(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: -)
الإلحاد الخميني في أرض الحرمين   (مقبل بن هادي الوادعي)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: الإلحاد الخميني في أرض الحرمين

المؤلف: أَبِو عَبد الرَّحمَن مُقْبلُ بنُ هَادِي بنِ مُقْبِلِ بنِ قَائِدَةَ (اسم رجل) الهَمْدَاني الوادعِيُّ (ت 1422هـ)

الناشر: دار الآثار للنشر والتوزيع، صنعاء - اليمن

الطبعة: الثالثة، 1428 هـ - 2007 م

عدد الصفحات: 318

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 محرم 1434

হারামাইন ভূখণ্ডে খোমেনীয় নাস্তিক্যবাদ   (মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদিয়ি)

বিভাগ: ফেরকা ও খণ্ডন


গ্রন্থ: হারামাইন ভূখণ্ডে খোমেনীয় নাস্তিক্যবাদ

লেখক: আবু আবদুর রহমান মুকবিল বিন হাদি বিন মুকবিল বিন কায়েদাহ (ব্যক্তির নাম) আল-হামদানি আল-ওয়াদিয়ি (মৃত্যু ১৪২২ হি.)

প্রকাশক: দারুল আসার পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, সানা - ইয়েমেন

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪২৮ হি. - ২০০৭ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৯ মুহাররম ১৪৩৪

(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

{ياأيّها الّذين ءامنوا اتّقوا الله حقّ تقاته ولا تموتنّ إلاّ وأنتم مسلمون}.

{ياأيّها النّاس اتّقوا ربّكم الّذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبثّ منهما رجالاً كثيرًا ونساءً واتّقوا الله الّذي تساءلون به والأرحام إنّ الله كان عليكم رقيبًا}.

{ياأيّها الّذين ءامنوا اتّقوا الله وقولوا قولاً سديدًا يصلح لكم أعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزًا عظيمًا}.

أما بعد: فإن الله عز وجل يقول في كتابه الكريم: {ياأيّها الّذين ءامنوا كونوا قوّامين بالقسط شهداء لله ولو على أنفسكم أو الوالدين والأقربين إن يكن غنيًّا أو فقيرًا فالله أولى بهما فلا تتّبعوا الهوى أن تعدلوا وإن
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা যাচ্ঞা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}

{হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের সেই রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাদের উভয় থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিদানকারী।}

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক ও সত্য কথা বলো। তবেই তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল।}

অতঃপর: মহান আল্লাহ তাঁর মহিমান্বিত কিতাবে ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়ের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সাক্ষ্যদাতা হিসেবে; যদিও তা তোমাদের নিজেদের কিংবা পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়। সে ধনী হোক কিংবা দরিদ্র, আল্লাহ উভয়েরই শ্রেষ্ঠতর অভিভাবক। সুতরাং তোমরা ন্যায়বিচারে প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা মোচড় দাও অথবা...}
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ৪)
تلووا أو تعرضوا فإنّ الله كان بما تعملون خبيرًا (1)}.

ويقول سبحانه وتعالى: {ياأيّها الّذين ءامنوا كونوا قوّامين لله شهداء بالقسط ولا يجرمنّكم شنآن قوم على ألا تعدلوا اعدلوا هو أقرب للتّقوى واتّقوا الله إنّ الله خبير بما تعملون (2)}.

ويقول سبحانه وتعالى: {ولا يجرمنّكم شنآن قوم أن صدّوكم عن المسجد الحرام أن تعتدوا وتعاونوا على البرّ والتّقوى ولا تعاونوا على الإثم والعدوان واتّقوا الله إنّ الله شديد العقاب (3)}.

وقال سبحانه وتعالى: {إنّ الله يأمر بالعدل والإحسان وإيتاء ذي القربى وينهى عن الفحشاء والمنكر والبغي يعظكم لعلّكم تذكّرون (4)}.

وقال سبحانه وتعالى: {وإذا قلتم فاعدلوا ولو كان ذا قربى (5)}.

أهل السنة أسعد الناس بهؤلاء الآيات وما أشبههن من الأدلة، فهم إن كتبوا كتبوا ما لهم وما عليهم، وإن خطبوا ذكروا ما لهم وما عليهم، يلازمون العدالة مع القريب والبعيد، والعدو والصديق، وإنك إذا نظرت في كتب الجرح والتعديل تجدها غاية من العدالة، يجرحون الرجل إذا كان يستحق الجرح وإن كان رأسًا في السنة، ويثنون على المبتدع بما فيه من

--------------------------------------------

(1) سورة النساء، الآية:135.

(2) سورة المائدة، الآية:8.

(3) سورة المائدة، الآية:2.

(4) سورة النحل، الآية:90.

(5) سورة الأنعام، الآية:152.
...তোমরা যদি পেঁচানো কথা বলো কিংবা সত্যকে পাশ কাটিয়ে যাও, তবে জেনে রেখো, তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত। (১)

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায়ের সাক্ষ্যদানে অটল থেকো; কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদেরকে ইনসাফ বর্জনে প্ররোচিত না করে। তোমরা ইনসাফ করো, এটিই তাকওয়ার নিকটতর। আর আল্লাহকে ভয় করো; তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত। (২)}

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {মসজিদুল হারামে প্রবেশে তোমাদের বাধা প্রদানের কারণে কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদেরকে সীমালঙ্ঘনে প্ররোচিত না করে। সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো, আর গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না। আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা। (৩)}

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচরণ ও আত্মীয়-স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন এবং অশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো। (৪)}

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর যখন তোমরা কথা বলো, তখন ন্যায়বিচার করো—তা যদি নিকটাত্মীয় সম্পর্কেও হয়। (৫)}

আহলুস সুন্নাহ এই আয়াতগুলো এবং অনুরূপ দলিলসমূহ অনুসরণে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সৌভাগ্যবান। তারা যখন কিছু লেখেন, তখন নিজেদের পক্ষে এবং বিপক্ষে উভয় বিষয়ই লিপিবদ্ধ করেন; আর যখন ভাষণ দেন, তখন নিজেদের অনুকূল ও প্রতিকূল উভয় বিষয়ই উল্লেখ করেন। তারা নিকটাত্মীয় ও দূরবর্তী এবং শত্রু ও বন্ধু সকলের সাথেই ইনসাফ বজায় রাখেন। আপনি যদি ‘জারহ ওয়া তা’দিল’ (হাদিস বর্ণনাকারীদের দোষ-গুণ বিচার) শাস্ত্রের কিতাবসমূহের দিকে দৃষ্টিপাত করেন, তবে সেগুলোকে ইনসাফের চূড়ান্ত শিখরে দেখতে পাবেন। কোনো ব্যক্তি যদি সমালোচনার যোগ্য হন, তবে তারা তার সমালোচনা করেন—যদিও তিনি সুন্নাহর ক্ষেত্রে একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হন। আবার তারা বিদআতিদের মধ্যে বিদ্যমান ভালো গুণেরও প্রশংসা করেন...

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৩৫।

(২) সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৮।

(৩) সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ২।

(৪) সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৯০।

(৫) সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১৫২।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ৫)
الخير إذا احتيج إلى ذلك، بخلاف أهل الأهواء فإنّهم يثنون على من يوافقهم على بدعهم وإن كان لا يساوي فلسًا، ويذمون من خالفهم وإن كان رأسًا في الدين، وأعظم المبتدعين إطراءً لمن وافقهم هم الرافضة والصوفية، وهكذا في الذم لمن خالفهم، فمن ثم لا يقبل أهل الجرح والتعديل كلام هؤلاء في الرجال، بل لا يقبلون رواية الرافضة.

وإليك ما قاله شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله (ج1 ص59) من ((منهاج السنة)): وقد اتفق أهل العلم بالنقل والرواية والإسناد على أن الرافضة أكذب الطوائف، والكذب فيهم قديم، ولهذا كان أئمة الإسلام يعلمون امتيازهم بكثرة الكذب.

قال أبوحاتم الرازي: سمعت يونس بن عبد الأعلى يقول: قال أشهب بن عبد العزيز: سئل مالك عن الرافضة؟ فقال: لا تكلمهم ولا ترو عنهم، فإنّهم يكذبون.

وقال أبوحاتم: حدثنا حرملة. قال: سمعت الشافعي يقول: لم أر أحدًا أشهد بالزور من الرافضة.

وقال مؤمل بن إهاب: سمعت يزيد بن هارون يقول: نكتب عن كل صاحب بدعة إذا لم يكن داعية، إلا الرافضة فإنّهم يكذبون.

وقال محمد بن سعيد الأصبهاني: سمعت شريكًا يقول: أحمل العلم عن كل من لقيت إلا الرافضة فإنّهم يضعون الحديث ويتخذونه دينًا. وشريك هذا هو شريك بن عبد الله القاضي قاضي الكوفة من أقران الثوري وأبي حنيفة، وهو الذي يقول بلسانه: أنا من الشيعة. وهذه شهادته فيهم.
কল্যাণ যখন তার প্রয়োজন হয়, প্রবৃত্তি পূজারীদের বিপরীত; কেননা তারা তাদের বিদআতের সাথে ঐকমত্য পোষণকারীদের প্রশংসা করে, যদিও সে এক কপদকেরও যোগ্য না হয়। আবার তারা তাদের বিরোধিতাকারীদের নিন্দা করে, যদিও সে দ্বীনের একজন অগ্রণী ইমাম হয়। বিদআতীদের মধ্যে যারা তাদের অনুসারীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অতিশয়োক্তিপূর্ণ প্রশংসা করে তারা হলো রাফেযী ও সূফী সম্প্রদায়, একইভাবে বিরোধিতাকারীদের নিন্দার ক্ষেত্রেও তারা চরম। এই কারণে জারহ ও তাদীল (বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা যাচাইকারী) বিশেষজ্ঞগণ বর্ণনাকারীদের বিষয়ে তাদের বক্তব্য গ্রহণ করেন না, এমনকি তারা রাফেযীদের বর্ণনাও গ্রহণ করেন না।

আপনার সম্মুখে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য পেশ করা হলো যা তিনি 'মিনহাজুস সুন্নাহ' (১ম খণ্ড, ৫৯ পৃষ্ঠা) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: "নকল, রেওয়ায়াত ও ইসনাদ শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ একমত হয়েছেন যে, রাফেযীরা হলো সকল দলের মধ্যে সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী। তাদের মাঝে মিথ্যার প্রচলন প্রাচীনকাল থেকেই। এই কারণেই ইসলামের ইমামগণ জানতেন যে, অত্যধিক মিথ্যার মাধ্যমে তারা অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র।"

আবু হাতিম আর-রাযী বলেন: আমি ইউনুস ইবন আব্দুল আলাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আশহাব ইবন আব্দুল আযীয বলেছেন: ইমাম মালিককে রাফেযীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "তোমরা তাদের সাথে কথা বলো না এবং তাদের থেকে কোনো বর্ণনা গ্রহণ করো না; কারণ তারা মিথ্যাবাদী।"

আবু হাতিম বলেন: হারমালা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইমাম শাফেয়ীকে বলতে শুনেছি: "আমি রাফেযীদের চেয়ে বেশি মিথ্যা সাক্ষ্য দানকারী আর কাউকে দেখিনি।"

মুয়াম্মাল ইবন ইহাব বলেন: আমি ইয়াযীদ ইবন হারুনকে বলতে শুনেছি: "আমরা প্রত্যেক বিদআতীর থেকেই বর্ণনা গ্রহণ করি যদি সে তার বিদআতের দিকে আহ্বানকারী না হয়, তবে রাফেযী ব্যতীত। কারণ তারা চরম মিথ্যাবাদী।"

মুহাম্মাদ ইবন সাঈদ আল-আসবাহানি বলেন: আমি শারীককে বলতে শুনেছি: "আমি যার সাথে সাক্ষাৎ করেছি তার থেকেই ইলম গ্রহণ করেছি কেবল রাফেযী ছাড়া। কারণ তারা হাদিস জাল করে এবং একেই ধর্ম হিসেবে গণ্য করে।" আর এই শারীক হলেন কুফার বিচারক শারীক ইবন আব্দুল্লাহ আল-কাযী, যিনি সুফিয়ান সাওরী ও ইমাম আবু হানিফার সমসাময়িক ছিলেন। তিনি নিজ মুখে বলতেন: "আমি শিয়াদের অন্তর্ভুক্ত।" আর এটি তাদের সম্পর্কে স্বয়ং তারই সাক্ষ্য।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ৬)
وقال أبومعاوية: سمعت الأعمش يقول: أدركت الناس وما يسمونهم إلا الكذابين يعنى أصحاب المغيرة بن سعيد قال الأعمش: ولا عليكم أن تذكروا هذا فإني لا آمنهم أن يقولوا: إنا أصبنا الأعمش مع امرأة.

وهذه آثار ثابتة قد رواها أبوعبد الله بن بطة (1) في ((الإبانة الكبرى)) هو وغيره وروى أبوالقاسم الطبراني: كان الشافعي يقول: ما رأيت في أهل الأهواء قومًا أشهد بالزور من الرافضة. ورواه أيضًا من طريق حرملة، وزاد في ذلك: ما رأيت أشهد على الله بالزور من الرافضة. وهذا المعنى وإن كان صحيحًا فاللفظ الأول هو الثابت عن الشافعي، ولهذا ذكر الشافعي ما ذكره أبوحنيفة وأصحابه أنه رد شهادة من عرف بالكذب كالخطابية.

وردّ شهادة من عرف بالكذب متفق عليه بين الفقهاء، وتنازعوا في شهادة سائر أهل الأهواء هل تقبل مطلقًا أو ترد مطلقًا أو ترد شهادة الداعية إلى البدع؟ وهذا القول الثالث هو الغالب على أهل الحديث، لا يرون الرواية عن الداعية إلى البدع ولا شهادته، ولهذا لم يكن في كتبهم الأمهات كالصحاح، والسنن، والمسانيد، الراوية عن المشهورين بالدعاء إلى البدع وإن كان فيها الرواية عمن فيه نوع من بدعة، كالخوارج، والشيعة، والمرجئة، والقدرية، وذلك لأنّهم لم يدعوا الرواية عن هؤلاء للفسق كما يظنه بعضهم، ولكن من أظهر بدعته وجب الإنكار عليه، بخلاف من أخفاها وكتمها، وإذا وجب الإنكار عليه كان من ذلك أن

--------------------------------------------

(1) هو عبيد الله متكلم فيه.
আবু মুআবিয়া বলেন: আমি আমাশকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি এমন সব মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছি যারা তাদের (মুগিরা ইবনে সাঈদের অনুসারীদের) কেবল ‘চরম মিথ্যাবাদী’ হিসেবেই অভিহিত করতেন। আমাশ বলেন: তোমরা এ কথা প্রচার করতে পারো, কারণ আমি তাদের ব্যাপারে আশঙ্কামুক্ত নই যে, তারা হয়তো (ভবিষ্যতে) এই বলে অপবাদ দিবে যে, তারা আমাশকে কোনো এক নারীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় পেয়েছে।

এগুলো সুসাব্যস্ত বর্ণনা, যা আবু আব্দুল্লাহ ইবনে বাত্তাহ (১) তাঁর ‘আল-ইবানাতুল কুবরা’ গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। আবু আল-কাসিম আত-তাবারানি বর্ণনা করেন: ইমাম শাফেঈ বলতেন, প্রবৃত্তি পূজারীদের মধ্যে আমি রাফেজিদের চেয়ে অধিক মিথ্যা সাক্ষ্যদানকারী অন্য কোনো দল দেখিনি। এটি হারমালার সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে এবং তাতে অতিরিক্ত অংশ হিসেবে রয়েছে: আমি আল্লাহর নামে মিথ্যাচার করার ক্ষেত্রে রাফেজিদের চেয়ে বড় কোনো দল দেখিনি। এই অর্থটি সঠিক হলেও প্রথম পাঠটিই (শাফেঈর সূত্রে) সুসাব্যস্ত। একারণেই ইমাম শাফেঈ তা-ই উল্লেখ করেছেন যা ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর অনুসারীরা উল্লেখ করেছেন—অর্থাৎ মিথ্যাচারের জন্য পরিচিত ব্যক্তিদের সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করা, যেমন খাত্তাবিয়্যাহ সম্প্রদায়।

যারা মিথ্যাচারের জন্য পরিচিত, তাদের সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টি ফকিহগণের মধ্যে সর্বসম্মত। তবে অন্যান্য প্রবৃত্তি পূজারীদের সাক্ষ্যের বিষয়ে তাঁরা মতবিরোধ করেছেন যে, তা কি নিঃশর্তভাবে কবুল করা হবে, নাকি নিঃশর্তভাবে প্রত্যাখ্যান করা হবে, নাকি কেবল বিদআতের দিকে আহ্বানকারীদের সাক্ষ্যই প্রত্যাখ্যান করা হবে? এই তৃতীয় মতটিই আহলে হাদিসগণের নিকট অধিক গ্রহণযোগ্য; তাঁরা বিদআতের দিকে আহ্বানকারীদের থেকে বর্ণনা গ্রহণ কিংবা তাদের সাক্ষ্য প্রদান কোনোটিই বৈধ মনে করেন না। একারণেই তাঁদের মূল গ্রন্থসমূহে—যেমন সিহাহ, সুনান ও মুসনাদ গ্রন্থাবলিতে—বিদআতের দিকে আহ্বান করার জন্য সুপরিচিত ব্যক্তিদের থেকে কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না, যদিও তাতে এমন ব্যক্তিদের বর্ণনা রয়েছে যাদের মাঝে কোনো এক প্রকার বিদআত বিদ্যমান ছিল, যেমন খারিজি, শিয়া, মুরজিয়া ও কাদারিয়া। এর কারণ হলো—কেউ কেউ যেমনটা মনে করেন—তাঁরা পাপাচারের (ফাসেকির) কারণে এসব ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা ত্যাগ করেননি; বরং যে ব্যক্তি তার বিদআতকে প্রকাশ করে দেয়, তার প্রতিবাদ করা ওয়াজিব হয়ে যায়, যা বিদআত গোপনকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আর যখন কারও প্রতিবাদ করা ওয়াজিব হয়, তখন এর অংশ হিসেবে...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন উবায়দুল্লাহ, যাঁর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ৭)
يهجر حتى ينتهي عن إظهار بدعته، ومن هجْره ألاّ يؤخذ عنه العلم، ولا يستشهد.

