য অধিকাংশ ধর্ম থেকে স্বতন্ত্র করেছে; আর এগুলোই ধর্মে বহু অভ্যন্তরীণ বিরোধের প্রত্যক্ষ কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, চাই তা ধারণার ক্ষেত্রে হোক কিংবা বিধানের ক্ষেত্রে..." শুকরান বিন লাদেন (১৬০)।

সে আরও স্পষ্ট করেছে যে, তার 'ধর্মের অনুসারী ও গণতন্ত্র' নামক গ্রন্থটি স্বদেশ, ইতিহাস ও ভূগোলের পক্ষে; ইসলাম নামক কোনো অলীক বা বায়বীয় স্বদেশের পক্ষে নয় (৯)।

এবং এটি অনেক স্বতঃসিদ্ধ বিষয়ের জবাব ও খণ্ডন, প্রতিষ্ঠিত মূলনীতিসমূহের সমালোচনা এবং সীমালঙ্ঘন স্বরূপ (৯)।

সে বলেছে: "আমরা ভবিষ্যতের মানচিত্রে আমাদের অস্তিত্ব ও শর্তাবলিকে চাপিয়ে দেব, যা আমরা নিজ হাতে অঙ্কন ও পরিকল্পনা করব; এরপর পৃথিবীতে হোক কিংবা আসমানে—আর কেউ আমাদের জন্য তা নির্ধারণ করে দেবে না" (১০)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
وللقمني طعون أخرى في الإسلام وأحكامه وتشريعاته ستأتي معنا في هذا الفصل قريبا وفي الفصول التالية عبر تسلسلها وتتابعها. علما أن القمني يلجأ أحيانا للمناورة، فقد كثرت عليه الضغوط والتحدي من قبل المسلمين في بلاده، فأعلن الشهادتين في التلفزيون المصري، كما ذكر في كتابه انتكاسة المسلمين (316).

وزاد أن بعض العلمانيين أخذوا عليه هذه التصريحات الإيمانية، بل حاربوه في موقع الحوار المتمدن. لكنه سارع إلى طمأنتهم وتبديد مخاوفهم (1) فقال: ومن ثم تتغير مواقفي أحيانا بدرجة أو بأخرى حسب طبيعة الضغوط ونوع المعركة، فأمارس أحيانا التقية المشهورة لديهم لأتقي شرهم، وأحيانا آخذ خطوة إلى الخلف لآخذ بعدها خطوتين إلى الأمام (315).

هذه الكلمات تلخص في نظري استراتيجية العلمانيين العرب في موقفهم من الدين.

ولقد أحسن صديق القمني نادر قريط العلماني في «محنتي مع سيد القمني» حيث قال: القمني كما أراه الآن تحول من مفكر إلى مفكر بأمره، ومن صاحب مشروع إلى سجال بدون موضوع (2).

وقال: لغة سجال القمني ليست أكاديمية كثيفة دالة، ترضي المثقف اللماح، ولا ميسرة أنيقة تبهر الذواق، إنها للأسف لغة عربية متثائبة تتحرك ببطء على إيقاع سيارات وسط البلد في القاهرة، وتنفث عوادمها في وجوه الناس، ولا تصل إلى

--------------------------------------------

(1) كما قال تعالى: {وَإِذَا لَقُواْ الَّذِينَ آمَنُواْ قَالُواْ آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْاْ إِلَى شَيَاطِينِهِمْ قَالُواْ إِنَّا مَعَكْمْ إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِئُونَ} البقرة 14.

