(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: -)
علماء المغرب ومقاومتهم للبدع والتصوف والقبورية والمواسم   (مصطفى باحو)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: علماء المغرب ومقاومتهم للبدع والتصوف والقبورية والمواسم

المؤلف: أبو سفيان مصطفى باحُّو السلاوي المغربي

الناشر: جريدة السبيل، المغرب

الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م

عدد الصفحات: 169

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

(النص الإلكتروني هنا هو نص الطبعة الثانية)

تاريخ النشر بالشاملة: 19 محرم 1434

মাগরিবের ওলামায়ে কেরাম এবং বিদ'আত, তাসাউফ, কবরপূজা ও মৌসুমি মেলাসমূহের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রতিরোধ   (মুস্তফা বাহু)

বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডন


বই: মাগরিবের ওলামায়ে কেরাম এবং বিদ'আত, তাসাউফ, কবরপূজা ও মৌসুমি মেলাসমূহের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রতিরোধ

লেখক: আবু সুফিয়ান মুস্তফা বাহু আস-সালাউয়ি আল-মাগরিবী

প্রকাশক: জারিদাত আস-সাবীল, মরক্কো

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৯

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে মিল রাখা হয়েছে]

(এখানে ইলেকট্রনিক পাঠ্যটি মূলত দ্বিতীয় সংস্করণের পাঠ্য)

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৯ মহররম ১৪৩৪

(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: -)
علماء المغرب

ومقاومتهم للبدع والتصوف والقبورية والمواسم

 

مصطفى باحو
মাগরিবের উলামায়ে কেরাম

এবং বিদআত, তাসাউফ, কবরপূজা ও মৌসুমি মেলাসমূহের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রতিরোধ

 

মুস্তাফা বাহু
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ২)
الطبعة الأولى

جمادى الآخرة 1428 - يونيو 2007

جميع الحقوق محفوظة

 

الكتاب … : علماء المغرب ومقاومتهم للبدع والتصوف والقبورية والمواسم

المؤلف: مصطفى باحو

الطبعة: الثانية، ذو القعدة 1428 - دجنبر 2007

الناشر: جريدة السبيل

البريد الإلكتروني: assabil1@menara.ma

الإيداع القانوني … : 2007/ 1704
প্রথম সংস্করণ

জমাদিউল আখিরা ১৪২৮ - জুন ২০০৭

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

 

গ্রন্থ … : মরক্কোর উলামায়ে কেরাম এবং বিদআত, তাসাউফ, কবরপূজা ও মৌসুমি মেলা-উৎসবের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রতিরোধ

লেখক: মুস্তফা বাহু

সংস্করণ: দ্বিতীয়, যুল-ক্বাদাহ ১৪২৮ - ডিসেম্বর ২০০৭

প্রকাশক: জরীদাতুস সাবীল

ই-মেইল: assabil1@menara.ma

আইনি নিবন্ধন … : ২০০৭/ ১৭০৪
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌كلمة الناشر

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

أما بعد،

ففي زمن كثرت فيه المغالطات، واختلت فيه الموازين، وانتشرت فيه الأفكار والمفاهيم العلمانية، ومُكّن لها في الإذاعات والقنوات التلفزية الوطنية، وملئت بها المناهج والمقررات التعليمية، فحلت مصطلحات مثل الأنسنة والكونية والمواطنة محل مصطلحات الحلال والحرام والولاء والبراء ورابطة الدين ..

وفي زمن التبست فيه المفاهيم ذات المرجعية الدينية، خصوصا ما تعلق منها بمعنى الاعتدال والوسطية فأصبح نبذ المحرمات والتزام سنة النبي صلى الله عليه وسلم عقيدة وسلوكا ومنهجا من علامات التطرف، وأضحى من شروط الاعتدال أن تسمح لنفسك بالسباحة على الشواطئ عاريا وأن تستمع للموسيقى وترقص، وأن لا تظهر عليك أمارات الغيرة على زوجتك وبناتك إن تبرجهن أو تهتكهن، وألا تمانع أو يتمعر وجهك إن هن أقمن مع غير المحارم علاقات غير شرعية أو مشبوهة، فلا محل لأي تدخل منك في حياتهن لأن زمن الحلال والحرام قد ولّى! وفصل الخطاب لا بد اليوم أن يسمع من فم رجل القانون لا عالم الدين .. !

وفي زمن تتدخل فيه الدول النصرانية في مناهج التعليم في بلدان إسلامية، وتشارك في تنظيم حقلها الديني، وتضغط بقوة المال والسياسة والمنظمات والسلاح حتى تتكيف مرجعيتها مع القوانين الدولية ويخضع علماؤها ومثقفوها لما سطره الرجل الغربي في لوائح حقوق الإنسان وإن خالف المعلوم من دين الإسلام بالضرورة ..

وفي زمن يتمكن فيه الإنسان من حيازة آلاف الكتب في قرص مدمج واحد، ويستطيع في طرفة عين أن يتصل بأعلم أهل الأرض، وأن يشاهد ويسمع لمن يريد من أهل العلم عبر العالم وعلى اختلاف المذاهب.
প্রকাশকের কথা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।

অতঃপর,

এমন এক সময়ে, যখন বিভ্রান্তি ব্যাপক রূপ লাভ করেছে, মানদণ্ডসমূহ বিপর্যস্ত হয়েছে এবং ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাধারা ও ধ্যান-ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে; যখন জাতীয় বেতার ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে এসব মতবাদকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে এবং শিক্ষা কারিকুলাম ও পাঠ্যক্রমসমূহ এগুলোতে পূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে মানবতাবাদ, বিশ্বজনীনতা এবং নাগরিকত্বের মতো পরিভাষাগুলো হালাল-হারাম, আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা এবং ধর্মীয় বন্ধনের মতো পরিভাষাগুলোর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে...

এমন এক সময়ে, যখন ধর্মীয় মানদণ্ডনির্ভর ধারণাগুলো অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে ‘পরিমিতিবোধ’ ও ‘মধ্যপন্থা’ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো। ফলে হারাম বর্জন করা এবং আকিদা, আচরণ ও কর্মপদ্ধতিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরাকে উগ্রবাদের লক্ষণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ‘পরিমিতিবোধ’-এর শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে সমুদ্রসৈকতে নগ্ন হয়ে সাঁতার কাটা, গান শোনা ও নাচা। এছাড়া স্ত্রী ও কন্যাদের বেপর্দা ও নির্লজ্জ চলাফেরায় কোনো আত্মমর্যাদাবোধ প্রদর্শন না করা এবং তারা মাহরাম নয় এমন ব্যক্তিদের সাথে অবৈধ বা সন্দেহজনক সম্পর্কে জড়ালেও কোনো বাধা না দেওয়া বা বিরক্তি প্রকাশ না করাকেও উদারতা মনে করা হচ্ছে। কারণ তাদের জীবনে আপনার হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই; যেহেতু হালাল-হারামের যুগ শেষ হয়ে গেছে! আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজ ধর্মীয় আলেমের পরিবর্তে আইন বিশেষজ্ঞের মুখ থেকেই শুনতে হবে..!

এমন এক সময়ে, যখন খ্রিষ্টান রাষ্ট্রগুলো মুসলিম দেশগুলোর শিক্ষা কারিকুলামে হস্তক্ষেপ করছে, তাদের ধর্মীয় অঙ্গন নিয়ন্ত্রণে অংশগ্রহণ করছে এবং অর্থ, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও অস্ত্রের শক্তিতে এমনভাবে চাপ সৃষ্টি করছে যেন তাদের ধর্মীয় মানদণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের সাথে খাপ খেয়ে যায়। এমনকি ইসলামের অকাট্য বিষয়সমূহের পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও সেদেশের আলেম ও বুদ্ধিজীবীরা পশ্চিমা বিশ্বের প্রণীত মানবাধিকার সনদের অনুগত হতে বাধ্য হচ্ছেন...

এমন এক সময়ে, যখন মানুষ একটিমাত্র সিডি-রুমের মধ্যে হাজার হাজার বই সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং চোখের পলকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম জ্ঞানীদের সাথে যোগাযোগ করতে পারছে; বিশ্বের নানা প্রান্তের ও বিভিন্ন মাযহাবের আলেমদের বক্তব্য সরাসরি দেখা ও শোনার সুযোগ লাভ করছে।
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ৪)
وفي زمن يطالب فيه الساسة بالانفتاح وقبول الآخر، ونبذ الانغلاق والتقوقع.

وفي زمن نسترضي فيه المد العلماني، ونستجيب فيه للضغوط الخارجية قبل الداخلية، فنلغي شرط الولي في عقد النكاح، مخالفين للسنة عامة والمذهب المالكي خاصة، منفتحين على المذهب الحنفي راجين الرفع من سقف حرية النساء.

في زمن لم يعد المذهب يقوى على تنظيم الحياة الاجتماعية ولا السياسية ولا الاقتصادية وأصبح نظام الحسبة في خبر كان.

في زمن كل هذه المتغيرات يصرّ بعض المسؤولين على الحقل الديني في المغرب على الانغلاق والتقوقع والجمود حول مسائل في مذهب البلاد محجِّرين واسعا ومضيقين رحبا، مختزلين الفقه المالكي والسلوك والعقيدة في أحكام خالفهم فيها جهابذة المذهب وكبار العلماء.

وإسهاما من الباحث الشيخ مصطفى باحو في تجلية مواقف علماء المغرب ومقاومتهم للبدع والتصوف والقبورية والمواسم، قام بجمع ما تناثر في كتبهم من فتاوى وردود ينفون بها عن العلم تحريف الغالين وانتحال المبطلين وتأويل الجاهلين.

ورغبة من جريدة السبيل في إثارة نقاش علمي عماده الحجة والبرهان وهدفه الرجوع بالأمة إلى السنة والقرآن، وغايته رضا الكريم الرحمن، عملت على نشر هذا الكتاب.

 

الثلاثاء 3 جمادى الآخرة سنة 1428 من هجرة النبي صلى الله عليه وسلم

الموافق 19 يونيو 2007م

 

الناشر

إبراهيم بن المهدي الطالب
এমন এক যুগে যখন রাজনীতিকগণ উদারতা ও অপরকে গ্রহণ করার দাবি জানাচ্ছেন এবং সংকীর্ণতা ও অন্তর্মুখিতাকে বর্জন করার আহ্বান দিচ্ছেন।

এমন এক যুগে যখন আমরা ধর্মনিরপেক্ষতার প্রবাহকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছি এবং অভ্যন্তরীণ চাপের পূর্বে বাহ্যিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করছি; ফলে আমরা বিবাহের চুক্তিতে অভিভাবকের শর্তকে বিলুপ্ত করছি—যা সামগ্রিকভাবে সুন্নাহ এবং বিশেষভাবে মালিকি মাজহাবের পরিপন্থী—আর আমরা হানাফি মাজহাবের প্রতি এই আশায় ঝুঁকে পড়ছি যেন নারী স্বাধীনতার সীমা বৃদ্ধি পায়।

এমন এক যুগে যখন মাজহাব আর সামাজিক, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক জীবন পরিচালনার সামর্থ্য রাখছে না এবং 'হিসবাহ' ব্যবস্থা অতীতের স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে।

এই সকল পরিবর্তনের যুগে মরক্কোর ধর্মীয় অঙ্গনের কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তি দেশের প্রচলিত মাজহাবের কতিপয় বিষয়ের ওপর সংকীর্ণতা ও স্থবিরতাকে আঁকড়ে ধরার জেদ করছেন; তারা প্রশস্ত বিষয়কে সংকুচিত করছেন এবং উদার বিষয়কে সংকীর্ণ করে তুলছেন। তারা মালিকি ফিকহ, আচরণবিধি এবং আকীদাকে এমন কিছু বিধানে সীমাবদ্ধ করে ফেলছেন যেগুলোতে মাজহাবের প্রাজ্ঞ পণ্ডিতবর্গ ও শ্রেষ্ঠ উলামায়ে কেরাম তাদের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।

মরক্কোর উলামায়ে কেরামের অবস্থান এবং বিদআত, সুফিবাদ, কবরপূজা ও মৌসুমি মেলা-উৎসবের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধের বিষয়গুলো স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে গবেষক শায়খ মুস্তফা বাহু-এর অবদানস্বরূপ তিনি তাদের গ্রন্থাবলিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এমন সব ফতোয়া ও প্রতিবাদসমূহ সংকলন করেছেন, যার মাধ্যমে তারা ইলম বা জ্ঞান থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা দাবি এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করেছেন।

'আস-সাবেল' পত্রিকার পক্ষ থেকে এমন একটি তাত্ত্বিক আলোচনার সূত্রপাত করার আকাঙ্ক্ষায়—যার ভিত্তি হলো অকাট্য দলিল ও প্রমাণ এবং যার লক্ষ্য হলো উম্মাহকে সুন্নাহ ও কুরআনের দিকে ফিরিয়ে আনা আর যার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো পরম করুণাময় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন—এই বইটি প্রকাশের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার, ৩ জুমাদাল আখিরাহ, হিজরি ১৪২৮ সাল

মোতাবেক ১৯ জুন, ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ

 

প্রকাশক

ইব্রাহিম বিন আল-মাহদি আত-তালিব
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: -)
مقدمة الطبعة الثانية

 

بسم الله الرحمن الرحيم والصلاة والسلام على سيد المرسلين وعلى آله وصحبه أجمعين.

فهذه هي الطبعة الثانية لهذه الرسالة، التي نالت استحسان عدد من مشايخ بلدنا وغيرها، وعدد من طلاب العلم وأهله، ولله الحمد أولا وآخرا، فهو المتفضل على عبده بنعمه المتزايدة وآلائه المترادفة.

تأتي هذه الطبعة بعد نفاد (3500) نسخة من الطبعة الأولى.

وقد أصلحت فيها بعض الأخطاء المطبعية التي نبهني إليها بعض الأفاضل. والله يسامحنا ويغفر لنا حوبنا وخطايانا.

وزدت في مبحث "علماء المغرب والقبورية" كلاما نفيسا من كتاب "جواهر الكمال في تراجم الرجال" لأبي عبد الله محمد بن أحمد العبدي الكانوني (المتوفى سنة 1356هـ/1935م)، شنع فيه غاية التشنيع على عباد القبور، وأنكر فيه الاحتفال بالأضرحة والمواسم، وبيَّن فيه أن عددا من الأضرحة بني على مواضع لم يدفن فيها أحد، بل بنيت لمجرد رؤيا منامية، وغيرها.

والحمد لله رب العالمين.
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সর্দার এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর।

এটি হলো এই রিসালাহ বা পুস্তিকাটির দ্বিতীয় সংস্করণ, যা আমাদের দেশের এবং বিদেশের বহু মাশায়েখ এবং ইলম অন্বেষী ও আলিমদের প্রশংসা অর্জন করেছে। সকল প্রশংসা আদি ও অন্তে একমাত্র আল্লাহর জন্য; তিনিই তাঁর বান্দার প্রতি অবারিত নিয়ামত ও নিরবচ্ছিন্ন অনুগ্রহ দানকারী।

প্রথম সংস্করণের ৩৫০০ (তিন হাজার পাঁচশত) কপি নিঃশেষ হওয়ার পর এই সংস্করণটি প্রকাশিত হচ্ছে।

এতে আমি কিছু মুদ্রণজনিত ত্রুটি সংশোধন করেছি, যেগুলোর প্রতি কতিপয় মহৎ ব্যক্তি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের অপরাধ ও ভুলত্রুটি মার্জনা করুন।

"মাগরিবের (মরক্কো) আলেম সমাজ ও কবরপূজা" শীর্ষক পরিচ্ছেদে আমি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-আবদি আল-কানুনী (মৃত্যু: ১৩৫৬ হি./১৯৩৫ খ্রি.) রচিত 'জাওয়াহিরুল কামাল ফি তারাজিমির রিজাল' কিতাব থেকে কিছু মূল্যবান আলোচনা সংযোজন করেছি। সেখানে তিনি কবরপূজারীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং মাজার ও মেলা বা বার্ষিক উৎসব উদযাপনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, অনেক মাজার এমন স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে যেখানে কাউকেই দাফন করা হয়নি; বরং কেবল নিছক স্বপ্নের ভিত্তিতে বা অন্য কোনো কারণে সেগুলো তৈরি করা হয়েছে।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة الطبعة الأولى

 

‌‌تقديم

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

أما بعد، فهذا هو الكتاب الثالث من سلسلة: "بحوث في المذهب المالكي"، وقد صدر من هذه السلسلة ما يلي:

1 - حكم الغناء في المذهب المالكي.

