(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مفتاح السعيدية في شرح الألفية الحديثية القسم: علوم الحديث
الكتاب: مفتاح السعيدية في شرح الألفية الحديثية
المؤلف: شمس الدين محمد بن عمار بن محمد بن أحمد المصري المالكي المعروف بابن عمار (ت 844هـ)
دراسة وتحقيق: د. شادي بن محمد بن سالم آل نعمان
الناشر: مركز النعمان للبحوث والدراسات الإسلامية وتحقيق التراث والترجمة، صنعاء - اليمن
الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م
عدد الصفحات: 475
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 محرم 1434
মিফতাহুস সাঈদিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ আল-হাদিসিয়্যাহ বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
বই: মিফতাহুস সাঈদিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ আল-হাদিসিয়্যাহ
লেখক: শামস উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন আম্মার বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-মিসরি আল-মালিকি, যিনি ইবনে আম্মার নামে পরিচিত (মৃত্যু ৮৪৪ হিজরি)
অধ্যয়ন ও তাহকিক: ড. শাদি বিন মুহাম্মাদ বিন সালিম আল নুমান
প্রকাশক: আল-নুমান সেন্টার ফর ইসলামিক রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজ, ঐতিহ্য যাচাই ও অনুবাদ, সানা - ইয়েমেন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭৫
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ মহররম ১৪৩৪
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[مفتاح السعيدية في شرح الألفية الحديثية]ـ
المؤلف: شمس الدين ابن عمار المالكي المتوفى سنة (844 هـ)
دراسة وتحقيق: د. شادي بن محمد بن سالم آل نعمان
الناشر: مركز النعمان للبحوث والدراسات الإسلامية وتحقيق التراث والترجمة، صنعاء - اليمن
الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
মিফতাহুস সাঈদিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ আল-হাদিসিয়্যাহ
লেখক: শামসুদ্দিন ইবনে আম্মার আল-মালিকি, মৃত্যু বছর (৮৪৪ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা: ড. শাদি বিন মুহাম্মাদ বিন সালিম আল-নুমান
প্রকাশক: আল-নুমান সেন্টার ফর ইসলামিক রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজ, হেরিটেজ ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড ট্রান্সলেশন, সানা - ইয়েমেন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مفتاح السعيدية
في شرح الألفية الحديثية
حقوق الطبع محفوظة
سلسلة أعمال حديثية
تنشر لأول مرة (8)
مفتاح السعيدية
في شرح الألفية الحديثية
تصنيف
شمس الدين ابن عمار المالكي
المتوفى سنة (844هـ)
دراسة وتحقيق
د. شادي بن محمد بن سالم آل نعمان
মিফতাহুস সাঈদিয়্যাহ
হাদিস শাস্ত্রীয় আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যায়
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
হাদিস বিষয়ক কর্ম সিরিজ
প্রথমবার প্রকাশিত হচ্ছে (৮)
মিফতাহুস সাঈদিয়্যাহ
হাদিস শাস্ত্রীয় আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যায়
গ্রন্থনা
শামসুদ্দিন ইবনে আম্মার আল-মালিকি
মৃত্যু বছর (৮৪৪ হিজরি)
গবেষণা ও তাহকিক
ড. শাদি বিন মুহাম্মদ বিন সালিম আল নুমান
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةالحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وبعد:
فبين يديك أخي القارئ الكريم آخر أعمال المجموعة الأولى من مشروعنا الذي أطلقنا عليه اسم «مشروع سلسلة أعمال حديثية تنشر لأول مرة»، والذي عمدنا فيه إلى إخراج كنوز تراثية لا تزال قابعة في عالم «ألَّا مطبوع»، فنزيح عنها-بحول الله وقوته- غبار الزمان، ونكشف الستار عن مكنونها وخباياها، لنخرجها إلى عالم «المطبوع» في حُلَّةٍ قشيبة-بعون الله وتوفيقه- ليعم الانتفاع بها بين أهل العلم وطلابه.
أما المجموعة الأولى من أعمال هذه السلسلة والتي أنجزناها كاملة فهي:
1 - «قضاء الوطر من نزهة النظر» للَّقاني المالكي، طبع عن المكتبة الأثرية بالأردن في ثلاثة مجلدات.
2 - «الثقات ممن لم يقع في الكتب الستة» للحافظ ابن قطلوبغا طبع عن مركز النعمان في تسعة مجلدات.
3 - «التكميل في الجرح والتعديل ومعرفة الثقات والضعفاء والمجاهيل» للحافظ ابن كثير، في أربعة مجلدات.
4 - «تجريد الأسماء والكنى» للفراء، في مجلدين.
5 - «شرح ألفية العراقي» للعيني، في مجلد.
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। অতঃপর:
সম্মানিত পাঠক ভাই, আপনার সামনে রয়েছে আমাদের প্রকল্পের প্রথম সংকলনের সর্বশেষ কাজ, যেটির নাম আমরা দিয়েছি «প্রথমবার প্রকাশিত হাদিস বিষয়ক কর্ম-সিরিজ প্রকল্প»। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা সেই সকল ঐতিহ্যবাহী রত্নভাণ্ডার বের করার উদ্যোগ নিয়েছি যা এখনও ‘অপ্রকাশিত’ পাণ্ডুলিপি জগতে রয়ে গেছে। আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যে আমরা এগুলোর ওপর থেকে সময়ের ধুলোবালি সরিয়ে দিচ্ছি এবং এর গোপন রহস্য ও অন্তর্নিহিত বিষয়বস্তু উন্মোচন করছি, যাতে আল্লাহর সাহায্য ও তাওফিকে এগুলোকে এক চমৎকার রূপে ‘মুদ্রিত’ আকারে প্রকাশ করা যায়, যেন আলেম সমাজ ও জ্ঞানান্বেষীদের মাঝে এর উপকারিতা ছড়িয়ে পড়ে।
এই সিরিজের প্রথম সংকলনের যে কাজগুলো আমরা সম্পূর্ণ করেছি তা হলো:
১ - লাক্কানি মালিকি রচিত «কাযাউল ওয়াতার মিন নুযহাতিন নাযার», জর্ডানের আল-মাকতাবাতুল আসারিয়্যাহ থেকে তিন খণ্ডে প্রকাশিত।
২ - হাফেজ ইবনু কুতলুবুগা রচিত «আস-সিকাতু মিম্মান লাম ইয়াকা' ফিল কুতুবিস সিত্তাহ», মারকাযুন নুমান থেকে নয় খণ্ডে প্রকাশিত।
৩ - হাফেজ ইবনু কাসির রচিত «আত-তাকমিল ফিজ জারহি ওয়াত তা'দীল ওয়া মা'রিফাতিস সিকাত ওয়াদ দুয়াফা ওয়াল মাজাহিল», চার খণ্ডে।
৪ - আল-ফাররা রচিত «তাজরীদুল আসমা ওয়াল কুনা», দুই খণ্ডে।
৫ - আল-আইনি রচিত «শারহু আলফিয়্যাতিল ইরাকি», এক খণ্ডে।
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
6 - «بهجة المحافل وأجمل الوسائل في التعريف برواة الشمائل» للقاني المالكي، في مجلدين.
7 - «ذيل لب اللباب في الأنساب» لابن العجمي، في مجلد.
8 - «مفتاح السعيدية في شرح الألفية الحديثية» لابن عمار المالكي، في مجلد.
وأنا أعمل بِجِدٍّ في هذا المشروع بإزاء مشروعي الآخر «موسوعة العلامة الألباني» والذي صدر منه العمل الأول «جامع تراث الألباني في العقيدة» في تسعة مجلدات، سائلاً المولى عز وجل أن يُنْعِم عليِّ بالأسباب المعينة على إنجاز هذه الأعمال وأن يجعل ذلك في ميزان حسناتي يوم ألقاه.
وكما عودنا الإخوة القُرَّاء فقد قدمنا لهذا العمل بمقدمة نافعة نعدها مدخلاً جيدًا لمن رام حسن الاستفادة، والله من وراء القصد.
وكتب
شادي بن محمد بن سالم آل نعمان
في صنعاء اليمن حرسها الله
في يوم الأربعاء 28/ 11/1432هـ
الموافق 26/ 10/2011م
৬ - লাক্কানী মালিকী রচিত «বাহজাতুল মাহাফিল ওয়া আজমালুল ওয়াসায়িল ফি-ত-তা’রীফ বি-রুওয়াতিল শামায়িল», দুই খণ্ডে।
৭ - ইবনুল আজামী রচিত «যাইলু লুব্বিল লুবাব ফিল আনসাব», এক খণ্ডে।
৮ - ইবনে আম্মার মালিকী রচিত «মিফতাহুস সাঈদিয়্যাহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদিসিয়্যাহ», এক খণ্ডে।
আর আমি আমার অপর প্রকল্প «আল্লামা আলবানী বিশ্বকোষ»-এর পাশাপাশি এই প্রকল্পটিতে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করছি, যার প্রথম কাজ «আকিদাহ বিষয়ক আলবানী ঐতিহ্য সংকলন» নয় খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। আমি মহান রবের নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে এই কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য সহায়ক উপায়-উপকরণ দান করেন এবং যেদিন আমি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করব, সেদিন যেন এটি আমার নেক আমলের পাল্লায় জমা করেন।
আর আমরা সম্মানিত পাঠকদের যেমনটি অভ্যস্ত করেছি, সে অনুযায়ী এই কাজের শুরুতে একটি উপকারী ভূমিকা প্রদান করেছি, যাকে আমরা উত্তমরূপে উপকৃত হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য একটি ভালো প্রবেশদ্বার হিসেবে মনে করি। আর আল্লাহই একমাত্র উদ্দেশ্য।
লিখেছেন
শাদী বিন মুহাম্মাদ বিন সালিম আল নুমান
সানআ, ইয়েমেন, আল্লাহ একে হিফাযত করুন
বুধবার, ২৮/১১/১৪৩২ হিজরী
মোতাবেক ২৬/১০/২০১১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
شكر وعرفانإنها لمن أعظم مِنَنِ الله علينا أن وفقنا فوفَّينا بما وعدنا به الإخوة القراء من إنجاز المجموعة الأولى من مشروعنا «مشروع سلسلة أعمال حديثية تنشر لأول مرة»، فأنجزنا جميع العناوين المذكورة آنفًا، وقد وَقَعَت بمجموعها في ثلاث وعشرين مجلدًا، لنتوجه إلى العمل على المجموعة الثانية التي تحتوي على كتب حديثية هامة سأرجئ ذكرها إلى موضع آخر، وأتوقع أن تقع المجموعة الثانية من المشروع فيما يقارب خمسين مجلدًا، أسأل الله أن يعينني على إنجازها كما أنجزنا المجموعة الأولى بفضله وحده ومنِّه وكرمه.
وقد صح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «لا يشكر الله من لا يشكر الناس»، لذا فأنا أتوجه بشكر خاص لأخي الكريم فؤاد الزيلعي الذي أعده من شركاء النجاح في هذا المشروع، فما يبذله من جهود مشكورة في صف وتنسيق الكتب، وإعانتي في فهرستها ومراجعتها، يُعَدُّ من أهم الأسباب التي سخرها الله لنجاح هذا المشروع، وأتمنى من الله أن يديم الود والتعاون بيننا لنكمل مشروعنا على أتمِّ وجه.
وكما أشكر الأخوة حفظ الله الزيلعي، وفضل النهاري اللذين شاركا في مراحل المقابلة على المخطوط جزاهما الله خيرا.
