(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: -)
العلمانية والمذهب المالكي القسم: الفرق والردود
الكتاب: العلمانية والمذهب المالكي
المؤلف: أبو سفيان مصطفى باحُّو السلاوي المغربي
الناشر: جريدة السبيل، المغرب
الطبعة: الأولى، 1433 هـ - 2012 م
عدد الصفحات: 201
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 19 محرم 1434
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ এবং মালিকি মাযহাব বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডন
গ্রন্থ: ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ এবং মালিকি মাযহাব
লেখক: আবু সুফিয়ান মুস্তফা বাহু আস-সালাউয়ি আল-মাগরিবী
প্রকাশক: জারিদাতুস সাবিল, মরক্কো
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৩ হিজরি - ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০১
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৯ মুহাররম ১৪৩৪
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: -)
سلسلة: بحوث في العلمانية
(3) العلمانية
والمذهب المالكي
باحو مصطفى
ধারাবাহিক: ধর্মনিরপেক্ষতা বিষয়ক গবেষণা
(৩) ধর্মনিরপেক্ষতা
ও মালিকি মাযহাব
বাহু মুস্তফা
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ২)
الطبعة الأولى: شعبان 1433 - يوليوز 2012
الناشر: جريدة السبيل
المطبعة: طوب بريس. الرباط
رقم الإيداع القانوني: 2012 MO1470
ر. د. م. ك: 8 - 128 - 31 - 9954 - 978
প্রথম সংস্করণ: শাবান ১৪৩৩ - জুলাই ২০১২
প্রকাশক: আস-সাবিল পত্রিকা
মুদ্রণালয়: টপ প্রেস, রাবাত
লিগ্যাল ডিপোজিট নম্বর: ২০১২ MO১৪৭০
আইএসবিএন: ৯৭৮ - ৯৯৫৪ - ৩১ - ১২৮ - ৮
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ৩)
«إنَّ مِنْ قَواعدِ دينِنا أنَّ العالِمَ حاكمٌ على المَلك، لا العكسُ: أَنْ يكون ما تضمَّنه الظهيرُ الشريفُ معروضا على نُصوصِ الشريعةِ الثابتةِ، فيُردُّ الظَّهِيرُ للنصوص، ولا تردُّ النصوصُ للظهير، إلا لو كان الملكُ حاكِما على الشرع، والأمرُ بالعكس، ولو قِيل بذلك لَبَطَلت الأديان جُمْلَة، وصار المدارُ على الملك، وهو خلاف الواقع».
من جواب قاضي الجماعة بفاس محمد بن عبد الرحمن العلوي المدغري (ت 1299هـ/1882م)، باسم السلطان الحسن الأول بعد استشارة العلماء المعنيين بالأمر، وذلك عام 1297 هـ /1880 م.
مظاهر يقظة المغرب (1/ 414).
“নিশ্চয়ই আমাদের দ্বীনের অন্যতম মূলনীতি হলো, আলিম রাজন্যবর্গের ওপর কর্তৃত্বশীল, এর বিপরীত নয়। অর্থাৎ, রাজকীয় ফরমানে যা অন্তর্ভুক্ত থাকে তা শরীয়াহর সুপ্রতিষ্ঠিত বিধানের আলোকে উপস্থাপন ও যাচাই করতে হবে; রাজকীয় ফরমানকেই শরীয়াহর বিধানের অনুগামী করা হবে, শরীয়াহর বিধানকে রাজকীয় ফরমানের অনুগামী করা হবে না। এমনটি কেবল তখনই হতে পারত যদি রাজা শরীয়াহর ওপর কর্তৃত্বশীল হতেন, অথচ বাস্তবতা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। যদি তা-ই দাবি করা হতো, তবে সামগ্রিকভাবে সকল ধর্মই অসার হয়ে যেত এবং রাজাই হতো সকল কিছুর কেন্দ্রবিন্দু, যা বাস্তবতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।”
১২৯৭ হিজরি / ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে সংশ্লিষ্ট আলিমগণের সাথে পরামর্শ করার পর সুলতান প্রথম হাসানের পক্ষ থেকে ফেজের প্রধান বিচারপতি (কাজি আল-জামাআহ) মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান আল-আলাভি আল-মাদাগরি (মৃত্যু: ১২৯৯ হি./১৮৮২ খ্রি.) কর্তৃক প্রদত্ত উত্তর থেকে সংগৃহীত।
মাজাহির ইয়াকজাত আল-মাগরিব (মরক্কোর জাগরণের স্বরূপ), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪১৪।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمةبسم الله الرحمن الرحيم، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين.
وبعد، فهذا هو الكتاب الثالث من هذه السلسلة، بعد الكتاب الأول:
«العلمانية، المفهوم والمظاهر والأسباب» وهو الذي جعلته طليعة للسلسلة. وقد طبع في الرباط، ونشرته جريدة «السبيل» المغربية في غشت 2011.
والكتاب الثاني: «العلمانيون العرب وموقفهم من الإسلام». وقد طبع في المكتبة الإسلامية بمصر.
أبحث في هذه الرسالة موضوعين هامين، لهما ارتباط بموضوع العلمانية:
الأول: العلمانية والمذهب المالكي.
والثاني: ماذا يعني تطبيق الشريعة في المذهب المالكي؟
وهما موضوعان مترابطان متداخلان يكمل أحدهما الآخر، فتطبيق الشريعة الإسلامية يعني رفض العلمانية، والعكس صحيح. ولذلك جمعت بينهما في هذه الرسالة. ولا تخفى أهمية هذين الموضوعين في إطار تعرضنا لموضوع العلمانية وبحث موضوعاتها المختلفة وتناولها من زوايا مختلفة، لعلنا نسلط الضوء على أهم جوانبها وأبرز تجلياتها، متجنبا الاشتباك مع معارضي ومخالفي، مفسحا المجال للعرض الهادئ لنصوص واضحة بينة لا لبس فيه لعلماء المذهب المالكي، الذي طالما تغنى أهل بلدنا بالدفاع عنه والإشادة به.
উপস্থাপনাপরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুলের ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক।
অতঃপর, প্রথম গ্রন্থের পর এই ধারাবাহিকের এটি তৃতীয় গ্রন্থ:
«ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ: ধারণা, বহিঃপ্রকাশ ও কারণসমূহ»। এটিকে আমি এই ধারাবাহিকের অগ্রদূত হিসেবে নির্ধারণ করেছি। এটি রাবাতে মুদ্রিত হয়েছে এবং ২০১১ সালের আগস্ট মাসে মরক্কোর 'আস-সাবিল' পত্রিকা কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে।
আর দ্বিতীয় গ্রন্থটি হলো: «আরব ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী এবং ইসলামের প্রতি তাদের অবস্থান»। এটি মিশরের আল-মাকতাবা আল-ইসলামিয়া থেকে মুদ্রিত হয়েছে।
এই গবেষণাপত্রে আমি দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেছি, যেগুলোর সাথে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের বিষয়ের যোগসূত্র রয়েছে:
প্রথম: ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও মালিকি মাযহাব।
দ্বিতীয়: মালিকি মাযহাবে শরিয়াহর প্রয়োগ বলতে কী বোঝায়?
এই বিষয় দুটি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এবং একে অপরের পরিপূরক; কারণ ইসলামি শরিয়াহর প্রয়োগ মানেই হলো ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে প্রত্যাখ্যান করা, আর এর বিপরীতটিও সত্য। এই কারণেই আমি এই গবেষণাপত্রে বিষয় দুটিকে একত্রিত করেছি। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বিষয়ক আমাদের আলোচনা এবং এর বিভিন্ন দিক ও প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এই বিষয় দুটির গুরুত্ব অনস্বীকার্য। এর মাধ্যমে সম্ভবত আমরা এর গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং প্রধান বহিঃপ্রকাশগুলোর ওপর আলোকপাত করতে পারব। আমি বিরোধীদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হওয়া এড়িয়ে মালিকি মাযহাবের উলামায়ে কেরামের সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন বক্তব্যসমূহ শান্তভাবে উপস্থাপনের প্রয়াস পেয়েছি; যে মাযহাবের প্রতিরক্ষা ও গুণগানে আমাদের দেশের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে মুখর।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ৬)
بينت في الرسالتين أن المذهب المالكي عبادة وشريعة، علاقة بين العبد وربه، وعلاقة بين العبد ومحيطه، وأنه لا حجة عند المغاربة على مر تاريخهم إلا في الشريعة، ولا مرجع إلا هي، وأنه لا يجوز التحاكم عند المالكية إلا إلى القرآن والسنة. وأن السياسة إذا لم تتقيد بالشريعة فهي مرفوضة، وأن المذهب المالكي ظل يحكم المغرب في شتى مجالات الحياة: السياسية والاقتصادية والثقافية والاجتماعية، إلى أن جاء الاستعمار فغيَّر وبدَّل وأوقف العمل بأحكام الشريعة في عدة مجالات.
وبينت كيف أن الحفاظ على الأحكام الشرعية أهم واجب على السلطان عند علماء وسلاطين المغرب.
وتكلمت عن عناية السلاطين العلويين بالزكاة الشرعية وإلغاء المكوس، وإنكار المالكية لتبديل الزكاة بالضريبة، وأنه وَقَفَ خَلْفها دول غربية على رأسها فرنسا وإنجلترا. وأنها أحد أهم أسباب خلع السلطان عبد العزيز من قبل علماء مراكش وفاس.
ثم بينت أن الدول التي حكمت المغرب كانت حريصة على تطبيق الشريعة ومن ضمنها الحدود الشرعية. بل إن بعض الحكام مثل يعقوب المنصور كان يقيم الحدود حتى في أهله وعشيرته الأقربين.
وظل هذا دأب الدولة العلوية الحاكمة في المغرب منذ نشأتها إلى ما قبل الحماية ودخول الاستعمار، حتى أنكر السلطان العلوي محمد بن عبد الله تبديل الحدود الشرعية بالقوانين الوضعية وقال: وذلك من المنكر الذي لا يرضاه الله ورسوله والمؤمنون، لأنه خرق للشريعة وإبطال لأحكام القرآن.
আমি এই দু’টি পত্রে বর্ণনা করেছি যে, মালিকি মাযহাব হলো ইবাদত ও শরিয়ত—এটি একদিকে বান্দা ও তার রবের মধ্যকার সম্পর্ক, অন্যদিকে বান্দা ও তার পরিপার্শ্বের মধ্যকার সম্পর্কের ভিত্তি। মরক্কোবাসীদের সমগ্র ইতিহাসে শরিয়ত ব্যতীত অন্য কোনো দলিলের অস্তিত্ব ছিল না এবং শরিয়ত ছাড়া অন্য কোনো উৎসও তাদের ছিল না। মালিকি মাযহাবের নীতি অনুযায়ী কুরআন ও সুন্নাহ ব্যতীত অন্য কোনো ভিত্তিতে ফয়সালা করা বৈধ নয়। রাজনীতি যদি শরিয়তের অনুগামী না হয়, তবে তা অগ্রহণযোগ্য। মরক্কোর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক তথা জীবনের সর্বক্ষেত্রে মালিকি মাযহাবের শাসন জারি ছিল, যতক্ষণ না উপনিবেশবাদ এসে শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন ঘটায় এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধানের প্রয়োগ স্থগিত করে দেয়।
আমি আরও ব্যাখ্যা করেছি যে, মরক্কোর আলিম ও সুলতানদের দৃষ্টিতে শরিয়তের বিধানসমূহ অক্ষুণ্ণ রাখা ছিল সুলতানের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
আমি আলাওয়ী সুলতানদের শরয়ী জাকাতের প্রতি বিশেষ যত্ন এবং অননুমোদিত কর (মুকুস) বিলোপ করার বিষয়টি আলোচনা করেছি। সেই সাথে জাকাতের স্থলে সাধারণ কর প্রবর্তনের বিরুদ্ধে মালিকি ফকিহদের আপত্তির কথাও উল্লেখ করেছি, যার নেপথ্যে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মতো পশ্চিমা শক্তিগুলো সক্রিয় ছিল। এটিই ছিল মারাককেশ ও ফেজ নগরীর আলিমদের পক্ষ থেকে সুলতান আব্দুল আজিজকে সিংহাসনচ্যুত করার অন্যতম প্রধান কারণ।
অতঃপর আমি ব্যক্ত করেছি যে, মরক্কো শাসনকারী রাষ্ট্রসমূহ শরিয়ত বিশেষত শরয়ী দণ্ডবিধি (হুদুদ) বাস্তবায়নে অত্যন্ত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। এমনকি সুলতান ইয়াকুব আল-মানসুরের মতো কোনো কোনো শাসক নিজের পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের ওপরও হুদুদ কার্যকর করতেন।
মরক্কোর শাসক আলাওয়ী রাজবংশের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শুরু করে উপনিবেশবাদ ও প্রটেক্টরেট শাসন প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত এটিই ছিল তাদের অবিচল রীতি। এমনকি সুলতান মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ শরয়ী দণ্ডবিধির পরিবর্তে মানবরচিত আইনের অনুপ্রবেশকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন: "এটি এমন এক গর্হিত কাজ যা আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনগণ পছন্দ করেন না; কেননা এটি শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন এবং কুরআনের বিধানসমূহকে অকার্যকর করার শামিল।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ৭)
وظل الخمر ممنوعا طوال تاريخ المغرب، ولم يرخص لغير اليهود والنصارى ببيعه وشربه، ولم يعرف أن الدولة المغربية أعطت ترخيصا لمسلم لبيع الخمر إلا بعد مجيء الاستعمار.
كما تكلمت عن عناية الدولة العلوية بجمع الجزية من اليهود. ومناهضة علماء المالكية للبنوك الربوية. وأن الربا لم يدخل في صورة منظمة ومؤسسة إلا لما سقط المغرب فريسة للتدخلات الأجنبية، في عهد السلطان عبد العزيز. وكان إحداثه للبنك الربوي أحد أهم أسباب خلعه وتعيين السلطان عبد الحفيظ مكانه.
ثم تحدثت عن علمنة القانون في تاريخ المغرب وبينت أن الظهير البربري أهم مظاهر العلمنة في المغرب. وأن المحاكم الإسلامية المعتمدة على المذهب المالكي كانت تشمل جميع المخالفات سواء كانت الأحوال الشخصية أو الجنائية أو غيرها. وأول من فصل بين القضاء الشرعي المعتمد على الشريعة والقضاء الجنائي وغيره هو المقيم العام ليوطي.
وفي ظل الاحتلال والحماية الفرنسية تم إقصاء الشريعة الإسلامية وإحلال القانون العلماني الوضعي محلها.
وبينت كذلك أن أهم أهداف السياسة البربرية هي:
1 - فرنسة البربر.
2 - إخراجهم من الإسلام والقضاء على القرآن.
3 - تنصيرهم.
মরক্কোর সমগ্র ইতিহাসে মদ্যপান নিষিদ্ধ ছিল এবং ইহুদি ও খ্রিস্টান ব্যতীত অন্য কারো জন্য এটি বিক্রি বা পান করার অনুমতি ছিল না। এমনকি উপনিবেশবাদের আগমনের পূর্বে মরক্কো রাষ্ট্র কোনো মুসলিমকে মদ্য বিক্রির অনুমতি প্রদান করেছে বলে জানা যায় না।
একইভাবে আমি ইহুদিদের থেকে জিজিয়া আদায়ের ক্ষেত্রে আলাউয়ি সালতানাতের যত্নশীলতা এবং সুদভিত্তিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে মালিকি আলেমদের বিরোধিতার বিষয়টি আলোচনা করেছি। মরক্কো যখন সুলতান আব্দুল আজিজের শাসনামলে বৈদেশিক হস্তক্ষেপের শিকার হয়েছিল, তখনই কেবল প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক ও সংগঠিত রূপে সুদের অনুপ্রবেশ ঘটে। তার এই সুদভিত্তিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠা ছিল তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার এবং তার পরিবর্তে সুলতান আব্দুল হাফিজকে নিয়োগ দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
অতঃপর আমি মরক্কোর ইতিহাসে আইনের ধর্মনিরপেক্ষকরণ নিয়ে কথা বলেছি এবং স্পষ্ট করেছি যে, 'বার্বার ডিক্রি' ছিল মরক্কোতে ধর্মনিরপেক্ষকরণের অন্যতম প্রধান বহিঃপ্রকাশ। মালিকি মাজহাবের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত ইসলামি আদালতগুলো ব্যক্তিগত বিষয়, ফৌজদারি বা অন্যান্য সকল ধরনের অপরাধের বিচারকার্য পরিচালনা করত। শরিয়ত ভিত্তিক বিচারব্যবস্থা এবং ফৌজদারি ও অন্যান্য বিচারব্যবস্থার মধ্যে সর্বপ্রথম বিভাজন ঘটিয়েছিলেন রেসিডেন্ট জেনারেল লিউটি।
ফরাসি দখলদারিত্ব ও প্রটেক্টরেট শাসনের অধীনে ইসলামি শরিয়তকে বর্জন করা হয় এবং এর পরিবর্তে ধর্মনিরপেক্ষ মানব রচিত আইন স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
আমি আরও স্পষ্ট করেছি যে, বার্বার নীতির প্রধান লক্ষ্যগুলো ছিল:
১ - বার্বারদের ফরাসিকরণ।
২ - তাদেরকে ইসলাম থেকে বের করে দেওয়া এবং কোরআন বিলুপ্ত করা।
৩ - তাদেরকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করা।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ৮)
وفي الرسالة الثانية بينت ماذا يعني تطبيق الشريعة في المذهب المالكي؟ من الناحية السياسية والإعلامية والاجتماعية والقانونية والاقتصادية. ونقلت نصوص المالكية في ذلك.
