(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: -)
ألفية أم المؤمنين عائشة - الروضة الأنيقة في نصرة العفيفة الصديقة القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: ألفية أم المؤمنين عائشة المسماة «الروضة الأنيقة في نصرة العفيفة الصديقة»
المؤلف: أبو مالك يحيى بن عطية بن يحيى الصامولي الأزهري
الناشر: دار التقوى
الطبعة: الطبعة الأولى / 1432 هـ - 2011م
عدد الصفحات: 113
أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 محرم 1434
উম্মুল মুমিনীন আয়িশার আলফিয়্যাহ - আর-রাওদাতুল আনিকা ফী নুসরতিল আফিফাতিস সিদ্দিকা বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: উম্মুল মুমিনীন আয়িশার আলফিয়্যাহ যার নামকরণ করা হয়েছে «আর-রাওদাতুল আনিকা ফী নুসরতিল আফিফাতিস সিদ্দিকা»
লেখক: আবু মালিক ইয়াহইয়া বিন আতিয়্যাহ বিন ইয়াহইয়া আস-সামুলি আল-আযহারি
প্রকাশক: দারুত তাকওয়া
সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ / ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৩
শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইয়াসির আল-জাযায়িরি
[গ্রন্থের নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৬ মুহররম ১৪৩৪
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
ألفية أم المؤمنين عائشة المسماة
الروضة الأنيقة
في نصرة العفيفة الصديقة
رضي الله عنها وأرضاها
نظمها
يحيى بن عطية الصامولي الأزهري
الحاصل على الجائزة العالمية في نصرة أم المؤمنين
ضمن الأبحاث المتميزة في مسابقة الدكتور العريفي
دار التقوى
উম্মুল মুমিনীন আয়েশার আলফিয়্যাহ নামক
আর-রাওজাতুল আনিকাহ (মনোরম উদ্যান)
পবিত্রা ও সিদ্দীকার সমর্থনে
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন
কাব্যরূপে রচনা করেছেন
ইয়াহইয়া ইবনে আতিয়্যাহ আস-সামুলী আল-আযহারী
উম্মুল মুমিনীনের সমর্থনে আন্তর্জাতিক পুরস্কার বিজয়ী
ডক্টর আল-আরিফী প্রতিযোগিতার শ্রেষ্ঠ গবেষণাসমূহের অন্তর্ভুক্ত
দারুত তাকওয়া
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
ألفية أم المؤمنين عائشة المسماة
الروضة الأنيقة
في نصرة العفيفة الصديقة
رضي الله عنها وأرضاها
نظمها
يحيى بن عطية الصامولي الأزهري
الحاصل على الجائزة العالمية في نصرة أم المؤمنين
ضمن الأبحاث المتميزة في مسابقة الدكتور العريفي
دار التقوى
মুমিনজননী আয়েশা-সংক্রান্ত আলফিয়্যাহ, যার নাম
মনোজ্ঞ কানন
পুত-পবিত্রা ও সিদ্দীকার সমর্থনে
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট রাখুন
পদ্যে রূপান্তর করেছেন
ইয়াহইয়া বিন আতিয়্যাহ আস-সামুলি আল-আযহারি
মুমিনজননীর সমর্থনে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্ত
ডক্টর আল-আরিফির প্রতিযোগিতায় বিশিষ্ট গবেষণাসমূহের অন্তর্ভুক্ত
দারুত তাকওয়া
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
حقوق الطبع محفوظة
الطبعة الأولى
1432 هـ - 2011م
رقم الإيداع: 17096/ 2011
دار التقوى
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
জমাসংখ্যা: ১৭০৯৬/ ২০১১
দারুত তাকওয়া
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، وأمينه على وحيه، وحجته على عباده، وخيرته من خلقه، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليما كثيرا.
أما بعد:
فهذا متن "ألفية أم المؤمنين عائشة"، أو "الروضة الأنيقة في نصرة العفيفة الصديقة"، أو "العروة الوثيقة في نصرة العفيفة الصديقة"، أو "قامع الرافضة في نصرة العفيفة المؤيدة"رضي الله عنها وأرضاها-، أي هذه الأسامي شئت أن تسميه فسمه.
هو روضة أنيقة، لا لأني نظمته؛ وإنما لأنه يتحدث إليك عن حياة أمنا عائشة رضي الله عنها، وأنت في رحاب أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها تشعر حقا بأنك في روضة أنيقة جذابة رائعة، تدور في نواحيها فتمتع ناظريك بمناظرها الخلابة، ثم لا تزال ترى الجديد الرائق الذي هو ترياق للهموم، وتسلية للمحزون، وإيناس للنفس، وإمتاع للعقل، وسعادة للقلب، وفقه وعلم وهدى.
وهو عروة وثيقة، لا لأني نظمته أيضا؛ وإنما لأنه يضع قدمك على جادة الطريق، على المحجة البيضاء الواضحة التي ليلها كنهارها لا يزيغ عنها إلا هالك، وتلك هي العروة الوثقى التي من تمسك بها فقد هدي إلى صراط مستقيم، ومن زل عنها فقد انزلق إلى سواء الجحيم.
وهو قامع الرافضة؛ لأنه شجا في حلوقهم، وكاشف لجهلهم، ومفصح عن خبيئة نفوسهم؛ لما تضمنه من الحق المبين، الذي يقوم على أساس راسخ متين، من كتاب الله تعالى وسنة رسوله الأمين، صلى الله وسلم عليه وعلى آله وصحبه أجمعين.
فالكتاب ظاهر من عناوينه كما يقال.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল, তাঁর ওহীর আমানতদার, তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর প্রমাণ এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম মনোনীত ব্যক্তি। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর অসংখ্য দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
এটি হলো "উম্মুল মুমিনীন আয়েশার আলফিয়্যাহ" এর মূলপাঠ, অথবা "পবিত্রা সিদ্দিকার সমর্থনে মনোরম বাগান", অথবা "পবিত্রা সিদ্দিকার সমর্থনে সুদৃঢ় রজ্জু", অথবা "আল্লাহ কর্তৃক সাহায্যপ্রাপ্তা পবিত্রা নারীর সমর্থনে রাফেযীদের দমনকারী" —আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাকে সন্তুষ্ট করুন—। আপনি এর মধ্যে যে নামেই ডাকতে চান, ডাকতে পারেন।
এটি একটি মনোরম বাগান, এ কারণে নয় যে আমি এটি ছন্দোবদ্ধ করেছি; বরং এ কারণে যে এটি আপনাকে আমাদের মাতা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর জীবন সম্পর্কে জানাবে। আপনি যখন উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর সান্নিধ্যে থাকবেন, তখন আপনি সত্যিই অনুভব করবেন যে আপনি একটি চমৎকার, আকর্ষণীয় ও মনোরম বাগানে আছেন। এর চারদিকে ঘুরে আপনি আপনার দৃষ্টিকে এর মনোমুগ্ধকর দৃশ্যাবলি দ্বারা তৃপ্ত করবেন। এরপর আপনি অবিরতভাবে এমন সব নতুন ও স্বচ্ছ বিষয় দেখতে পাবেন যা দুশ্চিন্তার মহৌষধ, দুঃখিতের সান্ত্বনা, প্রাণের প্রশান্তি, বুদ্ধির খোরাক, হৃদয়ের সুখ এবং ফিকহ, ইলম ও হেদায়েতের আধার।
আর এটি একটি সুদৃঢ় রজ্জু, এ কারণেও নয় যে আমি এটি ছন্দোবদ্ধ করেছি; বরং এ কারণে যে এটি আপনার পা-কে সঠিক পথের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত করে; সেই উজ্জ্বল ও স্বচ্ছ পথের ওপর যার রাতও দিনের মতো পরিষ্কার, যা থেকে কেবল ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তিই বিচ্যুত হয়। আর এটিই হলো সেই সুদৃঢ় রজ্জু যা যে ব্যক্তি আঁকড়ে ধরবে সে সরল পথের দিশা পাবে, আর যে ব্যক্তি তা থেকে বিচ্যুত হবে সে জাহান্নামের অগ্নিকুণ্ডে নিপতিত হবে।
আর এটি রাফেযীদের দমনকারী; কারণ এটি তাদের গলার কাঁটা স্বরূপ, তাদের অজ্ঞতার উন্মোচনকারী এবং তাদের অন্তরের লুকায়িত মন্দ ইচ্ছার প্রকাশকারী। কারণ এতে রয়েছে সুস্পষ্ট সত্য, যা মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর বিশ্বস্ত রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর এক সুদৃঢ় ও মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর সকল পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
যেমনটি বলা হয়ে থাকে, বইয়ের পরিচয় তার শিরোনাম থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
وكان الباعث إلى تأليف هذا الكتاب هو المشاركة في نصرة أم المؤمنين والتقدم به في المسابقة العالمية لأبناء أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها والتي أطلقها أستاذنا الشيخ الدكتور محمد العريفي، جزاه الله خير الجزاء، وملأ ميزانه بهذا العمل المبارك، وأقر عينه بثمرة سعيه في الدنيا والآخرة.
ويوم بدأت في نظم هذه الألفية، وفي كتابة الشرح كنت أعرف شيئا عن أمي عائشة رضي الله عنها، ولكني يوم انتهيت من الكتابة انتهيت وقد تعلمت كثيرا جدا عن أمي عائشة رضي الله عنها وتزودت بفوائد جمة في العقيدة والفقه والعلم والأدب والسيرة والتاريخ والفرق وفقه الحياة والتربية والإيمان وغير ذلك كثير جدا.
فكانت الكتابة عن أم المؤمنين رضي الله عنها فاتحة خير وبركة كثيرة لي، وأرجوا أن تكون كذلك لعموم المسلمين إن شاء الله تعالى، وأن ينفعني والمسلمين به في الدنيا
والآخرة، إنه سميع مجيب.
