(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
تحرير الأحكام في تدبير أهل الإسلام القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: تحرير الأحكام في تدبير أهل الإسلام
المؤلف: أبو عبد الله، محمد بن إبراهيم بن سعد الله بن جماعة الكناني الحموي الشافعي، بدر الدين (ت 733هـ)
المحقق: قدم له: الشيخ عبد الله بن زيد آل محمود، تحقيق ودراسة وتعليق: د. فؤاد عبد المنعم أحمد
الناشر: دار الثقافة بتفويض من رئاسة المحاكم الشرعية بقطر - قطر/ الدوحة
الطبعة: الثالثة، 1408هـ -1988م
عدد الصفحات: 263
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তাহরিরুল আহকাম ফি তদবিরি আহলিল ইসলাম বিভাগ: শরয়ি রাজনীতি ও বিচার ব্যবস্থা
গ্রন্থ: তাহরিরুল আহকাম ফি তদবিরি আহলিল ইসলাম
লেখক: আবু আবদুল্লাহ، মুহাম্মদ ইবন ইবরাহিম ইবন সাদুল্লাহ ইবন জামাআহ আল-কিনানি আল-হামাউই আশ-শাফিয়ি، বদর উদ্দিন (মৃ. ৭৩৩ হিজরি)
সম্পাদক: উপস্থাপনায়: শায়খ আবদুল্লাহ ইবন জাইদ আল মাহমুদ، সম্পাদনা, গবেষণা ও টীকা: ড. ফুয়াদ আব্দুল মুনইম আহমদ
প্রকাশক: দারুস সাকাফাহ, কাতারের শরয়ি আদালতসমূহের প্রধান কার্যালয় কর্তৃক অনুমোদিত - কাতার/ দোহা
সংস্করণ: তৃতীয়، ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬৩
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
(بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم) 1 - (1 / أ) الْحَمد لله على نعمه الْبَاطِنَة وَالظَّاهِرَة، وآلائه الوافية الوافرة، وَصلى الله على سيدنَا مُحَمَّد الْمَبْعُوث بِالْآيَاتِ الباهرة وَالْأَحْكَام الزاهرة، صَلَاة وَسلَامًا دائمين بدوام الدُّنْيَا وَالْآخِرَة، وَبعد
… . .
فأحق من أهديت إِلَيْهِ أَنْوَاع الحكم والعلوم، وَوَجَبَت لَهُ النَّصِيحَة على الْخُصُوص والعموم: من ولاه الله أُمُور الْإِسْلَام، فنظم أَحْكَامه على أوفق مُرَاد، وَأحسن نظام، وسعى السَّعْي الْجَمِيل فِي مصَالح رَعيته، وشكر نعم الله تَعَالَى عَلَيْهِ فِي سَرِيرَته وعلانيته.
2 - وَهَذَا مُخْتَصر فِي جمل (1 / ب) من الْأَحْكَام السُّلْطَانِيَّة، ونبذ من الْقَوَاعِد الإسلامية، وَذكر أَمْوَال بَيت المَال وجهاته، وَمَا يَصح من عطائه وإقطاعاته، وَمَا يسْتَحقّهُ المرصدون للغزو وَالْجهَاد، وَذكر أكَابِر الْأُمَرَاء والأجناد، وآلات الْقِتَال من السِّلَاح والأعتاد، وَكَيْفِيَّة الْقِتَال، وَمن الْمُخَاطب من أَهله، وتفصيل أَمْوَال الْفَيْء والغنائم وأقسامها، وَمَا يخْتَص بهَا من تَفْصِيل أَحْكَامهَا، وَذكر هدنة الْمُشْركين، وَأَحْكَام أهل الذِّمَّة والمستأمنين.
(পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে) ১ - (১ / ক) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর গোপন ও প্রকাশ্য নিআমতসমূহ এবং তাঁর পূর্ণ ও প্রচুর অনুগ্রহরাজির জন্য। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি এবং উজ্জ্বল বিধানসহ প্রেরিত হয়েছেন; এমন দরুদ ও সালাম যা দুনিয়া ও আখিরাত বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। অতঃপর
… . .
সুতরাং প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা যার প্রতি উৎসর্গ করা সর্বাধিক উপযুক্ত এবং যার জন্য বিশেষ ও সাধারণ সর্বস্তরে কল্যাণকামনা (النصيحة) ওয়াজিব; তিনি হলেন ওই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ তাআলা ইসলামের বিষয়াবলির দায়িত্বভার প্রদান করেছেন। ফলে তিনি এর বিধানসমূহকে আল্লাহর অভিপ্রায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সর্বোত্তম পদ্ধতিতে সুশৃঙ্খল করেছেন, প্রজাসাধারণের কল্যাণে সর্বোত্তম প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে তাঁর প্রতি আল্লাহর নিআমতসমূহের শুকরিয়া আদায় করেছেন।
২ - এটি রাজকীয় বিধিবিধান (الأحكام السلطانية) সংক্রান্ত কতিপয় বিষয়ের এবং ইসলামি মূলনীতির (القواعد الإسلامية) কিছু অংশের একটি সংক্ষিপ্ত সার (১ / খ)। এতে বাইতুল মালের সম্পদ ও এর উৎসসমূহ, এর অনুদান ও ভূমি বরাদ্দের (إقطاعاته) বৈধতা এবং যারা যুদ্ধ ও জিহাদের (الجهاد) জন্য নিয়োজিত তাদের প্রাপ্য অধিকার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আরও উল্লেখ করা হয়েছে উচ্চপদস্থ সেনাপতি ও সৈন্যদের কথা, অস্ত্রশস্ত্র ও যুদ্ধের সরঞ্জামাদি, যুদ্ধের পদ্ধতি এবং এই দায়িত্ব পালনে সক্ষম সম্বোধিত ব্যক্তি কারা সেই আলোচনা। এছাড়া 'ফাই' (الفيء) ও গনিমতের (الغنائم) মালের বিবরণ ও তার প্রকারভেদ এবং এ সংক্রান্ত বিধিবিধানের বিস্তারিত ব্যাখ্যা, মুশরিকদের সাথে যুদ্ধবিরতি (هدنة) এবং জিম্মি (أهل الذمة) ও নিরাপত্তা প্রার্থনাকারীদের (المستأمنين) বিধানাবলি এখানে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
3 - واستندت فِيهِ إِلَى السّنَن والْآثَار، وأقوال عُلَمَاء الْأَمْصَار، فَهُوَ سهل المطالعة لتقرير فهمه، قريب الْمُرَاجَعَة لصِغَر حجمه، وقصدت فِيهِ غَايَة الِاخْتِصَار مَخَافَة الْملَل من الْإِكْثَار، والمرجو من الله تَعَالَى قبُول حسن مقاصده وَحُصُول النَّفْع بفوائده، إِنَّه أكْرم مسؤول (2 / أ) ، وَخير مأمول.
وَقد سميته بِمَا يشْعر بِمَعْنَاهُ، ويسفر عَن مُقْتَضَاهُ وَهُوَ " تَحْرِير الْأَحْكَام فِي تَدْبِير أهل الْإِسْلَام ".
ورتبته على أَبْوَاب تجمع مَقْصُود الْكتاب:
الْبَاب الأول: فِي وجوب الْإِمَامَة، وشروط الإِمَام وَأَحْكَامه.
الْبَاب الثَّانِي: فِيمَا للْإِمَام وَالسُّلْطَان وَمَا عَلَيْهِ مِمَّا هُوَ مفوض إِلَيْهِ.
الْبَاب الثَّالِث: فِي تَقْلِيد الوزراء وَمَا يحملونه من الأعباء.
الْبَاب الرَّابِع: فِي اتِّخَاذ الامراء عدَّة لجهاد الْأَعْدَاء.
الْبَاب الْخَامِس: فِي حفظ الأوضاع الشَّرْعِيَّة وقواعد مناصبها المرضية.
الْبَاب السَّادِس: (2 / ب) فِي اتِّخَاذ الأجناد والأعتاد لقيامهم بفريضة الْجِهَاد.
৩ - আর আমি এতে সুনান (سنن) ও আছার (آثار) এবং বিভিন্ন অঞ্চলের আলেমদের মতামতের ওপর নির্ভর করেছি। এটি এর বিষয়বস্তু অনুধাবনের জন্য পাঠে সহজ এবং ছোট আকারের কারণে দ্রুত পর্যালোচনার উপযোগী। অধিক বর্ণনার ফলে বিরক্তি আসার আশঙ্কায় আমি এতে চরম সংক্ষেপণের পথ অবলম্বন করেছি। মহান আল্লাহর কাছে এর উত্তম উদ্দেশ্যগুলোর কবুলিয়াত এবং এর উপকারিতা লাভের আশা রাখছি; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ প্রার্থিত (২ / ক) এবং সর্বোত্তম আশার স্থল।
আমি এর এমন নামকরণ করেছি যা এর অর্থের ইঙ্গিত দেয় এবং এর নিহিতার্থ প্রকাশ করে, আর তা হলো "তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরে আহলিল ইসলাম"।
আমি একে এমন কিছু পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি যা কিতাবটির মূল উদ্দেশ্যকে একত্রিত করে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমামত বা নেতৃত্বের আবশ্যকতা, ইমামের শর্তাবলি এবং তাঁর বিধানাবলি প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম ও সুলতানের প্রাপ্য অধিকার এবং তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্বসমূহ প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: উজির বা মন্ত্রীদের নিয়োগ এবং তাঁরা যে গুরুভার বহন করেন সে প্রসঙ্গে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদের প্রস্তুতি হিসেবে আমীর বা সেনাপতি নিয়োগ প্রসঙ্গে।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: শরয়ি বিধানাবলি এবং সেগুলোর সন্তোষজনক পদের মূলনীতিসমূহ সংরক্ষণ প্রসঙ্গে।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: (২ / খ) জিহাদের ফরজ বিধান পালনের উদ্দেশ্যে সৈন্যদল ও যুদ্ধ সরঞ্জাম প্রস্তুত করা প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
الْبَاب السَّابِع: فِي عَطاء السُّلْطَان وجهاته، وأنواع إقطاعاته.
الْبَاب الثَّامِن: فِي تَقْدِير عَطاء الأجناد وَمَا يسْتَحقّهُ أهل الْجِهَاد.
الْبَاب التَّاسِع: فِي اتِّخَاذ الْخَيل وَالسِّلَاح والأعتاد للقائمين بِفَرْض الْجِهَاد.
الْبَاب الْعَاشِر: فِي وضع الدِّيوَان، وأقسام ديوَان السُّلْطَان.
الْبَاب الْحَادِي عشر: فِي فضل الْجِهَاد ومقدماته، وَمن يتأهل لَهُ من حماته.
الْبَاب الثَّانِي عشر: فِي كَيْفيَّة الْجِهَاد والقتال وَالصَّبْر على مكافحة الْأَبْطَال.
(3 / أ) الْبَاب الثَّالِث عشر: فِي الْغَنِيمَة وأقسامها وتفاصيل أَحْكَامهَا.
الْبَاب الرَّابِع عشر: فِي قسْمَة الْغَنِيمَة ومستحقيها وَمَا يجب على الْحُكَّام فِيهَا.
الْبَاب الْخَامِس عشر: فِي الْهُدْنَة والأمان وَأَحْكَام الاستئمان.
الْبَاب السَّادِس عشر: فِي قتال أهل الْبَغي من أهل الْإِسْلَام.
الْبَاب السَّابِع عشر: فِي عقد الذِّمَّة وَأَحْكَامه وَمَا يجب الْتِزَامه.