وكذلك تنازع الفقهاء في الصلاة خلف أهل الأهواء والفجور، منهم من أطلق المنع، والتحقيق أن الصلاة خلفهم لا ينهى عنها لبطلان صلاتهم في نفسها، لكن لأنّهم إذا أظهروا المنكر استحقوا أن يهجروا، وألاّ يقدموا في الصلاة على المسلمين، ومن هذا الباب ترك عيادتهم، وتشييع جنائزهم، كل هذا من باب الهجر المشروع في إنكار المنكر للنهي عنه.

وإذا عرف أن هذا من باب العقوبات الشرعية علم أنه يختلف باختلاف الأحوال من قلة البدعة وكثرتها، وظهور السنة وخفائها، وأن المشروع هو التأليف تارة، والهجران أخرى، كما كان النبي -صلى الله عليه وعلى آله وسلم- يتألف أقوامًا من المشركين، ومن هو حديث عهد بالإسلام، ومن يخاف عليه الفتنة، فيعطى المؤلفة قلوبهم ما لا يعطي غيرهم. وقال في الحديث الصحيح: ((إني أعطي رجالاً والذي أدع أحبّ إليّ من الذي أعطي، أعطي رجالاً لما في قلوبهم من الهلع والجزع، وأدع رجالاً لما جعل الله في قلوبهم من الغنى والخير، منهم: عمرو بن تغلب)). وقال: ((إني لأعطي الرّجل وغيره أحبّ إليّ منه، خشية أن يكبّه الله في النّار على وجهه)). أو كما قال.

وكان يهجر بعض المؤمنين، كما هجر الثلاثة الذين تخلفوا عن غزوة تبوك، لأن المقصود دعوة الخلق إلى طاعة الله بأقوم طريق، فيستعمل الرغبة حيث تكون أصلح، والرهبة حيث تكون أصلح، ومن عرف هذا تبين له أن من رد الشهادة والرواية مطلقًا من أهل البدع المتأولين، فقوله
তাকে বর্জন করা হবে যতক্ষণ না সে তার বিদআত প্রকাশ করা থেকে বিরত হয়। আর তাকে বর্জন করার একটি দিক হলো তার কাছ থেকে ইলম বা জ্ঞান গ্রহণ না করা এবং সাক্ষ্য হিসেবে তাকে গ্রহণ না করা।

একইভাবে ফকিহগণ প্রবৃত্তি পূজারী এবং পাপাচারীদের পেছনে সালাত আদায়ের বিষয়ে মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিরঙ্কুশভাবে তা নিষিদ্ধ করেছেন। তবে প্রকৃত বিশ্লেষণ হলো, তাদের পেছনে সালাত আদায় থেকে এজন্য নিষেধ করা হয় না যে তাদের সালাত মূলত বাতিল, বরং এজন্য যে তারা যখন প্রকাশ্যে কোনো মন্দ কাজ করে তখন তারা বর্জনের (হাজর) যোগ্য হয় এবং মুসলমানদের সালাতে তাদের ইমাম হিসেবে সামনে রাখা উচিত নয়। অসুস্থ অবস্থায় তাদের দেখতে না যাওয়া এবং তাদের জানাজায় অংশগ্রহণ না করাও এই একই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। এসবই হচ্ছে মন্দ কাজ দমনের উদ্দেশ্যে শরিয়তসম্মত বর্জনের অংশ।

যখন এটি স্পষ্ট হলো যে বিষয়টি শরিয়ত নির্ধারিত দণ্ড বা শাস্তির অন্তর্ভুক্ত, তখন জানা গেল যে পরিস্থিতির ভিন্নতা অনুযায়ী এর বিধানও ভিন্ন হয়—যেমন বিদআতের আধিক্য বা স্বল্পতা এবং সুন্নাহর প্রকাশ বা অপ্রকাশের ওপর ভিত্তি করে। আর শরিয়তসম্মত পদ্ধতি হলো কখনো মন জয় করা এবং কখনো বর্জন করা, যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) মুশরিকদের কোনো কোনো দলকে, নওমুসলিমদের এবং যাদের ব্যাপারে ফিতনার আশঙ্কা ছিল তাদের মন জয় করতেন। তাই তিনি 'মুআল্লাফাতুল কুলুব' বা যাদের অন্তর জয় করা প্রয়োজন তাদের এমন কিছু দান করতেন যা অন্যদের দিতেন না। তিনি সহিহ হাদিসে বলেছেন: "আমি কোনো কোনো ব্যক্তিকে দান করি অথচ যাদের আমি দেই না তারা আমার কাছে তাদের চেয়ে বেশি প্রিয়। আমি কোনো কোনো লোককে দান করি তাদের অন্তরে থাকা অস্থিরতা ও অধৈর্যের কারণে, আর অনেককে তাদের অবস্থার ওপর ছেড়ে দেই কারণ আল্লাহ তাদের অন্তরে অমুখাপেক্ষিতা ও কল্যাণ দান করেছেন; আমর বিন তাগলিব তাদেরই একজন।" তিনি আরও বলেছেন: "আমি কোনো ব্যক্তিকে দান করি অথচ অন্য কেউ আমার কাছে তার চেয়ে বেশি প্রিয়, শুধু এই ভয়ে যে পাছে আল্লাহ তাকে উপুড় করে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করেন।" অথবা তিনি যেমনটি বলেছেন।

আবার তিনি কোনো কোনো মুমিনকে বর্জন করতেন, যেমন তিনি সেই তিন ব্যক্তিকে বর্জন করেছিলেন যারা তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। কারণ মূল উদ্দেশ্য হলো সৃষ্টিজগতকে সর্বোত্তম পন্থায় আল্লাহর আনুগত্যের দিকে আহ্বান করা; সুতরাং যেখানে উৎসাহ প্রদান অধিকতর কল্যাণকর সেখানে তাই করা হবে, আর যেখানে ভীতি প্রদর্শন অধিকতর কার্যকর সেখানে তা প্রয়োগ করা হবে। যে ব্যক্তি বিষয়টি বুঝতে পেরেছে, তার কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে যে—যারা ব্যাখ্যাদানকারী বিদআতিদের সাক্ষ্য ও বর্ণনাকে নিরঙ্কুশভাবে প্রত্যাখ্যান করেন, তাদের বক্তব্য...
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ৮)
ضعيف، فإن السلف قد دخلوا بالتأويل في أنواع عظيمة.

ومن جعل المظهرين للبدعة أئمة في العلم والشهادة لا ينكر عليهم بهجر ولا ردع، فقوله ضعيف أيضًا، وكذلك من صلى خلف المظهر للبدع والفجور من غير إنكار عليه ولا استبدال به من هو خير منه مع القدرة على ذلك، فقوله ضعيف، وهذا يستلزم إقرار المنكر الذي يبغضه الله ورسوله مع القدرة على إنكاره، وهذا لا يجوز.

ومن أوجب الإعادة على كل من صلى خلف ذي فجور وبدعة فقوله ضعيف، فإن السلف والأئمة من الصحابة والتابعين صلوا خلف هؤلاء وهؤلاء، لما كانوا ولاة عليهم، ولهذا كان من أصول أهل السنة أن الصلاة التي تقيمها ولاة الأمور تصلى خلفهم على أي حالة كانوا، كما يحج معهم، ويغزى معهم، وهذه الأمور مبسوطة في غير هذا الموضع.

والمقصود هنا أن العلماء كلهم متفقون على أن الكذب في الرافضة أظهر منه في سائر الطوائف من أهل القبلة، ومن تأمل كتب الجرح والتعديل المصنفة في أسماء الرواة والنقلة وأحوالهم مثل كتب يحيى بن سعيد القطان، وعلي بن المديني، ويحيى بن معين، والبخاري، وأبي زرعة، وأبي حاتم الرازي، والنسائي، وأبي حاتم بن حبان، وأبي أحمد بن عدي، والدارقطني، وإبراهيم بن يعقوب الجوزجاني السعدي، ويعقوب بن سفيان الفسوي، وأحمد بن صالح العجلي، والعقيلي، ومحمد بن عبد الله بن عمار الموصلي، والحاكم النيسابوري، والحافظ عبد الغني بن سعيد المصري، وأمثال هؤلاء الذين هم جهابذة ونقاد، وأهل معرفة بأحوال الإسناد، رأى
এটি দুর্বল, কারণ সালাফগণ মহান অনেক বিষয়ে অপব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়েছেন।

আর যারা বিদআত প্রকাশকারীদের ইলম ও সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে ইমাম হিসেবে গণ্য করে এবং বয়কট বা কঠোরতার মাধ্যমে তাদের প্রতিবাদ করে না, তাদের বক্তব্যও দুর্বল। অনুরূপভাবে, যে ব্যক্তি বিদআত ও পাপাচার প্রকাশকারীর পিছনে সালাত আদায় করে—তার প্রতিবাদ না করে এবং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তার পরিবর্তে উত্তম কাউকে নিযুক্ত না করে—তার বক্তব্যও দুর্বল। এটি সেই অন্যায়ের স্বীকৃতি দেওয়ার নামান্তর যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ঘৃণা করেন, অথচ তা প্রতিহত করার সামর্থ্য রয়েছে। আর এটি বৈধ নয়।

আর যারা পাপাচারী ও বিদআতির পিছনে সালাত আদায়কারীর ওপর সালাত পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব করে, তাদের বক্তব্যও দুর্বল। কেননা সাহাবী ও তাবিঈগণের মধ্য থেকে সালাফ ও ইমামগণ এই উভয় শ্রেণীর পিছনে সালাত আদায় করেছেন যখন তারা শাসক ছিলেন। এই কারণেই আহলুস সুন্নাহর অন্যতম মূলনীতি হলো—রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ যে সালাত কায়েম করে, তারা যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন তাদের পিছনে তা আদায় করা হবে; যেমন তাদের সাথে হজ করা হয় এবং তাদের সাথে যুদ্ধ (জিহাদ) করা হয়। এই বিষয়গুলো অন্য স্থানে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

এখানে মূল বক্তব্য হলো, সকল আলিম এ বিষয়ে একমত যে, আহলে কিবলার অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য সকল দলের তুলনায় রাফেযীদের মধ্যে মিথ্যার প্রকোপ অনেক বেশি প্রকাশ্য। আর যে ব্যক্তি রাবীদের নাম ও অবস্থা বিষয়ক 'জারহ ও তাদীল' (সমালোচনা ও সত্যায়ন) এর গ্রন্থসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে—যেমন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, আলী ইবনুল মাদিনী, ইয়াহইয়া ইবনে মাইন, বুখারী, আবু জুরআ, আবু হাতিম আর-রাযী, নাসায়ী, আবু হাতিম ইবনে হিব্বান, আবু আহমাদ ইবনে আদী, দারাকুতনী, ইবরাহীম ইবনে ইয়াকুব আল-জাওযাজানী আস-সাদী, ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান আল-ফাসাবী, আহমাদ ইবনে সালিহ আল-ইজলী, উকায়লী, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আম্মার আল-মাওসিলী, হাকিম আন-নিশাপুরী, হাফেজ আবদুল গনি ইবনে সাঈদ আল-মিসরী এবং তাঁদের ন্যায় অন্যান্য প্রাজ্ঞ ও সমালোচক ব্যক্তিবর্গ যারা সনদের অবস্থা সম্পর্কে বিশদ জ্ঞানের অধিকারী—সে দেখতে পাবে...
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ৯)
المعروف عندهم الكذب في الشيعة أكثر منهم في جميع الطوائف، حتى إن أصحاب الصحيح كالبخاري لم يرووا عن أحد من قدماء الشيعة مثل: عاصم بن ضمرة، والحارث الأعور، وعبد الله بن سلمة وأمثالهم، مع أن هؤلاء من خيار الشيعة، وإنما يروون عن أهل البيت كالحسن والحسين ومحمد بن الحنفية وكاتبه عبيد الله بن أبي رافع أو عن أصحاب ابن مسعود كعبيدة السلماني، والحارث بن قيس، أو عمن يشبه هؤلاء، وهؤلاء أئمة النقل ونقاده من أبعد الناس عن الهوى وأخبرهم بالناس وأقولهم بالحق لا يخافون في الله لومة لائم. اهـ كلام شيخ الإسلام رحمه الله.

هذا وبما أنّها قد ساءت ظنون المجتمع بالكاتبين والخطباء، بسبب الدعايات الملعونة من الشيوعيين، والبعثيين، والناصريين، والشيعة، فإذا رأوا الرجل يخطب محذّرًا من الرافضة قالوا: هذا مدفوع من قبل البعثيين، فإني أذكر إخواني المسلمين بقول الله عز وجل: {ياأيّها الّذين ءامنوا اجتنبوا كثيرًا من الظّنّ إنّ بعض الظّنّ إثم (1)}.

وقال الإمام البخاري رحمه الله (ج10 ص484): حدّثنا عبد الله بن يوسف، أخبرنا مالك، عن أبي الزّناد، عن الأعرج، عن أبي هريرة رضي الله عنه أنّ رسول الله -صلى الله عليه وعلى آله وسلم- قال: ((إيّاكم والظّنّ، فإنّ الظّنّ أكذب الحديث، ولا تحسّسوا، ولا تجسّسوا، ولا تناجشوا، ولا تحاسدوا، ولا تباغضوا، ولا تدابروا، وكونوا عباد الله إخوانًا)).

الذي لا يعلم أن أمريكا وروسيا تريدان القضاء على الإسلام والمسلمين

--------------------------------------------

(1) سورة الحجرات، الآية:12.
তাদের নিকট এটি সুপ্রসিদ্ধ যে, সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে শিয়াদের মাঝেই মিথ্যার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। এমনকি ‘সহীহ’ গ্রন্থকারগণ, যেমন ইমাম বুখারী (রহ.), প্রাচীন শিয়াদের মধ্য হতে আসিম বিন দামরাহ, হারিস আল-আওয়ার, আবদুল্লাহ বিন সালামাহ এবং তাদের মতো ব্যক্তিদের থেকে কোনো বর্ণনা গ্রহণ করেননি, যদিও তারা শিয়াদের মধ্যে সর্বোত্তম হিসেবে গণ্য ছিলেন। বরং তারা বর্ণনা গ্রহণ করেছেন আহলে বায়ত থেকে—যেমন হাসান, হুসাইন, মুহাম্মদ বিন আল-হানফিয়্যাহ এবং তাঁর লেখক উবায়দুল্লাহ বিন আবি রাফে—অথবা ইবনে মাসউদের অনুসারীদের মধ্য হতে উবায়দাহ আস-সালমানী, হারিস বিন কায়স কিংবা তাদের সমমর্যাদার ব্যক্তিদের থেকে। আর এঁরা ছিলেন হাদিস শাস্ত্রের ইমাম ও দক্ষ সমালোচক, যারা খেয়াল-খুশি ও প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে অনেক দূরে এবং মানুষের অবস্থা সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত ও সত্য ভাষণে অটল ছিলেন। আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে তারা কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করতেন না। — শায়খুল ইসলামের (রহ.) বক্তব্য সমাপ্ত।

বর্তমানে যেহেতু কমিউনিষ্ট, বাথপন্থী, নাসেরবাদী এবং শিয়াদের অভিশপ্ত অপপ্রচারের ফলে লেখক ও খতীবদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক হয়ে পড়েছে, তাই যখনই তারা কাউকে রাফেযীদের ব্যাপারে সতর্ক করতে দেখে, তখনই বলে ওঠে: ‘এটি বাথপন্থীদের দ্বারা প্ররোচিত।’ এমতাবস্থায় আমি আমার মুসলিম ভাইদের মহান আল্লাহর এই বাণীর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি: {হে মুমিনগণ! তোমরা অধিকাংশ অনুমান থেকে দূরে থাকো; কারণ কোনো কোনো অনুমান পাপ। (১)}

ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন (১০ম খণ্ড, ৪৮৪ পৃষ্ঠা): আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি মালিক থেকে, তিনি আবুল জিনাদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((তোমরা কুধারণা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ কুধারণা হলো সবচেয়ে বড় মিথ্যা। তোমরা একে অপরের গোপনীয়তা অনুসন্ধান করো না, গোয়েন্দাগিরি করো না, ধোঁকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিও না, পরস্পর হিংসা করো না, ঘৃণা পোষণ করো না এবং একে অপরের প্রতি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করো না। বরং তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে থাকো।))

যে ব্যক্তি জানে না যে আমেরিকা ও রাশিয়া ইসলাম এবং মুসলিমদের ধ্বংস করতে চায়...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১২।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ১০)
فهو مغفل أشبه بالبهائم، فكيف يرجى منهما أن يساعدا الدعاة إلى الله وهم رءوس المسلمين وحماة الإسلام، وقل أن يدخل أعداء الإسلام بلدة إلا ويبدءون بحصاد العلماء والمفكرين الإسلاميين، بل يوعزون إلى الحكومات التي تطيعهم بالقضاء على الدعوات، ويوهمونها أنّها تشكل خطرًا على المجتمع، وكذبوا، فالدعاة إلى الله دعاة إلى الله وليسوا دعاة فتن وإراقة للدماء، وإنما هم دعاة إصلاح يرون عملهم الذي يقومون به أرفع من الكراسي والمناصب، كما يقول الله سبحانه وتعالى: {ومن أحسن قولاً ممّن دعا إلى الله وعمل صالحًا وقال إنّني من المسلمين (1)}.

ويرون المناصب والمسلمون على هذه الحالة عذابًا على أصحابها، لكثرة الخيانات والطمع والانقلابات، ولا يرون أن أحدًا يشارك الدعاة إلى الله الجامعين بين العلم والعمل في الخير الذي هم فيه إلا من وفّق لمثل ما هم فيه: {يرفع الله الّذين ءامنوا منكم والّذين أوتوا العلم درجات (2)}.

فالعلم عندنا أرفع من الملك والرئاسة، والحمد لله الذي هدانا لهذا وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله.

