(খণ্ড: ১)
তাজাদুদুল মাসাররাতি বিল কাসমি বাইনায যাওজাত
(পৃষ্ঠা: -)
تجدد المسرات بالقسم بين الزوجات القسم: مسائل فقهية
الكتاب: تجدد المسرات بالقسم بين الزوجات
المؤلف: حسن بن عمار بن علي الشرنبلالي المصري الحنفي (ت 1069هـ)
المحقق: أبو المنذر المنياوي
الناشر: مخطوط ينشر لأول مرة بالمكتبة الشاملة، 1434 هـ
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للأصل (نسخة المحقق)]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 محرم 1434
তাজদিদুল মাসাররাত বিল কাসমি বাইনায যাওজাত বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: তাজদিদুল মাসাররাত বিল কাসমি বাইনায যাওজাত
গ্রন্থকার: হাসান বিন আম্মার বিন আলী আশ-শুরুনবুলানি আল-মিসরি আল-হানাফি (মৃত্যু ১০৬৯ হিজরি)
গবেষক: আবু আল-মুনজির আল-মিনইয়াওয়ি
প্রকাশক: পাণ্ডুলিপি যা প্রথমবারের মতো আল-মাকতাবাতুশ শামিলাতে প্রকাশিত হয়েছে، ১৪৩৪ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল কপির (গবেষকের কপি)] সাথে সংগতিপূর্ণ
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৬ মুহররম ১৪৩৪
(খণ্ড: ১)
তাজাদুদুল মাসাররাতি বিল কাসমি বাইনায যাওজাত
(পৃষ্ঠা: ১)
الرسالة السادسة عشر
تجدد المسرات بالقسم بين الزوجات
تأليف الفقير حسن الشرنبلالي
(1069 هـ)
عفا الله عنه بمنه وكرمه
آمين
تحقيق
أبي المنذر مَحْمُود بن مُحمَّدِ بن مُصْطَفَى المِنِياوِي
عفا الله تعالى عنه، وعن والديه
ষোড়শ রিসালাহ
স্ত্রীদের মধ্যে পালা বণ্টনের মাধ্যমে আনন্দের নবায়ন
রচনায়: আল-ফাকির হাসান আল-শুরুনবুলালি
(১০৬৯ হিজরি)
আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ ও দাক্ষিণ্যে তাঁকে ক্ষমা করুন
আমিন
পাণ্ডুলিপি যাচাই ও সম্পাদনা
আবু আল-মুনজির মাহমুদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুস্তফা আল-মিনিয়াউই
মহান আল্লাহ তাঁকে এবং তাঁর পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন
(খণ্ড: ১)
তাজাদুদুল মাসাররাতি বিল কাসমি বাইনায যাওজাত
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}.
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً}.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً}.
أما بعد، ..
فهذا جهد المقل في تحقيق مخطوط " تجدد المسرات بالقسم بين الزوجات " تأليف العلامة حسن الشرنبلالي رحمه الله، وهي الرسالة السادسة عشر ضمن سلسلة من رسائله رحمه الله وقع الاختيار عليها قدرا عبر المرور السريع على أسماء الرسائل المودعة في مجموعه، والنية منعقدة على إخراج باقي الرسائل التي لم تطبع من هذا المجموع بإذن الله - تعالى -.
عملي في المخطوط:1 - قمت بنسخ المخطوط بمعاونة بعض الإخوة، فجزاهم الله خيرا، وقد وجدت ثلاث نسخ خطية منه، فاعتمدت إحداهما للبدء بنسخها وأشير إليها بالحرف " أ "، وأشرت للثانية بالحرف " ب "، والثالثة بالحرف " ج ".
2 - قارنت الفروق بين النسخ وأثبتها في الحاشية، وإن وجدت اختلافا - وهو قليل جدا - أثبت ما أراه مناسبا للسياق ووضعته بين معكوفتين، وأشير إلي غيره في الحاشية.
3 - قمت بالترجمة لغير المشهورين ممن ورد ذكرهم من العلماء في الرسالة.
4 - قمت بالتعريف بالكتب التي ورد ذكرها في الرسالة.
5 - التعليق على بعض المواضع وهي قليلة.
6 - قمت بتخريج وتحقيق الأحاديث التي ذكرها الماتن قدر الطاقة.
7 - قدمت لها ب
وصف النسخ الخطية التي عثرت عليها، وتحقيق نسبتها لمؤلفها رحمه الله.
حول الرسالة:وصف النسخ الخطية:
والمخطوط ضمن مخطوطات موقع الأزهر الشريف.
وقد وقفت على ثلاث نسخ خطية منه:
দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক সত্তা থেকে এবং তা থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সচেতন থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।}
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।}
অতঃপর, ..
এটি আল্লামা হাসান শুরুনবুলালী (রহিমাহুল্লাহ) রচিত "তাজদীদুল মাসাররাত বিল কিসমি বাইনায যাওজাত" নামক পাণ্ডুলিপি (مخطوط) সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে এক নগণ্য প্রচেষ্টা। এটি তাঁর রচিত একগুচ্ছ পুস্তিকার (رسالة) অন্তর্ভুক্ত ষোড়শতম পুস্তিকা। তাঁর সংকলিত রচনাবলির নামগুলোর উপর দিয়ে দ্রুত চোখ বুলানোর সময় এটি ঘটনাচক্রে নির্বাচিত হয়েছে। আল্লাহর ইচ্ছায় এই সংকলনের অপ্রকাশিত বাকি পুস্তিকাগুলোও প্রকাশ করার দৃঢ় সংকল্প রয়েছে।
পাণ্ডুলিপিতে আমার কাজ:১ - কয়েকজন ভাইয়ের সহযোগিতায় আমি পাণ্ডুলিপিটি (مخطوط) কপি করেছি, আল্লাহ তাঁদেরকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমি এর তিনটি হাতে লেখা অনুলিপি পেয়েছি। তাই কপি করার কাজ শুরু করার জন্য একটিকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং সেটিকে 'আলিফ' (أ) সংকেত দিয়ে চিহ্নিত করেছি। দ্বিতীয়টিকে 'বা' (ب) এবং তৃতীয়টিকে 'জিম' (ج) সংকেত দিয়ে চিহ্নিত করেছি।
২ - আমি অনুলিপিগুলোর মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্যসমূহ তুলনা করেছি এবং তা পাদটীকায় (حاشية) উল্লেখ করেছি। যদি কোনো পার্থক্য খুঁজে পাই—যা খুবই সামান্য—তবে প্রসঙ্গের সাথে যেটি অধিক উপযুক্ত মনে হয়েছে সেটিই মূল পাঠে বন্ধনীভুক্ত করেছি এবং অন্যটি পাদটীকায় (حاشية) উল্লেখ করেছি।
৩ - পুস্তিকাটিতে যেসব কম প্রসিদ্ধ আলেমদের নাম এসেছে, তাঁদের জীবনী আলোচনা করেছি।
৪ - পুস্তিকাটিতে যেসব কিতাবের নাম এসেছে, সেগুলোর পরিচয় তুলে ধরেছি।
৫ - কতিপয় স্থানে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা বা টীকা প্রদান করেছি।
৬ - মূল লেখক (الماتن) যেসব হাদিস উল্লেখ করেছেন, সাধ্যানুযায়ী সেগুলোর সূত্র নির্দেশ (تخريج) ও মান যাচাই (تحقيق) করেছি।
৭ - শুরুতে আমি যেসব হাতে লেখা অনুলিপি পেয়েছি সেগুলোর বিবরণ (وصف) এবং লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) প্রতি এই গ্রন্থের সম্পৃক্ততার সত্যতা যাচাই (تحقيق) তুলে ধরেছি।
পুস্তিকাটি প্রসঙ্গে:হাতে লেখা অনুলিপিগুলোর বিবরণ:
পাণ্ডুলিপিটি (مخطوط) আল-আজহার আল-শরীফ ওয়েবসাইটের পাণ্ডুলিপিসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
আমি এর তিনটি হাতে লেখা অনুলিপি সম্পর্কে অবগত হয়েছি:
(খণ্ড: ১)
তাজাদুদুল মাসাররাতি বিল কাসমি বাইনায যাওজাত
(পৃষ্ঠা: ৩)
الأولى منهما تحمل رقم: 324472، تتكون من سبع ورقات، الأولى والأخيرة وجه واحد، في الأولى اسم الرسالة، وفي الأخيرة نهايتها وخاتمتها، والباقي وجهان في كل وجه (23) سطر، والسطر مكون مما لا يزيد على (10) كلمات.
والثانية تحمل رقم: 306209، ومكونة من ست الورقة الأولى وجه واحد فيها اسم الرسالة، والباقي وجهان في كل وجه: (25) سطر في كل سطر ما لا يزيد على عشر كلمات، ما عدا الوجه الأخير وبه نهاية الرسالة وخاتمتها وهو مكون من (15) سطرا.
والثالثة وهي ناقصة بها سقط، وقد فهرست خطأ تحت عنوان "بلوغ الأرب لذوى القرب" برقم: 303840، وهي مكونة من ثلاث ورقات في كل ورقة وجهان، وفي الوجه الأول من الورقة الأول خاتمة رسالة أخرى، واسم رسالتنا، والوجه الأخير من الورقة الأخيرة فيه خاتمة الرسالة وهو مكون من 26 سطر، وباقي أوجه ورق الرسالة مكون من (31) سطر وفي كل سطر ما لا يزيد على (12) كلمة.
