(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: -)
نشر الصحيفة في ذكر الصحيح من أقوال أئمة الجرح والتعديل في أبي حنيفة   (مقبل بن هادي الوادعي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: نشر الصحيفة في ذكر الصحيح من أقوال أئمة الجرح والتعديل في أبي حنيفة

المؤلف: أَبِو عَبد الرَّحمَن مُقْبلُ بنُ هَادِي بنِ مُقْبِلِ بنِ قَائِدَةَ (اسم رجل) الهَمْدَاني الوادعِيُّ (ت 1422هـ)

الناشر: دار الحرمين، القاهرة - مصر

عدد الصفحات: 399

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 محرم 1434

আবু হানিফা সম্পর্কে জারহ ও তাদিল শাস্ত্রের ইমামগণের সহীহ বক্তব্য বর্ণনায় 'নাশরুস সাহিফা'   (মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদিঈ)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


কিতাব: আবু হানিফা সম্পর্কে জারহ ও তাদিল শাস্ত্রের ইমামগণের সহীহ বক্তব্য বর্ণনায় 'নাশরুস সাহিফা'

লেখক: আবু আবদুর রহমান মুকবিল বিন হাদি বিন মুকবিল বিন কা'ইদা (ব্যক্তির নাম) আল-হামদানি আল-ওয়াদিঈ (মৃ. ১৪২২ হি.)

প্রকাশক: দারুল হারামাইন, কায়রো - মিশর

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯৯

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ মুহাররাম ১৪৩৪

(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: -)
نَشْرُ الصَّحِيفَة

في

ذكر الصحيح من أقوال أئمّة الجرح والتعديل

في

(أبي حنيفة)

 

تأليف:

محدث الديار اليمنية

أبي عبد الرحمن مقبل بن هادي الوادعي

[ت: 1421هـ]

رحمه الله

 

الطبعة الثانية

1425هـ - 2004م

 

الناشر:

مكتبة صنعاء الأثرية

هاتف: 601211

فاكس: 633726
সহীফা প্রকাশ

প্রসঙ্গে

জারহ ও তাদীলের ইমামগণের বিশুদ্ধ উক্তিগুলোর বর্ণনা

প্রসঙ্গে

(আবু হানীফা)

 

রচনা:

ইয়ামেন ভূখণ্ডের মুহাদ্দিস

আবু আব্দুর রহমান মুকবিল বিন হাদী আল-ওয়াদিঈ

[মৃত্যু: ১৪২১ হিজরী]

আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন

 

দ্বিতীয় সংস্করণ

১৪২৫ হিজরী - ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দ

 

প্রকাশক:

মাকতাবাতু সানআ আল-আছারিইয়াহ

ফোন: ৬০১২১১

ফ্যাক্স: ৬৩৩৭২৬
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌المقدمة

الحمد لله القائل في كتابه الكريم: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُونُواْ قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاء لِلّهِ وَلَوْ عَلَى أَنفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالأَقْرَبِينَ إِن يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقَيرًا فَاللهُ أَوْلَى بِهِمَا فَلَا تَتَّبِعُواْ الْهَوَى أَن تَعْدِلُواْ وَإِن تَلْوُواْ أَوْ تُعْرِضُواْ فَإِنَّ اللهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا} [النساء: 135].

والصلاة والسلام على نبينا محمد صلى الله عليه وعلى آله وسلم الآخذ على بعض أصحابه في البيعة أن يقولوا أينما كانوا لا يخافون في الله لومة لائم (1).

والآمر لأبي ذر أن يقول الحق ولو كان مراً (2).

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده

ورسوله.

أما بعد: فبما أن الله سبحانه وتعالى أخذ الميثاق على علماء أهل الكتاب على البيان فقال عز من قال: {وَإِذَ أَخَذَ اللهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ فَنَبَذُوهُ وَرَاء ظُهُورِهِمْ وَاشْتَرَوْاْ بِهِ ثَمَناً قَلِيلاً فَبِئْسَ

مَا يَشْتَرُونَ} [سورة آل عمران: 187].

وبما أجمع عليه أئمة الجرح والتعديل وهم أهل الفن على شرعية الجرح والتعديل وتارة يكون واجباً وأخرى مندوباً … إلخ، بحسب الحالة، وقد

--------------------------------------------

(1) متفق عليه من حديث عبادة بن الصامت.

(2) رواه أحمد في «مسنده» من حديث أبي ذر وقد ذكرته في «الصحيح المسند مما ليس في الصحيحين».
উপস্থাপনা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সম্মানিত গ্রন্থে বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়ের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাক আল্লাহর সাক্ষীস্বরূপ; যদিও তা তোমাদের নিজেদের অথবা পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়; সে বিত্তবান হোক বা বিত্তহীন, আল্লাহ উভয়েরই পরম হিতৈষী। অতএব তোমরা ন্যায়বিচার করতে প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা পেঁচানো কথা বলো অথবা বিমুখ হও, তবে জেনে রেখো, তোমরা যা করো আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবগত।} [আন-নিসা: ১৩৫]।

এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর, যিনি আনুগত্যের শপথ (বাইয়াত) গ্রহণের সময় তাঁর কিছু সাহাবীর নিকট থেকে এই অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, তাঁরা যেখানেই থাকুন না কেন সত্য কথা বলবেন এবং আল্লাহর পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দার ভয় করবেন না (১)।

এবং যিনি আবু যরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন সত্য কথা বলতে, যদিও তা তিক্ত হয় (২)।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা

ও রাসূল।

অতঃপর: যেহেতু মহান আল্লাহ আহলে কিতাবের আলেমদের নিকট থেকে সত্য বয়ান করার অঙ্গীকার নিয়েছেন, সেহেতু সেই পরাক্রমশালী সত্তা বলেছেন: {স্মরণ করো, আল্লাহ যখন আহলে কিতাবপ্রাপ্তদের অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, তোমরা তা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না; তখন তারা সেটাকে নিজেদের পেছনে ফেলে দেয় এবং সামান্য মূল্যে তা বিক্রি করে দেয়; সুতরাং তারা যা ক্রয় করে তা কতই না নিকৃষ্ট!} [সূরা আল ইমরান: ১৮৭]।

এবং জারহ ও তা’দীল (হাদিস বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও গুণকীর্তন) শাস্ত্রের ইমামগণ—যাঁরা এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ—তাঁরা জারহ ও তা’দীলের বৈধতার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন; যা পরিস্থিতিভেদে কখনো ওয়াজিব (আবশ্যক) আবার কখনো মানদুব (মুস্তাহাব) হয় ... ইত্যাদি, আর তা অবস্থার প্রেক্ষিতে হয়ে থাকে। এবং নিশ্চয়ই

--------------------------------------------

(১) উবাদা ইবনুস সামিতের হাদিস থেকে বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমত পোষণকৃত।

(২) ইমাম আহমাদ তাঁর «মুসনাদ»-এ আবু যরের হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং আমি এটি «আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন»-এ উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ٤)
خاض الناس في شأن أبي حنيفة فمنهم من جرح، ومنهم من عدّل، ومنهم من غلا فيه، واعتبر المتكلمين فيه مخطئين، بل لا يكتفون بذلك بل يشنّعون على من تكلم فيه ويقدحون فيه كما يفعل بعض جهلة الحنفية.

ومرّ بي وأنا أطالع في «مشكل الآثار» للطحاوي بتحقيق شعيب الأرناؤوط، التشنيع من شعيب على الشيخ ناصر الدين الألباني لأنه يضعف أبا حنيفة وكأنه ما ضعف أبا حنيفة إلا الشيخ الألباني حفظه الله رحمه الله.

بل عند الحنفية ما هو أعظم فراجع «التنكيل بما في تأنيب الكوثري من الأباطيل» للشيخ عبد الرحمن المعلمي تجد أن الكوثري قد طعن في علماء الإسلام سابقهم ولاحقهم من أجل أن طعنوا في أبي حنيفة، فرأيت أن أجمع ما صح لي بالأسانيد الصحيحة من كتب أئمة الحديث في جرح أبي حنيفة ليهلك من هلك عن بينة ويحيا من حيّ عن بينة، وسميته:

 

«نشر الصحيفة في الصحيح من أقوال أئمة الجرح والتعديل في أبي حنيفة»

 

وقد حكى ابن أبي داود كما سيأتي إن شاء الله في ترجمته أن المحدثين أجمعوا على جرحه.

ولم أعرّج على أقوال المعدّلين إما أن يكونوا ممن لا يعتد بكلامهم مع كبار أئمة الجرح والتعديل، وإما أن يكونوا من الغلاة في أبي حنيفة، وأما أن يكونوا من الأئمة كسفيان الثوري وكعبد الله بن المبارك، ومن جرى مجراهما، ولكنه قد رجع وتبرأ مما حصل منه من الثناء، وحذّر من أبي حنيفة بل طعن فيه، فهذا أبو زكرياء يحيى بن معين إمام الجرح والتعديل صح عنه توثيقه وصح عنه الطعن فيه، والذي يظهر لي أنه يفسر كلامه بكلامه، فقد سئل عنه فقال: هو أنبل من أن يكذب، وقد جرحه كما سيأتي في ترجمته
ইমাম আবু হানিফার ব্যাপারে মানুষ নানাবিধ আলোচনা ও বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ তাকে সমালোচনা করেছেন, কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, আবার কেউ তার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করেছেন এবং যারা তার সমালোচনা করেছেন তাদের ভুল বলে গণ্য করেছেন। বরং তারা কেবল এতেই ক্ষান্ত হননি, বরং যারা তার ব্যাপারে কথা বলেছেন তাদের নিন্দা করেছেন এবং তাদের প্রতি কটাক্ষ করেছেন, যেমনটি হানাফী মাযহাবের কিছু অজ্ঞ লোক করে থাকে।

শুআইব আরনাউত কর্তৃক সম্পাদিত ইমাম তহাবীর ‘মুশকিলুল আসার’ গ্রন্থটি পাঠ করার সময় আমি লক্ষ্য করেছি যে, শুআইব শেখ নাসিরুদ্দিন আলবানীকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন। কারণ শেখ আলবানী আবু হানিফাকে দুর্বল প্রতিপন্ন করেছেন; মনে হচ্ছে যেন শেখ আলবানী ছাড়া আর কেউ আবু হানিফাকে দুর্বল বলেননি (আল্লাহ তাকে হেফাযত করুন এবং তার উপর রহম করুন)।

বরং হানাফীদের মাঝে এর চেয়েও বড় বিষয় বিদ্যমান। আপনি শেখ আব্দুর রহমান মুয়াল্লিমী রচিত ‘আত-তানাকীল বিমা ফী তানীবি আল-কাওসারী মিনাল আবাতিীল’ গ্রন্থটি দেখুন। সেখানে আপনি দেখতে পাবেন যে, কাওসারী ইসলামের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল আলেমদের প্রতি কটাক্ষ করেছেন কেবল একারণে যে তারা আবু হানিফার সমালোচনা করেছিলেন। তাই আমি হাদিসের ইমামগণের কিতাব থেকে সহীহ সনদে আবু হানিফার সমালোচনা সম্পর্কে যা কিছু প্রমাণিত হয়েছে তা সংকলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে যে ধ্বংস হওয়ার সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকার সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে জীবিত থাকে। আমি এই সংকলনের নামকরণ করেছি:

 

«নাশরুস সাহীফা ফিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফা»

 

ইবনে আবি দাউদ বর্ণনা করেছেন—যেমনটি ইনশাআল্লাহ তার জীবনী আলোচনায় আসবে—যে মুহাদ্দিসগণ তাকে সমালোচনা করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

যারা তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন আমি তাদের বক্তব্যের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করিনি। কারণ তারা হয় এমন লোক যাদের কথা বড় বড় জরহ-তাদীল বিশেষজ্ঞ ইমামদের সামনে কোনো গুরুত্ব বহন করে না, অথবা তারা আবু হানিফার ব্যাপারে অতিবাদী, নতুবা তারা সুফিয়ান সাওরী ও আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারকের মতো এমন সব ইমাম যাদের থেকে প্রথমে প্রশংসা বর্ণিত হলেও পরে তারা তা থেকে ফিরে এসেছেন ও সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন এবং আবু হানিফার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন, বরং তার সমালোচনা করেছেন। যেমন আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন—যিনি জরহ-তাদীল শাস্ত্রের ইমাম—তার থেকে আবু হানিফাকে নির্ভরযোগ্য বলা যেমন সহীহভাবে প্রমাণিত, তেমনি তার সমালোচনা করাও সহীহভাবে প্রমাণিত। আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, তার এক বক্তব্য অন্য বক্তব্যকে ব্যাখ্যা করে। তাকে যখন আবু হানিফা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: ‘তিনি মিথ্যা বলার চেয়ে অনেক বেশি মর্যাদাশীল।’ আবার তিনি তাকে সমালোচনাও করেছেন, যা তার জীবনী সংক্রান্ত আলোচনায় সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ٥)
بالسند الصحيح، فجرحه له من أجل رأيه وتخليطه في الحديث، وتوثيقه من أجل أنه لا يكذب.

ثم إن الجرح في أبي حنيفة مفسر كما سيأتي إن شاء الله تعالى.

والجرح المفسّر الصّادر من عالم بأسباب الجرح لا يعارض به التعديل كما هو معلوم من كتب المصطلح.

والجاهلون المتعصبون لأبي حنيفة كثير، وقد رأين جمعاً من المدرسين بالجامعة الإسلامية يغضبون غاية الغضب، ويرون هذا هدماً للإسلام وما درى المساكين أن المتكلم في أبي حنيفة ما طعن في ركن من أركان الإسلام الخمسة.

فنقول لهؤلاء الجهلاء أأنتم أغير على دين الله من أحمد بن حنبل، ومحمد ابن إسماعيل البخاري، ومسلم بن الحجاج، والدارقطني، والخطيب؟.

ونقول لهم: أأنتم أعلم بأبي حنيفة من مالك بن أنس، وشريك بن عبد الله النخعي، ويحيى بن سعيد القطان، وعبد الله بن يزيد المقريء، وسفيان الثوري، وسفيان بن عيينة وعبد الله بن المبارك ومن جرى مجراهم؟.

وإني لأعجب لمصطفى السباعي وكتابه «السنة ومكانتها» كيف دافع عن السنة وعن حملتها وفي آخر الكتاب هدم ما بني من أجل الدفاع عن أبي حنيفة، وللَّه در مروان بن محمد الطاطري الذي يقول: «ثلاثة لا يؤتمنون على الدين: الصوفي، والمبتدع يرد على المبتدعة، والقصاص» - ذكر هذا القاضي عياض في «ترتيب المدارك» في ترجمة مروان بن محمد الطاطري رحمه الله.

وبما أن الحنفية لهم سلطة القضاء في كثير من الأزمنة تجد كثيراً من أهل العلم لا يستطيعون أن يصرّحوا بالطعن في أبي حنيفة، فذلكم البيهقي في «مناقب الشافعي» ينقل عن ابن أبي حاتم الطعن في أبي حنيفة، فابن أبي حاتم
সঠিক সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, তার প্রতি জারহ (সমালোচনা) করা হয়েছে তার রায় (ব্যক্তিগত অভিমত) এবং হাদীসে সংমিশ্রণ ঘটানোর কারণে, আর তার তাউসিক (নির্ভরযোগ্যতা স্বীকার) করা হয়েছে এ কারণে যে তিনি মিথ্যা বলতেন না।

অতঃপর আবু হানিফার প্রতি জারহ হচ্ছে ‘মুফাসসার’ (সুস্পষ্ট কারণসহ ব্যাখ্যায়িত), যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।

আর জারহের কারণ সম্পর্কে অভিজ্ঞ কোনো আলিম থেকে জারহে মুফাসসার প্রকাশিত হলে তার বিপরীতে তা’দীল (প্রশংসা) গ্রহণযোগ্য হয় না, যেমনটি মুসতালাহুল হাদীস (হাদীসশাস্ত্রের মূলনীতি) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ থেকে জানা যায়।

আবু হানিফার প্রতি চরমভাবে গোঁড়া ও অজ্ঞ লোকদের সংখ্যা অনেক। আমি মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষককে দেখেছি যারা অত্যন্ত রাগান্বিত হন এবং বিষয়টিকে ইসলামের ধ্বংস সাধন হিসেবে মনে করেন। অথচ এই মিসকীনরা জানে না যে, আবু হানিফার ব্যাপারে যিনি কথা বলেছেন তিনি ইসলামের পাঁচটি রুকনের কোনো একটির উপরেও অপবাদ আরোপ করেননি।

আমরা এই অজ্ঞদের বলি: আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে আপনারা কি আহমাদ বিন হাম্বল, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী, মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ, দারা কুতনী এবং খতিব আল-বাগদাদীর চেয়েও বেশি মর্যাদাবোধ সম্পন্ন?

আমরা তাদেরকে আরও বলি: আপনারা কি আবু হানিফা সম্পর্কে মালিক বিন আনাস, শারীক বিন আব্দুল্লাহ আন-নাখায়ি, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান, আব্দুল্লাহ বিন ইয়াযীদ আল-মুকরী, সুফিয়ান আস-সাওরী, সুফিয়ান বিন উয়াইনা, আব্দুল্লাহ বিন মুবারক এবং তাদের ন্যায় অন্যান্যদের চেয়েও বেশি জানেন?

আমি মুস্তফা সিবায়ী এবং তার ‘আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা’ গ্রন্থটি দেখে বিস্মিত হই, তিনি কীভাবে সুন্নাহ এবং সুন্নাহর বাহকদের পক্ষ অবলম্বন করলেন অথচ বইয়ের শেষে আবু হানিফার পক্ষ অবলম্বন করতে গিয়ে নিজের গড়া সব ভিত্তি ধ্বংস করে ফেললেন। মারওয়ান বিন মুহাম্মদ আত-তাতারী কতই না চমৎকার কথা বলেছেন: “তিন শ্রেণীর ব্যক্তিকে দ্বীনের ব্যাপারে বিশ্বস্ত মনে করা যায় না: সূফী, এমন বিদআতি যে অন্য বিদআতিদের খণ্ডন করে, এবং কিসসা-কাহিনীকার।” কাজী ইয়াজ তার ‘তারতীবুল মাদারিক’ গ্রন্থে মারওয়ান বিন মুহাম্মদ আত-তাতারী রহ.-এর জীবনীতে এটি উল্লেখ করেছেন।

যেহেতু অনেক যুগ ধরে বিচার বিভাগে হানাফীদের আধিপত্য ছিল, তাই অনেক আলিমকে দেখা যায় তারা আবু হানিফার সমালোচনা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে সক্ষম হননি। যেমন বায়হাকী তার ‘মানাকিবুল ইমাম আশ-শাফিঈ’ গ্রন্থে ইবনে আবু হাতিম থেকে আবু হানিফার সমালোচনা বর্ণনা করেছেন, এমতাবস্থায় ইবনে আবু হাতিম...
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ٦)
يصرح بأبي حنيفة والبيهقي ينقل عنه ويقول: قال أبو فلان، ولا يصرح بأبي حنيفة.

وذلكم الحافظ ابن حجر يقول في «التقريب» في ترجمة أبي حنيفة: فقيه مشهور، فهذه حيدة من الحافظ، فهو لم ينبّه على هذا الاصطلاح في المقدمة.

وهذا الحكم الذي حكم على أبي حنيفة لا يفيد جرحاً ولا تعديلاً.