هذا، ولا يفتأ العلمانيون في اختراع الشبهات تجاه تطبيق الشريعة الإسلامية، واتخذوا ذرائع شتى لذلك، كان من إبرازها: اتخاذ الأقليات أداة اعتراض على حاكمية الشريعة واستعملوها ورقة ضغط وعقبة في وجهها. مع أن الشريعة ظلت تحكم خلال قرون عديدة، ولم تشكل مسألة الأقليات أية مشكلة أو عائق في وجه الشريعة. ولم تنتقص الشريعة شيئا من تدين هذه الأقليات، لأن شرائع هذه الأقليات ليس فيها فقه معاملات مدنية. فالشريعة الإسلامية ليست بديلا لشريعة مدنية نصرانية، وإنما هي بديل للقانون الوضعي العلماني الذي جاء به الغزاة القاهرون للأغلبيات والأقليات جميعا (1).
فليس للنصارى تشريع قانوني يهدده تطبيق الشريعة. بل العلمانية هنا هي المذهب الند للإسلام والنصرانية معا لا النصرانية. وتطبيق الشريعة يكفل للنصارى حرية تَدَيُّن أكثر مما يكفلها لهم النظام العلماني. وبالتالي فعلى النصارى دعم تطبيق الشريعة الإسلامية بدل التخويف منها.
وطالما روج العلمانيون أن العلمانية هي الحل المثالي لتجاوز التشظي المذهبي، وليست هذه إلا ذريعة لتجاوز الإسلام وقيمه وشرائعه. فهاهو لبنان الجريح مثال صارخ لتلك العلمانية البئيسة المفلسة. ولا توجد دولة تعيش حالة
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পত্রে আমি বর্ণনা করেছি যে, মালিকি মাযহাব অনুযায়ী শরয়ি বিধান বাস্তবায়নের অর্থ কী? রাজনৈতিক, গণমাধ্যমগত, সামাজিক, আইনি ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছি। এবং এই বিষয়ে মালিকি ফকিহগণের উদ্ধৃতিসমূহ উল্লেখ করেছি।
এদিকে, ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা ইসলামি শরিয়ত বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে অবিরত সংশয় তৈরি করে চলেছে এবং এর জন্য তারা নানাবিধ অজুহাত গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো: শরিয়তের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের একটি প্রতিবাদী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা এবং একে শরিয়তের পথে চাপের মাধ্যম ও বাধা হিসেবে দাঁড় করানো। অথচ শরিয়ত বহু শতাব্দী ধরে শাসনকার্য পরিচালনা করেছে এবং সংখ্যালঘু বিষয়টি শরিয়তের পথে কখনো কোনো সমস্যা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি। শরিয়ত এই সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় পালনের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার কমতি করেনি, কারণ এই সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় বিধানে কোনো দেওয়ানি লেনদেন বা মুয়ামালাতের ফিকহ বিদ্যমান নেই। সুতরাং ইসলামি শরিয়ত কোনো খ্রিস্টান দেওয়ানি আইনের বিকল্প নয়, বরং এটি সেই ধর্মনিরপেক্ষ মানব রচিত আইনের বিকল্প যা বিজয়ী দখলদাররা সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু সবার ওপর চাপিয়ে দিয়েছে (১)।
সুতরাং খ্রিস্টানদের এমন কোনো আইনি বিধান নেই যা শরিয়ত বাস্তবায়নের ফলে হুমকির মুখে পড়বে। বরং এখানে ধর্মনিরপেক্ষতাই হলো ইসলাম ও খ্রিস্টধর্ম উভয়ের অভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী মতবাদ, খ্রিস্টধর্ম নিজে নয়। আর শরিয়ত বাস্তবায়ন খ্রিস্টানদের জন্য ধর্মীয় স্বাধীনতার যতটুকু নিশ্চয়তা প্রদান করে, ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থা তা করে না। ফলত, শরিয়ত নিয়ে ভীতি ছড়ানোর পরিবর্তে খ্রিস্টানদের উচিত ইসলামি শরিয়ত বাস্তবায়নকে সমর্থন করা।
ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা দীর্ঘকাল ধরে প্রচার করে আসছে যে, মাযহাবগত অনৈক্য ও বিভাজন দূর করার জন্য ধর্মনিরপেক্ষতাই হলো আদর্শ সমাধান। কিন্তু এটি ইসলাম, এর মূল্যবোধ ও বিধানাবলিকে উপেক্ষা করার একটি অজুহাত মাত্র। এই যে ক্ষতবিক্ষত লেবানন—তা সেই শোচনীয় ও দেউলিয়া ধর্মনিরপেক্ষতার এক প্রকট উদাহরণ। এমন কোনো রাষ্ট্র নেই যা এমন অবস্থায় বাস করছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ৯)
من الاضطراب والفوضى وانعدام الأمن والتناحر السياسي بدون أدنى هدف مثل لبنان، لا يجتمع أهلها يوما إلا تفرقوا في اليوم الموالي أكثر مما كانوا قبل اتفاقهم. ولم تجلب لهم العلمانية إلا الضعف والوهن.
وقد حاول العلمانيون إسكات جميع الأصوات المخالفة لهم، ولهذا أضحت أصواتهم أعلى وأكثر انتشارا على الساحة الإعلامية في مغربنا، لكن عادة الأكثر ضجيجا وغوغائية أن يكون أكثر ظهورا وبروزا والأقل استمرارية وثباتا، ومن سنة الله في خلقه أن السنابل الفارغة تكون دائما أكثر بروزا وأعلى رؤوسا، بينما السنابل الممتلئة -والتي هي أَمَلُ الفلاح البسيط المسكين- تكون منحنية وأقل ظهورا من تلك الشامخة إلى أعلى. ولن تجد لسنة الله تبديلا.
ومهما استأسدوا علينا وتغطرسوا فإن لنا عزاء في قوله تعالى: {كَذَلِكَ يَضْرِبُ اللهُ الْحَقَّ وَالْبَاطِلَ فَأَمَّا الزَّبَدُ فَيَذْهَبُ جُفَاء وَأَمَّا مَا يَنفَعُ النَّاسَ فَيَمْكُثُ فِي الأَرْضِ كَذَلِكَ يَضْرِبُ اللهُ الأَمْثَالَ} الرعد17.
وقوله: {وَنُرِيدُ أَن نَّمُنَّ عَلَى الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا فِي الْأَرْضِ وَنَجْعَلَهُمْ أَئِمَّةً وَنَجْعَلَهُمُ الْوَارِثِينَ} القصص5.
وقد حاولت في هاتين الرسالتين التركيز أكثر على السلاطين العلويين الحاكمين إلى اليوم في بلدنا لقرب العهد، ولعله يكون عبرة لأهل زماننا، مدللا على أن ما ندعو إليه ليس بدعا من الكلام ولا مذهبا استوردناه من شرق أو غرب، كما يوسوس بذلك كثير من الحريصين على مصالحهم الشخصية التي يُغَلِّفُونها بالحفاظ على الأمن الروحي للمواطنين!
বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য, নিরাপত্তাহীনতা এবং লক্ষ্যহীন রাজনৈতিক সংঘাত—যেমন লেবাননের অবস্থা; সেখানকার অধিবাসীরা কোনো একদিন ঐক্যবদ্ধ হলেও পরদিন তারা পূর্বের তুলনায় আরও বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আর ধর্মনিরপেক্ষতা তাদের জন্য কেবল দুর্বলতা ও অবক্ষয়ই বয়ে এনেছে।
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা তাদের বিরুদ্ধ মতের সকল কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করেছে, যার ফলে আমাদের মরক্কোর সংবাদমাধ্যমে তাদের আওয়াজ আজ অনেক বেশি উচ্চকিত ও বিস্তৃত হয়েছে। তবে এটিই নিয়ম যে, যারা সবচেয়ে বেশি শোরগোলকারী ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, তারাই জনসমক্ষে বেশি দৃশ্যমান ও প্রকট হয়, কিন্তু স্থায়িত্ব ও দৃঢ়তার দিক থেকে তারা একেবারেই নগণ্য। আল্লাহর সৃষ্টির বিধান হলো, অন্তঃসারশূন্য শস্যমঞ্জরিগুলো সবসময়ই বেশি উঁচু ও দৃশ্যমান হয়, অথচ শস্যে সমৃদ্ধ মঞ্জরিগুলো—যা সাধারণ দরিদ্র কৃষকের একমাত্র আশা—মাথা নিচু করে থাকে এবং সেই উদ্ধত আকাশচুম্বী মঞ্জরিগুলোর চেয়ে কম দৃষ্টিগোচর হয়। আর আপনি আল্লাহর বিধানে কোনো পরিবর্তন পাবেন না।
তারা আমাদের ওপর যতই সিংহবৎ আচরণ করুক আর অহংকার প্রদর্শন করুক না কেন, মহান আল্লাহর এই বাণীতেই আমাদের সান্ত্বনা নিহিত: "এভাবেই আল্লাহ সত্য ও মিথ্যার দৃষ্টান্ত প্রদান করেন। যা ফেনা তা তো নিঃশেষ হয়ে যায়, আর যা মানুষের উপকারে আসে তা জমিনে টিকে থাকে। এভাবেই আল্লাহ উপমা পেশ করেন" (সূরা রাআদ: ১৭)।
এবং তাঁর এই বাণী: "আর আমরা ইচ্ছা করলাম যে, পৃথিবীতে যাদেরকে দুর্বল করা হয়েছিল তাদের ওপর অনুগ্রহ করতে, তাদেরকে নেতা বানাতে এবং তাদেরকে উত্তরাধিকারী করতে" (সূরা কাসাস: ৫)।
আমি এই পুস্তিকা দ্বয়ে আমাদের দেশে বর্তমান সময় পর্যন্ত শাসনকার্য পরিচালনাকারী আলাউয়ী সুলতানদের ইতিহাসের ওপর অধিক গুরুত্বারোপের চেষ্টা করেছি, যেহেতু তাঁদের যুগ আমাদের নিকটবর্তী। সম্ভবত এটি আমাদের সমকালীন মানুষের জন্য একটি শিক্ষণীয় বিষয় হবে। এটি এই প্রমাণ বহন করে যে, আমরা যে বিষয়ের দিকে আহ্বান জানাচ্ছি তা কোনো অভিনব কথা নয়, কিংবা পূর্ব বা পশ্চিম থেকে আমদানিকৃত কোনো মতবাদও নয়—যেমনটি সেই সব ব্যক্তিরা কুমন্ত্রণা দেয় যারা নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষায় অতি আগ্রহী এবং যারা নাগরিকদের 'আধ্যাত্মিক নিরাপত্তা' রক্ষার আবরণে সেই হীন স্বার্থকে ঢেকে রাখে!
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ১০)
ولهذا فأنا أتحدى مخالفينا أن يذكر لنا شيئا نتبناه أو تتبناه الحركة الإسلامية عموما ولا أصل له في مذهبنا المالكي وتطبيقاته التاريخية، بل ما ندعو له هو الأصل الذي اتفقت عليه أغلب المصادر التاريخية والفقهية المغربية.
وختاما لا يخفى أن التأليف كما ذكر عدد من العلماء داخل في «علم ينتفع به»، بل هو أظهر فيه أكثر من غيره (1).
ولهذا «لم أزل مولعا بالتأليف، راغبا في التصنيف، جعلته هِجِّيراي، وقطعت به دنياي، دون تقرب به لرئيس، ولو سمح فيه بمال نفيس» (2).
والله الهادي إلى الصراط المستقيم.
--------------------------------------------
এই কারণে আমি আমাদের বিরোধীদের প্রতি এই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছি যে, তারা আমাদের গৃহীত অথবা সাধারণভাবে ইসলামি আন্দোলনের গৃহীত এমন কোনো বিষয় উল্লেখ করুক যার কোনো ভিত্তি আমাদের মালিকি মাজহাব ও তার ঐতিহাসিক প্রয়োগসমূহের মধ্যে নেই। বরং আমরা যার দাওয়াত দিচ্ছি, তা-ই হলো সেই মূল ভিত্তি যে বিষয়ে মরক্কোর অধিকাংশ ঐতিহাসিক ও ফিকহ শাস্ত্রীয় উৎসসমূহ ঐকমত্য পোষণ করেছে।
পরিশেষে, এটি অস্পষ্ট নয় যে গ্রন্থ রচনা—যেমনটি অনেক আলেম উল্লেখ করেছেন—'উপকারী জ্ঞান'-এর অন্তর্ভুক্ত; বরং এটি অন্যান্য মাধ্যমের চেয়ে এই ক্ষেত্রে অধিকতর জোরালো ভূমিকা রাখে (১)।
এই কারণেই "আমি সর্বদা গ্রন্থ রচনার প্রতি অনুরাগী এবং সংকলন কার্যের প্রতি আগ্রহী ছিলাম; আমি ইহাকেই আমার নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত করেছি এবং এর মাধ্যমেই আমার পার্থিব জীবন অতিবাহিত করেছি। আমি কোনো উচ্চপদস্থ ব্যক্তির সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে এটি করিনি, যদিও তিনি এর বিনিময়ে মূল্যবান ধন-সম্পদ প্রদান করতে রাজি হতেন" (২)।
আর আল্লাহ-ই সরল পথের দিশারী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ১১)
العلمانية والمذهب المالكييولي المالكية عناية كبيرة للشريعة الإسلامية بأبوابها المتعددة، ابتداء من الصلاة وباقي الأركان الخمسة ومرورا بأحكام البيوع والزواج والطلاق وانتهاء بأحكام الجهاد.
فأحكام الشريعة عند المالكية كل لا يتجزأ، ويجب الإذعان لها والامتثال لأحكامها.
ومن شرط الإمام عندهم كما في تفسير القرطبي (1/ 272) إقامة كتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وقال أبو عبد الله القرطبي كذلك في تفسيره (2/ 9) معلقا على قوله تعالى: {فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ}: في هذه الآية والتي قبلها التحذير من التبديل والتغيير والزيادة في الشرع، فكل من بدل وغير أو ابتدع في دين الله ما ليس منه ولا يجوز فيه فهو داخل تحت هذا الوعيد الشديد، والعذاب الأليم.
وقد ظلت الشريعة الإسلامية حاكمة في المغرب لقرون طويلة كما قال المؤرخ عبد السلام بن سودة الفاسي في إتحاف المطالع بوفيات أعلام القرن الثالث والرابع (2/ 455) قال: وفي 17 ذي الحجة موافق سادس عشر ماي سنة 1930 صدر الظهير البربري المشؤوم الذي يرمي إلى فصل سكان المغرب المسلمين البربر عن الشريعة الإسلامية التي تطبق عليهم منذ عدة قرون.
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ এবং মালিকি মাযহাবমালিকি ফকিহগণ ইসলামী শরিয়তের বিভিন্ন অধ্যায়ের প্রতি গভীর গুরুত্বারোপ করেন; সালাত ও ইসলামের বাকি পঞ্চস্তম্ভ থেকে শুরু করে ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ ও তালাকের বিধানাবলি হয়ে জিহাদের বিধান পর্যন্ত এর পরিধি বিস্তৃত।
মালিকি মাযহাবের নিকট শরিয়তের বিধানসমূহ একটি অবিভাজ্য একক, এবং এর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন ও এর বিধানাবলি মেনে চলা অপরিহার্য।
তাদের নিকট ইমাম বা রাষ্ট্রপ্রধানের অন্যতম শর্ত হলো আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর প্রতিষ্ঠা করা, যেমনটি ইমাম কুরতুবির তাফসিরে (১/২৭২) বর্ণিত হয়েছে।
আবু আব্দুল্লাহ আল-কুরতুবি তাঁর তাফসির গ্রন্থে (২/৯) আল্লাহ তাআলার বাণী—"অতএব দুর্ভোগ তাদের জন্য, যারা নিজ হাতে কিতাব লেখে"—এর ব্যাখ্যায় বলেন: এই আয়াত এবং এর পূর্ববর্তী আয়াতে শরিয়তের মধ্যে কোনো প্রকার পরিবর্তন, পরিবর্ধন এবং নতুন কিছু সংযোজনের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। সুতরাং যে কেউ আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে এমন কোনো পরিবর্তন করবে বা এমন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটাবে যা দ্বীনের অংশ নয় এবং যা বৈধ নয়, সে এই কঠোর হুঁশিয়ারি ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির অন্তর্ভুক্ত হবে।
মরক্কোতে দীর্ঘ শতাব্দী ধরে ইসলামী শরিয়ত শাসনকার্য পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে বিদ্যমান ছিল, যেমনটি ঐতিহাসিক আব্দুস সালাম বিন সুদা আল-ফাসি তাঁর 'ইতহাফুল মুতালি' বি-ওয়াফায়াত আলামিল করনিস সালিছ ওয়ার রাবি' (২/৪৫৫) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: ১৩৪৯ হিজরির ১৭ই জিলহজ মোতাবেক ১৯৩০ সালের ১৬ই মে সেই অশুভ 'বার্বার ডিক্রি' (জাহির বারবারি) জারি করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল মরক্কোর মুসলিম বার্বার অধিবাসীদেরকে সেই ইসলামী শরিয়ত থেকে বিচ্ছিন্ন করা, যা গত কয়েক শতাব্দী ধরে তাদের ওপর কার্যকর ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ১২)
وكان دأب السلاطين العلويين وسيرتهم الوقوف عند حدود الشريعة والاقتصار عليها ورد الأمر كله إليها كما قال المشرفي (1).