بعض صور المخطوط:
صورة غلاف النسخة (أ)
صورة الوجه الأول من الصفحة الأولى من النسخة (أ):
এর মধ্যে প্রথমটির নম্বর: ৩২৪৪৭২, এটি সাতটি পত্র (ورقات) নিয়ে গঠিত, যার প্রথম এবং শেষটি এক পৃষ্ঠার (وجه واحد)। প্রথমটিতে রিসালার নাম রয়েছে এবং শেষটিতে এর সমাপ্তি ও উপসংহার রয়েছে। বাকিগুলো উভয় পৃষ্ঠার (وجهان), প্রতি পৃষ্ঠায় ২৩টি করে লাইন রয়েছে এবং প্রতিটি লাইন অনধিক ১০টি শব্দ নিয়ে গঠিত।
দ্বিতীয়টির নম্বর: ৩০৬২০৯, এটি ছয়টি পত্র নিয়ে গঠিত যার প্রথম পত্রটি এক পৃষ্ঠার এবং তাতে রিসালার নাম রয়েছে। বাকিগুলো উভয় পৃষ্ঠার, প্রতি পৃষ্ঠায় ২৫টি করে লাইন রয়েছে এবং প্রতিটি লাইনে অনধিক ১০টি শব্দ রয়েছে; তবে শেষ পৃষ্ঠাটি ব্যতীত, যাতে রিসালার সমাপ্তি ও উপসংহার রয়েছে এবং এটি ১৫টি লাইন নিয়ে গঠিত।
তৃতীয়টি হলো অপূর্ণ (ناقصة), এতে বিচ্যুতি বা অংশ বাদ পড়া (سقط) রয়েছে। এটি ভুলবশত "বুলুগুল আরাব লি-যাউয়িল কুরবা" শিরোনামে ৩০৩৮৪০ নম্বরের অধীনে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এটি তিনটি পত্র নিয়ে গঠিত এবং প্রতিটি পত্র উভয় পৃষ্ঠার। প্রথম পত্রের প্রথম পৃষ্ঠায় অন্য একটি রিসালার সমাপ্তি এবং আমাদের আলোচ্য রিসালাটির নাম রয়েছে। শেষ পত্রের শেষ পৃষ্ঠায় রিসালাটির সমাপ্তি রয়েছে যা ২৬টি লাইন নিয়ে গঠিত। রিসালার পত্রগুলোর বাকি পৃষ্ঠাগুলো ৩১টি লাইন নিয়ে গঠিত এবং প্রতি লাইনে অনধিক ১২টি শব্দ রয়েছে।
পাণ্ডুলিপির কিছু ছবি:
'আলিফ' (أ) পাণ্ডুলিপির মলাটের ছবি
'আলিফ' (أ) পাণ্ডুলিপির প্রথম পত্রের প্রথম পৃষ্ঠার ছবি:
(খণ্ড: ১)
তাজাদুদুল মাসাররাতি বিল কাসমি বাইনায যাওজাত
(পৃষ্ঠা: ৪)
صورة الصفحة الأخيرة من النسخة (أ):
صورة غلاف النسخة (ب):
পাণ্ডুলিপি (ক)-এর শেষ পৃষ্ঠার চিত্র:
পাণ্ডুলিপি (খ)-এর প্রচ্ছদের চিত্র:
(খণ্ড: ১)
তাজাদুদুল মাসাররাতি বিল কাসমি বাইনায যাওজাত
(পৃষ্ঠা: ৫)
صورة الوجه الأول من الصفحة الأولى من النسخة (ب):
صورة الصفحة الأخيرة من النسخة (ب):
صورة الغلاف من النسخة (ج):
صورة الوجه الثاني من الصفحة الأولى من النسخة (ج):
পাণ্ডুলিপি (ব)-এর প্রথম পাতার প্রথম পৃষ্ঠার ছবি:
পাণ্ডুলিপি (ব)-এর শেষ পাতার ছবি:
পাণ্ডুলিপি (গ)-এর প্রচ্ছদের ছবি:
পাণ্ডুলিপি (গ)-এর প্রথম পাতার দ্বিতীয় পৃষ্ঠার ছবি:
(খণ্ড: ১)
তাজাদুদুল মাসাররাতি বিল কাসমি বাইনায যাওজাত
(পৃষ্ঠা: ৬)
صورة الوجه الأخير من الصفحة الأخيرة من النسخة (ج):
توثيق نسبتها للمؤلف:والرسالة منسوبة للشرنبلالي، وذلك كما هو مدون على طرة جميع نسخها بخط واضح لا طمس فيه، كما نسبها إليه صاحب "إيضاح المكنون" و"هدية العارفين" وغيرهما.
(গ) পাণ্ডুলিপির সর্বশেষ পৃষ্ঠার শেষাংশের চিত্র:
লেখকের প্রতি এর সম্পৃক্ততার প্রমাণীকরণ:পুস্তিকাটি শুরুবল্লালী-এর প্রতি সম্পৃক্ত, আর তা এর সকল পাণ্ডুলিপির শিরোনামের পাতায় স্পষ্ট অক্ষরে কোনো প্রকার অস্পষ্টতা ছাড়াই লিপিবদ্ধ রয়েছে; যেমনটি "ইজাহুল মাকনুন" এবং "হাদিয়াতুল আরিফীন" ও অন্যান্য গ্রন্থের লেখকগণও এটিকে তাঁর প্রতি সম্পৃক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাজাদুদুল মাসাররাতি বিল কাসমি বাইনায যাওজাত
(পৃষ্ঠা: ৭)
ترجمة المؤلف (1):
هو الشيخ حسن بن عمار بن علي أبو الإخلاص المصري الشرنبلالي الفقيه الحنفي الوفائي والشُرُنْبُلالي نسبة لشبرا بلولة وهذه النسبة على غير قياس والأصل شبرا بلولى نسبة كبلده تجاه منوف العليا بإقليم المنوفية بسواد مصر جاء به والده منها إلى مصر وسنه يقرب من ستة سنين فنشأ بها ودرس في الأزهر وحفظ القرآن.
وكان من أعيان الفقهاء وفضلاء عصره من سار ذكره فانتشر أمره وهو أحسن المتأخرين ملكة في الفقه وأعرفهم بنصوصه وقواعده وأنداهم قلما في التحرير والتصنيف وكان المعول عليه في الفتاوي في عصره.
قرأ في صباه على الشيخ محمد الحموي والشيخ عبد الرحمن المسيري وتفقه على الإمام عبد الله التحريري والعلامة محمد المحيي وسنده في الفقه عن هذين الإمامين وعن الشيخ الإمام علي بن غانم المقدسي مشهور مستفيض ودرس بجامع الأزهر وتعين بالقاهرة وتقدم عند أرباب الدولة واشتغل عليه خلق كثير وانتفعوا به منهم العلامة أحمد العجمي والسيد السند أحمد الحموى والشيخ شاهين الأرمناوي وغيرهم من المصريين والعلامة إسماعيل النابلسي من الشاميين.
قال الحموي: واجتمع به والدي في منصرفه إلى مصر وذكره في رحلته فقال في حقه والشيخ العمدة الحسن الشرنبلالي مصباح الأزهر وكوكبه المنير المتلألي لو رآه صاحب السراج الوهاج لاقتبس من نوره أو صاحب الظهيرة لاختفى عند ظهوره أو ابن الحسن لأحسن الثناء عليه أو أبو يوسف لأجله ولم يأسف على غيره ولم يلتفت إليه عمدة أرباب الخلاف وعدة أصحاب الاختلاف صاحب التحريرات والرسائل التي فاقت أنفع الوسائل، نقال المسائل الدينية وموضح المعضلات اليقينية صاحب خلق حسن وفصاحة ولسن وكان أحسن فقهاء زمانه.
وكان معتقدا للصالحين والمجاذيب وله معهم إشارات ووقائع أحوال منها أن بعضهم قال له يا حسن من هذا اليوم لا تشتر لك ولا لأهلك وأولادك كسوة فكانت تأتيه الكسوة الفاخرة ولم يشتر بعدها شيئا من ذلك.
قدم المسجد الأقصى في سنة خمس وثلاثين وألف صحبه الأستاذ أبي الإسعاد يوسف بن وفا وكان خصيصا به في حياته.
--------------------------------------------
লেখকের জীবনী (১):
তিনি হলেন শায়খ হাসান বিন আম্মার বিন আলি আবু আল-ইখলাস আল-মিসরি আশ-শুরুনবুল্লালি, হানাফি ফকিহ (الفقيه) এবং ওফায়ি। 'শুরুনবুল্লালি' শব্দটি 'শুবরা বালুলা'র সাথে সম্পর্কিত, যদিও এই নিসবত বা সম্বন্ধটি ভাষাগত কিয়াস বা নিয়মের বহির্ভূত। এর মূল হলো 'শুবরা বালুলা', যা মিশরের মানুফিয়া প্রদেশের উচ্চ মানুফের বিপরীতে অবস্থিত তার নিজ গ্রামের নাম। তার পিতা তাকে সেখান থেকে মিশরে নিয়ে আসেন যখন তার বয়স ছিল প্রায় ছয় বছর। তিনি সেখানেই বেড়ে ওঠেন, আল-আজহারে অধ্যয়ন করেন এবং কুরআন হিফজ করেন।
তিনি ছিলেন তার সময়ের বিশিষ্ট ফকিহগণ (الفقهاء) ও গুণীজনদের অন্তর্ভুক্ত, যার খ্যাতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে ফিকহশাস্ত্রে তিনি ছিলেন সবচেয়ে অধিক ব্যুৎপত্তির অধিকারী এবং ফিকহের মূল পাঠ (নসুস) ও মূলনীতি (কাওয়ায়েদ) সম্পর্কে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবগত। গ্রন্থ পরিমার্জন ও সংকলনে তার লেখনী ছিল অত্যন্ত সাবলীল। তার সময়ে ফতোয়ার ক্ষেত্রে তার ওপরই নির্ভর করা হতো।
শৈশবে তিনি শায়খ মুহাম্মদ আল-হামাভি এবং শায়খ আবদুর রহমান আল-মাসিরির কাছে পাঠ গ্রহণ করেন। তিনি ইমাম আবদুল্লাহ আত-তাহরিরি এবং আল্লামা মুহাম্মদ আল-মুহিয়্যির কাছে ফিকহ শিক্ষা করেন। ফিকহশাস্ত্রে এই দুই ইমাম এবং শায়খ ইমাম আলি বিন গানিম আল-মাকদিসির মাধ্যমে প্রাপ্ত তার সনদ (سند) অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও সুপ্রসিদ্ধ (مستفيض)। তিনি জামে আল-আজহারে অধ্যাপনা করেন এবং কায়রোতে বিশেষ পদে নিয়োজিত হন। রাষ্ট্রীয় উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের কাছে তার বিশেষ মর্যাদা ছিল। বহু মানুষ তার নিকট জ্ঞান অর্জন করে উপকৃত হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন আল্লামা আহমদ আল-আজমি, সাইয়্যেদ আস-সানাদ আহমদ আল-হামাভি, শায়খ শাহিন আল-আরমানাউয়ি এবং অন্যান্য মিশরীয়গণ, আর সিরীয়দের মধ্যে আল্লামা ইসমাইল আন-নাবুলুসি।
আল-হামাভি বলেন: মিশরে ফেরার পথে আমার পিতা তার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তার ভ্রমণকাহিনীতে তার কথা উল্লেখ করে বলেন: "শায়খ, নির্ভরযোগ্য অবলম্বন, আল-হাসান আশ-শুরুনবুল্লালি হলেন আল-আজহারের প্রদীপ এবং এর উজ্জ্বল দেদীপ্যমান নক্ষত্র। যদি সিরাজুল ওয়াহহাজ-এর লেখক তাকে দেখতেন তবে তার নূর থেকে আলো গ্রহণ করতেন, অথবা যদি জাহিরিয়া-র লেখক তাকে দেখতেন তবে তার আবির্ভাবে তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যেতেন। যদি ইবনে হাসান (ইমাম মুহাম্মদ) তাকে দেখতেন তবে তার ভূয়সী প্রশংসা করতেন, আর যদি আবু ইউসুফ (ইমাম আবু ইউসুফ) তাকে পেতেন তবে তাকে অত্যন্ত মর্যাদা দিতেন এবং অন্য কারও জন্য আক্ষেপ করতেন না কিংবা অন্য কারও প্রতি ভ্রুক্ষেপ করতেন না। তিনি মতভেদপূর্ণ মাসআলা গবেষকদের প্রধান অবলম্বন এবং মতপার্থক্য নিরসনকারীদের সম্বল। তিনি এমন সব তহরির ও রিসালার রচয়িতা যা শ্রেষ্ঠ মাধ্যমগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। তিনি দ্বীনি মাসআলাসমূহের বর্ণনাকারী এবং সুনিশ্চিত জটিল বিষয়সমূহের স্পষ্টকারী। তিনি সুন্দর চারিত্রিক মাধুর্য, প্রাঞ্জলতা ও বাগ্মিতার অধিকারী ছিলেন এবং তিনি তার সময়ের শ্রেষ্ঠ ফকিহ (فقهاء) ছিলেন।"
তিনি নেককার লোক ও মজজুবদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তাদের সাথে তার বিভিন্ন ইঙ্গিত ও অলৌকিক ঘটনা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো—তাদের একজন তাকে বলেছিলেন, "হে হাসান! আজ থেকে আপনি নিজের জন্য কিংবা আপনার পরিবার ও সন্তানদের জন্য কোনো পোশাক কিনবেন না।" এরপর থেকে তার কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল্যবান পোশাক আসত এবং এরপর তিনি আর কখনো পোশাক কেনেননি।
১০৩৫ হিজরি সনে তিনি মসজিদে আকসায় আগমন করেন। তার সাথে ছিলেন উস্তাদ আবুল ইসয়াদ ইউসুফ বিন ওয়াফা, যিনি আজীবন তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজাদুদুল মাসাররাতি বিল কাসমি বাইনায যাওজাত
(পৃষ্ঠা: ৮)
تصانيفه:مكثر من التصنيف. من كتبه نور الإيضاح في الفقه، ومراقي الفلاح شرح نور الإيضاح، وشرح منظومة ابن وهبان، وتحفة الأكمل، والتحقيقات القدسية، وتعرف برسائل الشرنبلالي، وعدتها 48 رسالة، والعقد الفريد في التقليد، ومراقي السعادات، وغنية ذوي الإحكام، وحاشية على درر الحكام لملا خسرو. توفي في القاهرة عام 1069 هـ.
