(খণ্ড: ১) ইতহাফু যাবিল ইতকান বি হুকমির রিহান (পৃষ্ঠা: -)
إتحاف ذوي الإتقان بحكم الرهان   (الشرنبلالي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: إتحاف ذوي الإتقان بحكم الرهان

المؤلف: حسن بن عمار بن علي الشرنبلالي المصري الحنفي (ت 1069هـ)

المحقق: أبو المنذر المنياوي

الناشر: مخطوط ينشر لأول مرة بالمكتبة الشاملة، 1434 هـ

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للأصل (نسخة المحقق)]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 محرم 1434

ইতহাফু যাউয়িল ইতকান বি-হুকমির রিহান   (আশ-শুরুনবুলালি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: ইতহাফু যাউয়িল ইতকান বি-হুকমির রিহান

লেখক: হাসান বিন আম্মার বিন আলি আশ-শুরুনবুলালি আল-মিসরি আল-হানাফি (মৃ. ১০৬৯ হিজরি)

গবেষক (المحقق): আবু আল-মুনযির আল-মিনইয়াওয়ি

প্রকাশক: পাণ্ডুলিপি (مخطوط) যা মাকতাবাতুশ শামিলায় প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হচ্ছে, ১৪৩৪ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল কপির (গবেষকের কপি (نسخة المحقق))] অনুরূপ

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ মুহাররম ১৪৩৪

(খণ্ড: ১) ইতহাফু যাবিল ইতকান বি হুকমির রিহান (পৃষ্ঠা: ১)
الرسالة الخامسة والخمسون

إتحاف ذوي الإتقان بحكم الرهان

تأليف العلامة

حسن الوفائي الشُرُنْبُلالي الحنفي

(1069 هـ)

رحمه الله

 

تحقيق

أبي المنذر مَحْمُود بن مُحمَّدِ بن مُصْطَفَى المِنِياوِي

عفا الله تعالى عنه وعن والديه
পঞ্চান্নতম রিসালাহ

ইতহাফু যাওয়িল ইতকান বি-হুকমির রিহান (বাজি ধরার বিধান বর্ণনায় বিজ্ঞজনদের উপহার)

আল্লামা-র রচনা

হাসান আল-ওয়াফায়ী আশ-শুরুনবুলানি আল-হানাফী

(১০6৯ হিজরি)

আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন

 

তাহকিক

আবু আল-মুনযির মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন মুস্তফা আল-মিনিয়াউয়ী

আল্লাহ তাআলা তাঁকে এবং তাঁর পিতামাতাকে ক্ষমা করুন
(খণ্ড: ১) ইতহাফু যাবিল ইতকান বি হুকমির রিহান (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}،

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً}،

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً}،

أما بعد، ..

فهذا جهد المقل في تحقيق مخطوط " إتحاف ذوي الإتقان بحكم الرهان" تأليف العلامة حسن الشرنبلالي رحمه الله

وهي الرسالة الرسالة الخامسة والخمسون ضمن سلسلة من رسائله رحمه الله وقع الاختيار عليها قدرا عبر المرور السريع على أسماء الرسائل المودوعة في مجموعه، والنية منعقدة على إخراج باقي الرسائل التي لم تطبع من هذا المجموع بإذن الله تعالى.

 

‌‌عملي في المخطوط:

1 - قمت بنسخ المخطوط، وقد وجدت نسختين خطيتين منه، فاعتمدت إحداهما للبدء بنسخها وأشير إليها بالحرف " أ "، وأشرت للثانية بالحرف " ب ".

2 - قارنت الفروق بين النسختين وأثبتها في الحاشية، وإن وجدت اختلافا - وهو قليل جدا - أثبت ما أراه مناسبا للسياق ووضعته بين معكوفتين، وأشير إلي غيره في الحاشية.

3 - قمت بالترجمة لغير المشهورين ممن ورد ذكرهم من العلماء في الرسالة.

4 - قمت بالتعريف بالكتب التي ورد ذكرها في الرسالة.

5 - قدمت لها بوصف النسخ الخطية التي عثرت عليها، وتحقيق نسبتها لمؤلفها، والترجمة السريعة للمؤلف رحمه الله.
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।”

“হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্তসম্পর্কিত আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।”

“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।”

অতঃপর, ..

আল্লামা হাসান আশ-শুরুনবুলালি (রহিমাহুল্লাহ) রচিত "ইতহাফু যাওয়িল ইতকান বি হুকমির রিহান" নামক পাণ্ডুলিপি (مخطوط) সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে এটি এক নগণ্য প্রচেষ্টা।

এটি তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) রিসালাহ বা প্রবন্ধমালার ধারাবাহিকতায় ৫৫তম রিসালাহ। তাঁর সংকলিত রিসালাহগুলোর শিরোনাম দেখার সময় আকস্মিকভাবেই এটি নির্বাচিত হয়েছে। আর ইচ্ছা আছে এই সংকলন থেকে যে রিসালাহগুলো এখনো মুদ্রিত হয়নি, আল্লাহর ইচ্ছায় সেগুলো প্রকাশ করার।

 

‌‌পাণ্ডুলিপিতে আমার কর্মপদ্ধতি:

1 - আমি পাণ্ডুলিপিটি (مخطوط) প্রতিলিপি করেছি। আমি এর দুটি হাতে লেখা কপি বা পাণ্ডুলিপি (نسخة خطية) পেয়েছি। প্রতিলিপি করার জন্য আমি একটির ওপর নির্ভর করেছি এবং সেটিকে 'আলিফ' (أ) চিহ্ন দ্বারা চিহ্নিত করেছি এবং দ্বিতীয়টিকে 'বা' (ب) চিহ্ন দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

2 - আমি কপি দুটির মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্যগুলো তুলনা করেছি এবং সেগুলো টীকায় (حاشية) উল্লেখ করেছি। যদি কোনো পার্থক্য পেয়ে থাকি—যা খুবই সামান্য—তবে আমি প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পাঠটি মূল পাঠে স্থির করেছি এবং তা বন্ধনীভুক্ত করেছি, আর অন্যটি টীকায় (حاشية) উল্লেখ করেছি।

3 - এই রিসালাহতে উল্লিখিত আলেমদের মধ্যে যারা সুপ্রসিদ্ধ নন, আমি তাঁদের জীবনী (ترجمة) তুলে ধরেছি।

4 - এই রিসালাহতে উল্লিখিত বইগুলোর পরিচয় প্রদান করেছি।

5 - আমি পাণ্ডুলিপিগুলোর (نسخ خطية) বিবরণ, লেখকের প্রতি এর সম্পৃক্ততার যাচাইকরণ (تحقيق) এবং লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী (ترجمة) প্রদানের মাধ্যমে বইটির ভূমিকা লিখেছি।
(খণ্ড: ১) ইতহাফু যাবিল ইতকান বি হুকমির রিহান (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌حول الرسالة:

‌‌وصف النسخ الخطية:

والمخطوط ضمن مخطوطات موقع الأزهر الشريف.

وقد وقفت على نسختين خطيتين منه:

الأولى منهما فهرست خطا في الموقع تحت اسم رسالة: "نظر الحاذق التحرير في فكاك الرهن والرجوع على المستعير" (324682) وهي تتكون من ست ورقات الأولى والأخيرة وجه واحد، في الأولى اسم الرسالة، وفي الأخيرة نهايتها وخاتمتها، والباقي وجهان في كل وجه (23) سطر والسطر مكون مما لا يزيد على تسع كلمات.

والثانية فهرست خطأ تحت اسم رسالة: "واضح المحجة للعدول عن خلل الحجة" (304016) وهي مكونة من ثلاث ورقات تبدأ من الوجه الثاني في الورقة الأولى وبه اسم الرسالة وبدايتها، والباقي وجهان في كل وجه: (31) سطر في كل سطر ما لا يزيد على (11) كلمة، ما عدا الوجه الأخير وبه نهاية الرسالة وخاتمتها وهو مكون من (26) سطرا.

صور المخطوط:

صورة غلاف النسخة (أ)

 

صورة الوجه الأول من الصفحة الأولى من النسخة (أ):
‌পুস্তিকা (الرسالة) প্রসঙ্গে:

‌হস্তলিখিত অনুলিপিগুলোর (النسخ الخطية) বিবরণ:

এই পাণ্ডুলিপিটি (المخطوط) আল-আযহার আল-শরীফ ওয়েবসাইটের পাণ্ডুলিপিগুলোর (مخطوطات) অন্তর্ভুক্ত।

আমি এর দুটি হস্তলিখিত অনুলিপি (نسختين خطيتين) পেয়েছি:

প্রথমটি ওয়েবসাইটে ভুলবশত "নাযারুল হাযিক আত-তাহরির ফি ফিকাকির রাহন ওয়ার রুজু আলাল মুসতাইর" (৩২৪৬৮২) শিরোনামে ক্যাটালগভুক্ত (فهرست) হয়েছে। এটি ছয়টি পত্র (ورقات) নিয়ে গঠিত, যার প্রথম এবং শেষটি এক পৃষ্ঠার। প্রথমটিতে পুস্তিকার (الرسالة) নাম রয়েছে এবং শেষটিতে এর সমাপ্তি ও উপসংহার (خاتمة) রয়েছে। বাকিগুলো উভয় পৃষ্ঠার, যার প্রতি পৃষ্ঠায় ২৩টি লাইন রয়েছে এবং প্রতিটি লাইন অনধিক নয়টি শব্দে গঠিত।

দ্বিতীয়টি ভুলবশত "ওয়াদিহুল মাহাজ্জাহ লিল উদূল আন খালালিল হুজ্জাহ" (৩০৪০১৬) শিরোনামে ক্যাটালগভুক্ত (فهرست) হয়েছে। এটি তিনটি পত্র (ورقات) নিয়ে গঠিত, যা প্রথম পত্রের (الورقة) দ্বিতীয় পৃষ্ঠা থেকে শুরু হয়েছে এবং এতে পুস্তিকার (الرسالة) নাম ও প্রারম্ভিকা রয়েছে। বাকিগুলো উভয় পৃষ্ঠার, যেখানে প্রতি পৃষ্ঠায় ৩১টি লাইন এবং প্রতি লাইনে অনধিক ১১টি শব্দ রয়েছে; তবে শেষ পৃষ্ঠাটি এর ব্যতিক্রম, যাতে পুস্তিকার (الرسالة) সমাপ্তি ও উপসংহার (خاتمة) রয়েছে এবং এটি ২৬টি লাইন বিশিষ্ট।

পাণ্ডুলিপির (المخطوط) চিত্রসমূহ:

অনুলিপি (أ)-এর প্রচ্ছদের চিত্র

 

অনুলিপি (أ)-এর প্রথম পত্রের প্রথম পৃষ্ঠার চিত্র:
(খণ্ড: ১) ইতহাফু যাবিল ইতকান বি হুকমির রিহান (পৃষ্ঠা: ৪)
صورة الصفحة الأخيرة من النسخة (أ):

 

صورة الورقة الأولى في المخطوطة النسخة (ب):
অনুলিপি (نسخة) 'ক'-এর শেষ পৃষ্ঠার চিত্র:

 

পাণ্ডুলিপি (مخطوطة)-র অনুলিপি (نسخة) 'খ'-এর প্রথম পৃষ্ঠার চিত্র:
(খণ্ড: ১) ইতহাফু যাবিল ইতকান বি হুকমির রিহান (পৃষ্ঠা: ৫)
صورة الصفحة الأخيرة من النسخة (ب):
(খ) পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার চিত্র:
(খণ্ড: ১) ইতহাফু যাবিল ইতকান বি হুকমির রিহান (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌توثيق نسبتها للمؤلف:

والرسالة منسوبة للشرنبلالي، وذلك كما هو مدون على طرتها بخط واضح لا طمس فيه، كما نسبها إليه صاحب "إيضاح المكنون" و"هدية العارفين" وغيرهما.