2 - حجاب المرأة في المذهب المالكي.

ومعه حكم مصافحة الأجنبية والخلوة بها.

وقد جمعت في هذه الرسالة الصغيرة الجِرْم، الكثيرة العلم، النصوص المأثورة عن المغاربة والمالكية في رد البدع والخرافات والأباطيل، قاصدا إبطال مزاعم بعض المفترين أن رد البدع والخرافات والضلالات مذهب وافد على بلادنا، غريب عن وطننا، مباين لسماحة المذهب المالكي القائم على الاعتدال والوسطية.

فبرهنت بحمد الله بما لا يدع مجالا للشك أنه لا زال في علماء المالكية على مر الأعصار والأمصار من يرد أباطيل المتصوفة ويبطل خرافات المبتدعة، ويخالف عقائد الأشعرية.
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা

 

‌‌উপস্থাপনা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

অতঃপর, এটি "মালিকি মাযহাব বিষয়ক গবেষণা" ধারাবাহিকের তৃতীয় গ্রন্থ। এই ধারাবাহিক থেকে ইতিপূর্বে নিম্নোক্ত বইগুলো প্রকাশিত হয়েছে:

১ - মালিকি মাযহাবে গান-বাদ্যের বিধান।

২ - মালিকি মাযহাবে নারীর হিজাব।

এবং এর সাথে রয়েছে পরনারীর সাথে করমর্দন ও নির্জনে অবস্থানের বিধান।

আকারে ক্ষুদ্র কিন্তু জ্ঞানে সমৃদ্ধ এই পুস্তিকাটিতে আমি মাগরেব অঞ্চলের আলেম ও মালিকি ফকিহদের থেকে বর্ণিত সেই সকল উদ্ধৃতি সংকলন করেছি যা বিদআত, কুসংস্কার ও বাতিল মতবাদ খণ্ডন সংশ্লিষ্ট। আমার উদ্দেশ্য হলো সেই সব অপবাদ দানকারীদের দাবি অসার প্রমাণ করা, যারা মনে করে যে বিদআত, কুসংস্কার ও গোমরাহি প্রত্যাখ্যান করা আমাদের ভূখণ্ডে একটি আগন্তুক মতবাদ, আমাদের দেশের জন্য অপরিচিত এবং ভারসাম্য ও মধ্যপন্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত মালিকি মাযহাবের উদারতার সাথে সাংঘর্ষিক।

তাই আল্লাহর প্রশংসায় আমি সন্দেহের অবকাশহীনভাবে এটি প্রমাণ করেছি যে, সর্বযুগে ও সকল জনপদেই মালিকি আলেমদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরা সর্বদা বিদ্যমান ছিলেন যারা সূফিদের বাতিল মতবাদ ও বিদআতিদের কুসংস্কার খণ্ডন করেছেন এবং আশআরি আকিদার বিরোধিতা করেছেন।
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ৬)
فهذا الإمام ابن رشد القرطبي، أوحد أهل زمانه علما وفقها بمذهب المالكية، بل لم يأت بعده أَجَلُّ منه عند المالكية. هذا الإمام يرى وجوب هدم السقائف والقباب المبنية على القبور. وأيده في هذا علماء كثيرون، كما سيأتي بيانه.

وهذا الإمام والعلامة أبو بكر الطرطوشي رحمه الله أحد أشهر علماء المالكية يقول: مذهب الصوفية بطالة وجهالة وضلالة، وما الإسلام إلا كتاب الله وسنة رسوله (1). كما سيأتي نقله عنه.

فما عسى يكون موقف الخرافيين والطرقيين من هؤلاء العلماء؟ أتراهم كانوا عملاء لجهات خارجية؟ تملي عليهم أفكارها المتشددة، الغريبة عن وسطية المذهب المالكي.

وشنع العلامة المكي الناصري رئيس المجلس العلمي بالرباط ووزير الأوقاف سابقا على المبالغين في تعظيم القبور والأضرحة وعلى المتصوفين والطرقيين، وهكذا فعل محمد كنوني المذكوري مفتي رابطة علماء المغرب، وعلامة المغرب عبد الله كنون.

فإذا كان من يقف على رأس الهرم الديني في المغرب، أعني المجلس العلمي ورابطة علماء المغرب هذا رأيهم وهذا قولهم، فما عسى يبقى من كلام؟

--------------------------------------------

(1) تفسير القرطبي (11/ 237).
এই হলেন ইমাম ইবনে রুশদ আল-কুরতুবী, যিনি মালেকী মাযহাবের জ্ঞান ও ফিকহ শাস্ত্রে নিজ যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বরং মালেকী ধারায় তাঁর পরবর্তী সময়ে তাঁর চেয়ে মহান আর কেউ আসেননি। এই ইমাম কবরের ওপর নির্মিত আচ্ছাদন ও গম্বুজসমূহ ধ্বংস করা আবশ্যক বলে মনে করেন। বহু উলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে তাঁকে সমর্থন করেছেন, যেমনটি সামনে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

আর এই মহান ইমাম ও আল্লামা আবু বকর আত-তোরতূশী (রহিমাহুল্লাহ)—যিনি মালেকী মাযহাবের অন্যতম প্রসিদ্ধ আলিম—তিনি বলেন: সূফীদের পথ অসারতা, অজ্ঞতা ও ভ্রষ্টতা বৈ কিছু নয়; আর ইসলাম তো কেবল আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর নাম (১)। অচিরেই তাঁর থেকে এই বক্তব্য উদ্ধৃত করা হবে।

এমতাবস্থায় এই সকল উলামায়ে কেরামের প্রতি কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও তরীকার অনুসারীদের অবস্থান কী হতে পারে? তারা কি তাঁদেরকে বিদেশী শক্তির এজেন্ট মনে করে? যারা কি না তাঁদের ওপর এমন চরমপন্থী চিন্তাধারা চাপিয়ে দেয়, যা মালেকী মাযহাবের মধ্যপন্থা ও ভারসাম্যের সাথে অসংগতিপূর্ণ।

রাবাতের 'মাজলিস আল-ইলমি'র (বৈজ্ঞানিক পরিষদ) প্রধান ও সাবেক ওয়াকফ মন্ত্রী আল্লামা মাক্কী আন-নাসিরী কবর ও মাজার পূজায় অতিরঞ্জনকারী এবং সূফী ও তরীকার অনুসারীদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। একইভাবে মরক্কোর উলামা লীগের মুফতী মুহাম্মদ কানুনী আল-মাজকূরী এবং মরক্কোর প্রখ্যাত আলিম আবদুল্লাহ কানুনও অনুরূপ অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।

সুতরাং মরক্কোর ধর্মীয় নেতৃত্বের শিখরে অবস্থানকারী ব্যক্তিবর্গ—অর্থাৎ 'মাজলিস আল-ইলমি' ও মরক্কোর 'উলামা লীগ'—এর রায় ও বক্তব্য যদি এটাই হয়, তবে এরপর আর কী বলার থাকতে পারে?

--------------------------------------------

(১) তাফসীরে কুরতুবী (১১/ ২৩৭)।
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ৭)
وألف العلامة أحمد بن محمد بن تاويت التطواني رسالة سماها: إخراج الخبايا في تحريم البناء على القبور والصلاة بالزوايا.

حرم فيه البناء على القبور والصلاة في المقابر والزوايا.

فلماذا عندما ينكر بعض علماء المغرب المعاصرين مظاهر المغالاة في تعظيم القبور ينبزون بأنهم وهابية أو متشددون إسلاميون، غريبون عن وسطية المذهب المالكي وسماحته؟

أليس ابن رشد مالكيا؟ أليس هؤلاء السادة مغاربة؟

وهذا الإمام الإمام الكبير أبو عبد الله القرطبي أشهر مفسري المالكية، بل ليس للمالكية تفسير أوسع وأكبر من تفسيره، يشنع على المتصوفة غاية التشنيع، ويبالغ في الإنكار عليهم، وهكذا فعل الإمام أبو بكر الطرطوشي وجماعة من المالكية، كما ستقف على نصوصهم قريبا بإذن الله.

وهذا الإمام الشاطبي رحمه الله، ذلك الإمام الأوحد الذي اتفق كل المالكية على الإشادة به، والمبالغة في تعظيمه، ووصفه بالألقاب الفخمة والأوصاف التي لا تطلق إلا على كبار العلماء. ويكفيه فخرا كتاب الموافقات في أصول الشريعة، الذي بسط فيه مقاصد الشريعة بسطا، لم يسبقه أحد إليه.

هذا الإمام الجليل له كتاب في أصول البدع سماه: الاعتصام، نسف فيه البدع نسفا ونقض أصولها نقضا. لا يوجد له نظير في كتب العلماء على مر الأعصار.
প্রথিতযশা আলেম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন তাউয়িত আত-তিতওয়ানি একটি রিসালাহ (পুস্তিকা) রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন: ‘ইখরাজুল খাবায়া ফি তাহরিমিল বিনায়ি আলাল কুবুরি ওয়াস সালাতি বিজ জাউয়াইয়া’ (কবরসমূহের ওপর ইমারত নির্মাণ এবং জাউয়িয়াগুলোতে সালাত আদায় হারামের বর্ণনায় লুকায়িত তথ্যের উন্মোচন)।

এতে তিনি কবরের ওপর ইমারত নির্মাণ এবং কবরস্থান ও জাউয়িয়াগুলোতে সালাত আদায় করাকে হারাম ঘোষণা করেছেন।

তবে মরক্কোর কিছু সমসাময়িক আলেম যখন কবরের অতিশয় ভক্তি ও বাড়াবাড়ির বিষয়গুলোকে প্রত্যাখ্যান করেন, তখন কেন তাদের ‘ওয়াহাবি’ বা ‘ইসলামি চরমপন্থী’ বলে আখ্যায়িত করা হয় এবং দাবি করা হয় যে তারা মালিকি মাযহাবের মধ্যপন্থা ও উদারতা থেকে বিচ্যুত?

ইবনে রুশদ কি মালিকি ছিলেন না? এই মহান ব্যক্তিগণ কি মরক্কোর অধিবাসী নন?

আর এই যে মহান ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-কুরতুবী, যিনি মালিকি মাযহাবের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মুফাসসির, এমনকি মালিকিদের কাছে তার তাফসীরের চেয়ে অধিক বিস্তৃত ও বৃহৎ কোনো তাফসীর নেই; তিনিও সূফীদের কড়া সমালোচনা করেছেন এবং তাদের কর্মকাণ্ডকে প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করেছেন। অনুরূপভাবে ইমাম আবু বকর আত-তূর্তুশি এবং মালিকি আলেমদের একটি জামাতও একই কাজ করেছেন, যেমনটি শীঘ্রই আল্লাহর ইচ্ছায় তাদের উদ্ধৃতিগুলো থেকে আপনি জানতে পারবেন।

আর এই যে ইমাম আশ-শাতিবি (রহিমাহুল্লাহ), তিনি এমন এক অনন্য ইমাম যার প্রশংসা ও অতিশয় সম্মানের ব্যাপারে সকল মালিকি আলেম ঐকমত্য পোষণ করেছেন এবং তাকে এমন সব মহিমান্বিত উপাধি ও গুণাবলীতে ভূষিত করেছেন যা কেবল শ্রেষ্ঠ আলেমদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তার গৌরবের জন্য শরীয়তের মূলনীতি বিষয়ক ‘আল-মুওয়াফাকাত’ গ্রন্থটিই যথেষ্ট, যাতে তিনি শরীয়তের মাকাসিদ বা উদ্দেশ্যসমূহকে এমন বিশদভাবে আলোচনা করেছেন, যা ইতিপূর্বে আর কেউ করেননি।

এই মহান ইমামের বিদআতের মূলনীতি বিষয়ে একটি কিতাব রয়েছে যার নাম ‘আল-ইতিসাম’, যেখানে তিনি বিদআতকে সমূলে নির্মূল করেছেন এবং এর ভিত্তিগুলোকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছেন। সর্বযুগের আলেমদের কিতাবসমূহের মধ্যে এর কোনো দ্বিতীয় নজির নেই।
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ৮)
فلماذا يكون الأخذ ببعض أقوال هذا الإمام المالكي تطرفا وتشددا؟ أليس مغربيا من بلاد الأندلس؟ أم أن أقواله لا تروق طائفة من الناس يحاولون أن يفرضوا آراءهم على الجميع.

وأين السماحة والوسطية والجدال بالتي هي أحسن؟ وهم يشنون الحروب الضروس على من خالفهم في تأييد التصوف والقبورية والبدع، وتراهم يتحدثون عن السماحة مع الكفار والمشركين، بينما إذا تعلق الأمر بإخوانهم الذين خالفوهم في الرأي اتباعا لعلماء مالكية آخرين وصفوهم بألقاب شنيعة وزهَّدوا فيهم الجماهير، متسترين بلبوس المذهب تارة، والأصالة المغربية تارة، وحركوا جهات لتشديد الخناق عليهم من كل حدب وصوب، واستبشروا بغلق مقراتهم الدعوية، وتهللت وجوههم بمنع بعض الكتب العلمية المخالفة لمشاربهم، الكاشفة لتلبيسهم وبهتانهم.

وكم أتعجب من قوم إذا تعلق الأمر بكتب وجمعيات ومنظمات تحارب الله ورسوله قالوا: حرية تعبير، وكل إنسان حر فيما يقول، وإذا تعلق الأمر بكتب وآراء ومواقف ضد البدع والتصوف، تخالف ما ارتضاه هؤلاء، تنكروا لحرية التعبير، وأوهموا الرأي العام أن هذا تطرف يجب محاربته بكل الأشكال والصور. ولا يشفع لهؤلاء أن مواقفهم وآراءهم هذه قال بها علماء مالكية ومغاربة، لأن الأمر محسوم منذ البداية لصالح الخرافة والدجل والبهتان.