والحمد لله أولا وآخراً وظاهراً وباطناً.
শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতাএটি আমাদের প্রতি মহান আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ যে, তিনি আমাদের তাওফিক দিয়েছেন এবং আমরা পাঠক ভাইদের নিকট দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমাদের প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি, যা হলো ‘প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হাদিস বিষয়ক কর্মতৎপরতা প্রকল্প’। আমরা পূর্বোক্ত সকল শিরোনামের কাজ সম্পন্ন করেছি যা মোট তেইশটি খণ্ডে সমাপ্ত হয়েছে। এখন আমরা দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের দিকে অগ্রসর হচ্ছি, যাতে গুরুত্বপূর্ণ হাদিস বিষয়ক কিতাবসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; যেগুলোর নাম আমি অন্য কোনো স্থানে উল্লেখ করব। আমি আশা করছি প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়টি প্রায় পঞ্চাশটি খণ্ডে সমাপ্ত হবে। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে এটি সম্পন্ন করার তাওফিক দান করেন, ঠিক যেভাবে আমরা তাঁরই একক অনুগ্রহ ও দয়ায় প্রথম পর্যায়টি সম্পন্ন করেছি।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ হয় না», তাই আমি আমার সম্মানিত ভাই ফুয়াদ আল-যাইলায়ীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি, যাকে আমি এই প্রকল্পের সাফল্যের অন্যতম অংশীদার মনে করি। কিতাবসমূহের বিন্যাস ও সাজসজ্জা এবং নির্ঘণ্ট ও পুনঃনিরীক্ষায় তিনি যে প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, তা এই প্রকল্পের সাফল্যের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সহজ করে দেওয়া অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে গণ্য। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের মাঝে এই সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা দীর্ঘস্থায়ী করেন যাতে আমরা আমাদের প্রকল্পটি সর্বোত্তমভাবে সম্পন্ন করতে পারি।
আমি আরও ধন্যবাদ জানাই ভাই হাফিজুল্লাহ আল-যাইলায়ী এবং ফজল আল-নাহারীকে, যারা পাণ্ডুলিপি মোকাবিলার পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেছেন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য—শুরুতে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে।
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
مقدمة الدراسة والتحقيقالمبحث الأول (1)
ترجمة المصنف (2)
اسمه ونسبه ولقبه وكنيته ومذهبه:هو محمد بن عمار بن محمد بن أحمد، الشمس، أبو ياسر، ولقبه بعض شيوخه ناصر الدين أبو عبد الله بن الزين أبي ياسر أو أبي شاكر القاهري المصري المالكي والد أبي سهل، ويعرف بابن عمار.
مولده ونشأته وطلبه للعلم:ولد أذان عصر يوم السبت، العشرين من جمادى الثانية، سنة ثمان وستين وسبعمائة، بقناطر السباع.
ونشأ في كنف والده.
--------------------------------------------
পাঠ ও সম্পাদনার ভূমিকাপ্রথম পরিচ্ছেদ (১)
গ্রন্থকারের জীবনী (২)
তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপাধি, কুনিয়াত ও মাযহাব:তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনে আম্মার ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ, আশ-শামস, আবু ইয়াসির। তাঁর কোনো কোনো শিক্ষক তাঁকে নাসিরুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আয-যাইন আবি ইয়াসির বা আবি শাকির আল-কাহিরি আল-মিসরি আল-মালিকি উপাধি দিয়েছেন। তিনি আবু সাহলের পিতা এবং ইবনে আম্মার নামে পরিচিত।
তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা ও জ্ঞানার্জন:তিনি সাতশ আটষট্টি হিজরীর ২০শে জুমাদাস সানি, শনিবার আসরের আযানের সময় কানাতিল আস-সিবা-তে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি তাঁর পিতার তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وكان صالحاً فحفظ القرآن، والعمدة، والشاطبية، وألفية الحديث، والنحو، والرسالة الفرعية، ومختصر ابن الحاجب الأصلي، وغير ذلك.
مشايخه:عرض ابن عمار على جماعة:
كالتقي عبد الرحمن بن البغدادي.
وأبي عبد الله بن مرزوق الكبير.
والصدر المناوي.
والضياء العفيفي.
ونصر الله الكناني الحنبلي.
والبلقيني.
وابنه البدر.
والأبناسي.
وإمام الصرغتمشية.
والغماري.
والنورين الدميري أخي بهرام، وعلي بن قطز الحكري المقري، وعلى كل من الثلاثة الأخيرين قرأ الشاطبية تامة.
وكذا قرأ القرآن والعمدة بتمامها على الولي عبد الله الجبرتي، وأجازوه
তিনি একজন নেককার ব্যক্তি ছিলেন, ফলে তিনি কুরআন হিফজ করেছিলেন এবং আল-উমদাহ, আশ-শাতবিয়্যাহ, আলফিয়াতুল হাদিস, আন-নাহু, আর-رিসালাতুল ফারইয়্যাহ, মুখতাসার ইবনুল হাজিব আল-আসলি এবং আরও অন্যান্য বিষয় মুখস্থ করেছিলেন।
তাঁর উস্তাদগণ:ইবনে আম্মার একদল আলিমের নিকট (পড়াশোনা) পেশ করেছিলেন:
যেমন তাকিউদ্দীন আবদুর রহমান বিন আল-বাগদাদি।
এবং আবু আবদুল্লাহ বিন মারজুক আল-কাবির।
এবং আস-সাদর আল-মুনাউয়ি।
এবং আদ-দিয়া আল-আফিফি।
এবং নাসরুল্লাহ আল-কিনানি আল-হাম্বলি।
এবং আল-বুলকিনি।
এবং তাঁর পুত্র আল-বদর।
এবং আল-আবনাসি।
এবং সারগাতমাশিয়াহ মাদরাসার ইমাম।
এবং আল-গুমারি।
এবং বাহরামের ভাই নূরুদ্দীন আদ-দামিরি এবং কারি আলী বিন কুতজ আল-হাকরি—এই শেষোক্ত তিনজনের প্রত্যেকের কাছে তিনি সম্পূর্ণ শাতবিয়্যাহ পাঠ করেছেন।
একইভাবে তিনি আল-ওয়ালি আবদুল্লাহ আল-জাবরতির নিকট পূর্ণাঙ্গ কুরআন এবং আল-উমদাহ পাঠ করেছেন এবং তাঁরা তাঁকে ইজাযাহ (অনুমতি) প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
كلهم في آخرين.
وأخذ علوم الحديث عن العراقي، وقرأ عليه نكته على ابن الصلاح دراية بحضرة الهيثمي رفيقه.
وابن الملقن قرأ عليه تقريب النووي، وقطعة من شرحه للعمدة.
والبلقيني قرأ عليه قطعة من محاسن الاصطلاح له، ولازمه في دروس التفسير بالبرقوقية، والعربية.
والصرف عن المحب بن هشام، ولازمه مدة.
وكذا لازم الغماري حتى أخذ عنه أيضاً النحو واللغة وغيرهما من العلوم اللسانية، والعروض، مع قطعة من الكشاف، ومن شرح له على ابن الحاجب الظاهر أنه الأصلي، والعز بن جماعة، في كثير من الفنون التي كان يقرئها، وقرأ هو عليه كل مختصر ابن الحاجب الأصلي، مع قطعة من كلٍّ من التلخيص، ومن شرحيه المطول، والمختصر.
وأخذ أصول الفقه أيضاً عن ابن خلدون، مع سماع قطعة من مقدمة تاريخه.
وتفقه في الابتداء بأبي عبد الله محمد الزواوي.
ثم لقي أبا عبد الله بن عرفة باسكندرية في قفوله من الحج فقرأ عليه قطعة صالحة من مؤلفه الشهير.
وكذا أخذ الفقه أيضاً عن بهرام، وعبيد البشكالسي، وابن خلدون، وناصر الدين أحمد بن التنسي وآخرين.
তারা সবাই পরবর্তীগণের অন্তর্ভুক্ত।
তিনি আল-ইরাকির নিকট হাদীস শাস্ত্র গ্রহণ করেন এবং তাঁর নিকট তাঁর সাথী আল-হায়সামীর উপস্থিতিতে ইবনে আস-সালাহ-এর ওপর লিখিত তাঁর ‘নুকাত’ প্রজ্ঞাসহ পাঠ করেন।
আর ইবনুল মুলাক্কিনের নিকট ইমাম নববীর ‘তাকরীব’ এবং ‘উমদাহ’র ওপর লিখিত তাঁর শরহের কিয়দাংশ পাঠ করেন।
এবং আল-বুলকীনীর নিকট তাঁর রচিত ‘মাহাসিনুল ইস্তিলাহ’-এর কিয়দাংশ পাঠ করেন এবং বারকুকিয়্যাহ মাদরাসায় তাফসীর ও আরবী ভাষার দরসে তাঁর সান্নিধ্যে থাকেন।
আর আল-মুহিব্ব ইবনে হিশামের নিকট সারফ (রূপান্তর তত্ত্ব) শিক্ষা করেন এবং দীর্ঘকাল তাঁর সান্নিধ্যে থাকেন।
অনুরূপভাবে তিনি আল-গুমারীর সান্নিধ্য বজায় রাখেন যতক্ষণ না তাঁর নিকট থেকে নাহু (ব্যাকরণ), লুগাহ (ভাষা) ও অন্যান্য ভাষাগত শাস্ত্র এবং আরূয (ছন্দতত্ত্ব) শিক্ষা করেন, সাথে ‘কাশশাফ’-এর কিয়দাংশ এবং ইবনুল হাজিবের ওপর তাঁর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ—যা স্পষ্টত মূল গ্রন্থটি। আর আল-ইয বিন জামাআহর নিকট বহুবিদ শাস্ত্র শিক্ষা লাভ করেন যা তিনি পড়াতেন, এবং তিনি তাঁর নিকট ইবনুল হাজিবের মূল ‘মুখতাসার’ সম্পূর্ণটি পাঠ করেন, সাথে ‘তালখীস’ এবং এর দুই ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘মুতাওয়্যাল’ ও ‘মুখতাসার’-এর কিয়দাংশও পাঠ করেন।
তিনি ইবনে খালদুনের নিকট থেকেও উসূলে ফিকহ গ্রহণ করেন, সাথে তাঁর ইতিহাসের ‘মুকাদ্দিমাহ’-এর কিছু অংশ শ্রবণ করেন।
আর শুরুতে তিনি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ আয-যাওয়াভীর নিকট ফিকহ অর্জন করেন।
অতঃপর হজ্জ থেকে ফেরার পথে আলেকজান্দ্রিয়ায় তিনি আবু আবদুল্লাহ ইবনে আরাফাহর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাবের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তাঁর নিকট পাঠ করেন।
অনুরূপভাবে তিনি বাহরাম, উবাইদ আল-বাশকালিসী, ইবনে খালদুন, নাসিরুদ্দীন আহমদ ইবনে আত-তিনুসী এবং অন্যদের নিকট থেকেও ফিকহ শিক্ষা করেন।
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وطلب الحديث بنفسه فقرأ وسمع أشياء بالقاهرة وإسكندرية، فكان من شيوخه بالقاهرة الصلاح الزفتاوي، وابن أبي المجد، والتنوخي، وابن الشيخة، والمطرز، والتاج الصردي، والأبناسي، والبلقيني، والعراقي، والهيثمي، والغماري، والمراغي، وعبيد البشكالسي، والسويداوي، والحلاوي، والنجم البالسي، وإمام الصرغتمشية، والتاج بن الفصيح، والجوهري، والشمس محمد بن إبراهيم العاملي، ومنهم باسكندرية البهاء عبد الله الدماميني، والزين محمد بن أحمد الفيشني المرجاني، وابن الموفق، وابن قرطاس، في آخرين كالفخر بن أبي شافع، ومحمد بن التقي التونسي، والتاجين ابن موسى وابن الخراط، وناصر الدين محمد بن عبد الرحيم الحراني، وابن الهزبر.