(2) انتكاسة المسلمين (307).
ইসলাম ও তার বিধিবিধান ও শরীয়তের ব্যাপারে কিমনির আরও কিছু বিষোদগার রয়েছে যা এই অধ্যায়ে অচিরেই এবং পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে ক্রমান্বয়ে আলোচিত হবে। উল্লেখ্য যে, কিমনি মাঝেমধ্যে কৌশলের আশ্রয় নেন; নিজ দেশের মুসলিমদের পক্ষ থেকে প্রবল চাপ ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়ে তিনি মিশরীয় টেলিভিশনে কালিমা (শাহাদাতাইন) পাঠ করেছিলেন, যেমনটি তিনি তাঁর ‘ইনতিকাসাতুল মুসলিমিন’ (৩১৬) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, কিছু ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী তাঁর এই ঈমানি বক্তব্যের কারণে তাঁর সমালোচনা করেছিলেন, এমনকি ‘আল-হিওয়ার আল-মুতামাদ্দিন’ ওয়েবসাইটে তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি দ্রুত তাঁদের আশ্বস্ত করতে এবং তাঁদের শঙ্কা দূর করতে সচেষ্ট হন (১)। তিনি বলেন: "চাপের প্রকৃতি এবং যুদ্ধের ধরন অনুযায়ী মাঝে মাঝে আমার অবস্থান বিভিন্ন মাত্রায় পরিবর্তিত হয়। তাই তাদের অনিষ্ট থেকে বাঁচতে আমি মাঝে মাঝে তাদের মধ্যে পরিচিত ‘তাকিয়া’ (কৌশলগত আত্মগোপন) অবলম্বন করি। কখনও কখনও আমি এক পা পিছিয়ে যাই যাতে পরে দুই পা এগিয়ে যেতে পারি (৩১৫)।"

আমার দৃষ্টিতে এই কথাগুলো ধর্মের প্রতি আরব ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের কৌশলের মূল নির্যাস।

আল-কিমনির বন্ধু ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী নাদির কুরাইত ‘মিহনাতী মা’আ সাইয়িদ আল-কিমনি’ (সাইয়িদ আল-কিমনির সাথে আমার পরীক্ষা) গ্রন্থে যথার্থই বলেছেন: "কিমনিকে আমি এখন যেভাবে দেখছি, তিনি একজন চিন্তাবিদ থেকে ফরমায়েসি চিন্তাবিদে পরিণত হয়েছেন এবং একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের অধিকারী থেকে লক্ষ্যহীন বিতর্কে লিপ্ত ব্যক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছেন (২)।"

তিনি আরও বলেন: "কিমনির বিতর্কের ভাষা কোনো গভীর অর্থবহ একাডেমিক ভাষা নয় যা তীক্ষ্ণধী বুদ্ধিজীবীদের সন্তুষ্ট করবে, আবার তা কোনো মার্জিত সহজ ভাষাও নয় যা রসিকদের বিমোহিত করবে। দুর্ভাগ্যবশত, এটি একটি হাই তোলা স্থবির আরবি ভাষা, যা কায়রো শহরের কেন্দ্রস্থলের যানবাহনের গতির মতো ধীরলয়ে চলে এবং মানুষের মুখে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়ায়, এবং তা পৌঁছায় না..."

--------------------------------------------

(১) যেমনটি মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {আর যখন তারা মুমিনদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’। আর যখন তারা একান্তে তাদের শয়তানদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে, ‘নিশ্চয় আমরা তোমাদের সাথে আছি; আমরা তো কেবল উপহাসকারী’।} সূরা আল-বাকারা: ১৪।

(২) ইনতিকাসাতুল মুসলিমিন (৩০৭)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
مبتغاها إلا بشق الأنفس (1).

لنتابع حديثنا وننتقل لعلماني آخر اسمه عزيز العظمة، قال: وليس الدين والتراث أفيونا للشعوب لأنه مخدر لها بأفكار أخروية ووعود سماوية فحسب، بل أيضا وأساسا لأنه اغتصاب للواقع وتغييب للآن (2).

واعتبر أن ما سماه «منطق تاريخي أدبي» كفيل بإيصالنا اليوم إلى نقض أساطير القرآن والحديث والتراث بعمومه (3).

فالدين أفيون للشعوب ومخدر واغتصاب للواقع وتغييب للحاضر وأساطير.

فما رأي أحمد عصيد في كل هذا؟

لنتابع مع عزيز العظمة، قال عن الله سبحانه: والذي يرد كل ما يلتحق به مباشرة إلى اللاشكل واللامعنى والفوضى التامة (74).

