(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: -)
الباعث على شرح الحوادث القسم: كتب عامة
الكتاب: الباعث على شرح الحوادث
المؤلف: أَبِو عَبد الرَّحمَن مُقْبلُ بنُ هَادِي بنِ مُقْبِلِ بنِ قَائِدَةَ (اسم رجل) الهَمْدَاني الوادعِيُّ (ت 1422هـ)
الناشر: مكتبة صنعاء الأثرية، اليمن
الطبعة: الثانية، 1425 هـ - 2004 م
عدد الصفحات: 127
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 محرم 1434
আল-বায়িস আলা শারহিল হাওয়াদ্দিস বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: আল-বায়িস আলা শারহিল হাওয়াদ্দিস
লেখক: আবু আবদুর রহমান মুকবিল বিন হাদি বিন মুকবিল বিন কায়িদাহ (ব্যক্তির নাম) আল-হামদানী আল-ওয়াদিঈ (মৃত্যু ১৪২২ হিজরি)
প্রকাশক: মাকতাবাতু সানআ আল-আসারিয়্যাহ, ইয়েমেন
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৭
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৬ মুহররম ১৪৩৪
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةالحمد لله رب العالمين، الرحمن الرحيم، مالك يوم الدين، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
أما بعد
… فإنا نحمد الله الذي وفقنا لسنة رسول الله صلى الله وعليه وعلى آله وسلم والدعوة إليها التي هي وظيفة نبينا محمد صلى الله عليه وعلى آله وسلم، كما قال ربنا جل وعلا: (يا أيها النبي إنا أرسلناك شاهدا ومبشرا ونذيرا * وداعيا إلى الله بإذنه وسراجا منيرا) [الأحزاب: 45 ، 46]. فالدعوة إلى الله خير من الملك والسلطنة كما قال ربنا جل وعلا: (ومن أحسن قولا ممن دعا إلى الله وعمل صالحا وقال إنني من المسلمين) [فصلت: 33]. إن دعوة أهل السنة دعوة خير وبركة؛ لأنها دعوة من كتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم إلى كتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم.
والله سبحانه وتعالى هو الحافظ
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু এবং বিচার দিবসের মালিক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর
… আমরা মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি আমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ এবং তার দিকে দাওয়াত প্রদানের তাওফিক দান করেছেন, যা আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের অর্পিত দায়িত্ব ছিল; যেমনটি আমাদের মহান রব ইরশাদ করেছেন: (হে নবী! নিশ্চয়ই আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপরূপে) [আল-আহযাব: ৪৫, ৪৬]। সুতরাং আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রদান রাজত্ব ও ক্ষমতার চেয়েও উত্তম; যেমনটি আমাদের মহান প্রতিপালক বলেছেন: (ঐ ব্যক্তির চেয়ে কার কথা অধিক উত্তম হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, নেক আমল করে এবং বলে, "নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত"?) [ফুসসিলাত: ৩৩]। নিশ্চয়ই আহলুস সুন্নাহর দাওয়াত হলো কল্যাণ ও বরকতের দাওয়াত; কারণ এটি আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ হতে উৎসারিত এবং যা আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর দিকেই আহ্বান করে।
আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা-ই একমাত্র হেফাজতকারী।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ৮)
للدعوة والقائمين عليها ، فكم من محاولة من أعداء السنة؛ ففي جامع الهادي كانوا يريدون القضاء على أبي عبد الرحمن وخيبهم الله فجزى الله قبيلتي وادعة ، وبعض أبناء القبائل دافعوا عني _ دفع الله عنهم كل سوء ومكروه. وكم أرسل الشيعة والمكارمة الباطنية الذين هم أكفر من اليهود والنصارى ، وجزى الله خيرا قبيلتي قاموا بالحماية ، بل بتوعد من أحدث سوءًا. وفي أيام مضت رمى بعض السفهاء قاتلهم الله ببازوكة على بيت بعض طلبة العلم وسلم الله. ومما يدعو إلى الدهشة أن الحكومة تمنح بعض الفسقة والخمارين رخص حمل السلاح وهم أناس لا يعبأ بهم وتذيقنا المر في السماح لنا بالمرور بالسلاح في بعض النقط العسكرية فإلى الله المشتكى.
وفي هذه الأيام كنا بعدن بجامع الرحمن فما شعرنا إلا بانفجار اللغم ، فانزعج الذين هم في المسجد وكان الذي أراد تفجيره رجل من جماعة الجهاد ، زعموا ، وهم بجماعة الفساد أليق ، وإني أحمد الله فقد كان الذي قام بالتفجير أول ضحيته (ولا يحيق المكر السيئ إلا بأهله) [فاطر: 43] وقتل رجل من السلفيين رحمه الله وصدق ربنا إذ يقول: (وما كان لنفس أن تموت إلاّ بإذن الله كتابًا مؤجلاً) [آل عمران: 145] وحق لي أن أقول: (إن وليي الله الذي نزل الكتاب وهو يتولى الصالحين) [الأعراف: 196]
দাওয়াত এবং এর প্রচার ও প্রসারে নিয়োজিতদের জন্য সুন্নাহর শত্রুদের পক্ষ থেকে কতই না অপচেষ্টা চালানো হয়েছে! জামে আল-হাদিতে তারা আবু আবদুর রহমানকে নির্মূল করতে চেয়েছিল, কিন্তু আল্লাহ তাদের ব্যর্থ ও লাঞ্ছিত করেছেন। আল্লাহ আমার ওয়াদেআ গোত্রকে এবং অন্যান্য গোত্রের সেই সন্তানদের উত্তম প্রতিদান দান করুন যারা আমাকে প্রতিরক্ষা করেছেন—আল্লাহ তাদের থেকে সকল অনিষ্ট ও অপ্রীতিকর বিষয় দূর করে দিন। শিয়া এবং মাকারিমাহ বাতিনিয়ারা কতবার যে লোক পাঠিয়েছে, যারা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের চেয়েও অধিক কাফির (أكفر)! আল্লাহ আমার গোত্রকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, তারা সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছেন, এমনকি যারা মন্দ কিছু করার অপচেষ্টা চালায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। বিগত দিনগুলোতে কিছু নির্বোধ—আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন—ইলমে দ্বীনের কিছু ছাত্রের বাসভবনে বাজুকা নিক্ষেপ করেছিল, কিন্তু আল্লাহ হিফাযত করেছেন। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, সরকার কতিপয় পাপাচারী (فاسق) এবং মদ্যপায়ীকে অস্ত্র বহনের লাইসেন্স প্রদান করে, অথচ তারা ভ্রূক্ষেপ করার মতো কোনো ব্যক্তিই নয়; অন্যদিকে কিছু সামরিক তল্লাশি চৌকিতে অস্ত্রসহ চলাচলের অনুমতি পেতে আমাদের চরম তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়। আল্লাহর কাছেই সকল ফরিয়াদ।
এই দিনগুলোতে আমরা আদনের জামে আর-রাহমানে ছিলাম। এমতাবস্থায় আমরা হঠাৎ একটি ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ অনুভব করলাম। মসজিদে অবস্থানরতরা এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। যে ব্যক্তি এটি বিস্ফোরণ করতে চেয়েছিল, সে 'জামায়াতুল জিহাদ'-এর অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে; যদিও তারা 'জামায়াতুল ফাসাদ' (বিপর্যয় সৃষ্টিকারী দল) হওয়ারই অধিক যোগ্য। আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি যে, যে ব্যক্তি বিস্ফোরণটি ঘটিয়েছে, সে নিজেই তার প্রথম শিকারে পরিণত হয়েছে— "আর মন্দ কৌশল কেবল তার কর্তাকেই পরিবেষ্টন করে" [ফাতির: ৪৩]। এ ঘটনায় সালাফিদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন। আমাদের প্রতিপালক সত্যই বলেছেন: "আর আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কারো মৃত্যু হতে পারে না, তা এক সুনির্দিষ্ট লিপিবদ্ধ সময়ের ব্যাপার" [আলে ইমরান: ১৪৫]। আমার জন্য এ কথা বলাই সংগত যে: "নিশ্চয়ই আমার অভিভাবক হলেন আল্লাহ, যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তিনিই সৎকর্মশীলদের অভিভাবকত্ব করেন" [আল-আরাফ: ১৯৬]।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ৯)
وإني أبشر إخواننا أهل السنة بأن السنة في اليمن على أحسن ما يرام والفضل لله وحده. ولقد كانت السنة غريبة في مجتمعنا اليمني فلا تجد إلا صوفيًّا مبتدعًا أو شيعيًّا ينفر عن السنة وعن أهلها أو إخوانيًّا ليس له هَمٌّ إلا جمع الأموال والتنفير عن السنة وأهلها.
وابتلينا أيضًا بجمعية الحكمة وجمعية الإصلاح وجمعية الإحسان ليس لهم هم إلا جمع الأموال ليدعموا بها حزبيتهم.
فلك الحمد يا ربنا نصرت أهل السنة وحالهم كحال الصحابة إذ قلت لهم: (واذكروا إذا (1) أنتم قليل مستضعفون في الأرض تخافون أن يتخطفكم الناس فآواكم وأيدكم بنصره ورزقكم من الطيبات لعلكم تشكرون) [الأنفال: 26] وكما قلتَ حاكيا عن موسى عليه السلام: (قال موسى لقومه استعينوا بالله واصبروا إن الأرض لله يورثها من يشاء من عباده والعاقبة للمتقين * قالوا أوذينا من قبل أن تأتينا ومن بعد ما جئتنا قال عسى ربكم أن يهلك عدوكم ويستخلفكم في الأرض فينظر كيف تعملون) [الأعراف: 128، 129].
وقلت وقولك الحق: (وأورثنا القوم الذين كانوا يستضعفون مشارق الأرض ومغاربها التي باركنا فيها وتمت كلمة ربك الحسنى على بني إسرائيل بما صبروا ودمرنا ما كان يصنع فرعون وقومه وما كانوا يعرشون) [الأعراف: 137].
--------------------------------------------
আমি আমাদের আহলে সুন্নাহর ভাইদের সুসংবাদ দিচ্ছি যে, ইয়েমেনে সুন্নাহ সর্বোত্তম অবস্থায় রয়েছে এবং যাবতীয় প্রশংসা ও অনুগ্রহ কেবল আল্লাহরই। ইয়েমেনি সমাজে একদা সুন্নাহ ছিল অত্যন্ত অপরিচিত; তখন সেখানে বিদআতি (مبتدع) সুফি, অথবা সুন্নাহ ও সুন্নাহর অনুসারীদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী শিয়া, অথবা এমন ইখওয়ানি ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যেত না যাদের একমাত্র চিন্তা ছিল অর্থ সংগ্রহ করা এবং সুন্নাহ ও এর অনুসারীদের থেকে মানুষকে বিমুখ করা।
আমরা আরও পরীক্ষিত হয়েছিলাম 'জমঈয়্যাতুল হিকমাহ', 'জমঈয়্যাতুল ইসলাহ' এবং 'জমঈয়্যাতুল ইহসান' নামক সংস্থাগুলো দ্বারা, যাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল নিজেদের দলীয় সংকীর্ণতাকে সমর্থন যোগাতে অর্থ সংগ্রহ করা।
হে আমাদের রব! আপনারই সমস্ত প্রশংসা, আপনি আহলে সুন্নাহকে সাহায্য করেছেন এবং তাদের অবস্থা এখন সাহাবীগণের অবস্থার ন্যায়, যখন আপনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: (আর স্মরণ করো, যখন তোমরা ছিলে অল্পসংখ্যক, জমিনে তোমাদের দুর্বল মনে করা হতো, তোমরা আশঙ্কা করতে যে মানুষ তোমাদের ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে; অতঃপর তিনি তোমাদের আশ্রয় দিলেন, স্বীয় সাহায্য দ্বারা তোমাদের শক্তিশালী করলেন এবং তোমাদের পবিত্র বস্তু থেকে রিযিক দান করলেন যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো) [আনফাল: ২৬]। আর যেভাবে আপনি মূসা আলাইহিস সালামের কথা বর্ণনা করে বলেছিলেন: (মূসা তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো এবং ধৈর্য ধারণ করো; নিশ্চয়ই এই জমিন আল্লাহর, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকারী করেন এবং শুভ পরিণাম কেবল মুত্তাকীদের জন্যই। তারা বলল, আপনি আমাদের কাছে আসার পূর্বেও আমরা নির্যাতিত হয়েছি এবং আপনি আসার পরেও। তিনি বললেন, শীঘ্রই তোমাদের রব তোমাদের শত্রুকে ধ্বংস করবেন এবং তোমাদের জমিনে স্থলাভিষিক্ত করবেন, অতঃপর তিনি দেখবেন তোমরা কীভাবে আমল করো) [আ'রাফ: ১২৮, ১২৯]।
আপনি বলেছেন এবং আপনার কথাই সত্য: (আর আমরা সেই কওমকে, যাদের দুর্বল মনে করা হতো, জমিনের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের উত্তরাধিকারী বানালাম যাতে আমরা বরকত দান করেছি; এবং বনী ইসরাঈলের ওপর আপনার রবের উত্তম প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হলো তাদের ধৈর্যের কারণে, আর ফেরাউন ও তার সম্প্রদায় যা শিল্পকর্ম তৈরি করেছিল ও যা তারা নির্মাণ করেছিল, তা আমরা ধ্বংস করে দিলাম) [আ'রাফ: ১৩৭]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ১০)
وقال تعالى: (ونريد أن نمن على الذين استضعفوا في الأرض ونجعلهم أئمة ونجعلهم الوارثين) [القصص: 5].
وقال سبحانه وتعالى: (وجعلنا منهم أئمة يهدون بأمرنا لما صبروا وكانوا بآياتنا يوقنون) [السجدة: 24].
هذا، لما كانت وسائل الإعلام لا تنقل الحقيقة رأيت أن أنشر هذين الشرطين اللذين سجلتهما بعد الرحلة.
والمجتمع اليمني وغيره يعلمون من نحن ومن القائمون على وسائل الإعلام وسميت الرسالة:
الباعث على شرح الحوادث.
والله أسأل أن يجعلنا من الصادقين المخلصين إنه على كل شيء قدير.
মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: (আর আমি ইচ্ছা করলাম যে, যমীনে যাদেরকে হীনবল করে রাখা হয়েছিল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে, তাদেরকে ইমাম (أئمة) বানাতে এবং তাদেরকে উত্তরাধিকারী করতে) [সূরা আল-কাসাস: ৫]।
এবং সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: (আর আমি তাদের মধ্য থেকে ইমাম (أئمة) মনোনীত করেছিলাম, যারা আমার আদেশানুসারে পথপ্রদর্শন করত; যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল এবং তারা আমার আয়াতসমূহে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করত) [সূরা আস-সাজদাহ: ২৪]।
বস্তুত, গণমাধ্যম যখন সত্য প্রকাশ করছিল না, তখন আমি সফর পরবর্তী ধারণকৃত এই দুটি রেকর্ডকৃত আলোচনা প্রকাশ করা সমীচীন মনে করলাম।
ইয়েমেনি সমাজ ও অন্যান্যরা অবগত আছেন যে আমরা কারা এবং গণমাধ্যম পরিচালনার দায়িত্বে কারা নিয়োজিত। আমি এই রিসালাহ বা পুস্তিকাটির নামকরণ করেছি:
আল-বাইস আলা শারহিল সাওয়াদিস।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সত্যবাদী (الصادقين) ও একনিষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ১১)
الحمد لله، حمدا كثيرًا طيبًا مباركًا فيه كما يحب ربنا ويرضى ، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
أما بعد
… فإن الدعوة إلى الله هي وظيفة الأنبياء، فرب العزة يقول في كتابة الكريم: (يا أيها النبي إنا أرسلناك شاهدًا ومبشرًا ونذيرًا * وداعيًا إلى الله بإذنه وسراجًا منيرًا) [الأحزاب: 45 ، 46]. والنبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم عند أن أرسل معاذًا وأبا موسى إلى اليمن قال لهما: بشرا ولا تنفرا، ويسرا ولا تعسرا، وتطاوعا ولا تختلفا.