وأجاز له أبو الخير بن العلائي، وأبو حفص البالسي، وابن قوام، ومحمد بن محمد بن يفتح الله، وفاطمة ابنة ابن المنجا، وفاطمة وعائشة ابنا ابن عبد الهادي، وطائفة.
وأذن له معظم شيوخه في الإقراء والإفتاء كابن عرفة، وابن الملقن، والعز بن جماعة.
تدريسه وأعماله:استقر ابن عمار معيداً بجامع طولون بل مدرساً للفقه بالمسلمية بمصر عوضاً عن ابن مكين، وبقبة الصالح إسماعيل داخل البيمارستان عوضاً عن ابن خلدون، وعمل لكل منهما أجلاساً حافلاً شهده الأكابر، وبالبرقوقية بعد البساطي.
তিনি নিজেই হাদিস অন্বেষণ করেন, ফলে তিনি কায়রো ও আলেকজান্দ্রিয়ায় বিভিন্ন বিষয় পাঠ করেন এবং শ্রবণ করেন। কায়রোতে তার উস্তাদগণের মধ্যে ছিলেন সালাহ আজ-জাফতাউই, ইবন আবু আল-মাজদ, আত-তানুখি, ইবনুশ শাইখা, আল-মুতরিজ, আত-তাজ আস-সুরদি, আল-আবনাসি, আল-বুলকিনি, আল-ইরাকি, আল-হাইতামি, আল-গুমারি, আল-মারাগি, উবাইদ আল-বিশকালসি, আস-সুওয়াইদাউই, আল-হাল্লাউই, আন-নাজম আল-বালিসি, সারগতমিশিয়া মাদরাসার ইমাম, তাজ বিন আল-ফাসিহ, আল-জাওহারি এবং শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-আমিলি। আলেকজান্দ্রিয়ায় তাদের মধ্যে ছিলেন আল-বাহা আবদুল্লাহ আদ-দামামিনি, জাইন মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-ফিশনি আল-মারজানি, ইবনুল মুওয়াফ্ফাক, ইবনে কিরতাস এবং আরও অনেকে যেমন আল-ফাখর বিন আবু শাফে, মুহাম্মদ বিন আত-তাকি আত-তিউনিসি, দুই তাজ (তাজুদ্দিন ইবনে মুসা ও তাজুদ্দিন ইবনুল খাররাত), নাসিরুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহিম আল-হাররানি এবং ইবনুল হিজবার।
আবু আল-খাইর বিন আল-আলাই, আবু হাফস আল-বালিসি, ইবন কাওয়াম, মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াফতাহুল্লাহ, ইবনুল মানজার কন্যা ফাতিমা, ইবনে আবদিল হাদীর দুই কন্যা ফাতিমা ও আয়েশা এবং একদল আলেম তাকে অনুমতি (ইজাজত) প্রদান করেন।
তার অধিকাংশ উস্তাদ তাকে পাঠদান ও ফতোয়া প্রদানের অনুমতি দেন, যেমন ইবনে আরাফাহ, ইবনুল মুলাক্কিন এবং ইজ্জ বিন জামাআহ।
তার পাঠদান ও কর্মজীবন:ইবনে আম্মার তুলুন জামে মসজিদে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন, বরং তিনি ইবনে মাকিনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে মিসরের আল-মুসলিমিয়া মাদরাসায় ফিকহ শাস্ত্রের শিক্ষক হিসেবে এবং ইবনে খালদুনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে বিমারিস্তানের (হাসপাতাল) অভ্যন্তরে অবস্থিত কুব্বাত আস-সালিহ ইসমাইলে শিক্ষক হিসেবে স্থায়ী হন। তিনি এগুলোর প্রতিটির জন্য একটি বিশাল উদ্বোধনী সমাবেশের আয়োজন করেন যেখানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আল-বিসাতির পর তিনি বারকুমিয়া মাদরাসাতেও শিক্ষকতা করেন।
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ودرس وأعاد وأفتى وحدث وأفاد وانتفع به الأفاضل خصوصاً في إقامته بمصر.
وناب في القضاء مسؤولاً، بل استخلفه الشمس بن معبد المدني بمرسوم حين سفره.
رحلاته:حج ابن عمار في سنة خمس وثمانمائة حجة الإسلام، وكانت الوقفة الجمعة، وزار بيت المقدس.
مصنفاته:صنف ابن عمار قديماً بحيث قرض الغماري بعض تصانيفه، ووقف عدة من شيوخه على بعضها، ومنها:
1 - «غاية الإلهام في شرح عمدة الأحكام» في ثلاث مجلدات.
2 - و «الأحكام في شرح غريب عمدة الأحكام».
3 - و «زوال المانع في شرح جمع الجوامع».
4 - و «جلاب الموائد في شرح تسهيل الفوائد» في ثمان مجلدات.
5 - و «الكافي في شرح المغنى» لابن هشام في أربع مجلدات.
6 - واختصر «توضيح ابن هشام وشرحه».
7 - و «شرح مختصر ابن الحاجب» الفرعي كتب منه إلي أثناء النكاح، وقطعة من أواخره.
তিনি পাঠ দান করেছেন, পাঠের পুনরাবৃত্তি করেছেন, ফতোয়া দিয়েছেন, হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং জ্ঞান দান করেছেন। বিশেষ করে মিসরে অবস্থানকালে শ্রেষ্ঠ গুণীজনগণ তাঁর নিকট থেকে উপকৃত হয়েছেন।
তিনি বিচারকার্যে দায়িত্ব পালন করেছেন, এমনকি শামস বিন মাবাদ আল-মাদানি তাঁর সফরের সময় এক ফরমানের মাধ্যমে তাঁকে নিজের স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করেছিলেন।
তাঁর সফরসমূহ:ইবনে আম্মার ৮০৫ হিজরি সনে ইসলামের ফরজ হজ সম্পাদন করেন, সে বছর আরাফার দিনটি ছিল শুক্রবার। তিনি বায়তুল মাকদিসও জিয়ারত করেছিলেন।
তাঁর রচনাবলি:ইবনে আম্মার অনেক আগে থেকেই গ্রন্থ রচনা শুরু করেন, এমনকি আল-গুমারি তাঁর কিছু রচনার ওপর প্রশংসা বাণী লিখেছিলেন এবং তাঁর বহু শিক্ষক তাঁর কিছু কিতাব পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১ - তিন খণ্ডে ‘গায়াতুল ইলহাম ফি শারহি উমদাতিল আহকাম’।
২ - এবং ‘আল-আহকাম ফি শারহি গরিব উমদাতিল আহকাম’।
৩ - এবং ‘জাওয়ালুল মানি’ ফি শারহি জাম’উল জাওয়ামি’।
৪ - আট খণ্ডে ‘জাল্লাবুল মাওয়াইদ ফি শারহি তাস-হিলিল ফাওয়ায়িদ’।
৫ - চার খণ্ডে ইবনে হিশামের রচনার ওপর ‘আল-কাফি ফি শারহিল মুগনি’।
৬ - এবং ‘তাওদিহ ইবনে হিশাম’ ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের সংক্ষেপণ।
৭ - এবং ইবনুল হাজিবের ‘মুখতাসার’ (ফুরু)-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যার বিয়ের অধ্যায় পর্যন্ত এবং শেষাংশের কিছু অংশ তিনি লিখেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
8 - واختصر «شرح ألفية العراقي» للمؤلف، وهو الذي بين يديك.
علومه وأوصافه:كان ابن عمار إماماً عالماً علامة في الفقه وأصوله والعربية والصرف، متقدماً فيهما، مشاركاً في كثير من الفنون، ممتع المحاضرة، أماراً بالمعروف، كثير الابتهال، محظوظاً في استجلاب الأكابر بعزة نفس وشهامة قل أن يوجد في آخر عمره في مذهبه مجموعه.
ووصفه الحافظ ابن حجر في بعض ما أثبته له بالشيخ الإمام العلامة الفقيه الفاضل الفهامة المفيد المحدث.
وذكره في إنبائه باختصار فقال: الشيخ الإمام العالم العلامة.
وفاته:مات ابن عمار في محل سكنه بالناصرية من بين القصرين، يوم السبت، رابع عشر ذي الحجة، سنة أربع وأربعين، وصلي عليه بباب النصر، ودفن بحوش الحنابلة أصهاره تجاه تربة كوكاي رحمه الله.
نظمه:من نظمه:
يا رب يا غفار يا باري
… تدارك برحماك ابن عمار
৮ - এবং তিনি লেখকের ‘শারহু আলফিয়্যাতিল ইরাকি’ গ্রন্থটি সংক্ষেপ করেছেন, যা আপনার সামনে রয়েছে।
তাঁর জ্ঞান ও গুণাবলি:ইবনে আম্মার ছিলেন একজন ইমাম, বিজ্ঞ আলেম এবং ফিকহ, উসুল, আরবি ভাষা ও সরফ শাস্ত্রে সুপণ্ডিত। তিনি শেষোক্ত দুটি শাস্ত্রে অগ্রগামী ছিলেন এবং অনেক জ্ঞান-বিজ্ঞানে তাঁর পদচারণা ছিল। তাঁর আলোচনা ছিল উপভোগ্য, তিনি সৎকাজের আদেশ দিতেন, প্রচুর প্রার্থনা ও রোনাজারি করতেন। আত্মমর্যাদা ও বীরত্বের সাথে বড় বড় ব্যক্তিত্বদের সান্নিধ্য লাভে তিনি সফল ছিলেন, যা তাঁর শেষ বয়সে তাঁর মাযহাবে তাঁর মতো সর্বগুণান্বিত ব্যক্তি মেলা ভার ছিল।
হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে যা লিপিবদ্ধ করেছেন সেখানে তাঁকে শায়খ, ইমাম, আল্লামা, ফকিহ, বিদগ্ধ পণ্ডিত, অত্যন্ত মেধাবী, উপকারী ও মুহাদ্দিস হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এবং তিনি তাঁর ‘ইনবা’ গ্রন্থে সংক্ষেপে তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, আল্লামা।
মৃত্যু:ইবনে আম্মার বাইনাল কাসরাইন এলাকার নাসেরিয়ায় তাঁর নিজ বাসভবনে শনিবার, ১৪ই জিলহজ, ৮৪৪ সনে ইন্তেকাল করেন। বাবুন নাসরে তাঁর জানাজা সম্পন্ন হয় এবং তাঁর বৈবাহিক আত্মীয়দের গোরস্তান ‘হাওশুল হানাবিলা’তে কুকায়-এর কবরের সম্মুখে তাঁকে দাফন করা হয়, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।
কবিতা:তাঁর রচিত কবিতার পঙক্তি:
হে প্রভু, হে পরম ক্ষমাশীল, হে সৃষ্টিকর্তা
… আপনার করুণা দিয়ে ইবনে আম্মারকে রক্ষা করুন।
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المبحث الثانيمنهج المصنف في كتابهقال المصنف في مقدمة كتابه وهو يتحدث عن الألفية:
فقويَ العزم، واستخرت الله تعالى في إبراز تعليقة بحاله، موضحةً ألفاظه ومعانيه، ومفصحةً عن ألفاظه ومبانيه، آمًّا في ذلك شرح الناظم، مع التذييل بفوائد ليس الإهمال مرجعها.