وكانت وفاته يوم الجمعة بعد صلاة العصر حادي عشرى شهر رمضان سنة تسعة وستين وألف عن نحو خمس وسبعين سنة ودفن بتربة المجاورين.
[تجدد المسرات بالقسم بين الزوجات][ق 199/أ] بسم الله الرحمن الرحيم وبه [ثقتي] (1)
الحمد لله الذي خلق الإنسان وعلمه البيان وأمره بالعدل والإحسان، والصلاة والسلام على سيدنا محمد المرسل رحمة للعالمين بشيرا القائل: "استوصوا بالنساء خيرا " (2) فشمل أمره الشريف من
--------------------------------------------
তাঁর রচনাবলি:তিনি প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিকহ শাস্ত্রের ‘নূরুল ইদাহ’, নূরুল ইদাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘মারাকিল ফালাহ’, ‘শারহু মানজুমাহ ইবনে ওয়াহবান’, ‘তুহফাতুল আকমাল’, ‘আত-তাহকিকাতুল কুদসিয়াহ’ যা ‘রাসায়িলে শুরুনবুলালি’ নামে পরিচিত এবং এর সংখ্যা ৪৮টি রিসালাহ, ‘আল-ইকদুল ফারিদ ফিল তাকলিদ’, ‘মারাকিল সাআদাত’, ‘গুনইয়াতু যাউয়িল আহকাম’ এবং মোল্লা খসরু রচিত ‘দুরারুল হুক্কাম’-এর ওপর একটি হাশিয়া। তিনি ১০৬৯ হিজরি সনে কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ১০৬৯ হিজরি সনের রমজান মাসের ১১ তারিখ শুক্রবার আসর নামাজের পর। সে সময় তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় পঁচাত্তর বছর এবং তাঁকে মুজাওয়িরিন কবরস্থানে দাফন করা হয়।
[স্ত্রীদের মাঝে পালানুক্রমিক বণ্টনে আনন্দের নবায়ন][পৃষ্ঠা ১৯৯/ক] পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আর তাঁর ওপরই [আমার ভরসা] (১)
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তাঁকে ভাষা শিক্ষা দিয়েছেন এবং তাঁকে ন্যায়বিচার ও ইহসানের নির্দেশ দিয়েছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, যিনি বিশ্বজগতের জন্য রহমত ও সুসংবাদদাতা হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন, যিনি বলেছেন: "তোমরা নারীদের সাথে কল্যাণের উপদেশ গ্রহণ করো" (২)। ফলে তাঁর এই মহান নির্দেশ শামিল করেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজাদুদুল মাসাররাতি বিল কাসমি বাইনায যাওজাত
(পৃষ্ঠা: ৯)
كان أميرا أو مأمورا، وعلى آله وصحبه وأزواجه وذريته ما تعاقب النهار والليل وتلي قوله تعالى: {وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ فَلَا تَمِيلُوا كُلَّ الْمَيْلِ} [النساء: 129].
وبعد ..
فيقول العبد الحقير حسن الشرنبلالي الحنفي غفر الله له ذنوبه وستر عيوبه: هذه نبذة يسيرة عزيز نقلها، قلّ أن توجد في الكتب المشهورة مسطورة، فإني تتبعت غالب الأسفار، وغصت مقتحما لجة المحيط ومجمع البحار، فاستخرجتها ليس إلا بفتح القدير، وأظهرتها بمنة اللطيف الخبير وسميتها: "تجدد المسرات بالقسم بين الزوجات"، جمعتها جوابا لحادثة هي: "ما قولكم قضى الله تعالى عنكم في رجل متزوج بزوجتين يبيت عند كل واحدة منهما بقدر ما يبيت عند الأخرى، وله جواري ملك يمين يبيت عندهن ما يشاء، ثم يرجع إلى زوجته ويفعل ما فعله أولا، فهل يحرم عليه المبيت عند جواره على هذا الحكم؟ أم كيف الحال؟.
فأجبت حامدا لله مانح الصواب (1): اللازم على الزوج التسوية بين زوجتيه في البيتوتة والتأنيس في اليوم والليلة دون الجماع ودواعيه قال الكمال بن الهمام (2) رحمهم الله [في شرحه على الهداية المسمى بفتح القدير] (3): " وليس [ق 199/ب] المراد أن يضبط زمان النهار فبقدر ما عاشر إحداهما يعاشر الأخرى بقدره، بل ذلك في البيتوتة عند الأخرى، وأما في النهار ففي الجملة فاللازم أنه إذا بات عند واحدة ليلة يبيت عند الأخرى كذلك لا [على] (4) معنى وجوب أن يبيت عند كل واحدة منهما دائما
--------------------------------------------
তিনি নেতা হোন বা অনুসারী, এবং তাঁর পরিবার, সাহাবী, সহধর্মিনী ও বংশধরদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক যতক্ষণ দিন ও রাত্রির আবর্তন চলবে এবং মহান আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করা হবে: "তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে পুরোপুরি ন্যায়বিচার করতে সক্ষম হবে না, যদিও তোমরা তা প্রবলভাবে আকাঙ্ক্ষা করো। অতএব তোমরা (একজনের দিকে) পুরোপুরি ঝুঁকে পড়ো না।" [আন-নিসা: ১২৯]।
অতঃপর...
অধম বান্দা হাসান আল-শুরুনবুলালি আল-হানাফি (حنفي) (আল্লাহ তাঁর গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং তাঁর দোষত্রুটি গোপন রাখুন) বলেন: এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা যার উদ্ধৃতিসমূহ অত্যন্ত দুর্লভ ও মূল্যবান; প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহে এগুলো খুব কমই লিপিবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। আমি অধিকাংশ গ্রন্থ অনুসন্ধান করেছি এবং 'আল-মুহিত' ও 'মাজমাউল বিহার'-এর মতো গভীর সমুদ্রের অতল গহ্বরে অবগাহন করেছি। অতঃপর আমি কেবল 'ফাতহুল কাদির' (সর্বশক্তিমানের বিজয়)-এর সাহায্যেই এগুলো উদ্ধার করেছি এবং মহান দয়াময় ও সর্বজ্ঞাত আল্লাহর অনুগ্রহে তা প্রকাশ করেছি। আমি এর নামকরণ করেছি: "তাজদিদুল মাসাররাত বিল কিসমি বাইনায যাওজাত" (স্ত্রীদের মধ্যে পালার বণ্টন বিষয়ক আনন্দের নবায়ন)। এটি আমি একটি ঘটনার উত্তর হিসেবে সংকলন করেছি, যা হলো: "আপনাদের অভিমত কী—আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন—এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে যার দুইজন স্ত্রী রয়েছে। সে প্রত্যেকের নিকট অপরজনের সমান সময় রাত যাপন করে। এছাড়া তার কিছু মালিকানাধীন দাসী রয়েছে যাদের নিকট সে তার ইচ্ছামতো রাত কাটায়। এরপর সে পুনরায় তার স্ত্রীর নিকট ফিরে আসে এবং পূর্বের ন্যায় কাজ করে। এমতাবস্থায় এই নিয়মের ভিত্তিতে তার দাসীদের নিকট রাত যাপন করা কি তার জন্য হারাম হবে? নাকি বিষয়টি অন্যরূপ?"