 

* * *
তিনি আবু হানিফার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, অথচ আল-বায়হাকী তাঁর থেকে বর্ণনা করার সময় বলেন: "আবু অমুক বলেছেন", তিনি স্পষ্টভাবে আবু হানিফার নাম উচ্চারণ করেন না।

আর সেই হাফেজ ইবনে হাজার 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে আবু হানিফার জীবনবৃত্তান্তে বলেন: "সুপ্রসিদ্ধ ফকীহ"। এটি হাফেজ সাহেবের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়ার একটি নমুনা, কেননা তিনি ভূমিকার মধ্যে এই পরিভাষার বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত প্রদান করেননি।

আর আবু হানিফার ব্যাপারে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তা কোনো 'জারহ' (সমালোচনা) কিংবা 'তা'দীল' (নির্ভরযোগ্যতা) কোনোটিই বোঝায় না।

 

* * *
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
الغلو (1) وموقف الشرع منه

قال الله تعالى: {لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ ثَالِثُ ثَلَاثَةٍ وَمَا مِنْ إِلَهٍ إِلَّا إِلَهٌ وَاحِدٌ وَإِنْ لَمْ يَنْتَهُوا عَمَّا يَقُولُونَ لَيَمَسَّنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ (73) أَفَلَا يَتُوبُونَ إِلَى اللَّهِ وَيَسْتَغْفِرُونَهُ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ (74) مَا الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ وَأُمُّهُ صِدِّيقَةٌ كَانَا يَأْكُلَانِ الطَّعَامَ انْظُرْ كَيْفَ نُبَيِّنُ لَهُمُ الْآيَاتِ ثُمَّ انْظُرْ أَنَّى يُؤْفَكُونَ (75) قُلْ أَتَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا وَاللَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ (76) قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ غَيْرَ الْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعُوا أَهْوَاءَ قَوْمٍ قَدْ ضَلُّوا مِنْ قَبْلُ وَأَضَلُّوا كَثِيرًا وَضَلُّوا عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ} [المائدة: 73 - 77].

وقال تعالى: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُواْ فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُواْ عَلَى اللهِ إِلَاّ الْحَقِّ إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِّنْهُ فَآمِنُواْ بِاللهِ وَرُسُلِهِ وَلَا تَقُولُواْ ثَلَاثَةٌ انتَهُواْ خَيْراً لَّكُمْ إِنَّمَا اللهُ إِلَهٌ وَاحِدٌ سُبْحَانَهُ أَن يَكُونَ لَهُ وَلَدٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَات وَمَا فِي الأَرْضِ وَكَفَى بِاللهِ وَكِيلاً} [النساء:171].

وقال تعالى: {وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ وَقَالَتِ النَّصَارَى الْمَسِيحُ ابْنُ اللَّهِ ذَلِكَ قَوْلُهُمْ بِأَفْوَاهِهِمْ يُضَاهِئُونَ قَوْلَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَبْلُ قَاتَلَهُمُ اللَّهُ أَنَّى يُؤْفَكُونَ (30) اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهًا وَاحِدًا لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ} [التوبة: 30 - 31]،

--------------------------------------------

(1) الغلو هو مجاوزة الحد كما في «القاموس».
চরমপন্থা (১) এবং এ বিষয়ে শরীয়তের অবস্থান

আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা অবশ্যই কুফরি করেছে যারা বলেছে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তিনের তৃতীয়। অথচ এক ইলাহ ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। আর তারা যা বলে তা থেকে যদি তারা বিরত না হয়, তবে তাদের মধ্য থেকে যারা কুফরি করেছে, তাদের ওপর অবশ্যই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি পতিত হবে। (৭৩) তবে কি তারা আল্লাহর কাছে তওবা করবে না এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে না? অথচ আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (৭৪) মরিয়ম পুত্র মসীহ তো একজন রাসূল ছাড়া আর কিছু নন; তাঁর পূর্বে আরও অনেক রাসূল অতিবাহিত হয়েছেন। আর তাঁর মা ছিলেন অত্যন্ত সত্যনিষ্ঠ। তাঁরা উভয়েই খাদ্য গ্রহণ করতেন। দেখ, আমি কীভাবে তাদের জন্য নিদর্শনসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করি; আবার দেখ, তারা সত্য থেকে কীভাবে বিমুখ হয়। (৭৫) বল, তোমরা কি আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুর ইবাদত কর যার কাছে তোমাদের কোনো ক্ষতি বা উপকারের ক্ষমতা নেই? অথচ আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (৭৬) বল, হে আহলে কিতাবগণ, তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে অন্যায়ভাবে চরমপন্থা অবলম্বন করো না এবং এমন সম্প্রদায়ের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না যারা ইতিপূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে, আর তারা সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।} [আল-মায়িদাহ: ৭৩ - ৭৭]।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {হে আহলে কিতাবগণ, তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে চরমপন্থা অবলম্বন করো না এবং আল্লাহর শানে সত্য ছাড়া কিছু বলো না। মরিয়ম পুত্র মসীহ ঈসা তো কেবল আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর বাণী, যা তিনি মরিয়মের কাছে পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে এক রূহ। সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান আনো এবং বলো না যে, (ইলাহ) তিনজন। তোমরা বিরত হও, তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর হবে। আল্লাহ তো কেবল একমাত্র ইলাহ; তাঁর কোনো সন্তান হওয়া থেকে তিনি পবিত্র। আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং যমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই। আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।} [আন-নিসা: ১৭১]।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {ইয়াহুদীরা বলে, উযায়ের আল্লাহর পুত্র এবং নাসারারা বলে, মসীহ আল্লাহর পুত্র। এগুলো তাদের মুখের কথা। তারা ইতিপূর্বের কাফিরদের কথার অনুকরণ করে। আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন, তারা সত্য থেকে কোথায় ফিরে যাচ্ছে! (৩০) তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের আলেম ও দরবেশদের রব্ব হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং মরিয়ম পুত্র মসীহকেও; অথচ তারা কেবল এক ইলাহের ইবাদত করার জন্য আদিষ্ট হয়েছিল। তিনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। তারা যে শিরক করে তা থেকে তিনি পবিত্র।} [আত-তাওবাহ: ৩০ - ৩১],

--------------------------------------------

(১) চরমপন্থা (গুলু) হলো সীমা লঙ্ঘন করা, যেমনটি «আল-কামূস»-এ বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ٨)
وقال تعالى: {مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَن يُؤْتِيَهُ اللهُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُولَ لِلنَّاسِ كُونُواْ عِبَاداً لِّي مِن دُونِ اللهِ وَلَكِن كُونُواْ رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنتُمْ تَدْرُسُونَ (79) وَلَا يَأْمُرَكُمْ أَن تَتَّخِذُواْ الْمَلَائِكَةَ وَالنِّبِيِّيْنَ أَرْبَاباً أَيَأْمُرُكُم بِالْكُفْرِ بَعْدَ إِذْ أَنتُم مُّسْلِمُونَ} [آل عمران: 79 - 80]، وقال الله تعالى في الرد على قريش: {وَيَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلاء شُفَعَاؤُنَا عِندَ اللهِ قُلْ أَتُنَبِّئُونَ اللهَ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الأَرْضِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} [يونس: 18]، وقال تعالى: {وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَدًا (88) لَقَدْ جِئْتُمْ شَيْئًا إِدًّا (89) تَكَادُ السَّمَاوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنْشَقُّ الْأَرْضُ وَتَخِرُّ الْجِبَالُ هَدًّا (90) أَنْ دَعَوْا لِلرَّحْمَنِ وَلَدًا (91) وَمَا يَنْبَغِي لِلرَّحْمَنِ أَنْ يَتَّخِذَ وَلَدًا (92) إِنْ كُلُّ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ إِلَّا آتِي الرَّحْمَنِ عَبْدًا} [مريم: 88 - 93].

والآيات القرآنية التي تنهى عن الغلو وتشنع على أهله كثيرة جداً.

وأما الأحاديث فنقتصر على ما يلي:

1 - قال البخاري رحمه الله (ج6 ص478): حدثنا الحميدي حدثنا سفيان قال سمعت الزهري يقول أخبرني عبيد الله عن عبد الله عن ابن عباس سمع عمر رضي الله عنه يقول على المنبر: سمعت النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول: «لا تطروني كما أطرت النصارى ابن مريم فإنما أنا عبده فقولوا: عبد الله ورسوله».

2 - قال أبو داود رحمه الله (ج13 ص161) من «عون المعبود»: حدثنا مسدد أخبرنا بشر-يعني ابن المفضل- أخبرنا أبو سلمة سعيد بن يزيد عن أبي نضرة عن مطرف قال: قال أبي: انطلقت في وفد بني عامر إلى رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم فقلنا: أنت سيدنا فقال: «السيد الله»، قلنا: وأفضلنا فضلاً وأعظمنا طولاً فقال: «قولوا بقولكم أو بعض قولكم ولا يستجرينكم الشيطان». هذا حديث صحيح على شرط مسلم.
মহান আল্লাহ বলেন: {কোন মানুষের জন্য এটা শোভনীয় নয় যে, আল্লাহ তাকে কিতাব, প্রজ্ঞা ও নবুওয়াত দান করবেন, আর সে মানুষকে বলবে, 'আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা আমার বান্দা হয়ে যাও'; বরং সে বলবে, 'তোমরা রব্বানী (আল্লাহর একনিষ্ঠ অনুসারী) হও, যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে এবং তা অধ্যয়ন করতে।' (৭৯) আর তিনি তোমাদের এ নির্দেশ দেবেন না যে, তোমরা ফেরেশতা ও নবীদেরকে পালনকর্তা হিসেবে গ্রহণ করো। তোমরা মুসলিম হওয়ার পর তিনি কি তোমাদের কুফরির নির্দেশ দেবেন?} [আল-ইমরান: ৭৯ - ৮০], এবং কুরাইশদের প্রতিবাদে মহান আল্লাহ বলেন: {তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুর ইবাদত করে যা তাদের ক্ষতিও করতে পারে না এবং উপকারও করতে পারে না। আর তারা বলে, 'এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী।' আপনি বলুন, 'তোমরা কি আল্লাহকে আসমান ও জমিনের এমন কিছুর সংবাদ দিচ্ছ যা তিনি জানেন না?' তিনি পবিত্র এবং তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।} [ইউনুস: ১৮], এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তারা বলে, 'পরম করুণাময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।' (৮৮) তোমরা তো এক ভয়াবহ বিষয়ের অবতারণা করেছ। (৮৯) এতে যেন আকাশসমূহ ফেটে পড়ার, পৃথিবী বিদীর্ণ হওয়ার এবং পাহাড়সমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। (৯০) এ কারণে যে, তারা পরম করুণাময়ের প্রতি সন্তান আরোপ করে। (৯১) অথচ সন্তান গ্রহণ করা পরম করুণাময়ের জন্য শোভনীয় নয়। (৯২) আসমান ও জমিনে এমন কেউ নেই, যে পরম করুণাময়ের নিকট বান্দা হিসেবে উপস্থিত হবে না।} [মারইয়াম: ৮৮ - ৯৩]।

আল-কুরআনের এমন অনেক আয়াত রয়েছে যা অতিরঞ্জন করতে নিষেধ করে এবং যারা অতিরঞ্জন করে তাদের কঠোর নিন্দা করে।

আর হাদিসের ক্ষেত্রে আমরা নিচের বর্ণনাগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব:

১ - ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৭৮): হুমাইদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি যুহরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন উবায়দুল্লাহ আমাকে আব্দুল্লাহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে মিম্বারের ওপর বলতে শুনেছেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «তোমরা আমার প্রশংসায় এমন অতিরঞ্জন করো না, যেমনটি খ্রিস্টানরা ইবনে মারইয়ামের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করেছে। আমি তো কেবল তাঁর একজন বান্দা; তাই তোমরা বলো: আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।»

২ - আবু দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) ‘আউনুল মাবুদ’-এর (১৩তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬১) মধ্যে বলেছেন: মুসাদ্দাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বিশর—অর্থাৎ ইবনে মুফাদ্দাল—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু সালামাহ সাঈদ ইবনে ইয়াজিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাদরাম থেকে, তিনি মুতাররিফ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার পিতা বলেছেন: আমি বনু আমেরের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট গেলাম। তখন আমরা বললাম: আপনি আমাদের সায়্যিদ (নেতা/প্রভু)। তিনি বললেন: «সায়্যিদ হলেন আল্লাহ», আমরা বললাম: মর্যাদায় আপনি আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং দানে আপনি আমাদের মধ্যে মহান। তখন তিনি বললেন: «তোমরা তোমাদের কথা বলো অথবা তোমাদের কথার কিছু অংশ বলো, আর শয়তান যেন তোমাদেরকে প্ররোচিত না করে।» এই হাদিসটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ।
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
3 - قال الإمام النسائي رحمه الله في «عمل اليوم والليلة» (ص250):

أخبرنا أبو بكر بن نافع قال حدثنا بهز قال حدثنا حماد بن سلمة قال حدثنا ثابت عن أنس أن ناساً قالوا لرسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم:

يا خيرنا وابن خيرنا ويا سيدنا وابن سيدنا، فقال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم: «يا أيها الناس عليكم بقولكم ولا يستهوينكم الشيطان إني لا أريد أن ترفعوني فوق منزلتي التي أنزلنيها الله تعالى أنا محمد بن عبد الله عبده ورسوله». هذا حديث صحيح على شرط مسلم.

وأخرجه أحمد في «مسنده» (ج3 ص249) فقال: حدثنا عفان حدثنا حماد بن حماد بن سلمة به.

وأتباع أبي حنيفة قد غلوا فيه فهم يلقبونه بالإمام الأعظم بل أعظم من هذا فقد قال قائلهم:

فلعنة ربنا عداد رمل … على من رد قول أبي حنيفة

* * *
৩ - ইমাম নাসায়ি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’ (পৃ. ২৫০) গ্রন্থে বলেন:

আবু বকর ইবন নাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, বাহয আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাম্মাদ ইবন সালামাহ আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাবিত আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যে, কিছু লোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলল:

হে আমাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি এবং আমাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির সন্তান! হে আমাদের নেতা এবং আমাদের নেতার সন্তান! তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «হে লোকসকল! তোমরা তোমাদের কথা বলো, আর শয়তান যেন তোমাদের প্ররোচিত না করে। আল্লাহ তাআলা আমাকে যে মর্যাদায় আসীন করেছেন, তোমরা আমাকে তার উপরে উঠাও—তা আমি চাই না। আমি মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।» এই হাদিসটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ।

ইমাম আহমাদ তাঁর ‘মুসনাদ’ (৩য় খণ্ড, ২৪৯ পৃ.) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের কাছে আফফান হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাম্মাদ ইবন হাম্মাদ ইবন সালামাহ আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন।

আবু হানিফার অনুসারীরা তাঁর ব্যাপারে অতিরঞ্জন (গুলু) করেছে, তাই তারা তাঁকে ‘ইমামে আযম’ উপাধিতে ভূষিত করে; এমনকি এর চেয়েও গুরুতর বিষয় হলো, তাদের জনৈক প্রবক্তা বলেছে:

আমাদের রবের অভিশাপ বালুকণার সমপরিমাণ হোক … সেই ব্যক্তির ওপর যে আবু হানিফার কথা প্রত্যাখ্যান করে।

* * *
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
‌‌ما يكره من التعمق والتنازع

في العلم والغلو في الدين

* قال البخاري رحمه الله في باب:

ما يكره من التعمق والتنازع في العلم، والغلو في الدين والبدع:

لقوله تعالى: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُواْ فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُواْ عَلَى اللهِ إِلَاّ الْحَقِّ} [النساء: 171].

حدثنا عبد الله بن محمد: حدثنا هشام: أخبرنا معمر، عن الزهري، عن أبي سلمة، عن أبي هريرة قال: قال النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم: «لا تواصلوا». قالوا: إنك تواصل، قال: «إني لست مثلكم، إني أبيت يطعمني ربي ويسقيني»، فلم ينتهوا عن الوصال، قال: فواصل بهم النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم يومين، أو ليلتين، ثم رأوا الهلال، فقال النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم: «لو تأخر الهلال لزدتكم». كالمنكي لهم.

حدثنا عمر بن حفص بن غياثٍ حدثنا الأعمش حدثني إبراهيم التيمي حدثني أبي قال: خطبنا علي رضي الله عنه على منبر من آجرٍ، وعليه سيف فيه صحيفة معلقة، فقال: والله ما عندنا من كتاب يقرأ إلا كتاب الله وما في هذه الصحيفة، فنشرها فإذا فيها أسنان الإبل، وإذا فيها: (المدينة حرمٌ من عير كذا، فمن أحدث فيها حدثاً فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين، لا يقبل الله منه صرفاً ولا عدلاً). وإذا فيه: (ذمة المسلمين واحدة، يسعى بها أدناهم، فمن أخفر مسلماً فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين، لا يقبل الله منه صرفاً ولا عدلاً). وإذا فيها: (من والى قوماً بغير إذن مواليه فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين، لا يقبل الله منه صرفاً ولا عدلاً).
ইলমের ক্ষেত্রে গভীরতা ও বিবাদ এবং দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি যা অপছন্দনীয়

ইমাম বুখারি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) এই অনুচ্ছেদে বলেন:

ইলমের ক্ষেত্রে গভীরতা ও বিবাদ এবং দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি ও বিদআত যা অপছন্দনীয়:

মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর শানে সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলো না।" [আন-নিসা: ১৭১]।

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন: হিশাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন: মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা সাওমে বিসাল (বিরতিহীন রোজা) করো না।" তারা বললেন: আপনি তো বিসাল করেন। তিনি বললেন: "আমি তোমাদের মতো নই; আমি এমনভাবে রাত কাটাই যে, আমার রব আমাকে খাওয়ান এবং পান করান।" তবুও তারা বিসাল করা থেকে বিরত হলেন না। বর্ণনাকারী বলেন: তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিয়ে দুদিন বা দুরাত বিসাল করলেন, এরপর তারা নতুন চাঁদ দেখতে পেলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "যদি চাঁদ উঠতে দেরি হতো, তবে আমি তোমাদের জন্য (বিসালের পরিমাণ) আরও বাড়িয়ে দিতাম।" এটি ছিল তাদের জন্য কঠোর সতর্কতাস্বরূপ।

উমর ইবনে হাফস ইবনে গিয়াস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমাশ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম আত-তাইমি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলি (রা.) ইটের তৈরি একটি মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে আমাদের সামনে খুতবা দিচ্ছিলেন। তাঁর সাথে একটি তলোয়ার ছিল যাতে একটি সহিফা (লিপি) ঝুলানো ছিল। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমাদের কাছে পড়ার মতো আল্লাহর কিতাব এবং এই সহিফাতে যা আছে তা ছাড়া আর কোনো কিতাব নেই। এরপর তিনি সেটি খুললেন, তাতে দেখা গেল উটের বয়সের বিবরণ রয়েছে। এবং তাতে আরও ছিল: (মদিনা অমুক পাহাড় থেকে অমুক পর্যন্ত পবিত্র এলাকা। সুতরাং যে ব্যক্তি সেখানে কোনো নতুন বিষয় বা বিদআত উদ্ভাবন করবে, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের লানত। আল্লাহ তার কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না)। এবং তাতে আরও ছিল: (মুসলিমদের আশ্রয়ের জিম্মাদারি এক; তাদের মধ্যকার সাধারণ ব্যক্তিও এই আশ্রয় দিতে পারে। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দেওয়া আশ্রয় বা নিরাপত্তা ভঙ্গ করবে, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের লানত। আল্লাহ তার কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না)। এবং তাতে আরও ছিল: (যে ব্যক্তি তার প্রকৃত অভিভাবকদের অনুমতি ব্যতীত অন্য কোনো কওমের সাথে অভিভাবকত্বের সম্পর্ক স্থাপন করবে, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের লানত। আল্লাহ তার কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না)।
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ١١)
حدثنا عمر بن حفص حدثنا أبي حدثنا الأعمش حدثنا مسلم، عن مسروق قال قالت عائشة رضي الله عنها: صنع النبي صلى الله عليه وسلم شيئاً ترخص فيه، وتنزه عنه قوم، فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم، فحمد الله ثم قال: «ما بال أقوام يتنزهون عن الشيء أصنعه، فوالله إني أعلمهم بالله وأشدهم له خشية».

حدثنا محمد بن مقاتل: أخبرنا وكيع، عن نافع بن عمر، عن ابن أبي مليكة قال: كاد الخيران أن يهلكا: أبو بكر وعمر، لما قدم على النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم وفد بني تميم، أشار أحدهما بالأقرع بن حابس الحنظلي أخي بني مجاشع، وأشار الآخر بغيره، فقال أبو بكرٍ لعمر: إنما أردت خلافي، فقال عمر: ما أردت خلافك، فارتفعت أصواتهما عند النبي صلى الله عليه وسلم فنزلت: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ -إلى قوله- عَظِيمٌ}. قال ابن أبي مليكة: قال ابن الزبير: فكان عمر بعد -ولم يذكر ذلك عن أبيه، يعني أبا بكر- إذا حدث النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم بحديث حدثّه كأخي السرار، لم يسمعه حتى يستفهمه.