সপ্তম অধ্যায়: সুলতানের অনুদান ও এর উৎস এবং তাঁর ভূমি বন্টনের (إقطاع) প্রকারভেদ সম্পর্কে।
অষ্টম অধ্যায়: সৈন্যদের অনুদান নির্ধারণ এবং জিহাদ (جهاد) পালনকারীদের প্রাপ্য অধিকার সম্পর্কে।
নবম অধ্যায়: জিহাদের (جهاد) বিধান পালনকারীদের জন্য ঘোড়া, অস্ত্র ও যুদ্ধ সরঞ্জাম সংগ্রহের বর্ণনা।
দশম অধ্যায়: দিওয়ান (ديوان) প্রতিষ্ঠা এবং সুলতানের দিওয়ানের (ديوان) বিভাগসমূহ সম্পর্কে।
একাদশ অধ্যায়: জিহাদের (جهاد) শ্রেষ্ঠত্ব ও এর প্রারম্ভিক বিষয়সমূহ এবং এর রক্ষকদের মধ্য থেকে যারা এর যোগ্য, সে সম্পর্কে।
দ্বাদশ অধ্যায়: জিহাদ (جهاد) ও যুদ্ধের পদ্ধতি এবং বীর যোদ্ধাদের মোকাবিলায় ধৈর্য ধারণ সম্পর্কে।
(৩ / অ) ত্রয়োদশ অধ্যায়: গনীমত (غنيمة), এর প্রকারভেদ ও এর বিধিবিধানের বিস্তারিত বিবরণ।
চতুর্দশ অধ্যায়: গনীমত (غنيمة) বন্টন, এর হকদারগণ এবং এ বিষয়ে শাসকদের ওপর যা আবশ্যক, সে সম্পর্কে।
পঞ্চদশ অধ্যায়: যুদ্ধবিরতি (هدنة), নিরাপত্তা দান (أمان) এবং নিরাপত্তা সন্ধানের (استئمان) বিধানাবলী সম্পর্কে।
ষোড়শ অধ্যায়: মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত বিদ্রোহী (بغي) গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা প্রসঙ্গে।
সপ্তদশ অধ্যায়: জিম্মি চুক্তি (ذمة), এর বিধান এবং যা মেনে চলা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
(الْبَاب الأول)
(فِي وجوب الْإِمَامَة وشروط الإِمَام وَأَحْكَامه) 4 - قَالَ الله تَعَالَى: {يَا دَاوُد إِنَّا جعلناك خَليفَة فِي الأَرْض فاحكم بَين النَّاس بِالْحَقِّ وَلَا تتبع الْهوى فيضلك عَن سَبِيل الله} (3 / ب) .
وَقَالَ الله تَعَالَى: {الَّذين إِن مكناهم فِي الأَرْض أَقَامُوا الصَّلَاة وَآتوا الزَّكَاة وَأمرُوا بِالْمَعْرُوفِ ونهوا عَن الْمُنكر وَللَّه عَاقِبَة الْأُمُور} .
ضمن سُبْحَانَهُ نصْرَة الْمُلُوك بِهَذِهِ الشُّرُوط الْأَرْبَعَة، فَإِذا قَامُوا بِهَذِهِ الشُّرُوط تحقق لَهُم النَّصْر الْمَشْرُوط.
5 - وَيجب نصب إِمَام بحراسة الدّين، وسياسة أُمُور الْمُسلمين، وكف أَيدي الْمُعْتَدِينَ، وإنصاف المظلومين من الظَّالِمين، وَيَأْخُذ الْحُقُوق من مواقعها، ويضعها جمعا وصرفاً فِي موَاضعهَا، فَإِن بذلك صَلَاح الْبِلَاد وَأمن الْعباد، وَقطع مواد الْفساد، لِأَن الْخلق لَا تصلح أَحْوَالهم إِلَّا بسُلْطَان يقوم بسياستهم، ويتجرد لحراستهم؛ وَلذَلِك قَالَ بعض
(প্রথম অধ্যায়)
(ইমামতের আবশ্যকতা এবং ইমামের শর্তাবলি ও বিধিবিধান প্রসঙ্গে) ৪ - মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে দাউদ! আমি আপনাকে জমিনে প্রতিনিধি করেছি, সুতরাং আপনি মানুষের মাঝে ন্যায়ের সাথে ফয়সালা করুন এবং খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না, কারণ তা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে} (৩ / খ) ।
মহান আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তারা এমন লোক যাদেরকে আমি জমিনে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে, সৎকাজের আদেশ দেয় এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করে; আর সকল বিষয়ের পরিণাম আল্লাহরই নিয়ন্ত্রণে}।
আল্লাহ সুবহানু তাআলা এই চারটি শর্তের বিনিময়ে শাসকদের সাহায্যের জামানত দিয়েছেন; সুতরাং যখন তারা এই শর্তসমূহ পরিপালন করবে, তখন তাদের জন্য সেই প্রতিশ্রুত সাহায্য সুনিশ্চিত হবে।
৫ - দ্বীন সংরক্ষণ, মুসলিমদের বিষয়াবলি পরিচালনা, সীমালঙ্ঘনকারীদের প্রতিহত করা এবং জালিমদের থেকে মজলুমদের ইনসাফ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একজন ইমাম নিযুক্ত করা আবশ্যক। তিনি উপযুক্ত উৎস হতে প্রাপ্য অধিকারসমূহ গ্রহণ করবেন এবং তা যথাযথভাবে সংগ্রহ ও ব্যয়ের খাতে বিন্যস্ত করবেন; কেননা এর মাধ্যমেই দেশ ও জনপদের কল্যাণ, জনগণের নিরাপত্তা এবং দুর্নীতির মূলোৎপাটন সম্ভব। কারণ জনগণের অবস্থা কেবল এমন একজন সুলতান বা শাসকের মাধ্যমেই সংশোধিত হতে পারে, যিনি তাদের শাসনকার্য পরিচালনা করবেন এবং তাদের রক্ষায় একনিষ্ঠভাবে আত্মনিয়োগ করবেন; আর এই কারণেই কেউ কেউ বলেছেন...
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
الْحُكَمَاء: جور (4 / أ) السُّلْطَان أَرْبَعِينَ سنة خير من رعية مُهْملَة سَاعَة وَاحِدَة.
وَنقل الطرطوشي. رحمه الله فِي قَوْله تَعَالَى: {وَلَوْلَا دفع الله النَّاس بَعضهم بِبَعْض لفسدت الأَرْض} قيل فِي مَعْنَاهُ: لَوْلَا أَن الله تَعَالَى أَقَامَ السُّلْطَان فِي الأَرْض يدْفع الْقوي عَن الضَّعِيف، وينصف الْمَظْلُوم من ظالمه؛ لتواثب النَّاس بَعضهم على بعض، ثمَّ امتن الله تَعَالَى على عباده بِإِقَامَة السُّلْطَان لَهُم بقوله تَعَالَى: {وَلَكِن الله ذُو فضل على الْعَالمين} .
প্রাজ্ঞজনদের উক্তি: শাসকের চল্লিশ বছরের জুলুম (৪ / অ) এক মুহূর্তের বিশৃঙ্খলাপূর্ণ প্রজাসাধারণের চেয়ে উত্তম।
ইমাম আত-তর্তুশি (রাহিমাহুল্লাহ) মহান আল্লাহর বাণী: "আর আল্লাহ যদি মানবজাতির এক দলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে পৃথিবী বিপর্যস্ত হয়ে যেত" প্রসঙ্গে উদ্ধৃত করেছেন যে, এর মর্মে বলা হয়েছে: যদি আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে শাসক নিযুক্ত না করতেন যিনি দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ প্রতিহত করবেন এবং জালিমের থেকে মজলুমকে ইনসাফ প্রদান করবেন, তবে মানুষ একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ত। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ওপর শাসক নিযুক্ত করার মাধ্যমে অনুগ্রহ প্রকাশ করে এরশাদ করেছেন: "কিন্তু আল্লাহ বিশ্বজগতের প্রতি অত্যন্ত অনুগ্রহশীল।"
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫০)
وَرُوِيَ فِي الحَدِيث: " السُّلْطَان ظلّ الله فِي الأَرْض يأوي إِلَيْهِ كل مظلوم من عباده، فَإِذا عدل كَانَ لَهُ الْأجر وعَلى الرّعية الشُّكْر، وَإِن جَار كَانَ عَلَيْهِ الإصر وعَلى الرّعية الصَّبْر ".
وَعَن عَليّ رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ: إِمَام عَادل خير من مطر وابل. وَذَلِكَ لِأَن النَّاس على دين الْملك، فَإِذا عدل لَزِمت الرّعية الْعدْل وقوانينه، (4 / ب) فانتعش الْحق، وتناصف النَّاس، وَذهب الْجور، فترسل السَّمَاء بركاتها، وَتخرج الأَرْض نباتها، وتكثر الْخيرَات وتنمو التِّجَارَات.
وَقيل: لَيْسَ فَوق رُتْبَة السُّلْطَان الْعَادِل رُتْبَة إِلَّا نَبِي مُرْسل أَو ملك مقرب. وَعَن أَحْمد بن حَنْبَل رضي الله عنه: لَو كَانَت لي دَعْوَة
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "সুলতান পৃথিবীতে আল্লাহর ছায়া, তাঁর নিকট তাঁর বান্দাদের মধ্য হতে প্রত্যেক মজলুম আশ্রয় গ্রহণ করে। অতএব, তিনি যদি ন্যায়বিচার করেন তবে তাঁর জন্য রয়েছে সওয়াব এবং প্রজাসাধারণের ওপর রয়েছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা; আর যদি তিনি অবিচার করেন তবে তাঁর ওপর রয়েছে পাপের বোঝা এবং প্রজাসাধারণের ওপর রয়েছে ধৈর্য ধারণ করা।"
আলী রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত: একজন ন্যায়পরায়ণ (عادل) ইমাম মুষলধারে বৃষ্টির চেয়েও উত্তম। আর এটি এজন্য যে, মানুষ তাদের শাসকের রীতিনীতির অনুসারী হয়। সুতরাং তিনি যখন ন্যায়বিচার করেন, তখন প্রজাসাধারণ ন্যায়বিচার ও এর নিয়মাবলি মেনে চলতে বাধ্য হয়, (৪ / খ) ফলে সত্য পুনরুজ্জীবিত হয়, মানুষ পরস্পরের প্রতি ইনসাফ করে এবং জুলুম বিদায় নেয়। তখন আকাশ তার বরকতসমূহ বর্ষণ করে, জমিন তার উদ্ভিদ উৎপন্ন করে, কল্যাণ বৃদ্ধি পায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়।
বলা হয়ে থাকে: ন্যায়পরায়ণ (عادل) সুলতানের মর্যাদার উপরে কোনো প্রেরিত (مرسل) নবী কিংবা নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতার মর্যাদা ব্যতীত অন্য কোনো মর্যাদা নেই। আহমদ বিন হাম্বল রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: যদি আমার একটি (কবুলযোগ্য) দোয়া থাকত...
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫১)
مستجابة لَدَعَوْت بهَا إِلَى السُّلْطَان، لِأَن فِي صَلَاحه صَلَاح الْبِلَاد والعباد، وَفِي فَسَاده فسادهما.
وَقيل: السُّلْطَان من الرّعية كالروح من الْجَسَد، فَإِن استقام مزاجها استقام مزاج جَمِيع أَعْضَائِهِ وحواسه، وَإِن فَسدتْ فسد مزاج الْأَعْضَاء بفسادها، وتعطلت أَحْوَال الْجَسَد.
فصل (1)
6 - الْإِمَامَة ضَرْبَان: اختيارية وقهرية:
7 - أما الاختيارية: فلأهليتها عشر شُرُوط وَهِي: أَن يكون الإِمَام ذكرا، حرا، بَالغا، عَاقِلا، مُسلما، عدلا، شجاعاً، قرشياً، عَالما، كَافِيا (5 / أ) لما يَتَوَلَّاهُ من سياسة الْأمة ومصالحها،
যদি আমার নিকট এমন কোনো দুআ থাকত যা কবুল হওয়ার নিশ্চয়তা আছে, তবে আমি তা সুলতানের কল্যাণের জন্য নিবেদন করতাম; কারণ সুলতানের সংশোধনের মধ্যেই দেশ ও জনগণের সংশোধন নিহিত এবং তাঁর বিপর্যয়ের মধ্যেই উভয়ের বিপর্যয় নিহিত।
বলা হয়ে থাকে: প্রজাসাধারণের মাঝে সুলতানের অবস্থান হলো দেহের মধ্যে রূহের ন্যায়; যদি রূহের প্রকৃতি সুস্থ ও সঠিক থাকে, তবে দেহের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও ইন্দ্রিয়ের প্রকৃতিও সুস্থ থাকে। আর যদি রূহের বিপর্যয় ঘটে, তবে তার সেই বিপর্যয়ের কারণে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের প্রকৃতিও বিকৃত হয়ে যায় এবং দেহের সামগ্রিক অবস্থা অকেজো হয়ে পড়ে।
অনুচ্ছেদ (১)
৬ - ইমামত বা নেতৃত্ব দুই প্রকার: নির্বাচনি এবং জবরদস্তিমূলক।
৭ - নির্বাচনি ইমামতের ক্ষেত্রে: যোগ্যতার জন্য দশটি শর্ত রয়েছে, আর সেগুলো হলো: ইমামকে হতে হবে পুরুষ, স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, মুসলিম, ন্যায়পরায়ণ (عدل), সাহসী, কুরাইশ বংশীয়, বিদ্বান এবং উম্মাহর রাজনীতি ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত (كافٍ) যোগ্যতাসম্পন্ন,
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫২)
فَمَتَى عقدت الْبيعَة لمن هَذِه صفته - وَلم يكن ثمَّة إِمَام غَيره انْعَقَدت بيعَته وإمامته؛ ولزمت فِي غير مَعْصِيّة الله طَاعَته.