আমি আল্লাহর প্রশংসা ও সঠিক দিকনির্দেশনা দানকারীর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে উত্তর দিয়েছি (১): স্বামীর ওপর তার দুই স্ত্রীর মধ্যে রাত যাপন ও সাহচর্যের ক্ষেত্রে দিন ও রাতে সমতা বজায় রাখা আবশ্যক, তবে সহবাস ও এর আনুষঙ্গিক বিষয়ের ক্ষেত্রে নয়। কামাল ইবনুল হুমাম (২) (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) [হিদায়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ফাতহুল কাদির'-এ] (৩) বলেছেন: "এর অর্থ [পৃষ্ঠা ১৯৯/খ] এই নয় যে, দিনের সময়ের ওপর সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে যে, একজনের সাথে যতটুকু সময় অতিবাহিত করবে অন্যজনের সাথেও ঠিক ততটুকু সময় কাটাবে। বরং এটি হলো অপরজনের নিকট রাত যাপনের ক্ষেত্রে। আর দিনের বেলায় বিষয়টি সাধারণভাবেই প্রযোজ্য। তবে আবশ্যক বিষয় হলো এই যে, সে যদি একজনের নিকট এক রাত অতিবাহিত করে, তবে অন্যজনের নিকটও অনুরূপ রাত যাপন করবে। এর অর্থ এই নয় যে, উভয়ের নিকট সর্বদা রাত যাপন করা আবশ্যক।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজাদুদুল মাসাররাতি বিল কাসমি বাইনায যাওজাত
(পৃষ্ঠা: ১০)
فإنه لو ترك المبيت عند الكل بعض الليالي وانفرد لم يمنع من ذلك انتهى يعنى بعد تمام دورهن كما ذكره الكمال رحمة الله عند قوله: ولا حق لهن في القسم حالة السفر وسواء انفرد بنفسه أو كان مع جواره وهذا في القضاء أما في الديانة فقد قال الشيخ الإمام على المقدسي (1) في شرحه: أعلم أن ترك جماعهن [مطلقا لا يحل له صرح أصحابنا بأن جماعهن] (2) أحيانا واجب ديانة لكن لا يدخل تحت القضاء الإلزام إلا الوطئة الأولى ولم يقدروا فيه مدة ويجب أن لا يبلغ بالترك مدة الإيلاء وهى أربعة أشهر إلا برضاها وطيب نفسها به انتهى. وحيث علمت جواب الحادثة فأزيدك بفضل الله سبحانه علم ما يتعلق بالحكم فيما إذا كان للإنسان زوجة واحدة أو أكثر وله أمهات أولاد وسرارى قال قاضى خان (3) رحمه الله: لو كان للرجل امرأة واحدة وهو يقوم بالليل ويصوم بالنهار أو يشتغل بصحبة إلا ما تظلمت المرأة إلى القاضي أمره القاضي أن يبيت معها أياما ويفطر لها أحيانا وكان أبو حنيفة رحمه الله أولا يجعل لها يوما وليلة وللزوج [ق 200/أ] ثلاثة أيام ولياليها ثم رجع فقال يؤمر الزوج أن يراعيها فيؤنسها بصحبة أياما وأحيانا من غير أن يكون في ذلك شيء مؤقت. وفى
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই তিনি যদি কিছু রাত সবার কাছে থাকা বর্জন করেন এবং একাকী অবস্থান করেন, তবে তাকে তা থেকে বিরত রাখা হবে না। সমাপ্ত। অর্থাৎ তাদের পালা পূর্ণ করার পর, যেমনটি আল-কামাল (রহ.) তার এই উক্তির প্রেক্ষিতে উল্লেখ করেছেন যে: সফর অবস্থায় পালায় (বণ্টনে) তাদের কোনো অধিকার নেই। চাই তিনি একাকী থাকুন অথবা তার দাসীদের সাথে থাকুন। আর এটি বিচারিক (কাদা) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। পক্ষান্তরে ধর্মীয় (দিয়ানাত) বিষয়ের ক্ষেত্রে শায়খ ইমাম আলী আল-মাকদিসি (১) তার ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন: জেনে রাখুন যে, তাদের সাথে সহবাস বর্জন করা [পুরোপুরিভাবে তার জন্য বৈধ নয়; আমাদের বিজ্ঞ ফকিহগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তাদের সাথে সহবাস করা] মাঝে মাঝে ধর্মীয়ভাবে অবশ্যপালনীয় (واجب)। তবে বিচারিক বাধ্যবাধকতার অধীনে কেবল প্রথম সহবাসই অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়ে তারা কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করেননি; তবে এটি অবশ্যপালনীয় যে, বর্জনের সময়সীমা যেন ‘ঈলা’-র সময়সীমা অর্থাৎ চার মাস পর্যন্ত না পৌঁছায়, তবে স্ত্রীর সন্তুষ্টি ও স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি থাকলে ভিন্ন কথা। সমাপ্ত। যেহেতু আপনি উদ্ভূত সমস্যার উত্তর জানতে পেরেছেন, তাই আল্লাহর অনুগ্রহে আমি আপনার জন্য এমন বিষয় সংক্রান্ত জ্ঞান বৃদ্ধি করছি যা এক বা একাধিক স্ত্রী এবং উম্মে ওয়ালাদ ও দাসীদের হুকুমের সাথে সংশ্লিষ্ট। কাদি খান (৩) (রহ.) বলেছেন: যদি কোনো ব্যক্তির একজন স্ত্রী থাকে এবং তিনি রাতে ইবাদতে দাঁড়ান ও দিনে রোজা রাখেন অথবা এমন কোনো কাজে ব্যস্ত থাকেন যার ফলে স্ত্রী বিচারকের কাছে অভিযোগ করে, তবে বিচারক তাকে তার স্ত্রীর সাথে কিছু রাত যাপনের এবং মাঝে মাঝে রোজা না রাখার নির্দেশ দেবেন। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) প্রথমে স্ত্রীর জন্য একদিন ও এক রাত এবং স্বামীর জন্য [পৃষ্ঠা ২০০/ক] তিন দিন ও তিন রাত নির্ধারণ করতেন। পরবর্তীতে তিনি এ মত থেকে ফিরে আসেন এবং বলেন যে, স্বামীকে নির্দেশ দেওয়া হবে সে যেন স্ত্রীর প্রতি লক্ষ্য রাখে এবং কোনো নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ ছাড়াই বিভিন্ন দিন ও সময়ে সাহচর্যের মাধ্যমে তার সাথে হৃদ্যতা বজায় রাখে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজাদুদুল মাসাররাতি বিল কাসমি বাইনায যাওজাত
(পৃষ্ঠা: ১১)
المنتقى (1): إذا تزوج امرأة وله أمهات أولاد وسرارى فقال أكون عندهن وآتيها إذا بدا لي لم يكن له ذلك ويقال له كن عندها في كل أربع يوما وليله وكن في الثلاث البواقي عند من شئت ولو كان عنده امرأتان وله أمهات أولاد وسرارى أقام عن كل واحدة منهما يوما وليلة ويقيم في يومين ليلتين عند من شاء من السرارى ولو كان عنده أربع نسوة أقام عند كل واحدة منهما يوما وليلة ولم يكن عند السراري إلا وقفة شبه المار. انتهى عبارة قاضى خان.
وأنت خبير بأن ما في المنتقى ليس إلا على الرواية المرجوع عنها ولم أر من نبه على ذلك، وعلى الرواية المرجوع عنها ما حكاه الشُمُنّي (2) عن مختصر الطحاوى (3): وإن كان له زوجة واحدة حرة
--------------------------------------------
আল-মুনতাকা (১): যদি কেউ কোনো নারীকে বিবাহ করে এবং তার কাছে উম্মে ওয়ালাদ (সন্তানবতী দাসী) ও উপপত্নী থাকে, আর সে বলে যে "আমি তাদের কাছে থাকব এবং যখন আমার ইচ্ছা হবে তোমার কাছে আসব", তবে তার জন্য এমনটি করার অধিকার নেই। তাকে বলা হবে যে, প্রতি চার দিনের মধ্যে একদিন ও এক রাত তার (স্ত্রীর) কাছে অবস্থান করো এবং বাকি তিন দিন তুমি যার কাছে ইচ্ছা থাকো। আর যদি তার দুইজন স্ত্রী এবং উম্মে ওয়ালাদ ও উপপত্নী থাকে, তবে সে তাদের প্রত্যেকের কাছে একদিন ও এক রাত অবস্থান করবে এবং উপপত্নীদের মধ্যে যার কাছে ইচ্ছা দুই দিন ও দুই রাত অবস্থান করবে। আর যদি তার চারজন স্ত্রী থাকে, তবে সে তাদের প্রত্যেকের কাছে একদিন ও এক রাত অবস্থান করবে এবং উপপত্নীদের কাছে পথচারীর মতো ক্ষণিকের অবস্থান ছাড়া আর থাকবে না। কাজী খানের বক্তব্যের সমাপ্তি।
আপনি অবগত আছেন যে, আল-মুনতাকায় যা আছে তা কেবল পরিত্যক্ত বর্ণনা (الرواية المرجوع عنها)-এর উপর ভিত্তি করে এবং আমি কাউকে এ বিষয়ে সতর্ক করতে দেখিনি। এই পরিত্যক্ত বর্ণনা (الرواية المرجوع عنها)-এর উপর ভিত্তি করেই আশ-শুমুন্নি (২) মুখতাসারুত তাহাবি (৩) থেকে বর্ণনা করেছেন: "যদি তার কেবল একজন স্বাধীন স্ত্রী থাকে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজাদুদুল মাসাররাতি বিল কাসমি বাইনায যাওজাত
(পৃষ্ঠা: ১২)
فطالبته بالواجب من القسم كان عليه أن يقسم لهل يوما وليلة ثم يتصرف في أموره في ثلاثة أيام وثلاث ليال وإن كانت زوجته أمة والمسألة بحالها كان لها من كل سبعة أيام يوم ومن كل سبع ليال ليلة؛ لأن له أن يتزوج عليها بثلاث حرائر فيكون لكل واحدة منهن من القسم يومان وليلتان ولها يوم وليلة.