حدثنا إسماعيل حدثني مالك، عن هشام بن عروة، عن أبيه، عن عائشة أم المؤمنين: أن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال في مرضه: «مروا أبا بكر يصلي بالناس». قالت عائشة: قلتُ: إن أبا بكر إذا قام في مقامك لم يسمع الناس من البكاء، فمر عمر فليصل: فقال: «مروا أبا بكر فليصل بالناس». فقالت عائشة: فقلت لحفصة: قولي إن أبا بكر إذا قام في مقامك لم يسمع الناس من البكاء، فمر عمر فليصل بالناس. ففعلت حفصة، فقال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم: «إنكن لأنتن صواحب يوسف، مروا أبا بكر فليصل للناس». فقالت حفصة لعائشة: ما كنت لأصيب منك خيراً.

حدثنا آدم: حدثنا ابن أبي ذئب: حدثنا الزهري، عن سهل بن سعد الساعدي قال: جاء عويمر العجلاني إلى عاصم بن عدي، فقال: أرأيت رجلاً وجد مع امرأته رجلاً فيقتله، أتقتلونه به، سل لي يا عاصم رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم،

উমর ইবনে হাফস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসলিম আমাদের নিকট মাসরুক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আয়েশা (রা.) বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এমন একটি কাজ করলেন যাতে তিনি শিথিলতা প্রদর্শন করেছিলেন, কিন্তু একদল লোক তা থেকে বিরত থাকল। এ সংবাদ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছালে তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং অতঃপর বললেন: “সেই কওমের কী হলো যারা এমন বিষয় থেকে বিরত থাকে যা আমি করি? আল্লাহর শপথ, আমি তাদের চেয়ে আল্লাহ সম্পর্কে অধিক অবগত এবং তাঁদের চেয়ে আল্লাহকে অধিক ভয় করি।”

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: ওয়াকি আমাদের নিকট নাফে ইবনে উমর থেকে এবং তিনি ইবনে আবি মুলাইকা থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: দুইজন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি—আবু বকর ও উমর—প্রায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিলেন। যখন বনু তামিম গোত্রের এক প্রতিনিধি দল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসল, তখন তাঁদের একজন বনু মুজাশে গোত্রের ভাই আকরা ইবনে হাবিস আল-হানজালির ব্যাপারে ইঙ্গিত করলেন এবং অন্যজন অন্য এক ব্যক্তির ব্যাপারে ইঙ্গিত করলেন। তখন আবু বকর উমরকে বললেন: “আপনি কেবল আমার বিরোধিতা করতে চেয়েছিলেন।” উমর বললেন: “আমি আপনার বিরোধিতা করতে চাইনি।” এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তাঁদের কণ্ঠস্বর উচ্চ হলো। তখন অবতীর্ণ হলো: {হে মুমিনগণ, তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের উপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উচ্চ করো না—আয়াতের শেষ অংশ ‘মহান’ পর্যন্ত}। ইবনে আবি মুলাইকা বলেন: ইবনে যুবাইর বলেছেন: এরপর উমর—আর তিনি তাঁর পিতা অর্থাৎ আবু বকর সম্পর্কে এটি উল্লেখ করেননি—যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে কথা বলতেন, তখন অতি নিম্নস্বরে বা কানে কানে কথা বলার ন্যায় বলতেন, এমনকি নবীজি পুনরায় জিজ্ঞাসা না করা পর্যন্ত তা শুনতে পেতেন না।

ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক হিশাম ইবনে উরওয়া থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর অসুস্থতার সময় বললেন: “আবু বকরকে নির্দেশ দাও সে যেন মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করে।” আয়েশা বলেন: আমি বললাম: “আবু বকর যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন কান্নার কারণে মানুষ তাঁর আওয়াজ শুনতে পাবে না, তাই উমরকে নির্দেশ দিন তিনি যেন সালাত আদায় করান।” তিনি পুনরায় বললেন: “আবু বকরকে নির্দেশ দাও সে যেন মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করে।” আয়েশা বলেন: এরপর আমি হাফসাকে বললাম: “তুমি বলো যে, আবু বকর যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন কান্নার কারণে মানুষ তাঁর আওয়াজ শুনতে পাবে না, তাই উমরকে নির্দেশ দিন তিনি যেন মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করান।” হাফসা তা-ই করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “নিশ্চয়ই তোমরা ইউসুফের সঙ্গিনীদের ন্যায়। আবু বকরকে নির্দেশ দাও সে যেন মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করে।” তখন হাফসা আয়েশাকে বললেন: “আমি তোমার থেকে কখনোই কল্যাণ লাভ করলাম না।”

আদম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: ইবনে আবি যিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: জুহরি সাহল ইবনে সাদ আস-সাঈদি থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উওয়াইমির আল-আজলানি আসিম ইবনে আদির নিকট এসে বললেন: “বলুন তো, কোনো ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীর সাথে পরপুরুষকে পায় এবং তাকে হত্যা করে, তবে কি আপনারা এর বদলে তাকে হত্যা করবেন? হে আসিম, আমার হয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করুন।”

(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ١٢)
فسأله فكره النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم المسائل وعابها، فرجع عاصم فأخبره: أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم كره المسائل، فقال عويمر: والله لآتين النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم، فجاء وقد أنزل الله تعالى القرآن خلف عاصم، فقال له: «قد أنزل الله فيكم قرآناً». فدعا بهما فتقدما فتلاعنا، ثم قال عويمر: كذبت عليها يا رسول الله إن أمسكتها، ففارقها ولم يأمره النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم بفراقها، فجرت السنة في المتلاعنين. وقال النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم: «انظروها، فإن جاءت به أحمر قصيراً مثل وحرةٍ، فلا أراه إلا قد كذب، وإن جاءت به أسحم أعين ذا أليتين، فلا أحسب إلَاّ قد صدق عليها». فجاءت به على الأمر المكروه.

حدثنا عبد الله بن يوسف حدثنا الليث حدثني عقيل، عن ابن شهاب قال: أخبرني مالك بن أوس النصري، وكان محمد بن جبير بن مطعم ذكر لي ذكراً من ذلك، فدخلت على مالكٍ فسألته، فقال: انطلقت حتى أدخل على عمر أتاه حاجبه يرفأ، فقال: هل لك في عثمان وعبد الرحمن والزبير وسعد يستأذنون؟ قال: فدخلوا فسلموا وجلسوا، فقال: هل لك في علي وعباس؟ فأذن لهما، قال العباس: يا أمير المؤمنين، اقض بيني وبين الظالم، استبا، فقال الرهط عثمان وأصحابه: يا أمير المؤمنين، اقض بينهما وأرح أحدهما من الآخر، فقال: اتئدوا، أنشدكم بالله الذي بإذنه تقوم السماء والأرض، هل تعلمون أن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال: «لا نورث ما تركنا صدقة».

يريد رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم نفسه؟ قال الرهط: قد قال ذلك، فأقبل عمر على علي وعباسٍ فقال: أنشدكما بالله هل تعلمان أن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال ذلك؟ قالا: نعم، قال عمر: فإني محدثكم عن هذا الأمر، إن الله كان خص رسوله صلى الله عليه وعلى آله وسلم في هذا المال بشيء لم يعطه أحداً غيره، فإن الله يقول: {مَا أَفَاء اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ} [الحشر: 6]، فكانت هذه خالصة لرسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، ثم والله ما احتازها دونكم ولا استأْثر بها عليكم، وقد أعطاكموها وبثها فيكم حتى بقي
তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম প্রশ্নগুলো অপছন্দ করলেন এবং সেগুলোর সমালোচনা করলেন। ফলে আসিম ফিরে গিয়ে তাকে জানালেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম প্রশ্নগুলো অপছন্দ করেছেন। তখন উওয়াইমির বললেন: আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের কাছে যাব। এরপর তিনি আসলেন, ইতোমধ্যে আসিমের পেছনে আল্লাহ তাআলা কুরআন নাজিল করেছেন। তিনি তাকে বললেন: "আল্লাহ তোমাদের বিষয়ে কুরআন নাজিল করেছেন।" এরপর তিনি তাদের উভয়কে ডাকলেন, তারা এগিয়ে আসলেন এবং পরস্পর লি'আন (অভিশাপ বিনিময়) করলেন। এরপর উওয়াইমির বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি যদি তাকে নিজের কাছে রেখে দিই, তবে আমি তার ওপর মিথ্যা বলেছি। ফলে তিনি তাকে বিচ্ছেদ করে দিলেন, যদিও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাকে বিচ্ছেদের আদেশ দেননি। এরপর লি'আনকারীদের ক্ষেত্রে এটিই সুন্নাহ হিসেবে প্রচলিত হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "তোমরা তার দিকে লক্ষ্য রেখো; যদি সে লাল বর্ণের, খাটো এবং গিরগিটির মতো সন্তান প্রসব করে, তবে আমি মনে করি সে মিথ্যা বলেছে। আর যদি সে কালো বর্ণের, বড় চোখবিশিষ্ট এবং মাংসল নিতম্বওয়ালা সন্তান প্রসব করে, তবে আমি মনে করি সে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সত্য বলেছে।" শেষ পর্যন্ত সে সেই অপছন্দনীয় বর্ণনার অনুরূপ সন্তানই প্রসব করল।

আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, লাইস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, উকাইল আমার কাছে ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মালিক ইবনে আওস আন-নাসরি আমাকে অবহিত করেছেন—আর মুহাম্মদ ইবনে জুবায়ের ইবনে মুতয়িমও আমার কাছে এ বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেছিলেন—অতঃপর আমি মালিকের কাছে প্রবেশ করে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: আমি রওনা হয়ে ওমরের কাছে প্রবেশ করলাম। তখন তাঁর দ্বাররক্ষী ইয়ারফা এসে বলল: উসমান, আব্দুর রহমান, জুবায়ের এবং সাদ অনুমতি প্রার্থনা করছেন, আপনি কি তাদের অনুমতি দেবেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তারা প্রবেশ করলেন, সালাম দিলেন এবং বসলেন। এরপর সে বলল: আলী ও আব্বাসের ব্যাপারে আপনার অনুমতি আছে কি? তিনি তাদেরও অনুমতি দিলেন। আব্বাস বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, আমার এবং এই জালেমের মধ্যে ফয়সালা করে দিন—তাদের মধ্যে একে অপরকে গালমন্দ করা চলছিল। তখন উসমান ও তাঁর সঙ্গী দলটি বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, আপনি তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিন এবং একজনকে অপরজনের থেকে ভারমুক্ত করুন। তিনি বললেন: আপনারা শান্ত হোন। আমি আপনাদের সেই আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, যাঁর আদেশে আসমান ও জমিন প্রতিষ্ঠিত আছে, আপনারা কি জানেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী থাকে না, আমরা যা রেখে যাই তা সদকা"?

এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম কি নিজেকেই বুঝিয়েছেন? সেই দলটি বলল: তিনি অবশ্যই তা বলেছেন। এরপর ওমর আলী ও আব্বাসের দিকে ফিরে বললেন: আমি আপনাদের দুজনকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আপনারা কি জানেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তা বলেছেন? তাঁরা বললেন: হ্যাঁ। ওমর বললেন: তবে আমি আপনাদের এই বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করছি; আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে এই সম্পদের ক্ষেত্রে এমন বিশেষ অধিকার দান করেছিলেন যা তিনি অন্য কাউকে দেননি। কেননা আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ তাদের নিকট থেকে তাঁর রাসূলকে যে সম্পদ ফিরিয়ে দিয়েছেন (ফায়), তার জন্য তোমরা ঘোড়া বা উট চালনা করে শ্রম দাওনি} [সূরা হাশর: ৬]। সুতরাং এটি বিশেষভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের জন্যই ছিল। এরপর আল্লাহর কসম, তিনি এটি আপনাদের বাদ দিয়ে নিজের জন্য জমা করেননি এবং আপনাদের ওপর নিজের প্রাধান্য বজায় রাখেননি। তিনি এটি আপনাদের দিয়েছেন এবং আপনাদের মধ্যে বিতরণ করেছেন, এমনকি যা অবশিষ্ট রইল...
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
منها هذا المال، وكان النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم ينفق على أهله نفقة سنتهم من هذا المال، ثم يأخذ ما بقي فيجعله مجعل مال الله، فعمل النبي صلى بذلك حياته، أنشدكم بالله هل تعلمون ذلك؟ فقالوا: نعم، ثم قال لعلي وعباس: أنشدكما الله هل تعلمان ذلك؟ قالا: نعم، ثم توفى الله نبيه صلى الله عليه وعلى آله وسلم فقال أبو بكر: أنا ولي رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقبضها أبو بكر فعمل فيها بما عمل فيها رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، وأنتما حينئذٍ - وأقبل على علي وعباس - تزعمان أن أبا بكر فيها كذا، والله يعلم أنه فيها صادق بار راشد تابع للحق، ثم توفى الله أبا بكر فقلت: أنا ولي رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم وأبي بكر، فقبضتها سنتين أعمل فيها بما عمل به رسول الله صلى وأبو بكر، ثم جئتماني وكلمتكما على كلمةٍ واحدةٍ وأمركما جميع، جئتني تسألني نصيبك من ابن أخيك، وأتاني هذا يسألني نصيب امرأته من أبيها، فقلت: إن شئتما دفعتها إليكما على أن عليكما عهد الله وميثاقه، تعملان فيها بما عمل به رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم وبما عمل فيها أبو بكر، وبما عملت فيها منذ وليتها، وإلَّا فلا تكلماني فيها، فقلتما: ادفعها إلينا بذلك، فدفعتها إليكما بذلك، أنشدكم بالله، هل دفعتها إليكما بذلك؟ قالا: نعم، قال أفتلتمسان مني قضاءً غير ذلك، فوالذي بإذنه تقوم السماء والأرض، لا أقضي فيها قضاء غير ذلك حتى تقوم الساعة، فإن عجزتما عنها فأدفعاها إلي فأنا أكفيكماها.

এসবের মধ্যে এই সম্পদও অন্তর্ভুক্ত ছিল। নবী (আল্লাহ তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবারের উপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন) এই সম্পদ থেকে তাঁর পরিবারের বার্ষিক ভরণপোষণ ব্যয় করতেন। অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকত তা গ্রহণ করে আল্লাহর নির্ধারিত খাতে (জনকল্যাণে) ব্যয় করতেন। নবী (আল্লাহর দরুদ তাঁর উপর বর্ষিত হোক) তাঁর সমগ্র জীবন এভাবেই কাজ করেছেন। আমি আপনাদের আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আপনারা কি তা জানেন? তারা বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর তিনি আলী ও আব্বাসের উদ্দেশে বললেন: আমি আপনাদের দুজনকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আপনারা কি তা জানেন? তারা দুজনেই বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর আল্লাহ তাঁর নবীকে (আল্লাহ তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবারের উপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন) ওফাত দান করলেন। তখন আবু বকর বললেন: আমি রাসূলুল্লাহর (আল্লাহর দরুদ ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) স্থলাভিষিক্ত। এরপর আবু বকর তা নিজের দায়িত্বে নিলেন এবং এতে রাসূলুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবারের উপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন) যেভাবে আমল করেছিলেন, সেভাবেই আমল করলেন। আর আপনারা তখন—তিনি আলী ও আব্বাসের দিকে মনোনিবেশ করলেন—দাবি করেছিলেন যে আবু বকর এই বিষয়ে এমন ও তেমন (অবিচারকারী)। অথচ আল্লাহ জানেন যে, তিনি এই বিষয়ে সত্যবাদী, পুণ্যবান, সঠিক পথের অনুসারী এবং হকের অনুগামী ছিলেন। এরপর আল্লাহ আবু বকরকে ওফাত দান করলেন, তখন আমি বললাম: আমি রাসূলুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবারের উপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন) ও আবু বকরের স্থলাভিষিক্ত। অতঃপর আমি দুই বছর এটি নিজের দায়িত্বে রাখি এবং এতে সেভাবেই আমল করি যেভাবে রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর দরুদ তাঁর উপর বর্ষিত হোক) ও আবু বকর আমল করেছিলেন। এরপর আপনারা উভয়ই আমার কাছে আসলেন, আপনাদের উভয়ের বক্তব্য ও উদ্দেশ্য অভিন্ন ছিল। আপনি (আব্বাস) আমার কাছে আপনার ভ্রাতুষ্পুত্রের অংশ চাইতে এসেছিলেন, আর এ ব্যক্তি (আলী) আমার কাছে এসেছিলেন তাঁর স্ত্রীর পিতার অংশ চাইতে। তখন আমি বলেছিলাম: আপনারা চাইলে আমি এটি আপনাদের কাছে হস্তান্তর করতে পারি এই শর্তে যে, আপনাদের ওপর আল্লাহর অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি থাকবে যে, আপনারা এতে সেভাবেই আমল করবেন যেভাবে রাসূলুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবারের উপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন) আমল করেছিলেন, যেভাবে আবু বকর আমল করেছিলেন এবং যেভাবে আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমল করছি। অন্যথায় আপনারা এই বিষয়ে আমার সাথে আর কথা বলবেন না। আপনারা তখন বলেছিলেন: এই শর্তেই এটি আমাদের কাছে দিন। সুতরাং আমি ওই শর্তেই এটি আপনাদের কাছে হস্তান্তর করেছিলাম। আমি আপনাদের আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আমি কি এই শর্তেই এটি আপনাদের কাছে হস্তান্তর করেছিলাম? তারা বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে কি আপনারা আমার কাছ থেকে এর বিপরীত কোনো ফয়সালা আশা করছেন? সেই সত্তার কসম, যাঁর আদেশে আসমান ও জমিন দণ্ডায়মান, কিয়ামত হওয়া পর্যন্ত আমি এর ভিন্ন কোনো ফয়সালা দেব না। যদি আপনারা এর দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তবে এটি আমার কাছে ফিরিয়ে দিন, আমিই আপনাদের পক্ষ থেকে এর জন্য যথেষ্ট হব (তা পরিচালনা করব)।

(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ١٤)
‌‌تحريم التقليد في الدين

قال الله سبحانه وتعالى: {أَمْ آتَيْنَاهُمْ كِتَابًا مِنْ قَبْلِهِ فَهُمْ بِهِ مُسْتَمْسِكُونَ (21) بَلْ قَالُوا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُهْتَدُونَ (22) وَكَذَلِكَ مَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ فِي قَرْيَةٍ مِنْ نَذِيرٍ إِلَّا قَالَ مُتْرَفُوهَا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُقْتَدُونَ (23) قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكُمْ بِأَهْدَى مِمَّا وَجَدْتُمْ عَلَيْهِ آبَاءَكُمْ قَالُوا إِنَّا بِمَا أُرْسِلْتُمْ بِهِ كَافِرُونَ (24) فَانْتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ} [الزخرف:21 - 25]

وقال تعالى: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنزَلَ اللهُ قَالُواْ بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءنَا أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْئاً وَلَا يَهْتَدُونَ} [البقرة: 170]

وقال تعالى: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْاْ إِلَى مَا أَنزَلَ اللهُ وَإِلَى الرَّسُولِ قَالُواْ حَسْبُنَا مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءنَا أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ} [سورة المائدة: 104]

وقال تعالى: {اتَّبِعُواْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُواْ مِن دُونِهِ أَوْلِيَاء قَلِيلاً مَّا تَذَكَّرُونَ} [سورة الأعراف: 3]

وقال تعالى: {اتَّخَذُواْ أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللهِ} [سورة التوبة:31]، وقال تعالى: {وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ} [سورة الإسراء:36]

وقال تعالى: {وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلَى يَدَيْهِ يَقُولُ يَا لَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُولِ سَبِيلًا (27) يَا وَيْلَتَى لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيلًا (28) لَقَدْ أَضَلَّنِي عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَاءَنِي وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِلْإِنْسَانِ خَذُولًا} [الفرقان: 27 - 29]