قَالَ تَعَالَى: {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا أطِيعُوا الله وَأَطيعُوا الرَّسُول وأولي الْأَمر مِنْكُم}
فقرن طَاعَة ولي الْأَمر بِطَاعَتِهِ وَطَاعَة رَسُوله، واطلق الْأَمر بطاعتهم وَلم يسْتَثْن مِنْهُ شَيْء إِلَّا الْمعْصِيَة، فَدلَّ ذَلِك على أَن مخالفتهم فِيمَا لَيْسَ بِمَعْصِيَة مَعْصِيّة، وعَلى هَذَا يحمل مَا ورد من تعزيرات عمر رضي الله عنه مِمَّن خَالف أمره فِي غير مَعْصِيّة.
فصل (2)
8 - وتنعقد الْإِمَامَة الاختيارية: بطريقتين.
والقهرية: بطرِيق ثَالِث.
9 - الطَّرِيق الأول فِي الاختيارية: بيعَة أهل العقد والحل: من الْأُمَرَاء وَالْعُلَمَاء، والرؤساء، ووجوه النَّاس
যখন এ ধরনের গুণসম্পন্ন ব্যক্তির অনুকূলে আনুগত্যের শপথ (بيعة) গ্রহণ করা হয় এবং সেখানে অন্য কোনো ইমাম (إمام) না থাকেন, তখন তার আনুগত্যের শপথ (بيعة) ও ইমামত (إمامة) সুপ্রতিষ্ঠিত হয়; আর আল্লাহর অবাধ্যতা (معصية) নয় এমন সব বিষয়ে তার আনুগত্য করা অবধারিত হয়ে পড়ে।
মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমর (أولي الأمر) অর্থাৎ যারা দায়িত্বশীল তাদের আনুগত্য করো।}
অতঃপর তিনি উলুল আমরের আনুগত্যকে তাঁর নিজের আনুগত্য ও তাঁর রাসুলের আনুগত্যের সাথে সমন্বিত করেছেন এবং তাদের আনুগত্যের নির্দেশকে শর্তহীন রেখেছেন। পাপকাজ (معصية) ব্যতীত অন্য কোনো কিছুকে এ থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। এটি নির্দেশ করে যে, আল্লাহর অবাধ্যতা (معصية) নয় এমন বিষয়ে তাদের বিরোধিতা করাও এক প্রকার পাপ। উমর (রা.)-এর পক্ষ থেকে বর্ণিত সেই সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (تعزيرات), যা তিনি নাফরমানি (معصية) নয় এমন বিষয়ে তার আদেশের বিরুদ্ধাচরণকারীদের ওপর প্রয়োগ করেছিলেন, তা এই অর্থেই প্রযোজ্য হবে।
পরিচ্ছেদ (২)
৮ - ঐচ্ছিক ইমামত (إمامة) দুইভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
আর বলপ্রয়োগমূলক ইমামত: তৃতীয় একটি পদ্ধতিতে (প্রতিষ্ঠিত হয়)।
৯ - ঐচ্ছিক পদ্ধতির প্রথম উপায়টি হলো: আহলুল আকদ ওয়াল হাল (أهل العقد والحل) তথা শাসকবর্গ, ওলামায়ে কেরাম, গোত্রপ্রধান এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকে আনুগত্যের শপথ (بيعة) গ্রহণ করা।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
الَّذِي يَتَيَسَّر حضورهم بِبَلَد الإِمَام (5 / ب) عِنْد الْبيعَة، كبيعة أبي بكر رضي الله عنه يَوْم السَّقِيفَة.
وَلَا يشْتَرط فِي أهل الْبيعَة عدد مَخْصُوص، بل من تيَسّر حُضُوره عِنْد عقدهَا، وَلَا تتَوَقَّف صِحَّتهَا على مبايعة أهل الْأَمْصَار، بل مَتى بَلغهُمْ لَزِمَهُم الْمُوَافقَة إِذا كَانَ الْمَعْقُود لَهُ أَهلا لَهَا.
10 - الطَّرِيق الثَّانِي:
اسْتِخْلَاف الإِمَام الَّذِي قبله: كَمَا اسْتخْلف أَبُو بكر رضي الله عنهما، وَأَجْمعُوا على صِحَّته.
فَإِن جعل الإِمَام الْأَمر بعده شُورَى فِي جمَاعَة صَحَّ أَيْضا، ويتفقون على وَاحِد مِنْهُم، كَمَا فعل عمر رضي الله عنه بِأَهْل الشورى من الْعشْرَة، وَكَانُوا سِتَّة: عُثْمَان، وَعلي، وَطَلْحَة،
ইমামের শহরে যাদের উপস্থিতি সহজলভ্য হয় (৫/খ) আনুগত্যের শপথ (البيعة) প্রদানের সময়; যেমন সাকিফাহর দিনে আবু বকর (রা.)-এর আনুগত্যের শপথ (البيعة) হয়েছিল।
আর আনুগত্যের শপথ (البيعة) প্রদানকারীদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা শর্ত নয়, বরং চুক্তি সম্পাদনকালে যাদের উপস্থিতি সহজলভ্য হয়। এর বিশুদ্ধতা (صحة) বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসীদের আনুগত্যের শপথ (البيعة) প্রদানের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং যখনই তাদের নিকট সংবাদ পৌঁছাবে, তখন তাদের সম্মতি প্রদান করা আবশ্যক হবে যদি যার অনুকূলে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে তিনি এর যোগ্য হন।
10 - দ্বিতীয় পদ্ধতি:
পূর্ববর্তী ইমাম কর্তৃক স্থলাভিষিক্ত করা (استخلاف): যেমন আবু বকর (রা.) স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন এবং এর বৈধতার (صحة) ওপর সকলে ঐকমত্য (أجمعوا) পোষণ করেছেন।
যদি ইমাম তাঁর পরবর্তী বিষয়টি কোনো দলের মধ্যে পরামর্শের (شورى) ওপর ন্যস্ত করেন, তবে সেটিও শুদ্ধ (صح) হবে এবং তারা নিজেদের মধ্য থেকে একজনের ব্যাপারে একমত হবেন। যেমন উমর (রা.) দশজনের মধ্য থেকে পরামর্শ সভার (شورى) সদস্যদের ক্ষেত্রে করেছিলেন এবং তাঁরা ছিলেন ছয়জন: উসমান, আলী, তালহা,
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
وَالزُّبَيْر، وَسعد، وَعبد الرَّحْمَن، وَاتَّفَقُوا على عُثْمَان، وَلَو عهد بِالْإِمَامَةِ إِلَى فلَان وَبعده إِلَى فلَان صَحَّ أَيْضا، وَكَانَت الْخلَافَة بعده على
এবং যুবাইর, সাদ ও আব্দুর রহমান; এবং তাঁরা উসমানের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেন। আর যদি তিনি ইমামতের (الإمامة) দায়িত্ব অমুক ব্যক্তির প্রতি এবং তার পরে অন্য অমুক ব্যক্তির প্রতি ন্যস্ত করতেন, তবে সেটিও বৈধ (صح) হতো। আর তাঁর পরবর্তী খিলাফত ছিল...
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
مَا رتبه، كَمَا فعل (6 / أ) النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] فِي أُمَرَاء غَزْوَة مؤته.
وَيشْتَرط فِي الْخَلِيفَة الْمُسْتَخْلف والمستخلف بعده: أَن يَكُونَا قد جمعا شُرُوط الْإِمَامَة، وَأَن يقبل ولي الْعَهْد ذَلِك بعد الْعَهْد، وَقبل موت الْمُسْتَخْلف لَهُ، فَإِن رده لم تَنْعَقِد الْبيعَة.
11 - وَأما الطَّرِيق الثَّالِث،
الَّذِي تَنْعَقِد بِهِ الْبيعَة القهرية: فَهُوَ قهر صَاحب الشَّوْكَة، فَإِذا خلا الْوَقْت عَن إِمَام فتصدى لَهَا من هُوَ من أَهلهَا، وقهر النَّاس بشوكته وَجُنُوده بِغَيْر بيعَة أَو اسْتِخْلَاف، انْعَقَدت بيعَته، ولزمت طَاعَته، لينتظم شَمل الْمُسلمين وتجتمع كلمتهم.
وَلَا يقْدَح فِي ذَلِك كَونه جَاهِلا أَو فَاسِقًا فِي الْأَصَح.
وَإِذا انْعَقَدت الْإِمَامَة بِالشَّوْكَةِ وَالْغَلَبَة لوَاحِد ثمَّ قَامَ آخر فقهر الأول بشوكته وَجُنُوده، انْعَزل الأول وَصَارَ الثَّانِي إِمَامًا، لما قدمْنَاهُ (6 / ب)
যেভাবে তিনি বিন্যস্ত করেছেন, যেমন (৬ / আ) নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] মুতাহর যুদ্ধে আমীরদের ক্ষেত্রে করেছিলেন।
স্থলাভিষিক্তকারী খলিফা এবং তার পরবর্তী স্থলাভিষিক্তের ক্ষেত্রে শর্ত হলো: তারা উভয়েই ইমামতের শর্তাবলি পূরণ করবেন এবং উত্তরাধিকারী ব্যক্তি উত্তরাধিকার মনোনয়নের পর এবং নিয়োগকর্তার মৃত্যুর আগে তা গ্রহণ করবেন; যদি তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন তবে আনুগত্যের শপথ (بيعة) কার্যকর হবে না।
১১ - আর তৃতীয় পদ্ধতিটি হলো,
যার মাধ্যমে জবরদস্তিমূলক আনুগত্যের শপথ (بيعة) কার্যকর হয়: তা হলো পরাক্রমশালী ব্যক্তির আধিপত্য। সুতরাং যখন সময় ইমামশূন্য থাকে এবং যোগ্যতাসম্পন্ন কেউ সেই দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসেন এবং কোনো আনুগত্যের শপথ (بيعة) বা উত্তরাধিকার মনোনয়ন (استخلاف) ছাড়াই নিজের প্রভাব ও সেনাবাহিনীর মাধ্যমে জনগণকে বশীভূত করেন, তখন তার আনুগত্যের শপথ (بيعة) কার্যকর হয়ে যায় এবং তার আনুগত্য করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, যাতে মুসলিমদের শৃঙ্খলা সুসংহত হয় এবং তাদের ঐক্য অটুট থাকে।
অধিকতর সঠিক (الأصح) মতানুযায়ী, উক্ত ব্যক্তির অজ্ঞ হওয়া বা পাপাচারী (فاسق) হওয়া এতে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে না।
আর যখন প্রভাব ও বিজয়ের মাধ্যমে একজনের জন্য ইমামত সাব্যস্ত হয়ে যায়, অতঃপর অন্য কেউ দাঁড়িয়ে নিজের প্রভাব ও সেনাবাহিনীর মাধ্যমে প্রথম ব্যক্তিকে পরাস্ত করে, তখন প্রথম ব্যক্তি অপসারিত হয়ে যান এবং দ্বিতীয় ব্যক্তি ইমামে পরিণত হন; যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে (৬ / ব) উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
من مصلحَة الْمُسلمين وَجمع كلمتهم، وَلذَلِك قَالَ ابْن عمر فِي أَيَّام الْحرَّة: نَحن مَعَ من غلب.
فصل (3)
12 - لَو كَانَت شُرُوط الْخلَافَة فِي جمَاعَة صَالِحَة لَهَا، قدم أهل الْحل وَالْعقد أَصْلحهم للْمُسلمين.
فَإِن عقدت للمفضول جَازَ عِنْد أَكثر الْعلمَاء.
