(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
رفع الاشتباه من مسائل المياه القسم: مسائل فقهية
الكتاب: رفع الاشتباه من مسائل المياه
المؤلف: أبو الفداء زين الدين قاسم بن قُطْلُوْبَغَا السُّوْدُوْنِي (نسبة إلى معتق أبيه سودون الشيخوني) الجمالي الحنفي (ت 879هـ)
المحقق: أبو المنذر المنياوي
الناشر: مخطوط ينشر لأول مرة بالمكتبة الشاملة، 1434 هـ
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للأصل (نسخة المحقق)]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 محرم 1434
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসাইলিল মিয়াহ (পানি সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে সংশয় নিরসন) বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ (مسائل فقهية)
কিতাব: রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসাইলিল মিয়াহ
লেখক: আবুল ফিদা জাইন উদ্দিন কাসিম বিন কুতলুবুগা আস-সুদুনি (তার পিতার মুক্তিদাতা সুদুন আশ-শায়খুনির প্রতি সম্বন্ধযুক্ত) আল-জামালি আল-হানাফি (মৃত্যু ৮৭৯ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক: আবুল মুনজির আল-মিনিয়াওয়ি
প্রকাশক: পাণ্ডুলিপি (مخطوط) যা প্রথমবারের মতো মাকতাবাতুশ শামিলায় প্রকাশিত হয়েছে, ১৪৩৪ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল পাণ্ডুলিপির (গবেষকের অনুলিপি (نسخة))] সাথে সংগতিপূর্ণ
মাকতাবাতুশ শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ মুহাররম ১৪৩৪
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১)
رفع الاشتباه من مسألة المياه
تصنيف الحافظ
زين الدين قاسم بن قُطْلُوبُغَا الحَنَفِي
المتوفى سنة 879 هـ
يطبع لأول مرة
حققه وعلق عليه
أبو المنذر مَحْمُود بن مُحمَّدِ بن مُصْطَفَى المِنِياوِي
عفا الله تعالى عنه وعن والديه
পানি সংক্রান্ত মাসআলায় অস্পষ্টতা নিরসন
হাফিজ (الحافظ) প্রণীত
জয়নুদ্দিন কাসেম বিন কুতলুবুগা আল-হানাফি
মৃত্যু: ৮৭৯ হিজরি
প্রথমবারের মতো মুদ্রিত হচ্ছে
সম্পাদনা ও টীকা সংযোজন করেছেন
আবুল মুনজির মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন মুস্তফা আল-মিনিয়াউয়ি
আল্লাহ তাআলা তাকে এবং তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}.
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً}.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً}.
أما بعد، ..
فهذا جهد المقل في تحقيق مخطوط "رفع الاشتباه من مسألة المياه" وهو الرسالة الأولى ضمن سلسلة رسائل ألفها الحافظ قاسم بن قطلوبغا الحنفي - رحمه الله تعالى - والنية منعقدة على إخراج باقي رسائل المخطوط بإذن الله تعالى.
عملي في المخطوط:1 - قام بعض الإخوة بنسخ المخطوط فقمت بتصحيحه ومراجعة النسخ إلا أن بعض الكلمات أو العبارات لم أهتد لوجهها فأثبتها كما هي، وقد أشير في الحاشية إلى الوجه الذي أراه صوابا فيها، كما أنني قمت بإضافة بعض الكلمات حتى تستقيم العبارة ووضعتها بين معكوفتين لتتميز عن صلب الرسالة.
2 - إثبات ما وجدته من زيادات وحواشي على هامش المخطوط.
3 - شرح غريب بعض الألفاظ بالرجوع إلى كتب المعاجم، والغريب.
4 - ترجمت لمعظم الأعلام الوارد أسماؤهم في الرسالة الذين ليس لهم شهرة كبيرة.
5 - التعريف ببعض الكتب التي ينقل عنها المؤلف.
6 - تخريج الأحاديث والآثار الواردة في الرسالة مع الحكم على أسانيدها ما أمكنني ذلك.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে অনেক পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।}
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।}
অতঃপর, ..
এটি "রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসআলাতিল মিয়াহ" নামক পাণ্ডুলিপির সম্পাদনার ক্ষেত্রে এক নগণ্য প্রচেষ্টা। এটি হাফিজ কাসিম ইবন কুতলুবুগা আল-হানাফি - রহিমাহুল্লাহ তায়ালা - কর্তৃক রচিত ধারাবাহিক রিসালাসমূহের মধ্যে প্রথম রিসালা। আল্লাহর ইচ্ছায় পাণ্ডুলিপিটির অবশিষ্ট রিসালাসমূহ প্রকাশের দৃঢ় ইচ্ছা রয়েছে।
পাণ্ডুলিপির কাজে আমার পদ্ধতি:1 - কিছু ভাই পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করেছেন, অতঃপর আমি তা সংশোধন ও অনুলিপিগুলো পর্যালোচনা করেছি। তবে কিছু শব্দ বা বাক্যের সঠিক অর্থ বা পাঠোদ্ধার করতে না পেরে তা যেমন আছে তেমনই রেখেছি; তবে আমি যা সঠিক মনে করেছি তা টীকায় উল্লেখ করেছি। এছাড়া বাক্য গঠন ঠিক করার জন্য আমি কিছু শব্দ যোগ করেছি এবং মূল বিষয়বস্তু থেকে পৃথক করার জন্য সেগুলোকে থার্ড ব্র্যাকেটের [ ] মধ্যে রেখেছি।
2 - পাণ্ডুলিপির মার্জিনে প্রাপ্ত অতিরিক্ত তথ্য ও টীকাগুলো সংযোজন করেছি।
3 - অভিধান এবং ‘গরিব’ বা দুরূহ শব্দ (غريب) বিষয়ক গ্রন্থাবলির সহায়তায় কিছু শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।
4 - রিসালায় উল্লিখিত এমন সব ব্যক্তিদের অধিকাংশের জীবনী (ترجمة) আলোচনা করেছি যারা খুব একটা প্রসিদ্ধ নন।
5 - লেখক যেসব কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন তার মধ্য থেকে কিছু কিতাবের পরিচয় প্রদান করেছি।
6 - রিসালায় বর্ণিত হাদিস ও আছার (آثار) সমূহের উৎসনির্দেশ (تخريج) করার পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী সেগুলোর সূত্র (أسانيد) সমূহের ওপর হুকুম বা সিদ্ধান্ত (حكم) প্রদান করেছি।
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
حول المخطوط:جاءت هذه الرسالة في صدر مجموع فيه بضع وعشرين رسالة للحافظ ابن قطلوبغا.
بيانات المخطوط (المجموع):
اسم المؤلف: قاسم بن قطلوبغا الحنفي / ت 879 هـ.
عدد الأوراق: 123 ورقة بكل ورقة وجهان، ما عدا الأخيرة فهي وجه واحد وفيها خاتمة الرسالة الأخيرة والمجموع كامل ومكتوب بخط واضح.
وأما رسالتنا موضوع التحقيق فتقع في (16) ورقة، وفي كل ورقة وجهان، وكل وجه مكون من (29) سطر وفي كل سطر ما لا يزيد على (12) كلمة.
والوجه الأول من الورقة الأولى فيه فهرس للرسائل التي يحويها المجموع، وفي الوجه الأول من الورقة الأخيرة بداية رسالة فيها أجوبة عن بعض مسائل وقعت.
مصدر المخطوط: مكتبة برنستون نيوجيرسي أمريكا.
رقم المخطوط: جاريت 3393
ملاحظة: بآخره رسالة: تعريف المسترشد في حكم الغراس في المسجد لابن أمير حاج حلبي.
صور المخطوطات:
صورة الوجه الثاني من الورقة الأولى:
পাণ্ডুলিপি পরিচিতি:এই পুস্তিকাটি হাফেজ ইবনে কুতলুবুগা-র বিশটিরও অধিক পুস্তিকা সম্বলিত একটি সংকলনের শুরুতে স্থান পেয়েছে।
পাণ্ডুলিপির বিবরণ (সংকলনটি):
লেখকের নাম: কাসেম বিন কুতলুবুগা আল-হানাফি / মৃত্যু ৮৭৯ হিজরি।
পত্র সংখ্যা: ১২৩টি পত্র। প্রতিটি পত্রের দুই পিঠ (পৃষ্ঠা) রয়েছে, তবে শেষ পত্রটি এক পৃষ্ঠা বিশিষ্ট এবং এতে সর্বশেষ পুস্তিকাটির সমাপ্তি অংশ রয়েছে। সংকলনটি পূর্ণাঙ্গ এবং স্পষ্ট হস্তাক্ষরে লিখিত।
আমাদের সম্পাদিতব্য মূল পুস্তিকাটি ১৬টি পত্র জুড়ে রয়েছে। প্রতিটি পত্রের দুই পিঠ এবং প্রতিটি পৃষ্ঠা ২৯টি লাইন নিয়ে গঠিত। প্রতিটি লাইনে অনধিক ১২টি শব্দ রয়েছে।
প্রথম পত্রের প্রথম পৃষ্ঠায় সংকলনভুক্ত পুস্তিকাগুলোর একটি সূচিপত্র রয়েছে। আর শেষ পত্রের প্রথম পৃষ্ঠায় এমন একটি পুস্তিকার সূচনা রয়েছে যাতে কিছু উদ্ভূত বিষয়ের সমাধান দেওয়া হয়েছে।
পাণ্ডুলিপির উৎস: প্রিন্সটন লাইব্রেরি, নিউ জার্সি, আমেরিকা।
পাণ্ডুলিপি নম্বর: গ্যারেট ৩৩৯৩
দ্রষ্টব্য: এর শেষে ইবনে আমির হাজ্জ হালাবি-র ‘তারিফুল মুস্তারশিদ ফি হুকমিল গারাসি ফিল মাসজিদ’ নামক একটি পুস্তিকা রয়েছে।
পাণ্ডুলিপির চিত্রসমূহ:
প্রথম পত্রের দ্বিতীয় পৃষ্ঠার চিত্র:
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
صورة الوجه الثاني من الورقة الأخيرة:
সর্বশেষ পত্রের দ্বিতীয় পৃষ্ঠার চিত্র:
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
تحقيق نسبة المخطوط للمؤلف:والرسالة منسوبة لقاسم بن قُطْلُوبُغا، وذلك كما هو موجود في الصفحة الأولى منها بخط واضح لا طمس فيه، كما نسبها إليه حاجي خليفة في "كشف الظنون" وسماها: "رفع الاشتباه، عن مسيل المياه"، والبغدادي في "هدية العارفين" وسماها: "رفع الِاشْتِبَاه عَن سبل الْمِيَاه"، وغيرهما.
লেখকের প্রতি পাণ্ডুলিপিটির সম্বন্ধের (نسبة) সত্যতা যাচাইকরণ (تحقيق):এই পুস্তিকাটি কাসিম বিন কুতলুবুগা-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (منسوبة), যেমনটি এর প্রথম পৃষ্ঠায় স্পষ্ট হস্তাক্ষরে বিদ্যমান রয়েছে এবং তাতে কোনো অস্পষ্টতা নেই। একইভাবে হাজি খলিফা ‘কাশফ আল-জুনুন’ গ্রন্থে এটিকে তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (نسبة) করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন: ‘রাফউল ইশতিবাহ আন মাসিলিল মিয়াহ’। বাগদাদি ‘হাদিয়াতুল আরিফিন’ গ্রন্থে এর নাম দিয়েছেন: ‘রাফউল ইশতিবাহ আন সুবুলিল মিয়াহ’। এছাড়াও অন্যান্য বিদ্বানগণও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ترجمة المصنِّف (1)
اسمه ونسبه ولقبه وكنيته:هو: قاسم بن قُطْلُوبُغا بن عبد الله السُّودوني، الجَمالي، المصري، الحنفي.
لقبه: «زين الدين» أو «الزين»، وربما لُقِّبَ «الشَّرَف».
كنيته: أبو العدل.
ونسبته: السودوني، وهي نسبة لمُعتق أبيه سودون الشيخوني نائب السَّلْطنة في ذلك العصر.
مولده ونشأته:ولد الحافظ ابن قطلوبغا في المحرم سنة اثنتين وثمانمائة بالقاهرة.
ومات أبوه وهو صغير، فنشأ يتيماً، وحفظ القرآن وكتباً عرض بعضها على العز بن جماعة، وتكسب بالخياطة وقتاً، وبرع فيها.
--------------------------------------------
গ্রন্থকারের জীবনী(1)
তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপাধি ও উপনাম:তিনি হলেন: কাসিম ইবনে কুতলুবুগা ইবনে আবদুল্লাহ আস-সুদুনী, আল-জামালি, আল-মিসরি, আল-হানাফি।
তাঁর উপাধি: «জয়নুদ্দীন» বা «আয-জাইন», এবং সম্ভবত তাঁকে «আশ-শারাফ» উপাধিতেও ভূষিত করা হতো।
তাঁর উপনাম: আবু আল-আদল।
তাঁর নিসবত (সম্বন্ধযুক্ত নাম): আস-সুদুনী; এটি তাঁর পিতার মুক্তকর্তা 'সুদুন আশ-শাইখুনী'র দিকে সম্পৃক্ত, যিনি তৎকালীন সালতানাতের প্রতিনিধি ছিলেন।
তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা:হাফেজ (الحافظ) ইবনে কুতলুবুগা ৮০২ হিজরীর মহররম মাসে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন।
শৈশবেই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন, ফলে তিনি এতিম হিসেবে বেড়ে ওঠেন। তিনি কুরআন হিফজ করেন এবং বেশ কিছু কিতাব আয়ত্ত করেন, যার কিছু অংশ তিনি ইয ইবনে জামাআহর নিকট পেশ করেন। তিনি এক সময় দর্জিগিরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং এই কাজে অত্যন্ত পারদর্শী হয়ে ওঠেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
- والصرف عن البسطامي.
- والمعاني والبيان عن العلاء، والنظام، والبسطامي.
- والمنطق عن السبكي.
- وبعضهم في الأخذ عنه أكثر من بعض.
- واشتدت عنايته بملازمة ابن الهمام بحيث سمع عليه غالب ما كان يقرأ عنده في هذه الفنون وغيرها، وذلك من سنة خمس وعشرين حتى مات، وكان معظم انتفاعه به ومما قرأه عليه الربع الأول من «شرحه للهداية» وقطعة من «توضيح صدر الشريعة» وجميع «المسايرة» من تأليفه.
- وطلب الحديث بنفسه يسيراً فسمع على الحافظ ابن حجر، وابن الجزري، والشهاب الواسطي، والزين الزركشي، والشمس بن المصري، والبدر حسين البوصيري، وناصر الدين الفاقوسي، والتاج الشرابيشي، والتقي المقريزي، وعائشة الحنبلية، والطبقة.
- ونظر في كتب الأدب ودواوين الشعر فحفظ منها شيئاً كثيراً.
رحلاته:- ارتحل الحافظ ابن قطلوبغا مع شيخه التاج النعماني إلى الشام بحيث أخذ عنه «جامع مسانيد أبي حنيفة» للخوارزمي، و «علوم الحديث» لابن الصلاح، وغيرهما، وأجاز له في سنة ثلاث وعشرين.
- وكذا دخل إسكندرية وقرأ بها على الكمال بن خير، وقاسم التروجي.
- وحَجَّ غير مرة.
- وزار بيت المقدس.
تصديه للتدريس والإفتاء، ونبذة عن تلاميذه:
- تصدى الحافظ ابن قطلوبغا للتدريس والإفتاء قديماً.
- وأخذ عنه الفضلاء في فنون كثيرة.