وقال تعالى: {يَوْمَ تُقَلَّبُ وُجُوهُهُمْ فِي النَّارِ يَقُولُونَ يَا لَيْتَنَا أَطَعْنَا اللَّهَ وَأَطَعْنَا الرَّسُولَا (66) وَقَالُوا رَبَّنَا إِنَّا أَطَعْنَا سَادَتَنَا وَكُبَرَاءَنَا فَأَضَلُّونَا السَّبِيلَا (67) رَبَّنَا آتِهِمْ ضِعْفَيْنِ مِنَ الْعَذَابِ وَالْعَنْهُمْ لَعْنًا كَبِيرًا} [الأحزاب: 66 - 68]
দ্বীনের ক্ষেত্রে অন্ধ অনুকরণ (তাকলীদ) নিষিদ্ধ হওয়া

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {নাকি আমি তাদের এর পূর্বে এমন কোনো কিতাব দিয়েছি যা তারা মজবুতভাবে ধরে আছে? (২১) বরং তারা বলে, আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের একটি আদর্শের ওপর পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে পথপ্রদর্শক হচ্ছি। (২২) আর এভাবেই আপনার পূর্বে কোনো জনপদে যখনই আমি কোনো সতর্ককারী পাঠিয়েছি, তখনই সেখানকার বিত্তবান বিলাসপ্রিয়রা বলেছে, আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের একটি আদর্শের ওপর পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি। (২৩) সে (রাসূল) বলল, যদি আমি তোমাদের কাছে তার চেয়েও উৎকৃষ্ট পথ নিয়ে আসি যার ওপর তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছ, তবুও কি তোমরা তাই করবে? তারা বলল, তোমরা যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছ আমরা তা অস্বীকার করি। (২৪) অতঃপর আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করলাম; সুতরাং দেখুন মিথ্যারোপকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল।} [যুখরুফ: ২১-২৫]

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর যখন তাদের বলা হয়, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা অনুসরণ করো, তখন তারা বলে, বরং আমরা তারই অনুসরণ করব যার ওপর আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি। যদিও তাদের পিতৃপুরুষরা কিছুই বুঝত না এবং তারা সৎপথপ্রাপ্তও ছিল না।} [বাকারা: ১৭০]

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর যখন তাদের বলা হয়, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার দিকে এবং রাসূলের দিকে এসো, তখন তারা বলে, আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের যার ওপর পেয়েছি তাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। যদিও তাদের পিতৃপুরুষরা কিছুই জানত না এবং তারা সৎপথপ্রাপ্তও ছিল না।} [সূরা আল-মায়িদাহ: ১০৪]

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য অভিভাবকদের অনুসরণ করো না। তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করে থাকো।} [সূরা আল-আ'রাফ: ৩]

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের আলেম ও দরবেশদের রবরূপে গ্রহণ করেছে} [সূরা আত-তাওবাহ: ৩১], এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তার পেছনে চলো না।} [সূরা আল-ইসরা: ৩৬]

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {সেদিন জালিম ব্যক্তি নিজের হাত দুটি দংশন করতে করতে বলবে, হায়! আমি যদি রাসূলের সাথে কোনো পথ অবলম্বন করতাম! (২৭) হায় আমার দুর্ভোগ! আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম! (২৮) আমার কাছে উপদেশ আসার পর সে-ই তো আমাকে তা থেকে বিভ্রান্ত করেছিল। আর শয়তান তো মানুষের জন্য চরম প্রতারক।} [আল-ফুরকান: ২৭-২৯]

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {সেদিন তাদের মুখমণ্ডল আগুনে ওলটপালট করা হবে, তারা বলবে, হায়! আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম এবং রাসূলের আনুগত্য করতাম! (৬৬) তারা আরও বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নেতা ও বড়দের আনুগত্য করেছিলাম, ফলে তারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল। (৬৭) হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তাদের দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং তাদের ওপর মহা অভিশাপ বর্ষণ করুন।} [আল-আহযাব: ৬৬-৬৮]
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
وقال تعالى: {وَلَقَدْ آتَيْنَا إِبْرَاهِيمَ رُشْدَهُ مِنْ قَبْلُ وَكُنَّا بِهِ عَالِمِينَ (51) إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ مَا هَذِهِ التَّمَاثِيلُ الَّتِي أَنْتُمْ لَهَا عَاكِفُونَ (52) قَالُوا وَجَدْنَا آبَاءَنَا لَهَا عَابِدِينَ (53) قَالَ لَقَدْ كُنْتُمْ أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ} [الأنبياء: 51 - 54]

وقال الله سبحانه وتعالى: {وَإِذَا فَعَلُواْ فَاحِشَةً قَالُواْ وَجَدْنَا عَلَيْهَا آبَاءنَا وَاللهُ أَمَرَنَا بِهَا قُلْ إِنَّ اللهَ لَا يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاء أَتَقُولُونَ عَلَى اللهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ} [سورة الأعراف: 28]

وقال تعالى حاكياً عن قوم هود في سورة الأعراف: {قَالُواْ أَجِئْتَنَا لِنَعْبُدَ اللهَ وَحْدَهُ وَنَذَرَ مَا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ} [سورة الأعراف: 70]

وقال تعالى حاكياً عن قوم صالح في سورة هود: {قَالُواْ يَا صَالِحُ قَدْ كُنتَ فِينَا مَرْجُوًّا قَبْلَ هَذَا أَتَنْهَانَا أَن نَّعْبُدَ مَا يَعْبُدُ آبَاؤُنَا وَإِنَّنَا لَفِي شَكٍّ مِّمَّا تَدْعُونَا إِلَيْهِ مُرِيبٍ} [سورة هود: 62]

وقال تعالى مخبراً عن قوم شعيب: {قَالُواْ يَا شُعَيْبُ أَصَلَاتُكَ تَأْمُرُكَ أَن نَّتْرُكَ مَا يَعْبُدُ آبَاؤُنَا أَوْ أَن نَّفْعَلَ فِي أَمْوَالِنَا مَا نَشَاء إِنَّكَ لَأَنتَ الْحَلِيمُ الرَّشِيدُ} [سورة هود: 87]

وقال تعالى مخبراً عن قوم نوح في سورة المؤمنين: {فَقَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن قَوْمِهِ مَا هَذَا إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُرِيدُ أَن يَتَفَضَّلَ عَلَيْكُمْ وَلَوْ شَاء اللَّهُ لَأَنزَلَ مَلَائِكَةً مَّا سَمِعْنَا بِهَذَا فِي آبَائِنَا الْأَوَّلِينَ} [سورة المؤمنون: 24]

فإن قال قائل: إن هذه الآيات في ذم التقليد على الكفر، فالجواب: أنه يؤخذ منها ذم التقليد في الدين وتحريمه، فالتقليد الذي هو اتباع من ليس بحجة بدون حجة جعل حاجزاً بين كثير من المسلمين وكتاب ربهم وسنة نبيهم، حتى أصبح كثير منهم لا يعرف إلا قول فلان ويتعصب له أعظم مما يتعصب للكتاب والسنة حتى قال أبو عبد الله محمد بن إبراهيم البوشنجي وهو من رجال التهذيب:

ومن شعب الإيمان حب ابن شافع … وفرض أكيد حبه لا تطوع

أنا شافعي ما حييت وإن أمت … فوصيتي للناس أن يتشفعوا

 

أقول: فهلاّ أوصى الناس أن يتمسكوا بالكتاب والسنة!!.
মহান আল্লাহ বলেন: “আমি ইতিপূর্বে ইবরাহিমকে সঠিক পথের দিশা দিয়েছিলাম এবং আমি তার সম্পর্কে অবগত ছিলাম। যখন সে তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বলেছিল: ‘এই মূর্তিগুলো কী, যাদের তোমরা একনিষ্ঠভাবে পূজা করছ?’ তারা বলেছিল: ‘আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এদের ইবাদত করতে দেখেছি।’ সে বলল: ‘অবশ্যই তোমরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষেরা সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছ’।” [সূরা আল-আম্বিয়া: ৫১ - ৫৪]

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: “আর যখন তারা কোনো অশ্লীল কাজ করে, তখন বলে: ‘আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এরূপ করতে দেখেছি এবং আল্লাহ আমাদের এর নির্দেশ দিয়েছেন।’ বল: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ অশ্লীলতার নির্দেশ দেন না। তোমরা কি আল্লাহর নামে এমন কিছু বলছ যা তোমরা জানো না?’” [সূরা আল-আরাফ: ২৮]

মহান আল্লাহ সূরা আল-আরাফে হূদ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায় সম্পর্কে বর্ণনা করে বলেন: “তারা বলেছিল: ‘তুমি কি আমাদের নিকট এজন্য এসেছ যে আমরা যেন কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করি এবং আমাদের পিতৃপুরুষেরা যা ইবাদত করত তা ত্যাগ করি? তাহলে তুমি আমাদের যে (শাস্তির) প্রতিশ্রুতি দিচ্ছ তা নিয়ে এসো, যদি তুমি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও’।” [সূরা আল-আরাফ: ৭০]

মহান আল্লাহ সূরা হূদে সালেহ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায় সম্পর্কে বর্ণনা করে বলেন: “তারা বলেছিল: ‘হে সালেহ, এর আগে তুমি তো আমাদের নিকট আশার স্থল ছিলে। তুমি কি আমাদের তাদের ইবাদত করতে নিষেধ করছ যাদের ইবাদত আমাদের পিতৃপুরুষেরা করত? তুমি আমাদের যে বিষয়ের দিকে দাওয়াত দিচ্ছ, সে সম্পর্কে আমরা গভীর সন্দেহে রয়েছি’।” [সূরা হূদ: ৬২]

মহান আল্লাহ শুয়াইব (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায় সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেন: “তারা বলেছিল: ‘হে শুয়াইব, তোমার সালাত কি তোমাকে এটাই নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পিতৃপুরুষেরা যার ইবাদত করত আমাদের তা বর্জন করতে হবে অথবা আমাদের ধন-সম্পদ নিয়ে আমরা যা ইচ্ছে করি তা পরিহার করতে হবে? তুমি তো অত্যন্ত সহনশীল ও সুবোধ’।” [সূরা হূদ: ৮৭]

মহান আল্লাহ সূরা আল-মুমিনুনে নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায় সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেন: “তখন তার সম্প্রদায়ের কাফের প্রধানরা বলেছিল: ‘এ তো তোমাদের মত একজন মানুষ বৈ নয়, সে তোমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে চায়। আল্লাহ ইচ্ছে করলে ফেরেশতা পাঠাতেন। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের কালে এমন কথা শুনিনি’।” [সূরা আল-মুমিনুন: ২৪]

যদি কেউ বলে: “এই আয়াতগুলো তো কুফরির ক্ষেত্রে অন্ধ অনুকরণের (তাকলিদ) নিন্দায় অবতীর্ণ হয়েছে”, তবে এর উত্তর হলো: এ থেকে দ্বীনের ক্ষেত্রে অন্ধ অনুকরণের নিন্দা ও তা হারাম হওয়ার বিষয়টিই গৃহীত হয়। কেননা যে অন্ধ অনুকরণ হলো কোনো দলিল ছাড়াই এমন কাউকে অনুসরণ করা যিনি স্বয়ং কোনো দলিল নন, তা অনেক মুসলিম এবং তাদের রবের কিতাব ও তাদের নবীর সুন্নাহর মাঝে এক বিশাল অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি তাদের অনেকে কোনো অমুক ব্যক্তির কথা ছাড়া আর কিছু চেনে না এবং তার প্রতি এমন গোঁড়ামি পোষণ করে যা কিতাব ও সুন্নাহর প্রতি তাদের আনুগত্যকেও ছাড়িয়ে যায়। এমনকি ‘তাহজীব’ গ্রন্থের অন্যতম ব্যক্তিত্ব আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-বুশানজি বলেছেন:

আর ঈমানের শাখাগুলোর অন্যতম হলো শাফেয়ির বংশধরের (ইমাম শাফেয়ি) প্রতি ভালোবাসা … এবং তার প্রতি ভালোবাসা এক সুনিশ্চিত ফরজ, কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়।

যতদিন বেঁচে আছি আমি শাফেয়ি এবং যদি মৃত্যুবরণ করি … তবে মানুষের প্রতি আমার অসিয়ত হলো তারা যেন শাফেয়ি মাযহাব গ্রহণ করে।

 

আমি বলি: তিনি কেন মানুষকে কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার অসিয়ত করলেন না!!
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ١٦)
وقال أبو إسماعيل عبد الله بن محمد الهروي بعده:

أنا حنبلي ما حييت وإن أمت … فوصيتي للناس أن يتحنبلوا

 

وقال بعض جهلة المالكية: لولا مالك كان الدين هالك.

ولا إله إلا الله كم فتن حدثت بسبب المذاهب وإن شئت قرأت «البداية والنهاية» لابن كثير ترى ما يدهشك من الخصام والقتال بين أصحاب المذاهب، كل هذا بسبب التقليد الذي انتهى بكثير من المسلمين أن يقلدوا أعداء الإسلام فإنا لله وإنا إليه راجعون وحسبنا الله ونعم الوكيل.

فإن قلت: فماذا يصنع العامي الذي لا يفهم الكتاب والسنة، فالجواب:

يتعلم فهو ممن يشمله قوله تعالى: {فَاسْأَلُواْ أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} ويشمله قوله تعالى: {اتَّبِعُواْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُواْ مِن دُونِهِ أَوْلِيَاء قَلِيلاً مَّا تَذَكَّرُونَ}.

وتعليم العامي بالفعل أبلغ، والتعليم بالفعل له أصل أصيل فقد صلى النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم بأصحابه على المنبر، وإذا أراد أن يسجد نزل وسجد على الأرض، اللهم إنا نبرأ إليك من التقليد الذي شتت شمل المسلمين وحال بين كثير منهم وبين كتاب ربهم وسنة نبيهم وسهل عليهم اتباع أعداء

الإسلام.

وإني أنصح بقراءة «القول المفيد في أدلة الاجتهاد والتقليد» للشوكاني

و «إرشاد النقاد إلى تيسير الاجتهاد» للصنعاني.

فإن قلت أيهما أضر على الدين المذاهب أم الحزبية؟ فالجواب: الحزبية،

لأنها مستوردة من قبل أعداء الإسلام لهدم الدين كما أوضحنا ذلك في كتبنا:

1 - «إجابة السائل عن أهم المسائل».

2 - «الفواكه الجنية».
এরপর আবু ইসমাইল আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-হারাবী বলেন:

আমি যতদিন বেঁচে আছি হাম্বলী, আর যদি আমি মারা যাই … তবে মানুষের প্রতি আমার অসিয়ত এই যে তারা যেন হাম্বলী হয়।

 

মালিকি মাযহাবের কিছু মূর্খ লোক বলেছে: যদি মালেক না থাকতেন তবে দ্বীন ধ্বংস হয়ে যেত।

আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, মাযহাবসমূহের কারণে কতই না ফিতনা সৃষ্টি হয়েছে! আর তুমি যদি চাও তবে ইবনে কাসীরের ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ পড়তে পারো, সেখানে তুমি মাযহাব অনুসারীদের মধ্যকার বিবাদ ও লড়াই দেখে বিস্মিত হবে। এই সবকিছুই সেই তাকলিদ বা অন্ধ অনুসরণের কারণে, যা অনেক মুসলিমকে ইসলামের শত্রুদের অনুকরণ করার দিকে নিয়ে শেষ করেছে। সুতরাং আমরা আল্লাহর জন্যই এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাবো, আর আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

তুমি যদি বলো: তবে সেই সাধারণ মানুষ কী করবে যে কিতাব ও সুন্নাহ বোঝে না? উত্তর হলো:

সে শিক্ষা গ্রহণ করবে, কারণ সে মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: {তোমরা যদি না জানো তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো} এবং আল্লাহর এই বাণীরও অন্তর্ভুক্ত: {তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো অভিভাবকদের অনুসরণ করো না; তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করে থাকো}।

আর কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে শিক্ষা দেওয়া অধিক কার্যকরী। কর্মের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদানের একটি সুদৃঢ় ভিত্তি রয়েছে; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম মিম্বারের উপর তাঁর সাহাবীদের নিয়ে সালাত আদায় করেছেন, আর যখন তিনি সিজদা করতে চাইতেন তখন নিচে নামতেন এবং জমিনে সিজদা করতেন। হে আল্লাহ, আমরা আপনার কাছে সেই তাকলিদ বা অন্ধ অনুসরণ থেকে দায়মুক্তি ঘোষণা করছি যা মুসলিমদের ঐক্য বিনষ্ট করেছে এবং তাদের অনেকের মাঝে ও তাদের রবের কিতাব ও তাদের নবীর সুন্নাহর মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তাদের জন্য ইসলামের শত্রুদের অনুসরণ করা সহজ করে দিয়েছে।

আর আমি শাওকানীর ‘আল-কাউলুল মুফিদ ফি আদিল্লাতিল ইজতিহাদ ওয়াত তাকলিদ’ এবং সান'ানীর ‘ইরশাদুন নুক্কাদ ইলা তাইসিরিল ইজতিহাদ’ পড়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

তুমি যদি বলো দ্বীনের জন্য কোনটি অধিক ক্ষতিকর—মাযহাবসমূহ নাকি দলবাজি (হিযবিয়্যাত)? উত্তর হলো: দলবাজি,

কারণ এটি দ্বীনকে ধ্বংস করার জন্য ইসলামের শত্রুদের পক্ষ থেকে আমদানিকৃত, যেমনটি আমরা আমাদের বইগুলোতে স্পষ্ট করেছি:

১ - ‘ইজাবাতুস সায়িল আন আহাম্মিল মাসায়িল’।

২ - ‘আল-ফাওয়াকিহুল জানিইয়াহ’।
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
3 - «المصارعة».

4 - «القول الأمين في بيان فضائح المذبذبين».

5 - «قمع المعاند». وكل هذه مطبوعة منشورة.

6 - وكذا في «غارة الأشرطة على أهل الجهل والسفسطة» قد رصّ وكذا في «فضائح ونصائح».

ونحن إذ نحذّرمن تقليد أبي حنيفة فلسنا ندعو الناس إلى مذهبنا فليس لنا مذهب إلا كتاب ربنا وسنة نبينا صلى الله عليه وعلى آله وسلم، ولسنا ندعو الناس إلى اتباعنا فلسنا أهلاً لأن نتبع بل ندعو الناس إلى كتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم.