وَلَو كَانَ أحدهم أعلم مثلا وَالْآخر أَشْجَع مثلا: فَالْأولى أَن يقدم مِنْهُمَا من يَقْتَضِيهِ حَال الْوَقْت؛ فَإِن كَانَ عِنْد ظُهُور الْعَدو وخوفه وخلل الثغور، فالأشجع أولى من الأعلم.
وَإِن كَانَ عِنْد ظُهُور الْبدع وَقلة الْعلم مَعَ الْأَمْن من الْعَدو وظهوره، فالأعلم أولى.
13 - وَلَا يجوز عقد الْإِمَامَة لاثْنَيْنِ، لَا فِي بلد وَاحِد وَلَا فِي بلدين، وَلَا فِي إقليم وَاحِد وَلَا فِي إقليمين، فَإِن عقد لاثْنَيْنِ فِي وَقت وَاحِد بطلت الْبيعَة وتستأنف لأَحَدهمَا أَو لغَيْرِهِمَا، وَإِن كَانَا فِي وَقْتَيْنِ مَعَ بَقَاء الأول، فالبيعة الثَّانِيَة (7 / أ) بَاطِلَة حَيْثُ كَانَت.
মুসলমানদের কল্যাণ এবং তাদের ঐক্য রক্ষার খাতিরে; আর এই কারণেই ইবনে উমর হাররার দিনগুলোতে বলেছিলেন: "আমরা বিজয়ী পক্ষের সাথেই আছি।"
পরিচ্ছেদ (৩)
১২ - যদি খেলাফতের শর্তাবলি এমন একদল লোকের মধ্যে বিদ্যমান থাকে যারা এর যোগ্য, তবে আহলে হালিল ওয়াল আকদ মুসলমানদের জন্য তাদের মধ্য থেকে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দেবেন।
যদি অপেক্ষাকৃত কম যোগ্য ব্যক্তির অনুকূলে (নেতৃত্বের) চুক্তি সম্পাদিত হয়, তবে অধিকাংশ আলেমের নিকট তা বৈধ।
যদি তাদের একজন উদাহরণস্বরূপ অধিকতর জ্ঞানী হন এবং অন্যজন উদাহরণস্বরূপ অধিকতর সাহসী হন, তবে সমসাময়িক পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী তাদের মধ্য থেকে একজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত; যদি শত্রুর প্রাদুর্ভাব ও ভীতি এবং সীমান্তের অস্থিতিশীলতার সময় হয়, তবে অধিকতর সাহসী ব্যক্তি অধিকতর জ্ঞানী ব্যক্তির চেয়ে অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য।
আর যদি শত্রুর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা থাকে, কিন্তু বিদআতের বিস্তার এবং ইলমের স্বল্পতা দেখা দেয়, তবে অধিকতর জ্ঞানী ব্যক্তিই অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য।
১৩ - দুই ব্যক্তির জন্য ইমামত বা নেতৃত্বের চুক্তি করা বৈধ নয়; তা একই শহরে হোক বা ভিন্ন দুটি শহরে, অথবা একই প্রদেশে হোক বা ভিন্ন দুটি প্রদেশে। যদি একই সময়ে দুই ব্যক্তির জন্য চুক্তি করা হয় তবে বায়আত বাতিল হয়ে যাবে এবং নতুন করে তাদের একজনের জন্য অথবা অন্য কারও জন্য বায়আত গ্রহণ করতে হবে। আর যদি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বায়আত নেওয়া হয় এবং প্রথম জন স্বপদে বহাল থাকেন, তবে দ্বিতীয় বায়আতটি (৭/অ) যেখানেই সম্পাদিত হোক না কেন তা বাতিল।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
وَإِن جهل السَّابِق مِنْهُمَا استؤنفت الْبيعَة لأَحَدهمَا أَو لغَيْرِهِمَا.
فصل (4)
14 - وَصفَة الْبيعَة أَن يُقَال: " بايعناك راضين على إِقَامَة الْعدْل وَالْقِيَام بفروض الْإِمَامَة على كتاب الله وَسنة رَسُوله [صلى الله عليه وسلم] ". وَلَا تفْتَقر إِلَى الصفق بِالْيَدِ بل يَكْفِي فِيهِ القَوْل.
15 - وَمن عقدت لَهُ الْبيعَة جَازَ أَن يُسمى " خَليفَة " وَأَن يُقَال خَليفَة رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] ، لِأَنَّهُ خَليفَة فِي أمته، وَالأَصَح: أَن لَا يُقَال خَليفَة الله، وَلذَلِك عِنْدَمَا قيل لأبي بكر رضي الله عنه: " يَا خَليفَة الله ". قَالَ: لست خَليفَة الله، وَلَكِنِّي خَليفَة رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] .
আর যদি তাঁদের মধ্যে অগ্রবর্তী ব্যক্তি কে তা অজ্ঞাত থাকে, তবে তাঁদের দুজনের একজন অথবা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য পুনরায় বায়আত (بيعة) গ্রহণ করতে হবে।
পরিচ্ছেদ (৪)
১৪ - বায়আতের (بيعة) পদ্ধতি হলো এই বলা যে: "আমরা সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] সুন্নাহ অনুযায়ী ইনসাফ কায়েম এবং ইমামতের (إمامة) আবশ্যিক কার্যাবলি পালনের নিমিত্তে আপনার নিকট বায়আত গ্রহণ করলাম।" আর এটি করমর্দনের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং মৌখিক উক্তিই এতে যথেষ্ট।
১৫ - যাঁর পক্ষে বায়আত (بيعة) সম্পাদিত হয়েছে, তাঁকে "খলিফা (خليفة)" হিসেবে নামকরণ করা বৈধ এবং "রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর খলিফা" বলাও জায়িয; কেননা তিনি তাঁর উম্মতের মধ্যে তাঁর স্থলাভিষিক্ত। আর বিশুদ্ধতম (الأصح) মত হলো: "আল্লাহর খলিফা" বলা যাবে না। এই কারণেই যখন আবু বকর (রা.)-কে বলা হলো: "হে আল্লাহর খলিফা", তখন তিনি বললেন: "আমি আল্লাহর খলিফা নই, বরং আমি রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর খলিফা (خليفة)"।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
الْبَاب الثَّانِي
فِيمَا للخليفة وَالسُّلْطَان وَمَا عَلَيْهِ مِمَّا هُوَ مفوض إِلَيْهِ 16 - لإِمَام الْمُسلمين أَن يُفَوض ولَايَة كل أقليم أَو بلد أَو نَاحيَة أَو عمل إِلَى كفؤٍ للنَّظَر (7 / ب) الْعَام فِيهِ، لِأَن الْحَاجة تَدْعُو إِلَى ذَلِك لاسيما فِي الْبِلَاد الْبَعِيدَة، كَمَا ولى رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] عتاب بن أسيد مَكَّة، وَولى أَبُو بكر رضي الله عنه خَالِد بن الْوَلِيد على الشَّام، وَعُثْمَان بن أبي الْعَاصِ رضي الله عنه على الطَّائِف،
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ খলিফা ও সুলতানের অধিকার এবং তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্বাবলি প্রসঙ্গে ১৬ - মুসলিমদের ইমামের (নেতার) জন্য এটি বৈধ যে, তিনি প্রত্যেক প্রদেশ, শহর, অঞ্চল বা প্রশাসনিক কাজের কর্তৃত্ব (ولاية) এমন কোনো যোগ্য (كفؤ) ব্যক্তির ওপর অর্পণ করবেন যিনি সেখানে সাধারণ তত্ত্বাবধান করবেন; কেননা এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, বিশেষ করে দূরবর্তী অঞ্চলসমূহের ক্ষেত্রে। যেমন রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] আত্তাব বিন আসিদকে মক্কার দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন, আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) খালিদ বিন ওয়ালিদকে শামের ওপর এবং উসমান বিন আবুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে তায়েফের ওপর দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
وَأَبا مُوسَى رضي الله عنه على زبيد. وَولى عمر رضي الله عنه أَبَا عُبَيْدَة على الشَّام، وَأَبا مُوسَى على الْبَصْرَة، وعمار بن يَاسر على الْكُوفَة، وَعَمْرو بن الْعَاصِ على مصر. وَلم يزل ذَلِك عَادَة الْخُلَفَاء لِأَن الْحَاجة تَدْعُو إِلَيْهِ.
এবং আবু মুসা (রা.) জাবিদ-এর দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। উমর (রা.) আবু উবাইদাহ (রা.)-কে শামের, আবু মুসা (রা.)-কে বসরার, আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা.)-কে কুফার এবং আমর ইবনুল আস (রা.)-কে মিশরের গভর্নর নিযুক্ত করেন। খলিফাদের আমলে এই রীতিটিই অব্যাহত ছিল, কারণ বাস্তব প্রয়োজনেই এর আবশ্যকতা ছিল।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬০)
فصل (1)
17 - إِذا فوض الْخَلِيفَة إِلَى رجل ولَايَة إقليم أَو بلد أَو عمل، فَإِن كَانَ تفويضاً خَاصّا بِعَمَل خَاص: لم يكن لَهُ الْولَايَة فِي غَيره، كَمَا إِذا ولاه الْجَيْش دون الْأَمْوَال أَو الْأَمْوَال دون الْأَحْكَام وَنَحْو ذَلِك.
18 - وَإِن كَانَ تفويضاً عَاما - كعرف الْمُلُوك والسلاطين فِي زَمَاننَا - جَازَ لَهُ تَقْلِيد الْقُضَاة (8 / أ) والولاة، وتدبير الجيوش، وَاسْتِيفَاء الْأَمْوَال من جَمِيع جهاتها، وصرفها فِي مصارفها، وقتال الْمُشْركين والمحاربين. وَلَا ينظر فِي غير الإقليم الْمُفَوض إِلَيْهِ، لِأَن ولَايَته خَاصَّة.
19 - وَيعْتَبر فِي السُّلْطَان الْمُتَوَلِي من جِهَة الْخَلِيفَة مَا يعْتَبر فِيهِ خلا النّسَب لِأَنَّهُ قَائِم مقَامه.
পরিচ্ছেদ (فصل) (1)
17 - খলিফা যখন কোনো ব্যক্তিকে কোনো প্রদেশ, শহর বা কাজের দায়িত্ব প্রদান করেন, আর যদি তা বিশেষ কাজের জন্য বিশেষ অর্পণ (تفويضا خاصا) হয়, তবে সেই নির্দিষ্ট কাজ ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ে তার কর্তৃত্ব থাকবে না; যেমন যদি তাকে অর্থসম্পদ ব্যতিরেকে সেনাবাহিনীর দায়িত্ব দেওয়া হয়, কিংবা বিচারিক বিষয় ব্যতিরেকে অর্থসম্পদের দায়িত্ব দেওয়া হয় অথবা এই জাতীয় কোনো দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।
18 - আর যদি তা সাধারণ অর্পণ (تفويضا عاما) হয়—যেমন আমাদের যুগের রাজা ও সুলতানদের রীতি—তবে তার জন্য বিচারক ও গভর্নর নিয়োগ করা, সেনাবাহিনী পরিচালনা করা, সকল খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ করা এবং তা নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করা এবং মুশরিক ও বিবাদমান শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করা বৈধ হবে। তবে তিনি কেবল তাকে অর্পিত প্রদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি তদারকি করবেন, কারণ তার কর্তৃত্ব সেই নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য বিশেষায়িত (خاصة)।
19 - আর খলিফার পক্ষ থেকে নিযুক্ত সুলতানের ক্ষেত্রে সেই সকল গুণাবলি থাকা আবশ্যক যা খলিফার জন্য শর্ত বা বিবেচিত, কেবল বংশমর্যাদা ব্যতীত; কারণ তিনি খলিফার প্রতিনিধি হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬১)
فصل (2)
20 - إِذا استولى ملك بِالْقُوَّةِ والقهر والشوكة على بِلَاد، فَيَنْبَغِي للخليفة أَن يُفَوض أمورها إِلَيْهِ استدعاء لطاعته، ودفعا لمشاققته وخوفاً من اخْتِلَاف الْكَلِمَة، وشق عَصا الْأمة، فَيصير بذلك التَّفْوِيض صَحِيح الْولَايَة، نَافِذ الْأَحْكَام.