وقال عن ما يتفرع عن فكرة الألوهية التي تشكل الإسلام: يولد مواضيع خاصة ذات مرتبة أدنى: من لاهوت متجمد مهووس وتشريع شعائري غير متميز مهووس وتشريع شعائري غير متميز نموذجيا عن اللاهوت وعن العبادات عامة (74).

وقال: أضحى الإسلام وأضحت رموزه فولكلورا يعتاش في ثنايا المجتمع المدني (59).

يؤكد العظمة على ضرورة قطع أيّ اتصال مع التراث، بل يرى أن التواصل العضوي مع الماضي أو ماتبقى منه سر وهن الحاضر (13).

--------------------------------------------

(1) انتكاسة المسلمين (312).

(2) التراث بين السلطان والتاريخ (25).

(3) نفس المرجع (31).
...তার উদ্দেশ্য কেবল অনেক কষ্টের মাধ্যমেই (১)।

চলুন আমরা আমাদের আলোচনা চালিয়ে যাই এবং আজিজ আল-আজমাহ নামক অন্য একজন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীর দিকে দৃষ্টিপাত করি, তিনি বলেছেন: ধর্ম ও ঐতিহ্য কেবল জনগণের জন্য আফিম নয় এই কারণে যে এটি পরকালী চিন্তা ও আসমানি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তাদের মোহগ্রস্ত করে রাখে, বরং এটি মূলত এবং প্রধানত এই কারণে যে এটি বাস্তবতাকে হরণ করে এবং বর্তমানকে বিলীন করে দেয় (২)।

তিনি মনে করেন যে, যাকে তিনি «সাহিত্যিক ঐতিহাসিক যুক্তি» বলে অভিহিত করেছেন তা আজ আমাদের কুরআন, হাদিস এবং সামগ্রিকভাবে ঐতিহ্যের উপকথাগুলোকে খণ্ডন করার পথে পৌঁছে দিতে সক্ষম (৩)।

সুতরাং ধর্ম হলো জনগণের জন্য আফিম, একটি মাদক, বাস্তবতার হরণ, বর্তমানের অনুপস্থিতি এবং নিছক উপকথা।

এই সব বিষয়ে আহমদ আসিদের অভিমত কী?

আজিজ আল-আজমাহর বক্তব্য পুনরায় লক্ষ্য করি, তিনি মহান আল্লাহ সম্পর্কে বলেছেন: (তিনি এমন সত্তা) যিনি যা কিছু তাঁর সাথে সরাসরি যুক্ত হয় তাকেই নিরাকার, অর্থহীন এবং চরম বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেন (৭৪)।

তিনি ইসলাম গঠনকারী উলুহিয়্যাত বা ঈশ্বরত্বের ধারণা থেকে যা কিছু উৎসারিত হয় সে সম্পর্কে বলেছেন: এটি নিম্নতর স্তরের কিছু বিশেষ বিষয়ের জন্ম দেয়: যেমন স্থবির ও মোহগ্রস্ত ধর্মতত্ত্ব এবং এমন আচারসর্বস্ব বিধান যা স্বতন্ত্র নয়, মোহগ্রস্ত ও আচারসর্বস্ব বিধান যা আদর্শগতভাবে ধর্মতত্ত্ব ও সাধারণ ইবাদতসমূহ থেকে স্বতন্ত্র নয় (৭৪)।

তিনি আরও বলেছেন: ইসলাম এবং এর প্রতীকগুলো আজ লোকজ সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে যা সুশীল সমাজের অভ্যন্তরে কোনোমতে টিকে আছে (৫৯)।

আল-আজমাহ ঐতিহ্যের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, বরং তিনি মনে করেন যে অতীতের সাথে বা তার অবশিষ্টাংশের সাথে জৈবিক বা আত্মিক যোগাযোগই হলো বর্তমানের দুর্বলতার মূল রহস্য (১৩)।

--------------------------------------------

(১) মুসলমানদের পশ্চাদপসরণ (৩১২)।

(২) সুলতান ও ইতিহাসের মাঝে ঐতিহ্য (২৫)।

(৩) একই উৎস (৩১)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
بل يرى أن مفهوم الأصالة الذي ينادي بعضهم به مستعار من مجال العشائرية ومجال تربية البهائم (13).