- وأسمع من لفظه «جامع مسانيد أبي حنيفة» بمجلس الناصري ابن الظاهر جقمق، بروايته له عن التاج النعماني، عن محيي الدين أبي الحسن حيدرة بن أبي الفضائل محمد بن يحيى العباسي مدرس
- এবং আল-বিস্তামি থেকে সরফ (الصرف)।
- এবং আল-আলা, আন-নিজাম ও আল-বিস্তামি থেকে মানি (المعاني) ও বায়ান (البيان)।
- এবং আস-সুবকি থেকে মানতিক (المنطق)।
- তাঁদের কারো কারো নিকট হতে তিনি অন্যদের তুলনায় অধিক জ্ঞান অর্জন করেছেন।
- এবং ইবনুল হুমামের সান্নিধ্যে থাকার ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন, যার ফলে তিনি ৮২৫ হিজরি থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত এই সমস্ত শাস্ত্র (الفنون) ও অন্যান্য বিষয়ে তাঁর নিকট পঠিত অধিকাংশ কিতাব শ্রবণ করেছেন। তাঁর নিকট থেকে তিনি যে সকল বিষয়ে উপকৃত হয়েছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো তাঁর রচিত ‘শারহুল হিদায়াহ’-এর প্রথম এক-চতুর্থাংশ, ‘তাওদিহ সদরুশ শরীয়াহ’-এর একটি অংশ এবং তাঁর রচিত পূর্ণ ‘আল-মুসাইয়ারাহ’।
- এবং তিনি নিজেই স্বল্প সময়ের জন্য হাদিস চর্চা করেছেন। ফলে তিনি হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার, ইবনুল জাযারি, আশ-শিহাব আল-ওয়াসিতি, আয-যাইন আয-যারকাশি, আশ-শামস বিন আল-মিসরি, আল-বদর হুসাইন আল-বুসাইরি, নাসিরুদ্দিন আল-ফাকুসি, আত-তাজ আশ-শাবরাবিশি, আত-তাকি আল-মাকরিজি, আয়িশা আল-হাম্বালিয়া এবং সেই স্তরের (الطبقة) আরও অনেকের নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন।
- এবং তিনি সাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থাবলী ও কাব্য সংকলনসমূহ (دواوين الشعر) অধ্যয়ন করেছেন এবং তা থেকে অনেক বিষয় মুখস্থ করেছেন।
তাঁর সফরসমূহ:- হাফিজ (الحافظ) ইবনে কুতলুবুগা তাঁর উস্তাদ (شيخه) তাজ আন-নুমানির সাথে সিরিয়া (শাম) সফর করেন এবং সেখানে তিনি তাঁর নিকট থেকে খাওয়ারিজমি রচিত ‘জামি মাসানিদ আবি হানিফা’ এবং ইবনুস সালাহ রচিত ‘উলুমুল হাদিস’ সহ অন্যান্য কিতাব গ্রহণ করেন। তিনি ৮২৩ হিজরিতে তাঁকে অনুমতি (أجاز) প্রদান করেন।
- অনুরূপভাবে তিনি আলেকজান্দ্রিয়া (ইসকান্দারিয়া) প্রবেশ করেন এবং সেখানে আল-কামাল বিন খাইর ও কাসিম আত-তারুজির নিকট পাঠ গ্রহণ করেন।
- তিনি একাধিকবার হজ পালন করেছেন।
- এবং তিনি বায়তুল মুকাদ্দাস যিয়ারত করেছেন।
অধ্যাপনা ও ফতোয়া (الإفتاء) প্রদান এবং তাঁর ছাত্রদের সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:
- হাফিজ (الحافظ) ইবনে কুতলুবুগা অনেক আগে থেকেই অধ্যাপনা ও ফতোয়া (الإفتاء) প্রদানের দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছেন।
- এবং অনেক বিজ্ঞ আলেম তাঁর নিকট থেকে বহু শাস্ত্র (فنون) অর্জন করেছেন।
- এবং তিনি আন-নাসিরি ইবনুয যাহির জাকমাকের মজলিসে ‘জামি মাসানিদ আবি হানিফা’ নিজ মুখে পাঠ করে শুনিয়েছেন। এটি তাজ আন-নুমানির সূত্রে তাঁর বর্ণনা (بروايته), যা তিনি শিক্ষক (مدرس) মুহিউদ্দিন আবুল হাসান হাইদারা বিন আবিল ফাদায়িল মুহাম্মদ বিন ইয়াহিয়া আল-আব্বাসি থেকে লাভ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
المستنصرية ببغداد سماعاً، عن صالح بن عبد الله بن الصباغ، عن أبي المؤيد محمد بن محمود بن محمد الخوارزمي مؤلفه.
- وكان الناصري ممن أخذ عنه واختص بصحبته بل هو فقيه أخيه الملقب بعد بالمنصور.
- وكذا قرئ الجامع المذكور ببيت المحب بن الشحنة وسمعه عليه هو وغيره وحمله الناس عنه قديماً وحديثاً.
- وممن أخذ عنه السخاوي رحمه الله فقال عن نفسه: صحبته قديماً، وسمعت منه مع ولدي المسلسل بسماعه له على الواسطي، وكتبت عنه من نظمه وفوائده أشياء، بل قرأت عليه «شرح ألفية العراقي».
- وممن كتب عنه من نظمه ونثره البقاعي.
مكانته العلمية بين أبناء عصره:- عُرِفَ الحافظ ابن قطلوبغا بقوة الحافظة والذكاء وأشير إليه بالعلم، وأَذِنَ له غير واحد بالإفتاء والتدريس.
- ووصفه ابن الديري بالشيخ العالم الذكي.
- والحافظ ابن حجر بالإمام العلامة المحدث الفقيه الحافظ.
- ووصفه كذلك بالشيخ الفاضل المحدث الكامل الأوحد.
- ووصفه الزين رضوان بقوله: من حُذَّاق الحنفية، كَتَب الفوائد واستفاد وأفاد.
- وقال السخاوي: هو إمام، علامة، قوي المشاركة في فنون، ذاكر لكثير من الأدب ومتعلقاته، واسع الباع في استحضار مذهبه وكثير من زواياه وخباياه، متقدِّم في هذا الفن، طلق اللسان، قادر على المناظرة وإفحام الخصم، لكن حافظته أحسن من تحقيقه.
- وقال السخاوي كذلك: قد انفرد عن علماء مذهبه الذين أدركناهم بالتقدم في هذا الفن، وصار بينهم من أجلة شأنه
… وقُصِدَ بالفتاوى في النوازل والمهمات فبلغوا باعتنائه بهم مقاصدهم غالباً؛ واشتهر بذلك.
বাগদাদের মুস্তানসিরিয়াহ মাদরাসায় শ্রবণের (سماعاً) মাধ্যমে সালেহ বিন আবদুল্লাহ বিন আস-সাববাগ থেকে, তিনি এর রচয়িতা আবু আল-মুয়াইয়াদ মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন মুহাম্মদ আল-خাওয়ারিজমি থেকে এটি গ্রহণ করেছেন।
- নাসিরি ছিলেন তাদের একজন যারা তার থেকে ইলম অর্জন করেছিলেন এবং তার বিশেষ সাহচর্যে ধন্য হয়েছিলেন; বরং তিনি তার ভাইয়ের ফকিহ (فقيه) ছিলেন, যাকে পরবর্তীতে আল-মনসুর উপাধি দেওয়া হয়েছিল।
- একইভাবে উল্লিখিত জামে কিতাবটি মুহিব্ব ইবনে আশ-শিহনার বাসভবনে পাঠ করা হয়েছিল এবং তিনিসহ আরও অনেকে এটি তার নিকট থেকে শ্রবণ করেছিলেন। প্রাচীন ও বর্তমান উভয় সময়েই মানুষ তার নিকট থেকে এটি গ্রহণ করেছেন।
- যারা তার থেকে ইলম অর্জন করেছেন তাদের মধ্যে সাখাভি (রহিমাহুল্লাহ) অন্যতম। তিনি নিজের সম্পর্কে বলেছেন: "আমি প্রাচীনকাল থেকেই তার সাহচর্যে ছিলাম এবং আমার সন্তানের সাথে তার নিকট থেকে সেই মুসালসাল (المسلسل) হাদিসটি শুনেছি যা তিনি ওয়াসিতি থেকে শ্রবণের (سماعاً) মাধ্যমে লাভ করেছিলেন। আমি তার নিকট থেকে তার কিছু কাব্য এবং গুরুত্বপূর্ণ সংকলিত বিষয় (فوائد) লিপিবদ্ধ করেছি, এমনকি আমি তার নিকট শারহু আলফিয়্যাতিল ইরাকি পাঠ করেছি।"
- আর যারা তার কাব্য ও গদ্য থেকে উদ্ধৃতি লিপিবদ্ধ করেছেন তাদের মধ্যে আল-বিকাঈ অন্যতম।
সমসাময়িকদের মাঝে তার ইলমি মর্যাদা:- হাফেজ (الحافظ) ইবনে কুতলুবুগা তার প্রখর স্মৃতিশক্তি ও মেধার জন্য সুপরিচিত ছিলেন এবং ইলমের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রাতঃস্মরণীয়। একাধিক ব্যক্তি তাকে ফতোয়া প্রদান ও শিক্ষকতার অনুমতি দিয়েছিলেন।
- ইবনে আদ-দাইরি তাকে একজন বিজ্ঞ ও মেধাবী শাইখ (الشيخ) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
- এবং হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার তাকে ইমাম (الإمام), আল্লামা (العلامة), মুহাদ্দিস (المحدث), ফকিহ (الفقيه) ও হাফেজ (الحافظ) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
- তিনি তাকে আরও বিশেষায়িত করেছেন শ্রেষ্ঠ শাইখ (الشيخ), পূর্ণাঙ্গ ও অনন্য মুহাদ্দিস (المحدث) হিসেবে।
- জাইন রিদওয়ান তাকে এই বলে বর্ণনা করেছেন যে: "তিনি হানাফি মাজহাবের দক্ষ পণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (الفوائد) লিপিবদ্ধ করেছেন এবং নিজে উপকৃত হয়েছেন ও অন্যদের উপকৃত করেছেন।"
- সাখাভি বলেছেন: "তিনি একজন ইমাম (إمام), আল্লামة (علامة), বিভিন্ন শাস্ত্রে প্রগাঢ় জ্ঞানের অধিকারী, সাহিত্য ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুপণ্ডিত, নিজ মাজহাবের খুঁটিনাটি ও গূঢ় রহস্যসমূহ উপস্থাপনে পারদর্শী, এই শাস্ত্রে অগ্রগামী এবং সুবক্তা ছিলেন। তিনি বিতর্ক (المناظرة) এবং প্রতিপক্ষকে নিরুত্তর করতে সক্ষম ছিলেন, তবে তার স্মৃতিশক্তি তার তাহকিক (تحقيقه) বা গবেষণার চেয়েও উত্তম ছিল।"
- সাখাভি আরও বলেছেন: "আমরা তার সমসাময়িক যেসব আলেমদের পেয়েছি, তাদের মধ্যে এই শাস্ত্রে তিনি অনন্য ছিলেন এবং তাদের মাঝে উচ্চ মর্যাদায় সমাসীন হয়েছিলেন
… সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যা ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফতোয়ার জন্য তার শরণাপন্ন হওয়া হতো এবং তার আন্তরিক প্রচেষ্টায় মানুষ প্রায়শই তাদের কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য হাসিল করত; এই গুণের কারণেই তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন।"
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
- وقال البقاعي: كان مفنناً في علوم كثيرة: الفقه، والحديث، والأصول، وغيرها، ولم يُخَلَّف بعده حنفياً مثله. ثم بالغ في أذيته بما ذكره السخاوي.
إقباله على التأليف والتصنيف:
أقبل الحافظ ابن قطلوبغا على التأليف من سنة عشرين وثمانمائة، أي عندما كان في الثامنة عشرة من عمره، وهلم جرا.
مؤلفاته:برع الحافظ ابن قطلوبغا في علوم شتى وكانت له يد في التصنيف والتأليف في غالب الفنون، ورأيت أن أقتصر هنا على ذكر أهم مصنفاته الخاصة بعلم الرجال لأنبه على مدى اعتنائه بهذا الفن ونبوغه فيه:
1 - «الإيثار برجال معاني الآثار».
2 - رجال «الموطأ» لمحمد بن الحسن.
3 - رجال «الآثار» لمحمد بن الحسن.
4 - رجال «مسند أبي حنيفة» لابن المقري.
5 - ترتيب «الإرشاد» للخليلي، في مجلد.
6 - ترتيب «التمييز» للجوزقاني، في مجلد.
7 - ترتيب «أسئلة الحاكم» للدارقطني.
8 - من روى عن أبيه عن جده، في مجلد.
9 - الاهتمام الكلي بإصلاح ثقات العجلي، في مجلد.
10 - زوائد رجال «الموطأ» على الكتب الستة.
11 - زوائد رجال «مسند الشافعي» على الكتب الستة.
12 - زوائد رجال «سنن الدارقطني» على الكتب الستة.
13 - الثقات ممن لم يقع في الكتب الستة، وهو الذي بين يديك.
14 - تقويم «اللسان في الضعفاء»، في مجلدين.
আল-বিকায়ি বলেছেন: তিনি ফিকহ, হাদিস, উসুল এবং অন্যান্য বহু শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন; তাঁর পরে তাঁর মতো আর কোনো হানাফি আলেম স্থলাভিষিক্ত হননি। এরপর আস-সাখাভি যা উল্লেখ করেছেন, তার মাধ্যমে তাঁকে কষ্ট দেওয়ার বিষয়ে বাড়াবাড়ি করা হয়েছে।
গ্রন্থ রচনা ও সংকলনের প্রতি তাঁর মনোনিবেশ:
হাফেজ ইবনে কুতলুবুগা ৮২০ হিজরি থেকে গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেন, অর্থাৎ যখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র আঠারো বছর এবং এরপর তা অব্যাহত থাকে।
তাঁর রচনাবলি:হাফেজ ইবনে কুতলুবুগা বিভিন্ন শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন এবং অধিকাংশ বিদ্যায় গ্রন্থ সংকলন ও রচনায় তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা ছিল। আমি এখানে ইলমুর রিজাল (বর্ণনাকারী বিজ্ঞান) বিষয়ক তাঁর গুরুত্বপূর্ণ রচনাবলি উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চেয়েছি, যাতে এই শাস্ত্রের প্রতি তাঁর যত্ন ও এতে তাঁর প্রজ্ঞার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা যায়:
1 - «আল-ইসার বি রিজালি মাআনিল আসার»।
2 - মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের «মুওয়াত্তা»-র বর্ণনাবৃন্দ।
3 - মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের «আল-আসার»-এর বর্ণনাবৃন্দ।
4 - ইবনুল মাকরির «মুসনাদে আবি হানিফা»-র বর্ণনাবৃন্দ।
5 - আল-খালিলির «আল-ইরশাদ»-এর বিন্যাস, এক খণ্ডে।
6 - আল-জাওযাকানির «আত-তাময়িজ»-এর বিন্যাস, এক খণ্ডে।
7 - আদ-দারাকুতনির «আসইলাতুল হাকিম»-এর বিন্যাস।
8 - যারা তাদের পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, এক খণ্ডে।
9 - আল-ইজলির নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের তালিকা সংশোধনে পূর্ণ মনোযোগ, এক খণ্ডে।
10 - কুতুবে সিত্তা-র অতিরিক্ত «মুওয়াত্তা»-র বর্ণনাবৃন্দ।
11 - কুতুবে সিত্তা-র অতিরিক্ত «মুসনাদে শাফেয়ি»-র বর্ণনাবৃন্দ।
12 - কুতুবে সিত্তা-র অতিরিক্ত «সুনানে দারাকুতনি»-র বর্ণনাবৃন্দ।
13 - কুতুবে সিত্তা-র বহির্ভূত নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাবৃন্দ, যা বর্তমানে আপনার হাতে রয়েছে।
14 - «আল-লিসান» গ্রন্থে বর্ণিত দুর্বল (الضعفاء) বর্ণনাকারীদের সংশোধন, দুই খণ্ডে।
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
15 - حاشية على «المشتبه» للحافظ ابن حجر.
16 - حاشية على «التقريب» للحافظ ابن حجر.
17 - تاج التراجم.
الوظائف التي تولاها:لم يَلِ الحافظ ابن قطلوبغا مع انتشار ذكره وظيفة تناسبه بل كان في غالب عمره أحد صوفية الأشرفة، إلى أن استقر في تدريس الحديث بقبة البيبرسية.
المؤاخذات عليه:وصف السخاويُّ الحافظ ابن قطلوبغا بأنه مغرم بالانتقاد ولو لمشايخه حتى بالأشياء الواضحة، والإكثار من ذكر ما يكون من هذا القبيل بحضرة كل أحد ترويجاً لكلامه بذلك، كثير الطرح لأمور مشكلة يمتحن بها وقد لا يكون عنده جوابها، ولهذا كان بعضهم يقول: إن كلامه أوسع من علمه، قال السخاوي: أما أنا فأزيد على ذلك بأن كلامه أحسن من قلمه.
صفاته الخُلُقية:وصف السخاويُّ الحافظَ ابن قطلوبغا بأنه كان غاية في التواضع، وطَرْح التكلف وصفاء الخاطر جداً، وحُسْن المحاضرة، لا سيما في الأشياء التي يحفظها، وعدم اليبس والصلابة، والرغبة في المذاكرة للعلم، وإثارة الفائدة، والاقتباس ممن دونه مما لعله لم يكن أتقنه.
وقال السخاوي: ربما تفقده الأعيان من الملوك والأمراء ونحوهم فلا يدبر نفسه في الارتفاق بذلك بل يسارع إلى إنفاقه ثم يعود لحالته وهكذا مع كثرة عياله وتكرر تزويجه، وبالجملة فهو مقصر في شأنه.
وذكر أنه لما عُرض عليه السكن بقاعة مشيخة المؤيدية لضيق منزله وارتفاعه لم يقبل.