بينما تهدف العلمانية إلى الحد من حاكمية الشريعة الإسلامية وسجنها مشلولة الحركة داخل المسجد.
والعلمانية كما أسلفت في كتب سابقة لها شق عقائدي إيديولوجي، أعني موقفها من الغيب والميتافيزيقا، واعتبارها كل المفاهيم الغيبية الدينية أساطير خرافية من ثقافة القرون الوسطى.
ولها شق تشريعي يتجاوز كل التشريعات الدينية كما وكيفا وفي شتى المجالات المختلفة.
وكل ما سطرت في كتابي الثاني أعني «العلمانيون العرب وموقفهم من الإسلام» فإنه ينسحب على المذهب المالكي، لأن المذاهب الأربعة هي المذاهب الفقهية الإسلامية المشهورة، فإذا تحدثنا عن الإسلام بأحكامه وشرائعه فإننا نعني جميع المذاهب الأربعة، لأنها لا تختلف إلا في جزئيات وتفاصيل فقهية.
فالعلمانية عندما ترفض مثلا الحدود الشرعية فإنها ترفض المذاهب الأربعة وتعتبرها متجاوزة لأنها اتفقت على وجوب تطبيق الحدود الشرعية والحفاظ على الشريعة، بل اعتبروها أحد الأسس التي تقوم عليها الإمارة والحكم الإسلامي.
--------------------------------------------
আলাউয়ি সুলতানগণের রীতি ও কর্মপন্থা ছিল শরীয়তের সীমানার ওপর অটল থাকা, শরীয়তেই সীমাবদ্ধ থাকা এবং সকল বিষয়কে শরীয়তের দিকেই ফিরিয়ে দেওয়া, যেমনটি আল-মুশরাফি বলেছেন (১)।
পক্ষান্তরে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের লক্ষ্য হলো ইসলামী শরীয়তের সার্বভৌমত্বকে সীমাবদ্ধ করা এবং একে মসজিদের ভেতরে নিশ্চল অবস্থায় কারারুদ্ধ করা।
এবং ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ—যেমনটি আমি পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে উল্লেখ করেছি—এর একটি আকীদাগত ও আদর্শিক দিক রয়েছে; অর্থাৎ অদৃশ্যের জগত ও অতিপ্রাকৃত বিষয়ের (মেটাফিজিক্স) প্রতি এর দৃষ্টিভঙ্গি এবং সকল ধর্মীয় গায়েবী ধারণাকে মধ্যযুগীয় সংস্কৃতির কাল্পনিক পৌরাণিক কাহিনী হিসেবে গণ্য করা।
আর এর একটি আইনি বা বিধানিক দিক রয়েছে যা গুণগত ও সংখ্যাগত দিক থেকে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সকল ধর্মীয় বিধানকে অতিক্রম করে যায়।
আমি আমার দ্বিতীয় গ্রন্থে—অর্থাৎ ‘আরব ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী এবং ইসলামের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি’ বইটিতে যা কিছু লিখেছি, তা মালেকী মাযহাবের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কেননা চার মাযহাব হলো সুপ্রসিদ্ধ ইসলামী ফিকহী মাযহাব। সুতরাং যখন আমরা ইসলামের বিধিবিধান ও শরীয়ত নিয়ে কথা বলি, তখন আমরা চারটি মাযহাবকেই উদ্দেশ্য করি; কারণ এগুলো কেবল ফিকহী খুঁটিনাটি ও বিস্তারিত শাখা-প্রশাখা ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে না।
অতএব, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ যখন উদাহরণস্বরূপ শরয়ী দণ্ডবিধি (হুদুদ) প্রত্যাখ্যান করে, তখন প্রকৃতপক্ষে তা চারটি মাযহাবকেই প্রত্যাখ্যান করে এবং সেগুলোকে সেকেলে বা অতীত মনে করে। কারণ মাযহাবসমূহ শরয়ী দণ্ডবিধি প্রয়োগ এবং শরীয়ত সংরক্ষণের আবশ্যিকতার ওপর একমত হয়েছে; বরং তারা একে এমন এক মূলভিত্তি হিসেবে গণ্য করেছে যার ওপর ইসলামী ইমারত ও শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وتمثل كتب النوازل والفتاوى الفقهية أهم مصدر تنعكس فيه هموم المجتمع وتطلعاته وإشكالاته. والمتأمل في كتب النوازل المغربية كنوازل العلمي والوزاني والونشريسي والبرزلي، وكلها مطبوعة، يرى بوضوح تام لا لبس فيه أن المذهب المالكي هو المصدر الوحيد المعتمد داخل التراب الوطني في حل إشكالات البيع والشراء والرهن والشركات والإيجارات والأكرية وغيرها.
بل يظهر من خلالها أن المغاربة لا يعرفون أي مصدر ثان بعد المذهب المالكي في كل ما يتصل بحياتهم اليومية. فقد سجلوا عشرات التساؤلات والاستفسارات في قضايا البيع والشراء والمعاملات اليومية التي كانوا يتعاطونها. أما اليوم فقد هجر المذهب نهائيا وأقصي من الميدان تماما. بل حلت محله تشريعات وضعية لا تمت إليه بصلة. فكثير من تشريعات العقود والالتزامات مثلا مخالفة له، كما سنبين في رسالة قادمة إن شاء الله.
وفي المسائل السياسية أو ما يسمى بالسياسة الشرعية أو الخلافة أو الإمارة ترى أن معتمدهم الوحيد هو المذهب المالكي. نرى هذا واضحا في كتب مثل كتاب عبد القادر الفاسي في ذلك (1)، وأحمد بن محمد الرهوني في «نصح المؤمنين بشرح قول ابن أبي زيد"والطاعة لأئمة المسلمين"» (2) وغيرهم.
وتتابعت نصوص علماء المالكية في أن الشريعة الإسلامية حاكمة على كل أحد:
--------------------------------------------
নাওয়াযিল (সমসাময়িক সমস্যাবলি) এবং ফিকহী ফতোয়ার গ্রন্থসমূহ সমাজের উদ্বেগ, আকাঙ্ক্ষা এবং সমস্যাবলির প্রতিফলিত হওয়ার অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে গণ্য হয়। মাগরেবী (মরক্কান) নাওয়াযিল গ্রন্থসমূহ যেমন আল-আলামী, আল-ওয়াজ্জানি, আল-ওয়ানশারীসী এবং আল-বারযালীর সংকলনসমূহের প্রতি নিবিষ্টভাবে লক্ষ করলে—যা সবই বর্তমানে মুদ্রিত—সুস্পষ্টভাবে এবং কোনো সংশয়াতীতভাবে প্রতীয়মান হয় যে, জাতীয় ভূখণ্ডে বেচাকেনা, বন্ধক, অংশীদারিত্ব, ইজারা ও ভাড়া সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে মালিকী মাযহাবই ছিল একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস।
বরং এই গ্রন্থগুলোর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, মরক্কোবাসীরা তাদের দৈনন্দিন জীবন সংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয়ে মালিকী মাযহাব ব্যতীত দ্বিতীয় কোনো উৎসের কথা জানত না। তারা তাদের দৈনন্দিন ক্রয়-বিক্রয় এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে শত শত জিজ্ঞাসা ও অনুসন্ধান লিপিবদ্ধ করে গেছেন। অথচ বর্তমানে এই মাযহাবকে পুরোপুরি বর্জন করা হয়েছে এবং ময়দান থেকে সম্পূর্ণভাবে অপসারিত করা হয়েছে। তদুপরি এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে এমন সব মানবীয় আইন, যার সাথে শরীয়তের কোনো সম্পর্ক নেই। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানের চুক্তি ও বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত অনেক আইন মালিকী মাযহাবের পরিপন্থী, যা আমরা ইনশাআল্লাহ আগামী কোনো প্রবন্ধে ব্যাখ্যা করব।
আর রাজনৈতিক মাসআলাসমূহ বা যেটিকে সিয়াসাহ শারইয়্যাহ, খিলাফত কিংবা ইমারত (নেতৃত্ব) বলা হয়, সেখানেও দেখা যায় যে তাদের একমাত্র নির্ভরস্থল ছিল মালিকী মাযহাব। এ বিষয়টি আমরা পরিষ্কারভাবে দেখতে পাই আব্দুল কাদির আল-ফাসীর কিতাবে (১), এবং আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ আল-রাহুনীর কিতাব 'নুসহুল মু'মিনীন বি-শারহি কওলি ইবনি আবী যাইদ: ওয়াত-তাআতু লি-আইম্মাতিল মুসলিমীন' (২) এবং অন্যান্যদের রচনায়।
মালিকী আলিমগণের বক্তব্যসমূহ এই মর্মে একের পর এক এসেছে যে, ইসলামী শরীয়ত প্রত্যেকের উপর চূড়ান্ত ফয়সালাকারী হিসেবে কার্যকর:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
قال ابن بطال المالكي في شرح صحيح البخاري (10/ 363): والواجب على الحاكم أو العالم إذا كان من أهل الاجتهاد أن يلتمس حكم الحادثة في الكتاب أو السنة.
فنص على أن المرجع الوحيد للحاكم هو الكتاب والسنة.
وقال علي بن أبي طالب رضي الله عنه: حق على الإمام أن يحكم بما أنزل الله تعالى ويؤدي الأمانة فإذا فعل حق على الرعية أن يسمعوا ويطيعوا ويجيبوا إذا دعوا (1).
وقال الشاطبي في الاعتصام (2/ 853): فاعلموا أن الله تعالى وضع هذه الشريعة حجة على الخلق كبيرهم وصغيرهم، مطيعهم وعاصيهم، برهم وفاجرهم، لم يختص بالحجة بها أحدا دون أحد، وكذلك سائر الشرائع إنما وضعت لتكون حجة على جميع الأمم التي تنزل فيهم تلك الشريعة، حتى إن حملة شريعة المرسلين بها صلوات الله عليهم داخلون تحت أحكامها.
فلا حجة إلا في الشريعة كما قرر هذا الإمام المالكي.
وقال (2/ 855): وإذا كان كذلك فسائر الخلق حريون بأن تكون الشريعة حجة حاكمة عليهم ومنارا يهتدون بها إلى الحق. وشرفهم إنما يثبت بحسب ما اتصفوا به من الدخول تحت أحكامها والعمل بها قولا واعتقادا وعملا، لا بحسب عقولهم فقط ولا بحسب شرفهم في قومهم فقط. لأن الله تعالى إنما أثبت الشرف بالتقوى لا غيرها لقوله تعالى: ِ {إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ}. فمن كان أشد محافظة على اتباع الشريعة فهو أولى بالشرف والكرم،
--------------------------------------------
ইমাম ইবনে বাত্তাল আল-মালিকি 'শারহু সহিহ আল-বুখারি' (১০/ ৩৬৩)-তে বলেছেন: শাসক বা আলিম যখন ইজতিহাদের যোগ্য হন, তখন তার জন্য আবশ্যক হলো কোনো নতুন ঘটনার বিধান কিতাবুল্লাহ বা সুন্নাহর মধ্যে অনুসন্ধান করা।
তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, শাসকের একমাত্র প্রত্যাবর্তনস্থল হলো কিতাব ও সুন্নাহ।
আর আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: ইমামের ওপর কর্তব্য হলো আল্লাহ তাআলা যা অবতীর্ণ করেছেন সেই অনুযায়ী ফয়সালা করা এবং আমানত রক্ষা করা; যখন তিনি তা করবেন, তখন প্রজাদের ওপর কর্তব্য হলো শ্রবণ করা, আনুগত্য করা এবং যখনই তাদের আহ্বান করা হবে তখন সাড়া দেওয়া (১)।
ইমাম শাতবি 'আল-ইতিসাম' (২/ ৮৫৩)-এ বলেন: তোমরা জেনে রেখো যে, আল্লাহ তাআলা এই শরিয়তকে সমস্ত সৃষ্টির ওপর প্রমাণ হিসেবে স্থাপন করেছেন—চাই সে বড় হোক বা ছোট, অনুগত হোক বা পাপাচারী, পুণ্যবান হোক বা দুরাচারী। তিনি এই প্রমাণের ক্ষেত্রে বিশেষ কাউকে স্বতন্ত্র করেননি। তদ্রূপ অন্যান্য সমস্ত শরিয়তও কেবল সেই সব উম্মতের ওপর প্রমাণ হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছিল যাদের নিকট তা নাযিল হয়েছে; এমনকি যে রাসুলগণের (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) মাধ্যমে এই শরিয়ত এসেছে, তাঁরাও এর বিধানের আওতাভুক্ত।
সুতরাং শরিয়ত ব্যতীত আর কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই, যেমনটি এই মালিকি ইমাম সুনিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরও বলেন (২/ ৮৫৫): আর বিষয়টি যখন এরূপ, তখন সমস্ত সৃষ্টিই এর মুখাপেক্ষী যে, শরিয়ত তাদের ওপর এক মীমাংসাকারী বিধান এবং আলোকবর্তিকা হবে যার মাধ্যমে তারা সত্যের দিশা পাবে। তাদের শ্রেষ্ঠত্ব কেবল শরিয়তের বিধানের অনুগত হওয়া এবং কথা, বিশ্বাস ও কর্মের মাধ্যমে তা পালন করার ওপর ভিত্তি করে সাব্যস্ত হয়; কেবল তাদের বুদ্ধিবৃত্তি বা নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে আভিজাত্যের ওপর ভিত্তি করে নয়। কেননা আল্লাহ তাআলা কেবল তাকওয়ার মাধ্যমেই মর্যাদা নির্ধারণ করেছেন, অন্য কিছুর মাধ্যমে নয়; আল্লাহ তাআলার বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই অধিক সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকি।" সুতরাং যে ব্যক্তি শরিয়ত অনুসরণে অধিক যত্নশীল, সেই সম্মান ও মর্যাদার জন্য অধিক যোগ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ومن كان دون ذلك لم يمكن أن يبلغ في الشرف مبلغ الأعلى في اتباعها. فالشرف إذا إنما هو بحسب المبالغة في تحكيم الشريعة.
وقال المشرفي عن المولى محمد بن عبد الرحمن: بانيا أمره على الشريعة لا يحيد عنها طرفة عين (1).
وقد حافظ المغرب طيلة عهوده الإسلامية على إقليمية القضاء وإقليمية التشريع، فكانت المحكمة الشرعية هي القضاء الوحيد الذي يرجع إليه المتقاضون من أي جنس كانوا وأي دين كانوا. كما يقول علال الفاسي في «دفاع عن الشريعة الإسلامية» (12).