والأصالة عنده تعني إلغاء التاريخ، بل والمجتمع (14).

والواجب هو تجاوز ما يسمى أصالة.

واعتبر أن القول بأن الأمة ذات هوية قومية وكينونة ذاتية مستقلة استبدادي المآل أسطوري المحتوى في اعتماده على التراث والإرادة (15).

فحسب العظمة لا ينبغي التمسك بهوية الأمة، أو اعتبار الإسلام هويتها، فكلها عقائد بالية يجب تجاوزها بل يدعو العظمة إلى قطيعة تامة مع الدين، فهو ينتقد العلمانيين الذي يحاولون العمل من داخل التراث أو الربط بين الأصالة والمعاصرة كالجابري وحسن حنفي، ولو كان في هذا الربط طبعا إفراغ للأصالة (التراث) من محتواها. (18 - 19 - 20). واعتبر هو أنه إما الأصالة وإما المعاصرة ولا واسطة بينهما، وسمى أصحاب هذا الاتجاه بالمنهج التلفيقي (21).

أما أركون فينهج سياسة تدريجية في نقد الدين، مع أن المتتبع لكتبه يقتنع بما لا يدع مجالا للشك أن الرجل ملحد لا يؤمن بدين أصلا، لكنه يراوغ في الكلام ولا يفصح، ولهذا فهو ينصح بعدم مهاجمة العقائد الدينية مباشرة إلا بعد التمهيد الطويل وتحضير الأذهان والعقول لاستقبال الدين الجديد، قال: لا ينبغي أن نفكك هذه العقائد وتلك اليقينيات إلا أن نكون قد قمنا بعمل تمهيدي طويل يحضر الأذهان والعقول لاستقبال الفكر الحديث عن الدين. نحو نقد العقل الإسلامي (315).

فالمشكلة عنده ليست في نقد العقائد من أجل تجاوزها، وإنما في التدرج للوصول لهذا الهدف.

ولهذا فهو يتحفظ في كلامه كثيرا ويغلف أفكاره الأساسية بالكثير من أساليب
বরং তিনি মনে করেন যে, 'আসালাত' (মৌলিকত্ব)-এর যে ধারণার ডাক কেউ কেউ দিচ্ছেন, তা মূলত গোত্রীয় ব্যবস্থা এবং গবাদি পশু পালনের ক্ষেত্র থেকে ধার করা (১৩)।

তাঁর মতে 'আসালাত' মানে হলো ইতিহাস, এমনকি সমাজকেও বাতিল করে দেওয়া (১৪)।

আর এখনকার কর্তব্য হলো তথাকথিত এই 'আসালাত' বা মৌলিকত্বকে অতিক্রম করা।

তিনি মনে করেন যে, উম্মাহর একটি জাতীয় পরিচয় এবং স্বতন্ত্র সত্তা রয়েছে—এমন দাবি করা পরিণামে স্বৈরতান্ত্রিক এবং বিষয়বস্তুর দিক থেকে পৌরাণিক; কারণ এটি ঐতিহ্য এবং ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভরশীল (১৫)।

আল-আজমার মতে, উম্মাহর পরিচয়ের ওপর অটল থাকা বা ইসলামকে এর পরিচয় হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। কারণ এগুলো সবই সেকেলে বিশ্বাস যা বর্জন করা আবশ্যক। বরং আল-আজমা ধর্মের সাথে পূর্ণাঙ্গ বিচ্ছেদের আহ্বান জানান। তিনি সেই সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষবাদীদের সমালোচনা করেন যারা ঐতিহ্যের (তুরাস) ভেতর থেকে কাজ করার চেষ্টা করেন অথবা 'আসালাত' ও আধুনিকতার মধ্যে সমন্বয় ঘটানোর প্রয়াস পান—যেমন জাবিরি এবং হাসান হানাফি; যদিও এই সমন্বয়ের ফলে স্বাভাবিকভাবেই 'আসালাত' (ঐতিহ্য) তার অন্তর্নিহিত বিষয়বস্তু হারিয়ে শূন্য হয়ে পড়ে। (১৮ - ১৯ - ২০)। তিনি মনে করেন যে, হয় 'আসালাত' থাকতে হবে নতুবা আধুনিকতা; এই দুয়ের মাঝে কোনো মধ্যপন্থা নেই। তিনি এই ধারার অনুসারীদের পদ্ধতিকে জোড়াতালিমূলক পদ্ধতি হিসেবে অভিহিত করেছেন (২১)।