نظمه:مما نظمه الحافظ ابن قطلوبغا رداً لقول القائل:
إن كنت كاذبة التي حدثتني
… فعليك إثم أبي حنيفة أو زُفَر
15 - হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার রচিত ‘আল-মুশতাবিহ’ গ্রন্থের ওপর হাশিয়া বা টীকা (حاشية)।
16 - হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার রচিত ‘আত-তাকরীব’ গ্রন্থের ওপর হাশিয়া বা টীকা (حاشية)।
17 - তাজুত তারাজিম।
যেসব পদে তিনি অধিষ্ঠিত ছিলেন:হাফেজ (الحافظ) ইবনে কুতলুবুগা তাঁর ব্যাপক প্রসিদ্ধি সত্ত্বেও নিজের যোগ্যতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কোনো পদে অধিষ্ঠিত হতে পারেননি; বরং জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি আশরাফিয়া খানকাহর একজন সুফি হিসেবে অতিবাহিত করেন। পরিশেষে তিনি বাইবার্সিয়া মাদ্রাসার গম্বুজের নিচে হাদিস পাঠদানের কাজে স্থায়ীভাবে নিযুক্ত হন।
তাঁর ওপর আনীত আপত্তিগুলো:সাখাভী হাফেজ (الحافظ) ইবনে কুতলুবুগাকে সমালোচনা-প্রিয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন, এমনকি নিজের শিক্ষকদের ব্যাপারে এবং স্পষ্ট বিষয়গুলোতেও তিনি সমালোচনা করতেন। সবার সামনে এই ধরনের বিষয়গুলো অধিক পরিমাণে উল্লেখ করতেন যাতে এর মাধ্যমে নিজের বক্তব্যের প্রচার ঘটে। তিনি প্রায়শই এমন জটিল ও সমস্যাযুক্ত বিষয়গুলো উত্থাপন করতেন যার মাধ্যমে অন্যদের পরীক্ষা নেওয়া হতো, অথচ অনেক সময় তাঁর নিজের কাছেও সেগুলোর উত্তর থাকত না। এই কারণে কেউ কেউ বলতেন: তাঁর কথা তাঁর ইলমের চেয়েও বেশি বিস্তৃত। সাখাভী বলেন: আমি এর সাথে আরও যোগ করে বলব যে, তাঁর কথা তাঁর কলমের (লেখার) চেয়েও সুন্দর।
তাঁর চারিত্রিক গুণাবলি:সাখাভী হাফেজ (الحافظ) ইবনে কুতলুবুগাকে অত্যন্ত বিনয়ী, কৃত্রিমতা বর্জনকারী, অত্যন্ত স্বচ্ছ হৃদয়ের অধিকারী এবং চমৎকার মজলিসি আলাপচারিতায় দক্ষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, বিশেষ করে যে বিষয়গুলো তিনি মুখস্থ রাখতেন। তিনি কঠোর ও রূঢ় স্বভাবের ছিলেন না এবং ইলমি মুজাকারা (مذاكرة) বা জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনার মাধ্যমে নতুন নতুন জ্ঞান অন্বেষণে এবং ফায়দা অর্জনে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। এমনকি নিজের চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের কাছ থেকেও তিনি জ্ঞান আহরণ করতেন যা হয়তো তিনি তখনও নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করতে পারেননি।
সাখাভী আরও বলেন: রাজাবাদশাহ ও আমীর-ওমরাহরা মাঝে মাঝে তাঁর খোঁজখবর নিতেন, কিন্তু তিনি তা থেকে প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিজের আয়ত্তে রাখার ব্যবস্থা করতেন না বরং দ্রুত তা ব্যয় করে ফেলতেন। এরপর আবার তাঁর অভাবগ্রস্ত অবস্থায় ফিরে আসতেন। তাঁর পরিবার বড় ছিল এবং একাধিকবার বিবাহ করেছিলেন, তা সত্ত্বেও তিনি নিজের পার্থিব অবস্থার উন্নতির বিষয়ে উদাসীন ছিলেন।
উল্লেখ করা হয়েছে যে, যখন তাঁর নিজস্ব গৃহের সংকীর্ণতা ও উচ্চতার কারণে তাঁকে মুয়াইয়্যিদিয়া মাদ্রাসার প্রধান শায়খের বাসভবনে থাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তখন তিনি তা গ্রহণ করেননি।
তাঁর কাব্যরচনা:হাফেজ (الحافظ) ইবনে কুতলুবুগা নিচের কবিতাটি একজনের কথার জবাবে আবৃত্তি করেছিলেন, যে বলেছিল:
“যদি আমাকে সংবাদ প্রদানকারিণী তুমি মিথ্যাবাদী হও... তবে তোমার ওপর ইমাম আবু হানিফা অথবা ইমাম জুফারের সমান পাপ বর্তাবে।”
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الواثبين على القياس تمرداً
… والراغبين عن التمسك بالأثر
فقال:
كذب الذي سب المآثم للذي
… قاس المسائل بالكتاب وبالأثر
إن الكتاب وسُنَّةَ المختار قد
… دلَّا عليه فدع مقالة من فشر
مرضه ووفاته:تَعَلَّلَ الحافظ ابن قطلوبغا مدة طويلة بمرض حاد وبعسر التبول والحصاة وغير ذلك، وتنقل لعدة أماكن إلى أن تحول قبيل موته بيسير بقاعة بحارة الديلم بالقاهرة، فلم يلبث أن مات فيها في ليلة الخميس رابع ربيع الآخر سنة (879هـ).
وصُليَ عليه من الغد تجاه جامع المارداني في مشهد حافل، ودفن على باب المشهد المنسوب لعقبة عند أبويه وأولاده، وتأسف الناس على فقده.
কিয়াসের (القياس) ওপর অবাধ্যভাবে ঝাঁপিয়ে পড়া ব্যক্তিগণ
… এবং আছার (الأثر) আঁকড়ে ধরা থেকে বিমুখ ব্যক্তিগণ।
তিনি বললেন:
সেই ব্যক্তি মিথ্যা বলেছে যে পাপাচারকে গালমন্দ করে তার জন্য, যে
… কিতাব ও আছারের (الأثر) মাধ্যমে মাসআলাসমূহে কিয়াস (القياس) করে।
নিশ্চয়ই কিতাব এবং মনোনীত রাসুলের সুন্নাহ (السنة)
… এর প্রতি পথনির্দেশ করেছে, সুতরাং যে অসার কথা বলে তার উক্তি বর্জন করো।
তাঁর অসুস্থতা ও মৃত্যু:হাফিজ (الحافظ) ইবনে কুতলুবুগা দীর্ঘকাল ধরে তীব্র রোগ, মূত্রকষ্ট, পাথুরি রোগ এবং অন্যান্য ব্যাধিতে ক্লিষ্ট ছিলেন। তিনি বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তরিত হন এবং মৃত্যুর অল্পকাল আগে কায়রোর হারাতুদ দাইলাম এলাকার একটি কক্ষে চলে আসেন। সেখানে অবস্থানকালে ৪ঠা রবিউস সানি ৮৭৯ হিজরি বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পরদিন একটি বিশাল শোকাতুর সমাবেশে মারদানি জামে মসজিদের সামনে তাঁর জানাজা সম্পন্ন হয়। তাঁকে ওকবা-এর সাথে সম্পর্কিত মাজারের প্রবেশপথে তাঁর পিতামাতা ও সন্তানদের পাশে দাফন করা হয় এবং তাঁর প্রয়াণে মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করে।
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
(ق1/ ب)
رفع الاشتباه من مسألة المياهبسم الله الرحمن الرحيم
رب يسر ولا تعسر يا كريم رب تمم بالخير
الحمد لله وبه اكتفي، وسلام على عباده الذين اصطفى
وَبَعْدُ ..
فإن سيدنا وشيخنا صاحب التقرير والتحرير منقح أغصان الفروع والأصول ومعدل عنوان (1) المعقول والمنقول أبو المعاني زين الملة والدّين: شرف الدين قاسم بن قطلوبغا الحنفي عامله الله بلطفه الخفي وأدام النفع به بمحمد (2) وآله (3) ..
--------------------------------------------
(পাতা ১/ খ)
পানির মাসআলার সংশয় নিরসনপরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
হে প্রতিপালক! আপনি সহজ করে দিন, কঠিন করবেন না, হে দয়ালু; হে প্রতিপালক! কল্যাণের সাথে সমাপ্ত করুন
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর সাহায্যই আমার জন্য যথেষ্ট। আর শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর সেই বান্দাদের ওপর যাদের তিনি মনোনীত করেছেন
অতঃপর ..
নিশ্চয়ই আমাদের সায়্যিদ ও শাইখ, যিনি তাকরির (ব্যাখ্যা) ও তাহরির (বিশুদ্ধ লিখন)-এর অধিকারী, মূলনীতি (أصول) ও শাখা-প্রশাখার নিপুণ গবেষক এবং যৌক্তিক ও বর্ণিত দলিলাদির মানদণ্ড (১) সংশোধনকারী; আবুল মাআনী যয়নুল মিল্লাতি ওয়াদ্দীন: শরাফ উদ্দিন কাসেম ইবনে কুতলুবুগা আল-হানাফী। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি তাঁর গোপন করুণা বর্ষণ করুন এবং মুহাম্মাদ (২) ও তাঁর বংশধরদের (৩) মাধ্যমে তাঁর দ্বারা চিরকাল উপকার অর্জনের তৌফিক দান করুন ..
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
قال: لما منع علماؤنا رضي الله عنهم من كان له أهلية النظر من محض تقليدهم على ما رواه الشيخ الإمام العالم العلامة أبو إسحاق إبراهيم بن يوسف (1) قال: حدثنا أبو يوسف (2) عن أبي حنيفة رحمه الله أنه قال: "لا يحل لأحد أن يفتي بقولنا ما لم يعرف من أين قلناه" (3)، وتتبعت مآخذهم وحصّلت منها بحمد الله تعالى على الكثير ولم أقنع بتقليد ما في صحف
كثيرة من المصنفين فاتفق وقوع كلام على مسألة البئر مع بعض فذكرت شيئاً من إثبات تحقيق
--------------------------------------------
তিনি বলেছেন: যখন আমাদের উলামায়ে কেরাম (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) যাদের গবেষণার যোগ্যতা (أهلية النظر) রয়েছে, তাদের জন্য কেবল তাকলিদ (تقليد) করা নিষিদ্ধ করেছেন; যেমনটি শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে ইউসুফ (১) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু ইউসুফ (২) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইমাম আবু হানিফা (রহ.) থেকে যে, তিনি বলেছেন: "আমরা যেখান থেকে (যে দলিলের ভিত্তিতে) বলেছি তা না জানা পর্যন্ত কারো জন্য আমাদের মতানুসারে ফতোয়া প্রদান করা বৈধ নয়" (৩)। ফলে আমি তাঁদের দলিলাদি অনুসন্ধান করেছি এবং আল্লাহর শুকরিয়া যে, আমি তা থেকে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেছি। আমি বহু গ্রন্থকারের কিতাবে যা বর্ণিত হয়েছে তার নিছক তাকলিদ (تقليد) করে সন্তুষ্ট হতে পারিনি। একদা কূপ সম্পর্কিত একটি মাসআলা নিয়ে কয়েকজনের সাথে আলোচনার সূত্রপাত হলো, তখন আমি সেই মাসআলাটি যথাযথভাবে প্রমাণের (تحقيق) লক্ষ্যে কিছু বিষয় উল্লেখ করলাম...
কূপ সম্পর্কিত মাসআলায় যথাযথ বিশ্লেষণ প্রমাণের লক্ষ্যে কিছু বর্ণনা করলাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المناط (1)، فلم يكن عند المتكلم معي شعور بحقيقة الحال ورأى أن أحداً في هذا العصر لا يصح منه قلت الصحيح (2) فنظر في كتب الأصحاب وتتبع أمكنة فعله، ثم جاء محتجًّا عليَّ بقول صاحب الاختيار (3): "والأصل أن الماء القليل ينجس بوقوع النجاسة فيه والكثير لا، ولقوله عليه السلام في البحر "هو الطهور ماؤه" (4) واعتبرناه فوجدناه مما لا يخلص بعضه إلى بعض (5)، فنقول: كل ما لا يخلص بعضه إلى بعض لا ينجس بوقوع النجاسة فيه، فهذا معنى قولهم لا يتحرك طرفيه بتحريك الطرف الآخر، واعتبر المشايخ الخلوص بالمساحة، فوجدوه عشراً في عشرٍ، فقدروه بذلك تيسيراً، وقال أبو مطيع (6): إذا كان خمسة عشر في خمسة عشر لا يتخلص، أما عشرين في عشرين لا أرى في
--------------------------------------------
ভিত্তি (المناط) (1), ফলে আমার সাথে আলোচনাকারীর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না এবং তিনি মনে করেছিলেন যে, বর্তমান যুগে কারো পক্ষেই সহিহ (الصحيح) (2) বলা সম্ভব নয়। অতঃপর তিনি হানাফি ইমামদের গ্রন্থসমূহ গবেষণা করলেন এবং এর প্রয়োগস্থলগুলো তালাশ করলেন। এরপর তিনি আল-ইখতিয়ার গ্রন্থের লেখকের বক্তব্যের মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে দলিল পেশ করতে আসলেন (3): "মূলনীতি হলো যে, অল্প পানিতে নাপাকি পড়লে তা অপবিত্র হয়ে যায় এবং অধিক পানি অপবিত্র হয় না। আর সমুদ্র সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীর কারণে: 'এর পানি পবিত্র' (4)। আমরা এটি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং একে এমন পেয়েছি যার একদিকের পানি অন্যদিকের সাথে মিশ্রিত হয় না (5)। সুতরাং আমরা বলি: যে পানির এক অংশ অন্য অংশের সাথে মিশে যায় না, তাতে নাপাকি পড়লে তা অপবিত্র হয় না। আর তাদের এই কথার অর্থ এটাই যে—এক প্রান্ত নাড়ালে অন্য প্রান্ত নড়ে না। মাশায়েখগণ মিশ্রিত না হওয়াকে পরিমাপের মাধ্যমে নির্ধারণ করেছেন এবং তারা একে দশ হাত বাই দশ হাত পেয়েছেন; তাই তারা সহজীকরণের উদ্দেশ্যে একে উক্ত মাপে নির্ধারণ করেছেন। আবু মুতি' (6) বলেছেন: যখন পনেরো হাত বাই পনেরো হাত হয় তখন পানি মিশ্রিত হয় না, আর বিশ হাত বাই বিশ হাত হলে তো আমি কোনো সমস্যাই দেখি না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
نفسي منه شيئاً وإن كان له طول ولا عرض له، فالأصح أنه لو كان بحال لو ضم طوله إلى عرضه يصير عشراً في عشرٍ فهو (1) (ق2/ أ) كثير، والمختار في العمق ما لا ينحسر أسفله بالغرف (2)، ثم إذا كانت النجاسة مرئيَّة (3) لا يتوضأ من موضع الوقوع المتيقن بالنجاسة برؤية عينها، وإن كانت غير مرئية فلو توضأ منها جاز لعدم التيقن بالنجاسة؛ لاحتمال انتقالها، ومنهم من قال: لا يجوز أيضاً؛ لأن الظاهر بقاؤها في الحال" (4). انتهى
فذكرت له ما في هذا من الفساد فأجاب بأن هذا رجل متقدم مصنف، فاختصرت الكلام عند ظهور المقام، ثم سألني من تتعين إجابته أن أكتب له ما صدر مني في بيان فساد الكلام المتقدم، وما لي في المسألة من تحقيق، وما كنت ذكرت له من مسألة الماء المستعمل، وقلت مستعيناً بالله سبحانه وتعالى إنه حسبي ونعم الوكيل:
قوله: "والكثير لا" باطل بإجماع الأمة (5) على الماء الكثير إن تغير بنجس ينجس.