فَإِن لم يكن أَهلا لذَلِك لفقد الصِّفَات الْمُعْتَبرَة جَازَ للخليفة إِظْهَار تَقْلِيده لما ذَكرْنَاهُ من الْمصَالح. وَيَنْبَغِي أَن يعين لَهُ نَائِبا أَهلا لتقليد الْولَايَة، ينفذ الْأُمُور لتَكون صِفَات (8 / ب) النَّائِب جَائِزَة لما فَاتَ من صِفَات المستولي قهرا، فتنتظم الْمصَالح الدِّينِيَّة والدنيوية.
فصل (3)
22 - للسُّلْطَان والخليفة على الْأمة عشرَة حُقُوق، وَلَهُم عَلَيْهِ عشرَة حُقُوق.
23 - أما حُقُوق السُّلْطَان الْعشْرَة:
فَالْحق الأول:
بذل الطَّاعَة لَهُ ظَاهرا وَبَاطنا، فِي كل مَا يَأْمر بِهِ أَو ينْهَى عَنهُ، إِلَّا أَن
পরিচ্ছেদ (২)
২০ - যখন কোনো অধিপতি শক্তি, দমন-পীড়ন ও প্রতাপের মাধ্যমে কোনো ভূখণ্ড দখল করে নেয়, তখন খলিফার উচিত সেই অঞ্চলের প্রশাসনিক বিষয়াদি তার ওপর ন্যস্ত করা; যাতে তার আনুগত্য নিশ্চিত করা যায়, তার পক্ষ থেকে আসা বিরোধিতা প্রতিহত করা যায় এবং মতানৈক্য ও উম্মাহর সংহতি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দূর করা যায়। এর ফলে এই দায়িত্ব অর্পণের মাধ্যমে তার কর্তৃত্ব বৈধ (صحيح) বলে গণ্য হবে এবং তার বিধানাবলি কার্যকর হবে।
যদি সে ব্যক্তি প্রয়োজনীয় গুণাবলি না থাকার কারণে উক্ত পদের যোগ্য না হয়, তবে উল্লেখিত কল্যাণসমূহের স্বার্থে খলিফার জন্য তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া বৈধ। এমতাবস্থায় উচিত হলো, তার জন্য এমন একজন যোগ্য প্রতিনিধি নিয়োগ করা যে কর্তৃত্বের দায়িত্ব পালনে সক্ষম এবং প্রশাসনিক বিষয়াদি সম্পাদন করবে; যাতে প্রতিনিধির গুণাবলি (৮ / খ) সেই জবরদখলকারীর গুণাবলির ঘাটতিগুলোকে পূর্ণ করে দেয়। ফলে ধর্মীয় ও পার্থিব কল্যাণসমূহ সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হবে।
পরিচ্ছেদ (৩)
২২ - উম্মাহর ওপর সুলতান ও খলিফার দশটি অধিকার রয়েছে এবং তাদের প্রতিও তাঁর দশটি কর্তব্য রয়েছে।
২৩ - সুলতানের দশটি অধিকারের ক্ষেত্রে:
প্রথম অধিকার হলো:
প্রকাশ্যে ও গোপনে তাঁর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রদর্শন করা, তিনি যা আদেশ করেন বা যা হতে নিষেধ করেন তার সবকিছুর ক্ষেত্রে, তবে যদি...
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬২)
يكون مَعْصِيّة؛ قَالَ الله تَعَالَى: {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا أطِيعُوا الله وَأَطيعُوا الرَّسُول وأولي الْأَمر مِنْكُم} .
وأولو الْأَمر هم: الإِمَام ونوابه عِنْد الْأَكْثَرين. وَقيل: هم الْعلمَاء. وَقَالَ النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] : " السّمع وَالطَّاعَة على الْمُسلم فِيمَا أحب أَو كره مَا لم يُؤمر بِمَعْصِيَة ". فقد أوجب الله تَعَالَى وَرَسُوله: طَاعَة ولي الْأَمر، وَلم يستثنِ مِنْهُ سوى الْمعْصِيَة، فَبَقيَ مَا عداهُ على الِامْتِثَال.
الْحق الثَّانِي: بذل النَّصِيحَة لَهُ سرا وَعَلَانِيَة. قَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : " الدّين النَّصِيحَة " قَالُوا: لمن؟ (9 / أ) " قَالَ لله، وَلِرَسُولِهِ، ولأئمة الْمُسلمين، وعامتهم ".
তা পাপাচার হওয়া; মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের) আনুগত্য করো}।
অধিকাংশ আলিমের মতে উলুল আমর হলেন: ইমাম ও তাঁর প্রতিনিধিগণ। আর কেউ কেউ বলেছেন: তাঁরা হলেন আলিম সমাজ। নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] ইরশাদ করেছেন: "পছন্দনীয় কিংবা অপছন্দনীয় সকল বিষয়েই মুসলিম ব্যক্তির জন্য শ্রবণ ও আনুগত্য করা আবশ্যক, যতক্ষণ না তাকে পাপাচারের নির্দেশ দেওয়া হয়।" আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল উলুল আমরের আনুগত্য করা আবশ্যক করেছেন এবং পাপাচার ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়কে এর ব্যতিক্রমভুক্ত করেননি। ফলে পাপাচার ছাড়া অবশিষ্ট সকল ক্ষেত্রে আনুগত্যের বিধান বহাল থাকে।
দ্বিতীয় অধিকার: প্রকাশ্যে ও গোপনে তাঁর প্রতি কল্যাণকামনা করা। রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] ইরশাদ করেছেন: "দ্বীন হলো কল্যাণকামনা।" তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: "কার জন্য?" (৯ / ক) তিনি বললেন: "আল্লাহর জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, মুসলিমদের ইমামগণের জন্য এবং সাধারণ মুসলিমদের জন্য।"
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
الْحق الثَّالِث:
الْقيام بنصرتهم بَاطِنا وظاهراً ببذل المجهود فِي ذَلِك لما فِيهِ نصر الْمُسلمين وَإِقَامَة حُرْمَة الدّين، وكف أَيدي الْمُعْتَدِينَ.
الْحق الرَّابِع: أَن يعرف لَهُ عَظِيم حَقه، وَمَا يجب من تَعْظِيم قدره، فيعامل بِمَا يجب لَهُ من الاحترام وَالْإِكْرَام، وَمَا جعل الله تَعَالَى لَهُ من الإعظام، وَلذَلِك كَانَ الْعلمَاء الْأَعْلَام من أَئِمَّة الْإِسْلَام يعظمون حرمتهم، ويلبون دعوتهم مَعَ زهدهم وورعهم وَعدم الطمع فِيمَا لديهم، وَمَا يَفْعَله بعض المنتسبين إِلَى الزّهْد من قلَّة الْأَدَب مَعَهم، فَلَيْسَ من السّنة.
الْحق الْخَامِس: إيقاظه عِنْد غفلته، وإرشاده عِنْد هفوته، شَفَقَة عَلَيْهِ، وحفظاً لدينِهِ وَعرضه، وصيانةً لما جعله الله إِلَيْهِ من (9 / ب) الْخَطَأ فِيهِ.
الْحق السَّادِس:
تحذيره من عَدو يَقْصِدهُ بِسوء، وحاسد يرومه بأذى، أَو خارجي يخَاف عَلَيْهِ مِنْهُ، وَمن كل شَيْء يخَاف عَلَيْهِ مِنْهُ على اخْتِلَاف أَنْوَاع ذَلِك وأجناسه، فَإِن ذَلِك من آكِد حُقُوقه وأوجبها.
তৃতীয় অধিকার:
প্রকাশ্যে এবং গোপনে তাদের সাহায্যার্থে দণ্ডায়মান হওয়া এবং এ লক্ষ্যে নিজের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করা; কেননা এতে মুসলমানদের সাহায্য, দ্বীনের মর্যাদা রক্ষা এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের হাতকে প্রতিহত করার বিষয়টি নিহিত রয়েছে।
চতুর্থ অধিকার: তার সুমহান অধিকার সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং তার মর্যাদাকে যথাযথ সম্মান করা যা ওয়াজিব বা আবশ্যক; ফলে তার সাথে এমন আচরণ করতে হবে যা তার প্রাপ্য সম্মান ও শ্রদ্ধার দাবি রাখে এবং মহান আল্লাহ তার জন্য যে মহিমা নির্ধারণ করেছেন তার অনুকূল হয়। এই কারণেই ইসলামের ইমামগণের মধ্য থেকে প্রখ্যাত উলামায়ে কেরাম তাদের মর্যাদাকে সম্মান করতেন এবং তাদের আহ্বান কবুল করতেন; অথচ তারা নিজেরা ছিলেন দুনিয়াবিমুখ (زهد) ও পরহেজগার (ورع) এবং তাদের (শাসকদের) নিকট যা আছে তার প্রতি তারা মোটেও লালায়িত ছিলেন না। পক্ষান্তরে দুনিয়াবিমুখতার সাথে সম্পর্কযুক্ত দাবিদার একদল লোক তাদের সাথে যে শিষ্টাচারহীনতা প্রদর্শন করে, তা সুন্নাহ (سنة)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
পঞ্চম অধিকার: তার অসতর্কতার মুহূর্তে তাকে জাগ্রত করা এবং তার পদস্খলনের সময় তাকে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করা; যা হবে তার প্রতি অনুকম্পাবশত এবং তার দ্বীন ও সম্মান রক্ষার্থে, আর আল্লাহ তাকে যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন তা ভুল-ত্রুটি (خطأ) থেকে সুরক্ষা প্রদানের নিমিত্তে।
ষষ্ঠ অধিকার:
তাকে এমন শত্রু থেকে সতর্ক করা যে তার অনিষ্টের সংকল্প করে, এমন হিংসুক থেকে যে তাকে কষ্ট দিতে চায়, কিংবা এমন খারেজি (خارجي) থেকে যার পক্ষ থেকে তার ক্ষতির আশঙ্কা থাকে; এবং এমন প্রতিটি বিষয় থেকে তাকে সতর্ক করা যা তার জন্য আশঙ্কাজনক হতে পারে—সেটি যে কোনো প্রকার বা শ্রেণিরই হোক না কেন। কেননা এটি তার অধিকারসমূহের মধ্যে অত্যন্ত তাকিদপূর্ণ ও অপরিহার্য।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
الْحق السَّابِع:
إِعْلَامه بسيرة عماله: الَّذين هُوَ مطَالب بهم، ومشغول الذِّمَّة بسببهم لينْظر لنَفسِهِ فِي خلاص ذمَّته، وللأمة فِي مصَالح ملكه ورعيته.
الْحق الثَّامِن: إعانته على مَا تحمله من أعباء الْأمة ومساعدته على ذَلِك بِقدر المكنة، قَالَ الله تَعَالَى {وتعانوا على الْبر وَالتَّقوى} وأحق من أعين على ذَلِك وُلَاة الْأُمُور.
الْحق التَّاسِع:
رد الْقُلُوب النافرة عَنهُ إِلَيْهِ، وَجمع محبَّة النَّاس عَلَيْهِ؛ لما فِي ذَلِك من مصَالح الْأمة وانتظام أُمُور الْملَّة.
الْحق الْعَاشِر:
الذب عَنهُ بالْقَوْل وَالْفِعْل، وبالمال وَالنَّفس والأهل فِي الظَّاهِر (10 / أ) وَالْبَاطِن، والسر وَالْعَلَانِيَة. وَإِذا وفت الرّعية بِهَذِهِ الْحُقُوق الْعشْرَة الْوَاجِبَة، وأحسنت الْقيام بمجامعها والمراعاة لموقعها، صفت الْقُلُوب، وأخلصت، وَاجْتمعت الْكَلِمَة وانتصرت.