هذا وأما حكام المسلمين نسأل الله أن يصلحهم فإنّهم في واد والدعاة إلى الله في واد، الحكام يهمهم المحافظة على كراسيهم، والدعاة إلى الله يهمهم إصلاح المجتمع والدفاع عن الإسلام، ويتقربون إلى الله بحماية الدين والذب عن حياضه أن يلوثها أعداء الإسلام، ويسألون الله أن يصلح حكام المسلمين فإنّهم قد ابتلوا بالدعاة إلى الله، وابتلي بهم الدعاة

--------------------------------------------

(1) سورة فصلت، الآية:33.

(2) سورة المجادلة، الآية:11.
অতএব সে গবাদি পশুর মতো এক নির্বোধ ব্যক্তি; তাদের নিকট থেকে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীদের (দাঈদের) সাহায্য করার কী আশা করা যেতে পারে? অথচ তাঁরা হলেন মুসলিমদের শীর্ষব্যক্তিত্ব এবং ইসলামের রক্ষক। খুব কমই এমন হয় যে ইসলামের শত্রুরা কোনো জনপদে প্রবেশ করেছে অথচ তারা আলিম ও ইসলামি চিন্তাবিদদের নিধন করা শুরু করেনি। বরং তারা তাদের অনুগত সরকারগুলোকে এই দাওয়াতি কার্যক্রম নির্মূল করার প্ররোচনা দেয় এবং তাদের মনে এই বিভ্রম সৃষ্টি করে যে, এগুলো সমাজের জন্য বিপতজ্জনক। তারা মিথ্যা বলছে; কেননা আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীরা মূলত আল্লাহরই পথে ডাকেন, তাঁরা ফিতনা-ফাসাদ কিংবা রক্তপাতের আহ্বায়ক নন। তাঁরা কেবল সংস্কারের আহ্বায়ক, যাঁরা নিজেদের এই কাজকে ক্ষমতা বা পদের চেয়েও উচ্চে মনে করেন, যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "সেই ব্যক্তির চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানায়, নেক আমল করে এবং বলে, 'নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত' (১)"।

মুসলিমদের বর্তমান এই শোচনীয় অবস্থায় তাঁরা উচ্চপদসমূহকে এর অধিকারীদের জন্য এক প্রকার শাস্তি মনে করেন, কারণ এর সাথে জড়িয়ে আছে অগণিত বিশ্বাসঘাতকতা, লোভ এবং ক্ষমতার পালাবদল। তাঁরা মনে করেন যে, ইলম (জ্ঞান) ও আমলের (কর্ম) সমন্বয়কারী আল্লাহর দাঈরা যে কল্যাণের ওপর রয়েছেন, তাতে তাঁদের সমকক্ষ কেউ হতে পারে না, কেবল তারাই পারে যারা তাদের মতো তাওফিক লাভ করেছে: "তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন (২)"।

আমাদের নিকট ইলম বা জ্ঞান হলো রাজত্ব ও নেতৃত্বের চেয়েও মর্যাদাবান। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের এ পথে হেদায়েত করেছেন; আল্লাহ যদি আমাদের হেদায়েত না দিতেন, তবে আমরা কখনোই হেদায়েত পেতাম না।

আর মুসলিম শাসকদের কথা যদি বলি—আমরা আল্লাহর কাছে তাদের সংশোধনের প্রার্থনা করি—তবে তারা এক মেরুতে আর আল্লাহর দাঈরা অন্য মেরুতে অবস্থান করছেন। শাসকদের মূল চিন্তা হলো তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা, আর আল্লাহর দাঈদের মূল লক্ষ্য হলো সমাজ সংস্কার এবং ইসলামের প্রতিরক্ষা। তাঁরা ধর্মকে রক্ষা করা এবং ইসলামের পবিত্র অঙ্গনকে শত্রুদের কলুষতা থেকে মুক্ত রাখার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণ করেন। তাঁরা আল্লাহর কাছে মুসলিম শাসকদের সংশোধনের দোয়া করেন; কেননা শাসকরা আল্লাহর দাঈদের মাধ্যমে পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছেন, আর দাঈরাও শাসকদের মাধ্যমে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৩৩।

(২) সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ১১।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ১১)
إلى الله، ولا يصلح الجميع إلا التحاكم إلى كتاب الله وسنة رسول الله -صلى الله عليه وعلى آله وسلم-، ولا تزول النفرة التي بينهم إلا بالاعتصام بكتاب الله، وتحكيم شرع الله، وفق الله الجميع لذلك.

وإياك إياك أن تظن أني ألفت هذا الكتاب من أجل صدام البعثي الملحد، فمعاذ الله، فحزب البعث كافر، وما كان الدعاة إلى الله ليكونوا آلة يومًا من الدهر لأعداء الله، ولكني ألّفته غضبًا لله وتحذيرًا لإخواني أهل السنة من المزالق، وسيأتي إن شاء الله بيان السبب الذي ألفته من أجله.

والدعاة إلى الله وإلى كتاب الله وسنة رسول الله -صلى الله عليه وعلى آله وسلم- مبتلون بالاتّهامات إذا خالفوا الناس وابتغوا الدليل، وإليك ما قاله الإمام الشاطبي رحمه الله في ((الاعتصام)) متوجعًا من أهل عصره، بسبب مخالفته الناس فيما يراه حقًا. قال رحمه الله (ج1 ص27): وربما ألموا في تقبيح ما وجهت إليه وجهتي بما تشمئز منه القلوب، أو خرجوا بالنسبة إلى بعض الفرق الخارجة عن السنة شهادة ستكتب ويسألون عنها يوم القيامة، فتارةً نسبْت إلى القول بأن الدعاء لا ينفع ولا فائدة فيه، كما يعزي إلي بعض الناس بسبب أني لم ألتزم الدعاء بهيئة الاجتماع في أدبار الصلاة حالة الإمامة، وسيأتي ما في ذلك من المخالفة للسنة وللسلف الصالح والعلماء.

وتارةً نسبْت إلى الرفض وبغض الصحابة رضي الله عنهم بسبب أني لم ألتزم ذكر الخلفاء الراشدين منهم في الخطبة على الخصوص إذ لم يكن ذلك شأن أحد من السلف في خطبهم، ولا ذكره أحد من العلماء المعتبرين في أجزاء
আল্লাহর নিকট; আর আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন এবং বিচার ফয়সালার জন্য এগুলোকে গ্রহণ করা ব্যতীত কারো সংশোধন সম্ভব নয়। তাদের মাঝে বিদ্যমান এই দূরত্ব ও অনীহা আল্লাহর কিতাবকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরা এবং আল্লাহর শরীয়তকে বিচারক হিসেবে মানা ছাড়া দূর হবে না। আল্লাহ সকলকে সেই তাওফীক দান করুন।

সাবধান, সাবধান! তুমি যেন মনে না করো যে, আমি এই কিতাবটি নাস্তিক বা’থী সাদ্দামের স্বার্থে লিখেছি। আল্লাহর পানাহ! বা’থ পার্টি তো কাফের; আর আল্লাহর পথে আহ্বানকারীগণ কখনোই আল্লাহর শত্রুদের হাতের অস্ত্র হতে পারে না। বরং আমি এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাঁর ক্রোধের কারণে এবং আমার আহলে সুন্নাত ভাইদের বিচ্যুতিসমূহ থেকে সতর্ক করার জন্য লিখেছি। ইনশাআল্লাহ, আমি যে কারণে এটি লিখেছি তার বিস্তারিত বর্ণনা সামনে আসবে।

আল্লাহর দিকে এবং আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহর দিকে আহ্বানকারীগণ যখন মানুষের প্রথার বিরোধিতা করেন এবং দলীল অন্বেষণ করেন, তখন তারা বিভিন্ন অপবাদের সম্মুখীন হন। ইমাম শাতবী (রহ.) তাঁর ‘আল-ইতিসাম’ গ্রন্থে তাঁর সমকালীন লোকদের আচরণে ব্যথিত হয়ে যা বলেছিলেন, তা এখানে উল্লেখ করছি; কেননা তিনি যেটিকে সত্য মনে করতেন তাতে তিনি মানুষের বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি (১ম খণ্ড, ২৭ পৃষ্ঠা) বলেন: “কখনো কখনো তারা আমার গৃহীত পথকে কদর্যরূপে তুলে ধরতে এমন সব ভাষা ব্যবহার করত যা শুনলে অন্তর আঁতকে ওঠে, আবার কখনো তারা আমাকে সুন্নাহ বহির্ভূত কোনো কোনো ফিরকার অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করত। এটি এমন এক সাক্ষ্য যা লিখে রাখা হবে এবং কিয়ামতের দিন এ সম্পর্কে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মাঝে মাঝে আমাকে এমন মতবাদের দিকে নিসবত করা হয়েছে যে, দুআ কোনো উপকারে আসে না এবং এর কোনো ফায়দা নেই; যেমনটি কিছু লোক আমার প্রতি আরোপ করে থাকে, কারণ আমি ইমাম থাকাকালীন ফরয সালাত শেষে সম্মিলিতভাবে দুআ করার নিয়মটি পালন করতাম না। সুন্নাহ, সালাফে সালেহীন এবং ওলামায়ে কেরামের আমলের বিপরীতে এর যে অবস্থান, তা সামনে আলোচিত হবে।”

আবার কখনো আমাকে ‘রাফয’ (শিয়া মতবাদ) এবং সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-দের প্রতি বিদ্বেষ পোষণের অপবাদ দেওয়া হয়েছে; কারণ আমি খুতবায় বিশেষভাবে খুলাফায়ে রাশেদীনের নাম উল্লেখ করা আবশ্যক মনে করিনি। কেননা সালাফদের খুতবায় এ ধরনের কোনো রীতি ছিল না এবং কোনো নির্ভরযোগ্য আলেমও তাঁদের রচনার অংশবিশেষে এটি উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ১২)
الخطب، وقد سئل (أصبغ) عن دعاء الخطيب للخلفاء المتقدمين فقال: هو بدعة ولا ينبغي العمل به، وأحسنه أن يدعو للمسلمين عامة. قيل له: فدعاؤه للغزاة والمرابطين؟ قال: ما أرى به بأسًا عند الحاجة إليه، وأما أن يكون شيئًا يصمد له في خطبته دائمًا فإني أكره ذلك. ونص أيضًا عزالدين بن عبد السلام على أن الدعاء للخلفاء في الخطبة بدعة غير محبوبة.

وتارة أضاف إلى القول بجواز القيام على الأئمة، وما أضافوه إلا من عدم ذكري لهم في الخطبة، وذكرهم فيها محدث لم يكن عليه من تقدم.

وتارة أحمل على التزام الحرج والتنطع في الدين، وإنما حملهم على ذلك أني التزمت في التكليف والفتيا الحمل على مشهور المذهب الملتزم (1) لا أتعداه، وهم يتعدونه ويفتون بما يسهل على السائل ويوافق هواه، وإن كان شاذًا في المذهب الملتزم أو في غيره، وأئمة أهل العلم على خلاف ذلك، وللمسألة بسط في كتاب ((الموافقات)).

وتارةً نسبت إلى معاداة أولياء الله وسبب ذلك أني عاديت بعض الفقراء المبتدعين المخالفين للسنة، المنتصبين بزعمهم لهداية الخلق، وتكلمت للجمهور على جملة من أحوال هؤلاء الذين نسبوا أنفسهم إلى الصوفية ولم يتشبهوا بهم.

وتارة نسبت إلى مخالفة السنة والجماعة بناء منهم على أن الجماعة التي أمر باتباعها وهي الناجية ما عليه العموم، ولم يعلموا أن الجماعة ما كان

--------------------------------------------

(1) الواجب أن يلتزم في الفتوى بما يقتضيه الدليل لا ما يقتضيه المذهب الملتزم.
খুতবা প্রসঙ্গে; আসবাগ-কে খতিব কর্তৃক পূর্ববর্তী খলিফাদের জন্য দোয়া করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: এটি বিদআত এবং এর ওপর আমল করা উচিত নয়। বরং উত্তম হলো সাধারণ মুসলিমদের জন্য দোয়া করা। তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হলো: মুজাহিদ ও সীমান্ত রক্ষীদের জন্য দোয়া করার ব্যাপারে কী বলেন? তিনি উত্তর দিলেন: প্রয়োজনের সময় এতে আমি কোনো সমস্যা দেখি না। কিন্তু এটি যদি এমন হয় যে খতিব সর্বদা তার খুতবায় এর প্রতিই নিবিষ্ট থাকেন, তবে আমি তা অপছন্দ করি। ইযউদ্দীন ইবনে আবদুস সালামও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, খুতবার মধ্যে খলিফাদের জন্য দোয়া করা একটি অপছন্দনীয় বিদআত।

আবার কখনও কখনও আমার দিকে শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বৈধ মনে করার মতটি আরোপ করা হয়েছে। তারা এটি কেবল খুতবায় শাসকদের কথা উল্লেখ না করার কারণেই আরোপ করেছে। অথচ খুতবায় তাদের উল্লেখ করা একটি নবউদ্ভাবিত বিষয়, যা পূর্বসূরীদের অনুসৃত পথ ছিল না।

আবার কখনও কখনও আমার প্রতি দ্বীনের ক্ষেত্রে কঠোরতা এবং বাড়াবাড়ির অভিযোগ আনা হয়। তাদের এই অভিযোগের কারণ হলো, আমি শরঈ বিধান ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় মাযহাবের প্রসিদ্ধ মতটি (১) আঁকড়ে ধরি এবং তা অতিক্রম করি না। পক্ষান্তরে তারা সেটি অতিক্রম করে এবং প্রশ্নকারীর জন্য যা সহজ ও তার খেয়াল-খুশির অনুকূল হয়, সে অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করে; যদিও তা অনুসরণীয় মাযহাবে বা অন্য কোথাও একটি ‘শায’ মত হয়ে থাকে। অথচ ইলমের ইমামগণ এর বিপরীত অবস্থানের ওপর ছিলেন। এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা 'আল-মুয়াফাকাত' কিতাবে রয়েছে।

আবার কখনও আমাকে আল্লাহর ওলিদের শত্রু হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এর কারণ ছিল এই যে, আমি সুন্নাহর বিরোধী এমন কিছু বিদআতী দরবেশের বিরোধিতা করেছি, যারা মানুষের হিদায়াতের দাবিদার সেজে বসেছিল। আমি সাধারণ মানুষের সামনে ঐসব লোকদের প্রকৃত অবস্থার কিছু দিক তুলে ধরেছিলাম যারা নিজেদের সূফি হিসেবে পরিচয় দেয় অথচ তাদের মধ্যে সূফিদের কোনো বৈশিষ্ট্য নেই।

আবার কখনও কখনও সুন্নাহ ও জামাআতের বিরোধিতার অভিযোগ আমার ওপর আরোপ করা হয়েছে; তাদের এই ধারণার বশবর্তী হয়ে যে, যে ‘জামাআত’ অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং যারা মুক্তিপ্রাপ্ত দল, তারা হলো সাধারণ জনগণ। অথচ তারা জানে না যে, ‘জামাআত’ হলো তা-ই যা...

--------------------------------------------

(১) আবশ্যকীয় হলো ফতোয়ার ক্ষেত্রে দলিলের দাবি অনুযায়ী ফয়সালা করা, অনুসরণীয় মাযহাবের দাবি অনুযায়ী নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ১৩)
عليه النبي -صلى الله عليه وعلى آله وسلم- وأصحابه والتابعون لهم بإحسان. وسيأتي بيان ذلك بحول الله.

وكذبوا عليّ في جميع ذلك أو وهموا والحمد لله على كل حال، فكنت على حالة تشبه حالة الإمام الشهير عبد الرحمن بن بطة الحافظ مع أهل زمانه إذ حكى عن نفسه فقال: عجبت من حالي في سفري وحضري مع الأقربين مني والأبعدين، والعارفين والمنكرين، فإني وجدت بمكة وخراسان وغيرهما من الأماكن أكثر من لقيت بها موافقًا أو مخالفًا دعاني إلى متابعته على ما يقوله، وتصديق قوله والشهادة له، فإن كنت صدقته فيما يقول وأجزت له ذلك كما يفعله أهل هذا الزمان سماني موافقًا، وإن وقفت في حرف من قوله أو في شيء من فعله سماني مخالفًا، وإن ذكرت في واحد منها أن الكتاب بخلاف ذلك وارد سماني خارجيًّا، وإن قرأت عليه حديثًا في التوحيد سماني مشبّهًا، وإن كان في الرؤية سماني سالميًّا، وإن كان في الإيمان سماني مرجئيًّا، وإن كان في الأعمال سماني قدريًّا، وإن كان في المعرفة سماني كراميًّا، وإن كان في فضائل أبي بكر وعمر سماني ناصبيًّا، وإن كان في فضائل أهل البيت سماني رافضيًّا، وإن سكت عن تفسير آية أو حديث فلم أجب فيهما إلا بهما سماني ظاهريًّا، وإن أجبت بغيرهما سماني باطنيًّا، وإن أجبت بتأويل سماني أشعريًّا، وإن جحدتهما سماني معتزليًّا، وإن كان في السنن مثل القراءة سماني شفعويًّا، وإن كان في القنوت سماني حنفيًّا، وإن كان في القرآن سماني حنبليًّا، وإن ذكرت رجحان ما ذهب كل واحد إليه من الأخبار -إذ ليس في الحكم والحديث محاباة- قالوا: طعن في تزكيتهم.
যার ওপর নবী—তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—এবং তাঁর সাহাবীগণ ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। আল্লাহর শক্তিতে অচিরেই এর বর্ণনা আসবে।