--------------------------------------------
আমার মন এতে সামান্যতম তুষ্ট নয়, যদিও এর দৈর্ঘ্য আছে কিন্তু কোনো প্রস্থ নেই। সর্বাধিক বিশুদ্ধ (الأصح) মত হলো, যদি অবস্থা এমন হয় যে এর দৈর্ঘ্যকে প্রস্থের সাথে যুক্ত করলে দশ হাত বাই দশ হাত পরিমাণ হয়, তবে তা প্রচুর (كثير) পানি। আর গভীরতার ক্ষেত্রে পছন্দনীয় (المختار) মত হলো, হাত দিয়ে পানি নেয়ার সময় যার তলদেশ অনাবৃত হয় না (২)। অতঃপর যদি নাপাকি (النجاسة) দৃশ্যমান (مرئية) (৩) হয়, তবে নাপাকি পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া স্থানে তার মূল অংশ দেখার কারণে অজু করা যাবে না। আর যদি তা অদৃশ্যমান (غير مرئية) হয় এবং সেখান থেকে অজু করা হয়, তবে নাপাকি (النجاسة) নিশ্চিত না হওয়ার কারণে তা জায়েজ হবে; কারণ নাপাকিটি স্থানান্তরের সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এটিও জায়েজ হবে না; কারণ বাহ্যত তা বর্তমান অবস্থায় সেখানে বিদ্যমান রয়েছে (৪)। সমাপ্ত।
অতঃপর আমি তাঁর নিকট এই বক্তব্যের অসারতা বর্ণনা করলাম। তিনি উত্তর দিলেন যে, তিনি একজন প্রাচীন লেখক ও গ্রন্থকার। বিষয়টি সুস্পষ্ট হওয়ায় আমি আলোচনা সংক্ষিপ্ত করলাম। অতঃপর যাঁর অনুরোধ রক্ষা করা আমার জন্য আবশ্যক, তিনি আমাকে অনুরোধ করলেন যেন আমি উক্ত বক্তব্যের অসারতা বর্ণনায় আমার পক্ষ থেকে যা প্রকাশ পেয়েছে এবং এই মাসআলায় আমার যা তাহকিক বা সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ রয়েছে, তা লিখে দিই। আর ব্যবহৃত পানির মাসআলায় আমি তাঁর নিকট যা উল্লেখ করেছিলাম তাও লিখতে বললেন। আমি মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে বলছি যে, তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক:
তাঁর কথা: "আর প্রচুর (كثير) পানি নাপাক হয় না" — এটি উম্মতের ঐকমত্যের (إجماع الأمة) (৫) ভিত্তিতে বাতিল; কেননা প্রচুর (كثير) পানি যদি নাপাকি দ্বারা পরিবর্তিত হয়, তবে তা নাপাক (نجس) হয়ে যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
قوله: "كل ما لا يخلص بعضه إلى بعض لا ينجس بوقوع النجاسة فيه". هذا باطل (1) بما تقدم (2) ومنقوض بما ذكره بعد من قوله: "ثم إن كانت النجاسة مرئيّة لا يتوضأ من موضع
الوقوع للتيقن بالنجاسة برؤية عينها"، ومما ذكره بعد ذلك أيضاً من قوله: "ولو وقعت جيفة في نهر كبير لا يتوضأ من أسفل الجانب الذي فيه الجيفة"، وهذا أبلغ؛ لأنه مع الكثرة جاز قوله: "وهذا معنى قولهم لا يتحرك أحد طرفيه بتحريك الطرف الآخر" يتوقف بيان فساده على مقدمته، وهو أن الكلام ليس في بيان نهاية الكثرة؛ لأن أكثر ما لا يخلص بعضه إلى بعض وأكثر ما لا يتحرك أحد طرفيه بتحرك الطرف الآخر، إنما تحقق في نحو الطرفان بل الكلام في أقل ما لا يخلص بعضه إلى بعض؛ ليكون مبتدأ حد الكثرة ويتحقق مقابلة الذي هو نهاية حد القلة، وأنه قد روي في اعتبار التحريك ثلاث روايات إحداها: عدم التحريك بالاغتسال
(ق2/ ب) وهي رواية أبي يوسف عن أبي حنيفة. ثانيها: عدم التحريك بالوضوء هي رواية محمد عن أبي حنيفة. ثالثها: عدم التحريك الكتب (3) إذا عرف هذا فيقال: إن كان أقل ما لا يخلص بعضه إلى بعض هو أقل ما لا يتحرك بالاغتسال يكون بالضرورة أقل ما لا يتحرك بالتوضؤ مما يخلص فيكون في حد القلة، والرواية مبدأ حد الكثرة، وكذا أقل ما لا يتحرك بالتوضؤ يكون مما يتحرك بالاغتسال بالضرورة، وكذا أقل ما لا يتحرك بغسل اليد يكون ما لا يتحرك بالتوضؤ فلا يتصور أن يكون أقل ما لا يخلص بعضه إلى بعض هو أقل ما لا يتحرك أحد طرفيه بتحرك الطرف الآخر على اعتبار الروايات كلها للتنافي، وإن كان على اعتبار التحريك بأحد الروايات، فليس في الكلام ما يفيده ولا يصح له وجه؛ لأنه امتحان أمرٌ حسّيّ بأمر حسّيّ.
قوله: "وامتحن المشايخ الخلوص بالمساحة، فوجدوه عشرً في عشرٍ" يتأتى في فساد ما تقدم؛ لأنهم إن كانوا امتحنوا ما لا يخلص بحركة الاغتسال ورد عليه رواية التوضؤ، وغسل اليد .. الخ ما قدمناه، وفيه مخالفة لما ذكروه في عامة الكتب المطولات عن محمد رحمه الله أنه سئل عن الغدير العظيم،
--------------------------------------------
তাঁর উক্তি: "এমন প্রতিটি বস্তু যার এক অংশ অন্য অংশের সাথে মিশে যায় না, তাতে অপবিত্রতা পড়লে তা অপবিত্র হয় না।" এটি বাতিল (باطل) (১) যা পূর্বে আলোচিত হয়েছে (২) সেই কারণে এবং এটি খণ্ডিত হয়েছে তাঁর পরবর্তী এই উক্তির দ্বারা: "অতঃপর যদি অপবিত্রতা দৃশ্যমান হয়, তবে অপবিত্রতা সচক্ষে দেখার মাধ্যমে তা নিশ্চিত হওয়ার কারণে যেখানে অপবিত্রতা পড়েছে সেখান থেকে অজু করা যাবে না"। এবং তাঁর পরবর্তী এই উক্তি থেকেও (এটি খণ্ডিত হয়): "যদি একটি বড় নদীতে মৃতদেহ পড়ে থাকে, তবে যে পাশে মৃতদেহটি আছে তার নিচের অংশ থেকে অজু করা যাবে না।" এটি আরও জোরালো; কারণ প্রাচুর্য সত্ত্বেও তিনি তা জায়েজ রেখেছেন। তাঁর উক্তি: "আর এটিই তাদের এই কথার অর্থ যে, এর এক প্রান্ত নাড়ালে অন্য প্রান্ত নড়ে না" - এর অসারতা বর্ণনা করা তার ভূমিকার ওপর নির্ভরশীল। আর তা হলো, আলোচনাটি আধিক্যের চূড়ান্ত সীমা বর্ণনার বিষয়ে নয়; কারণ যা মিশে যায় না এবং যার এক প্রান্ত নাড়ালে অন্য প্রান্ত নড়ে না তার অধিকাংশ মূলত দুই প্রান্তের ন্যায় বিষয়ের ক্ষেত্রে সাব্যস্ত হয়। বরং আলোচনাটি এমন ন্যূনতম পরিমাণ সম্পর্কে যা একে অপরের সাথে মিশে যায় না; যাতে তা আধিক্যের সীমার সূচনা হতে পারে এবং যা স্বল্পতার সীমার চূড়ান্ত পর্যায়ের বিপরীতে সাব্যস্ত হয়। আর নাড়াচাড়া বা গতির বিবেচনার ক্ষেত্রে তিনটি বর্ণনা (رواية) বর্ণিত হয়েছে (روي); প্রথমটি: গোসলের মাধ্যমে নড়াচড়া না হওয়া
(প ২/ খ), এটি আবু হানিফা থেকে আবু ইউসুফের বর্ণনা (رواية)। দ্বিতীয়টি: অজুর মাধ্যমে নড়াচড়া না হওয়া, এটি আবু হানিফা থেকে মুহাম্মাদের বর্ণনা (رواية)। তৃতীয়টি: কিতাব (৩) [হাতের] মাধ্যমে নড়াচড়া না হওয়া। এটি জানা হয়ে গেলে বলা হবে: যদি এমন ন্যূনতম পরিমাণ যা একে অপরের সাথে মিশে যায় না তা যদি গোসলের মাধ্যমে না নড়া সর্বনিম্ন পরিমাণ হয়, তবে অজুর মাধ্যমে না নড়া সর্বনিম্ন পরিমাণটি আবশ্যিকভাবে এমন হবে যা মিশে যায়, ফলে তা স্বল্পতার সীমার অন্তর্ভুক্ত হবে। অথচ বর্ণনাটি (رواية) আধিক্যের সীমার সূচনা। একইভাবে, অজুর মাধ্যমে যা নড়ে না তার ন্যূনতম পরিমাণটি আবশ্যিকভাবে গোসলের মাধ্যমে নড়াচড়া করবে। তদ্রূপ হাত ধোয়ার মাধ্যমে যা নড়ে না তার ন্যূনতম পরিমাণটি অজুর মাধ্যমে নড়াচড়া করবে না। সুতরাং সব কটি বর্ণনার (روايات) বিবেচনায় এটি কল্পনা করা সম্ভব নয় যে, যা একে অপরের সাথে মিশে যায় না তার সর্বনিম্ন পরিমাণটিই হলো সেই সর্বনিম্ন পরিমাণ যার এক প্রান্ত নাড়ালে অন্য প্রান্ত নড়ে না; কারণ এটি পরস্পরবিরোধী। আর যদি কোনো একটি বর্ণনার (روايات) ভিত্তিতে নাড়াচাড়ার বিষয়টি ধরা হয়, তবে বক্তব্যে এমন কিছু নেই যা তা নির্দেশ করে এবং এর কোনো সঠিক দিকও নেই; কারণ এটি একটি ইন্দ্রিয়জাত বিষয়কে অন্য একটি ইন্দ্রিয়জাত বিষয় দ্বারা পরীক্ষা করা।
তাঁর উক্তি: "মাশায়েখগণ পরিমাপের মাধ্যমে সংমিশ্রণ পরীক্ষা করেছেন এবং তা দশ হাত বাই দশ হাত পেয়েছেন" - এটিও পূর্বের অসারতার অনুগামী হবে; কারণ তাঁরা যদি গোসলের নড়াচড়ার মাধ্যমে যা মিশে যায় না তা পরীক্ষা করে থাকেন, তবে তার বিপরীতে অজু এবং হাত ধোয়ার বর্ণনা (رواية) ইত্যাদি আপত্তি হিসেবে আসবে যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। এছাড়া এতে বড় বড় কিতাবসমূহে মুহাম্মাদ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার বিরোধিতা রয়েছে, যখন তাঁকে বড় জলাশয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فقال: قدر مسجدي هذا فذرع (1)، فكان عشراً في عشرٍ من خارج الجدار إلى آخره، ولما قاله نوح الجامع (2) في جامعه عن محمد رحمه الله – أنه كان يوقت بعشراً في عشرٍ، ولفظ المشايخ في عرفهم يراد به من بعد أبي حنيفة وصاحبيه، وإذا كانت المسألة
منصوصة عن أحد الثلاثة لا يقال فيها امتحن المشايخ .. الخ.
قوله: "وقال أبو مطيع: إذا كان خمسة عشر في خمسة عشر لا يخلص". يقال للمصنف: لو كان امتحان المشايخ على ما ذكرت لم يتصور أن يقع فيه خلاف لأن ما وجد علي كمية مخصوصة لا يعقل مخالفته، وإن كان قول أبي مطيع على اعتبار التحريك بالاغتسال
(ق3 / أ) وقول المشايخ الذي نسب إليهم الامتحان بعشر على اعتبار غير الاغتسال نفي قوله، وهذا معنى قولهم لا يتحرك إلى آخره
… (3) وعلى هذا فالخمسة عشر أعلى الاعتبارات، فما معنى قوله بعد ذلك: "أما العشرون في العشرين، فلا أجد في نفسي منه شيئاً".
قوله: "وإن كان له طول ولا عرض له فالأصح أنه لو كان بحال لو ضم طوله إلى عرضه يصير عشراً في عشرٍ فهو كثير" مبني على أن الكثرة أثراً، وسيأتي ما يظهر به فساده. قوله: "والمختار في العمق ما لا ينحسر أسفله بالغرف" مقابل هذا المختار ذراع، وشبر، وعرض
… (4)، وما يستر وجه الأرض
--------------------------------------------
তিনি বললেন: আমার এই মসজিদের পরিমাপ করো, এরপর তা পরিমাপ করা হলো (১), এবং দেয়ালের বহির্ভাগ থেকে শেষ পর্যন্ত তা ছিল দশ হাত গুণ দশ হাত। আর নূহ আল-জামি' (২) তাঁর 'জামি' গ্রন্থে মুহাম্মদ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে যা বর্ণনা করেছেন—তা হলো তিনি দশ হাত গুণ দশ হাত নির্ধারণ করতেন। 'মাশায়েখ' পরিভাষাটি ফকিহদের পরিভাষায় আবু হানিফা এবং তাঁর দুই সাথীর পরবর্তী পণ্ডিতদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। আর যখন কোনো মাসয়ালা এই তিন ইমামের কারো থেকে স্পষ্টভাবে বর্ণিত থাকে, তখন সেক্ষেত্রে 'মাশায়েখগণ পরীক্ষা করেছেন'—এ কথা বলা হয় না... ইত্যাদি।
তাঁর উক্তি: "আবু মুতি' বলেছেন: যখন পনের হাত গুণ পনের হাত হবে তখন তা পবিত্র হবে না।" গ্রন্থকারকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়: মাশায়েখদের পরীক্ষা যদি আপনার বর্ণনা অনুযায়ী হতো, তবে এতে কোনো মতভেদ ঘটার অবকাশ থাকত না। কারণ যা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে পাওয়া যায়, তার বিরোধিতা করা যুক্তিযুক্ত নয়। আর যদি আবু মুতি'-এর উক্তিটি গোসলের মাধ্যমে পানি নাড়াচাড়ার বিবেচনার ওপর ভিত্তি করে হয় (৩/ক) এবং মাশায়েখদের উক্তি—যাদের দিকে দশ হাতের পরীক্ষাটি নিসবত করা হয়েছে—তা যদি গোসল ব্যতীত অন্য কোনো বিবেচনার ওপর ভিত্তি করে হয়, তবে তা তাঁর উক্তিকে নাকচ করে দেয়। আর এটাই তাদের উক্তির মর্মার্থ যে, "তা নড়াচড়া করবে না"... ইত্যাদি
… (৩)। এই ভিত্তিতে পনের হাত হলো সর্বোচ্চ বিবেচনা। তাহলে এরপর তাঁর এই উক্তির অর্থ কী: "আর বিশ হাত গুণ বিশ হাতের ব্যাপারে আমার মনে কোনো দ্বিধা নেই"?