 

‌‌ترجمة المؤلف (1):

هو الشيخ حسن بن عمار بن علي أبو الإخلاص المصري الشرنبلالي الفقيه الحنفي الوفائي والشُرُنْبُلالي نسبة لشبرا بلولة وهذه النسبة على غير قياس والأصل شبرا بلولى نسبة كبلده تجاه منوف العليا بإقليم المنوفية بسواد مصر جاء به والده منها إلى مصر وسنه يقرب من ستة سنين فنشأ بها ودرس في الأزهر وحفظ القرآن.

وكان من أعيان الفقهاء وفضلاء عصره من سار ذكره فانتشر أمره وهو أحسن المتأخرين ملكة في الفقه وأعرفهم بنصوصه وقواعده وأنداهم قلما في التحرير والتصنيف وكان المعول عليه في الفتاوي في عصره.

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في: خلاصة الأثر للحموي (2/ 38)، والأعلام للزركلي (2/ 208)، ومعجم المؤلفين لكحالة (3/ 265)، وهدية العارفين (/292)، وغيرها.
লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের (نسبة) প্রামাণ্যতা:

এই ক্ষুদ্র গ্রন্থটি (রাসায়েল) শুরুনবুলালীর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (منسوبة), যা এর প্রচ্ছদ পৃষ্ঠায় কোনো প্রকার অস্পষ্টতা ছাড়াই অত্যন্ত স্পষ্টাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তদ্রূপ "ঈযাহুল মাকনুন" ও "হাদিয়াতুল আরিফীন" এর লেখকদ্বয় এবং অন্যান্যগণও একে তাঁর রচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

 

‌লেখকের জীবনী (১):

তিনি হলেন শায়খ হাসান বিন আম্মার বিন আলী আবু আল-ইখলাস আল-মিসরি আল-শুরুনবুলালী, একজন হানাফি ফকিহ (فقيه) এবং ওয়াফায়ি। 'শুরুনবুলালী' শব্দটি 'শুবরা বালুলা' এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত (نسبة), যদিও এই সম্বন্ধটি (نسبة) ভাষাগত নিয়মের বহির্ভূত; মূল শব্দটি হলো 'শুবরা বালুলা', যা মিশরের মানুফিয়া প্রদেশের উচ্চ মানুফ অঞ্চলের বিপরীতে অবস্থিত তাঁর নিজ গ্রামের নাম। তাঁর পিতা তাঁকে সেখান থেকে মিশরে নিয়ে আসেন যখন তাঁর বয়স প্রায় ছয় বছর। তিনি সেখানেই বেড়ে ওঠেন, আল-আযহারে পড়াশোনা করেন এবং পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেন।

তিনি তাঁর যুগের বিশিষ্ট ফকিহ (فقيه) এবং শ্রেষ্ঠ গুণীজনদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাঁর সুখ্যাতি ও পরিচিতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে ফিকহ (فقه) শাস্ত্রে তিনি ছিলেন সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যুৎপত্তির অধিকারী এবং ফিকহের উদ্ধৃতি ও মূলনীতি (قواعد) সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ। লিখনী ও গ্রন্থ রচনায় তাঁর হাত ছিল অত্যন্ত সাবলীল এবং তাঁর সমসাময়িককালে ফতোয়া (فتاوي) প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর ওপরই নির্ভর করা হতো।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন: আল-হামাভির খুলাসাতুল আসার (২/ ৩৮), আল-যিরিকলির আল-আলাম (২/ ২০৮), কাহহালার মু'জামুল মুয়াল্লিফীন (৩/ ২৬৫), হাদিয়াতুল আরিফীন (২৯২) এবং অন্যান্য গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) ইতহাফু যাবিল ইতকান বি হুকমির রিহান (পৃষ্ঠা: ৭)
قرأ في صباه على الشيخ محمد الحموي والشيخ عبد الرحمن المسيري وتفقه على الإمام عبد الله التحريري والعلامة محمد المحيي وسنده في الفقه عن هذين الإمامين وعن الشيخ الإمام علي بن غانم المقدسي مشهور مستفيض ودرس بجامع الأزهر وتعين بالقاهرة وتقدم عند أرباب الدولة واشتغل عليه خلق كثير وانتفعوا به منهم العلامة أحمد العجمي والسيد السند أحمد الحموى والشيخ شاهين الأرمناوي وغيرهم من المصريين والعلامة إسماعيل النابلسي من الشاميين.

قال الحموي: واجتمع به والدي في منصرفه إلى مصر وذكره في رحلته فقال في حقه والشيخ العمدة الحسن الشرنبلالي مصباح الأزهر وكوكبه المنير المتلألي لو رآه صاحب السراج الوهاج لاقتبس من نوره أو صاحب الظهيرة لاختفى عند ظهوره أو ابن الحسن لأحسن الثناء عليه أو أبو يوسف لأجله ولم يأسف على غيره ولم يلتفت إليه عمدة أرباب الخلاف وعدة أصحاب الاختلاف صاحب التحريرات والرسائل التي فاقت أنفع الوسائل، نقال المسائل الدينية وموضح المعضلات اليقينية صاحب خلق حسن وفصاحة ولسن وكان أحسن فقهاء زمانه.

وكان معتقدا للصالحين والمجاذيب وله معهم إشارات ووقائع أحوال منها أن بعضهم قال له يا حسن من هذا اليوم لا تشتر لك ولا لأهلك وأولادك كسوة فكانت تأتيه الكسوة الفاخرة ولم يشتر بعدها شيئا من ذلك.

قدم المسجد الأقصى في سنة خمس وثلاثين وألف صحبه الأستاذ أبي الإسعاد يوسف بن وفا وكان خصيصا به في حياته.

 

‌‌تصانيفه:

مكثر من التصنيف. من كتبه نور الإيضاح في الفقه، ومراقي الفلاح شرح نور الإيضاح، وشرح منظومة ابن وهبان، وتحفة الأكمل، والتحقيقات القدسية، وتعرف برسائل الشرنبلالي، وعدتها 48 رسالة، والعقد الفريد في التقليد، ومراقي السعادات، وغنية ذوي الإحكام، وحاشية على درر الحكام لملا خسرو. توفي في القاهرة عام 1069 هـ.

وكانت وفاته يوم الجمعة بعد صلاة العصر حادي عشرى شهر رمضان سنة تسعة وستين وألف عن نحو خمس وسبعين سنة ودفن بتربة المجاورين.

শৈশবে তিনি শেখ মুহাম্মদ আল-হামাভি এবং শেখ আবদুর রহমান আল-মুসাইরির নিকট পাঠ গ্রহণ করেন। তিনি ইমাম আবদুল্লাহ আল-তাহরীরি এবং আল্লামা মুহাম্মদ আল-মুহী-এর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। এই দুই ইমাম এবং শেখ ইমাম আলী বিন গানিম আল-মাকদিসির মাধ্যমে তাঁর ফিকহ শাস্ত্রের সনদ (سند) সুপ্রসিদ্ধ (مستفيض)। তিনি জামে আল-আজহারে অধ্যাপনা করেন এবং কায়রোতে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হন। সমকালীন রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকদের নিকট তাঁর বিশেষ কদর ছিল। তাঁর নিকট অসংখ্য মানুষ জ্ঞানার্জন করেছেন এবং উপকৃত হয়েছেন; তাঁদের মধ্যে আল্লামা আহমদ আল-আজমি, সাইয়্যেদ আহমদ আল-হামাভি, শেখ শাহিন আল-আরমানাওয়ি এবং সিরীয় পণ্ডিতদের মধ্যে আল্লামা ইসমাইল আল-নাবলুসি অন্যতম।

আল-হামাভি বলেন: আমার পিতা মিশর সফরকালে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেন: তিনি হলেন নির্ভরযোগ্য অবলম্বন, হাসান আল-শুরুনবুলালি; আল-আজহারের প্রদীপ এবং এর দেদীপ্যমান উজ্জ্বল নক্ষত্র। যদি ‘আস-সিরাজ আল-ওয়াহহাজ’-এর লেখক তাঁকে দেখতেন, তবে তাঁর জ্যোতি থেকে আলো গ্রহণ করতেন; অথবা যদি ‘আয-যহীরা’-এর লেখক তাঁকে দেখতেন, তবে তাঁর আবির্ভাবে তিনি ম্লান হয়ে যেতেন। যদি ইবনে আল-হাসান তাঁকে দেখতেন, তবে তাঁর অকুন্ঠ প্রশংসা করতেন; অথবা আবু ইউসুফ যদি তাঁকে দেখতেন, তবে তাঁকে যথাযথ সম্মান দান করতেন এবং অন্য কারো জন্য আক্ষেপ করতেন না কিংবা তাঁর থেকে বিমুখ হতেন না। তিনি মতভেদপূর্ণ মাসআলাসমূহের পণ্ডিতদের প্রধান আশ্রয় এবং বিবাদমান ব্যক্তিদের সহায়। তিনি এমন সব গবেষণাপত্র ও রিসালার রচয়িতা, যা সর্বোত্তম মাধ্যমকেও ছাড়িয়ে গেছে। তিনি দ্বীনি মাসআলাসমূহের বর্ণনাকারী এবং সুনিশ্চিত জটিল বিষয়সমূহের বিশদ ব্যাখ্যাকারী। তিনি উত্তম চরিত্রের অধিকারী, সুবক্তা ও প্রাঞ্জলভাষী ছিলেন এবং তিনি তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ ফকিহ ছিলেন।