তারা এই সব বিষয়ে আমার ওপর মিথ্যাচার করেছে অথবা বিভ্রান্ত হয়েছে; সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা। আমার অবস্থা বিখ্যাত ইমাম হাফেজ আবদুর রহমান ইবনে বাত্তাহর তাঁর সমসাময়িকদের সাথে যে অবস্থা হয়েছিল তার অনুরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যখন তিনি নিজের সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছিলেন: আমি সফর ও আবাসে আমার নিকটাত্মীয় ও দূরবর্তী, পরিচিত ও অপরিচিত সকলের সাথে নিজের অবস্থা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করি। কারণ আমি মক্কা, খোরাসান এবং অন্যান্য স্থানে যাদের সাথেই সাক্ষাৎ করেছি—হোক তারা একমত পোষণকারী বা বিরোধী—তাদের অধিকাংশকেই দেখেছি তারা যা বলে আমাকে সেই অনুযায়ী অনুসরণ করতে, তাদের কথা বিশ্বাস করতে এবং তাদের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে আহ্বান জানায়। আমি যদি তারা যা বলে তাতে তাদের সত্যয়ন করি এবং এই যুগের মানুষেরা যেভাবে করে থাকে সেভাবে তাদের স্বীকৃতি দিই, তবে তারা আমাকে 'অনুগামী' বলে অভিহিত করে। আর আমি যদি তাদের কথার কোনো একটি বর্ণে বা কাজের কোনো একটি বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করি, তবে তারা আমাকে 'বিরোধী' বলে আখ্যা দেয়। আর যদি আমি এর কোনো একটির ব্যাপারে উল্লেখ করি যে কিতাবে এর বিপরীতে বর্ণনা এসেছে, তবে তারা আমাকে 'খারেজী' বলে সম্বোধন করে। যদি আমি তাদের সামনে তাওহীদ বিষয়ক কোনো হাদিস পাঠ করি, তবে তারা আমাকে 'মুসাব্বিহা' বলে। আর যদি তা আল্লাহর দর্শন সংক্রান্ত হয়, তবে আমাকে 'সালেমী' বলে। যদি তা ঈমান সংক্রান্ত হয়, তবে আমাকে 'মুরজিয়া' বলে। যদি তা আমল সংক্রান্ত হয়, তবে আমাকে 'কাদারিয়া' বলে। যদি তা মারিফত সংক্রান্ত হয়, তবে আমাকে 'কাররামিয়া' বলে। যদি তা আবু বকর ও উমরের মর্যাদা বিষয়ক হয়, তবে আমাকে 'নাসেবী' বলে। যদি তা আহলে বায়তের মর্যাদা বিষয়ক হয়, তবে আমাকে 'রাফেজী' বলে। আর যদি আমি কোনো আয়াত বা হাদিসের ব্যাখ্যায় নীরব থাকি এবং সে দুটির মাধ্যম ছাড়া অন্য কোনোভাবে উত্তর না দিই, তবে তারা আমাকে 'জাহেরী' বলে। আর যদি আমি এ দুটি ছাড়া অন্য উপায়ে উত্তর দিই, তবে তারা আমাকে 'বাতেনী' বলে। যদি আমি রূপক ব্যাখ্যার মাধ্যমে উত্তর দিই, তবে আমাকে 'আশআরী' বলে। আর যদি আমি সে দুটিকে অস্বীকার করি, তবে তারা আমাকে 'মুতাযিলা' বলে। যদি তা কিরাতের মতো সুন্নত সংক্রান্ত বিষয়ে হয়, তবে আমাকে 'শাফেয়ী' বলে। যদি তা কুনুত সংক্রান্ত হয়, তবে আমাকে 'হানাফী' বলে। যদি তা কুরআন সংক্রান্ত হয়, তবে আমাকে 'হাম্বলী' বলে। আর যদি আমি হাদিসসমূহের আলোকে তাদের প্রত্যেকের অবলম্বিত মতের মধ্যে কোনোটির প্রাধান্য পাওয়ার কথা উল্লেখ করি—যেহেতু ফয়সালা ও হাদিসের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষপাতিত্ব নেই—তখন তারা বলে: সে তাদের নির্ভরযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ১৪)
ثم أعجب من ذلك أنّهم يسمونني فيما يقرءون علي من أحاديث رسول الله -صلى الله عليه وعلى آله وسلم- ما يشتهون من هذه الأسامي، ومهما وافقت بعضهم عاداني غيره، وإن داهنت جماعتهم أسخطت الله تبارك وتعالى، ولن يغنوا عني من الله شيئًا، وإني مستمسك بالكتاب والسنة وأستغفر الله الذي لا إله إلا هو وهو الغفور الرحيم. اهـ

 

أما‌‌ السبب الذي حملني على تأليف هذا الكتاب فهو أني لما انتهيت من كتاب ((إرشاد ذوي الفطن لإبعاد غلاة الروافض من اليمن)) أردت أن أستريح من الكتابة يومًا أو يومين، ثم أعود إلى بحثي الذي أنا مستمر فيه وهو ((الصحيح المسند مما ليس في الصحيحين (1)) فأخذت الجزء الأول من ((العقد الثمين في تاريخ البلد الأمين)) للإمام تقي الدين محمد بن أحمد الحسني الفاسي المكي رحمه الله، فقرأت الباب الثامن والثلاثين في ذكر شيء من الحوادث المتعلقة بمكة في الإسلام، وها أنا أسوق الباب كله لتشاركني فيما أفزعني وحملني على تأليف هذا الكتاب.

--------------------------------------------

(1) والحمد لله يسر الله طبعه.
এরপর আরও আশ্চর্যের বিষয় এই যে, তারা আল্লাহর রাসূলের —তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক— যেসকল হাদীস আমার কাছে পাঠ করে, তাতে তারা আমাকে নিজেদের ইচ্ছামতো বিভিন্ন নামে ডাকতে থাকে। যখনই আমি তাদের কারো সাথে একমত হই, অন্য কেউ আমার শত্রুতায় লিপ্ত হয়। আর যদি আমি তাদের দলের তোষামোদ করি, তবে আমি বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করব, অথচ আল্লাহর মোকাবিলায় তারা আমার বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না। আমি কিতাব ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে আছি এবং সেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং তিনি পরম ক্ষমাশীল ও অতি দয়ালু। [সমাপ্ত]

 

আর যে কারণটি আমাকে এই কিতাবটি রচনায় উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো, যখন আমি ‘ইরশাদু যাবিল ফিতান লি-ইবাদি গুলাতির রাওয়াফিদ মিনাল ইয়ামান’ (ইয়েমেন থেকে কট্টর রাফেযীদের বিতাড়নে প্রজ্ঞাবানদের নির্দেশনা) কিতাবটি সমাপ্ত করলাম, তখন আমি একদিন বা দু’দিন লেখালেখি থেকে বিশ্রাম নিতে চেয়েছিলাম। এরপর আমি আমার সেই গবেষণায় ফিরে যেতে চেয়েছিলাম যা আমি নিরন্তর চালিয়ে যাচ্ছি, আর তা হলো— ‘আস-সাহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস-সাহীহাইন’ (১)। এমতাবস্থায় আমি ইমাম তাকিউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-হাসানী আল-ফাসী আল-মাক্কী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বিরচিত ‘আল-ইকদুত সামীন ফি তারিখিল বালাদিল আমীন’ কিতাবটির প্রথম খণ্ডটি নিলাম এবং আটত্রিশতম অধ্যায়টি পাঠ করলাম, যেখানে ইসলামি যুগে মক্কার সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু ঘটনার বিবরণ রয়েছে। এখন আমি সেই পুরো অধ্যায়টি এখানে তুলে ধরছি যাতে আমি যে বিষয়টি দেখে বিচলিত হয়েছি এবং যা আমাকে এই কিতাবটি রচনায় অনুপ্রাণিত করেছে, তাতে আপনিও আমার অংশীদার হতে পারেন।

--------------------------------------------

(১) সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ এর মুদ্রণ সহজ করে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ১৫)
قال رحمه الله (ج1 ص183):

الباب الثامن والثلاثون:

في ذكر شيء من الحوادث المتعلقة بمكة في الإسلام

لا ريب في كثرة الأخبار في هذا المعنى وأكثر ذلك خفي علينا لعدم العناية بتدوينه في كل وقت، وقد سبق مما علمناه أمور كثيرة في مواضع من هذا الكتاب، ويأتي إن شاء الله تعالى شيء من ذلك بعد هذا الباب.

والمقصود ذكره في هذا الباب: أخبار تتعلق بالحجاج لها تعلق بمكة، أو باديتها، وحج جماعة من الخلفاء والملوك في حال ولايتهم ومن خطب له بمكة من الملوك وغيرهم في خلافة بني العباس وما جرى بسبب الخطبة بمكة بين ملوك مصر والعراق، وما أسقط من المكوسات المتعلقة بمكة.

فمن الأخبار المقصود ذكرها هنا: أن أبا بكر الصديق رضي الله عنه حج بالناس سنة اثنتي عشرة من الهجرة.

ومنها: أن الفاروق عمر بن الخطاب رضي الله عنه حج بالناس في جميع خلافته إلا السنة الأولى منها.

ومنها: أن ذا النورين عثمان بن عفان رضي الله عنه حج بالناس في جميع خلافته إلا في السنة الأولى والأخيرة.

ومنها: أن في سنة أربعين من الهجرة، وقف الناس بعرفة في اليوم الثامن من ذي الحجة وضحوا في اليوم التاسع، وليس كل إنسان اتفق له ذلك، والذين اتفق لهم ذلك طائفة كانوا مع المغيرة بن شعبة رضي الله عنه.
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৮৩):

আটত্রিশতম অধ্যায়:

ইসলামি যুগে মক্কার সাথে সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলির বর্ণনা প্রসঙ্গে

এই বিষয়ে অসংখ্য বিবরণ থাকা অনস্বীকার্য; তবে প্রতিটি যুগে যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে যত্নের অভাবে এর অধিকাংশ আমাদের কাছে অস্পষ্ট থেকে গেছে। আমরা যা জানতে পেরেছি তার অনেক কিছু ইতোমধ্যেই এই গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে আলোচিত হয়েছে এবং এর কিছু অংশ ইনশাআল্লাহ এই অধ্যায়ের পরেও আসবে।

এই অধ্যায়ে যা উল্লেখ করার উদ্দেশ্য তা হলো: হাজিদের সাথে সংশ্লিষ্ট সংবাদ যা মক্কা বা এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সাথে সম্পৃক্ত, খলিফা ও বাদশাহগণের একটি দলের শাসনকালীন হজ্জের বিবরণ, আব্বাসীয় খিলাফতকালে মক্কায় যে সকল বাদশাহ ও অন্যদের নামে খুতবা পাঠ করা হয়েছিল এবং মক্কায় খুতবাকে কেন্দ্র করে মিশর ও ইরাকের শাসকদের মধ্যে যা সংঘটিত হয়েছিল, আর মক্কা সংশ্লিষ্ট যে সকল শুল্ক রহিত করা হয়েছিল তার বিবরণ।

এখানে উল্লেখ্য সংবাদসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হিজরি বারো সনে লোকদের নিয়ে হজ্জ সম্পাদন করেন।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: ফারুক ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর খিলাফতের প্রথম বছর ব্যতীত বাকি সকল বছর লোকদের নিয়ে হজ্জ আদায় করেন।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: যুন-নুরাইন উসমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর খিলাফতের প্রথম এবং শেষ বছর ব্যতীত বাকি সকল বছর লোকদের নিয়ে হজ্জ আদায় করেন।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: হিজরি চল্লিশ সনে লোকেরা জিলহজ মাসের অষ্টম দিনে আরাফায় অবস্থান করেন এবং নবম দিনে কোরবানি করেন। এটি সবার ক্ষেত্রে ঘটেনি, বরং যারা মুগিরা ইবনে শু'বা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে ছিলেন, কেবল সেই দলের সাথেই এমনটি ঘটেছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ১৬)
ومنها: أن معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنهما حج بالناس سنتين.

ومنها: أن عبد الله بن الزبير رضي الله عنهما حج بالناس في جميع خلافته إلا السنة الأخيرة منها، وهي سنة اثنتين وسبعين لحصر الحجاج بن يوسف الثقفي له فيها، وحج بالناس سنة ثلاث وستين، فيكون حجه بالناس تسعًا بتقديم التاء.

ومنها: أن عبد الملك بن مروان حج بالناس سنتين.

ومنها: أن الوليد بن عبد الملك حج بالناس سنتين على ما قيل.

ومنها: أن سليمان بن عبد الملك حج بالناس مرة، وكذلك أخوه هشام ابن عبد الملك.

ومنها: أن في سنة تسع وعشرين ومائة وافى بعرفة أبوحمزة الخارجي على غفلة من الناس فخافوا منه فسأله عامل مكة في المسألة، فوقع الاتفاق على أنّهم جميعًا آمنون حتى ينقضي الحج، ثم استولى -بغير قتال- أبوحمزة على مكة بعد الحج، لفرار عاملها عنها.

ومنها: أن أبا جعفر المنصور ثاني الخلفاء العباسيين حج بالناس أربع سنين، ورام الحج في سنة ثمان وخمسين فما ناله لموته ببئر ميمون ظاهر مكة.

ومنها: أن المهدي بن المنصور العباسي حج بالناس سنة ستين ومائة. وقيل: إنه حج بالناس سنة أربع وستين أيضًا.

وفي حجته الأولى: أنفق في الحرمين أموالاً عظيمة. يقال: إنّها ثلاثون
এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: মুআবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) দুই বছর মানুষের হজের ইমামতি করেছেন।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর খিলাফতের পূর্ণ মেয়াদে মানুষের হজের ইমামতি করেছেন কেবল শেষ বছরটি ব্যতীত, যা ছিল বাহাত্তর হিজরি সন; কারণ সেই বছর হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ আস-সাকাফি তাঁকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। এছাড়া তিনি তেষট্টি হিজরি সনেও মানুষের সাথে হজ করেছেন, ফলে তাঁর হজ করানোর মোট সংখ্যা দাঁড়ায় নয় বছর।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান দুই বছর মানুষের হজের ইমামতি করেছেন।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যেমনটি বলা হয়ে থাকে, ওয়ালিদ ইবনে আবদুল মালিক দুই বছর মানুষের সাথে হজ করেছেন।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: সুলাইমান ইবনে আবদুল মালিক একবার এবং তাঁর ভাই হিশাম ইবনে আবদুল মালিকও একবার মানুষের হজের ইমামতি করেছেন।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: একশত ঊনত্রিশ হিজরি সনে আবু হামজা আল-খারেজি মানুষের অসতর্ক অবস্থায় আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হন। এতে লোকজন তাঁর ব্যাপারে ভীত হয়ে পড়লে মক্কার গভর্নর তাঁর সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করেন। তখন এই মর্মে চুক্তি হয় যে, হজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সকলেই নিরাপদ থাকবে। অতঃপর হজের পর মক্কার গভর্নর পলায়ন করলে আবু হামজা কোনো যুদ্ধ ছাড়াই মক্কা দখল করে নেন।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: আব্বাসীয় বংশের দ্বিতীয় খলিফা আবু জাফর আল-মনসুর চার বছর মানুষের হজের ইমামতি করেছেন। তিনি একশত আটান্ন হিজরি সনে হজের সংকল্প করেছিলেন, কিন্তু মক্কার উপকণ্ঠে বি’রে মায়মুন নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করার ফলে তিনি আর হজ করতে পারেননি।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: আব্বাসীয় খলিফা মাহদী ইবনে আল-মনসুর একশত ষাট হিজরি সনে মানুষের হজের ইমামতি করেছেন। আরও বলা হয় যে, তিনি একশত চৌষট্টি হিজরি সনেও মানুষের সাথে হজ করেছেন।

এবং তাঁর প্রথম হজের সময় তিনি হারামাইন শরিফাইনে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেন। বলা হয়ে থাকে যে, তার পরিমাণ ছিল ত্রিশ...
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ১৭)
ألف ألف درهم وصل بها من العراق، وثلاثمائة ألف دينار وصلت إليه من مصر، ومائتا ألف وصلت إليه من اليمن، ومائة ألف ثوب وخمسون ألف ثوب.

ومنها: أن الرشيد هارون بن المهدي العباسي حج بالناس تسع حجج -بتقدم التاء- ولم يحج بعده خليفة من العراق، إلا أن الذهبي ذكر في ((العبر)) في أخبار سنة اثنتي عشرة ومائتين: أن المأمون بن هارون الرشيد حج في هذه السنة، ولم أر ذلك لغيره والله أعلم. وفرّق الرشيد في حجاته أموالاً كثيرة جدًا في الحرمين.

ومنها: أن في سنة تسع وتسعين ومائة وقف الناس بعرفة بلا إمام، وصلوا بلا خطبة، لفرار أمير مكة عنها متخوفًا من حسين الأفطس العلوي، وكان وصوله إلى مكة في آخر يوم عرفة، وبها وقف ليلاً.

ومنها: أن في سنة مائتين من الهجرة نهب الحجاج بستان ابن عامر وأخذت كسوة الكعبة ثم استنقذها الجلودي مع كثير من الأموال المنهوبة وبستان ابن عامر هو بطن نخلة، على ما ذكر أبوالفتح ابن سيد الناس عند ذكر سرية عبد الله بن جحش رضي الله عنه إلى نخلة.

ومنها: أن في سنة إحدى وخمسين ومائتين لم يقف الناس بعرفة لا ليلاً ولا نهارًا، لأن إسماعيل بن يوسف العلوي وافى الموقف بعرفة في يومها. وقتل من الحجاج نحو ألف ومائة وسلب الناس، وهرب الناس إلى مكة.