فهما الأمان من الضلال: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يِهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا كَبِيرًا} [الإسراء: 9]

 

* قال الإمام البخاري رحمه الله (ج3 ص205) حديث (1338):

حدثنا عياش حدثنا عبد الأعلى حدثنا سعيد قال … وقال لي خليفة:

حدثنا ابن زريع حدثنا سعيد عن قتادة عن أنس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم: «العبد إذا وضع في قبره وتولى وذهب أصحابه

- حتى أنه ليسمع قرع نعالهم- أتاه ملكان فأقعداه فيقولان له: ما كنت تقول في هذا الرجل - محمد صلى الله عليه وعلى آله وسلم؟ - فيقول: أشهد أنه عبد الله ورسوله، فيقال: انظر إلى مقعد له من النار: أبدلك الله به مقعداً من الجنة قال النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم: فيراهما جميعاً، وأما الكافر أو المنافق فيقول: لا أدري كنت أقول ما يقول الناس، فيقال: لا دريت ولا تليت، ثم يضرب بمطرقة من حديد ضربة بي أذنيه فيصيح صيحة يسمعها من يليه إلا الثقلين».
৩ - «আল-মুসারাআহ»।

৪ - «আল-কাওলুল আমিন ফি বায়ানি ফাদাইহিল মুযাবযাবিন»।

৫ - «কামউল মুআনিদ»। আর এই সবই মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

৬ - একইভাবে «গারাতুল আশরিতা আলা আহলিল জাহলি ওয়াস সাফসাতাহ» গ্রন্থে তা বিন্যস্ত করা হয়েছে এবং একইভাবে «ফাদাইহ ওয়া নাসাইহ» গ্রন্থেও।

আর আমরা যখন আবু হানিফার তাকলিদ করার ব্যাপারে সতর্ক করি, তখন আমরা মানুষকে আমাদের মাযহাবের দিকে আহ্বান করছি না; কারণ আমাদের রবের কিতাব এবং আমাদের নবীর (তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) সুন্নাহ ব্যতীত আমাদের কোনো মাযহাব নেই। আর আমরা মানুষকে আমাদের অনুসরণের দিকেও আহ্বান করছি না, কারণ আমরা অনুসৃত হওয়ার যোগ্য নই; বরং আমরা মানুষকে আল্লাহর কিতাব এবং আল্লাহর রাসূলের (তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) সুন্নাহর দিকে আহ্বান করি।

এই দুটিই হলো পথভ্রষ্টতা থেকে নিরাপত্তার উপায়: {নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথের দিশা দেয় যা সবচেয়ে সুদৃঢ় এবং সেই মুমিনদের সুসংবাদ দেয় যারা সৎকর্ম করে যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।} [আল-ইসরা: ৯]

 

* ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (৩য় খণ্ড, ২০৫ পৃষ্ঠা) হাদিস (১৩৩৮):

আমাদের নিকট আইয়াশ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল আ’লা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সাঈদ বর্ণনা করেছেন … এবং খলিফা আমাকে বলেছেন:

আমাদের নিকট ইবনে যুরাই' বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সাঈদ বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেছেন: «বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তার সাথীরা প্রস্থান করে ও ফিরে যায়—এমনকি সে তাদের জুতার শব্দও শুনতে পায়—তখন তার নিকট দুইজন ফেরেশতা আসেন এবং তাকে বসান। তারা তাকে বলেন: এই ব্যক্তি—অর্থাৎ মুহাম্মদ (তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)—সম্পর্কে তুমি কী বলতে? তখন সে বলে: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তখন তাকে বলা হয়: জাহান্নামে তোমার সেই স্থানটির দিকে তাকাও, আল্লাহ তোমাকে তার বদলে জান্নাতের একটি স্থান দান করেছেন। নবী (তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেন: তখন সে উভয় স্থানই দেখতে পায়। আর কাফির বা মুনাফিক বলবে: আমি জানি না, মানুষ যা বলত আমিও তাই বলতাম। তখন তাকে বলা হবে: তুমি জানোনি এবং তুমি অনুসরণ করোনি। এরপর তাকে লোহার হাতুড়ি দিয়ে তার দুই কানের মাঝে এক আঘাত করা হয়, তখন সে এমন এক চিৎকার দেয় যা তার নিকটবর্তী জিন ও মানুষ ব্যতীত সকলেই শুনতে পায়।»
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
وأعاده البخاري في (ص232) من طريق عياش بن الوليد به.

أخرجه مسلم (ج4 ص220) فقال رحمه الله: حدثنا عبد بن حميد حدثنا يونس بن محمد حدثنا شيبان بن عبد الرحمن عن قتادة به.

* قال البخاري رحمه الله (ج3 ص222):

حدثنا إسحاق أخبرنا يعقوب بن إبراهيم قال حدثني أبي عن صالح عن ابن شهاب قال أخبرني سعيد بن المسيب عن أبيه أنه أخبره أنه لما حضرت أبا طالب الوفاة جاءه رسول الله صلى عليه وعلى آله وسلم فوجد عنده أبا جهل بن هشام وعبد الله بن أبي أمية بن المغيرة قال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم لأبي طالب: «يا عم، قل: لا إله إلا الله كلمة أشهد لك بها عند الله»، فقال أبو جهل وعبد الله بن أبي أميه: يا أبا طالب أترغب عن ملة عبد المطلب فلم يزل رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم يعرضها عليه ويعودان بتلك المقالة حتى قال أبو طالب: آخر ما كلمهم: هو على ملة عبد المطلب، وأبى أن يقول: لا إله إلا الله، فقال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم: أما والله لأستغفرن لك ما لم أنه عنك؟» فأنزل الله تعالى فيه الآية.

الحديث أخرجه في مواضع من صحيحه منها (ج8 ص194) وفيه فنزلت:

{مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُواْ أَن يَسْتَغْفِرُواْ لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُواْ أُوْلِي قُرْبَى مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ} [سورة التوبة: 113]، ونزلت: {إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ} [سورة القصص: 56]

الحديث أخرجه مسلم (ج1 ص214).

* * *
বুখারি একে (পৃষ্ঠা ২৩২) আয়্যাশ বিন আল-ওয়ালিদের সূত্রে পুনরায় উল্লেখ করেছেন।

মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (৪র্থ খণ্ড, ২২০ পৃষ্ঠা), তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমাদের কাছে আব্দ বিন হুমায়িদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে ইউনুস বিন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে শায়বান বিন আব্দুর রহমান কাতাদা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

* বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন (৩য় খণ্ড, ২২২ পৃষ্ঠা):

আমাদের কাছে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াকুব বিন ইব্রাহিম, তিনি বলেন আমার কাছে আমার পিতা সালিহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি বলেন আমাকে সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব তার পিতা থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, যখন আবু তালিবের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তার কাছে আসলেন। তিনি তার কাছে আবু জাহল বিন হিশাম এবং আব্দুল্লাহ বিন আবি উমাইয়া বিন আল-মুগিরাকে উপস্থিত দেখতে পেলেন। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) আবু তালিবকে বললেন: «হে চাচা, আপনি বলুন: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই), এমন এক বাক্য যার মাধ্যমে আমি আল্লাহর নিকট আপনার পক্ষে সাক্ষ্য দেব», তখন আবু জাহল এবং আব্দুল্লাহ বিন আবি উমাইয়া বলল: হে আবু তালিব, আপনি কি আব্দুল মুত্তালিবের ধর্ম থেকে বিমুখ হচ্ছেন? এরপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) অবিরত তার কাছে এটি পেশ করতে থাকলেন এবং তারা দুজনও তাদের সেই কথা পুনরাবৃত্তি করতে থাকল, যতক্ষণ না আবু তালিব তাদের সাথে তার শেষ কথা হিসেবে বললেন: সে আব্দুল মুত্তালিবের ধর্মের উপরই আছে, এবং তিনি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলতে অস্বীকার করলেন। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকব যতক্ষণ না আমাকে আপনার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়। অতঃপর আল্লাহ তাআলা এই বিষয়ে আয়াত নাজিল করেন।

হাদিসটি তিনি তার সহিহ গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে (৮ম খণ্ড, ১৯৪ পৃষ্ঠা) এবং সেখানে রয়েছে যে অবতীর্ণ হয়েছে:

{নবী এবং মুমিনদের জন্য উচিত নয় যে তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যদিও তারা নিকটাত্মীয় হয়, তাদের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যে তারা জাহান্নামের অধিবাসী।} [সুরা আত-তাওবা: ১১৩], এবং অবতীর্ণ হয়েছে: {নিশ্চয় আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হেদায়েত দিতে পারবেন না।} [সুরা আল-কাসাস: ৫৬]

হাদিসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১ম খণ্ড, ২১৪ পৃষ্ঠা)।

* * *
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
فيما يتعلق من العداوة والخصام بين التابع والمتبوع على الباطل

يوم القيامة وفي النار أعاذنا الله وإياكم من ذلك.

قال الله تعالى: {وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ مَوْقُوفُونَ عِنْدَ رَبِّهِمْ يَرْجِعُ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ الْقَوْلَ يَقُولُ الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا لَوْلَا أَنْتُمْ لَكُنَّا مُؤْمِنِينَ (31) قَالَ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا لِلَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا أَنَحْنُ صَدَدْنَاكُمْ عَنِ الْهُدَى بَعْدَ إِذْ جَاءَكُمْ بَلْ كُنْتُمْ مُجْرِمِينَ (32) وَقَالَ الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا بَلْ مَكْرُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ إِذْ تَأْمُرُونَنَا أَنْ نَكْفُرَ بِاللَّهِ وَنَجْعَلَ لَهُ أَنْدَادًا وَأَسَرُّوا النَّدَامَةَ لَمَّا رَأَوُا الْعَذَابَ وَجَعَلْنَا الْأَغْلَالَ فِي أَعْنَاقِ الَّذِينَ كَفَرُوا هَلْ يُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [سبأ: 31 - 33]

وقال الله تعالى: {الْأَخِلَّاء يَوْمَئِذٍ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ إِلَّا الْمُتَّقِينَ}

[سورة الزخرف: 67]

وقال تعالى مخبراً عن آل فرعون: {وَإِذْ يَتَحَاجُّونَ فِي النَّارِ فَيَقُولُ الضُّعَفَاءُ لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُنَّا لَكُمْ تَبَعًا فَهَلْ أَنْتُمْ مُغْنُونَ عَنَّا نَصِيبًا مِنَ النَّارِ (47) قَالَ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُلٌّ فِيهَا إِنَّ اللَّهَ قَدْ حَكَمَ بَيْنَ الْعِبَادِ} [سورة غافر: 47 - 48]

وقال تعالى: {إِذْ تَبَرَّأَ الَّذِينَ اتُّبِعُواْ مِنَ الَّذِينَ اتَّبَعُواْ وَرَأَوُاْ الْعَذَابَ وَتَقَطَّعَتْ بِهِمُ الأَسْبَابُ} [سورة البقرة:166] أي: المودة التي كانت بينهم في الدنيا: {وَقَالَ الَّذِينَ اتَّبَعُواْ لَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَتَبَرَّأَ مِنْهُمْ كَمَا تَبَرَّؤُواْ مِنَّا كَذَلِكَ يُرِيهِمُ اللهُ أَعْمَالَهُمْ حَسَرَاتٍ عَلَيْهِمْ وَمَا هُم بِخَارِجِينَ مِنَ النَّارِ} [سورة البقرة: 167]

وقال تعالى مخبراً عن إبراهيم عليه السلام حيث وبخ قومه: {وَقَالَ إِنَّمَا اتَّخَذْتُم مِّن دُونِ اللَّهِ أَوْثَانًا مَّوَدَّةَ بَيْنِكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ثُمَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكْفُرُ بَعْضُكُم بِبَعْضٍ وَيَلْعَنُ بَعْضُكُم بَعْضًا وَمَأْوَاكُمُ النَّارُ وَمَا لَكُم مِّن نَّاصِرِينَ} [سورة العنكبوت: 25]

قال الحافظ ابن كثير رحمه الله مفسراً لقوله: {وَيَلْعَنُ بَعْضُكُم بَعْضًا}

 

أي: يلعن الأتباع المتبوعين والمتبعون الأتباع: {كُلَّمَا دَخَلَتْ أُمَّةٌ لَّعَنَتْ أُخْتَهَا}.
বাতিলের ওপর অটল থাকা অনুসারী ও অনুসৃতদের মধ্যকার শত্রুতা ও বিবাদ প্রসঙ্গে, যা কিয়ামতের দিনে এবং জাহান্নামে ঘটবে; আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের তা থেকে রক্ষা করুন।

মহান আল্লাহ বলেন: “আর আপনি যদি দেখতেন যখন যালিমদেরকে তাদের রবের সামনে দণ্ডায়মান করা হবে, তখন তারা একে অপরের ওপর দোষারোপ করতে থাকবে। যাদেরকে দুর্বল মনে করা হতো, তারা অহংকারীদের বলবে, ‘তোমরা না থাকলে আমরা অবশ্যই মুমিন হতাম।’ অহংকারীরা দুর্বলদের বলবে, ‘তোমাদের কাছে হিদায়াত আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে তা থেকে নিবৃত্ত করেছিলাম? বরং তোমরাই তো ছিলে অপরাধী।’ আর দুর্বলরা অহংকারীদের বলবে, ‘বরং এটি ছিল রাত-দিনের চক্রান্ত, যখন তোমরা আমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছিলে যেন আমরা আল্লাহর সাথে কুফরি করি এবং তাঁর সমকক্ষ স্থির করি।’ আর যখন তারা আযাব দেখবে তখন তারা অনুতাপ গোপন করবে। আর আমি কাফিরদের গলায় বেড়ি পরিয়ে দেব। তারা যা করত তা ছাড়া তাদেরকে আর কীসের প্রতিফল দেওয়া হবে?” [সূরা সাবা: ৩১ - ৩৩]

মহান আল্লাহ বলেন: “বন্ধুরা সেদিন একে অপরের শত্রু হয়ে যাবে, মুত্তাকীরা ছাড়া।”

[সূরা আয-যুখরুফ: ৬৭]

মহান আল্লাহ ফিরআউনের অনুসারীদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেন: “আর যখন তারা জাহান্নামে একে অপরের সাথে ঝগড়া করবে, তখন দুর্বলরা অহংকারীদের বলবে, ‘আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম; সুতরাং তোমরা কি আমাদের থেকে জাহান্নামের আগুনের কিছুটা অংশ লাঘব করতে পারবে?’ অহংকারীরা বলবে, ‘আমরা সবাই তো এতেই আছি; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে বিচার করে ফেলেছেন’।” [সূরা গাফির: ৪৭ - ৪৮]

মহান আল্লাহ বলেন: “যখন অনুসৃতরা তাদের অনুসারীদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে এবং তারা আযাব দেখতে পাবে আর তাদের মধ্যকার সকল সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে।” [সূরা আল-বাকারাহ: ১৬৬] অর্থাৎ: দুনিয়াতে তাদের মাঝে যে ভালোবাসা ছিল: “আর অনুসারীরা বলবে, ‘যদি আমাদের ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকত, তবে আমরাও তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতাম যেমন তারা আমাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।’ এভাবেই আল্লাহ তাদের কার্যাবলিকে তাদের জন্য আক্ষেপ হিসেবে দেখাবেন, আর তারা জাহান্নাম থেকে বহির্গমনকারী নয়।” [সূরা আল-বাকারাহ: ১৬৭]

মহান আল্লাহ ইবরাহীম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেন, যখন তিনি তাঁর কওমকে তিরস্কার করছিলেন: “তিনি বললেন, ‘তোমরা তো কেবল দুনিয়ার জীবনে পারস্পরিক ভালোবাসার খাতিরে আল্লাহর পরিবর্তে মূর্তিদের গ্রহণ করেছ। এরপর কিয়ামতের দিন তোমরা একে অপরকে অস্বীকার করবে এবং একে অপরকে অভিশাপ দেবে। আর তোমাদের আবাসস্থল হবে আগুন এবং তোমাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না’।” [সূরা আল-আনকাবুত: ২৫]

হাফিয ইবনে কাসীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যায় বলেন: “এবং তোমরা একে অপরকে অভিশাপ দেবে”

 

অর্থাৎ: অনুসারীরা অনুসৃতদের অভিশাপ দেবে এবং অনুসৃতরা অনুসারীদের অভিশাপ দেবে: “যখনই কোনো জাতি জাহান্নামে প্রবেশ করবে, সে তার অনুরূপ জাতিকে অভিশাপ দেবে।”
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
وقال تعالى: {وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّن يَدْعُو مِن دُونِ اللَّهِ مَن لَّا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَومِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَن دُعَائِهِمْ غَافِلُونَ (5) وَإِذَا حُشِرَ النَّاسُ كَانُوا لَهُمْ أَعْدَاء وَكَانُوا بِعِبَادَتِهِمْ كَافِرِينَ} [سورة الأحقاف: 5 - 6]

وقال تعالى: {وَاتَّخَذُوا مِن دُونِ اللَّهِ آلِهَةً لِّيَكُونُوا لَهُمْ عِزّاً (80) كَلَّا سَيَكْفُرُونَ بِعِبَادَتِهِمْ وَيَكُونُونَ عَلَيْهِمْ ضِدّاً} [مريم: 80 - 81]

ولا يظن ظان أن هذه في الكفار الذين يعبدون الأصنام فحسب فإنها تتناول كل من عمل هذا العمل إلى يوم القيامة.

وقال تعالى: {وَبُرِّزَتِ الْجَحِيمُ لِلْغَاوِينَ (91) وَقِيلَ لَهُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ تَعْبُدُونَ (92) مِنْ دُونِ اللَّهِ هَلْ يَنْصُرُونَكُمْ أَوْ يَنْتَصِرُونَ (93) فَكُبْكِبُوا فِيهَا هُمْ وَالْغَاوُونَ (94) وَجُنُودُ إِبْلِيسَ أَجْمَعُونَ (95) قَالُوا وَهُمْ فِيهَا يَخْتَصِمُونَ (96) تَاللَّهِ إِنْ كُنَّا لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ (97) إِذْ نُسَوِّيكُمْ بِرَبِّ الْعَالَمِينَ (98) وَمَا أَضَلَّنَا إِلَّا الْمُجْرِمُونَ} [الشعراء: 99].

وقال تعالى: {وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ فَيَقُولُ أَيْنَ شُرَكَائِيَ الَّذِينَ كُنْتُمْ تَزْعُمُونَ (62) قَالَ الَّذِينَ حَقَّ عَلَيْهِمُ الْقَوْلُ رَبَّنَا هَؤُلَاءِ الَّذِينَ أَغْوَيْنَا أَغْوَيْنَاهُمْ كَمَا غَوَيْنَا تَبَرَّأْنَا إِلَيْكَ مَا كَانُوا إِيَّانَا يَعْبُدُونَ}.

وقال تعالى: {هَذَا فَلْيَذُوقُوهُ حَمِيمٌ وَغَسَّاقٌ (57) وَآخَرُ مِنْ شَكْلِهِ أَزْوَاجٌ (58) هَذَا فَوْجٌ مُقْتَحِمٌ مَعَكُمْ لَا مَرْحَبًا بِهِمْ إِنَّهُمْ صَالُو النَّارِ (59) قَالُوا بَلْ أَنْتُمْ لَا مَرْحَبًا بِكُمْ أَنْتُمْ قَدَّمْتُمُوهُ لَنَا فَبِئْسَ الْقَرَارُ (60) قَالُوا رَبَّنَا مَنْ قَدَّمَ لَنَا هَذَا فَزِدْهُ عَذَابًا ضِعْفًا فِي النَّارِ} إلى أن قال: {إِنَّ ذَلِكَ لَحَقٌّ تَخَاصُمُ أَهْلِ النَّارِ} قال الحافظ ابن كثير رحمه الله تعالى وقوله: {هَذَا فَوْجٌ مُّقْتَحِمٌ مَّعَكُمْ لَا مَرْحَباً بِهِمْ إِنَّهُمْ صَالُوا النَّارِ} هذا إخبار من الله تعال عن قيل أهل النار بعضهم لبعض كما قال تعالى: {كُلَّمَا دَخَلَتْ أُمَّةٌ لَّعَنَتْ أُخْتَهَا} يعني بدل السلام يتلاعنون ويتكاذبون ويكفر بعضهم بعضاً فتقول الطائفة التي تدخل قبل الأخرى إذا أقبلت التي بعدها مع الخزنة من الزبانية {هَذَا فَوْجٌ مُّقْتَحِمٌ مَّعَكُمْ} أي داخل
আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং সেই ব্যক্তির চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে, যে আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কাউকে ডাকে যে কিয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দেবে না? আর তারা তাদের ডাক সম্পর্কে উদাসীন। (৫) আর যখন মানুষকে সমবেত করা হবে, তখন তারা তাদের শত্রু হবে এবং তারা তাদের ইবাদত অস্বীকার করবে।" [সূরা আল-আহকাফ: ৫ - ৬]

আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং তারা আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য উপাস্য গ্রহণ করেছে যাতে তারা তাদের জন্য শক্তির উৎস হয়। (৮০) কখনো নয়, তারা শীঘ্রই তাদের ইবাদত অস্বীকার করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে চলে যাবে।" [মারইয়াম: ৮০ - ৮১]

কোনো চিন্তাশীল ব্যক্তি যেন মনে না করেন যে, এটি কেবল সেই কাফিরদের ক্ষেত্রে যারা মূর্তিপূজা করত; বরং এটি কিয়ামত পর্যন্ত যারা এই কাজ করবে তাদের সকলকে শামিল করে।

আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর পথভ্রষ্টদের জন্য জাহান্নামকে উন্মোচিত করা হবে। (৯১) এবং তাদের বলা হবে, কোথায় তারা যাদের তোমরা ইবাদত করতে—(৯২) আল্লাহকে বাদ দিয়ে? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে অথবা তারা কি নিজেরা সাহায্য পেতে পারে? (৯৩) অতঃপর তাদের এবং পথভ্রষ্টদের অধোমুখী করে তাতে নিক্ষেপ করা হবে, (৯৪) এবং ইবলিসের সকল বাহিনীকে। (৯৫) তারা সেখানে ঝগড়া করতে করতে বলবে: (৯৬) আল্লাহর কসম! আমরা তো স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত ছিলাম, (৯৭) যখন আমরা তোমাদের বিশ্বজগতের রবের সমতুল্য করতাম। (৯৮) আর আমাদের তো কেবল অপরাধীরাই পথভ্রষ্ট করেছিল।" [আশ-শুআরা: ৯১-৯৯]।

আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর যেদিন তিনি তাদের ডাকবেন এবং বলবেন, আমার সেই শরীকরা কোথায় যাদের তোমরা (শরীক বলে) দাবি করতে? (৬২) যাদের বিরুদ্ধে ফয়সালা অবধারিত হয়ে গেছে তারা বলবে, হে আমাদের রব! এরাই তারা যাদের আমরা পথভ্রষ্ট করেছিলাম; আমরা তাদের পথভ্রষ্ট করেছিলাম যেভাবে আমরা নিজেরা পথভ্রষ্ট হয়েছিলাম। আমরা আপনার কাছে এদের সাথে সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করছি; তারা তো আমাদের ইবাদত করত না।"

আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এ তো (ফুটন্ত পানি ও পুঁজ); তারা যেন এর স্বাদ গ্রহণ করে। (৫৭) আর এ ধরনের আরও বহু জোড়া শাস্তি রয়েছে। (৫৮) (বলা হবে,) এই যে এক দল তোমাদের সাথে ঝাঁপিয়ে পড়ছে; তাদের জন্য কোনো স্বাগতম নেই, তারা তো জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (৫৯) তারা বলবে, বরং তোমাদের জন্য কোনো স্বাগতম নেই, তোমরাই তো আমাদের সামনে এটি পেশ করেছ; কতই না মন্দ এই আবাসস্থল! (৬০) তারা বলবে, হে আমাদের রব! যারা আমাদের সামনে এটি এনেছে, আপনি জাহান্নামে তাদের শাস্তি দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিন।" এই পর্যন্ত যে তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই এটি সত্য, জাহান্নামীদের পারস্পরিক বাকবিতণ্ডা।" হাফিজ ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেছেন, আর তাঁর বাণী: "এই যে এক দল তোমাদের সাথে ঝাঁপিয়ে পড়ছে, তাদের জন্য কোনো স্বাগতম নেই, তারা তো জাহান্নামে প্রবেশ করবে"—এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে জাহান্নামীদের একে অপরের প্রতি উক্তির সংবাদ। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যখনই কোনো উম্মত (জাহান্নামে) প্রবেশ করবে, সে তার অনুরূপ উম্মতকে লানত দেবে।" অর্থাৎ সালামের পরিবর্তে তারা একে অপরকে লানত করবে, মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে এবং একে অপরকে অস্বীকার করবে। সুতরাং যে দলটি আগে প্রবেশ করেছে, তারা যখন দেখবে যে তাদের পরের দলটি জাহান্নামের প্রহরী বা জাবানিয়াদের সাথে আসছে, তখন তারা বলবে: "এই যে এক দল তোমাদের সাথে ঝাঁপিয়ে পড়ছে," অর্থাৎ প্রবেশ করছে।
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
{مَّعَكُمْ لَا مَرْحَباً بِهِمْ إِنَّهُمْ صَالُوا النَّارِ} أي لأنَّهم من أهل جهنم {قَالُوا بَلْ أَنتُمْ لَا مَرْحَباً بِكُمْ} أي فيقول لهم الداخلون {بَلْ أَنتُمْ لَا مَرْحَباً بِكُمْ أَنتُمْ قَدَّمْتُمُوهُ لَنَا} أي أنتم دعوتمونا إلى ما أفضى بنا إلى هذا المصير.

{قَالُوا رَبَّنَا مَن قَدَّمَ لَنَا هَذَا فَزِدْهُ عَذَاباً ضِعْفاً فِي النَّارِ} كما قال الله عز وجل: {قَالَ ادْخُلُواْ فِي أُمَمٍ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِكُم مِّن الْجِنِّ وَالإِنسِ فِي النَّارِ كُلَّمَا دَخَلَتْ أُمَّةٌ لَّعَنَتْ أُخْتَهَا حَتَّى إِذَا ادَّارَكُواْ فِيهَا جَمِيعًا قَالَتْ أُخْرَاهُمْ لأُولَاهُمْ رَبَّنَا هَؤُلاء أَضَلُّونَا فَآتِهِمْ عَذَابًا ضِعْفًا مِّنَ النَّارِ قَالَ لِكُلٍّ ضِعْفٌ وَلَكِن لَاّ تَعْلَمُونَ} [سورة الأعراف: 38]

أي لكل منكم عذاب بحسابه. أهـ.

* قال الإمام أحمد رحمه الله تعالى (ج6 ص139):

ثنا يزيد بن هارون قال أنا ابن أبي ذئب عن محمد بن عمرو بن عطاء عن ذكوان عن عائشة قالت: جاءت يهودية فاستطعمت على بابي فقالت: أطعموني أعاذكم الله من فتنة الدجال ومن فتنة عذاب القبر قالت: فلم أزل أحسبها حتى جاء رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم فقلت: يا رسول الله ما تقول هذه اليهودية؟ قال: وما تقول؟ قلت: تقول: أعاذكم الله من فتنة الدجال ومن فتنة عذاب القبر، قالت عائشة: فقام رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم فرفع يديه مداً يستعيذ بالله من فتنة الدجال ومن فتنة عذاب القبر ثم قال: «أما فتنة الدحال فإنه لم يكن نبي إلا قد حذر أمته منه

وسأحذركموه حذيراً لم يحذره نبي أمته إنه أعور والله عز وجل ليس بأعور مكتوب بين عينيه كافر يقرؤه كل مؤمن، فأما فتنة القبر فهي تفتنون وعني تسألون فإذا كان الرجل الصالح أجلس في قبره غير فزع ولا مشعوف ثم يقال له: فيم كنت؟ فيقول: في الإسلام، فيقال: ما هذا الرجل الذي كان فيكم؟ فيقول: محمد رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم جاءنا بالبينات من عند الله عز وجل فصدقناه فيفرج له فرجة قبل النار فينظر إليها يحطم بعضها بعضاً فيقال له: انظر إلى ما وقاك الله عز وجل ثم يفرج له فرجة إلى الجنة فينظر
{তোমাদের সাথে (রয়েছে একটি দল), তাদের জন্য কোনো সাদর সম্ভাষণ নেই, নিশ্চয় তারা জাহান্নামে প্রবেশকারী।} অর্থাৎ যেহেতু তারা জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত। {তারা বলবে, বরং তোমাদের জন্যই কোনো সাদর সম্ভাষণ নেই।} অর্থাৎ যারা প্রবেশ করেছে তারা তাদের বলবে, {বরং তোমাদের জন্যই কোনো সাদর সম্ভাষণ নেই, তোমরাই আমাদের সামনে এটি পেশ করেছ।} অর্থাৎ তোমরাই আমাদের সেই দিকে আহ্বান করেছিলে যা আমাদের এই পরিণতির দিকে নিয়ে এসেছে।

{তারা বলবে, হে আমাদের রব! যে আমাদের সামনে এটি পেশ করেছে, তাকে আপনি জাহান্নামে দ্বিগুণ আজাব বাড়িয়ে দিন।} যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {তিনি বলবেন, তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তী জিন ও মানুষের সেই উম্মতদের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করো যারা গত হয়ে গেছে। যখনই কোনো উম্মত প্রবেশ করবে, সে তার সমজাতীয় উম্মতকে অভিশাপ দিবে। পরিশেষে যখন তারা সবাই সেখানে একত্রে মিলিত হবে, তখন তাদের পরবর্তী দল পূর্ববর্তী দল সম্পর্কে বলবে, হে আমাদের রব! এরাই আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল, তাই আপনি তাদের জাহান্নামের দ্বিগুণ আজাব দিন। তিনি বলবেন, প্রত্যেকের জন্যই দ্বিগুণ (আজাব) রয়েছে, কিন্তু তোমরা জানো না।} [সূরা আল-আরাফ: ৩৮]

অর্থাৎ তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই তার হিসাব অনুযায়ী আজাব রয়েছে। সমাপ্ত।

* ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) বলেন (৬ষ্ঠ খণ্ড, ১৩৯ পৃষ্ঠা):

ইয়াজিদ বিন হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইবন আবি জিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আমর বিন আতা থেকে, তিনি যাকওয়ান থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: একজন ইহুদি নারী এসে আমার দরজায় খাবার প্রার্থনা করল এবং বলল, "আমাকে খাবার দিন, আল্লাহ আপনাদের দাজ্জালের ফিতনা থেকে এবং কবরের আজাবের ফিতনা থেকে রক্ষা করুন।" আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) আসা পর্যন্ত আমি তার এই কথাটি গুরুত্বের সাথে মনে রাখছিলাম। এরপর আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! এই ইহুদি নারী কী বলছে?" তিনি বললেন, "সে কী বলছে?" আমি বললাম, "সে বলছে: আল্লাহ আপনাদের দাজ্জালের ফিতনা থেকে এবং কবরের আজাবের ফিতনা থেকে রক্ষা করুন।" আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে দুহাত প্রসারিত করে হাত তুললেন এবং দাজ্জালের ফিতনা ও কবরের আজাবের ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "দাজ্জালের ফিতনার ব্যাপারে কথা এই যে, এমন কোনো নবী অতিবাহিত হননি যিনি তার উম্মতকে এ বিষয়ে সতর্ক করেননি

আর আমি তোমাদের এমন এক সতর্কবাণী দিচ্ছি যা কোনো নবী তার উম্মতকে দেননি; তা হলো সে একচক্ষু বিশিষ্ট, আর মহান আল্লাহ একচক্ষু বিশিষ্ট নন। তার দুই চোখের মাঝে ‘কাফির’ লেখা থাকবে যা প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তি পড়তে পারবে। আর কবরের ফিতনা হলো, সেখানে তোমাদের পরীক্ষা করা হবে এবং আমার সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে। যখন কোনো নেককার ব্যক্তিকে তার কবরে বসানো হবে, সে ভীত বা আতঙ্কিত হবে না। অতঃপর তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, ‘তুমি কিসের ওপর ছিলে?’ সে বলবে, ‘ইসলামের ওপর’। তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, ‘তোমাদের মাঝে থাকা এই ব্যক্তিটি কে?’ সে বলবে, ‘তিনি মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম), তিনি আমাদের কাছে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিলেন এবং আমরা তাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছি।’ তখন তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি পথ খুলে দেওয়া হবে, সে সেটির দিকে তাকাবে যার এক অংশ অন্য অংশকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করছে। তাকে বলা হবে, ‘দেখো আল্লাহ তোমাকে কিসের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।’ এরপর তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি পথ খুলে দেওয়া হবে এবং সে সেটির দিকে তাকাবে।
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
إلى زهرتها وما فيها فيقال له: هذا مقعدك منها ويقال: على اليقين كنت وعليه مت وعليه تبعث إن شاء الله. وإذا كان الرجل السوء أجلس في قبره فزعاً مشعوفاً فيقال له: فيم كنت؟ فيقول: لا أدري، فيقال: ما هذا الرجل الذي كان فيكم؟ فيقول: سمعت الناس يقولون قولاً فقلت كما قالوا فتفرج له فرجة قبل الجنة فينظر إلى زهرتها وما فيها فيقال له: انظر إلى ما صرف الله عز وجل عنك ثم يفرج له فرجة قبل النار فينظر إليها يحطم بعضها بعضاً ويقال له: هذا مقعدك منها كنت على الشك وعليه مت وعليه تبعث إن شاء الله ثم يعذب».

قال محمد بن عمرو فحدثني سعيدبن يسار عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال: إن الميت تحضره الملائكة فإذا كان الرجل الصالح قالوا: اخرجي أيتها النفس الطيبة كانت في الجسد الطيب واخرجي حميدة وأبشري بروح وريحان ورب غير غضبان فلا يزال يقال لها ذلك حتى تخرج ثم يعرج بها إلى السماء فيستفتح له فيقال: من هذا؟ فيقال: فلان فيقال: مرحباً بالنفس الطيبة كانت في الجسد الطيب ادخلي حميدة وأبشري ويقال: بروح وريحان ورب غير غضبان فلا يزال يقال لها ذلك حتى ينتهي بها إلى السماء التي فيها الله عز وجل، فإذا كان الرجل السوء قالوا: اخرجي أيتها النفس الخبيثة كانت في الجسد الخبيث اخرجي مه ذميمة وأبشري بحميم وغساق وآخر من شكله أزواج فما يزال يقال لها ذلك حتى تخرج ثم يعرج بها إلى السماء فيستفتح لها فيقال: من هذا؟ فيقال: فلان فيقال: لا مرحباً بالنفس الخبيثة كانت في الجسد الخبيث ارجعي ذميمة فإنه لا يفتح لك أبواب السماء فترسل من السماء ثم تصير إلى القبر فيجلس الرجل الصالح فيقال له: ويرد مثل ما في حديث عائشة سواء.

هذا حديث صحيح وحديث عائشة وكذا حديث أبي هريرة بعضهما في الصحيح من وجهين آخرين.
...এর সৌন্দর্য এবং তাতে যা রয়েছে তার দিকে। তখন তাকে বলা হয়: এটিই এতে তোমার জান্নাতের আসন। আরও বলা হয়: তুমি সুদৃঢ় বিশ্বাসের (ইয়াকীন) ওপর ছিলে, তার ওপরই মৃত্যুবরণ করেছ এবং ইনশাআল্লাহ তার ওপরই পুনরুত্থিত হবে। আর যখন কোনো ব্যক্তি মন্দ হয়, তখন তাকে তার কবরে অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত ও আতঙ্কিত অবস্থায় বসানো হয়। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়: তুমি কিসের ওপর ছিলে? সে বলে: আমি জানি না। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়: তোমাদের মাঝে যে ব্যক্তিটি ছিল (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার সম্পর্কে তোমার বক্তব্য কী? সে বলে: আমি মানুষকে কিছু বলতে শুনেছিলাম, তাই আমিও তাই বলেছি যা তারা বলত। তখন তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি পথ খুলে দেওয়া হয়। সে তার সৌন্দর্য এবং তাতে যা আছে তা দেখে। তখন তাকে বলা হয়: মহান আল্লাহ তোমার থেকে যা সরিয়ে নিয়েছেন তা দেখ। অতঃপর তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি পথ খুলে দেওয়া হয়। সে তার দিকে তাকায় যেখানে আগুনের এক অংশ অন্য অংশকে চুরমার করে দিচ্ছে। তাকে বলা হয়: এটিই এতে তোমার আসন। তুমি সন্দেহের ওপর ছিলে, তার ওপরই মৃত্যুবরণ করেছ এবং ইনশাআল্লাহ তার ওপরই পুনরুত্থিত হবে। অতঃপর তাকে শাস্তি দেওয়া হবে।

মুহাম্মাদ ইবনে আমর বলেন, সাঈদ ইবনে ইয়াসার আমার কাছে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: যখন কোনো মৃত ব্যক্তির নিকট ফেরেশতারা উপস্থিত হয়, তখন সে যদি নেককার লোক হয় তবে তারা বলে: হে পবিত্র আত্মা! যা পবিত্র দেহে ছিলে, তুমি প্রশংসিত অবস্থায় বের হয়ে আসো। আর প্রশান্তি, সুগন্ধি এবং এমন এক প্রতিপালকের সুসংবাদ গ্রহণ করো যিনি রাগান্বিত নন। তার বের হওয়া পর্যন্ত তাকে এভাবে বলা হতেই থাকে। অতঃপর তাকে আসমানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার জন্য দরজা খোলার অনুরোধ করা হয়। জিজ্ঞেস করা হয়: ইনি কে? বলা হয়: অমুক। তখন বলা হয়: এই পবিত্র আত্মাকে স্বাগতম যা পবিত্র দেহে ছিল। প্রশংসিত অবস্থায় প্রবেশ করো এবং সুসংবাদ গ্রহণ করো। আরও বলা হয়: প্রশান্তি, সুগন্ধি এবং এমন এক প্রতিপালকের সুসংবাদ গ্রহণ করো যিনি রাগান্বিত নন। তাকে আসমান পর্যন্ত পৌঁছানো পর্যন্ত এভাবে বলা হতে থাকে যেখানে মহান আল্লাহ রয়েছেন। আর যখন সে মন্দ লোক হয়, তখন তারা বলে: হে অপবিত্র আত্মা! যা অপবিত্র দেহে ছিলে, তুমি নিন্দিত অবস্থায় বের হয়ে আসো। আর ফুটন্ত পানি, পুঁজ এবং অনুরূপ আরও বিভিন্ন প্রকারের শাস্তির সুসংবাদ গ্রহণ করো। তার বের হওয়া পর্যন্ত তাকে এভাবে বলা হতেই থাকে। অতঃপর তাকে আসমানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার জন্য দরজা খোলার অনুরোধ করা হয়। জিজ্ঞেস করা হয়: এ কে? বলা হয়: অমুক। তখন বলা হয়: এই অপবিত্র আত্মার জন্য কোনো স্বাগতম নেই যা অপবিত্র দেহে ছিল। নিন্দিত অবস্থায় ফিরে যাও, কেননা তোমার জন্য আসমানের দরজাসমূহ খোলা হবে না। ফলে তাকে আসমান থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং সে কবরে ফিরে আসে। অতঃপর নেককার ব্যক্তিকে বসানো হয় এবং তাকে আয়েশার হাদিসের হুবহু অনুরূপ কথা বলা হয়।

এটি একটি সহিহ হাদিস। আয়েশার হাদিস এবং একইভাবে আবু হুরায়রার হাদিসের কিছু অংশ অন্য দুটি সূত্রে সহিহ গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
* قال أبو داود رحمه الله تعالى (ج13ص89):

حدثنا عثمان بن أبي شيبة أخبرنا جرير (ح) وأخبرنا هناد بن السري قال أخبرنا أبو معاوية - وهذا لفظ هناد- عن الأعمش عن المنهال عن زاذان عن البراء بن عازب قال: خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم في جنازة رجل من الأنصار فأتينا إلى القبر ولما يلحد فجلس رسول الله صلى الله عليه وسل وجلسنا حوله كأنما على رؤوسنا الطير وفي يده عود ينكت به في الأرض فرفع رأسه فقال: «استعيذوا بالله من عذاب القبر» مرتين أو ثلاثاً - زاد في حديث جرير ههنا وقال: «إنه ليسمع خفق نعالهم إذا ولوا مدبرين حين يقال له: يا هذا من ربك وما دينك ومن نبيك؟». قال هناد: قال: «ويأتيه ملكان فيلجلسانه فيقولان له: من ربك؟ فيقول: ربيّ الله، فيقولان له: ما دينك؟ فيقول: ديني الإسلام، فيقولان له: ما هذا الرجل الذي بعث فيكم؟ قال فيقول: هو رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، فيقولان: وما يدريك؟ فيقول: قرأت كتاب الله فآمنت به وصدقت» زاد في حديث جرير فذاك قول الله تعالى: {يُثَبِّتُ اللهُ الَّذِينَ آمَنُواْ بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ} الآية. ثم اتفقا.