সপ্তম অধিকার:
তাকে তার কর্মকর্তাদের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করা: যাদের ব্যাপারে তিনি জিজ্ঞাসিত হবেন এবং যাদের কারণে তিনি দায়বদ্ধ, যাতে তিনি নিজের দায়মুক্তির বিষয়ে চিন্তা করতে পারেন এবং উম্মাহর রাষ্ট্র ও প্রজাসাধারণের কল্যাণের প্রতি লক্ষ্য রাখতে পারেন।
অষ্টম অধিকার: উম্মাহর যে গুরুভার তিনি বহন করছেন তাতে তাকে সাহায্য করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে সহযোগিতা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সাহায্য করো}। আর এ ক্ষেত্রে সাহায্যের সর্বাধিক হকদার হলেন শাসকবর্গ।
নবম অধিকার:
বিমুখ অন্তরগুলোকে তার প্রতি ধাবিত করা এবং তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা সুসংহত করা; কারণ এর মধ্যেই উম্মাহর কল্যাণ এবং মিল্লাতের কার্যাবলির শৃঙ্খলা নিহিত রয়েছে।
দশম অধিকার:
বাক্য ও কর্মের মাধ্যমে এবং সম্পদ, জীবন ও পরিবার দিয়ে প্রকাশ্যে (১০/ক) ও অপ্রকাশ্যে, সংগোপনে ও প্রকাশ্যে তাকে রক্ষা করা। আর যখন প্রজাসাধারণ এই দশটি আবশ্যকীয় অধিকার যথাযথভাবে আদায় করবে এবং এর সামগ্রিক দিকগুলো নিষ্ঠার সাথে পালন ও সংরক্ষণ করবে, তখন অন্তরসমূহ কলুষমুক্ত হবে, ইখলাস অর্জিত হবে, ঐক্য সুদৃঢ় হবে এবং বিজয় সূচিত হবে।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
24 - وَأما حُقُوق الرّعية الْعشْرَة على السُّلْطَان:
فَالْأول: حماية بَيْضَة الْإِسْلَام والذب عَنْهَا، إِمَّا فِي كل إقليم إِن كَانَ خَليفَة، أَو فِي الْقطر الْمُخْتَص بِهِ إِن كَانَ مفوضاً إِلَيْهِ، فَيقوم بجهاد الْمُشْركين وَدفع الْمُحَاربين والباغين، وتدبير الجيوش، وتجنيد الْجنُود، وتحصين الثغور بالعدة الْمَانِعَة وَالْعدة الدافعة، وبالنظر فِي تَرْتِيب الأجناد فِي الْجِهَات على حسب الْحَاجَات وَتَقْدِير إقطاعهم، وأرزاقهم، وَصَلَاح أَحْوَالهم.
الْحق الثَّانِي:
حفظ الدّين على أُصُوله المقررة، وقواعده المحررة، ورد الْبدع، والمبتدعين، (10 / ب) وإيضاح حجج الدّين، وَنشر الْعُلُوم الشَّرْعِيَّة، وتعظيم الْعلم وَأَهله، وَرفع مناره وَمحله، ومخالطة الْعلمَاء الْأَعْلَام، النصحاء لدين الْإِسْلَام، ومشاورتهم فِي موارد الْأَحْكَام،
ومصادر النَّقْض والإبرام. قَالَ الله تَعَالَى لنَبيه [صلى الله عليه وسلم] {وشاورهم فِي الْأَمر} قَالَ الْحسن: كَانَ
24 - আর সুলতানের ওপর প্রজাদের দশটি অধিকার নিম্নরূপ:
প্রথমটি হলো: ইসলামের মূল ভূখণ্ড ও সংহতি রক্ষা করা এবং এর প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা। তিনি যদি খলিফা হন তবে প্রতিটি ভূখণ্ডে, আর যদি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন তবে সেই নির্দিষ্ট অঞ্চলে এই দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবেন এবং যুদ্ধরত শত্রু ও বিদ্রোহীদের প্রতিহত করবেন। তিনি সেনাবাহিনী পরিচালনা করবেন, সৈন্য সমাবেশ করবেন এবং প্রতিরোধমূলক ও আক্রমণাত্মক যুদ্ধসরঞ্জামের মাধ্যমে সীমান্তসমূহ সুরক্ষিত করবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন অঞ্চলে সৈন্য বিন্যাস, তাদের জায়গির ও জীবিকা নির্ধারণ এবং তাদের সামগ্রিক অবস্থার সংশোধনের প্রতি দৃষ্টি দেবেন।
দ্বিতীয় অধিকার:
দ্বীনকে এর নির্ধারিত মূলনীতি (أصوله) ও সুসংজ্ঞায়িত কায়েদাসমূহের ওপর হেফাজত করা; বিদআত (البدع) ও বিদআতী (المبتدعين) ব্যক্তিদের প্রতিহত করা; (১০ / খ) দ্বীনের প্রমাণাদি স্পষ্ট করা; শরয়ী জ্ঞান প্রচার করা; ইলম ও উলামাদের সম্মান করা এবং তাঁদের মর্যাদা ও অবস্থান সমুন্নত রাখা। ইসলামের একনিষ্ঠ হিতাকাঙ্ক্ষী বিজ্ঞ উলামাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা এবং শরয়ী বিধানের প্রয়োগ ও উৎসের ক্ষেত্রে তাঁদের সাথে পরামর্শ করা,
এবং যাবতীয় বিষয় গ্রহণ ও বর্জনের ক্ষেত্রে তাঁদের দিকনির্দেশনা গ্রহণ করা। মহান আল্লাহ তাঁর নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-কে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {আর আপনি গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাদের সাথে পরামর্শ করুন}। হাসান বলেন: তিনি ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
وَالله غَنِيا عَن الْمُشَاورَة، وَلَكِن أَرَادَ أَن يستن لَهُم.
الْحق الثَّالِث:
إِقَامَة شَعَائِر الْإِسْلَام: كفروض الصَّلَوَات، وَالْجمع وَالْجَمَاعَات، وَالْأَذَان، وَالْإِقَامَة، والخطابة، والإمامة، وَمِنْه النّظر فِي أَمر الصّيام وَالْفطر، وأهلّته، وَحج الْبَيْت الْحَرَام وعمرته. وَمِنْه: الاعتناء بالأعياد، وتيسير الحجيج من نواحي الْبِلَاد، وَإِصْلَاح طرقها وأمنها فِي مَسِيرهمْ، وانتخاب من ينظر أُمُورهم.
الْحق الرَّابِع:
فصل القضايا وَالْأَحْكَام، بتقليد الْوُلَاة والحكام لقطع المنازعات بَين الْخُصُوم، وكف الظَّالِم عَن الْمَظْلُوم، وَلَا يولي (11 / أ) ذَلِك إِلَّا من يَثِق بديانته وأمانته وصيانته من الْعلمَاء والصلحاء، والكفاة النصحاء،
আর আল্লাহ তাআলা পরামর্শ (مشاورة) গ্রহণের ঊর্ধ্বে, তবে তিনি তাদের জন্য একটি সুন্নাত বা আদর্শ (سنة) প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন।
তৃতীয় অধিকার:
ইসলামের নিদর্শনসমূহ (شعائر الإسلام) কায়েম করা: যেমন ফরজ নামাজসমূহ, জুমুআ ও জামাতসমূহ, আজান, ইকামত, খুতবা ও ইমামত। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সিয়াম ও ইফতারের বিষয়াবলি এবং নতুন চাঁদ দেখার প্রতি দৃষ্টি রাখা এবং পবিত্র কাবা শরিফের হজ ও ওমরাহ পালন। আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: দুই ঈদের প্রতি গুরুত্বারোপ করা, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজিদের যাতায়াত সহজতর করা এবং তাদের যাতায়াতের পথ সংস্কার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের বিষয়াবলি তদারকির জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করা।
চতুর্থ অধিকার:
বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং মজলুমের ওপর জালেমের অত্যাচার বন্ধ করার লক্ষ্যে ওয়ালি (ولاة) ও বিচারক (حكام) নিয়োগের মাধ্যমে মামলা ও বিধানসমূহের ফয়সালা করা। আর এই দায়িত্ব (১১ / আ) কেবল এমন আলেম ও নেককার ব্যক্তিদের ওপর ন্যস্ত করা হবে যাদের দ্বীনদারি, আমানতদারি ও সচ্চরিত্রের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) রয়েছে এবং যারা যোগ্য ও একনিষ্ঠ হিতাকাঙ্ক্ষী।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
وَلَا يدع السُّؤَال عَن أخبارهم والبحث عَن أَحْوَالهم، ليعلم حَال الْوُلَاة مَعَ الرّعية، فَإِنَّهُ مسؤول عَنْهُم، مطَالب بِالْجِنَايَةِ مِنْهُم. قَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] (كل رَاع مسؤول عَن رَعيته) .
الْحق الْخَامِس: إِقَامَة فرض الْجِهَاد بِنَفسِهِ، وبجيوشه أَو سراياه وبعوثه، وَأَقل مَا يجب فِي كل سنة مرّة إِن كَانَ بِالْمُسْلِمين قُوَّة، فَإِن دعت الْحَاجة إِلَى أَكثر مِنْهُ وَجب بِقدر الْحَاجة، وَلَا يخلي سنة من جِهَاد إِلَّا لعذر كضعف بِالْمُسْلِمين - وَالْعِيَاذ بِاللَّه تَعَالَى - واشتغالهم بفكاك أَسْرَاهُم، واستنقاذ بِلَاد استولى الْكفَّار عَلَيْهَا. وَيبدأ بِقِتَال من يَلِيهِ من الْكفَّار إِلَّا إِذا قَصده الْأَبْعَد، فَيبْدَأ بقتاله لدفعه.
الْحق السَّادِس: إِقَامَة الْحُدُود الشَّرْعِيَّة على الشُّرُوط (11 / ب) المرعية، صِيَانة لمحارم الله عَن التجريء عَلَيْهَا، ولحقوق الْعباد عَن التخطي إِلَيْهَا. ويسوّي فِي الْحُدُود بَين الْقوي والضعيف، والوضيع والشريف. قَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : " إِنَّمَا أهلك من كَانَ قبلكُمْ أَنهم كَانُوا يُقِيمُونَ الْحُدُود
আর তিনি যেন তাদের খবরাখবর নেওয়া এবং তাদের অবস্থা অনুসন্ধান করা পরিহার না করেন, যাতে প্রজাদের সাথে শাসকদের (الولاة) অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। কেননা তিনি তাদের বিষয়ে দায়িত্বশীল এবং তাদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের জন্য জিজ্ঞাসিত হবেন। আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: (প্রত্যেক তত্ত্বাবধায়কই তার অধীনস্তদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে)।
পঞ্চম অধিকার: সশরীরে অথবা তার সৈন্যবাহিনী, ছোট যুদ্ধাভিযান (سرايا) কিংবা প্রেরিত বাহিনীর (بعوث) মাধ্যমে জিহাদের (الجهاد) আবশ্যকতা কায়েম করা। মুসলমানদের সক্ষমতা থাকলে প্রতি বছর অন্তত একবার এটি করা আবশ্যক (وجب)। যদি এর চেয়ে বেশি প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে প্রয়োজন অনুযায়ী তা আবশ্যক (وجب) হবে। কোনো ওজর ছাড়া কোনো বছরকেই জিহাদ (الجهاد) বর্জিত রাখা যাবে না—যেমন মুসলমানদের দুর্বলতা (আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় চাই) কিংবা তাদের যুদ্ধবন্দীদের মুক্ত করা এবং কাফেরদের দ্বারা দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে ব্যস্ত থাকা। তিনি তাঁর নিকটবর্তী কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করবেন, যদি না কোনো দূরবর্তী শত্রু তাঁকে আক্রমণ করে; সেক্ষেত্রে তাঁকে প্রতিহত করতে আগে লড়াই শুরু করবেন।
ষষ্ঠ অধিকার: আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহের প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শন থেকে রক্ষা করতে এবং বান্দার অধিকারসমূহ লঙ্ঘন থেকে হেফাযত করার জন্য অনুসৃত শর্তাবলি (১১/খ) সাপেক্ষে শরয়ি দণ্ডবিধি (الحدود) কার্যকর করা। দণ্ডবিধি (الحدود) প্রয়োগের ক্ষেত্রে তিনি শক্তিশালী ও দুর্বল এবং নিচ ও উচ্চ বংশীয়দের মাঝে সমতা রক্ষা করবেন। আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "তোমাদের পূর্ববর্তীরা কেবল এজন্যই ধ্বংস হয়েছিল যে, তারা যখন দণ্ডবিধি (الحدود) কার্যকর করত..."
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
على الوضيع، ويتركون الشريف، وَايْم الله لَو أَن فَاطِمَة بنت مُحَمَّد سرقت لقطع مُحَمَّد يَدهَا ".
