(খণ্ড: ১) তাখিরুদ জালামাতি ইলা ইয়াউমিল কিয়ামাহ (পৃষ্ঠা: -)
تأخير الظلامة إلى يوم القيامة   (الجلال السيوطي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: تأخير الظلامة إلى يوم القيامة

المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)

المحقق: أبو المنذر المنياوي

الناشر: مخطوط ينشر لأول مرة بالمكتبة الشاملة، 1434 هـ

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للأصل (نسخة المحقق)]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 محرم 1434

তাকখীর আল-জুলামাহ ইলা ইয়াওম আল-কিয়ামাহ   (জালালুদ্দিন আল-সুয়ূতী)

বিভাগ: ফিকহি মাসায়েল


গ্রন্থ: তাকখীর আল-জুলামাহ ইলা ইয়াওম আল-কিয়ামাহ

লেখক: আব্দুর রহমান বিন আবু বকর, জালালুদ্দিন আল-সুয়ূতী (ওফাত ৯১১ হিজরি)

মুহাক্কিক: আবু আল-মুনজির আল-মিনিয়াউয়ি

প্রকাশক: পাণ্ডুলিপি যা প্রথমবারের মতো আল-মাকতাবা আল-শামেলা-তে প্রকাশিত হয়েছে, ১৪৩৪ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের নম্বর মূল কপির (মুহাক্কিকের সংস্করণ)] অনুযায়ী করা হয়েছে

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৬ মুহররম ১৪৩৪

(খণ্ড: ১) তাখিরুদ জালামাতি ইলা ইয়াউমিল কিয়ামাহ (পৃষ্ঠা: ১)
تأخيرُ الظُّلامة إلى يوم القيامة

للشيخ الإمام الحافظ جلال الدين السيوطي الشافعي رحمه الله

911 هـ

 

تحقيق

أبي المنذر مَحْمُود بن مُحمَّدِ بن مُصْطَفَى المِنِياوِي

عفا الله تعالى عنه وعن والديه
কিয়ামত দিবস পর্যন্ত জুলুমের বিচার বিলম্বিত করা

শেখ, ইমাম, হাফেজ (الحافظ) জালালুদ্দিন সুয়ূতী শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি

৯১১ হিজরি

 

তাহকিক (تحقيق)

আবু আল-মুনজির মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন মুস্তফা আল-মিনিয়াওয়ী

আল্লাহ তাআলা তাকে এবং তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন
(খণ্ড: ১) তাখিরুদ জালামাতি ইলা ইয়াউমিল কিয়ামাহ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌مقدمة التحقيق

بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} (1)،

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} (2)،

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} (3)،

أما بعد، ..

فهذا جهد المقل في تحقيق مخطوط " تأخير الظلامة إلى يوم القيامة " للحافظ جلال الدين السيوطي رحمه الله تعالى -.

وقد وجدته على الشبكة منسوخا، قام بعض الإخوة بنسخه فجزاهم الله خيرا، ولما تحصل لي نسخة خطية من الرسالة وجدتها على الشبكة ضمن المخطوطات الموجودة في موقع الأزهر وتحمل رقم: --305716 وكانت عدد أوراقها: 04 ورقات والورقة الأخيرة بها بداية مخطوط بداية القاري في ختم صحيح البخاري.

وبدأت في مقارنة النسخ بالأصل فوجدت الناسخ قد تصرف في جزء كبير من المخطوط، وذلك بأنه قام بنسخ الأحاديث، أو الآثار التي ذكرها السيوطي من أصلها بدون مراعاة اللفظ الذي ذكره السيوطي، ونظرا للأمانة العلمية قمت بالمحافظة على النص الذي ذكره السيوطي، وإثبات الفروق الهامة - بين لفظ السيوطي، وأصل الحديث أو الأثر - في الحواشي.

وقمت بتخريج الأحاديث والآثار الواردة في الرسالة مع الحكم على أسانيدها ما أمكنني ذلك.

وصف النسخة الخطية:

المخطوط ضمن مخطوطات موقع الأزهر الشريف، وتحمل النسخة رقم: --305716، وعدد أوراقها: أربع ورقات في كل ورقة وجهان، وفي الورقة الأولى نهاية رسالة أخرى، وصدر رسالتنا، وفي الأخيرة نهايتها وخاتمتها، وبداية رسالة بداية القاري في ختم صحيح البخاري.
‌সম্পাদনার (تحقيق) ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} (১),

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে দাবি করে থাকো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} (২),

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।} (৩),

অতঃপর, ..

হাফেজ জালালুদ্দিন আল-সুয়ূতী (রহ.)-এর পাণ্ডুলিপি (مخطوط) "তাখিরুজ জুলামাহ ইলা ইয়াওমিল কিয়ামাহ" সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে এটি এক নগণ্য প্রচেষ্টা মাত্র।

আমি এটি ইন্টারনেটে অনুলিপি করা অবস্থায় পেয়েছি, কিছু ভাই এটি টাইপ করেছেন, আল্লাহ তাঁদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমি যখন এই পুস্তিকাটির একটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি (نسخة خطية) সংগ্রহ করতে সক্ষম হলাম, তখন সেটি আল-আজহারের ওয়েবসাইটের পাণ্ডুলিপি (مخطوطات) সমূহের মধ্যে পেলাম, যার নম্বর ছিল: --৩০৫৭১৬। এর পাতা সংখ্যা ছিল ৪টি এবং শেষ পাতায় "বিদায়াতুল ক্বারী ফী খাতমি সহীহিল বুখারী" নামক পাণ্ডুলিপির (مخطوط) প্রারম্ভিক অংশ ছিল।

আমি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে অনুলিপিগুলোর তুলনা করতে শুরু করলাম এবং দেখলাম যে অনুলিপিকারক পাণ্ডুলিপিটির (مخطوط) একটি বড় অংশে পরিবর্তন করেছেন। তিনি সুয়ূতী কর্তৃক উল্লিখিত শব্দাবলির প্রতি লক্ষ না রেখে হাদিসসমূহ বা বর্ণনাগুলো (آثار) সেগুলোর মূল উৎস থেকে সরাসরি অনুলিপি করেছেন। বৈজ্ঞানিক আমানতদারিতার প্রতি লক্ষ রেখে আমি সুয়ূতী কর্তৃক উল্লিখিত মূল পাঠটিই বহাল রেখেছি এবং সুয়ূতীর শব্দাবলী ও মূল হাদিস বা বর্ণনার (أثر) মধ্যে বিদ্যমান গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যসমূহ টীকা আকারে উল্লেখ করেছি।

আমি এই পুস্তিকায় উল্লিখিত হাদিস ও বর্ণনাগুলোর (آثار) উৎস নির্দেশ (تخريج) সম্পন্ন করেছি এবং যথাসম্ভব সেগুলোর সনদগুলোর (أسانيد) মান নির্ধারণ (الحكم) করেছি।

হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির (نسخة خطية) বিবরণ:

পাণ্ডুলিপিটি (مخطوط) আল-আজহার শরীফের ওয়েবসাইটের পাণ্ডুলিপিগুলোর (مخطوطات) অন্তর্ভুক্ত, যার নম্বর: --৩০৫৭১৬। এর পাতা সংখ্যা চারটি এবং প্রতিটি পাতায় দুটি করে পার্শ্ব রয়েছে। প্রথম পাতায় অন্য একটি পুস্তিকার শেষ অংশ এবং আমাদের এই পুস্তিকার শুরু রয়েছে। শেষ পাতায় এর সমাপ্তি এবং "বিদায়াতুল ক্বারী ফী খাতমি সহীহিল বুখারী" নামক রিসালার শুরু রয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাখিরুদ জালামাতি ইলা ইয়াউমিল কিয়ামাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
وفي كل وجه (23) سطر والسطر مكون مما لا يزيد على (17) كلمة.

 

صور المخطوط:

صورة الوجه الأول من الورقة الأولى:

 

صورة الوجه الأول من الورقة الأخيرة:
এবং প্রতিটি পৃষ্ঠায় (২৩)টি লাইন রয়েছে এবং প্রতিটি লাইন অনধিক (১৭)টি শব্দ দ্বারা গঠিত।

 

পাণ্ডুলিপির চিত্রসমূহ:

প্রথম পত্রের প্রথম পৃষ্ঠার চিত্র:

 

শেষ পত্রের প্রথম পৃষ্ঠার চিত্র:
(খণ্ড: ১) তাখিরুদ জালামাতি ইলা ইয়াউমিল কিয়ামাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌حول الرسالة:

قال الشيخ طاهر حموده في " جلال الدين السيوطي عصره وحياته وآثاره وجهوده في الدرس اللغوي " (ص: 139): (على أن الأسلوب العنيف الذي لاحظناه في رسائله الأولى التي هاجم بها خصومه أخذ يميل إلى الهدوء والاتزان في السنوات الأخيرة من عمره، بل لعله أصبح يعرض عن كثير من أذى الخصوم ويصبر على ما يقابله من أعدائه فقد نقل عنه بعض من اتصل به أنه امتحن المحن الكثيرة، وما سمع يوما يدعو على من آذاه من الحسدة، ولا يقابله بسوء، وإنما يقول: حسبنا الله ونعم الوكيل، وصنف في ذلك كتابا سماه «تأخير الظلامة إلى يوم القيامة»، والحقيقة أن هذه الرسالة تعبر عن الاتجاه المتزن الصابر الذي طبعت به حياة السيوطي أواخر أيامه، وبالرغم من أن الرسالة في جملتها مجموعة من النقول عن الرسول صلى الله عليه وسلم وعن الصحابة والتابعين تدور حول تأخير ظلاماتهم إلى يوم القيامة لإيمانهم بأن عذاب الله أشد وأبقى، وإيثار المظلومين منهم ألا يقتصوا لأنفسهم في الدنيا مع تمكنهم من ذلك تأخيرا لظلاماتهم لتعرض أمام الله تعالى، بالرغم من ذلك فإن قراءتها تشيع في نفس القارئ أن صاحبها كان يتعرض وقتها لمظالم يصبر عليها، ويعزي نفسه بالتأسي
পুস্তিকাটি সম্পর্কে:

শেখ তাহের হামুদা তাঁর "জালালুদ্দিন আল-সুয়ুতি: তাঁর যুগ, জীবন, কর্ম এবং ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণায় তাঁর অবদান" (পৃষ্ঠা: ১৩৯) গ্রন্থে বলেন: "আমরা তাঁর জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ের পুস্তিকাগুলোতে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার ক্ষেত্রে যে কঠোর শৈলী লক্ষ্য করেছি, তাঁর জীবনের শেষ বছরগুলোতে তা ক্রমশ শান্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে উঠতে শুরু করে। এমনকি সম্ভবত তিনি প্রতিপক্ষের অনেক কষ্টদায়ক আচরণ উপেক্ষা করা শুরু করেছিলেন এবং শত্রুদের পক্ষ থেকে আসা প্রতিকূলতায় ধৈর্য ধারণ করতেন। তাঁর সাথে যোগাযোগ ছিল এমন কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি অনেক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন, কিন্তু কোনোদিন তাঁকে তাঁর প্রতি হিংসা পোষণকারী ও কষ্টদানকারীদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করতে শোনা যায়নি এবং তিনি মন্দের বদলা মন্দ দিয়ে দিতেন না। বরং তিনি বলতেন: 'হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল' (আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক)। তিনি এ বিষয়ে একটি কিতাব রচনা করেন যার নাম দিয়েছেন 'তাখির আল-জুলামাহ ইলা ইয়াওম আল-কিয়ামাহ'। প্রকৃতপক্ষে, এই পুস্তিকাটি সেই ভারসাম্যপূর্ণ ও ধৈর্যশীল মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ, যা সুয়ুতির জীবনের শেষ দিনগুলোকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছিল। যদিও সামগ্রিকভাবে এই পুস্তিকাটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবী (صحابة) ও তাবেয়ীদের (تابعين) থেকে বর্ণিত উদ্ধৃতিসমূহের (نقول) একটি সংকলন, যা তাদের ওপর হওয়া জুলুমের বিচার কিয়ামত দিবস পর্যন্ত বিলম্বিত করার বিষয়ের ওপর আবর্তিত হয়েছে। কারণ তারা বিশ্বাস করতেন যে, আল্লাহর আজাব অত্যন্ত কঠোর ও চিরস্থায়ী। আর তাদের মধ্যে যারা মজলুম ছিলেন, তারা দুনিয়াতে প্রতিশোধ গ্রহণের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও নিজেদের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিচার মহান আল্লাহর সামনে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে পরকাল পর্যন্ত তা বিলম্বিত করাকে অগ্রাধিকার দিতেন। তা সত্ত্বেও, এটি পাঠ করলে পাঠকের মনে এই ধারণা জাগে যে, লেখক সেই সময়ে বিভিন্ন অন্যায়ের শিকার হচ্ছিলেন যার ওপর তিনি ধৈর্য ধারণ করছিলেন এবং পূর্ববর্তীদের পদাঙ্ক অনুসরণের মাধ্যমে নিজেকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন।"
(খণ্ড: ১) তাখিরুদ জালামাতি ইলা ইয়াউমিল কিয়ামাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بالسلف الصالح، وهي تبين لنا جانبا هاما من خلق السيوطي في سنواته الأخيرة، وتلقي الضوء على معالم شخصيته ".