وقال (157 - 158): إن المغرب قبل الحماية كان يملك جهازا قضائيا كامل النظام والصلاحية وإن لم يكن متمتعا ببعض مظاهر التنظيمات العصرية، وكانت الشريعة الإسلامية هي المرجع الذي تؤول إليه كل القضايا. والقاضي الشرعي هو الذي يتولى الحكم في المسائل المدنية والجنائية وفي نظام الأسرة كذلك. ولكن الحماية الفرنسية بمجرد انتصابها حدت من اختصاصات المحاكم الشرعية، وحولت قسما منها إلى ما سمته بالمحاكم الفرنسية المغربية
… (2)
وجاء في بيان المؤتمر الثاني لجمعية العلماء خريجي دار الحديث الحسنية المنعقد بمراكش أيام 14 - 15 - 16 جمادى الأولى 1396 هـ موافق 14 - 15 - 16 ماي 1976 م التأكيد على ما يلي (3):
--------------------------------------------
আর যে ব্যক্তি এর চেয়ে নিচে অবস্থান করে, তার পক্ষে শরীয়তের অনুসরণে সর্বোচ্চ মর্যাদায় উপনীত হওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং মর্যাদা কেবল শরীয়তকে বিচারক হিসেবে মান্য করার ঐকান্তিকতার ওপরই নির্ভরশীল।
আল-মুশরাফী মাওলা মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান সম্পর্কে বলেন: তিনি তাঁর যাবতীয় বিষয় শরীয়তের ওপর ভিত্তি করে পরিচালনা করতেন এবং চোখের পলকের জন্যও তা থেকে বিচ্যুত হতেন না (১)।
মরক্কো তার সমগ্র ইসলামী যুগে বিচারব্যবস্থা ও আইন প্রণয়নের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব বজায় রেখেছিল; ফলে বিচারপ্রার্থীরা যে জাতি বা ধর্মেরই হোক না কেন, শরীয়াহ আদালতই ছিল তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল। যেমনটি আল্লাল আল-ফাসি তাঁর 'দিফাউ আনিল শরীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ' (ইসলামী শরীয়তের প্রতিরক্ষা) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন (১২)।
তিনি আরও বলেন (পৃষ্ঠা ১৫৭ - ১৫৮): ঔপনিবেশিক শাসনের (প্রটেক্টরেট) পূর্বে মরক্কোর একটি সুসংগঠিত ও পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন বিচার বিভাগ ছিল, যদিও তা আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কিছু রূপ লাভ করেনি। তখন ইসলামী শরীয়তই ছিল সকল মামলার চূড়ান্ত ফয়সালার উৎস। দেওয়ানি, ফৌজদারি এবং পারিবারিক ব্যবস্থার সকল বিষয়ে শরীয়াহ বিচারকই রায় প্রদান করতেন। কিন্তু ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সাথে সাথেই শরীয়াহ আদালতগুলোর এখতিয়ার সংকুচিত করে দেওয়া হয় এবং এর একটি অংশকে তারা 'ফরাসি-মরক্কো আদালত' নামে অভিহিত করে সেদিকে স্থানান্তরিত করে
... (২)।
১৩৯৬ হিজরীর ১৪ - ১৫ - ১৬ই জুমাদাল উলা মোতাবেক ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের ১৪ - baby১৫ - ১৬ই মে তারিখে মাররাকেশে অনুষ্ঠিত 'দারুল হাদিস আল-হাসানিয়া'র গ্র্যাজুয়েট ওলামা সমিতির দ্বিতীয় সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে (৩):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
- جعل التشريع المغربي تشريعا إسلاميا مستمدا من أطر الإسلام وقواعده والأعراف المغربية الأصيلة.
- مراقبة الإعلام المغربي مراقبة صارمة وخاصة الأفلام الخليعة التي تتنافى مع حشمة المسلم وتجرح كرامته ووقاره.
- الأخذ بمشورة العلماء ورأيهم في القضايا الوطنية وتمثيلهم الكامل في كل المؤسسات والمجالس التمثيلية باعتبارهم أهل الحل والعقد في الأمة.
- إصلاح هياكل التعليم من القاعدة إلى القمة في قالب الأصالة الإسلامية وتطهير الكتاب المدرسي من الجراثيم التي تفتك بناشئتنا والاهتمام باختيار المدرس والأستاذ.
- اعتماد شرائع الله أساسا لحالتنا ودستورا لأخلاقنا حكما وسلوكا وإدارة، ورد كل أمورنا إليها.
- تنظيم الاقتصاد وفق أسس إسلامية وتحرير موارده وجعله سلاحا في ساحة الجهاد المقدس لتخليص المسلمين من التبعية والوقوع في المعاملات الربوية.
فهذه توصيات هامة من علماء مغاربة تتوافق مع ما نؤكد عليه من أفكار في هذه السلسلة.
ومن تعظيم المالكية لأحكام الشريعة وأصولها إجماعهم على تكفير من أنكر الفرائض الشرعية مستحلا لذلك:
- মরক্কোর আইন ব্যবস্থাকে ইসলামের কাঠামো, এর নীতিমালা এবং মরক্কোর চিরায়ত ঐতিহ্যের ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী আইন ব্যবস্থায় রূপান্তর করা।
- মরক্কোর গণমাধ্যমকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, বিশেষ করে সেই সব অশ্লীল চলচ্চিত্র যা একজন মুসলমানের লজ্জাশীলতার পরিপন্থী এবং তার মর্যাদা ও গাম্ভীর্যকে ক্ষুণ্ণ করে।
- জাতীয় ইস্যুগুলোতে উলামায়ে কেরামের পরামর্শ ও মতামত গ্রহণ করা এবং প্রতিটি প্রতিনিধিত্বমূলক সংস্থা ও পরিষদে তাদের পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা; যেহেতু তাঁরাই উম্মাহর ‘আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ’ বা নীতিনির্ধারক গোষ্ঠী।
- শিক্ষার অবকাঠামোকে গোড়া থেকে চূড়া পর্যন্ত ইসলামী ঐতিহ্যের ছাঁচে সংস্কার করা, পাঠ্যপুস্তককে এমন সব বিষাক্ত উপাদান থেকে মুক্ত করা যা আমাদের নতুন প্রজন্মকে ধ্বংস করছে এবং শিক্ষক ও অধ্যাপকদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা।
- আল্লাহর বিধানকে আমাদের সামগ্রিক অবস্থার মূল ভিত্তি এবং শাসনব্যবস্থা, আচরণ ও প্রশাসনের ক্ষেত্রে আমাদের নৈতিক সংবিধান হিসেবে গ্রহণ করা এবং আমাদের সকল বিষয়কে এর দিকেই প্রত্যাবর্তন করানো।
- ইসলামী মূলনীতির আলোকে অর্থনীতি পুনর্গঠন করা, এর সম্পদসমূহকে মুক্ত করা এবং একে পবিত্র জিহাদের ময়দানে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলা; যাতে মুসলমানদের পরনির্ভরশীলতা এবং সুদী কারবারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করা যায়।
এগুলি মরক্কোর আলেমদের পক্ষ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ যা আমাদের এই ধারাবাহিকে আলোচিত চিন্তাধারার সাথে সংগতিপূর্ণ।
শরীয়তের বিধান ও এর মূলনীতির প্রতি মালিকী মাযহাবের শ্রদ্ধাবোধের অন্যতম নিদর্শন হলো—যে ব্যক্তি শরীয়তের ফরজ বিধানসমূহকে অস্বীকার করে এবং তাকে হালাল মনে করে, তাকে কাফের সাব্যস্ত করার ব্যাপারে তাদের ঐকমত্য:
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قال القرطبي المالكي في تفسيره (8/ 74): وقال ابن العربي: ولا خلاف بين المسلمين أن من ترك الصلاة وسائر الفرائض مستحلا كفر، ومن ترك السنن متهاونا فسق
… واختلفوا فيمن ترك الصلاة من غير جحد لها ولا استحلال، فروى يونس بن عبد الأعلى قال: سمعت ابن وهب يقول قال مالك: من آمن بالله وصدق المرسلين وأبى أن يصلي قتل.
وقال ابن بطال المالكي في شرح صحيح البخاري (8/ 577 - 578): وأجمع العلماء أن من نصب الحرب في منع فريضة، أو منع حقا يجب عليه لآدمي أنه يجب قتاله، فإن أبى القتل على نفسه فدمه هدر. قال ابن القصار: وأما الصلاة فإن مذهب الجماعة أن من تركها عامدا جاحدا لها فحكمه حكم المرتد يستتاب، فإن تاب وإلا قتل، وكذلك جحد سائر الفرائض، وإنما اختلفوا فيمن تركها لغير عذر غير جاحد لها.
فهذه نصوص مالكية واضحة في أن من أنكر واجبا من الواجبات الظاهرة كافر ومن تركها تهاونا فاسق (1).
وقال القاضي عياض في إكمال المعلم شرح صحيح مسلم (1/ 238): ولا خلاف في جاحد فرض من هذه الفرائض أنه كافر. يقصد: الزكاة والصيّام والحج والوضوء والغسل.
وقال ابن رشد في البيان والتحصيل (16/ 394): أما من جحد فرض الوضوء والصلاة والزكاة أو الصيام أو الحج أو استحل شرب الخمر أو الزنا أو غصب الأموال أو جحد سورة أو آية من القرآن أو ما أشبه ذلك، فلا اختلاف
--------------------------------------------
আল-কুরতুবী আল-মালিকী তাঁর তাফসীরে (৮/ ৭৪) বলেন: ইবনুল আরাবী বলেছেন: মুসলমানদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, যে ব্যক্তি নামায ও অন্যান্য ফরযসমূহকে বৈধ মনে করে বর্জন করে সে কাফির হিসেবে গণ্য হবে, আর যে ব্যক্তি অবহেলাবশত সুন্নাতসমূহ বর্জন করে সে ফাসিক হিসেবে গণ্য হবে
... তবে যারা অস্বীকার বা বৈধ মনে করা ব্যতিরেকে নামায বর্জন করে, তাদের ব্যাপারে আলিমগণ মতভেদ করেছেন। ইউনুস ইবনে আবদিল আ’লা বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে ওয়াহাবকে বলতে শুনেছি, মালিক বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং রাসূলগণের সত্যতা স্বীকার করেছে, কিন্তু নামায পড়তে অস্বীকার করেছে, তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হবে।
ইবনে বাত্তাল আল-মালিকী শরহু সহীহ আল-বুখারীতে (৮/ ৫৭৭ - ৫৭৮) বলেন: আলিমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি কোনো ফরয পালনে বাধা দিতে কিংবা মানুষের কোনো প্রাপ্য অধিকার আদায়ে বাধা দিতে যুদ্ধ ঘোষণা করে, তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ওয়াজিব। এমতাবস্থায় সে যদি আত্মসমর্পণ না করে নিহত হয়, তবে তার রক্তের কোনো দায়ভার থাকবে না। ইবনুল কাসসার বলেন: আর নামাযের বিষয়ে জমহুর আলিমদের মাযহাব হলো, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে তা অস্বীকার করে বর্জন করবে, তার বিধান মুরতাদের বিধানের অনুরূপ; তার নিকট তওবা চাওয়া হবে, সে তওবা করলে ভালো, অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে। একইভাবে অন্যান্য ফরযসমূহ অস্বীকার করার বিধানও এটিই। তাঁরা কেবল ওই ব্যক্তি সম্পর্কে দ্বিমত পোষণ করেছেন যে কোনো ওযর ছাড়াই নামায বর্জন করে কিন্তু তা অস্বীকার করে না।
সুতরাং এগুলো স্পষ্ট মালিকী বর্ণনা যে, যে ব্যক্তি কোনো প্রকাশ্য ফরয বিষয়কে অস্বীকার করে সে কাফির, আর যে ব্যক্তি অবহেলাবশত তা বর্জন করে সে ফাসিক (১)।
কাযী ইয়ায ‘ইকমালুল মু’াল্লিম শরহু সহীহ মুসলিম’ গ্রন্থে (১/ ২৩৮) বলেন: এই ফরযগুলোর কোনো একটি অস্বীকারকারী যে কাফির, এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। তিনি এর দ্বারা যাকাত, রোজা, হজ, ওযু এবং গোসল উদ্দেশ্য করেছেন।
ইবনে রুশদ ‘আল-বায়ান ওয়াত তাহসীল’ গ্রন্থে (১৬/ ৩৯৪) বলেন: যে ব্যক্তি ওযু, নামায, যাকাত, রোজা বা হজের ফরয হওয়াকে অস্বীকার করে, কিংবা মদ পান, যিনা বা মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করাকে বৈধ মনে করে, অথবা কুরআনের কোনো সূরা বা আয়াত কিংবা অনুরূপ কিছু অস্বীকার করে, তবে সে ক্ষেত্রে কোনো মতভেদ নেই যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
في أنه كافر، وإن قال إنه مؤمن. فيعلم أنه في ذلك كاذب، للإجماع المنعقد على أن ذلك لا يكون إلا من كافر، وإن لم يكن شيء من ذلك في نفسه كفراً على الحقيقة، وأما من أقر بفرض الصلاة والصيام والوضوء وأبى من فعل ذلك وهو قادر عليه فقول مالك في هذه الرواية: إنه يستتاب في ذلك كله، فإن أبى في شيء منه أن يفعله قتل يدل على أنه يقتل على الكفر، فيكون ماله لجماعة المسلمين كالمرتد إذا قتل على ردته لأنه وإن لم يكن نفس الترك لشيء من ذلك كله كفراً على الحقيقة فإنه يدل على الكفر، ولا يصدق من قال في شيء من ذلك كله إنه مؤمن بوجوبه عليه إذا أبى أن يفعله، فحكمه حكم الزنديق الذي يقتل على الكفر. انتهى.
ولا يفوتني هنا التنبيه على أن التكفير أمره خطير، وله شروط، وتمنع منه موانع. ولا يجوز أن يتكلم فيه إلا أهل العلم العالمين بالشريعة.
المذهب المالكي عبادة وشريعة.
المتأمل لكتب المذهب المالكي يجد أن مباحثها غطت كافة أبواب الحياة السياسية والاقتصادية والاجتماعية وغيرها، ولم يترك المالكية بابا إلا بحثوه ولا حكما إلا طرحوه وأوضحوا فيه حكم الشرع وبينوه.
وإذا تأملنا مثلا كتاب الموطأ سنجد أنه يتضمن الأبواب التالية: الصلاة. الطهارة. الجنائز. الزكاة. الصيام. الحج. الجهاد. النذور والأيمان. الضحايا. الذبائح. الصيد. العقيقة. الفرائض. النكاح. الطلاق. الرضاع. البيوع. القراض. المساقاة. كراء الأراضي. الشفعة. الأقضية. الوصية. العتق والولاء. المكاتب. المدبر. الحدود. الأشربة. العقول. القسامة. الجامع. القدر. حسن
এই বিষয়ে তিনি কাফির, যদিও তিনি নিজেকে মুমিন দাবি করেন। এ কথা সুস্পষ্ট যে তিনি এ ক্ষেত্রে মিথ্যাবাদী, কারণ এ বিষয়ে ইজমা বা সর্বসম্মত ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, এ ধরনের আচরণ কেবল কাফিরের পক্ষ থেকেই প্রকাশ পাওয়া সম্ভব; যদিও বিষয়গুলোর কোনোটিই স্বতন্ত্রভাবে সরাসরি প্রকৃত কুফর নয়। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি সালাত, সিয়াম ও ওজুর আবশ্যকতা স্বীকার করে কিন্তু সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা পালনে অস্বীকৃতি জানায়, তবে এই বর্ণনায় ইমাম মালিকের অভিমত হলো: তাকে এই সমস্ত বিষয়ে তওবা করতে বলা হবে। যদি সে এর কোনোটি পালনে অস্বীকার করে তবে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। এটি নির্দেশ করে যে, তাকে কুফরের কারণেই হত্যা করা হচ্ছে। ফলে তার পরিত্যক্ত সম্পদ মুরতাদের সম্পদের ন্যায় মুসলিম উম্মাহর সাধারণ তহবিলে জমা হবে। কারণ, এ সবের কোনো একটি বর্জন করা যদিও মূলত কুফর নয়, তবুও তা কুফরেরই আলামত বা বহিঃপ্রকাশ। যে ব্যক্তি কোনো বিধান পালনে অস্বীকৃতি জানায়, সে ওই বিধানের আবশ্যকতায় বিশ্বাসী বলে দাবি করলে তাকে সত্যবাদী গণ্য করা হবে না। সুতরাং তার বিধান হবে সেই যিন্দিকের ন্যায় যাকে কুফরের কারণে হত্যা করা হয়। সমাপ্ত।
এখানে এ বিষয়ে সতর্ক করা প্রয়োজন যে, তাকফির (কাউকে কাফির ঘোষণা করা) অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুতর বিষয়। এর নির্দিষ্ট শর্তাবলি ও অন্তরায় রয়েছে। শরয়ি জ্ঞানে পারদর্শী আলেমগণ ব্যতীত অন্য কারো জন্য এ বিষয়ে কথা বলা বৈধ নয়।
মালেকি মাজহাব: ইবাদত ও শরিয়তমালেকি মাজহাবের গ্রন্থসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, এর আলোচ্য বিষয়সমূহ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনসহ সকল দিককে পরিব্যাপ্ত করে আছে। মালেকি ফকিহগণ এমন কোনো অধ্যায় নেই যা নিয়ে গবেষণা করেননি এবং এমন কোনো বিধান নেই যা তারা উপস্থাপন করে তার শরয়ি রূপরেখা স্পষ্ট করেননি।
উদাহরণস্বরূপ আমরা যদি আল-মুয়াত্তা গ্রন্থটি পর্যালোচনা করি, তবে দেখতে পাব যে এটি নিম্নোক্ত অধ্যায়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে: সালাত, পবিত্রতা, জানাজা, জাকাত, সিয়াম, হজ, জিহাদ, মানত ও শপথ, কুরবানি, জবাইকৃত পশু, শিকার, আকিকা, মিরাস (উত্তরাধিকার), বিবাহ, তালাক, দুগ্ধপান, ক্রয়-বিক্রয়, কিরাদ (মুদারাবা), মুসাকাত (সেচ ব্যবস্থা), ভূমি ইজারা, শুফআ (অগ্রক্রয়াধিকার), বিচারকার্য, অসিয়ত, দাসমুক্তি ও ওয়ালা, মুকাতাব, মুদাব্বার, হুদুদ (শাস্তি), পানীয় দ্রব্য, দিয়াত (রক্তপণ), কাসামাহ (শপথ গ্রহণ), বিবিধ (জামে), তাকদির এবং সচ্চরিত্রতা।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الخلق. اللباس. صفة النبي صلى الله عليه وسلم. العين. الشعر. الرؤيا. السلام. الاستئذان. البيعة. الكلام. جهنم. الصدقة. العلم. دعوة المظلوم. أسماء النبي صلى الله عليه وسلم.