তাঁর উক্তি: "আর যদি তার দৈর্ঘ্য থাকে কিন্তু প্রস্থ না থাকে, তবে অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) মত হলো, যদি এমন হয় যে তার দৈর্ঘ্যকে প্রস্থের সাথে যোগ করলে তা দশ হাত গুণ দশ হাত হয়, তবে তা 'অনেক পানি' হিসেবে গণ্য হবে।"—এটি এই নীতির ওপর ভিত্তি করে যে আধিক্য একটি প্রভাব মাত্র, আর এর অসারতা যেটির মাধ্যমে প্রকাশ পাবে তা সামনে আসছে। তাঁর উক্তি: "আর গভীরতার ক্ষেত্রে মনোনীত (المختار) মত হলো যা হাত দিয়ে পানি তোলার কারণে তলদেশ উন্মুক্ত হয়ে যায় না।" এই মনোনীত মতের বিপরীতে রয়েছে এক হাত, এক বিঘত, এবং প্রস্থ
… (৪), এবং যা জমিনের উপরিভাগকে ঢেকে রাখে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وفيه دليل على فساد ما تقدم، وذلك أن امتحان الخلوص بالاغتسال لا يتصور في حد العمق، ولا يمكن أن يقال فيه بطريق الفرض؛ لأن الكلام في أنهم امتحنوا ما لا يخلص بنفسه بفعل حسي، وهو الاغتسال على زعمه، ثم ذرعوا ما لا يتحرك، فوجدوه عشراً في عشرٍ هذا ظاهر كلامه على ما لا يخفى. قوله: "ثم إن كانت النجاسة مرئيّة لا يتوضأ من موضع الوقوع"، يقال له: إذا كان الحكم هذا فأين الأصل الذي هو ادعيته، وهو أن الكثير لا ينجس، وكيف خرج هذا عن دليل الأصل الذي أوردته، وهو الحديث به، فليزمك أحد أمرين: إما عدم صحة الأصل الذي ادعيته، أو عدم صحة دلالة الحديث عليه، أو مخالفة الحديث بالرأي قوله: لاحتمال انتقالها إذا كان فرض المسألة في نجاسة مائعة وقعت في ما راكد فأين تنتقل؟ وهذا لا يجري هذا الاحتمال في البئر إذا وقعت فيها نجاسة مائعة ونزح بعضها. قوله: "ومنهم من قال: لا يجوز أيضاً؛ لأن الظاهر بقاؤها في الحال" ظاهر السوق أن هذا مرجوح بالنسبة إلى المتقدم، وقد صرح بذلك صاحب التحفة والبدائع على مآتي فقال له: قد علم أن الحكم يكون مع الظاهر، إلا أن يقوم دليل يخالفه، فكيف (ق3 / ب) كان الراجح هنا بخلاف الظاهر بلا دليل، واحتمال الانتقال قد علمت ما فيه، ثم مفهوم قوله: "بقاؤها في الحال" أنه إذا أتى عليها زمان بات يجوز بلا خلاف، ولم يظهر له وجه؛ لأنه متى حكم بنجاسته في الحال للاختلاط لا يحكم بطهارته بعد الاستهلاك، وهذا الكلام وإن كان قد سبق إليه الشيخ علاء الدين السمرقندي (1) في التحفة؛ حيث قال: "وأما إذا كان الماء راكداً اختلف العلماء. قال أصحاب الظواهر: بأن الماء لا ينجس بوقوع النجاسة فيه كيفما كان؛ لقوله عليه السلام: "خلق الماء طهوراً لا ينجسه شيء" (2)، وقال عامة العلماء: إن كان الماء قليلاً ينجس، وإن كان كثيراً لا ينجس،
--------------------------------------------
وفيه دليل على فساد ما تقدم، وذلك أن امتحان الخلوص بالاغتسال لا يتصور في حد العمق، ولا يمكن أن يقال فيه بطريق الفرض؛ لأن الكلام في أنهم امتحنوا ما لا يخلص بنفسه بفعل حسي، وهو الاغتسال على زعمه، ثم ذرعوا ما لا يتحرك، فوجدوه عشراً في عشرٍ هذا ظاهر كلامه على ما لا يخفى. قوله: "ثم إن كانت النجاسة مرئيّة لا يتوضأ من موضع الوقوع"، يقال له: إذا كان الحكم هذا فأين الأصل الذي هو ادعيته، وهو أن الكثير لا ينجس، وكيف خرج هذا عن دليل الأصل الذي أوردته، وهو الحديث به، فليزمك أحد أمرين: إما عدم صحة الأصل الذي ادعيته، أو عدم صحة دلالة الحديث عليه، أو مخالفة الحديث بالرأي قوله: لاحتمال انتقالها إذا كان فرض المسألة في نجاسة مائعة وقعت في ما راكد فأين تنتقل؟ وهذا لا يجري هذا الاحتمال في البئر إذا وقعت فيها نجاسة مائعة ونزح بعضها. قوله: "ومنهم من قال: لا يجوز أيضاً؛ لأن الظاهر بقاؤها في الحال" ظاهر السوق أن هذا مرجوح بالنسبة إلى المتقدم، وقد صرح بذلك صاحب التحفة والبدائع على مآتي فقال له: قد علم أن الحكم يكون مع الظاهر، إلا أن يقوم دليل يخالفه، فكيف (ق3 / ب) كان الراجح هنا بخلاف الظاهر بلا دليل، واحتمال الانتقال قد علمت ما فيه، ثم مفهوم قوله: "بقاؤها في الحال" أنه إذا أتى عليها زمان بات يجوز بلا خلاف، ولم يظهر له وجه؛ لأنه متى حكم بنجاسته في الحال للاختلاط لا يحكم بطهارته بعد الاستهلاك، وهذا الكلام وإن كان قد سبق إليه الشيخ علاء الدين السمرقندي (1) في التحفة؛ حيث قال: "وأما إذا كان الماء راكداً اختلف العلماء. قال أصحاب الظواهر: بأن الماء لا ينجس بوقوع النجاسة فيه كيفما كان؛ لقوله عليه السلام: "خلق الماء طهوراً لا ينجسه شيء" (2)، وقال عامة العلماء: إن كان الماء قليلاً ينجس، وإن كان كثيراً لا ينجس،
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
واختلفوا في الحد الفاصل بينهما، فقال مالك: إن كان بحال يتغير طعمه أو لونه أو ريحه فهو دليل (1)، وإن كان لا يتغير فهو كثير، وقال الشافعي: إذا بلغ الماء قلتين فهو كثير لا يحمل الخبث؛ لورود الحديث (2)، وقال العلماء (3) رضي الله عنهم: وإن كان الماء بحال يخلص بعضه إلى بعض فهو قليل، وإن كان لا يخلص فهو كثير، واختلفوا في تفسير الخلوص. اتفقت الروايات عن أصحاب المتقدمين أنه يعتبر بالتحريك، فإن تحرك طرف منه بتحرك الجانب الآخر، فهذا مما يخلص، وإن كان لا يتحرك فهو مما لا يخلص، ولكن في رواية أبي يوسف عن أبي حنيفة يعتبر التحريك بالاغتسال، وفي رواية محمد بالوضوء والمشايخ المتأخرين اعتبر بعضهم الخلوص بالصبغ، بالتحريك، بالتكدير (4) وقال بعضهم بالمساحة إن كان عشرًا في عشرٍ فهو مما لا يخلص، وإن كان دونه فهو مما يخلص، وبه أخذ مشايخ بلخ، ثم إن كانت النجاسة مرئيّة (5) مثل أن يبول فيه إنسان أو اغتسل فيه جُنُب اختلف المشايخ فيه. قال مشايخ العراق: بأن حكم المرئيّة وغير المرئيّة سواءً، فإنه لا يتوضأ من الجانب الذي وقعت (ق4/ أ) فيه النجاسة، وإنما يتوضأ من الجانب الآخر بخلاف الماء الجاري، ومشايخنا فصلوا بين
… الأمرين كما قالوا جميعاً في الماء الجاري، وهو الأصح" (6). انتهى وتبعه الشيخ الإمام أبو بكر الكاساني (7) في "البدائع" فقال: "فإن كان راكداً فقد اختلف فيه. قال أصحاب الظوهر: أن الماء لا ينجس بوقوع النجاسة فيه أصلاً سواء كان راكداً أو جارياً وسواء كان قليلاً أو كثيراً تتغير لونه أو طعمه أو رائحته أو لم يتغير، وقال عامة العلماء: إن كان قليلاً ينجس، وإن كان كثيراً لا ينجس؛
--------------------------------------------
তারা এ দুইয়ের (অল্প ও বেশি পানি) মধ্যবর্তী বিভাজনকারী সীমা সম্পর্কে মতভেদ করেছেন। ইমাম মালিক বলেন: যদি পানির স্বাদ, বর্ণ বা গন্ধ পরিবর্তিত হওয়ার অবস্থায় থাকে, তবে তা অল্প (قليل) (১); আর যদি পরিবর্তিত না হয়, তবে তা বেশি (كثير)। ইমাম শাফিঈ বলেন: পানি যখন দুই কুল্লা (قلتين) পরিমাণ হয়, তখন তা বেশি (كثير) হিসেবে গণ্য হয় এবং তা অপবিত্রতা বহন করে না; কারণ এ বিষয়ে হাদিস (২) বর্ণিত হয়েছে। উলামায়ে কিরাম (৩) (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) বলেন: যদি পানি এমন অবস্থায় থাকে যে এর এক অংশ অন্য অংশের সাথে মিশে যায়, তবে তা অল্প (قليل); আর যদি না মিশে, তবে তা বেশি (كثير)। আর তাঁরা 'খালাস' বা সংমিশ্রণের ব্যাখ্যায় মতভেদ করেছেন। পূর্ববর্তী ফকিহগণের নিকট হতে বর্ণিত বর্ণনাগুলো এ বিষয়ে একমত যে, এটি নড়াচড়ার মাধ্যমে বিবেচিত হবে। যদি এর এক দিক নড়াচড়া করলে অন্য দিকও নড়াচড়া করে, তবে তা মিশে যাওয়ার অন্তর্ভুক্ত; আর যদি নড়াচড়া না করে, তবে তা না মিশে যাওয়ার অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু আবু হানিফা থেকে আবু ইউসুফের বর্ণনায় গোসলের মাধ্যমে নড়াচড়াকে বিবেচনা করা হয়েছে এবং মুহাম্মাদের বর্ণনায় ওজুর মাধ্যমে। আর পরবর্তী যুগের মাশায়েখগণের কেউ কেউ সংমিশ্রণকে রঙের মাধ্যমে, কেউ নড়াচড়ার মাধ্যমে এবং কেউ ঘোলাটে হওয়ার (৪) মাধ্যমে বিবেচনা করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ পরিমাপের মাধ্যমে নির্ধারণ করেছেন যে, যদি তা দশ হাত বাই দশ হাত হয়, তবে তা না মিশে যাওয়ার অন্তর্ভুক্ত; আর এর কম হলে তা মিশে যাওয়ার অন্তর্ভুক্ত। বলখের মাশায়েখগণ এটিই গ্রহণ করেছেন। অতঃপর যদি নাপাকি দৃশ্যমান (৫) হয়—যেমন কোনো মানুষ তাতে প্রস্রাব করল অথবা কোনো জানাবাতগ্রস্ত ব্যক্তি তাতে গোসল করল—তবে মাশায়েখগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন। ইরাকের মাশায়েখগণ বলেন: দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান নাপাকির বিধান সমান। সুতরাং যে দিকে নাপাকি পড়েছে (পৃ. ৪/ক), সে দিক থেকে ওজু করা যাবে না; বরং অন্য দিক থেকে ওজু করতে হবে, যা প্রবহমান পানির বিধানের বিপরীত। আর আমাদের মাশায়েখগণ দুই বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন... যেমনটি তাঁরা সবাই প্রবহমান পানির ক্ষেত্রে বলেছেন, আর এটিই অধিক বিশুদ্ধ (الأصح)" (৬)। (উদ্ধৃতি) সমাপ্ত। ইমাম আবু বকর আল-কাসানি (৭) 'বাদায়িউস সানায়ি' গ্রন্থে তাঁর অনুসরণ করেছেন এবং বলেছেন: "যদি পানি স্থির হয়, তবে সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। যাহেরি মাজহাবের অনুসারীরা বলেন: পানিতে নাপাকি পড়লে তা মোটেও নাপাক হয় না; চাই তা স্থির হোক বা প্রবহমান, অল্প (قليل) হোক বা বেশি (كثير), এর বর্ণ, স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তিত হোক বা না হোক। আর অধিকাংশ আলিম বলেন: যদি তা অল্প (قليل) হয় তবে নাপাক হবে, আর যদি বেশি (كثير) হয় তবে নাপাক হবে না;
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
لكونهم اختلفوا في الحد الفاصل بين القليل والكثير. قال مالك: إن تغير لونه أو طعمه أو رائحته فهو قليل، وإن لم يتغير فهو كثير، وقال الشافعي: إذا بلغ الماء قلتين فهو كثير والقلتان عنده خمس قرب
كل قربة خمسون منًّا فيكون جملته مائتين وخمسون منًّا. وقال أصحابنا: إن كان بحال يخلص بعضه إلى بعض فهو قليل، وإن كان لا يخلص فهو كثير، فأما أصحاب الظواهر فاحتجوا بظاهر قول النبي صلى الله عليه وسلم: "الماء طهور لا ينجسه شيء" (1) واحتج مالك بقوله صلى الله عليه وسلم: "خلق الماء طهوراً لا ينجسه شيء إلا ما غير لونه أو طعمه أو رائحته" (2)،
وهو تمام الحديث أو بني العام على الخاص عملا الدليل (3)، واحتج الشافعي رضي الله عنه بقول النبي صلى الله عليه وسلم: "إذا بلغ الماء قلتين لا يحمل خبثاً" (4) –أي يرفع الخبث عن نفسه- وقال الشافعي: قال ابن جريج: أراد بالقلتين قلال هجر كل قربة تسع فيها قربتين وشيئاً. قال الشافعي: وشيء مجهول، فقدرته بالنصف احتياطاً، ولنا ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
যেহেতু তাঁরা অল্প এবং অধিক পানির মধ্যবর্তী পার্থক্যকারী সীমানা নির্ধারণের বিষয়ে মতভেদ করেছেন। ইমাম মালিক বলেছেন: যদি পানির রঙ, স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তিত হয় তবে তা অল্প, আর যদি পরিবর্তিত না হয় তবে তা অধিক। ইমাম শাফিঈ বলেছেন: যখন পানি দুই কুল্লায় পৌঁছায় তখন তা অধিক, আর তাঁর মতে দুই কুল্লা হলো পাঁচ মশক (قرب)।
প্রতিটি মশক পঞ্চাশ মান (منًّا) ওজনের, ফলে এর মোট পরিমাণ হয় দুইশত পঞ্চাশ মান। আমাদের (হানাফি) সাথীরা বলেছেন: যদি পানি এমন অবস্থায় থাকে যে এর এক অংশ অন্য অংশের সাথে মিশে যায় তবে তা অল্প, আর যদি না মিশে তবে তা অধিক। পক্ষান্তরে আহলে জাহেরগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর প্রকাশ্য অর্থের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: "পানি পবিত্রকারী, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করতে পারে না।" (১) ইমাম মালিক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: "পানিকে পবিত্রকারী হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করে না কেবল যা এর রঙ, স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তন করে দেয় তা ব্যতীত।" (২),
এটিই পূর্ণ হাদিস অথবা দলিলের ওপর আমল করার লক্ষ্যে সাধারণ (عام) বিধানকে বিশেষ (خاص) বিধানের ওপর ভিত্তি করা হয়েছে (৩)। ইমাম শাফিঈ (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "যখন পানি দুই কুল্লায় পৌঁছায় তখন তা অপবিত্রতা বহন করে না" (৪) —অর্থাৎ তা নিজের থেকে অপবিত্রতা দূর করে দেয়। ইমাম শাফিঈ বলেছেন: ইবনে জুরাইজ বলেছেন: দুই কুল্লা দ্বারা হাজারা অঞ্চলের মটকা উদ্দেশ্য, যার প্রতিটি মটকা দুই মশক এবং আরও কিছু ধারণ করে। ইমাম শাফিঈ বলেন: "এবং আরও কিছু" বিষয়টি অজ্ঞাত (مجهول), তাই আমি সতর্কতামূলকভাবে একে অর্ধেক হিসেবে নির্ধারণ করেছি। আর আমাদের সপক্ষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
أنه قال: "إذا استيقظ أحدكم من منامه فلا يغمسن يده في الإناء حتى يغسلها ثلاثاً، فإنه لا يدري أين باتت يده" (1)، ولو كان الماء لا ينجس بالغمس لم يكن للنهي والاحتياط توهم النجاسة معني، وكذا الأخبار مستفيضة في الأمر (ق4/ ب) بغسل [الإناء] (2) من ولوغ الكلب مع أنه لا يغير لونه ولا طعمه ولا ريحه.
وروي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "لايبول أحدكم في الماء الراكد، ولا يغتسل فيه من جنابة" (3) من غير فصل بين بين دائم ودائم، وهذا نهي عن تنجس الماء؛ لأن البول والاغتسال في ما لا ينجسه لكثرته ليس بنهي، فدل على كون الماء الدائم مطلقاً محتملا النجاسة لاحتمام النجاسة (4)؛ إذا النهي عن تنجس ما لا يحتمل النجاسة ضرب من السفة، وكذا الماء الذي يمكن الاغتسال فيه يكون أكثر من قلتين، والبول والاغتسال فيه لا يغير لونه ولا طعمه ولا ريحه.
وعن ابن عباس وابن الزبير رضي الله عنهما أنهما أمرا في زنجي وقع في بئر زمزم ينزح
--------------------------------------------
তিনি বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন নিজ নিদ্রা হতে জাগ্রত হয়, তখন সে যেন পাত্রের পানিতে হাত না ডুবায় যতক্ষণ না সে তা তিনবার ধৌত করে; কারণ সে জানে না তার হাতটি কোথায় রাত্রিযাপন করেছে।" (১), আর যদি হাত ডুবানোর ফলে পানি অপবিত্র না হতো, তবে নাপাক হওয়ার আশঙ্কায় এই নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কতামূলক নির্দেশের কোনো অর্থ থাকতো না। অনুরূপভাবে, কুকুরের চাটলে [পাত্র] (২) ধৌত করার নির্দেশের ব্যাপারে হাদিসসমূহ প্রসিদ্ধ (مستفيضة), যদিও তা পানির বর্ণ, স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তন করে না।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব না করে এবং জানাবত (অপবিত্রতা) থেকে তাতে গোসল না করে।" (৩) এখানে স্থবির পানির প্রকারভেদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি। এটি মূলত পানি অপবিত্র করার ব্যাপারে একটি নিষেধাজ্ঞা; কারণ পানির প্রাচুর্যের কারণে যা অপবিত্র হয় না, তাতে প্রস্রাব করা বা গোসল করা নিষিদ্ধ নয়। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, সাধারণভাবে বদ্ধ পানি অপবিত্রতা গ্রহণের সম্ভাবনা রাখে (৪); কারণ যা অপবিত্র হওয়ার সম্ভাবনা রাখে না তা অপবিত্র হওয়া থেকে নিষেধ করা এক প্রকার নিরর্থক কাজ। একইভাবে, যে পানিতে গোসল করা সম্ভব তা সাধারণত দুই কুল্লার চেয়ে বেশি হয়ে থাকে, অথচ তাতে প্রস্রাব ও গোসল করা পানির বর্ণ, স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তন করে না।
ইবনে আব্বাস ও ইবনে যুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, জমজম কূপে একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি পড়ে যাওয়ার ঘটনায় তারা কূপের সমস্ত পানি সেঁচে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ماء البئر كله (1)، ولم يظهر أثر في الماء، وكان الماء أكثر من قلتين، وذلك بمحضر من الصحابة رضي الله عنهم، ولم ينكر عليهما أحد فانعقد الإجماع من الصحابة على ما قلنا، وعرف بهذا الإجماع أن المراد بما رواه مالك هو الماء الكثير والجاري وبه تبين أن ما رواه الشافعي غير ثابت؛ لكونه مخالفاً
لإجماع الصحابة رضي الله عنهم، وخبر الواحد إذا ورد مخالفاً للإجماع يرد، [يدل] (2) عليه أن علي بن المديني قال لم يثبت هذا الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم. وقال أبو داود: لا يكاد يصح لواحد من الفريقين حديث عن النبي صلى الله عليه وسلم في تقدير الماء، ولهذا رجع
أصحابنا في التقدير إلى الدلائل الحسية دون الدليل (3) السمعية، ثم تفسير الخلوص، فاتفقت الروايات عن أصحابنا أنه يعتبر الخلوص بالتحريك، وهو أنه إن كان بحال لو حرك طرف منه بتحرك الطرف الآخر فهو ما يخلص، وإن كان لا يتحرك فهو مما لا يخلص، وإنما اختلفوا في جهة التحريك.