 

‌‌سبب تأليفه للرسالة:

وكان من سبب تأليف السيوطي لهذه الرسالة أنه ثار به صوفية الخانقاه التي كان يتولَّى نظارتها لأنه قال: إنكم لستمْ على شرط الواقف، فثاروا به وحملوه وألْقوه في فسقية الماء هكذا بجبَّته وعمامته .. وأنهُ خرجَ من الماء وأصلحَ ثيابهُ ثم توجَّه إلى روضة المقياس فسَكَنَ هناك، وأغلق النافذةَ التي تجاه النيل، وألَّف كتابه "تأخيرُ الظُّلامة إلى يوم القيامة"، وانقطعَ بعدها هناك إلى التأليف حتى وفاته .. (1)

 

‌‌تحقيق نسبتها للمؤلف:

والرسالة منسوبة للسيوطي، وذلك كما هو مدون على طرتها بخط واضح لا طمس فيه، كما نسبها إليه حاجي خليفة في "كشف الظنون"، والبغدادي في "هدية العارفين" وغيرهما.

--------------------------------------------

(1) ذكرَ ذلك ابن إياس في "بدائع الزهور"، وقد نقلتها عن مقالات للشيخ عبدالله الهدلق "ميراث الصمت والملكوت" (ص/49).
সালাফে সালেহীন; এটি আমাদের কাছে সুয়ূতী-র জীবনের শেষ বছরগুলোর চরিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ফুটিয়ে তোলে এবং তাঁর ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যগুলোর ওপর আলোকপাত করে।"

 

‌‌রিসালাহটি রচনার কারণ:

সুয়ূতী কর্তৃক এই রিসালাহটি রচনার কারণ ছিল এই যে, তিনি যে খানকাহর তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন, সেখানকার সুফিরা তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিল। কারণ তিনি বলেছিলেন: "আপনারা ওয়াকিফ (উৎসর্গকারী)-এর শর্ত অনুযায়ী চলছেন না।" এতে তারা উত্তেজিত হয়ে তাঁকে জুব্বা ও পাগড়িসহ পানির হাউজে নিক্ষেপ করে... তিনি পানি থেকে উঠে কাপড় ঠিক করলেন এবং রওজাতুল মিকিয়াসের দিকে চলে গেলেন। সেখানে তিনি বসবাস শুরু করেন এবং নীল নদের দিকের জানালাটি বন্ধ করে দেন। সেখানেই তিনি তাঁর কিতাব "তাখীরুজ জুলামাহ ইলা ইয়াওমিল কিয়ামাহ" রচনা করেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানে গ্রন্থ রচনায় আত্মনিয়োগ করেন... (১)

 

‌লেখকের প্রতি কিতাবটির সম্বন্ধ নিশ্চিতকরণ:

এই রিসালাহটি সুয়ূতীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া নিশ্চিত, যা এর পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে স্পষ্টাক্ষরে কোনো প্রকার অস্পষ্টতা ছাড়াই লিখিত আছে। যেমনটি হাজি খলিফা তাঁর "কাশফুজ্জুনুন" গ্রন্থে এবং বাগদাদী তাঁর "হাদিয়াতুল আরিফীন" ও অন্যান্য গ্রন্থে একে তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ইবনে ইয়াস তাঁর "বাদাইউজ্জুহুর" গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং আমি এটি শেখ আব্দুল্লাহ আল-হাদলাক-এর প্রবন্ধগুচ্ছ "মিরাসুস সামত ওয়াল মালাকুত" (পৃ. ৪৯) থেকে উদ্ধৃত করেছি।
(খণ্ড: ১) তাখিরুদ জালামাতি ইলা ইয়াউমিল কিয়ামাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌ترجمة المصنِّف (1):

هو عبد الرحمن بن أبي بكر بن محمد بن سابق الدين الخضيري السيوطي، جلال الدين: إمام حافظ مؤرخ أديب. ولد 849 هـ، ونشأ في القاهرة يتيما، ولما بلغ أربعين سنة اعتزل الناس، وخلا بنفسه في روضة المقياس، على النيل، منزويا عن أصحابه جميعا، كأنه لا يعرف أحدا منهم، فألف أكثر كتبه. وبقي على ذلك إلى أن توفي عام 911 هـ، له نحو ستمائة مصنف ومنها: (الإتقان في علوم القرآن)، (الأشباه والنظائر) في العربية، و (الأشباه والنظائر) في فروع الشافعية، و (الألفية في مصطلح الحديث) و (تدريب الراوي) و (الجامع الصغير) و (جمع الجوامع) … انظر ترجمته في: الكواكب السائرة (1/ 226)، وشذرات الذهب (8/ 51)، والضوء اللامع (4/ 65)، الأعلام للزركلي (3/ 302)، معجم المؤلفين لكحالة (5/ 129) وغيرها الكثير.

--------------------------------------------

(1) لا أرى داعيا للاستطراد في ترجمة السيوطي، فإنه علم مشهور وترجمته ومكانته لا تخفى على طالب علم، وقد أفرده بالترجمة: إياد خالد الطباع في كتابه: "الإمام الحافظ جلال الدين السيوطي مَعْلَمَةُ العلوم الإسلامية "، ومن جملة المراجع التي اعتمدها المؤلف:

* الإمام السيوطي وجهوده في علوم القرآن، (دكتوراه) إعداد محمد يوسف الشربجي. جامعة الزيتونة 1413هـ.

* جلال الدين السيوطي: عصره وحياته وآثاره وجهوده في الدرس اللغوي، د. طاهر سليمان حمودة، بيروت المكتب الإسلامي 1410هـ.

* جلال الدين السيوطي منهجه وآراؤه الكلامية، د. محمد جلال أبو الفتوح، بيروت، دار النهضة العربية.

* الحافظ السيوطي إمام المجتهدين والمجددين في عصره، عبد الحفيظ فرغلي القرني، القاهرة: الهيئة المصرية العامة للكتاب، 1990م.

* حياة جلال الدين السيوطي مع العلم من المهد إلى اللحد، سعدي أبو جيب، دمشق: دار المناهل 1993م ط 1.
গ্রন্থকারের জীবনী (১):

তিনি হলেন আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাবিকুদ্দিন আল-খুদাইরি আস-সুয়ুতি, জালালুদ্দিন: একজন ইমাম, হাফেজ (حافظ), ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক। তিনি ৮৪৯ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং কায়রোতে এতিম হিসেবে লালিত-পালিত হন। যখন তাঁর বয়স চল্লিশ বছর হলো, তখন তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান এবং নীল নদের তীরে রওজাতুল মিকইয়াসে নির্জনে অবস্থান করতে থাকেন। তিনি তাঁর সকল সহচর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, যেন তিনি তাদের কাউকেই চিনতেন না। সেখানেই তিনি তাঁর অধিকাংশ গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি এভাবেই ৯১১ হিজরিতে তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত অতিবাহিত করেন। তাঁর প্রায় ছয়শটি গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: (আল-ইতকান ফি উলুমিল কুরআন), আরবি ব্যাকরণ বিষয়ে (আল-আশবাত ওয়ান নাজাইর), শাফেয়ী ফিকহের শাখায় (আল-আশবাত ওয়ান নাজাইর), (আলফিয়া ফি মুসতালাহিল হাদিস), (তদরিবুর রাবি), (আল-জামি আস-সগির) এবং (জামউল জাওয়ামি) … তাঁর জীবনী দেখুন: আল-কাওয়াকিবুস সায়িরাহ (১/ ২২৬), শাজারাতুজ জাহাব (৮/ ৫১), আদ-দউউল লামি (৪/ ৬৫), যিরিকলির আল-আ'লাম (৩/ ৩০২), কাহহালার মু'জামুল মুয়াল্লিফিন (৫/ ১২৯) এবং আরও অনেক গ্রন্থে।

--------------------------------------------

(১) আমি ইমাম সুয়ুতির জীবনী বিস্তারিত আলোচনা করার প্রয়োজন বোধ করছি না, কারণ তিনি একজন সুপ্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর জীবনী ও মর্যাদা কোনো জ্ঞানান্বেষীর কাছেই অজানা নয়। আইয়াদ খালিদ আত-তাব্বা' তাঁর 'আল-ইমাম আল-হাফেজ জালালুদ্দিন আস-সুয়ুতি মালামাতুল উলুমিল ইসলামিয়া' গ্রন্থে স্বতন্ত্রভাবে তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন। লেখক যেসব তথ্যসূত্র ব্যবহার করেছেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

* আল-ইমাম আস-সুয়ুতি ওয়া জুহুদুহু ফি উলুমিল কুরআন, (পিএইচডি থিসিস) প্রস্তুতকারক: মুহাম্মদ ইউসুফ আশ-শারবাজি। যাইতুনা বিশ্ববিদ্যালয় ১৪১৩ হিজরি।

* জালালুদ্দিন আস-সুয়ুতি: আসরুহু ওয়া হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া জুহুদুহু ফিদ দারসিল লুগাউয়ি, ড. তাহের সুলাইমান হামুদা, বৈরুত: আল-মাকতাবুল ইসলামি ১৪১০ হিজরি।

* জালালুদ্দিন আস-সুয়ুতি মানহাজুহু ওয়া আরাউহুল কালামিয়্যাহ, ড. মুহাম্মদ জালাল আবুল ফুতুহ, বৈরুত: দারুন নাহদাতিল আরাবিয়্যাহ।

* আল-হাফেজ আস-সুয়ুতি ইমামুল মুজতাহিদীন ওয়াল মুজাদ্দিদীন ফি আসরিহি, আব্দুল হাফিজ ফারগালি আল-কারনি, কায়রো: আল-হাইয়াতুল মিসরিয়্যাতুল আম্মাহ লিল কিতাব, ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ।

* হায়াতু জালালুদ্দিন আস-সুয়ুতি মা'আল ইলমি মিনাল মাহদি ইলাল লাহদি, সাদি আবু জাইব, দামেস্ক: দারুল মানাহিল ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ, ১ম সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) তাখিরুদ জালামাতি ইলা ইয়াউমিল কিয়ামাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
[ق 13/أ] بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى.

1 (1) - أخرج الحسن بن سفيان في مسنده، وابن المنذر، وابن أبي حاتم، وأبو الشيخ، وابن مردويه في تفاسيرهم، والطبراني في معجمه، والعسكري في الأمثال، وابن منده والباوردي وأبو نعيم جميعا في معرفة الصحابة والبيهقي في دلائل النبوة عن أبي أمامة الباهلي رضي الله عنه قال: جاء ثعلبة بن حاطب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله ادع الله أن يرزقني مالا. قال: ويحك يا [ق 13/ب] ثعلبة. . .! قليل تطيق شكره خير من كثير لا تطيقه. قال: يا رسول الله، ادع الله أن يرزقني فوالذي بعثك بالحق إن أتاني الله مالا لأعطين كل ذي حق حقه. فقال: اللهمَّ ارزقه مالًا. فاشترى غنمًا فبورك له فيها ونمت كما ينمو الدود حتى ضاقت به المدينة فتنحى بها، ثم إن الله أمر رسوله أن يأخذ الصدقات، فبعث رجلين، يأخذان الصدقة، وكتب لهما أسنان الإبل والغنم، وأمرهما أن يمرا على ثعلبة فمرا به فسألانه الصدقة

فقال: ما هذا إلا جزية، انطلقا حتى أرى رأي. فانطلقا وأنزل الله {وَمِنْهُمْ مَنْ عَاهَدَ اللَّهَ لَئِنْ آتَانَا مِنْ فَضْلِهِ لَنَصَّدَّقَنَّ} [التوبة: 75] الآيات الثلاث. فقيل لثعلبة: ويحك. . .! أنزل فيك كذا وكذا. فقدم ثعلبة على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله هذه صدقة مالي. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن الله قد منعني أن أقبل منك قال: فجعل يبكي ويحثي التراب على رأسه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: هذا عملك بنفسك، فلم يقبل منه رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى مضى. ثم أتى أبا بكر فقال: يا أبا بكر اقبل مني صدقة، فقال أبو بكر: لم يقبلها رسول الله صلى الله عليه وسلم وأقبلها؟! فلم يقبلها أبو بكر، ثم ولي عمر بن الخطاب، فأتاه فقال: يا أبا حفص اقبل مني صدقتي. وثقل عليه بالمهاجرين والأنصار وأزواج رسول الله صلى الله عليه وسلم. فقال عمر: لم

--------------------------------------------

(1) هذا الترقيم من صنع الناسخ.
[পত্র ১৩/ক] পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।