وأهم ما يستفاد من هذه العبارة أنه:
1 - اعتمد في شرحه هذا على شرح الناظم -العراقي-، والناظر في شرحه يتبين له أنه اختصره من شرح العراقي وتابعه في كثير من عباراته، وهذا مصداق قوله: آمًّا في ذلك شرح الناظم، أي أنه جعله إمامًا له في شرحه.
2 - الفائدة الثانية أنه ذيل على ما أخذه من شرح العراقي بفوائد لم تقع فيه، رأى أنه يقبح به إهمالها لأهميتها.
وأكثر هذه الفوائد والزوائد تدور في الغالب حول شرح كلمة لم يتعرض لشرحها العراقي، وبيان أهمية استعمالها في النظم دون غيرها، كما في شرحه كلمة «المقتدر» في بداية الكتاب (1).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদগ্রন্থকারের লিখন পদ্ধতি (মানহাজ)গ্রন্থকার তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় আলফিয়্যাহ সম্পর্কে আলোচনা করার সময় বলেছেন:
অতঃপর সংকল্প দৃঢ় হলো এবং আমি এর অবস্থার উপযোগী একটি টীকা প্রকাশের জন্য মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করলাম, যা এর শব্দ ও অর্থসমূহকে স্পষ্ট করবে এবং এর শব্দবিন্যাস ও গাঠনিক রূপ ব্যাখ্যা করবে। এক্ষেত্রে আমি মূল রচয়িতার (নাযিম) ব্যাখ্যাগ্রন্থকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং সেই সাথে এমন কিছু তথ্য ও ফায়দা সংযোজন করেছি যা উপেক্ষা করা সংগত নয়।
এই বক্তব্য থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যা প্রতীয়মান হয় তা হলো:
১ - তিনি তাঁর এই ব্যাখ্যায় মূল রচয়িতা আল-ইরাকির ব্যাখ্যাগ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছেন। তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি পর্যবেক্ষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, তিনি এটি ইরাকির ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকেই সংক্ষেপ করেছেন এবং বহু ভাষ্যের ক্ষেত্রে তাঁকে অনুসরণ করেছেন। আর এটিই তাঁর এই কথার সার্থকতা: "এক্ষেত্রে রচয়িতার ব্যাখ্যাগ্রন্থকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছি", অর্থাৎ তিনি একে তাঁর ব্যাখ্যার জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
২ - দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, তিনি ইরাকির ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে যা গ্রহণ করেছেন তার সাথে এমন কিছু অতিরিক্ত তথ্য বা ফায়দা যোগ করেছেন যা সেখানে ছিল না; এগুলোর গুরুত্বের কারণে তা বর্জন করাকে তিনি অনুচিত মনে করেছেন।
এই অতিরিক্ত তথ্য ও সংযোজনগুলোর অধিকাংশই সাধারণত এমন সব শব্দের ব্যাখ্যাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে যা ব্যাখ্যা করতে ইরাকি অগ্রসর হননি, এবং মূল ছন্দে অন্য কোনো শব্দের পরিবর্তে সেই নির্দিষ্ট শব্দের ব্যবহারের গুরুত্ব সেখানে তুলে ধরা হয়েছে; যেমনটি তিনি গ্রন্থের শুরুতে ‘আল-মুকতাদির’ শব্দের ব্যাখ্যায় করেছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أو في ضبط عَلَمٍ يُشكل، كما في ضبطه لحَمْد الخطابي (1)، وكذا ابن رُشَيْد (2)، واليعْمُرِي (3).
أو في إعراب كلمة وبيان متعلقها، كقوله عند قول الناظم:
.........................
… من الشذوذ مع راو ما اتهم
بكذب ولم يكن فردا ورد
… .............................
فقال: "بكذب متعلق باتهم" (4)، فهذا كله مما لم يتعرض له العراقي في شرحه.
كما أنه يتوسع في تعريف الأعلام والبلدان بأكثر من العراقي.
وابن عمار غالبًا ما يميز زوائده هذه بقوله: «قلت» (5) وأحياناً لا ينص على ذلك، وإنما يُعْرَفُ ذلك بالمقابلة.
--------------------------------------------
অথবা কোনো জটিল নাম সঠিকভাবে উচ্চারণের ক্ষেত্রে, যেমন তিনি হামদ আল-খাত্তাবি (১), ইবনে রুশাইদ (২) এবং আল-ইয়ামুরি (৩)-এর নামের উচ্চারণ স্পষ্ট করেছেন।
অথবা কোনো শব্দের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ইরাব) এবং তার সংশ্লিষ্টতা বর্ণনায়, যেমন কবির নিম্নোক্ত পঙ্ক্তির ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্য:
.........................
… শায (ব্যতিক্রমী) বর্ণনা হতে এমন বর্ণনাকারীসহ যাকে অভিযুক্ত করা হয়নি
মিথ্যার অভিযোগে এবং সে একক ছিল না যা প্রত্যাখ্যাত হয়
… .............................
অতঃপর তিনি বলেন: "'মিথ্যার অভিযোগে' কথাটি 'অভিযুক্ত করা' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট" (৪), আর এই বিষয়গুলোর কোনোটিই আল-ইরাকি তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে আলোচনা করেননি।
পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিবর্গ ও দেশসমূহের পরিচয়ের ক্ষেত্রে আল-ইরাকির চেয়েও অধিক বিস্তৃত আলোচনা পেশ করেছেন।
ইবনে আম্মার সাধারণত তাঁর এই অতিরিক্ত সংযোজনগুলোকে "আমি বলছি" (৫) বাক্যের মাধ্যমে স্বতন্ত্র করে দেখান, আবার কখনো কখনো তিনি তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন না, বরং মূল পাঠের সাথে তুলনা করার মাধ্যমেই তা চিহ্নিত করা যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المبحث الثالث
الإضافة التي نقدمها بنشر هذا الكتابالحق أن هذا الكتاب له مميزات تجعله من الكتب الهامة المتعلقة بألفية الحافظ العراقي، وأهم مميزاته:
1 - أن مصنفه من تلاميذ الحافظ العراقي، بل قد قرأ عليه نكتاً كان العراقي كتبها على الألفية، مما يدل على استيعابه لموضوع التصنيف، ووقوفه على مرادات ناظم الألفية بشكل مباشر.
2 - أن هذا الشرح يُعد أقدم شروح الألفية بعد شرحي مصنفها الكبير والمتوسط، حتى قال السخاوي في خاتمة فتح المغيث (1): وما علمت عليها -أي على الألفية- لسواه شرحاً.
3 - أن هذا الشرح احتوى من النكات والفوائد ما لا يوجد في غيره من شروح الألفية المطبوعة.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদএই গ্রন্থটি প্রকাশের মাধ্যমে আমরা যে অবদান রাখছিসত্য কথা হলো, এই গ্রন্থটি এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের অধিকারী যা একে হাফিজ আল-ইরাকির ‘আলফিয়্যাহ’ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১ - এর গ্রন্থকার হাফিজ আল-ইরাকির অন্যতম ছাত্র ছিলেন। বরং তিনি তাঁর কাছে এমন সব সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক বিষয় (নুকাআত) পাঠ করেছেন যা ইরাকি স্বয়ং আলফিয়্যাহর ওপর লিখেছিলেন। এটি রচনার বিষয়বস্তুর ওপর তাঁর পূর্ণ আয়ত্ত এবং আলফিয়্যাহ রচয়িতার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সরাসরি অবগত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে।
২ - এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি আলফিয়্যাহ রচয়িতার নিজস্ব বড় ও মাঝারি ব্যাখ্যাগ্রন্থদ্বয়ের পর আলফিয়্যাহর সবচেয়ে প্রাচীন ব্যাখ্যা হিসেবে গণ্য হয়। এমনকি আল-সাখাবি ‘ফাতহুল মুগিস’ (১) গ্রন্থের উপসংহারে বলেছেন: “আমি এটি অর্থাৎ আলফিয়্যাহর ওপর তিনি ছাড়া অন্য কারও কোনো ব্যাখ্যা সম্পর্কে জানি না।”
৩ - এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি এমন সব সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক বিষয় ও উপকারিতা ধারণ করেছে যা আলফিয়্যাহর মুদ্রিত অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থে পাওয়া যায় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المبحث الرابعرموز المصنفأكثر المصنف من إيراد الرموز في كتابه، وغالبها إنما استخدمها للاختصار، وأهم هذه الرموز:
(ش): يرمز بها للشرح أحيانا، وللشارح أحيانًا أخرى.
(ن): رمز للناظم العراقي.
(خ): رمز إلى آخره، واستخدمها للبخاري أحيانًا.
(ت): رمز للترمذي.
(ح): يرمز بها للحديث، ولحينئذ.
(ق): رمز لابن ماجه القزويني.
(ن): رمز للنسائي.
(د): رمز لأبي داود.
وبقيت رموز أخرى نبهنا على المراد منها في حواشي التحقيق.
চতুর্থ পরিচ্ছেদগ্রন্থকারের প্রতীকসমূহগ্রন্থকার তাঁর কিতাবে প্রচুর প্রতীকের ব্যবহার করেছেন, যেগুলোর অধিকাংশই তিনি সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন। এই প্রতীকগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণগুলো হলো:
(শীন): এর মাধ্যমে কখনো ব্যাখ্যা (শারহ), আবার কখনো ব্যাখ্যাকার (শারেহ)-কে নির্দেশ করা হয়েছে।
(নূন): এটি নাজিম আল-ইরাকির প্রতীক।
(খা): এটি শেষ পর্যন্ত (ইলা আখিরিহি) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে এবং কখনো কখনো তিনি এটি বুখারির জন্য ব্যবহার করেছেন।
(তা): এটি তিরমিযীর প্রতীক।
(হা): এর মাধ্যমে হাদীস এবং 'তৎক্ষণাৎ' (হীনা ইযিন) বোঝানো হয়েছে।
(কাফ): এটি ইবনে মাজাহ আল-কাযভীনীর প্রতীক।
(নূন): এটি নাসাঈর প্রতীক।
(দাল): এটি আবু দাউদের প্রতীক।
এছাড়াও আরও কিছু প্রতীক অবশিষ্ট রয়েছে যেগুলোর উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমরা সম্পাদনার টীকাসমূহে অবহিত করেছি।
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المبحث الخامسإثبات نسبة الكتاب إلى مصنفهجاء في مقدمة هذا الكتاب ما نصه: قال سيدُنا وشيخُنا العالمُ العلَّامة القدوة، شيخ المسلمين، محمد أبو ياسر شمس الدين بن الشيخ الصالح القدوة عَمَّار المالكي رحمه الله ونفعنا بعلومه والمسلمين آمين.
مما يبين بجلاء صحة نسبة هذا الكتاب لابن عمار المالكي، لذا فقد نسبه إليه مَن تَرْجَمَه كالسخاوي في الضوء اللامع، كما نسبه إليه في آخر فتح المغيث (1).