روى "أن امرأة جاءت إلى عمر بن الخطاب رضي الله عنه وعنده كعب بن ميسور (1) فقالت يا أمير المؤمنين إن زوجي يصوم النهار ويقوم الليل [ق 200/ب] وأنا أكره أن أشكوه، فقال عمر رضي الله عنه: نعم الرجل زوجك فردت كلامها وعمر رضي الله عنه – لا يزيدها على ذلك، فقال كعب رضي الله عنه: يا أمير المؤمنين إنها تشكو زوجها في هجره فراشها، فقال عمر رضي الله عنه: كما فهمت إشارتها فاحكم بينهما، فأرسل إلى زوجها فجاء فقال لها كعب رضي الله عنه: ما تقولين فقالت:
(2) يَا أَيها الْقَاضِي الْحَكِيمُ أرشده
… أَلْهَى خَلِيلِي عَنْ فِرَاشِي مَسْجِدُهْ
زَهَّدَهُ فِي مَضْجَعِي تَعَبُّدُهُ
… نَهَارَهُ وَلَيْلَهُ مَا يَرْقُدُهْ
ولَسْتُ فِي أمر النِّسَاءِ أَحْمَدُهُ
فقال لزوجها ما تقول فقال:
زَهَّدَنِي فِي فَرْشِهَا وَفِي الكلل
… أَنِّي امْرُؤٌ أَذْهَلَنِي مَا قَدْ نَزَلْ
فِي سُوْرَةِ النَّمْلِ وَفِي السَّبْعِ الطِّوَلْ
فقال له كعب:
إِنَّ لَهَا عَلَيْكَ حَقًا يَا رَجُلْ
… تُصِيبُهَا فِي أَرْبَعٍ لِمَنْ عَقِلْ
فَأَعْطِهَا ذَاكَ وَدَعْ عَنْكَ الْعِلَلْ
--------------------------------------------
আমি তার কাছে পালাবণ্টনের (قسم) পাওনা দাবি করলাম। স্বামীর জন্য কর্তব্য হলো তার স্ত্রীর জন্য একদিন ও একরাত বরাদ্দ করা এবং পরবর্তী তিনদিন ও তিনরাত সে তার নিজের কাজে ব্যয় করতে পারবে। আর যদি তার স্ত্রী দাসী (أمة) হন এবং বিষয়টি একই অবস্থায় থাকে, তবে প্রতি সাত দিনে তার জন্য একদিন এবং প্রতি সাত রাতে একরাত বরাদ্দ থাকবে; কেননা স্বামীর জন্য সেই স্ত্রীর বর্তমানে আরও তিনজন স্বাধীন নারীকে বিয়ে করার সুযোগ রয়েছে, সেক্ষেত্রে স্বাধীন স্ত্রীদের প্রত্যেকের জন্য পালাবণ্টনের (قسم) পাওনা হবে দুই দিন ও দুই রাত করে, আর দাসী স্ত্রীর জন্য হবে একদিন ও একরাত।
বর্ণিত (روى) আছে যে, এক নারী ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নিকট এলেন, তখন তাঁর কাছে কাব বিন মাইসুর (১) উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, "হে আমিরুল মুমিনীন! আমার স্বামী দিনে রোজা রাখেন এবং রাতে ইবাদতে দাঁড়িয়ে কাটান [পৃষ্ঠা ২০০/খ], আমি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা অপছন্দ করি।" ওমর (রা.) বললেন, "তোমার স্বামী একজন চমৎকার মানুষ।" ওমর (রা.) এর অতিরিক্ত আর কিছুই বললেন না। তখন কাব (রা.) বললেন, "হে আমিরুল মুমিনীন! তিনি তো তাঁর বিছানা বর্জন করার বিষয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন।" ওমর (রা.) বললেন, "যেহেতু তুমি তাঁর ইশারা বুঝতে পেরেছ, তাই তুমিই তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দাও।" এরপর তাঁর স্বামীকে ডেকে পাঠানো হলো এবং তিনি এলে কাব (রা.) তাঁকে বললেন, "তুমি কী বলতে চাও?" তখন সেই নারী বললেন:
(2) হে বিজ্ঞ বিচারক! তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন ... আমার প্রিয়তমকে তাঁর ইবাদতগাহ আমার বিছানা থেকে বিমুখ করে রেখেছে।
তাঁর ইবাদত তাঁকে আমার শয্যার প্রতি নির্লিপ্ত করেছে ... তিনি দিন ও রাতে নিদ্রা যান না।
নারীদের অধিকারের বিষয়ে আমি তাঁর প্রশংসা করতে পারছি না।
কাব (রা.) তাঁর স্বামীকে বললেন, "তুমি কী বলছ?" স্বামী বললেন:
তাঁর শয্যা ও মশারির প্রতি আমাকে বিমুখ করেছে ... ওই বিষয় যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং আমাকে দিশেহারা করে দিয়েছে।
সূরা নামল এবং সাতটি দীর্ঘ সূরার (سبع طوال) মাঝে (আমি মগ্ন হয়ে আছি)।
তখন কাব (রা.) তাঁকে বললেন:
হে ব্যক্তি! তোমার ওপর তাঁর অধিকার রয়েছে ... বুদ্ধিমানদের নিকট প্রতি চার দিনে একদিন তাঁর প্রাপ্য।
অতএব তাকে তা প্রদান করো এবং ওজর-আপত্তি পরিত্যাগ করো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজাদুদুল মাসাররাতি বিল কাসমি বাইনায যাওজাত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فقال عمر رضي الله عنه من أين لك هذا قال: لأن الله تعالى أباح للحر
أربع زوجات فلكل واحدة يوم وليلة، فأعجب ذلك عمر رضي الله عنه وجعله قاضى البصرة" (1) والكلل بكسر الكاف جمع كله بكسرها وتشديد اللام وهى الستر الرقيق يحاط بالبيت يتوقى فيه من البق أي البعوض والطول بضم المهملة جمع طولى أنثى لطول. انتهى عبارة الشمني شارح النقاية (2) ومثل ما قدمناه عن فتح القدير قول صاحب الاختيار (3): ويؤمر الصائم بالنهار والقائم بالليل أن يبيت معها [ق 201/أ] إذا طلبت وعن أبى حنيفة رحمه الله يجعل لها يوما من أربعة أيام وليس هذا بواجب؛ لأنه يؤدى إلى فوات النوافل أصلا على من له أربع من النساء ولكن يؤمر بإيفاء حقها من نفسه أحيانا ويصوم ويصلى ما أمكنه انتهى. وكذا قال في المحيط: ويؤمر
--------------------------------------------
ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "তুমি এটি কোথায় পেলে?" তিনি বললেন: "যেহেতু মহান আল্লাহ একজন স্বাধীন ব্যক্তির জন্য চারটি স্ত্রীর অনুমতি দিয়েছেন, তাই প্রত্যেকের জন্য একটি দিন ও একটি রাত বরাদ্দ থাকে।" ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এতে অভিভূত হলেন এবং তাকে বসরার বিচারক নিযুক্ত করলেন।
(১) 'আল-কিলাল' শব্দটি কাফ বর্ণে কাসরা (জের) সহকারে, এটি 'কিল্লাহ' শব্দের বহুবচন। এটি এমন একটি সূক্ষ্ম পর্দা যা ঘরকে ঘিরে রাখে মশা বা দংশক পতঙ্গ থেকে বাঁচার জন্য। আর 'আত-তুল' বর্ণে পেশ সহকারে, এটি 'তুলা' শব্দের বহুবচন যা দীর্ঘের স্ত্রীলিঙ্গ। আন-নুকায়া গ্রন্থের ব্যাখ্যাকার আশ-শুমুনীর বক্তব্য এখানেই শেষ। (২) আমরা ফাতহুল কাদির থেকে যা ইতিপূর্বে পেশ করেছি, আল-ইখতিয়ার (৩) প্রণেতার বক্তব্যও তদ্রূপ: দিনে রোজা পালনকারী এবং রাতে নামাজে দণ্ডায়মান ব্যক্তিকে নির্দেশ দেওয়া হবে যে, স্ত্রী চাইলে সে যেন তার সাথে রাত যাপন করে। ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি প্রতি চার দিনের মধ্যে তার জন্য একদিন নির্ধারণ করবেন। তবে এটি ওয়াজিব নয়; কারণ এটি যার চারজন স্ত্রী রয়েছে, তার জন্য মূলত নফল ইবাদতসমূহ পালন না হওয়ার কারণ হতে পারে। তবে তাকে নিজের পক্ষ থেকে স্ত্রীর হক পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হবে এবং সে সাধ্যমতো রোজা ও নামাজ আদায় করবে। এখানেই শেষ। আল-মুহিত গ্রন্থেও অনুরূপ বলা হয়েছে: এবং নির্দেশ দেওয়া হবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজাদুদুল মাসাররাতি বিল কাসমি বাইনায যাওজাত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الصائم بالنهار والقائم بالليل أن يبيت معها إذا طلبت، وعن أبى حنيفة رحمه الله: يجعل له يوما من أربعة أيام؛ لأن له أن يتزوج بثلاث سواها فيفوض إلى اختياره إلا أن هذا التوقيت ليس بواجب؛ لأنه يؤدى إلى فوات النوافل على الزوج أصلا متى كان له أربع نسوة وإنما يؤمر بإيفاء حقها من نفسه أحيانا ويصلى ويصوم ما أمكن انتهى.
تنبيه:
القسم إنما يلزم بتعدد المنكوحات وليس للإمام قسم فلو كان له مستولدات وإماء لا قسم لهن؛ لأنه بالنكاح لكن يندب أن لا يعطلهن ويسوى بينهن في المضاجعة. وفى القاموس القسم: العطاء، والرأي، والشك، والغيث، والماء، والقدر. وهذا ينقسم قسمين: بالفتح إذا أريد المصدر، وبالكسر إذا أريد النصب.
أعلم أن الزوج مأمور بالعدل في القسم بين النساء بالكتاب، قال تعالى: {وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ} [النساء: 129] الآية أي لن تستطيعوا العدالة والتسوية في المحبة فلا تميلوا في القسمة. وبالسنة لحديث عائشة رضي الله عنها أنه صلى الله عليه وسلم كان يعدل بين نسائه وكان يقول [ق 201/ب] اللهم هذا قسمي فيما أملك فلا تؤاخذني فيما لا أملك (1)
--------------------------------------------
দিনের বেলা রোজা পালনকারী এবং রাতে নামাজে দণ্ডায়মান ব্যক্তির জন্য কর্তব্য হলো যদি স্ত্রী দাবি করে তবে তার সাথে রাত্রিযাপন করা। ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত: তিনি স্বামীর জন্য প্রতি চার দিনের মধ্যে একদিন স্ত্রীর জন্য নির্ধারণ করবেন; কারণ স্বামীর জন্য ওই স্ত্রী ছাড়াও আরও তিনজনকে বিবাহ করার অধিকার রয়েছে, তাই বিষয়টি তার ইচ্ছার ওপর ন্যস্ত। তবে এই সময় নির্ধারণ করা ওয়াজিব নয়; কারণ যদি কারো চারজন স্ত্রী থাকে তবে এটি মূলত স্বামীর নফল ইবাদতগুলো পুরোপুরি ছুটে যাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। বরং তাকে মাঝেমধ্যে নিজের পক্ষ থেকে স্ত্রীর প্রাপ্য অধিকার আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তিনি যথাসম্ভব নামাজ পড়বেন ও রোজা রাখবেন। সমাপ্ত।
সতর্কীকরণ:
পালাবণ্টন কেবল একাধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রেই বাধ্যতামূলক হয়, দাসীদের ক্ষেত্রে কোনো পালাবণ্টন নেই। সুতরাং কারো যদি উম্মু-ওয়ালাদ বা দাসী থাকে, তবে তাদের জন্য কোনো পালাবণ্টন নেই; কারণ এটি বিবাহের সাথে সংশ্লিষ্ট। তবে মুস্তাহাব হলো তাদের বঞ্চিত না করা এবং শয্যাসঙ্গী হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের মাঝে সমতা বজায় রাখা। 'কামুস' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'আল-কাসম' মানে হলো দান, মতামত, সন্দেহ, বৃষ্টি, পানি এবং পরিমাপ। এটি দুই ভাগে বিভক্ত: যবর সহযোগে (কাস্ম) যখন তা ক্রিয়ামূল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, আর যের সহযোগে (কিস্ম) যখন অংশ বা ভাগ বোঝানো হয়।
জেনে রাখুন যে, পবিত্র কুরআনের নির্দেশ অনুযায়ী স্ত্রীদের মাঝে পালাবণ্টনে ইনসাফ করার জন্য স্বামীকে আদেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমরা কখনোই স্ত্রীদের মধ্যে ইনসাফ করতে পারবে না, যদিও তোমরা তা প্রবলভাবে আকাঙ্ক্ষা করো" [সূরা আন-নিসা: ১২৯]। অর্থাৎ তোমরা ভালোবাসা ও অনুরাগের ক্ষেত্রে পূর্ণ সমতা ও ইনসাফ করতে পারবে না, তাই বণ্টনের ক্ষেত্রে (একদিকে) ঝুঁকে পড়ো না। আর সুন্নাহর দলিল হলো আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদের মাঝে সমতা বজায় রাখতেন এবং বলতেন: হে আল্লাহ! এটি আমার বণ্টন যা আমার সাধ্যের মধ্যে রয়েছে, সুতরাং যা আপনার আয়ত্তে কিন্তু আমার আয়ত্তে নেই (অর্থাৎ হৃদয়ের ভালোবাসা), সে বিষয়ে আমাকে তিরস্কার করবেন না। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজাদুদুল মাসাররাতি বিল কাসমি বাইনায যাওজাত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
يعنى زيادة المحبة لبعضهن (1)، وحديث أبى هريرة رضي الله عنه: (من كان له زوجتان فمال إلى أحدهما في القسم جاء يوم القيامة وأحد شقيه مائل) (2) وقال تعالى: {فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً} [النساء: 3] قال في البدائع: "أي إن خفتم أن لا تعدلوا في القسم والنفقة في المثنى والثلاث والأربع فواحدة ندب إلى انكاح الواحدة عند خوف ترك العدل في الزيادة وإنما يخاف على ترك الواجب فدل [على] (3) أن العدل فيما ذكر واجب". انتهى.