قال: «فينادي منادٍ من السماء أن قد صدق عبدي فأفرشوه من الجنة وألبسوه من الجنة وافتحوا له باباً إلى الجنة، قال: فيأتيه من رَوْحها وطيبها قال: ويفتح له فيه مد بصره، قال: الكافر - فذكر موته - وتعاد روحه في جسده ويأتيه ملكان فيجلسانه فيقولان له: من ربك؟ فيقول: ها ها لا أدري، فيقولان له: ما دينك؟ فيقول: ها ها لا أدري، فيقولان له: ما هذا الرجل الذي بعث فيكم؟ فيقول: ها ها لا أدري، فينادي مناد من السماء أن كذب فأفرشوه من النار وألبسوه من النار وافتحوا له باباً إلى النار قال: فيأتيه من حرها وسمومها، قال: ويضيق عليه قبره حتى تختلف أضلاعه»، وزاد في حديث
আবু দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন (খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ৮৯):

উসমান ইবনে আবু শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন জারির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (হ) এবং হান্নাদ ইবনে আল-সাররি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু মুআবিয়াহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—এবং এটি হান্নাদের শব্দচয়ন—তিনি আল-আ’মাশ থেকে, তিনি আল-মিনহাল থেকে, তিনি জাযান থেকে, আর তিনি বারা ইবনে আযিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে আনসারদের এক ব্যক্তির জানাজায় বের হলাম। আমরা কবরের নিকট পৌঁছলাম, তখনও লাহদ (কবর খনন) সম্পন্ন হয়নি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বসলেন এবং আমরাও তাঁর চারপাশে এমনভাবে বসলাম যেন আমাদের মাথার ওপর পাখি বসে আছে। তাঁর হাতে একটি কাঠি ছিল যা দিয়ে তিনি মাটিতে আঁচড় কাটছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর মাথা তুললেন এবং বললেন: «তোমরা আল্লাহর কাছে কবরের আজাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করো»—এ কথাটি তিনি দুই বা তিনবার বললেন। জারিরের হাদিসে এখানে অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই সে তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায় যখন তারা ফিরে যেতে থাকে, যখন তাকে বলা হয়: হে ব্যক্তি! তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? এবং তোমার নবী কে?»। হান্নাদ বলেন: তিনি (রাসূলুল্লাহ সা.) বলেছেন: «তার নিকট দুইজন ফেরেশতা আসেন এবং তাকে বসান। এরপর তাঁরা তাকে জিজ্ঞেস করেন: তোমার রব কে? সে বলে: আমার রব আল্লাহ। তাঁরা তাকে জিজ্ঞেস করেন: তোমার দ্বীন কী? সে বলে: আমার দ্বীন ইসলাম। তাঁরা তাকে জিজ্ঞেস করেন: তোমাদের মাঝে প্রেরিত এই ব্যক্তিটি কে? সে বলে: তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)। তাঁরা জিজ্ঞেস করেন: তুমি কীভাবে জানলে? সে বলে: আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি, তার ওপর ঈমান এনেছি এবং তা সত্য বলে স্বীকার করেছি।» জারিরের হাদিসে অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে যে, এটিই মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ মুমিনদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনে সুদৃঢ় বাণীর মাধ্যমে অবিচল রাখেন} শেষ পর্যন্ত। অতঃপর উভয়ে একমত হয়েছেন।

তিনি বলেন: «অতঃপর আসমান থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন যে, আমার বান্দা সত্য বলেছে; সুতরাং তোমরা তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও এবং তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দাও। তিনি বলেন: তখন তার নিকট জান্নাতের স্নিগ্ধ বাতাস ও সুঘ্রাণ আসতে থাকে। তিনি বলেন: এবং তার জন্য কবরকে দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন: আর কাফির—অতঃপর তিনি তার মৃত্যুর কথা উল্লেখ করলেন—তার রুহ তার দেহে ফিরিয়ে আনা হয় এবং তার নিকট দুইজন ফেরেশতা এসে তাকে বসান। তাঁরা তাকে জিজ্ঞেস করেন: তোমার রব কে? সে বলে: হায়! হায়! আমি জানি না। তাঁরা তাকে জিজ্ঞেস করেন: তোমার দ্বীন কী? সে বলে: হায়! হায়! আমি জানি না। তাঁরা তাকে জিজ্ঞেস করেন: তোমাদের মাঝে প্রেরিত এই ব্যক্তিটি কে? সে বলে: হায়! হায়! আমি জানি না। তখন আকাশ থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন যে, সে মিথ্যা বলেছে; সুতরাং তার জন্য আগুনের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে আগুনের পোশাক পরিয়ে দাও এবং তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি দরজা খুলে দাও। তিনি বলেন: তখন তার নিকট জাহান্নামের উত্তাপ ও বিষাক্ত বাতাস আসতে থাকে। তিনি বলেন: এবং তার কবরকে তার ওপর এতোটা সংকীর্ণ করে দেওয়া হয় যে, তার একদিকের পাঁজরের হাড় অন্যদিকের হাড়ের ভেতর ঢুকে যায়।» এবং হাদিসে আরও অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে যে,
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
جرير قال: «ثم يقيض له أعمى أبكم معه مرزبة من حديد لو ضرب بها جبل لصار تراباً قال: فيضربه بها ضربة يسمعها ما بين المشرق والمغرب إلا الثقلين فيصير تراباً قال: ثم تعاد فيه الروح».

حدثنا هناد بن السري أخبرنا عبد الله بن نمير أخبرنا الأعمش عن المنهال عن أبي عمر زاذان قال سمعت البراء فذكر نحوه.

هذا حديث حسن.

* قال الإمام أبو عبد الله بن ماجه رحمه الله (ج2ص1426):

حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة ثنا شبابة عن ابن أبي ذئب عن محمد بن عمرو ابن عطاء عن سعيد بن يسار عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال: «إن الميت يصير إلى القبر فيجلس الرجل الصالح في قبره غير فزع ولا مشعوف ثم يقال له: فيم كنت؟ فيقول: كنت في الإسلام، فيقال له: ما هذا الرجل؟ فيقول: محمد رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم جاءنا بالبينات من عند الله فصدقناه، فيقال له: هل رأيت الله؟ فيقول: ما ينبغي لأحد أن يرى الله، فيفرج له فرجة قبل النار فينظر إليها يحطم بعضها بعضاً فيقال له: هذا مقعدك ويقال: على اليقين كنت وعليه مت وعليه تبعث إن شاء الله.

ويجلس الرجل السوء في قبره فزعاً مشعوفاً فيقال له: فيم كنت؟ فيقول: لا أدري، فيقال: ما هذا الرجل؟ فيقول: سمعت الناس يقولون قولاً فقلته فيفرج له قبل الجنة فينظر إلى زهرتها وما فيه فيقال له: انظر إلى ما صرفه الله عنك ثم يفرج له فرجة قبل النار فينظر إليها يحطم بعضها بعضاً فيقال له: هذا مقعدك على الشك كنت وعليه مت وعليه تبعث إن شاء الله تعالى».

هذا حديث صحيح على شرط الشيخين.
জারীর বলেন: «অতঃপর তার জন্য একজন অন্ধ ও বোবা ফেরেশতা নিযুক্ত করা হয়, যার সাথে লোহার একটি মুগুর থাকে। যদি তা দিয়ে কোনো পাহাড়ে আঘাত করা হতো, তবে তা ধূলিতে পরিণত হতো। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি তাকে তা দিয়ে এমন এক আঘাত করেন যা পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী সকল সৃষ্টি শুনতে পায় জিন ও মানুষ ব্যতীত, ফলে সে ধূলিতে পরিণত হয়। তিনি বলেন: এরপর তার মধ্যে পুনরায় রুহ ফিরিয়ে দেওয়া হয়।»

হান্নাদ ইবনুল সারী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি মিনহাল থেকে, তিনি আবু উমর যাযান থেকে, তিনি বলেন: আমি বারা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে শুনেছি, অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

এই হাদীসটি হাসান।

* ইমাম আবু আবদুল্লাহ ইবনু মাজাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন (খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৪২৬):

আবু বকর ইবনু আবী শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি শাবাবাহ থেকে, তিনি ইবনু আবী যি’ব থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনু আমর ইবনু আতা থেকে, তিনি সাঈদ ইবনু ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তিকে যখন কবরে রাখা হয়, তখন নেককার ব্যক্তি তার কবরে বসে, সে ভীত বা আতঙ্কিত হয় না। অতঃপর তাকে বলা হয়: তুমি কোন আদর্শে ছিলে? সে বলে: আমি ইসলামের ওপর ছিলাম। তাকে বলা হয়: এই ব্যক্তিটি কে? সে বলে: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল, তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিলেন এবং আমরা তাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছি। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়: তুমি কি আল্লাহকে দেখেছ? সে বলে: কারো পক্ষে আল্লাহকে দেখা সম্ভব নয়। তখন তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি পথ খুলে দেওয়া হয়, সে তার দিকে তাকায় যার এক অংশ অন্য অংশকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করছে। তাকে বলা হয়: এটিই ছিল তোমার নির্ধারিত স্থান (যদি তুমি ঈমান না আনতে)। আর বলা হয়: তুমি ইয়াকীন বা দৃঢ় বিশ্বাসের ওপর ছিলে, তার ওপরই মৃত্যুবরণ করেছ এবং ইনশাআল্লাহ তার ওপরই পুনরুত্থিত হবে।

আর মন্দ লোক তার কবরে ভীত ও আতঙ্কিত অবস্থায় বসে। তাকে বলা হয়: তুমি কিসে ছিলে? সে বলে: আমি জানি না। তাকে বলা হয়: এই ব্যক্তিটি কে? সে বলে: আমি মানুষকে কিছু বলতে শুনেছিলাম, তাই আমিও তা বলেছিলাম। অতঃপর তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি পথ খুলে দেওয়া হয়, সে জান্নাতের সৌন্দর্য ও তার মধ্যকার নেয়ামতরাজির দিকে তাকায়। তাকে বলা হয়: দেখ, আল্লাহ তোমার থেকে কী সরিয়ে নিয়েছেন (বঞ্চিত করেছেন)। অতঃপর তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি পথ খুলে দেওয়া হয়, সে তার দিকে তাকায় যার এক অংশ অন্য অংশকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করছে। তাকে বলা হয়: এটিই তোমার স্থান; তুমি সন্দেহের ওপর ছিলে, তার ওপরই মৃত্যুবরণ করেছ এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা তার ওপরই পুনরুত্থিত হবে।»

এই হাদীসটি শায়খাইনের (বুখারী ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহীহ।
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
التحذير من التفرقة المذهبية

* قال أبو داود رحمه الله (ج13ص240):

حدثنا وهب بن بقية عن خالد عن محمد بن عمرو عن أبي سلمة عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم: «افترقت اليهود على إحدى أو ثنتين وسبعين فرقة، وتفرقت النصارى على إحدى أو ثنتين وسبعين فرقة وتفترق أمتي على ثلاث وسبعين فرقة».

هذا حديث حسن.

الحديث أخرجه الترمذي (ج7ص297) وقال: حديث أبي هريرة حديث حسن صحيح، وأخرجه ابن ماجه (ج2ص1321).

يتوقف في فتوى المفتي التي لا تطمئن إليها النفس

* قال الإمام أحمد رحمه الله (ج4ص194):

ثنا زيد بن يحيى الدمشقي قال ثنا عبد الله بن العلاء (1) قال سمعت مسلم بن مشكم قال سمعت الخشني قال: قلت: يا رسول الله أخبرني بما يحل لي ويحرم عليّ؟ قال فصعد النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم وصوّب فيّ النظر، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «البر ما سكنت النفس (2) واطمأن إليه القلب والإثم ما لم تسكن إليه النفس ولم يطمئن إليه القلب وإن أفتاك المفتون» وقال: «لا تقرب لحم الحمار الأهلي ولا ذا ناب من السباع».

هذا حديث صحيح. والنهي عن كل ذي ناب من السباع في الصحيح من حديث أبي إدريس الخولاني عن أبي ثعلبة.

وكذا النهي عن لحوم الأهلية في «الصحيح» من حديث أبي إدريس الخولاني عن أبي ثعلبة كما في «تحفة الأشراف».

--------------------------------------------

(1) في الأصل: عبد العلاء، والصواب ما أثبتناه وهو: عبد الله بن العلاء بن زبر.

(2) المراد هنا النفس الصالحة المحبة للخير المحكمة للكتاب والسنة.
মযহাবী বিভক্তি সম্পর্কে সতর্কীকরণ

* আবু দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন (খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ২৪০):

ওয়াহাব বিন বাক্বিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি খালিদ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ইয়াহুদীরা একাত্তর বা বাহাত্তর ফিরকায় বিভক্ত হয়েছে, নাসারারা একাত্তর বা বাহাত্তর ফিরকায় বিভক্ত হয়েছে এবং আমার উম্মত তিয়াত্তর ফিরকায় বিভক্ত হবে।"

এটি একটি হাসান হাদীস।

হাদীসটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন (খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ২৯৭) এবং তিনি বলেছেন: আবু হুরায়রার হাদীসটি হাসান সহীহ, এবং এটি ইবনে মাজাহ-ও বর্ণনা করেছেন (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৩২১)।

মুফতীর ফতোয়ার ব্যাপারে বিরত থাকা যখন নফস তাতে প্রশান্ত হয় না

* ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন (খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৯৪):

যায়েদ বিন ইয়াহইয়া আদ-দিমাশকী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আব্দুল্লাহ বিন আল-আলা (১) আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আমি মুসলিম বিন মিশকামকে বলতে শুনেছি, তিনি আল-খুশানী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে জানিয়ে দিন কোনটি আমার জন্য হালাল আর কোনটি আমার জন্য হারাম? বর্ণনাকারী বলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) উপরের দিকে তাকালেন এবং আমার দিকে তার দৃষ্টি নিবদ্ধ করলেন, এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "পুণ্য বা নেক কাজ হলো তা-ই যাতে নফস (২) স্থির থাকে এবং অন্তর প্রশান্তি পায়। আর পাপ হলো তা-ই যাতে নফস স্থির থাকে না এবং অন্তর প্রশান্তি পায় না, যদিও ফতোয়াদানকারীরা তোমাকে ফতোয়া প্রদান করে।" তিনি আরও বলেন: "তোমরা গৃহপালিত গাধার গোশত এবং হিংস্র দাঁতবিশিষ্ট প্রাণীর নিকটবর্তী হবে না।"

এটি একটি সহীহ হাদীস। আবু ইদ্রিস আল-খাওলানী কর্তৃক আবু সা’লাবাহ থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসে হিংস্র দাঁতবিশিষ্ট প্রাণী থেকে নিষেধ করা হয়েছে।

অনুরূপভাবে 'তুহফাতুল আশরাফ'-এ যেমনটি উল্লেখ আছে, সে অনুযায়ী আবু ইদ্রিস আল-খাওলানী কর্তৃক আবু সা’লাবাহ থেকে বর্ণিত "সহীহ" হাদীসে গৃহপালিত গাধার গোশতের ব্যাপারে নিষেধ করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে: আবদ আল-আলা রয়েছে, তবে সঠিক হলো যা আমরা নিশ্চিত করেছি আর তা হলো: আব্দুল্লাহ বিন আল-আলা বিন জাবর।

(২) এখানে উদ্দেশ্য হলো ঐ নেককার নফস যা কল্যাণকে ভালোবাসে এবং যা কিতাব ও সুন্নাহর অনুসারী।
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
‌‌ما جاء في ذم الرأي

* قال أبو داود رحمه الله (ج1ص278):

حدثنا محمد بن العلاء قال حدثنا حفص- يعني ابن غياث - عن الأعمش عن أبي إسحاق عن عبد خير عن علي قال: لو كان الذين بالرأي لكان أسفل الخف أولى بالمسح من أعلاه وقد رأيت رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم يمسح على ظاهر خفيه.

حدثنا محمد بن رافع قال حدثني يحيى بن آدم قال أخبرنا يزيد بن عبد العزيز عن الأعمش بإسناده بهذا الحديث قال: ما كنت أرى باطن القدمين إلا أحق بالغسل حتى رأيت رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم يمسح على ظهير خفيه.

ورواه وكيع عن الأعمش قال: كنت أرى أن باطن القدمين أحق بالمسح من ظاهره حتى رأيت رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم يمسح على ظاهرهما. قال وكيع: ينعني الخفين.

ورواه عيسى بن يونس عن الأعمش كما رواه وكيع.

هذا حديث صحيح رجاله رجال الصحيح إلا عبد خير وقد وثقه ابن معين كما في «تهذيب التهذيب».

الإثم على من سنَّ الرأي والبدع

* قال الإمام أبو عبد الله ابن ماجه (ج2ص74):

حدثنا عبد الوارث بن عبد الصمد بن عبد الوارث حدثني أبي عن جدي (1) عن أيوب عن محمد بن سيرين عن أبي هريرة قال: جاء رجل إلى النبي

--------------------------------------------

(1) عن جدي زيادة من «تحفة الأشراف» وهو الصحيح.
ব্যক্তিগত মত বা রায়ের নিন্দায় যা বর্ণিত হয়েছে

* আবু দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (১ম খণ্ড, ২৭৮ পৃষ্ঠা):

মুহাম্মদ ইবনুল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাফস—অর্থাৎ ইবনু গিয়াস—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবদ খাইর থেকে, তিনি আলী থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: যদি দ্বীন ব্যক্তিগত মতের ভিত্তিতে হতো, তবে চামড়ার মোজার (খুফ) নিচের অংশ মাসাহ করা তার উপরের অংশের তুলনায় অধিক যুক্তিযুক্ত হতো। অথচ আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর চামড়ার মোজার উপরিভাগে মাসাহ করতে দেখেছি।

মুহাম্মদ ইবনু রাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু আদম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াযিদ ইবনু আব্দুল আযীয আমাদের নিকট আমাশের সনদে এই হাদীসটি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন: আমি পায়ের তালুকে (ধৌত করার ক্ষেত্রে) অধিক হকদার মনে করতাম, যতক্ষণ না আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর চামড়ার মোজার উপরিভাগে মাসাহ করতে দেখেছি।

ওকী আমাশ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মনে করতাম যে পায়ের তালু তার উপরিভাগের চেয়ে মাসাহ করার অধিক হকদার, যতক্ষণ না আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে সেই দুটির উপরিভাগে মাসাহ করতে দেখেছি। ওকী বলেন: অর্থাৎ চামড়ার মোজা দুটির।

ঈসা ইবনু ইউনুস আমাশ থেকে ওকী-র বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

এটি একটি সহীহ হাদীস। এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ হাদীসের বর্ণনাকারী, তবে আবদ খাইর ব্যতীত; আর ইবনু মাঈন তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন যেমনটি 'তাহযীবুত তাহযীব'-এ বর্ণিত হয়েছে।

যে ব্যক্তি মনগড়া মত ও বিদআতের প্রচলন করে তার গুনাহ

* ইমাম আবু আব্দুল্লাহ ইবনু মাজাহ (২য় খণ্ড, ৭৪ পৃষ্ঠা) বলেছেন:

আব্দুল ওয়ারিস ইবনু আব্দুস সামাদ ইবনু আব্দুল ওয়ারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার নিকট আমার দাদা (১) থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনু সীরীন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলেন—

--------------------------------------------

(১) "আমার দাদা থেকে" অংশটি 'তুহফাতুল আশরাফ' থেকে সংগৃহীত একটি অতিরিক্ত অংশ এবং এটিই সঠিক।
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
صلى الله علي وعلى آله وسلم فحث عليه، فقال رجل: عندي كذا وكذا، قال: فما بقي في المجلس رجل إلا تصدق عليه بما قل أو كثر فقال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم: «من استنّ خيراً فاستُّن به كان له أجره كاملاً ومن أجور من استن به ولا ينقص من أجورهم شيئاً ومن استن سنة سيئة فاستُّن به فعليه وزره كاملاً ومن أوزار الذي استن به ولا ينقص من أوزارهم شيئاً».

حديث حسن على شرط مسلم.

الحديث أخرجه الإمام أحمد رحمه الله (ج2 ص520) فقال: ثنا عبد الصمد به.

وهو بسند الإمام أحمد على شرط الشيخين.

* قال الإمام البخاري رحمه تعالى (ج10ص216):

باب الكهانة

حدثنا سعيد بن عفير حدثنا الليث قال حدثني عبد الرحمن بن خالد عن ابن شهاب عن أبي سلمة (بن عبد الرحمن) عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم قضى في امرأتين من هذيل اقتتلتا فرمت إحداهما الأخرى بحجر فأصاب بطنها، فاختصموا إلى النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم فقضى أن الدية ما في بطنها غرة عبد أو أمة فقال ولي المرأة التي غرمت: كيف أغرم يا رسول الله من لا شرب ولا أكل ولا نطق ولا استهل فمثل ذلك يطل؟ فقال: «إنما هذا من إخوان الكهان».