ومنها: أن في سنة خمس وتسعين ومائتين وقع بمنى قتال بين الأجناد وبين عج بن حاج أمير مكة لطلبهم جائزة بيعة المقتدر، فقتل منهم
দশ লক্ষ দিরহাম ইরাক থেকে এসে পৌঁছেছে, তিন লক্ষ দিনার মিশর থেকে তাঁর কাছে পৌঁছেছে, দুই লক্ষ ইয়েমেন থেকে পৌঁছেছে এবং এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার পোশাক পৌঁছেছে।

এর মধ্যে একটি হলো: আব্বাসীয় খলিফা আল-মাহদীর পুত্র হারুনুর রশীদ নয়বার হজ সম্পাদন করেছেন এবং তাঁর পরে ইরাক থেকে আর কোনো খলিফা হজ করেননি; তবে আয-যাহাবী তাঁর 'আল-ইবার' গ্রন্থে ২১২ হিজরীর ঘটনাবলীতে উল্লেখ করেছেন যে, হারুনুর রশীদের পুত্র আল-মামুন এই বছর হজ করেছিলেন। আমি অন্য কারো বর্ণনায় এটি দেখিনি, আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত। রশীদ তাঁর হজগুলোর সময় হারামাইন শরিফাইনে প্রচুর পরিমাণে সম্পদ বিতরণ করেছিলেন।

এর মধ্যে একটি হলো: ১৯৯ হিজরী সনে মানুষ কোনো ইমাম ছাড়াই আরাফাতে অবস্থান করেছিলেন এবং কোনো খুতবা ছাড়াই সালাত আদায় করেছিলেন। মক্কার আমীর হুসাইন আল-আফতাস আল-আলাভীর ভয়ে সেখান থেকে পলায়ন করার কারণে এমনটি ঘটেছিল। তাঁর মক্কায় আগমন ঘটেছিল আরাফার দিনের শেষ ভাগে এবং তিনি সেখানে রাতে অবস্থান করেছিলেন।

এর মধ্যে একটি হলো: হিজরী ২০০ সনে হাজীদের নিকটবর্তী ইবনে আমিরের বাগান লুণ্ঠিত হয় এবং কাবার গিলাফ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে আল-জুলুদী সেই গিলাফসহ লুণ্ঠিত প্রচুর সম্পদ উদ্ধার করেন। ইবনে আমিরের বাগান হলো 'বাতনে নাখলা', যেমনটি আবু আল-ফাতহ ইবনে সাইয়্যিদুন নাস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে জাহশ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নাখলা অভিযানের বর্ণনার সময়।

এর মধ্যে একটি হলো: ২৫১ হিজরী সনে মানুষ দিনে বা রাতে কোনো সময়েই আরাফাতে অবস্থান করতে পারেননি। কারণ ইসমাইল বিন ইউসুফ আল-আলাভী আরাফার দিনে সেখানে সসৈন্যে উপস্থিত হয়েছিলেন। এতে প্রায় এক হাজার একশ জন হাজী নিহত হন এবং মানুষের জানমাল লুণ্ঠিত হয়, ফলে মানুষ মক্কার দিকে পলায়ন করে।

এর মধ্যে একটি হলো: ২৯৫ হিজরী সনে মিনায় সৈন্যদের এবং মক্কার আমীর আজ্জ বিন হাজ-এর মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। খলিফা আল-মুকতাদিরের আনুগত্যের শপথের পুরস্কার দাবি করার কারণে এই লড়াই হয়েছিল, এতে তাদের মধ্য থেকে নিহত হয়...
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ১৮)
جماعة، وفر الناس إلى بستان ابن عامر.

ومنها: أن في سنة سبع عشرة وثلاثمائة وافى مكة أبوطاهر القرمطي فأسرف في قتل الحجاج وأسرهم، مع هتكه لحرمة الكعبة. وذلك أنه قتل في المسجد الحرام نحو ألف وسبعمائة من الرجال والنساء وهم متعلقون بالكعبة وردم بهم زمزم وفرش بهم المسجد وما يليه. وقتل في سكك مكة وشعابها من أهل خراسان والمغاربة وغيرهم زهاء ثلاثين ألفًا، وسبى من النساء والصبيان مثل ذلك، وقد بطل الحج من العراق بسبب القرمطي ثلاث سنين متوالية من هذه السنة، وبطل بعدها سنين كثيرة في عشر الثلاثين، وفي عشر الأربعين، وأوضحنا هذه السنين في أصل هذا الكتاب وليس كل البطالة فيها لأجل القرمطي.

ومنها: أن في سنة إحدى وأربعين وثلاثمائة أو في التي قبلها جرى قتال بين أصحاب ابن طغج والعراقيين بسبب الخطبة بمكة، وجرى مثل ذلك في سنة اثنتين وأربعين، وفي سنة ثلاث وأربعين.

ومنها: أعني سنة ثلاث -خطب بمكة والحجاز لمعز الدولة ولوالده عز الدولة بختيار، وبعدهم لابن طغج. وذكر بعضهم أن في هذه السنة منع أصحاب معز الدولة أصحاب الأخشيد من الصلاة بمنى والخطبة، وأن أصحاب الأخشيد منعوا أصحاب معز الدولة الدخول إلى مكة والطواف. انتهى بالمعنى.

ومنها: أن كافور الأخشيدي صاحب مصر كان يدعى له على المنابر بمكة والحجاز أجمع.
একটি দল, এবং মানুষ ইবনে আমিরের বাগানের দিকে পালিয়ে গেল।

এর মধ্যে একটি হলো: ৩১৭ হিজরিতে আবু তাহির আল-কারমাতি মক্কায় উপস্থিত হয় এবং হাজীদের হত্যা ও বন্দি করার ক্ষেত্রে চরম সীমালঙ্ঘন করে, সেই সাথে কাবার পবিত্রতাও ক্ষুণ্ন করে। সে মসজিদুল হারামের ভেতরে নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় এক হাজার সাতশ জনকে হত্যা করে, যখন তারা কাবা শরীফকে জড়িয়ে ধরে ছিল। সে তাদের মৃতদেহ দিয়ে জমজম কূপ ভরাট করে দেয় এবং তাদের দেহ দিয়ে মসজিদ ও তার আশপাশের এলাকা পূর্ণ করে ফেলে। সে মক্কার অলিগলি ও গিরিপথগুলোতে খোরাসানি, মাগরেবি ও অন্যান্যদের মধ্য থেকে প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষকে হত্যা করে এবং সমপরিমাণ নারী ও শিশুকে বন্দি করে। এই বছর থেকে কারমাতির কারণে ইরাক থেকে হজ টানা তিন বছর বন্ধ থাকে। এরপর ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের আরও অনেক বছর হজ স্থগিত ছিল। আমরা এই কিতাবের মূল অংশে সেই বছরগুলোর বিবরণ স্পষ্ট করেছি, যদিও হজের এই সকল স্থগিতাদেশ কেবল কারমাতির কারণে ছিল না।

এর মধ্যে আরও একটি হলো: ৩৪১ হিজরিতে অথবা তার আগের বছর মক্কায় খুতবার অধিকারকে কেন্দ্র করে ইবনে তুগজের অনুসারী এবং ইরাকিদের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। অনুরূপ ঘটনা ৩৪২ এবং ৩৪৩ হিজরিতেও ঘটেছিল।

এর মধ্যে আরও একটি হলো—অর্থাৎ ৩৪৩ হিজরি—মক্কা ও হিজাজে মুইজুদ দাওলা এবং তার পিতা ইজ্জুদ দাওলা বখতিয়ারের নামে খুতবা পাঠ করা হয়, এবং তাদের পরে ইবনে তুগজের নামে। কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, এই বছর মুইজুদ দাওলার অনুসারীরা ইখশিদিদের অনুসারীদের মিনায় নামাজ ও খুতবা দিতে বাধা প্রদান করে এবং ইখশিদিদের অনুসারীরা মুইজুদ দাওলার অনুসারীদের মক্কায় প্রবেশ ও তাওয়াফ করতে বাধা দেয়। ভাবার্থ এখানে সমাপ্ত।

এর মধ্যে আরও একটি হলো: মিশরের অধিপতি কাফুর আল-ইখশিদির জন্য মক্কা ও সমগ্র হিজাজের মিম্বরগুলোতে দোয়া (খুতবা) পাঠ করা হতো।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ১৯)
ومنها: أن في سنة ثمان وخمسين وثلاثمائة خطب بالحرمين واليمن لصاحب مصر المعز العبيدي وقطعت خطبة بني العباس، وفيها فرّق قائد من جهته أموالاً عظيمة في الحرمين.

ومنها: أن في سنة تسع وخمسين وثلاثمائة خطب بمكة للقرامطة الهجرتين مع المطيع العباسي قطعت خطبة المعز من مكة وخطب له بالمدينة، وخطب للمطيع بظاهرها ثم خطب للمعز بالحرمين في الموسم سنة ثلاث وستين.

ومنها: أن في سنة خمس وستين خطب بالحرمين لصاحب مصر العزيز بن المعز العبيدي وضيّق جيشه بالحصار فيها على أهل مكة، ودامت الخطبة له ولولده ولولد ولده، ولولد ولد ولده نحو مائة سنة كما سيأتي مبينًا إن شاء الله تعالى.

ومنها: أن في سنة ست وستين وثلاثمائة حجت جميلة بنت ناصر الدولة ابن حمدان حجًا يضرب به المثل في التجمل وأفعال البر، لأنه كان معها على ما قيل: أربعمائة كجاوة فلم يدر في أيها هي، لتساويها في الحسن والزينة، ونثرت على الكعبة لما رأتْها. وقيل: لما دخلتها عشرة آلاف دينار، وأغنت المجاورين بالحرمين.

ومنها: أن في سنة أربع عشرة وأربعمائة حصل في الحجاج قتل ونهب بمكة وبظاهرها، وسبب ذلك: أن بعض الملاحدة تجرأ على الحجر الأسود فضربه ثلاث ضربات بدبوس فقتل وقطّع وأحرق وقتل ممن اتّهم بمعاونته جماعة وكثر النهب في المغاربة والمصريين وغيرهم، وهذه الحادثة أبسط من
এর মধ্যে একটি হলো: ৩৫৮ হিজরি সনে মক্কা-মদিনা ও ইয়ামেনে মিসরের অধিপতি আল-মুইজ আল-উবাইদির নামে খুতবা পাঠ করা হয় এবং আব্বাসীয়দের খুতবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সে বছর তার পক্ষ থেকে জনৈক সেনাপতি দুই হারামে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিতরণ করেন।

আরও একটি হলো: ৩৫৯ হিজরি সনে মক্কায় আব্বাসীয় খলিফা আল-মুতি’র সাথে সাথে কারামতিয়াদের পক্ষেও খুতবা দেওয়া হয় এবং মক্কায় আল-মুইজ-এর খুতবা বন্ধ হয়ে যায়। তবে মদিনায় তার খুতবা জারি থাকে এবং মক্কার শহরতলিতে আল-মুতি’র নামে খুতবা দেওয়া হয়। অতঃপর ৩৬৩ হিজরি সনের হজের মৌসুমে পুনরায় দুই হারামে আল-মুইজ-এর নামে খুতবা পাঠ করা হয়।

আরও একটি হলো: ৩৬৫ হিজরি সনে মিসরের শাসক আল-আজিজ বিন আল-মুইজ আল-উবাইদির নামে দুই হারামে খুতবা দেওয়া হয় এবং তার সেনাবাহিনী অবরোধের মাধ্যমে মক্কাবাসীদের ওপর কঠোর চাপ সৃষ্টি করে। তার নামে, তার পুত্রের নামে এবং তার পৌত্র ও প্রপৌত্রদের নামে প্রায় একশ বছর যাবত এই খুতবা চালু ছিল, যা ইনশাআল্লাহ সামনে বিস্তারিত আলোচিত হবে।

আরও একটি হলো: ৩৬৬ হিজরি সনে নাসিরুদ্দৌলা ইবনে হামদানের কন্যা জামিলা এমনভাবে হজ পালন করেন যা জাঁকজমক ও পুণ্যকর্মের এক প্রবাদতুল্য উদাহরণ হয়ে আছে। বর্ণিত আছে যে, তার সাথে চারশ হাওদা ছিল; সৌন্দর্য ও অলঙ্করণের অভিন্নতার কারণে তিনি কোনটিতে অবস্থান করছেন তা চেনা যেত না। কাবা শরিফ দেখার পর—মতান্তরে কাবা ঘরে প্রবেশের পর—তিনি দশ হাজার দিনার বিলিয়ে দেন এবং দুই হারামে অবস্থানরতদের অভাবমুক্ত করেন।

আরও একটি হলো: ৪১৪ হিজরি সনে মক্কা ও তার আশপাশে হাজিদের ওপর হত্যা ও লুণ্ঠনের ঘটনা ঘটে। এর কারণ ছিল: এক নাস্তিক হাজরে আসওয়াদের ওপর দুঃসাহসিক হামলা চালায় এবং একটি গদা দিয়ে তাতে তিনবার আঘাত করে। পরবর্তীতে তাকে হত্যা করে দেহ ছিন্নভিন্ন করে পুড়িয়ে ফেলা হয়। তাকে সহায়তার দায়ে অভিযুক্ত একদল লোককেও হত্যা করা হয় এবং মরক্কো ও মিসরীয় হাজিসহ অন্যদের মালামাল ব্যাপক লুণ্ঠনের শিকার হয়। এই ঘটনাটি আরও বিস্তারিত...
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ২০)
هذا في أصله، وذكرها الذهبي في سنة ثلاث عشرة ونقل ذلك عن غيره والله أعلم.

ومنها: أن في سنة خمس وخمسين وأربعمائة: حج علي بن محمد الصليحي صاحب اليمن وملك فيها مكة، وفعل فيها أفعالاً حميدة من العدل والإحسان ومنع المفسدين، فآمن الناس أمنًا لم يعهدوه ورخصت الأسعار لأمره بجلب الأقوات وكثر الثناء عليه. (1)

ومنها: أن في سنة اثنتين وستين وأربعمائة: أعيدت الخطبة العباسية بمكة وخطب بها للقائم عبد الله العباسي ثم للسلطان البارسلان السلجوقي.

وذكر ابن كثير ما يقتضي أن الخطبة العباسية أعيدت بمكة في سنة سبع وخمسين.

وذكر بعض مشايخنا ما يقتضى أن ذلك وقع في سنة ثمان وخمسين وأربعمائة.

ومنها: أن في سنة سبع وستين أعيدت الخطبة بمكة لصاحب مصر المستنصر العبيدي ثم خطب للمقتدر العباسي بمكة في ذي الحجة سنة ثمان وستين. ثم أعيدت الخطبة لصاحب مصر في سنة سبعين، ثم أعيدت الخطبة للمقتدر في سنة اثنين وسبعين.

ومنها: أنه خطب بمكة للسلطان محمود بن السلطان ملكشاه السلجوقي

--------------------------------------------

(1) هذا لا ينفعه وهو خبيث العقيدة باطني، وقد تكلمنا على الباطنية في كتابنا ?إرشاد ذوي الفطن لإبعاد غلاة الروافض من اليمن?.
এটি মূলত এরূপই, আর আয-যাহাবী এটি ৪১৩ হিজরি সনের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন এবং তা অন্যদের থেকেও বর্ণনা করেছেন; আল্লাহই সম্যক জ্ঞাত।

এর মধ্যে একটি হলো: ৪৫৫ হিজরি সনে ইয়েমেনের শাসক আলী বিন মুহাম্মদ আস-সুলায়হি হজ্জ পালন করেন এবং মক্কার শাসনভার গ্রহণ করেন। তিনি সেখানে ন্যায়বিচার ও ইহসানের মাধ্যমে প্রশংসনীয় কাজ আঞ্জাম দেন এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের দমন করেন। ফলে জনগণ এমন নিরাপত্তা লাভ করে যা তারা আগে দেখেনি। তাঁর নির্দেশে খাদ্যশস্য আমদানির ফলে দ্রব্যমূল্য হ্রাস পায় এবং তাঁর প্রতি প্রশংসা বৃদ্ধি পায়। (১)

এর মধ্যে আরেকটি হলো: ৪৬২ হিজরি সনে মক্কায় আব্বাসী খুতবা পুনরায় প্রবর্তিত হয় এবং সেখানে আল-কায়িম আব্দুল্লাহ আল-আব্বাসী এবং অতঃপর সুলতান আল্প আরসালান সেলজুকির নামে খুতবা পাঠ করা হয়।

ইবনে কাসীর এমন কিছু বর্ণনা করেছেন যা ইঙ্গিত দেয় যে, মক্কায় আব্বাসী খুতবা ৪৫৭ হিজরি সনে পুনরায় চালু হয়েছিল।

আমাদের কোনো কোনো শাইখ এমন বর্ণনা দিয়েছেন যার দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, এটি ৪৫৮ হিজরি সনে সংঘটিত হয়েছে।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: ৪৬৭ হিজরি সনে মক্কায় মিসরের অধিপতি আল-মুস্তানসির আল-উবায়দীর নামে পুনরায় খুতবা শুরু হয়। অতঃপর ৪৬৮ হিজরি সনের জিলহজ্জ মাসে মক্কায় আল-মুক্তাদির আল-আব্বাসীর নামে খুতবা দেওয়া হয়। এরপর ৪৭০ হিজরি সনে পুনরায় মিসরের অধিপতির জন্য খুতবা পাঠ করা হয় এবং পরবর্তীতে ৪৭২ হিজরি সনে পুনরায় আল-মুক্তাদিরের নামে খুতবা প্রবর্তিত হয়।

এর মধ্যে একটি হলো: মক্কায় সুলতান মালিকশাহ সেলজুকির পুত্র সুলতান মাহমুদের নামে খুতবা পাঠ করা হয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) এটি তার কোনো উপকারে আসবে না, কারণ সে ভ্রান্ত আকীদার অধিকারী একজন বাতেনী ছিল। আমরা আমাদের গ্রন্থ ‘ইরশাদু যাবিল ফাতান লি ইবআদি গুলাতির রাওয়াফিযি মিনাল ইয়ামান’-এ বাতেনীদের সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ২১)
في سنة خمس وثمانين وأربعمائة.

ومنها: أنه خطب في الحرمين لأخيه السلطان سنجر بن السلطان ملكشاه السلجوقي.

ومنها: أن في سنة تسع وثلاثين وخمسمائة: نهب الحجاج العراقيون وهم يطوفون ويصلون في المسجد الحرام لوحشة كانت بين أمير الحاج العراقي في نظر الخادم، وأمير مكة هاشم بن فليتة.

ومنها: أن السلطان نور الدين محمود بن زنكي صاحب دمشق وغيرها حج في سنة ست وخمسين وخمسمائة، ثم خطب له بمكة بعد استيلاء المعظم توران شاه بن أيوب أخي السلطان صلاح الدين يوسف بن أيوب على اليمن، واستيلاؤه عليه كان في سنة ثمان وستين وخمسمائة، وقيل: في سنة تسع وستين وخمسمائة.

ومنها: أن في سنة سبع وخمسين وخمسمائة نهب أهل مكة للحجاج العراقيين نحو ألف جمل لفتنة كانت بين الفريقين، قتل فيها جماعة منهما وعاد جماعة من الحجاج قبل تمام حجهم.