ورب العزة يقول في كتابه الكريم لنبيه محمد صلى الله عليه وعلى آله وسلم: (قل هذه سبيلي أدعو إلى الله على بصيرة أنا ومن أتبعني وسبحان الله وما أنا من المشركين). [يوسف: 108].
فالنبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم وأتباعه واجب عليهم أن يدعوا إلى الله في حدود ما يعلمون؛ لقوله: (على بصيرة). وإنا نحمد الله سبحانه وتعالى؛ فدعوة أهل السنة ـ والفضل في هذا لله سبحانه وتعالى دعوة خير وبركة، جمعت أصنافًا قل من يستطيع أن يجمعها، التعليم، والتأليف، والدعوة إلى الله.
ونحن
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা প্রচুর, পবিত্র ও বরকতময়; যেভাবে আমাদের রব পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল।
অতঃপর
… আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রদান করাই হলো নবীগণের দায়িত্ব। মহান রব তাঁর সম্মানিত কিতাবে বলেন: (হে নবী! আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে। এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে।) [আল-আহজাব: ৪৫, ৪৬]। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) যখন মুয়াজ এবং আবু মুসাকে ইয়ামেনে পাঠিয়েছিলেন, তখন তাঁদের বলেছিলেন: তোমরা সুসংবাদ দাও এবং মানুষকে দূরে সরিয়ে দিয়ো না, সহজ করো এবং কঠিন করো না, একে অপরের অনুগামী হও এবং মতভেদ করো না।
মহান রব তাঁর সম্মানিত কিতাবে তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে উদ্দেশ্য করে বলেন: (বলুন, এটিই আমার পথ। আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে, তারা সুনিশ্চিত জ্ঞানের ভিত্তিতে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি। আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।) [ইউসুফ: ১০৮]।
সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর অনুসারীদের ওপর ওয়াজিব বা আবশ্যক হলো তারা যতটুকু জানে সে সীমার মধ্যে থেকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেবে; যেহেতু আল্লাহ বলেছেন: (সুনিশ্চিত জ্ঞানের ভিত্তিতে)। আর আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রশংসা করি; কারণ আহলুস সুন্নাহর দাওয়াত—আর এতে সমস্ত শ্রেষ্ঠত্ব আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলারই—এক কল্যাণ ও বরকতময় দাওয়াত, যা এমন সব বিষয়ের সমন্বয় ঘটিয়েছে যা খুব কম লোকই সমন্বয় করতে পারে: শিক্ষা প্রদান, গ্রন্থ রচনা এবং আল্লাহর দিকে দাওয়াত।
আর আমরা
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ১২)
نجد من الناس من يتفرغ للدعوة إلى الله ولا يرفع إلى التزود من العلم رأسًا ولا يبالي بالتأليف، بل يعده من معرقلات الدعوة، ومن الناس من يقبل على التأليف ولا يرفع إلى ما سواه رأسًا، ومن الناس من يقبل على التعليم ولا يبالي بالدعوة ولا يبالي بالتأليف.
فنحمد الله الذي وَفَّق أهل السنة للقيام بما لم يستطع كثير من الناس أن يقوموا به، كل هذه الأمور يكمل بعضها بعضًا.
فالتأليف يبلغ ما لم تبلغه الدعوة باللسان، والدعوة باللسان تبلغ أيضًا ما لا يبلغه التأليف، فهب أنك طبعت من الكتاب خمسة آلاف نسخة فماذا يقع في العالم، لكن تنتقل إلى القرى والمدن يسمع كلامك من لم يتمكن من شراء الكتاب أو يرغب في شرائه أو يعلم بطبعه.
فالدعوة أقلقت الحاسدين، وأعداء الدين ، والماديين والمصلحيين ، فالحمد لله فإن كُلًّا يكمل بعضه بعضًا والفضل في هذا لله سبحانه وتعالى.
وقد زارنا مجموعة كبيرة من إخواننا في الله من إب وقالوا: طلبنا هو الزيارة يا أبا عبد الرحمن، وقد جاءنا ذلك الجمع المبارك منهم الشيخ الفاضل والداعية المحنك عبد العزيز بن يحيى البرعي حفظه الله، فوجب القبول والإسعاف إلى ما طلبوا وَوُعِدوا بذلك.
আমরা মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক দেখতে পাই যারা আল্লাহর পথে দাওয়াত (دعوة) প্রদানের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেন কিন্তু ইলম (علم) অর্জনের প্রতি বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ করেন না এবং কিতাব রচনার (تأليف) বিষয়ে কোনো তোয়াক্কা করেন না; বরং তারা একে দাওয়াতের অন্তরায় হিসেবে গণ্য করেন। আবার কিছু লোক কিতাব রচনার (تأليف) কাজে মগ্ন থাকেন এবং এটি ছাড়া অন্য কোনো কিছুর দিকে ফিরেও তাকান না। আবার কিছু লোক শিক্ষাদানে (تعليم) মনোনিবেশ করেন কিন্তু দাওয়াত (دعوة) বা কিতাব রচনার (تأليف) প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করেন না।
সুতরাং আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি যিনি আহলুস সুন্নাহকে এমন সব দায়িত্ব পালনের তৌফিক দান করেছেন যা অধিকাংশ মানুষ পালন করতে সক্ষম হয়নি; এই প্রতিটি বিষয়ই একে অপরের পরিপূরক।
কেননা কিতাব রচনা (تأليف) এমন সব স্তরে পৌঁছে যায় যেখানে মৌখিক দাওয়াত (دعوة) পৌঁছাতে পারে না। আবার মৌখিক দাওয়াত (دعوة) এমন সব প্রভাব বিস্তার করে যেখানে কিতাব রচনা (تأليف) পৌঁছাতে সক্ষম নয়। মনে করুন, আপনি একটি কিতাবের পাঁচ হাজার কপি মুদ্রণ করলেন, এতে পৃথিবীতে তার প্রভাব কতটুকু হবে? কিন্তু আপনি যখন বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে সফর করবেন, তখন আপনার কথা এমন সব লোক শুনতে পাবে যারা হয়তো কিতাবটি ক্রয় করার সামর্থ্য রাখে না, অথবা যারা তা কেনার আগ্রহ বোধ করেনি, কিংবা কিতাবটি যে মুদ্রিত হয়েছে সে সম্পর্কে যারা অবগত নয়।
সুতরাং এই দাওয়াত (دعوة) হিংসুক, দ্বীনের শত্রু, বস্তুবাদী এবং স্বার্থান্বেষী মহলের মনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, কেননা প্রতিটি কাজই একে অপরের পরিপূরক এবং এই সকল অনুগ্রহ কেবল মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে।
ইব থেকে আমাদের একদল দ্বীনি ভাই আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমাদের সাথে সাক্ষাত করতে এসেছিলেন এবং বললেন: "হে আবু আব্দুর রহমান, আমাদের উদ্দেশ্য কেবলই আপনার সাথে সাক্ষাত করা"। সেই বরকতময় কাফেলায় উপস্থিত ছিলেন সম্মানিত শায়খ এবং বিজ্ঞ দায়ী (داعية) আব্দুল আজিজ বিন ইয়াহইয়া আল-বুরাই (আল্লাহ তাকে হেফাজত করুন)। ফলে তাদের অনুরোধ রক্ষা করা এবং তারা যা চেয়েছিলেন তা পূরণ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া আমাদের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়ল।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فخرجنا مع رفقة مباركة جزاهم الله خيرًا وبقينا في صنعاء ، وقد حضر جمع كبير مع أن الإعلان لم يكن مسبقاً فما أعلمُوا إلا بعد العشاء من الليلة السابقة ، وبحمد الله صارت الكلمة طيبة عن آثار التشيع المبتدع ، وكيف أضل الناس الهادي المقبور بصعدة بالاعتزال ، والغلو في التشيع ، وبالإعراض عن السنة، وبالكلام على الصحابة وسبهم ، حتى أن يحيى بن حمزة نقل عنه في "الرسالة الوازعة" أنه يقول: أنا أتوقف في أبي بكر وعمر ، فنقول: تتوقف في أبي بكر وعمر يا أيها المسكين؟ تتوقف في أبي بكر وعمر يا أيها المبتدع؟ تتوقف في الترضية عليهما ، فمن أبو بكر وعمر ، هل هما عبد الله بن سبأ ، والمختار بن أبي عبيد الثقفي ، أم هما خليفتا رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم؟
روى البخاري في (صحيحه) عن علي _رضي الله عنه_ أنه قال: خير هذه الأمة بعد نبيها أبو بكر وعمر، وهذا الحديث في (مسند) أحمد عن جمع من التابعين ، عن علي _رضي الله عنه_ منهم من هو شيعي كعبد خير الهمداني الخيواني من اليمن وهو شيعي يروى هذا الحديث عن علي بن أبي طالب.
وكذلك الحزبية أعطيناها قسطها وكذلك الديمقراطية ، فصارت ليلة مباركة من فضل الله عز وجل. وفي الصباح مشينا إلى إب
আমরা একটি বরকতময় কাফেলার সাথে বের হলাম, আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমরা সানআয় অবস্থান করলাম। সেখানে বিশাল জনসমাগম হয়েছিল, যদিও কোনো পূর্ব ঘোষণা ছিল না; তারা আগের দিন এশার সালাতের পরেই কেবল বিষয়টি জানতে পেরেছিল। আল্লাহর প্রশংসায়, বিদআতি (المبتدع) শিয়া মতবাদের কুপ্রভাব সম্পর্কে আলোচনাটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছিল; সেখানে আলোচিত হয়েছে যে, সাদায় সমাহিত আল-হাদি কীভাবে মুতাজিলা মতবাদ, শিয়া চরমপন্থা, সুন্নাহর প্রতি বিমুখতা এবং সাহাবীগণের সমালোচনা ও গালিগালাজের মাধ্যমে মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে। এমনকি ইয়াহইয়া বিন হামযাহ তাঁর ‘আর-رিসালাতুল ওয়াযিআহ’ গ্রন্থে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: “আমি আবু বকর ও উমরের ব্যাপারে মৌনতা অবলম্বন (توقف) করি।” আমরা বলি: ওহে নিঃস্ব ব্যক্তি! তুমি আবু বকর ও উমরের ব্যাপারে মৌনতা অবলম্বন (توقف) করছ? হে বিদআতি (المبتدع), তুমি আবু বকর ও উমরের ব্যাপারে মৌনতা অবলম্বন করছ? তুমি তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করার ব্যাপারে বিরত থাকছ? আবু বকর ও উমর আসলে কে? তাঁরা কি আব্দুল্লাহ বিন সাবা এবং আল-মুখতার বিন আবি উবাইদ আস-সাকাফি, নাকি তাঁরা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুই খলিফা?
বুখারি তাঁর সহিহ বুখারিতে আলি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: “নবি (সা.)-এর পর এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন আবু বকর ও উমর।” এই হাদিসটি মুসনাদে আহমাদ গ্রন্থে একদল তাবেয়ি (التابعين)-র সূত্রে আলি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছেন যিনি শিয়া (شيعي), যেমন ইয়েমেনের আবদ খাইর আল-হামদানি আল-খাইওয়ানি; তিনি শিয়া (شيعي) হওয়া সত্ত্বেও আলি বিন আবি তালিব থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
একইভাবে আমরা দলাদলি ও গণতন্ত্রের বিষয়েও যথাযথ আলোকপাত করেছি। মহান আল্লাহর অনুগ্রহে এটি একটি বরকতময় রাত ছিল। সকালে আমরা ইব্ব-এর অভিমুখে রওয়ানা হলাম।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وكان نزولنا في صنعاء في جامع الخير فهو أفضل مسجد من مساجد أهل السنة بصنعاء والحمد لله أكرمنا أخونا الفاضل الشيخ محمد بن صالح الصوملي حفظه الله ، وفي الصباح كما قلت قبل مشينا إلى إب ومكثنا بمفرق حبيش حتى تغديْنا ثم مشينا إلى إب لأن المحاضرة في إب في مصلى العيد ، فقام إخواننا حفظهم الله بتوجيهات قيمة تثلج الصدور ، فإنك لا تسمع من كلمات إخواننا أهل السنة إلا آية قرآنية أو حديثًا نبويًّا.
وبقينا إلى أن أذّن للعشاء وحضر الجمع المبارك منهم من هو ملتح ومن هو حالق لحيته والظاهر على وجهه سيما الخير ومحبة الخير ، وإن كان حالق اللحية وحلق اللحية حرام ، ومنهم من هو لابس البنطلون وكلهم يحبون الخير ، فأسأل الله أن يبارك فيهم كلهم ، وكما قال النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم: (هم القوم لا يشقى بهم جليسهم).
وبعد أن ذهبنا للوضوء لصلاة المغرب في إب طُلِب منا أن نلقي محاضرة في جامع من جوامع إب ، وهذا الجامع قد ألقينا فيه محاضره ذات مرة ، فقام أصحاب جمعية الحكمة والإخوان المفلسون كما قال الشيخ محمد بن عبد الوهاب كأنهم مجموعة من الدجاج ، وأزعجونا لا جزاهم الله خيرًا ولولا أنهم يفرحون لتركت المحاضرة ومشيت.
সানায় আমাদের অবস্থান ছিল জামেউল খায়রে। এটি সানার আহলে সুন্নাহর মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ মসজিদ। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের গুণী ভাই শাইখ মুহাম্মদ বিন সালিহ আস-সুমালি (আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন) আমাদের মেহমানদারি করেছেন। সকালে যেমনটি আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি, আমরা ইব্ব-এর অভিমুখে যাত্রা করলাম এবং হুবাইশ মোড়ে দুপুরের খাবার গ্রহণ করা পর্যন্ত অবস্থান করলাম। এরপর আমরা পুনরায় ইব্ব-এর দিকে যাত্রা করলাম কারণ সেখানে ঈদগাহ ময়দানে আলোচনার কথা ছিল। আমাদের ভাইয়েরা (আল্লাহ তাদের রক্ষা করুন) অত্যন্ত মূল্যবান ও হৃদয়গ্রাহী কিছু দিকনির্দেশনা প্রদান করলেন। প্রকৃতপক্ষে আপনি আহলে সুন্নাহর ভাইদের কথা থেকে কুরআনের আয়াত অথবা নববীয় হাদিস ছাড়া অন্য কিছু শুনতে পাবেন না।
আমরা ইশার আযান পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করলাম এবং এক বরকতময় সমাবেশ উপস্থিত হলো। তাদের মধ্যে কেউ দাড়িওয়ালা ছিলেন আবার কেউ দাড়ি মুণ্ডনকারী ছিলেন, তবে বাহ্যিকভাবে তাদের চেহারায় কল্যাণের ছাপ ও কল্যাণের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পাচ্ছিল। যদিও সেই ব্যক্তি দাড়ি মুণ্ডনকারী ছিলেন আর দাড়ি মুণ্ডন করা হলো হারাম। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্যান্ট পরিহিত ছিলেন, তবে তারা সকলেই কল্যাণকে ভালোবাসেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাদের সকলের ওপর বরকত দান করেন। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তারা এমন এক সম্প্রদায় যাদের সাথে উপবেশনকারী ব্যক্তিও দুর্ভাগা হয় না।"
ইব্ব-এ মাগরিবের সালাতের জন্য অজুর উদ্দেশ্যে যাওয়ার পর আমাদের নিকট ইব্ব-এর একটি জামে মসজিদে বক্তব্য প্রদানের অনুরোধ করা হলো। এই মসজিদে আমরা ইতিপূর্বে একবার বক্তব্য দিয়েছিলাম। তখন জামঈয়্যাতুল হিকমা এবং দেউলিয়া ইখওয়ানদের অনুসারীরা—শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব যেমনটি বলেছিলেন—একদল মুরগির ন্যায় শোরগোল শুরু করেছিল। তারা আমাদের বিরক্ত করেছিল, আল্লাহ তাদের কল্যাণ না করুন। তারা আনন্দিত হবে—এই ভয় না থাকলে আমি সেবার আলোচনা ছেড়ে চলে আসতাম।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فواعدناهم في العصر بمحاضرة في هذا الجامع لأننا بين مغرب وعشاء في مفرق حبيش ، وهو مقر أخينا الفاضل عبد العزيز البرعي ، ولا ننسى أن من بين المتكلمين في مصلى العيد بإب الشيخ الفاضل عبد المصور حفظه الله ويعتبر من أبرز طلاب العلم المتخرجين من دار الحديث بدماج.