১ (১) - হাসান বিন সুফিয়ান তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে; ইবনুল মুনজির, ইবনে আবি হাতিম, আবুশ শায়খ ও ইবনে মারদুওয়াইহ তাঁদের তাফসির গ্রন্থে; তাবারানি তাঁর মুজাম গ্রন্থে; আসকারি আল-আমসাল গ্রন্থে; এবং ইবনে মানদাহ, বাওয়ারদি ও আবু নুআইম সকলে মারিফাতুস সাহাবা গ্রন্থে এবং বায়হাকি দালাইলুন নুবুওয়াহ গ্রন্থে আবু উমামাহ আল-বাহিলি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ছালাবাহ বিন হাতিব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে আবেদন করল: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে দুআ করুন যেন তিনি আমাকে ধন-সম্পদ দান করেন। তিনি বললেন: হে [পত্র ১৩/খ] ছালাবাহ! তোমার জন্য আফসোস...! অল্প সম্পদ যার শোকর তুমি আদায় করতে পারবে, তা সেই অধিক সম্পদের চেয়ে উত্তম যার ভার সইবার ক্ষমতা তোমার নেই। সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে দুআ করুন যেন তিনি আমাকে রিজিক দান করেন; সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, যদি আল্লাহ আমাকে ধন-সম্পদ দান করেন তবে আমি অবশ্যই প্রত্যেক হকদারকে তার পাওনা দিয়ে দিব। তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহ! তাকে ধন-সম্পদ দান করুন। অতঃপর সে কিছু বকরি ক্রয় করল এবং তাতে তার জন্য বরকত দান করা হলো। ফলে সেগুলো পোকা-মাকড়ের ন্যায় বংশবৃদ্ধি করতে লাগল, এমনকি মদিনায় তার সংকুলান না হওয়ায় সে জনপদ থেকে দূরে সরে গেল। অতঃপর আল্লাহ তাঁর রাসূলকে সদকা (জাকাত) সংগ্রহের নির্দেশ দিলেন। তিনি দুইজন লোক পাঠালেন এবং তাদের জন্য উট ও বকরির (জাকাতের জন্য নির্ধারিত) বয়স লিখে দিলেন। তিনি তাঁদের ছালাবাহর কাছ দিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। তাঁরা তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে সদকা চাইলেন।

তখন সে বলল: এতো দেখছি জিজিয়া ছাড়া আর কিছু নয়! তোমরা এখন যাও, যতক্ষণ না আমি ভেবে দেখি। তাঁরা চলে গেলেন এবং আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: {এবং তাদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছিল যে, যদি তিনি নিজ অনুগ্রহে আমাদের দান করেন, তবে আমরা অবশ্যই সদকা করব...} [তওবা: ৭৫] এই তিনটি আয়াত। অতঃপর ছালাবাহকে বলা হলো: তোমার দুর্ভোগ! তোমার ব্যাপারে এই এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। তখন ছালাবাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়ে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! এই নিন আমার সম্পদের সদকা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে তোমার থেকে তা গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন সে কাঁদতে লাগল এবং নিজের মাথায় মাটি ছিটাতে লাগল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: এটি তোমার নিজের কৃতকর্মের ফল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ওফাত পর্যন্ত তার থেকে কিছুই গ্রহণ করেননি। এরপর সে আবু বকর (রা.)-এর নিকট এসে বলল: হে আবু বকর! আমার থেকে সদকা গ্রহণ করুন। আবু বকর (রা.) বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা গ্রহণ করেননি, আমি কি তা গ্রহণ করব?! সুতরাং আবু বকর (রা.) তা গ্রহণ করলেন না। অতঃপর যখন ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন, সে তাঁর নিকট এসে বলল: হে আবু হাফস! আমার থেকে সদকা গ্রহণ করুন। সে মুহাজির, আনসার এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্নীদের মাধ্যমে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করল। তখন ওমর (রা.) বললেন: কেন আমি...

--------------------------------------------

(১) এই সংখ্যায়নটি লিপিকারের পক্ষ থেকে।
(খণ্ড: ১) তাখিরুদ জালামাতি ইলা ইয়াউমিল কিয়ামাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
يقبلها رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا أبو بكر أقبلها أنا؟! فأبى أن يقبلها، ثم ولي عثمان فلم يقبلها وهلك في خلافة عثمان (1).

--------------------------------------------

(1) ضعيف - أخرجه ابن أبي عاصم في "الآحاد والمثاني" (4/ 250) (2253)، والطبري في "تفسيره" (14/ 370) (16987)، وابن أبي حاتم في "تفسيره" (6/ 1847)، وابن قانع في "معجم الصحابة" مختصرا (1/ 124)، والطبراني في "الكبير" (8/ 218) (7873) مختصرا، وبنحوه في "الأحاديث الطوال" (1/ 225)، وأبو نعيم في "معرفة الصحابة" (1/ 495) (1404)، والبيهقي في "شعب الإيمان" (6/ 198) (4048)، وفي "دلائل النبوة" (5/ 289)، والشجري في "ترتيب الأمالي الشجرية" (1/ 261) (897)، وغيرهم من طريق معان بن رفاعة، عن علي بن يزيد، عن القاسم، عن أبي أمامة رضي الله عنه بنحوه وهذا إسناد ضعيف فيه معان، قال عنه في "التقريب": "لين الحديث كثير الإرسال"، وشيخه هو علي بن يزيد الألهاني: اتفق أهل العلم على ضعفه، وبعضهم شدد العبارة فيه فقال بعضهم: متروك الحديث، وبعضهم: منكر الحديث، وشيخه القاسم: يغرب كثيرا، وقد شكك الحافظ أن يكون صاحب هذه القصة هو ثعلبة بن حاطب البدري فقال الحافظ في الإصابة (1/ 516): "وفي كون صاحب هذه القصة- إن صحّ الخبر ولا أظنه يصحّ- هو البدري المذكور قبله- نظر، وقد تأكدت المغايرة بينهما يقول ابن الكلبيّ: إن البدريّ استشهد بأحد، ويقوّي ذلك أيضا أن ابن مردويه روى في تفسيره من طريق عطية عن ابن عبّاس في الآية المذكورة. قال: وذلك أن رجلا يقال له ثعلبة بن أبي حاطب من الأنصار أتى مجلسا فأشهدهم فقال: لَئِنْ آتانا مِنْ فَضْلِهِ [التوبة: 75] الآية. فذكر القصّة بطولها، فقال: إنه ثعلبة بن أبي حاطب. والبدريّ اتفقوا على أنه ثعلبة بن حاطب، وقد ثبت أنه صلى الله عليه وسلم قال: «لا يدخل النّار أحد شهد بدرا والحديبيّة». وحكى عن ربّه أنه قال لأهل بدر: «اعملوا ما شئتم فقد غفرت لكم». فمن يكون بهذه المثابة كيف يعقبه اللَّه نفاقا في قلبه، وينزل فيه ما نزل؟ فالظاهر أنه غيره. واللَّه أعلم ".

وقد عدَّ بعض العلماء هذا الوجه الذي ذكره الحافظ من أن ثعلبة بدريا من الأبرار المغفور لهم من وجوه الحكم على متن الحديث بالنكارة على اعتبار عدم تعدد الصحابي صاحب القصة، وزادوا وجوها أخرى ومنها:

أن القصة مخالفة لنصوص الشرع الثابتة الواضحة الدالة على قبول التوبة ما لم يغرر أو تطلع الشمس من مغربها، ومخالفة أيضا لنصوص السنة من الضرب على يد الممتنع عن الزكاة وأخذها منه وشطر ماله.

والحديث ضعفه جماعة من العلماء منهم: البيهقي، والذهبي، والعراقي، والهيثمي، وابن حجر، والمناوي، والألباني.
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি তা গ্রহণ করেছেন? আর না কি আবু বকর তা গ্রহণ করেছেন যে আমি তা গ্রহণ করব?! অতঃপর তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর উসমান (রা.) এর খিলাফতকাল আসে, তিনিও তা গ্রহণ করেননি এবং উসমানের খিলাফতকালেই তার মৃত্যু হয়।

--------------------------------------------

(১) দুর্বল (ضعيف) - এটি ইবনে আবি আসিম ‘আল-আহাদ ওয়াল মাসানি’ (৪/২৫০) (২২৫৩), তাবারানি তাঁর ‘তাফসির’ (১৪/৩৭০) (১৬৯৮৭), ইবনে আবি হাতিম তাঁর ‘তাফসির’ (৬/১৮احت৭), ইবনে কানি ‘মু’জাম আস-সাহাবা’-তে সংক্ষেপে (১/১২৪), তাবারানি ‘আল-কাবির’ (৮/২১৮) (৭৮৭৩)-এ সংক্ষেপে, এবং অনুরূপ বর্ণনা ‘আল-আহাদিস আত-তিওয়াল’ (১/২২৫), আবু নুয়াইম ‘মা’রিফাত আস-সাহাবা’ (১/৪৯৫) (১৪০৪), বায়হাকি ‘শুআবুল ঈমান’ (৬/১৯৮) (৪০৪৮) ও ‘দালাইলুন নবুওয়াহ’ (৫/২৮৯), আশ-শাজারি ‘তারতিব আল-আমালি আশ-শাজারিয়া’ (১/২৬১) (৮৯৭) এবং আরও অনেকে মু’আন ইবনে রিফা’আ-এর সূত্রে, তিনি আলী ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি আল-কাসিম থেকে, তিনি আবু উমামা (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর এটি একটি দুর্বল (ضعيف) সনদ (إسناد), যাতে মু’আন রয়েছেন। ‘আত-তাকরিব’ গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে: “তিনি হাদিসে শিথিল (لين الحديث) এবং অধিক মুরসালকারী (كثير الإرسال)।” তাঁর উস্তাদ হলেন আলী ইবনে ইয়াজিদ আল-আলহানি: আলেমগণ তাঁর দুর্বলতার (ضعفه) বিষয়ে একমত হয়েছেন, কেউ কেউ তাঁর সম্পর্কে কঠোর শব্দ ব্যবহার করেছেন; তাঁদের কেউ বলেছেন: তিনি হাদিস বর্জনীয় (متروك الحديث), আবার কেউ বলেছেন: তিনি মুনকার হাদিস (منكر الحديث) বর্ণনাকারী। তাঁর উস্তাদ আল-কাসিম: তিনি অনেক অপরিচিত বা অদ্ভুত হাদিস বর্ণনা করেন (يغرب كثيرا)। হাফেজ ইবনে হাজার সন্দেহ পোষণ করেছেন যে, এই ঘটনার ব্যক্তিটি কি বদরি সাহাবী সালাবা ইবনে হাতিব কি না। তিনি ‘আল-ইসাবাহ’ (১/৫১৬) গ্রন্থে বলেন: “এই ঘটনার ব্যক্তিটি—যদি বর্ণনাটি সহিহ (صح) হয়, যদিও আমি তা মনে করি না—তিনিই পূর্বোক্ত বদরি সাহাবী কি না, সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে। তাঁদের দুজনের মধ্যে ভিন্নতা নিশ্চিত হওয়া যায় ইবনে আল-কালবি-র উক্তি থেকে: ‘নিশ্চয়ই বদরি সাহাবী ওহুদ যুদ্ধে শহিদ হয়েছেন।’ এই বিষয়টিকে আরও শক্তিশালী করে যে, ইবনে মারদুওয়াই তাঁর তাফসির গ্রন্থে আতিয়্যাহ-এর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে উক্ত আয়াতের প্রেক্ষাপটে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আনসারদের মধ্য থেকে সালাবা ইবনে আবি হাতিব নামক এক ব্যক্তি একটি মজলিসে এসে তাঁদের সাক্ষী রেখে বলেন: ‘যদি তিনি তাঁর অনুগ্রহ থেকে আমাদের দান করেন... [আত-তাওবাহ: ৭৫]’ আয়াত। এরপর তিনি দীর্ঘ ঘটনাটি উল্লেখ করে বলেন: তিনি হলেন সালাবা ইবনে আবি হাতিব। অথচ বদরি সাহাবীর নাম যে সালাবা ইবনে হাতিব, সে ব্যাপারে সকলে একমত। আবার এটিও প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ‘বদর ও হুদাইবিয়ায় উপস্থিত কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।’ তিনি তাঁর রব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বদরবাসীদের সম্পর্কে বলেছেন: ‘তোমরা যা ইচ্ছা করো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।’ সুতরাং যিনি এই মর্যাদার অধিকারী, আল্লাহ কীভাবে তাঁর অন্তরে নেফাক সৃষ্টি করবেন এবং তাঁর সম্পর্কে এমন আয়াত নাযিল করবেন? ফলে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি অন্য কেউ। আল্লাহই ভালো জানেন।”

কিছু আলেম হাফেজ ইবনে হাজারের উল্লিখিত এই দিকটিকে—অর্থাৎ সালাবা একজন বদরি সাহাবী ছিলেন যিনি সৎকর্মশীল ও ক্ষমাপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত—হাদিসের মূল পাঠে (متن الحديث) মুনকার বা অসংগতি (النكارة) সাব্যস্ত করার অন্যতম কারণ হিসেবে গণ্য করেছেন, এই বিবেচনায় যে ঘটনার সাহাবী একাধিক নন। তাঁরা আরও কিছু কারণ যোগ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

এই ঘটনাটি শরীয়তের সুপ্রতিষ্ঠিত ও স্পষ্ট দলিলের বিরোধী, যা তওবা কবুল হওয়ার প্রমাণ দেয় যতক্ষণ না প্রাণ ওষ্ঠাগত হয় অথবা পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হয়। এটি সুন্নাহর সেই দলিলেরও বিরোধী যা যাকাত প্রদানে অস্বীকারকারীর হাত থেকে তা জোরপূর্বক গ্রহণ করা এবং তার সম্পদের অর্ধেক (জরিমানা হিসেবে) নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

একদল আলেম এই হাদিসটিকে দুর্বল (ضعف) বলেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: বায়হাকি, জাহাবি, ইরাকি, হাইসামি, ইবনে হাজার, মুনাভি এবং আলবানি।
(খণ্ড: ১) তাখিরুদ জালামাতি ইলা ইয়াউমিল কিয়ামাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
2 - وأخرج الطبراني والحاكم في المستدرك وصححه عن عبد الله بن عمرو قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أصاب غنيمة أمر بلالا فنادى في الناس فيجيئون بغنائمهم فيخمسه ويقسمه فجاء رجل بعد ذلك بزمام من شعر فقال يا رسول الله هذا [ق 14/أ] فيما أصبناه من الغنيمة. قال: أسمعت بلالا ثلاثا؟ قال: نعم. قال: فما منعك أن تجيء به؟ قال: يا رسول الله فاعتذر، قال: أنت تجيء به يوم القيامة فلن أقبله منك (1).