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদরচনাকারীর প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের প্রমাণএই গ্রন্থের ভূমিকায় নিম্নোক্ত পাঠটি এসেছে: আমাদের নেতা ও শায়খ, আলিম, বিজ্ঞ আল্লামা, অনুসরণীয় আদর্শ, মুসলিমদের শায়খ, মুহাম্মদ আবু ইয়াসির শামসুদ্দিন বিন আশ-শায়খ আস-সালিহ আল-কুদওয়াহ আম্মার আল-মালিকি (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন এবং তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে আমাদের ও মুসলিমদের উপকৃত করুন, আমিন) বলেছেন।
যা ইবনে আম্মার আল-মালিকির প্রতি এই গ্রন্থটির সম্বন্ধের সঠিকতা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। এই কারণেই যারা তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন, তারা একে তাঁর প্রতিই সম্বন্ধ করেছেন; যেমন আস-সাখাউয়ি 'আদ-দাও আল-লামি' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন, তদ্রূপ 'ফাতহুল মুগিস' (১)-এর শেষেও এটিকে তাঁর প্রতি সম্বন্ধ করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المبحث السادستسمية الكتابنص ابن عمار المالكي نفسه على تسمية كتابه في مقدمته بقوله:
وسميتها -أي تعليقته على الألفية- بـ «مفتاح السعيدية في شرح الألفية الحديثية»، وهذه هي التسمية التي اعتمدناها في نشرتنا للكتاب.
وعنوان الكتاب يوحي بأنه شرح مستقل على الألفية وليس مختصرًا من شرح آخر، ولعله من أجل ذلك ذكر بعض من صنف في أسماء الكتب لابن عمار هذا شرحاً على الألفية، كصاحب "هدية العارفين"، إلا أن الواقع - كما أشار إليه ابن عمار نفسه في مقدمته- أنه استمد شرحه من شرح الناظم، لكن لعله لما كانت فيه فوائد ونكات زيادة على ما في شرح الناظم جعله وكأنه شرح مستقل.
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদগ্রন্থের নামকরণইবনে আম্মার আল-মালিকি নিজেই তাঁর গ্রন্থের ভূমিকার বক্তব্যের মাধ্যমে গ্রন্থটির নামকরণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন:
“আমি এর নাম দিয়েছি—অর্থাৎ আলফিয়্যাহর ওপর তাঁর টীকাটি—‘মিফতাহুস সাঈদিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ আল-হাদিসিয়্যাহ’, এবং এটিই সেই নাম যা আমরা এই গ্রন্থের প্রকাশনায় গ্রহণ করেছি।”
গ্রন্থটির শিরোনাম থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, এটি আলফিয়্যাহর একটি স্বতন্ত্র ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং অন্য কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার নয়। সম্ভবত এই কারণেই গ্রন্থপঞ্জি বিষয়ক লেখকদের মধ্যে কেউ কেউ ইবনে আম্মারের এই কাজটিকে আলফিয়্যাহর একটি স্বতন্ত্র ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যেমন ‘হাদিয়াতুল আরিফিন’-এর রচয়িতা। তবে বাস্তবতা হলো—যেমনটি ইবনে আম্মার নিজেই তাঁর ভূমিকায় ইঙ্গিত করেছেন—তিনি তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি মূল রচয়িতার (নাযিম) ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে আহরণ করেছেন। তবে সম্ভবত এতে মূল রচয়িতার ব্যাখ্যার অতিরিক্ত কিছু ফায়দা এবং সূক্ষ্ম আলোচনা থাকার কারণে তিনি এটিকে একটি স্বতন্ত্র ব্যাখ্যাগ্রন্থের রূপ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
المبحث السابع
النسخة الخطية التي حققت عليها الكتاب
- هي من محفوطات (المكتبة الأزهرية) بمصر، برقم (1325) مصطلح.
- تقع في (187) ورقة، ومسطرتها (17) سطراً في الصفحة.
- خطها واضح في الجملة إلا في بعض المواضع.
- وعليها تعليقات وتصحيحات كثيرة.
- ناسخها هو محمد بن عبد الواحد بن عبد الله بن محمد الدالاصي الأنصاري المالكي.
- ولم يتبين لي من تاريخ نسخها الذي أثبته في خاتمة الكتاب إلا اليوم والشهر وهو التاسع من شهر ذي الحجة الحرام.
- إلا أنه يظهر أنه نسخها في المئة التاسعة لأن مقدمة الناسخ للكتاب توحي بأنه من تلاميذ ابن عمار المالكي حيث قال في مقدمة الكتاب: قال سيدُنا وشيخُنا العالمُ العلَّامة القدوة، شيخ المسلمين، محمد أبو ياسر شمس الدين بن الشيخ الصالح القدوة عَمَّار المالكي
…-الكلمات التي وقعت على الجانب الأيسر من أول صفحات المخطوط لم تظهر بسبب خلل في التصوير على ما يبدو.
সপ্তম পরিচ্ছেদ
যে পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে বইটি সম্পাদিত হয়েছে
- এটি মিশরের (আল-আজহার লাইব্রেরি)-এর সংরক্ষিত সংগ্রহশালাভুক্ত, যার নম্বর (১৩২৫) মুসতালাহ।
- এটি (১৮৭)টি পত্র সংবলিত, এবং এর বিন্যাস প্রতি পৃষ্ঠায় (১৭)টি করে লাইন।
- কিছু স্থান ব্যতীত সাধারণভাবে এর হাতের লেখা স্পষ্ট।
- এবং এর ওপর প্রচুর টীকা ও সংশোধনী রয়েছে।
- এর অনুলিপিকারক হলেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আদ-দালাসি আল-আনসারি আল-মালিকি।
- বইয়ের শেষে তিনি অনুলিপি সম্পন্ন করার যে তারিখটি উল্লেখ করেছেন, তা থেকে আমার কাছে কেবল দিন এবং মাসটিই স্পষ্ট হয়েছে, আর তা হলো পবিত্র যুল-হিজ্জাহ মাসের নবম দিন।
- তবে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি এটি নবম হিজরি শতকে অনুলিপি করেছেন। কারণ বইটিতে অনুলিপিকারকের ভূমিকা ইঙ্গিত দেয় যে তিনি ইবন আম্মার আল-মালিকির ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বইয়ের ভূমিকায় বলেছেন: "আমাদের নেতা ও শাইখ, বিজ্ঞ আলেম, সুপণ্ডিত, অনুকরণীয় আদর্শ, মুসলিমদের শাইখ মুহাম্মদ আবু ইয়াসির শামসুদ্দিন বিন আশ-শাইখ আস-সালিহ আল-কুদওয়াহ আম্মার আল-মালিকি বলেছেন
…- পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠাগুলোর বাম দিকে থাকা শব্দগুলো দৃশ্যমান হয়নি, সম্ভবত চিত্রগ্রহণের ত্রুটির কারণে।
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
-وقع خرم ظاهر بعد (ق11/أ) فسقط شرح الأبيات (41، 42، 43) من الألفية، كما يؤكد وقوع الخرم التعقيبة التي وقعت في أسفل (ق11/أ) حيث كُتِب فيها (بالظن)، لكن الصفحة التالية بدأت بكلمة (الصلاح).
- كما وقع خرم كبير بعد (ق120/أ) حيث انتقل الشرح من البيت رقم (605) إلى بيت رقم (786)، أي من باب الإشارة بالرمز إلى باب معرفة الصحابة، ويؤكد الخرم كذلك التعقيبة التي وقعت في أسفل (ق120/أ) حيث كتب فيها: (قلت: ورمز) لكن الصفحة التالية بدأت بقوله: (أخرج من رواه).
- ويدل ما ذكرناه من موضوع التعقيبة أن الخرم لم يقع سهوًا من المصور بل النسخة التي بين يديه فيها خرم.
- (পত্র ১১/ক) এর পরে একটি স্পষ্ট বিচ্ছিন্নতা ঘটেছে, যার ফলে আলফিয়্যাহর ৪১, ৪২ ও ৪৩ নং শ্লোকের ব্যাখ্যা বাদ পড়ে গেছে। এই বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি (পত্র ১১/ক) এর নিচে থাকা পরবর্তী পৃষ্ঠার নির্দেশক শব্দ (তা'কিবাহ) দ্বারাও নিশ্চিত হওয়া যায়; যেখানে 'ধারণাবশত' শব্দটি লেখা ছিল, কিন্তু পরবর্তী পৃষ্ঠাটি 'সংশোধন' শব্দ দিয়ে শুরু হয়েছে।
- অনুরূপভাবে (পত্র ১২০/ক) এর পরে একটি বড় ধরনের বিচ্ছিন্নতা ঘটেছে, যেখানে ব্যাখ্যাটি ৬০৫ নম্বর শ্লোক থেকে সরাসরি ৭৮৬ নম্বর শ্লোকে চলে গেছে; অর্থাৎ, 'প্রতীকের মাধ্যমে ইঙ্গিত' অধ্যায় থেকে সরাসরি 'সাহাবীগণের পরিচিতি' অধ্যায়ে পৌঁছে গেছে। এই বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি (পত্র ১২০/ক) এর নিচে থাকা পরবর্তী পৃষ্ঠার নির্দেশক শব্দ (তা'কিবাহ) দ্বারাও সমর্থিত হয়; যেখানে লেখা ছিল: 'আমি বলেছি: এবং প্রতীক', কিন্তু পরবর্তী পৃষ্ঠাটি তাঁর এই বক্তব্য দিয়ে শুরু হয়েছে: 'যিনি এটি বর্ণনা করেছেন তিনি তা বের করেছেন'।
- অনুবৃত্তি বা পরবর্তী পৃষ্ঠার সংকেত বিষয়ে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এই বিচ্ছিন্নতা বা ত্রুটি চিত্রগ্রাহকের কোনো অসতর্কতার কারণে ঘটেনি, বরং তার হাতে থাকা মূল পাণ্ডুলিপিটিতেই এই বিচ্ছিন্নতা বিদ্যমান ছিল।
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
صور من النسخة الخطية
পাণ্ডুলিপির চিত্রসমূহ
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
النص المحقق
সম্পাদিত পাঠ
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
صور من النسخ الخطية
Description: 02Description: 187
النص المحقق
النص المحقق
بسم الله الرحمن الرحيم
قال سيدُنا وشيخُنا العالمُ العلَّامة القدوة، شيخ المسلمين، محمد أبو ياسر شمس الدين بن الشيخ الصالح القدوة عَمَّار المالكي [رحمه الله] ونفعنا بعلومه والمسلمين آمين.
الحمد لله الذي خَصَّنَا بالكتاب [والسنة] فدفع عنا ببركتهما الخسف الظاهر فجاءت البشرى، وما بقي حَديث (1).
والصلاة والسلام على سيدنا محمد الكاشف بميزان ذهب فصاحِتِهِ عن شريعةٍ طاهرةٍ مَيَّزَت لنا الطَّيِّب من الخبيث، ورضي الله عن أصحابه الذين كانوا سعدَ السعود، ففدوه بأنفسهم وأموالهم، وأجابوه في الدركات
… ، ولسان حاله هل من معين.
أما بعد: فإن أجلَّ العلوم بعد علوم الكتاب علمُ الحديث، وهو كما قال الناظم: خطير وقعه، كثير نفعه، عليه مدار الأحكام، وبه يُعْرَف الحلال والحرام. انتهى.