الْحق السَّابِع: جباية الزكوات والجزية من أَهلهَا، وأموال الْفَيْء وَالْخَرَاج عِنْد محلهَا، وَصرف ذَلِك فِي مصارفه الشَّرْعِيَّة، وجهاته المرضية، وَضبط جِهَات ذَلِك، وتفويضه إِلَى الثِّقَات من الْعمَّال.
الْحق الثَّامِن:
النّظر فِي أوقاف الْبر والقربات، وصرفها فِيمَا هِيَ لَهُ من الْجِهَات، وَعمارَة القناطر وتسهيل سبل الْخيرَات.
الْحق التَّاسِع:
النّظر فِي قسم الْغَنَائِم وتقسيمها، وَصرف أخماسها إِلَى
...অখ্যাত ব্যক্তির ওপর (দণ্ড কার্যকর করত), এবং অভিজাত ব্যক্তিকে তারা ছেড়ে দিত। আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তবে মুহাম্মাদ অবশ্যই তার হাত কেটে দিত।
সপ্তম অধিকার: হকদারদের নিকট থেকে যাকাত ও জিজিয়া সংগ্রহ করা এবং ফাই ও খারাজের সম্পদ যথাসময়ে আদায় করা; এবং তা শরিয়তসম্মত খাতে ও সন্তোষজনক পথে ব্যয় করা। এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো সুশৃঙ্খল করা এবং আমলদের (কর্মকর্তাদের) মধ্য থেকে নির্ভরযোগ্য (الثقات) ব্যক্তিদের ওপর তা অর্পণ করা।
অষ্টম অধিকার:
সদকা ও পুণ্য অর্জনের ওয়াকফসমূহের তদারকি করা এবং তা নির্ধারিত খাতে ব্যয় করা; আর সেতু নির্মাণ ও কল্যাণমূলক কাজগুলোর পথ সুগম করা।
নবম অধিকার:
গণিমত বণ্টন ও এর বিভাগসমূহের তদারকি করা এবং এর এক-পঞ্চমাংশ ব্যয় করা...
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
مستحقيها، كَمَا سَيَأْتِي تفصيلها فِي بَاب (12 / أ) الْغَنَائِم إِن شَاءَ الله تَعَالَى.
الْحق الْعَاشِر:
الْعدْل فِي سُلْطَانه، وسلوك موارده فِي جَمِيع شَأْنه. قَالَ تَعَالَى {إِن الله يَأْمر بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَان} . وَقَالَ تَعَالَى: {وَإِذا قُلْتُمْ فاعدلوا} وَفِي كَلَام الْحِكْمَة: عدل الْملك حَيَاة الرّعية، وروح المملكة، فَمَا بَقَاء جَسَد لَا روح فِيهِ. فَيجب على من حكّمه الله تَعَالَى فِي عباده، وملّكه شَيْئا من بِلَاده، أَن يَجْعَل الْعدْل أصل اعْتِمَاده، وَقَاعِدَة استناده، لما فِيهِ من مصَالح الْعباد وَعمارَة الْبِلَاد، وَلِأَن نعم الله يجب شكرها، وَأَن يكون الشُّكْر على قدرهَا، ونعمة الله على السُّلْطَان فَوق كل نعْمَة، فَيجب أَن يكون شكره أعظم من كل شكر.
وَأفضل مَا يشْكر بِهِ السُّلْطَان لله تَعَالَى؛ إِقَامَة الْعدْل فِيمَا حكمه فِيهِ، وَلذَلِك رُوِيَ فِي الحَدِيث (عدل الإِمَام فِي رَعيته يَوْمًا وَاحِدًا أفضل من عبَادَة (12 / ب) سِتِّينَ سنة) . وَرُوِيَ: (مائَة سنة) .
এর হকদারগণের নিকট, যেমনটি ইনশাআল্লাহ গনিমতের অধ্যায়ে (১২/আ) বিস্তারিত বর্ণিত হবে।
দশম অধিকার:
তাঁর শাসনামলে ন্যায়বিচার (عدل) কায়েম করা এবং তাঁর সকল বিষয়ে ইনসাফের পথ অবলম্বন করা। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার ও ইহসানের নির্দেশ দেন}। তিনি আরও বলেন: {আর যখন তোমরা কথা বলবে, তখন ইনসাফ রক্ষা করো}। প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীতে বর্ণিত আছে: শাসকের ন্যায়বিচার (عدل) হলো প্রজাদের জীবন এবং রাজ্যের প্রাণ; আর প্রাণহীন দেহের তো কোনো স্থায়িত্ব নেই। তাই মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর যাঁকে শাসনভার অর্পণ করেছেন এবং তাঁর কোনো ভূখণ্ডের রাজত্ব দান করেছেন, তাঁর জন্য ন্যায়বিচারকে (عدل) তাঁর প্রধান অবলম্বন ও নির্ভরতার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা আবশ্যক। কেননা এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে বান্দাদের কল্যাণ ও জনপদের সমৃদ্ধি। অধিকন্তু, আল্লাহর নেয়ামতসমূহের শুকরিয়া আদায় করা ওয়াজিব, এবং সেই শুকরিয়া হতে হবে নেয়ামতের মর্যাদা অনুযায়ী। সুলতানের প্রতি আল্লাহর নেয়ামত যেহেতু অন্য সকল নেয়ামতের ঊর্ধ্বে, তাই তাঁর শুকরিয়াও হতে হবে অন্য সবকিছুর চেয়ে মহান।
আর মহান আল্লাহর প্রতি সুলতানের শুকরিয়া আদায়ের সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা হলো তাঁর শাসনাধীন বিষয়ে ন্যায়বিচার (عدل) কায়েম করা। এ কারণেই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে (روي): (প্রজাদের মাঝে ইমামের একদিনের ন্যায়বিচার ষাট বছরের ইবাদতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ)। আবার (একশ বছর) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে (روي)।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৭০)
وَلما كَانَ خطر السُّلْطَان جسيماً، ونفعه عميماً، كَانَ أجره عِنْد الله عَظِيما، ومقامه فِي الْجنَّة كَرِيمًا، وَلَو لم يكن فِي أجر الْعدْل مَا فِيهِ، لكَانَتْ مصَالح الْملك وَعمارَة الممالك تَقْتَضِيه، وَلذَلِك كَانَ كسْرَى وَغَيره من كفرة الْمُلُوك فِي غَايَة الْعدْل، مَعَ أَنهم لَا يَعْتَقِدُونَ ثَوابًا وَلَا عقَابا، لأَنهم علمُوا أَن بِالْعَدْلِ صَلَاح ملكهم، وَبَقَاء دولتهم، وَعمارَة بِلَادهمْ.
قَالَ الْحُكَمَاء: الْملك بِنَاء أساسه الْجند، والجند جَيش يجمعهُمْ المَال، وَالْمَال رزق تجلبه الْعِمَارَة، والعمارة عمل يَنْمُو بِالْعَدْلِ.
وَقَالَ الْحُكَمَاء: الْعَالم بُسْتَان سياجه الدولة، والدولة سُلْطَان يعضده الْجَيْش، والجيش جند يجمعهُمْ المَال، وَالْمَال رزق تجمعه الرّعية، والرعية عبيد ينشئهم الْعدْل.
وَقد اتّفقت شرائع الْأَنْبِيَاء وآراء الْحُكَمَاء والعقلاء أَن الْعدْل سَبَب لنمو البركات ومزيد (13 / أ) الْخيرَات، وَأَن الظُّلم والجور سَبَب لخراب الممالك، واقتحام المهالك وَلَا شكّ عِنْدهم فِي ذَلِك.
قيل: نزل ملك متخفياً فَمر بِرَجُل لَهُ بقرة، تحلب حلاب ثَلَاثِينَ بقرة فَعجب مِنْهَا، وعزم على أَخذهَا، فحلبت فِي الْغَد نصف حلبها، فَسَأَلَهُ الْملك عَن سَبَب ذَلِك فَقَالَ: أَظن أَن سلطاننا عزم على أَخذهَا، وظلم الْملك يذهب الْبركَة، فَنوى السُّلْطَان تَركهَا، وَعَاهد الله عَلَيْهِ، فجلبت من الْغَد عَادَتهَا، فعاهد السُّلْطَان ربه أَن يعدل مَا بقى.
যেহেতু সুলতানের (শাসকের) দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুতর এবং তাঁর উপকারিতা সুদূরপ্রসারী, তাই আল্লাহর নিকট তাঁর প্রতিদান হবে সুমহান এবং জান্নাতে তাঁর মর্যাদা হবে অত্যন্ত সম্মানজনক। যদি ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের পুণ্য তেমন নাও হতো, তবুও সাম্রাজ্যের কল্যাণ এবং দেশ আবাদের স্বার্থে এর প্রয়োজন ছিল। এই কারণেই পারস্যের সম্রাট খসরু এবং অন্যান্য কাফির রাজারা চরম ন্যায়পরায়ণ ছিলেন, যদিও তাঁরা পরকালীন পুরস্কার বা শাস্তিতে বিশ্বাসী ছিলেন না। কারণ তাঁরা জানতেন যে, ন্যায়বিচারের মাধ্যমেই তাঁদের রাজত্ব সংশোধিত হয়, তাঁদের শাসনের স্থায়িত্ব বজায় থাকে এবং তাঁদের দেশ সমৃদ্ধ হয়।
প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ বলেছেন: রাজত্ব হলো একটি ইমারত যার ভিত্তি হলো সৈন্যদল; আর সৈন্যদল হলো এমন এক বাহিনী যাদের অর্থ একত্রিত করে; অর্থ হলো এমন এক জীবিকা যা আবাদ বা উন্নয়নের মাধ্যমে অর্জিত হয়; আর উন্নয়ন হলো এমন এক কাজ যা ন্যায়বিচারের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়।
প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ আরো বলেছেন: বিশ্ব হলো একটি বাগান যার বেষ্টনী হলো রাষ্ট্র; রাষ্ট্র হলো একজন সুলতান যাকে সেনাবাহিনী শক্তিশালী করে; সেনাবাহিনী হলো সৈন্যদল যাদের অর্থ একত্রিত করে; আর অর্থ হলো এমন এক জীবিকা যা প্রজারা সংগ্রহ করে; আর প্রজারা হলো এমন অনুসারী যাদেরকে ন্যায়বিচার গড়ে তোলে।
আম্বিয়াগণের শরিয়ত এবং প্রাজ্ঞ ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের অভিমত এ বিষয়ে একমত যে, ন্যায়বিচার হলো বরকত বৃদ্ধি ও উত্তরোত্তর (১৩ / অ) কল্যাণ লাভের মাধ্যম; আর জুলুম ও অবিচার হলো সাম্রাজ্য ধ্বংস হওয়া এবং ধ্বংসের মুখে নিপতিত হওয়ার কারণ। এ ব্যাপারে তাঁদের নিকট কোনো সন্দেহ নেই।
বর্ণিত আছে যে, এক রাজা ছদ্মবেশে সফর করছিলেন। পথে তিনি এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যার একটি গাভী ছিল। গাভীটি একাই ত্রিশটি গাভীর সমান দুধ দিত। রাজা এতে বিস্মিত হলেন এবং সেটি হস্তগত করার সংকল্প করলেন। ফলে পরের দিন গাভীটি তার স্বাভাবিক দুধের অর্ধেক পরিমাণ দুধ দিল। রাজা এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে লোকটি বলল: আমার মনে হয় আমাদের সুলতান এটি কেড়ে নেওয়ার সংকল্প করেছেন; কারণ শাসকের জুলুম বরকত দূর করে দেয়। তখন সুলতান সেটি ছেড়ে দেওয়ার নিয়ত করলেন এবং আল্লাহর সাথে এ মর্মে অঙ্গীকার করলেন। ফলে পরের দিন গাভীটি পুনরায় তার স্বাভাবিক পরিমাণে দুধ দিল। তখন সুলতান তাঁর রবের সাথে অঙ্গীকার করলেন যে, তিনি তাঁর অবশিষ্ট জীবনে ন্যায়বিচার করবেন।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৭১)
وَقيل: كَانَ بصعيد مصر نَخْلَة تحمل سِتِّينَ ويبة، فغصبها السُّلْطَان فَلم تحمل ثَمَرَة وَاحِدَة.
فقد ظهر أَن بِالْعَدْلِ قيام الْملك ودوام السُّلْطَان، وَشرف الدُّنْيَا وَالْآخِرَة.