3 - وقال ابن عساكر في (تاريخه) (2): أَنبأنا أَبُو عبد الله محمد بن علي بن أبي العلاء، حدثنا أبو بكر الخطيب لفظا أخْبَرَنا أبو الحسين بن بشران، حدثنا أبو عَمْرو عثمان بن أحمد بن عبد الله الدقاق أخْبَرَنا أبو بكر محمد بن أحمد بن النضر، حدثنا معاوية بن عَمْرو،، عَن أبي إسحاق عن صفوان بن عَمْرو، حدثنا حوشب بن سيف قال غزا الناس في زمان معاوية وعليهم عبد الرحمن بن خالد فغلّ رجل من المسلمين مائة دينار رومية فلما قفل الجيش ندم الرجل فأتى عبد الرحمن بن خالد فأخبره خبره وسأله

--------------------------------------------

(1) حسن - أخرجه أبو داود في "سننه" (3/ 68) (2/ 27)، ،أبو إسحاق في "سيرته" (ص/234)، وأحمد في "مسنده" (11/ 573) (6996)، وابن حبان في "صحيحه" (11/ 138) (4809)، (11/ 197) (4858)،والطبراني في "الأوسط" (8023)، وفي "مسند الشاميين" (2/ 249) (1280)، والحاكم في "المستدرك" (2/ 138) (2583)، وأبو نعيم في "الحلية" (6/ 133)، والبيهقي في "الكبرى" (6/ 480، 527)، (9/ 174)، وغيرهم من طريق عبد الله بن شوذب، قال: حدثني عامر يعني ابن عبد الواحد، عن ابن بريدة، عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما به، وإسناده حسن من أجل عامر قال عنه في "التقريب": "صدوق يخطيء".

(2) صحيح- (29/ 138) (3337) بسند رواته ثقات وقد تتبعت تراجمهم، وقد زاد ابن عساكر على ما ذكره السيوطي: (فلما قدم دمشق دخل على معاوية يذكر ذلك له فقال له مثل ذلك فخرج من عنده وهو يبكي ويسترجع فمر بعبد الله بن الشاعر السكسكي فقال له ما يبكيك فذكر له أمره فقال أمطيعي أنت يا عبد الله قال نعم قال فانطلق إلى معاوية فقال له اقبل مني خمسك فادفع إليه عشرين دينارا وانظر الثمانين الباقية فتصدق بها عن ذلك الجيش فإن الله يقبل التوبة عن عباده وهو أعلم بأسمائهم ومكانهم ففعل الرجل فقال معاوية لأن أكون أفتيته بها أحب إلي من كل شئ أملكه أحسن الرجل).
২ - তাবারানি এবং হাকেম মুস্তাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ (صحيح) বলেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখনই কোনো যুদ্ধলব্ধ সম্পদ লাভ করতেন, তখন বেলালকে নির্দেশ দিতেন। অতঃপর তিনি মানুষের মাঝে ঘোষণা দিতেন, ফলে তারা তাদের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ নিয়ে আসত। তখন তিনি এর পঞ্চমাংশ বের করতেন এবং বাকিটা বণ্টন করতেন। এরপর এক ব্যক্তি পশমের তৈরি একটি লাগাম নিয়ে আসলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটি [প ১৪/ক] আমরা যে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ পেয়েছিলাম তার অন্তর্ভুক্ত। তিনি বললেন: তুমি কি বেলালের ঘোষণা তিনবার শুনেছ? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তাহলে এটি নিয়ে আসতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছিল? সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! অতঃপর সে অজুহাত পেশ করল। তিনি বললেন: তুমি এটি কিয়ামতের দিন নিয়ে আসবে, আমি তোমার থেকে এটি কখনই গ্রহণ করব না (১)।

৩ - ইবনে আসাকির তার তারিখে (২) বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল আবি আল-আলা, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর আল-খাতিব মৌখিকভাবে, আমাদের খবর দিয়েছেন আবু হোসেন ইবনে বিশরান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আমর উসমান ইবনে আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ আদ-দাক্কাক, আমাদের খবর দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুন নাদর, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া ইবনে আমর, আবু ইসহাক থেকে, তিনি সাফওয়ান ইবনে আমর থেকে, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাওশাব ইবনে সাইফ, তিনি বলেন: মুয়াবিয়ার যুগে মানুষ যুদ্ধে বের হলো এবং তাদের সেনাপতি ছিলেন আবদুর রহমান ইবনে খালিদ। তখন মুসলিমদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি একশ রোমান দিনার খেয়ানত (غل) করল। যখন সেনাবাহিনী ফিরে আসল, লোকটি অনুতপ্ত হলো এবং আবদুর রহমান ইবনে খালিদের কাছে এসে তাকে বিষয়টি জানাল ও এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করল...

--------------------------------------------

(১) হাসান (حسن) - আবু দাউদ তার সুনান-এ এটি বর্ণনা করেছেন (৩/৬৮) (২/২৭), আবু ইসহাক তার সিরাত-এ (পৃ./২৩৪), আহমদ তার মুসনাদ-এ (১১/৫৭৩) (৬৯৯৬), ইবনে হিব্বান তার সহিহ-এ (১১/১৩৮) (৪৮০৯), (১১/১৯৭) (৪৮৫৮), তাবারানি আল-আওসাত-এ (৮০২৩) এবং মুসনাদ আশ-শামিয়্যিন-এ (২/২৪৯) (১২৮০), হাকেম মুস্তাদরাক-এ (২/১৩৮) (২৫৮৩), আবু নুয়াইম আল-হিলইয়াহ-এ (৬/১৩৩), বাইহাকি আল-কুবরা-তে (৬/৪৮০, ৫২৭), (৯/১৭৪), এবং অন্যান্যরা আবদুল্লাহ ইবনে শওজাব-এর সূত্র থেকে, তিনি বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আমির—অর্থাৎ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ—ইবনে বুরাইদা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর এর সনদ (إسنাদ) হাসান (حسن), আমিরের কারণে; যার সম্পর্কে তাক্বরীব গ্রন্থে বলা হয়েছে: "সত্যবাদী (صدوق), তবে ভুল করেন (يخطئ)"।

(২) সহিহ (صحيح)- (২৯/১৩৮) (৩৩৩৭) এমন একটি সনদ (إسناد) দ্বারা যার বর্ণনাকারীগণ (رواته) নির্ভরযোগ্য (ثقات), এবং আমি তাদের জীবনী (تراجم) অনুসন্ধান করেছি। সুয়ুতি যা উল্লেখ করেছেন তার সাথে ইবনে আসাকির আরও যোগ করেছেন: (অতঃপর যখন সে দামেশকে আসল, তখন মুয়াবিয়ার কাছে প্রবেশ করে বিষয়টি তার কাছে উল্লেখ করল। তিনি তাকে অনুরূপ কথা বললেন। তখন সে কাঁদতে কাঁদতে এবং 'ইন্নালিল্লাহ' পাঠ করতে করতে (يسترجع) তার নিকট থেকে বেরিয়ে এল। সে সময় আবদুল্লাহ ইবনে শায়ের আস-সাকসাকির সাথে তার দেখা হলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: কিসে তোমাকে কাঁদাচ্ছে? সে তাকে তার বিষয়টি খুলে বলল। তিনি বললেন: হে আল্লাহর বান্দা, তুমি কি আমার কথা মানবে? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তাহলে মুয়াবিয়ার কাছে যাও এবং তাকে বল, আমার থেকে এর পঞ্চমাংশ গ্রহণ করুন। অতঃপর তাকে ২০ দিনার দিয়ে দাও। আর অবশিষ্ট ৮০ দিনার দেখ, সেই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সদকা করে দাও; কেননা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন এবং তিনি তাদের নাম ও অবস্থান সম্পর্কে সম্যক অবগত। লোকটি তাই করল। তখন মুয়াবিয়া বললেন: আমি যদি তাকে এই ফতোয়া দিতে পারতাম, তবে তা আমার মালিকানাধীন সবকিছুর চেয়ে আমার নিকট অধিক প্রিয় হতো। লোকটি উত্তম কাজ করেছে)।
(খণ্ড: ১) তাখিরুদ জালামাতি ইলা ইয়াউমিল কিয়ামাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
أن يقبلها منه فأبى وقال قد تفرق الجيش فلن اقبلها منك حتى تأتي الله بها يوم القيامة فجعل يستقرئ أصحاب رسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم فيقولون له مثل ذلك فخرج من عنده وهو يبكي.

أخرجه البخاري في تاريخه (1).

4 - وقال عبد الرزاق في المصنف أخبرنا معمر عن أيوب عن ابن سيرين، أن رجلا من الأنصار وسع لرجل من المهاجرين في داره ثم إن الأنصاري احتاج إلى داره فجحده المهاجر فاختصما إلى النبي صلى الله عليه وسلم، ولم يكن للأنصاري بنية فحلف المهاجر ثم إن الأنصاري حضر الموت فقال لبنيه: إنه رضي بها من الله وإني رضيت بالله منها وإنه سيندم فيردها عليكم فلا تقبلوها، فلما توفي الأنصاري ندم المهاجر فجاء إلى بني الأنصاري فقال اقبلوا داركم فأبوا فذكر ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم، فذكروا أن أباهم أمرهم أن لا يقبلوها فقال النبي صلى الله عليه وسلم، أتستطيع أن تحملها من سبع أرضين ولم يأمر ولدي الأنصاري أن يقبلوها (2).

5 - وقال ابن سعد في الطبقات: أخبرنا موسى بن إسماعيل حدثنا أبو هلال عن قتادة قال: قال الحسن للحسين: إني قد سقيت السم غير مرة، وإني لم أسق مثل هذه، فقال: من فعل ذلك بك؟ قال لم؟ سقته (3) قال: نعم قال: ما كنت لأخبرك [الله أشد نقمه] (4) (5).

6 - وفي تاريخ [ق 14/ب] ابن عساكر: أن رجلا من الصحابة قتل فأمر معاوية بتحصيل قاتله، فلما

--------------------------------------------

(1) أشار إليه في ترجمة عبد الله بن الشاعر السكسكي، فقال: (روى عنه حوشب بن سيف قوله في الغلول إذا تفرق الجيش).

(2) إسناده ضعيف - ذكره المتقي الهندي في "كنز العمال" (10/ 644) (3379) وعزاه لعبد الرزاق في "المصنف" ولم أقف عليه عنده، وهذا الإسناد ظاهره الإرسال، وأن ابن سيرين لم يدرك هذه القصة.

(3) كذا بالأصل، وفي الطبقات: "لتقتله؟! " وهو الأليق بالسياق.

(4) ما بين المعكوفتين غير مذكور بالأصل.

(5) إسناده ضعيف - أخرجه هذا الطريق ابن سعد الطبقات (1/ 338 - القسم المتمم) (296) وقتادة لم يدرك الحسن فقد ولد بعد موته بسنوات.
যাতে তিনি তা তাঁর কাছ থেকে গ্রহণ করেন, কিন্তু তিনি অস্বীকার করলেন এবং বললেন, "বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে, তাই আমি এটি তোমার কাছ থেকে গ্রহণ করব না যতক্ষণ না কিয়ামতের দিন তুমি এটি নিয়ে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হও।" ফলে তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীগণের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে শুরু করলেন, কিন্তু তাঁরাও তাঁকে একই কথা বললেন। এরপর তিনি কাঁদতে কাঁদতে তাঁর কাছ থেকে চলে গেলেন।

ইমাম বুখারি তাঁর তারিখ-এ এটি বর্ণনা করেছেন (১)।

৪ - এবং আবদুর রাজ্জাক মুসান্নাফ-এ বলেছেন, মা'মার আইয়ুব থেকে এবং তিনি ইবনে সিরিন থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, জনৈক আনসারি ব্যক্তি জনৈক মুহাজির ব্যক্তিকে তাঁর ঘরে জায়গা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আনসারির সেই ঘরের প্রয়োজন হলে মুহাজির তা অস্বীকার করেন। এরপর তাঁরা নবী (সা.)-এর কাছে বিচার নিয়ে যান। আনসারি ব্যক্তির কাছে কোনো প্রমাণ ছিল না, ফলে মুহাজির ব্যক্তি শপথ করেন। পরবর্তীতে আনসারির মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে তিনি তাঁর সন্তানদের বললেন: "তিনি (মুহাজির) আল্লাহর কাছে এর বিনিময়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং আমিও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এটি ছেড়ে দিলাম। শীঘ্রই তিনি লজ্জিত হবেন এবং এটি তোমাদের কাছে ফিরিয়ে দেবেন, কিন্তু তোমরা তা গ্রহণ করো না।" যখন আনসারি ইন্তেকাল করলেন, মুহাজির লজ্জিত হলেন এবং আনসারির সন্তানদের কাছে এসে বললেন, "তোমাদের ঘর গ্রহণ করো।" কিন্তু তাঁরা অস্বীকার করলেন। বিষয়টি নবী (সা.)-এর কাছে উল্লেখ করা হলে তাঁরা বললেন যে, তাঁদের পিতা তাঁদের তা গ্রহণ না করার নির্দেশ দিয়ে গেছেন। তখন নবী (সা.) বললেন, "তুমি কি সাত তবক জমিন থেকে তা বহন করতে পারবে?" অথচ তিনি আনসারির সন্তানদের তা গ্রহণ করার নির্দেশ দেননি (২)।

৫ - এবং ইবনে সাদ তাবাকাত-এ বলেছেন: মুসা ইবনে ইসমাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু হিলাল কাতাদা থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান হুসাইনকে বললেন: "আমাকে একাধিকবার বিষ পান করানো হয়েছে, তবে এর মতো আগে কখনো করানো হয়নি।" তিনি বললেন: "আপনার সাথে এমনটি কে করেছে?" তিনি বললেন: "কেন? তাকে কি আপনি হত্যা করতে চান?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "আমি আপনাকে তা বলব না [আল্লাহর শাস্তিই অধিক কঠোর]" (৩) (৪) (৫)।

৬ - এবং ইবনে আসাকিরের তারিখ-এ [১৪/খ] রয়েছে: সাহাবীগণের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি নিহত হলেন, তখন মুআবিয়া তাঁর হত্যাকারীকে ধরার নির্দেশ দিলেন। যখন...

--------------------------------------------

(১) তিনি আবদুল্লাহ ইবনে শায়ির আস-সাকসাকি-এর জীবনীতে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং বলেছেন: "হাওশাব ইবনে সাইফ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন গনিমতের সম্পদ আত্মসাতের (غلول) ব্যাপারে যখন বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।"

(২) এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف) - মুত্তাকি আল-হিন্দি কানজুল উম্মাল-এ (১০/৬৪৪) (৩৩৭১) এটি উল্লেখ করেছেন এবং একে আবদুর রাজ্জাকের মুসান্নাফ-এর দিকে সম্বন্ধ করেছেন, কিন্তু আমি তাঁর কাছে এটি পাইনি। এই সনদের বাহ্যিক দিক হলো বিচ্ছিন্ন (مرسل) এবং ইবনে সিরিন এই ঘটনাটি পাননি।

(৩) মূল পাঠে এভাবেই আছে, তবে তাবাকাত-এ আছে: "তাকে হত্যা করার জন্য?!" এবং এটিই প্রসঙ্গের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।

(৪) তৃতীয় বন্ধনীর ভেতরের অংশটি মূলে উল্লিখিত নেই।

(৫) এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف) - ইবনে সাদ তাবাকাত-এ (১/৩৩৮ - পরিশিষ্ট অংশ) (২৯৬) এই সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। আর কাতাদা হাসানকে পাননি, কারণ তিনি তাঁর ইন্তেকালের কয়েক বছর পর জন্মগ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাখিরুদ জালামাতি ইলা ইয়াউমিল কিয়ামাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
حضر إليه بعث به إلى ابن المقتول وقال: هاك قاتل أبيك فاقتله بيدك فقال: والله لا آخذ هذا في أبي، ولكن أتركه حتى يلقى الله فيقتل بأبي على الصراط (1).

7 - وأخرج ابن عساكر: عن عبيدة بن الحكم الأزدي أن قوما أتوا الحسن بن علي، رضي الله عنهما، فذكروا زيادا وجعلوا يقولون اللهم اجعل قتله بأيدينا فقال الحسن: مه، فإن القتل كفارة، ولكن اسأل الله أن يميته على فراشه (2).

8 - وقال ابن عساكر: أخبرنا أبو عبد الله الخلال، أخبرنا إبراهيم بن منصور، أخبرنا أبو بكر المقرئ، حدثنا الطحاوي، حدثنا إبراهيم بن أبي داود البرلسي، حدثنا عبد الرحمن بن المبارك، حدثنا سفيان بن حبيب، حدثنا شعبة عن عَمْرو بن مرة، عَن أبي صالح ذكوان عن صهيب مولى العباس قال: رأيت عليا يقبل يد العباس ورجله ويقول يا عم ارض عني قال: كلا والله لتلقين الله بها (3).

--------------------------------------------

(1) لم أقف عليه.

(2) حسن لغيره - أخرجه ابن عساكر في "تاريخ دمشق" (19/ 202 - 203) بسند فيه من لم أعرفه، ورواه أبو علي الصواف في "فوائده" (ص/645) (23)، والطبراني في "الكبير" (3/ 70) (2690)، وابن عساكر (19/ 202) من طريق أبي نعيم، ثنا سفيان، عن يونس بن عبيد، عن الحسن البصري عن الحسن بن علي بنحوه، ورواته ثقات إلا أنه الحسن البصري مدلس ولم يصرح بالتحديث، وللأثر طرقا أخرى بنحوه، فيتقوى.

(3) ضعيف - أخرجه ابن عساكر في "تاريخه" (26/ 372) من الطريق السابق وليس فيه ذكر قول العباس الأخير، وأخرجه أيضا الفسوي في "المعرفة والتاريخ" (1/ 514)، والبلاذري في "الأنساب" (4/ 6) وابن المقريء في "الرخصة في تقبيل اليد" (ص/73) (13)، (ص/76) (15)، وابن عساكر في "تاريخه" (26/ 372 - 373) كلهم من طرق عن سفيان بن حبيب به، والحديث حسن إسناده الذهبي في السير بدون الزيادة إلا أنه قال: "وصهيب لا أعرفه" وصهيب مجهول لم يرو عنه غير ذكوان، ولم يوثقه غير ابن حبان، وهو علة هذا الإسناد، وعليه فالإسناد ضعيف.

تنبيه: محل الشاهد من الأثر وهو قول العباس: " كلا والله لتلقين الله بها" زاده - في إحدى طرق ابن عساكر - أبو بكر بن خيثمة الراوي عن عبدالرحمن بن المبارك عن سفيان بن حبيب، وانفرد بها، وخالف باقي الرواة عن عبدالرحمن، وهم: أحمد بن إبراهيم، ويعقوب الفسوي، وإبراهيم بن أبي داود، بالإضافة إلى أن هذا الأثر روي عن سفيان من طريقين الأول: عبدالرحمن بن المبارك واختلف عليه كما سبق، والثاني: سليمان بن أيوب ولم يختلف عليه ولم يذكر الزيادة.
তাকে তার কাছে নিয়ে আসা হলে তিনি তাকে নিহত ব্যক্তির পুত্রের নিকট পাঠালেন এবং বললেন: "এই নাও তোমার পিতার হত্যাকারী, একে নিজ হাতে হত্যা করো।" তখন সে বলল: "আল্লাহর কসম, আমি আমার পিতার বিনিময়ে একে গ্রহণ করব না, বরং আমি তাকে ছেড়ে দিচ্ছি যাতে সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে এবং পুলসিরাতের ওপর আমার পিতার বিনিময়ে তাকে হত্যা করা হয় (১)।"

৭ - ইবনে আসাকির বর্ণনা করেছেন: উবাইদাহ বিন আল-হাকাম আল-আজদী থেকে বর্ণিত যে, একদল লোক হাসান বিন আলী (রা.)-এর নিকট আসলেন এবং তারা যিয়াদ সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তারা বলতে লাগলেন, "হে আল্লাহ! তার মৃত্যু যেন আমাদের হাতেই হয়।" তখন হাসান বললেন: "থামো! কেননা হত্যা হলো পাপের কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত), বরং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো যেন তিনি তাকে তার বিছানায় মৃত্যু দান করেন (২)।"

৮ - ইবনে আসাকির বলেন: আবু আবদুল্লাহ আল-খাল্লাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবরাহিম বিন মনসুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাহাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহিম বিন আবি দাউদ আল-বুরলুসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান বিন আল-মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান বিন হাবিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ আমর বিন মুররাহ থেকে, তিনি আবু সালেহ জাকওয়ান থেকে, তিনি আব্বাসের মুক্তদাসী সুহাইব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি আলীকে আব্বাসের হাত ও পা চুম্বন করতে দেখেছি এবং তিনি বলছিলেন, 'হে চাচা, আমার ওপর সন্তুষ্ট হোন।' তিনি বললেন, 'কখনোই না, আল্লাহর কসম, তুমি অবশ্যই এই অবস্থাতেই আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে' (৩)।"

--------------------------------------------

(১) আমি এটি খুঁজে পাইনি।

(২) লি-গাইরিহি হাসান (حسن لغيره) - ইবনে আসাকির এটি "তারিখু দামেশক" (১৯/ ২০২ - ২০৩) গ্রন্থে এমন এক সনদে (بسند) বর্ণনা করেছেন যাতে এমন একজন রয়েছেন যাকে আমি চিনি না। আবু আলী আস-সাওয়াফ তার "ফাওয়াইদ" (পৃ/৬৪৫) (২৩) গ্রন্থে, তাবারানি "আল-কাবির" (৩/ ৭০) (২৬৯০) গ্রন্থে এবং ইবনে আসাকির (১৯/ ২০২) আবু নুআইমের সূত্রে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি ইউনুস বিন উবাইদ থেকে, তিনি হাসান বসরী থেকে, তিনি হাসান বিন আলী থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), তবে হাসান বসরী একজন তাদলীসকারী (مدلس) এবং তিনি সরাসরি শোনার কথা (بالتحديث) ব্যক্ত করেননি। তবে এই আসারের অন্যান্য সমার্থক সূত্র রয়েছে, যার ফলে এটি শক্তিশালী হয়েছে।

(৩) দুর্বল (ضعيف) - ইবনে আসাকির তার "তারিখ" (২৬/ ৩৭২) গ্রন্থে পূর্বোক্ত সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে আব্বাসের শেষোক্ত কথাটির উল্লেখ নেই। আল-ফাসায়ি "আল-মা'রিফাত ওয়াত-তারিখ" (১/ ৫১৪) গ্রন্থে, বালাজুরি "আল-আনসাব" (৪/ ৬) গ্রন্থে, ইবনুল মুকরি "আর-রুখসাতু ফি তাকবিলিল ইয়াদ" (পৃ/৭৩) (১৩), (পৃ/৭৬) (১৫) গ্রন্থে এবং ইবনে আসাকির তার "তারিখ" (২৬/ ৩৭২ - ৩৭৩) গ্রন্থে সকলেই সুফিয়ান বিন হাবিবের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। হাদিসটির সনদকে (إسناده) আয-যাহাবী "সিয়ার" গ্রন্থে অতিরিক্ত অংশটুকু ব্যতীত হাসান (حسن) বলেছেন, তবে তিনি বলেছেন: "আমি সুহাইবকে চিনি না।" আর সুহাইব হলেন অপরিচিত (مجهول), জাকওয়ান ছাড়া আর কেউ তার থেকে বর্ণনা করেননি এবং ইবনে হিব্বান ছাড়া আর কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেননি (يوثقه)। আর এটাই এই সনদের (الإسناد) ত্রুটি (علة), সে অনুযায়ী সনদটি (الإسناد) দুর্বল (ضعيف)।

সতর্কবার্তা: এই আসারের সাক্ষ্যমূলক অংশ (محل الشاهد), যা হলো আব্বাসের কথা: "কখনোই না, আল্লাহর কসম, তুমি অবশ্যই এই অবস্থাতেই আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে" - এটি ইবনে আসাকিরের একটি সূত্রে আবু বকর বিন খাইসামা—যিনি আবদুর রহমান বিন আল-মুবারক থেকে বর্ণনাকারী (الراوي)—অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন (انفرد بها)। তিনি আবদুর রহমান থেকে বর্ণনাকারী অন্যান্যদের বিরোধিতা করেছেন, তারা হলেন: আহমদ বিন ইবরাহিম, ইয়াকুব আল-ফাসায়ি এবং ইবরাহিম বিন আবি দাউদ। এছাড়া এই আসারটি সুফিয়ান থেকে দুটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, প্রথমটি: আবদুর রহমান বিন আল-মুবারক, যার বর্ণনায় উপরে উল্লিখিত মতভেদ ঘটেছে। দ্বিতীয়টি: সুলাইমান বিন আইয়ুব, যার বর্ণনায় কোনো মতভেদ নেই এবং তিনি এই অতিরিক্ত অংশটি উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) তাখিরুদ জালামাতি ইলা ইয়াউমিল কিয়ামাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
9 - وأخرج ابن المنذر في تفسيره: عن الشعبي رضي الله عنه أن عمر بن الخطاب قال: إني لأبغض فلانًا، فبلغ الرجل فجاء فقال: يا عمر أفتقت في الإِسلام فتقًا؟ قال: لا. قال: فجنيت جناية؟ قال: لا. قال: أحدثت حدثًا؟ قال: لا. قال: فعلام تبغضني وقال الله: {وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا} [الأحزاب: 58] فقد آذيتني فلا غفرها الله لك. فقال عمر: صدق والله ما فتق فتقًا، ولا ولا فاغفرها لي، فلم يزل به حتى غفرها له (1).

10 - قال ابن سعد في الطبقات حدثنا إسماعيل بن إبراهيم، عن ابن عون. عن عمير بن إسحق قال: كان مروان أميرا علينا ست سنين. فكان يسب عليا كل جمعه على المنبر. فقيل يا حسن ألا تسمع ما يقول هذا؟ فجعل لا يرد شيئا. قال: وكان حسن يجيء يوم الجمعة فيدخل في حجرة النبي صلى الله عليه وسلم فيقعد. فإذا قضيت الخطبة خرج فصلى ثم رجع إلى أهله. قال: فلم يرض بذلك حتى أهداه له في بيته. قال: فأنا عنده إذا قيل فلان بالباب. قال: [ق 15/أ] ائذن له فو الله إني لأظنه جاء بشر.

فأذن له فدخل. قال: أرسل مروان بعلي وبعلي وبعلي، وبك وبك وبك وما وجدت مثلك إلا مثل البغلة يقال له: من أبوك فيقول أمي للفرس، قال الحسن: أرجع إليه فقل له: إني والله لا أمحوا عنك شيئا مما قلت بأن اسبك يا مروان، ولكن موعدي وموعدك الله. فإن كنت صادقا جزاك الله بصدقك. وإن كنت كاذبا فالله أشد نقمة. وقد أكرم الله جسدي أن يكون مثلي مثل البغلة (2).

--------------------------------------------

(1) إسناده ضعيف - أخرجه المرزبان في "ذم الثقلاء" من طريق عبد الله بن نصر حدثنا إبراهيم بن أسد عن أبي ربيعة عن حماد بن سلمة عن عطاء بن السائب عن عامر أن عمر بن الخطاب فذكره بنحوه وهذا إسناد منقطع بين الشعبي وعمر رضي الله عنه. قال الحافظ في " الفتح " (8/ 205): "الشعبي لم يلق عمر".

(2) إسناده ضعيف - أخرجه ابن سعد في "الطبقات" (1/ 399 - المتمم) (370)، ومن طريقه ابن عساكر في "تاريخ دمشق" (57/ 243) بنحوه، وفيه: عمير بن إسحق، قال عنه ابن حجر: "مقبول" يعني عند المتابعة وإلا فلين، ولم يتابع.
9 - ইবনে আল-মুনজির তাঁর তাফসির গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: আশ-শা'বি (রা.) থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব বললেন: আমি অমুক ব্যক্তিকে অপছন্দ করি। কথাটি সেই ব্যক্তির নিকট পৌঁছালে সে এসে বলল: হে উমর! আমি কি ইসলামে কোনো ফাটল সৃষ্টি করেছি? তিনি বললেন: না। সে বলল: আমি কি কোনো অপরাধ করেছি? তিনি বললেন: না। সে বলল: আমি কি নতুন কোনো গর্হিত কাজ করেছি? তিনি বললেন: না। সে বলল: তবে কেন আপনি আমাকে অপছন্দ করেন, অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে কষ্ট দেয় এমন কাজের জন্য যা তারা করেনি, তারা অবশ্যই অপবাদ এবং স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করল} [আল-আহযাব: ৫৮]। আপনি আমাকে কষ্ট দিয়েছেন, তাই আল্লাহ যেন আপনাকে ক্ষমা না করেন। তখন উমর বললেন: সে সত্য বলেছে, আল্লাহর কসম! সে কোনো ফাটল সৃষ্টি করেনি এবং কোনো... অতএব আমাকে ক্ষমা করো। তিনি তাকে অবিরাম অনুরোধ করতে থাকলেন যতক্ষণ না সে তাঁকে ক্ষমা করল (১)।

10 - ইবনে সা'দ 'আত-তাবাকাত' গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের নিকট ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে আউন থেকে, তিনি উমাইর ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন: মারওয়ান আমাদের ওপর ছয় বছর আমির ছিলেন। তিনি প্রতি জুমায় মিম্বারের ওপর আলীকে গালি দিতেন। হাসানকে বলা হলো, আপনি কি শুনছেন না সে কী বলছে? কিন্তু তিনি কোনো উত্তর দিলেন না। বর্ণনাকারী বলেন: হাসান জুমার দিন আসতেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কক্ষে প্রবেশ করে বসে থাকতেন। খুতবা শেষ হলে তিনি বেরিয়ে সালাত আদায় করতেন এবং নিজ পরিবারের কাছে ফিরে যেতেন। বর্ণনাকারী বলেন: এতেও সে সন্তুষ্ট হলো না, এমনকি হাসান যখন তাঁর বাড়িতে ছিলেন তখনো তাঁর কাছে অপমানজনক বার্তা পাঠাল। বর্ণনাকারী বলেন: আমি তাঁর নিকট উপস্থিত ছিলাম এমন সময় বলা হলো, অমুক ব্যক্তি দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বললেন: [পৃষ্ঠা ১৫/ক] তাকে অনুমতি দাও, আল্লাহর কসম আমি ধারণা করছি সে কোনো অকল্যাণ নিয়ে এসেছে।

তাকে অনুমতি দিলে সে প্রবেশ করল এবং বলল: মারওয়ান আলী সম্পর্কে এই এই কুৎসা পাঠিয়েছেন এবং আপনার সম্পর্কেও এই এই কুৎসা পাঠিয়েছেন; আর বলেছেন: আমি আপনার উপমা কেবল একটি খচ্চরের মতো পাই, যাকে জিজ্ঞেস করা হয়: তোমার বাবা কে? সে উত্তরে বলে: ঘোড়া আমার মা। হাসান (রা.) বললেন: তুমি তার কাছে ফিরে যাও এবং তাকে বলো: হে মারওয়ান! তুমি যা বলেছ তার বিনিময়ে তোমাকে গালি দিয়ে আমি তোমার কোনো গুনাহ মিটিয়ে দেব না, তবে আমার এবং তোমার প্রতিশ্রুত বিচার আল্লাহর নিকট। তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে আল্লাহ তোমাকে তোমার সত্যবাদিতার জন্য প্রতিদান দেবেন। আর যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও তবে আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। আর আল্লাহ আমার দেহকে এ মর্যাদা দান করেছেন যে, আমার উপমা খচ্চরের মতো হতে পারে না (২)।

--------------------------------------------

(1) এর সনদ দুর্বল (ضعيف) - আল-মারজুবান 'যাম্মুত সিকালা' গ্রন্থে এটি আবদুল্লাহ ইবনে নাসর-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন: ইব্রাহিম ইবনে আসাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু রাবিআহ থেকে, তিনি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি আতা ইবনে সাইব থেকে, তিনি আমির থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব... এরপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। আর এটি আশ-শা'বি এবং উমর (রা.)-এর মধ্যে একটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) সনদ। হাফেজ ইবনে হাজার 'আল-ফাতহ' গ্রন্থে (৮/২০৫) বলেছেন: "আশ-শা'বি উমরের সাক্ষাৎ পাননি।"

(2) এর সনদ দুর্বল (ضعيف) - ইবনে সা'দ 'আত-তাবাকাত' গ্রন্থে (১/৩৯৯ - আল-মুতাম্মিম) (৩৭০) বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সূত্রে ইবনে আসাকির 'তারিখে দামেস্ক' গ্রন্থে (৫৭/২৪৩) অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এতে উমাইর ইবনে ইসহাক রয়েছেন, যাঁর সম্পর্কে ইবনে হাজার বলেছেন: "মাকবুল" অর্থাৎ গ্রহণযোগ্য (مقبول); তবে এটি সমর্থিত বর্ণনার (متابعة) উপস্থিতিতে প্রযোজ্য, অন্যথায় তিনি দুর্বল (لين)। আর এখানে তাঁর কোনো সমর্থিত বর্ণনা (متابع) পাওয়া যায়নি।
(খণ্ড: ১) তাখিরুদ জালামাতি ইলা ইয়াউমিল কিয়ামাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
11 - وقال ابن عساكر: أخبرنا أبو عبد الله الحسين بن نصير بن محمد بن خميس في كتابه: حدثنا القاضي أبو نصر محمد بن علي، حدثنا أبو الفتح أحمد بن عُبَيد الله، حدثنا أبو القاسم نصر بن أحمد بن محمد بن الخليل المرجي، حدثنا أبو يَعْلَى أحمد بن علي بن المثنى، حدثنا عبد الله بن بكار، حدثنا القاسم بن الفضل عن عَمْرو بن مرة عن سالم بن أبي الجعد قال ذكر عثمان بني أمية فقال والله لو أن مفاتيح الجنة بيدي لأعطيتها بني أمية حتى يدخلوا الجنة من عند آخرهم ولاستعملنهم على رغم من رغم فقال عمار بن ياسر فإن ذلك يرغم بأنفي قال أرغم الله بأنفك قال بأنف أبي بكر وعمر فغضب فقام إليه فوطئه برجله فأجفله الناس عنه فبعث إلى طلحة والزبير فقال ائتيا هذا الرجل فخيراه بين ثلاث بين أن يقتص، أو يأخذ أرشا، أو يعفو فأتياه فقالا إن هذا الرجل قد أنصف فخيرك أن تقتص، أو تأخذ أرشا، أو تعفو قال لا والله لا أقبل منهن واحدة حتى ألقى رسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم فاشكو إليه (1).

12 - وقال ابن أبي شيبة في المصنف: حدثنا [يحيى بن آدم قال: حدثنا قطبة بن عبد العزيز عن الأعمش عن عمرو بن مرة] (2) عن سالم بن أبي الجعد، قال: كتب أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم عيب عثمان فقالوا: من يذهب به إليه، فقال عمار: أنا، فذهب به إليه، فلما قرأه قال: أرغم الله بأنفك، فقال عمار: وأنف فلان بن فلان (3)، فقام فوطئه حتى غشي عليه، ثم بعث إليه الزبير وطلحة فقالا له: اختر إحدى ثلاث: إما أن تعفو، وإما أن تأخذ [ق 15/ب] الأرش، وإما أن تقتص، قال: فقال عمار: لا أقبل منهن شيئا حتى ألقى الله (4).

--------------------------------------------

(1) ضعيف جدا - أخرجه ابن عساكر في "تاريخه" من هذا الطريق وفيه: محمد بن علي بن ودعان متهم بالكذب، كما أن رواية سالم عن عثمان مرسلة، قال أبو حاتم، عن أبى زرعة: سالم بن أبى الجعد عن عثمان مرسل.

(2) بياض بالأصل واستدركناه من المصنف.

(3) وفي رواية المصنف التصريح بأبي بكر وعمر.

(4) إسناده ضعيف - أخرجه ابن أبي شيبة من هذا الطريق وفيه عنعنة الأعمش، وهو مدلس، وفيه الإرسال الذي في رواية سالم كما سبق في التعليق السابق.
১১ - ইবনে আসাকির বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন নুসায়ের বিন মুহাম্মাদ বিন খামিস তাঁর কিতাবে: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন কাজী আবু নাসর মুহাম্মাদ বিন আলী, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবুল ফাতহ আহমাদ বিন উবাইদুল্লাহ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবুল কাসিম নাসর বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-খালীল আল-মারজি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু ইয়ালা আহমাদ বিন আলী বিন আল-মুসান্না, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন বাক্কার, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আল-কাসিম বিন আল-ফাদল, আমর বিন মুররাহ থেকে, তিনি সালিম বিন আবিল জাদ থেকে বর্ণনা করেন। সালিম বলেন, উসমান (রা.) বনু উমাইয়াদের কথা উল্লেখ করে বললেন: আল্লাহর কসম, জান্নাতের চাবিকাঠি যদি আমার হাতে থাকত, তবে আমি তা বনু উমাইয়াদের দিয়ে দিতাম যাতে তাদের শেষ ব্যক্তিটি পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে। আর তাদের বিরোধিতাকারীদের নাক ধুলোয় ধূসরিত করে হলেও আমি অবশ্যই তাদের শাসনকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিতাম। তখন আম্মার বিন ইয়াসির (রা.) বললেন: তবে তো তা আমার নাককেই ধুলোয় ধূসরিত করবে। উসমান (রা.) বললেন: আল্লাহ তোমার নাক ধুলোয় ধূসরিত করুন। আম্মার বললেন: আবু বকর ও উমরের নাকও কি? এতে উসমান (রা.) রাগান্বিত হয়ে তাঁর দিকে এগিয়ে গেলেন এবং পা দিয়ে তাঁকে আঘাত করলেন। এরপর লোকজন তাঁকে তাঁর কাছ থেকে সরিয়ে নিল। অতঃপর উসমান (রা.) তালহা ও জুবাইর (রা.)-এর কাছে লোক পাঠিয়ে বললেন: আপনারা এই লোকটির কাছে যান এবং তাকে তিনটি বিষয়ের মধ্য থেকে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিন—হয় সে কিসাস (প্রতিশোধ) গ্রহণ করবে, নতুবা দিয়াত (রক্তপণ) গ্রহণ করবে অথবা ক্ষমা করে দেবে। তাঁরা আম্মারের কাছে এসে বললেন: এই ব্যক্তিটি (উসমান) ন্যায়বিচার করেছেন, তিনি আপনাকে কিসাস নেওয়া, দিয়াত গ্রহণ করা অথবা ক্ষমা করে দেওয়ার ইখতিয়ার দিয়েছেন। আম্মার বললেন: না, আল্লাহর কসম! আমি এর একটিও গ্রহণ করব না যতক্ষণ না আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করি এবং তাঁর কাছে অভিযোগ পেশ করি। (১)

১২ - ইবনে আবি শায়বাহ আল-মুসান্নাফ গ্রন্থে বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন [ইয়াহইয়া বিন আদম বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন কুতবাহ বিন আব্দুল আজিজ, আল-আমাশ থেকে, তিনি আমর বিন মুররাহ থেকে] (২), তিনি সালিম বিন আবিল জাদ থেকে বর্ণনা করেন। সালিম বলেন: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ উসমান (রা.)-এর ত্রুটিসমূহ লিপিবদ্ধ করলেন এবং বললেন: কে এটি তাঁর কাছে নিয়ে যাবে? আম্মার (রা.) বললেন: আমি। তিনি এটি নিয়ে তাঁর কাছে গেলেন। যখন উসমান (রা.) এটি পাঠ করলেন, তখন বললেন: আল্লাহ তোমার নাক ধুলোয় ধূসরিত করুন। আম্মার বললেন: আর অমুকের পুত্র অমুকের নাকও (৩)। তখন উসমান (রা.) দাঁড়িয়ে তাঁকে পদাঘাত করলেন, এমনকি তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লেন। অতঃপর তিনি তাঁর কাছে জুবাইর ও তালহা (রা.)-কে পাঠালেন। তাঁরা তাঁকে বললেন: আপনি তিনটির একটি বেছে নিন: হয় ক্ষমা করে দেবেন, নতুবা [পৃষ্ঠা ১৫/খ] দিয়াত গ্রহণ করবেন, অথবা কিসাস নেবেন। সালিম বলেন: আম্মার বললেন: আমি এর কোনোটিই গ্রহণ করব না যতক্ষণ না আমি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করি। (৪)

--------------------------------------------

(১) অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا) - ইবনে আসাকির এটি তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং এতে রয়েছেন: মুহাম্মাদ বিন আলী বিন ওয়াদআন, যিনি মিথ্যাচারের দায়ে অভিযুক্ত (متهم بالكذب)। তদুপরি উসমান (রা.) থেকে সালিমের বর্ণনাটি বিচ্ছিন্ন (مرسل)। আবু হাতিম, আবু যুরআহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে: উসমান (রা.) থেকে সালিম বিন আবিল জাদের বর্ণনা বিচ্ছিন্ন (مرسل)।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এই স্থানটি শূন্য ছিল, যা আমরা আল-মুসান্নাফ থেকে পূরণ করেছি।

(৩) আল-মুসান্নাফ-এর বর্ণনায় এখানে আবু বকর ও উমরের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

(৪) এর সনদ দুর্বল (إسناده ضعيف) - ইবনে আবি শায়বাহ এই সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এতে আল-আমাশ-এর 'আনআনা' (عنعنة) রয়েছে, অথচ তিনি একজন বর্ণনাসূত্র গোপনকারী (مدلس)। এছাড়া এতে সেই বিচ্ছিন্নতা (الإرسال) রয়েছে যা সালিমের বর্ণনার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী টিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাখিরুদ জালামাতি ইলা ইয়াউমিল কিয়ামাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
13 - ومما يلحق بهذا ما أخرجه ابن جرير عن مجاهد في الذي يقتل الصيد متعمدًا، وهو يعلم أنه محرم ويتعمد قتله قال: لا يحكم عليه ولا حج له (1).

14 - وأخرج أبو الشيخ عن محمد بن سيرين قال: من قتله متعمدا لقتله ناسيا لإحرامه فعليه الجزاء، ومن قتله متعمدا لقتله غير ناس لإحرامه فذاك إلى الله إن شاء عذبه وإن شاء غفر له (2).

15 - وأخرج الشافعي في الأم وعبد بن حميد، وابن جرير عن مجاهد قال: من قتله متعمدا غير ناس لإحرامه ولا يريد غيره فقد حل وليست له رخصة ومن قتله ناسيا لإحرامه وأراد غيره فأخطأ به فذلك العمد الْمُكَفَّرُ (3) (4).

16 - وأخرج ابن جرير عن الحسن في قوله: {وَمَنْ قَتَلَهُ مِنْكُمْ مُتَعَمِّدًا} [المائدة: 95]: قال: متعمدا للصيد ناسيا لإحرامه، وفي قوله: {فَمَنِ اعْتَدَى بَعْدَ ذَلِكَ} [البقرة: 178] قال: متعمدا للصيد يذكر إحرامه {فَلَهُ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [البقرة: 178] ولا يحكم عليه (5).

--------------------------------------------

(1) ضعيف - أخرجه ابن جرير من طريق ابن وكيع وابن حميد قالا حدثنا جرير، عن ليث، عن مجاهد به، وليث هو ابن أبي سليم قال عنه في "التقريب": "قال عنه في التقريب: صدوق اختلط جداً ولم يتميز حديثه فترك".

(2) لم أقف عليه.

(3) وفي مسند الشافعي زيادة: " عليه النعم".

(4) صحيح - روى بنحوه مطولا ومختصرا عن مجاهد من طريقين: الأول عن ابن جريج عند الشافعي في "مسنده" (ص/133)، ومن طريقه البيهقي في "معرفة السنن والآثار" (7/ 397) (10477)، والثاني عن ابن أبي نجيح، عند عبد الرزاق في "مصنفه" (4/ 389) (8173، 8174)، وفي "تفسيره" (2/ 25) (733)، وسعيد بن منصور في "تفسيره" (4/ 1618) (828)، وأبي حاتم في "تفسيره" (4/ 1208) (6813)، والبيهقي في "معرفة السنن والآثار" (7/ 398) (10480)، ورواية ابن أبي نجيح وابن جريج عن مجاهد منقطعة فلم يسمعا منه، والواسطة معروفة وهو القاسم بن أبي بزة وهو ثقة، وعليه فهذه الأسانيد عن مجاهد صحيحة، وقد قبلها جماعة من العلماء.

(5) موضوع - أخرجه الطبري في "تفسيره" (10/ 9) (12553) من طريق ابن وكيع قال، حدثنا سهل بن يوسف، عن عمرو، عن الحسن به بدون ذكر آخره، وابن وكيع هو سفيان، وهو ضعيف، وعمرو هو ابن عبيد المعتزلي، وكان يكذب على الحسن.
১৩ - এর সাথে সংশ্লিষ্ট সেই বর্ণনা যা ইবনে জারীর মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে স্বেচ্ছায় শিকার হত্যা করে, এমতাবস্থায় যে সে জানে সে ইহরাম অবস্থায় আছে এবং সে তা হত্যা করার সংকল্প করে। তিনি বলেন: তার উপর কোনো ফয়সালা করা হবে না এবং তার কোনো হজ নেই (১)।

১৪ - আবুশ শায়খ মুহাম্মদ বিন সিরিন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি ভুলবশত শিকার হত্যা করেছে ভেবে ইচ্ছাকৃতভাবে তা হত্যা করে, তার ওপর বিনিময় (জরিমানা) ওয়াজিব হবে। আর যে ব্যক্তি ইহরামের কথা স্মরণ থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে তা হত্যা করে, তবে তার বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছাধীন; তিনি চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন এবং চাইলে ক্ষমা করবেন (২)।

১৫ - ইমাম শাফেয়ী 'আল-উম্ম'-এ, আবদ বিন হুমাইদ এবং ইবনে জারীর মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি ইহরামের কথা স্মরণ থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে শিকার হত্যা করে এবং এ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না, তবে সে ইহরাম ভঙ্গ করল এবং তার জন্য কোনো অবকাশ নেই। আর যে ব্যক্তি ইহরামের কথা ভুলে গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে শিকার হত্যা করে অথবা অন্য কিছুর ইচ্ছা করতে গিয়ে ভুলবশত শিকার হত্যা করে ফেলে, তবে সেটিই এমন ভুল যার জন্য কাফফারা দিতে হয় (৩) (৪)।

১৬ - ইবনে জারীর হাসান থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: {তোমাদের মধ্যে যে ইচ্ছাকৃতভাবে তা হত্যা করবে} [আল-মায়িদাহ: ৯৫]: তিনি বলেন: অর্থাৎ ইহরামের কথা ভুলে গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে শিকার হত্যা করা। আর আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে: {অতঃপর যে এর পরে সীমা লঙ্ঘন করবে} [আল-বাকারা: ১৭৮] তিনি বলেন: অর্থাৎ ইহরামের কথা স্মরণ থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে শিকার হত্যা করা {তার জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি} [আল-বাকারা: ১৭৮] এবং তার উপর কোনো ফয়সালা দেওয়া হবে না (৫)।

--------------------------------------------

(১) দুর্বল (ضعيف) - ইবনে জারীর এটি ইবনে ওয়াকি' এবং ইবনে হুমাইদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জারীর, লাইসের সূত্রে, তিনি মুজাহিদ থেকে। আর লাইস হলেন ইবনে আবি সুলাইম, যার সম্পর্কে 'আত-তাকরীব'-এ বলা হয়েছে: "তিনি সত্যবাদী (صدوق), কিন্তু শেষ বয়সে তাঁর চরম স্মৃতিবিভ্রম (اختلط) ঘটেছিল এবং তাঁর বর্ণিত হাদিসগুলো পৃথক করা সম্ভব হয়নি, তাই তা বর্জনীয় (ترك) হয়েছে।"

(২) আমি এই বর্ণনাটি খুঁজে পাইনি।

(৩) ইমাম শাফেয়ীর 'মুসনাদ'-এ অতিরিক্ত রয়েছে: "তার ওপর গবাদিপশু (বিনিময় স্বরূপ) ওয়াজিব।"

(৪) বিশুদ্ধ (صحيح) - মুজাহিদ থেকে দুটি সূত্রে বিস্তারিত ও সংক্ষেপে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে: প্রথমটি ইবনে জুরাইজের সূত্রে ইমাম শাফেয়ীর 'মুসনাদ'-এ (পৃ./১৩৩), এবং তাঁর সূত্রে বায়হাকী 'মা'রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার'-এ (৭/ ৩৯৭) (১০৪৭৭)। দ্বিতীয়টি ইবনে আবি নাজিহ-এর সূত্রে আবদুর রাজ্জাক তাঁর 'মুসান্নাফ'-এ (৪/ ৩৮৯) (৮১৭৩, ৮১৭৪) এবং তাঁর 'তাফসীর'-এ (২/ ২৫) (৭৩৩), সাঈদ ইবনে মানসুর তাঁর 'তাফসীর'-এ (৪/ ১৬১৮) (৮২৮), আবু হাতিম তাঁর 'তাফসীর'-এ (৪/ ১২০৮) (৬৮১৩) এবং বায়হাকী 'মা'রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার'-এ (৭/ ৩৯৮) (১০৪৮০)। ইবনে আবি নাজিহ এবং ইবনে জুরাইজের বর্ণনা মুজাহিদ থেকে বিচ্ছিন্ন (منقطعة), কারণ তাঁরা সরাসরি তাঁর থেকে শোনেননি। তবে মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তিটি পরিচিত, আর তিনি হলেন কাসিম ইবনে আবি বাজাহ, যিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)। সেই হিসেবে মুজাহিদ থেকে এই সনদসমূহ বিশুদ্ধ (صحيحة) এবং একদল আলেম এটি গ্রহণ করেছেন।

(৫) বানোয়াট (موضوع) - তাবারী তাঁর 'তাফসীর'-এ (১০/ ৯) (১২৫৫৩) ইবনে ওয়াকি'-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাহল ইবনে ইউসুফ, আমরের সূত্রে, তিনি হাসান থেকে শেষ অংশ উল্লেখ ব্যতীত। ইবনে ওয়াকি' হলেন সুফিয়ান, যিনি দুর্বল (ضعيف)। আর আমর হলেন আমর ইবনে উবায়েদ আল-মু'তাজিলী, যিনি হাসানের নামে মিথ্যা আরোপ করতেন (يكذب)।
(খণ্ড: ১) তাখিরুদ জালামাতি ইলা ইয়াউমিল কিয়ামাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
17 - وأخرج عبد الرزاق وابن أبي شيبة وعبد بن حميد وابن جرير وابن المنذر وابن أبي حاتم وأبو الشيخ من طريق عكرمة عن ابن عباس في الذي يصيب الصيد وهو محرم يحكم عليه مرة واحدة فإن عاد لم يحكم عليه وكان ذلك إلى الله إن شاء عاقبه وإن شاء عفا عنه، ثم تلا {وَمَنْ عَادَ فَيَنْتَقِمُ اللَّهُ مِنْهُ} [المائدة: 95] (1). ولفظ أبي الشيخ: ومن عاد قيل له اذهب ينتقم الله منك (2).