ففي العصر ذهبنا إلى الجامع الكبير وقد كنت قلت قبلُ: لأن تنتخب _صعبًا_أي حمارًا صغيرًا_ أهون من أن تنتخب اشتراكيًّا أو بعثيًّا أو ناصريًّا أو علمانيًّا، فأورد الأخ عبد العزيز استفسارًا: هل تجيز الانتخابات لغير هؤلاء؟ فذكرت الأدلة التي تعرفونها في تحريم الانتخابات وأنها طاغوتية ، فقام واحد مثل المصروع ، ولم أدر ماذا يقول ، فقط سمعت من كلامه الحكومة الإسلامية ،ففهمت أنه يعني أن الانتخابات وسيلة إلى الحكومة الإسلامية، فأقول: إن الإخوان المسلمين بقر وبعض إخواني يقول: لم تقول إن الأخوان المسلمين بقر؟ وأظنه لم يقرأ في البلاغة ، فأنا ما عنيت أن لهم ذيولًا وقرونًا مثل البقر، ولكن أعني أنهم شبيه بالبقر، ولا يستحيون وليس لهم مبدأ؛ فقد أخبرت أن عبد المجيد الزنداني والشيعي أحمد الشامي الغالي وزير الأوقاف الذي وضع على غير تقوى من أول يوم ، أنهما التقيا عند الرئيس فقال عبد المجيد: أما نحن فنقول:
আমরা আসরের সময় এই মসজিদে একটি সভার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কারণ মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে আমরা মাফরাক হুবাইশে থাকব, যা আমাদের সম্মানিত ভাই আব্দুল আজিজ আল-বুরায়ির আবাসস্থল। আমরা এটিও ভুলে যাই না যে, ইব-এর ঈদগাহে বক্তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বিদগ্ধ শায়খ আব্দুল মুসাব্বির (হাফিযাহুল্লাহ), যাঁকে দাম্মাজ দারুল হাদিস থেকে উত্তীর্ণ ইলম অন্বেষণকারীদের (طلاب العلم) মধ্যে অন্যতম প্রধান হিসেবে গণ্য করা হয়।
অতঃপর আসরের সময় আমরা বড় মসজিদে গেলাম। আমি ইতিপূর্বেই বলেছিলাম: একটি ‘সা’ব’—অর্থাৎ একটি ছোট গাধা—নির্বাচিত করা একজন সমাজতন্ত্রী, বাথপন্থী, নাসিরপন্থী বা ধর্মনিরপেক্ষবাদীকে নির্বাচিত করার চেয়ে সহজ। তখন ভাই আব্দুল আজিজ একটি প্রশ্ন উত্থাপন করলেন: আপনি কি এদের ব্যতীত অন্যদের জন্য নির্বাচন বৈধ মনে করেন? জবাবে আমি সেই দলিলগুলো উল্লেখ করলাম যা আপনারা নির্বাচনের নিষিদ্ধতা (تحريم) এবং এটি যে একটি তাগুতি (طاغوتية) ব্যবস্থা সে সম্পর্কে অবগত আছেন। তখন মৃগীরোগগ্রস্ত ব্যক্তির ন্যায় এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে পড়লেন; তিনি কী বলছিলেন আমি তা বুঝে উঠতে পারিনি, কেবল তাঁর বক্তব্যে ‘ইসলামি সরকার’ শব্দদ্বয় শুনতে পেলাম। আমি বুঝতে পারলাম তিনি বুঝাতে চাইছেন যে, নির্বাচন হলো ইসলামি সরকার প্রতিষ্ঠার একটি মাধ্যম। আমি বলি: নিশ্চয়ই ইখওয়ানুল মুসলিমিনগণ হলো পশুর (গরুর) ন্যায়। আমার কোনো কোনো ভাই বলেন: আপনি কেন বলছেন যে ইখওয়ানুল মুসলিমিনগণ গরু? আমি মনে করি তিনি অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাহ) অধ্যয়ন করেননি। আমার উদ্দেশ্য এটা নয় যে গরুর ন্যায় তাদের লাঙ্গুল ও শৃঙ্গ আছে, বরং আমার অভিপ্রায় হলো তারা পশুর সদৃশ, তাদের কোনো লজ্জা নেই এবং তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট আদর্শ নেই। আমাকে অবহিত করা হয়েছে যে, আব্দুল মাজিদ আল-জিন্দানি এবং চরমপন্থী (غالي) শিয়া আহমদ আল-শামি—যিনি ওয়াকফ মন্ত্রী এবং প্রথম দিন থেকেই তাকওয়া ব্যতিরেকে এ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন—তারা উভয়ে রাষ্ট্রপতির নিকট সাক্ষাৎ করেছিলেন। তখন আব্দুল মাজিদ বললেন: আর আমাদের বক্তব্য হলো:
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الحكومة إسلامية لأننا قد عدلنا الدستور، ونحن نقول: إن حكومة اليمن إسلامية ، لكن لا لأجل الدستور ، فالدستور لا يساوي بصلة عندنا. دستورنا الكتاب والسنة فليبلغ الشاهد الغائب.
ففي هذا الدستور مواد رديئة ، فإذا كنا نقول: إن "متن الأزهار" و "زاد المستنقع" و "متن أبي شجاع" لا يستفيد منها طالب العلم لأنها مثل الأوامر العسكرية بدون أدلة فما ظنك بالدستور، فإذا كانت الحكومة إسلامية على ما يقول عبد المجيد ونحن نوافقه على ذلك فلماذا يقولون: الانتخابات وسيلة إلى الحكومة الإسلامية.
فالإخوان المسلمون ليس لهم مبدأ ، فقد كانوا يقولون: إن علي سالم البيض شيوعي خبيث ثم يقولون بعد هذا: الأخ نائب الرئيس ، يقول كذا وكذا ، عند أن كان نائبًا للرئيس فقد انتقل عندهم من شيوعي إلى أخ ، وبعد الأحداث علي سالم البيض شيوعي.
وأما عندنا فهو شيوعي من قبل ومن بعد ، فأنصح بعدم التعاون مع الإخوان المسلمين.
وأما أنت يا أيها الكلب النباح الذي تقول: إنك تريد الحكومة الإسلامية منظرك ليس منظراً إسلاميًّا ، وصدق النبي صلى الله عليه
সরকার ইসলামি, কারণ আমরা সংবিধান সংশোধন করেছি। আমরা বলি: ইয়েমেনের সরকার ইসলামি, কিন্তু তা সংবিধানের কারণে নয়; কারণ আমাদের নিকট সংবিধানের মূল্য একটি পেঁয়াজের সমানও নয়। আমাদের সংবিধান হলো কিতাব ও সুন্নাহ; সুতরাং উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট এটি পৌঁছে দেয়।
এই সংবিধানে কিছু মন্দ অনুচ্ছেদ রয়েছে। আমরা যদি বলি যে, 'মাতনুল আযহার', 'যাদুল মুস্তাকনি' এবং 'মাতনু আবি শুজা' থেকে ইলম অন্বেষণকারী উপকৃত হতে পারে না, কারণ সেগুলো দলিলবিহীন সামরিক আদেশের মতো; তবে সংবিধান সম্পর্কে আপনার ধারণা কী? যদি আব্দুল মাজিদ যা বলছেন সেই অনুযায়ী সরকার ইসলামিই হয় এবং আমরা এ বিষয়ে তার সাথে একমত হই, তবে কেন তারা বলে: নির্বাচন হলো ইসলামি সরকার গঠনের মাধ্যম?
ইখওয়ানুল মুসলিমিনের কোনো সুনির্দিষ্ট মূলনীতি নেই। তারা বলত: আলি সালিম আল-বাইদ একজন নিকৃষ্ট (خبيث) সমাজতন্ত্রী; এরপর তারা বলতে শুরু করল: ভাই উপরাষ্ট্রপতি এমন এমন বলছেন—যখন তিনি উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন। অর্থাৎ তাদের নিকট তিনি সমাজতন্ত্রী থেকে 'ভাই'-এ রূপান্তরিত হলেন। আবার রাজনৈতিক ঘটনাবলির পর আলি সালিম আল-বাইদ একজন সমাজতন্ত্রী।
কিন্তু আমাদের নিকট তিনি পূর্বাপর সর্বদাই একজন সমাজতন্ত্রী। তাই আমি ইখওয়ানুল মুসলিমিনের সাথে সহযোগিতা না করার পরামর্শ দিচ্ছি।
আর হে ঘেউ ঘেউ করা কুকুর! তুমি যে বলছ তুমি ইসলামি সরকার চাও—অথচ তোমার বাহ্যিক অবয়ব ইসলামি নয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্যই বলেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وعلى آله وسلم إذ يقول: (إن الله لا يقبض العلم إنتزاعًا ينتزعه ولكن يقبضه بقبض العلماء حتى إذا لم يبق عالم اتخذ الناس رؤوسًا جهالًا فسئلوا فأفتوا بغير علم فضلوا وأضلوا).
ويقول: (قبل الساعة سنوات خداعة يصدق فيها الكاذب ويكذب فيها الصادق ويخوّن فيها الأمين ويؤتمن فيها الخائن وينطق فيها الرويبضة).
وقد قلت لعبد المجيد الزنداني في بيت الأخ محمد بن سعيد العنسي: لماذا أردتم أن تجعلوا عبد الله الحداد رئيسًا للتجمع في حضرموت وأنتم تعلمون أنه صوفي؟ فقال: كان النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم يترك العرفاء على ما هم عليه.
وعبد الله الحداد هذا صوفي ويدعي أنه عالم وليس له نفع للإسلام والمسلمين وليس له كلمة عند الناس ولكن الحكومة هي التي نعشته بعد أن كان ميتًا بعد الأحداث التي حصلت في عدن ، والذي خطب أول خطبة في وقت الأحداث وقال: إنه يجب عليهم أن يسمعوا ويطيعوا للحزب وأن يكونوا مع الحزب ، قال: وأما الشباب _وأشار إلى حلقه _ بمعنى أنهم يُقتلون ويقصد بهم الشباب المتمسكون بدينهم ، والذين قد ملأ الحزب الخبيث السجون منهم.
এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক; তিনি বলেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ জ্ঞানকে মানুষের অন্তর থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে উঠিয়ে নেবেন না, বরং তিনি আলেমদের (علماء) মৃত্যু প্রদানের মাধ্যমেই জ্ঞান তুলে নেবেন। এমনকি যখন কোনো আলেম (عالم) অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদেরকে নেতারূপে গ্রহণ করবে। তাদের কাছে ফতোয়া জিজ্ঞেস করা হবে এবং তারা জ্ঞানহীনভাবেই ফতোয়া দেবে; ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে)।
এবং তিনি বলেন: (কিয়ামতের পূর্বে এমন কতগুলো ধোঁকাপূর্ণ বছর আসবে যখন মিথ্যাবাদীকে (كاذب) সত্যবাদী বলা হবে এবং সত্যবাদীকে (صادق) মিথ্যাবাদী বলা হবে। আমানতদারকে (أمين) খিয়ানতকারী গণ্য করা হবে এবং খিয়ানতকারীকে (خائن) আমানতদার মনে করা হবে। আর তখন রুওয়াইবিজাহ (رويبضة) কথা বলবে)।
আমি ভাই মুহাম্মদ বিন সাঈদ আল-আনসির বাড়িতে আব্দুল মাজিদ আয-যানদানিকে বলেছিলাম: আপনারা কেন আব্দুল্লাহ আল-হাদ্দাদকে হাদরামাউতে আল-তাজাম্মু-এর সভাপতি বানাতে চাইলেন, অথচ আপনারা জানেন যে সে একজন সুফি? তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) গোত্রপ্রধানদের (عرفاء) তাদের পূর্বাবস্থাতেই বহাল রাখতেন।
আর এই আব্দুল্লাহ আল-হাদ্দাদ একজন সুফি এবং সে আলেম (عالم) হওয়ার দাবি করে, অথচ ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য তার কোনো উপকার নেই এবং জনগণের কাছে তার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। বরং সরকারই তাকে পুনরুজ্জীবিত করেছে যখন সে আদেনে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলির পর মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল। সে-ই গোলযোগের সময় প্রথম খুতবা দিয়েছিল এবং বলেছিল যে, তাদের ওপর আবশ্যক হলো দলের (পার্টির) কথা শোনা ও আনুগত্য করা এবং দলের সাথেই থাকা। সে বলেছিল: "আর যুবকদের ব্যাপারে—" এই বলে সে নিজের কণ্ঠনালীর দিকে ইশারা করেছিল, যার অর্থ হলো তাদের হত্যা করা হবে। সে মূলত ওইসব যুবককে উদ্দেশ্য করেছিল যারা তাদের দ্বীনের ওপর অবিচল ছিল এবং যাদের দ্বারা সেই খবিশ দল জেলখানাগুলো পূর্ণ করে ফেলেছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وفي الجمعة التالية كان الرئيس علي عبد الله صالح قد استولى على المكلا ، فقام الحداد يمدحه ويثني عليه ، والناس متعجبون للخزي الذي سيناله. وكان من ضمن كلامه: قال الله سبحانه وتعالى: (إلا أن تتقوا منهم تقاة) [آل عمران: 28] يعني: أنه تكلم بما تكلم به في الجمعة الماضية من مدح الحزب الشيوعي تقية.
وقد كنت أقول: إن الإخوان المسلمين مفلسون في السياسة والآن مفلسون في الدين أيضًا ، فالذي يتلوّن وينصر الديمقراطية ويدافع عنها مفلس في الدين ، فمن عرف الديمقراطية ورضي بها فهو كافر، لأن معناها لا حكم للكتاب والسنة ، بل الحكم للشعب فالشعب يحكم نفسه بنفسه، وهذه قد شملت الشروط المكفرة لأنهم قد عرفوها وأن يكونوا غير مكرهين.
