(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
المسائل الماردينية   (ابن تيمية)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: المسَائِلُ الماردينيَّةِ - وهي مسائل يكثر وقوعها ويحصل الابتلاء بها

المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728 هـ)

مضافًا إليها تعليقات: الشيخ محمد حامد الفقي رحمه الله [ت 1378 هـ]

وثق نصوصه وخرّج أحاديثه وعلَّق عليه: خالد بن محمد بن عثمان المصري

الناشر: دار الفلاح، مصر

عدد الصفحات: 253

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 محرم 1434

আল-মাসায়িল আল-মারদিনিয়্যাহ   (ইবনে তাইমিয়্যাহ)

বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ


বই: আল-মাসায়িল আল-মারদিনিয়্যাহ - এগুলো এমন সব মাসআলা যা সচরাচর ঘটে থাকে এবং যার দ্বারা পরীক্ষা হয়ে থাকে

লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবুল কাসেম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ৭২৮ হিজরী)

সংযোজিত টীকা: শেখ মুহাম্মাদ হামিদ আল-ফিকী রাহিমাহুল্লাহ [মৃত্যু ১৩৭৮ হিজরী]

মূল পাঠ্য যাচাই, হাদিস বিশ্লেষণ এবং টীকা বিন্যাস: খালিদ বিন মুহাম্মাদ বিন উসমান আল-মিসরী

প্রকাশক: দারুল ফালাহ, মিশর

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৩

[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ মহররম ১৪৩৪

(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
المسَائِلُ الماردينيَّةِ

[وهي مسائل يكثر وقوعها ويحصل الابتلاء بها]

 

لشَيخ الإسلام

تقي الدين أبي العبَّاس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله ابن تيمية الحرَّاني رحمه الله المتوفى 728 هـ

 

مضافًا إليها تعليقات

الشيخ/ محمد حامد الفقي رحمه الله

 

وثق نصوصه وخرّج أحاديثه وعلَّق عليه

خالد بن محمد بن عثمان المصري
আল-মাসাইলুল মারদিনিয়্যাহ

[এগুলো এমন সব মাসআলা যা সচরাচর ঘটে এবং যাতে মানুষ পরীক্ষার সম্মুখীন হয়]

 

শায়খুল ইসলাম

তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি রাহিমাহুল্লাহ, মৃত্যু ৭২৮ হিজরি

 

এর সাথে যুক্ত করা হয়েছে টীকাসমূহ

শায়খ মুহাম্মাদ হামিদ আল-ফিকী রাহিমাহুল্লাহ-এর

 

এর পাঠ্য প্রমাণীকরণ, হাদিসসমূহের উৎস বিশ্লেষণ এবং টীকা প্রদান করেছেন

খালিদ বিন মুহাম্মাদ বিন উসমান আল-মিসরি
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
المسَائِلُ الماردينيَّةِ

[وهي مسائل يكثر وقوعها ويحصل الابتلاء بها]

 

لشَيخ الإسلام

تقي الدين أبي العبَّاس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله ابن تيمية الحرَّاني رحمه الله المتوفى 728 هـ

 

مضافًا إليها تعليقات

الشيخ/ محمد حامد الفقي رحمه الله

 

وثق نصوصه وخرّج أحاديثه وعلَّق عليه

خالد بن محمد بن عثمان المصري
আল-মাসায়েল আল-মারদিনিয়্যাহ

[এগুলো এমন সব মাসআলা যা সচরাচর ঘটে এবং যার মাধ্যমে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়]

 

শাইখুল ইসলাম

তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবন আব্দুল হালীম ইবন আব্দুস সালাম ইবন আব্দুল্লাহ ইবন তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন), মৃত্যু ৭২৮ হিজরী

 

এর সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে টীকা

শাইখ মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)

 

মূল পাঠ্য যাচাই, হাদিসের তাখরীজ ও টীকা প্রদান করেছেন

খালিদ ইবন মুহাম্মদ ইবন উসমান আল-মিসরী
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن مُحمدًا عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} [آل عمران: 102]. {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء: 1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70 - 71].

أما بعد، فإن خير الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

وبعد، قال الشيخ شهاب الدين أحمد بن مري الحنبلي أحد تلامذة شيخ الإسلام ابن تيمية - في مكتوب له كتبه إلي حنابلة دمشق يعزيهم بالمصاب بالشيخ ويوصيهم بنسخ تآليفه من مسوداته والاحتفاظ بها وبمراجعة الإمام ابن القيم ويبشرهم بالعاقبة الحسنة (ص 13، 14):

"ومن أراد عظيم الأمر التام، ونصيحة الأنام، ونشر علم هذا
ভূমিকা

নিশ্চয় সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের মন্দ এবং আমাদের কর্মসমূহের অকল্যাণ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

{হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না (১০২)} [আল ইমরান: ১০২]। {হে মানবজাতি, তোমরা তোমাদের সেই রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তাঁর স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে আবেদন করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সচেতন থাকো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষণকারী (১)} [আন-নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো (৭০) তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল} [আল-আহজাব: ৭০-৭১]।

অতপর, নিশ্চয় সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

এরপর, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর অন্যতম ছাত্র শাইখ শিহাবুদ্দীন আহমদ ইবনে মারি আল-হাম্বলি—দামেস্কের হাম্বলিদের কাছে লিখিত এক পত্রে, যেখানে তিনি শাইখের ইন্তেকালে তাদের শোক প্রকাশ করেছেন, তাঁর খসড়া পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে কিতাবসমূহ নকল করার ও সেগুলো সংরক্ষণ করার এবং ইমাম ইবনুল কাইয়্যিমের শরণাপন্ন হওয়ার উপদেশ দিয়েছেন এবং তাদেরকে শুভ পরিণামের সুসংবাদ দিয়েছেন—বলেছেন (পৃষ্ঠা ১৩, ১৪):

"আর যে ব্যক্তি মহান ও পূর্ণাঙ্গ বিষয়টি এবং সৃষ্টির কল্যাণ কামনা করতে চায়, আর এই জ্ঞান প্রচার করতে চায়..."
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
الإمام -أي: ابن تيمية- الذى أختطفه من بيننا محتوم الحمام، ويخشى دروس كثير من علومه المتفرقة الفائقة، مع تكرر مرور الليالي والأيام، على جليتها من غير تصرف فيها ولا اختصار، ولو وُجِد فيها كثيرًا من التكرار، ومقابلتها، وتكثير النسخ بها، وإشاعتها، وجمع النظائر والأشباه في مكانِ واحدٍ" إلى آخر مكتوب هذا التلميذ النجيب رحمه الله، فقلتُ: لعل يكون لي نصيب في العمل بهذه النصيحة الجليلة بالمشاركة -ولو بالقليل- في نشر علم هذا الإمام: شيخ الإسلام رحمه الله ونفع بعلمه-.

فكان كتابنا هذا هو الطليعة لي، وهو إحدى نفائس شيخ الإسلام وواحد من من فرائده التي نبغ بها وعلا على سائر العلماء، فقد حوى دررًا فقهية وحَّلا لمعضلات يَعجز عنها بعض من وصل إلى مرتبة الاجتهاد، فكيف بالطالب الناشئ؟

وقد جاءت غالب مسائله منثورة خلال مجموع الفتاوى، إلا مسائل قليلة لم توجد في الفتاوى.

وقد اعتمدت في توثيق نصوصه على: نسخة خطية حصلت عليها من دار الكتب، ومطبوعة الشيخ محمد حامد الفقي رحمه الله ومجموع الفتاوى، فقمت بمقابلة المخطوطة على المطبوعة والفتاوى، وأثبت الأقرب إلى الصواب من النسخ الثلاث، وأثبت الفروق في الحاشية، وقد رمزت لمجموع الفتاوى بـ: "ف".

وأثبت أيضًا تعليقات الشيخ محمد حامد الفقي رحمه الله في الحواشي، وهي تعليقاته الفقهية واللغوية، أما تعليقاته المتعلقة
ইমাম—অর্থাৎ ইবনে তাইমিয়া—যাকে অনিবার্য মৃত্যু আমাদের মাঝ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে, এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে যে দিন ও রাতের ক্রমাগত আবর্তনে তাঁর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শ্রেষ্ঠ ইলমসমূহের অনেক কিছুই বিলীন হয়ে যাবে; তাই কোনো পরিবর্তন বা সংক্ষিপ্তকরণ ছাড়াই মূল বিষয়গুলোকে অবিকল রাখা, যদিও তাতে অনেক পুনরাবৃত্তি পাওয়া যায়, এবং সেগুলোকে মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মেলানো, সেগুলোর অনেক অনুলিপি তৈরি করা, তা প্রচার করা এবং সমজাতীয় ও সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলোকে এক স্থানে একত্রিত করা"—এই মেধাবী ছাত্র (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর লেখার শেষ পর্যন্ত। তাই আমি বললাম: সম্ভবত এই মহান উপদেশের ওপর আমল করার ক্ষেত্রে এবং এই ইমাম—শাইখুল ইসলাম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁর ইলম দ্বারা উপকৃত করুন)-এর ইলম প্রচারে সামান্য অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমারও কিছু অংশীদারিত্ব থাকবে।

সুতরাং আমাদের এই বইটিই আমার জন্য অগ্রবর্তী পদক্ষেপ, যা শাইখুল ইসলামের মূল্যবান সম্পদসমূহের একটি এবং তাঁর সেই অনন্য রচনাবলির অন্যতম যার মাধ্যমে তিনি খ্যাতি লাভ করেছেন এবং অন্যান্য সমস্ত আলেমের ওপর উচ্চমর্যাদা লাভ করেছেন। এটি ফিকহী মুক্তাসমূহ এবং এমন সব জটিল সমস্যার সমাধান ধারণ করেছে যা ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছানো কিছু মানুষের পক্ষেও সমাধান করা অসম্ভব, তাহলে একজন নতুন ছাত্রের অবস্থা কী হবে?

এর অধিকাংশ মাসআলা 'মাজমুউল ফাতাওয়া'-র বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল, তবে অল্প কিছু মাসআলা আছে যা ফাতাওয়ার মধ্যে পাওয়া যায়নি।

এর পাঠ্যসমূহ প্রমাণের ক্ষেত্রে আমি নির্ভর করেছি: 'দারুল কুতুব' থেকে প্রাপ্ত একটি পাণ্ডুলিপি, শাইখ মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর মুদ্রিত সংস্করণ এবং 'মাজমুউল ফাতাওয়া'-র ওপর। আমি পাণ্ডুলিপিটিকে মুদ্রিত সংস্করণ ও ফাতাওয়ার সাথে মিলিয়েছি এবং তিনটি কপির মধ্যে যা সত্যের অধিকতর নিকটবর্তী মনে হয়েছে তা মূল পাঠে রেখেছি, আর পাঠ্যের পার্থক্যসমূহ পাদটীকায় উল্লেখ করেছি। আমি 'মাজমুউল ফাতাওয়া'-কে 'ফ' চিহ্ন দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

আমি শাইখ মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর টীকাগুলোও পাদটীকায় যুক্ত করেছি, যেগুলো মূলত তাঁর ফিকহী ও ভাষাগত মন্তব্য। আর তাঁর সেই সব মন্তব্য যা সংশ্লিষ্ট...
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
بتخريج الأحاديث، فلم أثبتها، حيث قمت أنا بهذا العمل، هذا بجانب أن الشيخ رحمه الله اكتفى بتخريج مبسط للغاية، لا يؤدي الغرض المطلوب، مع تركه لكثير من الأحاديث بغير تخريج ودون بيان الحكم عليها بالصحة أو الضعف.

هذا، وقد أطلت النفس في تخريج بعض الأحاديث، مقتفيًا بذلك أثر شيخنا العلامة محدث العصر: محمد ناصر الدين الألباني رحمه الله، الذي تعلمنا من كتبه هذا التخريج العلمي الموثق الذي يحتوي على ذكر الطرق والشواهد والمتابعات والعلل، وبيان أحوال الرواة من جرح وتعديل، بطريقة يطمئن بها الباحث أطمئنان نسبي إلى الحكم الذي وصل إليه، مقتديًا بحكم الأئمة السابقين على الحديث، بغير تقليد ولا إحداث.

وقمت في نهاية كل فصل -ورد في الفتاوى- بإثبات موضعه من الفتاوى بذكر رقم الجزء والصفحة.

وقد جاءت أغلب فصول الكتاب ومسائله في مجموع الفتاوى متناثرة ليست مرتبة على نسق الكتاب هنا، وهناك مسألة أو مسألتان لم يُذكرا في الفتاوى، وسوف يأتي الإشارة إليها.

وقمت كذلك بمناقشة المسائل الفقهية الواردة في الكتاب، وتتبع أقوال أهل العلم فيها في كتب المذاهب والمطولات، وفي الغالب يكون حكمي مؤيدًا لما ذهب إليه شيخ الإسلام رحمه الله وأحيانًا أثبت بعض الفوائد الزوائد مما يزيد المسألة وضوحًا وجلاءً.