وقد وفقني الله تعالى فحصلت على جائزة البحوث المتميزة في تلك المسابقة، فرأيت أن أنشر هذه الألفية لينتفع بها المسلمون في مشارق الأرض ومغاربها، ثم يتبع ذلك نشر الشرح الوافي لها قريبا إن شاء الله- تعالى-.
وأنا سائل كل أخ انتفع بشيء من هذا الكتاب أن يدعوا لي، ولوالدي، ولمشايخي، وللمسلمين بالمغفرة والقبول ودخول الجنة دار النعيم.
هذا وما كان من صواب فمن الله، وما كان من خطإ أو زلل فمني، وأستغفر الله، وأتوب إليه.
والحمد لله رب العالمين.
وصلى الله وسلم على خاتم النبيين وعلى آله وأصحابه أجمعين.
وكتب
أبو مالك يحيى بن عطية بن يحيى الصامولي الأزهري
ليلة الثلاثاء الثاني من جمادى الأولى 1432هـ
5 من إبريل 2011 م
المقطم- القاهرة
এই গ্রন্থটি রচনার মূল প্রেরণা ছিল উম্মুল মুমিনীনকে সহযোগিতার কাজে অংশগ্রহণ করা এবং উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সন্তানদের জন্য আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এটি উপস্থাপন করা। এই প্রতিযোগিতাটির সূচনা করেছিলেন আমাদের উস্তাদ শাইখ ডক্টর মুহাম্মদ আল-আরিফী; আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁর নেকির পাল্লা এই বরকতময় আমলের মাধ্যমে পূর্ণ করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর এই প্রচেষ্টার ফল দিয়ে তাঁর চোখ শীতল করুন।
যেদিন আমি এই আলফিয়্যাহ (এক হাজার পঙক্তির কবিতা) সংকলন এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লেখা শুরু করি, তখন আমার মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সম্পর্কে আমার কিছু জ্ঞান ছিল। কিন্তু যেদিন আমি লেখা শেষ করলাম, তখন আমি আমার মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সম্পর্কে অনেক কিছু শিখেছি এবং আকিদা, ফিকহ, ইলম, আদব, সীরাত, ইতিহাস, বিভিন্ন দল-উপদল, জীবনদর্শন, তরবিয়ত ও ঈমানসহ আরও অনেক বিষয়ে প্রচুর ফায়দা লাভ করেছি।
উম্মুল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা সম্পর্কে লেখাটি আমার জন্য অনেক কল্যাণ ও বরকতের দ্বার উন্মোচনকারী ছিল। আমি আশা করি, ইনশাআল্লাহ এটি সাধারণ মুসলিমদের জন্যও অনুরূপ হবে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে আমাকে ও মুসলিমদের এর মাধ্যমে উপকৃত করবে। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী।
আল্লাহ তাআলা আমাকে তাওফিক দিয়েছেন, ফলে আমি সেই প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ গবেষণা পুরস্কার লাভ করেছি। তাই আমি এই আলফিয়্যাহটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছি যেন পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্তের মুসলিমরা এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে। এরপর খুব শীঘ্রই ইনশাআল্লাহ তাআলা এর বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ প্রকাশ করা হবে।
আমি সেই প্রত্যেক ভাইয়ের কাছে আরজি জানাই যিনি এই গ্রন্থ থেকে সামান্যতম উপকৃত হয়েছেন, তিনি যেন আমার জন্য, আমার পিতামাতার জন্য, আমার উস্তাদগণের জন্য এবং সকল মুসলিমের জন্য ক্ষমা, কবুলিয়ত এবং নিয়ামতপূর্ণ জান্নাতে প্রবেশের দোয়া করেন।
এর মধ্যে যা কিছু সঠিক তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল বা বিচ্যুতি তা আমার পক্ষ থেকে। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট তওবা করছি।
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর।
লিখেছেন
আবু মালিক ইয়াহইয়া ইবনে আতিয়্যাহ ইবনে ইয়াহইয়া আস-সামুলি আল-আযহারী
মঙ্গলবার রাত, ২রা জুমাদাল উলা ১৪৩২ হিজরি
৫ই এপ্রিল ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
মুয়াত্তাম- কায়রো
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
مقدمة
وفيها
بيان معرفة سبيل الحق من سبل الضلالةوبيان قصدنا من نظم هذه الألفيةيقول راجي العفو والقبول
… يحيى بني عطية الصامولي
المذنب المصري وهو الأزهري
… محب علم السنة والأثر
أبدأ باسم الواحد الفرد الصمد
… وصاحب الفضل العظيم لا يعد
هو الكبير الحي ذو الجلال
… والخير والإكرام والجمال
مقلب القلب وصاحب المنن
… محيي القلوب بالقرآن والسنن
مرسل خير الخلق للهدايه
… قامع أهل البغي والغوايه
ثم السلام والصلاة تترى
… على النبي خير الخلق طرا
محمد والآل والصحب معا
… وكل من أطاع لما سمعا
ভূমিকা
এতে রয়েছে
পথভ্রষ্টতার পথসমূহ হতে সত্যের পথ চেনার বর্ণনাএবং এই আলফিয়্যাহ রচনার আমাদের উদ্দেশ্য বর্ণনাক্ষমা ও কবুলিয়্যাত প্রত্যাশী ইয়াহইয়া বনি আতিয়্যাহ আস-সামুলি বলেন
… মিশরীয় গুনাহগার এবং তিনি আজহারী
… সুন্নাহ ও আসার শাস্ত্রের অনুরাগী
আমি শুরু করছি এক, অদ্বিতীয়, অমুখাপেক্ষী সত্তার নামে
… এবং মহান অনুগ্রহের মালিকের নামে যার গণনা করা যায় না
তিনি মহান, চিরঞ্জীব, প্রতাপের অধিকারী
… এবং কল্যাণ, সম্মান ও সৌন্দর্যের অধিকারী
অন্তর পরিবর্তনকারী এবং বহু অনুগ্রহের দানকারী
… কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে অন্তরসমূহকে সজীবকারী
হিদায়াতের জন্য সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠকে প্রেরণকারী
… অবাধ্য ও পথভ্রষ্টদের দমনকারী
অতঃপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক অবিরতভাবে
… সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ নবীর ওপর
মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর
… এবং যারা শুনেছেন ও আনুগত্য করেছেন তাদের প্রত্যেকের ওপর
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وبعد فالحق جلي أبلج
… والباطل الصرف ردي لجلج
بينهما مراتب فيها دخن
… يظهر للبيب كالماء الأسن
وفوقه ودونه مراتب
… فافهم كلامي واعتبر يا طالب
فالحق أن تتبع أقوال العلي
… بلا تجاوز ولا تأول
والسنة الصحيحة المبينه
… بلا تطاول ولا ضيغينه
بل وسط بين غلو الغالي
… وبين إفراط الجهول القالي
والحق قال الله أو قال النبي
… فافهم وقول مخطئ فاجتنب
من لزم القرآن والهدي نجا
… ومن سوى الله إليه الملتجا
وقد يكون قول فذ مجتهد
… وغير إنصاف وعليم لم يرد
لكنما التوفيق يأتي كالعمل
… فافهم وحاذر من تتبع الزلل
অতঃপর সত্য সুস্পষ্ট ও প্রদীপ্ত
… আর বিশুদ্ধ বাতিল হলো নিকৃষ্ট ও অস্পষ্ট।
উভয়ের মাঝে এমন স্তর রয়েছে যাতে মালিন্য আছে
… যা বুদ্ধিমানের কাছে দূষিত পানির ন্যায় প্রতিভাত হয়।
এর উপরে এবং নিচে বহু স্তর রয়েছে
… অতএব আমার কথা বোঝো এবং শিক্ষা গ্রহণ করো হে জ্ঞানান্বেষী।
আর সত্য হলো মহান আল্লাহর বাণী অনুসরণ করা
… কোনো সীমালঙ্ঘন ও অপব্যাখ্যা ব্যতিরেকে।
এবং সুস্পষ্ট সহীহ সুন্নাহ অনুসরণ করা
… কোনো ঔদ্ধত্য ও বিদ্বেষ ব্যতিরেকে।
বরং তা অতিরঞ্জনকারীর বাড়াবাড়ি
… এবং অজ্ঞ ও বিদ্বেষীর অবহেলার মাঝে মধ্যপন্থা।
আর সত্য হলো ‘আল্লাহ বলেছেন’ অথবা ‘নবী বলেছেন’
… অতএব তা অনুধাবন করো এবং ভুলকারীর কথা বর্জন করো।
যে কুরআন ও হিদায়াতকে আঁকড়ে ধরল সে মুক্তি পেল
… আর আল্লাহ ছাড়া আশ্রয় নেওয়ার মতো আর কে আছে?