অন্যদিকে আরকুন ধর্ম সমালোচনার ক্ষেত্রে একটি পর্যায়ক্রমিক নীতি অবলম্বন করেন। যদিও তাঁর বইয়ের পাঠকমাত্রই নিঃসন্দিগ্ধভাবে নিশ্চিত হবেন যে, এই ব্যক্তি একজন নাস্তিক এবং আদতে কোনো ধর্মেই বিশ্বাস করেন না। তবে তিনি কথার মারপ্যাঁচে তা এড়িয়ে যান এবং স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেন না। এই কারণেই তিনি ধর্মীয় বিশ্বাসগুলোকে সরাসরি আক্রমণ না করার পরামর্শ দেন, যতক্ষণ না দীর্ঘ ভূমিকা এবং মন-মস্তিস্ককে নতুন ধর্ম গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করা হয়। তিনি বলেন: "আমাদের উচিত হবে না এই বিশ্বাস ও সুনিশ্চিত ধারণাগুলোকে ব্যবচ্ছেদ করা, যতক্ষণ না আমরা একটি দীর্ঘ প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করি যা ধর্ম সম্পর্কে আধুনিক চিন্তাধারা গ্রহণের জন্য মন ও বুদ্ধিবৃত্তিকে তৈরি করবে।" (নাহওয়া নাক্বদিল আকলিল ইসলামি: ৩১৫)।

তাঁর কাছে সমস্যাটি বিশ্বাসসমূহকে অতিক্রম করার জন্য সমালোচনা করা নয়, বরং সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতির অভাব নিয়ে।

একারণেই তিনি তাঁর কথায় অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করেন এবং তাঁর মূল চিন্তাধারাকে বিভিন্ন শৈলীর আবরণে ঢেকে রাখেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩১)
الحذر والاحتياط (1)، واعتبر أنه نظرا للضغوط التي تلاحقه فهو مضطر لممارسة الرقابة الذاتية على نفسه وعلى كتاباته لتقديم تنازلات عن خطه النقدي. قضايا في نقد العقل الديني (25).

واستمر في حديث طويل (من 22 إلى 32) عن معاناته مع الغرب ومفكريه وعلمائه، وكيف أنهم لا يقبلون منه إلا الكفر الصريح والإلحاد الصريح عوض اللف والدوران.

وليست العقائد الإسلامية هي التي تستحق الاحترام، وإنما مشكلة التواصل من أجل نشر أفكاره هي التي تحتم عليه الحذر والاحتياط في اختيار العبارات المناسبة، قال: وأعترف بأني أنا شخصيا أمارس الرقابة الذاتية على نفسي. وذلك في كتاباتي ومحاضراتي ليس من أجل حماية قناعاتي الشخصية أو إخفائها، وإنما من أجل الحفاظ على خيط التواصل مع الآخرين (2).

واعتبر أن لحظة الغربلة النهائية وإقامة الحساب الختامي التاريخي والمحصلة النهائية للأديان التوحيدية لم تحن بعد (3).

وأنا أقرأ في هذه المراوغات قوة الإسلام التي لا تقاوم، فإن له جبروتا عظيما حتى على أعدائه والحاقدين عليه ومن يريد كسر قوته وإضعاف شوكته تحت ستار النقد التاريخي.

ولما أصدر أركون كتابه من أجل نقد العقل الإسلامي بالفرنسية سنة

--------------------------------------------

(1) قضايا في نقد العقل الديني (313).

(2) نفس المرجع (58).