وكذا أحيانًا إذا كان لشيخ الإسلام كلامًا آخر أكثر تفصيلًا، في
হাদিসগুলোর তাখরিজ বা সূত্র নির্দেশনার ক্ষেত্রে আমি সেগুলো বহাল রাখিনি, যেহেতু আমি নিজেই এই কাজটি সম্পন্ন করেছি। এর পাশাপাশি শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত তাখরিজের ওপর নির্ভর করেছিলেন, যা কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য পূরণ করে না। এছাড়া তিনি অনেক হাদিসকে কোনো প্রকার তাখরিজ ছাড়াই এবং সেগুলোর শুদ্ধতা বা দুর্বলতার ব্যাপারে কোনো হুকুম বর্ণনা করা ছাড়াই ছেড়ে দিয়েছিলেন।

তদুপরি, আমি কিছু হাদিসের তাখরিজের ক্ষেত্রে দীর্ঘ আলোচনা করেছি। এক্ষেত্রে আমি আমাদের শাইখ আল্লামাহ, সমসাময়িক যুগের মুহাদ্দিস মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী (রহিমাহুল্লাহ)-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি। তার কিতাবসমূহ থেকেই আমরা এই দালিলিক ও বৈজ্ঞানিক তাখরিজ শিখেছি, যা হাদিসের বিভিন্ন সূত্র (তুরুক), সাক্ষ্য (শাওয়াহিদ), অনুগামী বর্ণনা (মুতাবায়াত) এবং ত্রুটিসমূহ (ইলাল) উল্লেখ করার পাশাপাশি জারহ ও তা'দিলের আলোকে বর্ণনাকারীদের অবস্থা বর্ণনার ধারাকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর মাধ্যমে একজন গবেষক প্রাপ্ত হুকুম বা সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আপেক্ষিক প্রশান্তি লাভ করতে পারেন। আমি এক্ষেত্রে পূর্ববর্তী ইমামগণের হাদিসের ওপর দেওয়া হুকুমের অনুসরণ করেছি—অন্ধ অনুকরণ কিংবা নতুন কিছু উদ্ভাবন ছাড়াই।

ফাতাওয়া থেকে সংকলিত প্রতিটি পরিচ্ছেদের শেষে আমি ফাতাওয়ার খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করার মাধ্যমে মূল কিতাবে এর অবস্থান নিশ্চিত করেছি।

এই কিতাবের অধিকাংশ পরিচ্ছেদ এবং মাসআলাসমূহ 'মাজমুউল ফাতাওয়া'-তে বিক্ষিপ্তভাবে এসেছে এবং বর্তমান কিতাবের বিন্যাস অনুযায়ী সেখানে বিন্যস্ত ছিল না। এছাড়া একটি বা দুটি মাসআলা রয়েছে যা ফাতাওয়ায় উল্লেখ করা হয়নি, সামনে সেগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করা হবে।

পাশাপাশি আমি কিতাবটিতে বর্ণিত ফিকহি মাসআলাসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি এবং বিভিন্ন মাজহাবের কিতাব ও বিস্তারিত গ্রন্থসমূহ থেকে এ বিষয়ে আলেমগণের মতামত অনুসন্ধান করেছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমার সিদ্ধান্ত শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতের স্বপক্ষেই থাকে এবং ক্ষেত্রবিশেষে আমি কিছু অতিরিক্ত ফায়দা বা তথ্য সংযোজন করি যা মাসআলাটিকে আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।

অনুরূপভাবে মাঝে মাঝে শাইখুল ইসলামের যদি আরও বিস্তারিত অন্য কোনো বক্তব্য থেকে থাকে, তবে...
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
نفس الباب، في كتبه الأخرى، إما أن أنقل موضع الشاهد منه، أو أعزو إليه، وذلك؛ إتمامًا للفائدة.

وصلى الله على محمد وآله وسلم

وكتب

خالد بن محمد بن عثمان

القاهرة - حي مصر الجديدة

الأحد (22) من ربيع الثاني 1424 هـ
একই অধ্যায় সম্পর্কে তাঁর অন্যান্য গ্রন্থে যা রয়েছে, হয় আমি সেখান থেকে প্রাসঙ্গিক অংশ উদ্ধৃত করব অথবা সেটির বরাত প্রদান করব; আর তা করা হয়েছে উপকারিতা পূর্ণ করার লক্ষ্যে।

আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

লিখেছেন

খালিদ বিন মুহাম্মদ বিন উসমান

কায়রো - মাসর আল-জাদিদা এলাকা

রবিবার, ২২ রবিউস সানি, ১৪২৪ হিজরি
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌ترجمة شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله

لقد أعتنى بالترجمة لشيخ الإسلام رحمه الله كثير من أهل العلم، وكانت مناقبه ومآثره العلمية موضعًا للبحث والإشادة عبر القرون السابقة منذ وفاته رحمه الله.

 

‌‌ومن الكتب التي أُفرِدت لبيان مناقبه والترجمة لحياته:

(1) "العقود الدرية عن مناقب شيخ الإسلام ابن تيمية" للحافظ أبي عبد الله بن عبد الهادي رحمه الله (1).

(3) "الرد الوافر" لابن ناصر الدين الدمشقي (2).

(3) "الأعلام العلية في مناقب شيخ الإسلام ابن تيمية" للحافظ أبي حفص عمر بن علي البزار رحمه الله (3).

(4) الشهادة الزكية في ثناء الأئمة على ابن تيمية" لمرعي بن يوسف الكرمي الحنبلي (4).

(5) "رسالة قصيرة في فضل شيخ الإسلام ابن تيمية ومحبته أهل العلم" لعبد الله ابن حامد الشافعي رحمه الله (5).

(6) "القول الجلي في ترجمة الشيخ تقي الدين الحنبلي" للشيخ

--------------------------------------------

(1) أحدث طبعاته هي طبعة دار الفاروق الحديثة.

(2) طبعة المكتب الإسلامي (1393 هـ) بتحقيق/ زهير الشاويش.

(3) طبعته دار الكتاب الجديد ببيروت (1396 هـ) بتحقيق د. صلاح الدين المنجد.

(4) دار الفرقان - مؤسسة الرسالة (1404 هـ) بتحقيق نجم عبد الرحمن خلف.

(5) مكتبة ابن تيمية في الكويت بتحقيق محمد بن إبراهيم الشيباني.
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর জীবনী

নিশ্চয়ই অনেক আলিম শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনী রচনার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে বিগত শতাব্দীগুলোতে তাঁর মর্যাদা ও ইলমি অবদানসমূহ গবেষণা ও প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

 

‌শাইখুল ইসলামের গুণাবলি ও জীবনচরিত বর্ণনার জন্য যেসব গ্রন্থ স্বতন্ত্রভাবে রচিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

(১) হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাদি (রহিমাহুল্লাহ) রচিত "আল-উকুুদুদ দুররিয়্যাহ আন মানাকিবি শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ" (১)।

(৩) ইবনে নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকি রচিত "আর-রদ্দুল ওয়াফির" (২)।

(৩) হাফিজ আবু হাফস উমর বিন আলি আল-বাযযার (রহিমাহুল্লাহ) রচিত "আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফি মানাকিবি শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ" (৩)।

(৪) মারই বিন ইউসুফ আল-কারমি আল-হাম্বলি রচিত "আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফি সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনে তাইমিয়্যাহ" (৪)।

(৫) আব্দুল্লাহ ইবনে হামিদ আশ-শাফিয়ি (রহিমাহুল্লাহ) রচিত "রিসালাতুন কাসিরাতুন ফি ফাদলি শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া মুহাব্বাতিহি আহলাল ইলম" (৫)।

(৬) শাইখ রচিত "আল-কাউলুল জালি ফি তারজামাতিশ শাইখ তাকিউদ্দীন আল-হাম্বলি"

--------------------------------------------

(১) এর আধুনিকতম সংস্করণ হলো দারুল ফারুক আল-হাদিসাহ-এর মুদ্রণ।

(২) যুহাইর আশ-শাভিশ-এর তাহকিকসহ আল-মাকতাবুল ইসলামি সংস্করণ (১৩৯৩ হিজরি)।

(৩) ড. সালাহুদ্দিন আল-মুনজিদ-এর তাহকিকসহ বৈরুতের দারুল কিতাব আল-জাদিদ সংস্করণ (১৩৯৬ হিজরি)।

(৪) নাজম আব্দুর রহমান খালাফ-এর তাহকিকসহ দারুল ফুরকান - মুআসসাসাতুর রিসালাহ (১৪০৪ হিজরি)।

(৫) মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আশ-শাইবানি-এর তাহকিকসহ কুয়েতের মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়্যাহ।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
محمد صفي الدين البخاري الحنفي (1).

ومن أحدث الأبحاث المتعلقة بهذا الأمر، هي بحوث الندوة العالمية عن "شيخ الإسلام ابن تيمية وأعماله الخالدة" المنعقدة في 18/ 3، و1، 2/ 4/ 1408 هـ في الجامعة السلفية ببنارس الهند، وقد انتقيت منها بحثين، ألا وهما:

البحث الأول: كلمة موجزة لسماحة الشيخ ابن باز رحمه الله حول حياة شيخ الإسلام.

البحث الثاني: تعريف موجز عن شيخ الإسلام ابن تيمية ودعوته ومآثره العلمية، بقلم الدكتور عبد الرحمن بن عبد الجبار الفريوائي.

قال سماحة الشيخ العلامة ابن باز -حمه الله- كما في (ص 49 - 52) من بحوث الندوة:

"الحمد لله نحمده ونستعينه ونستهديه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله عليه وسلم وعلى إله وأصحابه. أما بعد:

فقد سرني كثيرًا ما علمت من عزم الأخوة القائمين على

--------------------------------------------

(1) وهي رسالة في الدفاع عن شيخ الإسلام تبرئته من المخالفة لمذهب أهل السنة والجماعة في الأصول والفروع.
মুহাম্মদ শফি উদ্দিন আল-বুখারী আল-হানাফী (১)।

এবং এই বিষয়ে সবচেয়ে সাম্প্রতিক গবেষণাসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো "শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া ও তাঁর কালজয়ী কর্মসমূহ" শীর্ষক বিশ্ব সেমিনারের গবেষণাপত্রসমূহ, যা ১৮/৩ এবং ১, ২/৪/১৪০৮ হিজরি তারিখে ভারতের বেনারসের জামিয়া সালাফিয়্যাহ-তে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আমি সেখান থেকে দুটি গবেষণা নির্বাচন করেছি, সেগুলো হলো:

প্রথম গবেষণা: শাইখুল ইসলামের জীবন সম্পর্কে মান্যবর শাইখ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ)-এর একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য।

দ্বিতীয় গবেষণা: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, তাঁর দাওয়াত এবং ইলমি অবদানের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, লিখেছেন ডক্টর আবদুর রহমান বিন আব্দুল জব্বার আল-ফাইরূওয়ায়ী।

মান্যবর আল্লামা শাইখ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) সেমিনারের গবেষণাপত্রের (পৃষ্ঠা ৪৯ - ৫২)-এ যেমনটি বলেছেন:

"সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই, তাঁরই কাছে সঠিক পথের দিশা চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীদের ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতপর:

আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি যখন আমি সেই সংকল্পের কথা জানতে পেরেছি যা গ্রহণ করেছেন সেইসব দায়িত্বশীল ভাইয়েরা যারা...

--------------------------------------------

(১) এটি শাইখুল ইসলামের পক্ষাবলম্বন করে একটি রিসালাহ (পুস্তিকা), যা তাঁকে উসুল (মৌলিক বিশ্বাস) এবং ফুরু (শাখা-প্রশাখা) এর ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের মাযহাবের বিরোধিতা করার অভিযোগ থেকে মুক্ত করে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
الجامعة السلفية في مدينة بنارس بالهند، على عقد ندوة علمية عن حياة شيخ الإسلام أحمد بن عبد الحليم بن تيمية رحمه الله وعن مآثره العلمية وجهوده الدعوية وجهاده في سبيل الله ودعوته للأمة الإسلامية إلى العودة إلى كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم. وقد طلبوا مني -جزاهم الله خيرًا- أن تكون لي مشاركة فيها بمقال عن شيخ الإسلام، ولما كان هذا عملاً جليلًا وخطوة مباركة نحو التعريف بشيخ الإسلام ومؤلفاته؛ ولإظهار فضله وعلمه؛ ولإزالة بعض الشبه التي قد تكون عالقة بأذهان بعض المسلمين حول حياة شيخ الإسلام ودعوته، فقد رأيت أن اشترك مع الأخوة الأفاضل أصحاب البحوث والمقالات في هذه الندوة بكلمة مختصرة؛ لعدم تمكني من البسط في ذلك؛ لكثرة مشاغلي، وأسأل الله سبحانه وتعالى أن يوفق القائمين على الندوة لجميع البحوث التي تُقرأ في الندوة واعدادها إعدادًا علميًا ونشرها في كتاب، ينتفع به المسلمون ويعلمون به دعوة شيخ الإسلام ومنهجه وأسلوبه في الدعوة إن شاء الله. فأقول وبالله التوفيق وعليه التكلان في كل صغير وكبير:

إن ابن تيمية: هو شيخ الإسلام تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن تيمية الحراني الدمشقي رحمه الله.

وُلد في مدينة حران يوم الإثنين عاشر ربيع الأول من سنة إحدى وستين وستمائة من الهجرة، وتربى في بيت علم وفضل، فأبوه وجدُه كلاهما من كبار علماء عصره وقد نشأ في تصون وصلاح
ভারতের বেনারস শহরের জামিয়া সালাফিয়া, শায়খুল ইসলাম আহমদ ইবনে আব্দুল হালিম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর জীবন, তাঁর ইলমি অবদান, দাওয়াতি প্রচেষ্টা, আল্লাহর পথে তাঁর জিহাদ এবং উম্মতে মুসলিমাকে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) সুন্নাহর দিকে ফিরে আসার আহ্বানের ওপর একটি ইলমি সেমিনার আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা আমার কাছে আবেদন জানিয়েছেন—আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন—যেন শায়খুল ইসলাম সম্পর্কে একটি প্রবন্ধের মাধ্যমে আমার অংশগ্রহণ থাকে। যেহেতু এটি একটি মহান কাজ এবং শায়খুল ইসলাম ও তাঁর রচনাবলি সম্পর্কে পরিচিতি প্রদানের ক্ষেত্রে একটি বরকতময় পদক্ষেপ; এবং তাঁর মর্যাদা ও ইলম প্রকাশের জন্য; এবং শায়খুল ইসলামের জীবন ও তাঁর দাওয়াত সম্পর্কে কিছু মুসলমানের মনে যেসব সংশয় থাকতে পারে তা দূর করার জন্য; তাই আমি এই সেমিনারের সম্মানিত গবেষক ও প্রবন্ধকার ভাইদের সাথে একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে শরিক হওয়া সমীচীন মনে করেছি; কারণ অধিক ব্যস্ততার কারণে আমার পক্ষে বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব হয়নি। আমি মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই সেমিনারের আয়োজকদের সেমিনারে পঠিত সকল গবেষণাপত্র সংগ্রহ করে তা ইলমি পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা এবং একটি কিতাব আকারে প্রকাশ করার তাওফিক দান করেন, যার দ্বারা মুসলমানরা উপকৃত হবে এবং যদি আল্লাহ চান তবে এর মাধ্যমে তারা শায়খুল ইসলামের দাওয়াত, তাঁর আদর্শ ও দাওয়াতি পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারবে। অতএব আমি বলছি, আর আল্লাহর নিকটই তাওফিক এবং ছোট-বড় সকল বিষয়ে তাঁর ওপরই নির্ভরতা:

নিশ্চয় ইবনে তাইমিয়্যাহ হলেন: শায়খুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল হালিম ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে তাইমিয়্যাহ হাররানি দামেশকি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)।

তিনি ৬৬১ হিজরি সনের দশই রবিউল আউয়াল সোমবার হাররান শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং একটি ইলমি ও মর্যাদাবান পরিবারে লালিত-পালিত হন। তাঁর পিতা ও দাদা উভয়েই নিজ সময়ের বিশিষ্ট আলেম ছিলেন এবং তিনি পবিত্রতা ও সততার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وطهارة وتقى، هكذا شهد له كل من اعتنى بتاريخه من معاصريه وتلاميذه. وأخذ العلم من كبار مشايخ عصره. عَني بالتفسير، وبالحديث، وسمع الكتب الستة، و"المسند" للإمام أحمد ومعاجم الطبراني، وما لا يحصى من الكتب والأجزاء. وأخذ الفقه وأصوله عن والده وغيره من المشايخ، وبرع فيهما وأحكم الفرائض ونظر في الكلام والفلسفة وبرز في ذلك كله على أهله.