فروي عن أبي يوسف عن أبي حنيفة أنه يعتبر التحريك بالاغتسال من غير عنف.
وروى محمد عنه أنه يعتبر التحريك بالوضوء في رواية باليد من غير (ق5 / أ) اغتسال ولا وضوء،
--------------------------------------------
কূপের সমস্ত পানি (১), এবং পানিতে কোনো অপবিত্রতার চিহ্ন প্রকাশ পায়নি, আর পানির পরিমাণ ছিল দুই কুল্লার বেশি। এটি সাহাবীগণের উপস্থিতিতে সংঘটিত হয়েছিল এবং তাঁদের কেউই এর প্রতিবাদ করেননি। ফলে আমরা যা বলেছি তার ওপর সাহাবীগণের ঐকমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই ঐকমত্যের (إجماع) মাধ্যমে এটি জানা গেল যে, ইমাম মালিক যা বর্ণনা করেছেন তার উদ্দেশ্য হলো প্রচুর ও প্রবহমান পানি। এর দ্বারা এটিও স্পষ্ট হলো যে, ইমাম শাফেয়ি যা বর্ণনা করেছেন তা অপ্রমাণিত (غير ثابت); কারণ তা সাহাবীগণের ঐকমত্যের (إجماع) পরিপন্থী। আর একক বর্ণনা (خبر الواحد) যখন ঐকমত্যের (إجماع) বিরোধী হিসেবে বর্ণিত হয়, তখন তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। এর সপক্ষে প্রমাণ [প্রমাণ] (২) হলো যে, আলি ইবনুল মাদিনি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই হাদিসটি প্রমাণিত (لم يثبت) হয়নি। ইমাম আবু দাউদ বলেছেন: পানির পরিমাপ নির্ধারণের বিষয়ে উভয় পক্ষের কারোর জন্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো হাদিস সহিহ হওয়া (يصح)-র পর্যায়ে নেই। এই কারণেই আমাদের ইমামগণ পরিমাপের ক্ষেত্রে শ্রুত প্রমাণের পরিবর্তে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রমাণের দিকে ফিরে গিয়েছেন (৩)। এরপর 'খালুস' (চলাচল)-এর ব্যাখ্যা: আমাদের ইমামগণের বর্ণনাগুলো একমত হয়েছে যে, নড়াচড়া (তাহরিক)-এর মাধ্যমে 'খালুস' বিবেচিত হবে। সেটি হলো, পানির এক প্রান্ত নড়াচড়া করলে যদি অন্য প্রান্ত নড়াচড়া করে, তবে সেটি চলাচলকারী পানি; আর যদি নড়াচড়া না করে, তবে সেটি চলাচলকারী নয়। তাঁরা কেবল নড়াচড়ার পদ্ধতির বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।
ইমাম আবু ইউসুফ ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জোর প্রয়োগ ছাড়াই গোসল করার মাধ্যমে নড়াচড়া বিবেচিত হবে।
ইমাম মুহাম্মদ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ওজু করার মাধ্যমে নড়াচড়া বিবেচিত হবে; এক বর্ণনায় আছে যে, গোসল বা ওজু ছাড়াই হাত দিয়ে (পৃষ্ঠা ৫ / ক) নড়াচড়া বিবেচিত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
واختلف المشايخ، فالشيخ أبو حفص الكبير البخاري (1) اعتبر الخلوص بالصبغ، وأبو نصرمحمد بن محمد بن سلام (2) اعتبره بالتكرير، وأبو سليمان الجوزاني (3) اعتبره بالمساحة، فقال: إن كان عشر في عشر فهو مما لا يخلص، وإن كان دونه فهو مما يخلص. وعبد الله بن المبارك اعتبره بالعشرة أولاً ثم بخمسة عشر ثانية. ذهب أبو مطيع فقال: إن كان خمسة عشر في خمسة عشر أرجو أن يجوز، وإن كان عشرين في عشرين لا أجد في قلبي شيئاً. وروي عن محمد أنه قدره بمسجده، وقال مسجده ثمان في ثمان، وبه أخذ محمد بن سلمة، وقيل كان مسجده عشراً في عشرٍ، وقيل مُسِحَ مسجده فوجد
داخله ثمان في ثمان وخارجه عشراً في عشرٍ إلى أن قال: ثم إن النجاسة إذا وقعت في الحوض الكبير كيف يتوضأ منه؟
فنقول: النجاسة لا تخلوا إما أن تكون مرئيّة أو غير مرئيّة، فإن كنت مرئيّة كالجيفة ونحوها
ذكر في ظاهر الرواية أنه لا يتوضأ من الجانب الذي فيه الجيفة، ويتوضأ من الجانب الآخر، ومعناه أنه يترك من موضع النجاسة بقدر حوض صغير، ثم يتوضأ كما فسره في الإملاء عن أبي حنيفة؛ لأنا تيقنا بالنجاسة في ذلك الجانب وشككنا فيما وراءه. وروي عن أبي يوسف أنه يجوز التوضؤ من أي جانب كان إلا إذا تغير لونه أو طعمه أو ريحه؛ لأن حكمه حكم الماء الجاري، ولو وقعت الجيفة في وسط الحوض على قياس ظاهر الرواية إن كان بين الجيفة وبين كل جانب في الحوض مقدار ما لا يخلص بعضهم إلى بعض يجوز التوضؤ فيه، وإلا فلا لما ذكرنا،
--------------------------------------------
মাশায়েখগণ (উস্তাদগণ) এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন। শেখ আবু হাফস আল-কাবীর আল-বুখারী (১) রঙের মাধ্যমে বিশুদ্ধতা বিবেচনা করেছেন। আবু নাসর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সাল্লাম (২) বারবার ব্যবহারের মাধ্যমে তা বিবেচনা করেছেন। আবু সুলায়মান আল-জাওযানি (৩) আয়তন বা পরিমাপের ভিত্তিতে তা বিবেচনা করেছেন এবং বলেছেন: যদি দশ হাত দীর্ঘ ও দশ হাত প্রস্থ হয়, তবে তা এমন পানি যার এক দিকের অপবিত্রতা অন্য দিকে পৌঁছে না, আর যদি এর চেয়ে কম হয় তবে তা এমন পানি যার এক দিকের অপবিত্রতা অন্য দিকে পৌঁছে যায়। আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক প্রথমে দশ হাত এবং পরবর্তীতে পনের হাত বিবেচনা করেছেন। আবু মুতি’ এই মত পোষণ করেছেন এবং বলেছেন: যদি পনের হাত দীর্ঘ ও পনের হাত প্রস্থ হয় তবে আমি আশা করি তা জায়েজ হবে, আর যদি বিশ হাত দীর্ঘ ও বিশ হাত প্রস্থ হয় তবে এ ব্যাপারে আমার মনে কোনো সংশয় থাকবে না। ইমাম মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর মসজিদের পরিমাপ দিয়ে এটি নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর মসজিদটি ছিল আট হাত দীর্ঘ ও আট হাত প্রস্থ এবং মুহাম্মদ বিন সালামাহ এই মতটি গ্রহণ করেছেন। কারো মতে তাঁর মসজিদটি ছিল দশ হাত দীর্ঘ ও দশ হাত প্রস্থ। আবার কেউ কেউ বলেছেন, তাঁর মসজিদটি পরিমাপ করে দেখা গেছে যে,
এর ভেতরটি আট হাত দীর্ঘ ও আট হাত প্রস্থ এবং বাইরের অংশ দশ হাত দীর্ঘ ও দশ হাত প্রস্থ। গ্রন্থকার বলেন: অতঃপর যদি কোনো বড় হাউজে অপবিত্রতা (নাজাসাত) পতিত হয়, তবে সেখান থেকে কীভাবে অজু করা হবে?
আমরা বলব: অপবিত্রতা (নাজাসাত) দুই ধরনের অবস্থা থেকে খালি নয়, হয় তা দৃশ্যমান হবে অথবা দৃশ্যমান হবে না। যদি তা মৃত পশুর দেহ বা এই জাতীয় দৃশ্যমান অপবিত্রতা হয়,
তবে প্রকাশ্য বর্ণনা (ظاهر الرواية) অনুযায়ী উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাউজের যে পাশে মৃত পশুর দেহটি রয়েছে সে পাশ থেকে অজু করা যাবে না, বরং অন্য পাশ থেকে অজু করতে হবে। এর অর্থ হলো, অপবিত্রতার স্থান থেকে একটি ছোট হাউজ পরিমাণ জায়গা ছেড়ে দিতে হবে এবং এরপর অজু করবে, যেমনটি আবু হানিফা থেকে 'আল-ইমলা' গ্রন্থে ব্যাখ্যা করা হয়েছে; কারণ আমরা ওই পাশের অপবিত্রতা সম্পর্কে নিশ্চিত এবং এর বাইরের অংশ সম্পর্কে সন্দিহান। ইমাম আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, হাউজের যেকোনো পাশ থেকে অজু করা জায়েজ যতক্ষণ না পানির রঙ, স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তন হয়; কারণ এর বিধান প্রবহমান পানির বিধানের মতো। আর যদি মৃত পশুর দেহটি হাউজের মাঝখানে পড়ে, তবে প্রকাশ্য বর্ণনা (ظاهر الرواية) এর কিয়াস অনুযায়ী যদি মৃত পশুর দেহ এবং হাউজের প্রতিটি কিনারের মধ্যবর্তী দূরত্ব এমন হয় যে এক দিকের পানি অন্য দিকে পৌঁছায় না, তবে সেখানে অজু করা জায়েজ হবে, অন্যথায় জায়েজ হবে না; যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وإن كانت غير مرئيّة بأن بال فيها إنسان أو اغتسل جنب اختلف المشايخ فيه قال مشايخ العراق: أن حكمه حكم المرئيّة حتى لا يتوضأ من ذلك الجانب، وإنما يتوضأ من الجانب الآخر لما ذكرنا
(ق5/ ب) في المرئيّة بخلاف الماء الجاري؛ لأنه ينقل النجاسة من موضع إلى موضع، فلم يتيقن بالنجاسة في موضع الوضوء، ومشايخنا مما وراء النهر فصلوا بينهما في غير المرئية أنه يتوضأ من أي جانب كان كما قالوا جميعاً في الماء الجاري وهو الأصح؛ لأن غير المرئية لا يستقر في الجانب الذي يتوضأ منه، فلا يحكم بنجاسة بالشك على الأصل المعهود أن اليقين لا يزول بالشك بخلاف المرئية.
… انتهى
وكان قبل هذا قال فإن وقع في الماء، فإن كان جارياً فإن كان جارياً، فإن النجس غير مرئي كالبول، والخمر ونحوهما لا ينجس ما لم يتغير لونه أو طعمه أو ريحه، ويتوضأ منه من أي موضع كان من الجانب الذي وقع فيه النجس أو من الجانب الآخر كذا ذكره محمد في كتاب "الأشربة" لو أن رجلاً
صب خابية من خمر في الفرات ورجل آخر أسفل منه يتوضأ به إن تغير لونه أو طعمه أو ريحه لا يجوز، وإن لم يتغير يجوز، وعن أبي حنيفة في جاهل بال في الماء الجاري، ورجل أسفل منه يتوضأ به. قال: لا بأس به، وهذا لأن الماء الجاري مما لا يخلص بعضه إلى بعض فالماء الذي يتوضأ منه يحتمل أنه نجس ويحتمل أنه طاهر، والماء طاهر في الأصل فلا يحكم بنجاسة بالشك، وإن كانت النجاسة مرئيّة الجيفة ونحوها، فإن كان جميع الماء يجري على الجيفة لا يجوز الوضوء من أسفل الجيفة لا (1) نجس بيقين والنجس لا يطهر بالجريان، وإن كان أكثره يجري على الجيفة، فكذلك لأن العبرة للغالب، وإن كان أقله يجري على الجيفة والأكثر يجري على الطاهر يجوز التوضؤ به من أسفل الجيفة؛ لأن المغلوب ملحق بالعدم في أحكام الشرع، وإن كان يجري عليها النصف أو دون النصف، فالقياس أن يجوز التوضؤ به؛ لأن الماء كله طاهر بيقين، فلا يحكم بقوله (2) نجساً بالشك، وفي الاستحسان لا يجوز
(ق6 / أ) احتياطاً. انتهى
وفيه ما في الأول وزيادة، وأنا أبين لك ذلك: قوله: وقال أصحاب الظواهر أن الماء لا ينجس بوقوع
النجاسة يتبادر منه أنه يجوز استعماله عندهم؛ حيث لم يحكم يتنجيسه، وليس كذلك بل قالوا: لا
--------------------------------------------
এবং যদি তা অদৃশ্য (غير مرئية) হয়, যেমন তাতে কোনো মানুষ প্রস্রাব করে অথবা কোনো জুনুব (جنب) ব্যক্তি গোসল করে, তবে মাশায়েখগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন। ইরাকি মাশায়েখগণ বলেছেন: এর বিধান দৃশ্যমান (المرئية) অপবিত্রতার বিধানের মতোই, যাতে সেই দিক থেকে অজু না করা হয়; বরং অন্য দিক থেকে অজু করবে যেমনটি আমরা দৃশ্যমান (المرئية) অপবিত্রতার ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি। তবে প্রবহমান পানির (الماء الجاري) বিষয়টি ভিন্ন; কারণ তা অপবিত্রতাকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেয়, ফলে অজুর স্থানে অপবিত্রতা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত (اليقين) হওয়া যায় না। আর মাওয়ারাউন্নাহার অঞ্চলের আমাদের মাশায়েখগণ অদৃশ্য (غير مرئية) অপবিত্রতার ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন যে, যেকোনো দিক থেকেই অজু করা যাবে, যেমনটি প্রবহমান পানির (الماء الجاري) ক্ষেত্রে তাঁরা সকলে বলেছেন। আর এটিই অধিক বিশুদ্ধ (الأصح); কারণ অদৃশ্য (غير مرئية) নাজাসাত যে দিক থেকে অজু করা হচ্ছে সেখানে স্থির থাকে না। সুতরাং সুপরিচিত মূলনীতির (الأصل) ওপর ভিত্তি করে সন্দেহের (الشك) কারণে অপবিত্রতার হুকুম দেওয়া যাবে না যে, 'নিশ্চয়তা (اليقين) সংশয় (الشك) দ্বারা দূরীভূত হয় না'—দৃশ্যমান (المرئية) নাজাসাতের বিষয়টি এর বিপরীত।
… সমাপ্ত।
(পৃ. ৫/ খ) এবং এর আগে তিনি বলেছিলেন, যদি তা পানিতে পড়ে, আর পানি যদি প্রবহমান হয় এবং নাজাসাত যদি প্রস্রাব, মদ বা অনুরূপ অদৃশ্য (غير مرئية) কিছু হয়, তবে তার বর্ণ, স্বাদ বা ঘ্রাণ পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত তা অপবিত্র হবে না। এমতাবস্থায় যে কোনো স্থান থেকে অজু করা যাবে, চাই তা অপবিত্রতা পড়ার দিক হোক বা অন্য পাশ থেকে হোক। ইমাম মুহাম্মদ 'কিতাবুল আশরিবা' গ্রন্থে এভাবেই উল্লেখ করেছেন যে, যদি কোনো ব্যক্তি
ফোরাত নদীতে এক মটকা মদ ঢেলে দেয় এবং অন্য এক ব্যক্তি তার নিচের দিকে সেই পানি দিয়ে অজু করে, তবে যদি পানির বর্ণ, স্বাদ বা ঘ্রাণ পরিবর্তিত হয় তবে তা বৈধ হবে না, আর যদি পরিবর্তিত না হয় তবে তা বৈধ হবে। ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণিত হয়েছে এমন এক অজ্ঞ ব্যক্তি সম্পর্কে যে প্রবহমান পানিতে প্রস্রাব করেছে এবং অন্য এক ব্যক্তি তার নিচের দিকে তা দিয়ে অজু করছে। তিনি বললেন: এতে কোনো অসুবিধা নেই। এটি এ কারণে যে, প্রবহমান পানির এক অংশ অন্য অংশের সাথে মিশে যায় না, ফলে যে পানি দিয়ে অজু করা হচ্ছে তা অপবিত্র হওয়ার যেমন সম্ভাবনা রয়েছে তেমনি পবিত্র হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। আর পানি মূলত পবিত্র (الطاهر), তাই সন্দেহের (الشك) বশবর্তী হয়ে নাপাকির হুকুম দেওয়া যাবে না। আর যদি অপবিত্রতা দৃশ্যমান (المرئية) হয় যেমন মৃতদেহ বা অনুরূপ কিছু, এবং সমস্ত পানি সেই মৃতদেহের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তবে মৃতদেহের নিচের দিক থেকে অজু করা বৈধ হবে না; কারণ তা নিশ্চিতভাবে (بيقين) অপবিত্র এবং প্রবহমানতার কারণে অপবিত্র বস্তু পবিত্র হয় না। আর যদি পানির অধিকাংশ মৃতদেহের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তবে হুকুম একই হবে, কারণ আধিক্যের (الغالب) বিষয়টিই ধর্তব্য। আর যদি পানির সামান্য অংশ মৃতদেহের ওপর দিয়ে যায় এবং অধিকাংশ অংশ পবিত্র প্রবাহের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তবে মৃতদেহের নিচ থেকে অজু করা বৈধ; কারণ শরিয়তের বিধানে লঘিষ্ঠ অংশ অস্তিত্বহীন হিসেবে গণ্য। আর যদি অর্ধেক বা অর্ধেকের কম ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তবে কিয়াস (القياس) অনুযায়ী অজু করা বৈধ; কারণ সমস্ত পানি নিশ্চিতভাবে (بيقين) পবিত্র, তাই সন্দেহের (الشك) ভিত্তিতে তা অপবিত্র বলা যাবে না। আর ইসতিহসান (الاستحسان) অনুযায়ী সতর্কতাস্বরূপ (احتياطاً) তা বৈধ হবে না।
(পৃ. ৬ / ক) সমাপ্ত।
এতে প্রথম বিষয়ের আলোচনা এবং অতিরিক্ত কিছু রয়েছে। আমি আপনার কাছে তা স্পষ্ট করছি: তাঁর বক্তব্য: 'আসহাবুয যাহের মনে করেন যে, অপবিত্রতা পড়ার কারণে পানি অপবিত্র হয় না'—এ থেকে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় যে, তাদের নিকট তা ব্যবহার করা বৈধ; যেহেতু তারা একে অপবিত্র হওয়ার হুকুম দেননি। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়; বরং তারা বলেছেন: না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ينجس الجواهر الماسة في نفسها، ولكن لا تستعمل لاتصال النجاسة بها، وعدم إمكان تمييزها من النجاسة قال الحافظ علي بن حزم (1) في كتابه المسمى بالمحلي: "وأما إذا تغير لون الحلال الطاهر بماء مازجه من نجس أو حرام وتغير طعمه بذلك أو تغير ريحه بذلك، فإنا حينئذ لا نقدر على استعمال الحلال إلا باستعمال الحرام، واستعمال الحرام في الأكل والشرب وفي الصلاة حركة (2) -كما قلنا- وكذلك وجب الامتناع منه لا لأن الحلال الطاهر حرم وتنجست عينه، ولو قدرنا على تخليص الحلال الطاهر من الحرام النجس لكان حلالاً بحسبه. قوله: وإن كان كثيراً لا ينجس هذا لم يقل به العامة هكذا بل قيدوه بعدم التغير، فقالوا: لا ينجس ما لم يتغير.