فصل (4)
25 - قد ذكرنَا مَا للسُّلْطَان من الْحُقُوق، وفصلنا ذَلِك بِمَا يُغني عَن (13 / ب) إِعَادَته، وَمَا سوى ذَلِك فالسلطان فِيهِ وَاحِد من الْمُسلمين لَهُ مَا لَهُم وَعَلِيهِ مَا عَلَيْهِم: من فرض وَسنة، وَطَاعَة ومعصية، وحلال وَحرَام، وَغير ذَلِك من الْأَحْكَام.
فصل (5)
26 - يجب على السُّلْطَان أَن ينزل نَفسه من الله تَعَالَى بِمَنْزِلَة ولاته ونوابه، لِأَنَّهُ فِي ملك الله الَّذِي أَقَامَهُ فِيهِ يتَصَرَّف، وبشريعته الَّتِي أمره بهَا يعْمل، فَكَمَا أَن من أطاعة من نوابه ونصحه فِي مَمْلَكَته، اسْتحق شكره واستمراره، وَأَن من خَالف مَا حدده لَهُ وأوجبه اسْتحق عَزله وغضبه، فَكَذَلِك حَال السُّلْطَان مَعَ الله تَعَالَى فِي رعاياه، إِن أطاعه فيهم أَو عَصَاهُ.
বলা হয়ে থাকে যে, উচ্চ মিশরের সা’ইদ অঞ্চলে একটি খেজুর গাছ ছিল যা ষাট ‘ওয়াইবা’ ফল উৎপাদন করত; অতঃপর সুলতান সেটি জবরদখল করেন, ফলে সেটি আর একটি ফলও দেয়নি।
এতে প্রতীয়মান হয়েছে যে, ন্যায়বিচারের (عدل) মাধ্যমেই রাজত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং সুলতানের ক্ষমতা স্থায়িত্ব পায়, আর দুনিয়া ও আখেরাতের মর্যাদা অর্জিত হয়।
পরিচ্ছেদ (৪)
২৫ - সুলতানের যেসব অধিকার রয়েছে তা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি এবং সেগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছি যা তা পুনরায় (১৩/খ) উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তা দূর করে। এছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে সুলতানও সাধারণ মুসলিমদের একজন; তাদের যা প্রাপ্য তাঁরও তা প্রাপ্য এবং তাদের ওপর যা কর্তব্য তাঁর ওপরও তা অর্পিত: ফরজ (فرض), সুন্নত (سنة), আনুগত্য (طاعة), পাপাচার (معصية), হালাল (حلال) ও হারাম (حرام) এবং শরিয়তের অন্যান্য বিধানাবলি (أحكام)।
পরিচ্ছেদ (৫)
২৬ - সুলতানের জন্য আবশ্যক হলো মহান আল্লাহর নিকট নিজেকে তাঁর নিযুক্ত ওয়ালি (والي) ও প্রতিনিধিদের (نائب) সমপর্যায়ে গণ্য করা। কেননা, আল্লাহ তাঁকে যে রাজত্বে আসীন করেছেন তিনি সেখানে কেবল পরিচালনা করেন এবং তাঁরই নির্দেশিত শরিয়ত (شريعة) অনুযায়ী আমল করেন। সুতরাং তাঁর প্রতিনিধিদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাঁর আনুগত্য (طاعة) করে এবং তাঁর রাজ্যে তাঁর কল্যাণ কামনা (نصح) করে, সে যেমন তাঁর কৃতজ্ঞতা ও পদে বহাল থাকার যোগ্য হয়; আর যে ব্যক্তি তাঁর নির্ধারিত সীমা ও ওয়াজিব (واجب) নির্দেশ লঙ্ঘন করে, সে যেমন পদচ্যুতি ও তাঁর ক্রোধের যোগ্য হয়; প্রজাদের বিষয়ে মহান আল্লাহর সাথে সুলতানের অবস্থাও তদ্রূপ, চাই তিনি তাদের ক্ষেত্রে আল্লাহর আনুগত্য (طاعة) করুন কিংবা তাঁর অবাধ্যতা (معصية) করুন।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৭২)
27 - وَكَذَلِكَ يَنْبَغِي للسُّلْطَان مُشَاورَة الْعلمَاء العاملين الناصحين لله وَرَسُوله وللمسلمين فيعتمد عَلَيْهِم فِي أَحْكَامه، ونقضه وإبرامه، وجدير بِملك يكون تَدْبيره بَين نصيحة الْعلمَاء، وَدُعَاء الصلحاء، أَن يقوم عمده، ويدوم أمده.
فصل (6)
28 - (14 / أ) إِذا طَرَأَ على الإِمَام أَو السُّلْطَان مَا يُوجب فسقه، فَالْأَصَحّ أَنه لَا يَنْعَزِل عَن الْإِمَامَة بذلك، لما فِيهِ من اضْطِرَاب الْأَحْوَال، بِخِلَاف القَاضِي إِذا طَرَأَ عَلَيْهِ الْفسق، فَالْأَصَحّ أَنه يَنْعَزِل.
29 - وَإِذا خرج على الإِمَام طَائِفَة من الْمُسلمين فرامت خلعه، أَو منعته حَقًا عَلَيْهَا لَهُ، سَأَلَهُمْ مَا ينقمون، فَإِن ذكرُوا شُبْهَة أزالها، أَو عِلّة أزاحها، فَإِن أصروا على مشاققته وعظهم، وخوفهم بقتاله لَهُم، فَإِن أصروا على المشاققة قَاتلهم، لقَوْله تَعَالَى {فَقَاتلُوا الَّتِي تبغى حَتَّى تفئ إِلَى أَمر الله} وَلَا يقاتلهم بِمَا يعم كالمنجنيق وَالنَّار إِلَّا لضَرُورَة، وَلَا يتبع فِي الْحَرْب مدبرهم، وَلَا يدفف على جريحهم، وَلَا يسبي حريمهم، وَلَا
২৭ - একইভাবে সুলতানের জন্য উচিত আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুসলিমদের কল্যাণকামী (ناصحين) আমলকারী আলেমদের সাথে পরামর্শ করা। ফলে তিনি তাঁর বিচারকার্য, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাতিলের ক্ষেত্রে তাঁদের ওপর নির্ভর করবেন। আর যে বাদশাহর শাসনব্যবস্থা আলেমদের সদুপদেশ এবং নেককারদের (صلحاء) দোয়ার ওপর পরিচালিত হয়, তাঁর শাসনব্যবস্থার ভিত্তি সুদৃঢ় হওয়া এবং স্থায়িত্ব দীর্ঘ হওয়া বাঞ্ছনীয়।
পরিচ্ছেদ (৬)
২৮ - (১৪ / অ) ইমাম বা সুলতানের মধ্যে যদি এমন কোনো বিষয় প্রকাশ পায় যা তাঁর পাপাচার (فسق) সাব্যস্ত করে, তবে বিশুদ্ধতর (الأصح) মত অনুযায়ী এর কারণে তিনি ইমামত বা নেতৃত্ব থেকে অপসারিত হবেন না; কারণ এতে পরিস্থিতির বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। পক্ষান্তরে বিচারকের (قاضي) ক্ষেত্রে যদি পাপাচার (فسق) প্রকাশ পায়, তবে বিশুদ্ধতর (الأصح) মত হলো তিনি অপসারিত হবেন।
২৯ - যদি মুসলিমদের কোনো দল ইমামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং তাঁকে পদচ্যুত করার সংকল্প করে, অথবা তাঁর কোনো প্রাপ্য অধিকার প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়, তবে তিনি তাঁদের কাছে তাঁদের অসন্তুষ্টির কারণ জানতে চাইবেন। যদি তাঁরা কোনো সংশয় (شبهة) উল্লেখ করেন তবে তিনি তা নিরসন করবেন, অথবা কোনো ওজর বা ত্রুটি (علة) পেশ করলে তা দূর করবেন। এরপরও যদি তাঁরা তাঁর বিরোধিতা (مشاققة) অব্যাহত রাখে, তবে তিনি তাঁদের উপদেশ দেবেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ভয় দেখাবেন। যদি তাঁরা তবুও বিরোধিতায় (مشاققة) অবিচল থাকে, তবে তিনি তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন। কেননা মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {অতএব তোমরা সেই দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যারা বিদ্রোহ (تبغى) করে, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর আদেশের দিকে ফিরে আসে।} অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ব্যতিরেকে তিনি তাঁদের বিরুদ্ধে এমন কোনো মাধ্যম ব্যবহার করবেন না যার প্রভাব ব্যাপক হয়, যেমন মিনজানিক (পাথর নিক্ষেপক যন্ত্র) ও আগুন। যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়নকারীদের তিনি অনুসরণ করবেন না, আহতদের চূড়ান্ত আঘাত (يدفف) করবেন না, তাঁদের নারী ও শিশুদের যুদ্ধবন্দী করবেন না এবং...
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুল আহকাম ফী তদবীরি আহলিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
يغنم أَمْوَالهم؛ لِأَن الْمَقْصُود دفعهم عَن الْبَاطِل، ورجوعهم إِلَى الْحق. وَلَا يضمن أهل الْعدْل مَا أتلفوه عَلَيْهِم فِي الْحَرْب من نفس وَمَال. (14 / ب) وَمن أسر من رِجَالهمْ حبس إِلَى انْقِضَاء حربهم، ثمَّ يتْرك وَيُؤْخَذ عَلَيْهِ الْعَهْد أَنه لَا يعود إِلَى ذَلِك.
فصل (7)
30 - السُّلْطَان فِي لُغَة الْعَرَب: قد يسْتَعْمل فِي المملكة وَالْقُدْرَة، وَمِنْه قَوْله تَعَالَى {لَا تنفذون إِلَّا بسُلْطَان} وَقد يسْتَعْمل بِمَعْنى الْحجَّة، وَمِنْه قَوْله {فأتونا بسُلْطَان مُبين} فَسُمي السُّلْطَان سُلْطَانا إِمَّا لملكته وَقدرته، وَإِمَّا لكَونه حجَّة على وجود الله وتوحيده، لِأَنَّهُ كَمَا لَا يَسْتَقِيم أَمر الإقليم بِغَيْر مُدبر، فَكَذَلِك لَا يَسْتَقِيم أَمر الْعَالم وَمَا فِيهِ من الحكم بِغَيْر مُدبر حَكِيم، وكما لَا يَسْتَقِيم
তাদের সম্পদ গনীমত (غنم) হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না; কারণ মূল উদ্দেশ্য হলো তাদের বাতিল থেকে প্রতিহত করা এবং সত্যের দিকে ফিরিয়ে আনা। আর ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তিরা যুদ্ধের সময় তাদের জান ও মালের যে ক্ষতি করেছে, তার জন্য তারা দায়ী হবে না। (১৪ / খ) তাদের পুরুষদের মধ্যে যারা বন্দী হবে, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আটকে রাখা হবে, অতঃপর তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে এবং তাদের থেকে এই অঙ্গীকার নেওয়া হবে যে, তারা পুনরায় এর পুনরাবৃত্তি করবে না।
পরিচ্ছেদ (৭)
৩০ - আরবি ভাষায় 'সুলতান' শব্দটির ব্যবহার: এটি কখনো রাজত্ব ও ক্ষমতার অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার উদাহরণ মহান আল্লাহর এই বাণী: {তোমরা ক্ষমতা (سلطان) ব্যতীত তা অতিক্রম করতে পারবে না}। আবার এটি কখনো প্রমাণ (حجة) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার উদাহরণ মহান আল্লাহর এই বাণী: {অতএব তোমরা আমাদের কাছে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ (سلطان) নিয়ে এসো}। সুতরাং সুলতানকে 'সুলতান' নামকরণ করা হয়েছে হয় তার রাজত্ব ও ক্ষমতার কারণে, অথবা আল্লাহর অস্তিত্ব ও তাঁর একত্ববাদের স্বপক্ষে একটি প্রমাণ (حجة) হওয়ার কারণে। কেননা, কোনো পরিচালক (مدبر) ছাড়া যেমন একটি ভূখণ্ডের শৃঙ্খলা বজায় থাকে না, তেমনি একজন প্রজ্ঞাবান পরিচালকের কর্তৃত্ব ছাড়া এই বিশ্বজগত এবং এর অন্তর্ভুক্ত হিকমতসমূহ সুশৃঙ্খল হতে পারে না। আর যেমনিভাবে...