قيل ظاهره أنه إذا خاف عدم العدل يستحب ألا يزيد ولا يحرم. انتهى، قلت: مراده بالندب اللغوي فلا مخالفة لقولهم: ترك الحرام واجب.
--------------------------------------------
অর্থাৎ তাদের কয়েকজনের প্রতি অধিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পাওয়া (১), আর আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস: (যার দুইজন স্ত্রী আছে কিন্তু সে পালার ক্ষেত্রে তাদের একজনের দিকে ঝুঁকে পড়ে, কিয়ামতের দিন সে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে তার শরীরের এক পাশ অবশ বা ঝুঁকে থাকবে) (২) এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তবে যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে সুবিচার করতে পারবে না, তবে একজনকে (বিয়ে করো)} [নিসা: ৩]। বাদায়িউস সানায়ি গ্রন্থে বলা হয়েছে: "অর্থাৎ যদি তোমরা দুই, তিন বা চারজন স্ত্রীর ক্ষেত্রে পালা বণ্টন ও ভরণপোষণের ক্ষেত্রে ইনসাফ করতে পারবে না বলে আশঙ্কা করো, তবে একজনই যথেষ্ট। একাধিক বিবাহের ক্ষেত্রে ইনসাফ ত্যাগের আশঙ্কা থাকলে একজনকে বিয়ে করার প্রতি উৎসাহিত (ندب) করা হয়েছে। আর সাধারণত ওয়াজিব বর্জনের বিষয়েই আশঙ্কা করা হয়, যা প্রমাণ করে যে, উল্লেখিত বিষয়গুলোতে ইনসাফ করা ওয়াজিব।" সমাপ্ত।
বলা হয়ে থাকে, এর বাহ্যিক অর্থ হলো যখন সে ইনসাফ না হওয়ার আশঙ্কা করে তখন সংখ্যা বৃদ্ধি না করা মুস্তাহাব, হারাম নয়। সমাপ্ত। আমি বলি: তার 'নুজব' বা উৎসাহিত করা দ্বারা আভিধানিক অর্থ উদ্দেশ্য, তাই ফকিহদের এই কথার সাথে কোনো বিরোধ নেই যে: "হারাম বর্জন করা ওয়াজিব।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজাদুদুল মাসাররাতি বিল কাসমি বাইনায যাওজাত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
قال الكمال: "لا نعلم خلافا في أن العدل الواجب في البيتوتة والتأنيس في اليوم والليلة وليس المراد أن يضبط زمان النهار فبقدر ما عاشر احديهما يعاشر الأخرى بقدره، بل ذلك في البيتوتة وأما في النهار ففي الجملة انتهى. كذا قال العلامة الشيخ على المقدسي في شرحه نظم الكنز: "وقال الكمال: القسم بفتح القاف مصدر قسم والمراد التسوية بين المنكوحات، ويسمى العدل أيضا بينهن وحقيقته مطلقا ممتنعة كما أخبر سبحانه حيث قال: {وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا} [النساء: 129] الخ وقال تعالى: {فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ} [النساء: 3] بعد إحلال الأربع بقوله تعالى: {فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ} [النساء: 3] فاستفدنا أن [ق 202/أ] حل الأربع مقيد بعدم خوف العدل وثبوت المنع عن أكثر من واحدة عند خوفه فعلم إيجابه عند تعددهن وأما قوله صلى الله عليه وسلم استوصوا بالنساء خيرا (1) فلا يخص حالة تعددهن ولأنهن رعية الرجل وكل راع مسئول عن رعيته (2) وأنه في أمر مبهم يحتاج إلى البيان؛ لأنه أوجبه وصرح بأنه مطلقا لا يستطاع فعلم أن الواجب شيء معين وكذا السنة جاءت مجملة فيه،
روى أصحاب السنن الأربعة عن عائشة رضي الله عنها قالت: " كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقسم فيعدل ويقول اللهم قسمي فيما أملك فلا تلمني فيما تملك ولا أملك " (3)، يعنى القلب أي زيادة المحبة، فظاهره أن ما عداه مما هو داخل تحت ملكه وقدرته يجب التسوية فيه ومنه عدد الوطئات والقبلات التسوية فيهما غير لازمة إجماعا انتهى. وقال الكمال: وكما لا فرق في القسم بين الجديدة والقديمة كذلك لا فرق بين البكر والثيب والمسلمة والكتابية الحرتين والمجنونة التي لا يخاف منها والمريضة والصحيحة والرتقاء والحائض والنفساء والصغيرة التي يمكن وطؤها والمحرمة
--------------------------------------------
আল-কামাল বলেন: "রাত্রিযাপন এবং সান্নিধ্য প্রদানের ক্ষেত্রে যে ন্যায়বিচার (عدل) আবশ্যক (واجب), তা দিন ও রাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য - এ বিষয়ে আমাদের কোনো দ্বিমত জানা নেই। এর অর্থ এই নয় যে, দিনের সময় এমনভাবে সূক্ষ্মভাবে নির্ধারণ করতে হবে যে, একজনের সাথে যতটা সময় অতিবাহিত করা হয়েছে, অপরজনের সাথেও ঠিক ততটা অতিবাহিত করতে হবে; বরং এটি মূলত রাত্রিযাপনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আর দিনের ক্ষেত্রে তা সাধারণভাবে প্রযোজ্য - সমাপ্ত।" একইভাবে আল্লামা শেখ আলী আল-মাকদিসি তার 'নজমুল কানজ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে (শরহ) বলেছেন: "আল-কামাল বলেন: 'কাসম' (القسم) শব্দটি ক্বাফ বর্ণে ফাতহা দিয়ে গঠিত একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল), যার অর্থ হলো স্ত্রীদের মধ্যে সমতা রক্ষা করা। একে তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার (عدل) করাও বলা হয়। তবে নিরঙ্কুশভাবে এর বাস্তবতা অসম্ভব, যেমনটি মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন: {আর তোমরা যতই ইচ্ছা কর না কেন, তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে ন্যায়বিচার (عدل) করতে পারবে না} [নিসা: ১২৯] ইত্যাদি। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, ন্যায়বিচার (عدل) করতে পারবে না, তবে একজনকে (বিয়ে কর) অথবা তোমাদের মালিকানাধীন দাসীদের (গ্রহণ কর)} [নিসা: ৩]। এটি চারজন পর্যন্ত বিবাহের বৈধতা প্রদানের পর বলা হয়েছে: {নারীদের মধ্যে তোমাদের যাকে ভালো লাগে তাকে বিয়ে কর— দুই, তিন অথবা চার} [নিসা: ৩]। এখান থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, [পৃষ্ঠা ২০২/অ] চারজন পর্যন্ত বিবাহের বৈধতা ন্যায়বিচার (عدل) করতে না পারার আশঙ্কা না থাকার সাথে শর্তযুক্ত। আর ন্যায়বিচার (عدل) করতে না পারার আশঙ্কায় একজনের বেশি স্ত্রী রাখা নিষিদ্ধ হওয়া থেকে প্রমাণিত হয় যে, স্ত্রী একাধিক হলে ন্যায়বিচার (عدل) করা আবশ্যক (واجب)। আর নবী (সা.)-এর বাণী: 'তোমরা নারীদের সাথে উত্তম আচরণের উপদেশ গ্রহণ করো' (১), এটি কেবল একাধিক স্ত্রী থাকার অবস্থার সাথে নির্দিষ্ট নয়। কারণ নারীরা পুরুষের অধীনস্থ, আর প্রত্যেক দায়িত্বশীলকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে (২)। বিষয়টি একটি অস্পষ্ট (مبهم) প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত যা ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী; কারণ আল্লাহ তাআলা এটি আবশ্যক (واجب) করেছেন এবং সাথে সাথে এও স্পষ্ট করেছেন যে, নিরঙ্কুশভাবে তা সম্ভব নয়। ফলে বোঝা গেল যে, আবশ্যক (واجب) বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। একইভাবে সুন্নাহতেও বিষয়টি সংক্ষিপ্তভাবে (مجمل) এসেছে।
চারটি সুনান গ্রন্থের সংকলকগণ আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) বণ্টন করতেন এবং ন্যায়বিচার (عدل) করতেন। তিনি বলতেন: 'হে আল্লাহ, যা আমার সাধ্যের মধ্যে রয়েছে তাতে এটিই আমার বণ্টন। সুতরাং যা আপনার নিয়ন্ত্রণে কিন্তু আমার আয়ত্তে নেই, সে বিষয়ে আমাকে তিরস্কার করবেন না' (৩)।" অর্থাৎ অন্তর বা ভালোবাসার আধিক্য। এর বাহ্যিক অর্থ হলো, ভালোবাসা ছাড়া অন্য যা কিছু তার সক্ষমতা ও আয়ত্তের ভেতরে রয়েছে, তাতে সমতা রক্ষা করা আবশ্যক (واجب)। সহবাস ও চুম্বনের সংখ্যার ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখা যে আবশ্যক নয়, সে বিষয়ে ঐকমত্য (إجماعا) রয়েছে - সমাপ্ত।" আল-কামাল বলেন: বণ্টনের ক্ষেত্রে যেমন নতুন এবং পুরাতন স্ত্রীর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, তেমনি কুমারী ও বিবাহিতা, মুসলিম ও কিতাবিয়া (আহলে কিতাব) উভয় স্বাধীন নারী, শান্ত প্রকৃতির অপ্রকৃতিস্থ নারী, অসুস্থ ও সুস্থ, শারীরিক ত্রুটিযুক্ত নারী, ঋতুবতী ও নেফাসগ্রস্ত নারী, সহবাসযোগ্য অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ইহরাম অবস্থায় থাকা নারীর মধ্যেও কোনো পার্থক্য নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজাদুদুল মাসাররাতি বিল কাসমি বাইনায যাওজাত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
والمظاهر منها ومقابلاتهن وكذلك يستوي وجوبه على المجبوب والعنين والمريض والصبي الذي دخل بامرأته ومقابلهم، قال مالك رحمه الله: "ويدور ولى الصبي به على نسائه؛ لأن القسم حق العباد وهم من أهله" انتهى. والمطلقة رجعيا [ق 202/ب] أن قصد رجعتها قسم لها لا لناشرة فإذا نشزت يبدؤها بالوعظ ثم بالهجر ثم بالضرب للآية (1)؛ لأنها للترتيب بالتوزيع، والهجر قيل: ترك مضاجعتها، وقيل: جماعها، والأظهر: ترك كلامها مع المضاجعة والجماع أن احتاج إليه.