ونسيت أن أذكر أنها وافتنا صحيفة لسفيه من السفهاء اسمه: (عبد الفتاح البتول) ينتقد عليّ لماذا أتكلم في (عمر الجاوي) الشيوعي وفي (عبد العزيز المقالح) الحداثي الملحد ، وهذا البتول من الإخوان المفلسين ، وقد ابتلينا بكتّاب كذبة سفهاء لا يثق بهم الناس مثل: محمد المهدي ، وعمار بن ناشر، وصحف كذابة مثل صحيفة الأيام التي تقول: الوادعي متشدد ، والصحيفة نفسها شيوعية ، ونحن نستبيح دماءكم إذا لم تسلموا.
পরবর্তী জুমায় যখন রাষ্ট্রপতি আলী আবদুল্লাহ সালেহ আল-মুকাল্লা দখল করে নিয়েছিলেন, তখন আল-হাদ্দাদ দাঁড়িয়ে তাঁর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করতে শুরু করেন, অথচ লোকজন তাঁর এই লাঞ্ছনা দেখে বিস্মিত হচ্ছিল। তাঁর বক্তব্যের মধ্যে ছিল: মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: "তবে তাদের পক্ষ থেকে তোমাদের কোনো বিপদের আশঙ্কা থাকলে তাদের সাথে সতর্কতা অবলম্বন করা বৈধ" [আলে ইমরান: ২৮]। এর অর্থ হলো: তিনি গত জুমায় কমিউনিস্ট পার্টির যে প্রশংসা করেছিলেন, তা মূলত কৌশলগত সতর্কতা (تقية) হিসেবেই করেছিলেন।
আমি বলতাম যে: ইখওয়ানুল মুসলিমুন রাজনীতিতে দেউলিয়া এবং এখন তারা দ্বীনের ক্ষেত্রেও দেউলিয়া হয়ে গেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি রঙ পরিবর্তন করে এবং গণতন্ত্রকে সাহায্য ও সমর্থন করে, সে দ্বীনের ক্ষেত্রে দেউলিয়া। যে ব্যক্তি গণতন্ত্র সম্পর্কে অবগত হয়ে তাতে সন্তুষ্ট থাকে, সে কাফির (كافر); কারণ এর অর্থ হলো কিতাব ও সুন্নাহর কোনো শাসন থাকবে না, বরং শাসন হবে জনগণের এবং জনগণই নিজেকে শাসন করবে। আর এটি কুফরী সাব্যস্তকারী শর্তাবলির (الشروط المكفرة) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, কারণ তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং তারা মোটেও বাধ্য ছিল না।
আমি উল্লেখ করতে ভুলে গিয়েছিলাম যে, আমাদের কাছে জনৈক নির্বোধের একটি পত্রিকা পৌঁছেছে যার নাম: 'আব্দুল ফাত্তাহ আল-বাতুল'। সে আমার সমালোচনা করে বলছে যে, কেন আমি কমিউনিস্ট ওমর আল-জাভি এবং নাস্তিক আধুনিকতাবাদী আব্দুল আজিজ আল-মাকালিহ সম্পর্কে কথা বলি। এই আল-বাতুল হলো দেউলিয়া ইখওয়ানীদের অন্তর্ভুক্ত। আমরা এমন কিছু মিথ্যাবাদী (كذبة) ও নির্বোধ লেখকের দ্বারা পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছি যাদের ওপর মানুষ আস্থা রাখে না, যেমন: মুহাম্মদ আল-মাহদি এবং আম্মার বিন নাশির। এছাড়া 'আল-আইয়্যাম' এর মতো কিছু মিথ্যাবাদী পত্রিকাও রয়েছে যারা বলে: 'ওয়াদিঈ চরমপন্থী (متشدد)', অথচ সেই পত্রিকাটি নিজেই একটি কমিউনিস্ট পত্রিকা। আর তোমরা যদি আত্মসমর্পণ না করো, তবে আমরা তোমাদের রক্তকে বৈধ (نستبيح دماءكم) গণ্য করব।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أما التشدد فهو الذي يحرم على الناس شيئًا أحله الله لهم ، أو يوجب على الناس شيئًا ما أوجبه الله عليهم.
ونرجع إلى مسجد إب ، وبعد ذلك أراد الإخوة أن يخرجوه، فإذا هو أمرٌ دُبَّر بليل، فأقول للإخوان المفلسين: كيف ترسلون سفهاءكم يشوشون علينا ونحن لا نرسل إخوة أفاضل يستطيعون أن يقولوا: أنت يا صعتر تحدثت بحديث ضعيف واستدللت بالآية في غير موضعها، وأنت يا عبد المجيد شغلت الناس بالصعود إلى القمر، وبدولة السودان دولة إسلامية، فيستطيع إخواننا أن يتكلموا، وأعظم من هذا أنهم انتزعوا مساجد أهل السنة من تحت أيديهم عند أن كان وزير الأوقاف منهم، وقد أخبرت أن وزير الأوقاف الشيعي المبتدع الآن يريد أن يشجع أهل السنة على أخذ بعض مساجد الإخوان المفلسين، لا، فلن نقبل هذا الشيعي أن يتدخل بيننا وبين الإخوان المفلسين.
فأهل السنة عندهم صبر وصدور واسعة، وربما يضربون وينتقم الله لهم: (وإن تصبروا وتتقوا لا يضركم كيدهم شيئاً). [آل عمران: 120]
فالحمد لله أهل السنة منصورون حتى وإن أخذت المساجد من أيديهم، وإن جلسوا يدرسون في الشوارع والأزقة بحمد الله فأول
অধিক কঠোরতা বা চরমপন্থা হলো মানুষের ওপর এমন কিছু হারাম করা যা আল্লাহ তাদের জন্য হালাল করেছেন, অথবা তাদের ওপর এমন কিছু আবশ্যক করা যা আল্লাহ তাদের ওপর ওয়াজিব করেননি।
আমরা ইব্ব-এর মসজিদে ফিরে যাই; এরপর ভাইয়েরা তাকে বের করে দিতে চাইলেন, কিন্তু দেখা গেল এটি ছিল এক গোপন ষড়যন্ত্র। তাই আমি ইখওয়ানুল মুফলিসীনদের বলছি: আপনারা কীভাবে আপনাদের নির্বোধদের আমাদের মাঝে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য পাঠান? অথচ আমরা আমাদের শ্রেষ্ঠ ভাইদের পাঠাই না যারা এই কথা বলার সক্ষমতা রাখেন যে: হে সা’তার! তুমি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস বর্ণনা করেছ এবং আয়াতের অপপ্রয়োগ করেছ; আর হে আব্দুল মাজীদ! তুমি মানুষকে চাঁদে আরোহণ এবং সুদানকে একটি ইসলামি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার আলোচনায় ব্যস্ত রেখেছ। অথচ আমাদের ভাইয়েরা কথা বলতে পারতেন। এর চেয়েও বড় কথা হলো, যখন ওয়াকফ মন্ত্রী তাদের মধ্য থেকে ছিল, তখন তারা আহলুস সুন্নাহর মসজিদগুলো তাদের দখল থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল। আমাকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, বর্তমান শিয়া বিদআতী (مبتدع) ওয়াকফ মন্ত্রী এখন আহলুস সুন্নাহকে ইখওয়ানুল মুফলিসীনদের কিছু মসজিদ দখল করতে উৎসাহিত করতে চায়। না, আমরা আমাদের ও ইখওয়ানুল মুফলিসীনদের মাঝে এই শিয়া ব্যক্তির হস্তক্ষেপ কবুল করব না।
আহলুস সুন্নাহর ধৈর্য ও প্রশস্ত হৃদয় রয়েছে; তারা হয়তো প্রহৃত হন, কিন্তু আল্লাহ তাদের পক্ষ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেন: (আর যদি তোমরা ধৈর্য ধরো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না)। [আল-ইমরান: ১২০]
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আহলুস সুন্নাহ সাহায্যপ্রাপ্ত, এমনকি যদি তাদের হাত থেকে মসজিদগুলো কেড়ে নেওয়া হয় এবং তারা যদি আল্লাহর প্রশংসায় রাস্তা ও অলি-গলিতে বসেও শিক্ষা দান করেন, তবে প্রথমত...
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ২০)
ما بدأنا دراستنا في الشمس إلى ضحى ثم ننتقل إلى تحت الأشجار، حتى يسر الله ببناء مسجد ثم المسجد الذي هو أربعون في أربعين.
وفي ذات مرة كان عندنا اجتماع في دماج فجاء سفيه من سفهاء الإخوان المسلمين يسب الحكومة من عندنا حتى تلقى المسئولية علينا. فقلنا: هذا ليس إليك وإذا كنت بطلاً تكلمت بهذا الكلام في صنعاء، فأخذه الأخ حسين المحرق بيده وأخرجه من المسجد وهو جدير بذلك.
ثم جاءنا ذلك السفيه في مسجد الدعوة في صنعاء يشوش علينا فكتبت إليهم: إما أن تمنعوا سفهاءكم وإلا فلا تلومون إلا أنفسكم إذا أرسلنا من يشوش (1) عليكم، ومنعوا. فكادت أن تحدث مضاربة بين إخواننا أهل السنة وبين الإخوان المفلسين في تلك الليلة في جامع إب فاضطر إخواننا المرافقين لنا وهم عقلاء أفاضل طلبة علم، فأرادوا أن يدفعوا عنا وعن إخواننا أهل إب فوضى أولئك، فاضطر الإخوان إلى أن يخوفوهم بفتح مجاري البنادق، وما فتحت المجاري إلا والفوضى والزحام على الأبواب وكنت أظن أن أصوات الأبواب صوت إطلاق رصاص لأن سمعي ثقيل، والحقيقة إنما هي حركات الأبواب.
--------------------------------------------
আমরা আমাদের পড়াশোনা রোদে বসে শুরু করতাম পূর্বাহ্ণ (ضحى) পর্যন্ত, তারপর আমরা গাছের ছায়ায় চলে যেতাম; যতক্ষণ না আল্লাহ একটি মসজিদ নির্মাণের সহজ ব্যবস্থা করে দিলেন, এরপর সেই মসজিদটি যা ছিল চল্লিশ হাত বাই চল্লিশ হাত।
একদা দাম্মাজে আমাদের একটি সমাবেশ ছিল, তখন ইখওয়ানুল মুসলিমীনের নির্বোধদের মধ্য থেকে এক নির্বোধ এসে আমাদের এখান থেকে সরকারকে গালিগালাজ করতে শুরু করল, যাতে এর দায়ভার আমাদের ওপর বর্তায়। আমরা বললাম: "এটি তোমার কাজ নয়; আর যদি তুমি সাহসীই হও, তবে সানায় গিয়ে এসব কথা বলো।" তখন ভাই হুসাইন আল-মুহাররিক তাকে হাত ধরে মসজিদ থেকে বের করে দিলেন এবং সে এটারই যোগ্য ছিল।
এরপর সেই নির্বোধ ব্যক্তিটি সানার 'মসজিদুদ দাওয়াহ'-তে আমাদের নিকট এসে বিশৃঙ্খলা (تشويش) সৃষ্টি করতে লাগল। তখন আমি তাদের নিকট লিখে পাঠালাম: "হয় তোমরা তোমাদের নির্বোধদের সংযত করো, নতুবা যদি আমরা তোমাদের সমাবেশে বিশৃঙ্খলা (تشويش) সৃষ্টিকারী পাঠাই তবে নিজেদের ছাড়া আর কাউকে দোষারোপ করো না।" এরপর তারা বিরত হলো। এক রাতে ইব্ব-এর জামে মসজিদে আমাদের আহলে সুন্নাহর ভাইদের এবং দেউলিয়া ইখওয়ানদের (ইখওয়ানুল মুফলিসীন) মধ্যে হাতাহাতি হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তখন আমাদের সাথে থাকা বিজ্ঞ ও মর্যাদাশীল ইলমে দ্বীনের ছাত্ররা (طلبة علم) পরিস্থিতি সামাল দিতে বাধ্য হলেন। তারা আমাদের ওপর থেকে এবং ইব্ব-এর আহলে সুন্নাহ ভাইদের ওপর থেকে ঐসব লোকদের বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করতে চেয়েছিলেন। ফলে ভাইরা বন্দুকের সেফটি ক্যাচ খোলার শব্দ করে তাদের ভয় দেখাতে বাধ্য হলেন। আর সেফটি ক্যাচ খোলার সাথে সাথেই দরজার কাছে চরম বিশৃঙ্খলা ও ভিড় লেগে গেল। আমার শ্রবণশক্তি কিছুটা দুর্বল হওয়ায় আমি ভেবেছিলাম দরজার শব্দগুলো বুঝি গুলির আওয়াজ, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেগুলো ছিল দরজার নড়াচড়ার শব্দ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ২১)
ثم رجعنا بحمد الله إلى مفرق حبيش وألقيت المحاضرة هناك، وفي الصباح مشينا إلى تعز إلى الشيخ الفاضل أحمد الشيباني ومكثنا ليلتين هنالك دعوة، تحترق قلوب الحزبيين والحسدة لكثرة الحاضرين.
وقد أكرمنا الإخوة في إب وتعز. أسأل الله أن يبارك لهم في أموالهم وفي أولادهم وأنفسهم. ثم مشينا إلى عدن في الصباح، ووصلنا إلى النقطة العسكرية فقالوا: لا يدخل إلا قطعتي سلاح ولكم واحد ثلاثة، وبينما نحن نراجع ذلك الضابط قال: اذهبوا إلى ذلك الشخص _ وأشار إلى شخص _ فإنه من أقرباء الرئيس، فرأيت منظره ليس منظر رجل من أهل الخير فقلت: والله لا أذهب، وذهب بعض إخواننا وكلموه من دون أن يستأذونني (1)، فقال لهم: ولا قطعة واحدة، يقول: نحن الآن ماشون بسيارتنا ما عندنا مسدس ولا كذا والدنيا أمن.