فهذه أبواب موطأ مالك رحمه الله، والملاحظ أنها شملت كل الحياة وما يتعلق بها من تفاصيل، وليس كما يقول العلمانيون: الدين مكانه المسجد.
وهذه أبواب المدونة الكبرى: الوضوء. الصلاة. الجنائز. الصيام. الزكاة. الحج. الصيد. الذبائح. الضحايا. العقيقة. النذور. الطلاق. النكاح. المواريث. الصرف. السلم. الآجال. البيوع الفاسدة. البيعان بالخيار. المرابحة. الغرر. الوكالات. العرايا. التجارة إلى أرض العدو. التدليس بالعيوب. الصلح. تضمين الصناع. الجعل والإجارة. كراء الرواحل والدواب. كراء الدور والأرضين. المساقاة. الجوائح. الشركة. القراض. الأقضية. القضاء. الشهادات. الدعوى. المديان. التفليس. المأذون له في التجارة. الكفالة. والحمالة. الحوالة. الرهن. الغصب. الاستحقاق. الشفعة. الوصايا. الهبات. الحبس والصدقة. الوديعة. العارية. اللقطة والضوال. الآبق. حريم الآبار. الحدود في الزنا والقذف. الرجم. الأشربة. السرقة. المحاربون. الجراحات. الجنايات. الديات.
وهذه أبواب كتاب النوادر والزيادات لابن أبي زيد القيرواني: الطهارة. الصلاة. الجنائز. الصوم. الزكاة. الحج. الجهاد. السبق. الرمي. الأيمان. النذور. النكاح. الاستبراء. الصرف. البيوع. الجعل. الإجارة. المغارسة. القضاء. الشهادات. الدعوى. البينات. الإقرار. المديان. التفليس. إحياء الموات. الكلأ. الوصايا. الحبس. الأيمان بالعتق. المدبر. الدماء. المرتدون.
চরিত্র। পোশাক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শারীরিক বৈশিষ্ট্য। বদনজর। চুল। স্বপ্ন। সালাম। অনুমতি গ্রহণ। আনুগত্যের শপথ। কথা। জাহান্নাম। সদকা। জ্ঞান। মজলুমের দুআ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামসমূহ।
এগুলো হলো ইমাম মালিক (রহ.)-এর মুয়াত্তার অধ্যায়সমূহ; লক্ষণীয় যে, এগুলো জীবনের সকল ক্ষেত্র ও অনুষঙ্গকে পরিব্যাপ্ত করেছে। এটি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের দাবির মতো নয় যে, ধর্মের স্থান কেবল মসজিদে।
আর এগুলো আল-মুদাওয়ানাতুল কুবরার অধ্যায়সমূহ: অজু। সালাত। জানাজা। সিয়াম। জাকাত। হজ। শিকার। জবেহকৃত পশু। কোরবানি। আকিকা। মানত। তালাক। বিবাহ। উত্তরাধিকার। মুদ্রা বিনিময়। অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়। মেয়াদ নির্ধারণ। অবৈধ ক্রয়-বিক্রয়। ক্রয়-বিক্রয়ে পছন্দের অধিকার। মুরাবাহা। অস্পষ্ট বা ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেন। ওকালতি। ফল বিনিময় (আরায়া)। শত্রুর ভূখণ্ডে বাণিজ্য। দোষ গোপন করে প্রতারণা। সন্ধি। কারিগরদের দায়বদ্ধতা। পুরস্কার ঘোষণা ও ইজারা। সওয়ারি ও পশু ভাড়া। ঘর ও জমি ভাড়া। সেচভিত্তিক অংশীদারি। ফসলের প্রাকৃতিক দুর্যোগ। অংশীদারি কারবার। মুদারাবা (কিরাদ)। বিচার বিভাগীয় ফয়সালা। বিচারকার্য। সাক্ষ্য। মামলা। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি। দেউলিয়াত্ব। বাণিজ্যের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি। জামিনদারি। ভারবহন। ঋণ স্থানান্তর। বন্ধক। জবরদস্তি দখল। স্বত্বাধিকার সাব্যস্তকরণ। অগ্রক্রয় (শুফআ)। অসিয়ত। হেবা। ওয়াকফ ও সদকা। আমানত। ধারে ব্যবহার্য বস্তু। কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু ও হারানো পশু। পলাতক দাস। কূপের সীমানা। ব্যভিচার ও অপবাদের দণ্ড। পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড। পানীয়সমূহ। চুরি। ডাকাত ও বিদ্রোহী। জখম। ফৌজদারি অপরাধ। রক্তপণ।
আর এগুলো ইবনে আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানি রচিত কিতাবুন নাওয়াদির ওয়াজ জিয়াদাত-এর অধ্যায়সমূহ: পবিত্রতা। সালাত। জানাজা। সিয়াম। জাকাত। হজ। জিহাদ। প্রতিযোগিতা। তীর নিক্ষেপ। শপথ। মানত। বিবাহ। ইস্তিবরা (গর্ভমুক্ততা নিশ্চিত করা)। মুদ্রা বিনিময়। ক্রয়-বিক্রয়। পুরস্কার ঘোষণা। ইজারা। বৃক্ষরোপণ ভিত্তিক অংশীদারি। বিচারকার্য। সাক্ষ্য। মামলা। দলিল-প্রমাণ। স্বীকৃতি। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি। দেউলিয়াত্ব। অনাবাদি ভূমি আবাদ। চারণভূমি। অসিয়ত। ওয়াকফ। দাস মুক্তির শপথ। মৃত্যুপরবর্তী মুক্তিপ্রাপ্ত দাস। হত্যাকাণ্ড ও রক্তপাত। ধর্মত্যাগী।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ২০)
فكل ما يتعلق بالحياة العامة سواء في التجارة أو الأكرية أو البيع والشراء والرهن أو أحكام الصناعة والشركة والهبة والإفلاس والوكالة والكفالة والحوالة كتحويل الديون بالشيكات ونحوها والقضاء والشهادة ونحو ذلك خصص لها المالكية بحوثا مطولة وتفصيلات مسهبة، فيما بحثوا أحكام السياسة والإمارة في كتب خاصة. إنها منظومة قانونية وتشريعية شاملة لكافة مجالات الحياة البشرية وليست خاصة بالمسجد كما يقول العلمانيون.
إنكار المالكية للحرية بمفهومها العلماني:نقف مع نصين هامين يبرزان وعيا واضحا لعلماء المغرب لمسألة هي لب العلمانية وجوهرها: الحرية المطلقة. التي تهدف إلى التحرر من الأديان والثوابت والأعراف الاجتماعية والمطلقات:
طرحت إشكالية «حرية العقيدة في المغرب» من طرف اليهودي الإنجليزي السير موسى مونتفيوري، إذ وفد على المغرب عام 1280/ 1864، وحظي بمقابلة السلطان محمد الرابع وطلب منه الحرية ليهود المغرب.
فبحث المسألةَ العلامةُ الناصري في الاستقصا (3/ 114 - 115) وانتقد بشدة الحرية المطلقة التي تهدف إلى التحرر من جميع الضوابط وتتجاوز الأديان والأعراف. قال: واعلم أن هذه الحرية التي أحدثها الفرنج في هذه السنين هي من وضع الزنادقة قطعا لأنها تستلزم إسقاط حقوق الله وحقوق الوالدين وحقوق الإنسانية رأسا. أما إسقاطها لحقوق الله فإن الله تعالى أوجب على تارك الصلاة والصوم وعلى شارب الخمر وعلى الزاني طائعا حدودا معلومة، والحرية تقتضي إسقاط ذلك كما لا يخفى. وأما إسقاطها لحقوق الوالدين فلأنهم خذلهم
সুতরাং জনজীবন সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়, চাই তা বাণিজ্য, ইজারা, ক্রয়-বিক্রয়, বন্ধক, কিংবা শিল্প-উৎপাদন সংক্রান্ত বিধানাবলি, অংশীদারিত্ব, দান, দেউলিয়া হওয়া, প্রতিনিধিত্ব (ওকালাত), জামিনদারি এবং হাওয়ালা (যেমন চেকের মাধ্যমে ঋণ হস্তান্তর) ইত্যাদি, কিংবা বিচারব্যবস্থা ও সাক্ষ্যপ্রদান—এসবের জন্য মালিকি ফকিহগণ দীর্ঘ গবেষণা ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। অপরদিকে তাঁরা রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থার বিধানাবলি নিয়ে স্বতন্ত্র কিতাবসমূহে আলোচনা করেছেন। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি ও বিধানিক ব্যবস্থা যা মানবজীবনের সকল ক্ষেত্রকে পরিব্যপ্ত করে আছে, এটি কেবল মসজিদের ভেতর সীমাবদ্ধ নয় যেমনটি সেকুলাররা দাবি করে থাকে।
সেকুলার ধারণার আলোকে স্বাধীনতার প্রতি মালিকি ফকিহগণের অস্বীকৃতি:আমরা এখানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতির ওপর আলোকপাত করব যা মরক্কোর (মাগরিব) আলেমগণের নিকট সেকুলারিজমের মূল কেন্দ্রবিন্দু ও নির্যাস সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট সচেতনতাকে ফুটিয়ে তোলে, আর তা হলো: 'নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা'। যার লক্ষ্য হলো ধর্ম, ধ্রুব সত্য, সামাজিক প্রথা এবং পরম আদর্শগুলো থেকে মুক্তি লাভ করা:
মরক্কোতে 'ধর্মীয় স্বাধীনতার' বিষয়টি উত্থাপন করেন ইংরেজ ইহুদি স্যার মোজেস মন্টেফিওর। তিনি ১২৮০ হিজরি মোতাবেক ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে মরক্কোতে আসেন এবং সুলতান চতুর্থ মুহাম্মদের সাথে সাক্ষাৎ করার সুযোগ লাভ করেন। তিনি সুলতানের কাছে মরক্কোর ইহুদিদের জন্য স্বাধীনতা দাবি করেন।
আল্লামা নাসেরি তার ‘আল-ইস্তিকসা’ (৩/ ১১৪-১১৫) গ্রন্থে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সেই নিরঙ্কুশ স্বাধীনতার তীব্র সমালোচনা করেছেন যা সকল প্রকার নিয়মনীতি থেকে মুক্ত হতে চায় এবং ধর্ম ও সামাজিক রীতিনীতিকে লঙ্ঘন করে। তিনি বলেছেন: "জেনে রেখো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপীয়রা যে স্বাধীনতার উদ্ভাবন করেছে, তা নিশ্চিতভাবেই যিন্দিকদের (ধর্মদ্রোহীদের) আবিষ্কৃত। কারণ এটি সরাসরি আল্লাহর হক, পিতামাতার হক এবং মানবিক অধিকারসমূহ সমূলে বাতিল করাকে অনিবার্য করে তোলে। আল্লাহর হক বাতিলের বিষয়টি হলো—আল্লাহ তাআলা সালাত ও সওম বর্জনকারী, মদ্যপায়ী এবং স্বেচ্ছায় ব্যভিচারকারীর ওপর নির্দিষ্ট হুদুদ (দণ্ডবিধি) নির্ধারণ করেছেন; অথচ এই স্বাধীনতা সেই দণ্ডবিধিগুলো রহিত করার দাবি রাখে, যা কারো কাছে অস্পষ্ট নয়। আর পিতামাতার হক বাতিলের বিষয়টি হলো, তারা তাদের অপদস্থ করেছে..." [অসমাপ্ত]
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ২১)
الله يقولون إن الولد الحدث إذا وصل إلى حد البلوغ والبنت البكر إذا بلغت سن العشرين مثلا يفعلان بأنفسهما ما شاءا، ولا كلام للوالدين فضلا عن الأقارب، فضلا عن الحاكم، ونحن نعلم أن الأب يسخطه ما يرى من ولده أو بنته من الأمور التي تهتك المروءة وتزري بالعرض سيما إذا كان من ذوي البيوتات. فارتكاب ذلك على عينه مع منعه من الكلام فيه موجب للعقوق ومسقط لحقه من البرور. وأما إسقاطها لحقوق الإنسانية فإن الله تعالى لما خلق الإنسان كرمه وشرفه بالعقل الذي يعقله عن الوقوع في الرذائل ويبعثه على الاتصاف بالفضائل وبذلك تميز عما عداه من الحيوان. وضابط الحرية عندهم لا يوجب مراعاة هذه الأمور بل يبيح للإنسان أن يتعاطى ما ينفر عنه الطبع وتأباه الغريزة الإنسانية من التظاهر بالفحش والزنى وغير ذلك إن شاء، لأنه مالك أمر نفسه، فلا يلزم أن يتقيد بقيد. ولا فرق بينه وبين البهيمة المرسلة إلا في شيء واحد هو إعطاء الحق لإنسان آخر مثله فلا يجوز له أن يظلمه وما عدا ذلك فلا سبيل لأحد على إلزامه إياه. وهذا واضح البطلان، لأن الله تعالى حكيم وما ميز الإنسان بالعقل إلا ليحمِّله هذه التكاليف الشرعية من معرفة خالقه وبارئه والخضوع له لتكون له بها المنزلة عند الله في العقبى {إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ عَلَى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} الأحزاب 72 الآية.
واعلم أن الحرية الشرعية هي التي ذكرها الله في كتابه وبينها رسول الله صلى الله عليه وسلم لأمته وحررها الفقهاء رضي الله عنهم في باب الحجر من كتبهم فراجع ذلك وتفهمه ترشد، وبالله التوفيق. انتهى (1).
فالحرية يجب أن تضبط بضوابط الشريعة، والحرية المطلقة بمفهومها الغربي من وضع الزنادقة كما قال هذا العلامة المغربي.
--------------------------------------------
তারা বলে যে, যখন কোনো কিশোর বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছায় এবং কোনো কুমারী মেয়ে ধরুন বিশ বছর বয়সে উপনীত হয়, তখন তারা নিজেদের ব্যাপারে যা খুশি তা-ই করতে পারে। এ ক্ষেত্রে মাতা-পিতার কোনো কথা বলার অধিকার নেই, আত্মীয়-স্বজন কিংবা শাসকের কথা তো বহু দূরের বিষয়। অথচ আমরা জানি যে, কোনো পিতা যখন তার সন্তানের মধ্যে এমন বিষয় দেখেন যা শিষ্টাচার পরিপন্থী এবং মান-সম্মানের জন্য হানিকর, তখন তিনি অত্যন্ত সংক্ষুব্ধ হন; বিশেষ করে যদি তিনি কোনো সম্ভ্রান্ত পরিবারের হন। এমতাবস্থায় পিতার চোখের সামনে এই ধরনের অনাচারে লিপ্ত হওয়া এবং তাকে এ বিষয়ে কথা বলতে বাধা দেওয়া চরম অবাধ্যতার নামান্তর এবং তার প্রতি সদ্ব্যবহারের যে অধিকার রয়েছে তা ক্ষুণ্ণ করার শামিল। আর এটি যে মানবিক অধিকারকে ভূলুণ্ঠিত করে তার কারণ হলো—আল্লাহ তাআলা যখন মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তখন তাকে বিবেক দ্বারা সম্মানিত ও উচ্চমর্যাদা দান করেছেন, যা তাকে মন্দ কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত রাখে এবং সৎ গুণাবলিতে ভূষিত হতে উদ্বুদ্ধ করে। আর এর মাধ্যমেই মানুষ অন্যান্য চতুষ্পদ জন্তু থেকে পৃথক হয়েছে। তাদের নিকট স্বাধীনতার যে মানদণ্ড, তা এই বিষয়গুলো মেনে চলা আবশ্যক করে না; বরং তা মানুষকে এমন কাজ করার বৈধতা দেয় যা সুস্থ প্রকৃতি ঘৃণা করে এবং মানবিক প্রবৃত্তি প্রত্যাখ্যান করে, যেমন—অশ্লীলতা ও ব্যভিচারের প্রকাশ্য প্রদর্শন ইত্যাদি, যদি সে চায়। কারণ তাদের মতে সে নিজেই নিজের মালিক, তাই কোনো বিধি-নিষেধের অনুগামী হওয়া তার জন্য জরুরি নয়। এই ধারণা অনুযায়ী তার এবং বিচরণশীল পশুর মধ্যে কেবল একটি বিষয় ছাড়া আর কোনো পার্থক্য নেই, আর তা হলো তার মতো অন্য মানুষের অধিকার রক্ষা করা; অর্থাৎ সে অন্যের ওপর জুলুম করতে পারবে না। এ ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে তাকে কোনো বিধি-নিষেধ মানতে বাধ্য করার কোনো সুযোগ নেই। এই মতবাদ স্পষ্টতই অসার; কারণ আল্লাহ তাআলা প্রজ্ঞাময়। তিনি মানুষকে বিবেক দিয়ে স্বতন্ত্র করেছেন কেবল এজন্যই, যাতে তিনি তাকে এই শরয়ি দায়িত্বসমূহ পালনের ভার অর্পণ করেন—যেমন তার স্রষ্টা ও পালনকর্তাকে চেনা এবং তাঁর আনুগত্যে মস্তক অবনত করা—যাতে পরকালে আল্লাহর নিকট তার উচ্চ মর্যাদা অর্জিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আমি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর নিকট এই আমানত পেশ করেছিলাম..." (আল-আহজাব: ৭২)।
জেনে রাখুন যে, শরয়ি স্বাধীনতা হলো তা-ই যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উম্মতের জন্য ব্যাখ্যা করেছেন, আর ফকীহগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তাঁদের কিতাবসমূহের ‘হাজর’ (আইনগত সীমাবদ্ধতা) অধ্যায়ে তা বিশদভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন। সুতরাং বিষয়টি সেখানে দেখুন এবং তা অনুধাবন করুন, তবেই সঠিক পথ পাবেন। আল্লাহই তাওফীক দানকারী। (সমাপ্ত)। (১)।
অতএব, স্বাধীনতাকে অবশ্যই শরিয়তের বিধি-নিষেধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। আর পশ্চিমা ধারণা অনুযায়ী নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা মূলত ধর্মদ্রোহীদের একটি উদ্ভাবন, যেমনটি এই মরক্কান আল্লামা উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ২২)
فنعم للحرية المنضبطة كما تهتف الشعوب العربية في ربيعها العربي ردا على القمع والدكتاتورية والحكم المطلق، ولا للحرية المطلقة التي من ضمنها التحرر من الأديان والأخلاق والمطلقات.