فلا على حقوق الإنسان حافظوا، ولا المذهب المالكي نصروا، ولا شوكة العلمانيين كسروا.
তাহলে কেন এই মালিকি ইমামের কিছু বক্তব্য গ্রহণ করা চরমপন্থা ও কঠোরতা হিসেবে গণ্য হবে? তিনি কি আন্দালুস ভূখণ্ডের একজন মরক্কোবাসী নন? নাকি তাঁর বক্তব্যগুলো এমন একদল লোকের পছন্দ নয় যারা সবার ওপর নিজেদের মতামত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

আর কোথায় গেল সহনশীলতা, মধ্যপন্থা এবং উত্তম পন্থায় বিতর্ক? তারা সূফিবাদ, কবরপূজা এবং বিদআত সমর্থনের ক্ষেত্রে যারা তাদের বিরোধিতা করে, তাদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ যুদ্ধ ঘোষণা করে। আপনি দেখবেন তারা কাফের ও মুশরিকদের সাথে সহনশীলতার কথা বলে, অথচ যখন বিষয়টি সেইসব দ্বীনি ভাইদের ক্ষেত্রে আসে যারা অন্য মালিকি আলেমদের অনুসরণে তাদের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, তখন তারা তাদের জঘন্য উপাধিতে ভূষিত করে এবং জনসাধারণের মনে তাদের প্রতি অনীহা সৃষ্টি করে। কখনও মাযহাবের লেবাসে আত্মগোপন করে, আবার কখনও মরক্কোর ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে তারা চারদিক থেকে তাদের কণ্ঠরোধ করার জন্য বিভিন্ন পক্ষকে উস্কে দেয়। তারা তাদের দাওয়াতি কার্যালয়গুলো বন্ধ হওয়ায় আনন্দিত হয় এবং তাদের মতাদর্শের পরিপন্থী ও তাদের প্রতারণা ও অপবাদ উন্মোচনকারী কিছু ইলমি কিতাব নিষিদ্ধ হওয়ায় তাদের চেহারা খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

আমি সেই সম্প্রদায়ের প্রতি কতই না বিস্মিত হই, যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী বইপত্র, সমিতি ও সংগঠনের প্রসঙ্গ আসে, তখন তারা বলে: এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতা, এবং প্রত্যেক মানুষ যা বলে তাতে সে স্বাধীন। কিন্তু যখন বিদআত ও সূফিবাদের বিরুদ্ধে কোনো কিতাব, মত বা অবস্থানের বিষয় আসে যা তাদের মনঃপূত বিষয়ের পরিপন্থী, তখন তারা মত প্রকাশের স্বাধীনতা অস্বীকার করে এবং জনমনে এই ধারণা দেয় যে, এটি এমন এক চরমপন্থা যাকে সব উপায়ে ও সব পন্থায় দমন করতে হবে। এমনকি তাদের এই অবস্থান ও মতামতগুলো যে প্রথিতযশা মালিকি ও মরক্কোর আলেমগণও ব্যক্ত করেছেন, তাও তাদের কোনো উপকারে আসে না; কারণ বিষয়টি শুরু থেকেই কুসংস্কার, প্রতারণা ও মিথ্যার পক্ষে নির্ধারিত হয়ে আছে।

ফলে তারা না পেরেছে মানবাধিকার রক্ষা করতে, না পেরেছে মালিকি মাযহাবকে সাহায্য করতে, আর না পেরেছে ধর্মনিরপেক্ষবাদীদের দম্ভ চূর্ণ করতে।
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ৯)
فليقل العلماني ما يشاء، ولتقل المنظمات النسائية العلمانية العميلة ما تشاء، وأما الإسلامي فعليه أن يحافظ على الثوابت الوطنية القائمة على التصوف والمذهب الأشعري!

أين الثوابت الوطنية عند من يجاهر بمعاداة الدين أو بعض أصوله، وقد تبجح أحد العنصريين العلمانيين الحاقدين في قناة الجزيرة قائلا: لابد أن يرحل الإسلام من المغرب كما رحلت اليهودية والمسيحية منه من قبل.

فأين أنتم يا من تزعمون المحافظة على الثوابت الوطنية؟ وأين ذهبت غيرتكم؟ بينما إذا سلم إمام تسليمتين في الصلاة قامت له الدنيا ولم تقعد، وإذا ترك إمام الدعاء عقب الصلاة اتباعا لعلماء مالكية في هذا الباب استدعي للتحقيق والتدقيق، وهدد بالفصل إن عاد لمثل هذه التصرفات المخلة بسير الشعائر الدينية!

وقد حكى ابن رشد في البيان والتحصيل (1/ 266) عن مالك قولين في التسليمتين، فمرة قال: يسلم مرتين، ومرة قال: يسلم مرة واحدة.

فالخلاف موجود في المذهب، فلماذا كل هذا التشدد؟

وقد أحدثت الوزارة الوصية على المذهب المالكي هيئات مراقبة وصرفت ملايين الدراهم من أجل فرض آراء في المذهب المالكي لا تعدو أن تكون مستحبات، وقع الخلاف فيها بين العلماء في شتى المذاهب الإسلامية، بما فيها المذهب المالكي، بينما نرى القوم بُكْما كالأنعام، وصُموتا كالأصنام إذا تعلق الأمر بالثوابت الحقيقية للمذهب المالكي التي تكلمت عليها كل
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা যা খুশি বলুক, আর পশ্চিমা অনুগামী ধর্মনিরপেক্ষ নারী সংগঠনগুলো যা খুশি বলুক; কিন্তু একজন ইসলামপন্থীর দায়িত্ব হলো সুফিবাদ ও আশআরি আকিদার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় মূলনীতিগুলো রক্ষা করা!

যারা ধর্মের কিংবা এর কিছু মূলনীতির সাথে প্রকাশ্যে শত্রুতা ঘোষণা করে, তাদের কাছে জাতীয় মূলনীতিগুলো কোথায়? আল-জাজিরা চ্যানেলে জনৈক বিদ্বেষপরায়ণ বর্ণবাদী ধর্মনিরপেক্ষতাদী দম্ভোক্তি করে বলেছে: মরক্কো থেকে ইসলামকে অবশ্যই বিদায় নিতে হবে, যেভাবে এর আগে এখান থেকে ইহুদি ও খ্রিস্টধর্ম বিদায় নিয়েছে।

হে জাতীয় মূলনীতি রক্ষার দাবিদাররা, আপনারা কোথায়? আর আপনাদের আত্মমর্যাদাবোধই বা কোথায় গেল? অথচ যদি কোনো ইমাম নামাজে দুইবার সালাম ফেরান, তবে লঙ্কাকাণ্ড বেধে যায়। আর যদি কোনো ইমাম এই বিষয়ের মালিকি আলেমদের অনুসরণ করে নামাজের পর দোয়া ছেড়ে দেন, তবে তাকে তদন্তের জন্য তলব করা হয় এবং ধর্মীয় রীতিনীতির স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করার অভিযোগে পুনরায় এমনটি করলে বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয়!

ইবনে রুশদ 'আল-বায়ান ওয়াত তাহসিল' গ্রন্থে (১/২৬৬) ইমাম মালিক থেকে দুইবার সালাম ফেরানোর বিষয়ে দুটি অভিমত বর্ণনা করেছেন; একবার তিনি বলেছেন: দুইবার সালাম ফেরাতে হবে, আবার অন্য সময় বলেছেন: একবার সালাম ফেরাতে হবে।

সুতরাং মাযহাবের ভেতরেই যখন মতভেদ বিদ্যমান, তখন এই চরমপন্থা কেন?

মালিকি মাযহাবের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় পর্যবেক্ষণ সংস্থা গঠন করেছে এবং লক্ষ লক্ষ দিরহাম ব্যয় করছে মালিকি মাযহাবের এমন কিছু মত চাপিয়ে দেওয়ার জন্য যেগুলো স্রেফ মুস্তাহাব পর্যায়ের এবং যেসব বিষয়ে মালিকি মাযহাবসহ বিভিন্ন ইসলামিক মাযহাবের আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অথচ যখন মালিকি মাযহাবের সেই প্রকৃত মূলনীতিগুলোর প্রশ্ন আসে যেগুলোর ব্যাপারে সকল আলেম আলোচনা করেছেন, তখন আমরা এই লোকদের চতুষ্পদ জন্তুর মতো নির্বাক এবং মূর্তির মতো নিথর হয়ে থাকতে দেখি...
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ১০)
كتب المالكية، وبسطت أحكامها، وفرعت فروعها، كتحكيم الشريعة وإقامة الحدود الشرعية، ووجوب الحجاب، وتحريم الربا والخمر والتبرج والعري والزنا، وغيرها.

وهذه مسائل مجمع عليها في المذهب المالكي وفي كل المذاهب الإسلامية، ولا يوجد خلاف ولو ضعيف حيال هذه الأمور، بينما المسائل التي تجعلونها ثوابت للمذهب المالكي لا تعدو أن تكون مسائل خلافية بين المالكية أنفسهم وغيرهم من المذاهب الأخرى، فالانتصار لقول منها داخل تحت دائرة المذهب وفي ظل الخلافات الفقهية.

وفي غمرة محاولة البعض لفت الانتباه عن المسائل الشرعية الكبرى في المذهب المالكي اختلقوا معارك جانبية وقضايا هامشية، وضخموها في أعين الجماهير والرأي العام، وجعلوها ذنبا لا يغتفر وخطرا محدقا بالمذهب المالكي في هذا البلد.

من تلك المسائل مثلا عدم قراءة القرآن جماعة، فالمسجد الذي لا يقرأ فيه القرآن جماعة عند الوزارة الوصية مسجد خارج عن الشرعية وعن الثوابت الوطنية، وإذا سألنا عقلاء المذهب المالكي عن حكم هذه القراءة على القول بصحتها، قالوا: الاستحباب. وضابط المستحب هو أن من فعله فله الأجر، ومن تركه فلا شيء له ولا عليه.

فكيف يعقل أن تقام الدنيا ولا تقعد لترك مستحب، بل يفصل الإمام ويحرم من مصدر رزقه الوحيد لأنه ترك مستحبا، بينما يسكتون عن إثارة
মালেকি মাযহাবের কিতাবসমূহ সংকলিত হয়েছে, এর বিধানসমূহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং এর শাখা-প্রশাখা বিন্যস্ত করা হয়েছে; যেমন—শরিয়াহর শাসন কায়েম করা, শরিয়াহ নির্ধারিত দণ্ডবিধি (হুদুদ) প্রতিষ্ঠা করা, পর্দার আবশ্যকতা এবং সুদ, মদ, বেপর্দা চলাফেরা, নগ্নতা ও ব্যভিচারসহ অন্যান্য বিষয়াবলি নিষিদ্ধকরণ।

এই বিষয়গুলো মালেকি মাযহাবসহ সমস্ত ইসলামি মাযহাবের সর্বসম্মত (ইজমা) বিষয় এবং এ ব্যাপারে সামান্যতম দুর্বল মতবিরোধও বিদ্যমান নেই। অথচ আপনারা যে বিষয়গুলোকে মালেকি মাযহাবের ধ্রুব ভিত্তি (সাওয়ািবত) হিসেবে সাব্যস্ত করছেন, সেগুলো মূলত মালেকি ফকিহদের নিজেদের মধ্যে এবং অন্যান্য মাযহাবের সাথে নিছক ইখতিলাফি বা মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয় বৈ কিছু নয়। সুতরাং এর মধ্য থেকে কোনো একটি মতকে অগ্রাধিকার দেওয়া মাযহাবের গণ্ডির ভেতরেই অন্তর্ভুক্ত এবং তা ফিকহি মতপার্থক্যের আওতাভুক্ত।

মালেকি মাযহাবের বৃহৎ শরিয়তি বিষয়গুলো থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়ার হীন প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়ে কেউ কেউ কিছু পার্শ্ব-সংঘাত ও গৌণ ইস্যু উদ্ভাবন করেছেন। তাঁরা সাধারণ মানুষ ও জনমতের সামনে বিষয়গুলোকে অতিরঞ্জিত করে তুলে ধরেছেন এবং এগুলোকে একটি অমার্জনীয় অপরাধ ও এ দেশে মালেকি মাযহাবের অস্তিত্বের প্রতি এক আসন্ন হুমকি হিসেবে চিত্রায়িত করেছেন।

সে সকল বিষয়ের মধ্যে একটি হলো—সম্মিলিতভাবে (জামাতবদ্ধ হয়ে) কুরআন তিলাওয়াত না করা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নিকট যে মসজিদে সম্মিলিতভাবে কুরআন তিলাওয়াত করা হয় না, সেটি যেন শরিয়ত ও জাতীয় ঐতিহ্যের পরিপন্থী। অথচ আমরা যদি মালেকি মাযহাবের প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের নিকট এই তিলাওয়াতের বিধান সম্পর্কে (এর শুদ্ধতার প্রবক্তাদের মতানুসারে) জিজ্ঞাসা করি, তবে তাঁরা বলবেন: এটি ‘মুস্তাহাব’। আর মুস্তাহাবের বিধান হলো—যে ব্যক্তি তা পালন করবে সে সওয়াব পাবে, আর যে তা বর্জন করবে তার কোনো গুনাহ হবে না এবং সে তিরস্কৃতও হবে না।

সুতরাং একটি মুস্তাহাব আমল বর্জনের কারণে কীভাবে এমন লঙ্কাকাণ্ড ঘটে যাওয়া সম্ভব? এমনকি কেবল একটি মুস্তাহাব আমল ছেড়ে দেওয়ার কারণে ইমামকে বহিষ্কার করা হয় এবং তাঁর উপার্জনের একমাত্র উৎস থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা হয়। অথচ তাঁরা নিরব থাকেন...
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ১১)
القضايا الرئيسة في المذهب، بل ويتغافلون عن الأئمة المشعوذين والسحرة والخرافيين الذين ملأوا أصقاع البلاد.

وقد أفتى أبو القاسم بن سراج بعدم جواز الصلاة خلف من يضرب الخط والكهانة والتنجيم ونحوها. المعيار المعرب للونشريسي المالكي (1/ 133).

علما أن الإمام مالكا أنكر قراءة القرآن جماعة، وتابعه على ذلك جماعة من المالكية منهم الإمام الشاطبي. كما سيأتي.

فلماذا لا يدندن هؤلاء الغيورون على المذهب المالكي حول حجاب المرأة وتحريم إبداء المرأة زينتها مثلا، ولا ينبسون ببنت شفة، وهو أمر مجمع عليه في المذهب، بينما تراهم يُقَعْقِعُون ويرعدون إذا تعلق الأمر بالخرافات والبدع والتصوف، جازمين أن ذلك هو المذهب الذي جرى عليه عمل المغاربة، وأن ما خالفه مذهب غريب عن وطننا، وافد على بلدنا من جهات شرقية لا علاقة للمذهب بها.

وقد أفتى أبو علي ناصر الدين وغيره من المالكية بعدم جواز إمامة من لا يحجب امرأته. المعيار المعرب للونشريسي (1/ 131).

وأفتى أبو عبد الله السرقسطي بأنه لا تجوز إمامة من يخلو بالأجنبية. المعيار المعرب للونشريسي (1/ 159).

أكلُّ هذا لا يعني الوزارة الوصية؟ وهمها الأكبر هو التسليمة الثانية والسدل في الصلاة، وكم أخشى عليكم من قوله تعالى: {أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ
মাযহাবের মূল বিষয়সমূহ; বরং তারা ওইসব তান্ত্রিক, জাদুকর ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন ইমামদের ব্যাপারে উদাসীনতা প্রদর্শন করেন, যারা দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছেন।

আবু আল-কাসিম ইবনে সিরাজ ফতোয়া দিয়েছেন যে, যারা রেখা টেনে ভাগ্যগণনা, জাদুটোনা, জ্যোতিষশাস্ত্র এবং অনুরূপ কাজে লিপ্ত হয়, তাদের পেছনে সালাত আদায় করা বৈধ নয়। সূত্র: আল-ওয়ানশারিসি আল-মালিকি রচিত আল-মিইয়ার আল-মুকরাব (১/১৩৩)।

উল্লেখ্য যে, ইমাম মালিক সম্মিলিতভাবে কুরআন তিলাওয়াত করাকে অপছন্দ করেছেন এবং একদল মালিকি আলেম এ ব্যাপারে তাঁর অনুসরণ করেছেন, যাঁদের মধ্যে ইমাম আশ-শাতিবি অন্যতম। যা পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচিত হবে।

তাহলে মালিকি মাযহাবের প্রতি অনুরাগী এই ব্যক্তিবর্গ কেন নারীর পর্দা এবং নারীর রূপ-সৌন্দর্য প্রদর্শনের নিষিদ্ধতার মতো বিষয়গুলো নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করেন না এবং এ ব্যাপারে টুঁ শব্দটিও করেন না—অথচ এটি মাযহাবে একটি সর্বসম্মত বিষয়? পক্ষান্তরে, কুসংস্কার, বিদআত ও সুফিবাদ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অবতারণা হলে আপনি তাদের আস্ফালন ও তর্জন-গর্জন করতে দেখেন। তারা দৃঢ়ভাবে দাবি করেন যে, এটিই সেই মাযহাব যার ওপর মরক্কোবাসীদের আমল চলে আসছে, আর এর পরিপন্থী যা কিছু আছে তা আমাদের স্বদেশের জন্য এক বিজাতীয় মাযহাব, যা প্রাচ্যের দিক থেকে আমাদের দেশে আগত এবং যার সাথে মালিকি মাযহাবের কোনো সম্পর্ক নেই।

আবু আলি নাসেরুদ্দিন এবং আরও অনেক মালিকি ফকিহ ফতোয়া দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে পর্দার বিধান পালনে বাধ্য করে না, তার ইমামতি বৈধ নয়। সূত্র: আল-মিইয়ার আল-মুকরাব লিল ওয়ানশারিসি (১/১৩১)।

আবু আব্দুল্লাহ আস-সারাগোস্তি ফতোয়া দিয়েছেন যে, পরনারীর সাথে নির্জনে অবস্থানকারীর ইমামতি জায়েজ নয়। সূত্র: আল-মিইয়ার আল-মুকরাব লিল ওয়ানশারিসি (১/১৫৯)।

এইসব বিষয় কি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো গুরুত্বই বহন করে না? তাদের প্রধান মাথাব্যথা হলো সালাতের দ্বিতীয় সালাম এবং সালাতে হাত ছেড়ে রাখা (সাদল) নিয়ে। আপনাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহর এই বাণীর কথা ভেবে আমি কতটা শঙ্কিত: "তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস করো..."
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ১২)
الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاء مَن يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنكُمْ إِلَاّ خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدِّ الْعَذَابِ وَمَا اللهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ} [البقرة:85].