ولم يطرق بابًا من أبواب العلم إلا وقد فتحه الله له على مصراعيه. حتى قال فيه أحد معاصريه: قد ألان الله له العلوم كما ألان لداود الحديد، كان إذا سُئل عن فن من العلم، ظن الرائي والسامع أنه لا يعرف غير ذلك الفن، وحكم أن أحدًا لا يعرفه مثله، وكان الفقهاء من جميع الطوائف إذا جلسوا معه استفادوا في مذاهبهم منه ما لم يكونوا عرفوه قبل ذلك. ولا يعرف أنه ناظر أحدًا فانقطع منه، ولا تكلم في علم من العلوم، سواء أكان من علوم الشرع أم من غيرها، إلا فاق فيه أهله والمنسوبين إليه، وكان له اليد الطُوْلَى في حسن التصنيف.

وقد درس رحمه الله جميع المذاهب والآراء في العقدية المنتشرة في عصره فدرس مذهب الأشاعرة ودرس الفلسفة والمنطق وآثارهما السيئة على الإسلام وعقيدته. وكان شديد الحرص على معرفة آراء الصحابة واتجاهاتهم الفقهية.

وعلى ضوء هذه الدراسة العميقة للكتاب والسُنَّة وبهذا الحرص الشديد على الوصول إلى الحق وبعقله الكبير تأهل رحمه الله لِما لم
পবিত্রতা ও তাকওয়া—তাঁর সমসাময়িক এবং ছাত্র যারা তাঁর জীবনীর প্রতি মনোনিবেশ করেছেন, তারা সকলেই তাঁর সম্পর্কে এরূপ সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি তাঁর যুগের বড় বড় মাশায়েখদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি তাফসির ও হাদিসের প্রতি বিশেষভাবে যত্নবান ছিলেন এবং 'কুতুবে সিত্তা' (ছয়টি প্রধান হাদিস গ্রন্থ), ইমাম আহমদের 'মুসনাদ', তাবারানির 'মুজামসমূহ' এবং অগণিত কিতাব ও খণ্ডসমূহ শ্রবণ করেছেন। তিনি তাঁর পিতা এবং অন্যান্য মাশায়েখদের কাছ থেকে ফিকহ ও উসুলে ফিকহ শিক্ষা করেন এবং এই উভয় বিষয়ে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। তিনি ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) শাস্ত্রে পারদর্শী হন এবং ইলমুল কালাম ও দর্শনশাস্ত্রে গভীর দৃষ্টিপাত করেন এবং এসবের বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন।

তিনি জ্ঞানের এমন কোনো দরজায় করাঘাত করেননি যা আল্লাহ তাঁর জন্য প্রশস্তভাবে খুলে দেননি। এমনকি তাঁর এক সমসাময়িক ব্যক্তি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: আল্লাহ তাঁর জন্য জ্ঞানকে তেমনি সহজ করে দিয়েছিলেন যেমন তিনি দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য লোহাকে নরম করে দিয়েছিলেন। যখন তাঁকে কোনো শাস্ত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন দর্শক ও শ্রোতা মনে করতেন যে তিনি ওই শাস্ত্র ছাড়া অন্য কিছু জানেন না এবং তারা ফয়সালা দিতেন যে ওই শাস্ত্র সম্পর্কে তাঁর মতো পারদর্শী আর কেউ নেই। যখন সমস্ত মাযহাবের ফকিহগণ তাঁর সাথে বসতেন, তখন তাঁরা তাঁদের নিজ নিজ মাযহাব সম্পর্কে এমন সব বিষয় তাঁর থেকে শিখতে পারতেন যা তাঁরা আগে জানতেন না। এমন কোনো ঘটনা জানা নেই যে তিনি কারো সাথে বিতর্ক করেছেন আর তাতে লা-জওয়াব বা নিরুত্তর হয়েছেন। তিনি শরয়ি বিজ্ঞান হোক বা অন্য কোনো বিষয়, যে জ্ঞান নিয়েই কথা বলতেন তাতেই তিনি এর বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে যেতেন। চমৎকার গ্রন্থ রচনায় তাঁর অসাধারণ দক্ষতা ছিল।

আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি তাঁর যুগে প্রচলিত সমস্ত আকিদাগত মাযহাব ও মতামত অধ্যয়ন করেছিলেন। তিনি আশআরি মাযহাব এবং দর্শন ও যুক্তিবিদ্যা এবং ইসলাম ও মুসলিম আকিদার ওপর এগুলোর মন্দ প্রভাব নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। সাহাবিদের মতামত ও তাঁদের ফিকহগত দৃষ্টিভঙ্গি জানার বিষয়ে তিনি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন।

কুরআন ও সুন্নাহর এই গভীর অধ্যয়নের আলোকে, সত্যে পৌঁছানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং তাঁর সুতীক্ষ্ণ মেধার মাধ্যমে তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) এমন যোগ্যতায় উন্নীত হয়েছিলেন যা ইতিপূর্বে কেউ অর্জন করতে পারেনি।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
يتأهل له الآخرون لا في عصره ولا فيما سبق من العصور القريبة من عصره، وبلغ رتبة المجتهد المطلق حيث توافرت فيه جميع الشروط المطلوبة للاجتهاد.

وقد نهج رحمه الله المنهج الذي عاد بالإسلام إلى عهد الصحابة في عقائده وأصوله وفروعه، ودافع عن الإسلام الصحيح بكل ما أُوتي من قوة البرهان والحجة، ولم يبالِ في هذا السبيل بأي إنسان، ما دام الدليل معه، وبذلك أزال ما علق بالإسلام من شُبَه وبدع. والتف المسلمون العارفون به حوله واستفادوا منه النور الذي قذف الله في قلبه ونشروه للعالم. كما كثر مخالفوه وأعداؤه ولا غرابة في هذا. فإن الداعي إلى الحق لا بد أن يواجه من يوجد العراقيل في سبيل دعوته من أهل الأهواء والبدع، ولكنه لا يبالي بلومة لائم ولا يخاف الأذى والمشاكل التي تعترض طريقه. وهذا كان ديدن شيخ الإسلام في حياته كلها. فإنه كان رحمه الله قويًا في إيمانه، مخلصًا لدعوته، جريئًا في الحق، مواصلًا دعوته، وصابرًا محتسبًا في الله. ما زال يزيح الستار عن الوجه الوضَّاء للإسلام ويدعو إلى الإسلام الصحيح حتى لقي ربه.

ومن أجل هذا كله اتفق أئمة ذلك العصر على تسميته بشيخ الإسلام وأثنوا عليه بأنه شيخ الإسلام، وبحر العلوم، وترجمان القرآن، وأوحد المجتهدين ونحو هذه الألفاظ. وقد ساق الحافظ ابن ناصر الدين الدمشقي أقوال كثير من الأئمة في الثناء على شيخ الإسلام في كتابه "الرد الوافر".
অন্যরা যার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি, না তাঁর যুগে, আর না তাঁর নিকটবর্তী পূর্ববর্তী যুগসমূহে। তিনি মুজতাহিদ মুতলাক-এর স্তরে পৌঁছেছিলেন, কারণ ইজতিহাদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল শর্ত তাঁর মধ্যে বিদ্যমান ছিল।

আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি এমন এক পথ অনুসরণ করেছিলেন যা ইসলামকে তাঁর আকিদা, মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের যুগে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। তিনি তাঁর সর্বশক্তি দিয়ে দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে সঠিক ইসলামের প্রতিরক্ষা করেছেন। দলিল যতক্ষণ তাঁর সাথে ছিল, ততক্ষণ তিনি এই পথে কোনো মানুষের পরোয়া করেননি। এর মাধ্যমে তিনি ইসলামের সাথে জড়িয়ে থাকা সন্দেহ ও বিদআতসমূহ দূর করেছিলেন। তাঁকে চিনেছেন এমন বিজ্ঞ মুসলিমগণ তাঁর চারপাশে সমবেত হয়েছিলেন এবং আল্লাহ তাঁর অন্তরে যে নূর ঢেলে দিয়েছিলেন তা থেকে তাঁরা উপকৃত হয়েছিলেন এবং তা বিশ্বের কাছে প্রচার করেছিলেন। অনুরূপভাবে তাঁর বিরোধিতাকারী ও শত্রুর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা আশ্চর্যের কিছু নয়। কারণ সত্যের দিকে আহ্বানকারীকে অবশ্যই প্রবৃত্তি পূজারী ও বিদআতীদের পক্ষ থেকে তাঁর দাওয়াতের পথে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করতেন না এবং তাঁর পথে আসা কোনো কষ্ট ও সমস্যার ভয় পেতেন না। এটিই ছিল শাইখুল ইসলামের সারাজীবনের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি তাঁর ঈমানে ছিলেন শক্তিশালী, তাঁর দাওয়াতের প্রতি একনিষ্ঠ, সত্যের ক্ষেত্রে সাহসী এবং দাওয়াতের কাজে অবিচল ছিলেন। তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় ধৈর্য ধারণ করেছিলেন। তিনি ইসলামের উজ্জ্বল চেহারা থেকে পর্দা উন্মোচন করে চলেছিলেন এবং মহান রবের সাথে মিলিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সঠিক ইসলামের দিকে দাওয়াত দিয়েছিলেন।

এই সমস্ত কারণে সেই যুগের ইমামগণ তাঁকে 'শাইখুল ইসলাম' নামে অভিহিত করার ব্যাপারে একমত হয়েছিলেন এবং তাঁর প্রশংসা করে বলেছিলেন যে, তিনি শাইখুল ইসলাম, ইলমের সমুদ্র, কুরআনের ব্যাখ্যাকারী, অনন্য মুজতাহিদ এবং এই জাতীয় আরও শব্দাবলী। হাফেজ ইবনে নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকি তাঁর 'আর-রদ্দ আল-ওয়াফির' গ্রন্থে শাইখুল ইসলামের প্রশংসায় অনেক ইমামের বাণী উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وقد ذكر الحافظ ابن رجب في "ذيل طبقات الحنابلة" 2/ 393 قول ابن الزملكاني -وهو من هو في العلم والفضل والإمامة والرياسة- عن شيخ الإسلام: أنه لم ير من خمسمائة سنة، أو قال أربعمائة سنة - الشك من الناقل- وغلب ظنه أنه قال: من خمسمائة سنة، أحفظ منه.

وقال الحافظ الذهبي: ولقد نصر السنة المحضة، والطريقة السلفية، واحتج لها ببراهين ومقدمات وأمور لم يسبق إليها، وأطلق عبارات أحجم عنها الأولون والآخرون انظر "الرد الوافر" ص/ 34 و"الأعلام العلية" 23 - 30 وقال في مكان آخر: وهو أعظم من أن يصفه كلمي، وينبه على شأوه قلمي، فإن سيرته وعلومه ومعارفه ومحنه وتنقلاته: تحتمل أن توضع في مجلدين. فالله تعالى يغفر له، ويسكنه أعلا جنته، فإنه كان رباني الأمة وفريد الزمان وحامل لواء الشريعة وصاحب معضلات المسلمين، رأسًا في العلم، يبالغ في أمر قيامه بالحق والجهاد، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، مبالغة ما رأيتها ولا شاهدتها من أحد، ولا لاحظتها من فقيه.

انظر "العقود الدرية": ص/ 39 - 40، ولا يخفى أن هذه الكلمة الموجزة لا تكفي أبدًا لبيان ما كان عليه شيخ الإسلام من الدرجة العليا في جميع ميادين العلم وما قام به من الجهاد العلمي؛ لإرساخ دعائم النهضة الدينية في عصره، والدعوة إلى الكتاب والسُنَّة، ونبذ كل ما علق بهذا الدين من أفكار وآراء لا تمتُّ إليه بصلة، فجزاه الله عن الإسلام والمسلمين كل خير.
হাফেয ইবনে রাজাব "যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ" ২/ ৩৯৩-এ ইবনে আয-যামলাকানির উক্তি উল্লেখ করেছেন—যিনি ইলম, ফযীলত, ইমামত ও নেতৃত্বে অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন—শাইখুল ইসলাম সম্পর্কে: যে পাঁচশত বছর ধরে, অথবা তিনি বলেছিলেন চারশত বছর—সন্দেহটি বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে—তবে তাঁর প্রবল ধারণা যে তিনি বলেছিলেন: পাঁচশত বছর ধরে তাঁর চেয়ে বড় হাফেজ (স্মৃতিধর) তিনি দেখেননি।

হাফেয আয-যাহাবী বলেন: তিনি বিশুদ্ধ সুন্নাহ এবং সালাফী মানহাজকে সাহায্য করেছেন এবং এর সপক্ষে এমন সব দলিল, ভূমিকা ও বিষয়াদি দ্বারা যুক্তি পেশ করেছেন যার নজির তাঁর পূর্বে কেউ স্থাপন করেনি। তিনি এমন সব শব্দ ও পরিভাষা ব্যবহার করেছেন যা থেকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণ বিরত ছিলেন। দেখুন "আর-রাদ্দূল ওয়াফির" পৃষ্ঠা/ ৩৪ এবং "আল-আলামুল আলিয়্যাহ" ২৩ - ৩০। তিনি অন্য এক স্থানে বলেন: তিনি এতই মহান যে আমার কথা তা বর্ণনা করতে অক্ষম এবং আমার কলম তাঁর উচ্চ মর্যাদা ফুটিয়ে তুলতে অপারগ। কেননা তাঁর জীবনী, ইলম, জ্ঞান, পরীক্ষা ও হিজরতসমূহ দুই খণ্ডে লিপিবদ্ধ হওয়ার যোগ্যতা রাখে। আল্লাহ তাআলা তাঁকে ক্ষমা করুন এবং তাঁর জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে স্থান দান করুন। তিনি ছিলেন উম্মতের রব্বানী আলেম, সমকালের অনন্য ব্যক্তিত্ব, শরীয়তের পতাকাবাহী এবং মুসলিমদের জটিল সমস্যার সমাধানকারী, ইলমের এক শীর্ষ ব্যক্তিত্ব। সত্যের ওপর অটল থাকা, জিহাদ, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের ক্ষেত্রে তিনি এমন বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন যা আমি অন্য কারো মাঝে দেখিনি বা প্রত্যক্ষ করিনি এবং কোনো ফকীহর মাঝেও তা লক্ষ্য করিনি।

দেখুন "আল-উকূদুদ দুররিয়্যাহ": পৃষ্ঠা/ ৩৯ - ৪০। এটি স্পষ্ট যে, শাইখুল ইসলাম ইলমের সকল ময়দানে যে উচ্চ স্তরে ছিলেন এবং তাঁর যুগে ধর্মীয় জাগরণের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে, কুরআন ও সুন্নাহর দিকে আহ্বান জানাতে এবং এই দ্বীনের সাথে সম্পর্কহীন যত চিন্তা ও মতামত এতে যুক্ত হয়েছিল তা বর্জন করতে তিনি যে ইলমী জিহাদ পরিচালনা করেছিলেন, তা প্রকাশের জন্য এই সংক্ষিপ্ত কথাগুলো মোটেও যথেষ্ট নয়। আল্লাহ ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وكانت وفاته رحمه الله ليلة الإثنين في العشرين من ذي القعدة، سنة ثمان وعشرين وسبعمائة عن ثمان وستين سنة إلا قليلًا. فرضي الله عنه وأرضاه ورفعه درجاته في المهديين ونفعنا والمسلمين بعلومه إنه سميع قريب. وصلى الله وسلم على عبده ورسوله نبينا محمد وآله وصحبه ومن سلك سبيله واهتدى بهداه إلى يوم الدين". اهـ

وقال د. عبد الرحمن بن عبد الجبار الفريوائي:

"وُلد شيخ الإسلام عام 661 هـ في مدينة حران، وعاش في بيئة عريقة في العلم والدين والتقوى، وكانت الحنابلة بكثرة كاثرة في حران ودمشق بعد سقوط عاصمة الخلافة (بغداد) عام 656 هـ إثر غارات التتر، وقد حوت عددًا كبيرًا من أهل العلم في مختلف الفنون، وكانت دُوْرُ العلم منتشرة، كما كانت للحنابلة شوكة بانتشار علمائهم ومدارسهم.