وسئل بعض العلماء
… : ما بالنا نرى قوماً يشتغلون بالقرآن وعلومه وقراءته، وقوماً يشتغلون بالحديث وعلومه ونقله، وقوماً يشتغلون بالفقه
… ، وقوماً يشتغلون بالأدب ومحاسنه، وكل منهم يُقْبِلُ على الفَنِّ الذي هو فيه لا يشتغل بغيره؟ فقال: تلك الطرق إلى الله تعالى
… انتهى.
ولأهل الحديث اصطلاح لابد للطالب من فَهْمِه، فلهذا نُدِب إلى تقديم
--------------------------------------------
পাণ্ডুলিপির চিত্রসমূহ
বিবরণ: ০২ বিবরণ: ১৮৭
সম্পাদিত পাঠ
সম্পাদিত পাঠ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমাদের নেতা ও শায়খ, প্রাজ্ঞ আলেম, মহান পণ্ডিত, অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব, মুসলমানদের শায়খ, মুহাম্মদ আবু ইয়াসির শামসুদ্দিন ইবন শায়খ আস-সালিহ আল-কুদওয়া আম্মার আল-মালিকি [আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন] বলেছেন এবং আল্লাহ তাঁর ও মুসলমানদেরকে তাঁর ইলম দ্বারা উপকৃত করুন, আমিন।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের কিতাব [ও সুন্নাহ] দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন এবং এ দুটির বরকতে আমাদের থেকে প্রকাশ্য বিপর্যয় প্রতিহত করেছেন, ফলে সুসংবাদ এসেছে এবং কোনো আলোচনাই অবশিষ্ট থাকেনি (১)।
এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদের ওপর, যিনি তাঁর স্বর্ণসম বাগ্মিতার তুলাদণ্ড দ্বারা এমন এক পবিত্র শরীয়ত উন্মোচিত করেছেন যা আমাদের নিকট পবিত্র ও অপবিত্রের পার্থক্য স্পষ্ট করেছে; এবং আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন তাঁর সাহাবীগণের প্রতি, যারা ছিলেন সৌভাগ্যের নক্ষত্রস্বরূপ; তাঁরা নিজেদের জীবন ও সম্পদ দিয়ে তাঁর জন্য উৎসর্গিত ছিলেন এবং চরম বিপদের মুহূর্তেও তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন
… , আর তাঁদের অবস্থার ভাষা ছিল—কোনো সাহায্যকারী আছে কি?
অতঃপর: নিশ্চয়ই কিতাবুল্লাহর ইলমের পর সবচেয়ে মহান ইলম হলো হাদিসের ইলম। এটি ঠিক তেমনই যেমনটি কাব্যকার বলেছেন: এর প্রভাব অত্যন্ত গভীর, এর উপকারিতা প্রচুর, এর ওপরই সমস্ত বিধান আবর্তিত এবং এরই মাধ্যমে হালাল ও হারাম চেনা যায়। সমাপ্ত।
এবং কোনো কোনো আলেমকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল
… : আমাদের কী হলো যে, আমরা একদলকে কুরআন, এর জ্ঞান ও কিরাত নিয়ে মগ্ন দেখি, আবার একদলকে হাদিস, এর ইলম ও বর্ণনা নিয়ে মগ্ন দেখি, একদলকে ফিকহ নিয়ে মগ্ন দেখি
… , আবার একদলকে সাহিত্য ও এর সৌন্দর্য নিয়ে মগ্ন দেখি; এবং তাদের প্রত্যেকেই যে শাস্ত্রে নিয়োজিত আছে তাতেই অভিনিবেশ করে, অন্য কিছুতে লিপ্ত হয় না? তিনি বললেন: এগুলো আল্লাহর দিকে যাওয়ার বিভিন্ন পথ
… সমাপ্ত।
আর হাদিস বিশারদদের নিজস্ব কিছু পরিভাষা রয়েছে যা শিক্ষার্থীর জন্য অনুধাবন করা অপরিহার্য। এই কারণেই (এটি) আগে উপস্থাপনের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
العناية بكتب في علمه، وكان الإمام المحدث تقي الدين [2 - أ] ابن الصلاح صنف مصنفاً اعتنى العلماء به بعده فعكفوا عليه، فاختصره اختصاراً مفيداً النوويُّ في كتابه المسمى بـ «الإرشاد»، ثم اختصر «الإرشاد» في كتابه «التقريب والتيسير» فأجاده، وقرأتُه قراءةَ بحثٍ على شيخنا العلامة سراج الدين أبي حفص عمر النحوي (1)، وأجازني، واختصره جماعة آخرهم التاج التبريزي، وقاضي القضاة بدر الدين بن جماعة فما قصر، وشيخنا الناظم أبو المعالي عبد الرحيم بن الحسين العراقي رحمه الله تعالى في هذه المنظومة الألفية، بعد أن كتب عليها نكتاً قرأتها على شيخنا وأجازني بها، ثم إنه شرحها شرحين كبيراً ومتوسطاً، وكنتُ قبل أن أقف عليه بحثتُ على شيخنا الإمام العالم سراج الدين أبي حفص عمر البُلْقيني طائفة من «مختصره» المترجم بـ «محاسن الاصطلاح» لما قرئ في بحثنا «الألفية» هذه، فقويَ العزم، واستخرت الله تعالى في إبراز تعليقة بحاله، موضحةً ألفاظه ومعانيه، ومفصحةً عن ألفاظه ومبانيه، آمًّا في ذلك شرح الناظم، مع التذييل بفوائد ليس الإهمال مرجعها، راجياً لك النفع والانتفاع، والعون على التذكرة بالمغفرة والرحمة ونفي الابتداع، وسميتها بـ «مفتاح السعيدية في شرح الألفية الحديثية» واللهَ أسأل الغفران والعفو عن زلات القدم، إنه الحاكمُ بالحق المدبِّرُ الحَكَم.
قوله:
1 - يَقُوْلُ رَاجِي رَبّهِ المُقْتَدِرِ
… عَبْدُ الرَّحيمِ بنُ الحُسيْنِ الأَثَريْ
--------------------------------------------
হাদীস শাস্ত্রের কিতাবসমূহের প্রতি যত্ন নেওয়া হয়েছে; ইমাম মুহাদ্দিস তাকিউদ্দীন [২ - ক] ইবনুস সালাহ এমন একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন যার প্রতি পরবর্তী আলেমগণ অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এর উপর একাগ্রভাবে নিবিষ্ট হয়েছেন। অতঃপর ইমাম নববী তাঁর 'আল-ইরশাদ' নামক কিতাবে অত্যন্ত চমৎকার ও দরকারীভাবে এর সারসংক্ষেপ করেছেন। এরপর তিনি পুনরায় 'আল-ইরশাদ'-কে তাঁর 'আত-তাকরীব ওয়াত-তাইসীর' কিতাবে সংক্ষেপ করেছেন এবং এটি তিনি নিপুণভাবে সম্পন্ন করেছেন। আমি আমাদের শাইখ আল্লামা সিরাজুদ্দীন আবু হাফস উমর আন-নাহবী (১)-এর কাছে গবেষণামূলক পাঠ হিসেবে এটি পড়েছি এবং তিনি আমাকে এর অনুমতি (ইজাযত) প্রদান করেছেন। আরও একদল আলেম এটি সংক্ষেপ করেছেন, যাদের সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন তাজ আত-তাবরিজী এবং কাযিউল কুযাত বদরুদ্দীন ইবনে জামাআহ—যিনি কোনো ত্রুটি করেননি। আর আমাদের শাইখ কবিতা রচয়িতা (নাযিম) আবু আল-মা'আলী আবদুর রাহীম বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকী (রহমতুল্লাহি তা'আলা) এই 'মানযুমাহ আলফিয়্যাহ'-তে এটি সংক্ষেপ করেছেন। এর আগে তিনি এর ওপর কিছু টীকা লিখেছিলেন যা আমি আমার শাইখের নিকট পড়েছি এবং তিনি আমাকে এর ইজাযত দিয়েছিলেন। এরপর তিনি এর দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন—একটি বৃহৎ এবং অন্যটি মাঝারি। তাঁর সেই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি দেখার আগে আমি আমাদের শাইখ ইমাম আলিম সিরাজুদ্দীন আবু হাফস উমর আল-বুলকিনী সাহেবের কাছে তাঁর 'মাহাসিনুল ইস্তিলাহ' নামক সারসংক্ষেপের একটি অংশ গবেষণা করেছি, যখন আমাদের পাঠচক্রে এই 'আলফিয়্যাহ' পাঠ করা হচ্ছিল। তখন আমার সংকল্প সুদৃঢ় হয় এবং আমি এর অবস্থা অনুযায়ী একটি টীকা প্রকাশের বিষয়ে আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করি, যা এর শব্দ ও অর্থসমূহকে সুস্পষ্ট করবে এবং এর শব্দাবলী ও কাঠামোর বর্ণনা দেবে। এতে আমি মূল কবির ব্যাখ্যার অনুসরণ করার সংকল্প করি এবং সাথে এমন কিছু ফায়দা বা উপকারী তথ্য যুক্ত করি যা উপেক্ষা করার মতো নয়। আমি আপনার জন্য উপকার লাভ এবং উপকার প্রদানের আশা করছি, আর মাগফিরাত ও রহমতের স্মরণে সাহায্য লাভ এবং বিদআত দূরীকরণের প্রত্যাশা করছি। আমি এর নামকরণ করেছি 'মিফতাহুস সাঈদিইয়্যাহ ফী শারহিল আলফিয়্যাহ আল-হাদীসিয়্যাহ'। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা এবং পায়ের বিচ্যুতি থেকে পরিত্রাণ প্রার্থনা করছি; নিশ্চয়ই তিনি সত্যের ফয়সালাকারী, পরিচালক ও মহাবিজ্ঞ বিচারক।
তাঁর উক্তি:
১ - তাঁর সর্বশক্তিমান রবের প্রত্যাশী আবদুর রাহীম বিন আল-হুসাইন আল-আসারি বলছেন
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
[2 - ب]
ش (1): قُلْتُ: مُقْتَدِر بمعنى قادر على ما أراد، فقال (ن) (2): «المقتدر» دون غيره من الصفات إعلاماً بأنه في مقام الرجاء والخوف، مقتدياً بقوله تعالى {يَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ} [الإسراء:57]، وأنه يؤمن بالقدرِ خيرِه وشَرِّهِ حُلْوِه ومُرِّه، لا غرو أنه بذلك أثري، وفاق قول الزواوي (3): «يقول راجي عفو ربه الغفور» (4).
و «الأَثَري» بفتح الهمزة والمثلثة نِسْبَةً إلى الأثر: الحديث، واشتُهِر جماعةٌ بذلك ومنهم الخَلَّال الحسين بن عبد الملك (5) وابن منصور عبد الكريم.
وقوله:
2 - مِنْ بَعْدِ حَمْدِ اللهِ ذي الآلاءِ
… على امْتِنَانٍ جَلَّ عَنْ إحْصَاء
ش: الآلاء واحده «ألًا» بفتح الهمزة والتنوين كرحًى: النِّعَم، وقيل: «إلاً» كمعاً، بكسر أوله [وقيل] (6): كنِحىً بكسر أوله وسكون العين منوناً.