ورأيت حديثا كلاما لأحد رؤساء المجالس العلمية المغربية أفتى بفصل إمام مسجد عن عمله لأنه ترك قراءة الحزب جماعة، ولم يقتصر على التسليمة الواحدة، وقال: إن هذا العمل يتنافى وأصول المذهب المالكي. وزاد فاعتبر ذلك مخالفة لثوابت الوطن الدينية.

هكذا قال، وأظنه لا يعرف الفرق بين أصول المذهب المالكي وفروعه. وأن الخلاف في تلك المسائل خلاف يسير، وفي علماء المذهب من قال بالقول الآخر الذي اعتبره منافيا لأصول المذهب المالكي، ومخالفا لثوابت الوطن الدينية.

وأراكم تكثرون من الكلام حول الاعتدال والتسامح وترك التشدد، فإذا تعلق الأمر بترك مستحب في نظركم زمجرتم وأرعدتم، وجعلتم من الْحَبة قُبة، كما يقول المغاربة.

أيُفْصَل إمام لأنه ترك قراءة القرآن جماعة، وهي مستحبة في نظركم، بدعة في نظر إمام المذهب مالك رحمه الله وعدد من أتباع مذهبه؟

وأين أنت يا شيخنا الجليل من المواسم المحدثة والقبورية الْمُسْتَشْرية في بلدك؟ ولماذا لم تتحرك غيرتك على العلمانيين الذين يعيثون في الأرض فسادا؟
"...তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস করো আর কিছু অংশকে অস্বীকার করো? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে, পার্থিব জীবনে তাদের প্রতিদান লাঞ্ছনা ছাড়া আর কিছুই নয়; আর কিয়ামতের দিন তাদেরকে কঠোরতম শাস্তির দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। আর তোমরা যা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে অনবহিত নন।" [সূরা আল-বাকারা: ৮৫]

সম্প্রতি আমি মরক্কোর অন্যতম একটি ইলমি কাউন্সিলের প্রধানের একটি বক্তব্য দেখেছি, যেখানে তিনি একজন মসজিদের ইমামকে তাঁর দায়িত্ব থেকে বহিষ্কারের ফতোয়া দিয়েছেন; কারণ তিনি সম্মিলিতভাবে হিযব (কুরআনের নির্দিষ্ট অংশ) পাঠ করা বর্জন করেছেন এবং একটি সালামের ওপর সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি বলেছেন: এই আমলটি মালেকি মাযহাবের মূলনীতির (উসুল) পরিপন্থী। তিনি আরও বাড়িয়ে বলেছেন যে, তিনি একে দেশের ধর্মীয় অটল মূলনীতিসমূহের বিরুদ্ধাচরণ বলে গণ্য করেছেন।

তিনি এমনটিই বলেছেন, তবে আমার মনে হয় তিনি মালেকি মাযহাবের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখার (ফুরু) মধ্যকার পার্থক্য জানেন না। এই সব বিষয়ে মতপার্থক্য অতি নগণ্য এবং এই মাযহাবের আলেমদের মধ্যেই এমন অনেকে রয়েছেন যারা এমন মত ব্যক্ত করেছেন যা তিনি মালেকি মাযহাবের মূলনীতির পরিপন্থী এবং দেশের ধর্মীয় অটল আদর্শের বিরোধী বলে মনে করেছেন।

আমি দেখছি আপনারা মধ্যপন্থা, সহনশীলতা এবং কঠোরতা বর্জনের বিষয়ে অনেক কথা বলেন; অথচ যখন আপনাদের দৃষ্টিতে কোনো একটি মুস্তাহাব আমল বর্জনের প্রশ্ন আসে, তখন আপনারা গর্জে ওঠেন ও ক্রোধান্বিত হন এবং তিলকে তাল করেন—যেমনটি মরক্কোর অধিবাসীরা বলে থাকে।

একজন ইমামকে কি এ কারণে বহিষ্কার করা হবে যে তিনি সম্মিলিতভাবে কুরআন পাঠ বর্জন করেছেন? অথচ এটি আপনাদের দৃষ্টিতে বড়জোর মুস্তাহাব, কিন্তু খোদ মাযহাবের ইমাম মালিক (রহ.) এবং তাঁর অনুসারীদের অনেকের মতেই এটি একটি বিদআত।

হে আমাদের মহান শায়খ, আপনার দেশে প্রচলিত নব-উদ্ভাবিত উৎসবসমূহ এবং সর্বত্র ছড়িয়ে পড়া কবরপূজার বিষয়ে আপনার অবস্থান কোথায়? আর পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী সেকুলারবাদীদের বিরুদ্ধে কেন আপনার ধর্মীয় আত্মমর্যাদাবোধ প্রজ্জ্বলিত হয় না?
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ১৩)
ولماذا أصابك البُكم حيال الطرقيين الخرافيين الشَّطَّاحين باسم الذكر والدين؟ ولماذا تجاهلت المنظمات العلمانية الحاقدة المتربصة بالمؤمنين الدوائر؟

فالتعرض لهؤلاء يا شيخنا بالنقد والتحذير هي أصول المذهب المالكي حقيقة، وهي ثوابت الوطن الدينية صدقا، لا كما تتوهم أنت. فدع عنك المغالطة، وأدر ظهرك للمواربة، فلئن كان العوام يغترون بحالكم، فنحن منكم على يقين.

فهأنذا أكشف الغطاء عن تلك المزاعم، وأبين عوارها، وأهتك أستارها، وأؤكد بما لا يدع مجالا للشك أنه لا زال في علماء المغرب وعلماء المالكية عموما من يعادي المتصوفة والمبتدعة ويشنع عليهم ويحارب البدع المحدثة. فلله درّهم، وحُقَّ لكل دعاة الحق شكرهم.

وأنوه في هذه المقدمة بكتاب "جهود علماء المغرب في الدفاع عن عقيدة أهل السنة" (من الفتح الإسلامي حتى نهاية القرن الخامس) للدكتور إبراهيم التهامي. طبع مؤسسة الرسالة، فهو بحث هام في هذا الباب.

وأشير قبل نهاية هذه المقدمة إلى مسألتين:

الأولى: أن أغلب العلماء الذين نقلت كلامهم في هذه الرسالة مغاربة، سواء كانوا من بلاد المغرب العربي أو بلاد الأندلس، وبعضهم ليسوا مغاربة، لكنهم مالكية. فالحجة قائمة على أهل بلدنا في جميع الأحوال.

والمسألة الثانية: أني جمعت قديما مجموعا سميته:
আর জিকির ও দ্বীনের নামে সেইসব কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও বিভ্রান্ত তরীকাভিষিক্তদের ব্যাপারে কেন আপনি বোবা হয়ে গেলেন? কেন আপনি সেই বিদ্বেষী ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠনগুলোকে উপেক্ষা করলেন যারা মুমিনদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বুনে চলেছে?

হে আমাদের শায়খ, এদের সমালোচনা করা এবং এদের সম্পর্কে সতর্ক করাটাই প্রকৃতপক্ষে মালিকি মাযহাবের মূলনীতি এবং দেশের প্রকৃত ধর্মীয় অবিচল আদর্শ; আপনি যেমনটি ধারণা করছেন তেমনটি নয়। সুতরাং কূটতর্ক বর্জন করুন এবং দ্ব্যর্থবোধকতা পরিহার করুন; সাধারণ মানুষ যদি আপনাদের বাহ্যিক অবস্থায় প্রতারিত হয়েও থাকে, তবে আমরা আপনাদের সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান রাখি।

অতএব, আমি এই দাবিগুলোর উপর থেকে পর্দা উন্মোচন করছি, এদের ত্রুটিগুলো স্পষ্ট করছি এবং এদের রহস্য উন্মোচিত করছি। আমি সন্দেহের কোনো অবকাশ না রেখে এটি নিশ্চিত করছি যে, মরক্কোর আলিমগণ এবং সাধারণভাবে মালিকি আলিমদের মধ্যে এখনও এমন অনেকে রয়েছেন যারা সুফি ও বিদআতিদের বিরোধিতা করেন, তাদের কঠোর সমালোচনা করেন এবং নব-উদ্ভাবিত বিদআতের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন, এবং সত্যের সকল আহ্বায়কের পক্ষ থেকে তারা কৃতজ্ঞতা পাওয়ার যোগ্য।

আমি এই ভূমিকায় ড. ইব্রাহিম আল-তুহামি রচিত "আহলে সুন্নাতের আকিদা রক্ষায় মরক্কোর আলিমদের প্রচেষ্টা" (ইসলামী বিজয় থেকে পঞ্চম হিজরি শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত) গ্রন্থটির কথা উল্লেখ করছি। এটি মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ থেকে প্রকাশিত এবং এ বিষয়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা।

এই ভূমিকার সমাপ্তির পূর্বে আমি দুটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করছি:

প্রথমটি হলো: এই পুস্তিকায় আমি যেসব আলিমদের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছি তাদের অধিকাংশ মরক্কোর অধিবাসী, চাই তারা মাগরিবের (মরক্কো অঞ্চল) ভূখণ্ডের হোক কিংবা আন্দালুসের; আবার তাদের কেউ কেউ মরক্কোর অধিবাসী নন তবে তারা মালিকি মাযহাবের অনুসারী। সুতরাং সকল অবস্থাতেই আমাদের দেশবাসীর বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আর দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: আমি অনেক আগে একটি সংকলন তৈরি করেছিলাম যার নাম দিয়েছিলাম:
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ১৪)
«صفحات مشرقة من مواقف علماء مغاربة من البدع والتصوف والقبورية»

يضم ما يلي:

1) - مصنفات لعلماء مالكية مغاربة في إنكار البدع والقبورية، بقلمي.

2) - دخول دعوة محمد بن عبد الوهاب إلى المغرب، بقلمي.

3) - رسالة في ذم البدع وأهلها للشيخ أبي الحسن الصغير المكناسي. بتحقيقي.

4) - إظهار الحقيقة وعلاج الخليقة للشيخ محمد المكي الناصري. بتحقيقي.

5) - إخراج الخبايا في تحريم البناء على القبور والصلاة بالزوايا للعلامة أحمد بن محمد بن تاويت التطواني. بتحقيقي.

6) - فتاوى العلامة محمد كنوني المذكوري مفتي رابطة علماء المغرب. بتحقيقي.

7) - تنبيه الإخوان إلى ترك البدع والعصيان لمحمد بن علي الأندزالي السوسي. بتحقيقي.

ودفعتها للطبع لدار الإمام مالك بأبي ظبي منذ مدة طويلة.

وهذه الرسالة كالمختصر الجامع لما تضمنه ذلك المجموع مع زيادات كثيرة.

والله يهدي من يشاء إلى صراط مستقيم.

سلا في 17 جمادى الأولى 1428.

Katane22@yahoo.fr
«বিদআত, সুফিবাদ ও কবরপূজার বিষয়ে মরক্কোর আলিমদের অবস্থানের উজ্জ্বল অধ্যায়সমূহ»

এতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

১) - বিদআত ও কবরপূজা খণ্ডনে মরক্কোর মালিকী আলিমদের সংকলনসমূহ; যা আমার লেখনীতে রচিত।

২) - মরক্কোতে মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের প্রবেশ; যা আমার লেখনীতে রচিত।

৩) - বিদআত ও বিদআতপন্থীদের নিন্দায় শায়খ আবুল হাসান আস-সগির আল-মিকনাসীর একটি রিসালাহ (পুস্তিকা); যা আমার সম্পাদনায় (তাহকীক) প্রস্তুতকৃত।

৪) - শায়খ মুহাম্মদ আল-মক্কী আন-নাসিরীর ‘ইজহারুল হাকিকাহ ওয়া ইলাজুল খালিকাহ’; যা আমার সম্পাদনায় প্রস্তুতকৃত।

৫) - আল্লামা আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন তাউয়ীত আত-তিতওয়ানীর ‘ইখরাজুল খাবায়া ফি তাহরিমিল বিনায়ি আলাল কুবুরি ওয়াস সালাতি বিজ-জাওয়ায়া’ (কবরের ওপর ইমারত নির্মাণ ও খানকাহগুলোতে সালাত আদায়ের নিষিদ্ধতা); যা আমার সম্পাদনায় প্রস্তুতকৃত।

৬) - ‘রাবিতা উলামা আল-মাগরিব’-এর মুফতি আল্লামা মুহাম্মদ কানুনী আল-মাজকুরীর ফতোয়াসমূহ; যা আমার সম্পাদনায় প্রস্তুতকৃত।

৭) - মুহাম্মদ বিন আলী আল-আন্দজালী আস-সুসীর ‘তানবিহুল ইখওয়ান ইলা তারকিল বিদা’ই ওয়াল ইসয়ান’; যা আমার সম্পাদনায় প্রস্তুতকৃত।

এবং আমি এগুলো দীর্ঘ সময় পূর্বে আবুধাবির ‘দারুল ইমাম মালিক’ প্রকাশনীতে মুদ্রণের জন্য জমা দিয়েছিলাম।

আর এই পুস্তিকাটি সেই সংকলনটির একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপের মতো, যার সাথে অনেক নতুন বিষয় সংযোজন করা হয়েছে।

আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল সঠিক পথের দিকে হেদায়েত দান করেন।

সালা, ১৭ জুমাদাল উলা ১৪২৮ হিজরি।

Katane22@yahoo.fr
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌إنكار المالكية للبدع

كان مالك رحمه الله من أشد الناس نهيا عن البدع والمحدثات، ومن أشد العلماء تحذيرا من مخالفة السنة، وقد صح عنه في غير ما أثر نهيه الشديد عن البدع التي أحدثها المتكلمون وغيرهم.

ولهذا قال محمد بن وضاح الأندلسي المالكي (ت287) في البدع والنهي عنها (113): وقد كان مالك يكره كل بدعة وإن كانت في خير.

وعن أشهب قال: سمعت مالكا يقول: إياكم والبدع، قيل: يا أبا عبد الله وما البدع؟ قال: أهل البدع الذين يتكلمون في أسمائه وصفاته وكلامه وعلمه وقدرته ولا يسكتون عما سكت عنه الصحابة والتابعون (1).