وأما من الناحية العقائدية فكان المذهب الأشعري -المرفوض لدى الإمام الأشعري نفسه- هو المذهب السائد في البلدان الإسلامية لدعم الأمراء والسلاطين لهذا المذهب من عصر السلطان صلاح الدين الأيوبي إلى عصور المماليك.

وكانت الحنابلة على مذهب الإمام أحمد في الأصول والفروع، وكانت بينهم وبين الأشاعرة مناظرات ومناقشات، وكانت البدع والخرافات منتشرة في صفوف المسلمين مع رواج الفلسفة، والكلام، والمنطق، والتصوف، والشعوذة والرفض والباطنية في أمة الإسلام كما كان عصره يموج بالاضطراب السياسي، والمنازعات
তাঁর মৃত্যু—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—ঘটেছিল সাতশ আটাশ হিজরি সনের বিশে জিলকদ সোমবার দিবাগত রাতে, যখন তাঁর বয়স ছিল সামান্য কম আটষট্টি বছর। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন ও তাঁকে সন্তুষ্ট করুন, হিদায়াতপ্রাপ্তদের মাঝে তাঁর মর্যাদা উচ্চ করুন এবং তাঁর ইলমের মাধ্যমে আমাদের ও সকল মুসলিমকে উপকৃত করুন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও অতি নিকটবর্তী। আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর পথ অনুসরণ করবে ও তাঁর হিদায়াত গ্রহণ করবে তাদের ওপর।" সমাপ্ত।

ড. আবদুর রহমান বিন আব্দুল জাব্বার আল-ফারিওয়ায়ী বলেছেন:

"শাইখুল ইসলাম ৬৬১ হিজরি সনে হাররান শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইলম, দ্বীন ও তাকওয়ার এক প্রাচীন ঐতিহ্যের পরিবেশে লালিত-পালিত হন। ৬৫৬ হিজরি সনে তাতারদের আক্রমণের ফলে খিলাফতের রাজধানী (বাগদাদ) পতনের পর হাররান ও দামেস্কে হাম্বলিদের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। এই অঞ্চলটি বিভিন্ন শাস্ত্রের বিপুল সংখ্যক আলেমকে ধারণ করেছিল এবং সেখানে ইলমি কেন্দ্রগুলো বিস্তৃত ছিল; তেমনিভাবে আলেমদের আধিক্য ও মাদরাসাগুলোর প্রসারের ফলে হাম্বলিদের এক বিশেষ প্রভাব ছিল।

আকিদাগত দিক থেকে আশআরি মাযহাব—যা স্বয়ং ইমাম আশআরির নিকট বর্জনীয় ছিল—তা মুসলিম দেশগুলোতে প্রচলিত মাযহাব হিসেবে গণ্য হতো; কেননা সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবি থেকে শুরু করে মামলুক যুগ পর্যন্ত আমির ও সুলতানগণ এই মাযহাবকে সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা দান করেছিলেন।

হাম্বলিরা উসুল ও ফুরু উভয় ক্ষেত্রে ইমাম আহমদের মাযহাবের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন এবং তাদের ও আশআরিদের মধ্যে বিভিন্ন বিতর্ক ও আলোচনা চলত। তৎকালীন মুসলিম সমাজে দর্শন, কালামশাস্ত্র, যুক্তিবিদ্যা, সুফিবাদ, জাদুটোনা, রাফেযিবাদ ও বাতিনিয়াহর প্রসারের পাশাপাশি বিদআত ও কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়েছিল। একইসাথে তাঁর সময়কালটি ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতময়।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الحربية، ومن جهة أخرى كان أمراء الدول والسلاطين يعتمدون على المشايخ والقضاة في شئون الدولة الدينية لما لأهل العلم من تأثير على قلوب جماهير المسلمين وعقولهم. وكان عصره شبيهًا بعصرنا هذا، مليئًا بالاضطرابات الفكرية، والسياسية، والاجتماعية والاقتصادية فتأثر بها، وأثر فيها بمشاركته الفعالة؛ لإصلاح شئون الإسلام والمسلمين.

وقد نفع الله بجهوده المخلصة الأمة الإسلامية من عصره إلى يومنا هذا بما لا ينكره إلا مكابر أو جاهل، ودعوته السلفية في نمو وازدهار ورقي يومًا بعد يوم، على رغم أنوف الحاقدين والحاسدين.

وصدّق الله قول القائل: كل صاحب بدعة، ومن ينتصر له، لو ظهروا لا بد من خمودهم، وتلاشي أمرهم، وهذا الشيخ تقي الدين ابن تيمية، كلما تقدمت أيامه تظهر كرامته، ويكثر محبوه وأصحابه.

وقال الحافظ ابن حجر: شهرة إمامة الشيخ تقي الدين أشهر من الشمس، وتلقيبه بشيخ الإسلام في عصره باقٍ إلى الآن على الألسنة الزكية، ويستمر غدًا كما كان بالأمس، ولا ينكر ذلك إلا من جهل مقداره، أو تجنب الإنصاف.

ركز شيخ الإسلام جهوده من عنفوان شبابه على شرح العقيدة السلفية، وإبراز منهج المحدثين في الأصول والفروع، ودارت؛ لأجله مناظرات عظيمة، ومعارك شديدة بينه وبين معاصريه من علماء الكلام، والفلسفة، والفقه، والتصوف، وفي سبيله سجن واعتقل، وأوذي مرات عديدة، كما توجه شيخ الإسلام إلى إصلاح أحوال
সামরিক বিষয়াদি; আর অন্যদিক থেকে রাষ্ট্র ও সালতানাতের আমিরগণ রাষ্ট্রের ধর্মীয় বিষয়ে শায়খ ও বিচারকদের ওপর নির্ভর করতেন, কারণ মুসলিম জনসাধারণের হৃদয় ও মননের ওপর আলেমদের ব্যাপক প্রভাব ছিল। তাঁর যুগটি ছিল আমাদের বর্তমান যুগের মতোই বুদ্ধিবৃত্তিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতায় পরিপূর্ণ; ফলে তিনি এগুলোর দ্বারা যেমন প্রভাবিত হয়েছিলেন, তেমনি ইসলাম ও মুসলিমদের অবস্থার সংস্কারে তাঁর কার্যকর অংশগ্রহণের মাধ্যমে সেগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।

আল্লাহ তাঁর একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাঁর সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত উম্মতে মুহাম্মাদিয়াকে এমনভাবে উপকৃত করেছেন, যা কোনো দাম্ভিক বা মূর্খ ছাড়া অন্য কেউ অস্বীকার করতে পারে না। বিদ্বেষী ও হিংসুকদের উপেক্ষা করেই তাঁর সালাফি দাওয়াত দিন দিন বৃদ্ধি, সমৃদ্ধি ও উন্নতির দিকে এগিয়ে চলেছে।

আল্লাহ সত্যবাদীর এই উক্তিটিকে সত্য প্রমাণিত করেছেন: "প্রত্যেক বিদআতি এবং যারা তাকে সাহায্য করে, তারা সাময়িকভাবে প্রকাশ পেলেও শেষ পর্যন্ত তাদের স্তিমিত হওয়া এবং তাদের কর্মকাণ্ড বিলীন হওয়া অনিবার্য। আর এই শায়খ তাকিউদ্দিন ইবনে তাইমিয়া—সময় যত গড়াচ্ছে তাঁর মর্যাদা ততই স্পষ্ট হচ্ছে এবং তাঁর অনুরাগী ও সঙ্গীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।"

হাফেজ ইবনে হাজার বলেছেন: "শায়খ তাকিউদ্দিনের ইমামতের খ্যাতি সূর্যের চেয়েও অধিক প্রদীপ্ত। তাঁর যুগে তাঁকে 'শায়খুল ইসলাম' হিসেবে যে উপাধি দেওয়া হয়েছিল তা আজও পবিত্র জবানগুলোতে অম্লান রয়েছে এবং গতকালের মতো ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। কেবল সেই ব্যক্তিই এটি অস্বীকার করতে পারে যে তাঁর মর্যাদা সম্পর্কে অজ্ঞ অথবা যে ইনসাফ পরিহার করেছে।"

শায়খুল ইসলাম তাঁর ভরা যৌবন থেকেই সালাফি আকিদার ব্যাখ্যা প্রদান এবং উসুল ও ফুরু শাস্ত্রের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের মানহাজকে ফুটিয়ে তোলার ওপর তাঁর প্রচেষ্টা নিবদ্ধ করেন। এর ফলে তাঁর এবং তাঁর সমসাময়িক ইলমে কালাম, দর্শন, ফিকহ ও তাসাউফের পণ্ডিতদের মধ্যে বড় বড় মুনাযারা (তর্কযুদ্ধ) ও তীব্র লড়াই সংঘটিত হয়। এই পথে তিনি বহুবার কারাবরণ করেন, বন্দী হন এবং নির্যাতিত হন। একইভাবে শায়খুল ইসলাম অবস্থার সংস্কারে মনোনিবেশ করেন...
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
المسلمين السياسية، وقاد مسيرة الجهاد ضد التتر والروافض، وقد اشتهر أمره في هذه المجالات حيث صارت بعض الجوانب الأخرى من جهوده وخدماته مغمورة في خَضَّم هذه الخدمات التي انبهرت بها العقول، وأذعنت لها القلوب.

برز شيخ الإسلام في جميع العلوم والفنون، واشتغل بالتعليم والتدريس والتصنيف والوعظ والإرشاد والدعوة والإفتاء وتحرير الفتاوى.

وقد التزم في كتاباته وفتاواه منهج المحدثين النقدي، واعتنى باستخدام النصوص الصحيحة في بحوثه وكتاباته، وقد منحه الله الحافظة الواعية التي هي أساس العلم والعمل والتأمل، وحضور البديهة، والاستقلال الفكري، والإخلاص في طلب الحق، والطهارة من أدران الهوى، مع فصاحته، وقدرته البيانية، والشجاعة والصبر، وقوة الاحتمال، وقوة الفراسة والهيبة.

وأطبق أهل العلم على الثناء البالغ على شيخ الإسلام، وعلى إمامته في كثير من الجوانب العلمية والإصلاحية، وقد صرح غير واحد منهم أنهم لم يروا مثله ولا رأى هو مثل نفسه، وقد ذكر الإمام ابن ناصر الدين الدمشقي ما يقارب تسعين من أهل العلم الذين لقبوه بشيخ الإسلام. وهو من أئمة الإسلام الذين اشتهروا بكثرة التآليف المتنوعة، وتحرير الفتاوى، وقد تميز بين أهل العلم والفن بكثرة استدلاله بالنصوص الشرعية الصحيحة، وآثار السلف الثابتة مع مراعاة قواعد الرواية والدراية، واتباع مناهج الفقهاء المحدثين في
মুসলমানদের রাজনৈতিক [বিষয়াবলি], এবং তিনি তাতার ও রাফেযিদের বিরুদ্ধে জিহাদের কাফেলা পরিচালনা করেছেন। এই ক্ষেত্রগুলোতে তাঁর খ্যাতি এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল যে, তাঁর প্রচেষ্টার অন্য কিছু দিক ও খিদমতসমূহ সেই সব কর্মকাণ্ডের ভিড়ে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল যেগুলোতে মেধা বিস্মিত হয়েছিল এবং অন্তরসমূহ অনুগত হয়েছিল।

শায়খুল ইসলাম সমস্ত জ্ঞান ও বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন এবং তিনি শিক্ষা, পাঠদান, গ্রন্থরচনা, ওয়াজ, নসিহত, দাওয়াত, ফতোয়া প্রদান ও ফতোয়া সম্পাদনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

তিনি তাঁর লেখনী ও ফতোয়াসমূহে মুহাদ্দিসগণের সমালোচনামূলক মানহাজ অনুসরণ করেছেন এবং তাঁর গবেষণা ও রচনাবলীতে সহীহ নস বা দলীলসমূহ ব্যবহারের প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে দান করেছিলেন এক প্রখর সচেতন স্মৃতিশক্তি যা ইলম, আমল ও চিন্তাশীলতার মূল ভিত্তি; সেই সাথে প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব, বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা, সত্য অন্বেষণে একনিষ্ঠতা এবং প্রবৃত্তির কলুষতা থেকে পবিত্রতা। এর সাথে যুক্ত হয়েছিল তাঁর বাগ্মিতা, বর্ণনাশৈলীর দক্ষতা, সাহসিকতা, ধৈর্য, সহনশীলতা এবং প্রখর অন্তর্দৃষ্টি ও গাম্ভীর্য।

উলামায়ে কিরাম শায়খুল ইসলামের ভূয়সী প্রশংসা এবং বহু ইলমি ও সংস্কারমূলক বিষয়ে তাঁর নেতৃত্বের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তাঁদের একাধিক ব্যক্তি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁরা তাঁর মতো কাউকে দেখেননি এবং তিনি নিজেও নিজের মতো কাউকে দেখেননি। ইমাম ইবনে নাসিরুদ্দীন দামেশকী প্রায় নব্বইজন আলেমের কথা উল্লেখ করেছেন যাঁরা তাঁকে ‘শায়খুল ইসলাম’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। তিনি ইসলামের সেই সকল ইমামদের অন্তর্ভুক্ত যাঁরা বিপুল সংখ্যক বৈচিত্র্যময় রচনা এবং ফতোয়া সম্পাদনার জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। তিনি আলেম ও গবেষকদের মাঝে বিশুদ্ধ শরয়ী দলীল এবং সালাফদের প্রমাণিত বর্ণনাসমূহ অধিক পরিমাণে ব্যবহারের মাধ্যমে বিশিষ্টতা লাভ করেছিলেন, যেখানে তিনি বর্ণনা ও অনুধাবনের (রিওয়ায়াত ও দিরায়াত) মূলনীতিসমূহ যথাযথভাবে রক্ষা করতেন এবং ফকীহ-মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি অনুসরণ করতেন...
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
أختيار الأدلة الصحيحة، والتنبيه على صحة الحديث وسقمه.