--------------------------------------------
[২ - খ]
ব্যাখ্যা (১): আমি বলছি: ‘মুকতাদির’ অর্থ হলো তিনি যা ইচ্ছা করেন তার ওপর পূর্ণ সক্ষম। অতঃপর ছন্দকার (২) বলেছেন: অন্যান্য গুণাবলির পরিবর্তে ‘মুকতাদির’ শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে এটা জানানোর জন্য যে, তিনি (বান্দা) আশা ও ভয়ের অবস্থানে রয়েছেন। তিনি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অনুসরণ করেছেন: {তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর আজাবকে ভয় করে} [আল-ইসরা: ৫৭]। আর তিনি তাকদীরের ভালো-মন্দ এবং মিষ্টি ও তিতুর ওপর ঈমান রাখেন। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, এর মাধ্যমে তিনি একজন আসারী (হাদিস ও আসার অনুসারী) হিসেবে গণ্য হন। আর এটি জাওয়াভী (৩)-এর এই বাণীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ: "ক্ষমাশীল প্রতিপালকের ক্ষমার প্রত্যাশী বলছে" (৪)।
এবং ‘আল-আসারী’ শব্দটি হামজা এবং ‘সা’ বর্ণে ফাতহা (যবর) সহযোগে ‘আসার’ (অর্থাৎ হাদিস)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। একদল আলেম এই নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন আল-খাল্লাল হুসাইন বিন আব্দুল মালিক (৫) এবং ইবনে মানসুর আব্দুল কারীম।
এবং তাঁর উক্তি:
২ - মহান নেয়ামতসমূহের অধিকারী আল্লাহর প্রশংসার পর
… এমন অনুগ্রহের জন্য যা গণনাাতীত
ব্যাখ্যা: ‘আল-আলা’ (الآلاء) এর একবচন হলো ‘আলান’ (ألاً) — হামজাতে ফাতহা (যবর) এবং তানভীন সহযোগে ‘রাহান’ (رحًى) শব্দের ওজনে — যার অর্থ হলো নেয়ামত। কেউ কেউ বলেন: এটি ‘ইলান’ (إلاً) — ‘মাআন’ (معاً) এর মতো শুরুতে কাসরা (যের) সহযোগে। [আবার বলা হয়েছে] (৬): এটি ‘নিহান’ (نِحىً) এর মতো, শুরুতে কাসরা এবং দ্বিতীয় বর্ণে সুকুন ও তানভীন সহযোগে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وقوله:
3 - ثُمَّ صَلَاةٍ وسَلامٍ دَائِمِ
… على نَبِيِّ الخَيْرِ ذِي المَرَاحِم
ش: قلت هو بجر «صلاةٍ وسلامٍ دائم» عطفاً على «حَمْد» المخفوض بـ «بَعْد».
و «المراحم» واحده مَرْحَمَة: الرَّحْمة، وفي «مسلم» (1): «أنا نبي الرَّحمة» أو «المرحمة» أو «الملحمة»، روايات ثلاث.
وقوله:
4 - فَهَذِهِ المَقَاصِدُ المُهِمَّهْ
… تُوْضِحُ مِنْ عِلْمِ الحدِيْثِ رَسْمَهْ
ش: قلت: و «تُوضِح» بِضَمِّ أوَّله من أَوْضَح رُباعياً.
و «الرَّسم» لغةً: الأثر، ومنه رَسْمُ الدَّار: أَثَرُهَا اللَّاصِق بالأرض. واصطلاحاً: أَثَر أهل الحديث المبني على أصولهم (2)، وفيه الإشارة بالرَّسم إلى دُرُوس كثيرٍ من علم الحديث، وأنه بقيت منه آثار يُهْتَدَى بها.
وقوله:
5 - نَظَمْتُهَا تَبْصِرَةً لِلمُبتَدِيْ
… تَذْكِرَةً لِلْمُنْتَهِي والْمُسْنِد
ش: قلت: هو بنصب «تبصرةً وتذكرة» على المفعول لأجله، أي: لأجل التبصرة والتذكرة [3 - أ].
--------------------------------------------
এবং তাঁর উক্তি:
৩ - অতঃপর নিরন্তর সালাত ও সালাম... কল্যাণের নবী, দয়ার আধারগণের অধিপতির প্রতি।
ব্যাখ্যা: আমি বলছি, ‘সালাত ও সালাম দাইম’ শব্দগুলো ‘জের’ (কাসরা) বিশিষ্ট হয়েছে, কারণ এগুলো ‘বাদ’ শব্দের পরবর্তী ‘হামদ’ শব্দের ওপর আতফ (সংযুক্ত) হিসেবে এসেছে।
আর ‘আল-মারাহিম’ এর একবচন হলো ‘মারহামাহ’, যার অর্থ রহমত বা দয়া। সহীহ মুসলিমে (১) বর্ণিত হয়েছে: “আমি রহমতের নবী” অথবা “মারহামাহ-এর নবী” অথবা “মালহামাহ-এর নবী”; এখানে তিনটি বর্ণনা রয়েছে।
এবং তাঁর উক্তি:
৪ - এগুলিই হলো গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যসমূহ... যা ইলমে হাদীসের রূপরেখাকে স্পষ্ট করে।
ব্যাখ্যা: আমি বলছি, ‘তুদজিহু’ শব্দটি প্রথম বর্ণে পেশ (যম্মাহ) যোগে গঠিত, যা চার বর্ণবিশিষ্ট ক্রিয়ামূল ‘আওদাহা’ থেকে নির্গত।
শাব্দিক অর্থে ‘আর-রাসম’ অর্থ হলো চিহ্ন। এর থেকে গৃহের ধ্বংসাবশেষের চিহ্নকে ‘রসমুদ দার’ বলা হয় যা ভূমির সাথে মিশে থাকে। আর পারিভাষিক অর্থে: হাদীসবিদগণের রেখে যাওয়া সেই নিদর্শন যা তাঁদের মূলনীতিসমূহের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত (২)। এখানে ‘রাসম’ শব্দটির ব্যবহারের মাধ্যমে ইলমে হাদীসের অনেক বিষয়ের বিলুপ্তির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, এবং এও বোঝানো হয়েছে যে এর এমন কিছু নিদর্শন অবশিষ্ট রয়েছে যা দ্বারা সঠিক পথ খুঁজে পাওয়া যায়।
এবং তাঁর উক্তি:
৫ - আমি তা পদ্যাকারে সংকলন করেছি নতুনদের শিক্ষার জন্য... এবং অভিজ্ঞ ও মুসনিদদের স্মারক হিসেবে।
ব্যাখ্যা: আমি বলছি, ‘তাবসিরাতান’ ও ‘তাযকিরাতান’ শব্দ দুটিতে ‘নসব’ (যবর) হয়েছে ‘মাফউলে লা-হু’ (উদ্দেশ্যবাচক কর্ম) হিসেবে। অর্থাৎ: শিক্ষা ও স্মরণের উদ্দেশ্যে। [৩ - ক]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
و «المسند» بكسر النون اسم فاعل من أَسْنَدَ -رباعياً- الحديث إذا رواه بإسناده. والمُسْنَدي بفتحها: اسم مفعول، منه عبد الله بن محمد شيخ البخاري (1).
وقوله:
6 - لَخَّصْتُ فيهَا ابْنَ الصَّلاحِ أَجْمَعَهْ
… وَزِدْتُهَا عِلْمَاً تَرَاهُ مَوْضِعَهْ
ش: قلت: «أَجْمَعَه» بالنصب توكيداً لقوله «ابنَ الصلاح» على حذف مضاف أي: كتاب ابن الصلاح، وفيه التأكيد «بأجمع» دون «كل» على حد قوله:
إذن ظللت أبكي أجمعا
وابنُ الصلاح هو: الإمام تقي الدين أبو عَمرو عثمان بن عبد الرحمن، قرأ على والده ابن الصلاح وكان من جملة مشايخ الأكراد. انتهى.
ويعني أنه في هذه المنظومة لَخَّصَ كتابَ ابن الصلاح مسألة وقسماً، وأسقط كثيراً من الأمثلة والتعاليل، ونسبة القول لقائله، والمكَرَّر، وزاد بها زيادات [يُعْثَر] على طريق كونها زيادة على ما نَبَّه عليه في (ش).
وقوله:
7 - فَحَيْثُ جَاءَ الفِعْلُ والضَّميْرُ
… لِواحِدٍ وَمَنْ لَهُ مَسْتُوْرُ
--------------------------------------------
এবং 'আল-মুসনিদ' নুন বর্ণে কাসরাহ (জের) সহ—এটি চার অক্ষর বিশিষ্ট ক্রিয়ামূল 'আসনাদা' থেকে গঠিত কর্তাবাচক বিশেষ্য; যখন হাদিস তার সনদসহ বর্ণনা করা হয় তখন তাকে মুসনিদ বলা হয়। আর 'আল-মুসনাদী' নুন বর্ণে ফাতহাহ (জবর) সহ—এটি কর্মবাচক বিশেষ্য, যার অন্তর্ভুক্ত হলেন ইমাম বুখারীর শাইখ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ (১)।
তার উক্তি:
৬ - আমি এতে ইবনে আস-সালাহ-এর পুরো গ্রন্থটি সারসংক্ষেপ করেছি... এবং এতে এমন কিছু জ্ঞান যুক্ত করেছি যা আপনি এর যথাস্থানে দেখতে পাবেন।
ব্যাখ্যা: আমি বলছি: 'আজমাহু' শব্দটি নসব অবস্থায় 'ইবনে আস-সালাহ' শব্দের জন্য তাকিদ হিসেবে এসেছে, এখানে একটি মুদাফ উহ্য রয়েছে, অর্থাৎ: ইবনে আস-সালাহ-এর কিতাব। এখানে 'কুল্লু' শব্দের পরিবর্তে 'আজমাহ' দ্বারা তাকিদ দেওয়া হয়েছে, যেমনটি এই কবিতায় বলা হয়েছে: "তখন আমি পুরোটাই কাঁদতে থাকলাম।"
আর ইবনে আস-সালাহ হলেন: ইমাম তাকিউদ্দীন আবু আমর উসমান বিন আব্দুর রহমান, তিনি তাঁর পিতা ইবনে আস-সালাহ-এর নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং তিনি কুর্দি শাইখদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সমাপ্ত।
এর অর্থ হলো, তিনি এই কাব্যগ্রন্থে ইবনে আস-সালাহ-এর কিতাবটিকে মাসআলা ও অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সারসংক্ষেপ করেছেন এবং অনেক উদাহরণ, কারণ বর্ণনা, প্রবক্তার দিকে উক্তির সম্বন্ধ এবং পুনরাবৃত্তি বাদ দিয়েছেন। আর এতে এমন কিছু বর্ধিত অংশ যোগ করেছেন যা শারাহ-এ বর্ণিত বিষয়ের অতিরিক্ত হিসেবে পাওয়া যায়।
তার উক্তি:
৭ - সুতরাং যেখানেই ক্রিয়া এবং সর্বনাম... একজনের জন্য আসবে এবং যার জন্য তা গোপন থাকবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ش: اصطلح على تعيين ابن الصلاح بما [نقله] (1) من كتابه بعلامات منها:
أن يأتي بفعلٍ مُسْنَد لواحدٍ غير مذكور ألبَتَّة مثل: «وقال: بان لي.
ومنها أن يأتي بضمير واحد غير مُقَيَّد بما قبله مثل: «كذا له».
ومنها: أن يُطْلِقَ لفظَ الشيخ مثل: «فالشيخ فيما بعد».