قوله، وقال أصحابنا إن كان بحال يخلص بعضه إلى بعض فهو قليل، وإن كان لا يخلص فهو كثير هذا يوهم أن أصحابنا يقولون في الكثير أنه لا ينجس جميعه، وليس كذلك وفروعهم ناطقة بأنه ينجس كله التقديري وبعضه الحقيقي كما مر، وسنحقق هذا إن شاء الله تعالى. وأما وساق حديث المستيقظ، وفيه ما قاله شيخنا في شرح الهداية (3): "قلنا: ليس فيه تصريح بتنجس الماء بتقدير كون اليد نجسة، بل ذلك تعليل منا للنهي المذكور، وهو غير لازم، أعني تعليله بتنجس الماء عيناً بتقدير نجاستها بجواز كونه الأعم من النجاسة والكراهة فنقول: نهى لتنجس الماء بتقدير كونها متنجسة
--------------------------------------------
স্বভাবগতভাবে এটি মৌলিক পদার্থগুলোকে অপবিত্র (نجس) করে না, কিন্তু নাপাকি (نجاسة) এর সাথে মিশে যাওয়ার কারণে এবং নাপাকি থেকে একে পৃথক করা সম্ভব না হওয়ার ফলে এটি ব্যবহার করা যায় না। হাফেজ (حافظ) আলী ইবনে হাজম (১) তাঁর আল-মুহাল্লা নামক কিতাবে বলেছেন: "আর যদি কোনো হালাল ও পবিত্র (طاهر) বস্তুর রঙ এর সাথে মিশ্রিত কোনো অপবিত্র (نجس) বা হারাম পানির কারণে পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং এর দ্বারা তার স্বাদ বা ঘ্রাণ পরিবর্তিত হয়, তবে সেই অবস্থায় আমরা হারাম ব্যবহার করা ব্যতীত হালাল ব্যবহার করতে সমর্থ হই না। আর পানাহারে এবং সালাতে হারামের ব্যবহার একটি ক্রিয়া (حركة) (২) -যেমনটি আমরা বলেছি- আর একইভাবে তা থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। এটি এজন্য নয় যে, হালাল ও পবিত্র (طاهر) বস্তু হারামে পরিণত হয়েছে বা তার সত্তা অপবিত্র (نجس) হয়ে গেছে। যদি আমরা অপবিত্র (نجس) হারাম থেকে হালাল ও পবিত্র (طاهر) বস্তুকে মুক্ত করতে সক্ষম হতাম, তবে তা সেই অনুযায়ী হালালই থাকত।" তাঁর বক্তব্য: "আর যদি তা পরিমাণে বেশি (كثير) হয় তবে তা অপবিত্র (نجس) হবে না"—সাধারণ আলেমগণ কথাটি এভাবে ঢালাওভাবে বলেননি, বরং তাঁরা একে পরিবর্তনের অনুপস্থিতির সাথে শর্তযুক্ত করেছেন। তাঁরা বলেছেন: যতক্ষণ পরিবর্তিত না হয়, ততক্ষণ তা অপবিত্র (نجস) হবে না।
তাঁর বক্তব্য: "এবং আমাদের সাথীরা (أصحابنا) বলেছেন যে, যদি অবস্থা এমন হয় যে এর এক অংশ অন্য অংশের সাথে মিশে যায়, তবে তা অল্প (قليل), আর যদি না মিশে তবে তা বেশি (كثير)"—এটি এই বিভ্রম সৃষ্টি করে যে, আমাদের সাথীরা 'বেশি' এর ক্ষেত্রে বলেন যে এর পুরোটা অপবিত্র (نجس) হয় না। অথচ বিষয়টি এমন নয়। তাঁদের শাখা-মাসআলাগুলো স্পষ্টভাবে বলছে যে, এর অনুমিত পুরো অংশ এবং বাস্তবিক কিছু অংশ অপবিত্র (نجস) হয়ে যায়, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমরা সামনে এটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। আর তিনি ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া ব্যক্তির হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, সেখানে আমাদের শায়খ শারহুল হিদায়া (৩)-তে যা বলেছেন তা হলো: "আমরা বলেছি: হাত অপবিত্র হওয়ার অনুমানের ভিত্তিতে পানি অপবিত্র (نجس) হওয়ার ব্যাপারে এতে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য নেই। বরং এটি উক্ত নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে আমাদের একটি কারণ বিশ্লেষণ (تعليل), যা অপরিহার্য নয়। অর্থাৎ, হাতের নাপাকির অনুমানের ভিত্তিতে পানির সত্তা অপবিত্র (نجس) হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ (تعليل) করা জরুরি নয়; কারণ এটি নাপাকি (نجاسة) ও মাকরূহ (كراهة) উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। তাই আমরা বলি: হাত অপবিত্র (نجس) হওয়ার অনুমানের ভিত্তিতে পানি অপবিত্র হওয়ার আশঙ্কায় তিনি নিষেধ করেছেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
بماء غيِّر (1) ولكراهة (2) بتقدير كونها بما لا يغير". انتهى (3)
قوله: "وكذا الأخبار مستفيضة في الأمر بغسل الإناء من ولوغ الكلب". فيه أن الأمر بالغسل لا يلزم وأن يكون للنجاسة؛ (ق6 / ب) لجواز أن يكون لمنع تعدى خبث الطبع.
قوله: وروي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: لا يبولن أحدكم في الماء الدائم ولا يغتسل فيه من نجاسة (4) من غير فصل دائم ودائم
… الخ يقال عليه: انظر هل أنت من أكبر مخالفي هذا الحديث؛ حيث قلت أنت ومشايخك: أنه يتوضأ من الجانب الآخر في المرئيّة ويتوضأ من أي جانب كان في غير المرئية، كما إذا بال فيه إنسان أو اغتسل جنب. أم أنت من العاملين به؟! فإنه لا أعجب ممن يستدل بحديث هو أحد من خالفه. قوله: وعن ابن عباس وابن الزبير رضي الله عنهما أنهما أمرا في زنجي وقع في بئر زمزم بنزح الماء كله (5)، ولم يظهر أثره في الماء. قوله: من قبل تفسد لا من الأثر المروي. قال الشافعي في "القديم": قد رويتم عن ابن عباس رفعه: "الماء لا ينجسه شيء" افتراء أن ابن عباس روي عن النبي صلى الله عليه وسلم – خبرا وتركه إن كانت هذه رواية وتروون عنه أنه توضأ من غدير يدافع جيفة وتروون عنه "الماء لا ينجس"، فإن كان شيئاً من هذا صحيحاً فهو يدل على أنه لم ينزح زمزم للنجاسة، ولكن للتنظيف إن كان فعل، وزمزم للشرب، وقد يكون الدم ظهر على الماء حتى رأى فيه. انتهى
قوله: ولم ينكر عليهما أحد، فانعقد الإجماع من الصحابة على ما قلنا، وإذا كان من يرى أنها لا يتنجس يرى بجواز ذلك للتنظيف والتطيب كيف ينكره. قوله، وعرف بهذا الإجماع أن المراد مما رواه مالك هو الماء الكثير والجاري، فقال: فإذا كان المراد الكثير والجاري فكيف ساغ مخالفته في الجيفة الواقعة في الماء الجاري أو الكثير الراكد. قوله: وبه تبين أن ما رواه الشافعي غير ثابت؛ لكونه مخالفاً لإجماع الصحابة فيه ما تقدم. قوله: ولهذا رجع أصحابنا في التقدير إلى الدلائل الحسيّة.
--------------------------------------------
এমন পানি দ্বারা যা পরিবর্তন করে (১) এবং অপছন্দনীয়তার (২) কারণে, এটি এমন বস্তুর দ্বারা হওয়ার অনুমানের ভিত্তিতে যা (পানির গুণাগুণ) পরিবর্তন করে না। সমাপ্ত (৩)
তাঁর উক্তি: "অনুরূপভাবে কুকুরের চাটন থেকে পাত্র ধৌত করার নির্দেশের ব্যাপারে সংবাদসমূহ বহুল প্রচলিত (مستفيضة)"। এতে কথা হলো যে, ধৌত করার নির্দেশটি অপবিত্রতার (نجاسة) কারণে হওয়া আবশ্যক নয়; (পত্র ৬ / খ) বরং তা স্বভাবজাত অপবিত্রতার সংক্রমণ রোধ করার জন্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাঁর উক্তি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন স্থির পানিতে প্রস্রাব না করে এবং অপবিত্রতা (نجاسة) থেকে সেখানে গোসল না করে (৪)"—স্থির পানি ও প্রবাহমান পানির মধ্যে কোনো পার্থক্য না করে... ইত্যাদি। এর বিপরীতে বলা হয়: দেখুন, আপনি কি এই হাদিসের বড় বিরোধীদের অন্তর্ভুক্ত নন? যেহেতু আপনি এবং আপনার মাশায়েখগণ বলেছেন: দৃশ্যমান (অপবিত্রতার) ক্ষেত্রে অন্য প্রান্ত থেকে অজু করা যাবে এবং অদৃশ্যমান ক্ষেত্রে যেকোনো প্রান্ত থেকে অজু করা যাবে, যেমনটা যদি কোনো মানুষ তাতে প্রস্রাব করে বা কোনো জুনুব (অপবিত্র ব্যক্তি) গোসল করে। নাকি আপনি এর ওপর আমলকারীদের অন্তর্ভুক্ত?! কেননা এমন ব্যক্তির ওপর আশ্চর্যের শেষ নেই যে এমন হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করে যার সে নিজেই অন্যতম বিরোধী। তাঁর উক্তি: ইবনে আব্বাস ও ইবনে জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, তাঁরা জমজম কূপে এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি পড়ে যাওয়ার ঘটনায় সমস্ত পানি সেঁচে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন (৫), অথচ পানিতে তার কোনো প্রভাব প্রকাশ পায়নি। তাঁর উক্তি: এটি নষ্ট হওয়ার দিক থেকে, বর্ণিত আসার (أثر) থেকে নয়। ইমাম শাফেয়ি 'আল-কাদিম'-এ বলেছেন: আপনারা ইবনে আব্বাস থেকে মারফু (رفعه) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "পানিকে কোনো কিছু অপবিত্র করে না"। এটি একটি অপবাদ যে ইবনে আব্বাস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি খবর (خبر) বর্ণনা করবেন এবং পরে তা ছেড়ে দেবেন যদি এটি একটি বর্ণনা (رواية) হয়ে থাকে; অথচ আপনারা তাঁর থেকে বর্ণনা করছেন যে তিনি এমন এক জলাশয় থেকে অজু করেছেন যা মৃতদেহকে সরিয়ে দিচ্ছিল এবং আপনারা তাঁর থেকে বর্ণনা করছেন যে "পানি অপবিত্র হয় না"। সুতরাং এর কোনো কিছু যদি সহিহ (صحيح) হয়, তবে তা প্রমাণ করে যে তিনি জমজমের পানি অপবিত্রতার (نجاسة) কারণে সেঁচে ফেলেননি, বরং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য করেছিলেন যদি তিনি তা করে থাকেন; আর জমজম হলো পানের জন্য। আর কখনো এমন হতে পারে যে পানির ওপর রক্ত প্রকাশ পেয়েছিল যা তিনি তাতে দেখেছিলেন। সমাপ্ত
তাঁর উক্তি: এবং তাঁদের উভয়ের ওপর কেউ আপত্তি করেননি, ফলে আমরা যা বলেছি তার ওপর সাহাবায়ে কেরামের ইজমা (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর যদি এমন কেউ থাকেন যিনি মনে করেন যে পানি অপবিত্র হয় না, তবুও তিনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতার জন্য এটি জায়েজ মনে করেন, তবে তিনি কীভাবে তা অস্বীকার করবেন। তাঁর উক্তি: এবং এই ইজমা (إجماع) দ্বারা জানা গেল যে, ইমাম মালিক যা বর্ণনা করেছেন তার উদ্দেশ্য হলো প্রচুর পানি ও প্রবাহমান পানি। তিনি বললেন: যদি উদ্দেশ্য প্রচুর ও প্রবাহমান পানি হয়, তবে প্রবাহমান পানিতে বা প্রচুর স্থির পানিতে পড়া মৃতদেহের ক্ষেত্রে তাঁর বিরোধিতা করা কীভাবে বৈধ হলো? তাঁর উক্তি: এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, ইমাম শাফেয়ি যা বর্ণনা করেছেন তা অপ্রমাণিত (غير ثابت); যেহেতু তা সাহাবায়ে কেরামের ইজমা (إجماع)-এর পরিপন্থী যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। তাঁর উক্তি: আর একারণেই আমাদের সাথীগণ পরিমাপের ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য দলিলের দিকে ফিরে গেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
(ق7 / أ) قلت: لم يجعل أحد من علماؤنا الثلاثة الأمور الحسيّة المذكورة دليلاً على الكثيرة، وإنما جعلوا ذلك دليلاً على سريان النجاسة، وليس عند أبي حنيفة أن الكثير لا ينجس جميعه، بل فروعه ناطقة بخلافه. قال الإمام محمد بن الحسن (1) في "الأصل" (2): "وإذا وقعت الجيفة أو غيرها من النجاسات في حوض صغير لم (3) يخلص بعضه إلى بعض لم يستعمل، وإن كان كبير لا يخلص بعضه إلى بعض فلا بأس بأن يتوضأ من ناحية أخرى. وقال الإمام أبو يوسف (4) في "الإملاء": قال أبو حنيفة في حوض مسبغة إذا حرك ناحية منه لم تضطرب الناحية الأخرى، فهذا لا ينجسه بول يقع فيه، أو دم، أو جيفة إلا ذلك الموضع وإذا كان يرى بتنجس موضع الوقوع من الماء الكثير كيف يكون قائلاً بأن الكثير لا ينجس كالشافعي رحمه الله في القلتين، ومالك في ما يكون بحال لا يتغير
بالاختلاط ينجس، وسأنبهك على سر المسألة عنده إن شاء الله تعالى. قوله: ثم اختلفوا في تفسر الخلوص
… الخ هذا ظاهر في أن مراده خلوص الماء بعضه إلى بعض، وليس هو المنظهر إليه لذاته
--------------------------------------------
(পৃষ্ঠা ৭/ক) আমি বলছি: আমাদের তিন আলেম (ইমাম)-এর কেউ উল্লেখিত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়গুলোকে পানির আধিক্যের প্রমাণ হিসেবে সাব্যস্ত করেননি, বরং তাঁরা সেগুলোকে অপবিত্রতা (نجاسة) সঞ্চারিত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ইমাম আবু হানিফার নিকট এমনটি নয় যে, পানির পরিমাণ অধিক হলে তার সম্পূর্ণ অংশ অপবিত্র হয় না; বরং তাঁর ফিকহশাস্ত্রের শাখা বিষয়াদি (فروع) এর বিপরীত সাক্ষ্যই দেয়। ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসান (১) 'আল-আসল' (২) গ্রন্থে বলেছেন: "যদি কোনো মৃতদেহ বা অন্য কোনো অপবিত্রতা (نجاسة) এমন ছোট হাউজে পড়ে যার এক অংশের পানি অন্য অংশে পৌঁছে, তবে তা ব্যবহার করা যাবে না। আর যদি হাউজটি বড় হয় এবং এক অংশের পানি অন্য অংশে না পৌঁছে, তবে অন্য দিক থেকে অজু করায় কোনো দোষ নেই।" ইমাম আবু ইউসুফ (৪) 'আল-ইমলা' গ্রন্থে বলেছেন: আবু হানিফা পশুপাখির পানি পানের হাউজ সম্পর্কে বলেছেন যে, যদি এর এক পাশ নাড়ালে অন্য পাশ আন্দোলিত না হয়, তবে তাতে প্রস্রাব, রক্ত বা মৃতদেহ পড়লে কেবল ওই স্থানটি ছাড়া বাকি অংশ অপবিত্র (نجاسة) হবে না। যখন তিনি বড় জলাশয়ের ক্ষেত্রেও যে স্থানে অপবিত্রতা পড়েছে সে স্থানটি অপবিত্র (نجاسة) হওয়ার মত পোষণ করেন, তখন কীভাবে বলা যায় যে তিনি ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর মতো বড় জলাশয় অপবিত্র হয় না বলে মনে করেন (যেমনটি দুই কুল্লা (قلتين)-এর ক্ষেত্রে ইমাম শাফিঈর মত), অথবা ইমাম মালিকের মতো মনে করেন (যিনি মিশ্রণের ফলে কোনো পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তা অপবিত্র (نجاسة) না হওয়ার কথা বলেন)? আমি অচিরেই ইনশাআল্লাহ এ বিষয়ে তাঁর (আবু হানিফার) মূল রহস্যটি আপনাকে অবহিত করব। তাঁর বক্তব্য: "অতঃপর তাঁরা পৌঁছানো বা মিশ্রিত হওয়ার (خلوص) ব্যাখ্যায় মতভেদ করেছেন..." ইত্যাদি। এটি স্পষ্ট যে, তাঁর উদ্দেশ্য হলো পানির এক অংশ অন্য অংশের সাথে মিশে যাওয়া, আর এটি মূলত নিজস্ব সত্তার কারণে লক্ষ্যবস্তু নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
عند أبي حنيفة -رحمه الله تعالى-، وإ نما المنظور إليه عنده في نفس الأمر الشيوع بالنجاسة، إلا أنه لما كان في غير المرئيّة أمراً خفياً نظر إلى ما يدل عليه وهو إما خلوص الماء بنفسه أو الحركة بما ذكر،
وغيره استدل على خلوصها الباطن بالصبغ الظاهر أو التكرير، كما نقل، وبعضهم خمن أنها لا تخلص إلى مقدار عشرة أذرع، وبعضهم خمسة عشر كما نقلت عنهم، وهذا مما وعدتك بالتنبيه عليه.