ومنها: أن في سنة إحدى وستين وخمسمائة أعفي الحجاج من تسليم المكس كرامة لعمران بن محمد بن الذريع اليامي الهمداني صاحب عدن لوصول تابوته فيها إلى مكة من عدن، وإنما حمل إلى مكة لشغفه في حياته بالحج فأحضر في مشاعره وصلي عليه خلف المقام ودفن بالمعلاة.

ومنها: أن الحجاج مكثوا بعرفة إلى الصباح خوفًا من فتنة كانت بين
চারশত পঁচাশি হিজরি সনে।

এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো: সুলতান মালিকশাহ সেলজুকির পুত্র সুলতান সানজারের অনুকূলে তাঁর ভাই হারামাইন শরিফাইনে খুৎবা পাঠ করিয়েছিলেন।

অন্যটি হলো: পাঁচশত ঊনচল্লিশ হিজরি সনে ইরাকি হাজিরা যখন মসজিদুল হারামে তাওয়াফ ও নামাজে মগ্ন ছিলেন, তখন তারা লুণ্ঠনের শিকার হন। খাদেমের তত্ত্বাবধানে থাকা ইরাকি হজ কাফেলার আমীর এবং মক্কার আমীর হাশিম বিন ফালিতার মধ্যকার তিক্ত সম্পর্কের কারণে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

এর মধ্যে আরও একটি হলো: দামেস্ক ও অন্যান্য অঞ্চলের অধিপতি সুলতান নুরউদ্দিন মাহমুদ বিন জাঙ্গি পাঁচশত ছাপ্পান্ন হিজরি সনে হজ পালন করেন। অতঃপর সুলতান সালাহউদ্দিন ইউসুফ বিন আইয়ুবের ভ্রাতা আল-মুয়াজ্জাম তুরানশাহ বিন আইয়ুব কর্তৃক ইয়ামেন বিজিত হওয়ার পর মক্কায় তাঁর (নুরউদ্দিন জাঙ্গির) নামে খুৎবা পাঠ করা হয়। এই বিজয়টি পাঁচশত আটষট্টি হিজরি সনে সম্পন্ন হয়েছিল, আবার কারো মতে পাঁচশত উনসত্তর হিজরি সনে।

এর মধ্যে একটি হলো: পাঁচশত সাতান্ন হিজরি সনে মক্কাবাসী ও ইরাকি হাজিদের মধ্যকার এক দাঙ্গার কারণে হাজিদের প্রায় এক হাজার উট লুণ্ঠিত হয়। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের একদল লোক নিহত হয় এবং অনেক হাজি তাদের হজ সম্পন্ন করার পূর্বেই ফিরে যান।

এর মধ্যে আরও একটি হলো: পাঁচশত একষট্টি হিজরি সনে এডেনের অধিপতি ইমরান বিন মুহাম্মদ বিন জুরআই আল-ইয়ামি আল-হামদানির সম্মানে হাজিদেরকে শুল্ক বা কর প্রদান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মূলত এডেন থেকে মক্কায় তাঁর কফিন পৌঁছানোর কারণে এই সম্মান প্রদর্শন করা হয়। জীবিত থাকাকালীন হজের প্রতি তাঁর তীব্র অনুরাগের কারণেই তাঁর মরদেহ মক্কায় আনা হয়েছিল। তাঁকে পবিত্র হজের স্থানসমূহে (মাশায়ের) উপস্থিত করা হয়, মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে তাঁর জানাজা পড়া হয় এবং মুআল্লা কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

এর মধ্যে একটি হলো: হাজিরা এক দাঙ্গার ভয়ে ভোর পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান করেন, যা সংঘটিত হয়েছিল...
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ২২)
عيسى بن فليتة -أمير مكة- وأخيه مالك بن فليتة وذلك في سنة خمس وستين وخمسمائة، وبات الحجاج العراقيون بعرفة أيضًا في سنة سبعين وخمسمائة، وهذا لأنّهم إنما وصلوا إلى عرفة في يومها.

ومنها: أن في سنة إحدى وسبعين وخمسمائة لم يوفّ أكثر الحجاج العراقيين المناسك لأنّهم ما باتوا بمزدلفة وما نزلوا بمنى، ونزلوا الأبطح في يوم النحر، وسبب ذلك فتنة عظيمة كانت بين طاشتكين أمير الحاج العراقي وبين مكثر بن عيسى بن فليتة أمير مكة ظفر فيها طاشتكين وأمر بهدم القلعة التى كانت بمكة لمكثر على أبي قبيس، ونهبت أموال كثيرة.

ومنها: أن في سنة اثنتين وسبعين وخمسمائة: أبطل السلطان صلاح الدين يوسف بن أيوب المكس المأخوذ من الحجاج في البحر إلى مكة على طريق عبدان، وكان ذلك معلومًا لأمير مكة، فعوضه السلطان صلاح الدين عن ذلك ألفي دينار وألف أردب قمح، وإقطاعات بصعيد مصر وجهة اليمن، وقيل: إنه عوضه عن ذلك مبلغ ثمانية آلاف أردب قمح يحمل إليه كل عام إلى ساحل جدة. والله أعلم. انتهى

وكان يخطب بمكة للسلطان صلاح الدين المذكور بعد مكثر بن عيسى بن فليتة أمير مكة، وما علمت ابتداء وقت الخطبة له بمكة والله أعلم.

ومنها: أن جماعة من الحجاج وهم أربعة وثلاثون نفرًا ماتوا في الكعبة المعظمة من الزحام، في سنة إحدى وثمانين وخمسمائة.

ومنها: أن في يوم عرفة من سنة ثلاث وثمانين وخمسمائة تحارب بعض الحجاج الشاميين والعراقيين في عرفة، فغلب العراقيون الشاميين، وقتلوا
মক্কার আমির ঈসা বিন ফালিতা এবং তাঁর ভাই মালিক বিন ফালিতা—ঘটনাটি ছিল পাঁচশত পঁয়ষট্টি হিজরি সালের। পাঁচশত সত্তর হিজরি সালেও ইরাকি হাজিগণ আরাফায় রাত যাপন করেছিলেন, এর কারণ ছিল তাঁরা আরাফার দিনেই সেখানে পৌঁছেছিলেন।

এর মধ্যে অন্যতম হলো: পাঁচশত একাত্তর হিজরি সালে অধিকাংশ ইরাকি হাজি তাঁদের হজের কার্যাবলি পূর্ণ করতে পারেননি; কারণ তাঁরা মুজদালিফায় রাত যাপন করেননি এবং মিনায় অবস্থান করেননি। বরং তাঁরা কোরবানির দিনে আবতাহ নামক স্থানে অবস্থান গ্রহণ করেন। এর কারণ ছিল ইরাকি হজের আমির তাশতিকিন এবং মক্কার আমির মুকাসসির বিন ঈসা বিন ফালিতার মধ্যে সংঘটিত এক ভয়াবহ বিবাদ, যাতে তাশতিকিন বিজয়ী হন। তিনি আবু কুবাইস পাহাড়ের ওপর অবস্থিত মুকাসসিরের মক্কার দুর্গটি ধ্বংস করার নির্দেশ দেন এবং এ সময় প্রচুর সম্পদ লুণ্ঠিত হয়।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: পাঁচশত বাহাত্তর হিজরি সালে সুলতান সালাহউদ্দীন ইউসুফ বিন আইয়ুব সমুদ্রপথে আবদান রুট হয়ে মক্কায় আসা হাজিদের ওপর ধার্যকৃত কর বাতিল করেন। এটি মক্কার আমিরের প্রাপ্য হিসেবে নির্ধারিত ছিল, তাই সুলতান সালাহউদ্দীন এর বিনিময়ে তাঁকে দুই হাজার দিনার, এক হাজার ইরদাব গম এবং উচ্চ মিসর ও ইয়েমেনের কিছু অঞ্চলের জায়গির প্রদান করেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি এর বিনিময়ে তাঁকে বার্ষিক আট হাজার ইরদাব গম প্রদানের ব্যবস্থা করেছিলেন, যা প্রতি বছর জেদ্দা বন্দরে পৌঁছে দেওয়া হতো। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। সমাপ্ত।

মক্কার আমির মুকাসসির বিন ঈসা বিন ফালিতার পরবর্তী সময়ে মক্কায় উল্লিখিত সুলতান সালাহউদ্দীনের নামে খুতবা পাঠ করা হতো। তবে মক্কায় তাঁর নামে খুতবা পাঠের সূচনা ঠিক কবে থেকে হয়েছিল তা আমার জানা নেই। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: পাঁচশত একাশি হিজরি সালে ভিড়ের চাপে সম্মানিত কাবার অভ্যন্তরে চৌত্রিশ জন হাজির একটি দল মৃত্যুবরণ করেন।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: পাঁচশত তিরাশি হিজরি সালের আরাফার দিনে কিছু শামি ও ইরাকি হাজিদের মধ্যে আরাফার ময়দানে যুদ্ধ সঙ্ঘটিত হয়। এতে ইরাকিরা শামি হাজিদের ওপর বিজয়ী হয় এবং তারা হত্যা করে...
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ২৩)
منهم جماعة ونهبوهم.

ومنها: أن في سنة ثمان وستمائة حصل في الحجاج العراقيين قتل ونهب فاحش، حتى قيل: إنه أخذ من المال والمتاع وغيره ما قيمته ألفا ألف دينار. حكى ذلك أبوشامة، وكانت هذه البلية بمكة ومنى، وهي بمنى أعظم. وذكر ابن محفوظ: أنه كان بين العراقيين وأهل مكة فتنة بمنى في سنة سبع وستمائة، ولم أر ما يدل لذلك. والله أعلم.

ومنها: أن صاحب دمشق المعظم عيسى بن العادل أبي بكر بن أيوب حج في سنة إحدى عشرة وستمائة، وتصدق فيها بالحرمين صدقة كبيرة.

ومنها: أنه كان يخطب بمكة لوالده الملك السلطان العادل أبي بكر بن أيوب أخي السلطان صلاح الدين يوسف بن أيوب صاحب مصر والشام.

ومنها: أن في سنة سبع عشرة وستمائة: منع صاحب مكة حسن بن قتادة الحجاج العراقيين من دخول مكة، ثم أذن لهم في ذلك، بعد قتل أصحابه لأمير الحاج العراقي اقباش الناصري مملوك الخليفة الناصر لدين الله، لاتّهامه بأنه يريد أن يولي راجح بن قتادة أخا حسن مكة عوضه.

وكان حسن متوليًّا لها بعد أبيهما قتادة، وفيها مات قتادة ونصب رأس اقباش بالمسعى عند دار العباس، ثم دفن مع جسده بالمعلاة.

ومنها: أن جماعة من الحجاج ماتوا بالمسعى من الزحام في سنة سبع عشرة وستمائة.

ومنها: أن المسعود صاحب اليمن حج من اليمن في سنة تسع عشرة
তাদের মধ্য থেকে একদলকে হত্যা করা হলো এবং তাদের ধন-সম্পদ লুণ্ঠন করা হলো।

এর মধ্যে একটি ঘটনা হলো: ৬০৮ হিজরি সনে ইরাকি হাজিদের মধ্যে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও ভয়াবহ লুণ্ঠন সংঘটিত হয়। এমনকি বলা হয় যে, লুণ্ঠিত অর্থ-সম্পদ ও আসবাবপত্রের মূল্য ছিল বিশ লক্ষ দিনার। আবু শামাহ এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন। এই বিপর্যয় মক্কা ও মিনা উভয় স্থানেই ঘটেছিল, তবে মিনায় এর প্রকোপ ছিল অধিক। ইবনে মাহফুজ উল্লেখ করেছেন যে, ৬০৭ হিজরি সনে মিনায় ইরাকিদের ও মক্কাবাসীদের মধ্যে এক ফিতনা বা দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছিল; তবে আমি এর সপক্ষে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ পাইনি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

অন্যটি হলো: দামেস্কের অধিপতি আল-মুয়াজ্জাম ঈসা বিন আল-আদিল আবু বকর বিন আইয়ুব ৬১১ হিজরি সনে হজ পালন করেন এবং সেই বছর তিনি দুই পবিত্র হারামে (মক্কা ও মদিনা) প্রচুর দান-সদকা করেন।

অন্যটি হলো: তখন মক্কায় খুতবা পাঠ করা হতো তার পিতা সুলতান আল-আদিল আবু বকর বিন আইয়ুবের নামে, যিনি ছিলেন মিসর ও সিরিয়ার অধিপতি সুলতান সালাহউদ্দীন ইউসুফ বিন আইয়ুবের ভাই।

অন্যটি হলো: ৬১৭ হিজরি সনে মক্কার অধিপতি হাসান বিন কাতাদাহ ইরাকি হাজিদের মক্কায় প্রবেশে বাধা প্রদান করেন। অতঃপর তার অনুসারীরা ইরাকি হজের আমির এবং খলিফা আন-নাসির লিদীনিল্লাহর মুক্তদাস আকবাশ আন-নাসিরিকে হত্যা করার পর তিনি তাদের প্রবেশের অনুমতি দেন। তাকে হত্যার কারণ ছিল এই অভিযোগ যে, তিনি হাসানের পরিবর্তে তার ভাই রাজেহ বিন কাতাদাহকে মক্কার ক্ষমতায় আসীন করতে চেয়েছিলেন।

হাসান তার পিতা কাতাদাহর মৃত্যুর পর মক্কার শাসনভার গ্রহণ করেছিলেন। সেই বছরই কাতাদাহ মৃত্যুবরণ করেন। আকবাশের মস্তক মাসআর নিকটবর্তী দারুল আব্বাসের নিকট ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল, অতঃপর তার দেহের সাথে তাকে মুয়াল্লায় সমাহিত করা হয়।

অন্যটি হলো: ৬১৭ হিজরি সনে মাসআতে প্রচণ্ড ভিড়ের চাপে একদল হাজির মৃত্যু ঘটে।

অন্যটি হলো: ইয়েমেনের অধিপতি আল-মাসউদ ৬১৯ হিজরি সনে ইয়েমেন থেকে এসে হজ সম্পাদন করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ২৪)
وستمائة، وبدا منه ما لا يحمد، من رميه حمام مكة بالبندق فوق زمزم، ومن منعه إطلاع علم الخليفة الناصر العباسي جبل الرحمة بعرفة، وقيل: إنه أذّن في ذلك اليوم قبيل الغروب، وغير ذلك من الأمور المنسوبة إليه.

وذكر ابن الأثير ما يقتضى أنه حج سنة ثمان عشرة والله أعلم. وسبق في الباب قبله أنه ولي مكة وكان حال الناس بها حسنًا في ولايته لهيبته، وإليه ينسب الدرهم المسعودي المتعامل به بمكة.

ومنها: أنه كان يخطب بها لوالده الملك الكامل ناصر الدين أبي المعالي محمد بن الملك العادل أبي بكر بن أيوب صاحب مصر، ولعل ذلك بعد ملك ولده المسعود لمكة، والله أعلم.

ومنها: أن الملك المنصور نور الدين عمر بن علي بن رسول صاحب اليمن: خطب له بمكة في سنة تسع وعشرين وستمائة.

وفيها: ولي مكة بعد مبايعته بالسلطنة في بلاد اليمن في هذه السنة. وحج الملك المنصور المذكور في سنة إحدى وثلاثين وستمائة على النجب حجًّا هيّنًا، وحج أيضًا في سنة تسع وثلاثين وستمائة، وصام رمضان في هذه السنة بمكة.

ومنها: أن في سنة سبع وثلاثين وستمائة خطب بمكة لصاحب مصر الصالح أيوب بن الكامل.

وممن خطب له بمكة من بني أيوب: صاحب مصر الأشرف موسى بن الناصر يوسف بن المسعود أقسيس بن الكامل في سنة اثنين وخمسين وستمائة. وفيها خطب معه لأتابكة المعز أيبك التركماني الصالحي.
...এবং ছয়শত হিজরি সনে, তাঁর পক্ষ থেকে এমন কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় প্রকাশ পায় যা প্রশংসনীয় নয়; যেমন যমযমের উপরে মক্কার কবুতর লক্ষ্য করে গুলতি ছোঁড়া এবং আরাফাতের জাবালে রহমতে আব্বাসীয় খলিফা আন-নাসিরের পতাকা উত্তোলনে বাধা প্রদান করা। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি সেই দিনে সূর্যাস্তের কিছুক্ষণ পূর্বে আযান দিয়েছিলেন এবং এ জাতীয় আরও অনেক বিষয় তাঁর প্রতি আরোপ করা হয়।

ইবনুল আসীর এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে তিনি হিজরি ৬১৮ সনে হজ পালন করেছিলেন, আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত। পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে অতিক্রান্ত হয়েছে যে তিনি মক্কার শাসনভার গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর গাম্ভীর্যের কারণে সেখানে জনগণের অবস্থা অত্যন্ত ভালো ছিল; আর মক্কায় লেনদেনে ব্যবহৃত ‘মাসউদি দিরহাম’ তাঁরই নামে নামাঙ্কিত।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: সেখানে তাঁর পিতা মিশরের অধিপতি আল-মালিকুল কামিল নাসিরুদ্দিন আবু আল-মাআলি মুহাম্মদ ইবনে আল-মালিকুল আদিল আবু বকর ইবনে আইয়ুবের নামে খুতবা পাঠ করা হতো; সম্ভবত এটি তাঁর পুত্র আল-মাসউদের মক্কা অধিকারের পর সংঘটিত হয়েছিল, আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।

আরও একটি বিষয় হলো: ইয়েমেনের অধিপতি আল-মালিকুল মানসুর নূরুদ্দিন উমর ইবনে আলী ইবনে রাসূলের নামে হিজরি ৬২৯ সনে মক্কায় খুতবা পাঠ করা হয়।

সেই বছরই ইয়েমেন ভূখণ্ডে সুলতান হিসেবে তাঁর আনুগত্যের শপথ গ্রহণের পর তিনি মক্কার শাসনভার লাভ করেন। উল্লিখিত আল-মালিকুল মানসুর হিজরি ৬৩১ সনে দ্রুতগামী উটের পিঠে আরোহণ করে অত্যন্ত সহজভাবে হজ সম্পাদন করেন। তিনি হিজরি ৬৩৯ সনেও পুনরায় হজ করেন এবং সে বছর মক্কায় রমজানের রোজা পালন করেন।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: হিজরি ৬৩৭ সনে মক্কায় মিশরের অধিপতি আস-সালিহ আইয়ুব ইবনুল কামিলের নামে খুতবা পাঠ করা হয়েছিল।

বনু আইয়ুবের মধ্যে যাদের নামে মক্কায় খুতবা পাঠ করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে মিশরের অধিপতি আল-আশরাফ মুসা ইবনে আন-নাসির ইউসুফ ইবনে আল-মাসউদ আকসিস ইবনুল কামিল অন্যতম, যা হিজরি ৬৫২ সনে সংঘটিত হয়। সেই একই বছর তাঁর সাথে আতাবেক আল-মুয়িজ আইবাক আল-তুর্কমানি আস-সালিহির নামেও খুতবা পাঠ করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ২৫)
وفيها: تسلطن المعز المذكور في شعبان. وممن خطب له بمكة من ملوك مصر: الظاهر بيبرس الصالحي، ومن بعده من ملوك مصر إلى تاريخه إلا المنصور عبد العزيز بن الظاهر برقوق لكونه لم يصل له نجاب، وأشك في الخطبة بمكة لابني الظاهر بيبرس والعادل كتبغا، والمنصور لاجين، وأكبر ظني أنه خطب لهم. والله أعلم.