(3) نحو نقد العقل الإسلامي (2
সতর্কতা ও সাবধানতা (১), এবং তিনি বিবেচনা করেন যে, তাঁর ওপর আসা নানামুখী চাপের কারণে তিনি নিজের ওপর এবং তাঁর লেখনিসমূহের ওপর স্ব-নিয়ন্ত্রণ (self-censorship) আরোপ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যাতে তাঁর সমালোচনামূলক ধারার ক্ষেত্রে কিছু আপস করা যায়। ধর্মীয় বুদ্ধিবৃত্তির সমালোচনার বিষয়াবলি (২৫)।

তিনি পাশ্চাত্যের সাথে এবং সেখানকার চিন্তাবিদ ও পণ্ডিতদের সাথে তাঁর তিক্ত অভিজ্ঞতার বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা (২২ থেকে ৩২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত) চালিয়ে যান; তিনি বর্ণনা করেন যে, তারা তাঁর কাছ থেকে কোনো প্রকার রাখঢাক বা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কথা বলার পরিবর্তে সরাসরি স্পষ্ট কুফর ও স্পষ্ট নাস্তিক্যবাদ ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়।

ইসলামি আকিদা-বিশ্বাস সম্মানের যোগ্য হওয়ার কারণে নয়, বরং নিজের চিন্তাধারা প্রচারের স্বার্থে যোগাযোগের প্রয়োজনেই উপযুক্ত শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে তিনি সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করতে বাধ্য হন। তিনি বলেন: "আমি স্বীকার করি যে আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজের ওপর স্ব-নিয়ন্ত্রণ আরোপ করি। আর এটি আমার লেখনি ও বক্তৃতায় আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস রক্ষার জন্য বা তা লুকিয়ে রাখার জন্য নয়, বরং অন্যদের সাথে যোগাযোগের সূত্র বজায় রাখার জন্য" (২)।

তিনি মনে করেন যে, একেশ্বরবাদী ধর্মসমূহের চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই, চূড়ান্ত ঐতিহাসিক হিসাব-নিকাশ এবং চূড়ান্ত ফলাফল নির্ণয়ের সময় এখনও আসেনি (৩)।

আমি এই সকল ছলচাতুরির মধ্যে ইসলামের সেই অপরাজেয় শক্তির পরিচয় পাই; ইসলামের এক মহান প্রভাব রয়েছে এমনকি তার শত্রুদের ওপর, বিদ্বেষ পোষণকারীদের ওপর এবং তাদের ওপরও যারা ঐতিহাসিক সমালোচনার আড়ালে ইসলামের শক্তি চূর্ণ করতে ও এর প্রভাব দুর্বল করতে চায়।

আর যখন আরকুন ফরাসি ভাষায় তাঁর 'ইসলামি বুদ্ধিবৃত্তির সমালোচনার উদ্দেশ্যে' বইটি প্রকাশ করলেন... সালে

--------------------------------------------

(১) ধর্মীয় বুদ্ধিবৃত্তির সমালোচনার বিষয়াবলি (৩১৩)।

(২) একই উৎস (৫৮)।

(৩) ইসলামি বুদ্ধিবৃত্তির সমালোচনার পথে (২
(খণ্ড: ১) আল-ইলমানিয়্যুনাল আরাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩২)
1984، وترجمه إلى العربية سنة 1986 غيَّر اسمه: إلى تاريخية الفكر العربي الإسلامي.

قال المعجب به وبفكره علي حرب في نقد النص (61): وقد عمد أركون إلى هذا التغيير تخفيفا لوطأة المصطلح النقدي على القارئ المسلم الذي لا يتقبل عقله بعد نقد ما يندرج تحت اسم الإسلام من الصفات والمحمولات.

ثم بين حرب أن خشية أركون هذه قد زالت بعد فأصدر كتيبا باسم: من الاجتهاد إلى نقد العقل الإسلامي.

وليس هذا خاصا بأركون فأغلب العلمانيين يحاولون انتقاء الألفاظ المناسبة لعدم إثارة المشاعر الإسلامية، ولكي لا يفتضحوا من أول وهلة.

لكن الحقيقة مهما حاولنا حجبها والتستر عليها فهي واضحة بين الأسطر، وأحيانا في داخل الأسطر نفسها، كما هو واضح من خلال هذا الكتاب.

 

‌‌الإسلام عند أركون سلسلة من التلاعبات والاستخدامات الاستغلالية.