عن الزبير بن بكار قال: سمعت مالك بن أنس وأتاه رجل فقال: يا أبا عبد الله من أين أحرم؟ قال من ذي الحليفة، من حيث أحرم رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: إني أريد أن أحرم من المسجد، فقال: لا تفعل، قال: فإني أريد أن أحرم من المسجد من عند القبر، قال: لا تفعل، فإني أخشى عليك الفتنة، فقال:

--------------------------------------------

(1) أخرجه الصابوني في عقيدة السلف (69) والبغوي في شرح السنة (1/ 217) والهروي في ذم الكلام (5/ 68) والسيوطي في الأمر بالاتباع (83) والأصبهاني في الحجة (1/ 104) وأبو الفضل المقري فيما انتخبه من أحاديث في ذم الكلام وأهله (82) وأبو المظفر السمعاني في كتاب الانتصار لأهل الحديث، كما في الآداب الشرعية (1/ 156).
বিদআতের প্রতি মালিকী মাযহাবের প্রত্যাখ্যান

ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন বিদআত ও নব-উদ্ভাবিত কার্যাবলি নিষিদ্ধকরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠোর ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত এবং সুন্নাহর বিরোধিতা করার ব্যাপারে সতর্ককারী আলেমদের মধ্যে অন্যতম অগ্রগণ্য। মুতাকাল্লিম (যৌক্তিক ধর্মতত্ত্ববিদ) ও অন্যদের পক্ষ থেকে উদ্ভাবিত বিদআতসমূহের ব্যাপারে তার কঠোর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি একাধিক বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে।

এ কারণেই মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াদদাহ আল-আন্দালুসী আল-মালিকী (মৃত্যু ২৮৭ হি.) তার 'আল-বিদআ ওয়ান নাহয়ু আনহা' (১১৩) গ্রন্থে বলেছেন: ইমাম মালিক প্রতিটি বিদআতকেই অপছন্দ করতেন, এমনকি তা আপাতদৃষ্টিতে ভালো কোনো বিষয়ে হলেও।

আশহাব (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মালিককে বলতে শুনেছি, "তোমরা বিদআত হতে সাবধান থেকো।" তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, "হে আবু আব্দুল্লাহ, বিদআত কী?" তিনি বললেন, "বিদআতপন্থী হলো তারা, যারা আল্লাহর নামসমূহ, গুণাবলি, কালাম (কথা), জ্ঞান এবং ক্ষমতা নিয়ে (তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে) আলোচনা করে এবং সেসব বিষয়ে নীরব থাকে না যেগুলোতে সাহাবী ও তাবিঈগণ নীরব ছিলেন।" (১)।

যুবাইর ইবনে বাক্কার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মালিক ইবনে আনাসকে বলতে শুনেছি— এমতাবস্থায় যে এক ব্যক্তি তার কাছে এসে জিজ্ঞেস করল: "হে আবু আব্দুল্লাহ, আমি কোথা থেকে ইহরাম বাঁধব?" তিনি বললেন: "যুল-হুলাইফা থেকে, যেখান থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইহরাম বেঁধেছিলেন।" লোকটি বলল: "আমি মসজিদ (নববী) থেকে ইহরাম বাঁধতে চাই।" তিনি বললেন: "এমনটি করো না।" লোকটি পুনরায় বলল: "আমি কবরের কাছ থেকে তথা মসজিদ থেকে ইহরাম বাঁধতে চাই।" তিনি বললেন: "এমনটি করো না, কেননা আমি তোমার ওপর ফিতনার আশঙ্কা করছি।" তারপর তিনি বললেন:

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আস-সাবুনী 'আকিদাতুস সালাফ' (৬৯) গ্রন্থে, আল-বাগাওয়ী 'শারহুস সুন্নাহ' (১/২১৭) গ্রন্থে, আল-হারাওয়ী 'যাম্মুল কালাম' (৫/৬৮) গ্রন্থে, আস-সুয়ূতী 'আল-আমর বিল ইত্তিবা' (৮৩) গ্রন্থে, আল-আসফাহানী 'আল-হুজ্জাহ' (১/১০৪) গ্রন্থে, আবু আল-ফাদল আল-মুকরী তার সংকলিত 'যাম্মুল কালাম ওয়া আহলিহি' (৮২) গ্রন্থে এবং আবু আল-মুজাফ্ফার আস-সামআনী 'আল-ইন্তিসার লি-আহলিল হাদীস' গ্রন্থে, যা 'আল-আদাব আশ-শারইয়্যাহ' (১/১৫৬) তে উদ্ধৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ১৬)
وأي فتنة هذه؟ إنما هي أميال أزيدها، قال: أي فتنة أعظم من أن ترى أنك سبقت إلى فضيلة قصر عنها رسول الله، إني سمعت الله يقول:

{فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ

أَلِيمٌ} [النور:63] (1).

وقد أوردت في كتابي عقيدة الإمام مالك نقولا كثيرة عنه في ذلك. وقد طبع في مصر، ويعاد طبعه في أبي ظبي بالإمارات.

وقد ورث علماء المالكية عن الإمام مالك هذه الصرامة في رد البدع والمحدثات، بل علماء المالكية من أكثر علماء الأمة تأليفا في البدع، ومن أقدم كتبهم المصنفة في ذاك:

- الحجة على القدرية للإمام محمد بن سحنون (ت 256هـ). كما في ترتيب المدارك وتقريب المسالك للقاضي عياض (4/ 207) والديباج المذهب (2/ 157).

- الرد على أهل البدع، ثلاثة كتب. للإمام محمد بن سحنون (ت 256هـ). نفس المصدر.

--------------------------------------------

(1) رواه الخطيب في الفقيه والمتفقه (1/ 148) وأبو نعيم في الحلية (6/ 326) والبيهقي في المدخل إلى السنن (200)، والخلال في الجامع، كما الباعث لأبي شامة المقدسي (21)، وابن بطة في الإبانة (1/ 261) والهروي في ذم الكلام (3/ 115) وابن حزم في الإحكام (6/ 224 - 8/ 514)، وذكره الشاطبي في الاعتصام (1/ 132 - 174) وابن العربي في أحكام القرآن (3/ 1412 - 1413).
আর এটি কেমন ফিতনা? আমি তো কেবল কিছু মাইল (পথ) বৃদ্ধি করছি। তিনি বললেন: এর চেয়ে বড় ফিতনা আর কী হতে পারে যে, আপনি নিজেকে এমন এক ফযীলতের ক্ষেত্রে অগ্রগামী মনে করছেন যা থেকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিরত ছিলেন? নিশ্চয়ই আমি আল্লাহকে বলতে শুনেছি:

{অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা (বিপর্যয়) আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর কোনো যন্ত্রণাদায়ক

শাস্তি আসবে।} [সূরা আন-নূর: ৬৩] (১)।

আমি আমার 'আকিদাতুল ইমাম মালিক' গ্রন্থে এ বিষয়ে তাঁর থেকে বর্ণিত অনেক উদ্ধৃতি পেশ করেছি। বইটি মিশরে মুদ্রিত হয়েছে এবং বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে পুনরায় মুদ্রিত হচ্ছে।

মালিকি আলিমগণ বিদআত ও নব-আবিষ্কৃত বিষয়াবলি খণ্ডনের এই দৃঢ়তা ইমাম মালিকের নিকট থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছেন। বস্তুত উম্মাহর আলিমদের মধ্যে মালিকি আলিমগণই বিদআতের বিষয়ে সর্বাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। এ বিষয়ে তাঁদের রচিত প্রাচীনতম গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:

- ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সাহনুন (মৃত্যু: ২৫৬ হি.) রচিত 'আল-হুজ্জাতু আলাল ক্বাদারিইয়্যাহ'। যেমনটি উল্লিখিত হয়েছে কাযী ইয়াজের 'তারতীবুল মাদারিক ওয়া তাক্বরীবুল মাসালিক' (৪/ ২০৭) এবং 'আদ-দীবাযুল মুযাহহাব' (২/ ১৫৭) গ্রন্থে।

- বিদআতপন্থীদের খণ্ডন (আর-রাদ্দু আলা আহলিল বিদা'), তিনটি খণ্ড। ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সাহনুন (মৃত্যু: ২৫৬ হি.) রচিত। পূর্বোক্ত উৎস।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আল-খাতীব 'আল-ফাকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ' (১/ ১৪৮) গ্রন্থে, আবু নুআইম 'আল-হিলয়াহ' (৬/ ৩২৬) গ্রন্থে, আল-বায়হাকী 'আল-মাদখাল ইলাস সুনান' (২০০) গ্রন্থে, আল-খাল্লাল 'আল-জামি' গ্রন্থে যেমনটি আবু শামাহ আল-মাকদিসীর 'আল-বাইস' (২১) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, ইবনে বাত্তাহ 'আল-ইবানাহ' (১/ ২৬১) গ্রন্থে, আল-হারাউয়ী 'যাম্মুল কালাম' (৩/ ১১৫) গ্রন্থে এবং ইবনে হাযম 'আল-ইহকাম' (৬/ ২২৪ - ৮/ ৫১৪) গ্রন্থে। এছাড়াও ইমাম আশ-শাতিবি 'আল-ইতিসাম' (১/ ১৩২ - ১৭৪) গ্রন্থে এবং ইবনে আল-আরাবি 'আহকামুল কুরআন' (৩/ ১৪১২ - ১৪১৩) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ১৭)
- الردّ على المرجئة لأبي زكريا يحيى بن عمر بن يوسف الكندي البلوي المالكي (289هـ). ترتيب المدارك للقاضي عياض (4/ 357).

- الرد على القدرية لابن أبي زيد القيرواني (ت396هـ). شجرة النور (96).

وقال القاضي عياض في ترتيب المدارك وتقريب المسالك (4/ 48) في ترجمة سحنون بن سعيد التنوخي (ت 240هـ): قال أبو بكر المالكي: وكان مع هذا رقيق القلب، غزير الدمعة، ظاهر الخشوع، متواضعا، قليل التصنع، كريم الأخلاق، حسن الأدب، سالم الصدر، شديداً على أهل البدع، لا يخاف في الله لومة لائم. انتهى.

وتأمل قوله: شديداً على أهل البدع، لتعلم مبلغ الصرامة التي كان يتعامل بها علماء المالكية ضد البدع وأهلها.

ومن علماء المالكية الذين عرفوا بالشدة على أهل البدع: أبو عمر الطلمنكي أحمد بن محمد بن عبد الله (ت429هـ).

قال ابن الحذاء عنه: وكان فاضلاً شديداً في كتاب الله تعالى. سيفاً على أهل البدع،. ترتيب المدارك وتقريب المسالك للقاضي عياض (8/ 33).

وقال ابن بشكوال في الصلة في تاريخ علماء الأندلس (52): وكان: سيفاً مجرداً على أهل الأهواء والبدع، قامعاً لهم، غيوراً على الشريعة، شديداً في ذات الله تعالى.
মুরিজিয়াদের খণ্ডন— আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে উমর ইবনে ইউসুফ আল-কিন্দি আল-বালাউয়ি আল-মালিকি (২৮৯ হিজরি) রচিত। কাদি ইয়াদ-কৃত 'তারতিব আল-মাদারিক' (৪/ ৩৫৭)।

কাদারিয়াদের খণ্ডন— ইবনে আবি যায়িদ আল-কায়রাওয়ানি (মৃত্যু ৩৯৬ হিজরি) রচিত। 'শাজারাত আন-নুর' (৯৬)।

এবং কাদি ইয়াদ তাঁর 'তারতিব আল-মাদারিক ওয়া তাকরিব আল-মাসালিক' (৪/ ৪৮) গ্রন্থে সাহনুন ইবনে সাঈদ আত-তানুখি (মৃত্যু ২৪০ হিজরি)-এর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন: আবু বকর আল-মালিকি বলেন: তিনি এর পাশাপাশি ছিলেন কোমল হৃদয়ের অধিকারী, প্রচুর অশ্রুপাতকারী, বাহ্যত বিনয়ী, বিনম্র, কৃত্রিমতাহীন, মহান চরিত্রের অধিকারী, উত্তম আদবসম্পন্ন, সরলমনা এবং বিদআতপন্থীদের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর; আল্লাহর পথে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করতেন না। সমাপ্ত।

আর তাঁর এই উক্তিটি অনুধাবন করুন: "বিদআতপন্থীদের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর", যাতে আপনি অনুধাবন করতে পারেন যে মালিকি উলামায়ে কিরাম বিদআত ও বিদআতপন্থীদের বিরুদ্ধে কতটা কঠোরতা অবলম্বন করতেন।

মালিকি আলেমদের মধ্যে যারা বিদআতপন্থীদের প্রতি কঠোরতার জন্য পরিচিত ছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: আবু উমর আত-তালামানকি আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (মৃত্যু ৪২৯ হিজরি)।

ইবনুল হাজ্জা তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি ছিলেন একজন বিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব এবং আল্লাহ তাআলার কিতাবের ব্যাপারে অত্যন্ত সুদৃঢ়। বিদআতপন্থীদের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন এক শাণিত কৃপাণ। কাদি ইয়াদ-কৃত 'তারতিব আল-মাদারিক ওয়া তাকরিব আল-মাসালিক' (৮/ ৩৩)।

এবং ইবনে বাশকুওয়াল 'আস-সিলাহ ফি তারিখি উলামা আল-আন্দালুস' (৫২) গ্রন্থে বলেছেন: তিনি ছিলেন প্রবৃত্তিপূজারী ও বিদআতপন্থীদের বিরুদ্ধে এক উন্মুক্ত তরবারি, তাদের দমনকারী, শরয়ি বিষয়ে অত্যন্ত আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এবং আল্লাহর দ্বীনের স্বার্থে আপসহীন।
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ১৮)
ومنهم كذلك: عبد الله بن أبي حسان اليحصبي، قال ابن فرحون في الديباج المذهب في معرفة أعيان علماء المذهب (1/ 368) في ترجمته: وكان ابن أبي حسان غاية في الفقه بمذهب مالك، حسن البيان، عالماً بأيام العرب وأنسابها، راوية للشعر، قائلا له، وعنه أخذ الناس أخبار إفريقية وحروبها، وكان جوادا مفوها قويا على المناظرة، ذاباً عن السنة متبعا لمذهب مالك، شديداً على أهل البدع، قليل الهيبة للملوك، لا يخاف في الله لومة لائم.

وقال القاضي عياض في ترتيب المدارك (4/ 290) في ترجمة القاضي إسماعيل بن إسحاق (ت282): وكان إسماعيل شديدا على أهل البدع، يرى استتابتهم، حتى ذكر أنهم تحاموا بغداد في أيامه.

وقال القاضي عياض في ترتيب المدارك كذلك (4/ 375) في ترجمة أبي يوسف جبلة بن حمود بن عبد الرحمن بن جبلة الصدفي (ت299هـ): ذكر شدته على أهل البدع ومجانبته إياهم وقوته في ذات الله عز وجل.

كان رحمه الله تعالى، شديداً في ذلك. لا يداري فيه أحداً. ولم يكن أحد أكثر مجاهدة منه للروافض، وشيعهم. فنجّاه الله منهم.

وذكر له أخبار عديدة في ذلك مع الروافض.