وبعد أزمة 1860 بدأت الاقتراحات الأجنبية حول الحرية الدينية بالمغرب، ومن ذلك مذكرة بشأن حرية العقيدة في المغرب، قدمها الكاردينال نينا كاتب الدولة في الفاتيكان إلى مؤتمر مدريد 1297/ 1880، فبعث بها أعضاء المؤتمر إلى السلطان الحسن الأول حيث عرضها على قاضي فاس محمد بن عبد الرحمن العلوي المدغري ت 1299/ 1882، وعهد إليه بتحرير جواب المذكرة، فكتبه القاضي بعد استشارة العلماء المعنيين بالأمر، وكان من فصول الجواب: فحرية الأديان بالمعنى المعروف عند من قال بها والحالة المقررة الشهيرة عند أربابها: خارجة عن الدين بالدليل والبرهان، مضادة له كما لا يختلف فيه اثنان فلا سبيل إلى العمل بها وإلا بطلت الشريعة ولم يبق تعويل عليها (1).
وهذا رأي يلتقي تماما مع رأي الناصري المتقدم.
وهذا نص الجواب كاملا (2): الحمد لله، اجتمع أجناس النصارى، وكتبوا كتابا أجابهم عنه قاضي الجماعة مولانا محمد عام 1297هـ، ونص الجواب:
--------------------------------------------
সুতরাং নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতার প্রতি সমর্থন জানাই, যেমনিভাবে আরব বসন্তের সময় আরব জনগণ নিপীড়ন, একনায়কতন্ত্র ও স্বৈরাচারের প্রতিবাদে আওয়াজ তুলেছিল। কিন্তু সেই লাগামহীন স্বাধীনতার প্রতি কোনো সমর্থন নেই, যার অন্তর্ভুক্ত হলো ধর্ম, নৈতিকতা ও ধ্রুব সত্যসমূহ থেকে মুক্তি।
১৮৬০ সালের সংকটের পর মরক্কোয় ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত বৈদেশিক প্রস্তাবনাগুলো আসতে শুরু করে। এর মধ্যে একটি ছিল মরক্কোয় আকিদাগত স্বাধীনতার বিষয়ক একটি স্মারকলিপি, যা ভ্যাটিকানের স্টেট সেক্রেটারি কার্ডিনাল নিনা ১২৯৭ হিজরি/ ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে মাদ্রিদ সম্মেলনে পেশ করেছিলেন। সম্মেলনের সদস্যগণ এটি সুলতান হাসান প্রথমের নিকট প্রেরণ করেন। তিনি এটি ফেজের কাজি মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-আলাউই আল-মাদগারি (মৃত্যু ১২৯৯ হি./ ১৮৮২ খ্রি.)-এর নিকট পেশ করেন এবং এই স্মারকলিপির উত্তর তৈরির দায়িত্ব তার ওপর অর্পণ করেন। সংশ্লিষ্ট আলেমগণের সাথে পরামর্শ করে কাজি সাহেব এই উত্তরটি প্রস্তুত করেন। উত্তরের একটি অনুচ্ছেদ ছিল এরূপ: "ধর্মীয় স্বাধীনতা বলতে এর প্রবক্তাদের নিকট যে অর্থ পরিচিত এবং এর অনুসারীদের মধ্যে যে অবস্থা প্রচলিত, তা অকাট্য দলিল ও প্রমাণের ভিত্তিতে দ্বীনের বহির্ভূত এবং দ্বীনের সরাসরি পরিপন্থী—এ ব্যাপারে দুইজন মানুষের মধ্যেও কোনো মতভেদ নেই। সুতরাং এটি বাস্তবায়নের কোনো পথ নেই; অন্যথায় শরিয়ত বাতিল হয়ে যাবে এবং তার ওপর আর কোনো নির্ভরতা অবশিষ্ট থাকবে না (১)।"
এই অভিমতটি ইতিপূর্বে উল্লিখিত নাসিরির মতামতের সাথে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ।
এটি হলো উত্তরের পূর্ণাঙ্গ পাঠ (২): সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। খ্রিস্টানদের বিভিন্ন শ্রেণি একত্রিত হয়ে একটি পত্র লিখেছিল, যার উত্তর প্রদান করেন জামাতের কাজি মাওলানা মুহাম্মদ ১২৯৭ হিজরি সনে। উত্তরের মূল পাঠ নিম্নরূপ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وبعد: فقد وصل كتابكم صحبة خديمنا باركاش، ووقع منا بالبال ما تضمنه من أن البابَّص (1) الكبير يطلب إجراء حرية الأديان في المغرب.
وإن حضرة والدنا السلطان سيدي محمد أعطى دلائل كثيرة من سماحته وإحسانه للرعايا غير المسلمين عام كذا وكذا، وأنعم بكتاب التحرير عام كذا على موشي، وفي هذا الكتاب توضيح أن جميع رعية المغرب تكون لهم المساواة أمام الشريعة، بحيث لا يقع لأحد منهم ظلم في نفس ولا مال.
وأن الظهير المذكور أبطل كثيرا من الأوامر عن غير المسلمين.
لكن إلى الآن لم تبطل بتمامها، إذ لا زال البعض منها يستعمل في بعض الأماكن داخل الإيالة، فلم يحصل لهم حرية التصرف في دينهم، فخولف المقصود من الظهير الشريف والقاعدة العامة، وهي مساواة جميع الرعية في الحقوق وأمام الشريعة.
وأن السلطان العثماني وافق على ذلك، وكتبه في شريعة بلاده عام كذا، وأثبته من بعده عام كذا، مع أنه -لا شك- موافق مع الدين المحمدي.
وأنكم طامعون في جانبنا أن نكون لغير المسلمين كالسلطان العثماني، إذ لا يمكن الواجب إلا بذلك، وتنتظرون ما يصدر في الأمرين:
الأول: جميع المستقرين ـ الآن ـ في المغرب وفيما يستقبل: لهم اتباع دينهم بلا تعرض.
--------------------------------------------
অতঃপর: আমাদের সেবক বারকাশের মাধ্যমে আপনাদের পত্রটি পৌঁছেছে। সেই পত্রে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা আমরা হৃদয়ঙ্গম করেছি; আর তা হলো—মহান পোপ (১) মরক্কোতে ধর্মীয় স্বাধীনতা কার্যকর করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
আমাদের মহান পিতা সুলতান সিদি মুহাম্মদ অমুক অমুক সালে অমুসলিম প্রজাদের প্রতি তাঁর সহনশীলতা ও মহানুভবতার অনেক প্রমাণ দিয়েছেন এবং অমুক সালে মোশিকে (মোসেস) একটি রাজকীয় মুক্তিপত্র প্রদান করেছিলেন। সেই ফরমান বা পত্রে এই বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছিল যে, মরক্কোর সকল প্রজা আইনের দৃষ্টিতে সমান অধিকার লাভ করবে, যাতে তাদের জান কিংবা মালের ওপর কোনো প্রকার জুলুম বা অবিচার সংঘটিত না হয়।
উল্লিখিত সেই রাজকীয় ফরমানটি অমুসলিমদের ওপর আরোপিত অনেক বিধি-নিষেধ বাতিল করে দিয়েছিল।
তবে এখন পর্যন্ত সেগুলো সম্পূর্ণরূপে রহিত হয়নি; কারণ এই রাজ্যের অভ্যন্তরীণ কোনো কোনো স্থানে এখনো সেই বিধি-নিষেধের কিছু অংশ কার্যকর রয়েছে। ফলে তারা তাদের ধর্মপালনে পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করতে পারেনি, যা সেই মহিমান্বিত রাজকীয় ফরমানের উদ্দেশ্য এবং সাধারণ মূলনীতির পরিপন্থী। আর সেই মূলনীতিটি হলো—অধিকারের ক্ষেত্রে এবং আইনের দৃষ্টিতে সকল প্রজার সমমর্যাদা।
উসমানীয় সুলতানও এই বিষয়ে সম্মতি প্রদান করেছেন এবং অমুক সালে তা তাঁর দেশের আইনে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তাঁর পরবর্তী উত্তরাধিকারীগণ অমুক সালে তা পুনরায় সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। অথচ এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বিষয়টি মুহাম্মাদী দ্বীনের (ইসলামের) সাথে পূর্ণ সংগতিপূর্ণ।
আপনারা আমাদের প্রতি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, অমুসলিমদের অধিকারের প্রশ্নে আমরাও যেন উসমানীয় সুলতানের পদাঙ্ক অনুসরণ করি, কেননা এটি ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে আবশ্যিক কর্তব্য পালন সম্ভব নয়। আপনারা নিম্নোক্ত দুটি বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তের প্রতীক্ষায় রয়েছেন:
প্রথমত: বর্তমানে মরক্কোতে বসবাসরত এবং ভবিষ্যতে আগত সকল অধিবাসী কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার লাভ করবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الثاني: وقوع الإذن من الدولة أن تكون نصوص الشريعة الثابتة في المغرب جارية على مقتضى نص الكتاب الشريف وحينئذ لا يكون فرق أمام الشريعة بين الرعية المسلمين وغيرهم، ولا يكلف اليهود بتلك الأمور، ولا يمنعون من الحقوق السياسية، وتكون لهم الحرية في جميع الأشغال كغيرهم من المسلمين، وأنه إن وقع ذلك يظهر نفعه للكرسي الشريف وإيالته، ويفتح بذلك باب جديد من السعادة، إلى آخره.
فاعلموا أن ما ذكرتم من أن والدنا المقدس أعطى دلائل كثيرة من سماحته وإحسانه لغير المسلمين، وأنكم طامعون أن يكون لكم حرص على ذلك، مثل ما طلبه البابص الكبير من إجراء حرية الأديان في المغرب: هو في هذا الوقت متعسر بل متعذر، وقد عرضنا ذلك على أعيان الدولة: علماء ديننا فنفروا منه وأنفوه، إذ لم يعتادوه في دينهم ولا عرفوه، وقالوا إن العمل بذلك على الإطلاق، يؤدي إلى كثرة الفتن والهرج والشقاق.
واحتجوا بأن الأمر الشائع المشهور، المقرر لدى الخاصة والجمهور، أن دين الإسلامية (1): الأمة المحمدية منقول بالسند الصحيح المتواتر، من أوله إلى الآن رواية الأكابر عن الأكابر، خصوصية تفضل بها الحق سبحانه حسبما اقتضته حكمته، وأبرزته عن سابق علمه وإرادته وقدرته، يريد به كتابه القرآن العظيم، الذي {لَا يَاتِيهِ الْبَاطِلُ مِن بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنزِيلٌ مِّنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} [فصلت42]، تكفل الله به فهو محفوظ على ممر الأزمان، لا يلحقه تبديل ولا تغيير ولا يطرق ساحته بهتان.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: রাষ্ট্র কর্তৃক এই মর্মে অনুমতি প্রদান করা যে, মরক্কোতে প্রতিষ্ঠিত শরীয়াহর বিধানসমূহ পবিত্র কিতাবের (আল-কুরআন) নির্দেশ অনুযায়ী পরিচালিত হবে। সেক্ষেত্রে শরীয়াহর দৃষ্টিতে মুসলিম প্রজা ও অন্যদের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না। ইহুদিদের ওপর সেই নির্দিষ্ট (ধর্মীয়) বিষয়গুলো চাপিয়ে দেওয়া হবে না এবং তারা রাজনৈতিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হবে না। অন্যান্য মুসলিমদের ন্যায় সকল পেশায় তাদের স্বাধীনতা থাকবে। আর এটি বাস্তবায়িত হলে তা রাজকীয় মহিমা ও তার অধীনস্থ অঞ্চলের জন্য কল্যাণকর হবে এবং এর মাধ্যমে সৌভাগ্যের এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে, ইত্যাদি।
সুতরাং জেনে রাখুন, আপনারা যা উল্লেখ করেছেন—আমাদের মরহুম পিতা অমুসলিমদের প্রতি তাঁর মহানুভবতা ও সদাচরণের অনেক নিদর্শন রেখে গেছেন এবং আপনারা সে বিষয়ে সচেষ্ট থাকতে আগ্রহী, যেমনটি বড় পোপ মরক্কোতে ধর্মীয় স্বাধীনতা কার্যকর করার বিষয়ে অনুরোধ জানিয়েছিলেন—তা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত কঠিন, বরং অসম্ভব। আমরা বিষয়টি রাষ্ট্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তথা আমাদের ধর্মতাত্ত্বিক ওলামায়ে কেরামের নিকট পেশ করেছি; কিন্তু তারা এর প্রতি অনীহা প্রকাশ করেছেন এবং তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। যেহেতু তারা তাদের ধর্মে এমন কিছুর সাথে অভ্যস্ত নন এবং এ সম্পর্কে তাদের কোনো জানাশোনা নেই। তারা বলেছেন যে, নিঃশর্তভাবে এটি কার্যকর করলে ব্যাপক ফিতনা-ফ্যাসাদ, বিশৃঙ্খলা ও অনৈক্যের সৃষ্টি হবে।
তারা যুক্তি প্রদর্শন করেছেন যে, বিশিষ্টজন ও সাধারণ জনগণের নিকট বহুল প্রচলিত ও স্বীকৃত বিষয়টি হলো—ইসলাম ধর্ম (১): তথা উম্মতে মুহাম্মাদী বিশুদ্ধ ও মুতাওয়াতির সনদে প্রথম থেকে বর্তমান পর্যন্ত মহান ব্যক্তিত্বদের বর্ণনার মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে। এটি এমন এক বিশেষত্ব যা মহান আল্লাহ তাঁর হিকমত অনুযায়ী এবং তাঁর পূর্বজ্ঞান, ইচ্ছা ও কুদরতের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দান করেছেন। এর দ্বারা তিনি তাঁর মহান কিতাব আল-কুরআনকে বুঝিয়েছেন, যে সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে: {এতে কোনো মিথ্যা বা বাতিল এর সামনে থেকেও আসতে পারে না এবং এর পেছন থেকেও নয়; এটি প্রজ্ঞাময়, অতি প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ} [ফুসসিলাত: ৪২]। আল্লাহ নিজেই এর সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন, ফলে তা যুগ যুগ ধরে সংরক্ষিত; কোনো পরিবর্তন বা পরিবর্ধন একে স্পর্শ করতে পারে না এবং কোনো মিথ্যা বা অপবাদ এর সীমানায় প্রবেশ করতে পারে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وعليه فحرية الأديان بالمعنى المعروف عند من قال بها، والحالة المقررة الشهيرة عند أربابها، خارجة عن الدين بالدليل والبرهان، مضادة له كما لا يختلف فيه اثنان، فلا سبيل إلى العمل بها، وإلا تبطلت الشريعة ولم يبق تعويل عليها.