ولا يجوز جمعه بين ضرتين أو ضرائر في مسكن واحدا إلا بالرضي ولو اجتمعن يكره أن يطأ واحدة بحضرة أخرى فلو طلبه لم يلزمها الإجابة.
وفى دور القسم لا يجامع امرأة في غير يومها ولا يدخل بالليل على من لا قسم لها ولا بأس به في النهار لحاجة ويعودها في مرضها في ليلة غيرها فان ثقل مرضها فلا بأس أن يقيم عندها حتى تشفى أو تموت، ومقدار الدور إلى الزوج؛ لأن المستحق هو التسوية دون طريقها إن شاء يوما أو يومين أو ثلاثا ثلاثا أو أربعا أربعا.
أعلم أن هذا الإطلاق لا يمكن اعتباره على صرافته لأنه (2) لو أراد أن يدور سنة ما يظن إطلاق ذلك له بل لا ينبغي أن يطلق له مقدار مدة الإيلاء وهو أربعة أشهر. وإذا كان وجوبه للتأنيس ودفع الوحشة وجب أن تعتبر المدد القريبة وأظن أكثر من جمعة مضارة إلا أن يرضيا به والله أعلم ". انتهى كلام الكمال رحمه الله. وقال الشيخ على المقدسي: وهو ظاهر ولكن كتب على نسخته شرح الكنز ملحقا بعد نقل كلام الكمال: وارتضائه ظاهره أنه لم يطلع على قدر عين فيه وفى الخلاصة منع الزيادة على الثلاثة أيام إلا بإذن [ق 203/أ] الأخرى. انتهى. قلت: يعارضه حديث أم سلمه رضي الله عنها: (إن شئت سبعت لك وسبعت لنسائي وإن شئت ثلثت لك ودرت) (3) انتهى وفيه دليل على
--------------------------------------------
এবং যার সাথে যিহার (যিহারকৃত স্ত্রী) করা হয়েছে এবং তাদের প্রতিপক্ষরা, একইভাবে পুরুষাঙ্গ কর্তিত (মজবুব), ধ্বজভঙ্গ (আন্নীন), অসুস্থ এবং সেই নাবালক যে তার স্ত্রীর সাথে বাসর করেছে এবং তাদের প্রতিপক্ষদের ওপরও এটি (পালা বণ্টন) একইভাবে প্রযোজ্য। মালিক (রহ.) বলেন: "নাবালকের অভিভাবক তাকে নিয়ে তার স্ত্রীদের নিকট পর্যায়ক্রমে গমন করবেন; কারণ পালা বণ্টন বান্দার অধিকার এবং তারা তার পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।" সমাপ্ত। এবং যাকে রাজঈ তালাক দেওয়া হয়েছে [পৃ. ২০২/খ] তার কাছে ফিরে যাওয়ার নিয়ত থাকলে তার জন্য পালা বরাদ্দ হবে, অবাধ্য (নাশিযাহ) স্ত্রীর জন্য নয়। সুতরাং স্ত্রী অবাধ্য হলে স্বামী তাকে প্রথমে উপদেশের মাধ্যমে, তারপর শয্যা ত্যাগের মাধ্যমে এবং এরপর প্রহারের মাধ্যমে সংশোধন করবেন আয়াতের (১) নির্দেশের আলোকে; কারণ আয়াতে পর্যায়ক্রমিক ব্যবস্থা বর্ণিত হয়েছে। আর শয্যা ত্যাগ (হজর) সম্পর্কে বলা হয়েছে: তার সাথে শয্যায় না শোয়া, আবার বলা হয়েছে: তার সাথে সহবাস বর্জন করা। তবে অধিকতর স্পষ্ট মত হলো: সহবাস ও শয্যা ঠিক রেখে তার সাথে কথা বলা বন্ধ রাখা যদি তার প্রয়োজন হয়।
কোনো ব্যক্তির জন্য অনুমতি নেই দুই বা ততোধিক সপত্নীকে একই বাসস্থানে একত্রে রাখা, তবে তাদের সম্মতি থাকলে ভিন্ন কথা। আর তারা একত্রে থাকলেও একজনের উপস্থিতিতে অন্যজনের সাথে সহবাস করা মাকরুহ। যদি স্বামী এটি দাবি করে, তবে স্ত্রীর জন্য তাতে সাড়া দেওয়া আবশ্যক নয়।
পালা বণ্টনের আবর্তনে স্বামী নির্ধারিত দিন ব্যতীত অন্য স্ত্রীর সাথে সহবাস করবে না। যার পালা নয় তার নিকট রাতে প্রবেশ করবে না, তবে দিনের বেলায় প্রয়োজনে প্রবেশ করায় কোনো অসুবিধা নেই। অন্য কারো পালার রাতে স্ত্রী অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাবে, আর যদি অসুস্থতা গুরুতর হয় তবে সে সুস্থ হওয়া বা মৃত্যু পর্যন্ত তার কাছে অবস্থান করায় কোনো দোষ নেই। পালার সময়সীমা নির্ধারণ স্বামীর ইচ্ছাধীন; কারণ সমতা রক্ষা করাই প্রাপ্য হক, এর পদ্ধতি নয়। সে চাইলে একদিন একদিন করে, অথবা দুই দিন দুই দিন, তিন দিন তিন দিন কিংবা চার দিন চার দিন করে পালা নির্ধারণ করতে পারে।
জেনে রাখুন যে, এই ঢালাও বক্তব্যকে তার আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। কারণ (২) সে যদি এক বছর মেয়াদী পালা নির্ধারণ করতে চায়, তবে তা বৈধ হবে বলে মনে হয় না। বরং তার জন্য ইলা-এর সময়সীমা তথা চার মাসের বেশি সময় নির্ধারণ করা উচিত নয়। আর যেহেতু পালা বণ্টনের আবশ্যকতা হলো হৃদ্যতা তৈরি ও একাকীত্বের বেদনা দূর করার জন্য, তাই অল্প সময়ের ব্যবধানই বিবেচনা করা উচিত। আমার মনে হয় এক সপ্তাহের বেশি সময় দেওয়া ক্ষতিকর, তবে স্ত্রীরা তাতে সন্তুষ্ট থাকলে ভিন্ন কথা। আল্লাহু আলাম।" কামাল (রহ.)-এর বক্তব্য সমাপ্ত। শায়খ আলী আল-মাকদিসি বলেন: এটিই স্পষ্ট মত, কিন্তু তিনি তার নিকট থাকা শরহুল কানয-এর পাণ্ডুলিপিতে কামালের উক্তি উদ্ধৃত করার পর টীকা হিসেবে লিখেছেন: তার সন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ থেকে বোঝা যায় যে তিনি এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সীমার কথা জানতে পারেননি। আল-খুলাসাহ গ্রন্থে অন্য স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া তিন দিনের অতিরিক্ত পালা নির্ধারণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। [পৃ. ২০৩/ক] সমাপ্ত। আমি বলি: উম্মে সালামাহ (রা.)-এর হাদিস এর পরিপন্থী: (তুমি চাইলে আমি তোমার নিকট সাত দিন থাকব এবং আমার অন্য স্ত্রীদের নিকটও সাত দিন করে থাকব, আর তুমি চাইলে তোমার নিকট তিন দিন থাকব এবং এরপর পর্যায়ক্রমে যাব)। (৩) সমাপ্ত। আর এতে এই প্রমাণ রয়েছে যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজাদুদুল মাসাররাতি বিল কাসমি বাইনায যাওজাত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
عدم الزيادة على جمعة فيكون مؤيدا لما ظنه الكمال رحمه الله من أن أكثر من جمعة مضارة إلا أن يرضيا انتهى وقال الكمال: لو ترك القسم بأن أقام عند إحداهن شهرا مثلا أمره القاضي أن يستأنف العدل لا بالقضاة فإن جار بعد ذلك أوجعه عقوبة، كذا قالوا، والذي يقتضيه النظر أن يؤمر بالقضاء إذا طلبت؛ لأنه حق أدمى وله قدرة على إيفائه انتهى وقال العلامة المقدسي رحمه الله: ولو عاد بعد ما نهاه القاضي أوجعه عقوبة؛ لأنه أساء الأدب وأرتكب الحرام فيعذر بالضرب. وفى الجوهرة (1): لا بالحبس؛ لأنه لا يستدرك الحق فيه بالحبس؛ لأنه يفوت بمضي الزمان فيستثنى من قولهم: له التعزير بالحبس. انتهى.
ولا يسقط القسم المرض فقد استأذن النبي صلى الله عليه وسلم نساءه أن يمرض عند عائشة رضي الله عنها فأذن له (2). قلت: مر قريبا أنه لا قسم عليه أي النبي صلى الله عليه وسلم لقوله تعالى: {تُرْجِي مَنْ تَشَاءُ مِنْهُنَّ وَتُؤْوِي إِلَيْكَ مَنْ تَشَاءُ} [الأحزاب: 51] وكان ممن أرجاهن: جورية
--------------------------------------------
এক সপ্তাহের বেশি সময় বৃদ্ধি না করা, যা কামাল (রহিমাহুল্লাহ)-এর ধারণাকে সমর্থন করে যে, এক সপ্তাহের বেশি হওয়া ক্ষতির কারণ হতে পারে, যদি না তারা উভয়ে সন্তুষ্ট থাকে—উদ্ধৃতি সমাপ্ত। কামাল বলেন: যদি কেউ পালানুক্রমিক বণ্টন (قسم) বর্জন করে, উদাহরণস্বরূপ—যদি সে স্ত্রীদের একজনের নিকট এক মাস অবস্থান করে, তবে কাজী (বিচারক) তাকে নতুন করে ইনসাফ বা সমতা শুরু করার নির্দেশ দেবেন, কিন্তু বিগত সময়ের কাজা (قضاء) হিসেবে নয়। অতঃপর এরপরেও যদি সে অন্যায় বা জুলুম করে, তবে তাকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে; ফকীহগণ এমনটিই বলেছেন। তবে যুক্তি যা দাবি করে তা হলো, যদি স্ত্রী দাবি করে তবে তাকে কাজা (قضاء) করার নির্দেশ দেওয়া উচিত; কারণ এটি মানুষের হক এবং তা আদায় করার সক্ষমতা তার রয়েছে—উদ্ধৃতি সমাপ্ত। আল্লামা মাকদিসি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: কাজী নিষেধ করার পরেও যদি সে পুনরায় জুলুম করে, তবে তাকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে; কারণ সে শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছে এবং হারাম কাজে লিপ্ত হয়েছে, তাই তাকে প্রহারের মাধ্যমে শাসনমূলক শাস্তি (تعزير) দেওয়া হবে। আর আল-জাওহরা (১) গ্রন্থে রয়েছে: কারাদণ্ডের মাধ্যমে নয়; কারণ কারাদণ্ডের মাধ্যমে এই অধিকার পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়; যেহেতু সময় অতিবাহিত হওয়ার মাধ্যমে তা নষ্ট হয়ে যায়। সুতরাং এটি তাদের এই উক্তি থেকে ব্যতিক্রম যে: বিচারক কারাদণ্ডের মাধ্যমে শাসনমূলক শাস্তি (تعزير) দিতে পারেন। সমাপ্ত।
অসুস্থতার কারণে স্ত্রীদের প্রাপ্য পালানুক্রমিক বণ্টন (قسم) রহিত হয় না। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদের নিকট আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরে অসুস্থতা যাপনের অনুমতি চেয়েছিলেন এবং তাঁরা তাঁকে অনুমতি দিয়েছিলেন (২)। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: নিকটেই অতিবাহিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর পালানুক্রমিক বণ্টন (قسم) ওয়াজিব ছিল না; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা আপনার নিকট স্থান দিতে পারেন} [সূরা আল-আহজাব: ৫১]। আর তিনি যাদের দূরে রেখেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন: জুওয়াইরিয়াহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজাদুদুল মাসাররাতি বিল কাসমি বাইনায যাওজাত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وسودة وأم حبيبة وصفية وميمونة، وممن أوى: عائشة والباقيات رضي [ق 203/ب] الله عنهن (1).