قلت: والصحيح أنه انفجر قبل أيام لغم في القلّوعة، ونعرف أيضًا أن الشيوعيين قلوبهم محترقة وكذلك سائر الأحزاب، فرجعنا إلى لحج، ثم جاء إلينا أخ ومعه رجل من العساكر القبائل فدخلنا ببعض البنادق، وكانت المحاضرة في تلك الليلة في مسجد البريقة، وجوه مشرقة مباركة محبة للخير، وكان أكثر الكلام توجيهات
--------------------------------------------
অতঃপর আমরা আল্লাহর প্রশংসাসহ 'হুবায়েশ' সংযোগস্থলে ফিরে এলাম এবং সেখানে একটি বক্তৃতা প্রদান করা হলো। সকালে আমরা 'তায়িজ'-এর উদ্দেশ্যে গুণী শাইখ আহমদ আল-শাইবানীর নিকট যাত্রা করলাম এবং দাওয়াহর কাজে সেখানে দুই রাত অবস্থান করলাম। উপস্থিত লোকজনের আধিক্য দেখে দলবাজদের (حزبيين) এবং হিংসুকদের অন্তর জ্বলছিল।
ইব্ব ও তায়িজের ভাইয়েরা আমাদের যথেষ্ট সম্মান করেছেন। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাদের ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি এবং তাদের নিজেদের মধ্যে বরকত দান করেন। অতঃপর সকালে আমরা 'এডেন'-এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম এবং একটি সামরিক তল্লাশি চৌকিতে পৌঁছলাম। তারা বলল: "দুটির বেশি অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না," অথচ আমাদের তিনজনের কাছে অস্ত্র ছিল। যখন আমরা সেই অফিসারের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলাম, তখন সে ইশারা করে এক ব্যক্তিকে দেখিয়ে বলল: "ঐ লোকটির কাছে যান, সে প্রেসিডেন্টের আত্মীয়।" আমি তার অবয়ব দেখে তাকে নেককার (أهل الخير) ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত মনে করলাম না, তাই বললাম: "আল্লাহর কসম, আমি যাব না।" তবে আমাদের কিছু ভাই আমার অনুমতি গ্রহণ করা ছাড়াই (১) তার নিকট গিয়ে কথা বললেন। সে তাদের বলল: "একটি অস্ত্রও নেওয়া যাবে না।" সে বলছিল: "আমরা এখন নিজেদের গাড়িতে চলাফেরা করি, আমাদের সাথে কোনো পিস্তল বা এজাতীয় কিছু থাকে না এবং চারদিকে নিরাপত্তা বিরাজ করছে।"
আমি বললাম: সঠিক (صحيح) বিষয় হলো, কয়েক দিন আগেই 'কাল্লুয়াহ' এলাকায় একটি মাইন বিস্ফোরণ ঘটেছে। আমরা এও জানি যে, কমিউনিস্টদের এবং অন্যান্য দলগুলোর অন্তর বিদ্বেষে জ্বলছে। অতঃপর আমরা 'লাহজ'-এ ফিরে গেলাম। এরপর একজন ভাই আমাদের নিকট এলেন যার সাথে একজন গোত্রীয় সৈন্য ছিল, তার মাধ্যমে আমরা কিছু রাইফেল নিয়ে প্রবেশ করলাম। সেই রাতে 'বুরাইকাহ' মসজিদে বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল; সেখানে উপস্থিতদের চেহারা ছিল উজ্জ্বল, বরকতময় এবং কল্যাণের প্রতি অনুরাগী। আলোচনার অধিকাংশ জুড়েই ছিল দিকনির্দেশনা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ২২)
لإخواننا أهل السنة، وفي الصباح مذاكرات، وإمام المسجد الأخ الفاضل أحمد بن عثمان حفظه الله وعندهم دروس طيبة في المسجد.
وفي الليلة الثانية قام محمد الإمام بما فتح الله، عليه وأما أنا فحلقي مسدود لا أستطيع أن أتكلم، ولو أن لي من الأمر شيئًا لرجعت إلى دماج بلدي لأني أصبحت لا أستطيع أن أتكلم إلا بمشقة قدر ربع ساعة، ولو أن لي من الأمر شيئًا لرجعت، لكن قد وعدنا إخواننا في عدن بخمس ليال، ووجدنا إخواننا متعطشين للعلم، فعند أن اجتمعنا في مسجد الرحمن فقام محمد الإمام ثم قمت بعده وتكلمت بكلمات مختصرة ثم قام الشيخ أحمد الشيباني حفظه الله.
وانتهى الكلام وانتهت المحاضرة، وبينما المؤذن يؤذن لصلاة العشاء، وإذا بانفجار اللغم وكنا في الداخل، فجعلت أنظر في سقف المسجد أين أجد الفرج كنت أظنه في المسجد فقد اهتز المسجد أيما اهتزاز، فإذا بالانفجار خارج المسجد.
ثم خرجنا بحمد الله وركبنا سيارتنا، وأما إخواننا أهل عدن فأحسنوا فقد صلوا العشاء، وقام عبد العزيز الدراوردي حفظه الله يتكلم بعد العشاء كأنه لم يحدث شيء، عندهم شجاعة وإقدام،
আমাদের আহলুস সুন্নাহ ভাইদের জন্য এবং সকালে ইলমি পর্যালোচনা (مذاكرة) অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদের ইমাম হলেন সম্মানিত ভাই আহমাদ বিন উসমান (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন) এবং মসজিদে তাঁদের চমৎকার দরস বা পাঠদানের ব্যবস্থা রয়েছে।
দ্বিতীয় রাতে মুহাম্মাদ আল-ইমাম আল্লাহর তাওফিকে বক্তব্য প্রদান করলেন। আর আমার কথা বলতে গেলে, আমার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল, আমি কথা বলতে পারছিলাম না। যদি বিষয়টি আমার ইচ্ছাধীন হতো, তবে আমি আমার জন্মভূমি দাম্মাজে ফিরে যেতাম। কারণ অত্যন্ত কষ্ট করে প্রায় পনের মিনিটের মতো কথা বলা ছাড়া আমার আর কোনো সামর্থ্য ছিল না। যদি আমার পক্ষে সম্ভব হতো তবে আমি ফিরে যেতাম, কিন্তু আমরা এডেনের ভাইদের কাছে পাঁচ রাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমরা আমাদের ভাইদের ইলমের প্রতি অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত দেখতে পেলাম। যখন আমরা মসজিদে রহমানে সমবেত হলাম, তখন মুহাম্মাদ আল-ইমাম দাঁড়ালেন, এরপর আমি দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত কিছু কথা বললাম। অতঃপর শায়খ আহমাদ আশ-শাইবানী (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন) বক্তব্য দিলেন।
বক্তব্য ও আলোচনা শেষ হলো। যখন মুয়াজ্জিন ইশার নামাজের আজান দিচ্ছিলেন, তখনই একটি ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ ঘটল। আমরা তখন মসজিদের ভেতরে ছিলাম। আমি মসজিদের ছাদের দিকে তাকাচ্ছিলাম যে কোথায় মুক্তির পথ পাওয়া যায়; আমি ভেবেছিলাম বিস্ফোরণটি মসজিদের ভেতরেই হয়েছে, কারণ পুরো মসজিদ প্রচণ্ডভাবে কেঁপে উঠেছিল। পরে দেখা গেল বিস্ফোরণটি মসজিদের বাইরে হয়েছে।
অতঃপর আল্লাহর শুকরিয়ায় আমরা বের হলাম এবং আমাদের গাড়িতে চড়লাম। আর এডেনের ভাইদের কথা বলতে গেলে, তাঁরা অত্যন্ত ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন; তাঁরা ইশার নামাজ আদায় করেছেন এবং আব্দুল আজিজ আদ-দারাওয়ারদী (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন) ইশার পর এমনভাবে আলোচনা শুরু করলেন যেন কিছুই ঘটেনি। তাঁদের অসাধারণ সাহস ও নির্ভীকতা রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ثم رجعنا إلى بيت أحد الإخوة وقد أعد العشاء حفظه الله وهو الأخ مهدي الشبوي وقد زارنا في دماج.
ثم اتصلت ببعض المسئولين وقلت له: إذا كان بقاؤنا سيسبب لكم فتنًا ومشاقّ فنحن سنرحل غدًا. قال: ابقوا، وهو الأخ مدير الأمن محمد طريق _ جزاه الله خيرا _والنبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول: (من لا يشكر الناس لا يشكر الله).
فنشكر لهم ما قاموا به من زيارة ورعاية لنا بعد انفجار اللغم، فقال: تبقون والبلد بلدكم ونحن المسئولون عن الأمن، فعزمنا على البقاء والحمد لله.
ثم الأخبار في الصباح: الداعية الإسلامي الشيخ مقبل المتشدد، وهي جريدة الأيام الشيوعية، ثم اتصلنا بإخواننا في تلك الليلة ههنا لتطمئنوا أنه ما حدث لإخواننا شيء، والذي حدث هو رجل انفجر اللغم في بطنه فالله أعلم أنه كان يصلحه وانفجر فيه، ورجل آخر قطعت يده، وإخواننا ما بينهم وبينه إلا مسافة قريبة سلمهم الله وحفظهم الله وهم الإخوان الحراس جزاهم الله خيرا.
وفي الليلة الثالثة كنا نظن أن الناس قد خافوا فربما لا يحضر إلا الجمع القليل، فحضر مثل كل ليلة والحمد لله صارت ليلة مباركة، وحضر كذلك من الشرطة من يقومون بالحراسة، فجزاهم الله خيرًا على ما فعلوا.
অতঃপর আমরা এক ভাইয়ের বাড়িতে ফিরে আসলাম, তিনি আমাদের জন্য রাতের খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন—আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন; তিনি হলেন ভাই মাহদি আল-শাবউয়ি, যিনি দাম্মাজে আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
এরপর আমি জনৈক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলাম এবং তাকে বললাম: যদি আমাদের অবস্থান আপনাদের জন্য কোনো ফিতনা বা কষ্টের কারণ হয়, তবে আমরা আগামীকালই চলে যাব। তিনি বললেন: আপনারা অবস্থান করুন; তিনি হলেন নিরাপত্তা পরিচালক ভাই মুহাম্মদ ত্বরিক—আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেন: "যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ হয় না।"
মাইন বিস্ফোরণের পর তারা আমাদের দেখতে আসা এবং আমাদের প্রতি যে যত্নশীলতা দেখিয়েছেন, সেজন্য আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি বললেন: আপনারা এখানেই থাকবেন, এই দেশ আপনাদেরই দেশ আর আমরাই নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত। অতঃপর আমরা থেকে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করলাম এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর।
অতঃপর সকালের সংবাদে দেখা গেল: "চরমপন্থী (متشدد) ইসলামি দাঈ শায়খ মুকবিল।" এটি ছিল 'আল-আইয়াম' নামক কমিউনিস্ট পত্রিকা। এরপর আমরা সেই রাতে এখানে আমাদের ভাইদের সাথে যোগাযোগ করলাম যাতে আপনারা আশ্বস্ত হতে পারেন যে আমাদের ভাইদের কোনো অনিষ্ট হয়নি। মূলত যা ঘটেছিল তা হলো, এক ব্যক্তির পেটে মাইন বিস্ফোরিত হয়েছিল—আল্লাহই ভালো জানেন, সম্ভবত সে সেটি মেরামত করছিল এবং তার ওপরই সেটি বিস্ফোরিত হয়। অন্য এক ব্যক্তির হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। আমাদের ভাইদের সাথে তাদের দূরত্ব ছিল খুবই সামান্য, আল্লাহ তাদের নিরাপদ রেখেছেন এবং হিফাজত করেছেন; তারা ছিলেন পাহারাদার ভাইয়েরা—আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন।
তৃতীয় রাতে আমরা মনে করেছিলাম যে মানুষ হয়তো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে, তাই সম্ভবত খুব সামান্য লোকই উপস্থিত হবে। কিন্তু প্রতি রাতের মতোই বিপুল সমাগম হলো এবং আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে সেটি একটি বরকতময় রাত ছিল। সেখানে পুলিশ সদস্যরাও পাহারার জন্য উপস্থিত ছিলেন; তারা যা করেছেন তার জন্য আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والصحف والإذاعات تنعق، والمسئولون يخافون من الإعلام، فلماذا يخافون من هؤلاء الكذبة؛ إذاعة لندن كذابة وصحيفة الأيام كذابة، وصحيفة الشورى الشيعية كذابة.
ثم رأينا أننا نرحل ونسافر فقلنا: ربما تأتي أخبار للإخوان ههنا تزعجهم، وخرجنا بفضل الله وبتنا في معبر، وأكرمونا غاية الإكرام. نسأل الله أن يبارك لهم. ثم صعدنا إلى صنعاء ومعنا من الإخوة جمع قدر خمسين أخًا من المسلحين فقال الجنود: تمشون إلى صعدة على طول، فقلنا لهم: لنا حاجة في صنعاء، فقالوا: إذن تضعون الأسلحة في بيت ولا تبقى إلا السيارة التي تركبها أنت ورفقتك، وهو صحيح، ويشكرون على تعاونهم معنا، والحمد لله.
ثم وصلنا إلى دماج واستقبلنا إخواننا من أهل دماج وطلبة العلم وأطلقوا الرصاص شيئًا كثيرًا فرحًا بقدومنا سالمين، وقد نهيناهم عن الرماية فلم ينتهوا جزاهم الله خيرًا.
أما بخصوص الصحف فلعلنا نذكر شريطًا آخر في بيان حقيقة هذه الصحف على أن لنا شريطًا موجود في المصارعة بعنوان: جلسة قصيرة مع عميان البصيرة، وهو مع الصحفيين عند أن زارونا إلى هنا، فربما نعيد الشريط. والله المستعان.
সংবাদপত্র এবং বেতারগুলো চিৎকার করছে এবং দায়িত্বশীলরা গণমাধ্যমকে ভয় পায়। কেন তারা এই মিথ্যাচারী (الكذبة) ব্যক্তিদের ভয় পায়? লন্ডন রেডিও একটি মিথ্যাবাদী (كذابة), আল-আইয়াম সংবাদপত্রটিও মিথ্যাবাদী (كذابة), এবং শিয়াদের আশ-শুরা পত্রিকাটিও মিথ্যাবাদী (كذابة)।
এরপর আমরা দেখলাম যে আমরা যাত্রা করছি এবং সফর করছি, তখন আমরা বললাম: সম্ভবত এখানে অবস্থানরত ভাইদের কাছে এমন কোনো সংবাদ পৌঁছাবে যা তাদের বিচলিত করবে। আল্লাহর অনুগ্রহে আমরা বের হলাম এবং মা’বারে রাত কাটালাম। তাঁরা আমাদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করলেন। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন তাঁদের বরকত দান করেন। এরপর আমরা সান’আর দিকে অগ্রসর হলাম, আমাদের সাথে সশস্ত্র ভাইদের প্রায় পঞ্চাশজনের একটি দল ছিল। তখন সৈন্যরা বলল: আপনারা সরাসরি সাদাহর দিকে চলে যান। আমরা তাদের বললাম: সান’আতে আমাদের কিছু প্রয়োজন আছে। তারা বলল: তাহলে আপনারা অস্ত্রগুলো একটি ঘরে রেখে দিন, এবং আপনি ও আপনার সঙ্গীরা যে গাড়িতে আছেন সেটি ছাড়া আর কোনো গাড়ি সাথে থাকবে না। তাদের এই সিদ্ধান্তটি ছিল সঠিক (صحيح), এবং তাদের এই সহযোগিতার জন্য তারা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। আলহামদুলিল্লাহ।
এরপর আমরা দাম্মাজে পৌঁছালাম এবং দাম্মাজের অধিবাসী ও ইলম অন্বেষণকারী ভাইয়েরা আমাদের অভ্যর্থনা জানালেন। আমাদের সহিহ-সালামতে ফিরে আসায় আনন্দিত হয়ে তারা প্রচুর গুলিবর্ষণ করলেন। আমরা তাদের গুলিবর্ষণ করতে নিষেধ করেছিলাম, কিন্তু তারা শোনেননি। আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
সংবাদপত্রগুলোর ব্যাপারে বলতে গেলে, সম্ভবত আমরা এই পত্রিকাগুলোর স্বরূপ উন্মোচনে অন্য একটি অডিও রেকর্ড প্রকাশ করব। তবে ‘আল-মুসারাআহ’ শিরোনামে আমাদের একটি রেকর্ড রয়েছে যার নাম: ‘অন্তর্দৃষ্টিহীনদের সাথে সংক্ষিপ্ত বৈঠক’। এটি মূলত সেই সাংবাদিকদের সাথে কথোপকথন যখন তারা আমাদের এখানে সফর করতে এসেছিল। সম্ভবত আমরা সেই রেকর্ডটি পুনরায় প্রকাশ করব। আল্লাহই সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ২৫)
تنبيه: وهو سؤال موجه للإخوان المسلمين: هل ترون الحكومة حكومة إسلامية أم لا؟ فإن كنتم ترون الحكومة حكومة إسلامية، فالنبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول: (من أتاكم وأمركم جميع يريد أن يفرق بينكم فاضربوا عنقه كائنًا من كان).