وما ذكرتم من أن السلطان العثماني وافق على ذلك وأثبته من بعده، وأن السلطان سيدي محمد أنعم على موشي بكتاب التحرير: أجابوا عنه بأن ذلك ـ على فرض وجوده وصحته ـ لا يلزم الأمة، لما تقرر من أن المدار على ما ثبت بطريقته المعلومة وخصوصيته، والأمر في هذا بخلاف ذلك، فلا سبيل إلى العمل بما هنالك.
وأيضا قد تقرر أن من قواعد دين الإسلام، وأركانه الشهيرة عند الخاص والعام، أن العلماء حكام على الملوك، والأمراء حكام على الناس، فتصرفات الملوك تعرض على الشرع، فما وافقه منها يقبل ويعتمد، وما لا فلا، إذ من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد، كما ورد، على أن كتاب التحرير المشار إليه ـ إن لم يصرح فيه بشيء خاص ـ يمكن حمله على التحرير من أمور العمل بها غير مناف للدين، ولا خارج عن سنن المهتدين.
ومما تواتر واشتهر بين الناس، أنكم معاشر الأجناس، لا تسعون في هدم قاعدة لإصلاح أخرى، ولا توافقون على ذلك، إنما المسموع عنكم المذكور، سيما عند صدور هذا الجمع المشهور، أنكم تحافظون على إبقاء كل دين على قواعده الأصلية، وسير أهله على شروطه المقررة المرعية، إذ بذلك يكمل التوافق ويقع الانتظام ويقل الهرج في الأقطار بين الأنام.
সেই হিসেবে, যারা ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রবক্তা তাদের নিকট এর যে অর্থ পরিচিত এবং এর অনুসারীদের মধ্যে যে অবস্থা সুপ্রতিষ্ঠিত, তা দলিল ও প্রমাণের ভিত্তিতে দ্বীনের বহির্ভূত। এটি দ্বীনের পরিপন্থী একটি বিষয়, যে ব্যাপারে দ্বিমত পোষণের কোনো অবকাশ নেই। সুতরাং এটি অনুসরণ করার কোনো সুযোগ নেই; অন্যথায় শরীয়ত অকেজো হয়ে পড়বে এবং এর ওপর কোনো নির্ভরশীলতা অবশিষ্ট থাকবে না।
আপনারা যে উল্লেখ করেছেন যে, উসমানীয় সুলতান এতে সম্মতি দিয়েছিলেন এবং তাঁর পরবর্তীগণ তা বহাল রেখেছিলেন, এবং সুলতান সিদি মুহাম্মদ 'মুশি'কে মুক্তির ফরমান (কিতাবুত তাহরির) প্রদান করেছিলেন—এর উত্তরে ওলামায়ে কেরাম বলেছেন যে, এটি—এর অস্তিত্ব ও বিশুদ্ধতা তর্কের খাতিরে ধরে নিলেও—উম্মাহর জন্য মানা বাধ্যতামূলক নয়। কারণ এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, কোনো বিষয়ের গ্রহণযোগ্যতা তার সুনির্ধারিত পদ্ধতি ও বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার ওপর নির্ভরশীল। অথচ এই বিষয়টি তার বিপরীত। অতএব, সেখানে যা বর্ণিত হয়েছে তা কার্যকর করার কোনো পথ নেই।
আরও সুপ্রতিষ্ঠিত বিষয় এই যে, বিশেষ ও সাধারণ সকলের নিকট প্রসিদ্ধ ইসলামের অন্যতম মূলনীতি ও স্তম্ভ হলো—ওলামায়ে কেরাম রাজন্যবর্গের ওপর বিচারক স্বরূপ এবং শাসকরা সাধারণ মানুষের ওপর হুকুমদাতা। সুতরাং রাজন্যবর্গের কার্যাবলি শরীয়তের নিরিখে যাচাই করা হবে; এর মধ্যে যা শরীয়তসম্মত হবে তা কবুল ও নির্ভর করা হবে, আর যা শরীয়তসম্মত নয় তা নয়। কারণ বর্ণিত আছে যে, 'যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে এমন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।' উপরন্তু, আলোচিত সেই মুক্তির ফরমানকে—যদি তাতে সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের উল্লেখ না থাকে—তবে এমন সব বিষয় থেকে মুক্তির অর্থে গ্রহণ করা সম্ভব, যা পালন করা দ্বীনের পরিপন্থী নয় এবং হেদায়েতপ্রাপ্তদের পথ বহির্ভূত নয়।
মানুষের মাঝে যা ব্যাপকভাবে প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ তা হলো—হে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, আপনারা একটি মূলনীতি সংস্কারের জন্য অন্য একটি মূলনীতি ধ্বংস করার চেষ্টা করেন না এবং এতে একমতও হন না। বরং আপনাদের সম্পর্কে যা শ্রুত ও আলোচিত, বিশেষ করে এই প্রসিদ্ধ সমাবেশের প্রাক্কালে, তা হলো—আপনারা প্রতিটি ধর্মকে তার মৌলিক বিধিবিধানের ওপর এবং সংশ্লিষ্ট অনুসারীদের তাদের নির্ধারিত ও পালিত শর্তাবলির ওপর বহাল রাখতে সচেষ্ট থাকেন। কেননা এরই মাধ্যমে পারস্পরিক সংহতি পূর্ণতা পায়, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে বিশৃঙ্খলা হ্রাস পায়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وأما ما ذكرتم من أن حضرة والدنا المقدس أعطى دلائل كثيرة من سماحته وإحسانه لغير المسلمين، وأنكم طامعون في جانبنا أن يكون لنا حرص على ذلك مثل العثماني، فالأمر كما حكيتم وطمعتم، إذ لا نحب لهؤلاء إلا الخير التام، والإحسان العام، وعلى ذلك كان عملنا معهم فيما فات من الزمان، وعليه يكون عملنا فيما يأتي، بل نريد معهم في الخير بحول الله على ما كان، فنظرتكم فيهم ووصيتكم عليهم تراعى ولا تهمل.
غير أن ذلك يناسب أن يكون فيما لا يتفاقم فيه الأمر، أما إن أحدث على الرعية الأمر الذي لا يألفوه فيرد ولا يقبل، والتأني في الأمور ومباشرتها بالرفق، هو مجمع الخير، وضده: في العجلة والخرق.
وأما أمر المساواة أمام الشريعة فإن كان المراد من ذلك التسوية أمام الشريعة بحيث لا يفضل أحد أيا كان على واحد، ولا يلحق البعض من البعض ظلم ولا جور: فهذا أمر جاءت به شريعة الإسلام، ولم يزل معمولا به من أول الإسلام حتى الآن، فمن خالفه حاد عن الحق وتعرض للملام، وإن كان المراد غير ذلك من أوجه التسوية كتناكح أو شهادة أو لباس أو مركب أو غير ذلك، فهذا أمر فيه بيننا وبينهم شروط ـ من ابتداء عقد الذمة من خليفة نبينا سيدنا عمر رضي الله عنه ثابتة الدعائم محكمة الربط (1)، لا يمكن أن يفعل فيها ما يخالف الدين، وإلا كان فاعله في ديننا من الملحدين، وعلى ذلك كان لهم السكنى معنا والاستقرار، والمعاملة والمخالطة في الأسواق والطرق والديار.
وما ظلم من أبقى ما كان واتبع، وإنما الظالم من خالف ما كان وابتدع.
--------------------------------------------
আর আমাদের পবিত্র পিতৃদেব অমুসলিমদের প্রতি তাঁর উদারতা ও সদাচরণের যে বহু নিদর্শন পেশ করেছেন বলে আপনারা উল্লেখ করেছেন, এবং আমাদের পক্ষ থেকেও উসমানীয়দের মতো এই বিষয়ে যেন বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয় বলে আপনারা যে আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেছেন, বিষয়টি ঠিক তেমনই যেমনটি আপনারা বর্ণনা করেছেন এবং আশা করেছেন। কেননা আমরা তাদের জন্য কেবল পূর্ণ কল্যাণ ও ব্যাপক সদাচরণই কামনা করি। অতীতেও তাদের সাথে আমাদের আচরণ এমনই ছিল এবং ভবিষ্যতেও তেমনই থাকবে; বরং আল্লাহর শক্তিতে আমরা তাদের কল্যাণের ক্ষেত্রে পূর্বের ন্যায় অবিচল থাকতে চাই। সুতরাং তাদের প্রতি আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও অছিয়তসমূহ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে এবং তা অবহেলা করা হবে না।
তবে এই সদাচরণ তখনই উপযুক্ত যখন এর ফলে কোনো গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি না হয়। কিন্তু যদি প্রজাসাধারণের ওপর এমন কোনো নতুন বিষয় চাপিয়ে দেওয়া হয় যা তাদের কাছে অপরিচিত, তবে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে এবং তা গ্রহণযোগ্য হবে না। সকল বিষয়ে ধীরস্থিরতা অবলম্বন এবং নম্রতার সাথে কাজ সম্পাদন করাই হলো কল্যাণের আধার; আর এর বিপরীত হলো দ্রুততা ও রুক্ষতা।
আর শরীয়তের দৃষ্টিতে সাম্যের বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য হলো—যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় শরীয়তের বিধানের সামনে এমন সমতা যেখানে কাউকে অন্য কারো ওপর অন্যায়ভাবে প্রাধান্য দেওয়া হবে না এবং কেউ কারো দ্বারা জুলুম বা অন্যায়ের শিকার হবে না, তবে এটি এমন একটি বিষয় যা ইসলামের শরীয়ত প্রদান করেছে এবং ইসলামের সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত তা অনুসৃত হয়ে আসছে। সুতরাং যে ব্যক্তি এর বিরোধিতা করবে, সে সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হবে এবং তিরস্কারের সম্মুখীন হবে। আর যদি এর দ্বারা অন্য কোনো ধরণের সমতা উদ্দেশ্য হয়, যেমন বিবাহ, সাক্ষ্য প্রদান, পোশাক-পরিচ্ছদ, যানবাহন বা এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়, তবে এই বিষয়ে আমাদের ও তাদের মাঝে কিছু শর্তাবলী বিদ্যমান—যা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খলীফা আমাদের নেতা উমর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর সময় থেকে জিম্মাহ চুক্তির সূচনালগ্ন হতে সুদৃঢ় ভিত্তি ও সুসংহত বন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত (১)। দ্বীনের পরিপন্থী হয় এমন কিছু সেখানে করা সম্ভব নয়; অন্যথায় আমাদের দ্বীনের দৃষ্টিতে এর কর্তাকে ধর্মচ্যুত হিসেবে গণ্য করা হবে। এই ভিত্তির ওপরই তারা আমাদের সাথে বসবাস, স্থায়িত্ব এবং বাজারঘাট, পথঘাট ও ঘরবাড়িতে লেনদেন ও মেলামেশার সুযোগ পেয়ে আসছে।
যে ব্যক্তি প্রতিষ্ঠিত প্রথাকে বহাল রেখেছে এবং অনুসরণ করেছে সে কোনো জুলুম করেনি; বরং জালেম তো সেই ব্যক্তি যে প্রতিষ্ঠিত নিয়মের বিরোধিতা করে এবং নতুন কিছুর উদ্ভাবন করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وأما ما يتعلق بالرواتب وإنها لازالت لم تبطل بتمامها، وإن البعض منها لا زال: فجوابه أن من يستعمل منهم أيا كان في أمر كيف ما كان، فإنما يستعمل بأجرته وعن طيب نفسه، وحيث كان الأمر كذلك فلا معنى للتشكي به، ولا للتظلم بما هنالك، فالسير مع جميعهم: اليهود المراكشية وغيرهم على مقتضى الحق والعدل وهو أصل شريعتنا، وعليه عمل أهل ملتنا، وإن وقع لأحد خلاف ذلك فمن غير شعور منا، ولو رفع ذلك إلينا لأنكرناه ورددناه، وما أقررناه.
بل جل اليهود في هذه الأزمنة هم الذين خرجوا عن طورهم، وصاروا يتطاولون على المسلمين بالقول والفعل، فرفعوا أنفسهم فوق قدرهم، وأكثروا من التعامل بالأموال الكثيرة مع الأخلاط من غير تمييز بين من يصلح لذلك ومن لا، مع أن التمييز هو حق ذوي التثبت والاحتياط، وزادوا أنهم كثيرا ما يعاملون من ليس بذي درهم فضلا عن دينار، فإذا حل الأجل أتوا بكتاب حميتهم الخاصة ظنا منهم أنهم مظلومون، فيفعل ذلك تقليلا للهرج، وميلا لحسن الجوار، وكثيرا ما يؤدي ذلك إلى اقتضائه من بريء لكونه قريب المدين في القبيلة والدار، وكنا بصدد شرح هذا الأمر لكم، لعلمنا أنكم لا توافقون عليه عند مراجعتكم، واجتماعكم في ناديكم، لما فيه من الظلم الكثير، والفساد الكبير، إذ ما بين المسلمين واليهود في ذلك إلا سلوك طريق شرعنا، والمعسر أنظره الله كما هو ثابت بنص كتابنا، على أن ذلك مضرٌّ بهم في الحال والمآل.
أما الأول فلكون الذي أخذ منه ذلك وهو بريء قضاء عن غيره، ربما أوقع باليهودي رب الدين مكروها: قتلا أو غيره على وجه لا يشعر به أحدا، وقد وقع شيء من ذلك وشاهدوه، وها هم بين أظهركم يخبرونكم بذلك إن لم يكتموه ويجحدوه.
বেতনাদি বা নিয়মিত ভাতাসমূহ এবং সেগুলো যে পুরোপুরি রহিত হয়ে যায়নি বরং তার কিয়দংশ এখনও অবশিষ্ট রয়েছে—এ সংক্রান্ত বিষয়ের উত্তর হলো: তাদের মধ্য হতে যাকে যে কাজেই নিয়োগ করা হোক না কেন, তাকে তার প্রাপ্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে এবং তার স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতিক্রমেই নিয়োগ করা হয়। বিষয়টি যেহেতু এমন, তাই এ নিয়ে অভিযোগ তোলা কিংবা সেখানে কোনো জুলুমের অভিযোগ করার কোনো অবকাশ নেই। মরক্কোর ইহুদি হোক বা অন্য কেউ, সকলের সঙ্গেই সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে আচরণ করা হয়—যা আমাদের শরিয়তের মূল ভিত্তি এবং আমাদের মিল্লাতের অনুসৃত নীতি। যদি কারো সঙ্গে এর ব্যতিক্রম কিছু ঘটে থাকে, তবে তা আমাদের অজ্ঞাতসারেই হয়েছে। বিষয়টি আমাদের নিকট উত্থাপিত হলে আমরা অবশ্যই তা প্রত্যাখ্যান করতাম এবং তা রদ করে দিতাম; কখনো তা অনুমোদন করতাম না।
বরং বর্তমান সময়ের অধিকাংশ ইহুদিই তাদের সীমা লঙ্ঘন করেছে; তারা কথা ও কাজে মুসলমানদের ওপর ঔদ্ধত্য প্রদর্শন শুরু করেছে এবং নিজেদের মর্যাদাকে তাদের প্রকৃত অবস্থানের ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছে। তারা বাছবিচার ছাড়াই সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ অর্থকড়ির লেনদেন বাড়িয়ে দিয়েছে; অথচ যারা সতর্ক ও সাবধানী তাদের জন্য সত্যতা যাচাই ও বাছবিচার করা অপরিহার্য ছিল। উপরন্তু তারা প্রায়শই এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে লেনদেন করে যাদের কাছে একটি দিরহাম তো দূরের কথা, একটি দিনারও নেই। অতপর যখন লেনদেনের সময় অতিক্রান্ত হয়, তখন তারা নিজেদের মজলুম মনে করে তাদের বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতার সনদ নিয়ে হাজির হয়। হট্টগোল কমাতে এবং সদ্ভাব বজায় রাখার খাতিরেই কেবল তা করা হয়। আর এর ফলে অনেক সময় একজন নিরপরাধ ব্যক্তির নিকট থেকে পাওনা আদায়ের উপক্রম হয়—কেবল এই কারণে যে সে ঋণগ্রহীতার গোত্রীয় বা ঘরের নিকটাত্মীয়। আমরা বিষয়টি আপনাদের নিকট সবিস্তারে ব্যাখ্যা করতে চাচ্ছিলাম; কেননা আমরা জানি যে, আপনারা যখন আপনাদের সভায় মিলিত হবেন এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন, তখন এতে বিপুল জুলুম ও চরম বিশৃঙ্খলা বিদ্যমান থাকায় আপনারা তাতে কখনো সম্মত হবেন না। মুসলমান ও ইহুদিদের মাঝে এই লেনদেনের ক্ষেত্রে আমাদের শরিয়তের পথ অনুসরণ ব্যতীত অন্য কোনো পথ নেই; আর আমাদের কিতাবের অকাট্য বর্ণনা অনুযায়ী অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে অবকাশ প্রদান করাই আল্লাহর বিধান। তদুপরি এই নীতি বর্তমান ও ভবিষ্যতে তাদের জন্য কেবল ক্ষতিরই কারণ হবে।
প্রথমত, যেহেতু অন্যের ঋণ পরিশোধের জন্য একজন নিরপরাধ ব্যক্তির কাছ থেকে পাওনা আদায় করা হয়, সেহেতু সেই ব্যক্তি হয়তো গোপনে সেই ইহুদি পাওনাদারের ওপর প্রাণঘাতী হামলা বা অন্য কোনো অনিষ্ট সাধন করতে পারে—যা কেউ টেরও পাবে না। বাস্তবেও এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা তারা প্রত্যক্ষ করেছে। তারা আপনাদের মাঝেই বিদ্যমান; যদি তারা বিষয়টিকে গোপন বা অস্বীকার না করে, তবে তারা আপনাদের এ ব্যাপারে সংবাদ দিতে পারবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وأما في المآل فلأن المغرب كثير التقلبات، فإذا وقعت فترة أوقع البعض بالبعض منهم ما لا يليق من فظيع التصرفات، ومرادنا نفعهم وإرشادهم لحسن الجوار مع المسلمين، ليكونوا بخير معهم فيما يحدث وما يأت، كما كانوا كذلك فيما مضى وفات، وهذا أمر ضروري لا ينكره عاقل، فضلا عن فاضل.