ولو كان لا يقدر على تحوله للأخرى مدة مرضه فكيف يقسم؟ قيل: ينبغي إذا صح قام عند الأخرى بقدره بخلاف ما إذا سافر لا يقضى إذ لا قسم حالة السفر وإن كانت القرعة عند إرادة السفر بواحدة مستحبة فله ترك الكل عند سفره. انتهى. وفى الأشباه والنظائر (2): تزوج امرأة أخرى وخاف أن لا يعدل لا يسعه ذلك وأن علم أنه يعدل بينهما في القسم والنفقة وجعل لكل واحدة مسكنا على حدة جاز له أن يفعل فان لم يفعل أي لم يتزوج عليها فهو مأجور لترك الغم عليها انتهى.
تتمة:
من أحكام النكاح: المعاشرة بالمعروف للآية (3). قيل: المراد التفضل والإحسان إليها قولا وفعلا وخلقا، وقيل: أن يعمل معها كما يحب أن يعمل مع نفسه وله جبرها على غسل الحيض والجنابة والنفاس إلا أن تكون ذمية، وعلى التطيب والاستحداد ومنعها مما يتأذى برائحته حتى الحناء المخضب إن تأذى به ومن الغَزْل ويضربها بترك الزينة إن أراد، وبترك إجابته إن أراد جماعها طاهرة وترك الصلاة والخروج من المنزل بلا إذنه بعد إيفاء مهرها وإذا كانت لا تصلى له أن يطلقها وإن لم يقدر على إيفاء مهرها فلأن يلقى الله ومهرها معلق في عنقه خير له من أن يطأ امرأة لا تصلى.
--------------------------------------------
সাওদা, উম্মে হাবিবা, সাফিয়া ও মাইমুনা; আর যাদের তিনি নিজ আশ্রয়ে রেখেছিলেন তারা হলেন: আয়েশা ও অন্যান্যরা (রাযিয়াল্লাহু [পৃষ্ঠা ২০৩/খ] আনহুন্না) (১)।
যদি তিনি অসুস্থ থাকাকালীন অন্য স্ত্রীর কাছে স্থানান্তরিত হতে সক্ষম না হন, তবে তিনি কীভাবে বণ্টন করবেন? বলা হয়েছে: তিনি যখন সুস্থ হবেন, তখন অন্য স্ত্রীর নিকট সেই সমপরিমাণ সময় অবস্থান করবেন। এটি সফরের অবস্থার বিপরীত; কারণ সফরের সময় (অপ্রাপ্য দিনগুলো) পূরণ করতে হয় না, যেহেতু সফর অবস্থায় কোনো দিন-বণ্টন নেই। যদিও সফরের প্রাক্কালে লটারির মাধ্যমে একজনকে সঙ্গে নেওয়া মুস্তাহাব, তবুও সফরকালে সবাইকে রেখে যাওয়ার অধিকার তার রয়েছে। সমাপ্ত। আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর (২) কিতাবে রয়েছে: যে ব্যক্তি অন্য একজন নারীকে বিবাহ করে এবং আশঙ্কা করে যে সে ইনসাফ করতে পারবে না, তার জন্য তা করা সমীচীন নয়। আর যদি সে জানে যে সে তাদের মধ্যে সময় বণ্টন ও ভরণপোষণের ক্ষেত্রে ইনসাফ করবে এবং প্রত্যেকের জন্য পৃথক বাসস্থানের ব্যবস্থা করবে, তবে তার জন্য তা করা বৈধ। আর যদি সে তা না করে—অর্থাৎ অন্য বিবাহ না করে—তবে স্ত্রীর মনে কষ্ট না দেওয়ার কারণে সে সওয়াব লাভ করবে। সমাপ্ত।
পরিশিষ্ট:
নিকাহর বিধানাবলি: আয়াতের (৩) নির্দেশ অনুযায়ী সদ্ভাবে জীবনযাপন করা। বলা হয়েছে: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কথা, কাজ ও আচরণের মাধ্যমে স্ত্রীর প্রতি অনুগ্রহ ও সদাচরণ করা। আবার বলা হয়েছে: স্ত্রীর সাথে তেমন আচরণ করা যেমনটি সে নিজের সাথে করা পছন্দ করে। এছাড়া স্বামীর জন্য অধিকার রয়েছে তাকে হায়জ, জানাবাত ও নিফাস পরবর্তী গোসলের জন্য বাধ্য করার—যদি না সে জিম্মি হয়; আর সুগন্ধি ব্যবহার ও ক্ষৌরকার্যের ক্ষেত্রেও স্বামী তাকে বাধ্য করতে পারে। স্বামী তাকে এমন সব কাজ থেকে বারণ করতে পারে যার গন্ধে সে কষ্ট পায়, এমনকি মেহেদির রঙ থেকেও যদি স্বামী তাতে কষ্ট পায়। এছাড়া তাকে সুতা কাটার কাজ থেকে বারণ করার অধিকার তার আছে। স্বামী চাইলে সাজসজ্জা ত্যাগ করার কারণে তাকে প্রহার করতে পারে, কিংবা পবিত্র অবস্থায় সহবাসের আহ্বানে সাড়া না দিলে, সালাত ত্যাগ করলে এবং মোহরানা পরিশোধের পর অনুমতি ব্যতীত ঘর থেকে বের হলে তাকে শাসন করতে পারে। যদি স্ত্রী সালাত আদায় না করে তবে স্বামী তাকে তালাক দিতে পারে। এমনকি যদি সে মোহরানা পরিশোধে সক্ষম না হয়, তবুও আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করা যেখানে মোহরানা তার ঋণের দায় হিসেবে ঘাড়ে ঝুলে আছে, তা একজন সালাত ত্যাগকারী নারীর সাথে সহবাস করার চেয়ে উত্তম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজাদুদুল মাসাররাতি বিল কাসমি বাইনায যাওজাত
(পৃষ্ঠা: ২০)
وحق الزوج على الزوجة أن تطيعه في كل مباح (1) [ق 204/] يأمرها به ولو كان أبوها زمنا ليس له من يقوم عليه غير البنت فعليها أن تعصى الزوج في المنع عنه ولو كان كافرا؛ لأن القيام عليه فرض في هذه الحالة.
امرأة معتدة أو منكوحة أبت أن تطبخ أو تخبز إن كان بها علة لا تقدر على الطبخ أو الخبز أو كانت من الأشراف فعلى الزوج أن يأتيها بمن تطبخ وتخبز؛ لأنها غير متعنتة فأما إن كانت تقدر وهى ممن يخدم نفسها تجبر؛ لأنها متعنتة فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم جعل الخدمة التي داخل البيت على المرأة والتي خارج البيت على الزوج هكذا قضى بين على وفاطمة.
انتهى تأليفا في شهر جمادى الأول سنة ثلاث وأربعين وألف.
غفر الله لمؤلفها ولوالديه ولمشايخه ولمسودها بعد وصحبيهما والمسلمين وصلى الله على سيدنا محمد وعلى اله وصحبه وسلم وعلى سائر الأنبياء والمرسلين [والصحابة والتابعين بإحسان إلى يوم الدين والحمد لله رب العالمين] (2) أجمعين آمين.
--------------------------------------------
স্ত্রীর ওপর স্বামীর অধিকার হলো এই যে, তিনি তাকে প্রত্যেক বৈধ (مباح) (১) [পৃষ্ঠা ২০৪/] কাজে আনুগত্য করবেন যা তিনি তাকে আদেশ করেন। এমনকি যদি তার পিতা দীর্ঘস্থায়ী রুগ্ন (زمن) হন এবং সেই কন্যা ব্যতীত তার দেখাশোনা করার মতো আর কেউ না থাকে, তবে তাকে (সেবা করতে) বাধা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বামীর অবাধ্য হওয়া তার জন্য আবশ্যক, এমনকি যদি তিনি (পিতা) অমুসলিম (كافر) হন; কারণ এই অবস্থায় তার দেখাশোনা করা ফরয (فرض)।
একজন ইদ্দত পালনকারী (معتدة) অথবা বিবাহিতা (منكوحة) নারী যদি রান্না করতে বা রুটি তৈরি করতে অস্বীকার করেন; যদি তার কোনো শারীরিক অসুস্থতা থাকে যার দরুন তিনি রান্না বা রুটি তৈরিতে অক্ষম হন অথবা তিনি যদি সম্ভ্রান্ত (الأشراف) বংশের হন, তবে স্বামীর কর্তব্য হলো তার জন্য এমন কাউকে নিয়ে আসা যে রান্না ও রুটি তৈরি করে দেবে; কারণ তিনি হঠকারী নন। পক্ষান্তরে, যদি তিনি সক্ষম হন এবং যারা নিজের কাজ নিজে করেন তাদের অন্তর্ভুক্ত হন, তবে তাকে বাধ্য করা হবে; কারণ তিনি হঠকারী। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরের ভেতরের সেবা-কাজ নারীর ওপর এবং ঘরের বাইরের কাজ স্বামীর ওপর ন্যস্ত করেছেন। এভাবেই তিনি আলী ও ফাতিমার মাঝে ফয়সালা করেছিলেন।
এক হাজার তেতাল্লিশ হিজরি সালের জুমাদিউল আউয়াল মাসে গ্রন্থটি রচনার কাজ সমাপ্ত হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা এর লেখককে, তার পিতামাতাকে, তার উস্তাদগণকে এবং এর পরবর্তী পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতকারক ও তাদের সঙ্গীদ্বয়কে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন। আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তার পরিবার ও সকল সঙ্গীর ওপর এবং অন্যান্য সকল নবী ও রাসুলগণের (المرسلين) [এবং সাহাবী (الصحابة) ও কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণকারী তাবেয়ীদের (التابعين) ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য] (২) তাদের সকলের ওপর। আমীন।
--------------------------------------------