তিনি নেককার ও মাকযূবদের প্রতি বিশেষ ভক্তি রাখতেন। তাঁদের সাথে তাঁর বিভিন্ন আধ্যাত্মিক ইশারা ও ঘটনার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো—এক মাকযূব তাঁকে বলেছিলেন: হে হাসান! আজ থেকে তুমি নিজের জন্য কিংবা তোমার পরিবার ও সন্তানদের জন্য কোনো পোশাক ক্রয় করবে না। এরপর থেকে তাঁর নিকট চমৎকার সব পোশাক উপহার হিসেবে আসতে শুরু করে এবং তিনি আর কখনো পোশাক ক্রয় করেননি।

তিনি এক হাজার পঁয়ত্রিশ হিজরিতে মসজিদে আকসায় আগমন করেন। তাঁর সাথে ছিলেন ওস্তাদ আবুল ইসয়াদ ইউসুফ বিন ওয়াফা এবং তিনি তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

 

‌‌তাঁর রচনাবলী:

তিনি প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর গ্রন্থসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ফিকহ শাস্ত্রের নূরুল ইজাহ, নূরুল ইজাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ মারাকিল ফালাহ, ইবনে ওয়াহবান-এর মানযুমার ব্যাখ্যা, তুহফাতুল আকমাল, আত-তাহকীকাতুল কুদসিয়া (যা শুরুনবুলালি-এর রিসালা নামে পরিচিত এবং এর সংখ্যা ৪৮টি), তাকলীদের বিষয়ে আল-ইকদ আল-ফারিদ, মারাকিস সা’দাত, গুনিয়াতু যাওয়িল আহকাম এবং মোল্লা খসরু রচিত দুরার আল-হুক্কাম-এর ওপর একটি হাশিয়া। তিনি ১০৬৯ হিজরিতে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন।

এক হাজার উনসত্তর হিজরি সালের ১১ই রমজান শুক্রবার আসরের নামাজের পর তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল প্রায় পঁচাত্তর বছর এবং তাঁকে তুরবাতুল মুজাওয়িরিন-এ দাফন করা হয়।
(খণ্ড: ১) ইতহাফু যাবিল ইতকান বি হুকমির রিহান (পৃষ্ঠা: ৮)
[ق 258 / أ] بسم الله الر حمن الرحيم [رب يسر] (1)

الحمد لله ملهم الصواب، وميسر الأمور الصعاب، والصلاة والسلام على سيدنا محمد خير من أوتي الحكمة وفصل الخطاب، وعلى آله وأصحابه السادة الأنجاب.

وبعد .. فيقول العبد الملتجئ إلى الملك المتعال حسن الحنفي الشرنبلالي: قد ورد سؤال عن بعض من ورثة اشترى عقارا كان رهنا تحت يد مورثهم ووقفه فما حكم ذلك؟

 

وأجاب حنفي بقوله: إن شراه باطل ووقفه باطل، ثم رفع إليّ فخالفته بما هو الصواب ثم طلب مني بيان ذلك، فسطرته لإفادته وبيان وجه استفادته، فإن الدين النصيحة لله ولرسوله (2)، ورد الخطأ للصواب طريقة العلماء الأنجاب بواضح الدليل وصحيح البرهان وسميته: "‌‌إتحاف ذوي الإتقان بحكم الرهان"، وملخص الجواب الذي أجبت به: أن شراء الوارث ووقفه صحيح نافذ بقدر حصته من الميراث لمصادفته صحيح ملكه ويبقى موقوفا بقدر حصة باقي الورثة وليس للباقين

--------------------------------------------

(1) زيادة من " ب ".

(2) يشير إلى ما رواه مسلم في "صحيحه" من حديث تميم الداري رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: «الدين النصيحة» قلنا: لمن؟ قال: «لله ولكتابه ولرسوله ولأئمة المسلمين وعامتهم».
[পৃষ্ঠা ২৫৮ / ক] পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। [হে রব, সহজ করে দিন] (১)

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সঠিক বিষয়ের (صواب) অনুপ্রেরণা দানকারী এবং কঠিন বিষয়সমূহ সহজকারী। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যাঁকে সর্বোত্তম হিকমত ও অকাট্য ফয়সালা দান করা হয়েছে, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও মর্যাদাশীল অভিজাত সাহাবীগণের ওপর।

অতঃপর... সুউচ্চ ও মহান অধিপতির নিকট আশ্রয়প্রার্থী বান্দা হাসান আল-হানাফী আশ-শুরুনবুলালী বলছেন: জনৈক উত্তরাধিকারী সম্পর্কে একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে যিনি এমন একটি স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করেছেন যা তাঁদের মৃত ব্যক্তির নিকট বন্ধক (رهن) হিসেবে গচ্ছিত ছিল এবং তিনি তা ওয়াকফ (وقف) করেছেন; এমতাবস্থায় এর বিধান কী?

 

জনৈক হানাফী আলেম এই উত্তর দিয়েছেন যে: তাঁর এই ক্রয় বাতিল (باطل) এবং ওয়াকফও বাতিল (باطل)। অতঃপর বিষয়টি আমার নিকট উত্থাপন করা হলে আমি সঠিক বিষয়ের আলোকে তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করি। এরপর তিনি আমার কাছে এর ব্যাখ্যা দাবি করেন, ফলে আমি তাঁর উপকারের জন্য এবং মাসআলাটির ফায়দা লাভের দিকটি স্পষ্ট করার জন্য এটি লিপিবদ্ধ করেছি। কেননা দ্বীন হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য কল্যাণকামিতা (২)। আর ভুল সংশোধন করে সঠিকের দিকে ফিরে আসা হলো সুস্পষ্ট দলিল ও সঠিক (صحيح) প্রমাণের (برهان) মাধ্যমে মর্যাদাশীল আলেমগণের অনুসৃত পদ্ধতি। আমি এর নামকরণ করেছি: "‌‌ইতহাফু যাউইল ইতকান বি হুকমির রিহান", আর আমার প্রদত্ত উত্তরের সারসংক্ষেপ হলো: উত্তরাধিকারীর উক্ত ক্রয় এবং তাঁর ওয়াকফ উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত তাঁর নিজস্ব অংশের পরিমাণে সঠিক (صحيح) ও কার্যকর (نافذ); যেহেতু তা তাঁর সঠিক (صحيح) মালিকানার অনুকূলে ঘটেছে। আর অবশিষ্ট ওয়ারিশদের হিসসার পরিমাণে তা স্থগিত (موقوف) হিসেবে গণ্য হবে এবং অবশিষ্টদের জন্য অধিকার নেই...

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপি "খ" থেকে অতিরিক্ত সংযোজিত।

(২) এটি মুসলিম তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে তামীম আদ-দারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা» আমরা বললাম: কার জন্য? তিনি বললেন: «আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য এবং মুসলিমদের ইমাম ও সাধারণ জনগণের জন্য।»
(খণ্ড: ১) ইতহাফু যাবিল ইতকান বি হুকমির রিহান (পৃষ্ঠা: ৯)
إبطال البيع؛ لأن الوارث لا يملك إبطال بيع الرهن لأجنبي في أصح الروايتين؛ لقول الزيلعي (1): وفي أصح الروايتين لا ينفسخ [ق 258 / ب] بيع الرهن وفي المختصر يعني الكنز (2) إشارة إليه حيث قال: يوقف بيع الرهن على إجازة مرتهنه، أو قضاء دينه. جعل الإجازة إليه دون الفسخ وجعله متوقفا على قضاء الدين. وهذا دليل على أن فسخه لا ينفذ. [و] (3) وجهه أن الامتناع لحقه كيلا يتضرر والتوقف لا يضره؛ لأن حقه في الحبس لا يبطل بمجرد الانعقاد من غير نفوذ فبقى متوقفا كذا نص الزيلعي في كتاب الرهن. وأما نفوذ وقف المشترى بقدر حصته فظاهر لمصادفته ملكه لقول الزيلعي في باب الاستحقاق عند قول الكنز: وصح عتق مشتر من غاصب بإجازة بيعه عند أبي حنيفة وأبي يوسف؛ لأن الملك ثبت مرتبا عليه وينفذ بنفاذه وصار كإعتاق المشتري من الراهن فإنه يتوقف وينفذ بإجازة المرتهن البيع؛ لأن العتق من حقوق الملك والشيء إذا توقف توقف بجميع حقوقه، وإذا نفذ نفذ بحقوقه. انتهى.

قلت: فهذا نص على نفاذ الوقف بقدر حصة الوارث ومثله في غاية البيان (4) وفتح القدير.

وإذا علمت هذا فمن قال من أهل زماننا مجيبا للحادثة أن بيع المرهون لوارث المرتهن بيع باطل ووقفه [ق 259 / أ] باطل فقد أخطأ من وجوه: وهو أن الباطل غير الفاسد كما هو معلوم في

--------------------------------------------

(1) هو: عثمان بن علي بن مِحْجَن ، فخر الدين الزيلعي، فقيه حنفي ، درس وأفتى ونشر الفقه واشتغل بالنحو والفقه والفرائض، ومن أهم مصنفاته: تبيين الحقائق شرح كنز الدقائق - بركة الكلام على أحاديث الأحكام، شرح الجامع الكبير للشيباني، شرح المختار للموصلي، توفي في 743 هـ. وانظر ترجمته في: تاج التراجم (ص/204)، الجواهر المضية (ص/345)، الأعلام (4/ 210)، الدرر الكامنة (3/ 258)، معجم المؤلفين (6/ 263).

(2) وهو كنز الدقائق في فروع الحنفية، للشيخ، الإمام، أبي البركات: عبد الله بن أحمد، المعروف: بحافظ الدين النسفي، المتوفى: سنة عشر وسبعمائة، لخص فيه: (الوافي) بذكر ما عم وقوعه، حاويا لمسائل الفتاوى والواقعات، واعتنى به الفقهاء، فشرحه: الإمام، فخر الدين، أبو محمد: عثمان بن علي الزيلعي، وسماه: (تبيين الحقائق، لما فيه ما اكتنز من الدقائق)، وغيره، وانظر: "كشف الظنون" (2/ 1516).

(3) زيادة من " ب ".