والحديث أخرجه مسلم مع الشرح (ج11ص771) وفيه زيادة بعد قوله:

إنما هذا من إخوان الكهان، من أجل سجعه الذي سجع.
আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর এবং তাঁর পরিবারের উপর বর্ষিত হোক। তিনি এর প্রতি উৎসাহিত করলেন। তখন এক ব্যক্তি বললেন: আমার কাছে অমুক অমুক জিনিস আছে। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর মজলিসে এমন কোনো ব্যক্তি বাকি রইল না যে অল্প কিংবা বেশি কিছু সদকা করেনি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের প্রচলন করে এবং তার অনুসরণ করা হয়, তবে সে তার পূর্ণ সওয়াব পাবে এবং যারা তার অনুসরণ করবে তাদের সওয়াবও তার আমলনামায় যোগ হবে, অথচ তাদের সওয়াব থেকে সামান্যও কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ প্রথার প্রচলন করে এবং তার অনুসরণ করা হয়, তবে তার ওপর তার পূর্ণ পাপের বোঝা চাপবে এবং যারা তার অনুসরণ করবে তাদের পাপের বোঝাও তার ওপর বর্তাবে, অথচ তাদের পাপ থেকে সামান্যও কমানো হবে না।"

হাদীসটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী হাসান।

হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন (২য় খণ্ড, ৫২০ পৃষ্ঠা), তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে আবদুস সামাদ এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

আর এটি ইমাম আহমাদের সনদে শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর শর্তানুযায়ী।

* ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) বলেছেন (১০ম খণ্ড, ২১৬ পৃষ্ঠা):

গণকগিরি অধ্যায়

সাঈদ ইবনে উফাইর আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, লাইস আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যে আবদুর রহমান ইবনে খালিদ ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবু সালামাহ (ইবনে আবদুর রহমান) থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম হুযাইল গোত্রের দুই মহিলার বিষয়ে ফয়সালা দিয়েছিলেন যারা একে অপরের সাথে লড়াই করেছিল। তাদের একজন অপরজনকে পাথর ছুড়ে মেরেছিল যা তার পেটে আঘাত করে। তারা বিষয়টি নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের কাছে বিচার নিয়ে এল। তিনি ফয়সালা দিলেন যে, তার পেটের ভ্রূণের দিয়াত (রক্তপণ) হলো একটি দাস বা দাসী। তখন দণ্ডপ্রাপ্ত মহিলার অভিভাবক বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কীভাবে এমন একজনের দিয়াত দেব যে পান করেনি, আহার করেনি, কথা বলেনি এবং জন্মলগ্নে কান্নাও করেনি? এমন প্রাণহীন কিছুর দাবি তো বাতিল হওয়া উচিত। তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এ ব্যক্তি গণকদের ভাইদের অন্তর্ভুক্ত।"

হাদীসটি ইমাম মুসলিম শরহসহ বর্ণনা করেছেন (১১তম খণ্ড, ৭৭১ পৃষ্ঠা) এবং তাতে তাঁর এই বাণীর পর অতিরিক্ত অংশ রয়েছে:

নিশ্চয়ই এ ব্যক্তি গণকদের ভাইদের অন্তর্ভুক্ত, তার সেই ছন্দোবদ্ধ বাকভঙ্গির কারণে যা সে প্রকাশ করেছে।
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
* قال الإمام البخاري رحمه الله (ج13ص292):

باب تعليم النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم أمته من الرجال والنساء مما علمه الله ليس برأي ولا تمثيل

حدثنا مسدد حدثنا أبو عوانة عن عبد الرحمن بن الأصبهاني عن أبي صالح ذكوان عن أبي سعيد جاءت امرأة إلى رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم فقالت: يا رسول الله ذهب الرجال بحديثك فاجعل لنا من نفسك يوماً نأتيك فيه تعلمنا مما علمك الله فقال: «اجتمعن في يوم كذا وكذا في مكان كذا وكذا» فاجتمعن فأتاهن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم فعلمهن مما علمه الله، ثم قال: «ما منكن من امرأة تقدم بين يديها من ولدها ثلاثة إلا كان لها حجاباً من النار» قالت امرأة منهن: يا رسول الله واثنين فأعادتها مرتين ثم قال: «واثنين واثنين واثنين».

* قال الإمام مسلم رحمه الله (ج11ص179):

حدثنا محمد بن رافع حدثنا يحيى بن آدم حدثنا مفضل عن منصور عن إبراهيم عن عبيد بن نضلة عن المغيرة بن شعبة أن امرأة قتلت ضرتها بعمود فسطاط فأُتي فيه رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم فقضى على قاتلتها بالدية وكانت حاملاً فقضى في الجنين بغرة فقال بعض عصبتها: أندي من لا طَعِمَ ولا شرب ولا صاح فاستهل ومثل ذلك يطل؟! قال: فقال: «سجع كسجع الأعراب».

أخرجه النسائي (ج8ص44).

فأنت ترى أن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم أنكر عليه معارضته لحديثه برأيه وقال: «إنما هذا من إخوان الكهان من أجل سجعه».

* قال الإمام البخاري رحمه الله (ج8 ص590):

حدثنا بسرة بن صفوان بن جميل اللخمي حدثنا نافع بن عمر عن ابن أبي مليكة قال: كاد الخيّران أن يهلكا، أبو بكر وعمر رضي الله عنهما رفعا أصواتهما
* ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (১৩ খণ্ড, ২৯২ পৃষ্ঠা):

পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে যা শিক্ষা দিয়েছেন, তা থেকে তিনি তাঁর উম্মতের পুরুষ ও নারীদের শিক্ষা দান করা; যা ব্যক্তিগত মত কিংবা সাদৃশ্য প্রদানের মাধ্যমে নয়।

মুসাদ্দাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আওয়ানা থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনুল আসবাহানি থেকে, তিনি আবু সালিহ জাকওয়ান থেকে, তিনি আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! পুরুষেরা আপনার হাদীস নিয়ে গেছে (অর্থাৎ তারা আপনার সান্নিধ্য বেশি পাচ্ছে), তাই আপনি নিজের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একটি দিন নির্ধারণ করুন, যে দিনে আমরা আপনার কাছে আসব এবং আল্লাহ আপনাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তা থেকে আপনি আমাদের শিক্ষা দেবেন। তিনি বললেন: «তোমরা অমুক অমুক দিনে এবং অমুক অমুক স্থানে একত্রিত হও»। অতঃপর তারা একত্রিত হলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিকট আসলেন এবং আল্লাহ তাঁকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তা থেকে তাদের শিক্ষা দিলেন। এরপর তিনি বললেন: «তোমাদের মধ্যে যে মহিলার তিনটি সন্তান (নাবালেগ অবস্থায়) আগে মারা যাবে, তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে আড়াল হবে»। তাদের মধ্য থেকে এক মহিলা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আর যদি দুইজন হয়? তিনি দুইবার কথাটি পুনরাবৃত্তি করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: «দুইজন হলেও, দুইজন হলেও, দুইজন হলেও»।

* ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (১১ খণ্ড, ১৭৯ পৃষ্ঠা):

মুহাম্মদ ইবনে রাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আদম থেকে, তিনি মুফাদদাল থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি উবাইদ ইবনে নাদলাহ থেকে, তিনি মুগিরা ইবনে শু'বা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক মহিলা তার সপত্নীকে তাঁবুর খুঁটি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করল। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আনা হলে তিনি ঘাতক মহিলার ওপর দিয়ত (রক্তপণ) প্রদানের ফয়সালা দিলেন। নিহত মহিলাটি গর্ভবতী ছিল, তাই তিনি গর্ভস্থ ভ্রুণের বিনিময়ে একটি দাস বা দাসী প্রদানের ফয়সালা দিলেন। তখন ঘাতক মহিলার নিকটাত্মীয়দের (আসাবা) একজন বলল: আমরা কি এমন কারো দিয়ত দেব যে আহার করেনি, পান করেনি, এমনকি চিৎকারও করেনি এবং কান্নার মাধ্যমে যার অস্তিত্ব প্রকাশ পায়নি? এ জাতীয় রক্তপণ তো বাতিল হওয়ার যোগ্য! বর্ণনাকারী বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «এ তো গ্রাম্য বেদুইনদের মতো ছন্দোবদ্ধ অন্ত্যমিলপূর্ণ কথা»।

এটি নাসায়ি বর্ণনা করেছেন (৮ খণ্ড, ৪৪ পৃষ্ঠা)।

সুতরাং আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) তার (ব্যক্তিগত) রায়ের মাধ্যমে হাদীসের বিরোধিতা করাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন: «নিশ্চয়ই সে গণকদের ভাইদের অন্তর্ভুক্ত তার ছন্দোবদ্ধ বাকভঙ্গির কারণে»।

* ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (৮ খণ্ড, ৫৯০ পৃষ্ঠা):

বুসরা ইবনে সাফওয়ান ইবনে জামিল আল-লাখমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি নাফি ইবনে উমর থেকে, তিনি ইবনে আবি মুলাইকা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দুই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি প্রায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিলেন—আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা), তাঁরা উভয়ে তাঁদের কণ্ঠস্বর উচ্চ করেছিলেন...
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
عند النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم حين قدم عليه ركب بني تميم فأشار أحدهما بالأقرع بن حابس أخي بني مجاشع وأشار الآخر برجل آخر، قال

نافع: لا أحفظ اسمه، فقال أبو بكر لعمر: ما أردت إلا خلافي قال: ما أردت خلافك، فارتفعت أصواتهما في ذلك فأنزل الله {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ وَلَا تَجْهَرُوا لَهُ بِالْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ أَن تَحْبَطَ أَعْمَالُكُمْ وَأَنتُمْ لَا تَشْعُرُونَ} [سورة الحجرات: 2] قال ابن الزبير: فما كان عمر يسمع رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم حتى يستفهمه، ولم يذكر ذلك عن أبيه - يعني أبا بكر -.

وأخرجه البخاري (ج8ص592) وفيه رواية ابن أبي مليكة عن عبد الله بن الزبير (ج17ص39)، وأخرجه الترمذي (ج4 ص185)، وعنده تصريح عبد الله ابن أبي مليكة أن عبد الله بن الزبير حدَّث به، وأحمد (ج4ص6)، والطبراني (ج36 ص119) وفيه قول نافع حدثني ابن أبي مليكة عن ابن الزبير فعلم اتصال الحديث كما أشار إليه الحافظ في الفتح (ج10ص313) ط حلبية.

* قال الإمام البخاري رحمه الله (ج13 ص276):

حدثنا إسماعيل حدثني مالك عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة أم المؤمنين أن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال في مرضه: «مروا أبا بكر يصلي بالناس» قالت عائشة: قلت: إن أبا بكر إذا قام في مقامك لم يسمع الناس من البكاء، فمر عمر فليصلِّ، فقال: مروا أبا بكر فليصلِّ بالناس، فقالت عائشة: فقلت لحفصة: قولي إن أبا بكر إذا قام في مقامك لم يسمع الناس من البكاء فمر عمر فليصلِّ بالناس، ففعلت حفصة فقال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم: «إنكن لأنتن صواحب يوسف مروا أبا بكر فليصلِّ بالناس»، قالت حفصة لعائشة: ما كنت لأصيب منك خيراً.

الحديث أخرجه مسلم (ج5 ص140،141).
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট যখন বনু তামীম গোত্রের প্রতিনিধি দল আসলো, তখন তাঁদের একজন বনু মুজাশির ভাই আকরা বিন হাবিসের প্রতি ইশারা করলেন এবং অন্যজন অপর এক ব্যক্তির প্রতি ইশারা করলেন। নাফে’ বলেন:

আমি তাঁর নাম মনে রাখতে পারিনি। তখন আবু বকর উমরকে বললেন: তুমি কেবল আমার বিরোধিতা করতে চেয়েছ। উমর বললেন: আমি আপনার বিরোধিতা করতে চাইনি। এ নিয়ে তাঁদের কণ্ঠস্বর উচ্চ হয়ে গেল। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন, {হে ঈমানদারগণ, তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর তোমাদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না এবং নিজেদের মধ্যে যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বলো, তাঁর সাথে সেভাবে উচ্চস্বরে কথা বলো না; পাছে তোমাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে যায় অথচ তোমরা বুঝতেও পারবে না} [সূরা আল-হুজুরাত: ২]। ইবনুল জুবায়ের বলেন: এরপর থেকে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে এমনভাবে কথা বলতেন যে, তিনি কথাটি পুনরায় জিজ্ঞাসা না করা পর্যন্ত বুঝতে পারতেন না। আর তিনি তাঁর পিতার (আবু বকর) সম্পর্কে এমনটি উল্লেখ করেননি।

এটি বুখারি (খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৫৯২) বর্ণনা করেছেন এবং এতে আব্দুল্লাহ ইবনুল জুবায়ের থেকে ইবনে আবি মুলাইকার বর্ণনা (খণ্ড ১৭, পৃষ্ঠা ৩৯) রয়েছে। এটি তিরমিযী (খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৮৫) বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকার স্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে যে, আব্দুল্লাহ ইবনুল জুবায়ের এটি বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও আহমাদ (খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৬) এবং তাবারানি (খণ্ড ৩৬, পৃষ্ঠা ১১৯) এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে নাফে’-এর উক্তি রয়েছে যে, ‘ইবনে আবি মুলাইকা ইবনুল জুবায়ের থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন’। ফলে হাদিসটির সনদ সংযুক্ত থাকার বিষয়টি জানা যায়, যেদিকে হাফিজ (ইবনে হাজার) আল-ফাতহ গ্রন্থে (খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ৩১৩) হালাবি সংস্করণে ইঙ্গিত করেছেন।

* ইমাম বুখারি রাহিমাহুল্লাহ (খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ২৭৬) বলেন:

আমাদের নিকট ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার নিকট মালিক হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উম্মুল মুমিনিন আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাঁর অসুস্থতার সময় বলেছিলেন: «আবু বকরকে নির্দেশ দাও সে যেন মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করে»। আয়েশা বলেন: আমি বললাম: আবু বকর যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন কান্নার কারণে তিনি মানুষকে (কিরাত) শোনাতে পারবেন না। সুতরাং আপনি উমরকে নির্দেশ দিন যেন তিনি সালাত আদায় করেন। তিনি বললেন: «আবু বকরকে নির্দেশ দাও সে যেন মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করে»। আয়েশা বলেন: আমি হাফসাকে বললাম: তুমি বলো যে, আবু বকর যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন কান্নার কারণে তিনি মানুষকে শোনাতে পারবেন না, তাই উমরকে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিন। হাফসা তা-ই করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «নিশ্চয়ই তোমরা ইউসুফের সাথী নারীদের মতো। আবু বকরকে নির্দেশ দাও সে যেন মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করে»। হাফসা আয়েশাকে বললেন: তোমার পক্ষ থেকে আমি কখনোই কোনো কল্যাণ পাব না।

হাদিসটি মুসলিম (খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৪০, ১৪১) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) নাশরুস সাহীফাহ ফী যিকরিস সহীহি মিন আকওয়ালি আইম্মাতিল জারহি ওয়াত তাদীল ফী আবী হানীফাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
* قال الإمام البخاري رحمه الله (ج13 ص282):

حدثنا سعيد بن تليد حدثني ابن وهب حدثني عبد الرحمن بن شريح وغيره عن أبي الأسود عن عروة قال: حج علينا عبد الله بن عمرو فسمعته يقول: سمعت النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول: «إن الله لا ينزع العلم بعد أن أعطاكموه انتزاعاً ولكن ينتزعه منهم مع قبض العلماء بعلمهم فيبقى ناس جهال يستفتون فيفتون برأيهم فيضلون ويضلون».

*وقال الآجري رحمه الله (ص58):

حدثنا الفريابي قال حدثنا العباس بن الوليد بن مزيد (1) قال أخبرني أبي قال: سمعت الأوزاعي يقول: عليك بآثار من سلف وإن رفضك الناس، وإياك وآراء الرجال وإن زخرفوا لك القول.

وقال رحمه الله: أخبرنا أبو زكرياء يحيى بن محمد الحنائي (2) قال حدثنا محمد بن عبيد بن حساب قال حدثنا حماد بن زيد قال حدثنا محمد بن واسع قال: رأيت صفوان بن محرز وأشار بيده إلى ناحية من المسجد، وشببة قريب منه يتجادلون فرأيته ينفض ثوبه وقام وقال: إنما أنتم حرب.

* قال الدارمي رحمه الله (ج1 ص77):

أخبرنا صدقة بن الفضل ثنا يحيى بن سيعد عن الزبرقان قال: نهاني أبو وائل أن أجالس أصحاب أرأيت.

الزبرقان هو ابن عبد الله الأسدي وثقه يحيى القطان كما في «الجرح والتعديل» لابن أبي حاتم.

--------------------------------------------

(1) في الأصل: يزيد أوله ياء منقوطة من تحت نقطتين وبعدها زاي والصواب: مزيد أوله ميم.

(2) وقع في كتاب الشريعة: أبو زكرياء يحيى بن محمد الجبائي والصواب ما أثبتناه «تاريخ بغداد» (ج14ص229) وقال: وكان ثقة.
* ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ২৮২):

সাঈদ ইবনে তালীদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, আব্দুর রহমান ইবনে শুরায়হ এবং অন্যরা আমাকে আবুল আসওয়াদ থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আমর আমাদের এখানে হজ্জ করতে আসলেন, তখন আমি তাকে বলতে শুনেছি: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে ইলম দান করার পর তা তোমাদের থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তুলে নেবেন না, বরং আলেমদের তাদের ইলমসহ মৃত্যু দেওয়ার মাধ্যমেই ইলম তুলে নেবেন। ফলে কিছু মূর্খ লোক অবশিষ্ট থাকবে, যাদের কাছে ফাতাওয়া চাওয়া হবে আর তারা নিজেদের রায় (মতামত) দ্বারা ফাতাওয়া প্রদান করবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।"

* এবং আল-আজুররী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (পৃষ্ঠা ৫৮):

আল-ফিরয়াবী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আব্বাস ইবনুল ওয়ালীদ ইবনে মাযীদ (১) আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আওযাঈকে বলতে শুনেছি: "তুমি সালাফদের (পূর্বসূরীদের) পদাঙ্ক অনুসরণ করো যদিও মানুষ তোমাকে বর্জন করে। আর মানুষের রায় (মতামত) থেকে বেঁচে থাকো যদিও তারা তোমার সামনে কথাকে চাকচিক্যময় করে উপস্থাপন করে।"

এবং তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ আল-হান্নাঈ (২) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে হিসাব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন হাম্মাদ ইবনে যাইদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবনে ওয়াসি' বলেছেন: আমি সাফওয়ান ইবনে মুহরিযকে দেখলাম এবং তিনি মসজিদের এক কোণের দিকে হাতের ইশারায় ইঙ্গিত করলেন, তখন তার কাছেই কিছু যুবক তর্কে লিপ্ত ছিল। আমি দেখলাম তিনি তার কাপড় ঝাড়লেন এবং দাঁড়িয়ে বললেন: "নিশ্চয়ই তোমরা যুদ্ধ (স্বরূপ)।"

* ইমাম দারেমী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৭৭):

সাদাকাহ ইবনুল ফাযল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যিবরিকান থেকে, তিনি বলেন: আবু ওয়াইল আমাকে 'আরাআইতা' (অনুমাননির্ভর রায়) পন্থীদের সাথে বসতে নিষেধ করেছেন।

যিবরিকান হলেন আবদুল্লাহ আল-আসাদীর পুত্র। ইয়াহইয়া আল-কাত্তান তাকে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বলেছেন, যেমনটি ইবনে আবি হাতিমের 'আল-জারহ ওয়াত-তাদীল' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ইয়াযীদ, যার শুরুতে নিচে দুই নুকতা বিশিষ্ট ইয়া এবং এরপর যা। তবে সঠিক হলো: মাযীদ, যার শুরুতে মীম রয়েছে।

(২) আশ-শারীআহ গ্রন্থে এসেছে: আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ আল-জুবাই। কিন্তু আমরা যা নিশ্চিত করেছি তাই সঠিক, যা 'তারীখু বাগদাদ' (খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ২২৯)-এ রয়েছে এবং তিনি বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন।