(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
البدعة الشرعية القسم: أصول الفقه
الكتاب: البدعة الشرعية
المؤلف: أبو المنذر محمود بن محمد بن مصطفى بن عبد اللطيف المنياوي
الناشر: المكتبة الشاملة، مصر
الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م
عدد الصفحات: 187
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع (الطبعة الورقية)]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 محرم 1434
শরয়ি বিদআত বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
বই: শরয়ি বিদআত
লেখক: আবু আল-মুনজির মাহমুদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুস্তফা বিন আব্দুল লতিফ আল-মিনয়াওয়ি
প্রকাশক: আল-মাকতাবা আশ-শামিলা, মিসর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৭
[বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রিত কপি (কাগজে মুদ্রিত সংস্করণ) অনুযায়ী করা হয়েছে]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৬ মুহররম ১৪৩৪
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
حقوق الطبع محفوظة للمؤلف
الطبعة الأولى
1433 هـ / 2012 م
رقم الإيداع بالمكتبة الشاملة 9/ 2012
সর্বস্বত্ব লেখকের সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪৩৩ হিজরি / ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
আল-মাকতাবা আশ-শামেলায় জমাদান নম্বর ৯/ ২০১২
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
[مقدمة]بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}.
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً}.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} (1).
روى النسائي بسند صحيح عن جابر بن عبد الله رضي الله عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول في خطبته: «يحمد الله ويثني عليه بما هو أهله ثم يقول من يهده الله فلا مضل له ومن يضلله فلا هادي له إن أصدق الحديث كتاب الله وأحسن الهدى هدى محمد وشر الأمور محدثاتها وكل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار» (2).
قال السندي في حاشيته على النسائي: "وأحسن الهدى هدى محمد هما بضم ففتح أو بفتح فسكون والأول بمعنى الإرشاد والثاني بمعنى الطريق".
ولما كان الأصل في صيغة التفضيل المشاركة في أصل الفعل، فقد يتوهم شخص مشاركة هدي غير هدي النبي صلى الله عليه وسلم له في الحسن إعمالاً لمقتضى صيغة التفضيل.
وللإجابة على ذلك نقول: أن صيغة التفضيل قد ترد في القرآن، وفي اللغة مراداً بها مطلق الاتصاف، لا لتفضيل شيء على شيء، فمن ذلك أنهم في أساليب اللغة العربية إذا أرادوا تخصيص شيء بالفضيلة، دون غيره جاءوا بصيغة التفضيل، يريدون بها خصوص ذلك الشيء بالفضل، كقول حسان بن ثابت رضي الله عنه لأبي سفيان:
أتَهْجُوهُ وَلَسْتَ لَهُ بكُفْءٍ
… فَشَرُّكُما لِخَيْرِكُمَا الفِداءُ
--------------------------------------------
[ভূমিকা]পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}
{হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।}
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করল} (১)।
ইমাম নাসাঈ একটি সহীহ সনদে জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর খুতবায় বলতেন: "তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করতেন যেভাবে তিনি তাঁর উপযুক্ত, অতঃপর বলতেন: যাকে আল্লাহ হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শক নেই। নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হিদায়াত হলো মুহাম্মদের হিদায়াত। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো গোমরাহি (পথভ্রষ্টতা) এবং প্রতিটি গোমরাহিই জাহান্নামে।" (২)।
আস-সিন্দী নাসাঈর ওপর তাঁর হাশিয়াতে (টীকায়) বলেন: "'ওয়া আহসানাল হুদা হুদা মুহাম্মাদিন' - এখানে 'হুদা' শব্দটি দুভাবেই পড়া যায় (হা-তে পেশ ও দাল-এ যবর অথবা হা-তে যবর ও দাল-এ সুকুন); প্রথমটি 'নির্দেশনা' অর্থে এবং দ্বিতীয়টি 'পথ' বা 'তরীকা' অর্থে ব্যবহৃত।"
যেহেতু আধিক্যবোধক শব্দ বা ইসমে তাফযীলের মূল দাবি হলো মূল ক্রিয়াটিতে শরীক বা অংশীদার থাকা, তাই কোনো ব্যক্তি ইসমে তাফযীলের অর্থের দাবি অনুযায়ী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হিদায়াত ব্যতীত অন্য কারও হিদায়াতে শ্রেষ্ঠত্বের অংশীদারিত্ব আছে বলে ধারণা করতে পারে।
এর জবাবে আমরা বলবো: ইসমে তাফযীল কখনও কখনও কুরআনে এবং আরবী ভাষায় নিরঙ্কুশ বিশেষত্ব বা গুণ বর্ণনার অর্থে আসে, এক বস্তুকে অন্য বস্তুর ওপর অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য নয়। এর একটি উদাহরণ হলো—আরবী ভাষার শৈলীতে যখন তারা কোনো একটি বিষয়কে অন্য কোনো বিষয় বাদ দিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য সুনির্দিষ্ট করতে চায়, তখন তারা ইসমে তাফযীল ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে তারা সেই বিষয়টিকেই শ্রেষ্ঠত্বের জন্য নির্দিষ্ট করা উদ্দেশ্য নেয়। যেমন হাসান বিন সাবিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আবু সুফিয়ানকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন:
তুমি কি তাঁর নিন্দা করছ অথচ তুমি তাঁর সমকক্ষ নও
… তোমাদের মধ্যে যে নিকৃষ্ট সে তোমাদের মধ্যে যে শ্রেষ্ঠ তাঁর জন্য মুক্তিপণ হোক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
وكقول العرب: الشقاء أحب إليك، أم السعادة؟
ومن الأمثلة على ذلك قوله تعالى {أَصْحَابُ الْجَنَّةِ يَوْمَئِذٍ خَيْرٌ مُسْتَقَرّاً وَأَحْسَنُ مَقِيلاً} (1)، {آللَّهُ خَيْرٌ أَمَّا يُشْرِكُونَ} (2)، {يَا صَاحِبَيِ السِّجْنِ أَأَرْبَابٌ مُتَفَرِّقُونَ خَيْرٌ أَمِ اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ} (3)، {وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ قِيلاً} (4)
… (5)، ولما كانت صيغة المفاضلة لا تحمل على هذا الوجه الذي هو خلاف الأصل إلا لدليل خارج يقتضي ذلك كان لابد من إيجاد دليل هنا للدلالة على منع مشاركة غير هديه صلى الله عليه وسلم لهديه في الحسن، ومن الأدلة على ذلك قوله تعالى: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} (6)؛ فتحصل من ذلك منع مشاركة غير هديه صلى الله عليه وسلم لهديه في الحسن - إلا إذا دل الدليل على خلاف ذلك، وسيأتي - بمشيئة الله - عقد فصل لمناقشة الأصول التي يصح أن يستند إليها العمل ليكون سنة لا بدعة.
ذم البدع والمبتدعين:
أولا: من القرآن الكريم (7):
1 - قال الله تعالى: {وأنَّ هذا صِراطِي مُسْتقِيماً فاتَّبِعُوهُ ولَا تتَّبعُوا السبُل فتفرَّق بِكُمْ عنْ سَبُيلِهِ، ذلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لعَلَّكُمْ تتَّقُون} [فالصراط المستقيم هو سبيل الله الذي دعا إليه وهو السنة والسبل هي سبل أهل الاختلاف الحائدين عن الصراط المستقيم وهم أهل البدع. وليس المراد سبل المعاصي، لأن المعاصي من حيث هي معاص لم يضعها أحد طريقاً تُسْلك دائماً على مضاهاة التشريع (8). وإنما هذا الوصف خاص بالبدع المحدثات؛ ويدل على هذا ما روى إسماعيل عن سليمان بن حرب، قال: حدّثنا حماد بن زيد عن
--------------------------------------------
যেমন আরবদের কথা: তোমার কাছে দুর্ভাগ্য বেশি প্রিয়, নাকি সৌভাগ্য?
এর উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: {সেদিন জান্নাতবাসীদের আবাসস্থল হবে উৎকৃষ্ট এবং বিশ্রামস্থল হবে অতি মনোরম} (১), {আল্লাহ কি শ্রেষ্ঠ নাকি তারা যাদেরকে শরিক সাব্যস্ত করছে?} (২), {হে আমার কারাগারের দুই সাথী! ভিন্ন ভিন্ন অনেক রব কি ভালো, নাকি এক ও প্রবল প্রতাপশালী আল্লাহ?} (৩), {আর কথায় আল্লাহর চেয়ে অধিক সত্যবাদী আর কে হতে পারে?} (৪)
... (৫), যেহেতু শ্রেষ্ঠত্ববাচক রূপটি (সিগাতুল মুফাদালাহ) মূল অর্থের বিপরীত এই অর্থে ততক্ষণ গ্রহণ করা যায় না যতক্ষণ না কোনো বহিঃস্থ প্রমাণ তা দাবি করে, তাই এখানে এমন একটি প্রমাণের উপস্থিতি আবশ্যক যা নির্দেশ করবে যে, সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পদ্ধতির সাথে অন্য কারো পদ্ধতির কোনো অংশীদারিত্ব নেই। এর একটি প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তিনি মনগড়া কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ হয়} (৬); সুতরাং এখান থেকে প্রমাণিত হয় যে, সৌন্দর্যের বিচারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পদ্ধতির সমকক্ষ অন্য কারো পদ্ধতি হতে পারে না—যদি না কোনো প্রমাণ এর বিপরীত নির্দেশ করে। আর সামনে—আল্লাহর ইচ্ছায়—একটি পরিচ্ছেদ আসবে যেখানে ঐসব মূলনীতি নিয়ে আলোচনা করা হবে যার ভিত্তিতে কোনো আমল বিদআত না হয়ে সুন্নাহ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
বিদআত ও বিদআতীদের নিন্দা:
প্রথমত: কুরআনুল কারীম থেকে (৭):
১ - মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ কর এবং অন্যান্য পথে চলো না, তাহলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পার}। [অত্র আয়াতে সরল পথ হলো আল্লাহর পথ যার দিকে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, আর তা হলো সুন্নাহ। আর 'অন্যান্য পথসমূহ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মতভেদকারীদের পথ যারা সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তারা হলো বিদআতী। এখানে গুনাহের পথসমূহ উদ্দেশ্য নয়, কারণ গুনাহ নিছক গুনাহ হিসেবে শরীয়তের সাদৃশ্য অবলম্বনে স্থায়ীভাবে অনুসরণীয় কোনো পথ হিসেবে কেউ সাব্যস্ত করেনি (৮)। বরং এই বর্ণনাটি বিশেষভাবে নব উদ্ভাবিত বিদআতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এর সপক্ষে ইসমাইল সুলাইমান বিন হারব থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা প্রমাণ হিসেবে কাজ করে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাদ বিন যায়েদ বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
عاصم بن بهدلة عن أبي وائل عن عبد الله قال: خط لنا رسول الله (يوماً خطاً طويلاً، وخط لنا سليمان خطاً طويلاً، وخط عن يمينه وعن يساره فقال: (هذا سبيلُ اللهِ) ثم خط لنا خطوطاً عن يمينه ويساره وقال: (هذه سبل وعلى كل سبيل منها شيطان يدعو إليه) ثم تلا هذه الآية: {وأنَّ هذا صِراطِى مُسْتقِيماً فاتَّبِعُوهُ ولَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ} - يعني الخطوط - {فتفرَّقَ بِكمْ عنْ سَبِيلِهِ} (1)
… عن مجاهد في قوله: {ولَا تَتَّبِعُوا السُّبُل} قال: البدع والشبهات].
2 - قول الله تعالى: {وعلَى الله قصْدُ السَّبِيلِ ومِنْها جائِرٌ ولوْ شَاءَ لهَداكُمْ أجْمعِين} فالسبيل القصد هو طريق الحق، وما سواه جائر عن الحق؛ أي عادل عنه، وهي طرق البدع والضلالات، أعاذنا الله من سلوكها بفضله. وكفى بالجائر أن يحذر منه. فالمساق يدل على التحذير والنهي. عن التستري: {قصْدُ السَّبِيلِ} طريق السنة، {ومنها جائرٌ} يعني إلى النار، وذلك الملل والبدع، وعن مجاهد {قصْدُ السَّبِيلِ} أي المقتصد منها بين الغلو والتقصير، وذلك يفيد أن الجائر هو الغالي أو المقصر، وكلاهما من أوصاف البدع.
3 - {إنَّ الَّذِين فرَّقوا دِينهُمْ وَكانُوا شِيعاً لسْت مِنْهُمْ في شْيءٍ إنَّما أمْرُهُمْ إلىَ اللهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُمْ بِما كانُوا يفْعَلُون} قال ابن عطيّة: هذه الآية تعم أهل الأهواء والبدع والشذوذ في الفروع وغير ذلك من أهل التعمق في الجدال والخوض في الكلام. هذه كلها عرضة للزلل ومظنة لسوءِ المعتقد، قال القاضي [إسماعيل]: ظاهر القرآن يدل على أن كل من ابتدع في الدين بدعة من الخوارج وغيرهم فهو داخل في هذه الآية؛ لأنهم إذا ابتدعوا تجادلوا وتخاصموا وتفرقوا وكانوا شيعاً.
ثانياً: من السنة:1 - روى الشيخان عن عائشة رضي الله عنه مرفوعاً: (من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد) (2).
--------------------------------------------
আসিম ইবনে বাহদালা আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) আমাদের জন্য একদিন একটি দীর্ঘ রেখা টানলেন, এবং সুলাইমানও আমাদের জন্য একটি দীর্ঘ রেখা টানলেন। এরপর তিনি সেটির ডানে ও বামে আরও কিছু রেখা টানলেন এবং বললেন: (এটি আল্লাহর পথ)। এরপর তিনি এর ডানে ও বামে আরও কিছু রেখা টানলেন এবং বললেন: (এগুলো ভিন্ন ভিন্ন পথ এবং এর প্রতিটি পথের মাথায় একজন শয়তান রয়েছে যে সেদিকে আহ্বান করে)। এরপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না} - অর্থাৎ রেখাগুলো - {তাহলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে} (১)
… মুজাহিদ থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণিত: {এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না}, তিনি বলেন: (অর্থাৎ) বিদআত ও সংশয়সমূহ।
২ - আল্লাহ তায়ালার বাণী: {সরল পথ প্রদর্শনের দায়িত্ব আল্লাহরই এবং কতগুলো পথ বক্র; তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সকলকেই সৎপথে পরিচালিত করতেন।} সুতরাং সরল পথ হলো সত্যের পথ, আর তা ব্যতীত যা কিছু আছে তা সত্য থেকে বিচ্যুত; অর্থাৎ তা থেকে সরে যাওয়া। আর সেগুলো হলো বিদআত ও ভ্রষ্টতার পথ, আল্লাহ যেন আমাদের তাঁর অনুগ্রহে সেগুলো অনুসরণ করা থেকে রক্ষা করেন। বক্র পথ থেকে সতর্ক করার জন্য এটিই যথেষ্ট। কারণ প্রসঙ্গের ধারা সতর্কীকরণ ও নিষেধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আত-তুস্তারি থেকে বর্ণিত: {সরল পথ} হলো সুন্নাহর পথ, {এবং কতগুলো বক্র} অর্থাৎ যা আগুনের দিকে নিয়ে যায়, আর তা হলো প্রবৃত্তির অনুসরণ ও বিদআত। মুজাহিদ থেকে বর্ণিত {সরল পথ} অর্থাৎ যা চরমপন্থা ও শিথিলতার মধ্যবর্তী ভারসাম্যপূর্ণ পথ; আর এটি নির্দেশ করে যে বক্র পথ হলো সেই পথ যা চরমপন্থী অথবা শিথিলতাপূর্ণ, আর এই উভয়টিই বিদআতের বৈশিষ্ট্য।
৩ - {নিশ্চয়ই যারা তাদের দীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের বিষয় তো আল্লাহরই নিকট, অতঃপর তিনি তাদের জানিয়ে দেবেন যা তারা করত।} ইবনে আতিয়্যাহ বলেন: এই আয়াতটি প্রবৃত্তির অনুসরণকারী, বিদআতি এবং মৌলিক বিষয়ের বাইরে অন্যান্য শাখায় বিচ্যুতি অন্বেষণকারী সহ যারা বিতর্কে গভীরভাবে মগ্ন হয় এবং ইলমে কালামে লিপ্ত হয়, তাদের সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে। এসবই পদস্খলন এবং ভ্রান্ত আকিদার ক্ষেত্র। কাজী ইসমাইল বলেন: কুরআনের প্রকাশ্য অর্থ নির্দেশ করে যে, খারিজি বা অন্যান্যদের মধ্যে যারা দীনের মধ্যে নতুন কোনো বিদআতের উদ্ভাবন করেছে, তারা সবাই এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত; কারণ তারা যখনই নতুন কিছু উদ্ভাবন করে, তখনই তারা বিতর্কে লিপ্ত হয়, বিবাদে জড়ায়, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ত: সুন্নাহ থেকে:১ - শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) আয়েশা (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: (যে ব্যক্তি আমাদের এই দীনের মধ্যে এমন নতুন কিছুর উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
2 - روى الشيخان عن ابن عباس مرفوعاً قال: (قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم بموعظة فقال: (يا أيها الناس إنكم محشورون إلى الله تعالى حفاة غرلاً كما بدأنا أول خلق نعيده وعداً علينا إنا كنا فاعلين، ألا وإن أول الخلائق يكسى يوم القيامة إبراهيم عليه السلام، ألا وإنه سيجاء برجال من آمتي فيؤخذ بهم ذاتَ الشمال فأقول يا رب أصحابي، فيُقال: إنك لا تدرى ما أحدثوا بعدك فأقول كما قال العبد الصالح {وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيداً مَا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} فيقال لي: (إنهم لم يزالوا مرتدين على أعقابهم منذ فارقتهم)) (1).
3 - وفي مسلم من حديث أبي هريرة قال: قال رسول الله: (من دعا إلى الهدى كان له من الأجر مثل أُجور من يتبعه لا ينقص ذلك من أُجورهم شيئاً، ومن دعا إلى ضلالة كان عليه من الإثم مثل آثام من يتبعه لا ينقص ذلك من آثامهم شيئاً) (2).
4 - وعن أنس بن مالك قال: قال رسول الله: (إن الله حجب التوبة عن كل صاحب بدعة حتى يدع بدعته) (3).
ثالثاً: الآثار:
·
… قال أبو بكر الصديق - رضي الله عنه -: " لست تاركاً شيئاً كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعمل به إلا عملت به لأني أخشى إن تركت شيئاً من أمره أن أزيغ".
· عن عبد الله بن عمر - رضي الله عنه ما - قال: " كل بدعة ضلالة وإن رآها الناس حسنة ".
·
… عن ابن مسعود رضي الله عنه: " اتبعوا ولا تبتدعوا فقد كفيتم، عليكم بالأمر
--------------------------------------------
২ - শেখাইন (বুখারি ও মুসলিম) ইবনে আব্বাস থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে উপদেশ দিতে দাঁড়ালেন এবং বললেন: (হে লোকসকল! তোমাদেরকে আল্লাহর নিকট নগ্নপদ, বস্ত্রহীন ও খতনাবিহীন অবস্থায় সমবেত করা হবে, ঠিক যেমন আমি সৃষ্টির শুরুতে প্রথমবার করেছিলাম এবং পুনরায় তা সৃষ্টি করব; এটি আমার অঙ্গীকার এবং আমি তা পূর্ণ করবই। জেনে রেখো, কিয়ামতের দিন সৃষ্টির মাঝে সর্বপ্রথম ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে কাপড় পরানো হবে। সাবধান! আমার উম্মতের কিছু লোককে নিয়ে আসা হবে এবং তাদেরকে বাম দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। তখন আমি বলব, হে আমার রব! এরা তো আমার সঙ্গী (সাহাবী)। তখন বলা হবে: আপনি জানেন না আপনার পরে তারা নতুন কী উদ্ভাবন করেছিল। তখন আমি বলব ঠিক যেমন সেই পুণ্যবান বান্দা বলেছিলেন: {আমি তাদের সাক্ষী ছিলাম যতক্ষণ তাদের মাঝে ছিলাম, অতঃপর যখন আপনি আমাকে তুলে নিলেন তখন আপনিই তাদের পর্যবেক্ষক ছিলেন এবং আপনিই সবকিছুর প্রত্যক্ষদর্শী। আপনি যদি তাদের শাস্তি দেন তবে তারা আপনারই বান্দা, আর যদি তাদের ক্ষমা করেন তবে নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়}। তখন আমাকে বলা হবে: (আপনি তাদের ছেড়ে আসার পর থেকে তারা নিরন্তর তাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাচ্ছিল (ধর্মত্যাগী হচ্ছিল)) (১)।
৩ - এবং মুসলিমে আবু হুরায়রার হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল বলেছেন: (যে ব্যক্তি হেদায়াতের দিকে আহ্বান করে, তার জন্য তার অনুসারীদের সওয়াবের সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে, যা তাদের সওয়াব থেকে সামান্যও হ্রাস করবে না। আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করে, তার উপর তার অনুসারীদের পাপের সমপরিমাণ পাপ বর্তাবে, যা তাদের পাপ থেকে সামান্যও হ্রাস করবে না) (২)।
৪ - এবং আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল বলেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক বিদআতীর তওবা করার পথ রুদ্ধ করে দেন যতক্ষণ না সে তার বিদআত ত্যাগ করে) (৩)।
তৃতীয়ত: আসার (সাহাবীদের বাণী):
·
… আবু বকর সিদ্দিক - রাদিয়াল্লাহু আনহু - বলেন: "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু আমল করতেন আমি তার কোনো কিছুই বর্জন করিনি বরং আমি তা পালন করি, কেননা আমি ভয় করি যে তাঁর নির্দেশের কোনো কিছু বর্জন করলে আমি পথভ্রষ্ট হয়ে যাব।"
· আবদুল্লাহ বিন উমর - রাদিয়াল্লাহু আনহুমা - থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা, যদিও মানুষ সেটাকে উত্তম বলে মনে করে।"
·
… ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: "তোমরা অনুসরণ করো এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন (বিদআত) করো না, কারণ তোমাদের জন্য যা দেওয়া হয়েছে তা যথেষ্ট। তোমাদের জন্য আবশ্যক হলো পুরাতন আদর্শ আঁকড়ে ধরা..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
العتيق".
عن ابن مسعود رضي الله عنه: " الاقتصاد في السنة خير من الاجتهاد في البدعة".
·
… عن ابن عباس رضي الله عنه: " النظر إلى الرجل من أهل السنة يدعو إلى السنة وينهى عن البدعة، عبادة ".
·
… قال عمرو بن يحيى: سمعت أبي يحدث عن أبيه قال: كنا نجلس على باب ابن مسعود قبل صلاة الغداة فإذا خرج مشينا معه إلى المسجد
… وذكر إنكاره على من يكبرون جماعة في المسجد وقوله لهم: فعدوا سيئاتكم فأنا ضامن أن لا نضيع من حسناتكم شيء، ويحكم يا أمة محمد ما أسرع هلكتكم، هؤلاء صحابة نبيكم صلى الله عليه وسلم متوافرون وهذه ثيابه لم تبلَ وآنيته لم تكسر، والذي نفسي بيده إنكم لعلى ملة هي أهدى من ملة محمد أو مفتتحوا باب ضلالة
… (1).
·
… عبد الله بن عمر بن الخطاب رضي الله عنه ما كان في مجلس فعطس رجل، فقال: الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله، فقال ابن عمر: وأنا أقول معك الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله، ولكن ما هكذا علمنا رسول الله صلى الله عليه وسلم، قل: الحمد لله، أو قال له قل الحمد لله رب العالمين.
·
… عن معاذ بن جبل رضي الله عنه أنه قال يوماً: إن من ورائكم فتناً يكثر فيها المال، ويفتح فيه القرآن، حتى يأْخذه المؤمن والمنافق، والرجل، والمرأة، والصغير، والكبير، والعبد، والحر، فيوشك قائل أن يقول: ما للناس لا يتبعوني وقد قرأْت القرآن؟ ما هم بمتبعي حتى أبتدع لهم غيره، وإياكم وما ابتدع فإن ما ابتدع ضلالة، وأُحذِّركم زيغة الحكيم فإن الشيطان قد يقول كلمة الضلالة على لسان الحكيم، وقد يقول المنافق كلمة الحق.
عن حذيفة أنه أَخذ حجرين فوضع أحدهما على الآخر ثم قال لأصحابه: هل ترون ما بين هذين الحجرين من النور؟ قالوا: يا أبا عبد الله ما نرى بينهما من النور إلا قليلاً قال: والذي نفسي بيده لتظهرن البدع حتى لا يرى من الحق إلا قدر ما بين هذين الحجرين من النور، والله لَتَفْشُونَّ البدع حتى إذا ترك منها شيء قالوا: تركت السنة.
·
… قال ابن الماجشون: سمعت مالكا يقول: من ابتدع في الإسلام بدعة يراها حسنة فقد
--------------------------------------------
প্রাচীন পন্থা।"
ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: "সুন্নাহর ওপর পরিমিত থাকা বিদআতের ওপর কঠোর সাধনা করার চেয়ে উত্তম।"
·
... ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: "আহলে সুন্নাহর এমন ব্যক্তির দিকে তাকানো ইবাদত, যিনি সুন্নাহর দিকে আহ্বান করেন এবং বিদআত থেকে নিষেধ করেন।"
·
... আমর ইবনে ইয়াহইয়া বলেন: আমি আমার পিতাকে তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমরা ফজরের নামাজের আগে ইবনে মাসউদের দরজায় বসতাম, যখন তিনি বের হতেন আমরা তাঁর সাথে মসজিদের দিকে হাঁটতাম
... অতঃপর তিনি মসজিদে যারা জামাতবদ্ধ হয়ে তাকবির দিচ্ছিল তাদের প্রতি তাঁর আপত্তির কথা উল্লেখ করলেন এবং তাদের বললেন: তোমরা বরং তোমাদের পাপগুলো গণনা করো, আর আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি যে তোমাদের নেক আমল থেকে কিছুই নষ্ট হবে না। তোমাদের ধিক্কার হে মুহাম্মাদের উম্মত! তোমাদের ধ্বংস কতই না নিকটবর্তী! তোমাদের নবীর সাহাবীগণ এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যমান রয়েছেন, এই তো তাঁর কাপড় এখনো জরাজীর্ণ হয়নি এবং তাঁর পাত্রগুলো এখনো ভাঙেনি। সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, হয় তোমরা এমন এক মিল্লাতের ওপর আছ যা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মিল্লাতের চেয়েও বেশি হেদায়েতপ্রাপ্ত, অথবা তোমরা ভ্রষ্টতার দরজা উন্মোচনকারী
... (১)।
·
... আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এক মজলিসে ছিলেন, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি হাঁচি দিল এবং বলল: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রাসূলের ওপর দরুদ ও সালাম। তখন ইবনে উমর বললেন: আমিও তোমার সাথে আল্লাহর প্রশংসা করছি এবং আল্লাহর রাসূলের ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করছি, কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের এভাবে শেখাননি। তুমি বলো: 'আলহামদুলিল্লাহ', অথবা তিনি তাকে বললেন তুমি বলো: 'আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন'।
·
... মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একদিন বললেন: নিশ্চয়ই তোমাদের সামনে এমন ফিতনা আসছে যেখানে সম্পদের প্রাচুর্য হবে এবং কুরআন (সবার জন্য) উন্মুক্ত হবে, এমনকি মুমিন, মুনাফিক, পুরুষ, নারী, ছোট, বড়, ক্রীতদাস এবং স্বাধীন ব্যক্তি সবাই তা গ্রহণ করবে। তখন কোনো বক্তা হয়তো বলবে: মানুষের কী হলো যে তারা আমাকে অনুসরণ করছে না অথচ আমি কুরআন পাঠ করেছি? তারা আমাকে অনুসরণ করবে না যতক্ষণ না আমি তাদের জন্য অন্য কিছু উদ্ভাবন করি। সুতরাং তোমরা নব-উদ্ভাবিত বিষয় (বিদআত) থেকে বেঁচে থাকো, কারণ যা কিছু উদ্ভাবিত হয় তা ভ্রষ্টতা। আর আমি তোমাদেরকে জ্ঞানীর বিচ্যুতি সম্পর্কে সতর্ক করছি, কারণ শয়তান কখনো জ্ঞানীর মুখ দিয়ে ভ্রষ্টতার কথা বলতে পারে, আবার মুনাফিকও কখনো সত্য কথা বলতে পারে।
হুজাইফা থেকে বর্ণিত যে, তিনি দুটি পাথর নিলেন এবং একটিকে অন্যটির ওপর রাখলেন। তারপর তিনি তাঁর সাথীদের বললেন: তোমরা কি এই দুই পাথরের মাঝখানে কোনো আলো দেখতে পাচ্ছ? তারা বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ, আমরা এ দুটির মাঝে সামান্য আলো ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। তিনি বললেন: সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, বিদআত এমনভাবে প্রকাশ পাবে যে হকের মধ্য থেকে কেবল এই দুই পাথরের মাঝখানের আলোর সমপরিমাণই অবশিষ্ট থাকবে। আল্লাহর কসম, বিদআত এমনভাবে ছড়িয়ে পড়বে যে, যখন এর কোনো কিছু বর্জন করা হবে তখন মানুষ বলবে: সুন্নাহ বর্জন করা হয়েছে।
·
... ইবনুল মাজিশুন বলেন: আমি মালিককে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো বিদআত উদ্ভাবন করল এবং তাকে উত্তম মনে করল, সে মূলত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
زعم أن محمداً صلى الله عليه وسلم خان الرسالة، لأن الله يقول: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ} فما لم يكن يومئذ ديناً، فلا يكون اليوم ديناً.
وقال الإمام أبو حنيفة: عليك بالأثر وطريقة السلف وإياك وكل محدثة فإنها بدعة.
وقال الإمام أحمد: أصول السنة عندنا: التمسك بما كان عليه أصحاب رسول الله، والإقتداء بهم وترك البدع وكل بدعة فهي ضلالة.
قال الفضيل بن عياض: من جلس مع صاحب بدعة لم يعط الحكمة.
·
… وقال أيضا: اتبع طرق الهدى ولا يضرك قلة السالكين، وإياك وطرق الضلالة ولا تغتر بكثرة الهالكين.
عن أبي إدريس الخولاني أنه قال: لأن أرى في المسجد ناراً لا أستطيع إطفاءها، أحب إلي من أن أرى فيه بدعة لا أستطيع تغييرها.
তিনি দাবি করেছেন যে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রিসালাতের খিয়ানত করেছেন, কারণ আল্লাহ বলেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম", সুতরাং সেদিন যা দ্বীন হিসেবে গণ্য ছিল না, আজ তা দ্বীন হতে পারে না।
ইমাম আবু হানিফা বলেন: তোমার জন্য আবশ্যক হলো আসার (বর্ণনা) ও সালাফদের পথ আঁকড়ে ধরা এবং প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয় থেকে বেঁচে থাকা, কেননা তা বিদআত।
ইমাম আহমাদ বলেন: আমাদের নিকট সুন্নাহর মূলনীতি হলো: রাসূলুল্লাহর সাহাবীগণ যে আদর্শের ওপর ছিলেন তা আঁকড়ে ধরা, তাঁদের অনুসরণ করা এবং বিদআত বর্জন করা; আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।
ফুদাইল ইবনে ইয়াদ বলেন: যে ব্যক্তি কোনো বিদআতির সাথে বসবে, তাকে হিকমত (প্রজ্ঞা) দান করা হবে না।
·
… তিনি আরও বলেন: তুমি হিদায়াতের পথসমূহ অনুসরণ করো, এতে পথচারীর স্বল্পতা তোমার কোনো ক্ষতি করবে না। আর ভ্রষ্টতার পথসমূহ থেকে বেঁচে থাকো এবং ধ্বংসপ্রাপ্তদের আধিক্য দেখে প্রতারিত হয়ো না।
আবু ইদ্রিস আল-খাওলানি থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: মসজিদে এমন আগুন দেখা যা নেভাতে আমি সক্ষম নই, তা আমার কাছে সেখানে এমন বিদআত দেখার চেয়ে অধিক পছন্দনীয় যা পরিবর্তন করতে আমি সক্ষম নই।
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الباب الأولتعريف البدعة:أولا ً: تعريف البدعة لغة:
قال المطرزي: (الْبِدْعَةُ) اسْمٌ مِنْ ابْتَدَعَ الْأَمْرَ إذَا ابْتَدَأَهُ وَأَحْدَثَهُ كَالرِّفْعَةِ اسْمٌ مِنْ الِارْتِفَاعِ وَالْخِلْفَةِ مِنْ الِاخْتِلَافِ ثُمَّ غَلَبَتْ عَلَى مَا هُوَ زِيَادَةٌ فِي الدِّينِ أَوْ نُقْصَانٌ مِنْهُ (وَفِي) حَدِيثِ نَاجِيَةَ مَاذَا أَصْنَعُ بِمَا أُبْدِعَ عَلَيَّ مِنْهَا الِاسْتِعْمَالُ أُبْدِعَ بِفُلَانٍ إذَا انْقَطَعَتْ رَاحِلَتُهُ عَنْ السَّيْرِ لِكَلَالٍ أَوْ عَرَجٍ وَلَوْ رُوِيَ بِمَا أَبْدَعَتْ مَبْنِيًّا لِلْفَاعِلِ لَصَحَّ لِأَنَّ الْكِسَائِيَّ قَالَ أَبْدَعَتْ الرِّكَابُ إذَا كَلَّتْ وَعَطِبَتْ كَأَنَّهَا أَحْدَثَتْ أَمْرًا بَدِيعًا. (1)
قال ابن منظور: [بدع: بدَع الشيءَ يَبْدَعُه بَدْعاً وابْتَدَعَه: أَنشأَه وبدأَه. وبدَع
… والبَدِيعُ والبِدْعُ: الشيء الذي يكون أَوّلاً. وفي التنزيل: {قُلْ مَا كُنْتُ بِدْعاً مِنَ الرُّسُلِ}؛ أَي ما كنت أَوّلَ من أُرْسِلَ، قد أُرسل قبلي رُسُلٌ كثير.
والبِدْعةُ: الحَدَث وما ابْتُدِعَ من الدِّينِ بعد الإِكمال
… وأَبْدَعَ وابْتَدَعَ وتَبَدَّع: أتَى بِبدْعةٍ، قال اللهِ تعالى: {ورَهْبانِيَّةً ابْتَدَعوها}؛ وقال رؤبة:
إِنْ كُنْتَ للهِ التَّقِيَّ الأَطْوعا
… فليس وجْهَ الحَقِّ أَن تَبَدَّعا
وبَدَّعه: نَسَبه إِلى البِدْعةِ. واسْتَبْدَعَه: عدَّه بَديعاً. والبَدِيعُ: المُحْدَثُ العَجيب. والبَدِيعُ: المُبْدِعُ. وأَبدعْتُ الشيء: اخْتَرَعْته لا على مِثال
… ] (2)
وقال الراغب الأصفهاني: [الإبداع: إنشاء صنعة بلا احتذاء واقتداء، ومنه قيل: ركية بديع أي: جديدة الحفر
… والبدعة في المذهب: إيراد قول لم يستن قائلها وفاعلها فيه بصاحب الشريعة وأماثلها المتقدمة وأصولها المتقنة] (3).
وقال أبو البقاء الكفوي: [البدعة كل عمل عمل على غير مثال سبق فهو بدعة] (4).
قال الشاطبي: [وأصل مادة ((بدع)) للاختراع على غير مثال سابق، ومنه قول
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়বিদআতের সংজ্ঞা:প্রথমত: বিদআতের শাব্দিক সংজ্ঞা:
আল-মুতাররিজি বলেন: (আল-বিদআহ) শব্দটি 'ইবতাদায়া' থেকে উৎপন্ন একটি বিশেষ্য, যখন কেউ কোনো বিষয় শুরু করে এবং তা নতুন করে উদ্ভাবন করে। যেমন 'রিফআহ' শব্দটি 'ইরতিফা' থেকে এবং 'খিলফাহ' শব্দটি 'ইখতিলাফ' থেকে এসেছে। পরবর্তীকালে এটি দ্বীনের মধ্যে কোনো কিছু বৃদ্ধি করা বা তা থেকে কোনো কিছু কমানোর ক্ষেত্রে অর্থগতভাবে প্রাধান্য পায়। (এবং) নাজিয়া বর্ণিত হাদীসে এসেছে: "আমার ওপর যা আপতিত (নতুন বিপদ) হয়েছে সে ব্যাপারে আমি কী করব?" এখানে 'উবদিয়া' শব্দটির প্রয়োগ হয়েছে যখন ক্লান্তি বা খুঁড়িয়ে চলার কারণে কারও বাহন চলা বন্ধ করে দেয়। যদি এটি কর্তৃবাচ্যে 'আবদাআত' হিসেবে বর্ণিত হতো তবুও তা সঠিক হতো; কেননা কিসায়ী বলেছেন, 'আবদাআত আল-রিকাব' তখন বলা হয় যখন বাহন ক্লান্ত ও অকর্মণ্য হয়ে পড়ে, যেন সে এক নতুন (অস্বাভাবিক) অবস্থার সৃষ্টি করেছে। (১)
ইবনুন মানযুর বলেন: [বাদায়া: সে কোনো কিছু উদ্ভাবন করেছে, অর্থাৎ তা নতুনভাবে সৃষ্টি করেছে এবং শুরু করেছে। এবং বাদায়া
… আল-বাদি' এবং আল-বিদ' অর্থ হলো সেই জিনিস যা প্রথম হয়। আল-কুরআনে এসেছে: {বলুন, আমি রাসূলদের মধ্যে কোনো নতুন বা প্রথম নই}; অর্থাৎ আমিই প্রথম প্রেরিত রাসূল নই, আমার পূর্বে অনেক রাসূল প্রেরিত হয়েছেন।
বিদআত হলো: নতুন উদ্ভাবিত বিষয় এবং দ্বীন পূর্ণ হওয়ার পর তাতে যা কিছু সংযোজন করা হয়েছে
… আর 'আবদায়া', 'ইবতাদায়া' এবং 'তাবাদ্দায়া' অর্থ হলো: কোনো বিদআত বা নবউদ্ভাবিত বিষয় নিয়ে আসা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর বৈরাগ্যবাদ, যা তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছিল}; রুইবাহ বলেন:
যদি তুমি আল্লাহর প্রতি অতিশয় মুত্তাকী ও অনুগত হতে
… তবে বিদআত করা হকের পথ নয়।
'বাদ্দাআহু' মানে: তাকে বিদআতের দিকে সম্বন্ধ করা বা বিদআতি বলা। 'ইস্তাবদাআহু' মানে: তাকে অভিনব মনে করা। 'আল-বাদি' মানে: আশ্চর্যজনক নতুন বিষয়। 'আল-বাদি' অর্থ: উদ্ভাবক। আমি জিনিসটি 'আবদা'তু' করেছি অর্থাৎ কোনো পূর্ব নমুনা ছাড়াই তা আবিষ্কার করেছি
… ] (২)
আর-রাগিব আল-আসফাহানি বলেন: [ইবদা: কোনো অনুকরণ বা অনুসরণ ছাড়াই কোনো শিল্প সৃষ্টি করা। এ থেকেই বলা হয়: 'রাকিয়্যা বাদি' অর্থাৎ নতুন খনন করা কূপ
… আর মাযহাবে বা ধর্মীয় মতবাদে বিদআত হলো: এমন কথা উপস্থাপন করা যার প্রবক্তা বা আমলকারী তাতে শরীয়ত প্রণেতা, তাঁর সমমানের পূর্বসূরি এবং সুদৃঢ় মূলনীতির অনুসরণ করেননি] (৩)।
আবু আল-বাকা আল-কাফাউয়ি বলেন: [বিদআত হলো এমন প্রত্যেক কাজ যা কোনো পূর্ব দৃষ্টান্ত ছাড়াই সম্পন্ন করা হয়েছে] (৪)।
আশ-শাতিবি বলেন: [মূলত 'বাদায়া' ধাতুর অর্থ হলো পূর্ব কোনো নমুনা ছাড়াই উদ্ভাবন করা, এ থেকেই বলা হয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الله تعالى: {بَدِيعُ السَّموَاِت والأرْضِ} أي مخترعهما من غير مثال سابق متقدم، وقوله تعالى: {قُلْ ما كُنْتُ بِدْعاً مِن الرُّسُل}، أي ما كنت أول من جاءَ بالرسالة من الله إلى العباد بل تقدمني كثير من الرسل، ويقال: ابتدع فلان بدعة يعني ابتدأ طريقة لم يسبقه إليها سابق. وهذا أمر بديع، يقال في الشيء المستحسن الذي لا مثال له في الحسن، فكأنه لم يتقدمه ما هو مثله ولا ما يشبهه. ومن هذا المعنى سميت البدعة بدعة، فاستخراجها للسلوك عليها هو الابتداع، وهيئتها هي البدعة، وقد يسمى العمل المعمول على ذلك الوجه بدعة: فمن هذا المعنى سمي العمل الذي لا دليل عليه في الشرع بدعة، وهو إطلاق أخص منه في اللغة] (1).
ثانياً: تعريف البدعة اصطلاحاً:أما في الاصطلاح ، فقد تعددت تعريفات البدعة وتنوعت ; لاختلاف أنظار العلماء في مفهومها ومدلولها. فمنهم من وسع مدلولها ، حتى أطلقها على كل مستحدث من الأشياء ، ومنهم من ضيق ما تدل عليه ، فتقلص بذلك ما يندرج تحتها من الأحكام. وسنوجز ذلك في قولين:
القول الأول:اتجه فريق من العلماء إلى ذم البدعة ، وقرروا أن البدعة كلها ضلالة ، سواء في العادات أو العبادات. ومن القائلين بهذا الأئمة الثلاثة: أبو حنيفة، ومالك، وأحمد، وهو اختيار طائفة من أتباعهم كالشمني، والعيني، والطرطوشي، والشاطبي، وابن رجب، وابن تيمية، وهو اختيار طائفة من محققي الشافعية كالبيهقي، وابن حجر الهيتمي، وقال به طائفة من الصحابة والتابعين كما سبق نقل أقوالهم آنفاً في مبحث ذم البدع، والمبتدعين.
القول الثاني:أطلق أصحاب هذا القول البدعة على كل حادث لم يوجد في الكتاب والسنة ، سواء أكان في العبادات أم العادات ، وسواء أكان مذموما أم محموداً، ويرى هؤلاء العلماء أن البدعة تنقسم إلى حسنة وسيئة فإن وافقت السنة فهي حسنة محمودة وإن خالفت السنة فهي سيئة مذمومة.
وبناء على هذا الأساس قالوا إن البدعة تنقسم إلى الأقسام الخمسة فهي إما أن تكون
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: {আসমানসমূহ ও যমীনের উদ্ভাবক} অর্থাৎ কোনো পূর্ববর্তী নমুনা ছাড়াই সেগুলোর উদ্ভাবক। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আমি রাসূলদের মধ্যে কোনো অভিনব নই}, অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাদের কাছে রিসালাত নিয়ে আসা আমিই প্রথম ব্যক্তি নই, বরং আমার পূর্বে বহু রাসূল গত হয়েছেন। আর বলা হয়: অমুক ব্যক্তি একটি ‘বিদ‘আত’ উদ্ভাবন করেছে অর্থাৎ সে এমন এক পদ্ধতির সূচনা করেছে যাতে তার পূর্বে কেউ অগ্রগামী ছিল না। আর এটি একটি ‘বাদী’ (অপূর্ব) বিষয়; এটি এমন সুন্দর জিনিসের ক্ষেত্রে বলা হয় যার কোনো পূর্ব উদাহরণ নেই, যেন এর আগে এর সদৃশ বা অনুরূপ কিছু অতিক্রান্ত হয়নি। এই অর্থ থেকেই বিদ‘আতকে ‘বিদ‘আত’ নামকরণ করা হয়েছে; সুতরাং অনুসরণের উদ্দেশ্যে এটি বের করাই হলো ‘ইবতিদা’ (উদ্ভাবন করা) এবং এর রূপটিই হলো ‘বিদ‘আত’। আবার সেই পদ্ধতিতে কৃত আমলকেও বিদ‘আত বলা হতে পারে। এই অর্থ থেকেই এমন আমলকে বিদ‘আত বলা হয় শরীয়াতে যার কোনো দলীল নেই; আর এটি ভাষার চেয়ে আরও বেশি বিশেষ বা সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ। (১)
দ্বিতীয়ত: পারিভাষিক সংজ্ঞায় বিদ‘আত:পরিভাষার ক্ষেত্রে বিদ‘আতের সংজ্ঞা বহুবিধ এবং বৈচিত্র্যময়; কারণ এর ধারণা ও অর্থের ব্যাপারে আলিমদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ভিন্ন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর অর্থকে ব্যাপক করেছেন, এমনকি একে প্রতিটি নতুন উদ্ভূত বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করেছেন। আবার কেউ কেউ এর অর্থকে সংকীর্ণ করেছেন, ফলে এর অধীনে অন্তর্ভুক্ত বিধানসমূহ সংকুচিত হয়ে গেছে। আমরা একে দুটি মতের মাধ্যমে সংক্ষেপে বর্ণনা করব:
প্রথম মত:একদল আলিম বিদ‘আতের নিন্দার দিকে গিয়েছেন এবং সাব্যস্ত করেছেন যে, বিদ‘আতের প্রতিটিই ভ্রষ্টতা, চাই তা অভ্যাসগত বিষয়ে হোক বা ইবাদতের ক্ষেত্রে। এই মতের প্রবক্তাদের মধ্যে রয়েছেন তিন ইমাম: আবু হানিফা, মালিক এবং আহমদ। এটি তাঁদের একদল অনুসারীরও পছন্দনীয় মত, যেমন- শুমুন্নী, আইনী, তারতুশী, শাতীবী, ইবনে রাজাব এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ। শাফিয়ী মাযহাবের একদল গবেষক আলিমও এটি গ্রহণ করেছেন, যেমন- বায়হাকী ও ইবনে হাজার হাইতামী। সাহাবী এবং তাবিঈগণের একদলও এই মত পোষণ করেছেন, যেমনটি ইতিপূর্বে ‘বিদ‘আত ও বিদ‘আতীদের নিন্দা’ শীর্ষক আলোচনায় তাঁদের বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত হয়েছে।
দ্বিতীয় মত:এই মতের অনুসারীরা বিদ‘আত শব্দটিকে কিতাব ও সুন্নাহতে নেই এমন প্রতিটি নতুন বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করেছেন, চাই তা ইবাদতের ক্ষেত্রে হোক কিংবা অভ্যাসের ক্ষেত্রে, এবং তা নিন্দনীয় হোক বা প্রশংসনীয়। এই আলিমগণ মনে করেন যে, বিদ‘আত উত্তম ও মন্দ—এই দুই ভাগে বিভক্ত। যদি তা সুন্নাহর অনুকূলে হয় তবে তা উত্তম ও প্রশংসনীয়, আর যদি সুন্নাহর পরিপন্থী হয় তবে তা মন্দ ও নিন্দনীয়।
এই ভিত্তির ওপর নির্ভর করে তাঁরা বলেছেন যে, বিদ‘আত পাঁচ প্রকারে বিভক্ত; সুতরাং তা হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
واجبة أو مندوبة أو مباحة أو مكروهة أو محرمة .. وقد نسب هذا القول للإمام الشافعي ، ومن أتباعه العز بن عبد السلام ، والنووي ، وأبو شامة، وابن الأثير، والسيوطي. ومن المالكية: القرافي ، والزرقاني. ومن الحنفية: ابن عابدين. ومن الحنابلة: ابن الجوزي. ومن الظاهرية: ابن حزم. وسوف يأتي - إن شاء الله - تحقيق نسبة هذه الأقوال لقائليها، وذكر تعريفاتهم للبدعة، ومناقشة ما استدلوا به تفصيلياً في مبحث خاص (1).
وسوف نتوقف - بمشيئة الله - في هذا المبحث مع القول الأول؛ لبيان أقوالهم ومسالكهم في تعريف البدعة، وسوف نعرض لأصولهم في هذا الصدد، فالله المستعان:
(أقوال العلماء في تعريف البدعة على القول الأول:
وبالنظر إلى ما ذكره المحقق الشاطبي في تعريف البدعة نجد أنه ذكر اتجاهين في تعريف البدعة، حيث قال ما ملخصه: [فالبدعة إذن عبارة عن ((طريقة في الدين مخترعة تضاهي الشرعية يقصد بالسلوك عليها المبالغة في التعبد لله سبحانه)) وهذا على رأي من لا يدخل العادات في معنى البدعة، وإنما يخصها بالعبادات، وأما على رأي من أدخل الأعمال العادية في معنى البدعة فيقول: ((البدعة طريقة في الدين مخترعة تضاهي الشرعية يقصد بالسلوك عليها ما يقصد بالطريقة الشرعية)) ولا بد من بيان ألفاظ هذا الحد. فالطريقة والطريق والسبيل والسنن هي بمعنى واحد وهو ما رسم للسلوك عليه وإنما قيدت بالدين لأنها فيه تخترع وإليه يضيفها صاحبها وأيضاً فلو كانت طريقة مخترعة في الدنيا على الخصوص لم تسم بدعة كإحداث الصنائع والبلدان التي لا عهد بها فيما تقدم.
ولما كانت الطرائق في الدين تنقسم ـ فمنها ما له أصل في الشريعة، ومنها ما ليس له أصل فيها ـ خص منها ما هو المقصود بالحد وهو القسم المخترع، أي طريقة ابتدعت على غير مثال تقدمها من الشارع، إذ البدعة إنما خاصتها أنها خارجة عما رسمه الشارع، وبهذا القيد انفصلت عن كل ما ظهر لبادي الرأْي أنه مخترع مما هو متعلق
--------------------------------------------
ওয়াজিব, মুস্তাহাব, মুবাহ, মাকরূহ অথবা হারাম। এই মতটি ইমাম শাফিঈর দিকে নিসবত করা হয়েছে। এবং তার অনুসারীদের মধ্যে আল-ইযয বিন আবদুস সালাম, আন-নববী, আবু শামাহ, ইবনুল আসির ও আস-সুয়ূতী রয়েছেন। মালিকীদের মধ্য থেকে আল-কারাফী ও আয-যারকানী; হানাফীদের মধ্য থেকে ইবনে আবিদীন; হাম্বালীদের মধ্য থেকে ইবনুল জাওযী এবং যাহিরীদের মধ্য থেকে ইবনে হাযম এই মত পোষণ করেছেন। ইনশাআল্লাহ, এই কথাগুলো তাদের প্রবক্তাদের দিকে নিসবত করার সত্যতা যাচাই, তাদের প্রদত্ত বিদআতের সংজ্ঞা উল্লেখ এবং তারা যে সকল দলিল পেশ করেছেন সেগুলোর বিস্তারিত আলোচনা একটি বিশেষ পরিচ্ছেদে (১) সামনে আসবে।
আমরা আল্লাহর ইচ্ছায় এই পরিচ্ছেদে প্রথম মতটি নিয়ে আলোচনা করব; যাতে বিদআতের সংজ্ঞায় তাদের বক্তব্য ও কর্মপদ্ধতি স্পষ্ট করা যায়। আমরা এই বিষয়ে তাদের মূলনীতিগুলো উপস্থাপন করব। আল্লাহই সাহায্যকারী:
(প্রথম মত অনুসারে বিদআতের সংজ্ঞায় ওলামায়ে কেরামের উক্তি:
মুহাক্কিক আশ-শাতিবী বিদআতের সংজ্ঞায় যা উল্লেখ করেছেন তার দিকে লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাই যে, তিনি বিদআতের সংজ্ঞায় দুটি ধারার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি সংক্ষেপে যা বলেছেন তার সারমর্ম হলো: [সুতরাং বিদআত হলো দ্বীনের মধ্যে উদ্ভাবিত এমন একটি পন্থা যা শরিয়তের সদৃশ, যা অনুসরণের মাধ্যমে মহান আল্লাহর ইবাদতে অতিরঞ্জন বা চরম নিষ্ঠার উদ্দেশ্য রাখা হয়।] এটি তাদের অভিমত যারা 'আদত' বা প্রথাকে বিদআতের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করেন না, বরং একে কেবল ইবাদতের সাথে সুনির্দিষ্ট করেন। আর যারা সাধারণ কার্যাবলীকেও বিদআতের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করেন, তারা বলেন: [বিদআত হলো দ্বীনের মধ্যে উদ্ভাবিত এমন একটি পন্থা যা শরিয়তের সদৃশ, যা অনুসরণের মাধ্যমে শরিয়ত নির্দেশিত পন্থার অনুরূপ উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করা হয়।] এই সংজ্ঞার শব্দগুলো ব্যাখ্যা করা আবশ্যক। 'তারিকাহ', 'তারিক', 'সাবিল' এবং 'সুনান'—এগুলো সব একই অর্থ বহন করে, আর তা হলো এমন কিছু যা অনুসরণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একে 'দ্বীনের মধ্যে' বলে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে কারণ এটি দ্বীনের মধ্যেই উদ্ভাবন করা হয় এবং এর উদ্ভাবক একে দ্বীনের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করে। পক্ষান্তরে, এটি যদি বিশেষভাবে দুনিয়াবি কোনো উদ্ভাবিত পন্থা হতো তবে তাকে বিদআত বলা হতো না, যেমন পূর্বে অস্তিত্ব ছিল না এমন শিল্প বা শহর তৈরি করা।
যেহেতু দ্বীনি পন্থাগুলো বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত—যার কিছু শরিয়তে ভিত্তি আছে এবং কিছুর কোনো ভিত্তি নেই—তাই এখান থেকে কেবল সংজ্ঞায় উদ্দিষ্ট অংশটুকুই গ্রহণ করা হয়েছে, যা হলো উদ্ভাবিত অংশ। অর্থাৎ এমন একটি পন্থা যা শরীয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকে কোনো পূর্ব উদাহরণ ছাড়াই নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছে। কারণ বিদআতের বিশেষ বৈশিষ্ট্যই হলো এটি শরীয়ত প্রণেতার নির্ধারিত সীমানার বাইরে। এই শর্তের মাধ্যমেই এমন সব বিষয় পৃথক হয়ে যায় যা আপাতদৃষ্টিতে উদ্ভাবিত মনে হলেও আসলে সংশ্লিষ্ট...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
بالدين، كعلم النحو والتصريف ومفردات اللغة وأصول الفقه وأُصول الدين، وسائر العلوم الخادمة للشريعة فإنها وإن لم توجد في الزمان الأول فأُصولها موجودة في الشرع
…(فإن قيل): فإن تصنيفها على ذلك الوجه مخترع.
(فالجواب): أن له أصلاً في الشرع، ففي الحديث ما يدل عليه، ولو سلم أنه ليس في ذلك دليل على الخصوص، فالشرع بجملته يدل على اعتباره، وهو مستمد من قاعدة المصالح المرسلة، وسيأْتي بسطها بحول الله.
فعلى القول بإثباتها أصلاً شرعياً لا إشكال في أن كل علم خادم للشريعة داخل تحت أدلته التي ليست بمأْخوذة من جزئي واحد؛ فلبست ببدعة البتة.
وعلى القول بنفيها لا بد أن تكون تلك العلوم مبتدعات، وإذا دخلت في علم البدع كانت قبيحة، لأن كل بدعة ضلالة من غير إشكال، كما يأتي بيانه إن شاء الله.
ويلزم من ذلك أن يكون كتب المصحف وجمع القرآن قبيحاً، وهو باطل بالإجماع فليس إذاً ببدعة.
ويلزم أن يكون دليل شرعي، وليس إلا هذا النوع من الاستدلال، وهو المأخوذ من جملة الشريعة.
وإذا ثبت جزئي في المصالح المرسلة، ثبت مطلق المصالح المرسلة.
فعلى هذا لا ينبغي أن يسمى علم النحو أو غيره من علوم اللسان أو علم الأصول أو ما أشبه ذلك من العلوم الخادمة للشريعة، بدعة أصلاً
…وقوله في الحد ((تضاهي الشرعية)) يعني: أنها تشابه الطريقة الشرعية من غير أن تكون في الحقيقة كذلك، بل هي مضادة لها من أوجه متعددة:
منها: وضع الحدود كالناذر للصيام قائماً لا يقعد، ضاحياً لا يستظل، والاختصاص في الانقطاع للعبادة، والاقتصار من المأكل والملبس على صنف دون صنف من غير علة.
ومنها: التزام الكيفيات والهيآت المعينة، كالذكر بهيئة الاجتماع على صوت واحد، واتخاذ يوم ولادة النبي صلى الله عليه وسلم عيداً، وما أشبه ذلك.
ومنها: التزام العبادات المعينة في أوقات معينة لم يوجد لها ذلك التعيين في الشريعة، كالتزام صيام يوم النصف من شعبان وقيام ليلته
…وقوله: ((يقصد بالسلوك عليها المبالغة في التعبد لله تعالى)) هو تمام معنى البدعة إذ هو المقصود بتشريعها.
দ্বীনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ, যেমন নাহু (ব্যাকরণ), তাসরিফ (রূপান্তর), ভাষাতত্ত্বের শব্দাবলি, উসুলে ফিকহ এবং উসুলে দ্বীন, আর শরীয়তের অন্যান্য সহায়ক জ্ঞানসমূহ; এগুলো যদিও প্রথম যুগে বিদ্যমান ছিল না, তবুও শরীয়তের মধ্যে এগুলোর মূল ভিত্তি বিদ্যমান রয়েছে
…(যদি বলা হয়): সেগুলোকে সেই তরিকায় বিন্যস্ত করা তো একটি নতুন উদ্ভাবন।
(উত্তর হলো): শরীয়ত মতে এর মূল ভিত্তি রয়েছে, হাদীসেও এমন বিষয় রয়েছে যা এর প্রতি নির্দেশ করে। আর যদি এটি মেনে নেওয়াও হয় যে, এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো দলিল নেই, তবুও সামগ্রিক শরীয়ত এটিকে গ্রহণ করার প্রতি নির্দেশ করে। এটি মূলত ‘মাসালিহে মুরসালাহ’ (জনস্বার্থ ও কল্যাণরক্ষা)-এর নীতি থেকে সংগৃহীত, আল্লাহর শক্তিতে অচিরেই এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা আসবে।
সুতরাং একে (মাসালিহে মুরসালাকে) শরয়ী ভিত্তি হিসেবে সাব্যস্ত করার মতানুসারে, এতে কোনো সংশয় নেই যে, শরীয়তের সেবায় নিয়োজিত প্রতিটি জ্ঞান শাখা এমন সব দলিলাদির অন্তর্ভুক্ত হবে যা কোনো একক আংশিক বিষয় থেকে গৃহীত হয়নি; ফলে এগুলো একেবারেই বিদআত নয়।
আর একে অস্বীকার করার মতানুসারে, ঐ সকল জ্ঞান বা বিজ্ঞানকে অবশ্যই উদ্ভাবিত বিদআত হতে হবে। আর যদি তা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত হয় তবে তা মন্দ বলে বিবেচিত হবে, কারণ কোনো প্রকার সংশয় ছাড়াই প্রতিটি বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা, যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে ব্যাখ্যা করা হবে।
এর ফলে মুসহাফ (কুরআনের পাণ্ডুলিপি) লিপিবদ্ধ করা এবং কুরআন সংকলন করাও মন্দ হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়বে, যা ইজমা (ঐক্যমত্য) অনুযায়ী বাতিল; সুতরাং এটি বিদআত নয়।
আর এর জন্য একটি শরয়ী দলিল থাকা আবশ্যক, আর তা হলো এই প্রকারের প্রমাণ পদ্ধতি, যা সামগ্রিক শরীয়ত থেকে সংগৃহীত।
আর যখন ‘মাসালিহে মুরসালাহ’-এর কোনো একটি আংশিক বিষয় প্রমাণিত হয়, তখন ‘মাসালিহে মুরসালাহ’-এর মূলনীতিটিই প্রমাণিত হয়ে যায়।
অতএব, নাহু শাস্ত্র বা ভাষাতত্ত্বের অন্যান্য শাখা অথবা উসুল শাস্ত্র বা শরীয়তের সেবায় নিয়োজিত এ জাতীয় জ্ঞানসমূহকে কখনোই বিদআত বলা উচিত নয়
…সংজ্ঞার মধ্যে তাঁর কথা “শরীয়তের সদৃশ” এর অর্থ হলো: এটি বাহ্যিকভাবে শরয়ী পদ্ধতির সাদৃশ্য রাখে কিন্তু বাস্তবে তা তেমন নয়, বরং এটি বহু দিক থেকে শরীয়তের পরিপন্থী:
তন্মধ্যে রয়েছে: নির্দিষ্ট নিয়ম বা সীমাবদ্ধতা আরোপ করা। যেমন- কেউ রোজা রাখার মানত করল দাঁড়িয়ে থেকে না বসে, অথবা রোদে অবস্থান করে ছায়ায় আশ্রয় না নিয়ে। অথবা ইবাদতের জন্য সংসার ত্যাগ করার বিশেষ পদ্ধতি গ্রহণ করা, এবং কোনো কারণ ছাড়াই নির্দিষ্ট পোশাক বা খাদ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে অন্যগুলো বর্জন করা।
তন্মধ্যে রয়েছে: সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি ও কাঠামোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা। যেমন- সমবেত কণ্ঠে একসুরে জিকির করা, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্ম দিবসকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করা এবং এ জাতীয় বিষয়াদি।
তন্মধ্যে রয়েছে: সুনির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট ইবাদত পালনের বাধ্যবাধকতা তৈরি করা যার কোনো নির্ধারণ শরীয়ত থেকে প্রমাণিত নয়। যেমন- শাবান মাসের মধ্যবর্তী দিনের (১৫ শাবান) রোজাকে এবং ঐ রাতের কিয়ামকে (ইবাদতকে) আবশ্যক করে নেওয়া
…আর তাঁর কথা: “তা অনুসরণ করার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার ইবাদতে অতিরঞ্জনের উদ্দেশ্য করা হয়” - এটিই বিদআতের অর্থের পূর্ণতা, কারণ বিদআত প্রবর্তনের উদ্দেশ্যই হলো এটি।
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وذلك أن أصل الدخول فيها يحث على الانقطاع إلى العبادة والترغيب في ذلك؛ لأن الله تعالى يقول: {وَما خَلَقْتُ الجِنَّ والإنْسَ إلَاّ لِيَعْبُدُونَ} (1)، فكأن المبتدع رأى أن المقصود هذا المعنى، ولم يتبين له أن ما وضعه الشارع فيه من القوانين والحدود كافٍ
…وقد تبين بهذا القيد أن البدع لا تدخل في العادات. فكل ما اخترع من الطرق في الدين مما يضاهي المشروع ولم يقصد به التعبد فقد خرج عن هذه التسمية
…وأما الحد على الطريقة الأُخرى (2) فقد تبين معناه إلا قوله: يقصد بها ما يقصد بالطريقة الشرعية. ومعناه أن الشريعة إنما جاءت لمصالح العباد في عاجلتهم وآجلتهم لتأْتيهم في الدارين على أكمل وجوهها، فهو الذي يقصده المبتدع ببدعته؛ لأن البدعة إما أن تتعلق بالعادات أو العبادات، فإن تعلقت بالعبادات فإنما أراد بها أن يأتي تعبده على أبلغ ما يكون في زعمه ليفوز بأتم المراتب في الآخرة في ظنه. وإن تعلقت بالعادات فكذلك، لأنه إنما وضعها لتأتي أمور دنياه على تمام المصلحة فيها
… وقد ظهر معنى البدعة وما هي في الشرع والحمد لله] (3).
وقفات مع تعريف الشاطبي:
الوقفة الأولى:قال الشيخ مصطفى بن محمد بن مصطفى: [وقد رجَّح الشاطبي رحمه الله تعالى هذا التعريف الذي يقول بدخول البدع في العادات والمعاملات (4)، حيث قال: ثبت في الأصول الشرعية أنه لابد في كل عادى من سابقة التعبد، لأن مالا يعقل معناه على التفصيل من المأمور به أو المنهي عنه فهو المراد بالتعبدي، وما عقل معناه وعرفت مصلحته أو مفسدته فهو المراد بالعادي. فالطهارات والصلوات والصيام والحج كلها تعبدي، والبيع، والنكاح، والشراء، والطلاق، والإجارات والجنايات كلها عادى، لأن أحكامها معقولة المعنى، ولابد فيها من التعبد إذ هي مقيدة بأمور شرعية لا خيرة للمكلف فيها
… فإن جاء الابتداع في الأمور العادية من هذا الوجه صح دخوله في العاديات كالعبادات وإلا فلا".
--------------------------------------------
আর তা এ কারণে যে, তাতে প্রবেশের মূল ভিত্তি ইবাদতে মগ্ন হওয়ার প্রতি উৎসাহিত করে এবং সে বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করে; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি জিন ও মানব জাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি} (১), ফলে বিদআতি ব্যক্তি মনে করে যে এটাই উদ্দিষ্ট অর্থ, আর তার কাছে এটি স্পষ্ট হয়নি যে শারিয়াত প্রণেতা এতে যে সকল নিয়ম ও সীমারেখা নির্ধারণ করেছেন তা-ই যথেষ্ট
…আর এই শর্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, বিদআত প্রথাগত বিষয়ের (আদাত) অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং দ্বীনের মধ্যে উদ্ভাবিত এমন প্রতিটি পথ যা শারিয়াত-সম্মত পদ্ধতির সদৃশ কিন্তু তা দ্বারা ইবাদতের উদ্দেশ্য করা হয়নি, তা এই সংজ্ঞার বাইরে
…আর দ্বিতীয় পদ্ধতির (২) সংজ্ঞা অনুযায়ী এর অর্থ স্পষ্ট হয়েছে, তবে তার এই কথাটি ব্যতীত: "তা দ্বারা তাই উদ্দেশ্য করা হয় যা শারিয়াত-সম্মত পদ্ধতির দ্বারা উদ্দেশ্য করা হয়।" এর অর্থ হলো, শারিয়াত কেবল বান্দাদের ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণের জন্যই এসেছে যাতে তা উভয় জগতে তাদের কাছে পূর্ণাঙ্গ রূপে পৌঁছে যায়। আর বিদআতি ব্যক্তি তার বিদআতের মাধ্যমে সেই উদ্দেশ্যই পোষণ করে; কারণ বিদআত হয় প্রথাগত (আদাত) বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হবে অথবা ইবাদতের সাথে। যদি তা ইবাদতের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে সে এর মাধ্যমে তার ইবাদতকে তার ধারণা অনুযায়ী সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যেতে চায় যাতে সে তার বিচারে পরকালে পূর্ণাঙ্গ মর্যাদা লাভ করতে পারে। আর যদি তা প্রথাগত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে বিষয়টি তেমনই হবে, কারণ সে এটি প্রবর্তন করেছে যাতে তার দুনিয়াবি বিষয়গুলো পূর্ণাঙ্গ কল্যাণের সাথে অর্জিত হয়
… আর বিদআতের অর্থ এবং শারিয়াতে এর স্বরূপ কী তা স্পষ্ট হয়েছে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর (৩)।
শাতিবির সংজ্ঞার পর্যালোচনাসমূহ:
প্রথম পর্যালোচনা:শেখ মোস্তফা বিন মুহাম্মদ বিন মোস্তফা বলেছেন: [ইমাম শাতিবি (রহিমাহুল্লাহ) সেই সংজ্ঞাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন যা বলে যে প্রথাগত বিষয় (আদাত) এবং সামাজিক লেনদেনের (মুয়ামালাত) মধ্যেও বিদআত প্রবেশ করতে পারে (৪), যেখানে তিনি বলেছেন: শারিয়াতের মূলনীতিতে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রতিটি প্রথাগত বিষয়ের মূলে অবশ্যই ইবাদতের সংশ্লিষ্টতা থাকতে হয়। কেননা আদিষ্ট বা নিষিদ্ধ এমন বিষয় যার বিস্তারিত অর্থ যুক্তি দিয়ে অনুধাবন করা যায় না, তাই হলো 'তাআববুদি' (ইবাদত বা আনুগত্যমূলক), আর যার অর্থ যুক্তিগ্রাহ্য এবং যার কল্যাণ বা অকল্যাণ জানা যায়, সেটিই হলো 'আদি' (প্রথাগত)। সুতরাং পবিত্রতা অর্জন, নামাজ, রোজা এবং হজ—সবই 'তাআববুদি' (ইবাদত বা আনুগত্যমূলক)। আর ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ, তালাক, ইজারা এবং অপরাধ সংক্রান্ত দণ্ডবিধি সবই 'আদি' (প্রথাগত), কারণ এগুলোর বিধান যুক্তিগ্রাহ্য। তবে এগুলোতে অবশ্যই ইবাদতের দিক থাকতে হবে যেহেতু এগুলো শারিয়াত নির্দেশিত এমন বিষয় দ্বারা সীমাবদ্ধ যেখানে দায়বদ্ধ ব্যক্তির নিজস্ব কোনো পছন্দের সুযোগ নেই
… সুতরাং যদি প্রথাগত বিষয়ে এই দিক থেকে নতুন উদ্ভাবন (বিদআত) আসে, তবে ইবাদতের মতোই প্রথাগত বিষয়েও বিদআতের প্রবেশ করা সঠিক হবে, অন্যথায় নয়]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وقال أيضا: شبه والرد عليها: إذا كان الأصل في العقود والشروط والمعاملات العفو حتى يحرمها الله تعالى، فكيف تدخلها البدع؟
والجواب، أولاً: ثبت في الأصول الشرعية أنه لابد في كل عادى من شائبة التعبد لكونه مقيداً بأوامر الشرع إلزاماً أو تخييراً أو إباحة.
ثانياً: البدع لا تدخل في الأمور العادية إلا من الوجه العبادي فيها، فإذا ألحق المكلف حكماً شرعياً بعمل عادى وقصد به القربة وهو في حقيقته ليس كذلك فقد ابتدع.
قال ابن رجب رحمه الله: (فمن تقرب إلى الله بعمل لم يجعله الله ورسوله قربة إلى الله فعمله باطل مردود
… كمن تقرب إلى الله بسماع الملاهي أو بالرقص أو بكشف الرأس في غير الإحرام
… ).
وكما يقول الشاطبي رحمه الله تعالى: والأمور المشروعة تارة تكون عبادية وتارة عادية فكلاهما مشروع من قبل الشارع فكما تقع المخالفة بالابتداع في أحدهما تقع في الآخر.
وقال النووي في شرح مسلم لحديث (وفى بضع أحدكم صدقة)، " في هذا دليل على أن المباحات تصير طاعات بالنيات الصادقة ".
ويقول الغزالي في الإحياء (4/ 371): وما من شيء من المباحات إلا ويحتمل نية أو نيات يصير بها من محاسن القربات.
ويقول ابن تيمية رحمه الله تعالى في الفتاوى (1/ 311): الأصل الثاني: أن نعبده بما شرع على ألسنة رسله، ولا نعبده إلا بواجب أو مستحب، والمباح إذا قصد به الطاعة دخل في ذلك.
وقال في الاستقامة (2/ 152): لذات الدنيا ونعيمها إنما هي متاع ووسيلة إلى لذات الآخرة وكذلك خلقت، فكل لذة أعانت على لذات الآخرة فهو مما أمر الله به ورسوله، ويثاب على ما يقصد به وجهه
… ).
ويمكن توضيح هذه المعاني بالأمثلة:
- وضع المكوس على الناس حتى تصبح أمراً محتوماً دائماً أو في أوقات محدودة على كيفيات مضروبة بحيث تضاهى المشروع كالزكاة.
- نكاح المحلل الذي يحتال به لإجازة ما هو حرام شرعاً إذا اعتقد فاعلوه جواز ذلك، وحله في الشريعة، أما إذا لم يعتقدوا ذلك فيكون حراماً ومعصية لا بدعة.
তিনি আরও বলেছেন: একটি সংশয় ও তার খণ্ডন: যদি চুক্তি, শর্তাবলি এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে মূল নীতি হয় সাধারণ অনুমতি, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তা হারাম করেন, তবে তাতে কীভাবে বিদআত প্রবেশ করবে?
উত্তর হলো, প্রথমত: শরয়ি মূলনীতিসমূহে এটি প্রমাণিত যে, প্রত্যেক অভ্যাসগত বা জাগতিক বিষয়ের মধ্যেও ইবাদতের একটি আবেশ থাকা অপরিহার্য; কেননা তা আবশ্যকতা, ঐচ্ছিকতা বা বৈধতার বিচারে শরিয়তের নির্দেশের দ্বারা সীমাবদ্ধ।
দ্বিতীয়ত: বিদআত অভ্যাসগত বিষয়সমূহের মধ্যে প্রবেশ করে না, তবে তার মধ্যে বিদ্যমান ইবাদতের দিকটি দিয়ে প্রবেশ করে। সুতরাং কোনো মুকাল্লাফ ব্যক্তি যদি কোনো অভ্যাসগত কার্যের সাথে কোনো শরয়ি বিধান জুড়ে দেয় এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সংকল্প করে, অথচ বাস্তবে বিষয়টি তেমন নয়, তবে সে বিদআত করল।
ইবনে রজব রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: (যে ব্যক্তি এমন কোনো আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নৈকট্য লাভের মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ করেননি, তবে তার সেই আমল বাতিল ও প্রত্যাখ্যাত
… যেমন কেউ বাদ্যযন্ত্র শ্রবণ করা, নাচ করা কিংবা ইহরামের অবস্থা ব্যতীত মাথা উন্মুক্ত রাখার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করল
… )।
যেমনটি শাতবি রহিমাহুল্লাহ তাআলা বলেন: শরয়ি বিষয়সমূহ কখনো ইবাদত সংক্রান্ত হয় আবার কখনো অভ্যাসগত হয়। উভয়ই শরিয়ত প্রবর্তকের পক্ষ থেকে বিধিবদ্ধ। সুতরাং যেমনভাবে এগুলোর একটিতে বিদআত সৃষ্টির মাধ্যমে শরিয়ত লঙ্ঘন ঘটে, অন্যটিতেও তেমনটি ঘটে থাকে।
ইমাম নববী শরহে মুসলিমে (তোমাদের প্রত্যেকের দাম্পত্য মিলনে সদকা রয়েছে) হাদীসটির বর্ণনায় বলেছেন, "এতে এ কথার দলিল রয়েছে যে, বৈধ বিষয়সমূহ সঠিক নিয়তের মাধ্যমে আনুগত্যের কাজে পরিণত হয়।"
আল-গাজালী ইহয়াউ উলুমিদ্দীন গ্রন্থে (৪/৩৭১) বলেন: বৈধ কাজগুলোর মধ্যে এমন কিছু নেই যা এমন কোনো নিয়ত বা একাধিক নিয়তের অবকাশ রাখে না যার ফলে সেটি উত্তম ইবাদতে পরিণত হয়।
ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ তাআলা আল-ফাতাওয়া গ্রন্থে (১/৩১১) বলেন: দ্বিতীয় মূলনীতি: আমরা তাঁর ইবাদত করব তাঁর রাসূলগণের জবানে যা তিনি বিধিবদ্ধ করেছেন তার মাধ্যমে। আমরা কেবল ওয়াজিব কিংবা মুস্তাহাব বিষয়ের মাধ্যমেই তাঁর ইবাদত করব। আর বৈধ বিষয়গুলোর মাধ্যমে যদি আনুগত্যের ইচ্ছা করা হয়, তবে তা এর অন্তর্ভুক্ত হবে।
তিনি আল-ইস্তিকামাহ গ্রন্থে (২/১৫২) বলেছেন: দুনিয়ার স্বাদ ও নেয়ামতসমূহ কেবল পরকালের নিআমতের উপকরণ ও মাধ্যম এবং এ উদ্দেশ্যেই তা সৃষ্টি করা হয়েছে। সুতরাং যে স্বাদ পরকালের স্বাদে সাহায্য করে, তা এমন বিষয় যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নির্দেশ দিয়েছেন এবং যার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত করা হয় তার ওপর সওয়াব প্রদান করা হয়
… )।
এই অর্থসমূহ উদাহরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করা যেতে পারে:
- মানুষের ওপর অন্যায়ভাবে কর (মাকস) ধার্য করা, যতক্ষণ না তা একটি অনিবার্য ও স্থায়ী বিষয়ে পরিণত হয় কিংবা নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে তা আদায় করা হয়, যা যাকাতের মতো শরয়ি বিধানের সদৃশ হয়ে দাঁড়ায়।
- হালালা বিয়ে (নিকাহে মুহাল্লিল), যার মাধ্যমে শরিয়তে যা হারাম তাকে বৈধ করার জন্য প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয়—যদি এর সম্পাদনকারীরা একে বৈধ মনে করে এবং শরিয়তে এর বৈধতা আছে বলে বিশ্বাস করে। তবে তারা যদি একে বৈধ মনে না করে, তবে তা হারাম ও পাপাচার হিসেবে গণ্য হবে, বিদআত হিসেবে নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
- وفى العادات بمثل التقيد بلباس معين أو عادة معينة، بحيث يجعل ذلك لازماً أو مستحباً وهو في الأصل مباح، فذلك يعد بدعة كما نص شيخ الإسلام على ذلك، وقد نص رحمه الله تعالى على لبس الصوف (
… اتخاذ لبس الصوف عبادة وطريقاً إلى الله بدعة) الفتاوى 11/ 28، 555.] اهـ (1).
(وفق الشاطبي بين الطريقتين وجعلهما كالقول الواحد حيث قال: [هل يدخل في الأُمور العادية أم يختص بالأُمور العبادية؟ أفعال المكلفين ـ بحسب النظر الشرعي فيها ـ على ضربين: أحدهما: أن تكون من قبيل التعبدات. والثاني: أن تكون من قبيل العادات.
فأما الأول: فلا نظر فيه هاهنا. وأما الثاني: ـ وهو العادي ـ فظاهر النقل عن السلف الأولين أن المسألة تختلف فيها، فمنهم من يرشد كلامه إلى أن العاديات كالعبادات، فكما أنَّا مأمورون في العبادات بأن لا نحدث فيها، فكذلك العاديات والجنايات كلها عادي، لأن أحكامها معقولة المعنى، ولا بد فيها من التعبد، إذ هي مقيدة بأُمور شرعية لا خيرة للمكلف فيها، وإذا كان كذلك فقد ظهر اشتراك القسمين في معنى التعبد، فإن جاء الابتداع في الأُمور العادية من ذلك الوجه، صح دخوله في العاديات كالعبادات، وإلا فلا. وهذه هي النكتة التي يدور عليها حكم الباب
… فالحاصل أن أكثر الحوادث التي أخبر بها النبي صلى الله عليه وسلم من أنها تقع وتظهر وتنتشر أُمور مبتدعة على مضاهاة التشريع، لكن من جهة التعبد، لا من جهة كونها عادية، وهو الفرق بين المعصية التي هي بدعة، والمعصية التي هي ليست ببدعة. وإن العاديات من حيث هي عادية لا بدعة فيها، ومن حيث يتعبد بها أو توضع وضع التعبد تدخلها البدعة، وحصل بذلك اتفاق القولين، وصار المذهبان مذهباً واحداً، وبالله التوفيق].اهـ (2)
الوقفة الثانية:إن كلمة الدين في التعريف على كلا الطريقتين يختلف مدلولها من طريقة لأخرى ففي التعريف الأول الذي قصر معنى البدعة على العبادات، فيكون المراد بالدين كل ما جاء لمصالح العباد في آجلتهم فقط دون عاجلتهم، ويكون المراد به في التعريف الثاني كل ما جاء لمصالح العباد في آجلتهم وعاجلتهم.
--------------------------------------------
এবং অভ্যাসের ক্ষেত্রেও কোনো নির্দিষ্ট পোশাক বা বিশেষ অভ্যাসের ব্যাপারে এমনভাবে কড়াকড়ি করা, যার মাধ্যমে সেটাকে আবশ্যক বা মুস্তাহাব বানিয়ে নেওয়া হয়—অথচ তা মূলত মুবাহ বা বৈধ ছিল—তবে সেটি বিদআত হিসেবে গণ্য হবে, যেমনটি শাইখুল ইসলাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) পশমী পোশাক পরিধান করা প্রসঙ্গে বলেছেন: (...পশমী পোশাক পরিধান করাকে ইবাদত এবং আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের পথ হিসেবে গ্রহণ করা বিদআত) আল-ফাতাওয়া ১১/ ২৮, ৫৫৫।] সমাপ্ত (১)।
(শাতবি উভয় পদ্ধতির মধ্যে সমন্বয় করেছেন এবং সেগুলোকে একটি একক মতের মতো গণ্য করেছেন। যেখানে তিনি বলেছেন: [বিদআত কি অভ্যাসগত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে নাকি কেবল ইবাদতগত বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট থাকবে? শারয়ী দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড দুই প্রকার: প্রথমত: যা ইবাদত বা দাসত্বমূলক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয়ত: যা অভ্যাস বা লোকচারমূলক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।
প্রথম প্রকারের ব্যাপারে এখানে কোনো আলোচনার অবকাশ নেই। আর দ্বিতীয় প্রকার—যা অভ্যাসগত—সেক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সালাফদের বর্ণনা থেকে এটি স্পষ্ট যে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি রয়েছেন যাঁর বক্তব্য এই ইঙ্গিত দেয় যে, অভ্যাসগত বিষয়গুলো ইবাদতের মতোই। সুতরাং ইবাদতের ক্ষেত্রে আমাদের যেমন নতুন কিছু উদ্ভাবন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তেমনি অভ্যাসগত বিষয় এবং দণ্ডবিধি সংক্রান্ত বিষয়গুলো সবই এই নিয়মের অধীন; কারণ এগুলোর বিধানের কারণ বা অর্থ বুদ্ধিগম্য, আর তাতে ইবাদতের দিক থাকা অপরিহার্য। যেহেতু এগুলো শারয়ী বিষয় দ্বারা সীমাবদ্ধ যেখানে মুকাল্লাফ বা ব্যক্তির নিজস্ব কোনো এখতিয়ার নেই। আর যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে ইবাদতের অর্থের দিক থেকে উভয় প্রকারের মধ্যে অংশীদারিত্ব স্পষ্ট হয়ে যায়। সুতরাং যদি এই দিক থেকে অভ্যাসগত বিষয়ে নব-উদ্ভাবন বা বিদআত আসে, তবে ইবাদতের মতো অভ্যাসগত বিষয়েও তা ঘটা সঠিক হবে, অন্যথায় নয়। আর এটিই হলো সেই গূঢ় রহস্য যার ওপর এই অধ্যায়ের বিধান আবর্তিত হয়... সারকথা হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেসব ঘটনা ঘটার, প্রকাশ পাওয়ার এবং ছড়িয়ে পড়ার সংবাদ দিয়েছেন, তার অধিকাংশ বিষয়ই হলো শরীয়তের সাদৃশ্যে উদ্ভাবিত বিদআতি বিষয়। তবে তা ইবাদতের দিক থেকে, অভ্যাসগত দিক থেকে নয়। আর এটিই হলো সেই গুনাহ যা বিদআত, আর সেই গুনাহ যা বিদআত নয়—তাদের মধ্যে পার্থক্য। অভ্যাসগত বিষয় যতক্ষণ পর্যন্ত নিছক অভ্যাস হিসেবে থাকে ততক্ষণ তাতে কোনো বিদআত নেই। কিন্তু যখন একে ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করা হয় বা ইবাদতের স্থলাভিষিক্ত করা হয়, তখন তাতে বিদআত প্রবেশ করে। এর মাধ্যমেই উভয় মতের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দুটি মাযহাব বা মত একটি মতে পরিণত হয়েছে। আর আল্লাহর সাহায্যেই সফলতা অর্জিত হয়]। সমাপ্ত (২)
দ্বিতীয় পর্যবেক্ষণ:উভয় পদ্ধতির সংজ্ঞায় ‘দীন’ শব্দের অর্থ এক পদ্ধতি থেকে অন্য পদ্ধতিতে ভিন্ন হয়। প্রথম সংজ্ঞায়, যেখানে বিদআতের অর্থকে কেবল ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, সেখানে ‘দীন’ বলতে সেই সব বিষয়কে বোঝানো হয়েছে যা শুধুমাত্র বান্দার পরকালীন কল্যাণের জন্য এসেছে, তাদের পার্থিব কল্যাণের জন্য নয়। আর দ্বিতীয় সংজ্ঞায় ‘দীন’ বলতে সেই সব বিষয়কে বোঝানো হয়েছে যা বান্দার পরকালীন এবং পার্থিব উভয় কল্যাণের জন্যই এসেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الوقفة الثالثة:بالتأمل لتفسير الشاطبي في التعريف على كلا الطريقتين لقيدي: (طريقة، تضاعي الشريعة) مع قوله: [ويتبين ذلك بمثال وضع المكوس في معاملات الناس، فلا يخلو هذا الوضع المحرم أن يكون على قصد حجر التصرفات وقتاً ما، أو في حالة ما، لنيل حطام الدنيا، على هيئة غصب الغاصب، وسرقة السارق، وقطع القاطع للطريق، وما أشبه ذلك، أو يكون على قصد وضعه على الناس كالدين الموضوع والأمر المحتوم عليهم دائماً، أو في أوقات محدودة، على كيفيات مضروبة، بحيث تضاهي المشروع الدائم الذي يحمل عليه العامة، ويؤخذون به وتوجه على الممتنع منه العقوبة، كما في أخذ زكاة المواشي والحرث وما أشبه ذلك.
فأما الثاني: فظاهر أنه بدعة، إذ هو تشريع زائد، وإلزام للمكلفين يضاهي إلزامهم الزكاة المفروضة، والديات المضروبة، بل صار في حقهم كالعبادات المفروضة، واللوازم المحتومة أو ما أشبه ذلك، فمن هذه الجهة يصير بدعة بلا شك، لأنه شرع مستدرك، وسَنٌّ في التكليف مهيع، فتصير المكوس على هذا الفرض لها نظران: نظر من جهة كونها محرمة على الفاعل أن يفعلها كسائر أنواع الظلم، ونظر من جهة كونها اختراعاً لتشريع يؤخذ به الناس إلى الموت كما يؤخذون بسائر التكاليف، فاجتمع فيها نهيان: نَهْى عن المعصية، ونهى عن البدعة، وليس ذلك موجوداً في البدع في القسم الأول، وإنما يوجد به النهي من جهة كونه تشريعاً موضوعاً على الناس أمر وجوب أو ندب، إذ ليس فيه جهة أخرى يكون بها معصية؛ بل نفس التشريع هو نفس الممنوع
… ] اهـ (1) تلحظ أن من معاني المضاهاة عنده أن يُجعل الأمر المحدث طريقة يسير عليها الناس، ملزمين بها كالدين. وهذا أمر زائد على الابتداع. فقد جعل الشاطبي الفرق بين المعصية والبدعة هو الإلزام بالمعصية كالدين الموضوع والأمر المحتوم، والمدقق في ذلك يجد أن الفرق بين الحالتين إنما هو بالإصرار على العمل، والإصرار على المعصية لا يحولها إلى بدعة، فبطل بذلك جعل الإلزام بدعة ما لم يقيد بقصد القربة.
قال الشيخ سليمان الماجد في "ضابط البدعة وما تدخله": (القاعدة الثالثة: مضاهاة المكلف للتعبدات المحضة.
ويجري حكم البدعة بمضاهاة التعبدات في صورتين:
--------------------------------------------
তৃতীয় পর্যবেক্ষণ:আশ-শাতিবীর সংজ্ঞার ব্যাখ্যায় (পদ্ধতি, শরীয়তের সাদৃশ্য করা) - এই দুটি শর্তের প্রতি লক্ষ্য করলে এবং তাঁর নিম্নোক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হয়: [মানুষের লেনদেনের ক্ষেত্রে অবৈধ কর (মুকূস) আরোপের উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এই হারাম আরোপটি হয়তো কোনো সময়ে বা কোনো অবস্থায় দুনিয়ার তুচ্ছ সম্পদ লাভের উদ্দেশ্যে মানুষের কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার নিয়তে হতে পারে, যেমনটি দখলকারীর জোরপূর্বক দখল, চোরের চুরি, কিংবা ডাকাতের ডাকাতি বা অনুরুপ কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। অথবা এটি হতে পারে মানুষের উপর সর্বদা বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে একটি প্রতিষ্ঠিত দ্বীন বা অবধারিত আদেশের মতো করে আরোপ করার উদ্দেশ্যে, যাতে তা এমন একটি স্থায়ী শরীয়তের সাদৃশ্যপূর্ণ হয় যার উপর সাধারণ মানুষকে পরিচালিত করা হয়, যা তাদের থেকে গ্রহণ করা হয় এবং যে তা দিতে অস্বীকার করে তাকে শাস্তি প্রদান করা হয়, যেমনটি গবাদি পশু বা ফসলের জাকাত গ্রহণ বা অনুরুপ বিষয়ের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
আর দ্বিতীয় বিষয়টি: এটি যে বিদআত তা স্পষ্ট, কারণ এটি একটি অতিরিক্ত বিধান রচনা এবং মুকাল্লাফদের ওপর এমন এক বাধ্যবাধকতা যা তাদের উপর ফরজ করা জাকাত বা নির্ধারিত দিয়াতের (রক্তপণ) বাধ্যবাধকতার সদৃশ। বরং এটি তাদের ক্ষেত্রে ফরজ ইবাদত বা অবধারিত আবশ্যকীয় বিষয়ের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে এই দিক থেকে এটি নিঃসন্দেহে বিদআত হিসেবে গণ্য হবে, কারণ এটি একটি নবউদ্ভাবিত বিধান এবং শরীয়তের দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে একটি সুগম পথ। সুতরাং এই অনুমিতি অনুযায়ী অবৈধ করের দুটি দিক রয়েছে: একটি হলো তা সম্পাদনকারীর জন্য হারাম হওয়া, যেমন অন্যান্য সকল প্রকার জুলুম। আর দ্বিতীয় দিকটি হলো তা এমন একটি বিধান হিসেবে উদ্ভাবন করা যা মানুষকে মৃত্যু পর্যন্ত মেনে চলতে বাধ্য করা হয়, যেমনটি অন্যান্য শরয়ী বিধানের ক্ষেত্রে করা হয়। ফলে এতে দুটি নিষেধ একত্রিত হয়েছে: অবাধ্যতার নিষেধ এবং বিদআতের নিষেধ। আর প্রথম প্রকারের বিদআতে এটি পাওয়া যায় না, বরং সেখানে নিষেধের কারণ হলো এটি মানুষের জন্য ওয়াজিব বা মুস্তাহাব হিসেবে প্রণীত একটি বিধান; কারণ সেখানে এমন অন্য কোনো দিক নেই যার কারণে তা অবাধ্যতা হতে পারে; বরং সেই বিধান প্রণয়নই হলো মূল নিষিদ্ধ বিষয়
… ] সমাপ্ত (১)। আপনি লক্ষ্য করবেন যে, তাঁর নিকট সাদৃশ্য করার একটি অর্থ হলো, উদ্ভাবিত বিষয়টি এমন এক পদ্ধতিতে পরিণত করা যার ওপর মানুষ চলবে এবং দ্বীনের মতো তা পালনে বাধ্য থাকবে। এটি বিদআতের ক্ষেত্রে একটি অতিরিক্ত বিষয়। আশ-শাতিবী গুনাহ এবং বিদআতের মধ্যে পার্থক্য করেছেন গুনাহের ওপর দ্বীন বা অবধারিত বিষয়ের ন্যায় বাধ্যবাধকতা আরোপের মাধ্যমে। আর এ বিষয়ে যে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে সে দেখতে পাবে যে, এই দুই অবস্থার মধ্যে পার্থক্য কেবল আমলের ওপর অটল থাকার দ্বারা নির্ধারিত হয়; আর গুনাহের ওপর অটল থাকা তাকে বিদআতে রূপান্তরিত করে না। ফলে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া কেবল বাধ্যবাধকতা আরোপকে বিদআত বলা অসার প্রমাণিত হলো।
শেখ সুলাইমান আল-মাজিদ তাঁর "বিদআতের মানদণ্ড ও এর আওতাভুক্ত বিষয়সমূহ" গ্রন্থে বলেন: (তৃতীয় নীতি: মুকাল্লাফের বিশুদ্ধ ইবাদতসমূহের সাদৃশ্য করা।
বিশুদ্ধ ইবাদতসমূহের সাদৃশ্য করার মাধ্যমে বিদআতের বিধান দুটি পদ্ধতিতে কার্যকর হয়:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الصورة الأولى: تخصيص العبادة المحضة، أو تقييدها بمكان أو زمان أو حال أو صفة؛ سواء كان ذلك باعتقاد المشروعية على الوجه الخاص أو المقيد، أو أن يقع هذا التخصيص أو التقييد بمحض العادة، ومطلق المداومة.
والصورة الثانية: تخصيص العادات بمحدودات من مكان أو زمان أو حال أو صفة لا يُعقل لهذه المحدودات معنى على التفصيل؛ ولو لم يُرد بها القربة لله أو للبشر؛ كضرب المكوس والوظائف على الدوام، وتنكيس العلم أو الصمت حداداً، وزيارة نصب الجندي المجهول، والأعياد القومية).
والصورة الأولى تدخل في البدعة الإضافية، وأما الثانية فهي محل الخلاف وسيأتي الكلام عليها.
وقد ناقش الشيخ الغامدي اعتراضات د. عزت على عطية (1) على قيد المضاهاة عند الشاطبي ثم قال معمماً لمعنى المضاهاة: [ولا يشترط أن تكون المضاهاة خاصة بالإلزام أو التشريع الزائد فقط، بل وتكون مع ذلك بالتخصيص الزماني أو المكاني، والتخصيص بالهيئة والطريقة ونحو ذلك من أنواع التخصص الذي لا يكون إلا من قبل الشرع، وتكون بالاعتماد على شُبَهِ الأدلة الشرعية، وتكون المضاهاة كذلك بقصد القربة بالعمل المبتدع، وهذا أوسع أبواب المضاهاة، فإن المبتدع إنما يريد ببدعته القرب إلى الله والتعبد بهذا العمل المحدث، فهو يضاهي بقصده هذا وإرادته العمل المشروع] (2).
وقول الشيخ الغامدي: (ولا يشترط أن تكون المضاهاة خاصة بالإلزام أو التشريع الزائد فقط) موافقة منه للشاطبي في تفسير المضاهاة بذلك وإدخاله في معنى البدعة،
… وقوله: (وتكون المضاهاة كذلك بقصد القربة بالعمل المبتدع) صريح في أنه لا يشترط قصد القربة في المعاني الأُول التي ذكرها لمعنى المضاهاة، ومن المعلوم أنه لابد من قصد القربة للحكم على العمل بالبدعية.
وعليه فلابد من تعميم قيد المضاهاة عند الشاطبي على معنى القربة. كما هو معلوم بالاضطرار من معنى البدعة الشرعية أنه لابد من شائبة التعبد والتقرب فيها، ولكن هذا التعميم في الحقيقة يعود على هذا القيد بالبطلان، ويجعله قيداً زائداً يمكن الاستغناء عنه
--------------------------------------------
প্রথম রূপ: নিছক ইবাদতকে নির্দিষ্ট করা, অথবা একে স্থান, কাল, অবস্থা বা বৈশিষ্ট্যের সাথে সীমাবদ্ধ করা; চাই তা বিশেষ বা সীমাবদ্ধ উপায়ে শরয়ি হওয়ার বিশ্বাসে হোক, অথবা স্রেফ অভ্যাসগতভাবে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে পালনের মাধ্যমে এই নির্দিষ্টকরণ বা সীমাবদ্ধকরণ ঘটুক।
দ্বিতীয় রূপ: অভ্যাসগত বিষয়গুলোকে স্থান, কাল, অবস্থা বা বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করা, যার বিস্তারিত অর্থ বিবেকগ্রাহ্য নয়; যদিও এর দ্বারা আল্লাহর বা মানুষের নৈকট্য উদ্দেশ্য না হয়; যেমন স্থায়ীভাবে শুল্ক ও কর ধার্য করা, শোক পালনার্থে পতাকা অর্ধনমিত রাখা বা নীরবতা পালন করা, অজ্ঞাত সৈনিকের স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করা এবং জাতীয় দিবসসমূহ।
প্রথম রূপটি বিদআতে ইযাফিয়ার (সংযোজিত বিদআত) অন্তর্ভুক্ত, আর দ্বিতীয়টি মতপার্থক্যের বিষয়, যা নিয়ে সামনে আলোচনা আসবে।
শায়খ আল-গামিদি শাতীবির ‘মুদাহাহ’ (শরীয়তের সাদৃশ্যতা)-এর শর্তের ওপর ডক্টর ইজ্জত আলী আতিয়্যাহর (১) আপত্তিগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন, এরপর মুদাহাহর অর্থকে সাধারণীকরণ করে বলেন: [শর্ত নয় যে মুদাহাহ কেবল বাধ্যবাধকতা বা অতিরিক্ত বিধান প্রণয়নের সাথেই নির্দিষ্ট হতে হবে, বরং তা সময় বা স্থানের নির্দিষ্টকরণের মাধ্যমে এবং ধরন ও পদ্ধতির নির্দিষ্টকরণ ও এই জাতীয় অন্যান্য প্রকারের নির্দিষ্টকরণের মাধ্যমেও হতে পারে যা কেবল শরীয়তের পক্ষ থেকেই হওয়া সম্ভব। তদুপরি এটি শরয়ি দলিলের সংশয়ের ওপর নির্ভর করেও হতে পারে। একইভাবে উদ্ভাবিত আমলের মাধ্যমে নৈকট্য লাভের নিয়তের কারণেও মুদাহাহ হতে পারে, আর এটিই মুদাহাহর সবচেয়ে বিস্তৃত ক্ষেত্র। কারণ বিদআতকারী তার বিদআতের মাধ্যমে কেবল আল্লাহর নৈকট্য এবং এই নব-উদ্ভাবিত আমলের মাধ্যমে ইবাদত করতে চায়; ফলে সে তার এই সংকল্প ও উদ্দেশ্যের মাধ্যমে শরয়ি আমলের সাদৃশ্য অবলম্বন করে] (২)।
শায়খ আল-গামিদির বক্তব্য: (শর্ত নয় যে মুদাহাহ কেবল বাধ্যবাধকতা বা অতিরিক্ত বিধান প্রণয়নের সাথেই নির্দিষ্ট হতে হবে) - এর মাধ্যমে তিনি মুদাহাহর এই ব্যাখ্যায় শাতীবির সাথে একমত হয়েছেন এবং একে বিদআতের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন,
... এবং তার কথা: (একইভাবে উদ্ভাবিত আমলের মাধ্যমে নৈকট্য লাভের নিয়তের কারণেও মুদাহাহ হতে পারে) - এটি স্পষ্ট করে যে, মুদাহাহর যে প্রথম অর্থগুলো তিনি উল্লেখ করেছেন তাতে নৈকট্য লাভের নিয়ত থাকা শর্ত নয়। অথচ এটি নিশ্চিতভাবে জানা কথা যে, কোনো আমলকে বিদআত হিসেবে গণ্য করার জন্য নৈকট্য লাভের নিয়ত থাকা আবশ্যক।
এর ভিত্তিতে শাতীবির ‘মুদাহাহ’র শর্তটিকে নৈকট্য লাভের অর্থের সাথে সাধারণীকরণ করা আবশ্যক। যেমনটি শরয়ি বিদআতের অর্থ থেকে অকাট্যভাবে জানা যায় যে, তাতে ইবাদত ও নৈকট্য লাভের সংমিশ্রণ থাকা অপরিহার্য। কিন্তু বাস্তবে এই সাধারণীকরণ এই শর্তটিকে অকার্যকর করে দেয় এবং একে একটি অতিরিক্ত শর্তে পরিণত করে যা বর্জন করা সম্ভব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
بقيود أخرى في التعريف، كقيد: في الدين، يقصد، المبالغة في التعبد.
(قال الشيخ الغامدي: [وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: (
… ينكر على من يتقرب إلى الله بترك جنس الملذات، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم للذين قال أحدهم: أما أنا فأصوم ولا أفطر، ثم ذكر الحديث
… ) (1). فالإنكار إنما توجه إليهم بسبب قصد القربة بهذا الترك .... ومن هنا تتقرر هذه القاعدة التي نص عليها الشاطبي رحمه الله حيث قال: (ولا معنى للبدعة إلا أن يكون الفعل في اعتقاد المبتدع مشروعا، وليس بمشروع) (2).
فالفعل الذي يقترن به أصل التشريع بإلحاق حكم شرعي له، كالاستحباب أو الوجوب، يكون بدعة، فإن لم يقترن به هذا القصد فهو منهي عنه؛ لكونه معصية أو هو عفو (3).
…ثم قال: وقصد القربة يراد به: إلحاق حكم شرعي بعمل محدث، كالندب والاستحباب والإيجاب أو الكراهة والتحريم، قال شيخ الإسلام: (فمن ندب إلى شيء يتقرب به إلى الله، أو أوجبه بقوله أو فعله، من غير أن يشرعه الله فقد شرع من الدين ما لم يأذن به الله) (4)، ويراد به كذلك استحسان الفعل المحدث، وإن لم يلحق به حكماً شرعياً، وإن كان ذلك غير متصور؛ لأن من لوازم استحسانه إلحاق وصف شرعي به، وإلصاق حكم تشريعي بالبدعة.
وقصد القربة يتوجه إلى العمل الذي لا يتصور فيه غير إرادة القربة كالعبادات المحضة، وهي حق خالص لله سبحانه، فلابد من مطابقة فعل العبد لأمر الشرع (5).
وكل ما فهم من الشرع أنه لا خيرة للعبد فيه، سواء كان له معنى معقول أو غير معقول، فإنه مما يعلم أن قصد الشارع فيه الوقوف عند ما حده من غير زيادة ولا نقصان (6)
… ويتوجه قصد القربة كذلك إلى العمل الذي يحمل أوجهاً متعددة مثل الأمور الدنيوية، فينظر إلى الفعل باعتبار الوجه الغالب عليه، أو باعتبار وجه القربة إذا اتحدت
--------------------------------------------
সংজ্ঞার অন্যান্য শর্তের সাথে, যেমন: 'দীনের মধ্যে' শর্তটি দ্বারা ইবাদতে আতিশয্য বা চরমপন্থা অবলম্বন করা উদ্দেশ্য করা হয়েছে।
(শাইখ আল-গামদি বলেন: [শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: ( ... সেই ব্যক্তির প্রতিবাদ করা হবে যে সকল প্রকার ভোগবিলাস বর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চায়, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ক্ষেত্রে বলেছিলেন যাদের একজন বলেছিল: আমি সর্বদা রোজা রাখব এবং কখনো তা ভাঙব না, এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন ... ) (১)। সুতরাং তাদের প্রতি এই প্রতিবাদ কেবল এই ত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়ত করার কারণেই করা হয়েছে... আর এখান থেকেই সেই মূলনীতিটি সাব্যস্ত হয় যা শাতবি (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: (বিদআতের অর্থ আর কিছু নয় বরং বিদআতি ব্যক্তির বিশ্বাসে এমন কোনো কাজকে শরিয়তসম্মত মনে করা যা আসলে শরিয়তসম্মত নয়) (২)।
অতএব, যে কাজের সাথে কোনো শরয়ি হুকুম যেমন—মুস্তাহাব বা ওয়াজিব হওয়াকে যুক্ত করার মাধ্যমে মূল শরিয়তকরণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থাকে, তা বিদআত হবে। আর যদি এর সাথে এই উদ্দেশ্য যুক্ত না থাকে, তবে তা নিষিদ্ধ হতে পারে গোনাহ হওয়ার কারণে অথবা তা সাধারণ ক্ষমার অন্তর্ভুক্ত (৩)। ...
এরপর তিনি বলেন: নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্য বলতে বোঝায়—কোনো নবউদ্ভাবিত কাজের সাথে শরয়ি হুকুম যেমন মানদুব, মুস্তাহাব, ওয়াজিব অথবা মাকরূহ ও হারামের বিধান জুড়ে দেওয়া। শাইখুল ইসলাম বলেন: (যে ব্যক্তি এমন কোনো বিষয়ের দিকে আহ্বান জানাল যা আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় হবে, অথবা নিজের কথা বা কাজের মাধ্যমে তাকে ওয়াজিব করল অথচ আল্লাহ তা বিধান হিসেবে দেননি, তবে সে দীনের এমন বিষয় প্রবর্তন করল যার অনুমতি আল্লাহ দেননি) (৪)। এর দ্বারা নবউদ্ভাবিত কাজকে উত্তম মনে করাও উদ্দেশ্য হতে পারে, যদিও তার সাথে কোনো শরয়ি হুকুম যুক্ত না করা হয়। যদিও এটি কল্পনা করা কঠিন; কারণ কোনো কাজকে ভালো মনে করার অবধারিত ফলাফল হলো তার সাথে একটি শরয়ি বৈশিষ্ট্য জুড়ে দেওয়া এবং বিদআতের সাথে একটি বিধানকে সংযুক্ত করা।
আর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যটি মূলত সেই আমলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেগুলোতে নৈকট্য লাভের ইচ্ছা ছাড়া অন্য কিছু কল্পনা করা যায় না, যেমন—খাঁটি ইবাদতসমূহ। এগুলো সুমহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট হক, তাই বান্দার আমল অবশ্যই শরিয়তের নির্দেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে (৫)।
আর শরিয়ত থেকে যা কিছু বোঝা যায় যে তাতে বান্দার কোনো পছন্দ বা ইখতিয়ার নেই—চাই তার কোনো অর্থ বা কারণ বোধগম্য হোক বা না হোক—তা মূলত এমন বিষয় যার ক্ষেত্রে এটা জানা যায় যে, শরিয়তদাতার উদ্দেশ্য হলো কোনো প্রকার হ্রাস-বৃদ্ধি ছাড়া তিনি যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন তার ওপর সীমাবদ্ধ থাকা (৬) ... আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্য এমন কাজের ক্ষেত্রেও হতে পারে যা বহুবিধ দিক ধারণ করে যেমন—পার্থিব বিষয়াবলি। এক্ষেত্রে কাজটিকে তার প্রবল দিকের বিচারে বিবেচনা করা হবে অথবা নৈকট্যের দিকের বিচারে যদি তা নির্দিষ্ট হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أوجه الفعل الواحد، ويتضح ذلك بالمثال:
فمن لبس ثوباً بلون معين ولم يرد بذلك القربة فلا يوصف هذا العمل بالبدعة؛ لأنه مباح، إلا إذا لحقته أمور منهي عنها، كالإسبال والاشتهار، فإنه يكون معصية.
أما إذا أراد بذلك الثوب المعين، واللون المعين القربة، أو ألحق به وصف استحسان أو ندب أو إيجاب، فإنه يكون حينذاك بدعة، كما تفعل طوائف الصوفية التي تشترط لوناً معيناً لمريدي طريقتها
… وهذا الشرط - الذي هو قصد القربة - هو ما عناه الشاطبي في تعريفه للبدعة بقوله: (طريقة في الدين تضاهي الشريعة
… ) (1) ثم شرح ذلك بقوله: (
… يعني أنها تشابه الطرقة الشرعية، من غير أن تكون في الحقيقة كذلك، بل هي مضادة لها من أوجه متعددة - إلى أن قال -: فلو كانت لا تضاهي الأمور المشروعة لم تكن بدعة؛ لأنها تصير من باب الأفعال العادية
… ) (2) ومن هذه المضاهاة طلب القربة من الله - سبحانه -
… ثم قال: مع أن المضاهاة من ألزم صفات البدعة
… ومن آكد أوجه المضاهاة بين البدعة والسنة قصد القربة
… )] (3).
وقوله: (وقصد القربة يراد به: إلحاق حكم شرعي بعمل محدث، كالندب والاستحباب والإيجاب أو الكراهة والتحريم) غير صحيح، وغير مطرد، فقد ينسب البعض حكم شرعي لبعض المحدثات لترويجها، وهو يعلم أنه كاذب فلا يكون مبتدعاً، فما هي إلا معاصٍ تراكم بعضها على بعض، وأما البدعة الاصطلاحية فشيء آخر شرطها نية التقرب لا مجرد الإلحاق.
وقوله: (ويراد به كذلك استحسان الفعل المحدث، وإن لم يلحق به حكماً شرعياً، وإن كان ذلك غير متصور؛ لأن من لوازم استحسانه إلحاق وصف شرعي به، وإلصاق حكم تشريعي بالبدعة) وهو كسابقه، والتعبير بالاستحسان أوسع من موضوع الابتداع، فقد يكون الاستحسان مقدمة للبدعة، وقد يكون حجة شرعية على تفصيل ليس هذا محله.
والمستحسن قد يستحسن الفعل _ سواء أكان لدليل شرعي، أو لدليل عقلي، أو لأمر يقدح في نفسه ولا يستطيع أن يعبر عنه - ولا يكون هذا الأمر المستحسن من أمور البدع بل قد يكون من باب المصالح المرسلة، أو حتى من الأمور العادية ولا ينوي بها التقرب
--------------------------------------------
একটি কাজের বিভিন্ন দিক থাকতে পারে, যা উদাহরণের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়:
যদি কেউ নির্দিষ্ট রঙের কোনো পোশাক পরিধান করে এবং তার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্য না থাকে, তবে এই কাজটিকে বিদআত হিসেবে অভিহিত করা যাবে না; কারণ এটি একটি মুবাহ বা বৈধ কাজ। তবে যদি এর সাথে কোনো নিষিদ্ধ বিষয় যুক্ত হয়, যেমন ইসবাল (পায়ের টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরা) অথবা প্রসিদ্ধি লাভের উদ্দেশ্য, তবে তা গুনাহ হিসেবে গণ্য হবে।
কিন্তু যদি সেই নির্দিষ্ট পোশাক এবং নির্দিষ্ট রঙের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের ইচ্ছা করা হয়, অথবা এর সাথে উত্তম হওয়া, মুস্তাহাব হওয়া কিংবা ওয়াজিব হওয়ার মতো কোনো বিধান আরোপ করা হয়, তবে তা তখন বিদআতে পরিণত হবে। যেমনটি বিভিন্ন সুফি সম্প্রদায় করে থাকে, যারা তাদের তরিকতের মুরিদদের জন্য নির্দিষ্ট রঙের শর্তারোপ করে
... আর এই শর্তটি—যা হলো নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্য—এটিই ইমাম শাতিবি বিদআতের সংজ্ঞায় বুঝিয়েছেন এই বলে: (দ্বীনের মধ্যে এমন এক উদ্ভাবিত পথ যা শরিয়তের সদৃশ
...) (১) এরপর তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: (
... অর্থাৎ এটি শরিয়তসম্মত পদ্ধতির সাদৃশ্য রাখে, যদিও বাস্তবে তা নয়, বরং এটি বিভিন্ন দিক থেকে শরিয়তের পরিপন্থী—পরবর্তীতে তিনি বলেন—: যদি এটি শরিয়তসম্মত বিষয়াবলির সদৃশ না হতো তবে তা বিদআত হতো না; কারণ তখন তা সাধারণ অভ্যাসগত কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত হতো
...) (২) আর এই সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের অন্যতম হলো আল্লাহ সুবহানাহু-এর নৈকট্য অন্বেষণ করা
... এরপর তিনি বলেন: যদিও সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়া বিদআতের অন্যতম আবশ্যকীয় বৈশিষ্ট্য
... এবং বিদআত ও সুন্নাহর মধ্যে সাদৃশ্য স্থাপনের সবচেয়ে সুনিশ্চিত দিক হলো নৈকট্য লাভের নিয়ত করা
...) (৩)।
আর তাঁর এই কথা: (নৈকট্য লাভের নিয়ত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: কোনো নবউদ্ভাবিত কাজের সাথে শরয়ি হুকুম জুড়ে দেওয়া, যেমন তাকে মুস্তাহাব, পছন্দনীয়, ওয়াজিব কিংবা মাকরূহ বা হারাম সাব্যস্ত করা) এটি সঠিক নয় এবং এটি সর্বদা একরূপও নয়। কারণ কেউ হয়তো কোনো নবউদ্ভাবিত বিষয়কে জনপ্রিয় করার জন্য তার সাথে কোনো শরয়ি হুকুম জুড়ে দিতে পারে, অথচ সে জানে যে সে মিথ্যা বলছে; এমতাবস্থায় সে বিদআতি হবে না, বরং এটি হলো একের পর এক পুঞ্জীভূত গুনাহ। আর পারিভাষিক বিদআত হলো ভিন্ন বিষয়, যার শর্ত হলো নৈকট্য লাভের নিয়ত থাকা, কেবল হুকুম জুড়ে দেওয়া নয়।
আর তাঁর কথা: (এর দ্বারা একইভাবে নবউদ্ভাবিত কাজকে উত্তম মনে করাও উদ্দেশ্য, যদিও তার সাথে কোনো শরয়ি হুকুম যুক্ত না করা হয়; যদিও বিষয়টি অকল্পনীয়, কারণ কোনো কাজকে উত্তম মনে করার অন্যতম অনিবার্য দাবি হলো তার সাথে শরয়ি বিশেষত্ব যুক্ত করা এবং বিদআতের সাথে শরয়ি বিধান লেপে দেওয়া)—এটিও পূর্বের মতই। আর 'ইস্তিহসান' (উত্তম মনে করা) শব্দটি বিদআতের বিষয়ের চেয়েও ব্যাপক। কখনো ইস্তিহসান বিদআতের ভূমিকা হতে পারে, আবার কখনো তা শরয়ি দলিল হিসেবে গণ্য হতে পারে যার বিস্তারিত আলোচনা এখানে সম্ভব নয়।
আর যিনি উত্তম মনে করেন তিনি কোনো কাজকে উত্তম গণ্য করতে পারেন—চাই তা শরয়ি দলিলের ভিত্তিতে হোক, বা বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলের ভিত্তিতে হোক, অথবা তার অন্তরে উদিত কোনো বিষয়ের কারণে যা তিনি ব্যক্ত করতে সক্ষম নন—আর এই উত্তম মনে করার বিষয়টি বিদআতের অন্তর্ভুক্ত হবে না। বরং এটি 'মাসালিহে মুরসালা' (জনস্বার্থ রক্ষাকারী বিষয়) হতে পারে, এমনকি সাধারণ অভ্যাসগত বিষয়ের অন্তর্ভুক্তও হতে পারে যার মাধ্যমে নৈকট্য লাভের নিয়ত করা হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
، كمن يستحسن بعض أنواع الأطعمة أو الأشربة على بعض.، وبهذا ظهر ما في عبارة الشيخ الغامدي.
وقوله: (ويتوجه قصد القربة كذلك إلى العمل الذي يحمل أوجهاً متعددة مثل الأمور الدنيوية، فينظر إلى الفعل باعتبار الوجه الغالب عليه) غير منضبط، ولا مستقيم، فمثلا الطعام الوجه الغالب فيه هو حظ النفس، فعلى معنى كلامه أنه لا يدخله الابتداع الشرعي المذموم لعدم تحقق وجه القربة فيه؛ لأن الوجه الغالب فيه هو حظ النفس، وكذلك الشرب والنوم، مع أنه في الحقيقة قد يدخل كل هذه الأمور معنى البدعة بالنية، فمن أكل أو شرب بشماله ناوياً الإقتداء بالنبي، والتقرب بذلك لله، فهو مبتدع، وكذلك من لبس الحرير أو نام منبطحاً بنفس النية السابقة وهكذا.
وعليه فالراجح أن العادات المحضة لا تدخل في الإبتداع إلا من جهة شائبة التعبد والتقرب لله عز وجل بها.
وقد اعترض الشيخ سليمان الماجد في "ضابط البدعة وما تدخله" على ذلك فقال: (أما الاتجاه الأول وهو اعتبار القربة:
فإنه مع افتقاره إلى دليل صحته فهو غير مانع ولا جامع:
فهو غير مانع لأنه يُخضِعُ لأحكام البدعة أعمالاً لا يراد منها في أصل شرعها إلا القربة والأجر؛ كالجهاد فِي سبيل الله والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وهذه الأمور مما لا تدخلها البدعة؛ فلم يقل أحد: إن هذه الأشياء من الأمور التوقيفية التي لا يُحدث فيها، ولا يُجدد في أعمالها إلا بدليل خاص.
وهو غير جامع لأنه يُخرج أعمالا تُعد من التعبدات المحضة، ويسمى المحدث فيها في الشريعة مبتدعاً، وهي مع ذلك ليست مما يُراد بها القربة؛ حيث يُخرج الطلاق فِي الحيض، ويُخرج الأعياد الزائدة على الأعياد الشرعية؛ فقد استقر عمل العلماء على تسمية الطلاق الذي وقع على غير الوجه المشروع بالبدعة، وتسمية العيد الجديد بالعيد المبتدع؛ فهو إذاً غير جامع).
وأما قوله: (فإنه مع افتقاره إلى دليل صحته) وحديث إنما الأعمال بالنيات ونحوه يدل عليه وهي أدلة كثيرة.
وأما اعتراضه عليه بأنه غير مانع وتمثيله بالجهاد والأمر بالمعروف فإن كان بقصد وسائل الجهاد والأمر فهي خارج موضوع البدعة وقد قرر الشاطبي ذلك وسيأتي، وإن كان يقصد ذاتهما وأنه لا ستصور دخول البدعة فيهما فهو متعقب بمن يجاهد أو يأمر وينهي حمية أو من أجل المغنم، أو رياء ونحو ذلك ناويا التقرب لله بهذه النية فهو مبتدع.
وأما اعتراضه بأنه لا يشمل الطلاق البدعي فالمقصود بالبدعية فيه أنه على خلاف سنة النبي لا البدعة الإصطلاحية، وأما الأعياد الجديدة فهي محل النزاع فللمخالف أن يقول أنها لا تسمى بدعة إلا إن قصد بها التعبد، وإلا فهي معصية.
أقوال أخرى في تعريف البدعة (1):
قال ابن تيمية: (البدعة في الدين هي ما لم يشرعه الله ورسوله وهو ما لم يأمر به أمر إيجاب ولا استحباب، فأما ما أمر به أمر إيجاب أو استحباب وعلم الأمر به بالأدلة الشرعية فهو من الدين الذي شرعه الله وإن تنازع أولو الأمر في بعض ذلك وسواء كان هذا مفعولا على عهد النبي أو لم يكن فما فعل بعده بأمره من قتال المرتدين والخوارج المارقين وفارس وفارس والروم والترك وإخراج اليهود والنصارى من جزيرة العرب وغير ذلك هو من سنته
… ) (2)
قال ابن حجر الهيتمي: (البدعة هي ما لم يقم دليل شرعي على أنه واجب أو مستحب سواء فعل في عهده صلى الله عليه وسلم أو لم يفعل كإخراج اليهود والنصارى من جزيرة العرب
… ) (3)
قال العيني: (قوله محدثاتها جمع محدثة والمراد به ما أحدث وليس له أصل في الشرع وسمي في عرف الشرع بدعة وما كان له أصل يدل عليه الشرع فليس ببدعة) (4).
قال ابن الجوزي: (البدعة عبارة عن فعل لم يكن فابتُدع، والأغلب في المبتدعات أنها تصادم الشريعة بالمخالفة، وتوجب التعاطي عليها بزيادة أو نقصان) (5)
قال ابن رجب الحنبلي: (والمراد بالبدعة ما أحدث مما لا أصل له في الشريعة يدل عليه وأما ما كان له أصل من الشرع يدل عليه فليس ببدعة شرعا وإن كان بدعة لغة
…--------------------------------------------
...যেমন কেউ কোনো এক প্রকার খাদ্য বা পানীয়কে অন্যটির ওপর পছন্দ করে থাকে। এর মাধ্যমে শেখ গামিদীর বক্তব্যে যা রয়েছে তা স্পষ্ট হলো।
এবং তাঁর কথা: (সাওয়াব বা নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্য একইভাবে এমন আমলের দিকেও নিবদ্ধ হয় যা বহুমুখী অর্থ বহন করে, যেমন জাগতিক বিষয়সমূহ; সেক্ষেত্রে কাজের ওপর যা প্রবল দিক সে বিবেচনায় বিচার করা হবে) - এটি সুসংহত নয় এবং সঠিকও নয়। উদাহরণস্বরূপ, খাবারের ক্ষেত্রে প্রধান ও প্রবল দিক হলো প্রবৃত্তির স্বাদ গ্রহণ। তাঁর বক্তব্যের অর্থ অনুযায়ী এতে নিন্দনীয় শারয়ি বিদআত প্রবেশ করবে না, কারণ এতে নৈকট্য লাভের দিকটি অর্জিত হয় না; যেহেতু এর প্রবল দিক হলো প্রবৃত্তির স্বাদ। একইভাবে পান করা এবং ঘুমের ক্ষেত্রেও; যদিও বাস্তবে এই সমস্ত বিষয়েই নিয়তের কারণে বিদআতের অর্থ প্রবেশ করতে পারে। সুতরাং যে ব্যক্তি নবীজির অনুসরণ এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়তে বাম হাতে আহার করল বা পান করল, সে একজন বিদআতি। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি সেই একই পূর্বোক্ত নিয়তে রেশম পরিধান করল বা উপুড় হয়ে ঘুমাল, সেও তদ্রূপ।
সুতরাং এ প্রেক্ষিতে অগ্রগণ্য মত হলো এই যে, বিশুদ্ধ অভ্যাসগত বিষয়সমূহ বিদআতের অন্তর্ভুক্ত হয় না, কেবল তখনই হয় যখন এর সাথে ইবাদত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সংমিশ্রণ ঘটে।
শেখ সুলাইমান আল-মাজিদ তাঁর "দাবিতুল বিদা ওয়া মা তাদখুলুহু" গ্রন্থে এর ওপর আপত্তি জানিয়ে বলেছেন: (প্রথম মতটি হচ্ছে নৈকট্য লাভের বিষয়টি বিবেচনা করা:
এটি সঠিক হওয়ার দলিলের অভাব থাকার পাশাপাশি এটি 'মানি' (প্রতিবন্ধক) এবং 'জামি' (সমন্বয়কারী)-ও নয়:
এটি 'মানি' নয় কারণ এটি বিদআতের হুকুমের অধীনে এমন সব আমলকে নিয়ে আসে যা শরিয়তের মূল বিধানে কেবল নৈকট্য ও সওয়াব লাভের জন্যই উদ্দেশ্য ছিল; যেমন আল্লাহর পথে জিহাদ এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ। এই বিষয়গুলো বিদআতের আওতাভুক্ত নয়। কেউ কখনও বলেনি যে, এই বিষয়গুলো 'তাওকিফি' (অপরিবর্তনীয়) বিষয় যার মধ্যে কোনো নতুন বিষয় উদ্ভাবন করা যাবে না বা নতুন কোনো কর্মপন্থা গ্রহণ করা যাবে না বিশেষ দলিল ছাড়া।
আবার এটি 'জামি' নয় কারণ এটি এমন কিছু কাজকে বের করে দেয় যা বিশুদ্ধ ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য এবং এতে নতুন কিছু উদ্ভাবনকারীকে শরিয়তে বিদআতি বলা হয়, অথচ এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য উদ্দেশ্য থাকে না। যেমন হায়েজ অবস্থায় তালাক প্রদান এবং শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত ঈদ ব্যতিরেকে অতিরিক্ত ঈদসমূহ। কেননা আলেমদের কর্মপন্থা এর ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত যে, তারা শরয়ি পদ্ধতির বাইরে প্রদত্ত তালাককে 'বিদআতি তালাক' বলেন এবং নতুন উদ্ভাবিত ঈদকে 'বিদআতি ঈদ' বলেন। সুতরাং এটি 'জামি' নয়)।
আর তাঁর কথা: (এর সঠিকতার দলিলের অভাব রয়েছে), অথচ 'নিশ্চয়ই সমস্ত কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল' শীর্ষক হাদিস এবং এই জাতীয় অসংখ্য দলিল এর স্বপক্ষে প্রমাণ দেয়।
আর এটি 'মানি' নয় বলে তাঁর যে আপত্তি এবং জিহাদ ও সৎ কাজের আদেশের উদাহরণ প্রদান—সেক্ষেত্রে যদি তাঁর উদ্দেশ্য জিহাদ ও আদেশের মাধ্যম বা উপকরণসমূহ হয়ে থাকে, তবে তা বিদআতের বিষয়ের বহির্ভূত, যা শাতবি নিশ্চিত করেছেন এবং সামনে তা আসবে। আর যদি তাঁর উদ্দেশ্য হয় সেই আমলগুলোর মূল সত্তা এবং এতে বিদআতের প্রবেশ কল্পনা করা অসম্ভব মনে করেন, তবে এটি সেই ব্যক্তির মাধ্যমে খন্ডিত হয় যে ব্যক্তি দলপ্রীতি বা গনিমতের উদ্দেশ্যে অথবা লোক দেখানোর জন্য জিহাদ করে বা আদেশ-নিষেধ করে, অথচ সে মনে মনে আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়ত করে; তবে সে একজন বিদআতি।
আর বিদআতি তালাক এর অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার বিষয়ে তাঁর যে আপত্তি, তার উত্তর হলো এখানে বিদআতি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এটি নবীজির সুন্নতের পরিপন্থী হওয়া, পারিভাষিক বিদআত নয়। আর নতুন উদ্ভাবিত ঈদসমূহের বিষয়টি মতবিরোধপূর্ণ; বিরোধীরা বলতে পারেন যে এগুলোকে বিদআত বলা হবে না যতক্ষণ না এর মাধ্যমে ইবাদতের সংকল্প করা হয়, অন্যথায় এটি কেবল একটি গুনাহ।
বিদআতের সংজ্ঞায় অন্যান্য উক্তি (১):
ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: (দ্বীনের মধ্যে বিদআত হলো এমন কিছু যা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল নির্দেশ দেননি, অর্থাৎ যা করার জন্য তিনি ওয়াজিব বা মুস্তাহাব হিসেবে আদেশ করেননি। আর যার আদেশ তিনি ওয়াজিব বা মুস্তাহাব হিসেবে দিয়েছেন এবং শারয়ি দলিলের মাধ্যমে সে আদেশের কথা জানা গেছে, তা সেই দ্বীনেরই অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ প্রবর্তন করেছেন, যদিও উলুল আমর (কর্তৃপক্ষ) এর কিছু বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন। এটি নবীজির যুগে করা হয়ে থাকুক বা না থাকুক, তাঁর পরবর্তী সময়ে তাঁর আদেশে যা করা হয়েছে যেমন মুরতাদদের সাথে যুদ্ধ, খারেজিদের সাথে যুদ্ধ, পারস্য, রোম ও তুর্কিদের সাথে যুদ্ধ এবং আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বহিষ্কার করা ইত্যাদি তাঁর সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত … ) (২)
ইবনে হাজার আল-হাইতামি বলেছেন: (বিদআত হলো তা-ই যার ওয়াজিব বা মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে কোনো শারয়ি দলিল নেই, চাই তা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুগে করা হয়ে থাকুক বা না থাকুক, যেমন আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বহিষ্কার করা … ) (৩)
আল-আইনি বলেছেন: (তাঁর কথা 'মুহদাসাতুহা' শব্দটি 'মুহদাসাহ' এর বহুবচন, আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা নতুন উদ্ভাবন করা হয়েছে এবং শরিয়তে যার কোনো মূল ভিত্তি নেই, শরিয়তের পরিভাষায় একে বিদআত বলা হয়। আর যার কোনো মূল ভিত্তি শরিয়তে পাওয়া যায়, তা বিদআত নয়) (৪)।
ইবনুল জাওজি বলেছেন: (বিদআত হলো এমন একটি কাজের নাম যা আগে ছিল না বরং নতুন উদ্ভাবন করা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিদআতসমূহ শরিয়তের সাথে বিরোধপূর্ণ হয়ে থাকে এবং শরিয়তে বাড়ানো বা কমানোর মাধ্যমে তাতে হস্তক্ষেপ করে) (৫)
ইবনে রজব আল-হাম্বলি বলেছেন: (বিদআত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা নতুন উদ্ভাবন করা হয়েছে যার কোনো মূল ভিত্তি শরিয়তে নেই যা তার স্বপক্ষে প্রমাণ দেয়। আর যার মূল ভিত্তি শরিয়তে রয়েছে যা তার স্বপক্ষে প্রমাণ দেয়, তা শারয়ি দৃষ্টিতে বিদআত নয় যদিও আভিধানিক অর্থে বিদআত হতে পারে …
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
فكل من أحدث شيئا ونسبه إلى الدين ولم يكن له أصل من الدين يرجع إليه فهو بريء منه وسواء في ذلك مسائل الاعتقادات أو الأعمال أو الأقوال الظاهرة والباطنة وأما ما وقع في كلام السلف من استحسان بعض البدع فإنما ذلك في البدع اللغوية لا الشرعية) (1).
قول الشيخ العثيمين: (ما أحدث في الدين على خلاف ما كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه، من عقيدةٍ أو عمل) (2).
قول الشيخ الألباني: (إن البدعة المنصوص على ضلالتها من الشارع هي:
أ - كل ما عارض السنة من الأقوال أو الأفعال أو العقائد ولو كانت عن اجتهاد.
ب - كل أمر يتقرب إلى الله به، وقد نهى عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم.
ج - كل أمر لا يمكن أن يشرع إلا بنص أو توقيف، ولا نص عليه، فهو بدعة إلا ما كان عن صحابي.
د - ما ألصق بالعبادة من عادات الكفار.
هـ - ما نص على استحبابه بعض العلماء سيما المتأخرين منهم ولا دليل عليه.
و- كل عبادة لم تأت كيفيتها إلا في حديث ضعيف أو موضوع.
ز - الغلو في العبادة.
ح - كل عبادة أطلقها الشارع وقيدها الناس ببعض القيود مثل المكان أو الزمان أو صفة أو عدد) (3).
قول الشيخ أحمد بن حجر آل بوطامي: (والبدعة شرعاً هي التي أحدثت بعد الرسول على سبيل التقرب إلى الله ولم يكن قد فعلها الرسول، ولا أمر بها ولا أقرها ولا فعلتها الصحابة) (4).
قول الشيخ حافظ الحكمي: (ومعنى البدعة: شرع ما لم يأذن الله به، ولم يكن عليه أمر النبي صلى الله عليه وسلم ولا أصحابه) (5)
قول الشيخ أبي بكر الجزائري: (وهي في عرف الشرع: كل ما لم يشرعه الله
--------------------------------------------
সুতরাং যে ব্যক্তি নতুন কোনো কিছু উদ্ভাবন করল এবং সেটাকে দ্বীনের সাথে সম্পৃক্ত করল অথচ দ্বীনে এর কোনো মূল ভিত্তি নেই যার দিকে একে ফিরিয়ে নেওয়া যায়, তবে তিনি তা থেকে মুক্ত। আর বিশ্বাসের বিষয়াদি হোক কিংবা বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ কর্ম বা বক্তব্যের ক্ষেত্রে হোক—উভয়ই এর অন্তর্ভুক্ত। আর সালাফদের বাণীতে কিছু বিদআতের প্রশংসা যেটুকু পাওয়া যায়, তা কেবল আভিধানিক বিদআতের ক্ষেত্রে, শরয়ী বিদআতের ক্ষেত্রে নয়) (১)।
শাইখ উসাইমীনের বক্তব্য: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ যে বিষয়ের ওপর ছিলেন, তার বিপরীতে দ্বীনের মধ্যে নতুন যা কিছু উদ্ভাবন করা হয়েছে—তা আকিদা বা আমল যা-ই হোক) (২)।
শাইখ আলবানীর বক্তব্য: (শরীয়তপ্রণেতা কর্তৃক যে বিদআতকে পথভ্রষ্টতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে তা হলো:
ক - কথা, কাজ বা আকিদার মধ্য থেকে যা কিছু সুন্নাহর পরিপন্থী, যদিও তা ইজতিহাদের মাধ্যমে হয়।
খ - এমন প্রত্যেকটি বিষয় যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চাওয়া হয় অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে নিষেধ করেছেন।
গ - এমন প্রতিটি বিষয় যা দলীল বা ওহীর নির্দেশ ছাড়া প্রবর্তন করা সম্ভব নয় অথচ সে ব্যাপারে কোনো দলীল নেই, তবে তা বিদআত; কেবল যা কোনো সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে তা ব্যতীত।
ঘ - কাফিরদের অভ্যাস বা সংস্কৃতি থেকে যা ইবাদতের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঙ - কোনো কোনো আলিম বিশেষ করে পরবর্তী যুগের আলিমগণ যে বিষয়টিকে মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় বলেছেন অথচ তার কোনো দলীল নেই।
চ - এমন প্রতিটি ইবাদত যার পদ্ধতি কেবল যঈফ (দুর্বল) বা মাওজু (জাল) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
ছ - ইবাদতের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন বা বাড়াবাড়ি।
জ - এমন প্রতিটি ইবাদত যা শরীয়তপ্রণেতা সাধারণ (নির্ধারণহীন) রেখেছেন অথচ মানুষ সেটিকে স্থান, কাল, পদ্ধতি বা সংখ্যার মতো কিছু শর্ত দিয়ে সীমাবদ্ধ করে নিয়েছে) (৩)।
শাইখ আহমাদ বিন হাজার আল-বুতামী এর বক্তব্য: (শরীয়তের পরিভাষায় বিদআত হলো তা-ই যা আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে রাসূলের পরে উদ্ভাবন করা হয়েছে, অথচ রাসূল তা করেননি, তার নির্দেশ দেননি, তার অনুমোদন দেননি এবং সাহাবীগণও তা করেননি) (৪)।
শাইখ হাফেজ আল-হাকামির বক্তব্য: (বিদআতের অর্থ হলো: এমন কিছুকে শরীয়ত হিসেবে সাব্যস্ত করা যার অনুমতি আল্লাহ দেননি এবং যে বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণের কোনো নির্দেশনা ছিল না) (৫)
শাইখ আবু বকর আল-জাযাইরির বক্তব্য: (শরীয়তের পরিভাষায় এটি হলো: যা কিছু আল্লাহ বিধিবদ্ধ করেননি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
تعالى في كتابه أو على لسان رسوله محمد صلى الله عليه وسلم من مُعْتَقد أو قول أو فعل، وبعبارة أسهل: البدعة هي: كل ما لم يكن على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وعهد أصحابه ديناً يعبد الله به أو يتقرب به إليه من اعتقاد أو قول أو عمل، مهما أُضفي عليه من قداسة، وأُُُُُحيط به من شارات الدين وسمات القربة والطاعة) (1).
وكل هذه التعاريف متقاربة، والتعريف الذي أرتضيه ليكون جامعاً مانعاً هو: (كل ما أُحدث بقصد التعبد لله عز وجل، ولم يقم عليه دليل أصلاً، أو وصفاً) ليشمل دخول البدعة الإضافية صراحة، وسوف نتعرض - بمشيئة الله - في خلال الفصول التالية لشرح هذا التعريف.
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে অথবা তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবানিতে যা কিছু বিশ্বাস, কথা বা কাজ হিসেবে [বিধিবদ্ধ করেছেন]। সহজ কথায়: বিদআত হলো: যা কিছু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের যুগে এমন কোনো দ্বীন ছিল না যার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা হতো অথবা তাঁর নৈকট্য লাভ করা হতো—তা বিশ্বাস, কথা কিংবা কাজ যা-ই হোক না কেন, চাই সেটির ওপর যত পবিত্রতাই আরোপ করা হোক এবং সেটিকে ধর্মের নিদর্শন ও আনুগত্যের বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত করা হোক) (১)।
এই সবকটি সংজ্ঞাই কাছাকাছি, তবে আমি যে সংজ্ঞাটিকে সুসমন্বিত ও সর্বব্যাপী (জামে-মানে) হিসেবে পছন্দ করি তা হলো: (মহান আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে উদ্ভাবিত এমন প্রতিটি বিষয়, যার স্বপক্ষে মূলগতভাবে বা পদ্ধতিগতভাবে কোনো দলিল নেই) যাতে স্পষ্টভাবে 'অতিরিক্ত বিদআত' (বিদআতে ইদাফিয়্যাহ)-ও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। ইনশাআল্লাহ, আমরা পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে এই সংজ্ঞার ব্যাখ্যা প্রদান করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الباب الثانيشرح التعريف
الفصل الأول:الكلام على صيغة العموم (كل)، وأنها على عمومها وشمولها لجميع البدع (1)، وفيه مباحث:
المبحث الأول: بيان عموم ذم البدع (2):
قال الشاطبي تحت عنوان: (الباب الثالث في أن ذم البدع والمُحدثَات عامُّ لا يخص محدثه دون غيرها): (فاعلموا -رحمكم الله- أن ما تقَدَّم من الأدلَّة حجة في عموم الذم من أوجه:
أحدها: أنها جاءت مطلقة عامَّة على كثرتها، لم يقع فيها استثناء البتة، ولم يأت فيها شيء مما يقتضي أن منها ما هو هدىً، ولا جاء فيها: كل بدعة ضلالة، إلا كذا وكذا، ولا شيء من هذه المعاني، فلو كان هنالك محَدثة يقتضى النظر الشرعي فيها الاستحسان أو أنها لاحقة بالمشروعات، لذُكِرَ ذلك في آية أو حديث، لكنه لا يوجد، فدلَّ على أن تلك الأدلة بأسرها على حقيقة ظاهرها من الكلية التي لا يتخلَّف عن مقتضاها فردٌ من الأفراد.
والثاني: أنه قد ثبت في الأصول العلميَّة أن كل قاعدة كلَّية أو دليل شرعي كلَّي، إذا تكرَّرت في مواضع كثيرة، وأتى بها شواهد على معان أصوليَّة أو فروعيَّة، ولم يقترن بها تقييد ولا تخصيص، مع تكرُّرها وإعادة تقرُّرها، فذلك دليل على بقائها على مقتضى لفظها من العموم
…والثالث: إجماع السلف الصالح من الصحابة والتابعين ومن يليهم على ذمَّها كذلك وتقبيحها والهروب عنها وعمَّن اتَّسم بشيء منها، ولم يقع منهم في ذلك توقُّف ولا مثنوية، فهو - بحسب الاستقراء - إجماع ثابت، فدلَّ على أن كلَّ بدعة ليست بحق، بل هي من الباطل.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদসংজ্ঞার ব্যাখ্যা
প্রথম অনুচ্ছেদ:ব্যাপকতা জ্ঞাপক শব্দ ‘সব’ (কুল্লু) প্রসঙ্গে আলোচনা, এবং এটি যে তার ব্যাপকতা ও সকল বিদআতের অন্তর্ভুক্তির ওপর বহাল রয়েছে (১), এবং এতে রয়েছে বেশ কিছু আলোচনা:
প্রথম বিষয়: বিদআতের নিন্দার ব্যাপকতার বর্ণনা (২):
শাতবি (রহিমাহুল্লাহ) ‘তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিদআত ও নব-উদ্ভাবিত কার্যাবলীর নিন্দা ব্যাপক, এটি কোনো একটি নির্দিষ্ট বিদআতের জন্য নয়’ শিরোনামের অধীনে বলেন: (আপনারা জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাদের উপর রহম করুন—যেসব দলীল পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, সেগুলো বিভিন্ন দিক থেকে এই নিন্দার ব্যাপকতার পক্ষে প্রমাণস্বরূপ:
প্রথমত: সেগুলো প্রচুর পরিমাণে আসা সত্ত্বেও তা শর্তহীন ও ব্যাপকভাবেই এসেছে, সেগুলোতে কোনো প্রকার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এমন কিছু সেখানে আসেনি যা দাবি করে যে তার মধ্যে কোনোটি হিদায়াত। আবার সেখানে এমনটিও আসেনি যে: ‘অমুক অমুক বিষয় ছাড়া প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা’, অথবা এই জাতীয় কোনো অর্থ। সুতরাং সেখানে যদি এমন কোনো নব-উদ্ভাবিত বিষয় থাকত যা শরয়ি দৃষ্টিতে প্রশংসনীয় হওয়ার দাবি রাখত অথবা তা শরয়ি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হতো, তবে অবশ্যই তা কোনো আয়াত বা হাদীসে উল্লেখ করা হতো। কিন্তু তা পাওয়া যায় না। যা প্রমাণ করে যে, সেই সকল দলীল তার আক্ষরিক অর্থের ওপর ভিত্তি করে এমন এক ব্যাপকতা নির্দেশ করে, যার দাবি থেকে একটি বিষয়ও বাদ যায় না।
দ্বিতীয়ত: ইলমী মূলনীতিতে এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, প্রত্যেকটি সামষ্টিক নিয়ম বা সামষ্টিক শরয়ি দলীল যখন বহু স্থানে বারবার আসে এবং উসুলি বা ফুরুয়ি বিষয়ের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত হয়, এবং বারবার উল্লেখ ও পুনর্ব্যক্ত হওয়া সত্ত্বেও তার সাথে কোনো সীমাবদ্ধতা বা নির্দিষ্টকরণ যুক্ত না হয়, তবে তা তার শব্দের ব্যাপকতার দাবির ওপর বহাল থাকার প্রমাণ
…তৃতীয়ত: সাহাবী, তাবিঈ এবং তাঁদের পরবর্তী সালাফে সালেহীনের ইজমা বা ঐকমত্য একইভাবে বিদআতের নিন্দা জ্ঞাপন, একে কদর্য মনে করা এবং তা থেকে ও যারা বিদআতে লিপ্ত তাদের থেকে দূরে পলায়নের ব্যাপারে সাব্যস্ত হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁদের থেকে কোনো দ্বিধা বা ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হয়নি। সুতরাং অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এটি একটি সুসাব্যস্ত ইজমা। যা প্রমাণ করে যে, প্রতিটি বিদআতই সত্য নয়, বরং তা বাতিলের অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والرابع: أن متعقَّل البدعة يقتضى ذلك بنفسه؛ لأنه من باب مضادَّة الشارع واطِّراح الشرع، وكل ما كان بهذه المثابة، فمحال أن ينقسم إلى حسن وقبيح، وأن يكون منه ما يمدح ومنه ما يذم، إذ لا يصح في معقول ولا منقول استحسان مشاقَّة الشارع
… ) (1).
وقال ابن رجب الحنبلي: [قوله (: (كل بدعة ضلالة) من جوامع الكلم لا يخرج عنه شيء وهو أصل عظيم من أصول الدين، وهو شبيه بقوله (: (من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو ردّ) فكل من أحدث شيئاً ونسبه إلى الدين ولم يكن له أصل من الدين يرجع إليه فهو ضلالة والدين بريء منه، وسواء في ذلك مسائل الاعتقادات أو الأعمال أو الأقوال الظاهرة والباطنة، وأما ما وقع في كلام السلف من استحسان بعض البدع فإنما ذلك في البدع اللغوية لا الشرعية] (2)
وقال أيضاً: عند قوله صلى الله عليه وسلم المتفق عليه: (من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد): [هذا الحديث أصل عظيم من أصول الإسلام كما أن حديث الأعمال بالنيات ميزان للأعمال في باطنها وهو ميزان للأعمال في ظاهرها.
فكما أن كل عمل لا يراد به وجه الله تعالى فليس لعامله فيه ثواب فكذلك كل عمل لا يكون عليه أمر الله ورسوله فهو مردود على عامله، وكل من أحدث في الدين ما لم يأذن به الله ورسوله فليس من الدين في شيء] (3).
وقال الحافظ ابن حجر عند قوله صلى الله عليه وسلم: (كل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة) قال: [هذا قاعدة شرعية كلية بمنطوقها ومفهومها، أما منطوقها فكأن يقال، حكم كذا بدعة وكل بدعة ضلالة فلا تكون من الشرع لأن الشرع كله هدى فإن ثبت أن الحكم المذكور بدعة صحت المقدمتان وأنتجتا المطلوب] (4)
وقال الشوكاني: [وهذا الحديث من قواعد الدين؛ لأنه يندرج تحته من الأحكام ما لا يأتي عليه الحصر وما أصرحه وأدله على إبطال ما فعله الفقهاء من تقسيم
--------------------------------------------
এবং চতুর্থত: বিদআতের ধারণাটি নিজেই এ বিষয়টি দাবি করে; কারণ এটি হলো বিধানদাতার বিরুদ্ধাচরণ এবং শরীয়ত বর্জনের শামিল। আর যা কিছু এই পর্যায়ের, তাকে উত্তম এবং মন্দ—এই দুই ভাগে বিভক্ত করা অসম্ভব, এবং তার মধ্য থেকে কোনোটি প্রশংসনীয় আর কোনোটি নিন্দনীয় হওয়াও অসম্ভব। কেননা বিবেক বা বর্ণিত কোনো দলিলেই বিধানদাতার বিরোধিতা করাকে উত্তম মনে করা শুদ্ধ হতে পারে না
… ) (১)।
ইবনে রজব আল-হাম্বলী বলেছেন: [রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: (প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা) তা হলো 'জাওয়ামিউল কালিম' বা সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণীর অন্তর্ভুক্ত, যা থেকে কোনো কিছুই বাদ পড়ে না এবং এটি দ্বীনের মূলনীতিসমূহের মধ্যে এক মহান মূলনীতি। এটি তাঁর এই বাণীর সদৃশ: (যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনি বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য)। সুতরাং যে ব্যক্তিই নতুন কিছু উদ্ভাবন করল এবং তাকে দ্বীনের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করল অথচ দ্বীনের মধ্যে এমন কোনো মূলভিত্তি নেই যার দিকে তাকে ফিরিয়ে নেওয়া যায়, তবে সেটিই ভ্রষ্টতা এবং দ্বীন তা থেকে মুক্ত। এক্ষেত্রে আকিদাগত বিষয়সমূহ, আমলসমূহ কিংবা বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ কথাসমূহ—সবই সমান। আর সালাফদের বাণীতে কিছু বিদআতকে ভালো বলা হয়েছে, তা কেবল ভাষাগত বিদআতের ক্ষেত্রে, শরীয়তগত বিদআতের ক্ষেত্রে নয়] (২)।
তিনি আরও বলেছেন—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত) হাদীস: (যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনি বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য)—এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন: [এই হাদীসটি ইসলামের মূলনীতিসমূহের মধ্যে এক মহান মূলনীতি। যেমন 'নিয়ত অনুযায়ী আমল' সংক্রান্ত হাদীসটি হলো আমলের অভ্যন্তরীণ দিকের মাপকাঠি, তদ্রূপ এই হাদীসটি হলো আমলের বাহ্যিক দিকের মাপকাঠি।
সুতরাং যেমন প্রতিটি আমল যা দ্বারা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য করা হয় না, তাতে আমলকারীর জন্য কোনো সওয়াব নেই; ঠিক তেমনি প্রতিটি আমল যার ওপর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ নেই, তা আমলকারীর ওপর প্রত্যাখ্যাত। আর যে ব্যক্তি দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু উদ্ভাবন করল যার অনুমতি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল দেননি, তা দ্বীনের কোনো অংশই নয়] (৩)।
হাফেজ ইবনে হাজার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: (প্রত্যেক নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা)-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: [এটি এর ভাষ্যগত প্রকাশ ও অন্তর্নিহিত অর্থ উভয় দিক থেকেই একটি সামগ্রিক শরীয়তগত মূলনীতি। এর ভাষ্যগত প্রকাশ হলো এমন, যেন বলা হচ্ছে: অমুক বিধানটি বিদআত, আর প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা; সুতরাং সেটি শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত হবে না। কারণ পুরো শরীয়তই হলো হেদায়েত। ফলে যদি প্রমাণিত হয় যে উল্লিখিত বিধানটি বিদআত, তবে এই দুটি প্রস্তাবনা সঠিক সাব্যস্ত হবে এবং তা থেকে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বেরিয়ে আসবে] (৪)।
শাওকানী বলেছেন: [এই হাদীসটি দ্বীনের মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কারণ এর অধীনে এমন অসংখ্য আহকাম বা বিধান অন্তর্ভুক্ত হয় যা গণনা করা সম্ভব নয়। ফকীহগণ বিদআতের যে বিভাজন করেছেন, তা বাতিল করার ক্ষেত্রে এটি কতই না সুস্পষ্ট ও জোরালো দলিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
البدع إلى أقسام وتخصيص الرد ببعضها بلا مخصص من عقل ولا نقل فعليك إذا سمعت من يقول هذه بدعة حسنة بالقيام في مقام المنع مسنداً له بهذه الكلية وما يشابهها من نحو قوله صلى الله عليه وسلم: (كل بدعة ضلالة) طالباً لدليل تخصيص تلك البدعة التي وقع النزاع في شأنها بعد الاتفاق على أنها بدعة فإن جاءك به قبلته وإن كاع (1) كنت قد ألقمته حجراً واسترحت من المجادلة] (2).
المبحث الثاني: البدعة التركية:توطئة:
أولاً: هل الترك فعل؟
قال الأشقر: [يرى كثير من الأصوليين أن الكفّ فعل من الأفعال، وهو عندهم فعل نفسي (3).
ونُسِب إلى قوم منهم أبو هاشم الجبائي أن الكف انتفاء محضّ (4)، فليس بفعل (5).
والأول أولى، كما هم معلوم بالوجدان.
وأيضاً نجد في الكتاب والسنة إشارات إلى أن الكف فعل
… ] (6).
قال الشاطبي: [فإذاً قوله في الحد: ((طريقة مخترعة تضاهي الشرعية)) يشمل البدعة التركية، كما يشمل غيرها؛ لأن الطريقة الشرعية أيضاً تنقسم إلى ترك وغيره. وسواءٌ علينا قلنا: إن الترك فعل أم قلنا: إنه نفي الفعل - الطريقتين
المذكورتين في أصول الفقه] (7).
--------------------------------------------
বিদআতসমূহকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা এবং কোনো যৌক্তিক বা উদ্ধৃতিমূলক (নকলি) প্রমাণ ছাড়াই সেগুলোর কোনো কোনোটিকে প্রত্যাখ্যানের জন্য নির্দিষ্ট করা প্রসঙ্গে: যখনই আপনি কাউকে বলতে শুনবেন যে 'এটি একটি উত্তম বিদআত', তখন আপনার উচিত এই সাধারণ মূলনীতি এবং এর সমজাতীয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা)-এর ওপর ভিত্তি করে তাকে বাধা দেওয়া। সেই সাথে যে বিষয়টি বিদআত হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য হওয়ার পর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, সেই নির্দিষ্ট বিদআতটির স্বপক্ষে বিশেষ প্রমাণের দাবি করা। যদি সে প্রমাণ নিয়ে আসতে পারে তবে তা গ্রহণ করুন, আর যদি সে অপারগ হয় (১) তবে আপনি তাকে উপযুক্ত জবাব দিলেন এবং বিতর্ক থেকে মুক্তি পেলেন] (২)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বর্জনমূলক বিদআত:ভূমিকা:
প্রথমত: কোনো কিছু বর্জন করা কি কোনো কাজ হিসেবে গণ্য?
আল-আশকার বলেছেন: [অনেক উসুলবিদ মনে করেন যে, বিরত থাকা (কাফ) একটি কাজ, আর এটি তাদের নিকট একটি মনস্তাত্ত্বিক কাজ (৩)।
আবু হাশিম আল-জুব্বায়ীসহ একদল আলিমের দিকে এটি নিসবত করা হয়েছে যে, বিরত থাকা হলো নিছক অনস্তিত্ব (৪), সুতরাং এটি কোনো কাজ নয় (৫)।
প্রথম মতটিই অধিকতর সঠিক, যেমনটি বাস্তব উপলব্ধি দ্বারা সুপরিচিত।
এছাড়াও আমরা কুরআন ও সুন্নাহতে এমন সব ইঙ্গিত পাই যে, বিরত থাকাও একটি কাজ
… ] (৬)।
আল-শাতিবি বলেছেন: [অতএব, বিদআতের সংজ্ঞায় তাঁর এই কথা: ((একটি উদ্ভাবিত পদ্ধতি যা শরয়ি পদ্ধতির সদৃশ)) বর্জনমূলক বিদআতকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি এটি অন্যান্য বিদআতকে অন্তর্ভুক্ত করে; কারণ শরয়ি পদ্ধতিও বর্জন ও বর্জনহীনতায় বিভক্ত। আমাদের নিকট এটি সমান যে আমরা বর্জনকে কাজ বলি অথবা কাজের অভাব বলি - উসুলে ফিকহে
উল্লিখিত উক্ত দুই পদ্ধতি অনুযায়ীই এটি (৭)।]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وذكر الشيخ الدردير أن من موجبات الردة إلقاء مصحف بقذر، ومثل ذلك تركه به، أي عدم رفعه إن وجده؛ لأن الدوام كالابتداء.
قال الشنقيطي عند قوله تعالى: {وَقَالَ الرَّسُولُ يارَبِّ إِنَّ قَوْمِى اتَّخَذُوا هَاذَا الْقُرْءاَنَ مَهْجُوراً}: [اعلم أن السبكي قال إنه استنبط من هذه الآية الكريمة من سورة «الفرقان» مسألة أصولية، وهي أن الكف عن الفعل فعل. والمراد بالكف الترك، قال في طبقاته: لقد وقفت على ثلاثة أدلّة تدلّ على أن الكفّ فعل لم أرَ أحدًا عثر عليها.
أحدها: قوله تعالى: {وَقَالَ الرَّسُولُ يارَبّ إِنَّ قَوْمِى اتَّخَذُوا هَاذَا الْقُرْءاَنَ مَهْجُوراً}، فإن الأخذ التناول والمهجور المتروك، فصار المعنى تناولوه متروكًا، أي: فعلوا تركه، انتهى محل الغرض منه بواسطة نقل صاحب «نشر البنود، شرح مراقي السعود»، في الكلام على قوله: فكفّنا بالنهي مطلوب النبيّ. قال مقيّده - عفا اللَّه عنه وغفر له -: استنباط السبكي من هذه الآية أن الكفّ فعل وتفسيره لها بما يدلّ على ذلك، لم يظهر لي كل الظهور، ولكن هذا المعنى الذي زعم أن هذه الآية الكريمة دلّت عليه، وهو كون الكفّ فعلاً دلّت عليه آيتان كريمتان من سورة «المائدة»، دلالة واضحة لا لبس فيها، ولا نزاع. فعلى تقدير صحة ما فهمه السبكي من آية «الفرقان» هذه، فإنه قد بيّنته بإيضاح الآيتان المذكورتان من سورة «المائدة». أمّا الأولى منهما، فهي قوله تعالى: {لَوْلَا يَنْهَاهُمُ الرَّبَّانِيُّونَ وَالاْحْبَارُ عَن قَوْلِهِمُ الإثْمَ وَأَكْلِهِمُ السُّحْتَ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَصْنَعُونَ}، فترك الربانيين والأحبار نهيهم عن قول الإثم وأكل السحت سمّاه اللَّه جلَّ وعلا في هذه الآية الكريمة صنعًا في قوله: {لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَصْنَعُونَ}، أي: وهو تركهم النهي المذكور، والصنع أخصّ من مطلق الفعل، فصراحة دلالة هذه الآية الكريمة على أن الترك فعل في غاية الوضوح؛ كما ترى.
وأمّا الآية الثانية، فهي قوله تعالى: {كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَن مُّنكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ}، فقد سمّى جلَّ وعلا في هذه الآية الكريمة تركهم التناهي عن المنكر فعلاً، وأنشأ له الذم بلفظة بئس التي هي فعل جامد لإنشاء الذمّ في قوله: {
শায়খ আদ-দারদীর উল্লেখ করেছেন যে, অপবিত্র স্থানে মুসহাফ (কুরআনের পাণ্ডুলিপি) নিক্ষেপ করা ধর্মত্যাগের অন্যতম কারণ। অনুরূপভাবে একে অপবিত্র স্থানে ফেলে রাখাও একই পর্যায়ভুক্ত, অর্থাৎ সেটি দেখতে পাওয়ার পর তুলে না নেওয়া; কারণ কোনো অবস্থায় টিকে থাকা শুরুতে করার মতোই।
মহান আল্লাহর বাণী: "আর রাসূল বললেন: হে আমার রব, নিশ্চয় আমার জাতি এই কুরআনকে পরিত্যাজ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে" - এর ব্যাখ্যায় আশ-শানকিতী বলেন: [জেনে রাখুন যে, আস-সুবকী বলেছেন তিনি সূরা আল-ফুরকানের এই বরকতময় আয়াত থেকে একটি উসূলী মাসআলা উদ্ভাবন করেছেন, আর তা হলো কোনো কাজ থেকে বিরত থাকাও একটি কাজ। এখানে বিরত থাকা বলতে বর্জন করাকে বোঝানো হয়েছে। তিনি তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে বলেছেন: আমি এমন তিনটি দলিল খুঁজে পেয়েছি যা প্রমাণ করে যে বিরত থাকা একটি কাজ, যা আমি আর কাউকে খুঁজে পেতে দেখিনি।
এর মধ্যে একটি হলো: মহান আল্লাহর বাণী: "আর রাসূল বললেন: হে আমার রব, নিশ্চয় আমার জাতি এই কুরআনকে পরিত্যাজ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে।" এখানে 'গ্রহণ করা' বলতে কোনো কিছু আয়ত্ত করা এবং 'পরিত্যাজ্য' বলতে বর্জন করাকে বোঝায়; ফলে অর্থটি দাঁড়ায় যে তারা একে বর্জন করার মাধ্যমে গ্রহণ করেছে, অর্থাৎ: তারা একে বর্জন করার কাজ করেছে। 'নাশ্রুল বুনুদ শারহু মারাকিস সউদ'-এর লেখকের উদ্ধৃতিতে 'নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আমাদের বিরত থাকাই নবীর কাম্য' - এই কথার আলোচনার ক্ষেত্রে উদ্দিষ্ট বিষয়টি এখানে শেষ হলো। এর সংকলক -আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন ও মাফ করুন- বলেন: আস-সুবকীর এই আয়াত থেকে 'বিরত থাকা একটি কাজ' - এই সারসংক্ষেপ এবং এর সপক্ষে তাঁর ব্যাখ্যাটি আমার কাছে পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। তবে তিনি যে অর্থের দাবি করেছেন যে এই বরকতময় আয়াতটি তার ইঙ্গিত দেয়, অর্থাৎ বিরত থাকা একটি কাজ হওয়া, তা সূরা আল-মায়িদার দুটি বরকতময় আয়াতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে কোনো অস্পষ্টতা বা বিতর্ক নেই। সুতরাং সূরা আল-ফুরকানের এই আয়াত থেকে সুবকী যা বুঝেছেন তা যদি সঠিক ধরে নেওয়া হয়, তবে সূরা আল-মায়িদার উল্লিখিত আয়াত দুটি তা আরও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। তার মধ্যে প্রথমটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: "পীর-মাশায়েখ ও আলেমগণ কেন তাদেরকে পাপের কথা বলতে এবং অবৈধ ভক্ষণ করতে নিষেধ করে না? তারা যা করছে তা কতই না মন্দ!" এখানে রব্বানী ও আহবারদের (ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও পণ্ডিতদের) পাপের কথা বলা এবং অবৈধ ভক্ষণ থেকে নিষেধ করা বর্জন করাকে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা এই আয়াতে 'নির্মাণ বা করা' (সুনউ) হিসেবে অভিহিত করেছেন তাঁর এই বাণীতে: "তারা যা করছে তা কতই না মন্দ"। অর্থাৎ এখানে তাদের উক্ত নিষেধ বর্জন করাকেই বোঝানো হয়েছে। আর 'সুনউ' শব্দটি সাধারণ কাজের চেয়ে আরও সুনির্দিষ্ট কাজ বুঝায়। সুতরাং এই বরকতময় আয়াতটি যে বর্জন করা একটি কাজ - তা প্রমাণে অত্যন্ত স্পষ্ট; যেমনটি আপনি দেখতে পাচ্ছেন।
আর দ্বিতীয় আয়াতটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: "তারা একে অপরকে মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করত না যা তারা করত। তারা যা করত তা কতই না মন্দ!" আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা এই বরকতময় আয়াতে তাদের মন্দ কাজ থেকে নিষেধ না করাকে একটি কাজ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং 'বি'সা' শব্দের মাধ্যমে এর নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন, যা নিন্দা প্রকাশের জন্য একটি অপরিবর্তনীয় ক্রিয়া। যা তাঁর এই বাণীতে রয়েছে: {
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ}، أي: وهو تركهم التناهي، عن كل منكر فعلوه، وصراحة دلالة هذه الآية أيضًا على ما ذكر واضحة، كما ترى.
وقد دلَّت أحاديث نبويّة على ذلك؛ كقوله صلى الله عليه وسلم: «المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده»، فقد سمّى صلى الله عليه وسلم في هذا الحديث ترك أذى المسلمين إسلامًا، ومما يدلّ من كلام العرب على أن الترك فعل قول بعض الصحابة في وقت بنائه صلى الله عليه وسلم لمسجده بالمدينة:
لئن قعدنا والنبيّ يعمل
… لذاك منّا العمل المضلل
فسمّى قعودهم عن العمل، وتركهم له عملاً مضللاً .... والصحيح أن الكفّ فعل، كما دلّ عليه الكتاب والسنّة واللغة؛ كما تقدّم إيضاحه] (1).
ثانياً: ذكر أقسام وأسباب الترك، والقاعدة التي يسير عليها الباب:
أقسام الترك:
قال الأشقر تحت عنوان: أقسام الترك، ما ملخصه: [الأول: الترك لداعي الجبلة البشرية. وهذا لا يدل في حقنا على تحريم ولا كراهة. ومثاله ترك النبي صلى الله عليه وسلم أكل لحم الضب، وقال: (إنه لم يكن بأرض قومي فأجدني أعافه).
الثاني: الترك الذي قام دليل اختصاصه به صلى الله عليه وسلم، وهو تركه لما حرم عليه خاصة كتركه أكل الصدقة. وقد قال أبو شامة في الأفعال إنه يقتدي بالخصائص النبوية الواجبة، على سبيل الاستحباب.
فقياس قوله هنا أنه ينبغي أن يستفاد لحقنا كراهة ما خُصَّ النبي صلى الله عليه وسلم بتحريمه، فيكون أكل الصدقة مثلاً مكروهاً لنا.
الثالث: الترك بياناً أو امتثالاً لمجمل معلوم الحكم، عام لنا وله، فيستفاد حكم الترك من الدليل المبين والممتثل. ومثاله: تركه صلى الله عليه وسلم الإحلال من العمرة مع صحابته، وقال: (إني لبدت رأسي وقلدت هديي، فلا أحل حتى أنحر)، ومن الترك الامتثالي تركه صلى الله عليه وسلم الصلاة على المنافقين لما نزل قوله تعالى: {وَلا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَداً}.
--------------------------------------------
{তারা যা করত তা কতই না মন্দ}, অর্থাৎ: তাদের প্রতিটি অন্যায় কাজ বর্জন না করা। এই আয়াতটিও যা উল্লেখ করা হয়েছে তার ওপর সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে, যেমনটি আপনি দেখতে পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে নববী হাদিসসমূহ প্রমাণ প্রদান করেছে; যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই হাদিসে মুসলিমদের কষ্ট দেওয়া বর্জন করাকে 'ইসলাম' হিসেবে নামকরণ করেছেন। বর্জন করাও যে একটি কাজ (আমল), তার স্বপক্ষে আরবদের কথা থেকে যা প্রমাণ দেয় তা হলো মদিনায় মসজিদে নববী নির্মাণের সময় কিছু সাহাবীর উক্তি:
নবী কাজ করছেন আর আমরা যদি বসে থাকি
… তবে আমাদের পক্ষ থেকে তা হবে বিভ্রান্তিকর কাজ
এখানে তাদের কাজ থেকে বিরত থাকা এবং বর্জন করাকে 'বিভ্রান্তিকর কাজ' হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে .... আর সঠিক মত হলো যে, বিরত থাকাও একটি কাজ, যেমনটি কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ এবং ভাষা দ্বারা প্রমাণিত; যা ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে] (১)।
দ্বিতীয়ত: বর্জনের প্রকারভেদ ও কারণসমূহ উল্লেখ, এবং এই অধ্যায়ের মূলনীতিসমূহ:
বর্জনের প্রকারভেদ:
আল-আশকার 'বর্জনের প্রকারভেদ' শিরোনামের অধীনে যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো: [প্রথম: মানবীয় স্বভাবজাত কারণে বর্জন করা। এটি আমাদের ক্ষেত্রে হারাম বা মাকরুহ হওয়ার প্রমাণ দেয় না। এর উদাহরণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক গুইসাপের গোশত খাওয়া বর্জন করা, এবং তিনি বলেছিলেন: (নিশ্চয়ই এটি আমার কওমের ভূমিতে ছিল না, তাই আমি নিজেকে এটি অপছন্দ করতে দেখছি)।
দ্বিতীয়: এমন বর্জন যার দলিল এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নির্দিষ্ট হওয়া প্রমাণ করে। আর তা হলো যা বিশেষভাবে তাঁর ওপর হারাম করা হয়েছিল তা বর্জন করা, যেমন তাঁর সদকা খাওয়া বর্জন করা। আবু শামাহ 'আল-আফ'আল' গ্রন্থে বলেছেন যে, নববী বৈশিষ্ট্যের মধ্যে যা তাঁর জন্য ওয়াজিব ছিল, তা মুস্তাহাব হিসেবে অনুসরণ করা যায়।
তাঁর এই কথার কিয়াস অনুযায়ী এখানে আমাদের জন্য এমন বিষয় বর্জন করা মাকরুহ হওয়া উচিত যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য হারাম করা হয়েছিল। ফলে সদকা খাওয়া আমাদের জন্য উদাহরণস্বরূপ মাকরুহ হবে।
তৃতীয়: কোনো অস্পষ্ট হুকুমের বর্ণনা হিসেবে অথবা আদেশ পালনার্থে বর্জন করা, যা তাঁর এবং আমাদের উভয়ের জন্য সাধারণ বিধান। ফলে বর্জনের বিধানটি বর্ণনাকারী ও পালনকারী দলিল থেকে গ্রহণ করা হবে। এর উদাহরণ: তাঁর সাহাবীদের সাথে উমরা থেকে ইহরাম না খোলা, এবং তিনি বলেছিলেন: (নিশ্চয়ই আমি আমার চুল জমাট করেছি এবং কুরবানির পশুকে চিহ্নযুক্ত করেছি, সুতরাং আমি কুরবানি না করা পর্যন্ত ইহরাম খুলব না)। আর আদেশ পালনমূলক বর্জনের উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হওয়ার পর মুনাফিকদের ওপর জানাজার সালাত আদায় বর্জন করা: {তাদের মধ্যে কেউ মারা গেলে আপনি কখনও তাদের কারো ওপর সালাত আদায় করবেন না}।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الرابع: الترك المجرد، وهو الذي ليس من الأقسام السابقة، وهو نوعان:
الأول: ما علم حكمه في حقه بقوله صلى الله عليه وسلم، أو باستنباط. والثاني: ما لم يعلم حكمه.
فأما ما علمنا حكمه في حقه بدليل، فينبغي أن يكون حكمنا فيه كحكمه. أخذاً من قاعدة المساواة في الأحكام.
وأما ما لم نعلم حكمه في حقه صلى الله عليه وسلم، فما ظهر فيه أنه تركه تعبداً وتقرباً نحمله على الكراهة في حقه، ثم يكون الحكم في حقنا كذلك أخذا من قاعدة المساواة، كتركه ردّ السلام على غير طهارة حتى تيمم (1).
وما لم يظهر فيه ذلك، نحمله على أنه من ترك المباح، كتركه السير في ناحية من الطريق، أو الجلوس في جهة من المسجد.
فعلى ما تقدم ذكره لا فرق بين الفعل والترك في التأسي فيهما، وقد صرح الشوكاني بذلك فقال: " تركه للشيء كفعله له في التأسي به فيه " (2).
وقال ابن السمعاني: " إذا ترك صلى الله عليه وسلم شيئاً وجب علينا متابعته فيه " (3)، ومقصوده بالمتابعة المساواة في حكم الترك، كما تقرر عندنا أن ذلك مراده بهذه العبارة في بحث الأفعال. وليس مقصوده أنه يجب علينا أن نترك ما ترك في جميع الأحوال. فظاهر كلامهم التسوية بين الفعل والترك في مراتب التأسي] (4).
أسباب الترك:
قال الأشقر: [إن ما تركه صلى الله عليه وسلم مما كان مظنة أن يفعله كثيراً ما كان يتركه لسبب قائم لولاه لفعله. وترجع تلك الأسباب إلى أنواع منها:
--------------------------------------------
চতুর্থ: নিছক পরিত্যাগ (তারক মুজাররাদ), যা পূর্ববর্তী প্রকারগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়, এবং এটি দুই প্রকার:
প্রথম: যার বিধান বা হুকুম তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ক্ষেত্রে তাঁর বাণীর মাধ্যমে অথবা ইস্তিম্বাত বা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জানা গেছে। দ্বিতীয়: যার হুকুম জানা যায়নি।
আর যার হুকুম তাঁর ক্ষেত্রে আমরা দলিলের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, সে বিষয়ে আমাদের হুকুম তাঁর হুকুমের অনুরূপ হওয়া উচিত। এটি বিধানের ক্ষেত্রে সমতার মূলনীতি (কায়েদাতুল মুসাওয়াত) থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।
আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ক্ষেত্রে যার হুকুম আমরা জানতে পারিনি, সে ক্ষেত্রে যদি এটি প্রকাশ পায় যে তিনি ইবাদত হিসেবে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে তা পরিত্যাগ করেছেন, তবে তাঁর ক্ষেত্রে আমরা সেটিকে অপছন্দীয় (কারাহাত) হিসেবে গণ্য করব। অতঃপর সমতার মূলনীতি অনুযায়ী আমাদের ক্ষেত্রেও বিধানটি অনুরূপ হবে, যেমন পবিত্রতা ব্যতীত সালামের উত্তর প্রদান তাঁর বর্জন করা, যতক্ষণ না তিনি তায়াম্মুম করেছেন (১)।
আর যাতে এমনটি প্রকাশ পায় না, সেটিকে আমরা মুবাহ বা বৈধ কাজ বর্জন হিসেবে গণ্য করব, যেমন রাস্তার কোনো এক পাশ দিয়ে চলা বর্জন করা অথবা মসজিদের কোনো এক দিকে বসা বর্জন করা।
সুতরাং পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে, অনুসরণের (তাআসি) ক্ষেত্রে কাজ এবং বর্জনের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আল-শাওকানি এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং বলেছেন: "কোনো বিষয় তাঁর বর্জন করা সেটি অনুসরণের ক্ষেত্রে তাঁর সেই কাজটি করার মতোই" (২)।
ইবনে আল-সামআনি বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো কিছু বর্জন করেছেন, তখন সেই বর্জনে তাঁর অনুসরণ করা আমাদের জন্য ওয়াজিব" (৩)। আর তাঁর অনুসরণ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বর্জনের বিধানের ক্ষেত্রে সমতা, যেমনটি আমাদের নিকট সাব্যস্ত হয়েছে যে কার্যাবলি সংক্রান্ত আলোচনায় এই বাক্যটি দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য এটাই। তাঁর উদ্দেশ্য এটি নয় যে, তিনি যা বর্জন করেছেন সব অবস্থাতেই আমাদের তা বর্জন করা ওয়াজিব। সুতরাং তাঁদের কথার প্রকাশ্য অর্থ হলো অনুসরণের স্তরসমূহে কাজ ও বর্জনের মধ্যে সমতা বিধান করা (৪)।
বর্জনের কারণসমূহ:
আল-আশকার বলেছেন: [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বর্জন করেছেন, যে বিষয়ে তাঁর তা করার জোরালো সম্ভাবনা ছিল, তিনি তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো বিদ্যমান কারণবশত বর্জন করতেন; যদি সেই কারণটি না থাকত তবে তিনি অবশ্যই তা করতেন। সেই কারণগুলো বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে, যার মধ্যে রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
النوع الأول: ترك الفعل المستحب خشية أن يفرض على الأمة
… ومنه أنه صلى الله عليه وسلم ترك قيام رمضان جماعة، بعد أن قام به ليلتين أو ثلاثاً. ثم قال لهم: " إنه لم يخْفَ على َّ مكانكم، ولكن خشيت أن تفرض عليكم " (1).
ولذلك لما زالت هذه الخشية بوفاته صلى الله عليه وسلم وانقطاع الوحي (2)،أعاد الصحابة – رضي الله عنهم – فعلها في المسجد في زمن عمر بن الخطاب– رضي الله عنه.
النوع الثاني: ترك العمل المستحب خشية أن يظن البعض أنه واجب. وترك المباح لئلا يظنوا أنه مستحب أو واجب.
وهذا نوع مشابه للنوع الأول وليس منه.
ومنه أنه صلى الله عليه وسلم كان يتوضأ لكل صلاة، استحباباً، وقد ترك ذلك يوم فتح مكة، فصلّى الصلوات كلّها بوضوء واحد، فقال عمر:"يا رسول الله فعلت اليوم شيئاً لم تكن تفعله"، فقال:"عمداً فعلته يا عمر " (3)
…ويسن الاقتداء به صلى الله عليه وسلم في هذا النوع من الترك ممن يقتدى به إذا ظن توهم بعض الحاضرين شيئا من ذلك
…النوع الثالث: الترك لأجل المشقة التي تلحق الأمة في الاقتداء بالفعل، ولو استحباباً: ومنه ترك الرمل في الأشواط الأربعة الأخيرة من الطواف
… ومن هذا النوع عند بعض الفقهاء، ترك النبي صلى الله عليه وسلم أن يحرم للحج من بيته بالمدينة، حتى أحرم من الميقات. فلا يدل على أن الإحرام من الميقات أفضل، فهو أقل عملاً
… والراجح أنه إنما ترك الإحرام من المنزل خشية المشقة (4)
…--------------------------------------------
প্রথম প্রকার: উম্মতের ওপর তা ফরয হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মুস্তাহাব আমল বর্জন করা
… এর একটি উদাহরণ হলো—তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুই বা তিন রাত জামাতে কিয়ামে রমযান (তারাবীহ) আদায়ের পর তা বর্জন করেছিলেন। অতপর তিনি তাঁদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: "তোমাদের অবস্থান আমার কাছে গোপন ছিল না, কিন্তু আমি আশঙ্কা করেছি যে, এটি তোমাদের ওপর ফরয করে দেওয়া হতে পারে" (১)।
এ কারণেই তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকালের মাধ্যমে যখন এই আশঙ্কা দূর হয়ে গেল এবং ওহী বন্ধ হয়ে গেল (২), তখন সাহাবীগণ—রাযিয়াল্লাহু আনহুম—উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে পুনরায় মসজিদে জামাতে তা আদায় করা শুরু করেন।
দ্বিতীয় প্রকার: কোনো আমল ওয়াজিব বলে মনে হতে পারে—এই আশঙ্কায় মুস্তাহাব আমল বর্জন করা। এবং মুবাহ কাজ বর্জন করা যাতে লোকেরা সেটিকে মুস্তাহাব বা ওয়াজিব মনে না করে।
এটি প্রথম প্রকারের সদৃশ একটি প্রকার, তবে সরাসরি তা নয়।
এর উদাহরণ হলো—তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুস্তাহাব হিসেবে প্রতি সালাতের জন্য ওযু করতেন, কিন্তু মক্কা বিজয়ের দিন তিনি তা বর্জন করেন এবং এক ওযুতেই সব সালাত আদায় করেন। তখন উমর (রা.) বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আজ আপনি এমন কিছু করলেন যা আগে কখনো করতেন না"। তিনি বললেন: "হে উমর! আমি ইচ্ছাকৃতভাবেই তা করেছি" (৩)
…উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে এ সংক্রান্ত কোনো ভুল ধারণা জন্মানোর সম্ভাবনা থাকলে, যাদের অনুসরণ করা হয় এমন ব্যক্তিদের জন্য বর্জনের এই ক্ষেত্রেও তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুসরণ করা সুন্নাত
…তৃতীয় প্রকার: অনুসরণের ক্ষেত্রে উম্মতের ওপর যে কষ্ট হতে পারে তার জন্য বর্জন করা, যদিও তা মুস্তাহাব আমল হয়: এর একটি উদাহরণ হলো তাওয়াফের শেষ চার চক্করে 'রামাল' (দ্রুত চলা) বর্জন করা
… কোনো কোনো ফকীহর মতে এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনার নিজ ঘর থেকে হজ্জের ইহরাম না বেঁধে মীকাত পর্যন্ত অপেক্ষা করা। এটি প্রমাণ করে না যে মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধা উত্তম, কারণ তাতে আমল কম হয়
… বরং সঠিক মত হলো তিনি কষ্টের আশঙ্কায় ঘর থেকে ইহরাম বাঁধা বর্জন করেছিলেন (৪)
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতুশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
النوع الرابع: ترك المطلوب خشية من حصول مفسدة أعظم من بقائه، وهذا من السياسة الشرعية المقررة، ومثاله ما قاله صلى الله عليه وسلم لعائشة: " يا عائشة لولا قومك حديث عهدهم بكفر لنقضت الكعبة
فجعلت لها بابين باب يدخل منه الناس وباب يخرجون " (1)
… ومثال آخر: تركه صلى الله عليه وسلم قتل المنافقين مع عظم فسادهم، وقولهم كلمة الكفر، وإرجافهم، خشية أن يقول الناس إن محمداً يقتل أصحابه، إذ هم في الظاهر مؤمنون، فيكون صادّاً للناس عن الدخول في الإسلام.
النوع الخامس: الترك على سبيل العقوبة، كترك الصلاة على المَدِين
…النوع السادس: الترك لمانع شرعي: ومثاله قصة نومه صلى الله عليه وسلم ومن معه عن صلاة الفجر، فما استيقظوا إلا بعد طلوع الشمس (2)
… ] (3).
--------------------------------------------
চতুর্থ প্রকার: কোনো কাম্য বিষয় বর্জন করা এই ভয়ে যে, সেটি অবশিষ্ট থাকার চেয়ে বড় কোনো বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। এটি প্রতিষ্ঠিত শরয়ী রাজনীতির (সিয়াসা শারইয়্যাহ) অন্তর্ভুক্ত। এর উদাহরণ হলো যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলেছিলেন: "হে আয়েশা, তোমার কওম যদি কুফরী থেকে সদ্য মুক্ত না হতো, তবে আমি কাবা ভেঙে ফেলতাম
এবং এতে দুটি দরজা রাখতাম, একটি দিয়ে মানুষ প্রবেশ করত এবং অন্যটি দিয়ে বের হতো" (১)
… অন্য একটি উদাহরণ: মুনাফিকদের বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি, কুফরী কথা বলা এবং গুজব ছড়ানো সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাদের হত্যা না করা; এই ভয়ে যে পাছে লোকে বলে মুহাম্মদ তার সঙ্গীদের হত্যা করে, যেহেতু তারা বাহ্যত মুমিন ছিল। ফলে এটি মানুষকে ইসলামে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াত।
পঞ্চম প্রকার: শাস্তিস্বরূপ বর্জন করা, যেমন ঋণী ব্যক্তির জানাজা পড়া বর্জন করা
…ষষ্ঠ প্রকার: শরয়ী বাধার কারণে বর্জন করা: এর উদাহরণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সঙ্গীদের ফজরের সালাত থেকে ঘুমিয়ে পড়ার ঘটনা, ফলে সূর্য ওঠার আগে তাঁদের ঘুম ভাঙেনি (২)
… ] (৩)।
--------------------------------------------