(4) هو (غاية البيان، ونادرة الأقران) شرح الهداية للشيخ، الإمام، قوام الدين: أمير كاتب بن أمير عمر الأتقاني، الحنفي، المتوفى: سنة ثمان وخمسين وسبعمائة. في: ثلاث مجلدات.
বিক্রয় বাতিল করা; কারণ ওয়ারিশ দুই বর্ণনার মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ (أصح الروايتين) মত অনুযায়ী কোনো তৃতীয় পক্ষের নিকট বন্ধকি পণ্য বিক্রয় বাতিল করার অধিকার রাখে না; যাইলায়ি-র (১) বক্তব্যের কারণে: এবং দুই বর্ণনার মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ (أصح الروايتين) মতে বন্ধকি বিক্রয় ছিন্ন (لا ينفسخ) হয় না। মুখতাসার তথা কানজ (২)-এ এর প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে যেখানে তিনি বলেছেন: বন্ধকি পণ্যের বিক্রয় বন্ধকগ্রহীতার অনুমতি অথবা ঋণ পরিশোধের ওপর স্থগিত থাকবে। তিনি এখানে অনুমতি প্রদানকে তার এখতিয়ারভুক্ত করেছেন, বাতিল করাকে নয়, এবং একে ঋণ পরিশোধের ওপর স্থগিত রেখেছেন। আর এটি এই কথার দলিল যে, তার বাতিলকরণ কার্যকর হবে না। [এবং] (৩) এর যৌক্তিক দিক হলো, তাকে যেন ক্ষতির সম্মুখীন হতে না হয় সেজন্য তার অধিকার রক্ষায় এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, আর স্থগিত রাখা তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না; কারণ কেবল চুক্তিবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে তার হস্তগত রাখার অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যায় না যতক্ষণ না তা কার্যকর হয়, ফলে তা স্থগিত অবস্থায় থেকে যায়। যাইলায়ি বন্ধক অধ্যায়ে (কিতাবুর রহন) এভাবেই বর্ণনা করেছেন। আর ক্রেতার নিজ অংশ অনুযায়ী ওয়াকফ কার্যকর হওয়া সুস্পষ্ট, যেহেতু তা তার মালিকানাধীন বিষয়ের অনুকূলে হয়েছে। যেমনটি যাইলায়ি ‘অধিকার সাব্যস্ত হওয়া’ অনুচ্ছেদে (বাবুিল ইসতিহকাক) কানজ-এর এই ইবারতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবু ইউসুফের মতে, জবরদখলকারীর কাছ থেকে ক্রেতা কর্তৃক ক্রয়কৃত গোলামকে আজাদ করা তার বিক্রয় অনুমোদনের শর্তে সহিহ (صح); কারণ মালিকানা এর ওপর ক্রমান্বয়ে সাব্যস্ত হয় এবং এটি (আজাদ করা) কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে কার্যকর হয়ে যায়। এটি বন্ধকদাতার কাছ থেকে ক্রেতার গোলাম আজাদ করার মতো হয়ে গেল, যা স্থগিত থাকে এবং বন্ধকগ্রহীতা বিক্রয় অনুমোদন করলে কার্যকর হয়; কারণ গোলাম আজাদ করা মালিকানার অধিকারভুক্ত বিষয়। আর কোনো বিষয় যখন স্থগিত হয়, তখন তা তার সমস্ত অধিকারসহ স্থগিত হয়, আর যখন কার্যকর হয় তখন তা তার সকল অধিকারসহ কার্যকর হয়। সমাপ্ত।

আমি বলি: এটি ওয়ারিশের অংশ অনুযায়ী ওয়াকফ কার্যকর হওয়ার ব্যাপারে একটি সুষ্পষ্ট বক্তব্য। গায়াতুল বায়ান (৪) এবং ফাতহুল কাদির-এও এর অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন আমাদের সময়ের লোকদের মধ্যে যারা এ ঘটনার উত্তরে বলেছেন যে, বন্ধকগ্রহীতার ওয়ারিশের কাছে বন্ধকি বস্তু বিক্রয় করা একটি বাতিল (باطل) বিক্রয় এবং তার ওয়াকফও বাতিল (باطل), তারা বিভিন্ন দিক থেকে ভুল করেছেন: আর তা হলো, বাতিল (باطل) এবং ফাসিদ (فاسد) এক নয়, যেমনটি কিতাবসমূহে সুপরিচিত...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন: উসমান বিন আলি বিন মিহজান, ফখরুদ্দিন যাইলায়ি, একজন হানাফি ফকিহ। তিনি দরস প্রদান করেছেন, ফতোয়া দিয়েছেন এবং ফিকহ শাস্ত্রের প্রসার ঘটিয়েছেন। তিনি নাহু, ফিকহ এবং ফারায়িজ শাস্ত্র নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: তাবয়িনুল হাকাইক শারহু কানজিল দাকাইক, বারাকাতুল কালাম আলা আহাদিসিল আহকাম, শায়বানির জামেউল কবির-এর শারহ, মুসিলির মুখতার-এর শারহ। তিনি ৭৪৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর জীবনী দেখুন: তাজুত তারােজাম (পৃ. ২০৪), আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ (পৃ. ৩৪৫), আল-আ’লাম (৪/২১০), আদ-দুরারুল কামিনাহ (৩/২৫৮), মু’জামুল মুয়াল্লিফিন (৬/২৬৩)।

(২) এটি হলো হানাফি ফিকহের শাখা মাসআলা বিষয়ক কানজুদ দাকাইক, যার লেখক হলেন শায়খ ইমাম আবুল বারাকাত আবদুল্লাহ বিন আহমদ, যিনি হাফিজুদ্দিন নাসাফি নামে পরিচিত, মৃত্যু ৭১০ হিজরি। এতে তিনি 'আল-ওয়াফি' গ্রন্থকে সংক্ষেপ করেছেন এবং সচরাচর ঘটে যাওয়া ফতোয়া ও ঘটনাবলির মাসআলা এতে সংকলিত হয়েছে। ফকিহগণ এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং ইমাম ফখরুদ্দিন আবু মুহাম্মদ উসমান বিন আলি যাইলায়ি এর শারহ লিখেছেন যার নাম দিয়েছেন: 'তাবয়িনুল হাকাইক লিমা ফিহি মা উকতানিযা মিনাদ দাকাইক'। এছাড়া আরও শারহ রয়েছে। দেখুন: কাশফুয যুনুন (২/১৫১৬)।

(৩) পাণ্ডুলিপি 'বা' থেকে সংযোজিত।

(৪) এটি হলো হিদায়া গ্রন্থের শারহ 'গায়াতুল বায়ান ওয়া নাদিরাতুল আকরাম', যার লেখক হলেন শায়খ ইমাম কাওয়ামুদ্দিন আমির কাতিব বিন আমির উমর আল-ইতকানি আল-হানাফি, মৃত্যু ৭৫৮ হিজরি। এটি তিন খণ্ডে সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) ইতহাফু যাবিল ইতকান বি হুকমির রিহান (পৃষ্ঠা: ১০)
المذهب وهما غير الموقوف والموقوف بالمرة إنما هو لغير وارث، وأما الوارث للبعض فلا يكون شراؤه موقوفا مطلقا ولا باطلا.

فإن قلت: قد رأينا إطلاق الباطل في بيع المرهون. قلت: هو مؤول في ألفاظ العلماء المجتهدين ولا يجوز في جواب مثل هذه الحادثة لمن يدعي الفتوى والتأويل هو كما قال في وجيز الحصيري (1) قال محمد رحمه الله تعالى -: باع الراهن فالبيع الباطل أي موقوف ولهذا قال محمد: إلا أن يجيزه المرتهن وروي عن أبي يوسف أنه نافذ حق لو اعتقه المشتري ينفذ؛ لأنه تصرف في خالص ملكه وحقه أي المرتهن في الحبس لا يبطل بالانتقال كالإرث والإقرار، ولهذا لو أعتقه الوارث أو المقر لا ينفذ. انتهت عبارته رحمه الله.

وقال أيضا في غاية البيان: وأما المشتري من الغاصب إذا أعتق ثم ملكه الغاصب بالضمان فأجاز الغاصب العتق، قال علاء الدين العالم (2) في "طريقة الخلاف": فيه اختلاف المشايخ، والأصح أنه ينفذ وإليه أشار في وقف هلال الرأي ابن يحيى البصري (3) [ق 259 / ب] وهو من أصحاب أبي يوسف فإنه نفذ وقف المشتري من الغاصب إذا ملكه الغاصب بالضمان، والوقف تحرير الأرض كالإعتاق تحرير العبد. انتهى نص غاية البيان، وهذا نص على أن وقف مشتري الرهن صحيح موقوف على إجازة البيع، أو قضاء الدين، وليس للمرتهن فسخ الوقف كالبيع في الأصح؛ لأنه من حقوقه كإعتاقه، وهذا في البيع لمن ليس وارثا للمرتهن أما إذا كان وارثا للمرتهن كمسألتنا فشراؤه

--------------------------------------------

(1) هو: "الوجيز من شرح الجامع الكبير" لمحمود بن أحمد بن عبد السيد، الحصيري توفي عام 636 هـ.

(2) هو: محمد بن عبد الحميد بن الحسن بن الحسين بن حمزة وكنيته أبو الفتح، واقبه: العلاء العالم، كما يلقب بعلاء الدين، ونسه: الأسمندي السمرقندي، ولد عام ثمان وثمانين وأربعمائة في أسمند، من مؤلفاته: شرح الهداية - بذل النظر - شرح الجامع الكبير - طريقة الخلاف في الفقه بين الأئمة الأسلاف، نوفي عام اثنين وخمسين وخمسمائة، وقيل ثلاث وستين وخمسمائة، وترجمته في "الفوائد البهية في تراجم الحنفية للكنوي (ص/149) نقلا عن مقدمة تحقيق طريقة الخلاف.