وبالجملة لو أطلعتم كل الاطلاع على ما يدافع عنهم المخزن ويقاسيه في شأنهم لعذرتم من يحاول أمرهم، وتعجبتم من فعلهم، ولا يعرف حق النعمة إلا عند فقدها، ومن لم يشكرها فقد تعرض لزوالها.
وقول الكتاب إنهم ليست لهم حرية التصرف في دينهم، وهاهم في كنائسهم في مواضع سكناهم يفعلون ما أرادوا، ولم نسمع أن أحدا قط تعرض لهم في أمر دينهم: أعيادهم وأنكحتهم ومعاملتهم مما عوهدوا على عدم التعرض لهم فيه، ولا مشوش عليهم في شيء من ذلك.
نعم إن كان المقصود رفاهية خاصة عوهدوا على تركها، فهذه في إحداثها ضرر، إذ ذاك يؤدي إلى التفاقم وكثرة الهرج في الرعية، وهم بأنفسهم يعترفون بذلك إن صدقوا الله وأحسنوا الطوية، ولا حيف ولا عار على أحد في حمله على سبيله المعروف، وشكله المعتاد له المألوف، إنما الحيف والعار في إحداث ما لم يعهد، والإقدام على قواعد مؤسسة من قديم بالنقض والهد، وترك كل قوم في مثل هذا وما اعتادوه: هو أولى، بل الواجب في باب السياسة الذي ينبغي اعتماده.
وقول الكتاب: يقع الإذن من الدولة إلى آخره. جوابه: إن الجاري على ما تقدم من أن من قواعد ديننا أن العالم حاكم على الملك لا العكس: أن يكون ما
পরিণতির বিচারে মরক্কো অত্যন্ত পরিবর্তনশীল; ফলে যদি কোনো অস্থির সময় বা অন্তর্বর্তীকাল আসে, তবে তাদের একে অপরের প্রতি অশালীন ও ভয়াবহ আচরণ করার আশঙ্কা থাকে। আমাদের উদ্দেশ্য হলো তাদের কল্যাণ সাধন এবং মুসলিমদের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখার বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা, যাতে তারা ভবিষ্যতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাদের সাথে শান্তিতে থাকতে পারে, যেমনটা তারা অতীতে ছিল। এটি এমন এক জরুরি বিষয় যা কোনো বিবেকবান ব্যক্তি অস্বীকার করতে পারে না, কোনো গুণী ব্যক্তির কথা তো বলাই বাহুল্য।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, সরকার (মাখজান) তাদের রক্ষায় যে পরিমাণ সচেষ্ট থাকে এবং তাদের বিষয়ে যেসব কষ্ট সহ্য করে, সে সম্পর্কে যদি আপনারা পূর্ণ সম্যক জ্ঞান রাখতেন, তবে যারা তাদের বিষয়গুলো পরিচালনা করতে চান তাদের আপনারা ক্ষমা করতেন এবং তাদের কর্মকাণ্ডে বিস্মিত হতেন। প্রকৃতপক্ষে নিয়ামতের কদর তা হারানোর পরই বোঝা যায়; আর যে ব্যক্তি এর শুকরিয়া আদায় করে না, সে তা বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।
আর কিতাবে যে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের ধর্মীয় বিষয়ে স্বাধীনভাবে চলার অধিকার নেই—অথচ বাস্তব চিত্র হলো তারা তাদের গির্জা ও বসতিগুলোতে নিজেদের ইচ্ছানুসারে কাজ করছে। তাদের ধর্মীয় বিষয়ে—যেমন উৎসব, বিবাহ এবং সেই সব লেনদেনের ক্ষেত্রে যা হস্তক্ষেপ না করার অঙ্গীকার করা হয়েছে—কেউ কখনো হস্তক্ষেপ করেছে বলে আমাদের জানা নেই। এসব বিষয়ে তাদের ওপর কোনো প্রকার বিঘ্ন সৃষ্টি করা হয় না।
হ্যাঁ, যদি বিশেষ কোনো বিলাসিতা বা সুযোগ-সুবিধা উদ্দেশ্য হয় যা বর্জন করার অঙ্গীকার তারা করেছিল, তবে তা নতুন করে চালু করার মধ্যে ক্ষতি নিহিত রয়েছে। কেননা তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় এবং প্রজাসাধারণের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তারা যদি আল্লাহর প্রতি সত্যনিষ্ঠ হয় এবং তাদের অভ্যন্তরীণ উদ্দেশ্য সৎ থাকে, তবে তারা নিজেরাও তা স্বীকার করবে। কাউকে তার সুপরিচিত পথ ও চিরাচরিত অভ্যাসের ওপর সীমাবদ্ধ রাখার মধ্যে কোনো অবিচার বা লজ্জা নেই। বরং অবিচার ও লজ্জা হলো এমন কিছু উদ্ভাবন করা যা আগে ছিল না এবং প্রাচীনকালে সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়মকানুনগুলো লঙ্ঘন ও ধ্বংস করার দুঃসাহস দেখানো। এ ধরনের বিষয়ে প্রতিটি জাতিকে তাদের প্রচলিত রীতিনীতির ওপর ছেড়ে দেওয়া অধিকতর সমীচীন, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এটিই অবলম্বনযোগ্য অপরিহার্য নীতি।
আর কিতাবে যে উল্লেখ করা হয়েছে: ‘রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অনুমতি প্রদান করা হয়’—ইত্যাদি। এর উত্তর হলো: পূর্বোল্লিখিত নিয়মানুসারে আমাদের দ্বীনের অন্যতম মূলনীতি হলো, আলিম হবেন শাসকের ওপর নিয়ন্ত্রক বা বিচারক, এর বিপরীত নয়। অর্থাৎ যা কিছু...
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
تضمنه الظهير الشريف معروضا على نصوص الشريعة الثابتة، فيرد الظهير للنصوص، ولا ترد النصوص للظهير إلا لو كان الملك حاكما على الشرع، والأمر بالعكس، ولو قيل بذلك لبطلت الأديان جملة، وصار المدار على الملك، وهو خلاف الواقع.
وبالجملة فالمعهود منكم والمنقول بالتواتر عنكم أنكم تتأملون حق التأمل في النوازل، ولا تسرعوا ولا تعجلوا في أمر حتى تبحثوا ويتبين الحق من الباطل.
وهذا شأن كل من يتولى بين الناس أمر الفصال، لابد أن يسمع من الجانبين، ثم يتأمل الجواب بعد تأمل الدعوى والمقال، فيرجح (1) حينئذ ما قواه الدليل والبرهان، ويلغي ما ظهرـ بالنظر الصحيح ـ تلاشيه وبان.
وهاهي النازلة والدعوى وجوابها بيد ناقد بصير، فليبالغ في التأمل والتحرير. انتهى.
وهو نص جلي واضح في أن الحرية بمفهومها العلماني تعارض أصول الشريعة وفروعها. ولي عودة لهذا الموضوع في بحث قادم إن شاء الله تعالى.
وفي مشروع أول دستور في المغرب الذي اقترحه علي زنيبر ما نصه: لا مجال في المغرب للحريات التي تقضي على المروءة وتفضي إلى ما لا تحمد عقباه (2).
--------------------------------------------
রাজকীয় ফরমানে যা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তা শরীয়তের সুপ্রতিষ্ঠিত পাঠসমূহের (নস) আলোকে উপস্থাপন করা হয়েছে; সুতরাং ফরমানকে শরীয়তের পাঠসমূহের অনুগামী করা হবে, কিন্তু শরীয়তের পাঠসমূহকে ফরমানের অনুগামী করা হবে না—যদি না রাজা স্বয়ং শরীয়তের ওপর হুকুমদাতা হতেন, অথচ বিষয়টি এর ঠিক উল্টো। যদি এমনটা দাবি করা হতো তবে সামগ্রিকভাবে সকল ধর্মই বাতিল হয়ে যেত এবং রাজাই হতেন সবকিছুর আবর্তনকেন্দ্র, যা বাস্তবতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
সারকথা হলো, আপনাদের ব্যাপারে যা সুপরিচিত এবং পরম্পরাগতভাবে বর্ণিত তা হলো, আপনারা উদ্ভূত সমস্যাবলির ক্ষেত্রে যথাযথভাবে গভীর চিন্তা-ভাবনা করেন এবং কোনো বিষয়ে অনুসন্ধান না করা এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তাড়াহুড়ো বা তড়িঘড়ি করেন না।
আর এটিই হলো মানুষের মধ্যে বিবাদ মীমাংসার দায়িত্ব পালনকারী প্রত্যেকের বৈশিষ্ট্য; তাকে অবশ্যই উভয় পক্ষের কথা শুনতে হবে, অতঃপর দাবিনামা ও বক্তব্যের ওপর চিন্তার পর তার উত্তরের ওপর মনোনিবেশ করতে হবে। সেই মুহূর্তে দলিল ও প্রমাণের ভিত্তিতে যা শক্তিশালী প্রমাণিত হবে তিনি তাকেই প্রাধান্য (১) দেবেন এবং সঠিক বিচার-বিশ্লেষণে যা অসার ও ভিত্তিহীন প্রতীয়মান হবে তা বাতিল করবেন।
এই হলো উদ্ভূত সমস্যা, দাবিনামা এবং তার উত্তর যা একজন সূক্ষ্মদর্শী সমালোচকের হাতে ন্যস্ত; অতএব তিনি যেন গভীর চিন্তা ও সুচারু বিশ্লেষণে মনোনিবেশ করেন। সমাপ্ত।
এটি একটি সুস্পষ্ট পাঠ যে, ধর্মনিরপেক্ষ ভাবধারায় স্বাধীনতার ধারণা শরীয়তের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখার সাথে সাংঘর্ষিক। আল্লাহ তাআলা যদি চান, তবে আগামী কোনো এক আলোচনায় আমি এই বিষয়ে পুনরায় ফিরে আসব।
মরক্কোর প্রথম প্রস্তাবিত সংবিধানের খসড়ায়, যা আলী জানীবার পেশ করেছিলেন, তাতে বর্ণিত হয়েছে: মরক্কোতে এমন কোনো স্বাধীনতার সুযোগ নেই যা মনুষ্যত্ব ও বীরত্বকে বিনাশ করে এবং অশুভ পরিণতির দিকে নিয়ে যায় (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়াল মাযহাবুল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
السياسة إذا لم تتقيد بالشريعة فهي مرفوضة:هكذا قرر العلامة المالكي ابن خلدون رحمه الله في كلام طويل قسم فيه الحكم إلى ملك وسياسة وخلافة ننقله بتمامه لأهميته: قال ابن خلدون في المقدمة في الفصل الخامس والعشرون في معنى الخلافة والإمامة (1/ 96): لما كانت حقيقة الملك أنه الاجتماع الضروري للبشر، ومقتضاه التغلب والقهر اللذان هما من آثار الغضب والحيوانية، كانت أحكام صاحبه في الغالب جائرة عن الحق، مجحفة بمن تحت يده من الخلق في أحوال دنياهم، لحمله إياهم في الغالب على ما ليس في طوقهم من أغراضه وشهواته، ويختلف ذلك باختلاف المقاصد من الخلف والسلف منهم، فتعسر طاعته لذلك، وتجيء العصبية المفضية إلى الهرج والقتل.
فوجب أن يرجع في ذلك إلى قوانين سياسية مفروضة يسلمها الكافة وينقادون إلى أحكامها كما كان ذلك للفرس وغيرهم من الأمم. وإذا خلت الدولة من مثل هذه السياسة لم يستتب أمرها، ولا يتم استيلاؤها: {سُنَّةَ اللَّهِ فِي الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلُ}.
فإذا كانت هذه القوانين مفروضة من العقلاء وأكابر الدولة وبصرائها كانت سياسة عقلية، وإذا كانت مفروضة من الله بشارع يقررها ويشرعها كانت سياسة دينية نافعة في الحياة الدنيا وفي الآخرة.
وذلك أن الخلق ليس المقصود بهم دنياهم فقط، فإنها كلها عبث وباطل إذ غايتها الموت والفناء، والله يقول: {أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثاً وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا
শরিয়ত দ্বারা সীমাবদ্ধ না হলে রাজনীতি প্রত্যাখ্যাত:প্রখ্যাত মালিকি আল্লামা ইবনে খালদুন (রহিমাহুল্লাহ) এক দীর্ঘ আলোচনায় এভাবেই সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন, যেখানে তিনি শাসনব্যবস্থাকে রাজতন্ত্র, রাজনীতি ও খিলাফত—এই তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা তা পূর্ণাঙ্গভাবে উদ্ধৃত করছি: ইবনে খালদুন তাঁর 'মুকাদ্দিমাহ'-এর পঁচিশতম পরিচ্ছেদে 'খিলাফত ও ইমামতের অর্থ' প্রসঙ্গে (১/ ৯৬) বলেছেন: যেহেতু রাজতন্ত্রের প্রকৃত রূপ হলো মানুষের জন্য অপরিহার্য এক সামাজিক সমাবেশ, আর এর দাবি হলো আধিপত্য ও জবরদস্তি—যা মূলত ক্রোধ ও পশুত্বের প্রভাবজাত; তাই শাসকের সিদ্ধান্তসমূহ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সত্য ও ন্যায় থেকে বিচ্যুত হয়। এটি তার শাসনাধীন প্রজাদের পার্থিব অবস্থার ক্ষেত্রে অন্যায় ও ক্ষতিকারক হয়ে দাঁড়ায়। কারণ শাসক সাধারণত প্রজাদেরকে তার নিজস্ব উদ্দেশ্য ও প্রবৃত্তির এমন সব চাহিদার দিকে পরিচালিত করেন যা তাদের সামর্থ্যের বাইরে। পূর্বসূরি ও উত্তরসূরি শাসকদের উদ্দেশ্যের ভিন্নতা অনুযায়ী এর মাত্রাও ভিন্ন হয়। ফলে শাসকের আনুগত্য করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং উগ্র গোত্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, যা বিশৃঙ্খলা ও হত্যাকাণ্ডের দিকে নিয়ে যায়।
তাই এ ক্ষেত্রে এমন সুনির্ধারিত রাজনৈতিক আইনের দিকে প্রত্যাবর্তন করা আবশ্যক, যা সর্বজনস্বীকৃত হবে এবং যে বিধানের প্রতি সবাই অনুগত থাকবে; যেমনটি পারস্য ও অন্যান্য জাতির ক্ষেত্রে প্রচলিত ছিল। যদি কোনো রাষ্ট্র এ ধরনের রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকে, তবে তার শাসন সুসংহত হয় না এবং তার আধিপত্যও পূর্ণতা পায় না: {পূর্ববর্তীদের ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান এমনই ছিল}।
যদি এই আইনসমূহ জ্ঞানবান ব্যক্তিবর্গ এবং রাষ্ট্রের কর্ণধার ও দূরদর্শী ব্যক্তিদের দ্বারা নির্ধারিত হয়, তবে তা হয় 'বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতি'। আর যদি তা আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো বিধানদাতার মাধ্যমে নির্ধারিত ও প্রবর্তিত হয়, তবে তা হয় 'ধর্মীয় রাজনীতি', যা ইহকাল ও পরকাল উভয় জীবনের জন্যই কল্যাণকর।
আর এর কারণ এই যে, সৃষ্টির উদ্দেশ্য কেবল তাদের পার্থিব জীবন নয়; কেননা পার্থিব জগত পুরোটাই অনর্থক ও অসার, যেহেতু এর সমাপ্তি হলো মৃত্যু ও বিলুপ্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমাদের কাছে...}