وقد ترك ثروة علمية عظيمة في شرح أصول الإسلام ومقاصده، والرد على أهل الزيغ والإلحاد.

وكان سر نجاح دعوته -بعد توفيق الله عز وجل وتأييده- إخلاصه ومعرفته التامة بالحديث وعلومه وآثار السلف، وبمناهج المحدثين، والاعتماد على فقههم وبصيرتهم، ولعل هذا هو السر في بقاء علومه، ودعوته ومنهجه، على الرغم من المحاولة المستمرة للقضاء على مؤلفاته، ومؤلفات أصحابه، إذ من النادر رواج المؤلفات التي تؤلف في أبواب الردود والمناقشات، وفي المسائل الفقهية المتنوعة، إلا أن مؤلفات شيخ الإسلام كانت مدعمة بالأدلة النقلية والعقلية التي تُلْفِت أنظار أهل العلم، وتحثهم على الاحتفاظ بها، والاستفادة منها على مر الدهور وفي أحلك الظروف.

ومما يجب التنويه والإشادة بذكره أن شيخ الإسلام ابن تيمية مع نبوغه في العلوم والفنون، وتفوقه على معاصريه كان أشد الناس مراعاة لآداب الإسلام وأخلاقه القيمة في معاملته معهم، وكان من أدق الناس في نقل أفكار منافسيه، وأحرصهم على الإنصاف مع خصومه في أثناء التأليف والمناظرة، وإعطاء كل ذي حق حقه.

وما انتقم من أحد بل عفا عن أعدائه عند المقدرة، وقد حاولوا النيل منه مرارًا بل القضاء على حياته، ولكن حينما تمكن منهم عفا عنهم! وقال: رد أما أنا فهم في حل من حقي ومن جهتي" وكان القاضي زين العابدين بن مخلوف قاضي المالكية يقول بعد ذلك: "ما
সঠিক দলীলসমূহ নির্বাচন করা এবং হাদীসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার বিষয়ে সচেতন করা।

তিনি ইসলামের মূলনীতি ও উদ্দেশ্যসমূহের ব্যাখ্যা এবং পথভ্রষ্ট ও নাস্তিকদের খণ্ডনে এক বিশাল ইলমী সম্পদ রেখে গেছেন।

তাঁর দাওয়াতের সফলতার রহস্য ছিল—আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার তাওফীক ও সাহায্যের পর—তাঁর ইখলাস, হাদীস ও এর বিভিন্ন শাখা এবং সালাফদের আসার (বর্ণনা) ও মুহাদ্দিসগণের মানহাজ সম্পর্কে তাঁর পূর্ণ জ্ঞান, এবং তাঁদের ফিকহ ও প্রজ্ঞার ওপর নির্ভরতা। সম্ভবত এটিই তাঁর ইলম, দাওয়াত ও মানহাজ টিকে থাকার রহস্য; যদিও তাঁর ও তাঁর অনুসারীদের রচনাবলি নির্মূল করার নিরন্তর চেষ্টা চালানো হয়েছে। কারণ খণ্ডন, বিতর্ক এবং বিবিধ ফিকহী মাসআলা বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহ সচরাচর জনপ্রিয় হয় না, কিন্তু শাইখুল ইসলামের রচনাবলি এমন সব নকলী ও আকলী দলীল দ্বারা সমর্থিত ছিল যা আলিমদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং তাঁদেরকে এগুলো সংরক্ষণ করতে ও যুগের পর যুগ চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তা থেকে উপকৃত হতে উদ্বুদ্ধ করে।

আর যে বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ ও প্রশংসা করা আবশ্যক তা হলো, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বিভিন্ন জ্ঞান ও বিদ্যায় অসাধারণ পাণ্ডিত্য এবং সমসাময়িকদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব থাকা সত্ত্বেও তাঁদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে ইসলামের আদব ও মূল্যবান আখলাক রক্ষায় সর্বাধিক যত্নশীল ছিলেন। তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের চিন্তাধারা বর্ণনায় অত্যন্ত সূক্ষ্ম ছিলেন এবং গ্রন্থ রচনা ও বিতর্কের সময় বিরোধীদের প্রতি ইনসাফ প্রদর্শন ও প্রত্যেক হকদারের হক আদায়ে সর্বাধিক সচেষ্ট ছিলেন।

তিনি কারও থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি, বরং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও শত্রুদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। তারা বহুবার তাঁর ক্ষতি করার, এমনকি তাঁর জীবন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু যখনই তিনি তাদের ওপর জয়ী হয়েছেন, তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন! তিনি বলতেন: "আমার পক্ষ থেকে আমার পাওনার ব্যাপারে তারা দায়মুক্ত।" এবং মালেকী কাযী যয়নুল আবেদীন বিন মাখলুফ এর পরে বলতেন: "আমি...
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
رأينا أتقى من ابن تيمية، ولم نبق ممكنًا في السعي فيه، ولما قدر علينا عفا عنا".

ولم يتردد في مجابهة الحكام، والسلاطين، والعلماء، والمشايخ بكلمة الحق، مع زهده عن المناصب الدنيوية.

توفي شيخ الإسلام عام 728 هـ، وعمر سبع وستون سنة، والمدة الزمنية التي استمر فيها بتأليف الكتب والرسائل، وتحرير الفتاوى تحتوي على أكثر من نصف قرن، وقد تنوعت مؤلفاته إلا أنها تدور حول شرح مذهب السلف الصالح في الأصول والفروع، وفي إثبات أن منهجهم وطريقهم هو أعلم وأحكم وأسلم في جميع أبواب الدين، وأن طريق أهل التأويل والتخييل والرأي من الفلاسفة والمتكلمين والمتفقهة والمتوصفة والروافض والملاحدة والباطنية وغيرهم من أهل الأهواء والبدع طريق باطل ومنهج خاطئ.

شخَّص شيخ الإسلام داء المسلمين المفتونين بالمنطق والفلسفة والكلام في أنهم وقعوا في تأويل نصوص الكتاب والسنة متأثرين بالفلسفة والمنطق والكلام والتصوف كما درس أحوال الفرق الضالة والمبتدعة.

وهذه المؤلفات والرسائل تربو على ثلاث مائة مجلد، بل هي تبلغ خمس مائة مجلد، وقد صرح الذهبي بأنها تصل إلى ألف مصنف بل أكثر إلا أن المؤلفات التي وصلت إلينا مطبوعة أو مخطوطة، وصل إلينا من أسمائها ما يبلغ (591) مؤلف. وفيها (102) كتاب يتعلق بالتفسير وعلومه، و (41) كتابًا في الحديث وعلومه، و (138)
"আমরা ইবনে তাইমিয়ার চেয়ে অধিক মুত্তাকী কাউকে দেখিনি। আমরা তাকে হেনস্তা করার কোনো প্রচেষ্টায় ত্রুটি করিনি, কিন্তু যখন তিনি আমাদের ওপর সামর্থ্য পেলেন (বিজয়ী হলেন), তখন তিনি আমাদের ক্ষমা করে দিলেন।"

পার্থিব পদের প্রতি নির্লিপ্ততা থাকা সত্ত্বেও তিনি শাসক, সুলতান, আলেম এবং মাশায়েখদের সামনে সত্য কথা বলতে দ্বিধা করতেন না।

শাইখুল ইসলাম ৭২৮ হিজরীতে ৬৭ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। বই ও রিসালাহ রচনা এবং ফতোয়া সম্পাদনায় তিনি যে সময় ব্যয় করেছেন তা অর্ধশতাব্দীরও বেশি। তার রচনাবলী বৈচিত্র্যময় হলেও সেগুলো উসুল ও ফুরু’র ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীনের মাযহাব ব্যাখ্যার চারপাশেই আবর্তিত। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, দ্বীনের সকল বিষয়ে তাদের মানহাজ ও পথই অধিক জ্ঞানগর্ভ, অধিক প্রজ্ঞাপূর্ণ এবং অধিক নিরাপদ। আর দার্শনিক, কালামবিদ, ফুকাহা, সুফি, রাফেযী, নাস্তিক, বাতেনী এবং অন্যান্য প্রবৃত্তিপূজারী ও বিদআতিদের অপব্যাখ্যা, কল্পনাপ্রসূত ও রায়-নির্ভর পথটি একটি বাতিল পথ এবং ভ্রান্ত মানহাজ।

শাইখুল ইসলাম যুক্তিবিদ্যা, দর্শন ও ইলমে কালামে মুগ্ধ মুসলিমদের ব্যাধিটি এভাবে শনাক্ত করেছেন যে, তারা দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, কালামশাস্ত্র ও তাসাউফ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহের অপব্যাখ্যায় নিপতিত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি পথভ্রষ্ট ও বিদআতি দলগুলোর অবস্থাও পর্যালোচনা করেছেন।

এই সকল গ্রন্থ ও রিসালাহ তিনশ খণ্ডেরও অধিক, বরং তা পাঁচশ খণ্ড পর্যন্ত পৌঁছায়। ইমাম আয-যাহাবী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এটি এক হাজার বা তারও বেশি রচনা পর্যন্ত পৌঁছায়; তবে আমাদের নিকট মুদ্রিত বা পাণ্ডুলিপি আকারে যা পৌঁছেছে, সেগুলোর মধ্যে ৫৯১টি রচনার নাম আমাদের জানা আছে। এর মধ্যে ১০২টি বই তাফসীর ও তৎসংশ্লিষ্ট জ্ঞান প্রসঙ্গে, ৪১টি বই হাদীস ও তৎসংশ্লিষ্ট জ্ঞান প্রসঙ্গে এবং ১৩৮টি...
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
كتاب في الفقه والفتاوى، و (228) في أصول الفقه، و (126) كتاب في العقائد والكلام، و (78) كتابًا في الزهد والسلوك والتصوف والأخلاق. و (17) كتابًا في الرد على المنطق والفلسفة و (7) رسائل وجهها الى بعض الأمراء والسلاطين وإلى بعض وجهاء البلدة ومشايخها ويشتمل (54) كتابًا على علوم متفرقة.

 

‌‌وتتلخص جهوده العلمية والإصلاحية في الآتي:

أ- قام بشرح منهج السلف الصالح في الأصول والفروع، وأثبت بالبراهين العقلية والنقلية أن منهج السلف هو وحده الذي ينبغي على المسلم أتباعه، وأنه هو أسلم وأدل وأسد منهج لشرح الإسلام، وبين أن داء كل من عارض هذا المنهج الصحيح من أهل الأهواء في فهم الشريعة إما أنهم يستدلون بأدلة عامة، أو بنقل باطل أو بقياس فاسد، وقال: "وكل من اعتقد نفي ما أثبته الرسول صلى الله عليه وسلم حصل في نوع من الإلحاد بحسب ذلك، وهؤلاء كثيرون في المتأخرين، قليون في السلف، ومن تدبر كلام كثير من مفسري القرآن، وشارحي الحديث، ومصنفي العقائد النافية والكلام وجد فيه من هذا ما يتبين له به حقيقة الأمر.

ولقد أبان شيخ الإسلام نفسه عن منهجه وإكثاره الكلام في الأصول. قال العلامة أبو حفص عمر بن علي البزار المتوفى سنة (749) تلميذ شيخ الإسلام:

ولقد أكثر رضي الله عنه التصنيف في الأصول فضلًا عن غيره من بقية العلوم، فسألته عن سبب ذلك والتمست منه تأليف نص في الفقه
ফিকহ ও ফতোয়া বিষয়ক কিতাব, এবং (২২৮)টি উসূলে ফিকহ বিষয়ক, এবং (১২৬)টি আকীদা ও ইলমুল কালাম বিষয়ক কিতাব, এবং (৭৮)টি কিতাব যুহদ, সুলুক, তাসাউফ ও আখলাক বিষয়ক। এছাড়া যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের খণ্ডনে (১৭)টি কিতাব এবং (৭)টি পত্র যা তিনি কিছু আমির, সুলতান এবং শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মাশায়েখদের নিকট পাঠিয়েছিলেন এবং (৫৪)টি কিতাব বিবিধ বিষয়ের ওপর রচিত।

 

‌‌তার ইলমী ও সংস্কারমূলক প্রচেষ্টাসমূহ নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

ক- তিনি উসূলে দ্বীন (মৌলিক নীতি) ও ফুরু (শাখা-প্রশাখা) উভয় ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীনের মানহাজ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি যৌক্তিক ও উদ্ধৃতিমূলক প্রমাণের মাধ্যমে সাব্যস্ত করেছেন যে, সালাফে সালেহীনের মানহাজই একমাত্র পথ যা একজন মুসলিমের অনুসরণ করা উচিত এবং এটিই ইসলামের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ, অধিকতর দলিলনির্ভর ও সঠিক মানহাজ। তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, শরীয়াহ বোঝার ক্ষেত্রে যারা এই সঠিক মানহাজের বিরোধিতা করে, সেই প্রবৃত্তি পূজারিদের মূল সমস্যা হলো—হয় তারা সাধারণ দলিল দিয়ে প্রমাণ পেশ করে, অথবা বাতিল বর্ণনা কিংবা ভ্রান্ত কিয়াসের আশ্রয় নেয়। তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা সাব্যস্ত করেছেন, যে ব্যক্তি তা অস্বীকার করার বিশ্বাস পোষণ করবে, সে সেই অনুপাতে এক প্রকার ইলহাদের (ধর্মহীনতার) অন্তর্ভুক্ত হবে। পরবর্তীদের মাঝে এদের সংখ্যা অনেক, কিন্তু সালাফদের মাঝে এরা ছিল নগণ্য। যারা কুরআনের অনেক মুফাসসির, হাদিসের ব্যাখ্যাকার এবং নেতিবাচক আকীদা ও কালামশাস্ত্র রচয়িতাদের কথা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, তারা সেখানে এমন বিষয় খুঁজে পাবে যা দ্বারা তার কাছে প্রকৃত সত্য স্পষ্ট হয়ে যাবে।"