قال شيخ الإسلام أبو بكر خُوَاهَر زَادَه (1) في كتابه المسمى بـ "المبسوط": واختلفوا بعد هذا بأي سبب يعرف خلوص النجاسة إلى الجانب فاتفقت الروايات عن علمائنا الثلاثة أنه يعتبر بالتحريك واختلفوا في سببه
وبهذا تبين ما قدمته
(ق7 / ب) لك من أن الدلائل المذكورة دلائل خلوص النجاسة لا دلائل الكثرة التي لا يكون معها التنجس إلا بالظهور كما زعم من لم يحقق سر المسألة عند أبي حنيفة -رحمه الله تعالى- وعبارة الاختيار والتحفة والبدائع ومن تبعهما صريحة في أن المراد خلوص الماء في الجانب الآخر، وأنه دليل الكثرة،
وحيث علمت هذا علمت أن نظر الإمام بعد سطح الماء لا إلى العمق، فظهر عدم صحة ما صححه من أنه إذا لم يكن له عرض
… الخ. رد عند تقارب الجوانب يعم السريان، والله أعلم.
وممن ظن صحة هذا التقسيم المذكور في أول المسألة قال شيخنا في "شرح الهداية" مما استدل به المصنف للمذهب من قوله صلى الله عليه وسلم: "لا يبولن أحدكم في الماء الراكد"؛ لحديث "لا يمس" محل الخلاف، وهذا لأن حقيقة الخلاف إنما هو في تقدير الكثير الذي يتوقف تنجسه على تغيره. انتهى وأنا أقول: أن هذا التقدير لا يعرف عن أبي حنيفة رحمه الله
--------------------------------------------
ইমাম আবু হানিফা -রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা- এর নিকট মূল বিবেচ্য বিষয় হলো বাস্তবে নাপাকি ছড়িয়ে পড়া। তবে অদৃশ্য নাপাকির ক্ষেত্রে যেহেতু বিষয়টি গোপন থাকে, তাই তিনি এমন কিছু আলামতের দিকে লক্ষ করেছেন যা নাপাকি পৌঁছে যাওয়ার প্রমাণ দেয়; আর তা হলো হয় পানির নিজস্ব প্রবাহ বা উল্লিখিত নাড়াচাড়া।
অন্যরা অভ্যন্তরীণভাবে নাপাকি পৌঁছানোর প্রমাণ হিসেবে বাহ্যিক রঙের পরিবর্তন বা পানির পুনরাবৃত্তিকে (তকরির) গ্রহণ করেছেন, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে। কেউ কেউ অনুমান করেছেন যে নাপাকি দশ হাত পর্যন্ত পৌঁছাবে না, আবার কারো মতে তা পনেরো হাত পর্যন্ত, যেমনটি তাঁদের থেকে উদ্ধৃত হয়েছে। এটিই সেই বিষয় যা নিয়ে আপনাকে সতর্ক করার প্রতিশ্রুতি আমি দিয়েছিলাম।
শাইখুল ইসলাম আবু বকর খাওয়াহার জাদা (১) তাঁর "আল-মাবসুত" নামক কিতাবে বলেছেন: এর পরে তাঁরা মতভেদ করেছেন যে, কোন কারণের ভিত্তিতে অপর প্রান্তে নাপাকি পৌঁছানোর বিষয়টি জানা যাবে? আমাদের তিনজন ইমামের বর্ণনাসমূহ (الروايات) একমত হয়েছে যে, নাড়াচাড়ার মাধ্যমে এটি গণ্য করা হবে; তবে তাঁরা এর কারণ নিয়ে মতভেদ করেছেন।
এর মাধ্যমেই আপনার কাছে স্পষ্ট হলো যা আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি
(পৃষ্ঠা ৭ / খ) যে, উল্লিখিত প্রমাণাদি হলো নাপাকি পৌঁছানোর দলিল, পানির আধিক্যের দলিল নয় যা কেবল নাপাকি প্রকাশ পাওয়ার মাধ্যমেই অপবিত্র হয়—যেমনটি এমন ব্যক্তি ধারণা করেছেন যিনি ইমাম আবু হানিফা -রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা- এর নিকট এই মাসআলার রহস্য অনুধাবন করতে পারেননি। আর আল-ইখতিয়ার, আত-তুহফা, আল-বাদাই এবং এগুলোর অনুসারী কিতাবসমূহের বক্তব্য এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট যে, এর উদ্দেশ্য হলো অপর প্রান্তে স্বচ্ছ পানি পৌঁছানো এবং এটি আধিক্যের প্রমাণ।
যখন আপনি এটি জানলেন, তখন বুঝতে পারলেন যে ইমামের দৃষ্টি ছিল পানির উপরিভাগের বিস্তৃতির দিকে, গভীরতার দিকে নয়। ফলে এটি স্পষ্ট হয়ে গেল যে, যা সঠিক বলা হয়েছে তা সঠিক নয়—যেমন যখন পানির কোনো প্রশস্ততা থাকবে না
… ইত্যাদি। পার্শ্বসমূহ নিকটবর্তী হওয়ার ক্ষেত্রে নাপাকি ছড়িয়ে পড়াটিই ব্যাপক বিষয়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
আর যাঁরা মাসআলার শুরুতে উল্লিখিত এই বিভাগটি সঠিক মনে করেছেন, তাঁদের মধ্যে আমাদের শাইখ "শারহুল হিদায়া" কিতাবে বলেছেন যে, লেখক মাযহাবের সপক্ষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "তোমাদের কেউ যেন স্থির পানিতে প্রস্রাব না করে।" কেননা "স্পর্শ করবে না" মর্মে বর্ণিত হাদিসটি মতভেদের স্থল। এর কারণ হলো মতভেদের মূল বিষয়টি পানির এমন পরিমাণের নির্ধারণ নিয়ে যা অপবিত্র হওয়া তার পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল। (সমাপ্ত)। আমি বলছি: ইমাম আবু হানিফা -রাহিমাহুল্লাহ- থেকে এ ধরনের পরিমাণ নির্ধারণের বিষয়টি জানা যায় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল ইশতিবাহ মিন মাসায়িলিল মিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
النظر إليه بوجه، وإنما حقيقة مذهبه ما قال الرازي (1) في أحكام القرآن من سورة الفرقان، وهو قوله: وأما الماء الذي خالطته نجاسة، فإن مذهب أصحابنا فيه أن كل ما تيقنا فيه جزء من النجاسة، أو غلب في الظن ذلك لم يجز استعماله ولا يختلف في هذا الحد ماء البحر وماء البئر والغدير والماء الراكد والماء الجاري؛ لأن ماء البحر لو وقعت فيه نجاسة لم يجز استعمال الماء الذي فيه النجاسة، وكذلك الماء الجاري، وأما اعتبار أصحابنا للغدير إ ذا حرك أحد طرفيه لم يتحرك الطرف الآخر، فإنما هو كلام في جهة تغليب الظن في بلوغ النجاسة الواقعة في أحد طرفيه إلى طرف الآخر، وليس هذا كلاما في أن بعض المياه الذي فيه النجاسة قد يجوز استعماله، وبعضها لا يجوز استعماله، ولذلك قالوا: لا يجوز استعمال الماء الذي في الناحية التي فيها النجاسة. انتهى
وهو صريح فيما قلت بخلاف ما زعمه من قدمنا ذكره.
قوله: النجاسة لا تخلوا إما أن تكون مرئيّة أو غير مرئيّة، فإن كانت مرئيّة كالجيفة ونحوها ذكر في ظاهر (ق 8 / أ) الرواية أنه لا يتوضأ من الجانب الذي فيه الجيفة، ويتوضأ من الجانب الآخر هذا خارج عن الأصل الذي قرره، وهو أن الكثير لا تنجس، ومخالف لمحمل الحديث عنده؛ حيث قال:
أن المراد من الكثير والجاري، وكذا قوله: ولو وقعت الجيفة في وسط الحوض، وكذا قوله: وإن كانت غير مرئية على كلا القولين المذكورين لمشايخ العراق ومشايخ ما وراء النهر، وكذا التفصيل المذكور في الجيفة الواقعة في النهر الكبير والصغير كل مخالف للأصل المذكور والحديث. قوله: لأن غير المرئية لا تستقر في الجانب الذي يتوضأ منه، فلا يحكم بنجاسته بالشك على الأصل المعهود، وأن اليقين لا يزول بالشك بخلاف المرئية. هذا إنما يتصور لو كانت النجاسة مستجدة متجسدة، وأما إذا كانت مائعة فهي لمخالطتها الماء في موضع الوقوع نجسة، وانتشرت في غيره وماس المتنجس غيره
--------------------------------------------
এর প্রতি কোনোভাবেই দৃষ্টিপাত করার অবকাশ নেই; বরং তাঁর মাযহাবের প্রকৃত স্বরূপ তাই যা আল-রাজি (১) সূরা আল-ফুরকানের আহকামুল কুরআন গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আর তা হলো তাঁর উক্তি: “আর যে পানির সাথে অপবিত্রতা (نجاسة) মিশ্রিত হয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের মাযহাবের অনুসারীদের অভিমত হলো, যে পানিতে আমরা অপবিত্রতার (نجاسة) কোনো অংশ থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছি অথবা আমাদের প্রবল ধারণা (غلبة الظن) হয়েছে, তা ব্যবহার করা জায়েয নেই। এই সীমানার ক্ষেত্রে সমুদ্রের পানি, কূপের পানি, বড় পুকুর, স্থির পানি ও প্রবহমান পানির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ সমুদ্রের পানিতে যদি অপবিত্রতা (نجاسة) পতিত হয়, তবে সেই অপবিত্রতা (نجاسة) যুক্ত পানি ব্যবহার করা জায়েয হবে না। প্রবহমান পানির ক্ষেত্রেও একই বিধান। আর আমাদের মাযহাবের অনুসারীরা বড় পুকুরের ক্ষেত্রে যে শর্ত দিয়েছেন যে, এর এক প্রান্ত নাড়া দিলে অন্য প্রান্ত নড়ে না, তা মূলত এক প্রান্তের অপবিত্রতা (نجاسة) অপর প্রান্তে পৌঁছানোর বিষয়ে প্রবল ধারণা (تغليب الظن) সৃষ্টির একটি দিক মাত্র। এটি এমন কোনো আলোচনা নয় যে, অপবিত্রতা (نجاسة) যুক্ত কিছু পানি ব্যবহার জায়েয আর কিছু নাজায়েয। একারণেই তাঁরা বলেছেন: যে পাশে অপবিত্রতা (نجاسة) রয়েছে সেদিকের পানি ব্যবহার করা জায়েয নয়।” সমাপ্ত।
এটি আমি যা বলেছি সে বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণ, যা আমরা পূর্বে যার কথা উল্লেখ করেছি তার দাবির পরিপন্থী।
তাঁর উক্তি: “অপবিত্রতা (نجاسة) দৃশ্যমান অথবা অদৃশ্যমান হওয়া থেকে মুক্ত নয়। যদি তা মৃতদেহ বা এই জাতীয় দৃশ্যমান কিছু হয়, তবে জাহিরুর রিওয়ায়াহ (ظاهر الرواية) অনুযায়ী (পৃ. ৮/ক) উল্লেখ করা হয়েছে যে, যে পাশে মৃতদেহ রয়েছে সে পাশ থেকে অজু করা যাবে না, আর অন্য পাশ থেকে অজু করা যাবে।” এটি তাঁর নিজের নির্ধারিত মূলনীতি (أصل) বহির্ভূত বিষয়, যা হলো—‘অধিক পানি অপবিত্র হয় না’; এবং এটি তাঁর নিকট হাদিসের ব্যাখ্যারও পরিপন্থী, যেখানে তিনি বলেছেন:
যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অধিক ও প্রবহমান পানি। অনুরূপভাবে তাঁর উক্তি: “যদি বড় হাউজের মাঝখানে মৃতদেহ পড়ে থাকে...”, এবং তাঁর উক্তি: “যদি তা অদৃশ্যমান হয়...” ইরাকের মাশায়েখ ও মাওরাউননাহারের মাশায়েখদের বর্ণিত উভয় মত অনুযায়ী; এবং বড় নদী ও ছোট নদীতে পতিত মৃতদেহের বর্ণনায় যে বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে—এ সবই উল্লিখিত মূলনীতি (أصل) ও হাদিসের পরিপন্থী। তাঁর উক্তি: “কারণ অদৃশ্যমান অপবিত্রতা (نجاسة) যে পাশ থেকে অজু করা হচ্ছে সে পাশে স্থির থাকে না, ফলে প্রসিদ্ধ মূলনীতি (أصل) অনুযায়ী সন্দেহের ভিত্তিতে একে অপবিত্র (نجس) বলে হুকুম দেওয়া হবে না। আর নিশ্চয়তা সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না (اليقين لا يزول بالشك)—এটি দৃশ্যমান অপবিত্রতার বিপরীত।” এটি কেবল তখনই কল্পনা করা সম্ভব যদি অপবিত্রতাটি (نجاسة) নতুন এবং ঘনীভূত হয়। কিন্তু যদি তা তরল হয়, তবে পতনের স্থানে পানির সাথে সংমিশ্রণের কারণে তা অপবিত্র (نجسة) হয়ে যায় এবং অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে, আর যা অপবিত্র হয়েছে তা অন্য বস্তুকেও স্পর্শ করে।
--------------------------------------------