কখনো কখনো কোনো অনন্য মুজতাহিদেরও এমন বক্তব্য হতে পারে
… যা ইনসাফ ও ইলম বহির্ভূত উদ্দেশ্যে ছিল না।
কিন্তু তাওফীক আসে আমল অনুযায়ী
… অতএব বোঝো এবং পদস্খলনের অনুসরণ থেকে সতর্ক থাকো।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
والباطل المحض فكفر واضح
… ودونه كفر بذاك صرحوا
ومن أباطيل العقول كلما
… رأت كلاما للحكيم يعلما
تخرصت تطاولت وأرجفت
… تنفخت تنفشت وأوجست
كأن هذا العقل وحي ثالث
… لا بل نراه للأثافي ثالث
شيطاننا وحرصنا وعقلنا
… فكلها شر وأعداء لنا
لكنما العقل يكون سالما
… عند لزوم الحد يمسي غانما
فإن تعدى واستطال واجترى
… فقد تردي في الهلاك لا مرا
ومن أباطيل النفوس أن ترى
… ضعيف نفس حائرا قد امترى
تراه في بعض الأمور غاليا
… وفي أمور مجحفا وخاويا
يثني فيرقى في المديح للسما
… ثمت يهجوا فيهيم في العما
এবং বিশুদ্ধ বাতিল হলো স্পষ্ট কুফরি
… আর তার নিম্নতর পর্যায়কেও তারা কুফরি বলে স্পষ্ট করেছেন।
আর বিবেকের বিভ্রান্তিসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো যখনই
… সে প্রজ্ঞাময় আল্লাহর কোনো কালাম জানতে পারে।
সে মিথ্যা রটনা করে, ধৃষ্টতা দেখায় এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করে
… সে অহংকারে স্ফীত হয়, দম্ভ করে এবং অন্তরে শঙ্কা জাগায়।
যেন এই বিবেক কোনো তৃতীয় ওহি
… বরং আমরা একে দেখি চুলার সেই তৃতীয় পাথরের মতো (যা বিপদ পূর্ণ করে)।
আমাদের শয়তান, আমাদের লালসা এবং আমাদের বিবেক
… এগুলোর সবই মন্দ এবং আমাদের শত্রু।
তবে বিবেক তখনই নিরাপদ থাকে
… যখন সে নিজ সীমানা আঁকড়ে ধরে এবং সফলকাম হয়।
যদি সে সীমা লঙ্ঘন করে, ধৃষ্টতা দেখায় এবং দুঃসাহস করে
… তবে নিঃসন্দেহে সে ধ্বংসের গহ্বরে নিপতিত হয়।
আর নফসের বিভ্রান্তিসমূহের মধ্যে দেখবেন
… দুর্বল চিত্তের কোনো বিভ্রান্ত ব্যক্তিকে, যে সন্দেহে নিমজ্জিত।
আপনি তাকে কোনো বিষয়ে অতিশয় বাড়াবাড়ি করতে দেখবেন
… আবার অন্য বিষয়ে চরম অবহেলাকারী ও রিক্ত হিসেবে দেখবেন।
সে প্রশংসা করতে গিয়ে প্রশংসাকে আসমানে চড়িয়ে দেয়
… আবার পরক্ষণেই নিন্দা করে অন্ধের মতো দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
ومن أئمة الغلو وطائفه
… طغت وكانت للحصان مجحفه
عدوا على عرض النبي المصطفى
… ثم ادعوا بأنهم أهل الوفا
هيهات أن ينجو مؤذ للنبي
… هذا كلام الله لا تستغرب
تناولوا عرض الحصان الطاهره
… ذات المناقب الطوال الباهره
قالوا: بغت كفرت وكانت عائشه
… تكيد للدين وكانت فاحشه
قالوا: وكانت تشعل نار الفتن
… وما ونى عزم لها ولا وهن
قالوا: وكانت في الحديث كاذبه
… ولم تكن فتوى عويش صائبه
قالوا: وسمت النبي الخاتما
… وساعدتها حفص وأبوها
أتوا كذابا ليس يحصى عددا
… ولا تصده العقول أبدا
ومن هنا نظمت هذي اللؤلؤه
… ردا لكيد وافترا تلك الفئه
চরমপন্থার ইমামদের মধ্য হতে এবং তাদের এক গোষ্ঠী
… যারা সীমালঙ্ঘন করেছে এবং সেই সতী-সাধ্বীর প্রতি চরম অবিচার করেছে
তারা মনোনীত নবীর সম্মানের ওপর আক্রমণ করেছে
… অতঃপর দাবি করেছে যে তারাই পরম অনুগত ও বিশ্বস্ত
নবীকে কষ্টদানকারী ব্যক্তি পরিত্রাণ পাবে—তা অসম্ভব
… এটি আল্লাহর বাণী, এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই
তারা সেই পবিত্র সতী-সাধ্বীর সম্মানে কলঙ্ক লেপন করেছে
… যিনি সুদীর্ঘ ও বিস্ময়কর মহিমা ও গুণাবলির অধিকারিণী
তারা বলেছে: সে অবাধ্য হয়েছে, কুফরি করেছে এবং আয়েশা
… দ্বীনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী ও অশ্লীল ছিল
তারা বলেছে: সে ফিতনার আগুন প্রজ্বলিত করত
… আর তার এই সংকল্পে কোনো ক্লান্তি বা দুর্বলতা ছিল না
তারা বলেছে: সে হাদিসের বর্ণনায় মিথ্যাচারী ছিল
… আর আয়েশার ফতোয়া সঠিক ছিল না
তারা বলেছে: সে সর্বশেষ নবীকে বিষ প্রদান করেছে
… আর হাফসা ও তার পিতা তাকে এ কাজে সাহায্য করেছে
তারা অগণিত মিথ্যাচার নিয়ে এসেছে
… যা সুস্থ বিবেক কখনো গ্রহণ করতে পারে না
আর এখান থেকেই আমি এই মুক্তাসম কাব্য রচনা করেছি
… সেই দলের ষড়যন্ত্র ও অপবাদের জবাব হিসেবে
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ألفية بديعة كالدره
… تهفوا إليها النفس غير مره
سميتها بالروضة الأنيقة
… في نصرة العفيفة الصديقه
أرجوا بها فضلا من الله العلي
… وطول مكث في العلا لا ينجلي
أن أسكن الفردوس مع حبيبه
… إذ قد دفعت السوء عن أزواجه
وأن أكون ناصر الأحبة
… أهل التقى محمدا وحزبه
فأتممن ربي وسدد رمينا
… أثقل بها يوم القضا ميزاننا
ووفقن قلبي لإخلاص العمل
… وجنبن عقلي وقلمي الزلل
ثم سلام وصلاة خالصه
… على نبي الحق ليست ناقصه
والحمد للرحمن واهب المنن
… وناصر الدين بأصحاب السنن
মুক্তার ন্যায় চমৎকার এক আলফিয়া
… যার প্রতি আত্মা বারবার ব্যাকুল হয়
আমি এর নামকরণ করেছি ‘আর-রওজাতুল আনিকাহ’ (মনোরম উদ্যান)
… পুত-পবিত্রা সিদ্দীকার প্রতিরক্ষায়
এর দ্বারা আমি মহান আল্লাহর নিকট অনুগ্রহ প্রত্যাশা করি
… এবং সুউচ্চ স্থানে এমন দীর্ঘ অবস্থানের আশা রাখি যা কক্ষনো শেষ হবে না
যেন আমি তাঁর প্রিয়তমের সাথে জান্নাতুল ফিরদাউসে বসবাস করতে পারি
… যেহেতু আমি তাঁর পবিত্রা স্ত্রীদের থেকে মন্দ অপবাদ দূর করেছি
এবং যেন আমি সেই প্রিয়জনদের সাহায্যকারী হতে পারি
… যারা তাকওয়াবান অর্থাৎ মুহাম্মদ এবং তাঁর দলভুক্তগণ
অতএব হে আমার প্রতিপালক, এটি পূর্ণতা দান করুন এবং আমাদের লক্ষ্যকে সঠিক রাখুন
… বিচার দিবসে এর মাধ্যমে আমাদের আমলের পাল্লাকে ভারী করে দিন
আর আমার অন্তরকে কর্মের একনিষ্ঠতার তাওফিক দান করুন
… এবং আমার বুদ্ধি ও কলমকে বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করুন
অতঃপর সত্যের নবীর ওপর বর্ষিত হোক একনিষ্ঠ
… ও পরিপূর্ণ দরুদ ও সালাম
সমস্ত প্রশংসা রহমানের জন্য যিনি সকল নেয়ামতের দাতা
… এবং যিনি সুন্নাহর অনুসারীদের মাধ্যমে দ্বীনকে সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
حياة عائشة الطفلةبعيد بعثه الحبيب المصطفى
… أتت إلى الدنيا خليلة الوفا
عائشة بنت الصديق الأكبر
… بني عثمان بني عامر
رفيق خير الخلق خير صحبه
… خير الرجال بعده من حزبه
قرشية تيمية مكيه
… صديقة صدوقة نبويه
جاءت وقد جاء النبي الأعظم
… وكل أهل بيتها قد أسلموا
فلم تر الجهل يعم الأنديه
… ولا فتاة وئدت بالباديه
ولم تفض يوما سجودا للصنم
… كلا ولكن عبدت رب النعم
رأت نبي الله يأتي بيتهم
… في كل يوم صبحهم وعصرهم
رأت أباها ساجدا وقائما
… وأم رومان تصلي دائما
في بيت جد وجهاد وتقى
… طوبى لمن لذي المقامات ارتقى
শিশু আয়িশার জীবনপ্রিয় মুস্তফার নবুওয়াত প্রাপ্তির পরক্ষণেই
… পৃথিবীতে আগমন করলেন এই মহীয়সী ও বিশ্বস্ত প্রিয়তমা
আয়িশা বিনতে সিদ্দিক আকবর
… বানু উসমান ও বানু আমির বংশের উত্তরসূরি
সৃষ্টির সেরার আজীবন সঙ্গী ও শ্রেষ্ঠ সাহাবী
… তাঁর পরে তাঁর দলের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি (আবু বকর) এর কন্যা
কুরায়েশী, তায়মী ও মক্কী বংশোদ্ভূত
… সত্যবাদিনী, সত্যবাদীর দুহিতা এবং নববী আদর্শের প্রতীক
তিনি এমন সময় আগমন করলেন যখন মহানবী প্রেরিত হয়েছেন
… আর তাঁর পরিবারের সকল সদস্যই ইসলাম গ্রহণ করেছেন
ফলে তিনি মজলিসগুলোতে জাহেলিয়াত বা মূর্খতা ছেয়ে থাকতে দেখেননি
… আর মরুপ্রান্তরে কোনো কন্যাকে জীবন্ত প্রোথিত হতে দেখেননি
তিনি কোনোদিন মূর্তির সামনে সিজদায় অবনত হননি
… কস্মিনকালেও নয়, বরং তিনি কেবল নেয়ামতদাতা রবেরই ইবাদত করেছেন
তিনি আল্লাহর নবীকে তাদের ঘরে আসতে দেখতেন
… প্রতিদিন সকাল এবং বিকালবেলা
তিনি তাঁর পিতাকে সিজদাবনত ও দণ্ডায়মান (সালাতরত) অবস্থায় দেখতেন
… আর উম্মে রোমান সর্বদা সালাত আদায় করতেন
পরিশ্রম, জিহাদ ও তাকওয়ার এক ঘরে
… সৌভাগ্য তাদেরই যারা এমন উচ্চ মর্যাদায় আসীন হয়েছেন
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
عائشة الزوجةوبعد عام الحزن أن مر به
… رأى النبي عويش في منامه
جاء بها جبريل في الحريره
… ريانة مستورة منيرة
فقال خير الخلق بعدما نظر
… إن يشأ الرحمن يفعل أو يذر
إن كان ذا من عند ربي يمضه
… فكل نعمة تجي من عنده
ثمت جاءت خولة الحكيمه
… تذكر بنت الصادق الكريمه
تقول بكرا أو أردت ثيبا
… فلم يمانع قولها وما أبي
فالبكر كانت بنت خير صحبه
… وأول الرجال إيمانا به
والثيب الأخرى فسودة التي
… قد آمنت وشرفت بالصحبة
قال النبي فاذهبي إليهما
… على حبيب الحق فاذكريهما
فجاءت ابنة الحكيم أمها
… زفت إليها خبرا يسرها
স্ত্রী হিসেবে আয়েশাশোকের বছরটি যখন তাঁর ওপর দিয়ে অতিবাহিত হলো
… তখন নবী স্বপ্নে আয়েশাকে দেখলেন
জিবরীল তাঁকে রেশমি বস্ত্রে নিয়ে এলেন
… তিনি ছিলেন লাবণ্যময়ী, পর্দানশীন ও জ্যোতির্ময়ী
সৃষ্টির সেরা সত্তা তা দেখার পর বললেন
… রহমান যদি চান তবে তিনি তা কার্যকর করবেন অথবা ত্যাগ করবেন
যদি এটি আমার রবের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে তবে তিনি তা পূর্ণ করবেন
… কেননা সকল নেয়ামত তো তাঁর পক্ষ থেকেই আসে
অতঃপর প্রাজ্ঞ খাওলা আসলেন
… তিনি সেই সম্মানিত সত্যবাদীর কন্যার কথা উল্লেখ করলেন
তিনি বললেন, আপনি কি কুমারী চান নাকি বিধবা?