ويقال للسروريين أتباع محمد سرور الذي اعترف عندنا في البيت بأنهم جماعة ولكن قال: إنهم لا يتعصبون، ثم ظهر تعصبهم عند قضية الخليج.
ويقال للفريقين: النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول: (إذا بويع لخليفتين فاضربوا عنق الآخر منهما).
وفي الصحيحين عن عبادة بن الصامت _ رضي الله عنه _ قال: بايعنا رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم على السمع والطاعة في العسر واليسر والمكره والمنشط وعلى ألا ننازع الأمر أهله إلا أن تروا كفرا بواحًا عندكم فيه من الله برهان.
وفي الصحيحين أيضًا عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال: (إن بني إسرائيل كانت تسوسهم أنبياؤهم، كلما هلك نبي خلفه نبي، وإنه سيأتي بعدي خلوف يقولون مالا يفعلون ويفعلون مالا يؤمرون).
أو بهذا المعنى: قالوا: أفلا ننابذهم يا رسول الله؟ قال: (لا، ما صلوا).
সতর্কবার্তা: এটি ইখওয়ানুল মুসলিমীন-এর প্রতি একটি প্রশ্ন: আপনারা কি বর্তমান সরকারকে একটি ইসলামি সরকার মনে করেন কি না? যদি আপনারা সরকারকে ইসলামি সরকার মনে করেন, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: "তোমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা অবস্থায় যদি কেউ তোমাদের নিকট আসে এবং তোমাদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়, তবে সে যে-ই হোক না কেন, তাকে হত্যা করো।"
আর মুহাম্মাদ সুরুরের অনুসারী সুরুরিদের উদ্দেশ্যেও বলা হচ্ছে, যিনি আমাদের বাড়িতে থাকাকালীন স্বীকার করেছিলেন যে তারা একটি জামাত (সংগঠন), তবে বলেছিলেন যে তারা কোনো অন্ধ পক্ষপাতিত্ব (تعصب) করেন না। পরবর্তীতে উপসাগরীয় সংকটের সময় তাদের সেই অন্ধ পক্ষপাতিত্ব (تعصب) প্রকাশ পায়।
আর উভয় পক্ষের উদ্দেশ্যেই বলা হচ্ছে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: "যখন দুই জন খলিফার অনুকূলে আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করা হয়, তখন তাদের মধ্য থেকে পরবর্তী জনকে হত্যা করো।"
আর সহীহাইনে উবাদাহ ইবনে সামিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট শ্রবণ ও আনুগত্যের ওপর শপথ গ্রহণ করেছি—চাই তা সংকটকাল হোক বা সহজ অবস্থা, মনে প্রফুল্লতা থাকুক বা না থাকুক। আর এই অঙ্গীকারও করেছি যে, আমরা ক্ষমতার যোগ্য অধিকারীদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হব না, যতক্ষণ না তোমরা তাদের মাঝে প্রকাশ্য কুফর দেখতে পাও, যে বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট অকাট্য প্রমাণ রয়েছে।
সহীহাইনে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আরও বর্ণিত আছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "বনী ইসরাঈলকে তাদের নবীগণই পরিচালনা করতেন। যখনই কোনো নবীর মৃত্যু হতো, তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতেন অন্য একজন নবী। অচিরেই আমার পরে এমন এক অযোগ্য উত্তরসূরি আসবে যারা যা বলে তা করে না এবং যা আদেশ করা হয়নি তা-ই করে।"
অথবা এই সমার্থক অর্থে: তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব না? তিনি বললেন: "না, যতক্ষণ তারা সালাত কায়েম করবে।"
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فإن كنتم ترون الحكومة إسلامية فلماذا تنظمون لإقامة حكومة فهل هذا في دين الله، وإن كنتم لا ترونها حكومة إسلامية فلماذا تشاركونها في كل شيء؟!.
والواقع أنهم يتلوَّنون. لو قال الرئيس بإلغاء المعاهد الحزبية، لقالوا: علماني كافر، _ وقلنا المعاهد الحزبية لأننا كنا نقول لها فيما مضى المعاهد العلمية. فهي الآن المعاهد الحزبية _.
وهكذا يتلوَّنون مع المصلحة، فليسوا عند الدين ولا بعد إقامة حكومة إسلامية، ولو أقاموا دولة والعياذ بالله فإنهم أول ما يبطشون بأهل السنة، وقد فعلوا هذا بإخواننا في كنر بأفغانستان.
ولو أقاموا دولة لدعو (1) رجلاً علمانيًّا أو شيوعيًّا، سياسة عمياء حمقاء، كما أتوا بجمال عبد الناصر وقالوا: هذا نجعله واجهة أمام الناس ونحن نعمل ونتحرك، فلما تمكن وصار الحديد والنار بيده قتلهم قتلًا ذريعًا.
نقول هذا ولسنا شامتين بهم فلا رحم الله جمال عبد الناصر. فسياستهم سياسة حمقاء، والواقع أنهم من أجهل الناس بالسياسة، فإذا ضحك لهم الرئيس ظنوا أن العيد غدًا، أي رئيس، فصدام _ صدمه الله بالبلاء _ عند أن قرب بعضهم وذهب عبد الوهاب الديلمي وفقنا الله وإياه لكل خير إلى العراق، سألت أخًا
--------------------------------------------
আপনারা যদি মনে করেন যে সরকারটি ইসলামী, তবে কেন আপনারা একটি সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগঠিত হচ্ছেন? এটি কি আল্লাহর দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত? আর আপনারা যদি এটিকে ইসলামী সরকার মনে না করেন, তবে কেন আপনারা এর সব কিছুতে অংশগ্রহণ করছেন?!
বাস্তবতা হলো তারা রং বদলায়। রাষ্ট্রপতি যদি দলীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বাতিলের কথা বলতেন, তবে তারা বলত: ধর্মনিরপেক্ষ কাফির (كافر); আমরা একে 'দলীয় প্রতিষ্ঠান' বলেছি কারণ অতীতে আমরা এগুলোকে 'বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান' বলতাম। প্রকৃতপক্ষে এগুলো এখন দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
এভাবেই তারা নিজেদের স্বার্থের (مصلحة) প্রয়োজনে রং পরিবর্তন করে। তারা দ্বীনের ওপর অটল নয়, এমনকি কোনো ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের লক্ষ্যও তাদের নেই। যদি তারা কোনো রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে—আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন—তবে তারা সর্বপ্রথম আহলে সুন্নাহ (أهل السنة) অনুসারীদের ওপর চড়াও হবে। আফগানিস্তানের কুনারে আমাদের ভাইদের সাথে তারা এমনটিই করেছে।
যদি তারা কোনো রাষ্ট্র কায়েম করে তবে তারা কোনো ধর্মনিরপেক্ষ বা সাম্যবাদী ব্যক্তিকে ডাকবে—এটি এক অন্ধ ও নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ রাজনীতি। ঠিক যেমন তারা জামাল আবদেল নাসেরকে নিয়ে এসেছিল এবং বলেছিল: ‘আমরা তাকে জনগণের সামনে ঢাল হিসেবে রাখব আর নিজেরা কাজ ও তৎপরতা চালিয়ে যাব।’ অতঃপর যখন সে ক্ষমতাসীন হলো এবং তার হাতে পূর্ণ ক্ষমতা ও শক্তি এল, তখন সে তাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করল।
আমরা তাদের দুর্দশায় আনন্দ প্রকাশ করার জন্য এ কথা বলছি না; আল্লাহ জামাল আবদেল নাসেরের প্রতি দয়া করবেন না। তাদের রাজনীতি হলো নির্বুদ্ধিতার রাজনীতি, আর বাস্তবতা হলো তারা রাজনীতির বিষয়ে সবচেয়ে অজ্ঞ লোক। রাষ্ট্রপতি—যিনিই হোন না কেন—যদি তাদের প্রতি স্মিত হাসেন, তবে তারা মনে করে আগামীকালই ঈদ। যেমন সাদ্দাম হোসেন—আল্লাহ তাকে বিপদ দিয়ে আঘাত করুন—যখন তাদের কাউকে কাছে টেনেছিলেন এবং আবদুল ওয়াহাব আদ-দাইলামি (আল্লাহ আমাদের ও তাকে সকল কল্যাণের তাওফিক দিন) ইরাকে গিয়েছিলেন, তখন আমি এক ভাইকে জিজ্ঞেস করেছিলাম—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
من الإخوان المفلسين: أين عبد الوهاب الديلمي؟ فقال: ذهب إلى العراق، فنحن نرى صدامًا قد تحسن ومال إلى الإسلام.
فهم جهلاء بالسياسة وبالحكام، والواقع الذي أعماهم هي الدنيا والمناصب والكرسي، والدفاع عن الكرسي، لكن الرئاسة لا يريدونها بل يريدون شخصًا يكون واجهة لهم، وهذا واقع في اليمن الآن فهم يرفعون الشخص حتى يصير وزيرًا وهو من الإخوان، وبعد أن يصير وزيرًا يغلق الأبواب في وجوههم، وكما قيل:
على عاتقيه يصعد المجد غيره
… وهل هو إلا للتسلق سلّم
فهم مضطربون، فإذا كانت الدولة إسلامية فما فائدة هذه الحركة، والمقاطعة لأهل السنة لأجل أنهم لا يوافقونهم، في التلبيسات على العوام.
وقد زارني القاضي محمد قطران فقلت له: هذه الانتخابات طاغوتية؟ فقال: لعلنا نأخذ السلطة بالسّلم، فقلت: وإذا لم يعطها بالسلم؟ فماذا تفعلون؟ قال: سنقاتله إذا لم يعطها بالسلم. وقلت هذا الكلام لثلاثة من الإخوان المسلمين. والحق أنهم أفاضل وقد سألتهم نفس السؤال وأجابوا بالإجابة نفسها.
ونحن نبسط القول فيهم لأنهم يلبسون على العامة، عبد الله صعتر الجويهل، قدم إلى عدن ونحن فيها، لأنهم يخافون على
দেউলিয়া ইখওয়ানদের পক্ষ থেকে বলা হলো: আব্দুল ওয়াহাব আদ-দায়লামি কোথায়? উত্তরে তিনি বললেন: তিনি ইরাকে গিয়েছেন; কারণ আমরা দেখছি যে সাদ্দামের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে এবং সে ইসলামের দিকে ঝুঁকেছে।
বস্তুত তারা রাজনীতি ও শাসকদের সম্পর্কে অজ্ঞ; আর যে বাস্তবতা তাদেরকে অন্ধ করে রেখেছে তা হলো দুনিয়া, পদমর্যাদা, ক্ষমতা এবং ক্ষমতা রক্ষার মোহ। তবে তারা নেতৃত্ব চায় না, বরং তারা এমন একজনকে চায় যে তাদের মুখপত্র হয়ে থাকবে। বর্তমানে ইয়ামেনের বাস্তবতা এটাই; তারা কোনো ব্যক্তিকে উপরে তুলে ধরে যতক্ষণ না সে মন্ত্রী হয়, অথচ সে ইখওয়ানদেরই অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু মন্ত্রী হওয়ার পর সে তাদের মুখের ওপরই দরজা বন্ধ করে দেয়। যেমনটি বলা হয়েছে:
তার কাঁধের ওপর ভর করে অন্যজন গৌরব আরোহণ করে
… আর সে কি উপরে ওঠার সিঁড়ি ছাড়া আর কিছু?
তারা অস্থিরচিত্ত বা অসংলগ্ন (مضطربون); যদি রাষ্ট্রটি ইসলামি রাষ্ট্রই হয়, তবে এই আন্দোলনের সার্থকতা কী? আর সাধারণ মানুষের সামনে সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত করার (تلبيس) বিষয়ে তাদের সাথে একমত না হওয়ার কারণে তারা আহলে সুন্নাতকে বয়কট করছে।
একদা কাজী মুহাম্মদ ক্বাতরান আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে এলে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম: এই নির্বাচনগুলো কি তাগুতী? তিনি বললেন: সম্ভবত আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করব। আমি বললাম: যদি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা না দেওয়া হয়? তখন আপনারা কী করবেন? তিনি বললেন: যদি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা না দেওয়া হয় তবে আমরা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। আমি এই একই কথা ইখওয়ানুল মুসলিমিনের তিন জন ব্যক্তির কাছেও ব্যক্ত করেছি। সত্য কথা হলো তারা মর্যাদাশীল ব্যক্তি ছিলেন এবং আমি তাদেরকেও একই প্রশ্ন করেছিলাম, তারাও অনুরূপ উত্তর দিয়েছিলেন।
আমরা তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করছি এই কারণে যে, তারা সাধারণ মানুষের সামনে সত্য-মিথ্যা গুলিয়ে ফেলে (يلبسون)। চরম মূর্খ (جويهل) আব্দুল্লাহ সা'তার আদানে আগমন করল যখন আমরা সেখানে অবস্থান করছিলাম; কেননা তারা ভয় পাচ্ছিল যে...
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
شبابهم، وبقي ليلتين أو ثلاثًا، ولكن من فضل الله فالفرق كبير بين اجتماعاتهم واجتماعات أهل السنة، فاجتماعات أهل السنة لوجه الله يهمهم الدين، وأولئك يجتمعون من أجل الكراسي.
وأما ما يتعلق بالصحفيين فللموضوع تكملة، ونحن لا يهمنا الصحفيون، فإنهم أصحاب هوس وتسميتهم بالصحفيين يعتبر ظلمًا، بل ينبغي أن يسمى الصحفي مهووسًا، فكلامه مثل كلام السكران أو المجنون، فكلمة في المشرق وكلمة في المغرب، وقد كتب شيوعي في جريدة من الجرائد فتارة يتكلم على الدعوة بدماج، وأخرى في السعودية وأخرى في صنعاء، مثل السكران الذي يهذي بكلامه، ويجوز أنه سكران، وإلا فما دخل أمراء السعودية وهم الذين رحّلوني من هناك، في دعوتنا باليمن، والحقيقة أن الاشتراكيين هم العملاء للسعودية (1)، فقد انكشفت الحقيقة، وأما نحن فمع كتاب الله، ومع سنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم.
أسأل الله العظيم أن يحفظ علينا ديننا وأن يتوفَّنا مسلمين والحمد لله رب العالمين.
الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وأصحابه ومن والاه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
--------------------------------------------
তাদের যুবকেরা, এবং তিনি দুই বা তিন রাত অবস্থান করেছিলেন। তবে আল্লাহর অনুগ্রহে তাদের সমাবেশ এবং আহলুস সুন্নাহর সমাবেশের মধ্যে বিশাল পার্থক্য বিদ্যমান। কেননা আহলুস সুন্নাহর সমাবেশ হয় একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে, দ্বীনই তাদের প্রধান বিবেচ্য বিষয়; আর তারা সমবেত হয় পার্থিব ক্ষমতা ও পদের মোহে।
আর সাংবাদিকদের প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলে—এ বিষয়ে আরও কিছু বলার আছে। আমরা সাংবাদিকদের কোনো পরোয়া করি না; তারা বিভ্রান্তি ও খেয়ালের বশবর্তী। তাদেরকে 'সাংবাদিক' বলাটাই এক ধরণের অবিচার, বরং একজন সাংবাদিককে উম্মাদ বলাই শ্রেয়। তার কথাবার্তা মাতাল কিংবা পাগলের প্রলাপের মতো—কখনো পূর্বের কথা বলে, তো কখনো পশ্চিমের। কোনো এক পত্রিকায় এক কমিউনিস্ট লিখেছে; সে কখনো দাম্মাজের দাওয়াত সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করে, আবার কখনো সৌদি আরব কিংবা সানআ সম্পর্কে কথা বলে। সে যেন এক মাতাল যে প্রলাপ বকছে। হতে পারে সে সত্যিই মাতাল ছিল, নতুবা সৌদি আরবের রাজন্যবর্গের সাথে—যারা আমাকে সেখান থেকে বহিষ্কার করেছিল—ইয়েমেনে আমাদের দাওয়াতের কী সম্পর্ক থাকতে পারে? প্রকৃত সত্য এই যে, সমাজতন্ত্রীরাই হলো সৌদি আরবের দালাল (১)। এখন সত্য উন্মোচিত হয়েছে। আর আমরা তো আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ (سنة)-এর ওপরই প্রতিষ্ঠিত রয়েছি।
আমি সুমহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের দ্বীনকে হিফাযত করেন এবং আমাদের মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দান করেন। আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
সকল প্রশংসা আল্লাহর এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ ও যারা তাঁর অনুসারী হয়েছেন তাদের ওপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أما بعد
… فقد روى الترمذي في (جامعه) عن سعد بن أبي وقاص _ رضي الله عنه _ عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم أنه قال: (أشد الناس بلاء الأنبياء ثم الأمثل فالأمثل، يبتلى الرجل على حسب دينه، فإن كان في دينه صلابة اشتد بلاؤه، وإن كان في دينه رقة ابتلي على حسب دينه).
وذكرت في "الصحيح المسند مما ليس في الصحيحين" حديث أبي سعيد الخدري وهو بمعنى حديث سعد بن أبي وقاص. في هذين الحديثين الثابتين عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم بيان ما يبتلى به الرجل المتمسك بدينه، وأن هذا أمر لابد منه، ومن وفقه الله وثبته فهو الذي ينبغي أن يحمد الله.
روى أبو داود في "سننه" عن المقداد بن الأسود _ رضي الله عنه _ قال: قال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم: (إن السعيد لمن جنب الفتن، إن السعيد لمن جنب الفتن، إن السعيد لمن جنب الفتن، ولمن ابتلى فصبر فواها) _أي: من ابتلى فصبر فعجب له _.
بل رب العزة يقول في كتابه الكريم: (أم حسبتم أن تدخلوا الجنة ولما يأتكم مثل الذين خلوا من قبلكم مستهم البأساء والضراء وزلزلوا حتى يقول الرسول والذين آمنوا معه متى نصر الله ألا إن نصر الله قريب) [البقرة: 214].
এরপর...
… ইমাম তিরমিজি তাঁর (জামে) গ্রন্থে সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (মানুষের মধ্যে নবীদের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী স্তরের (শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে), তারপর যারা তাদের পরবর্তী স্তরের। মানুষকে তার দ্বীনদারির গভীরতা অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়; যদি তার দ্বীনে দৃঢ়তা থাকে তবে তার পরীক্ষাও কঠিন হয়, আর যদি তার দ্বীনে শিথিলতা থাকে তবে তাকে তার দ্বীন অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়)।
আমি "আস-সহিহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস-সহিহাইন" গ্রন্থে আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.)-এর হাদিসটি উল্লেখ করেছি, যা সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর হাদিসের সমার্থবোধক। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত প্রমাণিত (الثابت) এই দুটি হাদিসে দ্বীন আঁকড়ে ধরা ব্যক্তি যে ধরনের পরীক্ষার সম্মুখীন হয় তার বর্ণনা রয়েছে এবং এটি যে একটি অনিবার্য বিষয় তাও ব্যক্ত হয়েছে। আল্লাহ যাকে তাওফিক দান করেছেন এবং অটল রেখেছেন, তারই উচিত আল্লাহর প্রশংসা করা।
আবু দাউদ তাঁর "সুনান" গ্রন্থে মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (নিশ্চয়ই সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যাকে ফিতনা থেকে দূরে রাখা হয়েছে, নিশ্চয়ই সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যাকে ফিতনা থেকে দূরে রাখা হয়েছে, নিশ্চয়ই সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যাকে ফিতনা থেকে দূরে রাখা হয়েছে। আর যে পরীক্ষায় পতিত হয়ে ধৈর্য ধারণ করে, তার জন্য কতই না সুসংবাদ!) —অর্থাৎ: যে পরীক্ষায় পড়ে ধৈর্য ধরে তার বিষয়টি আশ্চর্যজনক—।
এমনকি মহান রব তাঁর সম্মানিত কিতাবে ইরশাদ করেছেন: (তোমরা কি মনে করেছ যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ এখনো তোমাদের নিকট তোমাদের পূর্ববর্তীদের মতো অবস্থা আসেনি? তাদের ওপর নেমে এসেছিল দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ-আপদ এবং তারা প্রকম্পিত হয়েছিল, এমনকি রাসুল ও তাঁর সাথে ঈমানদারগণ বলে উঠেছিল, "আল্লাহর সাহায্য কবে আসবে?" জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য অতি নিকটবর্তী) [আল-বাকারা: ২১৪]।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ويقول سبحانه وتعالى في كتابه الكريم: (الم * أحسب الناس أن يتركوا أن يقولوا آمنا وهم لا يفتنون * ولقد فتنا الذين من قبلهم فليعلمن الله الذين صدقوا وليعلمن الكاذبين) [العنكبوت: 1 - 3].
فلابد من الفتنة والاختبار، يقول الله عز وجل: (ونبلوكم بالشر والخير فتنة) [الأنبياء: 35].
والشأن كل الشأن لمن صبر وثبت، وسميت فتنة لأنه تفتن الشيء وتختبره، يقال: فتن الذهب، أي جعله في النار ليعلم أذهب خالص هو أم ليس خالصًا.
ورب العزة يقول في كتابه الكريم: (ومن الناس من يقول آمنا بالله فإذا أوذي في الله جعل فتنة الناس كعذاب الله) [العنكبوت: 10].
ويقول سبحانه وتعالى في كتابه الكريم: (ومن الناس من يعبد الله على حرف فإن أصابه خير اطمأن به وإن أصابته فتنة انقلب على وجهه خسر الدنيا والآخرة) [الحج: 11] فنسأل الله أن يعيذنا من الفتن.
وقد كان النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم يستعيذ بالله من الفتن؛ من فتنة المحيا والممات.
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর পবিত্র কিতাবে বলেন: (আলিফ-লাম-মীম। মানুষ কি মনে করে যে, তারা ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা (يفتنون) করা হবে না? আমি তো তাদের পূর্ববর্তীদেরও পরীক্ষা করেছি; আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন কারা সত্যবাদী এবং তিনি অবশ্যই জেনে নেবেন কারা মিথ্যাবাদী (الكاذبين)) [আল-আনকাবুত: ১-৩]।
সুতরাং ফিতনা ও পরীক্ষা অনিবার্য। মহান আল্লাহ বলেন: (আমি তোমাদের মন্দ ও ভালো দ্বারা বিশেষভাবে পরীক্ষা (فتنة) করি) [আল-আম্বিয়া: ৩৫]।
আর প্রকৃত সার্থকতা তাদেরই জন্য যারা ধৈর্য ধারণ করে এবং অবিচল থাকে। একে 'ফিতনা' বলা হয় কারণ এটি কোনো কিছুকে যাচাই ও পরীক্ষা করে। বলা হয়ে থাকে: ‘স্বর্ণকে ফিতনা করা হয়েছে’, অর্থাৎ একে আগুনে পোড়ানো হয়েছে যাতে জানা যায় যে এটি খাঁটি সোনা নাকি খাঁটি নয়।
মহান রব্বুল ইজ্জত তাঁর পবিত্র কিতাবে বলেন: (মানুষের মধ্যে কেউ কেউ বলে, ‘আমরা আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছি’; কিন্তু আল্লাহর পথে যখন সে নির্যাতিত হয়, তখন সে মানুষের দেওয়া পরীক্ষাকে (فتنة) আল্লাহর আজাবের মতো মনে করে) [আল-আনকাবুত: ১০]।
এবং মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর পবিত্র কিতাবে বলেন: (মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর ইবাদত করে দ্বিধা-দ্বন্দ্বের সাথে; যদি সে কল্যাণের সম্মুখীন হয়, তবে তাতে প্রশান্ত হয়, আর যদি কোনো পরীক্ষায় (فتنة) পড়ে, তবে সে তার পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়। সে দুনিয়া ও আখেরাত উভয়ই হারালো) [আল-হজ: ১১]। আমরা আল্লাহর কাছে ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিতনা থেকে, বিশেষ করে জীবন ও মরণের পরীক্ষা (فتنة) থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فلا بد أن يفتن الداعي إلى الله، وليس بأعز على الله تعالى من الأنبياء ومن الصالحين، وإننا إذا قرأنا التاريخ وجدنا كثيرًا من علمائنا ابتلوا كسعيد بن المسيب فقد ضُرِب، والإمام مالك ضُرِب، والإمام أحمد بن حنبل ضُرِب أيضًا، وغير واحد من علمائنا المتقدمين _ رحمهم الله.
إن التمحيص يكون سببًا لفوز الشخص ونجاحه بإذن الله، إذا كان ثابتًا، وإننا نحمد الله سبحانه وتعالى، فنحن نتوقع هذا ونتوقع ما هو أعظم.
ونحن في آخر الزمن ولكن من فضل ربي أنه ما حدث حدث إلا صار نصرًا للسنة، فعند أن لغّم مسجد إخواننا آل جميدة حفظهم الله وسلم الله المسجد، وكان ذلك في الليل، وفي العصر وكنا في المدرسة بدماج وكان معهدًا، فقلت: نصرت السنة ورب الكعبة، وقد أخذنا هذا من قول الله عز وجل: (ومن أظلم ممن منع مساجد الله أن يذكر فيها اسمه وسعى في خرابها أولئك ما كان لهم أن يدخلوها إلا خائفين لهم في الدنيا خزي ولهم في الآخرة عذاب عظيم) [البقرة: 114].
وأولئك الذين قاموا بالتلغيم وأرادوا قتل الدعاة إلى الله، والدعوة كما تقدم هي دعوة الله ليست بحولنا ولا بقوتنا ولا بشجاعتنا
আল্লাহর পথে আহ্বানকারীকে অবশ্যই পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে। আল্লাহ তাআলার কাছে তারা নবীগণ এবং নেককারদের চেয়ে অধিক সম্মানিত নন। আমরা যখন ইতিহাস পাঠ করি, তখন দেখতে পাই যে আমাদের অনেক আলেমই পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন; যেমন—সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব, তাঁকে প্রহার করা হয়েছিল। ইমাম মালিককেও প্রহার করা হয়েছিল এবং ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলকেও প্রহার করা হয়েছিল। এছাড়া আমাদের পূর্ববর্তী (المتقدمين) আলেমদের মধ্য থেকে আরও অনেকেই—আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন।
নিশ্চয়ই যাচাই-বাছাই বা পরিশুদ্ধি (التمحيص) ব্যক্তির বিজয় ও সফলতার কারণ হয় আল্লাহর ইচ্ছায়, যদি সে অবিচল থাকে। আমরা মহান আল্লাহর প্রশংসা করি; আমরা এই পরিস্থিতির প্রত্যাশা করি এবং এর চেয়েও বড় কিছুর প্রত্যাশা রাখি।
আমরা শেষ জামানায় রয়েছি, তবে আমার রবের অনুগ্রহ এই যে, যা কিছু ঘটে তা শেষ পর্যন্ত সুন্নাহর বিজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যখন আমাদের আল-জুমাইদাহ ভাইদের (আল্লাহ তাঁদের হিফাজত করুন) মসজিদে বোমা রাখা হয়েছিল এবং আল্লাহ মসজিদটিকে রক্ষা করেছিলেন—এটি ছিল রাতে। আসরের সময় আমরা দাম্মাজের মাদরাসায় ছিলাম, যা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল। তখন আমি বলেছিলাম: কাবার রবের কসম, সুন্নাহর বিজয় হয়েছে। আর আমরা এটি মহান আল্লাহর বাণী থেকে গ্রহণ করেছি: (আর তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর মসজিদগুলোতে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করে? তাদের জন্য সেখানে ভীত-সন্ত্রস্ত হওয়া ছাড়া প্রবেশ করা সংগত ছিল না। তাদের জন্য ইহকালে রয়েছে লাঞ্ছনা এবং পরকালে রয়েছে মহা আজাব) [সূরা আল-বাকারা: ১১৪]।
আর যারা বোমা পুঁতে রেখেছিল এবং আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের হত্যা করতে চেয়েছিল, অথচ দাওয়াত—যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে—তা আল্লাহরই দাওয়াত; এটি আমাদের কোনো সামর্থ্য, শক্তি কিংবা সাহসিকতার মাধ্যমে নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ولا بكثرة أموالنا ولا بفصاحتنا في الخطابة ولا بكثرة الخطابة، بل تسبقنا الدعوة ونحن نمشي بعدها والفضل في هذا لله عز وجل.
فخاب وخسر من أراد الشر بالدعاة إلى الله، وجعله الله أضحية لعمله السيء.
أما الصحف الكذابة فمن أراد أن يجالس الكذابين فليقرأ في الصحف، وإذا أردت أن تجالس الصادقين قرأت في كتاب ربنا وفي "الصحيحين" وفي كتب التزمت الصحة. ولقد أحسن من قال:
وأرى الصحافيين في أقلامهم
… وحي السماء وزينة الشيطان
فهم الجناة على الفضيلة دائمًا
… وهم الحماة لحرمة الأديان
قلت: كان ينبغي أن يقول الشاعر: والهاتكون لحرمة الأديان.
فلربما رفعوا الوضيع سفاهة
… ولربما وضعوا رفيع الشان
وجيوبهم فيها عقولهم إذا
… ملئت فهم من شيعة السلطان
وإذا خلت من فضله ونواله
… ثاروا عليه بخائن وجبان
ويصوبون المخطئين تعمدًا
… ومن المصيبة زخرف العنوان
وأحسن من تكلم على ما حدث في جامع إب بيننا وبين الإخوان المفلسين جريدة الرأي العام نقلت الحقيقة إلا أنها أخطأت أننا ما خرجنا من المسجد حتى جاء الأمن، بل خرجنا بحمد الله وما علمنا أن الأمن جاء إلى المسجد والفضل في هذا لله.