وقال القاضي عياض في ترتيب المدارك (7/ 104) في ترجمة أبي علي بن خلدون رحمه الله (ت407): من فقهاء إفريقية وعلمائها وصلحائها، من أصحاب أبي الحسن القابسي، كان رأسا بإفريقية، جليل القدر في فقهائها،
তাদের মধ্যে আরও একজন হলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবি হাসান আল-ইয়াহসাবি। ইবনে ফারহুন 'আদ-দিবাজ আল-মুজাহাব ফি মারিফাতি আইয়ান উলামাইল মাজহাব' (১/৩৬৮) গ্রন্থে তাঁর জীবনীতে বলেন: ইবনে আবি হাসান মালেকি মাজহাবের ফিকহ শাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী এবং প্রাঞ্জল বর্ণনশৈলীর অধিকারী ছিলেন। তিনি আরবদের ইতিহাস ও বংশগতি বিষয়ে জ্ঞানী এবং কবিতার বর্ণনাকারী ও রচয়িতা ছিলেন। তাঁর নিকট থেকেই মানুষ ইফরীকিয়ার ইতিহাস ও যুদ্ধবিগ্রহের সংবাদ গ্রহণ করত। তিনি ছিলেন দানশীল, সুবক্তা এবং বিতর্কশাস্ত্রে অত্যন্ত শক্তিশালী। তিনি সুন্নাহর প্রতিরক্ষা এবং মালেকি মাজহাবের অনুসরণে একনিষ্ঠ ছিলেন। বিদআতিদের প্রতি তিনি ছিলেন অত্যন্ত কঠোর এবং শাসকদের পরোয়া করতেন না। আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় পেতেন না।

কাজি আয়াজ 'তারতিবুল মাদারিক' (৪/২৯০) গ্রন্থে কাজি ইসমাইল ইবনে ইসহাকের (মৃত্যু ২৮২ হি.) জীবনীতে বলেন: ইসমাইল বিদআতিদের প্রতি কঠোর ছিলেন এবং তাদের তওবা করানোর পক্ষপাতী ছিলেন। এমনকি বর্ণিত আছে যে, তাঁর সময়ে বিদআতিরা বাগদাদ এড়িয়ে চলত।

কাজি আয়াজ একইভাবে 'তারতিবুল মাদারিক' (৪/৩৭৫) গ্রন্থে আবু ইউসুফ জাবালা ইবনে হাম্মুদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে জাবালা আস-সাদাফির (মৃত্যু ২৯৯ হিজরি) জীবনীতে বলেন: বিদআতিদের প্রতি তাঁর কঠোরতা, তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে তাঁর দৃঢ়তার কথা বর্ণিত হয়েছে।

আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। এই ব্যাপারে তিনি কাউকেই তোষামোদ করতেন না। রাফেজি ও শিয়াদের বিরুদ্ধে তাঁর চেয়ে অধিক কঠোর সংগ্রামকারী আর কেউ ছিল না। অতঃপর আল্লাহ তাঁকে তাদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেছেন।

রাফেজিদের সাথে এ প্রসঙ্গে তাঁর বহু ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

কাজি আয়াজ 'তারতিবুল মাদারিক' (৭/১০৪) গ্রন্থে আবু আলী ইবনে খালদুনের (রহিমাহুল্লাহ, মৃত্যু ৪০৭ হি.) জীবনীতে বলেন: তিনি ছিলেন ইফরীকিয়ার ফকিহ, আলেম এবং নেককারদের অন্তর্ভুক্ত এবং আবুল হাসান আল-কাবিসির অন্যতম সঙ্গী। তিনি ইফরীকিয়ার একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি এবং সেখানকার ফকিহদের মধ্যে অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন।
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ১৯)
مطاعاً. وكانت العامة تتبعه. وكان شديداً على أهل البدع والروافض مغرياً بهم، يستند منه أهل السنّة إلى ملجأ ووزر.

وقال ابن فرحون في الديباج المذهب في معرفة أعيان علماء المذهب (1/ 164): أحمد بن إبراهيم بن الزبير بن محمد بن إبراهيم بن الزبير الثقفي يكنى أبا جعفر، كان خاتمة المحدثين وصدور العلماء والمقرئين، نسيج وحده في حسن التعليم والصبر على التسميع، والملازمة للتدريس، كثير الخشوع والخشية، مسترسل العَبْرة، صليباً في الحق، شديداً على أهل البدع، ملازما للسنة، مهيبا جزلا معظما عند الخاصة والعامة.

وقال ابن فرحون في الديباج المذهب في معرفة أعيان علماء المذهب (2/ 224) في ترجمة محمد أبي عبد الله بن فرج مولى ابن الطلاع القرطبي المالكي (ت497هـ): شيخ الفقهاء في عصره وأسد من بقي في وقته … وكان شيخا فاضلا فصيحا، وكان قوالا بالحق، شديداً على أهل البدع، غير هيوب للأمراء.

وقال ابن بشكوال في الصلة في تاريخ علماء الأندلس (409) في ترجمة أبي عبد الله محمد بن سعيد بن محمد بن عمر بن سعيد بن نبات الأموي القرطبي: وذكره الخولاني وقال: كان شيخا صالحا من أهل العناية بالعلم حافظاً للحديث مع الفهم، قديم الطلب، متكررا على الشيوخ، وسمع منهم، وكتب عنهم محتسباً متسننا مجانبا لأهل البدع والأهواء. سيفا مجردا عليهم.
তিনি ছিলেন আনুগত্যভাজন। সাধারণ মানুষ তাঁর অনুসরণ করত। তিনি বিদআতপন্থী ও রাফেযীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মানুষকে উৎসাহিত করতেন। আহলে সুন্নাতের লোকেরা তাঁর কাছে আশ্রয় ও সহায়তা লাভ করত।

ইবনে ফারহুন 'আদ-দিবাজ আল-মুযাহহাব ফি মারিফাতি আয়ান উলামাইল মাযহাব' গ্রন্থে (১/ ১৬৪) বলেছেন: আহমদ ইবন ইব্রাহিম ইবন আয-যুবাইর ইবন মুহাম্মদ ইবন ইব্রাহিম ইবন আয-যুবাইর আস-সাকাফি, যাঁর উপনাম আবু জাফর। তিনি ছিলেন মুহাদ্দিসগণের সমাপক এবং উলামা ও ক্বারিগণের অগ্রণী। উত্তম শিক্ষা দান, হাদীস শ্রবণ করানোর ধৈর্য এবং অধ্যাপনায় একনিষ্ঠতায় তিনি ছিলেন অনন্য। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ও আল্লাহভীরু ছিলেন, তাঁর দুচোখ বেয়ে অবিরত অশ্রু ঝরত। সত্যের পথে তিনি ছিলেন আপসহীন, বিদআতপন্থীদের প্রতি কঠোর এবং সুন্নাতের একনিষ্ঠ অনুসারী। বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মহিমান্বিত, গম্ভীর ও সম্মানিত।

ইবনে ফারহুন 'আদ-দিবাজ আল-মুযাহহাব ফি মারিফাতি আয়ান উলামাইল মাযহাব' গ্রন্থে (২/ ২২৪) মুহাম্মদ আবু আবদুল্লাহ ইবন ফারাজ মাওলা ইবনুত তাল্লা' আল-কুরতুবি আল-মালিকির (মৃত্যু: ৪৯৭ হিজরি) জীবনীতে বলেছেন: তিনি ছিলেন তাঁর সমসাময়িক ফকিহদের প্রধান এবং তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ সাহসী পুরুষ … তিনি ছিলেন একজন বিদগ্ধ ও বাগ্মী শায়খ। তিনি সত্যের ব্যাপারে অকপটে কথা বলতেন, বিদআতপন্থীদের প্রতি কঠোর ছিলেন এবং শাসকদের মোটেও পরোয়া করতেন না।

ইবনে বাশকুয়াল 'আস-সিলাহ ফি তারিখি উলামাইল আন্দালুস' গ্রন্থে (৪০৯) আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন সাঈদ ইবন মুহাম্মদ ইবন উমর ইবন সাঈদ ইবন নাবাত আল-উমাউয়ি আল-কুরতুবির জীবনীতে বলেন: আল-খাওলানি তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি ছিলেন একজন পুণ্যবান শায়খ এবং ইলম অন্বেষণে অত্যন্ত যত্নশীল। তিনি প্রজ্ঞাসম্পন্ন হাদীস বিশারদ (হাফিযুল হাদীস) ছিলেন। ইলম অর্জনে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিল, তিনি উস্তাদদের কাছে বারবার যাতায়াত করেছেন এবং তাঁদের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ ও সওয়াবের আশায় তা লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি ছিলেন সুন্নাতের অনুসারী এবং বিদআত ও কুপ্রবৃত্তির অনুসারীদের সংশ্রব বর্জনকারী; বরং তাদের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন এক উন্মুক্ত তরবারি।
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ২০)
في أشياء كثيرة يطول تتبعها يراجع بعضها في "جهود علماء المغرب في الدفاع عن عقيدة أهل السنة" لإبراهيم التهامي (122 - فما بعد).

ومن الكتب التي صنفها علماء مالكية في ذلك أيضا:

البدع والنهي عنها لمحمد بن وضاح الأندلسي المالكي (ت287هـ).

وهو مطبوع عدة طبعات.

ساق فيه نصوصا كثيرة في التحذير من البدع، وبَيَّن خطورة الابتداع، وذكر ما جاء في اتباع الآثار، والنهي عن الجلوس مع أهل البدع وخلطتهم والمشي معهم، وذكر كذلك ما جاء في ليلة النصف من شعبان وعشية عرفة من البدع.

ثم تلاه أبو بكر الطرطوشي محمد بن الوليد الفهري الأندلسي المالكي المتوفى سنة (520هـ) فألف كتابا في ذلك، سماه: الحوادث والبدع.

وهو كتاب مطبوع عدة طبعات، وقد أنكر فيه عددا من البدع والمحدثات.

فذكر منها: الألحان والتطريب في كتاب الله (57).

والمحاريب (72).

وزخرفة المساجد (72 - 73).

وكتابة القرآن في الجدران (75).

والاجتماع في يوم عرفة للدعاء (91).

والاحتفال بليلة النصف من شعبان (93 - 94).
এমন অনেক বিষয় রয়েছে যার অনুসন্ধান দীর্ঘসাধ্য; এর কিছু অংশ ইব্রাহিম আত-তুহামি বিরচিত "আহলুস সুন্নাহর আকিদা রক্ষায় মরক্কোর আলিমদের প্রচেষ্টা" (পৃষ্ঠা ১২২ ও পরবর্তী) গ্রন্থে পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

এই বিষয়ে মালিকি আলিমগণ কর্তৃক প্রণীত গ্রন্থসমূহের মধ্যে আরও রয়েছে:

মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াদ্দাহ আল-আন্দালুসি আল-মালিকি (মৃত্যু: ২৮৭ হিজরি) রচিত "বিদআতসমূহ এবং তা থেকে বারণ"।

এটি একাধিক সংস্করণে মুদ্রিত হয়েছে।

তিনি এতে বিদআত সম্পর্কে সতর্কীকরণে বহু বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন, নব-উদ্ভাবিত বিষয়ের ভয়াবহতা সুস্পষ্ট করেছেন এবং সলফদের পদাঙ্ক অনুসরণ ও বিদআতিদের সঙ্গে উপবেশন, মেলামেশা ও চলাফেরার নিষেধাজ্ঞা বর্ণনা করেছেন। তদ্রূপ তিনি নিসফে শাবানের রাত এবং আরাফার দিবসের সন্ধ্যায় প্রচলিত বিদআতসমূহ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তাও উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর আবু বকর আত-তোরতুশি মুহাম্মাদ ইবনে আল-ওয়ালিদ আল-ফিহরি আল-আন্দালুসি আল-মালিকি (মৃত্যু: ৫২০ হিজরি) এ বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেন এবং এর নামকরণ করেন: "আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা" (নব-উদ্ভাবিত বিষয় ও বিদআতসমূহ)।

এটি একটি মুদ্রিত গ্রন্থ যা একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে তিনি বেশ কিছু বিদআত ও নব-উদ্ভাবিত রীতির প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তন্মধ্যে তিনি উল্লেখ করেছেন: আল্লাহর কিতাব পাঠে সুরলহরি ও গানের ন্যায় ভঙ্গি অবলম্বন করা (৫৭)।

মিহরাবসমূহ (৭২)।

মসজিদসমূহের কারুকার্য ও অলংকরণ (৭২ - ৭৩)।

দেয়ালে কুরআন লিপিবদ্ধ করা (৭৫)।

দোয়ার উদ্দেশ্যে আরাফার দিনে সমবেত হওয়া (৯১)।

এবং নিসফে শাবানের রাত উদযাপন করা (৯৩ - ৯৪)।
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ২১)
وصلاة الرغائب (96).

وعد من البدع المحدثة: الاجتماع للتعزية.

قال (125): قال علماؤنا المالكيون: التصدي للعزاء بدعة ومكروه.

وقال بعد أن ذكر استحباب أن يُبعث إلى أهل الميت طعام (126): فأما إذا صنع أهل الميت طعاما ودعوا الناس إليه فلم ينقل فيه عن القدماء شيء، وعندي أنه بدعة ومكروه.

وقال (130): فأما المآثم فممنوعة بإحماع العلماء، قال الشافعي: وأكره المآثم، وهو اجتماع الرجال والنساء لما فيه من تجديد الحزن … والمآثم هو الاجتماع في الصبيحة، وهو بدعة منكرة لم ينقل فيها شيء، وكذلك ما بعده من الاجتماع في الثاني والثالث والسابع والشهر والسنة، فهو طامة.

وقال (113): ولا يتمسح بقبر النبي صلى الله عليه وسلم ولا يمس، وكذلك المنبر، ولكن يدنو من القبر فيسلم على النبي صلى الله عليه وسلم ثم يدعو مستقبل القبلة يوليه ظهره. وقيل: لا يوليه ظهره ويصلي ركعتين قبل السلام عليه. وقيل: واسع أن يسلم عليه قبل أن يركع.

وتكلم العلامة أبو عبد الله محمد بن محمد بن محمد العبدري الفاسي الشهير بابن الحاج (المتوفى سنة 737هـ) في كتابه "المدخل إلى تنمية الأعمال بتحسين النيات والتنبيه على بعض البدع والعوائد التي انتحلت وبيان شناعتها وقبحها" على عدد من البدع والمحدثات، وأطال في الرد على من أجاز بعض ذلك.
এবং সালাতুর রাগায়িব (৯৬)।

এবং নবউদ্ভাবিত বিদআতসমূহের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে: শোকপ্রকাশের জন্য সমবেত হওয়া।

তিনি বলেন (১২৫): আমাদের মালিকি উলামাগণ বলেছেন: শোকপ্রকাশের উদ্দেশ্যে আনুষ্ঠানিক আয়োজন করা বিদআত ও মাকরূহ।

মৃতব্যক্তির পরিবারের জন্য খাবার পাঠানো মুস্তাহাব হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করার পর তিনি (১২৬) বলেন: তবে মৃতব্যক্তির পরিবার যদি খাবার তৈরি করে এবং মানুষকে দাওয়াত দেয়, তবে পূর্বসূরিদের থেকে এ বিষয়ে কিছু বর্ণিত হয়নি। আমার মতে এটি বিদআত ও মাকরূহ।

তিনি বলেন (১৩০): আর শোকসভা বা মাতম অনুষ্ঠান উলামায়ে কেরামের ঐকমত্যে নিষিদ্ধ। ইমাম শাফিয়ী বলেছেন: আমি শোকসভা অপছন্দ করি; আর তা হলো পুরুষ ও নারীদের সমবেত হওয়া, কারণ এতে শোক নতুন করে জাগ্রত হয় … শোকসভা বলতে মূলত বোঝায় (দাফনের পর) সকালে সমবেত হওয়া, যা একটি গর্হিত বিদআত এবং এ বিষয়ে শরীয়তে কিছুই বর্ণিত হয়নি। অনুরূপভাবে পরবর্তী সময়ের সমাবেশসমূহ, যেমন দ্বিতীয়, তৃতীয়, সপ্তম দিন এবং মাস ও বছর পূর্ণ হওয়ার পর সমবেত হওয়াও অত্যন্ত গর্হিত কাজ।

তিনি বলেন (১১৩): নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরে শরীর ঘষা যাবে না এবং তা স্পর্শ করা যাবে না। মিম্বরের ক্ষেত্রেও একই বিধান। তবে কবরের নিকটবর্তী হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সালাম পেশ করবে, এরপর কিবলামুখী হয়ে দুআ করবে এবং কবরের দিকে পিঠ রাখবে। কেউ কেউ বলেছেন: কবরের দিকে পিঠ ফেরাবে না এবং সালাম পেশ করার পূর্বে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে। আবার কেউ কেউ বলেছেন: সালাত আদায়ের পূর্বে সালাম দেওয়ার অবকাশ রয়েছে।

এবং আল্লামা আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-আবদারি আল-ফাসি, যিনি ইবনুল হাজ্জ (মৃত্যু ৭৩৭ হিজরি) নামে পরিচিত, তাঁর ‘আল-মাদখাল ইলা তানমিয়াতিল আমাল বিতাহসিনিন নিয়্যাত ওয়াত্তানবিহ আলা বা’দিল বিদা’ ওয়াল আওয়া’ইদিল্লাতি ইনতাহালাত ওয়া বায়ানু শানাআতিহা ওয়া কুবহিহা’ নামক গ্রন্থে বেশ কিছু বিদআত ও নবউদ্ভাবিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং যারা এগুলোর কোনো কোনটি বৈধ বলেছেন, তাদের খণ্ডন করতে গিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ২২)
منها: الاحتفال بالمولد النبوي (2/ 2).