18 - وأخرج ابن جرير وابن المنذر من طريق علي ابن أبي طلحة عن ابن عباس قال: من قتل شيئا من الصيد خطأ وهو محرم حكم عليه كلما قتله، ومن قتله متعمدا حكم عليه فيه مرة واحدة فإن عاد يقال له ينتقم الله منك كما قال الله عز وجل (3).

19 - وأخرج ابن أبي شيبة وعبد بن حميد وابن جرير وابن المنذر عن الشعبي. أن رجلًا أصاب صيدًا وهو محرم، فسأل شريحًا فقال: هل أصبت قبل هذا شيئًا؟ قال: لا. قال: أما إنك لو فعلت لم أحكم عليك، ولوكلتك إلى الله يكون هو ينتقم منك (4).

20 - وأخرج ابن جرير وأبو الشيخ عن سعيد بن جبير قال: رخص في قتل الصيد مرة، فإن عاد لم يدعه الله [ق 16/أ] حتى ينتقم منه (5).

21 - وأخرج عبد بن حميد وابن جرير عن إبراهيم. في الذي يقتل الصيد ثم يعود قال: كانوا يقولون:

--------------------------------------------

(1) صحيح - أخرجه عبد الرزاق في "مصنفه" (4/ 393) (8984)، وابن أبي شيبة في "مصنفه" (3/ 438) (15767)، والطبري في "تفسيره" (10/ 51) (12651)، وابن أبي حاتم في "تفسيره" (4/ 1209) (6819)، من طريق هشام عن عكرمة عن ابن عباس به ورواته ثقات.

(2) لم أقف عليه.

(3) إسناده ضعيف - أخرجه ابن جرير الطبري في "تفسيره" (10/ 50) (12650) من طريق المثنى قال، حدثنا عبد الله بن صالح قال، حدثني معاوية بن صالح، عن علي بن أبي طلحة، عن ابن عباس رضي الله عنهما به، وفيه عبد الله بن صالح قال عنه في "التقريب": "صدوق يخطئ كثيرا"، كما أن الإسناد منقطع بين على وابن عباس فلم يسمع من ابن عباس التفسير كما قال دحيم.

(4) صحيح - أخرجه ابن أبي شيبة في "المصنف" (3/ 438) (15766)، والطبري في "تفسيره" (10/ 50) (12656) من طريق داود بن أبي هند عن الشعبي عن شريح به، ورواته ثقات.

(5) إسناده ضعيف - أخرجه الطبري في "تفسيره" (10/ 52) (12659، 12660) من طريق وكيع، عن سفيان، عن خصيف، عن سعيد بن جبير به، وخصيف قال عنه في التقريب: "صدوق سيء الحفظ.
17 - আর আবদুর রাজ্জাক, ইবনে আবি শায়বাহ, আবদ ইবনে হুমাইদ, ইবনে জারির, ইবনে আল-মুনজির, ইবনে আবি হাতিম এবং আবু আল-শাইখ ইকরিমাহর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইহরাম অবস্থায় কেউ যদি শিকার করে, তবে তার ওপর একবারই বিচার (জরিমানা) করা হবে। যদি সে পুনরায় তা করে, তবে তার ওপর আর বিচার করা হবে না এবং বিষয়টি আল্লাহর ওপর ন্যস্ত থাকবে; তিনি চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন অথবা চাইলে তাকে ক্ষমা করবেন। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {আর যে পুনরায় তা করবে, আল্লাহ তার থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন} [আল-মায়িদাহ: 95]। আবু আল-শাইখের শব্দবিন্যাস হলো: "যে পুনরায় করবে, তাকে বলা হবে: যাও, আল্লাহ তোমার থেকে প্রতিশোধ নেবেন" (2)।

18 - আর ইবনে জারির ও ইবনে আল-মুনজির আলি ইবনে আবি তালহার সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "ইহরাম অবস্থায় কেউ যদি ভুলবশত কোনো শিকার হত্যা করে, তবে যতবারই সে তা করবে, ততবারই তার ওপর বিচার (জরিমানা) করা হবে। আর যে ইচ্ছাকৃতভাবে তা করবে, তার ওপর একবারই বিচার করা হবে। এরপর যদি সে পুনরায় তা করে, তবে তাকে বলা হবে—আল্লাহ তোমার থেকে প্রতিশোধ নেবেন, যেমনটি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন" (3)।

19 - আর ইবনে আবি শায়বাহ, আবদ ইবনে হুমাইদ, ইবনে জারির ও ইবনে আল-মুনজির আশ-শা'বি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় শিকার করেছিলেন। এরপর তিনি শুরাইহকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "তুমি কি এর আগে এমন কিছু করেছিলে?" তিনি বললেন: "না।" তিনি বললেন: "জেনে রাখো, তুমি যদি আগে এমনটি করতে, তবে আমি তোমার বিচার করতাম না এবং তোমাকে আল্লাহর ওপর সমর্পণ করতাম যেন তিনি তোমার থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেন" (4)।

20 - আর ইবনে জারির ও আবু আল-শাইখ সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "একবার শিকার করার অনুমতি (জরিমানার মাধ্যমে) দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যদি কেউ পুনরায় তা করে, তবে আল্লাহ তাকে ছাড়বেন না যতক্ষণ না তিনি তার থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেন" (5)।

21 - আর আবদ ইবনে হুমাইদ ও ইবনে জারির ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, শিকার করে পুনরায় তা করার বিষয়ে তিনি বলেন: তারা বলতেন:

--------------------------------------------

(1) বিশুদ্ধ (صحيح) - আবদুর রাজ্জাক তার "মুসান্নাফ"-এ (4/ 393) (8984), ইবনে আবি শায়বাহ তার "মুসান্নাফ"-এ (3/ 438) (15767), তাবারি তার "তাফসির"-এ (10/ 51) (12651) এবং ইবনে আবি হাতিম তার "তাফসির"-এ (4/ 1209) (6819) হিশামের সূত্রে ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য (ثقات)।

(2) আমি এটি খুঁজে পাইনি।

(3) এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف) - ইবনে জারির তাবারি তার "তাফসির"-এ (10/ 50) (12650) আল-মুসান্নার সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার কাছে মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ আলি ইবনে আবি তালহার সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এতে আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ রয়েছেন, যার সম্পর্কে "তাকরিব"-এ বলা হয়েছে: "তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে প্রচুর ভুল করেন।" এছাড়া আলি এবং ইবনে আব্বাসের মধ্যে সনদটি বিচ্ছিন্ন (منقطع), কারণ তিনি ইবনে আব্বাসের কাছ থেকে তাফসির শ্রবণ করেননি, যেমনটি দাহিম বলেছেন।

(4) বিশুদ্ধ (صحيح) - ইবনে আবি শায়বাহ "মুসান্নাফ"-এ (3/ 438) (15766) এবং তাবারি তার "তাফসির"-এ (10/ 50) (12656) দাউদ ইবনে আবি হিন্দের সূত্রে আশ-শা'বি থেকে, তিনি শুরাইহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য (ثقات)।

(5) এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف) - তাবারি তার "তাফসির"-এ (10/ 52) (12659, 12660) ওয়াকি'র সূত্রে সুফিয়ান থেকে, তিনি খুসাইফ থেকে এবং তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। খুসাইফ সম্পর্কে "তাকরিব"-এ বলা হয়েছে: "তিনি সত্যবাদী (صدوق), কিন্তু দুর্বল স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (سيء الحفظ)।"
(খণ্ড: ১) তাখিরুদ জালামাতি ইলা ইয়াউমিল কিয়ামাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
من عاد لا يحكم عليه، أمره إلى الله (1).

22 - وأخرج عبد بن حميد وابن جرير عن سعيد بن جبير قال: يحكم عليه في العمد مرة واحدة، فإن عاد لم يحكم عليه وقيل له: اذهب ينتقم الله منك، ويحكم عليه في الخطأ أبدًا (2).

تم ولله الحمد على كل حال ونعمة

--------------------------------------------

(1) إسناده ضعيف - أخرجه الطبري في "تفسيره" (10/ 51) (12654) من طريق محمد بن المثنى قال، حدثنا ابن أبي عدي، عن شعبة، عن سليمان، عن إبراهيم، وهو التيمي به، وهذا إسناد ضعيف علته سليمان وهو الأعمش مدلس وقد عنعنه.

(2) إسناده ضعيف - أخرجه ابن جرير الطبري في "تفسيره" (10/ 52) (12658) من طريق ابن حميد قال، حدثنا حكّام بن سلم، عن عنبسة، عن سالم، عن سعيد بن جبير به، ورواته ثقات غير ابن حميد، وهو: أبو عبد الله الرازي قال عنه الذهبي في "الكاشف": " الحافظ، وثقه جماعة والأولى تركه" وقال عنه ابن حجر في "التقريب": "حافظ ضعيف".
যে পুনরাবৃত্তি করে তার ওপর ফয়সালা করা হবে না, তার বিষয়টি আল্লাহর ওপর (১)।

২২ - এবং আবদ বিন হুমাইদ ও ইবনে জারির সাঈদ বিন জুবাইর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইচ্ছাকৃতর ক্ষেত্রে একবার ফয়সালা করা হবে। তবে সে যদি পুনরায় তা করে তবে আর ফয়সালা করা হবে না এবং তাকে বলা হবে: যাও, আল্লাহ তোমার থেকে প্রতিশোধ নেবেন। তবে ভুলবশত হলে সর্বদা ফয়সালা করা হবে (২)।

সমাপ্ত হলো এবং সকল অবস্থা ও নিয়ামতের জন্য আল্লাহর প্রশংসা

--------------------------------------------

(১) এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف) - তাবারী তাঁর 'তাফসীর'-এ (১০/ ৫১) (১২৬৫৪) মুহাম্মদ বিন আল-মুসান্না সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনে আবি আদি বর্ণনা করেছেন, তিনি শুবা থেকে, তিনি সুলাইমান থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে—যিনি আত-তাইমি—এই সূত্রে। আর এটি একটি দুর্বল (ضعيف) সনদ (إسناد); এর ত্রুটি (علة) হলো সুলাইমান, আর তিনি হলেন আল-আমাশ যিনি মুদাল্লিস (مدلس) এবং তিনি এখানে আনআনা করেছেন (عنعنه)।

(২) এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف) - ইবনে জারির আল-তাবারী তাঁর 'তাফসীর'-এ (১০/ ৫২) (১২৬৫৮) ইবনে হুমাইদ সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাক্কাম বিন সালাম বর্ণনা করেছেন, তিনি আনবাসাহ থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে এই সূত্রে। আর ইবনে হুমাইদ ব্যতীত এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات); এবং তিনি হলেন: আবু আব্দুল্লাহ আর-রাজি। যাহাবি তাঁর সম্পর্কে 'আল-কাশিফ'-এ বলেছেন: "তিনি হাফিজ (حافظ), একদল তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন (وثقه), তবে তাকে বর্জন করাই শ্রেয়।" এবং ইবনে হাজার 'আত-তাকরিব'-এ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "দুর্বল (ضعيف) হাফিজ (حافظ)।"