وكان للناصر محمد بن قلاوون من نفوذ الكلمة بمكة، واستبداده بأمر الولاية فيها ما لم يكن لمن قبله من ملوك الترك بمصر، واستبد من بعده من ملوك مصر بالولاية بمكة.

ومنها: أن في سنة تسع وثلاثين وستمائة أسقط السلطان الملك المنصور صاحب اليمن عن مكة سائر المكوسات والجنايات والمظالم، وكتب بذلك مربعة وجعلت قبالة الحجر الأسود، ودامت هذه المربعة إلى أن قلعها ابن المسيب لما ولي مكة في سنة ست وأربعين وستمائة، وأعاد الجنايات والمكوسات بمكة.

ومنها: على ما وجدت بخط الميورقي لم يحج سنة خمس وخمسين وستمائة من الآفاق ركب سوى حجاج الحجاز. انتهى.

ومنها: أن الملك المظفر يوسف بن المنصور صاحب اليمن حج في سنة تسع وخمسين وستمائة، وغسل الكعبة بنفسه وطيبها، وما كساها بعد انقضاء الخلافة من بغداد ملك قبله، وقام أيضًا بمصالح الحرم وأهله، وأوسع في الصدقة حين حج، ومن أفعاله الجميلة بمكة أنه نثر على الكعبة الذهب والفضة وكان يخطب له بمكة في غالب سلطنته، وخطب من بعده لملوك
এবং এতে (উক্ত বছরে): উল্লিখিত আল-মুয়িজ শাবান মাসে সিংহাসনে আরোহণ করেন। মিশরের সুলতানদের মধ্যে মক্কায় যাঁর নামে খুতবা পাঠ করা হয়েছিল, তিনি হলেন আল-জাহির বিবারস আস-সালিহি এবং তাঁর পরবর্তী মিশরের সুলতানগণ অদ্যবধি, তবে আল-মানসুর আব্দুল আজিজ বিন আল-জাহির বারকুক ব্যতীত; কারণ তাঁর নিকট কোনো দ্রুতগামী সংবাদবাহক পৌঁছেনি। আল-জাহির বিবারসের দুই পুত্র, আল-আদিল কিতবুগা এবং আল-মানসুর লাজিনের নামে মক্কায় খুতবা পাঠের বিষয়ে আমার সংশয় রয়েছে, তবে আমার প্রবল ধারণা যে তাদের নামেও খুতবা পাঠ করা হয়েছিল। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

আর আন-নাসির মুহাম্মাদ বিন কালাউনের মক্কায় এমন প্রভাব-প্রতিপত্তি এবং সেখানকার শাসনক্ষমতার ওপর এমন একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, যা মিশরের তুর্কি সুলতানদের মধ্যে তাঁর পূর্ববর্তী আর কারো ছিল না। তাঁর পরবর্তী মিশরের সুলতানগণও মক্কার শাসনক্ষমতায় একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখেন।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: ছয়শত ঊনচল্লিশ হিজরি সনে ইয়েমেনের শাসক সুলতান আল-মালিক আল-মানসুর মক্কা থেকে সকল প্রকার শুল্ক, জরিমানা ও জুলুম রহিত করেন। তিনি এ বিষয়ে একটি চারকোনা শিলালিপি লিখিয়েছিলেন এবং তা হাজরে আসওয়াদের সামনে স্থাপন করা হয়েছিল। এই শিলালিপিটি ততক্ষণ পর্যন্ত বহাল ছিল, যতক্ষণ না ইবনে আল-মুসাইয়িব ছয়শত ছেচল্লিশ হিজরি সনে মক্কার শাসনভার গ্রহণ করে তা উপড়ে ফেলেন এবং পুনরায় মক্কায় জরিমানা ও শুল্ক ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: আল-মায়ুরকির হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিতে আমি যেমনটি পেয়েছি যে, ছয়শত পঞ্চান্ন হিজরি সনে হিজাজের হাজিগণ ব্যতীত বিশ্বের অন্য কোনো প্রান্ত থেকে কোনো কাফেলা হজ পালন করতে আসেনি। সমাপ্ত।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: ইয়েমেনের শাসক আল-মালিক আল-মুজাফ্ফর ইউসুফ বিন আল-মানসুর ছয়শত উনষাট হিজরি সনে হজ পালন করেন। তিনি নিজ হাতে কাবা শরিফ ধৌত করেন এবং সুগন্ধি লাগান। বাগদাদে খিলাফতের অবসানের পর তাঁর পূর্বে আর কোনো রাজা কাবা শরিফে গিলাফ চড়াননি। তিনি হারাম শরিফ ও এর বাসিন্দাদের কল্যাণে নানাবিধ কাজ করেন এবং হজের সময় প্রচুর দান-সদকা করেন। মক্কায় তাঁর মহৎ কাজগুলোর অন্যতম হলো তিনি কাবার ওপর সোনা ও রুপা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর শাসনের অধিকাংশ সময় মক্কায় তাঁর নামে খুতবা পাঠ করা হতো এবং তাঁর পরে অন্যান্য রাজাদের নামেও খুতবা পাঠ করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ২৬)
اليمن من ذريته بعد الخطبة لصاحب مصر.

ومنها: على ما قال الميورقي: لم ترفع راية لملك من الملوك سنة ستين وستمائة. كسنة خمس وخمسين وستمائة. انتهى منقولاً من خطه، وأراد بذلك وقت الوقوف بعرفة.

ومنها: أن الحجاج العراقيين توجهوا إلى مكة في سنة ست وستين وستمائة، وما علمت لهم بتوجه لهم قبل ذلك من بغداد بعد غلبة التتار عليها.

ومنها: أن الملك الظاهر بيبرس الصالحي صاحب مصر حج سنة سبع وستين وستمائة، وغسل الكعبة وأمر بتلبيسها في كل سنة، وأحسن كثيرًا إلى أميري مكة بسبب ذلك، وعظمت صدقته في الحرمين.

ومنها: أن العراقيين حجوا من بغداد في سنة تسع وستين وستمائة ولم يحج فيها من مصر أحد، وحج من العراق ركب كبير في سنة ثمان وثمانين وستمائة.

ومنها: أن الحجاج ازدحموا في خروجهم إلى العمرة من باب المسجد الحرام المعروف بباب العمرة، فمات في الزحمة منهم جمع كبير يبلغون ثمانين نفرًا على ما قيل، وذلك بعد الحج من سنة سبع وسبعين وسبعمائة.

ومنها: أن في سنة ثلاث وثمانين وستمائة صدّ الحجاج عن دخول مكة، ثم دخلوها هجمًا في يوم التروية بعد ثقبهم السور، وإحراقهم لباب المعلاة وفرار أبي نمى أمير مكة منها، وهو الصاد لهم لوحشة كانت بينه وبين
মিশর অধিপতির নামে খোতবা পাঠ করার পর তাঁর বংশধররাই ইয়ামেন শাসন করেন।

এর মধ্যে রয়েছে: আল-মায়ুরকির বর্ণনা অনুযায়ী, ৬৬০ হিজরি সনে কোনো বাদশাহর পতাকা উত্তোলন করা হয়নি, যেমনটি ৬৫৫ হিজরি সনে করা হয়েছিল। এটি তাঁর স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধৃত হয়েছে এবং এর দ্বারা তিনি আরাফাতে অবস্থানের সময়টিকে উদ্দেশ্য করেছেন।

এর মধ্যে রয়েছে: ৬৬৬ হিজরি সনে ইরাকি হাজিগণ মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং তাতারীদের বাগদাদ দখলের পর এর আগে তাদের এমন যাত্রার সংবাদ আমার জানা নেই।

এর মধ্যে রয়েছে: মিশরের অধিপতি আল-মালিক আল-জাহির বাইবার্স আস-সালিহি ৬৬৭ হিজরি সনে হজ পালন করেন। তিনি কাবা শরিফ ধৌত করেন এবং প্রতি বছর কাবার গিলাফ প্রদানের আদেশ দেন। এ উপলক্ষে তিনি মক্কার দুই আমিরের প্রতি অশেষ অনুগ্রহ প্রদর্শন করেন এবং হারামাইন শরিফাইনে তাঁর দান-সদকা বৃদ্ধি পায়।

এর মধ্যে রয়েছে: ৬৬৯ হিজরি সনে বাগদাদ থেকে ইরাকিরা হজ পালন করেন, অথচ সেই বছর মিশর থেকে কেউ হজে যাননি। আবার ৬৮৮ হিজরি সনে ইরাক থেকে এক বিশাল কাফেলা হজ সম্পন্ন করে।

এর মধ্যে রয়েছে: হাজিগণ যখন মসজিদে হারামের ‘বাবুল ওমরাহ’ নামক দরজা দিয়ে ওমরাহর উদ্দেশ্যে বের হচ্ছিলেন, তখন প্রচণ্ড ভিড়ের সৃষ্টি হয়। উক্ত ভিড়ে পিষ্ট হয়ে একটি বড় দল মারা যায়, যাদের সংখ্যা প্রায় আশি জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে; আর এটি ছিল ৭৭৭ হিজরি সনের হজের পরবর্তী ঘটনা।

এর মধ্যে রয়েছে: ৬৮৩ হিজরি সনে হাজিদের মক্কায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। অতঃপর তারা প্রাচীর ছিদ্র করে এবং বাবুল মুআল্লা পুড়িয়ে দিয়ে ইয়াউমুত তারবিয়াহর দিন অতর্কিত মক্কায় প্রবেশ করেন। এতে মক্কার আমির আবু নুমাই সেখান থেকে পলায়ন করেন। মূলত তাঁর এবং ... এর মধ্যকার মনোমালিন্যের কারণেই তিনি তাদের বাধা দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ২৭)
أمير الحاج المصري ثم اصطلحا، وقيل في سبب هذه الفتنة غير ذلك، والله أعلم.

ومنها: أن الحاج وأهل مكة تقاتلوا في المسجد الحرام، فقتل من الفريقين على ما قيل فوق أربعين نفرًا، وشهر فيها في المسجد الحرام من السيوف نحو عشرة آلاف، وانتهبت الأموال وتثبت أبو نمى في الأخذ، ولو قصد الجميع لتم له ذلك. ذكر هذه الحادثة على ما ذكرناه الشيخ تاج الدين بن الفركاح، وذلك في سنة تسع وثمانين وستمائة.

ومنها: أن الخليفة بمصر الملقب بالحاكم أحمد العباسي حج في سنة سبع وتسعين وستمائة، وهو أول خليفة عباسي حج من مصر، وثاني خليفة عباسي بعد المستعصم. ونسبته تتصل بالمسترشد، فإنه أحمد بن أبي علي بن علي بن أبى بكر المسترشد، وأعطاه لاجين المنصوري صاحب مصر سبعمائة ألف درهم لأجل حجه.

ومنها: أن صاحبي مكة حميضة ورميثة ابني أبي نمى: أسقطا بعض المكوس في سنة أربع وسبعمائة، وفي التي قبلها.

ومنها: أن الناصر محمد بن قلاوون صاحب مصر: حج في سنة اثنتي عشرة وسبعمائة ومعه نحو أربعين أميرًا، وستة آلاف مملوك على الهجن ومائة فرس، وحج أيضًا في سنة تسع عشرة وسبعمائة، وفي سنة اثنين وثلاثين وسبعمائة. وكان معه لما حج في سنة تسع عشرة وسبعمائة نحو خمسين أميرًا، وأكثر فيها من فعل المعروف في الحرمين. وفيها: غسل الكعبة بيده. وكان معه لما حج في سنة اثنين وثلاثين نحو سبعين أميرًا وتصدق فيها بعد
মিশরীয় আমীরুল হজ, অতঃপর তাঁরা সন্ধি করেন। এই ফিতনার কারণ সম্পর্কে অন্য কথাও বর্ণিত হয়েছে, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

এর মধ্যে একটি হলো: হাজিগণ এবং মক্কাবাসীরা মসজিদুল হারামে যুদ্ধে লিপ্ত হন। বর্ণিত আছে যে, এতে উভয় পক্ষের চল্লিশ জনেরও অধিক লোক নিহত হয়। সেই সময় মসজিদুল হারামে প্রায় দশ হাজার তলোয়ার কোষমুক্ত করা হয়েছিল এবং সম্পদ লুণ্ঠিত হয়েছিল। আবু নুমাই সম্পদ হস্তগত করার ক্ষেত্রে সংযম ও সতর্কতা প্রদর্শন করেছিলেন; তিনি যদি সবকিছুর ইচ্ছা করতেন তবে তা অর্জন করতে পারতেন। শেখ তাজউদ্দীন বিন আল-ফুরকাহ এই ঘটনাটি আমাদের উল্লিখিত বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, আর এটি ছিল ৬৮৯ হিজরি সালের ঘটনা।

এর মধ্যে আরেকটি হলো: মিশরের খলিফা আল-হাকিম আহমাদ আল-আব্বাসি ৬৯৭ হিজরি সালে হজ পালন করেন। তিনি ছিলেন মিশর থেকে হজ পালনকারী প্রথম আব্বাসীয় খলিফা এবং আল-মুস্তাসিমের পর দ্বিতীয় আব্বাসীয় খলিফা। তাঁর বংশলতিকা আল-মুস্তারশিদের সাথে মিলিত হয়েছে; তিনি হলেন আহমাদ বিন আবি আলি বিন আলি বিন আবি বকর আল-মুস্তারশিদ। মিশরের অধিপতি লাজিন আল-মানসুরি তাঁর হজের উদ্দেশ্যে সাত লক্ষ দিরহাম প্রদান করেছিলেন।

এর মধ্যে রয়েছে: মক্কার দুই শাসক আবু নুমাইয়ের দুই পুত্র হুমাইদাহ ও রুমাইসাহ ৭০৪ হিজরি এবং তার পূর্ববর্তী বছরে কিছু শুল্ক বা কর রহিত করেছিলেন।

এর মধ্যে আরেকটি হলো: মিশরের অধিপতি আন-নাসির মুহাম্মাদ বিন কালাউন ৭১২ হিজরি সালে হজ করেন। তাঁর সাথে প্রায় চল্লিশ জন আমীর এবং দ্রুতগামী উটের পিঠে ছয় হাজার মামলুক ও একশটি ঘোড়া ছিল। তিনি ৭১৯ হিজরি এবং ৭৩২ হিজরি সালেও হজ পালন করেন। ৭১৯ হিজরি সালে হজের সময় তাঁর সাথে প্রায় পঞ্চাশ জন আমীর ছিলেন এবং সেই সফরে তিনি হারামাইন শরিফাইনে প্রচুর জনহিতকর কাজ সম্পাদন করেন। সেই বছরই তিনি নিজ হাতে কাবা শরিফ ধৌত করেন। ৭৩২ হিজরি সালে হজের সময় তাঁর সাথে প্রায় সত্তর জন আমীর ছিলেন এবং এরপর তিনি সেখানে প্রচুর দান-সদকা করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ২৮)
حجه.

ويقال: إن خطبته قطعت من مكة وخطب عوضه بها لأبي سعيد بن خربندا ملك العراقيين بأمر حميضة بن أبي نمى بعد أن رجع من العراق في آخر سنة ست عشرة وسبعمائة، أو في التي بعدها. والله أعلم.

ومنها: أن الحجاج في سنة عشرين وسبعمائة صلوا خمس صلوات بمنى أولها الظهر من يوم التروية وآخرها الصبح من يوم عرفة، وساروا إليها بعد طلوع الشمس، وأحيوا هذه السنة بعد تركها، وفعل مثل ذلك الشاميون.

وفي سنة سبع وعشرين وسبعمائة، شهد الموقف بعرفة عالم عظيم من جميع البلاد، وكان مع العراقيين محمل عليه حلي من الجوهر واللؤلؤ والذهب ما قوم بمائتي ألف دينار وخمسين ألف دينار من الذهب المصرى. ذكر ذلك الحافظ علم الدين البرزالي.

ومنها: أن الناصر محمد بن قلاوون صاحب مصر أسقط المكس المتعلق بالمأكول بمكة وعوض أميرها عطيفة بن أبي نمى عن ذلك ثلثي دماميل من صعيد مصر وذلك سنة اثنين وعشرين وسبعمائة.

ومنها: أن ملك التكرور موسى حج في سنة أربع وعشرين وسبعمائة في أزيد من خمسة عشر ألف تكروريًّا.