… তিনি তাঁর কথায় আপত্তি করলেন না এবং অসম্মতিও জানালেন না
কুমারীটি ছিলেন শ্রেষ্ঠ সঙ্গীর কন্যা
… যিনি ছিলেন তাঁর প্রতি ঈমান আনয়নকারী প্রথম পুরুষ
আর অন্য বিধবাটি ছিলেন সাওদাহ, যিনি
… ঈমান এনেছিলেন এবং সাহচর্যের মর্যাদায় ভূষিত হয়েছিলেন
নবী বললেন, তবে তুমি তাঁদের উভয়ের কাছে যাও
… সত্যের প্রিয়তমের (নবীর) পক্ষ থেকে তাঁদের কাছে প্রস্তাব পেশ করো
অতঃপর হাকীমের কন্যা (খাওলা) তাঁর (আয়েশার) মায়ের কাছে আসলেন
… তিনি তাঁকে এমন সুসংবাদ দিলেন যা তাঁকে আনন্দিত করল
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وأي رفعة بلا مفايشه
… رسول ربنا يريد عائشه
قالت فقري الآن يأتينا الأب
… وأي فضل بعد ذاك نرغب
فقال عبد الله إنه أخي
… قال النبي ذاك خير يا أخي
كانت عويش عند ذا في السابعه
… وللأراجيح الصغار تابعه
وعند تسع ابتنى بها النبي
… تلك حقائق فلا تستغرب
أتى نساء الحي نحو عائشه
… وهي مع البنات تبغي الحنبشه
كانت تروح تجيء في الأرجوحة
… فقالت الأم تعالي يا ابنتي
قالت وكنت آنذا مجممه
… ولم أكن بما تريد عالمه
وقفت بالباب وإني أنهج
… والجالسون هنأوا وخرجوا
وأجلستني الأم في حجر النبي
… قالت فأنت أهله لا تعجبي
আর কোনো গর্ব ছাড়াই এ কী উচ্চমর্যাদা
… আমাদের রবের রাসূল আয়েশাকে আকাঙ্ক্ষা করছেন।
তিনি বললেন, এখন শান্ত হও, পিতা আমাদের নিকট আসছেন
… এর পরে আমরা আর কোন অনুগ্রহ কামনা করব?
অতঃপর আবদুল্লাহ বললেন, তিনি তো আমার ভাই
… নবী বললেন, হে আমার ভাই, এটাই উত্তম।
আয়েশা তখন সপ্তম বর্ষে ছিলেন
… এবং ছোটদের দোলনার সাথে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন।
আর নয় বছর বয়সে নবী তাঁর সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন
… এগুলোই বাস্তবতা, সুতরাং বিস্মিত হয়ো না।
মহল্লার মহিলারা আয়েশার দিকে আসলেন
… তখন তিনি বালিকাদের সাথে খেলাধুলায় মগ্ন ছিলেন।
তিনি দোলনায় দুলছিলেন
… তখন মা বললেন, ওগো আমার মেয়ে, এদিকে এসো।
তিনি বললেন, তখন আমার চুলগুলো ছিল সুবিন্যস্ত
… আর তিনি কী চাইছেন সে বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না।
আমি দরজায় দাঁড়ালাম এমতাবস্থায় যে আমি হাঁপাচ্ছিলাম
… আর উপবিষ্টরা অভিনন্দন জানিয়ে বিদায় নিলেন।
মা আমাকে নবীর কোলে বসিয়ে দিলেন
… তিনি বললেন, তুমিই তাঁর যোগ্য জীবনসঙ্গিনী, অবাক হয়ো না।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
بنى رسول الله بي في بيتنا
… فأي فضل ذاك قد حل بنا
وتمت الأفراح رباه أدم
… وبالسرور والهناء فاختتم
ذاك الذي قد جاءنا به الخبر
… فافهم وقيد العلوم واعتبر
ودع أقاويلا تقال إنها
… ممجوجة حقا فلا تعبأ بها
عليك بالحق الذي يأتي به
… ثقات أهل العلم لا تلقي به
لأجل قول أعجمي جاهل
… متنفخ وفارغ مخاتل
وإن قفاه مسلم مستغفل
… أصول فقه الدين دوما يجهل
فلا تمار إنها حقائق
… وباطل القوم رديء زاهق
كيف وواقع الحياة يشهد
… أخبارهم في كل ناد تعهد
حدثني بعض الصحاب أنه
… لعشرة أتى أبوه أمه
আল্লাহর রাসূল আমাদের ঘরে আমার সাথে বাসর করেছেন
… তবে আমাদের উপর কতই না বিশেষ অনুগ্রহ অবতীর্ণ হয়েছে!