وزخرفة المساجد (2/ 214).

والمصافحة عقب الصلوات (2/ 219)، وعبارته في ذلك: وينبغي له أن يمنع ما أحدثوه من المصافحة بعد صلاة الصبح، وبعد صلاة العصر، وبعد صلاة الجمعة، بل زاد بعضهم في هذا الوقت فعل ذلك بعد الصلوات الخمس، وذلك كله من البدع، وموضع المصافحة في الشرع إنما هو عند لقاء المسلم لأخيه، لا في أدبار الصلوات الخمس، وذلك كله من البدع، فحيث وضعها الشرع نضعها، فينهى عن ذلك ويزجر فاعله لما أتى من خلاف السنة. انتهى.

وعد من البدع كذلك: قراءة القرآن جماعة قبل الجمعة كما يفعل في المغرب اليوم (2/ 224 - 225)، ومما قال في ذلك: وينبغي له أن ينهى من يقرأ الأعشار وغيرها بالجهر، والناس ينتظرون صلاة الجمعة أو غيرها من الفرائض، لأنه موضع النهي لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يجهر بعضكم على بعض … بالقرآن»، ولا يظن ظان أن هذا إنكار لقراءة القرآن، بل ذلك مندوب إليه بشرط أن يسلم من التشويش على غيره من المصلين والذاكرين والتالين والمتفكرين وكل من كان في عبادة.

وعد من البدع كذلك: التسبيح بالليل، قبل آذان الفجر، كما جرت به عادة المغاربة، ويسمى في بعض المناطق (التَّهْلال)، وهذه عبارته (2/ 248): وينهى المؤذنين عما أحدثوه من التسبيح بالليل، وإن كان ذكر الله تعالى حسنا
এগুলোর মধ্যে রয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মোৎসব পালন করা (২/ ২)।

এবং মসজিদসমূহ অলঙ্কৃত বা কারুকার্যমণ্ডিত করা (২/ ২১৪)।

আর সালাতসমূহের পর মুসাফাহা করা (২/ ২১৯); এ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য হলো: ফজর, আসর এবং জুমুআহ’র সালাতের পর তারা মুসাফাহা করার যে নতুন প্রথা উদ্ভাবন করেছে, তা থেকে তাকে বিরত রাখা উচিত। বরং বর্তমানে তাদের কেউ কেউ পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পরই এই কাজটি করার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে; আর এগুলোর সবই বিদআতের অন্তর্ভুক্ত। শরীয়তে মুসাফাহা করার ক্ষেত্র হলো একজন মুসলিমের সাথে তার ভাইয়ের সাক্ষাতের সময়, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পর নয়। এর সবই বিদআতের অন্তর্ভুক্ত; সুতরাং শরীয়ত যেখানে এটিকে নির্ধারণ করেছে আমরা সেখানেই তা সীমাবদ্ধ রাখব। অতএব, এ কাজ থেকে নিষেধ করতে হবে এবং এর কর্তাকে কঠোরভাবে ধমক দিতে হবে, কারণ সে সুন্নাহ বিরোধী কাজ করেছে। (সমাপ্ত)।

একইভাবে তিনি বিদআতের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেছেন: জুমুআহ’র আগে সম্মিলিতভাবে কুরআন তিলাওয়াত করা, যেমনটি বর্তমানে মরক্কোতে প্রচলিত (২/ ২২৪-২২৫)। এ বিষয়ে তিনি যা বলেছেন তা হলো: যে ব্যক্তি উচ্চস্বরে কুরআনের বিভিন্ন অংশ তিলাওয়াত করে, এমতাবস্থায় যে মানুষ জুমুআহ বা অন্য কোনো ফরয সালাতের জন্য অপেক্ষা করছে, তাকে নিষেধ করা উচিত। কারণ এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর কারণে নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্র: «তোমরা কুরআনের মাধ্যমে একে অপরের ওপর উচ্চস্বর করো না …», কেউ যেন এমনটি মনে না করেন যে, এটি কুরআন তিলাওয়াতের প্রতি অস্বীকৃতি; বরং এটি পছন্দনীয় কাজ, যদি তা অন্য মুসল্লি, যিকিরকারী, তিলাওয়াতকারী, চিন্তাশীল এবং ইবাদতে মগ্ন ব্যক্তিদের ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি না করার শর্তে হয়।

অনুরূপভাবে তিনি বিদআতের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেছেন: ফজরের আযানের আগে রাতে তসবীহ পাঠ করা, যেমনটি মরক্কোবাসীদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে এবং কোনো কোনো অঞ্চলে একে 'তাহলাল' বলা হয়। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য হলো (২/ ২৪৮): মুয়াযযিনদেরকে রাতে তসবীহ পাঠের মতো তাদের নব-উদ্ভাবিত প্রথা থেকে বিরত রাখতে হবে, যদিও মহান আল্লাহর যিকির করা মূলত কল্যাণকর।
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ২৩)
سرا وعلنا، لكن لا في المواضع التي تركها الشارع صلوات الله عليه وسلامه، ولم يعين فيها شيئا معلوما.

وقد رتب الشارع صلوات الله عليه وسلامه للصبح أذانا قبل طلوع الفجر وأذانا عند طلوعه، وإن كان المؤذنون في هذا الزمان يؤذنون قبل طلوع الفجر، لكنهم يفعلون ذلك على سبيل الإخفاء لتركهم رفع الصوت به حتى لا يسمع.

وهذا ضد ما شرع الأذان له، لأن الأذان إنما شرع لإعلام الناس بالوقت …

إلى أن قال (2/ 249): ثم العجب من أنهم يأتون بالأذان الأول للصبح الذي قبل طلوع الفجر، ويخفون ذلك، فإذا فرغوا منه رفعوا أصواتهم بما أحدثوه من التسبيح، فإنا لله وإنا إليه راجعون. السنة تخفى وغير ما شرع يظهر.

وقال (2/ 149): وكذلك ينبغي أن ينهاهم عما أحدثوه من صفة الصلاة والتسليم على النبي صلى الله عليه وسلم عند طلوع الفجر، وإن كانت الصلاة والتسليم على النبي صلى الله عليه وسلم من أكبر العبادات وأجلها فينبغي أن يسلك بها مسلكها، فلا توضع إلا في مواضعها التي جعلت لها. ألا ترى أن قراءة القرآن من أعظم العبادات، ومع ذلك لا يجوز للمكلف أن يقرأه في الركوع، ولا في السجود، ولا في الجلوس، أعني الجلوس في الصلاة، لأن ذلك ليس بمحل للتلاوة.
গোপনে এবং প্রকাশ্যে, তবে সেই সকল স্থানে নয় যা বিধানদাতা (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) ছেড়ে দিয়েছেন এবং সেখানে সুনির্দিষ্ট কোনো কিছু নির্ধারণ করেননি।

বিধানদাতা (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) ফজরের জন্য সুবহে সাদিকের পূর্বে একটি আযান এবং সুবহে সাদিকের সময় একটি আযানের ব্যবস্থা করেছেন। যদিও বর্তমান সময়ের মুয়াজ্জিনগণ সুবহে সাদিকের পূর্বেই আযান প্রদান করেন, কিন্তু তারা তা অত্যন্ত নিচু স্বরে করেন এবং আওয়ায উচ্চকিত করা বর্জন করেন যাতে তা শোনা না যায়।

আর এটি আযান যে উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত হয়েছে তার পরিপন্থী; কেননা আযান কেবল মানুষকে সময় সম্পর্কে অবগত করার জন্যই প্রবর্তিত হয়েছে ...

পরিশেষে তিনি বলেছেন (২/ ২৪৯): এরপর আশ্চর্যের বিষয় হলো, তারা ফজরের পূর্বের প্রথম আযানটি প্রদান করে এবং তা সংগোপনে রাখে, কিন্তু যখন তা থেকে অবসর হয় তখন তাদের উদ্ভাবিত তাসবিহ পাঠের মাধ্যমে উচ্চৈঃস্বরে আওয়ায তোলে। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁরই নিকট আমাদের প্রত্যাবর্তন। সুন্নাহকে গোপন করা হচ্ছে আর যা বিধিবদ্ধ নয় তাকে প্রকাশ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেছেন (২/ ১৪৯): অনুরূপভাবে তাদেরকে সুবহে সাদিকের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর সালাত ও সালাম পাঠের যে পদ্ধতি তারা উদ্ভাবন করেছে তা থেকে বারণ করা উচিত। যদিও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর সালাত ও সালাম পাঠ করা অন্যতম বৃহৎ ও মহান ইবাদত, তবুও একে তার নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুযায়ীই সম্পাদন করা আবশ্যক। তাই একে তার জন্য নির্ধারিত স্থান ব্যতিরেকে অন্য কোথাও স্থাপন করা উচিত নয়। আপনি কি দেখেন না যে, কুরআন তিলাওয়াত সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত হওয়া সত্ত্বেও কোনো মুকাল্লাফের (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) জন্য রুকুতে, সিজদায় কিংবা বৈঠকে—অর্থাৎ নামাজের বৈঠকে—তা পাঠ করা বৈধ নয়; কারণ এটি তিলাওয়াতের স্থান নয়।
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ২৪)
وعد من البدع: تسحير المؤذنين في رمضان، كما يفعل بمغربنا اليوم (2/ 253). قال رحمه الله: وينهى المؤذنين عما أحدثوه في شهر رمضان من التسحير، لأنه لم يكن في عهد النبي صلى الله عليه وسلم ولا أمر به، ولم يكن من فعل من مضى، والخير كله في الاتباع لهم، كما تقدم.

وقال (2/ 255): اعلم أن التسحير لا أصل له في الشرع الشريف، ولأجل ذلك اختلفت فيه عوائد أهل الأقاليم فلو كان من الشرع ما اختلفت فيه عوائدهم.

ولما ذكر عادة المغاربة قال (2/ 255): وأما أهل الإسكندرية وأهل اليمن وبعض أهل المغرب فيسحرون بدق الأبواب على أصحاب البيوت، وينادون عليهم: قوموا كلوا. وهذا نوع آخر من البدع، نحو ما تقدم.

وقال بعدها: وأما بعض أهل المغرب فإنهم يفعلون قريبا من فعل أهل الشام، وهو أنه إذا كان وقت السحور عندهم يضربون بالنفير على المنار، ويكررونه سبع مرات، ثم بعده يضربون بالأبواق سبعا أو خمسا، فإذا قطعوا حرم الأكل إذ ذاك عندهم.

وعد من البدع: التكبير أثناء حمل الجنازة (2/ 263).

وذكر منها قراءة القرآن حال الدفن في المقابر، كما هو عمل المغاربة في بلدنا. قال (3/ 263): وينبغي أن لا يقرأ أحد إذ ذاك القرآن لوجهين: أحدهما: أن المحل محل فكرة واعتبار ونظر في المآل، وذلك يشغل عن استماع القرآن، والله تعالى يقول في كتابه العزيز: {وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ
তিনি বিদআত হিসেবে গণ্য করেছেন: রমজান মাসে মুয়াজ্জিনদের 'তাসহীর' (সাহরির জন্য ডাকা), যেমনটি বর্তমানে আমাদের মরক্কোতে করা হয় (২/ ২৫৩)। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: মুয়াজ্জিনদেরকে রমজান মাসে 'তাসহীর' নামক যে নব উদ্ভাবিত প্রথা তারা চালু করেছে তা থেকে বারণ করা উচিত। কারণ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ছিল না এবং তিনি এর নির্দেশও দেননি। এটি পূর্ববর্তীদের (সালাফদের) আমলও ছিল না। আর সমস্ত কল্যাণ তাদের অনুসরণের মধ্যেই নিহিত, যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন (২/ ২৫৫): জেনে রেখো, পবিত্র শরিয়তে 'তাসহীর'-এর কোনো ভিত্তি নেই। এ কারণেই বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের রীতিনীতি এতে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। যদি এটি শরিয়তের অংশ হতো, তবে তাদের রীতিনীতিতে এত ভিন্নতা দেখা দিত না।

মরক্কোবাসীদের রীতির কথা উল্লেখ করার পর তিনি বলেন (২/ ২৫৫): আর আলেকজান্দ্রিয়া ও ইয়ামেনের অধিবাসী এবং মরক্কোর কিছু লোক গৃহস্থদের দরজায় কড়া নেড়ে সাহরি করায় এবং তাদের ডেকে বলে: ‘উঠুন এবং আহার করুন’। এটি বিদআতের আরেকটি প্রকার, যা পূর্বোক্ত আলোচনার অনুরূপ।

এরপর তিনি বলেন: আর মরক্কোর কিছু লোক সিরিয়াবাসীদের মতো কাজ করে থাকে; তা হলো, যখন তাদের নিকট সাহরির সময় হয়, তখন তারা মিনারের ওপর রণশিঙা বাজায় এবং সাতবার তা পুনরাবৃত্তি করে। এরপর তারা সাতবার বা পাঁচবার শিঙা বাজায়। যখন তারা এটি বন্ধ করে, তখন তাদের নিকট পানাহার করা নিষিদ্ধ হয়ে যায়।

তিনি আরও বিদআত হিসেবে গণ্য করেছেন: জানাজা বহনের সময় সজোরে তাকবির পাঠ করা (২/ ২৬৩)।

তিনি সেগুলোর মধ্যে কবরস্থানে দাফন করার সময় কুরআন তিলাওয়াতকেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যেমনটি আমাদের দেশে মরক্কোবাসীদের নিয়ম। তিনি বলেন (৩/ ২৬৩): এ সময় কারো কুরআন তিলাওয়াত করা উচিত নয়, এর দুটি কারণ রয়েছে: প্রথমত, এটি চিন্তা-গবেষণা, শিক্ষা গ্রহণ এবং পরিণাম নিয়ে ভাবার স্থান; আর তিলাওয়াত করা হলে তা কুরআন শ্রবণে বিঘ্ন ঘটায়। অথচ মহান আল্লাহ তাঁর মহিমান্বিত কিতাবে ইরশাদ করেছেন: {আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোনো...}
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَأَنصِتُوا}، والإنصات متعذر لشغل القلب بالفكر فيما هو إليه صائر، وعليه قادم.

الوجه الثاني: أنه لم يكن من فعل من مضى، وهم السابقون والقدوة المتبعون، ونحن التابعون، فيسعنا ما وسعهم، فالخير والبركة والرحمة في اتباعهم، وفقنا الله لذلك بمنه.

وقال (3/ 264) بعد أن ذكر أنه لا يجوز رفع القبور أكثر من تسنيمه الذي يعرف به ويمييز: وأما تعلية البناء الكثير على نحو ما كانت الجاهلية تفعله تفخيما وتعظيما، فذلك يهدم ويزال، فإن فيه استعمال زينة الدنيا في أول منازل الآخرة وتشبيها بمن كان يعظم القبور ويعبدها، وباعتبار هذه المعاني وظاهر النهي ينبغي أن يقال: هو حرام.

وذكر من البدع كذلك الاجتماع ثلاث ليال بعد دفن الميت (3/ 276 - 278)، وهو الذي يسمى عندنا بعشاء الميت.

ومما قال (3/ 278): وكذلك يحذر مما أحدثه بعضهم من فعل الثالث للميت وعملهم الأطعمة فيه حتى صار عندهم كأنه أمر معمول به ويشيعونه كأنه وليمة عرس، ويجمعون لأجله الجمع الكثير من الأهل والأصحاب والمعارف، فإن بقي أحد منهم ولم يأت وجدوا عليه الوجد العظيم.