ومنها: أن العراقيين حجوا في سنة ثمان وعشرين وسبعمائة ومعهم تابوت جوبان نائب السلطنة بالعراقيين الذي أجرى عين بازان إلى مكة وأحضر تابوته الموقف بعرفة وطيف به حول الكعبة ليلاً.
তাঁর হজ্জ।

বলা হয়ে থাকে যে, মক্কায় তাঁর নামে খুতবা পাঠ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁর পরিবর্তে ইরাকিদের রাজা আবু সাঈদ বিন খারবান্দার নামে সেখানে খুতবা পাঠ করা হয়। এটি ঘটেছিল হুমায়দা বিন আবু নুমা-র আদেশে, যখন তিনি ৭১৬ হিজরি সনের শেষভাগে অথবা তার পরবর্তী বছর ইরাক থেকে ফিরে আসেন। আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।

এর মধ্যে একটি হলো: ৭২০ হিজরি সনে হাজিগণ মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করেন, যার শুরু ছিল তারবিয়ার দিনের জোহর এবং শেষ ছিল আরাফার দিনের ফজর। সূর্যোদয়ের পর তাঁরা আরাফার অভিমুখে যাত্রা করেন এবং দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর এই সুন্নাহটিকে তাঁরা পুনর্জীবিত করেন। সিরিয়াবাসী হাজিরাও অনুরূপ আমল করেছিলেন।

৭২৭ হিজরি সনে সব দেশ থেকে আসা এক বিশাল জনসমাবেশ আরাফার ময়দানে উপস্থিত হয়েছিল। ইরাকিদের সাথে এমন একটি মাহমিল (শিবিকা) ছিল যা রত্ন, মুক্তা এবং স্বর্ণালঙ্কারে সুসজ্জিত ছিল, যার আনুমানিক মূল্য ছিল দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার মিসরীয় স্বর্ণমুদ্রা। হাফেজ আলম আদ-দ্বীন আল-বারজালি এটি উল্লেখ করেছেন।

এর মধ্যে একটি হলো: মিসরের অধিপতি আন-নাসির মুহাম্মদ ইবনে কালাউন ৭২২ হিজরি সনে মক্কায় খাদ্যদ্রব্যের ওপর ধার্যকৃত কর রহিত করেন এবং এর বিনিময়ে মক্কার আমির উতাইফা বিন আবু নুমা-কে উচ্চ মিসরের 'দামামিল' অঞ্চলের দুই-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড প্রদান করেন।

এর মধ্যে একটি হলো: তাকরুরের রাজা মুসা ৭২৪ হিজরি সনে পনের হাজারেরও বেশি তাকরুরি অনুসারীসহ হজ্জ পালন করেন।

এর মধ্যে একটি হলো: ৭২৮ হিজরি সনে ইরাকিরা হজ্জ পালন করেন এবং তাঁদের সঙ্গে ইরাকের সালতানাতের নায়েব জুবানের কফিন ছিল, যিনি মক্কায় 'আইন বাজান' নামক প্রস্রবণটি প্রবাহিত করেছিলেন। তাঁর কফিনটি আরাফার ময়দানে উপস্থিত করা হয়েছিল এবং রাতে সেটি নিয়ে কাবাগৃহ তওয়াফ করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ২৯)
ومنها: أن في يوم الجمعة الرابع عشر من ذي الحجة سنة ثلاثين وسبعمائة قتل أمير الحاج المصريين الدمر وابنه خليل وغيرهما، ونهبت للناس أموال كثيرة.

وذكر النويري في ((تاريخه)) أن الخبر بهذه الحادثة وقع بمصر في يوم وقوعها بمكة.

ومنها: أن في سنة ثلاثين وسبعمائة حج العراقيون بفيل بعث به ملكهم أبوسعيد بن خربندا فحضروا به المواقف كلها، ومضوا به إلى المدينة فمات بالفرش الصغير بقرب المدينة بعد أن لم يستطع التقدم إليها خطوة.

ومنها: أن صاحب اليمن الملك المجاهد علي بن الملك المؤيد داود بن الملك المظفر حج في سنة اثنين وأربعين وسبعمائة، فأطلع علمه جبل عرفات وكان بنو حسن في خدمته حتى انقضى الحج.

وحج الملك المجاهد أيضًا في سنة إحدى وخمسين وسبعمائة وقبض عليه المصريون بمنى في النفر الأول بعد حرب كان بينهم وبين بعض عسكره وتوقف هو عن الحرب رعاية لحرمة الزمان والمكان، وسلم إليهم نفسه بأمان فساروا به إلى مصر فأكرمه متوليها الناصر حسن بن محمد بن قلاوون ورده إلى بلاده. ثم ردّ من الدهناء من وادي ينبع، واعتقل بالكرك ببلاد الشام، ثم أطلق وتوجه إلى مصر، وتوجه منها على طريق عيذاب إلى اليمن فوصل في آخر سنة اثنين وخمسين وسبعمائة.

ومنها: أن الحجاج وأهل مكة تحاربوا كثيرًا بعرفة في يومها من سنة ثلاث وأربعين وسبعمائة، فقتل من الترك نحو ستة عشر ومن بني حسن
এর মধ্যে একটি ঘটনা হলো: সাতশ ত্রিশ হিজরি সনের চৌদ্দই জিলহজ শুক্রবার মিশরীয় হাজি কাফেলার আমির আদ-দামুর, তাঁর পুত্র খলিল এবং আরও কয়েকজন নিহত হন এবং জনগণের প্রচুর ধন-সম্পদ লুণ্ঠন করা হয়।

আন-নুওয়াইরি তাঁর 'তারিখ' (ইতিহাস গ্রন্থ)-এ উল্লেখ করেছেন যে, এই দুর্ঘটনার সংবাদ মক্কায় ঘটার দিনেই মিশরে পৌঁছে গিয়েছিল।

এর মধ্যে আরও একটি হলো: সাতশ ত্রিশ হিজরি সনে ইরাকিরা একটি হাতিসহ হজ সম্পন্ন করেন, যা তাদের রাজা আবু সাঈদ বিন খারবান্দা পাঠিয়েছিলেন। তারা হাতিটি নিয়ে হজের সকল রুকন বা স্থানে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং সেটি নিয়ে মদিনার অভিমুখে যাত্রা করেছিলেন। অবশেষে মদিনার নিকটবর্তী 'আল-ফারশ আস-সাগির' নামক স্থানে হাতিটি মারা যায়, যখন এটি মদিনার দিকে এক কদমও অগ্রসর হতে পারছিল না।

এর মধ্যে অন্যটি হলো: ইয়েমেনের শাসক আল-মালিকুল মুজাহিদ আলী বিন আল-মালিকুল মুয়াইয়াদ দাউদ বিন আল-মালিকুল মুজাফফর সাতশ বিয়াল্লিশ হিজরি সনে হজ পালন করেন। তিনি আরাফাত পাহাড়ে তাঁর পতাকা উত্তোলন করেছিলেন এবং হজ শেষ হওয়া পর্যন্ত বনু হাসান তাঁর সেবায় নিয়োজিত ছিল।

আল-মালিকুল মুজাহিদ সাতশ একান্ন হিজরি সনেও হজ পালন করেন। হজের প্রথম প্রস্থানের দিনে (নাফরুল আউয়াল) মিনায় মিশরীয়রা তাঁকে বন্দি করে। এর আগে তাদের এবং তাঁর কিছু সৈন্যের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, কিন্তু তিনি সময় ও স্থানের পবিত্রতা রক্ষার খাতিরে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকেন এবং নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতিতে তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তারা তাঁকে মিশরে নিয়ে যায় এবং তৎকালীন শাসক আন-নাসির হাসান বিন মুহাম্মদ বিন কালাউন তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করেন এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠান। পরবর্তীতে তাঁকে ইয়ানবু উপত্যকার দাহনা নামক স্থান থেকে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয় এবং শামের আল-কারাক নামক স্থানে বন্দি করে রাখা হয়। এরপর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হলে তিনি মিশরে যান এবং সেখান থেকে আইজাব পথ হয়ে ইয়েমেনের অভিমুখে রওনা হন এবং সাতশ বায়ান্ন হিজরি সনের শেষভাগে সেখানে পৌঁছান।

এর মধ্যে একটি হলো: সাতশ তেতাল্লিশ হিজরি সনের আরাফাতের দিনে হাজিগণ এবং মক্কাবাসীদের মধ্যে ব্যাপক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এতে তুর্কিদের মধ্য থেকে প্রায় ষোলজন এবং বনু হাসানের মধ্য থেকে...
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ৩০)
ناس قليل، ولم يتعرض للحاج بنهب، وسافر الحاج أجمع في النفر الأول، وسلك أهل مكة في نفرهم بعد عرفة طريق البئر المعروفة بالمظلمة فعرفت هذه الوقعة عندهم بسنة المظلمة.

ومنها: أن الحجاج العراقيين كانوا كثيرًا في سنة ثمان وأربعين وسبعمائة. وكان لهم أحد عشر سنة لم يحجوا من العراق ولم يحجوا أيضًا سنة خمس وخمسين وسبعمائة، وحجوا بعد ذلك خمس سنين متوالية، وكانوا كثيرين جدًا في سنة سبع وخمسين. وتصدق فيها بعض الحجاج من العجم على أهل الحرمين بذهب كثير. وفي سنة ثمان وخمسين كان مع الحجاج العراقيين محملان، واحد من بغداد، وواحد من شيراز.

ومنها: أن في آخر جمادى الآخرة أو في رجب من سنة ستين وسبعمائة أسقط المكس المأخوذ من المأكولات بمكة، بعد وصول العسكر المجهز من مصر إلى مكة لتأييد أميرها مسند بن رميثة، ومحمد بن عطيفة ودام هذا الحال إلى رحيل الحاج في سنة إحدى وستين وسبعمائة.

ومنها: أن في سنة ست وستين وسبعمائة أسقط المكس المأخوذ بمكة في المأكولات جميعًا وعوض صاحب مكة عن ذلك بمائة وستين ألف درهم من بيت المال وألف أردب قمح.

ومنها: أن في أثناء عشر السبعين -بتقديم السين- وسبعمائة: خطب بمكة للسلطان شيخ أويس بن الشيخ حسن الكبير صاحب بغداد وغيرها بعد أن وصلت منه قناديل حسنة للكعبة وهدية طائلة إلى أمير مكة عجلان وهو الآمر لخطيب مكة بالخطبة له. ثم تركت الخطبة لصاحب العراق. وما
লোক সংখ্যা ছিল নগণ্য এবং হাজীরা কোনো লুণ্ঠনের শিকার হননি। সকল হাজী প্রথম প্রস্থানেই রওয়ানা হন। মক্কাবাসীরা আরাফাতের পর তাদের প্রস্থানের জন্য 'আল-মুজলিমা' নামে পরিচিত কূপের পথটি অনুসরণ করেন; ফলে এই ঘটনাটি তাদের নিকট 'মুজলিমার বছর' হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

এর মধ্যে অন্যতম হলো: সাতশত আটচল্লিশ হিজরি সনে ইরাকি হাজীদের সংখ্যা ছিল প্রচুর। তারা দীর্ঘ এগারো বছর যাবত ইরাক থেকে হজ করতে পারেননি। অনুরূপভাবে সাতশত পঞ্চান্ন হিজরি সনেও তারা হজ পালন করেননি। অতঃপর তারা পরবর্তী টানা পাঁচ বছর হজ সম্পাদন করেন এবং সাতশত সাতান্ন হিজরি সনে তাদের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত বেশি। উক্ত বছরে অনারব দেশীয় কিছু হাজী হারামাইন শরিফাইনের অধিবাসীদের মাঝে প্রচুর স্বর্ণ সদকা করেন। আর সাতশত আটান্ন হিজরি সনে ইরাকি হাজীদের সাথে দুইটি মাহমাল ছিল; যার একটি বাগদাদ থেকে এবং অন্যটি শিরাজ থেকে আগত।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: সাতশত ষাট হিজরি সনের জুমাদাল আখিরা মাসের শেষ দিকে অথবা রজব মাসে মক্কায় খাদ্যদ্রব্যের ওপর ধার্যকৃত শুল্ক মওকুফ করা হয়। এটি ঘটেছিল মিশরের প্রেরিত সেনাবাহিনী মক্কার আমির মুসনাদ ইবনে রুমাইসাহ ও মুহাম্মদ ইবনে উতাইফাহ-এর সমর্থনে মক্কায় পৌঁছানোর পর। সাতশত একষট্টি হিজরি সনে হাজীদের প্রস্থান পর্যন্ত এই অবস্থা বহাল ছিল।

এর অন্তর্ভুক্ত আরও একটি বিষয় হলো: সাতশত ছেষট্টি হিজরি সনে মক্কায় সকল প্রকার খাদ্যদ্রব্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয় এবং এর বিনিময়ে মক্কার শাসককে বায়তুল মাল থেকে এক লক্ষ ষাট হাজার দিরহাম ও এক হাজার ইরদাব গম প্রদান করা হয়।

এর মধ্যে আরও তথ্য হলো: সাতশত সত্তর দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাগদাদ ও অন্যান্য অঞ্চলের অধিপতি সুলতান শেখ উওয়াইস ইবনে শেখ হাসান আল-কাবিরের নামে মক্কায় খুতবা পাঠ করা হয়। এটি তখন ঘটে যখন তাঁর পক্ষ থেকে কাবার জন্য চমৎকার কিছু ঝাড়বাতি এবং মক্কার আমির আযলানের নিকট বিশাল উপঢৌকন এসে পৌঁছায়; অতঃপর আমিরই মক্কার খতিবকে তাঁর নামে খুতবা পাঠের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ইরাকের অধিপতির জন্য এই খুতবা পাঠ বন্ধ হয়ে যায়। আর...
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদুল খোমেইনি ফী আরদিল হারামাইন (পৃষ্ঠা: ৩১)
عرفت وقت ابتداء تركها.

ومنها: أن الحجاج المصريين قلوا كثيرًا جدًا في سنة ثمان وسبعين وسبعمائة، لرجوع جزيلهم من عقبة أيلة إلى مصر بسبب قيام الترك بها على صاحب مصر الملك الأشرف شعبان بن حسين وكان قد توجه فيها للحج في أبّهة عظيمة، وكان من خبره أنه رجع إلى مصر واختفى بها، لأن الذين تركهم بها قاموا عليه بمصر وسلطنوا ولده عليًّا ولقبوه بالمنصور وظفر به بعد ذلك فأذهبت روحه وفاز بالشهادة في ثامن ذي القعدة منها.

ومنها: أن في سنة إحدى وثمانين وسبعمائة: حج بالناس من اليمن في البر -مع محمل جهزه صاحب اليمن- الملك الأشرف إسماعيل بن الملك الأفضل العباس بن المجاهد وجهز الملك الأشرف أيضًا محملاً إلى مكة في سنة ثمانمائة، وحج الناس معه أيضًا، وأصاب بعضهم شدة من العطش بقرب مكة ومات بها جماعة ولم يصل بعدها إلى مكة محمل من اليمن. وكان محمل اليمن منقطعًا عن مكة فيما علمت نحو ثمانين سنة، قبل سنة إحدى وثمانين وسبعمائة.

ومنها: أن في يوم التروية من سنة سبع وتسعين وسبعمائة حصل في المسجد الحرام جفلة بسبب منافرة حصلت من بعض أهل مكة والحجاج، فثارت الفتنة فنهبت أموال كثيرة للحجاج وقتل بعضهم وتعرض الحرامية للحجاج فنهبوهم في طريق عرفة عند مأزميها، وغير ذلك ونفر الحاج أجمع في النفر الأول.

وفيها: وصل مع الحجاج الحلبيين محمل على صفة المحامل ولم يعهد
আমি তা বর্জন করার সূচনার সময় জানতে পারলাম।

এর মধ্যে একটি হলো: সাতশ আটাত্তর হিজরি সনে মিসরীয় হাজিদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়; কেননা মিসরের অধিপতি আল-আশরাফ শাবান ইবনে হুসাইনের বিরুদ্ধে তুর্কিরা আকাবায়ে আয়লায় বিদ্রোহ ঘোষণা করায় তাদের এক বিশাল অংশ সেখান থেকে মিসরে ফিরে গিয়েছিল। সুলতান সেই বছর অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ রাজকীয় শান-শওকত সহকারে হজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। তার সম্পর্কে বিবরণ এই যে, তিনি মিসরে ফিরে গিয়ে আত্মগোপন করেন; কারণ তিনি যাদের স্থলাভিষিক্ত রেখে গিয়েছিলেন তারা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তার পুত্র আলীকে 'আল-মনসুর' উপাধি দিয়ে সিংহাসনে আরোহণ করায়। পরবর্তীতে তিনি ধৃত হন এবং তার প্রাণপ্রদীপ নির্বাপিত করা হয়। সেই বছরের আটই জিলকদ তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: সাতশ একাশি হিজরি সনে ইয়েমেনের শাসক আল-আশরাফ ইসমাইল ইবনে আল-আফদাল আব্বাস ইবনে আল-মুজাহিদের প্রেরিত মাহমালের সাথে স্থলপথে ইয়েমেন থেকে লোকজন হজ পালন করেন। সুলতান আল-আশরাফ আটশ হিজরি সনেও মক্কায় একটি মাহমাল প্রেরণ করেছিলেন এবং সেবারও মানুষ তার সাথে হজ পালন করেন। মক্কার নিকটবর্তী স্থানে তাদের কেউ কেউ তীব্র পিপাসার সম্মুখীন হন এবং একদল মানুষ সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর থেকে ইয়েমেন হতে মক্কায় আর কোনো মাহমাল পৌঁছায়নি। আমার জানামতে সাতশ একাশি হিজরি সনের পূর্বে প্রায় আশি বছর যাবত মক্কায় ইয়েমেনি মাহমালের আগমন বিচ্ছিন্ন ছিল।

এর মধ্যে একটি হলো: সাতশ সাতানব্বই হিজরি সনের তারবিয়ার দিনে মক্কার কিছু অধিবাসী ও হাজিদের মধ্যে বাদানুবাদের কারণে মসজিদে হারামে এক আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ফিতনা উস্কে ওঠে এবং হাজিদের প্রচুর সম্পদ লুণ্ঠিত হয় ও তাদের কেউ কেউ নিহত হন। দস্যুরা হাজিদের ওপর চড়াও হয়ে আরাফাতের পথে 'মাযামাইন' এলাকায় তাদের লুটতরাজ করে। এছাড়া আরও অনেক অঘটন ঘটেছিল এবং সকল হাজিই প্রথম প্রস্থানের দিন মিনা ত্যাগ করেন।

ওই বছরই আলেপ্পোর হাজিদের সাথে প্রচলিত মাহমালের আকৃতিতে একটি মাহমাল আগমন করে যা আগে কখনও দেখা যায়নি।