শাইখুল ইসলাম নিজেই তাঁর মানহাজ এবং উসূলে দ্বীন নিয়ে তাঁর দীর্ঘ আলোচনার কারণ স্পষ্ট করেছেন। শাইখুল ইসলামের ছাত্র আল্লামা আবু হাফস উমর বিন আলী আল-বাযযার (মৃত্যু ৭৪৯ হি.) বলেছেন:

তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) অন্যান্য শাস্ত্রের তুলনায় উসূলে দ্বীনের বিষয়ে অধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। আমি তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করেছিলাম এবং তাঁর কাছে ফিকহ শাস্ত্রের ওপর একটি নির্ভরযোগ্য মূল গ্রন্থ রচনার অনুরোধ জানিয়েছিলাম।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
يجمع اختياراته وترجيحاته ليكون عمدة في الإفتاء. فقال لي ما معناه:

الفروع أمرها قريب، فإذا قلد المسلم فيها أحد العلماء المقلدين جاز له العمل بقوله، ما لم يتيقن خطأه، وأما الأصول فإني رأيت أهل البدع والضلالات والأهواء كالمتفلسفة والباطنية والملاحدة، والقائلين بوحدة الوجود، والدهرية، والقدرية، والنصيرية، والجهمية، والحلولية، والمعطلة، والمجسمة، والمشبهة، والراوندية والكلابية، والسلمية وغيرهم من أهل البدع قد تجاذبوا فيها بأزمة الضلال، وبأن لي أن كثيرًا منهم إنما قصد إبطال الشريعة المقدسة المحمدية، الظاهرة على كل دين، العلية، وأن جمهورهم أوقع الناس في التشكيك في أصول دينهم. ولهذا قل أن سمعت أو رأيت معرضًا عن الكتاب والسنة، مقبلًا على مقولاتهم إلا وقد تزندق أو صار على غير يقين في دينه أو اعتقاده. فلما رأيت الأمر على ذلك بأن لي أنه يجب على كل من يقدر على دفع شبههم وأباطيلهم وقطع حججهم وأضاليلهم أن يبذل جهده؛ ليكشف رذائلهم، وزيف دلائلهم، ذبًا عن الملة الحنيفية، والسنة الصحيحة الجلية. ولا والله ما رأيت فيهم أحدًا ممن صنف في هذا الشأن، وادعى علو المقام، إلا وقد ساعد بمضمون كلامه في هدم قواعد دين الإسلام. وسبب ذلك إعراضه عن الحق الواضح، وعن ما جاءت به الرسل الكرام عن رب العالمين، واتباعه طرق الفلسفة في الاصطلاحات التي سموها بزعمهم حكميات وعقليات، وإنما هي جهالات وضلالات، وكونه التزمها معرضًا عن غيرها أصلًا ورأسًا. فغلبتُ عليه حتى غطت على
তিনি তাঁর চয়নসমূহ এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতসমূহকে একত্রিত করেন যাতে ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তা নির্ভরযোগ্য দলিলে পরিণত হয়। তিনি আমাকে এর মর্মার্থ বুঝিয়ে বললেন:

শাখা-প্রশাখার (ফুরু) বিষয়টি সহজসাধ্য; যখন কোনো মুসলিম এতে অনুসরণযোগ্য আলেমদের কাউকে অনুসরণ করে, তবে তার জন্য সেই মত অনুযায়ী আমল করা বৈধ, যতক্ষণ না তার ভুল হওয়া সম্পর্কে সে নিশ্চিত হয়। কিন্তু মূলনীতির (উসুল) ক্ষেত্রে আমি দেখেছি যে, বিদআত, বিভ্রান্তি এবং খেয়াল-খুশির অনুসারীরা, যেমন—দার্শনিকতা প্রিয় (মুতাফালসিফা), বাতিনিয়া, নাস্তিক, ওয়াহদাতুল উজুদ বা সর্বেশ্বরবাদে বিশ্বাসী, দাহরিয়া, কাদারিয়া, নুসাইরিয়া, জাহমিয়া, হুলুলিয়া, মুয়াত্তিলা, মুজাসসিমা, মুশাব্বিহা, রাওয়ান্দিয়া, কুল্লাবিয়া, সালমিয়া এবং অন্যান্য বিদআতি গোষ্ঠী বিভ্রান্তির লাগাম ধরে টানাটানি করছে। আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তাদের অনেকেরই উদ্দেশ্য হলো পবিত্র মুহাম্মাদী শরীয়তকে বাতিল করা, যা সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী ও সুউচ্চ। তাদের অধিকাংশ মানুষকে তাদের দ্বীনের মূলনীতি সম্পর্কে সংশয়ে নিপতিত করেছে। এ কারণেই আমি খুব কমই এমন কাউকে দেখেছি বা শুনেছি যে কিতাব ও সুন্নাহ থেকে বিমুখ হয়ে তাদের বক্তব্যের দিকে ঝুঁকেছে, অথচ সে ধর্মহীন (যিনদিক) হয়নি অথবা তার দ্বীন ও বিশ্বাসের ব্যাপারে সংশয়ে নিপতিত হয়নি। যখন আমি বিষয়টি এমন দেখলাম, তখন আমার কাছে প্রতিভাত হলো যে, যারা তাদের সংশয় ও অসারতা দূর করতে এবং তাদের যুক্তি ও বিভ্রান্তি খণ্ডন করতে সক্ষম, তাদের প্রত্যেকের জন্য আবশ্যিক হলো যথাসাধ্য প্রচেষ্টা ব্যয় করা; যাতে তাদের নিকৃষ্টতা এবং দলিলের অসারতা উন্মোচিত হয়—একনিষ্ঠ মিল্লাত এবং সুস্পষ্ট সঠিক সুন্নাহর প্রতিরক্ষার্থে। আল্লাহর কসম! আমি তাদের মধ্যে এমন কাউকে দেখিনি যারা এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং উচ্চ মাকামের দাবি করেছেন, অথচ তাদের কথার মূল নির্যাস ইসলামের ভিত্তি ধ্বংস করতে সাহায্য করেনি। এর কারণ হলো সুস্পষ্ট সত্য থেকে এবং জগৎসমূহের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সম্মানিত রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তা থেকে বিমুখ হওয়া এবং দর্শনের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করা—সেই সকল পরিভাষার ক্ষেত্রে যেগুলোকে তারা তাদের দাবি অনুযায়ী প্রজ্ঞা ও যুক্তিনির্ভর জ্ঞান বলে অভিহিত করেছে। অথচ সেগুলো মূলত মূর্খতা ও বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। আর সেটির প্রতি সে এমনভাবে নিবিষ্ট ছিল যে অন্য সব কিছু থেকে সম্পূর্ণরূপে বিমুখ হয়ে পড়েছিল। ফলে তা তার ওপর এমনভাবে আধিপত্য বিস্তার করেছিল যে এমনকি তা ঢেকে ফেলেছিল...
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
عقله السليم فتخبط حتى خبط فيها خبط عشواء، ولم يفرق بين الحق والباطل، وإلا فالله أعظم لطفًا بعباده من أن لا يجعل لهم عقلًا يقبل الحق ويثبته، ويبطل الباطل وينفيه. ولكن عدم التوفيق وغلبة الهوى أوقع من أوقع في الضلال. وقد جعل الله تعالى العقل السليم من الشوائب ميزانًا يزن به العبد الواردات، فيفرق به بين ما هو من قبيل الحق، وما هو من قبيل الباطل. ولم يبعث الله الرسل إلا إلى ذوي العقل، ولم يقع التكليف إلا مع وجوده، فكيف يقال: إنه مخالف لبعض ما جاءت به الرسل الكرام عن الله تعالى؟ هذا باطل قطعًا يشهد له كل عقل سليم، لكن {وَمَنْ لَمْ يَجْعَلِ اللَّهُ لَهُ نُورًا فَمَا لَهُ مِنْ نُورٍ} [النور: 40].

قال الشيخ الإمام قدس الله روحه: فهذا ونحوه هو الذي أوجب أني صرفت جُلَّ همي إلى الأصول، وألزمني أن أوردت مقالاتهم، وأجبت عنها بما أنعم الله تعالى به من الأجوبة العقلية والنقلية (1).

ترك شيخ الإسلام منهجًا علميًا رصينًا؛ لفهم كتاب الله العزيز وشرح أحاديث الرسول عليه الصلاة والسلام، وألف في ذلك رسالته المشهورة المعروفة بمقدمة في أصول التفسير، كما شرح ووضح دقائق مصطلح الحديث، وشرح أحاديث كثيرة في ثنايا مؤلفاته، وفي رسائل مستقلة، وبين مقاصد الشريعة في كتاباته الكثيرة في ضوء

--------------------------------------------

(1) "الأعلام العلية في مناقب شيخ الإسلام ابن تيمية" بتحقيق صلاح الدين المنجد (ص 34 - 35).
তার সুস্থ বিবেক দিশেহারা হয়ে পড়ল, এমনকি সে তাতে অন্ধের মতো হাতড়াতে লাগল এবং সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারল না। অন্যথায়, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি এর চেয়েও অধিক দয়ালু যে, তিনি তাদের এমন একটি আকল বা বিবেক দেবেন না যা সত্যকে গ্রহণ ও সাব্যস্ত করবে এবং মিথ্যাকে বাতিল ও প্রত্যাখ্যান করবে। কিন্তু তাওফীকের অভাব এবং কুপ্রবৃত্তির প্রভাব তাকে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত করেছে যে এতে নিপতিত হওয়ার ছিল। আল্লাহ তাআলা কলুষতামুক্ত সুস্থ আকলকে একটি তুলাদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যার মাধ্যমে বান্দা তার নিকট আগত বিষয়সমূহকে পরিমাপ করে; ফলে সে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। আল্লাহ রাসূলগণকে কেবল বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিকটই প্রেরণ করেছেন এবং কেবল আকল বা বিবেকের উপস্থিতিতেই শরয়ী বিধানের দায়িত্ব (তাকলীফ) অর্পিত হয়। এমতাবস্থায় কীভাবে বলা সম্ভব যে, আকল বা বিবেক আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মানিত রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তার কোনো বিষয়ের পরিপন্থী? এটি নিশ্চিতভাবেই একটি অসার দাবি, যার সাক্ষ্য প্রতিটি সুস্থ আকল প্রদান করে। কিন্তু {আর আল্লাহ যাকে নূর বা আলো দান করেন না, তার জন্য কোনো আলো নেই} [আন-নূর: ৪০]।

ইমাম শাইখ (আল্লাহ তাঁর রুহকে পবিত্র করুন) বলেন: এটি এবং এর অনুরূপ বিষয়গুলোই আমাকে বাধ্য করেছে যে আমি আমার মূল মনোযোগ উসূলের (মূলনীতি) দিকে নিবদ্ধ করি, এবং এটিই আমাকে তাদের মতামতগুলো উদ্ধৃত করতে বাধ্য করেছে; আর আল্লাহ তাআলা আমাকে আকলি (বুদ্ধিবৃত্তিক) ও নাকলি (শাস্ত্রীয়) দলীলসমূহের মধ্য থেকে যে সমস্ত উত্তর প্রদান করার অনুগ্রহ দান করেছেন তা দিয়ে আমি সেগুলোর জবাব দিয়েছি (১)।

শাইখুল ইসলাম আল্লাহর মহাগ্রন্থ বোঝার জন্য এবং রাসূল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর হাদীসসমূহ ব্যাখ্যার জন্য একটি সুদৃঢ় জ্ঞানতাত্ত্বিক পদ্ধতি রেখে গেছেন; এবং এ বিষয়ে তিনি তাঁর প্রসিদ্ধ পুস্তিকাটি রচনা করেছেন যা ‘মুকাদ্দিমাহ ফী উসূলিত তাফসীর’ (তাফসীরের মূলনীতির ভূমিকা) নামে পরিচিত। একইভাবে তিনি হাদীস শাস্ত্রের সূক্ষ্ম পরিভাষাগুলো ব্যাখ্যা ও স্পষ্ট করেছেন এবং তাঁর রচনাবলির বিভিন্ন স্থানে অনেক হাদীসের ব্যাখ্যা করেছেন, আবার কিছু স্বতন্ত্র পুস্তিকাতেও তা করেছেন। এছাড়া তিনি তাঁর অসংখ্য লেখনীর মাধ্যমে শরীয়তের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ (মাকাসিদ) স্পষ্ট করেছেন...

--------------------------------------------

(১) সালাহুদ্দিন আল-মুনজিদ সম্পাদিত "আল-আ'লামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ" (পৃ. ৩৪ - ৩৫)।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
الآثار السلفية. ونبه على أخطاء من أخطأ من أهل الحلم في هذين المجالين.

وتكلم على المسائل الفقهية التي يجري فيها الخلاف بين أهل العلم بكل حرية وانطلاقة في العصر الذي كانت مدينة دمشق والقاهرة تزخر بالعلماء والمشايخ في مختلف العلوم والفنون إلا أنهم جمدوا على تقليد المذاهب الفقهية وتعصبوا لها، وأعرضوا عن فقه الصحابة والتابعين وأهل الحديث من المحدثين والفقهاء.

ومن المسائل الفقهية التي جرَّت بينه وبين معاصريه معارك كلامية: مسألة التطليقات الثلاثة في مجلس واحد، أو بلفظ واحد، ومسألة الحلف بالطلاق.

وقد كتبت مؤلفات وبحوث ورسائل في هذه المسائل إلا أن معارضي شيخ الإسلام في هذه المسائل لم يستطيعوا إلى وقتنا الحاضر أن يقارعوه بالحجة والبرهان، وألجات تحديات المجتمع الإسلامي المعاصرة علماء البلاد الإسلامية إلى الاستفادة من آراء شيخ الإسلام في الأحوال الشخصية، في مسائل النكاح والطلاق والوقف.

ألف شيخ الإسلام بعض المختصرات في بيان مذهب السلف مثل "الفتوى الحموية الكبرى"، و"العقيدة الواسطية"، و"الرسالة التدمرية".

كما قام بالرد على القائلين بشد الرحال إلى البلدان؛ لزيارة قبور الأنبياء والصالحين، وناقش مسألة التوسل بالأنبياء والأولياء
সালফে সালেহীনদের আসার (চিহ্নাদি)। এবং তিনি এই দুই ক্ষেত্রে বিজ্ঞজনদের মধ্যে যারা ভুল করেছেন, তাদের ভুলগুলো সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।

তিনি সেই যুগে অত্যন্ত স্বাধীন ও সাবলীলভাবে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্যপূর্ণ ফিকহি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন, যখন দামেস্ক ও কায়রো শহর বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানে পারদর্শী উলামা ও মাশায়েখদের পদচারণায় মুখরিত ছিল। কিন্তু তারা ফিকহি মাযহাবগুলোর তাকলিদের (অন্ধ অনুসরণ) ওপর স্থবির হয়ে পড়েছিলেন এবং সেগুলোর প্রতি গোঁড়ামি প্রদর্শন করতেন; আর সাহাবী, তাবেয়ী এবং মুহাদ্দিস ও ফকিহদের মধ্য থেকে যারা আহলে হাদিস ছিলেন, তাদের ফিকহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন।

আর ফিকহি মাসআলাগুলোর মধ্যে যে বিষয়গুলো তাঁর ও তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে বাকযুদ্ধ সৃষ্টি করেছিল তা হলো: এক মজলিসে বা এক শব্দে তিন তালাকের মাসআলা এবং তালাকের শপথের মাসআলা।

এই মাসআলাগুলো সম্পর্কে অনেক গ্রন্থ, গবেষণা ও পুস্তিকা রচিত হয়েছে; তবে এই বিষয়গুলোতে শায়খুল ইসলামের বিরোধীরা বর্তমান সময় পর্যন্ত তাঁর সাথে দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়নি। আর সমকালীন মুসলিম সমাজের চ্যালেঞ্জগুলো মুসলিম দেশগুলোর আলেমদের ব্যক্তিগত আইন বা পার্সোনাল ল'-এর ক্ষেত্রে—নিকাহ, তালাক এবং ওয়াকফ সংক্রান্ত বিষয়ে শায়খুল ইসলামের মতামতের সুফল গ্রহণ করতে বাধ্য করেছে।

শায়খুল ইসলাম সালাফদের মানহাজ বর্ণনায় কিছু সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমন: "আল-ফাতওয়া আল-হামাবিয়্যাহ আল-কুবরা", "আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ" এবং "আর-রিসালাহ আত-তাদমুরিয়্যাহ"।

তেমনিভাবে তিনি নবী ও নেককারদের কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে দেশ-দেশান্তরে সফর করার প্রবক্তাদের প্রতিবাদ করেছেন এবং নবী ও ওলীদের মাধ্যমে উসিলা ধরার মাসআলাটি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
والصالحين، وبين المشروع من الممنوع.

ورد على كبار فقهاء عصره في هذه المسائل التي فتحت عليه أبواب الصراعات والنزاعات والمشاكل على مصراعيها واستمرت هذه النزاعات إلى أن انتقل إلى رحمة الله تعالى.

قام بالرد على الفلاسفة، والمتكلمين، وكسر طاغوت المنطق اليوناني الذي دخل وتغلغل في العلوم الإسلامية الشرعية وفي أصول الفقه في أواخر المائة الخامسة، أو أوائل المائة السادسة من كتابات الغزالي (ت 606 هـ) الذي ألبسه ثيابًا إسلامية في زعمه، والحقيقة أنه تعلمه من ابن سينا وهو تعلمه من كتب أرسطو.

وكان لآرائه النقدية أثر كبير على عقول علماء الغرب إلى قرون متأخرة حيث استفادوا من نقد ابن تيمية مباحث المنطق والفلسفة.

كما قام بالرد على أفكار إخوان الصفا، وابن عربي، وابن سبعين، وابن الفارض وغيرهم من المتصوفة الذين أدخلوا في دين الإسلام الإلحاد والزندقة.

ورد على أفكار ابن سينا، والرازي وغيرهما من المتكلمين الذين كان لهم تغلغل في المنهج الإسلامي.

إن فتنة التشيع والرفض ومفاسد حركات الرفض وآثارها السيئة على أمراء المسلمين وسلاطينهم وحكوماتهم، وعلى جمهور المسلمين علمائهم وعوامَّهم كانت من أهم ما توجه إليه شيخ الإسلام، فقام بالرد على فرق الشيعة والروافض، وكشف أستارهم، وفنذضد آراءهم ومزاعمهم، وفضح كيدهم ضد الإسلام والمسلمين
এবং নেককারদের মাঝে; এবং যা বৈধ আর যা নিষিদ্ধ তার পার্থক্য নির্ণয়ে।

তিনি তাঁর যুগের বিশিষ্ট ফকিহদের এসব বিষয়ে জবাব দিয়েছেন, যা তাঁর বিরুদ্ধে বিবাদ, সংঘাত ও সমস্যার দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছিল এবং তাঁর মৃত্যু (আল্লাহ তাআলার রহমতের দিকে প্রত্যাবর্তন) পর্যন্ত এসব বিবাদ অব্যাহত ছিল।

তিনি দার্শনিক ও কালাম শাস্ত্রবিদদের প্রতিবাদ করেছেন এবং গ্রিক যুক্তিশাস্ত্রের মূর্তিকে ভেঙে চুরমার করেছেন, যা পঞ্চম শতাব্দীর শেষের দিকে বা ষষ্ঠ শতাব্দীর শুরুর দিকে গাজালির (মৃত্যু ৬০৬ হিজরি) রচনার মাধ্যমে ইসলামি শরিয়াহ বিজ্ঞান ও উসুলুল ফিকহে প্রবেশ ও অনুপ্রবেশ করেছিল; যিনি তাঁর দাবি অনুযায়ী এটিকে ইসলামি পোশাক পরিয়েছিলেন। অথচ বাস্তবতা হলো, তিনি এটি ইবনে সিনার কাছ থেকে শিখেছিলেন এবং ইবনে সিনা এটি এরিস্টটলের বই থেকে শিখেছিলেন।

তাঁর সমালোচনামূলক মতামত পরবর্তী কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত পশ্চিমা পণ্ডিতদের চিন্তাধারায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল, কারণ তাঁরা ইবনে তাইমিয়্যার যুক্তিশাস্ত্র ও দর্শন বিষয়ক সমালোচনা থেকে উপকৃত হয়েছিলেন।

অনুরূপভাবে তিনি ইখওয়ানুস সাফা, ইবনে আরাবি, ইবনে সাবঈন, ইবনে ফারিজ এবং অন্যান্য সুফিদের মতাদর্শের প্রতিবাদ করেছিলেন, যারা ইসলাম ধর্মে নাস্তিকতা ও ধর্মদ্রোহিতা (যিন্দিকতা) অনুপ্রবেশ করিয়েছিল।

তিনি ইবনে সিনা, রাজি এবং অন্যান্য কালাম শাস্ত্রবিদদের ধ্যান-ধারণার প্রতিবাদ করেছিলেন, যাঁদের অনুপ্রবেশ ইসলামি পদ্ধতিতে ঘটেছিল।

শিয়া মতবাদ ও রাফেযি ফেতনা এবং রাফেযি আন্দোলনের অনিষ্টতা ও মুসলিম আমির, সুলতান ও সরকার এবং সাধারণ মুসলমান—তাদের আলেম ও সাধারণ মানুষ উভয়ের ওপর এর বিরূপ প্রভাব ছিল শায়খুল ইসলামের অন্যতম প্রধান মনোযোগের বিষয়। ফলে তিনি শিয়া ও রাফেযি দলগুলোর প্রতিবাদ করেন, তাদের পর্দার অন্তরালের রহস্য উন্মোচন করেন, তাদের মতামত ও দাবিগুলো খণ্ডন করেন এবং ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ودولهم، وكتابه "منهاج السنة في نقض كلام الشيعة القدرية" يعتبر موسوعة علمية عظيمة في الرد على خزعبلات الرفض والتشيع.

وإثبات عدالة الصحابة، وتصويب منهج أهل السنة والجماعة فيما شجر بين الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين.

إن قيمة آراء شيح الإسلام تتجلى وتزداد أهميتا في عالمنا المعاصر بما يرى ويشاهد أهل السنة من عداء سافر، ومكيدة خبيثة ضد الإسلام والمسلمين من هذه الطائفة الدخيلة على الإسلام والمسلمين.

وهناك مسألة مهمة وخطيرة وهي قداسة شخصية الرسول لدى

المسلمين، ونرى بين آونة وأخرجه بعض سفهاء الأحلام من الكفار

والمشركين وأهل الكتاب الذين يحاولون النيل من شخصية رسولنا

محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم، ومعظم دراسات المستشرقين على السيرة

النبوية تشتمل على المطاعن الموجهة إلى شخصية الرسول، وأصحابه، وزوجاته، كما نلمس هذه الظاهرة في البلاد الشرقية، وقد حدث مثل هذا في عصر شيخ الإسلام، فألف كتابه العظيم "الصارم المسلول على شاتم الرسول" الذي يعتبر أحسن كتاب ألف في موضوعه.

إن حركة التنصير التي يسمونها التبشير والتي ظهرت في صورة أقوى عدو للإسلام والمسلمين لا تخفى حقيقتها ولا أضرارها على كل من عرف تاريخها، وخاصة على المسلمين في شبه القارة الهندية، وأن شيخ الإسلام له فضل السبق في الرد على معتقداتهم
এবং তাদের রাষ্ট্রসমূহ। তাঁর রচিত "মিনহাজুস সুন্নাহ ফি নাকদি কালামিশ শিয়া আল-কাদারিয়্যাহ" গ্রন্থটি রাফেজি ও শিয়াদের কুসংস্কার খণ্ডনে একটি মহান বৈজ্ঞানিক বিশ্বকোষ হিসেবে বিবেচিত।

এটি সাহাবীগণের ন্যায়পরায়ণতা প্রমাণ করে এবং সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন) মধ্যে সংঘটিত বিবাদসমূহের ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের কর্মপন্থাকে সঠিক বলে প্রতিষ্ঠিত করে।

শাইখুল ইসলামের মতামতের মূল্য আমাদের বর্তমান বিশ্বে আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে এবং এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়; কারণ আহলুস সুন্নাহ বর্তমানে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে এই অনুপ্রবেশকারী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে প্রকাশ্য শত্রুতা এবং জঘন্য ষড়যন্ত্র প্রত্যক্ষ করছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল বিষয় হলো মুসলিমদের কাছে রাসূলের ব্যক্তিত্বের পবিত্রতা। আমরা মাঝেমধ্যে কাফের, মুশরিক এবং আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে কিছু নির্বোধকে দেখি যারা আমাদের রাসূল মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যক্তিত্বকে হেয় করার চেষ্টা করে। সীরাতুন্নবীর ওপর প্রাচ্যবিদদের অধিকাংশ গবেষণাই রাসূলের ব্যক্তিত্ব, তাঁর সাহাবীগণ এবং তাঁর পত্নীগণের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অপবাদে ভরপুর। প্রাচ্যের দেশগুলোতেও আমরা এই প্রবণতা লক্ষ্য করি। শাইখুল ইসলামের যুগেও এমন ঘটনা ঘটেছিল, তাই তিনি তাঁর মহান গ্রন্থ "আস-সারিমুল মাসলুল আলা শাতিমির রাসূল" রচনা করেন, যা এই বিষয়ে লিখিত সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব হিসেবে গণ্য হয়।

খ্রিষ্টানিকরণ আন্দোলন, যাকে তারা 'সুসংবাদ প্রচার' বলে অভিহিত করে এবং যা ইসলাম ও মুসলিমদের সবচেয়ে শক্তিশালী শত্রু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, তার বাস্তবতা এবং ক্ষয়ক্ষতি ইতিহাস সচেতন কারো কাছে গোপন নয়, বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিমদের কাছে। তাদের আকিদা-বিশ্বাস খণ্ডনের ক্ষেত্রেও শাইখুল ইসলামের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
والدفاع عن الإسلام وعقيدته ورسوله في كتابه العظيم: "الجواب الصحيح لمن بدل دين المسيح"، ويعتبر هذا الكتاب موسوعة علمية عظيمة، ومن أحسن المراجع في الرد على النصرانية المحرفة، وفي إثبات دلائل النبوة وبيان المعجزات.

ومن الموضوعات المهمة التي تناولها شيخ الإسلام بالبحث والدراسة مسألة السياسة الشرعية، والاقتصاد الإسلامي، ولا شك أن السياسة الشرعية والاقتصاد الإسلامي من الموضوعات التي يحتاج إليها الحكام والسلاطين وأصحاب الثروة في كل زمان ومكان، وقد استفاد علماء. الاقتصاد في البلاد الإسلامية من آراء شيخ الإسلام في ترتيب نظام إسلامي اقتصادي جديد يساير الركب الحضاري المتقدم في عالمنا المعاصر.

وهناك جانب مهم من جهود شيخ الإسلام العظيمة لإصلاح المجتمع الإسلامي، وذلك بدراسة حالة الأمة الاجتماعية وتقديم الحلول الإسلامية؛ لتحافظ الأمة على شخصيتها الإسلامية، فإن التأثر والتأثير الحاصلين في المجتمعات يلعب دورًا مهمًا في تاريخ البشرية، ولا يخفى ما لاقى المسلمون من مشاكل اجتماعية بعد اختلاطهم بالأقوام والملل الكافرة إثر امتداد الحكم الإسلامي وسعة رقعة بلاد الإسلام، ولا يخفى أضرار تشبه المسلمين بالكفار والمشركين وأهل الكتاب من اليهود والنصارى، وهذا من الأمور المهمة التي يلمسها كل مثقف ومطلع على أحوال المسلمين الذين فتنوا بحضارات الغرب والشرق، وخضعوا لها، وبدأت آثارها السيئة
এবং ইসলাম, তার আকিদা ও রাসূলের প্রতিরক্ষা করেছেন তাঁর মহান গ্রন্থ: "আল-জাওয়াব আস-সহীহ লি-মান বাদ্দাল দীন আল-মাসিহ"-এ; এই গ্রন্থটি একটি মহান ইলমি বিশ্বকোষ হিসেবে বিবেচিত এবং এটি বিকৃত খ্রিস্টধর্মের খণ্ডনে এবং নবুওয়তের প্রমাণাদি সাব্যস্তকরণ ও মুজিজা বর্ণনার ক্ষেত্রে অন্যতম শ্রেষ্ঠ আকর গ্রন্থ।

শায়খুল ইসলাম গবেষণা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন তার মধ্যে রয়েছে সিয়াসাহ শারইয়াহ এবং ইসলামি অর্থনীতি। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সিয়াসাহ শারইয়াহ এবং ইসলামি অর্থনীতি এমন বিষয় যার প্রয়োজন সব সময় ও সব স্থানে শাসক, সুলতান এবং বিত্তবানদের রয়েছে। মুসলিম দেশগুলোর অর্থনীতিবিদগণ আমাদের সমসাময়িক বিশ্বের উন্নত সভ্যতার ধারার সাথে সংগতিপূর্ণ একটি নতুন ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিন্যাসে শায়খুল ইসলামের মতামত থেকে উপকৃত হয়েছেন।

ইসলামি সমাজ সংস্কারে শায়খুল ইসলামের মহান প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো উম্মাহর সামাজিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং ইসলামি সমাধান পেশ করা; যাতে উম্মাহ তার ইসলামি স্বকীয়তা বজায় রাখতে পারে। সমাজের পারস্পরিক প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া মানব ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইসলামি শাসনের বিস্তার ও মুসলিম ভূখণ্ডের পরিধি বৃদ্ধির ফলে কাফির জাতি ও গোষ্ঠীগুলোর সাথে সংমিশ্রণের পর মুসলিমরা যেসব সামাজিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল তা গোপন নয়। একইভাবে কাফির, মুশরিক এবং আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সাথে মুসলিমদের সাদৃশ্য অবলম্বনের ক্ষতিকর দিকগুলোও অস্পষ্ট নয়। এটি সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সভ্যতার দ্বারা মোহাচ্ছন্ন ও বশীভূত হওয়া মুসলিমদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত প্রত্যেক শিক্ষিত ও সচেতন ব্যক্তি অনুভব করেন, যার মন্দ প্রভাবগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
تظهر في وقت مبكر في المجتمع الإسلامي الذي صار ضحية هذا الانحلال الخلقي.