(3) هو: هلال بن يحيى بن مسلم الرأي، البصري. قيل له "هلال الرأي" لسعة علمه، كما قيل: "ربيعة الرأي". وله مصَنَّف في "الشروط"،وله "أحكام الوقف". مات سنة خمس وأربعين ومائتين. وترجمته في تاج التراجم (ص/313).
মাযহাবের মতানুসারে এই দুটি বিষয় স্থগিত (موقوف) হওয়া এবং একেবারেই স্থগিত (موقوف) হওয়া কেবল উত্তরাধিকারী নয় এমন ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য। পক্ষান্তরে, আংশিক উত্তরাধিকারীর ক্রয় সাধারণভাবে স্থগিত (موقوف) কিংবা বাতিল (باطل) হবে না।

আপনি যদি বলেন: আমরা বন্ধকী বস্তুর বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বাতিল (باطل) শব্দের সাধারণ প্রয়োগ দেখেছি। আমি বলব: এটি মুজতাহিদ আলেমদের পরিভাষায় ব্যাখ্যাকৃত এবং যারা ফতোয়া দেওয়ার দাবি করেন তাদের জন্য এ জাতীয় ঘটনার উত্তরে তা (সরাসরি বাতিল বলা) জায়েজ নয়। আর এর ব্যাখ্যা হলো যেমনটি হুসাইরির ওয়াজিজ (১)-এ বলা হয়েছে: ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) বলেছেন—বন্ধকদাতা যদি (বন্ধকী বস্তু) বিক্রি করে, তবে সেই বাতিল (باطل) বিক্রয়টি মূলত স্থগিত (موقوف)। এ কারণেই ইমাম মুহাম্মদ বলেছেন: যতক্ষণ না বন্ধকগ্রহীতা তা অনুমোদন করে। ইমাম আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তা কার্যকর (نافذ) হবে, এমনকি ক্রেতা যদি তাকে মুক্ত করে দেয় তবে তা কার্যকর (نافذ) হবে; কারণ এটি তার একান্ত মালিকানার ওপর হস্তক্ষেপ। আর বন্ধকগ্রহীতার আটকে রাখার অধিকার মালিকানা পরিবর্তনের কারণে বাতিল (باطل) হয় না, যেমনটি উত্তরাধিকার ও স্বীকৃতির ক্ষেত্রে হয়। এ কারণেই উত্তরাধিকারী বা স্বীকৃতিদানকারী যদি তাকে মুক্ত করে দেয়, তবে তা কার্যকর (نافذ) হয় না। তার বক্তব্য (রহ.) এখানেই শেষ।

গয়তুল বায়ান-এ আরও বলা হয়েছে: যদি জবরদখলকারীর কাছ থেকে ক্রেতা (কোনো গোলাম) ক্রয় করে এবং তাকে মুক্ত করে দেয়, অতঃপর জবরদখলকারী ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে তার মালিক হয় এবং সেই মুক্তিদানকে অনুমোদন দেয়; তবে এ বিষয়ে আলাউদ্দিন আল-আলিম (২) তার তরিকাতুল খিলাফ গ্রন্থে বলেছেন: এতে মাশায়েখদের মতভেদ রয়েছে। তবে অধিক বিশুদ্ধ (أصح) মত হলো এটি কার্যকর (نافذ) হবে। আর হিলাল আল-রায় ইবনে ইয়াহইয়া আল-বাসরি (৩) [পত্র ২৫৯ / খ] তার ওয়াকফ গ্রন্থে এ দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। তিনি ইমাম আবু ইউসুফের সাথীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। জবরদখলকারীর কাছ থেকে ক্রেতার ওয়াকফ করা কার্যকর (نافذ) হবে যখন জবরদখলকারী ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে তার মালিক হয়। আর ওয়াকফ হলো ভূমিকে মুক্ত করা যেমন দাসমুক্তি হলো দাসকে মুক্ত করা। গয়তুল বায়ান-এর উদ্ধৃতি এখানেই শেষ। এটি এই বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণ যে, বন্ধকী বস্তুর ক্রেতার পক্ষ থেকে ওয়াকফ করা সঠিক (صحيح) এবং তা বিক্রয় অনুমোদন বা ঋণ পরিশোধের ওপর স্থগিত (موقوف) থাকবে। আর অধিক বিশুদ্ধ (أصح) মতানুসারে বন্ধকগ্রহীতার জন্য বিক্রয়ের ন্যায় ওয়াকফ বাতিল করার অধিকার নেই; কারণ এটি তার (ক্রেতার) অধিকারের অন্তর্ভুক্ত যেমন তার দাসমুক্তি করা। এটি এমন ব্যক্তির কাছে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে বন্ধকগ্রহীতার উত্তরাধিকারী নয়। তবে আমাদের মাসআলার ন্যায় যদি সে বন্ধকগ্রহীতার উত্তরাধিকারী হয়, তবে তার ক্রয়...

--------------------------------------------

(১) এটি হলো: মাহমুদ বিন আহমদ বিন আবুস সাইয়িদ আল-হুসাইরি রচিত 'আল-ওয়াজিজ মিন শারহিল জামিইল কাবির', যিনি ৬৩৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

(২) তিনি হলেন: মুহাম্মদ বিন আব্দুল হামিদ বিন হাসান বিন হুসাইন বিন হামজা, যার উপনাম (কুনিয়াত) আবু ফাতহ, লকব: আল-আলা আল-আলিম, এবং তিনি আলাউদ্দিন নামেও পরিচিত। তার বংশনামা: আসমান্দি সামারকান্দি। তিনি ৪৮৮ হিজরিতে আসমান্দে জন্মগ্রহণ করেন। তার রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে: শারহুল হিদায়া, বাযলুন নাযার, শারহুল জামিইল কাবির, তরিকাতুল খিলাফ ফিল ফিকহি বাইনাল আইম্মাতিল আসলাফ। তিনি ৫৫২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, কেউ কেউ ৫৬৩ হিজরির কথা বলেছেন। তার জীবনী লাখনোভীর 'আল-ফাওয়ায়েদুল বাহিয়্যাহ ফি তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ' (পৃ. ১৪৯) গ্রন্থে তরিকাতুল খিলাফ এর পাণ্ডুলিপি তাহকিকের ভূমিকা থেকে উদ্ধৃত হয়েছে।

(৩) তিনি হলেন: হিলাল বিন ইয়াহইয়া বিন মুসলিম আল-রায়, আল-বাসরি। অগাধ পাণ্ডিত্যের কারণে তাকে "হিলাল আল-রায়" বলা হতো, যেমন "রবিআ আল-রায়" বলা হয়। "আশ-শুরুত" এবং "আহকামুল ওয়াকফ" বিষয়ে তার সংকলন রয়েছে। তিনি ২৪৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তার জীবনী তাজুত তারাজিম (পৃ. ৩১৩) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইতহাফু যাবিল ইতকান বি হুকমির রিহান (পৃষ্ঠা: ১১)
نافذ عليه ووقفه وإعتاقه وتدبيره واستيلاده بقدر حصته ويخير الشريك بين الإعتاق والتضمين مع اليسار، أو الإعتاق والسعاية مع الإعسار ويأخذ العُقْر (1) منه بقدر حقه في الاستيلاد، وعلى المستولد ضمان حصة شريكه مع كونه معسرا؛ لأنه ضمان تملك فلا يختلف بالإعسار واليسار ولا سعاية على أم الولد.

تنبيه:

افترق الحكم بين عتق الراهن وعتق المشتري منه فإن إعتاق الراهن صحيح نافذ وإعتاق المشتري منه موقوف، وبه يفيد قول أئمتنا في باب الرهن أن عتق الراهن صحيح نافذ وسكتوا في ذلك الباب عن حكم عتق المشتري منه وقالوا في [ق 260 /أ] باب الاستحقاق بتوقفه كشرائه وكذا تدبيره واستيلاده فينفذ بنفاذ شرائه.

 

تنبيه آخر في وقف الراهن المرهون:

قال في البحر (2): إن أفتكه أو مات عن وفاء عاد إلى الجهة يعني الموقوف عليها وإن مات عن غير وفاء عاد وبطل الوقف، كذا في فتح القدير [و] (3) سكت عن حكمه حال الحياة لو معسرا وفي الإسعاف (4): لو وقف المرهون بعد تسليمه أجبره القاضي على دفع ما عليه إن كان موسرا وإن كان معسرا بطل الوقف وباعه فيما عليه. انتهى. وكذا في الذخيرة والمحيط (5).

--------------------------------------------

(1) قال ابن عابدين في "حاشيته" (3/ 179): (قال في الفتح: العقر هو مهر مثلها في الجمال: أي ما يرغب فيه في مثلها جمالا فقط، وأما ما قيل ما يستأجر به مثلها للزنا لو جاز فليس معناه، بل العادة أن ما يعطى لذلك أقل مما يعطى مهرا لأن الثاني للبقاء بخلاف الأول. اهـ).

(2) " البحر الرائق شرح كنز الدقائق" (5/ 205).

(3) زيادة من " ب ".

(4) "الإسعاف في أحكام الأوقاف" لبرهان الدين إبراهيم بن موسى بن أبي بكر الطرابلسي توفي عام 922 هـ.

(5) والذخيرة هي "ذخيرة الفتاوى" المشهورة: بـ (الذخيرة البرهانية)، للإمام، برهان الدين: محمود بن أحمد بن عبد العزيز بن عمر بن مازه البخاري، المتوفى: سنة 616 هـ اختصرها من كتابه المشهور بـ (المحيط البرهاني) كلاهما مقبولان عند العلماء.
তার ওপর এটি কার্যকর হবে এবং তার অংশ অনুপাতে তার ওয়াকফ, দাস মুক্তকরণ, তদবীর (মৃত্যুর পর মুক্তির চুক্তি) এবং উম্মে ওয়ালাদ বানানো কার্যকর হবে। সচ্ছলতার ক্ষেত্রে অংশীদারকে দাস মুক্তকরণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের মধ্যে এবং অসচ্ছলতার ক্ষেত্রে দাস মুক্তকরণ ও উপার্জনের মাধ্যমে পরিশোধের (সা'আয়া) মধ্যে পছন্দ করার অধিকার দেওয়া হবে। এবং সে তার উম্মে ওয়ালাদ বানানোর অধিকার অনুপাতে তার থেকে 'উকর' (১) গ্রহণ করবে। যে উম্মে ওয়ালাদ বানিয়েছে, সে অসচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও তার ওপর অংশীদারের অংশের জামানত প্রদান করা আবশ্যক; কারণ এটি মালিকানা অর্জনের জামানত, যা সচ্ছলতা বা অসচ্ছলতার কারণে পরিবর্তিত হয় না। আর উম্মে ওয়ালাদের ওপর কোনো সা'আয়া (উপার্জন করে পরিশোধের বাধ্যবাধকতা) নেই।

সতর্কবার্তা:

বন্ধকদাতা কর্তৃক মুক্ত করা এবং তার থেকে ক্রেতা কর্তৃক মুক্ত করার বিধানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বন্ধকদাতার দাস মুক্তকরণ সঠিক (صحيح) ও কার্যকর, কিন্তু তার থেকে ক্রেতা কর্তৃক দাস মুক্তকরণ স্থগিত (موقوف)। বন্ধক অধ্যায়ে আমাদের ইমামগণের বক্তব্য থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, বন্ধকদাতার দাস মুক্তকরণ সঠিক (صحيح) ও কার্যকর। তাঁরা ঐ অধ্যায়ে ক্রেতা কর্তৃক মুক্ত করার বিধান সম্পর্কে নীরব থেকেছেন এবং [পৃষ্ঠা ২৬০/ক] 'ইস্তিহকাক' (অধিকার সাব্যস্ত হওয়া) অধ্যায়ে বলেছেন যে, এটি তার ক্রয়ের মতোই স্থগিত (موقوف) থাকবে। অনুরূপভাবে তার তদবীর এবং উম্মে ওয়ালাদ বানানোও স্থগিত থাকবে; ফলে তার ক্রয় কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে এগুলো কার্যকর হবে।

 

বন্ধকদাতার বন্ধকী বস্তু ওয়াকফ করা প্রসঙ্গে অন্য একটি সতর্কবার্তা:

আল-বাহর (২)-এ বলা হয়েছে: যদি সে এটি ঋণমুক্ত করে নেয় অথবা ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা রেখে মারা যায়, তবে তা ওয়াকফের খাতের দিকে ফিরে যাবে। আর যদি ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা না রেখে মারা যায়, তবে তা ফিরে আসবে এবং ওয়াকফ বাতিল হয়ে যাবে। ফাতহুল কাদির-এও এমনটি রয়েছে। [এবং] (৩) জীবিত অবস্থায় সে অসচ্ছল হলে তার বিধান সম্পর্কে সেখানে নীরব থাকা হয়েছে। আল-ইস'আফ (৪)-এ বলা হয়েছে: যদি বন্ধকী বস্তু হস্তান্তরের পর তা ওয়াকফ করা হয় এবং ওয়াকফকারী সচ্ছল হয়, তবে বিচারক তাকে তার ঋণ পরিশোধে বাধ্য করবেন। আর যদি সে অসচ্ছল হয়, তবে ওয়াকফ বাতিল হয়ে যাবে এবং ঋণের বিনিময়ে তা বিক্রি করা হবে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আয-যাখিরা এবং আল-মুহিত (৫)-এও অনুরূপ রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আবিদীন তার "হাশিয়া" (৩/ ১৭৯)-তে বলেছেন: (ফাতহুল কাদির-এ বলা হয়েছে: উকর হলো সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে মহরে মিসিল (অনুরূপ মোহর): অর্থাৎ তার মতো সৌন্দর্যের অধিকারিণীর ক্ষেত্রে যা মোহর হিসেবে কাম্য হয়। আর এ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে যে, ব্যভিচারের জন্য যদি তার মতো কাউকে ভাড়া করা বৈধ হতো তবে যা দেওয়া হতো—তা এর অর্থ নয়। বরং নিয়ম হলো, এই উদ্দেশ্যে যা দেওয়া হয় তা মোহরের তুলনায় কম; কারণ মোহর হলো স্থায়ী সম্পর্কের জন্য, যা প্রথমটির বিপরীত। সমাপ্ত)।

(২) "আল-বাহরুর রায়েক শারহু কানযিদ দাকায়েক" (৫/ ২০৫)।

(৩) 'বা' পাণ্ডুলিপি থেকে অতিরিক্ত অংশ।

(৪) বুরহানুদ্দীন ইব্রাহিম ইবনে মুসা ইবনে আবু বকর আত-তরাবুলসি (মৃত্যু ৯২২ হিজরি) রচিত "আল-ইস'আফ ফি আহকামিল আওকাফ"।

(৫) আয-যাখিরা হলো প্রসিদ্ধ "যাখিরাতুল ফাতাওয়া", যা (যাখিরাতুল বুরহানিয়া) নামে পরিচিত; এটি ইমাম, বুরহানুদ্দীন মাহমুদ ইবনে আহমাদ ইবনে আবদুল আযীয ইবনে উমর ইবনে মাযা আল-বুখারী (মৃত্যু ৬১৬ হিজরি)-এর রচনা। তিনি এটি তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ "আল-মুহিতুল বুরহানি" থেকে সংক্ষেপ করেছেন; উভয় গ্রন্থই আলেমগণের নিকট গ্রহণযোগ্য (مقبول)।
(খণ্ড: ১) ইতহাফু যাবিল ইতকান বি হুকমির রিহান (পৃষ্ঠা: ১২)
قلت: وهذا سند ونص لأحد شقي بحث للطرسوسي (1) في أنفع الوسائل وهو الذي قال عقبه: وإلى الآن لم يترجح عندي شيء لا القول بالبطلان ولا بعدمه، وقد ردد في بحثه بين الإبطال وعدمه بإعسار الراهن وقد علمت الإبطال بنص الإسعاف والذخيرة والمحيط. وأقول لقائل أن يقول أن البيع عند الإعسار ليس إلا على الرواية المجوزة للمرتهن فسخ بيع الرهن وأما على أصح الروايتين من منعه من الفسخ فيقال: ليس له أيضا فسخ الوقف والجامع بين الوقف والبيع خروج العين عن ملك الراهن، وهذا هو الشق الثاني من تردد الطرسوسي في بحثه [ق260/ب] حيث قال: إذا أعسر الراهن ولقائل (2) أن يقول: يرفع الأمر للقاضي فيفسخ بثبوت الإعسار ولقائل أن يعكس هذا ويقول ينبغي ألا يبطل المرتهن الوقف؛ لأن المرتهن لا حق له في الرقبة، والوقف صادف الرقبة فتوقف نفاذه في الحال رعاية حق المرتهن ولهذا لا يملك فسخ بيع الراهن على الصحيح وحقه لا يبطل بالوقف فيبقى موقوفا لاحتمال عود اليسار والواقف لا يلي إبطاله للزومه في حقه ولا جائز أن يليه المرتهن على الصحيح، ولا جائز أن يليه القاضي؛ لأن مذهب الإمام عدم الحجر على الحر المكلف ولا يبيع عليه عروضه، وعندهما يبيع القاضي العروض وفي العقار روايتان ولا يقال به هنا لأنه غير متمرد بل حريص على قضاء الدين وإنما منعه عروض الإفلاس انتهى.

قلت: ويؤيد هذا الشق الثاني من البحث مسألة تحرير الراهن وتدبيره فإنه لا يبطل تحريره ولا تدبيره ويسعى العبد وقد علمت أن الوقف تحرير الأرض كالإعتاق تحرير العبد فكما تؤخذ السعاية في أزمنة غير مقدورة بوقت كذلك يبقى الوقف على حكم التوقف حتى يأخذ من غلته وفاء الدين [ق261/ أ] للمرتهن رعاية لحق الفقراء ببقاء الوقف وعوده لهم بعد ذلك ورعاية لحق المرتهن

--------------------------------------------

(1) هو إبراهيم بن علي بن أحمد بن عبد الواحد ابن عبد المنعم الطرسوسي، نجم الدين: قاض مصنف. ولد ومات في دمشق عام 721 هـ، وولي قضاءها بعد والده (سنة 746) وأفتى ودرس، وتوفي عام 758 هـ وألف كتبا منها (الإشارات في ضبط المشكلات) و (الإعلام في مصطلح الشهود والحكام) و (الاختلافات الواقعة في المصنفات) و (أنفع الوسائل) يعرف بالفتاوي الطرسوسية، و (ذخيرة الناظر في الأشباه والنظائر) في فقه الحنفية، و (الفوائد المنظومة) فقه، ويسمى (الفوائد البدرية) وغيرها وترجمته في تاج التراجم (ص/90)، والأعلام (1/ 51).

(2) وفي " أ ": " فلقائل ".
আমি বলছি: এটি তারসুসি (১)-এর ‘আনফাউল ওয়াসায়িল’ গ্রন্থে আলোচিত গবেষণার একটি দিকের প্রমাণ ও ভাষ্য। তিনি এর পরপরই বলেছেন: এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনোটিই প্রাধান্য পায়নি; বাতিলের মতটিও নয়, আবার বাতিল না হওয়ার মতটিও নয়। তিনি তার গবেষণায় বন্ধকদাতার অসচ্ছলতার কারণে বাতিল করা এবং না করার বিষয়টি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। অথচ আপনি ‘আল-ইসআফ’, ‘আদ-যাখিরা’ এবং ‘আল-মুহিত’ এর ভাষ্য অনুযায়ী বাতিলের বিষয়টি জেনেছেন। আমি কোনো বক্তার পক্ষ থেকে বলতে পারি যে, অসচ্ছলতার সময় বিক্রয় কেবল সেই বর্ণনা (رواية)-এর ভিত্তিতেই হতে পারে যেখানে বন্ধকগ্রহীতার জন্য বন্ধকী বস্তুর বিক্রয় বাতিল করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর বাতিল করা থেকে বিরত রাখার অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী বলা হবে: তার জন্য ওয়াকফ বাতিল করারও সুযোগ নেই। ওয়াকফ এবং বিক্রয়ের মধ্যে সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো—মূল সম্পদ বন্ধকদাতার মালিকানা থেকে বের হয়ে যাওয়া। এটিই তারসুসির গবেষণায় তার দ্বিধার দ্বিতীয় দিক [পৃ ২৬০/খ], যেখানে তিনি বলেছেন: যদি বন্ধকদাতা অসচ্ছল হয়ে পড়ে, তবে কেউ বলতে পারেন: বিষয়টি বিচারকের কাছে উত্থাপন করা হবে এবং অসচ্ছলতা প্রমাণের ভিত্তিতে তিনি তা বাতিল করবেন। আবার অন্য কেউ এর উল্টোটিও বলতে পারেন এবং বলতে পারেন যে, বন্ধকগ্রহীতার জন্য ওয়াকফ বাতিল করা উচিত নয়; কারণ মূল সম্পদের ওপর বন্ধকগ্রহীতার কোনো অধিকার নেই। ওয়াকফ মূল সম্পদের ওপরই কার্যকর হয়েছে, তবে বন্ধকগ্রহীতার অধিকার রক্ষার খাতিরে বর্তমানে এর বাস্তবায়ন স্থগিত থাকা (توقف) প্রয়োজন। এ কারণেই বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে সে বন্ধকদাতার বিক্রয় বাতিল করার ক্ষমতা রাখে না, আর তার অধিকারও ওয়াকফের কারণে বাতিল হয়ে যায় না। সুতরাং সচ্ছলতা ফিরে আসার সম্ভাবনার কারণে এটি স্থগিত (موقوف) থাকবে। আর ওয়াকফকারীর জন্য এটি বাতিল করা সম্ভব নয় কারণ এটি তার ক্ষেত্রে আবশ্যক হয়ে গেছে। বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে বন্ধকগ্রহীতার পক্ষেও এটি বাতিল করা বৈধ নয়। এমনকি বিচারকের পক্ষেও এটি বৈধ নয়; কারণ ইমামের মাযহাব হলো—মুকাল্লাফ স্বাধীন ব্যক্তির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবে না এবং তার অনুমতি ছাড়া তার আসবাবপত্র বিক্রি করা যাবে না। আর তাঁদের (সাহিবাইন) মতে বিচারক আসবাবপত্র বিক্রি করতে পারেন, তবে স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে দুটি বর্ণনা (روايتان) রয়েছে। এখানে সেই বিধান প্রযোজ্য হবে না, কারণ সে অবাধ্য নয় বরং ঋণ পরিশোধে আগ্রহী, কেবল দেউলিয়া হওয়ার কারণে সে অপারগ। সমাপ্ত।

আমি বলছি: গবেষণার এই দ্বিতীয় দিকটিকে বন্ধকদাতার দাসমুক্তকরণ এবং তাদবিরের বিষয়টি সমর্থন করে। কেননা তার দাসমুক্তকরণ বা তাদবির বাতিল হয় না, বরং দাসটি উপার্জনের চেষ্টা করে। আপনি জানেন যে, দাসকে মুক্ত করা যেমন মানুষের মুক্তি, জমি ওয়াকফ করাও তেমনি জমির মুক্তি। সুতরাং নির্দিষ্ট সময়সীমায় সীমাবদ্ধ না থেকে যেমন উপার্জনের অর্থ গ্রহণ করা হয়, তেমনি ওয়াকফটিও স্থগিত থাকার (توقف) হুকুমের ওপর বহাল থাকবে—যতক্ষণ না তার উৎপাদিত ফসল থেকে বন্ধকগ্রহীতার ঋণ পরিশোধ করা হয় [পৃ ২৬১/ ক]। এতে ওয়াকফ অবশিষ্ট থাকা এবং পরবর্তীতে দরিদ্রদের নিকট ফিরে আসার মাধ্যমে তাদের অধিকারও রক্ষা পায়, আবার বন্ধকগ্রহীতার অধিকারও সংরক্ষিত হয়।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন ইব্রাহিম বিন আলী বিন আহমদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ ইবনুল মুনিম আল-তারসুসি, নাজমুদ্দিন: একজন বিচারক ও গ্রন্থকার। তিনি ৭১২ হিজরিতে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তার পিতার পর (৭৪৬ হিজরিতে) সেখানকার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন, ফতোয়া প্রদান করেন এবং শিক্ষকতা করেন। তিনি ৭৫৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: 'আল-ইশারাত ফি জাবতিল মুশকিলাত', 'আল-ইলাম ফি মুসতালাহিশ শুহুদি ওয়াল হুক্কাম', 'আল-ইখতিলাফাত আল-ওয়াকিআ ফিল মুসান্নাফাত', 'আনফাউল ওয়াসায়িল' যা ফাতাওয়া আল-তারসুসিয়া নামে পরিচিত, হানাফি ফিকহশাস্ত্রের ওপর 'যাখিরাতুন নাজির ফিল আশবাহ ওয়ান নাজির', ফিকহ বিষয়ক 'আল-ফাওয়ায়িদুল মানজুমা' যা 'আল-ফাওয়ায়িদুল বদরিয়া' নামেও পরিচিত এবং অন্যান্য। তার জীবনী 'তাজুত তারাজিম' (পৃষ্ঠা ৯০) এবং 'আল-আলাম' (১/৫১) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

(২) এবং "অ" পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "ফা-লি-কায়িলিন"।
(খণ্ড: ১) ইতহাফু যাবিল ইতকান বি হুকমির রিহান (পৃষ্ঠা: ১৩)
بالقدر الممكن والعقار متحصن لا يطرأ عليه الهلاك سريعا بخلاف العبد فأخذ غلة الوقف لوفاء الدين فيه نظر يزيد نظرا على سعاية العبد لطروء موته أو مرضه أو إباقه أو ثبوت حرية سابقه على تدبيره، ولكن قال في المحيط: وتصح الكتابة وللمرتهن فسخها؛ لأن الكتابة مما يحتمل الفسخ دفعا للضرر عنه ببطلان (1) الرهن بعتقها بأداء البدل، وأقول فيه بحث؛ لأنه يمكن أن يكون تخريجا على رواية جواز فسخ بيعه والأصح عدمه، وعلمت صحة إعتاق الراهن ابتداء، وقد قال الخصاف (2): الوقف لا يملك والوقف بمنزلة المدبر، وقال الزيلعي في كتاب الوقف: [البيع لا ينعقد على الوقف] (3) لأنه صار محررا عن الملك والمتملك وذكر هلال (4) والمحقق الكمال بن الهمام (5): أن الوقف حكمه حكم المدبر، وقد علمت أن تدبير الراهن لازم فكذا يكون وقفه لازما فلهذا يمكن أن يكون القول ببيع وقف الراهن جريا على رواية فسخ بيعه لا على الصحيح من عدم فسخ بيعه فكذا وقفه لمصادفته ملكا صحيحا فليتأمل ويحرر.

--------------------------------------------

(1) وفي " ب ": "وببطلان".

(2) هو: أحمد بن عمر وقيل عمرو، بن مهير، وقيل مهران الشيباني، أبو بكر، الخصاف الحنفي، كان فاضلاً، فارضاً، حاسباً، عارفاً بمذهب أصحابه. من مصنفاته: " كتاب الخيل " في مجلدين، و " كتاب الوصايا "، و " الشروط الكبير " وكتاب " الشروط الصغير "، و " كتاب الرضاع "، و " كتاب المحاضر والسجلات "، و " كتاب أدب القاضي "، و " كتاب النفقات على الأقارب "، و " كتاب إقرار الورثة بعضهم لبعض "، و " كتاب أحكام الوقف " و " كتاب النفقات " و " كتاب العصير وأحكامه " و " كتاب ذرع الكعبة والمسجد الحرام والقبر ". وكانت وفاته، سنة إحدى وستين ومائتين. رحمه الله تعالى. وترجمته في: الجواهر المضية (1/ 87)، تاج التراجم (ص/97)، الطبقات السنية (ص/123).

(3) زيادة من " ب ".

(4) سبقت ترجمته.

(5) هو: كمال الدين محمد بن عبد الواحد بن عبد الحميد بن مسعود الإسكندراني السيواسي ، والسيواسي نسبة إلى سِيواس (من بلاد الروم) حيث كان أبوه قاضيا فيها قبل أن ينتقل إلى القاهرة، فقيه حنفي ، محدث ، لغوي، ومن أهم مصنفاته: فتح القدير (شرح الهداية) التحرير (في أصول الفقه) المسايرة في العقائد المنجية في الآخرة، وزاد الفقير (مختصر في فروع فقه الحنفية). ولده في:790 هـ في الإسكندرية، وتوفي في: 861 هـ، وترجمته في البدر الطالع (2/ 201)، الضوء اللامع (8/ 127).
যথাযথ সম্ভব মাত্রায় এবং স্থাবর সম্পত্তি (عقار) সুরক্ষিত থাকে, তা দাসের মতো দ্রুত ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় না। তাই ঋণ পরিশোধের জন্য ওয়াকফকৃত সম্পত্তির আয় গ্রহণ করার বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে, যা দাসের উপার্জনের (سعاية) চেয়েও অধিকতর পর্যালোচনার বিষয়; কারণ দাসের ক্ষেত্রে মৃত্যু, অসুস্থতা, পলায়ন বা তার মুদাব্বার (মৃত্যুর পর স্বাধীন হওয়ার প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত) হওয়ার আগে তার স্বাধীনতার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে 'আল-মুহিত' গ্রন্থে বলা হয়েছে: মুকাতাবাহ (মুক্তির চুক্তি) বৈধ এবং বন্ধকগ্রহীতার (مرتهن) তা বাতিল করার অধিকার রয়েছে; কারণ মুকাতাবাহ বাতিলযোগ্য চুক্তির অন্তর্ভুক্ত, যাতে চুক্তির অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে দাসের মুক্তির ফলে বন্ধক (رهن) বাতিল হয়ে তার (বন্ধকগ্রহীতার) ক্ষতি না হয়। আমি বলছি, এখানে গবেষণার অবকাশ রয়েছে; কারণ এটি বিক্রয় বাতিল করার বৈধতা সংক্রান্ত বর্ণনার (رواية) ভিত্তিতে একটি প্রয়োগ হতে পারে, যদিও বিশুদ্ধতর (الأصح) মত হলো তা বাতিল না হওয়া। আর আপনি জেনেছেন যে, বন্ধকদাতার (راهن) পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে দাস মুক্ত করা বৈধ। খাসসাফ (২) বলেছেন: ওয়াকফ মালিকানাধীন হয় না এবং ওয়াকফ মুদাব্বার দাসের সমতুল্য। যায়লায়ী ওয়াকফ অধ্যায়ে বলেছেন: [ওয়াকফকৃত সম্পত্তির ওপর বিক্রয় কার্যকর হয় না] (৩), কারণ এটি মালিকানা এবং মালিক হওয়ার যোগ্যতা থেকে মুক্ত হয়ে গেছে। হিলাল (৪) এবং গবেষক (محقق) কামাল ইবনুল হুমাম (৫) উল্লেখ করেছেন: ওয়াকফের হুকুম মুদাব্বার দাসের হুকুমের মতো। আপনি ইতিমধ্যে জেনেছেন যে, বন্ধকদাতার পক্ষ থেকে দাসের তাদবীর (মৃত্যুর পর মুক্তির ঘোষণা) আবশ্যকীয়, তেমনি তার ওয়াকফও আবশ্যকীয় হবে। তাই বন্ধকদাতার ওয়াকফকৃত সম্পত্তি বিক্রয় করার মতটি তার বিক্রয় বাতিল হওয়ার বর্ণনার (رواية) ভিত্তিতে হতে পারে, বিক্রয় বাতিল না হওয়ার বিশুদ্ধ (صحيح) মতের ভিত্তিতে নয়। যেহেতু এটি একটি সঠিক মালিকানাধীন বিষয়ে সংঘটিত হয়েছে, তাই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করা প্রয়োজন।