ثم إنهم لم يقتصروا على ذلك حتى يقرؤوا هناك القرآن العظيم على عوائدهم المعهودة منهم، بالألحان والتطريب الخارج عن حد القراءة المشروعة بسبب الزيادة والنقصان المتفق على تحريمهما، ويأتون مع ذلك بالفقراء
...এবং মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করো।"} আর মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে, কারণ অন্তর তখন সেই চিন্তায় মগ্ন থাকে যার দিকে সে ফিরে যাচ্ছে এবং যার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে।

দ্বিতীয় দিক: এটি পূর্বসূরিদের আমল ছিল না, অথচ তাঁরাই ছিলেন অগ্রগামী এবং অনুকরণের যোগ্য আদর্শ। আমরা হলাম তাঁদের অনুসারী, সুতরাং তাঁদের জন্য যা যথেষ্ট ছিল আমাদের জন্যও তা-ই যথেষ্ট। সকল কল্যাণ, বরকত ও রহমত তাঁদের অনুসরণের মধ্যেই নিহিত। আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহে আমাদের সেই তৌফিক দান করুন।

তিনি (৩/২৬৪) কবরের চিহ্ন চেনার জন্য সামান্য উঁচু করার অতিরিক্ত উঁচু করা জায়েজ নয় বলে উল্লেখ করার পর বলেন: আর জাহেলি যুগের লোকেরা যেভাবে গৌরব ও মহিমা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে কবরের ওপর সুউচ্চ ইমারত নির্মাণ করত, তা ভেঙে ফেলতে হবে এবং মিটিয়ে দিতে হবে। কারণ এতে পরকালের প্রথম মঞ্জিলে পার্থিব জাঁকজমকের ব্যবহার প্রকাশ পায় এবং এটি তাদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয় যারা কবরকে অতিমূল্যায়ন করত ও পূজা করত। এসব বিষয় এবং নিষেধাজ্ঞার বাহ্যিক রূপ বিবেচনা করে বলা উচিত যে: এটি হারাম।

তিনি একইভাবে মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর তিন রাত পর্যন্ত সমবেত হওয়াকে বিদআত হিসেবে উল্লেখ করেছেন (৩/২৭৬-২৭৮), যা আমাদের সমাজে 'মৃতের নৈশভোজ' হিসেবে পরিচিত।

তিনি (৩/২৭৮) আরও যা বলেছেন: অনুরূপভাবে কেউ কেউ মৃত ব্যক্তির জন্য 'তৃতীয় দিন' পালনের যে নতুন প্রথা উদ্ভাবন করেছে এবং তাতে খাবারের যে আয়োজন করে, সে ব্যাপারেও সতর্ক করা উচিত। এটি তাদের কাছে এমন এক রূপ নিয়েছে যেন এটি সুপ্রতিষ্ঠিত কোনো বিধান। তারা এটিকে বিয়ের ওলিমার মতো প্রচার করে এবং এর জন্য পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতজনদের বিশাল সমাবেশ ঘটায়। যদি তাদের কেউ উপস্থিত না হয়, তবে তারা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হয়।

এরপর তারা শুধু এখানেই ক্ষান্ত হয় না, বরং সেখানে তাদের প্রচলিত অভ্যাস অনুযায়ী মহাগ্রন্থ কুরআন তিলাওয়াত করে। তারা এমন সুর ও লহরীর সাথে তিলাওয়াত করে যা শরিয়তসম্মত তিলাওয়াতের সীমা অতিক্রম করে যায় এবং এতে এমন হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে যা হারাম হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত। সেই সাথে তারা সেখানে অভাবী লোকদেরও নিয়ে আসে...
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ২৬)
يذكرون ويحرفون الذكر عن مواضعه على الترتيب المعروف عندهم، وبعضهم يزيد على ذلك، فيأتي بالمؤذنين يكبرون كتكبير العيد على ما مضى من عادتهم.

وقد صار هذا الحال في هذا الزمان أمرا معمولا به، حتى لو تركه أحد منهم لكثر فيه القيل والقال، فكيف لو أنكر ذلك.

ثم انضم إليه أنهم يتكلفون فيه التكليف الكثير، لأجل ما يحتاجونه من العوائد في ذلك.

ومنهم من يأتي بالواعظ إلى الرجال. ومنهم من يأتي بالواعظة إلى النساء، ويزيدون في أقوالهم وينقصون، ويحرفون بعض ذلك ويفهمون غير المراد، ويتفوهون بإطلاق أشياء لا ينبغي ذكرها على رؤوس الأشهاد، وقد تقدم ما في ذلك من الذم في أول الكتاب، وقد تقدم ما في الاجتماع للسماع، وما في السماع مما لا ينبغي، وتلك القبائح والمفاسد موجودة في الاجتماع الثالث والسابع وتمام الشهر وتمام السنة، وفي أي موضع فعل ذلك فيه، من بيت أو قبر أو غيرهما كل ذلك يمنع.

ومن أشهر علماء المالكية محاربة للبدع والمحدثات: العلامة الأصولي أبو إسحاق إبراهيم بن موسى الشاطبي (المتوفى سنة 790هـ) في كتابه الاعتصام.
তারা যিকর করে এবং তাদের নিকট পরিচিত রীতি অনুযায়ী যিকরের শব্দসমূহকে স্বস্থান থেকে বিচ্যুত করে। তাদের কেউ কেউ এর চেয়েও বেশি কিছু করে; যেমন তারা মুয়াজ্জিনদের নিয়ে আসে যারা তাদের প্রচলিত অভ্যাস অনুযায়ী ঈদের তাকবীরের ন্যায় উচ্চস্বরে তাকবীর পাঠ করে।

বর্তমান কালে এই বিষয়টি একটি নিয়মিত চর্চায় পরিণত হয়েছে, এমনকি যদি তাদের কেউ এটি বর্জন করে তবে তা নিয়ে অনেক সমালোচনা ও কানাঘুষা হয়; এমতাবস্থায় কেউ যদি এর সরাসরি প্রতিবাদ জানায় তবে তার অবস্থা কী হবে (তা সহজেই অনুমেয়)।

অতঃপর এর সাথে আরও যুক্ত হয়েছে যে, তারা এই কাজে অনেক লৌকিকতা ও কৃত্রিমতা অবলম্বন করে থাকে, কারণ এই প্রথাগুলো পালনে তাদের নানাবিধ আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন হয়।

তাদের মধ্যে কেউ পুরুষদের জন্য ওয়াজকারী নিয়ে আসে, আবার কেউ নারীদের জন্য নারী ওয়াজকারী নিয়োগ করে। তারা তাদের বক্তব্যে হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটায়, কোনো কোনো কথা বিকৃত করে এবং ভুল অর্থ প্রদান করে। তারা জনসমক্ষে এমন সব বিষয় উচ্চারণ করে যা বর্ণনা করা মোটেও সমীচীন নয়। এই বিষয়ের নিন্দা সম্পর্কে গ্রন্থের প্রারম্ভেই আলোচনা করা হয়েছে। অনুরূপভাবে গান-বাদ্য ও শ্রবণ (সামা) মাহফিলের উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়া এবং শ্রবণের মধ্যকার অনুচিত বিষয়সমূহও ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে। এই সকল কদর্যতা ও অনিষ্টতা মৃত্যু পরবর্তী তৃতীয় দিন, সপ্তম দিন, মাসপূর্তি এবং বার্ষিক অনুষ্ঠানগুলোতে বিদ্যমান। ঘর, কবর বা অন্য যে কোনো স্থানেই এই কাজগুলো করা হোক না কেন, এ সবই নিষিদ্ধ।

বিদআত ও নবউদ্ভাবিত বিষয়াবলির বিরুদ্ধে সংগ্রামকারী মালিকি মাযহাবের প্রসিদ্ধ আলেমদের মধ্যে অন্যতম হলেন: আল্লামা উসুলি আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে মুসা আশ-শাতিবি (মৃত্যু ৭৯০ হিজরি), তার ‘আল-ইতিসাম’ গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ২৭)
وهو أحسن مصنف على الإطلاق في بيان أصول البدع وقواعدها، والفرق بينها وبين المصالح المرسلة والاستحسان وغيرها مما لا تكاد تجده إلا فيه.

وقد أنكر فيه رحمه الله عددا من البدع، منها: الاجتماع عشية عرفة في المسجد للدعاء (2/ 302 - 341).

والاجتماع للذكر (1/ 19) (2/ 60 - 85 - 93 - 321 - 322).

والدعاء جماعة جهرا دبر الصلوات كما يفعل في بلدنا (2/ 241 - 251 - 259 - 262 - 464) وغيرها.

والاحتفال بالمولد النبوي (1/ 46).

والاستشفاء والتبرك بآثار الأولياء (2/ 286 - 287).

وتتبع آثار النبي صلى الله عليه وسلم والمساجد المنسوبة إليه واتخاذها سنة (2/ 237 - 238 - 239).

والتثويب بالآذان (2/ 368 - 379 - 395) وغيرها.

وتخصيص الأيام الفاضلة بنوع من العبادة لم تشرع لها (2/ 294).

وتزويق المصاحف (1/ 320 - 352).

ودعاء الخطيب للخلفاء المتقدمين (1/ 19 - 20).

وذكر السلاطين في خطبة الجمعة (2/ 341).

وزخرفة المساجد (1/ 352) (2/ 418) (3/ 65).

وسماع الصوفية (1/ 361).
এটি বিদআতের মূলনীতি ও বিধিবিধান বর্ণনায় এবং বিদআত ও মাসলাহাতে মুরসালা, ইসতিহসান এবং অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ, যা আপনি একমাত্র এই গ্রন্থেই খুঁজে পাবেন।

এতে তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বেশ কিছু বিদআতের প্রতিবাদ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: আরাফার দিন বিকেলে দোয়ার উদ্দেশ্যে মসজিদে একত্রিত হওয়া (২/ ৩০২ - ৩৪১)।

এবং জিকিরের জন্য সমবেত হওয়া (১/ ১৯) (২/ ৬০ - ৮৫ - ৯৩ - ৩২১ - ৩২২)।

এবং আমাদের দেশের প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী সালাতের পর উচ্চস্বরে দলবদ্ধভাবে দোয়া করা (২/ ২৪১ - ২৫১ - ২৫৯ - ২৬২ - ৪৬৪) ইত্যাদি।

এবং মিলাদুন্নবী উদযাপন করা (১/ ৪৬)।

এবং আউলিয়াদের স্মৃতিচিহ্নের মাধ্যমে আরোগ্য লাভ ও বরকত অন্বেষণ করা (২/ ২৮৬ - ২৮৭)।

এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্মৃতিচিহ্ন ও তাঁর সাথে সম্বন্ধযুক্ত মসজিদসমূহ খুঁজে বের করা এবং সেগুলোকে সুন্নাহ হিসেবে গ্রহণ করা (২/ ২৩৭ - ২৩৮ - ২৩৯)।

এবং আজানে তাসউইব (সালাতের জন্য পুনরায় আহ্বান) করা (২/ ৩৬৮ - ৩৭৯ - ৩৯৫) ইত্যাদি।

এবং মর্যাদাপূর্ণ দিনগুলোকে এমন কোনো বিশেষ ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করা যা শরিয়তসম্মত নয় (২/ ২৯৪)।

এবং মুসহাফ বা কুরআনের পাণ্ডুলিপি কারুকার্যখচিত করা (১/ ৩২০ - ৩৫২)।

এবং খতিব কর্তৃক পূর্ববর্তী খলিফাদের জন্য দোয়া করা (১/ ১৯ - ২০)।

এবং জুমার খুতবায় সুলতানদের নাম উল্লেখ করা (২/ ৩৪১)।

এবং মসজিদ সুসজ্জিত করা (১/ ৩৫২) (২/ ৪১৮) (৩/ ৬৫)।

এবং সুফিদের সামা বা শ্রবণ আসর (১/ ৩৬১)।
(খণ্ড: ১) উলামাউল মাগরিব ওয়া মুকাওয়ামাতুহুম লিল বিদা ওয়াত তাসাউউফ ওয়াল কুবুরিয়্যাহ ওয়াল মাওয়াসিম (পৃষ্ঠা: ২৮)
والغناء والرقص بالذكر في الليل (2/ 85).

وقراءة القرآن جماعة (2/ 301 - 321 - 396).

والمصافحة بعد صلاة الصبح والعصر (1/ 353).

وقد شنع أبو إسحاق الشاطبي في الاعتصام (2/ 85) على الصوفية في اجتماعهم على الذكر تشنيعا عظيما، ومما قال: وذلك أنه وقع السؤال عن قوم يتسمون بالفقراء يزعمون أنهم سلكوا طريق الصوفية، فيجتمعون في بعض الليالي، ويأخذون في الذكر الجهري على صوت واحد، ثم في الغناء والرقص، إلى آخر الليل، ويحضر معهم بعض المتسمين بالفقهاء، يترسمون برسم الشيوخ الهداة إلى سلوك ذلك الطريق، هل هذا العمل صحيح في الشرع أم لا؟

فوقع الجواب: بأن ذلك كله من البدع المحدثات، المخالفة طريقة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وطريقة أصحابه والتابعين لهم بإحسان، فنفع الله بذلك من شاء من خلقه.

إلى أن قال (2/ 92 - 93): فهذه مجالس الذكر على الحقيقة، وهي التي حرمها الله أهل البدع من هؤلاء الفقراء الذين زعموا أنهم سلكوا طريق التصوف، فقلما تجد منهم من يحسن قراءة الفاتحة في الصلاة إلا على اللحن، فضلاً عن غيرها، ولا يعرف كيف يتعبد، ولا كيف يستنجي أو يتوضأ أو يغتسل من الجنابة. وكيف يعلمون ذلك وهم قد حُرموا مجالس الذكر التي تغشاها الرحمة، وتنزل فيها السكينة، وتحف بها الملائكة.
এবং রাতের বেলায় জিকিরের সাথে গান ও নাচ (২/ ৮৫)।

এবং দলবদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত করা (২/ ৩০১ - ৩২১ - ৩৯৬)।

এবং ফজর ও আসরের নামাজের পর মুসাফাহা করা (১/ ৩৫৩)।

আবু ইসহাক আশ-শাতিবি ‘আল-ইতিসাম’ গ্রন্থে (২/ ৮৫) সূফীদের দলবদ্ধ জিকিরের কঠোর নিন্দা করেছেন। তিনি যা বলেছেন তার মধ্যে রয়েছে: "ফকির" হিসেবে পরিচিত একদল লোক সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যারা দাবি করে যে তারা সূফিবাদ বা তাসাউফের পথে চলছে। তারা কিছু রাতে সমবেত হয় এবং সমস্বরে উচ্চৈঃস্বরে জিকিরে লিপ্ত হয়, অতঃপর শেষ রাত পর্যন্ত গান ও নাচে মত্ত থাকে। তাদের সাথে ফকিহ বা আইনবিদ হিসেবে পরিচিত কিছু লোকও উপস্থিত থাকে, যারা সেই পথে চলার জন্য পথপ্রদর্শক শাইখ হিসেবে নিজেদের জাহির করে। শরীয়তের দৃষ্টিতে কি এই আমলটি সঠিক কি না?

উত্তরে বলা হয়েছে: এসবই হলো নব-উদ্ভাবিত বিদআত, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তরীকা এবং তাঁর সাহাবী ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীদের পথের পরিপন্থী। আল্লাহ এর মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা উপকৃত করেছেন।

তিনি আরও বলেছেন (২/ ৯২ - ৯৩): এগুলিই হলো প্রকৃত জিকিরের মজলিস, যা থেকে আল্লাহ সেই বিদআতী ফকিরদের বঞ্চিত করেছেন যারা তাসাউফের পথে চলার দাবি করে। আপনি তাদের মধ্যে এমন কাউকে খুব কমই পাবেন যে সালাতের মধ্যে শুদ্ধভাবে সূরা ফাতিহা পাঠ করতে পারে, বরং তারা ভুল পড়ে; অন্য বিষয়ের কথা তো বলাই বাহুল্য। এমনকি সে জানে না কীভাবে ইবাদত করতে হয়, কীভাবে পবিত্রতা অর্জন করতে হয়, কিংবা কীভাবে অজু বা জানাবাত থেকে গোসল করতে হয়। আর তারা কীভাবে এসব জানবে, অথচ তারা তো সেই সব জিকিরের মজলিস থেকে বঞ্চিত হয়েছে যা রহমত দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে, যেখানে প্রশান্তি অবতীর্ণ হয় এবং ফেরেশতারা ঘিরে থাকে।