না আমাদের সম্পদের প্রাচুর্য, না আমাদের বক্তৃতার সাবলীলতা কিংবা না আমাদের বক্তৃতার আধিক্যের কারণে (এই দাওয়াত প্রসারিত হয়েছে); বরং দাওয়াতই আমাদের আগে আগে পৌঁছে যায় এবং আমরা তার অনুসারী হয়ে চলি। আর এর সকল অনুগ্রহ কেবল মহান আল্লাহর জন্য।
সুতরাং সেই ব্যক্তি ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো যে আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের প্রতি মন্দ ইচ্ছা পোষণ করল; আল্লাহ তাকে তার কু-কর্মের বলির পাঠা বানিয়ে দেবেন।
আর মিথ্যাবাদী পত্রিকাগুলোর কথা যদি বলি, তবে কেউ যদি মিথ্যাবাদীদের সাথে উপবেশন করতে চায় সে যেন পত্রিকা পড়ে। আর যদি তুমি সত্যবাদীদের (الصادقين) সাথে বসতে চাও, তবে আমাদের রবের কিতাব, "সহিহাইন" এবং ঐসব কিতাব পড় যাতে বিশুদ্ধতা (الصحة) বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আর সেই ব্যক্তি কতই না উত্তম বলেছেন:
আমি সাংবাদিকদের কলমের মধ্যে দেখি
… আসমানী ওহি এবং শয়তানের চাকচিক্য।
তারা সর্বদা সচ্চরিত্রের ওপর আঘাতকারী
… এবং তারা ধর্মের পবিত্রতার রক্ষক।
আমি বলি: কবির বলা উচিত ছিল: এবং তারা ধর্মের পবিত্রতা ভূলুণ্ঠিতকারী।
তারা অনেক সময় মূর্খতাবশত নিচ ব্যক্তিকে উচ্চাসনে বসায়
… আবার অনেক সময় উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিকে নিচে নামিয়ে দেয়।
তাদের পকেটেই তাদের বিবেক থাকে, যখন তা
… পূর্ণ হয় তখন তারা শাসকের অনুসারী হয়ে যায়।
আর যখন তা তার (শাসকের) অনুগ্রহ ও দান থেকে শূন্য হয়ে পড়ে
… তখন তারা তাকে বিশ্বাসঘাতক ও কাপুরুষ বলে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়।
তারা ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধীদের সঠিক সাব্যস্ত করে
… আর বিপত্তি হলো শিরোনামের চাকচিক্য।
ইব এর জামে মসজিদে আমাদের এবং দেউলিয়া ইখওয়ানদের মাঝে যা ঘটেছিল, সে বিষয়ে সবচেয়ে সুন্দর আলোচনা করেছে 'আর-রাই আল-আম' পত্রিকা। তারা সত্য তুলে ধরেছে, তবে তারা একটি বিষয়ে ভুল করেছে যে, নিরাপত্তা বাহিনী আসার আগ পর্যন্ত আমরা মসজিদ থেকে বের হইনি; বরং আল্লাহর প্রশংসায় আমরা বের হয়ে গিয়েছিলাম এবং নিরাপত্তা বাহিনী মসজিদে এসেছে কিনা তা আমাদের জানাই ছিল না। আর এর সকল মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব আল্লাহরই জন্য।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
أما صحيفة الشورى الشيعية فإنها رمتنا بالتطرف أي على طرف من الدين، وكأنهم يقصدون من هذا قول الله عز وجل: (ومن يشاقق الرسول من بعد ما تبين له الهدى ويتبع غير سبيل المؤمنين نوله ما تولى ونصله جهنم وساءت مصيرا) [النساء: 115].
ولنا أن نقول: من هو المتطرف يا صحيفة الشورى الكذابة؟ أهو نحن أم الهادي يحيى بن الحسين الذي سفك دماء المسلمين اليمنيين ونهب أموالهم؟، اقرأوا سيرته كتبها بعض تلامذته، فقد أخذ غنم أهل جبل بني عوير والمهاذر، وسفك دماء المسلمين بصعدة، وحاشد وصنعاء ونجران.
فإن قال قائل: إنه حارب القرامطة بنجران وصنعاء؟
فالجواب: أن الهادي خرج إلى اليمن لعله في مائتين وثمانين للهجرة، والقرامطة لم يظهروا إلا نحو مائتين وواحد وتسعين، وأما في نجران فمائتين وأربعة وتسعين هذا هو ظهورهم.
فلماذا يقتل الهادي اليمنيون لأنهم لم يسلموا، فهم مسلمون أثنى عليهم النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم بقوله: (الإيمان يمان والحكمة يمانية والفقه يمان).
وبقوله في أهل اليمن: (إنهم أرق أفئدة وألين قلوبًا). والهادي من أهل المدينة خرج إلى اليمن يبث الاعتزال.
শিয়াদের আশ-শুরা পত্রিকা আমাদের চরমপন্থার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে, অর্থাৎ আমরা দ্বীনের এক প্রান্তে অবস্থান করছি। যেন তারা এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর এই বাণীর দিকে ইঙ্গিত করছে: "আর যে ব্যক্তি তার কাছে হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সে পথেই পরিচালিত করব যে পথ সে বেছে নিয়েছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব, আর তা কতই না মন্দ আবাস।" [আন-নিসা: ১১৫]।
আমাদের পক্ষ থেকে বলার অবকাশ রয়েছে যে: হে মিথ্যাবাদী (الكذابة) আশ-শুরা পত্রিকা, প্রকৃত চরমপন্থী কে? আমরা, নাকি আল-হাদী ইয়াহিয়া বিন আল-হুসাইন, যে ইয়েমেনি মুসলমানদের রক্ত প্রবাহিত করেছে এবং তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে? তার একদল শিষ্যের লেখা তার জীবনী পড়ে দেখুন; সে বনী উওয়াইর পাহাড় ও আল-মুহাযিরের অধিবাসীদের গবাদিপশু ছিনিয়ে নিয়েছিল এবং সা’দাহ, হাশেদ, সানা ও নাজরানে মুসলমানদের রক্তপাত ঘটিয়েছিল।
যদি কেউ প্রশ্ন করে: সে কি নাজরান ও সানায় কারামাতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল?
এর উত্তর হলো: হাদী ইয়েমেনে সম্ভবত হিজরি ২৮০ সনে প্রবেশ করেছিল, অথচ কারামাতিদের প্রকাশ ঘটেছিল হিজরি ২৯১ সনের দিকে। আর নাজরানে তাদের আবির্ভাব হয়েছিল ২৯৪ হিজরিতে।
তাহলে হাদী কেন ইয়েমেনিদের হত্যা করেছিল এই অজুহাতে যে তারা ইসলাম গ্রহণ করেনি? অথচ তারা ছিল মুসলমান, যাদের প্রশংসা করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ঈমান ইয়েমেনি, প্রজ্ঞা ইয়েমেনি এবং ফিকহ ইয়েমেনি।"
এবং ইয়েমেনবাসীদের সম্পর্কে তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই তারা অত্যন্ত কোমল এবং বিনম্র হৃদয়ের অধিকারী।" আর হাদী মদিনার অধিবাসী হয়েও ইয়েমেনে মুতাজিলা মতবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
والتطرف مخالفة الكتاب والسنة، والصحيحان عند الهادي ليس لهما قيمة، والذي يقول: إن الله يُرَى في الآخرة، فهو عند الهادي كافر تأويل، والذي يقول: إن الله قدر المعاصي ضال ومبتدع، بل ربما يكفره الهادي ويكفر اليمنيين، فمن المتطرف نحن أم الهادي؟
من المتطرف نحن أم عبد الله بن حمزة الذي قتل المطرفية وقد أنكر عليه غير واحد من العلماء، وخرب مساجدهم واستباح سبي نسائهم، على أنهم كفار، والواقع أنهم شيعة متمسكون بمذهب الهادي، وقد أنكر على عبد الله بن حمزة جمع من العلماء.
وكتاب "إرشاد ذوي الفطن لإبعاد غلاة الروافض من اليمن" سينشر فإنه ما نشر كما ينبغي، فصاحب المدينة يرجع إلى المدينة وصاحب إيران يرجع إلى إيران لا يفسدون علينا يمننا، قلَّ أن تجد علويًا إلا وهو يحدث نفسه أنه سيكون إمامًا، وانظروا ماذا فعل ابن أبي الفتح الديلمي بأهل مجز، جاء من الديلم يسفك دماء المسلمين ويبثون العقائد الخبيثة المخالفة للكتاب والسنة فمن المتطرف.
أما العصريون من الشيعة فهم غثاء ولا يستحقون أن نذكرهم، وليسوا أهلًا لأن يذكروا، بل نذكر أولئك الذين يزعمون أنهم أئمة وخرجوا لينقذوا اليمن من الجهل، بل خرجوا ليحولوا اليمن من السنة إلى البدعة، ومن الهدى إلى الضلال ومن الرشد إلى الغي.
চরমপন্থা হলো কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধিতা করা। আল-হাদীর নিকট সহীহাইন-এর কোনো মূল্য নেই। যে ব্যক্তি বলে: আখিরাতে আল্লাহকে দেখা যাবে, সে আল-হাদীর নিকট ব্যাখ্যাজনিত কাফির (كافر تأويل)। আর যে বলে: আল্লাহ পাপের ফয়সালা করেছেন, সে পথভ্রষ্ট (ضال) ও বিদআতী (مبتدع); এমনকি আল-হাদী সম্ভবত তাকেও কাফির গণ্য করেন এবং ইয়ামেনীদেরও কাফির বলেন। এমতাবস্থায় চরমপন্থী কে, আমরা নাকি আল-হাদী?
চরমপন্থী কে, আমরা নাকি আবদুল্লাহ বিন হামজাহ? যে মুতাররিফিয়াদের হত্যা করেছিল এবং তার এই কর্মের প্রতিবাদ একাধিক আলেম করেছিলেন। সে তাদের মসজিদগুলো ধ্বংস করেছিল এবং তাদের নারীদের যুদ্ধবন্দি করা বৈধ করেছিল এই যুক্তিতে যে তারা কাফির। অথচ বাস্তবতা হলো তারা ছিল শিয়া এবং আল-হাদীর মাযহাবের একনিষ্ঠ অনুসারী। আবদুল্লাহ বিন হামজাহর এই আচরণের নিন্দা একদল ওলামায়ে কেরাম করেছেন।
আর "ইরশাদু যিল ফিতান লি-ইবআদি গুলাতির রাওয়াফিয মিনাল ইয়ামেন" গ্রন্থটি অচিরেই প্রকাশিত হবে, কেননা এটি যেভাবে প্রকাশিত হওয়া উচিত ছিল সেভাবে প্রকাশিত হয়নি। মদিনার লোক মদিনায় ফিরে যাক এবং ইরানের লোক ইরানে ফিরে যাক, তারা যেন আমাদের ইয়ামেনকে কলুষিত না করে। খুব কমই এমন কোনো আলউয়ীকে পাওয়া যায় যে মনে মনে ইমাম হওয়ার স্বপ্ন দেখে না। আর ইবনে আবিল ফাতহ আদ-দায়লামী মাজজবাসীদের সাথে কী আচরণ করেছিল তা দেখুন; সে দায়লাম থেকে এসে মুসলিমদের রক্ত ঝরিয়েছে এবং কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী জঘন্য আকিদা প্রচার করেছে। এমতাবস্থায় কে চরমপন্থী?
আর বর্তমান যুগের শিয়ারা তো নিছক আবর্জনা সদৃশ, তারা আলোচনার যোগ্য নয়, বরং তারা উল্লেখ করার মতো কেউ নয়। আমরা তো তাদের কথা বলছি যারা নিজেদের ইমাম দাবি করে এবং ইয়ামেনকে অজ্ঞতা থেকে উদ্ধার করার জন্য বের হয়েছে বলে দাবি করে; অথচ তারা বের হয়েছে ইয়ামেনকে সুন্নাহ থেকে বিদআতের (بدعة) দিকে, হেদায়েত থেকে পথভ্রষ্টতার (ضلال) দিকে এবং সঠিক পথ থেকে বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দিতে।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসু আলা শারহিল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
واقرأ في أقرب كتاب من كتبهم "العقد الثمين" وهو وريقات أتى بالمذهب المعتزلي وقبله "الأساس في عقائد الأكياس"، أما الأكياس الذين هم بمعنى الفطناء فلا، وإبراهيم الكردي الذي رد على (الأساس) يقول: الأساس ليس فيه من عقائد المسلمين شيء.
وانظروا إلى أحاديث خروج الموحدين من النار المتكاثرة عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم.
وأولئك المخذولون ينكرون هذا، وأنا آسف على أهل اليمن، فمن جاءهم صفقوا له وقالوا: مرحبًا بمولانا
وببركتنا، ولكنهم قد استيقظوا، وهذا من فضل ربي.
فهل نحن المتطرفون أم المطهر بن يحيى شرف الدين، فقد خرج عليه السراجي وهو من أهل البيت فالتقى بهم المطهر وأسرهم وكانوا نحو ألفين وثلاثمائة، فقتل ألفًا _ هذا مطهر بن يحيى _ وأبقى ألفًا وثلاثمائة والسراجي، فقال له المطهر: اركب على البعير، فأبى أن يركب، فقتله.
وعندما قتل الألف حتى غاصت أرجل بغلته بين الدماء، فأخذ رؤوسهم وربطها في رؤوس الأحياء ومشى بهم إلى صنعاء، ومن صنعاء إلى صعدة، ثم قتل الباقين، فكان يسقط رأسان، الرأس المحمول ورأس الأسير.
তাদের গ্রন্থগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিকটবর্তী "আল-ইকদ আল-ছামিন" গ্রন্থটি পাঠ করুন; এটি সামান্য কয়েক পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকা মাত্র যাতে মুতাজিলা মতবাদ (المذهب المعتزلي) উপস্থাপন করা হয়েছে। এর আগে রয়েছে "আল-আসাস ফি আকাইদিল আকইয়াস"। তবে এখানে "আকইয়াস" বলতে যারা বুদ্ধিমান তাদের বোঝানো হয়নি। ইব্রাহিম আল-কুরদি, যিনি "আল-আসাস" গ্রন্থের খণ্ডন করেছেন, তিনি বলেন: "আল-আসাস" গ্রন্থে মুসলিমদের আকিদাহর কিছুই নেই।
আর আপনারা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত জাহান্নাম থেকে একত্ববাদীদের বের হওয়ার অধিক সংখ্যায় বর্ণিত (المتكاثرة) হাদিসগুলোর দিকে লক্ষ্য করুন।
আর ঐ লাঞ্ছিত ব্যক্তিরা এটি অস্বীকার করে। আমি ইয়েমেনের অধিবাসীদের জন্য অত্যন্ত ব্যথিত; তাদের কাছে যে কেউ আসত তারা তাকেই করতালি দিয়ে স্বাগত জানাত এবং বলত: "আমাদের মাওলা এবং আমাদের বরকতের প্রতি স্বাগতম।" কিন্তু এখন তারা সচেতন হয়েছে, আর এটি আমার রবেরই বিশেষ অনুগ্রহ।
এখন প্রশ্ন হলো, আমরা কি চরমপন্থী নাকি মুতাহহার বিন ইয়াহইয়া শরাফ উদ্দিন? তার বিরুদ্ধে আস-সিরাজি বিদ্রোহ করেছিলেন, যিনি ছিলেন আহলে বাইতের সদস্য। অতঃপর মুতাহহার তাদের মুখোমুখি হন এবং তাদের বন্দি করেন, যাদের সংখ্যা ছিল প্রায় দুই হাজার তিনশ জন। এই মুতাহহার বিন ইয়াহইয়া এক হাজার জনকে হত্যা করেন এবং এক হাজার তিনশ জন ও আস-সিরাজিকে জীবিত রাখেন। অতঃপর মুতাহহার তাকে বললেন: "উটের ওপর আরোহণ করো।" সে আরোহণ করতে অস্বীকার করলে তিনি তাকে হত্যা করেন।
যখন তিনি সেই এক হাজার ব্যক্তিকে হত্যা করলেন, তখন তার খচ্চরের পা রক্তের স্রোতে ডুবে গিয়েছিল। এরপর তিনি নিহতদের মস্তকগুলো জীবিতদের মস্তকের সাথে বেঁধে তাদের নিয়ে সানআ অভিমুখে যাত্রা করলেন এবং সানআ থেকে সাদাহ পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। এরপর তিনি অবশিষ্টদেরও হত্যা করলেন; তখন দুটি করে মাথা নিচে পড়ত—একটি বহনকৃত মাথা এবং অন্যটি বন্দির নিজস্ব মাথা।