--------------------------------------------

(১) 'বা' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "وببطلان"।

(২) তিনি হলেন: আহমদ বিন উমর, কারো মতে আমর, বিন মুহাইর, কারো মতে মেহরান আশ-শাইবানি, আবু বকর আল-খাসসাফ আল-হানাফি। তিনি ছিলেন একজন বিদগ্ধ পণ্ডিত, ফারায়েয শাস্ত্রবিদ, গণিতবিদ এবং তাঁর মাযহাবের ইমামগণের মতাদর্শ সম্পর্কে সম্যক অবগত। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: 'কিতাবুল খাইল' (দুই খণ্ডে), 'কিতাবুল ওয়াসায়া', 'আশ-শুরুত আল-কাবির', 'আশ-শুরুত আস-সগির', 'কিতাবুর রাদা', 'কিতাবুল মুহাদির ওয়া আস-সিজিল্লাহ', 'কিতাব আদাবুল কাজি', 'কিতাবুন নাফাকাত আলাল আকারিব', 'কিতাব ইকরারুল ওয়ারাসা বা'দুহুম লি বা'দ', 'কিতাব আহকামুল ওয়াকফ', 'কিতাবুন নাফাকাত', 'কিতাবুল আসির ওয়া আহকামুহু' এবং 'কিতাব যারউল কাবা ওয়াল মাসজিদুল হারাম ওয়াল কাবর'। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ২৬১ হিজরি সনে। আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। তাঁর জীবনী পাওয়া যাবে: আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ (১/৮৭), তাজুত তারাজিম (পৃ. ৯৭), আত-তবাকাতুস সানিইয়্যাহ (পৃ. ১২৩) গ্রন্থে।

(৩) 'বা' পাণ্ডুলিপি থেকে বর্ধিত।

(৪) তাঁর জীবনী পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৫) তিনি হলেন: কামাল উদ্দিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুল হামিদ বিন মাসুদ আল-ইসকান্দারানি আস-সিওয়াসি। সিওয়াসি শব্দটি 'সিওয়াস' (রুম অঞ্চলের একটি শহর) এর সাথে সম্পর্কিত, যেখানে তাঁর পিতা কায়রোতে স্থানান্তরিত হওয়ার আগে বিচারক (কাজি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন হানাফি ফকিহ, হাদিস বিশারদ (محدث), ভাষাবিদ। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: ফাতহুল কাদির (হিদায়াহর ব্যাখ্যাগ্রন্থ), আত-তহরীর (উসুলুল ফিকহ বিষয়ে), আল-মুসায়ারাহ (আকিদা বিষয়ে), আল-মুনজিয়াহ ফিল আখিরাহ এবং যাদুল ফাকির (হানাফি ফিকহের একটি সংক্ষিপ্তসার)। তিনি ৭৯০ হিজরি সনে ইসকান্দারিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ৮৬১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনী আল-বদরুত তালি (২/২০১) এবং আদ-দাওউল লামি (৮/১২৭) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইতহাফু যাবিল ইতকান বি হুকমির রিহান (পৃষ্ঠা: ১৪)
تتميم لبيان قيمة العتق (1):

قال [ق261 / ب] في المحيط في بيان القيمة عن الجامع: الراهن (2) إذا أعتق العبد المرهون وهو معسر ينظر إلى ثلاثة أشياء: إلى قيمته يوم العتق، وإلى ما كان مضمونا بالدين، وإلى ما كان محبوسا به فيسعى العبد في الأقل من هذه الثلاثة، أما الغني فلأنه أحتبس بالعتق [عند العبد] (3) من حق المرتهن هذا القدر فلا يلزمه السعاية إلا في هذا القدر كالعبد المشترك إذا أعتق أحدهما وهو معسر، وأما المضمون بالدين إذا كان أقل فلأن العبد مضمون بقدر الدين بالعبد (4) وما يحدث من الزيادة المتصلة بعد القبض لم تصر مضمونة وإن كانت تحبس للدين، وإن كان المحبوس أقل من المضمون ومن قيمته يسعى بقدره بأن رهن عبدا بألف فأدى الراهن تسعمائة من الدين ثم أعتقه وهو معسر يسعى العبد في مائة؛ لأنه مضمون بمائة من حيث الاعتبار حالة الإعتاق، ويجوز تزويج المرهون ولا يقربها الزوج إلا إذا زوجها قبل الرهن، وتمام تفريع ذلك في المحيط، والله سبحانه وتعالى الموفق بكرمه وذكرت هذا القدر ليعلم من يريد الخلاص من الله سبحانه وتعالى صعوبة (5) [ق 262] العلم واستخراج أحكامه الغامضة والمشكلة ولا يقدر بمجرد رأيه من غير رؤية ورسوخ قدم في حكم.

نسأل الله سبحانه العفو والتوفيق وصلى الله على سيدنا محمد وعلى سائر الأنبياء والمرسلين والصحابة والتابعين. [آمين] (6).

[في شهر ذي القعدة سنة سبع وخمسين وألف كان تأليفها.

غفر الله له ولطف بذريته والحمد لله رب العالمين] (7).

--------------------------------------------

(1) وفي "ب ": "المعتق".

(2) وفي " أ ": "الرهن"، والصواب ما أثبتناه.

(3) غير مذكورة في " ب ".

(4) وفي " ب ": " بالعقد ".

(5) في " أ ": "لصعوبة".

(6) زيادة من "ب ".

(7) غير مذكورة في " ب ".
দাসের মুক্তির মান নির্ধারণের পরিশিষ্ট (১):

'আল-মুহিত' কিতাবে মান (মূল্য) বর্ণনায় 'আল-জামি' সূত্রে বলা হয়েছে: বন্ধকদাতা (الراهن) (২) যখন বন্ধককৃত দাসকে মুক্ত করে দেয় অথচ সে অসচ্ছল (معسر) থাকে, তখন তিনটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা হবে: দাসমুক্তির দিনের তার বাজার মূল্য, ঋণের বিপরীতে যে পরিমাণ দায়বদ্ধতা (مضمون) ছিল এবং যে পরিমাণ ঋণের জন্য তাকে আটকে রাখা হয়েছিল; দাস এই তিনটির মধ্যে যা সর্বনিম্ন, তা পরিশোধের জন্য শ্রম দিবে (يسعى)। সচ্ছল ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন যে, দাসমুক্তির কারণে [দাসের নিকট] বন্ধকগ্রহীতার (المرتهن) যে পরিমাণ হক আটকে গিয়েছিল, দাসের ওপর সেই পরিমাণ ব্যতীত অন্য কিছুর জন্য শ্রম দেওয়া আবশ্যক নয়; যেমনটি শরিকানাধীন দাসের ক্ষেত্রে ঘটে, যখন অংশীদারদের কেউ তাকে মুক্ত করে দেয় অথচ সে অসচ্ছল থাকে। আর যদি ঋণের বিপরীতে দায়বদ্ধ (المضمون) অংশটি কম হয়, তবে দাসের মাধ্যমে ঋণের সমপরিমাণ দায়ের জামিন (مضمون) (৪) দেওয়া হয়েছে; আর হস্তগত করার পর যে বর্ধিত মূল্য (زيادة متصلة) যুক্ত হয় তা দায়বদ্ধ (مضمونة) হবে না, যদিও তা ঋণের কারণে আটকে রাখা যেতে পারে। যদি আটকে রাখা ঋণের পরিমাণ দায়বদ্ধ অংশ ও বাজার মূল্যের চেয়ে কম হয়, তবে দাস সেই পরিমাণই শ্রম দিয়ে পরিশোধ করবে। উদাহরণস্বরূপ: কেউ এক হাজার মুদ্রার বিনিময়ে একটি দাস বন্ধক রাখল, অতঃপর বন্ধকদাতা (الراهن) ঋণের নয়শত মুদ্রা পরিশোধ করে দিল এবং এরপর অসচ্ছল অবস্থায় দাসটিকে মুক্ত করে দিল, তবে দাসটি একশত মুদ্রার জন্য শ্রম দিবে; কারণ দাসমুক্তির সময় বিবেচ্য দিক থেকে সে একশত মুদ্রার জন্য দায়বদ্ধ (مضمون) ছিল। বন্ধককৃত দাস-দাসীর বিবাহ দেওয়া জায়েজ, তবে স্বামী তার নিকটবর্তী হতে পারবে না যদি না বন্ধক রাখার পূর্বেই তাদের বিবাহ হয়ে থাকে। এর বিস্তারিত শাখা-প্রশাখা 'আল-মুহিত' কিতাবে রয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর অনুগ্রহে তাওফিক দানকারী। আমি এই পরিমাণ উল্লেখ করেছি যাতে যে ব্যক্তি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট নাজাত চায় সে ইলমের গভীরতা [পৃষ্ঠা ২৬২] এবং এর জটিল ও সূক্ষ্ম মাসআলাগুলো উদ্ঘাটনের কাঠিন্য (৫) সম্পর্কে অবগত হতে পারে; আর যেন কেউ মাসআলায় দূরদর্শিতা এবং গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন ছাড়াই কেবল নিজের রায়ের (رأي) ওপর ভিত্তি করে ফয়সালা না দেয়।

আমরা আল্লাহ সুবহানাহুর নিকট ক্ষমা ও তাওফিক প্রার্থনা করছি। আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) এবং সকল নবী, রাসূল (المرسلين), সাহাবী ও তাবেয়ীদের (التابعين) ওপর দরুদ বর্ষিত হোক। [আমীন] (৬)।

[জিলকদ মাস, ১০৫৭ হিজরি সনে এটি সংকলিত হয়েছে। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন এবং তার বংশধরদের প্রতি সদয় হোন। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।] (৭)।

--------------------------------------------

(১) এবং 'বা' পাণ্ডুলিপিতে: "মুক্ত দাস" (المعتق) রয়েছে।

(২) এবং 'আলিফ' পাণ্ডুলিপিতে: "বন্ধক" (الرهن) রয়েছে, তবে আমরা যা সাব্যস্ত করেছি সেটিই সঠিক।

(৩) 'বা' পাণ্ডুলিপিতে এটি উল্লিখিত নেই।

(৪) এবং 'বা' পাণ্ডুলিপিতে: "চুক্তির মাধ্যমে" (بالعقد) রয়েছে।

(৫) 'আলিফ' পাণ্ডুলিপিতে: "কাঠিন্যের কারণে" (لصعوبة) রয়েছে।

(৬) 'বা' পাণ্ডুলিপি থেকে বর্ধিত।

(৭) 'বা' পাণ্ডুলিপিতে এটি উল্লিখিত নেই।