আর আনন্দসমূহ পূর্ণতা লাভ করেছে, হে প্রতিপালক! তা স্থায়ী রাখুন
… এবং আনন্দ ও সুখের সাথে এর পরিসমাপ্তি ঘটান।
এটাই সেই বিষয় যা আমাদের নিকট সংবাদ হিসেবে পৌঁছেছে
… সুতরাং এটি উপলব্ধি করুন, ইলমসমূহ লিপিবদ্ধ করুন এবং শিক্ষা গ্রহণ করুন।
আর সেই সকল উক্তি বর্জন করুন যা বলা হয়ে থাকে, নিশ্চয়ই তা
… প্রকৃতপক্ষে অত্যন্ত ঘৃণ্য, তাই সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করবেন না।
আপনি সেই সত্যকে অবলম্বন করুন যা নিয়ে আসেন
… নির্ভরযোগ্য বিদগ্ধ আলেমগণ; তাকে ছুঁড়ে ফেলবেন না।
কোনো এক অজ্ঞ অনারব ব্যক্তির কথার কারণে
… যে অহংকারী, অন্তঃসারশূন্য এবং প্রবঞ্চক।
যদিও কোনো অসতর্ক মুসলিম তাকে অনুসরণ করে
… যে সর্বদা দ্বীনের উসুল ও ফিকহ সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে।
সুতরাং বিতর্ক করবেন না, নিশ্চয়ই এগুলো ধ্রুব সত্য
… আর সেই লোকদের বাতিল হলো নিকৃষ্ট ও বিলুপ্ত।
কীভাবে (অস্বীকার করবেন) যখন জীবনের বাস্তবতা সাক্ষ্য দিচ্ছে
… প্রতিটি মজলিসে তাদের সংবাদসমূহ সুপরিচিত।
আমার জনৈক সাথী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে
… দশ বছর বয়সে তার পিতা তার মাতার নিকট এসেছিলেন (বাসর করেছিলেন)।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وجدتي قد أنجبت أحد عشر
… بنى بها جدي على ثنتي عشر
ونحن في مصر قليل حره
… وعالم الطب كذا يفتي به
وكان أمرا سائغا عند العرب
… ما يمتري في هذه أهل الأرب
قد قبحوا بكل إفك أمره
… ولم يصلنا أن شخصا عابه
إذ قد تزوج الفتاة عائشه
… ولم يروها للحياء خادشه
فخل عنك جهلهم وما ادعوا
… فلم يحوطوا حرمة وما رعوا
আমার দাদী এগারোজন সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন
… আমার দাদা বারো বছর বয়সে তাঁর সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করেছিলেন
আর আমরা মিশরে আছি যেখানে উষ্ণতা সহনীয়
… এবং চিকিৎসাবিদগণও এমনই অভিমত প্রদান করেন
আর এটি আরবদের নিকট একটি স্বাভাবিক বিষয় ছিল
… প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিগণ এ নিয়ে কোনো সংশয় পোষণ করেন না
তারা চরম মিথ্যাচারের মাধ্যমে বিষয়টিকে কদর্য রূপ দিয়েছে
… অথচ আমাদের কাছে এমন সংবাদ পৌঁছেনি যে কেউ এর সমালোচনা করেছে
যেহেতু তিনি কুমারী আয়েশাকে বিবাহ করেছিলেন
… আর তারা একে লজ্জাশীলতা বিরোধী কিছু হিসেবে দেখেনি
অতএব তাদের অজ্ঞতা ও ভিত্তিহীন দাবিগুলো বর্জন করুন
… কারণ তারা কোনো পবিত্রতার সীমানা মানেনি এবং কোনো শিষ্টাচার বজায় রাখেনি
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
غيرة عائشة ومواقفهامع النبي صلى الله عليه وسلم ومع أمهات المؤمنين رضي الله عنهن -
وأعجب الأشياء ذكرا أنها
… تغار ممن كان مات قبلها
وهى خديجة العظيمة التي
… حازت مكانا سامقا في الرفعة
يقول خير الخلق عن خديجة
… كانت وكانت فهي خير زيجة
وكان يبعث الهدايا بعدها
… والأعطيات في صواحب لها
وعندها تضحى عويش واجمه
… غيرى وكانت بالوداد عالمه
قالت أليس في الوجود غيرها
… فقال كلا لم يكن وما بها
ثم عويش الآن فاق حبها
… تغار ممن قد يعيش بعدها
تقول وارأساه قال المصطفى
… ممازحا ولم يكن به جفا
لو كان ذاك الآن فغسلتك
… ثمت أستغفر وادعوا لك
আয়েশার আত্মমর্যাদাবোধ এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও মুমিনদের জননীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুন্না) সাথে তাঁর অবস্থানসমূহ-
স্মরণীয় বিষয়সমূহের মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো তিনি
… এমন একজনের প্রতি ঈর্ষা পোষণ করতেন যিনি তাঁর পূর্বেই ইন্তেকাল করেছিলেন
আর তিনি হলেন মহীয়সী খাদিজা, যিনি
… উচ্চমর্যাদার এক সুউচ্চ শিখর অধিকার করেছিলেন
সৃষ্টির সেরা (রাসূল) খাদিজা সম্পর্কে বলতেন
… তিনি এমন ছিলেন, তিনি তেমন ছিলেন, আর তিনি ছিলেন সর্বোত্তম জীবনসঙ্গিনী
আর তাঁর (খাদিজার) ইন্তেকালের পরও তিনি উপহার পাঠাতেন
… এবং তাঁর বান্ধবীদের মাঝে উপঢৌকন বিতরণ করতেন
তখন আয়েশা বিষণ্ণ হয়ে পড়তেন
… ঈর্ষাকাতর হয়ে, যদিও তিনি (নবীর) ভালোবাসার বিষয়টি জানতেন
তিনি (আয়েশা) বললেন, "দুনিয়াতে কি তিনি ছাড়া আর কেউ নেই?"
… তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন, "না, তা নয়, তবে তাঁর মাঝে যা ছিল (তা অনন্য)"
অতঃপর আয়েশা, যাঁর প্রতি ভালোবাসা এখন সুউচ্চ
… তিনি তাদের প্রতিও ঈর্ষা করতেন যারা তাঁর পরে বেঁচে থাকতে পারে
তিনি (আয়েশা) বলতেন, "হায় আমার মাথা!" তখন মুস্তফা (রাসূলুল্লাহ) বললেন
… কৌতুকচ্ছলে, যাতে কোনো রূঢ়তা ছিল না
যদি তা এখনই হতো (তোমার মৃত্যু), তবে আমিই তোমাকে গোসল দিতাম
… অতঃপর আমি তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতাম ও দোয়া করতাম
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قالت فوا ثكلاه يا لسعدها
… تلك التي تمسي معرسا بها
فابتسم الحبيب ثم جاءه
… صداع رأس ثم مات بعده
فكان آخر ابتسامه لها
… فيا لها منقبة ما مثلها
واسمع إلى ما تدعيه الرافضه
… ذات الرشاد والعقول الواعده
قالوا تمنى أن تموت عائشه
… فيا له رأي عظيم االفشفشة
أخزى الإله قائلا وما اخترع
… ذاك الزنيديق الخبيث المبتدع
تقول كان المصطفى إذا طلع
… لسفر بين نسائه اقترع
فطارت القرعة في يوم لها
… وحفصة كانت كمثل حظها
كان النبي ليله لعائشه
… يأتي إليها يبتغي المحادثه
لكن حفصة الذكي عقلها
… هي ابنة الفاروق كادت كيدها
সে বলল, “হায় আক্ষেপ! ওহ, তার কী সৌভাগ্য!
… সেই তো সে, যার সাথে তিনি বাসর যাপন করবেন।”
অতঃপর প্রিয়তম মুচকি হাসলেন, তারপর তাঁর শিরঃপীড়া দেখা দিল, অতঃপর তিনি ইন্তেকাল করলেন।
তাঁর শেষ মুচকি হাসিটি ছিল তাঁরই জন্য; আহা, এটি কতই না অনন্য এক মর্যাদা, যার কোনো তুলনা নেই!
…আর শোনো রাফেযীরা কী দাবি করে—যারা নিজেদের সুপথগামী ও প্রখর বুদ্ধিমান বলে দাবি করে।
…তারা বলে যে, তিনি আয়িশার মৃত্যু কামনা করেছিলেন; ওহ, কতই না অসার ও অন্তঃসারশূন্য এক ধারণা!
…আল্লাহ যেন লাঞ্ছিত করেন সেই বক্তাকে এবং তার সেই উদ্ভাবনকে—সেই নিকৃষ্ট বিদআতি যিন্দিককে।
…তিনি (আয়িশা) বলেন যে, মুস্তাফা (রাসূল) যখনই সফরে বের হতেন, তখন তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে লটারি করতেন।
…অতঃপর একদিন লটারিতে তাঁর নাম উঠল এবং হাফসার ভাগ্যও তাঁর অনুরূপ হলো।
…রাতটি ছিল আয়িশার জন্য নবীর নির্ধারিত সময়; তিনি তাঁর নিকট আলাপচারিতার উদ্দেশ্যে আসতেন।
…কিন্তু বুদ্ধিমতী হাফসা—যিনি ফারুকের কন্যা—তিনি এক কৌশল অবলম্বন করলেন।
…
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قالت لعائش اركبي بعيري
… لعله أجود في المسير
وركبت حفص بعير عائشه
… ثم أتى النبي للمناقشه
فعند ذا غارت عويش يائسه
… أتاها ما يأتي النسا من وسوسه
فوضعت أقدامها في الإذخر
… قالت أيا عقرب هيا فاعقري
يا حية الدغي قد فاض صبري
… لعله يشفى أنين صدري
رباه ما أقول هذا المصطفى
… نبيك الهادي معلم الوفا
وليلة خرج النبي الأكرم
… من عند عائشة لأمر يعلم
قالت فغرت فرأى ما أصنع
… وكان قلما بليل يهجع
فقال مهلا يا عويش ما لك
… هل غرت هلا تملكين نفسك،
قالت وما لي لا أغار والربا
… تشهد أنك الرسول المجتبى
তিনি আয়েশাকে বললেন, আমার উটে আরোহণ করো
… সম্ভবত এটি চলার পথে অধিকতর উৎকৃষ্ট হবে
আর হাফসা আয়েশার উটে আরোহণ করলেন
… অতপর নবী আলোচনার জন্য আসলেন
তখন আয়েশা নিরাশ হয়ে ঈর্ষান্বিত হলেন
… তাঁর নিকট তা-ই আসল যা নারীদের মনে কুমন্ত্রণা হিসেবে আসে
অতপর তিনি আপন পদদ্বয় ইযখির ঘাসের মধ্যে রাখলেন
… তিনি বললেন, হে বিচ্ছু! এসো এবং দংশন করো
হে সর্প! দংশন করো, আমার ধৈর্য চ্যুত হয়েছে
… সম্ভবত এতে আমার হৃদয়ের আর্তনাদ প্রশমিত হবে
হে আমার প্রতিপালক! আমি কী বলছি, ইনি তো সেই মুস্তফা
… আপনার পথপ্রদর্শক নবী ও বিশ্বস্ততার শিক্ষক
এক রাতে সম্মানিত নবী বের হলেন
… আয়েশার নিকট থেকে এমন এক কারণে যা জ্ঞাত ছিল
তিনি বললেন, আমি ঈর্ষান্বিত হলাম, অতপর তিনি দেখলেন আমি কী করছি
… আর তিনি রাতে খুব অল্পই ঘুমাতেন
তিনি বললেন, শান্ত হও হে আয়েশা, তোমার কী হয়েছে?
… তুমি কি ঈর্ষান্বিত হয়েছ? তুমি কি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারোনি?
তিনি বললেন, কেন আমি ঈর্ষা করব না, যখন সুউচ্চ পর্বতমালা
… সাক্ষ্য দেয় যে আপনিই মনোনীত রাসূল।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ثمت قال هل أتى شيطانك
… فعن سبيل الاصطبار ردك
قالت ولي شيطان ليس يترك
… أمري وأمر كل إنسي يك
قال نعم قالت وهل أيضا معك
… تريد هل يضرك أم ينفعك
قال نعم إن معي لكنما
… الله قد أعانني فأسلما
فليس يحدوني لشر أبدا
… بل كل خير في الخفا وما بدا
فاحسنت تخلصا من فعلها
… كذا استفادت العلوم يا لها
من ذات عقل ثاقب ذكي
… ألم تكن حبيبة النبي
لكن ذاك الرافضي ظنه
… ذما لعائش الرسول قاله
ألم ير الذم كذا يصيبه
… فإن شيطانا له يجيئه
بل صار ذما للبرايا كلهم
… تبا لقوم يا لقبح جهلهم
अতঃপর তিনি বললেন, তোমার শয়তান কি এসেছে
… যা তোমাকে ধৈর্যের পথ থেকে বিচ্যুত করেছে?