ومفاسد هذا الاختلاط والتأثير واضحة جدًا في قضايا العقيدة والفكر وفي السياسة والاجتماع وفي شئون الزواج والطلاق، والمأكل والمشرب والأعياد وغير ذلك من مظاهر الاجتماع.

ونظرًا إلى أهمية مسألة التشبه وما يرتب عليه من أمور قام شيخ الإسلام بتأليف كتابه العظيم: "اقتضاء الصراط المستقيم مخالفة أصحاب الجحيم" وأثبت بالأدلة القطعية أن التشبه بجميع أنواعه حرام على الأمة الإسلامية في جميع مجالات الحياة ونقح هذه المسألة تنقيحًا علميًا عظيمًا أتى فيه بما لم يأته الأوائل.

قاد شيخ الإسلام المعارك العظيمة ضد التتر الذين دمروا البلاد الإسلامية وقتلوا، ونهبوا أممًا لا يحصون، وأعاد بذلك -بفضل الله ومنه وتأييد وتوفيقه- الثقة في نفوس المسلمين، وكتب الله الفوز لعساكر الإسلام تحت قيادة شيخ الإسلام الذي قدم كل غال ورخيص؛ لإعادة مجد الإسلام، ونشر الأمن في بلاد الإسلام.

كما كان لجهاد ضد الروافض الشيعة أثر كبير في القضاء على أعداء الإسلام، واستقرار بلاد الإسلام، وأنه موقف مشرف جدًا، ولا يحتاج بيان ما للمجاهد في سبيل الله من أجر جزيل عند الله عز وجل.

وهذه المسائل التي درسها شيخ الإسلام في عصره، وتناولها بعده بالشرح والبيان أصحابه وتلاميذه، كانت موضوع الساعة في جميع العصور والأزمنة والأمكنة ولا تقلُّ أهميتها في عالمنا
এটি মুসলিম সমাজে শুরুর দিকেই প্রকাশ পায়, যা এই নৈতিক অবক্ষয়ের শিকারে পরিণত হয়েছিল।

এই সংমিশ্রণ ও প্রভাবের কুফলসমূহ আকিদা ও চিন্তা, রাজনীতি ও সমাজ ব্যবস্থা, বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত বিষয়াদি, পানাহার, উৎসব এবং সামাজিক জীবনের অন্যান্য দিকগুলোতে অত্যন্ত স্পষ্ট।

অনুকরণ বা সামঞ্জস্য বিধানের মাসআলা এবং এর ওপর ভিত্তি করে উদ্ভূত বিষয়াবলির গুরুত্ব বিবেচনা করে শাইখুল ইসলাম তাঁর মহান গ্রন্থ: "ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম মুখালাফাতু আসহাবিল জাহিম" (জাহান্নামবাসীদের বিরোধিতা করার ক্ষেত্রে সরল পথের আবশ্যকতা) রচনা করেন। তিনি অকাট্য দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, জীবনের সকল ক্ষেত্রে সর্বপ্রকার অনুকরণ করা মুসলিম উম্মাহর জন্য হারাম। তিনি এই মাসআলাটি এমন উচ্চতর তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক পরিমার্জন করেছেন যা পূর্ববর্তীরা করতে সক্ষম হননি।

শাইখুল ইসলাম তাতারীদের বিরুদ্ধে মহান যুদ্ধসমূহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যারা মুসলিম দেশসমূহ ধ্বংস করেছিল এবং অগণিত জাতিকে হত্যা ও লুণ্ঠন করেছিল। এর মাধ্যমে—আল্লাহর অনুগ্রহ, দান, সমর্থন ও তাওফিকের মাধ্যমে—তিনি মুসলিমদের হৃদয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনেন। শাইখুল ইসলামের নেতৃত্বে আল্লাহ তাআলা ইসলামী বাহিনীর জন্য বিজয় লিখে দিয়েছিলেন, যিনি ইসলামের গৌরব পুনরুদ্ধার এবং মুসলিম ভূখণ্ডে নিরাপত্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নিজের সর্বস্ব উৎসর্গ করেছিলেন।

তেমনিভাবে রাফেজি শিয়াদের বিরুদ্ধে তাঁর জিহাদ ইসলামের শত্রুদের নির্মূল করতে এবং মুসলিম দেশসমূহের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। এটি ছিল একটি অত্যন্ত সম্মানজনক অবস্থান। আল্লাহর পথে মুজাহিদের জন্য মহান আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র নিকট যে বিশাল প্রতিদান রয়েছে, তা নতুন করে বর্ণনা করার প্রয়োজন নেই।

শাইখুল ইসলাম তাঁর যুগে যে সকল মাসআলা নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং পরবর্তীতে তাঁর সঙ্গী ও ছাত্ররা যেগুলোর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ প্রদান করেছেন, তা সকল যুগ, সময় ও স্থানে সমসাময়িক বিষয় হিসেবে বিবেচিত। আমাদের বর্তমান বিশ্বেও এর গুরুত্ব কোনো অংশে কম নয়।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
المعاصر، بل تزداد أهميتها؛ نظرًا إلى كثرة المسائل والمشاكل التي تواجه العالم الإسلامي.

ونحمد الله على أنه قد زالت كثير من العقبات والحواجز التي كان أهل العلم والاجتهاد يواجهونها في سبيل الاستفادة من علوم السلف وخاصة علوم شيخ الإسلام، ويرجع هذا الفضل الى مشايخ الدعوة السلفية في نجد والحجاز ومصر والشام وشبه القارة الهندية، ولابد عنه تنويه جهود ملوك آل سعود وآمرائهم في سبيل نشر مؤلفات شيخ الإسلام ابن تيمية، ثم من دُوْرِ النشر العلمية من مصر والمملكة العرببة السعودية، ومن منبر الجامعات الإسلامية في المملكة العربية السعودية.

ومن جانب آخر كثرت الدراسات حول شيخ الإسلام وأفكاره وعلومه ودعوته من طلبة العلم في المملكة العربية السعودية، ومصر، والهند، وبلاد الشام، والعراق، ومن قِبَل المستشرقين والمستغربين، وساعدت هذه الأمور في إقبال شباب الإسلام على علوم شيخ الإسلام والاستفادة منها.

وقد ظهرت آثار هذا الإقبال في حياة الشباب العلمية والدينية للمطلع على أحوالهم في البلاد الإسلامية العربية، كثَّر الله سوادهم.

وخلاصة ما سبق أن شيخ الإسلام ابن تيمية من الشخصيات النادرة التي تركت هذه الثروة العلمية العظيمة التي فيها حلول لمشاكل المسلمين في عالمنا المعاصر، وفيها مقنع للباحث أن يفهم الشريعة الإسلامية حسبما فهمه السلف الصالح.
সমসাময়িক, বরং এর গুরুত্ব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে; বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের সম্মুখীন হওয়া অসংখ্য মাসআলা ও সমস্যার কারণে।

এবং আমরা আল্লাহর প্রশংসা করছি যে, অনেক বাধা ও প্রতিবন্ধকতা দূর হয়েছে যা আহলুল ইলম ও ইজতিহাদকারীগণ সালাফদের ইলম, বিশেষ করে শায়খুল ইসলামের ইলম থেকে উপকৃত হওয়ার পথে সম্মুখীন হতেন। আর এই কৃতিত্ব নজদ, হিজাজ, মিসর, শাম এবং ভারতীয় উপমহাদেশের সালাফি দাওয়াতের শায়খদের প্রাপ্য। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার রচনাবলি প্রসারে আল সৌদ রাজবংশের বাদশাহ ও আমিরদের প্রচেষ্টার কথা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে; অতঃপর মিসর ও সৌদি আরবের বৈজ্ঞানিক প্রকাশনীসমূহ এবং সৌদি আরবের ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মঞ্চ থেকে পরিচালিত প্রচেষ্টাও এর অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে, সৌদি আরব, মিসর, ভারত, শাম দেশসমূহ এবং ইরাকের ইলম অন্বেষণকারীদের পক্ষ থেকে, সেইসাথে প্রাচ্যবিদ ও পশ্চিমাপন্থীদের পক্ষ থেকেও শায়খুল ইসলাম, তাঁর চিন্তাধারা, ইলম ও দাওয়াতের উপর গবেষণার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিষয়গুলো মুসলিম যুবকদের শায়খুল ইসলামের ইলমের প্রতি আগ্রহী হতে এবং তা থেকে উপকৃত হতে সহায়তা করেছে।

আরব ও ইসলামি দেশগুলোতে যুবকদের অবস্থা যারা পর্যবেক্ষণ করেন, তাদের কাছে তাদের ইলমি ও ধর্মীয় জীবনে এই আগ্রহের প্রভাব সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে; আল্লাহ তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন।

পূর্বোক্ত আলোচনার সারসংক্ষেপ হলো, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন যারা এই মহান ইলমি সম্পদ রেখে গেছেন, যাতে আমাদের সমসাময়িক বিশ্বের মুসলিমদের সমস্যার সমাধান রয়েছে এবং একজন গবেষকের জন্য এতে ইসলামি শরিয়তকে সালাফে সালেহীনের বুঝ অনুযায়ী বোঝার মতো যথেষ্ট উপকরণ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল মারিদিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
والجدير بالذكر أن معظم المباحث العلمية التي أثارها، ونقحها شيخ الإسلام كانت مرجعًا مهمًا لمعظم الكتابات العلمية من معاصريه إلى يومنا هذا باعتراف كثير من المستفيدين وبتصريح شيخ الإسلام نفسه، ووُجد هناك عدد كبير من محبي علوم شيخ الإسلام الذين انتهجوا منهجه فى نشر السنة والعقيدة من المحدثين والمفسرين والفقهاء والمصلحين.

أمثال: ابن قيم الجوزية الذي اشتهر بمحبته لشيخ الإسلام وعلوم، وابن كثير، والذهبي، وابن عبد الهادي، وابن أبي العز الحنفي شارح العقيدة الطحاوية، والسفاريني، والإمام محمد بن عبد الوهاب وأصحابه وتلاميذه وعلماء هذه السلسلة والشوكاني، والأمير اليماني، وولي الله الدهلوي والشاه عبد العزيز الدهلوي، والنواب صديق حسن البوفالي، ورشيد رضا، وأحمد شاكر، ومحب الدين الخطيب، ومحمد حامد الفقي، وجمال الدين القاسمي، والآلوسي، والسيد نذير حسين المحدث الدهلوي، وعلماء الأسرة الغزنوية، وثناء الله الأمرتسري، ومحمد إبراهيم السيالكوتي، ومحمد بشسير السهسواني، والمحدث شمس الحق العظيم آبادي، والمحدث عبد الرحمن المباركفوري، ومحمد حسين البتالوي، وأبي الكلام آزاد، ومحمد عطاء الله حنيف الفوجياني، ومحمد حنيف النَّدوي، والعلامة تقي الدين الهلالي -رحمة الله عليهم أجمعين-، والمحدث محمد ناصر الدين الألباني، والمحدث عبيد الله الرحماني المباركفوري، والشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز -حفظهم الله وتولاهم-، وعامة
উল্লেখযোগ্য যে, শায়খুল ইসলাম যেসব ইলমি গবেষণার অবতারণা ও পরিমার্জন করেছিলেন, তার অধিকাংশ তাঁর সমসাময়িক কাল থেকে আজ পর্যন্ত ইলমি রচনাবলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত। এটি অনেক উপকৃত ব্যক্তির স্বীকৃতি এবং স্বয়ং শায়খুল ইসলামের বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণিত। সেখানে শায়খুল ইসলামের ইলমের অনুরাগী এমন এক বিশাল জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় যারা সুন্নাহ ও আকিদা প্রসারে তাঁর মানহাজ বা পথ অনুসরণ করেছেন; যাদের মধ্যে রয়েছেন মুহাদ্দিস, মুফাসসির, ফকিহ এবং সংস্কারকগণ।

যেমন: ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ, যিনি শায়খুল ইসলাম এবং তাঁর ইলমের প্রতি মহব্বতের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন; ইবনে কাসির; আয-যাহাবি; ইবনে আব্দুল হাদি; আকিদাহ আত-তাহাবিয়ার ব্যাখ্যাকার ইবনে আবিল ইয আল-হানাফি; আস-সাফারিনি; ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব এবং তাঁর সঙ্গী, ছাত্র ও এই সিলসিলার উলামায়ে কিরাম; আশ-শাওকানি; আল-আমির আল-ইয়ামানি; শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি; শাহ আব্দুল আজিজ দেহলভি; নওয়াব সিদ্দিক হাসান ভুপালি; রশিদ রিদা; আহমাদ শাকির; মুহিব্বুদ্দিন আল-খাতিব; মুহাম্মাদ হামিদ আল-ফিকি; জামালুদ্দিন আল-কাসিমি; আল-আলুসি; আস-সাইয়িদ নাজির হুসাইন মুহাদ্দিস দেহলভি; গজনভি পরিবারের উলামায়ে কিরাম; সানাউল্লাহ অমৃতসরি; মুহাম্মাদ ইব্রাহিম শিয়ালকোটি; মুহাম্মাদ বশির সাহসোয়ানি; মুহাদ্দিস শামসুল হক আজিমাবাদি; মুহাদ্দিস আব্দুর রহমান মুবারকপুরী; মুহাম্মাদ হুসাইন বাতালভি; আবুল কালাম আজাদ; মুহাম্মাদ আতাউল্লাহ হানিফ ভোজিয়ানি; মুহাম্মাদ হানিফ নদভী; আল্লামা তাকিউদ্দীন আল-হিলালী - আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর রহম করুন -; এবং মুহাদ্দিস মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী; মুহাদ্দিস উবায়দুল্লাহ রহমানী মুবারকপুরী; শায়খ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায - আল্লাহ তাঁদের হিফাজত করুন এবং তাঁদের অভিভাবকত্ব দান করুন -; এবং সাধারণভাবে...