وإلى هذا يشير بقوله:
8 - كَـ (قَالَ) أوْ أَطْلَقْتُ لَفْظَ الشَّيْخِ مَا
… أُرِيْدُ إلَاّ ابْنَ الصَّلاحِ مُبْهَمَا
ش: مُبْهَماً بفتح الهاء وكسرها، اسم فاعل أو اسم مفعول من «أبْهَمَ» الرُّبَاعي.
وقوله:
9 - وَإِنْ يَكُنْ لاثْنَيْنِ نَحْوُ (الْتَزَمَا)
… فَمُسْلِمٌ مَعَ البُخَارِيِّ هُمَا
ش: يعني إذا كان الفعل والضمير لاثنين فالمراد: البُخَاري ومسلم، مثل: و «اقطع بصحةٍ لما [3 - ب] قَدْ أَسْنَدَا».
وقوله:
10 - وَاللهَ أرجُوْ في أُمُوْرِي كُلِّهَا
… مُعْتَصمَاً في صَعْبِهَا وَسَهْلِهَا
ش: قلت هو بنصب اسم الله تعالى هاهنا بوقوع الرَّجَاء على مُقَدَّم على القائل فيه لِضَرْبٍ من العناية والاهتمام بالمرجو لا إله إلا هو، والعرب تُقَدِّمُ ما
--------------------------------------------
ব্যাখ্যা: ইবনুল সালাহকে নির্দিষ্ট করার জন্য তাঁর কিতাব থেকে যা উদ্ধৃত করা হয়েছে, তাতে কিছু পরিভাষা নির্ধারণ করার রীতি রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো:
এমন একটি ক্রিয়া নিয়ে আসা যা এমন একজনের দিকে সম্বন্ধযুক্ত যার নাম আদৌ উল্লেখ করা হয়নি। যেমন: "তিনি বললেন: আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে।"
আরেকটি হলো এমন একটি একবচন সর্বনাম নিয়ে আসা যা তার পূর্ববর্তী কোনো কিছুর দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়। যেমন: "তাঁর জন্য অনুরূপ।"
আরেকটি হলো: ‘শায়খ’ শব্দটিকে নিঃশর্তভাবে ব্যবহার করা। যেমন: "পরবর্তী আলোচনায় শায়খ।"
এ বিষয়ের দিকেই তিনি তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন:
৮ - যেমন (তিনি বলেছেন) অথবা আমি যদি ‘শায়খ’ শব্দটিকে নিঃশর্তভাবে ব্যবহার করি... তবে আমি অস্পষ্টভাবে ইবনুল সালাহ ছাড়া অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করি না।
ব্যাখ্যা: ‘মুবহামান’ শব্দটি ‘হা’ বর্ণের ফাতহাহ (যবর) বা কাসরাহ (জের) সহকারে হতে পারে; এটি চার অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়া ‘আবহামা’ থেকে উদ্গত ইসমে ফায়েল (কর্তৃবাচক বিশেষ্য) অথবা ইসমে মাফউল (কর্মবাচক বিশেষ্য)।
এবং তাঁর বক্তব্য:
৯ - আর যদি (ক্রিয়া বা সর্বনাম) দ্বিবচনের জন্য হয় যেমন (তারা উভয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন)... তবে তাঁরা হলেন ইমাম বুখারীর সাথে ইমাম মুসলিম।
ব্যাখ্যা: অর্থাৎ যদি ক্রিয়া এবং সর্বনাম দ্বিবচনের জন্য হয়, তবে উদ্দেশ্য হলো: ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম। যেমন: "এবং যা তাঁরা উভয়ে বর্ণনা করেছেন, তার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে আপনি নিশ্চিত হোন।"
এবং তাঁর বক্তব্য:
১০ - আর আমি আমার সকল বিষয়ে আল্লাহর কাছেই আশা রাখি... কঠিন এবং সহজ উভয় অবস্থায় তাঁরই আশ্রয় গ্রহণকারী।
ব্যাখ্যা: আমি বলছি, এখানে মহান আল্লাহর নাম ‘মানসুব’ (যবরযুক্ত) হয়েছে; কারণ যার প্রতি আশা করা হচ্ছে তাঁর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব ও যত্ন প্রদানের উদ্দেশ্যে ‘আশা’ (আর-রাজা) ক্রিয়াটি বক্তার আগে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই। আর আরবরা সাধারণত সেই বিষয়কেই আগে নিয়ে আসে যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
اهتُمَّ ببيانه أعني نحو قوله: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} أي: نعبدك ونستعينك، فَقَدَّم المفعول لِضَرْبٍ من العناية بالمعبود تعالى، ولو أتى به على أصله وقال: «أرجو الله» لجاز إلا أنه يكون خبراً ساذجاً فلا تخصيص ولا دلالة على العنايةِ به.
وقد وُفِّق لما وُفق له هذا الناظم العلَّامة قبله جار الله تعالى من ابتداءً «المفصَّل النحوي»: الله أَحْمد على أن جَعَلَني من علماء العربية، انتهى.
و «الله»: اسمٌ من أسماء الخالق خاصٌ لا يشركه فيه غيره، ولا يُدْعَى به أحدٌ سواه، قَبَضَ اللهُ الألسنةَ عن ذلك.
و «مُعْتَصَماً»: بفتح الصاد اسم مفعول بمعنى الاعتصام، ونُصِبَ على المفعول الثاني لـ «أرجو» والتقدير: وأرجو الله في أموري كلها اعتصاماً. وبكسرها حالاً اسم فاعل من اَعْتَصَم وزن افْتَعَل.
قوله:
এর বর্ণনার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, অর্থাৎ তাঁর বাণী: {আমরা কেবলমাত্র আপনারই ইবাদত করি এবং কেবলমাত্র আপনারই নিকট সাহায্য চাই}। অর্থাৎ: আমরা আপনার ইবাদত করি এবং আপনার নিকট সাহায্য চাই। এখানে মাবুদ তা’আলার প্রতি এক প্রকার বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের জন্য মাফউলকে (কর্মপদ) আগে আনা হয়েছে। যদি এটি মূল ব্যাকরণগত নিয়মে আনা হতো এবং বলা হতো: "আমি আল্লাহর নিকট আশা রাখি", তবে তা বৈধ হতো, কিন্তু সেটি হতো একটি সাধারণ তথ্য প্রদান মাত্র; যাতে কোনো বিশেষত্ব থাকত না এবং তাঁর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের কোনো প্রমাণ মিলত না।
এই আল্লামা নাযিম (কাব্যকার) সেই বিষয়েরই তাওফিক লাভ করেছেন যা তাঁর পূর্বে জারুল্লাহ তা’আলা তাঁর "আল-মুফাসসাল আন-নাহবি" গ্রন্থের শুরুতে লাভ করেছিলেন: "আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি এই কারণে যে তিনি আমাকে আরবি ভাষার আলিমদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন", সমাপ্ত।
"আল্লাহ" শব্দটি স্রষ্টার নামসমূহের মধ্যে একটি বিশেষ নাম, যাতে অন্য কেউ অংশীদার নয় এবং তিনি ব্যতীত অন্য কাউকেও এই নামে ডাকা হয় না; আল্লাহ তা’আলা মানুষের জিহ্বাকে এ থেকে নিবৃত রেখেছেন।
"মু’তাসামান" শব্দটি (সোয়াদ বর্ণে ফাতহা যোগে) ই’তিসাম (আশ্রয় গ্রহণ) অর্থে ইসমে মাফউল। এটি "আরজু" ক্রিয়ার দ্বিতীয় মাফউল হিসেবে নাসব প্রাপ্ত হয়েছে। এর বাক্যকাঠামো হলো: "আমি আমার সকল বিষয়ে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি"। আর (সোয়াদ বর্ণে কাসরা যোগে) এটি হাল বা অবস্থা হিসেবে ই’তাসামা ক্রিয়া থেকে ইফতা’আলা ওজনে ইসমে ফায়িল।
তাঁর বক্তব্য:
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুস সাঈদীইয়াহ ফী শারহিল আলফিয়্যাতিল হাদীসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
أقسام الحديثش: هذا أَوَانُ شُروعِهِ فيما قَصَدَهُ.
وقوله:
11 - وَأَهْلُ هَذَا الشَّأْنِ قَسَّمُوا السُّنَنْ
… إلى صَحِيْحٍ وَضَعِيْفٍ وَحَسَنْ
ش: يعني أنَّ أهلَ الحديث كما صرَّح به الخَطَّابيُّ في «المعالم» (1) قَسَّمُوا الحديثَ إلى صحيح وحَسَنٍ وسَقِيم.
وهو (2) قوله:
12 - فَالأَوَّلُ الْمُتَّصِلُ الإسْنَادِ
… بِنَقْلِ عَدْلٍ ضَابِطِ الْفُؤَاد
ش: «المُتَّصِلُ الإسناد» أَخْرَج به المنقطع، والمرْسَل، والمعضل.
و «بنقل عَدْل» أَخْرَجَ [4 - أ] به المجهول.
و «ضابط الفؤاد»: أخرج به المُغَفَّل وإن عُرِف صدقاً وعدالة.
قلت: والفؤاد بضم الفاء، وبعده واو مهموزة، وآخره دال مهلمة، قال في «الصحاح» (3): القلب، والجمع الأَفْئِدَة انتهى.
--------------------------------------------
হাদীসের প্রকারভেদব্যাখ্যা: এটি হলো তাঁর উদ্দিষ্ট বিষয়ে তাঁর পদার্পণের মুহূর্ত।
এবং তাঁর উক্তি:
১১ - আর এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ সুন্নাহকে বিভক্ত করেছেন
… সহীহ, যয়ীফ এবং হাসান প্রকারে
ব্যাখ্যা: অর্থাৎ হাদীস বিশারদগণ, যেমনটি খাত্তাবী তাঁর ‘আল-মাআলিম’ গ্রন্থে (১) স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, হাদীসকে সহীহ, হাসান এবং সাকীম (দুর্বল) প্রকারে বিভক্ত করেছেন।
আর তা হলো (২) তাঁর উক্তি:
১২ - প্রথমটি হলো যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন
… এমন ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারীর বর্ণনায় যিনি প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী
ব্যাখ্যা: ‘নিরবচ্ছিন্ন সনদ’ (আল-মুত্তাসিলুল ইসনাদ) পদের মাধ্যমে তিনি মুনকাতি, মুরসাল এবং মুদাল হাদীসকে সংজ্ঞার বাইরে রেখেছেন।
এবং ‘ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারীর বর্ণনায়’ (বিনাকলি আদল) পদের মাধ্যমে তিনি মাজহুল বা অজ্ঞাত বর্ণনাকারীকে বাদ দিয়েছেন।
এবং ‘প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী’ (দাবিতুল ফুয়াদ) পদের মাধ্যমে তিনি অসতর্ক বা অমনোযোগী বর্ণনাকারীকে বাদ দিয়েছেন, যদিও তিনি সত্যবাদিতা ও ন্যায়পরায়ণতার জন্য সুপরিচিত হন না কেন।
আমি বলছি: ‘ফুয়াদ’ শব্দটি ‘ফা’ বর্ণে পেশ (যম্মা) যোগে, এরপর হামযা যুক্ত ‘ওয়াও’ এবং শেষে নুকতাহীন ‘দাল’ বর্ণ দ্বারা গঠিত। ‘আস-সিহাহ’ গ্রন্থে (৩) বলা হয়েছে: এর অর্থ অন্তর, এবং এর বহুবচন হলো ‘আফইদাহ’। সমাপ্ত।
--------------------------------------------