তিনি বললেন, আমার কি এমন শয়তান আছে যে ছাড়ে না
… আমার বিষয় এবং প্রতিটি মানুষের বিষয় কি এমনই হয়?
তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আপনার সাথেও কি আছে
… আপনি কি জানতে চান সে কি আপনার ক্ষতি করে নাকি উপকার করে?
তিনি বললেন, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই আমার সাথেও আছে তবে
… আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেছেন ফলে সে আত্মসমর্পণ করেছে।
ফলে সে আমাকে কখনো মন্দের দিকে চালিত করে না
… বরং গোপনে ও প্রকাশ্যে সকল কল্যাণের দিকেই নিয়ে যায়।
অতঃপর তিনি তার বিষয় হতে উত্তম নিষ্কৃতি পেলেন
… এভাবেই তিনি জ্ঞান অর্জন করলেন, কতই না চমৎকার!
এক প্রখর ও তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারিণী থেকে
… তিনি কি নবীর প্রিয়তমা ছিলেন না?
কিন্তু সেই রাফেযী একে ধারণা করল
… রাসূলের স্ত্রী আয়েশার নিন্দা হিসেবে যা সে বলেছে।
সে কি দেখল না যে অনুরূপ নিন্দা তাকেও স্পর্শ করে
… কারণ তার কাছেও তো শয়তান আসে?
বরং এটি তো সকল সৃষ্টির নিন্দায় পরিণত হলো
… ধ্বংস ঐ কওমের জন্য, কতই না কুৎসিত তাদের অজ্ঞতা!
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
واسع أعاجيبا هنا تقولها
… رافضة كذوب دام خزيها
يرون غيرة الحصان منقصه
… كانت لأيام النبي منغصة
فهي تحب نفسها لا غيرها
… ترى النساء ليس فيهم مثلها
وهي تروم القمة العلياء في
… هذي الدنا وذلك المكر الخفي
وهي تريد الناس خداما لها
… الكل يغدوا ويجي بأمرها
وتجحد الفضل العظيم أهله
… وتدعي الفضل الذي ما مثله
قلنا لم مهلا أكل ذلكم
… لأنها تغار مثل أمكم
تغار مثل أختكم وزوجكم
… أين الفهوم بل وأين عقلكم
قد كان ذاك ردنا في الأول
… ثم تركناه لأمر ينجلي
فإن أمهم وأختهم كذا
… ليست تغار وبعلم قلت ذا
এখানে অনেক বিস্ময়কর কথা বলা হয়
… মিথ্যাবাদী রাফেজিরা, যাদের লাঞ্ছনা দীর্ঘস্থায়ী হোক।
তারা আত্মমর্যাদাবোধের ঈর্ষাকে ত্রুটি হিসেবে দেখে
… যা নবীর দিনগুলোতে কষ্টের কারণ হয়েছিল।
সে কেবল নিজেকেই ভালোবাসে, অন্য কাউকে নয়
… সে মনে করে নারীদের মধ্যে তার সমতুল্য কেউ নেই।
সে দুনিয়ার উচ্চ শিখরে আরোহণ করতে চায়
… এবং সেই গোপন চক্রান্তের মাধ্যমে।
সে মানুষকে তার খাদেম বানাতে চায়
… যেন সবাই তার আদেশে আসা-যাওয়া করে।
সে যোগ্য ব্যক্তিদের মহান মর্যাদাকে অস্বীকার করে
… আর এমন শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করে যার কোনো নজির নেই।
আমরা বললাম, থামো! এই সবকিছু কি
… এই কারণে যে সে তোমাদের মায়ের মতোই ঈর্ষা করে?
সে তোমাদের বোন ও স্ত্রীর মতোই ঈর্ষা করে
… তোমাদের বোধশক্তি কোথায়, এমনকি তোমাদের বিবেকই বা কোথায়?
প্রথমে এটাই ছিল আমাদের উত্তর
… তারপর একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়ার জন্য আমরা তা স্থগিত রেখেছি।
কেননা তাদের মা এবং বোন এমনই
… তারা ঈর্ষা করে না, আর আমি জেনেশুনেই এই কথা বলেছি।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
كيف تغار تلكم الزوج التي
… يهيم أهل بيتها في المتعة
ذاك الزنا الأجلى الذي ما نمتري
… في كونه فعل الأثيم المفتري
حرمه الحكيم جل وعلا
… وبلغ الأمين ذا على ملا
هذي الدياثة العظيمة التي
… ما تركت شيئا لتلك الغيرة
كان اضطرارا رخص المختار في
… ذاك الزواج لا لأمر قد خفي
فهو كمثل الميت والخنزير
… فافهم كلامي واعقلن تقريري
كانت تعيب الواهبات الأنفسا
… تقول غيرى ما دها تلك النسا
تراه شيئا قد يمس الشرفا
… فجاءه الترخيص رأسا وكفى
قالت فربنا قد اجتباكا
… مسارع مولاك في هواكا
تعني الرضا وذلك المعنى جلي
… لمن عن البلاغة لم يذهل
সেই স্ত্রী কীভাবে ঈর্ষা করবেন
… যার গৃহের লোকেরা মুতআ (সাময়িক বিবাহ) নিয়ে মগ্ন থাকে।
সেটি সেই সুস্পষ্ট ব্যভিচার যাতে আমরা সন্দেহ করি না
… যে এটি পাপিষ্ঠ মিথ্যাবাদীর কাজ।
মহিমাময় প্রজ্ঞাবান (আল্লাহ) তা হারাম করেছেন
… এবং আমীন (রাসূল) তা জনসমক্ষে পৌঁছে দিয়েছেন।
এটি সেই বিশাল দাইয়ূসগিরি (নির্লজ্জতা) যা
… সেই ঈর্ষার (আত্মমর্যাদাবোধের) কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি।
সেটি ছিল নিরুপায় অবস্থা যাতে মুখতার (রাসূলুল্লাহ ﷺ) অনুমতি দিয়েছিলেন
… সেই বিবাহের ক্ষেত্রে, কোনো গোপন বিষয়ের জন্য নয়।
সুতরাং এটি মৃত পশু এবং শূকরের সমতুল্য
… অতএব আমার কথা বুঝুন এবং আমার বর্ণনাটি অনুধাবন করুন।
তিনি (আয়েশা রা.) নিজেকে দানকারিনী নারীদের দোষারোপ করতেন
… ঈর্ষাবশত বলতেন, সেই নারীদের কী হলো!
তিনি এটিকে সম্মানে আঘাত হানার বিষয় মনে করতেন
… অতঃপর সরাসরি এর অনুমতি এলো এবং তা-ই যথেষ্ট ছিল।
তিনি বলেছিলেন, আমাদের প্রতিপালক আপনাকে মনোনীত করেছেন
… আপনার মাওলা আপনার সন্তুষ্টির বিধানে ত্বরান্বিত করেন।
তিনি এর দ্বারা সন্তুষ্টি বুঝিয়েছেন এবং সেই অর্থটি সুস্পষ্ট
… তার কাছে যে অলঙ্কারশাস্ত্র থেকে বিচ্যুত নয়।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
فقال ذاك الرافضي ما هوى
… ولا اكتوى قلب النبي بالجوى
بل كان تنفيذا لأمر ربه
… محضا وللتمكين في أصحابه
قال ولكن عويشا ادعت
… أن النبي ذا هوى وما وعت
قلنا فأنت أعلم من النبي
… قد سمع القول فلم يؤنب
لأن قولها لمن يتفقه
… كان دلالا يا فصيح فافقهوا
ثم هوى النبي في أمر العلي
… فكان قولها تحصيل حاصل
ومرة تقول تلك الصادقه
… قولا بديعا كالثمار الباسقه
أيا رسول الله لو نزلت في
… واد وفيه شجر قد اقتفي
فيه شجيرات أتتها السائمه
… قد أكل منها وأخرى سالمه
في أي هذين البعير ينزل
… قال بذلك الذي لم يؤكل
সেই রাফেযি বলল, তিনি প্রবৃত্তির অনুসরণ করেননি
… আর নবীর হৃদয় তীব্র অনুরাগে দগ্ধ হয়নি।
বরং তা ছিল কেবলই তাঁর রবের আদেশের বাস্তবায়ন
… এবং তাঁর সাহাবীদের মাঝে সুদৃঢ়করণের নিমিত্তে।
সে বলল, কিন্তু আয়েশা দাবি করেছেন
… যে নবী কামনাবসত কাজ করেন, আর তিনি তা উপলব্ধি করেননি।
আমরা বললাম, তবে কি তুমি নবী অপেক্ষা অধিক জ্ঞানী?
… অথচ তিনি সে কথা শুনেছিলেন এবং তিরস্কার করেননি।
কেননা বিজ্ঞজনের নিকট তার এই কথা
… ছিল নিছক মান-অভিমান ও সোহাগের বহিঃপ্রকাশ, হে বাগ্মী! অতএব বুঝে নাও।
অতঃপর মহান আল্লাহর নির্দেশের প্রতিই নবীর আকাঙ্ক্ষা ছিল
… ফলে তার কথাটি ছিল বিদ্যমান বাস্তবতারই বিবরণ মাত্র।
আর একবার সেই সত্যবাদিনী এক অপূর্ব কথা বলেছিলেন
… যা সুউচ্চ বৃক্ষের সুস্বাদু ফলের ন্যায়।
হে আল্লাহর রাসূল! যদি আপনি এমন এক উপত্যকায় অবতরণ করেন
… যেখানে এমন বৃক্ষরাজি রয়েছে যা ইতিপূর্বে ব্যবহৃত হয়েছে।
সেখানে এমন কিছু গুল্মলতা রয়েছে যেখানে চারণকারী পশুরা এসেছিল
… এবং তা থেকে ভক্ষণ করেছিল, আর অন্যগুলো ছিল অক্ষত।
এই দুটির মধ্যে উট কোনটিতে চরবে?