قال: ونحن نعلم أن كلمة إسلام هي كليا وبدون أيّ تردد أو حصر عبارة عن سلسلة من التركيبات المصطنعة والتلاعبات والاستخدامات الاستغلالية التي يقوم بها البشر (الإنسان) بصفتهم فاعلين حاسمين وشبه حصريين للتاريخ الأرضي المحسوس (1).

فالإسلام عنده ليس إلا تلاعبات للفاعلين، أي: اختراع بشري محض.

والله في نظره في حاجة بذاته إلى شهادة الإنسان له (2).

--------------------------------------------

(1) نحو نقد العقل الإسلامي (214).

(2) الإسلام الأمس والغد (183).
১৯৮৪ সালে প্রকাশিত এবং ১৯৮৬ সালে আরবিতে অনূদিত হওয়ার সময় তিনি এর নাম পরিবর্তন করে রাখেন: ‘আরব-ইসলামি চিন্তাধারার ঐতিহাসিকতা’।

তাঁর ও তাঁর চিন্তাধারার গুণমুগ্ধ আলি হারব ‘নাকদুন নাস’ (পৃ. ৬১) গ্রন্থে বলেন: আরকুন এই পরিবর্তনের আশ্রয় নিয়েছিলেন মুসলিম পাঠকদের ওপর সমালোচনামূলক পরিভাষার তীব্রতা লাঘব করার জন্য, কারণ মুসলিম মস্তিষ্ক ইসলামের শিরোনামে যা কিছু প্রচলিত আছে তার গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যসমূহের সমালোচনা গ্রহণ করতে তখনও প্রস্তুত ছিল না।

অতঃপর হারব উল্লেখ করেন যে, আরকুনের এই ভীতি পরবর্তীতে দূর হয়ে যায়, ফলে তিনি ‘ইজতিহাদ থেকে ইসলামি বুদ্ধিবৃত্তির সমালোচনা পর্যন্ত’ শিরোনামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন।

এটি কেবল আরকুনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, বরং অধিকাংশ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীই মুসলিমদের ধর্মীয় আবেগ না উসকে দেওয়ার জন্য এবং প্রথম দৃষ্টিতেই যাতে তাদের প্রকৃত রূপ ধরা না পড়ে, সেজন্য মানানসই শব্দ চয়ন করার চেষ্টা করেন।

কিন্তু সত্যকে আড়াল করার যত চেষ্টাই করা হোক না কেন, তা পঙ্‌ক্তিগুলোর অন্তরালে এবং কখনও কখনও খোদ পঙ্‌ক্তিগুলোর মাঝেই অত্যন্ত স্পষ্ট, যেমনটি এই গ্রন্থটির মাধ্যমেও স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।

 

‌‌আরকুনের দৃষ্টিতে ইসলাম হলো একগুচ্ছ কারসাজি ও শোষণমূলক ব্যবহারের সমষ্টি।

তিনি বলেন: আমরা জানি যে, ‘ইসলাম’ শব্দটি সম্পূর্ণরূপে এবং কোনো দ্বিধা বা সীমাবদ্ধতা ছাড়াই একগুচ্ছ কৃত্রিম কাঠামো, কারসাজি ও শোষণমূলক ব্যবহারের সমষ্টি, যা মানুষ এই দৃশ্যমান পার্থিব ইতিহাসের চূড়ান্ত এবং প্রায় একক নির্মাতা হিসেবে সম্পন্ন করে থাকে (১)।

সুতরাং তাঁর নিকট ইসলাম কেবল মানুষের কারসাজি বৈ কিছু নয়; অর্থাৎ, এটি নিছক একটি মানবসৃষ্ট উদ্ভাবন।

এমনকি তাঁর দৃষ্টিতে আল্লাহ নিজেও তাঁর অস্তিত্বের জন্য মানুষের সাক্ষ্যের মুখাপেক্ষী (২)।

--------------------------------------------

(১) নাহওয়া নাকদিল আকলিল ইসলামি (২১৪)।

(২) আল-ইসলামুল আমসি ওয়াল গাদ (১৮৩)।