… তিনি বললেন, সেটিতেই যা ইতিপূর্বে ভক্ষণ করা হয়নি।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
تعني بذاك أنه ما مثلها
… في أنه لم يأت بكرا غيرها
وكان للنبي تسع نسوة
… يأتي لإحداهن كل ليلة
ثمت يجتمعن كلهن في
… بيت التي يأتي وذا فعل الوفي
فمد مرة لزينب يده
… في ليلة الحصينة المؤيده
فقالت الحصان تلك زينب
… فكف عنها يده لا تعجبوا
ثم تقاولتا وقد مر بهم
… أبو بكر فقال لا تعبأ بهم
ثم قضى صلاته وعادا
… قال لبنته قولا شديدا
وبعض الأمهات يوما أرسلت
… إلى النبي بطعام صنعت
في صحفة لها لبيت عائشه
… قالت فغرت، فغدت مستوحشه
ثم ضربت الصحفة فسقطت
… للأرض ثم بالطعام انفلقت
এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়েছেন যে তাঁর মতো কেউ নেই
… কারণ তিনি তিনি ব্যতীত অন্য কোনো কুমারী গ্রহণ করেননি।
আর নবীর নয়জন স্ত্রী ছিলেন
… তিনি প্রতি রাতে তাঁদের একজনের নিকট আসতেন।
অতঃপর তাঁরা সকলে সেই স্ত্রীর ঘরে একত্রিত হতেন
… যাঁর নিকট তিনি আসতেন, আর এটিই ছিল বিশ্বস্ত ব্যক্তির কর্ম।
একদা তিনি যয়নবের দিকে তাঁর হাত প্রসারিত করলেন
… পুত-পবিত্রা ও সমর্থিতা (আয়েশা)-এর রাতে।
তখন সেই সতীসাধ্বী (আয়েশা) বললেন, "উনি তো যয়নব"
… ফলে তিনি তাঁর থেকে হাত গুটিয়ে নিলেন, আপনারা আশ্চর্যান্বিত হবেন না।
অতঃপর তাঁরা উভয়ে বাদানুবাদে লিপ্ত হলেন এবং তাঁদের নিকট দিয়ে
… আবু বকর যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন, "ওদের কথায় ভ্রুক্ষেপ করবেন না"।
অতঃপর তিনি সালাত শেষ করে ফিরে আসলেন
… এবং তাঁর কন্যাকে কঠোর কথা বললেন।
আর একদিন উম্মুল মুমিনীনগণের মধ্যে কেউ একজন পাঠালেন
… নবীর নিকট নিজের তৈরি কিছু খাবার।
তাঁর একটি পাত্রে আয়েশার ঘরে
… তিনি (আয়েশা) বললেন, "আমি ঈর্ষান্বিত হলাম", অতঃপর তিনি বিমর্ষ হয়ে পড়লেন।
অতঃপর তিনি পাত্রটিতে আঘাত করলেন এবং সেটি পড়ে গেল
… মাটিতে, এরপর খাবারের সাথে সেটি ভেঙে চূর্ণ হয়ে গেল।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فلمه المختار لا كمثلكم
… يقول للأصحاب: غارت أمكم
وفي رواية النسائي ذكر
… تعليل غيرة الحصان فاعتبر
أما صفية فكانت ماهره
… بالطهي هذا ما أثار الطاهره
فلم تكن خفيفة العقل إذا
… وما كذا بأمكم يسوء ظن
وعندما بنى النبي بزينبا
… ثم دعا الناس لأكل وهبا
فجاءه الأصحاب أفواجا ترد
… حتى غدا يدعوا فلم يجد أحد
قال ارفعوا طعامكم ثم خرج
… لأجل قوم قد بقوا بلا حرج
قال أنيس فابتدا ببيتها
… ألقى السلام وعلى جيرانها
فردت السلام ثم سألت
… عن أهله كيف هم وباركت
فرجع النبي نحو بيته
… ولا يزال القوم باقين به
এজন্যই মনোনীত (নবী) তাকে তোমাদের মতো তিরস্কার করেননি
… তিনি সাহাবীদের বললেন: "তোমাদের মা ঈর্ষান্বিত হয়েছেন।"
আর নাসায়ীর বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে
… সচ্চরিত্রা নারীর ঈর্ষার কারণ, সুতরাং শিক্ষা গ্রহণ করো।
আর সাফিয়্যাহ ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ
… রন্ধনশিল্পে, আর এটিই সেই পবিত্রাকে উত্তেজিত করেছিল।
সুতরাং তিনি তখন বিবেকশূন্য ছিলেন না
… আর তোমাদের মায়ের প্রতি এমন কুধারণা পোষণ করা সমীচীন নয়।
আর যখন নবী যায়নাবের সাথে বাসর সম্পন্ন করলেন
… তখন তিনি মানুষকে আহারের জন্য আমন্ত্রণ জানালেন।
সাহাবীগণ দলে দলে আসতে থাকলেন
… শেষ পর্যন্ত তিনি দাওয়াত দিতে থাকলেন এবং আর কাউকে অবশিষ্ট পেলেন না।
তিনি বললেন, "তোমাদের খাবার উঠিয়ে নাও", অতঃপর তিনি বের হলেন
… এমন কিছু লোকের কারণে যারা সংকোচহীনভাবে রয়ে গিয়েছিল।
আনাস বললেন, তিনি তার ঘর থেকেই শুরু করলেন
… তিনি সালাম দিলেন এবং তার প্রতিবেশিনীদেরও সালাম দিলেন।
তিনি সালামের উত্তর দিলেন অতঃপর জিজ্ঞেস করলেন
… তার পরিবারের অবস্থা সম্পর্কে এবং বরকতের দোয়া করলেন।
অতঃপর নবী তার ঘরের দিকে ফিরে আসলেন
… আর তখনো সেই লোকেরা সেখানে অবস্থান করছিল।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فك عائدا لبيت عائشه
… لأنها لحبه معايشه
فيا لها من سكن للمصطفى
… ويا له حب وود قد صفا
ثمت قيل قد مضوا لشأنهم
… فجاء أهله ليحتفي بهم
قالت أتاني المصطفى في ليلتي
… حتى بدأت أشرع في نومتي
وكان واضعا رداءه كذا
… طرف الإزار ولدى الرجل الحذا
وظل حتى ظن أني نائمه
… قام رويدا والبقاع مظلمه
ففتح الباب رويدا وخرج
… ثم أجافه رويدا ودحرج
جعلت درعي في دماغي واختمرت
… ثم تقنعت إزاري وانطلقت
حتى أتى البقيع ظل قائما
… وقتا طويلا ويديه للسما
ثلاث مرات وولى راجعا
… منحرفا لبيته فمسرعا
অতঃপর তিনি আয়েশার ঘরের দিকে ফিরে আসলেন
… কেননা তিনি ছিলেন তাঁর ভালোবাসার জীবনসঙ্গিনী।
মুস্তফার জন্য কী চমৎকার এক আবাসস্থল!
… আর কী নির্মল সেই ভালোবাসা ও হৃদ্যতা!
অতঃপর বলা হলো যে তাঁরা নিজ নিজ প্রয়োজনে চলে গেছেন
… তখন তিনি তাঁর পরিবারের নিকট আসলেন তাঁদের প্রতি সম্মান ও সান্নিধ্য প্রকাশ করতে।
তিনি (আয়েশা) বললেন, মুস্তফা আমার পালার রাতে আমার নিকট আসলেন
… এমনকি আমি যখন কেবল ঘুমানোর উপক্রম করলাম।
তিনি তাঁর চাদরটি এভাবে রাখলেন
… এবং তাঁর পায়ের কাছে লুঙ্গির প্রান্ত ও জুতো জোড়া রাখলেন।
তিনি ততক্ষণ অপেক্ষা করলেন যতক্ষণ না ভাবলেন যে আমি ঘুমিয়ে পড়েছি
… অতঃপর তিনি অতি সন্তর্পণে উঠে দাঁড়ালেন যখন চারিদিক ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন।
তিনি অতি ধীরে দরজা খুললেন এবং বেরিয়ে গেলেন
… অতঃপর অতি সাবধানে তা পুনরায় বন্ধ করে দিলেন।
আমি আমার মস্তকাবরণী মাথায় দিলাম এবং ওড়না জড়িয়ে নিলাম
… অতঃপর আমার লুঙ্গিটি ভালোভাবে পরিধান করে বেরিয়ে পড়লাম।
অবশেষে তিনি বাক্বী কবরস্থানে এসে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন
… আর তাঁর হাতগুলো ছিল আকাশের দিকে উত্তোলিত।
তিনি তিনবার এরূপ করলেন এবং ফিরে চললেন
… অতঃপর দ্রুতগতিতে নিজ ঘরের দিকে অগ্রসর হলেন।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ثم غدا مهرولا فأحضرا
… في كل ذا ضاهيته بلا مرا
سبقته إلى المبيت المنعزل
… ثم اضطجعت في السرير فدخل
فقال يا عائش حشيا رابيه
… فقلت لا شيء وإني لاغيه
قال اذكري لي ما جرى لا تكتمي
… ليخبرني الله عنك فاعلمي
فأخبرت بما جرى فصكها
… بلهدة قد أوجعت في صدرها
يقول هل ظننت بي أن أظلما
… فهل يحيف الله من فوق السما
لقد أتاني الأمين آمرا
… إيت بقيع الغرقد مستغفرا
قالت فإن رحت فما قولي لهم
… قال سلام الله ثم ادعي لهم
অতঃপর তিনি দ্রুতপদে প্রস্থান করলেন
… এই সব কিছুতেই আমি কোনো সন্দেহ ছাড়াই তাঁর অনুকরণ করলাম।
আমি সেই নির্জন শয়নকক্ষে তাঁর পূর্বেই পৌঁছে গেলাম
… এরপর আমি শয্যায় শয়ন করলাম, এমতাবস্থায় তিনি প্রবেশ করলেন।
তিনি বললেন, হে আয়েশা! তোমার বক্ষদেশ কেন এভাবে দ্রুত ওঠানামা করছে?
… আমি বললাম, কিছুই নয়, আমি তো কেবল শুয়ে আছি।
তিনি বললেন, যা ঘটেছে তা আমার কাছে বর্ণনা করো, গোপন করো না
… জেনে রেখো, অন্যথায় আল্লাহ আমাকে তোমার অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করবেন।
অতঃপর আমি যা ঘটেছিল তা ব্যক্ত করলাম, তখন তিনি তাকে
… বক্ষস্থলে এমন এক জোরে ধাক্কা দিলেন যা তাকে ব্যথিত করল।
তিনি বলতে লাগলেন, তুমি কি মনে করেছ যে আমি তোমার প্রতি অবিচার করব?
… তবে কি আসমানের উপর থেকে আল্লাহ অবিচার করেন?
নিশ্চয়ই আমার নিকট আমানতদার (জিবরাঈল) এই নির্দেশ নিয়ে এসেছিলেন
… যে আপনি বাকী আল-গারকাদে যান এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
আয়েশা (রা.) বললেন, আমি যদি যাই তবে তাদের প্রতি আমার বক্তব্য কী হবে?
… তিনি বললেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাম, অতঃপর তাদের জন্য দোয়া করো।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فصاحة عائشةوأمنا حازت من البلاغة
… ما ظنكم بأدب النبوة
عاشت مح المختار تسمع قوله
… وبعده كانت تبث علمه
لا غرو أن سادت وجادت لا عجب
… في النطق بالقول الفصيح والأدب
إذا قرأت القول من كلامها
… كأن جوهرا جرى من فمها
يرقى إلى القلب ويشجيه بلا
… تكلف ومن تقعر خلا
تراه مثل الماء في العذوبة
… سامي الذرى سهلا بديع النكتة
ومحكم السبك وجزلا وافرا
… ومن بديع اللفظ دوما عامرا
تقر عين القلب من إبداعه
… لم تحظ أي امرأة بمثله
لا بل نقول: في الرجال قل من
… غير الرسول حازه، بل لم يكن
فلم ينازعها امرؤ في وقتها
… وكل من جا بعد تلميذ لها
আয়েশার সাবলীলতাআমাদের জননী অলঙ্কারশাস্ত্রে এমন দক্ষতা অর্জন করেছিলেন যে... নবুওয়াতের শিষ্টাচার সম্পর্কে আপনাদের ধারণা কী হতে পারে!
তিনি মনোনীত (নবী)-এর সাথে জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং তাঁর বাণী শ্রবণ করেছেন... আর তাঁর তিরোধানের পর তাঁর জ্ঞান প্রচার করেছেন।
এতে কোনো সংশয় নেই যে তিনি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন এবং নিপুণতা দেখিয়েছেন, এতে বিস্ময়ের কিছু নেই... সাবলীল কথা বলা এবং শিষ্টাচার প্রদর্শনে।
যখন আপনি তাঁর কোনো বক্তব্য পাঠ করবেন... মনে হবে তাঁর মুখ থেকে যেন মণি-মুক্তো ঝরে পড়ছে।
তা সরাসরি হৃদয়ে পৌঁছে যায় এবং কোনো প্রকার কৃত্রিমতা ছাড়াই হৃদয়কে আপ্লুত করে... এবং তা সকল প্রকার ভাষাগত জটিলতা থেকে মুক্ত।
আপনি তা মিষ্টতায় স্বচ্ছ সলিলের ন্যায় দেখতে পাবেন... যার উচ্চতা সুউচ্চ কিন্তু তা সহজ এবং চমৎকার সূক্ষ্ম তথ্যে ভরপুর।
এর বাক্য গঠন সুদৃঢ় এবং শব্দশৈলী বলিষ্ঠ ও সমৃদ্ধ... এবং তা সর্বদা চমৎকার শব্দাবলীতে পরিপূর্ণ থাকে।
হৃদয়ের চক্ষু এর অনন্য সৃজনশীলতায় প্রশান্তি লাভ করে... কোনো নারীই এর সমতুল্য কিছু অর্জন করতে পারেননি।
বরং আমরা বলব: পুরুষদের মধ্যেও রাসূল ব্যতীত এমন ব্যক্তি খুব কমই আছেন... যারা এটি অর্জন করেছেন, বরং (রাসূল ব্যতীত) এমন কেউ ছিলেনই না।
ফলে তাঁর সমসাময়িক কোনো ব্যক্তি তাঁর সাথে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে পারেননি... এবং পরবর্তীতে যারা এসেছেন তারা সকলেই তাঁরই ছাত্র।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وتكره اللحن كذا ترده
… وتخرج القول الذي ما بعده
وتخطب الناس من الصحابة
… تشجيهم دوما من البلاغة
ليس ارتجالا قلت ذا بل إنه
… حق له دلائل ترقى به
وارجع إلى أخبار أمنا تجد
… مصداقه لا يمتري في ذا أحد
منها أحاديث لها مطوله
… كالروضة الأنيقة المكلله
بالزهر، كالروض الجميل المربع
… طاب شذاه من كلام مبدع
فاقرأ أحاديثا لها سوف ترى
… بأم عين القلب من غير امترا
তিনি ভাষাগত ভুল অপছন্দ করতেন এবং তা সংশোধন করে দিতেন
… আর এমন বাণী ব্যক্ত করতেন যার ঊর্ধ্বে কোনো বাণী নেই।
তিনি সাহাবায়ে কিরামের সম্মুখে ভাষণ দিতেন
… এবং স্বীয় বাগ্মিতার মাধ্যমে সর্বদা তাঁদের বিমোহিত করতেন।
আমি এটি কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য হিসেবে বলছি না, বরং এটি
… এমন এক ধ্রুব সত্য যার স্বপক্ষে সুউচ্চ প্রমাণাদি বিদ্যমান।
আমাদের মাতার (আয়েশা রা.) সংবাদগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করো, তবেই তুমি
… এর সত্যতা খুঁজে পাবে, যে বিষয়ে কেউ কোনো সন্দেহ পোষণ করে না।
তাঁর বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসসমূহের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা
… এক সুসজ্জিত ও পুষ্পশোভিত মনোরম উদ্যানের ন্যায়।
পুষ্পশোভিত সেই সুন্দর বসন্তকালীন উদ্যানের ন্যায়
… যার সৃজনশীল বাক্যের সুগন্ধি অতীব মনোহর।
তুমি তাঁর বর্ণিত হাদিসগুলো পাঠ করো, তবেই তুমি অবলোকন করবে
… হৃদয়ের অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে কোনো প্রকার সংশয় ব্যতিরেকেই।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতু উম্মিল মুমিনীন আয়েশা - আর-রাওদাতুল আনীকাহ ফী নুসরাতিল আফীফাতুস সিদ্দীকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
خبر أم زرع كما روته عائشةروت عويش لنا حديثا مؤنسا
… في ذكر إحدى عشرة من النسا
قالت الأولى زوجي لحم جمل
… غث رديء في ذرى رأس جبل
ليس بسهل يرتقى بلا زلل
… ولا سمين وافر فينتقل
ثاني تأبى أن تبث خبره
… فهي تخاف الآن ألا تذره
تقول: إن أذكره أذكر عجره
… فلا أرى في الزوج إلا بجره
ثالث تشكوا زوجها العشنق
… تقول إن أنطق له أطلق
وإن سكت دائما أعلق
… فعيشتي في بيته تملق
رابع زوجها ليل تهامه
… معتدل الجو فلا سآمه
ليست تهاب دائما مقامه
… لا عتب كذا ولا ملامه
উম্মে যার’-এর কাহিনী যেমনটি আয়েশা বর্ণনা করেছেনআয়েশা আমাদের নিকট এক মনোরম হাদীস বর্ণনা করেছেন
… এগারোজন নারীর বিবরণে।
প্রথমজন বলল, আমার স্বামী হলো উটের চর্বিহীন নিকৃষ্ট গোশতের ন্যায়
… যা কোনো দুর্গম পাহাড়ের চূড়ায় রাখা আছে।
সেখানে আরোহণ করাও সহজ নয় যে পদস্খলন হবে না
… আর তা এমন উন্নত মানেরও নয় যে কেউ তা গ্রহণ করার জন্য বহন করে নিয়ে আসবে।
দ্বিতীয়জন তার স্বামীর সংবাদ প্রকাশ করতে অপছন্দ করল
… সে ভয় পাচ্ছে যে, তার বর্ণনা শুরু করলে আর শেষ করতে পারবে না।
সে বলে: যদি আমি তার কথা উল্লেখ করি তবে তার সকল গোপন ও প্রকাশ্য দোষত্রুটিই বলতে হবে
… আমি আমার স্বামীর মাঝে দোষ ছাড়া আর কিছুই দেখি না।
তৃতীয়জন তার অতি দীর্ঘদেহী স্বামীর অভিযোগ করল
… সে বলে: যদি আমি মুখ খুলি তবে সে আমাকে তালাক দিয়ে দেবে।
আর যদি চুপ থাকি তবে আমি ঝুলন্ত অবস্থায় পড়ে থাকব
… সুতরাং তার ঘরে আমার জীবনটা কেবলই চাটুকারিতার।
চতুর্থ জনের স্বামী হলো তিহামার রাতের মতো
… নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া, যাতে কোনো একঘেয়েমি বা বিরক্তি নেই।
সে তার উপস্থিতিকে সর্বদা ভয় পায় না
… আর না সেখানে আছে কোনো অনুযোগ কিংবা তিরস্কার।